বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৯ / ১৪০ · ১,৮০১১,৯০০ / ১৪,০৮০

১,৮০১.
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?
  1. ক) ২৯০৩৫ ফুট
  2. খ) ৩৫০৩৫ ফুট
  3. গ) ৪১০৪১ ফুট
  4. ঘ) ২১০২১ ফুট
ব্যাখ্যা
মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৯০৩৫ ফুট৷
Source: Britannica
১,৮০২.
নিউমোনিয়া রোগের ভাইরাস কোনটি?
  1. অ্যাডিনো
  2. ইবোলা
  3. ভেরিওলা
  4. র‍্যাবিস
ব্যাখ্যা
- নিউমোনিয়া রোগের ভাইরাস হচ্ছে অ্যাডিনো ভাইরাস। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম নিম্নে দেওয়া হলো- 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৩.
চাঁদে কোন বস্তুর ওজন ৩০ কেজি হলে, পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজন কত কেজি হবে?
  1. ৫ কেজি
  2. ৯০ কেজি 
  3.  ১৮০ কেজি 
  4. ২১০ কেজি
ব্যাখ্যা

• চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ হয়, কারণ চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। যদি চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন ৩০ কেজি হয়, তবে পৃথিবীতে সেই একই বস্তুর ওজন হবে প্রায় ৬ গুণ বেশি। অর্থাৎ, পৃথিবীতে বস্তুর ওজন = ৩০ × ৬ = ১৮০ কেজি। তাই সঠিক উত্তর হলো (গ) ১৮০ কেজি। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো, অভিকর্ষ বল বস্তুর ভর এবং গ্রহের অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভর করে, যা চাঁদে তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
- তবে এখানে, ওজনের একক হিসেবে নিউটন দেয়া উচিত ছিল, ভরের একক হচ্ছে - কেজি। 

- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ভর ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ভর হবে ১২০ কেজি। 
- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে। 

আমরা জানি, 
- ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ 
- পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড। 
- তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি। 
- সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি। 

- কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। 
- অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ২০ কেজি।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।

১,৮০৪.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় তাপ তরঙ্গ আকারে সঞ্চালিত হয়?
  1. বিকিরণ পদ্ধতি
  2. পরিচলন পদ্ধতি
  3. পরিবহন পদ্ধতি
  4. সংবহন পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। যথা:
১. পরিবহন,
২. পরিচলন ও
৩. বিকিরণ।

• বিকিরণ পদ্ধতি:
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- সূর্য থেকে আমরা তাপ পাই।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গাকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5 × 108 কি.মি।
- এর প্রায় পুরোটাই শূন্য, কোনো জড় মাধ্যম নেই।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।

• পরিচলন পদ্ধতি:
- কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• পরিবহন পদ্ধতি:
- যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৫.
কোন লাইপোপ্রোটিন শরীরের জন্য ক্ষতিকর? 
  1. LDL
  2. HDL
  3. DDL
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃত এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮০৬.
নিচের কোনটি বহু শর্করার উদাহরণ? 
  1. সুক্রোজ
  2. গ্লাইকোজেন
  3. ফ্রুক্টোজ
  4. মলটোজ
ব্যাখ্যা
শর্করার গঠন: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। 
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। 
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়। 
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন। 

শর্করার উৎস: 
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো- চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি। 
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা। 

শর্করার প্রকারভেদ: 
- গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার। 
যথা: এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)। 
১। এক শর্করা: 
- এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 
ক) গ্লুকোজ- চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি। 
খ) ফ্রুক্টোজ- মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি। 
গ) গ্যালাক্টোজ- দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। 

২। দ্বি-শর্করা: 
- দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ। 
ক) সুক্রোজ- আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস। 
খ) মলটোজ- চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)। 
গ) ল্যাক্টোজ- দুধের শর্করা। 

৩। বহু শর্করা: 
- বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ। 
ক) শ্বেতসার- চাল, গম, আলু, কচু। 
খ) সেলুলোজ- ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা। 
গ) গ্লাইকোজেন- প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৭.
কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়?
  1. ক) মোবাইল
  2. খ) রেডিও
  3. গ) টেলিফোন
  4. ঘ) ফ্যাক্স
ব্যাখ্যা
রেডিও (Radio):
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়।
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু।
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই।
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়।
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮০৮.
কোন সংকর ধাতুটিতে কপার (তামা) অনুপস্থিত?
  1. পিতল
  2. ব্রোঞ্জ
  3. ডুরালুমিন
  4. মরিচাবিহীন ইস্পাত
ব্যাখ্যা
• সংকর ধাতু:
- কতকগুলো ধাতুকে একত্রে গলানোর পর গলিত মিশ্রণকে ঠাণ্ডা করলে যে ধাতু মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 

• সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করাহয়। যেমন- স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু।
- স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- সংকর ধাতু ডুরালুমিনে কপারের পরিমাণ 4% ।
- 21 ক্যারেট ও 22 ক্যারেট স্বর্ণে খাদ হিসেবে কপার ও অন্যান্য ধাতুর পরিমাণ যথাক্রমে 8.33% ও 12.5% । 
- 24 ক্যারেট স্বর্ণে স্বর্ণের পরিমাণ 100% ।

সংকর ধাতু মরিচাবিহীন ইস্পাতে কপার অনুপস্থিত।
- এর উপাদান গুলো হলো লোহা, ক্রোমিয়াম এবং নিকেল। অর্থাৎ এতে কপার বা অন্য কোনো খাদ থাকে না। 


তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৮০৯.
জৈবিক মুদ্রা (Biological Coin) হিসেবে পরিচিত যৌগটি কোনটি?
  1. ATP
  2. FTP
  3. NADH
  4. NADPH
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১০.
মানবদেহের কোন অঙ্গাণুতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে?
  1. জিহ্বায়
  2. চোখে
  3. গলবিলে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। 
- এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। 
- এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১১.
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) কতটি মৌল শনাক্ত করেছে?
  1. 112
  2. 108
  3. 118
  4. 120
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC)
 - আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
 - IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
 - 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
 - ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
 - মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১,৮১২.
রেকটিফায়ারকে কী বলা হয়? 
  1. রেজিস্টর 
  2. কন্ডেন্সার 
  3. একমুখীকারক
  4. ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- ​রেকটিফায়ারকে একমুখীকারক বলা হয়।  
- একমুখীকারক দুই প্রকার।
যথা- (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৩.
রক্তের রং লাল হয় কিসের উপস্থিতির ফলে?
  1. ক) গ্লোবিউলিন
  2. খ) এরিথ্রোসাইট
  3. গ) হিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) থ্রম্বোপ্লাস্টিন
ব্যাখ্যা

- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৯৭।]

১,৮১৪.
CFC গ্যাস কী?
  1. ক) ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
  2. খ) কমপ্লেন্ড ফ্লুরো কার্বন
  3. গ) কমন ফ্লুরোকার্বন
  4. ঘ) ক্লোরোফেরিক কার্বন
ব্যাখ্যা
CFC গ্যাস:
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর।
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,৮১৫.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ট্যাকোমিটার 
  2. অডিওমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৮১৬.
কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয়-
  1. ক) ফ্লোরিজেন
  2. খ) অক্সিন
  3. গ) ভার্নালিন
  4. ঘ) ইথিলিন
ব্যাখ্যা

• কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয় ইথিলিন।
• পসটুলেটেড হরমোনের উদাহরণ- ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন।
• ফ্লোরিজেন উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
• শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
• অকালে ফলের ঝরা পড়া বন্ধ করে অক্সিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান।

১,৮১৭.
ট্রান্সফরমার কোন শক্তি রূপান্তর করে? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. বিভব পার্থক্য
  3. তাপ শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তির ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়।

- এটি AC (Alternating Current) সার্কিটে কাজ করে এবং শক্তির ক্ষতি ছাড়াই ভোল্টেজ বৃদ্ধি (Step-up) বা হ্রাস (Step-down) করতে সক্ষম।
- ট্রান্সফরমারের মূল কাঠামোতে থাকে দুটি কয়েল প্রাইমারি কয়েল এবং সেকেন্ডারি কয়েল, যা একটি লৌহ কোরের মাধ্যমে একে অপরের সাথে চৌম্বকীয়ভাবে সংযুক্ত থাকে।
- যখন প্রাইমারি কয়েলে বৈদ্যুতিক প্রবাহ আসে, তখন এটি একটি চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে।
- এই চৌম্বক ক্ষেত্র সেকেন্ডারি কয়েলে ইনডাকশন ঘটায়, ফলে সেকেন্ডারি কয়েলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
- এই পদ্ধতিতে ভোল্টেজ পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু শক্তির ধরণ পরিবর্তিত হয় না

