বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৪ / ১৪০ · ১,৩০১১,৪০০ / ১৪,০৮০

১,৩০১.
"প্যারাইটাল লোব" - নিচের কোন অঙ্গাণুর অংশবিশেষ?
  1. অগ্র মস্তিষ্ক
  2. মধ্য মস্তিষ্ক
  3. পশ্চাৎ মস্তিষ্ক
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- ভ্রূণীয় বিকাশের সময় এক্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট নিউরাল টিউবের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা- অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত।
যথা- সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।

সেরেব্রাম:
- মানব মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
- খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত।

যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেবেলাম হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।

উৎস:
১) প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৩০২.
ফুরাডন কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ? 
  1. সার
  2. দ্রাবক
  3. কীটনাশক
  4. অ্যান্টিবায়োটিক
ব্যাখ্যা
চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

কৃষিকাজে রসায়ন: 
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। 
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। 
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 

শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। 
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। 
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৩.
মানবদেহে হিমোগ্লোবিনের অভাবজনিত রোগ কোনটি? 
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রক্তশূন্যতা
  4. মেরাসমাস
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে। 
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে। 
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg। 
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। 
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা। 
- আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়। 

রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ হলো: 
- চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, 
- হাত-পা ফোলা, 
- দুর্বলতা, 
- মাথা ঘোরা, 
- বুক ধরফড় করা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০৪.
অস্থির কেন্দ্রস্থলে কোনটি থাকে?
  1. কলাজেন
  2. ল্যাকুনা
  3. মজ্জাগহ্বর
  4. কনড্রিন
ব্যাখ্যা

অস্থির গঠন: 
- ম্যাট্রিক্সের জৈব উপাদানের সাথে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও ক্যালসিয়াম ফসফেট জাতীয় অজৈব লবণ জমা হয়ে যে দৃঢ় ও কঠিন ভারবাহী কলা সৃষ্টি হয় তাকে অস্থি বলে। 
- এটি মূলতঃ অস্থিকোষ ও ম্যাট্রিক্স দ্বারা গঠিত। 
- ম্যাট্রিক্স এর ৪০% জৈব পদার্থ ও ৬০% অজৈব পদার্থ। 
- অস্থিতে ৩ প্রকার অস্থিকোষ থাকে। 
যথা- অস্টিওসাইট, অস্টিওব্লাস্ট ও অস্টিওক্লাস্ট। 
- সকল অস্থিকলার চারদিকে পেরিঅস্টিয়াম নামক তন্ত্রময় আবরণ থাকে। 
- এন্ডোঅস্টিয়াম নামক অপর একটি আবরণ অস্থির মজ্জাগহ্বরকে অস্থি থেকে পৃথক করে রাখে। 
- অস্থির কেন্দ্রস্থলে মজ্জাগহ্বর থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩০৫.
পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় -
  1. ক) ফুটানো
  2. খ) ক্লোরিনেশন
  3. গ) ছাঁকন
  4. ঘ) থিতানো
ব্যাখ্যা

পানি বিশুদ্ধ করার কয়েকটি উপায় আছে৷ এরমধ্যে অন্যতম হলো ক্লোরিনেশন, ফুটানো, থিতানো এবং ছাঁকন৷
এদের মধ্যে পানিকে জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ক্লোরিনেশন৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

১,৩০৬.
ছোলা কোন শ্রেণির উদ্ভিদ?
  1. গুল্ম
  2. একবর্ষজীবি
  3. উপগুল্ম
  4. বীরুৎ
ব্যাখ্যা

• একবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
- ধান, মটর, ছোলা, কলা এসব আপনাদের অতি পরিচিতি উদ্ভিদ।
- এদের জীবনকাল এক বছর।
- এ জন্য এদেরকে একবর্ষজীবী উদ্ভিদ বলা হয়।

• দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ:
যেসকল উদ্ভিদের জীবনকাল দুই বছর তাদের দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ বলে।
- মূলা, গাজর, ফুলকপি ইত্যাদি দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদ।

• বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ:
আম, কাঁঠাল, বট, তাল ইত্যাদি অনেক উদ্ভিদ রয়েছে যারা বহু বছর বেঁচে থাকে। এসব উদ্ভিদকে বহু বর্ষীজীবী উদ্ভিদ বলে।

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা- বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩০৭.
কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্টমিটার
  3. অণুবীক্ষণযন্ত্র
  4. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্র হিসেবে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

অ্যামিটার:

- অ্যামিটার এমন একটি পরিমাপক যন্ত্র যা দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়। এটিকে বর্তনীর সাথে সিরিজে সংযুক্ত করা হয়।

ভোল্টমিটার:

-যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায় তাকে ভোল্টমিটার বলে।

অণুবীক্ষণযন্ত্র:

- যে যন্ত্রের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র বস্তু যা খালি চোখে দেখা যায় না সেই বস্তুটিকে বড় করে দেখা যায় তাকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।

তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র:

- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুতে আধানের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ণয় করা যায়, তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

১,৩০৮.
বোসন কণার নামকরণে কার অবদান রয়েছে? 
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক 
  2. আইনস্টাইন 
  3. হাইজেনবার্গ 
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু 
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দেন, থমসন 1897 সালে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন, এবং রাদারফোর্ড 1911 সালে পরমাণুর নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন। তবে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন মডেলটি স্থিতিশীলতার দিক থেকে ব্যাখ্যাতীত ছিল। 
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তন করেন, যা কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করে। পরবর্তীতে বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যায় কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রয়োগ করেন। 
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করে বিকিরণসংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রস্তাব করেন এবং তাঁকে এই তত্ত্বের জনক বলা হয়; তাঁর নামে কণার নামকরণ হয় বোসন (Boson)। 
- 1900–1930 সময়কালে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাক প্রমুখ বিজ্ঞানীরা মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। 

- মাইকেলসন ও মোরলি 1887 সালে ইথারের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন এবং দেখান যে আলোর বেগ সব মাধ্যমে সমান। 
- আইনস্টাইন 1905 সালে আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Theory of Relativity) প্রবর্তন করে এটি ব্যাখ্যা দেন এবং বিখ্যাত সূত্র E = mc2 প্রদান করেন, যা ভরকে শক্তিতে রূপান্তরযোগ্য প্রমাণ করে। 
- ডিরাক 1931 সালে প্রতিকণার (Antiparticle) অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেন, যা পরের বছর প্রমাণিত হয়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩০৯.
শব্দের তীক্ষ্ণতা মাপা হয় কী দিয়ে?
  1. ক) ডেসিবল
  2. খ) অ্যাম্পিয়ার
  3. গ) ক্যালরি
  4. ঘ) জুল
ব্যাখ্যা
• ডেসিবেল  এককে শব্দের তীক্ষ্ণতা মাপা হয়।
• এক বেলের দশ ভাগের এক ভাগকে বলা হয় এক ডেসিবেল।
• লগারিদমীয় স্কেলে শক্তি বা ক্ষেত্র মানের আনুপাতিক হার নির্ণয়ে ডেসিবেল এককটি ব্যবহৃত হয়।
• শক্তির একক জুল।

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১০.
ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কী বলা হয়?
  1. কসমিক ইয়ার
  2. সৌর বছর
  3. আলোক বর্ষ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ:
- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
- ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

তথ্যসুত্র - Britannica.com
১,৩১১.
একটি রুমে 60 ওয়াটের একটি বাল্ব প্রতিদিন গড়ে তিন ঘন্টা জ্বালালে সেপ্টেম্বর মাসে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে?
  1. ৫৪০০ ইউনিট
  2. ১৮০০ ইউনিট
  3. ৫.৪ ইউনিট
  4. ২.৪ ইউনিট
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৩১২.
কোন বস্তুর ভর পৃথিবীতে ৩৬ কেজি হলে চন্দ্রপৃষ্ঠে তার ভর কত হবে?
  1. ক) ৬ কেজি
  2. খ) ১২ কেজি
  3. গ) ২৪ কেজি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্থানভেদে বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই চন্দ্রপৃষ্ঠেও বস্তুটির ভর হবে ৩৬ কেজি।
সঠিক উত্তর- কোনটিই নয়।

কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে।
আমরা জানি, ওজন = ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ
পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড
তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি।
সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি।

কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ।
তাই চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ১.৬৩ নিউটন।

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১,৩১৩.
জলবায়ুর উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) মেঘ
  2. খ) সমুদ্রস্রোত
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) অদ্ৰতা
ব্যাখ্যা
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো- বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ও বারিপাত।

- প্রদত্ত অপশন গুলোতে সমুদ্রস্রোত জলবায়ুর উপাদান নয় এটি জলবায়ুর নিয়ামক।
- জলবায়ুর নিয়ামক সমূহ- অক্ষাংশ, উচ্চতা, বায়ুপ্রবাহ, ভূমির ঢাল, সমুদ্রস্রোত, মৃত্তিকার গঠন, পর্বতের অবস্থান, সমুদ্র থেকে দূরত্ব ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৪.
নিচের কোন পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরলে রূপান্তরিত হলে আয়তন বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) বরফ
  2. খ) বিসমাথ
  3. গ) লোহা
  4. ঘ) তামা
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা:

- কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায়।
- মোম, তামা ইত্যাদি পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন বৃদ্ধি পায়।
- চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক বেড়ে যায়। অর্থাৎ বেশি তাপমাত্রায় গলে।
- কিছু কিছু পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায়।
- লোহা, বরফ, বিসমাথ ইত্যাদি পদার্থ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরের সময় আয়তন হ্রাস পায়।
- চাপ বাড়ালে ঐসব পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায়।
- অর্থাৎ এরা কম তাপমাত্রায় গলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১৫.
অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড কোনটি?
  1. গ্লাইসিন (Glycine)
  2. সেরিন (Serine)
  3. সিস্টিন (Cistine)
  4. ভ্যালিন (Valine)
ব্যাখ্যা
• অপশনসমূহের মধ্যে ভ্যালিন (Valine) হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।

আমিষ:
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। যথা-
১. প্রাণিজ আমিষ ও
২. উদ্ভিজ আমিষ।

প্রাণিজ আমিষ:
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তাই প্রাণিজ আমিষ।
যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।

উদ্ভিজ আমিষ:
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ।
যেমন- ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি।

- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়।
যেমন- লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন (Valine), লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৬.
প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কোন রোগ হতে পারে?
  1. অস্টিওপরোসিস
  2. রিকেটস
  3. অ্যানিমিয়া
  4. স্কার্ভি
ব্যাখ্যা

প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়, যা অস্টিওপরোসিস (Osteoporosis) নামে পরিচিত।

ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান:
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম।
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে।
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধকপি এবং ফল।
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- এর ঘাটতির ফলে হাড়ে মিনারেলের পরিমাণ কমে যায় এবং অস্টিওপরোসিস দেখা দেয়।

অস্টিওপরোসিস (Osteoporosis): 
- দীর্ঘমেয়াদী ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন D এর অভাবের কারণে হাড়ের ঘনত্ব (Bone Density) কমে যায় এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- এর ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- এটি প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়।

অন্যান্য অপশন:
-  রিকেটস: এটি মূলত শিশুদের ভিটামিন D এবং ক্যালসিয়াম এর অভাবজনিত রোগ।
- অ্যানিমিয়া: এটি হলো রক্তাল্পতা, যা প্রধানত লোহা (Iron) বা ভিটামিন B12 এর অভাবে হয়।
- স্কার্ভি: এটি হলো ভিটামিন C এর অভাবজনিত রোগ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১,৩১৭.
হ্যালির ধূমকেতু আবির্ভূত হয়-
  1. ক) প্রতি একশত বছর পর পর
  2. খ) আশি বছর পর পর
  3. গ) দুইশত বছর পর পর
  4. ঘ) ছিয়াত্তর বছর পর পর
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু:

- হ্যালির ধূমকেতু আবির্ভূত হয় ছিয়াত্তর বছর পর পর
- ধূমকেতু হলো ধুলো, বরফ ও গ্যাসের তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু।
- এই বস্তু মূলত সৌরজগতের একটি ছোট্ট অংশ, যেটি সূর্যকে কেন্দ্র করেই ঘোরে।
- মহাকাশে ধূমকেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৩টি
- ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতুর প্রতি ঘূর্ণনকাল ২০০ বছরের নিচে হয়, আর দীর্ঘস্থায়ী ধূমকেতুর ক্ষেত্রে সেটা ২০০ বছরেরও অধিক।
- হ্যালির ধূমকেতু হলো বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ধূমকেতু
- ২০৬১ সালের ২৮  জুলাই আবার হ্যালির ধূমকেতুটি দেখা যাবে।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ,১৫ জানুয়ারী ২০২২।
১,৩১৮.
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ এক ধরনের -
  1. ক) জারণ বিক্রিয়া
  2. খ) বিজারণ বিক্রিয়া
  3. গ) জারণ বিজারণ বিক্রিয়া
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে ATP এবং NADPH+H' নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।
- এ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। উৎপন্ন হয় শর্করা (গ্লুকোজ)। এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়।
- সূর্যালোকের দরকার হয় মূল শক্তির জন্য এবং ক্লোরোফিল দরকার হয় সূর্য শক্তিকে শোষণ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদে তৈরিকৃত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কান্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত হয়।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৩১৯.
হৃদপিণ্ডের প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে নিচের কোনটি সাহায্য করতে পারে?
  1. ক) ইইজি
  2. খ) ইসিজি
  3. গ) বায়োপসি
  4. ঘ) সিটি স্ক্যান
ব্যাখ্যা

- হৃদপিণ্ডের প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে ইসিজি সাহায্য করে।
- ইইজি সাধারণত মস্তিষ্কের মৃগীরোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করে।
- কোনো টিউমার বা ক্যান্সার শনাক্তের জন্য বায়োপসি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
- সিটি স্ক্যান এর সাহায্যে সাধারণত শরীরের বিভিন্ন স্থানের হাড়ের অবস্থা এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক নির্ণয়ে সাহায্য করে।

১,৩২০.
কোন বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়?
  1. ক) বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
  2. খ) মহাকর্ষ বল
  3. গ) দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা- 
১। মহাকর্ষ বল, 
২। তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, 
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং 
৪। সবল নিউক্লীয় বল। 

মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩২১.
কাজ করার সামর্থ্যকে বলে-
  1. শক্তি
  2. ক্ষমতা
  3. কাজ
  4. বল
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলে।

অপরদিকে, 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় বা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগে যদি বস্তুটির সরণ ঘটে, তাহলে বল এবং বলের দিকে বলের প্রয়োগ বিন্দুর সরণের উপাংশের গুণফলকে কাজ বলে। 
- একক সময়ে ব্যক্তি বা উৎসটি দ্বারা সম্পাদিত কাজের পরিমাণই হচ্ছে ক্ষমতা। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩২২.
নিচের কোনটি ব্ল্যাক হোলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) ভর অসীম
  2. খ) আয়তন অসীম
  3. গ) ঘনত্ব অসীম
  4. ঘ) মুক্তিবেগ অসীম
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
১,৩২৩.
‘Hounsfield unit’ নিচের কোনটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. ECG
  2. ETT
  3. CT scan
  4. MRI
ব্যাখ্যা
Hounsfield unit:
- ‘Hounsfield unit’ বা ‘হাউনস ফিল্ড ইউনিট’ CT scan-এ Radiodensity বা তেজস্ক্রিয় ঘনত্বের একটি পরিমাপ যা বিভিন্ন টিস্যুতে তাদের এক্স-রে তীব্রতা হ্রাসের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সংখ্যায় মান প্রকাশ করা যায়।
- Hounsfield unit বিভিন্ন টিস্যুর তেজস্ক্রিয় ঘনত্বের পরিমাপ এবং পার্থক্য করতে CT scan এ ব্যবহৃত হয়।
- Hounsfield unit কোন টিস্যুর বিস্তারিত Cross-sectional চিত্র তৈরিতে কাজ করে।
- CT scan এর আবিষ্কারক Sir Godfrey Hounsfield এর নামানুসারেই ‘Hounsfield unit’ রাখা হয়েছে।

সিটি স্ক্যান (CT scan):
- সিটিস্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan).
 - যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে ৷
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক ।
- সিটিস্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনি, ফুসফুস, ব্রেন ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিউরোলজি বা স্নায়ুবিজ্ঞান শাখায় সবচেয়ে বেশী CT scan ব্যবহার করা হয়ে থাকে যায়।
- যকৃৎ, ফুসফুস এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটিস্ক্যান ব্যবহৃত হয়।
- সিটিস্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পার্শ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে।
- মাথার সিটিস্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়।
- সিটিস্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কিনা তাও জানা যায়৷
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না৷

উৎস: 
১) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) Title: "Bushberg's Physics of Medical Imaging"
Authors: Stewart C. Bushberg, John M. Boone, Edwin M. Leidholdt Jr., and J. Anthony Seibert
Publisher: Wolters Kluwer
Edition: 4th Edition (2018)
১,৩২৪.
জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শক্তির কীরূপ রূপান্তর ঘটে?
  1. আলোক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
  2. তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
  4. যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
ব্যাখ্যা
• জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়।
- একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পানির সঞ্চিত বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়।
- অর্থাৎ এখানে যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন হয়
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়।
- এই ট্রার্বাইনের ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৫.
সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে দায়ী কোনটি? 
  1. নিম্নচাপ
  2. উচ্চচাপ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. নিম্ন তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

• সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে প্রধানত নিম্নচাপ দায়ী, অর্থাৎ সঠিক উত্তর ক) নিম্নচাপ। উষ্ণ সমুদ্রের উপর যখন বায়ু দ্রুত গরম হয়ে হালকা হয়ে উপরে উঠতে থাকে, তখন সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। আশপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু দ্রুত ওই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে এই প্রবাহিত বায়ু ঘূর্ণায়মান রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, যাকে সাইক্লোন বলা হয়। উচ্চচাপ, সমুদ্রস্রোত বা নিম্ন তাপমাত্রা সরাসরি সাইক্লোন সৃষ্টির মূল কারণ নয়, বরং নিম্নচাপই এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।
 
সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২৬.
বেগ নির্ণয়ের জন্য কোন দুটি মৌলিক রাশির প্রয়োজন হয়? 
  1. দৈর্ঘ্য ও তাপমাত্রা
  2. দৈর্ঘ্য ও সময়
  3. দৈর্ঘ্য ও ভর
  4. তাপমাত্রা ও ভর
ব্যাখ্যা
রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দৈর্ঘ্য (দূরত্ব) এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়, তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৭.
‘গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে’ উক্তিটি কার?
  1. ক) টলেমী
  2. খ) কোপার্নিকাস
  3. গ) ট্রাইকোব্রাহে
  4. ঘ) কেপলার
ব্যাখ্যা
- গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে’ উক্তিটি কেপলারের।

 কেপলারের সূত্র:
- কেপলারের প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
- কেপলারের দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
- কেপলারের তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।
- মহাকর্ষ - যে বল মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণাকে পরস্পরের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র - মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সামানুপাতিক,এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
- বিশ্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, G-এর মান 6.673×10 -11 Nm2kg2 এবং G-এর মাত্রা LMT-2 । আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G-এর একক Nm2kg2.

