বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা৯২প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৪০ / ১৪০ · ১৩,৯০১১৩,৯৯২ / ১৪,০৮০

১৩,৯০১.
নিচের কোনটি সবচেয়ে শক্ত ধাতু?
  1. Gold
  2. Iron
  3. Platinum
  4. Tungsten
ব্যাখ্যা
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।
- টাংস্টেন নামটি সুইডিশ নাম টাংস্টেন থেকে এসেছে যার অর্থ ভারী পাথর।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)
- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪
১৩,৯০২.
কোনো মাধ্যমের তাপমাত্রা বাড়ালে ঐ মাধ্যমে শব্দের গতি-
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. অনিয়মিত হয়
ব্যাখ্যা
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
- কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পাবে।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। 
অর্থাৎ, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯০৩.
কোন রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. ক) ও পজেটিভ
  2. খ) এবি পজেটিভ
  3. গ) ও নেগেটিভ
  4. ঘ) এবি নেগেটিভ
ব্যাখ্যা
 
ও নেগেটিভ - সর্বজনীন দাতা গ্রুপ।
এবি পজেটিভ - সর্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।
সূত্রঃ www.thebloodcenter.org
১৩,৯০৪.
পারমাণবিক সংখ্যা সর্বনিম্ন কত হলে কোন মৌল তেজস্ক্রিয়তা ধর্ম প্রদর্শন করে?
  1. ৮২
  2. ৮৩
  3. ৮৪
  4. ৮৫
ব্যাখ্যা

তেজষ্ক্রিয়তা:
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজষ্ক্রিয়তা বলে।
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজষ্ক্রিয়তার ধর্ম প্রদর্শন করে।
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়-
১. তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
২. তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
৩. তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
৪. এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৯০৫.
কোনটি অর্গানিক যৌগ হিসেবে পরিচিত?
  1. কস্টিক সোডা
  2. মরিচা
  3. চুন
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

• অপশন গুলোর মধ্যে ইউরিয়া অর্গানিক যৌগ হিসেবে পরিচিত। অর্গানিক যৌগ হলো সেই যৌগ যেটিতে প্রধানত কার্বন এবং হাইড্রোজেন থাকে, এবং প্রায়ই নাইট্রোজেন, অক্সিজেন বা সালফারও থাকতে পারে। ইউরিয়া হলো একটি নাইট্রোজেনযুক্ত অর্গানিক যৌগ। 

জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- 
• মিথেন, 
• ইথেন, 
• বেনজিন, 
• ইউরিয়া, 
• প্রোপিন, 
• পেন্টাইন ইত্যাদি। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 

অজৈব যৌগ: 
- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়। 
যেমন- 
• পানি, 
• খাবার লবণ, 
• খাবার সোডা, 
• কাপড় কাচার সোডা, 
• কস্টিক সোডা, 
• চুন, 
• মরিচা ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৯০৬.
উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের অধিকাংশই কোন মাধ্যমে সম্পন্ন হয়?
  1. ক) কিউটিকুলার প্রস্বেদন
  2. খ) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
  3. গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন
  4. ঘ) ভাস্কুলার প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে।
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'।  
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া।
- কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে।
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন,
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

- উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% হয় পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদনের মাধ্যম।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯০৭.
মৌলিক রাশি নয় কোনটি?
  1. সময়
  2. বেগ
  3. দীপন তীব্রতা
  4. তড়িৎপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- 
• দৈর্ঘ্য, 
• ভর, 
সময়
• তাপমাত্রা, 
তড়িৎপ্রবাহ
দীপন তীব্রতা এবং 
• পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- 
বেগ
• ত্বরণ, 
• কাজ, 
• বল, 
• তাপ, 
• বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯০৮.
ফোটনের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) ফোটনের শক্তিশালী ভরবেগ আছে
  2. খ) ফোটন ভরহীন
  3. গ) ফোটন কণা ও তরঙ্গ ধর্ম প্রদর্শন করে
  4. ঘ) ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা
আলোক শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। প্রত্যেক রং এর আলোর জন্য এই শক্তি প্যাকেটের শক্তির একটা সর্বনিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্নমানের শক্তিসম্পন্ন কণিকাকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
ফোটন ভরহীন ও তড়িৎ নিরপেক্ষ। এটি কণা এবং তরঙ্গ উভয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে।
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯০৯.
ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. চাকচিক্য বেশি
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা
  3. নমনীয়তা
  4. ঘনত্ব কম
ব্যাখ্যা
• "ঘনত্ব কম" ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। কারণ ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ ধাতুর ঘনত্ব বেশি হয়। 

• ধাতু:
- যে সকল পদার্থের বিশেষ দ্যুতি আছে, আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা বিদ্যমান, পিটিয়ে পাতলা পাত বানানো যায়, টেনে সরু ও লম্বা করা যায়, আঘাত করলে বিশেষ ধাতব শব্দ হয় এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলে। 

• ধাতুর বৈশিষ্ট্য:  
→ চকচকে: ধাতু সাধারণত উজ্জ্বল এবং চকচকে হয়।  
→ নমনীয়: এগুলো সহজে বাঁকানো বা পিটিয়ে পাতলা করা যায়।  
→ তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী: ধাতু বিদ্যুৎ এবং তাপের ভাল পরিবাহী।  
ধাতব বন্ধন: ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়নে পরিণত হতে পারে এবং ধাতব বন্ধন গঠন করে। 
ঘাতসহিষ্ণু: ধাতু আঘাত পেলে সহজে ভাঙ্গে না।  
→ ঘনত্ব: অধিকাংশ ধাতুর ঘনত্ব বেশি। 

উদাহরণ - লোহা, তামা, সোনা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
১৩,৯১০.
নিচের কোন ধরণের বন্ধনে অণুগুলির আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে কম?
  1. ধাতব
  2. হাইড্রোজেন
  3. সমযোজী
  4. আয়নিক
ব্যাখ্যা

• বন্ধনগুলির মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনে অণুগুলির আকর্ষণ সবচেয়ে কম। হাইড্রোজেন বন্ধন অন্যান্য বন্ধনের তুলনায় খুব দুর্বল এবং কম স্থায়ী। আয়নিক, সমযোজী বা ধাতব বন্ধনের তুলনায় হাইড্রোজেন বন্ধনের শক্তি কম হওয়ায় অণুগুলির মধ্যে আকর্ষণও সর্বনিম্ন থাকে। উদাহরণস্বরূপ, জল অণুর মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধন থাকলেও, এটি কেবল অপেক্ষাকৃত সামান্য শক্তি প্রদান করে এবং সহজে ভেঙে যায়। তাই বন্ধনের শক্তির ক্রম হয়: আয়নিক > সমযোজী > ধাতব > হাইড্রোজেন। এই কারণে হাইড্রোজেন বন্ধন অণুগুলিকে একে অপরের সাথে সবচেয়ে কম টান ধরে রাখে।

 • বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক বন্ধন:
- রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে পরমাণু বা অণু একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
- বন্ধনের শক্তি নির্ভর করে পরমাণু বা আয়নের মধ্যে আকর্ষণ বলের উপর।
- বিভিন্ন বন্ধনের ক্ষেত্রে এই আকর্ষণ শক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়।

• আয়নিক বন্ধন (Ionic Bond):
- আয়নিক বন্ধনে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে শক্তিশালী তড়িৎস্থিতিক আকর্ষণ থাকে।
- এই আকর্ষণ বল খুব শক্তিশালী হওয়ায় আয়নিক বন্ধন অত্যন্ত স্থিতিশীল।
- তাই আয়নিক বন্ধনে আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে বেশি।

• সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond):
- সমযোজী বন্ধনে পরমাণুগুলি ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে।
- ইলেকট্রন ভাগাভাগির কারণে পরমাণুগুলির মধ্যে যথেষ্ট শক্তিশালী আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।
- আয়নিক বন্ধনের তুলনায় এটি কিছুটা দুর্বল হলেও যথেষ্ট স্থিতিশীল।

• ধাতব বন্ধন (Metallic Bond):
- ধাতব বন্ধনে ধাতব আয়ন ও মুক্ত ইলেকট্রনের মধ্যে আকর্ষণ থাকে।
- এই আকর্ষণ সমযোজী ও আয়নিক বন্ধনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
- তবুও এটি হাইড্রোজেন বন্ধনের চেয়ে শক্তিশালী।

• হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen Bond):
- হাইড্রোজেন বন্ধন একটি দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল।
- এটি মূলত অণুর মধ্যে সৃষ্টি হয়, পরমাণুর মধ্যে নয়।
- এই বন্ধনের স্থায়িত্ব কম এবং বন্ধন শক্তি তুলনামূলকভাবে খুব দুর্বল।
- তাই সকল বন্ধনের মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনে আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে কম।

• বন্ধনের আকর্ষণ শক্তির ক্রম:
- আয়নিক বন্ধন > সমযোজী বন্ধন > ধাতব বন্ধন > হাইড্রোজেন বন্ধন। 

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

১৩,৯১১.
​ধূমকেতু কী? 
  1. একটি উপগ্রহ 
  2. এক ধরনের নক্ষত্র 
  3. এক ধরনের জ্যোতিষ্ক
  4. এক ধরনের গ্রহ
ব্যাখ্যা

