বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৫০ / ১৪০ · ৪,৯০১৫,০০০ / ১৪,০৮০

৪,৯০১.
একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়-
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ডায়োড
  3. ক্যাপাসিটর
  4. সেমিকন্ডাক্টর
ব্যাখ্যা
• ডায়োড:
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯০২.
কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশে কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. দক্ষিণ-পূর্ব
  3. উত্তর-পশ্চিম
  4. উত্তর-পূর্ব
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম নরওয়েস্টার।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) ২২ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
৪,৯০৩.
সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে ক্রাসুলেসিয়ান এসিড মেটাবলিজম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোনটি?
  1. মিল্ল্যাত
  2. কাউন
  3. বার্লি
  4. পাথরকুচি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে C3 চক্র অনুসরণ করে ধান, গম, বার্লি, আম, জাম, কাঁঠালসহ ৮৫% উদ্ভিদ।
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে C4 চক্র অনুসরণ করে ভুট্টা, ইক্ষু, সরগাম, ক্র‍্যাব ঘাস, মিল্ল্যাত, কাউন, চিনা, গিনি ঘাস ইত্যাদি।
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে ক্রাসুলেসিয়ান এসিড মেটাবলিজম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে Crassulacae গোত্রের (পাথরকুচি গোত্র) উদ্ভিদ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪,৯০৪.
নিচের কোনটি আলফা কণিকার বৈশিষ্ট্য?
  1. আয়নিত করার ক্ষমতা খুব কম
  2. ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে
  3. ভেদন ক্ষমতা খুব বেশি
  4. সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয় না
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি:
- আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- এর ভর 6.6×10-27 kg.
- ইহা ধণাত্বক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 C.
- এর শক্তি 1MeV বা 1.6x10-13J হতে 9MeV বা 1.44×10-12J পর্যন্ত হয়।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশী।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।
- এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম।
- জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯০৫.
সিলিকনের ব্যবহার কোন শিল্পে বেশি হয়?
  1. ক) ওষুধ
  2. খ) টেকটোনিক
  3. গ) কাগজ
  4. ঘ) ইলেকট্রনিক
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিক শিল্পে সিলিকনের ব্যবহার বেশি হয়। সিলিকন অর্ধপরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৪,৯০৬.
সর্বপ্রথম সমন্বিত বর্তনীর ধারনা দেন কে?
  1. ক) চার্লস ব্যাবেজ
  2. খ) জ্যাক কিলবি
  3. গ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  4. ঘ) রবার্ট নায়েস
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী:
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কিলবি সম্বনিত বর্তনীর ধারণা দেন
- ১৯৫৯ সালে জ্যাক কিলবি ও রবার্ট নায়েস প্রথম প্রকৃত মনোলিথিক আইসি তৈরি করে।
- একটি IC তে সাধারণত বহু সংখ্যাক Transistor, Capacitor, Logic Gate Resistor থাকে। 

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল ( ভোকেশনাল )।
৪,৯০৭.
প্রোটোপ্লাজমের প্রধান অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) প্লাজমা মেমব্রেন
  2. খ) সাইটোপ্লাজম
  3. গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

কোষের ভিতরে পাতলা পর্দাবেষ্টিত জেলীর ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটিকে প্রােটোপ্লাজম বলে একে জীবনের ভিত্তি বলা হয়।

এর তিনটি অংশ, যথা – কোষ ঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।

উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি

৪,৯০৮.
ক্লোরোফিলবিহীন উদ্ভিদ হল-
  1. ব্যাঙের ছাতা
  2. ইউগ্লিনা
  3. ক্রাইসামিবা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ব্যাঙের ছাতা একটি সমাঙ্গদেহী অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- এরা স্বভোজী নয়, কেননা এদের ক্লোরোফিল নেই। 
যেমন - ব্যাঙের ছাতা। 
- ছত্রাক জাতের এ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- এদের কোষে সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯০৯.
শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী ন্যূনতম দূরত্ব কত?
  1. ৩৩ মিটার
  2. ১৭.৬ মিটার
  3. ১৬.৫ মিটার
  4. ১৫.৬ মিটার
ব্যাখ্যা
- মানুষের মস্তিষ্কে কোন শব্দের শোনার পর ০.১ সেকেন্ড এটার রেশ থাকে।
- এই সময়ের আগে প্রতিধ্বনি শুনলে মস্তিষ্ক সেটাকে মূল শব্দ থেকে আলাদা করতে পারে না।
- শব্দের বেগ ৩৩০ মি./ সেকেন্ড, সুতরাং, ০.১ সেকেন্ড এর ব্যবধান তৈরি করার জন্য শব্দকে কমপক্ষে ৩৩ মি. দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।
সুতরাং, ১৬.৫ মি. বা ১৬৫০ সে.মি. দূরত্বের কোন প্রতিফলকে শব্দ উৎস থেকে গিয়ে বাধা পেয়ে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড সময় পার হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণী, পদার্থ বিজ্ঞান বই।
৪,৯১০.
সালোসংশ্লেষণে উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়- 
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ্লুকোজ 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস:
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়াটি সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এই রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯১১.
HIV মূলত কোন রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে?
  1. থ্রম্বোসাইট
  2. প্লাজমা কোষ
  3. লাল রক্তকণিকা 
  4. T-লিম্ফোসাইট 
ব্যাখ্যা

এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। এই কারণে রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 

- AIDS রোগের সংক্রমণ করে এক ধরনের ভাইরাস যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV)। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯১২.
হিগস বোসন কণা সম্পর্কিত ভুল তথ্য কোনটি?
  1. হিগস ক্ষেত্রের কাজ মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করে।
  2. বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
  3. হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা।
  4. হিগস বোসন এর স্পিন ঋণাত্মক।
ব্যাখ্যা
বোসন (Boson): 
- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। 
- এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। 
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের। 
১। গেজ বোসন (Gauge Boson) এবং ২। হিগস বোসন (Higgs Boson) । 

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯১৩.
মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটের ভাল উৎস -
  1. ক) খাবার পানি
  2. খ) ডাবের পানি
  3. গ) গ্লুকোজের পানি
  4. ঘ) শরবতের পানি
ব্যাখ্যা
আমাদের শরীরে বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ, খনিজ ও লবণ রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন শারীরবৃত্তিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। স্নায়ু ও মাংসপেশির কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদের ইলেকট্রোলাইট বলা হয়। সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম হলো প্রধান ইলেকট্রোলাইট। যেকোনো কারণে শরীরে এসব উপাদানের পরিমাণ কমে বা বেড়ে গেলে সৃষ্টি হয় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা।

কচি ডাবের শাঁসে স্নেহ ও খনিজ জাতীয় পর্দাথের পরিমাণ বেশি থাকে। খনিজ পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও ফসফরাস থাকে (Sodium, calcium, potassium, chloride, phosphate, and magnesium are all electrolytes. U.S. National Library of Medicine)। মূলত কচি ডাবের ভিতরের তরল পদার্থই ডাবের পানি হিসেবে পরিচিত। এই পানি ৯৯ ভাগ চর্বিমুক্ত এবং কম ক্যালরিযুক্ত। প্রচলিতভাবে উন্নত দেশের ডাবের পানি কোমল ও সতেজ পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে এর চাহিদা ব্যাপক। কচি ডাবের পানি শরীরকে ঠান্ডা ও দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। এ ছাড়াও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত, বয়স্ক এবং বৃদ্ধ লোকের জন্য ডাবের পানি খুবই কার্যকর।

আমাদের দেশে প্রক্রিয়াজাতকৃত ডাবের পানির বাণিজ্যিক চাহিদা আছে। ডাবের পানি প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্রথমে ভালমানের কচি ডাব সংগ্রহ করে পরিস্কার পানিতে দৌত করতে হয়। অতঃপর ডাব থেকে পানি বের করে মসৃণ কাপড়ে ছেকে নিতে হবে যাতে কোন আঁশ বা শাঁস না থাকে। এখন পরিস্কার ডাবের পানি একটি কাঁচের বিকার বা কনটেইনারে নিয়ে ৯৫-১০০০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ১০ মিটিন ওয়াটার বাথে রেখে পাস্তুরাইজেশন করেত হবে। পাস্তুরাইজেশনকৃত ডাবের পানির সাথে ১০০পিপিএম পটাসিয়াম মেটাবাইসালফাইট এবং ০.০৫% কার্বক্সিমিথাইল সেলুলোজ যোগ করতে হবে যাতে কোন অবশিষ্টাংশ বা দ্রব্যাদি বোতলের নিচে পড়ে না থাকে। পরিশেষে গরম পানিতে ফুটানো কাঁচের বোতলে গরম অবস্থায় ডাবের পানি ভর্তি করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় শুষ্ক ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ডাবের পানি প্রায় ৬-৮ মাস সহজে সংরক্ষণ করা যায়।

