বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৪০ / ১৪০ · ৩,৯০১৪,০০০ / ১৪,০৮০

৩,৯০১.
একটি তড়িৎ ক্ষেত্র কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে?
  1. ১০ মিটার
  2. ১০০ মিটার
  3. অসীম পর্যন্ত
  4. কেবল আহিত বস্তুর উপরিভাগ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- গ) অসীম পর্যন্ত

• তড়িৎ ক্ষেত্র (Electric Field):
 
- দুটি আধান পরস্পরকে বল প্রয়োগ করে। সমধর্মী আধান হলে বিকর্ষণ বল এবং বিপরীতধর্মী আধান হলে আকর্ষণ বল।
- লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো এই বল ক্রিয়া করার জন্য আহিত বস্তু দুটির মধ্যে পরস্পরের সাথে কোনো সংস্পর্শ করার প্রয়োজন হয় না। পরস্পর যেকোনো দূরত্বে থেকে এই বল ক্রিয়া করতে পারে। এই জাতীয় বলকে অস্পর্শী বল বলে।
- যে অঞ্চল জুড়ে অস্পর্শী বল ক্রিয়াশীল থাকে তাকে তার ক্ষেত্র বলে।
- সুতরাং বলা যায়, কোনো আহিত বস্তুর চারিদিকে যে অঞ্চল জুড়ে তড়িতের প্রভাব থাকে সেই অঞ্চলকে ঐ আহিত বস্তুর তড়িৎ ক্ষেত্র বলে।
- ঐ আহিত বস্তু দিয়ে তড়িৎ ক্ষেত্রের বাইরের কোনো আহিত বা অনাহিত বস্তুকে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করতে পারেনা।
- যেহেতু তড়িৎ বল দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক অর্থাৎ F ∝ (1/r2) সেহেতু, তত্ত্বীয় ভাবে বলা যায় তড়িৎ ক্ষেত্র অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত। কারণ বল শূন্য হলে সমীকরণ অনুসারে দূরত্ব অসীম হতে হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯০২.
দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়ায় কোন খনিজ প্রকল্পের কাজ চলছে?
  1. কঠিন শিলা
  2. কয়লা
  3. চুনাপাথর
  4. কাদামাটি
ব্যাখ্যা
- দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। 
- বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ। 
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি। 
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত। 
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে। 
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৯০৩.
ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে কোন মেরু হিসেবে কাজ করে?
  1. দক্ষিণ মেরু
  2. উত্তর মেরু
  3. পশ্চিম মেরু
  4. পূর্ব মেরু
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে। 
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়। 
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান। 
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে। 
- এখানে দন্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে, ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৯০৪.
৩ নিউটন বল কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর ওপর প্রয়োগ করায় বস্তুটি ৬ মিটার দূরে সরে গেল। সম্পন্ন কাজের পরিমাণ কত?
  1. ২ জুল
  2. ১৫ জুল
  3. ১৮ জুল
  4. ৯ জুল
ব্যাখ্যা
• আমরা জানি,
কাজ = বল × সরণ
= ৩ × ৬
= ১৮ জুল
অর্থাৎ, সম্পন্ন কাজের পরিমাণ ১৮ জুল।

- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়।
- বল ও সরণের স্কেলার গুণফল কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কেবল মান আছে, দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T-2.
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)।
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)।
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়।
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক।
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল।
∴ 1 J = 1 Nm.

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩,৯০৫.
নিচের কোন উদ্ভিদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে?
  1. ধান
  2. সরিষা
  3. পাইনাস
  4. ইস্ট
ব্যাখ্যা
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে কোনো গর্ভাশয় থাকে না, কিন্তু ডিম্বক থাকে। ফলস্বরূপ নিষেকের পরে ডিম্বক বীজে পরিণত হলেও গর্ভাশয় না থাকায় কোনো ফল তৈরি হয় না। এজন্য এদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। সাইকাস, পাইনাস, থুজা হলো এ ধরনের উদ্ভিদ। 
- ধান, সরিষা হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ। এদের বীজ ফলের ভিতরে থাকে। 
- ইস্ট এক ধরনের ছত্রাক। এদের কোনো বীজ তৈরি হয় না। এরা স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,৯০৬.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1.  ধারক 
  2. ক্যাথোড 
  3. অ্যানোড 
  4. রেজিস্টার 
ব্যাখ্যা

তড়িৎদ্বার (Electrode): 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে যে দুটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী অর্থাৎ ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ড অর্ধেক ডুবানো থাকে তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একটি তড়িৎদ্বারে পরমাণু বা ঋণাত্বক আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- অপর তড়িৎ দ্বারে ধনাত্মক আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয় এবং সম্পূর্ণ কোষের মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- যে তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার আর যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯০৭.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. জি. ল্যামেটার 
  3. স্টিফেন হকিং
  4. এডুইন হাবল
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। 
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’. 
-  বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৩,৯০৮.
পরমাণুর বহিঃস্থ শক্তিস্তরে অবস্থিত ইলেকট্রনকে কী বলে?
  1. নিউক্লিয়ন
  2. ভ্যালেন্স ইলেকট্রন
  3. কোয়ার্ক
  4. ফোটন
ব্যাখ্যা
• যোজ্যতা ইলেকট্রন (Valence Electron):
- কোন মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ কক্ষপথে যে ইলেকট্রন বা ইলেকট্রনসমূহ থাকে তার সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলা হয়। 
- এই ইলেকট্রন গুলোই রাসায়নিক বিক্রিয়া ও রাসায়নিক বন্ধন এর জন্য দায়ী। 

• উদাহরণ
সোডিয়াম (Na) পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s1
এখানে দেখা যায় যে,  শেষ শক্তিস্তর বা ৩য় শক্তিস্তরে ১টি ইলেকট্রন আছে, সেটিই ভ্যালেন্স বা যোজ্যতা ইলেকট্রন।  

অন্যদিকে,
• কোয়ার্ক হলো একটি মৌলিক কণা যা প্রোটন ও নিউট্রনের উপাদান। এটি পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে (নিউক্লিয়াসে) অবস্থিত কণাগুলোর অংশ।

• নিউক্লিয়ন বলতে বোঝানো হয় প্রোটন এবং নিউট্রনকে, যেগুলো পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে থাকে। এগুলো ইলেকট্রনের মতো শক্তিস্তরে অবস্থান করে না।

• ফোটন হলো আলোর কণা। এটি পরমাণুর শক্তিস্তরের কোন অংশ নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০৯.
রঙ্গিন টেলিভিশন হতে ক্ষতিকর কোন রশ্মি বের হয়?
  1. মৃদু রঞ্জন রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. কসমিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
- রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়। 
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে। 
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়। 
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে। 
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে। 
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি। 
টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জন রশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯১০.
সৌরজগতের উৎপত্তি বিগ ব্যাং এর প্রায় কত বছর পরে?
  1. ক) ৫ বিলিয়ন বছর
  2. খ) ৯ বিলিয়ন বছর
  3. গ) ১ বিলিয়ন বছর
  4. ঘ) ৬ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের উৎপত্তি:

- বিগ ব্যাং এর প্রায় ৮.৫ থেকে ৯ বিলিয়ন বছর পরে সৌরজগতের উৎপত্তি। 
- আজ থেকে ৪.৫ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে।

তথ্যসূত্র - একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৩,৯১১.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক?
  1. ক) ফরমালিন
  2. খ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. গ) সোডিয়াম নাইট্রেট
  4. ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড  প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক।

খাদ্য সংরক্ষণ:
- খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্যকে খাদ্যগুণ ও পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত রেখে
স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখার ব্যবস্থা। 
- খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভস ব্যবহার করা হয়।

প্রিজারভেটিভস:
- সব রাসায়নিক পদার্থ নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহারের ফলে খাদ্যবস্তুতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, খাদ্যবস্তু রক্ষিত থাকে, এদেরকে ফুড প্রিজারভেটিভস বা
প্রিজারভেটিভস বলা হয়।

• প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভস হলো- খাদ্য লবণ।
- রাসায়নিক সংকেত: NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)।

খাদ্য লবণ:
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে খাদ্য লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রিজ আবিষ্কারের পূর্বে এটি বহুল প্রচলিত ছিল।
- খাদ্যদ্রব্যকে খাবার লবণ দ্বারা সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে কিউরিং বলে।
- এ পদ্ধতিতে মাছ, মাংস, ফল ও শাকসবজিকেও সংরক্ষণ করা যায় ।

 উৎস: রসায়ন-১ম পত্র ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯১২.
স্বর্ণের খাদ বের করতে ব্যবহার করা হয়-
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সাইট্রিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
ব্যাখ্যা
- 1 মোল HNO3 ও 3 মোল HCl এর মিশ্রণকে রাজঅম্ল বা অ্যাকোয়া রেজিয়া বলে। 
- স্বর্ণের খাঁদ বের করতে এই অম্ল ব্যবহৃত হয়। 
স্বর্ণের খাদ বের করার জন্য তাকে নাইট্রিক এসিড দিয়ে পোড়ানো হয়। 
- আর সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত  হয় সালফিউরিক এসিড। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যেকোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়। 

