বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৮ / ১৪০ · ১,৭০১১,৮০০ / ১৪,০৮০

১,৭০১.
নব্য-ডারউইনবাদের জনক কে?
  1. চার্লস রবার্ট ডারউইন
  2. জাঁ বাপ্টিস্ট পিয়েরে দ্য ল্যামার্ক
  3. অগাস্ট ভাইজম্যান
  4. আর্নেস্ট হেকেল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- ফরাসি উদ্ভিদবিজ্ঞানী জাঁ বাপ্টিস্ট পিয়েরে দ্য ল্যামার্ক বায়োলজি শব্দের প্রবর্তক এবং প্রাণিজগতকে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী এ দুভাগে বিভক্ত করেন। তাঁকে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদের প্রবক্তা বলা হয়।
- চার্লস রবার্ট ডারউইন একজন ব্রিটিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী ছিলেন। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত ''Origin of Species By Means of Natural Selection'' নামক গ্রন্থে তিনি অভিব্যক্তি সম্পর্কে তাঁর সুচিন্তিত ও জোরালো মতবাদ প্রকাশ করেন। এ মতবাদ প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ বা ডারউইনিজম নামে পরিচিত।
- বিজ্ঞানী ভাইজম্যান ও তাঁর অনুগামীরা ডারউইনের মতবাদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে নতুন জ্ঞানের আলোকে সবল করে তোলেন। ভাইজম্যান ও তাঁর অনুগামীদের মাধ্যমে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের এ নবমূল্যায়নকে নব্য-ডারউইনবাদ বলে। ভাইজম্যানকে নব্য-ডারউইনবাদের জনক বলা হয়। নব্য-ডারউইনবাদীদের মধ্যে ভাইজম্যান ছাড়াও হাক্সলি, স্পেনসার, জর্ডান, গ্রে এবং হেকেল এর নাম উল্লেখযোগ্য।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৭০২.
জন্মের এক মাসের মধ্যে শিশুকে কোন টিকা দেওয়া হয়?
  1. DPT - I
  2. DT
  3. BCG
  4. TT - 1
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কিছু রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদি এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে-


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৩.
জারণ-বিজারণ একটি -
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. যুগপৎ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৭০৪.
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার গ্রহের গতির তিনটি সূত্র দিয়েছিলেন:
১। প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২। সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩। একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।
সূত্র: ''Kepler's Laws of Planetary Motion''

১,৭০৫.
চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রথম অবতরণকারী মানুষের নাম ও দেশ -
  1. ইয়ুরি গ্যাগারিন, রাশিয়া
  2. জন গ্লেন, যুক্তরাষ্ট্র
  3. রিচার্ড এলড্রিন, যুক্তরাষ্ট্র
  4. নীল আর্মস্ট্রং, যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে চাঁদের বুকে মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং প্রথম পা রাখেন। 
- তাঁর কিছুক্ষণ পরই চাঁদে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে পা রাখেন বাজ অলড্রিন। 
- তাঁরা দুজনই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রযানে করে চাঁদের বুকে অবতরণ করেছিলেন। 
- সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় তাঁদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। 
- তিনি অবশ্য দুই সঙ্গীর সঙ্গে চাঁদে পা রাখতে পারেননি, কারণ তিনি চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউলের দায়িত্বে ছিলেন। 
- এই তিন মার্কিন নভোচারীই পরে ইতিহাসের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। 

উৎস: নাসার ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২১ জুলাই, ২০১৯)।
১,৭০৬.
কোন উপাদানটি পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায়?
  1. ইউরেনিয়াম
  2. প্যারাফিন
  3. ক্লোরিন
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
• প্যারাফিন পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায়। 

• জীবাশ্ম জ্বালানি:
- জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে মৃত উদ্ভিদ এবং প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি হয়।

• পেট্রোলিয়াম:

- পেট্রোলিয়াম (Petroleum) হলো একটি প্রাকৃতিক তরল জ্বালানি যা বিভিন্ন হাইড্রোকার্বন যৌগের মিশ্রণ।
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত ৫০০০ ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়।
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল বলা হয়। 
- এই পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। 
- এই অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাংকের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়। 

• পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত উপাদান:
- পেট্রোল, 
- ডিজেল, 
- কেরোসিন, 
- প্যারাফিন (Paraffin), 
- টার,
- গ্যাসোলিন, 
- বিটুমিন ইত্যাদি। 

• প্যারাফিন: 
- প্যারাফিন হলো এক প্রকারের মোম বা মোমের মতো পদার্থ, যা প্রধানত পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায়। 
- প্যারাফিন একটি স্যাচুরেটেড হাইড্রোকার্বন (alkane)।
- এটি একটি হালকা জ্বালানিসমৃদ্ধ পদার্থ, যা মোম, জ্বালানিতে, ওষুধ তৈরিতে এবং কসমেটিকে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।
১,৭০৭.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য কোন শর্তটি প্রয়োজন?
  1. আলোকরশ্মি শুধুমাত্র তীর্যকভাবে প্রবেশ করবে
  2. আলোকরশ্মি যে কোনো মাধ্যমে যেতে পারে
  3. আলোকরশ্মি অবশ্যই হালকা মাধ্যমে থেকে ঘন মাধ্যমে যেতে হবে
  4. আলোকরশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যমে থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে
ব্যাখ্যা

- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য যে শর্তটি প্রয়োজন তা হলো- আলোকরশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যমে থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে। 

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন: 
- এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১। আলোক রশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যেতে হবে। 
২। এক জোড়া নির্দিষ্ট সচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম ও একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মিকে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭০৮.
কোন উপাদানটিকে Fruit Sugar বলা হয়?
  1. সেলুলোজ
  2. গ্লুকোজ
  3. সুক্রোজ
  4. ফ্রুকটোজ
ব্যাখ্যা
• ফ্রুকটোজকে ফল শর্করা বা Fruit sugar বলা হয়। 

• শর্করা:

- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে।

• উৎস অনুসারে শর্করা ২ প্রকার। যথা-
- উদ্ভিজ্জ শর্করা ও প্রাণীজ শর্করা। 

• উদ্ভিজ্জ শর্করার প্রকারভেদ:
→ শ্বেতসার বা স্টার্চ:
- ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
→ গ্লুকোজ:
- এটি চিনির তুলনায় কম মিষ্টি। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
→ ফ্রুকটোজ:
- আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে। একে ফল শর্করাও (Fruit Sugar) বলা হয়ে থাকে।
→ সুক্রোজ:
- আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
→ সেলুলোজ:
- বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাকসবজিতে সেলুলোজ থাকে।

তথ্যসূত্র:
- সাধারণ বিজ্ঞান,  ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৭০৯.
আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. সান্দ্র বল
  2. ঘর্ষণজাত বল
  3. সংরক্ষণশীল বল
  4. অসংরক্ষণশীল বল
ব্যাখ্যা

- আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল বা প্রত্যায়নী বলকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়। কারণ, এই বল দ্বারা কাজ শুধুমাত্র বস্তুর আদি ও শেষ অবস্থানের ওপর নির্ভর করে, কোন পথে নেওয়া হয়েছে তার ওপর নয়; একটি পূর্ণচক্রে (যেখান থেকে শুরু সেখানেই ফিরে আসলে) এই বল দ্বারা কৃত কাজের পরিমাণ শূন্য হয় এবং যান্ত্রিক শক্তি সংরক্ষিত থাকে এবং স্প্রিংকে সংকুচিত বা প্রসারিত করতে যে কাজ করা হয়, তা বিভব শক্তি হিসেবে জমা থাকে এবং পরে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। 

সংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় তাকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর সংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনে। 
উদাহরণ- অভিকর্ষজ বল, বৈদ্যুতিক বল, চৌম্বক বল, আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল ইত্যাদি। 

অসংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় না তাকে অসংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর অসংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনলেও মোট কাজ শূন্য হয় না। 
উদাহরণ- ঘর্ষণ বল, সান্দ্র বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১০.
যদি m < 1 হয়, প্রতিবিম্ব কেমন হবে? 
  1. খর্বিত 
  2. বিবর্ধিত 
  3. লক্ষ্যবস্তুর সমান 
  4. অস্পষ্ট 
ব্যাখ্যা

রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১১.
তড়িৎ কোষে কোন পদার্থটি ইলেকট্রন প্রদান করে?
  1. অ্যানোড
  2. ক্যাথোড
  3. ইলেকট্রোলাইট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ কোষে (Electrochemical Cell)  অ্যানোড হলো একটি ইলেকট্রোড বা তড়িৎদ্বার যেখানে জারণ বা অক্সিডেশন ঘটে।
অর্থাৎ এখানে পদার্থ ইলেকট্রন প্রদান করে।
• সাধারণভাবে বলা যায়, 
অ্যানোড → অক্সিডেশন → ইলেকট্রন প্রদান

অন্যদিকে,
ক্যাথোড: ক্যাথোডে বিজারণ  (Reduction) ঘটে, যেখানে পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
  অর্থাৎ ,  ক্যাথোড → হ্রাস → ইলেকট্রন গ্রহণ

ইলেকট্রোলাইট: এটি আয়ন পরিবহন করে (যেমন: NaCl দ্রবণ), কিন্তু ইলেকট্রন প্রদান করে না।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৭১২.
যে তাপ বিকিরণ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. বিক্ষিপ্ত তাপ 
  2. বিকীর্ণ তাপ 
  3. পরিবাহী তাপ 
  4. তাপমাত্রিক তাপ 
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১৩.
কোন করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত?
  1. অডিটরি
  2. হাইপোগ্লোসাল
  3. অকিউলোমোটর
  4. অলফ্যাক্টরি
ব্যাখ্যা

