বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩৭ / ১৪০ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ১৪,০৮০

৩,৬০১.
ফটোইলেকট্রিক কোষের উপর আলো পড়লে কী উৎপন্ন হয়?
  1. বিদ্যুৎ
  2. তাপ
  3. চুম্বক
  4. কিছুই হয় না
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম প্রভৃতি ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হতে দেখা যায়। 
- ফটোইলেকট্রিক কোষ এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ফটোইলেকট্রিক কোষ হলো বিশেষ এক ধরনের ডায়োড, যার ওপর আলো পড়লে আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৬০২.
এনজিও প্লাস্টি হচ্ছে -
  1. হৃৎপিণ্ডের মৃত টিস্যু কেটে ফেলে দেয়া
  2. হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো
  3. হৃৎপিণ্ডের টিস্যুতে নতুন টিস্যু সংযোজন
  4. হৃৎপিণ্ডের নতুন শিরা সংযোজন
ব্যাখ্যা
- এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো। 

এনজিওপ্লাস্টি: 
- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া। 
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর মধ্যের চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়। 
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়। 
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়। 
- এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। 
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩,৬০৩.
সুর্যের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) হিলিয়াম
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) ক্রিপ্টন
ব্যাখ্যা
The Sun, like others stars, is a ball of gas. In terms of the number of atoms, it is made of 91.0% hydrogen and 8.9% helium. By mass, the Sun is about 70.6% hydrogen and 27.4% helium.
Source: NASA
৩,৬০৪.

বিক্রিয়াটি কোন ধরনের বিক্রিয়া?
  1. সমানুকরণ
  2. অপসারণ
  3. প্রতিস্থাপন
  4. সংযোজন
ব্যাখ্যা
সমানুকরণ বিক্রিয়া(Isomerization reaction): 
- যে বিক্রিয়ার কোন যৌগের উপস্থিত পরমাণু বা মূলক সমূহ পূর্ণবিন্যাস্ত হয়ে ভিন্ন গাঠনিক কাঠামো বিশিষ্ট নতুন যৌগ উৎপন্ন করে, তাকে সমানুকরণ বিক্রিয়া বলে। 
যেমন - 
1. অ্যামোনিয়াম সায়ানেটকে উত্তপ্ত করলে ইউরিয়া পাওয়া যায়। 


2. অনার্দ্র AICI3 এর উপস্থিতিতে n -বিউটেনকে উত্তপ্ত করলে iso -বিউটেন উৎপন্ন হয়। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬০৫.
টুথপেস্টের প্রধান উপাদান-
  1. জেলী ও মশলা
  2. ভোজ্য তেল ও সোডা
  3. সাবান ও পাউডার
  4. ফ্লোরাইড ও ক্লোরোফিল
ব্যাখ্যা
• টুথপেস্ট:
- টুথপেস্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত উপাদানগুলির উপাদানের পরিমাণের তালিকা নিচে দেওয়া হল। 

এখানে, সোডিয়াম লরেল সালফেট হচ্ছে সাবান যা দাত ব্রাশ করার সময় ফেনা তৈরি করে।

• অন্যদিকে,
জেলী ও মশলা: এগুলি টুথপেস্টের প্রধান উপাদান নয়।
ভোজ্য তেল ও সোডা: এগুলি টুথপেস্টে ব্যবহৃত হয় না।
ফ্লোরাইড ও ক্লোরোফিল: এগুলি সহায়ক উপাদান, প্রধান উপাদান নয়।
৩,৬০৬.
প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নাই - এ তত্ত্বের আবিষ্কারক কে?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
  2. নিউটন
  3. রাদারফোর্ট
  4. মাইকেলসন ও মোরলি
ব্যাখ্যা

৩,৬০৭.
কোনটি গ্যালভানিক কোষ?
  1. ক) ল্যাকলেন্স কোষ
  2. খ) ড্রাই সেল
  3. গ) ডেনিয়েল সেল
  4. ঘ) লেড স্টোরেজ ব্যাটারি
ব্যাখ্যা
ডেনিয়েল সেল একটি গ্যালভানিক কোষ কারণ এখানে বাহির থেকে শক্তির দরকার হয় না এবং রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৩,৬০৮.
অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি কোথায়?
  1. মেরু অঞ্চলে 
  2. বিষুব অঞ্চলে 
  3. পৃথিবীর কেন্দ্রে  
  4. মহাকাশে 
ব্যাখ্যা

বস্তুর ওজন: 
- যখন কোনো বস্তুকে বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নেয়া হয় তখন তার ওজন বাড়তে থাকে। 
- বস্তুর ভর একটি ধ্রুব রাশি। 
- কোনো বস্তুর ওজন অভিকর্ষীয় ত্বরণের উপর নির্ভরশীল। 
- যে স্থানে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, সে স্থানে বস্তুর ওজনও বেশি। 
- অভিকর্ষীয় ত্বরণ যে স্থানে কম বস্তুর ওজন সে স্থানে কম। 
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষীয় ত্বরণ বেশি, তাই মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন বেশি। 
- আবার, বিষুবীয় অঞ্চল অভিকর্ষীয় ত্বরণ কম তাই বিষুবীয় অঞ্চল বস্তুর ওজনও কম। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষীয় ত্বরণ শূন্য, এজন্য পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬০৯.
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক কে?
  1. ক) জোহান মেন্ডেল
  2. খ) থিওফ্রাস্টাস
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
প্রাণীজগতের শ্রেণিকরণের ভিত্তি (Base of animal classification)ঃ
যেকোনো প্রাণী সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে হলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন তার শনাক্তকরণ। আর এ কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার অন্যতম মাধ্যম হলো শ্রেণিকরণ (classification)।
প্রাণিবিজ্ঞান চর্চার শুরু থেকেই অনেক বিজ্ঞানী প্রাণিদের শ্রেণিবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। তারমধ্যে অন্যতম ছিলেন সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (১৭০৭-১৭৭৮)। এজন্য তাকে আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক (Father of taxonomy) বলা হয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬১০.
আলোক বর্ণালির কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না? 
  1. লাল 
  2. হলুদ 
  3. কমলা 
  4. বেগুনি 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা: 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পানি এবং CO2 থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। 
- সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। 
- সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO2 পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। 
- কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। 
- আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। 
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। 
- সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬১১.
কোনটি মৃৎক্ষার ধাতু?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. স্ট্রনসিয়াম
ব্যাখ্যা

• স্ট্রনসিয়াম (Sr) মৃৎক্ষার ধাতু। এটি পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৩৮।

ক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে।
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে।
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়।

মৃৎক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬১২.
p-n জাংশনে সম্মুখী ঝোঁকের ফলে রোধের মান -
  1. শূন্য হয়
  2. সর্বোচ্চ হয়
  3. অসীম হয়
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা

জাংশান ডায়োড:
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি -টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে।

একটি p-n জাংশনে বাহ্যিক ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করা হলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয়। এটি নির্ভর করে p-n জাংশনে বিভব পার্থক্য কীভাবে প্রয়োগ করা হয়, তার ওপর। একটি p-n জাংশনকে দুই ভাবে বায়াসিং বা ঝোঁক প্রদান করা যায়। এগুলো হলো -
১। সম্মুখী ঝোঁক (Forward Bias);
২। বিমুখী ঝোঁক (Reverse Bias)। 

সম্মুখী ঝোঁক:
- যখন জাংশনে বহিভোল্টেজ এমনভাবে প্রয়োগ করা হয় যাতে বিভব প্রাচীর হ্রাস পায় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ চালু হয় তখন একে সম্মুখী ঝোঁক প্রয়োগ করা বুঝায়।
- এক্ষেত্রে ব্যাটারীর ধনাত্মক প্রান্ত p-টাইপের প্রান্তের সাথে এবং ঋণাত্মক প্রাপ্ত n টাইপের প্রান্তের সাথে সংযোগ দেয়া হয়। 
- যখন সম্মুখী ঝোঁক দ্বারা বিভব প্রাচীর অপসারিত হয়, জাংশনের রোধ তখন শূন্যে নেমে আসে।
- তখন p-n জাংশানে ও বহিঃস্থ বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্ঠি হয়।
- এই প্রবাহকে সম্মুখী প্রবাহ বলে। 

বিমুখী ঝোঁক: 
- যদি বহির্ভোল্টেজ এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়, যাতে বিভব প্রাচীরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তবে এ ধরনের ঝোঁক প্রয়োগকে বলা হয় বিমুখী ঝোঁক প্রয়োগ বা বিপরীত বায়াসিং (Reverse biasing)।
- এক্ষেত্রে ব্যাটারীর ঋণাত্মক প্রান্ত p-টাইপের প্রান্তের সঙ্গে এবং ধনাত্মক প্রান্ত n-টাইপের প্রান্তের সঙ্গে সংযোগ দেয়া হয়। 
- বিভব প্রাচীর বৃদ্ধির ফলে আধান বাহকের চলাচলে আরো অধিক বাধার সৃষ্টি হয়।
- অর্থাৎ রোধ অনেক বেড়ে যায় ফলে বর্তনীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় না।

তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬১৩.
নিচের কোনটি মিশ্র ভ্যাক্সিন?
  1. নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাক্সিন
  2. এমএমআর ভ্যাক্সিন
  3. হেপাটাইটিস- বি ভ্যাক্সিন
  4. বিসিজি ভ্যাক্সিন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
কিছু ভ্যাক্সিন রয়েছে, যা মিশ্র ভ্যাক্সিন নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে কয়েকটি রোগের ভ্যাক্সিন যুক্ত করে দেহে প্রবেশ করানো হয়।
যেমন- এমএমআর ভ্যাক্সিন (হাম, মাম্পস ও রুবেলা), ডিপিটি ভ্যাক্সিন (ডিপথেরিয়া, হুপিং কফ, ধনুষ্টংকার) ইত্যাদি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৬১৪.
মাছের মাথা হতে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. বি
  2. সি
  3. ডি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন এ- এর উৎস:
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃত ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ পাওয়া যায়। 

- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন: লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।
৩,৬১৫.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) NaOH
  2. খ) NaCl
  3. গ) Na2SO4
  4. ঘ) CuCl
ব্যাখ্যা
নিচের সারণিতে পানিতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় কিছু নমুনা লবণের উদাহরণ দেয়া হলোঃ