উৎস: MIT 
৩,৯১৩.
‘ব্ল্যাকবক্স’ যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) রকেটে
  2. খ) বিমানে
  3. গ) জাহাজে
  4. ঘ) রাডারে
ব্যাখ্যা
সব প্লেনেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। এসব বক্স প্লেন চলার সময় বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে।
ব্ল্যাকবক্সের সংখ্যা এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুটি হয়।
একটি ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন ধারণ করে, যা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে পরিচিত।
অপরটি প্লেন চলাচলের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) নামে অভিহিত।
৩,৯১৪.
বজ্রপাত কোন ধরনের বিদ্যুতের উদাহরণ?
  1. প্রবাহ বিদ্যুৎ
  2. স্থির বিদ্যুৎ
  3. চৌম্বক বিদ্যুৎ
  4. বিকল্প বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা

• বজ্রপাত ঘটে মেঘের মধ্যে সঞ্চিত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক স্থির চার্জের হঠাৎ নির্গমনের ফলে, তাই এটি স্থির বিদ্যুতের উদাহরণ।

• স্থির বিদ্যুৎ (Static Electricity):
- স্থির বিদ্যুৎ হলো এমন বিদ্যুৎ, যেখানে বৈদ্যুতিক চার্জ কোনো বস্তুর উপর স্থির অবস্থায় জমা থাকে এবং প্রবাহিত হয় না।
- দুইটি বস্তুকে ঘর্ষণ করলে এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়।
- ইলেকট্রন গ্রহণকারী বস্তু ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং ইলেকট্রন হারানো বস্তু ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়।
- এই চার্জের সৃষ্টি ও সঞ্চয় প্রক্রিয়াকে স্থির বিদ্যুৎ বলা হয়।
 
• স্থির বিদ্যুতের উদাহরণ:
- শীতকালে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর পর চিরুনি কাগজের টুকরা আকর্ষণ করা।
- শুকনো আবহাওয়ায় দরজার হাতল বা ধাতব বস্তু স্পর্শ করলে হালকা ঝাঁকুনি লাগা।
- মেঘের মধ্যে চার্জ সঞ্চয়ের ফলে বজ্রপাত হওয়া।
 
• বজ্রপাত ও স্থির বিদ্যুৎ:
- মেঘের মধ্যে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ পৃথকভাবে জমা হয়।
- চার্জের পার্থক্য বেশি হলে হঠাৎ বিদ্যুৎ নির্গমন ঘটে, যাকে বজ্রপাত বলা হয়।
- বজ্রপাত হলো স্থির বিদ্যুতের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ।
 
• স্থির বিদ্যুতের বৈশিষ্ট্য:
- এতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না।
- চার্জ সাধারণত অন্তরক বস্তুর উপর সহজে জমা হয়।
- চার্জ নিরপেক্ষ করতে ভূমিসংযোগ (Earthing) কার্যকর।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯১৫.
VSB মডুলেশন নিম্নের কোন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়?
  1. Television Transmission
  2. Radio Transmission
  3. Telephony
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- VSB (Vestigial Sideband)  মড্যুলেশন একটি মডুলেশন কৌশল যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে এনালগ টেলিভিশন সম্প্রচারে।
- এটি Amplitude মড্যুলেশন (AM) এর একটি রূপ যা বর্ণালী ব্যবহারে সহায়তা করে।

 VSB modulation এ বিদ্যমান:
- Sidebands
- Vestigial Sideband
- Carrier
৩,৯১৬.
একটি রেফারেন্স ফ্রেমের চারটি স্থানাংক x, y, z, t কে বলা হয়-
  1. ক) ইনারশিয়াল রেফারেন্স ফ্রেম
  2. খ) নন ইনারশিয়াল রেফারেন্স ফ্রেম
  3. গ) স্পেস-টাইম রেফারেন্স
  4. ঘ) ৪র্থ মাত্রার তল
ব্যাখ্যা

x, y, z ও t এর চারটি স্থানাঙ্কযুক্ত এই ফ্রেমকে স্পেস-টাইম ফ্রেম বলে। এটি আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩,৯১৭.
'A Brief History of Time' বইটি কার লেখা?
  1. আইজ্যাক নিউটন
  2. জগদীস চন্দ্র বসু
  3. স্টিফেন হকিং
  4. অমর্ত্য সেন
ব্যাখ্যা

স্টিফেন হকিং 
- তিনি ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অক্সফোর্ডে পদার্থবিদ্যার ওপর প্রথম শ্রেণীর ডিগ্রী অর্জন করে ক্যামব্রিজে কসমোলজির উপর স্নাতকোত্তর গবেষণা করেন।
- ১৯৬২ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত গণিত এবং তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণার কাজ শুরু করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিলো কসমোলজি এবং জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি।
- কেমব্রিজে গবেষণা করার সময় তাঁর মোটর নিউরন রোগ ধরা পরে যেটা তাকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেয়।
- আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্টিফেন হকিং গুরুতর নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন।
- কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে কথা বলা রপ্ত করেন।
- ১৯৮৮ সালে তিনি তার বই 'A Brief History of Time: From the Big Bang to Black Holes' প্রকাশ করেন।
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ এবং সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে খুব সহজবোধ্য ভাষায় সময়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তিনি লিখেছিলেন।
- ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ছিয়াত্তর বছর বয়সে এই বিজ্ঞানীর জীবনাবসান হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৯১৮.
ত্বকের এপিডার্মিস স্তরে উৎপন্ন মেলানিনের প্রধান কাজ কী?
  1. জীবাণু ধ্বংস করা
  2. ত্বক মসৃণ রাখা
  3. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
  4. ঘাম নিঃসরণ করা
ব্যাখ্যা

• মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।

• প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা:

- ত্বক মানুষের শরীরের প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
- এটি দেহকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং পরিবেশগত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

• সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা:
- ত্বকের এপিডার্মিস স্তরের কোষে মেলানিন (melanine) নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন হয়, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ত্বককে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

• যান্ত্রিক বাধা সৃষ্টি:
- ত্বকের বাইরের স্তরটি দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণ দ্বারা গঠিত, যা দেহের ভেতরে জীবাণু, বিষাক্ত পদার্থ ও ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশে একটি কার্যকর বাধা সৃষ্টি করে।

• ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া:
ত্বক কেটে গেলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে, ত্বকে উপস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণুকে গ্রাস করে দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

• অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি:
- ঘাম ও তেল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH মানকে অম্লীয় (pH = 3–5) করে তোলে। এর ফলে অধিকাংশ অণুজীব দীর্ঘ সময় ত্বকে টিকে থাকতে পারে না।

• উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা:
কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থান করে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা ক্ষতিকর অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে।

• লাইসোজাইমের কার্যকারিতা:
ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে উপস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে।

• লিপিড স্তরের সুরক্ষা:
- ত্বকের নিঃসৃত লিপিড পদার্থ অণুজীবের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।
 
 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯১৯.
কোন প্রাণীর দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত থাকে?
  1. স্কাইফা
  2. অরেলিয়া
  3. মানুষ
  4. অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
- 'স্কাইফা' প্রাণীর দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত থাকে। 

ভ্রূণীয় স্তর: 

- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

ক. একস্তরী প্রাণী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) । 

খ. দ্বিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) । 

গ. ত্রিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens) । 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯২০.
আইসোটোন তৈরি হয় কোনটির তারতম্যের কারণে?
  1. নিউট্রন সংখ্যা
  2. প্রোটন সংখ্যা
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- প্রোটন সংখ্যার তারতম্যের কারণে আইসোটোন তৈরি হয়।

•আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

উল্লেখ্য,
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

উৎসঃ রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৯২১.
প্রাণিদেহে আবরণী টিস্যু কয় ধরনের?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:

- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

আবরণী টিস্যু: আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।
• কাজ- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে। ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়। এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ: কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়। যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।
কাজ- প্রধানত ছাঁকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।
কাজ- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ।



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৯২২.
'অধরা কণা'র আবিষ্কারের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পদার্থ বিজ্ঞানী-
  1. মাকসুদুল আরম
  2. এম জাহিদ হাসান
  3. দীপঙ্কার তালুকদার
  4. সেলিম শাহরিয়ার
ব্যাখ্যা
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।]

