বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১২৭ / ১৪০ · ১২,৬০১১২,৭০০ / ১৪,০৮০

১২,৬০১.
শ্বেতসারকে সরল শর্করায় পরিণত করে কোনটি?
  1. ক) পেপসিন
  2. খ) ট্রিপসিন
  3. গ) লাইপেজ
  4. ঘ) অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক:
- পাকস্থলী থেকে পাকমণ্ড ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে প্রবেশ করে।
- এ সময় অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস ডিওডেনামে আসে।
- এই পাচকরস খাদ্যমণ্ডের অম্লভাব প্রশমিত করে।
- পাচকরসের এনজাইম দিয়ে শর্করা এবং আমিষ পরিপাকের কাজ চলতে থাকে এবং স্নেহপদার্থের পরিপাক শুরু হয়।
- যকৃৎ থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্ত-লবণ পিত্তরসের অন্যতম উপাদান।
- লাইপেজ নামক এনজাইমের কাজ যথাযথ সম্পাদনের জন্য পিত্ত-লবণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। 
- স্নেহৰিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারলে পরিণত করে।
- অগ্ন্যাশয় রসে অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ও ট্রিপসিন নামক এনজাইম থাকে।
- আন্ত্রিক রসে আন্ত্রিক অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ ও সুক্রেজ ইত্যাদি এনজাইম থাকে।
- আংশিক পরিপাককৃত আমিষ ক্ষুদ্রান্ত্রে ট্রিপসিনের সাহায্যে ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।
- অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে সরল শর্করার পরিণত করে

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬০২.
40°C এর মান ফারেনহাইটে হয়--
  1. ক) 120°F
  2. খ) 99°F
  3. গ) 104°F
  4. ঘ) 108°F
ব্যাখ্যা

আমরা জানি, C/5 = (F-32)/9
এখন, 40/5 = (F-32)/9
∴ F = 104
অর্থাৎ ফারেনহাইট স্কেলে তাপমাত্রা 104 ডিগ্রি ফারেনহাইট।

১২,৬০৩.
চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ণয় করা যায় কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
  1. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
  2. গ্যালভানোমিটার
  3. কম্পাস
  4. ভোল্টমিটার
ব্যাখ্যা
• চৌম্বকক্ষেত্র: 
 - কোন চুম্বক যেখানে অবস্থান করে সেখানে তার চারিদিকে যতদূর পর্যন্ত তার বলের প্রভাব ( আকর্ষণ জনিত কিংবা বিকর্ষণ জনিত ) বিস্তৃত থাকে, সেই অঞ্চলকে চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) বলা হয়।  

কম্পাস-
- কম্পাস একটি ছোট চৌম্বক সূঁচবিশিষ্ট যন্ত্র, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
-  এটি চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে ঘুরে গিয়ে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্দেশ করে।
- চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ণয়ের জন্য কম্পাসকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করা হয়।
-  সূঁচটি যেদিকে স্থির হয়, সেটিই চৌম্বক ক্ষেত্ররেখার দিক।

অন্যদিকে,
• তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুতে আধানের উপস্থিতি নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। 
• গ্যালভানোমিটার তড়িৎ প্রবাহ ও তড়িৎ প্রবাহের দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
• ভোল্টমিটার তড়িৎ বিভব নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ব্রিটানিকা।
১২,৬০৪.
সব গতিই-
  1. ক) দ্রুত
  2. খ) গতিশীল
  3. গ) স্থির
  4. ঘ) আপেক্ষিক
ব্যাখ্যা
সকল ধরনের গতি এবং স্থিতি আপেক্ষিক। প্রসঙ্গ বস্তুর সাপেক্ষে তারা গতিশীল নাকি স্থিতিশীল সেটা নির্ধারণ করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১২,৬০৫.
মানুষের রক্তে সাধারণত কত শতাংশ LDL থাকে?
  1. ৫৫%
  2. ৬০%
  3. ৬৫%
  4. ৭০%
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
- এটি প্রাণী কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়।
- কোলেস্টেরল তিন প্রকার। 
- একটিকে এলডিএল (Low density lipoprotein) বলা হয়। অনেকে একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে। 
- সাধারণত আমাদের রক্তে ৭০% LDL থাকে। ব্যক্তি বিশেষে এর পার্থক্য দেখা যায়। 
- রক্তে এইচডিএল (High density lipoprotein) কে সাধারণত ভাল কোলেস্টেরল বলা হয়। HDL হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- তৃতীয় ধরনের লিপোপ্রোটিনকে ট্রাই গ্লিসারাইড বলা হয়। এ কোলেস্টেরল আমাদের খাদ্যে এবং শরীরে চর্বি হিসেবে থাকে।

অপকারিতা: 
- রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়।
যেমন-
ক। অ্যাথারোস্ক্লেরোসিস (ধমনিতে রক্ত চলাচলের জায়গা কমে যাওয়া)।
খ। করোনারি হৃদরোগ বেড়ে যায়।
গ। হৃদপিন্ডের ক্রিয়াকলাপের ব্যাঘাত ঘটে।
ঘ। হৃদপিন্ডের রক্ত চলাচল কমে যাবার ফলে বুকে ব্যথা অনুভূত হয়।

উপকারিতা: 
ক। কোলেস্টেরল কোষ প্রাচীর তৈরি ও রক্ষার কাজ করে।
খ। কোষের ভেদ্যতা নির্ণয় করে বিভিন্ন দ্রব্যাদি কোষে প্রবেশ বা বাধা প্রদান করে।
গ। মানব দেহের জনন হরমোন এন্ড্রোজেন ও ইস্ট্রোজেন তৈরিতে সাহায্য করে।
ঘ। অ্যাডরেনাল গ্রন্থির হরমোন তৈরিতে কোলেস্টেরল ব্যবহৃত হয়।
ঙ। কোলেস্টেরল পিত্ত তৈরি করে। 
চ। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে চামড়ায় কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'D' তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬০৬.
কোন অঙ্গানু থেকে ইনসুলিন নামক হরমোন নির্গত হয়?
  1. কিডনি
  2. হৃৎপিণ্ড
  3. লিভার
  4. প্যানক্রিয়াস
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস: 
- ডায়বেটিসের কারণে রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। 
- সাধারণত ডায়বেটিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে অত্যধিক পিপাসা, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া, ক্লান্তি, ক্ষত না শোঁকানো ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। 
- এর সঠিক চিকিৎসা না হলে পরবর্তী সময়ে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমায়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ইনসুলিনের অভাবেই ডায়বেটিস রোগ হয়। 
- কারো ডায়বেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬০৭.
থিওরি অব রিলেটিভিটি দেন কে?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
আইনস্টাইন থিওরি অব রিলেটিভিটির প্রবক্তা৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই
১২,৬০৮.
‘নিত্য ব্যবহার্য বহু 'এরোসোলের' কৌটায় এখন লেখা থাকে 'সিএফসি' বিহীন। সিএফসি গ্যাস কেন ক্ষতিকারক?
  1. ফুসফুসে রোগ সৃষ্টি করে
  2. গ্রিন হাউজ ইফেক্টে অবদান রাখে
  3. ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
  4. দাহ্য বলে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ঘটায়
ব্যাখ্যা
- দাহ্য বলে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ঘটায় এবং ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের মধ্যে CFC হলো প্রধান।
- এছাড়াও N2O, NO, মিথেন, BCF, CH3Br, CCl4 ইত্যাদি ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের অন্তর্ভূক্ত।

• CFC গ্যাস:
- CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর।
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে।
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস:
১. পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. উচ্চ-মাধ্যমিক রসায়ন ২য় পত্র।
১২,৬০৯.
রাইবোজোমের কাজ কী?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জীবাণু ধ্বংস করা
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা
ব্যাখ্যা

রাইবোসোম- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম।
প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে।

কাজ- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহজাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন।
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬১০.
কোন একটি বা বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদজগতের যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস
  2. খ) কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস
  3. গ) জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস
  4. ঘ) আধুনিক শ্রেণীবিন্যাস
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : কোন একটি বা বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে উদ্ভিদজগতের যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। থিয়োফ্রাস্টাস এবং লিনিয়াসের শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি কৃত্রিম শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : বিভিন্ন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ গোষ্ঠীর মধ্যে সামগ্রিক অঙ্গসংস্থানিক সাদৃশ্যের উপর নির্ভর করে যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। বেনথাম-হুকার এর শ্রেণিবিন্যাস প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি : বিভিন্ন উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে তাদের উৎপত্তিগত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বিবর্তন ধারা অনুযায়ী আদি হতে আধুনিক ক্রমধারায় সাজিয়ে যে শ্রেণিবিন্যাস করা হয় তাকে জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। এঙ্গলার-প্রান্টল, হাচিনসন, বেসি, ক্রনকুইস্ট, তাখতাইয়ান প্রমুখ বিজ্ঞানীর দেয়া শ্রেণিবিন্যাস জাতিজনি শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির উদাহরণ।

আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস ঃ কোষ, এমনকি এর অঙ্গাণুর গঠন ও জীববিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার আধুনিক তথ্য ব্যবহার করে তৈরি শ্রেণিবিন্যাসকেই আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস বলে। মারগুলিস এর শ্রেণিবিন্যাসটি একটি আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬১১.
নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে কোন ধরনের প্রাণীদের?
  1. ক) এনেলিডা
  2. খ) নেমাটোডা
  3. গ) কর্ডাটা
  4. ঘ) মলাস্কা
ব্যাখ্যা
নেফ্রিডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে এনেলিডা পর্বের প্রাণীদের। এদের দেহ নলাকার, খন্ডকায়িত। যেমন কেঁচো, জোঁক।
উৎসঃবিজ্ঞানঃঅষ্টম শ্রেণী
১২,৬১২.
সমগ্র জীবজগতকে পাঁচটি রাজ্যে এ ভাগ করবার প্রস্তাব করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) Margulis
  2. খ) R.H. Whittaker
  3. গ) Carl Linnaeus
  4. ঘ) Louis Pasteur
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালে R.H. Whittaker সমগ্র জীবজগতকে ফাইভ কিংডম্যা ভাগ করবার প্রস্তাব করেন।
পরবর্তীকালে, Margulis ১৯৭৪ সালে R.H. Whittaker এর প্রদত্ত শ্রেণীবিন্যাসের পরিবর্তিত ও বিস্তারিত রূপ দেন।

R.H. Whittaker এ প্রস্তাবকৃত ফাইভ এনিমেল কিংডম রাজ্যগুলো হল- Monera, Fungi, Plantae, Animalia, Protista.

