বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৩২ / ১৪০ · ১৩,১০১১৩,২০০ / ১৪,০৮০

১৩,১০১.
নিচের কোনটি তরলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নির্দিষ্ট আয়তন আছে
  2. নির্দিষ্ট আকার নেই
  3. প্রবাহিত হতে পারে
  4. নির্দিষ্ট আকার রয়েছে
ব্যাখ্যা
• তরল পদার্থ:
- পদার্থের ৩ টি প্রধান অবস্থার মধ্যে একটি হলো তরল।

• তরলের বৈশিষ্ট্য:
- তরলের আয়তন নির্দিষ্ট (চাপ ও তাপমাত্রা স্থির থাকলে)।
- তরলের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই; এটি যে পাত্রে রাখা হয়, সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল প্রবাহিত হতে পারে (যেমন: পানি, তেল)। 
- তরলের অণুগুলোর মধ্যবর্তী আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম কিন্তু গ্যাসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৩,১০২.
নিচের কোনটি প্রাণিজ শর্করা?
  1. স্টার্চ
  2. সেলুলোজ
  3. সুক্রোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন: 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৩,১০৩.
দিয়াশলাইয়ের কাঠির শীর্ষে কোন প্রকারের ফসফরাস ব্যবহৃত হয়?
  1. বেগুনি ফসফরাস
  2. শ্বেত ফসফরাস
  3. লোহিত ফসফরাস
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

• দিয়াশলাইয়ের কাঠির শীর্ষে সাধারণত লোহিত ফসফরাস (Red Phosphorus) ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিক লোহিত ফসফরাস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং স্থিতিশীল, যা ঘর্ষণের মাধ্যমে জ্বলে ওঠে। অন্যদিকে, শ্বেত ফসফরাস খুবই জ্বলনশীল ও বিষাক্ত, তাই এটি ব্যবহার করা হয় না। বেগুনি ফসফরাসও সাধারণত এই কাজে ব্যবহার করা হয় না। কাঠির শীর্ষে লোহিত ফসফরাস থাকায় ঘষলে তা সহজেই আগুন ধরে, যা আমাদের আলো জ্বালানোর জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর।
- তাই প্রশ্নে সঠিক উত্তর হলো গ) লোহিত ফসফরাস।


ফসফরাস: রূপভেদ ২ টি।
• শ্বেত ফসফরাস ও
• লোহিত ফসফরাস।

- শ্বেত ফসফরাস বেশি সক্রিয় এবং বিষাক্ত।
- দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়।
- লোহিত ফসফরাস একটু উষ্ণ অবস্থায় বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তাই লোহিত ফসফরাস ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ম্যাচের কাঠি। ম্যাচের কাঠি বারুদে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ তৈরি হয়, তাতে লোহিত ফসফরাস অক্সিজেনর সঙ্গে বিক্রিয়া করে জ্বলে ওঠে।

 উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।

১৩,১০৪.
নিম্নের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) মার্বেল
  2. খ) কয়লা
  3. গ) গ্রানাইট
  4. ঘ) নিস
ব্যাখ্যা
বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর, কেওলিন ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
১৩,১০৫.
কোনটি ধনুষ্টংকার রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) ব্যাসিলাস
  2. খ) কমা
  3. গ) স্পাইরাল
  4. ঘ) কক্কাস
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া হল আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
ব্যাকটেরিয়া কোষগোলাকার, দন্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।
দেহের আকার আকৃতির ভিত্তিতে একে নিম্নরূপে শ্রেণীবদ্ধকরা হয়ঃ
কক্কাসঃ কোন কোন ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া।
এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাসিলাসঃ এরা লম্বা দন্ডের ন্যায় দেখতে। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
কমাঃ এরা বাঁকা দন্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরণের।
স্পাইরিলামঃ এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ামের আকৃতি প্যাঁচানো।
সূত্রঃ পৃষ্ঠা নং-০৩, বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

১৩,১০৬.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.১৫ - ১.৫%
  2. খ) ৫.৫ - ৬.২৫%
  3. গ) ০.৫ - ১.৭৫%
  4. ঘ) ১১.০১%
ব্যাখ্যা
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ ০.১৫ - ১.৫%। [সূত্র: ৯ম - ১০ম শ্রেণীর রসায়ন বই]
১৩,১০৭.
ছত্রাকের জীবন রহস্য উম্মোচন করেন কে?
  1. ক) মাকসুদুল আলম
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) মোবারক আহমদ খান
  4. ঘ) রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা


২০১২ সালে পাটসহ পাঁচশ উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকারক ছত্রাকের জীবন রহস্য (জেনোম সিকোয়েন্স) উম্মোচন করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।
এছাড়াও তিনি ২০১০ সালে দেশি পাটের জীবনরহস্য উম্মোচন করেন।
উল্লেখ্য, পাট থেকে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান।
উৎসঃ ডেইলি স্টার আর্কাইভ।

১৩,১০৮.
COVID-19 রোগটি কোন অঙ্গকে প্রধানভাবে প্রভাবিত করে?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. পাকস্থলী
  3. ফুসফুস
  4. মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
• COVID-19 রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটির নাম SARS-CoV-2, যা করোনাভাইরাস গোত্রের সদস্য। এটি একটি RNA ভাইরাস, যা প্রধানত মানুষের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। ভাইরাসটি সাধারণত সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি অথবা স্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

• এটি একটি সংক্রামক রোগ, যা ২০১৯ সালের শেষদিকে চীনের উহান শহরে প্রথম সনাক্ত হয়। অল্প সময়েই এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১১ মার্চ, ২০২০-তে একে বৈশ্বিক মহামারী (Pandemic) ঘোষণা করে।

এর লক্ষণ-
- জ্বর 
- শুষ্ক কাশি
- শ্বাসকষ্ট
- গলা ব্যথা, ক্লান্তি। 
- গন্ধ/স্বাদ হারানো। 
- গাঁট ব্যথা, মাথাব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ। 
-  অনেকে অসিম্পটোমেটিক (লক্ষণহীন) হলেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
 
ফুস্ফুসে যেভাবে সংক্রমন ঘটায়
- ফুসফুসের ভেতরে সংক্রমণ ঘটায়। 
- শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। 
- গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ফুসফুসে তরল জমা, বা অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। 

গুরুতর অবস্থায়
- Acute Respiratory Distress Syndrome (ARDS) হতে পারে । 
- ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয়।
- কখনো কখনো এটি মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- WHO (World Health Organization): “COVID-19 and the Lung.
১৩,১০৯.
CPM এর পূর্ণ অভিব্যক্তি হলো
  1. Common Project Method
  2. Common Path Method
  3. Critical Project Method
  4. Critical Path Method
ব্যাখ্যা
The critical path method (CPM) is a technique where you identify tasks that are necessary for project completion and determine scheduling flexibilities. A critical path in project management is the longest sequence of activities that must be finished on time in order for the entire project to be complete. Any delays in critical tasks will delay the rest of the project.

CPM revolves around discovering the most important tasks in the project timeline, identifying task dependencies, and calculating task durations.

CPM was developed in the late 1950s as a method to resolve the issue of increased costs due to inefficient scheduling. Since then, CPM has become popular for planning projects and prioritizing tasks. It helps you break down complex projects into individual tasks and gain a better understanding of the project’s flexibility. 
১৩,১১০.
নিচের কোনটিকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. আলোর বিচ্ছুরণ
  4. আলোর অপবর্তন
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ:
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়।
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়।
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে।
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই।
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে।
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য।
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১৩,১১১.
জীবের রাসায়নিক গঠন উপাদান কি?
  1. ক) RNA
  2. খ) DNA
  3. গ) NDA
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা
• জীবের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA
• DNA: জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA। এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১১২.
2311Na মৌলের প্রোটন সংখ্যা কত?
  1. ক) 11
  2. খ) 12
  3. গ) 23
  4. ঘ) 35
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন+নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে। এখানে, Na- এর ভরসংখ্যা ২৩ এবং প্রোটন সংখ্যা ১১। তাই নিউট্রন সংখ্যা = ২৩-১১ = ১২। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১৩,১১৩.
চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কৌণিক ব্যবধানকে কী বলে?
  1. চৌম্বক অক্ষ
  2. চৌম্বক মেরু
  3. বিচ্যুতি
  4. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। 
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মের° N ও S দেখানো হয়েছে। 

N = North Pole (উত্তর মেরু), 
S = South Pole (দক্ষিণ মেরু)। 

ভৌগোলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। চিত্রে NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। চিত্রে AB দন্ডচুম্বকের অক্ষ। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১১৪.
Geography শব্দের পূর্ণ অর্থ কী?
  1. ভূ-চিত্র
  2. পৃথিবীর বর্ণনা 
  3. পৃথিবীর মানচিত্র
  4. ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• ভূগোলের ধারণা (Concept of Geography):
- মানুষের আবাসভূমি হিসেবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল।
- ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দ এসেছে।
- প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটোসথেনিস প্রথম 'Geography' শব্দ ব্যবহার করেন।
- 'Geo' ও 'graphy' শব্দ দু'টি মিলে হয়েছে 'Geography' 'Geo' শব্দের অর্থ 'ভূ' বা পৃথিবী এবং 'graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা।
- সুতরাং 'Geography' শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
- জার্মান ভূগোলবিদ কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।
- বৃটিশ ভূগোলবিদ ডাডলি স্ট্যাম্পের (Professor L. Dudley Stamp)মতে, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল।
 কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ,কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১৩,১১৫.
ঐচ্ছিক পেশি থাকে- i. চোখে ii. অস্থিতে iii. গলবিলে
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. i ও ii
  2. ii ও iii
  3. i ও iii
  4. i, ii ও iii
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ পেশি (Voluntary or skeleted or striated Muscle):
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে।
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে।
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে।
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত।

- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে।
- এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে।
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়।
- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে।
- এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে।

- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে।
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়।
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত।
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে।
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১১৬.
'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা' কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা

• জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫:
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫ (National Disaster Management Policy) হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRM) ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত, সক্রিয় এবং টেকসই কাঠামো প্রদান করে, যার লক্ষ্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, যা মূলত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২-এর আওতায় প্রণীত হয়েছে এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি, প্রশমন, সাড়া ও পুনরুদ্ধার—এই চারটি মূল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

উৎস: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫।

১৩,১১৭.
মৌলিক বল কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

মৌলিক বল হল সেই চারটি বল যা প্রাকৃতিক ঘটনার সব ধরনের বলকে বর্ণনা করতে সক্ষম। এগুলোই মহাবিশ্বে থাকা সকল কণার মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন শক্তি ও ক্রিয়ার মূল কারণ। 

উত্তর: ঘ) ৪টি।
 
মৌলিক বল: 

- মৌলিক বল মাত্র চারটি। 
- সেগুলো হচ্ছে: মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল ও সবল নিউক্লীয় বল।

মহাকর্ষ বল (Gravitational Force): 
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।

তড়িৎ চৌম্বক বল বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (Electromagnetic Force): 
- যদিও তড়িৎ বা বিদ্যুৎ এবং চুম্বকের বলকে আলাদা ধরনের বল মনে হয়, আসলে দুটি একই বল শুধু দুভাবে দেখা যায়। 
- মাধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল অনেক বেশি শক্তিশালী (১০৩৬ গুণ বা ট্রিলিওন ট্রিলিওন ট্রিলিওন গুণ শক্তিশালী)। 

দুর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force): 
- এটাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মহাকর্ষ বলের মতো এত দুর্বল নয়।

সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force): 
- এটি হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বক বল থেকেও একশগুণ বেশি শক্তিশালী কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

১৩,১১৮.
বায়োগ্যাসে মিথেনের পরিমাণ কত?
  1. ৩৩%
  2. ৬৫%
  3. ৮৫%
  4. ৪০%
ব্যাখ্যা
বায়োগ্যাস:
প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুরূপ গ্যাস নানা রকম প্রাণী ও উদ্ভিদের বর্জ্য থেকে তৈরি করার ব্যবস্থা করা যায়। এ ধরনের গ্যাসকে বলে বায়োগ্যাস।

- বায়ো অর্থ জীবন। প্রাণী বা উদ্ভিদ জীবনের অধিকারী বিধায় এদের দেহ এবং দেহ নিঃসৃত পদার্থ পচনশীল।
- গোবর, মলমূত্র, পাতা, খড়কুটো প্রভৃতি পদার্থ পানিতে মিশিয়ে বাতাসের অনুপস্থিতি রাখলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গাজন প্রক্রিয়া ঘটে। ফলে এক ধরনের বর্ণহীন দাহ্য গ্যাস উৎপন্ন হয়। এর শতকরা ৬০-৭০ ভাগই মিথেন গ্যাস। ইহাই বায়োগ্যাস নামে পরিচিত।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।

অপশনে ৬৫% থাকায় উত্তর হিসেবে এটাই বেছে নেওয়া হচ্ছে।
আরো অনেক উৎসে বায়োগ্যাসে মিথেনের বিভিন্ন মাপ বা রেঞ্জ দেওয়া আছে। সবগুলোতেই উত্তর ৭০% এর কাছাকাছি।
১৩,১১৯.
কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়? 
  1. ফ্যাক্স
  2. রেডিও
  3. মোবাইল
  4. টেলিফোন
ব্যাখ্যা
রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১২০.
আমিষ কী দিয়ে গঠিত হয়?
  1. ক) ফ্যাটি এসিড সমন্বয়ে গঠিত হয়।
  2. খ) অ্যামাইনো এসিড সমন্বয়ে গঠিত হয়।
  3. গ) ভিটামিনের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
  4. ঘ) বিভিন্ন খনিজ লবণের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
ব্যাখ্যা
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত। 
- আমিষের গাঠনিক একক হল অ্যামাইনো এসিড
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।

সূত্র: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী

১৩,১২১.
সমুদ্র তলদেশের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফ্যাদোমিটার 
  2. ব্যারোমিটার 
  3. টেলিস্কোপ 
  4. সিসমোমিটার
ব্যাখ্যা

সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: 
- সাগর, মহাসাগরের পানিরাশির উপরিভাগ সমতল দেখা গেলেও সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ সমতল নয়। 
- স্থলভাগ যেমন বন্ধুর প্রকৃতির অর্থাৎ কোথাও সমভূমি, কোথাও মালভূমি, কোথাও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, আবার কোথাও গভীর খাত, সমুদ্র তলদেশের ভূমির প্রকৃতিও তেমন বন্ধুর। বরং স্থলভাগের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। 
- সমুদ্র তলদেশে অসংখ্য পাহাড়, পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মালভূমি, পর্বতচূড়া এবং সুগভীর খাত বর্তমান। 
- অতীতে জাহাজ হতে শিকল বা শক্ত তারের মাথায় ভারী জিনিস বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হতো। 
- বর্তমানে অন্যান্য পদ্ধতিসহ শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার গিয়ে আবার ফিরে আসে, আর এভাবেই সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা সাধারণত ফ্যাদমে (এক ফ্যাদম সমান ছয় ফুট) পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- টেলিস্কোপ (Telescope) মূলত দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- সিসমোমিটার (Seismometer) ভূমিকম্প বা কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র। 
- ব্যারোমিটার (Barometer) বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৩,১২২.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটি অপুষ্পক উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জবা
  2. আম
  3. কাঁঠাল
  4. স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৩,১২৩.
নিচের কোনটি উদ্ভিদে দেখাযায় কিন্তু প্রাণীতে সাধারণত নেই?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াস
  4. সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা

- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো একটি বিশেষ ধরনের কোষ-অঙ্গাণু যা প্রধানত উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায়।

- উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, যা ফটোসিন্থেসিসের জন্য অপরিহার্য।
- ক্লোরোপ্লাস্টে থাকে ক্লোরোফিল, যা সূর্যালোক শোষণ করে।
- প্রাণী কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট নেই; প্রাণী সরাসরি খাদ্য গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কোষেই নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও সাইটোপ্লাজম থাকে।
- তাই ক্লোরোপ্লাস্ট হলো উদ্ভিদকোষের অনন্য অঙ্গাণু, যা প্রাণীতে সাধারণত পাওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, Britannica 

১৩,১২৪.
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ কেমন থাকে? 
  1. তীব্র
  2. দুর্বল
  3. মাঝারি
  4. আকর্ষণ নেই
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এ সকলই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১২৫.
কোনাে বস্তুকণা আলাের দ্রুতিতে চললে এর ভর হবে-
  1. ক) অর্ধেক হবে
  2. খ) শূন্য হবে
  3. গ) দ্বিগুণ হবে
  4. ঘ) অসীম হবে
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে বস্তুর ভর বেগের সাথে পরিবর্তিত হয়। গতিবেগ আলাের বেগের কাছাকাছি হলে ভর উল্লেখযােগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এজন্যই বস্তুর নিজস্ব ধর্ম হিসেবে ভরের উল্লেখ করতে হবে। স্থির অবস্থায় তার ভর নিতে হয়। একেই বস্তুর স্থির ভর বলা হয়। অর্থাৎ একটি বস্তুর স্থির অবস্থার ভরই হলাে এর স্থির ভর। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১৩,১২৬.
কোয়াসারের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কোনটি মনে করা হয়? 
  1. সুপারনোভা বিস্ফোরণ 
  2. ব্ল্যাক হোল দ্বারা নক্ষত্রের গ্রাস 
  3. কোয়াসারের নিউক্লিয়ার ফিউশন 
  4. সৌরজগতের গ্রহসমূহের প্রতিফলন 
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি, অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি এই সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
অর্থাৎ, কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু।
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো- 
• কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, 
• কোয়াসারের রং নীলাভ, 
• কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস এবং 
• কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,১২৭.
নিলয়ের সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ থাকে তাকে কী বলা হয়? 
  1. স্বাভাবিক রক্তচাপ 
  2. সিস্টোলিক রক্তচাপ 
  3. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ: 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়। 
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় অর্থাৎ সংকোচনের সময় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অর্থাৎ প্রসারণের সময় অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,১২৮.
উদ্যানচর্চা বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয়-
  1. হর্টিকালচার
  2. বোটানি
  3. প্লান্টকালচার 
  4. পিসিকালচার
ব্যাখ্যা

• হর্টিকালচার:
- হর্টিকালচার হলো ফসল উৎপাদন ও উদ্যানচর্চার বিজ্ঞান ও শিল্প, যা মূলত ফুল, ফল, সবজি, ঔষধি ও সুগন্ধি উদ্ভিদ, বনজ উদ্ভিদ ইত্যাদির চাষ এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এটি কৃষি বিজ্ঞানের একটি উপশাখা হলেও এর লক্ষ্য মানুষের খাদ্য, সুগন্ধি, সৌন্দর্য এবং পরিবেশের উন্নতি।

 • হর্টিকালচারের প্রধান শাখা:
- ফলবীজ (Pomology): ফলমূল উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা।
উদাহরণ: আম, কলা, লিচু, আপেল, কমলা।

- সবজি চাষ (Olericulture): সবজি উৎপাদন ও সংরক্ষণ।
উদাহরণ: টমেটো, গাজর, পটল, বাঁধাকপি।

- ফুলচাষ (Floriculture): ফুল ও শোভামূলক উদ্ভিদ উৎপাদন।
উদাহরণ: গোলাপ, জবা, শাপলা, লিলি।

