বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০৮ / ১৪০ · ১০,৭০১১০,৮০০ / ১৪,০৮০

১০,৭০১.
নিচের কোন মৌল ক্ষার ধাতুর উদাহরণ? 
  1. রূপা (Ag)
  2. ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
  3. সোনা (Au)
  4. সোডিয়াম (Na)
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রুপা (Ag) ও সোনা (Au)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭০২.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মে কোন পদার্থ থাকে, যা আলোর সংস্পর্শে আসলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে? 
  1. সিলভার নাইট্রেট 
  2. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট 
  3. কপার সালফেট 
  4. সিলভার ব্রোমাইড 
ব্যাখ্যা

আলোক শক্তির রূপান্তর: 
আলোক শক্তি → রাসায়নিক শক্তি: 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে চিত্র তৈরি হয়। ফটোগ্রাফিক ফিল্মে সিলভার ব্রোমাইড (AgBr) বা সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) থাকে, যা আলোর সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে, ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → তাপ শক্তি: 
- হারিকেনের চিমনির কাচ স্পর্শ করলে গরম লাগে, কারণ আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আলোক শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি: 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপন্ন হলে পরে তা গ্রহণকারী প্রাণীর দেহে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১০,৭০৩.
ফটোসিন্থেসিস গাছের কোন অংশে হয়?
  1. ক) গাছের সবুজ অংশে
  2. খ) গাছের সকল অংশে
  3. গ) কান্ডে
  4. ঘ) মূলে
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ/ ফটোসিন্থেসিস :
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়াটিতে সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোক শক্তিকে ATP এবং NADPH+H নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।




- সালোকসংশ্লেষণের জন্য ক্লোরোফিল অপরিহার্য উপাদান। ক্লোরোফিল সবুজ পাতার প্লাস্টিডে থাকে। তাই সবুজ পাতাই সালোকশংশ্লেষণের প্রধান স্থান।

উৎস: মাধ্যমিকের জীববিজ্ঞান বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যাল।
১০,৭০৪.
নিয়ত বায়ু সম্পর্কে কোনটি সঠিক? 
  1. শুধুমাত্র উষ্ণ অঞ্চলে থাকে
  2. স্থানীয় প্রভাব দ্বারা পরিবর্তিত হয়
  3. সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়
  4. যেকোন সময় যেকোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭০৫.
রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে বলা হয় -
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. ভলকানাইজিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রোপ্লেটিং:
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলা হয়।
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়।

• গ্যালভানাইজিং:
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়।

• ভলকানাইজিং:
- রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে ভলকানাইজিং বলে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭০৬.
কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়?
  1. তামা
  2. লোহা
  3. রূপা
  4. রাবার
ব্যাখ্যা
• যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই তড়িৎপ্রবাহ চলাচল করতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- যেমন: তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।

• যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ পরিবহনের জন্য কোন মুক্ত ইলেকট্রন নেই, সেগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থ।
- যেমন: প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ, গ্লাস ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭০৭.
কাস্টম কর্মকর্তারা চোরাচালানের দ্রব্যাদি খুঁজে বের করতে ব্যবহার করেন-
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) এক্স রে
ব্যাখ্যা

• এক্স-রের গােয়েন্দা বিভাগে ব্যবহার:
- কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখলে তা খুঁজে বের করতে ব্যবহার করা হয়।
- কাস্টম কর্মকর্তারা চোরাচালানের দ্রব্যাদি খুঁজে বের করতে ব্যবহার করেন। কোনাে নিষিদ্ধ পণ্য কোনো কাঠের বাক্স বা ধাতুর বাক্সে থাকলে এদের মধ্য দিয়ে এক্স-রে প্রবেশ করিয়ে তা জানা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন।

১০,৭০৮.
সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় আলোর কোন ধর্ম ব্যবহার করা হয়?
  1. বিচ্যুতি
  2. প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. বিক্ষেপণ
ব্যাখ্যা
সিটিস্ক্যান (CT Scan):
- সিটিস্ক্যান এর অর্থ ((C → Computed, T→ Tomography Scan) চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া।
- আলোর প্রতিসরণের সাথে জ্যামিতিক হিসেবের মাধ্যমে দ্বিমাত্রিক ছবিগুলোকে ত্রিমাত্রিক করা হয়, এতে কোনো বস্তুর অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়।

এম.আর.আই (MRI):
- এম.আর.আই এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- এম.আর.আই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়।
- নিউক্লিয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিকনীতির উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্র কাজ করে থাকে।
- এম.আর.আই হলো একটি কৌশল যা শরীরের যে কোনো অঙ্গের (পরম ও সংবেদনশীল) পরিষ্কার ও বিস্তারিত ছবি তুলতে পারে।
- এটি শরীরের যে কোনো অঙ্গের জন্য ব্যবহার করা হলেও মস্তিষ্ক, পেশি এবং টিউমার শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।

ই.সি.জি (ECG):
- ইসিজি শব্দের সম্প্রসারিত অর্থ হলো ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (Electrocariogram)। ইসিজি হলো সবচেয়ে সহজ, ব্যাথাহীন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন একটি পরীক্ষা।
- ইসিজি বা ইলেট্রোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদপিন্ডের বর্তমান ও পূর্বের সমস্যা বোঝা যায়।
- হৃদপিন্ড সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, হৃদকম্পেনের বিকশিত হার বেশি, কম বা অনিয়মিত কিনা। শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গে রক্ত চলাচল সঠিক আছে কিনা তাও এর মাধ্যমে বুঝা যায়।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭০৯.
কত ডিগ্রি তাপমাত্রাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়?
  1. ৩৮-৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ৩৭-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ৩৭.৫-৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ৩৯.১-৪০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
- ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপপ্রবাহ
- ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে।
- ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে।
- আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

তাপপ্রবাহের সংজ্ঞা
- কোনো স্থানের ভূপৃষ্ঠের উপরিস্থ (সাধারণ ভূমি থেকে ২ মিটার উচ্চতায়) বায়ুর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (সাধারণত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা) কমপক্ষে পরপর দিন দিন ওই স্থানের বছরের ওই একই সময়ের বায়ুর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার শীর্ষস্থানীয় ১৫ শতাংশ তাপমাত্রার মধ্যে পড়ে, তবে তাপমাত্রার সেই অবস্থাকে তাপপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। 

উৎস: WMO ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। 
১০,৭১০.
চুলের pH এর মান কত এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৫.২
  3. গ) ৫.৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর মান ৫.৫।
- ত্বকের pH এর মান ৫.৫ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- ত্বকের pH এর মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল। এর pH এর মান হলো ৫.০।
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH এর মান ৫.৫ এর কাছাকাছি থাকাই উচিত।
- চুলের pH এর মান ৬ এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭১১.
একটি সাধারণ ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য কত?
  1. ক) ১.০ V
  2. খ) ১.৫ V
  3. গ) ২.০ V
  4. ঘ) ২.৫ V
ব্যাখ্যা
ব্যাটারি
- ব্যাটারি বলতে একাধিক কোষের (Cell) সমন্বয়কে বুঝানো হয়। 
- একটি তড়িৎ ব্যাটারি বলে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে ব্যাটারি হলো একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়। 
- ব্যাটারি সেলে ব্যবহারের জন্য তড়িৎ শক্তি জমা থাকে। 
- ব্যাটারিতে সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। একটি অ্যানোড, একটি ক্যাথোড এবং মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট। 
- ব্যাটারি সেলের বিভব পার্থক্য সবসময় সমান থাকে বলে এগুলোকে ডিসি সাপ্লাই বলা হয়। 
- আমাদের বাসা-বাড়িতে যে বৈদ্যুতিক সাপ্লাই দেওয়া হয়, সেগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার ধনাত্মক থেকে ঋনাত্মক বিভবে পরিবর্তিত হয় বলে সেগুলোকে এসি (Alternating Current) বলা হয়।

- একটি সাধারন ব্যাটারি সেলে বিভব পার্থক্য মাত্র ১.৫ V
- সেই তুলনায় আমাদের বাসার বিদ্যুৎ সাপ্লাই ২২০ V।
- বিদ্যুৎ প্রবাহ ৫০V থেকে বেশি হলে আমরা সেটি অনুভব করতে পারি।
- আবার ২২০V সাপ্লাই থেকে অনেক বড় ইলেকট্রিক শক খাওয়া সম্ভব এবং এই ইলেকট্রিক শকের কারণে শরীরের ভেতর দিয়ে যথেষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ হয় বলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭১২.
‘লিথোফাইটিক শৈবাল' পাওয়া যায়-
  1. পাথরের গায়ে
  2. জলাশয়ে পানির নিচে
  3. অন্য শৈবালের গায়ে
  4. উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭১৩.
পেরিস্কোপে ব্যবহৃত দুটি দর্পণ পরস্পরের সাথে কেমন অবস্থানে থাকে?
  1. পরস্পর লম্ব
  2. পরস্পর সমান্তরাল
  3. পরস্পর বিপরীতমুখী
  4. এলোমেলোভাবে স্থাপিত
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়, এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১০,৭১৪.
পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কোথায় অবস্থান করে?
  1. পানির উপরিভাগে
  2. পানির মধ্যভাগে
  3. পানির আন্তঃআণবিক স্থানে
  4. পানির তলদেশে
ব্যাখ্যা
দ্রবীভূত অক্সিজেন:
- পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি থাকে পানির উপরিভাগে, এবং গভীরতার সাথে সাথে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে।

⇒ প্রকৃতপক্ষে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন পানির সকল স্তর তথা উপরিভাগ, মধ্যভাগ এবং তলদেশ সকল স্তরেই থাকে।
- মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন।
- যারা বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না তাদের বেঁচে থাকার জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন, এখানে দ্রবীভূত মানে হচ্ছে পানির মধ্যে অক্সিজেনের অণুগুলো অবস্থান করছে।
- কীভাবে করছে? আণবিক স্তর বিবেচনায়, পানির আন্তঃআণবিক স্থানে।
- The United States Geological Survey অনুসারে, প্রতি মিলিয়ন পানির অণুতে অক্সিজেনের প্রায় দশ অণু পর্যন্ত দ্রবীভূত হতে পারে।

যাইহোক, প্রশ্ন যদি এটা দেয়া হতো, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি কোথায় অবস্থান করে?
সঠিক উত্তর: ক) পানির উপরিভাগে; এটা হতো।
যহেতু,
প্রশ্নে এটা চাওয়া হয়নি যে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন "সবচেয়ে বেশি" কোথায় অবস্থান করে।
দ্বিতীয়ত, গ) পানির আন্তঃআণবিক স্থানে - এই অপশনটি অকারণে দেয়া হয়নি।
তাই সঠিক উত্তর, পানির আন্তঃআণবিক স্থানে।
১০,৭১৫.
তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের ক্ষেত্রে কোন এককটি ব্যবহৃত হয়?
  1. অ্যাম্পিয়ার
  2. ভোল্ট
  3. ওহম
  4. কুলম্ব
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।
- চার্জের একক হলো কুলম্ব।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১০,৭১৬.
পোলিও রোগের টিকার নাম কী?
  1. ওপিভি
  2. বিসিজি
  3. ডিপিটি
  4. পিভিসি
ব্যাখ্যা
• পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি।