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১২,৬১৩.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. সাইন্যাপস
  4. নিউরোগ্লিয়া
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুকলা (Nervous tissue):
- যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদন ও উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহণের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে, সেটাই স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা। 
- বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরনের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত।
- নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক।

• নিউরনের গঠন:
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত-কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ (Cell body): প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

প্রলম্বিত অংশ:
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:

(i) ডেনড্রন: কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।

(ii) অ্যাক্সন (Axon): কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তুর নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন (Myelin) বলে।  

অপরদিকে,
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকারী একক হচ্ছে নেফ্রন।
- সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরন বা একটি নিউরন ও অন্য কোনো কোষের (যেমন পেশী কোষ) সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরন থেকে পরবর্তী কোষে স্নায়ু সংকেত বা তথ্য রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক উপায়ে প্রবাহিত হয়।
- নিউরোগ্লিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের সহায়ক কোষ, যা নিউরনকে (স্নায়ুকোষ) ধরে রাখে, পুষ্টি যোগায়, সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
২) EBSCO Link

১২,৬১৪.
কোন জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. ক) স্নেহ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) খনিজ
ব্যাখ্যা
ক্যালরি:
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি।
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি।
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়। 
- এই তাপ আমাদের দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে।
- শারীরিক পরিশ্রমে শক্তি ব্যয় হয়। খাদ্যে শক্তি সঞ্চিত থাকে । আমরা খাবার থেকেই শক্তি পাই।
- খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। 
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়।
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে।
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
১২,৬১৫.
নিচের কোনটির অভাবে গাছের 'ক্লোরোসিস' হয়ে থাকে?
  1. লৌহ
  2. নাইট্রোজেন
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

• ফসফরাস:
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।

• পটাশিয়াম:
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬১৬.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. বিয়োজন বিক্রিয়া
  2. দহন বিক্রিয়া
  3. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) 

পানি যোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

দহন বিক্রিয়া: 
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। 
উদাহরণ: কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬১৭.
ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. স্ট্রেপ্টোকক্কাস
  2. অ্যাসিটোব্যাকটর
  3. ল্যাক্টোব্যাকটেরিয়া
  4. ই.কোলাই 
ব্যাখ্যা

- ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter), যা অ্যালকোহলকে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে ভিনেগার তৈরি করে। 

সিরকা বা ভিনেগার: 

- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 

খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আচার ভালো রাখার জন্য আচারের মধ্যে ভিনেগার দিলে আচারকে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন (H+) ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৬১৮.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. শূন্যতা
  2. লোহা
  3. পানি
  4. বাতাস
ব্যাখ্যা

লোহায় (কঠিনে) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।

শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়।
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
তরল পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে।
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি (বোর্ড বই)।

১২,৬১৯.
1 MeV =?
  1. ক) 1.6 × 10-19 J
  2. খ) 1.6 × 10-17 J
  3. গ) 1.6 × 10-15 J
  4. ঘ) 1.6 × 10-13 J
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞা: 1V বিভব পার্থক্যের দুটি বিন্দুর একটি থেকে অন্যটিতে একটি ইলেকট্রন স্থানান্ত্র করতে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তাকে এক ইলেকট্রন ভোল্ট বা সংক্ষেপে 1eV বলে ।
:. 1eV = একটি ইলেকট্রনের আধান × 1 ভোল্ট [কাজ=আধান × বিভব পার্থক্য]
= 1.6 × 10-19 C × 1v
= 1.6 x 10-19 C × 1J/1C
= 1.6 × 10-19 J

আবার এক ইলেকট্রন ভোল্টের দশ লক্ষগুণ অর্থাৎ 106 গুণ বড় একককে বলে মিলিয়ন ইলেকট্রন ভোল্ট বা মেগা ইলেকট্রন
ভোল্ট (MeV)।
1MeV = 106 eV
=1.6 × 10-19 × 106 J
= 1.6 × 10-13 J
এবং 1 GeV (1Giga electron volt) = 1012 eV

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬২০.
প্রাণিদেহের বৃহত্তম কোষ কোনটি?
  1. নিউরন
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. ডিম্বাণু
  4. মায়োসাইট
ব্যাখ্যা
- প্রাণিদেহের বৃহত্তম কোষ ডিম্বাণু।
- প্রাণিদেহের দীর্ঘতম কোষ নিউরন। 
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১২,৬২১.
ক্ষার ধাতু পানির সাথে বিক্রিয়ায় কী তৈরি করে? 
  1. হাইড্রোজেন গ্যাস ও লবণ
  2. হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার
  3. হাইড্রোজেন গ্যাস ও এসিড
  4. অক্সিজেন গ্যাস ও ক্ষার
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr) প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬২২.
একই প্রজাতির দুটি নিউক্লিয়াস যদি দুটি ভিন্ন শক্তি অবস্থায় থাকে এবং কমপক্ষে তাদের একটি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, তাহলে তাদেরকে বলা হয় _____।
  1. ক) আইসোটোপ
  2. খ) আইসোএনার্জি
  3. গ) আইসোম্যাস
  4. ঘ) আইসোমার
ব্যাখ্যা

আইসোটোপ (Isotope): যেসব নিউক্লাইডের প্রোটন সংখ্যা (Z) সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা (Z) ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় আইসোটোপ৷
আইসােটোন (Isotone): যে সব নিউক্লাইডের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান তাদের বলা হয় আইসােটোন৷
আইসােবার (Isobar): যে সব নিউক্লাইডের ভর সংখ্যা (A) সমান তাদের বলা হয় আইসােবার।
আইসােমার (Isomer): একই প্রজাতির দুটি নিউক্লিয়াস যদি দুটি ভিন্ন শক্তি অবস্থায় থাকে এবং কমপক্ষে তাদের একটি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, তাহলে তাদেরকে বলা হয় আইসােমার।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

১২,৬২৩.
ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর দেহে কী সমস্যা দেখা দেয়? 
  1. ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব কমে যায়
  2. দেহে প্রোটিন শোষণ কমে যায়
  3. গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়
  4. অতিরিক্ত লাল রক্তকণিকা উৎপাদন হয়
ব্যাখ্যা
বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬২৪.
নিচের কোনটি থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?
  1. ক) আম ও কাঁঠাল
  2. খ) টমেটো ও গাজর
  3. গ) লালশাক ও কচুশাক
  4. ঘ) দুধ ও ডিম
ব্যাখ্যা
দুধ, ডিম, কলিজা, মাশরুম থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
Source:ods.od.nih.gov
১২,৬২৫.
পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) যন্ত্রটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ
  2. তড়িৎ বিভব পরিমাপ
  3. তড়িৎ রোধ পরিমাপ
  4. তড়িৎ ক্ষমতা পরিমাপ
ব্যাখ্যা

পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) হলো একটি তড়িৎ পরিমাপক যন্ত্র, যা মূলত তড়িৎ বিভব (Voltage) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি নির্ভুল (Precise) এবং উচ্চ সংবেদনশীল (High Sensitivity) যন্ত্র, যা তড়িৎ বিভবের তুলনামূলক মান পরিমাপ করতে সাহায্য করে।

পোটেনশিওমিটারের ব্যবহার:
- এটি একটি ভেরিয়েবল রেজিস্টর (Variable Resistor) হিসাবে কাজ করে।
- এটি তড়িৎ বিভবের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে এবং সাধারণ ভোল্টমিটারের তুলনায় এটি আরও নির্ভুল পরিমাপ দেয়।
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে দুটি কোষের তড়িচ্চালক বলের তুলনা করা যায়। 
- পোটেনশিওমিটার ইলেকট্রনিক সার্কিটে ভোল্টেজ কন্ট্রোলার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ – এটি অ্যামিটার (Ammeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
গ) রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ – এটি ওহমমিটার (Ohmmeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
ঘ) তড়িৎ ক্ষমতা পরিমাপ – এটি ওয়াটমিটার (Wattmeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২,৬২৬.
কোন বস্তুর নির্দিষ্ট দিকে অতিক্রান্ত দূরত্বকে কি বলে?
  1. ক) দূরত্ব
  2. খ) বেগ
  3. গ) দৈর্ঘ্য
  4. ঘ) সরণ
ব্যাখ্যা
কোন বস্তুর নির্দিষ্ট দিকে অতিক্রান্ত দূরত্বকে সরণ বলে। সরণ একটি ভেক্টর রাশি যার S.I একক মিটার (m)।
১২,৬২৭.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কী বুঝায়? 
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ চাপ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড(Heart): 
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত সংবহন করে। 
- হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- হৃৎপিণ্ডের স্বতঃস্ফূর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (systole) এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (diastole) বলে। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয় তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬২৮.
হামের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন-
  1. এমআর ভ্যাকসিন
  2. বিসিজি ভ্যাকসিন
  3. ওপিভি ভ্যাকসিন
  4. ডিপিটি ভ্যাকসিন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
• এমআর(MR) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে,
- বিসিজি(BCG) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি(DPT) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- ওপিভি(OPV) ভ্যাকসিন দেওয়া হয় পোলিও রোগের বিরুদ্ধে।