সারসংক্ষেপে, ট্রান্সফরমার যান্ত্রিক শক্তি, তাপ শক্তি বা রাসায়নিক শক্তি নয়, বরং বিদ্যুতের বিভব পার্থক্য রূপান্তর করে, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় দূরত্ব অনুযায়ী ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- Britannica [লিংক]।

১,৮১৮.
স্টেইনলেস স্টিলে ব্যবহৃত হয়-
  1. লোহা + নিকেল + ক্রোমিয়াম
  2. লোহা + দস্তা + ক্রোমিয়াম
  3. লোহা + সিসা +অ্যালুমিনায়াম
  4. লোহা + সিসা + ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা
• স্টেইনলেস স্টিলে ব্যবহৃত হয় লোহা(৭৪%) + নিকেল(৮%) + ক্রোমিয়াম(১৮%)

• সংকর ধাতু:

- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্রধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১৯.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. পটাশিয়াম
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন নামক খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়।
মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ।
- বায়ুমণ্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার।
- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট।
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে।
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়।
- গাছপালা তখন মাটি থেকে 'নাইট্রোজেন' শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু এটি ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২০.
টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
• শক্তির রূপান্তর:
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।

• কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হল:
১. রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর:
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়।
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।

২. তাপ শক্তির রূপান্তর:
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়।

৩. আলোক শক্তির রূপান্তর:
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে।
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

৪. যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর:
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৫. বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

৬. শব্দ শক্তির রূপান্তর:
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৭. নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর:
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়।
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২১.
কোনটি কৃত্রিম তন্তু?
  1. রেয়ন
  2. লিনেন
  3. রেশম
  4. অ্যাসবেস্টস
ব্যাখ্যা
আমাদের অতিপ্রয়োজনীয় তন্তু উৎস অনুযায়ী দুই রকম হয়।

প্রাকৃতিক তন্তু
সুতি কাপড় তৈরির জন্য তুলা (Cotton), পাট, লিনেন, রেশম, পশম, উল, সিল্ক, অ্যাসবেস্টস, ধাতব তন্তু ইত্যাদি যেগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, সেগুলোকে আমরা প্রাকৃতিক তন্তু বলি।

কৃত্রিম তন্তু
অন্যদিকে, পলিস্টার, রেয়ন, ডেক্রন, নাইলন ইত্যাদি যেগুলো বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়, সেগুলো হলো কৃত্রিম তন্তু।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি। 
১,৮২২.
যে সকল উদ্ভিদের কখনো ফুল হয়না তাদের বলা হয়?
  1. ক) অপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. খ) সপুষ্পক উদ্ভিদ
  3. গ) মিথোজীবী উদ্ভিদ
  4. ঘ) স্বভোজী উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল ও ফল হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়।
- যেমন- ক্লোরেলা, নস্টক, মস, ফার্ন ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮২৩.
ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয় কোনটির আবিষ্কারের মাধ্যমে?
  1. রোবট
  2. কম্পিউটার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. টেলিভিশন
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়। 
 
• ট্রানজিস্টর:
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- এটি ভ্যাকুয়াম টিউবের বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়। 

• ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories–এ John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
- এটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর-এর বিকাশের পথ তৈরি করে, যা আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের মূল ভিত্তি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 
১,৮২৪.
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান কোনটি? 
  1. 6.023×10 - 23
  2. 602.3×1023
  3. 6.023×1023
  4. 60.23×10 - 23
ব্যাখ্যা
অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা: 
- অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার মান 6.023×1023
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023। 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023। 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৫.
শ্বসনের ফলে কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) শক্তি
  3. গ) জলীয় বাষ্প
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

যে বিশেষ জৈবনিক প্রক্রিয়ায় জারণের ফলে সজীব কোষস্থ খাদ্য স্থিতিশক্তি তাপ ও গতিশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয় তাকে শ্বসন বলে। তাই মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস হলো শ্বসন।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২৬.
সালফারের যোজনী কত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ একে অপরের সাথে সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ অথবা ভাগাভাগির মাধ্যমে অণু গঠন করে। অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলা হয়।

সাধারণত সব সময় হাইড্রোজেনের যোজনী এক (1) ধরা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলো ঐ পরমাণু বা H পরমাণু বা Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে সেই সংখ্যাই হলো ঐ মৌলের যোজনী বা যোজ্যতা।

হাইড্রোজেনের একটি পরমাণু ক্লোরিনের একটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে HCl অণু গঠিত হয়, তাই ক্লোরিনের যোজনীও 1 (এক)। আবার অক্সিজেনের একটি পরমাণু হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে H2O তৈরি করে, এজন্য অক্সিজেনের যোজনী 2 (দুই)। একটি Na পরমাণু একটি Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে NaCl গঠিত হয়। সুতরাং Na এর যোজনী 1 (এক)।
একটি পরমাণুর সাথে যতটি অক্সিজেন পরমাণু যুক্ত হয় তার সেই সংখ্যার দ্বিগুণ করলে ঐ পরমাণুর যোজনী বা যোজ্যতা হয়। যেমন : ক্যালসিয়াম (Ca) এর একটি পরমাণু একটি অক্সিজেন (O) পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) তৈরি করে। এখানে অক্সিজেন পরমাণুর সংখ্যা 1 এই সংখ্যাকে 2 দ্বারা গুণ করলে হয় 2। কাজেই ক্যালসিয়ামের যোজনী 2 ।
কিছু কিছু মৌলের একাধিক যোজনী থাকে। কোনো মৌলের একাধিক যোজনী থাকলে সেই মৌলের যোজনীকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলা হয়। যেমন: Fe এর পরিবর্তনশীল যোজনী 2 এবং 3। সালফারের পরিবর্তনশীল যোজনী ২, ৪, ৬। 

কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী এবং সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলা হয়। যেমন: FeCl2 যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী 2 কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3 অতএব FeCl2 যৌগে Fe এর সুপ্ত যোজনী 3 – 2 = 1। আবার FeCl, যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী ও কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3. অতএব FeCl, যৌগে Fe এর সপ্ত যোজনী 3 - 3=0 |

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি
১,৮২৭.
একটি সিনক্রোনাস মোটরের ফিল্ড under excited হলে পাওয়ার ফ্যাক্টর হবে-
  1. Leading
  2. Lagging
  3. Unity
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• If the field of a synchronous motor is under excited, then the power factor will be lagging
• If the field of a synchronous motor is overexcited, then it acts as a synchronous capacitor and the corresponding power factor will be leading
• At normal excitation, synchronous motor works at the unity power factor
• A Synchronous motor can operate at all the power factors.
১,৮২৮.
DNA কাটা হয় কী দ্বারা?
  1. ইলেকট্রন
  2. সূক্ষ ইলেকট্রিক ছুরি
  3. লাইগেজ এনজাইম
  4. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
ব্যাখ্যা

• রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Enzyme):
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Endonuclease) হল এক ধরনের এনজাইম, যা নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স (Recognition Site) চিনে DNA কেটে ছোট টুকরোয় বিভক্ত করে।
- Escherichia coli একটি জনপ্রিয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে (Restriction Enzyme) আণবিক কাঁচি (Molecular Scissors) বলা হয়।

• ব্যবহার:
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ DNA কাটার জন্য।
- DNA ক্লোনিং ও রিকম্বিনেন্ট DNA (rDNA) প্রযুক্তিতে।
- PCR ও জেল ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষায়।
- DNA টেস্টিং পরিক্ষায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

১,৮২৯.
কোন দূষক পদার্থটি সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না?
  1. নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
  2. সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
  3. সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
  4. অ্যামোনিয়া (NH3)
ব্যাখ্যা
• প্রাইমারি দূষক:
যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে।
যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
- অ্যামোনিয়া (NH3)
- ছাই, ধুলিকণা
- Volatile organic compounds (VOCs)

• সেকেন্ডারি দূষক:
যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে।
যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
- নাইট্রিক এসিড (HNO3)
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4)
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2)
- অ্যামোনিয়াম (NH4+)
- ওজোন (O3)

উল্লেখ্য - কিছু দূষণকারী পদার্থ প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উভয় দূষকই হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ: নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড জীবাশ্ব-জালানী থেকে এবং বজ্রপাত থেকে সৃষ্টি হয়, আবার এটি অন্যান্য রাসায়নিক থেকেও বায়ুমণ্ডলে তৈরি হতে পারে।

