বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১১৮ / ১৪০ · ১১,৭০১১১,৮০০ / ১৪,০৮০

১১,৭০১.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. ক) টিকটিকি
  2. খ) জিরাফ
  3. গ) ডাইনোসর
  4. ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা

- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- উদাহরণ: তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।
- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।

১১,৭০২.
উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রধানত কোনটির মাধ্যমে ঘটে?
  1. ক) কাণ্ড
  2. খ) মূল
  3. গ) পত্ররন্ধ্র
  4. ঘ) পাপড়ি
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন
- প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য। তাই উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে।
- শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পরিত্যাগ করে।
- উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
- উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধের মাধ্যমে ঘটে। এছাড়া কাণ্ড ও পাতার কিউটিকল এবং কাণ্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামন এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়।
- প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা:
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন
২। ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং
৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
- সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পত্ররন্ধ্র এবং খালি চোখে কাণ্ডের লেন্টিসেল সহজে দেখা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১১,৭০৩.
মানবদেহের হাড়ে কতটুকু পানি থাকে?
  1. ক) ১০-২০%
  2. খ) ২০-২৫%
  3. গ) ৪০-৫০%
  4. ঘ) ৭০-৮০%
ব্যাখ্যা

অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
লম্বা, ছোট, অসমান, চ্যাপ্টা মোট ২০৬ টি অস্থির সমন্বয়ে পূর্ণ বয়স্ক মানব কঙ্কাল গঠিত হয়।
শিশুর কঙ্কালে অস্থির সংখ্যা আরো বেশি থাকে।

- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি।
- অস্থিতে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ পানি থাকে
- অস্থির বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১১,৭০৪.
ইউরিয়া সারে কতভাগ নাইট্রোজেন থাকে?
  1. ৪৪%
  2. ৪৬%
  3. ৫৬%
  4. ৬৪%
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারে মোট ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে।

ইউরিয়া:
- ইউরিয়া সারে সাধারণত ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে।
-এটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার, যা ফসলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- ইউরিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে মাটিতে নাইট্রোজেন সরবরাহ করা হয়, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়ক।

বৈশিষ্ট্য:
- রাসায়নিক গঠন: ইউরিয়ার রাসায়নিক সূত্র হলো CH₄N₂O।
- এটি সহজে দ্রবণীয় এবং দ্রুত উদ্ভিদের শোষণের জন্য প্রস্তুত।
- সঠিক মাত্রায় ইউরিয়া ব্যবহার করলে এটি ফসলের ফলন বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম সালফেট নাইট্রোজেন জাতীয় সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- অ্যামোনিয়াম সালফেটে শতকরা ২০.৫ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিআইসি ওয়েবসাইট।
১১,৭০৫.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি কোন মহাসাগর বরাবর কল্পনা করা হয়?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আরব মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অঙ্কিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাটি স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে মোট সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
- বাংলাদেশের প্রমাণ সময় হিসেবে গণনা করা হয় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭০৬.
কোন মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বর হয়?
  1. কিউলেক্স
  2. অ্যানোফিলিস
  3. এডিস মশা
  4. হেমাগোগাস
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু জ্বর
- উপক্রান্তিয় এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলের গ্রীষ্ম-প্রধান দেশে ডেঙ্গু এবং ডেঙ্গু জ্বর একটি অত্যন্ত সাধারণ ভেক্টর-বাহিত ভাইরাসঘটিত রোগ।
- ডেঙ্গু জ্বর হল একটি মশা-বাহিত ভাইরাস-ঘটিত রোগ।
- একটি স্ত্রী এডিস মশা যদি ফ্ল্যাভিভাইরাস প্যাথোজেন বহন করে এবং এ অবস্থায় কাউকে কামড় দেয় তাহলে ভুক্তভোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন।
- ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জয়েন্টে ব্যথা, রক্তক্ষরণ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন মনে করে সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়।

সূত্র- বিবিসি।
১১,৭০৭.
স্বাভাবিক আদর্শ পরিবেশে পানির ঘনত্ব যে তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ মান পরিগ্রহ করে তা হলো -
  1. ০° সেন্টিগ্রেড
  2. ১০০° সেন্টিগ্রেড
  3. ৪° সেন্টিগ্রেড
  4. ২৬৩° সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে, পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭০৮.
কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সর্বশেষ শক্তিস্তরে আটটি ইলেকট্রন নেই? 
  1. জেনন (Xe)
  2. নিয়ন (Ne)
  3. হিলিয়াম (He)
  4. ক্রিপ্টন
ব্যাখ্যা

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) ও ওগানেসন (Og)।
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে। - একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। 
- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে। 

নিস্ক্রিয় গ্যাসের ধর্মসমূহ: 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস। 
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই। 
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম। 
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম। 
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

১১,৭০৯.
গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে কোন ধরনের ট্যাবলেট সাধারণত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়?
  1. ভিটামিন 
  2. জিংক 
  3. আয়রন 
  4. আয়োডিন 
ব্যাখ্যা

গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা ও সচেতনতা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন জটিলতায় অনেক নারী মৃত্যুবরণ করেন। 
- গর্ভকালীন সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব মা ও শিশুর উভয়ের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে। 
- তাই সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা: 
- গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহ ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
- গর্ভকালীন সময় রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে ডাক্তারের নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন- 
• প্রথম মাস থেকে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হয়। 
তৃতীয় মাস থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
• আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: কচুশাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি। 
• ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রনের শোষণ বৃদ্ধি পায়। যেমন: আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস, কাঁচা ফলমূল ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭১০.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি? 
  1. তরল মাধ্যমে 
  2. কঠিন মাধ্যমে 
  3. শূন্য মাধ্যমে 
  4. বায়বীয় মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- অর্থাৎ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৭১১.
অক্সিজেনের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্যি?
  1. বিজারক
  2. জারণ
  3. বিজারণ
  4. ধনাত্মক
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

- বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথােডে।
- জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানােডে।

- বিজারণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া বা জারক পদার্থ অপর পদার্থকে জারিত করে, কিন্তু নিজে বিজারিত হয়।
- ক্লোরিন, ফ্লোরিন ইত্যাদি প্রায় সকল অধাতু হলো জারক। যেমন - সকল পারঅক্সাইড, অক্সি এসিড, ক্যাটায়ন, ইক্ লবণ, অক্সিজেন, ওজোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল।

সুতরাং, এখানে, অক্সিজেনের সাথে বিজারণ - সামঞ্জস্যপূর্ণ।


উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন (২য় পত্র) বোর্ড বই ও মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭১২.
সামুদ্রিক জীব বায়ুমণ্ডল থেকে কোন গ্যাস শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই–অক্সাইড
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা

সামুদ্রিক জীবন: 
- সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, মানবজাতি এখন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রতলের মাত্র ০.০০১ শতাংশ কম এলাকা সম্পর্কে জানে। এই এলাকার আকার রোড আইল্যান্ডের প্রায় সমান বা বেলজিয়ামের প্রায় এক-দশমাংশ। এই সীমিত অনুসন্ধান আমাদের গ্রহের বৃহত্তম বাস্তুতন্ত্রকে সঠিকভাবে বোঝা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। 
- ২০০ মিটারের বেশি গভীরতা থেকে গভীর মহাসাগর শুরু হয়, যা পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে বিস্তৃত। বিশালতা সত্ত্বেও সমুদ্র সবচেয়ে কম অন্বেষণ করা অংশ। 
- গভীর মহাসাগর বিভিন্ন ধরনের জীবের আবাসস্থল, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, অক্সিজেন উৎপাদন আর খাদ্য ও ওষুধের মতো মূল্যবান সম্পদ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রপৃষ্ঠে বসবাসকারী ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন পৃথিবীর প্রায় ৮০ ভাগ অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এসব জীব গভীর সমুদ্রস্রোত থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। 
- সামুদ্রিক জীব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণে সহায়তা করছে। জলবায়ু স্থিতিশীলতায় সমুদ্রের অবদান অনেক। 

- প্রতিবছর ২০ কোটি টন সামুদ্রিক খাবার সরবরাহ করা হয় সমুদ্র থেকে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬ কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে সমুদ্র। এছাড়া স্পঞ্জ ও ব্যাকটেরিয়ার মতো সামুদ্রিক জীব এইচআইভি, স্তন ক্যানসার ও কোভিড-১৯ সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখছে। পাঁচ দশক ধরে বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য চিকিৎসার জন্য হাজার হাজার নতুন সামুদ্রিক যৌগ খুঁজে যাচ্ছেন। 
- গবেষকেরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, সমুদ্রে মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ ও উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যতে ক্ষতিকর প্রভাব প্রায় দ্বিগুণ হবে। মহাসাগর ইতিমধ্যে মানুষের কার্যকলাপ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ অতিরিক্ত তাপ ও ৩০ শতাংশ কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণ করেছে। এর ফলে উষ্ণ তাপমাত্রা, অক্সিজেনের মাত্রা হ্রাস ও সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের পরিবর্তন গভীর সমুদ্রের আবাসস্থলকে অযোগ্য করে তুলছে। বিভিন্ন গভীরতায় সামুদ্রিক জীবনকে ব্যাহত করছে। বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য ও উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করছে। 

উৎস: সায়েন্স অ্যালার্ট এবং দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (৬ জুন, ২০২৫) [লিঙ্ক]।

১১,৭১৩.
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে-
  1. ক) রেস্পিরেশন
  2. খ) ফটোলাইসিস
  3. গ) ফসফোরাইলেশন
  4. ঘ) ফটোপিরিওডিজম
ব্যাখ্যা
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে ফটোলাইসিস। উদ্ভিদের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের দৈর্ঘ্যের প্রভাবকে ফটোপিরিওডিজম বলে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
১১,৭১৪.
কোনটি রক্তের কাজ নয়?
  1. কলা (Tissue) হতে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ বহন করা
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
  3. হরমোন বিতরণ করা
  4. জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
ব্যাখ্যা
• জারক রস বিতরণ করা রক্তের কাজ নয়।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