• ওপিভি (Oral Polio Vaccine):
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন।
- ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- এটি দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা দেহে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

• পোলিও রোগের লক্ষণসমূহ:
- মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
- জ্বর থাকে।
- শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়।
- শিশু দাঁড়াতে চায় না।
- উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে।
- দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না।
- শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- যক্ষা রোগের টিকার নাম বিসিজি।
- ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকার নাম ডিপিটি।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বাংলাপিডিয়া।
১০,৭১৭.
কোন ধরনের লেন্সের চশমা ব্যবহার করলে হ্রস্বদৃষ্টির সমস্যা দূর হয়?
  1. অবতল
  2. বাই ফোকাল
  3. উত্তলাবতল
  4. উত্তল
ব্যাখ্যা
হ্রস্বদৃষ্টি বা ক্ষীণদৃষ্টি (Myopia or Short Sight):
- মানুষ যখন তার চোখ দ্বারা কাছের জিনিস দেখতে পায় কিন্তু দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পায় না, তখন চোখের এই জুটিকে হ্রস্বদৃষ্টি বলা হয়।
- এক্ষেত্রে চোখের দূর বিন্দুটি অসীম দূরত্ব অপেক্ষা কিছুটা নিকটে অবস্থান করে এবং বস্তুটিকে স্পষ্ট দৃষ্টির নূন্যতম দূরত্ব হতে আরও কাছে আনলে স্পষ্ট দেখা যায়।
- সাধারণত অক্ষিগোলকের ব্যসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা বেড়ে গেলে এই ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়।
- ফলে দূরের বস্তু হতে নির্গত আলোক রশ্মিগুচ্ছ চোখের লেন্সে প্রতিসরিত হয়ে রেটিনার সামনে কোনো বিন্দুতে প্রতিবিম্ব গঠন করে।
- এজন্য লক্ষ্যবস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না।

প্রতিকার:
- এই ত্রুটি দূর করার জন্য অবতল লেন্সের চশমা ব্যবহার করতে হয় যার ফোকাস দূরত্ব হবে চোখের দূরবিন্দুর দূরত্বের সমান।
- চশমার অবতল লেন্স লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত রশ্মিগুচ্ছকে প্রয়োজন মতো অপসারিত করে।

দীর্ঘদৃষ্টি বা দূরদৃষ্টি (Hyepermetropia or long sight):
- যখন চোখ দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় কিন্তু কাছে বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় না তখন এই ত্রুটিকে দীর্ঘদৃষ্টি বলা হয়।
- এক্ষেত্রে চোখের স্পষ্ট দর্শনের নিকটতম বিন্দু দূরে সরে যায়।
- সাধারণত চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা হ্রাস পেলে বা অক্ষি গোলকের ব্যাসার্ধ হ্রাস পেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়।
- এই ত্রুটির ফলে লক্ষ্যবস্তু থেকে নির্গত আলোক রশ্মি চোখের লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রতিসরনের পর রেটিনার পিছনের কোনো বিন্দুতে মিলিত হয়।
- ফলে চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় না।

প্রতিকার:
- এই ত্রুটি দূর করার জন্য উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার করতে হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭১৮.
মেডিক্যাল আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজিংয়ে কত ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ প্রয়োগ করা হয়?
  1. ০.০১-০১ মেগাহার্জ
  2. ১-১০ মেগাহার্জ
  3. ১০-২০ মেগাহার্জ
  4. ২০-৩০ মেগাহার্জ
ব্যাখ্যা

◉ আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasonography)–তে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গ হলো Ultrasound, যার কম্পাঙ্ক সাধারণত ১-১০ মেগাহার্জ। 

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
– আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
– উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
– রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
– আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
– এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
– প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
– আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
– এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১০,৭১৯.
নিচের কোনটি ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ?
  1. ক) হৃদপিণ্ডের পেশী
  2. খ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালী
  3. গ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর পৌষ্টিকনালী
  4. ঘ) মানুষের হাতের পেশী
ব্যাখ্যা
মানুষের হাত ও পায়ের পেশী হল ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ। 

মানব দেহের যে সকল পেশী স্ব-ইচ্ছাই সংকুচিত, প্রসারিত বা চালনা করা যায় তাকে ঐচ্ছিক পেশী বলে ।
ঐচ্ছিক পেশির উদাহরণ – মানুষের পায়ের পেশি ।

মানব দেহের যে সকল পেশি ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত, প্রসারিত বা চালনা করা যায় না তাকে অনৈচ্ছিক পেশি বলে ।
অনৈচ্ছিক পেশির উদাহরণ – পাকস্থলীর গাত্রের পেশি

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১০,৭২০.
HIV ভাইরাসের আক্রমণে কী ঘটে?
  1. দেহের হাড় দুর্বল হয় 
  2. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয় 
  3. দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমে 
  4. দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

এইডস (AIDS): 
- এইডস একটি সংক্রামক রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 
- এইডস হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (AIDS)। 
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয়। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। 
- মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। 
- Human Immune Deficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাসের আক্রমণে দেহের এই স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় যার ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ যেমন-শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার ইত্যাদি হয়। 
- এইডস এর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই একে মরণব্যাধি রোগ বলা হয়। 

এইডস সংক্রমণ: 
- এইডস যেহেতু সংক্রামক রোগ সেহেতু এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। 
অর্থাৎ, এইডস রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আসলে অন্য ব্যক্তিরও এইডস হতে পারে। 
- বিভিন্নভাবে এইডস সংক্রমিত হয়। 
যেমন- 
১। এইডস-এর জীবাণু একজন মানুষের দেহে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং বায়ু সংস্পর্শে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। 
২। যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে HIV সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। 
৩। এইডস আক্রান্তগর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মধ্যে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৪। এইডস আক্রান্ত স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ হতে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৫। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে ও সিরিঞ্জের সাহায্যে ড্রাগ ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যক্তির দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৬। রক্ত, বীর্য, লালা ও অশ্রুর মাধ্যমে এ রোগ অসুস্থ দেহ হতে সুস্থ দেহে সংক্রমিত হতে পারে। 
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইডস দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। 
- এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত না করে তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 
- খাদ্য, পানি, কীটপতঙ্গ বা রোগীর সাধারণ স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭২১.
নিচের কোনটি জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির কারণ?
  1. ক) পৃথিবীর কেন্দ্রমুখী বল।
  2. খ) বৃষ্টিপাত
  3. গ) পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

টাইড (জোয়ার-ভাটা) এর কারণ প্রধানত ২টি।
১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব, এবং
২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৭২২.
কোনটি অজৈব যৌগ?
  1. CH4
  2. C6H5NH2
  3. Na2CO3
  4. CH3OH
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ:
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।
যেমন: মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭২৩.
বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন কোন মৌল থেকে?
  1. পোলোনিয়াম
  2. ইউরোনিয়াম
  3. থোরিয়াম
  4. রেডিয়াম
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল ১৮৯৬ সালে প্রথম ইউরোনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।
পরবর্তীকালে রাদারফোর্ড, মেরি কুরি, পিয়ারে কুরি এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীরা ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে অন্যান্য মৌলের তেজষ্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

[উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
১০,৭২৪.
কোন লোহায় বেশি পরিমাণ কার্বন থাকে?
  1. ক) কাস্ট আয়রন বা পিগ আয়রন
  2. খ) রট আয়রন
  3. গ) ইস্পাত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন/স্টেইনলেস স্টিল (ইস্পাত) প্রস্তুত করা হয়।
- মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।
- কাস্ট আয়রন বা পিগ আয়রনে ২ থেকে ৪% কার্বন থাকে।
- ইস্পাতে ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা। 
১০,৭২৫.
কোন ভাষা থেকে 'সাইক্লোন' শব্দটির উৎপত্তি?
  1. ক) গ্রিক
  2. খ) ল্যাটিন
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) জাপানিজ
ব্যাখ্যা
গ্রিক শব্দ ‘Kyklos’, থেকে সাইক্লোন শব্দটির উৎপত্তি।
যার অর্থ Coil of Snakes বা সাপের কুন্ডলী।
সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় বিভিন্ন নামে পরিচিত।
যেমন-চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
দক্ষিণ এশিয়াতে সাইক্লোন,
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাতে হারিকেন,
দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টাইফুন, ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই এবং অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলি বলা হয়।
বাংলাদেশে এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় বেশি দেখা যায়।
১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ছিল সবচাইতে প্রলয়ংকরী।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
১০,৭২৬.
"দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে।" - সূত্রটি কার?
  1. স্নেল
  2. হাইগেন
  3. রবার্ট হুক
  4. ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
প্রতিসরণ (Refraction): 
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
অর্থাৎ, দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে। 
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে। 

প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction): 
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে। 
- ১৬২০ সালে বিজ্ঞানী স্নেল (Willebrord Snellius) সর্বপ্রথম এ সূত্র প্রকাশ করেন। তাই এ সূত্রগুলোকে স্নেলের সূত্রও বলা হয়। 

- সূত্র দু'টি হলো- 
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে। 
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব। 
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭২৭.
গর্ভবর্তী মায়ের খিচুনী হলে নিচের কোন medicine দিবেন?
  1. Inj-MagSO4
  2. Inj-Phenytonin
  3. Inj-Diazepam
  4. Inj-Ceftrioxene
ব্যাখ্যা
সংক্ষেপে "Inj-MagSO4" ম্যাগনেসিয়াম সালফেট নামে পরিচিত একটি ইনজেকশনযোগ্য ওষুধকে বোঝায়।
- ম্যাগনেসিয়াম সালফেট বিভিন্ন থেরাপিউটিক উদ্দেশ্যে ওষুধের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যবহৃত ওষুধ।


খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ:
এটি একলাম্পসিয়া বা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট ধরণের খিঁচুনি  নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

Preeclampsia and Eclampsia: 
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট গর্ভবতী ব্যক্তিদের দেওয়া হয় যাদের প্রিক্ল্যাম্পসিয়া (উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য উপসর্গ দ্বারা চিহ্নিত একটি অবস্থা) বা এক্লাম্পসিয়া (যাতে প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণ ছাড়াও খিঁচুনি অন্তর্ভুক্ত) হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বা রয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১০,৭২৮.
'ঈশ্বর কণা' কোনটি?
  1. ক) হিগস কণা
  2. খ) কোয়ার্ক-গ্লুওন প্লাজমা কণা
  3. গ) লেপটন কণা
  4. ঘ) স্ট্রিং কণা
ব্যাখ্যা