Source: BARI, Prothomalo.com
৪,৯১৪.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. লিমুলাস
  2. উটপাখি
  3. স্ফোনোডন
  4. প্লাটিপাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯১৫.
কোন বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা সর্বাপেক্ষা বেশি? 
  1. সোনা
  2. তামা
  3. রাবার
  4. ইস্পাত
ব্যাখ্যা
স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৪,৯১৬.
কোন বাহ্যিক কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয়? 
  1. চাপ 
  2. তড়িৎক্ষেত্র
  3. চৌম্বকক্ষেত্র 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎক্ষেত্র, চৌম্বকক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
- তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। 
- পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯১৭.
কোন পরীক্ষা গর্ভবতী মায়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. ক) ইসিজি
  2. খ) এক্সরে
  3. গ) আলট্রাসনোগ্রাফি
  4. ঘ) ব্লাড সুগার
ব্যাখ্যা
সাধারণত X-Ray নিরাপদ ধরা হলেও গর্ভাবস্থায় একাধিকবার X-Ray করলে গরভের সন্তানের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে গর্ভাবস্থায় X-Ray করানো হয় না।
বাকী পরীক্ষাগুলোতে কোন সমস্যা নেই।
৪,৯১৮.
বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তাদের কী বলে?
  1. রক্ত কণিকা
  2. লসিকা
  3. রক্তরস
  4. মাতৃকা
ব্যাখ্যা
লসিকা:

- বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তা কতগুলো ছোট নালীর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। ছোট নালীগুলো মিলিত হয়ে আবার বৃহত্তর নালীতে পরিণত হয়। এভাবে যে নালিকাতন্ত্র গঠিত হয় তাকে লসিকাতন্ত্র বলা হয়।
- নালীগুলোকে লসিকানালী এবং সংগৃহীত রসকে লসিকা বলা হয়।
- লসিকার মধ্যে কিছু কোষও থাকে। এদেরকে লসিকা কোষ বলা হয়।
- লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ এবং হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ।

লসিকার কাজ: 
- প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
- স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
- পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
- শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয় । 
- প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
- প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
- দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়।


ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ পত্রিকা 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯১৯.
নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য কোনটি?
  1. প্রজননের পদ্ধতি
  2. মূলের উপস্থিতি 
  3. বীজের আবরণ
  4. কাণ্ডের দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

- নগ্নবীজী (Gymnosperm) এবং আবৃতবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো বীজের আবরণের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি। নগ্নবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো নগ্ন বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় (ovary) থাকে না এবং ফল উৎপন্ন হয় না। অন্যদিকে, আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো ফলের অভ্যন্তরে আবৃত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় থাকে যা নিষিক্তকরণের পর ফলে পরিণত হয়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪,৯২০.
গ্যসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) তাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক বাড়ে
  2. খ) সামান্য চাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক কমে যায়
  3. গ) নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই
  4. ঘ) কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় আন্তঃকণা আর্কষণ বল বেশি
ব্যাখ্যা
গ্যসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই। এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোকনা কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন। গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় অনেক দূরে দূরে অবস্থান করে তাই এদের আন্তঃকণা আর্কষণ বল খুবই কম। তাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক বাড়ে এবং সামান্য চাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক কমে যায়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৪,৯২১.
কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. লিগনিন
  2. রেজিন
  3. হেমি সেলুলোজ
  4. সেলুলোজ
ব্যাখ্যা

- কাগজ তৈরির প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো সেলুলোজ। এটি উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের মূল উপাদান যা সাধারণত কাঠ, বাঁশ, তুলা বা ঘাসের মতো উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। 
 
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCI বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অন্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 
- সেলুলোজের কাজ হচ্ছে উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করা। 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হিসেবে থাকে। 
- সেলুলোজকে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়। 
- সেলুলোজকে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ, কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯২২.
১ কিলোক্যালরি কত জুলের সমান?
  1. ১০ জুল
  2. ১০০০ জুল
  3. ৪.১৮ জুল
  4. ৪১৮০ জুল
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানে শক্তি: 
- খাদ্য দেহে পুষ্টি এবং শক্তি প্রদান করে। 
- খাদ্যের ছয়টি প্রধান উপাদানের মধ্যে শর্করা, আমিষ এবং চর্বি জাতীয় উপাদানগুলি প্রধানত শক্তি সরবরাহ করে। 
- পুষ্টি উপাদান থেকে নির্গত শক্তি তাপ শক্তি হিসেবে পরিচিত, যার একক হলো ক্যালরি। 
- এক  গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে যে পরিমাণ তাপ শক্তি প্রয়োজন, তা এক ক্যালরি হিসাবে গণ্য হয়। 
- এক ক্যালরি পরিমাপকে কিলোক্যালরি বলা হয়। 
- দেহের মাংসপেশির সংকোচন ও সম্প্রসারণের উপর শক্তি ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করে। 

- একজন ব্যক্তির দৈনিক শক্তির চাহিদা মূলত তিনটি বিষয় দ্বারা নির্ধারিত হয়। 
• মৌলবিপাক (Basal Metabolic Rate- BMR), 
• দৈহিক পরিশ্রমের ধরন এবং 
• খাদ্যের প্রভাব। 
- এদের পাশাপাশি শারীরিক বৃদ্ধি, অবস্থা এবং আবহাওয়ার প্রভাবেও শক্তির চাহিদা পরিবর্তিত হয়। 
- খাদ্য শক্তির আন্তর্জাতিক একক হিসেবে জুল (Joule) ব্যবহার করা হয়। 
• ১০০০ জুল = ১ কিলোজুল, 
• ১০০০ কিলোজুল = ১ মেগাজুল, 
১ কিলোক্যালরি = ৪১৮০ জুল = ৪.১৮ কিলোজুল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯২৩.
'পাথফাইন্ডার' মঙ্গলপৃষ্ঠে কত সালে অবতরণ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- মার্স পাথফাইন্ডার ১৯৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয়।
- ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মঙ্গল গ্রহের এরেস ভ্যালিসে সফলভাবে অবতরণ করে।
- এটি ছিল নাসার "ফাস্ট, বেটার, চিপার" (Faster, Better, Cheaper) দর্শনের অধীনে পরিচালিত অন্যতম সফল মিশন, যা সীমিত বাজেটে দ্রুত এবং কার্যকর উপায়ে আন্তগ্রহীয় গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
- এই মিশনটি একটি উন্নত ল্যান্ডার এবং সোজার্নার নামের স্বয়ংচালিত রোভার বহন করেছিল, যা মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করা ও পরিচালিত প্রথম রোবোটিক রোভার হিসেবে ইতিহাস গড়ে।
- সোজার্নার ছোট হলেও এর কার্যক্ষমতা ছিল অসাধারণ; এটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে বিভিন্ন শিলা ও মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করে।
- পাথফাইন্ডার মিশন তখন পর্যন্ত অভূতপূর্ব পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিল, যার মধ্যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- পাথফাইন্ডারের সাফল্য নাসাকে পরবর্তী রোভার মিশনগুলোর জন্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
৪,৯২৪.
How many types of COVID-19 vaccines are being approved to use in Bangladesh?
  1. 9
  2. 4
  3. 7
  4. 8
  5. None
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ৯ ধরনের COVID-19 ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কোভিড ভ্যাক্সিন:
- COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV-2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস।
- ২০১৯ সালে চীনের উহান প্রদেশে কোভিড-১৯ প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নজরে আসে।
- এটি অদ্যবধি বাংলাদেশসহ সমস্ত পৃথিবীতে মহামারীর তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে ৯ ধরনের COVID-19 ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- সেগুলো হলো:
• সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া- কোভোভ্যাক্স (নোভাভ্যাক্স ফর্মুলেশন),
• মডার্না- স্পাইকভ্যাক্স,
• Pfizer/BioNTech- Comirnaty,
• গামলেয়া- স্পুটনিক ভি
• জ্যান্সেন (জনসন অ্যান্ড জনসন)- জকোভডেন,
• অক্সফোর্ড/অস্ট্রাজেনেকা- ভ্যাক্সজেভরিয়া,
• সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া- কোভিশিল্ড (অক্সফোর্ড/অস্ট্রাজেনেকা ফর্মুলেশন),
• সিনোফার্ম (বেইজিং)- কোভিলো,
• সিনোভাক- করোনাভাক। 