সূত্র: University of California এবং Energy Education
১,৮৩০.
যদি ঘরের তাপমাত্রা ৩০৩.১৫ কেলভিন হয় তবে সেটা সেলসিয়াস স্কেলে কত হবে?
  1. ক) ৩৩°
  2. খ) ৩০°
  3. গ) ৩২°
  4. ঘ) ৩০.১৫°
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেলের সাথে ২৭৩.১৫ যোগ করলেই কেলভিন স্কেল পাওয়া যায়৷ কাউকে ঘরের তাপমাত্রা জিজ্ঞেস করলে সে যদি ৩০° সেলসিয়াস না বলে ৩০৩.১৫ কেলভিন (৩০ + ২৭৩.১৫) বলে তাহলে সেটাও সঠিক হবে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৮৩১.
সাধারণত মুকুল জন্মে -
  1. পত্রকক্ষে
  2. কান্ডে
  3. পর্বে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪ । পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৮৩২.
বায়োমে বাসকারী জীবেরা কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে?
  1. পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে
  2. আলাদা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলে
  3. শিকার করে
  4. একে অপরকে এড়িয়ে চলে
ব্যাখ্যা
• বায়োম:
- পৃথিবীর কোনো বিশাল অঞ্চলে প্রায় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব সম্প্রদায় একত্রে যে সুসংহত জীবন গড়ে তুলে তাকে বায়োম বলে।
- বায়োমে যারা বাস করে তারা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একে অন্যকে প্রভাবিত করে।
- পৃথিবীর সকল বায়োম বা সজীব বস্তু মিলে গড়ে উঠে জীবমন্ডল।
- জীবমন্ডল হলো এক বিশাল বাস্তুসংস্থান যেখানে জীবের সম্মিলিত অস্তিত্ব গড়ে তুলে এক নতুন পরিবেশ।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানারকম আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্যের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বায়োম গড়ে উঠে। যেমন- অরণ্য, মরুভূমি, তৃণভূমি ইত্যাদি।
- বায়োমে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সদস্যের মধ্যে সমতা বজায় থাকে।

• বায়োমের বৈশিষ্ট্য:
 ১. বায়োমে বৈশিষ্ট্যসূচক উদ্ভিদ ও প্রাণি বিদ্যমান থাকে।
২. সকল বায়োম ক্রমবর্ধমান পর্যায়ে সিরিজ অতিক্রম করে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
৩. আঞ্চলিক পরিবেশে এগুলোর প্রত্যেকটি মোটামুটি ভারসাম্য অবস্থা বহন করে।
৪. প্রত্যেক বায়োম প্রাকৃতিক অবস্থায় নিজস্ব ভারসাম্য প্রকাশ করে এবং এই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অন্য বায়োম হতে পৃথক।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৩.
বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে গেলে বস্তুর ওজনের কী পরিবর্তন হয়? 
  1. ওজন শূন্য হয়
  2. ওজন কমে
  3. ওজন বাড়ে
  4. ওজন অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য: 
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়। 
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়। 
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৮৩৪.
গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে এমন গ্যাসগুলোর মধ্যে কোনটির পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সর্বাধিক?
  1. ওজোন
  2. মিথেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা

- গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে এমন গ্যাসগুলোর মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)-এর পরিমাণ সর্বাধিক। 

গ্রীন হাউজ গ্যাস: 
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়। 
- এছাড়াও জলীয় বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। 
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি, তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। 

গ্রিন হাউজ গ্যাস ⇔ বায়ুতে % পরিমাণ:
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস ⇔ 49%, 
২। মিথেন (CH4) গ্যাস ⇔ 18%, 
৩। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) গ্যাস ⇔ 6%, 
৪। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) গ্যাস ⇔ 14%, 
৫। ওজোন (O3) গ্যাস ⇔ 8% এবং 
৬। জলীয় বাষ্প ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

১,৮৩৫.
কোমল পানীয়তে কোনটি দ্রবীভূত থাকে?
  1. অক্সালিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. কার্বনিক এসিড
  4. ফলিক এসিড
ব্যাখ্যা
কোমল পানীয়:
- কোমল পানীয় হলো অ্যালকোহল মুক্ত মিষ্টি, ঠান্ডা এবং কার্বনেটেড পানীয়।
- কোমল পানীয়তে কার্বনিক এসিড দ্রবীভূত থাকে।
- কোমল পানীয় পান করার সময় এ থেকে একটি গ্যাস বুদ বুদ আকারে বের হয়।
- এ গ্যাস হচ্ছে CO2 যা উচ্চ চাপে ও ঠান্ডা অবস্থায় দ্রবীভূত করা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- CO2 পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক এসিড উৎপন্ন করে।
- কার্বনিক এসিড একটি মৃদু এসিড, যা পানিতে খুবই অল্প পরিমাণে বিয়োজিত হয়।
- এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে পরিপাকে সহায়তা করে।

CO2(g) + H2O → [H2CO3]

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৬.
নিচের কোনটির প্রভাবে তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না? 
  1. তাপ
  2. তড়িৎক্ষেত্র
  3. চৌম্বকক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার।
যথা- 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা:
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা:
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়। 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। 
- তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা (α), বিটা কণিকা (β) ও গামা রশ্মি (γ)নির্গত হয়। 
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৭.
ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়-
  1. সাপ
  2. কেঁচো
  3. মাছ
  4. পাখি
ব্যাখ্যা

- কেঁচো ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে।
- এরা মাটির নিচে বাস করে।
- কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ।
- এরা ফসলের জমি ওলট-পালট করে উপরের মাটি নিচে ও নিচের মাটি উপরে তুলে আনে।
- তাই কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৩৮.
এক আলোকবর্ষ কত মাইল?
  1. ক) ৫.৬৬ ট্রিলিয়ন মাইল
  2. খ) ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল
  3. গ) ৬. ৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল
  4. ঘ) ৬.৬৬ ট্রিলিয়ন মাইল
ব্যাখ্যা

আলোকবর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে মহাকাশ সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
এক আলোক বর্ষ সমান ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

সূত্র: স্পেস.কম ওয়েবসাইট

১,৮৩৯.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা

• যকৃতের রোগ হচ্ছে - জন্ডিস। 

জন্ডিস: 

- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৪০.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ? 
  1. স্নেহ
  2. আমিষ
  3. লৌহ
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ। 
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,৮৪১.
Stainless steel-এর কম্পোজিশনে steel ছাড়া আর কী উপাদান মিশ্রিত আছে?
  1. তামা
  2. নিকেল
  3. সোডিয়াম
  4. ভ্যানাডিয়াম
ব্যাখ্যা

• Stainless steel মূলত লোহা (iron) এবং কার্বনের মিশ্রণ, তবে এটিকে ক্ষয়রোধী এবং শক্তিশালী করতে অন্যান্য উপাদানও মিশ্রিত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিকেল। নিকেল stainless steel-এর ক্রমবর্ধমান জং প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নরম লৌহের তুলনায় দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। এছাড়া কিছু stainless steel-এ ক্রোমিয়ামও মিশ্রিত থাকে, যা পৃষ্ঠকে অক্সিডেশন থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, তামা, সোডিয়াম বা ভ্যানাডিয়াম সাধারণত stainless steel-এর প্রধান কম্পোজিশনে থাকে না। তাই প্রশ্নের চার অপশনের মধ্যে সঠিক উত্তর হলো খ) নিকেল, যা steel-এর সঙ্গে মিশে এটি আরও টেকসই এবং জং-প্রতিরোধী করে।

• সংকর ধাতু:
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না।
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং অন্য এক বা একাধিক পদার্থ থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু।
যেমন - পিতলের মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং জিংক 35% থাকে।
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়।

যেমন-
• স্টিলের মধ্যে লোহা প্রধান ধাতু এবং কার্বন অপ্রধান অধাতু। স্টিলে লোহা থাকে 99% এবং কার্বন থাকে 1% এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়।
• কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%। এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু।
• আবার, পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%। এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু।
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)।
 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৪২.
What is the average lifespan of a red blood cell?
  1. 15 days
  2. 60 days
  3. 90 days
  4. 120 days
  5. 140 days
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- 
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৪৩.
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. হিলিয়াম
  2. ক্রিপ্টন
  3. আর্গন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা

গাইগার-মূলার (GM) কাউন্টার হলো একটি তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকারী যন্ত্র। এর ভেতরে নিম্ন চাপে মূলত আর্গন (Argon) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যখন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (যেমন: আলফা বা বিটা কণা) টিউবের ভেতর প্রবেশ করে, তখন এটি আর্গন পরমাণুকে আয়নিত করে। এই আয়ননের ফলে একটি ক্ষণস্থায়ী বিদ্যুৎ প্রবাহ বা পালস তৈরি হয়, যা যন্ত্রের সাহায্যে গণনা করা যায়।

• আর্গন গ্যাস: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৪.
আধান বা চার্জের একককে কী দিয়ে প্রকাশ করে?
  1. ক) C
  2. খ) A
  3. গ) V
  4. ঘ) Hz
ব্যাখ্যা
আধানের একককে কুলম্ব C এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের একককে এম্পিয়ার A দ্বারা প্রকাশ করা হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৮৪৫.
বাণিজ্যিকভাবে অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন উৎপাদনের জন্য কোন ছত্রাক ব্যবহৃত হয়?
  1. Penicillium notatum
  2. Penicillium griseofulvum
  3. Penicillium chrysogenum
  4. Rhizopus stolonifer
ব্যাখ্যা

• বাণিজ্যিকভাবে অধিক ও উন্নত মানের পেনিসিলিন Penicillium chrysogenum থেকে উৎপাদিত হয়।

• অ্যান্টিবায়োটিক ও ঔষধ শিল্পে ছত্রাকের ব্যবহার:

- গ্রাইসিওফুলভিন প্রস্তুতকরণ:
- Penicillium griseofulvum নামক ছত্রাক প্রজাতি থেকে গ্রাইসিওফুলভিন নামক ঔষধ প্রস্তুত করা হয়।
- এই ঔষধ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দাদ ও ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

- পেনিসিলিনের আবিষ্কার ও উৎপাদন:
- ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি প্রথমে Penicillium notatum ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন প্রস্তুত করেন।

- বাণিজ্যিক উৎপাদন:
- পরবর্তীতে Penicillium notatum থেকে উৎপাদন কম হওয়ায়,
- Penicillium chrysogenum থেকে উচ্চ মানের ও অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৬.
সরল টিস্যু কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
- ভাজক টিস্যু ও
- স্থায়ী টিস্যু।

স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার।
যথা:
১. সরল টিস্যু,
২. জটিল টিস্যু ও
৩. ক্ষরণকারী টিস্যু।

সরল টিস্যু আবার তিন প্রকার।
যথা:
- প্যারেনকাইমা,
- কোলেনকাইমা ও
- স্ক্লেরেনকাইমা।

জটিল টিস্যু দুই প্রকার।
যথা:
- জাইলেম ও
- ফ্লোয়েম।

ক্ষরণকারী টিস্যু ২ প্রকার।
যথা:
- তরুক্ষীর টিস্যু ও
- গ্রন্থির টিস্যু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৮৪৭.
এইডস (AIDS) রোগ প্রথম কোথায় চিহ্নিত হয়? 
  1. আমেরিকায়
  2. আফ্রিকায়
  3. বেলজিয়ামে
  4. লন্ডনে
ব্যাখ্যা
এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। 

- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৪৮.
সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে কিসের অ্যানোড ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) কপার
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ধাতুর নিষ্কাশনে গ্রাফাইট দন্ড অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। এবং লোহার বলয় ক্যাথোড রূপে কাজ করে।
১,৮৪৯.
টিকা সাধারণত কী দিয়ে তৈরি করা হয়?
  1. সম্পূর্ণ সক্রিয় জীবাণু
  2. নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত জীবাণু
  3. অ্যান্টিবডি
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা

• টিকা তৈরিতে মৃত বা দুর্বলকৃত অণুজীব ব্যবহৃত হয়।

• প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় টিকার ভূমিকা:

• টিকার উৎপত্তি ও অর্থ:
- ভ্যাকসিন শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ভ্যাকসিনা (vaccinus) থেকে এসেছে, যার আক্ষরিক অর্থ হলো গরু থেকে প্রাপ্ত।

• টিকার আবিষ্কার:
- ড. এডওয়ার্ড জেনার (Dr. Edward Jenner) ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম বসন্ত রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
- পরবর্তীকালে বহু বছর গবেষণার মাধ্যমে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়।

• টিকার সংজ্ঞা:
- টিকা হলো দেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় বা দুর্বলকৃত রূপ, যা দেহে প্রবেশ করিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা হয়।

• টিকার গঠন ও প্রকার:
- টিকা তৈরিতে ব্যবহৃত অণুজীব (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) হতে পারে—
- জীবিত কিন্তু দুর্বলকৃত, অথবা
- সম্পূর্ণ মৃত।

• টিকার কার্যপ্রণালি:
- টিকা দেহে প্রবেশ করলে এটি অ্যান্টিজেনের মতো আচরণ করে, ফলে দেহে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- এর মাধ্যমে দেহ ভবিষ্যতে একই রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে।

• টিকার উৎস:
 - অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকা ভাইরাস থেকে প্রস্তুত করা হয়।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫০.
নিচের কোন গ্রহটিকে 'Red Planet' বলা হয়?
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মঙ্গল গ্রহকে 'Red Planet' বলা হয়।

মঙ্গল গ্রহ:
- সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ মঙ্গল।
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২৮ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় নেয়।
- এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৩৯০ কিলোমিটার (২১০৬ মাইল)।
- এর আকার পৃথিবীর আকারের অর্ধেক।
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহে আলো পৌছাতে সময় লাগে ১৩ মিনিট।
- নিজ কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৪ ঘন্টা।
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি: ফোবোস ও ডিমোস।

উল্লেখ্য,
- এই গ্রহটিকে ‘লাল গ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়।
- মঙ্গলের লালাভ হওয়ার পেছনে মূল কারণ এর পৃষ্ঠে প্রচুর আয়রন অক্সাইড আছে।
- নাসার বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলের কেন্দ্রেও লোহা আছে, তবে পরিমাণে অঢেল হওয়ায় গ্রহটির পৃষ্ঠেও লোহার একটি আবরণ তৈরি হয়েছে। সে কারণেই লাল দেখায়।

উৎস: i) NASA (.gov).
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫১.
জীবাণু বিজ্ঞান কোন বিদ্যার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) রসায়ন বিজ্ঞান
  2. খ) পদার্থ বিজ্ঞান
  3. গ) উদ্ভিদবিজ্ঞান
  4. ঘ) জড় বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
জীবাণু বিজ্ঞান হচ্ছে উদ্ভিদবিজ্ঞান  এর অন্তর্ভুক্ত। 



সূত্র: ৬ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫২.
ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী
  2. নমনীয়
  3. ভঙ্গুর
  4. অনুজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য বলতে এমন কিছু গুণ বোঝানো হয় যা বেশিরভাগ ধাতব পদার্থে দেখা যায়। 

• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- নমনীয়তা (Malleability) – চাপ প্রয়োগ করলে ধাতুকে পাত বা বিভিন্ন আকারে গড়া যায়।
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী (Conductivity) – ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করে। (উদাহরণ: তামা, রূপা)
- উজ্জ্বলতা (Luster) – অধিকাংশ ধাতু চকচকে বা উজ্জ্বল হয়।
-  প্রসারণযোগ্যতা (Ductility) – ধাতুকে প্রসারিত করে তারে পরিণত করা যায়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।  
১,৮৫৩.
চিত্রের OR রশ্মিকে কী বলা হয়?
  1. অভিলম্ব
  2. বিভেদ তল
  3. প্রতিসরিত রশ্মি
  4. আপতিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিসরণ (Refraction of Light): 
- আমরা জানি আলোক রশ্মি স্বচ্ছ ও সমসত্ত্ব মাধ্যমে সবসময় সরল রেখায় চলে। 
- কিন্তু আলোকরশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন তার গতিপথ বেঁকে যায়। 
- আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে লম্বভাবে আপতিত না হয়ে যদি তির্যকভাবে আপতিত হয় তাহলে মাধ্যম দুটির বিভেদতলে আলোক রশ্মির গতিপথ পরিবর্তনের এ ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলা হয়। 
- এ রশ্মি চিত্রের সাহায্যে আলোর প্রতিসরণ দেখানো হয়েছে। 


- চিত্রে, XY বিভেদ তল। 
- PO একটি আলোক রশ্মি বিভেদ তলের O বিন্দুতে আপতিত হয়ে OR পথে কাচের মধ্যে গমন করে। 
- MN হলো অভিলম্ব, PO আপতিত রশ্মি এবং O হলো আপতন বিন্দু। 

