বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৮ / ১৪০ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ১৪,০৮০

৩,৭০১.
রক্ত জমাট বাঁধার পর হালকা হলুদ রংয়ের স্বচ্ছ যে রস পাওয়া যায়, তাকে কী বলে? 
  1. লসিকা
  2. প্লাজমা
  3. সিরাম
  4. অ্যান্টিজেন
ব্যাখ্যা
সিরাম: 
- রক্ত থেকে রক্তকণিকা এবং রক্ত জমাট বাঁধার জন্য যে প্রয়োজনীয় প্রোটিন আছে, সেটাকে সরিয়ে নেওয়ার পর যে তরলটি রয়ে যায়, তাকে সিরাম বলে। 
অর্থাৎ, রক্ত জমাট বাঁধার পর হালকা হলুদ রংয়ের যে স্বচ্ছ রস পাওয়া যায়, তাকে সিরাম বলে। 
- রক্তরস বা প্লাজমা এবং সিরামের মাঝে মূল পার্থক্য হলো রক্তরসে রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন থাকে, সিরামে সেটি থাকে না। 

রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। 
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। 
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন এবং O, CO, এবং N, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭০২.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
  1. Carolus Linnaeus
  2. Theophrastus
  3. George Benthum 
  4. De Candolle
ব্যাখ্যা

শ্রেণিবিন্যাসের জনক (Father of Classification):
- জীবজগতের বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো ও চিহ্নিত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলা হয়।
- আধুনিক জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তি স্থাপন করেন ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus)।
- তিনি জীবদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি (Binomial Nomenclature) প্রবর্তন করেন।
- এই পদ্ধতিতে প্রতিটি জীবের নাম দুটি অংশে গঠিত হয়—গণ (Genus) ও প্রজাতি (Species)।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “Systema Naturae” জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- Theophrastus উদ্ভিদবিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত, কিন্তু শ্রেণিবিন্যাসের জনক নন।
- George Bentham ও De Candolle উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক নন।

সুতরাং, জীবজগতের শ্রেণিবিন্যাসের জনক হলেন Carolus Linnaeus.
সঠিক উত্তর: ক) Carolus Linnaeus.

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭০৩.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোন তারিখে কোভিড -১৯ কে বৈশ্বিক মহামারি হিসাবে ঘোষণা করে?
  1. ক) ১১ মার্চ, ২০২০
  2. খ) ৮ মার্চ, ২০২০
  3. গ) ৩০ জানুয়ারি, ২০২০
  4. ঘ) ১৫ জানুয়ারি, ২০২০
ব্যাখ্যা
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
৩,৭০৪.
ধান চাষে নিম্নের কোন গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরিত হয়?
  1. মিথেন
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়।
-  এ সমস্ত জমি থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস-মিথেন (CH4), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ও নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) যেমন নিঃসরিত হয় তেমনি ধান গাছ তার শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড ফর্মে এসব গ্যাস শোষণ করছে। 
- ধান গাছ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের চেয়ে বেশি শোষণ করে। 
-  বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে  ১ কেজি ধান উৎপাদন করতে ৬৬৬ গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড, ৫৩ গ্রাম মিথেন এবং ০.৫ গ্রাম নাইট্রাস অক্সাইড ধানক্ষেত থেকে নিঃসরিত হয়। 
- অন্যদিকে এক কেজি ধান উৎপাদন করতে ধানগাছ ২২০০ গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড ফটোসিনথেটিক প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করে। 
 
উৎস: www.ais.gov.bd
৩,৭০৫.
হোল কোন ধরনের আধান হিসেবে কাজ করে? 
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে, ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়। 
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C. 
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৬.
মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোমের সংখ্যা-
  1. ১ জোড়া
  2. ২ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ২২ জোড়া
ব্যাখ্যা
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকা: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া বা ২টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৭.
কোন নিউরোট্রান্সমিটার মুড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. অ্যাসিটাইলকোলিন
  2. ডোপামিন
  3. গ্লুটামেট
  4. GABA
ব্যাখ্যা

◉ ডোপামিন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার, যা সুখ, প্রেরণা এবং পুরস্কারমূলক অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে।

ডোপামিন:
- ডোপামিন মস্তিষ্কে তৈরি একটি নিউরোট্রান্সমিটার (দুটি স্নায়ু কোষের মধ্যে রাসায়নিক বার্তাবাহক)।
- এটি মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ এবং শরীরের স্নায়ু এবং পেশী কোষের মধ্যে বার্তা যোগাযোগ করতে সহায়তা করে।
- এটি শরীরের নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয়, মেজাজ, স্মৃতি, মনোযোগ, অনুপ্রেরণা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- এটি শরীরের অনেক কাজের সাথে জড়িত যেমন উত্তেজনা এবং ঘুম, জ্ঞান এবং আচরণ, মেজাজ, স্তন্যদান, শিক্ষা ইত্যাদি। 
- এটি একটি সত্যিকারের চাপের পরিস্থিতিতে শরীরের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন বিপদ সনাক্ত করা এবং এটি থেকে পালানো।
- ডোপামিনের ঘাটতি হলে উদাসীনতা, বিষণ্নতা ও পারকিনসন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- অতিরিক্ত ডোপামিন স্কিজোফ্রেনিয়া ও আসক্তির (Addiction) সাথে সম্পর্কিত।

উৎস:
i) জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Care Hospitals Website. [Link] 

৩,৭০৮.
প্রিজমে কোন আলোকীয় ঘটনা আবলোকন করা যায়?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) প্রতিসরণ
  3. গ) ব্যতিচার
  4. ঘ) অপবর্তন
ব্যাখ্যা

- দুটি হেলানো সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধমকে প্রিজম বলে।
- প্রিজমে আলোর প্রতিসরণ ঘটে থাকে। প্রিজমের মত লেন্সেও আলোর প্রতিসরণ লক্ষ্য করা যায়।

- দর্পণের ক্ষেত্রে আলোর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। 
- কোনো প্রতিবন্ধকের ধার ঘেঁষে বা সরু চিরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় জ্যামিতিক ছায়া অঞ্চলের মধ্যে আলোর বেঁকে যাওয়ার ঘটনাকে আলোর অপবর্তন বলে। 
- কোনো স্থানে বিন্দু থেকে বিন্দুতে আলোর তীব্রতার পর্যায়ক্রমিক তারতম্যকে আলোর ব্যতিচার বলে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

৩,৭০৯.
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ কেমন হয়?
  1. রোধ কমে
  2. রোধ বাড়ে
  3. রোধ অপরিবর্তিত থাকে
  4. রোধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় স্থির হয়ে যায়
ব্যাখ্যা
রোধের উপর তাপমাত্রার প্রভাব: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহকালে বাধার সৃষ্টি হয় তাকে পরিবাহীর রোধ বলে। 
- পরিবাহীর বিভিন্ন ধর্মের উপর রোধ নির্ভর করে। 
যেমন- পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ইত্যাদি। 
- তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর রোধ বাড়ে, আবার তাপমাত্রা কমে গেলে পরিবাহীর রোধ কমে যায়। 
- তবে পরিবাহীতে রোধ তাপমাত্রার সমানুপাতিক নয়। 
- রোধের উষ্ণতা সহগ দ্বারা তাপমাত্রার সাথে রোধের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। 

- তড়িৎ প্রবাহের ফলে তড়িৎ বর্তনীতে তাপের উদ্ভব হয়। 
- তড়িৎ বর্তনীতে তাপ উৎপাদনের কারণ ইলেকট্রন মতবাদের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়। 
- পরিবাহীতে বহু সংখ্যক মুক্ত ইলেক্ট্রন থাকে। 
- পরিবাহীর মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রনের প্রবাহের দরণ তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। 
- পরিবাহীতে দুই বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হলে মুক্ত ইলেকট্রনগুলো অণু পরমাণুর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, ফলে পরিবাহীতের রোধের সৃষ্টি হয়। 
- এভাবে তাপমাত্রা যদি আরও বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে পরিবাহীর অণু পরমাণুগুলো অতিরিক্ত শক্তি অর্জন করে অতিমাত্রায় কাঁপতে থাকে। 
- ফলে মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বৃদ্ধি পায় এবং চলার পথে বেশী বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- এতে করে পরিবাহীর রোধও বাড়তে থাকে এবং পরিবাহী গরম হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১০.
'মহাসেন' বাংলাদেশে আঘাত হানে-
  1. ক) ২০০৯ সালে
  2. খ) ২০১৩ সালে
  3. গ) ২০১৮ সালে
  4. ঘ) ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৬ মে, ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে আঘাত হানে। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ভারত, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডে ঝড়টি আঘাত হানে।
৩,৭১১.
একটি বৈদ্যুতিক বাল্বে ‘60W–120V’ লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত?
  1. 240 Ω
  2. 350 Ω
  3. 400 Ω
  4. 680 Ω
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বৈদ্যুতিক বাল্বে ‘60W–120V’ লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত?

সমাধান:
এখানে, 
ক্ষমতা, P = 60W
ভোল্টেজ, V = 120V
রোধ, R = ?