• রক্তের কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ,
- খাদ্যসার পরিবহন,
- তাপের সমতা রক্ষা,
- বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন,
- হরমোন পরিবহন,
- রোগ প্রতিরোধ,
- রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭১৫.
খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত সোডিয়াম বেনজোয়েটের রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. C6H5COONa
  2. CH3COONa
  3. NaHCO3
  4. Na2CO3
ব্যাখ্যা

◉ সোডিয়াম বেনজোয়েটের রাসায়নিক সংকেত হলো C6H5COONa, যা খাদ্য সংরক্ষণের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সোডিয়াম বেনজোয়েট (Sodium Benzoate):
- সোডিয়াম বেনজোয়েট খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি সাধারণ সংরক্ষণকারী (Preservative), যা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ইস্টের (Yeast) বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।
- এটি প্রধানত অম্লীয় পরিবেশে কার্যকর এবং বিভিন্ন প্রসেসড খাবারে ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
CH3COONa - সোডিয়াম অ্যাসিটেট; 
NaHCO3 - সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, অ্যাসিড-নিয়ন্ত্রণকারী এজেন্ট ও বেকিং উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
Na2CO3 - সোডিয়াম কার্বোনেট মূলত কাচ, সাবান ও ডিটারজেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

আরো কিছু মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO, 
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O].

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭১৬.
নিচের কোন উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায় না?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) আখ
  3. গ) মুথা ঘাস
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
C4 উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায়। সাধারণত ভুট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ, মুথা ঘাস, অ্যামারান্থাস ইত্যাদি উদ্ভিদে C4 পরিচালিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭১৭.
জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে বলা হয় - 
  1. বেনথিক শৈবাল
  2. এপিফাইটিক শৈবাল
  3. লিথোফাইটিক শৈবাল
  4. এন্ডোফাইটিক শৈবাল
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
- অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 
- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭১৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ উভমুখী
  2. খ) বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ চক্রাকার
  3. গ) বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ একমুখী
  4. ঘ) বাস্তুসংস্থানে শক্তিপ্রবাহ অনুপস্থিত
ব্যাখ্যা
পরিবেশের ভারসাম্য বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ একমুখী। শক্তির উৎস সূর্য। এ উৎস থেকে শক্তি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদক তথা সবুজ উদ্ভিদে প্রবাহিত হয়। উৎপাদক থেকে তা পর্যায়ক্রমে উচ্চশ্রেণীর খাদকের কাছে যায়। খাদকের দেহ থেকে শক্তি পরিবেশে মুক্ত হয়। শক্তি প্রাথমিক উৎসের কাছে আর ফিরে যায় না।
অর্থাৎ বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ একমুখী।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭১৯.
কোন রস শর্করা ও আমিষ উভয়কে পরিপাক করে?
  1. ক) টায়ালিন
  2. খ) পেপসিন
  3. গ) গ্যাস্টিক রস
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয় রস
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে কতকগুলো এনজাইম নিঃস্রাবী ও নালিযুক্ত গ্রন্থি থাকে, এদেরকে এসিনাই বলে ।
- এরা লোবিউল গঠন করে এবং লোবিউল থেকে ছোট ছোট নালিকা বের হয়ে একত্রিত হয়ে ‘উইরসাং’ নালি গঠন করে।
- এই উইরসাং নালি অগ্ন্যাশয়ের দৈর্ঘ্য বরাবর ডিওডেনামের কাছে অভিন্ন পিত্তথলির সাথে মিলিত হয়ে অ্যাম্পুলার মাধ্যমে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
- অগ্ন্যাশয় থেকে এ নালির মাধ্যমে ক্ষরিত রসকে অগ্ন্যাশয়িক রস বলে ।
- অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড বা ফ্যাট পরিপাককারী এনজাইম থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সহায়ক

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,৭২০.
পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে চাঁদ-এর সময় লাগে-
  1. ক) ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা
  2. খ) ২৭ দিন ১৭ ঘণ্টা
  3. গ) ২৮ দিন ২ ঘণ্টা
  4. ঘ) ২৮ দিন ৫ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘন্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে।
এটি পৃথিবীর আয়তনের ৫০ ভাগের একভাগ।
সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

১১,৭২১.
কোন গ্রহের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে অধিক?
  1. শুক্র
  2. পৃথিবী
  3. মঙ্গল
  4. বুধ
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহের তাপমাত্রা: 
- প্রতিটি গ্রহের গড় তাপমাত্রা একটি গ্রহ সূর্য থেকে যত দূরে থাকে গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ততই শীতল হতে থাকে। 
- শুক্র ব্যতিক্রম, কারণ সূর্যের সান্নিধ্য এবং এর ঘন বায়ুমণ্ডল এটিকে আমাদের সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ করে তোলে। 
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র। 
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাই অক্সাইডের তৈরি। 
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ। 
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ। 
- আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির গড় তাপমাত্রা হলো- 
• বুধ: ১৬৭° সেলসিয়াস, 
শুক্র: ৪৬৪° সেলসিয়াস, 
• পৃথিবী: ১৫° সেলসিয়াস, 
• মঙ্গল: -৬৫° সেলসিয়াস, 
• বৃহস্পতি: -১১০° সেলসিয়াস, 
• শনি: -১৪০° সেলসিয়াস, 
• ইউরেনাস: -১৯৫° সেলসিয়াস এবং 
• নেপচুন: -২০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA ওয়েবসাইট।
১১,৭২২.
পৌষ্টিক নালির ভেতরের অংশ কোনটি?
  1. ক) গ্যাষ্ট্রিক গ্রন্থি
  2. খ) যকৃত
  3. গ) লালাগ্রন্থি
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকগ্রন্থি:
- যে সকল গ্রন্থির ক্ষরণ সরাসরি খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে সে সকল গ্রন্থিসমূহকে বলা হয় “পৌষ্টিকগ্রন্থি”।
- মানুষের পরিপাক গ্রন্থিগুলোকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১। পৌষ্টিক নালির বাইরে অবস্থিত কিন্তু পৌষ্টিক নালির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত গ্রন্থি।
যেমন- লালাগ্রন্থি, যকৃত ও অগ্ন্যাশয়।

২। পৌষ্টিক নালির ভেতরের অংশের গ্রন্থি।
যেমন- গ্যাষ্ট্রিক গ্রন্থি ও আন্ত্রিক গ্রন্থি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,৭২৩.
HMPV- এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Human Malaria Pneumovirus
  2. Human Metapneumovirus
  3. Human Mycoplasma Pneumonia Virus
  4. Human Meningococcal Pneumonia Virus
ব্যাখ্যা
‘এইচএমপিভি’ ভাইরাস:
- এইচএমপিভি (Human Metapneumovirus) ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে চীন এবং জাপানে।
- এই ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ধাঁচের এবং করোনার মতোই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
- বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, ২০২৫ সালে করোনার মতো নতুন কোনো মহামারি উদ্ভব হতে পারে।
- ডিজিজ এক্স নামক মহামারি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আগাম সতর্কতা জারি করেছেন।
- চীনে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সতর্কতা জারি করেনি।
- ভাইরাসের সাধারণ উপসর্গ হলো জ্বর, নাক বন্ধ, কাশি বা শ্বাসকষ্ট, তবে তীব্র সংক্রমণে ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া বা কানে ইনফেকশন হতে পারে।
- প্রতিরোধ ও প্রতিকার হিসেবে সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- দুই দশক আগে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হলেও, এখনও এর কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা নিউজ [লিঙ্ক]
১১,৭২৪.
নিচের কোন ভ্যাকসিন দেহ তলের রাসায়নিক উপাদান থেকে তৈরি? 
  1. বিসিজি
  2. পোলিও
  3. হেপাটাইটিস-বি
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা
ব্যাখ্যা
টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। 

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা: 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত: 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭২৫.
কোন পদার্থটি সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয় না?
  1. আয়োডিন
  2. বেনজিন
  3. ন্যাপথালিন
  4. নিশাদল
ব্যাখ্যা

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা তরলে রূপান্তরিত না হয় সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
যেমন:
- কর্পুর,
- গন্ধক,
- আয়োডিন,
- ন্যাপথালিন,
- নিশাদল,
- অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- আর্সেনিক,
- বেনজয়িক এসিড ইত্যাদি।

• কিন্তু বেনজিন উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৭২৬.
মানুষের দেহে মোট কতটি ক্রোমোসোম থাকে?
  1. ক) ৪৪টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ৪৬টি
  4. ঘ) ৪৭টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
১১,৭২৭.
মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে- এ মতবাদটি কার?
  1. ক) আইনস্টাইন
  2. খ) এডউইন হাবল
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে- এ মতবাদটি এডউইন হাবল সর্বপ্রথম প্রদান করেন। 

- সর্বপ্রথম ১৯২০ সালে আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল পর্যবেক্ষণ করেন যে, পৃথিবী থেকে দূরবর্তী নক্ষত্র এবং ছায়াপথগুলি ক্রমশই সরে যাচ্ছে। 
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব মতবাদ প্রদান করেন। 
- স্টিফেন হকিং আধুনিক বিগ ব্যাঙ মতবাদের প্রবক্তা। 
- কোপার্নিকাস সর্বপ্রথম প্রমাণ করেন যে, সূর্য নয়, পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে, যে পথে পৃথিবী ঘোরে সেটা পৃথিবীর কক্ষপথ আর এই কক্ষপথ বৃত্তাকার।
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন, যা হাবলের সাথে মিলে যায়।

সূত্র- ৪১৪ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭২৮.
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার নীতি অনুসারে কোনটি ব্যাখ্যা করা যায় না?
  1. মহাকর্ষ
  2. নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. চৌম্বক ধর্ম
ব্যাখ্যা
• আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার নীতি অনুসারে চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। 

• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আইনস্টাইনের মতে স্থান, কাল ও ভর পরম নয়,সবই আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বই আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of relativity) নামে পরিচিত।

• আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) মূলত দুভাগে বিভক্ত, যথা-
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব (The general theory of relativity) এবং
- আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (The special theory of relativity)।

• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯০৫) ও সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯১৫) নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করে:
- মহাকর্ষ।
- নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি।
- সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব ধারণা।

অন্যদিকে,
- চৌম্বকত্ব বা পদার্থের চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স (QED) বা ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭২৯.
GPS এর পূর্ণরূপ কোনটি? 
  1. Global Positioning System
  2. Global Pointing System
  3. Global Publication System
  4. Great Positioning System
ব্যাখ্যা
GPS: 
- GPS এর পূর্ণরূপ Global Positioning System
- GPS হলো এমন একটি স্যাটেলাইটনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- সময়ের সাথ সাথে জিপিএস প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধনের কারণে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয়, ট্র্যাকিং সহ আরও অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। 
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম। 
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। 
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। 

উৎস: Britannica.com
১১,৭৩০.
কত তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) ২৭৩ কেলভিন
  2. খ) ২৭৫ কেলভিন
  3. গ) ২৭৬ কেলভিন
  4. ঘ) ২৭৭ কেলভিন
ব্যাখ্যা
-  পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে।
- পানির ঘনত্ব ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩৯.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ২৭৭.১৫ কেলভিন তাপমাত্রায় সব থেকে বেশী।
- এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার৩
- অর্থাৎ ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।


উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
১১,৭৩১.
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান কোনটি?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) ম্যাংগানিজ
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ্য পুষ্টি উপাদান বা ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট হলো ১০টি। এরা হলো নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার এবং আয়রন।
- উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হলো ৬টি। এরা হলো জিংক, ম্যাংগানিজ, মোলিবডেনাম, বোরন, কপার এবং ক্লোরিন। 

সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

১১,৭৩২.
পৃথিবীর মুক্তি বেগ V হলে, যে গ্রহের ব্যাসার্ধ ও ভর পৃথিবীর ব্যাসার্থ ও ভরের দ্বিগুণ সে গ্রহের মুক্তি বেগ কত হবে?
  1. ক) 4V
  2. খ) 2V
  3. গ) V
  4. ঘ) 1/2V
ব্যাখ্যা
• মুক্তি বেগের সূত্র: V = √(2GM/R)
যেখানে, G = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক,
M = গ্রহের ভর,
R = গ্রহের ব্যাসার্ধ।

নতুন গ্রহের জন্য:ভর (M2) = 2M (পৃথিবীর ভরের দ্বিগুণ)
ব্যাসার্ধ (R2) = 2R (পৃথিবীর ব্যাসার্ধের দ্বিগুণ)

নতুন গ্রহের মুক্তি বেগ: V2 = √(2G(2M)/(2R)) = √(2GM/R) = V
তাই, নতুন গ্রহের মুক্তি বেগ হবে V

উত্তর: গ) V

- যদিও নতুন গ্রহের ভর ও ব্যাসার্ধ উভয়ই দ্বিগুণ, কিন্তু মুক্তি বেগের সূত্রে এই দুটি পরিবর্তন একে অপরকে প্রভাবিত করে।
- ভর দ্বিগুণ হওয়ায় মুক্তি বেগ বাড়ার প্রবণতা দেখায়, কিন্তু ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ হওয়ায় তা কমে যায়, ফলে শেষ পর্যন্ত মুক্তি বেগ অপরিবর্তিত থাকে।
১১,৭৩৩.
'গ্রাফাইট' কোন ধরনের খনিজ সম্পদ? 
  1. ধাতব খনিজ
  2. ধাতব ও শক্তি সম্পদ
  3. অধাতব খনিজ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ: 
- খনিজ সম্পদ প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে গঠিত হয়। 
- এক বা একাধিক উপাদানে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে। 
- খনিজে সাধারণত বিভিন্ন শিলার উপাদানগুলো ভূ-তাত্ত্বিক সময়ের উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে খনিজ পদার্থে পরিণত হয়। 
যেমন-লৌহ আকরিক, চুনাপাথর, গ্রাভেল, কঠিন শিলা, গ্লাস স্যাণ্ড, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ট্যাংস্টেন, সোনা, হীরা, রূপা, কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ। 
- খনিজ সম্পদ অজৈব পদার্থ। 
- খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ: 
- ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে। 
- ধাতব খনিজ লৌহ বর্গীয় এবং অলৌহ বর্গীয় হয়ে থাকে। 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল। 
- অলৌহ বর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি। 

২। অধাতব খনিজ: 
- যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে। 
যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি। 

৩। শক্তি সম্পদ: 
- যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে। 
যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৩৪.
তরল পদার্থের প্রসারণ দ্বারা কী বুঝানো হয়? 
  1. ক্ষেত্র প্রসারণ
  2. দৈর্ঘ্য প্রসারণ
  3. তলীয় প্রসারণ
  4. আয়তন প্রসারণ
ব্যাখ্যা
তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে। 
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এর দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয়। 
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈর্ঘ্য নেই। 
- যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়। 
- তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়। 
- আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না। 
- তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৩৫.
সমুদ্রের এক স্থানে প্রতিদিন কয়টি জোয়ার সংঘটিত হয়?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ১টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়। উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়। অর্থাৎ একটি জোয়ার অথবা একটি ভাটার স্থিতিকাল হচ্ছে ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।

যখন ‘জোয়ার-ভাটা’ একইসাথে এভাবে স্থিতিকাল জানতে চাইবে তখন একটি জোয়ার অথবা ভাটার স্থিতিকাল গণনা করবেন। প্রশ্নে ভাষাগত একটু জটিলতা আছে। এখানে মূলত একটি জোয়ার অথবা একটি ভাটার স্থিতিকাল জানতে চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে উত্তর হবে ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

আবার উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান বললে উত্তর হবে ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।

কয়েকটি স্যাম্পল প্রশ্ন দেখুন:

- জোয়ার ভাটার মধ্যকার ব্যবধান প্রায় কত?
উত্তর: ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

- জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটা হয়?
উত্তর: ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

- জোয়ার-ভাটার স্থিতিকাল কত?
উত্তর: ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট।

- পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান কত?
উত্তর: ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।

[বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) বইয়ে ৬ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড দেওয়া আছে যা ভুল। প্রকৃতপক্ষে এটা হবে ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।]
১১,৭৩৬.
রোধ বলতে কী বোঝায়?
  1. পরিবাহীর তাপ উৎপাদন 
  2. পরিবাহীর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি 
  3. পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের বৃদ্ধি
  4. পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হওয়া
ব্যাখ্যা

রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৩৭.
যদি 2 cal তাপ সম্পূর্ণরূপে কাজে রূপান্তরিত হয় তবে কাজের পরিমাণ কত?
  1. ক) 4.2 J
  2. খ) 4.8 J
  3. গ) 8.2 J
  4. ঘ) 8.4 J
ব্যাখ্যা

১ ক্যালরি = ৪.২ জুল।
সুতরা,  ২ ক্যালরি = ৮.৪ জুল।

১১,৭৩৮.
মাটির এসিডিটি (অম্লত্ব) নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত লবণ কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. কপার সালফেট
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট 
  4. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
ব্যাখ্যা

- মাটির অম্লত্ব বা এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়। এই অতিরিক্ত অম্লত্ব প্রশমিত বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য ক্ষারীয় পদার্থের প্রয়োজন হয়। ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3) একটি ক্ষারীয় লবণ (যা চুনাপাথর হিসেবে পরিচিত), এটি মাটির এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে মাটির pH মান বৃদ্ধি করে এবং মাটিকে নিরপেক্ষ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। 

লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন- 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৭৩৯.
ফসজিন গ্যাসের সংকেত কোনটি? 
  1. CH3-CO-CH3
  2. COCI2
  3. CCI3
  4. CH3OH
ব্যাখ্যা

• ফসজিন গ্যাসের রাসায়নিক নাম: কার্বনাইল ক্লোরাইড (Carbonyl Chloride). অর্থাৎ ফসজিন (Phosgene) একটি বিষাক্ত গ্যাস যা সাধারণত রাসায়নিক যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হতো। সঠিক উত্তর: ফসজিন গ্যাসের সংকেত  খ) COCl2

• ফসজিন গ্যাস (Phosgene Gas):
- ফসজিন একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ, যা প্রাথমিকভাবে ক্লোরিন এবং কার্বন মনোক্সাইড থেকে তৈরি হয়।
- এটি রঙহীন, গ্যাসাকৃত এবং শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।
- ফসজিন সাধারণত রাসায়নিক যুদ্ধ বা শিল্পের দুর্ঘটনায় উৎপন্ন হতে পারে।

• রাসায়নিক সংকেত:
- ফসজিনের রাসায়নিক সূত্র হলো COCl2
- এটি একটি ক্লোরিনযুক্ত কার্বোনাইল যৌগ।
- সাধারণ বৈশিষ্ট্য: শ্বাসনালীর দ্বারা প্রবেশ করলে ফুসফুসে ক্ষতি করে এবং বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- শিল্পে এটি মূলত রাসায়নিক সংযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন প্লাস্টিক বা পেস্টিসাইড উৎপাদন।

• অন্যান্য যৌগ:
- CH3-CO-CH3: এটি অ্যাসিটোন।
- CCl3: এটি ট্রাইক্লোরোমিথাইল গ্রুপযুক্ত যৌগ।
- CH3OH: এটি মিথানল।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

১১,৭৪০.
আয়না তৈরির জন্য কাচের পেছনে কোন ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়? 
  1. রূপা
  2. তামা 
  3. সিলিকন 
  4. পারদ 
ব্যাখ্যা