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান,প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৮.
স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের চাপ পরম তাপমাত্রার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত?
  1. ক) চাপ তাপমাত্রার ব্যস্তানুপাতিক
  2. খ) চাপ তাপমাত্রার সমানুপাতিক
  3. গ) চাপ তাপমাত্রার বর্গের সমানুপাতিক
  4. ঘ) চাপ তাপমাত্রার বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
তাপমাত্রা:

- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের চাপ পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক।
- আয়তন, চাপ ও তাপমাত্রা তিনটি রাশি বা চলক এক সাথে গ্যাসের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে । এই তিনটি চলকের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে তিনটি সূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এগুলো গ্যাস সূত্রাবলি নামে পরিচিত।
- বয়েলের সূত্র: তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার চাপের ব্যস্তানুপাতিক।
- চার্লসের সূত্র: স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তনের পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক।
- গে লুসাকের সূত্র: স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের চাপ পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক।
- স্থির চাপে গাণিকিভাবে যে তাপমাত্রায় যেকোনো গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়, সেই তাপমাত্রাকে (-273°C) পরম শূন্য তাপমাত্রা বলা হয়
- যে তাপমাত্রায় প্রমাণ চাপে বরফ গলে পানিতে পরিণত হয় বা পানি জমে বরফে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা বলে

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৯.
নিচের কোনটিকে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়?
  1.  যকৃত
  2. হৃদপিণ্ড
  3. মস্তিষ্ক
  4. পাকস্থলী
ব্যাখ্যা

যকৃতকে 'দেহের রসায়ন গবেষণাগার' বা 'জৈব রসায়নের কারখানা' বলার কারণ হলো এটি মানবদেহের প্রায় সকল প্রকার রাসায়নিক প্রক্রিয়া, সংশ্লেষণ এবং বিশোধন নিয়ন্ত্রণ করে। 

যকৃত (Liver):
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি।
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত।
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার।
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে।

যকৃতের কার্যাবলি:
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী -পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়।
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)।
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়।
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)।
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩০.
অ্যালকাইল হ্যালাইড হতে অ্যালকোহল প্রস্তুতি কোন ধরনের বিক্রিয়া?
  1. ক) অপসারণ
  2. খ) প্রতিস্থাপন
  3. গ) যূত
  4. ঘ) আইসোমারীকরণ
ব্যাখ্যা
প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া (Substitution or Displacement Reaction): কোনো অধিক সক্ৰিয় মৌল বা যৌগমূলক অপর কোনো কম সক্রিয় মৌল বা যৌগমূলককে প্রতিস্থাপন করে নতুন যৌগ উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে৷ 

অ্যালকোহলের প্রস্তুতি
ইথাইল ব্রোমাইড থেকে: ব্রোমো ইথেন এর মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর জলীয় দ্রবণ যোগ করে উত্তপ্ত করলে ইথানল এবং সোডিয়াম ব্রোমাইড উৎপন্ন হয় ।


অতএব, অ্যালকাইল হ্যালাইড হতে অ্যালকোহল প্রস্তুতি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৩৩১.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ -
  1. কম হয়
  2. খুব কম হয়
  3. একই হয়
  4. বেশি হয়
ব্যাখ্যা
[রেগুলেটরের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পাখার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা একটি পরিবর্তনশীল রোধ ব্যবহার করে। এর ফলে, পাখার গতি ধীরে হলেও বিদ্যুৎ খরচ অপরিবর্তিত থাকে, কারণ এই অবস্থায় রোধে সৃষ্ট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তি হিসেবে অপচয় হয়। তাছাড়া পাখার গতি কমলেও, মোটরের কার্যকারিতা একই থাকে, তাই বিদ্যুৎ খরচ পরিবর্তন হয় না।]

• বৈদ্যুতিক পাখা:

- বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ একই হয়।
- ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফুল স্পিডে বা আস্তে যেভাবেই ঘুরান পাওয়ার একই খরচ হয়। কারন ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ইন্ডাকটর দ্বারা তৈরি।
- ফ্যান চলার সময় এই রেগুলেটর কমিয়ে দিলে ফ্যানের গতি কমে কিন্তু ইন্ডাক্টর উত্তপ্ত হয়। এই উত্তাপের কারনে বৈদ্যুতিক পাওয়ার খরচ হয়।
- আবার ইলেকট্রনিক রেগুলেটরের বেলায় ভিন্ন। এটি একটি ভেরিয়েবল রেজিস্টর। এটি তৈরি হয় থাইরিস্টর ইলেকট্রনিক ডিভাইস দিয়ে।
- এতে উত্তাপের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকার কারনে রেগুলেটর লসও খুবি নগন্য হয়। ফলে ফ্যানের গতি কমালে পাওয়ার কম খরচ হবে এবং ফ্যানের গতি বাড়ালে পাওয়ার খরচ বাড়বে।
- তাই ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম হলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩২.
কণা ও তরঙ্গ দ্বৈত ধর্মের অধিকারী -
  1. ক) ইলেক্ট্রন
  2. খ) পজিট্রন
  3. গ) ফোটন
  4. ঘ) বোসন
ব্যাখ্যা
ফোটন হচ্ছে আলোর কণা বা ক্ষুদ্রতম একক।
প্লাঙ্কের তত্ত্ব অনুসারে - আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
ফোটনের কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৩৩৩.
নিচের কোনটি তীব্র ক্ষারধর্মী যৌগ নয়? 
  1. NaOH
  2. KOH
  3. NH4OH
  4. Ca(OH)2
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সকল হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকেই ক্ষার বলা হয়। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড প্রত্যেকেই জলীয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 
 

ক্ষারক: 
- ক্ষারক হলো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- কপার অক্সাইড, আয়রন (II) অক্সাইড, আয়রন (III) অক্সাইড এর প্রত্যেকেই ক্ষারক। 
- পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে এরা ক্ষার নয়, ক্ষারক। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
-  যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (II) অক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (III) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (III) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- অ্যামোনিয়া (NH3) ক্ষার বা ক্ষারক নয় বরং এটি একটি ক্ষার ধর্মী যৌগ। 
- অ্যামোনিয়া পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) উৎপন্ন করে। 
- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার। 
   NH3 (g) + H2O (l) → NH4OH (aq) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৪.
হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা কত?
  1. 2
  2. 3
  3. 4
  4. 5
ব্যাখ্যা

মানুষের হৃদপিন্ডে ৪টি প্রকোষ্ঠ (chambers) থাকে, যা রক্ত প্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হৃদপিন্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড একটি পেশিবহুল অঙ্গ যা রক্ত সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত পাম্প করে।
- এটি চারটি প্রকোষ্ঠ বা চেম্বার নিয়ে গঠিত: দুটি অলিন্দ (atria) এবং দুটি নিলয় (ventricles)।
- উপরের দুটি ছোট প্রকোষ্ঠকে অলিন্দ (ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ) বলা হয়, যা সারা শরীর থেকে রক্ত গ্রহণ করে।
- নিচের দুটি বড় ও পুরু প্রকোষ্ঠকে নিলয় (ডান নিলয় ও বাম নিলয়) বলা হয়, যা রক্ত পাম্প করে শরীরের বিভিন্ন অংশে পাঠায়।
- অলিন্দ এবং নিলয়ের মাঝে কপাটিকা (valve) থাকে যা রক্তকে একমুখী প্রবাহে সাহায্য করে।
- ডান অলিন্দ কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত রক্ত গ্রহণ করে এবং ডান নিলয় থেকে তা ফুসফুসে পাম্প করে। বাম অলিন্দ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে এবং বাম নিলয় থেকে তা শরীরের অন্যান্য অংশে পাঠায়।
- হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে- ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে বলে- সিস্টোল।
- প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে।

রক্তচাপ ২ প্রকার। যথা:
১. সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
২. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ। একে ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।
- মানবদেহের রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম-স্ফিগমোম্যানোমিটার।

উল্লেখ্য-
- মাছের হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা ২টি।
- উভচর প্রাণী এবং সরীসৃপদের (কুমির ব্যতীত) হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের সংখ্যা ৩টি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩৫.
ক্ষমতার এস.আই একক কোনটি?
  1. ক্যালরি
  2. জুল
  3. ওয়াট
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতা বলতে কাজ সম্পাদনের হারকে বোঝায়। আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি (S.I) অনুযায়ী ক্ষমতার একক হলো ওয়াট (Watt)। ১ সেকেন্ডে ১ জুল কাজ করার ক্ষমতাকে ১ ওয়াট বলা হয় (১ ওয়াট = ১ জুল/সেকেন্ড)। 

ক্ষমতা (Power):
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ (P = Fv)
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- এক হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (H.P) = 746 W. 
- ক্ষমতার মাত্রা [ML2T -3]. 

অন্যদিকে, 
- শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। তাপের এস.আই একক জুল। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩৬.
What disease is caused by lack of insulin?
  1. Hypothyroidism
  2. Diabetes
  3. Osteoporosis
  4. Hypertension
  5. Cushing's syndrome
ব্যাখ্যা
• ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৭.
ভিটামিন বি এর অভাবে মানবদেহে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. ক) রাতকানা রোগ হয়
  2. খ) জরায়ু এর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু ঘটে
  3. গ) স্কার্ভিতে আক্রান্ত হয়
  4. ঘ) দেহকোষে বিপাকীয় কাজ বাধাগ্রস্থ হয়
ব্যাখ্যা

- রাতকানা, জরায়ু এর মধ্যে ভ্রূণের মৃত্যু এবং স্কার্ভি হয় যথাক্রমে ভিটামিন এ, ই এবং সি এর অভাবে।
- ভিটামিন বি এর অভাবে দেহকোষে বিপাকীয় কাজ বাধাগ্রস্থ হয়।
তথ্যসূত্র: বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৭,৮ ও ১০।

১,৩৩৮.
'স্ট্রোক' আকস্মিক অজ্ঞান বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে - এটি কি?
  1. ক) হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  2. খ) মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা
  3. গ) হৃৎপিণ্ডের অংশবিশেষের অসাড়তা
  4. ঘ) ফুসফুসে হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা ফলে স্ট্রোক হয়। যাতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যা একটি রক্ত সঞ্চালনের জনিত একটি রোগ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৯.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে কী অবস্থায় থাকবে? 
  1. ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪০.
দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি কোনটি? 
  1. ফিমার
  2. ফিবুলা
  3. রেডিয়াস 
  4. হিউমেরাস
ব্যাখ্যা

ফিমার: 
- মানবদেহে ২০৬ টি অস্থি বিদ্যমান। 
- ফিমার হচ্ছে মানবদেহে সবচেয়ে বড় অস্থি। 
- ফিমার দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি। 
- এর ঊর্ধ্ব প্রান্তে একটি গােল মস্তক, গ্রীবা ও ছােট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত। 
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কল্ডাইল বিশিষ্ট। 
- ফিমারের মস্তক শ্রেণিচক্র অ্যাসিটামুলামের সাথে যুক্ত থাকে, এর প্রান্তে Patella নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড় অস্থি থাকে। 
- তারপরে রয়েছে পর্যায়ক্রমে টিবিয়া, ফিবুলা, হিউমেরাস, আলনা, রেডিয়াস। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৩৪১.
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় মোট কত অনু ATP সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ৩৬ অনু
  2. খ) ৩৮ অনু
  3. গ) ৪০অনু
  4. ঘ) ৪২ অনু
ব্যাখ্যা
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হয়ে সর্বমোট ছয় অণু কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ছয় অণু পানিএবং ৩৮ অনু ATP উৎপন্ন করে।
উৎস: নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
১,৩৪২.
জুম চাষকে আর কী নামে ডাকা হয়?
  1. সেচনির্ভর কৃষি
  2. সুইডেন চাষাবাদ
  3. বনায়ন চাষাবাদ
  4. প্রাচীন চাষ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