অধরা কণা
- একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা।
- এটির অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী এম জাহিদ হাসান।
- এটি ব্যবহার করে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস তৈরি করা যাবে।
- এটি অন্যান্য ইলেক্ট্রনের চেয়ে ১০০০ গুণ বেশি চার্জ পরিবহন করতে পারে।
- উল্লেখ্য যে, অধরা কণার অস্তিত্ব ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে হারম্যান ভাইল সর্বপ্রথম জানিয়েছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো।
৩,৯২৩.
টিস্যু কালচারের সুবিধা কোনটি?
  1. ক) রোগমুক্ত চারা উৎপাদন
  2. খ) বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির সংরক্ষণ
  3. গ) স্বল্প সময়ে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
টিস্যু কালচার : টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার সুবিধাগুলো হলো-
১। একটি উদ্ভিদ বা উদ্ভিদাংশ হতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়।
২। যে সমস্ত উদ্ভিদ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে না, তাদের চারাপ্রাপ্তি ও অল্প খরচে সতেজ অবস্থায় স্থানান্তর করা যায়।
৩। সহজে রোগমুক্ত, বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব।
৪। ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত থাকা যায়।
৫। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে টিস্যু কালচার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত এবং
৬। সঠিক বীজ সংগ্রহ ও মজুদ করার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯২৪.
দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
  1. গ্রাম
  2. মোল
  3. গ্রাম-তুল্যভর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯২৫.
এক কিউসেক পানির ঘনফল কত লিটার?
  1. 20.28 লিটার
  2. 24.32 লিটার
  3. 28.32 লিটার
  4. 32.20 লিটার
ব্যাখ্যা
কিউসেক (Cusec) :
- কোনাে নদীতে একটি নির্দিষ্ট  স্থান দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনফুট (Cubic feet per second) জল প্রবাহিত হয় , তা হল কিউসেক ।
- 1 কিউসেক হল প্রতি সেকেন্ডে এক ঘনফুট জলপ্রবাহ ।
- প্রতি সেকেন্ডে 28.32 লিটার পানি প্রবাহ।

1 কিউসেক = 1 কিউবিক ফুট
1 ফুট = 30.48 সে.মি.
∴ 1 কিউসেক = 30.48 × 30.48 × 30.48 = 28316.8 cm3
= (28316.85/1000) লিটার
= 28.317 লিটার

কিউমেক (Cumec):
- নদীর একটি নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনমিটার (Cubic meter per second) জল প্রবাহিত হয়  তাকে বলে কিউমেক।

সূত্র- Cuemath Website (Link)
৩,৯২৬.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলিকে কী বলা হয়?
  1. উৎপাদ
  2. প্রতিক্রিয়া
  3. সমীকরণ
  4. বিক্রিয়ক
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বিক্রিয়া: 
- যদি কোনো পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার নিজের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে নতুন ধর্ম লাভ করে সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
- যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য যে সমীকরণ ব্যবহার করা হয় সেই সমীকরণকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়। 
- রাসায়নিক সমীকরণকে প্রকাশ করার জন্য প্রতীক, সংকেত এবং নানা রকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। 
- যে সকল পদার্থ নিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় সেই সকল পদার্থকে বলা হয় বিক্রিয়ক। 
- বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট যে সকল পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সকল পদার্থকে উৎপাদ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯২৭.
স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর কারণ কোনটি?
  1. ক) এইচওয়ানএনওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এ
  2. খ) সার্স করোনাভাইরাস ২
  3. গ) ইনফ্লুয়েঞ্জা সি ভাইরাস
  4. ঘ) সিমিয়ান ভাইরাস ৫
ব্যাখ্যা
১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর কারণে আনুমানিক ৫০ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল।
স্প্যানিশ ফ্লু H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি মারাত্মক বৈশ্বিক ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী রোগ।
সোর্স: ব্রিটানিকা
৩,৯২৮.
চৌম্বকক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক একক কোনটি?
  1. টেসলা
  2. ক্যান্ডেলা
  3. নিউটন
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা

- চৌম্বকক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক একক হলো টেসলা।
- দীপন তীব্রতার আন্তর্জাতিক একক হলো ক্যান্ডেলা।
- বলের আন্তর্জাতিক একক হলো নিউটন।
- বিদ্যুৎ প্রবাহের আন্তর্জাতিক একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৯২৯.
ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা রশ্মি কোন উৎস থেকে আসে?
  1. আইসোবার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোটোপ
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা

• ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা রশ্মি মূলত আইসোটোপ থেকে আসে। রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ হলো এমন একটি রসায়নিক উপাদান যার নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গামা রশ্মি, বিটা বা অ্যালফা কণার মাধ্যমে বিকিরণ করে স্থিতিশীল অবস্থায় আসে। ক্যান্সারের চিকিৎসায় বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয় কোবাল্ট-৬০ বা অন্যান্য রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ যেগুলো উচ্চ শক্তির গামা রশ্মি নির্গত করে। এই গামা রশ্মি ক্যান্সারের টিস্যুতে পৌঁছায় এবং ক্যান্সার কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে কোষ ধ্বংস হয়। তাই গামা রশ্মি নির্গমনের জন্য সরাসরি উৎস হিসেবে কাজ করে রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ, যা চিকিৎসায় অপরিহার্য।

- সঠিক উত্তর: গ) আইসোটোপ।

আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়।
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৩০.
মানব অক্ষি-গোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে যে রোগ হয় তার নাম কী?
  1. ক) দীর্ঘদৃষ্টি
  2. খ) হ্রসদৃষ্টি
  3. গ) গ্লোকোমা
  4. ঘ) পুঞ্জাক্ষি
ব্যাখ্যা
হ্রস্বদৃষ্টি বা ক্ষীণদৃষ্টি (Myopia)
- যখন  চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা গেলেও দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখা পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে হ্রস্বদৃষ্টি বলে।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী দূরত্ব বেড়ে গেলে বা ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে।
- কোন কারনে চোখের অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পেলে।
প্রতিকার: অবতল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

----------------------------
দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hypermetropia)
- যখন কোন চোখ দূরের বস্তু দেখে কিন্তু কাছের বস্তু দেখতে পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বলে।
- সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ত্রুটি দেখা যায়।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা হ্রাস পেলে অথবা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে।
- কোন কারণে অক্ষি-গোলকের ব্যাসার্ধের কমে গেলে। 
প্রতিকার: উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৩১.
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে কী বলে?
  1. ডিপথেরিয়া
  2. নিউমোনিয়া
  3. ব্রঙ্কাইটিস
  4. যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
ব্রঙ্কাইটিস:

• ব্রঙ্কাইটিস হলো শ্বাসনালীর ভিতরে আবৃত ঝিল্লিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ ।
• শ্বাসনালী হলো ফুসফুসের সাথে বাইরের বাতাসের সংযোগকারী নল।
• ব্রঙ্কাইটিস তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
• অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা এবং ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।

⮚ লক্ষণ:
• কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
• কাশির সাথে কফ থাকে।
• জ্বর হয়।
• শরীর ক্রমান্বয়ে দূর্বল হয়।

⮚ প্রতিকার:
• ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
• ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে ।


Image: Human Lung (Britannica) 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৯৩২.
নিচের কোনটি বংশগতির প্রধান উপাদান?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. ক্রোমোজোম
  3. কোষ প্রাচীর
  4. প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।

• ক্রোমোজোম:
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
- ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ডিএনএ (DNA) এবং প্রোটিন (হিস্টোন প্রোটিন)।
- ডিএনএ অণুর নির্দিষ্ট অংশকে জিন (Gene) বলা হয়, যা বংশগতির কার্যগত একক।

অন্যান্য অপশনসমূহ: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া: এটি কোষের শক্তি উৎপাদনকারী অঙ্গাণু বা 'পাওয়ার হাউস'। এটি বংশগতির প্রধান উপাদান নয়।
-কোষ প্রাচীর: এটি উদ্ভিদকোষের বাইরের শক্ত আবরণ যা কোষকে সুরক্ষা ও আকার দেয়। এর বংশগতিতে সরাসরি ভূমিকা নেই।
- প্লাস্টিড: এটি প্রধানত উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায় এবং খাদ্য প্রস্তুত ও সঞ্চয় (যেমন ক্লোরোপ্লাস্ট, সালোকসংশ্লেষণে সাহায্যকারী) এর সঙ্গে যুক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৩৩.
বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয় কোনটি?
  1. বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
  2. বৃক্ক প্রতিস্থাপন
  3. কম পরিমান পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
  4. ডায়ালাইসিস
ব্যাখ্যা
• বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয়।

• বৃক্ক:

- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• বৃক্ক বিকল:
- রোগ-ব্যাধির কারণে বৃক্কের সক্ষমতা কমে যাওয়াকে বৃক্ক বিকল (kidney failure) বলে।
• বৃক্কের বৈকল্য দুই রকমের। যথা-
- দীর্ঘস্থায়ী (chronic), 
- তাৎক্ষণিক (acute) ।

• বৃক্ক বিকল প্রতিকারে করনীয়:
→ নিয়ন্ত্রিত আহার:
- কম পরিমাণ প্রোটিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ। 
- কম প্রোটিন গ্রহণ করলে কম ইউরিয়া তৈরি হবে যা বৃক্কের জন্য উপকারী হবে। 
- আহারের সময় কম লবণ গ্রহণ করা। 

→ ডায়ালাইসিস: নিয়ন্ত্রিত আহারের পরও যদি রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা বেশি হয় তাহলে ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিতে হবে। 