উৎস: www.dghs.gov.bd
১২,৬২৯.
মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের “পাওয়ার হাউস” বলা হয় কেন? 
  1. এটি ক্লোরোফিল সংরক্ষণ করে
  2. এটি প্রোটিন সংশ্লেষণ করে
  3. এটি শক্তি উৎপাদন করে
  4. এটি পানি তৈরি করে
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৩০.
নিচের কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হিলিয়াম
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উদাহরণ।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার:

- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা।
- H2 গ্যাসের তুলনায় He গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92% ।
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে।
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন।
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়।
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী ও নাগ)।

১২,৬৩১.
বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় জলীয়বাষ্প কোথায় মিশে যায়?
  1. ক) সমুদ্রে
  2. খ) শিশির কণায়
  3. গ) বায়ুমন্ডলে
  4. ঘ) নভোমন্ডলে
ব্যাখ্যা
• বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় জলীয়বাষ্প বায়ুমন্ডলে মিশে যায়।
- বাষ্পীভবন এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা নদী, হ্রদ, জলাশয় বা সমুদ্রের পানি সূর্যের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং তা বায়ুমন্ডলে মিশে যায়।
- এই জলীয়বাষ্প হালকা বলে তা উপরে উঠে বায়ুমন্ডলে অদৃশ্য হয় যেতে সক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে বায়ুর উষ্ণতার পরিমাণের উপর নির্ভর করে যে কতটুকু জলীয়বাষ্প ধারণ করা সম্ভব হবে।
- জলীয়বাষ্প প্রধানত সমুদ্র থেকে বাষ্পীভূত হলেও নদ-নদী ও উদ্ভিদ জগতও জলীয়বাষ্পের অন্যতম উৎস।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৩২.
উদ্ভিদের কোন অঙ্গাণুর মধ্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সংঘটিত হয়?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. রাইবোসোম
  4. প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিডের একটি প্রকারভেদ হলো ক্লোরোপ্লাস্ট, যেখানে ক্লোরোফিল থাকার কারণে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটে।

সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল হলো তার প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উল্লেখ্য-
- নিউক্লিয়াস: এটি কোষের ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: এখানে শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয় (কোষের শক্তির ঘর)।
- রাইবোসোম: এটি প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৩৩.
কোন বস্তুটির স্থিতিস্থাপকতা বেশি?
  1. রবার
  2. এলুমিনিয়াম
  3. লৌহ
  4. তামা
ব্যাখ্যা
• উল্লিখিত অপশন গুলোর মধ্যে লোহার স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রবারের খুব কম।

• স্থিতিস্থাপকতা:
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ করে কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, যে ধর্মের ফলে বস্তুটি এই পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং বাহ্যিক বল অপসারিত হলে বস্তু তার পূর্বের আকার ও আয়তন ফিরে পায়, সেই ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলা হয়।

স্থিতিস্থাপক সীমা:
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক।
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়।
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৩৪.
নিচের কোনটি নিউক্লিয়াসের বাহিরে অবস্থান করে?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) নিউট্রন
  3. গ) প্রোটন
  4. ঘ) ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে, যার নাম নিউক্লিয়াস।
- এই নিউক্লিয়াসে ভিতরে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬৩৫.
তেঁতুলে কোন এসিড বিদ্যমান রয়েছে?
  1. স্যালিসাইলিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ফরমিক এসিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন এসিড:
• ফরমিক এসিড: পিঁপড়ার কামড়ে।
• সাইট্রিক এসিড: আঙ্গুর, কমলা, লেবু।
• টারটারিক এসিড: তেঁতুল।
• অ্যাসকরবিক এসিড: আমলকি।
• ম্যালিক এসিড: আপেল, আনারস।
• স্যালিসাইলিক এসিড: আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১২,৬৩৬.
মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ কোনটি?
  1. ক) অগ্রমস্তিষ্ক
  2. খ) পশ্চাৎমস্তিষ্ক
  3. গ) মধ্যমস্তিষ্ক
  4. ঘ) সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা
• মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা:
১) অগ্রমস্তিষ্ক,
২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

• অগ্রমস্তিষ্ক:
অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা: 
- সেরেব্রাম,
- থ্যালামাস ও
- হাইপোথ্যালামাস।

মস্তিষ্কের মধ্যে অগ্রমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম সবচেয়ে বড় অংশ। সেরিব্রামকে গুরুমস্তিষ্কও বলা হয়।

• মধ্যমস্তিষ্ক:
হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

• পশ্চাৎমস্তিষ্ক:
এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
- সেরেবেলাম,
- মেডুলা অবলংগাটা এবং
- পনস।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৩৭.
কোন বস্তুর অবস্থানের জন্য কোনটি তৈরি হয়?
  1. তড়িৎ শক্তি
  2. গতি শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. স্থিতি শক্তি
ব্যাখ্যা
স্থিতি শক্তি (Potential Energy) হলো সেই শক্তি, যা কোনো বস্তু তার অবস্থানের কারণে ধারণ করে। অর্থাৎ, একটি বস্তুকে যদি আমরা একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে রাখি (যেমন: মাটির ওপরে উঁচুতে), তাহলে সে অবস্থানের কারণেই তার মধ্যে এক ধরনের শক্তি জমা থাকে — সেটিই স্থিতি শক্তি।
- যখন একটি পাথর উঁচু স্থানে থাকে, তখন তার ভেতরে মাটিতে থাকার সময়ের তুলনায় বেশি স্থিতি শক্তি জমা থাকে।  
- এটি নিচে পড়লে সেই শক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।


অন্যদিকে, 
তড়িৎ শক্তি (Electrical Energy):  এটি চার্জের গতি বা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের কারণে তৈরি হয়, অবস্থানের কারণে নয়।

গতি শক্তি (Kinetic Energy):  এটি তখন তৈরি হয়, যখন কোনো বস্তু চলন্ত অবস্থায় থাকে।

যান্ত্রিক শক্তি (Mechanical Energy):  এটি একটি সামগ্রিক শক্তি, যা স্থিতি শক্তি ও গতি শক্তি উভয়ের যোগফল — তাই একে সঠিক উত্তর ধরা যায় না, যেহেতু প্রশ্নে নির্দিষ্টভাবে "অবস্থানের জন্য" জিজ্ঞেস করা হয়েছে।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
- অষ্টম শ্রেণি – সাধারণ বিজ্ঞান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ।
১২,৬৩৮.
ফুলারিন কী?
  1. ক) কার্বনের রূপভেদ
  2. খ) ফ্লোরিনের রূপভেদ
  3. গ) সালফারের রূপভেদ
  4. ঘ) আয়োডিনের রূপভেদ
ব্যাখ্যা
• গ্রাফাইট, হীরক, গ্রাফিন, ফুলারিন প্রভৃতি হলো কার্বনের বিভিন্ন রূপভেদ।

কার্বনের রূপভেদ
• কার্বনের একটি বিশেষ শ্রেণির রূপভেদ ফুলারিন। ক্যাটেনেশনের একটি বিশেষ উদাহরণও হলো ফুলারিন। কার্বনের রূপভেদ C60 কে বুক্‌মিনস্টার ফুলারিন বা 'বাকি বল' বলা হয়। এর আকৃতি ফুটবলের মতো।

• কার্বনের প্রধান রূপভেদ হলো গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)।
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

• গ্রাফিন হচ্ছে দ্বিমাত্রিক কার্বন ক্রিস্টাল যা খুব ভালো তাপ এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- গ্রাফিনকে গ্রাফাইট থেকে আহরণ করা হয়।

সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির রসায়ন ২য় পত্র (হাজারী-নাগ)
১২,৬৩৯.
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?
  1. ক) বেলে মাছ
  2. খ) পালং শাক
  3. গ) খাশির মাংস
  4. ঘ) মুরগির মাংস
ব্যাখ্যা
In general, red meats (beef, pork and lamb) have more saturated (bad) fat than chicken, fish and vegetable proteins such as beans. Saturated and trans fats can raise your blood cholesterol and make heart disease worse. - USA Heart Association
১২,৬৪০.
নিচের কোনটিকে পরিবহন টিস্যু বলা হয়?
  1. ক) সরল টিস্যুকে
  2. খ) স্থায়ী টিস্যুকে
  3. গ) জটিল টিস্যুকে
  4. ঘ) ভাজক টিস্যুকে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকারের কোষ সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু গঠিত হয় তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১২,৬৪১.
'' The Origin of Species by means of natural selection'' বইটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ওয়ালেস
  2. খ) মেন্ডেল
  3. গ) ডারউইন
  4. ঘ) অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
•ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত •১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর ‘The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন।
• তাঁর মতামত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত নামে পরিচিত।
• সমুদ্রে ভ্রমণকালীন সময়ে ডারউইন, চার্লস লায়েল লিখিত ‘The Principles of Geology' নামক বইটিতে প্রস্তাবিত তত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন। উক্ত বইটিতে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীর চেহারা পরিবর্তিত হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে ডারউইন নিজেও প্রস্তাবিত ভূ-তত্ত্বীয় পরিবর্তন এর চিহ্ন লক্ষ করেন। গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণকালে ডারউইন প্রত্যেক দ্বীপের পাখি ও কচ্ছপকে কিছুটা ভিন্ন চেহারায় দেখতে পান। 
• ডারউইনের মতবাদের মূলতত্ত্বগুলো সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংক্ষেপে ও তুলনামূলকভাবে কম নমুনা পর্যবেক্ষণর মাধ্যমে ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace) আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে বিবর্তনের মতবাদকে যৌথ নামে ‘Darwin-Wallace's Theory' বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১২,৬৪২.
নিচের কোনটি একপ্রতিসম ফুল?
  1. শিম
  2. জবা
  3. ধুতুরা
  4. অর্কিড
ব্যাখ্যা