• জুম চাষ:
- জুমচাষ (Shifting cultivation) পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি পাহাড়ী মিশ্র কৃষি চাষ পদ্ধতি।
- জুম বা স্থানান্তর চাষাবাদ সাধারণভাবে ‘সুইডেন চাষাবাদ’ বা জঙ্গল পরিষ্কার ও পোড়ানো চাষাবাদ হিসেবে পরিচিত।
- এমন একটা সময় ছিল যখন এখানকার জনগোষ্ঠীদের মধ্যে এই জুম চাষই ছিল জীবিকা অর্জনের একমাত্র উপায়। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এখানকার মানুষ সমতলের মত চাষাবাদ করার পদ্ধতি আয়ত্ব করেছে জুমচাষের অনেক পরে।
- মূলত চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতীয়দের জীবন ও সংস্কৃতি বহুলাংশে জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল।
- এছাড়া সিলেটের পাহাড়িয়া অঞ্চলেও কিছু কিছু জুমচাষ হয়।
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, জুম চাষ হয়।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলির প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি।
- জুম চাষকে স্থানান্তর কৃষি ব্যবস্থাও বলা হয়ে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৪৩.
নিচের কোনটি অসংক্রামক ব্যাধি?
  1. স্থূলতা
  2. কুষ্ঠ
  3. রুবেলা
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, পরজীবী ইত্যাদির কারণে সৃষ্ট রোগগুলো সংক্রামক রোগ। ধনুষ্টংকার, জলবসন্ত, এইডস, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, রুবেলা, কলেরা ইত্যাদি হলো সংক্রামক রোগ।
- যে রোগগুলো সাধারণভাবে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে না তাকে অসংক্রামক রোগ বলে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ক্রোনিক কিডনি ডিজিজ ইত্যাদি হলো অসংক্রামক ব্যাধি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩৪৪.
হিগস বোসন কণা কী নামে পরিচিত?
  1. লিনিয়ার কণা
  2. অন্ধকার কণা
  3. আলোক কণা
  4. ঈশ্বর কণা
ব্যাখ্যা
• হিগস বোসন কণা ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত। 

• হিগস কণা:
- ১৯৬৪ সালে পিটার হিগস এবং তাঁর পাঁচ সহযোগী মিলে সর্বপ্রথম এই কণা সম্পর্কিত তত্ত্ব প্রদান করেন।
- এই কণা পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেলে উল্লিখিত ১৭ টি মৌলিক কণার একটি।
- সুইজারল্যান্ডের  সার্ন (European Organization for Nuclear Research, CERN) এর লার্জ হ্যাডরন কোলাইডার (Large Hadron Collider) বা LHC যন্ত্রে ২০১৩ সালে এ কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
- এ বছরই পিটার হিগস (Peter Higgs) ও ফ্রানকোসিস এঙ্গলার্ট (Francosis Englert) এ কাজের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান (Leon Lederman) ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা বা God particle নামে অভিহিত করেন। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; ড. শাহজাহান তপন।
১,৩৪৫.
কোনো দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনাঞ্চল প্রয়োজন মোট ভূমির‒
  1. ১৬ শতাংশ
  2. ২০ শতাংশ
  3. ২৫ শতাংশ
  4. ৩০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
• কোনো দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনাঞ্চল প্রয়োজন মোট ভূমির ২৫ শতাংশ।

• বনভূমি:
- যে সকল স্থানে বিভিন্ন প্রকারের প্রচুর পরিমানে গাছপালা দেখা যায় তাকে বন ভূমি বলা হয়ে থাকে।
- এক সময় পৃথিবীর স্থল ভাগের প্রায় ৪০ ভাগ বনভূমি দ্বারা আবৃত ছিল।
- কিন্তু মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বনভূমি থেকে গাছপালা কেটে ফেলে বর্তমানে তা প্রায় ২৪ ভাগে এসে দাড়িয়েছে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের তাপ, মাটি, আলো, জলবায়ু প্রভৃতির কারণে বনভূমির তারতম্য হয়ে থাকে।
- দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমি অপরিহার্য।
- একটি দেশের জন্য অন্তত ২৫% বনভূমির প্রয়োজন।
 
উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৬.
প্রাকৃতিক পলিমার কোনটি?
  1. সিল্ক
  2. রেজিন
  3. মেলামাইন
  4. ব্যাকেলাইট
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer): 
- মেলামাইনের থালা-বাসন, বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড, কার্পেট, পিভিসি পাইপ, পলিথিনের ব্যাগ, পাটের ব্যাগ, সিল্কের কাপড়, উলের কাপড়, সুতি কাপড়, নাইলনের সুতা, রাবার- এসব জিনিস সবই হচ্ছে পলিমার। 
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরোস (Meros) থেকে। পলি শব্দের অর্থ হলো অনেক (Many) এবং মেরোস শব্দের অর্থ অংশ (Part)। 
অর্থাৎ, অনেকগুলো ছোট অণু পরপর যুক্ত হয়ে বড় আকারের যে অণু তৈরি হয় তাকে পলিমার বলে। 
- যে ছোট অণু থেকে পলিমার তৈরি হয়, তাকে বলে মনোমার (Monomer)। 
- যে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তা 'ইথিলিন' নামের মনোমার থেকে তৈরি এক ধরনের পলিমার। 
- একইভাবে, পিভিসি পাইপ (PVC) হলো ভিনাইল ক্লোরাইড নামের মনোমার থেকে তৈরি পলিমার। 
- তবে সব সময় একটি মনোমার থেকেই পলিমার তৈরি হবে এমন নয়, একের অধিক মনোমার থেকেও পলিমার তৈরি হতে পারে। 
যেমন- বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত বস্তু। বৈদ্যুতিক সুইচে বাকেলাইট নামের একটি পলিমার ব্যবহার করা হয়। ব্যাকেলাইট তৈরি হয় ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে। আবার মেলামাইনের থালা-বাসন হলো মেলামাইন রেজিন নামের পলিমার, যা তৈরি হয় মেলামাইন ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থাকে। 

প্রাকৃতিক পলিমার: 
- পাট, সিল্ক, সুতি কাপড়, রাবার প্রভৃতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পলিমার। 

কৃত্রিম পলিমার: 
- মেলামাইন, রেজিন, ব্যাকেলাইট, পিভিসি, পলিথিন প্রভৃতি হলো কৃত্রিম পলিমার। এগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, শিল্পকারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪৭.
হেপাটাইটিস (জন্ডিস) রোগের প্রধান কারণ কি ?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) প্রটোজোয়া
  3. গ) হেলমিনথিস
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা


উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৩৪৮.
হাইড্রোজেনের ডিউটেরিয়াম আইসোটোপের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 1
  2. 0
  3. 2
  4. 3
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের ডিউটেরিয়াম আইসোটোপের নিউট্রন সংখ্যা এক (১)। 

আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪৯.
ট্যাকোমিটার কী? 
  1. উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র
  2. শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র 
  3. গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র 
  4. উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র 
ব্যাখ্যা

- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র

​অন্যদিকে, 
- ​অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ক্যালরিমিটার- তাপ পরিমাপক যন্ত্র। 
- ম্যানোমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

১,৩৫০.
অগ্রপদের সবচেয়ে বড় ও লম্বা অস্থি কোনটি?
  1. হিউমেরাস
  2. রেডিয়াস আলনা
  3. কারপাল
  4. ফ্যালানজেস
ব্যাখ্যা

- হিউমেরাস (Humerus):
- এটি অগ্রপদের সবচেয়ে বড় ও লম্বা অস্থি।
- হিউমেরাসের উপরের গোলাকার অংশকে মস্তক বলে।
- এখানে একটি বড় ও একটি ছোট টিউবারকল থাকে।
- হিউমেরাসের মধ্য অঞ্চলে ডেলটয়েড রিজ ও নিচের দিকে ট্রকলিয়া থাকে।

- রেডিয়াস ও আলনা (Radius & Ulna):
- হিউমেরাসের নিচের অস্থির নাম রেডিয়াস আলনা।
- আলনার উপরের প্রান্ত মোটা ও নিচের দিকে সরু। 
- আলনার উপরের অংশে একটা সাপের ফনার মত গঠন থাকে। এটিকে অলিক্রেনন প্রসেস বলে।

- কারপাল (Carpal) বা কার্পাস (Carpus): অস্থি মানুষের কব্জিতে দুই সারিতে আটখানা কারপাল অস্থি থাকে।
- এসকল অস্থি কব্জি নাড়াতে সাহায্য করে।

- মেটাকার্পাল (Metacarpal): করতল বা তালুতে পাঁচটি করে মেটাকারপাল অস্থি থাকে। মেটাকারপালের ৩টি অংশ থাকে।
 
- ফ্যালানজেস (Phalanges): আঙ্গুলের অস্থিগুলোকে ফ্যালানজেস বলে। বৃদ্ধাঙ্গুলে ২টি এবং অন্যান্য ৪টি আঙ্গুলে ৩টি করে মোট ১৪টি ফ্যালানজেস থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৫১.
জীবমণ্ডলে বসবাসকৃত জীবকূলের সাথে পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার সম্পর্ক সংক্রান্ত বিজ্ঞাকে কী বলে?
  1. Horticulture
  2. Meteorology
  3. Ecology
  4. Toxicology
ব্যাখ্যা
Ecology: 

• জীবমণ্ডলে বসবাসকৃত জীবকূলের সাথে পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার সম্পর্ক সংক্রান্ত বিজ্ঞাকে Ecology বলে। 
• প্রকৃতপক্ষে Ecology বা বাস্তুসংস্থান হচ্ছে পৃথিবী নামক বসবাসকৃত গ্রহে জীবগোষ্ঠীর (উদ্ভিদ, প্রাণী, অনুজীব) সাথে পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্বলিত বিজ্ঞান।
• ইকোলজি হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা।
• আর্নেস্ট হেকেলের মতে, "ইকোলজি হচ্ছে জৈবিক বিশ্ব ব্যবস্থাপনার নিয়ম ও নীতির বিজ্ঞান"।

- অন্যদিকে,
• আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology.
• বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Toxicology.
• উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় Horticulture.