→ বৃক্ক প্রতিস্থাপন: যদি ডায়ালাইসিসে কাজ না হয় তাহলে সর্বশেষ চিকিৎসা হিসেবে বৃক্ক প্রতিস্থাপন করতে হবে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩,৯৩৪.
মহাকাশকে বায়ুমণ্ডলের অংশ হিসেবে ধরা হয় না কেন? 
  1. সেখানে তাপমাত্রা বেশি থাকার ফলে
  2. বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথে ঘোরার ফলে
  3. মহাকাশে সবসময় সূর্য থাকার ফলে
  4. বায়ুমণ্ডলে কোনো পদার্থ না থাকার ফলে
ব্যাখ্যা
মহাকাশ (Space): 
- আকাশের দিকে তাকালে দূর দূরান্তের অনেক বস্তু দেখা যায়। 
- দিনের আকাশের সূর্য আর রাতের আকাশের গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি চোখে পড়ে। 
- যদি দুরবীক্ষণ দিয়ে আকাশের দিকে দেখা হয়, তখন আরও অনেক কিছু দেখা যায়। যেমন- বৃহস্পতি গ্রহ তার উপগ্রহসহ জ্বলজ্বল করতে থাকে। 
- গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা, তাকে মহাকাশ বা মহাশূন্য বলে। 
- মহাকাশের দিকে তাকালে যেসব বস্তুকে দেখতে পাওয়া যায় তা হলো পদার্থ। 

মহাকাশ বা মহাশূন্যের শুরু যেখান থেকে: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথেই মহাকাশে ঘুরছে, এজন্য বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না; একে পৃথিবীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অধিকাংশ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর বেশ কাছাকাছি। 
- পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে থাকে, বায়ুমণ্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমণ্ডল থাকে না বললেই চলে। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু। 
- এক সময় মানুষ ভাবত যে, যত দূর পর্যন্ত সবচেয়ে দূরের বস্তুটি তারা দেখতে পায়, সে পর্যন্তই মহাকাশ বিস্তৃত এবং মহাকাশ বক্রাকৃতির। 
- পরবর্তীতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর মানুষ তার দৃষ্টিসীমার বাইরের অনেক গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু ও গ্যালাক্সি দেখতে পাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৯৩৫.
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন-১৩১ 
  2. টেকনেশিয়াম-৯৯
  3. কার্বন-১৪ 
  4. ফসফরাস-৩২ 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। 
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনেশিয়াম-৯৯ আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৩৬.
পাকা কলায় কোন ধরনের এস্টার বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) ইথাইল বিউটারেট
  2. খ) অকটাইল অ্যাসিটেড
  3. গ) মিথাইল বিউটারেট
  4. ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
ব্যাখ্যা

- এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
- এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
- পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
- নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।

৩,৯৩৭.
Cl + e → Cl- এই বিক্রিয়ায় কি ঘটেছে?
  1. বিকিরণ
  2. প্রতিস্থাপন
  3. বিজারণ
  4. জারণ
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 = 2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,৯৩৮.
কোন পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না?
  1. লোহা
  2. প্লাস্টিক
  3. তামা
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে, যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে, যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৩৯.
কোন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুবই কম? 
  1. গামা রশ্মি 
  2. রঞ্জন রশ্মি 
  3. বিটা রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি 
ব্যাখ্যা

গামা রশ্মি (γ-রশ্মি): 
- গামা রশ্মি সাধারণ অর্থে কোনো কণিকা নয়, এটি সাধারণ আলোকের ন্যায় তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ। 
- α-কণা বা β-কণা বিচ্ছুরণের পর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে শক্তির পূর্ণবিন্যাসের ফলে γ-রশ্মির উদ্ভব ঘটে। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুবই কম, এমনকি রঞ্জন রশ্মি অপেক্ষাও কম হয়। 
- এরা প্রধানত পরোক্ষভাবে পদার্থকে আয়নিত করে। বহু দীর্ঘ পথে ঐ আয়নীকরণ সংঘটিত হয় বলে গামা রশ্মির আপেক্ষিক আয়নীকরণ ক্ষমতা খুব কম। 
- রঞ্জন রশ্মির ন্যায় তা বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। 
- গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) বিকিরণের ফলে মৌলের নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না, কারণ গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির (γ-রশ্মি) কোন ভর বা চার্জ নেই। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

৩,৯৪০.
ভাইরাস, ব্যক্টেরিয়া ইত্যাদি সংক্রান্ত বিজ্ঞান কী?
  1. ক) কীটতত্ত্ব
  2. খ) অণুজীববিজ্ঞান
  3. গ) পরজীবী বিদ্যা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস, ব্যক্টেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক ও অন্য অণুজীব সংক্রান্ত বিজ্ঞান হচ্ছে অণুজীববিজ্ঞান।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, দমন ইত্যাদি সংক্রান্ত বিজ্ঞান হচ্ছে কীটতত্ত্ব।
- পরজীবিতা, পরজীবী জীবনের জীবন প্রণালি এবং রোগ সম্পর্কিত বিজ্ঞান হচ্ছে পরজীবী বিদ্যা।
[তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৫।]

৩,৯৪১.
রক্ত কোন ধরনের টিস্যু? 
  1. Cuboidal Epithelial Tissue
  2. Skeletal Connective Tissue 
  3. Fluid Connective Tissue
  4. Fibrous Connective Tissue
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
• লোহিত রক্তকণিকা, 
• শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
• অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৪২.
অধিক পরিমাণে খেসারির ডাল খাওয়ার ফলে কোন ধরণের রোগ দেখা দিতে পারে?
  1. ক) ল্যাথাইরিজম
  2. খ) হাঁপানি
  3. গ) ডায়াবেটিস
  4. ঘ) হৃদরোগ
ব্যাখ্যা
অধিক পরিমাণে খেসারির ডাল খাওয়ার ফলে ল্যাথাইরিজম রোগ দেখা দিতে পারে। 

- বাংলাদেশ, ভারত ও আলজেরিয়ার বহু লোক এবং ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশের কিছু লোক এসব ডাল খেয়ে থাকে।
- এই ব্যাধির প্রকোপ মানুষ ছাড়াও ঘোড়া ও গবাদি পশুর মধ্যে লক্ষ্য করা যায়।
- পুরুষের মধ্যেই ল্যাথিরিজমের প্রকোপ বেশি।
- ঘোড়া ও গবাদি পশুর ক্ষেত্রে  পা ও স্বরযন্ত্রের পেশীগুলি অবশ হয়ে পড়ে এবং পশুটির দম বন্ধ হয়ে আসে।
- মানুষের ক্ষেত্রে স্নায়ুরজ্জুতে ক্ষত দেখা দেয়, যা ঐ অঙ্গের স্থায়ী বিনষ্টির কারণ হতে পারে।
- Fabaceae পরিবারের Papillionaceae উপ-পরিবারের অন্তর্ভুক্ত Lathyrus প্রজাতির কয়েকটি উদ্ভিদের বীজ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার ফলে পঙ্গু হবার ঝুঁকি রয়েছে, এর মধ্যে একটি হলো খেসারি, যা ডাল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। 
- ১৮৭৩ সালে ইতালির কান্তানি নামের এক ব্যক্তি এ রোগকে ‘ল্যাথাইরিজম’ নাম দেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৩,৯৪৩.
একটি হোল কণার চার্জ কত? 
  1. 1.9×10-19 C
  2. 1.6×10-19 C
  3. 1.0×10-23 C
  4. 1.9×10-27 C
ব্যাখ্যা
হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে। 
- ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়। 
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৪৪.
সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৭
  4. ২০
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ( Na) এর পারমানবিক সংখ্যা ১১ ও পারমানবিক ভর ২৩। 
এর তিনটি প্রধান শক্তিস্তর আছে। K শক্তিস্তরে ২ টি, L শক্তিস্তরে ৮ টি ও M শক্তিস্তরে ১ টি ইলেকট্রন আছে। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
৩,৯৪৫.
ফোটনের ভর কত?
  1. ধনাত্মক
  2. শূন্য 
  3. ঋণাত্মক
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

- ফোটন হলো আলোর ক্ষুদ্রতম কণা বা কোয়ান্টাম। আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, ফোটন একটি ভরহীন কণা এবং এর নিশ্চল ভর সর্বদা শূন্য। 

আলোর প্রকৃতি (Nature of Light): 

- বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, গতিশীল চার্জযুক্ত কণিকা দ্বারা আলোর বিকিরণ হয়। আলো কখনো কণিকা আবার কখনো তরঙ্গ।
- আলোর কণিকাগুলোকে বলা হয় ফোটন, কিন্তু বস্তু কণা থেকে ফোটন কণার ভিন্নতা হলো এর কোন ভর নাই এবং সবসময় শূন্য স্থানে আলোর দ্রুতি ৩০০,০০০ কি.মি/সে। যখন আলো কোনো বস্তুর কিনারায় বাধাগ্রস্থ হয়ে বেঁকে যায় অর্থাৎ বিচ্ছুরণ ঘটে, তখন তরঙ্গের মতো ধর্ম প্রদর্শন বা আচরণ করে। 

আলোর বৈশিষ্ট্য: 
- আলোর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. আলো হচ্ছে এক প্রকার শক্তি। 
২. আলো সরলরেখায় বা সরলপথে গমন করে। 
৩. আলো কখনও কণিকা আবার কখনও তরঙ্গাকারে সঞ্চালিত হয়। 
৪. আলো হলো উচ্চ মাত্রার বেগ সম্পন্ন তেজ কণিকার প্রবাহ। 
৫. আলো অত্যন্ত দ্রুত চলে যা সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার অতিক্রম করে। 
৬. আলো কম ঘন মাধ্যম থেকে বেশি ঘন মাধ্যমে অধিক বেগে চলে। 
৭. আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন এবং বিচ্ছুরণ ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৪৬.
নিচের কোনটিকে গ্রহরাজ বলা হয়?
  1. সূর্য
  2. পৃথিবী
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
ব্যাখ্যা

• বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ।
- একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৪৭.
বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড কোন পরীক্ষার মাধ্যমে পরমাণুতে একটি কেন্দ্র আছে তা প্রমাণ করেন?
  1. α কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  2. β কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  3. ∞ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  4. γ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে α কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা করে প্রমাণ করেন পমানুর একটি কেন্দ্র আছে।
যেখানে থাকে নিউট্রন ও প্রোটন।
বিজ্ঞানি রাদারফোর্ড এর নাম দেন নিউক্লিয়াস।
সুত্রঃ

৩,৯৪৮.
'তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ ফোটনের প্রবাহ'- কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. কণা তত্ত্ব
  2. তরঙ্গ তত্ত্ব
  3. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  4. আপেক্ষিকতার তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টার আকার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ-  
১. প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২. শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।
৩. প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪. নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৪৯.
ফুসফুসের প্রদাহকে কী বলে? 
  1. নেফ্রাইটিস
  2. নিউমোনিয়া
  3. হেপাটাইটিস
  4. ব্রঙ্কাইটিস
ব্যাখ্যা
নিউমোনিয়া ও ফুসফুস: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ হচ্ছে একজোড়া ফুসফুস (lungs)। বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুস আকারে বড়, তিন লোব বিশিষ্ট। 
- ফুসফুসের আবরণকে বলা হয়- প্লুরা। 
- ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে। 
- নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহের ফুসফুস। 
- নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস এবং কিডনির প্রদাহকে নেফ্রাইটিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৫০.
পিঁপড়া ও মৌমাছির কামড়ে থাকে—
  1. ক) অ্যাসকরবিক এসিড
  2. খ) অক্সালিক এসিড
  3. গ) মিথানয়িক এসিড
  4. ঘ) টারটারিক এসিড
ব্যাখ্যা
পিঁপড়া ও মৌমাছির কামড়ে মিথানয়িক এসিড বিদ্যমান। 

- মিথানয়িক এসিডের অপর নাম ফরমিক এসিড। 
- মিথানয়িক এসিড কার্বক্সিলিক এসিডের অন্তর্ভুক্ত একটি এসিড যা, টেক্সটাইল শিল্পে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়। 

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩,৯৫১.
লাইপেজ এনজাইম কোন ধরনের খাদ্য হজমে সাহায্য করে? 
  1. স্নেহ 
  2. খনিজ 
  3. প্রোটিন 
  4. শর্করা 
ব্যাখ্যা

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৯৫২.
ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান কত?
  1. 0
  2. − 1
  3. − 2
  4. 1
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন (Electron):
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন।
- এর ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা ।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের সংকেত e - .
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 ও -1.60×10-19 Coulomb ।
- আপেক্ষিক আধান -1 .

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৫৩.
'সুনামী' কী কারণে হয়?
  1. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্পন
  2. চাঁদের মহাকর্ষীয় টান
  3. ঝড় ও বৃষ্টি
  4. উচ্চ বাতাসের চাপ
ব্যাখ্যা
• সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- তবে, ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়।
- তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেয়ু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৫৪.
শুষ্ক কোষে কোনটি ইলেকট্রন দান করে?
  1. ক) দস্তার খোল
  2. খ) কয়লার গুড়া
  3. গ) কার্বন দণ্ড
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell):
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ।
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে।   
গঠন:
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। - চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়।
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে।
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে।
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে।
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়।
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে।
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে।
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন দান করে।
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৩,৯৫৫.
উদ্ভিজ্জ আমিষ কোনটি?
  1. মাছ
  2. মাংস
  3. মটরশুঁটি
  4. ডিম
ব্যাখ্যা
উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের৷
প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ৷
প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৯৫৬.
রক্ত জমাট বাঁধায় কোন ধাতুর আয়ন সাহায্য করে?
  1. ক) সোডিয়াম
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) আয়রন
ব্যাখ্যা
অণুচক্রিকা
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লেইটলেট (Platelet ) বলে। এগুলো গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে।
- এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অনেকের মতে, অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়; এগুলো অস্থিমজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ।
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
- অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরো বেশি হয়।
- অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা।
- যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে।
- থ্রমবিন পরবর্তী কালে রক্তরসের প্রোটিন- ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়।
- ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে।
- এটি ক্ষত স্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
- তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ার জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়ন জড়িত থাকে।  

উৎস
: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৫৭.
রংধনু সাধারণত কখন দেখা যায়? 
  1. রাতের বেলায়
  2. ঝড়ের সময়
  3. কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায়
  4. বৃষ্টির পরে সূর্য উঠলে
ব্যাখ্যা
রংধনু: 
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। 
- শুধু তা-ই নয় যারা প্রিজমের অভাবে সাদা আলোকে তার রংগুলোতে ভাগ করে দেখতে পারোনি তারাও এই ব্যাপারটি রংধনুতেই ঘটতে দেখেছ। 
- বৃষ্টি হওয়ার পরপর যদি রোদ উঠে তাহলে রংধনু দেখা যায়, কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়। 
- রংধনু সব সময়ই সূর্যের বিপরীত আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৫৮.
তেজস্ক্রিয় বিক্রিয়া কোন উপায়ে প্রভাবিত হয় না? 
  1. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র
  2. তাপমাত্রা পরিবর্তন
  3. চাপ প্রয়োগ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। এই অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে তাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা 82 অতিক্রম করলেই (পারমাণবিক সংখ্যা ৪2 থেকে বেশি) যে নিউক্লিয়াসগুলো তেজস্ক্রিয় হয়ে থাকে তা নয়, অন্য পরমাণুর নিউক্লিয়াসও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। 
- একটি মৌলের বাহ্যিক ধর্ম, প্রকৃতি, এবং রাসায়নিক গুণাগুণ নির্ভর করে বাইরের ইলেকট্রনের শ্রেণিবিন্যাসের ওপর। 

- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড, পিয়ারে কুরি, মেরি কুরি এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তা বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে যে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয়, সেগুলো হচ্ছে আলফা, বিটা এবং গামা রশ্মি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৫৯.
মানবদেহে মূত্র তৈরির পদ্ধতি কতটি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহে মূত্র তৈরির পদ্ধতি:
- মানবদেহের বৃক্কে তিনটি পদ্ধতিতে মূত্র তৈরি হয়। যথা-
১) অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন (ultrafiltration).
২) নির্বাচিত পুনঃশোষণ (Selective reabsorption).
৩) নালিকা কর্তৃক ক্ষরণ (Tubular secretion).

• অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন:
- নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস আল্ট্রাফিল্টার বা অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন যন্ত্র হিসেবে কাজ করে।
- এ অংশে যে পরিস্রাবন কৌশল সংঘটিত হয় তা সাধারণ পরিস্রাবন থেকে আলাদা। এক্ষেত্রে পরিস্রাবন প্রক্রিয়াটি চাপ প্রয়োগের ফলে সম্পন্ন হয় বলে একে আল্ট্রাফিলট্রেশন বলে।

• নির্বাচিত পুনঃশোষণ:
- নিকটবর্তী প্যাচানো নালিকা দিয়ে পরিসুত তরল থেকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় নানা উপাদান যেমন- গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফেট, ভিটামিন ইত্যাদি সক্রিয় পদ্ধতিতে পুনঃশোষিত হয়।

• নালিকা কর্তৃক ক্ষরণ:
- বিপাকে সৃষ্ট কিছু অপ্রয়োজনীয় উপজাত পদার্থ, যথা- ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড, সেরোটোনিন ইত্যাদি নিকটবর্তী প্যাচানো নালিকার চারপাশে রক্তজালক থেকে সক্রিয় পরিবহনের মাধ্যমে গ্লোমেরুলার পরিস্রুতের সাথে যুক্ত হয় এবং মূত্রের সাথে অপসারিত হয়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৬০.
নিচের কোনটি RNA ভাইরাস?
  1. HIV
  2. TMV
  3. র‍্যাবিস
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,৯৬১.
কোন গতির কারণে দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি সংঘটিত হয়? 
  1. আহ্নিক গতির কারণে
  2. বার্ষিক গতির কারণে
  3. মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ- 
• দিন-রাত্রি সংঘটন, 
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি, 
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি, 
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি, 
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি। 

