বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৩৭ / ১৪০ · ১৩,৬০১১৩,৭০০ / ১৪,০৮০

১৩,৬০১.
গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে কোনটি ঘটবে না?
  1. ক) সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে
  2. খ) আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে
  3. গ) ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে
  4. ঘ) সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাবে
ব্যাখ্যা
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে।
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়।
- গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রিনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে।
- গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে-
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে
আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে
• বনাঞ্চল ধবংস হবে
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে

- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রিনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
- তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬০২.
প্রকৃতিতে সবচেয়ে দুর্বল বল কোনটি?
  1. দুর্বল বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল বল
  4. তড়িৎ চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা
মৌলিক বল মাত্র চারটি। সেগুলো হচ্ছে:
- মহাকর্ষ বল, 
- তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, 
- দুর্বল নিউক্লিয় বল ও 
- সবল নিউক্লিয় বল।
এর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
 
The weakest, and yet the most pervasive, of the four basic forces is gravity. According to Newton's law, all bodies are attracted to each other by a force that depends directly on the mass of each body and inversely on the square of the distance between them. On the scale of atoms, the effects of gravity are negligible compared with the other forces at work.
 
উৎস: ব্রিটানিকা। 
১৩,৬০৩.
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লারের পরিবর্তে কী থাকে?
  1. ক) প্রাইম মুভার
  2. খ) ট্রান্সফরমার
  3. গ) জেনারেটর
  4. ঘ) রিয়েক্টর
ব্যাখ্যা
রিয়েক্টর/চুল্লি: 
- একটি চুল্লির প্রধান কাজ হল পারমাণবিক বিভাজনকে ধারণ করা এবং নিয়ন্ত্রণ করা। পারমানবিক বিভাজন এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পরমাণু বিভক্ত হয় এবং শক্তি নির্গত হয়।
- চুল্লিগুলো পারমাণবিক জ্বালানীর জন্য ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে।
- ইউরেনিয়াম ছোট সিরামিক পেলেটে প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং ফুয়েল রড নামক সিল করা ধাতব টিউবে একত্রে স্তূপাকার করা হয়।

বয়লার: 
- উচ্চ চাপযুক্ত বাষ্প তৈরি করার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বয়লার ব্যবহার করা হয়।
- যে প্রক্রিয়াটি এটি করে তা র‍্যাঙ্কাইন চক্র নামে পরিচিত।
- বয়লার কিছু ধরণের জ্বালানী যেমন কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, বা পারমাণবিক জ্বালানী থেকে শক্তি গ্রহণ করে যা জলকে বাষ্পে গরম করে। 
- এভাবেই জ্বালানীর শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: এনার্জি.গভ।
১৩,৬০৪.
প্লেগ রোগের জীবাণু কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) Susumu Hotta
  2. খ) Erwin Popper
  3. গ) Alexandre Yersin
  4. ঘ) Hippocrates
ব্যাখ্যা
প্লেগ রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন Alexandre Yersin. 

- প্লেগ (Plague) Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয় তাই ব্যাপক প্রাণসংহারকারী বা অনিস্টকর কোন পরিস্তিতি বর্ণনায় ‘প্লেগ’ শব্দের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- প্লেগ অতি প্রাচীনকালীন এক ব্যাধি, প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে এর অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।
- ইতিহাস সূত্রে জানা যায় মধ্য যুগে বহু রাজ্য এ রোগ দ্বারা ধ্বংসাত্মক পরিণতির শিকার হয়েছে।
- Y. pestis একটি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া যা ইঁদুরের ফ্লি Xenopsylla chaeopis নামক পতঙ্গের অন্ত্রে বাস করে।
- ফ্লি ইঁদুর ও ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর বহিঃপরজীবী এবং পোষকের ত্বকে দংশনের মাধ্যমে এর অন্ত্র থেকে ব্যাকটেরিয়াকে পোষকের দেহে চালান করে।
- ফ্লি ইঁদুর থেকে ইঁদুরে, কখনও কখনও ইঁদুর থেকে মানুষে প্লেগ জীবাণু স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং রোগের উপসর্গ সৃষ্টি করে। একজন নিউমোনিক প্লেগে সংক্রমিত মানুষ অন্য মানুষে রোগ ছড়ায় এবং এভাবে প্লেগ মহামারীর আকার পায়।

সূত্র: National Library of Medicine [লিঙ্ক]
১৩,৬০৫.
বিজ্ঞানী হাবল মহাবিশ্ব সম্পর্কে বলেন-
  1. ক) মহাবিশ্ব ভেঙ্গে নতুন মহাবিশ্ব হচ্ছে
  2. খ) মহাবিশ্বের ছায়াপথগুলো ক্রমেই নিকটে আসছে
  3. গ) মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে
  4. ঘ) মহাবিশ্ব স্থির এর কোনো পরিবর্তন নাই
ব্যাখ্যা
১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী এডউইন হাবল মহাবিশ্বের প্রসারণ আবিষ্কার করেন। তিনি মহাবিশ্ব সম্পর্কে বলেন- 'মহাবিশ্ব প্রতিনিয়তই সম্প্রসারিত হচ্ছে'।
১৩,৬০৬.
পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে মূলত কোন তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়?
  1. অতিবেগুনি রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
Nuclear bombs release their energy in the form of a blast, a fireball, visible light and radioactive ionising rays. For a small bomb, 50% of its energy release comes from the blast, 35% through heat, and the remaining 15% in the form of radiation.

During the explosion and a few seconds after, the effects of neutrons and gamma rays, which are long range, is very intensive. Gamma radiation prevails for powerful bombs. Neutrons dominate the small bombs and neutron bombs.

Source:radioactivity.eu.com
১৩,৬০৭.
নিচের কোনটির অভাবে কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি হয়?
  1. ক) ম্যাগনেশিয়াম
  2. খ) সালফার
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।


- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে।


- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়


- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়।


- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে।


- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৩,৬০৮.
রক্তরসের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. প্রোটিন 
  2. হরমোন 
  3. পানি
  4. এন্টিবডি 
ব্যাখ্যা
রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬০৯.
লেন্টিকুলার প্রস্বেদন উদ্ভিদের কোন অংশে হয়?
  1. মূল
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয়বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন।
- উদ্ভিদ তার মূল দিয়ে মাটি হতে পানি শোষণ করে থাকে এবং এ পানিই কান্ড, শাখা-প্রশাখা, পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গে স্থানান্তরিত হয়। কা
- উদ্ভিদের অভ্যন্তরস্থ পানি বাষ্প হয়ে সাধারণত তিনটি পথে বায়ুমন্ডলে নির্গত হয়। এ তিনটি পথই হচ্ছে প্রস্বেদন অঙ্গ। যথা-

• পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে যে প্রস্বেদন হয়, তাকে বলে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন।
- কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ হয়ে থাকে পত্ররন্ধ্র দিয়ে। 

• কিউটিকুলার প্রস্বেদন:
- কিউটিক্লের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন হয় বলে একে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে।

• লেন্টিকুলার প্রস্বেদন:
- পরিণত উদ্ভিদ কান্ডে সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে স্থানে স্থানে ত্বক ফেটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রের সৃষ্টি হয়।
- এ ছিদ্রকে বলা হয় লেন্টিসেল।
- উদ্ভিদের কিছু পরিমাণ প্রস্বেদন লেন্টিসেলের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
- লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে সংঘটিত প্রস্বেদনকে বলা হয় লেন্টিকুলার প্রস্বেদন

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬১০.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় শতকরা কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. ৮৫ ভাগ
  2. ৮১ ভাগ
  3. ৭৭ ভাগ
  4. ৭৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 
- শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। 
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৩,৬১১.
বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়-
  1. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  2. স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  3. ট্রান্সমিটারের সাহায্যে
  4. এডাপটারের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
অর্থাৎ, স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়। 

- ট্রান্সফরমার বা ট্রান্সফর্মার একটি স্থির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যার দ্বারা কোনাে পরিবর্তী তড়িৎ ব্যবস্থায় অপরিবর্তীত কম্পাঙ্কতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎশক্তিকে ভােল্টেজের মান অনুযায়ী কমিয়ে বা বাড়িয়ে এক সার্কিট থেকে অন্য সার্কিটে স্থানান্তর করা যায়।
- এ.সি. (Alternating Current) ব্যবস্থায় কম ভােল্টেজকে বেশি ভােল্টেজে বা বেশি ভােল্টেজকে কম ভােল্টেজে রূপান্তর করার জন্য ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