ধূমকেতু (Comet): 
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। 
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। 
যেমন: মস্তক (Head) বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ (Tail)। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে। 
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ। 
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে। 
- হ্যালির ধূমকেতু (Hally's Comet) প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৯১২.
পেপটিক আলসার রোগ শনাক্ত করতে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. সিটি স্ক্যান
  2. এন্ডোসকপি
  3. আল্ট্রাসাউন্ড
  4. এমআরআই স্ক্যান
ব্যাখ্যা
গ্যাস্ট্রিক ও পেপটিক আলসার (Gastric and Peptic ulcer): 
- আলসার বলতে যেকোনো এপিথেলিয়াম বা আবরণী টিস্যুর একধরনের ক্ষত বোঝায়। 
- পেপটিক আলসার বলতে খাদ্যনালির কোনো অংশের আলসার বোঝায়, সেটি যদি পাকস্থলীতে হয় তাহলে তাকে গ্যাস্ট্রিক আলসার, ডিওডেনামে হলে ডিওডেনাল আলসার বলা হয়। 
- দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যগ্রহণে অনিয়ম হলে পাকস্থলীতে অম্লের আধিক্য ঘটে এবং অনেক দিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে এই অম্ল বা এসিড দিয়ে পাকস্থলী বা অন্ত্রে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে পেপটিক আলসার হতে পারে। 
- তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবিন ওয়ারেন ও ব্যারি মার্শালের গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, বিষণ্ণতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori (সংক্ষেপে H. pylori) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এজন্য তাঁরা ২০০৫ সালে যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।  
- আগে ভাবা হতো পাকস্থলীর তীব্র হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে (pH 1.5-3.5) কোনো ব্যাকটেরিয়া টিকতে পারে না। 
- নিজের ধারণা প্রমাণ করার জন্য ব্যারি মার্শাল H. pylori ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত দ্রবণ পান করে পেপটিক আলসারে ভুগেছিলেন (উল্লেখ্য, এই ব্যাকটেরিয়া যে শুধু আলসারের জন্য দায়ী তাই নয়, এ থেকে পাকস্থলীর ক্যান্সারও হতে পারে। মার্শাল তাঁর নিজের জীবনের উপর মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েছিলেন, যা অনুসরণীয় নয়)। 

- পেপটিক আলসার রোগে সাধারণত পেটের ঠিক মাঝ বরাবর, নাভির একটু উপরে একঘেয়ে ব্যথা অনুভূত হয়। 
- খালি পেটে বা অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাদ্য খেলে ব্যথা বাড়ে। 
- আলসার মারাত্মক হলে বমি হতে পারে, কখনো কখনো বমি এবং মলের সাথে রক্ত নির্গত হয়। 
- এন্ডোসকপি (Endoscopy) বা বেরিয়াম এক্স-রের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- এ রোগ থেকে দূরে থাকতে হলে যা করতে হবে তা হলো: 
• নিয়মিত সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ করা। 
• অধিক তেল এবং মশলাযুক্ত গুরুপাক খাদ্য পরিহার করা। 
• ফুটানো দুধ, পনির এবং কলা খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। 
• নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করে, কফি, সিগারেট ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে ইত্যাদি। 
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯১৩.
কোন ক্ষেত্রে মহাকর্ষ বলকে অভিকর্ষ বলা হয়? 
  1. যখন কোনো বস্তুর উপর সূর্যের আকর্ষণ কাজ করে
  2. যখন কোনো বস্তুর উপর চন্দ্রের আকর্ষণ কাজ করে
  3. যখন কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণ কাজ করে
  4. যখন কোনো বস্তুর উপর কোনো গ্রহাণুর আকর্ষণ কাজ করে
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষ: 
- এ মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণাই একে অপরকে নিজেদের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই মহাকর্ষ। 
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয়, তাহলে পৃথিবী বস্তুটিকে যে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলে। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণই অভিকর্ষ। 
যেমন- গাছের ফল মাটিতে পড়ে আবার ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলেও বলটি মাটিতে এসে পড়ে। এখানে পৃথিবী যেমন ফল বা ক্রিকেট বলকে আকর্ষণ করে, তেমনি এরাও পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী অনেক বড় এবং এর আকর্ষণ বল অনেক বেশি হওয়ায় ফল ও ক্রিকেট বল মাটিতে পড়ে। 
- পৃথিবী এবং অন্য যেকোনো বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই অভিকর্ষ। 
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবী এবং বই-এর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৯১৪.
বাতাসের আদ্রতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় কোনটি?
  1. ব্যারোমিটার
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. হাইগ্রোমিটার
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র:
- বাতাসের আদ্রতা পরিমাপের যন্ত্র - হাইগ্রোমিটার।
- উড়োজাহাজের গতি পরিমাপক যন্ত্র হলো - ট্যাকোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় এর যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- বায়ুর চাপ নির্ণয় এর যন্ত্র - ব্যারোমিটার।
- বায়ুর গতিবেগ নির্ণয় এর যন্ত্র - এনিমোমিটার।
- তরলের ঘনত্ব নির্ণয়কারী যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- দুধের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়- ল্যাক্টোমিটার।
- বৃষ্টির পরিমাণ হিসেব করতে ব্যবহৃত হয় - রেইনগেজ।
- মোটর গাড়ির গতি পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয় -ওডোমিটার।

তথ্যসূত্র:
১. ভূগোল প্রথম পত্র, এইস.এস.সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

১৩,৯১৫.
পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান কত?
  1. ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড
  2. শূন্য
  3. অসীম
  4. ১০ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : খ) শূন্য 

• অভিকর্ষ:

- এ মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাই মহাকর্ষ।
- দুটি বস্তুর একটি যদি পৃথিবী হয়, তাহলে পৃথিবী বস্তুটিকে যে বলে আকর্ষণ করে তাকে মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলে। অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণই অভিকর্ষ। 
- সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ, কিন্তু পৃথিবী এবং বিজ্ঞান বই-এর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ।

• অভিকর্ষজ ত্বরণ: 
- বল প্রয়োগ করলে কোনো বস্তুর বেগের পরিবর্তন হয়। সময়ের সাথে যে হারে বেগ বৃদ্ধি পায় তাকে ত্বরণ বলে। অভিকর্ষ বলের প্রভাবেও বস্তুর ত্বরণ হয়। এ ত্বরণকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বা মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ বলা হয়।
- যেহেতু বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে, সুতরাং অভিকর্ষ বলের প্রভাবে কোনো স্থানে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
- অভিকর্ষজ ত্বরণকে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ এক প্রকার ত্বরণ, সুতরাং এর একক হবে ত্বরণের একক অর্থাৎ মিটার/সেকেন্ড
- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে। 
আমরা জানি, 
W = mg 
এখানে, 
m = বস্তুর ভর।
g = অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 m/s2 । 
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে। 
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম। 
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রে g এর মান শূন্য

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩,৯১৬.
কোন ধাতু পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়?
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. রেডিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম ধাতুকে পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়। 

সোডিয়াম: 
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু। 
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে। 
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। 
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়। 
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। 
- তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫ °C (২৫৭ °F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত +2 জারণ অবস্থায় থাকে। এটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ, আরএনএ এবং এটিপি-এর সঙ্গে জড়িত। 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান, যা পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- রেডিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এর যৌগগুলি অন্ধকারে হালকা নীল রঙের আলো ছড়ায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

১৩,৯১৭.
কোন উক্তিটি সঠিক নয়?
  1. কুষ্ঠ রোগ সংক্রামক নয়
  2. এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়
  3. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয়
  4. নিউমোনিয়া ফুসফুসকে আক্রান্ত করে
ব্যাখ্যা
- 'চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয়' এ উক্তিটি সঠিক নয়। 

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯১৮.
নিচের কোনটি যোজক কলার অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. সুষুম্নাকাণ্ড
  3. হাড়
  4. জিহ্বা
ব্যাখ্যা
প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ বা একই অঙ্গের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে যোজক কলা।
- এই কলা দ্বারা সৃষ্ট কঙ্কাল প্রাণীর দেহ কাঠামোগত রূপ প্রদান করে। কোনো কোনো যোজক কলা শরীরের প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনী পদার্থ পরিবহণে সাহায্য করে।
- এই কলা মূলত ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

গঠন প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে এদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
এই ভাগ তিনটি হলো- 
১. প্রকৃত যোজক কলা: কোলাজেন টিস্যু, মেদকলা ইত্যাদি।
২. কঙ্কাল যোজক কলা: হাড়, তরুণাস্থি।
৩. তরল যোজক কলা: রক্ত, লসিকা। 

- হৃদপিণ্ড এবং জিহ্বা হলো পেশিকলার অন্তর্ভুক্ত। 
- সুষুম্নাকাণ্ড হলো স্নায়ুকলার অন্তর্ভুক্ত। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১৩,৯১৯.
পৃথিবীর মোট পানির মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎস কোনটি?
  1. পুকুর
  2. হিমবাহ 
  3. নদী
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭ শতাংশ জলরাশি সমুদ্রে (মহাসাগর) অবস্থিত, যা একে পৃথিবীর বৃহত্তম পানির উৎসে পরিণত করেছে। তবে সমুদ্রের পানি লবণাক্ত হওয়ায় এটি সরাসরি পানযোগ্য নয়। 

পানির উৎস ও গুরুত্ব: 
- পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই হচ্ছে পানি। 
- মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য, তাই পানির অপর নাম হচ্ছে জীবন। 
- পানির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে সাগর, মহাসাগর বা সমুদ্র। 
- পৃথিবীতে যত পানি আছে, তার প্রায় শতকরা ৯০ ভাগেরই উৎস হচ্ছে সমুদ্র। 
- সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে এজন্য সমুদ্রের পানিকে লোনা পানিও (Marine water) বলে। 
- লবণের কারণে সমুদ্রের পানি পানের অনুপযোগী, এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অন্য কাজেও সমুদ্রের পানি ব্যবহার করা যায় না। 
- পানির আরেকটি বড় উৎস হলো হিমবাহ তুষার স্রোত, যেখানে পানি মূলত বরফ আকারে থাকে, এই উৎসে প্রায় শতকরা ২ ভাগের মতো পানি আছে। 
- পৃথিবীতে ব্যবহারের উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ। 
- ব্যবহার উপযোগী মিঠা পানির উৎস হলো নদ-নদী, খাল-বিল, হ্রদ, পুকুর কিংবা ভূগর্ভস্থ পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৯২০.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রো উপাদান কতটি?
  1. ক) ৬টি 
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১৬টি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।


- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।

 

- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।


- ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।


- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।


-মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।


- মাইক্রো উপাদান ৬টি।যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৩,৯২১.
"Asian Tiger Mosquito" - নামে পরিচিত নিচের কোন প্রজাতিটি?
  1. Aedes Aegypti
  2. Culex tarsalis
  3. Aedes albopictus
  4. Anopheles gambiae
ব্যাখ্যা
• Asian Tiger Mosquito: 
→ "Asian Tiger Mosquito" - নামে পরিচিত Aedes albopictus প্রজাতিটি।

→ সাধারণ নাম: Asian tiger mosquito (এশিয়ান টাইগার মশা)
→ বৈজ্ঞানিক নাম: Aedes albopictus
→ আবাসভূমি ও বিচরণক্ষেত্র: এ মশাটির মূল আবাসস্থল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। কিন্তু পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক অংশে ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে গাড়ির টায়ারের মাধ্যমে, যা মশার জন্য আদর্শ প্রজনন স্থল।
→ এটি ডেঙ্গু জ্বর এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের সংক্রমণ ঘটায়।

অপশন আলোচনা:
→ Aedes Aegypti - Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়।
→ Culex tarsalis - Culex প্রজাতির মশা প্রাথমিকভাবে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস এবং নির্দিষ্ট ধরণের এনসেফালাইটিস সংক্রমণের জন্য দায়ী
→ Anopheles gambiae - Anopheles প্রজাতির মশা ম্যালেরিয়া সংক্রমণের জন্য দায়ী।

সূত্র: European Centre for Disease Prevention and Control.
১৩,৯২২.
ইবোলা ভাইরাসের বাহক কোনটি?
  1. ক) বানর 
  2. খ) কুকুর
  3. গ) বিড়াল
  4. ঘ) বাদুড়
ব্যাখ্যা
ইবোলা ভাইরাসের বাহকের বাহক হচ্ছে বাদুড়।

ইবোলা হল এক প্রকার মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সম্পন্ন ভাইরাস যা ইবোলা ভাইরাস (ebola virus) জনিত বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে থাকে। ইবোলা ভাইরাস জনিত রোগ একটি মারাত্মক অসুখ যা ভাইরাল হেমোরজিক জ্বর সৃষ্টি করে এবং ৯০% রোগীর ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হয়। 

ইবোলা একটি একক এবং নেতিবাচক আরএনএ (RNA) ভাইরাস যা ভাইরাস পরিবার ফিলোভিরিডের অন্তর্গত। মারবুর্গ ভাইরাসগুলি ফিলোভিরিডে পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই ভাইরাস পরিবারটি তাদের রডের মতো শেপ, থ্রেডের মতো কাঠামো, বৈচিত্র্যময় দৈর্ঘ্য এবং এদের ঝিল্লিটি, আবদ্ধ ক্যাপসিড দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। ইবোলা ভাইরাসের সাধারন দৈর্ঘ্য ১৪,০০০ নানোমিটার এবং ব্যাসার্ধ ৮০ নানোমিটারের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কিছুটা বড় । এ ভাইরাসগুলো প্রায়ই একটি ইউ আকার ধারণ করে থাকে।

ইবোলার লক্ষণসমূহ-
জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, মাংশ পেশীর ব্যথা এবং গলা ব্যথার মতো লক্ষণগুলো দ্রুত প্রকাশ পেতে শুরু করে।

ভুক্তভোগীরা প্রায়শই ডায়রিয়া, বমি এবং ফুসকুড়ির মতো সমস্যায় ভোগেন। তারপরে আক্রান্ত ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক রক্তক্ষরন শুরু হয়।

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention Website.
১৩,৯২৩.
নিচের কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাসটি বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বিদ্যমান?
  1. ক) আর্গন
  2. খ) ক্রিপ্টন
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
-  বায়ুমণ্ডলে নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসাবে আর্গনের পরিমাণ (০.৮০%) সবচেয়ে বেশি।
- বায়ুমণ্ডলের দুটি প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন  (২০.৭১%)।
- এছাড়াও বায়ুতে- 
  কার্বন ডাই-অক্সাইড (০.০৩)
  ওজোন (০.০০০১)
  জলীয়বাষ্প (০.৪১)
  ধূলিকণা ও কনিক্স (০.০১)
  অন্যান্য গ্যাস (যেমন- নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড)- ০.০১৯৯
  প্রভৃতি গ্যাস বিদ্যমান।

উৎস:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি।
১৩,৯২৪.
'Living fossil' বলা হয় কোনটিকে?
  1. মটরশুটি
  2. ফাণ
  3. সাইকাস
  4. মস
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম (Living fossil) বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯২৫.
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রটি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. ফ্যারাডে
  2. জুল
  3. এডিসন
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H
বা, W = JH 
এখানে, 
W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। 
- J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন যা জুলের সূত্র বা তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র নামে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯২৬.
প্রকৃতিতে কয় ধরণের খাদ্যশৃঙ্খল দেখা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
বাস্তুসংস্থানে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশৃংখল থাকতে পারে। প্রকৃতিতে তিন ধরনের শৃঙ্খল দেখা যায়। যেমন-
১. পরভোজী শৃঙ্খল
২. পরজীবী শৃঙ্খল
৩. মৃতজীবী শৃঙ্খল

• পরভোজী শৃঙ্খল (Predator chain) : যে খাদ্যশৃঙ্খল উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ক্রমপর্যায়ে ছোট থেকে বৃহৎ জীবে চালিত হয় তাকে পরভোজী শৃঙ্খল বলে। উদ্ভিদ উৎস থেকে ক্রমে ক্রমে বড় প্রাণির মধ্যে এ শৃঙ্খলটি গড়ে ওঠে। যেমন- হরিণ ঘাস খায়, বাঘ হরিণকে খায় (ঘাস→হরিণ→বাঘ), একটি পরভোজী শৃঙ্খল ৷
• পরজীবী শৃঙ্খল (Parasitic chain) : যে খাদ্যশৃঙ্খল বড় জীব থেকে শুরু করে ক্রমে ছোট জীবের মধ্যে গঠিত হয় তাকে পরজীবী শৃঙ্খল বলে। পরজীবীরা বিভিন্ন জীবের কোষ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। ম্যালেরিয়া রোগজীবাণু বহণকারী মশা মানুষকে দংশন করলে রোগ ছড়ায়, (মানুষ→মশা→ম্যালেরিয়া জীবাণু), এটি একটি পরজীবী শৃঙ্খল।
• মৃতজীবী শৃঙ্খল (Saprophytic chain) : যে খাদ্যশৃঙ্খল উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ থেকে বিভিন্ন অণুজীবের (যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি) দিকে চালিত হয়, তাকে মৃতজীবী শৃঙ্খল বলে। উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহের সঙ্গে বিভিন্ন অণুজীব এবং প্রাণির মধ্যে এ ধরনের শৃঙ্খল গড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে মৃতজীবীরা বিভিন্ন জীবের মৃতদেহ থেকে খাদ্য আহরণ করে। উদাহরণ : মৃতদেহ→অণুজীব→কেঁচো।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯২৭.
কোনটিকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়?
  1. ক) রাইবোজোম
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- জীবদেহের প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৯২৮.
ভিটামিন এ এর অভাবজনিত রোগ কোনটি?
  1. স্কার্ভি
  2. অস্টিওম্যালাসিয়া
  3. পেলেগ্রা
  4. জেরপথ্যালমিয়া
ব্যাখ্যা
ভিটামিন A এর অভাবজনিত রােগ:

- ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা রােগ হয়।
- এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে। এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রােগ বলে। এই রােগ হলে আক্রান্ত মানুষ পুরােপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন-ডি এর অভাবে ছোটদের রিকেটস ও বড়দের অস্টিওমেলাসিয়া রোগ হয়।
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- নিয়াসিন বা ভিটামিন বি ৩ এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। ফলে, ত্বকে লালচে দাগ পড়ে ও খসখসে হয়ে যায়।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯২৯.
যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ কত গুণ বৃদ্ধি পাবে?
  1. ৪ গুণ
  2. ২ গুণ
  3. ১৬ গুণ
  4. একই থাকবে
ব্যাখ্যা

যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ ২ গুণ বৃদ্ধি পাবে। 

যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ ২ গুণ বৃদ্ধি পাবে, কারণ শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক 
v ∝ √T। তাই, তাপমাত্রা ৪ গুণ হলে, বেগ √4 বা ২ গুণ হবে। 

শব্দের বেগ (Speed of Sound):
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, v ∝ √T। এখানে তাপমাত্রা কেলভিন স্কেলে।
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না।
- বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের বিপরীত আনুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায় এবং শব্দের বেগ বেড়ে যায়।
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে।
- তরল এবং কঠিন পদার্থের ধাতব ও অ-ধাতব প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন হওয়ায়, শব্দের বেগও সেখানে ভিন্ন হয়।
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৯৩০.
অক্ষাংশ নির্ণয়ের পদ্ধতি কোনটি?
  1. সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে
  2. ধ্রুবতারার সাহায্যে
  3. গ্রিনিচের সময় দ্বারা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ (Latitude) ও দ্রাঘিমাংশ (longitude) নির্ণয়ের পদ্ধতি:
অক্ষাংশ নির্ণয় করা হয়:-(উন্নতি কোণ ব্যবহার করে)
১। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে [সূত্র: অক্ষাংশ = ৯০° – (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি +/- বিষুবলম্ব)]
২। ধ্রুবতারার সাহায্যে [সূত্র: অক্ষাংশ = ধ্রুবতারার উন্নতি (নিরক্ষরেখায় ০° ও মেরুতে ৯০°)]

দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা হয়:-(সময়ের পার্থক্য ব্যবহার করে)
১। স্থানীয় সময়ের পার্থক্য দ্বারা;
২। গ্রিনিচের সময় দ্বারা।
সূত্র: প্রতি ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য = ১° দ্রাঘিমার পার্থক্য। সময়ের হিসেবে গ্রিনিচের পূর্বদিকের দেশগুলো এগিয়ে থাকে এবং পশ্চিম দিকের দেশগুলো পিছিয়ে থাকে।
[বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে তাই বাংলাদেশে সময় ৬ ঘন্টা এগিয়ে]

তথ্যসূত্র: Live MCQ ক্লাস লেকচার এবং ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৩১.
দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে -
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. লোহিত রক্তকণিকা 
  4. অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। 
যথা - 
১. লোহিত রক্তকণিকা, 
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও 
৩. অনুচক্রিকা। 

লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস নেই। 
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 

শ্বেত রক্তকণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়। 

অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের। 
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০দিন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯৩২.
মানবদেহে রক্তরস বা প্লাজমার পরিমাণ হচ্ছে -
  1. ৪৫%
  2. ৬০%
  3. ৫৫%
  4. ৩৫%
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। 
- এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। - প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্তরসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৩৩.
মানুষের করোটিক স্নায়ু কয় জোড়া?
  1. ১০ জোড়া
  2. ১২ জোড়া
  3. ১৪ জোড়া
  4. ১৫ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৩৪.
কোন অঙ্গাণুতে ক্রেবস চক্র সম্পন্ন হয়? 
  1. লাইসোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. রাইবোসোম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৩৫.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কোন উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. কার্বন, হাইড্রোজন, হিলিয়াম এবং অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজন, অক্সিজেন, সোডিয়াম এবং নাইট্রোজেন
  3. কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন
  4. কার্বন, হাইড্রোজন, পটাশিয়াম এবং নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: আমিষ, শর্করা ও স্নেহ। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। যথা- 

১। প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃত ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। 
- এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

২। উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
- অনেক সময় দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯৩৬.
কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে নির্গত ধোঁয়ায় কী উপাদান থাকে যা এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে? 
  1. সালফার
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কান্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে। মাটির নিচে পাতা ও কান্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
-  জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
যেমন- কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৩৭.
কোয়ার্ক কণিকা দ্বারা গঠিত হয় নিচের কোনটি??
  1. ইলেক্ট্রন
  2. নিউট্রন
  3. প্রোটন
  4. খ + গ
ব্যাখ্যা

কোয়ার্ক (Quark) : কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হলো কোয়ার্ক দিয়ে।
দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত।
কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। এগুলো হলো আপ (u), ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৯৩৮.
যদি কোন রোগ প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়, তখন তাকে কি বলে?
  1. ক) জুনোটিক রোগ
  2. খ) সংক্রামক রোগ
  3. গ) জন্মগত রোগ
  4. ঘ) আইট্রোজেনিক রোগ
ব্যাখ্যা
যখন কোনো সংক্রামক রোগ প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায়, তখন তাকে জুনোসিস (zoonosis) বা জুনোটিক (zoonotic) রোগ বলা হয়।
সোর্স: www.health.state.mn.us
১৩,৯৩৯.
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যু-
  1. ক) দুই প্রকার
  2. খ) তিন প্রকার
  3. গ) চার প্রকার
  4. ঘ) পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যু তিন প্রকারের হয়ে থাকে। 
যথা- মাস ভাজক টিস্যু, রিব ভাজক টিস্যু এবং প্লেট ভাজক টিস্যু। 

কোষ বিভাজন অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ- 
(ক) মাস ভাজক টিস্যু (Mass meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষবিভাজন সৰ তলে (plane) ঘটে থাকে, ফলে সৃষ্ট কোষ সমষ্টি কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত না থেকে কোষপুঞ্জ গঠন করে, তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ অঙ্গটি ঘনত্বে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন- বর্ধনশীল ভ্রূণ, রেণুথলি, এন্ডোস্পার্ম তথা সস্য টিস্যু, মজ্জা, কর্টেক্স প্রভৃতি। 

(খ) প্লেট ভাজক টিস্যু (Plate meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষ মাত্র দুটি তলে (plane) বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো প্লেটের মতো করে সজ্জিত হয়, তাকে প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার বিভাজনের ফলে অঙ্গটি আয়তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়; যেমন -পাতা, বর্ধিষ্ণু বহিঃত্বক। 

(গ) রিব ভাজক টিস্যু (Rib meristem) : যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো একটি তলে বিভাজিত হয়, ফলে কোষগুলো রৈখিক সজ্জাক্রমে একসারিতে অবস্থান করে এবং দেখতে বুকের পাঁজরের ন্যায় দেখায়, তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলা হয়। এ প্রকার কোষ বিভাজনের ফলে একসারি কোষ সৃষ্টি হয়; যেমন- বর্ধিষ্ণু মূল ও কাণ্ডের মজ্জা রশ্মি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৪০.
যদি রৈখিক বিবর্ধন m < 1 হয়, তাহলে প্রতিবিম্ব কীরূপ হবে?
  1. খর্বিত হবে
  2. বিবর্ধিত হবে
  3. সমান হবে
  4. অপরিবর্তিত থাকবে
ব্যাখ্যা
রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। 
- কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। 
- প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। 
- তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L° এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য L
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/L° । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৪১.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে প্রধানত কোন ধরনের চার্জ বাহক বিদ্যমান থাকে?
  1. হোল
  2. নিউট্রন
  3. ধনাত্মক আয়ন
  4. মুক্ত ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) মুক্ত ইলেকট্রন
- n-টাইপ (Negative-type) অর্ধপরিবাহী তৈরি করতে বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরের সাথে পঞ্চযোজী মৌল (যেমন- আর্সেনিক বা ফসফরাস) মেশানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ অতিরিক্ত ইলেকট্রন তৈরি হয়, যা প্রধান চার্জ বাহক (Majority Carrier) হিসেবে বিদ্যুৎ বহন করে।

• অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড:  
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। 
- বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
- একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। 
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৯৪২.
কোন উপ-স্তরে সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. s
  2. p
  3. d
  4. f
ব্যাখ্যা

• s, p, d, f উপ-স্তরের মধ্যে d-উপ-স্তর সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে।

- কোনো অণুতে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট শক্তি স্তর বা শেল (n) অনুযায়ী বিভক্ত থাকে।
- d-উপ-স্তরের 10 ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা transition metals এবং তাদের রাসায়নিক ও চৌম্বক বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- d-উপ-স্তরের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, মৌলের রং, প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং চৌম্বকীয়তা প্রভাবিত হয়।
- প্রতিটি শেলের ভিতরে থাকে বিভিন্ন উপ-স্তর (s, p, d, f)।
- প্রতিটি উপ-স্তরের ইলেকট্রনের ধারণক্ষমতা নির্ধারিত হয় 2(2l + 1) সূত্র অনুযায়ী, যেখানে ( l )হলো উপ-স্তরের কোয়ান্টাম সংখ্যা।

প্রত্যেক উপ-স্তরের সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা:
⇒ s-উপ-স্তর: l = 0 → 2(2×0 + 1) = 2 ইলেকট্রন,
⇒ p-উপ-স্তর: l = 1 → 2(2×1 + 1) = 6 ইলেকট্রন,
⇒ d-উপ-স্তর: l = 2 → 2(2×2 + 1) = 10 ইলেকট্রন,
⇒ f-উপ-স্তর: l = 3 → 2(2×3 + 1) = 14 ইলেকট্রন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৯৪৩.
কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ অল্পমাত্রায় মানবদেহের জন্য নিরাপদ?
  1. রেডিয়াম-২২৬
  2. ইউরেনিয়াম-২৩৮
  3. টেকনিশিয়াম-৯৯ 
  4. প্লুটোনিয়াম-২৩৯ 
ব্যাখ্যা

  তেজস্ক্রিয় মৌলগুলোর মধ্যে টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99) তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
- এটি কম শক্তির বিকিরণ উৎপন্ন করে, গবেষণা এবং চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এর লাইফটাইম ৬ ঘণ্টা।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- তেজস্ক্রিয় মৌল বা ইসোটোপ তার নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ (অ্যালফা, বেটা, গামা) নির্গত করে।
- এতে শক্তি মুক্ত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- তেজস্ক্রিয়তা হালকা বা শক্তিশালী হলে বিপদজনক, তাই নিরাপদ ব্যবহার নির্ভর করে বিকিরণের ধরণ ও শক্তির ওপর।

• টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99):
- তেজস্ক্রিয়, তবে কম শক্তির বেটা বিকিরণ করে।
- চিকিৎসা ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
- নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহৃত হলে মানবদেহে ক্ষতি করে না।

অপশন আলোচনা:
• রেডিয়াম-২২৬ (Ra-226):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়।
- শক্তিশালী অ্যালফা বিকিরণ করে।
- সরাসরি মানবদেহে বিপজ্জনক; নিরাপদ নয়।

• ইউরেনিয়াম-২৩৮ (U-238):
- ভারী তেজস্ক্রিয় ধাতু, দীর্ঘ জীবনকাল থাকা সত্ত্বেও বিপজ্জনক।
- পারমাণবিক শক্তি ও অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত।