- সুগন্ধি ও ঔষধি উদ্ভিদ (Aromatic & Medicinal Plants): গন্ধযুক্ত ও ঔষধি উদ্ভিদ উৎপাদন।
উদাহরণ: লবঙ্গ, পুদিনা, তুলসী, হরিতকি।

- ল্যান্ডস্কেপ হর্টিকালচার (Landscape Horticulture): উদ্যান, পার্ক, রাস্তার গাছপালা, বাগান ও সবুজ পরিবেশের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ।
 
• হর্টিকালচারের গুরুত্ব:
১। পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা: ফল ও সবজি মানুষের পুষ্টি ও ভিটামিন সরবরাহ করে।

২। আর্থিক গুরুত্ব: ফুল, ফল ও ঔষধি উদ্ভিদ বিক্রয় থেকে আয় বৃদ্ধি।

৩। পরিবেশগত গুরুত্ব: সবুজায়ন ও বায়ু, মাটি ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য।

৪। সৌন্দর্য ও পর্যটন: ফুলবাগান, উদ্যান ও ল্যান্ডস্কেপ শিল্পে সৌন্দর্য বৃদ্ধি।

৫। স্বাস্থ্য ও ঔষধি ব্যবহার: ঔষধি উদ্ভিদ ও সুগন্ধি উদ্ভিদ থেকে জীবনমান উন্নয়ন।

অপরদিকে,
পিসিকালচার হলো মাছ চাষের বিজ্ঞান ও শিল্প, যা মূলত মাছের প্রজনন, বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কিত।এটি পানির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় এবং কৃষি ও প্রাণি সম্পদের উপশাখা।

উৎস: Britannica [Link]

১৩,১২৯.
‘সরিষার তেলে' কোন উপাদানটি পাওয়া যায়?
  1. ক) এসকরবিক এসিড
  2. খ) লিনোলিক এসিড
  3. গ) ইরোসিক এসিড
  4. ঘ) ডেটুবিন
ব্যাখ্যা
- সর্দি-কাশি হলে অনেকে সরিষার তৈল নাকে-মুখে ব্যবহার করেন।
- কিন্তু এই তৈলের একটি বড় অসুবিধা হলো এতে প্রায় ৪০-৪৫% ইরোসিক এসিড নামক একটি ক্ষতিকারক ফ্যাটি এসিড আছে যা হৃৎপিন্ডের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- বর্তমানে আমরা যে পরিমান সরিষার তৈল দৈনিক আহার করি তাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
 
উৎস: School of Agriculture & Rural Development, Bangladesh Open University
১৩,১৩০.
বাংলাদেশের একমাত্র ভূমিকম্পন মানমন্দিরটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মাত্র একটি ভূমিকম্প রেকর্ড কেন্দ্র বা ভূমিকম্পন মানমন্দির রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগ চট্টগ্রাম শহরে ১৯৫৪ সালে কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করে।
১৩,১৩১.
উদ্ভিদের কোন অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা ও পাতা উৎপন্ন হয়? 
  1. ফুল 
  2. ফল 
  3. মূল 
  4. কাণ্ড 
ব্যাখ্যা

কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

কাণ্ডের কাজ: 
- কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
- কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
- কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
- পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
- কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১৩,১৩২.
একটি 20 μF ক্যাপাসিটারে 10V বৈদ্যুতিক পটেনশিয়াল দেয়া হয় তাহলে সেখানে কী পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত থাকবে?
  1. 1mJ
  2. 2mJ
  3. 3mJ
  4. 4mJ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি 20 μF ক্যাপাসিটারে 10V বৈদ্যুতিক পটেনশিয়াল দেয়া হয় তাহলে সেখানে কী পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত থাকবে?

সমাধান:
শক্তি সঞ্চিত নির্ণয়ের সূত্র,
E = (1/2) × 20 × 10- 6 × 102J
= 10- 3J
= 1mJ
১৩,১৩৩.
জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্লাটিপাস
  2. ইকুইজিটাম
  3. স্ফোনোডন
  4. লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৩৪.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে?
  1. ইট
  2. অক্সিজেন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৩৫.
কোন পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক?
  1. Mollusca
  2. Cnidaria
  3. Echinodermata
  4. Chordata
ব্যাখ্যা

• Mollusca (মলাস্কা):
- এই পর্বের প্রাণীরা স্থলজ, মিঠাপানির ও সামুদ্রিক-তিন পরিবেশেই বাস করে।
- যেমন: শামুক (স্থলজ ও মিঠাপানির), ঝিনুক ও অক্টোপাস (সামুদ্রিক)।
- তাই Mollusca পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক নয়।

• Cnidaria (নাইডেরিয়া):
- এরা প্রধানত জলজ প্রাণি এবং অধিকাংশই সামুদ্রিক।
- যেমন: জেলিফিশ, প্রবাল, সি অ্যানিমোন।
- তবে কিছু প্রজাতি মিঠাপানিতেও বাস করে (যেমন: Hydra)।
- তাই এই পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক নয়।

• Echinodermata (ইকাইনোডারমাটা):
- এই পর্বের সকল প্রাণিই সম্পূর্ণভাবে সামুদ্রিক।
- এরা শুধু লবণাক্ত পানিতে বসবাস করে।
- যেমন: তারামাছ (Starfish), সি আর্চিন, সি কুকুম্বার।
- এদের দেহে কাঁটাযুক্ত ত্বক এবং জলবাহী তন্ত্র (Water vascular system) থাকে।
- এই পর্বের কোনো প্রাণিই স্থলজ বা মিঠাপানির নয়।

• Chordata (কর্ডাটা):
- এই পর্বের প্রাণীরা স্থলজ, জলজ ও উভচর- সব পরিবেশেই বাস করে।
- যেমন: মাছ (জলজ), ব্যাঙ (উভচর), পাখি ও মানুষ (স্থলজ)।
- তাই Chordata পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক নয়।

সুতরাং, যে পর্বের সকল প্রাণি সামুদ্রিক তা হলো - Echinodermata.
সঠিক উত্তর: গ) Echinodermata.

সূত্র: The University of Edinburgh. [link]

১৩,১৩৬.
সালোক সংশ্লেষণ সংগঠিত হয় যেখানে- 
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া আছে
  2. নিউক্লিয়াস আছে
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ক্লোরোফিল আছে
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে:
(১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।

- সালোক সংশ্লেষণ সাধারণত উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গে যেখানে ক্লোরোফিল আছে সেখানে ঘটে।
- যেমন: পাতা, সবুজকাণ্ড, শাখাপ্রশাখা প্রভৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,১৩৭.
কোন মাটির পানিধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি?
  1. পলিমাটি
  2. দোআঁশ মাটি
  3. বেলে মাটি
  4. এটেল মাটি
ব্যাখ্যা
বেলে মাটিঃ বেলে মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুবই কম। বেলে মাটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিদ্যমান মাটির কণার আকার সবচেয়ে বড়।

পলিমাটিঃ পলি মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বেলে মাটির থেকে বেশি। পলি মাটি খুব উর্বর হয় এবং মাটির কনার আকার বেলে মাটির কণার চেয়ে ছোট হয়।

দোআঁশ মাটিঃ এই মাটি বালি, পলি আর কাদার সমন্বয়ে গঠিত হয়। চাষাবাদের জন্য দোআঁশ মাটি খুবই উপযোগী।

এটেল মাটিঃ এই মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি কিন্তু পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা খুবই কম।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৩৮.
কোন শব্দ শোনার পর কত সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ মস্তিষ্কে থাকে? 
  1. ১.১ সেকেন্ড
  2. ১.০ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. ০.৫ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3 m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৩৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. এক্সোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. আয়নমণ্ডল
ব্যাখ্যা

এক্সোমণ্ডল (Exosphere): 
- তাপমণ্ডলের উপরে প্রায় ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়। 

এক্সোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- এক্সোমণ্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এটি ক্রমান্বয়ে ইন্টারপ্লানেটারি স্পেসে প্রবেশ করে। 
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। 
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলাে সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,১৪০.
একজন সুস্থ সবল পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে কত গ্রাম চর্বির প্রয়োজন?
  1. ক) ৩০-৫০ গ্রাম
  2. খ) ৪০-৫০ গ্রাম
  3. গ) ৫০-৬০ গ্রাম
  4. ঘ) ৪০-৬০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
একজন সুস্থ সবল পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৪১.
শান্ত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. শনি গ্রহে
  2. বুধ গ্রহে
  3. চাঁদে
  4. পৃথিবীতে
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

• সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।
• সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে।
• সূর্য পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুন বড় এবং চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুন বড়।
• সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ। যথা: বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।

অপরদিকে, 
• চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
• শান্ত সাগর চাঁদে অবস্থিত।
• Sea of Tranquility এর অপর নাম Mare Tranquillitatis.
• চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণকারী প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১
• অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযান ২০ জুলাই, ১৯৬৯ সালে সর্বপ্রথম চাঁদে অবতরণ করে।
• মঙ্গলগ্রহে প্রেরিত নভযান নাসার প্রথম রোভার স্কাউট ‘পাথপাইন্ডার’ ১৯৯৭ সালে অবতরণ করে।
 

ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং নাসা ওয়েবসাইট। 
১৩,১৪২.
'' The Origin of Species by means of natural selection'' বইটির রচয়িতা কে?
  1. মেন্ডেল
  2. অ্যারিস্টটল
  3. ডারউইন
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা
•ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর ‘The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন।
• তাঁর মতামত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত নামে পরিচিত।
• সমুদ্রে ভ্রমণকালীন সময়ে ডারউইন, চার্লস লায়েল লিখিত ‘The Principles of Geology' নামক বইটিতে প্রস্তাবিত তত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন। উক্ত বইটিতে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীর চেহারা পরিবর্তিত হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে ডারউইন নিজেও প্রস্তাবিত ভূ-তত্ত্বীয় পরিবর্তন এর চিহ্ন লক্ষ করেন। গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণকালে ডারউইন প্রত্যেক দ্বীপের পাখি ও কচ্ছপকে কিছুটা ভিন্ন চেহারায় দেখতে পান। 
• ডারউইনের মতবাদের মূলতত্ত্বগুলো সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংক্ষেপে ও তুলনামূলকভাবে কম নমুনা পর্যবেক্ষণর মাধ্যমে ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace) আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে বিবর্তনের মতবাদকে যৌথ নামে ‘Darwin-Wallace's Theory' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৩,১৪৩.
পাললিক শিলার কোন শিলাটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. মার্বেল
  3. নিস
  4. বেলেপাথর
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা: 
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে। 
যেমন: চুনাপাথর, বেলেপাথর, পাথুরিয়া কয়লা, সৈন্ধব লবণ, খড়িমাটি প্রভৃতি। 
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে। 
- এ শিলার পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। আর স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে এ শিলাকে স্তরীভূত শিলাও বলা হয়। 
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। 
- তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত। 
- পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা ইত্যাদি। 
- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাললিক শিলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। 

- পাললিক শিলা প্রধানত তিন প্রকার। 
যথা- 
১। যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- বেলেপাথর। 
২। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- চুনাপাথর এবং 
৩। জৈবিক উপায়ে গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- বাংলাদেশের জামালগঞ্জের কয়লা ও গোপালগঞ্জের পিট কয়লা। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৪৪.
'আলোকবর্ষ' কী নির্দেশ করে?
  1. সূর্য ও পৃথিবীর গড় দূরত্ব
  2. আলোর এক বছরে অতিক্রান্ত দূরত্ব
  3. আলোর এক বছরের তীব্রতা
  4. আলোর এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব
ব্যাখ্যা
আলোকবর্ষ:
- আলো একবছর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ বলে।
- এটি দূরত্বের একক।
- এক আলোকবর্ষ = 9.468 × 1012 km.

অন্যদিকে,
- সূর্য ও পৃথিবীর গড় দূরত্ব এক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট = 1495 × 108 km.
- এক পারসেক বলতে বোঝায় ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল দৈর্ঘ্যের চাপ যে দূরত্বে এক সেকেন্ড কোণ উৎপন্ন করে।
- এক পারসেক = 3.0857 × 1013 km.

তথ্যসূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,১৪৫.
নিচের কোনটির অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়?
  1. ফসফরিক এসিড
  2. এসকরবিক এসিড
  3. ফলিক এসিড
  4. পারক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা
জৈব ও খনিজ এসিড: 
- ফলমূল বা সবজিতে যে সকল এসিড থাকে এদেরকে জৈব এসিড বলে।
- এদেরকে খাওয়া যায় এবং কোনো কোনোটি মানব দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- যেমন- এসকরবিক এসিড যা আমরা ভিটামিন সি বলে জানি। এর অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়।
- অন্যদিকে কিছু কিছু এসিড আছে যেমন- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄), ফসফরিক এসিড (H₃PO₄), নাইট্রিক এসিড (HNO3), পারক্লোরিক এসিড (HCIO,) ইত্যাদি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত নানারকম খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি করা হয়, এদেরকে খনিজ এসিড (Mineral Acids) বলে।
- এগুলো খাওয়ার উপযোগী নয়। বরং বলা যায় এরা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- খনিজ এসিড ত্বকে লাগলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
- উল্লেখ্য, ভিটামিন বি৯ হচ্ছে ফলিক এসিড। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩,১৪৬.
এক শীতের রাতে সাইফ পানি গরম করলো খাওয়ার জন্য। গরম পানি গ্লাসে ঢালার সাথে সাথে গ্লাস ফেটে গেলো। এটা কেন ঘটলো?
  1. ক) ওই রাতে শীত বেশি ছিলো
  2. খ) কাচের গলনাঙ্ক খুব কম
  3. গ) পানি খুব একটা গরম ছিলো না
  4. ঘ) গ্লাসের ভেতরে ও বাহিরে অসম সম্প্রসারণের ফলে
ব্যাখ্যা
কাচের গ্লাসে গরম পানি ঢাললে গ্লাস ফেটে যায় কারণ হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গ্লাসের কোথাও প্রসারণ বেশি হয়, কোথাও প্রসারণ কম হয়৷ এজন্যই সাইফ দেখতে পেলো তার গ্লাসটি ফেটে গেছে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৩,১৪৭.
স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. এন্ডোকার্ডাইটিস
  2. হাইপারটেনশন
  3. মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস
  4. ব্রঙ্কিয়েকটেসিস
ব্যাখ্যা
• মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত।

• স্নায়ুরোগ:
- স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
- স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।

• স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে-

- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া,
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত,
- চলাফেরায় অসুবিধা,
- সমন্বয়ের অভাব,
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা,
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো,
- সংবেদনশীলতা হ্রাস,
- জ্ঞান হারানো।
- উদাহরণ: স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস, পারকিনসন'স প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।
- এন্ডোকার্ডাইটিস, হাইপারটেনশন ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,১৪৮.
স্টেরিলাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. খাদ্যের পুষ্টি বৃদ্ধি করা
  2. খাদ্যের স্বাদ উন্নত করা
  3. খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
  4. খাদ্য সংরক্ষণে ঠান্ডা রাখা
ব্যাখ্যা

- স্টেরিলাইজেশন একটি তীব্র তাপ প্রয়োগ পদ্ধতি যা ১০০°C -এর বেশি তাপমাত্রায় করা হয় এবং এর লক্ষ্য হল খাদ্যের মধ্যে উপস্থিত সমস্ত অণুজীব, এমনকি ব্যাকটেরিয়ার স্পোরগুলোও সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে দেওয়া।

স্টেরিলাইজিং বা রিটর্টিং বা নির্জীবকরণ: 

- সিলিং -এর পর স্টেরিলাইজিং করা হয়। 
- যেসব খাদ্য এসিডিক সেক্ষেত্রে 90-100°C তাপমাত্রায় প্রায় 30 মিনিট তাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- যেসব খাদ্যে এসিড নেই অথবা খুব কম আছে সেক্ষেত্রে 121°C তাপমাত্রায় 1.5-2 ঘণ্টা ধরে তাপ প্রয়োগ করা হয়। কারণ 121°C তাপমাত্রায় জীবাণুর স্পোর বা কেলাস কাঠামো ভেঙে যায়। 
- এতে খাদ্য সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় এবং কিছুটা রান্নার কাজও হয়। 
- যে ভৌত পদ্ধতিতে খাদ্য সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত হয় তাকে স্টেরিলাইজেশন বলে। 

অন্যদিকে, 
- স্টেরিলাইজেশন খাদ্যের পুষ্টির পরিমাণ বাড়ায় না; বরং কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টি উপাদানের সামান্য হ্রাস ঘটতে পারে। 
- স্টেরিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার কারণে খাদ্যের স্বাদ বা পুষ্টিগুণের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু স্বাদ উন্নত করা এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়। 
- ঠান্ডা রাখা (শীতলীকরণ বা ফ্রিজিং) খাদ্য সংরক্ষণের একটি আলাদা পদ্ধতি যা অণুজীবের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, কিন্তু এটি স্টেরিলাইজেশন নয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,১৪৯.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়-
  1. গ্যালিয়াম
  2. বোরন
  3. আর্সেনিক
  4. ইনডিয়াম
ব্যাখ্যা
- যে সকল মৌলের (যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক বা অ্যান্টিমনি) বহির্খোলকে পাঁচটি ইলেকট্রন থাকে তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম n-টাইপ বস্তুতে বা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়। 

- যে সব মৌলের (যেমন- অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, গ্যালিয়াম বা ইনডিয়াম) তিনটি যোজন ইলেকট্রন থাকে তাদের ভেজাল হিসেবে ব্যবহার করা হলে সিলিকন বা জার্মেনিয়াম P-টাইপ বস্তুতে বা P-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, পদার্থ বিজ্ঞান।
১৩,১৫০.
কোনটিকে 'ঈশ্বর কণা' বলা হয়?
  1. গ্রাভিটন
  2. লেপটন
  3. হিগস বোসন
  4. কোয়ার্ক
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন। 
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।
 
উৎস: ব্রিটানিকা
১৩,১৫১.
ডায়াবেটিস কী ধরনের রোগ?
  1. ক) ভাইরাস জনিত
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া জনিত
  3. গ) ফাঙ্গাস জনিত
  4. ঘ) হরমোন জনিত
ব্যাখ্যা
- 'ইনসুলিন' হরমোনের অভাবে ডায়বেটিস রোগ হয়। 

ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 

- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উল্লেখ্য, 
- চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয় এ তথ্যটি সত্য নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৫২.
জবা কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) উপগুল্ম
  2. খ) বৃক্ষ
  3. গ) বীরুৎ
  4. ঘ) গুল্ম
ব্যাখ্যা

