বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ২০ / ১৪০ · ১,৯০১২,০০০ / ১৪,০৮০

১,৯০১.
সাইকেডেলিক পদার্থের পরিপ্রেক্ষিতে "LSD" এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Linear System Dynamics
  2. Light Sensitive Dye
  3. Lithium Sodium Dichloride
  4. Lysergic Acid Diethylamide
ব্যাখ্যা
• LSD:
- LSD এর পূর্ণ রূপ Lysergic Acid Diethylamide.
- টি একটি শক্তিশালী সাইকেডেলিক পদার্থ, যা ১৯৩৮ সালে সুইস বিজ্ঞানী আলবার্ট হফম্যান আবিষ্কার করেন।
- এটি মানসিক অবস্থায় গভীর পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং সচরাচর হ্যালুসিনেশন তৈরি করে।
- LSD মূলত মানসিক অভিজ্ঞতাকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করে এবং ইন্দ্রিয়জনিত বিকৃতি ঘটায়।
- LSD কে "এসিড" নামেও ডাকা হয়।
- এটি একসময় চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার জন্য ব্যবহৃত হত।

সূত্র: National Institutes of Health
১,৯০২.
নিচের কোন গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
ইস্ট:
- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO₂ বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO₂ উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৩.
বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদনের উদাহরণ কোনটি?
  1. এল.ই.ডি বাল্ব
  2. বৈদ্যুতিক পাখা
  3. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি
  4. ব্যাটারি চার্জ করা
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে (গতিশক্তি) রূপান্তরিত করে। পাখার মোটরে বৈদ্যুতিক প্রবাহের ফলে ব্লেডগুলো ঘোরে, যা বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে এবং এটিই যান্ত্রিক শক্তির উদাহরণ। 

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে সাধারণত প্রথমে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি সহজে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। এজন্য সবার বাসায় অন্য শক্তি সরবরাহ না করে প্রথমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে দেখা যায়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দ শক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয়, সেটি এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। তারপরও স্পিকারে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে আসলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯০৪.
সুষম খাদ্যে কয়টি খাদ্য উপাদান থাকা অপরিহার্য?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান:
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- সুষম খাদ্যে ৬টি খাদ্য উপাদান থাকা অপরিহার্য।
- খাদ্য উপাদান ৬টি। যথা:
• আমিষ বা প্রোটিন।
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট।
• স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট।
• ভিটামিন বা খাদ্যপ্ৰাণ।
• খনিজ লবণ বা মিনারেল।
• পানি।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৫.
কোনটি পৃথিবীর বিশাল আকৃতির শোধনাগার?
  1. বায়ু
  2. মাটি
  3. পানি
  4. গাছপালা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর বিশাল প্রাকৃতিক শোধনাগার হচ্ছে মাটি।
- সাধারণত আদর্শ মাটিতে ৫% জৈব পদার্থ থাকে।
- মাটির গঠন, বর্ণ, পানি ধারণক্ষমতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে মাটিকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) বালু মাটি,
(খ) পলি মাটি,
(গ) কাদামাটি এবং
(ঘ) দো-আঁশ মাটি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৯০৬.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? 
  1. সিলভার ক্লোরাইড
  2. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• চুনাপাথর (CaCO3) ।

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ((NH4)NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯০৭.
ঋণাত্নক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে কী বলা হয়? 
  1. ক্যাটায়ন
  2. অ্যানায়ন
  3. একক বন্ধন
  4. সমযোজী বন্ধন
ব্যাখ্যা
আয়নিক বন্ধন: 
- নিকটতম নিস্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের উদ্দেশ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পরমাণুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণের ফলে উৎপন্ন বিপরীতধর্মী আয়নের মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যে বন্ধন গঠিত হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অন্যদিকে তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 
- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও Cl- অ্যানায়ন। 
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৮.
ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. জার্মেনিয়াম
  2. আর্সেনিক
  3. মাঙ্গানিজ
  4. টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টার হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া -টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে।
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p নিঃসারক ভূমি সংগ্রাহক ট্রানজিস্টার তৈরি করা হয়
- ট্রানজিস্টরে সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয় সিলিকন ও জার্মেনিয়াম।

- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
- যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৯.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ক) নদীপ্রবাহ
  2. খ) হিমবাহ
  3. গ) সুনামি
  4. ঘ) সূর্যতাপ
ব্যাখ্যা
- যে সমস্ত কার্যাবলীর দ্বরা প্রাকৃতিকভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূপ্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন আকস্মিক ও ধীর দুভাবে সংঘটিত হয়।
আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- ভূমিকম্প
- আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যূৎপাত
- সুনামি প্রভৃতি।
ধীর পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
- হিমবাহ
- বৃষ্টিপাত
- বায়ুপ্রবাহ
- সূর্যতাপ
- নদী প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
১,৯১০.
পটুয়াখালীর জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. নিয়তভাবাপন্ন
  2. মৃদুভাবাপন্ন
  3. চরমভাবাপন্ন
  4. সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা

মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

অন্যদিকে,
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্রের দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯১১.
ত্বরণের একক কোনটি?
  1. ক) ms-1
  2. খ) ms-2
  3. গ) Ns
  4. ঘ) Kgs-2
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ত্বরণের একক ms-2 .
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১২.
কোন চুম্বকত্ব অপসারণের সাথে বিলুপ্ত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. সিরামিক চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক 
  4. অস্থায়ী চুম্বক 
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- ১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক এবং ২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক।

অস্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক আবার দুই ধরনের হয়। 
যথা- ১। সংকর চুম্বক ও ২। সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯১৩.
প্যানক্রিয়াস কোন হরমোন নির্গত করে যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়? 
  1. থাইরক্সিন 
  2. গ্লুকাগন 
  3. ইনসুলিন 
  4. অ্যাড্রিনালিন 
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না যার কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯১৪.
সাদা ভিট্রিওল এর সংকেত কোনটি?
  1. CuSO4.5H2O
  2. ZnSO4.7H2O
  3. Na2CO3.10H2O
  4. CaSO42.H2O
ব্যাখ্যা
•সাদা ভিট্রিওলের সংকেত ZnSO4.7H2O।
- সাদা ভিট্রিওল একটি রাসায়নিক যৌগ।
- এটি একটি স্ফটিকাকৃত পদার্থ,
- যা প্রধানত কৃষি, ঔষধ, এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• CuSO4.5H2O - ব্লু ভিট্রিওল।
• Na2CO3.10H2O - কাপড় কাঁচা সোডা।
• (CaSO4)2.H2O - জিপসাম (প্ল্যাস্টার অব প্যারিস)।

সূত্র: রসায়ন বিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৯১৫.
কোন মৌলিক পদার্থের পারমাণবিক সংখ্যা ১৯?
  1. সোডিয়াম
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা 17
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 19
ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 20
আয়রনের পারমাণবিক সংখ্যা 26
সোডিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ১১

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন
১,৯১৬.
চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে যে রোগ হয় তার নাম কী?
  1. ক) দীর্ঘদৃষ্টি
  2. খ) হ্রসদৃষ্টি
  3. গ) গ্লোকোমা
  4. ঘ) পুঞ্জাক্ষি
ব্যাখ্যা
হ্রস্বদৃষ্টি বা ক্ষীণদৃষ্টি (Myopia)
- যখন  চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা গেলেও দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখা পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে হ্রস্বদৃষ্টি বলে।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী দূরত্ব বেড়ে গেলে বা ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে।
- কোন কারনে চোখের অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পেলে।
প্রতিকার: অবতল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hypermetropia)
- যখন কোন চোখ দূরের বস্তু দেখে কিন্তু কাছের বস্তু দেখতে পায় না, তখন চোখের এই ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বলে।
- সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ত্রুটি দেখা যায়।
ত্রুটির কারণ:
- চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা হ্রাস পেলে অথবা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে।
- কোন কারণে অক্ষি-গোলকের ব্যাসার্ধের কমে গেলে। 
প্রতিকার: উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৯১৭.
নিচের কোনটি আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. ক) বায়ুর আর্দ্রতা
  2. খ) অক্ষরেখা
  3. গ) বারিপাত
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহ:
- বায়ুর তাপ
- বায়ুর চাপ
- বায়ু প্রবাহ
- বায়ুর আর্দ্রতা এবং
- বারিপাত বা বৃষ্টিপাত।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ হলো:
- অক্ষাংশ
- উচ্চতা
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব
- বায়ুপ্রবাহ
- সমুদ্রস্রোত
- পর্বতের অবস্থান
- ভূমির ঢাল
- ‍মৃত্তিকার গঠন
- বনভূমির অবস্থান প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৯১৮.
সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় তেল বা চর্বির সাথে কোন পদার্থ বিক্রিয়া করে সাবান ও গ্লিসারিন তৈরি করে? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. নাইট্রিক অ্যাসিড 
  3. সালফিউরিক অ্যাসিড 
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
ব্যাখ্যা

সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । এখানে, R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 যেখানে, n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়, সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- ১। প্রসাধনী সাবান এবং ২। লন্ড্রি সাবান। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯১৯.
একটি সম্পূর্ণ ফুলের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
• ফুল:
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে। যথা-
১. পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।

২. বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য হয়।
- বৃতি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে। - সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে ।

৩. দলমন্ডল:
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল। এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।

৪. পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়। 

৫. স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়। 
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়। একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২০.
ইউরিয়া সারে সবচেয়ে বেশি কোন উপাদান থাকে? 
  1. কার্বন 
  2. ফসফরাস 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. পটাসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
​- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। 
- ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯২১.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. ওজোনস্ফিয়ার
  3. থার্মোস্ফিয়ার
  4. মেসোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere): 
বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। 
যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।