• প্লুটোনিয়াম-২৩৯ (Pu-239):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ও ভারী।
- পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহৃত।
- মানবদেহে খুবই বিপজ্জনক।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৩,৯৪৪.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) সকল ক্ষারকই ক্ষার কিন্তু সকল ক্ষার ক্ষারক নয়।
  2. খ) সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
  3. গ) সকল ক্ষারকই পানিতে দ্রবীভূত হয়।
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।
- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)2] কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- অতএব একথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৯৪৫.
তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে- 
  1. ডায়নামো
  2. মাইক্রোফোন
  3. বৈদ্যুতিক মোটর
  4. ব্যাটারি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৯৪৬.
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  2. এটি সরল রৈখিক গতি
  3. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচের গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক, 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৪৭.
আয়রনের আকরিক নয় কোনটি
  1. ক) ম্যাগনেটাইট
  2. খ) লিমোনাইট
  3. গ) হেমাটাইট
  4. ঘ) চালকোসাইট
ব্যাখ্যা
আয়রনের আকরিকঃ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O), হেমাটাইট (Fe2O3)। কপারের আকরিকঃ কপার পাইরোইট (CuFeS2), চালকোসাইট(Cu2S)।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
১৩,৯৪৮.
শীতকালে বাংলাদেশে বাতাসের গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা কত?
  1. ক) ৭৩% থেকে ৮৪%
  2. খ) ৮৫% থেকে ৮৯%
  3. গ) ৮৩% থেকে ৮৯%
  4. ঘ) ৭৩% থেকে ৮৯%
ব্যাখ্যা
▪ ঋতুভেদে আর্দ্রতার বেশ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশে শীতকালে বাতাসের গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৭৩% থেকে ৮৪% হয়ে থাকে।
▪ অপরদিকে গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রায় ৮৩% থেকে ৮৯% পর্যন্ত হয়ে থাকে।
▪ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে বায়ুপ্রবাহের বৈচিত্র্যতা লক্ষ্য করা যায়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে অধিকাংশ বায়ু অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকে। এ বেগ সাধারণত মার্চ থেকে আগস্ট মাসে বৃদ্ধি পায়।
▪ গ্রীষ্মকালের বৃষ্টির সাথে প্রবাহিত হওয়া ঝড়ো হাওয়া বাতাসের গড় বেগকে প্রভাবিত করে।
▪ বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৪৯.
পারদের আপেক্ষিক গুরুত্ব কত?
  1. ক) ১৩.৬
  2. খ) ০.৮
  3. গ) ১
  4. ঘ) ৬৫
ব্যাখ্যা

আপেক্ষিক গুরুত্ব বলতে কোন বস্তুর ঘনত্ব এবং অন্য একটি প্রসঙ্গ বস্তুর ঘনত্বের অনুপাত অথবা কোন বস্তুর ভর এবং একই আয়তনের অন্য একটি বস্তুর ভরের অনুপাতকে বোঝায়।
পারদের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১৩.৬  এর অর্থ হচ্ছে একই পরিমাণ আয়তনের পানির চেয়ে পারদ ১৩.৬ গুণ বেশি ভারী।

১৩,৯৫০.
কোন বস্তুকে পানিতে ফেলে দেয়ার পর বস্তু কর্তৃক অপসারিত পানির ওজন যদি বস্তুর ওজনের সমান হয় তবে নিচের কোনটি ঘটবে?
  1. ক) বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে।
  2. খ) বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে।
  3. গ) বস্তুটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে।
  4. ঘ) কখনো ডুববে আবার কখনো ভাসবে।
ব্যাখ্যা
 
বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত (Conditions of floatation and Immersion of a body)
ধরা যাক একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন। ঐ বস্তুটিকে পানিতে ডোবানো হল।
বস্তুটির উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এখন -
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে।
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ডুববে না, ভেসে থাকবে।
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৩,৯৫১.
বাতাসের নাইট্রোজেন কিভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে?
  1. ক) সরাসরি মাটিতে মিশ্রিত হয়ে জৈব বস্তু প্রস্তুত করে
  2. খ) ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে
  3. গ) পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
  4. ঘ) মাটির অজৈব লবণকে পরিবর্তিত করে
ব্যাখ্যা
বিদুৎ উৎপাদনে প্রকল্পে ও মোটর কারে নাইট্রোজেন গ্যাস ও অক্সিজেন গ্যাসের বিক্রিয়ায় NO গ্যাস উৎপন্ন হয়। পরে বায়ুর অক্সিজেনসহ NO বিক্রিয়া করে NO2 এবং ওজোন ও পানির সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক এসিডরুপে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়।উদ্ভিদ নাইট্রেট লবণ গ্রহণ করে। এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,৯৫২.
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন কোন ধরনের টিকা?
  1. ডিএনএ টিকা
  2. মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
  3. নিষ্ক্রিয় জীবাণুভিত্তিক জীবন্ত টিকা
  4. দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু ভিত্তিক টিকা
ব্যাখ্যা

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
- গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিকার প্রকারভেদ নিম্নরূপ- 
১। নিষ্ক্রিয় জীবাণুভিত্তিক জীবন্ত টিকা: 
- এতে কালচার করা জীবাণুদের ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করা হয়। 
উদাহরণ: BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি এই টিকা। 
উদাহরণ: ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু ভিত্তিক টিকা: 
- সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ: হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৯৫৩.
মত্স্য সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে বলে-
  1. ক) হারপেটলজি(Herpetology)
  2. খ) অস্টিওলজি(Osteology)
  3. গ) ইকথায়োলজি(Ichthyology)
  4. ঘ) অরনিথোলজি(Ornithology)
ব্যাখ্যা
মত্স্য সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নকে বলে ইকথায়োলজি(Ichthyology)। উভচর ও সরীসৃপ সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে বলা হয় হারপেটলজি(Herpetology)। অরনিথোলজি(Ornithology) হল পাখি সম্পর্কিত বিদ্যা। অস্টিওলজি(Osteology) হল হাড় সম্পর্কিত বিদ্যা।
[সূত্র: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বোর্ড বই এবং ব্রিটানিকা]
১৩,৯৫৪.
চিরুনি দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ালে চিরুনিতে সঞ্চিত চার্জ -
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. শূন্য
  4. ধনাত্মক ও ঋণাত্মক উভয় ধরনের চার্জ
১৩,৯৫৫.
অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করণে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. এক্সরে রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা এক্স-রশ্মি:
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রশ্মি দুইটি শ্রেণীতে বিভক্ত-
• কঠিন এক্স-রশ্মি।
• কোমল এক্স-রশ্মি।

এক্স-রে এর ব্যবহার:
• স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল ও ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি সনাক্তকরণে এক্কারে ব্যবহার করা হয়।
• মুখমণ্ডলীর অভ্যন্তরের যেমন দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক।
পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়
• পিত্তথলি ও কিডনির পাথর সনাক্তকরার জন্য এক্সরে ব্যবহৃত হয়।
• বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়। ক্যান্সারের চিকিৎসা করা।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৫৬.
ডিসি প্রবাহের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) জেনারেটর
  2. খ) শুষ্ক কোষ
  3. গ) রেগুলেটর
  4. ঘ) বিদ্যুৎ কোষ
ব্যাখ্যা
ডিসি:
- আমাদের দৈনন্দিন কাজে ডিসি (DC) সরবরাহের অসংখ্য প্রয়োগ রয়েছে।
- বিশেষ করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বা বর্তনী পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ (Direct Current) প্রয়োজন হয়।
- ব্যাটারি বা শুষ্ক কোষ হলো ডিসি প্রবাহের প্রধান উৎস
- কিন্তু এদের ভোল্টেজ বেশ কম এবং এগুলো প্রায়ই পরিবর্তন করতে হয় বলে বেশ ব্যয়বহুল।
- ব্যাটারি দ্বারা আমাদের সব প্রয়োজন মিটানো সম্বব নয়।
- তাই আমাদের প্রয়োজন, বৈদ্যুতিক সরবরাহ লাইনের দিক পরিবর্তী তথা এসি ভোল্টেজকে একমুখী তথা ডিসি ভোল্টেজ রূপান্তরিত করা।  
-  যে প্রক্রিয়ায় এই রূপান্তরের কাজটি সম্পন্ন করা হয় তাকে বলে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,৯৫৭.
যে মূল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে কি বলে?
  1. জারক
  2. বিজারক
  3. ক্ষারক
  4. ক্ষারিত
ব্যাখ্যা
বিজারক:
• যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান/ত্যাগ করে সেগুলোকে বিজারক বলে। আর ইলেক্ট্রন দান/বর্জনের প্রক্রিয়াটিকে জারণ বলে।
• বিজারক - সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

জারক:
• আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে। আর ইলেক্ট্রন গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে বিজারণ বলে।
• জারক - অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

ক্ষারক:
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯৫৮.
কোন উপাদানটি এন্টাসিডে থাকে?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

আমাদের পাকস্থলীতে এসিডিটি হলে যে এন্টাসিড ঔষধ খাই তা আসলে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] যা সাসপেনশন ও ট্যাবলেট দুইভাবেই পাওয়া যায়।
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)2] এর সাসপেনশন মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া নামেই অধিক পরিচিত।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

১৩,৯৫৯.
নিচের কোনটি ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব হতে পারে? 
  1. ক) কয়েক সেকেন্ড 
  2. খ) কয়েক মিনিট 
  3. গ) কয়েক ঘণ্টা 
  4. ঘ) কয়েক দিন 
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তার নাম রিখটার স্কেল। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
১৩,৯৬০.
নক্ষত্রের ভর কত সৌর ভরের কম হলে নক্ষত্রটি শ্বেত বামনে হবে?
  1. ১.৪
  2. ১.৮
  3. ২.৪
  4. ২.৮
ব্যাখ্যা
শ্বেত বামন:
- শ্বেত বামন (White dwarf) এক ধরনের ছোট তারা।
- কোন ক্ষুদ্রাকার তারকার জ্বালানি ফুরিয়ে অনুজ্জ্বল সাদা রঙের তারকায় পরিণত হলে তাকে শ্বেত বামন (White dwarf) বলা হয়।
- যদি কোনো নক্ষত্রের মোট ভর সূর্যের ১.৪ গুণের সমান বা তার চেয়ে কম হয়, তাহলে ওই নক্ষত্র শ্বেত বামন (white dwarf) তারায় পরিণতি হয়। 