- কম থেকে বেশি ভােল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে ''স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার'' বা ''উচ্চধাপী ট্রান্সফর্মার''
- বেশি থেকে কম ভােল্টেজে রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত ট্রান্সফর্মারকে''স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার'' বা ''নিম্নধাপী ট্রান্সফর্মার'' বলা হয়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণী।
১৩,৬১২.
ভূমিকম্পের সময় নিচের কোনটি করা সমীচীন?
  1. ক) ফাঁকা ও উন্মুক্ত স্থানে আশ্রয় নিবেন।
  2. খ) ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে গাড়ি খোলা জায়গায় থামিয়ে গাড়িতেই থাকবেন।
  3. গ) গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে অবস্থান নিবেন।
  4. ঘ) সবগুলো 
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের সময় যা করবেন:

- ভূমিকম্প হচ্ছে টের পেলে বা খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা ও উন্মুক্ত স্থানে আশ্রয় নিন।
- উঁচু ভবনে থাকলে এবং বের হতে না পারলে জানালা বা দেয়ালের পাশে অবস্থান না নিয়ে শক্ত কোনো বীম, টেবিলের নিচে অবস্থান নিন।
- হতবিহ্বল না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করুন।
- বহুতল ভবনে একই জায়গায় অনেক মানুষ একসঙ্গে না থেকে ভাগ হয়ে আশ্রয় নিন। 
- আপনার মুঠোফোনে ফায়ার সাভির্স এবং দরকারি মোবাইল নম্বরগুলো আগাম সতর্কতা হিসেবে আগেই রেখে দিন। বিপদের সময় আপনার কাজে লাগবে।
- দ্রুত নামার জন্য ভবন থেকে লাফিয়ে পড়বেন না।
- ভূমিকম্পের সময় সম্ভব হলে মাথার ওপর শক্তকরে বালিশ অথবা অন্য কোনো শক্ত বস্তু [কাঠবোর্ড, নরম কাপড় চোপড়ের কুণ্ডলি] ধরে রাখুন।
- গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে অবস্থান নিন।
- উচু ভবন থেকে দ্রুত নামার জন্য লিফট ব্যবহার করবেন না।
- ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে গাড়ি খোলা জায়গায় থামিয়ে গাড়িতেই থাকুন।
- একবার ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয় যাকে আফটার শক’ বলে। নিজেকে বিপদমুক্ত ভাবতে অন্তত একঘণ্টা সময় নিন। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
১৩,৬১৩.
অ্যামোনিয়ার একটি অণুতে কয়টি পরমাণু থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
অ্যামোনিয়া হলো নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাসায়নিক যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত NH3.
অর্থাৎ, এর একটি অণুতে একটি নাইট্রোজেন ও তিনটি হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে। 
সুতরাং, মোট চারটি পরমাণু রয়েছে।
১৩,৬১৪.
নিম্নলিখিত কোন উদ্ভিদ নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ?
  1. আম 
  2. জাম 
  3. সাইকাস
  4. সুপারি
ব্যাখ্যা

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

২। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১৩,৬১৫.
নিচের সংকেতটিতে মৌলের -
  1. প্রোটন সংখ্যা 13
  2. ভর সংখ্যা 27
  3. নিউট্রন সংখ্যা 14
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংকেতটিতে মৌলের 
প্রোটন সংখ্যা
= ইলেকট্রন সংখ্যা
= পারমানবিক সংখ্যা
= 13

ভর সংখ্যা
= পারমানবিক ভর
= 27

নিউট্রন সংখ্যা
= ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা
= 27 - 13
= 14
১৩,৬১৬.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) আয়রন
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) ম্যাগনেশিয়াম
ব্যাখ্যা
• ফসফরাস দাঁত ও অস্থি গঠন, রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

অন্যদিকে,
• আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের অন্যতম প্রধান উৎস।
• ম্যাগনেসিয়াম শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং
• আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্লান্ডের কর্মকান্ড ব্যাহত হয় এবং গলগন্ড, বামনত্ব, প্রভৃতি দেখা দেয়।

উৎস:- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬১৭.
সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ হচ্ছে-
  1. মিথোজীবী
  2. পরভোজী
  3. পরজীবী
  4. স্ব-ভোজী
ব্যাখ্যা
- সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ স্বভোজী। 
- যে উদ্ভিদের ফুল হয়, তারা সপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- সপুষ্পক উদ্ভিদ ক্লোরোফিল এর সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। তাই এরা স্বভোজী উদ্ভিদ। 
- সপুষ্পক উদ্ভিদ দুই প্রকার- নগ্নজীবী উদ্ভিদ ও গুপ্তজীবী উদ্ভিদ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩,৬১৮.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি কোনটি হতে পারে? 
  1. জালিকাকার 
  2. সর্পিলাকার 
  3. গোলাকার 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
সর্পিলাকার (Spirogyra)
জালিকাকার (Oedogonium)
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

১৩,৬১৯.
গ্রিনিচে যখন রবিবার সকাল ৬টা তখন ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমায় সময় যথাক্রমে-
  1. রবিবার দুপুর ১২টা ও শনিবার সকাল ৬টা
  2. রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ও শনিবার দুপুর ১২টা
  3. রবিবার ১২টা ও শনিবার রাত ১২টা
  4. রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
∴ ১৮০ ডিগ্রি = ১৮০ × ৪ = ৭২০ মিনিট 
= ১২ ঘন্টা।
- কোন স্থান থেকে পূর্বে গেলে সময় বাড়বে আর পশ্চিমে গেলে সময় কমবে। 
- কোন স্থানে সময় যখন রবিবার সকাল ৬টা তখন - 
∴ ১৮০ ডিগ্রি পূর্বে সময় হবে রবিবার সন্ধ্যা ৬ টা এবং ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিমে সময় হবে শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা। 
১৩,৬২০.
মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা কত?
  1. ক) ১০ মিলিয়ন
  2. খ) ১০ বিলিয়ন
  3. গ) ১০০ বিলিয়ন
  4. ঘ) ৫০ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা
• মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্র অঙ্গ।
• স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
• মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
• মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬২১.
উত্তল লেন্সের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য হলাে:
  1. ক) এটির ক্ষমতা ধনাত্মক
  2. খ) লেন্সের মধ্যভাগ সরু ও প্রান্ত মােটা
  3. গ) সমান্তরাল রশ্মিগুলােকে একটি বিন্দুতে মিলিত করে
  4. ঘ) ক+গ
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১৩,৬২২.
নিচের কোনটি ট্রানজিস্টরের অংশ নয়?
  1. ক) নিঃসারক
  2. খ) পীঠ
  3. গ) সংগ্রাহক
  4. ঘ) বহির্মুখ
ব্যাখ্যা

p-n-p or n-p-n ট্রানজিস্টরে সজ্জিত কেলাসের প্রথমটিকে নিঃসারক, মাঝেরটিকে পীঠ এবং অন্য পাশেরটিকে সংগ্রাহক বলা হয়। ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক সার্কিট বা বর্তনীতে বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।

১৩,৬২৩.
সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ - 
  1. সমুদ্রের ঘূর্ণিঝড়
  2. বায়ু প্রবাহের প্রভাব
  3. সমুদ্রের পানিতে ঘনত্বের তারতম্য
  4. সমুদ্রের পানিতে তাপের পরিচালনা
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ- বায়ু প্রবাহের প্রভাব। 

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের অন্যতম প্রভাব। 
- প্রধান বায়ুপ্রবাহের গতি অনুসরণ করে সমুদ্রের প্রধান শ্রোতগুলো প্রবাহিত হয়। 
- অয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্রস্রোত পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে এবং প্রত্যয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ুর চলাচল নিয়ত পরিবর্তনশীল। 
- বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ। 
- বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়- 
(১) নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
(২) পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬২৪.
উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির কতটুকু সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. মাত্র ০.১%
  2. মাত্র ০.০১%
  3. মাত্র ০.০০১%
  4. মাত্র ০.০০০১%
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির মাত্র ০.০১% সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। 