আয়না বা দর্পণ (Mirror): 
- আয়নায় নিয়মিত প্রতিফলনের কারণে স্পষ্ট প্রতিবিম্বের তৈরি হয়। 
- আয়না তৈরি করার জন্য কাচের পেছনে প্রতিফলনের উপযোগী ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- কাচের সামনের পৃষ্ঠ থেকে ৪% আলো প্রতিফলিত হলেও পেছনের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় পুরো আলোই প্রতিফলিত হয় বলে সেটি মূল প্রতিবিম্বটি তৈরি করে।  - টেলিস্কোপ বা অন্য অপটিক্যাল (Optical) যন্ত্রে যখন মূল প্রতিবিম্বটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয় তখন কাচের উপরেই রূপা বা অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দেওয়া হয় যেন একটি ৪% হালকা আরেকটি ৯৬% স্পষ্ট, এ রকম দুটি প্রতিবিম্ব তৈরি না হয়ে একটা ১০০% স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৭৪১.
উদ্ভিদে বোরনের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি? 
  1. ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়
  2. কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায়
  3. উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বোরন (B): 
- এর অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন (Fe): 
- এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৪২.
পত্ররন্ধ্রের কার্যকলাপ (খোলা ও বন্ধ) নিয়ন্ত্রণে কোন খনিজ উপাদান দায়ী?
  1. আয়রন
  2. পটাসিয়াম
  3. মলিবডেনাম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা

• পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে পটাসিয়াম খনিজ উপাদানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পত্ররন্ধ্রের চারপাশে থাকা রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়নের প্রবেশ ও নির্গমনের ফলে কোষের ভেতরে অমোসিস প্রক্রিয়ায় পানি ঢোকে বা বের হয়। যখন রক্ষী কোষে পটাসিয়াম আয়ন প্রবেশ করে, তখন পানি ঢুকে কোষ স্ফীত হয় এবং পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। আবার পটাসিয়াম বের হয়ে গেলে পানি বেরিয়ে কোষ শিথিল হয় ও পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে উদ্ভিদের গ্যাস বিনিময় ও বাষ্পোৎসর্জন নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) পটাসিয়াম।
 
 পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 

• নাইট্রোজেন (N):
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
• ফসফরাস (P):
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান। 
• পটাসিয়াম (K):
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg):
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

• আয়রন (Fe):
- উদ্ভিদের বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn):
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
• তামা (Cu):
- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর তামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 

• বোরন (B):
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
• দস্তা বা জিংক (Zn):
- অ্যামাইনো অ্যাসিড সংশ্লেষণের জন্য দস্তা প্রয়োজন। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বিপাকীয় কার্যে এর প্রয়োজন হয়। 
• মলিবডেনাম (Mo):
- অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক। 
• ক্লোরিন (Cl):
- সুগারবীট এর মূল ও কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৪৩.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে-
  1. ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড
  3. ৭ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  4. ৯ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• সূর্য থেকে পৃথিবী:
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি।

১১,৭৪৪.
নিচের কোনটিকে নীরব ঘাতক বলা হয়? 
  1. N2O
  2. CO
  3. NO
  4. CO2
ব্যাখ্যা
কার্বন মনোক্সাইড (CO): 
- কার্বন মনোক্সাইড মানুষের অজান্তেই খুব সহজেই শ্বাসের সাথে ফুসফুসে চলে যায়। 
- কার্বন মনোক্সাইড সেখানে গিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে একটি জটিল যৌগ তৈরি করে। 
Hb + CO → Hb(CO) 
- যার ফলে অক্সিজেন বহুরূপে কাজ করতে পারে না, শ্বাসকষ্ট হয় এবং হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 
- তাই কার্বন মনোক্সাইডকে নীরব ঘাতক বলা হয়
১১,৭৪৫.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে?
  1. ক) এক্সোস্ফিয়ার
  2. খ) আয়োনোস্ফিয়ার
  3. গ) ট্রপোস্ফিয়ার
  4. ঘ) মেসোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে। 

- গ্রিক শব্দ ট্রপো (Tropo) কথার অর্থ হল পরিবর্তন।
- দৈনন্দিন আবহাওয়ায় আমরা যেরকম বিভিন্ন পরিবর্তন অনুভব করি, এই বায়ুস্তরেও সে ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় ।
- বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তরে অবাধে তাপীয় মিশ্রণ ঘটে বলে, একে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। 
- এ স্তরে ৭৮% নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন এবং ১% আর্গন, জলীয় বাষ্প এবং কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে। 
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে বলে ট্রপোপজ ।
- ট্রপোপজ স্তরে বায়ুর উষ্ণতা একই রকম থাকে বলে একে সমতাপ অঞ্চল বলে। 

সূত্র- NASA Website [লিঙ্ক]
১১,৭৪৬.
একটি PN Junction- এ লিকেজ কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার কারণ-
  1. Minority Carrier
  2. Majority Carrier
  3. Junction Capacitance
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
- PN Junction-এ লিকেজ কারেন্ট প্রবাহিত হওয়ার পেছনে মূলত কার্যকারী হল মাইনরিটি ক্যারিয়ার (Minority Carrier)।

- লিকেজ কারেন্ট হল  যা PN জাংশনে ডায়োডের মাঝে প্রবাহিত হয় যা ডায়োড অফ স্টেটে ঘটে।
- এই মাইনরিটি ক্যারিয়ার লিকেজ কারেন্ট সাধারণত খুব কম কিন্তু তবুও অল্প পরিমাণে কারেন্ট প্রবাহে অবদান রাখতে পারে।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা অন্যান্য কারণগুলি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে মাইনরিটি ক্যারিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে কারেন্টে সামান্য বৃদ্ধি হতে পারে।

অতএব, সঠিক উত্তরটি হল: ক) Minority Carrier 
১১,৭৪৭.
সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার নাম- 
  1. ব্যাপন
  2. নিঃসরণ
  3. পাতন
  4. ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:

- সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার নাম- ব্যাপন

অন্যদিকে,
ব্যাপন: 
- কোন মাধ্যমে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। এই প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ম ঘনমাত্রার দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পরে।

নিঃসরণ:
- সরু ছিদ্রপথে উচ্চচাপের স্থান থেকে কোন গাস নিম্মচাপের স্থানের দিকে সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। যেমন: সিলিন্ডার থেকে গ্যাস সজোরে বেরিয়ে আসার ঘটনা নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে প্রমান করে।

পাতন:
- কোন তরলকে তাপ প্রদানে বাস্পে পরিণত করে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিনত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। অর্থাৎ

             পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরিবাস্পে পরিণত হয়, সেই ঘটনাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। যেমন: কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল ইত্যাদি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

১১,৭৪৮.
সংক্ষিপ্ত পথে চলতে চলতে জাহাজের চালকরা কি অনুরসণ করে? 
  1. ক) সমুদ্রস্রোত    
  2. খ) সূর্য 
  3. গ) দ্রাঘিমা    
  4. ঘ) অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
সমুদ্র এবং উপকূলবর্তী নদীর জলরাশি প্রতিদিনই কোনো একটি সময়ে ঐ জলরাশি ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে এবং কিছুক্ষণ পরে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। জলরাশির এরকম নিয়মিত স্ফীতি বা ফুলে ওঠাকে জোয়ার বা নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দু'বার ভাটা হয়। উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা পর পর দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা। সংক্ষিপ্ত পথে চলতে চলতে জাহাজের চালকরা সমুদ্রস্রোত অনুরসণ করে। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম।
১১,৭৪৯.
কোন বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. স্থানীয় বায়ু
  2. নিয়ত বায়ু
  3. অনিয়মিত বায়ু
  4. সাময়িক বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৫০.
ব্যাকটেরিয়ার অযৌন জনন প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. বাইনারি ফিশন
  2. বাইনারি ফিউশন
  3. ফিশন
  4. ফিউশন
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়ার জনন : ব্যাকটেরিয়া দুটি প্রক্রিয়ায় জনন সম্পন্ন করে। যেমন- অযৌন জনন এবং যৌন জনন।
অযৌন জনন: ব্যাকটেরিয়া সাধারণত অযৌন প্রক্রিয়ায় দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে। I
দ্বিভাজন পদ্ধতি দ্বিভাজন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির স্বাভাবিক, অত্যন্ত সরল এবং দ্রুততম জনন প্রক্রিয়া। দ্বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ব্যাকটেরিয়াম কোষ বিভক্ত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হয়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১১,৭৫১.
চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের অনুপাত প্রায় কত?
  1. 0.55
  2. 0.70
  3. 0.85
  4. 1.00
ব্যাখ্যা

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের অনুপাত প্রায় 0.85, অর্থাৎ চৌম্বক দৈর্ঘ্য জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চুম্বক ও চুম্বকত্ব:
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্মবিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং মুক্তভাবে ঝুলালে উত্তর-দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে, তাকে চুম্বক বলে।
- চুম্বক পদার্থের ভৌত ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না।
- তবে তাপমাত্রা চুম্বকত্বের উপর প্রভাব ফেলে।

• চৌম্বক মেরু:
- চুম্বকের যে দুই প্রান্তে আকর্ষণ বল সর্বাধিক, সেগুলোকে চৌম্বক মেরু বলে।
- উত্তর মেরু (North Pole) এবং দক্ষিণ মেরু (South Pole) থাকে।

• চৌম্বক অক্ষ:
- চুম্বকের দুই মেরুকে সংযোগকারী সরলরেখাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য:
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বই চৌম্বক দৈর্ঘ্য।

• জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য:
- দণ্ডচুম্বকের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্বকে জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য বলে।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের সম্পর্ক:
- চৌম্বক দৈর্ঘ্য / জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য ≈ 0.85 অর্থাৎ চৌম্বক দৈর্ঘ্য জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চৌম্বক মধ্যতল:
- মুক্তভাবে ঝুলন্ত চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে।