স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 
স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
 
স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (Ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
 
ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯২২.
ডিজিটাল সংকেতের দুটি স্তর কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়? 
  1. + এবং −
  2. S এবং P
  3. ০ এবং ১
  4. L এবং M
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system), 
২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system) এবং 
৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system)। 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়, এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
- ইলেকট্রনিকসের ডিজিটাল পদ্ধতির এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়। 
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়। 
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। 
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে 0 এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিংবা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২৩.
কোন দুই রঙের মিশ্রনে বেগুনি রঙ তৈরি হয়?
  1. লাল ও আকাশী
  2. নীল ও সাদা
  3. সবুজ ও নীল
  4. সাদা ও আকাশী
ব্যাখ্যা
রং সম্পর্কিত জ্ঞান: 
- লাল, নীল, সবুজ এ তিনটি মূল বর্ণ। 
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ। 
যেমন- 
লাল ও নীল (আকাশী) রং মিশালে বেগুনী
• হলুদ রং মিশালে সবুজ এবং 
• হলুদ ও লাল রং মিশালে কমলা রং হয়। 
- তাহলে বেগুনী, সবুজ, ও কমলা এ তিনটি গৌণ বর্ণ। 
- মূল ও গৌন বর্ণের নিজ নিজ প্রখরতা কমিয়ে হয় আকাশী, গোলাপী, সবুজ কলা পাতার রং, হালকা বেগুনী ও হাল্কা কমলা রং। 
- কিন্তু একটি মূল বর্ণ ও একটি গৌণ মিশালে সে বর্ণে দুটি বর্ণের সংমিশ্রণের আভা থাকবে। 
যেমন- 
•  লাল ও কমলা মিশালে লালচে কমলা, 
• লাল ও বেগুনী মিশালে লালচে-বেগুনী ও 
• নীল মিশালে নীল-বেগুনী রং হয়। 
- এগুলোকে বলা হয় প্রান্তিক রং। 
- যে রং দৃষ্টিতে প্রখর লাগে এবং গরম অনুভূতি দেয় তাকে বলা হয় উষ্ণ বর্ণ বা গরম রং। 
যেমন- গাঢ় হলুদ ইত্যাদি। 
- আবার যে রং দেখে ঠান্ডা বোধ হয় তাকে শীতল রং বলা হয়। 
যেমন - আকাশী, হালকা বেগুনী ইত্যাদি ঠান্ডা রং। 

উৎস: গার্হস্থ্য অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২৪.
মানবদেহের দুইটি বৃক্কে সর্বমোট কতগুলো নেফ্রন থাকে?
  1. ৫-৬ লক্ষ
  2. ১০-১২ লক্ষ
  3. ১৫-১৬ লক্ষ
  4. ২০-২৪ লক্ষ
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের দুইটি বৃক্কে সর্বমোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 

• বৃক্ক:
- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• বৃক্কের বাহ্যিক গঠন:
- প্রত্যেক বৃদ্ধ নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজের মতো এবং লালচে রংয়ের।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম।
- বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে।

• নেফ্রন:
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একককে নেফ্রন বলা হয়। 
- মানুষের প্রত্যেক বৃক্কে ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন রয়েছে। 
- মানবদেহে দুইটি বৃক্কতে মোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 
- প্রতিটি নেফ্রন প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,৯২৫.
স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী একককে কী বলা হয়?
  1. নিউরন 
  2. নেফ্রন 
  3. অ্যাক্সন 
  4. সেলুলার কোষ 
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯২৬.
একটি আদর্শ ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ রােধ কত?
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. অতিক্ষুদ্র
  4. যে কোনাে মান
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের (Ideal Current Source) প্রতিরোধ অসীম (infinite) হয়।

একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্স সবসময় নির্দিষ্ট পরিমাণ কারেন্ট সরবরাহ করে, যেটি লোড বা ভোল্টেজের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হতে হবে, যাতে কোনো ভোল্টেজ পরিবর্তন হলেও কারেন্ট অপরিবর্তিত থাকে।
যদি রোধ শূন্য (zero) হতো, তাহলে ওহমের সূত্র (V = IR) অনুযায়ী, সামান্য ভোল্টেজ পরিবর্তনেও বিশাল কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারত, যা বাস্তবে সম্ভব নয়।
তাই, একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের রোধ অসীম হতে হয়, যাতে এটি যেকোনো লোডের জন্য নির্দিষ্ট কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে।

Source:
"Fundamentals of Electric Circuits" – Charles K. Alexander & Matthew N. O. Sadiku.
2. "Basic Engineering Circuit Analysis" – J. David Irwin & R. Mark Nelms.
১,৯২৭.
পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain) হয় কোন অঞ্চলে?
  1. আর্কটিক অঞ্চল
  2. নাতিশীতষ্ণ অঞ্চল
  3. মেরিটাইম অঞ্চল
  4. ট্রপিকাল অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain) হয় ট্রপিকাল বা নিরক্ষীয় অঞ্চলে।

• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):

- পরিচলন বৃষ্টি তখন ঘটে যখন পৃথিবীর একটি অঞ্চলে তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে এবং মাটি গরম হয়ে ওঠে।
- এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বাতাসের মধ্যে তাপ স্থানান্তর ঘটায়, যা বাতাসকে উপরে উঠতে বাধ্য করে।
- উপরের দিকে উঠতে গিয়ে এই গরম বাতাসে জলীয় বাষ্প কনডেন্স (ঘনীকৃত) হয়ে বৃষ্টি সৃষ্টি করে।
- সাধারণত ট্রপিকাল(নিরক্ষীয়) অঞ্চলে (বিশেষত ইকুয়েটর অঞ্চল) এই ধরনের বৃষ্টি বেশি ঘটে, কারণ এখানে সূর্যের তাপ সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং দিনের বেলা তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে।
- এই ধরনের বৃষ্টির জন্য অপেক্ষাকৃত তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসের ওঠানামার প্রয়োজন, যা ট্রপিকাল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৯২৮.
সর্বপ্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole)' শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. গ্যালিলিও
  2. স্টিফেন হকিং
  3. জোহানেস কেপলার
  4. জন হুইলার
ব্যাখ্যা

• বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম 'কৃষ্ণগহ্বর' শব্দটি ব্যবহার করেন।

• কৃষ্ণগহ্বর:
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম। ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- একটি মিল্কীওয়েতে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে।
- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয় Event Horizon Telescope (EHT).

উৎস: নাসা এবং ব্রিটানিকা।

১,৯২৯.
এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা

- এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে- ভিটামিন সি। 

ভিটামিন সি :

- ভিটামিন সি, যা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড নামে পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
- এটি শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে।
- কোলাজেন নামক প্রোটিন উৎপাদনে এটি অপরিহার্য, যা ত্বক, হাড়, পেশি এবং রক্তনালীকে শক্তিশালী করে।
- ভিটামিন সি এর প্রধান উৎসগুলো হলো লেবু, কমলা, পেপে, স্ট্রবোর, টমেটো এবং বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি।

এন্টিঅক্সিডেন্ট:
- এন্টিঅক্সিডেন্ট হলো এমন একটি পদার্থ যা ফ্রি রেডিক্যাল নামক অস্থির অণুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে।
- ফ্রি রেডিক্যাল হলো অস্থির অণু, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে এবং কোষের ক্ষতি করতে পারে। এই ধরনের ক্ষতি বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ হতে পারে, যেমন হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং আর্থ্রাইটিস।
- ভিটামিন সি এই ফ্রি রেডিক্যালগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সহায়তা করে, ফলে কোষের ক্ষতি রোধ হয়।

উৎস:
১। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১,৯৩০.
রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাবে মানবদেহে কোন জটিলতা সৃষ্টি হয়?
  1. রাতকানা রোগ হয়
  2. রক্তাল্পতা দেখা দেয়
  3. জয়েন্টে ব্যথা হয়
  4. ডায়রিয়া হয়
ব্যাখ্যা
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।

রক্তশূন্যতা (Anemia)
- রক্তশূন্যতা হচ্ছে দেহের এমন একটি অবস্থা, যখন বয়স এবং লিঙ্গভেদে রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
- খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-12 ইত্যাদির অভাব ঘটলে এ রোগ দেখা যায়।
- লৌহের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৯৩১.
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান নয় কোনটি? 
  1. ফসফরাস
  2. কপার
  3. কার্বন
  4. সালফার
ব্যাখ্যা

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান অত্যন্ত কম পরিমাণে দরকার তাকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হল ৭টি।
i)জিংক
ii)ম্যাংগানিস
iii)মলিবডেনাম
iv)বোরন
v)কপার
vi)ক্লোরিন
vii)লৌহ

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান জরুরী বা বেশি পরিমাণে দরকার তাকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট হল ৯ টি।
i) নাইট্রোজেন
ii)ফসফরাস
iii)পটাশিয়াম
iv)ক্যালসিয়াম
v)ম্যাগনেসিয়াম
vi)কার্বন
vii)হাইড্রোজেন
viii)অক্সিজেন
ix)সালফার

তথ্যসূত্র: NCTB জীববিজ্ঞাব বই, Britannica: [লিংক]

১,৯৩২.
কোন তত্ত্বটি আলোক তড়িৎ ক্রিয়া (photoelectric effect) ব্যাখ্যা করে?
  1. তরঙ্গ তত্ত্ব
  2. কোয়ান্টাম তত্ত্ব 
  3. আইনস্টাইনের তত্ত্ব
  4. তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। 
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়। 
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। 
- এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