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ- 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়।
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়।
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু।
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো।
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে।
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬২৫.
শ্বেত রক্ত কণিকা কোন প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে গ্রাস করে?
  1. ডিফিউশন
  2. অসমোসিস
  3. ফটোসিন্থেসিস 
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৬২৬.
আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে কীভাবে ছবি তৈরি হয়?
  1. তাপের পরিবর্তনের মাধ্যমে
  2. প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে
  3. আলো শোষণের মাধ্যমে
  4. চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।

• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল।
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়।
- এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্নতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়।
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
- তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৬২৭.
আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান কী?
  1. ক) খনিজ
  2. খ) আগুন
  3. গ) লবণ
  4. ঘ) ম্যাগমা
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয় শিলার প্রধান উপাদান ম্যাগমা
• আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় উত্তপ্ত গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের গভীর তলদেশ থেকে (প্রায় ২০০ কি.মি.) ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরেই জমাটবদ্ধ হয় যা ম্যাগমা নামে পরিচিত।
• এই ম্যাগমা যখন ভূ-ত্বকের গভীর থেকে ফাঁটল বরাবর সজোরে ভূ-পৃষ্ঠে উঠে এসে প্রবাহিত হয় তখন তাকে লাভা বলে।
• শিলার বুনট এই ম্যাগমা বা লাভার বৈশিষ্ট্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শিলার বুনট বলতে এর গঠনকারী খনিজ উপাদানের আকার, আকৃতি, বিন্যাস বুঝায়।
• আগ্নেয় শিলায় প্রধানত ৫ ধরনের বুনট দেখা যায়।     

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬২৮.
যে সকল পদার্থ চৌম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় তাদের কি বলে?
  1. ক) ডায়া চৌম্বক পদার্থ
  2. খ) প্যারা চৌম্বক পদার্থ
  3. গ) ফেরো চৌম্বক পদার্থ
  4. ঘ) উদ্বায়ী পদার্থ
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে ।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
১৩,৬২৯.
এমআরআই যন্ত্রে কোন তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ইনফ্রারেড
  2. খ) রেডিও ওয়েব
  3. গ) এক্সরে
  4. ঘ) মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

এমআরআই
:
- এমআরআই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)। 
- এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। 
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। 
- এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায়।

- এমআরআই একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না। 
- শরীরের যে অংশের এমআরআই স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়।

- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে।
-এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে। 
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়।
- ব্রেণ এবং মেরু রুজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৩০.
প্রথম ক্লোন শিশু 'ইভ' --এর জন্ম তারিখ কত?
  1. ক) নভেম্বর ২০, ২০০২
  2. খ) ডিসেম্বর ২৬, ২০০২
  3. গ) জানুয়ারি ৭, ২০০৩
  4. ঘ) মার্চ ২৩, ২০০৩
ব্যাখ্যা
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন করা শিশুর জন্ম হয় ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর। 
- প্রথম ক্লোন শিশুর নাম হলো ইভ। 
 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট 

১৩,৬৩১.
নিচের কোনটি লবণ?
  1. NaOH
  2. KOH
  3. ZnO
  4. KNO3
ব্যাখ্যা
• লবণ হলো অম্ল (Acid) ও ক্ষার (Base) এর মধ্যে নিরপেক্ষীকরণ বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন যৌগ।

• KNO3(পটাশিয়াম নাইট্রেট):
- এটি একটি প্রকৃত লবণ।
- এটি নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) এবং পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) এর নিরপেক্ষীকরণ বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।

HNO₃ + KOH → KNO₃ + H₂O

অন্যদিকে,
• NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড):
এটি একটি শক্তিশালী ক্ষার।
লবণ নয়, কারণ এটি অম্লের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ তৈরি করে।
NaOH + HCl → NaCl + H₂O (এখানে NaCl লবণ)

• KOH (পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড):
এটি একটি শক্তিশালী ক্ষার।
লবণ নয়, তবে এটি অম্লের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ তৈরি করতে পারে।
KOH + HNO₃ → KNO₃ + H₂O (এখানে KNO₃ লবণ)

• ZnO (দস্তা অক্সাইড):
- এটি একটি উভধর্মী অক্সাইড, যা অম্ল এবং ক্ষার উভয়ের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে।
- এটি লবণ নয়, তবে লবণ তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,৬৩২.
কোন এনজাইমটি পাকস্থলীতে শর্করার পরিপাকে ভূমিকা রাখে?
  1. ল্যাকটেজ
  2. মলটেজ
  3. অ্যামাইলেজ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 
- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে: 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটে। 

মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 
টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত: সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 
মলটেজ: ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৩৩.
নিচের কোন রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তিতে সরাসরি ছড়ায়?
  1. ডায়াবেটিস
  2. সর্দি-কাশি
  3. উচ্চ রক্তচাপ
  4. ক্যান্সার
ব্যাখ্যা

সংক্রামক রোগ:  
- যেসব রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে কোনো মাধ্যমে আশেপাশের অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে তাদের সংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ইনফ্লুংয়েঞ্জা, হাম, বসন্ত, জন্ডিস ইত্যাদি। 

অসংক্রামক রোগ: 
- যেসব রোগ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ দেহে ছড়ায় না তাদের অসংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৬৩৪.
ইউরেনাসের উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক্যাপিটাস
  2. গ্যানিমেড
  3. অ্যারিয়েল
  4. নেরাইড
ব্যাখ্যা
♦ ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৭টি।
- এগুলো হলো: অ্যামব্রিয়েল, অ্যারিয়েল, ওফেলিয়া, ওবেরন, কর্ডেলিয়া, কিউপিড, ক্যালিবান, ক্রেসিডা, জুলিয়েট, টাইটানিয়া, ট্রিকুলো, ডেসডিমোনা, প্যাদ্রিতা, পুক, পোর্শিয়া, প্রোসপেরা, ফ্রান্সিসকো, ফার্ডিনান্দ, বিয়াঙ্কা, বেলিন্দা, মার্গারেট, মিরান্ডা, ম্যাব, রোসালিন্ড, সাইকোরাক্স, সেটেবস, স্টেফানো।

উৎস:
i)ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA ওয়েবসাইট
১৩,৬৩৫.
ভিটামিন D-এর অভাবে শিশুদের কোন রোগ হয়?
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রিকেটস
  4. রাতকানা
ব্যাখ্যা
ভিটামিন D:
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- এই ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে উপস্থিত কোলেস্টেরল হতে ধাপে ধাপে
লিভার ও কিডনির সহায়তায় সংশ্লেষিত হয়।
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D-এর প্রধান উৎস।
- বাঁধাকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে।
- ভিটামিন D-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হতে পারে।

অন্যদিকে,
- স্কার্ভি হয় ভিটামিন C এর অভাবে হয়।
- রাতকানা হয় ভিটামিন A এর অভাবে হয়।
- পেলেগ্রা হয় ভিটামিন B3 (নিয়াসিন) এর অভাবে হয়।

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩,৬৩৬.
যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কী বলে? 
  1. যৌগিক পদার্থ
  2. মৌলিক পদার্থ
  3. বহুমৌলিক পদার্থ
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ছাড়া ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়ার যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, কার্বন, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রূপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ। 

যৌগিক পদার্থ: 
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে যা যৌগিক পদার্থ নামে পরিচিত। 
অর্থাৎ, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৩,৬৩৭.
নিচের কোনটি মডারেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  3. হাইড্রোজেন পার অক্সাইড
  4. ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। 

মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো - 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৩৮.
তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে -
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
তামাক গাছে মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে TMV নামক ভাইরাস

• টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV):
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত।
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়।
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে।
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৩৯.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এর প্রধান উপাদান কী?
  1. তামা
  2. সিলিকন
  3. গ্যালিয়াম
  4. সোনা
ব্যাখ্যা
• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এর প্রধান উপাদান সিলিকন। 

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হল একটি ছোট আকারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে অসংখ্য ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একটি একক চিপে যুক্ত থাকে। একে সিলিকন চিপও বলা হয়। 
- পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে (Wafer) অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো।
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয়। এভাবেই আইসি তৈরির যাত্রা শুরু হয়। 

