বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩০ / ১৪০ · ২,৯০১৩,০০০ / ১৪,০৮০

২,৯০১.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন কেমন হয়?
  1. শূন্য
  2. কম
  3. সর্বাধিক
  4. পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C.
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়।
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।

২,৯০২.
সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কত ডিগ্রীর বেশি হলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়? 
  1. ক) ২২.৫ 
  2. খ) ২৫.৫ 
  3. গ) ২৬.৫ 
  4. ঘ) ২৮.৫ 
ব্যাখ্যা
বায়ুর নিম্নচাপ যে ঝড়কে জন্ম দেয় তাই হলো ঘূর্ণিঝড়। সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৬  ডিগ্রির বেশী হলেই সেই অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে সমুদ্রের জল বাষ্পিভূত হয়ে উপরে উঠে যায় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উপর একটি বায়ুশূন্য স্থানের সৃষ্টি হয়। সেই শূন্যস্থানকে পূরণ করতে পারিপার্শ্বিক শীতল ও ভারী বাতাস সেই অঞ্চলে ছুটে আসে। এই দ্রুত ছুটে আসা ঠান্ডা বাতাস ঘূর্ণিঝড়ের জন্ম দেয়।

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
২,৯০৩.
AC-কে DC-তে রূপান্তর করে- 
  1. জেনারেটর
  2. ট্রান্সফরমার
  3. তড়িৎ মোটর
  4. রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড শব্দটি ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’ এই দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত। 
- দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিকস কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড। 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়, এই p-n জাংশনই হচ্ছে ডায়োড। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি (AC) প্রবাহকে ডিসি (DC) প্রবাহে রূপান্তর করে। 
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে যার একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড। 
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯০৪.
আয়োডিনের প্রাপ্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর উৎস কোনটি?
  1. সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
  2. বাদাম 
  3. শাকসবজি
  4. ডাল
ব্যাখ্যা

• আয়োডিনের প্রাপ্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর উৎস হল সামুদ্রিক উদ্ভিদ। এটি কারণ, সমুদ্রের পানিতে আয়োডিন প্রচুর পরিমাণে থাকে, এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদ যেমন শৈবাল, কেল্প ইত্যাদি এই আয়োডিন শোষণ করে। মানুষ যখন এই উদ্ভিদ খায়, তখন সহজেই প্রয়োজনীয় আয়োডিন শরীরে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, বাদাম, শাকসবজি বা ডালে আয়োডিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুব কম থাকে, তাই এগুলি আয়োডিনের প্রধান উৎস হিসেবে যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ জরুরি, কারণ এটি থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে সাহায্য করে। তাই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক উদ্ভিদকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
 
খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের ভালো উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯০৫.
মানবদেহে কোন অ্যান্টিবডির পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকে?
  1. IgG
  2. IgM
  3. IgE
  4. IgA
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯০৬.
ব্যাকটেরিয়ায় কোন ধরনের কোষ বিভাজন লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়সিস
  3. গ) অ্যামাইটোসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এমিবা ইত্যাদি এককোষী জীবে এমাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে বংশবৃদ্ধি করে।
যে কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।
মাইটোসিস: এই কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। মাইটোসিসে নিউক্লিয়সি একবার বিভাজিত হয়, প্রায় সমানভাবে। | নিউক্লিয়াসের প্রতিটি ক্রোমাজোমও একবার করে বিভাজিত হয়। সাইটোপ্লাজমও বিভাজিত হয় একবারই। তাই মাইটোসিস বিভাজনে কোষের মাতৃকোষ এবং অপত্য কোষে ক্রোমাজোম সংখ্যা, তথা DNA-এর পরিমাণ সমান থাকে। শুধু যে পরিমাণে একই থাকে তা নয়, মাতৃকোষের DNA-এর প্রায় হুবহু অনুলিপি অপত্য কোষে পাওয়া যায়। একে সমীকরণিক বিভাজনও বলে।
মিয়সিস: মিয়সিস বিভাজনের এক চক্রে নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজিত হয়। প্রথমবারে নিউক্লিয়াসের ক্রোমাজোম পরিমাণে অর্ধেক হয়ে যায়। এই বিভাজনে মাতৃকোষের যে দুটি নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়, দ্বিতীয়বারে তার প্রতিটিই আবার দুটি কোষে বিভাজিত হয়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

২,৯০৭.
ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হিলিয়াম
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) আরগন
  4. ঘ) জেনন
ব্যাখ্যা

- পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
- এইজন্য এদেকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি।
- এগুলো হলো- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন।
- ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

২,৯০৮.
বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে কোনটি?
  1. রাফেজ
  2. সেলুলোজ
  3. পেকটিন
  4. লিগনিন
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে যা কোনো পুষ্টি না জোগালেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান।  
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯০৯.
ব্যাটারী থেকে কোন ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়?
  1. AC
  2. DC
  3. ADC
  4. TC
ব্যাখ্যা
• ব্যাটারি:
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়।
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়।
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে।
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যেমন- অ্যানোড, ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট।
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে ব্যাটারি থেকে ডিসি বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯১০.
অ্যাকোয়া রেজিয়া কোনটি? 
  1. 2NO3 + 3HCl
  2. 3HNO3 + 3HCl
  3. 1HNO3 + 3HCl
  4. 3HNO3 + 1HCl
ব্যাখ্যা
- এক মোল গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং তিন মোল গাঢ় হাইডোক্লোরিক এসিডের (HCl) মিশ্রণকে অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজঅম্ল বলে। 
- অভিজাত ধাতুসমূহ (যেমন- স্বর্ণ, প্লাটিনাম) যে কোনো গাঢ়তার হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা নাইট্রিক এসিডে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু এরা অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্লে দ্রবীভূত হয়। 
- সোনার গহনা তৈরির সময় স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির ক্ষেত্রে নাইট্রিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯১১.
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বৃদ্ধি পেলে কী ঘটবে? 
  1. তাপমাত্রা কমে যাবে
  2. পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমবে
  3. পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বাড়বে
  4. বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কমে যাবে
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 
যেমন- 
• কোনো স্থানে ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বুঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ জলীয় বাষ্প বায়ু থেকে হালকা। এক্ষেত্রে ঐস্থানে বা এলাকায় বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা। 
• যদি কোনো স্থানে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ খুব কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে চারিদিকে বায়ুমণ্ডলের চাপ সহসা কমে গেছে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চ চাপের এলাকা থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঐ স্থানে ছুটে আসবে। সুতরাং ঐ স্থানে দ্রুত ঝড়ের সম্ভাবনা। 
• ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে বা এলাকায় বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প অপসারিত হয়ে শুষ্ক বাতাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। এভাবে ব্যারোমিটারের পাঠ দেখে আহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১২.
পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরের কোন স্তরকে সিমা (Sima) বলা হয়?
  1. ক) গুরুমন্ডল
  2. খ) কেন্দ্রমন্ডল
  3. গ) অশ্মমন্ডল
  4. ঘ) তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা
গুরুমন্ডল (Bryosphere)
- কেন্দ্রমন্ডলের বহি:ভাগ থেকে ভূ-ত্বকের নিম্নস্তর পর্যন্তপ্রায় ৭০০-২৯০০ কিলোমিটার বিস্তৃত স্তরকে গুরুমন্ডল বলে।
- এটি মূলত ব্যাসল্ট, শিলা, সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ দ্বারা গঠিত।
- তবে সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম উপাদানের আধিক্যের কারণে এটি সিমা(Sima) নামে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৩.
ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৪.
১ কিলোগ্রাম কত পাউন্ডের সমান?
  1. ২.১০
  2. ২.১৫
  3. ২.২০
ব্যাখ্যা
• ১ কেজি  = ২.২০ পাউন্ড।

উল্লেখ্য,
- ১ কুইন্টাল = ১০০ কিলোগ্রাম।
- ১ মেট্রিক টন = ১০০০ কিলোগ্রাম। 
- ১০ কুইন্টাল = ১ মেট্রিক টন। 
- ১ পাউন্ড = ১৬ আউন্স।
- ১ মণ = ৩৭.৩২ কেজি।
- ১ মিটার = ৩৯.৩৭ ইঞ্চি। 
- ১ মিটার = ১০০ সে.মি.। 
- ১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার। 
- ১ মিটার = ১০০ সেন্টিমিটার। 
- ১ মিটার = ১০০০ মিলিমিটার। 
- ১ কিলোমিটার = ১০০০ মিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৯১৫.
স্পারমাটোফাইটা কী?
  1. ফুল উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
  2. ক্লোরোফিল উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
  3. অক্সিজেন উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
  4. বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
স্পারমাটোফাইটা: 
- বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে স্পারমাটোফাইটা (Spermatophyta) বলা হয়। 
- এরা উদ্ভিদ জগতের উপজগত ফ্যানেরোগ্যামিয়ার (Phanerogamia) অন্তর্ভুক্ত। Phanerogamia শব্দের প্রকৃত অর্থ-দৃশ্যমান জনন অঙ্গধারী উদ্ভিদ। 
- বর্তমান পৃথিবীতে স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। 
- স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের জীবন চক্রের প্রধান অংশ স্পোরোফাইট। 
- উদ্ভিদের স্পোরোফাইটিক অংশ দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট অতি সংক্ষিপ্ত। 
- বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(ক) নগ্নবীজী এবং 
(খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 

নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 

আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে। 
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়। 
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে। 
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়। 
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৬.
নিচের কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ?
  1. লেপ্রসি
  2. ডেঙ্গু
  3. ডিপথেরিয়া
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

*** ডেঙ্গু একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ।

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে দেহে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। কাজেই ভাইরাস জীব এবং জড় উভয় অবস্থায় অবস্থান করে।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২) জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯১৭.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি ধ্রুব?
  1. ক) স্থান
  2. খ) বস্তুর ভর
  3. গ) সময়
  4. ঘ) শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।

আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)।
২,৯১৮.
নিচের কোন মৌলটি খাদ্য শৃঙ্খলের জন্য অনিরাপদ নয়?
  1. Ar
  2. Cr
  3. Pb
  4. Fe
ব্যাখ্যা
লোহা (Fe): 
- লোহা (Fe) খাদ্য শৃঙ্খলের জন্য অনিরাপদ নয়। 
- লোহা(Fe) একটি প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান যা শরীরের বিভিন্ন প্রাথমিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

অন্যদিকে, 
আর্গন (Ar): 
- আর্গন একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
- এটি মানব শরীরে প্রবেশ করলে নানা সমস্যা যেমন- বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরানো ইত্যাদি হতে পারে। 

ক্রোমিয়াম (Cr): 
- অতিরিক্ত ক্রোমিয়াম শরীরে প্রবেশ করলে এটি বিষাক্ত হয়ে পড়ে এবং নানা স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
- ক্রোমিয়াম আয়ন মানুষের শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী 'কারসিনোজেন' হিসেবে গণ্য।
- ক্রোমিয়াম দূষণ দ্বারা মানুষের পরিপাকতন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, প্রজননতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ সিস্টেম প্রভৃতি আক্রান্ত হয়। 

লেড (Pb): 
- দেহে লেডের পরিমাণ 50 ppb এর বেশি হলে লেডের বিষ ক্রিয়া দেখা দেয়। 
- লেডের বিষক্রিয়ায় দাঁতের মাড়ি নীলাভ হয়। 
- লেড হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বাঁধা দেয়, ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- এটি নানা স্নায়ুতন্ত্রীয় সমস্যা ও মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,৯১৯.
বিষাক্ত নিকোটিন থাকে -
  1. ক) চায়ে
  2. খ) কফিতে
  3. গ) গাঁজায়
  4. ঘ) তামাকে
ব্যাখ্যা
Nicotine is a highly addictive chemical compound present in the tobacco plant.
Tobacco products, including cigarettes, cigars, smokeless tobacco, hookah tobacco, and most e-cigarettes, contain nicotine.

Source: FDA
২,৯২০.
'Geography' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন-
  1. স্ট্রাবো
  2. কার্ল রিটার
  3. ডাডলি স্ট্যাম্প
  4. ইরাটসথেনিস
ব্যাখ্যা
‘Geography':

- ‘Geography' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটসথেনিস।
- ভূগোল হলো এমন একটি বিষয়/শাস্ত্র যেখানে স্থানীক ও কালীক পর্যায়ে মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়।
- সংক্ষেপে মানুষের বাসভূমি হিসাবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল।
- ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দটির উৎপত্তি। ‘Geo' শব্দের অর্থ ‘ভূ’ বা পৃথিবী এবং ‘graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা। সুতরাং Geography শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
- কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ, কেউ কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- অধ্যাপক কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন, পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্প (Professor Dudley Stamp) আরও সহজভাবে বলেছেন, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল।
- অধ্যাপক রিচার্ড হার্টশোন (Professor Richard Hartshorne) বলেন, পৃথিবী পৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের যথাযথ, যুক্তিসংগত ও সুবিন্যস্ত বিবরণের সঙ্গে সংশিষ্ট বিষয় হলো ভূগোল।
- আলেকজান্ডার ফন হামবোল্টের (Alexander Von Hambolt) মতে, ভূগোল হলো প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞান। প্রকৃতিতে যা কিছু আছে তার বর্ণনা ও আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯২১.
১৯২৪ সালে বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু কী তত্ত্ব প্রদান করেন? 
  1. নিউক্লিয়াস তত্ত্ব
  2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব
  4. থিওরি অব রিলেটিভিটি
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, 1897 সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, 1911 সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। 
- কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। 
- পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 
- 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 

- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং 1887 সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- 1905 সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক 1931 সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯২২.
কচুরিপানা কেন পানিতে ভাসে?
  1. ক) কাণ্ড ফাঁপা বলে
  2. খ) শিকড় বেশি বলে
  3. গ) পাতা হালকা বলে
  4. ঘ) পানির ঘনত্ব বেশি বলে
ব্যাখ্যা

জলজ উদ্ভিদ যেমন কচুরীপানা সহজে ভাসতে পারে কারণ এরা আকারে অনেক ছোট হয়, এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে বলে কাণ্ড ফাপা থাকে, এদের পাতা অনেক কম থাকে।

উৎসঃ জীব বিজ্ঞান-নবম দশম শ্রেণী

২,৯২৩.
মৃত পশুর সৎকারে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্লোরিন
  2. ফরমালিন
  3. ডিডিটি
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
মৃত পশুর সৎকার: 
- মৃত পশুকে যেখানে সেখানে ফেলে রাখা যাবে না, মৃত পশু পরিবেশ দূষিত করে। 
- পশুর রোগ জীবাণু বাতাসে ছড়ায় এবং সুস্থ পশুকে আক্রান্ত করে, তাই মৃত্যুর পর অতি দ্রুত খামার ও বসতবাড়ি হতে দূরে মৃত পশুকে সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে। 
- মৃত পশুকে উঁচু স্থানে মাটির ১ : ২২ মিটার (৪ ফুট) গভীরে গর্ত করে মাটি চাপা দিতে হবে। 
- মাটি চাপা দেওয়ার সময় গর্তের উপরের স্তরে চুন বা ডিডিটি ছড়িয়ে দিতে হবে এবং এর উপর মাটি ছিটিয়ে দিতে হবে। 

মৃত পাখির সৎকার: 
- খামার ও বসত বাড়ি থেকে দূরে সৎকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
- হাঁস মুরগির মৃত্যুর পর যেখানে সেখানে না ফেলে একটি গর্ত করে মাটি চাপা দিতে হবে, অন্যথায় মৃত পাখি থেকে রোগজীবাণু চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং এলাকার সুস্থ ও জীবিত পাখিকে আক্রান্ত করবে। 
- খামারে মহামারী আকারে অনেক পাখির মৃত্যু হলে বড় গর্তে মাটি চাপা দিয়ে মাটির উপর DDT (Dichloro Diphenyl Trichloroethane) ছিটিয়ে দিতে হবে। 

মৃত মাছের সৎকার: 
- অনেক সময় চিকিৎসা করেও রোগাক্রান্ত মাছকে নীরোগ করা যায় না। 
- বিপুল হারে মাছ মরতে শুরু করে। 
- অতঃপর পঁচে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং পরিবেশ দূষিত হয়। 
- এমতাবস্থায় নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে- 
• জাল দিয়ে মৃত মাছগুলোকে সংগ্রহ করতে হবে। 
• পুকুর থেকে অনেক দূরে যেখান থেকে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পুকুরে প্রবেশ করবে না সেখানে তিন ফুট গভীর গর্ত করতে হবে। 
• গর্তে মৃত মাছ নিক্ষেপ করে এর উপর ব্লিচিং পাউডার {Ca(OCl)Cl} ছিটাতে হবে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯২৪.
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম-
  1. ক) সেক্সট্যান্ট
  2. খ) হাইড্রোমিটার
  3. গ) ম্যানোমিটার
  4. ঘ) সিসমোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্রের নাম সেক্সট্যান্ট। হাইড্রোমিটার এর সাহায্যে তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণয় করা হয়। ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ এবং গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ম্যানোমিটার।
২,৯২৫.
ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা কত ভাগ? 
  1. ৪৬ ভাগ
  2. ৬৪ ভাগ
  3. ৪০ ভাগ
  4. ৫৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
- নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়। 
- নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয়। 
- অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন হয়। 
- ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ শতকরা ৪৬ ভাগ। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওইয়েবসাইট।
২,৯২৬.
মোবাইল ফোন থেকে ডায়াল করলে সৃষ্ট বেতার তরঙ্গ কোথায় যায়?
  1. ক) টেলিফোন অফিস
  2. খ) প্রেরক টাওয়ার
  3. গ) গ্রাহক টাওয়ার
  4. ঘ) প্রেরক-গ্রাহক টাওয়ার
ব্যাখ্যা
যখন কোনো ব্যক্তি কোন মোবাইল থেকে ফোন করে, কলটি বেতার তরঙ্গ হিসেবে কোন প্রেরক-গ্রাহক টাওয়ারে যায়। এরপর কলটি তার বা মাইক্রোওয়েভ এর মাধ্যমে মোবাইল সুইচ স্টেশনে যায়। এ স্টেশন কলটিকে স্থানীয় টেলিফোন এক্সচেঞ্জে পাঠায়। সেখানে এটি প্রচলিত ফোন কল হয়ে গ্রাহকের নিকট যায়।
২,৯২৭.
এগ্রোনমি কী নিয়ে গবেষণা করে?
  1. কৃষি বিজ্ঞান
  2. মহাকাশ বিজ্ঞান
  3. প্রাণিবিজ্ঞান
  4. পরিবেশ বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

এগ্রোনমি (Agronomy) হলো কৃষি বিজ্ঞানের একটি শাখা যা ফসল উৎপাদন ও মাটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করে। এটি শস্য উৎপাদন, মাটির উর্বরতা, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ পদ্ধতি, কীটনাশক ব্যবহার ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কিত গবেষণা করে।

