বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০৯ / ১৪০ · ১০,৮০১১০,৯০০ / ১৪,০৮০

১০,৮০১.
মানবদেহে রক্তচাপ মাপা হয় কোন যন্ত্রে? 
  1. ব্যারোমিটার
  2. স্পিগমোম্যানোমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার
ব্যাখ্যা

• স্পিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা মানবদেহের রক্তচাপ পরিমাপের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।

- রক্তচাপ হলো রক্তের চাপ যা ধমনী প্রাচীরের উপর প্রয়োগ করে, এবং এটি মানবদেহের স্বাস্থ্য নিরীক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।

এটি সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত:
- কফ (Cuff): বাতাস ভর্তি ব্যান্ড যা বাহুর চারপাশে বাঁধা হয়।
- মনিটর বা ম্যানোমিটার: যা চাপের মান দেখায়, যা ম্যানুয়াল বা ডিজিটাল হতে পারে।

রক্তচাপ পরিমাপের প্রক্রিয়া:
- ব্যান্ডকে বাহুর উপরে বাঁধা হয় এবং কফে বাতাস ভর্তি করা হয়, যাতে রক্ত প্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।
- স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করে ধমনীতে রক্ত প্রবাহের শব্দ শুনে সিস্টোলিক (উচ্চচাপ) এবং ডায়াস্টোলিক (নিম্নচাপ) মান নির্ধারণ করা হয়।

সাধারণ ব্যবহার:
- হাসপাতালে ও ক্লিনিকে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা।
- বাড়িতে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ডিজিটাল স্পিগমোম্যানোমিটার ব্যবহার।
- হৃদরোগ ও রক্তচাপ জনিত রোগ নিরীক্ষণ।
 
তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

১০,৮০২.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) ক্লিংকার
  2. খ) অ্যামোনিয়া
  3. গ) অপরিশোধিত তেল
  4. ঘ) মিথেন গ্যাস
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলি জমিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- এর প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে কাজকে গাঢ় সবুজ রং প্রদান করে থাকে।
- কুশি বরসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক কৃষি শিক্ষা বোর্ড বই।

১০,৮০৩.
নিউটনের মহাকর্ষ বল কোন দিক বরাবর ক্রিয়া করে? 
  1. বস্তুর গতি বরাবর
  2. যেকোনো দৈর্ঘ্যের রেখা বরাবর
  3. বস্তুকণাদ্বয়ের মধ্যবর্তী সরল রেখার লম্ব বরাবর
  4. বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ: 
- ১৬১৮ খ্রি. বিজ্ঞানী জে কেপলার সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলোর ঘূর্ণন ও তাদের গতি সম্পর্কীয় সূত্রাবলি প্রকাশ করেন। কিন্তু মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং সৌর মণ্ডলীর গ্রহ-উপগ্রহসমূহ কোন বলের প্রভাবে ঘুরছে বা সাম্যবস্থায় আছে সে সম্পর্কে কেপলার বা তৎকালীন বিজ্ঞানীদের কোনো সুষ্পষ্ট ধারণা ছিল না। 
- ১৭৬৪ সালে বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন মহাবিশ্বের পরস্পর যোগসূত্রহীন বস্তুসমূহের সাম্যাবস্থা বজায় থাকা এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহসমূহের ঘূর্ণনের কারণ হিসাবে এক ধরনের সার্বজনীন বলের ধারণা উপস্থাপন করেন।  এর নাম দেয়া হয় মহাকর্ষ বল। 
- এই বল হলো মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কণার মধ্যে পরস্পরকে আকর্ষণ বল। 
অর্থাৎ, যে বল দ্বারা মহা বিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- এই মহাকর্ষ বল সম্পর্কে নিউটন একটি সূত্র দেন, এটি নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্র নামে খ্যাত। 
- সূত্রটি হলো: 
"মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরল রেখা বরাবর ক্রিয়া করে"। 
- বিশ্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, G-এর মান 6.673 × 10-11 Nm2kg-2 এবং G-এর মাত্রা L3M-1T -2  । 
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G-এর একক Nm2kg-2  । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮০৪.
 n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট প্রবেশ করে তাকে কী বলে? 
  1. বেস 
  2. এমিটার 
  3. কালেক্টর 
  4. রেজিস্টর 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম এমিটার (Emitter)। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যেটাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফায়ার। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৮০৫.
চারদিকে স্থলবেষ্টিত জলভাগকে কী বলা হয়?
  1. হ্রদ
  2. নদী
  3. উপসাগর
  4. সাগর
ব্যাখ্যা
মহাসাগর: 
- বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর। 
- এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর বৃহত্তম ও গভীরতম। 
- আটলান্টিক মহাসাগর ভগ্ন উপকূলবিশিষ্ট এবং এটি অনেক আবদ্ধ সাগরের (Enclosed sea) সৃষ্টি করেছে। 
- ভারত মহাসাগর এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- ৬০° দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে এন্টার্কটিকার হিমভাগ পর্যন্ত দক্ষিণ মহাসাগরের অবস্থান। দক্ষিণ মহাসাগরের দক্ষিণে এন্টার্কটিকা মহাদেশ বছরের সকল সময় বরফে আচ্ছন্ন থাকে। 
- উত্তর গোলার্ধের উত্তর প্রান্তে উত্তর মহাসাগর অবস্থিত এবং এর চারদিক স্থলবেষ্টিত। 

সাগর: 
- মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তনবিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যথা- ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর, ক্যরিবিয়ান সাগর, জাপান সাগর ইত্যাদি। 

উপসাগর: 
- তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যথা- বঙ্গোপসাগর, পারস্য উপসাগর ও মেক্সিকো উপসাগর ইত্যাদি। 

হ্রদ: 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত জলভাগকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যথা- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ ও আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮০৬.
নিচের কোন উপাদানটি গাছ মাটি থেকে সংগ্রহ করে?
  1. কার্বন (C)
  2. হাইড্রোজেন (H)
  3. ফসফরাস (P)
  4. অক্সিজেন (O)
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P) উপাদানটি গাছ মাটি থেকে সংগ্রহ করে।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদের সাধারণত ১৬টি উপাদানকে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- এই ১৬টি উপাদান হলো: কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S), লৌহ (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), জিংক (Zn), কপার (Cu), ক্লোরিন (CI), বোরন (B), ও মলিবডেনাম (Mo)।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের উৎস:
- বায়ু হতে উদ্ভিদ C, O এবং N সংগ্রহ করে।
- C ও O বায়ু CO2 হিসেবে প্রধানত: পাতার স্টোমাটার সাহায্যে গ্রহণ করে।
- মাটি হতে উদ্ভিদ খনিজ পদার্থ (Mineral matter) ও জৈব পদার্থ (Organic matter) সংগ্রহ করে।
- C, H, O ব্যতিত অন্যান্য উপাদান অর্থাৎ ১৩টি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ মাটি হতে পরিশোষণ করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮০৭.
নিচের কোনটি শ্বেত রক্ত কণিকার অংশ নয়?
  1. ক) মনোসাইট
  2. খ) বেসোফিল
  3. গ) ক্রিয়েটিনিন
  4. ঘ) নিউট্রোফিল
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা।
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়।
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
- এর p" মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪।
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস।
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- রক্তের প্রকারভেদ- 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮০৮.
ভিটামিন ডি এর উৎস কোনটি?
  1. ক) আপেল
  2. খ) কলা
  3. গ) আম
  4. ঘ) মাছের তেল
ব্যাখ্যা
মাছের তেলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 

- স্বাভাবিক খাদ্যের মধ্যে খুব অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে, খাদ্যের যে এলিমেন্ট গুলি আমাদের বৃদ্ধি পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা ত্বরান্বিত করে, সেগুলোই হলো ভিটামিন।

- ভিটামিন এর বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১. খুব অল্প মাত্রায় আমাদের দেহে এটা প্রয়োজন। 
২.ভিটামিন প্রাণীদেহের অর্গানিক ক্যাটালাইস্ট। 
৩.ম্যাক্সিমাম ভিটামিন কো-এনজাইম রূপে উৎসেচক এর সঙ্গে সঙ্গবদ্ধ হয়ে ক্রিয়া করে।
৪.বেশিরভাগ ভিটামিন মেটাবলিজম-এ ড্যামেজ হলেও পাচন ক্রিয়া এর ওপর কোন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮০৯.
সমুদ্রে লবণের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ২.৫% - ৩.৫%
  2. ৬.৫% - ৭.৫%
  3. ৪.৫% - ৫.৫%
  4. ৫.৫% - ৬.৫%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।
১০,৮১০.
দুধ হচ্ছে -
  1. ক) জেল
  2. খ) ইমালশন
  3. গ) দ্রবণ
  4. ঘ) সাসপেনশন
ব্যাখ্যা
ইমালশন
- কলয়েড কনা ও মাধ্যম অর্থাৎ ডিসপারসড ও ডিসপারশন উভয় দশাই যদি তরল হয় তবে সে দ্রবনকে ইমালশন বলা হয়।
- দুধ একটি ইমালশন, কারণ দুধে যে চর্বি থাকে সেটিও তরল আবার যে পানিতে চর্বি কণাগুলো থাকে সেটিও তরল।
- চর্বির কণা হলো কলয়েড কণা।
- চর্বি কণা আর মাধ্যম পানি উভয়ই তরল হওয়ার কারণে দুধ এক প্রকার ইমালশন।
১০,৮১১.
মানুষের শরীরে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. ২০ ধরনের
  2. ১৫ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ১২ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার।
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 

- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ।
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ।
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি।

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।

উৎস:
বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮১২.
মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে -
  1. ক) তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
  2. খ) তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
  3. গ) রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
  4. ঘ) যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর
• লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা -  বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
• মাইক্রোফোন - শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
• জেনারেটর বা ডায়নামো - যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
• বৈদ্যুতিক মোটর - তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
• মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।