• IC এর প্রধান উপাদান:
→ সিলিকন (Silicon):
- এটি সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করে।
- সিলিকন সহজে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা IC তৈরির জন্য একে উপযুক্ত।

• সিলিকন ব্যবহারের কারণ:
- এটির সহজলভ্যতা বেশী। 
- এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা। 
- এর বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য IC তৈরির জন্য উপযোগী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
১৩,৬৪০.
'গ্যালিলিও' কি?
  1. ক) মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ
  2. খ) বৃহস্পতি গ্রহের একটি উপগ্রহ
  3. গ) শনি গ্রহের একটি উপগ্রহ
  4. ঘ) পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতিরএকটি কৃত্রিম উপগ্রহ
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতির একটি কৃত্রিম উপগ্রহ।

বৃহস্পতি গ্রহে কৃত্রিম উপগ্রহ গ্যালিলিও অবতরণ করে- ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে। এর মিশন শেষ হয় ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা, নাসা
১৩,৬৪১.
সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হয়-
  1. লাল আলোতে
  2. হলুদ আলোতে
  3. কমলা আলোতে
  4. সবুজ আলোতে
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা:
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
- পানি এবং CO₂ থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো।
- সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে।
- সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO₂ পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে।
- কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
- আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়।
- সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না।
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়।
- কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়।
- ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
- সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm অর্থাৎ বেগুনি আলো এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট 'লাল' আলোতে  সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
১৩,৬৪২.
নিচের কোন খাদ্যটি প্রাণিজ আমিষ হিসেবে পরিচিত?
  1. মাছ
  2. বাদাম
  3. ডাল
  4. সয়াবিন
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬৪৩.
কৃষ্ণগহবর হতে এমনকি আলোও বের হতে পারে না। কারণ-
  1. ক) এর মধ্যাকর্ষণ শক্তি খুবই বেশি
  2. খ) এতে ভাসমান ধুলিকণা খুবই বেশি
  3. গ) এর মহাকর্ষ শক্তি খুবই বেশি
  4. ঘ) এদের কোনটাই নয়
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণবিবর (Blackhole)
তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না। নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Blackhole)। বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না।
১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।
সুত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৬৪৪.
Light year is related-
  1. Energy
  2. Speed
  3. Distance
  4. Intensity
ব্যাখ্যা
আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদূর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

তথ্যসূত্র - NASA ওয়েবসাইট।
১৩,৬৪৫.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি?
  1. ক) নিউট্রন স্টার
  2. খ) কোয়াসার
  3. গ) কৃষ্ণবিবর
  4. ঘ) বোসন
ব্যাখ্যা
কোয়াসার (Quasar):
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার।
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি।
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো।
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে।
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে।
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু।
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,৬৪৬.
কোন রঙের বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষতা বেশি?
  1. ক) কালো
  2. খ) লাল
  3. গ) বেগুনি
  4. ঘ) সাদা
ব্যাখ্যা
সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। এজন্যই গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক। অন্যদিকে, কালো রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, সেজন্য তা গ্রীষ্মকালে ততটা আরামদায়ক হয় না।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৩,৬৪৭.
পার্থিব গ্রহের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা

টেরেস্ট্রিয়াল গ্রহ বা পার্থিব গ্রহ: 

বুধ, শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল এই চারটি গ্রহকে পার্থিব গ্রহ বলা হয় কারণ তাদের পৃথিবীর টেরা ফার্মের মতো একটি কম্প্যাক্ট, পাথুরে পৃষ্ঠ রয়েছে।
পার্থিব গ্রহগুলি হচ্ছে সৌরজগতে সূর্যের সবচেয়ে কাছের চারটি গ্রহ।
এই গ্রহগুলোর কোনোটিরই রিং নেই।

জোভিয়ান গ্রহ: 
বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুনকে জোভিয়ান (বৃহস্পতির মতো) গ্রহ হিসাবে পরিচিত, কারণ তারা পৃথিবীর তুলনায় বিশাল, এবং তাদের বৃহস্পতির মতো বায়বীয় প্রকৃতি রয়েছে।
জোভিয়ান গ্রহগুলিকে "গ্যাস জায়ান্টস" হিসাবে উল্লেখ করা হয় কারণ তারা বেশিরভাগই গ্যাস দিয়ে তৈরি, যদিও তাদের ছোট শক্ত কোর রয়েছে।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট [লিংক]

১৩,৬৪৮.
কোন রোগে শরীরে ইমিউনিট (immunity) নষ্ট হয়?
  1. ক) গনোরিয়া
  2. খ) হারপিন
  3. গ) ডায়রিয়া
  4. ঘ) এইডস
ব্যাখ্যা

AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে এক ধরণের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus এবং একে সংক্ষেপে HIV বলা হয়।
HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) নষ্ট করে দেয়। এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৩,৬৪৯.
কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখলে তা খুঁজে বের করতে ব্যবহার করা হয় -
  1. ক) বিটা রে
  2. খ) আলফা রে
  3. গ) এক্স রে
  4. ঘ) ম্যাগনেটিক রে
ব্যাখ্যা

এক্স-রের গােয়েন্দা বিভাগে ব্যবহারঃ
১। কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখলে তা খুঁজে বের করতে ব্যবহার করা হয়।
২। কাস্টম কর্মকর্তারা চোরাচালানের দ্রব্যাদি খুঁজে বের করতে ব্যবহার করেন। কোনাে নিষিদ্ধ পণ্য কোনো কাঠের বাক্স বা ধাতুর বাক্সে থাকলে এদের মধ্য দিয়ে এক্স-রে প্রবেশ করিয়ে তা জানা যায়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

১৩,৬৫০.
রঙিন টেলিভিশনের ক্ষেত্রে নিচের কোন রঙের সেটটি প্রাথমিক বা মৌলিক রং হিসেবে পরিচিত?
  1. বেগুনী, সবুজ ও লাল
  2. সাদা, কালো ও লাল
  3. লাল, হলুদ ও নীল
  4. লাল, নীল ও সবুজ
ব্যাখ্যা

- রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়। 
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। 
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে। 
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়। 
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে। 
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে। 
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি। 
- টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জন রশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৬৫১.
উভচর প্রাণীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দেহত্বক আঁইশযুক্ত
  2. ত্বক নরম, পাতলা ও ভেজা
  3. শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী
  4. পানিতে ডিম পাড়ে
ব্যাখ্যা
উভচর প্রাণী:
- প্রাথমিক অবস্থায় পানিতে বাস করে এবং ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
- পরবর্তীতে স্থলে বাস করে এবং ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়।
- দেহত্বক আঁইশবিহীন।
- ত্বক পাতলা, নরম, ভেজা ও গ্রন্থিযুক্ত।
- শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী।
- পানিতে ডিম পাড়ে।
উদাহরণ- কুনোব্যাঙ, সোনাব্যাঙ ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
১৩,৬৫২.
পারমাণবিক শক্তি এক ধরনের -
  1. নবায়নযোগ্য শক্তি
  2. অনবায়নযোগ্য শক্তি
  3. গ্রীন শক্তি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
- একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- সৌরশক্তি (Solar Energy), 
- জলবিদ্যুৎ (Hydropower), 
- বায়ু শক্তি (Wind Energy, 
- ভূতাপীয় শক্তি (Geothermal), 
- জৈবিকভর (Biomass) ইত্যাদি। 

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- পেট্রোলিয়াম (Petroleum), 
- প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural gas), 
- কয়লা (Coal), 
- পারমাণবিক শক্তি (Nuclear energy) । 

উল্লেখ্য যে, 
- পরমাণুতে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত আছে।
তাই, পরমাণুর সঞ্চিত শক্তি নবায়নযোগ্য শক্তির আধার।

অন্যদিকে,
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটা ইউরেনিয়ামের উপর নির্ভর করে।
- ইউরেনিয়ামের পরিমাণ সীমিত। তাই, এই শক্তি নবায়নযোগ্য নয়। 