‘হিগস কণা’ পদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি মৌলিক কণা। সুইজারল্যান্ডের সার্ন এর লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার যন্ত্রে ২০১২ সালে এই কণার অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
পদার্থবিজ্ঞানী লিওন লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন। তবে হিগসের নিজেরও এই নাম পছন্দ হয় নি।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই, ২য় পত্র ও CERN ওয়েবসাইট।

১০,৭২৯.
টেলিভিশন আবিষ্কার করেন -
  1. ক) এডিসন
  2. খ) ইস্টম্যান
  3. গ) অস্টিন
  4. ঘ) জন এল বেয়ার্ড
ব্যাখ্যা
জন এল বেয়ার্ড  টেলিভিশন আবিষ্কার করেন। 

- গ্রিক শব্দ ‘Tele’ অর্থ দূরত্ব, আর ল্যাটিন শব্দ ‘Vision’ অর্থ দেখা, এই দুই ভাষার দুটি শব্দ মিলেমিশে সৃষ্টি হয়েছে ‘ Television‘ শব্দটি ।
- ইহা বর্তমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অন্যতম প্রকাশ ও প্রচার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। 
- ১৯২৬ সালে জন এল বেয়ার্ড  টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- টেলিভিশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালু হয় ১৯৪০ সালে, অতঃপর ১৯৪৫ সালে যন্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।  
১০,৭৩০.
বর্ণহীন প্লাস্টিড কোনটি?
  1. ক) ক্রোমোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. ঘ) ক্রোমাটোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষনীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।
লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন অর্থাৎ এদের কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ক্রোমোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ ধারণ করে এবং সবুজ প্লাস্টিডের নাম ক্লোরোপ্লাস্ট।
ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৩১.
আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থায় ধাতু নির্মিত অক্ষরের প্রয়োজন ফুরাবার বড় কারণ হলো-
  1. কম্পিউটার
  2. অফসেট পদ্ধতি
  3. ফটো লিথোগ্রাফী
  4. প্রসেস ক্যামেরা
ব্যাখ্যা
- লিথোগ্রাফিক এবং অফসেট প্রিন্টিং বা সংক্ষেপে লিথো প্রিন্টিং, যেখানে একটি প্লেট স্থাপন করা হয় যা পরে কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় এবং মুদ্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- এই প্রক্রিয়াটি কাগজ, কার্ডবোর্ড এবং অন্যান্য অনেক উপকরণে মুদ্রণ করতে ব্যবহার করা হয়। 
- আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থায় ধাতু নির্মিত অক্ষরের প্রয়োজন ফুরাবার বড় কারণ হলো এই ফটো লিথোগ্রাফী পদ্ধতি। 
- যে চিত্র বা শব্দগুলি মুদ্রণ করতে হবে তার প্রাপ্ত উপাদানগুলো প্লেটের বিপরীতে স্থাপন করা হয় এবং সেই অনুযায়ী কালিগুলি শোষিত হয়। কালিগুলি সঠিকভাবে মিশ্রিত হয়েছে এবং সঠিকক্রমে স্থাপন করা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে দুর্দান্ত দক্ষতা লাগে। 

- Lithography/Lithographic and offset printing, or litho printing for short, is where the image of the content you want to produce is placed on a plate which is then covered in ink and used for printing. 
- This process can be used to print on paper, cardboard, and many other materials. 
- The material receiving the image or words you want to print is placed against the plate and the inks are absorbed accordingly. It takes great skill to make sure the inks are mixed correctly and placed in the right order. 

উৎস: sciencedirect.com
১০,৭৩২.
পারদ তাপ____
  1. ক) অপরিবাহী
  2. খ) সুপরিবাহী
  3. গ) পরিবাহী
  4. ঘ) কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
যে সমস্ত পদার্থের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে পরিবাহিত হয় তাকে পরিবাহী বলে।
যেমন রূপা, লোহা, তামা, পারদ ইত্যাদি ধাতু বা গলিত ধাতু, লবণ, ক্ষার, এসিড বা এদের দ্রবণ।
সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবহনের পদ্ধতি এক নয়।

তড়িৎ পরিবহণের পদ্ধতির ভিত্তিতে মাধ্যমকে দু'ভাগে ভাগ করা যায় ।
ক) ইলেকট্রোনীয় বা ধাতব পরিবাহী (তড়িৎ অবিশ্লেষ্য)
খ) ইলেকট্রোলাইটিক বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী

উৎস : রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৩৩.
বৈদ্যুতিক মটর এমন একটি যন্ত্রকৌশল, যা-
  1. ক) তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
  2. খ) তাপ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিকে রূপান্তরিত করে
  3. গ) যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিকে রূপান্তরিত করে
  4. ঘ) তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক মোটর হল এমন একটি কৌশল এবং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।
জেনারেটর এমন একটি যন্ত্র বা মেশিন যার সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।
১০,৭৩৪.
তরঙ্গের বেলায় কোন্‌টি সত্য?
  1. তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ আলোর বেগে গমন করে
  2. শব্দতরঙ্গ একধরনের তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ
  3. সকল তরঙ্গেই প্রতিফলন-প্রতিসরণ হয় না
  4. তরঙ্গবেগ হলো এর কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অনুপাত
ব্যাখ্যা

তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- যখন বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের পর্যাবৃত্ত আন্দোলন স্থানান্তরিত হয়, তখন একে বলা হয় বিদ্যুৎচুম্বকীয় বা তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এই ধরনের তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
যেমন- আলোর তরঙ্গ, গামা রশ্মি, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের উদাহরণ। 

তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ আলোর বেগে (3 × 108 m/s) চলাচল করে

তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ t = 0 সময়ে উৎপন্ন হলে এবং কোনো প্রকার বাঁধাপ্রাপ্ত না হলে অর্থাৎ মুক্ত স্থানে (Free Space) একই বেগ অর্থাৎ আলোর বেগে প্রবাহিত হয়। বিভিন্ন তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গের মধ্যে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর পার্থক্য রয়েছে তবে মুক্তস্থানে সকলেরই বেগ সমান। 
--------------------

অন্য অপশনগুলোর মধ্যে - 
খ) শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। যেমন- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

গ)
প্রায় সব তরঙ্গেরই প্রতিফলন কিংবা প্রতিসরণ হয়। 

ঘ) তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে। অর্থাৎ তরঙ্গ বেগ হলো কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের গুণফল, অনুপাত নয়। যেমন: v = fλ.


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৩৫.
প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে? 
  1. ২ টি
  2. ৮ টি
  3. ১৮ টি
  4. ৩২ টি
ব্যাখ্যা
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
এ সূত্রানুসারে, 
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 হলে, 
∴ K শেল অর্থাৎ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2 
= ( 2 x 12) টি 
= 2 টি। 
প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = ২টি। 
- এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৩৬.
সাবানের তুলনায় ডিটারজেন্টের প্রধান সুবিধা কোনটি?
  1. কম ফেনা তৈরি করে
  2. সহজে নষ্ট হয়
  3. খর পানিতেও কাজ করে
  4. লবণের সাথে বিক্রিয়া করে
ব্যাখ্যা

- সাবান খর পানিতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় তলানি (স্কাম) তৈরি করে, যার ফলে সাবান সহজে ফেনা তৈরি করতে পারে না এবং অপচয় হয়। কিন্তু ডিটারজেন্ট খর পানির এই আয়নগুলোর সাথে কোনো অদ্রবণীয় পদার্থ তৈরি করে না এবং খর পানিতেও চমৎকার ফেনা তৈরি করে কাপড় দ্রুত পরিষ্কার করতে পারে। এটিই সাবানের তুলনায় ডিটারজেন্টের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান সুবিধা। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৩৭.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. লিপিড
  4. প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।

- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়।
- এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো।
- উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইয়েস্ট এবং অন্যান্য ফাঙ্গাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।

• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
- আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে।
- বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। 
- এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

১০,৭৩৮.
হেপাটাইটিস এ কোনটির সাহায্যে লিভারের সংক্রমণ ঘটায়?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. অ্যামিবা
  4. প্রটোজোয়া
ব্যাখ্যা
তরুণদের জন্ডিসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হেপাটাইটিস এ ভাইরাস দ্বারা লিভারের সংক্রমণ ঘটায়। এটি দূষিত খাবার ও পানি খাওয়ার মাধ্যমে বা সংক্রামক ব্যক্তির সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায়।
১০,৭৩৯.
কোনটি তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ?
  1. ক) পানি
  2. খ) লবণ
  3. গ) চিনি
  4. ঘ) ইথানয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
যে সকল পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে অন্য পদার্থে পরিণত হয় তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
যেমনঃ কপার সালফেট, সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, পানি, ইথানয়িক এসিড ইত্যাদি।
সব পদার্থ তড়িৎ প্রবাহের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে সমস্ত পদার্থ দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে না ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়াও করে না, তাদের তড়িৎ অবিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
যেমনঃ চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি এবং রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
১০,৭৪০.
আলোক রশ্মি গমনপথে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. প্রতিফলন 
  2. প্রতিসরণ
  3. বিক্ষেপণ 
  4. অপসরণ
ব্যাখ্যা

প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
অর্থাৎ, আলোক রশ্মি গমনপথে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে পূর্বের মাধ্যমে ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে। 
- আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতির উপর এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণের উপর। 

- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়। 
- আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয়। কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাঁচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম। এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। 
- আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

আলোর প্রতিফলনের সূত্র: 
- আলোর প্রতিফলন দু'টি সূত্র মেনে চলে, এদের প্রতিফলনের সূত্র বলে। 
- সূত্র দু'টি হলো - 
১. আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অংকিত অভিলম্ব এবং প্রতিফলিত রশ্মি একই সমতলে থাকে। 
২. আপতন কোণ এবং প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়। 
অর্থাৎ, আপতন কোণ i এবং প্রতিফলন কোণ r হলে, ∠i = ∠r. 