সূত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান
১০,৮১৩.
তেজস্ক্রিয়তা কোনভাবে প্রভাবিত হয় না?
  1. তাপ
  2. চাপ
  3. চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলো পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন রশ্মি বিকিরণ করে, এই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
যেমিন- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল (Henry Becquerel) আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় "বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা: 
- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা: 
- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়- 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪। এটি একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮১৪.
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জিনগত উপাদান কী?
  1. DNA
  2. RNA
  3. প্রোটিন
  4. লিপিড
ব্যাখ্যা

• ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস একটি RNA ভাইরাস, যার জিনগত উপাদান হলো একক-সুতোয় (single-stranded) RNA।

- এটি Orthomyxoviridae পরিবারভুক্ত।
- ভাইরাসটির RNA আটটি অংশে বিভক্ত থাকে, যা বিভিন্ন প্রোটিন কোড করে।
- এই RNA গঠন ভাইরাসকে দ্রুত মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম করে, ফলে নতুন স্ট্রেইন তৈরি হয় (যেমন: H1N1, H3N2)।
- DNA ভাইরাসের মতো এটি DNA ব্যবহার করে না, বরং RNA থেকেই প্রোটিন তৈরি করে প্রতিলিপি (replication) সম্পন্ন করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
- Britannica [লিংক]।

১০,৮১৫.
নিম্নের চারটির মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) পিতল
  2. খ) তামা
  3. গ) লোহা
  4. ঘ) টিন
ব্যাখ্যা
পিতল একটি সংকার ধাতু যা তামা ও দস্তার সমন্বয়ে গঠিত। 
তামা, লোহা ও টিন মৌলিক ধাতু।
১০,৮১৬.
একটি পরমাণু ইলেকট্রন দান করলে তার জারণ সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. শূন্য
  2. ঋণাত্মক
  3. ধনাত্মক
  4. অসীম
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা (Oxidation Number): 
- মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা দানের মাধ্যমে আয়নে পরিণত হয়। 
- পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় এবং বিপরীতভাবে এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- কোনো পরমাণু যত সংখ্যক ইলেকট্রন দান করে তত ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহন করে তত ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয়। 
- যৌগের মধ্যে কোন মৌলের জারণ সংখ্যা মৌলটির পরমাণুকে মুক্ত অবস্থা থেকে যৌগের অণুর মধ্যে যে অবস্থায় বর্তমান সে অবস্থায় পরিণত করতে কী পরিমাণ জারণ বা বিজারণ প্রয়োজন তা নির্দেশ করে। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যদি জারণের প্রয়োজন হয় তবে জারণ সংখ্যা হবে ধনাত্মক। 
- বিজারণের প্রয়োজন হলে জারণ সংখ্যা হবে ঋণাত্মক। 
- মুক্ত অবস্থায় থাকা মৌলের অণু বা পরমাণুর জারণ সংখ্যাকে শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- Na, K, Fe, O2, H2, N2, P4, S8, ইত্যাদি অণুতে স্ব স্ব পরমাণুর জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮১৭.
থার্মোমিটার কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) টমাস আল্ভা এডিসন
  2. খ) মাইকেল ফ্যারাডে
  3. গ) গ্যালিলিও
  4. ঘ) জেমস হ্যারিসন
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও - ১৬১০ সালে টেলিস্কোপ ও ১৫৯৩ সালে থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীঃ পদার্থ বিজ্ঞান বই
১০,৮১৮.
১ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে কতটুকু বিদ্যুৎ শক্তি ব্যয় হবে?
  1. ১ ওয়াট-ঘণ্টা
  2. ১ কিলোওয়াট
  3. ১ ইউনিট
  4. ১ জুল
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- গ) ১ ইউনিট

• কিলোওয়াট-ঘন্টা:
- বিদ্যুৎ শক্তির বাণিজ্যিক একক কিলোওয়াট-ঘন্টা।
- কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বা উৎসের কাজ করার হারকে এর ক্ষমতা বলে।
- অর্থাৎ কোনো বৈদ্যুতিক উৎস একক সময়ে যে কাজ করে তাকে তার ক্ষমতা বলে।
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার ব্যবহারিক একক হল ওয়াট (Watt)।
- ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎস ১ ঘণ্টা চলতে থাকলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তাকে ১ ওয়াট-ঘণ্টা বলা হয়।
- ১ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎস ১ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকলে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয় তাকে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ১ ইউনিট বলা হয়
- ১ ইউনিট= ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা।
- সুতরাং, বিদ্যুৎ বিল হিসাব করার জন্য কিলোওয়াট-ঘণ্টা  ব্যবহার করা হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮১৯.
জলবায়ু কী?
  1. শুধুমাত্র বাতাসের আর্দ্রতা
  2. শুধুমাত্র বৃষ্টিপাতের পরিমাণ
  3. কোনো স্থানের বহু বছরের আবহাওয়ার গড় ফল
  4. স্বল্প সময়ের জন্য বায়ুর অবস্থার সামগ্রিক চিত্র
ব্যাখ্যা

- জলবায়ু (Climate) বলতে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের (সাধারণত ৩০ বছর বা তার বেশি) আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে বোঝায়। এটি তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহের মতো আবহাওয়ার উপাদানগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা এবং গড় অবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে। 

আবহাওয়া: 

- আবহাওয়া বলতে স্বল্প সময়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে বোঝায়। 
- বায়ুর তাপমাত্রা, চাপ, বায়ু কোন দিক থেকে কত জোরে প্রবাহিত হচ্ছে, বায়ুর আর্দ্রতা বা বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ, মেঘ, কুয়াশা ও বৃষ্টিপাত- এই অবস্থাগুলোকে একত্রে আবহাওয়া বলা হয়। 
যেমন- কোনো দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বোঝা যায় আবহাওয়া বেশ গরম, আবার কোনো দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বোঝা যায় আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। আবার আকাশ মেঘলা অথবা কুয়াশাচ্ছন্ন- এরকম অবস্থাও স্বল্প সময়ের আবহাওয়া নির্দেশ করে। 

জলবায়ু: 
- জলবায়ু সহসা বদলায় না, জলবায়ু হলো কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার একটি সামগ্রিক বা গড় ফল। 
যেমন- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র- থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশে বেশ গরম পড়ে এবং বায়ু ভেজা বা আর্দ্র থাকে। আবার রাশিয়ার জলবায়ু শীতপ্রধান; এ থেকে বুঝা যায় রাশিয়ায় সাধারণত খুব শীত পড়ে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১০,৮২০.
কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের কত গুণ?
  1. ক) ৫ গুণ
  2. খ) ৪ গুণ
  3. গ) ৩ গুণ
  4. ঘ) ২ গুণ
ব্যাখ্যা
বাষ্প ঘনত্ব:
একই উষ্ণতা এবং চাপে নির্দিষ্ট আয়তন কোনো গ্যাসের ওজন সম আয়তন হাইড্রোজেন গ্যাসের ওজন এর যত গুণ সেই গুণিতক সংখ্যাকে গ্যাসের বাষ্প ঘনত্ব বলে।
বাষ্প ঘনত্বকে 'D' দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।

কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের দ্বিগুণ।
গ্যাসের আণবিক গুরুত্ব (M) = 2 × গ্যাসটির বাস্প ঘনত্ব (D)
বা, M = 2D

উদাহরণ: কার্বন ডাই অক্সাইড এর বাষ্প ঘনত্ব 22, সুতরাং, এর আণবিক গুরুত্ব = 2 × 22 = 44.
১০,৮২১.
মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে আলোর তীব্রতা অনুসারে কোন কোন বর্নে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) লাল, সবুজ,বেগুনি
  2. খ) লাল, হলুদ, সবুজ
  3. গ) লাল, নীল, বেগুনি
  4. ঘ) লাল, হলুদ, নীল
ব্যাখ্যা
নক্ষত্রগুলোর প্রত্যেকে এক একটি জলন্ত গ্যাসপিণ্ড বলে এদের সবারই আলো ও উত্তাপ রয়েছে।
মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে তাদের আলোর তীব্রতা অনুসারে লাল, হলুদ, নীল এই তিন বর্নে ভাগ করা হয়েছে। অতি বৃহৎ নক্ষত্রের রং লাল, মাঝারি নক্ষত্রের রং হলুদ এবং ছোট নক্ষত্রের রং নীল হয়ে থাকে।
উৎসঃ ৮ম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
১০,৮২২.
​মৌলিক রাশি কয়টি? 
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

রাশি: 
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলা হয়। 
​যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়। এখানে ভর একটি রাশি। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সকল রাশির পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, সেগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি। 
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে এরূপ সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ। 

যৌগিক রাশি: 
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়। 
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। তাই বেগ মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল। 
- অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি। 
- যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ রাশি বলা হয়। 
যেমন- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮২৩.
উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে রূপান্তরিত করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মার
  2. খ) ট্রানজিস্টর
  3. গ) স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) ডায়োড
ব্যাখ্যা
যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করা হয়, তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

ট্রান্সফর্মার ২ ধরনের হয় 
১) স্টেপ-আপ ( নিম্ন  বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করে )
২) স্টেপ- ডাউন ( উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে রূপান্তরিত করে )

ট্রানজিস্টর দুর্বল সংকেতকে শক্তিশালী সংকেতে রূপান্তরিত করে ।
ডায়োড AC কে DC তে পরিবর্তন করে। 

উৎস: একাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান বই, শাহজাহান তপন স্যার।
১০,৮২৪.
ফাইবারে দৃশ্যমান আলোর পরিবর্তে অবলোহিত রশ্মি ব্যবহারের কারণ কী? 
  1. দৃশ্যমান আলোর শোষণ কম
  2. দৃশ্যমান আলোর শোষণ বেশি
  3. অবলোহিত রশ্মির গতি বেশি
  4. দৃশ্যমান আলো বেশি শক্তিশালী 
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। 
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলোতে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮২৫.
প্রাকৃতিক গ্যাস কোন ধরনের শক্তির অন্তর্ভুক্ত?
  1. জীবাশ্ম শক্তি
  2. পারমাণবিক শক্তি
  3. নবায়নযোগ্য শক্তি
  4. বৈদ্যুতিক শক্তি
ব্যাখ্যা