আমরা জানি, 
P = V²/R
⇒ R = V²/P
 = (120)²/60
= 240

∴ বাল্বটির রোধ = 240 Ω

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭১২.
আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী কিসের পরিবর্তনে স্থান, কাল ও ভরের পরিবর্তন হয়?
  1. সময়
  2. সূর্যের অবস্থান
  3. বেগ
  4. স্থানাংক
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। সেটি হলো আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।
- তাই আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়, যথা-
- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব।
- সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব।

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন।
যথা -
- প্রথম স্বীকার্য - স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে ।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য - শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৩.
জেনেটিক কোডের আবিষ্কারক-
  1. ক) রোনাল্ড রস
  2. খ) খোরানা
  3. গ) জোহানসন
  4. ঘ) স্ট্রাসবুর্গার
ব্যাখ্যা

- জিন সাধারণত প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে তাদের প্রকাশ ঘটায়। জিনের নিউক্লিওটাইডের পরম্পরা অনুযায়ী জীবকোষ অ্যামাইনো এসিড তৈরি করে।
- অ্যামাইনো এসিড থেকে প্রোটিন উৎপন্ন হয়।
- প্রোটিনে অ্যামাইনো এসিডের ক্রম আর জিনে নিউক্লিওটাইডের ক্রম অভিন্ন রকম হয়ে থাকে।
- নিউক্লিওটাইডের ক্রম আর অ্যামাইনো এসিডের ক্রমের এই সম্পর্ককে জেনেটিক কোড বলে।
- ড. হর গোবিন্দ খোরানা জেনেটিক কোড আবিষ্কার করেন।

৩,৭১৪.
এন্টিবায়োটিকের কাজ-
  1. ক) রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. খ) জীবাণু ধ্বংস করা
  3. গ) ভাইরাস ধ্বংস করা
  4. ঘ) দ্রুত রোগ নিরাময় করা
ব্যাখ্যা
- এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস বা তার বৃদ্ধি রহিত করে।
- এক ধরনের পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে তৈরি হয় এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন।
- পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭১৫.
ফ্যাক্সের সাহায্যে কী করা যায়?
  1. তথ্য আদান প্রদান
  2. মেইল আদান প্রদান
  3. ডকুমেন্ট আদান প্রদান
  4. কথাবার্তা আদান প্রদান
ব্যাখ্যা

- ফ্যাক্সের সাহায্যে ডকুমেন্ট আদান প্রদান করা যায়।

 ফ্যাক্স (Fax):
- বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বেইন ১৮৪২ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন।
- ফ্যাক্সের পুরো নাম হলো ফ্যাক্সিমিল।
- কোনো ডকুমেন্টকে হুবহু কপি করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপকের কাছে পাঠাতে ফ্যাক্স ব্যবহার করা হয়।
- প্রেরক যে ডকুমেন্ট যেমন দলিল, সার্টিফিকেট, ছবি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি প্রাপকের কাছে পাঠাতে চান সে ডকুমেন্ট তার ফ্যাক্স মেশিনের সাহায্যে হুবহু কপি তৎক্ষণাৎ প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনে পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক তার মেশিন থেকে সেই ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি পেয়ে যান।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭১৬.
বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক কে?
  1. টমাস এডিসন
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. জি মার্কনি
  4. গ্রাহামবেল
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তড়িৎ চৌম্বক বলকে একত্র করে তড়িৎ চৌম্বকীয় বলের ধারণা প্রকাশ করেন, যা কিনা বিনা তারে বার্তা প্রেরণের একটি সম্ভাবনা উন্মোচন করে।
- ১৮৯৫ সালে জগদীশ চন্দ্র বসু অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য প্রেরণে সফল হন।
- ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করেন।
- একই সময়ে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে একই কাজে প্রথম সফলতা লাভ করে ইতালির বিজ্ঞানী গুগলিয়েলমো মার্কনি।
- এজন্য তাকে বেতার যন্ত্রের আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামের দুইটি গণনা যন্ত্র তৈরি করেন।
- ১৯৯১ সালে তাঁর ডিজাইন থেকেই সফলভাবে কর্মক্ষম একটি যন্ত্র তৈরি করা হয়।
- তাঁকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়।

উৎস: কম্পিউটার শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৭.
4x2 - 12x এর সাথে কত যোগ করলে যোগফল পূর্ণবর্গ হবে?
  1. 4
  2. 9
  3. 25
  4. 16
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 4x2 - 12x এর সাথে কত যোগ করলে যোগফল পূর্ণবর্গ হবে?

সমাধান:
4x2 - 12x
= (2x)2 - 2 . 2x . 3 + 32 - 32
= (2x - 3)2 - 9

∴ 4x2 - 12x এর সাথে 9 যোগ করলে যোগফল পূর্ণবর্গ সংখ্যা হবে।

৩,৭১৮.
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে কে?
  1. ক) নিউট্রোফিল
  2. খ) ইওসিনােফিল
  3. গ) বেসােফিল
  4. ঘ) হেপারিন
ব্যাখ্যা

গ্র‍্যানোলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন৷
এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত। গ্রানুলােসাইট শ্বেত কণিকাগুলাে নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার।
যথা: নিউট্রোফিল, ইওসিনােফিল এবং বেসােফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনােফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসােফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্ত বাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৩,৭১৯.
খাদ্যের কোন উপাদান 'খাদ্যপ্রাণ' হিসেবে পরিচিত?
  1. শর্করা
  2. ভিটামিন
  3. আমিষ
  4. পানি
ব্যাখ্যা
• খাদ্য উপাদান:
- বর্ণ, গন্ধ, ঘনত্ব, আকার, আকৃতি, গঠন, প্রকৃতি ইত্যাদি দিক থেকে যাবতীয় খাদ্যকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- এদেরকে খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- খাদ্যের উপাদান ৬টি। যথা:

১. আমিষ বা প্রোটিন:
- আমিষ জাতীয় খাদ্য প্রধানত দেহ গঠন, বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণের কাজ করে।
- প্রোটিন হতে দেহের প্রয়োজনে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ও অভ্যন্তরীণ ক্রিয়ায় প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, পনির, ছানা, ডাল, শিমের বিচি, বাদাম, মটরশুঁটি ইত্যাদি প্রোটিনের ভালো উৎস।

২. শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
- শর্করা বা শ্বেতসারজাতীয় খাদ্য হতে প্রধানত তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়।
- ভাত, রুটি, ভুট্টা, গম, যব, চিড়া, মুড়ি, চিনি, মধু, মিষ্টি ফল, ফলের রস, গুড়, আলু ইত্যাদি শর্করার ভালো উৎস।

৩. স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট:
- স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের প্রধান কাজ দেহের জন্য তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা।
- ফ্যাট জাতীয় খাদ্য হতেই সর্বাধিক পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- মাছ ও মাংসের তেল ও চর্বি, ঘি, মাখন, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, নারিকেল তেল, অন্যান্য তেল, বাদাম, ডিমের কুসুম ইত্যাদি স্নেহ জাতীয় খাদ্যের প্রধান উৎস।

৪. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ:
- ভিটামিন ৬ প্রকার।
- যথা: ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই এবং কে।
- সুষম খাদ্যের ভিটামিন খাদ্য উপাদান 'খাদ্যপ্রাণ' হিসেবে পরিচিত।
- রোগ প্রতিরোধ করে দেহকে সুস্থ রাখাই ভিটামিনের প্রধান কাজ।
- সব ধরনের শাক-সবজি, ফল, ঢেকি ছাঁটা চাল, তেল বীজ, অঙ্কুরিত বীজ ইত্যাদি ভিটামিনের উৎস।

৫. খনিজ লবণ বা মিনারেল:
- দেহের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-বিক্রিয়া, হাড় ও দাঁতের গঠন, রক্ত তৈরি, মস্তিষ্কের বিকাশ, দেহের পানি সমতা রক্ষা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনে বিভিন্ন খনিজ পদার্থসমূহ অপরিহার্য।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য খনিজ লবণ হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ বা আয়রণ, আয়োডিন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি।
- দুধ, ছোট মাছ, মাংস, ডিমের কুসুম, ডাল, শাক-সবজি, বিভিন্ন ফল, ডাবের পানি, লবণ ইত্যাদি বিভিন্ন খনিজ লবণের উৎস।

৬. পানি:
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের প্রায় ৭০% পানি।
- দেহ অভ্যন্তরের সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া সংঘটন, রক্ত সঞ্চালন, পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক স্থান হতে অন্য স্থানে চলাচলে পানি অপরিহার্য।
- দেহের সামগ্রিক সজীবতা রক্ষায় পানি প্রয়োজন।
- পানি ছাড়া বেঁচে থাকা যায় না, তাই পানির অপর নাম জীবন।

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২০.
কোন ধমনি থাইরয়েড গ্রন্থি ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে?
  1. সার্ভিকাল ধমনি
  2. ইলিয়াক ধমনি
  3. মেসেন্টেরিক ধমনি
  4. থাইরোসার্ভিকাল ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন - 
⇒ আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
⇒ সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
⇒ ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৭২১.
মূদ্রণ-কালি এবং কালো ও ধূসর রং প্রস্তুতিতে প্রচুর ব্যবহার রয়েছে কোনটির?
  1. ক) কোক
  2. খ) চারকোল
  3. গ) গ্রাফাইট
  4. ঘ) ভুসা কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা, কোক, চারকোল ইত্যাদি অনিয়তাকার কার্বন। চারকোলের গ্যাস পরিশোষনের ক্ষমতা থাকায় বিষাক্ত গ্যাস পরিশোষনের জন্য নির্মিত গ্যাস প্রতিরোধক মুখোশে চারকোল ব্যবহৃত হয়। কার্বনের বিজারণ ক্ষমতা বেশ উল্লেখযোগ্য। সক্রিয়তা শ্রেণীতে অ্যালুমিনিয়ামের নিচের অনেক ধাতুর অক্সাইড থেকে বিজারণের মাধ্যমে ধাতু নিষ্কাশনের জন্য কোক ব্যবহৃত হয়। বাত্যাচুল্লীতে আয়রন অক্সাইডকে কোকের সাহায্যে বিজারিত করে লোহা উৎপাদন করা যায়। কার্বনের একটি রূপ ভুসা কয়লা (lamp black)। মূদ্রণ-কালি এবং কালো ও ধূসর রং প্রস্তুতিতে এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে।
[সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত]
৩,৭২২.
যেসব প্লাস্টিডে রঞ্জক থাকে না, সেগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. ক্লাইমোপ্লাস্ট
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা- ১। ক্লোরোপ্লাস্ট, ২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং ৩। লিউকোপ্লাস্ট। 

 ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়।
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭২৩.
নিচের কোনটি উৎপাদক হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) শেওলা
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
উৎপাদক (Producer) :
• সাধারণত উচ্চতর উদ্ভিদ ও শেওলা জাতীয় সবুজ উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
• এ প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে অক্সিজেন তৈরি হয়, যা জীব পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। এক্ষেত্রে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং শর্করা খাদ্যে আবদ্ধ থাকে ।
• যে সকল উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটনে সক্ষম তাদেরকে প্রাথমিক উৎপাদক (primary producer) বলে।

খাদক (Consumer) : বাস্তুসংস্থানের পরভোজী জীবগুলিকে খাদক বলা হয়। এরা সবুজ উদ্ভিদ কর্তৃক তৈরিকৃত শর্করা জাতীয় খাদ্যকে নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। খাদক হিসেবে প্রধানত প্রাণিদেরকে বুঝানো হয়ে থাকে, কেননা প্রাণিরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে অক্ষম। ফলে খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল । খাদককে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়ে থাকে, যথা-
প্রথম স্তরের খাদক
দ্বিতীয় স্তরের খাদক
তৃতীয় স্তরের খাদক


উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৪.
বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত - 
  1. ক) প্রোটনের প্রবাহ
  2. খ) ইলেকট্রনের প্রবাহ
  3. গ) নিউট্রনের প্রবাহ
  4. ঘ) মেসনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা
বিটা রশ্মি বা বিটা কণা আসলে ইলেকট্রন।  বিটা রশ্মির বিকিরণ মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ।

বিটা রশ্মির ধর্ম:
- এই রশ্মি ঋণাত্মক আধানযুক্ত।
- এই রশ্মি চৌম্বক ও তড়িৎ ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়। 
- এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- বিটা কণিকার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইলেকট্রন
- এর ভেদন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে বেশি এবং এটি 0.01m পুরু।

SOURCE: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৭২৫.
টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য সাধারণত কী ব্যবহার করা হয়?
  1. শুধু শিকড়
  2. শুধু বীজ
  3. পূর্ণাঙ্গ গাছ
  4. গাছের অংশবিশেষ 
ব্যাখ্যা

◉ টিস্যু কালচার (Tissue Culture) হলো একটি উদ্ভিদ প্রজনন পদ্ধতি, যেখানে গাছের যেকোনো অংশ (পাতা, কাণ্ড, শিকড়, কলি ইত্যাদি) জীবাণুমুক্ত পরিবেশে পুষ্টি মাধ্যমের মধ্যে রেখে নতুন উদ্ভিদ উৎপাদন করা হয়।

টিস্যু কালচার:
- উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে টোটিপোটেন্ট (totipotent) স্টেম কোষ থাকায় এর প্রায় যেকোনো অংশ থেকে হুবহু আরেকটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব, এটিই টিস্যু কালচারের মূলনীতি।
- পূর্ণাঙ্গ গাছ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, বরং ছোট অংশ থেকেই নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়।
- সাধারণত এক বা একাধিক ধরনের এক গুচ্ছ কোষসমষ্টিকে টিস্যু (Tissue) বা কলা বলা হয়।
- এই এক গুচ্ছ কোষ উৎপত্তিগতভাবে অভিন্ন এবং সম্মিলিতভাবে একই কাজ করে।
- একটি টিস্যুকে জীবাণুমুক্ত পুষ্টিবর্ধক কোনো মিডিয়ামে (Nutrient medium) বর্ধিতকরণ প্রক্রিয়াই হলো টিস্যু কালচার।
- টিস্যু কালচার উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি অপেক্ষাকৃত নতুন শাখা।
- উদ্ভিদ টিস্যু কালচারে উদ্ভিদের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ বা অঙ্গবিশেষ (যেমন পরাগরেণু, শীর্ষ বা পার্শ্বমুকুল, পর্ব, মূলাংশ ইত্যাদি) কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টিবর্ধক মিডিয়ামে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় কালচার করা হয়।
- মিডিয়ামগুলোতে পুষ্টি এবং বর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সরবরাহ করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম - ১০ শ্রেণি।

৩,৭২৬.
মানুষের রক্ত লাল রঙের হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. রক্তে লাল তন্তুর উপস্থিতি 
  2. রক্তে লৌহ আয়নের বৃদ্ধি 
  3. হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত প্রোটিনের উপস্থিতি
  4. রক্তে অক্সিজেনের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩,৭২৭.
ভূ-ত্বক কয়টি টেকটোনিক প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত? 
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৭ টি
  4. ৯ টি
ব্যাখ্যা
টেকটোনিক প্লেট: 
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ। 
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে। 
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়। 
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়। 
- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭ টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত। 
- প্লেটগুলো হলো: 
• ইউরেশিয়ান প্লেট (Eurasian Plate), 
• উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate), 
• দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate), 
• আফ্রিকান প্লেট (African Plate), 
• অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate), 
• ভারত-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) ও 
• প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate) । 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং লাইভ লেকচার।
৩,৭২৮.
টিউমার সংক্রান্ত চর্চাকে বলে -
  1. টিউমারোলজি
  2. অনকোলজি
  3. সাইটোলজি
  4. একোলজি
ব্যাখ্যা
- বাস্তুসংস্থান সম্পর্কিত যে চর্চাকে বলা হয়- ইকোলজি। 
- টিউমার, ক্যান্সার সংক্রান্ত চর্চাকে বলা হয়- অঙ্কোলজি। 
- কোষবিদ্যাকে বলা হয়- সাইটোলজি। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৭২৯.
ঘর্ষণের কারণে কোন শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. শব্দ শক্তি
  3. বিদ্যুৎ শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক শক্তি: 
- জেনারেটরে যখন বিদ্যুৎ তৈরি হয় তখন আসলে যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার করে তারের কুণ্ডলীকে চৌম্বক ক্ষেত্রে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- ঘর্ষণের কারণে সব সময়ই তাপশক্তি তৈরি হচ্ছে, সেখানে আসলে যান্ত্রিক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- বৈদ্যুতিক ঘন্টায় বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক মটরে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৭৩০.
কোনো দেশের শিল্পোন্নয়ন নিরূপণে কোন এসিডের ব্যবহারকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়?
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনে এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য।
যেমন-
• সোনার গহনা তৈরির সময় স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় তাতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয় সেটি হলো কার্বোলিক এসিড। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে এসিড অত্যাবশ্যকীয় এবং সেটি হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহৃত হয়। 
কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড (HNO3) এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৭৩১.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. লিপিড
  4. প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।

- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়।
- এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো।
- উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইস্ট এবং অন্যান্য ফাংগাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।

• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
- আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে।
- বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। 
- এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩,৭৩২.
অতিবেগুনি রশ্মি শরীরের কোন উপকারে আসে? 
  1. রক্তের লোহিত কণিকা বৃদ্ধি করে
  2. শরীরের বিপাক হার বৃদ্ধি করে
  3. ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে 
  4. স্নায়ুতন্ত্রের সংবেদনশীলতা বাড়ায়
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনি রশ্মি: 
- এক্সরের থেকে কম বা ছোট কম্পাঙ্কের বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet ray)। 
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিস্তার 10-8 m থেকে 4×10-7 m, এক্সরে এবং দৃশ্যমান আলোর মাঝামাঝি। 
- সূর্য রশ্মি এই বিকিরণের প্রধান উৎস। 
- এই রশ্মি শরীরের ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। 
- তবে বেশিক্ষণ এই রশ্মি শরীরে পড়লে তা ক্ষতিকর হয়। 
- চোখের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৩.
কোন প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না? 
  1. সমচাপ প্রক্রিয়া
  2. রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  3. সমোষ্ণ প্রক্রিয়া
  4. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩,৭৩৪.
পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করা প্রথম প্রাণী কোনটি?
  1. বিড়াল
  2. বানর
  3. খোরগোশ
  4. কুকুর
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর মহাকাশ যুগের শুরু হয়।
- এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুতনিক স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ মহাকাশে প্রেরণ করে।
- মহাকাশ যুগের দরজা খোলার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুতনিক ২ উৎক্ষেপণ করে। 
- এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রথম কোনো প্রাণী কক্ষপথে যাওয়ার সুযোগ পায়।
- স্পুতনিক ২ রকেটে করে একটি প্রাণী মহাকাশে নিয়ে যাওয়া হয়। 
- লাইকা নামের কুকুরকে পাঠানো হয় কক্ষপথে।
- লাইকা পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করা প্রথম প্রাণী।

উৎস: প্রথম আলো।

৩,৭৩৫.
কোন রেখাটি 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' নির্দেশ করে?
  1. ৯০° দ্রাঘিমারেখা
  2. ১২০° দ্রাঘিমারেখা
  3. ১৮০° দ্রাঘিমারেখা
  4. ১৯০° দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।

