বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০৭ / ১৪০ · ১০,৬০১১০,৭০০ / ১৪,০৮০

১০,৬০১.
তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কয়টি? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪ট
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়।
যথা-
১। পরিবহন,
২। পরিচলন ও
৩। বিকিরণ।
• বিকিরণ পদ্ধতি:
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।

• পরিচলন পদ্ধতি:
-কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• পরিবহন পদ্ধতি:
-যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬০২.
কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে কী বলে?
  1. ভর সংখ্যা
  2. নিউট্রন সংখ্যা
  3. নিউক্লিয়ন সংখ্যা
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
- পারমাণবিক সংখ্যাকে 'Z' অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- যেমন: সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11 টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11.
- তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হলো, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না।  

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,৬০৩.
জারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. ক) তড়িৎ- ধনাত্মক আধান হ্রাস
  2. খ) তড়িৎ- ঋণাত্মক আধান বৃদ্ধি
  3. গ) তড়িৎ- ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি
  4. ঘ) ইলেকট্রন গ্রহণ
ব্যাখ্যা
- কোন পরমাণুর,আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ- ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ- ঋণাত্মক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়।
- যে সকল পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ ক্রতে পারে, তাদেরকে জারক পদার্থ বলা হয়।
- আর যে সকল পদার্থের বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন প্রদান করে তাকে বিজারক পদার্থ বলে।

এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৬০৪.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ওডোমিটার
  2. স্পিডোমিটার
  3. অ্যালটিমিটার
  4. ট্যাকোমিটার
ব্যাখ্যা

- উড়োজাহাজ বা বিমানের গতি নির্ণয় করার জন্য ট্যাকোমিটার (Tachometer) নামক যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়। এই যন্ত্রটি মূলত বিমানের ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতি (RPM - Revolutions Per Minute) পরিমাপ করে যা গতি নির্ধারণে সহায়তা করে। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তাপ পরিমাপক যন্ত্র- ক্যালরিমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েসাইট।

১০,৬০৫.
250 kg ভরের একটি গাড়ি 450 ms-1 বেগে গতিশীল। গাড়িটির গতিশক্তি কত?
  1. 4.06 × 109 J
  2. 7.06 × 106 J
  3. 6.02 × 105 J
  4. কোনোটিই নয়
১০,৬০৬.
Which chemical compound is responsible for the sweet aroma of fruits?
  1. Alcohol
  2. Ester
  3. Amine
  4. Carboxylic Acid
  5. None of these
ব্যাখ্যা

• ফলের সুগন্ধের পেছনে মূলত উদ্বায়ী এস্টার যৌগগুলো কাজ করে। বিভিন্ন ফলের নির্দিষ্ট গন্ধ নির্দিষ্ট ধরণের এস্টারের উপস্থিতির কারণে হয়, যেমন- পাকা কলার গন্ধে থাকে অ্যামাইল অ্যাসিটেট এবং কমলার গন্ধে থাকে অক্টাইল অ্যাসিটেট।

• এস্টার: 

- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -COOR.
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
• মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস, 
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬০৭.
মানুষ নিয়ে চাঁদে অবতরণকারী প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. অ্যাপোলো-১০
  2. অ্যাপোলো- ১১
  3. স্পুটনিক - ১
  4. স্পুটনিক - ২
ব্যাখ্যা
অ্যাপোলো-১১:
- ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা চাঁদের উদ্দেশ্যে অ্যাপোলো-১১ মিশন প্রেরণ করে। এই মিশনে নভোচারী ছিলো তিনজন। এটিই চাঁদে অবতরণকারী প্রথম মহাকাশযান। নভোচারী ৩ জন হলেন:
- নীল আর্মস্ট্রং
- বাজ অলড্রিন এবং
- মাইকেল কলিন্স।
- ২০ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেন।
- চাঁদের যে স্থানে অবতরণ করে তার নাম - শান্ত সমুদ্র।
- মাইকেল কলিন্স কমান্ড মডিউল কলম্বিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
- ২৪ জুলাই এরা পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

উল্লেখ্য,
- মহাশূণ্যে পাঠানো প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ হলো স্পুটনিক - ১
- জীবন্ত প্রাণী বহনকারী প্রথম উপগ্রহ স্পুটনিক - ২। লাইকা নামে কুকুর বহন করেছিল।