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১,৩৫২.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান? 
  1. PH3
  2. H2O
  3. CO2
  4. NH3
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১,৩৫৩.
স্ক্রু-গেইজের ন্যূনাঙ্ক সাধারণত কত?
  1. 1.0 mm
  2. 0.01 mm
  3. 0.1 mm
  4. 0.001 mm
ব্যাখ্যা

স্ক্রু-গেইজ (Screw Gauge): 
- ভার্নিয়ার স্কেলের পরিবর্তে একটা স্ক্রুকে ঘুরিয়ে স্কেলকে সামনে-পেছনে নিয়েও স্ক্রু-গেইজ (Screw Gauge) নামে বিশেষ এক ধরনের স্কেলে দৈর্ঘ্য মাপা হয়। এখানে, স্ক্রুর ঘাট (thread) অত্যন্ত সূক্ষ্ম রাখা হয় এবং পুরো একবার ঘোরানোর পর স্কেল লাগানো স্ক্রুটি হয়তো 1 mm অগ্রসর হয়, স্ক্রুর এই সরণকে স্ক্রুর পিচ (pitch) বলে।
- যে বৃত্তাকার অংশটি ঘুরিয়ে স্কেলটিকে সামনে-পেছনে নেওয়া হয় সেটিকে সমান 100 ভাগে ভাগ করা হলে প্রতি এক ঘর ঘূর্ণনের জন্য স্কেলটি পিচের 1/100 ভাগের এক ভাগ অগ্রসর হয়। 
অর্থাৎ, এই স্কেলে 1/100 mm = 0.01 mm পর্যন্ত মাপা সম্ভব হতে পারে, এটাকে স্ক্রু গেইজের ন্যূনাঙ্ক বলে। 
- আজকাল ভার্নিয়ার স্কেলের পরিবর্তে ডায়াল লাগানো কিংবা ডিজিটাল স্লাইড ক্যালিপার্স বের হয়েছে, যা দিয়ে সরাসরি সূক্ষ্মভাবে দৈর্ঘ্য মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৫৪.
কোনটি তেজষ্ক্রিয় রশ্মি?
  1. ক) আলফা
  2. খ) এক্সরে
  3. গ) অতিবেগুনি
  4. ঘ) অবলোহিত
ব্যাখ্যা
তেজষ্ক্রিয় রশ্মি:
- তেজষ্ক্রিয় নিউক্লিয়াস এর ভাঙ্গনের ফলে যে রশ্মিগুলো নির্গত হয় তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি বলে।

তিন ধরনের তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। যথা -
- আলফা
- বিটা
- গামা

উৎস: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই।
১,৩৫৫.
১ ডাইন সমান কত?
  1. ক) ০.০০০১ নিউটন
  2. খ) ০.০০০০১ নিউটন
  3. গ) ০.০০১ নিউটন
  4. ঘ) ০.০১ নিউটন
ব্যাখ্যা
SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন।
C.G.S পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন।
১ ডাইন = ০.০০০০১ নিউটন। 
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৩৫৬.
নিচের কোনটি পরিবেশের ভৌত উপাদান?
  1. ক) মাটি
  2. খ) জলবায়ু
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে পরিবেশের ভৌত উপাদান হচ্ছে জলবায়ু

• পরিবেশে বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি।
যথা.
ক. সজীব উপাদান এবং
খ. জড় উপাদান।

ক. সজীব উপাদান:
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার।
যথা-
১. উৎপাদক
২. খাদক এবং
৩. বিয়োজক।

১. উৎপাদক : সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে
সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক।
২. খাদক : ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন
প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক।
৩. বিয়োজক : ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড়
ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে
পুষ্টি জোগায়।

খ. জড় উপাদান:
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান।

• জড় উপাদান আবার তিন প্রকার।
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান।
২. জৈব উপাদান : উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান।
৩. ভৌত উপাদান : আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৫৭.
কোনটি একটি মিশ্র করোটিক স্নায়ু? 
  1. অলফ্যাক্টরি
  2. অকুলোমোটর
  3. অপটিক
  4. ট্রাইজেমিনাল
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৮.
তাপের এস আই একক কী? 
  1. ক্যালভিন
  2. জুল
  3. ক্যালরি
  4. কিলো-ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপের একক: 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের এস আই একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে ১ ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- ৪.২ জুল যান্ত্রিক শক্তি ১ ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
- তাই, ১ ক্যালরি = ৪.২ জুল। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৯.
প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কিত বিদ্যাকে কী বলে?
  1. ক) জুওলোজি
  2. খ) ট্যাক্সোনমি
  3. গ) জেনেটিক্স
  4. ঘ) ইভোলিউশন
ব্যাখ্যা
- জুওলোজি এর বাংলা পরিভাষা হলো প্রাণিবিজ্ঞান।
- বিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাণী সম্পর্কিত বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে প্রাণিবিজ্ঞান বলে।
- ট্যাক্সোনমি হলো জীবের শ্রেণিবদ্ধকরণের বিদ্যা।
- জেনেটিক্স হলো বংশগতিবিদ্যা।
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বংশগতির রীতিনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে জেনেটিক্স বলে।
- ইভোলিউশন হলো বিবর্তনবিদ্যা।
- প্রাণিজগতের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কিত বিদ্যাকে ইভোলিউশন বলে। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৩৬০.
কসমিক-রে নামক রশ্মির আবিষ্কারক কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন 
  2. ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস 
  3. কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসন 
  4. আইজ্যাক নিউটন
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়। 
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়। 
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

১,৩৬১.
আয়তন গুণাঙ্কের বিপরীত রাশি কোনটি?
  1. দৃড়তার গুণাঙ্ক
  2. সংনম্যতা
  3. ইয়ং গুণাঙ্ক
  4. পয়সনের অনুপাত
ব্যাখ্যা
আয়তন গুণাঙ্ক: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর আয়তন পীড়ন ও আয়তন বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। এ ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের আয়তন গুণাঙ্ক বলে। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে B দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, আয়তন গুণাঙ্ক, B = আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাস সবারই আয়তন থাকায় আয়তন গুণাঙ্ক পদার্থের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। 

সংনম্যতা: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আয়তন বিকৃতি ও আয়তন পীড়নের অনুপাততে সংনম্যতা বলে। 
∴ সংনম্যতা =  আয়তন বিকৃতি/আয়তন পীড়ন = 1/(আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি) = 1/আয়তন গুণাঙ্ক = 1/B. 
অর্থাৎ, সংনম্যতা হচ্ছে আয়তন গুণাঙ্কের বিপরীত রাশি। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে তাই কখনো কখনো অসংনম্যতা বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১,৩৬২.
শিখা কোষ কোন প্রাণীতে দেখা যায়?
  1. জেলিফিশ
  2. ফিতা কৃমি
  3. গোল কৃমি
  4. হাইড্রা
ব্যাখ্যা

শিখা কোষ ফিতা কৃমিতে দেখা যায়।

প্লাটিহেলমিনথিস:
- গ্রিক শব্দ platys (= চ্যাপ্টা) এবং helminthes (= কৃমি) থেকে Platyhelminthes শব্দের উৎপত্তি।
- Gegenbaur, ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফিতাকৃমির জন্য এ নামটি প্রস্তাব করেন। বর্তমানে প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীরা সাধারণভাবে চ্যাপ্টাকৃমি নামে পরিচিত।

বৈশিষ্ট্য:
- দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা।
- এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
- সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ।
- শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
- অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

- গোল কৃমি হলো নেমাটোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
- জেলিফিশ ও হাইড্রা হলো নিডারিয়া পর্বের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬৩.
নিম্নের কোন রোগের টিকা EPI কর্মসূচির আওতাভুক্ত?
  1. ম্যালেরিয়া
  2. যক্ষা
  3. এইডস
  4. ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা

• যক্ষা রোগের টিকা EPI কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

• বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization – WHO):
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর অধীনে পরিচালিত Expanded Program on Immunization (EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান করা হয়।

• বর্তমানে বাংলাদেশে EPI-তে মোট টিকার সংখ্যা ১২ টি।
- যক্ষ্মা
- ডিফথেরিয়া
- হুপিং কাশি
- ধনুষ্টংকার
- পোলিওমাইলাইটিস
- হাম
- হেপাটাইটিস–বি জনিত রোগ
- হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ–বি জনিত রোগ
- রুবেলা
- নিউমোনিয়া
- জরায়ুমুখ ক্যান্সার
- টাইফয়েড

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, WHO website, প্রথম আলো এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।

১,৩৬৪.
নিচের কোনটি হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয়?
  1. ক) প্রোটিয়াম
  2. খ) ডিউটেরিয়াম
  3. গ) হাইড্রাইড
  4. ঘ) ট্রিটিয়াম
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (¹H, ²H, ³H, ⁴H, ⁵H, ⁶H এবং ⁷H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৬৫.
অ্যান্টিবডি হিসেবে সর্বাধিক পরিমাণে দেহে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. IgE
  2. IgG
  3. IgA
  4. IgD
ব্যাখ্যা
- অ্যান্টিবডি হিসেবে সর্বাধিক পরিমাণে দেহে পাওয়া যায়- IgG

অ্যান্টিবডি: 

- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়। 

২।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD । 
- রক্ত, লসিকা ও লিফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়। 
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে। 

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE): 
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE । 
- এটি দুর্লভ Ig । 
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়। 
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে। 
- বিভিন্ন অ্যালার্জিক সাড়া দানে (যেমন-সন্ধিবাতে) এ অ্যান্টিবডির ভূমিকা বেশ নেতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। 

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG): 
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG । 
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে। 
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমিক সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে। 
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। 

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM): 
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM । 
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের। 
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়। 
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়। 
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১,৩৬৬.
ওজোন লেয়ার বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
  1. হেমিস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. আয়নোস্ফিয়ার
  4. ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোমণ্ডল স্তরে ওজোন স্তর অবস্থিত।