এছাড়াও,
- ফলচাষ বিষয়ক বিদ্যাকে পোমোলজি বলা হয়।
- হর্টিকালচার হল উন্নয়ন, টেকসই উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং উচ্চ-মূল্যের, নিবিড়ভাবে চাষ করা খাদ্য এবং শোভাময় উদ্ভিদের বিজ্ঞান ও শিল্প।
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার।
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার।
- পাখী পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার এবং
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
মহাকাশ বিজ্ঞান – এটি অ্যাস্ট্রোনমি (Astronomy) নামে পরিচিত, যা মহাকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করে।
প্রাণিবিজ্ঞান – এটি জুলজি (Zoology) নামে পরিচিত, যা প্রাণী ও তাদের আচরণ নিয়ে গবেষণা করে।
পরিবেশ বিজ্ঞান – এটি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (Environmental Science) নামে পরিচিত, যা পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র নিয়ে গবেষণা করে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,৯২৮.
ধানের বাদামী দাগ রোগ হয়-
  1. ভাইরাস দ্বারা
  2. ব্যাকটেরিয়া দ্বারা
  3. ব্যাক্টেরিওফাজ দ্বারা
  4. ছত্রাক দ্বারা
ব্যাখ্যা
ধানের রোগ: 
১.বাদামি দাগ রোগ: 
- ধানের বাদামি দাগ রোগের কারণ বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক। 

২. ব্লাস্ট রোগ (Blast): 
- ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণ পাইরিকুলারিয়াগ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক। 

৩. খোল পচা রোগ (Sheath rot): 
- ধানের খোল পচা রোগের কারণ স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক। 

৪. ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ (Bacterial Blight): 
- জ্যানথোমোনাস অরাইজি পিভি অরাইজি (Xanthomonas oryzae pv.oryzae) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 

৫. টুংরো (Tungro): 
- টুংরো রোগের কারণ রাইস টুংরো ভাইরাস (Rice Tungro Virus) নামক এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বা ভাইরাস। 

৬. উফরা রোগ (ডাক পোড়া) (Ufra): 
- উফরা রোগ (ডাক পোড়া) রোগের কারণ ডাইটিলেংকাস এ্যাংগাসটাস (Ditylenchus angustus) নামক এক ধরনের কৃমি। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
২,৯২৯.
নিচের কোনটি লোনা পানির উদ্ভিদ?
  1. চাপালিশ
  2. কেওড়া
  3. গজারি
  4. হিজল
ব্যাখ্যা
- কেওড়া হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ বা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
এ বনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- হিজল মিঠাপানির জলজ উদ্ভিদ।
- শালবনে গজারী বা শাল এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলে চাপালিশ উদ্ভিদের আধিক্য বিদ্যমান।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
২,৯৩০.
'Alkaline Earth Metals' নিচের কোনটি? 
  1. বেরিয়াম
  2. লিথিয়াম
  3. সিজিয়াম
  4. রুবিডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৩১.
Bery Bery রােগ কোন Vitamin এর অভাবে হয়-
  1. ক) Thiamine
  2. খ) Ascorbic acid
  3. গ) Nicotinic acid
  4. ঘ) Folic Acid
ব্যাখ্যা

ভিটামিন-বি১(B1) বা Thiamine এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এছাড়া ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি; ভিটামিন-ডি(D) এর অভাবে রিকেটস; এবং ভিটামিন-এ(A) এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স।

২,৯৩২.
কাপড়ে কালি পড়লে দাগ সহজে উঠে -
  1. ক) সঙ্গে সঙ্গে দুধ দিয়ে ভিজিয়ে পরে ধুলে
  2. খ) সঙ্গে সঙ্গে সাবান দিয়ে কেচে ফেললে
  3. গ) সঙ্গে সঙ্গে লেবুর রসে ভিজিয়ে দিলে
  4. ঘ) সঙ্গে সঙ্গে সিরকা দিয়ে ভিজিয়ে ফেললে
ব্যাখ্যা
- জামাকাপড় থেকে কালির দাগ অপসারণের সবচেয়ে সাধারণ এবং সহজ উপায় হলো দাগের জায়গাটি ভিজিয়ে তার উপর অল্প পরিমাণে লবণ দিয়ে দেওয়া।
- বেশি পরিমাণে লেবুর রস দিয়েও দাগ দূর করা যায়। এক্ষেত্রে দাগের স্থানে লেবুর রস দিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। শুকিয়ে গেলে ঘসে দাগ তুলে ফেলুন। এরকম কয়েকবার করতে পারেন।
- নেলপলিশ তোলার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত যে রিমুভার ব্যবহার করা হয় সেই রিমুভার ব্যবহার করে আপনি কালির দাগ তুলতে পারবেন। 
- ভুট্টার পেস্টও কালির দাগ অপসারণ করতে ব্যবহার করতে পারেন। 

 উৎস : আরটিভি
২,৯৩৩.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. রাজ কাঁকড়া
  2. স্ফেনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. স্লো লোরিস
ব্যাখ্যা

জীবন্ত জীবাশ্ম:
- যে সকল জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনাে রকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনও পৃথিবীতে টিকে আছে অথচ এদের সমসাময়িক ও সমগোত্রীয় সকলেরই বহু পূর্বে বিলুপ্তি ঘটেছে তাদেরকে জীবন্ত জীবাশ্ম  বা লিভিং ফসিল বলে।

জীবন্ত জীবাশ্মের উদ্ভিদ:
- ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা।
জীবন্ত জীবাশ্মের প্রাণী:
- সন্ধিপদ প্রাণী: লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া,
- সরীসৃপ প্রাণী: স্ফেনোডন নামক,
- স্তন্যপায়ী প্রাণী: প্লাটিপাস নামক.

উল্লেখ্য,
রাজ কাঁকড়া:
- অশ্বক্ষুরের ন্যায় দেখতে উপবৃত্তাকার এই কাঁকড়াটি হলো Horseshoe Crab লিমুলাস।
- প্রকৃত পক্ষে এরা কাঁকড়া নয় তবে কাঁকড়ার সহিত সাদৃশ্যযুক্ত সামুদ্রিক অ্যারাকনিড। 
- প্রজাতিগত দিক থেকে মাকড়সার সঙ্গে বেশি মিল রয়েছে এটির।
- এরা লিমুলিডি গোত্রের অন্তর্গত সামুদ্রিক সন্ধিপদী।
- প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে ’জীবন্ত জীবাশ্ম' বলা হয়।
- কারণ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর পূর্বে ট্রাইলোবাইট থেকে এরা উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পূর্ণ জোয়ারের সময় এরা প্রজনন করে।
- তখন এরা কক্সবাজার, সোনাদিয়া, মহেশখালি এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিকটে খাড়ি বা জলাভূমির বালুময় সৈকতে ফিরে আসে।
- সুন্দরবনের চর এলাকা হচ্ছে  রাজ কাঁকড়া এর প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৯৩৪.
'গ্যালাকটিক ইয়ার' বলতে কী বুঝায়?
  1. পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  2. নক্ষত্রের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  3. ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
  4. সূর্যের নিজ অক্ষে আবর্তন কাল
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে, এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
অর্থ্যাৎ ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

উৎস:  ব্রিটানিকা
২,৯৩৫.
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক কোনটি?
  1. গ্যালেনা
  2. লিমোনাইট
  3. চালকোসাইট
  4. বক্সাইট
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৯৩৬.
দূরের বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার
  2. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার
  3. এডাপ্টার
  4. ট্রান্সমিটার
ব্যাখ্যা
• বিদ্যুৎ পরিবহন:
- বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে।
- যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়।
- ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়।
- এজন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আনার জন্য ভোল্টেজ বাড়াতে হয়।
- ভোল্টেজ বাড়ানোর জন্য তাই স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বিদ্যুৎ কেন্দ্রেই বসানো হয়, যা:
- ভোল্টেজ বাড়ায়,
- কারেন্ট কমায়,
- ফলে লাইন লস কম হয়,
- বিদ্যুৎ দূরে দূরে পৌঁছে দেওয়া যায় সহজে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই ও ব্রিটানিকা।
২,৯৩৭.
অণুর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অণু খালি চোখে দেখা যায় না।
  2. অণুর স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
  3. অণুর চার্জ আছে।
  4. অণু বস্তুর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে।
ব্যাখ্যা
অণু: 
- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। 
- দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে। 
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে। 
আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে। 

অণুর বৈশিষ্ট্য: 
- স্বাধীন অস্তিত্ব আছে। 
- বস্তুর বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। 
- সব চেয়ে ছোট অণু হাইড্রোজেন অণু। 
- খালি চোখে দেখা যায় না। 
- কোনো চার্জ নাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি।
২,৯৩৮.
কোন শক্তিস্তরের d অরবিটালে সর্বোচ্চ কতটি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. ক) ১২টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ১৮টি
ব্যাখ্যা
যেসব মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ ইলেকট্রনটি d অরবিটালে প্রবেশ করে তাদের d-ব্লক মৌল বলে।
পর্যায় সারণির চতুর্থ পর্যায়ের স্ক্যানডিয়াম, Sc( 21 ) থেকে জিঙ্ক, Zn(30) এবং পঞ্চম পর্যায়ের ইট্রিয়াম, Y(39) থেকে ক্যাডমিয়াম, Cd(48) হলো d-ব্লক মৌল।
এছাড়া ষষ্ঠ পর্যায় ও সপ্তম পর্যায়ে d-ব্লক মৌল আছে।
পর্যায় সারণির ‘3' থেকে গ্রুপ 12 এর মৌলসমূহ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
এ শ্রেণিতে সর্বমোট 40টি মৌল আছে।
এ ব্লকের মৌলের পরমাণুর d1 থেকে d10 পর্যন্ত ইলেকট্রন থাকতে পারে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯৩৯.
কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ধর্ম নয়?
  1. পানিতে সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
  2. গলনাংক এবং স্ফুটনাংক অত্যন্ত বেশি।
  3. বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং এক পরমাণুক।
  4. একই পর্যায়ে অবস্থিত অন্য মৌলগুলির তুলনায় এদের আয়নীকরণ শক্তি অনেক বেশি হয়। 
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির শূন্য (০) গ্রুপের অন্তর্গত হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন এবং র‍্যাডন-এ ছয়টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস (noble gases) বলা হয়।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ভৌত ধর্ম: 
- সকল নিষ্ক্রিয় মৌল বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং এক পরমাণুক গ্যাস হিসেবে অবস্থান করে।
- এরা পানিতে সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
- নিষ্ক্রিয় মৌলগুলির পরমাণুসমূহের মধ্যে দুর্বল ভ্যানডার ওয়ালস্ বল ছাড়া অন্য কোন আকর্ষণ বল কাজ করে না।
- ফলে এদের গলনাংক এবং স্ফুটনাংক অত্যন্ত কম।
- নিষ্ক্রিয় মৌলগুলির গলনাংক এবং স্ফুটনাংকের মান গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে (হিলিয়াম থেকে র‍্যাডন পর্যন্ত) নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি পায়। 
- নিম্নচাপে নিয়ন গ্যাসে বিদ্যুৎক্ষরণ ঘটালে লাল আলো পাওয়া যায়।
- একইভাবে ক্রিপটন গ্যাসে সবুজ আলো পাওয়া যায়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ইলেকট্রন বিন্যাস অত্যন্ত সুস্থিত। ফলে এদের পরমাণু হতে ইলেকট্রন অপসারণ করতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়।
- এ কারণে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের আয়নীকরণ শক্তি একই পর্যায়ে অবস্থিত অন্য মৌলগুলির আয়নীকরণ শক্তি হতে অনেক বেশি হয়। 