তাড়িতচৌম্বক তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্ব অনুসারে গতিশীল তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্রের দ্রুত পর্যাবৃত্ত পরিবর্তনের ফলে দৃশ্য অদৃশ্য শক্তির বিকিরণ হয় এবং অনুপ্রস্থ তরঙ্গাকারে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- এর দৃশ্য তরঙ্গই আলো। 
- এর জন্য কোন মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
- এই তত্ত্ব ফটো তড়িৎ প্রতিক্রিয়া, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ বা ব্ল্যাক বডি রেডিয়েশনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

কণা তত্ত্ব: 
- এই তত্ত্বানুসারে আলো বস্তু কণা দ্বারা গঠিত, উৎস থেকে যা সব দিকে নিঃসৃত হয় এবং সরলরেখায় চলে। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি বৈশিষ্টের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়। 

তরঙ্গ তত্ত্ব: 
- আলো তরঙ্গাকারে ইথার নামের একটি কাল্পনিক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সব দিকে নির্গত হয়। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিভিন্নতার জন্য আলোর বর্ণ বিভিন্ন হয়। 
- এই তত্ত্ব আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা দিতে সমর্থ হলেও মাইকেলসন-মর্লির পরীক্ষায় ইথারের অস্তিত্ব নাই প্রমাণিত হওয়ায় এই তত্ত্ব বিতর্কিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩৩.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. লুই পাস্তুর
  3. এহরেনবার্গ
  4. রবার্ট কচ
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৪.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও
  2. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং
  3. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি
  4. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- 1947 সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৩৫.
নতুন কোনো প্রজাতির সৃষ্টিকে কী বলা হয়?
  1. সৃষ্টিতত্ত্ব
  2. ক্রমবিকাশ
  3. জৈব বিবর্তন
  4. পরিবেশ পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- আধুনিক মানুষের ধারণা অনুযায়ী, জীব সৃষ্টির মূল ভিত্তি হলো বিবর্তন, যা গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রমাণিত হয়েছে। 
- ল্যাটিন শব্দ “Evolveri” থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম 'ইভোলিউশন' শব্দটি ব্যবহারের জন্য পরিচিত।
- বিবর্তন বা ইভোলিউশন হলো একটি ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরলতর উদবংশীয় জীবগুলো পরিবর্তিত হয়ে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটায়।
- যখন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোনো প্রজাতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে বলা হয় জৈব বিবর্তন

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৩৬.
C13 এ নিউট্রন সংখ্যা কতটি? 
  1. 6 টি
  2. 7 টি
  3. 8 টি
  4. 12 টি
ব্যাখ্যা
কার্বনের ৩ টি আইসোটোপ: 
• C12 : 6টি প্রোটন এবং 6 টি নিউট্রন, 
• C13 : 6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন, 
• C14 : 6টি প্রোটন এবং ৪টি নিউট্রন। 

কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
১,৯৩৭.
মানব দেহে সর্বমোট কশেরুকার সংখ্যা কত?
  1. ২৯ টি
  2. ৩১ টি
  3. ৩২ টি
  4. ৩৩ টি
ব্যাখ্যা
• মেরুদন্ড:
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দন্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া বলে।
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখন্ডক সমন্বয়ে মেরুদন্ড গঠিত।
- এ সকল অস্থিখন্ডককে কশেরুকা বলে।
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

• মানবদেহ সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।
- করোটিতে অস্থির সংখ্যা ২৯ টি।
- মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা ৩৩ টি।
- মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%।
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬° ফারেনহাইট)।

[মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
Medical Encyclopedia এবং আরো কিছু সোর্স অনুযায়ী -
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।এক্ষেত্রে, অপশনে ৯৮.৪ এবং ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট দুটিই থাকলে - "৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।
আবার, ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলে এর সাথে ৯৮.৪ ডিগ্রি বাদে অন্য কিছু থাকলে তখন -
"৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।]

- মানবদেহের শতকরা ৭০ ভাগ পানি থাকে।
- মানবদেহে মোট ৩ প্রকারের অস্থিসন্ধি রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৮.
হোল কোন ধরনের আধান হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) ধনাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) নিরপেক্ষ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হোল:
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে। - ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়.
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C ।
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়।
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে।
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়।
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৯.
সর্বপ্রথম ভাইরাস আবিষ্কার করেন কে?
  1. আইভানোভস্কি
  2. লুই পাস্তুর
  3. লিউয়েন হুক
  4. রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ।
- ভাইরাস অকোষীয়।
- ভাইরাসের দেহ বাইরের প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA অথবা RNA) এই দুটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- ভাইরাস জীবদেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করে থাকে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।
- ১৮৯২ সালে দিমিত্রি আইভানোভস্কি ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
- F. C. Bawden এবং N. W. Pirie ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৯৪০.
একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের গায়ে 40W - 200V লেখা আছে বাল্বটির রোধ কত?
  1. 1000 Ohm
  2. 5 Ohm
  3. 1/5 Ohm
  4. 8000 Ohm
ব্যাখ্যা
দেওয়া আছে,
- বিদ্যুৎ শক্তি (Power, P) = 40 W
- ভোল্টেজ (Voltage, V) = 200 V
- রোধ (Resistance, R) = ?

 আমরা জানি, 
P=V​2/R
⇒  R=V2/P
⇒ R=2002/40​=40000​/40=1000 Ω​

∴ রোধ (Resistance, R) =1000 Ω​

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৯৪১.
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ কোন উপাদান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?
  1. গ্রাভিটি
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. পৃথিবীর চাপ বলয়
  4. পাহাড়ের উচ্চতা
ব্যাখ্যা
নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই নিয়ত বায়ু বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

অয়ন বায়ু (The Trade Wind): 
- বিষুবীয় অঞ্চলে সূর্যকিরণ লম্বভাবে পতিত হয় বলে বায়ুর চাপ কম থাকে তাতে বায়ু উপরে উঠে ছড়িয়ে যায়। 
- এই বায়ু ক্রমাগত শীতল হয়ে নিচে নামতে না পেরে উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যায়। 
- প্রায় ৩০° অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু নিচে নেমে তা আবার বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ুকেই বলা হয় অয়ন বায়ু। 
- উত্তর গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ও দক্ষিণ গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু বলা হয়। 
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজগুলো এই বায়ুপ্রবাহ অনুসরণ করতো বলে একে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪২.
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় কোন রোগের বিরুদ্ধে?
  1. যক্ষ্মা
  2. হুপিং কাশি
  3. রুবেলা
  4. নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
- বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।
- পিসিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে।

সূত্র: www.dghs.gov.bd ওয়েবসাইট
১,৯৪৩.
উদ্ভিদের পুষ্টির মাইক্রো উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) কপার
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
মাইক্রোউপাদান : উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৭টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৪.
৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে বলা হয় -
  1. বিষুব রেখা
  2. কুমেরু
  3. দ্রাঘিমা রেখা
  4. সুমেরু
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়। 
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- ৬৬.৫° দক্ষিণ  অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৫.
প্রোটিনের অভাবে মানুষের কী রোগ হয়?
  1. কোয়াশিয়রকর
  2. মেরাসমাস
  3. বেরিবেরি
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা

প্রোটিনের অভাবজনিত রোগঃ
খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে 'মেরাসমাস' ও 'কোয়াশিয়রকর' নামক দুটি রোগ হয়।
 - মেরাসমাস রোগে পেশী ও মেদ ক্ষয় হয় ও চামড়া কুচকে যায়, দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৬০ ভাগ কমে যায়, কম বয়সে এ রোগ হলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
- সাধারণত ২ - ৪ বছর বয়সে শিশুদের খাদ্যে আমিষের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এ রোগে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, পেশী ক্ষয় হতে থাকে, পানি জমে শরীর ফুলে যায়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)

১,৯৪৬.
কোন কণার মাধ্যমে কণার ভর ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. হিগস বোসন
ব্যাখ্যা

• Standard Model অনুযায়ী কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়, যা ভরের উৎস হিসেবে কাজ করে।

• স্ট্যান্ডার্ড মডেল ও হিগস বোসন:
- আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের অগ্রগতির ফলে শক্তিশালী এক্সিলারেটর (Accelerator) তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যার মাধ্যমে কণাকে অত্যন্ত উচ্চ শক্তিতে ত্বরিত করা যায়।
- ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার গঠন ও আচরণ ব্যাখ্যার জন্য Standard Model ব্যবহৃত হয়।
- Standard Model অনুযায়ী মৌলিক কণার মাধ্যমে সকল পদার্থের গঠন ব্যাখ্যা করা হয়।
- এই মডেলে কণাগুলোর ভর ব্যাখ্যা করার জন্য হিগস বোসন (Higgs boson) নামক বিশেষ কণার ধারণা দেওয়া হয়।
- ২০১৩ সালে পরীক্ষামূলকভাবে হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে কণা পদার্থবিজ্ঞান (Particle Physics) একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
- কঠিন পদার্থবিজ্ঞান (Solid State Physics) অর্ধপরিবাহী পদার্থের ওপর গবেষণার ভিত্তি গড়ে তোলে, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,৯৪৭.
টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল থেকে কোন আলো বের হয়?
  1. ক) মাইক্রোওয়েভ
  2. খ) রেডিও ওয়েভ
  3. গ) ইনফ্রারেড আলো
  4. ঘ) আল্ট্রা ভায়োলেট আলো
ব্যাখ্যা
ইনফ্রারেড আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না।
- টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল করার ইউনিট থেকে ইনফ্রারেড আলো বের হয় বলে আমরা সেখান থেকে আলো বের হতে দেখি না।
- মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্য সিসিডি নামক যে সংবেদনশীল আইসি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর সাহায্যে দৃশ্যমান আলোর সাথে সাথে খানিকটা ইনফ্রারেড আলোও দেখা যায়।