• অডিটরি করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

• অলফ্যাক্টরি স্নায়ু:
-অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়। 

• অডিটরি:
- এটি মেডুলা অবলংগাটার পার্শ্বদেশ হতে উৎপত্তি লাভ করে অন্যকর্ণে বিস্তৃত হয়।
- অডিটরি স্নায়ু সংবেদী প্রকৃতির। এটি শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষার অনভূতি মস্তিষ্কে বহন করে।

• অকিউলোমোটর:
- চেষ্টীয় বা মোটর (Motor) স্নায়ু।
- এটি চোখের গোলকের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও চোখের পাতার নড়াচড়া এবং চোখের পিউপিল বা মণির সংকোচন-প্রসারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• অপটিক:
- অপটিক করোটিক স্নায়ুটি দৃষ্টিশক্তির সাথে যুক্ত।

• হাইপোগ্লোসাল:
- হাইপোগ্লোসাল করোটিক স্নায়ুটি জিভের গতির সাথে যুক্ত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৪.
মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা সর্বোচ্চ কত হার্জ?
  1. ক) ২০০ হার্জ
  2. খ) ২,০০০ হার্জ
  3. গ) ২০,০০০ হার্জ
  4. ঘ) ২০,০০,০০০ হার্জ
ব্যাখ্যা
মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ থেকে ২০,০০০ হয়ে থাকে।

- এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে।
- কম্পাঙ্কের যে সীমার মধ্যে সৃষ্ট শব্দ মানুষ শুনতে পায় তাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
- যে শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না তাকে অশ্রাব্য শব্দ বলে। অশ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জের কম এবং ২০,০০০ হার্জের বেশি হয়। এ শব্দ কুকুর, বাদুড়, মাকড়সা ইত্যাদি প্রাণী শুনতে পায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭১৫.
বয়েলের সূত্রে কোনটি অপরিবর্তিত থাকে?
  1. চাপ
  2. আয়তন
  3. তাপমাত্রা
  4. এনট্রপি
ব্যাখ্যা
বয়েলের সূত্র: 
- ১৬৬২ সালে রবার্ট বয়েল এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন। তাই এটি বয়েলের সূত্র বলে পরিচিত। 
- সূত্রটি হলো- "তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার চাপের ব্যস্তানুপাতিক"। 

ব্যাখ্যা: 
- এই সূত্রানুসারে, তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের তার আয়তন চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে তাপমাত্রা T, আয়তন V এবং চাপ p হলে; 
V ∞ 1/p  [যখন T স্থির থাকে] 
বা, pV = K  [এখানে K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক] 
- K এর মান গ্যাসের ভর এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
সুতরাং, যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন যথাক্রমে V1, V2, V3, V4......... Vn ইত্যাদি এবং চাপ যথাক্রমে P1, P2, P3, P4........ Pn ইত্যাদি হয় তাহলে, 
P1V1 = P2V2 = P3V3 = P4V4 .......= PnVn = ধ্রুবক (K) । 
- অতএব, চাপ দ্বিগুণ হলে আয়তন অর্ধেক হবে, চাপ তিনগুণ হলে আয়তন এক তৃতীয়াংশ হবে, বা চাপ অর্ধেক হলে আয়তন দ্বিগুণ হবে এভাবে একটি বাড়লে অন্যটি কমবে। 

এনট্রপি: 
- তাপগতিবিদ্যায় এনট্রপির গুরুত্ব অপরিসীম। 
- এনট্রপি একটি প্রাকৃতিক রাশি যার মান তাপ ও পরম তাপমাত্রার অনুপাতের সমান। 
- এটি বস্তুর একটি তাপীয় ধর্ম যা তাপ সঞ্চালনের দিক নির্দেশ করে। 
- এটি বস্তুর তাপগতীয় অবস্থা নির্ধারণে সহায়তা করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১,৭১৬.
মাইক্রোবায়োলজি শাখায় কোন ধরনের জীব নিয়ে গবেষণা করা হয়?
  1. হরমোন
  2. কীটপতঙ্গ
  3. অণুজীব
  4. খনিজ
ব্যাখ্যা

মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) মূলত অণুজীব নিয়ে গবেষণা করে, যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া।

মাইক্রোবায়োলজি:
- মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিজম নিয়ে গবেষণা করে। অণুজীব বলতে বোঝায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এবং শৈবাল, যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং সাধারণত অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

মাইক্রোবায়োলজি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত, যেমন:
i) ব্যাকটেরিয়ালজি (Bacteriology) – ব্যাকটেরিয়ার গঠন, বৃদ্ধি, জিনতত্ত্ব ও রোগতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে।
ii) ভাইরোলজি (Virology) – ভাইরাসের গঠন, প্রজনন এবং এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।
iii) মাইকোলজি (Mycology) – ছত্রাক বা ফাঙ্গাস নিয়ে গবেষণা করে, যা খাদ্য উৎপাদন ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
iv) ইমিউনোলজি (Immunology) – শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গবেষণা করে।
v) অ্যান্টিবায়োটিক ও জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology & Antibiotics Research) – জীবাণুর সাহায্যে ওষুধ ও টিকা তৈরি করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
খ) কীটপতঙ্গ নিয়ে গবেষণা করা হয় এনটোমোলজি (Entomology)-তে। 
ঘ) খনিজ নিয়ে গবেষণা করা হয় ভূতত্ত্ব (Geology) ও খনিজবিদ্যা (Mineralogy)-তে, যা জীববিজ্ঞানের শাখা নয়।

উৎস: 
১। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

১,৭১৭.
'Biology' শব্দের প্রবর্তক হলেন-
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) কার্ল অগাস্ট
  3. গ) জাঁ ল্যামার্ক
  4. ঘ) লিউয়েনহুক
ব্যাখ্যা
ফরাসি প্রকৃতিবিদ জ্যা বাতিস্ত ল্যামার্ক জীবিত বস্তু সংক্রান্ত অনেকগুলো শাস্ত্রের ধারক না হিসেবে 'Biology' শব্দের প্রচলন করেন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭১৮.
শিশিরাঙ্ক ১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস বলতে বুঝায় -
  1. ক) ১৬ ডিগ্রীতে বায়ু সম্পৃক্ত হবে
  2. খ) ১৬ ডিগ্রীতে কুয়াশা জমা শুরু করবে
  3. গ) ১৬ ডিগ্রীতে বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকবেনা
  4. ঘ) ১৬ ডিগ্রীতে বায়ুতে আদ্রতা সবচেয়ে কম হবে
ব্যাখ্যা
 -শিশিরাঙ্ক: যে তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু উপস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারাই সম্পৃক্ত হয়, সেই তাপমাত্রাই শিশিরাঙ্ক।

- সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু সর্বাধিক যে পরিমান জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে তাকেই সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প বলে।

- অসম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু সর্বাধিক যে পরিমান জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে তার থেকে কম থাকলে তাকেই অসম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প বলে।

সাধারনত বায়ু অসম্পৃক্ত অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা থেকে কম জলীয় বাষ্প থাকে। বায়ুকে সম্পৃক্ত করার উপায় হলো ২ টি।
১) জলীয় বাষ্পের পরিমান বাড়িয়ে দেয়া।
২) তাপমাত্রা কমিয়া দেয়া। কারন তাপমাত্রা কমলে বায়ুতে জলীয় বাষ্পের ধারণক্ষমতা কমে যায়। তখন বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারাই বায়ু সম্পৃক্ত হয়ে যায়। সেই  তাপমাত্রাই শিশিরাঙ্ক।

অর্থাৎ, কোনো একদিন বায়ুর শিশিরাঙ্ক ১৬ ডিগ্রী বলতে বুঝায় ওইদিনের বায়ুর তাপমাত্রা কমিয়ে ১৬ ডিগ্রীতে আনলে বায়ু উপস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হবে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই।
১,৭১৯.
মেঘাচ্ছন্ন রাতে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কেন বেশি থাকে?
  1. মেঘ বিকিরণ বন্ধ করে রাখে
  2. বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকে না
  3.  ভূ-পৃষ্ঠ তাপ সৃষ্টি করে না
  4. রাতে সূর্য বিকিরণ বেশি থাকে
ব্যাখ্যা

- মেঘাচ্ছন্ন রাতে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেশি থাকে কারণ মেঘ বিকিরণ বন্ধ করে রাখে (বা আটকে রাখে); মেঘ একটি কম্বলের মতো কাজ করে, যা পৃথিবী থেকে নির্গত তাপকে মহাকাশে চলে যেতে বাধা দেয় এবং সেই তাপকে পুনরায় ভূপৃষ্ঠের দিকে প্রতিফলিত করে, ফলে রাত পরিষ্কার আকাশের চেয়ে উষ্ণ থাকে। 

মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমার কারণ: 
- সব সময়ই বিভিন্ন জলাশয়ের পানির বাষ্পায়ন ঘটছে। এই বাষ্পায়নের ফলে জলীয় বাষ্প সৃষ্টি হয় এবং তা বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। 
- বায়ুমণ্ডল সৃষ্ট জলীয় বাষ্প ধারণ করে। 
- দিনের বেলায় সূর্য তাপে বাতাস গরম থাকায় ঐ জলীয় বাষ্প দ্বারা বায়ুমণ্ডল সম্পৃক্ত হয় না। 
- রাতে ভূ-পৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে শীতল হয় অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমে যায়। তখন বাতাস ধারণকৃত জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় এবং তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নিচে নেমে যায়, ফলে শিশির জমে। 
- রাতের আকাশে মেঘ থাকলে, মেঘমুক্ত রাতের থেকে তাপ বিকিরণ কম হয়। 
- তাপ বিকিরণ কম হওয়ায ভূ-পৃষ্ঠের বাতাসও তুলনামূলকভাবে কম ঠান্ডা হয়। 
- বাতাসে তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের খুব নিচে যেতে পারে না, তাই কম শিশির জমে। 
অর্থাৎ, মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২০.
ডেঙ্গু সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ
  2. খ) এর ভাইরাসের নাম ফ্লাভিভাইরাস
  3. গ) এর বাহক Aedes aegypti
  4. ঘ) উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- এর ভাইরাসের নাম ফ্লাভিভাইরাস।
- এর ভাইরাস RNA ভাইরাস।
- এর বাহক Aedes aegypti.
[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২৫।]
১,৭২১.
আকাশ মেঘলা থাকলে গরম বেশি লাগে কেন?
  1. ক) মেঘ উত্তম তাপ পরিবাহক
  2. খ) সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মেঘ তাপ উৎপন্ন করে
  3. গ) বজ্রপাতের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় বলে
  4. ঘ) মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
ব্যাখ্যা
- দিনের বেলায় সূর্য থেকে যে আলোকরশ্মি (তাপ ও আলো) বিকিরণ আকারে আসে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য হয় বেশ ছোট। এ কারণে তা খুব সহজেই বর্ষার মেঘ ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসতে পারে।
- এই বিকিরণ ভূপৃষ্ঠে সহজে আসতে পারলেও প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে চলে যেতে পারে না। কারণ প্রতিফলন হবার সময়ে এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশ বড় হয়ে যায় ফলে তখন আর সহজে মেঘ ভেদ করতে পারে না। সেগুলি মেঘের গায়ে ধাক্কা খেয়ে মাটির দিকে ফিরে আসে।
- এ কারণে মেঘলা দিনে/রাতে ভূপৃষ্ট থেকে বির্কীর্ণ তাপের একটা অংশ মেঘ ও মাটির মধ্যেকার বায়ুমন্ডলে আটকে পড়ার ফলে মাটি এবং তার লাগোয়া বাতাসের স্তর ঠান্ডা তো হয়ই না, বরং বেশ গরম হয়েই থাকে। এতে আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যায় বলেই গরমটা বেশি লাগে।
- ফলে আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এর অর্থ বাতাসে পানির পরিমাণ বেশি।
- বাতাস আর্দ্র থাকার কারণে আমাদের গরম লাগে যেটাকে সাধারণ ভ্যাপসা গরম বলা হয়ে থাকে।
১,৭২২.
জটিল টিস্যু কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-
১. সরল টিস্যু,
২. জটিল টিস্যু ও
৩. ক্ষরণকারী টিস্যু।
সরল টিস্যু আবার তিন প্রকার।
যথা- প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা।
জটিল টিস্যু দুই প্রকার।
যথা- জাইলেম ও ফ্লোয়েম।
ক্ষরণকারী টিস্যু ২ প্রকার।
যথা- তরুক্ষীর টিস্যু ও গ্রন্থির টিস্যু।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৭২৩.
যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হয়, কিন্তু গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না, তাকে কী বলে?
  1. আংশিক সংঘর্ষ
  2. স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ
  3. সম্পূর্ণ সংঘর্ষ
  4. অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ
ব্যাখ্যা
• সংঘর্ষ:
- সংঘর্ষ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অতি অল্প সময়ের জন্য বৃহৎ কোনো বল ক্রিয়া করে বস্তুর গতির হঠাৎ ও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।
- সাধারণত সংঘর্ষের সময় বস্তুর গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় কিনা, তার ওপর ভিত্তি করে সংঘর্ষকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:

• অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:
- যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হয়, কিন্তু গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না, তাকে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলা হয়।
- একটি রাবারের বল যদি দৃঢ় পাটাতনে আঘাত করে, তবে বলটির আকার বিকৃত হয় এবং এর গতিশক্তি হ্রাস পায়।
- এই কারণেই রাবারের বলের সাথে পাটাতনের সংঘর্ষটি অস্থিতিস্থাপক।
- যদি সংঘর্ষের পরে অংশগ্রহণকারী দুটি বস্তু একত্রে যুক্ত হয়ে একই বেগে চলতে থাকে, তবে সেটি পূর্ণভাবে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে বিবেচিত হয়।

• উদাহরণ:

- যখন একটি গুলি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে এবং লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন গুলি ও লক্ষ্যবস্তুর সংঘর্ষ অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ হয়।

• স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:
- যে সংঘর্ষে ভরবেগ ও গতিশক্তি উভয়ই সংরক্ষিত থাকে, তাকে স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭২৪.
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে শক্তির কী ধরনের রূপান্তর হবে?
  1. ক) বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে
  2. খ) বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে
  3. গ) বিদ্যুৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে
  4. ঘ) বিদ্যুৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর:
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।

কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

নিচে শক্তির রূপান্তরের আরো কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল -


বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সূত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।
১,৭২৫.
কোন গ্যাসটি ঘনীভূত হয়ে 'ড্রাই আইস' বা 'শুষ্ক বরফে' পরিণত হয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

• কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে অতি শীতল ও উচ্চ চাপে রাখলে তা সরাসরি কঠিন বরফে রূপান্তরিত হয়। এই কঠিন রূপটি কোনো তরল না হয়েই সরাসরি গ্যাসে পরিণত হতে পারে বলে একে ড্রাই আইস বলা হয়।

• শুষ্ক বরফ:
- ড্রাই আইস তৈরিতে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 
- ড্রাই আইস হচ্ছে কার্বন ডাই অক্সাইডের শক্ত রূপ।
- ড্রাই আইসকে শুস্ক বরফ ও বলা হয়। 
- হিমায়ক হিসেবে ও স্টেজ শো-তে কুয়াশা তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
- আইসক্রিম এর গাডিতে, হিমাগারে এবং পচনশীল ফলমুল,মাছমাংস সংরক্ষনে ব্যবহার করা হয়। 

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

১,৭২৬.
কোনটি তৈলবীজ নয়?
  1. তিসি
  2. সরিষা
  3. অড়হর
  4. তিল
ব্যাখ্যা
তৈলবীজ: 
- তৈলবীজ শস্যকে সাধারণত তৈলবীজ ফসল বলা হয় যা থেকে ভোজ্যতেল বা শিল্পজাত তেল নিষ্কাশন করা যায়।
- তৈলবীজ ফসলের কয়েকটি পরিচিত উদাহরণ হলো সূর্যমুখী তেল, তিলের তেল, চিনাবাদাম তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি। 
- তৈল, তিসি, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী অপ্রধান তৈল ফসল হিসেবে এদেশে বহুকাল যাবত আবাদ হয়ে আসছে।
- উপযুক্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের তৈল ঘাটতি মিটাতে এসব ফসলও বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবে। 

অন্যদিকে, 
- অড়হর (Pigeon Pea)  Leguminosae গোত্রের Cajanus cajan প্রজাতির একজাতীয় ডালের স্থানীয় নাম।
- বসতবাড়ির আশেপাশে, ক্ষেতে অথবা রাস্তার ধারে গৌণ  ফসল হিসেবে সনাতন পদ্ধতিতে এর চাষ হয়।
- গাছ সচরাচর ৩০০ দিনে ফলনশীল হয়।
- বাংলাদেশে বেশির ভাগ অড়হরের চাষ কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর ও যশোর জেলায়। 

উৎস: ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭২৭.
শর্করার প্রধান কাজ কী? 
  1. দেহের রক্ত পরিষ্কার করা
  2. হরমোন তৈরি করা 
  3. দেহে তাপশক্তি উৎপাদন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা 
  4. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা 
ব্যাখ্যা

শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন- 
উদ্ভিজ্জ উৎস:
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে।
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭২৮.
মানুষের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে কত গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে?
  1. ২৪
  2. ২২
  3. ১৬
  4. ২০
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্ত:
- মানুষের রক্তে pH ৭.৪।
- রক্ত হচ্ছে প্লাজমা ও প্লাজমায় ভাসমান বিভিন্ন কোষীয় উপাদানে গঠিত জটিল তরল টিস্যু।
- মানুষের দেহে প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে।
- মানুষের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ১৬ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে।
- রক্ত মানুষের দেহের ৮%।
- রক্তের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

- রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা থাকে।
যথা:
- লোহিত রক্তকণিকা,
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,৭২৯.
এয়ার লক কোন ইঞ্জিনের ফুয়েল সিস্টেমে ঘটে?
  1. ক) পেট্রোল ইঞ্জিনের
  2. খ) ডিজেল ইঞ্জিনের
  3. গ) গ্যাস ইঞ্জিনের
  4. ঘ) EFI ইঞ্জিনের
ব্যাখ্যা
Air lock or Diesel block: 
- ডিজেল ইঞ্জিনের সাকশন লাইনে এয়ার লক ঘটে।
- জ্বালানী ট্যাঙ্কের ডিজেল ট্যাঙ্ক থেকে সাকশন লাইনের মাধ্যমে প্রি ফিল্টারে প্রবাহিত হয়। সাকশন লাইন হল সিন্থেটিক রাবার দিয়ে তৈরি একটি টিউব।
- প্রি ফিল্টার থেকে, ডিজেল water separator-এ প্রবাহিত হয়।
- তারপর ফুয়েল ইঞ্জেকশন এ যায়।
- যদি কোনো কারনে ফুয়েলের সাথে এয়ার ফ্লো হয় তখন বায়ুর বুদবুদ এর কারনে ফুয়েল ইঞ্জেক্টর দিয়ে ঠিকমত ফুয়েল প্রবাহিত হতে পারে না।
- এয়ার লক এর ফলে ইঞ্জিনের পারফরমেন্স এ ঘাটতি দেখা দেয় এবং রানিং অবস্থায় বন্ধ হয়ে।
- ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- থ্রটল রেসপন্স কমে যায়। 

উৎস: আন্তর্জাতিক জার্নাল[Link]
১,৭৩০.
কাজ ও বলের একক যথাক্রমে -
  1. নিউটন ও মিটার
  2. জুল ও ডাইন
  3. ওয়াট ও পাউন্ড
  4. প্যাসকেল ও কিলোগ্রাম
ব্যাখ্যা

SI পদ্ধতিতে কাজের একক জুল।
SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন।
C.G.S পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন।