উৎস: www.eia.gov এবং পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
১৩,৬৫৩.
কোনটি পারমানবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. রেডিয়াম
  2. গ্রাফাইট
  3. সোডিয়াম
  4. সীসা
ব্যাখ্যা
• মডারেটর:
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন।
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো:
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D₂O) এবং
২। গ্রাফাইট।
- পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট।
- পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১৩,৬৫৪.
নিচের কোনটিতে কার্বন পরমাণু থাকা সত্ত্বেও তা জৈব যৌগ নয়?
  1. গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড
  2. এবসোলিউট এলকোহল
  3. ব্লু ভিট্রিওল
  4. খাবার সোডা
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকাইন, অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড, কিটোন, অ্যামিনো এসিড, কার্বক্সিলিক এসিড প্রভৃতি হলো জৈব যৌগ। এজন্য গ্লেসিয়াল এসিটিক এসিড, এবসোলিউট এলকোহল হলো জৈব যৌগ।
- ব্লু ভিট্রিওল হলো ৫ অণু পানি বিশিষ্ট কপার(II) সালফেট কেলাস। এটি জৈব যৌগ নয় এবং এতে কোনো কার্বন পরমাণুও নেই।
- খাবার সোডা হলো সোডিয়াম বাই কার্বনেট। এতে কার্বন পরমাণু থাকা সত্ত্বেও এটি জৈব যৌগ নয়। এটি একটি অজৈব যৌগ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৩,৬৫৫.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপ-উৎপাদ কোনটি? 
  1. গ্লুকোজ
  2. পানি 
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সালোকসংশ্লেষণ হলো এমন একটি জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিল নামক রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোকের শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- এই শক্তির সাহায্যে তারা বায়ু থেকে গ্রহণকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং মাটি থেকে আহরিত পানি (H2O) কে ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় উপ-উৎপাদ হিসেবে অক্সিজেন (O2) নির্গত হয়
- বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ-

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে। 
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৬৫৬.
নিকোলাস কোপার্নিকাস ছিলেন মূলত একজন -
  1. গণিতবিদ
  2. দার্শনিক
  3. রসায়নবিদ
  4. জ্যোর্তিবিজ্ঞানী
ব্যাখ্যা
নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
- তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৪৭৩ সালে পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন
- তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে।
- তিনি ২৪ মে, ১৫৪৩ সালে ইতালির রোমে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- পরবর্তীতে জোহান কেপলার গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১৩,৬৫৭.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম? 
  1. বায়বীয় মাধ্যমে
  2. শূন্য মাধ্যমে 
  3. কঠিন মাধ্যমে
  4. তরল মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

শব্দের গতি: 
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৬৫৮.
গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলা হয় কোন অঞ্চলকে?
  1. ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ
  2. ৪০° থেকে ৪৭° উত্তর অক্ষাংশ
  3. ৪০° থেকে ৪৭° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
  4. ৪০° থেকে ৪৭° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু (The Westerlies):
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু (Brave west winds) বলে। ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলে।
- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের ন্যায় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় দুটি অবস্থিত।
- বায়ু নিম্নগামী বলে এই অঞ্চলে অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ অনুভব করা যায় না।
- প্রাচীনকালে যখন আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজযোগে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করা হতো, তখন এ অঞ্চলে পৌঁছলে বায়ুপ্রবাহের অভাবে পালচালিত জাহাজের গতি মন্থর বা প্রায় নিশ্চল হয়ে পড়ত।
- এ অবস্থায় নাবিকগণ খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে অনেক সময় তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিত।
- এজন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse latitude) বলে।
- নিরক্ষীয় শান্তবলয় এর অপর নাম ডোলড্রাম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩,৬৫৯.
বাংলাদেশের স্যাটেলাইট পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নাম কি?
  1. BSCL
  2. BCSL
  3. BCSCL
  4. BCISL
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের স্যাটেলাইট পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নাম - বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (BSCL)।
- এটি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি।
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (BS-1) এর উৎক্ষেপণ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা, স্থল স্টেশন থেকে উপগ্রহকে নিয়ন্ত্রণ করা, বিপনন ও বিক্রয় সেবা ইত্যাদির জন্য BSCL কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (BCSCL)।
- ১৬ আগস্ট ২০২০ কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (BSCL) করা হয়।
১৩,৬৬০.
মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে -
  1. প্রায় ১২.২ বিলিয়ন বছর আগে
  2. প্রায় ১২.৮ বিলিয়ন বছর আগে
  3. প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন বছর আগে
  4. প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- বিগ ব্যাং সিদ্ধান্ত অনুসারে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে
- এই সিদ্ধান্তে বলা হয় যে, মহাবিশ্ব একটি একটি সুপারনোভা বা মহাস্থির বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুগুলি আরম্ভিক অবস্থায় ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৬১.
নিচের কোনটি অ্যারোমেটিক যৌগ?
  1. ইথাইন
  2. ফরমালিন
  3. মাস্টার্ড গ্যাস
  4. এসিট্যামিনোফেন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
যেসকল চাক্রিক যৌগে সঞ্চারণশীল পাই ইলেক্ট্রন আছে তাদেরকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলে। এদের অণুতে সাধারণত বেনজিন বলয় এবং একান্তর দ্বি-বন্ধন বিদ্যমান থাকে।
- ইথাইন, ফরমালিন ইত্যাদি কোনো চাক্রিক যৌগ নয়। এরা অ্যালিফ্যাটিক জৈব যৌগ।
- মাস্টার্ড গ্যাস বা সালফার মাস্টার্ড ত্বক এবং ফুসফুসে তীব্র প্রদাহ ও জ্বালা সৃষ্টিকারী একটি গ্যাস। এটি প্রথম ব্যবহার হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। এর গঠন হলো:

এখানে কোন বেনজিন বলয় বা একান্তর দ্বি-বন্ধন নেই। তাই এটি অ্যারোমেটিক যৌগ নয়।
- প্যারাসিটামল এর রাসায়নিক নাম হলো এসিট্যামিনোফেন। এই চাক্রিক যৌগে বেনজিন বলয় এবং একান্তর দ্বি-বন্ধন বিদ্যমান। তাই এটি অ্যারোমেটিক জৈব যৌগ। এর গঠন হলো-

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৩,৬৬২.
'ডেনভি-৩' কোন রোগের নতুন ধরণ?
  1. ডেঙ্গু
  2. করোনা
  3. চিকুনগুনিয়া
  4. ডায়রিয়া
ব্যাখ্যা
দেশে ডেঙ্গু রোগের নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। যার নাম ডেনভি-৩।
আর এই ধরনটি দ্বারা বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকার রোগীরা।
দেশে এ বছর ডেঙ্গুর সবচেয়ে ক্ষতিকর ধরনগুলোর একটি ডেনভি–৩–এ মানুষ বেশি আক্রান্তহয়েছে।
ডেঙ্গুর এই ধরনে আক্রান্ত হলে দ্রুত রোগীর রক্তের প্লাটিলেট কমে যায়।
২০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।
উৎস : পত্রিকা রিপোর্ট
১৩,৬৬৩.
অবাস্তব বিম্ব তৈরি করার জন্য কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উত্তল
  2. খ) অবতল
  3. গ) গোলীয়
  4. ঘ) সব ধরনের লেন্স
ব্যাখ্যা

কোন বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলন বা প্রতিসরনের পর দ্বিতীয় কোন বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হলে দ্বিতীয় বিন্দুতে অবাস্তব বিম্ব তৈরি হয়। এক্ষেত্রে প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত রশ্মিগুলোর প্রকৃত মিলন হয় না। চোখে দেখা যায় কিন্তু পর্দায় ফেলা যায় না। সব ধরনের দর্পন ও লেন্সেই এই ধরনের বিম্ব তৈরি করা যায়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।