উৎস: প্রথম আলো, Britannica.
১০,৬০৮.
ক্ষারীয় দ্রবণকে কীভাবে শনাক্ত করা যায়?
  1. এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে
  2. এটি নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
  3. এটি হলুদ লিটমাস কাগজকে বাদামী করে
  4. এটি সবুজ লিটমাস কাগজকে কালো করে
ব্যাখ্যা

ক্ষারীয় (alkaline) দ্রবণ হলো এমন জলীয় দ্রবণ যার pH ৭-এর উপরে থাকে। যেমন— সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) ইত্যাদি। ক্ষারীয় দ্রবণের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল রঙে পরিবর্তন করে।

​ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
​- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

মৃদু ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়।
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি।
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।

তীব্র ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়।
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬০৯.
বাংলাদেশে প্রদানকৃত টায়ফয়েডের টিকার নাম কী?
  1. DPT
  2. TT
  3. TCV
  4. BCG
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে প্রদানকৃত টায়ফয়েডের টিকার নাম TCV (Typhoid Conjugate Vaccine)।
- বিশ্বখ্যাত ইংল্যান্ডের GlaxoSmithKline কোম্পানি মূলত টাইফয়েড কনজুগেট টিকাটি তৈরি করেছিল।
- পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের GlaxoSmithKline-এর সাথে যৌথভাবে এবং তাদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও ফর্মুলা অনুসরণ করে Biological E Limited-এর ব্যবস্থাপনায় ভারতে টাইফয়েড টিকাটি তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার শিশুদের নিরাপদ টিকা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
- টাইফয়েড টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক পরীক্ষিত, সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর।
- ২০১৯ সাল থেকে পাকিস্তানেও ভারতের তৈরি টাইফয়েড টিকা সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষার টিকা: বিসিজি B.C.G(Bacillus Calmette-Guérin)। 
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকারের টিকা: ডিপিটি (D.P.T)। 
- পোলিও টিকা: ওপিভি OPV( Oral Polio Vaccine)। 

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

১০,৬১০.
মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন কত?
  1. ক) ১৫০০ ঘন সেমি
  2. খ) ১৮০০ ঘন সেমি
  3. গ) ২০০০ ঘন সেমি
  4. ঘ) ১০০০ ঘন সেমি
ব্যাখ্যা
- মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্র অঙ্গ।
- মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন ১৫০০ ঘন সেমি।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
- মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬১১.
Which of the following is a DNA virus-induced disease?
  1. Dengue
  2. Polio
  3. Corona
  4. Small pox
  5. None of these
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা(স্মলপক্স) , TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১০,৬১২.
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়া কোনটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) অ্যামোনিয়া
  2. খ) ন্যাপথলিন
  3. গ) নিশাদল
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন - 
নিশাদল (NH4Cl), 
• কর্পূর (C10H16O), 
ন্যাপথলিন (C10H8), 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), 
আয়োডিন (I2), 
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
১০,৬১৩.
হৃৎপিণ্ডের বাইরের আবরণকে কী বলা হয়?
  1. এন্ডোকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. প্লুরা
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ডের বাইরের আবরণ বা থলিটিকে পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium) বলা হয়।
 
মানুষের হৃদপিণ্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
• হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা-
- এপিকার্ডিয়াম,
- মায়োকার্ডিয়াম ও
- এন্ডোকার্ডিয়াম।

-হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।
- এটি একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট পর্দা যা হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয় এবং এর সঠিক অবস্থানে থাকতে সাহায্য করে।
- দুটি পেরিকার্ডিয়াল স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচনের সময় ঘর্ষণ রোধ করে।

উল্লেখ্য: 
- অস্থির আবরণের নাম: পেরিঅস্ট্রিয়াম।
- তরুণাস্থির আবরণের নাম: পেরিকন্ড্রিয়াম।
- ফুসফুসের আবরণের নাম: প্লুরা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৬১৪.
'তল্লাশি ও উদ্ধার' কোনটির আওতাভুক্ত?
  1. সাড়া দান
  2. উন্নয়ন
  3. প্রতিরোধ
  4. পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

• সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম -১০ম শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬১৫.
ডায়োড সাধারণত কোন কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. তাপ উৎপাদনে
  2. শব্দ কমাতে
  3. বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  4. এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে
ব্যাখ্যা
ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না। 
- ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। 
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode. 
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়। 
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে। 
- ডায়োডের রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬১৬.
হেনরি বেকরেল কোন আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?
  1. ক) রঞ্জন রশ্মি
  2. খ) রেডিয়াম
  3. গ) তেজস্ক্রিয়তা
  4. ঘ) কোয়ান্টাম তথ্য
ব্যাখ্যা
১৮৯৬ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তিনি এটি আবিষ্কার করেন। তেজস্ক্রিয়তার একক বেকরেল। উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
১০,৬১৭.
কোনটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. জবা
  2. কালকাসুন্দা
  3. দাঁতমর্দন
  4. ধান
ব্যাখ্যা
গুল্ম:
- একক গুঁড়িবিহীন ঝোপজাতীয় মাঝারি ধরনের কাষ্ঠল উদ্ভিদকে গুল্ম বলে।
- যেমন- জবা, গোলাপ, রঙ্গন, লেবু।
- গুল্ম বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।

উপগুল্ম:
- গুল্মের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির উদ্ভিদকে উপগুল্ম বলে।
- যেমন- কালকাসুন্দা, দাঁতমর্দন।

বীরুৎ:
- ছোট ও নরম কাণ্ড বিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদকে বীরুৎ বলে।
- যেমন- ধান, সরিষা, মরিচ, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,৬১৮.
H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে কোন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে? 
  1. ব্যাপন
  2. প্রস্বেদন
  3. নিঃসরণ
  4. অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ফুলের সুগন্ধ ও H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। 
- ব্যাপন হল সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ু চাপ থাকে। 

নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় বাতাস বের হয়ে পড়ে। 
- গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে। 
- নিঃসরণ হল অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় দ্রুত প্রক্রিয়া। 
- নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থা থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১০,৬১৯.
কোন ডালের সংগে ল্যাথারাইজম রোগের সম্পর্ক আছে?
  1. ক) অড়হর
  2. খ) ছোলা
  3. গ) খেসারী
  4. ঘ) মটর
ব্যাখ্যা
Lathyrism or neurolathyrism is a neurological disease of humans and domestic animals, caused by eating certain legumes like kesari dal.
Source: timesofindia.indiatimes.com
১০,৬২০.
ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে লুই পাস্তুরের অবদান কী?
  1. ব্যাকটেরিয়ার ক্লোনিং
  2. ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ 
  3. ব্যাকটেরিয়া তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা 
  4. ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ 
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬২১.
বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাস সর্বাধিক পরিমাণে পাওয়া যায় ?
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বাতাসে ৭৮.০৯% নাইট্রোজেন,২০.৯৫% অক্সিজেন, ০.৯৩% আর্গন, ০.০৩% কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং সামান্য পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস থাকে।
বাতাসে এছাড়াও পরিবর্তনশীল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে যার গড় প্রায় ১%।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান।
১০,৬২২.
The average salinity of sea of water is ___
  1. 1%
  2. 2.5%
  3. 5%
  4. 3.5%
  5. None
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানি:
- সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
- গড়ে সমুদ্রের পানির ওজনের প্রায় ৩.৫ শতাংশ হলো দ্রবীভূত লবণ। 
- এর অর্থ ১ কিলোগ্রাম সমুদ্রের পানিতে ৩৫ গ্রাম দ্রবীভূত লবণ রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
- পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
- সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১০,৬২৩.
ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিন দিয়ে কী সম্ভব? 
  1. উচ্চ পটেনশিয়াল তৈরি
  2. কম তাপ উৎপাদন
  3. তড়িৎ তরঙ্গ সঞ্চালন
  4. কম বিদ্যুতের কাজ
ব্যাখ্যা
ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিন: 
- অত্যন্ত উচ্চ বিভব দিয়ে নানা ধরনের কাজ করা হয়। 
- ভ্যান ডি গ্রাফ মেশিনে সেটি করা সম্ভব হয় স্থির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। 
- একটি ঘুরন্ত বিদ্যুৎ অপরিবাহী বেল্টে চার্জযুক্ত কণা বা স্থির বিদ্যুৎ স্প্রে করা হয়, বেল্টটি ঘুরিয়ে একটি ধাতব গোলকের ভেতর নেওয়া হয়। 
- বেল্টের ওপর থেকে একটা স্পর্শক এই চার্জটা গ্রহণ করে ধাতব গোলকের কাছে পৌঁছে দেয়। 