- প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত ভূগর্ভস্থ শিলা স্তরের নিচে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ প্রচণ্ড তাপ ও চাপে পচে তৈরি হয়, যেহেতু এটি প্রাচীন জীবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ভূত, তাই একে জীবাশ্ম শক্তি বা জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়। এটি মূলত মিথেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে, বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও ব্যবহার রয়েছে অনেক সার কারখানায়। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়, কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়। পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির এই উৎসসমূহ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, ফলে শক্তির বিকল্প উৎসের সন্ধান করা প্রয়োজন। তাই পরিবেশ বান্ধব নবায়যোগ্য শক্তির যেমন সৌরশক্তি, পানি প্রবাহ থেকে প্রাপ্ত শক্তি, জোয়ার-ভাটা শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি, বায়ু শক্তি, বায়োমাস ইত্যাদি ব্যপকভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ উৎসগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্যের উপর নির্ভরশীল, তাই যতদিন পৃথিবী সূর্যের আলো পেতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত এ সকল উৎস থেকে শক্তির সরবরাহ সম্ভব হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮২৬.
১ ক্যালরির তাপ শক্তির যান্ত্রিক সমতুল্য শক্তি কত?
  1. ১.০ জুল
  2. ৫.০ জুল
  3. ২.৫ জুল
  4. ৪.২ জুল
ব্যাখ্যা

• ১ ক্যালরির তাপ শক্তির যান্ত্রিক সমতুল্য শক্তি হলো ৪.২ জুল। অর্থাৎ, ১ ক্যালরি তাপ শক্তি উৎপন্ন করতে যতো কাজ করা প্রয়োজন, সেটি প্রায় ৪.২ জুলের সমান। ক্যালরি হলো তাপ শক্তির একক, যা সাধারণত খাবারের শক্তি বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির হিসাবের জন্য ব্যবহার করা হয়, আর জুল হলো আন্তর্জাতিক একক ব্যবস্থা (SI) অনুযায়ী যান্ত্রিক কাজ বা শক্তির একক। যান্ত্রিক সমতুল্য শক্তি বলতে বোঝায় যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ শক্তি যদি সম্পূর্ণরূপে যান্ত্রিক কাজে রূপান্তরিত করা হয়, তাহলে তা কত কাজ করতে সক্ষম হবে। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) ৪.২ জুল।

তাপ: 

- তাপ হল বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ, তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। এটি মেট্রিক পদ্ধতির একক যা পুষ্টি বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 
-  তাপ পরিমাপের যন্ত্র ক্যালরিমিটার। 
- তাপের প্রবাহ তাপের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। 
- দুটি বস্তুর তাপের পরিমাণ এক হলেও এদের তাপমাত্রার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮২৭.
কোন হরমোনের প্রভাবে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়?
  1. ফ্লোরিজেন
  2. ভার্নালিন
  3. ফেরোমন
  4. জিবেরেলিন
ব্যাখ্যা
সমন্বয়: 
- বিভিন্ন অঙ্গ তন্ত্রের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজের মাধ্যমে দেহের সকল কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলা হয়। 
- উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন আচরণ প্রকাশ করা প্রতিটি প্রাণীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। 
- হাঁটা চলা, উঠা বসা, কথা বলা, চিন্তা করা, পড়া মুখস্থ করায় বিভিন্ন অঙ্গ অংশ নেয়। এ অঙ্গগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। 
- প্রাণীর প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যবস্থা স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়। 

হরমোনাল প্রভাব: 
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে। 
- হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। 
- সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। 
যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় এবং খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে। একে ফেরোমন বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। এ ফেরোমন হরমোনের কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। 
- কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। 
- শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়। 
- ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮২৮.
নিউক্লিয়াসের সংযোজনকে বলে-
  1. প্রোটন
  2. ফিউশন
  3. মেসন
  4. ফিশন
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয়াসের সংযোজনকে ফিউশন বলে।
- নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলে আর ।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৮২৯.
কোনটি বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. মোবাইল ফোন
  2. জেনারেটর
  3. বৈদ্যুতিক মোটর
  4. বৈদ্যুতিক ঘন্টা
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
⇒ মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
⇒ মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৩০.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতুর উদাহরণ? 
  1. লিথিয়াম 
  2. সোডিয়াম 
  3. কপার 
  4. ক্যালসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌলকে (লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম, সিজিয়াম এবং ফ্রানসিয়াম) ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষারধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত 6 টি (বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম এবং রেডিয়াম) মৌলকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।  
- এই ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- এরা ক্ষার তৈরি করে, এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর 4 টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম 3 টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম (Rg) ছাড়া অন্য যে 3 টি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৮৩১.
স্বাভাবিক সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার হলো -
  1. < 150 mmHg
  2. < 130 mmHg
  3. < 140 - 159 mmHg
  4. < 160 mmHg
ব্যাখ্যা
- স্বাভাবিক সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার - ১৩০ এর কম থাকে।
- সর্বোত্তম সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার হলো - ১২০ এর কম।
- ১৩০ - ১৩৯ হলে সেটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ধরা হয়।

১০,৮৩২.
রেলওয়ে ইঞ্জিন কে আবিষ্কার করেন?
  1. জেমস ওয়াট
  2. নিকলাস অটো
  3. জেমস হ্যারিসন
  4. স্টিফেনসন
ব্যাখ্যা
• স্টিফেনসন (George Stephenson):
- তিনি  প্রথম কার্যকর বাষ্পচালিত রেল ইঞ্জিন তৈরি করেন। 
- এরপর ১৮২৫ সালে "Locomotion No.1" এবং ১৮২৯ সালে "The Rocket"  যা ছিল তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে উন্নত রেল ইঞ্জিন।
- তাঁকে “রেলওয়ের জনক (Father of Railways)” বলা হয়।

অন্যদিকে,
- নিকলাস অটো: তিনি অটো ইঞ্জিন বা আভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (Internal Combustion Engine) উদ্ভাবন করেন।
- জেমস ওয়াট: তিনি বাষ্প ইঞ্জিন (Steam Engine) উন্নত করেন।
- জেমস হ্যারিসন: তিনি ফ্রিজিং সিস্টেম বা রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তিতে কাজ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১০,৮৩৩.
পরম শূন্য তাপমাত্রা কোনটি?
  1. ২৭৩° সেন্টিগ্রেড
  2. - ২৭৩° ফারেনহাইট
  3. ০° সেন্টিগ্রেড
  4. ০ কেলভিন
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা:
যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো - ২৭৩°C । অর্থাৎ - ২৭৩°C বা ০ কেলভিন তাপমাত্রায় যে কোনো গ্যাসের আয়তন তত্ত্বীয়ভাবে শূন্য হয়।

আমরা জানি, - ২৭৩°C = ০ কেলভিন।
 
তাপমাত্রাকে শুরু বা শূন্য ধরে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার ব্যবধানকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান ধরে যে তাপমাত্রার স্কেল উদ্ভাবন করা হয়েছে তাকে তাপমাত্রার পরম স্কেল বা কেলভিন স্কেল বলে।

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৩৪.
বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কিভাবে? 
  1. তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে
  2. ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে
  3. সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
  4. অলৌকিকভাবে
ব্যাখ্যা
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করে তার প্রতিধ্বনির মাধ্যমে বাদুড় পথ চলে। 
- কিন্তু বাদুড়ের তৈরি এই প্রতিধ্বনির শব্দ আমরা শুনতে পাই না কারণ, বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে দিক নির্ণয় করে। 
- আলট্রাসাউন্ড মূলত আমাদের শোনার বাহিরের শব্দ। 
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে। 
- আল্টাসনিক শব্দ ২০,০০০ থেকে বেশি কম্পাংকের হয়ে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১০,৮৩৫.
ট্রানজিস্টরে কয়টি ডায়োড ব্যবহৃত হয়?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ১ টি
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর:
- দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়ােডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।
- ১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্ৰাটেইন।
- ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়ােজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
- p-n-p এবং n-p-n দুই ধরনের ট্রানজস্টর হয়ে থাকে।
- ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়ােড। ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
- ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
- ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, শাহাজান তপন।
১০,৮৩৬.
ডায়োড হচ্ছে -
  1. ক) এক ধরনের ভ্যাকুয়াম টিউব
  2. খ) p ও n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর তৈরি জাংশন
  3. গ) npn ও pnp ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরি ডিভাইস
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
p ও n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর তৈরি জাংশনকে বলে ডায়োড।
১০,৮৩৭.
পরিণত মানুষের কঙ্কালতন্ত্র কয়টি অস্থি নিয়ে গঠিত?
  1. ২৯০টি
  2. ২০৬টি
  3. ৩০০টি
  4. ৩০৬টি
ব্যাখ্যা

• মানুষের দেহের কঙ্কালতন্ত্র প্রধানত অস্থি বা হাড় নিয়ে গঠিত। এটি দেহকে একটি দৃঢ় কাঠামো প্রদান করে, বিভিন্ন অঙ্গকে রক্ষা করে এবং মাংসপেশীর সংযুক্তির মাধ্যমে আন্দোলন সম্ভব করে। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দেহে সাধারণত ২০৬টি অস্থি থাকে। এই অস্থিগুলি শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভক্ত, যেমন খুলি, হাত ও পায়ের হাড়, কাঁধ ও পিঠের হাড়। শিশুরা জন্মের সময় অনেক বেশি অস্থি নিয়ে জন্মায়, কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে কিছু অস্থি একত্রিত হয়ে সংখ্যা কমে ২০৬ হয়। তাই, মানুষের কঙ্কালতন্ত্র মূলত ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত।

- সঠিক উত্তর: খ) ২০৬ টি।

মানব কঙ্কাল: 
- মানব দেহের গঠন কাঠামো হলো কঙ্কাল।
- অস্থি (Bone) ও তরুণাস্থি (Cartilage) দ্বারা গঠিত যে তন্ত্র দেহের মূল কাঠামো গঠন করে এবং অভ্যন্তরীণ নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে দেহের ভার বহন করে এবং পেশি সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
- মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র মোট ২০৬ টি অস্থি নিয়ে গঠিত।
- হৃদপিন্ড, ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত, মগজ ইত্যাদি দেহের কোমল অঙ্গসমূহকে অস্থির আবরণে সুরক্ষিত রাখে।
- অস্থিগুলো ঐচ্ছিক মাংসপেশি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকায় ইচ্ছাকৃত অঙ্গ সঞ্চালন ও চলাফেরা করা সম্ভব হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৩৮.
​বিদ্যুৎ সরবরাহ আন্তর্জাতিকভাবে কোন এককে পরিমাপ করা হয়?
  1. ভোল্ট 
  2. ওয়াট 
  3. কিলোওয়াট-ঘণ্টা 
  4. অ্যাম্পিয়ার 
ব্যাখ্যা

কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ ঘণ্টা 
- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল। 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 

- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে এক কিলোওয়াট ঘন্টা বুঝায়। 
- বিদ্যুৎ বিল কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৮৩৯.
প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয়-
  1. ICZN
  2. IUCN
  3. ICBN
  4. IZCN
ব্যাখ্যা
 International Code of Zoological Nomenclature (ICZN):

• প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code of Zoological Nomenclature', সংক্ষেপে ICZN.