⇒ আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা পার করা হলে, তখন সময় বদলে যায়:
পশ্চিম থেকে পূর্বে চললে: এক দিন কমে যায়।
পূর্ব থেকে পশ্চিমে চললে: এক দিন যুক্ত করতে হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৬.
পোকামাকড় দমনে কোন ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়? 
  1. ব্লিচিং পাউডার
  2. লাইম ওয়াটার
  3. মিল্ক অফ লাইম
  4. মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া
ব্যাখ্যা
প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারের ব্যবহার: 
- কাপড় কাচার সাবান তৈরি হয় সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল থেকে। 
- সেভিং ফোম বা নরম সাবান তৈরিতে পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও চর্বি বা তেল ব্যবহার করা হয়। 
- টুথপেস্ট বা টুথ পাউডারে যে উপাদান ব্যবহার করা হয় সেগুলো মূলত ক্ষারীয়। 
- এন্টাসিড অ্যাসিড মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)2 ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 নামের ক্ষার যা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা অ্যাসিডিটির কারণে খাওয়া হয়। 
- মৌমাছির হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ের জ্বালা কমানোর জন্য ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করা হয় যা আসলে জিংক কার্বোনেট। অনেকে বেকিং সোডাও ব্যবহার করে থাকেন। কারণ, পিঁপড়ার কামড়ে মূলত ফরমিক অ্যাসিড এবং মৌমাছির হুলে ফরমিক অ্যাসিড, মেলিটিন, ও অ্যাপামিন নামক অ্যাসিডডক পদার্থ নিঃসৃত হয়।  ফলে ঐ স্থান জ্বালা-পোড়া করে ও ফুলে যায় । এই অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করতে এ জাতীয় ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়। 
- মাটির অ্যাসিডিটি বাড়লে এর উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়, তাই মাটির উর্বরতা শক্তি ফেরাতে চুন (CaO), চুনাপাথর জাতীয় ক্ষারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
- 'মিল্ক অফ লাইম' নামক ক্ষারীয় বস্তু পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৭.
'কুলম্ব' কিসের একক?
  1. ওহম
  2. আধান
  3. সিমেন্স
  4. ভোল্ট
ব্যাখ্যা
• আধান বা চার্জের একক হলো কুলম্ব।
- SI এককে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S)।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:

- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৩৮.
হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলির প্রাচীরকে রক্ষা করে কোনটি? 
  1. ট্রিপসিন
  2. মিউসিন
  3. টায়ালিন
  4. পেপসিন
ব্যাখ্যা
পাকস্থলি: 
- বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলি। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। 
যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলির প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। 
- এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। 

কাজ: 
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- 'মিউসিন' হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলির প্রাচীরকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিডের উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৯.
কিলোওয়াট ঘণ্টা সমান-
  1. ক) ৪.২ × ১০ জুল
  2. খ) ৩.৬ × ১০ জুল
  3. গ) ৭.২ × ১০ জুল
  4. ঘ) ৩.৬ × ১০ জুল
ব্যাখ্যা

- বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক বা ব্যবহারিক একক হচ্ছে কিলোওয়াট ঘন্টা।
- বিদ্যুৎ বিলের হিসাব করা হয় কিলোওয়াট ঘণ্টায়।
- এক কিলোওয়াট ঘণ্টা সমান ৩.৬ × ১০ জুল।

৩,৭৪০.
মানুষের হার্টে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।

• হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে।
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৪১.
পর্যায় সারণির বামদিকের মৌলগুলো সাধারণত -
  1. ধাতু
  2. অধাতু
  3. অপধাতু
  4. অর্ধধাতু
ব্যাখ্যা
- পর্যায় সারণির যেকোনো একটি পর্যায়ের দিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, বামদিকের মৌলগুলো সাধারণত ধাতু, মাঝের মৌলগুলো সাধারণত অর্ধধাতু বা অপধাতু এবং ডানদিকের মৌলগুলো সাধারণত অধাতু। 

- পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে।
যেমন-ধাতব ধর্ম, অধাতব ধর্ম, পরমাণুর আকার, আয়নিকরণ শক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা ইলেকট্রন আসক্তি ইত্যাদি, এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।

ধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। 
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়। 
Li → Li+ + e
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

অধাতব ধর্ম: 
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- ক্লোরিন (CI) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়। 
Cl + e- → Cl
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধধাতু বা অপধাতু: 
- যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ধাতুর মতো আচরণ করে এবং কোনো কোনো সময় অধাতুর মতো আচরণ করে তাদেরকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলা হয়। 
- আবার আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাদেরকে অপধাতু বলে। 
যেমন- সিলিকন (Si) একটি অপধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৪২.
এসিড লিটমাস কাগজে কী পরিবর্তন করে? 
  1. নীল থেকে লাল করে
  2. লাল থেকে নীল করে
  3. নীল থেকে সবুজ করে
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা
এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৩.
বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনীকে কী বলে? 
  1. LSI
  2. VSI
  3. MSI
  4. SSI
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি (Integrated Circuits or IC): 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়। 
- এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট (microelecrtonic circuit) বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়। 
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits), 
২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits) এবং 
৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৪.
কোয়ার্টজ অধাতব খনিজ পদার্থ কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. মাটির প্রশমনে 
  2. কাচ ও সিরিজ কাগজে 
  3. লোহা উৎপাদনে 
  4. ঘরবাড়ি নির্মাণে 
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica) এবং 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৪৫.
'সালোকসংশ্লেষণ' জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. Morphology
  2. Physiology
  3. Cytology
  4. Ethnobiology
ব্যাখ্যা
শারীরবিদ্যা (Physiology) : 
জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ - এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৩,৭৪৬.
যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ডায়নামো
  2. হুইল
  3. বৈদ্যুতিক মটর
  4. ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য ডায়নামো ব্যবহার করা হয়। ডায়নামো হলো একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র যা ঘূর্ণনশীল চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং কুণ্ডলী ব্যবহার করে যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। যখন এর শরীর বা হাতিয়ার ঘোরানো হয়, তখন কুণ্ডলীর মধ্যে চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তনের ফলে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এটি মূলত সাইকেলের হেডলাইট, ছোট জেনারেটর এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, হুইল শুধু ঘূর্ণনশীল যান্ত্রিক অংশ, বৈদ্যুতিক মটর বিদ্যুৎকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে, আর ট্রান্সফরমার বিদ্যুতের ভোল্টেজ পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডায়নামোই সঠিক উত্তর।

• ডায়নামো: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। 
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত। 

• বৈদ্যুতিক মটর: 
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে। 

• ট্রান্সফর্মার: 
-যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৭৪৭.
প্রাণীকোষে কোনটি অনুপস্থিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) কোষগহবর
  4. ঘ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা

প্রাণীকোষে কোষগহবর থাকে না, তবে কোন কোন কোষে যদি থাকেও আকারে খুবই ছোট।

উদ্ভিদকোষে কোষগহবর থাকে এবং আকারে বড় হয়। এ কারণে, উদ্ভিদ কোষে নিউক্লিয়াস একপাশে এবং প্রাণীকোষে নিউক্লিয়াস মাঝামাঝি থাকে। নানা প্রকার জৈব এসিড, লবণ, শর্করা, আমিষ ইত্যাদি কোষ গহবরে দ্রবীভূত অবস্থায় থেকে কোষরস প্রস্তুত করে।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান (১৭-১৮ পৃষ্ঠা)।

৩,৭৪৮.
একটি জ্বলন্ত মোমবাতিকে কাঁচের গ্লাস দ্বারা ঢাকলে মোমবাতি নিভে যায়, কারণ -
  1. ক) কাঁচ আলোকে জ্বলতে বাধা দেয়
  2. খ) পাত্রের ভিতর বায়ুশূন্য হয়ে যায়
  3. গ) গ্লাসের ভিতর হাইড্রোজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়
  4. ঘ) গ্লাসের ভিতর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়
ব্যাখ্যা

একটি জ্বলন্ত মোমবাতিতে কাঁচের গ্লাস দ্বারা ঢাকলে মোমবাতি নিভে যায়, কারণ গ্লাসের ভিতর অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
অক্সিজেনের আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে। অক্সিজেনের অভাবে আগুন নিভে যায়।
উৎসঃ টেক্সট বুক, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪৯.
অর্ধপরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তির পার্থক্য কোনটি? 
  1. প্রায় 50.1 eV
  2. প্রায় 15.0 eV
  3. প্রায় 1.1 eV
  4. প্রায় 25.1 eV
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। 
- কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার উঠা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তির পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৫০.
যদি কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ৬০ নিউটন হয়, তবে চাঁদে তা কত হবে? 
  1. ৬ নিউটন
  2. ২০ নিউটন
  3. ৩০ নিউটন
  4. ১০ নিউটন
ব্যাখ্যা
বস্তুর ওজন: 
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে। 
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে। 
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৭৫১.
মধ্যম উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. সিরাস
  2. নিম্বোস্ট্রেটাস
  3. কিউম্যুলাস
  4. স্ট্রেটাস
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 

উঁচু উচ্চতার মেঘ: 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ। 
যেমন - 
• সিরাস, 
• সিরোকিউম্যুলাস, 
• সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি। 

মাঝারি বা মধ্য উচ্চতার মেঘ: 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। 
যেমন - 
• অল্টোস্ট্রেটাস, 
• কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস, 
• নিম্বোস্ট্রেটাস। 

নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ: 
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। 
যেমন - 
• স্ট্রেটাস, 
• স্ট্রেটোকিউম্যুলাস, 
• কিউম্যুলাস, 
• কিউম্যুলোনিম্বাস। 

উৎস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
৩,৭৫২.
মৌলিক পদার্থ কোনটি?
  1. লোহা
  2. রুপা
  3. সোনা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোন পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
- লোহা, সোনা, রুপা এগুলো হলো মৌলিক পদার্থ।
- এ পর্যন্ত ১১৮ টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃতিতে পাওয়া যায় ৯৮ টি। 
[সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর রসায়ন]
৩,৭৫৩.
ক্যালসিয়ামের ইলেক্ট্রন বিন্যাস কোনটি?
  1. [Ne] 3s1
  2. [Ar] 4s1
  3. [Ar] 4s2
  4. [Ne] 3s2
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Calcium) পর্যায় সারণির ২০তম মৌলিক পদার্থ।
- ক্যালসিয়ামের রাসায়নিক প্রতীক Ca.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ২০।
- ক্যালসিয়াম পর্যায় সারণির ৪র্থ পর্যায়ের গ্রুপ ২ - এ অবস্থিত।
- ক্যালসিয়ামের ইলেক্ট্রন বিন্যাস 1s2 2s22p6 3s23p6 4s2.
- ক্যালসিয়ামের ইলেক্ট্রন বিন্যাসকে সংক্ষেপে [Ar] 4s2 লেখা যায়।
- Ar (আর্গন) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস 1s2 2s22p6 3s23p6.
- Ne (নিয়ন) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস 1s2 2s22p6.