- যে সকল উদ্ভিদ কাষ্ঠল, সাধারণত কান্ডহীন এবং গোড়া হতে অধিক শাখা-প্রশাখা বের হয়ে ঝোপে পরিণত হয় তাদেরকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে।
- এই জাতীয় উদ্ভিদের শেকড় মাটির গভীরে যায় না। যেমন- জবা, রঙ্গন, গন্ধরাজ, গোলাপ, লেবু ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৩,১৫৩.
PET- বোতল তৈরির একটি উপাদান হলো-
  1. ক) থেলিক এসিড
  2. খ) টেরিথেলিক এসিড
  3. গ) বেনজোয়িক এসিড
  4. ঘ) অ্যাসেটিক এসিড
ব্যাখ্যা
• এটি পলিয়েস্টার গ্রুপের অন্তর্গত এবং পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত এক ধরণের প্লাস্টিকের কাঁচামাল। যা টেরিথেলিক এসিড একটি উপাদান নিয়ে গঠিত।
• PET (Poly Ethylene Terephthalate).
• Molecular Formula - C8H6O4 or C6H4(COOH)2
• এটি 1941 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হুইনফিল্ড এবং ডিক্সন দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল, যারা এটিকে ফাইবার তৈরির জন্য একটি পলিমার হিসাবে পেটেন্ট করেছিলেন। 
• বর্তমানে, PET হল বিশ্বের সবচেয়ে পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক৷ আসলে, স্পেনে, বাজারে প্যাকেজিংয়ের 44% গৌণ ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়৷
•ইউরোপীয় কমিশন দ্বারা সম্মত সার্কুলার ইকোনমি কৌশল মেনে চলার জন্য 2025 সালে শতাংশটি 55 শতাংশে উন্নীত করা উচিত।
১৩,১৫৪.
সমুদ্রস্রোত এবং বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যাওয়াটা কী নামে পরিচিত?
  1. বাইস ব্যালট সূত্র
  2. কোরিওলিস প্রভাব
  3. ফেরেলের সূত্র
  4. বয়েলের সূত্র
ব্যাখ্যা
ফেরেলের সূত্রের সাহায্যে: 
- সমুদ্রস্রোত এবং বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
- এই বেঁকে যাওয়াটা ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত।
- বায়ুপ্রবাহ এবং সমুদ্রস্রোতের এই গতিবেগ প্রমাণ করে যে, আহ্নিক গতিতে পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। 

উল্লেখ্য,
- বাইস ব্যালট সূত্রানুযায়ী উত্তর গােলার্ধে বায়ুপ্রবাহের দিকে পিছন করে দাঁড়ালে ডানদিকের তুলনায় বামদিকে বায়ুর চাপ কম অনুভূত হয় এবং দক্ষিণ গােলার্ধে ঠিক এর বিপরীত অবস্থা দেখা যায়।
- কোরিওলিস প্রভাব বলতে বোঝায় পৃথিবীর পৃষ্ঠের সাপেক্ষে একটি সরল পথে চলমান বস্তুর (যেমন বিমান) আপাত বিচ্যুতি।
- বয়েলের সূত্র হল একটি গ্যাস আইন , যা বলে যে গ্যাসের চাপ এবং আয়তনের মধ্যে একটি বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩,১৫৫.
মানবদেহের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন কে?
  1. ক) কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) লিউয়েন হুক
  4. ঘ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং 
ব্যাখ্যা

১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার মানুষের রক্তের শ্রেণীবিন্যাস করে তা A,B,O এবং AB- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। সাধারণত একজন মানুষের জীবনে রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে।
গ্রুপ A- এ শ্রেণির রক্তে A এন্টিজেন এবং b এন্টিবডি থাকে।
গ্রুপ B- এ শ্রেণির রক্তে B এন্টিজেন ও a এন্টিবডি থাকে।
গ্রুপ AB- এ শ্রেণির রক্তে A ও B এন্টিজেন থাকে এবং কোন এন্টিবডি থাকে না।
গ্রুপ O- এ শ্রেণির রক্তে কোন এন্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b এন্টিবডি থাকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১৩,১৫৬.
কোনটি বিদ্যুৎ কুপরিবাহী?
  1. তামা
  2. রাবার
  3. লোহা
  4. রূপা
ব্যাখ্যা
• সুপরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে। 
যেমন- লোহা, তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।  

• কুপরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে। 
যেমন- তুলা, কাঠ, পশম, রাবার, কাঁচ, পাস্টিক ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৫৭.
পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে কী বলা হয়? 
  1. গতি
  2. কম্পাঙ্ক
  3. পর্যায়কাল
  4. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের স্পন্দনশীল একটি কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। 
- তরঙ্গের অতিক্রান্ত এই দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ । 
- আর পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে বলা হয় পর্যায়কাল। 
- পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ T সেকেন্ডে তরঙ্গে অতিক্রান্ত দূরত্ব λ । 
∴ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হবে λ/T . 
- কোনো বস্তুর একক সময়ে অর্থাৎ 1 সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে। 
অতএব এক্ষত্রে তরঙ্গের বেগ, v = λ/T 
বা, v = (1/T) × λ 
∴ v = fλ [যেহেতু পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে, f = 1/T]। 

অন্যদিকে, 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,১৫৮.
কোনটি জৈব অম্ল?
  1. ক) নাইট্রিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) এসিটিক এসিড
  4. ঘ) সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- কার্বনিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সালফিউরাস এসিড, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, ফসফরিক এসিড ইত্যাদি হলো অজৈব অম্ল।
- ফরমিক এসিড, এসিটিক এসিড, স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড, এসকরবিক এসিড, সাইট্রিক এসিড ইত্যাদি হলো জৈব অম্ল।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 
১৩,১৫৯.
শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর সময় মায়ের শরীরে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়?
  1. ইনসুলিন
  2. অক্সিটোসিন
  3. অ্যাড্রেনালিন
  4. থাইরক্সিন
ব্যাখ্যা

- শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর সময় মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনটি স্তনের পেশি সংকুচিত করে দুধ বের হতে সাহায্য করে এবং মায়ের সাথে শিশুর মানসিক বন্ধন দৃঢ় করে। এছাড়াও এই সময় প্রোল্যাকটিন নামক আরেকটি হরমোন নিঃসৃত হয় যা দুধ উৎপাদনে সহায়তা করে। 

শিশুকে মায়ের দুধ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা: 
- জন্মের পরপরই সুস্থ নবজাতককে উষ্ণ রাখার জন্য মায়ের পেট ও বুকে রাখা হয়। 
- প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য। 
১। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ বা কলোস্ট্রাম শিশুর প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে। শালদুধ এন্টিবডি ও প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুর বহু রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 
২। শিশু জন্মের প্রথম ৩-৫ দিন শালদুধ অল্প মাত্রায় আসে। তবে এ পরিমাণই নবজাতকের শারীরিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। শালদুধ শিশুর পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে অন্ত্র থেকে দ্রুত মিকোনিয়াম (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার হয়। এ অবস্থা জন্ডিস সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। 
৩। শিশু মায়ের স্তন মুখে নেয়া ও চোষার ফলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নির্গত হয়। এতে মা শান্ত, অবসাদমুক্ত বোধ করেন এবং শিশুর সাথে মায়ের ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়। 
৪। শিশু জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত বাড়তি খাবারের সাথে মায়ের দুধ দেয়া চলতে থাকে। 
৫। মায়ের দুধে রোগ জীবাণু প্রবেশের ভয় থাকে না, এ দুধের উত্তাপ শরীরের তাপমাত্রা অনুযায়ী থাকে বলে একে ঠান্ডা বা গরম করতে হয় না। 
৬। শিশুকে বুকের দুধ দিতে হলে ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। কারণ, মানসিক অশান্তি, স্বাস্থ্যহীনতা, রোগাক্রান্ত অবস্থা বা উত্তেজিত পরিস্থিতিতে শিশুকে দুধ দিলে মায়ের দুধ কমে যাবে, শিশুর মধ্যেও অতৃপ্তি আসবে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,১৬০.
'হাইপোথাইরয়েডিজম' রোগ হয় কিসের অভাবে?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
- আয়োডিনের অভাবে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং গলগণ্ড রোগ হয়।
- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান।
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৬১.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষিত হয়?
  1. ট্রপােস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটেস্ফিয়ার
  3. ওজোনস্ফিয়ার
  4. আয়ােনােস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere): 
বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। 
যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
 স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।

স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 
স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
 
স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (Ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
 
ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,১৬২.
আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যায়, তখন কী ঘটে?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) শোষণ
  3. গ) প্রতিসরণ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আলো যখন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যায়, তখন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা ঘটে। ঘটনাগুলো হচ্ছে আলোর শোষণ, আলোর প্রতিসরণ এবং আলোর প্রতিফলন।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৬৩.
পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের মধ্যে কত ধরনের শক্তি বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) দুই ধরনের
  2. খ) তিন ধরনের
  3. গ) চার ধরনের
  4. ঘ) এক ধরনের
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন:
- সকল পদার্থই অতি ক্ষুদ্র কণিকা দ্বারা গঠিত। এদেরকে পরমাণু বলে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে ধনাত্মক আধানযুক্ত নিউক্লিয়াস।
- নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা ইলেকট্রন বিভিন্ন কক্ষপথে আবর্তন করে।
- ইলেকট্রন হলো ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণা এবং এর ভর নগন্য।
- ইলেকট্রনের বৈশিষ্ট্য: 
(ক) ইলেকট্রনের আধান, e=1.602×10-19 C;
(খ) ইলেকট্রনের ভর, m = = 9.0×10-31 kg;
(গ) ইলেকট্রনের ব্যাসার্ধ, r =1.9×10-15 m এবং
(ঘ) ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান, e/m =1.77×1011 Ckg-1। 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধানের মান থেকে দেখা যায় যে, ইলেকট্রনের আধানের তুলনায় এর ভর খুবই কম।
- ইলেকট্রনের এ ধর্মের কারণে এর গতিশীলতা অনেক বেশি এবং এটি তড়িৎক্ষেত্র অথবা চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়।
- পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের মধ্যে দুধরনের শক্তি বিদ্যমান থাকে
- এর গতির জন্য থাকে গতিশক্তি এবং নিউক্লিয়াসের আধানের জন্য থাকে বিভবশক্তি।
- ইলেকট্রনের মোট শক্তি এর গতিশক্তি ও বিভবশক্তির যোগফলের সমান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৬৪.
ভিট্রিয়াস হিউমার কোথায় থাকে?
  1. ক) লেন্স ও কর্নিয়ার মাঝে
  2. খ) লেন্স ও রেটিনার মাঝে
  3. গ) রেটিনা ও কর্নিয়ার মাঝে
  4. ঘ) কর্নিয়া ও আইরিশের মাঝে
ব্যাখ্যা