• দ্বিপদী নামকরণ : কোন জীবের গণ ও প্রজাতি এ দুটো অংশ নিয়ে ICZN-এর নিয়মাবলি অনুযায়ী নামকরণ করাকে দ্বিপদী নামকরণ বলে। যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo sapiens.
- সুইডেনের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ক্যারোরাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক।
• আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।
• উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
• প্রকৃতপক্ষে এই কোড পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল।
• নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।


ছবির উৎস: ICZN এর ওয়েবসাইট 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ICZN এর ওয়েবসাইট ।
১০,৮৪০.
লসিকায় কত ভাগ পানি থাকে? 
  1. ৫৫ ভাগ
  2. ৬০ ভাগ
  3. ৭৮ ভাগ
  4. ৯৪ ভাগ
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকার কাজ: 
• প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
• স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
• পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
• শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
• প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
• প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
• দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৪১.
শৈবালের বৈশিষ্ট্য কি?
  1. ক) এরা স্ব-ভোজী
  2. খ) এরা পরজীবী
  3. গ) এরা এককোষী
  4. ঘ) এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে না
ব্যাখ্যা
শৈবাল স্ব-ভোজী হয়ে থাকে। অর্থাৎ, এরা নিজের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করে থাকে। 

শৈবালের বৈশিষ্ট্যাবলী-  
১। এরা সবাই অপুষ্পক।
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে।
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না ।
৪ । এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না।
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী। কোন কোন শৈবালের জননাঙ্গ বহুকোষী হয়। জননাঙ্গ বহুকোষী হলে তা বন্ধ্যা কোষের স্তর দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে না ।
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী।
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না ।
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত।
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না।
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা।

সূত্র: ১২২ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
১০,৮৪২.
ভূমিকম্পের তরঙ্গ প্রধানত কয় প্রকার?
  1. ৫ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ২ প্রকার
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প তরঙ্গ:

• ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলো ভূ-অভ্যন্তরে ভূ-কম্পন তরঙ্গের মূল উৎস যা কেন্দ্র হতে সবদিকে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
• ভূমিকম্পের তরঙ্গ প্রধানত তিন প্রকার। যথা-
১. প্রাথমিক তরঙ্গ;
২. গৌণ তরঙ্গ বা দ্বিতীয় তরঙ্গ এবং
৩. পৃষ্ঠ তরঙ্গ। 


• প্রাথমিক তরঙ্গ (Primary Wave):
সংক্ষেপে প্রাথমিক তরঙ্গকে P Wave বা P তরঙ্গ বলে। সর্বপ্রথম P তরঙ্গ ভূমিকম্প কেন্দ্র হতে ভূ-কম্পলেখ যন্ত্রে এসে পৌঁছে বলে একে প্রাথমিক তরঙ্গ বলে। এটি মাটির মধ্য দিয়ে সোজা পথে গমন করে এবং তরঙ্গের গতিবেগ ঘনত্বের সাথে সমানুপাতিক। মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উপরিভাগে এর গতিবেগ ৬.১ কি.মি/সেকেন্ড, মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের নিম্নভাগে এর গতিবেগ ৬.৯ কি.মি/সেকেন্ড এবং সামুদ্রিক ভূ-ত্বকে এর গতিবেগ ৮ কি.মি/সেকেন্ড। অপরদিকে পৃথিবীর কেন্দ্রে অর্থাৎ ম্যান্টল এ এর গতিবেগ ১১ কি.মি/সেকেন্ড। প্রাথমিক তরঙ্গ সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে বস্তুকে আন্দোলিত করে এবং শিলায় সামান্য পরিমাণে স্থান পরিবর্তন হয়।

• গৌণ তরঙ্গ (Secondary Wave): গৌণ তরঙ্গকে S Wave বা দ্বিতীয় পর্যায়ের তরঙ্গ বলে। প্রাথমিক তরঙ্গের পরে দ্বিতীয় পর্যায়ের তরঙ্গ ভূমিকম্প তরঙ্গ কেন্দ্র হতে ভূ-কম্পলেখ যন্ত্রে এসে পৌঁছে। প্রাথমিক তরঙ্গ হতে এর পার্থক্য হলো এটি প্রাথমিক তরঙ্গের তুলনায় ধীরগতি সম্পন্ন এবং এটি তরল মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। S তরঙ্গ বস্তুকে সামনে পিছনে সমকোণে দোলাতে থাকে এবং দালানের কাঠামোর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়।

• পৃষ্ঠ তরঙ্গ (Surface Wave): পৃষ্ঠ তরঙ্গকে দীর্ঘ তরঙ্গ বা Long Wave বলে। এই তরঙ্গ সবচেয়ে কম গতিবেগ সম্পন্ন। Long Wave বা পৃষ্ঠ তরঙ্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পৃষ্ঠ তরঙ্গ শুধুমাত্র পৃথিবীর উপরিভাগ বা বহিরাবরণ দিয়ে চলতে পারে। এর গতিবেগ অত্যন্ত কম মাত্র ৪.৮-৬.২ কি.মি/সেকেন্ড। এই তরঙ্গও গৌণ তরঙ্গ বা S তরঙ্গের ন্যায় তরল মাধ্যমে চলাচল করতে পারে না।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৪৩.
কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়? 
  1. কয়লা
  2. বায়োগ্যাস
  3. খনিজ তেল
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা

• 'বায়োগ্যাস' শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। কারণ, এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 

• শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - 

১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 

 
 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৪৪.
বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে কতটুকু গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট পুনঃশোষিত হয়?
  1. ৯০ ঘন সে.মি.
  2. ১২০ ঘন সে.মি.
  3. ১২৪ ঘন সে.মি.
  4. ১২৫ ঘন সে.মি.
ব্যাখ্যা
• বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ১২৪ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট পুনঃশোষিত হয় এবং রক্তে ফিরে যায়। 

• বৃক্ক:
- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• নেফ্রন:
- বৃক্কের গঠন ও কার্যকরী একককে বলা হয় নেফ্রন।
- প্রতিটি নেফ্রন প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা। 

• রেচনের শারীরবৃত্তকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য উৎপাদন।
- মূত্র সৃষ্টি। 

• বিজ্ঞানী কুশনীর মতে ৩ টি ধাপে মূত্র সৃষ্টি হয়। যথা-
- অতিপরিস্রাবন।
- নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ।
- সক্রিয় ক্ষরণ। 

• নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ:
- মানবদেহে প্রতি মিনিটে ১২৫ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট উৎপন্ন হয়।
- এর মধ্যে নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণের মাধ্যমে ১২৪ ঘন সে.মি. পুনঃশোষিত হয় এবং রক্তে ফিরে যায়। 
- বাকি ১ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট মূত্র তৈরি করে।
- অর্থাৎ সাধারণত প্রতি মিনিটে কেবল ১ ঘন সে.মি. মূত্র উৎপন্ন হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১০,৮৪৫.
সূর্য কী?
  1. একটি নক্ষত্র
  2. একটি গ্রহ
  3. একটি উপগ্রহ
  4. একটি ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

সূর্য (Sun): 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- সূর্যের পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস। 
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড। 
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৮৪৬.
কোনটি Micro Nutrients?
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. ভিটামিন
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলাে মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়ােজন হয়।
ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলাে মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়ােজন হয়।
যেকোনাে খাদ্য উপাদানই প্রয়ােজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়।
খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি।

উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১০,৮৪৭.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. ক) সমুদ্রের পানিতে
  2. খ) ঝরনার পানিতে
  3. গ) পুকুরের পানিতে
  4. ঘ) টিউবওয়েলের পানিতে
ব্যাখ্যা

আবদ্ধ পানির চেয়ে চলমান পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।
এবং, সাগরের পানির চেয়ে মিঠা পানিতে অক্সিজেন বেশি থাকে।
Rapidly moving water, such as in a mountain stream or large river, tends to contain a lot of dissolved oxygen, whereas stagnant water contains less.
Source: USGS and others.