উল্লেখ্য,
- মহাবিশ্বের অধিকাংশ তারারই শেষ দশা হচ্ছে শ্বেত বামন।
- কারণ অধিকাংশ তারার ভর সূর্যের সমান বা তার কাছাকাছি হয়।
- আর এই ভরের তারাদের মৃত্যু ঘটে শ্বেত বামন সৃষ্টির মাধ্যমে।

উৎস: Britannica.
১৩,৯৬১.
নিচের কোন রোগটি ব্যাকটেরিয়া জনিত? 
  1. পোলিও 
  2. কলেরা 
  3. জলাতঙ্ক 
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ হচ্ছে: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি। 

ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাসজনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগ হচ্ছে: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৯৬২.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি
  2. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা
  3. বস্তুর ভরের পরিমাণ 
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি 
ব্যাখ্যা

- মহাকর্ষ হলো মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বল। তবে যখন এই আকর্ষণ বল পৃথিবী এবং অন্য কোনো বস্তুর মধ্যে কাজ করে, তখন তাকে বিশেষভাবে 'অভিকর্ষ' বা মাধ্যাকর্ষণ বলা হয়। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পৃথিবী ও বস্তুর মধ্যকার এই আকর্ষণ বলই মহাকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের সঠিক প্রতিফলন। 

মহাকর্ষ: 

- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩,৯৬৩.
পাঁটের পচন ক্রিয়ায় কোন ব্যাকটেরিয়া ভুমিকা রাখে? 
  1. ক) Lepidoptera
  2. খ) Azotobacter
  3. গ) Clostridium
  4. ঘ) Bacillus thuringiensis  
ব্যাখ্যা

Clostridium ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় পাঁটের কাণ্ড থেকে আঁশগুলো পৃথক করা হয়।
Bacillus thuringiensis বিভিন্ন প্রকার পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ভুমিকা রাখে।
Azotobacter নাইট্রোজেন সংবন্ধনে ভুমিকা রাখে।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র।

১৩,৯৬৪.
ডায়োডের মূল কাজ কোনটি?
  1. সিগনাল বাড়ানো
  2. বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ
  3. বিদ্যুৎ সংরক্ষণ
  4. একমুখী কারেন্ট প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• P-N junction এ Forward Bias দেওয়া হয়, তখন ডায়োড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটে।কিন্তু Reverse Bias দিলে কারেন্ট প্রবাহ হয় না। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ডায়োডকে বলা হয় Unidirectional Device বা অর্থাৎ একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রক।

- ডায়োড হলো একটি সেমিকন্ডাক্টর উপাদান যা কারেন্টকে শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হতে দেয়, বিপরীত দিকে বাধা দেয়।
- এটি গঠিত হয় দুটি সেমিকন্ডাক্টর স্তর; P-type ও N-type সংযুক্ত করে। এই সংযোগকে বলা হয় P-N junction।

ডায়োডের প্রধান কাজ:
- কারেন্ট একদিকে প্রবাহিত করা (Rectification) এটিই মূল কাজ।
- Alternating Current (AC) কে Direct Current (DC)-তে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ সরবরাহে (Power supply circuits) AC থেকে DC তৈরির জন্য Rectifier Diode ব্যবহৃত হয়।

ডায়োডের অন্যান্য প্রয়োগ:
- Rectifier circuit: AC থেকে DC তৈরিতে।
- Clipping ও Clamping circuit: সিগনালের সীমা নির্ধারণে।
- Voltage protection: অতিরিক্ত ভোল্টেজ থেকে সার্কিট রক্ষা করতে।
- Switching circuit: দ্রুত চালু-বন্ধ ক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১৩,৯৬৫.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ?
  1. আকাশি
  2. গেওয়া
  3. গজারি
  4. সেগুন
ব্যাখ্যা
- ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
এ বনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।
-অন্যদিকে,
- আকাশি, গজারী বা শাল, সেগুন প্রভৃতি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
১৩,৯৬৬.
'সোডিয়াম' কোন ধরনের পদার্থ?
  1. প্যারা চৌম্বক
  2. ডায়া চৌম্বক
  3. ফেরো চৌম্বক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্যারা চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। 
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। 
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়া চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
- অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। 
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

ফেরো চৌম্বক: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৬৭.
নিম্নলিখিত কোন ভ্যাক্সিনটি ''লাইভ ভ্যাক্সিন'' (Live Vaccine)?
  1. হাম (Measles)
  2. হুপিং কপ
  3. ডিফথেরিয়া
  4. রেবিস (Rabies)
ব্যাখ্যা
Live-attenuated vaccines:
কোন রোগের 'লাইভ ভ্যাকসিন' বলতে, যে জীবাণুটি উক্ত রোগের কারণ, সেই জীবাণুরটিরই একটি দুর্বল (বা ক্ষুদ্র) ফর্ম ব্যবহার করে।
এই ভ্যাকসিনগুলি প্রাকৃতিক সংক্রমণের মতো এতটাই অনুরূপ যে তারা উল্টো প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং একটি শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।
লাইভ ভ্যাকসিনের মাত্র 1 বা 2 ডোজ একটি জীবাণু এবং এটির সৃষ্ট রোগের বিরুদ্ধে আজীবন সুরক্ষা দিতে পারে।

লাইভ ভ্যাকসিনগুলি এই রোগগুলোর বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়:
- হাম, গলা, রুবেলা (এমএমআর সম্মিলিত ভ্যাকসিন)
- রোটাভাইরাস
- ক্ষুদ্রপৃষ্ঠের বহিরাগত লিঙ্ক: আপনি ভ্যাকসিনস.gov রেখে একটি অ-ফেডারেল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছেন। সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি দেখুন।
- জল বসন্ত
- হলুদ জ্বর

Source: U.S. Department of Health & Human Services
১৩,৯৬৮.
সবচেয়ে ভাল তাপ পরিবাহক কোনটি?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সীসা
  4. ব্রোঞ্জ
ব্যাখ্যা

- উল্লিখিত অপশনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো তাপ পরিবাহক হচ্ছে তামা।

পরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়।
যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের। 
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক।
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।
- ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৯৬৯.
মৌমাছি সংক্রান্ত বিজ্ঞান কোনটি?
  1. Alimentology
  2. Melittology
  3. Aphnology
  4. Ichthyology
ব্যাখ্যা
- মৌমাছি সংক্রান্ত বিজ্ঞানকে বলা হয় Melittology.
- Melittology গ্রিক শব্দ থেকে আগত। 
- যে কীটতত্ত্ববিদ মৌমাছির গবেষণায় বিশেষজ্ঞ, তাকে বলা হয় Melittologist.
 
উৎস: Merriam-Webster Dictionary
১৩,৯৭০.
বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ব্যারােমিটার 
  2. হাইগ্রোমিটার 
  3. ফ্যাদোমিটার 
  4. ম্যানােমিটার 
ব্যাখ্যা

ব্যারােমিটার- বায়ুমন্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 

অন্যদিকে, 
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৩,৯৭১.
নিচের কোনটি অমেরুদন্ডী প্রাণী? 
  1. বাদুড়
  2. ব্যাঙ
  3. কুমির
  4. কেঁচো
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ডী প্রাণী: 
(ক) মৎস্যকুল: 
- এ দলের প্রাণীরা পানিতে বাস করে। দেহ আঁশ দিয়ে ঢাকা। ফুলকার সাহায্যে শ্বাস কাজ চালায়। 
যেমন- রুই, কাতল, পুঁটি। 

(খ) উভচর প্রাণী: 
- এসব প্রাণী পানিতে এবং ডাঙ্গায় বসবাস করে। জীবনচক্রের একটা অংশ এদের পানিতে বিকাশ লাভ করে। 
যেমন- ব্যাঙ। 

(গ) সরিসৃপ: 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলাফেরা করে। 
যেমন- কুমির, টিকটিকি। 

(ঘ) পাখি: 
- এসব প্রাণীর দেহ পালকে ঢাকা থাকে। 
যেমন- ময়না, টিয়া, ঘুঘু। 

(ঙ) স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- এসব প্রাণী মায়ের দুধ পান কর। 
যেমন- বাদুড়, তিমি, মানুষ। 

অমেরুদন্ডী প্রাণী: 
১. প্রোটোজোয়া: 
- এরা এককোষী আদি প্রাণী। 
যেমন- অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া জীবাণু। 

২. পরিফেরা: 
- এসব প্রাণীর দেহ অসংখ্য ক্ষুদ ক্ষুদ্র ছিদ্র যুক্ত। এরা জলে বাস করে। 
যেমন- স্পনজিলা। 

৩. সিলেনটারেটা: 
- এ পর্বের বেশির ভাগ প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহের মেলো দিকটা মুখ হিসেবে কাজ করে। মুখের চারদিকে টেন্টাকল আছে। 
যেমন- হাইড্রা, জেলীফিস। 

৪. প্লাটিহেলমিনথিস: 
- এ পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদের দেহ ফিতার মত চ্যাপ্টা। এরা সাধারণত পরজীবী। 
যেমন- ফিতাকৃমি। 

৫. নেমাথেলমিনথিস: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নলাকৃতি ও অখণ্ডিত। এরা সাধারণত পরজীবী। 
যেমন- কেঁচোকৃমি। 

৬. অ্যানিলিডা: 
- এ জাতীয় প্রাণীদের দেহ নরম এবং রিং বা বলয়ের মত খণ্ড খণ্ড অংশ দিয়ে গঠিত। 
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 

৭. আর্থোপোডা: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ শক্ত আবরণে ঢাকা এবং এদের সন্ধিযুক্ত পা রয়েছে। 
যেমন- চিংড়ি, তেলাপোকা। 

৮. একাইনোর্ডামাটা: 
- এসব প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ কাটাযুক্ত। 
যেমন- তারামাছ। 