১,৭৩১.
নিউটনের “Principia Mathematica” কোন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে?
  1. গ্রহ ও চন্দ্রের গতিবিধি নির্ধারণের গাণিতিক পদ্ধতি
  2. আলোর বেগ ও রঙের প্রকৃতি বিশ্লেষণ
  3. গতিশক্তি ও মহাকর্ষের তত্ত্ব সংজ্ঞায়িত করা এবং গণিতের মাধ্যমে প্রকাশ
  4. বৈদ্যুতিক ও চুম্বকীয় ক্ষেত্রের প্রাথমিক সূত্র
ব্যাখ্যা

• স্যার আইজ্যাক নিউটন ও তাঁর গ্রন্থ “Principia Mathematica” (১৬৮৭):
- স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৮৭ সালে তার গ্রন্থ “Philosophiae Naturalis Principia Mathematica” প্রকাশ করেন। সংক্ষেপে এটিকে Principia Mathematica বলা হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্র এবং গণিতের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।

• নিউটনের তিনটি মৌলিক গতিসূত্র (Laws of Motion):
- এই গ্রন্থে নিউটন তিনটি মৌলিক গতিসূত্র প্রবর্তন করেন:

- জড় বস্তু স্থির থাকে বা সমান গতিতে সরলরেখায় চলে যতক্ষণ বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগ হয় না।
- বাহ্যিক বল বস্তুতে এর ভর ও ত্বরণের সঙ্গে সমানুপাতিক।
- প্রতিটি ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়া থাকে।

- এরপর তিনি মহাকর্ষের সূত্র প্রণয়ন করেন, যা বলে যে পৃথিবীর সব বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এই সূত্র ব্যবহার করে তিনি গ্রহগুলোর কক্ষপথ গণনা করেন এবং সৌরজগতের গতিবিধির ব্যাখ্যা দেন।

উৎস: Encyclopaedia Britannica.

১,৭৩২.
লসিকায় কোন উপাদানের পরিমাণ সবেচেয়ে বেশি?
  1. পানি
  2. প্রোটিন
  3. স্নেহ পদার্থ
  4. কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৭৩৩.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. ডায়োড
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. রেকটিফায়ার
  4. ফিউজ
ব্যাখ্যা

• অ্যামপ্লিফায়ার (Amplifier): অ্যামপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা কোনো দুর্বল বা ছোট সিগন্যালকে ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে সেটিকে শক্তিশালী বা বড় সিগন্যালে রূপান্তর করে আউটপুট দেয়। এটি মূলত ট্রানজিস্টরের সাহায্যে এই কাজটি সম্পন্ন করে।

• ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামে পরিচিত। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- ডায়োড: এটি তড়িৎ প্রবাহকে কেবল একদিকে চালিত করে এবং সিগন্যাল বড় করতে পারে না।
- রেকটিফায়ার: এটি মূলত এসি (AC) বিদ্যুৎকে ডিসি (DC) বিদ্যুতে রূপান্তর করার একটি প্রক্রিয়া বা যন্ত্র।
- ফিউজ: এটি সার্কিটের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবহৃত হয়; অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে এটি পুড়ে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৩৪.
বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ কোথায় ঘটেছিল?
  1. সর্বত্র
  2. মহাকাশে
  3. পৃথিবীতে
  4. সৌরজগতে
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ঘটেনি, বরং এটি সর্বত্র ঘটেছিল। বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সূচনা একটি বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে হয়েছিল, যা থেকে সময়, স্থান, পদার্থ এবং শক্তি সবই সৃষ্টি হয়। এই বিস্ফোরণ কোন নির্দিষ্ট ‘স্থান’ থেকে নয়, বরং সময় ও স্থান উভয়ের সাথে সঙ্গে শুরু হয়েছিল। তাই বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণকে মহাকাশের কোনও নির্দিষ্ট বিন্দুতে বা পৃথিবীতে বা সৌরজগতে ঘটানো যায় না। এটি মহাবিশ্বের প্রতিটি স্থানে একই সাথে বিস্তৃত হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ক) সর্বত্র।


• বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 

- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 

- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 
- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাগ-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে। একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৫.
পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমানভাবে বিভক্তকারী রেখা কোনটি?
  1. দ্রাঘিমারেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. নিরক্ষরেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
- ভূ-পৃষ্ঠের যেকোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে।
- পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- দক্ষণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু বৃত্ত বলা হয়।
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৩৬.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কিসের তারতম্যের জন্য এ অঞ্চলের জলবায়ু ভিন্ন রকম?
  1. বায়ুর আর্দ্রতা
  2. উচ্চতা
  3. বায়ুর চাপ
  4. বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা

Altitude বা উচ্চতা :
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম
-  উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৩৭.
বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে শব্দের বেগ কেন বৃদ্ধি পায়?
  1. তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় 
  2. চাপ বেড়ে যাওয়ায়
  3. বাতাসের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় 
  4. বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় 
ব্যাখ্যা

- বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকার ফলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, কারণ জলীয়বাষ্পের ঘনত্ব শুকনো বায়ুর চেয়ে কম। শব্দের বেগ যান্ত্রিক তরঙ্গ হিসেবে মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতা এবং ঘনত্বের বিপরীত অনুপাতের ওপর নির্ভর করে। তাই ঘনত্ব কমলে শব্দ দ্রুত চলে ফলে বেগ বৃদ্ধি পায়

শব্দের বেগের পার্থক্য: 
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ √T  
এখানে, তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়, কেলভিন স্কেইলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না, তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ নামক যান্ত্রিক তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। তরলে শব্দের বেগ বাতাসে বেগের থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তার থেকেও বেশি। 
যেমন- বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ দেখানো হয়েছে- 
• বাতাস ⇒ 330 m/s, 
• হাইড্রোজেন ⇒ 1284 m/s, 
• পারদ ⇒ 1450 m/s, 
• পানি ⇒ 1493 m/s, 
• লোহা ⇒ 5130 m/s এবং 
• হীরা ⇒ 12000 m/s ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৩৮.
ল্যামার্কের কোন বইয়ে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. থিওরি অফ রেভোলিউশন
  2. ফিলােসােফিক জুওলজিক
  3. ন্যাচারাল হিস্ট্রি
  4. অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস
ব্যাখ্যা
বিবর্তন (Evolution): 
- বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। 
- কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। 
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 
- তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামের একটি বইয়ে বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব লিপিবদ্ধ করেন
- সর্বপ্রথম জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
- তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।
- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৩৯.
কোন রাসায়নিকের প্রভাবে ফলের রং হলুদ হয়?
  1. লাইকোপেন
  2. ক্যারোটিন
  3. জ্যান্থোফিল
  4. ক্লোরোফিল
ব্যাখ্যা
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন (কমলা বর্ণ কণিকা) ও জ্যান্থোফিল (হলুদ বর্ণ কণিকা) বেশি পরিমাণে থাকে এবং ক্লোরোফিল (সবুজ বর্ণ কণিক) অল্প পরিমাণে থাকে। - ফুলের পাপড়িতেও ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রজাপতি ও পাখি পরাগায়নে ও বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 
- টমেটোর পাকলে যে লাল টকটকে রং হয় তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৪০.
অর্ধপরিবাহীতে কি মেশালে পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
সেমিকন্ডাক্টরের সাথে ফসফরাস মেশালে ফসফরাসের মুক্ত ইলেকট্রন থাকার কারণে সেটার সহযোগীতায় সেমিকন্ডাক্টর কন্ডাক্টর বা পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে।
উৎসঃ নবম-দশম
১,৭৪১.
কোন গ্রহের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের অর্ধেক?
  1. বুধ
  2. মঙ্গল
  3. শনি
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৭৪২.
পেরিস্কোপে কতটি দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
  1. ২ 
  2. ৩ 
  3. ৪ 
  4. ৬ 
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৭৪৩.
নিচের কোনটি উদ্ভিজ্জ আমিষ?
  1. ডিম
  2. দুধ
  3. ডাল
  4. ছানা
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 

- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৪৪.
দুটি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে মহাকর্ষ বলের মান কী হবে? 
  1. বৃদ্ধি পাবে 
  2. কমে যাবে 
  3. অপরিবর্তিত থাকবে 
  4. প্রথমে বৃদ্ধি পাবে পরে কমবে 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১,৭৪৫.
নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ?
  1. ডিপথেরিয়া
  2. রুবেলা
  3. কলেরা
  4. প্লেগ
ব্যাখ্যা


তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৬.
মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত কোন অংশ উপস্থিত থাকে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. নিউট্রন
  4. প্রোটন
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত প্রোটন উপস্থিত থাকে। প্রোটন হলো পরমাণুর একটি মূল কণা যা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। মহাবিশ্বের সাধারণ পদার্থের বড় অংশ হাইড্রোজেন গ্যাসের আকারে থাকে, এবং প্রতিটি হাইড্রোজেন পরমাণুতে একটিমাত্র প্রোটন থাকে। তাই মহাবিশ্বের জ্যোতির্মণ্ডলে যে রশ্মি বা বিকিরণ দেখা যায়, তার প্রধান উপাদান হিসেবে প্রোটনই প্রাধান্য পায়। অন্যদিকে, নাইট্রোজেন ও কার্বন মহাবিশ্বে কম পরিমাণে আছে, আর নিউট্রন সাধারণত প্রোটনের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং স্বাধীনভাবে দীর্ঘ সময় টিকে থাকে না। ফলে, মহাবিশ্বের রশ্মিতে প্রধানত প্রোটনই উপস্থিত।

- সঠিক উত্তর: ঘ) প্রোটন।
 
• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মিকে বলে মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে।
- বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা। 

১,৭৪৭.
শুষ্ক বরফের প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. CO2
  2. N2
  3. H20
  4. CH4
ব্যাখ্যা