উৎস: WHO ওয়েবসাইট। [link]
৪,৯২৫.
'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত লবণ কোনটি?
  1. সোডিয়াম গ্লুটামেট
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট
  4. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯২৬.
নিচের কোন ভাইরাসের নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA পাওয়া যায়?
  1. হেপাটাইটিস বি
  2. পোলিও
  3. র‍্যাবিস
  4. রুবেলা
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
• DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স, হেপাটাইটিস- বি ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

• RNA ভাইরাস:

- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, হাম, রুবেলা, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৪,৯২৭.
দুটি রেললাইনের মিলিত স্থানে ফাঁকা রাখা হয় কেন?
  1. চলন্ত রেলগাড়ির শব্দ বাড়াতে
  2. লােহা সাশ্রয় করার জন্য
  3. চলন্ত রেলগাড়ির শব্দ কমাতে
  4. তাপীয় প্রসারণে রেল লাইনের বিকৃত রোধে
ব্যাখ্যা
রেললাইনে দুটি রেলের সংযােগস্থলে ফাঁকা থাকা: 
- সূর্যের তাপে কিংবা যখন ট্রেন চলে তখন চাকার ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপে রেল লাইন প্রসারিত হয়। 
- রেললাইনের দুটি রেলের সংযােগস্থলে ফাঁকা রাখা হয়, যাতে রেললাইন প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গা পায়। 
- এরূপ ফাঁক না রাখলে প্রসারণের ফলে লাইন বেঁকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯২৮.
ইউরিয়া কোথায় তৈরী হয়?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) বৃক্ক
  3. গ) ফুসফুস
  4. ঘ) হৃৎপিণ্ড
  5. ঙ) কোনটিই না
ব্যাখ্যা
মানবদেহে ইউরিয়া তৈরি হয় যকৃতে আর রক্ত থেকে আলাদা করে বের করে দেয় বৃক্ক।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৪,৯২৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোনস্তর রয়েছে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল(Stratosphere): 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল, যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। 
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। 
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোনমণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultra Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না। 
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি। 
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৩০.
কোনটি ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহনকারী মশা?
  1. এনোফিলিস
  2. এডিস
  3. কিউলেক্স
  4. সিসি
ব্যাখ্যা
- Plasmodium নামক অনুজীবের কারণে ম্যালেরিয়া রোগ হয়। 
- অ্যানােফিলিস মশা (Anopheles mosquitoes) এর মাধ্যমে ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে। 

অন্যদিকে, 
- কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া এবং এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহন করে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও WHO ওয়েবসাইট।
৪,৯৩১.
কোন বিজ্ঞানী সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলির ঘূর্ণনগতির সূত্রাবলি নির্ধারণ করেন?
  1. ক) কেপলার
  2. খ) নিউটন
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
১৬১৮ খ্রিস্টাব্দে জার্মান জ্যোতির্বিদ জোহানস কেপলার (Johannes Kepler) সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্ৰ করে অবিরাম ঘুরছে।
এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন। তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে নামকরণ করা হয়েছে কেপলার এর গ্রহ সম্পৰ্কীয় গতিসূত্র

কেপলার এর গ্রহ সম্পৰ্কীয় গতিসূত্রসমূহ:
১. প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২. সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩. একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।

গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলার এর সূত্রাবলী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিউটন বল সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৪,৯৩২.
তাপ প্রয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয় কোনটি?
  1. বায়বীয় পদার্থ
  2. তরল পদার্থ
  3. কঠিন পদার্থ
  4. মিশ্র পদার্থ
ব্যাখ্যা
পদার্থ:

- তাপ প্রয়োগে করলে সব ধরনের পদার্থই প্রসারিত হয়। 
- তবে যে পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ যতো কম সে পদার্থ ততো বেশি প্রসারিত হয়। 
- কঠিন বা তরল পদার্থের তুলনায় বায়বীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম। 
- তাই তাপ প্রয়োগে বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৩৩.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. আয়োডিন
  3. স্নেহ
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।

- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৩৪.
নিচের কোনটি লঘুমস্তিষ্কের অংশ?
  1. মেডুলা
  2. মেরুরজ্জু
  3. থ্যালামাস
  4. হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা

পশ্চাৎমস্তিষ্ক লঘুমস্তিষ্ক নামেও পরিচিত। লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোটো এবং গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থান করে৷

লঘুমস্তিষ্কের অংশ তিনটি,
যথা- সেরিবেলাম, পনস এবং মেডুলা বা সুষুম্নাশীর্ষক।

গুরুমস্তিষ্কের অংশ হলো- সেরিব্রাম, থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস।
মেরুরজ্জু বা সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ডের মধ্যে সংরক্ষিত থাকে। মেরুরজ্জু মস্তিষ্কের অংশ নয়।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৪,৯৩৫.
প্রাণী টিস্যু প্রধানত কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
(ক) আবরণী টিস্যু, 
(খ) যোজক টিস্যু, 
(গ) পেশি টিস্যু এবং 
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৩৬.
'স্লেট' কোন ধরনের শিলার উদাহরণ?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. স্তরীভূত শিলা
ব্যাখ্যা

- জন্মের প্রথমে পৃথিবী ছিলো একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। এর পর আবার তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে বলে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় বলে তাকে প্রাথমিক শিলা ও অস্তরীভূত শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা স্ফটিকার, অপেক্ষাকৃত ভারী, কঠিন ও কম ভঙ্গুর।
- আগ্নেয় শিলায় কোন জীবাশ্ম নেই।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক, সিল, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
- পাললিক শিলার উদাহরণ- চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, জিপসাম, ডায়াটম, ডোলোমাইট ইত্যাদি।
- আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- নিস, মার্বেল, স্লেট, গ্রাফাইট, কোয়ার্টাজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রুপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টাজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হলে নিস।
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৩৭.
কোনটির তারতম্যের কারণে আইসোটোপ তৈরি হয়?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) অনাবিষ্কৃত
ব্যাখ্যা

- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৩৮.
যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) তড়িৎ মোটর
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) ডায়োড
ব্যাখ্যা

- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪,৯৩৯.
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের সান্দ্রতার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. হ্রাস পায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সান্দ্রতা: 
- সান্দ্রতা (Viscosity) হলো প্রবাহীর (তরল/বায়বীয় পদার্থের) বিভিন্ন স্তরে আপেক্ষিক গতির ক্ষেত্রে বাধা। একে প্রবাহীর ঘর্ষণ বলা যায়। 
- তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের সান্দ্রতা বাড়ে এবং তরলের সান্দ্রতা কমে। 

অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের সান্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। 
- গ্যাসের সান্দ্রতা সহগ তার কেলভিন তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
- সান্দ্রতা সহগ/গুনাংকের এস.আই একক হচ্ছে নিউটন-সেকেন্ড/মিটার (Nsm-2 বা Pas), CGS একক হচ্ছে Poise [10 Poise = 1 Nsm-2]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৪,৯৪০.
অপটিক্যাল ফাইবারে দৃশ্যমান আলো ব্যবহার করা হয় না কেন?
  1. এটি রঙ পরিবর্তন করে
  2. এটি খুব শক্তিশালী
  3. এটি সরলরেখায় যায় না
  4. এটি শোষণ বেশি করে 
ব্যাখ্যা

- অপটিক্যাল ফাইবারে দৃশ্যমান আলো ব্যবহার করা হয় না, কারণ দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ফাইবারের জন্য উপযুক্ত নয় এবং অতিরিক্ত শোষণ (absorption) ও বিক্ষেপণের (scattering) কারণে এতে অনেক বেশি সংকেত ক্ষয় বা শোষণ (signal loss) হয়, যা দীর্ঘ দূরত্বে ডেটা প্রেরণে বাধা দেয়; তাই ইনফ্রারেড আলো ব্যবহৃত হয় যা কম শোষিত হয়, ফলে ডেটা অনেক দূরে পাঠানো যায়।

অপটিক্যাল ফাইবার: 

- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। এর ভেতরের অংশকে বলে কোর (core) এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড (clad)। 
- দুটি একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলো হলে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৪১.
সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ৯
  2. খ) ১১
  3. গ) ১৩
  4. ঘ) ১৭
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোনো একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে, প্রোটনের সেই সর্বমোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
- একে 'Z' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = 8.
- সুতরাং অক্সিজেন নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন আছে। 

সোডিয়ামের (Na) এর পারমাণবিক সংখ্যা ১১. 
- তাই K শক্তিস্তরে ২টি, L প্রধান শক্তিস্তরে ৮টি এবং বাকি ১টি ইলেকট্রন M শক্তিস্তরে প্রবেশ করবে।



উৎস: রসায়ন- ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি (বোর্ড বই)।
৪,৯৪২.
শনি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৪৬টি
  2. ২৪৭টি
  3. ২৭৪টি
  4. ২৮২টি
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ২৭৪টি