অন্যদিকে, 
- প্রতিসরণ হলো আলো যখন একটি স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য একটি স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন তার গতিপথ পরিবর্তন করার ঘটনা। আলো প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে না, বরং দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৪১.
কোন রশ্মির সাহায্যে ফুসফুসের ক্যান্সার নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) বিটা রশ্মি
  2. খ) গামা রশ্মি
  3. গ) এক্সরে রশ্মি
  4. ঘ) আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে রশ্মি
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। 
- এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 

- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হল- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়। 
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৪২.
চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে যেসব পদার্থ শক্তিশালী চুম্বকত্ব ধারণ করে, সেগুলোকে কী বলে? 
  1. ডায়াচৌম্বক
  2. আয়নচৌম্বক
  3. ফেরোচৌম্বক
  4. প্যারাচৌম্বক
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বক: 
- এসকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এসকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এসকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৪৩.
মুক্তি বেগের রাশিমালায় কোন উপাদানটি অনুপস্থিত?
  1. বস্তুর ঘনত্ব
  2. গ্রহের ভর
  3. অভিকর্ষজ ত্বরণ
  4. গ্রহের ব্যাসার্ধ
ব্যাখ্যা

• মুক্তি বেগের রাশিমালায় সাধারণত গ্রহ বা বস্তুর উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় যে কোনো বস্তুকে গ্রহের আকর্ষণীয় ক্ষেত্র থেকে মুক্ত করতে কত দ্রুত গতি প্রয়োজন। মুক্তি বেগের সূত্র হলো V = √(2GM/R)​​, যেখানে G হলো মহাজাগতিক ধ্রুবক, M হলো গ্রহের ভর, আর R হলো গ্রহের ব্যাসার্ধ। এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মুক্তি বেগ নির্ভর করে গ্রহের ভর এবং ব্যাসার্ধের উপর। অন্যদিকে, বস্তুর নিজস্ব ঘনত্ব বা ভরের কোন ভূমিকা নেই। তাছাড়া, অভিকর্ষজ ত্বরণও সরাসরি সূত্রে উল্লেখিত নয়, যদিও এটি ভরের ও ব্যাসার্ধের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। সুতরাং, মুক্তি বেগের রাশিমালায় অনুপস্থিত উপাদান হলো বস্তুর ঘনত্ব।

• মুক্তি বেগ (Escape Velocity):
- মুক্তি বেগ হলো সেই সর্বনিম্ন গতি যার মাধ্যমে কোনো বস্তুকে একটি গ্রহ বা নক্ষত্রের আকর্ষণীয় ক্ষেত্র থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করা যায়।
- এটি শুধুমাত্র গ্রহের ভর (M) এবং গ্রহের ব্যাসার্ধ (R) ও গুণিতক হিসেবে গ্র্যাভিটেশনাল স্থিরাঙ্ক (G) দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- বস্তুটির ঘনত্ব বা ভরের কোনো সরাসরি প্রভাব নেই; শুধুমাত্র গ্রহের ভর এবং ব্যাসার্ধ গুরুত্বপূর্ণ।
- অভিকর্ষজ ত্বরণ (g) সাধারণত মুক্তি বেগ বের করতে ব্যবহৃত হয় না, তবে g থেকে R ও M সম্পর্কিত হিসাব নেওয়া যায়।
- সূত্র: v = √(2GM/R)

• উদাহরণ ১: পৃথিবী থেকে উৎক্ষেপণ :
- একটি রকেটকে পৃথিবীর আকর্ষণ থেকে মুক্ত করতে হলে তাকে একটি নির্দিষ্ট গতিতে প্রেরণ করতে হয়।  
- পৃথিবীর ভর M = 5.97 × 1024 kg এবং ব্যাসার্ধ R = 6371 km হলে মুক্তি বেগ v = √(2GM/R) সূত্রে হিসাব করা যায়।  
- এই ক্ষেত্রে, বস্তুর ঘনত্ব প্রয়োজন হয় না, শুধুমাত্র গ্রহের ভর এবং ব্যাসার্ধ প্রয়োজন।  

• উদাহরণ ২: চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে উৎক্ষেপণ:
- চন্দ্রের ভর M = 7.35 × 1022 kg এবং ব্যাসার্ধ R = 1737 km।  
- রকেটকে চন্দ্র থেকে মুক্ত করতে v = √(2GM/R) সূত্র ব্যবহার করা হয়।  
- চন্দ্রের ঘনত্ব বা রকেটের ঘনত্ব সরাসরি গণনায় প্রভাব ফেলে না।  

• উদাহরণ ৩: বৃহস্পতি গ্রহ থেকে উৎক্ষেপণ:
- বৃহস্পতি গ্রহের ভর M = 1.90 × 1027 kg এবং ব্যাসার্ধ R = 69911 km।  
- বৃহস্পতি থেকে মুক্তি বেগ খুব বড়, v ≈ 60 km/s।  
- এখানে আবারও, বস্তুর ঘনত্ব রাশিমালায় অনুপস্থিত।  

• সারসংক্ষেপ:  
- মুক্তি বেগ নির্ধারণের জন্য শুধুমাত্র গ্রহের ভর এবং ব্যাসার্ধ দরকার।  
- ঘনত্ব, বস্তুগত ভর বা অন্যান্য অনুপস্থিত উপাদান সরাসরি প্রয়োজন হয় না।  
- সুতরাং, রাশিমালায় কেবল বস্তুর ঘনত্ব অনুপস্থিত।  

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

১০,৭৪৪.
নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজিত হয় কোন কোষ বিভাজনে?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মিয়োসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- মিয়োসিস সাধারণত জনন মাতৃকোষে ঘটে। 
- এই কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস দু’বার কিন্তু ক্রোমোসোম মাত্র একবার বিভক্ত হয়।
- একটি মাতৃকোষ হতে চারটি হ্যাপয়েড অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়।
- ক্রোমোসোমের স্বতন্ত্র বিন্যাস ঘটে।
- এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কোষগুলো কখনই মাতৃকোষের সমগুণসম্পন্ন হয় না।। 

সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৪৫.
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক কত কিলোক্যালরির সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন?
  1. ২০০০ কিলোক্যালরি
  2. ২২৫০ কিলোক্যালরি
  3. ২৫০০ কিলোক্যালরি
  4. ২৭০০ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি: 
-খাদ্যের মধ্যে নিহিত শক্তিকে খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি হিসেবে মাপা হয়।
- ক্যালরি হচ্ছে শক্তির একক।
- এক গ্রাম খাদ্য জারণের ফলে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে খাদ্যের ক্যালরি বলে।
- এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ (ডিগ্রি) সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সে পরিমাণ তাপশক্তি হচ্ছে এক ক্যালরি।
- এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলোক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)।
- খাদ্যের ক্যালরিকে কিলোক্যালরি দিয়ে বোঝানো হয়।
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর প্রায় ২০০০ kcal-এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১০,৭৪৬.
ডায়োড মূলত কী হিসেবে কাজ করে? 
  1. ট্রান্সফরমার 
  2. রেজিস্টর 
  3. ট্রানজিস্টর 
  4. রেকটিফায়ার 
ব্যাখ্যা

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৭৪৭.
ড্রাই সেলে ক্যাথোড হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. লৌহ দণ্ড
  2. জিংক দণ্ড
  3. কার্বন দণ্ড
  4. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
• ড্রাই সেলে ক্যাথোড হিসেবে কার্বনের দণ্ড ব্যবহার করা হয়।

• ড্রাই সেল:

- ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ হলো এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। 

• ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করা হয়।
 
• ড্রাই সেলের গঠন:
- ড্রাই সেল অ্যানোড এবং ক্যাথোড দ্বারা গঠিত।
- ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে সাধারণত ধাতব জিংকের তৈরি ছোট কৌটা ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড NH4Cl জিংক ক্লোরাইড (ZnCl2) ও পাতিত পানি মিশ্রিত করে প্রস্তুতকৃত কাই (paste) দ্বারা জিংকের তৈরি ছোট কৌটা পূর্ণ করা হয়।
- এরপর জিংকের কৌটাটির মাঝখানে একটি কার্বন (গ্রাফাইট) দণ্ড প্রবেশ করানো হয়।
- ড্রাই সেলে কার্বন দণ্ড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ড্রাই সেলের অ্যানোড ও ক্যাথোড প্রান্তকে যদি বাল্ব বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের দুই প্রান্তে যুক্ত করা হয় তখন ইলেকট্রনের প্রবাহ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

• ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে জিঙ্ক এবং ক্যাথোড হিসেবে কার্বন দণ্ড ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১০,৭৪৮.
পৃথিবীর বারিমণ্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল নদী ধারণ করে?
  1. ০.০০১%
  2. ০.০০০১%
  3. ০.০১%
  4. ০.০০০০১%
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টনঃ
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৪৯.
কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. HIV
  2. TIV
  3. Nobel Corona
  4. TMV
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১০,৭৫০.
ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে কী পরিবর্তন করা হয়? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. বিভব শক্তি
  3. বিভব পার্থক্য
  4. তড়িৎ শক্তি
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 

- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 
- একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের এক বাহুতে অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে মুখ্য কুণ্ডলী এবং অপর বাহুতে একইভাবে অন্তরিত তামার তার পেঁচিয়ে গৌণ কুণ্ডলী তৈরি করা হয়। 
- মুখ্য কুণ্ডলীতে পরিবর্তি তড়িচ্চালক শক্তি প্রয়োগ করলে কোরে চৌম্বক বলরেখার সৃষ্টি হয়। যেহেতু কোরটি আয়তাকার সেহেতু চৌম্বক বলরেখাগুলো বদ্ধ হয় এবং যে পরিমাণ বলরেখা মুখ্য কুণ্ডলীর বাহুতে সৃষ্টি হয় সেই পরিমাণ বলরেখার গৌণ কুণ্ডলীর কোরের বাহু অতিক্রম করে। 
- ফলে পরিবর্তিত প্রবাহের কারণে মুখ্য কুণ্ডলীতে যে পরিমাণ বলরেখার পরিবর্তন ঘটে ঠিক সেই পরিমাণ বলরেখার পরিবর্তন গৌণ কুণ্ডলীতেও ঘটে। 
- স্টেপ আপ ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা বেশি থাকে। 
- অপরদিকে স্টেপ ডাউন ট্রন্সফরমারে মুখ্য কুণ্ডলীর পাক সংখ্যার চেয়ে গৌণ কুণ্ডলীর পাক সংখ্যা কম থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৫১.
কোন পদার্থের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও নদীর নাব্যতা কমানোর জন্য বহুলাংশে দায়ী?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) প্লাস্টিক
  3. গ) কাঁচ
  4. ঘ) পেপার
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিকের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও নদীর নাব্যতা কমানোর জন্য বহুলাংশে দায়ী।
- দামে সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বাস্তবতা হল প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- ফলে বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- তাই বলা যায় ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। 