আমরা জানি,
- বায়ু অপেক্ষা কাঁচের ঘনত্ব বেশি।
- রশ্মিটি বায়ু মাধ্যম হতে কাঁচ মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় OQ পথে না গিয়ে একটু বেঁকে ON এর দিকে সরে গিয়ে OR পথে গমন করে।
এখানে, OR হচ্ছে প্রতিসরিত রশ্মি। 
তাহলে চিত্র হতে পাওয়া যায়,
∠POM = আপাতন কোণ = ∠i এবং ∠RON = প্রতিসরণ কোণ = ∠r  ।
আপতন কোণ ∠i, প্রতিসরণ কোণ ∠r থেকে বৃহত্তর হয়।
অর্থাৎ, ∠i > ∠r  । 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৪.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কোনটি তৈরি করে? 
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. ভিটামিন
  3. লিপিড
  4. অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। 
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে। 
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে। 
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল হলো তার প্রধান উপকরণ। 
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়। 
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৫.
বায়ুমণ্ডলের উৎপত্তি হয়েছে প্রধানত- 
  1. মহাকাশীয় ধূলিকণা থেকে
  2. সৌর বিকিরণ থেকে
  3. সমুদ্রের জলীয় বাষ্প থেকে 
  4. ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উৎপত্তি মূলত ভূ-অভ্যন্তর থেকে নির্গত গ্যাসের (outgassing) কারণে হয়েছে, যা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং অন্যান্য ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটেছে। 

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে। 
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর। 
- বায়ুমণ্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত।
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর মধ্যে নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২ এবং অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১ এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫৬.
'ড্রাই আইস' (dry ice) হলো -
  1. কঠিন অবস্থায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. কঠিন অবস্থায় সালফার ডাইঅক্সাইড
  3. শূন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে বরফ
  4. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের কঠিন অবস্থা
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো হিমায়িত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাই, যা ঠাণ্ডা -78.5° C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১,৮৫৭.
নিচের কোন মৌমাছিটি প্রজননে সক্ষম?
  1. ক) স্ত্রী মৌমাছি
  2. খ) কর্মী মৌমাছি
  3. গ) রাণী মৌমাছি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
একটি মৌচাকে বা পরিবারে তিন শ্রেণীর মৌমাছি থাকে। যথা: (১) রাণী, (২) পুরুষ ও (৩) শ্রমিক মৌমাছি। রাণী মৌমাছি সবচেয়ে বড় প্রকৃতির। একটি চাকে একটি মাত্র রাণী মৌমাছি থাকে। এর একমাত্র কাজ ডিম পাড়া। এটি প্রজননে সক্ষম। একটি রাণী মৌমাছির আয়ুষ্কাল প্রায় ২/৩ বছর।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৮৫৮.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. Sirius
  2. Crab Nebula
  3. J0529-4351
  4. Sun
ব্যাখ্যা
• J0529-4351 একটি কোয়াসার, অথবা একটি গ্যালাক্সির উজ্জ্বল কেন্দ্র, যা এখন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু।

• কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 

- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৯.
মহাজাগতিক রশ্মিতে সবচেয়ে বেশি থাকে-
  1. নিউট্রন
  2. প্রোটন
  3. কার্বন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মিতে সবচেয়ে বেশি থাকে প্রোটন (৮৯ ভাগ)।

• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মিকে বলে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে।
- বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা। 
১,৮৬০.
কোন শর্করাটি প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া যায়?
  1. গ্লাইকোজেন
  2. শ্বেতসার
  3. সুক্রোজ
  4. সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন- 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 

১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: 
- ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। 
- এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 

২। সেলুলোজ: 
- বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 

৩। সুক্রোজ: 
- আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 

৪। ফ্রোক্টোজ: 
- আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। 
- একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 

৫। গ্লুকোজ: 
- এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। 
- এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 

১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: 
- গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 

২। গ্লাইকোজেন: 
- পশু ও পাখি জাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬১.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী কোনটি ধ্রুব রাশি নয়?
  1. ভর
  2. স্থান
  3. সময়
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়।
- এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়।
- কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
- উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
- আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬২.
হিমোগ্লোবিন কী করে? 
  1. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে 
  2. শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে 
  3. খাদ্য হজমে সাহায্য করে 
  4. অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহন করে
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৬৩.
জাপানের টোকিও শহর ও ঢাকা শহরের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫° হলে এই দুই শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য কত?
  1. ১.৫ ঘণ্টা
  2. ২.৫ ঘণ্টা
  3. ৩ ঘণ্টা
  4. ৩.৫ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
-একই ভাবে দুই স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্যের সাথে ৪ গুণ করে দুই স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, পৃথিবীতে প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
∴৪৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হবে (৪৫ × ৪)=১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।

অর্থাৎ জাপানের টোকিও শহর ও ঢাকা শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।

উত্তর: এই দুই শহরের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য ৩ ঘণ্টা।
১,৮৬৪.
১৯৬৯ সালে প্রথম টেস্ট টিউব বেবি জন্মদান সাফল্যের বিজ্ঞানী ছিলেন-
  1. ক) ড. পেট্রিক স্টেপটো
  2. খ) ড. রবার্ট এডয়ার্ড
  3. গ) ড. পেট্রুসি
  4. ঘ) উপরের সবাই
  5. ঙ) উপরের কেউই নয়
ব্যাখ্যা
ইতালির ড. পেট্রুসি ১৯৫৯ সালে প্রথম টেস্টটিউব বেবি জন্মদান সাফল্যের বিজ্ঞানী ছিলেন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৮৬৫.
নিচের কোন টেলিস্কোপটি সম্প্রতি ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সমর্থ হয়েছে?
  1. ক) ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ
  2. খ) হাবল টেলিস্কোপ
  3. গ) জেমস-ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ
  4. ঘ) স্পিটজার টেলিস্কোপ
ব্যাখ্যা
A black hole and its shadow have been captured in an image for the first time, a historic feat by an international network of radio telescopes called the Event Horizon Telescope (EHT).
Source: NASA
১,৮৬৬.
নিউক্লিক এসিড কয় ধরনের?
ব্যাখ্যা

নিউক্লিক এসিড ২ ধরনের। যথা - DNA এবং RNA।
ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। বংশগতির ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এবং RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম।
DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

১,৮৬৭.
ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গকে বলা হয়-
  1. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. গামারশ্মির তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়া যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, সে তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মির তরঙ্গ, গামারশ্মির তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৮.
সর্বপ্রথম কোন বিজ্ঞানী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোষ প্রত্যক্ষ করেন?
  1. লিউয়েন হুক
  2. রবার্ট হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. এহরেনবার্গ
ব্যাখ্যা
কোষ: 
- জীবদেহের গঠন ও কাজের একক কোষ। 
- পৃথিবীতে অনেক জীব আছে যারা একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। 
যেমন: ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি। 
- আবার অনেক জীব বহুসংখ্যক কোষ দিয়ে গঠিত। 
যেমন: মানুষ, গাছ, পাখি দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- কোষ একটির সাথে আরেকটি যুক্ত হয়ে জীবদেহ গঠন করে। 
- জীবজগতের অধিকাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কাজে কোষগুলো যুক্ত থাকে। 
- কাজের উপর ভিত্তি করে বহুকোষী জীবে কোষের আকৃতি নানা রকমের হয়ে থাকে। 
- বহুকোষী একটি জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সব ধরনের কোষেরই সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন এবং সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। 
- কোষ আণুবীক্ষণীক বস্তু অর্থাৎ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া কোষ দেখা যায় না। 
- ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোষ প্রত্যক্ষ করেন। ১৬৬৫ সালে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে বোতলের ছিপি পরীক্ষা করার সময় তিনি মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য কুঠরি পরপর সাজানো দেখতে পান। তিনি বোতলের ছিপির গঠনকারী এই এককগুলোর নাম দেন কোষ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৮৬৯.
আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ___। 
  1. মাইক্রোবায়োলজি
  2. ন্যানোটেকনোলজি
  3. থার্মোডাইনামিক্স
  4. বায়োটেকনোলজি
ব্যাখ্যা

• আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি, যা চিপের দ্রুততা, ক্ষমতা এবং শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

- প্রসেসর বা CPU (Central Processing Unit) হলো কম্পিউটারের মস্তিষ্ক, যা ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। আধুনিক প্রসেসরের কার্যকারিতা মাইক্রোচিপের আকার ও প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।

ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology):
- ন্যানোটেকনোলজি হলো অণু ও পরমাণুর মাত্রার প্রযুক্তি (1-100 ন্যানোমিটার)।
- এর মাধ্যমে অত্যন্ত ছোট, দ্রুত ও কম শক্তির চিপ তৈরি করা যায়।
- আধুনিক প্রসেসর, মেমোরি চিপ, সেন্সর ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এটি ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার ও সুবিধা:
- মাইক্রোচিপে ক্ষুদ্র ট্রানজিস্টর তৈরি করা।
- কম শক্তি খরচে বেশি গতি।
- কম স্থান দখল, তাই স্মার্টফোন ও ল্যাপটপকে ছোট ও দ্রুত করা যায়।
- উন্নত কোডিং, ডেটা প্রসেসিং ও AI অ্যাপ্লিকেশনে সহায়তা।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১,৮৭০.
লেন্সের ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. মিটার
  2. ক্যান্ডেলা
  3. লুমেন
  4. ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
লেন্স:
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়।
- লেন্স সাধারণত কাচের তৈরি হয়। এছাড়া কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারাও লেন্স তেরি করা হয়।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex Lens)।
• অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave Lens)।

লেন্সের ক্ষমতা:
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক হচ্ছে ডায়াপ্টার।
- দূরত্বকে মিটারে প্রকাশ করে এর বিপরীত রাশি নিলে লেন্সটির ক্ষমতা ডায়াপ্টার পাওয়া যায়।
- ডায়াপ্টারকে সংক্ষেপে D দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- লেন্সের ক্ষমতা ধণাত্মক বা ঋণাত্মক যে কোনোটিই হতে পারে।
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক হয়, তাহলে বুঝতে হবে লেন্সটি উত্তল।
- লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক হয়, তাহলে লেন্সটি হবে অবতল।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭১.
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকে-
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
ঝিনুক বা শামুকের খোলসে প্রায় ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে। তাপ দিয়ে ঝিনুক বা শামুকের খোলস থেকে চুন তৈরি করা হয়। তাপে ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে গিয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
১,৮৭২.
এয়ার কন্ডিশনারে শীতক হিসেবে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ক্লোরফ্লোর কার্বন
  2. খ) ফ্রেয়ন
  3. গ) নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

এসিতে ব্যবহার হওয়া গ্যাস রেফ্রিজারেন্ট নামে পরিচিত।
রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ফ্রেয়ন ব্যবহৃত হয়।

ফ্রেয়ন হচ্ছে - ডাইক্লোরাে-ডাইফ্লোরাে মিথেন।

এসি ছাড়াও রেফ্রিজারেটরেও শীতক হিসেবে ফ্রেয়ন ব্যবহৃত হয়।
রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী। একে বাষ্পীভবন কুন্ডলী বলে। এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৭৩.
কলার চারা লাগানোর সময় পাতা কেটে ফেলা হয়-
  1. ক) সালোকসংশ্লেষণের হার বৃদ্ধির জন্য
  2. খ) অভিস্রবণ ত্বরান্বিত করার জন্য
  3. গ) শ্বসন বন্ধ করার জন্য
  4. ঘ) অতিরিক্ত প্রস্বেদন রোধ করার জন্য
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের অনেক উপকার করলেও কিছু অপকারও করে। প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় টান পড়ে। এই টানের ফলে উদ্ভিদের মূলরোম কর্তৃক শোষিত পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পরিবাহিত হয়। শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদের জন্য পানি ও খনিজ লবণের ঘাটতি দেখা দেবে। এর ফলে উদ্ভিদটির মৃত্যু হতে পারে। এ জন্য একে একটি অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল(Necessary evil) বলা হয়। তাই কলার চারা লাগানোর সময় পাতা কেটে ফেলা হয়। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৮৭৪.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করা হয়?
  1. ইনভার্টার
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেক্টিফায়ার
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের মাধ্যমে AC (Alternating Current) প্রবাহকে DC (Direct Current) প্রবাহে রূপান্তর করা হয়, তাকে রেক্টিফায়ার (Rectifier) বলে।

• রেক্টিফায়ার:
- এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করার পদ্ধতিকে বলা হয় রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ।
- যে যান্ত্রিক ব্যবস্থা রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ করে তাকে বলা হয় রেক্টিফায়ার।
- এটি সাধারণত ডায়োড ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
- রেক্টিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- রেক্টিফায়ার ছাড়া ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরাসরি এসি প্রবাহ গ্রহণ করতে পারে না।

• ডায়োড:

- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি ব্যবহার করে রেক্টিফায়ার তৈরি করা হয়।

অন্যান্য অপশন:
- ইনভার্টার (Inverter): এটি রেক্টিফায়ারের বিপরীত কাজ করে, অর্থাৎ ডিসি প্রবাহকে এসি প্রবাহে রূপান্তর করে। এটি সাধারণত সোলার প্যানেল বা গাড়ির ব্যাটারি থেকে পাওয়ার নিয়ে গৃহস্থালী সরঞ্জাম চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সফর্মার (Transformer): এটি এসি ভোল্টেজকে কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ফ্রিকোয়েন্সি বা প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে না।
- ট্রানজিস্টর (Transistor): এটি একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস যা সাধারণত বৈদ্যুতিক সংকেতকে অ্যামপ্লিফাই (Amplifier) করতে বা সুইচ (Switch) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি সরাসরি এসি থেকে ডিসি রূপান্তর করে না। 

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১,৮৭৫.
তিনদিকে মাটিতে ঘেরা এবং একদিকে সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত জলভাগকে কী বলা হয়?
  1. সাগর
  2. হ্রদ
  3. নদী
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) উপসাগর। 

উপসাগর হলো এমন জলভাগ যা তিন দিকে মাটিতে ঘেরা এবং একদিকে সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

মহাসাগর:  
- বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। 
- এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম ও গভীরতম। 
- আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্ট এবং এটি অনেক আবদ্ধ সাগরের (Enclosed sea) সৃষ্টি করেছে। 
- ভারত মহাসাগর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে এন্টার্কটিকার হিমভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান। দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ বছরের সকল সময় বরফে আচ্ছন্ন থাকে। 
- উত্তর গোলার্ধের উত্তর প্রান্তে উত্তর মহাসাগর অবস্থিত এবং এর চারদিক স্থলবেষ্টিত। 

সাগর: 
- মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যরিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি। 

উপসাগর: 
- তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর ও মেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি। 

হ্রদ: 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭৬.
নিচের কোনটি মানবদেহের লোহিত রক্তকণিকার কাজ?
  1. অধিক পরিমাণ CO2 বহন করে
  2. অক্সিজেন পরিবহন
  3. রক্ত জমাট বাঁধা
  4. হরমোন নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের রক্তরসে ভাসমান গোল, দ্বি-অবতল চাকতির মতো, নিউক্লিয়াসবিহীন কিন্তু অক্সিজেনবাহী হিমোগ্লোবিনযুক্ত, লাল বর্ণের কণিকাকে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Corpuscles, RBC) বলে। 

• লোহিত কণিকার কাজ:
(i) লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে দেহকোষে অধিকাংশ O2 এবং সামান্য পরিমাণ CO2 পরিবহন করে।
(ii) রক্তের ঘনত্ব ও সান্দ্রতা (viscocity) রক্ষা করে।
(iii) এগুলোর হিমোগ্লোবিন ও অন্যান্য অন্তঃকোষীয় বস্তু বাফাররূপে রক্তে অম্ল-ক্ষারের সাম্য রক্ষা করে।
(iv) প্লাজমাঝিল্লিতে অ্যান্টিজেন প্রোটিন সংযুক্ত থাকে যা মানুষের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ে সহায়তা করে।
(v) এসব কণিকা রক্তে বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন উৎপন্ন করে।
(vi) লোহিত রক্তকণিকা এনজাইমরূপী নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন করতে পারে যা এন্ডোথেলিয়াল কোষের L-arginine-এর মতো ব্যবহৃত হয়।
(vii) এগুলো হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস উৎপাদন করে যা রক্তনালির সঙ্কোচনের জন্য সংকেত প্রদান করে।
(viii) এগুলো অনেকসময় দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াপ্রদান (immune response) করে। ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন থেকে এক ধরনের মুক্ত আয়ন সৃষ্টি হয় যা জীবাণুর কোষপ্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে একে ধ্বংস করে।
(ix) এগুলো পটাসিয়াম বাইকার্বোনেট হিসেবে কোষ-টিস্যু থেকে ফুসফুসে সামান্য পরিমাণে CO₂ পরিবহন করে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
১,৮৭৭.
পৃথিবীতে ব্যবহার উপযোগী কত শতাংশ পানি রয়েছে? 
  1. ১% 
  2. ৫%
  3. ১০%
  4. ২০%
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই হচ্ছে পানি। 
- মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য, তাই পানির অপর নাম হচ্ছে জীবন। 
- পানির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে সাগর, মহাসাগর বা সমুদ্র। 
- পৃথিবীতে যত পানি আছে, তার প্রায় শতকরা ৯০ ভাগেরই উৎস হচ্ছে সমুদ্র। 
- সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে এজন্য সমুদ্রের পানিকে লোনা পানিও (Marine water) বলে। 
- লবণের কারণে সমুদ্রের পানি পানের অনুপযোগী, এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অন্য কাজেও সমুদ্রের পানি ব্যবহার করা যায় না। 
- পানির আরেকটি বড় উৎস হলো হিমবাহ তুষার স্রোত, যেখানে পানি মূলত বরফ আকারে থাকে, এই উৎসে প্রায় শতকরা ২ ভাগের মতো পানি আছে। 
- পৃথিবীতে ব্যবহারের উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ। 
- ব্যবহার উপযোগী মিঠা পানির উৎস হলো নদ-নদী, খাল-বিল, হ্রদ, পুকুর কিংবা ভূগর্ভস্থ পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭৮.
ইনসুলিন কোথায় থেকে নিঃসৃত হয়?
  1. থাইরয়েড
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. হৃৎপিণ্ড
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৭৯.
উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে কী বলা হয়?
  1. কাপড় কাঁচার সোডা
  2. সাবান
  3. টেস্টিং সল্ট
  4. সৈন্ধব লবণ
ব্যাখ্যা
• উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম লবণকে বলা হয় সাবান। 