বার্ষিক গতি: 
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৬২.
পৃথিবীর বিভব-
  1. ক) অসীম
  2. খ) শূন্য
  3. গ) ধনাত্মক
  4. ঘ) ঋণাত্মক
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর তড়িৎ বিভব:
কোনো আহিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে যুক্ত করলে বস্তুটি নিস্তাড়িত বা আধান নিরপেক্ষ হয়, ধনাত্মক আধানে আহিত বস্তুকে ভু-সংযুক্ত করলে পৃথিবী থেকে ইলেকট্রন এসে বস্তুটিকে নিস্তাড়িত করে। আবার ঋণাত্মকভাবে আহিত বস্তুকে পৃথিবীর সাথে সংযুক্ত করলে বস্তু থেকে ইলেকট্রন ভূমিতে চলে যায়। ফলে বস্তুটি নিস্তাড়িত হয়। পৃথিবী এত বড় যে, এতে ইলেকট্রন যুক্ত হলে বা এ থেকে ইলেকট্রন চলে গেলে এর বিভবের আদৌ কোনো পরিবর্তন হয় না। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করছে এবং বিভিন্ন বস্তুতে ইলেকট্রন প্রদানও করছে। ফলে পৃথিবীকে বিভবশূন্য মনে করা হয় এবং ভু-সংযুক্ত পরিবাহীর বিভবও শূন্য ধরা হয়। উল্লেখ্য যে, বিভব নির্ণয়ের সময় পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রা্‌ম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩,৯৬৩.
মিল্ক অফ লাইম কোন যৌগের রাসায়নিক নাম?
  1. Ca(OH)2
  2. CH3COOH
  3. NaHCO3
  4. CuSO4.5H2O
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH. 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO. 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৬৪.
শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম কী?
  1. হার্জ
  2. ডেসিবল
  3. সেন্টিবল
  4. ন্যানোমিটার
ব্যাখ্যা
শব্দদূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল। 
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না। 
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়। 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে। 
সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়। 
 
উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৬৫.
কোন দুটি গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই?
  1. শনি ও বুধ
  2. শুক্র ও বৃহস্প্রতি
  3. বুধ ও শুক্র
  4. নেপচুন ও ইউরেনাস
ব্যাখ্যা

উপগ্রহ (Satellite):
- কিছু কিছু জ্যোতিষ্ক গ্রহকে ঘিরে আবর্তিত হয়, এদের উপগ্রহ বা চাঁদ বলে।
- মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘোরে।
- এদের নিজস্ব আলো বা তাপ নেই। এরা সূর্য বা নক্ষত্র থেকে আলো বা তাপ পায়।
- চাঁদ পৃথিবী গ্রহের একমাত্র উপগ্রহ।
- কোনো কোনো গ্রহের উপগ্রহ আছে, কোনোটির নেই।
- বুধ ও শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।

উল্লেখ্য,
- সৌরজগতের আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৩,৯৬৬.
নিচের কোনটি পানিবাহিত রোগ নয়?
  1. ক) ডায়রিয়া
  2. খ) টাইফয়েড
  3. গ) ম্যালেরিয়া
  4. ঘ) আমাশয়
ব্যাখ্যা

পানিবাহিত রোগ হলো কলেরা,ডায়রিয়া, টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদি।
ম্যালেরিয়া হলো পতঙ্গবাহিত রোগ।

৩,৯৬৭.
সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন কে?
  1. ক) চার্লস ডারউইন
  2. খ) ল্যামার্ক
  3. গ) জেনোফেন
  4. ঘ) হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা
- ল্যামার্ক 'বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।

 -সর্বপ্রথম, জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।

- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, ২০২১
৩,৯৬৮.
যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে কী বলে?
  1. উত্তল লেন্স
  2. অবতল লেন্স
  3. সমতল লেন্স
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• লেন্স:
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-

১. অভিসারী বা উত্তল লেন্স:

- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে।

২. অপসারী বা অবতল লেন্স:
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৩,৯৬৯.
Hubble Telescope এর ত্রুটি সংশোধনের জন্য নভোচারীগনকে মহাশূণ্যে কোন নভোযানে প্রেরণ করা হয়েছিল?
  1. Endeavour
  2. Challenger
  3. Pathfinder
  4. Apollo
ব্যাখ্যা
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ: 
- মহাকাশে ভাসমান প্রথম টেলিস্কোপ হলো হাবল টেলিস্কোপ। 
- আমেরিকান জ্যোতির্বিদ এডউইন পি. হাবল এর নামানুসারে NASA বিশ্বের প্রথম স্পেস-ভিত্তিক অপটিক্যাল টেলিস্কোপের নামকরণ করেছে। 
- ২৪ এপ্রিল ১৯৯০ হাবলের টেলিস্কোপ স্পেস শাটল ডিসকভারি (STS-31) থেকে প্রথম উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- ২৫ এপ্রিল ১৯৯০ থেকে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে। 
- হাবল টেলিস্কোপ মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে ১.৫ মিলিয়নেরও বেশি পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করেছে। 
- ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে Hubble Telescope এর ত্রুটি সংশোধনের জন্য নভোচারীগনকে মহাশূণ্যে Endeavour নভোযানে প্রেরণ করা হয়েছিল। 

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
৩,৯৭০.
দর্পণ প্রধানত কত প্রকার?
  1. ৫ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
দর্পণ: 
- যে মসৃণ তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে। 
- দর্পণ প্রধানত দুই প্রকার। যথা- 
১। সমতল দর্পণ ও 
২। গোলীয় দর্পণ। 

- আবার গোলীয় দর্পণ ২ প্রকার। যথা- 
১। উত্তল দর্পণ ও 
২। অবতল দর্পণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৯৭১.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-2'তে অবস্থিত মৌলগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ষার ধাতু 
  2. স্বাভাবিক ধাতু 
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৭২.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশি?
  1. দ্রুতি
  2. সরণ
  3. ভর 
  4. সময় 
ব্যাখ্যা

- সরণ হলো একটি নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন, যার নির্দিষ্ট মান এবং দিক থাকে, তাই এটি একটি ভেক্টর রাশি। 

ভৌত রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এই বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৭৩.
What is the name of the latest variant of COVID-19?
  1. Gamma
  2. beta
  3. Omicron
  4. Delta
  5. None of these
ব্যাখ্যা
করোনা ভাইরাস:

- করোনা ভাইরাসের আনুষ্ঠানিক নাম নির্ধারণ করা হয় - SARS-CoV-2 বা severe acute respiratory syndrome coronavirus 2.
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এই নামটি নির্ধারণ করে।
- ভাইরাসটির পূর্ব নাম ছিল - 2019 novel coronavirus
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যে রোগটি হয় তার আনুষ্ঠানিক নাম - COVID - 19
- COVID-19 এর সর্বশেষ রূপটির নাম অমিক্রন।

তথ্যসূত্র - WHO ওয়েবসাইট।
৩,৯৭৪.
মোমের প্রধান উপাদান কী? 
  1. কার্বন 
  2. কার্বোহাইড্রেট 
  3. সালফার 
  4. হাইড্রোকার্বন 
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় রসায়নের বিশ্লেষণ: 
- কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড যেমন: সাক্সিনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি থাকে, যার ফলে কাঁচা আম টক হয়। 
- কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়, তাই পাকা আম মিষ্টি হয়। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এইগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এইগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

- পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরিত হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। 
- এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, এই দুটি যৌগ এসিডকে প্রশমিত করে। 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন জিনিস রসায়নের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখার একটি হলো রসায়ন। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯৭৫.
আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় -
  1. ক) টেলিস্কোপ
  2. খ) পেরিস্কোপ
  3. গ) অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- দর্পণের প্রতিফলন ‘তল’ এমনভাবে স্থাপিত যাতে নলটির অঙের সঙ্গে তা ৪৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করতে পারে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

উৎস: নবম অধ্যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
৩,৯৭৬.
এক্স-রের প্রকৃতি সম্পর্কিত সঠিক তথ্য কোনটি? 
  1. ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক
  2. তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড়
  3. প্রতিসরণ ঘটে না
  4. পোলারণ ঘটে না
ব্যাখ্যা

• এক্সরের প্রকৃতি হলো এর ভেদন ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি। এক্সরে হলো একটি ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ, যা সহজেই কঠিন পদার্থ, ধাতু ও হাড়ের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব ছোট, তাই এগুলি অণু বা পরমাণুর স্তরের বিন্যাসকেও ছেদ করতে পারে। এক্সরকে বিভিন্ন পদার্থে প্রতিসরণ বা পোলারণের দিক থেকে সীমিত বলা যায়, কারণ এগুলি মূলত ভেদন ক্ষমতার জন্য পরিচিত। তাই এক্সরের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ ভেদন ক্ষমতা।

- সঠিক উত্তর: ক) ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।

এক্সরের ধর্ম:
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৭৭.
মানুষের রক্তের শ্রেণীবিন্যাস করেন বিজ্ঞানী-
  1. ক) আইজাক নিউটন
  2. খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
  3. গ) টমাস আলভা এডিসন
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল লেন্ড স্টেইনার মানুষের রক্তের শ্রেনিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O', এবং 'AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৯৭৮.
কোন ধরনের প্লেট সীমানার ফলে নতুন সমুদ্র তলদেশের এবং সামুদ্রিক আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়?
  1. ক) সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা
  2. খ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
  3. গ) অপসারী সীমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics) ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।
তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়।
যথা:
- সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা,
- অপসারী সীমা ও
- পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

- সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা
যখন একে অপরের দিকে অগ্রসরমান দুটি প্লেট কেন্দ্রাভিমুখী হয়ে অবশেষে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন একটি প্লেট অপরটির নিচে চাপা পড়ে। এই ধরনের প্লেট সংঘর্ষের ফলে পর্বতমালার সৃষ্টি হয় এবং প্লেট প্রান্তিকের আশেপাশে আগ্নেয়গিরির কর্মকান্ড সংঘটিত হয়।