তথ্যসূত্র: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৯৪০.
শূন্য স্থানে আলোর দ্রুতি কত?
  1. ক) ৪০০,০০০ কিমি/সে
  2. খ) ৩০০,০০০ কিমি/সে
  3. গ) ২৫০,০০০ কিমি/সে
  4. ঘ) ২০০,০০০ কিমি/সে
ব্যাখ্যা
আলো:

- শূন্য স্থানে আলোর দ্রুতি ৩০০,০০০ কিমি/সে
- আলো এক প্রকার দৃশ্যমান শক্তি।
- বিশ্ব গঠনের পাঁচটি মৌলিক উপাদানের একটি আলো।
- আইজাক নিউটন ১৬৭৫ সালে আলোর কণা তত্ত্ব প্রদান করেন।
- ১৬৬০ সালে রবার্ট হুক আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- আধুনিক তত্ত্ব অনুসারে আলোর তরঙ্গ এবং কণিকা উভয় ধর্মই বিদ্যমান।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান,এস.এস.সি. প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪১.
আইসি'র আবিষ্কারক -
  1. প্রেসপার একার্ট
  2. জেক কেলবি
  3. চার্লস ব্যাবেজ
  4. ওয়াল্টার ব্রাটেইন
ব্যাখ্যা
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC):

• আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
• ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
• আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
• আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৪২.
উপকূলে কোনো একটি স্থানে জোয়ারের কত সময় পর ভাটার সৃষ্টি হয়? 
  1. ১২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট
  2. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট 
  3. ৮ ঘণ্টা ১২ মিনিট
  4. ১৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়। সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার ও দু’বার ভাটা হয়। 
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে। 
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাটা বলে না। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৪৩.
পাখি সম্পর্কিত বিদ্যা-
  1. ক) Herpetology
  2. খ) Ichthyology
  3. গ) Ornithology
  4. ঘ) Entomology
ব্যাখ্যা

- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।
- মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ichthyology বলে।
- উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে Herpetology বলে।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।
উৎসঃ প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৪৪.
প্লাস্টিড কত ধরনের আছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট, 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং 
৩। লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৪৫.
নিচের কোনটি বড় দিনের উদ্ভিদ?
  1. সয়াবিন
  2. পালংশাক
  3. আলু
  4. ইক্ষু
ব্যাখ্যা
দিবালোকের দীর্ঘতা ভিত্তিক পুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ:
- আমরা জানি সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান থাকে না।
- কখনও দিন ছোট ও রাত বড়।
- আবার কখনও দিন বড় ও রাত ছোট থাকে।
- দিবাকালের দীর্ঘতার উপর ভিত্তি করে পুষ্পক উদ্ভিদকে তিনভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ভাগ তিনটি হল-
১। ছোট দিনের উদ্ভিদ।
২। বড় দিনের উদ্ভিদ।
৩। নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

ছোট দিনের উদ্ভিদ:
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ।
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে।
- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, অ্যাস্টার, ডালিয়া, তামাক, শিম এগুলিও ছোট দিনের উদ্ভিদ। রোপা আমন, পাট এগুলি ছোট দিনের উদ্ভিদ।

বড় দিনের উদ্ভিদ:
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ।
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে।
- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ।

নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে।
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়।
- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

তথ্যসূত্র - উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৬.
নিম্নের কোন অংশটিকে ট্রানজিস্টরের ‘বেস’ বলা হয়? 
  1. যেটি বেশি ডোপড
  2. যেখানে ধাতব সংযোগ নেই
  3. সবচেয়ে সরু অংশ
  4. সবচেয়ে চওড়া অংশ
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া n-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে। 
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- আর একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে তিনযোজী পরমাণু প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে n-p-n ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- তাই একটি ট্রানজিস্টরকে দুটি ডায়োডকে পিঠাপিঠি (Back to back) যুক্ত বলে ধরা হয়। 
- ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে ট্রানজিস্টরের বেস (Base) বা ভূমি বলে। 
- প্রান্তের যে অংশের চওড়া অপর প্রান্তের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং অপদ্রব্যের অনুপাত একটু বেশি তাকে এমিটার (Emiter) বা নিঃসারক বলে। 
- যে প্রান্তের চওড়া একটু বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কালেক্টর (Collector) বা সংগ্রাহক বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৭.
AIDS -এর সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. গর্ভবতী মহিলা এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সন্তানের মধ্যে এ রোগ হতে পারে
  2. রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
  3. স্তন পানের মাধ্যমে মহিলার দেহ থেকে শিশুর AIDS হতে পারে
  4. AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
ব্যাখ্যা
এইডস: 

- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

অর্থাৎ সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায় না। যদিও অধিকাংশ মানুষের এই বিষয়ে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৮.
কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট উদ্ভিদকে কী বলে?
  1. ক) মিউটেন্ট উদ্ভিদ
  2. খ) স্পোর উদ্ভিদ
  3. গ) অনুন্নত উদ্ভিদ
  4. ঘ) সংকর উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে প্রচলিত ফসল থেকে আরও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নতুন প্রকরণ উদ্ভাবন প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে ব্রিডিং বলা হয়।
- দুটি বৈসাদৃশ্যসম্পন্ন নির্বাচিত উদ্ভিদের মধ্যে যেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে পরাগায়ন ও প্রজনন ঘটানো সম্ভব সেখানে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পরাগায়ন ঘটিয়ে উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন সাধন করে উন্নত জাত বা প্রকরণ সৃষ্টি করাকে উদ্ভিদের কৃত্রিম প্রজনন বলে।
- কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট উদ্ভিদকে সংকর (Hybrid) উদ্ভিদ বলে
- উন্নত নতুন ফসল সৃষ্টি প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সংকরায়ন অন্যতম। 
- প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবেও কিছু কিছু সংকরায়ন ঘটে।
- তবে সাধারণত কৃত্রিমভাবে সংকরায়ন ঘটানো হয়।
- সংকরায়ন হলো উদ্ভিদ সুপ্রজননের এমন একটি পদ্ধতি যেখানে এক বা একাধিক জিনগত বৈশিষ্ট্যে ভিন্ন দু' বা ততোধিক উদ্ভিদের মধ্যে ক্রস করিয়ে নতুন ভ্যারাইটি (জাত) উদ্ভাবন করা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৯.
কীসের আকর্ষণে জোয়ার ভাটা হয়?
  1. ক) সূর্য
  2. খ) চন্দ্র
  3. গ) নক্ষত্র
  4. ঘ) উপগ্রহ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর সকল পদার্থ একটি অপরটিকে আকর্ষণ করছে। এ আকর্ষণকে মহাকর্ষ (gravitation) বলে। মহাকর্ষের প্রভাবে পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারদিকে এবং চন্দ্র সর্বদা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। আর এই কারণেই পৃথিবীর জলরাশি কখনো বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। মহাকাশে অবস্থিত সব নক্ষত্র, গ্রহ ও উপগ্রহের এ আকর্ষণের পরিমাণ সমান না। বড় পদার্থের আকর্ষণ ক্ষমতা ছোট পদার্থ অপেক্ষা বেশি। চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি। ফলে জোয়ার ভাঁটায় চন্দ্রের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। জোয়ার-ভাঁটার ক্ষেত্রে চন্দ্র ও সূর্য উভয়ই পৃথিবীর ওপর নিজ নিজ শক্তি প্রয়োগ করলেও চন্দ্রের শক্তির অধিকতর প্রয়োগ হয়।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল প্রথম পত্র বই (উন্মুক্ত)
২,৯৫০.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. তিনটি
  4. দুইটি
ব্যাখ্যা
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB। 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫১.
সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতরে সাধারণত কী গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
- সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভেতরে সাধারণত নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
(পূর্বে সাধারণ বৈদ্যুতিক বাল্বে নাইট্রোজেন এবং টিউবলাইটে আর্গন গ্যাস ব্যবহৃত হতো)। 
- বর্তমানে উভয়ক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে আর্গন ব্যবহৃত হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের তাপীয় ক্রিয়া প্রয়োগে বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- গঠন প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বৈদ্যুতিক বাতিকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. কার্বন ফিলামেন্ট, 
২. ধাতব ফিলামেন্ট ও 
৩. গ্যাসপূর্ণ বাতি। 