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি শনি গ্রহের চারপাশে আরও ১২৮টি নতুন চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
- এই আবিষ্কারের ফলে এখন শনির মোট চাঁদের সংখ্যা ২৭৪। 

উৎস: NASA Science (.gov)
৪,৯৪৩.
একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নিলে ঘড়িটি—
  1. ক) স্লো হবে
  2. খ) ফাস্ট হবে
  3. গ) ঠিক সময় দেবে
  4. ঘ) কোনো রকম প্রভাবিত হবে না
ব্যাখ্যা
একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি
৪,৯৪৪.
কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না।
• অপরদিকে অক্সিজেন আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে।
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস অগ্নি নির্বাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
• বাতাসের নাইট্রোজেন (N2) গ্যাস মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে।

উল্লেখ্য,
• প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ- হীরক (কার্বনের রূপভেদ)।
• গ্রাফাইট অধাতু হলেও মুক্ত ইলেকট্রন থাকার দরুন এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
• পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয়।
• ড্রাই আইস হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড। শুষ্ক বরফ তৈরিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
• কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অত্যাধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়।
• সমআয়তনের হাইড্রোজেন এবং কার্বন মনোক্সাইডের (CO) মিশ্রণকে ওয়াটার গ্যাস (CO+H2) বলে।
• হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারে ৯৩% অক্সিজেন থাকে।
• সমুদ্রের পানির তুলনায় নদীর পানিতে অক্সিজেন বেশি থাকে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
৪,৯৪৫.
সব প্রকৃত এবং অপ্রকৃত ফলকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ফল:
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে, তাকে ফল বলে। 

• শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন: আম, জাম। 

• গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয়, তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। যেমন: আপেল, চালতা ইত্যাদি। 

• সব প্রকৃত এবং অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: সরল ফল, গুচ্ছ ফল এবং যৌগিক ফল।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪,৯৪৬.
মধ্যকর্ণে আছে-
  1. ক) ম্যালিয়াস
  2. খ) ইনকাস
  3. গ) স্টেপিস
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
পিনা, কর্ণকুহর আর কর্ণপটহ আছে বহিঃকর্ণে। ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস নিয়ে মধ্যকর্ণ গঠিত। ইউট্রিকুলাস এবং স্যাকুলাস অন্তঃকর্ণের অংশ।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪,৯৪৭.
কিসের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন?
  1. আলোর
  2. শব্দের
  3. তাপের
  4. বেতারের
ব্যাখ্যা
- অন্যান্য অপশনগুলোর তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে 'শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়' কে নেওয়া হয়েছে। 

শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি। বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে আমাদের কানে প্রবেশ করে। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- যেহেতু, শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চারিত হতে পারে না, তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

অন্যদিকে, 
- তাপ পরিবহন ও তাপ পরিচলনের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বিকিরণের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। 
- শূন্য মাধ্যমেই আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি। আলোক রশ্মি শূন্য মাধ্যম থেকে কোনো মাধ্যমে প্রবেশ করলে আলোর বেগ কমে যায়। 
- বেতার হলো তার ব্যতীত যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এতে তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ বা গ্রহণ করা হয়। 

উৎস: সপ্তম, বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৪৮.
কোনটি একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান?
  1. আগ্নেয়গিরির ছাই
  2. গাড়ির ধোঁয়া
  3. কলকারখানার বর্জ্য
  4. কৃষিজ রাসায়নিক
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরির ছাই একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান, যেটি কোনও মানব ক্রিয়ার ফল নয়।

-  আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই, গ্যাস এবং লাভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বায়ুমণ্ডলে ও পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক দূষণ সৃষ্টি করে।
-  তবে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয় এবং প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের অংশ।

অপরদিকে, 
গাড়ির ধোঁয়া: 
- এটি একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উপাদান।
- বিভিন্ন যানবাহন পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে। জ্বালানি পোড়ালে কার্বন মনোঅক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) নির্গত হয়।
- এসব উপাদান বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

• কলকারখানার বর্জ্য: 
- এটিও একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উৎস।
- শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ফ্যাক্টরি থেকে বর্জ্য পদার্থ যেমন– রাসায়নিক, তেল, ভারী ধাতু (lead, mercury), এবং বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে নিক্ষিপ্ত হয়।
- এগুলো জলদূষণ, মৃত্তিকা দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

কৃষিজ রাসায়নিক:
- এটি মানুষ কর্তৃক চাষের জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদান যেমন– সার (fertilizer), কীটনাশক (pesticide), আগাছানাশক (herbicide)।
- এইসব রাসায়নিক উপাদান মাটির গুণমান নষ্ট করে, ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে, এবং খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত পদার্থ যোগ করে।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
৪,৯৪৯.
'ফেমটো' উপসর্গের মান কোনটি?
  1. 10-9
  2. 10-12
  3. 10-15
  4. 10-18
ব্যাখ্যা

• 'ফেমটো' (f) উপসর্গের মান হচ্ছে 10-15  ।  

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৫০.
ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক কোনটি? 
  1. 1 H.P. = 746 W
  2. 1 H.P. = 550 W
  3. 1 H.P. = 3.6 × 106 W
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ওয়াট: 
- 1 সেকেন্ডে 1 জুল (J) কাজ করার ক্ষমতাকে 1 ওয়াট (W) বলে। 
∴ 1 W = 1 J s -1
1 কিলোওয়াট (kW) = 1000 ওয়াট (W) 
1 মেগাওয়াট (MW) = 1000 কিলোওয়াট (kW) = 106 W = 106 Hs-1

অশ্বক্ষমতা: 
- এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর পূর্বে ক্ষমতার একটি ব্যবহারিক একক ছিল অশ্বক্ষমতা। 
- ওয়াট-এর সাথে অশ্বক্ষমতার সম্পর্ক হলো - 
1 H.P. = 746 Watt

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৪,৯৫১.
"পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক" এটি সর্বপ্রথম কে বলেন?
  1. প্লেটো
  2. ওয়েবার
  3. নরম্যান
  4. গিলবার্ট
ব্যাখ্যা
চুম্বকত্ব: 
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্ম বিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং যাকে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্যাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দিকে (উত্তর -দক্ষিণে) মুখ করে থাকে, তাকেই সাধারণ ভাবে চুম্বক বলা হয়।
- যে ধর্মের জন্য একটি চুম্বক অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে সেই ধর্মকে বলা হয় চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের একটি ভৌত ধর্ম। 
- কোন পদার্থকে কৃত্রিম উপায়ে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা ইত্যাদির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।
- আর যেসব বস্তু চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত (বা বিকর্ষিত) হয় অর্থাৎ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের কে চৌম্বক পদার্থ (Magnetic substance) বলা হয়। যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ।
- একটি চুম্বক শলাকাকে এর ভারকেন্দ্রে অনুভূমিকভাবে ঝুলিয়ে দিলে শলাকাটি সর্বদাই উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে।
- চুম্বকের এই অবস্থায় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রানী এলিজাবেথের গৃহ চিকিৎসক ডঃ গিলবার্ট সর্বপ্রথম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একটি চুম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে অর্থাৎ পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক। 
- পৃথিবীর এ চুম্বকত্বকে ভূ-চুম্বকত্ব বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৫২.
কোন ধরনের লাইপোপ্রোটিন শরীরের জন্য উপকারী?
  1. HDL
  2. IDL
  3. LDL
  4. VLDL
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল একটি জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড, এবং এটি স্টেরয়েড শ্রেণির একটি প্রধান উদাহরণ। 
- মানুষের প্রতিটি কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল বিদ্যমান থাকে। 
- কোলেস্টেরল যকৃৎ (লিভার) এবং মগজে (মস্তিষ্ক) সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সঙ্গে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলা হয়। 

- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিনকে দুটি প্রধান প্রকারে ভাগ করা হয়। 
ক) উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (HDL - High Density Lipoprotein): 
- HDL শরীরের জন্য উপকারী, কারণ এটি কোলেস্টেরলকে রক্তনালী থেকে নিয়ে যকৃতে ফিরিয়ে আনে। 

খ) নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (LDL - Low Density Lipoprotein): 
- LDL শরীরের জন্য ক্ষতিকর, কারণ এটি রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের কারণ হতে পারে। 