১০,৮৪৮.
কলেরা ভ্যাকসিন কোন ধরণের টিকা?
  1. মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
  2. নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা
  3. নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা
  4. দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু
ব্যাখ্যা

টিকার প্রকারভেদ:
মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন।
এগুলো হলো-
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine):
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি।
- উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine):
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি।
- উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন।

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine):
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি।
- উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু (Surface chemical molecule):
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি।

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine):
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৪৯.
স্কেলার রাশি কোনটি? 
  1. সরণ 
  2. ত্বরণ 
  3. কাজ 
  4. ওজন 
ব্যাখ্যা

রাশি: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়।
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি।

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি।

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়।
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৫০.
পৃথিবীর সাথে যুক্ত সকল বস্তুর বিভব কী ধরা হয়? 
  1. শূন্য 
  2. ধনাত্মক 
  3. ঋণাত্মক 
  4. পরিবর্তনশীল 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর বিভব শূন্য: 
- পৃথিবী তড়িৎ পরিবাহী এবং আকারে বিশাল। ফলে কিছু ইলেকট্রন পৃথিবীর সাথে আদান প্রদান হলে পৃথিবীর বিভবের কোনো পরিবর্তন হয়না। 
যেমন- সমুদ্র থেকে এক বালতি পানি নিলে সমুদ্রের পানি তলের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বস্তু থেকে আধান গ্রহণ করে আবার সাথে সাথে অন্য বস্তুকে আধান সরবরাহ করে, ফলে পৃথিবীকে আধানহীন মনে করা হয়। 
- কোনো স্থানে উচ্চতা নির্ণয়ের সময় সমুদ্রের উপরিতলে উচ্চতাকে যেমন শূন্য ধরা হয় তেমনি বিভব নির্ণয়ের সময় পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরা হয়। 
- আধানহীন বস্তুর বিভব শূন্য। 
- পৃথিবীর সাথে যুক্ত সকল বস্তুরই বিভব শূন্য। 
- পৃথিবীর বিভবকে শূন্য ধরে যে বস্তুর বিভব পৃথিবীর বিভব থেকে বেশী তার বিভবকে ধনাত্মক বিভব বা উচ্চ বিভব এবং যার বিভব কম তাকে ঋণাত্মক বিভব বা নিম্ন বিভব বলে। 
- মূল কথা হলো বস্তুতে ইলেকট্রনের বাড়তি থাকলে অর্থাৎ বস্তুটি ঋণাত্মক আধানে আহিত হলে বস্তুটি নিম্ন বিভব সম্পন্ন এবং বস্তুতে ইলেকট্রনের ঘাটতি থাকলে অর্থাৎ বস্তুটি ধনাত্মক আধানে আহিত হলে বস্তুটি উচ্চ বিভব সম্পন্ন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৫১.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়?
  1. ক) অ্যানিমিয়া
  2. খ) লিউকেমিয়া
  3. গ) থ্যালাসেমিয়া
  4. ঘ) পলিসাইথিমিয়া
ব্যাখ্যা
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু।


- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের।


- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:


১। পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।


২। অ্যানিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া।


৩। লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।


৪। লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়।


৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে।


৬। পারপুরা: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।


৭। থ্যালাসেমিয়া: থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।


- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১০,৮৫২.
গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী
  2. স্বচ্ছ স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ
  3. তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী
  4. তেজস্ক্রিয়তা
ব্যাখ্যা
• গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য হলো এটি তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 

• গ্রাফাইট:
- গ্রাফাইট হল কার্বনের একটি রূপ। এটি কার্বনের একটি অ্যালোট্রোপ। 

• গ্রাফাইটের বৈশিষ্ট্য:
- গ্রাফাইট বিদ্যুৎ ও তাপের সুপরিবাহী।
- এটি অস্বচ্ছ স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ। 
- গ্রাফাইট খুব নরম এবং পিচ্ছিল।
- গ্রাফাইট রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল।
- গ্রাফাইটের গলনাঙ্ক উচ্চ (প্রায় ৩৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কার্বনের সবচেয়ে স্থিতিশীল রূপ।
- গ্রাফাইটের স্তরযুক্ত গঠন এর ইলেকট্রনগুলোকে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যেতে সাহায্য করে, ফলে বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
১০,৮৫৩.
কোনো বস্তু t সেকেন্ডে N সংখ্যক স্পন্দন সম্পন্ন করলে বস্তুটির কম্পাঙ্ক কত?
  1. N/t 
  2. 1/t 
  3. t/N
  4. N
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
কোনো বস্তু t সেকেন্ডে N সংখ্যক স্পন্দন সম্পন্ন করে 
⇒ 1  সেকেন্ডে N/t সংখ্যক স্পন্দন সম্পন্ন করে। 

∴ কম্পাঙ্ক, f = N/t 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৫৪.
কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব কোনটি?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ফাঙ্গাস
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
• কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব হলো ব্যাকটেরিয়া। 

• কলেরা:
- কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ডায়রিয়া এবং পানি শূন্যতা (dehydration)।

• রোগের কারণ:
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

• রোগের লক্ষণ:
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া। 
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে ।

• প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা। 
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine – OCV) গ্রহণ। 
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO).
১০,৮৫৫.
নিচের কোনটিতে অক্সালিক এসিডের উপস্থিতি রয়েছে? 
  1. ক) আমলকীতে 
  2. খ) আপেলে
  3. গ) টমেটোতে
  4. ঘ) তেঁতুলে
ব্যাখ্যা

অক্সালিক অ্যাসিড একটি জৈব যৌগ। এটি সাদা স্ফটিকাকার শক্ত পদার্থ এবং পানিতে বর্ণহীন দ্রবণ তৈরি করে। 
এটি অনেক খাদ্যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়, তবে অধিক মাত্রায় অক্সালিক অ্যাসিড গ্রহণ বা দীর্ঘাদিন ত্বকের সংস্পর্শে আসলে তা বিপজ্জনক হতে পারে।
যেমন-
টমেটোতে অক্সালিক এসিড পাওয়া যায়। 
কমলা, আঙ্গুর, লেবু- সাইট্রিক এসিড
তেঁতুল- টারটারিক এসিড
টমেটো- অক্সালিক এসিড
আমলকী - এসকরবিক এসিড
আপেল, আনারস- ম্যালিক এসিড 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি

১০,৮৫৬.
আলোক তরঙ্গ একটি -
  1. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  2. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে।

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: মাধ্যমের কণাগুলি তরঙ্গের প্রসারণের দিকটিতে স্পন্দিত হলে, তরঙ্গটিকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলা হয়।

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: যদি মাধ্যমের কণাগুলি একটি তরঙ্গের প্রসারণের অভিমুখে লম্ব আকারে সরে যায়, তবে তরঙ্গটিকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। আলোক তরঙ্গ একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

যান্ত্রিক তরঙ্গ: জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ: মাধ্যম ছাড়াও বিশেষ ধরণের তরঙ্গ সঞ্চারিত হয় এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বক তরঙ্গ।

পর্যাবৃত্ত গতি: কোনো বস্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। পর্যাবৃত্ত গতি দু' ধরণের। ঘূর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি।

পর্যায়কাল: পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।

স্পন্দন গতি: যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোন বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোন নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে চলে তবে ঐ গতিকে স্পন্দন গতি বা ছন্দিত গতি বলে।

সরল ছন্দিত গতি: যদি পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৫৭.
মা ও শিশুকে টিটেনাস রোগ থেকে রক্ষার জন্য কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়?
  1. Tetanus toxoid
  2. Measles vaccine
  3. Oral Polio Vaccine
  4. Bacillus Calmette Guerin
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কিছু রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- মা ও শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে - 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৮৫৮.
আবহাওয়া সংক্রান্ত বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান কোনটি? 
  1. ক) WMO
  2. খ) WHO
  3. গ) ICDDR 
  4. ঘ) CDC
ব্যাখ্যা
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ( World Meteorological Organization -WMO):
এটি ১৯১ সদস্য রাষ্ট্র ও রাজ্যেগুলোর আন্তঃসরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি সদস্যপদ। ১৮৭৩ সালে,আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা থেকে এর উত্‍পত্তি হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ১৯৫০ সালের ২৩ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১০,৮৫৯.
PVC এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) Polymer-V Carbon
  2. খ) Polymer-V Chloride
  3. গ) Polyvinyl Chloride
  4. ঘ) Polyvinyl Carbon
ব্যাখ্যা
PVC এর সংকেত CH2=CHCl
PVC এর পূর্ণ নাম - পলিভিনাইল ক্লোরাইড।
এটি শক্ত, কঠিন ও পলিথিনের তুলনায় কম নমনীয়। 
পানির পাইপ ও বিদ্যুৎ ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
১০,৮৬০.
জীবিত অস্থিতে পানির পরিমাণ-
  1. ২০ -৩০ %
  2. ৩০ - ৪০ %
  3. ৪০ - ৫০ %
  4. ৭০ - ৮০ %
ব্যাখ্যা
• অস্থি (Bone):
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ।
- এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে।
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে।
- এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়।
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি।
- এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে।
- জীবিত অস্থিকোষে 40% জৈব এবং 60% অজৈব যৌগ পদার্থ নিয়ে গঠিত।
- অস্থি বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৬১.
'বাস্ট তন্তু' কোন টিস্যুর গঠনে অংশগ্রহণ করে?
  1. ভেসেল টিস্যু
  2. জাইলেম টিস্যু
  3. ফ্লোয়েম টিস্যু
  4. যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- ১) জাইলেম টিস্যু ও ২) ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) ট্রাকিড, খ) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, গ) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও ঘ) জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) সীভ নল, খ) সঙ্গী কোষ, গ) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ঘ) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৬২.
উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন ব্যক্তিদের ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ সর্বদা -
  1. ৮৮ মিমি পারদচাপের বেশি
  2. ৯২ মিমি পারদচাপের বেশি
  3. ৯০ মিমি পারদচাপের বেশি
  4. ৯৫ মিমি পারদচাপের বেশি
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্তচাপকে ডাক্তারি ভাষায় হাইপারটেনশন (Hypertension) বলে। শরীর ও মনের স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তচাপ যদি বয়সের জন্য নির্ধারিত মাত্রার উপরে অবস্থান করতে থাকে, তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে।
রক্তের চাপ যদি কম থাকে তা হলে তাকে নিম্নরক্তচাপ বলে। হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে হৃদপিন্ড থেকে ধমনির মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকালে ধমিন গাত্রে কোনো ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ যদি হয় সব সময় ১৬০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি এবং ডায়াস্টোলিক সব সময় ৯৫ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি থাকে, তবে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে বলা যায়।
উত্তেজনা, চিন্তা, বিষন্নতা, নিদ্রাহীনতা বা অন্য কোনো কারণে যদি রক্তচাপ সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে, তবে তাকে হাইপারটেনশন বলা যাবে না এবং এ অবস্থায় কোনো ওষুধরেও প্রয়োজন হয় না।
উচ্চ রক্তচাপ বংশগত (Genetic High blood pressure) হতে পারে। উচ্চরক্তচাপ ভীতির কোনো কারণ নয় তবে নিয়মিত ঔষধ সেবনে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

সুত্রঃ হৃদযন্ত্রের যত কথা, বিজ্ঞান, এসএসসি।
১০,৮৬৩.
রক্ত জমাট বাধায় অংশ নেয় কোনটি?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা ৩ ধরনের। যথা- ১. লোহিত রক্তকণিকা, ২. শ্বেত রক্তকণিকা ও ৩. অনুচক্রিকা। শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়, মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৬৪.
দুধ থেকে দই তৈরিতে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো-
  1. E. coli
  2. Bacillus subtilis
  3. Lactobacillus
  4. Clostridium
ব্যাখ্যা
• দুধ থেকে দই তৈরিতে ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো Lactobacillus.