শুষ্ক বরফ হলো কার্বন ডাই অক্সাইডের (CO2) কঠিন রূপ।
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়।
- শুষ্ক বরফের তাপমাত্রা অত্যন্ত কম, প্রায় - 78.5°C বা - 109.3°F।
- এর নাম "শুষ্ক বরফ" কারণ এটি তরল হয় না এবং কোনো জলীয় অবশেষ রাখে না।
-  এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিমায়ন বা শীতলকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহন এবং সংরক্ষণ।
- শুষ্ক বরফ থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস কোনো গন্ধ বা রঙ সৃষ্টি করে না, তবে এটি বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় নিচের দিকে অবস্থান করে।
- মঞ্চের অনুষ্ঠানে এটি কৃত্রিম ধোঁয়া বা কুয়াশা তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- শুষ্ক বরফকে খোলা জায়গায় ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ এটি বাতাসের অক্সিজেনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে এবং দম বন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৭৪৮.
নিচের কোনটি ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস? 
  1. 2, 8, 10
  2. 2, 8, 2
  3. 2, 8, 8, 2
  4. 2, 8, 8, 1
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা = ২০। 
∴ প্রথম শক্তিস্তর(K) এ ইলেকট্রন আছে = ২ টি। 
- ২য় শক্তিস্তর(L) এ ইলেকট্রন আছে = ৮ টি। 
- ৩য় শক্তিস্তর(M) এ ইলেকট্রন আছে = ৮ টি। 
- ৪র্থ শক্তিস্তর(N) এ ইলেকট্রন আছে = ২ টি। 
ক্যালসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 8, 2 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪৯.
এক্স-রে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কেমন? 
  1. অত্যধিক 
  2. মধ্যম 
  3. খুব কম 
  4. নেই 
ব্যাখ্যা

এক্সরে রশ্মির ধর্ম: 
১। এক্সরে রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
৩। এক্সরে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
৪। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
৫। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৬। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৭। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৮। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৯। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
১০। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
১১। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
১২। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১৩। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৫০.
তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে কী?
  1. ক) প্রোটনের প্রবাহ
  2. খ) নিউট্রনের প্রবাহ
  3. গ) ইলেকট্রন-প্রোটনের প্রবাহ
  4. ঘ) ইলেক্ট্রনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রনের প্রবাহ।
ধাতুর শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন দুর্বলভাবে নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত থাকে, সামান্য বিভব পার্থক (voltage) প্রয়োগ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহের কারণ। 
প্রোটন ও নিউট্রন অপেক্ষাকৃত ভারী কণা এবং এরা শক্তিশালী Strong Nuclear Force এর জন্য নিউক্লিয়াসে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে।

কিন্তু ইলেকট্রন আবিষ্কারের পূর্বে মানুষের ধারণা ছিল যে ধনাত্মক আধানের প্রবাহের জন্য তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। যেহেতু ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত, সেহেতু কনভেনশনাল নিয়ম অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে তড়িৎ প্রবাহের দিক ধরা হয় ।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন
১,৭৫১.
তাপমাত্রার যে স্কেলে '০' ডিগ্রি সবচেয়ে বেশি তা হল-
  1. ক) ফারেনহাইট
  2. খ) ক্যালভিন
  3. গ) সেন্ট্রিগেড
  4. ঘ) সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

সেলসিয়াস স্কেলকে সেন্টিগ্রেড স্কেলও বলে। সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ও কেলভিন স্কেলের সম্পর্ক - C/5 = F-32/9 = k-273/100। এ সম্পর্ক থেকে এটা স্পষ্ট যে সেলসিয়াস স্কেলের ০ ডিগ্রির মানই সবচেয়ে বেশি। 0°C = 32°F = 273°k।

১,৭৫২.
উদ্যানতাত্ত্বিক চাষাবাদ বিষয়ক বিদ্যার নাম কী? 
  1. এপিকালচার
  2. হর্টিকালচার
  3. সেরিকালচার
  4. প্রণকালচার
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যাবিষয়ক নামসমূহ: 
- চিংড়ি চাষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলে প্রণকালচার (Prawn Culture)। 
- সামুদ্রিক মাছ চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে মেরিকালচার (Mariculture)। 
- সাধারণ মাছ চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার (Pisciculture)। 
- মৌমাছি পালন সংক্রান্ত বিদ্যাকে বলে এপিকালচার (Apiculture)। 
- রেশম উৎপাদনের জন্য রেশম গুটি ও গুটি পোকা পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে সেরিকালচার (Sericulture)। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার (Aviculture)। 
- বাগান বা উদ্যানতাত্ত্বিক চাষাবাদ (যেমন: ফল, ফুল, শাকসবজি) সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার (Horticulture)। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৭৫৩.
রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা কত হওয়া উচিত?
  1. ৮–১০ গ্রাম/ডেসিলিটার
  2. ১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার
  3. ১৮–২২ গ্রাম/ডেসিলিটার
  4. ২৫–৩০ গ্রাম/ডেসিলিটার
ব্যাখ্যা

◉ রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা— ১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) বিদ্যমান একটি প্রোটিন, যা শরীরের টিস্যুগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।
- পর্যাপ্ত টিস্যু অক্সিজেনেশন নিশ্চিত করতে রক্তে যথেষ্ট হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখা জরুরি।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ গ্রাম প্রতি ডেসিলিটার (g/dl) এককে প্রকাশ করা হয়।

- স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন মাত্রা:
পুরুষ: ১৪–১৮ g/dl; 
মহিলা: ১২–১৬ g/dl; 

- স্বাভাবিকের চেয়ে কম হিমোগ্লোবিনের মাত্রা থাকলে তাকে অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) বলা হয়।
- রক্তে লাল কণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে তাকে এরিথ্রোসাইটোসিস বলা হয়, যার ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।

উৎস: National Library of Medicine ওয়েবসাইট। 

১,৭৫৪.
সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. পলিমারাইজেশন
  2. সালফোনেশন
  3. স্যাপোনিফিকেশন
  4. ফার্মেন্টেশন
ব্যাখ্যা

• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন। 

• সাবান:  
- সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের  (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড)  সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ময়লা ও তেল অপসারণ করে।

• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন।
- এ প্রক্রিয়া তে জৈব এসিডের সাথে ক্ষারের ক্রিয়ায় সাবান তৈরি হয়। 
• বিক্রিয়া:
- জৈব এসিড বা স্টিয়ারিক এসিড (C17H35COOH ) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O
- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সবানের রাসায়নিক নাম।

অন্যদিকে, 
•  সালফোনেশন (Sulfonation): কোনো জৈব যৌগে সালফোনিক অ্যাসিড গ্রুপ (-SO3H) যুক্ত করার বিক্রিয়াকে সালফোনেশন বলে। এটি ডিটারজেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সাবান তৈরিতে নয়।

পলিমারাইজেশন: মনোমার থেকে পলিমার গঠন প্রক্রিয়াকে পলিমারাইজেশন বলা হয়।

ফার্মেন্টেশন: enzymes দ্বারা জৈব যৌগের ভাঙ্গন।

তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ,  নবম-দশম শ্রেণি। 
- রসায়ন ২য় পত্র,  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 

১,৭৫৫.
আদর্শ গ্যাসের জন্য কোন সমীকরণটি সঠিক? 
  1. PV = nK
  2. PV = K
  3. P = nRT
  4. PV = nRT
ব্যাখ্যা
আদর্শ গ্যাস (Ideal Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে তাদেরকে আদর্শ গ্যাস বলে
- প্রকৃতপক্ষে কোনো গ্যাসই সম্পূর্ণরূপে গ্যাস সূত্রসমূহ তথা PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে না।
- আদর্শ গ্যাস হলো একটি কাল্পনিক গ্যাস।
- স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভর করে না। 

আদর্শ গ্যাসের বৈশিষ্ট্য: 
- আদর্শ গ্যাসে নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে- 
১. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ ও আয়তনের গুণফল একটি ধ্রুবক। অর্থাৎ PV = K. তাই এক্ষেত্রে যদি স্থির তাপমাত্রায় চাপ বনাম PV এর লেখ অঙ্কন করা যায় তবে তা একটি সরলরেখা হবে। 
২. আদর্শ গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে। 
৩. স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এর আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের আয়তনের পরিবর্তন হলেও এদের অভ্যন্তরীণ শক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
৪. চাপ অপরিবর্তিত রেখে গ্যাসের তাপমাত্রা 0°C হতে -273.15°C কমালে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৬.
বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ কোন খনিজের অভাবে হয়? 
  1. পটাসিয়াম
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 

- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এমনকি এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৫৭.
রিকেটস রোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিচের কোনটি?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) মস্তিষ্ক
  3. গ) হাড়
  4. ঘ) কিডনি
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rickets)
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রােগ হয়। অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শােষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়ােজন।
- সুতরাং, রিকেটস্‌ রোগের ফলে হাড়ের গঠন ব্যাহত হয়।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন "ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।

১,৭৫৮.
ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. অলটিমিটার
  2. ক্যালরিমিটার
  3. অ্যামিটার
  4. ইনকিউবিটর
ব্যাখ্যা
কৃত্রিমভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর পদ্ধতি: 
 -বাণিজ্যিকভাবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য কৃত্রিম পদ্ধতি সবচেয়ে উপযুক্ত। 
- কৃত্রিমভাবে ডিম ফোটানোর যন্ত্র বা ইনকিউবেটরের সাহায্যে ডিম ফোটানো যায়। 
- ১৮৪৪ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকাতে ডিম ফোটানো যন্ত্র বা ইনকিউবেটর আবিষ্কৃত হয়েছিল। 
- বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের ইনকিউবেটর তৈরি করেছে। 
- তবে, কোনো হ্যাচারিতে কী ধরনের ইনকিউবেটর ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করে ঐ হ্যাচারির আকার, হ্যাচারি মালিকের ক্ষমতা এবং যেখানে হ্যাচারি স্থাপন করা হবে সেখানে বিদ্যুতের সরবরাহ রয়েছে কি-না তার ওপর। 