১৩,৬৬৪.
ডায়োডে কোন অংশকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়?
  1. পেনট্রোড
  2. অ্যানোড
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ক্যাথোড
ব্যাখ্যা
- ডায়োড শব্দটি দুইটি কথার সমন্বয়ে গঠিত, ‘ডাই’ এবং ‘ইলেক্ট্রোড’।
- সাধারণ ভাবে বলা যায় যে, দুই ইলেক্ট্রোড বিশিষ্ট্র ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্টই হলো ডায়োড।
- ডায়োডের দুইটা বর্তর্নী রয়েছে একটি অ্যানোড এবং অন্যটি ক্যাথোড যার এক দিকে নেগেটিভ অপর দিকে পজেটিভ টার্মিনাল থাকে।
- সাধারণত অ্যানোডকে পজেটিভ বা ফরোয়ার্ড বেস টার্মিনাল এবং ক্যাথোডকে নেগেটিভ রিভার্স বেস টার্মিনাল বলা হয়।
- ডায়োড একটি দুই প্রান্ত বিশিষ্ট ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ যা বর্তনীতে একমুখী তড়িৎ প্রবাহ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১৩,৬৬৫.
চুম্বকের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি -
  1. ক) মাঝখানে
  2. খ) কিনারাতে
  3. গ) দুই মেরুতে
  4. ঘ) যে কোন এক মেরুতে
ব্যাখ্যা
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে।
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদে কে চুম্বক বলে।
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক।
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ।
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে তার দুই প্রান্তে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি
১৩,৬৬৬.
কোনটিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) টর্চলাইটে
  2. খ) রাডারে
  3. গ) গাড়িতে
  4. ঘ) সৌরচুল্লিতে
ব্যাখ্যা
যে দর্পণের প্রতিফলক পৃষ্ঠ উত্তল তাকে উত্তল দর্পণ বলে। 
এই দর্পণের উত্তল পৃষ্ঠ প্রতিফলকের কাজ করে। 
উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সর্বদা ছোট ও সোজা হয়।

উত্তল দর্পণের ব্যবহার 
- বিস্তৃত এলাকা দেখতে দোকান বা শপিংমলে নিরাপত্তার কাজে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়িতে ভিউ মিরর হিসেবে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- গাড়ির পিছনে বিস্তৃত এলাকা ছোট জায়গায় দেখতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- রাস্তার বাতিতে প্রতিফলকরূপে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
- প্রতিফলক টেলিস্কোপ তৈরিতে উত্তল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে 
টর্চ লাইটে ব্যবহার অবতল দর্পণ  করা হয়
ছোট চুল্লীতে লেন্স কিন্তু বড় চুল্লীতে গোলীয় অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
১৩,৬৬৭.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে কোনটি ধ্রুব?
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ভর
  3. সময়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
থিওরি অফ রিলেটিভিটি বা আপেক্ষিকতাবাদের প্রণেতা আলবার্ট আইনস্টাইন।
নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় ধ্রুব - গতি নির্ভর নয়।
কিন্তু আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় আপেক্ষিক, যা বস্তু বা প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর নির্ভরশীল একে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা বলে।
আপেক্ষিকতা অর্থ কোন কিছুর সাপেক্ষে।
যেমন- আপেক্ষিক ভর বলতে কোন প্রসঙ্গ কাঠামো থেকে কোন স্থির পর্যবেক্ষক কোন বস্তুর ভর পরিমাপ করেন তা বোঝায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,৬৬৮.
পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কার করেন-
  1. ক) ডোনাল্ড রস
  2. খ) জোনাস স্যাক
  3. গ) এডওয়ার্ড জেনার
  4. ঘ) লুই প্রাস্তুর
ব্যাখ্যা
পোলিও এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। ১৯৫৪ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জোনাস স্যাক পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
১৩,৬৬৯.
স্যার আইজ্যাক নিউটান গতি সম্পর্কিত তিনটি সূত্র কোন সালে প্রদান করেন? 
  1. ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৬৯৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
গতি বিষয়ক সূত্র: 
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 
- নিউটনের গতি বিষয়ক সূত্র তিনটি: 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 

৩। তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬৭০.
নিচের কোনটি বিবর্তনের একটি মতবাদ? 
  1. জড়তা তত্ত্ব
  2. কোষ তত্ত্ব
  3. ল্যামার্কিজম
  4. নিউটনীয় তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তনের অপর নাম অভিব্যক্তি। 
- বিবর্তন বলতে সাধারণভাবে বুঝায় কোনো কিছু বিকশিত হওয়া, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া। 
- বিবর্তনের মতবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. ল্যামার্কিজম, ২. ডারউইনিজম ও ৩. নব্য ডারউইনিজম। 
- বিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলো হলো- 
১। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ, 
২। ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ, 
৩। ভৌগোলিক প্রমাণ, 
৪। শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ, 
৫। শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ, 
৬। জিনতত্ত্বীয় প্রমাণ ও 
৭। জীবাশ্মগত প্রমাণ ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৭১.
নিম্নের কোন খাদ্যে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড রয়েছে?
  1. আটা
  2. আলু
  3. ডাল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রাণিজ আমিষ: 
মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। 
এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।
উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
একসময় ধারণা করা হতো এগুলো প্রাণিজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর, কারণ উদ্ভিজ্জ আমিষে প্রয়োজনীয় সব কয়টি অ্যামাইনো এসিড থাকে না।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ আমিষ প্রাণিজ আমিষের মতোই সকল অ্যামাইনো এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে ধারণ করে।
 
 উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৩,৬৭২.
গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে?
  1. মাইক্রোওয়েভ দ্বারা
  2. স্যাটেলাইট দ্বারা
  3. ফাইবার দ্বারা
  4. লেজার দ্বারা
ব্যাখ্যা

• GPS (Global Positioning System) হলো এমন একটি উপগ্রহভিত্তিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা, যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ব্যবহারকারীর অবস্থান (Location), বেগ (Velocity) ও সময় (Time) নির্ণয় করে।

- এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (U.S. Department of Defense) দ্বারা তৈরি ও নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থা।

GPS কীভাবে কাজ করে:
- পৃথিবীর চারপাশে ২৪টি উপগ্রহ (Satellite) নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে।
- প্রতিটি স্যাটেলাইট থেকে নির্দিষ্ট সময় ও অবস্থানের রেডিও সিগন্যাল (Radio Signal) পাঠানো হয়।
- পৃথিবীতে থাকা GPS রিসিভার (যেমন মোবাইল, গাড়ির ন্যাভিগেশন ডিভাইস ইত্যাদি) অন্তত চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল গ্রহণ করে।
- এই সিগন্যালের সময়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ করে রিসিভার তার অবস্থান, উচ্চতা ও সময় নির্ণয় করে। এ প্রক্রিয়াকে বলে Trilateration।

GPS-এর মূল উপাদান:
- Space Segment: কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলো (২৪ বা তার বেশি)।
- Control Segment: পৃথিবীতে থাকা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যা স্যাটেলাইটগুলোর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে।
- User Segment: ব্যবহারকারীর ডিভাইস বা GPS রিসিভার।
 
ব্যবহার:
- মোবাইল ও গাড়ির ন্যাভিগেশন সিস্টেমে অবস্থান নির্ধারণে।
- জাহাজ, বিমান ও সামরিক বাহিনীতে দিকনির্দেশে।
- ভূগোল, কৃষি, সার্ভে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার অভিযানে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১৩,৬৭৩.
নিম্নলিখিত বলগুলোর মধ্যে কোনটি সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল?
  1. তড়িৎ চৌম্বক বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা
সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): 
- এই সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল। 
- তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) প্রধানত কাজ করে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে যে নিউক্লিয়াস রয়েছে তার ভেতরকার প্রোটন এবং নিউট্রনের নিজেদের মধ্যকার এই প্রচণ্ড শক্তিশালী বলের মাধ্যমে তারা নিজেদের আটকে রাখে। 
- প্রচণ্ড বলে আটকে থাকার কারণে এর মাঝে অনেক শক্তি জমা থাকে তাই বড় নিউক্লিয়াসকে ভেঙে কিংবা ছোট নিউক্লিয়াসকে জোড়া দিয়ে এই বলের কারণে অনেক শক্তি তৈরি করা সম্ভব। 
- নিউক্লিয়ার বোমা সে জন্য এত শক্তিশালী। 
- সূর্য থেকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বলের কারণে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬৭৪.
ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য ও সরু তারের ব্যাস পরিমাপ করা যায় কোনটির সাহায্যে? 
  1. স্ক্রু গজ 
  2. ভার্নিয়ার স্কেল 
  3.  স্লাইড ক্যালিপার্স 
  4. স্ফেরোমিটার 
ব্যাখ্যা

- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়।  
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