- রক্তে LDL এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কোলেস্টেরলের আধিক্য দেখা যায়, যা হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। 
- HDL এর পরিমাণ বাড়ালে তা শরীরের জন্য উপকারী, কারণ এটি রক্তনালী থেকে কোলেস্টেরল সরিয়ে নেয়। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ সাধারণত ১০০-২০০ mg/dl এর মধ্যে থাকে। 
- কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগ এবং স্ট্রোক-এর ঝুঁকি বাড়ায়। 
- করোনারি থ্রম্বোসিস হলো হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে জমাট বাঁধা রক্ত, যা হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস হলো মস্তিষ্কের রক্তনালিতে জমাট বাঁধা রক্ত, যা স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৫৩.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে প্রধানত কোন উপাদান থাকে?
  1. সোনা
  2. গ্যালিয়াম
  3. সিলিকন
  4. তামা
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হলো একটি ছোট চিপ যা বৈদ্যুতিক সার্কিটের বিভিন্ন উপাদান একত্রিত করে। এতে প্রধানত সিলিকন ব্যবহার করা হয় কারণ সিলিকন আধা-পরিবাহী হিসেবে কাজ করে এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে উপযুক্ত। IC-তে ছোট ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটার ইত্যাদি সিলিকন চিপের ভিতরে একত্রিত থাকে, যা বিদ্যুৎ সংকেত নিয়ন্ত্রণ ও প্রসেসিং সক্ষম করে। অন্য উপাদান যেমন সোনা বা তামা সংযোগের জন্য ব্যবহার হতে পারে, কিন্তু মূল উপাদান হিসেবে সিলিকন অপরিহার্য।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) সিলিকন।

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হল একটি ছোট আকারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে অসংখ্য ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একটি একক চিপে যুক্ত থাকে। একে সিলিকন চিপও বলা হয়। 
- পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে (Wafer) অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো।
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয়। এভাবেই আইসি তৈরির যাত্রা শুরু হয়। 

• IC এর প্রধান উপাদান:
→ সিলিকন (Silicon):
- এটি সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করে।
- সিলিকন সহজে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা IC তৈরির জন্য একে উপযুক্ত।

• সিলিকন ব্যবহারের কারণ:
- এটির সহজলভ্যতা বেশী। 
- এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা। 
- এর বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য IC তৈরির জন্য উপযোগী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 

৪,৯৫৪.
তাপমাত্রার বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. এটি অনুভব করা যায়
  2. এটি পরিমাপযোগ্য
  3. এটি এক ধরনের শক্তি
  4. এটি বল প্রয়োগে বাঁধা দেয়
ব্যাখ্যা

তাপ হলো এক প্রকার শক্তি, যার কারণে কোনো কিছুকে ঠান্ডা বা গরম হিসাবে অনুভব করা যায়। এটি এক ধরনের শক্তি- কোনো পদার্থ নয়। তাই এটি বল প্রয়োগে কোন বাঁধা প্রদান করে না।
তাপমাত্রা কোনো কিছুর তাপীয় অবস্থাকে প্রকাশ করে৷ তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়।
তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য সেলসিয়াস স্কেল, ফারেনহাইট স্কেল, কেলভিন স্কেল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের স্কেল রয়েছে।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

৪,৯৫৫.
IPCC-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা কত ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়েছে?
  1. ০.৫° সেলসিয়াস
  2. ০.১° সেলসিয়াস
  3. ০.৬° সেলসিয়াস
  4. ১.০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের প্রভাব অনেক মারাত্মক এবং তা ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। 
- পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে প্রায় ০.৬° সেলসিয়াস বেড়েছে। 
- ১৯৬১-২০০৩ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে প্রতি বছরে ১.৮ সেন্টিমিটার করে বেড়েছে। 
- ১৯৯৫-২০০৬ পর্যন্ত ১২ বছরের মধ্যে ১১ বছরই প্রচন্ড গরম পড়েছে। পরবর্তী দুই দশকে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা প্রতি দশ বছরে গড়ে ০.২°-০.৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে। 
- ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১°-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। 
- প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়, আইলা, সিডর, নার্গিস, ক্যাটরিনার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ আরো ঘন ঘন হবে এবং তার মাত্রা আরো ভয়ানক হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৫৬.
কোন হরমোনের প্রভাবে উদ্ভিদের কোষের সাইটোকাইনেসিস ঘটে?
  1. ক) ইথিলিন
  2. খ) সাইটোকাইনিন
  3. গ) জিবেরেলিন
  4. ঘ) অক্সিন
ব্যাখ্যা
সাইটোকাইনিনঃ
এই ফাইটোহরমােন বা উদ্ভিদ হরমােনটি ফল, শস্য এবং ডাবের পানিতে পাওয়া যায়। কোনাে কোনাে উদ্ভিদের মূলেও এদের পাওয়া যায়। সাধারণভাবে এটি বিভিন্ন ঘনত্বে অক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে কোষ বিভাজনকে উদ্দীপিত করে।
কোষবিভাজনের সময় সাইটোকাইনিন হরমোনের প্রভাবে কোষের সাইটোকাইনেসিস ঘটে।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৪,৯৫৭.
How many chromosomes are in each cell?
  1. 22
  2. 24
  3. 40
  4. 46
  5. 48
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম:
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু ।
- Strasburger নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজম আবিষ্কার করেন ১৮৭৫ সালে।
- তিনি এর নামকরণ করেননি।
- ১৮৮৮ সালে Weldeyer সর্বপ্রথম ক্রোমোজম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম জোড়াকে 'X' এবং 'Y' নামে চিহ্নিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৫৮.
মানবদেহে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান কোথায়?
  1. অগ্নাশয়ে
  2. গলার উপরের অংশে উভয় পাশে
  3. গ্রীবা অঞ্চলে
  4. মস্তিষ্কের নিচের অংশে
ব্যাখ্যা
পিটুইটারী গ্রন্থি- এটি মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত। এ গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা প্রভুগ্রন্থি বলে। কারণ এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যা যেমন বেশি তেমন বিভিন্ন গ্রন্থির উপর এসব হরমোন এর প্রভাবও বেশি। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শক্তিশালী ও সবচেয়ে ছোট গ্রন্থি। এ গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিন, এডরেনোকর্টিকোট্রপিন, থাইরোট্রপিন, প্রোল্যাকটিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়।

থাইরয়েড গ্রন্থি- গলার উপরের অংশে উভয় পার্শ্বে অবস্থিত। প্রজাপতি আকৃতির চোখ বের হয়ে আসা রোগটি এ গ্রন্থির সমস্যার কারণে হয়। আয়োডিন এর অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় ও গলগন্ড গঠন করে। বিপাকের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এ গ্রন্থি থেকে ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন, থাইরক্সিন, ক্যালসিটোনিন এ তিনটি হরমোন নিঃসৃত হয়।

প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি- দু’জোড়া প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাইরয়েড গ্রন্থির পেছনে এবং আংশিক থাইরয়েড গ্রন্থির মধ্যে অবস্থিত। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম প্যারাথাইরক্সিন হরমোন। মূলতঃ শরীরের ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইমাস গ্রন্থি- এ গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। শিশুকালে এ গ্রন্থি বিকশিত হতে থাকে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছোট হয়।
এ গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।

আইলেটস্ অফ ল্যাংগারহ্যানস- এ গ্রন্থির অবস্থান অগ্ন্যাশয়ের মাঝে। এ গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন, গুকাগণ প্রভৃতি হরমোন নিঃসৃত হয় যা শরীরের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি- এ গ্রন্থি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং ছেলেদের শুক্রাশয়ে অবস্থিত। জনন অঙ্গ হতে নিঃসৃত হরমোন দেহের পরিণত বয়সের লক্ষণসমূহ বিকশিত করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও প্রাণীর জনন অঙ্গের বৃদ্ধি, জননচক্র ও যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জনন অঙ্গ হতে পরিণত বয়সের পুরুষে টেস্টোস্টেরন ও স্ত্রী দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৫৯.
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হলোঃ ১) ক্লোরোফিল, ২) আলো, ৩) পানি এবং ৪) কার্বন ডাইঅক্সাইড।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৬০.
মানবদেহে আমিষ পরিপাকের সর্বশেষ পরিণতি কী?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) অ্যামিনো এসিড
  3. গ) ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল
  4. ঘ) ফ্রুক্টোজ
ব্যাখ্যা
খাদ্যের তিনটি উপাদান: শর্করা, প্রোটিন, স্নেহ বা চর্বি
পরিপাকের ফলে মানবদেহে এই ৩ ধরনের খাদ্য উপাদান এর পরিনত রূপ হলো:
- শর্করা = গ্লুকোজ
- প্রোটিন = অ্যামিনো এসিড
- স্নেহ বা চর্বি = ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে


উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
৪,৯৬১.
উপকূলবর্তী অঞ্চলে জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়?
  1. ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর
  2. ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর
  3. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর
  4. ৮ ঘণ্টা ১৬ মিনিট পর
ব্যাখ্যা
•  উপকূলে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর ভাঁটা হয়।