ইনফ্রারেড
এটি এক ধরনের ওয়েভ যার ফ্রিকুয়েন্সী সীমা ৩০০ 300 GHz থেকে ৪০০ THz হয়ে থাকে। খুব কাছাকাছি অবস্থিত দুইটিডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ব্যবহার করা হয়।
এ ধরনের যোগাযোগে দুই প্রান্তে ট্রান্সমিটার ওরিসিভার থাকে।
- টেলিভিশন, ভিসিআর এ ব্যবহৃত রিমোট কন্ট্রোলে, বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ইত্যাদির ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৯৪৮.
উদ্ভিদের কোন অংশে শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি?
  1. অঙ্কুরিত বীজে
  2. মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে
  3.  ফুল ও পাতার কুঁড়িতে
  4. সবগুলোতেই 
ব্যাখ্যা

শ্বসন: 
- জীবের জীবন ধারণ অর্থাৎ চলন, ক্ষয়পুরণ, বৃদ্ধি, জনন প্রভৃতি জৈবিক কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়, এ শক্তির প্রধান উৎস হলো সূর্যালোক। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে শর্করা জাতীয় খাদ্যবস্তুর মধ্যে স্থিতি শক্তিরূপে (Potential energy) সঞ্চয় করে রাখে। 
- খাদ্যের মধ্যে সঞ্চিত এই ধরনের শক্তি জীব তার জীবন ধারণের জন্য সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। 
- শ্বসনের সময় জীবদেহে এই স্থিতি শক্তি রাসায়নিক শক্তি (ATP) হিসেবে তাপরূপে মুক্ত হয় এবং জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। 
- শর্করাজাতীয় খাদ্যবস্তু ছাড়াও প্রোটিন, ফ্যাট এবং বিভিন্ন জৈব এসিড শ্বসনিক বস্তুরূপে ব্যবহৃত হয়। 
- জীবদেহে এই জটিল যৌগগুলো প্রথমে ভেঙে সরল যৌগে পরিণত হয় এবং পরে জারিত হয়ে রাসায়নিক শক্তিতে (ATP) রূপান্তরিত হয়। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় জীবদেহের প্রতিটি কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন চলতে থাকে। 
- তবে উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (ফুল ও পাতার কুঁড়ি, অঙ্কুরিত বীজ, মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগ) শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি। 
- সজীব কোষের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়াতে শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
- এ জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহ যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত করে সরল দ্রব্যে পরিণত করে এবং শক্তি উৎপন্ন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৪৯.
উদ্ভিদের মাইক্রো পুষ্টি উপাদানের সংখ্যা কত?
  1. ৬টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১৭টি
ব্যাখ্যা
• অত্যাবশ্যকীয় উপাদান:
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।
- এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়,
- এর মধ্যে ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়।

• উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ:
অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

• ম্যাক্রো উপাদান:
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
এরূপ উপাদানের সংখ্যা ১০টি।
যথা - নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H),
অক্সিজেন (০), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

• মাইক্রো উপাদান:
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৬টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (CI)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫০.
কেমোথেরাপি কী ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাঁপানি
  2. ক্যান্সার
  3. হৃদরোগ
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
কেমোথেরাপি: 
- ক্যান্সারে শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। 
- কেমোথেরাপি হলো এমন এক চিকিৎসা, যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। 
- কেমোথেরাপি হলো ক্যান্সারের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। 
- প্রতিটি জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত যে কোষ বৃদ্ধি পায় বা বিভাজিত হয়। 

- জীবদেহের এই কোষ বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত হয়েছে। 
- কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। 
- কোষ বিভাজনের কোন ধাপে কী প্রয়োগ করা হবে তার ওপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধগুলো ঠিক করা হয়। 
- এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে। যেমন: প্রতিদিনে ১ বার, সপ্তাহে ১ বার বা মাসে ১ বার ইত্যাদি। সাধারণত এভাবে প্রায় ৬ বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। 
- কেমোথেরাপির বিশেষ ঔষধ ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অন্য কোষও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫১.
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলোর কণিকার নাম কী? 
  1. কোয়ার্ক
  2. নিউট্রন
  3. প্রোটন
  4. ফোটন
ব্যাখ্যা
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে বের হয়ে না, বরং ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট বা গুচ্ছ আকারে নির্গত হয়। 
- প্রতি কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্বনিম্ন মান নির্দিষ্ট থাকে। এই সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- প্লাঙ্কের মতে, কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ আকারে সংঘটিত হয়। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন, যার ফলে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫২.
উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ কোনটি?
  1. মূল
  2. ফুল
  3. পাতা
  4. কাণ্ড
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল। 

• আবৃতবীজী উদ্ভিদে ডিম্বাণু সৃষ্টি হয় ডিম্বকে, ডিম্বক সৃষ্টি হয় ফুলের স্ত্রীকেশরের গর্ভাশয়ে।
- শুক্রাণু সৃষ্টি হয় পরাগরেণুতে, পরাগরেণু সৃষ্টি হয় ফুলের পুংকেশরের পরাগধানীতে।
- কাজেই ফুলই আবৃতবীজী উদ্ভিদে জননাঙ্গ ধারণ করে।
• ফুল হলো উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপ (shoot)।
- অর্থাৎ উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল। 

• ফুল প্রধানত চারটি মূল অংশে বিভক্ত। যথা-
- বৃতি (Calyx) – ফুলকে রক্ষা করে। 
- পত্রমন্ডল (Corolla) – পোকামাকড় আকৃষ্ট করে। 
- পুংকেশর (Androecium) – পুরুষ প্রজনন অঙ্গ (পরাগ উৎপন্ন করে)। 
- স্ত্রীকেশর (Gynoecium) – স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ (ডিম্বাণু বহন করে)। 

• পরাগায়ন ও নিষেকের মাধ্যমে ফুলে ফল ও বীজ তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৯৫৩.
কোন খাদ্য উপাদানটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডের সর্বনিম্ন স্তরের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ভিটামিন
  2. স্নেহ
  3. শর্করা
  4. আমিষ
ব্যাখ্যা
• আদর্শ খাদ্য পিরামিডের সর্বনিম্ন স্তরের অন্তর্ভুক্ত খাদ্য উপাদান হলো- শর্করা। 

• আদর্শ খাদ্য পিরামিড:
- একটি খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ বেশি রেখে এবং শর্করাকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। 

• আদর্শ খাদ্য পিরামিড:

• সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য:
- একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে। 
- শর্করা, আমিষ এবং চর্বি নির্দিষ্ট অনুপাতে পরিমাণ মতো গ্রহণ করতে হবে।
- খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও রাফেজ বা সেলুলোজ (ফাইবার) সরবরাহের জন্য সুষম খাদ্য তালিকায় ফল ও টাটকা শাকসবজি থাকতে হবে।
- খাদ্যে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে। 
- সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
 
১,৯৫৪.
নিচের কোনটি সবচেয়ে শক্তিশালী বিজারক?
  1. Al
  2. Zn
  3. Fe
  4. Li
ব্যাখ্যা

লিথিয়াম (Li) একটি অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু, যা খুব সহজেই 1 ইলেকট্রন হারিয়ে Li⁺ আয়ন হয়ে যায়।

বিজারকঃ
বিজারক (Reducing agent) হলো এমন পদার্থ যা অন্যকে প্রতি‌-ধারক (oxidize) করতে সাহায্য করে, অর্থাৎ নিজে প্রতি‌-প্রাপ্ত (oxidized) হয়।
- শক্তিশালী বিজারকের ক্ষেত্রে ইলেকট্রন দানের ক্ষমতা বেশি থাকে।
- অন্য পদার্থের তুলনায়, Li এর প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং ইলেকট্রন দানের ক্ষমতা সর্বোচ্চ, তাই এটি সবচেয়ে শক্তিশালী বিজারক।

- Aluminum (Al): মাঝারি শক্তির বিজারক, Li এর চেয়ে কম শক্তিশালী।
- Zinc (Zn): মাঝারি শক্তির বিজারক।
- Iron (Fe): কম শক্তিশালী বিজারক।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

১,৯৫৫.
তিনদিকে স্থলবেষ্টিত এবং একদিকে জলপথ খোলা জলভাগকে কী বলে? 
  1. সাগর
  2. উপসাগর
  3. হ্রদ
  4. নদী
ব্যাখ্যা

মহাসাগর:  
- বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। 
- এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম ও গভীরতম। 
- আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্ট এবং এটি অনেক আবদ্ধ সাগরের (Enclosed sea) সৃষ্টি করেছে। 
- ভারত মহাসাগর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে এন্টার্কটিকার হিমভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান। দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ বছরের সকল সময় বরফে আচ্ছন্ন থাকে। 
- উত্তর গোলার্ধের উত্তর প্রান্তে উত্তর মহাসাগর অবস্থিত এবং এর চারদিক স্থলবেষ্টিত। 

সাগর: 
- মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যরিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি। 

উপসাগর: 
- তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর ও মেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি। 

হ্রদ: 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৫৬.
কোনটির সংক্রমণে যক্ষ্মা রোগ হয়?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) প্রোটেজোয়া
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা সাধারণত Mycobacterium Tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয়।
এটি জীবাণুঘটিত দীর্ঘস্থায়ী এক সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগ TB নামেও পরিচিত।

যক্ষ্মা একটি প্রাচীন রোগ। সম্ভবত পঞ্চম শতকের প্রথম দিক থেকেই এটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যক্ষ্মা জীবাণুর বিভিন্ন জাত গৃহপালিত পশু ও বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়।