• ভৌগোলিক মধ্যতল:
- কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর-দক্ষিণ বরাবর কল্পিত উল্লম্ব তলকে ভৌগোলিক মধ্যতল বলে।
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যে কৌণিক ব্যবধানকে বিচ্যুতি বলে।

• চৌম্বক দ্বিমেরু:
- প্রতিটি অণুচুম্বক দুই মেরুবিশিষ্ট, তাই চুম্বককে চৌম্বক দ্বিমেরু বলা যায়।
- একটি দণ্ডচুম্বকও চৌম্বক দ্বিমেরু।

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক:
- কোনো একটি মেরুশক্তি (m) ও চৌম্বক দৈর্ঘ্য (2l)-এর গুণফলই দ্বিমেরু ভ্রামক।
- M = m(2l).
- একক = অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)।

• চৌম্বক ফ্লাক্স বা আবেশ:
- একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাই চৌম্বক আবেশ।
- একক = ওয়েবার/মিটার2 বা টেসলা।

• চৌম্বক ক্ষেত্র:
- চুম্বক বা বিদ্যুৎবাহী তারের চারপাশের সেই অঞ্চল, যেখানে চৌম্বক প্রভাব অনুভূত হয়, তাকে চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।

• চুম্বকায়ন:
- প্রতি একক আয়তনে চৌম্বক ভ্রামককে চুম্বকায়ন বলে।
- I = M / V.
- একক = অ্যাম্পিয়ার/মিটার।

• চৌম্বক প্রাবল্য:
- চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতই চৌম্বক প্রাবল্য।
- একক = অ্যাম্পিয়ার/মিটার।

• চৌম্বক প্রবেশ্যতা:
- μ = B / H.
- শূন্যস্থানে μ₀ = B₀ / H.
- একক = টেসলা-মিটার/অ্যাম্পিয়ার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৫২.
পরমাণুতে ইলেকট্রন সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী হলে তাকে কী বলে? 
  1. পজিট্রন
  2. নিউট্রন
  3. ধনাত্মক আয়ন
  4. ঋণাত্মক আয়ন
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষণ: 
- কোনো অম্ল, ক্ষারক বা লবণ জাতীয় পদার্থের দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর দ্রব পদার্থের প্রত্যেকটি অণু দুটি তড়িতাহিত অংশে বিভক্ত হয় যায়। 
অর্থাৎ, “কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে”। 
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবনের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- সকল অ্যাসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, অ্যাসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। 
যেমন- H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি। 

- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়। 
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকে যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশী ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে তবে তাকে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে। 
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৫৩.
কাচের বা গোলীয় পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. স্ফেরোমিটার
  2. স্ক্রু গজ
  3. স্লাইড ক্যালিপার্স
  4. ভার্নিয়ার স্কেল
ব্যাখ্যা

• কাচ বা গোলাকার পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপার জন্য স্ফেরোমিটার ব্যবহার করা হয়। এটি একটি বিশেষ যন্ত্র যা সাধারণত তিনটি পা এবং একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু দিয়ে তৈরি। কাচের লেন্স বা গোলাকার পৃষ্ঠের বক্রতার ব্যাসার্ধ নির্ধারণে এর ব্যবহার সবচেয়ে সুবিধাজনক। যন্ত্রটি পৃষ্ঠের ওপর স্থাপন করে কেন্দ্রীয় স্ক্রুতে সামান্য চাপ দিলে পায়ের উচ্চতা পরিবর্তনের মাধ্যমে বক্রতার মান বের করা যায়। এরপর স্ক্রুতে থাকা স্কেল থেকে পৃষ্ঠের ব্যাসার্ধ গণনা করা হয়। স্ফেরোমিটার লেন্স, আয়না বা অন্যান্য বক্র পৃষ্ঠের সঠিক ব্যাসার্ধ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় এবং প্রায়শই অপটিক্যাল এবং যান্ত্রিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয়। অন্যান্য যন্ত্র যেমন স্ক্রু গজ, স্লাইড ক্যালিপার্স বা ভার্নিয়ার স্কেল সাধারণ মাত্রা মাপার জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বক্রতার ব্যাসার্ধের জন্য নয়।

- সঠিক উত্তর: ক) স্ফেরোমিটার।
 
স্ফেরোমিটার (Spherometer): 
- স্ফেরোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে কাচের বা অন্যান্য পাতলা পাতের পুরুত্ব এবং গোলীয় তলের বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা হয়। 
- এ যন্ত্রের সাহায্যে গোলীয় তলের (spherical surface) বক্রতার ব্যাসার্ধ মাপা যায় বলে এর নাম হয়েছে স্ফেরোমিটার। 
- স্ফেরোমিটার একটি কেন্দ্রীয় স্ক্রু এবং তিনটি সমান দৈর্ঘ্যের পা থাকে।
- এটি তলের উচ্চতা (h) পরিমাপ করে এবং বক্রতার ব্যাসার্ধ (R) নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। 
- বক্রতার ব্যাসার্ধ R হলে, 
R = {(d2/6h) + (h/2)}
​যেখানে, d হলো স্ফেরোমিটারের যেকোনো দুই পায়ের মধ্যবর্তী গড় দূরত্ব এবং h হলো কেন্দ্রীয় পিনের উচ্চতা।

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়।  
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে। এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

১১,৭৫৪.
টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য টয়লেট ক্লিনার হিসেবে কোন ক্ষারধর্মীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ফেরাস হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক (Base): 
- সাধারণত ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে। 
যেমন- ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), কপার অক্সাইড (CuO), ফেরাস অক্সাইড (FeO), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) ইত্যাদি। 
- এসিডের সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- তাই বলা হয় এসিড ক্ষারককে আর ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 
• CaO + 2HCl →  CaCl2 + H2
• 2KOH + H2SO4 → K2SO4 + 2H2
• NH4OH + HCl → NH4Cl + H2

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে- 
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক। 
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭৫৫.
ভাইরাসের প্রোটিন আবরণকে কী বলে?
  1. প্লাসিড
  2. ক্যাপসিড
  3. সেন্ট্রোমিয়ার
  4. ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের বিভিন্ন গঠন হয়ে থাকে। সাধারণভাবে ভাইরাসের গঠন নিম্নরূপ -
প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথাঃ
১) প্রোটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড, ও,
২) নিউক্লিক এসিড
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১১,৭৫৬.
পাহাড়ের চূড়ায় কোনটির প্রাচুর্য থাকে?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) ওজোন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলে-
- নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%,
- অক্সিজেন - ২০.৭১%,
- আর্গন - ০.৮০%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড - ০.০৩% থাকে।
পাহাড়ের চূড়ার বাতাসে সামান্য হেরফের থাকলেও নাইট্রোজেনের প্রাধান্য থাকে।
১১,৭৫৭.
রক্তের হিমোগ্লোবিন এক প্রকার - 
  1. আমিষ
  2. প্লাটিলেট
  3. চর্বি
  4. এন্টিজেন
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭৫৮.
মহাকর্ষ বল কী? 
  1. বস্তুর ভরের পরিমাণ
  2. পৃথিবীর নিজস্ব শক্তি
  3. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা
  4. পৃথিবী এবং বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- মানুষ লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠতে পারে না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে কারণ পৃথিবী তাদেরকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তুকণা পরস্পরকে আকর্ষণ করে, এই আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে। এই ঘটনাকে (Phenomenon) বলে মহাকর্ষ। 
- পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১১,৭৫৯.
স্নায়ুকোষের কত শতাংশ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে?
  1. এক-তৃতীয়াংশ
  2. এক-পঞ্চমাংশ
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. এক-দ্বিতীয়াংশ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭৬০.
প্রথম ক্লোন মানব শিশুর নাম কী?
  1. সিসি
  2. ইভ
  3. টেট্রা
  4. প্রমিথিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রথম ক্লোন মানব শিশুটির নাম ইভ (কন্যা সন্তান)।
- এই ক্লোন শিশুর জন্ম হয়: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

• ক্লোনিং:

- কোন জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ার হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।
- ক্লোনিং এর জনক: ড. ইয়ান উইলমুট।
- ড. ইয়ান উইলমুট ক্লোন পদ্ধতিতে প্রথম কোন প্রাণী জন্ম দেন ভেড়া।
- সর্বপ্রথম ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট ভেড়ার নাম ডলি।
- ডলির জন্ম হয় ৫ জুলাই, ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায়। (যুক্তরাজ্যে)।
- বিখ্যাত গায়িকা ডলি পারটনের নামানুসারে ক্লোন মেষ শাবকের নাম রাখা হয় ডলি।
- 'ডলি' আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
- 'ডলি' মারা যায় ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন বিড়ালের নাম সিসি (কার্বন কপি)।
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন বানর শাবকের নাম টেট্রা।
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন ঘোড়ার নাম প্রমিথিয়া।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. The Guardian (ডিসেম্বর ২৭, ২০০২) and National Library of Medicine।
১১,৭৬১.
ট্রিপসিন এনজাইম _____ পরিপাকে সহায়তা করে।
  1. আমিষ
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. চর্বি
  4. লিপিড
ব্যাখ্যা
- রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহাজ্য করে ট্রিপসিন এনজাইম।
- এটি শুধু আমিষের উপর কাজ করে।
- গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে।
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ যা গ্যাস্ট্রিক জুস বা প্যাক রস নামে পরিচিত।
- লালারসে টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১,৭৬২.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. Physiology
  2. Morphology
  3. Cytology
  4. Genetics
ব্যাখ্যা
অঙ্গসংস্থান (Morphology) : এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাহ্যিক গঠনকে
বহিঃঅঙ্গসংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান বলে। মানুষের দু’টি পা, দু’টি হাত, দু’টি চোখ,
একটি মাথা, একটি মুখ, একটি নাক, গড়ন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের বর্ণনাহলো বহিঃঅঙ্গসংস্থান।
দেহাভ্যন্তরে হাড়, সন্ধি, পেশির বিন্যাস, বিভিন্ন তন্ত্র ইত্যাদি হলো অন্তঃঅঙ্গসংস্থান।