উৎস: রসায়ন-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৫২.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. রেজিস্টর
  2. ডায়োড
  3. ক্যাপাসিটর
  4. অ্যামপ্লিফায়ার
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর:
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামেও পরিচিত। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৫৩.
একটি ফুলের সবগুলো স্তবককে ধারণ করে কোনটি?
  1. পুংকেশর
  2. গর্ভকেশর
  3. থ্যালামাস
  4. দলমণ্ডল
ব্যাখ্যা
ফুল: 
- যে ফুলে পাঁচটি অংশ যেমন- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দল বা পাপড়ি, পুংকেশর ও গর্ভকেশর দেখা যায়, সে ফুলগুলোকে বলে সম্পূর্ণ ফুল। 
- আর যদি এই পাঁচটি অংশের মধ্যে একটি বা দুটি অংশ না থাকে, তবে সে ফুলগুলোকে বলে অসম্পূর্ণ ফুল। 
- কখনো কখনো ফুলে এই পাঁচটি অংশ ছাড়াও বৃতির নিচে একটি অতিরিক্ত অংশ থাকে, একে উপবৃতি বলে। 
যেমন- জবা ফুলে এমন উপবৃতি দেখা যায়। 
- আবার কোনো কোনো ফুলে বৃন্ত থাকে, এগুলোকে সবৃন্তক ফুল এবং যে ফুলগুলোয় বৃন্ত থাকে না সেগুলোকে অবৃন্তক ফুল বলে। 

ফুলের বিভিন্ন অংশ: 
বৃতি: 
- ফুলের সবচেয়ে বাইরের স্তবককে বৃতি বলে। 
- সাধারণত এরা সবুজ রঙের হয়। 
- বৃতি খণ্ডিত না হলে সেটি যুক্ত বৃতি, কিন্তু যখন এটি খণ্ডিত হয় তখন বিযুক্ত বৃতি বলে। 
- এর প্রতি খণ্ডকে বৃত্যাংশ বলে। 
- বৃতি ফুলের অন্য অংশগুলোকে বিশেষত কুঁড়ি অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি ও পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা করে। 

দলমণ্ডল: 
- এটি বাইরের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তবক। 
- কতগুলো পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠন করে, এর প্রতিটি অংশকে পাপড়ি বা দলাংশ বলে। 
- পাপড়িগুলো পরস্পর যুক্ত (যেমন-ধুতরা) অথবা পৃথক (যেমন-জবা) থাকতে পারে, এরা বিভিন্ন রঙের হয়। 
- দলমণ্ডল রঙিন হওয়ায় পোকা-মাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়ন নিশ্চিত করে। 
- এরা ফুলের অন্য অংশগুলোকে রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। 

পুংস্তবক বা পুংকেশর: 
- এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক, এই স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। 
- পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বলে। 
- পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়, পরাগরেণু থেকে পুং জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- এরা সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে। 

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর: 
- এটি ফুলের চতুর্থ স্তবক, এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে একটি স্ত্রীস্তবক গঠিত হয়। 
- একের অধিক গর্ভপত্র সম্পূর্ণভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকলে তাকে যুক্তগর্ভপত্রী, আর আলাদা থাকলে বিযুক্তগর্ভপত্রী বলে। 
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড থাকে। 
- গর্ভাশয়ের ভিতরে ডিম্বক সাজানো থাকে, ডিম্বকে স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। 
- এরা পুংস্তবকের মতো সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে। 
- বৃতি ও দলমণ্ডলকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক এবং পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবককে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক বলে। 

থ্যালামাস ও পুষ্প পত্রাধার: 
- থ্যালামাস ও পুষ্প পত্রাধার একটি ফুলের উপরের সবগুলো স্তবককে ধারণ করে। 

পুষ্পমঞ্জরি: 
- কান্ডের শীর্ষমুকুল বা কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন একটি শাখায় ফুলগুলো বিশেষ একটি নিয়মে সাজানো থাকে, ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি বলে। 
- পরাগায়নের জন্য পুষ্পমঞ্জরির গুরুত্ব খুব বেশি। 
- এ শাখার বৃদ্ধি অসীম হলে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি ও বৃদ্ধি সসীম হলে তাকে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১০,৭৫৪.
অর্ধপরিবাহীর কোন বৈশিষ্ট্যটি সত্য নয়?
  1. তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি থাকে।
  2. পরম শূন্য তাপমাত্রায় এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে।
  3. অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্য যোগে এর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়।
  4. সিলিকন একটি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৫৫.
নিম্নের কোন পদার্থ তাপ পরিবহন করতে সক্ষম?
  1. রাবার
  2. পশম
  3. লোহা
  4. প্লাস্টিক
ব্যাখ্যা
সুপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে।
- যেমন- লোহা, তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।

• কুপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে।
- যেমন- তুলা, কাঠ, পশম, রাবার, কাঁচ, প্লাস্টিক ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৫৬.
ভাঙ্গা হাড় নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয় -
  1. গামা রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে (রঞ্জন রশ্মি): 
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। 
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত। 
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। 

এক্সরে এর ব্যবহার: 
- হীরক সনাক্তকরণ, 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়, 
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৫৭.
খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ভিনেগার
  2. খ) এন্টিবায়োটিক
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগার  ব্যবহৃত হয়। 

- ভিনেগার হল অ্যাসিটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইথানলের গাঁজন দ্বারা উত্পাদিত একটি অ্যাসিডিক তরল।
- এটি শুধুমাত্র তার স্বাদের গুণাবলীর জন্যই নয় বরং এর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের জন্যও রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
- ভিনেগারকে অ্যাসিটিক অ্যাসিড (Acetic Acid) বলা হয় এবং এর সংকেত (CH3-COOH).
- খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণেও রসায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। বিভিন্ন রকম খাদ্য যেমন- চিপস, গুড়াদুধ,প্রক্রিয়কৃত মাছ, মাংশ ইত্যাদি কৌটায় বা - প্যাকেটজাত করে সংরক্ষণ ও বাজারজাত করার জন্য প্রয়োজন হয় নানা রকমের রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেমন- আচার, সস ইত্যাদি সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহৃত হয়।
- তাছাড়া কৃত্রিম খাদ্য উৎপাদন, যেমন- মাখনের পরিবর্তে মার্জারিন, চিনির পরিবর্তে স্যাকারিন ইত্যাদি প্রস্তুতিতেও রয়েছে রসায়নের ভূমিকা এবং এরা সবই রাসায়নিক দ্রব্য।

সূত্র: ৯ পৃষ্ঠা, রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৫৮.
তেজস্ক্রিয়তার এস. আই. লব্ধ একক কোনটি? 
  1. কুরী
  2. ওহম
  3. বেকেরেল
  4. রন্টজেন
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
তেজস্ক্রিয়তার এসআই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৫৯.
কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরির উপকরণ কী?
  1. কয়লা
  2. গ্রাফাইট
  3. হীরক
  4. লেড
ব্যাখ্যা
• হীরক ধাতু: 
- কার্বন একটি অধাতু ও বিজারক পদার্থ। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হচ্ছে হীরক। 
- হীরক কাঁচ কাটতে ব্যবহার করা হয়। 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে তা ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৬০.
কাচ পরিষ্কার করার জন্য কি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) এমোনিয়াম হাইড্রক্সাইড
  2. খ) সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা
এমোনিয়াম হাইড্রক্সাইড কাচ পরিষ্কার,সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড টয়লেট ক্লিন এবং ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড পান খাওয়ার চুন বা দেওয়ালে চুনকাম করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১০,৭৬১.
বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য থেকে আসে?
  1. ক) ৯৭%
  2. খ) ৯৮%
  3. গ) ৯৯%
  4. ঘ) ৯৯% এর বেশি
ব্যাখ্যা
- বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য।
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে।
- বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে।
- পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় বিকিরণ পদ্ধতি।
- ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় পরিবহন প্রক্রিয়া।
- পানি ও বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয় পরিচলন প্রক্রিয়ায়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৬২.
নারীদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ হওয়ার কারন কি?
  1. বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হওয়া
  2. কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হওয়া
  3. ভোকাল কর্ড শক্ত হওয়া
  4. কোন কম্পন সৃষ্টি না হওয়া
ব্যাখ্যা
নারীদের গলার স্বর সাধারণত তীক্ষ্ণ বা উচ্চস্বরে (high-pitched) হয়।
এর মূল কারণ হলো — তারা বেশি কম্পাঙ্কের (higher frequency) শব্দ উৎপন্ন করে। 

• শব্দের তীক্ষ্ণতা নির্ভর করে শব্দতরঙ্গের কম্পাঙ্ক (frequency) এর উপর। কম্পাঙ্ক যত বেশি, শব্দ তত তীক্ষ্ণ; আর কম্পাঙ্ক যত কম, শব্দ তত গম্ভীর।

এর কারন হিসেবে বলা যায়-
- নারীদের স্বরযন্ত্র (larynx) তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। এখানে অবস্থিত ভোকাল কর্ড (vocal cords) পুরুষদের তুলনায় ছোট ও পাতলা হয়। 
ফলে, কণ্ঠে  দ্রুত কম্পন ঘটে এবং এতে উচ্চতর ফ্রিকোয়েন্সি (frequency) তৈরি হয়।
-  উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দই আমাদের কানে তীক্ষ্ণ বা উঁচু স্বর হিসেবে শোনায়।
- নারীদের ভোকাল কর্ড প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ২০০-২৫০ বার কম্পিত হয়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি হয় প্রায় ১০০-১৫০ বার/সেকেন্ড।
-অর্থাৎ, বেশি কম্পন = বেশি তীক্ষ্ণতা।

তথ্যসূত্র:  
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান। 
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
১০,৭৬৩.
নিচের কোনটি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় একটি দ্রব?
  1. সিলভার ব্রোমাইড
  2. সিলভার ক্লোরাইড
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সিলভার আয়োডাইড
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন- 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl)
সিলভার ব্রোমাইড (AgBr)
সিলভার আয়োডাইড (AgI)
• সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), 
• ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3), 
• ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), 
• ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), 
• ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2
• লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- 
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)
• সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), 
• পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCI), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3), 
• অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4CI), 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৬৪.
নিচের কোন বায়ুকে বাণিজ্য বায়ু বলা হয়? 
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. মেরু বায়ু
  3. অয়ন বায়ু
  4. স্থানীয় বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু: 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

