বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৩৫ / ১৪০ · ১৩,৪০১১৩,৫০০ / ১৪,০৮০

১৩,৪০১.
সায়ানোব্যাকটেরিয়া কোন ধরনের শৈবালের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সবুজ শৈবাল
  2. খ) নীলাভ-সবুজ শৈবাল
  3. গ) লোহিত শৈবাল
  4. ঘ) লাল শৈবাল
ব্যাখ্যা
সায়ানোব্যাকটেরিয়া তথা নীলাভ সবুজ শৈবালগুলির (Blue Green Algae) বিস্তারণ সম্ভবত উষ্ণমন্ডলীয় দেশগুলিতে বেশি। তবে, সায়ানোব্যাকটেরিয়া বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে জন্মে থাকে। এরা ব্যাকটেরিয়া থেকে আকারে বড় এবং দেখতে নীলাভ সবুজ বর্ণের।
১৩,৪০২.
মুক্তার প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- ঝিনুকের খোলসের ভিতরে কোনো শক্ত বস্তু প্রবেশ করলে ঐ স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং
- ঐ বস্তুকে জড়িয়ে ঝিনুকের শরীর থেকে এক ধরনের পদার্থ নির্গত হয়।
- যা পরে মুক্তায় রূপ নেয়।
- তাই বলা যায় মুক্তা হলো ঝিনুকের প্রদাহের ফল।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03
- এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ
১. প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৪০৩.
Which substance does not allow charge to flow through it?
  1. Silver
  2. Aluminum
  3. Copper
  4. Glass
  5. Gold
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- মূলত: সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪০৪.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে কোন ধরনের রশ্মি নির্গত হয় না?
  1. বিটা রশ্মি
  2. এক্স-রে রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
• তেজস্ক্রিয়তা:
- বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল ১৮৯৬ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড এবং ভিলার্ড পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে, তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে তিন প্রকার রশ্মি নির্গত হয়। যথা-
১. আলফা রশ্মি,
২. বিটা রশ্মি এবং
৩. গামা রশ্মি।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- যে সকল মৌলের পারমাণবিক ওজন ২০৬ এর অধিক, সে সকল পদার্থ তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অবিরাম প্রক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা কণা ধনাত্মক চার্জ যুক্ত, ঋণাত্মক চার্জ যুক্ত এবং চার্জ নিরপেক্ষ হতে পারে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি নিউক্লিয়ার ঘটনা ।
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় যেমন- রেডিয়াম হতে হিলিয়াম ও র‍্যাডন সৃষ্টি হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪০৫.
হিমোফিলিয়া রোগটি কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অস্থি
  2. রক্ত
  3. ত্বক
  4. লালা
ব্যাখ্যা
হিমোফিলিয়া (Hemophilia) হলো একটি জিনগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ অর্থাৎ এটি রক্তের সাথে সম্পর্কিত।
-  এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী প্রোটিনের ঘাটতি থাকে।
-  এর ফলে সামান্য আঘাতেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দেরি হয় বা বন্ধ হয় না।
-  এটি এক্স লিঙ্কড ডিজঅর্ডার বা এক্স ক্রোমোসোম বাহিত রোগ, যা সাধারণত ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। 
-  কারন যেহেতু এটি কেবল এক্স ক্রমোসোম এর মাধ্যমে বাহিত হয় এবং ছেলেদের মধ্যে একটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে তাই সেটি আক্রান্ত থাকলে ছেলেদের মধ্যে রোগটি হয়। কিন্তু মেয়েদের মধ্যে দুটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে বিধায় একটি এক্স আক্রান্ত থাকলেও মেয়েদের মাঝে রোগ প্রকট না হয়ে মেয়েরা বাহক ও হতে পারে। 

হিমোফিলিয়া দুইরকমের হয়ে থাকে। এগুলো হলো- 
- Hemophilia A: রক্ত জমাট বাঁধার Factor VIII এর অভাবে এটি হয়।
- Hemophilia B: রক্ত জমাট বাঁধার Factor IX এর অভাবে এটি হয়। 

• হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষন:
- সহজে রক্তপাত হওয়া।
- হাড়-জোড়ায় রক্ত জমা হওয়া।
- দাঁতের চিকিৎসা বা কাটা লাগলে দীর্ঘ সময় রক্ত পড়া।
- মস্তিষ্কে রক্তপাত মারাত্মক হতে পারে।

অন্যদিকে,
 অস্থি: হাড়ের সমস্যা যেমন অস্টিওপোরোসিস বা রিকেটস রোগ হাড়ের সাথে সম্পর্কিত।

 ত্বক: ত্বকের সমস্যা যেমন ছত্রাক ঘটিত, এলার্জি বা চর্মরোগ এখানে প্রযোজ্য নয়।

লালা: লালার সমস্যা মূলত মুখগহ্বর বা হজমসংক্রান্ত হয়, হিমোফিলিয়ার সাথে সম্পর্ক নেই।

তথ্যসূত্র
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
১৩,৪০৬.
50 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ কত হবে?
  1. ক) 356 ms-1
  2. খ) 362 ms-1
  3. গ) 332 ms-1
  4. ঘ) 273 ms-1
ব্যাখ্যা
0°C বা 273K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
বাতাসের তাপমাত্রা অথবা আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। প্রতি ১°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে শব্দের দ্রুতির বৃদ্ধি ০.৬ ms-1.
∴ 50°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ = 332+(50×0.6) ms-1 = (332 + 30)ms-1 = 362 ms-1
১৩,৪০৭.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে একটি সম্পর্ক স্থাপন করেন?
  1. জুল
  2. ফ্যারাডে
  3. নিউটন
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র: 
- কাজ তথা যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে বা তাপশক্তিকে কাজে তথা যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে যান্ত্রিক শক্তি এবং তাপ পরস্পরের সমানুপাতিক হবে। 
সুতরাং, W ∝ H. 
বা, W = JH 
এখানে, W হলো কাজের পরিমাণ, H হলো তাপের পরিমাণ এবং J হচ্ছে জুলের ধ্রুবক। J কে তাপের যান্ত্রিক সমতা বা জুল তুল্যাঙ্কও বলা হয়। 
- বিজ্ঞানী জুল সর্বপ্রথম কাজ ও তাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এ সম্পর্কটি একটি সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করেন। 
- এ সূত্রকে জুলের সূত্র আবার তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪০৮.
যানবাহন থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত গ্যাসটির নাম কী? 
  1. ফেরিক অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. ইথেন
ব্যাখ্যা
- যানবাহন থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত গ্যাসটির নাম হচ্ছে কার্বন মনোক্সাইড
- এই গ্যাসটি বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। 
- যেসব সংক্রামক উপাদান বায়ু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে সেইসব উপাদানকে বলা হয় দূষক। 
- পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাকে বলা হয় দূষণ।

বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ - 
১. কার্বন মনোক্সাইড এর প্রভাবে মাথাধরা, ঝিমুনি, শারীরিক শক্তি হ্রাস পায়। 
২. সালফার অক্সাইড-এর প্রভাবে শ্বাসনালির জ্বালা, হাঁপানি, কাশি, নাকজ্বালা। 
৩.  নাইট্রোজেন অক্সাইড-এর প্রভাবে শ্বাসনালির স্ফীতি ও ফুসফুসের জ্বালা। 
৪. সূক্ষ্মণার প্রভাবে চোখ, নাক ও গলার জ্বালা, রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা হ্রাস। 

উৎস: Texas Commission on Environmental Quality Website [লিঙ্ক]
১৩,৪০৯.
মার্বেল কোন ধরনের শিলা?
  1. ক) রূপান্তরিত শিলা
  2. খ) আগ্নেয় শিলা
  3. গ) পাললিক শিলা
  4. ঘ) মিশ্র শিলা
ব্যাখ্যা

আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক চাপ, তাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে যে নতুন রূপ ধারণ করে তাকে ‘রূপান্তরিত শিলা’ বলে।

রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইট
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল
- বেলপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস।
অন্যদিকে,
- ল্যাকোলিথ ও গ্রানাইট : অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা
- কয়লা : পাললিক শিলা।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি : পৃষ্ঠা: ৫০-৫১

১৩,৪১০.
সবুজ কাঁচের মধ্যদিয়ে একটি হলুদ ফুলের রং দেখা যাবে -
  1. ক) সবুজ
  2. খ) হলুদ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) কালো
ব্যাখ্যা
একটা বস্তু সব রং শোষন করে যেটা প্রতিফলিত করে, সেটাকেই তার রং বলে মনে হয়। 
হলুদ রঙের ফুল হলুদ রং ছাড়া বাকি সব রং শোষণ করে নেবে এবং হলুদ রঙ প্রতিফলিত করবে।
হলুদ রং সবুজ কাঁচের মধ্যদিয়ে আসার সময় কাঁচ দ্বারা শোষিত হয়ে যাবে।
ফলে সব রং শোষিত হয়ে যাবে এবং ফুলটি কালো দেখাবে।
১৩,৪১১.
p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে গরিষ্ঠ আধান বাহক কোনটি ?
  1. ক) ধনাত্মক আধান
  2. খ) ঋণাত্মক আধান
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে গরিষ্ঠ আধান বাহক ধনাত্মক আধান । p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে চতুর্যোজী মৌলের সাথে ত্রিযোজী মৌলের ডোপিং করা হয় । ফলে সহযোজী বন্ধনের সময় একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি পড়ে, হোলের সৃষ্টি হয় । এই হোল পূরণ করতে ইলেকট্রনের প্রয়োজন হয় । এই ইলেকট্রন যেখান থেকে আসে সেখানে আবার হলের সৃষ্টি হয় । এতে মনে হয় ধনাত্মক হল পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেক্ট্রনের বিপরীত দিকে চলমান । তাই গরিষ্ঠ বাহক হল ধনাত্মক হোল। p টাইপ সেমিকন্ডাক্টরে লঘিষ্ঠ বাহক ইলেকট্রন বা ঋণাত্মক আধান।
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই
১৩,৪১২.
ঘূর্ণিঝড় হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য ন্যূনতম বাতাসের গতিবেগ কত কিমি/ঘণ্টা বা তার বেশি হতে হয়?
  1. ৩০ কিমি/ঘণ্টা
  2. ৬৫ কিমি/ঘণ্টা
  3. ৪৫ কিমি/ঘণ্টা
  4. ৮০ কিমি/ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

- ঘূর্ণিঝড় হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য ন্যূনতম বাতাসের গতিবেগ প্রায় ৬৫ কিমি/ঘণ্টা (বা ৩৬ নট) হতে হয়, যা সাধারণত "ঘূর্ণিঝড়" (Cyclonic Storm) ক্যাটাগরির সর্বনিম্ন সীমা, তবে এর চেয়ে কম গতিতে গভীর নিম্নচাপ (Deep Depression) হয়। 

সাইক্লোন: 
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone, এটি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে যার অর্থ কুণ্ডলি পাকানো সাপ। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কুণ্ডলি পাকানো সাপের আকার ধারণ করে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। 

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ: 
- এই দুর্যোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্নচাপ। 
- সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে এবং আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়। 
- সাধারণত এই তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রয়োজন এবং ঝড়ের সময় বাযুপ্রবাহের গতিবেগ ৬৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এইরূপ তাপমাত্রা বিদ্যমান। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। এ সময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। 
- এটি উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে। 
- এছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪১৩.
আলোর প্রতিসরণের সূত্র কে আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. হাইগেন
  2. স্নেল
  3. রবার্ট হুক
  4. গিলবার্ট
ব্যাখ্যা

• আলোর প্রতিসরণের সূত্র বা Refraction of Light এর সূত্র প্রথম আবিষ্কার করেন হল্যান্ডের বিজ্ঞানী স্নেল, যিনি এটি স্নেলস সূত্র (Snell’s Law) হিসেবে পরিচিতি পান। এই সূত্রটি আলোর প্রবাহ একটি মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় তার দিক পরিবর্তনের পরিমাণ নির্ধারণ করে। সূত্র অনুযায়ী, আলোর পতনের কোণ এবং প্রতিসরণের কোণের sine এর অনুপাত সমান হয় দুই মাধ্যমের মধ্যে আলোর বেগের অনুপাতের। স্নেল এই সম্পর্কটি গণিতগতভাবে স্থাপন করে আলোর প্রতিসরণের বিজ্ঞানকে আরও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করেন।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) স্নেল।


• প্রতিসরণ:
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে।
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে।

• প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction):
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে।
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রগুলোকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়।
- সূত্র দু'টি হলো-
১. দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।
২. এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব।
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)।

• অপশন আলোচনা:
- রবার্ট হুক পদার্থের স্থিতিস্থাপকতার সূত্র আবিষ্কার করেন।
- বিজ্ঞানী হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
- ডা. গিলবার্ট চুম্বকত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪১৪.
শিশুর জন্মের এক মাসের মধ্যে কোন টিকা দিতে হয়? 
  1. DPT
  2. DT
  3. OPV
  4. TT
ব্যাখ্যা
- শিশুর জন্মের ১ সপ্তাহের মধ্যে 'বিসিজি ও ওপিভি-ও' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়রকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪১৫.
মানবদেহে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড কয়টি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা
আমিষের গঠনআমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)। আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। 

এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
এগুলো হল:
- লাইসিন
- ট্রিপেটোফ্যান
- মিথিওনিন
- ভ্যালিন
- লিউসিন
- আইসোলিউসিন
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪১৬.
পৃথিবী আপন কক্ষপথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে আছে?
  1. ২৩.৫°
  2. ৫৫.৫°
  3. ৪৬.৫°
  4. ৬৬.৫°
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী আপন কক্ষপথে ৬৬.৫°কোণে হেলে আছে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩.৫° কোণে হেলে আছে।
- আহ্নিক গতির ফলে দিবা-রাত্রির সংঘটন, বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি এবং তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। 
- বার্ষিক গতির ফলে দিবা-রাত্রির হ্রাস ও ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়। 
- ২১শে মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রি সমান হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪১৭.
কোন পরিস্থিতিতে একটি বাস্তব গ্যাস সবচেয়ে বেশি আদর্শ গ্যাসের মতো আচরণ করে?
  1. উচ্চ চাপ ও নিম্ন তাপমাত্রা
  2. উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপ 
  3. নিম্ন চাপ ও নিম্ন তাপমাত্রা
  4. উচ্চ চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

- বয়েল, চার্লস ও অ্যাভোগেড্রোর সূত্রের সমন্বয়ে আদর্শ গ্যাসের অবস্থার সমীকরণ PV = nRT পাওয়া যায়।
- এখানে, R = মোলার গ্যাস ধ্রুবক।
- প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে S.I এককে R এর মান 8.314 JK- 1mol- 1 .

- যেসকল গ্যাস যেকোনো তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসের সূত্রসমূহ মেনে চলে তাদের আদর্শ গ্যাস বলে।
- কিন্তু বাস্তবে কোনো গ্যাসই সকল তাপমাত্রা ও চাপে এসব সূত্র মেনে চলে না।
- কেবলমাত্র “অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে” বাস্তব গ্যাস সমূহ আদর্শ আচরণ করে অর্থাৎ, গ্যাসের সূত্রগুলো মেনে চলে।

- প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপ (STP = Standard Temperature & Pressure) ⇒ 0° C বা 273k ও 1atm বা 76cm(Hg)

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৩,৪১৮.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদ কোন ধরনের উদ্ভিদ? 
  1. সপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. আবৃতবীজী উদ্ভিদ
  3. অপুষ্পক উদ্ভিদ
  4. নগ্নবীজী উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

- ব্রায়োফাইটা (Bryophyta) হচ্ছে এক ধরনের অপুষ্পক (non-flowering) উদ্ভিদ। এদের ফুল, ফল এবং বীজ হয় না। পরিবর্তে, এরা স্পোরের (spore) মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 

ব্রায়োফাইটা: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না, এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের, অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪১৯.
উদ্ভিদে পানি পরিবহনকারী টিস্যু কোনটি?
  1. লিগনিন
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. জাইলেম
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদে পানি পরিবহনকারী টিস্যু হলো জাইলেম। 

• পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (Vascular bundle):
- উদ্ভিদদেহে যে টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল (পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি) ও তৈরিকৃত খাদ্য পরিবহন করে থাকে তাকে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলে।

• জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকেই একত্রে পরিবহন টিস্যু (Vascular bundle) বলে।
- সাধারণত কাণ্ডে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একই ব্যাসার্ধে অবস্থিত থেকে মিলিতভাবে একটি বান্ডল সৃষ্টি করে।
- মূলে জাইলেম এবং ফ্লোয়েম পৃথক ব্যাসার্ধে থাকে এবং পৃথক পৃথক বান্ডল সৃষ্টি করে।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর এই বান্ডলই খাদ্যদ্রব্য (কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত খাদ্য) পরিবহন করে।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকে ভাস্কুলার বান্ডল বলে।

• জাইলেম টিস্যুর কাজ:
- উদ্ভিদের মূল হতে পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করা।
• ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজ:
- পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে প্রস্তুতকৃত খাদ্যদ্রব্য (গ্লুকোজ) উদ্ভিদদেহের অন্যান্য সজীব অংশে পরিবহন করা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১৩,৪২০.
দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করার কারণ -
  1. এতে বিদ্যুতের অপচয় কম হয়
  2. এতে কমে গিয়েও প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ বজায় থাকে
  3. অধিক বিদ্যুৎ প্রবাহ পাওয়া যায়
  4. প্রয়োজনমতো ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করা যায়
ব্যাখ্যা
- বৈদ্যুতিক তারের রোধ থাকে, যার ফলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সবটুকু না গিয়ে কিছু অংশ অপচয় হয়। 
- ফলে দুরত্ব যত বেশি হয় রোধ তত বেশি হয়। 
- ফলে বিদ্যুতের অপচয় কমানোর জন্য দূরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে বিদ্যুৎ নিয়ে আসতে হলে হাইভোল্টেজ ব্যবহার করা হয়

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪২১.
আমিষ বেশি কোনটিতে?
  1. ক) ইলিশ মাছ
  2. খ) মসুর ডাল
  3. গ) মুগডাল
  4. ঘ) মুরগীর মাংস
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) অনুসারে ডাল বীজে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ, লাল মাংসে আমিষের পরিমাণ ১৬-১২ শতাংশ, মাছে আমিষের পরিমাণ ১৮-২৫ শতাংশ, মুরগির মাংসে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ।
Source: ais.gov.bd
১৩,৪২২.
নিচের কোনটি মৃত আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) কোহি সুলতান
  2. খ) ফুজিয়ামা
  3. গ) কিলিমাঞ্জারো
  4. ঘ) স্ট্রম্ব্যালি
ব্যাখ্যা
- যেসব আগ্নেয়গিরি দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রীয় আছে এবং ভবিষ্যতেও অগ্ন্যূৎপাতের সম্ভাবনা নেই তাদের মৃত আগ্নেয়গিরি বলা হয়।
মৃত আগ্নেয়গিরি উদাহরণ:
- কোহি সুলতান (ইরান)
- বেন নেভিস (যুক্তরাজ্য) প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- ফুজিয়ামা (জাপান) : সুপ্ত আগ্নেয়গিরি
- কিলিমাঞ্জারো (তাঞ্জানিয়া) : সু্প্ত আগ্নেয়গিরি
- স্ট্রম্ব্যালি (ইতালি) : সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
১৩,৪২৩.
পানি বরফে পরিণত হলে-
  1. ঘনত্ব বেড়ে যাবে
  2. ঘনত্ব কমে যাবে
  3. আয়তন কমে যাবে
  4. ভর কমে যাবে
ব্যাখ্যা
• বরফ:
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়।
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।
- কারণ, বরফে পানির অণুগুলো একটি ক্রিস্টাল গঠন তৈরি করে, যেখানে তারা একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করে ফলে ঘনত্ব কমে যায়।

- বরফ পানিতে পরিণত হলে আয়তন কমে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৩,৪২৪.
অক্সি - এসিটিলিন শিখার প্রমাণ তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮০০ - ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২০০০ - ২৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ২৫০০ - ৩০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ৩০০০ - ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা:
- অক্সিজেন ও অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাসের মিশ্রণকে অক্সি অ্যাসিটিলিন বলা হয়। 
- এই মিশ্রণকে প্রজ্জ্বলিত করলে, যে অগ্নিশিখার সৃষ্টি হয় তাকেই অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা বলে। 
- এই শিখার তাপমাত্রা ৩০০০-৩৫০০° ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে। 
• ব্যবহার:
- ঝালাই: স্টিল এবং লোহা সহ বিভিন্ন ধাতুর ঝালাইয়ের জন্য।
- কাটিং: ধাতু কেটে আলাদা করার জন্য।
- গরম করা: ধাতুর আকৃতি বদলানোর আগে গরম করার জন্য।

উৎস: britannica.com
১৩,৪২৫.
মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তরে কোনটি ভূমিকা পালন করে?
  1. লিম্ফোসাইট
  2. ত্বক
  3. ইন্টারফেরন
  4. পাকস্থলীর অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

◉ ইন্টারফেরন (Interferon) এক ধরনের প্রোটিন, যা ভাইরাস আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং অন্যান্য কোষকে ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে।
- এটি ভাইরাস প্রতিরোধী প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ভাইরাসের বিস্তার কমায়।
- এটি প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (Innate Immunity) অংশ।

মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। যথা-
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) ত্বক,
(ii) মিউকাস মেমব্রেন,
(iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া,
(iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং
(v) চোখের আবরণ ও অশ্রু।

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়।
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) ব্যাথাদায়ক সাড়া,
(ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ,
(iii) কমপ্লিমেন্ট,
(iv) ইন্টারফেরন এবং
(v) ন্যাচারাল কিলার সেল।

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) লিম্ফোসাইট,
ii) MHC অণু এবং
(ii) ক্লোনাল সিলেকশন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

১৩,৪২৬.
সবুজ তরিতরকারীতে সবচেয়ে বেশি থাকে-
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন
  4. ঘ) স্নেহজাতীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
• খনিজ পদার্থ:
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক।
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, I ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে।
- এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান।

• খনিজ পদার্থের উৎস:
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক, কঁচু শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়।
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে। 
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে।

• ভিটামিন:
- স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেহের বৃদ্ধির জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন আবশ্যক।
- ভিটামিনকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও
খ. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।

• ভিটামিনের উৎস:
- ভিটামিন 'এ' (Vit-A): দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'বি' (Vit-B): মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'সি' (Vit-C): পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি।
- ভিটামিন 'ডি' (Vit-D): ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪২৭.
সক্রিয়তা সিরিজে কোন ধাতুটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়?
  1. লিথিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্রোমিয়াম
ব্যাখ্যা
- সক্রিয়তা সিরিজে 'লিথিয়াম' ধাতুটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 

- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪২৮.
ভূ - ত্বকে কোন উপাদান সবচেয়ে কম থাকে?
  1. সোডিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
ভূ-ত্বক: 
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। 
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম। 
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন। 

ভূ-ত্বকে, 
অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%, 
সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%, 
অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%, 
লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%, 
ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%, 
সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%, 
পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং 
ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪২৯.
নিম্নের কোনটি বিজারক পদার্থের উদাহরণ?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) ক্লোরিন
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4 প্রভৃতি জারক পদার্থ। 

- বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- পর্যায় তালিকার গ্রুপ এ অবস্থিত মৌলসমূহ যেমন: H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S প্রভৃতি বিজারক পদার্থ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৩০.
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি কোনটি?
  1. ক) তারামাছ
  2. খ) প্রজাপতি
  3. গ) জোঁক
  4. ঘ) রুই মাছ
ব্যাখ্যা
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি- মানুষ, কুনোব্যাঙ, রুই মাছ ইত্যাদি৷
একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণি- তারামাছ, সমুদ্র শশা।
কাঁকড়া, প্রজাপতি, চিংড়ি, তেলাপোকা ইত্যাদি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণি।
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলো- কেঁচো, জোঁক
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৪৩১.
যকৃৎ কৃমি কোন পর্বের প্রাণী?
  1. নিডারিয়া
  2. প্লাটিহেলমিনথেস
  3. অ্যানিলিডা
  4. নেমাটোডা
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস:
- দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ।
-বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী।
- দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
- দেহে চোষক ও আংটা থাকে।
- দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলাে রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
- পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত।
- উদাহরণ : যকৃৎ কৃমি, ফিতা কৃমি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৩২.
পরমাণুর কেন্দ্রে কোনটি অবস্থান করে?
  1. ইলেকট্রন
  2. শুধুমাত্র প্রোটন
  3. প্রোটন এবং নিউট্রন
  4. ইলেকট্রন এবং প্রোটন
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়াস, এই নিউক্লিয়াস পরমাণুর একটি ক্ষুদ্র ও ঘনত্বপূর্ণ অঞ্চল যেখানে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন এবং আধানহীন (নিরপেক্ষ) নিউট্রন অবস্থান করে। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর এই নিউক্লিয়াসেই পুঞ্জীভূত থাকে। 

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকতে পারে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪৩৩.
মানুষের গায়ের রং নিচের কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. ক্যারোটিন
  3. থায়ামিন
  4. মেলানিন
ব্যাখ্যা
মানুষের ত্বক:
- মানুষের ত্বকে উপস্থিত মেলানোসাইট নামক কোষ মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন করে যা গায়ের রঙ ফর্সা বা কালো হওয়ার জন্য দায়ী।
- পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হতে পারে যা ঘুমের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
- মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়।
- এটাই অ্যালবিনিজম নামে পরিচিত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,৪৩৪.
পদার্থের ভৌত অবস্থা মূলত নির্ভর করে -
  1. ক) অণুগুলোর গতিশক্তির উপর
  2. খ) আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  3. গ) চৌম্বক শক্তির উপর
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন আছে
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোন আকার বা আয়তন নেই ।
- আন্ত:আণবিক আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে।  এ দুটি শক্তি পরস্পর বিপরীতমুখী। তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

কঠিন পদার্থ (Solid)- 
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও ত্রি মাত্রিক গঠন রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে আন্ত:আণবিক বলের মান খুব বেশি হওয়ায় অণুগুলো একে অন্য থেকে আলাদা হতে পারে না। অণুগুলোর শুধুমাত্র দোলন বা কম্পনের স্বাধীনতা থাকে। 

তরল পদার্থ (Liquid)- 
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিস্ট আকৃতি নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে অণুগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকলেও এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল তুলনামূলকভাবে কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। ফলে এদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। এ জন্য অণুগুলির চলাফেরা করার স্বাধীনতা থাকে। তাই কঠিন পদার্থকে তরল পদার্থে রূপান্তরিত করলে আয়তন বেড়ে যায় ।

পানি ব্যতিক্রম ধর্মী তরল পদার্থ। কারণ বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করলে আয়তন কমে যায়। এর কারণ হলো বরফের গঠণ কাঠামোতে অনেক ফাঁকা স্থান থাকে যা তরল পানির ক্ষেত্রে পূরণ হয়। এ ছাড়া তরল পানিতে হাইড্রোজেন বন্ধনের উপস্থিতি পানির আয়তন হ্রাসের অন্যতম কারণ ।

গ্যাস (Gas)- 
বাষ্পীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে পারষ্পরিক আকর্ষণ খুবই কম। ফলে এরা যথেষ্ট দূরে দূরে অবস্থান করে এবং বিনা বাধায় চলাফেরা করতে পারে। ফলে পাত্রের পুরো জায়গা এরা দখল করে। তবে চাপ প্রয়োগে অণুসমূহ কাছাকাছি আসে এবং গ্যাসের আয়তন কমে যায়। তাপ বাড়ালে উল্টো ঘটনা ঘটে। আন্ত:আণবিক শক্তি কমে যায় এবং গতিশক্তি বেড়ে যায়। ফলে গ্যাস অণুসমূহ আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাসের আয়তন বেড়ে যায়।

সূত্র: ৪ পৃষ্ঠা, রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৩৫.
আলো যে সাতটি বর্ণের সমষ্টি, এটা কে প্রমাণ করেন?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. ম্যাক্সওয়েল
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
• আইজ্যাক নিউটন প্রথম প্রমাণ করেন যে সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের সমন্বয়ে গঠিত।

• 1672 সালে নিউটনের প্রিজম পরীক্ষা:
- তিনি একটি প্রিজমের মাধ্যমে সূর্যের আলো পাঠিয়ে দেখেন যে এটি সাতটি আলাদা রঙে বিভক্ত হয়।
- এই সাতটি রঙ হলো: বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল (VIBGYOR)
- নিউটন দ্বিতীয় একটি প্রিজম ব্যবহার করে আলাদা রঙগুলো আবার মিলিয়ে সাদা আলো তৈরি করেন।
- এটি প্রমাণ করে যে সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের সমষ্টি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৩,৪৩৬.
রাবার নিম্নের কোনটিতে অদ্রবণীয়?
  1. ক) ইথার
  2. খ) মিথানল
  3. গ) টারপিন
  4. ঘ) পেট্রোল
ব্যাখ্যা
রাবার:
- বর্তমান দুনিয়ায় রাবার একটি অতি প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য দ্রব্য। পেন্সিলের লেখা মোছার ইরেজার থেকে শুরু করে সাইকেল, রিক্সা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবার।
- এছাড়াও রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক শিল্পে, পানির পাইপ, সার্জিকেল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল ইত্যাদি প্রস্তুতিতে বিপুল পরিমাণ রাবার ব্যবহৃত হয়। 
- প্রাকৃতিক রাবার একটি অদানাদার, পানিতে অদ্রবণীয় কঠিন কিন্তু প্লাস্টিকের চেয়ে নরম পদার্থ। 
- রাবার জৈব দ্রাবক এসিটোন, মিথানল ইত্যাদিতে অদ্রবণীয় হলেও ইথার, টারপিন, পেট্রোল ইত্যাদিতে দ্রবণীয়
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি তাপ সংবেদনশীল ও স্থিতিস্থাপক পদার্থ। বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ ও তাপ কুপরিবাহী। তবে বিশেষভাবে তৈরি রাবার বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে।
- অন্যান্য পদার্থে তাপ দিলে আয়তন বাড়ে কিন্তু রাবারে তাপ দিলে আয়তন কমে। 
- রাবার পানি, এসিড, দুর্বল ক্ষার ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। তাই প্রলেপ দেয়ার কাজে রাবারকে ব্যবহার করা হয়। 
- রাবার এসিড, ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া না করলেও বাতাসের অক্সিজেন দ্বারা আক্রান্ত হয়। অনুরূপভাবে প্রাকৃতিক রাবার ওজোনের (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে, ফলে রাবার ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ও একসময় নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,৪৩৭.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র মাপের বিদ্যুৎ প্রবাহের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়?
  1. ওহমমিটার
  2. গ্যালভানোমিটার
  3. ভোল্টমিটার
  4. অডিওমিটার
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র মাপের বিদ্যুৎ প্রবাহের অস্তিত্ব নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম - গ্যালভানোমিটার।

অন্যদিকে,
- রোধ পরিমাপ করার যন্ত্র - ওহমমিটার।
- কোন তড়িৎ বর্তনীর দুটি বিন্দুর বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজের পরিমাণ মাপক যন্ত্র - ভোল্টমিটার।
- শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অডিওমিটার।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১৩,৪৩৮.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে কোন অবস্থা বিরাজ করে? 
  1. শুষ্ক আবহাওয়া
  2. নিম্ন তাপ
  3. নিম্নচাপ
  4. উচ্চচাপ
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। 
- স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৪৩৯.
গ্যালভানাইজিং করতে কোনো ধাতুর উপর কিসের প্রলেপ দেয়া হয়? 
  1. কপার
  2. নিকেল
  3. জিংক
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
-  সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৪০.
তিন দিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলরাশিকে কী বলে?
  1. সাগর
  2. হ্রদ
  3. উপসাগর
  4. মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere.
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমন্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- মহাসাগর, সাগর, উপসাগর এবং হ্রদ।
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯০ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে।
- পৃথিবীতে মোট ৫টি মহাসাগর রয়েছে।
- আয়তন ও গভীরতার দিক দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগর সর্ববৃহৎ।
- তিন দিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলরাশিকে উপসাগর বলে।
- চার দিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলরাশিকে হ্রদ বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৪১.
মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ কয়টি?
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ২ টি
  3. গ) ৩ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি ।
এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ১৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
মঙ্গলে ফোবস ও ডিমােস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
উৎসঃ ভূগােল, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৪৪২.
প্রাণিজ আমিষের উদাহরণ না কোনটি?
  1. ক) মাছ
  2. খ) পনির
  3. গ) ছানা
  4. ঘ) বাদাম
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করা হলে আমিষ দুই প্রকার: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ।
প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির- এগুলাে প্রাণিজ আমিষ।
উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। ডাল, শিমের বিচি, মটরশুটি, বাদাম হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১৩,৪৪৩.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল নয়?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) ব্রোমিন
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) রেডন
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি।
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl₂, I₂ ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৪৪.
তাপমাত্রা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক কোনটি? 
  1. ডিগ্রী  
  2. কেলভিন 
  3. সেলসিয়াস 
  4. ফারেনহাইট 
ব্যাখ্যা

তাপমাত্রা (Temperature): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিতে থাকলে, যত তাপ দেয়া হয় তত বেশি গরম হয়। গরমের মাত্রা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় উষ্ণতা বা তাপমাত্রা শব্দটি। 
- দু'টি বস্তুকে পরস্পরের তাপীয় সংস্পর্শে আনলে এদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। 
- এই আদান প্রদান বস্তুর মধ্যে তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে বস্তুর তাপীয় অবস্থার উপর। 
- বস্তু দুটির তাপীয় অবস্থা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপ একটি থেকে অন্যটিতে (গরমটি থেকে ঠান্ডাটিতে) প্রবাহিত হয়, বস্তুর এই তাপীয় অবস্থার নাম উষ্ণতা বা তাপমাত্রা। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের এস. আই (S.I) বা আন্তর্জাতিক একক কেলভিন, তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি একক আছে। যেমন- সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট। 
- তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র থার্মোমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- দুটি বস্তুর তাপমাত্রা এক হলেও এদের মধ্যে তাপের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪৪৫.
নিচের কোনটির সাহায্যে পানি বিশুদ্ধ করা যায়?
  1. ক) ইপসম লবণ
  2. খ) সাদা ভিট্রিওল
  3. গ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) পটাশ এলাম
ব্যাখ্যা

পটাশ এলাম বা ফিটকিরি পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফিটকিরি হলো আর্দ্র এলুমিনিয়াম পটাশিয়াম সালফেট [K2SO4.Al2(SO4)3.24H20]।
পটাশ এলাম ছাড়াও ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিন ট্যাবলেট প্রভৃতিও পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৩,৪৪৬.
কোন তাপমাত্রায় বরফ গলে পানি হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ১০° সেলসিয়াস
  3. ৪° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- বিশুদ্ধ বরফ স্বাভাবিক চাপে ০° সেলসিয়াস (0°C) তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে এবং পানিতে পরিণত হয়, এই তাপমাত্রাকে পানির গলনাঙ্ক বলা হয়। একইভাবে, পানি যখন শীতল হয়ে ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পৌঁছায়, তখন তা জমে বরফে পরিণত হতে শুরু করে। 

পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

গলনাঙ্ক: 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক। 
- বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফুটনাংক: 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৪৪৭.
"আলো চিড় অতিক্রম করার সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনাটি" - নিচের কোন তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করে? 
  1. তরঙ্গ তত্ত্ব
  2. কণা তত্ত্ব
  3. দ্বৈতনীতি
  4. কোয়ান্টাম তত্ব
ব্যাখ্যা

• "আলো চিড় অতিক্রম করার সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনা" বা প্রকাশিত আলো যখন একটি সরু ছিদ্র বা ধারকের পাশ দিয়ে যায় এবং তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়, এটিকে প্রকাশের বিচ্যুতি বা diffraction বলা হয়। এটি মূলত তরঙ্গের আচরণের ফলাফল, কারণ কণা হিসেবে আলো এমনভাবে বেঁকে যেতে পারে না। তরঙ্গ তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো তরঙ্গ কোনো বাধা বা ছিদ্রের সংস্পর্শে আসে, তখন তরঙ্গের অংশ সীমানার চারপাশ দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি  বিচ্যুত ধারা তৈরি করে। সুতরাং আলো চিড় অতিক্রমের সময় বেঁকে যাওয়ার ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্ব (Wave Theory) দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়।

- সঠিক উত্তর: ক) তরঙ্গ তত্ত্ব। 

• আলো চিড় অতিক্রমের সময় বেঁকে যাওয়া (Light Diffraction):
- আলো চিড় অতিক্রম করার সময় যখন বাঁকানো বা বিকৃত হয়, সেটিকে আলো তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
- এই ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্বের মাধ্যমে বোঝানো যায়, কারণ আলোকে তরঙ্গ হিসেবে ধরা হলে তা চিড় বা বাধার পাশ দিয়ে বেঁকে যেতে পারে।
- কণা তত্ত্বের মাধ্যমে এই ধরনের বেঁকানো ঘটনার ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, কারণ কণার মতো আচরণ করলে আলো সরলরেখায় চলার প্রবণতা দেখায়।
- দ্বৈতনীতি বা কোয়ান্টাম তত্ত্ব আলোকে কণার ও তরঙ্গের দুই রূপে ব্যাখ্যা করে, তবে শুধুমাত্র চিড়ের প্রান্ত দিয়ে বেঁকে যাওয়া ঘটনা তরঙ্গ তত্ত্ব দ্বারা সবচেয়ে সরলভাবে বোঝা যায়।
- এটি ফ্রিঞ্জ প্যাটার্ন বা হালকা ও গাঢ় রেখার উদাহরণ তৈরি করতে পারে, যা তরঙ্গের হস্তক্ষেপ (interference) প্রমাণ করে।

আলােকের প্রকৃতি সম্মন্ধে যেসব তত্ত্ব উদ্ভাবিত হয়েছে সেগুলি হলাে
(i) নিউটনের কণিকা তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বে সাহায্যে ঋজুগতি প্রতিফলন, প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, সমবর্তন, অপবর্তন, বিচ্ছুরণ ব্যাখ্যা করা যায় না।

(ii) হাইগেনের তরঙ্গ তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

(iii) ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে আলাের সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায় না।

(iv) আইনস্টাইনের কোয়ান্টাম তত্ত্ব:
- এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়; কিন্তু ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

১৩,৪৪৮.
চাপের একক কোনটি?
  1. ক) N
  2. খ) Kg
  3. গ) Pa
  4. ঘ) m/s
ব্যাখ্যা
কোনো পৃষ্ঠের একক ক্ষেত্রফলের উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত মোট বলের মানকে চাপ বলে।
চাপের একক নিউটন/বর্গমিটার (Nm −2), একে প্যাসকেল (pa) ও বলা হয়।
১৩,৪৪৯.
আমিষে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় কত শতাংশ? 
  1. ৮%
  2. ১২%
  3. ১৬%
  4. ২৫%
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদান ও উৎস: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত তাই এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি নিহিত, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলে। 
- উপাদান অনুসারে খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আমিষ, শর্করা এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য। 
- এছাড়াও তিন প্রকার উপাদান দেহের জন্য দরকার। 
যথা- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। 

আমিষ বা প্রোটিন: 
- আমিষ জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে এবং সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) প্রাণীজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা ইত্যাদি এসব খাদ্যে প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায় বলে এদের জৈব মূল্য বেশি। তাই খাদ্যে শতকরা ২০ ভাগ প্রাণীজ আমিষ থাকা প্রয়োজন। 

(খ) উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনা বাদাম, চাল, আটা, শিমের বীচি ইত্যাদি এগুলো প্রাণীজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর। 
- বীজে আমিষের পরিমাণ অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি থাকে। 
- উদ্ভিজ্জ আমিষে অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে বিধায় এর জৈব মূল্য কম তাই এটি নিম্নমানের আমিষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪৫০.
নিচের কোন নামে নীহারিকা (Nebula) পরিচিত?
  1. Pillars of Solar System
  2. Pillars of Destruction
  3. Pillars of Creation
  4. Pillars of Black Hole
ব্যাখ্যা
নীহারিকা (Nebula):
- সৃষ্টি জগতের সকল উপাদানকে একত্রে মহাবিশ্ব বলা হয়।
- মহাবিশ্বের মহাকাশে গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, নীহারিকা, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ও উল্কা ইত্যাদিকে জ্যোতিষ্ক বলে।
- নীহারিকা বা নেবুলা (Nebula) হলো ধুলা, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও আয়নিত গ্যাসের আন্তর্মহাকাশীয় মেঘ।
- এগুলো আসলে হালকা গ্যাসের অতিকায় পিণ্ড।
- একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে।
- নীহারিকার মেঘস্তম্ভকে নক্ষত্র সৃষ্টির আধার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- তাই নাসার বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন "Pillars of Creation"। 
- আবার তারার সুপারনোভা বিস্ফোরণে নীহারিকা তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৫১.
ভরা কটাল কখন হয়?
  1. ক) সপ্তমী তিথিতে
  2. খ) অষ্টমী তিথিতে
  3. গ) অমাবস্যা তিথিতে
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা
তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide)
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে। এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল।
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়।
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়।

মরা কটাল (Neap Tide)
- সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে না।
- এ সময় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- এই সময় তারা পৃথিবীকে আড়াআড়ি আকর্ষণ করে এবং এই আকর্ষণ বেগ কম হয়।
- এ সময় চন্দ্রের আকর্ষণে চন্দ্র ও তার বিপরীত দিকে জোয়ার হয়।
- কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণ সূর্য হতে বেশি বলে সূর্য ও তার বিপরীত দিকে ভাঁটা হয়।
- সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে জোয়ারের তীব্রতা সবচেয়ে কম থাকায় এইরূপ জোয়ারকে বলা হয় মরা কটাল।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১৩,৪৫২.
ভিটামিন-ই এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. ক) রেটিনোয়িক এসিড
  2. খ) ক্যালসিফেরল
  3. গ) টোকোফেরল
  4. ঘ) মেনাডায়ন
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন-ই এর রাসায়নিক নাম - টোকোফেরল, টোকোট্রাইনল।
• ভিটামিন-এ এর রাসায়নিক নাম - রেটিনল, রেটিনাল, রেটিনোয়িক এসিড।
• ভিটামিন-সি এর রাসায়নিক নাম - অ্যাসকরবিক এসিড।
• ভিটামিন-ডি এর রাসায়নিক নাম - ক্যালসিফেরল, কোলিক্যালসিফেরল।
• ভিটামিন-কে এর রাসায়নিক নাম - মেনাকোয়াইনন, মেনাডায়ন।

তাছাড়া, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন বি এর নাম -
• B1 - Thiamin (থায়ামিন)
• B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)
• B3 - Niacin (নিয়াসিন)
• B5 - Pantothenic acid (প্যানটোথেনিক এসিড)
• B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)
• B7 - Biotin (বায়োটিন)
• B9 - Folate [folic acid] (ফোলেট, ফলিক এসিড)
• B12 - Cobalamin (কোবালামিন)

কয়েকটি ভিটামিন স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবীভূত হয়, আবার কয়েকটি ভিটামিন পানিতে দ্রবীভূত হয়।
যেমন:
স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন A, ভিটামিন D, ভিটামিন E ও ভিটামিন K
পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন B কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন C

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা [লিংক]
১৩,৪৫৩.
ডিজিটাল ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে উঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. এলইডি
  2. আইসি
  3. এলসিডি
  4. সিলিকন চিপ
ব্যাখ্যা
- আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। 
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে। 
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন- কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়। 
- সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়। 
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই। 
- সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে
১৩,৪৫৪.
জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয় কোন ভাষায়?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. ফরাসী
  4. ইংরেজী
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণ:
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন। 
- 1758 সালে ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রাণীর দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন করেন, তাই তাকে দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয়।

• দ্বিপদ নামকরণের নিয়মাবলী:
- প্রতিটি জীব প্রজাতির একটি বৈজ্ঞানিক নাম থাকবে এবং তার দুটি অংশ থাকবে ।
- দ্বিপদ নামের প্রথম অংশটি উক্ত জীবের গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি পদের নির্দেশক।
- এই নামকরণ ল্যাটিন বা রূপান্তরিত ল্যাটিন থেকে গৃহীত হবে।
- দ্বিপদ নামকরণ ছাপা অক্ষরে হলে সর্বদা ইটালিক (ডান দিকে বাঁকা) হরফে হবে। যেমন- Duttaphrymus melanostictus (কুনোব্যাঙ)।
- দ্বিপদ নাম হাতে লিখলে রোমান অক্ষর ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিটি অংশের নিচে আলাদা আলাদাভাবে দাগ টানতে হবে। 
- গণ নামটি বিশেষ্য এবং তার আদ্য অক্ষরটি অবশ্যই capital lemon-এ লিখতে হবে এবং প্রজাতি নামটি বিশেষণ, যার আদ্যাক্ষর small letter-এ লিখতে হবে। যেমন- Catla (জাতি) Catla (প্রজাতি) = Catla catlic.
- দুটি শব্দের মাঝে কোনো দাগ বা কমা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
- কোনো প্রজাতির জন্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নালে সর্বপ্রথম প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক নামই স্বীকৃতি পাবে।
- প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামের শেষে সংক্ষিপ্তভাবে নামের জনকের নাম ও প্রকাশের সাল উল্লেখ করতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১৩,৪৫৫.
ব্ল্যাক হোলের-
  1. ক) আয়তন বেশি ও ভর কম
  2. খ) আয়তন ও ভর কম
  3. গ) আয়তন কম‌ ও ভর বেশি
  4. ঘ) আয়তন ও ভর বেশি
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণগহ্বর বা কৃষ্ণ বিবর (ব্ল্যাক হােল নামেও পরিচিত) মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি বিষয়ক একটি বহুল প্রচলিত ধারণা।
এই ধারণা অনুযায়ী কৃষ্ণগহ্বর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তড়িৎচুম্বকীয়‌ বিকিরণকেও (যেমন: আলাে) নয়।
প্রকৃতপক্ষে এই স্থানে সাধারণ মহাকর্ষীয় বলের মান এত বেশি হয়ে যায় যে এটি মহাবিশ্বের অন্য সকল বলকে অতিক্রম করে। ফলে এ থেকে কোন কিছুই পালাতে পারে না।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রথম তৎকালীন মহাকর্ষের ধারণার ভিত্তিতে কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্বের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

১৩,৪৫৬.
সামান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন তাপমাত্রায় ও চাপে ইথিনকে উত্তপ্ত করে পলিথিন তৈরি করা হয়?
  1. 100 atm চাপে ও 100°C তাপমাত্রায়
  2. 100 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
  3. 1000 atm চাপে ও 100°C তাপমাত্রায়
  4. 1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অনেকগুলো ক্ষুদ্র অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে বৃহৎ অণু গঠন করে সেই বিক্রিয়াকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া (Polymerization Reaction) বলে।
- পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় যে ছোট অণুগুলো অংশগ্রহণ করে তাদের প্রত্যেকটিকে এক একটি মনোমার (monomer) বলে এবং বিক্রিয়ার ফলে যে বৃহৎ অণু গঠিত হয় তাকে পলিমার অণু বলে।
- দুইটি মনোমার একসাথে যুক্ত হলে তাকে বলে ডাইমার (dimer), তিনটি মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে তৈরি হয় ট্রাইমার (trimer)।
- এভাবে অনেকগুলো মনোমার এক সাথে যুক্ত হয়ে পলিমারের সৃষ্টি হয়।
- খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান প্রোটিন, এই প্রোটিনও অ্যামাইনো এসিডের একটি পলিমার। 
- পলিমারকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিভাগ করা যেতে পারে।
- তবে গঠন প্রকৃতি অনুযায়ী পলিমার দুই প্রকার।
যথা- সংযোজন বা যুত পলিমার এবং ঘনীভবন পলিমার। 

সংযোজন বা যুত পলিমার (Addition Polymer): 
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় মনোমার অণুগুলো সরাসরি একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকলবিশিষ্ট পলিমার গঠন করে তাকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলা হয়।
- সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় গঠিত পলিমারকে সংযোজন পলিমার বলে।

সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া: 
- সামান্য পরিমাণ অক্সিজেনের উপস্থিতিতে 1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায় ইথিনকে উত্তপ্ত করলে পলিথিন উৎপন্ন হয়
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়ায় ইথিনকে মনোমার বলা হয়।


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৫৭.
কোন উপাদানের ঘাটতিতে পাতার শীর্ষ ও কিনারায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়? 
  1. ফসফরাস 
  2. পটাশিয়াম 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

পটাশিয়াম: 
- পটাশিয়ামের (K) অভাবে পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 

ফসফরাস: 
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। 
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়, এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৪৫৮.
মানুষের স্পাইনাল কর্ডের ওজন কত?
  1. ক) ১৮ গ্রাম
  2. খ) ৩৫ গ্রাম
  3. গ) ৪৭ গ্রাম
  4. ঘ) ৫২ গ্রাম
ব্যাখ্যা
The spinal cord is about 43 cm long in adult women and 45 cm long in adult men and weighs about 35-40 grams.
সূত্রঃ ৩০তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১৩,৪৫৯.
কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশনের জন্য কোন ধরনের ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়?
  1. স্টেপ-ডাউন ট্রানফরমার
  2. তাড়িত চৌম্বক ট্রান্সফরমার
  3. আধুনিক ট্রান্সফরমার
  4. স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

• কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ পরিবহন সাধারণত উচ্চ ভোল্টেজে করা হয় যাতে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় শক্তির ক্ষতি কমানো যায়। এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে লোড সেন্টারের দিকে বিদ্যুৎ পাঠানোর আগে ভোল্টেজকে বৃদ্ধি করতে হয়। এই ক্ষেত্রে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ইনপুট ভোল্টেজকে আউটপুটে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে, যার ফলে লম্বা দূরত্বে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় লাইন রোধজনিত শক্তি ক্ষতি অনেক কম হয়। এরপর গন্তব্যে পৌঁছালে ভোল্টেজকে ব্যবহার উপযোগী মাত্রায় নামানোর জন্য স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়। সুতরাং কুমিল্লা থেকে বগুড়ায় বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য প্রধানত স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহৃত হয়।
 
ট্রান্সফর্মার:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রুপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- তড়িৎ চৌম্বক আবেশ এর উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়।

ট্রান্সফর্মার দুই প্রকার:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

• স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারনে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায় তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে।
- বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য এই ধরনের ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হয়।

• স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার:
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
অর্থাৎ, স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই।

১৩,৪৬০.
সারিন কী?
  1. ক) এক ধরনের ফ্লু ভাইরাস
  2. খ) সিরিয় বিদ্রোহী গ্রুপ
  3. গ) এক প্রকার রাসায়নিক অস্ত্র
  4. ঘ) এক ধরনের ভাইরাস
ব্যাখ্যা
সারিন অত্যন্ত বিষাক্ত এক ধরনের বর্ণ ও গন্ধহীন তরল গ্যাসীয় পদার্থ যা রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এটি স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে অকার্যকর করে দেয়।
১৩,৪৬১.
লোহিত রক্তকণিকার প্রধান কাজ কোনটি?
  1. ক) অক্সিজেন পরিবহন করা
  2. খ) রোগ প্রতিরোধ করা
  3. গ) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৬২.
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম-
  1. ক) ৬ লক্ষ বছর
  2. খ) ৬ হাজার বছর
  3. গ) ৬ শত বছর
  4. ঘ) ৬ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলার জন্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 ব্যবহার করা হয় যার লাইফটাইম ৬ ঘন্টা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১৩,৪৬৩.
ঝড়, কুয়াশা ও বজ্রপাত বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সৃষ্টি হয়? 
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল 
  2. ট্রপোমণ্ডল 
  3. তাপমণ্ডল 
  4. মেসোমণ্ডল 
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। 
যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল। 

ট্রপোমণ্ডল: 
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোমণ্ডল। 
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে। 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে সৃষ্টি হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৩,৪৬৪.
মানুষের সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১২ টি
  2. খ) ১২ জোড়া
  3. গ) ২৭ জোড়া
  4. ঘ) ৩১ জোড়া
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া এবং সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৬৫.
বংশগতি বিদ্যার জনক কে? 
  1. ল্যামার্ক
  2. জেমস ওয়াটসন
  3. চার্লস ডারউইন
  4. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বংশগতি বিদ্যার জনক বলা হয়। 
- তিনি ১৮৬৬ সালে মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণাকালে বংশগতির ধারক ও বাহকরূপে যে ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছিলেন সেটি আজ 'জিন' রূপে পরিচিত হয়েছে। 
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য উদ্ভিদের বংশধরদের মধ্যে কিভাবে প্রকাশ পায়, সে সম্বন্ধে তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যবান তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। 

- বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর কাঠামোর বর্ণনা দেন৷ 
- ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। 
- ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৬৬.
লেন্সের ক্ষমতা -2D বলতে কোনটি নির্দেশ করে?
  1. ক) লেন্সটি অবতল
  2. খ) এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলােকরশ্নিকে অপসারিত করে
  3. গ) আলোকরশ্মি লেন্স থেকে ৫০ সেমি দূরের কোনাে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

লেন্সের ক্ষমতা -2D হলে বুঝতে হবে লেন্সটি অবতল এবং এটি প্রধান অক্ষের সমান্তরাল একগুচ্ছ আলােকরশ্মিকে এমনভাবে অপসারিত করে যে, এগুলাে কোনাে লেন্স থেকে ৫০ সেমি দূরের কোনাে বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়।
উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান

১৩,৪৬৭.
একটি ঘড়ির কাঁটা নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে। এ ধরনের গতি কোন শ্রেণিভুক্ত?
  1. সরল রৈখিক গতি
  2. বক্র রৈখিক গতি
  3. ঘূর্ণন গতি
  4. পর্যায় গতি
ব্যাখ্যা

• পর্যায় গতি — নির্দিষ্ট সময় পরপর কোনো গতি যদি একই দিক থেকে একই বিন্দু অতিক্রম করে, তাকে পর্যায় গতি বলা হয়।

• স্থিতি ও গতি:
- সময়ের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে অবস্থানের পরিবর্তন হলে গতি।
- অবস্থানের পরিবর্তন না হলে স্থিতি।
- সকল গতি ও স্থিতি আপেক্ষিক।

• গতির প্রকারভেদ:
- সরল রৈখিক গতি → বস্তু সরলরেখা বরাবর চললে।
- বক্র রৈখিক গতি → বস্তু বক্রপথে চললে।
- ঘূর্ণন গতি → নির্দিষ্ট অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণন।
- পর্যায় গতি → নির্দিষ্ট সময় পরপর একই অবস্থান ও দিক পুনরাবৃত্তি।
- দোলন গতি → পর্যায় গতির বিশেষ রূপ, যেখানে বস্তু সামনে–পিছনে গমন করে।
- যৌগিক গতি → একই সাথে একাধিক প্রকার গতি উপস্থিত থাকলে।

• অন্যান্য অপশন:
- সরল রৈখিক গতি → সোজা পথে চলাচল।
- বক্র রৈখিক গতি → বাঁকা পথে চলাচল।
- ঘূর্ণন গতি → অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘোরা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৩,৪৬৮.
মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ৩২
  3. গ) ৩৩
  4. ঘ) ৩৬ 
ব্যাখ্যা

মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা ৩২ টি।

প্রতি চোয়ালে ১৬টি করে দাঁত থাকে। এসব দাঁত চার প্রকার হয়ে থাকে। যথা-
১. কর্তন দাঁত খাবার ছোট ছোট করে কাটে।
২. ছেদন দাঁত দিয়ে মাংস ও অন্যান্য শক্ত জিনিস ছিঁড়ে ও কাটে।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত দিয়ে খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণ করা যায়।
৪. পেষণ দাঁতগুলো খাদ্যবস্তু চিবাতে ও পিষতে সাহায্য করে।

সূত্র: বিজ্ঞান বই, সপ্তম শ্রেণি। 

১৩,৪৬৯.
একমুখী প্রবাহের সংক্ষিপ্ত রূপ কী?
  1. A.C
  2. D.C
  3. V.C
  4. R.C
ব্যাখ্যা
দিক পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ ও তড়িচ্চালক শক্তি:  
- তড়িৎ কোষ থেকে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ প্রেরণ করলে তড়িৎ প্রবাহ বর্তনীর মধ্য দিয়ে সমমাত্রায় একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এ ধরনের তড়িৎ প্রবাহকে সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ (direct current) বলা হয়। 
- একমুখী প্রবাহকে সংক্ষেপে ডি.সি (D.C) বলা হয়। 
- ডি.সি ভোল্টেজের তরঙ্গরূপ সরলরেখা হয়। 

দিক পরিবর্তী প্রবাহ: 
- কোনো বর্তনীতে প্রবাহমাত্রা যদি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বারবার বিপরীত মুখী হয় এবং প্রবাহমাত্রা একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন মান প্রাপ্ত হয়, তাহলে এ ধরনের তড়িৎ প্রবাহকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ (alternating current) বলা হয়। 
- একে সংক্ষেপে এ.সি. (A.C) বলা হয়। 

দিক পরিবর্তী তড়িচ্চালক শক্তি: 
- যে তড়িচ্চালক শক্তির ক্রিয়ায় কোন বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান প্রাপ্ত হয়, সেই তড়িচ্চালক শক্তিকে দিক পরিবর্তী তড়িচ্চালক শক্তি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৭০.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি?
  1. ক) পুকুরের পানিতে
  2. খ) লেকের পানিতে
  3. গ) নদীর পানিতে
  4. ঘ) সাগরের পানিতে
ব্যাখ্যা
আবদ্ধ পানির চেয়ে চলমান পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে। এবং, সাগরের পানির চেয়ে মিঠা পানিতে অক্সিজেন বেশি থাকে।
Rapidly moving water, such as in a mountain stream or large river, tends to contain a lot of dissolved oxygen, whereas stagnant water contains less.
Source: USGS and others.
১৩,৪৭১.
নিম্নের কোন রােগটি RNA ভাইরাসঘটিত নয়?
  1. ক) ডেঙ্গুজ্বর
  2. খ) কোভিড-১৯
  3. গ) স্মলপক্স
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র খ) স্মলপক্স DNA টাইপ ভাইরাসঘটিত।

Smallpox বা গুটিবসন্ত মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে।

- WHO ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত নির্মূলের ঘোষণা দেয়।
- গুটিবসন্ত হয় - ভেরিওলা ভাইরাসের কারনে। (DNA Type)
- সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে সোমালিয়াতে দেখা গিয়েছিল।
 
=====
অপরদিকে,
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- এর ভাইরাসের নাম Dengue virus(DENV)
- ইহা একটি RNA ভাইরাস
- এর বাহক Aedes aegypti.
 
- COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস। 
- এটি এক ধরনের RNA ভাইরাস
 
উৎস : জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট।
১৩,৪৭২.
বটের বীজের বিস্তার ঘটে কিসের সাহায্যে?
  1. ক) পাখি
  2. খ) পানি
  3. গ) বাতাস
  4. ঘ) এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন দু'প্রকার, যথা- স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন।
স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে ।
পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে অভিযোজন বলা হয়।

অভিযোজনগুলো নিম্নরূপ :
পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন : ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত। পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন— জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন : ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন— ধান।

পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন : এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। স্ত্রীফুলের বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃন্ত ছোট। পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন— পাতাশ্যাওলা ।

প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন : এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়। তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। যেমন— কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
বটের বিস্তার ঘটে পাখির সাহায্যে। 

উৎস: জীবিবিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১৩,৪৭৩.
একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র এবং নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য কোন বৈচিত্র্যের উদাহরণ? 
  1. জীবাশ্ম বৈচিত্র্য
  2. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

- পুকুর ও নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য হলো বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem Diversity)-এর উদাহরণ, কারণ এটি বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থল (যেমন পুকুর ও নদী) এবং সেগুলোর মধ্যে থাকা জীব সম্প্রদায় ও প্রক্রিয়ার ভিন্নতাকে বোঝায়। 

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 

- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। 
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়, এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। 
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। 
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। 
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। 
- এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪৭৪.
Endoscope যন্ত্রে আলোক পরিবহনের জন্য ভৌত বিজ্ঞানের কোন নীতি প্রয়োগ করা হয়?
  1. Echo
  2. Refraction
  3. Reflection
  4. Total internal reflection
ব্যাখ্যা

◉ এন্ডোস্কোপ হলো একটি চিকিৎসা-যন্ত্র, যা শরীরের ভেতরের অংশ যেমন পাকস্থলী, অন্ত্র বা অন্যান্য অঙ্গ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total internal reflection) ব্যবহৃত হয়। 

এন্ডোসকোপি: 
- এন্ডোসকোপি বলতে সাধারণভাবে কোনো কিছুর ভিতরে দেখাকে বুঝানো হয়। 
- আবার এন্ডোসকোপি বলতে চিকিৎসাজনিত কারণে বা প্রয়োজনে দেহের অভ্যন্তরস্থ কোনো অঙ্গ বা গহ্বরকে বাহির থেকে পর্যবেক্ষণ। 
- এন্ডোসকোপ যন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের ফাঁকা অঙ্গসমূহের অভ্যন্তরভাগ পরীক্ষা করা হয়। 
- এন্ডোসকোপি যন্ত্রে দুটি নল থাকে। 
- এদের একটির মধ্য দিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়। আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহ্বরে প্রবেশ করে, এই আলো রোগাক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে। 
- দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষনীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে তা দেখতে পারেন। 

- এন্ডোসকোপির মাধ্যমে চিকিৎসকগণ শরীরের অভ্যন্তরে যে কোনো ধরণের অস্বস্তিবোধ, ক্ষত, প্রদাহ এবং অস্বাভাবিক কোষবৃদ্ধি পরীক্ষা করে থাকেন। 
- বিভিন্ন অঙ্গ পরীক্ষা করার জন্য এন্ডোসকোপি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
ক. ফুসফুস, বুকের কেন্দ্রীয় বিভাজন অংশ; 
খ. পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র বা কোলন; 
গ. স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ; 
ঘ. উদর এবং পেলভিস; 
ঙ. মূত্রথলির অভ্যন্তরভাগ; 
চ. নাসাগহ্বর এবং নাকের চারপাশের সাইনাসসমূহ; 
ছ. কান ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪৭৫.
RNA -এর অন্তর্গত নয় কোনটি? 
  1. সাইটোসিন
  2. থায়ামিন
  3. ইউরাসিল
  4. অ্যাডেনিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA): 
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%। 
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট। 
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত। 
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে। 

ডিএনএ (DNA): 
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৭৬.
খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে কোন খনিজের অভাব হয় না?
  1. সেলেনিয়াম
  2. দস্তা
  3. আয়রন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P): 
- দেহে পরিমাণের দিক থেকে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরই ফসফরাসের স্থান। 
- ফসফরাসও ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের একটি প্রধান উপাদান। 
- ফসফরাস হাড়, যকৃৎ এবং রক্তরসে সঞ্চিত থাকে। 
- নিউক্লিক এসিড, নিউক্লিয় প্রোটিন তৈরি এবং শর্করা বিপাকের দ্বারা শক্তি উৎপাদনে ফসফরাস প্রধান ভূমিকা রাখে। 
- ফসফরাসের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: দানা শস্য, শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- ফসফরাসের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি। 
- ক্যালসিয়ামের মতো হাড় এবং দাঁত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ। 
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষরতা, দন্তক্ষয়- এইসব রোগ দেখা দেয়। 
- খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে ফসফরাসের অভাব হয় না। 

ক্যালসিয়াম (Ca): 

- এটি প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্তে এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি লক্ষণীয়। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, পালংশাক, কচুশাক, লালশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি এবং ফল। 
- ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৭৭.
পৃথিবীর কোথায় আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. মেরুরেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে দিনে একবার নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে। পৃথিবীর এই আবর্তন গতিই দৈনিক গতি বা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত। নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তন করতে পৃথিবীর সময় লাগে ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ এক দিন। এটিকে সৌর দিন বলে।

⇒ পৃথিবীর আহ্নিক গতি একেক জায়গায় একেক রকম হয়।
- পৃথিবীপৃষ্ঠ পুরোপুরি গোল না হওয়ায় এর পৃষ্ঠ সর্বত্র সমান নয়।
- সে কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের সব স্থানের আবর্তন বেগও সমান নয়।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- এ জন্য নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তনের বেগও সবচেয়ে বেশি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৭৮.
হিস্টোলজি হচ্ছে -
  1. ক) টিস্যুবিদ্যা
  2. খ) শারীরস্থান বিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) সাইটোলজি
ব্যাখ্যা
হিস্টোলজি - টিস্যুবিদ্যা
সাইটোলজি - কোষবিদ্যা।
এনাটমি - শারীরস্থান বিদ্যা, 
ফিজিওলজি - শারীরবিদ্যা এবং
মরফোলজি - অঙ্গসংস্থান বিদ্যা।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৭৯.
কোন পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তার তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়?
  1. তামা 
  2. রূপা 
  3. সিলিকন
  4. কাচ
ব্যাখ্যা

- সিলিকন পদার্থে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তার তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলত সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে (যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি) যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪৮০.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
ব্যাখ্যা
- মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB । 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৮১.
কোন খাদ্যে প্রোটিন বেশি?
  1. ভাত
  2. গরুর মাংস
  3. মসুর ডাল
  4. ময়দা
ব্যাখ্যা
- ডাল প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার আবার গরুর মাংসেও প্রোটিন থাকে তবে এতে চর্বির পরিমাণ বেশি বলে ডাল ই হচ্ছে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। 
- প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে প্রোটিনের পরিমান হচ্ছে ২৫.১ গ্রাম এবং গরুর মাংসে হচ্ছে ২২.৬ গ্রাম। 

সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) অনুসারে, 
- ডাল বীজে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ, 
- লাল মাংসে আমিষের পরিমাণ ১৬-১২ শতাংশ, 
- মাছে আমিষের পরিমাণ ১৮-২৫ শতাংশ এবং 
- মুরগির মাংসে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ। 

উৎস: ais.gov.bd 
১৩,৪৮২.
কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থ নয়?
  1. Fe
  2. Cu
  3. Au
  4. Quartz
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
লোহা (Fe)
তামা  (Cu)
সোনা (Au)
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,৪৮৩.
পৃথিবী থেকে নিকটতম নক্ষত্র Proxima Centauri এর দূরত্ব কত আলোকবর্ষ ?
  1. ৪.২
  2. ২.৪
  3. ৫.৬
  4. ৩.১
  5. ১.৯
ব্যাখ্যা
প্রক্সিমা সেন্টোরাই:
- সূর্যের নিকটতম বা পৃথিবী থেকে নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

⇒ ১৯১৫ সালে স্কটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট আইনেস নক্ষত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- তিনি নক্ষত্রটি 'প্রক্সিমা সেন্টোরাই' নামকরণের প্রস্তাব দেন (মূলত প্রক্সিমা সেন্টারাস)।
- পৃথিবী থেকে এটির দূরত্ব ৪.২ কোটি আলোকবর্ষ।

উল্লেখ্য,
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো রয়েছে তাদের নক্ষত্র বলা হয়।
- সূর্য এরূপ একটি নক্ষত্র।
- অর্থাৎ সূর্য ব্যতীত পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Britannica.
১৩,৪৮৪.
উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. থিওফ্রাস্টাস
  3. রবার্ট হুক
  4. উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
জীববিজ্ঞান: 
- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান। 
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক  জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। 
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে। 
- অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 
- জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি। 
যথা- 
 ১. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany): 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 

২. প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology): 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান। 
-  গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- কোষ বিদ্যার জনক রবার্ট হুক। 
- শারীর বিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৮৫.
সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ কোনটি? 
  1. ইনফ্রারেড রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি: 
- জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি। 
- গামা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা, অন্য তেজস্ক্রিয় রশ্মি আলফা ও বিটা রশ্মির চেয়ে অনেক বেশি। 
- গামা রশ্মি প্রায় কয়েক সেন্টিমিটার পর্যন্ত সীসা ভেদ করতে পারে। 
- আলট্রাভায়ােলেট বা অতিবেগুনি রশ্মি সূর্য থেকে আসে, যা তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে কম ক্ষতিকর। 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
- বিটা ও আলফা রশ্মি গামা রশ্মির তুলনায় কম ক্ষতিকর। 

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
১৩,৪৮৬.
The average salinity of sea water is ______. 
  1. 1%
  2. 2.5%
  3. 3.5%
  4. 5%
  5. None
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানি:
- সমুদ্রের পানিতে প্রায় ৩.৫% দ্রবীভূত লবণ থাকে, যা লবণাক্ততা হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
- সমুদ্রের পানি মূলত সোডিয়াম ও ক্লোরিন লবণাক্ত।
- ফলে এই দুটো মৌল একত্রিত হয়ে তৈরি করে সোডিয়াম ক্লোরাইড, যাকে আমরা বলি লবণ।
- আর সমুদ্রের পানিতে সোডিয়াম ও ক্লোরিন আয়ন মিলে তৈরি হয় লবণ।
- এই দুটোর পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতেও লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
- লবণের উপস্থিতির জন্যে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব অনেক বেশি।

তথ্যসূত্র -
১. নাসা। [লিঙ্ক]
২. National Oceanic and Atmospheric Administration. [Link]
৩. ব্রিটানিকা। [Link]
১৩,৪৮৭.
'হুপিং কাশি' রোগের ভ্যাকসিন কোনটি?
  1. OPV
  2. BCG
  3. DPT
  4. Mumps
ব্যাখ্যা
• 'হুপিং কাশি' রোগের ভ্যাকসিন DPT.

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষ্মা: BCG
- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার: DPT
- পোলিও: OPV
- হাম, রুবেলা: MR ভ্যাকসিন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৩,৪৮৮.
মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় -
  1. ক) শব্দশক্তি
  2. খ) তড়িৎশক্তি
  3. গ) আলোকশক্তি
  4. ঘ) চৌম্বকশক্তি
ব্যাখ্যা
• তড়িৎশক্তি (বা বিদ্যুৎ শক্তি) মোবাইল টেলিফোনের লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- মোবাইল টেলিফোন সিস্টেমে, আমাদের কথাবার্তা (শব্দ সিগন্যাল) প্রথমে বিদ্যুৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত হয় এবং তারপর এই বিদ্যুৎ সিগন্যাল ওয়্যারলেস মাধ্যমে রেডিও তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।
- টেলিফোনের লাইনের মধ্যে (যেমন ল্যান্ডলাইন) সরাসরি বিদ্যুৎ সিগন্যাল প্রবাহিত হয়।

মোবাইল টেলিফোনের সিস্টেমে যে তড়িৎশক্তি প্রবাহিত হয়, তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:

১. ভয়েস টু ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল রূপান্তর:
- যখন আপনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন, তখন আপনার কণ্ঠস্বর (শব্দ তরঙ্গ) মোবাইলের মাইক্রোফোনে পড়ে। মাইক্রোফোন এই শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।

২. অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর:
- এই তড়িৎ সিগন্যাল প্রথমে অ্যানালগ ফরম্যাটে থাকে। ফোনের ভেতরে ADC (Analog-to-Digital Converter) এই অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে (বাইনারি কোড - 0 এবং 1 এর সিরিজ) রূপান্তরিত করে।

৩. ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং:
- এই ডিজিটাল সিগন্যাল এরপর প্রসেস হয় - এর মধ্যে কম্প্রেশন (ডাটা সাইজ কমানো), এনক্রিপশন (সুরক্ষার জন্য), এবং সিগন্যাল এনহ্যান্সমেন্ট (শব্দের মান উন্নত করা) অন্তর্ভুক্ত।

৪. রেডিও তরঙ্গে রূপান্তর:
- এই প্রক্রিয়াকৃত ডিজিটাল সিগন্যাল পরে মোবাইলের ট্রান্সমিটার দ্বারা রেডিও তরঙ্গে (বিদ্যুতচুম্বকীয় তরঙ্গ) রূপান্তরিত হয়, যা মোবাইল টাওয়ারে প্রেরিত হয়।

৫. সিগন্যাল ট্রান্সমিশন:
- মোবাইল টাওয়ার এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং তারপর তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- এই তড়িৎ সিগন্যাল টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় - যা ফাইবার অপটিক কেবল, কপার কেবল বা মাইক্রোওয়েভ লিংকের মাধ্যমে হতে পারে।
- নেটওয়ার্কের মধ্যে, সিগন্যাল মোবাইল স্যুইচিং সেন্টার (MSC) দ্বারা প্রক্রিয়াকৃত হয়, যেখানে সিগন্যাল রাউটিং ও প্রসেসিং হয়।

৬. প্রাপকের দিকে:
- প্রাপকের নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ার থেকে আবার রেডিও তরঙ্গ হিসেবে সিগন্যাল প্রেরিত হয়।
- প্রাপকের মোবাইল ফোন এই রেডিও তরঙ্গ গ্রহণ করে এবং আবার তড়িৎ সিগন্যালে রূপান্তরিত করে।
- ডিজিটাল থেকে অ্যানালগ রূপান্তরের পর, স্পিকারের মাধ্যমে এই তড়িৎ সিগন্যাল আবার শব্দে পরিণত হয়।
- তাই, সমগ্র প্রক্রিয়াটিতে শব্দ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→রেডিও তরঙ্গ→তড়িৎ→শব্দ এই রূপান্তর চক্র চলে।
- যদিও রেডিও তরঙ্গ ওয়্যারলেস মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, তবুও নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে সিগন্যাল তড়িৎশক্তি হিসেবেই প্রবাহিত হয়।
১৩,৪৮৯.
কোষ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয়োলাস অদৃশ্য হয়?
  1. ক) প্রোফেজ
  2. খ) অ্যানাফেজ
  3. গ) মেটাফেজ
  4. ঘ) প্রোমেটাফেজ
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়োলাস
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত ক্ষুদ্র, অপেক্ষাকৃত ঘন, গোলাকার বস্তুটি হচ্ছে নিউক্লিয়োলাস। 
- বিজ্ঞানী ফন্টানা ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে এটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করলেও বাউম্যান ১৮৪০ সালে এর নামকরণ করেন। 
- নিউক্লিয়োলাসের আকার কোষের কর্মক্ষমতার উপর নির্ভর করে। 
- সাধারণত প্রত্যেক কোষে একটি নিউক্লিয়োলাস থাকে তবে প্রজাতি ভেদে এর সংখ্যা দুটি বা এর বেশিও হতে পারে। 
- যে সকল কোষ অধিক মাত্রায় প্রোটিন সংশ্লেষণ করে সে সকল কোষে নিউক্লিয়োলাস বড় এবং একাধিক হয়। 

- নিউক্লিয়োলাস নির্দিষ্ট ক্রোমোসোমের নির্দিষ্ট অংশে সংযুক্ত থাকে। 
- ক্রোমোসোমের যে স্থানটিতে এটি সংযুক্ত থাকে সে স্থানটিকে নিউক্লিয়ার অর্গানাইজিং রিজিয়ন (NOR) বলা হয়। 
- কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় নিউক্লিয়োলাস অদৃশ্য হয় এবং বিভাজন শেষে প্রতিটি অপত্য নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়োলাসের আবির্ভাব ঘটে। 
- নিউক্লিয়োলাস নিউক্লিক অ্যাসিড এর ভান্ডার হিসেবে কাজ করে, রাইবোসোম প্রস্তুত করে, প্রোটিন ও RNA সংশ্লেষণ করে এবং জিন হতে নির্দিষ্ট বার্তা গ্রহণ করে সাইটোপ্লাজমে নিয়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৯০.
ইস্টের সংশ্লিষ্টতা নেই কোন শিল্পে?
  1. মদ্য শিল্পে (Wine industry)
  2. রুটি শিল্পে (Bakery)
  3. সাইট্রিক এসিড উৎপাদন
  4. এক কোষীয় প্রোটিন (Single-cell-protein) তৈরিতে
ব্যাখ্যা
- ইস্ট একটি ছত্রাক জাতীয় এককোষী অণুজীব। 
- বেকারি ও মদ্য শিল্পে ইথানল প্রস্তুতিতে ইস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- এছাড়াও এক কোষীয় প্রোটিন তৈরীতে ঈস্ট ব্যবহৃত হয়। 
- ইস্ট ভিটামিনসমৃদ্ধ বলে ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- এছাড়া খাদ্যোপযোগী এককোষীয় প্রোটিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। 
- সাইট্রিক এসিড বা ভিটামিন সি উৎপাদনে ইস্টের ব্যবহার নেই। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৯১.
Which has a higher diffusion rate?
  1. ক) CO2
  2. খ) H2
  3. গ) N2
  4. ঘ) O2
ব্যাখ্যা
ব্যাপন:

- হাইড্রোজেনের (H2) ব্যাপন হার বেশি।
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম ।
- H2, He, N2, O2 এবং CO2 গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H2 এর আণবিক ভর কম। তাই H2 এর ব্যাপন হার বেশি হবে এবং CO2 এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার কম হবে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৯২.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার ফলে কী ঘটে? 
  1. কোষের পানি কমে না 
  2. দ্রাবক স্থির থাকে 
  3. দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
  4.  দ্রাবকের ঘনত্ব বাড়ে না 
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৪৯৩.
প্রাকৃতিক গ্যাসের কত শতাংশ ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১৮.৭৫%
  2. খ) ২১.৭৫%
  3. গ) ২৫.৫০%
  4. ঘ) ৩৩.২৫%
ব্যাখ্যা
-ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ২১.৭৫% ব্যবহৃত হয়।  
প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত কম সংখ্যক কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ।  এর মূল উপাদান হচ্ছে মিথেন (৯০%)।
- প্রাকৃতিক  গ্যাস ব্যবহারের দুটি ক্ষেত্র হল :- (ক) জ্বালানি ও (খ) শিল্পের কাঁচামাল। 
- ক্ষেত্রভেদে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার নিন্মরুপ- 
ক) বিদ্যুৎ উৎপাদন =৪৬.৫১%
খ) ইউরিয়া সার উৎপাদন = ২১.৭৫%
গ) অন্যান্য শিল্প কারখানা = ১৮.৯৪%
ঘ) গৃহস্থলী কাজে = ১১.৬৫%
ঙ) পরিবহন খাতে = ১.১৫% 

উৎস- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম- বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি
১৩,৪৯৪.
মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ সবচেয়ে বেশি কোথায়?
  1. ক) ভূ - পৃষ্ঠে
  2. খ) ভূ - কেন্দ্রে
  3. গ) ভূ - পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার উপরে
  4. ঘ) ভূ - পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার নিচে
ব্যাখ্যা
• কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে।
- আমরা জানি, W = mg এখানে, g = অভিকর্ষজ ত্বরণ। যার মান 9.8.
- এই g এর মান ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় g এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম। মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
১৩,৪৯৫.
মানব চোখের লেন্স কোন ধরনের হয়ে থাকে? 
  1. উত্তল
  2. সমতল
  3. অবতল
  4. দ্বি-উত্তল
ব্যাখ্যা
- মানুষের চোখের গঠন এবং কার্যাবলী অনেকটা ক্যামেরার মতো।
- মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল
- চোখের আলোকসংবেদী অংশের নাম রেটিনা।
- কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিম্ব গঠন করে।
- রেটিনায় গঠিত বিম্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত।
- রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে।
- মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,৪৯৬.
নিচের কোনটি লব্ধ রাশির উদাহরণ?
  1. দৈর্ঘ্য 
  2. ভর 
  3. তাপমাত্রা
  4. বল 
ব্যাখ্যা

রাশি এবং তাদের পরিমাপ: 
- প্রকৃত বিজ্ঞানে সবকিছুরই পরিমাপ করতে হয়; বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরিমাপ করে সব কিছুকে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা। 
- এই জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলে, এই ভৌতজগতে অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা পরিমাপ করা সম্ভব। 
যেমন- কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আয়তন, ওজন, তাপমাত্রা, রং, কাঠিন্য, তার অবস্থান, বেগ, তার ভেতরকার উপাদান, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, ঘনত্ব, আপেক্ষিক তাপ, চাপ গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক ইত্যাদি।
অর্থাৎ, ভৌতজগতে রাশিমালার কোনো শেষ নেই। 
- এই অসংখ্য রাশিমালা পরিমাপ করার জন্য অসংখ্য রাশির সংজ্ঞা আর অসংখ্য একক তৈরি করে রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়; শুধুমাত্র সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায়। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায় সে সব রাশিকে বলে মৌলিক রাশি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা। 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এই সাতটি একককে বলে এস.আই (S.I) একক। 

লব্ধ রাশি: 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি ব্যবহার করে যখন অন্য কোনো রাশি প্রকাশ করা হয়, তখন তালে বলে লব্ধ রাশি। 
যেমন- কাজ, ক্ষমতা, বল, বেগ, ত্বরণ, ঘনত্ব ইত্যাদি হচ্ছে লব্ধ রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,৪৯৭.
প্রাকৃতিক কোন উৎস হতে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়?
  1. নদী
  2. সাগর
  3. হ্রদ
  4. বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
- মৃদু পানির সবচেয়ে বড় উৎস হলো বৃষ্টির পানি। 
- সাগরের পানিতে লবণ থাকে বলে এটি মৃদু বা মিষ্টি পানির উৎস নয়। 
- নদীর পানি ও বিলের পানি মৃদু হলেও এসব মূলত বৃষ্টিপাতের উপরে নির্ভরশীল। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৪৯৮.
ধাতুর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. ধাতু তাপ সুপরিবাহী কিন্তু বিদ্যুৎ অপরিবাহী
  2. ধাতুর গলনাঙ্ক কম ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  3. ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি
  4. ধাতু আঘাতে টুন টুন শব্দ তৈরি করে না
ব্যাখ্যা
ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৪৯৯.
দেহের মোট পানির কত শতাংশ কোষের মধ্যে থাকে?
  1. ২৫%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ৯০%
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পরিমাণের দিক থেকে দেহের প্রধান গঠন উপাদান পানি। 
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের প্রায় ৭০% পানি। 
- দেহের প্রতিটি কোষেই পানি থাকে, দেহে মোট পানির ৫০% থাকে কোষের মধ্যে। অবশিষ্ট পানি কোষের বাইরে দুই কোষের মধ্যবর্তী স্থান, রক্ত, লসিকা, কলারস ইত্যাদিতে অবস্থান করে। 
- বিশুদ্ধ খাবার পানি, ডাবের পানি, দুধ, বিভিন্ন রসালো ফল, শাক সবজি পানির প্রাকৃতিক উৎস। 
- প্রস্তুতকৃত বা রন্ধনকৃত খাবারের মধ্যে স্যুপ, সরবত, চা, ঘোল, লাচ্ছি, ফলের রস ইত্যাদি পানীয় জাতীয় খাদ্য। 

কাজ: 
১। পানি খাদ্য পরিপাক ও শোষণে সহাযতা করে। 
২। পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক অংশ হতে অন্য অংশে বহন করে নিয়ে যায়। 
৩। দেহের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়। 
৪। বিপাক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে দেহ হতে বের করে দেয়। 
৫। দেহ হতে ঘাম নিঃসরণ করে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
৬। রক্তের তারল্য বজায় রাখে। 
৭। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
৮। দেহ তরতাজা ও সজীব রাখে। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
১। কোনো কারণে দেহ হতে প্রচুর পানি বের হয়ে গেলে (বমি, ডায়রিয়া, কলেরা, ঘাম) দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। 
২। পানিশূন্যতায় ঠোঁট শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যায়, ত্বক ঢিলা হয়ে, কুঁচকে আসে ইত্যাদি। 
৩। দেহের পরিপাক, শোষণ ও বিপাক ব্যহত হয়। 
৪। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। 
৫। রক্তের তারল্য কমে যায়। 
৬। মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৫০০.
উদ্ভিজ্জ আমিষ কোনটি?
  1. ক) ছানা
  2. খ) মাছ
  3. গ) বাদাম
  4. ঘ) পনির
ব্যাখ্যা
উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের৷ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ৷ প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।