অপশন আলোচনা:
- [Ne] 3s1 - সোডিয়ামের (Na) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস।
- [Ar] 4s1 - পটাশিয়ামের (K) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস।
- [Ne] 3s2 - ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) এর ইলেক্ট্রন বিন্যাস।

তথ্যসূত্র: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৫৪.
হর্স পাওয়ার কিসের একক? 
  1. চাপ পরিমাপের একক 
  2. কাজ পরিমাপের একক 
  3. শক্তি পরিমাপের একক 
  4. ক্ষমতা পরিমাপের একক 
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৫৫.
পরিবাহিতার একক কোনটি?
  1. সিমেন্স
  2. নিউটন
  3. জুল
  4. ওয়াট
ব্যাখ্যা
পরিবাহিতা: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়ে I পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে, 
I ∝ V 
বা, I = GV 
এখানে, G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতার একক সিমেন্স (Siemens)। একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশী তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশী। 
- আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশী। 

অন্যদিকে,
- নিউটন - বলের একক।
- জুল - কাজ ও শক্তির একক।
- ওয়াট - ক্ষমতার একক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৫৬.
বলকে ভেক্টর রাশি বলা হয় কেন?
  1. এটি কেবল মানযুক্ত
  2. এটি কেবল দিকযুক্ত
  3. এটির মান ও দিক উভয়ই আছে
  4. এটি জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল
ব্যাখ্যা

• বল একটি ভেক্টর রাশি, কারণ এর মান ও দিক উভয়ই আছে।

• বল:
- যে বাহ্যিক কারণ বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থায় পরিবর্তন ঘটায় বা ঘটাতে চায় তাকে বল বলে।
- যে বল বস্তুকে গতিশীল করে বা গতি বাড়িয়ে দেয় তাকে ত্বরণ সৃষ্টিকারী বল বলে।
- যে বল গতিশীল বস্তুকে থামিয়ে দেয় বা বেগ কমিয়ে দেয় তাকে মন্দন সৃষ্টিকারী বল বলে।
- কোনো বস্তুকে ঠেলতে বা টানতে হলে প্রত্যক্ষ স্পর্শ প্রয়োজন, তাই এই বলকে স্পর্শ বল বলে।
- যেমন—ঘর্ষণ বল, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বল, টান বল ইত্যাদি।
- দুটি চুম্বকের বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে এবং সমমেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে, এটি অস্পর্শ বল।
- পৃথিবী তার পৃষ্ঠস্থ ও নিকটস্থ সকল বস্তুকে কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে, এ আকর্ষণ বল হচ্ছে অভিকর্ষ বা মহাকর্ষ বল।

• বলের কিছু বৈশিষ্ট্য:
- বল প্রয়োগে কোনো বস্তুর জড়তার পরিবর্তন হয় বা হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
- বল সর্বদা জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল থাকে, অর্থাৎ প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে আরেকটি বল ক্রিয়া করে, একে মিথস্ক্রিয়া বলে।
- যেমন—দড়িতে বেঁধে টানলে প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে দড়িতে টান বল ক্রিয়া করে।
- বল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়, ফলে ত্বরণ বা মন্দন হয়।
- বল বস্তুকে বিকৃত করতে পারে বা ভৌত ধর্মের পরিবর্তন করতে পারে।
- বল একটি ভেক্টর রাশি, কারণ এর মান ও দিক উভয়ই আছে।

• অন্যান্য অপশন:
- এটি কেবল মানযুক্ত → স্কেলার রাশির বৈশিষ্ট্য।
- এটি জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়াশীল → বলের একটি বৈশিষ্ট্য, কিন্তু ভেক্টর হওয়ার কারণ নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৫৭.
বাষ্পায়নের উপর বায়ুর আর্দ্রতার প্রভাব কী? 
  1. আর্দ্রতা বেশি হলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়
  2. আর্দ্রতা কম হলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায় 
  3. আর্দ্রতা কম হলে বাষ্পায়ন কম হয় 
  4. আর্দ্রতার কোনো প্রভাব নেই
ব্যাখ্যা

বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা, এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। 
যেমন- 
তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 
বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 
তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 
তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৫৮.
pH স্কেলে দ্রবণের সীমা কোনটি?
  1. 0–7
  2. 7–14
  3. 0–14
  4. 1–10
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয় 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৫৯.
নিচের কোনটির অনুপস্থিতিতে এসিড তার এসিডিয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে না?
  1. পানি
  2. জিংক
  3. আয়রন
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
এসিডের রাসায়নিক ধর্মে পানির ভূমিকা: 
- এসিডের ধর্ম কার্যকর হয় পানির উপস্থিতিতে। 
- পানির অনুপস্থিতিতে এসিড তার এসিডিয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে না। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস ভর্তি গ্যাসজারের মধ্যে শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ ধরলে দেখা যাবে লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত আছে। 
- এ গ্যাসজারের মধ্যে কঠিন ক্যালসিয়াম কার্বনেটের টুকরা ফেললে দেখা যায় কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- আবার গ্যাসজারের মধ্যে আয়রন ধাতুর টুকরা বা জিংক ধাতুর টুকরা রাখলেও কোনো রূপ বিক্রিয়া সংগঠিত হয় না। 
• HCl(g) + শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ → নীল লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত থাকে। 
• HCl(g) + CaCO3(s) → কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
• HCl(g) + Fe → কোন বিক্রিয়া ঘটে না এবং H2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬০.
দ্বিপদ নামকরণের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশ কী নির্দেশ করে? 
  1. গণ 
  2. শ্রেণি 
  3. প্রজাতি  
  4. পরিবার 
ব্যাখ্যা

দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
- দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ প্রথায় একটি জীবের নাম দুইটি অংশে বিভক্ত হয়। প্রথম অংশে গণ (Genus) এবং দ্বিতীয় অংশে প্রজাতি (Species) থাকে
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

- কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম নিচে দেওয়া হলো- 
সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
• ধান ⇔ Oryza sativa. 
• পাট ⇔ Corchorus capsularis. 
• আম ⇔ Mangifera indica. 
• কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus. 
• শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali. 
• জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis. 
• কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae. 
• ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax. 
• আরশোলা ⇔ Periplaneta americana. 
• মৌমাছি ⇔ Apis indica. 
• ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha. 
• কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus). 
• দোয়েল ⇔ Copsychus saularis. 
• রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৬১.
লোহার কোন যৌগটি মরিচা নামে পরিচিত?
  1. সালফেট
  2. কার্বনেট
  3. আর্দ্র অক্সাইড
  4. হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
মরিচা: 
- আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ যা মরিচা নামে পরিচিত। 
- মরিচা সৃস্টিকে নিম্নরূপ সমীকরণের আকারে দেখানো যায়- 
    লোহার সামগ্রী + আর্দ্র বাতাস = আয়রন অক্সাইড বা মরিচা। 
- মরিচার সংকেত Fe2O3.nH2O. 
- মরিচায় পানির অণুর সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। 
এখানে, n এর মান 1, 2, 3 ইত্যাদি যে কোন পূর্ণ সংখ্যা হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬২.
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য -
  1. শর্করা, আমিষ ও চর্বির শর্করার অনুপাত হবে ৪ : ১ : ১
  2. খাদ্যে প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে
  3. সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১। একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে।
২। খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বির শর্করার অনুপাত হবে ৪ : ১ : ১ ।
৩। সুষম খাদ্য তালিকায় ফল ও টাটকা শাকসব্জি থাকতে হবে।
৪। খাদ্যের প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে।
৫। সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে।

সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরির জন্য কতকগুলো বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার । যথা—
১। ব্যক্তি বিশেষের লিঙ্গ, পেশা ও শারীরিক অবস্থা ।
২। খাদ্যের মূল্যমান সম্পর্কে জ্ঞান ।
৩। দেহের ক্ষয় পূরণ ও গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করা
৪ । খাদ্যে পরিমাণ মতো ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির উপস্থিতি।
৫। ঋতু, আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জ্ঞান।
৬। পরিবারের আর্থিক বিষয় বিবেচনা করা ও সদস্য সংখ্যা।

- এছাড়া খাদ্য তৈরি, পরিবেশন ও গ্রহণের সময় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। দৈনিক ৭/৮ গ্লাস পানি পান করা।
- টাটকা সবুজ শাকসব্জি, মৌসুমী ফল-মূল প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় থাকা আবশ্যক। 

সূত্র: ৫৮ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬৩.
বাংলাদেশে ইপিআই (EPI) কর্মসূচীতে কয়টি রোগের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা
• সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি(ইপিআই):
- শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার এবং শিশুর পঙ্গুত্বের হার কমানোর লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হয়।
- শুরুতে ছয়টি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হলেও বর্তমানে ১০টি রোগের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
এগুলো হলো:
- শিশুদের যক্ষ্মা, পোলিওমাইলাইটিস,  ডিফথেরিয়া,  হুপিং কাশি, এমআর (হাম, রুবেলা), নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া।
- মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি,  হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি জনিত রোগসমূহ।

উৎসঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ICDDR,B ওয়েবসাইট।
৩,৭৬৪.
আইসি (Integrated Circuit) এর উদ্ভাবক কে?
  1. জ্যাক কিলবি
  2. উইলিয়াম শকলে
  3. এডিসন
  4. টেসলা
ব্যাখ্যা

• আইসি বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট উদ্ভাবনের কৃতিত্ব জ্যাক কিলবির, যিনি আধুনিক ইলেকট্রনিক্স যুগের সূচনা করেন।

আইসি (Integrated Circuit):
- Integrated Circuit বা IC হলো একটি ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক সার্কিট যা ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ডায়োড ও অন্যান্য উপাদানকে একটি একক সিলিকন চিপে সংযুক্ত করে।
- এটি আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল, মাইক্রোচিপ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মূল ভিত্তি।