শারীরবিদ্যা (Physiology) : জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ
এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

কোষবিদ্যা (Cytology) : জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও
বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

বংশগতিবিদ্যা (Genetics) : মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায়
আলোচনা করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১১,৭৬৩.
সাধারণভাবে, মানুষের দেহে মোট কতটি হাড় থাকে?
  1. ২১৬
  2. ২০৬
  3. ১২৬
  4. ২৩৬
ব্যাখ্যা

মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: 
- একজন মানুষের দেহে ২০৬ টুকরা হাড় থাকে। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) অক্ষীয় কঙ্কাল, 
(২) উপানীয় কঙ্কাল। 

- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঞ্চালিক গঠনকে করোটি বলে। করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- সর্বমোট ১৪টি অস্থি নিয়ে মুখমণ্ডল গঠিত। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৬৪.
এক্সরে (x-ray) আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৮৯৮ সালে
  2. ১৮৯৩ সালে
  3. ১৮৯৫ সালে
  4. ১৮৯০
ব্যাখ্যা
- ক্যাথোড রশ্মি হচ্ছে এক রাশি ইলেকট্রন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।
- এক্সরের একক রন্টজেন।
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭৬৫.
নিউক্লিয়াসের সংগঠনের ভিত্তিতে কোষ কত প্রকার?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) এক
  4. ঘ) দুই
  5. ঙ) আট
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর ভিত্তি করে কোষ দুই প্রকার। আদিকোষে নিউক্লিয়াস সুগঠিত থাকে না এবং প্রকৃত কোষে নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১১,৭৬৬.
মানুষের লোহিত রক্ত কণিকা কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লীহাতে
  2. অস্থিমজ্জায়
  3. হৃদপিন্ডে
  4. যকৃতে
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা

• অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে।
• এদের গড় আয়ু ১২০ দিন।
• হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় রক্ত লাল দেখায়।
• এরা প্রধানত অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমান কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে।
• রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে রক্তশূন্যতা বা Anaemia বলে।
• ভিটামিন বি-১২, ফলিক এসিড, আমিষ বা লৌহ স্বল্পতা হলে Anaemia হয়।
• লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।



উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১১,৭৬৭.
রক্তের তরল হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থটির নাম কী?
  1. ক) রক্তরস
  2. খ) রক্তকণিকা
  3. গ) অ্যান্টিটক্সিন
  4. ঘ) যোজক কলা
ব্যাখ্যা
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা।
- এর অন্ত:কোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত।
- এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে।
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- রক্তরে দুটি উপাদান (১) রক্তরস এবং (২) রক্তকণিকা।
- সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা।
- রক্তকণিকা প্রধানত তিন রকম, যথা:- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।
- রক্তের অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত।
- এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে।
 - মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।  
১১,৭৬৮.
প্রােটিন তৈরি হয়-
  1. ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
  2. ফলিক অ্যাসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত। আমিষের একক হল অ্যামিনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামিনো এসিডে পরিণত হয়। মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামিনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড।

- সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড।

উৎসঃ ব্রিটানিকা, বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
১১,৭৬৯.
কবে থেকে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করা শুরু হয়?
  1. ক) ১৯ শতকের শেষের দিকে
  2. খ) ১৯ শতকের প্রথমার্ধে
  3. গ) ১৮ শতকের শুরুতে
  4. ঘ) ১৮ শতকের শেষার্ধে
  5. ঙ) ১৯ শতকের শুরুতে
ব্যাখ্যা
১৯ শতকের শেষের দিকে আঙুলের ছাপ ব্যবহার শুরু হয়
উৎসঃতথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি- মোঃ মজিবুর রহমান।
১১,৭৭০.
আমাদের দেহের গ্রন্থিগুলো তৈরি হয় কোন ধরণের টিস্যুর সাহায্যে?
  1. ক) রিপ্রোডাক্টিভ টিস্যু
  2. খ) মাসক্যুলার টিস্যু
  3. গ) এপিথেলিয়াল টিস্যু
  4. ঘ) কানেক্টিভ টিস্যু
ব্যাখ্যা
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভিতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু বা এপিথিলিয়াল টিস্যু বলে৷
আমাদের ত্বকের বাইরের আবরণ মুখগহ্বরের ভিতরের আবরণ ইত্যাদি আবরণী টিস্যু নিয়ে গঠিত৷ দেহের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলোও আবরণী টিস্যু দিয়ে গঠিত হয়৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি
১১,৭৭১.
দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম -
  1. ম্যানোমিটার
  2. ল্যাকটোমিটার
  3. পাইরোমিটার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরিমাপক যন্ত্র:
- দুধের ঘনত্ব পরিমাপের যন্ত্রের নাম ল্যাকটোমিটার।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ের যন্ত্র ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার যন্ত্র রিখটার স্কেল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ব্যারোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার।
- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র পাইরোমিটার।
- তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র থার্মোমিটার।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১১,৭৭২.
বিটা রশ্মি বা বিটা কণার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) এটি আসলে ইলেক্ট্রন
  2. খ) ইলেকট্রিক এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না
  3. গ) হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের তুলনায় ইলেকট্রন খুবই ক্ষুদ্র
  4. ঘ) কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়ামের পাত দিয়ে একটি সাধারণ বিটা কণাকে থামানাে সম্ভব
ব্যাখ্যা

বিটা রশ্মি বা বিটা কণা আসলে ইলেকট্রন। বিটার কণা যেহেতু ইলেকট্রন তাই তার চার্জ নেগেটিভ (ঋণাত্মক আধান) এবং সে কারণে সেটি ইলেকট্রিক এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায়। এটি যখন কোনাে পদার্থের ভেতর দিয়ে যায় তখন সেই পদার্থের অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষের কারণে সেগুলােকে আয়নিতকরতে পারে।আলফা কণার হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের তুলনায় ইলেকট্রন খুবই ক্ষুদ্র তাই ইলেকট্রনের ভেদনক্ষমতা অনেক বেশি এবং সেটি পদার্থের অনেক ভেতর ঢুকে যেতে পারে। কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়ামের পাত দিয়ে একটি সাধারণ বিটা কণাকে থামানাে সম্ভব।
উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান

১১,৭৭৩.
নিচের কোনটি কোষের গুণাবলি রক্ষা করে?
  1. খাদ্যপ্রাণ
  2. আমিষ
  3. স্নেহ
  4. পানি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, এ রাসায়নিক উপাদানগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। 
- কেবলমাত্র একটি উপাদান দিয়ে গঠিত-এমন খাদ্যবস্তুর সংখ্যা খুবই কম। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১. আমিষ বা প্রোটিন: এটি ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠন করে। 
২. শর্করা বা শ্বেতসার বা কার্বোহাইড্রেট: এটি শক্তি উৎপাদন করে। 
৩. স্নেহ বা চর্বি বা লিপিড: এটি তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া অন্যান্য তিন প্রকার উপাদান বিশেষ প্রয়োজন। 
যথা- 
১. খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: এটি রোগ প্রতিরোধ, শক্তি বৃদ্ধি, বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
২. খনিজ লবণ: এটি বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। 
৩. পানি: পানি দেহে পানির সমতা রক্ষা করে, কোষের গুণাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ অঙ্গাণুসমূহকে ধারণ ও তাপের সমতা রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১১,৭৭৪.
কুকুরের দেহকোষে ক্রোমোজোমে সংখ্যা-
  1. ক) ১২ জোড়া
  2. খ) ২৩ জোড়া
  3. গ) ৩০ জোড়া
  4. ঘ) ৩৯ জোড়া
ব্যাখ্যা
All dogs have 78 chromosomes, or 39 pairs of chromosomes (humans have 23 pairs), and one member of each pair comes from each parent. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১১,৭৭৫.
মল্ট থেকে কোন এনজাইম নিঃসৃত হয়?
  1. জাইমেস
  2. ডায়াস্টেস
  3. মলটেস
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন:
ঈস্ট: 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈষ্টের কোষে জাইমেস (zymase), ইনভারটেস (invertase), মলটেস (maltase) ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট: 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন- ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৭৬.
Al এ উপস্থিত নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 12
  2. 13
  3. 14
  4. 11
ব্যাখ্যা

• অ্যালুমিনিয়ামে উপস্থিত নিউট্রন সংখ্যা 14টি। 

- অ্যালুমিনিয়ামের রাসায়নিক সংকেত Al এবং এটি এক ধাতব মৌল।
- এর পারমাণবিক সংখ্যা 13, যার অর্থ নিউক্লিয়াসে 13টি প্রোটন থাকে।
- এর পারমানবিক ভর 27। 
- নিউট্রন সংখ্যা বাড়লে নিউক্লিয়াস স্থিতিশীল থাকে।
- অ্যালুমিনিয়াম একমাত্র প্রাকৃতিক আইসোটোপ 27Al নিয়ে গঠিত, যার নিউট্রন সংখ্যা 14 হওয়াই এটির স্থিতিশীলতার মূল কারণ।
- যদি নিউট্রন সংখ্যা বেশি বা কম হতো, তবে মৌলটি তেজস্ক্রিয় (Radioactive) হয়ে যেতে পারত।

নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা 
= 27 - 13  
= 14 

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৭৭৭.
যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, তাকে ______ বলে৷
  1. ক) হিমাংক
  2. খ) গলনাংক
  3. গ) স্ফুটনাংক
  4. ঘ) তরলাংক
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, সে তাপমাত্রাকে বলে গলনাংক। গলনাংক এবং হিমাংক পরিমাণগত ভাবে একই, তবে দুটো বিপরীত প্রক্রিয়ার ফসল।
যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয় তাকে ঐ পদার্থের স্ফুটনাংক বলে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
১১,৭৭৮.
কোন রাশি পরিমাপের জন্য অন্য রাশির উপর নির্ভর করতে হয়?
  1. বেগ
  2. ভর
  3. দৈর্ঘ্য
  4. সময়
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়। 
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেসব রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