• সাবান:
- উচ্চতর তৈল এসিডের (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড) সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণকে সাবান বলা হয়। 

• সাবানের ব্যবহার:
- সাবান সাধারণত কঠিন পদার্থ, তবে পানিতে দ্রবীভূত হতে পারে এবং জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়।  
- সাবান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি ময়লা এবং গ্রিজ অপসারণে সহায়ক।

• এটি এক ধরনের জৈব অ্যাসিডের লবণ। সাবান তৈরির জন্য চর্বি বা তেলকে ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করানো হয়, যা Saponification নামে পরিচিত।
- এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারিন তৈরি হয় এবং ফ্যাটি অ্যাসিড ক্ষারের সাথে মিশে সাবান তৈরি করে।  

• বিক্রিয়াটি হলো:
 স্টিয়ারিক এসিড (C17H35COOH) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O

- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সাবানের রাসায়নিক নাম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৮৮০.
দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে-
  1. ক) অনুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) রক্তরস
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা।
- এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
১,৮৮১.
কোন খাদ্য উপাদান থেকে শরীরে বেশি শক্তি উৎপাদন হয়?
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. ভিটামিন
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন: 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 
-------------- 
• শর্করা: 

- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন।

যেমন:
উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮২.
‘গ্রীন হাউজ ইফেক্ট’ বলতে বুঝায়-
  1. তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  2. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূ-মণ্ডলের অবলোকন।
  3. সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণে ঘাটতি।
  4. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা।
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস ইফেক্ট: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্রীন হাউস ইফেক্ট বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় CO2, CFC, N2O2, CO, O3 ইত্যাদি পদার্থের আবরণ পৃথিবীকে আচ্ছাদন রূপে ঢেকে রেখে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাঁধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- পরিবেশ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- গ্রীন-হাউজ ইফেক্ট এর ফলে তাপ আটকে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৩.
কোন পদার্থ নিম্ন তাপমাত্রায় অপরিবাহীর এবং তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবাহীর মতো আচরণ করে?
  1. তামা
  2. রৌপ্য
  3. প্লাস্টিক
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- পরিবাহী পদার্থের ইলেকট্রনসমূহ এক পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে সহজেই চলাচল করতে পারে। 
যেমন- ধাতু, বিশেষ করে রৌপ্য, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- কার্বন অধাতু হলেও এর একটি রূপ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- অপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে এর পরমাণুর ইলেকট্রন সহজে চলাচল করতে পারে না। 
- তবে অপরিবাহী পদার্থকে ঘষে আহিত করা যায়। 
- এছাড়া যদি ইলেকট্রন গৃহীত বা বর্জিত হয়, তাহলেও অপরিবাহী পদার্থ আধানযুক্ত হয়। 
যেমন: প্লাস্টিক, গ্লাস ও রাবার ইত্যাদি। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- নিম্ন তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী পদার্থ অপরিবাহীর মতো আচরণ করে। 
- তাপমাত্রা বাড়ালে এটি পরিবাহীর মতো আচরণ করে। 
যেমন- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৮৮৪.
কোন ধরনের ভূখণ্ডে মেঘ বিস্ফোরণের ফলে আকস্মিক বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?
  1. সমতল, নিচু এলাকা
  2. শহুরে এলাকা
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. পাহাড়ি এলাকা
ব্যাখ্যা
• মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):
- মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst) হলো একটি তীব্র এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভারী বৃষ্টিপাত, যা সাধারণত একটি ছোট অঞ্চলজুড়ে ঘটে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই ধরনের ঘটনা বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে ঘটে থাকে এবং এটি বিপজ্জনক বন্যার কারণ হতে পারে।
- মেঘ বিস্ফোরণের সময় বৃষ্টির পরিমাণ সাধারণত প্রতি ঘন্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে।

মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- হঠাৎ ঘটে: মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- সংকীর্ণ এলাকা: এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে। মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- ভারী বৃষ্টিপাত: মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।
- বিপজ্জনক প্রভাব: মেঘ বিস্ফোরণ কারণে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, এবং সম্পত্তি ও জীবনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে, কারণ সেখানে পানির প্রবাহ দ্রুত হয়ে থাকে।

মেঘ বিস্ফোরণের কারণ:
মেঘ বিস্ফোরণের মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থা। গরম ও আর্দ্র বায়ু যখন দ্রুত উপরে উঠতে থাকে এবং ঠান্ডা বাতাসের সাথে মিশ্রিত হয়, তখন বৃহৎ মেঘ গঠন হতে শুরু করে। এই মেঘগুলি পানির বিশাল পরিমাণ ধারণ করে। যখন মেঘের অভ্যন্তরে এই জলীয় বাষ্প হঠাৎ ঘনীভূত হয়ে পড়ে, তখন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা মেঘ বিস্ফোরণের রূপ নেয়।

মেঘ বিস্ফোরণ প্রতিরোধ এবং সতর্কতা:
- মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা পূর্বাভাস দেয়া বেশ কঠিন, তবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কিছুটা পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব। - পার্বত্য অঞ্চলে মেঘ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে এইসব স্থানে অবকাঠামো তৈরি এবং বাসস্থানের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। 
- তাছাড়া, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং জরুরি সেবা ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- সম্প্রতি আগস্ট, ২০২৪-এ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণের জন্য ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১ টি জেলাইয় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

সূত্র:
১) Britannica [লিংক]
২) The Business Standard [লিংক]
৩) prothomalo [লিঙ্ক]
১,৮৮৫.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
  2. খ) প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে
  3. গ) ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রােটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি
  4. ঘ) ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি
ব্যাখ্যা

কোষপ্রাচীর (cell wall)
কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রােটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে এবং ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।

১,৮৮৬.
দুটি ভিন্ন তাপমাত্রার বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে কি ঘটবে?
  1. ক) বেশি তাপমাত্রার বস্তু থেকে কম তাপমাত্রার বস্তুতে তাপমাত্রা প্রবাহিত হবে
  2. খ) কম তাপমাত্রায় বস্তু তাপ বর্জন করবে
  3. গ) বেশি তাপমাত্রার বস্তু তাপ গ্রহণ করবে
  4. ঘ) বস্তু দুটির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে
ব্যাখ্যা