স্ট্রাটোমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল।
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল নামে পরিচিত।
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
- জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর।
- তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬৭.
মানবদেহের রক্তরসে কোন ধরনের অ্যান্টিবডি সর্বাধিক মাত্রায় থাকে? 
  1. IgE
  2. IgM
  3. IgG
  4. IgD
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬৮.
কোনটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ নয়?
  1. ক) অয়ন বায়ু
  2. খ) আরব মালভূমির সাইমুম
  3. গ) মিসরের খামসিন
  4. ঘ) রকি পর্বতের চিনুক
ব্যাখ্যা
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। যথা: নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু এবং অনিয়মিত বায়ু।
স্থানীয় বায়ু: 
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ। 
- রকি পর্বতের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬৯.
ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ 
  2. বাইনারী আকারে পরিমাপযোগ্য
  3. সঞ্চালনের সময় বিকৃত হয় 
  4. শুধুমাত্র শব্দ তরঙ্গের প্রতিরূপ 
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিকস বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলা হয়।
- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিকস ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিকস পদ্ধতির উদাহরণ।
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিকস পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. এনালগ ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি, 
২. ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি এবং 
৩. মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি । 

মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি: 
- এনালগ ও ডিজিটাল বর্তনীর সংমিশ্রণে তৈরি পদ্ধতিকে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি বলে। 
- শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিশ্র ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 
- চাপ, তাপমাত্রা, রক্তচাপ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, তরল পদার্থের স্তর ইত্যাদি ক্রম-পরিবর্তনশীল বিষয় সংগৃহীত উপাত্ত এনালগ ইলেকট্রনিকস পদ্ধতি গ্রহণ করে। এই উপাত্তগুলোকে ডিজিটাল ইলেট্রনিক পদ্ধতিতে যথাযোগ্য সংখ্যা ও সংকেতে রূপান্তর করে পাঠ নেয়া হয়। 
- এনালগ এবং ডিজিটাল সংকেতের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো- 
১. এনালগ সংকেত একটি অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ এবং ভৌত পরিমাপযোগ্য অপরদিকে ডিজিটাল সংকেত একটি বিচ্ছিন্ন তরঙ্গ এবং সংখ্যা (বাইনারী পদ্ধতি) দিয়ে পরিমাপ করা হয়। 
২. এনালগ সংকেতকে সাইন তরঙ্গ দিয়ে এবং ডিজিটাল সংকেতকে চৌকো তরঙ্গ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
৩. ডিজিটাল সংকেতের তুলনায় এনালগ সংকেত সঞ্চালন অনেক ব্যয়বহুল এবং বেশি শক্তি খরচ হয়। 
৪. এনালগ সংকেতের তুলনায় ডিজিটাল সংকেত সঞ্চালন পদ্ধতি অনেক সহজ। 
৫. এনালগ সংকেত তরঙ্গ আকারে এবং ডিজিটাল সংকেত 0 এবং 1 অর্থাৎ বাইনারী আকারে সংরক্ষণ করা হয়। 
৬. মোডেমের মাধ্যমে এনালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে এবং ডিজিটাল সংকেতকে এনালগ সংকেতে রূপান্তর করা যায়। 
৭. কম্পিউটারে তথ্য আদান প্রদানের জন্য ডিজিটাল সংকেতে বাইনারী পদ্ধতি ব্যবহার করে। 
৮. ডিজিটাল সংকেত প্রেরণ করা তুলনামূলক সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং প্রায় ত্রুটিমুক্ত। 
৯. এনালগ সংকেত হলো শব্দ তরঙ্গের প্রতিরূপএটি সঞ্চালনের সময় পথিমধ্যে বিকৃত হয়ে যায়, গুণগত মান ঠিক থাকে না এবং তীব্রতা হ্রাস পায়। 
১০. এনালগ সংকেতের তুলনায় ডিজিটাল সংকেত সঞ্চালন হার অনেক দ্রুত এবং সংকেতের গুণগত মান উন্নত। 
১১. রেডিও, টিভি, টেলিফোন, অডিও, ভিডিও ইত্যাদিতে এনালগ সংকেত ব্যবহার করা হয়। অপর দিকে কম্পিউটার, সিডি, ডিভিডি, মোবাইল, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট কম্যুনিকেশন ইত্যাদিতে ডিজিটাল সংকেত ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৭০.
উদ্ভিদের খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে-
  1. ক) জাইলেম
  2. খ) ফ্লোয়েম
  3. গ) স্ক্লেরাইড
  4. ঘ) সিভনল
ব্যাখ্যা

জাইলেম উদ্ভিদের খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে এবং ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে।‌
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৭১.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে কয়টি ডাক্তারি ভিজিট জরুরি?
  1. ৮টি
  2. ৪টি
  3. ১০টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে ৪টি ডাক্তারি ভিজিট জরুরি।
সেগুলো হলোঃ ০-১৬ সপ্তাহে ১ টি, ২৪-২৮ সপ্তাহে ১টি, ৩২ সপ্তাহে ১টি এবং ৩৬ সপ্তাহের পর অর্থাৎ ৩৭ সপ্তাহ থেকে প্রসব না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একবার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩৭২.
সৌরজগতের দূরতম গ্রহ কোনটি?
  1. ইউরেনাস 
  2. নেপচুন
  3. শনি 
  4. বুধ 
ব্যাখ্যা
নেপচুন: 
- নেপচুন হলো সূর্য থেকে অষ্টম এবং সবচেয়ে দূরের গ্রহ।
- এটি আকারে চতুর্থ বৃহৎ এবং এটি ছিল প্রথম গ্রহ যা গণিতের সাহায্যে আবিষ্কৃত হয়।
- অন্ধকার, ঠান্ডা এবং অতিরিক্ত গতির বাতাসে ঘেরা নেপচুনে প্রাণধারণ সম্ভব নয়।
- নেপচুন সূর্য থেকে গড়ে ২.৮ বিলিয়ন মাইল (৪.৫ বিলিয়ন কিমি) দূরে, অর্থাৎ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ গুণ দূরে।
- সূর্য থেকে নেপচুনে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা।
- নেপচুনে একটি দিন (নিজ অক্ষে ঘোরার সময়) হয় ১৬ ঘণ্টায়।
- নেপচুনে একটি বছর (সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে যত সময় লাগে) হয় ১৬৫ পৃথিবী বছর, অর্থাৎ ৬০,১৯০ দিন।
- নেপচুনের এখন পর্যন্ত ১৬টি উপগ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে (ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই অনুসারে, ১৪টি) ।
- সবচেয়ে বড় চাঁদ ট্রাইটন—আবিষ্কার হয় ১৮৪৬ সালের ১০ অক্টোবর, নেপচুন গ্রহ আবিষ্কারের মাত্র ১৭ দিন পরেই।
- নেপচুন এবং ইউরেনাসকে বলা হয় "বরফের দৈত্য" (Ice Giants)।
- নেপচুনের বায়ুমণ্ডলে প্রধানত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম, আর সামান্য পরিমাণে মিথেন রয়েছে।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট। 
১,৩৭৩.
স্টেইনলেস স্টীল এ লোহার পরিমান -
  1. ৯৯%
  2. ৭৪%
  3. ৯২%
  4. ৭৮%
ব্যাখ্যা
স্টেইনলেস স্টীল এ লোহা ৭৪%, ক্রোমিয়াম ১৮% ও নিকেল ৮% থাকে।
কাঁটা চামচ, রান্নাঘরের সিঙ্ক, ছুরি, অস্ত্রপাতির যন্ত্রপাতি ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
স্টেইনলেস স্টীল কে মরিচাবিহীন ইস্পাত বলা হয়। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
১,৩৭৪.
ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে কোন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়?
  1. ক) প্রশমন
  2. খ) অধ:ক্ষেপ
  3. গ) জারণ
  4. ঘ) বিজারণ
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং 
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৫.
বজ্রপাতের সময় থাকা উচিত?
  1. ক) উঁচু গাছের নিচে
  2. খ) গুহার ভেতর বা মাটিতে শুয়ে
  3. গ) খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে
  4. ঘ) উঁচু দেয়ালের নিকট
ব্যাখ্যা
• বজ্রপাতের সময় গুহার ভেতর বা মাটিতে শুয়ে থাকা উচিত।

বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশানবলী: 
- বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গাঁ, খোলা মাঠ অথবা উঁচু স্থানে থাকা যাবেনা।
- বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলা মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি পায়ের আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙ্গুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকতে হবে।
- যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রীটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
- উঁচু গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার বা ধাতব খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।
- নদী, পুকুর, ডোবা বা জলাশয় থেকে দূরে থাকতে হবে।
- বজ্রপাতের সময় গাড়ীর ভেতর অবস্থান করলে, গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ না ঘটানো; সম্ভব হলে গাড়ীটি নিয়ে কোনো কংক্রীটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। 
- বজ্রপাতের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ল্যান্ডফোন, টিভি, ফ্রিজসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
- বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

• প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য উত্তর অপশন (খ)।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,৩৭৬.
‘পিকো’ প্রিফিক্সের মান কী?
  1. 10-18
  2. 10-15
  3. 10-9
  4. 10-12
ব্যাখ্যা

• ‘পিকো’ (pico) একটি মেট্রিক প্রিফিক্স যা কোনো এককের খুব ছোট অংশ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিমাপে ব্যবহৃত হয়, যেমন দৈর্ঘ্য, ভল্টেজ বা সময়। মেট্রিক সিস্টেমে ‘পিকো’ মানে 10-12 অর্থাৎ এক ইউনিটের এক ট্রিলিয়ন ভাগের একটি অংশ।

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানা কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6 × 1024 m) আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1 × 10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়েই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। 
- এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৭৭.
শ্বেত রক্ত কণিকার প্রধান কাজ কী? 
  1. রোগজীবাণু ধ্বংস করা
  2. অক্সিজেন পরিবহন করা
  3. রক্ত জমাট বাঁধা
  4. হরমোন নিঃসরণ করা
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে। 
যথা- 
ক. লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে। 
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে পৌঁছায়। 
- লোহিত রক্ত কণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ। 
- পরিণত লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- লোহিত রক্ত কণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়। 

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত রক্ত কণিকা লোহিত রক্ত কণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম। 
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্ত কণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে। শ্বেত রক্ত কণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়। 