• জোয়ার-ভাঁটা:

- সমুদ্রের একই স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা ঘটে।
- সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নিচে নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলা হয়।
- পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রগত শক্তির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার এবং দু’বার ভাঁটা ঘটে।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাঁটা অধিক অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।
- তবে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নদীপথে সমুদ্রের পানি প্রবাহিত হলে এবং নেমে গেলে, তাকে জোয়ার ভাঁটা বলা হয় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৬২.
বজ্রপাতের সময় মাটিতে কোন উপাদানের বৃদ্ধি ঘটে?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে, বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে। নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ। 
- বায়ুমন্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; cals.arizona.edu
৪,৯৬৩.
নিচের কোনটি ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী নয়?
  1. হাইড্রোফ্লুরোকার্বন
  2. সালফার হেক্সা ক্লোরাইড
  3. নাইট্রাস অক্সাইড
  4. মিথেন
ব্যাখ্যা

ওজোন স্তর: 
- বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার নামক স্তরে ওজোন নামক গ্যাসের একটি পাতলা স্তর রয়েছে যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর অতিবেগুণি রশ্মি থেকে রক্ষা করে।
- এটি ওজোন স্তর নামে পরিচিত।
- পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ওজোন স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ: 
বিভিন্ন কারণে ওজোন স্তর ধ্বংস হচ্ছে। যথা:
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ (কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন টেট্টা ক্লোরাইড, সালফার হেক্সা ক্লোরাইড) সমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু সিএফসি গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- পারমানবিক পরীক্ষার জন্য পারমাণবিক বিস্ফোরণে ওজোন স্তরের ক্ষতি হয়। বিমান চলাচলের জন্য ওজোন স্তরের ক্ষতি হচ্ছে।
- নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার সৌরশক্তির প্রভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নাইট্রোজেন অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি করে। নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের অণু অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে অণু ভেঙে রেডিকেলে পরিণত হয় এবং ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে। এছাড়াও জৈব প্রাণীর দহনের ফলে নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগ নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি হয়।
- মিথেন গ্যাস ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।

উল্লেখ্য, হাইড্রোফ্লুরোকার্বনস, সালফার হেক্সাফ্লুরাইড এবং পারফ্লুরোকার্বনস গ্যাসসমূহ গ্রিনহাউজ গ্যাস হিসেবে বিবেচিত হলেও ওজোনস্তরের ক্ষয়ের জন্যে দায়ী নয়।

উৎস:
১. পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. ব্রিটানিকা। [লিংক] 

৪,৯৬৪.
নিচের কোন পদার্থের বিজারণ ঘটে?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. কার্বন
  3. ফ্লোরিন
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- জারক পদার্থ অপর পদার্থকে জারিত করে, কিন্তু নিজে বিজারিত হয়। ক্লোরিন, ফ্লোরিন ইত্যাদি প্রায় সকল অধাতু হলো জারক।
- বিজারক পদার্থ অপর পদার্থকে বিজারিত করে, কিন্তু নিজে জারিত হয়। ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি প্রায় সকল ধাতু এবং কার্বন হলো বিজারক পদার্থ।
সুত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪,৯৬৫.
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. নিউক্লিয়াসবিহীন
  2. প্রাক-কেন্দ্রিক
  3. সুকেন্দ্রিক
  4. এককোষী
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো নিউক্লিয়াসহীন, অসবুজ, এককোষী ও প্রাক-কেন্দ্রিক অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(১) কক্কাস,
(২) ব্যাসিলাস,
(৩) স্পাইরিলাম এবং
(৪) কমা আকৃতি।

• ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:

- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে।
- দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৪,৯৬৬.
বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার - 
  1. সমানুপাতিক
  2. ব্যস্তানুপাতিক
  3. বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পার্থক্য: 
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∞ √T 
এখানে, তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়। কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। 
- তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৬৭.
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব কোন দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাখ্যা করে? 
  1. ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি
  2. জোয়ার-ভাটা ও মেরু-প্রবাহ
  3. বন্যা ও খরা
  4. ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাত
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের মূল ধারণা হলো ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত যাদেরকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়, আবার কখনো কখনো একে অন্যের দিকে আসে। 
- প্লেটগুলো কখনো কখনো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

- দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়, এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪,৯৬৮.
কোন পটাশ এলাম নামে পরিচিত?
  1. কস্টিক সোডা
  2. ফিটকিরি
  3. সেভিং সোপ
  4. ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা ফিটকিরি।
- রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] (পটাশিয়াম সালফেট এলুমিনিয়াম সালফেট, ২৪ অণু পানি);
•একে পটাশ এলামও বলা হয়ে থাকে।

• ফিটকিরি:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ।
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
-অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ; রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৬৯.
শতকরা হিসেবে সমুদ্রের পানিতে লবণের পরিমাণ কত?
  1. ক) ২-৩%
  2. খ) ২.৫-৩.৫%
  3. গ) ৩-৩.৫%
  4. ঘ) ২.৫-৩%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।
৪,৯৭০.
গাছের খাদ্য তালিকায় আছে- 
  1. N, P, K, S ও Zn
  2. Na, P, K, S ও Zn
  3. N, B, K, S ও Al 
  4. N, P, K, S ও Al
ব্যাখ্যা
- গাছের খাদ্য তালিকায় আছে- N, P, K, S ও Zn. 

অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

২। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৭১.
আমাদের ধমনীর রক্তের pH কত?
  1. ক) ৭.২
  2. খ) ৭.৩
  3. গ) ৭.৪
  4. ঘ) ৭.৫
  5. ঙ) উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
আমাদের ধমনীর রক্তের pH প্রায় ৭.৪ । এর সামান্য হেরফের হলে (~ ০.৪) মারাত্বক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৪,৯৭২.
নিচের কোন কয়লায় কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. বিটুমিনাস
  2. অ্যানথ্রাসাইট
  3. লিগনাইট
  4. কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ। পরবর্তীতে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়। 

- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা: 
১। অ্যানথ্রাসাইট: অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 

২। বিটুমিনাস: বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৭৩.
কোন রঙের বস্তু সকল আলো শোষণ করে নেয়?
  1. ক) সাদা রঙের
  2. খ) কালো রঙের
  3. গ) সবুজ রঙের 
  4. ঘ) লাল রঙের
ব্যাখ্যা

কালো রঙের বস্তু সকল আলো শোষণ করে নেয়। 

- কোনো বস্তু তার নিজস্ব রঙে দেখা যায়, কারণ নির্দিষ্ট রঙের বস্তুটি নিজের রঙ ছাড়া সকল রঙ শোষণ করে এবং নিজের রঙ প্রতিফলিত করে। তাই বস্তু তার নিজের রঙে দেখা যায়।
- সাতটি রঙের সমন্বয়ে সাদা রঙ হয়, সব রঙের অনুপস্থিতির জন্য কালো রঙ হয়।
- যে বস্তু আলোর সব রঙ প্রতিফলিত করে তা সাদা দেখায়। কোনো বস্তু যখন সমস্ত আলো শোষণ করে তখন তাকে কালো দেখায়। যেমন - আলোর সকল বর্ণ প্রতিফলিত করে বলে বরফ সাদা দেখায়। আবার, দিনের বেলা সূর্যালোকে গাছের পাতা সবুজ দেখায় কিন্তু লাল আলোতে গাছের পাতা কালো বলে মনে হয়।
- দিনে গাছের সবুজ পাতা সূর্যালোকের সবুজ বাদে সাতটি বর্ণের সবকটিই শোষণ করে ফলে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতা লাল আলোকে শোষণ করে নেয় বলে কোনো আলোই প্রতিফলিত হয় না তাই লাল আলোতে সবুজ পাতা কালো দেখায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 

৪,৯৭৪.
ডায়ালাইসিস কেন করা হয়? 
  1. বৃক্ক বিকল হলে রক্ত পরিশোধনের জন্য
  2. রক্তের প্লাজমা পরিবর্তনের জন্য
  3. রক্তের লোহিত কণিকা বৃদ্ধি করার জন্য
  4. রক্তে অক্সিজেন বৃদ্ধির জন্য 
ব্যাখ্যা

ডায়ালাইসিস (Dialysis): 
- বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধন করার নাম ডায়ালাইসিস। 
- সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। 
- এই মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। 
- ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। 
- পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে। 
উল্লেখ্য, 
- ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৬, সংস্করণ)।