উদ্ভাবক:
- জ্যাক কিলবি (Jack Kilby) ১৯৫৮ সালে Texas Instruments-এ কাজ করার সময় প্রথম Integrated Circuit উদ্ভাবন করেন।
- পরবর্তীতে একই ধারণা Robert Noyce-ও স্বাধীনভাবে বিকাশ করেন।
- জ্যাক কিলবি ২০০০ সালে নোবেল পুরস্কার (Physics) পান এই আবিষ্কারের জন্য।
 
আইসির গুরুত্ব:
- এটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রকে ক্ষুদ্র, শক্তিশালী ও দ্রুত করেছে।
- কম শক্তিতে কাজ করে, নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
- আধুনিক কম্পিউটার ও মাইক্রোপ্রসেসরের মূল ভিত্তি।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৩,৭৬৫.
কোনটি কোলেস্টেরল নয়?
  1. Glucagon
  2. HDL
  3. LDL
  4. Triglycerides
ব্যাখ্যা
গ্লুকাগন কোলেস্টেরল নয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানসের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত একধরনের হরমোন। গ্লুকাগন শরীরে অধিক পরিমাণে দেখা গেলে ডায়াবেটিস হতে পারে।

কোলেস্টেরল:

- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
- এটি প্রাণী কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়।
- তিন প্রকার লিপোপ্রোটিন দেখা যায়। যথা:
১. HDL (High-Density Lipoprotein, or “good” cholesterol)-কে সাধারণত ভাল কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

২. LDL (Low-Density Lipoprotein, or “bad” cholesterol)-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়।
- সাধারণত আমাদের রক্তে ৭০% LDL থাকে। ব্যক্তি বিশেষে এর পার্থক্য দেখা যায়।

৩. Triglycerides লিপোপ্রোটিন বা কোলেস্টেরল আমাদের খাদ্যে এবং শরীরে চর্বি হিসেবে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৩,৭৬৬.
নিম্নলিখিত কোন ফুলে বায়ু দ্বারা পরাগায়ন হয়?
  1. গোলাপ
  2. ভুট্টা
  3. সূর্যমুখী
  4. জুঁই
ব্যাখ্যা

◉ ভুট্টা (Maize) একটি বায়ুপরাগী উদ্ভিদ। এর পুরুষ ফুল (Tassel) বাতাসে পরাগ ছড়িয়ে দেয় এবং স্ত্রী ফুল (Silk) সেই পরাগ গ্রহণ করে।

বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন:
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট, ফলে এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়।
- এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে।
- এ জাতীয় উদ্ভিদের ফুলে অসংখ্য পরাগরেণু সৃষ্টি হয়, কেননা বায়ুর মাধ্যমে পরাগরেণু স্থানান্তরের সময় অনেক পরাগরেণু নষ্ট হয়ে যায়।
- বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়।
- পাইনাস, ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু, ঘাস জাতীয় উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়ায় পরাগায়ন ঘটে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
গোলাপ, সূর্যমুখী ও জুঁই হচ্ছে পতঙ্গ পরাগী ফুল। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৭৬৭.
কোন উপকরণের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয় করা যায়?
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. পাইরোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. ব্যারোমিটার
ব্যাখ্যা

• বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয় করতে হাইগ্রোমিটার ব্যবহৃত হয়। হাইগ্রোমিটার এমন একটি যন্ত্র যা বায়ুর আর্দ্রতার পরিমাণ বা আর্দ্রতার শতকরা মান পরিমাপ করতে সাহায্য করে। বায়ুর আর্দ্রতা হলো বায়ুর মধ্যে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি, যা আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। হাইগ্রোমিটার বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমন: কাপড় বা কাশ্মীরের তন্তু ব্যবহার করে তৈরি অ্যানালগ হাইগ্রোমিটার, কিংবা আধুনিক ডিজিটাল হাইগ্রোমিটার। অন্যদিকে, পাইরোমিটার তাপমাত্রা মাপার জন্য, ম্যানোমিটার চাপ পরিমাপের জন্য এবং ব্যারোমিটার বায়ুর চাপ পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই আর্দ্রতা নির্ণয়ের জন্য সঠিক উত্তর হলো ক) হাইগ্রোমিটার।
 
বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity): 
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না। 
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। 
অর্থাৎ, বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। 
- বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম। 
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে। 
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়। 
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। পরম আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা। 

২। আপেক্ষিক আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাতকে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

অন্যদিকে, 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার। 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার। 
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৬৮.
নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র খনিজ শক্তি 
  2. শুধুমাত্র কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. এমন শক্তি যা সীমিত এবং পুনঃব্যবহার করা যায় না 
  4. এমন শক্তি যা পুনঃব্যবহার করা যায় এবং নিঃশেষ হয় না
ব্যাখ্যা

শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পরমাণুর শক্তি, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৬৯.
পিভিসি প্লাস্টিক পোড়ালে কোন গ্যাসটি নিঃসৃত হয়? 
  1. ওজোন
  2. হাইড্রোজেন ক্লোরাইড
  3. ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. হাইড্রোজেন সায়ানাইড
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিক: 
- প্লাস্টিক শব্দের অর্থ হলো সহজেই ছাচঁযোগ্য। 
- নরম অবস্থায় প্লাস্টিক ইচ্ছেমতো ছাঁচে ফেলে সেটা থেকে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিশিষ্ট পদার্থ তৈরি করা যায়। 
- প্লাস্টিক জাতীয় সবকিছুই পলিমার পদার্থ, বেশির ভাগ প্লাস্টিকই পানিতে অদ্রবণীয়। 
- প্লাস্টিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম হলো এরা বিদ্যুৎ এবং তাপ পরিবহন করে না তাই বিদ্যুৎ এবং তাপ নিরোধক হিসেবে এদের বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো গলিত অবস্থায় এদেরকে যেকোন আকার দেয়া যায়। 
- পলিথিন, পিভিসি পাইপ, পলিস্টার কাপড়, বাচ্ছাদের খেলনা- এসব প্লাস্টিক তাপ দিলে নরম হয়ে যায় এবং গলিত প্লাস্টিক ঠান্ডা করলে শক্ত হয়ে যায়, এদেরকে থার্মোপ্লাস্টিকস (Thermoplastics) বলে। 
- অন্যদিকে মেলামাইন, বাকেলাইট এগুলো তাপ দিলে নরম হয় না বরং পুড়ে শক্ত হয়ে যায়। এদেরকে একবারের বেশি ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া যায় না, এসব প্লাস্টিককে থার্মোসেটিং প্লাস্টিকস (Thermosetting Plastics) বলে। 
- প্লাস্টিক পোড়ালে অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়। 
যেমন: পিভিসি পোড়ালে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) গ্যাস নিঃসৃত হয়। আবার পলিইউরেথেন প্লাস্টিক পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। 
- বেশির ভাগ প্লাস্টিক রাসায়নিকভাবেশ যথেষ্ট নিষ্ক্রিয়, এরা বাতাসের জলীয় বাষ্প এবং অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। 
- প্লাস্টিক কোন পচনশীল বস্তু নয়, এরা দীর্ঘদিন মাটি বা পানিতে পড়ে থাকলেও পচে না। 
- প্লাস্টিক সাধারণত দাহ্য হয় অর্থাৎ এদেরকে আগুন ধরালে পুড়তে থাকে এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৭০.
পরিণত মানুষের চোয়ালে দাঁতের সংখ্যা কতটি?
  1. ৩২টি
  2. ২০টি
  3. ১৬টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

- মানুষের চোয়ালে চার ধরনের দাঁত উপস্থিত থাকে।
- পরিণত মানুষের চোয়ালে মোট দাঁতের সংখ্যা ৩২টি।
- মানুষের দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৭৭১.
পদার্থের কোন অবস্থায় কণিকাগুলো সর্বাধিক গতিশীল থাকে? 
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. গ্যাসীয় 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পদার্থের আণবিক গতিতত্ত্ব: 
- পদার্থ কঠিন, তরল, বায়বীয় এবং প্লাজমা চারটি অবস্থায় থাকতে পারে। এই চার অবস্থায় থাকার কারণ পদার্থের মধ্যকার তাপমাত্রা বা শক্তির পার্থক্য। 
- পদার্থের আণবিক গতি তত্ত্ব পদার্থের অবস্থা রূপান্তরের একটি মডেল হতে পারে। এই তত্ত্বটি অতি সরল কিন্তু পদার্থের ভৌত ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। 
- এই তত্ত্বের মূল কথা হলো বস্তু অসংখ্য ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে গঠিত যা হলো মূলত পরমাণু। 
- কতগুলো পরমাণু মিলে গঠিত হয় একটি অণু, এই অণুগুলো নিয়ত গতিশীল। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার আয়তন বজায় থাকে।

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। 
- এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৭২.
শ্রেণিবিন্যাসে দ্বিপদ নামকরণ প্রথা কে প্রবর্তন করেন? 
  1. জন রে
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. অ্যারিস্টটল
  4. লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: 
- পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। 
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 
- কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens  । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৭৭৩.
একটি আদর্শ পাতায় কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের  কাণ্ড বা তার শাখা-প্রশাখার পর্ব থেকে পাশের দিকে উৎপন্ন চ্যাপ্টা অঙ্গটি হলো পাতা।
- পাতা সাধারণত চ্যাপ্টা ও সবুজ বর্ণের হয়।
- নিম্ন শ্রেণির উদ্ভিদে পাতা থাকে না।
- তবে ফার্ন ও মস জাতীয় উদ্ভিদে পাতার ন্যায় অঙ্গ থাকে। মসের পাতা প্রকৃত পাতা নয়।

একটি পাতার বিভিন্ন অংশ:

- আদর্শ পাতায় তিনটি অংশ থাকে।
১. পত্রমূল,
২. বৃত্ত ও
৩. ফলক।

আদর্শ পাতার উদাহরণ : আম, জবা ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৩,৭৭৪.
করােনা ভাইরাসের আনুষ্ঠানিক নাম কী?
  1. ক) severe acumulative respiratory syndrome coronavirus 2
  2. খ) severe acquit respiratory syndrome coronavirus 2
  3. গ) severe acute respirational syntex coronavirus 2
  4. ঘ) severe acute respiratory syndrome coronavirus 2
ব্যাখ্যা

২০১৯ সালের শেষের দিকে চীন থেকে একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে যার প্রচলিত নাম - করােনা ভাইরাস।

করােনা ভাইরাসের আনুষ্ঠানিক নাম নির্ধারণ করা হয়
- SARS-CoV-2 বা severe acute respiratory syndrome coronavirus 2
এবং এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যে রােগটি হয় তার আনুষ্ঠানিক নাম COVID-19

উৎসঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

৩,৭৭৫.
হৃৎচক্রের স্বাভাবিক সময়কাল কত?
  1. ক) ০.৮ সেকেন্ড
  2. খ) ০.৫ সেকেন্ড
  3. গ) ৭৫ সেকেন্ড
  4. ঘ) ৬০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির হৃৎস্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০-৮০ বার। প্রতি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন করতে সিস্টোল ও ডায়াস্টোলের যে চক্রাকার ঘটনাবলি অনুসৃত হয় তাকে কার্ডিয়াক চক্র বা হৃৎচক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয়, তবে হৃৎচক্রের সময়কাল = ৬০/৭৫ সেকেন্ড = ০.৮ সেকেন্ড। স্বাভাবিকভাবেই অ্যাট্রিয়াল চক্র এবং ভেন্ট্রিকুলার চক্র উভয়েরই স্থিতিকাল ০.৮ সেকেন্ড।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,৭৭৬.
জীবাশ্ম জ্বালানি নিচের কোনটি? 
  1. জিও থার্মাল 
  2. জল বিদ্যুৎ 
  3. পারমাণবিক শক্তি 
  4. পেট্রোলিয়াম 
ব্যাখ্যা

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 
যেমন: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি।

পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম। 
- ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত ''পেট্রো + অলিয়াম''। 
- পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। 
অর্থাৎ, পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে। 
- আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়। 
- ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ, তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি। 

অন্যদিকে, 
- পারমাণবিক শক্তি, জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল বা ভূ-তাপীয় শক্তি হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৭৭.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত
  2. উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল
  3. গ্রীষ্মে কালবৈশাখী ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত
  4. ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর গতির পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু: 
- কৃষিকাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। 
- কোন স্থানের জলবায়ু সম্পর্কে জানতে হলে সে স্থানের আবহাওয়া সম্পর্কে প্রথমে জানা দরকার। 
- আবহাওয়া বলতে কোন স্থানের দৈনন্দিন বায়ুমন্ডলের অবস্থা অর্থাৎ কোন স্থানের দৈনিক বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর গতি ও চাপ, সূর্যালোক প্রভৃতির সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়। 
- আবার জলবায়ু বলতে কোন স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে বোঝায়। 
- বাংলাদেশের জলবায়ু অনেকটা সমভাবাপন্ন। কারণ সারা বছরের জলবায়ুর তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনা। 
- কোন অঞ্চলের কৃষি জলবায়ু সেই অঞ্চলের ফসল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন প্রায় সম্পূর্নভাবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। 
- আমাদের দেশে দুই ধরণের মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। একটি দক্ষিন পশ্চিম মৌসুমী জলবায়ু যা গ্রীষ্মকালে প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মকালে দক্ষিন পশ্চিম দিক হতে আর্দ্র-মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের প্রধান ফসল ধান, পাট, আখ, চা প্রভৃতি প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। 
- আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে আগত শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়। এসময় তাপমাত্রা কম থাকে। শীতকালে শীতকালীন ফসল যেমন-ডাল, তৈলবীজ, আলু, পেঁয়াজ, শীতকালীন শাক-সবজি ইত্যাদি প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। 
- এদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশী হয় বলে সেখানে চা, রাবার, ইত্যাদির চাষাবাদ হয়। 
- মৌসুমি জলবায়ুর দ্বারা এদেশের বনজ সম্পদও প্রভাবিত হয়। 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদির মধ্যে যথেষ্ঠ পার্থক্য রয়েছে এসব কারণে বিশেষ কোন অঞ্চলে নির্দিষ্ট কিছু ফসল ভাল জন্মে। 
- কোন অঞ্চলে উদ্ভিদ ও কৃষি উৎপাদন দেখে সে স্থানে কৃষি জলবায়ু সম্পর্কে ধারণা করা যায়। 

- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- 
১. ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর গতির পরিবর্তন হয়, ফলে জলবায়ুতে পরিবর্তন ঘটে। 
২. জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও নাতিশীতোষ্ণ শীতকাল। 
৩. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে কাল বৈশাখীসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৭৮.
উইনিং পদ্ধতি হলো বাচ্চাদের প্রথম-
  1. ক) ভাত খাওয়া
  2. খ) পানি খাওয়া
  3. গ) অন্য খাবার খাওয়া
  4. ঘ) দুধ খাওয়া
ব্যাখ্যা
উইনিং পদ্ধতি হলো বাচ্চাদের প্রথম অন্য খাবার খাওয়ানো।
৩,৭৭৯.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে কোনটির মান ধ্রুব?
  1. ক) সময়
  2. খ) স্থান
  3. গ) ভর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব Einstein's Theory of Relativity
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞান জগতে এক নতুন যুগের সূচনা হয় । আর এ নতুন যুগের সূচনা করেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব
আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। সুতরাং আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
(ক) আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
(খ) আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
(ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)
৩,৭৮০.
মাধ্যমের ঘনত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে শব্দের বেগ-
  1. ক) হ্রাস পায়
  2. খ) বৃদ্ধি পায়
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) অনিয়মিত হয়
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। মাধ্যমের ঘনত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৮১.
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পর সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় মৌল কোনটি?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসের পর সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় মৌল হচ্ছে নাইট্রোজেন।

====================
যে সব গ্যাসীয় মৌল রাসায়নিকভাবে নিস্ক্রিয় অর্থাৎ অন্য কোনো মৌলের সাথে সংযুক্ত হয় না, এমনকি নিজেদের মধ্যেও সংযুক্ত হয় না, সর্বদা এক পরমাণুক অবস্থা বিরাজ করে তাদেরকে নিস্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gas) বলে। নিস্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি। এগুলো হলো : হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।

নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ধর্মসমূহ- 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

সূত্র:
১. রসায়ন ১য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
২. ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩,৭৮২.
কোন সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুটি উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত করবার কাজে নিয়োজিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) গলজি বস্তু
  4. ঘ) কোষগহবর
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড নামক সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুটি উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত করবার কাজে নিয়োজিত। 

সজীব উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে বর্ণহীন অথবা বর্ণযুক্ত গোলাকার বা ডিম্বাকার অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড (Plastid) বলে। একে বর্ণাধারও বলে।

প্লাস্টিডের কাজগুলো হল– 
(i) খাদ্য প্রস্তুত করা।  
(ii) খাদ্য সঞ্চয় করা ।  
(iii) উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

সূত্র- ২৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,৭৮৩.
কেপলারের তৃতীয় সূত্র কী নির্দেশ করে?
  1. গ্রহের আবর্তনকাল ও তার কক্ষপথের আকারের মধ্যে সম্পর্ক
  2. গ্রহের গতি ও দূরত্বের মধ্যে সম্পর্ক
  3. গ্রহের ভর ও ঘূর্ণনের সময়ের মধ্যে সম্পর্ক
  4. সূর্য ও গ্রহের মধ্যবর্তী বলের মান
ব্যাখ্যা

• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের' (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র (Kepler's Law of Planetary Motion):
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এ সম্পর্কে তিনি কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।

সূত্রগুলো হলো:
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের' (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৮৪.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য মূলত দায়ী যে গ্যাস-
  1. ক) মিথেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. ঘ) হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো: কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)। 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য মূলত দায়ী কার্বন ডাই-অক্সাইড। 

কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2):
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়।
- সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৮৫.
এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় বলে তাদের বলা হয়-
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোমার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৮৬.
কোন প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. শ্বসন
  2. ব্যাপন
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পাশাপাশি পৃথক থাকলে দ্রাবক অণুর কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে পর্দা অতিক্রম করে প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে। 
- এ প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হবে। 
- অভিস্রবণ একটি ভৌত প্রক্রিয়া, কিন্তু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণে ঘটে বলে এটি একটি জৈব প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। 
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের পানি শোষণ বুঝতে হলে, অভিস্রবণ প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিসমিস ফুলে ওঠে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৮৭.
বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার- 
  1. সমানুপাতিক
  2. ব্যস্তানুপাতিক
  3. বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পার্থক্য: 
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∞ √T 
এখানে তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়। কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। 
- তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৮৮.
Biotechnology শব্দটির প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  2. খ) উইলিয়াম বেটসন
  3. গ) কার্ল এরেকি
  4. ঘ) কার্ল করেন্স
ব্যাখ্যা
• হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (১৯১৯) সর্বপ্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। জীবপ্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের একটি উন্নয়নশীল ফলিত শাখা।

• Biotechnology শব্দটি Biology এবং Technology এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কিত বিদ্যা এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। অর্থাৎ Biotechnology হলো Biological Science এর সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত বিদ্যা। ১৯৭০ এর পর থেকে এ শব্দটি বর্তমান বিশ্বে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