লেন্স ও কর্ণিয়ার মাঝে ফাঁকা যায়গায় এক ধরনের স্বচ্ছ লবণাক্ত জলীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। লেন্স ও রেটিনার মাঝখানের ফাঁকা যায়গাও অনুরূপভাবে এক ধরণের জেলি জাতীয় স্বচ্ছ পদার্থে পূর্ণ থাকে। এদের যথাক্রমে অ্যাকুয়াস হিউমার এবং ভিট্রিয়াস হিউমার বলা হয়।
কর্ণিয়া, অ্যাকুয়াস হিউমার, ভিট্রিয়াস হিউমার, চক্ষুলেন্স সব কিছু মিলে একত্রে একটি উত্তল লেন্সের কাজ করে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৩,১৬৫.
কোনটিকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বলা হয়?
  1. রাইবোজোম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াস
  4. ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

- জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ।
- জীবের শ্বসন ক্রিয়ার ধাপ চারটি। যথা- গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহ তন্ত্র।
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া মাইক্রোকন্ডিয়ার অভ্যন্তরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকনডিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস বলা হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩,১৬৬.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে কোনো বস্তুতে আধানের উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) ইলেকট্রোস্কোপ
  2. খ) ভোল্টমিটার
  3. গ) ক্রোনোমিটার
  4. ঘ) পটেনশিওমিটার
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বস্তুর চার্জের উপস্থিতি, প্রকৃতি এবং পরিমাণ নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র(Electroscope) বলে। যে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রে স্বর্ণপাত ব্যবহার করা হয় তাকে স্বর্ণপাত তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৩,১৬৭.
কোন ভ্যাকসিনের ব্যবহার বাংলাদেশে পোলিও রোগকে নির্মূল করতে সাহায্য করেছে? 
  1. OPV
  2. BCG
  3. DPT
  4. MMR
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম: 
- রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকার আবিষ্কার এবং এর প্রচলন মানুষের জন্য আশীর্বাদ। 
- টিকার মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে চূড়ান্তভাবে নির্মূলের পূর্বে গুটি বসন্ত এককভাবে পৃথিবীর প্রায় ৩০-৪০ কোটি মানুষের প্রাণ হরণ করেছে। 
- আবিষ্কৃত পোলিও ভ্যাকসিন OPV এর ব্যবহার দ্বারা বাংলাদেশ বর্তমানে পোলিও রোগ মুক্ত। 
- এই টিকা বা ভ্যাকসিনের জন্যই রুবেলা, হাম, মাম্পস, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, পারটুসিস, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে। 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expanded Program on Immunization-EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ, যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্মসূচীতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়-


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,১৬৮.
কোন শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না?
  1. সৌর শক্তি
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  3. বায়োগ্যাস
  4. বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি হলো এমন এক শক্তির উৎস যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং এর ফলে শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়োগ্যাস,  বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৬৯.
জোয়ার-ভাটার সৃষ্টির প্রধান কারণ -
  1. ক) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব
  2. খ) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি
  3. গ) পৃথিবীর আহ্নিক গতি
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা

প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। এগুলাে হলাে-
(১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব।
এবং (২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
(১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব: মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী মহাকাশে বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি জ্যোতিষ্ক পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তাই এর প্রভাবে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
কিন্তু পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ সূর্যের ভর অপেক্ষা চাঁদের ভর অনেক কম হলেও চাঁদ সূর্য অপেক্ষা পৃথিবীর অনেক নিকটে অবস্থিত। তাই সমুদ্রের জল তরল বলে চাঁদের আকর্ষণেই প্রধানত সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে ও জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালাে হয় না।
চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থিত হলে চাঁদ ও সূর্য উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।

২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি :
পৃথিবী নিজ মেরুরেখার চারদিকে অনবরত আবর্তন করে বলে কেন্দ্রাতিগ শক্তি বা বিকর্ষণ শক্তির সৃষ্টি হয়। এই কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর প্রতিটি অণুই মহাকর্ষ শক্তির বিপরীত দিকে বিকর্ষিত হয় বা ছিটকে যায়। তাই পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে যেখানে মহাশক্তির প্রভাবে জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তার বিপরীত দিকে জল বিক্ষিপ্ত হয়েও জোয়ারের সৃষ্টি করে।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ

১৩,১৭০.
সাধারণ ড্রাইসেলে ইলেকট্রোড হিসেবে কী থাকে?
  1. কার্বন দন্ড ও দস্তার কৌটা
  2. তামার দণ্ড ও দস্তার দণ্ড
  3. তামার পাত ও দস্তার পাত
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• ড্রাইসেল:
- বিদ্যুৎ কোষ প্রধাণত দুই প্রকার। যথা- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ ও শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষ।
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে দস্তার তৈরি চোঙ এবং একটি কার্বন দন্ড ব্যবহৃত হয়।
- দস্তার চোঙে নিশাদল, কয়লার গুড়া এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের মিশ্রণের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে লেই বা কাদার মত অবস্থায় দস্তার চোঙের মধ্যে ভর্তি করা হয়। চোঙের মধ্যে একি কার্বনের দন্ড এমনভাবে বসানো হয় যাতে তা চোঙটিকে স্পর্শ না করে।
- কার্বন দন্ডটির মাথায় পিতলের টুপি লাগানো থাকে। কার্বন দন্ডের চারপাশে গালা বা পিচের স্তর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এ কোষের দস্তার চোঙটি ঋণ-মেরু এবং কার্বন দন্ড ধন-মেরু হিসেবে কাজ করে। এ কোষে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড পোলারন নিবারনের কাজ করে।
- ড্রাইসেল ব্যাটারির তড়িৎচালক বল ১.৫ ভোল্ট।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৭১.
নিচের কোনটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়?
  1. NH4Cl
  2. C10H8
  3. C10H16O
  4. NH3
ব্যাখ্যা
NHবা অ্যামোনিয়া ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়। 

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
• নিশাদল (NH4Cl),
• কর্পূর (C10H16O), 
• ন্যাপথলিন (C10H8),
• কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2),
• আয়োডিন (I2),
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)।

- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
যেমন - কঠিন ন্যাপথলিনকে তাপ দিলে সেটি তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
১৩,১৭২.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়? 
  1. ভেড়া
  2. লিমুলাস
  3. প্লাটিপাস
  4. স্ফোনোডন
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৭৩.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত ডিগ্রি ফারেনহাইট?
  1. ৯৭.২
  2. ৯৮.৪
  3. ৯৮.৬
  4. ৯৮.২
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের তাপমাত্রা:
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০০ ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।

[মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
Medical Encyclopedia এবং আরো কিছু সোর্স অনুযায়ী -
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।এক্ষেত্রে, অপশনে ৯৮.৪ এবং ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট দুটিই থাকলে - "৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।
আবার, ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলে এর সাথে ৯৮.৪ ডিগ্রি বাদে অন্য কিছু থাকলে তখন -
"৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।]

উল্লেখ্য,
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৩,১৭৪.
বৃষ্টিপাতের পর বাতাসে শব্দের বেগ -
  1. ক) বৃদ্ধি পায়
  2. খ) হ্রাস পায়
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) বৃষ্টিপাতের সাথে শব্দের বেগ সম্পর্কিত নয়
ব্যাখ্যা
এক পশলা বৃষ্টির পর বাতাসের আর্দ্রতা/জলীয় বাষ্প বেড়ে যায়।
বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। এই কারণে বর্ষাকালে জোরে শব্দ শোনা যায়।

তাছাড়া, 
তাপমাত্রা বাড়লে মাধ্যমের ঘনত্ব কমে, ফলে শব্দের বেগ বাড়ে-
- শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে শব্দের বেগ বেশি।
- রাতের বেলার চেয়ে দিনের বেলায় শব্দের বেগ বেশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৭৫.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটি বিষমমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের স্তর বিন্যাস: 
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন স্তরে স্তরে সজ্জিত। 
- বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর থেকে উপরের দিকে ক্রমশ লঘু হয়। 
- উলম্বভাবে (Vertically) বায়ুর তাপমাত্রার বিন্যাসের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
১। ট্রপোমণ্ডল,  
২। স্ট্রাটোমণ্ডল, 
৩। মেসোমণ্ডল, 
৪। তাপমণ্ডল এবং  
৫। এক্সোমণ্ডল। 

- বায়ুমণ্ডলের উপরিউক্ত স্তরগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি (ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডল) সমমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত এবং শেষের দুইটি (তাপমণ্ডল ও এক্সোমণ্ডল) বিষমমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,১৭৬.
কোথায় কঠিন শিলা পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
  2. দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া
  3. জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ
  4. বরগুনার পাথরঘাটা
ব্যাখ্যা
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
- দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি হতে ২০১২ পর্যন্ত উত্তোলিত পাথরের পরিমাণ প্রায় ১,৮১১ লক্ষ মেট্রিক টন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৭৭.
বিপদ সংকেতের জন্য লাল আলো ব্যবহৃত হয় কেন?
  1. লাল আলোর গতি কম
  2. লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সর্বাধিক
  3. লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম
  4. লাল আলোর বিক্ষেপণ বেশী
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। - এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।

- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। ফলে, বিপদ সংকেতের জন্য লাল আলো ব্যবহৃত হয় । 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৭৮.
কোনটির অভাবে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়? 
  1. পানি
  2. আমিষ
  3. শর্করা
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০%- ৭৫% হচ্ছে পানি। 
- আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- এছাড়া পানি শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে। 

- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- মাছ, মাংস কিংবা শাক-সবিজিতে শতকরা ৬০-৯০ ভাগ পানি থাকে। 
- পানির অভাবে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয় যা দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে। 
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 
- শরীরে পানির অভাব নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হয়। 
- শরীর থেকে যে পরমাণ পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, খবার স্যালাইন তা পূরণ করে শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,১৭৯.
গ্লিসারিন ঠোঁট বা ত্বকে কেন ব্যবহার করা হয়? 
  1. গ্লিসারিন ত্বককে দ্রুত শুকিয়ে দেয়
  2. গ্লিসারিন ত্বককে সোনালী করে
  3. গ্লিসারিন ত্বকের রঙ গাড় করে 
  4. গ্লিসারিন ত্বককে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে
ব্যাখ্যা
শীতকালে ঠোঁট, পায়ের গোড়ালি ফাটে কিন্তু গ্লিসারিন লাগালে না ফাটার কারণ: 
- শীতকালে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে, তাই বস্পায়নের হার বেশি হয়। 
- শরীরের কোনো কোনো অংশের চামড়া জলীয় অংশ বাস্পায়নের ফলে শুকিয়ে যায়। 
- বিশেষ করে ঠোঁট এবং যাদের পায়ের গোড়ালি সবসময় ভেজা থাকে, সেই অংশ থেকে বাষ্পায়ন বেশি হয় এবং দ্রুত শুকিয়ে চামড়া সংকুচিত হয়। 
- বাইরের ও ভেতরের চামড়ার সংকোচন চাপের বিভিন্নতার কারণে ঠোঁট ফেটে যায়। 
- গ্লিসারিনের স্ফুটনাঙ্ক 290°C, ফলে এর বাস্পায়ন হার খুবই ধীর। 
- তাই গ্লিসারিন ঠোঁটে লাগালে সহজে বাষ্পায়ন হয় না ঠোঁট ভিজা থাকে। 
- ঠোঁট ভিজা থাকার কারণে সংকুচিত হয় না, ফলে ফাটে না। 
- এজন্য শীতকালে ঠোঁটে এবং ত্বকের বিভিন্ন স্থানে গ্লিসারিন লাগানো হয় যেন না ফাটে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৮০.
রক্তের তরল অংশ কোন ধরনের কলা?
  1. মৃত কলা
  2. সজীব কলা
  3. যোজক কলা
  4. পরিবাহী কলা
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৮১.
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনী ?
  1. ক) ফেসিয়াল ধমনি
  2. খ) অক্সিপিটাল ধমনি
  3. গ) বহি: ক্যারোটিড ধমনি
  4. ঘ) আন্তঃক্যারোটিড ধমনি
ব্যাখ্যা
আন্তঃক্যারোটিড ধমনি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে।

ধমনি:

মানব দেহের এমনসব রক্তবাহী নালি যেগুলো হৃৎপিণ্ড থেকে পরিশোধিত রক্ত বহন করে দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করে। ধমনি সবসময় পরিশোধিত তথা অক্সিজেনসমৃদ্ধ (অক্সিজেনেটেড) রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করে; তবে ব্যতিক্রম হলো ফুসফুসীয় ধমনি এবং আমবিলিক্যাল ধমনি।

তাছাড়া--
ফেসিয়াল ধমনি:  মুখমণ্ডল ,ত্বক ও পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে।
অক্সিপিটাল ধমনি: অক্সিপিটাল অঞ্চলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত বহন করে। 
বহি: ক্যারোটিড ধমনি : মাথার ত্বক এবং ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে। 

 
SOURCE: জীব বিজ্ঞান (প্রাণবিজ্ঞিান) ২য় পত্র, এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১৩,১৮২.
ফুলের মধুতে কোনটি থাকে?
  1. গ্লুকোজ
  2. ফ্রুকটোজ
  3. সুক্রোজ
  4. সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
ফ্রুকটোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে। একে ফল শর্করাও (Fruit Sugar) বলা হয়ে থাকে।
সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান। 
১৩,১৮৩.
সর্বপ্রথম কে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা সম্পর্কে মতবাদ প্রদান করেন? 
  1. ডেমোক্রিটাস
  2. অ্যারিস্টটল
  3. রাদারফোর্ড
  4. জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর ধারণা ও উৎপত্তি: 
- পদার্থ ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত, যা অণু ও পরমাণু হতে পারে। 
- গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দ) সর্বপ্রথম পরমাণুর ধারণা দেন। 
- তিনি বলেন, পরমাণু অবিভাজ্য এবং এটি পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা। 
- "Atom" শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ "Atomos", যার অর্থ অবিভাজ্য। 
- প্লেটো ও অ্যারিস্টটল তার মতের বিরোধিতা করেন এবং পদার্থকে নিরবিচ্ছিন্ন (Continuous) বলে মনে করেন। 

ডাল্টনের পরমাণু তত্ত্ব: 
- ১৮০৩ সালে জন ডাল্টন পরীক্ষালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে পরমাণু তত্ত্ব দেন। 
- তিনি বলেন, পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যা অবিভাজ্য। 
- ডাল্টনের মতবাদ গ্রহণযোগ্যতা পেলেও, পরবর্তী গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে পরমাণু আসলে বিভাজ্য। 

আধুনিক পরমাণু গঠন: 
- পরমাণু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। 
- রাদারফোর্ডের গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে,পরমাণুর ধনাত্মক আধান ও ভর নিউক্লিয়াসে থাকে। 
- নিউক্লিয়াস খুব ছোট এবং পরমাণুর বেশিরভাগ অংশ ফাঁকা। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঘুরছে, তবে নির্দিষ্ট কক্ষপথের উল্লেখ নেই। 

বোরের পরমাণু মডেল: 
- বোরের মডেল অনুযায়ী:ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। 
- পরমাণুর ভরের প্রায় পুরোটাই নিউক্লিয়াসে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে, যা পরমাণুর ভর বহন করে। 
- ইলেকট্রন ও নিউক্লিয়াসের মধ্যবর্তী স্থান প্রায় ফাঁকা। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৩,১৮৪.
পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ঘড়ির কাঁটার গতি
  2. খ) সিলিং ফ্যানের গতি
  3. গ) সাইকেলের চাকার গতি
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

কোনো বস্তু নির্দ্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয়
তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল
বলে।
পর্যাবৃত্ত গতি দু’ ধরণের। ঘুর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি।
এই গতি বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকার, সরল রৈখিকও হতে পারে। 

ঘড়ির কাঁটার গতি, সিলিং ফ্যানের গতি, সাইকেলের চাকার গতি সবগুলোই পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ।
 
উৎস: এস এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,১৮৫.
বায়ূ দূষণের ফলে সৃষ্ট রোগ কোনটি?
  1. ক) শ্বাসকষ্ট
  2. খ) ডায়রিয়া
  3. গ) আমাশয়
  4. ঘ) টাইফয়েড
ব্যাখ্যা
- জগতের প্রতিটি প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বায়ু। বায়ু দূষণের ফলে মানব স্বাস্থ্যের উপর যে প্রভাব পড়ে তা হলো- 

মানব স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব:
- বায়ু দূষণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় মানব স্বাস্থ্য।
- দূষিত বায়ু গ্রহণের মাধ্যমে শুধুমাত্র শ্বাস-প্রশ্বাসই নয় এর মাধ্যমে জীবনও বিপন্ন হতে পারে।
- বায়ু দূষণের ফলে শ্বাসনালীতে জ্বালা, কাশি ও দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- বিশেষ করে সালফারের অক্সাইডগুলো ফুসফুসে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ।
- নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলোর বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় ফুসফুস ফুলে যায় এবং ফুসফুসে পানি জমে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
- অতিমাত্রায় বায়ু দূষণ দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানি, শ্বাসনালীর প্রদাহ ও কণ্ঠস্বর ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
- বায়ু দূষণের ফলে মানব স্বাস্থ্যের আরো যেসব ক্ষতি হতে পারে:
১. অ্যাজমা
২. ব্রঙ্কাইটিজ 
৩. মাথাব্যাথা 
৪. চোখের সমস্যা 
৫. হাইপারটেনশন 
৬. রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা হ্রাস
৭. হৃদরোগ
৮. অবসন্নতা  
৯. মাথা ঘূন্নি 
১০. আলসার
১১. বমি বমি ভাব 
১২. খিচুনী ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৮৬.
'স্নায়ু বিষ' অভিহিত করা হয় কোনটিকে?
  1. টেস্টিং সল্ট
  2. সাদা চিনি
  3. টেবিল সল্ট
  4. লাইম স্টোন
ব্যাখ্যা
- খাবার লবণের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড।
- টেস্টিং সল্ট নামে পরিচিত আরেকটি লবণ আছে যার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম গ্লুটামেট বা মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট।
- এটি শুষ্ক খাবার যেমন পাউরুটি, চানাচুর প্রভৃতির স্বাদ বাড়িয়ে তোলে।
- খাবারকে মুখরোচক বা মজাদার করতে স্বাদ লবণ বা টেস্টিং সল্ট নামের রাসায়নিক উপাদান বাড়িতে ও খাবার দোকানে বহুল ব্যবহূত হয়।
- এটি বেশি পরিমাণে ব্যবহার হলে স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, তাই বিজ্ঞানীরা একে স্নায়ুবিষ বলে থাকেন।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২০ শিক্ষাবর্ষ।
২. দৈনিক ইত্তেফাক। [Link]
১৩,১৮৭.
কৃষ্ণবিবরে আলোর কোন ধরণের আচরণ পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) প্রতিসরণ
  3. গ) শোষণ
  4. ঘ) বিচ্ছুরণ
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণবিবর (Black Hole): 
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম এবং ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- কৃষ্ণ বিবর মহাবিশ্বের এমন একটি বস্তু যা এত ঘন সন্নিবিষ্ট বা অতি ক্ষুদ্র আয়তনে এর ভর এত বেশি যে এর মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই তার ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তাড়িত চৌম্বক বিকিরণকেও (যেমন: আলো) নয়।
১৩,১৮৮.
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ কত?
  1. ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
  2. ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)
  3. ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
  4. ১০০-১৫০ মিলিমিটার (mm Hg)
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃৎপিণ্ড (Heart): 

• একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রতি মিনিটে হৃৎপিণ্ড সংকুচিত ও প্রসারিত হয় ৭০ থেকে ৮০ বার এবং গড় হিসাবে ৭৫ বার। (হৃদচক্রের হার- ০.৮ সেকেন্ড)
• পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ২৫০-৩৫০ গ্রাম।
• হৃৎপিণ্ড ৩ স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত। যথা: এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম।
• পেরিকার্ডিয়াম নামের পর্দার/ ঝিল্লির আবরণে ঢাকা থাকে পুরো হৃৎপিণ্ড।
• মানুষের হৃৎপিণ্ডে প্রকোষ্ঠের সংখ্যা চারটি।
• হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে- ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে বলে- সিস্টোল।

• প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ ২ প্রকার। যথা:
১. সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
২. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)

• একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ। একে ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।
• মানবদেহের রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- স্ফিগমোম্যানোমিটার। 


উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩,১৮৯.
ধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি? 
  1. কোয়ার্টজ
  2. সোনা
  3. জিপসাম
  4. গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au)
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,১৯০.
মহাবিশ্ব সৃষ্টি এবং এর বিবর্তন সংক্রান্ত বিজ্ঞান-
  1. ক) Astronomy
  2. খ) Particle Physics
  3. গ) Cosmology
  4. ঘ) Astrology
ব্যাখ্যা
Cosmology - the science of the origin and development of the universe. Modern cosmology is dominated by the Big Bang theory, which brings together observational astronomy and particle physics.
Source: Oxford
১৩,১৯১.
লেজার রশ্মির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. একবর্ণী
  2. দশা সুসঙ্গত
  3. পানি দ্বারা শোষিত হয়
  4. তীব্রতা অনেক বেশি
ব্যাখ্যা

লেজার রশ্মির বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো-
- একবর্ণী
- তীব্রতা খুব বেশি
- প্রায় নিখুঁতভাবে সমান্তরাল
- দশা সুসঙ্গত
- পানি দ্বারা শোষিত হয় না
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৩,১৯২.
নিচের কোনটি বহুরূপী মৌল?
  1. ক) জিংক
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
একই মৌল প্রকৃতিতে বিভিন্ন ভৌত গুণাগুণ প্রদর্শন করে কিন্তু রাসায়নিক ধর্মের তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। অর্থাৎ কিছু অধাতব মৌলের রাসায়নিক গুণাগুণ মোটামুটি অভিন্ন হলেও ভৌত ধর্মের মধ্যে বিভিন্নতা থাকে। এইসব পদার্থ বা মৌলগুলোকেই বহুরূপী মৌল বলে এবং মৌলের এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় বহুরূপতা। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, গ্রাফাইট ও হিরক একই মৌল কার্বন দ্বারা গঠিত হলেও এদের ভৌত ধর্ম এবং রাসায়নিক ধর্মে পার্থক্য বিদ্যমান। অর্থাৎ হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ। শুধু তাই নয়; প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।

অনুরূপভাবে গন্ধক (সালফার) ও ফসফরাস দুটি মৌলও বহুরূপী। প্রকৃতিতে চার ধরনের গন্ধক ও দুই ধরনের ফসফরাস পাওয়া যায়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১৩,১৯৩.
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ কত?
  1. ক) 3 × 108 m/s
  2. খ) 3 × 107 m/s
  3. গ) 3 × 1011 m/s
  4. ঘ) 3 × 109 m/s
ব্যাখ্যা
আলোক:  
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ।
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল।
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায় 2.9979 × 108 m/s (সংক্ষেপে 3 × 108 m/s)
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
১৩,১৯৪.
পৃথিবীর কেন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন কত?
  1. শূন্য
  2. ছয় ভাগের এক ভাগ
  3. প্রকৃত ওজনের সমান
  4. প্রকৃত ওজনের অর্ধেক
ব্যাখ্যা
- বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর উপর নির্ভরশীল।
- অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর আদর্শমান ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড২
- যে স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি সেই স্থানে বস্তুর ওজন বেশি।
- বিষুবীয় অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে কম তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়।
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণ সবচেয়ে বেশি তাই বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি হয়।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য।
- চন্দ্রে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, NCTB।
১৩,১৯৫.
STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন কত?
  1. ক) 20 liter
  2. খ) 22 liter
  3. গ) 21.5 liter
  4. ঘ) 22.4 liter
ব্যাখ্যা
STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3 = 22.4 liter

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,১৯৬.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস
  1. কার্বন - ডাইঅক্সাইড
  2. আলো
  3. পানি
  4. ক্লোরোফিল
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ:

• যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরী করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
• সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো: ক্লোরোফিল, আলো, পানি এবং কার্বন - ডাইঅক্সাইড ।
• সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস।

• সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%;
• লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।
• ক্লোরোফিল ব্যতীত সালোকসংশ্লেষণ হয় না।
• সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের প্লাস্টিডে ঘটে। 
• সালোকসংশ্লেষণ প্রকৃয়ায় নির্গত অক্সিজেনের উৎস পানি।
• উদ্ভিদের মূলে সালোকসংশ্লেষণ হয় না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩,১৯৭.
মিষ্টি আলু কোন পদ্ধতিতে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে?
  1. মূল 
  2. রাইজোম
  3. স্টোলন
  4. বুলবিল
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন: 
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়। 
যেমন- 
১. দেহের খণ্ডায়ন: 
- সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে। 

২. মূলের মাধ্যমে: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। যেমন-পটল, সেগুন ইত্যাদি। 
- কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়। যেমন- মিষ্টি আলু। 

৩. রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা দেখলে বুঝা যায়, তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে। এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে। আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 
(খ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট। পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 
(গ) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 
(ঘ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হলো কচুর শাখা কাণ্ড। এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 
(ঙ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা। 
(চ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিন্ডের মতো আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে। এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

৪. পাতার মাধ্যমে: 
- কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যেমন- পাথরকুচি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩,১৯৮.
আলোর দ্বৈত প্রকৃতি (Wave-Particle Duality) দ্বারা কোনটি সঠিকভাবে প্রকাশ পায়?
  1. আলো তরঙ্গ ও কণা—উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে
  2. আলো কেবল বিভঙ্গ ও ব্যতিচার প্রদর্শনকারী তরঙ্গ
  3. আলো শক্তি কেবল ধারাবাহিক তরঙ্গরূপে সঞ্চারিত হয়
  4. আলো কেবল ইলেকট্রনের প্রবাহজনিত তড়িৎধারা
ব্যাখ্যা

• আলোর দ্বৈত প্রকৃতি বলতে বোঝায় যে আলো তরঙ্গ ও কণা—উভয় ধর্ম প্রদর্শন করে।

• আলোর প্রকৃতি:
- আলো তড়িৎচৌম্বক বিকিরণ।
- আলো বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্রের পরস্পর লম্ব কম্পনের মাধ্যমে সঞ্চারিত হয়।
- আলো শূন্যস্থানে মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে।
- শূন্যস্থানে আলোর বেগ প্রায় 3 × 108 m/s.

• আলোর তরঙ্গ ধর্ম:
- আলো বিভঙ্গ, ব্যতিচার, মেরুকরণ প্রদর্শন করে।
- এসব ঘটনা আলোর তরঙ্গ প্রকৃতিকে নির্দেশ করে।
- দৃশ্যমান আলোর বিভিন্ন রঙের ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য রয়েছে।

• আলোর কণাগত ধর্ম:
- আলো ফোটন নামক কণার সমষ্টি।
- ফটোইলেকট্রিক প্রভাব আলোর কণাগত ধর্ম প্রমাণ করে।
- আলো শক্তি কণারূপে শোষিত ও নির্গত হয়।

• দ্বৈত প্রকৃতি:
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে আলোকে একই সাথে তরঙ্গ ও কণা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এই ধারণাকে Wave-Particle Duality বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৩,১৯৯.
By which other name is the Higgs boson particle popularly known?
  1. Neutrino particle
  2. Photon particle
  3. Dark matter particle
  4. God particle
  5. Exotic boson
ব্যাখ্যা

• হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- হিগস বোসন ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা (God Particle) বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২০০.
উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয়-
  1. সাইক্লোন
  2. হারিকেন
  3. টাইফুন
  4. সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:
• সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়। 

⇒ হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

⇒ টাইফুন: 
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।

- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

⇒ সাইক্লোন: 
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

• এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
• আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

⇒ যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয় না: 
- পৃথিবীর বিষুব রেখা বরাবর সাগরে সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
- বিষুব রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।
- অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরেও কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।

উল্লেখ্য, কোনো টাইফুন তার এলাকা থেকে সরে গিয়ে হারিকেন প্রবণ অঞ্চলে প্রবেশ করলে একে তখন একে হারিকেন হিসেবেই ডাকা হয়। একইভাবে কোনো হারিকেন দিক পরিবর্তন করে টাইফুনের এলাকায় চলে এলেও একে তখন টাইফুন বলা হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড মেটেওরলজিক্যাল অর্গানাইজেনশনের ওয়েবসাইট এবং The Daily Star Bangla.