গ. অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো। 
- এরা লোহিত রক্ত কণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়। 
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৭৮.
পর্বতারোহীদের পর্বতের উপর রান্না করতে সময় বেশি লাগে কেন?
  1. ক) চাপ কম
  2. খ) তাপ কম
  3. গ) জ্বালানি কম
  4. ঘ) উপরে ঠান্ডা বেশি
ব্যাখ্যা
চাপের কারণে স্ফুটনাংকের পরিবর্তন ঘটে বলে পর্বতের উপর কম চাপ থাকার দরুন রান্না করতে সময় বেশি লাগে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৩৭৯.
নিচের কোন মাধ্যম দিয়ে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত সঞ্চালিত হয়?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. ভ্যাকুয়াম
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- চারপাশে অসংখ্য শব্দের উৎস রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত উৎস মানুষের কণ্ঠ; সেখানে যে ভোকাল কর্ড আছে তার ভেতর দিয়ে বাতাস বের হওয়ার সময় সেখানে যে কম্পন হয় সেটা দিয়ে শব্দ তৈরি হয়। কথা বলার সময় যদি গলায় স্পর্শ করা হয়, তাহলে সেই কম্পন অনুভব করতে পারা যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৮০.
গ্রহাণুপুঞ্জের অবস্থান -
  1. পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মাঝখানে
  2. মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে
  3. বৃহস্পতি ও শনি গ্রহের মাঝখানে
  4. বুধ ও শুক্র গ্রহের মাঝখানে
ব্যাখ্যা
গ্রহাণুপুঞ্জ : সৌরজগতে মঙ্গল ও বৃহস্পতি এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ (১.৬-৮০৫ বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট) একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।
সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮১.
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা কত সময় অগ্রবর্তী?
  1. ৪ মিনিট
  2. ৬ মিনিট
  3. ৬ ঘণ্টা
  4. ১২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় ও গ্রিনিচ মান:
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- যার ফলে, বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘণ্টা অর্থাৎ, ৬ ঘণ্টা আগে।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা গেছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহীত হয়।
- তবে ১৯৭২ সালে GMT এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময় হিসেবে UTC (Coordinated Universal Time) গৃহীত হয়।
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮২.
T2 ভাইরাসের দেহকে কয়টি অংশে ভাগ করা হয়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
T2 ব্যাকটেরিওফায ভাইরাসের গঠন: 
- প্রাচীন কাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যে সকল ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে T2 ব্যাকটেরিওফায সবচেয়ে পরিচিত ভাইরাস। 
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। 
- তাই এর নাম ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ভক্ষণকারী। 
- এটি সর্বাধিক পরিচিত ব্যাঙাচি আকৃতির একটি DNA ভাইরাস। 
- বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি ১৯১৭ সালে ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফায বা ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা ফায ভাইরাস নাম দেন। 
- T2 ভাইরাসের দেহকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা হয়। যথা- 
১। মাথা ও ২। লেজ। 

মাথা: 
- মাথাটি স্ফীত ও ষড়ভূজাকৃতির এবং প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত। 
- এর দৈর্ঘ্য ৯৩-১০০ nm (ন্যানোমিটার) এবং প্রস্থ ৬৫ nm। 
- মাথার স্ফীত অংশের ভেতরে রিং আকৃতির দ্বিসূত্রক একটি DNA অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। 
- ৬০,০০০ জোড়া নিউক্লিয়োটাইড দিয়ে DNA গঠিত। 
- এতে প্রায় ১৫০টি জিন থাকে। 
- মাথার অধিকাংশ স্থানই ফাঁপা বলে মনে হয়। 

লেজ: 
- মাথার পরবর্তী লম্বা সরু অংশটিকে বলা হয় লেজ। 
- লেজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫-১১০ nm এবং ব্যাস প্রায় ১৫-২৫ nm। 
- লেজের উপরিভাগে সুস্পষ্ট চাকতির ন্যায় একটি কলার আছে এবং লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের ন্যায়। 
- এর অভ্যন্তরে কোন DNA থাকে না। 
- লেজের নিচের দিকে ১টি বেসপ্লেট, কাঁটার মত স্পাইক এবং ছয়টি স্পর্শক তন্ত্র থাকে। 
- লেজ, কলার, বেসপ্লেট, স্পাইক এবং স্পর্শক তন্ত্র সবই প্রোটিন দিয়ে গঠিত। 
- এতে লাইসোজাইম নামক এনজাইম থাকে যা পোষক কোষের আবরণ বিনষ্ট করতে পারে। 
- স্পর্শক তন্ত্রর সাহায্যে ভাইরাস পোষকের দেহে অবস্থান করে এবং কাঁটা দিয়ে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৩.
একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ কত?
  1. শূন্য
  2. অসীম
  3. তড়িচ্চালক বলের সমান
  4. তুল্যরোধের সমান
ব্যাখ্যা

◉ একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের (Ideal Current Source) প্রতিরোধ অসীম (infinite) হয়।
আদর্শ কারেন্ট সোর্স হলো এমন একটি উৎস, যা যেকোনো ভোল্টেজের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কারেন্ট প্রদান করে।

একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্স সবসময় নির্দিষ্ট পরিমাণ কারেন্ট সরবরাহ করে, যেটি লোড বা ভোল্টেজের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য সোর্সের অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হতে হবে, যাতে কোনো ভোল্টেজ পরিবর্তন হলেও কারেন্ট অপরিবর্তিত থাকে।

যদি রোধ শূন্য (zero) হতো, তাহলে ওহমের সূত্র (V = IR) অনুযায়ী, সামান্য ভোল্টেজ পরিবর্তনেও বিশাল কারেন্ট প্রবাহিত হতে পারত, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। ওহমের সূত্র অনুসারে, যদি অভ্যন্তরীণ রোধ অসীম হয়, তাহলে সোর্সের মধ্যে কোনো ভোল্টেজ ড্রপ হবে না যা কারেন্টকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই, একটি আদর্শ কারেন্ট সোর্সের রোধ অসীম হতে হয়, যাতে এটি যেকোনো লোডের জন্য নির্দিষ্ট কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে।

Source:
"Fundamentals of Electric Circuits" – Charles K. Alexander & Matthew N. O. Sadiku.
2. "Basic Engineering Circuit Analysis" – J. David Irwin & R. Mark Nelms.

১,৩৮৪.
কোন তত্ত্বের বিকাশের ফলে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়?
  1. ক) আপেক্ষিকতা
  2. খ) নিউটনীয় বলবিদ্যা
  3. গ) স্ট্রিং থিওরি
  4. ঘ) ক্যাওস থিওরি
ব্যাখ্যা

আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞান জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করে। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান,কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর,এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।

১,৩৮৫.
বিলিরুবিন তৈরী হয় কোনটি থেকে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা
জন্ডিস: 
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- লোহিত রক্ত কণিকার অধিক ভাঙন কিংবা যকৃত বা পিত্তনালীর কোনো সমস্যার কারণে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে। 
- এই বিলিরুবিন তখন শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে। এ অবস্থাকে বলা হয় জন্ডিস। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৩৮৬.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌ কে? 
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জন হুইলার
  3. জি. লেমেটার
  4. আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং: 
- স্টিফেন হকিং একজন পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ। 
- স্টিফেন হকিং মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌। 
- তাঁর রচিত বইসমূহ- 
• A Brief History of Time, 
• The Universe in a Nutshell এবং 
• The Grand Design ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি. লেমেটার। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৮৭.
বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান দুইটি গ্যাসের নাম কী?
  1. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  2. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. আর্গন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. ওজোন ও জলীয়বাষ্প
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমণ্ডল বেষ্টিত, এই মণ্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে। এই গ্যাসীয় মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান। 
- বায়ুমণ্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ, এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ (Aerosols)। 
- বায়ুমণ্ডলের সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না, বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়। 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকারের গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত। 
- বিশুদ্ধ ও শুষ্ক বায়ুর প্রধান দুইটি উপাদানের নাম নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এই দুটি গ্যাস একত্রে মিলে বায়ুমণ্ডলের ৯৮.৭৩ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে এবং বাকি ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে অন্যান্য গ্যাসীয় উপাদান। এই ১.২৭ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকা গ্যাসীয় উপাদানগুলো হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস যেমন- ওজোন, জেনন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্রিপটন, হিলিয়াম, নিয়ন ইত্যাদি। 
- আয়তন হিসেবে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহের একটি তালিকা দেয়া হলো- 
• নাইট্রোজেন (N2) → ৭৮.০২%, 
• অক্সিজেন (O2) → ২০.৭১%, 
• আর্গন (Ar) → ০.৮০%, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) → ০.০৩%, 
• অন্যান্য গ্যাসমূহ (ওজোন, মিথেন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড, নিয়ন, হিলিয়াম ও ক্রিপটন → ০.০২%, 
• জলীয়বাষ্প → ০.৪১% এবং 
• ধূলিকণা ও কণিকা → ০.০১% । 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৮.
মানবদেহ নিচের কোন শর্করা সরাসরি শোষণ করতে পারে?
  1. শ্বেতসার
  2. গ্লুকোজ
  3. ল্যাকটোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
- মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা 'গ্লুকোজ' শোষণ করতে পারে। 

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 

- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে। 
- ফলের রসের গ্লুকোজ, দুধের ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ। 
- গঠনপদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নিচের এই তিন ধরনের শর্করার গঠন এবং উৎস দেখানো হলো- 

- প্রধানত চাল, গম, আলু থেকে শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না। এজন্য চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাওয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা এবং বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৮৯.
মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা যাচাই করার জন্য কোন রশ্মি প্রয়োগ করা হয়?
  1. বিটা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি 
  3. আলফা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

• মূল্যবান ধাতুর (যেমন: সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম) বিশুদ্ধতা এবং ভেতরের উপাদানের অনুপাত নির্ণয় করার জন্য রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করা হয়।
- বিশেষ করে XRF (X-ray Fluorescence) নামক পদ্ধতিতে ধাতুর কোনো ক্ষতি না করেই তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
- আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি এই কাজে ব্যবহৃত হয় না কারণ এদের ভেদন ক্ষমতা এবং আয়নন ক্ষমতা হয় খুব বেশি নতুবা খুব কম, যা নিখুঁত ও নিরাপদ বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী নয়।