- চার্জ সব সময়ই বেশি থেকে কম বিভবে প্রবাহিত হয়। 
- ভ্যান ডি গ্রাফ জেনারেটরে এটি সব সময় ঘটে থাকে, কারণ ধাতব গোলকের ভেতরে সব সময়ই গোলকের সমান বিভব থাকে। 
- বেল্টের উপরের বাড়তি চার্জটুকুর জন্য যে বাড়তি ভোল্টেজ তৈরি হয় সেটি তাই সব সময়ই গোলকের  ভোল্টেজ থেকে বেশি। সে কারণে গোলকের ভেতরে চার্জ থাকলেই সেটা গোলকপৃষ্ঠে চলে যায়। 
- এভাবে বিশাল পরিমাণ চার্জ জমা করিয়ে অনেক উচ্চ পটেনশিয়াল তৈরি করা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬২৪.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৯৩.৬° ফারেনহাইট
  2. ৩৭° সেলসিয়াস
  3. ৮৭.৬° ফারেনহাইট
  4. ৩৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬° ফারেনহাইট)।

• মানবদেহ:
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%।
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।
- করোটিতে অস্থির সংখ্যা ২৯ টি।
- মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা ৩৩ টি।
- মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া (৪৪ টি)ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
১০,৬২৫.
কোন বর্ণের আলো সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়?
  1. বেগুনি 
  2. নীল 
  3. লাল 
  4. হলুদ 
ব্যাখ্যা

- আলোর বিক্ষেপণ তার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে। আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম হয়, তার বিক্ষেপণ তত বেশি হয়। দৃশ্যমান বর্ণালীর মধ্যে বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তাই এই বর্ণের আলো সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। অন্যদিকে, নীল আলোর বিক্ষেপণ অনেক বেশি হলেও তা বেগুনির চেয়ে কিছুটা কম, তবে বায়ুমণ্ডলে এর প্রভাব বেশি স্পষ্ট হয়। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
 - এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬২৬.
কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. Mangifera indica
  2. Nymphaea nouchali
  3. Musa paradisiaca
  4. Artocarpus heterophyllus
ব্যাখ্যা
• কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম  Artocarpus heterophyllus।

• দ্বিপদ নামকরণ:
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
-  যেমন: গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum
- এখানে Solanum গণ নাম এবং tuberosum প্রজাতির নাম বুঝায়, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম।
- এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ (binomial nomenclature) পদ্ধতি বলে।
- দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ্য একটাই, তা হচ্ছে এই বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন।
- এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।
- কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন।


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬২৭.
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিরাজমান জীবের ভৌত ও পারিবেশগত ভিন্নতাকে বলে-
  1. প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য
  2. বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্য
  3. জীনগত জীববৈচিত্র্য
  4. জলবায়ুগত জীববৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
• জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ:
- জীববৈচিত্র্যকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়।
১. বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্য: কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিরাজমান জীবের ভৌত ও পারিবেশগত বিভিন্নতাকে বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্য বলে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাজমান। প্রত্যেকটি বাস্তুতন্ত্রে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সৃষ্টি হয়।

২. প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য: ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্যতা বিদ্যমান তাকে প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য বলা হয়। এরূপ বৈচিত্র্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিরাজমান মোট প্রজাতির সংখ্যা দ্বারা পরিমাপিত হয়।