উৎস: গৃহপালিত পাখি পালন ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, বিএজিএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৯.
কোন প্রাণির দেহে রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিলের উপস্থিতি রয়েছে?
  1. ক) কেঁচো
  2. খ) শামুক
  3. গ) প্রজাপতি
  4. ঘ) তারা মাছ
ব্যাখ্যা
প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশোলা, কাঁকড়া এইসব আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণিদেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত। এছাড়া এদের দেহে খন্ডায়িত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান, মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে, নরম দেহ শক্ত কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
১,৭৬০.
দুইটি বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে আকর্ষণ বল পূর্বের কতগুণ হবে?
  1. অর্ধেক
  2. এক-চতুর্থাংশ
  3. দ্বিগুণ
  4. চারগুণ
ব্যাখ্যা
• দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল এক-চতুর্থাংশ।

• মহাকর্ষ বল:

- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র:
দুইটি বস্তুর মধ্যাকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।


নিউটনের সূত্রানুযায়ী,
১. মধ্যাকার আকর্ষণ বল ভরের গুণফলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ,
F ∝ m1m2
∴ ভর বাড়লে বল বাড়বে।
উভয় বস্তুর ভর যদি দ্বিগুণ করা হয় তাহলে বল চারগুণ হবে এবং ভর যদি তিনগুণ করা হয় তাহলে বল নয়গুণ হবে।

২. আকর্ষণ বল মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্থানুপাতিক। 
∴ F ∝ 1/d2
অর্থাৎ দূরত্ব বাড়লে বল কমে।
দূরত্ব যদি দ্বিগুণ করা হয় তাহলে বল পূর্বের ১/৪ গুণ হবে এবং দূরত্ব যদি তিনগুণ করা হয় তাহলএ বল পূর্বের ১/৯ গুণ হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, শাহাজাহান তপন।
১,৭৬১.
করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেন____
  1. ক) উইলিয়াম কেলি
  2. খ) কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
  3. গ) রোনাল্ড কচ
  4. ঘ) প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয় নি
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি চীনে ভয়াবহ আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের প্রতিষধক আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনো এর যথাযথ কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয় নি।।করোনা ভাইরাসের লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে - জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, পেটে জ্বালাপোড়া, পাতলা পায়খানা।মারাত্মক লক্ষণ সমূহের মধ্যে রয়েছে - নিউমোনিয়া, সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপেটরি সিনড্রোম, কিডনি বিকল, মৃত্যু।
১,৭৬২.
নিম্নের কোনটি দৃশ্যমান আলোর সর্বোচ্চ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রঙ? 
  1. লাল
  2. আসমানী
  3. কমলা
  4. নীল
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িত চৌম্বকীয় বর্ণালীর অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গকে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এই দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। 
- নিম্নের ছকে দৃশ্যমান আলোর বর্ণ অনুসারে তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তালিকা দেখানো হয়েছে- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৩.
অশ্রু বা চোখের জল হল-
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. গ) লবণযুক্ত পানি
  4. ঘ) অ্যাকোয়া রিজিয়া
ব্যাখ্যা

অশ্রু গ্রন্থি:
উপরের চক্ষু পল্লবের কোনায় অশ্রু গ্রন্থি থাকে যা থেকে অশ্রু (Tears) তৈরি হয়।
সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও পানি সমন্বয়ে অশ্রু তৈরি হয়।
অশ্রুতে লাইসোজাইম নামক একটি এনজাইমও থাকে। অশ্রু গ্রন্থিকে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিও বলে।
কাজ: অশ্রু চোখকে সিক্ত রাখে, ধূলা ও ময়লা পরিস্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour) - লেন্সও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।
ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour) - লেন্সও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গোলকের গোলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৬৪.
উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন-
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ জুন
  4. ২৩ সেপ্টেম্বর 
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলাধে শীতকাল:
- ২১ এ মার্চের পর থেকে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে থাকে।
- এভাবে ২১ এ জুনে গিয়ে সূর্যকর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ এ জুন উত্তর গোলার্ধে বড় দিন এবং ছোট রাত হয়।
- ঐ দিনই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য দক্ষিণ দিকে আসতে থাকে।
- দিন বড় হওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধে ২১ এ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকেই গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল স্থায়ী হয়।
- এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা যায় অর্থাৎ শীতকাল অনুভূত হয়।
- এ সময় সূর্য হেলে থাকার কারণে এ গোলার্ধে সূর্য কম সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে দিন ছোট এবংরাত বড় হয়।
- দিনে ভূপৃষ্ঠ যতটুকু উত্তপ্ত হয়, রাতে তাপ বিকিরণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে যায়।
- এখানে তখন শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এ সময়কে শীতকাল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৭৬৫.
ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ইরিডিয়াম
  2. টেকনিশিয়াম-99
  3. আয়োডিন-131
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
-  আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনিশিয়াম-99 আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১,৭৬৬.
দিবারাত্রি সংঘটিত হয় -
  1. মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে
  2. বার্ষিক গতির জন্য
  3. আহ্নিক গতির জন্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ - 
দিন-রাত্রি সংঘটন
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি, 
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি, 
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি, 
• সময় গণনা বা সময় নির্ধারণ প্রভৃতি। 

অন্যদিকে, 
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন-রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৭৬৭.
জৈব রসায়নের জনক-
  1. ক) রবার্ট বয়েল
  2. খ) জাবির ইবনে হায়ান
  3. গ) জন ডাল্টন
  4. ঘ) ফ্রেডারিক উহলার
ব্যাখ্যা

- রসায়নের যে শাখায় হাইড্রোকার্বন ও হাইড্রোকার্বনের বিভিন্ন জাতক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয় তাকে জৈব রসায়ন বলে।
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত দ্বিমৌল যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে।
- ফ্রেডারিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়।
- জৈব বস্তুর সম্পূর্ণ দহনে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়।

১,৭৬৮.
মৃৎক্ষার ধাতুর প্রমাণ জারণ সংখ্যা-
  1. +১
  2. +২
  3. -১
  4. -২
ব্যাখ্যা
• জারণ সংখ্যা নির্ণয়:
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল।
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।

• বিভিন্ন মৌলের প্রমাণ জারণ মান:
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1.
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2.
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1.
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1.

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৯.
শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. ক) বংশগতিবিদ্যা
  2. খ) শারীরবিদ্যা
  3. গ) ভ্রূণবিদ্যা
  4. ঘ) অঙ্গসংস্থান
ব্যাখ্যা
জীবদেহের নানা অঙ্গ-প্রতঙ্গের জৈব-রাসায়নিক কার্যাদি যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি জীববিজ্ঞানের শরীরবিদ্যায় আলোচিত আলোচিত হয়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৭০.
চুনের পানির সংকেত কোনটি?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

• চুনের পানির সংকেত হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Ca(OH)2 । 

• চুনের পানি:
- চুনের পানি হলো ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের (Ca(OH)2 একটি স্বচ্ছ জলের দ্রবণ।

• বৈশিষ্ট্য:
- চুনের পানি বর্ণহীন ও স্বচ্ছ দ্রবণ।
- এটির প্রকৃতি ক্ষারীয়।
- চুনের পানি CO2 এর সাথে বিক্রিয়া করে দুধের মতো সাদা হয়ে যায়, কারণ এতে CaCO3​ গঠিত হয়।

• ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে কার্বন ডাই অক্সাইড সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয় (lime water test)।
- কৃষি ও মাটির অম্লতা দূর করতে।
- বিভিন্ন রাসায়নিক পরীক্ষায়।

অন্যদিকে,
• কস্টিক সোডা (Caustic Soda)– এটি হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH)–এর বাণিজ্যিক নাম।
• পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) – এটি কস্টিক পটাশ নামে পরিচিত।
• ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)₂) – এটি সাধারণত অ্যাসিডিটির ওষুধে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৭১.
কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়?
  1. তামা
  2. লোহা
  3. রূপা
  4. রাবার
ব্যাখ্যা
- পরিবাহী পদার্থের ইলেকট্রন এক পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে সহজেই চলাচল করতে পারে।
যেমন: ধাতু; বিশেষ করে সিলভার ও কপার।

- কার্বন অধাতু হলেও এর রূপভেদ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবাহী৷

- অপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে এর পরমাণুর ইলেকট্রন সহজে চলাচল করতে পারে না।
যেমন: প্লাস্টিক, গ্লাস ও রাবার

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৭২.
দূষিত বাতাসের কোন গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোঅক্সাইড
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রিক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড: 
- দূষিত বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসটি মানবদেহে রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা নষ্ট করে। 
- কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide) এর রাসায়নিক সংকেত হলো CO যা একপ্রকার রঙ, গন্ধ এবং স্বাদহীন গ্যাস, যার ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় কিছুটা কম। 
- এক পরমাণু কার্বন ও এক পরমাণু অক্সিজেন যুক্ত হয়ে এক অণু কার্বন মনোক্সাইড গঠন করে। 
- আন্তর্জাতিকভাবে এটি বিষাক্ত গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। 
- কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মানবদেহে যে সকল সমস্যা দেখা দিতে পারে- 
• দুর্বলতা, 
• বমি বমি ভাব, 
• মাথা ঘোরানো, 
• ক্লান্তি, 
• ক্ষুধা, 
• মাথা ব্যাথা, 
• অজ্ঞান হওয়া, 
• খিঁচুনি ইত্যাদি। 

উৎস: Centers of Disease Control and Prevention website [লিঙ্ক]।
১,৭৭৩.
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (IPNS) এ ব্যবহৃত হয় –
  1. রাসায়নিক সার ও হরমোন
  2. রাসায়নিক সার
  3. জৈব সার
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System- IPNS):
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Plant Nutrient System- IPNS) হলো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কৃষকদের তাদের ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির উপাদানগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করা হয়।
- এটি মূলত জৈব এবং রাসায়নিক উভয় ধরনের পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে একটি সুসমন্বিত পদ্ধতি।