লব্ধ বা যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ, যেগুলো মৌলিক রাশি থেকে গঠিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৭৯.
ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ নয় কোনটি?
  1. যক্ষ্মা
  2. আমাশয়
  3. ডেঙ্গু
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion (little rod) থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি।
- ব্যাকটেরিয়া (একবচনে ব্যাকটেরিয়াম) এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- অ্যান্টনি ভ্যান লীউয়েনহুককে ব্যাকটেরিওলজি ও প্রোটোজুওলজির জনক বলা হয়ে থাকে।
- জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এসব ক্ষুদ্রজীবদের ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা এবং ব্যাকটেরিইয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্টিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব, এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে।

- মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া গঠিত কিছু রোগ হলো:
• যক্ষ্মা
• নিউমোনিয়া
• কলেরা
• টাইফয়েড
• কলেরা
• ডিপথেরিয়া
• আমাশয়
• ধনুষ্টংকার
• হুপিংকাশি ইত্যাদি।

- ডেঙ্গু ভাইরাস গঠিত রোগ।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১১,৭৮০.
নিউক্লিয়াসের সংযোজনকে বলা হয় -
  1. ক) ফিশন
  2. খ) ফিউশন
  3. গ) মেসন
  4. ঘ) নিউট্রন
ব্যাখ্যা
- দুটি নিউক্লিয়াসের সংযোগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়া কে ফিউশন বিক্রিয়া বলে। 
- অন্যদিকে যে নিউক্লিয় বিক্রিয়া একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে।

- মেসন হল মৌলের ক্ষুদ্রতম কণিকা।
- নিউট্রন মৌলের স্থায়ী মৌলিক কণিকা।
- নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ভিত্তি।
- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
১১,৭৮১.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে একটি ধাতুর উপর অন্য একটি ধাতুর প্রলেপ দেয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়? 
  1. পেইন্টিং 
  2. ভলকানাইজিং 
  3. গ্যালভানাইজিং 
  4. ইলেকট্রোপ্লেটিং 
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ভলকানাইজিং: 
- রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে ভলকানাইজিং বলে। 

পেইন্টিং: 
- ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করার জন্য রং দেয়াকে পেইন্টিং বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,৭৮২.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের উদাহরণ নয়?
  1. Lycopodium
  2. Pteris
  3. Equisetum
  4. Cycas
ব্যাখ্যা
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের উদাহরণ নয়- Cycas (সাইকাস), এটি হলো জিমনোস্পার্ম উদ্ভিদ। 

টেরিডোফাইটা: 

- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- Pteris, Psilotum, Lycopodium, Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৮৩.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) সুপারি
  2. খ) কাঁঠাল
  3. গ) জাম
  4. ঘ) পাইনাস
ব্যাখ্যা

সাইকাস এবং পাইনাস নগ্নবীজী উদ্ভিদ।
এসব উদ্ভিদের ফুলে ডিম্বাশয় না থাকায় ডিম্বকগুলো নগ্ন থাকে। এসব ডিম্বক পরিণত হয়ে বীজ উৎপন্ন করে।
আবৃতবীজী উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদের বীজ ফলের ভেতর আবৃত অবস্থায় থাকে, তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে। যেমন: আম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি।

সূত্র: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান

১১,৭৮৪.
What is the total resistance when three resistors of 7Ω, 8Ω, and 9Ω are connected in series?
  1. 14Ω
  2. 23Ω
  3. 24Ω
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
Question: What is the total resistance when three resistors of 7Ω, 8Ω, and 9Ω are connected in series?

Solution:
দেওয়া আছে,
রোধ, R1 = 7Ω,
রোধ, R2 = 8Ω এবং
রোধ, R3 = 9Ω

যেহেতু রোধ তিনটি শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত সুতরাং তুল্য রোধ, R = R1 + R2 + R3 
= 7Ω + 8Ω + 9Ω 
= 24Ω 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৮৫.
পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয়- 
  1. Ecology
  2. Meteorology
  3. Toxicology
  4. Horticulture
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলে Ecology

অন্যদিকে, 
- আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology. 
- বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Toxicology. 
- উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় Horticulture. 

উৎস: ব্রিটানিকা।
১১,৭৮৬.
মানবদেহের মেরুদণ্ডে হাড়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২৯টি
  2. খ) ২৫টি
  3. গ) ৬০টি
  4. ঘ) ২৬টি
ব্যাখ্যা

একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ২৬টি।
আর নবজাতকের শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ৩৩টি।
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে থাকেঃ
- ৭টি গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা
- ১২টি বক্ষদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি কটিদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি হাড় একীভূত হয়ে একটি শ্রোণিদেশীয় কশেরুকা
- ৪টি হাড় একীভূত হয়ে একটি পুচ্ছদেশীয় কশেরুকা 
- এই সর্বমোট ২৬টি কশেরুকা।
শৈশাবস্থায় শ্রোণিদেশীয় ও পুচ্ছদেশীয় হাড়গুলো একীভূত না হওয়ায় তখন মেরুদণ্ডে মোট অস্থির সংখ্যা থাকে ৩৩টি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১১,৭৮৭.
ইলেকট্রিক ঘণ্টার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর কোন শক্তিতে ঘটে?
  1. শব্দশক্তি
  2. আলোক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা

• ইলেকট্রিক ঘণ্টার ক্ষেত্রে মূলত বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে যন্ত্রটি কাজ করে। বৈদ্যুতিক শক্তি সরাসরি ঘণ্টার মেকানিজমকে ঘূর্ণন করায়, যা শব্দ উৎপাদনের মাধ্যমে আমাদের সময় জানানোর কাজ করে। অর্থাৎ, ঘণ্টা বাজানোর সময় যে “টিক-টক” শব্দ শোনা যায়, তা বৈদ্যুতিক শক্তির পরিবর্তন হয়ে তৈরি হয় শব্দশক্তিতে। এখানে কোন আলোক শক্তি বা রাসায়নিক শক্তি সরাসরি যুক্ত থাকে না, কারণ এটি আলো বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে না। তাপ শক্তি কিছুটা নিঃসৃত হতে পারে যন্ত্রের চলার সময়, কিন্তু ঘণ্টার মূল কাজের জন্য তা প্রাথমিক শক্তি নয়। সুতরাং ইলেকট্রিক ঘণ্টায় বিদ্যুৎ শক্তি রূপান্তরিত হয় শব্দশক্তিতে।

• বৈদ্যুতিক ঘণ্টা: 
- বৈদ্যুতিক ঘণ্টা (Electric Bell) হচ্ছে এমন একটি যন্ত্র, যা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

• বৈদ্যুতিক ঘণ্টার কার্যপ্রণালী:
- বৈদ্যুতিক সংকেত প্রবাহিত হলে ইলেক্ট্রোম্যাগনেট সক্রিয় হয়। 
- ইলেক্ট্রোম্যাগনেট একটি হাতুড়িকে আকর্ষণ করে। 
- হাতুড়ি ঘণ্টার উপর আঘাত করে শব্দ সৃষ্টি করে। 
- স্প্রিংয়ের সাহায্যে হাতুড়ি ফিরে আসে এবং প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্ত হয়। 

• শক্তি রূপান্তরের ধারা:
বিদ্যুৎ শক্তি → চৌম্বক শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি → শব্দ শক্তি

তথ্যসূত্র:
- University of Cambridge. (2020). GCSE Physics: Electromagnetic Devices.

১১,৭৮৮.
E = mc2 সূত্রে c দ্বারা কি বুঝায়?
  1. ইলেক্ট্রন বেগ
  2. আলোর বেগ
  3. আপেক্ষিক বেগ
  4. চার্জের গতি
ব্যাখ্যা
E = mc2
এখানে,
E (energy) = শক্তি
M (mass) = ভর
C (Light-velocity) = আলোর বেগ = 3×108 (মি./সে.)
আইনস্টাইনের বিখ্যাত E = mc2 সূত্র দ্বারা, শক্তি ও ভর যে অভিন্নতা নির্দেশ করে।
এই সূত্র অনুসারে m ভরের কোন বস্তুতে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ ঐ ভরের সাথে আলোর বেগ (c) এর বর্গের গুনফল এর সমান।
১১,৭৮৯.
মহাকর্ষ বলের বাহক কণা কোনটি?
  1. গ্রাভিটন
  2. Z বোসন
  3. ফোটন
  4. গ্লুঅন
ব্যাখ্যা
• মহাকর্ষ বলের বাহক কণা হলো গ্রাভিটন। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বলের জন্য আলাদা আলাদা বাহক কণা রয়েছে, যেমন আলো বা তড়িৎচুম্বকীয় বলের বাহক কণা হলো ফোটন। তবে মহাকর্ষ বলের ক্ষেত্রেও একটি কণা কল্পনা করা হয়েছে, যাকে গ্রাভিটন বলা হয়। এটি একটি কাল্পনিক, বিমাত্রিক কণা, যা মহাকর্ষীয় শক্তি পরিবহনের কাজ করে। যদিও গ্রাভিটন এখনও সরাসরি আবিষ্কার হয়নি, তবুও এটি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে মহাকর্ষের বাহক কণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) গ্রাভিটন।


মৌলিক বল:

- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।

- এই মৌলিক বলগুলো হলো-
১। মহাকর্ষ বল,
২। তাড়িতচৌম্বক বল,
৩। সবল নিউক্লিয় বল এবং
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বল।
- মহাকর্ষ বলের বাহক কণা- গ্রাভিটন।