এ রোগ সচরাচর ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু শ্বাসতন্ত্র, অস্থি ও অস্থিসন্ধি, ত্বক, লসিকাগ্রন্থি, অন্ত্র, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রও আক্রমণ করে।
শ্বাসগ্রহণের সময় জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই সাধারণত সংক্রমণ ঘটে। দূষিত খাদ্যগ্রহণেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। যক্ষ্মাগ্রস্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে নির্গত কফ বা থুথুর কণাগুলি অন্যের শরীরে ও বাতাসে জীবাণু ছড়ায়। এসব জীবাণু বাতাসে, শুষ্ক কফ ও থুথুতে এবং ধূলাবালিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থাকে। রোগটি অন্যদের তুলনায় একই পরিবারের লোকদের মধ্যে অধিক পরিমাণে সংক্রমিত হয়ে থাকে, কেননা এক পরিবারের সদস্যরা একই বাড়িতে বসবাস করে, একই টেবিলে খাবার খায় ও পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে, তবে যক্ষ্মা বংশানুক্রমিক নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১,৯৫৭.
নিচের কোন উদ্ভিদের কাণ্ড রূপান্তরিত হয়ে পাতা হিসেবে কাজ করে?
  1. গোলাপ
  2. শিমুল
  3. ফণিমনসা
  4. ফার্ন
ব্যাখ্যা

ফণিমনসা হলো একটি বিশেষ উদ্ভিদ যেখানে কাণ্ড রূপান্তরিত হয়ে পাতার কাজ করে। এতে ক্লোরোফিল থাকে যা ফটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
- ফণিমনসায় পাতার পরিবর্তে কাণ্ডই মূলত সবুজ, সূর্যালোক থেকে শক্তি গ্রহণের প্রধান উৎস।
- মরুভূমি ও শুষ্ক এলাকায় টিকে থাকার জন্য এই অভিযোজন হয়ে থাকে।
- ক্যাকটাসের মতো এটিও পানি সংরক্ষণকারী উদ্ভিদ যা কাণ্ডের ভিতরে পানি ও খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে।
- পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়ে উদ্ভিদের আত্মরক্ষার কাজ করে।

অন্যদিকে,
- গোলাপ: এটি একটি সাধারণ উদ্ভিদ যেখানে কাণ্ড, পাতা ও ফুল আলাদা আলাদা অংশ হিসেবে থাকে।
- শিমুল: এটি একটি বড় গাছ যার মোটা কাণ্ড ও বিস্তৃত পাতা রয়েছে। 
- ফার্ন: এটি অপুষ্পক উদ্ভিদ, যার কাণ্ড সাধারণ এবং পাতা হিসেবে রূপান্তরিত হয় না।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১,৯৫৮.
মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত কয়টি অংশে বিভক্ত?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র
পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত্র এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত,
যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম।
ডিওডেনামে মূলত: অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৯.
কোন পর্বের প্রাণী চলাফেরা করতে পারে না?
  1. ক) পরিফেরা
  2. খ) নিডারিয়া
  3. গ) মোলাস্কা
  4. ঘ) নেমাটোডা
ব্যাখ্যা
পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য :
- এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত।
- এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
- এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
- এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
- এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।
- এদের অন্তঃকঙ্কাল স্পিকিউল বা ফাইব্রাস নামক প্রোটিনে তৈরি।

সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬০.
মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ফরমালিন
  2. ক্লোরোফরম 
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট 
  4. ভিনেগার 
ব্যাখ্যা

• রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

ক্লোরোফরম: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৬১.
সর্বপ্রথম বিগ ব্যাঙ মতবাদ কে প্রদান করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জি.লেমেটার
  3. গ) টলেমী
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
বেলজিয়ামের নাগরিক জি.লেমেটার, যিনি একজন ধর্মযাজক ছিলেন সর্বপ্রথম বিগ ব্যাঙ মতবাদ প্রদান করেন ১৯২০ সালে। 

বর্তমান থেকে প্রায় ১৩৭০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্ব এক অতি ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দুর মতো অবস্থা থেকে প্রচন্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এক অকল্পনীয় ক্ষুদ্র বিন্দুর প্রকান্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় বলে এই মতবাদ বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব নামে পরিচিত।

স্টিফেন হকিং-এর মতে, মহাবিস্ফোরণের সেই মুহূর্তকে ‘সময়ের সূচনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শুরুর মুহূর্তে মহাবিশ্বের যাবতীয় পদার্থ এক অতি ক্ষুদ্র বিন্দুর মধ্যে কেন্দ্রীভূত ছিল যার উষ্ণতা ও ঘনত্ব ছিল অসীম। সেই প্রচন্ড উষ্ণতায় ছিল শুধু বিশুদ্ধ শক্তি ও ধূলির মতো কিছু কণা। তারপর মহাবিস্ফোরণের বহির্মুখী চাপে মহাবিশ্ব যতই সম্প্রসারিত হয়েছে তার ফলে ক্রমশ শীতল হয়েছে। 

সূত্র: National Geographic Website 
১,৯৬২.
কোন ধরণের পদার্থে তাপমাত্রা বাড়ালে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়? 
  1. অর্ধপরিবাহী
  2. সুপরিবাহী
  3. অপরিবাহী
  4. পরিবাহী
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- ধাতব পরমাণুর কিছু ইলেকট্রন প্রায় মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং সেগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে, সেজন্য সেগুলোকে পরিবাহী পদার্থ বলা হয়। 
- সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম এগুলো সুপরিবাহী পদার্থ। 
- পরিবাহী পদার্থ দিয়ে চার্জকে স্থানান্তর করা যায়, তবে সব সময় মনে রাখতে হবে এই স্থানান্তর হয় ইলেকট্রন দিয়ে, বিদ্যুতের প্রবাহ হয় ইলেকট্রন দিয়ে, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- যে পদার্থের ভেতর তড়িৎ বা বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই সেই পদার্থগুলো হচ্ছে বিদ্যুৎ অপরিবাহী বা অন্তরক পদার্থ। 
- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, কাচ এগুলো হচ্ছে অপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 
- মূলত অধাতুগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী হয়। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- কিছু কিছু পদার্থের বিদ্যুৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি, তবে তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই ধরনের পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
- সিলিকন বা জার্মেনিয়াম সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৬৩.
নিচের কোনটি গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়?
  1. জলীয় বাষ্প (H2O)
  2. কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
  3. মিথেন (CH4)
  4. নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
ব্যাখ্যা
- গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়- নাইট্রিক অক্সাইড (NO), এটি মূলত এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী একটি গ্যাস।

গ্রীন হাউজ গ্যাস ও গ্রীন হাউজ প্রভাব:
- শীতপ্রধান দেশে তাপমাত্রা প্রায় 0°C এর কাছাকাছি থাকে, এত কম তাপমাত্রায় শাকসব্জি চাষ চলে না। ফলে কাঁচের ছাউনিযুক্ত ঘর তৈরি করে এর মধ্যে সবুজ (green) শাকসজির চাষ করা হয়।
- সবুজ উদ্ভিদের ঐ কাঁচের ঘরকে গ্রীন হাউজ বলা হয়।
- গ্রীন হাউজের মধ্যে তাপমাত্রা 38°C থেকে 39°C এর মধ্যে থাকে।
- এটি সম্ভব হয় দৃশ্যমান আলোর সব তরঙ্গ গ্রীন হাউজের কাঁচকে ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে।
- ভূপৃষ্ঠ দৃশ্যমান আলো তরঙ্গ (VIBGYOR) দ্বারা উত্তপ্ত হয়, কিন্তু উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি বিকিরণ করে, IR রশ্মি কাঁচ ভেদ করতে পারে না।

গ্রীন হাউজ গ্যাস:
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়।
- এছাড়াও জলীয় বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে।
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
• গ্রিন হাউজ গ্যাস ⇔ বায়ুতে % পরিমাণ
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস ⇔ 49%,
২। মিথেন (CH4) গ্যাস ⇔ 18%,
৩। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) গ্যাস ⇔ 6%,
৪। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) গ্যাস ⇔ 14%,
৫। ওজোন )=(O3) গ্যাস ⇔ 8% এবং
৬। জলীয় বাষ্প।

অন্যদিকে,
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO) এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস।
- এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NO, NO2) ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৯৬৪.
এই শতাব্দীর সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু কোনটি?
  1. হেলির ধূমকেতু
  2. হেলবপ ধূমকেতু
  3. শুমেকার-লেভী ধূমকেতু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
এই শতাব্দীর সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু হল NEOWISE (C/2020 F3)। NEOWISE ২০২০ সালের জুলাই মাসে দৃশ্যমান হয়েছিল এবং এটি ছিল গত ২৫ বছরের মধ্যে উত্তর গোলার্ধে দেখা সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু।

- ধূমকেতু হলো ধুলো, বরফ ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি।
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু।
- ২০৬১ সালের ২৮  জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. [skyandtelescope.org]
১,৯৬৫.
DDT এক ধরনের-
  1. কীটনাশক
  2. বিস্ফোরক
  3. ঔষধ
  4. টিকা
ব্যাখ্যা
• DDT:
- DDT এর পূর্ণরূপ হলো: DichloroDiphenylTrichloroethane
- এটি একটি প্রচলিত রাসায়নিক কীটনাশক, যা মূলত মশা, মাছি, পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করা হতো
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৪০ সালে DDT আবিষ্কৃত হলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ কীটনাশক হিসেবে অজৈব ও উদ্ভিদজাত পদার্থ থেকে গুণগত মানের দিক থেকে উন্নত।

উৎস: ব্রিটানিকা ও U.S. Environmental Protection Agency।
১,৯৬৬.
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় মোট কতটি ATP সৃষ্টি হয়?
  1. ৩২টি
  2. ৩৬টি
  3. ৩৮টি
  4. ৪২টি
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দুভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
ক) সবাত শ্বসন বা বায়বীয় শ্বসন (aerobic respiration) যা অক্সিজেনের উপস্থিতিতে হয়। 
খ) অবাত শ্বসন, অবায়বীয় শ্বসন (anaerobic respiration) যা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয়। 

- সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস ধাপটি কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং ক্রেবস্ চক্রটি মাইট্রোকন্ড্রিয়াতে ঘটে। 
- সবাত শ্বসনে মোট যে ৩৮ টি ATP (অ্যাডিনো সাইন ট্রাই ফসফেট) উৎপন্ন হয়, তা কোষের প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৬৭.
নিউটনের প্রথম গতিসূত্র কী নির্দেশ করে?
  1. জড়তার ধারণা
  2. বল ও ভরের সম্পর্ক
  3. ভরবেগের সংরক্ষণ
  4. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• জড়তার ধারণা — নিউটনের প্রথম গতিসূত্র মূলত বস্তুর জড়তার ধারণা প্রদান করে।

• নিউটনের প্রথম গতিসূত্র:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থিরই থাকবে।
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
- কোনো বস্তু তার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করতে চায় না। বস্তুর এই স্বাভাবিক প্রবণতাকে জড়তা বলা হয়।

• জড়তা:
- জড়তা বস্তুর একটি ধর্ম।
- জড়তার কারণে স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায়।
- জড়তার কারণে গতিশীল বস্তু সমবেগে চলতে চায়।
- জড়তার পরিমাণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে।
- ভর যত বেশি, জড়তা তত বেশি।

• নিউটনের প্রথম সূত্র ও জড়তার সম্পর্ক:
- প্রথম গতিসূত্রকে জড়তার সূত্রও বলা হয়।
- বাহ্যিক বল না থাকলে বস্তুর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে।
- এই সূত্র থেকেই জড়তার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- বল ও ভরের সম্পর্ক → নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রে বল, ভর ও ত্বরণের সম্পর্ক নির্ধারিত হয়।
- ভরবেগের সংরক্ষণ → ভরবেগ সংরক্ষণ নীতি আলাদা নীতি, যা সংঘর্ষ ইত্যাদিতে প্রযোজ্য।
- ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া → নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১,৯৬৮.
উচ্চ ক্ষমতার এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা হয় কোন পদ্ধতির মাধ্যমে-
  1. ক) রেডিওথেরাপি
  2. খ) কেমোথেরাপি
  3. গ) এনজিওগ্রাম
  4. ঘ) এন্ডোসকপি
ব্যাখ্যা

রেডিও থেরাপি (Radio Therapy)
রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়। রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজি জধফরধঃরড়হ ঞযবৎধঢ়ু এর সংক্ষিপ্ত রূপ। রেডিওথেরাপি হলো ক্যানসার আরোগ্য বা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল। এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে। দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।
DNA একটি কোষের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং এটি সকল কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে DNA ধ্বংস করলে কোষটি সাথে সাথেই ধ্বংস হয়। এক্ষেত্রে তেমন সময়ের প্রয়োজন হয় না। এজন্য যে সকল রোগীর ক্যান্সার নিরাময়ে বা সামান্য সময় পাওয়া যায় তাদের ক্ষেত্রে রেডিও থেরাপিই একমাত্র ভরসা। অন্যথায় রোগীর মৃত্যু অনিবার্য।
রেডিও থেরাপিকালে রোগীর কিছু ঝুঁকি দেখা দেয়। যেমন রোগীর চুল পড়ে যায়, চামড়া ঝুলে যায়, মুখের ভিতরের অংশ ও গলা শুকিয়ে যায়, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা বদ হজমে দেখা দেয়। রোগী ক্লান্তি ও অবসাদে ভোগে। তাই রেডিও থেরাপি দেয়ার সময় রোগীকে প্রতিবার একই জায়গায় একই অবস্থানে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। থেরাপি চলাকালে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চলা উচিৎ।
সুত্রঃ এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৬৯.
‘প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত’- মতবাদটির প্রবক্তা?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) অ্যারিস্টটল
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৮০৩ সালে বিজ্ঞানী জন ডাল্টন বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে পরমাণু সম্পর্কে এই মতবাদটি দেন-’ প্রতিটি পদার্থ অজস্র ক্ষুদ্র এবং অবিভাজ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত’।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১,৯৭০.
১ সি.সি. পানির ভর কত?
  1. ক) ১ গ্রাম
  2. খ) ১০ গ্রাম
  3. গ) ১০০ গ্রাম
  4. ঘ) ১০০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
- ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ আর তা হলো১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার
- ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা
- ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৭১.
নিচের কোন উদ্ভিদে কাণ্ডের মাধ্যমে স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন ঘটে?
  1. আদা
  2. পটল 
  3. ডালিয়া
  4. পাথরকুচি
ব্যাখ্যা

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এই ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৭২.
যক্ষ্মা রোগ সাধারণত কোন পথে ছড়ায়? 
  1. বায়ুর মাধ্যমে
  2. পানির মাধ্যমে
  3. খাদ্যের মাধ্যমে
  4. মশার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা রোগ: 
- যক্ষ্মার জীবাণু কেবল ফুসফুসকে আক্রান্ত করে তা নয়, এটি মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি, হাড়সহ দেহের যেকোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সংক্রমণ হতে পারে। 
- তবে ফুসফুসে যক্ষ্মা সংক্রমের হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সরকারি সচেতনতামূলক প্রচারণায় সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। 
- আমাদের এমন কোন অর্গান (অঙ্গ) নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। কারণ যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। আর এই জীবাণু যেকোন অঙ্গেই সংক্রমিত হতে পারে। 
- দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ জন্মগতভাবেই যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বহন করে। তবে শরীরে জীবাণু থাকা মানেই এই নয় যে ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত। 
- তবে জীবাণুর ধারক নিজে আক্রান্ত না হলেও তার মাধ্যমে অন্যের শরীরে যক্ষ্মা ছড়াতে পারে। আর সেটা যেকোন অঙ্গেই হতে পারে। 
- এই জীবাণু থেকে তাদেরই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। 
- এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের এই জীবাণুতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। 
- এছাড়া পরিবেশ দূষণ, দরিদ্রতা, মাদকের আসক্তি, অপুষ্টি, যক্ষ্মার হার বাড়ার অন্যতম কারণ। 

যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ: 
- ফুসফুসে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমিত হলে টানা কয়েক সপ্তাহ কাশি, কফের সাথে রক্ত যাওয়ার মতো সাধারণ কিছু লক্ষণের ব্যাপারে কম-বেশি প্রায় সবারই জানা।
- আরোও কয়েকটি লক্ষণ হচ্ছে- 
- শরীরের যে অংশে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমিত হবে সেই অংশটি ফুলে উঠবে। যেমন গলার গ্লান্ড আক্রান্ত হলে গলা ফুলবে, মেরুদণ্ডে আক্রান্ত হলে পুরো মেরুদণ্ড ফুলে উঠবে।
- ফোলা অংশটি খুব শক্ত বা একদম পানি পানি হবে না। সেমি সলিড হবে। ফোলার আকার বেশি হলে ব্যথাও হতে পারে।
- লিভারে যক্ষ্মা হলে পেটে পানি চলে আসে, তাই পেটও অস্বাভাবিক ফুলে যায়।
- মস্তিষ্কে সংক্রমিত হলে সেখানেও পানির মাত্রা বেড়ে যায়। অর্থাৎ মানুষের মস্তিষ্ক যে ইডিমা বা পানির মধ্যে থাকে, সেটার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- এছাড়া চামড়ায় বা অন্য যেখানেই হোক না কেন সেই অংশটা ফুলে ওঠে।
- এছাড়া ক্ষুধামন্দা, হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া, জ্বর জ্বর অনুভব হওয়া, অনেক ঘাম হওয়া, ইত্যাদি যক্ষ্মার কিছু সাধারণ লক্ষণ। 

যক্ষ্মা রোগ হলে করণীয়: 
- উপরের লক্ষণগুলোর দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 
- সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা পুরোপুরি সেরে যায়, তাই দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেন চিকিৎসকরা। 
- যক্ষ্মা দীর্ঘমেয়াদি রোগ হওয়ায় এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ খেতে হয়। যেটা ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- এমন অবস্থায় যক্ষ্মারোগীদের ধৈর্যের সাথে নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী পুরো মেয়াদে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। 
- তবে অনেক সময় দুই থেকে তিন মাস ওষুধ খাওয়ার পর রোগী খুব ভালো অনুভব করে। তার রোগের সব লক্ষণ চলে যায়। এমন অবস্থায় অনেকেই সেরে উঠেছেন ভেবে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেন। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে আবারও যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এবং তার ক্ষেত্রে আগের ওষুধ কোন কাজে আসেনা। 
- সঠিক সময় চিকিৎসা না নিলে এই জীবাণু শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে এবং চিকিৎসা না নেয়ার কারণে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে জীবাণুটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। 
- যক্ষ্মা নির্ণয়ের জন্য সাধারণত এমটি টেস্ট, স্পুটাম টেস্ট, স্মিয়ার টেস্ট, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, কালচার টেস্ট, এফএনএসি এবং বর্তমান যুগের সবচেয়ে আধুনিক জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা। 

যক্ষ্মা প্রতিরোধের উপায়: 
- যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ানো প্রতিরোধে কিছু বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ- 
• হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া , না হলে অন্তত হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বা সবার থেকে দূরে গিয়ে কাশি দেয়া।
• যেখানে সেখানে থুতু-কফ না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে ভালভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করা বা মাটি চাপা দেয়া।
• কারও মুখের সামনে গিয়ে কথা না বলা অথবা যক্ষ্মা জীবাণুমুক্ত রোগীর সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলা।
• যক্ষ্মা রোগীর আক্রান্ত স্থান, সুস্থ ব্যক্তির ক্ষত স্থানের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা।
• পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
• রোগী জীবাণুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
• থ্রিএইচটি প্রতিরোধক থেরাপির মাধ্যমে এই জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীকে রিফাপেন্টিং নামে একটি ওষুধ প্রতিমাসে একবার করে তিন মাস খেতে হয়। 

উৎস: বিবিসি বাংলা নিউজ [লিঙ্ক]।
১,৯৭৩.
আদর্শ তড়িৎ কোষের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) গ্যালভানিক কোষ
  2. খ) ভোল্টার কোষ
  3. গ) ল্যাটিমার ক্লার্ক
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
প্রমাণ বা আদর্শ কোষ: সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
সুতরাং প্রমিত করার (Standardisation) কাজে অথবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে যেখানে প্রায় অপরিবর্তনীয় তড়িচ্চালক বলের প্রয়োজন হয় সে সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোষ ব্যবহার করা যায় না। 
যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। 
ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরণের কোষ। এগুলোকে পরাবর্ত কোষ (Reversible) বলে।
 
অর্থাৎ, যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ
কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে। 
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭৪.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়?
  1. মিথেন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রাস
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• অক্সিজেন গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।

• গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড, 
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।

- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি - বোর্ড বই, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.