উল্লেখ্য,
- প্রশ্নের অপশনে আর্গন না থাকায় নাইট্রোজেন উত্তর হবে। 

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫২.
কোন অঙ্গাণুটি অটোফ্যাগি এর সাথে জড়িত?
  1. লাইসোসোম
  2. গলগি বস্তু
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
লাইসোসোম:
- এটি এক ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু যা সাধারণত প্রাণী কোষে পাওয়া যায়।
- একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবদ্ধ থাকে।
- লাইসোসোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়।
- লাইসোসোম সাধারণত পরিপাকের কাজে সাহায্য করে।
- তীব্র খাদ্যের অভাবের সময় লাইসোসোমের প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম বের হয়ে কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুগুলো নষ্ট করে দেয়।
- লাইসোসোমের এ কাজকে স্ব-গ্রাস বা অটোফ্যাগি বলে।
- এভাবে সম্পূর্ণ কোষটি পরিপাক হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: ১) National Center for Biotechnology Information.
২) Nature.com
২,৯৫৩.
নিচের কোন গ্যাসটি সূর্যের প্রধান উপাদান?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ভাইব্রেনিয়াম
ব্যাখ্যা
The Sun, like others stars, is a ball of gas. In terms of the number of atoms, it is made of 91.0% hydrogen and 8.9% helium. By mass, the Sun is about 70.6% hydrogen and 27.4% helium.
Source: NASA
২,৯৫৪.
এক্স-রে বিকিরণ সম্পর্কে নিচের কোনটি ভুল?
  1. এটি তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
  2. এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 10-10 মিটার
  3. এটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ
  4. এটি পদার্থের মধ্যে প্রবেশ করতে সক্ষম
ব্যাখ্যা

• এক্স-রে (X-Ray):
- এক্স-রে হলো তড়িৎচৌম্বক (Electromagnetic) তরঙ্গ, যা তড়িৎক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের দোলন দ্বারা গঠিত।
- এটি কোনো পদার্থগত কণার প্রবাহ নয়, বরং নিরপেক্ষ শক্তি বহনকারী বিকিরণ।
- এক্স-রে পদার্থের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পর্যায়ে শোষিত হয়, যা একে চিকিৎসা ও শিল্পে বহুল ব্যবহৃত করে।
- শিল্প ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয় ধাতু বা যন্ত্রাংশের ত্রুটি নির্ণয়ে।
- এক্স-রের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সাধারণত 0.01 nm থেকে 10 nm পর্যন্ত।
- ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে এক্স-রে উচ্চ শক্তিধর এবং পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম।
- শক্তি নির্ণয়ের সূত্র: E = hν = hc/λ
- অর্থাৎ, তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, শক্তি তত বেশি।
- এক্স-রে কোনো চার্জযুক্ত কণার প্রবাহ নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৯৫৫.
গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ রোগের টিকার নাম কী?
  1. বঙ্গভ্যাক্স
  2. বাংলা ভ্যাকসিন
  3. গ্লোবভ্যাক্স
  4. ভ্যাকশিল্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক টিকা হলো বঙ্গভ্যাক্স।
- শুরুতে এটির নাম ছিলো ব্যানকোভিড (ডি৬১৪জি ভেরিয়েন্ট এমআরএনএ)।
- গত ২ জুলাই ২০২০ গ্লোব বায়োটেক এই টিকা উদ্ভাবনের ঘোষণা দেয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৫ অক্টোবর ২০২০ টিকাটিকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
- বর্তমানে টিকাটি মানবদেহে ট্রায়ালের অপেক্ষায় রয়েছে।
গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের অপর দুটি টিকা হলো হলো:
- ডিএনএ প্লাসমিড
- এডিনোভাইরাস টাইপ৫ ভেক্টর।
(তথ্যসূত্র: গ্লোব বায়োটেক ও সমকাল)
২,৯৫৬.
অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা কেমন হয়?
  1. মাতৃকোষের সমান 
  2. মাতৃকোষের অর্ধেক 
  3. মাতৃকোষের দ্বিগুণ 
  4. মাতৃকোষের চারগুণ 
ব্যাখ্যা

জননকোষ (Gametic cell): 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। 
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৫৭.
পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
  1. পটকা মাছ
  2. শুশুক মাছ
  3. হাঙ্গর
  4. জেলীফিস
ব্যাখ্যা
- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি।
- কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ডলফিন বা শুশুক মাছ মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে। 
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।

- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 - This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org
২,৯৫৮.
কোনটির কারণে রাবার ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. ওজোন
  3. লবণ
  4. দুর্বল এসিড
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- বর্তমান দুনিয়ায় রাবার একটি অতি প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য দ্রব্য।
- পেন্সিলের লেখা মোছার ইরেজার থেকে শুরু করে সাইকেল, রিক্সা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবার।
- এছাড়াও রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক শিল্পে, পানির পাইপ, সার্জিকেল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল ইত্যাদি প্রস্তুতিতে বিপুল পরিমাণ রাবার ব্যবহৃত হয়। 
- প্রাকৃতিক রাবার একটি অদানাদার, পানিতে অদ্রবণীয় কঠিন কিন্তু প্লাস্টিকের চেয়ে নরম পদার্থ। 
- রাবার জৈব দ্রাবক এসিটোন, মিথানল ইত্যাদিতে অদ্রবণীয় হলেও ইথার, টারপিন, পেট্রোল ইত্যাদিতে দ্রবণীয়।
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 

- রাবার একটি তাপ সংবেদনশীল ও স্থিতিস্থাপক পদার্থ।
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ ও তাপ কুপরিবাহী। তবে বিশেষভাবে তৈরি রাবার বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে।
- অন্যান্য পদার্থে তাপ দিলে আয়তন বাড়ে কিন্তু রাবারে তাপ দিলে আয়তন কমে। 
- রাবার পানি, এসিড, দুর্বল ক্ষার ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। তাই প্রলেপ দেয়ার কাজে রাবারকে ব্যবহার করা হয়। 
- রাবার এসিড, ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া না করলেও বাতাসের অক্সিজেন দ্বারা আক্রান্ত হয়।
-অনুরূপভাবে, প্রাকৃতিক রাবার ওজোনের (O3) সাথে বিক্রিয়া করে, ফলে রাবার ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ও একসময় নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৯.
১৮ কেজি ভরের বস্তুর ওজন চাদে কত নিউটন হবে?
  1. ক) ১৯.৪
  2. খ) ২৯.৪
  3. গ) ৩৯.৪
  4. ঘ) ৪৯.৪
ব্যাখ্যা

চাঁদে অভিকর্ষ ত্বরনের মান পৃথিবীর পৃষ্ট হতে ৬ গুন কম।
আমরা জানি,
W = mg
= 18(g/6)
= 3g
= 3 X 9.8
= 29.4 নিউটন।

২,৯৬০.
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে কোন রোগটি ছড়ায়?
  1. ক) ফুসফুসের ক্যান্সার
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) চিকুনগুনিয়া
ব্যাখ্যা
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে যক্ষ্মা নামক রোগটি ছড়ায়। 

যক্ষ্মা  Mycobacterium tuberculosis নামের জীবাণুঘটিত দীর্ঘস্থায়ী এক সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগ TB নামেও পরিচিত। যক্ষ্মা একটি প্রাচীন রোগ। সম্ভবত পঞ্চম শতকের প্রথম দিক থেকেই এটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যক্ষ্মা জীবাণুর বিভিন্ন জাত গৃহপালিত পশু ও বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়। এ রোগ সচরাচর ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু শ্বাসতন্ত্র, অস্থি ও অস্থিসন্ধি, ত্বক, লসিকাগ্রন্থি, অন্ত্র, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রও আক্রমণ করে। শ্বাসগ্রহণের সময় জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই সাধারণত সংক্রমণ ঘটে। দূষিত খাদ্যগ্রহণেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। যক্ষ্মাগ্রস্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে নির্গত কফ বা থুথুর কণাগুলি অন্যের শরীরে ও বাতাসে জীবাণু ছড়ায়। এসব জীবাণু বাতাসে, শুষ্ক কফ ও থুথুতে এবং ধূলাবালিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থাকে। রোগটি অন্যদের তুলনায় একই পরিবারের লোকদের মধ্যে অধিক পরিমাণে সংক্রমিত হয়ে থাকে, কেননা এক পরিবারের সদস্যরা একই বাড়িতে বসবাস করে, একই টেবিলে খাবার খায় ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে, তবে যক্ষ্মা বংশানুক্রমিক নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
২,৯৬১.
যদি ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা সমান হয়, তাহলে কী হয়? 
  1. ভোল্টেজ কমে যায়
  2. ভোল্টেজ দশ গুণ বাড়ে
  3. ভোল্টেজ দশ গুণ কমে
  4. প্রাইমারি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি ভোল্টেজের সমান হয়
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার: 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- তড়িচ্চালক শক্তি বা EMF পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়। 
- যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- ট্রান্সফরমারের দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। 
- ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 

স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। 
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 

স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার: 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৬২.
অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটার কারণ-
  1. আহ্নিক গতি
  2. বার্ষিক গতি
  3. অক্ষাংশ ক্রিয়া
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ: অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারই অভিকর্ষজ ত্বরণ।
- একে (g) দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- এর একক ms-2 ,

• বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান:
- ভূ-পৃষ্ঠ: 9.8 ms-2,
- পৃথিবীর কেন্দ্রে: 0 ms-2,
- মেরু অঞ্চল: 9.832 ms-2,
- বিষুবীয় অঞ্চল: 9.780 ms-2
 
• মূলত ৩ টি কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন ঘটে।

১. উচ্চতার ক্রিয়া,
২. অক্ষাংশ ক্রিয়া বা আকৃতি ক্রিয়া,  
৩. পৃথিবীর ঘূর্ণন ক্রিয়া বা পৃথিবীর আহ্নিক গতি ক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম - দশম শ্রেণি। 
২,৯৬৩.
কোন আলোর বিচ্যুতি ও প্রতিসরণ সবচেয়ে কম?
  1. নীল 
  2. লাল 
  3. বেগুনি 
  4. সবুজ 
ব্যাখ্যা

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৬৪.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ?
  1. ইনফ্লুয়েঞ্জা
  2. ডেঙ্গু
  3. যক্ষ্মা
  4. ম্যালেরিয়া
ব্যাখ্যা
• যক্ষ্মা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যা Mycobacrterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- যে সকল রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয় সেগুলোকে বলা হয় ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। 
→ মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগগুলোই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে। মানুষের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস, হুপিংকাশি , মেনিনজাইটিস, লেপরসি (কুষ্ঠ রোগ), আনডিউলেটেড ফিভার ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। এ ছাড়াও ইত্যাদি রোগও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে।