• জৈবপ্রযুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদের ব্যবহার করার মাধ্যমে মানুষের জন্য কল্যাণকর ও ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় মালামাল তৈরির বিশেষ প্রযুক্তি। এটি মূলত জীববিদ্যাভিত্তিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে যখন প্রযুক্তি কৃষি, খাদ্য বিজ্ঞান, এবং ঔষধশিল্পে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম দশম ও জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩,৭৮৯.
‘এভিকালচার’ কী?
  1. মৎস্য চাষ
  2. রেশম চাষ
  3. মৌমাছি চাষ
  4. পাখিপালন বিদ্যা
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ পদ্ধতি:
​- পাখি পালন বিদ্যা- এভিকালচার।
​- চিংড়ি চাষ বিদ্যা- প্রনকালচার।
​- মৎস্য চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
​- মৌমাছি পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার।
​- রেশম চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
​- উদ্যান পালন বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার।

​​​উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,৭৯০.
নিচের কোনটি অধাতব খনিজ?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. নিকেল
  3. তামা
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদের ধাতব খনিজ বলে।
বিভিন্ন প্রকার ধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- লোহা
- ম্যাঙ্গানিজ
- নিকেল
- তামা
- টিন
- সোনা
- রূপা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে।
অধাতব খনিজের মধ্যে রয়েছে:
- গ্রাফাইট
- জিপসাম
- সালফার
- অভ্র প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল : দ্বিতীয়পত্র)
৩,৭৯১.
এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান -
  1. প্রোটিন
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ভিটামিন
  4. লবণ
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 

হরমোন:  
 - মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০ টি অ্যামাইনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। 
- আর আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক হলো অ্যামাইনো অ্যাসিড। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 

এনজাইম:  
- এনজাইম এক ধরণের প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় পদার্থ। 
- জীবকোষ অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিগণিত। 
- প্রতিটি জীবের পরিপাক, শ্বসন, জনন ইত্যাদি শারীরবৃত্তীয় কাজগুলি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। 
- এ সমস্ত জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি ও হার কতকগুলি প্রোটিন জাতীয় যৌগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যে প্রোটিন জাতীয় পদার্থ অতি অল্প মাত্রায় বিদ্যমান থেকে জীবদেহে বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করে কিন্তু বিক্রিয়ার পরে নিজে অপরিবর্তিত থাকে, তাকে এনজাইম বলে। 

উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা যাচ্ছে, এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান হচ্ছে- প্রোটিন। 

উৎস: (প্রাণিবিজ্ঞান + উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯২.
করোনা ভাইরাসের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) rRNA
  2. খ) tRNA
  3. গ) mRNA
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে ভাষাগত ত্রুটি ছিল। প্রশ্নে মূলত জানতে চাওয়া হয়েছে করোনা ভাইরাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নিচের কোনটি?
অপশনে mRNA ছিল বিধায়, একে সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কারণ Infecting RNA কোষের ভিতর messenger RNA (mRNA) হিসেবে কাজ করে। 
 
- COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস। এটি এক ধরনের আরএনএ ভাইরাস। কারণ ভাইরাসটির জিনোম হলো RNA।

SARS-CoV-2 gets into the cell through recognition by the spike glycoprotein present on the surface of the virus envelope of the angiotensin converting enzyme 2 (ACE2) receptors, as previously observed for SARS-CoV [4,5]. It is possible that other receptors mediate the entry of SARS-CoV-2 into host cells, such as CD147 [6]. After attachment, the human transmembrane protease serine 2 (TMPRSS2) cleaves and activates the spike protein [7] in an event that allows SARS-CoV-2 to enter the cells by endocytosis or direct fusion of the viral envelope with the host membrane [8,9].

Once inside the cell, the infecting RNA acts as a messenger RNA (mRNA), which is then translated by host ribosomes to produce the viral replicative enzymes, which generate new RNA genomes and the mRNAs for the synthesis of the components necessary to assemble the new viral particles. SARS-CoV-2 replication is a complex process that involves RNA synthesis, proofreading and capping. Similar to other viruses, this process is likely to actively involve many host proteins, like DDX helicases, which are exploited by the virus for more efficient replication [10,11,12].
 
 
উৎস : ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন। 
 
 
৩,৭৯৩.
নিচের কোনটি ব্যতিচারের শর্ত নয়?
  1. উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে
  2. ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক উৎস হতে হবে
  3. তরঙ্গ দুটির বিস্তার সমান হতে হবে
  4. তরঙ্গ উৎস দুটি খুব কাছাকাছি হতে হবে
ব্যাখ্যা
ব্যতিচার (Interference):
দুটি আলোক উৎস থেকে একই বিড়ারের এবং একই তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো নির্গত হয়ে কোনো বিন্দুতে আপতিত হলে উপরিপাতনের ফলে কোথাও উজ্জ্বল এবং কোথাও অন্ধকার সৃষ্টি হয়। আলোর এই উজ্জ্বলতার হ্রাস-বৃদ্ধির ঘটনাকে ব্যতিচার বলে । সমদশা সম্পন্ন আলো রশ্মির উপরিপাতনের ফলে উজ্জ্বল বা চরম এবং বিপরীত দশা সম্পন্ন আলো রশ্মির উপরিপাতনের ফলে অন্ধকার বা অবম-এর সৃষ্টি হয়। এটি একটি অবস্থানিক ঘটনা।

ব্যতিচারের শর্ত:-
১। উৎস দুটি সুসঙ্গত হতে হবে।
২। একই তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোক উৎস হতে হবে।
৩। তরঙ্গ দুটির বিস্তার সমান হতে হবে।
৪। তরঙ্গ উৎস দুটি খুব কাছাকাছি হতে হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯৪.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ট্রিটিয়ামে নিউট্রনের সংখ্যা কয়টি?  
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. কোনো নিউট্রন নেই
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ:

- যেসকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয় তাদের প্রত্যেককে একে অপরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অর্থাৎ একই মৌলের যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যেমন: হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ আছে।
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম, এবং ট্রিটিয়াম পরস্পরের আইসোটোপ। কারণ এদের প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন।
- প্রোটিয়াম আইসোটোপে কোনো নিউট্রন নেই, কিন্তু একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন রয়েছে। 
- ডিউটেরিয়াম আইসোটোপে ১ টি প্রোটন ও ১ টি নিউট্রন রয়েছে।
- ট্রিটিয়াম আইসোটোপে ২ টি নিউট্রন রয়েছে।


উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
৩,৭৯৫.
ট্রান্সফরমার কোন প্রকার বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে কাজ করে? 
  1. স্থির বৈদ্যুতিক প্রবাহ 
  2. পরিবর্তি প্রবাহ 
  3. সরল প্রবাহ 
  4. নিকটবর্তী ক্ষুদ্র প্রবাহ 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমারে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই ট্রান্সফরমারের মূল কাজ। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- 
১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯৬.
দৃশ্যমান আলোর বিভিন্ন রঙ মূলত কোন কারণে দেখা যায়?
  1. কম্পাঙ্ক স্থির থাকার কারণে 
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিন্নতার কারণে 
  3. আলোর বেগ পরিবর্তনের কারণে 
  4. আলোর তীব্রতা পরিবর্তনের কারণে 
ব্যাখ্যা

- দৃশ্যমান আলোর বিভিন্ন রঙ মূলত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিন্নতার কারণে দেখা যায়। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 

- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। 
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনী, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। 
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনী আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৯৭.
করোটিতে মোট কতটি অস্থি থাকে?
  1. ২৯
  2. ৩১
  3. ৩২
  4. ৩৩
ব্যাখ্যা
• অক্ষীয় কঙ্কাল:
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা -
(ক) করোটি,
(খ) মেরুদণ্ড ও
(গ) বক্ষপিঞ্জর।

• করোটি:
- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে।
- করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে।

• মেরুদণ্ড:
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে।

• বক্ষপিঞ্জর:
বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯৮.
বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ওজোন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল। 
- এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে। 
- এই ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়। 
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া শান্ত ও শুষ্ক থাকে। 
- ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৯৯.
প্রভাবকের ধর্ম নয় কোনটি?
  1. বিক্রিয়ার গতি বাড়ানো
  2. বিক্রিয়ার গতি কমানো
  3. বিক্রিয়া শুরু করা
  4. বিক্রিয়া শেষে ভর অপরিবর্তিত থাকা
ব্যাখ্যা
• "বিক্রিয়া শুরু করা" প্রভাবকের ধর্ম নয়। 

• প্রভাবক:
- যেসব পদার্থ বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি বা হ্রাস করে এবং বিক্রিয়া শেষে ভর ও সংযুক্তিতে অপরিবর্তিত থাকে তাদেরকে প্রভাবক বলা হয়।
- প্রভাবক দ্বারা বিক্রিয়ার গতি হ্রাস-বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়াকে প্রভাবন (Catalysis) বলে।

• প্রভাবকের বৈশিষ্ট্য:
-  প্রভাবক কোনো বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সময় বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে আবার নাও পারে। তবে প্রভাবন শেষে প্রভাবক ভর, ধর্ম, গঠন ও সংযুক্তিতে অপরিবর্তিত থাকে।
-  কোনো বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবে খুব সামান্য পরিমাণে প্রভাবক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
-  প্রভাবক পদার্থ বিক্রিয়া প্রভাবিত করলেও বিক্রিয়া শুরু করতে পারে না।
-   আবার উভমুখী বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থায় অবস্থানও পরিবর্তন করতে পারে না।
-  কোনো নির্দিষ্ট বিক্রিয়ার প্রভাবকও নির্দিষ্ট অর্থাৎ যেকোনো প্রভাবক যেকোনো বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে না।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০০.
এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় -
  1. ক) ১০-৫ - ১০-৭ মি
  2. খ) ১০-৬ - ১০-৮ মি
  3. গ) ১০-৭ - ১০-৯ মি
  4. ঘ) ১০-৮ - ১০-১০ মি
ব্যাখ্যা

এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট। এ রশ্মি অত্যন্ত ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ১০-১০ মি। এক্স - রে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ১০-১০ মি হওয়ায় উপরের অপশনের সঠিক উত্তর ১০-৮ - ১০-১০ মি।
[তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, ড সাহজাহান তপন, পৃষ্ঠা - ৩৮8]