অয়ন বায়ু: 
- বিষুবীয় অঞ্চলে সূর্যকিরণ লম্বভাবে পতিত হয় বলে বায়ুর চাপ কম থাকে তাতে বায়ু উপরে উঠে ছড়িয়ে যায়। এই বায়ু ক্রমাগত শীতল হয়ে নিচে নামতে না পেরে উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যায়। 
- প্রায় ৩০০ অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু নিচে নেমে তা আবার বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে এই বায়ু প্রবাহিত হয়, এই বায়ুকেই বলা হয় অয়ন বায়ু। 
- উত্তর গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু ও দক্ষিণ গোলার্ধের অয়ন বায়ুকে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু বলা হয়। 
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজগুলো এই বায়ুপ্রবাহ অনুসরণ করতো বলে একে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়। 
- সাধারণত উচ্চচাপ সম্পন্ন এলাকায় অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয় বলেই এইসব স্থানে আবহাওয়া উষ্ণ, শুষ্ক ও মেঘমুক্ত প্রকৃতির হয়। 
- পৃথিবীর বড় বড় মরুভূমি যেমন-সাহারা, কালাহারি মরুভূমিতে এই বায়ুপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায়। 
- উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখার কাছাকাছি এসে অত্যধিক তাপে হালকা বায়ু হিসাবে উপরে উঠে যায়। এই সময় নিরক্ষীয় রেখার উভয় দিকে ৫০ অক্ষাংশ পর্যন্ত একটি শান্ত বলয় তৈরি হয় যার নাম নিরক্ষীয় শান্ত বলয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৬৫.
পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন-
  1. ক) অপরিবর্তিত থাকবে
  2. খ) বৃদ্ধি পাবে
  3. গ) শূন্য হবে
  4. ঘ) ঋণাত্মক হবে
ব্যাখ্যা

পরম শূন্য তাপমাত্রা: যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -২৭৩°C ।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১০,৭৬৬.
মুক্তার রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে -
  1. ক) কনকিওলিন
  2. খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা

মুক্তা বা মতি এক ধরনের রত্ন বিশেষ, যা শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের অভ্যন্তরে তৈরি হয়। তবে সব ঝিনুকে মুক্তা থাকে না।
মাসল শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা হয়। এর রাসায়নিক উপাদান হলো কনকায়োলিন ক্যালসাইট এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
খাওয়ার সময় ঝিনুক যখন তার খোলস ফাঁক করে তখন যদি বালুর কণা বা অন্য কোনো কঠিন পদার্থের চূর্ণ তার দেহের মধ্যে ঢুকে যায় এবং চেষ্টা সত্ত্বেও সেটি বের করতে না পারে, তখন এই কণাটির জন্য ঝিনুকের দেহে প্রদাহ বা জ্বলনের সৃষ্টি হয়। তখন ঝিনুকের অঙ্গ থেকে সাদা ঘন আঠালো রস ক্ষরিত হয়ে বহিরাগত কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধতে থাকে। এই কঠিন জমাট বস্তুটিই ধীরে ধীরে মুক্তায় রূপান্তরিত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03
এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণির বোর্ড বই ও রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১০,৭৬৭.
কোনটি অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) নয়?
  1. লোহা
  2. সিলিকন
  3. জার্মেনিয়াম
  4. গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
১. পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- সাধারণত ধাতব পদার্থ তড়িৎ সুপরিবাহী হয়। যেমন- তামা, রূপা, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি পরিবাহী।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায় ১০-৮ Ωm ক্রমের।
- রূপা হলো সবচেয়ে উত্তম ধাতব পরিবাহক।

২. অপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহী বলে। যেমন- কাচ, কাঠ, রাবার, প্লাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ।
- অপরিবাহী পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা খুব কম এবং আপেক্ষিক রোধের মান অত্যন্ত বেশি।

৩. অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। যেমন জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্তরকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ ১০-৪ Ωm থেকে ১০-২ Ωm ক্রমের।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৬৮.
কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে কী বলে? 
  1. পর্ব 
  2. পর্বমধ্য
  3. পত্রকক্ষ
  4. সন্ধি
ব্যাখ্যা

কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে।
১। পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

২। পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

৩। মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের শ্রেণিকরণ: 
- কাণ্ড বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, তবে এদের প্রাথমিকভাবে দুইভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা-১) সবল কাণ্ড ও ২) দুর্বল কাণ্ড। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪। পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১০,৭৬৯.
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় কোনটি?
  1. ক) High Density Lipoprotein
  2. খ) Low Density Lipoprotein
  3. গ) Triglyceride
  4. ঘ) Very Low Density Lipoprotein
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
- LDL (Low Density Lipoprotein)-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- সাধারণত মানুষের রক্তে ৭০% LDL থাকে।
- HDL (High Density Lipoprotein)-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- আর ট্রাই-গ্লিসারাইড চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে।
- ট্রাই-গ্লিসারাইড মানুষের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১০,৭৭০.
মানুষের শ্রাব্যতার শব্দোত্তর তরঙ্গের সীমা হচ্ছে:
  1. 5,000 Hz
  2. 35,000 Hz
  3. 20,000 Hz
  4. 200 Hz
ব্যাখ্যা

• মানুষ সাধারণত ২০ হের্টজ থেকে ২০,০০০ Hz পর্যন্ত শব্দ শুনতে সক্ষম। এই সীমার মধ্যে আমাদের কানের সংবেদনশীলতা থাকে, যা দৈনন্দিন জীবনে কথোপকথন, সংগীত এবং পরিবেশের শব্দ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানুষের শ্রাব্যতার শব্দোত্তর তরঙ্গের সীমা হলো ২০,০০০ Hz।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) 20,000 Hz

শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা সত্য নয়।
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।
- উৎসের কম্পন প্রতি সেকেন্ডে 20 টির নিচে হলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা আমরা শুনতে পাই না। আবার উৎসের কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে 20,000 টির বেশি হয় তাহলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তাও আমরা শুনতে পাই না। 
- আসলে আমাদের (মানুষের) শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20, 000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে।
অর্থাৎ মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 

- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে কম) শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে বেশি) শব্দোত্তর তরঙ্গ।
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো-

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৭১.
বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. প্লেট ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. সীভ ভাজক টিস্যু
  4. রিব ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ:
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা - 
১। মাস ভাজক টিস্যু, 
২। রিব ভাজক টিস্যু ও 
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু। 

১। মাস ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয়, তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম। 

২। রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয়, তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জা। 

৩। প্লেট ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয়, তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৭৭২.
বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব কে এবং কোন সালে উপস্থাপন করেন?
  1. নিউটন, ১৬৮৭ সালে
  2. আইনস্টাইন, ১৯০৫ সালে
  3. গ্যালিলিও, ১৬৩২ সালে
  4. ম্যাক্সওয়েল, ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

• আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব উপস্থাপন করেন, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

• বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য (Postulates of Special Relativity):
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
- ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন এই স্বীকার্যদ্বয় উপস্থাপন করেন।

• প্রথম স্বীকার্য:
- স্থির বা সমবেগে গতিশীল সকল জড় কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ একই রূপে প্রযোজ্য থাকে।
- কোনো জড় কাঠামোকে অপরটির তুলনায় পরম স্থির বা পরম গতিশীল বলা যায় না।
- সকল গতি আপেক্ষিক এবং সকল স্থিতি আপেক্ষিক।

• প্রথম স্বীকার্যের ব্যাখ্যা:
- দুটি জড় কাঠামো যদি পরস্পরের তুলনায় সমবেগে গতিশীল হয়, তবে কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব নয় কোনটি স্থির এবং কোনটি গতিশীল।
- ফলে সব জড় কাঠামোতেই পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো একইভাবে কার্যকর হয়।

• দ্বিতীয় স্বীকার্য:
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় কাঠামোতে একই থাকে।
- আলোর বেগ আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

• দ্বিতীয় স্বীকার্যের ব্যাখ্যা:
- কোনো জড় কাঠামোতে আলোর বেগ যত হবে, অন্য যেকোনো সমবেগে গতিশীল জড় কাঠামোতেও আলোর বেগ একই থাকবে।
- অর্থাৎ আলোর বেগ সর্বত্র ধ্রুব এবং সর্বাধিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৭৩.
বটের বীজের বিস্তার ঘটে কিসের সাহায্যে?
  1. ক) পাখি
  2. খ) পানি
  3. গ) বাতাস
  4. ঘ) এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। পরাগায়ন ফল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত।
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
- পরাগায়ন দু'প্রকার। যথা: স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন।

• স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে।
- সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।

• পর-পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

• পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। একে অভিযোজন বলা হয়। অভিযোজনগুলো নিম্নরূপ:

পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন:
- ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত।
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন, জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন:
- ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র।
- এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন, ধান।

পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন:
- এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে।
- এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন, পাতাশ্যাওলা।

প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন:
- এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়। তবে ছোট হলেও ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে।
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে। যেমন, কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
- বটের বিস্তার ঘটে পাখির সাহায্যে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১০,৭৭৪.
আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় -
  1. মেঘের অসংখ্য জলকণা/বরফকণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে
  2. দুখণ্ড মেঘ পরস্পর সংঘর্ষ হলে
  3. মেঘের মধ্যে বিদ্যুৎ কোষ তৈরি হলে
  4. মেঘ বিদ্যুৎ পরিবাহী অবস্থায় এলে
ব্যাখ্যা
- আকাশে বিজলী চমকায় মেঘের অসংখ্য পানি ও বরফ কণার মধ্যে চার্জ সঞ্চিত হলে। 
- ধনাত্নক ও ঋণাত্মক চার্জযুক্ত দুটি মেঘ কাছাকাছি আসলে আকর্ষণের ফলে চার্জ এক মেঘ থেকে অন্য মেঘে দ্রুত ছুটে যায়। 
- ফলে ইলেক্ট্রনের চার্জ গতিপথে যে তীব্র আলোক উৎপন্ন হয় তাকে বিজলী চমকানো বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৭৫.
নিচের কোনটি সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনের প্রথম পর্যায়?
  1. ক) গ্লাইকোলাইসিস
  2. খ) অ্যাসিটাইল কো-এ
  3. গ) ক্রেবস চক্র
  4. ঘ) ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র
ব্যাখ্যা
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়া এক অণু গ্লুকোজ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে ২ অনু পাইরুভিক এসিড উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোন অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না, তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনেরই প্রথম পর্যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৭৬.
জৈব যৌগ নামকরণের পদ্ধতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. উদ্ভূত পদ্ধতি
  2. ডেকেন পদ্ধতি
  3. ট্রিভিয়াল পদ্ধতি
  4. ইউপ্যাক (IUPAC) পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

• জৈব যৌগের নামকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে “উদ্ভূত পদ্ধতি” হলো সেই পদ্ধতি যেখানে যৌগটির নাম স্বাভাবিক বা সাধারণ ব্যবহারের সূত্রে তৈরি হয়। “ডেকেন পদ্ধতি” একটি সুনির্দিষ্ট বা প্রচলিত নামকরণের পদ্ধতি নয়; এটি রাসায়নিক সাহিত্যে ব্যবহৃত কোনো স্বীকৃত নামকরণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। “ট্রিভিয়াল পদ্ধতি” হলো যৌগটির প্রচলিত বা সাধারণ নাম ব্যবহার করার পদ্ধতি। অন্যদিকে, “ইউপ্যাক (IUPAC) পদ্ধতি” হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, বৈজ্ঞানিক ও মানসম্মত নামকরণের পদ্ধতি। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে জৈব যৌগের নামকরণের স্বীকৃত পদ্ধতির সঙ্গে “ডেকেন পদ্ধতি” অন্তর্ভুক্ত নয়।

• জৈব যৌগ:
-  হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে। হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতক সমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 

•  জৈব যৌগের নামকরণের ক্ষেত্রে সার্বজনিনভাবে কিছু বিধি বিধান অনুসরণ করা হয়।

• বর্তমানে প্রচলিত তিনটি পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণ করা হয়। যথা-
- সাধারণ বা ট্রিভিয়াল পদ্ধতি (Common or trivial system)
- উদ্ভূত বা জাত পদ্ধতি (Derived system)
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা জেনেভা পদ্ধতি বা ইউপ্যাক পদ্ধতি (International system or Genava system or
IUPAC system) .