⇒ সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য:
- পুষ্টির সমতা: পুষ্টি উপাদানের সঠিক ভারসাম্য স্থাপন করা যাতে ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানো যায়।
- মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন: মাটির উর্বরতা বাড়ানো এবং তার স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
- ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি: ফসলের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়কেই বাড়ানো।
- পরিবেশ সুরক্ষা: রাসায়নিক সার ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো।
- সমন্বিত উদ্ভিদ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মূল উপাদান:
- জৈব সার: কম্পোস্ট, পশুর বর্জ্য, সবজি পচা ইত্যাদি।
- রাসায়নিক সার: নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: Integrated Plant Nutrition System (IPNS) - A Practice for Sustainable Agriculture Resource management. Indian Journal of Environment and Ecoplanning
১,৭৭৪.
হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে কোন রোগ সৃষ্টি হয়?
  1. হার্ট অ্যাটাক
  2. হার্ট ব্লক
  3. হার্ট ফেইলিউর
  4. সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
ব্যাখ্যা
হার্ট ব্লক:
- হৃদপিন্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে হৃদ অবরোধ বা হার্ট ব্লক বলে ।

হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপিন্ডের করোনারি ধমনি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে যে রোগ সৃষ্টি হয় তাকে হার্ট অ্যাটাক বলে।

হার্ট ফেইলিউর:
- হৃদপিন্ডের অ্যাট্রিয়াম অথবা ভেন্ট্রিকল অথবা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে হার্ট ফেলিওর বলে।
 
তথ্যসূত্র - হৃদপিণ্ডের যত কথা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭৫.
খাবার লবণে কোন ধরনের রাসায়নিক বন্ধন থাকে?
  1. সমযোজী বন্ধন
  2. আয়নিক বন্ধন
  3. ধাতব বন্ধন
  4. ভ্যান্ডার-ওয়ালস বন্ধন
ব্যাখ্যা

• খাবার লবণে উপস্থিত রাসায়নিক বন্ধন আয়নিক প্রকৃতির। 

• আয়নিক বন্ধন:
- ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে গঠিত ক্যাটায়ন এবং অ্যানায়নসমূহ যে আকর্ষণ বল দ্বারা যৌগের বল দ্বারা যৌগের অণুতে আবদ্ধ থাকে তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
 
• আয়নিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য:
- ধাতুগুলোর আয়নিকরণ শক্তির মান অনেক কম হওয়ায় এরা অতি সহজেই সর্বশেষ শক্তিস্তরের এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট আয়ন বা ক্যাটায়নে পরিণত হয়।
- আবার অধাতুগুলোর ইলেকট্রন আসক্তির মান বেশি হওয়ায় এরা সহজেই সর্বশেষ শক্তিস্তরে এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট আয়ন বা অ্যানায়নে পরিণত হয়।
- এভাবে সৃষ্ট বিপরীত আধানের ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল বা ইলেকট্রোস্ট্যাটিক বল কাজ করে। এই আকর্ষণ বলটিই আয়নিক বন্ধন।

NaCl (সোডিয়াম ক্লোরাইড)-এ একটি আয়নিক বন্ধন থাকে, কারণ:
- Na (সোডিয়াম) একটি ধাতু, যা ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন (Na+) তৈরি করে।
- Cl (ক্লোরিন) একটি অধাতু, যা সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন (Cl-) তৈরি করে।
- ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বা আয়নিক বল দ্বারা গঠিত হয় আয়নিক বন্ধন।
Na → Na+ + e-
Cl + e- → Cl- 
Na + Cl → Na+ + Cl- = NaCl

অন্যদিকে,
সমযোজী বন্ধন: এটি গঠিত হয় যখন দুইটি অধাতু ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন তৈরি করে।
ধাতব বন্ধন: এটি সাধারণত কেবল দুইটি ধাতব পরমাণুর মধ্যে হয়ে থাকে।  
ভ্যান্ডার-ওয়ালস বন্ধন: এটি একটি দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ। এটি আয়নিক বন্ধনের মত শক্তিশালী বন্ধন নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১,৭৭৬.
নিচের কোন উক্তিটি সঠিক? 
  1. বায়ু একটি যৌগিক পদার্থ
  2. বায়ু একটি মৌলিক পদার্থ
  3. বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ
  4. বায়ু বলতে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মিশ্রণকে বোঝায়
ব্যাখ্যা
- এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
- একটি ভাগে আছে পদার্থ যাদের ওজন বা ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয়। 
- দুই বা ততোধিক পদার্থকে যে কোনো অনুপাতে একত্রে মিশ্রিত করলে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলা হয়। 
- বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ বায়ুতে এর উপাদানসমূহ যেমন- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে। 

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৭৭.
ভূপৃষ্ঠে যে ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমানে আছে -
  1. ক) তামা
  2. খ) লোহা
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)।
লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।

Source: space.com
১,৭৭৮.
খাদ্যবস্তু কেটে টুকরো করা হয় কোন দাঁতের সাহায্যে?
  1. ক) কর্তন দাঁত
  2. খ) ছেদন দাঁত
  3. গ) পেষণ দাঁত
  4. ঘ) অগ্রপেষণ
ব্যাখ্যা
কর্তন দাঁত দিয়ে খাদ্যবস্তু কেটে টুকরো করা হয়। 

ছেদন দাঁত দিয়ে খাদ্যবস্তু ছেঁড়া হয়। 
পেষণ দাঁত দিয়ে চর্বণ ও পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
অগ্রপেষণ দাঁত দিয়েও চর্বণ ও পেষণ উভয় কাজ করা হয়।  
মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের হয়ে থাকে। 

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
১,৭৭৯.
নিচের কোনটি রেচন পদার্থ?
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) অ্যামোনিয়া
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা

রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে, যা বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ।
অজৈব পদার্থগুলাের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন: সােডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়ােডিন এবং O2, CO2, এবং N2 জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ।
জৈব পদার্থের মধ্যে আছেঃ
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনাে এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি।
২ রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামােনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৭৮০.
স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষের উপর প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে বায়ুর চাপ পড়ে প্রায়-
  1. ১৩ পাউন্ড
  2. ১০ পাউন্ড
  3. ১৫ পাউন্ড
  4. ১৬ পাউন্ড
ব্যাখ্যা
- গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় চাপ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। 
- গড়ে পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ পর্যন্ত, ১ বর্গ সেন্টিমিটার প্রস্থছেদের একটি বায়ুর কলামের ভর ১.০৩ কিলোগ্রাম, এবং এটি ১০.১ নিউটন বল বা ওজন প্রয়োগ করে। 
- যার ফলে ১০.১নিউটন/সেমি বা ১০১ কিলোনিউটন/মিটার চাপের সৃষ্টি হয়। 
- ১ বর্গ ইঞ্চি প্রস্থচ্ছেদের একটি বায়ু একটি কলামের ওজন হবে প্রায় ১৪.৭ পাউন্ড, ফলে চাপের পরিমাণ হবে ১৪.৭ পাউন্ড বা প্রায় ১৫ পাউন্ড। 

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট। 
১,৭৮১.
গর্ভাবস্থায় নিম্নের কোন ঔষধটি অত্যাবশ্যকীয়?
  1. ক) কৃমির ওষুধ
  2. খ) বমির ওষুধ
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) এন্টাসিড
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড গ্রহন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (NTD) যেমন- স্পাইনাল কর্ড (Spina Bifida) ও ব্রেইনের (anencephaly) জন্মগত ত্রুটি প্রতিরােধে সাহায্য করে।
নিউরাল টিউব হলাে ভূনের একটি অংশ যা থেকে মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কের গঠন হয়।
১,৭৮২.
অণু খাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয় কোনটিকে?
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. স্নেহ
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা

• খাদ্য উপাদান:
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়।

• খাদ্য উপাদান ৬টি।
যথা:
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়।
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৩.
মানবদেহে কয় জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম থাকে?
  1. ২২ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ১ জোড়া
  4. ২ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৪.
নিচের কোনটি আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) মাওনালেয়া
  2. খ) কোটোপ্যাক্সি
  3. গ) ভিসুভিয়াস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধনকারী প্রক্রিয়া বা শক্তিগুলোর মধ্যে অগ্নুৎপাত অন্যতম।
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সবসময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন:
• ইতালির ভিসুভিয়াস,
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া,
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৮৫.
pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান -
  1. 0
  2. 1
  3. 7
  4. 14
ব্যাখ্যা
- pH এর মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়।
- নিরপেক্ষ কোনো দ্রবণের pH এর মান ৭।
- এসিড দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে কম হয় এবং ক্ষারের দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে বেশি হয়।
- pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান ০ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষারের pH এর মান ১৪।

[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
১,৭৮৬.
কসমিক রে মূলত কী?
  1. মহাকাশ থেকে আগত উচ্চশক্তির কণা
  2. সূর্য থেকে নির্গত আলোক রশ্মি
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. এক ধরনের গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি:
- মহাজাগতিক রশ্মি বা কসমিক রে হলো মহাকাশ (আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম) থেকে আগত উচ্চ-শক্তির আধানযুক্ত কণা। 

• মহাজাগতিক রশ্মি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী ভিকটর হেস।
- এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ প্রোটন, প্রায় ৯ ভাগ বিকিরণ এবং বাকি অংশে থাকে কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারি নিউক্লিয়াস।
- এগুলোই হলো প্রাইমারি মহাজাগতিক রশ্মি। এসব রশ্মি  প্রায় আলোর বেগে ছুটে চলে।

• সেকেন্ডারি মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে প্রধানত পজিট্রন, নিউট্রন, মেসন, নিউট্রিনো ইত্যাদি। এ সব কণাদের বলা হয় প্রাথমিক বা মৌলিক কণা।