১,৯৭৫.
পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত-
  1. ক) 2:1
  2. খ) 1:1
  3. গ) 1:2
  4. ঘ) 2:2
ব্যাখ্যা
যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হোক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণু সংখ্যা 2:1।
১,৯৭৬.
pH স্কেলের উদ্ভাবক কে?
  1. ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. আরহেনিয়াস
  4. সোরেনসেন
ব্যাখ্যা

• pH :
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে।
- 1909 সালে ড্যানিশ প্রাণ-রসায়নবিদ সোরেনসেন কোনো দ্রবণের H+ ও OH- আয়নের ঘনমাত্রা প্রকাশের জন্য pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH হলো Puissance d' Hydrogen অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়নের প্রাবল্য। 

• pH pOH এর মধ্যে সম্পর্ক-
pH + pOH = 14

• বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7 I অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ।
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে এবং ক্ষার যোগ করলে pH এর মান বাড়তে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৭৭.
কোনটির অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি রোগ হয়?
  1. ট্যানিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. ম্যালিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি: 
- ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান গুকাতে সাহায্য করে। 
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়। 
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন কে এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৭৮.
বিভিন্ন রঙয়ের আলোকরশ্মি পাওয়ার জন্য LED তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) পরিবাহী পদার্থ
  2. খ) অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  3. গ) অপরিবাহী পদার্থ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন রঙয়ের আলোকরশ্মি পাওয়ার জন্য LED তৈরিতে অর্ধপরিবাহী পদার্থ  ব্যবহৃত হয়। 

- LED এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Light Emitting Diode।
- এলইডি হচ্ছে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রাংশ যার ভেতর দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বা তরঙ্গ প্রবাহের মাধ্যমে আলোক নিঃসরণ হয়।
- এটি এমন এক প্রকার পিএন(P-N) জাংশন ডায়োড যা  সম্মুখ ঝোঁকে কাজ করে এবং আলোক নিঃসরণ করে।
- এলইডি হচ্ছে  একটি সম্মুখ ঝোঁক বিশিষ্ট P-N জাংশন ডায়োড। 
- এটি GaAs(গ্যালিয়াম-আর্সেনাইড) GaP(গ্যালিয়াম ফসফাইড) ধরনের অর্ধপরিবাহী যৌগ দ্বারা প্রস্তুত করা হয় যাতে তাদের বেশিরভাগ শক্তি আলো হিসেবে নির্গত হয়।

LED লাইটের ব্যবহারের দিকসমূহ-
১. ইলেকট্রনিক্স মিটারে এলইডি ব্যবহার করা হয়। 
২.  অডিও সিস্টেম বা অডিও  এনালাইজার হিসেবে। 
৩. মনিটরের ব্যাকলাইট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪. বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ইন্ডিকেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৫. রিমোট কন্ট্রোল ট্রান্সমিটার এন্ড রিসিভার ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ৩৫২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯৭৯.
শ্বেত রক্তকণিকা কী প্রক্রিয়া জীবাণু ধ্বংস করে?
  1. ক) থ্রম্বোপ্লাস্টিন
  2. খ) ফাইব্রিনোজেন
  3. গ) সাইটোকাইনোসিস
  4. ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।

শ্বেত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
২. শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
৩. শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
৪. শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
৫. শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮০.
স্যাটেলাইট কোন বলের কারণে ঘুরতে থাকে?
  1. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  2. মাধ্যাকর্ষণ বল
  3. আপেক্ষিক বল
  4. সমান্তরাল বল
ব্যাখ্যা

• স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলো ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট গতিতে চালনা করা হয়।
• কিন্তু পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে ঐ গতি নিয়েই সে বৃত্তাকার পথে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
• কারণ ঐ বলের প্রভাবে পৃথিবী তাকে কেন্দ্রের দিকে টানে তাই সে ঐ সমান্তরাল অবস্থায় থাকতে পারে না।

১,৯৮১.
220V-60W এর বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) ২২০ বিভব পার্থক্যে বাল্বটিতে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে
  2. খ) প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে
  3. গ) প্রতি মিনিটে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
220V -60W-এর অর্থ: তড়িৎ আলাে পাওয়ার জন্য আমরা যে বাল্ব ব্যবহার করি তার গায়ে দুটি সংখ্যার পাশে V এবং W লেখা থাকে। কোনাে বাল্বের গায়ে 220 এবং 60W লেখা থাকলে বােঝা যায় ২২০ বিভব পার্থক্য বালবটিতে সংযুক্ত করলে বাল্বটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং তখন প্রতি সেকেন্ডে ৬০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি আলাে ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৯৮২.
মানুষের হৃদপিণ্ডে কয়টি অলিন্দ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। এর মাঝে রয়েছে দুইটি অলিন্দ এবং দুইটি নিলয়।
১,৯৮৩.
অক্সিজেনের আবিষ্কারক কে?
  1. জর্জেস
  2. ভ্যানহেলমন্ট
  3. যোসেফ প্রিন্টলি
  4. ক্যাভেন্ডিস
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন।
- অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক।

অন্যদিকে, 
- হেনরি ক্যাভেন্ডিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার পৃথিবীর ভর নির্ধারণ এবং মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের গণনা।
- জ্যান ব্যাপটিস্ট ভ্যান হেলমন্ট উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে তার অগ্রণী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত, সাধারণত "willow tree experiment" হিসাবে পরিচিত। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে উদ্ভিদ প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র মাটির চেয়ে মূলত পানি থেকে তাদের ভর অর্জন করে, উদ্ভিদের দেহতত্ত্ব এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে পানির ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।
- জর্জেস কুভিয়ার জীবাশ্মবিদ্যার বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার জন্য এবং জীবাশ্ম অধ্যয়নের মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রজাতির বোঝার জন্য তার অবদানের জন্য বিখ্যাত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৯৮৪.
আধুনিক রসায়ন অনুসারে প্রকৃতিতে কতটি মৌলিক পদার্থ রয়েছে?
  1. ৮৮
  2. ৯০
  3. ৯২
  4. ৯৮
ব্যাখ্যা
• মৌলিক পদার্থ: 
- এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- এই মৌলিক পদার্থগুলোর মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- আর বাকী ২০টি কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থ। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থেরই একটি নাম আছে। 
- আর এদেরকে সংক্ষিপ্ত ও সুবিধাজনকভাবে প্রকাশের জন্যই আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৯৮৫.
বিপর্যয় উপদ্রুত এলাকার জনসাধারণ যখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন তাকে কী বলা হয়?
  1. বিপদাপন্নতা
  2. প্রতিকূলতা
  3. দুর্যোগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ:
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৬.
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে বলা হয়-
  1. আয়ন বায়ু
  2. প্রত্যয়ন বায়ু
  3. মৌসুমী বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৭.
What percentage of the human body is water?
  1. 35%
  2. 65%
  3. 55%
  4. 75%
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর: খ) 65% 

- মানবদেহের একটি বড় অংশই পানি দিয়ে গঠিত।
- গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রায় ৬০% থেকে ৭০% পর্যন্ত পানি থাকে।
- তবে এটি বয়স, লিঙ্গ এবং শরীরের গঠনের উপর নির্ভর করে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ:
- শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ আরও বেশি (প্রায় ৭৫%) হতে পারে।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের পানির পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।

• মানবদেহের গঠন মূলত পানির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের দেহের প্রায় ৬০-৭০% হলো পানি, যা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিভিন্ন হারে থাকে।

• বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী পানির পরিমাণ:
- নবজাতক (শিশু): ৭৫% পর্যন্ত।
- প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ: ৬০-৬৫%।
- প্রাপ্তবয়স্ক নারী: ৫৫-৬০%।
- বয়স্ক মানুষ: প্রায় ৫০-৫৫%।

- নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পানির শতাংশ কিছুটা কম হয়।
- বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহে পানির পরিমাণও কমে আসে।

• পানি আমাদের দেহে নিম্নোক্ত জায়গাগুলিতে থাকে:
- রক্তে: রক্তের প্রায় ৯০% পানি।
- মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডে: প্রায় ৭৩%।
- ফুসফুসে: প্রায় ৮৩%।
- ত্বকে: প্রায় ৬৪%।
- পেশিতে ও কিডনিতে: প্রায় ৭৯%।
- হাড়ে: প্রায় ৩১%।