৯. মলাস্কা: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নরম কিন্তু শক্ত খোলস দিয়ে আবৃত। 
যেমন- শামুক, ঝিনুক। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৭২.
লোহিত রক্তকণিকার উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. ক) প্লীহা
  2. খ) অস্থিমজ্জা
  3. গ) যকৃত
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা
মানবদেহের লোহিত রক্তকণিকা (RBC - Red Blood Cell) সাধারণত দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির। এতে হিমোগ্লোবিন নামের রঞ্জক পদার্থ থাকায় রক্ত লাল দেখায়। এ কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 

লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ করা হয়। এটি অধিক পরিমানে অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে। মানুষের লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 

সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১৩,৯৭৩.
কোন ভাইরাসের কারণে মানুষের জলাতঙ্ক রোগ হয়?
  1. অ্যাডিনো ভাইরাস
  2. র‍্যাবিস ভাইরাস
  3. ইবোলা ভাইরাস
  4. ভেরিওলা ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- র‍্যাবিস ভাইরাসের কারণে মানুষের জলাতঙ্ক রোগ হয়। 

ভাইরাস: 

- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো - 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৭৪.
গামা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা আলফা কণার চেয়ে কত গুণ বেশি? 
  1. ১০ গুণ
  2. ১০০ গুণ
  3. ১০০০ গুণ
  4. ১০০০০ গুণ
ব্যাখ্যা
- একটি সরু ছিদ্রযুক্ত লেড বা সীসার পাত্রে রেডিয়াম রেখে দিলে তা থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছিদ্র দিয়ে সরলরেখায় বের হয়। 
- এ রশ্মিকে চৌম্বক বা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত করলে তা তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এদেরকে যথাক্রমে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি বলা হয়। 
- এদের মধ্যে আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জযুক্ত, বিটা রশ্মি ঋনাত্মক চার্জযুক্ত এবং গামা রশ্মি হচ্ছে চার্জবিহীন বা চার্জনিরপেক্ষ। 

গামা রশ্মি (γ-রশ্মি): 
প্রকৃতি: 
- গামা রশ্মি সাধারণ অর্থে কোন কণিকা নয়, এটি সাধারণ আলোকের ন্যায় তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ। 
- α-কণা বা β-কণা বিচ্ছুরণের পর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে শক্তির পূর্ণবিন্যাসের ফলে γ-রশ্মির উদ্ভব ঘটে। 
- এদের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য খুবই কম, এমনকি রঞ্জন রশ্মি অপেক্ষাও কম হয়। 

ছেদন ক্ষমতা: 
- গামা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা α-কণার চেয়ে 10,000 গুণ বেশি। 
- রঞ্জন রশ্মির ন্যায় তা বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে। 
- গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) বিকিরণের ফলে মৌলের নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না। কারণ গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির (γ-রশ্মি) কোন ভর বা চার্জ নেই। 
- বিটা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা α-কণার চেয়ে 1000 গুণ বেশি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
১৩,৯৭৫.
নিম্নের কোন দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও দ্রবণের pH মানের কোন পরিবর্তন হয় না?
  1. ক) অ্যাসিড দ্রবণে
  2. খ) বাফার দ্রবণে
  3. গ) ক্ষারীয় দ্রবণে
  4. ঘ) সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা

যে দ্রবণে সামান্য দুর্বল অম্ল বা ক্ষার যােগ করার পরও দ্রবণের pH- মান অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
অর্থ্যাৎ বাফার দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও দ্রবণের pH মানের কোন পরিবর্তন হয় না।

১৩,৯৭৬.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য কিভাবে কিরণ দেয়?
  1. কৌণিকভাবে
  2. লম্বভাবে
  3. আড়াআড়িভাবে
  4. তির্যকভাবে
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা:
- সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়।
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়
- নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে।
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

১৩,৯৭৭.
নিচের কোনটি চেতনানাশক হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ইথার
  2. ফেনল
  3. অ্যালকোহল ও ইথারের মিশ্রন
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
ইথার:
- একটি দ্বি-যোজী অক্সিজেন পরমাণু দু'টি একক বন্ধনের মাধ্যমে তার উভয় দিকে দুটি কার্বনকে সংযুক্ত করে যে জৈব যৌগ তৈরী করে তাকে ইথার বলে।
- ইথার বলতে ডাই ইথাইল ইথার (ইথোক্সিইথেন) CH3CH2-O-CH2CH3 বুঝায় ।
- অ্যালকোহল থেকে পানি অপসারণ (dehydration) করে ইথার প্রস্তুত করা যায়।
- ইথার ও অ্যালকোহল উভয় প্রকার যৌগের অক্সিজেনে দুই জোড়া করে মুক্ত ইলেকট্রন আছে।
- অপেক্ষাকৃত কম কার্বন যুক্ত ইথার সাধারণ চেতনানাশক (general anaesthetics) হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- ইথার ও অ্যালকোহলের মিশ্রণ পেট্রোলের বিকল্প জ্বালানীরূপে ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৭৮.
সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?
  1. লিথিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. পারদ
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
• লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।
১৩,৯৭৯.
হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগ নিচের কোনটির অভাবে হয়? 
  1. ক্যালসিয়াম
  2. রক্তের গ্লুকোজ
  3. ইনসুলিন
  4. ভিটামিন-ই
ব্যাখ্যা
হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগ: 
- ডায়াবেটিস আক্রান্তদের কাছে হাইপো (হাইপোগ্লাসেমিয়া) একটি প্রচলিত শব্দ, বিশেষ করে টাইপ-১ বা ইনসুলিন-নির্ভরশীল রোগীদের ক্ষেত্রে। 
- মূলত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ করে ইনসুলিন নিতে হয় এমন রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়। 
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়াকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। 
- স্বাভাবিক মাত্রা হলো খালি পেটে ৬.১ মিলিমোল প্রতি লিটারে এবং খাবারের ২ ঘণ্টা পর ৭.৮ মিলিমোল প্রতি লিটারে থাকা উচিত। 
- রক্তের শর্করা ঘন ঘন কমে গেলে বা বেশি হলে দেহ ও মনের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি হয়। 
- খুব বেশি হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। 
- গ্লুকোজ  হচ্ছে আমাদের জীবনীশক্তি বা ফুয়েল, যা প্রতিটি কোষে শক্তি সরবরাহ করে। 
- এই গ্লুকোজ বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গেলে এক এক করে বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম কমে যেতে থাকে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি হচ্ছে গ্লুকোজ। 
- সে কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে রোগী অচেতন হয়ে পড়েন, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। 

হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোগের কারণ: 
- ইনসুলিন গ্রহণের মাত্রা বা ওষুধের মাত্রা বেশি এবং খাবার কম হলে, অর্থাৎ খাবার ও ওষুধের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে। 
- সময় না মেনে দেরিতে খাবার খেলে। 
- দীর্ঘক্ষণ কঠোর ব্যায়াম করলে। 
- অসুস্থতার পর খাবার খেতে না পারলে বা খাবার কম খেলে। 
- অত্যধিক মদ্যপান করলে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, সমকাল ও যুগান্তর পত্রিকা।
১৩,৯৮০.
সম্প্রতি আবিষ্কৃত 'সুপার আর্থ' গ্রহটির সন্ধান পেয়েছে কোন মহাকাশ সংস্থা?
  1. ক) European Space Agency
  2. খ) NASA
  3. গ) Italian Space Agency
  4. ঘ) SpaceX
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি আবিষ্কৃত 'সুপার আর্থ' গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন নাসা মহাকাশ সংস্থা। 

- সুপার আর্থ গ্রহ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৪০ ভাগ বড় আয়তনে। 
- ‘সুপার’ আর্থের আমাদের পৃথিবী থেকে ৩৬.২ আলোকবর্ষ দূরে। 
- নাসা ২০২১ সালে এই গ্রহটির সন্ধান পায়।
- পৃথিবীতে এক বছর যেমন ৩৬৫ দিনে হয়, এই গ্রহটিতে কিন্তু হয় মাত্র আড়াই দিনে।
- GJ-740 গ্রহটি সুপার আর্থ নামে পরিচিত। 

সূত্র- NPR Website [লিঙ্ক]
১৩,৯৮১.
Which planet is often referred to as the "Red Planet"?
  1. Saturn
  2. Mercury
  3. Jupiter
  4. Venus
  5. Mars
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ এবং গ্রহসমূহ: 
- মহাকাশের অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে তাকে বিশ্বজগৎ বা বিশ্বভ্রহ্মান্ড বলে। 
- সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। 
- সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে। 
- মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট গতিতে, নির্দিষ্ট দূরত্বে, একই সমতলে একইদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূনর্ণরত সকল গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধুমকেতু ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে সৌরজগত গঠিত হয়েছে। 

মঙ্গল গ্রহ: 
- মঙ্গলগ্রহ  হলো সূর্য থেকে চতুর্থ দূরবর্তী গ্রহ। 
- বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম গ্রহ। 
- মঙ্গল গ্রহটিকে ‘লালগ্রহ’ নামে অভিহিত করা হয়। 
- সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব ২২.৮ কিলোমিটার। 
- এটি একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৬৮৭ দিন সময় লাগে। 
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা দুইটি। 
যথা- ফোবোস ও ডিমোস। 

অন্যদিকে, 
- ইউরেনাসকে সবুজগ্রহ, 
- বুধকে ক্ষুদ্রগ্রহ, 
- বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯৮২.
সমুদ্রবায়ু কোন সময় সবচেয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়? 
  1. মধ্যাহ্নে 
  2. দুপুরে 
  3. অপরাহ্নে 
  4. সকালে 
ব্যাখ্যা

