বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২৩ / ১৪০ · ২,২০১২,৩০০ / ১৪,০৮০

২,২০১.
এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে এর ভেদন ক্ষমতা কী হয়? 
  1. অসীম হয়ে যায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. কমে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
- পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
- গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার।
যথা- 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

এক্সরের ধর্ম: 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬ । আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০২.
Placoid আঁইশ কোন মাছে দেখা যায়?
  1. Labeо
  2. Catla
  3. Channa
  4. Scoliodon
ব্যাখ্যা

• Placoid আঁইশ (Placoid scale):
- Placoid আঁইশ সাধারণত কার্টিলাজিনাস মাছের (Chondrichthyes) দেহে দেখা যায়।
- এই আঁইশগুলো দাঁতের মতো গঠনযুক্ত এবং এগুলোকে ডার্মাল ডেন্টিকল (Dermal denticles) বলা হয়।
- Placoid আঁইশ মাছের দেহকে রক্ষা করে এবং পানিতে চলাচলের সময় ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
- এই ধরনের আঁইশ হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের মধ্যে দেখা যায়।
- অস্থিময় মাছ (Bony fish) যেমন Labeo, Catla বা Channa-তে এই আঁইশ থাকে না।

• Labeo:
- Labeo একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ পাওয়া যায়।
- তাই এতে Placoid আঁইশ দেখা যায় না।

• Catla:
- Catla-ও একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ থাকে।
- Placoid আঁইশ Catla-তে অনুপস্থিত।

• Channa:
- Channa একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ দেখা যায়।
- Placoid আঁইশ এতে পাওয়া যায় না।

• Scoliodon:
- Scoliodon হলো একটি হাঙরজাতীয় কার্টিলাজিনাস মাছ।
- এর দেহে Placoid আঁইশ উপস্থিত।
- এটি Placoid আঁইশের একটি আদর্শ উদাহরণ।

- সুতরাং, Placoid আঁইশ যে মাছে দেখা যায় তা হলো Scoliodon.
- সঠিক উত্তর: ঘ) Scoliodon.

সূত্র - sciencedirect journal.

২,২০৩.
কুরি বিন্দু বলতে বুঝায় - 
  1. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া
  2. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব অর্ধেক নষ্ট হয়ে যাওয়া
  3. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব এক-চতুর্থাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া
  4. চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৪.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের নিচের কোন রোগটি দেখা যায়?
  1. ফ্লোরোসিস
  2. ডাইব্যাক
  3. ক্লোরোসিস
  4. লিগুলেটিভ ডিফলিয়েন্সি
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২০৫.
মহাকাশের শুরু কোথা থেকে?
  1. ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  2. ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  3. ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৬০ কিলোমিটার উচ্চতায়
  4. ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৪০ কিলোমিটার উচ্চতায়
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর মত এর বায়ুমন্ডলও মহাকাশে ঘুরছে। এজন্য বায়ুমন্ডলকে মহাকাশের অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। একে পৃথিবীর অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে তগাকে বায়ুমন্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমন্ডল থাকে না বললেই চলে। অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমন্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

২,২০৬.
দৃশ্যমান আলোক বর্ণালির মাঝমাঝি তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর? 
  1. নীল 
  2. আসমানি 
  3. হলুদ
  4. সবুজ
ব্যাখ্যা
• দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে মাঝমাঝি তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট আলো সবুজ।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,২০৭.
রোধের এস. আই একক কোনটি?
  1. ক) অ্যাম্পিয়ার
  2. খ) ও'ম
  3. গ) ভোল্ট
  4. ঘ) সিমেন্স
ব্যাখ্যা
এস. আই একক বা আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে :
- রোধের একক - ও'ম (Ω)।
যে পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য 1 ভোল্ট (V) হলে তার মধ্য দিয়ে 1 অ্যাম্পিয়ার (A) তড়িৎ প্রবাহ চলে সেই পরিবাহীর রোধকে 1 ও'ম (Ω) বলে। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক - অ্যাম্পিয়ার (A)।
- বিভব পার্থক্যের একক - ভোল্ট (V)। 
- তড়িৎ পরিবাহিতার একক - সিমেন্স (S)। 

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞান- ২য় পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,২০৮.
মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা কত ভাগ ক্যালসিয়াম থাকে?
  1. নয় ভাগ
  2. ছয় ভাগ
  3. দুই ভাগ
  4. আট ভাগ
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম (Ca): 
- এটি প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্তে এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি লক্ষণীয়। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, পালংশাক, কচুশাক, লালশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি এবং ফল। 
- ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২০৯.
মানুষের শরীরে কত ধরনের রক্ত কণিকা আছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে৷ যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা, 
৩. অনুচক্রিকা।

• লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
• শ্বেত রক্তকণিকা হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ৷
• অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের। এতে নউক্লিয়াস থাকে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২১০.
নিচের কোনটি যৌগিক রাশি?
  1. সময়
  2. ত্বরণ
  3. ভর
  4. দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন - একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন - সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন-
• দৈর্ঘ্য,
• ভর,
• সময়,
• তাপমাত্রা,
• তড়িৎপ্রবাহ,
• দীপন তীব্রতা এবং
• পদার্থের পরিমাণ।

যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
যেমন - বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল।
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়।
যেমন -
• বেগ,
• ত্বরণ,
• কাজ,
• বল,
• তাপ,
• বিভব ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১১.
পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কোন দুর্যোগ সংঘটিত হয়?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. ভূমিকম্প
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
• পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়- ভূমিকম্প। 
----------------- 
• ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- কোন ধরনের আগাম সতর্ক সংকেত ব্যতীত অর্থাৎ কার্যকর পূর্বাভাস ছাড়া সংঘটিত দুর্যোগ হলো ভূমিকম্প।
- ভূমিকম্প সংঘটনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও ভূমিকম্প সংঘটনের পূর্বে সতর্কতা প্রাপ্তি এখনো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে,
- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস পাওয়া যায়।
---------------------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ (উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল), মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ (মধ্য অঞ্চল) এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ (দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল)।
- ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় নদীর গতিপথ পাল্টে যায়।
যেমন, ১৭৮৭ সালে আসামে (ডাউকি ফন্ট) যে ভূমিকম্প হয় তাতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ কিছুটা উচু হয় ফলে তার গতিপথ পাল্টে গিয়ে যমুনা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২১২.
গ্রিনিচের মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের কী বলা হয়?
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. দ্রাঘিমা
  3. অক্ষাংশ
  4. নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian): 
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উপকণ্ঠে গ্রিনিচ (Greenwich) মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- এই রেখার মান ০ ডিগ্রি ধরা হয়েছে।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণের সাহায্যে অপরাপর দ্রাঘিমারেখাগুলো অঙ্কন করা যায়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে ৪৫ ডিগ্রি পূর্বে যে মধ্যরেখা বা দ্রাঘিমারেখা তার উপর সকল স্থানের দ্রাঘিমা ৪৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
২,২১৩.
জাংশন ডায়োড সাধারণত কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) সুইচ হিসেবে
  2. খ) বিবর্ধক হিসেবে
  3. গ) রেকটিফায়ার হিসেবে
  4. ঘ) স্পন্দক হিসেবে
ব্যাখ্যা
রেকটিফিকেশন:
- যে প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।
- একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেফটিফায়ার বলে।
- ডায়োড যখন সম্মুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় এবং যখন এটি বিমুখী ঝোঁকে থাকে তখন এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয় না।
- জাংশন ডায়োডের এ বিশেষ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
২,২১৪.
রেক্টিফাইড স্পিরিট হলো-
  1. ৯০% ইথাইল অ্যালকোহল +১০% পানি
  2. ৮০% ইথাইল অ্যালকোহল + ২০% পানি
  3. ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল + ৫% পানি
  4. ৯৮% ইথাইল অ্যালকোহল + ২% পানি
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৫.
মানবদেহের কোথায় লোহিত রক্ত কণিকা সঞ্চিত থাকে? 
  1. ফুসফুসে
  2. প্লীহায়
  3. বৃক্কে
  4. হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্ত কণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্ত কণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১-৯২% পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- রক্ত কণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
১। লোহিত রক্ত কণিকা, 
২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং 
৩। অণুচক্রিকা। 

লোহিত রক্ত কণিকা: 

- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২১৬.
উদ্ভিদ কোষ এবং প্রাণী কোষের মধ্যে পার্থক্য কী?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. নিউক্লিয়াস
  3. কোষ প্রাচীর
  4. কোষ আবরণী
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ কোষ ও প্রাণী কোষের মধ্যে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য: 
⇒ উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে।
- প্রাণী কোষে কোন কোষ প্রাচীর থাকে না। পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে।

⇒ কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না।
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না।

⇒ উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।

⇒ উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না। ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে।

⇒ উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী।
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না। থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী।

⇒ পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়।

⇒ প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে।

⇒ নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে।

⇒ শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে।

⇒ স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৭.
ভিটামিন B12 এর রাসায়নিক নাম কি?
  1. রাইবোফ্লভিন 
  2. কোবালামিন
  3. থিয়ামিন
  4. নিয়াসিন
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B12 এর রাসায়নিক নাম কোবালামিন, হলো একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।

ভিটামিন (Vitamin):
- ভিটামিন হলো এক ধরনের জৈব যৌগ যা জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ থাকার জন্য খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। মানব শরীর সাধারণত এগুলো তৈরি করতে পারে না, তাই খাদ্য থেকে এগুলো গ্রহণ করতে হয়।
- ভিটামিনকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: স্নেহ পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন (যেমন: A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (যেমন: B কমপ্লেক্স এবং C)।

ভিটামিন B12 (কোবালামিন):
-  ভিটামিন B12, যা কোবালামিন নামে পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
- কোবালামিন নামটি এসেছে কারণ এই ভিটামিনের অণুতে কোবাল্ট নামক একটি খনিজ পদার্থ থাকে, যা এর কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য
- এটি নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) হয়, যেখানে লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয় এবং তাদের সংখ্যা কমে যায়।
- এটি স্নায়ু কোষের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের আবরণ (myelin sheath) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এর অভাবে স্নায়বিক দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অসাড়তা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
- এটি শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- ভিটামিন B12 সাধারণত প্রাণিজ উৎসে পাওয়া যায়, যেমন: মাংস, মাছ, ডিম, এবং দুগ্ধজাত পণ্য। 

উল্লেখ্য-
- রাইবোফ্লভিন: এটি ভিটামিন B2 এর রাসায়নিক নাম।
- থিয়ামিন: এটি ভিটামিন B1 এর রাসায়নিক নাম।
- নিয়াসিন: এটি ভিটামিন B3 এর রাসায়নিক নাম।

উৎস:
১। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

২,২১৮.
ভিটামিন ‘K’ কোন প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. ইনসুলিন
  3. প্রোথ্রম্বিন
  4. অ্যালবুমিন
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন ‘K’ প্রোথ্রম্বিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

• ভিটামিন ‘K’:
- ভিটামিন ‘K’ প্রধানত সবুজ রঙের শাকসবজি ও কিছু তেলজাত খাদ্যে পাওয়া যায়।

• ভিটামিন ‘K’-এর উৎসসমূহ:
- সবুজ রঙের শাকসবজি,
- লেটুস পাতা,
- ফুলকপি,
- বাঁধাকপি,
- ডিমের কুসুম,
- সয়াবিন তেল,
- যকৃত।

• ভিটামিন ‘K’-এর কাজ:
- দেহে প্রোথ্রম্বিন নামক গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে।
- প্রোথ্রম্বিন রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।

• ভিটামিন ‘K’-এর অভাবজনিত সমস্যা:
- যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্তরস নিঃসরণে সমস্যা হলে ভিটামিন ‘K’-এর শোষণ কমে যায়।
- ভিটামিন ‘K’-এর অভাবে ত্বকের নিচে ও দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- রক্তক্ষরণ বন্ধ করার ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- এ অবস্থায় অস্ত্রোপচারের সময় রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না, ফলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

২,২১৯.
কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন কত হবে?
  1. ১০০ কেজি
  2. ২৪০ কেজি
  3. ৪০ কেজি
  4. ২০ কেজি
ব্যাখ্যা
[লাইভ পরীক্ষার প্রশ্নে টাইপিং এর ভুল ছিল। ২০ এর পরিবর্তে ১২০ দেয়া ছিল। যেহেতু জব সল্যুশনের প্রশ্ন, তাই প্রশ্ন সংশোধন করে দেয়া হয়েছে।]

- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ভর ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ভর হবে ১২০ কেজি। 
- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে। 
আমরা জানি, 
ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ 
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড। 
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি। 
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি। 

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। 
অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ২০ কেজি।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
২,২২০.
Which phenomenon occurs if the temperature of a conductor is raised?
  1. The resistance increases
  2. It behaves like an insulator
  3. The resistance decreases
  4. The resistance remains constant
  5. The flow of electric current increases
ব্যাখ্যা
• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২১.
গোলীয় দর্পণের বক্রতার ব্যাসার্ধ ফোকাস দূরত্বের-
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) দ্বিগুণ
  3. গ) সমান
  4. ঘ) চার গুণ
ব্যাখ্যা

উত্তল দর্পণ এবং অবতল দর্পণ উভয় ক্ষেত্রেই দর্পণের ফোকাস দূরত্ব তার বক্রতার ব্যাসার্ধের অর্ধেক। অর্থাৎ ফোকাস দূরত্ব, f এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ, r হলে, f=r/2
বা, r=2f
অর্থাৎ, বক্রতার ব্যাসার্ধ=২×ফোকাস দূরত্ব

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,২২২.
ধানের পরাগায়ন কিভাবে হয়?
  1. ক) কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  2. খ) বৃষ্টির সাহায্যে
  3. গ) মৌমাছির সাহায্যে
  4. ঘ) বাতাসের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
- যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয় তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে।
- বায়ুপরাগী ফুল হালকা এবং মধুগ্রন্থিহীন।
- এদের ফুলে সুগন্ধ নেই। 
- যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি। 
২,২২৩.
চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না-
  1. নিকেল
  2. আয়রন
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
- এ সকল পদার্থকে সহজেই চুম্বকে পরিণত করা যায়।

• অচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- কাঠ, কাঁচ, তামা, সোনা, রুপা ইত্যাদতসঃ

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
২,২২৪.
ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) বাদাম
  2. খ) চুন
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস।
কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে।
দুধ, মাছ, মাংস, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে তে পটাশিয়াম থাকে।
আয়োডিনের উৎস হল সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। উৎসঃ নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান (পৃষ্ঠা নং - ৯৪)।
২,২২৫.
নিকোলাস কোপার্নিকাস ছিলেন মূলত একজন - 
  1. রসায়নবিদ
  2. জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
  3. গণিতবিদ
  4. দার্শনিক
ব্যাখ্যা
নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭৩ সালে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- তিনি ২৪ মে, ১৫৪৩ সালে ইতালির রোমে মৃত্যুবরণ করেন। 

অন্যদিকে, 
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
২,২২৬.
দুটি স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য ১° হলে সময়ের পার্থক্য হবে-
  1. ৪ মিনিট
  2. ৬ মিনিট
  3. ৮ মিনিট
  4. ১০ মিনিট
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মানমন্দির: 
- পৃথিবীর দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১° হলে ঐ দুটি স্থানের সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। 
- তাহলে ১ ঘন্টা বা ৬০ মিনিটের জন্য দ্রাঘিমা পার্থক্য হবে (৬০/৪)= ১৫ ডিগ্রি। 
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত হওয়ায়, 
বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য (৯০ × ৪) = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 

- গ্রীনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত। 
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গেছে। 
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয়। 
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহিত হয়। 
- গ্রীনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি এবং গ্রীনিচ মানমন্দির ওয়েবসাইট।
২,২২৭.
কোথায় সাঁতার কাটা সহজ? 
  1. সুইমিংপুলে
  2. পুকুরে
  3. নদীতে
  4. সাগরে
ব্যাখ্যা