ভিন্ন তাপমাত্রার দুটি বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে তাদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। যে বস্তুটির তাপমাত্রা বেশি সেটি তাপ ছেড়ে দেয় বা বর্জন করে, আর যে বস্তুটির তাপমাত্রা কম সেটি তাপ নেয় বা গ্রহণ করে। দুটি বস্তুর তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের এই আদান প্রদান বা গ্রহণ- বর্জন চলতে থাকে।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৮৮৭.
মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে অবস্থান করে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল 
  2. খ) তাপমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
তাপমন্ডল
- তাপমন্ডল বায়ুমন্ডলের চতুর্থ স্তর যার বিস্তৃতি ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. এর মধ্যে।
- মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটসমূহ তাপমন্ডলে অবস্থান করে।
- রকেটও এ স্তর দিয়ে চলাচল করে। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা উল্কাপিণ্ড এই স্তরে এসে পুড়ে যায়।
- তাপমন্ডলের নিচের অংশ আয়নমন্ডল নামে পরিচিত যেখানে পৃথিবী থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৮.
বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) রেইনগ্রেট
  2. খ) সিসমোগ্রাফ
  3. গ) রেইনগেজ
  4. ঘ) ক্রনোমিটার
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্রের সিসমোগ্রাফ।
- রেইন গেজ হলো- কোন এলাকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় তা পরিমাপ করার যন্ত্র।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৮৮৯.
ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Mangifera indica
  2. Ficus benghalensis
  3. Oryza sativa
  4. Nymphaea nouchali
ব্যাখ্যা

• দ্বিপদ নামকরণ:
-দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক হলেন সুইডিশ জীববিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature)-এর নীতিমালা অনুযায়ী।

• বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম:
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল) এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali

উৎস: ১) জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, 
২) জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

১,৮৯০.
মস্তিষ্কের ডোপামিন তৈরির কোষগুলো নষ্ট হয়ে গেলে কী রোগ হয়?
  1. এপিলেপসি
  2. কোয়াশিয়রকর
  3. প্যারালাইসিস
  4. পারকিনসন
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগ:
- মস্তিস্কে স্নায়ু কোষ বা নিউরন শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার (এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ) নষ্ট হয়ে যায় অথবা এর ঘাটতি দেখা দেয়।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মস্তিস্কে ব্যাজাল গ্যাংলিয়া নামের একটি অংশ মানুষের চলাফেরা এবং গতির সমন্বয় করে থাকে।
- ডোপামিনের অভাবে সেই সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
- তখন মানুষ পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হয়।

এই রোগের উপসর্গ:
- হাত এবং পায়ে কাঁপুনি হয়।
- শরীরের একপাশের হাত এবং পা স্বাভাবিকের তুলনায় শক্ত হয়ে যায়।
- চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যায়।

অন্যদিকে -
- এপিলেপসি বা মৃগীরোগ হলো এক ধরণের স্নায়বিক ব্যাধি যা একজন ব্যক্তির বারবার খিঁচুনি ঘটায়। 
- কোয়াশিয়রকর হলো প্রোটিনের তীব্র অপুষ্টিজনিত রোগ যাতে শোথ এবং ফ্যাটি লিভার হয়।
- প্যারালাইসিস হলো একটা অবস্থা যেখানে শরীরের কিছু বা সমস্ত অঙ্গের সাময়িক বা সম্পূর্ণ সঞ্চালণ বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: ১৩ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
১,৮৯১.
শর্করা পাওয়া যায় না-
  1. দুধে
  2. ফলের রসে
  3. আলুতে
  4. উপরের সবকটিতেই পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate):
- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়।
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন।
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে।
- ফলের রসের গ্লুকোজ, দুধের ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ।
- প্রধানত চাল, গম, আলু থেকে আমরা শ্বেতসার পাই।
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না।
- এজন্য আমরা চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাই।
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়।
- দ্বি-শর্করা এবং বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়।
-মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৯২.
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নিচের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ে?
  1. খরা ও তুষারপাত
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ভূমিকম্প 
  4. আগ্নেয়ুৎপাত
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে মূলত জলোচ্ছ্বাস-এর মাত্রা ও পরিমাণ বাড়ে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাবন, নদীভাঙন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধি করে এবং শক্তিশালী ঝড়ের প্রভাব বাড়ায়। এটি সরাসরি খরা বা তুষারপাত (যা বিপরীত) এবং ভূমিকম্প বা আগ্নেয়ুৎপাতের (যা ভিন্ন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া) কারণ নয়, বরং উপকূলীয় দুর্যোগের কারণ। 

সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ফসল উৎপাদনে প্রভাব: 
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। 
- প্রায়শই বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়। 
- অধিকন্তু ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে। 
- বিশ্বব্যাংক বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে টার্ন ডাউন দ্য হিট: ক্লাইমেট রিজিওনাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড কেস ফর রেজিলিয়ান্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে উল্লেখ করেছে- প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় ডুবে যাবে। 
- তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ ২৯ শতাংশ বাড়বে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সেন্টিমিটার বাড়লে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৯৩.
Which of the following ecosystems covers the largest area of the earth's surface?
  1. Desert Ecosystem
  2. Mountain Ecosystem
  3. Freshwater Ecosystem
  4. Marine Ecosystem
ব্যাখ্যা
- The Marine Ecosystem is the largest existing ecosystem on our planet
- Covering over 71% of the Earth’s surface, it’s a source of livelihood for over 3 billion people. 
- The ocean also works as the main “lung” of our planet, releasing more oxygen into the atmosphere, notably through marine plants, than all the forests in the world, and absorbing 30% of the carbon dioxide produced by humans. 

উৎস: un.org
১,৮৯৪.
কার্বনের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোনটি?
  1. C12
  2. C13
  3. C14
  4. C24
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যায় নিউট্রনযুক্ত  নিউক্লিয়াসের  পরমাণুকে বলা হয় সেই মৌলের আইসোটোপ।

কার্বন এর নিউক্লিয়াসে ৬ টি প্রোটন এবং ৩ টি আইসোটোপ:
C12: 6 টি প্রোটন এবং 6 টি নিউট্রন
C13: 6 টি প্রোটন এবং 7 টি নিউট্রন
C14: 6 টি প্রোটন এবং 8 টি নিউট্রন
- কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 হচ্ছে অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৮৯৫.
দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি নির্দেশ করে-
  1. প্রজাতি
  2. বর্গ
  3. রাজ্য
  4. শ্রেণি
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি 'প্রজাতি' নির্দেশ করে। 
 
দ্বিপদ নামকরণ: 
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।  
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। 
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম। 
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন: মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 

- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৮৯৬.
শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হয় -
  1. বছরে একবার
  2. বছরে দুইবার
  3. বছরে তিনবার
  4. এর কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিতে হয় বছরে দুইবার। 
- ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। 
- ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। 
- ভিটামিন-এ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। 
- বর্তমানে বাংলাদেশে ভিটামিন-এ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশে নেমে এসেছে। 

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১,৮৯৭.
নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস কি?
  1. ক) বায়ু
  2. খ) গাছপালা
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি।
যথা- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ৭৮.০১% ও অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৭১%।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৯৮.
ধ্রুবতারা ঠিক মাথার উপর অবস্থান করে-
  1. কুমেরু বিন্দুতে
  2. সুমেরু বিন্দুতে
  3. অক্ষরেখায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধ্রুবতারার সাহায্যে অক্ষাংশ নির্ণয়:
- ধ্রুবতারার উন্নতি জেনে কোনো স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- তবে এটি শুধুমাত্র উত্তর গোলার্ধে সম্ভব।
- নিরক্ষরেখায় ধ্রুবতারার উন্নতি শুন্য ডিগ্রি এবং উত্তর মেরুতে ঠিক মাথার উপর ধ্রুবতারার উন্নতি ৯০ ডিগ্রি।
- উত্তর মেরুকে সুমেরু ও বলা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেনী, NCTB।
১,৮৯৯.
কোনটি বিশুদ্ধ পানিতে দ্রবীভূত হয় না?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) অ্যালকোহল
  3. গ) গ্লিসারিন
  4. ঘ) খাবার লবণ
ব্যাখ্যা
- সোডিয়ামের যৌগ সোডিয়াম ক্লোরাইড (খাবার লবণ) স্বচ্ছ, বর্ণহীন কঠিন পদার্থ এবং পানিতে দ্রবণীয়।
- গ্লিসারিন পানি এবং অ্যালকোহলে দ্রবীভূত হয়।
- অ্যালকোহল পানিতে দ্রবীভূত হয়।
- অন্যদিকে, ক্যালসিয়াম কার্বনেট প্রকৃতিতে চুনাপাথর, মার্বেল পাথর, চক ও অন্যান্য রূপে বিদ্যমান; যা বিশুদ্ধ পানিতে সম্পূর্ণভাবে অদ্রবণীয়

উৎস: chem.ncbi.nlm.nih.gov & Britannica Encyclopedia
১,৯০০.
রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কতটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. দুইটি
ব্যাখ্যা

• রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।

• টেলিভিশন:
- টেলিভিশন শব্দের অর্থ দূরদর্শন।
- ১৯২৬ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী লজি বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের।
- এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র।
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

• রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।