অন্যদিকে,
• ডেকেন কোন নামকরণ পদ্ধতি নয়। এটি একটি উচ্চতর অ্যালকেন। এর সংকেত হলো C10H22

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৭৭.
স্থূল সংকেত কী নির্দেশ করে?
  1. মৌলের আকার ও পরিমাণ
  2. মৌলের রাসায়নিক সূত্র
  3. মৌলের আয়নিক সংখ্যা
  4. মৌলের ভর
ব্যাখ্যা

• স্থূল সংকেত মূলত মৌলের আকার ও পরিমাণ বা ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে, যেমন কঠিন, তরল বা গ্যাস।

• সংজ্ঞা:
- স্থূল সংকেত হলো একটি রাসায়নিক প্রতীক বা চিহ্ন, যা মৌলের ভৌত অবস্থার (physical state) তথ্য প্রদর্শন করে।
- এটি মূলত দেখায় যে কোনো মৌল কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় অবস্থায় আছে।
- স্থূল সংকেত রাসায়নিক সূত্রের অংশ নয়, বরং ভৌত বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

• বৈশিষ্ট্য:
- মৌলের আকার, পরিমাণ ও অবস্থার পরিবর্তন বোঝায়।
- এটি রাসায়নিক ধর্ম বা আয়নিক সংখ্যা নয়, শুধুমাত্র ভৌত অবস্থার তথ্য দেয়।
- ব্যবহারকারীরা সহজে বুঝতে পারে মৌল কোন অবস্থায় রয়েছে।

• উদাহরণ:
- H2O(l) → l নির্দেশ করে জল তরল অবস্থায় আছে।
- Na(s) → s নির্দেশ করে সোডিয়াম কঠিন অবস্থায় আছে।
- O2(g) → g নির্দেশ করে অক্সিজেন গ্যাসীয় অবস্থায় আছে।
- Hg(l) → l নির্দেশ করে পারদ তরল অবস্থায় আছে।

• ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে রসায়নী সঠিকভাবে কাজ করার জন্য।
- রিপোর্ট, বই বা সূত্রে স্পষ্ট নির্দেশনার জন্য।
- ভৌত অবস্থার চিহ্ন না থাকলে, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৭৭৮.
রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠিত হয় - 
  1. লৌহ ও প্রোটিনের সমন্বয়ে
  2. কপার এবং লিপিডের সমন্বয়ে
  3. জিংক এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
  4. ম্যাঙ্গানিজ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৭৯.
মেডুলা কী?
  1. ক) হৃদপিণ্ডের ভেতরের অংশ
  2. খ) বৃক্কের প্রাচীরের ভেতরের অংশ
  3. গ) বৃক্কের প্রাচীরের বাহিরের অংশ
  4. ঘ) হৃদপিণ্ড আবৃতকারী পর্দা
ব্যাখ্যা
বৃক্কের প্রাচীরের ভেতরের অংশটিকে মেডুলা বলে। 

- মেডুলা হচ্ছে বৃক্কের ভেতরের অংশ।
- মেডুলা গাঢ় রঙের এবং কিছুটা কালচে রঙের হয়।
- মেডুলায় সাধারণত ৮-১২টি রেনাল পিরামিড থাকে।
- এদের অগ্রভাগ প্রসারিত হয়ে পিড়কা গঠন করে।
- এটি মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে।
- মেডুলা বা সুষুম্নাশীর্ষক হৃৎস্পন্দন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসন নিয়ন্ত্রণ করে।

সূত্র-  ১৪৫ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৭৮০.
পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে কোন অবস্থার পদার্থের প্রাধান্য বেশি? 
  1. কঠিন 
  2. গ্যাসীয় 
  3. প্লাজমা 
  4. তরল 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়, তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়নিত হয়। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০,৭৮১.
কোনটি পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা?
  1. আলফা কণিকা
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রিনো
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
পরমাণু ও পরমাণুর মূল কণিকা:

• মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে।
• প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। যেমন: H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়।
- যে সকল ক্ষুদ্র কণা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলে।
- পরমাণুর মূল কণিকা তিন প্রকার। যথা: 

১. স্থায়ী মূল কণিকা: যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

২. অস্থায়ী মূল কণিকা: যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়।

৩. কম্পোজিট কণিকা: স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
১০,৭৮২.
জীব ও জড় এর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে -
  1. ক) ফাঙ্গাস
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

প্রাণ-রসায়নবিদগণ ভাইরাসের জড়-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন, আর অনুজীব বিজ্ঞানিগণ ভাইরাসের জীব-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন। এজন্য ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)
১০,৭৮৩.
নিচের কোন প্রাণীটি অপ্রতিসাম্য?
  1. অ্যামিবা
  2. যকৃত কৃমি
  3. সমুদ্র তারা 
  4. ভলভক্স
ব্যাখ্যা

- অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী প্রাণী যার কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই এবং এটি ক্রমাগত তার রূপ পরিবর্তন করে। এই কারণে, অ্যামিবার শরীরকে কোনো অক্ষ বা তল বরাবর দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় না, তাই এটি অপ্রতিসাম্য (asymmetrical) প্রাণী। 

প্রতিসাম্য: 

- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

২। গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

৩। অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

৪। দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

৫। দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৮৪.
কোনো গাছের সবুজ পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. ক্লোরোসিস
  2. ফ্লোরোসিস
  3. অ্যামাইটোসিস
  4. সাইটোকাইনোসিস
ব্যাখ্যা
- কোনো গাছের সবুজ পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়- ক্লোরোসিস। 

ক্লোরোসিস: 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৮৫.
সূর্য থেকে যে পরিমাণ আলো এবং তাপশক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় তার কত শতাংশ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে?
  1. 2%
  2. 5%
  3. 10%
  4. 15%
ব্যাখ্যা
• বাস্তুতন্ত্র:
- প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্ভিদ এবং প্রাণী এই দুই ধরনের জীবের সাথে জড় পদার্থের মধ্যে যে শক্তি আর বস্তুর আদান-প্রদান হয়, তাকে বলা হয় মিথস্ক্রিয়া, আর এ ধরনের মিথস্ক্রিয়ায় আন্তঃসম্পর্ক ঘটে, পৃথিবীর এরকম যেকোনো অঞ্চলই হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem)।
- বাস্তুতন্ত্রের প্রধান উপাদান তিনটি। যথা-
১. জীব সম্প্রদায়,
২. পরিবেশের জড় পদার্থ এবং 
৩. ভৌত পরিবেশ
- যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের শক্তির মূল উৎস সূর্য।
- সূর্য থেকে যে পরিমাণ আলো এবং তাপশক্তি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায় তার 2% সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে
- বাস্তুতন্ত্রের প্রথম স্তরের খাদকেরা সবুজ উদ্ভিদের পাতা, কাণ্ড, ফুল, ফল, বীজ বা মূল খেয়ে জীবন ধারণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১০,৭৮৬.
যখন চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করে তখন নিচের কোনটি সংঘটিত হয়?
  1. সূর্যগ্রহণ
  2. চন্দ্ৰগ্ৰহণ
  3. অমাবস্যা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে পৃথিবীর অবস্থান থাকে তখন চন্দ্রগ্রহণ হয়। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা [লিঙ্ক]।
১০,৭৮৭.
পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ির নিচের অংশ পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়—
  1. সমতল দর্পণ
  2. উত্তল দর্পণ
  3. অবতল দর্পণ
  4. লেন্স
ব্যাখ্যা

• পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ির নিচের অংশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয়।

• দর্পণ :
 - যে মসৃন তলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তাকে দর্পণ বলে।
- দর্পণ মূলত দুই প্রকার।
যথা-  ১. সমতল দর্পন এবং ২. গোলীয় দর্পন। 

• গোলীয় দর্পন আবার ২ ভাগে বিভক্ত। 
যেমন- ক. উত্তল দর্পণ ও খ. অবতল দর্পণ। 

• উত্তল দর্পণের ব্যবহার:
 • মোটর গাড়ির সামনে রিয়ার ভিউ মিরর হিসেবে।
পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ির নিচের অংশ পরীক্ষার ক্ষেত্রে।
• রাস্তার আলো প্রতিফলক হিসেবে।
• মন্দির, মসজিদ ও শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন জনসমাগমে সীলিং ডোম মিরর হিসেবে। 
• কোথায় কী আছে তা একত্রে দেখার জন্য বড় বড় বিল্ডিং, হাসপাতাল, অফিস ও শপিং মলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৮৮.
যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায় তাদেরকে বলা হয় -
  1. ক) ডায়া চৌম্বক
  2. খ) প্যারা চৌম্বক
  3. গ) ফেরো চৌম্বক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ডায়া চৌম্বক:
এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

প্যারা চৌম্বক:
এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরো চৌম্বক:
এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।


সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৮৯.
'রবিশস্য বলতে কি বুঝায়?
  1. ক) বর্ষাকালীন শস্য
  2. খ) যে কোনো সময়ের শস্য
  3. গ) গ্রীষ্মকালীন শস্য
  4. ঘ) শীতকালীন শস্য
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে আশ্বিন থেকে ফাল্গুন বা অক্টোবর থেকে মার্চ সময়ে উৎপন্ন ফসলকে রবিশস্য বা শীতকালীন শস্য ধরা হয়।