সূত্রঃ রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৬১৬.
আলফ্রেড নোবেল কি আবিষ্কার করেন?
  1. বিদ্যুৎ
  2. পোলিও টিকা
  3. ডিনামাইট
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা
আলফ্রেড নোবেল: 
- আলফ্রেড নোবেল সুইডিশ শিল্পপতি। 
- আলফ্রেড নোবেলের জন্ম ১৮৩৩ সালের ২১ অক্টোবর সুইডেনের স্টকহোমে। 
- বাবা ইমানুয়েল নোবেল ছিলেন প্রকৌশলী। 
- যুদ্ধাস্ত্র তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন বিস্ফোরক উদ্ভাবন করতেন তিনি। 
- তার বাবার কারখানায় কাজ শিখে আলফ্রেড নোবেল। 
- তিনি প্রথমে স্টকহোমে এবং পরে জার্মানিতে রাসায়নিক গবেষণাগার স্থাপন করেন। 
- ১৮৬৬ সালে জার্মানির গবেষণাগারে আবিষ্কার করেন ডিনামাইট। 

উল্লেখ্য, 
- আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুর পর ১৮৯৭ সালে গঠিত হয় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। 
- ১৯০০ সালে গঠিত হয় নোবেল ফাউন্ডেশন। 
- ১৯০১ সালে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজ করে যাঁরা পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, তাঁদেরকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 

উৎস: Britannica.
৩,৬১৭.
কোনটি আলুর ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে?
  1. মড়ক রোগ
  2. ঢলে পড়া রোগ
  3. দাঁদ রোগ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলু:
- বাংলাদেশে গমের পরেই আলুর স্থান।
- বীজ আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
- পরিমিত ও সময়মতো সার প্রয়োগ, আন্তঃপরিচর্যা রোগ বালাই দমন ইত্যাদি সঠিকভাবে করলে ভাল আলু বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

⇒ আলুর রোগ:
- আলুর রোগসমূহের মধ্যে মড়ক রোগ, ঢলে পড়া রোগ, দাদ রোগ, কান্ড পচা রোগ ও ভাইরাসজনিত রোগ অন্যতম।
- নিম্নতাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও মেঘলা আকাশ আলুর চাষের জন্য ক্ষতিকর।
- এতে আলুর মড়ক রোগের (লেট ব্লাইট) আক্রমণ বেশি দেখা যায়।
- এ অবস্থা থেকে ফসলকে রক্ষা করার জন্য ছত্রাক নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

⇒ আলুর পোকা:
- আলুতে আক্রমণকারী পোকার মধ্যে কাটুই পোকা, আলু গাছ কেটে দেয় এবং আলু আক্রমণ করে।
- কাটুই পোকার উপদ্রব বেশি না হলে গাছের আশে পাশের মাটি খুঁড়ে কীড়া খুঁজে মেরে ফেলতে হবে।
- জাব পোকা আলু গাছের রস খায় এবং ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
- গাছের পাতা গজানোর ৭-১০ দিন পর কীটনাশক প্রয়োগ করে এ পোকা দমন করা যায়।
- সুতলী পোকা আলুর মধ্যে সুড়ঙ্গ তৈরি করে আলুর ক্ষতি সাধন করে।
- এজন্য বীজ আলুতে সুতলী পোকা আক্রান্ত আলু বেছে আলু বপন করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬১৮.
কোন ধরণের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. ঠান্ডা পানি
  2. গরম পানি
  3. স্বাভাবিক পানি
  4. উপরের সবগুলোতে একই থাকে
ব্যাখ্যা
গরম পানির তুলনায় ঠান্ডা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। 
 
Cold water can hold more dissolved oxygen than warm water.
 In winter and early spring, when the water temperature is low, the dissolved oxygen concentration is high. 
In summer and fall, when the water temperature is high, the dissolved-oxygen concentration is often lower.
 
উৎস: usgs.gov
৩,৬১৯.
'গলগন্ড' মানবদেহের কোন গ্রন্থির একটি রোগ?
  1. অ্যাড্রেনাল
  2. পিট্যুইটারি
  3. থাইরয়েড
  4. হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান:

- খাদ্যের ৬টি উপাদান শর্করা, স্নেহ পদার্থ, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবন এবং পানি প্রধানত আমাদের দেহে ৩টি কাজ করে:
১. বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরন ও রক্ষণাবেক্ষণ।
২. তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান।
৩. রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থতা প্রদান।

খনিজ লবন:
- কয়েক রকমের খনিজ পদার্থ রয়েছে। খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং সামুদ্রিক মাছ ও লবনে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ, লৌহের অভাবে রক্ত শূন্যতা, ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হয়।

গলগন্ড (Goitre):

- গলগন্ড থাইরয়েড গ্রন্থির একটি রোগ।
- খাবারে আয়োডিনের অভাব থাকলে থাইরয়েডের গ্রন্থির আয়তন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গলগন্ডের সৃষ্টি করে।
- যে সকল এলাকার মাটিতে আয়োডিনের পরিমাণ কম সে সকল এলাকার শিশুদের এমন রোগ বেশি দেখা যায়।
- লবণের পরিমাণ কম তাই এ সকল এলাকার শিশুদের বেশি পরিমাণে গলগন্ড রোগ দেখা দেয়।

- গলগন্ড প্রধানত দু'প্রকার। যথা-
(ক) সরল গলগন্ড:
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিদ্বয় অথবা যে কোনো একটি ফুলে যায়।
- ফলে গলার কিছু অংশ ফুলে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে।
- এটিই সরল গলগন্ড নামে পরিচিত।

• লক্ষণ: আলসেমি বা কুঁড়েমি, নিদ্রাহীনতা, শুকনো চামড়া, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, পড়াশুনায় অমনোযোগী হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
• প্রতিরোধ: যে অঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে সে অঞ্চলের খাওয়ার পানির সাথে অতি সামান্য মাত্রায় আয়োডিন মেশানো যেতে পারে। আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা।

(খ) টক্সিক গলগন্ড:
- অতিমাত্রায় থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণের ফলে এ রোগ দেখা দেয়।

• লক্ষণ: হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়পড় করা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অধিক ঘাম হওয়া ইত্যাদি।
• প্রতিরোধ ব্যবস্থা- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন ব্যবহার করার মাধ্যমে এ গ্রন্থির বৃদ্ধি রোধ করা যায়। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক মাছ, ইত্যাদি খাওয়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬২০.
এইডস হতে পারে কখন?
  1. আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে
  2. রোগীর সেবা করলে
  3. একই বিছানা ব্যবহার করলে
  4. একই সাথে গোসল করলে
ব্যাখ্যা

- আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে এইডস হতে পারে।

এইচআইভি এবং এইডস-এর বিস্তার:
এইচআইভি একটি নীরব ঘাতক। এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগে এইচআইভি ও এইডস কীভাবে বিস্তার লাভ করে তা জানবার জন্য প্রথমেই জানা প্রয়োজন এই ভাইরাস কীসে থাকে। মানুষের শরীরে উৎপন্ন বিভিন্ন তরল পদার্থ যেমন- রক্ত, বীর্য, যৌনিরস, লালা এগুলোতে HIV বাস করে। এ গুলোর মধ্যে মুখের লালায় HIV -র পরিমাণ কম থাকে বলে লালা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিন্তু রক্ত, যোনিরস ও বীর্য কোনোভাবে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে এইচআইভি সংক্রমণ ঘটে। বিভিন্ন উপায়ে এইচআইভি ছড়াতে পারে।
যেমন-
১। অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক:
এইচআইভি ছড়ানোর সবচেয়ে বড় কারণ অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বের এইচআইভি ব্যক্তিদের শতকরা আশি (৮০%) ভাগই অনিরাপদ দৈহিক মিলনে হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্য বা যোনিরসের মাধ্যমে যৌন সঙ্গীর দেহে এইডস-এর ভাইরাস প্রবেশ করে। আরও বিপদজনক হলো যৌনসঙ্গিনী যদি সন্তান ধারণ করে তবে ঐ সন্তানের দেহেও এইচআইভি প্রবেশ করে।

২। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তগ্রহণ:
অনেক সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে বা অপারেশনের সময় বা দুর্ঘটনায় পড়লে অন্যের রক্ত নিতে হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য একজনের শরীরের অঙ্গ যেমন- কর্নিয়া, হৃৎপিন্ড, কিডনী বা অন্য কোনো অঙ্গ এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। অসচেতনতা বা দায়িত্বহীনতার কারণে অনেক সময় অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা হয় না। এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত বা এইচআইভি আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির অঙ্গ অন্য কোনো
ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এইচআইভি বিস্তার লাভ করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই এক সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করে। এতে সুস্থ ব্যক্তির দেহে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। এইচআইভি বা এইডস আক্রান্ত মায়ের নিকট থেকে তিনটি পর্যায়ে শিশুর শরীরে এর ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। যেমন-
ক) গর্ভকালীন সময়ে, 
খ) প্রসবকালীন সময়ে, 
গ) মায়ের দুধ পানের মাধ্যমে।

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬২১.
নিচের কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. র‍্যাবিস
  2. ভ্যারিওলা
  3. HIV
  4. TMV
ব্যাখ্যা

• ভ্যারিওলা (Variola) হলো একটি DNA ভাইরাস যা গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স (Smallpox) রোগের সৃষ্টি করে।

• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দু' প্রকার।

যথা : (i) DNA ভাইরাস এবং (ii) RNA ভাইরাস।

• DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- উদাহরণ- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস। Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

• RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- উদাহরণ- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিওভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৬২২.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে বিমান চলাচল করতে পারে? 
  1. মেসোমণ্ডল
  2. এক্সোমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere): 
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। 
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। 
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। 
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না। 
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬২৩.
কোন দ্রবণ অম্লীয় হবে? 
  1. যার pH > ৭
  2. যার pH = ৭
  3. যার pH < ৭
  4. যার pH = ১৪
ব্যাখ্যা
pH-এর মান জানার প্রয়োজনীয়তা: 
- কোনো একটি পদার্থ এসিড, ক্ষার না নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। 
- কিন্তু তাতে কী পরিমাণ এসিড বা ক্ষার আছে, সেটি বোঝা যায় pH-এর মান পরিমাপ করে। 
- নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি যেখানে কোনো এসিড বা ক্ষার থাকে না, তার pH হয় ৭ । 
- আর যদি এতে এসিড যোগ করা হয় তাহলে pH-এর মান কমে যায়। যত বেশি এসিড যোগ করা যায়, pH-এর মান ততই কমে যায়। 
- পক্ষান্তরে যদি বিশুদ্ধ পানি বা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণে ক্ষার যোগ করা হয়, তাহলে এর pH বাড়তে থাকে। যত বেশি ক্ষার যোগ করা হয়, pH-এর মান ততই বাড়তে থাকে। 
সুতরাং বলা যায়, 
• কোনো দ্রবণের pH = ৭ হলে তা নিরপেক্ষ জলীয় দ্রবণ বা বিশুদ্ধ পানি হবে। 
কোনো দ্রবণের pH < ৭ হলে (৭ থেকে কম হলে) তা অম্লীয় বা এসিডিয় দ্রবণ হবে। 
• কোনো দ্রবণের pH > ৭ হলে (৭ থেকে বেশি হলে) তা ক্ষারীয় দ্রবণ হবে। 
- pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি কম হবে, এসিডটি তত শক্তিশালী, আবার pH-এর মান ৭ থেকে যত বেশি হবে, ক্ষারকত্বও তত বেশি শক্তিশালী হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬২৪.
In which year Maddhapara hard rock mine was discovered?
  1. In 1971
  2. In 1973
  3. In 1974
  4. In 1976
  5. In 1978
ব্যাখ্যা
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪।
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৩,৬২৫.
বিগব্যাঙ তত্ত্বের প্রবক্তা-
  1. আইনস্টাইন
  2. জি. ল্যামেটার
  3. স্টিফেন হকিং
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাং তত্ত্ব:
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।

অন্যদিকে,
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’.

সুতরাং, বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৬২৬.
বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ক্যাপিং
  2. ডোপিং
  3.  ট্রান্সেন্ডিং
  4. মিক্সিং
ব্যাখ্যা

• ডোপিং (Doping): 
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে। 
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি। 
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬২৭.
ভাইরাসের গঠনগত প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. সাইটোপ্লাজ্ম
  2. কোষপ্রাচীর
  3. নিউক্লিক অ্যাসিড
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস: 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 

• ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।  যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

• ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬২৮.
বায়ুর চাপ নির্ভর করে কোনটির উপর?
  1. ক) জলীয়বাষ্প
  2. খ) উষ্ণতা
  3. গ) উচ্চতা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

বায়ুর চাপ সব জায়গায় একরকম থাকে না। কোনাে স্থানে বায়ুর তাপ বেড়ে গেলে বায়ু আয়তনে বেড়ে যায় ও প্রসারিত হয়। ফলে বায়ুহালকা হয় এবং ওজন কমে যায়। তখন সেখানকার বায়ুর চাপ কমে যায়। আবার কোথাও বায়ুর তাপ কমে গেলে সেখানকার বায়ুর ওজন বেড়ে যায়। ফলে বায়ুর চাপও বেড়ে যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বায়ুর তাপ কমলে চাপ বাড়ে এবং বায়ুর তাপ বাড়লে, চাপ কমে।

এছাড়া জলীয়বাষ্প বায়ুর চেয়ে হালকা। এ কারণে বায়ুতে যদি জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হয় তখন সেই বায়ুর ওজন অনেক কমে যায়। ফলে বায়ুর চাপও কম থাকে। বায়ুর চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চচাপ বলে। আবার বায়ুর চাপ কম থাকলে তাকে নিম্নচাপ বলে।

নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষরেখা থেকে ৫ ডিগ্রি উত্তর ও ৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এই নিম্নচাপ বলয় বিস্তৃত। নিরক্ষরেখার উপর সূর্য বৎসরে দুইবার লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ অঞ্চল ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতম অঞ্চল। অত্যধিক তাপের জন্য এ অঞ্চলের বায়ু অত্যন্ত হালকা ও প্রসারিত হয়ে উর্ধ্বমূখী হয়। ফলে বায়ুর ওজন কমে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। এভাবেই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রান্তিয় উচ্চচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উত্তপ্ত বায়ুউর্ধ্বমুখী হয় এবং যতই উপরে ওঠে ততই ধীরে ধীরে শীতল হয়। শীতল বায়ু ভারী হওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে (কর্কটক্রান্তী ও মকরক্রান্তীর কাছাকাছি) স্থান করে নেয়। এভাবে ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দুইটি উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়। উত্তর গােলার্ধে এর নাম কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় এবং দক্ষিণ গােলার্ধে এর নাম মকরীয় উচ্চচাপ বলয়।

উৎসঃ ভূগােল, এসএসসি প্রােগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬২৯.
কোন রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে কম?
  1. গামা 
  2. আলফা 
  3. বিটা 
  4. সবগুলোই সমান ভেদনক্ষমতা বিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• আলফা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা সবচেয়ে কম। 

• ভেদন ক্ষমতা:
- ভেদন ক্ষমতা (Penetrating Power) বলতে বোঝায় কোনো বিকিরণ পদার্থের কতটুকু গভীরে বা কতদূর ভেদ করে যেতে পারে।
- এটি নির্ভর করে কণার শক্তি, ভর ও আধান-এর উপর।

• তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে তিন ধরনের রশ্মি নির্গত হয়।
যথা:
- আলফা, বিটা, গামা । 

• আলফা কণার ধর্ম:
- আলফা কণার ধনাত্মক আধানযুক্ত। এর আধান 3.2 × 10-19 C । 
- এ কণা চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- এ কণা তীব্র আয়নায়ন সৃষ্টি করতে পারে।
- এর ভর বেশি হওয়ায় ভেদনক্ষমতা কম।

• বিটা কণার ধর্ম:
- এ কণা ঋণাত্মক আধানযুক্ত। এর আধান 1.6 × 10 -19 C ।
- এ কণা চৌম্বক ও তড়িৎক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- এ কণা অত্যন্ত দ্রুত নির্গত হয়। এর দ্রুতি আলোর দ্রুতির শতকরা 98 ভাগ পর্যন্ত হতে পারে।
- এ কণা অতি উচ্চ দ্রুতিসম্পন্ন ইলেকট্রনের প্রবাহ। এর ভেদন ক্ষমতা আলফা ও গামা রশ্মির মাঝামাঝি। 

• গামা রশ্মির ধর্ম:
- এ রশ্মি আধান নিরপেক্ষ।
- এ রশ্মি তড়িৎ ও চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয় না।
- এর বেগ আলোর বেগের সমান অর্থাৎ 3 × 108 ms-1
- আলফা ও বিটা কণার চেয়ে এ রশ্মির ভেদনক্ষমতা বেশি। এটি কয়েক সেন্টিমিটার পুরু সীসার পাত ভেদ করে যেতে পারে।

• তিনটি বিকিরণের মধ্যে গামা রশ্মি সবচেয়ে বেশি ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- সবচেয়ে কম ভেদনক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি হলো আলফা।
- বিটা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা আলফা ও গামা রশ্মির মাঝামাঝি। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৩,৬৩০.
সাইক্লোনে বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় কত থাকে? 
  1. ৪৫ কিলোমিটার বা তার বেশি
  2. ৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি
  3. ৫৮ কিলোমিটার বা তার বেশি
  4. ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩১.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
  1. ক) ১৪০/১০০ (mm Hg)
  2. খ) ১২০/৮০ (mm Hg)
  3. গ) ১২০/৬০ (mm Hg)
  4. ঘ) ১৩০/৫০ (mm Hg)
ব্যাখ্যা
রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধর্মনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৬৩২.
অ্যানিমিয়া কী কারণে হয়?
  1. লোহিত কণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ায়
  2. লোহিত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়
  3. প্লেটলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায়
  4. শ্বেত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়
ব্যাখ্যা
রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
যেমন- 
১. অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়। 

২. পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

৩. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০-৩০,০০০ হয়। 

৪. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩৩.
নিচের কোনটি যক্ষ্মা রোগের টিকা?
  1. DPT
  2. MR
  3. OPV
  4. BCG
ব্যাখ্যা
 • যক্ষ্মার টিকা হলো BCG(Bacillus Calmatte Guerin) ।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে,
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).
- হাম রোগের টিকা MR।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,৬৩৪.
যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাকে কী বলা হয়? 
  1. যান্ত্রিক তরঙ্গ 
  2. তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ
  3. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  4. পানির তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গের প্রকারভেদ: 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় তাকে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। 
- আবার, যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না সেই তরঙ্গকে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরণের। 
যথা- (১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ও (২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ (Transverse wave): 
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। 
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ (Longitudinal wave): 
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ হলো এমন এক ধরনের তরঙ্গ, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলো কম্পনের দিকের সমান্তরালে আন্দোলিত হয়, কিন্তু নিজ অবস্থান পরিবর্তন করে না। 
- নমনীয় স্প্রিংয়ে মৃদু আঘাত করলে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি পরিবহন করে। 
- এ তরঙ্গে তরঙ্গ শীর্ষ বা তরঙ্গ পাদ থাকে না, বরং সংকোচন ও প্রসারণের পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৩৫.
মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নি:সৃত এনজাইম-
  1. লাইপেজ
  2. টায়ালিন
  3. পেপসিন
  4. রেনিন
ব্যাখ্যা
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নি:সৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন।
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৬৩৬.
অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশ কোন হরমোন নিঃসরণ করে?
  1. এড্রিনালিন ও গ্লুকাগন
  2. ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
  3. অ্যাড্রিনালিন ও করটিসল 
  4. থাইরক্সিন ও ট্রাইআইডোথাইরনিন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৩৭.
স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন বয়স্ক মানুষের চোখে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব কত সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে? 
  1. ৫.০ সে.মি
  2. ১৫.০ সে.মি
  3. ২৫.০ সে.মি
  4. ৫০.০ সে.মি
ব্যাখ্যা
স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু: 
- মানুষ তার চোখের লেন্সে ফোকাস দূরত্ব বাড়িয়ে বা কমিয়ে একটা বস্তুকে সবসময় স্পষ্ট দেখার চেষ্টা করে। 
- কিন্তু লক্ষ্যবস্তু চোখের কাছাকাছি একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে বেশি কাছে এলে আর স্পষ্ট দেখা যায় না। 
- চোখের সবচেয়ে কাছের যে বিন্দু পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্পষ্ট দৃষ্টির নিকট বিন্দু বলে এবং চোখ থেকে ঐ বিন্দুর দূরত্বকে স্পষ্ট দৃষ্টির ন্যূনতম দূরত্ব ধরে নেওয়া হয়। 
- এই দূরত্ব মানুষের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। 
- একজন শিশুর এই দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি এবং একজন স্বাভাবিক বয়স্ক লোকের এই দূরত্ব ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। 
- দূর বিন্দু চোখ থেকে অসীম দূরত্বে অবস্থান করে। এ কারণে বহুদূরের নক্ষত্রও খালি চোখে দেখা যায়। 
- সুস্থ ও স্বাভাবিক চোখ “নিকট বিন্দু” (near point) থেকে শুরু করে অসীম দূরত্বের দূর বিন্দুর মাঝখানে যে স্থানেই কোন বস্তু থাকুক না কেন সেটা স্পষ্ট দেখতে পারে। আর এটাই হচ্ছে চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩৮.
বিষধর সাপের কয়টি বিষদাঁত থাকে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা
- বিষধর সাপের দুইটি বিষদাঁত থাকে।