১৩,৬৭৫.
ভিনেগারে থাকে -
  1. ট্যানিক এসিড
  2. ইথানয়িক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ল্যাকটিক এসিড
ব্যাখ্যা
আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার গ্রহণ করে থাকি তার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের এসিড থাকে।
যেমন-
• ভিনেগারে থাকে ইথানয়িক এসিড,
• দুধে থাকে ল্যাকটিক এসিড,
• সফট ড্রিংকসে থাকে কার্বনিক এসিড,
• কমলালেবু বা লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড,
• তেতুলে থাকে টারটারিক এসিড,
• চায়ে থাকে ট্যানিক এসিড।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১৩,৬৭৬.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি আপেক্ষিক?
  1. সময়
  2. ভর
  3. স্থান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:

- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন, যথা-
• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব।
• সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৭৭.
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল কোনটি? 
  1. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  2. মহাকর্ষ বল
  3. সবল নিউক্লীয় বল
  4. তড়িৎ চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা
বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। - বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
- এই মধ্যাকর্ষণ বল মানুষকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টানে এবং এর কারণেই মানুষ ওজনের অনুভূতি বুঝতে পারে। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

তড়িৎ চৌম্বক বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 

সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬৭৮.
প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Embryology
  2. Ecology
  3. Genetics 
  4. Endocrinology
ব্যাখ্যা

- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক এবং বিভিন্ন পরিবেশগত উপাদানগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে Ecology (বাস্তুবিদ্যা বা পরিবেশবিদ্যা) বলা হয়। 

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- এতে সাধারণত নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়- 
১। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬।  বংশগতিবিদ্যা (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৭। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৮। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৯। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

১০। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

১১। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৬৭৯.
প্রাথমিক জাইলেম কোথা থেকে সৃষ্ট হয়? 
  1. শিকড় থেকে
  2. পাতার কোষ থেকে
  3. প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে
  4. মেটাজাইলেম থেকে
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬৮০.
E = mc2 সূত্রটি প্রতিপাদন করেন-
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আর্কিমিডি
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
E = mc2 সূত্রটি বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের ভর-শক্তির সমীকরণ।
১৩,৬৮১.
মানুষের শ্বসন অঙ্গ কোনটি দ্বারা সংক্রমিত হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন - 

সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,৬৮২.
টলেমি ছিলেন-
  1. চিকিৎসক
  2. দার্শনিক
  3. ঐতিহাসিক
  4. জ্যোতির্বিদ
ব্যাখ্যা
টলেমি:
- ক্লডিয়াস টলেমি ছিলেন একজন গ্রিকো-মিশরীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ।
- তিনি রোমান শাসিত মিশরের ইজিপ্টাস প্রদেশে বসবাস করতেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ার কাছাকাছি একটি মানমন্দিরে কাজ করতেন।

তাঁর অবদান:
১. টলেমি মহাবিশ্বের একটি মডেল তৈরি করেন, যেখানে পৃথিবীকে কেন্দ্রস্থলে রেখে ধারাবাহিকভাবে চাঁদ, বুধ, শুক্র, সূর্য, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনিকে অবস্থান করানো হয়েছে।
২. তিনি চতুর্ভুজ সম্পর্কিত একটি উপপাদ্য প্রণয়ন করেন, যা জ্যামিতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. এই উপপাদ্যটি ত্রিকোণমিতিক ছক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বিটানিকা।
১৩,৬৮৩.
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ কোনটি? 
  1. HCl
  2. Na2CO3
  3. KMnO4
  4. H2SO4
ব্যাখ্যা
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়, বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের জলীয় বাষ্প বা কোনো উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে না, ওজনকালে রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় করে না এবং উৎপন্ন দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, সেসব পদার্থকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- Na2CO3, H2C2O4.2H2O, K2Cr2O7

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- প্রাইমারি পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনো বৈশিষ্ট্যের অভাব ঘটলে সে সব রাসায়নিক পদার্থকে সেকেন্ডারি পদার্থ বলে। 
যেমন- গাঢ় H2SO4, HCl এসিড, NaOH ট্যাবলেট, KMnO4

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১৩,৬৮৪.
Which is the optimal pH for digesting food in the stomach?
  1. 2
  2. 4.4
  3. 6
  4. 7.2
ব্যাখ্যা
pH:

- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45.
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7.
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2. 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৮৫.
বন-জঙ্গল ধ্বংস করার ফলে বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে
  1. CO
  2. CO2
  3. S2O
  4. CFC
ব্যাখ্যা
জলবাযু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরণ দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। 
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না। 
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনেরই নেতিবাচক প্রভাব। 
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব। 

বনাঞ্চল: 
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা বেড়ে গেলে বনভূমির উপরও প্রভাব পড়বে। 
- গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা যদি ৪৫ সেন্টিমিটার বাড়ে, তাহলে একমাত্র ম্যানগ্রোভ বনের ৭৫% পানির নিচে তলিয়ে যাবে। 
- আর যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় পুরো সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। 
- এছাড়া অধিক হারে বন-জঙ্গল ধ্বংস করার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৮৬.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য নিচের কোন শর্তটি আবশ্যক?
  1. আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণের চেয়ে ছোট হবে
  2. আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে যাবে
  3. আপতন কোণ সংকট কোণের চেয়ে ছোট হবে
  4. আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে
ব্যাখ্যা

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো আলোক রশ্মিকে অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection):
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) হলো এমন একটি আলোকীয় ঘটনা যেখানে আলোকরশ্মি একটি মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে।

• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত:
১) আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে।
২) আপতন কোণ সংকট কোণের থেকে বড় হতে হবে।

• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের উদাহরণ:
- মরীচিকা, অপটিক্যাল ফাইবার, হীরার ঔজ্জ্বল্য ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৬৮৭.
আলফা কণিকার কোন ধর্মটি সঠিক নয়?
  1. আলফা কণিকা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
  2. আলফা কণার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি।
  3. আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে।
  4. আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
ব্যাখ্যা
আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6 × 10-27 কেজি। 
২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2 × 10-19 কুলম্ব। 
৩। এর শক্তি 1 MeV বা 1.6 x 10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44 x 10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। আলফা কণার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β -কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ -কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
৬। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। ইহা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৮৮.
নিচের কোন ঘটনাটি পৃষ্ঠটানের উদাহরণ?
  1. পানির ফোঁটা পাতার উপর গোলাকার থাকা
  2. পুকুরে পাথর ফেললে পানি ছিটকে ওঠা
  3. কাগজের নৌকা পানিতে ডুবে যাওয়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

- পৃষ্ঠটান (Surface Tension) হলো তরলের পৃষ্ঠের অণুগুলোর মধ্যে সংযোজক বলের কারণে তৈরি হওয়া এক ধরনের “ইলাস্টিক ঝিল্লি”র মতো বৈশিষ্ট্য।
- এর ফলে তরল নিজের পৃষ্ঠীয় ক্ষেত্রফল যতটা সম্ভব কমাতে চায়।

পানির ফোঁটা পাতার উপর গোলাকার থাকা → এটাই পৃষ্ঠটানের  উদাহরণ।
- পানির অণুগুলো নিজেদের মধ্যে আকর্ষণের কারণে ফোঁটাকে গোলাকার (সবচেয়ে কম পৃষ্ঠীয় ক্ষেত্রফল) আকৃতি দেয়। 

অন্যান্য অপশন:
- পুকুরে পাথর ফেললে পানি ছিটকে ওঠা → এটা মূলত গতিশক্তি ও মাধ্যাকর্ষণের ঘটনা। পাথরের আঘাতে পানি স্থানচ্যুত হয় এবং উপরে ছিটকে ওঠে।
- কাগজের নৌকা সাধারণত পৃষ্ঠটানের জন্যই ভাসে। পৃষ্ঠটান পানির পৃষ্ঠকে “শক্ত” করে, তাই হালকা কাগজের নৌকা ভাসতে পারে।ডুবে যাওয়া পৃষ্ঠটানের উদাহরণ নয়, বরং পৃষ্ঠটানের অভাব বা কমে যাওয়ার ফল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৬৮৯.
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত?
  1. ৭৯.০২%
  2. ৭৫.০২%
  3. ৮১.০২%
  4. ৭৮.০২%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের উপাদান (Elements of Atmosphere ):
- বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।
- বায়ুমন্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং
- অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%।
- অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমন্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত।
- আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমন্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমন্ডল (Heterosphere) বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৯০.
সিফিলিস ছড়ায়-
  1. ক) যৌন মিলন
  2. খ) Droplet infection
  3. গ) অনিরাপদ পানি পান
  4. ঘ) খাদ্যের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