- শিম হলো একপ্রতিসম ফুল।
- জবা ও ধুতুরা হলো বহুপ্রতিসম ফুল।
- কলাবতী ও অর্কিড হলো অপ্রতিসম ফুল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১২,৬৪৩.
বেতার তরঙ্গ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর থেকে প্রতিফলিত হয়ে দূর-দূরান্তে পৌঁছায়?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

◉ থার্মোস্ফিয়ারের একটি বিশেষ অংশ হলো আয়নমণ্ডল (Ionosphere), যেখানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে বাতাসের গ্যাসগুলো আয়নিত হয়। এই আয়নিত স্তর বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে, ফলে বেতার যোগাযোগ (যেমন AM রেডিও, শর্টওয়েভ যোগাযোগ) সম্ভব হয়।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে সাধারণত কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়: ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার এবং এক্সোস্ফিয়ার।

তাপমণ্ডল (Thermosphere): 
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে।
- তাপমন্ডলের বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হলো- 
ক) তাপ বায়ুমণ্ডলের খুব হালকা এবং এখানে তাপের পরিবহনও নগণ্য। 
খ) তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়। এই জন্য একে আয়নমণ্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়। 
গ) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। 
ঘ) এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০০ সেলসিয়াসে এসে পোঁছায়। 

অন্যান্য অপশনসমূহ,
ট্রপোস্ফিয়ার: আবহাওয়া ও জলবায়ুর ঘটনাবলী ঘটে।
স্ট্রাটোস্ফিয়ার: এখানে ওজোন স্তর থাকে, যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে।
মেসোস্ফিয়ার: উল্কাপিণ্ড পুড়ে যায় এই স্তরে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৬৪৪.
কৃষ্ণবিবর শব্দটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জর্জ ল্যামেটার
  3. গ) জন হুইলার
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
যদিও কৃষ্ণবিবর ধারণাটি দু'শ বছরের পুরনো কিন্তু এই শব্দটি ১৯৬৯ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী জন হুইলার সৃষ্টি করেন৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১২,৬৪৫.
হিগস বোসন কণা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে
  2. বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে
  3. হিগস বোসনকে ঈশ্বর কণা বলা হয়
  4. হিগস বোসনের মাধ্যমে মৌলিক কণার ভর স্থানান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

বোসন কণা (যেমন: ফোটন, হিগস বোসন) পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে না। 

• বোসন (Boson):

- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি।
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই।
- এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা।
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের।  যথা-
(i) গেজ বোসন (Gauge Boson):
- এদের স্পিন হলো 1।
- এই কণাগুলো হলো- গ্লুওন (g), ফোটন (y) এবং W ও Z বোসন।
- গ্লুওন: গ্লুওন কণা হলো সবল নিউক্লিয় বলবাহী কণা। এর নিশ্চল ভর
শূন্য।
- ফোটন: এই কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। এর নিশ্চল ভর শূন্য।
- W ও Z বোসন: W+, W- এবং W0 এই তিনটি বোসন কণা দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক। এ কণাগুলোর ভর আছে।
(ii) হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্তানান্তরিত হয়। হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্তানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৪৬.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের কোন ধাপে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালা V, L, J অথবা I আকৃতি বিশিষ্ট হয়?
  1. ক) প্রো-মেটাফেজ
  2. খ) মেটাফেজ
  3. গ) অ্যানাফেজ
  4. ঘ) টেলোফেজ
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ ধাপে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রত্যেক ক্রোমাটিডে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে। ক্রোমাটিডগুলো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে। এরপর ক্রোমোজোমগুলোর সাথে যুক্ত তন্তুগুলোর সংকোচনের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমের অর্ধেক উত্তর মেরুর দিকে এবং অর্ধেক দক্ষিণ মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় ক্রোমোজোমগুলো ইংরেজি বর্ণমালা V, L, J অথবা I আকৃতি বিশিষ্ট হয়। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
১২,৬৪৭.
মানবদেহের কোন অঙ্গে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) তৈরি হয়?
  1. অস্থি মজ্জা (Bone Marrow)
  2. লিম্ফ নোড (Lymph Node)
  3. প্লীহা (Spleen)
  4. প্যানক্রিয়াস (Pancreas)
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা প্রধানত অস্থি মজ্জার (Bone Marrow) মধ্যে তৈরি হয়।

লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায়চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- লোহিত রক্তকণিকা (RBCs) সহ দেহের সমস্ত রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়াকে হেমাটোপোয়েসিস (Hematopoiesis) বলা হয়।
- RBC তৈরির প্রক্রিয়াকে বিশেষভাবে ইরিথ্রোপোয়েসিস (Erythropoiesis) বলা হয়।
- প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি প্রধানত অস্থি মজ্জা (Bone Marrow)-এর মধ্যে ঘটে।

অন্যান্য অপশন:
- প্লীহা (Spleen) হলো লোহিত রক্তকণিকার সঞ্চয়স্থান এবং কবরস্থান, যেখানে পুরাতন RBCsগুলি ধ্বংস হয়।
- লিম্ফ নোড হলো লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের অংশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় হজম সহায়ক এনজাইম এবং হরমোন (যেমন ইনসুলিন) নিঃসরণের সঙ্গে যুক্ত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৪৮.
পাইরিডক্সিন নিম্নের কোনটি?
  1. B1
  2. B2
  3. B6
  4. B12
ব্যাখ্যা

পাইরিডক্সিন (Pyridoxine):
- পাইরিডক্সিন হলো ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- এটি মূলত ভিটামিন B6 নামে পরিচিত।
- এই ভিটামিন শরীরের প্রোটিন বিপাক, অ্যামিনো অ্যাসিডের রূপান্তর এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- হিমোগ্লোবিন তৈরি এবং লোহিত রক্তকণিকার কার্যক্রমে পাইরিডক্সিনের ভূমিকা রয়েছে।
- পাইরিডক্সিনের অভাবে রক্তস্বল্পতা, ত্বকের সমস্যা এবং স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন B1 (থায়ামিন):
- ভিটামিন B1 শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়।
- এটি কার্বোহাইড্রেট বিপাকে সহায়তা করে।
- তবে এটি পাইরিডক্সিন নয়।

ভিটামিন B2 (রাইবোফ্লাভিন):
- ভিটামিন B2 কোষের বৃদ্ধি এবং শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
- চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
- এটিও পাইরিডক্সিন নয়।

ভিটামিন B12 (কোবালামিন):
- ভিটামিন B12 স্নায়ুকোষ ও রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়ক।
- এটি ডিএনএ সংশ্লেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কিন্তু পাইরিডক্সিন ভিটামিন B12 নয়।

- সুতরাং, পাইরিডক্সিন হলো ভিটামিন B6.
- সঠিক উত্তর: গ) B6.

সূত্র - sciencedirect journal.

১২,৬৪৯.
জৈব কৃষিতে কোনটি ব্যবহৃত হয় না?
  1. কেঁচো সার
  2. রাসায়নিক সার
  3. কম্পোস্ট
  4. সবুজ সার
ব্যাখ্যা
• জৈব কৃষি তে রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয় না। 

• জৈব কৃষি:

- জৈব কৃষি (Organic Farming) হলো একটি সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা যা প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করে।

• জৈব কৃষির মূল ধারণা:
- প্রকৃতির ভারসাম্য: জৈব কৃষি প্রকৃতির নিয়ম মেনে কাজ করে, যেখানে মাটি, জল, এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় থাকে।  
- প্রাকৃতিক উপাদান: জৈব সার, জৈব কীটনাশক, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার করা হয়।  
- মাটির স্বাস্থ্য:  জৈব সার ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করা হয় এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করা হয়।
- জৈব বৈচিত্র্য: বিভিন্ন ধরনের ফসল এবং পশুপাখি পালন করে জৈব বৈচিত্র্য বজায় রাখা হয়।  
- পরিবেশ সুরক্ষা: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ দূষণ কমানো হয়।  
- খাদ্য নিরাপত্তা: নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়।  
- অর্থনৈতিক লাভ: জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্য পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে এবং ভালো দামে বিক্রি করা যায়।

• জৈব কৃষিতে ব্যবহৃত উপাদান:
কেঁচো সার (Vermicompost):
- কেঁচোর সাহায্যে জৈব বর্জ্য পচিয়ে তৈরি করা হয়।
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং উপকারী অনুজীবের সংখ্যা বাড়ায়।

কম্পোস্ট (Compost):
- গোবর, পাতা, খড় ইত্যাদি পচিয়ে তৈরি করা হয়।
- মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ায়।

সবুজ সার (Green Manure):
- ধইঞ্চা, সেসবানিয়া ইত্যাদি ফসল মাটিতে চাষ করে পুঁতে দেওয়া হয়।
- নাইট্রোজেন স্থিরকরণ ও মাটির গঠন উন্নত করে।

• জৈব কৃষিতে অব্যবহৃত উপাদান:
রাসায়নিক সার (Chemical Fertilizers):
- ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ইত্যাদি কৃত্রিম সার জৈব কৃষিতে নিষিদ্ধ।
- এগুলো মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট করে এবং পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
১২,৬৫০.
উৎসের বিস্তার এবং শব্দের তীব্রতার সম্পর্ক কী?
  1. I ∝ A
  2. I ∝ A2
  3. I ∝ 1/A
  4. I ∝ √A
ব্যাখ্যা

শব্দের তীব্রতা:
- শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ।
- শব্দের তীব্রতা বলতে বুঝি, শব্দ সঞ্চালনের পথে লম্বভাবে অবস্থিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দ শক্তির পরিমাণ।
- শব্দের তীব্রতা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে-
১। উৎসের বিস্তার:
- শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পনের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়।
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
- শব্দের তীব্রতা I এবং বিস্তার A হলে, I ∝ A2.