সমুদ্রবায়ু: 
- দিনের বেলায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, কিন্তু জলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় না বলে সেখানকার বায়ু উচ্চচাপ যুক্ত হয়। ফলে এ সময় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়, একে সমুদ্রবায়ু বলে। 
- সমুদ্রবায়ু সকাল ১০টা থেকে প্রবাহিত হতে থাকে। 
- বিকালে অর্থাৎ অপরাহ্নে সমুদ্রবায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। 
- আবার রাত ৩টায় স্থলবায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৯৮৩.
বাংলাদেশের কোন কোন জেলায় ’জুম’ চাষ করা হয়? 
  1. রাঙামাটি
  2. খাগড়াছড়ি 
  3. বান্দারবন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

জুমচাষ (Jhum):
- বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- এ ধরনের চাষাবাদে শুষ্ক মৌসুমে বনভূমি কেটে বা পুড়িয়ে স্বল্পসময়ের জন্য (১-৩ বছর) ফসল চাষাবাদের পর প্রাকৃতিক বনভূমির পুনর্জন্ম ও মৃত্তিকার উর্বরতার ক্ষয়পূরণের জন্য দীর্ঘসময় (১০-৪০ বছর) পতিত রাখা হয়।
- জুম বা স্থানান্তর চাষাবাদ সাধারণভাবে 'সুইডেন চাষাবাদ' বা জঙ্গল পরিষ্কার ও পোড়ানো চাষাবাদ হিসেবে পরিচিত।
ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে জুমচাষ হয়।
- বাংলাদেশ শুধু তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে এ -জুমচাষ করা হয়।
- মূলত চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয়দের জীবন ও সংস্কৃতি বহুলাংশে জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল।
- এছাড়া সিলেটের পাহাড়িয়া অঞ্চলেও কিছু কিছু জুমচাষ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১৩,৯৮৪.
ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. আর.এন.এ 
  2. ডি.এন.এ 
  3. জিন
  4. সেন্ট্রোমিয়ার
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয়াসে উপস্থিত এক ধরণের সুক্ষ্ম, সুসংগঠিত কাঠামো যা জিনেটিক তথ্য ধারণ করে। মানবদেহে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান হলো ডি.এন.এ (DNA)।
- DNA হল একটি দীর্ঘ অণু যা জেনেটিক ইনফরমেশন (উত্তরাধিকারী তথ্য) বহন করে।
- DNA-এর মধ্যে রয়েছে জিন, যা প্রোটিন উৎপাদনের নির্দেশ দেয়।

- RNA সাধারণত প্রোটিন সংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
- জিন হলো DNA-এর একটি অংশ বা ক্রম, যা নির্দিষ্ট প্রোটিন উৎপাদনের নির্দেশ দেয়। 
- সেন্ট্রোমিয়ার: এটি ক্রোমোজোমের একটি বিশেষ স্থান যা বিভাজনের সময় ক্রোমাটিডকে সংযুক্ত রাখে। এটি মূলত কাঠামোগত ভূমিকা রাখে, DNA নয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৯৮৫.
উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে প্রধানত সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) ফ্লোরিজেন
  3. গ) বার্নালিন
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায়্য করে। এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। ধারণা করা হয়, ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে।
ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।

১৩,৯৮৬.
উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে কোন উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. কোয়ার্টজ
  2. সোনা 
  3. পর্সেলিন
  4. কাঠ
ব্যাখ্যা

উচ্চ ভোল্টেজের লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে পর্সেলিন উপাদান ব্যবহৃত হয়। 
- উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন এবং বিতরণ লাইনে ইনসুলেটর হিসেবে পর্সেলিন বা চীনামাটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদান।
- এটি অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট, কোয়ার্টজ এবং ফেল্ডস্পারের মিশ্রণে তৈরি একটি শক্ত এবং টেকসই সিরামিক উপাদান।
- পর্সেলিন চমৎকার বৈদ্যুতিক অন্তরক বৈশিষ্ট্য এবং যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে, যা উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলিকে খুঁটি বা টাওয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করে এবং বিদ্যুতের ফুটো রোধ করে। 

অন্যদিকে, 
ক) কোয়ার্টজ: কোয়ার্টজ নিজে একটি ইনসুলেটিং উপাদান হলেও, উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের জন্য প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক শক্তি এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অর্জনে এটি সাধারণত পর্সেলিন তৈরির একটি উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সরাসরি ইনসুলেটর হিসেবে নয়।

খ) সোনা: সোনা একটি চমৎকার পরিবাহী (Conductor), ইনসুলেটর (অন্তরক) নয়। এটি বিদ্যুৎ প্রবাহকে সহজেই যেতে দেয়।

ঘ) কাঠ: কাঠ একটি প্রাকৃতিক ইনসুলেটর, কিন্তু এর ইনসুলেশন ক্ষমতা পরিবর্তনশীল এবং এটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি (যেমন আর্দ্রতা) দ্বারা সহজেই প্রভাবিত হয়।
আধুনিক উচ্চ ভোল্টেজের লাইনগুলিতে নির্ভরযোগ্যতা এবং স্থায়িত্বের জন্য কাঠের পরিবর্তে উন্নত উপাদান যেমন পর্সেলিন বা পলিমার ইনসুলেটর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৯৮৭.
শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোনটি?
  1. LDL
  2. HDL
  3. FDL
  4. CO2
ব্যাখ্যা
• কোলেস্টেরল (Cholesterol):
- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন (Cholestane) থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
- কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়।
রক্তে তিন ধরনের লিপোপ্রোটিন দেখা যায়: 
LDL (Low Density Lipoprotein): একে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত আমাদের রক্তে 70% LDL থাকে। ব্যক্তিবিশেষে এই পরিমাপের পার্থক্য দেখা যায়।

• HDL (High Density Lipoprotein): একে সাধারণত ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

• ট্রাইগ্লিসারাইড (Tryglyceride): এই কোলেস্টেরল চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে। ট্রাই-গ্লিসারাইড আমাদের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৯৮৮.
নিচের কোন কয়লাতে কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 
  1. লিগনাইট 
  2. পিট 
  3. অ্যানথ্রাসাইট 
  4. বিটুমিনাস 
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের একধরনের পাললিক শিলা। 
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন। তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H2), সালফার (S), অক্সিজেন (O2) কিংবা নাইট্রোজেন (N2) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস আর খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা।
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে চাপা পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরও ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)।
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ।
- পরবর্তীসময়ে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়।

- কয়লা তিন রকমের হয়। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস এবং লিগনাইট। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো আর এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৯৮৯.
পারস্পরিক আবেশের নীতি ব্যবহৃত হয় -
  1. ট্রানজিস্টরে
  2. অ্যামপ্লিফায়ারে
  3. ট্রায়্ডে
  4. ট্রান্সফর্মারে
ব্যাখ্যা

পারস্পারিক আবেশ: 
- পাশাপাশি স্থাপিত দুটি কুন্ডলীর মধ্যে একটিতে তড়িৎ প্রবাহ মাত্রার পরিবর্তনের ফলে অপর কুন্ডলীতে যে তড়িৎচালক বল আবিষ্ট হয় তাকে পারস্পারিক আবেশ বলে।
- জেনারেট, মোটর ও ট্রান্সফরমারে পারস্পারিক আবেশ ব্যবহৃত হয়। 

ট্রান্সফরমার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রুপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফর্মার বলে। 
- ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার।

যথা- 
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়। 
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়। 

উৎস:
১. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৩,৯৯০.
মানুষের মুখবিবরেই কোন খাদ্য উপাদানটির পরিপাক ক্রিয়া শুরু হয়?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে
মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়
লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা: টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

- মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
- টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

সুত্র: প্রাণিবিদ্যা, এইচএসসি।
১৩,৯৯১.
'বেকরেল' নিচের কোনটির একক?
  1. লেন্সের ক্ষমতা
  2. এক্সরে
  3. দীপন ক্ষমতা
  4. তেজস্ক্রিয়তা
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ করার জন্য যে একক ধরা হয় তাকে বলা হয় বেকেরেল।
- তেজস্ক্রিয়তা হলো যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি, তাদের নিউক্লিয়াস দ্রুত গতির নিউটন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উচ্চ ভেদন সম্পূর্ণ বিকিরণ নির্গত হওয়ার ঘটনা।
- ফরাসি বিজ্ঞানী অঁতোয়ান অঁরি বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করে ফেলেন যা সারা বিশ্বের বিজ্ঞান জগতে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- তিনি দেখতে পান যে, ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত বিশেষ ভেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি বা বিকিরণ নির্গত হয়।
- তার নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকারেল রশ্মি।
- ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলে।

উৎস: Britannica.com

১৩,৯৯২.
কোন যন্ত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য আর্গন ব্যবহার করা হয়? 
  1. হাইগ্রোমিটার
  2. গাইগার মূলার কাউন্টার 
  3. সিসমোগ্রাফ
  4. স্পেকট্রোফোটোমিটার 
ব্যাখ্যা

• গাইগার মূলার কাউন্টার টিউবের ভেতরে অত্যন্ত কম চাপে আর্গন গ্যাস ভর্তি থাকে। যখন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এই গ্যাসের মধ্য দিয়ে যায়, তখন গ্যাসটি আয়নিত হয় এবং একটি ইলেকট্রন প্রবাহ তৈরি করে, যা পালস হিসেবে রেকর্ড করার মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার তীব্রতা মাপা হয়।

• আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- হাইগ্রোমিটার: বাতাসের আর্দ্রতা পরিমাপ করে এবং এতে আর্গন গ্যাসের কোনো প্রয়োগ নেই।
- সিসমোগ্রাফ: ভূমিকম্পের কম্পন ও তীব্রতা রেকর্ড করতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের যন্ত্র নয়।
- স্পেকট্রোফোটোমিটার: আলোর তীব্রতা বা শোষণ ক্ষমতার মাধ্যমে নমুনার ঘনমাত্রা নির্ণয় করে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।