সংক্রামক রোগ ছড়ানোর মাধ্যমঃ
১) স্পর্শঃ বেশ কিছু রোগ এভাবে ছড়ায়। যেমন স্কেবিস, ছত্রাক জনিত চর্ম রোগ।
২) যৌন সংস্পর্শঃ এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস (বি, সি), হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেকশন যেটি জরায়ুমুুখ ক্যান্সারের অন্যতম কারণ, লিমফো গ্রানুলোমা ভেনেরিয়াম, শ্যাাংক্রয়েড।
৩) খাদ্য ও পানীয়ঃ টাইফয়েড, পোলিও মায়েলাইটিস, হেপাটাইটিস (এ, ডি), কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়, বিভিন্ন কৃমি সংক্রমণ।
৪) বায়ু বাহিতঃ যক্ষা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হুপিং কাশি, মেনিনজাইটিস, নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, ব্রংকিওলাইটিস, মাম্পস, রুবেলা, হাম।
৫) ভেক্টর বাহিতঃ
মশাঃ ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসিস।
মাছিঃ উদরাময়, আমাশয়, ক্রিমি সংক্রমণ, কালাজ্বর, চ্যাগাস ডিজিস, স্লিপিং সিকনেস, চোখের কৃমি (deer fly)।

১৩,৬৯১.
মানবদেহে হাড় ও দাঁত গঠনে এবং ফসফোলিপিড তৈরি করে কোন খনিজ লবণ?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) ফসফরাস
ব্যাখ্যা
মানবদেহে হাড় ও দাঁত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম। অস্থির বা হাড়ের প্রায় ৬০% ক্যালসিয়াম ফসফেট। এছাড়া প্রাণীদেহে ফসফোপ্রোটিন বা ফসফোলিপিড হিসেবেও ফসফরাস থাকে। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৬৯২.
What substance is commonly formed during a combustion reaction?
  1. Carbon dioxide
  2. Sodium chloride
  3. Argon gas
  4. Nitrogen gas
  5. All of the above
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া, 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া, 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং 
৪। দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি।

দহন বিক্রিয়া (Combustion Reaction):
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ,
- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- সালফারকে বায়ুতে পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- মিথেন গ্যাসকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পোড়ালে মিথেনের উপাদান মৌল কার্বন পরিবর্তিত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন পরিবর্তিত হয়ে উহার অক্সাইড পানি উৎপন্ন করে। এ দহন বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন তাপ রান্নাসহ অন্যান্য কাজ বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৯৩.
কসমিক রে মূলত কী দ্বারা গঠিত?
  1. আলো বহনকারী ফোটন
  2. উচ্চ শক্তিসম্পন্ন চার্জযুক্ত কণা
  3. শব্দ তরঙ্গ
  4. চৌম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
◉  কসমিক রে হল মহাকাশ থেকে আগত উচ্চ গতির কণা।
- এগুলোর বেশিরভাগই প্রোটন (হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস), কিছু আলফা কণা (হিলিয়াম নিউক্লিয়াস) এবং সামান্য ইলেকট্রন ও ভারী নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত। এগুলো আলোর কণা নয়, কারণ আলো ফোটন দিয়ে গঠিত এবং বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে না।

মহাজাগতিক রশ্মি: 
- মহাজাগতিক রশ্মি হল উচ্চ-গতির কণা, যা পারমাণবিক নিউক্লিয়াস বা ইলেকট্রন হতে পারে।
- এগুলো মহাকাশে ভ্রমণ করে এবং প্রধানত গ্যালাকটিক মহাজাগতিক রশ্মি (GCRs) নামে পরিচিত।
- বেশিরভাগ GCR আসে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে। কিছু আসে সূর্য থেকে (সৌর মহাজাগতিক রশ্মি)। সর্বোচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাগুলি সম্ভবত মিল্কিওয়ের বাইরের উৎস থেকে আসে।
- প্রাথমিক মহাজাগতিক রশ্মি সরাসরি পৃথিবীর পৃষ্ঠে দেখা যায় না। প্রাথমিক কণা পর্যবেক্ষণ করতে উচ্চ-উচ্চতার বেলুন বা মহাকাশযান ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১৩,৬৯৪.
নিচের কোনটিকে গ্রহরাজ বলা হয়?
  1. সূর্য
  2. পৃথিবী
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ।
- একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার।
- আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩,৬৯৫.
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে প্রধানত কোন উপাদানগুলো থাকে? 
  1. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার 
  2. কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার, ক্লোরিন 
  3. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন 
  4. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ক্লোরিন 
ব্যাখ্যা

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৩,৬৯৬.
শর্করা যকৃতে সঞ্চিত হয়- 
  1. সেলুলোজরূপে
  2. হেমিসেলুলোজরূপে
  3. গ্লিসারলরূপে
  4. গ্লাইকোজেনরূপে
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৬৯৭.
মহাবিশ্বের সকল পদার্থ কোন কণিকা দ্বারা গঠিত?
  1. ক) বোসন
  2. খ) ফার্মিওন
  3. গ) গ্রাভিটন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সকল পদার্থ ফার্মিওন নামক কণিকা দ্বারা গঠিত হয়। 

- ফার্মিওন কণা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে।
- ফার্মিওন কণাসমূহের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকণা আছে। 
- ফার্মিওন কণা আবার দুইরকমের হয়ে থাকে। 
যথা-
- Quark- এই ধরনের কণা পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণা। সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। 
- Lepton- ছয় প্রকারের লেপটন কণিকা রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ইলেকট্রন।

সূত্র- ৪২১ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,৬৯৮.
ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. গ্যালভানাইজিং
  2. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  3. অ্যানিলিং
  4. পেইন্টিং
ব্যাখ্যা

• অ্যানিলিং (Annealing) হলো ধাতুর তাপীয় চিকিৎসা বা হিট ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ধাতুকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে ধীরে ধীরে ঠান্ডা করা হয় যাতে এর নমনীয়তা বাড়ে এবং অভ্যন্তরীণ চাপ কমে। এটি ধাতুর ক্ষয়রোধের কোনো পদ্ধতি নয়। 

• ধাতু ক্ষয়রোধের উপায়:
- ধাতুর ক্ষয়রোধ করার জন্য সাধারণত ধাতুর ওপর প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এটি বিভিন্নভাবে করা যায়,
- যেমন:
(i) রং করে
(ii) ইলেকট্রোপ্লেটিং ও
(iii) গ্যালভানাইজিং করে ইত্যাদি।
- লোহার তৈরি দরজা-জানালা রং করা হয় যেন লোহা বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে।

- আমরা জানি কম সক্রিয় ধাতু সাধারণত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না।
- কিন্তু বেশি সক্রিয় ধাতু বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- অতএব, বেশি সক্রিয় ধাতুর ক্ষয় হওয়া থেকে ধাতুকে রক্ষা করার জন্য বেশি সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এভাবে বেশি সক্রিয় ধাতুকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
- একটি অধিক সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দুইভাবে দেওয়া যায়।
যথা-
- ইলেকট্রোপ্লেটিং ও
- গ্যালভানাইজিং।

উৎস: রসায়ন, নবম- দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১৩,৬৯৯.
হৃৎপিণ্ড কোন পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে? 
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. এপিডার্মিস
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ডের গঠন: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ। 
- এটি হৃৎপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। 
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে। 
যথা- 
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম: 
- বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত। 
- এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে। 
- এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে। 

২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম: 
- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। 
- এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 

৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম: 
- এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে। 
- অন্তঃস্তরটি হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে। 
- হৃৎপিণ্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৭০০.
Which instrument is used to see objects at the surface of water from a submarine underwater?
  1. Telescope
  2. Periscope
  3. Kaleidoscope
  4. Spectroscope
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ:

- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com