 
• এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার: 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 

১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৩। গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৯০.
সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত বায়ুকে কী বলা হয়? 
  1. নিয়ত বায়ু
  2. স্থানীয় বায়ু
  3. সাময়িক বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯১.
আদর্শ খাদ্য পিরামিডের সর্বনিম্নস্তর কোনটি?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড:
- যে কোনো একটি সুষম খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- শর্করাকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসব্জি, ফল- মূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে।
- পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য আর সর্ব নিম্নস্তরে রয়েছে শর্করা
 
চিত্র: আদর্শ খাদ্য পিরামিড।

- পিরামিডের অংশগুলো আকার অনুযায়ী নিচের দিকে বড়, উপরের দিকে ছোট।
- সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি, তার পরের অংশে শাকসব্জি ফল-মূল। 
- এভাবে ক্রমান্বয়ে কম প্রয়োজনীয় খাবারগুলো উপরের স্তরে অর্থাৎ কম খেতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৯২.
ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান কোনটি? 
  1. সেট্রিমাইড
  2. ক্লোরোজাইলিনল
  3. ক্লোরোহেক্সিডিন
  4. আইসোপ্রোপানল
ব্যাখ্যা
ডেটল (Dettol): 
- ডেটল একটি জনপ্রিয় এন্টিসেপটিক এবং জীবাণুনাশক হলুদ বর্ণের তরল মিশ্রণ। 
- ডেটল কতগুলো রাসায়নিক পদার্থে তৈরি একটি প্রতিরোধক যা সজীব কোষ-কলার উপর জীবাণুর জন্ম ও বৃদ্ধি রোধ করে। 
- ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) যা ডেটলে সর্বোচ্চ ৪.৮% থাকে
- ডেটলের অন্যান্য উপাদানগুলো হলো- আইসো প্রোপানল, পাইন অয়েল, ক্যাস্টার অয়েল, সাবান এবং পানি। 


ডেটলের ব্যবহার: 
- স্যাভলনের ন্যায় ডেটল পানির সাথে মিশিয়ে কাটা, ছেঁড়া, পোকায় আক্রান্ত স্থানে তুলার সাহায্যে লাগালে জীবাণু সংক্রমণ রোধ হয়। 
- ডেটল এবং স্যাভলন উভয়কেই অ্যান্টিসেপটিক রূপে ব্যবহার করা হলেও এদেরগঠন উপাদান ভিন্ন। 
- স্যাভলন হলো ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট ও সেট্রিমাইড দ্রবণের মিশ্রণ। 
- এছাড়া পরিচ্ছন্নতার কাজে যেমন- গোসলের সময়, ধোয়া-মোছার কাজে, প্রসূতি, শিশু ও রোগীর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য কাপড়, বিছানাপত্র, ঘরের মেঝে, বাথরুম ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ডেটল ব্যবহার করা হয়।
- ডেটল পানির সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিৎ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৩.
ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু কোন দিককে নির্দেশ করে? 
  1. পূর্ব দিক
  2. পশ্চিম দিক
  3. দক্ষিণ দিক
  4. উত্তর দিক
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকেই চুম্বক আকর্ষণ করে তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং অধিকাংশ ইস্পাতকে আকর্ষণ করে তাই এই পদার্থগুলোকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল, কাঠ, রৌপ্য, প্লাস্টিক ইত্যাদি পদার্থগুলোকে আকর্ষণ করে না তাই এই পদার্থগুলোকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে।
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়।
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান।
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে; এখানে, দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে
- কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে। ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৯৪.
বায়ুপ্রভাবের ফলে কোন যন্ত্র ব্যবহার করে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়? 
  1. সৌরযন্ত্র
  2. ঘূর্ণনযন্ত্র
  3. তড়িৎযন্ত্র
  4. চাকাযন্ত্র
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ুর চলাচল নিয়ত পরিবর্তনশীল। 
- বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ। 
- বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়- 
(১) নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
(২) পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। 

বায়ু প্রবাহের প্রভাবসমূহ: 
• বায়ু এক প্রকার গতিশীল শক্তি যা পৃথিবীপৃষ্ঠ, তার আশেপাশে ও উর্ধ্বে সর্বদা প্রবাহমান। 
• বায়ুমন্ডলে নানা রকম গ্যাসীয় উপাদান ও অন্যান্য উপাদনসমূহের ঘনত্বের সমন্বয়ে বায়ু একটি অনন্য প্রাকৃতিক শক্তি। 
• বায়ুপ্রবাহের নানা গতি ও প্রকৃতির জন্য প্রবল বাতাস, ঝড়, হারিকেন, টাইফুন, হাওয়া, বজ্রঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার অবস্থা দৃশ্যমান হয়। 
• বায়ুপ্রবাহের কারণে নানারকম নৌযান, আকাশযান, যুদ্ধবিমান, মহাকাশযান পরিবহনের গতি নির্ধারিত হয়। 
- বায়ুপ্রভাবের ফলে ঘূর্ণনযন্ত্র ব্যবহার করে পৃথিবীব্যাপী বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হচ্ছে। 
- এছাড়াও বায়ুপ্রবাহের শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যবহনকারী বিশাল জাহাজের পাওয়ার বা চলার শক্তি প্রদান করা হয়। 
- বায়ুপ্রবাহের কারণেই বেশ কিছু জনপ্রিয় খেলা যেমন-ঘুড়ি ওড়ানো, স্পোকাইটিং, ঘুড়ি সাফিং ইত্যাদি সারা পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৫.
শিখা পরীক্ষায় পটাশিয়াম কী বর্ণ ধারণ করে?
  1. ক) সোনালি হলুদ
  2. খ) হালকা বেগুনী
  3. গ) গাঢ় সবুজ 
  4. ঘ) ইটের মত লাল
ব্যাখ্যা
শিখা পরীক্ষা হল রসায়নের পরীক্ষায় ব্যবহার করা একটি বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতি, এটি বিভিন্ন উপাদানের সনাক্তকরণের পরীক্ষা। শিক্ষা পরীক্ষার ধাতুসমূহ নিন্মোক্ত বর্ন ধারণ করে। 

ধাতু  --  শিখা পরীক্ষায় বর্ণ 
সোডিয়াম - সোনালি হলুদ 
পটাশিয়াম - হালকা বেগুনী 
তামা - গাঢ় সবুজ 
ক্যালসিয়াম - লাল বর্ণ (ইটের ন্যায়)

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৩৯৬.
পানির অণু একটি - 
  1. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  2. অ্যান্টি-ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  3. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  4. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
প্যারাচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৭.
ডিজিট্যাল ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে ওঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. এলইডি
  2. সিলিকন চিপ
  3. এলসিডি
  4. আইসি
ব্যাখ্যা
- আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে।
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন- কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়।
- সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই।  যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে।
১,৩৯৮.
লোহিত কণিকা কোথায় উৎপন্ন হয়? 
  1. অস্থিমজ্জায়
  2. লিভারে
  3. প্লীহায়
  4. হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
রক্ত কণিকা: 
- রক্ত কণিকা তিন ধরনের থাকে। 
যেমন- 
ক. লোহিত কণিকা: 
- রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। 
- এক ঘন মিলিলিটার রক্তে পুরুষদের রক্তের ক্ষেত্রে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ এবং মহিলাদের রক্তে প্রায় পঁয়তাল্লিশ লক্ষ লোহিত কণিকা থাকে। 
- এটি অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয় ও ১২০ দিন পর প্লীহায় বিনষ্ট হয়। 
- ব্যায়াম করলে লোহিত কণিকার সংখ্যাও বেড়ে যায় ও বেশি দিন বাঁচে। 
- এটি হিমোগ্লোবিনের সহায়তায় দেহের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

খ. শ্বেত কণিকা: 
- আমাদের শরীরে রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা অনেক কম থাকে। 
- এক মিলিলিটার রক্তে ছয় থেকে আট হাজার শ্বেত কণিকা থাকে। 
- এরা বর্ণহীন ও নিউক্লিয়াসযুক্ত। 
- এরা সাধারণত ১২-১৩ দিন বেঁচে থাকে। 
- ব্যায়াম করলে এরা বেশিদিন বাঁচে ও সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- শ্বেতকণিকা রক্তে প্রবেশকারী জীবাণুকে ঘিরে ধরে বিনষ্ট করে এবং দেহকে রক্ষা করে, ফলে শারীরিক সক্ষমতা মজবুত ও শক্তিশালী হয়। 

গ. অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা দেখতে ডিম্বাকার ও বিভিন্ন আকৃতি বিশিষ্ট অনেকটা ডিসকের মতো দেখতে। 
- দেহের বৃহদাকার কোষ ভেঙ্গে অণুচক্রিকা সৃষ্টি হয়। 
- দেহের কোনো স্থানে ক্ষত হলে সেখানে ৩ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯৯.
মেটেরিওলজির আলোচ্য বিষয় কী?
  1. আবহাওয়া
  2. মহাকাশ
  3. অস্ত্র
  4. জলানুসন্ধান
ব্যাখ্যা

◉ মেটেরিওলজি (Meteorology) হলো আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- এটি বায়ুমণ্ডলের অবস্থা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাপমাত্রা, বাতাসের গতি, বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করে।

মেটেরিওলজির আলোচ্য বিষয়:
- আবহাওয়া পূর্বাভাস (Weather Forecasting), 
- ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, বৃষ্টিপাত বিশ্লেষণ, 
- বায়ুর চাপ, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও জলবায়ুর পরিবর্তন, 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) এবং জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণা। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
খ) মহাকাশ: এটি অ্যাস্ট্রোনমি (Astronomy) বা অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (Astrophysics) এর অন্তর্ভুক্ত।
গ) অস্ত্র: অস্ত্র গবেষণা বলিস্টিক্স (Ballistics) বা মিলিটারি টেকনোলজি এর অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) জলানুসন্ধান: জল অনুসন্ধান সংক্রান্ত গবেষণা হাইড্রোলজি (Hydrology) এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১,৪০০.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে প্রধান আধান বাহক কোনটি?
  1. নিউট্রন
  2. হোল 
  3. মুক্ত ইলেকট্রন 
  4. ধনাত্মক আয়ন
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড: 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়।
- আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।