অন্যদিকে,
• E. coli. - মানব ইনসুলিন তৈরিতে বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ব্যকটেরিয়া।
• Bacillus subtilis - সাবটিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়।
• Clostridium - পাট থেকে পাটের আঁশ পৃথক করতে এই ব্যাকটেরিয়ার অবদান রয়েছে।

ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (১) কক্কাস, (২) ব্যাসিলাস, (৩) স্পাইরিলাম এবং (৪) কমা আকৃতি ।

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
• মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
• একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
• পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে।
• দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
• বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়। 

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১০,৮৬৫.
পরমাণুর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে
  2. এটি একটি যৌগ
  3. এটি স্বাধীনভাবে সব সময় থাকে
  4. এটি দুই বা তার অধিক পরমাণুর সংযোগে গঠিত হয়
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
- পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
- সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
- পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৬৬.
একই মৌলের একাধিক পরমাণুর সংযোগে কোন ধরনের অণু গঠিত হয়? 
  1. যৌগের অণু 
  2. মৌলের অণু 
  3. আয়নিক অণু 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

পরমাণু ও অণু (Atoms and Molecules): 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। যেমন- O2। 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। যেমন-CO2 । 

উৎস:
রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৮৬৭.
তরঙ্গ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) তরঙ্গ অগ্রগামী বা স্থির হতে পারে।
  2. খ) যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
  3. গ) তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করে।
  4. ঘ) তরঙ্গ প্রবাহের কোন দিক নেই।
ব্যাখ্যা
যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—পানির তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ ইত্যাদি।

যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দনের দিকের সঙ্গে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে  অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।
উদাহরণ—স্প্রিং তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ ইত্যাদি।

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু মাধ্যমের কণা স্থানান্তরিত হয় না।
২. তরঙ্গের বিস্তার, কম্পন, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
৩. সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে।
৪. তরঙ্গ অগ্রগামী বা স্থির হতে পারে।
৫. তরঙ্গ প্রবাহের দিক আছে।
৬. তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ,ব্যতিচার,অপবর্তন ঘটে।
৭. তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করে।
৮. যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
৯. তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল, ইত্যাদি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৬৮.
উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়-
  1. পাতাকে
  2. কাণ্ডকে
  3. মূলকে
  4. শাখাকে
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সালোকসংশ্লেষণ হলো এমন একটি জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিল নামক রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোকের শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে।
- এই শক্তির সাহায্যে তারা বায়ু থেকে গ্রহণকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং মাটি থেকে আহরিত পানি (H2O) কে ব্যবহার করে শর্করা জাতীয় খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি করে। এ প্রক্রিয়ায় উপ-উৎপাদ হিসেবে অক্সিজেন (O2) নির্গত হয়।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ- 

- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে। 
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৬৯.
মহাবিশ্বের বয়স প্রায়-
  1. ১২ বিলিয়ন বছর
  2. ১৪ বিলিয়ন বছর
  3. ১৭ বিলিয়ন বছর
  4. ১১ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা

- মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৭ বিলিয়ন প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর। 
- আমাদের সৌরজগৎ ৪.৬ বিলিয়ন বছর, পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে, এবং মানুষ মাত্র কয়েক লক্ষ বছর ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।
- অন্য কথায়, মহাবিশ্ব আমাদের প্রজাতির চেয়ে প্রায় ৫৬,০০০ গুণ বেশি সময় ধরে অস্তিত্বে রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট [লিংক]।

১০,৮৭০.
স্পারসো কী?
  1. ক) ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র
  2. খ) মহাকাশ গবেষণাকারী বেসরকারি সংস্থা
  3. গ) একটি আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তি
  4. ঘ) মহাকাশ গবেষণাকারী স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা
ব্যাখ্যা
- স্পারসো (Space Research and Remote Sensing Organisation-SPARRSO)  মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা দেশের মহাকাশ বিজ্ঞান এবং দূর অনুধাবন প্রযুক্তি গবেষণার সঙ্গে জড়িত।
- পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা-র ক্যাম্পাসে ১৯৬৮ সালে একটি অটোমেটিক পিকচার ট্রান্সমিশন-এপিটি (Automatic Picture Transmission-APT) গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ মহাকাশ প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করে। 
- এই গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে আবহাওয়া উপগ্রহ থেকে সরাসরি প্রকৃত আবহাওয়া চিত্র লাভ করা হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৮৭১.
Vit-A এর অভাবে-
  1. ক) রাতকানা
  2. খ) এনিমিয়া
  3. গ) ক্ষুধামন্দা
  4. ঘ) মানষিক হতাশা
ব্যাখ্যা

ভিটামিন-বি১(B1) এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এছাড়া ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি; ভিটামিন-ডি(D) এর অভাবে রিকেটস; এবং ভিটামিন-এ(A) এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১০,৮৭২.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের নিচের প্রকোষ্ঠ দুইটিকে কি বলে?
  1. Anterior
  2. Posterior
  3. Ventricles
  4. Atria
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ডে ৪টি প্রকোষ্ঠ থাকে। 

• হৃৎপিণ্ড: 
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃৎপিণ্ড। এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।

• হৃৎপিণ্ডের অবস্থান:
 - হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।

• হৃৎপিণ্ডের গঠন:
- মানব হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি ডান ও বাম অলিন্দ (Atria) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি ডান ও বাম নিলয় (Ventricles) নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃৎপিণ্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

অপশন আলোচনা:
→ Anterior Chamber: কর্নিয়া এবং আইরিশের মাঝে অবস্থিত।
→ Posterior Chamber: আইরিশের পিছে এবং ল্যান্সের সামনে এর অবস্থান।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৭৩.
আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা হিসাবে চিহ্নিত কোনটি?
  1. ৯০° দ্রাঘিমারেখা
  2. ১২০° দ্রাঘিমারেখা
  3. ১৬০° দ্রাঘিমারেখা
  4. ১৮০° দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা

১৮০° দ্রাঘিমারেখা:
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
- পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমারেখা।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের নিকটবর্তী গ্রীনিচ নামক স্থানে একটি মান মন্দির বরাবর যে দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল দ্রাঘিমারেখা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- এই মূল মধ্যরেখাটির মান ০° ধরে নেয়া হয় এবং প্রতি ১০ অন্তর অন্তর একটি করে দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা বরাবর সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- অপরদিকে মূল মধ্য রেখা থেকে পশ্চিমে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
- পৃথিবী পৃষ্ঠে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা ৩৬০টি।
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ার ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা মূলত একই মধ্যরেখার পড়ে।
- এই ১৮০° দ্রাঘিমারেখাটি আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা হিসাবে চিহ্নিত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৭৪.
দুর্বলতম মৌলিক বল কোনটি?
  1. ক) মহাকর্ষ বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. ঘ) সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা
- যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।
- মৌলিক বল হলো চারটি- মহাকর্ষ বল, তাড়িতচৌম্বক বল, সবল নিউক্লিয় বল, দুর্বল নিউক্লিয় বল।
- ভরের কারণে মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে।
- মহাকর্ষ একটি সার্বজনীন বল৷ চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষ হলো দুর্বলতম বল।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি;
১০,৮৭৫.
ম্যালকোলজিতে নিচের কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) পাখি
  2. খ) উভচর ও সরীসৃপ
  3. গ) শামুক-ঝিনুক
  4. ঘ) কীটপতঙ্গ
ব্যাখ্যা
• জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে।
• ম্যালকোলজি (Malacology): ম্যালকোলজিতে শামুক- ঝিনুক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
• এন্টোমলজি (Entomology): এন্টোমলজিতে কীট-পতঙ্গ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
• হারপেটোলজি (Herpetology): হারপেটোলজিতে উভচর ও সরীসৃপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
• অর্নিথোলজি (Ornithology): অর্নিথোলজিতে পাখি ও পাখি সম্পর্কে যাবতীয় বিষয়াদি আলোচনা করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৭৬.
বাংলাদেশের কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর নয়?
  1. কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
  2. মুহুরী প্রজেক্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  3. রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
  4. কুতুবদিয়া বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র
ব্যাখ্যা

নবায়নযোগ্য জ্বালানি: 
-
নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস - পারমাণবিক শক্তি, সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস, বায়ো ফুয়েল, জিওথার্মাল, নদীর স্রোত, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য যে, 
- পরমাণুতে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত আছে।
তাই, পরমাণুর সঞ্চিত শক্তি নবায়নযোগ্য শক্তির আধার।