অন্যদিকে,
সূর্য থেকে নির্গত আলোকরশ্মি, রেডিও তরঙ্গ, গামা রশ্মি হলো আধানশূন্য । 

তথ্যসূত্র: 
- ব্রিটানিকা।
১,৭৮৭.
নিচের কোন পদ্ধতিতে Bacteria এর Spore ধ্বংস হয়?
  1. Boiling
  2. Fumigation
  3. Cidex solution
  4. Autoclave
ব্যাখ্যা
Autoclave:
একটি অটোক্লেভ হল জীবাণুমুক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং পরীক্ষাগার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি বিশেষ সরঞ্জাম। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং স্পোর সহ অণুজীবকে হত্যা বা নিষ্ক্রিয় করতে উচ্চ-চাপের বাষ্প ব্যবহার করে।

Boiling:
ফুটানো হল জীবাণুমুক্তকরণ এবং জীবাণুমুক্ত করার একটি পদ্ধতি যাতে একটি তরল, সাধারণত জল, তার স্ফুটনাঙ্কে, যা 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস (212 ডিগ্রি ফারেনহাইট) আদর্শ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে গরম করা জড়িত। 

Fumigation:
ফিউমিগেশন হল একটি প্রক্রিয়া যা একটি এলাকা বা বস্তুকে বায়বীয় রাসায়নিক বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে এনে জীবাণুমুক্ত বা জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিটি প্রায়শই বদ্ধ স্থানে কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় বা অণুজীব দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়, যেমন ভবন, স্টোরেজ এলাকা বা সরঞ্জাম।

Cidex solutio:
সিডেক্স হল একটি উচ্চ-স্তরের জীবাণুনাশক দ্রবণের একটি ব্র্যান্ড নাম যা প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা সেটিংসে চিকিৎসা যন্ত্র এবং সরঞ্জামগুলিকে জীবাণুমুক্ত এবং জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৭৮৮.
শীতে শরীর কাঁপে কেন?
  1. ক) শরীরের তাপ ও বাহিরের তাপ সমান থাকায়
  2. খ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম বলে
  3. গ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ বেশি বলে
  4. ঘ) বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি বলে
ব্যাখ্যা
Shivering is one such tactic, in which your muscles contract and expand in speedy bursts. In addition to quaky limbs, your jaw muscles might begin to shiver, making your teeth chatter. This twitching exercise produces heat, which helps to raise body temperature. It's also your signal to find a toasty haven and a warm drink. সূত্রঃ Live Science.com
১,৭৮৯.
Which of the following occurs as a direct result of raising the temperature of a metallic conductor?
  1. Increase in resistance
  2. Decrease in resistance
  3. It turns into an insulator
  4. The flow of electric current increases
  5. No change in resistance
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৯০.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে কোনটি?
  1. ক) ধমনি
  2. খ) শিরা
  3. গ) কৈশিকনালী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্তনালি
- যে নালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে রক্তনালি বলে। 
- মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্তনালি আছে। যথা- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালি।

ধমনি:
- যে সকল রক্তবাহী নাশি হূৎপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে, তাকে ধমনী বলে।
- এরা দেহের ভিতর দিকে অবস্থিত।
- ধমনির প্রাচীর পুরু পর ছোট এবং এর গহ্বরে কপাটিকা থাকে না।
- ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে। 
শিরা:
- যে সকল রক্তনালি দ্বারা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে তাকে শিরা বলে।
- শিরা প্রাচীর অপেক্ষকৃত পাতলা।
- এদের গহ্বরটি বড় ও গহ্বরের প্রাচীরপাত্রে কপাটিকা থাকে।
- দেহের কৈশিক জালিকা থেকে শিরার উৎপত্তি ঘটে।
- কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া শিরা সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত বহন করে। 
কৈশিকনালি:
- ধমনি ক্রমান্বয়ে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত অতিসূক্ষ্ম নালি তৈরি করে। এই সকল সূক্ষ্মনালিকে কৈশিকনালি বা কৈশিক জালিকা বলে। 
- কৈশিকনালি থেকে শিরার উৎপত্তি।
- এক স্তরবিশিষ্ট পাতলা এপিথেলিয়াল কোষ দিয়ে কৈশিকনালির প্রাচীর গঠিত।
- কৈশিকনালি দেহকোষের চারপাশে অবস্থান করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৯১.
'চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া' নিউটনের গতির কোন সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়? 
  1. প্রথম সূত্র 
  2. দ্বিতীয় সূত্র 
  3. তৃতীয় সূত্র 
  4. চতুর্থ সূত্র 
ব্যাখ্যা

নিউটনের প্রথম সূত্র: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে। 
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। 

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: 
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে। 

নিউটনের তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। 
উদাহরণ- 
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে। 
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৯২.
Exclusive breast feeding কয়মাস পর্যন্ত করানো হয়?
  1. ৬ মাস
  2. ১২ মাস
  3. ৪ মাস
  4. ১৮ মাস
ব্যাখ্যা
- Exclusive breast feeding হল শিশুদের জন্য একটি খাওয়ানোর অভ্যাস যেখানে তাদের জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো হয়, পানি সহ অন্য কোন খাবার বা তরল না দিয়ে।
- প্রথম ছয় মাসের পর, মা ও শিশুর  ইচ্ছা অনুযায়ী শিশুর কমপক্ষে দুই বছর বা তার বেশি বয়স না হওয়া পর্যন্ত পরিপূরক খাবারের সাথে breast feeding অব্যাহত থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৭৯৩.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. অধাতু
  2. মুদ্রা ধাতু
  3. ক্ষার ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা এক কথায় অসাধারণ। 
- বর্তমানেও বাজারে ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে, তবে এগুলো সংকর ধাতুর তৈরি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৪.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি?
  1. টাইটান
  2. চন্দ্র
  3. ডিমোস
  4. গ্যানিমেড
ব্যাখ্যা
পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো 'পৃথিবী'। 
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। 
- এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- ডিমোস মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- টাইটান শনি গ্রহের একটি উপগ্রহ। 
- গ্যানিমেড বৃহস্পতি গ্রহের একটি উপগ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৫.
ইনটিগ্রেটেড সার্কিট (IC) প্রথম তৈরি করেছিলেন কে? 
  1. জ্যাক কেলবি 
  2. এডউইন হাবল 
  3. জন হুইলার 
  4. জর্জ লেমাইটার 
ব্যাখ্যা

সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়।এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে। 
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

১,৭৯৬.
পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো -
  1. ক) দূষণের হার বৃদ্ধি
  2. খ) বিশুদ্ধতার হার বৃদ্ধি
  3. গ) দূষণের হার হ্রাস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand, COD) :
- পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না ।
- এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়।
এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে।
- পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বলে।
- উল্লেখ্য যে, কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়।
কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়।
- পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি


উৎসঃ পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৭.
নিচের কোনটি পরিবেশের অজীব উপাদান?
  1. ক) অ্যামিবা
  2. খ) পানি
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) শামুক
ব্যাখ্যা
পরিবেশের উপাদান
- পরিবেশকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়।
- একটি হলো পরিবেশের সকল সজীব উপাদান, যা জীব উপাদান নামে পরিচিত।
- এই জীব উপাদানকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সকল উপাদান নিয়ে আর একটি পরিবেশ গঠিত । যাকে বলা হয় জড় পরিবেশ বা অজীব পরিবেশ।
- জীব পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী।
- পরিবেশের প্রাণহীন সব উপাদান নিয়ে জড় পরিবেশ গঠিত । এগুলো অজীব বা জড় উপাদান নামে পরিচিত।
- জড় পরিবেশের মূল উপাদান হচ্ছে মাটি, পানি এবং বায়ু । কারণ এ উপাদানগুলো ছাড়া কোন জীবই বেঁচে থাকতে পারে না।
- মাটি, পানি, বায়ু, আলো, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, জলবায়ু ইত্যাদি বিভিন্ন অজীব উপাদান বিভিন্নভাবে পরিবেশের প্রতিটি জীবের স্বভাব এবং বিস্তৃতিকে প্রভাবিত করে।
- এসব উপাদানের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে পরিবেশের একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোন ধরনের জীব উপাদান থাকবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৭৯৮.
ইনসমনিয়া কোন ধরণের অসুখ?
  1. নিদ্রহীনতা
  2. স্নায়ুরোগ
  3. সেরিব্রাল পলসি
  4. চোখের রোগ
ব্যাখ্যা
- রাতে ঘুম না আসা বা আসলেও বারবার ভেঙ্গে যাওয়াকে বলা হয় ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগ। 
- ইনসোমোনিয়া হচ্ছে একটি নিদ্রাহীনজনিত সমস্যা। 
- ইনসোমনিয়া রোগের উপসর্গ সমূহ হচ্ছে- 
১. ঘুম না আসা, 
২. মাথা ব্যথা করা, 
৩. কাজে মনোনিবেশ করতে না পারা, 
৪. সারাদিন ক্লান্তিতে কাঁটানো, 
৫. মুড সুয়িং ইত্যাদি। 

উৎস: NHS Website [লিঙ্ক]।
১,৭৯৯.
কোন ধমনী মানবদেহের পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে?
  1. ফ্রেনিক
  2. ভার্টিব্রাল
  3. সিলিয়াক
  4. ইলিয়াক
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপরে থেকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ধমনীর একটি, যা সারা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে। 
যেমন- 
⇒ আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ জনন ধমনি: গোনাডে (যেমন: ডিম্বাশয় বা অন্ডকোষ) রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০০.
সাধারণত অ্যালকোহল বলতে কোন পদার্থকে বোঝায়?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. রেকটিফাইড স্পিরিট 
ব্যাখ্যা

- সাধারণত অ্যালকোহল বলতে মূলত ইথানল (C2H5OH) বোঝানো হয়, যা পানীয়, ওষুধ ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়

অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 

- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।