- অপসারী সীমা
এই ক্ষেত্রে দুটি প্লেট একে অপরের থেকে সরে যেতে থাকে। এই ধরনের প্লেট সীমানার ফলে নতুন সমুদ্র তলদেশের এবং সামুদ্রিক আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।
- পরিবর্তক চ্যুতি সীমা যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে পরিবর্তক চ্যুতি সীমা বলে। তিন ধরনের প্লেট বিচলনেই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৩,৯৭৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান উদ্ভিদ ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. আর্গন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এবং গাছকে সবুজ ও সতেজ করতে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হচ্ছে ইউরিয়া। 
- সার ছাড়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন পাওয়া যায়। 
- বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ - ৭৮.০২%। 
- বায়ু থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন চক্র বলে। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮০.
পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন কেন শূন্য হয়?
  1. কারণ বস্তুতে ভর নেই 
  2. কারণ সেখানে তাপ শূন্য 
  3. কারণ অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য
  4. কারণ বস্তুর আকার পরিবর্তিত হয় 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- একটি বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয় তাকে তার ওজন বলে। 
- কোন বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি হয়। 
- বস্তুর ওজন মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য হওয়ায় বস্তুর ওজন শূন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৯৮১.
পৃথিবী আপন কক্ষপথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
  1. ২৭.৫°
  2. ৬৯.৫°
  3. ৬৬.৫°
  4. ৭৩.৫°
ব্যাখ্যা
• দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি:
- প্রধানত পাঁচটি কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠে দিবা-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।
- অর্থাৎ একটি দিবসে দিন ও রাত্রির সময়কাল সকল সময়ে এক হয় না।
- নিম্নোক্ত কারণে এইরূপ হয়ে থাকে।
১. পৃথিবীর আকার অভিগত গোলকের ন্যায়; 
২. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথটি, অর্থাৎ কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার (Elliptical);
৩. পৃথিবীর দুইটি গতি যেমন: আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি;
৪. পৃথিবী আপন কক্ষপথে (Orbit) ৬৬.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত এবং
৫. পৃথিবী নিজ অক্ষে (Axis) ২৩.৫° কোণে হেলে অবস্থানরত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮২.
সূর্যালোকের উপস্থিতিতে মিথেন ক্লোরিনের সাথে বিক্রিয়া করে কোন যৌগ তৈরি করে? 
  1. অ্যালডিহাইড
  2. অ্যালকাইল হ্যালাইড
  3. অ্যালকোহল
  4. জৈব এসিড
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুতি: 
- পেট্রোলিয়ামের প্রধান উপাদান হচ্ছে হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন) এবং এই হাইড্রোকার্বন থেকেও অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড প্রস্তুত করা যায়। 
যেমন- 
(i) সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল হ্যালাইড উৎপন্ন করে। সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে মিথেনের সাথে ক্লোরিন বিক্রিয়া করে। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন হাইড্রোজেন ব্রোমাইডের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকাইল ব্রোমাইড উৎপন্ন করে। অ্যালকাইল হ্যালাইড সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের জলীয় দ্রবণের সাথে বিক্রিয়ায় অ্যালকোহলে পরিণত হয়। উৎপন্ন অ্যালকোহলকে শক্তিশালী জারক (K2Cr2O7 ও H2SO4) দ্বারা জারিত করলে প্রথমে অ্যালডিহাইড/কিটোন এবং পরবর্তীকালে জৈব এসিডে পরিণত হয়। 

(ii) ফসফরিক এসিডের উপস্থিতিতে অ্যালকিন 300°C তাপমাত্রায় এবং 60 atm চাপে জলীয় বাষ্পের (H2O) সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালকোহল উৎপন্ন করে। 2% মারকিউরিক সালফেট (HgSO4) এবং 20% সালফিউরিক এসিডের (H2SO4) উপস্থিতিতে অ্যালকাইন (ইথাইন) পানির সাথে বিক্রিয়া করে অ্যালডিহাইড উৎপন্ন করে। তবে HgSO4 বিষাক্ত হওয়ায় শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়। পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত অ্যালকেনকে উচ্চ তাপ ও চাপে বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত করলে জৈব এসিড উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৮৩.
ফটোগ্রাফিক প্লেটে কোন যৌগের আবরণ থাকে?
  1. ক) AgCl
  2. খ) AgBr
  3. গ) NH4Cl
  4. ঘ) AgF
ব্যাখ্যা
ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ থাকে সিলভার ব্রোমাইডের। 
সিলভার ব্রোমাইডের রাসায়নিক সংকেত হলো AgBr
 
Dry plate, in photography, glass plate coated with a gelatin emulsion of silver bromide. It can be stored until exposure, and after exposure it can be brought back to a darkroom for development at leisure. 
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩,৯৮৪.
সিলিন্ডারে যে গ্যাস বিক্রি হয় তার নাম কি?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ইথেন
  3. গ) প্রোপেন
  4. ঘ) বিউটেন
ব্যাখ্যা
সিলিন্ডারে করে বাজারে যে গ্যাস বিক্রি করা হয় তার মূল উপাদান হলো বিউটেন, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে, কিন্তু উচ্চচাপে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করা হয় যা উচ্চচাপ যুক্ত আধারে সংরক্ষণ ব্যবহার ও স্থানান্তরের জন্য সুবিধাজনক।
বিউটেন একটি চার কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বন। কক্ষতাপমাত্রায় বিউটেন একটি গ্যাসীয় পদার্থ। বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত C4H10। বিউটেনের দুটি আইসোমার বা সমাণু আছে। n-বিউটেন এবং আইসো বিউটেন। আইসো বিউটেনের আরেকটি নাম মিথাইল প্রোপেন। এটি মূলত জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৩,৯৮৫.
ডাউন সিনড্রোম হচ্ছে মূলত -
  1. ধানগাছের বিশেষ রোগ।
  2. গর্ভস্থ শিশুর অপরিণত বিকাশ।
  3. গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতা।
  4. শিশুরে দেহে ভিটামিন এ এর অভাব।
ব্যাখ্যা

ডাউন সিনড্রোম: 
- ডাউন সিনড্রোম একটি বিশেষ ধরণের জেনেটিক বা জিনগত অবস্থা। 
- ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেয়া মানুষের ক্রোমোজোমের গঠন সাধারণ মানুষের ক্রোমোজমের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে।
- এর কারণে মানুষের মধ্যে মৃদু বা মাঝারি স্তরের বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যা, বেড়ে ওঠায় বিলম্ব বা অন্য কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
- ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির প্রতিটি দেহকোষে ২১তম ক্রোমোজোমে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোমের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, যাকে ‘ট্রাইসোমি ২১’ বলা হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ৮০০ শিশুর মধ্যে জন্ম নেয় একটি ডাউন সিনড্রোম শিশু। সারা বিশ্বে ডাউন সিনড্রোম মানুষ রয়েছে প্রায় ৭০ লাখ।

ডাউন সিনড্রোম চেনার উপায়: 
- মানবদেহে ডিএনএ বা ক্রোমোজোমের অসামঞ্জস্য দেখা দিলে নানা রকম শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
- ডাউন সিনড্রোম শিশুদের মাংসপেশির শিথিলতা, কম উচ্চতা, চোখের কোনা ওপরের দিকে ওঠানো, চ্যাপ্টা নাক, ছোট কান, হাতের তালুতে মাত্র একটি রেখা, জিব বের হয়ে থাকা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
- এ ছাড়া কানে কম শোনা, কথা বলতে দেরি হওয়া, কম বুদ্ধি ইত্যাদি জটিলতাও দেখা দেয়।
- অনেক সময় ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে জন্মগত হার্টের সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যাও থাকতে পারে।

অর্থাৎ, ‘ডাউন সিনড্রোম‘ বলতে গর্ভস্থ শিশুর অপরিণত বিকাশকে বুঝায়। 

উৎস: 
১. Down Syndrome Society of Bangladesh; 
২. প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট। 

৩,৯৮৬.
'সিলভার ব্রোমাইড' এর রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. AgBr
  2. AgBr2
  3. Ag2Br2
  4. Ag2Br3
ব্যাখ্যা
• 'সিলভার ব্রোমাইড' এর রাসায়নিক সংকেত AgBr।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে আবরণ সাধারণত সিলভার হ্যালাইডের (ব্রোমাইড বা আয়োডাইড) আবরণ থাকে।
- ব্রোমাইড একটি রাসায়নিক যৌগ যাতে একটি ব্রোমাইড আয়ন বা লিগ্যান্ড রয়েছে।
- এটি -১ (Br-) আধান সহ আয়নিত একটি ব্রোমাইড পরমাণু।
- যেমন- সিজিয়াম ব্রোমাইড এর সিজিয়াম ধনাত্মক আয়ন (CS+) বৈদ্যুতিক ভাবে আকর্ষিত হতে পারে ব্রোমাইড অ্যানায়ন (Br-) এর প্রতি।
- ফলে বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ আয়নিক যৌগ CsBr গঠিত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৯৮৭.
নিচের কোনটি ভূ-গর্ভস্থ মূল?
  1. শালগম
  2. আলু
  3. পেঁয়াজ
  4. আদা
ব্যাখ্যা
• প্রধান মূলের রূপান্তর:
- মূল কখনো কখনো বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে।
- মুলা, গাজর ও শালগম আমরা সবাই দেখেছি এবং খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছি।
-  শালগম, গাজর, মূলা রূপান্তারিত মূল এর উদাহরণ।

• ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড: 
- প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, খাদ্য সঞ্চয় এবং অঙ্গোজ উপায়ে বংশবিস্তার করার জন্য কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির নিচে বৃদ্ধি পায়।
- এ ধরনের কাণ্ডকে  ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড বলে।
- আদা, হলুদ, পেঁয়াজ, থানকুনি, দুর্বাঘাস, আমরুল প্রভৃতি উদ্ভিদের রূপান্তরিত  কাণ্ড।

উৎস: সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
৩,৯৮৮.
পরিবাহকের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে ইলেকট্রনের বেগ হ্রাস পাওয়ার ফলে যে বাঁধা সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যাম্পিয়ার
  2. রোধ
  3. ভোল্টেজ
  4. তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- ইলেকট্রন প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহের কারণ। 
- ইলেকট্রন নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- পরিবাহীর মধ্যদিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহের সময় পরিবাহীর মধ্যস্থ অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষ হয়, এই সংঘর্ষের ফলে ইলেকট্রনের গতি বাঁধা প্রাপ্ত হয় এবং বেগ হ্রাস পায়। 
- ইলেকট্রনের বেগ হ্রাস পাওয়ার ফলে তড়িৎ প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয়।
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবতনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 
- সাধারণত রেডিও, ক্যাসেট, অ্যামপ্লিফায়ার ইত্যাদিতে শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবর্তনশীল রোধ লাগানো থাকে। 
- ফ্যানের রেগুলেটরে ফ্যানের পাখাকে জোরে বা আস্তে ঘোরানোর জন্য পরিবর্তনশীল রোধ ব্যবহার করা হয়, যেহেতু এগুলোকে ঘন ঘন পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে তাই এটি বাইরের দিকে লাগানো হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮৯.
ডিটারজেন্ট এবং সাবানের মধ্যে পার্থক্য কী? 
  1. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে
  2. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে না
  3. সাবান ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, ডিটারজেন্ট গলে না
  4. ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
ব্যাখ্যা
ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৯০.
নিচের কোনটি অম্লীয় দ্রবণ নির্দেশ করে?
  1. pH > 7
  2. pH = 7
  3. pH < 7
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা

• pH < 7, দ্রবণের অম্লীয়তা নির্দেশ করে।

• pH স্কেল:
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ, pH = -log[H+]
-pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়।
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে।
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৯১.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. Sr
  2. Cs
  3. Fr
  4. Li
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৯২.
'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' কত ডেসিবেলের অধিক মাত্রার শব্দকে 'শব্দ দূষণ' হিসেবে ঘোষণা করেছে?
  1. ৫০ ডেসিবল
  2. ৬০ ডেসিবল
  3. ৪০ ডেসিবল
  4. ১০০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা' ৬০ ডেসিবেলের অধিক মাত্রার শব্দকে 'শব্দ দূষণ' হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে সাধারণত 60 ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং 100 ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।

 শব্দ দূষণের কারণ:
- বাস, ট্রাক, ট্রেন ও লঞ্চের হর্ণ, রেডিও, ক্যাসেট, টেলিভিশন ও মাইক উচ্চ শব্দে বাজানো।
- এছাড়া সাইরেন ও যুদ্ধসামগ্রীর শব্দ, বোমার বিস্ফোরণ, মেঘের গর্জন প্রভৃতি শব্দ দূষণের উৎস।

 শব্দের তীব্রতা:
- শব্দের তীব্রতা বলতে শব্দতরঙ্গ যে দিকে সঞ্চারিত হচ্ছে, তার সাথে লম্বভাবে প্রতি একক সময়ে প্রতি একক ক্ষেত্রফল এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শক্তির পরিমাণকে বোঝায়।

বিভিন্ন ধরণের শব্দের পরিমাণ:
- জেট ইঞ্জিন: ১১০-১৪০ ডেসিবেল।
- ট্রাফিক: ৮০-৯০ ডেসিবেল।
- কারখানার কোলাহলের শব্দের তীব্রতা : ৮০ ডেসিবেল।
- স্বাভাবিক কথাবার্তার শব্দের তীব্রতা: ৬০ ডেসিবেল।
- হাটবাজারের শব্দের তীব্রতা: ৭০ ডেসিবেল।
- মাইকে ব্যান্ড সংগীতের শব্দের তীব্রতা: ১২০ ডেসিবেল।
- যে কোনো আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেডের তীব্রতা সাধারণত ১৭০ ডেসিবেল হয়ে থাকে।

উৎস:
•  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট।
•  পদার্থ ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
•  বাংলাপিডিয়া।
৩,৯৯৩.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে তাকে কী বলে?
  1. নিম্ন স্থির বিন্দু
  2. পানির ত্রৈধ বিন্দু
  3. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে।

• পানির ত্রৈধ বিন্দু:
- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৯৪.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ১ N
  2. √৬১ N
  3. ৩০ N
  4. √১১ N
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N, তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N 
∴ তাদের লব্ধি পরিমাণ = √(৬ + ৫)
= √(৩৬ + ২৫)
= √৬১ N  ।
৩,৯৯৫.
বাংলাদেশে ঘর্ণিঝড়ের মৌসুম কোনটি?
  1. ক) পৌষ-মাঘ
  2. খ) আশ্বিন-কার্তিক
  3. গ) চৈত্র-বৈশাখ
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযােগ্য। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও উর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এ দেশে অধিকসংখ্যাক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ
৩,৯৯৬.
মাটির পাত্রে পানি ঠাণ্ডা থাকে কেন?
  1. মাটির পাত্র পানি থেকে তাপ শোষণ করে
  2. মাটির পাত্র ভালো তাপ পরিবাহী
  3. মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  4. মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
- বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে। 
- গরমের দিনে মাটির কলসীতে পানি রেখে পানি ঠান্ডা করা হয়। 
- মাটির কলসীর গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে সর্বদা পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে। 
- ফলে কলসীর বাইরের গাটি সবসময়ই ভেজা থাকে। 
- এই পানির কণা কলসীর গা এবং সংলগ্ন বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় সুপ্ত তাপ সংগ্ৰহ করে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। 
- কলসীর গা ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে, ফলে কলসীর ভেতরের পানিও ঠান্ডা হয়। 
- এছাড়া বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণের নীতিকে কাজে লাগিয়ে রিফ্রিজারেটর তৈরি করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৯৭.
রাবার নিচের কোন জৈব দ্রাবকে অদ্রবণীয় থাকে?
  1. বেনজিন
  2. ইথার
  3. পেট্রোল
  4. মিথানল
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৯৯৮.
এসিড বৃষ্টিতে বৃষ্টির পানির pH এর মান কত থাকে?
  1. ৭ বা তার কম
  2. ৭ বা তার বেশি
  3. ৪ বা তার কম
  4. ৫ - ৬ এর মাঝামাঝি
ব্যাখ্যা
• পানির pH:
• সাধারণত বৃষ্টির পানির pH এর মান ৫ থেকে ৬ এর মধ্যে হয়।
- মনুষ্য সৃষ্ট কিছু কারণে বিভিন্ন এসিড মিশে বৃষ্টির পানির pH এর মান কমে ৪ বা তারও কম হয়ে গেলে সেই বৃষ্টিকে এসিড বৃষ্টি বলে।
- pH দ্বারা পানির অম্লত্ব বা ক্ষারকত্ব বোঝায়।
- পানি অ্যাসিড ধর্মী বা ক্ষার ধর্মী তা নির্ভর করে পানির pH এর উপর ।
- বিশুদ্ধ পানির pH হচ্ছে ৭।
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড বা ক্ষার থাকেনা।
- তাই বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 

-  pH এর মান ৬-৮ এর মধ্যে হয় তবে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণির জন্য কোনো অসুবিধা হয় না। 
- যদি pH এর মান ৭ হয় তবে পানি নিরপেক্ষ হয়।
- যদি pH এর মান ৭ অপেক্ষা বেশি হয় তবে পানি ক্ষারধর্মী হয়।
- আবার pH এর মান ৭ অপেক্ষা কম হলে পানি অ্যাসিডধর্মী হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৯৯.
উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ও সহজে পরিবহনযোগ্য আধুনিক কম্পিউটারের ভিত্তি হচ্ছে -
  1. ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  2. ট্রানজিস্টর
  3. রেজিস্টর
  4. ক্যাপাসিটর
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC)
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা IC  হল ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটরের সমন্বয়ে গঠিত একটি সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী প্রথম IC তৈরি করেন।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। 
- বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে।
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার- IBM system 360।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০০০.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. হিমায়িত অক্সিজেন
  2. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইড
  3. হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ বা 'ড্রাই আইস' হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড-78.5°C উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় বা বাষ্পে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।