অন্যদিকে,
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় সেটা ইউরেনিয়ামের উপর নির্ভর করে।
- ইউরেনিয়ামের পরিমাণ সীমিত। তাই, এই শক্তি নবায়নযোগ্য নয়। 
- তাই, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শক্তি অনবায়নযোগ্য। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
- পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।
- এটি নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করছে রাশিয়া।
- রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম এতে কারিগরি সহায়তা করছে। অপর রাশিয়ান কোম্পানি টিভিএল জয়েন্ট স্টক এতে জ্বালানি সরবরাহ করবে।
- রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম-২৩৫।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
- চট্রগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয় কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। 
- বর্তমানে মোট পাঁচটি ইউনিট চালু আছে যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।

মুহুরী প্রজেক্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র
- বাংলাদেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপিত হয় ফেনীর সমুদ্র উপকূলীয় সোনাগাজীতে অবস্থিত মুহুরী প্রজেক্টে। 
- বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অবস্থিত ৪টি ২২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন টারবাইন দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

কুতুবদিয়া বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র
- কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় চালু হয় ১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বায়ু চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
- ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ৫০টি টারবাইন দ্বারা ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র -  প্রথম আলো এবং পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১০,৮৭৭.
প্রতি 1 কেলভিন তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের গতিবেগ কতটুকু বৃদ্ধি পায়?
  1. 0.2 ms-1
  2. 1.9 ms-1
  3. 1.6 ms-1
  4. 0.6 ms-1
ব্যাখ্যা

• প্রতি 1 কেলভিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের গতিবেগ প্রায় 0.6 মিটার প্রতি সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) 0.6 ms -1

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 

- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৭৮.
চাঁদে কোন শব্দ করলে তা শোনা যাবে না কেন?
  1. চাঁদে কোন জীব নেই তাই
  2. চাঁদে কোন পানি নেই তাই
  3. চাঁদে বায়ুমন্ডল নেই তাই
  4. চাঁদের মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ অপেক্ষা কম তাই
ব্যাখ্যা
- যেকোনো কম্পনশীল বস্তুই হলো শব্দের উৎস। 
- শব্দ বিস্তারের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন। 
- ভ্যাকুয়াম বা শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলতে পারে না। 
- কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। 
- তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য কারণ শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন হয়। 
- চাঁদে কোনো বিষ্ফোরণ ঘটলে সেই শব্দ কখনোই পৃথিবী থেকে শোনা যাবে না, কারণ চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, তাই শব্দ সঞ্চালিত হয়ে পৃথিবীতে পৌছাতে পারবে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৭৯.
১ মেগা ওয়াট = কত ওয়াট?
  1. ১০ ওয়াট
  2. ১০ ওয়াট
  3. ১০ ওয়াট
  4. ১০১২ ওয়াট
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ক্ষমতা: 
- কাজ এবং শক্তির একক হচ্ছে জুল। 
- শক্তি প্রয়োগ করে কাজ করা যায় এবং কাজ করার হার অর্থাৎ একক সময়ে সম্পন্নকৃত কাজকে ক্ষমতা বলে। 
- কোনো তড়িৎ যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি ব্যয় করে কিংবা অন্য শক্তিতে (তাপ, আলো, যান্ত্রিক ইত্যাদি) রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ ক্ষমতা বলে। 

কিলোওয়াট: 
- কোনো রোধ বা তড়িৎ যন্ত্রের দুই পাশের বিভব পার্থক্য এক ভোল্ট হলে যদি এর মধ্য দিয়ে এক অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহিত হয়, তবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা এক ওয়াট। 
• এক ওয়াট = ১ ভোল্ট × ১ অ্যাম্পিয়ার 
- যখন অনেক বেশি তড়িৎ ক্ষমতা ব্যবহৃত হয় তখন সেটাকে কিলোওয়াট বা মেগাওয়াটে প্রকাশ করা সুবিধাজনক। 
• ১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট বা ১০ ওয়াট এবং 
১ মেগা ওয়াট = ১০ ওয়াট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৮৮০.
বাংলাদেশে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন কবে চালু হয়?
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২০ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন ২০২০ সালে চালু হয়। 
- ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৮ কেজি আম পরিবহন করা হয়েছে।
- ট্রেন ভাড়া পেয়েছে ৪৬ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ টাকা।
- ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চার বছরে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে ৩ হাজার ৯৯৫ টন আম পরিবহন করা হয়েছে।
- এ থেকে রেলের আয় হয়েছে ৪৬ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ টাকা।
- গত চার বছরে ট্রেনটি চলাচলে তেল খরচ হয়েছে ৯২ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
- ফলে এই কয়েক বছরে রেলওয়ের লোকসান হয়েছে ৪৬ লাখ ৬১ হাজার ৮৬০ টাকা।
- ২০২৪ সালে রাজশাহী থেকে সর্বনিম্ন খরচে ঢাকায় আম পরিবহনের জন্য আগামী ১০ জুন থেকে চালু হচ্ছে 'ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন'।
- এ ট্রেনে রাজশাহী থেকে ঢাকায় আম পরিবহনে প্রতি কেজিতে খরচ পড়বে এক টাকা ৪৩ পয়সা।

সূত্র- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট।  
১০,৮৮১.
ফটোইলেকট্রিক কোষের উপর আলো পড়লে কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক) তাপ
  2. খ) কিছুই হয় না
  3. গ) বিদ্যুৎ
  4. ঘ) চুম্বক
ব্যাখ্যা
• ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম প্রভৃতি ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেক্ট্রন নির্গত হতে দেখা যায়।
- ফটোইলেকট্রিক কোষ এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ফটোইলেকট্রিক কোষ হলো বিশেষ এক ধরনের ডায়োড, যার ওপর আলো পড়লে আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১০,৮৮২.
পঁচা ডিমের গন্ধযুক্ত গ্যাস কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম সালফাইড
  2. খ) হাইড্রোজেন সালফাইড
  3. গ) মিথেন
  4. ঘ) ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S), সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) ইত্যাদি পঁচা ডিমের গন্ধযুক্ত গ্যাস।

হাইড্রোজেন সালফাইড:
- এটি একটি রাসায়নিক যৌগ।
- এর রাসায়নিক সংকেত H2S।
- ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল উইলহেম শিলি হাইড্রোজেন সালফাইড আবিষ্কার করেন।
- এটি বর্ণহীন গ্যাস।
- এতে রয়েছে পচা ডিমের গন্ধ।
- সাধারণ প্রাকৃতিক বাতাসের থেকে এই গ্যাস একটু ভারি।
- জীবের জন্য এই গ্যাস বিষাক্ত।

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং PubChem

১০,৮৮৩.
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর আদর্শমান কত?
  1. 9.78 ms-2
  2. 9.81 ms-2
  3. 9.83 ms-2
  4. 9.84 ms-2
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ:

- পৃথিবীর আহ্নিক গতির জন্য বিষুব রেখা অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে কম।
- মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি।
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে যত মেরু অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় g-এর মান তত বাড়তে থাকে।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g -এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g -এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2. 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৮৪.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কত জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. 23 জোড়া
  2. 22 জোড়া
  3. 46 জোড়া
  4. 1 জোড়া
ব্যাখ্যা
• মানব দেহের কোষে ২২ জোড়া অটোজোম থাকে ৷

- মানব দেহের কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে ৷
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম ।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই ।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৮৫.
কোন বিক্রিয়াটিতে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ইস্পাতকে চুম্বকে পরিণত করলে
  2. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হওয়া
  3. পানিতে চুন যোগ করলে
  4. পানিতে খাদ্য লবণ যোগ করলে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) পানিতে চুন যোগ করলে

চুনকাম এবং তাপ সৃষ্টি
- বিল্ডিং-এ যখন রং করা হয় তখন সবার আগে চুনকাম করা হয়।
- বড় একটি পাত্রের মধ্যে পানি নিয়ে ধীরে ধীরে চুনের বড় বড় টুকরা ঢেলে দেওয়া হয়।
- পানিতে চুন গলতে থাকে এবং পানির তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
- একসময় পানি ফুটতে থাকে। এক্ষেত্রে চুনের সাথে পানির বিক্রিয়ায় তাপের সৃষ্টি হয়েছে।
- রাসায়নিক সমীকরণ: CaO (s) + H₂O (l) → Ca(OH)₂ + তাপ
- তাই এখানে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change)
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না।
- অর্থাৎ এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে।
- উদাহরণ ১: একখন্ড ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করাতে থাকলে এটি এক সময় লোহাকে আকর্ষণ করার এক বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। এটি অবশ্যই ভৌত পরিবর্তন, কেননা এটি ইস্পাতের অস্থায়ী পরিবর্তন এবং এর ফলে কোনো নতুন অণুর সৃষ্টি হয় না।
- উদাহরণ ২: কিছু পরিমাণ খাবার লবণকে একটি কাঁচের পাত্রে নিয়ে পানি যোগ করে দ্রবণ তৈরী কর। এ দ্রবণকে বিকারে নিয়ে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়। কঠিন অবশেষ হিসেবে লবণ পাওয়া যায়। কঠিন অবস্থায় বা দ্রবীভূত অবস্থায় উপাদানসমূহের গঠন ও সংযুক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং এটিও ভৌত পরিবর্তন।
- উদাহরণ ৩: পরীক্ষাগারে অল্প পরিমাণ অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডকে তাপ দিলে তা বাষ্পীভূত হয়ে নলের শীতল অংশে জমা হয়। এটিও ভৌত পরিবর্তন। এ পরিবর্তনে নতুন কোনো উপাদানের সৃষ্টি হয় না, শুধু অবস্থার পরিবর্তন ঘটে মাত্র।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৮৬.
এক্সরে রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত মিটার?
  1. ক) 4 x 10-7 - 7 x 10-7
  2. খ) 7 x 10-7 - 1 x 10-3
  3. গ) 1 x 10-11 - 1 x 10-8
  4. ঘ) 1 x 10-3 - 1 x 10-1
ব্যাখ্যা

Source:gsfc.nasa.gov
১০,৮৮৭.
মানবদেহে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস কোন খাদ্য উপাদান?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. শর্করা 
  4. ভিটামিন 
ব্যাখ্যা