৪,৯৭৫.
শিশুর জন্মের পর কত দিন বয়স পর্যন্ত তাকে নবজাতক বলা হয়?
  1. ২১ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
শিশুর জন্মের পর ১৪ দিন বয়স পর্যন্ত তাকে নবজাতক বলা হয়।
শিশুর জন্মের পর পরই তাকে শাল দুধ দিতে হয় এবং সঠিক পরিমাণে মায়ের দুধ অর্থাৎ পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হয়।
এই সময় তাকে প্রয়োজনীয় সেবা ও টিকা প্রদান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

আবার,
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জন্মের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত বয়সী শিশুকে নবজাতক বলা হয়।
তবে, যেহেতু অপশনে ২৮ দিন নেই, তাই সঠিক উত্তর হিসাবে বোর্ড বইকে প্রাধান্য দিয়ে ১৪ দিনকে সঠিক উত্তর ধরা হচ্ছে।
৪,৯৭৬.
কোনটি শক্তি পরিমাপের একক নয়?
  1. ক) Nm
  2. খ) Joule
  3. গ) Unit
  4. ঘ) Watt
ব্যাখ্যা
শক্তি: 
- কাজ করার সামর্থকে শক্তি বলে।
- শক্তি থাকলেই কাজ হয়। তাই কাজ  শক্তি একই জিনিস।

কাজ: কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে যদি বলের দিকে বস্তুর সরণ হয় তাহলে বল ও সরণের গুণফলকে কাজ বলে।

W = F.s

একক: 
Nm, Joule, Unit( বিদ্যুৎ শক্তি পরিমাপের একক)।

১ unit = ৩.৬ × ১০ joule

উৎস: মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই।
৪,৯৭৭.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত সূত্র প্রদান করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) এডুইন হাবল
  3. গ) জর্জ ল্যামেটার
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে-
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৭৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সুপ্ততাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না করে শুধু অবস্থার পরিবর্তন করে
  2. খ) সুপ্ততাপ পদার্থের আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করে
  3. গ) পদার্থের অবস্থা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা

আমরা জেনেছি তাপ প্রয়োগ করলে পদার্থের তাপমাত্রা বাড়ে একথা সব সময় সত্য নয়। তাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলেও বরফ গলা শুরু হয়ে সম্পূর্ণ বরফ পানি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ে না, গলনাঙ্কে (0°C) স্থির থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত তাপ বরফের অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয় তাই তাপমাত্রা বাড়ে না।

আবার একইভাবে পানির তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে (১০০°C) পৌঁছার পর সম্পূর্ণ পানি বাষ্পে রূপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা স্ফুটনাঙ্কে স্থির থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্ত তাপ পানির অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয় তাই তাপমাত্রা বাড়ে না।

যে তাপ পদার্থের তাপমাত্রার পরিবর্তন না ঘটিয়ে কেবল অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় তাকে ঐ পদার্থের অবস্থা পরিবর্তনের সুপ্ত তাপ বলে। এই সুপ্ত তাপ দুই পর্যায়ের : গলনের সুপ্ত তাপ এবং বাষ্পীভবনে সুপ্ত তাপ।

এই তাপ শক্তি পদার্থের তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না, কিন্তু আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করে। এ কারণে কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল বা বন্ধন শিথিল হয়ে তরলে রূপান্তরিত হয়। আবার তরল অণুগুলোর আন্তঃআণবিক বন্ধন ছিন্ন করে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। আসলে এই তাপ শক্তি বস্তুর অবস্থা রূপান্তরে ব্যয় হয়।
এখানে কঠিন থেকে তরলে এবং তরল থেকে বায়বীয় অবস্থায় রূপান্তর হয়।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪,৯৭৯.
১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° C বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপ কত ক্যালরি?
  1. ১.০ ক্যালরি
  2. ২.৪ ক্যালরি
  3. ০.১ ক্যালরি
  4. ১০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা

তাপ: 
- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস.আই (S.I) একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৮০.
ভোল্টমিটার কোন যন্ত্রের সাহায্যে বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে?
  1. অ্যামিটার
  2. থার্মোমিটার
  3. ইলেকট্রোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার
ব্যাখ্যা
ভোল্টমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হবে, ভোল্টমিটারকে সেই দুই বিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- ভোল্টমিটারে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে যার সাহায্যে বিভব পার্থক্য পরিমাপ করা যায়। 
- এর বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি ভোল্ট এককে দাগাঙ্কিত একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হয় ভোল্টমিটারটিকে সেই দুই কিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- তড়িৎ কোষ বা অ্যামিটারের মতো ভোল্টমিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৯৮১.
বিউটেনের অণুতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা কত?  
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

• বিউটেন-এর অণুতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা হলো ৪ টি।

• হাইড্রোকার্বন:  
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন):  
- যেসব হাইড্রোকার্বনে কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র একক বন্ধন থাকে এবং অবশিষ্ট যোজনী হাইড্রোজেন দিয়ে পূর্ণ থাকে, তাদের অ্যালকেন বলে।  
- সাধারণ সংকেত: CnH2n + 2 (যেখানে n = ১, ২, ৩, ৪, …)

• বিউটেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন।  
বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত: C4H10
অর্থাৎ এটি ৪টি কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এর অণুতে ৪টি কার্বন ও ১০টি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে।

তথ্যসূত্র:
রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৯৮২.
1 amu ভরের সমতুল্য শক্তি কত?
  1. ক) 931 MeV
  2. খ) 93.4 MeV
  3. গ) 943 MeV
  4. ঘ) 980 MeV
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৪,৯৮৩.
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ কী? 
  1. এক ধরনের বিষ
  2. এক ধরনের ড্রাগ
  3. এক ধরনের কীটনাশক
  4. এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়।  
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে।
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়।
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।
৪,৯৮৪.
নিচের কোনটি সরল টিস্যুর উদাহরণ নয়?
  1. জাইলেম টিস্যু
  2. কোলেনকাইমা টিস্যু
  3. স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু
  4. পারেনকাইমা টিস্যু
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু (Simple tissue):
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে।
- কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
- প্যারেনকাইমা,
- কোলেনকাইমা এবং
- স্ক্লেরেনকাইমা।

অন্যদিকে,
- জটিল টিস্যু (Complex tissues) বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে।
- জটিল টিস্যু দুই ধরনের,
- জাইলেম এবং
- ফ্লোয়েম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৮৫.
নিম্নের কোনটি 'প্রভুগ্রন্থি' নামে পরিচিত?
  1. ক) থাইরয়েড গ্রন্থি
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) এড্রেনাল গ্রন্থি
  4. ঘ) পিনিয়াল
ব্যাখ্যা
- প্রাণীদের দেহে নালিবিহীন কতগুলো গ্রন্থি থাকে ।
- এসব গ্রন্থি থেকে হরমোন নামক জৈব জটিল রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন হয়ে সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়।
- উৎপত্তিস্থল থেকে অতি সূক্ষ্মমাত্রায় হরমোন রক্তের মাধ্যমে অন্যত্র প্রবাহিত হয়ে দেহের স্বাভাবিক ও সুসংহত বৃদ্ধি, জনন ও নানাবিধ শরীরবৃত্তীয় কাজ সম্পাদন করে।
- হরমোন নিঃসরণকারী এই গ্রন্থিগুলোকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। নালি নেই বলে এদেরকে নালিবিহীন গ্রন্থিও বলা হয়ে থাকে।
- পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত একটি গোলাকার ছোট গ্রন্থি।
- এ গ্রন্থি থেকে সর্বাধিক সংখ্যক হরমোন ক্ষরিত হয়।
- এসব হরমোন অন্যান্য প্রায় সকল গ্রন্থির উপর প্রভাব বিস্তার করে কাজের সমন্বয় ঘটায়, এজন্য এ গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি  বলা হয়।



সূত্র: ২০২ পৃষ্ঠা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৯৮৬.
Natrium কার ল্যাটিন নাম?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম এর ল্যাটিন নাম Natrium যা থেকে এর প্রতীক Na এসেছে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪,৯৮৭.
ওজোন গ্যাস বায়ু মণ্ডলের কোন স্তরে বেশি পরিমাণে আছে?
  1. ক) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  2. খ) ট্রপোস্ফিয়ার
  3. গ) আয়নোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৪,৯৮৮.
ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায় কে?
  1. ক) মাছ
  2. খ) পাখি
  3. গ) কেঁচো
  4. ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা
- কেঁচো ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে।
- এরা মাটির নিচে বাস করে।
- কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ।
- এরা ফসলের জমি ওলট-পালট করে উপরের মাটি নিচে ও নিচের মাটি উপরে তুলে আনে।
- তাই কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৮৯.
কোন অঙ্গে মূত্র তৈরি হয়?
  1. বৃক্ক
  2. পাকস্থলী
  3. ফুসফুস
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
• মানুষের  মূত্র তৈরি হয় বৃক্কে।

• মানুষের বৃক্ক:

- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের | ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

উৎস: জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৪,৯৯০.
জারক পদার্থ -
  1. ইলেকট্রন ত্যাগ করে
  2. ইলেকট্রন গ্রহণ করে
  3. অন্যকে বিজারিত করে
  4. নিজে জারিত হয়
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪,৯৯১.
দ্রাঘিমারেখাগুলো এক-একটি -
  1. সরলরেখা
  2. পূর্ণবৃত্ত
  3. অধিবৃত্ত
  4. অর্ধবৃত্ত
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমারেখা (Longitude): 
- নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে সকল রেখা কল্পনা করা হয়েছে, সেগুলোই হলো দ্রাঘিমারেখা।
- এ রেখাগুলো পৃথিবীর পরিধির অর্ধেকের সমান। অর্থাৎ এক-একটি অর্ধবৃত্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪,৯৯২.
নিচের কোনটি ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. ইথিলিন
  2. থাইরক্সিন
  3. অক্সিন
  4. অ্যাবসিসিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
অক্সিন (Auxins):
- ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে অক্সিন।
- সার্থক পলিনেশনের পরপরই গর্ভাশয়ে অক্সিন তৈরি বেড়ে যায়।
- পরাগনালিকা যখন বাড়তে থাকে তখন পরাগনালিকা হতে একপ্রকার এনজাইম নিঃসৃত হয়, যার প্রভাবে ট্রিপটোপাফ্যান অক্সিন এ পরিবর্তিত হয়।

অক্সিনের শারীরবিজ্ঞানিক প্রভাব:
১। অক্সিনের প্রভাবে কোষ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।
২। অক্সিন উদ্ভিদ কর্তৃক অধিক পানি গ্রহণে সহায়তা করে। 
৩। অক্সিন শীর্ষমুকুলের বৃদ্ধিতে প্রাধান্য সৃষ্টি করে। 
৪। অক্সিন মূল সৃষ্টি সূচনা করে। এতে মূলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
৫। পরাগায়ন ও নিষেক ছাড়া ফল সৃষ্টিতে অব্জিন সহায়তা করে।
৬। অক্সিন শ্বসনের হার বৃদ্ধি করে।
৭। অক্সিনের প্রভাবে পাতা ও ফলের বোঁটায় অ্যাবসিশন স্তর সৃষ্টিতে বাধার সৃষ্টি হয়, তাই পাতা ও ফল ঝরে যায় না।

অন্যদিকে,
- থাইরক্সিন: এটি প্রাণীদের থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন, যা বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে।
- অ্যাবসিসিক অ্যাসিড: এটি উদ্ভিদের শীতল অবস্থায় থাকা (dormancy) এবং স্টোমাটা বন্ধ রাখতে সহায়তা করে, যা শুষ্ক অবস্থায় পানির ক্ষতি কমায়।
- ইথিলিন: এটি একটি গ্যাসীয় হরমোন, যা ফল পাকানো এবং পাতার ঝরার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৪,৯৯৩.
নিচের কোনটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া?
  1. লিগনাইট কয়লা → পিট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
  2. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → পিট কয়লা
  3. পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা
  4. পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- প্রাকৃতিক কারণে গাছপালা ভূগর্ভে মাটির নিচে চাপা পড়ে। 
- সুদীর্ঘকাল যাবৎ অধিক চাপ ও তাপের প্রভাবে ঐ চাপাপড়া গাছপালার মধ্যে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তখন স্তরীভূত ও কঠিন পদার্থরূপে পরিণত ঐ দহনযোগ্য জীবাশ্মকে কয়লা বলে। 
- ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ হলো পিট কয়লা। 
- তারপর ধারাবাহিক রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লিগনাইট কয়লা, বিটুমিনাস কয়লা ও শেষে উন্নত অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৪,৯৯৪.
পানি দেহে কোন রোগের কারণ হতে পারে যখন অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়?
  1. এসিডোসিস
  2. নিউমোনিয়া
  3. হেপাটাইটিস
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% হচ্ছে পানি। 
- মানুষের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেক দিনই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- পানি দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। 
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৯৯৫.
আমাশয়ে কোন খাদ্য হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে? 
  1. মাংস 
  2. ফলমূল 
  3. দুগ্ধজাত দ্রব্য 
  4. শাকসবজি 
ব্যাখ্যা

আমাশয় (Dysentery): 
- Entamoeba histolytica নামক এক ধরনের প্রোটোজোয়া, সিগেলা (Shigella) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণে আমাশয় হয়। 
- ঘন ঘন মলত্যাগ, মলের সাথে শ্লেষ্মা বের হওয়া, পেটে ব্যথা, অনেক সময় শ্লেষ্মাযুক্ত মলের সাথে রক্ত যাওয়া এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য হজম না হওয়া আমাশয় রোগের লক্ষণ। 
- আমাশয় হলে প্রয়োজনে পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়, কারণ সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে। 
- এ রোগ প্রতিরোধে যা করতে হবে তা হলো- 
• বিশুদ্ধ পানি পান করা, 
• শাকসবজি ও ফলমূল উত্তমরূপে পানি দিয়ে ধৌত করা, 
• মল ত্যাগের পর হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া, 
• স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা, 
• খাওয়ার আগে হাত ও থালাবাসন ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,৯৯৬.
কোনটি পরম শূন্য তাপমাত্রা? 
  1. 0°C
  2. 273°C
  3. - 273°C
  4. 373°K
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৪,৯৯৭.
স্কার্ভি রোগের লক্ষণ কী?
  1. ক) ঘুম না হওয়া
  2. খ) মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
  3. গ) হাড় ক্ষয় হওয়া
  4. ঘ) রাতকানা
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
 
এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা :
১। ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। স্বার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়।
২। ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়।
৩। অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়।
৪। লৌহের পরিশোষণ ব্যাহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।
৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয় ।
৬। রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
৭। ক্ষধামন্দা অলসতা খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়।
 
উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,৯৯৮.
জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান-
  1. ক) জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering)
  2. খ) অণুজীববিজ্ঞান (Micro-biology)
  3. গ) বংশগতিবিদ্যা (Genetics)
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering)- জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
৪,৯৯৯.
How many pairs of cranial and spinal nerves are present in the human body which constitute the peripheral nervous system?
  1. 24 cranial and 36 spinal
  2. 24 cranial and 64 spinal
  3. 12 cranial and 31 spinal
  4. 24 cranial and 31 spinal
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
• করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের দেহে করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা ১২ জোড়া বা ২৪টি। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 

- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 

- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 

- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

অলফ্যাক্টরি স্নায়ু: 
- অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। 
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়। 

অন্যদিকে, 
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়। 
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০০০.
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. ভূ-গর্ভস্থ জলধারা
  4. সমুদ্রের গভীরতা 
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও নিযত বায়ুপ্রবাহই এর প্রধানতম কারণ। অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু এবং মেরু বায়ুর মতো নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঘর্ষণের ফলে পানিকে নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে নিয়ে যায়, যা স্থায়ী সমুদ্রস্রোত তৈরি করে

সমুদ্রস্রোত: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে। 
- সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে। 

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
১। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। এসব বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলোর সৃষ্টি হয়। 

২। পৃথিবীর আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ুপ্রবাহের মতো সমুদ্রজলও উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৩। সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য: 
- সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য অনুসারে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। অগভীর সমুদ্রের জল দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উপরে ওঠে। তখন গভীরতর অংশের শীতল জল নিচে নেমে আসে। এজন্য ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগামী সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের পৃষ্ঠে গতি সবচেয়ে বেশি। সমুদ্রের ১০০ মিটার নিচ থেকে গতি কমতে থাকে। 

৪। সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য: 
- সমুদ্রজলে লবণের পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়। অধিক লবণাক্ত জল বেশি ভারী বলে তার ঘনত্বও বেশি। বেশি ঘনত্বের জল কম ঘনত্বের দিকে নিম্ন প্রবাহরূপে প্রবাহিত হয় ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। 

৫। সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য: 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলের সমুদ্রের জল বেশি উষ্ণ বলে তা জলের উপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ বা বহিঃস্রোতরূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, মেরু অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহ বা অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এইভাবে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৬। মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফের গলন: 
- মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফ কিছু পরিমাণ গলে গেলে জলরাশি স্ফীত হয় ও সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পরিমাণ হ্রাস পায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৭। ভূখন্ডের অবস্থান: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে কোনো মহাদেশ, দ্বীপ প্রভৃতি ভূখণ্ড অবস্থান করলে সমুদ্রস্রোত তাতে বাধা পেয়ে দিক ও গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। অনেক সময় এর প্রভাবে সমুদ্রস্রোত একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।