⇒ সাগরে সাঁতার কাটা সহজ।

সাগরে সাঁতার কাটা সহজ:
- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে।
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়।
- ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম।
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়।
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২,২২৮.
একটি টেলিফোনে কতটি উপাংশ থাকে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
- ১৮৭৫ সালে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেন, যা নানা ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান আধুনিক টেলিফোনে রূপ নিয়েছে। 
- টেলিফোনের পাঁচটি উপাংশ থাকে। 
যথা - 
১। সুইচ: যেটি মূল টেলিফোন নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত অথবা বিচ্ছিন্ন করে। 
২। রিংগার: যেটি শব্দ করে জানিয়ে দেয় যে কেউ একজন যোগাযোগ করছে। 
৩। কি-প্যাড: যেটি ব্যবহার করে একজন অন্য একজনকে ডায়াল করতে পারে। 
৪। মাইক্রোফোন: যেটি আমাদের কণ্ঠস্বরকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে পরিবর্তন করে। 
৫। স্পিকার: যেটি বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে শব্দে রূপান্তর করে শোনার ব্যবস্থা করে দেয়। 

- প্রতিটি টেলিফোনেই তামার তার দিয়ে আঞ্চলিক অফিসের সাথে যুক্ত থাকে। আমরা যখন কথা বলার জন্য কোন নম্বরে ডায়াল করি, তখন আঞ্চলিক অফিসে সেই তথ্যটি পৌঁছে যায়। সেখানে একটি সুইচ বোর্ড থাকে যেটি নির্দিষ্ট গ্রাহকের টেলিফোনের সাথে যুক্ত করে দেয়। 
- বর্তমানে একটি অপটিক্যাল ফাইবারে একই সাথে আক্ষরিক অর্থে লক্ষ লক্ষ মানুষের কতাবার্তা পাঠানো সম্ভব তাই টেলিফোনে কথাবার্তা বলার বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে যা আগে অনেক খরচ সাপেক্ষ ছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২২৯.
গভীর সমুদ্রের উচ্চ চাপে ডুবুরিদের সিলিন্ডারে অক্সিজেনের সাথে কোন গ্যাসটির মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়?
  1. হিলিয়াম
  2. নিয়ন
  3. হাইড্রোজেন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা

• গভীর সমুদ্রে পানির প্রচণ্ড চাপে সাধারণ বাতাসের নাইট্রোজেন রক্তে দ্রবীভূত হয়ে যায়, যা পরে 'বেন্ডস' বা 'নাইট্রোজেন নারকোসিস' নামক প্রাণঘাতী সমস্যা তৈরি করে। এই ঝুঁকি এড়াতে হিলিয়াম (He) ব্যবহার করা হয়।
- হিলিয়াম রক্তে অত্যন্ত কম দ্রবণীয় এবং এটি খুবই হালকা একটি গ্যাস, যা উচ্চ চাপে শ্বাসক্রিয়া সহজ রাখে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ব্যবহার: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায় সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- নিয়ন (Ne): এটি হিলিয়ামের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং এর তাপ পরিবাহিতা বেশি হওয়ায় ডুবুরির শরীর দ্রুত ঠান্ডা করে ফেলতে পারে।
- হাইড্রোজেন (H2): হাইড্রোজেন অত্যন্ত দাহ্য এবং অক্সিজেনের সাথে মিলে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করতে পারে, যা সিলিন্ডারের ভেতরে বিপজ্জনক।
- জেনন (Xe): এটি একটি শক্তিশালী অ্যানেস্থেটিক বা চেতনানাশক। উচ্চ চাপে এটি ডুবুরিকে অচেতন করে ফেলতে পারে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৩০.
পানির অণু একটি-
  1. প্যারাচৌম্বক
  2. ডায়াচৌম্বক
  3. ফেরােচৌম্বক
  4. অ্যান্টিফেরােচৌম্বক
ব্যাখ্যা
- তামা, দস্তা, বিসমাথ, রূপা, সোনা, সীসা, পানি ইত্যাদি ডায়াচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, এন্টিমনি, প্লাটিনাম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, তরল অক্সিজেন প্রভৃতি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।
- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
২,২৩১.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' কোন উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়?
  1. সামাজিক বনায়ন জোরদার করা
  2. দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা
  3. বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা
  4. রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

• সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
২,২৩২.
পিপড়া কামড় দিলে কী ব্যবহার করতে হয়?
  1. ক) বেকিং সোডা
  2. খ) চুন
  3. গ) ভিনেগার
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

চুন এবং বেকিং সোডা দুইটাই সঠিক উত্তর হবে।

বোলতা ও বিচ্ছুর হুলে হিস্টামিন নামক ক্ষারক পদার্থ থাকে। এসবের কামড়ের ক্ষেত্রে যে মলম ব্যবহার করা হয় তাতে থাকে বেকিং সোডা, ভিনেগার, যেগুলো এসিড জাতীয়। এগুলো ঐ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। চুন ব্যবহার করা যাবে না, কারণ চুন ক্ষারক পদার্থ।

পিপড়া বা মৌমাছি কামড়ালে ক্ষতস্থানে জ্বালা করে কারণ এদের হুলে এসিড থাকে। তাই জ্বালা যন্ত্রণা কমানোর জন্য ক্ষারক জাতীয় পদার্থ যেমন চুন, বেকিং সোডা, ক্যালামাইন বা জিঙ্ক কার্বনেট ব্যবহার করতে হয়।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২,২৩৩.
সেরিকালচার কী?
  1. রেশম পোকার চাষ বিদ্যা
  2. মাছ চাষ বিদ্যা
  3. পাখি পালন বিদ্যা
  4. চিংড়ি চাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা

• সেরিকালচার:
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- রেশম পকার ইংরেজি নাম Silk Worm.
- বৈজ্ঞানিক নাম: Bombyx Mori.
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- মৎস্য চাষ বিদ্যা - পিসিকালচার.।
- পাখিপালন বিদ্যা- এভিকালচার।
- চিংড়ি পালনবিদ্যা- প্রনকালচার।

উৎস: ব্রিটানিকা

২,২৩৪.
ভাইরাস সৃষ্টির সর্বশেষ ধাপ কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) নিউক্লিক এসিড
  3. গ) নিউক্লিওপ্রোটিন
  4. ঘ) প্রোটোভাইরাস
ব্যাখ্যা
প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড সমন্বয়ে নিউক্লিওপ্রোটিন তৈরি হয়।
নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রোটোভাইরাস তৈরি হয় এবং
সবশেষে প্রোটোভাইরাস থেকে ভাইরাস সৃষ্টি হয়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
২,২৩৫.
কোন বিজ্ঞান শাখা মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করে?
  1. কসমোলজি 
  2. জিওলজি 
  3. অ্যাস্ট্রোফিজিক্স 
  4. অ্যাস্ট্রোনমি 
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়। 
- রাতের আকাশে আমরা অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখা যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- আমাদের ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011  । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুর হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এ সব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে।
- পরীক্ষা দুটি হলো- ১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৩৬.
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রক্ত কণিকার কোন উপাদান স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়? 
  1. অনুচক্রিকা 
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে, এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৫। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৩৭.
কোন অবস্থায় পদার্থের কণিকাগুলো সর্বাধিক গতিশীল থাকে?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়বীয়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পদার্থের আণবিক গতিতত্ত্ব: 
- পদার্থ কঠিন, তরল, বায়বীয় এবং প্লাজমা চারটি অবস্থায় থাকতে পারে। এই চার অবস্থায় থাকার কারণ পদার্থের মধ্যকার তাপমাত্রা বা শক্তির পার্থক্য। 
- পদার্থের আণবিক গতি তত্ত্ব পদার্থের অবস্থা রূপান্তরের একটি মডেল হতে পারে। এই তত্ত্বটি অতি সরল কিন্তু পদার্থের ভৌত ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। 
- এই তত্ত্বের মূল কথা হলো বস্তু অসংখ্য ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে গঠিত যা হলো মূলত পরমাণু। 
- কতগুলো পরমাণু মিলে গঠিত হয় একটি অণু, এই অণুগুলো নিয়ত গতিশীল। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার আয়তন বজায় থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। 
- এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩৮.
নিচের কোনটি সম্পূর্ণ ফুল?
  1. ধুতুরা
  2. লাউ
  3. কুমড়া
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে।
যথা- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে।
যেমন- জবা, ধুতুরা ইত্যাদি।
- যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে।
যেমন- লাউ, কুমড়া ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

২,২৩৯.
মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পেশী কোনটি?
  1. ট্রাইসেপ পেশী
  2. ডেল্টয়েড পেশী
  3. স্টেপিডিয়াস পেশী
  4. ম্যাসিয়েটর পেশী
ব্যাখ্যা
• স্টেপিডিয়াস পেশী (Stapedius muscle) হল মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পেশী। এটি মধ্যকর্ণে অবস্থিত এবং স্টেপিস (stapes) নামক ক্ষুদ্র হাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত।