- আমিষ বা প্রোটিন হলো মানবদেহে নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস। প্রোটিন মূলত অ্যামিনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতিটি অ্যামিনো অ্যাসিডের অণুতে নাইট্রোজেন উপস্থিত থাকে। অন্যান্য প্রধান খাদ্য উপাদানের (শর্করা ও স্নেহ) তুলনায় আমিষই শরীরে কার্যকরভাবে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে, যা দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য অপরিহার্য। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১০,৮৮৮.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ - 
  1. লাল লিটমাসকে নীল করে
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. নীল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. নীল লিটমাসকে সবুজ করে
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৮৯.
পেট্রোল ইঞ্জিন সফলতার সাথে কে চালু করেন? 
  1. জেমস ওয়াট 
  2. ড. অটো
  3. কার্নো
  4. কেলভিন 
ব্যাখ্যা

- ড. নিকোলাস অটো প্রথম পেট্রোল ইঞ্জিন তৈরি করেন। 

অন্যদিকে,
- জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের আবিষ্কার করেন। 
- তাপ গতিবিদ্যার জনক লর্ড কেলভিন, তিনি ১৮৫০ সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন। 
- তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে। 
- কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১০,৮৯০.
পরিবাহকের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ করার ফলে রোধ R কেমন পরিবর্তিত হবে?
  1. R/2
  2. 3R
  3. R/4
  4. 5R
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে। 

- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
সুতরাং তাপমাত্রা ও উপাদান অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর রোধের দুটি সূত্র প্রযোজ্য। 
যথা- 

১) দৈর্ঘ্যের সূত্র: 
- তাপমাত্রা এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং দৈর্ঘ্য। হলে সূত্রানুসারে R ∝ I, যখন এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর দৈর্ঘ্য যত বড় হবে রোধ তত বৃদ্ধি পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের 1m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 10 m দৈর্ঘ্যে পরিবাহীর রোধ 100 Ω হবে। 

২) প্রস্থচ্ছেদের সূত্র: 
- অন্যান্য ভৌত অবস্থা, তাপমাত্রা এবং দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীর রোধ-এর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিক। 
- পরিবাহীর রোধ R এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল A হলে সূত্রানুসারে R ∝ 1/A, যখন এর দৈর্ঘ্য অপরিবর্তিত থাকে। 
অর্থাৎ, স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল যত বড় হবে রোধ তত হ্রাস পাবে। 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2
প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 10 Ω হয় তবে 2m2
প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ 5 Ω হবে।

অনুরূপভাবে, 
- যদি স্থির তাপমাত্রায়, একই পদার্থের এবং নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের 1m2
- প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R Ω হয় তবে 2m2
- প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের পরিবাহীর রোধ R/2 Ω হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৯১.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সর্বাধিক?
  1. ইস্পাত
  2. পানি 
  3. বায়ু 
  4. শূন্যস্থান
ব্যাখ্যা

- ইস্পাত একটি কঠিন মাধ্যম যেখানে কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং দৃঢ়ভাবে বিন্যস্ত থাকে, তাই এখানে শব্দের বেগ সর্বাধিক। 

শব্দ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: পানি) শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয়। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মত তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৮৯২.
এভারেস্ট শৃঙ্গে g-এর মান কত?
  1. 9.78 ms-2
  2. 9.81 ms-2
  3. 9.83 ms-2
  4. 9.85 ms-2
ব্যাখ্যা
অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্বনিম্ন প্রায় 9.78 ms-2.
- মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 ms-2.
- এভারেস্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 ms-2.
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে g-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। 
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 ms-2.
 
তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৯৩.
নদীর পানির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. COD > BOD
  2. COD < BOD
  3. COD = BOD
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological/Biochemical Oxygen Demand - BOD):
পানিতে উপস্থিত অনুজীব কর্তৃক জৈব ও অজৈব পদার্থকে বিয়োজিত করতে প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড BOD বলে।
পানির উৎকর্ষতা নির্ধারণে BOD নির্দেশক রূপে কাজ করে।

রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand - COD):
পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না।
এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়। এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে। পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (COD) বলে।

উল্লেখ্য যে, কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়। পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি।

উৎসঃ পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৮৯৪.
বাংলাদেশের জাতীয় পশুর বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. ক) Homo sapiens
  2. খ) Tenualosa ilisha
  3. গ) Panthera tigris
  4. ঘ) Copsychus saularis
ব্যাখ্যা

Copsychus saularis L. (দোয়েল) - জাতীয় পাখি
Tenualosa ilisha Hamilton (ইলিশ) - জাতীয় মাছ
Panthera tigris L. (বাঘ) - জাতীয় পশু

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১০,৮৯৫.
কোন দ্রবণের pH মান 7 এর কম হলে লিটমাস পেপার কোন রং ধারণ করে?
  1. ক) নীল
  2. খ) হলুদ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
pH মান জানার জন্য সাধারণত ইউনিভার্সাল ইন্ডিকেটর, pH পেপার বা pH মিটার ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১০,৮৯৬.
হাতে হাত ঘষলে কোন রূপান্তর ঘটে?
  1. যান্ত্রিক → তাপ শক্তি 
  2. তাপ → যান্ত্রিক শক্তি 
  3. আলোক → রাসায়নিক শক্তি 
  4. রাসায়নিক → তড়িৎ শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- এখানে কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হলো-
১। যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

২। তাপ শক্তির রূপান্তর: 
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়। 

৩। আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৪। রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়। 
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৫। বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৬। শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

৭। চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকন ও বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৮। নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর: 
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়। 
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৮৯৭.
একজন লোক বই পড়তে গেলে মাথা ব্যথা করে। তাঁর কী ধরনের চশমা ব্যবহার করতে হবে?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. সমবাতল
  4. সমতালোত্তল
ব্যাখ্যা
• একজন লোক বই পড়তে গেলে মাথা ব্যথা করে। তাঁর কাছের বস্তু দেখতে সমস্যা হচ্ছে। অর্থাৎ, উত্তল লেন্স ব্যবহার করতে হবে। 

চোখের ত্রুটি 
- স্বাভাবিক চোখের দৃষ্টির সীমা চোখের সামনে 25 সেন্টিমিটার থেকে অসীম পর্যন্ত (যদিও দূরের বস্তু ছোট দেখা যায়)। এই দূরত্বকে চোখের পাল্লা বলে।
- যদি কোনো চোখ এই পাল্লার মধ্যে কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে না পায়, তা হলে সেই চোখকে ত্রুটিপূর্ণ বলা হয়।
- চোখে প্রধানত: দু ধরণের ত্রুটি দেখা যায়-
♦ হ্রস্ব দৃষ্টি বা নিকট বদ্ধ দৃষ্টি এবং
♦ দীর্ঘ দৃষ্টি বা দূর বদ্ধ দৃষ্টি । 

দীর্ঘ দৃষ্টি বা দূর বদ্ধ দৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া (Long sight or Hypermetropia)
এই ত্রুটিগ্রস্থ মানুষ দূরের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে, কিন্তু কাছের বস্তু ভালভাবে দেখতে পারে না।
- চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকট দূরত্ব দূরে সরে যায় বা বেড়ে যায়। চক্ষু গোলকের ব্যাসার্ধ কমে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয় । 
- এই ত্রুটি দূর করার জন্যও চোখে চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে ত্রুটির পরিমাণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ফোকাস দৈর্ঘ্যের বা পাওয়ারের উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয়। উত্তল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিকে পরিমাণ মতো সংকুচিত করে, ফলে ফোকাসটি রেটিনাতে পড়ে এবং বস্তুর সুস্পষ্ট বিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  (edited)
১০,৮৯৮.
ফুলানো বেলুনের মুখ ছেড়ে দিলে বাতাস বেরিয়ে যাবার সঙ্গে বেলুনটি ছুটে যায়। কোন ইঞ্জিনের নীতির সঙ্গে এর মিল আছে?
  1. ক) বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  2. খ) অন্তর্দহন ইঞ্জিন
  3. গ) স্টারলিং ইঞ্জিন
  4. ঘ) রকেট ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা
রকেটের পেছনের অংশ হতে গ্যাস প্রচন্ড বেগে নির্গত হয় এবং প্রতিক্রিয়া বল অনুযায়ী প্রচন্ড বেগে সামনের দিকে এগিয়ে যায় রকেট।
একই নীতি ফুলানো বেলুনের বেলায়ও কার্যকর।

উৎসঃ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বই
১০,৮৯৯.
কোন তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়? 
  1. ০° C
  2. ৪° C
  3. ৩৩° C
  4. ১০০° C
ব্যাখ্যা
পানির ধর্ম: 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
- ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। 
- ০°C তাপমাত্রায় পানি বরফে পরিণত হয়। 
- ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ১গ্রাম/সি.সি. বা ১০০০ কেজি/মিটার৩। 
- ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি; বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১০,৯০০.
GPS সিস্টেম কোন তরঙ্গ ব্যবহার করে?
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. আল্ট্রাভায়োলেট
  3. এক্স-রে
  4. ইনফ্রারেড
ব্যাখ্যা
◉ GPS (Global Positioning System) স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে সিগন্যাল পাঠায়। এগুলো মূলত L-band microwave frequencies (1–2 GHz) এ কাজ করে, যা রেডিও ওয়েভ স্পেকট্রামের মধ্যে পড়ে।

GPS: 
- GPS এর পূর্ণরূপ Global Positioning System।
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম।
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে।
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।
- এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
খ) আল্ট্রাভায়োলেট (UV): জীবাণুনাশক, পানি বিশুদ্ধকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

গ) এক্স-রে (X-ray): চিকিৎসায় হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ছবি তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ঘ) ইনফ্রারেড (Infrared): রিমোট কন্ট্রোল, নাইট ভিশন ক্যামেরা ও তাপ সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: 
১। ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
২। U.S. Government GPS Official Website. [লিংক]