• যক্ষ্মা:
- যক্ষ্মা একটি পরিচিত বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। 
- যারা অধিক পরিশ্রম করে, দুর্বল, স্যাঁতসেঁতে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে, অপুষ্টিতে ভোগে অথবা যক্ষ্মা রোগীর সাথে বসবাস করে, তারা এ রোগে সহজে আক্রান্ত হয়।

• রোগের কারণ:
- সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।

• যক্ষ্মার লক্ষণ:
- দীর্ঘস্থায়ী কাশি (তিন সপ্তাহ বা তার বেশি), বুকে ব্যথা, কফ বা শ্লেষ্মা বের হওয়া,  দুর্বলতা বা ক্লান্তি,  ওজন হ্রাস, খিদে কমে যাওয়া। 

• প্রতিকার:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করা।
- এ রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। ডাক্তারের পরামর্শঅনুযায়ী রোগ নিবারণের নিয়মগুলো কঠিনভাবে মেনে চলা।
- প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে বা স্যানাটোরিয়ামে পাঠানো।
- রোগীর ব্যবহারের সবকিছু পৃথক রাখা।
- রোগীর কফ বা থুতু মাটিতে পুঁতে ফেলা।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২,৯৬৫.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের ত্রুটিগুলো সংশোধন করেন কে?
  1. ক) আইজ্যাক নিউটন
  2. খ) নীলস্‌ বোর
  3. গ) রবার্ট হুক
  4. ঘ) মেন্ডেলিফ
ব্যাখ্যা
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন যার মধ্যে কিছু ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা ছিল। 
- পরে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের ত্রুটিসমূহ সংশোধন করে ১৯১৩ সালে নীলস বোর পরমাণুর একটি মডেল প্রদান করেন যা বোর পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- বোর পরমাণু মডেলটি বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাঙ্কের বিকিরিত শক্তির কোয়ান্টাম তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৯৬৬.
কোন বস্তুর ভেসে থাকার যে প্রবণতা তাকে কি বলে? 
  1. ক) গতি শক্তি
  2. খ) প্লবতা
  3. গ) জড়তা 
  4. ঘ) ভরবেগ 
ব্যাখ্যা
প্লবতা: কোনো বস্তু সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কোনো স্থির তরল বা বায়বীয় পদার্থে নিমজ্জিত করলে তরল বা বায়বীয় পদার্থের চাপের জন্য বস্তুটি উপরের দিকে যে লব্ধি বল অনুভব করে তাকে প্লবতা বলে। প্লবতার একক নিউটন।
২,৯৬৭.
সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
  1. ৭২ সেন্টিমিটার
  2. ৭৪ সেন্টিমিটার
  3. ৭৬ সেন্টিমিটার
  4. ৭৭ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের প্রতি একক জায়গায় বায়ুর গ্যাসের অনুগুলোর সংঘর্ষের ফলে প্রদত্ত বলই হলো বায়ুর চাপ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ ৭৬ সেন্টিমিটার বা ৭৬০ মিলিমিটার বা ২৯.৯২ ইঞ্চি পারদ স্তম্ভের সমান। 
- আদর্শ অবস্থায় বায়ুমণ্ডলের চাপ ১০১৩.২৫ মিলিবার (১০১,৩২৫ প্যাসকেল) বা ৭৬০ পারদ মি.মি., ২৯.৯২ পারদ ইঞ্চি, বা ১৪.৬৯৬ পাউন্ড/ইঞ্চি
- এটিএম (atm) এককটি পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সমতুল্য অর্থাৎ পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ প্রায় ১ এটিএম। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২,৯৬৮.
'শুষ্ক বরফ' বলা হয় - 
  1. হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে
  2. হিমায়িত অক্সিজেনকে
  3. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাই, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,৯৬৯.
ট্রানজিস্টর কী ধরনের যন্ত্র?
  1. শব্দ নিয়ন্ত্রক
  2. বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক
  3. আলোক নিয়ন্ত্রক
  4. চৌম্বক নিয়ন্ত্রক
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor) একটি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র, যা বৈদ্যুতিক সংকেত (Electric Signal) প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিবর্ধক (Amplifier) ও সুইচ (Switch) হিসেবে কাজ করে।

ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৭০.
যে শব্দের তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20 kHz থেকে বেশি, তাকে কী বলে?
  1. ক) শব্দতর তরঙ্গ
  2. খ) হার্টজ
  3. গ) শব্দোত্তর তরঙ্গ
  4. ঘ) ইনফ্রাসাউন্ড
ব্যাখ্যা

20 Hz এর কম কম্পাঙ্ক বিশিষ্ঠ তরঙ্গকে বলে - শব্দতর তরঙ্গ বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে।
আবার 20000 Hz বা 20 kHz এর বেশি কম্পাঙ্ক বিশিষ্ঠ শব্দকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বা আলট্রাসাউন্ড বলে।
এই দুই ধরনের শব্দই মানুষ শুনতে পায় না।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই।

২,৯৭১.
কোন জারক রস পাকস্থলিতে দুগ্ধ জমাট বাধায়?
  1. পেপসিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. রেনিন
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
- রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে, যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়। 
- দুধ একটি আদর্শ খাবার, কারণ এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান। 
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।  
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৯৭২.
ডেঙ্গু হলে রক্তের কোন উপাদানটি পরিবর্তন হয় সবচেয়ে বেশি?
  1. Platelet
  2. Neutrophil
  3. Lymphocyte
  4. Basophil
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু
- ডেঙ্গু, যাকে ব্রেকবোন ফিভার বা ড্যান্ডি ফিভারও বলা হয়, তীব্র সংক্রামক মশাবাহিত জ্বর যা সাময়িকভাবে অক্ষম কিন্তু খুব কমই মারাত্মক।
- জ্বর ছাড়াও, এই রোগটি জয়েন্টগুলিতে প্রচণ্ড ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যাওয়া (তাই নাম "ব্রেকবোন ফিভার") দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (DHF) নামে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। 

- ডেঙ্গু সংক্রমণের সময়, একটি উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা উদ্বেগের মধ্যে একটি হল প্লেটলেট সংখ্যা হ্রাস, একটি অবস্থা যা থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া নামে পরিচিত।
- প্লেটলেট হল রক্তের কোষ যা রক্ত ​​জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত রক্তপাত প্রতিরোধ করে। ডেঙ্গু জ্বরে, ভাইরাসটি প্লেটলেটের মাত্রা হ্রাসের কারণ হতে পারে, যা সহজে ক্ষত, মাড়ি থেকে রক্তপাত, নাক থেকে রক্তপাত এবং গুরুতর ক্ষেত্রে এমনকি অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের মতো লক্ষণগুলির কারণ হতে পারে।

- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্লেটলেটের মাত্রা নিরীক্ষণ করা এবং প্লেটলেটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তাররা এই অবস্থা পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনে শিরায় তরল এবং রক্ত ​​সঞ্চালন সহ সহায়ক যত্নের সুপারিশ করতে পারেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৯৭৩.
চাঁদের উপর সর্বপ্রথম পা রাখেন-
  1. ক) ইউরি গ্যাগরিন
  2. খ) মাইকেল কলিন্‌স
  3. গ) নীল আর্মস্ট্রং
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন এনড্রুন
ব্যাখ্যা

- নাসা প্রেরিত অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযানে করে ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখে।
- এদিন মার্কিন নভোচারী ‘নীল আর্মস্ট্রং’ প্রথম মানব হিসেবে চাঁদের বুকে পা রাখেন। তার কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে ‘বাজ অলড্রিন’ চাঁদের বুকে পা রাখেন।
- তাদের অপর সঙ্গী ‘মাইকেল কলিন্স’ চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউলে অবস্থান করছিলেন।
সোর্স নাসা ওয়েবসাইট।

২,৯৭৪.
শক্তি উৎপাদনের উৎস বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) প্লাস্টিড
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) রাইবোসোম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া:
- প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তরবিশিষ্ট ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে। ঝিল্লীটি প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে তৈরি ।
- এটি কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু যেখানে শ্বসন প্রক্রিয়ার ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ঘটে এবং শক্তি উৎপন্ন হয়।
- বেন্ডা ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে মাইটোকন্ড্রিয়া নামকরণ করেন।
- একটি কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা গড়ে প্রায় ৩০০-৪০০টি। তবে যকৃত কোষে ১০০০ বা তার অধিক মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে ।
- ঝিল্লীর বাইরের আবরণটি মসৃণ কিন্তু ভেতরের আবরণটি স্থানে স্থানে ভাঁজ হয়ে ভেতরের দিকে ঝুলে থাকে, এ ভাঁজগুলোকে ক্রিস্টি বলা হয়।
- ক্রিস্টিতে শ্বসনের অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন পর্যায়টি সম্পন্ন হয়।
- ক্রিস্টির উপরের চারদিকে ছোট ছোট সবৃন্তক বৃত্তাকার বস্তু দেখা যায়, এগুলোকে অক্সিসোম বলা হয়।
- অক্সিসোমে এনজাইমগুলো সাজানো থাকে । প্রতিটি অক্সিসোম এর তিনটি অংশ থাকে। যথা- বৃন্ত, ভিত্তি, এবং মস্তক।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার শুষ্ক ওজনের প্রায় ৬৫% প্রোটিন, ২৯% গি]সারাইড, ৪% কোলেস্টেরল থাকে। বাকি ১০% হলো ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন ‘E’ এবং কিছু অজৈব পদার্থ।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের অর্ধতরল দানাদার পদার্থকে ম্যাট্রিক্স বলা হয়। এতে ডিএনএ থাকে।
- শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল এনজাইম মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে থাকে, ফলে এগুলো শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তি উৎপাদনের উৎস বা ‘Power house' বলা হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯৭৫.
আয়রণের পারমানবিক সংখ্যা কত?
  1. ২২
  2. ২৪
  3. ২৫
  4. ২৬
ব্যাখ্যা
আয়রণের পারমানবিক সংখ্যা ২৬।
• পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়।
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারমানবিক সংখ্যা:
- সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা - ১৪,
- সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা - ১১,
- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা - ১২,
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা - ৬,
- আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা - ৩৩,
- সিলভারের পারমাণবিক সংখ্যা ৪৭, 
- টাইটেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা - ২২, 
- ক্রোমিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা - ২৪, 
- ম্যাঙ্গানিজের পারমাণবিক সংখ্যা - ২৫। 