২। উৎসের আকার:
- উৎসের আকার বড় হলে শব্দ তরঙ্গ বেশি পরিমাণ শক্তি সঞ্চালিত রতে পারে ফলে তীব্রতা বেড়ে যায়।

৩। উৎস থেকে শ্রোতার দূরত্ব:
- উৎস ও শ্রোতার মধ্যবর্তী দূরত্ব যতো বাড়বে শব্দের তীব্রতা ততো কমে যাবে কারণ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার ফলে শব্দ তরঙ্গের শক্তি কমে যায়।
- তীব্রতা দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
- যদি তীব্রতা এবং দূরত্ব r হয় তাহলে, I ∝ 1/r2.

৪। মাধ্যমের ঘনত্ব:
- যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হবে তার ঘনত্ব বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়।

৫। মাধ্যমের বেগ:
- মাধ্যমের বেগের দিকে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা কমে যায়।

৬। অনুনাদী বস্তুর উপস্থিতি:
- উৎসের কাছে কোনো অনুনাদী বস্তু থাকলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায়।
- একটি সুরশলাকাকে বাতাসে স্পন্দিত করলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় টেবিল বা কোনো ফাঁপা কাঠের বাক্সের সাথে লাগিয়ে স্পন্দিত করলে শব্দের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়।
- এক্ষেত্রে বেশি আয়তনের বায়ু কম্পিত হয় বলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

১২,৬৫১.
উত্তল লেন্সের ব্যবহার কোনটি?
  1. ক) গ্যালিলিওর দূরবীক্ষন যন্ত্র
  2. খ) সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টর
  3. গ) বিবর্ধক কাচ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
উত্তল লেন্স:

- যেই লেন্সে আলোক রশ্মি কোন একটি বিন্দুতে এসে মিলিত হয় তাকে উত্তল লেন্স বলে
- এই বিন্দুটি লেন্সের ফোকাস বিন্দু এবং লেন্সের কেন্দ্র থেকে এই বিন্দুর দূরত্ব হচ্ছে ফোকাস দূরত্ব।
- আতশী কাচ হিসেবে এবং আগুন জ্বালানোর কাজে ব্যহার করা হয়।
- চশমা, ক্যামেরা, বিবর্ধক কাচ, অণুবীক্ষন যন্ত্র ইত্যাদি আলোক যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৫২.
নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) করচ
  2. খ) হিজল
  3. গ) ডুমুর
  4. ঘ) গজারী
ব্যাখ্যা

গজারির অপর নাম শাল। গাছ কাটার পর গোড়া থেকে চারা গজানোর কারণে এর নাম গজারি হয়েছে মনে করা হয়।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারে এ গাছ জন্মায়। আমাদের ভাওয়াল ও মধুপুরের গজারি বনই দেশের বৃহত্ পত্রঝরা বনাঞ্চল।
লাল মাটির পাহাড়, ছোট ছোট টিলা জমিতে গজারি ভালো জন্মে। তবে পানিতে এ গাছ বেশিদিন বাঁচে না।

অন্যদিকে,
করচ, হিজল ও ডুমুর - জলজ উদ্ভিদ।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক রিপোর্ট ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৫৩.
সুনামির প্রধান কারণ নয় কী?
  1. সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
  2. অধিক বৃষ্টিপাত
  3. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যূৎপাত
  4. পানিতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ
ব্যাখ্যা
• অধিক বৃষ্টিপাত সুনামির কারণ নয়, বরং এটি বন্যার কারণ হতে পারে। 

 • সুনামি:

- ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে সৃষ্ট বিশাল সামুদ্রিক ঢেউকে সুনামি বলে।

• সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ। জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়। এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির। এটি অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে।

• সুনামির কারণ:
- ভূমিকম্প: সমুদ্রের তলে ভূমিকম্প হলে, জলের স্থানচ্যুতি ঘটে এবং সুনামি তৈরি হয়। 
- ভূমিধস: সমুদ্রের তলে বা উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিধস হলে, তা বিশাল ঢেউ তৈরি করতে পারে। 
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: সমুদ্রের তলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হলে, তা জলকে স্থানচ্যুত করে এবং সুনামি তৈরি করতে পারে। 
- পারমাণবিক বা অন্য কোন বিস্ফোরণ। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২,৬৫৪.
Virus শব্দটির অর্থ কি?
  1. ক) মিষ্টি
  2. খ) বিষ
  3. গ) ক্ষুদ্র বস্তু
  4. ঘ) ক্ষুদ্র জীবাণু
ব্যাখ্যা
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
১২,৬৫৫.
নিচের কোনটি অম্ল-ক্ষার নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) পানি
  2. খ) বেনজিন
  3. গ) মিথাইল অরেঞ্জ
  4. ঘ) ফিটকিরি
ব্যাখ্যা
যে সকল রাসায়নিক পদার্থ এসিড ও ক্ষার এর জলীয় দ্রবণে উপস্থিত থেকে বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে দ্রবণটি এসিড না ক্ষার তা নির্দেশ করে সে সকল রাসায়নিক পদার্থকে নির্দেশক বলে।
যেমন: মিথাইল অরেঞ্জ, মিথাইল রেড, ফেনোফথ্যালিন, লিটমাস পেপার ইত্যাদি।

• মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকের বর্ণ হচ্ছে কমলা।
- এটি এসিডে গোলাপী এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

এছাড়া,
• লিটমাস পেপার - এসিডে লাল এবং ক্ষারকে নীল বর্ণ প্রদর্শন করে।
• মিথাইল রেড - নির্দেশকের বর্ণ লাল, এসিডে লাল এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।
• ফেনলফথ্যালিন - নির্দেশকের বর্ণ বর্ণহীন, এসিডে বর্ণহীন এবং ক্ষারকে গোলাপী বর্ণ প্রদর্শন করে।

সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই।
১২,৬৫৬.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. সালফার
  2. সোডিয়াম
  3. সিলভার
  4. আয়রন
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- খনিজ পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু। 
- আবার কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল খনিজ পদার্থই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমান গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৫৭.
সর্বপ্রথম গ্রিন কেমিস্ট্রি ধারণার অবতারণা করেন কে?
  1. ক) Percy Lavon Julian
  2. খ) Paul Jeko
  3. গ) Paul Anastas
  4. ঘ) Ernest Rutherford
ব্যাখ্যা
সবুজ রসায়ন: 
- ১৯৯১ সালে Paul Anastas সর্বপ্রথম গ্রিন কেমিস্ট্রি ধারণার অবতারণা করেন। 
- সবুজ রসায়নে (Green Chemistry) মূলত পরিবেশবান্ধব যৌগ ও তার উৎপাদন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- এটি মূলত রাসায়নিক গবেষণা ও প্রকৌশলের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর যৌগের ব্যবহার ও উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে। 
- পরিবেশের উপর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিক্রিয়ক ও উৎপন্ন উৎপাদের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসকল্পে সবুজ রসায়নের অধ্যয়ন ও অনুশীলন আবশ্যক। 
- পল এনাসথাস এবং পরবর্তীতে United States Environment Protection Agency ও John C. Warner সবুজ রসায়নের ১২টি নীতি প্রণয়ন করেন। 
- নিচে এসব নীতিমালা আলোচনা করা হলো - 
১। প্রতিরোধ, 
২। পরমাণু অর্থনীতির সর্বোচ্চকরণ, 
৩। নিরাপদ উৎপাদ, 
৪। উৎপাদের বিষক্রিয়া হ্রাস, 
৫। নিরাপদ দ্রাবক ও সহায়ক পদার্থ, 
৬। শক্তির কর্মদক্ষতার পরিকল্পনা, 
৭। নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার, 
৮। প্রভাবকীয় বিক্রিয়ক ব্যবহার, 
৯। ক্ষুদ্রাংশকরণ পরিকল্পনা, 
১০। বিক্রিয়ায় সময় অপ্রয়োজনীয় জাতক সৃষ্টি রোধ, 
১১। যথাসময়ে দূষণ এবং 
১২। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২,৬৫৮.
বায়ুথলিকে কি বলা হয়?
  1. ক) ব্রঙ্কাস
  2. খ) অ্যালভিকিওল
  3. গ) ব্রঙ্কিউল
  4. ঘ) ট্রাকিয়া
ব্যাখ্যা
দুটি ফুসফুস বক্ষগহ্বরের মধ্যে দুপাশে অবস্থিত। ইহা স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল। ডান ফুসফুস তিন খন্ডে ও বাম ফুসফুস দু’খন্ডে বিভক্ত। প্রতিটি ফুসফুসে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়ু প্রকোষ্ঠ বা বায়ু থলি থাকে। এ বায়ুথলিগুলোর মধ্যে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে। বায়ুথলিগুলিকে অ্যালভিওলাসও বলা হয়। প্রতিটি ব্রঙ্কিউলের শেষপ্রান্তে অ্যালভিওলাস থাকে।
১২,৬৫৯.
'গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)' অঞ্চলটি কোন অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ৪৫° থেকে ৫৭° উত্তর
  2. ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
  3. ৩০° থেকে ৩৫° দক্ষিণ
  4. ৫০° থেকে ৬০° উত্তর
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বায়ু কোনো বাধা ছাড়াই উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুর তীব্র আওয়াজের কারণেই একে 'গর্জনশীল চল্লিশ' বলা হয়।

• পশ্চিমা বায়ু: 
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। 
- এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল। 
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু। 
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)। 

- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়। 
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে। 
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে আনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না। 
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত। 
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো। এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৬০.
একটি চায়ের কাপে গরম চা রাখলে তার মধ্যে নিচের কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে? 
  1. ব্যাপন
  2. বাষ্পীভবন
  3. নিঃসরণ
  4. ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা
বাষ্পীভবন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদান করে ঐ তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
যেমন: একটি চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায় যা বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ। 

ঘনীভবন: 
- আবার উক্ত বাষ্পকে শীতল করলে তা তরলে পরিণত হয় যাকে ঘনীভবন বলে। 
যেমন: জলীয় বাষ্প তাপশক্তি নির্গত করে ঠান্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়। 

পাতন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। 
অর্থাৎ, পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন 

ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
- কোনো কঠিন পদার্থের মিশ্রণের মধ্যে একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ মিশ্রিত থাকলে ঐ ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থকে মিশ্রণ থেকে পৃথক করা যায়।
যেমন: নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) এর সাথে খাদ্য লবণ (NaCl) মিশ্রিত থাকলে ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতির মাধ্যমে নিশাদলকে পৃথক করা যায়। 

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
যেমন- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬৬১.
n-p-n ট্রানজিস্টরে মাঝখানে কোন ধরনের অপদ্রব্য দিয়ে ডোপিং করা হয়?
  1. ধাতব
  2. পাঁচযোজী
  3. তিনযোজী
  4. নিরোধক
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ট্রানজিস্টর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যাতে দুটি চওড়া p-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু n-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে অথবা দুটি চওড়া n-টাইপ কেলাসের মধ্যে একটি সরু p-টাইপ কেলাস যুক্ত থাকে। 
- প্রকৃত পক্ষে একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে তিনযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে p-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে p-n-p ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- আর একটি অর্ধপরিবাহী খণ্ডের দুই প্রান্তে চওড়া করে পাঁচযোজী পরমাণু (অপদ্রব্য) ডোপিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস এবং এদের মধ্যে সরু করে তিনযোজী পরমাণু প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে n-টাইপ কেলাস গঠনের মাধ্যমে n-p-n ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- তাই একটি ট্রানজিস্টরকে দুটি ডায়োডকে পিঠাপিঠি (Back to back) যুক্ত বলে ধরা হয়। 
- ট্রানজিস্টরের মধ্যকার সরু অংশকে ট্রানজিস্টরের বেস (Base) বা ভূমি বলে। 
- প্রান্তের যে অংশের চওড়া অপর প্রান্তের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং অপদ্রব্যের অনুপাত একটু বেশি তাকে এমিটার (Emiter) বা নিঃসারক বলে। 
- যে প্রান্তের চওড়া একটু বেশি এবং অপদ্রব্যের অনুপাত বেসের সমান তাকে কালেক্টর (Collector) বা সংগ্রাহক বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৬২.
অপ্রকৃত ফল কোনটি?
  1. ক) আপেল
  2. খ) চালতা
  3. গ) কাঁঠাল
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলা হয়। শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলা হয়।
যেমন- আম, কাঁঠাল।
গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৬৩.
মানুষের মুখমণ্ডলে কতটি সাইনাস আছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন - 

সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া বা ৮টি সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২,৬৬৪.
শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল কত? 
  1. ১.০ সেকেন্ড
  2. ০.৫ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. ০.০১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল: 
- কোনো শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
অর্থাৎ, এই ০.১ সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৬৫.
ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে কোন ধরনের সংকেত পাঠানো যায়?
  1. বৈদ্যুতিক সংকেত
  2. আলোক সংকেত
  3. রেডিও সংকেত
  4. শব্দ তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোক সংকেত ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ করা হয়। 

• ফাইবার অপটিক ক্যাবল:
- ফাইবার অপটিক ক্যাবল একটি উচ্চগতির ডেটা ট্রান্সমিশন মাধ্যম যা আলোক সংকেত (অপটিক্যাল সিগন্যাল) ব্যবহার করে তথ্য পাঠায়। 
- এটি মূলত কাঁচ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এক ধরনের পাতলা তন্তু, যা আলোকরশ্মিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহণ করে।
- এই ক্যাবলগুলো ডেটা স্থানান্তরের জন্য অত্যন্ত দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। 

• কাজের ধরন:
- এই ক্যাবলে তথ্য আলোক সংকেত (Optical Signal) রূপে পাঠানো হয়, যা লেজার বা LED দ্বারা তৈরি হয় এবং ক্যাবলের মধ্যে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) এর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

• ফাইবার অপটিকের সুবিধা:
- উচ্চ গতিতে তথ্য প্রেরণ করা যায়।  
- দীর্ঘ দূরত্বেও কার্যকরভাবে তথ্য প্রেরণ করা যায় 
- আলোক তরঙ্গ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফেরেন্স মুক্ত।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২,৬৬৬.
কোন বলের প্রভাবে মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে?
  1. তাড়িতচৌম্বক বল
  2. সবল নিউক্লিয় বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা

• মহাকর্ষ বল:
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে।
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে।
- মহাকর্ষ বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও বস্তু ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন থাকে, বস্তুর ওজন অনুভূত হয় ইত্যাদি।
- দুটি বস্তুর মধ্যে গ্রাভিটন নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে মহাকর্ষ বল কার্যকর হয়।
- অবশ্য গ্রাভিটনের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
- মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৬৭.
মানবদেহে রক্তের শর্করার পরিমাণ কমে গেলে তা বৃদ্ধি করে কোন হরমোন?
  1. থাইরক্সিন
  2. গ্লুকাগন
  3. ইনসুলিন
  4. ইস্ট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• গ্লাইকোজেনোলাইসিস- 
- গ্লাইকোজেনোলাইসিস হলো যকৃত (liver) ও পেশি (muscle) কোষে জমাকৃত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, যা শরীরের শর্করার চাহিদা পূরণের জন্য ঘটে।

• রক্তে যদি শর্করার পরিমাণ কমে যায় তাহলে অগ্ন্যাশয় থেকে গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয় ।
- এর ফলে গ্লাইকোজেনোলাইসিস এর মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয় । ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক হয়।

• অগ্ন্যাশয় এর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে ইনসুলিনের পাশাপাশি গ্লুকাগন হরমোনও নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তে শর্করা কমাতে কাজ করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
১২,৬৬৮.
নিচের কোনটি ভিটামিন এ এর কাজ নয়?
  1. ক) দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা সজীব রাখা
  2. খ) হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ
  3. গ) দেহের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত করা
  4. ঘ) দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরােধ করা
ব্যাখ্যা
প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়।
উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে ক্যারােটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি, যেমন- লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশুটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে।
ভিটামিন A যেসব কাজ করে সেগুলাে হলাে:

১. দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে।
২. দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে।
৩. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে।
৪. দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরােধ করে।
৫. দেহে রােগ সংক্রমণ প্রতিরােধ করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১২,৬৬৯.
বংশগতিবিদ্যার প্রধান বিষয় কী? 
  1. প্রাণের বিকাশ 
  2. কীটপতঙ্গের জীবন 
  3. জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
  4. কোষের গঠন ও কার্যাবলি 
ব্যাখ্যা
১।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬৭০.
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. প্রস্বেদন 
  2. নিঃসরণ 
  3. শ্বসন 
  4. অভিসরণ 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৭১.
শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে কোন রোগ হয়?
  1. রাতকানা
  2. স্কার্ভি
  3. কোয়াশিয়রকর
  4. রিকেট
ব্যাখ্যা

• শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বাধাগ্রস্ত হয়।

• প্রোটিন বা আমিষ:
- প্রোটিন দেহের একটি অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান।
- উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে প্রাণিজ প্রোটিন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত খাদ্য প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস।
- ডাল, বাদাম, শিম ও বরবটির বীজ উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস।
 
• প্রোটিনের কাজ:
- দেহের বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা।
- দেহের পেশি, হাড় বা অস্থি, রক্ত কণিকা ইত্যাদি প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
- দেহে শক্তি উৎপন্ন করতে সহায়তা করা।
- প্রোটিন থেকে দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি তৈরি হয়।
 
• প্রোটিনের অভাব ও কোয়াশিয়রকর:
- শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ দেখা দেয়।
- এ রোগে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বাধাগ্রস্ত হয়।
- শিশুর শারীরিক বিকাশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শিশু পুষ্টিহীনতা বা অপুষ্টিতে ভোগে।
- কোয়াশিয়রকর সাধারণত দীর্ঘদিন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য না পেলে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- রাতকানা → ভিটামিন এ-এর অভাবে সৃষ্ট রোগ।
- স্কার্ভি → ভিটামিন সি-এর অভাবে হয়।
- রিকেট → ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়।

 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

১২,৬৭২.
রাসায়নিকভাবে প্রায় অসক্রিয় ধাতু কোনটি?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) প্লাটিনাম
  3. গ) রূপা
  4. ঘ) সীসা
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি রাসায়নিকভাবে অধিক সক্রিয় ধাতু।
- জিংক বা দস্তা, লৌহ, সীসা ইত্যাদি মধ্যম মানের সক্রিয় ধাতু।
- কপার বা তামা, পারদ, রূপা ইত্যাদি কম সক্রিয় ধাতু।
- প্লাটিনাম এবং সোনা প্রায় অসক্রিয় ধাতু। এদের বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় প্রকৃতিতে।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১২,৬৭৩.
কোনটি নিরুদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. P2O3
  2. H2O2
  3. P2O5
  4. H2S
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P):
- ফসফরাসের দুটি রূপভেদ আছে।
যথা-
লোহিত ফসফরাস ও
শ্বেত ফসফরাস।
- শ্বেত ফসফরাস বেশি সক্রিয়। শ্বেত ফসফরাসের গন্ধ রসুনের মত। দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়। দিয়াশলাইয়ের বক্সের দু-ধারে কাগজের উপর যে বারুদ থাকে তা আসলে কাচচূর্ণ মিশ্রিতু ফসফরাস।
- ফসফরাস পেন্টাক্সাইড (P2O5) নিরুদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- গ্যাস মাস্কের প্রধান উপাদান ফসফরাস পেন্টাক্সাইড । 