বিষধর সাপে কাটলে শরীরে বিষক্রিয়ার কিছু লক্ষণ দেখা যায়:

- ক্ষতস্থানে বিষদাঁতের দুটি দংশনের চিহ্নের উপস্থিতি,
- ক্ষতস্থান থেকে অনবরত রক্তপাত ও ক্ষতস্থান অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা এবং প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করা,
- কখনো কখনো সারা শরীর ফুলে যাওয়া, খাবার ও ঢোক গিলতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট, চোখে ঝাপসা দেখা ও চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসা।

উৎস: প্রথম আলো
৩,৬৩৯.
সাবমেরিন থেকে সমুদ্রের উপরের জাহাজ দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়-
  1. মাইক্রোস্কোপ
  2. টেলিস্কোপ
  3. পেরিস্কোপ
  4. বাইনোকুলার
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 

- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৩,৬৪০.
ডানাবিশিষ্ট উড়তে সক্ষম একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী কোনটি?
  1. ক) ক্যাঙ্গারু
  2. খ) বাদুড়
  3. গ) ঈগল
  4. ঘ) গার্গেনি
ব্যাখ্যা
- বাদুড় (Bat) ডানাবিশিষ্ট উড়তে সক্ষম একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী।
- এদের Chiroptera বর্গের Megachiroptera (বড়বাদুড়) ও Microchiroptera (ক্ষুদেবাদুড়) দলে শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
- Megachiroptera-র প্রজাতিগুলি মূলত ফলভোজী, এজন্য নাম ফ্রুটব্যাট (fruit bat), আর স্থানীয়ভাবে বাদুড় বা কলাবাদুড় নামে পরিচিত।
- Microchiroptera-র প্রজাতিগুলি পতঙ্গভুক, তাই এদের ইনসেক্ট ব্যাট (insect bat), এবং বাংলায় চামচিকা বলা হয়।
- কোন কোন কলাবাদুড় চামচিকা প্রজাতি থেকেও আকারে ছোট।

উৎস : বাংলাপিডিয়া 
৩,৬৪১.
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হলোঃ
১) ক্লোরোফিল,
২) আলো,
৩) পানি এবং
৪) কার্বন ডাইঅক্সাইড।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৪২.
পদার্থ এবং শক্তিকে অভিন্নরূপে দেখান -
  1. ক) আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. খ) আইজ্যাক নিউটন
  3. গ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  4. ঘ) নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন।

E = mc2, একে আইনস্টাইনের পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র বলা হয়। পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়।
এখানে, 
E = শক্তি,
m = ভর,
c = আলোর বেগ।

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব:

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিজ্ঞান জগতে এক নতুন যুগের সূচনা হয় । আর এ নতুন যুগের সূচনা করেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে।

চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মতে স্থান, কাল এবং ভর ধ্রুব।
আইনস্টাইন এগুলো সম্পর্কে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, স্থান, কাল এবং ভর এগুলো পরম কিছু নয়; এগুলো আপেক্ষিক। সুতরাং আইনস্টাইনের এ তত্ত্বকে বলা হয় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব।

আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি দুটো ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো:
(ক) আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (Special theory of relativity) এবং
(খ) আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব (General theory of relativity)


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)
৩,৬৪৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটি না থাকলে আবহাওয়ার সৃষ্টি হতো না?
  1. ক) এক্সোস্ফিয়ার
  2. খ) আয়নোস্ফিয়ার
  3. গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
ট্রপোমণ্ডল ছাড়া কোন আবহাওয়ার সৃষ্টি হতো না; বরফ জমতো না; তুষার, কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদির সৃষ্টি হতো না। শস্য ও বনভূমির জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হতো না।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৩,৬৪৪.
দেশলাই কাঠিতে কোনটি থাকে না?
  1. ক) জিংক ও বেরিয়াম লবণ
  2. খ) ক্যালসিয়াম সিলিকেট
  3. গ) পটাশিয়াম সিলিকেট
  4. ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
- কাঠজাতীয় কাঠি দিয়ে দিয়াশলাই প্রস্তুত করা হয়।
- দেশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস থাকে।
- কাঠিতে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপের ফলে লোহিত ফসফরাস শ্বেত ফসফরাসে রূপান্তরিত হয়।

উৎস : পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৪৫.
বিভবশক্তির সূত্র কোনটি?
  1. Ep = 1/2(mv2)
  2. Ep = mv
  3. Ep = gh
  4. Ep = mgh
ব্যাখ্যা

• বিভবশক্তি বস্তুর ভর (m), উচ্চতা (h) এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর ওপর নির্ভরশীল, তাই এর গাণিতিক প্রকাশ Ep = mgh.

• বিভবশক্তি (Potential Energy):
- বিভবশক্তি হলো কোনো বস্তুর অবস্থানজনিত শক্তি।
- কোনো বস্তু ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উচ্চতায় অবস্থান করে, তার বিভবশক্তি তত বেশি হয়।
- বিভবশক্তি বস্তুর ভর এবং উচ্চতার ওপর নির্ভর করে।
- বিভবশক্তির সূত্র: Ep = mgh.
- এখানে, m = বস্তুর ভর, g = অভিকর্ষজ ত্বরণ, h = ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা।
- যখন কোনো বল ঢাল বরাবর নিচের দিকে নামে, তখন তার উচ্চতা ক্রমশ কমতে থাকে।
- উচ্চতা কমার ফলে বিভবশক্তিও কমে যায়।

• গতিশক্তি (Kinetic Energy):
- গতিশক্তি হলো বস্তুর চলনের কারণে সৃষ্ট শক্তি।
- কোনো বস্তু স্থির অবস্থা থেকে চলতে শুরু করলে তার গতিশক্তি সৃষ্টি হয়।
- গতিশক্তি বস্তুর ভর এবং বেগ উভয়ের ওপর নির্ভরশীল।
- যখন বল নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে, তখন তার বেগ বৃদ্ধি পায়।
- বেগ বৃদ্ধির ফলে গতিশক্তিও বৃদ্ধি পায়।
- বিভবশক্তি কমার সঙ্গে সঙ্গে গতিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়া লক্ষ্য করা যায়।

• শক্তির রূপান্তর সম্পর্কিত ধারণা:
- উচ্চ স্থানে অবস্থানরত বস্তুর বিভবশক্তি বেশি এবং গতিশক্তি কম থাকে।
- বস্তু নিচের দিকে নামার সময় বিভবশক্তি কমে এবং গতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
- এই প্রক্রিয়ায় শক্তির এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন ঘটে।

• অন্যান্য অপশন:
Ep = 1/2(mv2) — এটি গতিশক্তির সূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৪৬.
ভূপৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তর-
  1. ক) ট্রপোমণ্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. গ) আয়নমণ্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোমন্ডল (Troposphere)। আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে। মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৩,৬৪৭.
খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে মাপতে কোন যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. স্ক্রু গজ
  2. তুলা যন্ত্র
  3. স্লাইড ক্যালিপার্স
  4. ডিজিটাল স্কেল
ব্যাখ্যা
তুলা যন্ত্র: 
- পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে খুব অল্প পরিমাণ জিনিসের ভর সূক্ষ্মভাবে মাপার জন্য তুলা যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। 
- তখন সাধারণ নিক্তির সাহায্যে তা পরিমাপ করা সম্ভব হয় না। 
- বস্তু বা পদার্থের ভর যত কম হবে, তার ভর পরিমাপের জন্য তত সুক্ষ্ম নিক্তির প্রয়োজন হবে। 
- এই রকম একটি নিক্তি হল তুলা যন্ত্র। 
- পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের ল্যাবরেটরীতে খুব অল্প পরিমাণ নমুনার ভর পরিমাপ করতে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৪৮.
ভাইরাসের নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে-
  1. DNA এবং RNA
  2. শধুমাত্র DNA
  3. শুধুমাত্র RNA
  4. DNA বা RNA
ব্যাখ্যা
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।-এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতেপারে।
সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,৬৪৯.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. গোল আলু - Solanum melongena
  2. পেঁয়াজ - Allium cepa
  3. পাট - Corchorus capsularis
  4. ধান - Oryza sativa
ব্যাখ্যা
কিছু উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম:
গোল আলু - Solanum tuberosum
বেগুন - Solanum melongena
পেঁয়াজ - Allium cepa
পাট - Corchorus capsularis
ধান - Oryza sativa
শাপলা - Nymphaea nouchali
আম - Mangifera indica
কাঁঠাল - Artocarpus Heterophyllus
জবা - Hibiscus rosa-sinensis