রবি মৌসুমে উৎপন্ন ফসলের মধ্যে রয়েছে:
- বোরো ধান
- গম
- মসুর ডাল
- যব
- সরিষা
- পেঁয়াজ
- মটরশুঁটি প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্রঃ কৃষিশিক্ষা : সপ্তম শ্রেণী)
১০,৭৯০.
প্লাস্টিডের প্রধান কাজ কোনটি?
  1. খাদ্য প্রস্তুত করা
  2. খাদ্য সঞ্চয় করা
  3. উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট, 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং 
৩। লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৭৯১.
কয়লা কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. অজৈব পদার্থ 
  2. জৈব পদার্থ
  3. ধাতব পদার্থ 
  4. প্লাস্টিকজাত পদার্থ 
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কাণ্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে, মাটির নিচে পাতা ও কাণ্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
- জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
যেমন- কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৭৯২.
অ্যালুমিনিয়াম সালফেটকে চলতি বাংলায় কী বলে?
  1. চুন
  2. সেভিং সোপ
  3. ফিটকিরি
  4. কস্টিক সোডা
ব্যাখ্যা
- অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা 'ফিটকিরি' বলে যার রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 

পটাশ অ্যালাম: 
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ। 
- পটাশ অ্যালাম সাধারণ মানুষের কাছে ফিটকিরি নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৯৩.
কীসের স্রোতে নদীখাত গভীর হয়?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. নদীস্রোত
  3. বানের স্রোত
  4. জোয়ার-ভাঁটার স্রোত
ব্যাখ্যা
নদীখাত (Channel): 
- নদীখাত হল প্রবাহিত পানির শক্তির ফলে গঠিত একটি সরু বা চওড়া, গভীর বা অগভীর, সোজা বা বাঁকা সুষম ঢাল বিশিষ্ট প্রাকৃতিক পথ যার মধ্য দিয়ে ধীর বা প্রবলবেগে সারা বছর বা স্বল্প সময়ে পানি প্রবাহিত হয়। 
- জোয়ার-ভাঁটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে এই নদীখাত গভীর হয়। 
- গঠনপ্রকৃতি ভেদে নদীখাত বা প্রণালী তিন ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
ক) নদী গর্ভ, 
খ) সমুদ্রের প্রশস্ত দুটি অংশকে সংযোগকারী দুপাশ থেকে ভূখন্ড দিয়ে আবদ্ধ সমুদ্রের তুলনামূলক সরু অংশবিশেষ এবং 
গ) উপসাগরের নৌচলাচলযোগ্য গভীর অংশ, পোতাশ্রয় ইত্যাদি। 

- প্রথম ধরনের প্রণালী সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে বিস্তর দেখা যায়। 
- উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নদী প্রণালীকে বিভিন্ন ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। 
যেমন- জালিকার অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত, নদীগর্ভ ও তীরের বৈশিষ্ট্যগত সম্পর্ক, পাললিক ও জলজ প্রক্রিয়া, অঙ্গসংস্থান প্রণালী বা এর ধারা, অথবা প্রণালীর স্থিতিশীলতা। 
- নদীখাত বা প্রণালী বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের নদীগুলিকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
ক) সর্পিল (পদ্মা ও মেঘনা সর্পিলাকার), 
খ) চরোৎপাদী (যমুনা হলো চরোৎপাদী) এবং 
গ) বিন্ধনি নদী (বদ্বীপ সৃষ্টিকারী নদীর মোহনা)। 
- বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকূলবর্তী নদীখাত বা প্রণালী হলো- মহেশখালী, কুতুবদিয়া, হাতিয়া, তেঁতুলিয়া এবং সন্দ্বীপ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং জাগোনিউজ।
১০,৭৯৪.
রক্ত জমাট বাঁধানো কোনটির কাজ?
  1. লোহিত কণিকা
  2. শ্বেতকণিকা
  3. লসিকা
  4. অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট: 

• মানুষের রক্ত কণিকা ৩ ধরনের। যথা: ১. লোহিত রক্ত কণিকা; ২. শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩. অণুচক্রিকা। 
• অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট বা থ্রম্বোসাইট হলো নিউক্লিয়াসবিহীন।
• এটি গোলাকার বা ডিম্বাকার বা রড আকৃতির হয়ে থাকে। 
• এর ব্যাস দুই থেকে তিন মাইক্রোমিটার এবং আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ১০ দিন।
• পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরও বেশি হয়।
• এটি লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার চেয়েও আকারে ছোট।
• অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।
• ‘ভিটামিন কে’ রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে।
• রক্তে হেপারিন থাকায় দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি। 

১০,৭৯৫.
লাল লিটমাস কাগজ নীল রঙ ধারণ করে যখন দ্রবণের pH মান হয়- 
  1. 5 এর নিচে
  2. 7 এর নিচে
  3. 7 এর উপরে
  4. 7 এর সমান
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H] 

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন বা নিরপেক্ষ হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৭৯৬.
pH-স্কেলে মান কমতে থাকলে নিচের কোন বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায়?
  1. ক্ষারধর্মিতা
  2. আয়নিক ঘনত্ব
  3. লবণাক্ততা
  4. অম্লীয়তা
ব্যাখ্যা

পিএইচ মান যত কম হয় (অর্থাৎ ৭ থেকে ০-এর দিকে যায়), হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্ব তত বেশি হয়, এবং দ্রবণটির অম্লতা তত বাড়ে।

pH:
- পিএইচ (pH) স্কেল হল কোনো জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H⁺) ঘনত্বের উপর ভিত্তি করে দ্রবণটির অম্লতা বা ক্ষারত্ব পরিমাপের একটি পদ্ধতি।
- স্কেলটির ব্যাপ্তি সাধারণত ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত হয়।
- এই স্কেলে ৭ হলো নিরপেক্ষ (Neutral) অবস্থা।
- ৭ এর কম মানগুলো অম্লীয় (Acidic) অবস্থাকে নির্দেশ করে।
- ৭ এর বেশি মানগুলো ক্ষারীয় (Alkaline or Basic) অবস্থাকে নির্দেশ করে।
- এসিডের পরিমাণ যত বাড়বে, pH-এর মান তত কমে। অন্যদিকে ক্ষারের পরিমাণ যত বাড়ে, pH-এর মানও তত বাড়ে।
- অম্লীয় দ্রবণ (Acidic Solution) এর উদাহরণ হলো লেবুর রস, ভিনেগার এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।
- ক্ষারীয় দ্রবণ (Basic or Alkaline Solution) এর উদাহরণ হলো সাবান, অ্যামোনিয়া এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড।
- নিরপেক্ষ দ্রবণ (Neutral Solution) এর আদর্শ উদাহরণ হলো বিশুদ্ধ পানি।
- নদ-নদী, খালবিল ইত্যাদির জন্য pH-এর মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণত নদ-নদীর পানি ক্ষারীয় হয়।
- গবেষণা করে দেখা গেছে, নদ-নদীর পানির pH যদি ৬-৮ এর মধ্যে থাকে, তাহলে সেটা জলজ উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য কোনো অসুবিধার সৃষ্টি করে না।
- তবে pH-এর মান যদি এর চাইতে কমে যায় বা বেড়ে যায়, তাহলে ঐ পানিতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী আর উদ্ভিদের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
- পানিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে, অর্থাৎ pH-এর মান খুব কমে গেলে জলজ প্রাণীদের দেহ থেকে ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ বাইরে চলে আসে, যার ফলে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হতে শুরু করে।

উৎস:
১। বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

১০,৭৯৭.
কোন উদ্ভিদের দেহে ক্লোরোফিল নেই?
  1. মস
  2. টেরিস
  3. স্পাইরোগাইরা
  4. এগারিকাস
ব্যাখ্যা
- সুবিশাল উদ্ভিদজগৎকে তাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে আবার নানা ভাগে বিভক্ত করা যায়। 
- জর্জ বেনথাম ও ডাল্টন হুকার এর প্রাকৃতিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী উদ্ভিদ জগৎকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
• উদ্ভিদজগৎ: অপুষ্পক উদ্ভিদ [সমাঙ্গবর্গীয় (শৈবাল, ছত্রাক), মসবর্গীয়, ফার্নবর্গীয়] + সপুষ্পক উদ্ভিদ [নগ্নবীজী, আবৃতবীজী (একবীজপত্রী, দ্বিবীজপত্রী)]। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তারা শৈবাল। যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। যেমন: এগারিকাস। 

২। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু এদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১০,৭৯৮.
প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- 
  1. কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
  2. তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
  3. কঠিন ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে 
  4. কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
ব্যাখ্যা

প্যাসকেলের সূত্র:  
- প্যাসকেলের সূত্র (Pascal's Law) হলো পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি যা তরলের গতিবিদ্যা (fluid dynamics) এর অন্তর্গত।
- এই সূত্রটি প্রথম ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেজ প্যাসকেল প্রস্তাব করেছিলেন।
- প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- বায়বীয় ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে

প্যাসকেলের সূত্রটি নিম্নরূপ: 
- "কোনো আবদ্ধ তরলের মধ্যে চাপের পরিবর্তন হলে, সেই পরিবর্তনটি তরলের সব দিকেই সমানভাবে সঞ্চারিত হয়"।
- এই সূত্রটি গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়-
P = F/A
এখানে,
- P হলো চাপ (Pressure),
- F হলো বল (Force),
- A হলো ক্ষেত্রফল (Area).

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৭৯৯.
বাংলাদেশের প্রথম GM উদ্ভিদ জাত কোনটি?
  1. ক) Bt- গম
  2. খ) Bt- বেগুন
  3. গ) Bt- ধান
  4. ঘ) Bt- কলা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৩-২০১৪ সালে ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন বিটি বেগুন নামে ৪ টি জাত বাংলাদেশে সীমিত আকারে চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত করেন ।
- বর্তমানে বাংলাদেশ এর ৬৪ জেলার ২৭০০০ কৃষক বিটি বেগুন চাষ করছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৮০০.
খাদ্যকে মুখবিবর থেকে অন্ননালিতে পৌঁছে দেয় কোনটি? 
  1. মুখবিবর
  2. গলবিল
  3. ক্ষুদ্রান্ত্র
  4. বৃহদন্ত্র
ব্যাখ্যা
গলবিল: 
- মুখবিবরের ঠিক পেছনে প্রায় ১০ সে.মি. দীর্ঘ চওড়া অংশকে গলবিল বলে। 
- গলবিল খাদ্যকে মুখবিবর থেকে অন্ননালিতে পৌঁছে দেয়। 

অন্ননালি: 
- গলবিলের ঠিক পেছনে প্রায় ২৫ সে.মি. লম্বা নলাকার অংশই অন্ননালি যা, শ্বাসনালির পেছন ও বক্ষ গহ্বরের মধ্যে দিয়ে উদরে অবস্থিত পাকস্থলিতে শেষ হয়। 
- অন্ননালির পেশির সংকোচনে খাদ্যদ্রব্য নালি পথে পাকস্থলিতে প্রবেশ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।