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২,৯৭৬.
পৃথিবীর কতটি উপগ্রহ আছে? 
  1. ২ টি 
  2. ১ টি 
  3. ৩ টি 
  4. ৪ টি 
ব্যাখ্যা

পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো পৃথিবী। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর এক (১) টি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৭৭.
হৃৎপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলা হয়? 
  1. নিলয় 
  2. অলিন্দ 
  3. ফুসফুসীয় ধমনি 
  4. মহাধমনি 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একরকমের পাম্প। 
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি ওপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেষ্টিত থাকে। 
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয় (Ventricles) বলে। 
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৭৮.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে প্রথম স্তরের খাদক কোনটি? 
  1. ব্যাঙ
  2. কচ্ছপ
  3. মশার শুককীট
  4. হাইড্রিলা
ব্যাখ্যা
বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 

- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭৯.
কোন তত্ত্ব থেকে E=mc2 সূত্র আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  2. খ) আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. গ) সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. ঘ) ওয়েব পার্টিকেল ডুয়ালিটি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
- পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে। 
- অইিনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে আলাের বেগ যে স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান তা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
- স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E=mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানাে হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
২,৯৮০.
‘অর্কিড’ কি ধরনের উদ্ভিদ?
  1. মৃতজীবী
  2. পরাশ্রয়ী
  3. মিথোজীবী
  4. সবগুলোই সত্য
ব্যাখ্যা
- অর্কিড (Orchid)  Orchidaceae গোত্রের যে কোনো ফুল। 
- এদের গণ ও প্রজাতি সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৭০০ ও ২০,০০০ এবং শীতলতম অঞ্চল ছাড়া গোটা বিশ্বে বিস্তৃত, আর্দ্র-ক্রান্তীয় এলাকায়ই অধিক। 
- অর্কিড বহুবর্ষজীবী ঔষধি, পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ। 
- পরাশ্রয়ী সদস্যরা প্রধানত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের এবং ভূমিজ প্রজাতিগুলি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। 
- বর্ণাঢ্য পুষ্পপুটসহ বাঁকানো গড়ন অর্কিড ফুলের আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। 
- প্রত্যেকটি গাছে কয়েকটি মাত্র ফল ফললেও অতিসূক্ষ্ম বীজের সংখ্যা অগণিত, ফলপ্রতি কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৯৮১.
বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯২৮ সালে
  2. খ) ১৯৩২ সালে
  3. গ) ১৯৩১ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৪ সালে
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g।
- আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯৮২.
একটি পাথর উপর থেকে ছেড়ে দিলে এটি ভূমি স্পর্শ করা পর্যন্ত শক্তির কী কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) গতি শক্তি > বিভব শক্তি > শব্দ শক্তি
  2. খ) স্থিতি শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি
  3. গ) বিভব শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তি
  4. ঘ) গতি শক্তি > স্থিতি শক্তি > তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা
একটি পাথর যখন উপরে স্থির অবস্থায় থাকে তখন এর মধ্যে বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি জমা থাকে।
যখন পাথরটিকে ছেড়ে দেয়া হবে তখন অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রুপান্তরিত হবে।
পাথরটি যখন ভূমিতে আঘাত করবে তখন আঘাতের ফলে যে স্থানে আঘাত করবে সেখানে তাপ শক্তি উৎপন্ন হবে এবং একই সাথে শব্দ শক্তি উৎপন্ন হবে।

সুতরাং, শক্তির পরিবর্তন হবে - বিভব শক্তি > গতি শক্তি > শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তি 

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নমব-দশম শ্রেণি
২,৯৮৩.
যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস- কোন পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) Fungi
  2. খ) Monera
  3. গ) Plantae
  4. ঘ) Protista
ব্যাখ্যা

Plantae অন্তর্ভুক্ত প্রজাতিদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস প্রকৃতির হয়ে থাকে।
আকার-আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়, তাকে অ্যানাইসোগ্যামাস (Anisogamous) বলে।
প্লানটি রাজ্যকে ইউক্যারিওটা (সুপার কিংডম ২) কিংডমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্লানটি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে—মসবর্গীয় উদ্ভিদ, ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ, নগ্নবীজী উদ্ভিদ, আবৃতবীজী উদ্ভিদ।

এ রাজ্য এর কিছু বৈশিষ্ট্যসমূহ-
এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যবিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন হয়।
এরা আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

২,৯৮৪.
কোন উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়?
  1. Fern
  2. Riccia
  3. Funaria
  4. Spirogyra
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা: 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- আবার শৈবাল এবং ছত্রাকও অপুষ্পক উদ্ভিদ। তবে শৈবাল ও ছত্রাক হলো নিম্নশ্রেণির অপুষ্পক এবং ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা হলো উচ্চশ্রেণির অপুষ্পক উদ্ভিদ। কারণ ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে শৈবাল ও ছত্রাক থেকে উন্নত ও জটিল প্রকৃতির। 
- ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার মধ্যে টেরিডোফাইটা উন্নত। 
- ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার মধ্যে বাহ্যিক মৌলিক পার্থক্য হলো ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদসমূহকে মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না কিন্তু টেরিডোফাইটা উদ্ভিদসমূহকে সত্যিকার মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- এছাড়া ব্রায়োফাইটা অভাস্কুলার কিন্তু টেরিডোফাইটা ভাস্কুলার। 
যেমন- Riccia একটি ব্রায়োফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২। গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩। এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। ব্রায়োফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদ তথা Riccia উদ্ভিদের দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫। এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬। জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭। এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের। অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯। এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 
১০। উন্নত ব্রায়োফাইট উদ্ভিদের পরিণত স্পোরোফাইট পদ, সিটা (বৃত্ত) এবং ক্যাপসুলে বিভক্ত। অনুন্নত উদ্ভিদের স্পোরোফাইটে পদ ও সিটা অনুপস্থিত, শুধুমাত্র গোলাকার ক্যাপসুল থাকে (যেমন Riccia)। 
১১। সম আকৃতির রেণু সৃষ্টি করার জন্য ব্রায়োফাইটার প্রজাতিগুলো সকল ক্ষেত্রেই সমরেণুপ্রসু। এদের জীবন চক্রে অসম আকৃতির জনুক্রম বিদ্যমান থাকে। 
১২। গ্যামিটোফাইট দীর্ঘস্থায়ী, বিষমপৃষ্ঠ এবং থ্যালাস শায়িত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮৫.
কৃষ্ণগহ্বর অস্তিত্বের পূর্বাভাস পাওয়া যায় কোন তত্ত্বে?
  1. বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  2. সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  3. আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  4. ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্ট
ব্যাখ্যা
ব্ল্যাকহোল হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত ও রহস্যময় বস্তু। ব্ল্যাকহোলের মাঝে শক্তিশালী মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বিরাজমান এমনকি আলো ব্ল্যাকহোলের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না।
আলবার্ট আইনস্টাইন তার সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব দিয়ে 1916 সালে প্রথম ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্বের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

উৎস: www.space.com
২,৯৮৬.
মরিচাবিহীন ইস্পাত সংকর ধাতুতে কোন উপাদান বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. নিকেল
  2. লোহা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
- মরিচাবিহীন ইস্পাত সংকর ধাতুতে লোহার পরিমাণ বেশি থাকে যা শতকরা ৭৪ ভাগ। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
- আবার, লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। 
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮৭.
আদর্শ খাদ্য দুধে কোনটি অনুপস্থিত?
  1. ক) ল্যাকটিক এসিড
  2. খ) কেসিন
  3. গ) ল্যাকটোজ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- এতে সুষম খাদ্যের ৬টি উপাদানই থাকে।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।
- দুধে ল্যাকটিক এসিড থাকে।

 সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,৯৮৮.
নিম্নের কোনটি নক্ষত্র নয়?
  1. ক) সূর্য
  2. খ) ব্যাটেলজিউস
  3. গ) প্রক্সিম সেন্টরাই
  4. ঘ) অ্যানড্রোমিডা
ব্যাখ্যা

অ্যানড্রোমিডা একটি সর্পিলাকার ছায়াপথ (spiral galaxy)।
এর অবস্থান অ্যানড্রোমিডা তারামণ্ডলে। অপর নাম মেসিয়ার ৩১ বা এম৩১ (M31)।
জ্যোতির্বিদ চার্লে মেসিয়ে এর নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়। একে আবার অনেক সময় গ্রেট নেবুলাও বলা হত।
বড় ছায়াপথদের মধ্যে অ্যানড্রোমিডা হল আমাদের ছায়াপথের সবচেয়ে নিকটবর্তী ছায়াপথ। নাম রাখা হয়েছিল পৌরাণিক রাজকুমারী অ্যানড্রোমিডার নাম অনুসারে।

২,৯৮৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
◉ ওজোন স্তর বা Ozone Layer মূলত স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ১৫–৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এটি সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি (UV) রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে সুরক্ষা দেয়।