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৩,৬৫০.
সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের - 
  1. সমানুপাতিক
  2. ব্যস্তানুপাতিক
  3. বর্গের সমানুপাতিক
  4. বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
সেকেন্ড দোলক (Second Pendulum): 
- যে সরল দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ যে দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে। 
- সেকেন্ড দোলক ১ সেকেন্ডে একটি অর্ধদোলন সম্পন্ন করে। 

সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য: 
- সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল, T = 2 s 
আমরা জানি, 
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g) 
∴ সেকেন্ড দোলকের জন্য, 2 s = 2π √(L/g) 
বা, L = gs22 
সুতরাং দেখা যায় যে, সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে। 
- সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের সমানুপাতিক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৩,৬৫১.
ক্ষার জলীয় দ্রবণে কোন আয়ন দান করে? 
  1. Cl
  2. Na
  3. H
  4. OH-
ব্যাখ্যা

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, KOH, Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)2, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৫২.
ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা সমান হলে কী ঘটে?
  1. ভোল্টেজ দশ গুণ কমে যায়
  2. ভোল্টেজ শূন্যে নেমে যায়
  3. ভোল্টেজ দ্বিগুণ হয়
  4. ভোল্টেজ অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

- ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা সমান হলে ভোল্টেজ অপরিবর্তিত থাকে, কারণ ভোল্টেজ পরিবর্তনের অনুপাত প্যাঁচসংখ্যার অনুপাতের সমান; তাই Np = Ns হলে Vs = Vp হয়, যা একটি আইসোলেশন ট্রান্সফরমার হিসেবে কাজ করে এবং ভোল্টেজ বাড়ায়ও না কমায়ও না। 

ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- তড়িচ্চালক শক্তি বা EMF পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়। 
- যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- ট্রান্সফরমারের দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। 
- ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। আবার, বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 

স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। 
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 

স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৫৩.
নিচের কোনটিতে  ফিউশন বিক্রিয়া ঘটে? 
  1. ক) পারমাণবিক বোমা 
  2. খ) হাইড্রোজেন বোমা
  3. গ) জার বোমা
  4. ঘ) রাসায়নিক বোমা
ব্যাখ্যা
যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাই নিউক্লিয় ফিউশন (fusion) বিক্রিয়া। যেমন -
হাইড্রোজেনের দুইটি আইসোটোপ ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম যুক্ত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে থাকে। 
এই বিক্রিয়াটি সূর্যে ঘটে থাকে।
ফিউশন বিক্রিয়াকে মূলনীতি হিসেবে ধরে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।

অপরদিকে যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি পরমাণু ভেঙ্গে (জোড়পূর্বক অথবা স্বতঃস্ফূর্ত) একাধিক হালকা ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাই ফিশন (fission) বিক্রিয়া। যেমন- 
পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম পরমাণুকে একটি নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে এর ফিশন ঘটানো হয়।
ফিশন বিক্রিয়াকে মূলনীতি হিসেবে ধরে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা হয়।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
৩,৬৫৪.
সময়ের সাথে সরণের পরিবর্তনের হারকে কী বলে? 
  1. দূরত্ব
  2. ত্বরণ
  3. দ্রুতি
  4. বেগ
ব্যাখ্যা
বেগ: 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে। 
- কোনো নির্দিষ্ট দিকে দ্রুতিকে বলা হয় বেগ। 
- বেগের মান বলার সাথে দিকও উল্লেখ করতে হয়। কারণ, বেগের মান ও দিক উভয়ই আছে। 
- কিন্তু দ্রুতির শুধু মান আছে। 
- ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাকদৌড়ে প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বই হলো দ্রুতি। 
- দ্রুতির কোনো নির্দিষ্ট দিক নেই, শুধু মান আছে। 
- নির্দিষ্ট কোনো দিকে ১০০ মিটার দৌড়ে প্রতি সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হলো বেগ। 
- কোনো নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে কোনো বস্তুর সরণ হলো ঐ বিন্দু থেকে নির্দিষ্ট দিকে দূরত্বের সমান। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,৬৫৫.
ভূমিকম্পের তীব্রতা কোথায় বেশি?
  1. ক) কেন্দ্রে
  2. খ) উপকেন্দ্রে
  3. গ) ভূপৃষ্ঠে
  4. ঘ) কেন্দ্র‌ ও উপকেন্দ্রের মধ্যবর্তী স্থানে
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প কেন্দ্রের ঠিক সােজাসুজি উপরে অবস্থিত যে বিন্দুতে ভূমিকম্প তরঙ্গ প্রথম এসে পৌঁছায়, তাকে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র বলে। এই উপকেন্দ্রে ভূমিকম্পের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয় এবং সেখান থেকে দূরত্ব অনুসারে তীব্রতা ক্রমশ কমতে থাকে।
৩,৬৫৬.
জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা করা হয়- 
  1. Embryology
  2. Entomology
  3. Taxonomy
  4. Endocrinology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়।

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৫৭.
পৃথিবীর দুইটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৩ ডিগ্রি হলে ঐ দুটি স্থানের সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ক) ১০ মিনিট
  2. খ) ১২ মিনিট
  3. গ) ১৪ মিনিট
  4. ঘ) ১৬ মিনিট
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমার পার্থক্য:

- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমা পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- তাহলে ৩ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে ১২ মিনিট।
- সেজন্যেই বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ × ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৫৮.
পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কিত সূত্রগুলো কোন বিজ্ঞানী প্রদান করেন? 
  1. গ্যালিলিও 
  2. কেপলার 
  3. নিউটন 
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

পড়ন্ত বস্তুর সূত্র (Laws of Falling Bodies):
- সমত্বরণের একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ g, এর প্রভাবে যেকোনাে বস্তু উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি গতিশীল হয়ে নিচের দিকে নামতে থাকে। 
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাঁধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: 
- স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ t. 

৩। তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, h ∝ t2

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৫৯.
Air conditioner এর capacity প্রকাশ করা হয়-
  1. ক) Watt
  2. খ) HP
  3. গ) KW-h
  4. ঘ) Tons
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Tons এর মাধ্যমে AC-এর মান প্রকাশ করা হয়।
৩,৬৬০.
করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য কোন ওষুধ দেওয়া হয়?
  1. ডক্সিসাইক্লিন
  2. ইনসুলিন
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. অ্যাট্রোপিন
ব্যাখ্যা

• করোনারি ধমনি সরু হয়ে গেলে হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহ কমে যায়, যাকে এনজাইনা বলা হয়।
- নাইট্রোগ্লিসারিন একটি শক্তিশালী ভ্যাসোডিলেটর (Vasodilator) যা রক্তনালীকে প্রসারিত করে হৃদপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি করে।
- অন্যদিকে, ডক্সিসাইক্লিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যাট্রোপিন সাধারণত হৃদস্পন্দন বাড়াতে ব্যবহৃত হয় কিন্তু এটি সরাসরি রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধির প্রাথমিক ওষুধ নয়।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
-অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিও পালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।


• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

• হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৬১.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব মতবাদের প্রবক্তা -
  1. ক) আইনস্টাইন 
  2. খ) ম্যাক্স প্লাঙ্ক
  3. গ) হাইগেন
  4. ঘ) রন্টজেন
ব্যাখ্যা
-কোয়ান্টাম তত্ত্ব মতবাদের প্রবক্তা ম্যাক্স প্লাঙ্ক। 

-কোয়ান্টাম থিওরির দুই প্রতিষ্ঠাতা নিলস বোর এবং ম্যাক্স প্লাঙ্ক। 
- আলোকশক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। প্রত্যেক রং এর আলোর জন্য এই শক্তি প্যাকেটের শক্তির একটা সর্বনিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্নমানের শক্তি সম্পন্ন কণিকাকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে। ফোটন ভরহীন ও তড়িৎ নিরপেক্ষ। এটি কণা এবং তরঙ্গ উভয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে।

সূত্র: American Museum of Natural History Website.
৩,৬৬২.
AIDS এর জীবাণু সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন-
  1. ক) Dr. Luc Montagnier
  2. খ) Dr. Robert Gallo
  3. গ) Dr. Jacques Benveniste
  4. ঘ) Dr. Emilio Del Giudice
ব্যাখ্যা
১৯৮৩ সালে ফ্রান্সের পাস্তুর ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী Dr. Luc Montagnier এবং আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যামিক্যাল ইন্সটিটিউট এর Dr. Robert Gallo ১৯৮৪ সালে পৃথকভাবে AIDS এর জীবাণু সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৩,৬৬৩.
মানবদেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে কোনটি-
  1. ভিটামিন
  2. পানি
  3. স্নেহপদার্থ
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন - 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৬৪.
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র কয়টি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
1618 খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার (Johann Kepler) সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্ৰ করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে নামকরণ করা হয়েছে কেপলার এর গ্রহ সম্পৰ্কীয় গতিসূত্র।
৩,৬৬৫.
যদি একটি লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হয়, তবে তার ক্ষমতা কত হবে? 
  1. ০.২ ডায়াপ্টর
  2. ০.৫ ডায়াপ্টর
  3. ২.০ ডায়াপ্টর
  4. ৫.০ ডায়াপ্টর
ব্যাখ্যা
লেন্সের ক্ষমতা: 
- প্রধান অক্ষের সমান্তরাল এক গুচ্ছ আলোকরশ্মিকে উত্তল লেন্স কেন্দ্রীভূত বা অভিসারী করে এক বিন্দুতে মিলিত করে। 
- অপরদিকে অবতল লেন্স একগুচ্ছ সমান্তরাল রশ্মিকে অপসারী করে; ফলে ঐ রশ্মিগুচ্ছ কোনো একটি বিন্দু থেকে অপসারিত হচ্ছে বা ছড়িয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। 
- আলোকরশ্মিকে অভিসারী বা অপসারী করার প্রক্রিয়াটি পরিমাপ করার জন্য লেন্সের "ক্ষমতা" সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ১-কে লেন্সের ফোকাস দূরত্ব (মিটারে প্রকাশ করে) দিয়ে ভাগ করা হলে লেন্সের ক্ষমতা পাওয়া যায়, যার একক হল ডায়াপ্টর। 
অর্থাৎ, একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ২ মিটার হলে তার ক্ষমতা হবে ১/২ ডায়াপ্টর বা ০.৫ ডায়াপ্টর। 
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক বা ঋণাত্মক দুই-ই হতে পারে। 
- কোনো লেন্সের ক্ষমতা +1D বলতে বোঝায়, লেন্সটি উত্তল এবং এটি প্রধান অক্ষের ১ মিটার দূরে আলোকরশ্মিগুচ্ছকে মিলিত করবে। 
- আবার লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলোকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলো কোনো লেন্স থেকে ১/২ মিটার বা ৫০ সেমি দূরের কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৬৬.
জৈব যৌগের প্রধান রসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. লোহা
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা

• জৈব যৌগের প্রধান রসায়নিক উপাদান হলো কার্বন। কারণ জীবজগতে উপস্থিত সব প্রজাতির অণু মূলত কার্বন দ্বারা গঠিত। কার্বন বিভিন্ন পরমাণুর সঙ্গে স্থায়ী বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে, যা জটিল ও বড় অণু তৈরিতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, প্রোটিন, লিপিড, শর্করা এবং নিউক্লিক অ্যাসিড- কার্বনের ভিত্তিতে গঠিত। কার্বনের এই বৈশিষ্ট্য জৈব যৌগকে স্থিতিশীল এবং বৈচিত্র্যময় করে তোলে। লোহা, সোডিয়াম বা ক্যালসিয়াম জীবকোষে থাকা খনিজ উপাদান হলেও, জৈব যৌগের মূল কাঠামো গঠনে তারা ভূমিকা রাখে না। তাই জৈব রসায়নে কার্বনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ধরা হয়।

- সঠিক উত্তর: ঘ) কার্বন।
 
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

• কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
-জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
-জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
-জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৬৭.
ইপসম লবণের রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. ZnSO4.7H2O
  2. CuSO4.5H2O
  3. FeSO4.7H2O
  4. MgSO4.7H2O
ব্যাখ্যা
• ইপসম লবণের সংকেত MgSO4.7H2O ।

• বিভিন্ন যৌগের রাসায়নিক সংকেত:
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O,
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl.
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3,
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3,
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O,
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa,
- সাদা ভিট্রিওলের সংকেত - ZnSO4.7H2O।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৬৬৮.
একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, তারপর একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়ায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন কত হবে? 
  1. 0
  2. mv
  3. 2mv
  4. mv/2
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, তারপর একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়ায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন কত হবে? 

সমাধান: 
ছুড়ে দেওয়ার সময় ভরবেগ p = mv, 
দেয়ালে আঘাত করে ঠিক উল্টো দিকে ফিরে আসার সময় ভরবেগ হচ্ছে p' = - mv 
কাজেই ভরবেগের পরিবর্তন: 
p - p' = mv – (- mv) = 2mv 
অর্থাৎ, একটি m ভরের বস্তু দেয়ালে ছুড়লে v বেগে আঘাত করে, একই বেগে উল্টো দিকে ফিরে আসায় বস্তুটির ভরবেগের পরিবর্তন হবে: 2mv, 
-এই পরিবর্তনের জন্য টেনিস বলটার উপর দেয়ালটা খুব অল্প সময়ের জন্য বল প্রয়োগ করেছে। 
- ক্রিকেট খেলার সময় ব্যাটসম্যানরা এভাবে ব্যাট দিয়ে খুব অল্প সময়ের জন্য ক্রিকেট বলকে আঘাত করে ভরবেগের পরিবর্তন করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৬৯.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপ করতে কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়? 
  1. সেক্সট্যান্ট 
  2. ক্রোনােমিটার 
  3. ম্যানোমিটার 
  4. ফ্যাদোমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• অ্যানিমোমিটার - বায়ু প্রবাহের গতিবেগ নির্ণয়ের যন্ত্র। 
• ব্যারােমিটার - বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
সেক্সট্যান্ট - সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ - ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
ম্যানােমিটার - গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
ফ্যাদোমিটার - সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• জাইরাে কম্পাস - জাহাজের দিক নির্ণয়ের যন্ত্র। 
ক্রোনােমিটার - সমুদ্রের দ্রাঘিমা নির্ণয়ের যন্ত্র বা সূক্ষ্মভাবে সময় পরিমাপ করার যন্ত্র। 

উৎস: উচ্চ-মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান এবং ব্রিটানিকা।

৩,৬৭০.
বাস্তুতন্ত্রে সবুজ উদ্ভিদ সুর্য থেকে প্রাপ্ত আলো এবং তাপশক্তির কত শতাংশ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে? 
  1. ৫%
  2. ২%
  3. ৭%
  4. ৯%
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্রে শক্তির প্রবাহ: 
- যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের শক্তির মূল উৎস সূর্য। 
- সূর্য থেকে যে পরিমাণ আলো এবং তাপশক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় তার বড়জোড় ২% সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে। 
- বাস্তুতন্ত্রের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য প্রাথমিকভাবে শর্করায় আলো ও তাপশক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে মজুত করে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যশিকলের মাধ্যমে উদ্ভিদে জমা হওয়া এই শক্তি বিভিন্ন খাদ্যস্তরে পৌঁছায়। 
- শেষ পর্যন্ত বিরোজকের কাজের ফলে সকল শক্তি আবার পরিবেশে ফিরে আসে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৭১.
প্যারেনকাইমা কোন ধরনের টিস্যু?
  1. জটিল টিস্যু
  2. সরল টিস্যু
  3. ভাজক টিস্যু
  4. গ্রন্থি টিস্যু
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু: 
- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়। 
- আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১. প্যারেনকাইমা, 
২. কোলেনকাইমা এবং 
৩. স্ক্লেরেনকাইমা।

প্যারেনকাইমা (Parenchyma): 
- প্যারেনকাইমা হচ্ছে এক ধরনের সরল টিস্যু। 
- প্রায় সমান ব্যাস বিশিষ্ট, পাতলা বা পুরু প্রাচীর যুক্ত কোষ দ্বারা এই টিস্যু গঠিত। 
- এই প্রকার টিস্যুর কোষের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা প্রায় একইরকম হয় এবং দেখতে গোলাকার, ডিম্বাকার, লম্বাটে বা বহুভূজাকৃতির হয়। 
- এই কোষে আন্ত:কোষীয় ফাঁক থাকতে পারে কিংবা নাও পারে। 
- এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত পাতলা এবং সমান পুরু হয়। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেণোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭২.
মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. ২০০-৩০০ mg/dl
  2. ৩০০-৪০০ mg/dl
  3. ৪০০-৫০০ mg/dl
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল:

• কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
• মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
• যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
• স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।

• স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা: 
১. উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং
২. নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL) । 

• রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে।
• রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে। 
• রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। একে ভালো কোলেস্টেরল বলে। 
• রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl.
• রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
• LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৭৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে 'ওজন স্তর' অবস্থিত?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. আয়নোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে 'ওজন স্তর' অবস্থিত।

• ওজন স্তর:
- বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার নামক স্তরে ওজোন নামক গ্যাসের একটি পাতলা স্তর রয়েছে, একে ওজোন স্তর বলে।
- ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে সূর্যরশ্নির অতিবেগুনি রশ্নি থেকে রক্ষা করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরের ক্ষতি করে, তবে সিএফসি গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ, মিথেন গ্যাস, বিমান চলাচল ইত্যাদি কারণে ওজোন স্তরের ক্ষতি হচ্ছে।
- ওজোন স্তরের ক্ষতির কারণে অতিবেগুনি রশ্নির প্রভাবে ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।
- ওজোন স্তরের ক্ষয়রোধে গ্রিন হাউস গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হবে, নাইট্রোজেন সমৃদ্ব রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে হবে এবং বনভূমি সংরক্ষণ ও বৃদ্বি করতে হবে।

অন্যান্য অপশন:
- ট্রপোস্ফিয়ার: বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন ও ঘনতম স্তর যেখানে মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা ও যাবতীয় আবহাওয়াগত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
- আয়নোস্ফিয়ার: বায়ুমণ্ডলের উপরের একটি স্তর যেখানে গ্যাসগুলো আয়নিত অবস্থায় থাকে এবং যা বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে।
- মেসোস্ফিয়ার: স্ট্রাটোস্ফিয়ারের উপরের স্তর যেখানে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং মহাকাশ থেকে আসা উল্কাগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৭৪.
নিচের কোনটি কোষ বিভাজনের প্রকার নয়? 
  1. মায়োসিস 
  2. মাইটোসিস 
  3. অ্যামাইটোসিস 
  4. অটোসিস 
ব্যাখ্যা

- কোষ বিভাজনের প্রকার নয়- অটোসিস। 

কোষ বিভাজন: 

- যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়। 
- জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। 
যথা- অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মায়োসিস কোষ বিভাজন। 
১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 
২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 
৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম
সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৭৫.
নবজাতকের নাড়ীর যত্নে ব্যবহৃত এন্টিসেপ্টিক কোনটি?
  1. ক) ৭.১% ডিক্লোক্সিন
  2. খ)  ৭.১% ক্লোরহেক্সিডিন
  3. গ) ৭.১% নাফসিলিন
  4. ঘ) ৭.১% অক্সালিন
ব্যাখ্যা
 ৭.১% ক্লোরহেক্সিডিন হচ্ছে একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর এন্টিসেপ্টিক যা নবজাতকের নাড়ীর যত্নে ব্যবহার করা হয়।
নাড়ীতে ৭.১% ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহার এর গুরুত্ব:
- নাড়ীতে ৭.১% ক্লোরহেক্সিডিন ব্যবহার নবজাতকের সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রতিরােধে অত্যন্ত কার্যকর। 
- ৭.১% ক্লোরহেক্সিডিন অন্যান্য সকল এন্টিসেপ্টিকের তুলনায় বেশী নিরাপদ ও দ্রুত কার্যকর। 

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
৩,৬৭৬.
MKS পদ্ধতিতে ভরের একক-
  1. কিলোগ্রাম
  2. পাউন্ড
  3. গ্রাম
  4. আউন্স
ব্যাখ্যা
• এম.কে.এস. পদ্ধতি বা মিটার-কিলোগ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক মিটার।
- ভরের একক কিলোগ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• সি.জি.এস. পদ্ধতি বা সেন্টিমিটার-গ্রাম-সেকেন্ড পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক সেন্টিমিটার।
- ভরের একক গ্রাম।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