অবস্থান: কানের মধ্যভাগে (middle ear) ।
দৈর্ঘ্য: মাত্র ১–১.৩ মিলিমিটার, যা এটিকে মানবদেহের সবচেয়ে ছোট পেশীতে পরিণত করে।
কাজ: এই পেশীটি স্টেপিস (stapes) নামক হাড়ের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি উচ্চ শব্দের সময়  কানকে সুরক্ষা দেয়।
গুরুত্ব: শব্দ তরঙ্গের অতিরিক্ত কম্পন প্রতিহত করে শ্রবণ সংবেদনকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

ট্রাইসেপ পেশী:
-  অবস্থান: বাহুর পিছনে (upper arm)। 
-  কাজ: বাহু সোজা করতে সাহায্য করে (extension)। 
-  আকার: বড় ও সুগঠিত পেশী। 
-  সবচেয়ে ক্ষুদ্র নয়, বরং একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী পেশী। 

ডেল্টয়েড পেশী:
-  অবস্থান: কাঁধে ।
-  কাজ: বাহু উপরে ওঠানো, পাশে সরানো ইত্যাদি ।
-  এটা একাধিক পেশীতন্তু দ্বারা  গঠিত, বৃহৎ ও বহুমুখী কার্যক্ষম পেশী ।

• ম্যাসিয়েটর পেশী:
-  অবস্থান: চোয়ালের পাশে ।
-  কাজ: চিবানো এবং মুখ বন্ধ করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
-  এটি মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশীগুলোর একটি, কিন্তু ক্ষুদ্রতম নয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- Encyclopedia Britannica.
২,২৪০.
আহ্নিক গতি বলতে কী বোঝায়?
  1. পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন
  2. সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
  3. পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন
  4. চাঁদের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলতে পৃথিবীর নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনকে বোঝানো হয়।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা সময়ে অনবরত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। 
- এই সময়কে সৌরদিন এবং আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়। 
- আহ্নিক গতির মূল কারণ হলো-পৃথিবীর আবর্তন এবং পৃথিবীর আকৃতি। 

আহ্নিক গতির ফলাফল:
১. দিবা-রাত্রির সংঘটন: পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তনের দরুন আহ্নিক গতি বা দিবা-রাত্রি সংঘটিত হয়। আবর্তনরত পৃথিবীর যে অংশে সূর্যের আলো পড়ে সেই অংশ আলোকিত হয় অর্থাৎ সেই অংশে দিন এবং অপর অংশে অন্ধকারাচ্ছন্ন বা রাত থাকে।

২. জোয়ার-ভাটা: নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আহ্নিক গতির জন্য সমুদ্রে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।

৩. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি: ফেরেলের কোরিওলিস সূত্রানুসারে, আহ্নিক গতির কারণে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৪১.
নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ
  2. খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া
  3. জ্বালানির দহন
  4. সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ভৌত পরিবর্তন: 
- ভৌত পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না। 
অর্থাৎ, এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে। যেমন- চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ, লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া এবং উত্তপ্ত করলে পুনরায় লবণ পাওয়া, কিংবা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের উত্তাপে বাষ্পীভূত হয়ে পুনরায় কঠিন হয়ে জমাট বাঁধা—এসবই ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভেঙ্গে নতুন বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- অণুস্থিত পরমাণুসূহের বন্ধন ভাঙ্গা ও নতুন বন্ধন সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে, এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন। 
- মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে মূল পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক উভয় প্রকার ধর্মই পরিবর্তিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি দহন, খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ, এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন গ্যাস বা কঠিন পদার্থের উৎপত্তি সবই রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এ পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয় এবং শক্তির রূপান্তর ঘটে। 
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪২.
NASA কোন দেশের গবেষণা কেন্দ্র-
  1. রাশিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. যুক্তরাজ্য
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
• NASA:
- NASA এর পূর্ণরূপ হলো National Aeronautics and Space Administration.
- NASA হলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
- নাসা'র সদরদপ্তর ওয়াশিংটন ডিসি তে অবস্থিত।
- এটি ১৯৫৮ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল হলো এটির উৎক্ষেপণ কেন্দ্র।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
২,২৪৩.
অণুবীক্ষণ যন্ত্র কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) রবার্ট হুক
  3. গ) লিউয়েন হুক
  4. ঘ) মাইকেল ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা
১৬৮৩ সালে ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন ।

- গ্যালিলিও টেলিস্কোপ ও থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন।
- রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।
- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো ও তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র আবিস্কার করেন।

সূত্র: ব্রিটানিকা
২,২৪৪.
জাইলেম কয় ধরনের?
  1. ক) এক
  2. খ) দুই
  3. গ) তিন
  4. ঘ) চার
  5. ঙ) পাঁচ
ব্যাখ্যা
জাইলেম দুই ধরণের- মুখ্য ও গৌণ জাইলেম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,২৪৫.
কোনটি থার্মোসেটিং পলিমার? 
  1. স্টার্চ 
  2. ফাইবার গ্লাস 
  3. সেলুলোজ 
  4. রাবার 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
যেমন- ১। থার্মোপ্লাস্টিক ও ২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক। 

থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক: 
- থার্মোসেটিং প্লাষ্টিকের ক্ষেত্রে এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়। 
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়। 
- এ জাতীয় পলিমার অণুতে পরমাণুগুলোর শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং পার্শ্ববর্তী শিকলের গঠনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন বর্তমান থাকে। 
যেমন- ব্যাকেলাইট প্লাষ্টিক, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৪৬.
আধুনিক শ্রেণিকরণ পদ্ধতিতে নিচের কোনটি ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) পেনিসিলিয়াম
  3. গ) মাশরুম
  4. ঘ) ফার্ন
ব্যাখ্যা
রাজ্যঃ ফানজাই বা ছত্রাক- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই এরা পরভোজী। উদাহরণঃ ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। ফার্ন প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এরা স্বভোজী এবং এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]
২,২৪৭.
নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার কোনটি?
  1. হাড়ের গুড়া
  2. সরিষার খৈল
  3. গৃহস্থালির ছাই
  4. মাছের কাঁটা
ব্যাখ্যা
সরিষার খৈল: 
- সরিষার খৈল একটি চমৎকার নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব সার। 
- এটি সরিষার বীজ থেকে তেল নিষ্কাশনের পর যে খোসা ও অন্যান্য উপাদান বাকি থাকে, তা থেকেই তৈরি হয়। 
- সরিষার খৈল ব্যবহারে মাটির উর্বরতা ও জীবাণু কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। 
- এটি উদ্ভিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহকারী সার হিসেবে কাজ করে। 
- সরিষার খৈলে প্রচুর নাইট্রোজেন থাকে, যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক। নাইট্রোজেন গাছের পাতা ও কাণ্ডের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং সবুজ রং বজায় রাখে। 
- সরিষার খৈল মাটির গঠনকে উন্নত করে, যা পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির বায়ু চলাচল সহজ করে। 
- সরিষার খৈল গাছের শিকড়ের ক্ষতিকারক জীবাণু ও রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- হাড়ের গুড়াতে মূলত ফসফরাস থাকে, যা শিকড়ের বৃদ্ধির জন্য ভালো, তবে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ নয়। 
- গৃহস্থালির ছাইতে সাধারণত পটাশিয়াম থাকে, যা গাছের ফুল ও ফল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তবে নাইট্রোজেনের উপস্থিতি কম। 
- মাছের কাঁটাতে কিছু পরিমাণ নাইট্রোজেন থাকতে পারে, তবে এটি সরিষার খৈলের মতো সমৃদ্ধ নয়। 
২,২৪৮.
কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড মানুষের মধ্যে তফাৎ লক্ষ্য করা যায়?
  1. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  4. জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড মানুষের মধ্যে তফাৎ প্রধানত জিনগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য করা যায়। এটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও বংশগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
 
জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 

১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৪৯.
নিচের কোন উপাদানটি গাছ মাটি থেকে সংগ্রহ করে?
  1. কার্বন
  2. ক্লোরিন
  3. অক্সিজেন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ মাটি থেকে খনিজ লবণ হিসেবে ক্লোরিন (Cl) সংগ্রহ করে। অন্যদিকে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O) মূলত বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেন গ্যাস হিসেবে গ্রহণ করে।
- ক্লোরিন উদ্ভিদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদের সাধারণত ১৬টি উপাদানকে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- এই ১৬টি উপাদান হলো: কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S), লৌহ (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), জিংক (Zn), কপার (Cu), ক্লোরিন (CI), বোরন (B), ও মলিবডেনাম (Mo)।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের উৎস:
- বায়ু হতে উদ্ভিদ C, O এবং N সংগ্রহ করে।
- C ও O বায়ু CO2 হিসেবে প্রধানত: পাতার স্টোমাটার সাহায্যে গ্রহণ করে।
- মাটি হতে উদ্ভিদ খনিজ পদার্থ (Mineral matter) ও জৈব পদার্থ (Organic matter) সংগ্রহ করে।
- C, H, O ব্যতিত অন্যান্য উপাদান অর্থাৎ ১৩টি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ মাটি হতে পরিশোষণ করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,২৫০.
ডায়োড এর দুইটি প্রান্ত হলো-
  1. গেট এবং ড্রেন
  2. পেনট্রোড এবং ট্রায়োড
  3. ড্রেন এবং উৎস
  4. অ্যানোড এবং ক্যাথোড
ব্যাখ্যা

- ডায়োড শব্দটি দুইটি কথার সমন্নয়ে গঠিত, ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’। তাই সাধারণ ভাবে বলা যায় যে, দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড।
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড যার এক দিকে নেগেটিভ অপর দিকে পজেটিভ টার্মিনাল থাকে।
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।
- ডায়োড একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ যা বর্তনীতে একমুখী তড়িৎ প্রবাহ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।



সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,২৫১.
শর্করা কোন উপাদানগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয়? 
  1. কার্বন ও অক্সিজেন
  2. কার্বন ও নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
  4. কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন- 
উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৫২.
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দের কম্পাঙ্ক কত?
  1. ০.০১-০১ মেগাহার্জ
  2. ০১-১০ মেগাহার্জ
  3. ১০-২০ মেগাহার্জ
  4. ২০-৩০ মেগাহার্জ
ব্যাখ্যা

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
- রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
- এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

২,২৫৩.
ভয় পেলে শরীরের লোম খাড়া হয় কোন হরমোনের কারণে?
  1. অ্যাড্রেনালিন
  2. অক্সিটোসিন
  3. ডোপামিন
  4. ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
• ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয়  অ্যাড্রেনালিন হরমোনের জন্য।

• কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ হরমোন: 
- অক্সিটোসিন জরায়ুর পেশি সংকোচন ঘটিয়ে শিশুর জন্মের প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- ডোপামিন মস্তিষ্কে সুখ এবং সন্তুষ্টির অনুভূতি সৃষ্টি করে।

- থাইরক্সিন হরমোন মানুষের বৃদ্ধি এবং বিকাশে ভূমিকা রাখে। 
- ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
- ক্যালসিটোনিন হরমোন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- জীবন রক্ষাকারী হরমোন অ্যালডোস্টেরন।
- শুক্রাশয় হতে টেসটোস্টেরন হরমোন নিঃসৃত হয়। 
- দাড়ি গোঁফ গজায় টেসটোস্টেরন  হরমোনের জন্য। 
- মহিলাদের রজঃচক্র নিয়ন্ত্রণ করে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন।

উৎস: Harvard Medical School ওয়েবসাইট।
২,২৫৪.
নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. শীতল ও ভারী
  2. উষ্ণ ও ভারী
  3. উষ্ণ ও হালকা
  4. শীতল ও হালকা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় অঞ্চল: 
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি উষ্ণ ও হাল্কা হয়।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানি আয়তনে বৃদ্ধি পায় ও হালকা বলে সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। 
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,২৫৫.
দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?
  1. ক) হাইপো-থাইরয়ডিজম
  2. খ) রাতকানা
  3. গ) এনিমিয়া
  4. ঘ) কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা
- আয়োডিনের অভাবে হাইপো-থাইরয়ডিজম হয়। সামুদ্রিক মাছ/শৈবাল আয়োডিনের ভাল উৎস।
- ''Severe and prolonged iodine deficiency, may lead to a deficient supply of thyroid hormones. This condition is referred to as hypothyroidism.''
Source: WHO and US National Library of Medicine National Institutes of Health
২,২৫৬.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের কোন অংশে ঘটে?
  1. ক) কান্ডে
  2. খ) মূলে
  3. গ) পাতায়
  4. ঘ) সবুজ অংশে
ব্যাখ্যা
যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে। 
- সবুজ উদ্ভিদ সালোক সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য যে কোন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে আলো ব্যবহার করতে পারে না, কেবলমাত্র ৩০০nm থেকে ৮১০nm পর্যন্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে আলো উদ্ভিদ ব্যবহার করতে পারে। 
- সালোকসংশ্লেষণে অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো আলো, ক্লোরোফিল, পানি, কার্বন ডাই - অক্সাইড।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ আংশে ঘটে। 

সূত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫৭.
কোন পদার্থটি বোতলে রেখে দিলে সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে?
  1. ক) পানি
  2. খ) চিনি
  3. গ) সেন্ট
  4. ঘ) দুধ
ব্যাখ্যা
বায়বীয় পদার্থ সবসময়ই যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রজুড়ে অবস্থান করে৷ অর্থাৎ, একই পরিমাণ গ্যাস যদি একটি বড় সিলিন্ডারে এবং আরেকটি ছোটো সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে সেই গ্যাস পুরোটা জুড়ে থাকবে৷
প্রশ্নের প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র সেন্টই এই শর্ত পূরণ করতে পারে যেহেতু এটা গ্যাসীয় পদার্থ৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
২,২৫৮.
কোন উপাদানটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে? 
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. স্নেহ
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড: 
- যে কোনো একটি সুষম খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 
- শর্করাকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসব্জি, ফল- মূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। 
- পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য আর সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে শর্করা। 
- পিরামিডের অংশগুলো আকার অনুযায়ী নিচের দিকে বড়, উপরের দিকে ছোট। 
- সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি, তার পরের অংশে শাকসব্জি ফল-মূল। 
- এভাবে ক্রমান্বয়ে কম প্রয়োজনীয় খাবারগুলো উপরের স্তরে অর্থাৎ কম খেতে হবে। 
- আমাদের প্রতিদিনের খাবার খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী নিতে হবে তবেই আমরা সহজে সুষম খাদ্য (Balanced diet) নির্বাচন করতে এবং খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কিত নীতিমালা ও সময় মেনে চলতে সহায়ক হবে। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫৯.
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে কী বলে?
  1. নিম্ন স্থির বিন্দু
  2. ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু
  3. ত্রৈধ বিন্দু
  4. বরফ বিন্দু
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু:
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পের সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হতে শুরু করে তাকে ঊর্ধ্ব স্থির বিন্দু বা স্টিম বিন্দু বলে। 


তাপীয় সমতা:
যে অবস্থায় তাপীয়ভাবে সংযুক্ত বস্তুগুলোর মধ্যে তাপের আদান-প্রদান ঘটে না, তাকে তাপীয় সমতা বলে।

• নিম্ন স্থির বিন্দু:
যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বিশুদ্ধ বরফ পানির সাথে সাম্যাবস্থায় থাকতে পারে, অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ গলতে শুরু করে তাকে নিম্ন স্থির বিন্দু বা বরফ বিন্দু বলে ।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬০.
ডিমের সাদা অংশে থাকে-
  1. ক) ভিটামিন সি
  2. খ) অ্যালবুমিন
  3. গ) লেমিটিন
  4. ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
- ডিমের সাদা অংশে 'অ্যালবুমিন' নামক প্রোটিন থাকে।
- ডিমের প্রোটিনের পঞ্চাশ শতাংশই অ্যালবুমিন।
- এছাড়াও ডিমের কুসুমে আয়রন, ভিটামিন বি-২, বি-১২ এবং ডি রয়েছে। 

সূত্র: ব্রিটানিকা
২,২৬১.
গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে নিচের কোনটি সংঘটিত হবে না? 
  1. আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়া  
  2. ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া 
  3. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া 
  4. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া 
ব্যাখ্যা

- গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে না, বরং বেড়ে যায়। 

গ্রিন হাউস এফেক্ট: 

- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রিন হাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 
- গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে- 
• সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
• আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে, 
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে।
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রিনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৬২.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. সুপারনোভা
  2. হোয়াইট ডোয়ার্ক
  3. নিউট্রন তারা 
  4. কোয়াসার 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি, অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি এই সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। সুতরাং, কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- 
• কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, 
• কোয়াসারের রং নীলাভ, 
• কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস এবং 
• কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৬৩.
শক্তি পরিমাপের একক কোনটি?
  1. ক) ওয়াট
  2. খ) জুল
  3. গ) হর্স পাওয়ার
  4. ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
শক্তি ও কাজের পরিমাপের একক একই। এটি হলো জুল। কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুত শক্তি পরিমাপের একক।
ওয়াট, হর্স পাওয়ার প্রভৃতি হলো ক্ষমতা পরিমাপের একক।
নিউটন হলো বল পরিমাপের একক।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,২৬৪.
মাশরুম এক ধরনের-
  1. ক) অপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. খ) পরজীবী উদ্ভিদ
  3. গ) ফাঙ্গাস
  4. ঘ) অর্কিড
ব্যাখ্যা
- ফাংগাস বহুবচনে ফানজাই, একটি ল্যাটিন শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ‘মাশরুম' বা ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বস্তু।
- ফানজাই বা ছত্রাক এমন একটি উদ্ভিদ গোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
- এদের সকলেই আমাদের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে না, অনেক ছত্রাক আমাদের প্রভূত উপকার করে থাকে।
- এরা এককোষী সরলতম গঠন থেকে শুরু করে বহু-কোষী জটিল দেহের অধিকারী।
-  উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাক সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে ছত্রাক বিজ্ঞান বা মাইকোলজি (Mycology গ্রীক শব্দ, mykes অর্থ ছত্রাক এবং logos অর্থ জ্ঞান) বলে।
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়
২,২৬৫.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কী দ্বারা গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. প্রোটিন
  4. সুবেরিন
ব্যাখ্যা

• কাইটিন ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের প্রধান গাঠনিক উপাদান। এটি ছত্রাককে কাঠামোগত শক্তি প্রদান করে এবং বাহ্যিক চাপ থেকে রক্ষা করে।

• কোষপ্রাচীর (cell wall):
- কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
- এটি মৃত বা জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
- কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল, এতে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তবে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি ।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
- প্রাথমিক কোষ প্রাচীরটি এক স্তরবিশিষ্ট। 
- কোষপ্রাচীর কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে, কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে।
- পাশের কোষের সাথে প্লাজমোডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৬৬.
মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক)
-  সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ কর
- মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়।
- ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। 

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোলাগা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে

মেসেনসেফানল (মধ্যমস্তিষ্ক)
- অগ্র ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের যোগসূত্র রচনা করে।
- দর্শন ও শ্রবণ তথ্যের সমন্বয় ঘটায় এবং প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক)
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ণ করে।
- ঐচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
২,২৬৭.
Which of the following indicates an acidic value on the pH scale?
  1. 8
  2. 7
  3. 4
  4. 9
  5. 10
ব্যাখ্যা
• pH স্কেলের প্রদত্ত মানগুলোর মধ্যে এসিডিক বা অম্লীয় মান হলো 4। 

• pH:

- pH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। 

• pH স্কেল ব্যবহার করে একটি দ্রবণের অম্লীয় (acidic) বা ক্ষারীয় (basic) প্রকৃতি বোঝা যায়।
- দ্রবণের pH এর মান 7 হলে বোঝায় দ্রবণটি নিরপেক্ষ। 
- pH এর মান 7 এর বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় হয়। 
- pH এর মান 7 এর কম হলে দ্রবণটি অম্লীয় হয়। 

• pH স্কেলে কোন দ্রবণের pH এর মান 0 থেকে 6 এর মধ্যবর্তী হলে দ্রবণটির প্রকৃতি হবে এসিডিক বা অম্লীয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,২৬৮.
পুষ্টি কী?
  1. সুস্বাস্থ্য
  2. জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
  3. দেহের চাহিদা
  4. বিভিন্ন খাদ্য উপাদান
ব্যাখ্যা

যা আহার করলে হজম ও বিশোষণ হয়ে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, রােগ প্রতিরােধ ইত্যাদি করে দেহকে সুস্থ্য, সবল ও কর্মক্ষম রাখে তাকে খাদ্য বলে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু আহারের পর রক্তের মাধ্যমে শােষিত হয়ে দেহের প্রয়ােজনীয় চাহিদা পূরণ করে তাকে পুষ্টি বলে।
উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য রক্ষাকে পুষ্টি বলে, এই ধারণাটা ঠিক নয়।
খাদ্য সাধারণভাবে আমাদের দেহে তিন ধরনের কাজ করে থাকে- (১) গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ (২) তাপ ও কর্মশক্তি উৎপাদন (৩) রােগ প্রতিরােধ। খাদ্য উপাদান ছয়টি, যথা: আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। দেহের সুস্থতার জন্য এ ছয়টি খাদ্য উপাদানই কম বেশি প্রয়ােজনীয় পরিমাণে গ্রহণ করা অপরিহার্য।
উৎসঃ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,২৬৯.
কোন প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে?
  1. শ্বসন
  2. সালোকসংশ্লেষণ
  3. বাষ্পীভবন
  4. ট্রান্সলোকেশন
ব্যাখ্যা

- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজের খাদ্য (শর্করা বা গ্লুকোজ) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পাতার ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করে। 

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২,২৭০.
আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের বিচারকদের পদের মেয়াদ কত বছর করে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত বা International Court of Justice (ICJ) জাতিসংঘের ছয়টি মূলসংস্থার একটি।
- এটি ১৯৪৫ সালের জুন মাসে জাতিসংঘ সনদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কার্যক্রম শুরু করে ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে।
- মোট ১৫ জন বিচারক নিয়ে ICJ গঠিত।
- বিচারকদের পদের মেয়াদ ৯ বছর করে।
- এদের মধ্য থেকে ৩ বছরের জন্যে একজন করে সভাপতি নির্বাচিত হয়।
- বর্তমান সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের জোয়ান ই. ডনোহু।
(তথ্যসূত্র: ICJ ওয়েবসাইট)
২,২৭১.
গর্ভকালীন সময়ে বিপদসংকেত কোনটি নয়?
  1. ক) পাফুলা
  2. খ) রক্তপাত
  3. গ) জ্বর
  4. ঘ) ওজন বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
পাফুলা, রক্তপাত, জ্বর, হাঁপানি ইত্যাদি গর্ভকালীন সময়ে বিপদসংকেত। কিন্তু ওজন বৃদ্ধি সাধারণত প্রত্যেক মহিলারই হয়।
২,২৭২.
নিচের কোনটি মানবদেহের এলার্জি প্রতিরোধ করে?
  1. ক) হেপারিন
  2. খ) অ্যাপামিন
  3. গ) হিস্টামিন
  4. ঘ) মেলিটিন
ব্যাখ্যা
গ্র‍্যানোলোসাইট
- গ্র‍্যানোলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন৷
- এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত।
- গ্রানুলােসাইট শ্বেত কণিকাগুলাে নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার। যথা: নিউট্রোফিল, ইওসিনােফিল এবং বেসােফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনােফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসােফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্ত বাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭৩.
The South Pole is located in the-
  1. ক) Arctic
  2. খ) Antarctic
  3. গ) Antipodes
  4. ঘ) Occident
ব্যাখ্যা
South Pole, southern end of the Earth’s axis, lying in Antarctica.
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড. গীলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে পৃথিবী একটি চুম্বক।
- এই ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে এবং উত্তর মেরু এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মেরু থেকে প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,২৭৪.
কোন প্রাণীকে প্রাকৃতিক লাঙল বলা হয়?
  1. ব্যাঙ
  2. ষাঁড়
  3. মহিষ
  4. কেঁচো
ব্যাখ্যা
- কেঁচো ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে। 
- এরা মাটির নিচে বাস করে। 
- কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ। 
- এরা ফসলের জমি উলট-পালট করে উপরের মাটির নিচে ও নিচের মাটি উপরে তুলে আনে। 
- তাই কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,২৭৫.
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে কী বলে?
  1. স্বাধীন সঞ্চারণ
  2. ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র
  3. পৃথকীকরণ সূত্র
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• মেন্ডেলের সূত্র:
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

• মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র:
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়।
- ‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'।

• মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র:
- ‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়'।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭৬.
১ ক্যালরি =?
  1. ৪.২ জুল
  2. ৩.৮ জুল
  3. ১.২ জুল
  4. ০.২৪ জুল
ব্যাখ্যা
⇒ তাপ শক্তির একটি রূপ। তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। তাপের SI একক জুল (J)।
এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১°C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য।
তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল
∴ ১ জুল = (১/৪.২) ক্যালরি
= ০.২৪ ক্যালরি

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭৭.
তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) পরিবহন
  2. খ) পরিচলন
  3. গ) বিকিরণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন হয় তিন প্রক্রিয়ায়।
১) পরিবহন,
২) পরিচলন,
৩) বিকিরণ।
পরিবহন এবং পরিচলন প্রক্রিয়ায় তাপ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, এবং এই দুই পদ্ধতিতে মাধ্যমকে উত্তপ্ত করে তাপ সঞ্চালন করতে হয়।
কিন্তু বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালনে মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না। সূর্য থেকে তাপ পৃথিবীতে এভাবেই আসে।
তাই বলা যায় তাপ সঞ্চালনের দ্রুততম প্রক্রিয়া হচ্ছে বিকিরণ।
২,২৭৮.
নিচের কোন মৌলটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. Au
  2. Ni
  3. Zn
  4. Cu
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়। 
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ: লোহা (Fe), ইস্পাত, নিকেল (Ni), কোবাল্ট (Co) ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: সোনা (Au), রূপা (Ag), তামা (Cu), পিতল, অ্যালুমিনিয়াম (Al), দস্তা (Zn), টিন (Sn), কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭৯.
নিচের কোনটি প্লিউরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে?
  1. ক) Nasopharynx
  2. খ) Larynx
  3. গ) Trachea
  4. ঘ) Lungs
ব্যাখ্যা

ফুসফুসের দুই স্তর প্লিউরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
ফুসফুস শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের বুকের বাঁ দিকে রয়েছে হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডের দুই পাশজুড়েই ফুসফুসের অবস্থান। ফুসফুসের কাজ শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করা।
ফুসফুস স্পঞ্জের মতো নরম ও কোমল। এটি হালকা লালচে রঙের হয়। স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দুটি ফুসফুসের ওজন একত্রে হয় প্রায় ১.৩ কিলোগ্রাম।
দুটি ফুসফুসকে একত্রে বলা হয় ব্রংকাস। শ্বাস নেওয়ার সময় তা বেলুনের মতো ফুলে যায় এবং শ্বাস ছাড়ার পর আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাই ফুসফুসকে দেহের বেলুনও বলা হয়। প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় ১২ থেকে ১৮ বার। আর শিশুরা নেয় ২০ থেকে ৩০ বার। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি ও মানসিক অবস্থার কারণে এর পরিবর্তন হতে পারে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

২,২৮০.
কোন ধরণের জৈব যৌগে কার্বন-কার্বন একক বন্ধন থাকে?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যাালকিন
  3. অ্যাালকাইন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) সবগুলো
উত্তরপত্রের ইনপুট ও ব্যাখ্যা পরিবর্তন করা হয়েছে। 
-------------------- 

অ্যালকেন: 
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়। 
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণূ দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2। 

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকিন বলা হয়। 
- কার্বন-কার্বন ত্রি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকাইন বলা হয়। 

উল্লেখ্য, অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন তিনটি যৌগেই কার্বন-কার্বন একক বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৮১.
নিচের কোনটি থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?
  1. ক) আম ও কাঁঠাল
  2. খ) টমেটো ও গাজর
  3. গ) লালশাক ও কচুশাক
  4. ঘ) কলিজা, মাশরুম
ব্যাখ্যা
দুধ, ডিম, কলিজা, মাশরুম থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
Source:ods.od.nih.gov
২,২৮২.
কিডনি রোগের চিকিৎসা যে ডাক্তার করেন তাকে কী বলা হয়?
  1. Cardiologist
  2. Nephrologist
  3. Neurologist
  4. Pathologist
ব্যাখ্যা
নেফ্রোলজিস্ট:
- নেফ্রোলজিস্টরা হলেন মেডিক্যাল ডাক্তার যারা কিডনি-সম্পর্কিত রোগ নির্ণয় এবং চিকিত্সার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ।
- তারা কিডনি রোগ, কিডনিতে পাথর এবং উচ্চ রক্তচাপ (উচ্চ রক্তচাপ) এর মতো অবস্থা পর্যালোচনা করে যা কিডনিকে প্রভাবিত করতে পারে।

নিউরোলজিস্ট:
- নিউরোলজিস্টরা হলেন ডাক্তার যারা স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাধিগুলির নির্ণয় এবং চিকিত্সার উপর পর্যবেক্ষণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড এবং স্নায়ু।
- তারা মৃগীরোগ, স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং পারকিনসন রোগের মতো অবস্থার সাথে মোকাবিলা করে।

প্যাথলজিস্ট:
- প্যাথলজিস্ট হলেন চিকিৎসা পেশাদার যারা টিস্যু, কোষ এবং শারীরিক তরল পরীক্ষা করে রোগগুলি অধ্যয়ন করে এবং নির্ণয় করে।
- প্রায়শই ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে রোগের কারণ শনাক্ত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

কার্ডিওলজিস্ট:
একজন কার্ডিওলজিস্ট হলেন একজন চিকিত্সক যিনি হৃদরোগ এবং রক্তনালী সম্পর্কিত অবস্থার রোগ নির্ণয়, চিকিত্সা এবং প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞ। তারা প্রায়ই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং অ্যারিথমিয়াসের মতো অবস্থার সাথে মোকাবিলা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২,২৮৩.
কয়লার দহনের সময় কোন গ্যাস বায়ুতে মিশে এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে? 
  1. মিথেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
জ্বালানি বিশুদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব: 
- জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস, পানি ও তাপের সৃষ্টি হয়। 
- স্বল্প বায়ুতে জ্বালানি দহন করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের সাথে কিছু পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসও উৎপন্ন হয়। 
- কার্বন মনোক্সাইড (CO) খুব বিষাক্ত গ্যাস, এটি নীরব ঘাতক গ্যাস নামে পরিচিত এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ বর্জ্য সালফার ও নাইট্রোজেন থাকে। 
- কয়লার দহনের সময় বর্জ্য সালফার পরিবর্তিত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) এবং নাইট্রোজেন তার বিভিন্ন অক্সাইড যৌগ হিসেবে বায়ুতে মিশে থাকে। সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস বায়ুতে মিশে বায়ুর ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে। সালফিউরিক এসিড, এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে। 
- নাইট্রোজেন অক্সাইডও একইভাবে জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক এসিড, নাইট্রাস এসিড উৎপন্ন করে যা এসিড বৃষ্টি সৃষ্টিকারী উপাদান। 

- ইঞ্জিনের নকিং ক্ষমতা কমানোর জন্য জ্বালানি তেলের সাথে টেট্রাইথাইল লেড (TEL) মিশ্রিত করে দেয়া হয়। 
- এ ধরনের জ্বালানির দহনের ফলে লেড অক্সাইড (PbO) ও লেড ডাই অক্সাইড (PbO2) যৌগের সৃষ্টি হয় যা মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান। এটি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাতে বাঁধা সৃষ্টি করে। 
- এছাড়া যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), অদগ্ধ গ্যাসীয় জ্বালানি বিশেষত মিথেন বায়ুতে মিশে থাকে। 
- এসব বর্জ্য উপাদান বায়ুতে এসে সূর্য্যের আলোর উপস্থিতিতে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি করে যা 'ফটোকেমিক্যাল ধোঁয়া' হিসেবে পরিচিত। এ ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ক্ষয় করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভূমিকা রাখে। এই সবকিছু বিবেচনা করে আমাদেরকে পরিবেশ বান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত বিশুদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৪.
শৈবাল কয়টি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে?
  1. তিনটি
  2. দুইটি
  3. চারটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। ঐ সব রঞ্জক পদার্থের উপর ভিত্তি করে শৈবালের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- প্রোক্যারিয়োটিক হওয়ায় নীলাভ-সবুজ শৈবাল বর্তমানে সায়ানো ব্যাকটেরিয়া হিসেবে বিবেচিত। 
- শৈবাল তিনটি প্রক্রিয়ায় জনন কার্য সম্পন্ন করে। 
যেমন- (ক) অঙ্গজ জনন, (খ) অযৌন জনন এবং (গ) যৌন জনন। 

শৈবালের বৈশিষ্ট্য: 
- শৈবালে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়- 
১। এরা সবাই অপুষ্পক। 
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
৪। এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না। 
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী। কোন কোন শৈবালের জননাঙ্গ বহুকোষী হয়। জননাঙ্গ বহুকোষী হলে তা বন্ধ্যা কোষের স্তর দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে না। 
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী। 
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না। 
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৫.
নিচের কোনটি ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাদ্য?
  1. ভাত
  2. দুধ
  3. রুটি
  4. লেবু
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে লেবু। 

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: 

- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক। 
- সুষম খাদ্যে প্রচুর ভিটামিন পাওয়া যায়। 
- ভিটামিনকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
(ক) চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন 'এ', 'ডি', 'ই' এবং 'কে' (A, D, E, K )। 
(খ) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন 'বি' কমপ্লেক্স ও 'সি' (Vit-B Complex ও Vit-C )। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৬.
‘মিথাইল অরেঞ্জ’ নামক নির্দেশক এসিড দ্রবণে কি ধরনের বর্ণ নির্দেশ করে? 
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. কমলা
  4. নীল
ব্যাখ্যা
নির্দেশক:
- যেসব রাসায়নিক পদার্থ অম্ল–ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে নিজ বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রিয়ায় শেষবিন্দু নির্দেশ করে তাকে অম্ল ক্ষারক নির্দেশক বলে।



উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র। 
২,২৮৭.
পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম কে আবিষ্কার করেন? 
  1. ক) হেনরি বেকরেল 
  2. খ) মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী
  3. গ) জাবির ইবনে হাইয়ান
  4. ঘ) বেঞ্জামিন লিস্ট
ব্যাখ্যা
- 1896 খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- মাদাম কুরী এবং পিয়ের কুরী পিচব্লেণ্ড থেকে পোলোনিয়াম এবং আরও পরে অত্যাধিক তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেডিয়াম আবিষ্কার করেন।
- রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান। 

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
২,২৮৮.
চশমা, ক্যামেরা ও অণুবীক্ষণ যন্ত্রে সাধারণত কোন লেন্স ব্যবহৃত হয়? 
  1. সমতল আয়না 
  2. উত্তল লেন্স
  3. অবতল লেন্স
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

লেন্স: 
- দুটি গোলকীয় অথবা একটি গোলকীয় এবং একটি সমতল পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোন স্বচ্ছ প্রতিসারক আলোক মাধ্যমকে লেন্স বলে। 
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা-
১। অভিসারী বা উত্তল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে অভিসারী লেন্স বলে। 
উত্তল লেন্সের ব্যবহার: 
১. উত্তল লেন্সকে আতশী কাঁচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
২. উত্তল লেন্সের সাহায্যে আলোক রশ্মিকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। 
৩. চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাঁচ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। 

২। অপসারী বা অবতল লেন্স: 
- যে লেন্সের মধ্য দিয়ে এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি প্রতিসরিত হয়ে প্রতিসরণের পর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে অপসারী লেন্স বলে। 
অবতল লেন্সের ব্যবহার: 
১. চশমায় ব্যবহার করা হয়। 
২. গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৮৯.
যে শব্দের তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20 kHz থেকে বেশি, তাকে কি বলে?
  1. ক) শব্দোত্তর তরঙ্গ
  2. খ) ইনফ্রাসাউন্ড
  3. গ) লো-লেভেল তরঙ্গ
  4. ঘ) শব্দেতর তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
20 Hz এর কম কম্পাঙ্ক বিশিষ্ঠ তরঙ্গকে বলে - শব্দতর তরঙ্গ বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে। আবার 20000 Hz বা 20 kHz এর বেশি কম্পাঙ্ক বিশিষ্ঠ শব্দকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বা আলট্রাসাউন্ড বলে। এই দুই ধরনের শব্দই মানুষ শুনতে পায় না। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই।
২,২৯০.
কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত লবণ নিচের কোনটি? 
  1. CuSO4
  2. NH4NO3
  3. Na2CO3
  4. KNO3
ব্যাখ্যা

- কপার সালফেট (CuSO4) যা তুঁতে নামে পরিচিত, এটি কৃষিতে ব্যাপকভাবে একটি ব্যাকটেরিয়ানাশক এবং ছত্রাকনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতার কারণে বহুল ব্যবহৃত হয়। 

লবণ: 

- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৯১.
নিচের কোনটি ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস?
  1. 2, 8, 2
  2. 2, 8, 8, 1
  3. 2, 8, 8, 2
  4. 2, 8, 10
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ২০। 

প্রথম শক্তিস্তর(K) এ ইলেকট্রন আছে ২ টি। 
২য় শক্তিস্তর(L) এ ইলেকট্রন আছে ৮ টি ।
৩য় শক্তিস্তর(M) এ ইলেকট্রন আছে ৮ টি । 
৪র্থ শক্তিস্তর(N) এ ইলেকট্রন আছে ২ টি । 

∴ ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 8, 2

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯২.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ?
  1. H2S
  2. O2
  3. HNO3
  4. H2SO4
ব্যাখ্যা
বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: 
১. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।
২,২৯৩.
জোয়ার-ভাটার ওপর কোন মহাজাগতিক বস্তুর আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে? 
  1. সূর্য 
  2. চন্দ্র 
  3. পৃথিবী 
  4. নক্ষত্র 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি। 
- ফলে জোয়ার-ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বা চাঁদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। 
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৯৪.
উদ্ভিদের জন্য সালফার অপর্যাপ্ত হলে মূলত কোন রোগ দেখা দেয়?
  1. ব্লাইট
  2. ফ্লোরোসিস
  3. ডাইব্যাক
  4. লিগুলেটিভ ডিফলিয়েন্সি
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের জন্য সালফার একটি অপরিহার্য খাদ্য উপাদান। সালফার প্রোটিন ও এনজাইম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন উদ্ভিদের সালফারের অভাব হয়, তখন এটি প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রভাবিত করে এবং নতুন কচি পাতার বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে উদ্ভিদের কোষ দূর্বল হয়ে পড়ে, এবং বিশেষ করে কচি পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করে। সালফারের ঘাটতির কারণে উদ্ভিতে দেখা দেয় প্রধানত ডাইব্যাক (Dieback) রোগ, যেখানে শীর্ষাংশ থেকে পাতার মৃত্যু শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পুরো শাখা বা গাছ প্রভাবিত হয়। এটি উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

- সঠিক উত্তর: গ) ডাইব্যাক।

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৯৫.
কোন সময়ে চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সমকোণে অবস্থান করে?
  1. সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে
  2. অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে
  3. সপ্তমী ও অমাবস্যা তিথিতে
  4. অষ্টমী ও অমাবস্যা তিথিতে
ব্যাখ্যা
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র  ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না।
- এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৬.
কোন বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি?
  1. বেগুনি
  2. সবুজ
  3. লাল 
  4. নীল 
ব্যাখ্যা

- বেগুনি বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 

- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর হচ্ছে 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৯৭.
কোনটির গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. শব্দ
  2. আলো
  3. বুলেট
  4. জেট বিমান
ব্যাখ্যা
- আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে কোনো বস্তুই আলোর গতির সমান বা অধিক গতিবেগ নিয়ে চলতে পারে না। 
- আলোর গতি শূন্য মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি এবং তা প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,২৯৮.
কোনটি মানবদেহে প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করে?
  1. ত্বক
  2. বি-কোষ
  3. ম্যাক্রফেজ
  4. মাস্ট কোষ
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- মানবদেহে 'ত্বক' প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। 
- ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH= 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৯.
বাতাসে শব্দের বেগ v, তাপমাত্রা T হলে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. v ∝ T 
  2. v ∝ 1/T 
  3. v ∝ T2 
  4. v ∝ √T 
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ √T 
এখানে তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়। কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। 
- তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৩০০.
শূন্যস্থানে ফোটনের বেগ কত?
  1. ক) 3×108 ms-1
  2. খ) 3×107 ms-1
  3. গ) 3×106 ms-1
  4. ঘ) 3×105 ms-1
ব্যাখ্যা
ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়। আলোর বেগ ৩০০০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড অর্থাৎ ৩০০০০০০০০ মিটার/সেকেন্ড বা 3×108 ms-1
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি- ড. আমির হোসেন