অন্যদিকে,
- তাড়িতচৌম্বক বলের বাহক কণা- ফোটন।
- সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- গ্লুঅন।
- দুর্বল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা- W এবং Z বোসন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
১১,৭৯০.
পটাশিয়ামবাহী সার কোনটি?
  1. ক) ইউরিয়া
  2. খ) টিএসপি
  3. গ) মিউরিয়েট অব পটাশ
  4. ঘ) ডিএপি
ব্যাখ্যা
মিউরিয়েট অব পটাশ হচ্ছে পটাশিয়ামবাহী সার। 

- মিউরিয়েট অব পটাশ  এক ধরণের রাসায়নিক সার। কৃষিকাজে ব্যবহারে পটাশিয়াম ক্লোরাইডকে প্রায়ই মিউরিয়েট অব পটাশ বলা হয়।
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCl) একটি শোধিত লাল বা ধূসর লাল ঘনক কেলাসিত যৌগ, যা দেখতে খাবার লবণের মতো।
- ‘মিউরিয়েট’ শব্দটির উৎপত্তি মিউরিয়েটিক এসিড থেকে, যা হাইড্রোক্লোরিক এসিডের একটি সাধারণ নাম।
- প্রক্রিয়াজাত পটাশিয়ামের ৯০ শতাংশেরও অধিক পরিমাণ সার হিসেবে ব্যবহূত হয় এবং বিশ্বব্যাপী পটাশিয়াম লবণের অন্তত ৭৮ শতাংশ মিউরিয়েট অব পটাশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- এ যৌগটিতে K2O (পটাশিয়াম অক্সাইড)-এর পরিমাণ ৪৮ থেকে ৭৮ শতাংশ (অর্থাৎ ৩৯ থেকে ৬১ শতাংশ পটাশ) এবং ক্লোরিনের পরিমাণ প্রায় ৪৭ শতাংশ।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১১,৭৯১.
হ্যালোজেন সমূহ পর্যায় সারণীতে কোন গ্রুপে অবস্থিত? 
  1. ক) গ্রুপ ১ 
  2. খ) গ্রুপ ২ 
  3. গ) গ্রুপ ১৭
  4. ঘ) গ্রুপ ১৮ 
ব্যাখ্যা
হ্যালোজন অর্থ সামুদ্রিক লবণ উৎপাদনকারী। এদের অবস্থান গ্রুপ ১৭ তে। 
- গ্রুপ ১৮ তে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ অবস্থান করে।
- গ্রুপ ১ কে বলা হয় ক্ষার ধাতু।
- গ্রুপ ২ কে বলা হয় মৃত ক্ষার ধাতু। 
১১,৭৯২.
মানুষের চুল ও নখে কোন ধরণের প্রোটিন থাকে?
  1. ক) ফাইব্রেয়ন
  2. খ) গ্লোবিউলিন
  3. গ) কেরাটিন
  4. ঘ) অ্যাকটিন
ব্যাখ্যা
- মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন নামক প্রোটিন থাকে।
- রেশম মূলত ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন দ্বারা তৈরি।
- জীবন্ত মেষ থেকে লোম সরিয়ে যে পশম তৈরি করা হয়, তাকে ফ্লিস উল (Fleece Wool) বলে।
- মৃত বা জবাই করা মেষ থেকে যে পশম তৈরি করা হয়, পুল্ড উল (Pulled Wool) বলে।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,৭৯৩.
চোখের কোন অংশে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়?
  1. লেন্স
  2. কর্নিয়া 
  3. রেটিনা
  4. ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
ব্যাখ্যা

ফোবিয়া সেন্ট্রালিস (Fovea centralis):
- অন্ধবিন্দুর কাছাকাছি রেটিনার একটি অংশে প্রচুর কোণ কোষ দেখা যায়, রড কোষ থাকে না।
- এ অংশকে হলুদ বিন্দু (yellow spot) বা ফোবিয়া সেন্ট্রালিস বলে।
কাজ: এখানে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

- লেন্স:
- পিউপিলের পিছনে অবস্থিত ও সিলিয়ারী বডির সাথে সাসপেনসরি লিগামেন্টযুক্ত হয়ে ঝুলে থাকা একটি স্বচ্ছ স্থিতিস্থাপক ও দ্বিউত্তল চাকতির মতো অংশকে লেন্স বলে।
লেন্স (Lens) এর কাজ: লেন্সের মাধ্যমে বস্তু থেকে আগত আলোক রশ্মি রেটিনার নির্দিষ্ট অংশে প্রতিফলিত হয়।

কর্নিয়া (Cornea):
- স্ক্লেরা আবরণীর সম্মুখ ভাগের স্বচ্ছ অংশের নাম কর্নিয়া।
কাজ: কর্নিয়ার মাধ্যমে চোখের ভেতরে আলো প্রবেশ করে।

 রেটিনা (Retina):
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা।
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী।
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে।
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত।
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ।
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী।
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী।
কাজ: রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৯৪.
পারমাণবিক চুল্লিতে 'মডারেটরের' প্রাথমিক কাজ হলো:
  1. অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ এবং চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ
  2. চুল্লির কেন্দ্রে উৎপন্ন তাপ স্থানান্তর করে শীতল করা
  3. দ্রুতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলোকে ধীরগতি করে ফিশনের সম্ভাবনা বাড়ানো
  4. ক্ষতিকারক গামা বিকিরণ থেকে সুরক্ষা প্রদান
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন প্রক্রিয়ার সময় অত্যন্ত উচ্চ গতিসম্পন্ন বা উচ্চ শক্তির নিউট্রন উৎপন্ন হয়। কিন্তু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে নতুন ফিশন শুরু করার জন্য ধীরগতি সম্পন্ন বা তাপীয় নিউট্রন অনেক বেশি কার্যকর। মডারেটরের প্রধান কাজ হলো ইলাস্টিক কলিশন বা স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের মাধ্যমে নিউট্রনের গতি কমিয়ে সেগুলোকে ফিশন উপযোগী করা, যাতে চেইন রিঅ্যাকশন বজায় থাকে। 

নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর: 
- শৃঙ্খল বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায় এবং এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে।  

- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়। 
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরের মডারেটর (Moderator) সম্বন্ধে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো- 
মডারেটর (Moderator): 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181 MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং গ্রাফাইট। মডারেটর হিসেবে সাধারণত ভারী পানি ব্যবহার করা হয়।
- নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিশক্তিসম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে মন্দীভূত করে মডারেটর এবং মন্দীভূত নিউট্রনগুলি আবার নিউক্লীয় বিক্রিয়া ঘটায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৯৫.
নিচের কোনটির অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না?
  1. ক) আয়রন
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা

পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণঃ
নাইট্রোজেন (N) এর অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই পাতা হলুদ হয়। এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে। কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন হ্রাস পায়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে।
ফসফরাস (P) এর অভাবে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
পটাসিয়াম (K) এর অভাবে পাতার শীর্ষ ও কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।
ক্যালসিয়াম (Ca) এর অভাবে কঁচি পাতায় ক্লোরোসিস হয়, উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল মরে যায়। ফুল ফোঁটার সময় উদ্ভিদের কান্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।
ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এর অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। পাতার সরুশিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।
আয়রন (Fe) এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরুশিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়।
সালফার (S) এর অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাউব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়।
বোরন (B) এর অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

সুত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৭৯৬.
লিফট যদি মুক্তভাবে নিচে পড়ে তবে লিফটের সাপেক্ষে আমাদের ত্বরণ হবে-
  1. ক) 0
  2. খ) অসীম
  3. গ) ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড ২
  4. ঘ) ৮.৯ মিটার/সেকেন্ড ২
ব্যাখ্যা
লিফট যদি মুক্তভাবে নিচে পড়ে অর্থাৎ, লিফটেরও যদি g ত্বরণ হয়, তবে লিফটের সাপেক্ষে আমাদের ত্বরণ হবে (g- g) অর্থাৎ শূন্য। ফলে আমরা লিফটের উপর কোনাে বল প্রয়ােগ করব না।
উৎস: অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
১১,৭৯৭.
According to Einstein’s theory of relativity, which phenomenon cannot be explained?
  1. Gravitation
  2. Stellar motion
  3. Concept of an expanding universe
  4. Magnetic property
  5. None of them
ব্যাখ্যা
• আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার নীতি অনুসারে চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না। 

• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আইনস্টাইনের মতে স্থান, কাল ও ভর পরম নয়,সবই আপেক্ষিক। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বই আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of relativity) নামে পরিচিত।

• আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) মূলত দুভাগে বিভক্ত, যথা-
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব (The general theory of relativity) এবং
- আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (The special theory of relativity)।

• আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯০৫) ও সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (১৯১৫) নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করে:
- মহাকর্ষ।
- নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি।
- সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব ধারণা।

অন্যদিকে,
- চৌম্বকত্ব বা পদার্থের চৌম্বক ধর্ম ব্যাখ্যার জন্য কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স (QED) বা ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৯৮.
যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তাকে কী বলে?
  1. ক) আপেক্ষিক আর্দ্রতা
  2. খ) তুল্য আর্দ্রতা
  3. গ) কুয়াশা
  4. ঘ) শিশিরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাম্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৭৯৯.
ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনি?
  1. ভার্টিব্রাল ধমনি
  2. ফ্রেনিক ধমনি
  3. সার্ভিকাল ধমনি
  4. সিলিয়াক ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
 ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৮০০.
নিচের কোনটি বয়েলের সূত্রকে সমর্থন করে? 
  1. V/T = ধ্রবক
  2. PV = ধ্রবক
  3. P/V = ধ্রবক
  4. VT = ধ্রবক
ব্যাখ্যা

• বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
- গাণিতিকভাবে, V ∝ 1/P বা, PV = ধ্রুবক। 

• চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
- গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
- গাণিতিকভাবে, V ∝ T বা, V/T = ধ্রুবক। 

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক । 
- গাণিতিকভাবে, P ∝ T বা, P/T = ধ্রুবক। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।