• এফ.পি.এস পদ্ধতিতে
- দৈর্ঘ্যের একক ফুট।
- ভরের একক পাউন্ড।
- সময়ের একক সেকেন্ড।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
৩,৬৭৭.
গামা রশ্মির কোন আলোকীয় ধর্ম আছে? 
  1. ব্যতিচার
  2. প্রতিসরণ
  3. প্রতিফলন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি: 
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ ও ভর নাই। 
- গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে। 
- গামা রশ্মি ফটোগ্রাফিক পেণ্টটের উপর বিক্রিয়া করে। 
- গামা রশ্মির আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম। 
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে। 
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৬৭৮.
সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের পরিবর্তন হয়?
  1. তাপীয় পরিবর্তন
  2. বৈদ্যুতিক পরিবর্তন
  3. রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. ভৌত পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
- পরিবেশে সবসময় নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।  
- একটুকরা লোহাকে খোলা অবস্থায় বাতাসে কিছুদিন রেখে দিলে তার উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে, এটিকে মরিচা বলে। আবার তাপদিলে বরফ গলে পানি হয় ও পানি এক সময়ে আরো তাপে বাষ্পে পরিণত হয়। 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- একটি হলো ভৌত পরিবর্তন ও অপরটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change): 
- ভৌত পরিবর্তনে কোনো নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না, বরং পদার্থের অবস্থা (যেমন, ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা বা চৌম্বক অবস্থা) পরিবর্তিত হয়। 
উদাহরণস্বরূপ: 
ইস্পাতের চুম্বকত্ব: 
- ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করলে এটি একসময় লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা পায়, তবে এতে ইস্পাতের গঠন বা উপাদানে কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধুমাত্র তার চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 

লবণ দ্রবণ: 
- খাবার লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ তৈরি হলে এবং পরে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং শুধু লবণই অবশিষ্ট থাকে। এতে লবণের গঠন বা সংযোগে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না, কেবল অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তন: 
- তাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হয়ে শীতল স্থানে জমা হয়, তবে এতে কোনো নতুন উপাদান তৈরি হচ্ছে না, শুধুমাত্র অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change): 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণু বা আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 
উদাহরণস্বরূপ: 
জ্বালানি পুড়ানোর মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি পুড়িয়ে তাপ, আলো এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই পরিবর্তনে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O2) একত্রিত হয়ে নতুন পদার্থ CO2 সৃষ্টি করে, এবং এতে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে। 

মিথেনের দহন: 
- মিথেন (CH4) ও অক্সিজেন (O2) জ্বালালে CO2 ও পানির (H2O) সৃষ্টি হয়। এতে মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়, যা রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। 

শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়া: 
- দেহে খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শক্তি ও পুষ্টি প্রদান করে। 

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ: 
- উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি গ্রহণ করে, এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্টার্চ বা সেলুলোজ উৎপন্ন করে। এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৭৯.
উদ্ভিদের জন্য নিচের কোনটি বেশি পরিমাণে প্রয়োজন? 
  1. দস্তা (Zn)
  2. নাইট্রোজেন (N)
  3. লৌহ (Fe)
  4. বোরন (B)
ব্যাখ্যা
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- 
(ক) ম্যাক্রো উপাদান (Macro nutrient): 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রো উপাদান (Micro nutrient): 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮০.
গ্রীনহাউস এফেক্টের প্রভাবে নিচের কোনটি ঘটে না?
  1. আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়া
  2. ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া
  3. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া
  4. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
গ্রীনহাউস এফেক্ট: 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 
 
গ্রীনহাউস এফেক্টের কারণে- 
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে। 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৮১.
সবুজ দূর্বাঘাস কিছুদিন ইট দিয়ে ঢাকা রাখলে কী রঙ ধারণ করবে?
  1. ক) সাদা
  2. খ) কালো
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনী
ব্যাখ্যা
সবুজ দূর্বাঘাস কিছুদিন ইট দিয়ে ঢাকা রাখলে ক্লোরোপ্লাস্ট লিকোপ্লাস্টে পরিণত হয়ে যায় বলে ঘাসের রঙও সাদা হয় তখন।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,৬৮২.
দৈর্ঘ্যের আপেক্ষিকতা সম্পর্কে সঠিক বিবৃতি কী?
  1. দৈর্ঘ্য পরম রাশি
  2. দৈর্ঘ্য সকল কাঠামোতে সমান থাকে
  3. দৈর্ঘ্যের পরিমাপ আপেক্ষিক কাঠামোর গতির উপর নির্ভরশীল
  4. উপরের সবগুলোই সঠিক বিবৃতি
ব্যাখ্যা
- লরেঞ্জ রূপান্তর বিধি অনুসারে, স্থানাঙ্ক এবং সময়াঙ্ক জড় কাঠামোর আপেক্ষিক বেগের উপর নির্ভরশীল। 
- সুতরাং দৈর্ঘ্য এবং সময় পরম হতে পারে না। 
- দৈর্ঘ্য ও সময়ের আপেক্ষিকতার বিষয়গুলো আইনস্টইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়। 

দৈর্ঘ্যের আপেক্ষিকতা: 
- কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্যের পরিমাপ সকল কাঠামোতে সমান নয় অর্থাৎ দৈর্ঘ্যের পরিমাপ পরম নয়। 
- এর দৈর্ঘ্য পর্যবেক্ষক ও বস্তুর মধ্যে আপেক্ষিক গতির উপর নির্ভরশীল। 
- সুতরাং কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্যের পরিমাপ আপেক্ষিক। 

সময়ের আপেক্ষিকতা: 
- সময়ের পরিমাপ সকল কাঠামোতে সমান নয় অর্থাৎ সময়ের পরিমাপ পরম নয়।
- দুটি জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর মধ্যে যদি আপেক্ষিক গতি থাকে তবে এই দুই কাঠামোতে অবস্থিত দুইজন পর্যবেক্ষকের নিকট সংঘটিত দুটি ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান সমান হবে না। 

ভরের আপেক্ষিকতা: 
- ভরের পরিমাপ সকল কাঠামোতে সমান নয় অর্থাৎ ভর পরম নয়। 
- দুটি জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর মধ্যে যদি আপেক্ষিক গতি থাকে তবে একই ভরের কোনো বস্তু দুই কাঠামোতে অবস্থিত দুইজন পর্যবেক্ষকের নিকট বস্তুটির পরিমাপকৃত বস্তুর ভর সমান হবে না। 
- স্থির জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের নিকট বস্তুর ভর গতিশীল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের পরিমাপকৃত বস্তুর ভর অপেক্ষা বেশি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮৩.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. সাইকাস
  2. মটরশুটি
  3. মস
  4. ফার্ণ
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল। 
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
-  এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে। 
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির। 
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৮৪.
কোন মৌল হাইড্রোকার্বনের মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. কেরোসিন
  3. মোম
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোকার্বন হলো কার্বন এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর সংমিশ্রণে গঠিত যৌগ। প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন, এবং মোম—এই সবই মূলত হাইড্রোকার্বন থেকে তৈরি। প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত মিথেনের সমন্বয়ে গঠিত, যা সহজ একটি হাইড্রোকার্বন। কেরোসিন তেল থেকে প্রাপ্ত একটি ফ্র্যাকশন, যা লম্বা চেইনের হাইড্রোকার্বন নিয়ে গঠিত। মোমও বিশেষ ধরনের লিপিড এবং হাইড্রোকার্বনের বড় চেইন দ্বারা গঠিত। সুতরাং, এই তিনটি পদার্থই হাইড্রোকার্বনের উপর নির্ভরশীল। তাই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো “ঘ) সবগুলোই”, কারণ সবগুলোই হাইড্রোকার্বনকে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে।

হাইড্রোকার্বন: 
- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। 
যেমন - মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার। 
যথা - 
(i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও 
(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৮৫.
5Ω, 7Ω ও 10Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ হবে- 
  1. 19Ω
  2. 22Ω
  3. 0.4Ω
  4. 10Ω
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 5Ω, 7Ω ও 10Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ হবে-

দেওয়া আছে, 
রোধ, R1 = 5Ω, 
রোধ, R2 = 7Ω এবং 
রোধ, R3 = 10Ω. 

যেহেতু রোধ তিনটি শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত সুতরাং তুল্য রোধ, R = R1 + R2 + R3 
= 5Ω + 7Ω + 10Ω 
= 22Ω 

সঠিক উত্তর- খ) 22Ω

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৮৬.
Transformer ও Conservator এর মধ্যে কোন রিলে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) পটেনশিয়াল
  2. খ) বুখলজ
  3. গ) ডিফারেনশিয়াল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বুখলজ রিলে:

- বুখলজ রিলে (Buchholz Relay) হলো একটি প্রটেক্টিভ ডিভাইস যা সাধারণত বড় বড় ট্রান্সফর্মার যেমন 500Kva এর বেশি রেটিং এর ট্রান্সফর্মার গুলোতে ব্যবহার করা হয়।
- এটি এক ধরনের গ্যাস একচুয়েটেড প্রটেক্টিভ রিলে। এই রিলে ট্রান্সফরমারের মেন ট্যাংক এবং কনজারভেটর ট্যাংকের সংযোগকারী পাইপের মধ্যবর্তী স্থানে লাগানো থাকে।

উৎস:
electricalEasy.
৩,৬৮৭.
মাতৃদেহ থেকে ভ্রূণের রক্তে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে কোন অঙ্গ?
  1. জরায়ু
  2. নাভি
  3. অমরা
  4. ডিম্বাশয়
ব্যাখ্যা
অমরা (Placenta):
- যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। 
- ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4-5 দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। 
- ক্রমবর্ধমানশীল ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। 
- নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। 
- এভাবে ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। 
- প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়। 

- অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। 
- ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। 
- অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। 
- অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। 
- অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। 
- বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। 
- অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। 
- অমরাতে প্রচুর রক্তনালি থাকে। 
- অমরা, আম্বিলিকাল কর্ড দ্বারা ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে, একে নাড়িও বলা হয়। 
- এটা মূলত একটি নালি, যার ভিতর দিয়ে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। 
- গর্ভাবস্থায় অমরা থেকে এমন কতগুলো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৮৮.
নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় কোনটিতে পরিবর্তিত হয়?
  1. ফল
  2. বীজ
  3. ভ্রূণ
  4. সস্য
ব্যাখ্যা

- নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিবর্তিত হয়।

• নিষেকক্রিয়া:
 
- আকার, আকৃতি ও প্রকৃতিগত পার্থক্যমন্ডিত একটি পুংগ্যামিট ও স্ত্রীগ্যামিট এর মধ্যকার মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেকক্রিয়া বলা হয়।
- একে নিষেক বা গর্ভাধানও বলে।
- সকল আবৃতবীজী উদ্ভিদ, ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ, টেরিডোফাইটস্, ব্রায়োফাইটস্, শৈবাল প্রভৃতি উদ্ভিদে নিষেক ক্রিয়া ঘটে।
- নিষেক ক্রিয়ার ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট উৎপন্ন হয়।

• বীজ সৃষ্টি:
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয়। নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়।
- জাইগোট বিভাজন ও পরিস্ফুটনের মাধ্যমে একটি ভূণ গঠন করে। একটি ভ্রূণে থাকে বীজপত্র, ভূণকান্ড, ভূণমূল ও সস্য বা এন্ডোস্পার্ম।

• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন:



উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৬৮৯.
নিঃশ্বাসের শব্দের তীব্রতার মাত্রা কত?
  1. 5db
  2. 10db
  3. 20db
  4. 30db
ব্যাখ্যা
• স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে শব্দের তীব্রতা লেভেল 10 dB

শব্দ:
শব্দ এক প্রকার শক্তি। বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এটি অগ্রগামী দীঘল তরঙ্গ আকারে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়।

শব্দের প্রাবল্য বা তীব্রতা:
শব্দ বিস্তারের অভিমুখে লম্বভাবে কল্পিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ শব্দ শক্তি প্রবাহিত হয় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে।

শব্দের তীব্রতার নিয়ামক সমূহ:
শব্দ তরঙ্গের বিস্তার, কম্পাঙ্ক,মাধ্যমের ঘনত্ব,শব্দের উৎস থেকে শ্রোতার দূরত্ব, মাধ্যমে শব্দের বেগ, শব্দ উৎসের আকার ও ধরন, শ্রোতা ও মাধ্যমের গতি প্রকৃতি শব্দের তব্রতার নিয়ামক।



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯০.
আলোর বেগ কত?
  1. ক) 30000 km/s
  2. খ) 300000 km/s
  3. গ) 300000 m/s
  4. ঘ) 30000 m/s
ব্যাখ্যা
- আলাে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলােমিটার পথ অতিক্রম করে।
- অর্থাৎ আলোর বেগ 300000 km/s . 
- এই বেগে ১ বছরে যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ১ আলােক বর্ষ বলে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলাে আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট।

উৎস: ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৬৯১.
উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে -
  1. নাইট্রোজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৯২.
নিচের কোন আয়নটি শিখা পরীক্ষায় পোড়া ইটের মতো লাল বর্ণ সৃষ্টি করে?
  1. Ca2+
  2. Cu2+
  3. Na+
  4. K+
ব্যাখ্যা

• ক্যালসিয়াম আয়ন (Ca2+) শিখায় পোড়া ইটের মতো লাল বর্ণ প্রদর্শন করে।

• শিখা পরীক্ষা:
- শিখা পরীক্ষা হলো একটি গুণগত বিশ্লেষণ পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোনো অজৈব লবণে উপস্থিত ধাতব আয়ন (Cation) শনাক্ত করা হয়।
- লবণের সাথে গাঢ় HCl মিশিয়ে বুনসেন বার্নারের শিখায় ধরলে নির্দিষ্ট ধাতু নির্দিষ্ট বর্ণ প্রদর্শন করে।
- যেমন: 
• ক্যালসিয়ামের জন্য পোড়া ইটের মতো লাল।
• সোডিয়াম আয়ন থেকে সোনালী হলুদ।
• পটাশিয়াম আয়ন থেকে হালকা বেগুনি।
• কপার আয়নের থেকে নীল-সবুজ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 

৩,৬৯৩.
আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে সবচেয়ে বড় মহাসাগর কোনটি? 
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের ধারণা: 
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere, Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সকল স্থানেই বারিমণ্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। 
যেমন- বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসাবে, ভূ-পৃষ্ঠে পানি রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূ-গর্ভে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ তরল পানি হিসাবে। 
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে। মাত্র ৩ ভাগ রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূ-গর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা জীবমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলে। 
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবনাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূ-গর্ভের পানি, বৃষ্টির পানি ও ঝর্ণার পানি মিঠা। 
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
১। মহাসাগর (Ocean), 
২। সাগর (Sea), 
৩। উপসাগর (Bay), 
৪। হ্রদ (Lake)। 

মহাসাগর (Ocean): 
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানি রাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। 
যথা: প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean), আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean), ভারত মহাসাগর (Indian Ocean), উত্তর মহাসাগর (North Ocean), দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)। 
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়। 


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৪.
নাইক্রোমের তার ব্যবহৃত হয় কোন যন্ত্রে?
  1. ক) Bulb
  2. খ) Filament
  3. গ) Iron
  4. ঘ) Glass
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক হিটার ও ইস্ত্রি (Electric heater and Iron)
এই সমস্ত যন্ত্রের মধ্যে তাপ সৃষ্টিকারী একটি রোধ কুন্ডলী থাকে।
কুন্ডলীটি নাইক্রোম নামক একটি সংকর ধাতুর তৈরি।
এই কুন্ডলীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে কুন্ডলীটি উত্তপ্ত হয়; ফলে যন্ত্রটিও গরম হয়।

উৎস : পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৯৫.
‘মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া’ - নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড
  2. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ফেরিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাসপেনশন ‘মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া’ নামেই অধিক পরিচিত।
আমাদের পাকস্থলীতে এসিডিটি হলে আমরা যে এন্টাসিড ওষুধ খাই তা মূলত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যা সাসপেনশন ও ট্যাবলেট দুইভাবে পাওয়া যায়।কখনো কখনো এন্টাসিডে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইডও থাকে।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
৩,৬৯৬.
বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে কী বলে?
  1. সৌর জ্বালা
  2. নিউট্রিনো
  3. গামা রশ্মি
  4. মহাজাগতিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৩,৬৯৭.
মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা কোনটি?
  1. পিসিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. এপিকালচার
  4. হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা
• এপিকালচার: 
- যে পদ্ধতিতে কৃত্রিম ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন করে মৌচাক থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়, তাকে এপিকালচার বলা হয়।
- এটি কৃষির একটি বিশেষায়িত শাখা যেখানে মৌমাছির প্রজনন, পরিচর্যা এবং মধু, মোম, পরাগরেণু, রয়্যাল জেলি ও প্রোপোলিসের মতো মূল্যবান পণ্য উৎপাদন সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়। 
- মধু উৎপাদন বা মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা হলো এপিকালচার। 
- এটি কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মৌমাছি পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

• এপিকালচারের গুরুত্ব:
→ অর্থনৈতিক উপকারিতা:
- মধু ও মৌমাছির অন্যান্য উপজাত দ্রব্য (যেমন মোম, প্রোপোলিস) বিক্রি করে আয় করা যায়।
- বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষকদের জন্য এটি একটি লাভজনক পেশা।

→ পরাগায়নে ভূমিকা:
- মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে, যা কৃষি উৎপাদন ২০-৩০% পর্যন্ত বাড়াতে পারে।

→ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা:
- মৌমাছি বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
• পিসিকালচার- এটি হলো আধুনিক কৃষির একটি বিশেষ শাখা যেখানে মাছ চাষ, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।

• সেরিকালচার- এ শাখায় রেশমকীট পালন ও রেশম উৎপাদন অর্থাৎ রেশম চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়। 

• হর্টিকালচার- আধুনিক কৃষির এ শাখায় ফলমূল, শাকসবজি ও ফুলের চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- FAO (Food and Agriculture Organization).
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)।
৩,৬৯৮.
যেসব নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা সমান নয় তাদের বলা হয়-
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোমার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা
• আইসোটোন:
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোটোপ:
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।

• আইসোবার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৯৯.
নিচের কোনটি ডাইইলেকট্রিক পদার্থ?
  1. ক) তামা
  2. খ) পানি
  3. গ) সিলিকন
  4. ঘ) রূপা
ব্যাখ্যা
অপরিবাহী ও ডাইইলেকট্রিক পদার্থ
- যে সকল অপরিবাহী পদার্থকে তড়িৎ ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে পোলারায়ন ঘটে তাদেরকে ডাইইলেকট্রিক বলে।
- তাই বলা যায়, সকল অপরিবাহী ডাইইলেকট্রিক নয় কিন্তু সকল ডাইইলেকট্রিক অপরিবাহী।
- ডাইইলেকট্রিক হচ্ছে উচ্চ পোলারায়িত অপরিবাহী।
- তাই ধারকে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য ডাইইলেকট্রিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: পানি, অভ্র (Mica), প্লাস্টিক, সিরামিক, রাবার, অ্যাম্বার, কাচ, বায়ু, শূন্যস্থান ইত্যাদি।

ডাইইলেকট্রিক পদার্থ দুই ধরণের। যথা:
১. পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থ।
- উদাহরণ: পানি, হাইড্রোক্লোরিক এসিড প্রভৃতি।

২. অ-পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থ।
- অ-পোলার ডাইইলেকট্রিক পদার্থের দ্বিমের‍্য ভ্রামক শুন্য হয়।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ক্লোরিন প্রভৃতি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, [তপন, হাসান, ও চৌধুরী]
৩,৭০০.
আমিষ পরিপাকে পাচক রসে সাহায্যকারী এনজাইম কোনটি?
  1. প্রোলিডেজ
  2. কোলাজিনেজ
  3. ট্রিপসিনোজেন
  4. পেপসিনোজেন
ব্যাখ্যা
- আমিষ পরিপাকে পাচক রসে সাহায্যকারী এনজাইম হলো- পেপসিনোজেন

পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য। 
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো-
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ।
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ

- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়।
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না।
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।