• পানির কাজ ও গুরুত্ব:
- দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
- বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয় (মূত্র ও ঘাম হিসেবে)।
- রক্ত সঞ্চালন ও পুষ্টি পরিবহনে সহায়ক।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখে।
- হরমোন এবং এনজাইম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
- সবকিছু মিলিয়ে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে পানি থাকে প্রায় ৬৫%, যা তাকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

তাই প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সঠিক উত্তর হলো: খ) 65%

সূত্র: ব্রিটানিকা।

১,৯৮৮.
কোন শ্রেণীর উদ্ভিদের ক্লোরোফিল নেই?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) মস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) ফার্ন
ব্যাখ্যা

- ছত্রাকে ক্লোরোফিল বা অন্য কোনো ফটোসিন্থেটিক পিগমেন্ট না থাকায় এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না।
- তাই ছত্রাক মৃতজীবী বা পরজীবী।
- এরা অভাস্কুলার, অসবুজ ও অপুষ্পক উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৯৮৯.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
  1. ক) কার্বন মনোক্সাইড
  2. খ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. গ) সালফার ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে। 

- কার্বন মনোক্সাইড, এছাড়াও কার্বন মনোক্সাইড হিসাবে পরিচিত, একটি খুব শক্তিশালী আণবিক কাঠামো রয়েছে, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য জড় হয় এবং পানিতে দুর্বল দ্রবণীয়।
- এই কার্বন মনোক্সাইড একটি বিষাক্ত গ্যাস, বর্ণহীন এবং বিস্বাদ, গন্ধহীন হয়। তার রাসায়নিক ফর্মুলা - সিও, এবং একটি একক অণুর ভর 28,01 গ্রাম / Mol হয়।
- কার্বন মনোক্সাইড যেমন অভ্যন্তরীণ জ্বলন ইঞ্জিন যেমন কার্বন, ধারণকারী পদার্থ আংশিক জ্বলন দ্বারা উত্পাদিত হয়।

কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে- 
দুর্বলতা একটি অনুভূতি;
বমি বমি ভাব
মাথা ঘোরা
ক্লান্তি
বিরক্ত
দরিদ্র ক্ষুধা
মাথা ব্যাথা
disorientation
ঝাপসা দৃষ্টি
বমি
অজ্ঞান
খিঁচুনি

সূত্র: Centers of Disease Control and Prevention Website [লিঙ্ক]
১,৯৯০.
লোহাতে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) 5220 m/s 
  2. খ) 332 m/s
  3. গ) 1450 m/s
  4. ঘ) 5220 m/s2
ব্যাখ্যা
মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয় । যেমন বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 m/s, পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং লোহার মধ্যে 5220 m/s
১,৯৯১.
ডেঙ্গু ভ্যাকসিন 'কিউডেঙ্গা' কোন দেশের তৈরি?
  1. ফ্রান্স
  2. জাপান
  3. চীন
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
কিউডেঙ্গা:
- প্রাণঘাতী ডেঙ্গু রোগের একমাত্র বাহক এডিস মশা।
- জরুরি প্রয়োজনে জাপানের তৈরি ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
- জাপানের ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।
- এর আগে জরুরি প্রয়োজনে ওই কোম্পানির টিকাকে ছাড়পত্র দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল।
- জাপানের ওষুধ ও টিকা প্রস্তুতকারী কোম্পানি তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালস ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ তৈরি করেছে।
- ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন অঞ্চলগুলোয় ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সিদের ক্ষেত্রে জাপানের তৈরি টিকা ব্যবহার করা যাবে। 

উল্লেখ্য,
- প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউভিএম) লার্নার কলেজ অব মেডিসিনের গবেষকরা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনের বিরুদ্ধে উপযোগী টিকা নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।
- আইসিডিডিআর,বি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এক ডোজের ডেঙ্গু টিকা টিভি-০০৫ মূল্যায়ন করে দেখা যায়, এটি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োগে নিরাপদ।

উৎস: ৪ অক্টোবর, ২০২০, যুগান্তর। [link]
১,৯৯২.
ইলেকট্রন এর কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কে ধারনা দিতে পারেন নি?
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. মেন্ডেলিভ 
  3. বোর
  4. রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতির ধারণা রাদারফোর্ড দিতে পারেননি।
- পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যার ইতিহাসে বিভিন্ন বিজ্ঞানী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তবে ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার, আকৃতি ও অবস্থান ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রাদারফোর্ডের মডেলে গুরুতর সীমাবদ্ধতা ছিল।
- তার অবদান থাকলেও এই দিকটি তার মডেলে অনুপস্থিত।

• রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল:
রাদারফোর্ড 1911 সালে স্বর্ণপাত (Gold Foil) পরীক্ষা পরিচালনা করে প্রমাণ করেন:
- পরমাণুর অধিকাংশ স্থান ফাঁপা এবং শূন্য।
- কেন্দ্রে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ঘন নিউক্লিয়াস।
- নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জযুক্ত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারদিকে গ্রহের মতো প্রদক্ষিণ করে।

• রাদারফোর্ডের বড় সীমাবদ্ধতা:
- তিনি ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকৃতি, আকার, শক্তিস্তর, ইলেকট্রনের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
- চলন্ত ইলেকট্রন ক্রমাগত শক্তি হারিয়ে নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা, যা বাস্তবে ঘটে না।
- কক্ষপথের বিশেষ আকার (s, p, d, f), শক্তিস্তর, সম্ভাব্য অবস্থান ব্যাখ্যা ছিল অনুপস্থিত।
- ইলেকট্রন কেন ও কীভাবে স্থির থাকে তা ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৯৯৩.
মৃত জীবাণু ভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা কোনটি?
  1. পোলিও
  2. কলেরা
  3. BCG
  4. হাম
ব্যাখ্যা
• মৃত জীবাণু ভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা হলো কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা। 

• নিষ্প্রাণ টিকা তৈরি করা হয় মৃত বা নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু দিয়ে, যা রোগ সৃষ্টি করতে পারে না কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে।

• মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন।
 এগুলো হলো-
- নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine)- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।
- মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine)- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন।
- নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine)- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।
- দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু (Surface chemical molecule)- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি।
- ডিএনএ টিকা (DNA vaccine)- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

তথ্যসূত্র:
- প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৪.
মিয়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে না-
  1. ক) গ্যামেট সৃষ্টির সময় জনন মাতৃকোষে
  2. খ) সপুস্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকে
  3. গ) উন্নত প্রাণিদেহের শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে
  4. ঘ) প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত জীবদেহের দেহকোষে
ব্যাখ্যা
মিয়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে গ্যামেট সৃষ্টির সময় জনন মাতৃকোষে, সপুস্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকের মধ্যে এবং উন্নত প্রাণিদেহে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে। প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত জীবদেহের দেহকোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
১,৯৯৫.
কোনটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. গ্লিসারিন
  2. ফিটকিরি
  3. সােডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
ব্যাখ্যা
• লবণ:
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ।
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ।
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন: অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NHNO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি।
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ, যা প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না।
যেমন: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), সিলভার সালফেট (Ag2SO4), সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯৬.
সাইক্লোন শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) হাতির শুঁড়ের ন্যায়
  2. খ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
  3. গ) প্যাঁচানো সাপ
  4. ঘ) এক চোখা প্রাণী
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘সাইক্লোন’ গ্রিক শব্দ ‘কাইক্লোস’ (Kyklos) থেকে এসেছে। কাইক্লোস শব্দের অর্থ কুন্ডলী পাকানো সাপ। ঘূর্ণিঝড়ের উপগ্রহ চিত্র থেকে এমনতর নামকরণের যথার্থতা বোঝা যায়। ব্রিটিশ-ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ  হেনরী পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত সামুদ্রিক দুর্যোগ বিষয়ক পুস্তক The Sailor’s Horn-book for the Law of Storms -এ প্রথমবারের মতো সাইক্লোন শব্দটি ব্যবহার করেন। 

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)  ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণ  প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের একটি। ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় (Tropical cyclone) বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। পৃথিবীর ৩০º উত্তর এবং ৩০º দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চল গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষিণ আটলান্টিক এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ব্যতীত পৃথিবীর বাদবাকি গ্রীষ্মমন্ডলীয় সাগরাঞ্চল যে মারাত্মক বায়ুমন্ডলীয় দুর্যোগসমূহ জন্ম দিচ্ছে তা সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে গড়ে ৮০টি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১,৯৯৭.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা -
  1. ক) ০.০১ mg
  2. খ) ০.০৫ mg
  3. গ) ০.১ mg
  4. ঘ) ০.৫ mg
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম। তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম। চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
(সূত্রঃ দুর্যোগকোষ)
১,৯৯৮.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. কম
  2. শূন্য
  3. অসীম
  4. সর্বাধিক
ব্যাখ্যা

- শব্দ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার চলাচলের জন্য অবশ্যই একটি জড় মাধ্যমের (যেমন: কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) প্রয়োজন হয়। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো অণু বা পরমাণু থাকে না যা তরঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে, তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না। এই কারণেই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০ মিটার/সেকেন্ড বা শূন্য হয়। 

শব্দ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: পানি) শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম এবং শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৯৯.
ত্বকের কোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. এপিডার্মিস
  2. হাইপোডার্মিস
  3. ডার্মিস
  4. সাবকিউটিস
ব্যাখ্যা

দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। - কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০০০.
মানবদেহে কোষের Chromosome এর সংখ্যা-
  1. ক) ২২ জোড়া
  2. খ) ২৩ জোড়া
  3. গ) ২৪ জোড়া
  4. ঘ) ১৩ জোড়া
ব্যাখ্যা

মানবদেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া।এর মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোসোম এবং ২২ জোরা অটোসোম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান।