বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৩৩ / ১৪০ · ১৩,২০১১৩,৩০০ / ১৪,০৮০

১৩,২০১.
আয়োডিনের সবচেয়ে ভালো উৎস কোনটি? 
  1. ডাল 
  2. শাকসবজি
  3. বাদাম 
  4. সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের ভালো উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২০২.
কোন রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না?
  1. ক) অতিবেগুনী রশ্মি
  2. খ) আলফা রশ্মি
  3. গ) বিটা রশ্মি
  4. ঘ) গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (γ-রশ্মি):
প্রকৃতি:
- গামা রশ্মি সাধারণ অর্থে কোন কণিকা নয়, এটি সাধারণ আলোকের ন্যায় তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ।
- α-কণা বা β-কণা বিচ্ছুরণের পর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে শক্তির পূর্ণবিন্যাসের ফলে γ-রশ্মির উদ্ভব ঘটে।
- এদের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য খুবই কম, এমনকি রঞ্জন রশ্মি অপেক্ষাও কম হয়।
বেগ:
- তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বলে এদের গতিবেগ সেকেন্ডে 186000 মাইল বা 3 × 108 km। 
বায়ুর আয়নীকরণ:
- এরা প্রধানত পরোক্ষভাবে পদার্থকে আয়নিত করে।
- বহু দীর্ঘ পথে ঐ আয়নীকরণ সংঘটিত হয় বলে গামা রশ্মির আপেক্ষিক আয়নীকরণ ক্ষমতা খুব কম। 
ছেদন ক্ষমতা:
- গামা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা α-কণার চেয়ে 10,000 গুণ বেশি।
- রঞ্জন রশ্মির ন্যায় তা বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে।
জীবকোষের উপর ক্রিয়া:
- জীবন্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে। 
- গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) বিকিরণের ফলে মৌলের নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না
- কারণ গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির (γ-রশ্মি) কোন ভর বা চার্জ নেই। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
১৩,২০৩.
মাত্রা সমীকরণ প্রকাশে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) ( )
  2. খ) { }
  3. গ) [ ]
  4. ঘ) “ ”
ব্যাখ্যা
যে সমীকরণ মৌলিক একক এবং লব্ধ এককের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে মাত্রা সমীকরণ বলে।
উদাহরণ : বলের মাত্রা সমীকরণ, [F] = [MLT-2
মাত্রা সমীকরণ প্রকাশে ৩য় বন্ধনী [ ] ব্যবহার করা হয়। 

উৎসঃ ৯ম শ্রেণি পদার্থ বিজ্ঞান বই
১৩,২০৪.
ফোটনের ধর্ম নয়-
  1. ক) এটি চার্জহীন
  2. খ) এর স্থিতি ভর শূন্য
  3. গ) এর ভরবেগ আছে
  4. ঘ) এটি সহজেই আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা
ফোটনের কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যঃ
পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি কোন বিকিরণের ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে, ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়, ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য, প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে, ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই, ফোটন এর কণা তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে, এদের আয়নিত করা যায় না।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র,
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,২০৫.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ
  1. ক) ৩৩৪ মি/সে
  2. খ) ১৪৯৩ মি/সে
  3. গ) ৫১৩০ মি/সে
  4. ঘ) কোনো বেগ নেই
ব্যাখ্যা
শব্দ মাধ্যম ছাড়া প্রবাহিত হতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের কোনো বেগ নেই। শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০ মি/সে ও লেখা যাবে না৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৩,২০৬.
কেন্দ্রাতিগ শক্তির ফলাফল -
  1. মূখ্য জোয়ার
  2. অমাবস্যা ও পূর্ণিমা
  3. গৌণ জোয়ার
  4. ভূ-পৃষ্ঠের জলরাশি কেন্দ্র থেকে বাইরে প্রবাহিত হওয়া
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব (Centrifugal Force):
- মহাকর্ষ শক্তির মত ঘূর্ণনশীল পৃথিবী পৃষ্ঠে যে কেন্দ্রাতিগ শক্তি উৎপন্ন হয় সেটিও জোয়ার ভাঁটা উৎপত্তির কারণ।
- কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে গৌণ জোয়ার সৃষ্টি হয়।
- পৃথিবী যখন তার অক্ষের উপর ঘুরতে থাকে তখন একটি বিপরীত শক্তি এর পৃষ্ঠ থেকে বিপরীত দিকে নিয়ে যেতে চায়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বৃষ্টির পানিতে পূর্ণ কোনো রাস্তৃা দিয়ে কোনো যানবাহন যদি খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়, তখন চাকার প্রভাবে ঐ পানি দূরে ছিটকে পরে।

অনুরূপভাবে,
- পৃথিবী শুধু নিজ অক্ষেই ঘুরছে না। সেই সাথে অভিকর্ষ শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু নিজ অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে।
- আবার আরেকটি শক্তি কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে যা সবকিছু বাইরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই শক্তিকেই বলা হয় কেন্দ্রাতিগ শক্তি বা বিকর্ষণ শক্তি।
- এই কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণেই ভূ-পৃষ্ঠের জলরাশি বাইরের দিকে প্রবাহিত হয় এবং জোয়ার ভাঁটার সৃষ্টি হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১৩,২০৭.
________ মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জন হুইলার
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণগহব্বর (Black Hole):
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম। ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- একটি মিল্কীওয়েতে ১০০ মিলিয়নের বেশি ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে।

- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয় Event Horizon Telescope (EHT).

উৎস: নাসা ও ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১৩,২০৮.
পারকিনসন রোগের লক্ষণ নয় কোনটি?
  1. সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা
  2. ঘনঘন পাতলা পায়খানা
  3. মাংসপেশির কার্যকারিতা হ্রাস
  4. নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া
ব্যাখ্যা
• ঘনঘন পাতলা পায়খানা হওয়া পারকিনসন রোগের লক্ষণ নয়। 

• পারকিনসন:
- পারকিনসন রোগটি স্নায়ুর ক্ষয়জনিত রোগ।পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

• এ রোগ সাধারণত 50 বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়।
- স্নায়ু কোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন।
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।

• পারকিনসন রোগের লক্ষণ:
- রোগীর হাত-পা কাঁপতে থাকে। ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়।
- চোখের পাতার কাঁপুনি।
- কোষ্ঠকাঠিন্য।
- খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া।
- সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা।
- কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া।
- নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৩,২০৯.
নিচের কোন খনিজ পদার্থটি একটি মাত্র মৌলিক পদার্থ দ্বারা গঠিত?
  1. ক) হীরা
  2. খ) গন্ধক
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সোনা, হীরা এবং গন্ধক- এরা একটি মাত্র মৌলিক পদার্থ  দিয়ে গঠিত খনিজ পদার্থ। 

- এই তিনটি পদার্থকেই ভু-গর্ভ মৌল হিসেবে পাওয়া যায়। 
- অপরদিকে, অক্সিজেন,  লোহা এবং ফেরিক অক্সাইড দুই বা ততোধিক রাসায়নিক সংযোগে গঠিত খনিজ পদার্থ।  
- ভূত্বকের গভীর থেকে যা তোলা হয় তাই খনিজ, ব্যাপক অর্থে, বিভিন্ন প্রকার শিলার গঠন উপাদানই খনিজ।

খনিজ পদার্থের ব্যবহারের দিকসমূহ- 
১. ম্যাগনেটাইট লোহা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
২. চুনাপাথর ঘরবাড়ি, সিমেন্ট, সোডা গ্লাস, লোহা ও স্টিল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলে চুনাপাথর ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমিত করা হয়।
৩. কাচ, সিরিচ কাগজ, রেডিও, ঘড়ি তৈরিতে কোয়ার্টজ ব্যবহৃত হয়।
৪. গহনা ও ধাতব মুদ্রা তৈরিতে সিলভার বা রূপা ব্যবহার করা হয়।
৫. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে মাইকা ব্যবহার করা হয়।
৬. সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামাল তৈরিতে জিপসাম ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: ৯ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২১০.
অর্ধপরিবাহীর রোধ ও তাপমাত্রার সম্পর্ক কেমন? 
  1. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ বাড়ে
  2. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ হ্রাস পায়
  3. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ দ্বিগুণ হয়
  4. তাপমাত্রা বাড়লে রোধ অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্তরকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতুও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

- অর্ধপরিবাহীর কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পাল্লা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২১১.
সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে কোন ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) Na2O
  2. খ) ZnO
  3. গ) Al2O3
  4. ঘ) CuO
ব্যাখ্যা
• সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে ব্যবহৃত পার্টিকেল হচ্ছে জিঙ্ক অক্সাইড (ZnO)।

ন্যানো পার্টিকেল বা ন্যানো কণা:
ন্যানো শব্দের সাধারণ অর্থ হলো 'খুবই ক্ষুদ্র'; যেমন, সংখ্যার একক মানের 1x 10-9 বোঝায় এবং মিটার এককে এর প্রতীক হলো 1nm = 10-9m.
ন্যানোস্কেল সিস্টেম বলতে ক্ষুদ্রতম কণার প্রস্থ 1nm থেকে 50mm পরিসর হলে তাকে ন্যানো কণা বলে।

ন্যানো কণার শ্রেণিবিভাগ:
১. ন্যানো-লেয়ার (nanolayer): ন্যানো স্কেল মতে One dimension বা একমাত্রিক বা রৈখিক বস্তুকণার পরিসর (range) 1nm - 100nm হলে, এদেরকে ন্যানো-লেয়ার (nanolayer) বলে।
২. ন্যানো-টিউব: ন্যানো স্কেল মতে, 1nm-100nm এর দ্বিমাত্রিক (বা two dimensions) ক্ষুদ্রকণার নাম হলো ন্যানো-টিউব বা ন্যানো-ওয়্যার (nanotube বা, nanowire)
৩. ন্যানো পার্টিকেল: ন্যানো স্কেল মতে, 1nm-100nm এর ত্রিমাত্রিক ক্ষুদ্রকণাকে ন্যানো পার্টিকেল বলে।


• পদার্থের স্বাভাবিক অবস্থায় বস্তুর স্থূলতা বা পরিমাণ ভৌত ধর্মকে প্রভাবিত করে না; কিন্তু ন্যানো পার্টিকেলের আকার ছোট বা বড় হলে এদের ভৌত ধর্মসমূহে বিশেষত অপটিকেল (optical), চুম্বকীয় (magnetic), বৈদ্যুতিক (electrical), যান্ত্রিক (mechanical) ইত্যাদি ধর্মে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়। এর মূলে রয়েছে ন্যানো কণার তলের ক্ষেত্রফল (surface area) পদার্থের স্বাভাবিক স্থল অবস্থা থেকে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। যেমন,

(a) সাধারণ অবস্থায় সোনার বর্ণ হলো সোনালী হলুদ এবং সিলিকন হলো ধূসর বর্ণের। কিন্তু ন্যানো আকারে সোনার ও সিলিকনের বর্ণ হলো লাল।

(b) সাধারণ অবস্থায় স্বর্ণের গলনাঙ্ক হলো 1064°C; কিন্তু 2.5 nm আকারের স্বর্ণের গলনাঙ্ক হয় প্রায় 300°C.
(c) ফটোভোল্টিক সেলে (Photovoltic cell) সৌর রশ্মির শোষণের পরিমাণ ঐ সেলের ভেতরের পদার্থের আকারের ওপর নির্ভর করে। এতে সাধারণ অবস্থার পদার্থ যে পরিমাণ সৌর রশ্মি শোষণ করে, ন্যানো কণা যত ছোট হয়। ততো বেশি পরিমাণে সৌর রশ্মি শোষণ করতে পারে।

(d) আবার ZnO স্বাভাবিক অবস্থায় UV রশ্মি যে পরিমাণ প্রতিহত করে এর চেয়ে ন্যানো কণা অবস্থায় ZnO অনেক বেশি UV রশ্মি প্রতিহত করে। এজন্য ZnO ন্যানো কণা অবস্থায় 'Sun-screen lotion' তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

(e) সাধারণত অদ্রবণীয় কঠিন বস্তুর গুঁড়া তরল পদার্থে মিশ্রিত করলে ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে ঐ কঠিন বস্তুর গুঁড়া তরলে ভাসবে অথবা তলায় পড়ে জমা হবে। কিন্তু ন্যানো স্কেলের সূক্ষ্ম গুঁড়া বিস্তারণ বল, আয়ন ডাইপোল সম্পর্ক মতে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সাসপেনশন অবস্থায় থাকে।

(f) ন্যানো কণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌতধর্ম হলো চুম্বকীয় ধর্ম ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ধর্ম। যেমন ফেরো-ইলেকট্রিক কঠিন পদার্থ 10 nm এর ছোট আকারে থাকলে কক্ষ তাপমাত্রার তাপীয় শক্তি ব্যবহার করে সুপার প্যারা ম্যাগনেটিজম ধর্ম প্রকাশ করে। তখন এসব ন্যানো পার্টিকেল মেমোরি স্টোরেজ (memory storage)-এর অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই সব সময় এরূপ ধর্ম ন্যানো পার্টিকেলে সুবিধাজনক বা কাম্য নয়। অনেক ন্যানো কণা বিশেষত গ্রাফিন ও কার্বন ন্যানো টিউব সাধারণ গ্রাফাইটের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী হয়।


সূত্র: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
১৩,২১২.
স্ক্রু গজের সাহায্যে কী পরিমাপ করা যায়?
  1. তড়িৎ প্রবাহ
  2. তরলের ঘনত্ব
  3. বড় বস্তুর দৈর্ঘ্য
  4. ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
স্ক্রু গজ: 
- স্ক্রু গজকে মাইক্রোমিটার স্ক্রু গজও বলা হয়। 
- এটি ইস্পাত দ্বারা নির্মিত হয়। 
- এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- এই যন্ত্রে U আকৃতির একটি কাঠামো থাকে। 
- এই U আকৃতি বিশিষ্ট কাঠামোর দুই বাহুর প্রান্তে দুটি নল সংযুক্ত থাকে। 
- একটি নলের মধ্য দিয়ে কীলক বা দন্ড A স্থায়ীভাবে আটকানো থাকে এবং অপর বাহুতে রয়েছে একটি ফাঁপা নল C, যার মধ্য দিয়ে একটি দন্ড B সংযুক্ত থাকে যা সামনে পেছনে সরানো যায়। 
- C নলে মিলিমিটারে দাগাঙ্কিত একটি রৈখিক স্কেল থাকে। 
- C নলের বাইরের অংশ অপর একটি ফাঁপা নল দ্বারা বেষ্টিত থাকে যার বহিঃপ্রান্তে একটি বেলনাকৃতির টুপি T থাকে। 
- T এর কিনারকে সাধারণত 50 বা 100 ভাগ করা হয়। 
- যখন B স্থায়ী কীলক বা সমতল প্রান্ত বিশিষ্ট দন্ড A কে স্পর্শ করে তখন বৃত্তাকার স্কেল শূন্য দাগ ও রৈখিক স্কেলের শূন্য দাগ মিলে যায়। 
- যদি দুটি স্কেলের শূন্য দাগ মিলে না যায় তাহলে বুঝতে হবে যন্ত্রটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। 


- টুপি T একবার ঘুরালে যতটুকু সরণ ঘটে এবং রৈখিক স্কেল বরাবরে যে দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে তাকে ক্রুর পিচ (pitch) বলা হয়। 
- বৃত্তাকার স্কেলের মাত্র একভাগ ঘুরালে, এর প্রান্ত যতটুকু সরে আসে তাকে যন্ত্রের লঘিষ্ট গণন (Least count) L.C বলা হয়। 
- স্পষ্টত যন্ত্রের পিচকে বৃত্তাকার স্কেলের মোট ভাগ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যন্ত্রের লঘিষ্ঠ গণন পাওয়া যায়। 
সুতরাং, লঘিষ্ঠ গণন = পিচ/বৃত্তাকার স্কেলের ভাগের সংখ্যা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২১৩.
বর্তমানে পৃথিবীর মোট শক্তি ব্যবহারের কত ভাগ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে আসে (প্রায়)? 
  1. অর্ধেক
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. চার ভাগের তিন ভাগ
  4. পাঁচ ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তি ছাড়া সভ্যতা এক মুহূর্ত চলতে পারে না কারণ শক্তির বিনিময়ে কাজ পাওয়া যায়। 
- শিল্পায়নের ক্রমবিকাশ এবং জীবনে যাত্রার মানোন্নয়নের জন্য শক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন শক্তির উৎসের সন্ধানে কাজ করছে। 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- শুধু যে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের শক্তির ওপর মানুষ ভরসা করে আছে তা নয়, এই মুহূর্তেও তারা এমন শক্তির ওপর ভরসা করে আছে, যেগুলো ফুরিয়ে যাবে না। 
- সে শক্তিগুলো আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে। 
- এই শক্তিগুলো অফুরন্ত, যেগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy)। 
অর্থাৎ, যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, সে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে, তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে। 
যেমন- জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তাই শক্তির চাহিদা মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে বিদেশ থেকে খনিজ তেল, কয়লা আমদানি করতে হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২১৪.
রুই মাছের আঁইশ কোন প্রকৃতির?
  1. সাইক্লয়েড
  2. টিনয়েড
  3. গ্যানয়েড
  4. প্লাকয়েড
ব্যাখ্যা
রুই মাছের দেহ গঠন (বাহ্যিক): 
- রুই মাছের দেহ অনেকটা মাকু আকৃতির। 
- দেহের মধ্যভাগ কিছুটা প্রশস্ত এবং লেজ ও মাথার দিক ক্রমশ সরু হয়ে গেছে, এ ধরনের গঠনকে স্ট্রিমলাইনড গঠন বলে। 
- এদের দেহ রুপালি আঁইশ দ্বারা আবৃত, কিন্তু এদের মাথা আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে না। 
- রুই মাছ সর্বোচ্চ ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন ৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। 
- রুই মাছের দেহ তিন অংশে বিভক্ত। 
যথা- মাথা, দেহ কাণ্ড এবং লেজ। 
- মুখছিদ্র ছোট ও মাংসল ঠোঁট দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- মাথার পেছনের অংশে কানকো দিয়ে ঢাকা ৪ জোড়া ফুলকা আছে। 

মাথা: 
- দেহের অগ্রপ্রান্ত থেকে কানকোর পশ্চাৎ প্রান্ত পর্যন্ত অংশ হলো মাথা। 
- রুই মাছের মাথা ১০-১২ সে.মি লম্বা এবং এর পৃষ্ঠীয় ভাগ উত্তল। 
- উদর হতে মস্তকের উপরিভাগ বেশি উত্তল। 
- মুখ নিচের দিকে অবস্থিত, মুখের দু কোণা পেছনের দিকে বাঁকা, ফলে মুখ অর্ধচন্দ্রাকৃতির দেখায়। 
- রুই মাছের চোখের কোনো পাতা নেই, মাথার দু-পার্শ্বে বড় বড় দুটি চোখ অবস্থিত। 
- চোখের কর্নিয়া স্বচ্ছ আবরণ দ্বারা আবৃত। 

দেহ কাণ্ড: 
- রুই মাছের কানকো শেষভাগ থেকে পায়ু পর্যন্ত অংশকে দেহ কাণ্ড বা ধর বলে। 
- দেহ কাণ্ড বেশ লম্বা, লেজের দিকে ক্রমশ সরু। 

লেজ: 
- দেহ কাণ্ডের শেষভাগে লেজ অবস্থিত। 
- প্রায় মধ্যভাগের পর থেকে লেজ দু-খণ্ডে বিভক্ত। 
- লেজ পুচ্ছপাখনা নামে পরিচিত। 

ত্বক: 
- রুই মাছের সমস্ত দেহ ত্বক দ্বারা ঢাকা থাকে। 
- ত্বকের দুটি স্তর, বাইরের স্তরটিকে বলা হয় এপিডার্মিস এবং ভেতরের স্তরটিকে বলা হয় ডার্মিস। 
- এপিডার্মিসে রঞ্জক কোষ এবং মিউকাস কোষ থাকে। 
- মিউকাস কোষ পিচ্ছিল পদার্থ নিঃসরণ করে দেহকে পিচ্ছিল রাখে, ফলে এদের চলাফেরা করতে সুবিধা হয়। 

আঁইশ: 
- রুই মাছের দেহ বড় বড় সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। 
- এ আঁইশের মধ্যে বৃত্তাকার এক ধরনের রেখা থাকে, একে সারকুলাস বলে। 
- এ সারকুলাস পর্যবেক্ষণ করে মাছের বয়স নির্ণয় করা হয়। 
- আঁইশের কেন্দ্রকে ফোকাস বলে। 
- রুই মাছের আঁইশের বৃদ্ধি বেশি হয় গ্রীষ্মকালে ও বসন্তকালে। 

পাখনা: 
- রুই মাছের দেহে ৫ ধরনের পাখনা আছে। 
- এ পাখনাগুলো হলো মাথার কাছে বক্ষের দিকে বক্ষ পাখনা, পিঠের দিকে পৃষ্ঠ পাখনা, দেহের মাঝ বরাবর নিচের দিকে শ্রেণিপাখনা, পায়ুর একটু পেছনে পায়ু পাখনা এবং একেবারে পেছন দিকে পুচ্ছ পাখনা রয়েছে। 
- এ পাখনাগুলো এদের চলাচলে সাহায্য করে। 

পার্শ্বরেখা: 
- রুই মাছের দেহের দু-পাশেই আঁইশের নিচে এক সারি ছোট ছোট গর্ত আছে যা পার্শ্বরেখা সৃষ্টি করে। 
- এ গর্তের মধ্যে সংবেদী অঙ্গ যুক্ত থাকে। 
- এ সংবেদী অঙ্গের মাধ্যমে রুই মাছ পানির গুণাগুণ (যেমন- পিএইচ, ঘোলাত্ব ইত্যাদি) বুঝতে সক্ষম হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১৩,২১৫.
চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
  1. ক) বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের কারণে
  2. খ) আলোর বিচ্ছুরণের কারণে
  3. গ) আলোর অপবর্তনের কারণে
  4. ঘ) দৃষ্টিভ্রমের কারণে
ব্যাখ্যা
চাঁদ থেকে আলোক রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার সময় বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে।
দিগন্তের কাছে তা অধিক পরিমাণে বেঁকে যায় বলেই চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায়।

Source: scientificamerican.com
১৩,২১৬.
মানুষের দেহকোষে কতটি ক্রোমোসোম থাকে?
  1. ক) ২৩ টি
  2. খ) ২২ টি
  3. গ) ৪৪ টি
  4. ঘ) ৪৬ টি
ব্যাখ্যা
মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীতে প্রায় একই পদ্ধতিতে লিঙ্গ নির্ধারণ হয়। মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা 46 টি বা 23 জোড়া। এর মধ্যে 22 জোড়া বা 44টিকে বা অটোজোম (Autosome ) এবং 1 জোড়াকে  সেক্স- ক্রোমোজোম (Sex chromosome) বলা হয়।

অটোজোমগুলো শারীরবৃত্তীয়, ভ্রূণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
সেক্স ক্রোমোজোম দুটি এক্স (X) এবং ওয়াই (Y) নামে পরিচিত। লিঙ্গ নির্ধারণে এরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৩,২১৭.
দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যবর্তী
  2. খ) এন্টার্কটিকা ও ৬০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী
  3. গ) পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে
  4. ঘ) আফ্রিকা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া জুড়ে
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম মহাসাগর - দক্ষিণ মহাসাগরের (Antarctic Ocean) অবস্থান এন্টার্কটিকা ও ৬০ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী স্থানে। এর আয়তন - ২ কোটি ১৯ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
গড় গভীরতা - ৩,২০০ মিটার ও সর্বোচ্চ গভীরতা -৭,২৩৫ মিটার। এই মহাসাগরের গভীরতম স্থান - সাউথ স্যান্ডোইচ ট্রেঞ্চ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই ও Live MCQ Content (Upcoming)।

১৩,২১৮.
বায়ুমন্ডলের চাপের দ্বিগুণ চাপ প্রয়োগে ভূগর্ভের কত গভীরতা থকে পানি তোলা যাবে?
  1. ক) ১০ মিটার(প্রায়)
  2. খ) ১৫ মিটার(প্রায়)
  3. গ) ২৫ মিটার(প্রায়)
  4. ঘ) ২০ মিটার(প্রায়)
ব্যাখ্যা
বায়ুর চাপ P = 1 atm = 760mm(Hg) = 101325 Pa
পানির ঘনত্ব ρ = 1000 kgm-3
ধরি, পানি h গভীরতা থেকে উঠানো যাবে।

আমরা জানি, 
চাপ, P = hρg 
2 × 101325 = h × 1000 × 9.8
h = (2 × 101325)/9800
h = 20.67m

অর্থাৎ, বায়ুর চাপের দ্বিগুণ চাপ দ্বারা প্রায় ২০ মিটার গভীর থেকে পানি উঠানো যাবে।

শর্টকাট: বায়ুচাপের সমান চাপ দিয়ে প্রায় ১০ মিটার গভীর থকে পানি তোলা যায়। তাই দ্বিগুণ চাপ দিয়ে (২ × ১০) বা, ২০ মিটার(প্রায়) গভীরতা থেকে পানি তোলা যাবে।
১৩,২১৯.
কোন উপাদানের অভাবে উদ্ভিদের পাতার শীর্ষ ও কিনারা প্রথমে হলুদ হয়ে মৃত অঞ্চল তৈরি হয়?
  1. পটাশিয়াম
  2. ফসফরাস 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম (K): 
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। 
- পটাশিয়ামের অভাবে বিশেষ করে পাতার শিরার মধ্যবর্তী স্থানে ক্লোরোসিস হয়ে হলুদবর্ণ ধারণ করে। 
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়। 

ফসফরাস (P): 
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়। 
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়, এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে ফসফরাসের ঘাটতি বোঝা যায় না। 

নাইট্রোজেন (N): 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায় কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়। 
- নাইট্রোজেনের অভাবে ক্লোরোসিস হয় এবং পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২২০.
একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় প্রয়োগ করে-
  1. নিউটনের প্রথম সূত্র
  2. নিউটনের ২য় সূত্র 
  3. নিউটনের ৩য় সূত্র
  4. নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্র
ব্যাখ্যা

• পানিতে নৌকা চলার সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটে। 

- নিউটনের তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
- অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে।

উদাহরণ:
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।
- মহাকাশযানকে উৎক্ষেপ করার জন্য যে নীতির উপর ভিত্তি করে রকেট নির্মিত হয় তা নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২২১.
আমাদের দেশে সরবরাহকৃত পরিবর্তী ভোল্টেজের কম্পাংক কত?
  1. ক) 20 Hz
  2. খ) 50 Hz
  3. গ) 100 Hz
  4. ঘ) 150 Hz
ব্যাখ্যা
একমুখীকরণ:
- তড়িৎশক্তি সাধারণত এসি (AC) সরবরাহ হিসেবে উৎপাদন ও বিতরণ করা হয়।
- বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃক সরবরাহকৃত ভোল্টেজ সাইন তরঙ্গ আকারে পরিবর্তিত হয়।
- আমাদের দেশে সরবরাহকৃত পরিবর্তী ভোল্টেজের কম্পাংক 50 Hz
- পরিবর্তী এই ভোল্টেজ ব্যবহার করা হয় আলোকশক্তি, তাপশক্তি উৎপাদনে এবং তড়িৎ মোটর ইত্যাদিতে।
- কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন কাজে ডিসি (DC) সরবরাহের অসংখ্য প্রয়োগ রয়েছে।
- বিশেষ করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বা বর্তনী পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ (Direct Current) প্রয়োজন হয়।
- ব্যাটারি বা শুষ্ক কোষ হলো ডিসি প্রবাহের প্রধান উৎস।
- কিন্তু এদের ভোল্টেজ বেশ কম এবং এগুলো প্রায়ই পরিবর্তন করতে হয় বলে বেশ ব্যয়বহুল।
- অর্থাৎ ব্যাটারি দ্বারা আমাদের সব প্রয়োজন মিটানো সম্বব নয়।
- তাই আমাদের প্রয়োজন বৈদ্যুতিক সরবরাহ লাইনের দিক পরিবর্তী তথা এসি ভোল্টেজকে একমুখী তথা ডিসি ভোল্টেজ রূপান্তরিত করা।
- যে প্রক্রিয়ায় এই রূপান্তরের কাজটি সম্পন্ন করা হয় তাকে বলে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,২২২.
একটি কোষে রাইবোসোম কোথায় পাওয়া যায় এবং তাদের প্রধান কাজ কী?
  1. নিউক্লিয়াসে, RNA তৈরি করার জন্য
  2. মাইটোকন্ড্রিয়াতে, শক্তি তৈরি করার জন্য
  3. সাইটোপ্লাজমে, প্রোটিন সংশ্লেষণ করার জন্য
  4. সেল মেমব্রেনে, পুষ্টি শোষণের জন্য
ব্যাখ্যা
• রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। 
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২২৩.
কোয়াশিয়রকর রোগ হয়-
  1. ক) শর্করার অভাবে
  2. খ) ভিটামিনের অভাবে
  3. গ) আমিষের অভাবে
  4. ঘ) খনিজ পুষ্টির অভাব
ব্যাখ্যা

- ২ থেকে ৪ বছরের শিশুদের কোয়াশিয়রকর রোগ হয় আমিষের অভাবে।
- শিশুদের মেরাসমাস ও কোয়াশিয়রকর রোগ হয় আমিষ বা প্রোটিনের অভাবে।
- এর ফলে দেখা দেয় রক্তস্বল্পতা।
- এ রোগের লক্ষণগুলো হলোঃ
• শিশুর বৃদ্ধি হ্রাস পায়।
• পেটের পীড়া দেখা দেয়।
• পেশি ক্ষয় হতে থাকে।
• পানি জমে শরীর ফুলে যায়। ‌

১৩,২২৪.
কোন কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়? 
  1. মায়োসিস 
  2. মাইটোসিস 
  3. অ্যামাইটোসিস 
  4. অ্যাপোপটোসিস 
ব্যাখ্যা

কোষ বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়। 
- জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। 
যথা- 
১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম
সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২২৫.
বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. তাপ 
  2. শব্দ 
  3. আলোক
  4. যান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক মোটর একটি ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যন্ত্র যা তড়িৎ শক্তিকে (Electrical Energy) যান্ত্রিক শক্তিতে (Mechanical Energy) রূপান্তর করে। এটি তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে 

শক্তির রূপান্তর: 

- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২২৬.
সরল ছন্দিত স্পন্দনের বৈশিষ্ট্য কোনটি ভুল? 
  1. এটি সরল রৈখিক গতি
  2. ত্বরণ সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী
  3. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  4. ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে
ব্যাখ্যা
- ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে এটি ভুল, কারণ এটি সব সময় সাম্যাবস্থান অভিমুখী। 
অর্থাৎ, ত্বরণ সরণের দিকের বিপরীত হতে পারে, কিন্তু “মানের বিপরীত” বলতে কিছু নেই। মান (magnitude) সবসময় ধনাত্মক বা শূন্য হয়। 

সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
যেমন- 
• কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি। 
• তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি। 
• পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২২৭.
প্লুটো একটি-
  1. ক) নক্ষত্র
  2. খ) উপগ্রহ
  3. গ) গ্রহ
  4. ঘ) বামন গ্রহ
ব্যাখ্যা
প্লুটো সহ সৌরজগতে এরিস, ম্যাকিম্যাকি ও সিরেস নামে আরো কয়েকটি বামন গ্রহ আছে৷ ২০০৬ সালে প্লুটো গ্রহের মর্যাদা হারায়, বর্তমানে এটাকে বামন গ্রহ (Dwarf Planet) বলা হয়ে থাকে।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৩,২২৮.
কোন ধরনের কোষে নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত?
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. যকৃত কোষ
  3. স্নায়ু কোষ
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকার ফলে এটি সর্বাধিক পরিমাণ হিমোগ্লোবিন ধারণ করে এবং অক্সিজেন পরিবহনের জন্য যথেষ্ট স্থান পায়।
- হিমোগ্লোবিন হলো একটি লৌহযুক্ত প্রোটিন, যা অক্সিজেন অণুকে আবদ্ধ করে এবং RBC-কে লাল রঙ দেয়।

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- নিউক্লিয়াসের পাশাপাশি এতে মাইটোকন্ড্রিয়াও অনুপস্থিত থাকে।

অন্যান্য অপশন:
- শ্বেত রক্তকণিকা: এদের নিউক্লিয়াস উপস্থিত এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- যকৃত কোষ (Liver Cells): এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
- স্নায়ু কোষ (Neurons): এদেরও নিউক্লিয়াস উপস্থিত, যা কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২২৯.
ইনসুলিন এক ধরনের-
  1. হরমোন
  2. শর্করা
  3. ভিটামিন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমায়।
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
- ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
১৩,২৩০.
প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা কার কাজ?
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. রক্তরস
  3. অণুচক্রিকা
  4. লোহিত কণিকা
ব্যাখ্যা
• লোহিত কণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- লোহিত রক্ত কণিকার প্রধান কাজ হলো প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বহন করা।
- রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৩১.
জিওথার্মাল শক্তির প্রধান উৎস কী?
  1. সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা
  2. সূর্যের তাপশক্তি
  3. বায়ুর গতি
  4. ভূগর্ভস্থ তাপ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: জিওথার্মাল শক্তির প্রধান উৎস কী?

সমাধান:
জিওথার্মাল শক্তি (Geothermal Energy) পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপ থেকে উৎপন্ন হয়।

প্রধান উৎস হলো:
- পৃথিবীর কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় পদার্থের (যেমন: ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম) ক্ষয় থেকে উৎপন্ন তাপ।
- পৃথিবী গঠনের সময় সঞ্চিত আদি তাপ।
এই তাপ ভূগর্ভস্থ শিলা, পানি বা বাষ্পের মাধ্যমে পৃষ্ঠের কাছে আসে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বা গরম করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- জিওথার্মাল এনার্জি হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপশক্তি, যা প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে রান্না, স্নান, ঘর গরম রাখা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপ এবং তেজস্ক্রিয় উপাদানের ক্ষয়ের ফলে এই তাপ উৎপন্ন হয়। এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- পৃথিবীতে বিদ্যমান মোট জিওথার্মাল শক্তির পরিমাণ বিশ্বের বর্তমান জ্বালানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি, তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ শক্তিকে ব্যবহার করা প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং। 
- তবুও, এটি জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের বিপরীতে একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১৩,২৩২.
কোনটির সাহায্যে দাঁত মাড়ির সাথে আটকানো থাকে?
  1. ক) ডেন্টিন
  2. খ) এনামেল
  3. গ) দন্তমজ্জা
  4. ঘ) সিমেন্ট
ব্যাখ্যা

- সিমেন্ট নামক পাতলা আবরণ দাঁতের মূল অংশ ডেন্টিনকে আবৃত করে রাখে।

-এই সিমেন্ট এর সাহায্যে দাঁত মাড়ির সাথে আটকানো থাকে।
-দাঁত প্রধানত যে শক্ত উপাদান দ্বারা গঠিত, তাকে ডেন্টিন বলে।
-দাঁতের মুকুট অংশে ডেন্টিনের উপরিভাগে এনামেল নামক কঠিন উপাদান থাকে। এনামেল এবং ডেন্টিন ক্যালসিয়াম ফসফেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, এবং ফ্লোরাইড দিয়ে তৈরি।
-ডেন্টিনের ভেতরের ফাঁপা নরম অংশকে দন্তমজ্জা বলে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৩,২৩৩.
প্রত্যেক কম্পাঙ্কের জন্য সর্বনিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কী?
  1. ফোটন 
  2. মেসন 
  3. প্রোটন 
  4. পজিট্রন
ব্যাখ্যা

- ফোটন হলো আলো এবং অন্যান্য তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের মৌলিক কণা বা শক্তির প্যাকেট। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে, বিকিরিত বা শোষিত শক্তির পরিমাণ বিচ্ছিন্ন এবং একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের (f) জন্য শক্তির এই নির্দিষ্ট পরিমাণকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে। ফোটনের শক্তি (E) সরাসরি কম্পাঙ্কের (f) সমানুপাতিক, যা E = hf সূত্র দ্বারা প্রকাশ করা হয় (যেখানে h হলো প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক)। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের জন্য, ফোটনই হচ্ছে সেই সর্বনিম্ন শক্তির বাহক কণিকা। 

প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব: 
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রস্তাবনা করেন। 
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোন উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেড়িয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেজ আকারে বের হয়। 
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রং এর আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে। এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। এই তত্ত্বের সাহায্যে কৃষ্ণবস্তু বিকিরণ, ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা যায়। 
- কিন্তু আলোর বিচ্ছুরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ব্যাখ্যা করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- মেসন হলো এক ধরণের হ্যাড্রন কণা যা প্রধানত সবল নিউক্লীয় বলের মিথস্ক্রিয়ায় জড়িত এবং এদের শক্তি কম্পাঙ্কের উপর নির্ভরশীল নয়।
- প্রোটন একটি উপ-পারমাণবিক কণা যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায় এবং এর একটি নির্দিষ্ট ভর আছে। এটি শক্তির বাহক হিসেবে কাজ করে না।
- পজিট্রন হলো ইলেকট্রনের প্রতিকণা (antiparticle), এটির ইলেকট্রনের সমান ভর এবং ধনাত্মক চার্জ আছে। এটিও পদার্থের একটি গাঠনিক উপাদান (যদিও প্রতিকণা) এবং ফোটনের মতো শক্তি কোয়ান্টা (quanta) নয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৩,২৩৪.
মাতৃদুগ্ধে কোন রোগ প্রতিরোধী পদার্থ থাকে?
  1. অ্যান্টিজেন
  2. অ্যান্টিবডি
  3. হরমোন
  4. এনজাইম
ব্যাখ্যা
◉ মাতৃদুগ্ধে অ্যান্টিবডি (বিশেষ করে IgA) থাকে, যা শিশুকে নানা ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়।

অ্যান্টিবডি (Antibody):
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ ।
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়।
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১৩,২৩৫.
মানুষের লালারসে কোন এনজাইমটি থাকে?
  1. পেপসিন
  2. ট্রিপসিন
  3. টায়ালিন
  4. অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
- মানুষের লালারসে টায়ালিন এনজাইম থাকে। 

মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্ন চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে। 
- আর লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৩৬.
রক্ত কোন ধরনের কলা?
  1. স্নায়ুকলা
  2. এপিথেলিয়াল কলা
  3. মাংসপেশিক কলা
  4. তরল যোজক কলা
ব্যাখ্যা
রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।

রক্ত (Blood):
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ।
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়।
লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়।

• রক্তের উপাদান:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তের উপাদান দুইটি।
- যথা: রক্তরস ও রক্তকণিকা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত।

• রক্তরস (Plasma):
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে।
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস।
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি।
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণদ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
-যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন:
কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি।
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে।
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়।
- এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে।

• রক্তকণিকা:
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে।
যথা-

ক. লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্তকণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে।
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে -পৌঁছায়।
- লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ।
- পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
- লোহিত রক্তকণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম।
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়।

গ. অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো।
- এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়।
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে।

উৎস: ১। বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২। জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৩৭.
বৃহদন্ত্র কতটি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা-
১) সিকাম।
২) কোলন।
৩) মলাশয়।

সিকাম:
- সিকাম বৃহদন্ত্রের প্রথম, বড় স্ফীত ও গোলাকার থলের মতো অংশ।
- লম্বায় ৬ সে. মি. এবং চওড়ায় ৭.৫ সে.মি.।
- সিকাম থেকে একটি ক্ষুদ্র আঙ্গুল ও বন্ধ থলের ন্যায় প্রসারিত অংশকে অ্যাপেনডিক্স বলা হয়।

কোলন:
- সিকামের পরবর্তী মোটা নলাকার অংশের নাম কোলন।
- এটি ৪টি অংশে বিভক্ত।
- কোলন প্রায় ১৫০-১৯০ সে.মি. লম্বা।

মলাশয়:
- বৃহদন্ত্রের শেষ প্রান্ত শ্রোণিদেশে অবস্থিত প্রশস্ত অংশটিকে মলাশয় বলে।
- এটি প্রায় ৫ সে.মি. লম্বা।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৩৮.
নিচের কোনটি হাইপোথ্যালামাসের কাজ?
  1. অম্ল ও ক্ষারের সাম্যতা রক্ষা করা
  2. ঐচ্ছিক চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা
  3. দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা
  4. দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করা
ব্যাখ্যা

অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশে অবস্থিত হাইপোথ্যালামাস। এর কাজগুলো হলো -
১) দেহে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
২) স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা।
৩) ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ভালো লাগা, ঘাম, ঘুম, রাগ ইত্যাদির উপক্রম ঘটায়।

১৩,২৩৯.
জীবাশ্ম কঠিন ও তরল আকারে খনি থেকে তুলে কি রূপে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) ধ্বংসাবশেষ হিসাবে
  2. খ) ফসল রূপে
  3. গ) জ্বালানি রূপে
  4. ঘ) বর্জ্য পদার্থরূপে
ব্যাখ্যা
• জীবাশ্ম কঠিন ও তরল আকারে খনি থেকে তুলে জ্বালানি রূপে ব্যবহার করা হয়।
• জীবাশ্ম জ্বালানি: কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছ-পালা ও জীবজন্তু প্রচন্ড ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বা অন্য কোনো কারণে মাটি চাপা পড়ে যায়। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকেই জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।
- উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৪০.
'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' ধারণাটি প্রথম প্রমাণ করেন কে? 
  1. নিকোলাস কোপার্নিকাস
  2. বিজ্ঞানী গ্যালিলিও
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. জোহান কেপলার
ব্যাখ্যা

- বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘােরে। 
- বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমী জোরালােভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। 
- কোপার্নিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন, তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। 
- তার সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের মূল কথা ছিল 'পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘােরে'। 
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। 
- নিকোলাস কোপার্নিকাসই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
- তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী গ্যলিলিও প্রথম কোপার্নিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৪১.
এক ফ্যাদম সমান কত ফুট?
  1. ক) ৩ ফুট
  2. খ) ৫ ফুট
  3. গ) ৬ ফুট
  4. ঘ) ৭ ফুট
ব্যাখ্যা
এক ফ্যাদম (Fathom) সমান ৬ ফুট (১.৮৩ মিটার)। যা দীর্ঘকাল পানির গভীরতার নটিক্যাল একক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
১৩,২৪২.
পাহড়ের উপর রান্না করতে বেশি সময় লাগে কেন?
  1. ক) বায়ুর চাপ বেশি থাকার কারণে
  2. খ) বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
  3. গ) পাহড়ের উপর বাতাস কম থাকায়
  4. ঘ) পাহড়ের উপর তাপমাত্রা বেশি থাকায়
ব্যাখ্যা
- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়।
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়।
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়৷
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে।
- তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে।
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে।
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৪৩.
নিচের কোনটির নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার
  4. আইসোটোন
ব্যাখ্যা
• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৪৪.
দূর থেকে আমরা কোন রং আগে দেখতে পাই?
  1. ক) নীল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) হলুদ
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
• দূর থেকে আমরা লাল রং আগে দেখতে পাই।

- লাল রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। তাই লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়।
- আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর।
- আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে তাঁর বিক্ষেপণ তত কম হয়।
- লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায় তাই উঁচু টাওয়ারে লালা রং এর লাইট ব্যবহৃত হয় যাতে বিমান নিচ দিয়ে যাবার সময় অনেক দূর থেকে দেখা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৪৫.
নিচের কোনটি অমেরুদন্ডী প্রাণী?
  1. কুমির
  2. পুঁটি মাছ
  3. জেলীফিস
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ডী প্রাণী:
(ক) মৎস্যকুল: 
- এ দলের প্রাণীরা পানিতে বাস করে। দেহ আঁশ দিয়ে ঢাকা। ফুলকার সাহায্যে শ্বাস কাজ চালায়।
যেমন- রুই, কাতল, পুঁটি। 

(খ) উভচর প্রাণী:
- এসব প্রাণী পানিতে এবং ডাঙ্গায় বসবাস করে। জীবনচক্রের একটা অংশ এদের পানিতে বিকাশ লাভ করে।
যেমন- ব্যাঙ। 

(গ) সরিসৃপ:
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলাফেরা করে।
যেমন- কুমির, টিকটিকি। 

(ঘ) পাখি:
- এসব প্রাণীর দেহ পালকে ঢাকা থাকে।
যেমন- ময়না, টিয়া, ঘুঘু।

(ঙ) স্তন্যপায়ী প্রাণী:
- এসব প্রাণী মায়ের দুধ পান কর।
যেমন- বাদুড়, তিমি, মানুষ

অমেরুদন্ডী প্রাণী: 
১. প্রোটোজোয়া:
- এরা এককোষী আদি প্রাণী।
যেমন- অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া জীবাণু। 

২. পরিফেরা:
- এসব প্রাণীর দেহ অসংখ্য ক্ষুদ ক্ষুদ্র ছিদ্র যুক্ত। এরা জলে বাস করে।
যেমন- স্পনজিলা। 

৩. সিলেনটারেটা:
- এ পর্বের বেশির ভাগ প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহের মেলো দিকটা মুখ হিসেবে কাজ করে। মুখের চারদিকে টেন্টাকল আছে।
যেমন- হাইড্রা, জেলীফিস

৪. প্লাটিহেলমিনথিস:
- এ পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদের দেহ ফিতার মত চ্যাপ্টা। এরা সাধারণত পরজীবী।
যেমন- ফিতাকৃমি।

৫. নেমাথেলমিনথিস:
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নলাকৃতি ও অখণ্ডিত। এরা সাধারণত পরজীবী।
যেমন- কেঁচোকৃমি। 

৬. অ্যানিলিডা:
- এ জাতীয় প্রাণীদের দেহ নরম এবং রিং বা বলয়ের মত খণ্ড খণ্ড অংশ দিয়ে গঠিত।
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 

৭. আর্থোপোডা:
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ শক্ত আবরণে ঢাকা এবং এদের সন্ধিযুক্ত পা রয়েছে।
যেমন- চিংড়ি, তেলাপোকা। 

৮. একাইনোর্ডামাটা:
- এসব প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ কাটাযুক্ত।
যেমন- তারামাছ। 

৯. মলাস্কা:
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নরম কিন্তু শক্ত খোলস দিয়ে আবৃত।
যেমন- শামুক, ঝিনুক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৪৬.
কোনটির অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. গ) নিয়াসিন
  4. ঘ) কোবালামিন
ব্যাখ্যা

- দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
- রাইবোফ্ল্যাভিনের অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এর অভাবে তীব্র আলোতে চোখ খুলতে অসুবিধা হয়।
- নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
- কোবালামিন/ সায়ানোকোবালামিন/ ভিটামিন B12 এর অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং স্নায়ুর অবক্ষয় ঘটে।

সূত্র: মাধমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

১৩,২৪৭.
নিচের কোনটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) নিকেল
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) কপার
ব্যাখ্যা
যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় সেসব পরিবাহীকে ইলেকট্রনীয় পরিবাহী বলে। যেমনঃ লোহা, কপার, নিকেল, গ্রাফাইট ইত্যাদি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী। কপার সালফেট, সালফিউরিক এসিড, পানি, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী অর্থাৎ এরা গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
১৩,২৪৮.
লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির অসুবিধা কোনটি?
  1. চার্জ ধরে রাখার হার বেশি
  2. মেমোরী প্রভাব নেই 
  3. ব্যাটারি হালকা
  4. আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি
ব্যাখ্যা

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি: 
- বিজ্ঞানী উইটিংহাম (Whittinghum) সর্বপ্রথম 1970 সালে লিথিয়াম ব্যাটারির প্রস্তাব করেন। 
- এটি একটি সেকেন্ডারী সেল। 

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির গঠন: 
- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির তিনটি মূল কার্যকরী উপাদান হচ্ছে ঋণাত্মক ইলেকট্রোড, ধনাত্মক ইলেকট্রোড এবং ইলেকট্রোলাইট। 
- ধনাত্মক তড়িৎদ্বার সাধারণত কার্বন হতে তৈরী করা হয়। ধনাত্মক তড়িৎদ্বার ধাতব অক্সাইডের তৈরী এবং ইলেকট্রোলাইট হচ্ছে জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত লিথিয়াম লবণ। 
- বানিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ঋণাত্মক ইলেকট্রোড হয় গ্রাফইট এবং ধনাত্মক ইলেকট্রোড হিসাবে নিম্নলিখিত তিনটি পদার্থের যে কোন একটি ব্যবহৃত হয়-
(i) লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড স্তর (Li-CoO2), (ii) লিথিয়াম আয়রন ফসফেট এবং (iii) লিথিয়াম ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড (Li-Mn2O4)।

- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সুবিধা ও অসুবিধা দেওয়া হলো- 
সুবিধা: 
১। বিভিন্ন আকার আকৃতির পাওয়া যায় যা বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে সাইজেই ফিট হয়। 
২। অন্যান্য ব্যাটারি হতে হালকা। 
৩। অন্যান্য জলীয় ব্যাটারি হতে এদের বিভব পার্থক্য অধিক (উন্মুক্ত সার্কিটে)। 
৪। কোনো মেমোরী প্রভাব নেই। 
৫। অব্যবহৃত অবস্থায় চার্জ হারানোর হার কম (5-10%) অন্যান্য কার্যকারী ক্ষেত্রে হার 30% । 
৬। ব্যাটারির উপাদান পরিবেশগতভাবে বন্ধুভাবাপন্য। 

অসুবিধা: 
১। চার্জের ফলে ইলেক্ট্রোলাইটের মধ্যে জমাট বাধে যা আয়নের পরিবহনে বাধা দেয়। 
২। উচ্চ মাত্রায় চার্জ করা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যাটারির ধারকতা হারায়। 
৩। ২৫° C তাপমাত্রায় পূর্ণ চার্জের ফলে উভমূখীতা হারায়। 
৪। আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি। 
৫। উচ্চ ক্ষমতার যন্ত্রের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যাটারি ব্যবহার অসুবিধা বরং একাধিক ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। 
৬। উচ্চ তাপমাত্রায় এ ব্যাটারি ব্যবহার বিপদজনক। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র (তড়িৎ রসায়ন), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৪৯.
কোন হরমোনকে স্ট্রেস হরমোন বলা হয়?
  1. কর্টিসল
  2. মেলাটোনিন
  3. লেপটিন
  4. ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
• কর্টিসল হরমোন:
- কর্টিসল হরমোনকে স্ট্রেস হরমোনও বলা হয়।
- মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তায় এই হরমোন বেড়ে যায়।
- কর্টিসল হল একটি স্টেরয়েড হরমোন।
- কর্টিসল গ্লুকোজ বিপাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অপশন আলোচনা:
• মেলাটোনিন হরমোন - মেলাটোনিন হরমোন ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে।

• লেপটিন হরমোন - কতটুকু খেতে হবে, এখন কি খেতে ইচ্ছা করছে কিংবা ক্ষুধা নিবারণ হয়েছে কিনা; লেপটিন হরমোন আমাদের মস্তিষ্কে তা জানান দেয়।

• ইনসুলিন হরমোন:
- ডায়াবেটিসের কারণে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
- সাধারণত ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে অত্যধিক পিপাসা, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া, ক্লান্তি, ক্ষত না শোঁকানো ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- এর সঠিক চিকিৎসা না হলে পরবর্তী সময়ে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমায়।
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকাগন এবং ইনসুলিন নিঃসৃত হয়।
- ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নিঃসৃত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

উৎস:
১) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২) National Center for Biotechnology Information.
১৩,২৫০.
নিচের কোন রোগের ফলে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়? 
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. পলিসাইথিমিয়া
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন: 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৫১.
নিচের কোনটি ব্যবহার করে রেক্টিফিক্যাশন করা হয়?
  1. ডায়োড
  2. রেজিস্টর
  3. ক্যাপাসিটার
  4. ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা
• Rectification (রেক্টিফিক্যাশন ):
-  শব্দটি মূলত ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহৃত হয় এবং এর অর্থ হলো AC (Alternating Current) কে DC (Direct Current) এ রূপান্তর করা।
-  এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য ডায়োড ব্যবহার করা হয়।

• ডায়োড:
- ডায়োড একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস, যা কেবলমাত্র এক দিক থেকে কারেন্ট প্রবাহিত করতে দেয়।
- যখন AC কারেন্ট ডায়োডের মধ্য দিয়ে যায়, এটি কারেন্টের ঋণাত্মক অংশকে ব্লক করে, ফলে DC পাওয়া যায়।

অন্যদিকে,
- ক্যাপাসিটার: এটি চার্জ সঞ্চয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- রেজিস্টর: এটি কারেন্ট প্রবাহকে সীমিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সফরমার: এটি ভোল্টেজের মাত্রা পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,২৫২.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য কোনটি?
  1. শ্বেতসার
  2. লিপিড
  3. গ্লাইকোজেন
  4. কাইটিন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য:
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে।
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না।
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে।
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে।
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৫৩.
CFC গ্যাস কোন স্তরের ক্ষতি করে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

◉ CFC (Chlorofluorocarbon) গ্যাস মূলত ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার ও স্প্রে ক্যান থেকে নির্গত হয়। CFC গ্যাস স্ট্রাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 

CFC গ্যাস:
- CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
- সিএফসি বায়ুমন্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের ক্ষতি করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর।
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে।
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৫৪.
অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে- 
  1. সূক্ষ্ম প্লাস্টিক নল
  2. খুব সরু এসবেস্টোস ফাইবার নল
  3. খুব সূক্ষ্ম সুপরিবাহী তামার তন্তু নল
  4. খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু এবং নমনীয় কাঁচ তন্তুর আলোক নল। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। 
- এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত ডাক্তার মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি) দেখার জন্য যে আলোক নলটি ব্যবহার করে সেটি হচ্ছে একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। 
- এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- সংকেত যত দূরই যাক না কেন এর শক্তি হ্রাস পায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,২৫৫.
বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কোন এসিড ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. কার্বোলিক এসিড 
  3. নাইট্রিক এসিড 
  4. সালফিউরিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
- সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
– আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড (যাকে ফিনলও বলা হয়) ব্যবহৃত হয়। 
- আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
- সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
- এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
- ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩,২৫৬.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. গ) মেসোস্ফিয়ার 
  4. ঘ) থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের থার্মোস্ফিয়ার স্তরটি প্রায় বায়ুশুন্য। এই স্তরে বায়ুর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে, তাই এর নাম তাপমণ্ডল। তাপমণ্ডলে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে। 

- ট্রপোস্ফিয়ার- বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নীচের স্তরটিকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। 
- স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার- ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরে বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটিকে বলা হয় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)। 
- মেসোস্ফিয়ার- স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওপরে বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তরটিকে বলা হয় মেসােস্ফিয়ার (Mesosphere)। 

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি
১৩,২৫৭.
'কার্ডিওলজী' কোন রোগের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ক) হার্ট
  2. খ) চোখ
  3. গ) কিডনি
  4. ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা

Cardiology is the study and treatment of disorders of the heart and the blood vessels.

Cardiologist (noun): a doctor who specializes in treating diseases of the heart.

১৩,২৫৮.
মানবশিশুর দুধ দাঁতের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২০টি
  2. খ) ২১টি
  3. গ) ২৪টি
  4. ঘ) ২৬টি
ব্যাখ্যা
- মানুষের চোয়ালে চার ধরনের দাঁত উপস্থিত থাকে।
- পরিণত মানুষের চোয়ালে মোট দাঁতের সংখ্যা ৩২টি।
- মানুষের দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১৩,২৫৯.
'লিউকোসাইট' এর গড় আয়ু কত দিন?
  1. ১-১৫ দিন
  2. ৫-১০ দিন
  3. ১২০ দিন
  4. ৭-১৫ দিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকনিকা দেখা যায়।
যথা -
লোহিত রক্তকনিকাঃ এর গড় আয়ু ১২০ দিন।
শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইটঃ এর গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
অনুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইটঃ এর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান।
১৩,২৬০.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত 'GPS' এর পূর্ণরূপ কোনটি? 
  1. Global Publication System
  2. Global Pointing System
  3. Global Positioning System
  4. Great Positioning System
ব্যাখ্যা
GPS: 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত GPS এর পূর্ণরূপ 'Global Positioning System'. 
- GPS হলো এমন একটি স্যাটেলাইটনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- সময়ের সাথ সাথে জিপিএস প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধনের কারণে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয়, ট্র্যাকিং সহ আরও অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। 
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম। 
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। 
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। 

উৎস: Britannica.com
১৩,২৬১.
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত 'এমআর ভ্যাকসিন' দেওয়া হয় কোন রোগের বিরুদ্ধে?
  1. ধনুষ্টংকার
  2. রুবেলা
  3. যক্ষ্মা
  4. নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
- বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।
- পিসিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে।
সূত্র: www.dghs.gov.bd ওয়েবসাইট
১৩,২৬২.
পালতোলা নৌকা কোন শক্তির সাহায্যে চলে?
  1. তাপ শক্তি
  2. আলোক শক্তি
  3. বায়ু শক্তি
  4. তড়িৎ শক্তি
ব্যাখ্যা
বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৬৩.
একটি মানব শিশুর দুধদাঁত থাকে কয়টি? 
  1. ২০ টি
  2. ১৮ টি
  3. ১৬ টি
  4. ২২ টি
ব্যাখ্যা
দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৬৪.
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে টারবাইন ঘুরানোর জন্য কি করা হয়?
  1. মোটর ব্যবহার করা হয়
  2. পানির গতিশক্তিকে কাজে লাগানো হয়
  3. পানির বিভবশক্তিকে কাজে লাগানো হয়
  4. জেনারেটর ব্যবহার করা হয়
ব্যাখ্যা
• জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়।
- একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পৃথিবীতে খুবই জনপ্রিয়।
- বাংলাদেশে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টারবাইন ঘোরানো হয়।
- এই টারবাইন ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১৩,২৬৫.
ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল বিষয় কী?
  1. জীবের নিজের প্রয়োজনে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি
  2. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  3. স্বল্পহারে সংখ্যাবৃদ্ধি
  4. প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে প্রতিটি জীবের বেঁচে থাকা
ব্যাখ্যা
• ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল বিষয় হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন। 

• চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "On the Origin of Species"–এ বিবর্তনের মূল প্রক্রিয়া হিসেবে “প্রাকৃতিক নির্বাচন”-এর ধারণা তুলে ধরেন।

• প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ হলো—
''যেসব জীব তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে সক্ষম, তাদের বেঁচে থাকার ও প্রজননের সম্ভাবনা বেশি। ফলে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।''

• ডারউইন এর মতবাদের মূল বিষয়-
- জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকে (Variation)। 
- উত্তম বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবরা টিকে থাকে। 
- প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে শুধু যোগ্য জীবেরা বেঁচে থাকে,  অযোগ্য জীবরা বিলুপ্ত হয়।  
- উত্তরাধিকারসূত্রে গঠনগত পরিবর্তন ছড়িয়ে পড়ে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
- National Geographic website – Theory of Evolution
১৩,২৬৬.
কোনটিকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. ক্রোমোজোম
  4. রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- জীবদেহের প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৬৭.
একটি ইলেকট্রনের চার্জের পরিমাণ হলো-
  1. 1.60×10-19C
  2. 1.73×10-19C
  3. 9.11×10-28C
  4. 6.02×10-23C
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রন (Electron):
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন।
- এর ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের সংকেত e-.
- ইলেকট্রনের আসল ভর- 9.11×10-28 g ।
- ইলেকট্রনের প্রকৃত আধান 1.60×10-19 Coulomb।
- আপেক্ষিক আধান -1.

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৬৮.
মানবদেহে কয় স্তরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে?
  1. দুই স্তর
  2. তিন স্তর
  3. চার স্তর
  4. পাঁচ স্তর
ব্যাখ্যা
• ইম্যুনাইজেশন:
- মানুষের শরীরের সংক্রামক রোগের প্রতিরোধক তৈরি করার প্রক্রিয়াকে ইম্যুনাইজেশন বলে।
- মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে  তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। যথা-
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) ত্বক, (ii) মিউকাস মেমব্রেন, (iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া, (iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং (v) চোখের আবরণ ও অশ্রু।

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়।
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) ব্যাথাদায়ক সাড়া, (ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ, (iii) কমপ্লিমেন্ট, (iv) ইন্টারফেরন এবং (v) ন্যাচারাল কিলার সেল।

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) লিম্ফোসাইট, (ii) MHC অণু এবং (ii) ক্লোনাল সিলেকশন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১৩,২৬৯.
কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত নয়?
  1. বনাঞ্চল ধ্বংস
  2. খরা বৃদ্ধি
  3. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  4. সুপেয় পানি দূষণ
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তন মূলত পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে এবং এর ফলে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। বনাঞ্চল ধ্বংস, খরা বৃদ্ধি এবং সুপেয় পানি দূষণ—all these are direct or indirect consequences of changing climate patterns. জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়তে পারে, বৃষ্টি কমে বা বেড়ে যেতে পারে, যা বনাঞ্চল ধ্বংস এবং খরার কারণ হয়। পানি দূষণও বৃদ্ধি পায় কারণ প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল নয়; এটি মানব সমাজের বৃদ্ধি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণে ঘটে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি।


• জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনেরই নেতিবাচক প্রভাব।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৭০.
বাংলাদেশ ভূ-খন্ড সৃষ্টির আগে এখানে কী ছিল?
  1. ক) ডেল্টা বেসিন
  2. খ) বঙ্গ বেসিন
  3. গ) ভারত মহাসাগরীয় বেসিন
  4. ঘ) সাগর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ (বঙ্গীয় বদ্বীপ) ← বঙ্গ বেসিন (বঙ্গীয় অববাহিকা) ← সাগর।
অর্থাৎ বাংলাদেশ ভূ-খন্ড সৃষ্টির পূর্বে এখানে বঙ্গ বেসিন (বঙ্গীয় অববাহিকা) অবস্থিত ছিল।
ভূত্বকীয় ভারতীয় প্লেট (Indian Plate) এবং এশিয়ান প্লেটের (Asian Plate) সংঘর্ষের ফলে বঙ্গীয় অববাহিকার উৎপত্তি হয়েছে। ইয়োসিন উপযুগের শেষাংশে এই সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে একদিকে টেথিস সাগরের বিলুপ্তি এবং অপরদিকে হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি-এই দুটি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বঙ্গীয় অববাহিকার জন্ম হয় এবং ক্রমাগতভাবে তা হিমালয় পর্বত থেকে আগত নদীধারা কর্তৃক বাহিত পলিমাটি দ্বারা ভরাট হয়ে বঙ্গীয় বদ্বীপের সৃষ্টি করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৭১.
ক্যালসিয়ামের অভাবে নিচের কোন সমস্যাটি দেখা দেয়? 
  1. এটির অভাবে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে।
  2. এটির অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
  3. এটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৭২.
নিচের কোনটি উদ্বায়ী পদার্থ?
  1. নিশাদল
  2. সোডিয়াম
  3. পটাশিয়াম
  4. পারদ
ব্যাখ্যা
উর্ধ্বপাতন (Sublimation) :
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর।
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না।
- এরা উদ্বায়ী পদার্থ। 
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলা হয়।
- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথালিন, কার্বন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৭৩.
কোন ধাতু পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ইউরেনিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. রেডিয়াম
ব্যাখ্যা

• সোডিয়াম ধাতুকে পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়। 

• সোডিয়াম: 
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু। 
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে। 
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। 
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়। 
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। 
- তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫ °C (২৫৭ °F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত +2 জারণ অবস্থায় থাকে। এটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ, আরএনএ এবং এটিপি-এর সঙ্গে জড়িত। 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান, যা পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- রেডিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এর যৌগগুলি অন্ধকারে হালকা নীল রঙের আলো ছড়ায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

১৩,২৭৪.
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক লোকের হৃদপিন্ডের সিস্টোলিক চাপ কত?
  1. ক) 70 - 90 মিলিমিটার মার্কারি
  2. খ) 110 - 130 মিলিমিটার মার্কারি
  3. গ) 70 - 80 মিলিমিটার মার্কারি
  4. ঘ) 130 - 150 মিলিমিটারি মার্কারি
ব্যাখ্যা
রক্ত চাপ : রক্ত প্রবাহের সময় ধমনিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।

হৃদপিন্ডের সংকোচনশীল অবস্থায় যে সর্বাধিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের স্বাভাবিক সিস্টোলিক প্রেসার হলো ১১০-১৩০ মি.মি. Hg গড়ে ১২০ মি.মি।

হৃদপিন্ডের শিথিল অবস্থায় যে সর্বনিম্ন চাপ সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ডায়াস্টোলিক প্রেসার হলো ৭০-৯০ মি.মি. (গড়ে ৮০ মি.মি. Hg) রক্ত চাপকে সাধারণতঃ ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৭৫.
যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চন্দ্র অবস্থান করে তখন কোনটি ঘটে?
  1. ক) চন্দ্রগ্রহণ
  2. খ) সূর্যগ্রহণ
  3. গ) আমবস্যা
  4. ঘ) পূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
অমাবস্যার তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে অবস্থান করে। ফলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে। এ ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে। সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৭৬.
কঙ্কাল কোন দুটি উপাদানে গঠিত? 
  1. রক্ত ও পেশি
  2. অস্থি ও তরুণাস্থি
  3. স্নায়ু ও তরল পদার্থ
  4. চামড়া ও তরুণাস্থি
ব্যাখ্যা
মানব কঙ্কাল: 
- মানব দেহের গঠন কাঠামো হলো কঙ্কাল (Skeleton)। 
- অস্থি (Bone) ও তরুণাস্থি (Cartilage) দ্বারা গঠিত যে তন্ত্র দেহের মূল কাঠামো গঠন করে এবং অভ্যন্তরীণ নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে দেহের ভার বহন করে এবং পেশি সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র (Skeletal system) বলে। 
- মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র মোট ২০৬ টি অস্থি নিয়ে গঠিত। 
- হৃদপিন্ড, ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত, মগজ ইত্যাদি দেহের কোমল অঙ্গসমূহকে অস্থির আবরণে সুরক্ষিত রাখে। 
- অস্থিগুলো ঐচ্ছিক মাংসপেশি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকায় ইচ্ছাকৃত অঙ্গ সঞ্চালন ও চলাফেরা করা সম্ভব হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৭৭.
কোয়াসার কী? 
  1. একটি গ্রহীয় নীহারিকা 
  2. একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশেষ 
  3. মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু 
  4. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৩,২৭৮.
60kg ভরের এক ব্যক্তি 940kg ভরের লিফটে চড়ে উপরে উঠতে থাকলে লিফটের ঝুলন রশিতে টান হবে (g = 10ms-2)
  1. ক) 1000 N
  2. খ) 880 N
  3. গ) 9680 N
  4. ঘ) 11000 N
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 60kg ভরের এক ব্যক্তি 940kg ভরের লিফটে চড়ে উপরে উঠতে থাকলে লিফটের ঝুলন রশিতে টান হবে (g = 10ms-2)

সমাধান:
মনে করি, লিফটের ত্বরণ = a

প্রশ্নে ত্বরণ এর মান উল্লেখ করা উচিত ছিল, কিন্তু যেহেতু পিএসসি'র প্রশ্নে ত্বরণ এর মান দেওয়া ছিল না সেহেতু হিসেবের সুবিধার্তে লিফটের ত্বরণ a = 1 ms-2 ধরা হয়েছে। অন্য কোন মান ধরলে উত্তর আসবে না।

দেওয়া আছে
m = 60 + 940 = 1000 kg
g = 10 ms-2

টান = m(g + a)
= 1000(10 + 1)
= 11000 N
১৩,২৭৯.
অ্যামিটার মূলত কোনটি পরিমাপ করে?
  1. তড়িৎ প্রবাহ
  2. ভোল্টেজ 
  3. বিভব পার্থক্য
  4. রোধ 
ব্যাখ্যা

অ্যামিটার: 
- অ্যামিটার একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র। 
- অ্যামিটারের সাহায্যে বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহ সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা যায়। 
- অ্যামিটার বর্তনীর সাথে শ্রেণি সংযোগে যুক্ত থাকে। 
- এই যন্ত্রে মূলত একটি গ্যালভানোমিটার থাকে। গ্যালভানোমিটার হচ্ছে সেই যন্ত্র যার সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। 
- এই গ্যালভানোমিটারে বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি অ্যাম্পিয়ার, মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা মাইক্রোঅ্যাম্পিয়ার এককে দাগকাটা একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বিদ্যুৎ কোষের মতো অ্যামিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

ভোল্টমিটার: 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হবে, ভোল্টমিটারকে সেই দুই বিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- ভোল্টমিটারে মূলতঃ এই যন্ত্রে একটি গ্যালভানোমিটার থাকে। 
- এর বিক্ষেপ নির্ণয়ের জন্য একটি সূচক বা কাঁটা লাগানো থাকে। সূচকটি ভোল্ট এককে দাগাঙ্কিত একটি স্কেলের উপর ঘুরতে পারে। 
- বর্তনীর যে দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্য পরিমাপ করতে হয় ভোল্টমিটারটিকে সেই দুই কিন্দুর সাথে সমান্তরালে সংযুক্ত করতে হয়। 
- তড়িৎ কোষ বা অ্যামিটারের মতো ভোল্টমিটারেও দুটি সংযোগ প্রান্ত থাকে, একটি ধনাত্মক ও একটি ঋণাত্মক প্রান্ত। 
- সাধারণত ধনাত্মক প্রান্ত লাল এবং ঋণাত্মক প্রান্ত কালো রঙের হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩,২৮০.
গলবিল থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত নালিটির নাম
  1. ক) বৃহদন্ত্র
  2. খ) ক্ষুদ্রান্ত্র
  3. গ) অন্ননালি
  4. ঘ) কৈশিক নালি
ব্যাখ্যা
গলবিল থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত নালিটির নাম অন্ননালি। খাদ্যবস্তু এই নালির মধ্যে দিয়ে পাকস্থলীতে পৌছে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
১৩,২৮১.
কোন তত্ত্ব মহাবিশ্বের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে?
  1. বিগ ব্যাং থিওরি
  2. ইনফ্লেশন থিওরি
  3. বিগ রিপ থিওরি
  4. অসিলেটিং ইউনিভার্স থিওরি
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- বিগ ব্যাং সিদ্ধান্ত অনুসারে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে।
- এই সিদ্ধান্তে বলা হয় যে, মহাবিশ্ব একটি একটি সুপারনোভা বা মহাস্থির বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুগুলি আরম্ভিক অবস্থায় ছিল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৮২.
বংশগতি বিদ্যার জনক কে?
  1. ল্যামার্ক
  2. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  3. চার্লস ডারউইন
  4. জেমস ওয়াটসন
ব্যাখ্যা
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বংশগতি বিদ্যার জনক বলা হয়। 
- তিনি ১৮৬৬ সালে মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণাকালে বংশগতির ধারক ও বাহকরূপে যে ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছিলেন সেটি আজ 'জিন' রূপে পরিচিত হয়েছে।
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য উদ্ভিদের বংশধরদের মধ্যে কিভাবে প্রকাশ পায়, সে সম্বন্ধে তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যবান তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। 

- বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর কাঠামোর বর্ণনা দেন৷
- ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন।
- ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।

উৎস: বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৮৩.
ক্যালসিয়ামের আকরিক নিচের কোনটি?
  1. বোরাক্স
  2. ক্রায়োলাইট
  3. লিমোনাইট
  4. জিপসাম
ব্যাখ্যা

• জিপসামের রাসায়নিক সংকেত হলো CaSO4.2H2O (ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট)। এটি ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আকরিক, যা সিমেন্ট এবং প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২৮৪.
পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্র স্রোত কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে
  2. পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে
  3. উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে
  4. দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে
ব্যাখ্যা
- মহাসাগর ও সাগরের পানির একস্থান থেকে অন্যস্থানে নির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রবাহকে মহাসাগরীয় স্রোত বা সমুদ্রস্রোত বলে।
- উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী সমুদ্র স্রোতকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. উষ্ণ স্রোত এবং
২. শীতল স্রোত।
- সমুদ্র স্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ।
- অয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্র স্রোত পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।
- পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্র স্রোত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৮৫.
নিচের কোন শিলা গ্রাফাইটে রূপান্তরিত হয়? 
  1. কয়লা
  2. গ্রানাইট
  3. বেলেপাথর
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা

শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
উদাহরণস্বরূপ নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। 
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে। 
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়। 
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২৮৬.
টাইফয়েড রোগের কারণ—
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) নেমাটোড
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
• যক্ষ্মা, 
টাইফয়েড
• আমাশয়
• কলেরা
• গনোরিয়া
• নিউমোনিয়া
• ডিপথেরিয়া
• হুপিংকাশি 
• ধনুষ্টংকার ইত্যাদি।

ভাইরাসজনিত রোগ:
• জলাতঙ্ক
• ইনফ্লুয়েঞ্জা
• হার্পিস
• গুটি বসন্ত
• জলবসন্ত 
• এইডস ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৮৭.
ভিটামিনসমূহ কোন ধরনের পদার্থ?
  1. পানি 
  2. খনিজ লবণ 
  3. জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
  4. অজৈব রাসায়নিক পদার্থ 
ব্যাখ্যা

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: 
- খাদ্যে শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, খনিজ লবণ ছাড়াও আরও এক প্রকার সূক্ষ্ম জাতীয় উপাদানের প্রয়োজন যা খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন। 
- এই খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিনের অভাবে শরীর নানা রোগে (যেমন- রাতকানা, বেরিবেরি, স্কার্ভি ইত্যাদি) আক্রান্ত হয়।
- ভিটামিন বলতে খাদ্যের ঐ সব জৈব রাসায়নিক পদার্থকে বুঝায় যা খাদ্যে সামান্য পরিমাণে উপস্থিত থাকে
- ভিটামিনসমূহ প্রত্যক্ষভাবে দেহ গঠনে অংশগ্রহণ না করলেও এদের অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন বা তাপশক্তি উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্রিয়াগুলো সুসম্পন্ন হতে পারে না। 

ভিটামিনের প্রকারভেদ: 
- দ্রবণীয়তার গুণ অনুসারে ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. স্নেহ জাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন: যেমন- ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, এবং ভিটামিন কে। 
২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: যেমন- ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি। 

ভিটামিনের উৎস: 
- গাছের সবুজ পাতা, কচি ডগা, হলুদ ও সবুজ বর্ণের সবজি, ফল ও বীজ ইত্যাদি অংশে ভিটামিন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩,২৮৮.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময় ব্যবধান কত হতে হবে? 
  1. 0.1 সেকেন্ড 
  2. 0.05 সেকেন্ড
  3. 0.01 সেকেন্ড
  4. 0.001 সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3 m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৮৯.
'আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জনক' বলা হয় কাকে?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিকতা তত্ত্ব:
- আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক। বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
- আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তাই আলবার্ট আইনস্টাইনকে 'আপেক্ষিকতা তত্ত্বের জনক' বলা হয়।

⇒ ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। যথা -
- প্রথম অনুসিদ্ধান্ত হচ্ছে: কোন বিশ্বজনীন নির্দেশ কাঠামো নাই। সব নির্দেশ কাঠামো আপেক্ষিক। আপেক্ষিক নির্দেশ কাঠামোসমূহ পরস্পর পরস্পরের সাপেক্ষে নির্দিষ্ট গতিবেগে গতিশীল। এসব নির্দেশ কাঠামোতে পদার্থবিদ্যার সূত্রসমূহ একইরূপ সমীকরণ দ্বারা প্রকাশ করা যায়।
- দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্ত হচ্ছে: পর্যবেক্ষক যেকোন নির্দেশ কাঠামোতে থাকুক না কেন তিনি মুক্ত স্থানে আলোর গতিবেগ একই দেখতে পান। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব উপস্থাপনের ২৪ বৎসর পূর্বে অর্থাৎ ১৮৮১ সনে মাইকেলসন-মর্লে পরীক্ষণ সাহায্যে মুক্ত স্থানে আলোর গতিবেগের অপরিবর্তনশীলতা প্রমাণ করে গেছেন।

• আলবার্ট আইনস্টাইন:
- আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) ছিলেন একজন প্রখ্যাত জার্মান-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী।
- আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম জার্মানির উল্‌ম শহরে ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ।
- তাকে ২০ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী এবং আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবে মনে করা হয়।
- তিনি আপেক্ষিকতার তত্ত্ব এবং বিখ্যাত সমীকরণ E=Mc2 আবিষ্কার করেন, যা বিজ্ঞানের গতানুগতিক ধারণাকে বদলে দেয়।
- আইনস্টাইন তাঁর ফটোইলেক্ট্রিক প্রভাব আবিষ্কারের জন্য ১৯২১ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন।

উৎস: i) পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১৩,২৯০.
হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণের নাম-
  1. পেরিকন্ড্রিয়াম
  2. পেরিঅস্ট্রিয়াম
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. প্লুরা
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃদপিণ্ড: 

- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
- আর হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা-
• এপিকার্ডিয়াম,
• মায়োকার্ডিয়াম ও
• এন্ডোকার্ডিয়াম।

- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।
- অস্থির আবরণের নাম: পেরিঅস্ট্রিয়াম।
- তরূণাস্থির আবরণের নাম: পেরিকন্ড্রিয়াম। 
- ফুসফুসের আবরণের নাম: প্লুরা। 

Image Source: কালের কণ্ঠ পত্রিকা
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৯১.
কোনটি প্যারা চৌম্বক পদার্থ?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) অ্যালুমিনিয়াম
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি  পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
১৩,২৯২.
পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কী বলে? 
  1. ফিশন
  2. মেসন
  3. ফিউশন
  4. ডেটন
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়।
- প্রক্রিয়া দুটি হল:
১.  নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 
- উচ্চ শক্তিসম্পন্ন প্রোটন, নিউট্রন বা ডিউটেরনের আঘাতের ফলে ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াস ৩টি নিউট্রনসহ দুটি তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে পড়ে। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
- অত্যধিক উচ্চ তাপে ফিউশন সংঘটিত হয়। 
- চারটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস ফিউশন প্রক্রিয়াতে জড়িত হয়ে একটি করে হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৯৩.
যে পদার্থে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না তাকে কী বলা হয়?
  1. অন্তরক
  2. পরিবাহী
  3. অর্ধপরিবাহী
  4. সুপারকন্ডাকটর
ব্যাখ্যা

পরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই আধান বা তড়িৎ এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি।
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।

অপরিবাহী পদার্থ:
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি।
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী।
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না

অর্ধপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৯৪.
'টেস্টিং সল্ট' এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট
  3. সোডিয়াম থায়োসালফেট
  4. মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো একটি আয়নিক যৌগ যা অম্ল ও ক্ষারকের মধ্যে সংঘটিত প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।
যেমন- 
- আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট হলো গ্লুবার লবণ।
- সোডিয়াম থায়োসালফেটকে বলা হয় হাইপো।
- মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট কে বলা হয় টেস্টিং সল্ট।
- খাবার লবণ বা টেবিল সল্ট হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড।

উল্লেখ্য, প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,২৯৫.
মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁতের সংখ্যা কত? 
  1. ১৬ 
  2. ২০ 
  3. ২৪ 
  4. ২৮ 
ব্যাখ্যা

দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২৯৬.
গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) কার্বন ও অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন ও হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

গ্রাফিন কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। সহজভাবে বললে, এটা কার্বনের একটি ষড়ভুজাকৃতির স্ফটিক স্তর বা স্তর বিন্যাস যেখানে প্রতিটি স্তরের পুরুত্ব এক পরমাণুর সমান।

এটি আবিষ্কারের জন্য আন্দ্রেঁ গেইম এবং কনস্টানটিন নভোসেলভ ২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

Britannica থেকেঃ
Graphene, a two-dimensional form of crystalline carbon, either a single layer of carbon atoms forming a honeycomb (hexagonal) lattice or several coupled layers of this honeycomb structure. The word graphene, when used without specifying the form (e.g., bilayer graphene, multilayer graphene), usually refers to single-layer graphene. Graphene is a parent form of all graphitic structures of carbon: graphite, which is a three-dimensional crystal consisting of relatively weakly coupled graphene layers; nanotubes, which may be represented as scrolls of graphene; and buckyballs, spherical molecules made from graphene with some hexagonal rings replaced by pentagonal rings.

প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে।
কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
অদানাদার রূপভেদ হলো- কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,২৯৭.
বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বাড়লে বায়ুচাপের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন হয়? 
  1. বায়ুচাপ কমে
  2. বায়ুচাপ বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বাড়ে তারপর কমে
ব্যাখ্যা
- বায়ু তার ওজনের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের উপর যে চাপ প্রয়োগ করে তাই বায়ুচাপ। 
- বায়ুচাপের একক হল প্যাসকেল। 
- তাপমাত্রা বাড়লে কোন বদ্ধ পাত্রে বায়বীয় পদার্থের চাপ বেড়ে যায় কিন্তু বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়লে বায়ুচাপ কমে যায় এর কারণ বায়ুমণ্ডল পাত্র বদ্ধ নয়; এটি খোলা। 
- তাপ পেলে বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় ফলে বায়ুচাপ কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৩,২৯৮.
আর্কিমিডিসের নীতির সাহায্যে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. প্লবতা
  2. আলোর প্রতিফলন
  3. ভরবেগ
  4. ত্বরণ
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতি:
বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল উর্ধ্বচাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে
তাই, কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।।
১৩,২৯৯.
'মিষ্টি কুমড়া' কোন ধরনের খাদ্য?
  1. ক) শ্বেতসার
  2. খ) আমিষ
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা

মিষ্টি কুমড়া বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ।
মিষ্টি কুমড়ার শিকড় যথেষ্ট বিস্তৃত।
এই সবজিটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ স্বাস্থ্য উপকারিতা।
এটি ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রনে কাজ করে।
মিষ্টি কুমড়া ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স, সি এবং ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের ধারক।
এছাড়াও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজিটি আমাদের দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধক কোষ গঠন করে।
উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস ও পত্রিকার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত রিপোর্ট।

১৩,৩০০.
আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা করেন কে?
  1. ক) গ্যালিলিও গ্যালিলি
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) নিউটন
  4. ঘ) থমাস ইয়াং
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও গ্যালিলির হাতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা হয়। 

- গ্যালিলিও গ্যালিলির (১৫৬৪-১৬৪২) জন্ম ইতালির পিসায়।
- তাঁর বাবা ভিনসেঞ্জো গ্যালিলি ছিলেন গণিতজ্ঞ ও সংগীতশিল্পী।
- দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মানোন্নয়ন ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতিসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয় তাঁকে।
- এক ওলন্দাজ চশমা নির্মাতার দূরবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণের কথা শুনে ১৬০৯ সালে গ্যালিলি উন্নতমানের দূরবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণ করেন।
- ১৬২৪ সালে তিনি প্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেন।  

সূত্র- উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, ডক্টর শাহাজাহান তপন।