উৎস: LiveMCQ Lecture
১২,৬৭৪.
ক্যাসেট প্লেয়ার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কোন চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. অস্থায়ী চুম্বক
  3. প্রাকৃতিক চুম্বক
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- এন্টেনা, লাউডস্পিকার, টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় স্থায়ী চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

• অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- বৈদ্যুতিক কলিং বেল, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৬৭৫.
‘পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে’-এই মতবাদের প্রবক্তা কে?
  1. ক) কোপারনিকাস
  2. খ) টলেমী
  3. গ) অ্যারিস্টটল
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘোরে। বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোর্তিবিজ্ঞানী টলেমী জোরালোভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। কোপারনিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন। তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। তার মডেলের মূল কথা ছিল পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী কেপলার ও গ্যলিলিও, কোপারনিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
১২,৬৭৬.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি এক্স-রের ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. ভেদন ক্ষমতা কম
  2. জীবন্ত কোষে কোনো প্রভাব ফেলে না
  3. গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে
  4. চুম্বকীয় বিকৃতির মাধ্যমে দিক পরিবর্তন করে
ব্যাখ্যা

এক্স-রে (X-ray): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলিয়াম রঞ্জন ক্যাথোড রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে এক্সরে আবিষ্কার করেন। 
- পরীক্ষার সময় তিনি দেখেন, ক্ষরণ নলে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হলে এক ধরনের অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়, যা বেরিয়াম প্ল্যাটিনোসায়ানাইড প্রলেপযুক্ত পাতে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। এই রশ্মির প্রকৃতি অজানা থাকায় তিনি একে "এক্সরে" নামে অভিহিত করেন, যা পরবর্তীতে রঞ্জন রশ্মি নামে পরিচিত হয়। 
- গবেষণার মাধ্যমে তিনি দেখান যে, উচ্চগতিসম্পন্ন ইলেকট্রন ধাতুর প্রতিবন্ধকে আঘাত করলে তার গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়। 

এক্সরের প্রকারভেদ: 
- এক্সরে দুই প্রকার।
যথা- 
১। কোমল এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক কম বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্সরে বলে। 
- কোমল এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক বড়, ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। 

২। কঠিন এক্সরে: 
- এক্সরে যন্ত্রে তুলনামূলক বেশি বিভব প্রয়োগ করে যে এক্সরে পাওয়া যায় তাকে কঠিন এক্সরে বলে। 
- কঠিন এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তুলনামূলক ছোট ফলে ভেদন ক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি। 

এক্সরের ধর্ম: 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬ । আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৭৭.
হিগস বোসনের স্পিন কত?
  1. ০ 
  2. ১/২ 
  3. ২ 
  4. ১ 
ব্যাখ্যা

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা (God's Particle) বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৭৮.
ট্রানজিস্টরে কতটি টার্মিনাল থাকে? 
  1. ২ 
  2. ৩ 
  3. ৪ 
  4. ৫ 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে
যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৭৯.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন নেই?
  1. ইট
  2. কেরোসিন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও  নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬৮০.
মানুষের জিহ্বার লালার pH=?
  1. 2
  2. 4.5
  3. 6.6
  4. 8.4
ব্যাখ্যা
pH:
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- মানব দেহের বিভিন্ন তরল উপাদানের pH নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45.
- মানুষের জিহ্বার লালার pH = 6.6.
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH = 2.
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH = 5.5.
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH = 7.

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৮১.
What happens during the process of photosynthesis?
  1. Reduction of water
  2. Oxidation of carbon dioxide
  3. Oxidation of oxygen
  4. Oxidation of water
  5. Carbon dioxide is produced
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণে পানির (H2O) জারণ ঘটে। 

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই - অক্সাইড (CO2) এবং পানি ব্যবহার করে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরী করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)।

• সালোকসংশ্লেষণের স্থান:
- ক্লোরোপ্লাস্ট ই হলো সালোকসংশ্লেষণের স্থান।
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে এটি ঘটে, কারণ সবুজ অংশে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।

• সালোকসংশ্লেষণ একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া।
- পানি (H2O)থেকে অক্সিজেন মুক্ত হয়। ফলে পানির জারণ ঘটে।
- অন্যদিকে, CO2 এর সাথে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়, ফলে CO2 এর বিজারণ ঘটে।

• সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব:
→ খাদ্য উৎপাদন:
- সালোকসংশ্লেষণ হলো উদ্ভিদ কর্তৃক খাদ্য তৈরির প্রধান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত শর্করা উদ্ভিদ ব্যবহার করে এবং অন্যান্য প্রাণীও খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।  
→ বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন সরবরাহ:
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত হল অক্সিজেন। এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা প্রাণী এবং মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অপরিহার্য।  
→ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা:
- সালোকসংশ্লেষণ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।  
→ শক্তি উৎপাদন:
- সালোকসংশ্লেষণ সৌর শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে, যা জীবজগতের জন্য শক্তির প্রধান উৎস। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২,৬৮২.
সূর্যপৃষ্ঠের উত্তাপ কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ৫৬০০° সেলসিয়াস
  2. ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. ৬৬০০° সেলসিয়াস
  4. ৭৪০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এর পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস।
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড।
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬৮৩.
কয়টি অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে প্রোটিন তৈরি হয়?
  1. ১০
  2. ১৫
  3. ২০
ব্যাখ্যা
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত। আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড।
সূত্র: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী

সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।

মানব শরীরে ২০ টি অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা প্রোটিন গঠনে সহায়তা করে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা।
১২,৬৮৪.
পর্যায়বৃত্ত পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহের উৎস কোনটি? 
  1. রেজিস্টর
  2. জেনারেটর
  3. ব্যাটারি
  4. তড়িৎ কোষ
ব্যাখ্যা

তড়িৎ প্রবাহ: 
- কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্যে দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রনের প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার, একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

তড়িৎ প্রবাহের প্রকারভেদ: 
- তড়িৎ প্রবাহ প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) একমুখী বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে একমুখী প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে একমুখী প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

খ) পরিবর্তী বা এসি প্রবাহ: 
- যদি সময়ের সাথে তড়িৎ প্রবাহের দিক বারবার পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পরিবর্তী প্রবাহ বলে। যদি দিক পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সময় স্থির থাকে তবে এটিকে পর্যাবৃত্ত পরিবর্তী প্রবাহ বা সাধারনভাবে পর্যাবৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ, কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত পরিবর্তী প্রবাহের দিক পরিবর্তনের হার দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত পরিবর্তী প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১২,৬৮৫.
যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে, তাদেরকে কী বলে? 
  1. পরিবাহী পদার্থ
  2. অপরিবাহী পদার্থ
  3. কুপরিবাহী পদার্থ
  4. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
ব্যাখ্যা
পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই আধান বা তড়িৎ এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। 

অর্ধপরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন-কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৮৬.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বলের মান কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে? 
  1. কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব
  2. মাধ্যমের ধরন ও তড়িৎ প্রবাহ
  3. কণাদ্বয়ের আয়তন ও তাপমাত্রা
  4. কণাদ্বয়ের আকার ও রঙ
ব্যাখ্যা

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রে বল নির্ভর করে কণাদ্বয়ের ভর ও তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর।
সঠিক উত্তর: ক) কণাদ্বয়ের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্ব। 

মহাকর্ষ: 

- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১২,৬৮৭.
হাট বাজারে শব্দের তীব্রতা লেভেল সাধারণত কত ধরা হয়? 
  1. ৭০ ডেসিবল 
  2. ৪০ ডেসিবল 
  3. ৩০ ডেসিবল 
  4. ৫০ ডেসিবল 
ব্যাখ্যা

- হাট বাজারে শব্দের তীব্রতার স্তর বা শব্দের তীব্রতা লেভেল হচ্ছে ৭০ ডেসিবল। 

শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- শব্দের তীব্রতার মূল একক Wm-2  । 
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্বনিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা যার মান 10-12 Wm-2 কে বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা (threshold of audibility) হিসাবেও ধরা হয়।


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৮৮.
তাপমাত্রার বৈশিষ্ট্য হলো -
  1. ক) এটি অনুভব করা যায়।
  2. খ) এটি এক ধরনের শক্তি।
  3. গ) উষ্ণতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
  4. ঘ) এটি পরিমাপযোগ্য।
ব্যাখ্যা
তাপ হলো এক প্রকার শক্তি, যার কারণে কোনো কিছুকে ঠান্ডা বা গরম হিসাবে অনুভব করা যায়। এটি এক ধরনের শক্তি- কোনো পদার্থ নয়। তাই এটি বল প্রয়োগে কোন বাঁধা প্রদান করে না।
তাপমাত্রা কোনো কিছুর তাপীয় অবস্থাকে প্রকাশ করে৷ তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়।
তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য সেলসিয়াস স্কেল, ফারেনহাইট স্কেল, কেলভিন স্কেল ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের স্কেল রয়েছে।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি।
১২,৬৮৯.
যকৃত কোন রস তৈরি করে?
  1. পিত্তরস
  2. লালারস
  3. আন্ত্রিক রস
  4. গ্যাস্ট্রিক রস
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 

কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৬৯০.
বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি এবং হিটারে ব্যবহৃত হয়-
  1. টাংস্টেন তার
  2. নাইক্রোম তার
  3. এন্টিমনি তার
  4. কপার তার
ব্যাখ্যা
- নাইক্রোমের তার বৈদ্যুতিক হিটার এবং ইস্ত্রি সহ আরো অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রে ব্যাবহার করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক হিটারের মধ্যে অপরিবাহী পদার্থের একটি গোল চাকতি থাকে। 
- চাকতিতে নাইক্রোম তারের কুন্ডলী সাজিয়ে রাখা হয়। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে তারটি গরম হয় এবং উত্তপ্ত হয়ে তাপ বিকিরণ করে। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রির নাইক্রোম তারটি ইস্ত্রির নিচের মসৃণ লৌহ নির্মিত তলটিকে উত্তপ্ত করে। 
- এক্ষেত্রে তাপ উৎপাদন বিদ্যুৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল। 
- প্রবাহ বেশি হলে ইস্ত্রি বেশি উত্তপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৬৯১.
একটি তরঙ্গের ক্ষেত্রে যদি মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব হয়, তবে সেই তরঙ্গটি কোন ধরনের?
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  3. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  4. তাপ তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ হলো সেই তরঙ্গ, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব।

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ:
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
- পানিতে তরঙ্গ সৃষ্টি হলে পানির কণাগুলো উপরে-নিচে ওঠানামা করে, কিন্তু তরঙ্গ সামনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- অনুপ্রস্থ তরঙ্গে তরঙ্গ শীর্ষ ও তরঙ্গ পাদ গঠিত হয়।
- পরপর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ অথবা দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলা হয়।
- আলো তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ ও পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ।

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
- মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে-নিচে স্পন্দিত হয়।
- কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব।
- তরঙ্গ শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালন করে, কিন্তু কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না।

• অন্যান্য অপশন:
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: যে তরঙ্গে কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক সমান্তরাল হয়।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ: যে তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- তাপ তরঙ্গ: সূর্য থেকে তাপ শক্তি তরঙ্গ আকারে সঞ্চালিত হয়, যা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১২,৬৯২.
ক্যালামাইন কোন ধাতুর আকরিক ?
  1. আয়রন
  2. লেড
  3. কপার
  4. জিঙ্ক
ব্যাখ্যা

- ক্যালামাইন হচ্ছে জিঙ্ক ধাতুর আকরিক।

আকরিক:
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে।
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। - এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে।

- মার্কারি এর আকরিক:  সিন্নাবার (HgS)।
- জিংক এর আকরিক:  জিংক ব্লেন্ড (ZnS), ক্যালামাইন (ZnCO)।
- লেড এর আকরিক: গ্যালেনা (PbS)।
- আয়রন এর আকরিক: ম্যাগনেটাইট (Fe3O4),  হেমাটাইট (Fe2O3),  লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O)।
- কপার এর আকরিক: কপার পাইরাইট (CuFeS2), চালকোসাইট (Cu2) ।
- অ্যালুমিনিয়াম এর আকরিক: বক্সাইট (Al2O3.2H2O)।
- ক্যালসিয়াম এর আকরিক: চুনাপাথর (CaCO3)।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৯৩.
কোন অবস্থায় বিক্রিয়ার গতিবেগ বৃদ্ধি পায়?
  1. বিক্রিয়ার আয়তন বৃদ্ধি পেলে
  2. উৎপাদকের ঘনমাত্রা কম থাকলে 
  3. বিক্রিয়ার তাপমাত্রা কম থাকলে
  4. বিক্রিয়াকের ঘনমাত্রা বেশি থাকলে
ব্যাখ্যা

বিক্রিয়ার গতিবেগ বা বিক্রিয়ার হার (Rate of Reaction): 
- যখন কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া সংগঠিত হয় তখন বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হয়। 
- বিক্রিয়কের পরিমাণের হ্রাস ঘটে এবং উৎপাদের পরিমাণের বৃদ্ধি ঘটে। 
অর্থাৎ, বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার হ্রাস এবং উৎপাদের ঘনমাত্রার বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিক্রিয়ক ও উৎপাদের ঘনমাত্রার পরিবর্তনের হারকে ঐ বিক্রিয়ার গতিবেগ বা বিক্রিয়ার হার বলে। 
• বিক্রিয়ার হার = ঘনমাত্রার পরিবর্তন / সময়ের ব্যবধান । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৯৪.
The chemical symbol for gold is -
  1. ক) Au
  2. খ) Ag
  3. গ) Al
  4. ঘ) As
ব্যাখ্যা
- Au হলো গোল্ডের প্রতীক,
- Pb হলো লেড,
- Fe হলো আয়রন এবং
- Hg হলো মারকারির প্রতীক৷

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১২,৬৯৫.
নিচের কোন বইটির রচয়িতা ক্যারোলাস লিনিয়াস?
  1. Species Plantarum
  2. Philosophia Plantarum
  3. Historia Plantarum
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
- ১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস 'Species Plantarum' বইটি রচনা করেন।
- তাঁর রচিত আরেকটি বিখ্যাত বই হলো ‘Philosophia Botanica’।

• দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২,৬৯৬.
অয়ন বায়ু কোথায় প্রবাহিত হয়?
  1. উত্তর থেকে দক্ষিণ 
  2. দক্ষিণ থেকে উত্তর
  3. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  4. পূর্ব থেকে পশ্চিম
ব্যাখ্যা

- অয়ন বায়ু (বাণিজ্য বায়ু নামেও পরিচিত) পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তবে মূল গতিপথ পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী। 

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের অন্যতম প্রভাব। 
- প্রধান বায়ুপ্রবাহের গতি অনুসরণ করে সমুদ্রের প্রধান শ্রোতগুলো প্রবাহিত হয়। 
- অয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্রস্রোত পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে এবং প্রত্যয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ুর চলাচল নিয়ত পরিবর্তনশীল। 
- বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ। 
- বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়- 
• নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
• পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৯৭.
অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙে মুক্ত অক্সিজেন শরীরের কোষে কীভাবে প্রবেশ করে?
  1. সক্রিয় পরিবহন
  2. নিঃসরণ
  3. ব্যাপন
  4. অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা

◉ রক্তের হিমোগ্লোবিন যখন ফুসফুসে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয় তখন তা অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে এটি শরীরের কোষে পৌঁছে যায়।

- কোষের ভেতরে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম থাকে, আর রক্তে অক্সিহিমোগ্লোবিন থেকে মুক্ত হওয়া অক্সিজেনের ঘনত্ব বেশি থাকে।এই ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে অক্সিজেন স্বাভাবিকভাবে (without energy) উচ্চ ঘনত্ব থেকে নিম্ন ঘনত্বের দিকে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়াকেই ব্যাপন (Diffusion) বলা হয়।

অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen): 
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়। 
- ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে। 
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত। 
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে। ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী। 

• Hb4 + 4O2 ⇔ 4HbO
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন ⇔ অক্সিহিমোগ্লোবিন 

- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি থাকলে অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মিলে HbO2 তৈরি করবে। আবার অক্সিজেনের পরিমাণ যেখানে কম সেখানে HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন এবং হিমোগ্লোবিন পৃথক হবে। 
- ফুসফুসে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর গাত্রের কৈশিক জালকে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি। ফলে অক্সিজেন এবং Hb4 যুক্ত হয়ে HbO2 উৎপন্ন করে এবং সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহকোষের কাছে আসে। 
- দেহকোষে যেহেতু অক্সিজেনের পরিমাণ কম তাই HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন মুক্ত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৬৯৮.
কোন রোগ DPT টিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধনুস্টংকার
  2. হুপিংকাশি
  3. পোলিও
  4. ডিফথেরিয়া
ব্যাখ্যা
DPT:
- ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক প্রস্তুত করা হয়।
- ডি.পি.টি. (ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি ও ধনুস্টংকার) রোগের টিকা বা প্রতিষেধকও ব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত করা হয়।
- Corynebacterium diptheriae (D), Bordetella pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T) হতে DPT (D= Diphtheria, P= Pertussis, T= Tetanus) নামকরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- পোলিও এর টিকার নাম ওপিভি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৬৯৯.
AIDS সর্বপ্রথম কোন দেশে চিহ্নিত হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. ফ্রান্স
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
AIDS:
- ‘AIDS (Acquired Immunodeficiency Syndrome) রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটি হল HIV (Human Immunodeficiency Virus)।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

HIV সংক্রমণের কারণ:
- প্রধানত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়।
- মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।
- রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লসএঞ্জেলস-এ সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত করা হয়। 
- এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে ১৯৮৪ সালে প্রথম এইডস লক্ষ করা যায় এবং মিয়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯৮৬ সালের মধ্যেই এর প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। 

উৎস: i) দৈনিক ইত্তেফাক।
ii) Apollo Hospitals.
১২,৭০০.
মস্তিষ্কের কোন অংশ পেশির টান ও দেহের ভারাসাম্য নিয়ন্ত্রন করে?
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) থ্যালামাস
  4. ঘ) হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থিত লঘুমস্তিষ্ক। এর তিনটি অংশ-সেরিবেলাম, পনস ও মেডুলা অবলংগাটা। পনসের বিপরীত দিকে অবস্থিত খন্ডাংশটি হলো সেরিবেলাম। এটা অনেকটা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। সেরিবেলাম ডান ও বাম দু’অংশে বিভক্ত। এটি দেহের পেশির টান নিয়ন্ত্রন, চলনে সমন্বয় সাধন, দেহের ভারাসাম্য রক্ষা, দৌড়ান ও লাফানোর কাজে জড়িত পেশিগুলোর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রন করে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]