স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ৷
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে ।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯০.
টেলিভিশনের মৌলিক রং নয় কোনটি?
  1. ক) হলুদ
  2. খ) লাল
  3. গ) নীল
  4. ঘ) সবুজ
ব্যাখ্যা
টেলিভিশন
- টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র, যেখানে দূরবর্তী কোনো টেলিভিশন সম্প্রচার স্টেশন থেকে শব্দের সাথে সাথে ভিডিও বা চলমান ছবিও দেখা যায়। 
- ১৯২৬ সালে জন লজি বেয়ার্ড প্রথম টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও বা চলমান ছবি পাঠিয়েছিলেন। 
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি আলাদা সিগন্যাল হিসেবে পাঠানো হয়। 
- চলমান ছবি বা ভিডিও পাঠাতে হলে প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি স্থিরচিত্র পাঠাতে হয় এবং আমাদের চোখে তখন সেগুলোকে আলাদা আলাদা স্থিরচিত্র মনে না হয়ে একটি চলমান ছবি বলে মনে হয়। 
- টেলভিশনে রঙিন ছবি পাঠানোর জন্য টেলিভিশন ক্যামেরা প্রতিটি ছবিকে লাল, সবুজ ও নীল (RGB) এই তিনটি মৌলিক রংয়ে ভাগ করে তিনটি আলাদা ছবি তুলে দেয়। 

- টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে আলো CCD ( Charge Coupled Device) ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করা হয়। 
- এই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গ ব্যবহার করে এন্টেনার ভেতর দিয়ে পাঠানো হয়। 
- বর্তমানে ইলেকট্রন গান দিয়ে স্ক্রিনে ছবি তৈরি না করে লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলইডি ( Light Emitting Diode) -তে বিদ্যুৎ প্রবাহ করে ছবি তৈরি করা হয়। 
- এলইডি টেলিভিশনের ছবির ঔজ্জ্বল্য অনেক বেশি এবং গুণগত মানও অনেক ভালো। 
- এন্টেনার সাহায্যে টেলিভিশনের সিগন্যাল পাঠানো ছাড়াও কো-এক্সিয়াল ক্যাবল দিয়েও সিগন্যাল পাঠানো যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯১.
উদ্ভিদ শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে কিভাবে?
  1. ক) অক্সিজেন ও পানি থেকে
  2. খ) নাইট্রোজেন ও পানি থেকে
  3. গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেন থেকে
ব্যাখ্যা
সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো যে এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরির এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ বলে৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯২.
ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তিকে কোন শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?
  1. আলোক শক্তি
  2. তাপশক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. বিদ্যুৎ শক্তি
ব্যাখ্যা

• শক্তির রূপান্তর (Energy Transformation/Conversion): 
- শক্তির রূপান্তর হলো এক ধরনের শক্তিকে অন্য রূপে পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া, যেখানে শক্তির মোট পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে (শক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি অনুসারে) এবং এটি সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না; যেমন—রাসায়নিক শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি, বা বিদ্যুৎ শক্তি থেকে আলোক শক্তির উদাহরণ ইত্যাদি। 
- শক্তি রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি রাসায়নিক শক্তি। 
- বাসায় রান্না করার জন্য যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, সেটা রাসায়নিক শক্তির তাপশক্তিতে রূপান্তরের উদাহরণ। সে কারণে বাসা-বাড়িতে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ করার সাথে সাথে গ্যাসও সরবরাহ করা হয়।
- রাসায়নিক শক্তিকে তাপে রূপান্তর করার কারণে  আলোক শক্তিও পাওয়া যায়। মোমবাতির আলো তার একটা উদাহরণ।
- গ্যাস, পেট্রল, ডিজেল বা এ ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করে নানারকম ইঞ্জিনে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। যদিও ভালো করে দেখলে দেখা যাবে রাসায়নিক শক্তি প্রথমে তাপশক্তি এবং সেই তাপশক্তি আবার যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
- আধুনিক প্রযুক্তির যুগে রাসায়নিক শক্তির রূপান্তরের সবচেয়ে বড় উদাহরণটি হচ্ছে ব্যাটারি, যেখানে এই শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। মোবাইল টেলিফোন থেকে শুরু করে গাড়ি কিংবা ঘড়ি থেকে মহাকাশযান এমন কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে ব্যাটারি ব্যবহার করে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়নি।
- রাসায়নিক শক্তির সবচেয়ে চমকপ্রদ উদাহরণ জীবন্ত প্রাণির শরীর, যেখানে খাদ্য থেকে রাসায়নিক শক্তি যান্ত্রিক কিংবা বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৯৯৩.
পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে পূর্ব–পশ্চিমে অতিক্রম করা অক্ষরেখাটির নাম কী?
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. সুমেরুবৃত্ত
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা: 
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে। 
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো- বিষুবরেখা (Equator), ০° অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)। 

কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে। 
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। 
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে। 

সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: 
- উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৯৪.
সৌরজগতের কোন গ্রহটি  খালি চোখে দেখা যায় না?
  1. প্লুটো
  2. শুক্র
  3. বুধ
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা

• নেপচুনের তথ্য:
- নেপচুন আমাদের সৌরজগতের অষ্টম এবং সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ।
- নেপচুনই আমাদের সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যা খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৬১২ এবং ১৬১৩ সালে গ্যালিলিও তার ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণের সময় নেপচুনকে একটি স্থির নক্ষত্র হিসেবে রেকর্ড করেছিলেন। 
- নিরক্ষীয় ব্যাস ৩০,৭৭৫ মাইল (৪৯,৫২৮ কিলোমিটার) হওয়ায়, নেপচুন পৃথিবীর চেয়ে প্রায় চারগুণ প্রশস্ত।
- সূর্য থেকে নেপচুনের গড় দূরত্ব ৪.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার।
- নেপচুনের এক দিনে প্রায় ১৬ ঘন্টা সময় লাগে (নেপচুনের একবার আবর্তন বা ঘূর্ণন করতে যে সময় লাগে)।
- নেপচুন সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে (নেপচুনিয়ান সময়ে এক বছর) প্রায় ১৬৫ পৃথিবী বছরে (৬০,১৯০ পৃথিবী দিন)।
- নেপচুনের নামকরণ করা হয়েছিল রোমান সমুদ্র দেবতার নামে।
- নেপচুনের ১৬টি উপগ্রহ আছে। 
- নেপচুনের বৃহত্তম উপগ্রহ ট্রাইটন আবিষ্কার করেন ১০ অক্টোবর, ১৮৪৬ সালে, জোহান গটফ্রাইড গ্যাল গ্রহটি আবিষ্কার করার মাত্র ১৭ দিন পরে।

উৎস: NASA.

২,৯৯৫.
কোন লবণ পানিতে দ্রবণীয় নয়? 
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম গ্লুটামেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
  4. পটাসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3)
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বা চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯৬.
1 প্যাসকেল বলতে কী বোঝায়?
  1. 1 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
  2. 1 kg বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
  3. 10 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
  4. 1 N বল 1 cm2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

• প্যাসকেল:
- যদি কোনো পৃষ্ঠের একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে ১ নিউটন বল প্রয়োগ করা হয়, তবে ঐ পৃষ্ঠে যে চাপের সৃষ্টি হয় তাকে ১ প্যাসকেল বলে।
- একক ক্ষেত্রফল মানে = 1 বর্গমিটার (1 m2).
সুতরাং,
1 প্যাসকেল (Pa) = 1 নিউটন (N) ÷ 1 বর্গমিটার (m2)
অর্থাৎ, 1 Pa = 1 N m-2.
- 1 নিউটন বল যদি 1 বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ করা হয়, তবে চাপ হবে ১ প্যাসকেল।

মাত্রা (Dimensional Formula):
[P] = [F]/[A] = [MLT-2]/[L2] = ML-1T-2.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৯৭.
মানুষের হৃদপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলে?
  1. ক) অলিন্দ
  2. খ) নিলয়
  3. গ) এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. ঘ) এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরে দুই পাশে দুইটি অলিন্দ এবং নিচে দুই পাশে দুইটি নিলয়।
- হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি।
যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯৮.
ক্রোমাজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে কী বলে?
  1. ফ্যাক্টর
  2. প্লাজমিড
  3. অ্যালিল
  4. লোকাস
ব্যাখ্যা
জিন (Gene):

• জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
• এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
• ক্রোমাজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে, তাকে লোকাস (Locus) বলে।
• সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে।
• কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে। আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।
• জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।
• W.L Johannsen (গ্রিক genes=born) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন।
• ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর (elementes or factor) যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়।

• অ্যালিল (Allel), অ্যালিলোমর্ফ (Allelomorph) : ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়।
• প্লাজমিড: প্লাজমিড হল স্বজননক্ষম ও বহিঃ ক্রোমোসোমীয় বৃত্তকার দ্বৈত DNA অণু। প্লাজমিডকে জৈব প্রযুক্তির অন্যতম মৌলিক হাতিয়ার বলা হয়।


Image Source: https://microbenotes.com/genes-and-loci-a-complete-guide/ 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯৯৯.
মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ করতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, কারণ সেখানে-
  1. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

• মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ করার সময় মূলত তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy) ব্যবহার করা হয়। ব্যাটারির ভিতরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে এটি রাসায়নিক শক্তিতে (Chemical Energy) রূপান্তরিত হয়। ব্যাটারিতে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলো এই শক্তি জমা রাখে এবং পরে যখন মোবাইল ব্যবহার করা হয়, তখন ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয় যা ফোনের কাজ চালায়। তাই, মোবাইল চার্জ করার সময় তড়িৎ শক্তি সরাসরি যান্ত্রিক, আলোক বা চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় না, বরং এটি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে সংরক্ষিত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি (Electrical Energy): 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ।
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,০০০.
মানব-সৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ কোনটি? 
  1. ভূমিকম্প 
  2. বন্যা 
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. জলাবদ্ধতা
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ (Disaster): 
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে। 
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। 
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। 
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না। 

বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: 
- পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। 
যেমন- 
১। প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি। 

২। মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ: 
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।