৩. জীনগত জীববৈচিত্র্য: উদ্ভিদ ও প্রাণির প্রতিটি সদস্যই তাদের জীনগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পরস্পর আলাদা। জীবগোষ্ঠির এই জীনগত বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যতাই জীনগত জীববৈচিত্র্য। জীনগত ভিন্নতার কারণেই আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ ও আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের গায়ের রং, চুলের প্রকৃতি, নাক ও ঠোঁটের আকৃতি, উচ্চতা ইত্যাদির অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬২৮.
কোন বছর পরিমাপের এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতির প্রবর্তন হয়েছিল? 
  1. 1940 সালে
  2. 1950 সালে
  3. 1960 সালে
  4. 1970 সালে
ব্যাখ্যা
পরিমাপের একক: 
- পরিমাপ বলতে বুঝায় কোনো কিছুর পরিমাণ নির্ণয় করা। 
যেমন- রুপম প্রতিদিন সকালে ২ কিলোমিটার দৌড়ায়, প্রীতমের বাসা থেকে স্কুলে যেতে ১৫ মিনিট সময় লাগে। এখানে ২ কিলোমিটার হলে দূরত্বের পরিমাণ এবং ১৫ মিনিট হলো সময়ের পরিমাণ। 
অর্থাৎ, কোনো কিছু পরিমাণ নির্ণয় করতে হলে দুটি জিনিসের প্রয়োজন হয়। একটি হলো সংখ্যা অন্যটি হলো একক। 
- যে কোন ভৌত রাশির পরিমাপের জন্য তার একটি নিদিষ্ট পরিমাণকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয় এবং এই পরিমাণের সাপেক্ষে সমগ্র ভৌত রাশিটির পরিমাপ করা হয়, এ আদর্শ পরিমাণকে ঐ রাশিটির একক বলা হয়। 
- বিভিন্ন ভৌত রাশি যেমন- ক্ষেত্রফল, আয়তন, ওজন, কোণ, সময়, বল, তাপ, শক্তি ইত্যাদি পরিমাপের জন্য ভিন্ন ভিন্ন একক রয়েছে এবং পরিমাপের বিভিন্ন পদ্ধতিতে এদের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। 
- যে আদর্শ পরিমাপের সাথে তুলনা করে ভৌত রাশিকে পরিমাপ করা হয় তাকে পরিমাপের একক বলা হয়। 
যেমন- মিটার, কিলোগ্রাম, সেকেন্ড, নিউটন, জুল ইত্যাদি পরিমাপের এককের উদাহরণ। 

এস.আই (S.I) এর মৌলিক একক: 
- মৌলিক রাশির এককসমূহ অন্য কোনো এককের উপর নির্ভর করে না, তাই মৌলিক একক ইচ্ছামত নির্বাচন করা যায়। তবে নির্বাচিত এককগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকতে হবে এবং এই এককগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে।
যেমন- এটি হবে অপরিবর্তনীয় অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্র ভেদে কোন কিছুর উপর নির্ভর করবে না।
- কালের বিবর্তনে বা অন্য কোন প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এর কোন পরিবর্তন হবে না।
- 1960 সালে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি চালুর সময় মৌলিক এককগুলোর যে আদর্শ বা স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করা হয়েছিল পরবর্তীকালে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের লক্ষ্যে এদের মধ্যে অনেক এককের আদর্শ বদল করা হয়েছে কিন্তু তাতে এককগুলোর মানের কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬২৯.
নিচের কোনটি ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. ইথিলিন
  2. অক্সিন
  3. সাইটোকাইনিন
  4. অ্যাবসিসিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

• অক্সিন (Auxins):
- ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে অক্সিন।
- সার্থক পলিনেশনের পরপরই গর্ভাশয়ে অক্সিন তৈরি বেড়ে যায়।
- পরাগনালিকা যখন বাড়তে থাকে তখন পরাগনালিকা হতে একপ্রকার এনজাইম নিঃসৃত হয়, যার প্রভাবে ট্রিপটোপাফ্যান অক্সিন এ পরিবর্তিত হয়।

অক্সিনের শারীরবিজ্ঞানিক প্রভাব:
১। অক্সিনের প্রভাবে কোষ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।
২। অক্সিন উদ্ভিদ কর্তৃক অধিক পানি গ্রহণে সহায়তা করে। 
৩। অক্সিন শীর্ষমুকুলের বৃদ্ধিতে প্রাধান্য সৃষ্টি করে। 
৪। অক্সিন মূল সৃষ্টি সূচনা করে। এতে মূলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
৫। পরাগায়ন ও নিষেক ছাড়া ফল সৃষ্টিতে অব্জিন সহায়তা করে।
৬। অক্সিন শ্বসনের হার বৃদ্ধি করে।
৭। অক্সিনের প্রভাবে পাতা ও ফলের বোঁটায় অ্যাবসিশন স্তর সৃষ্টিতে বাধার সৃষ্টি হয়, তাই পাতা ও ফল ঝরে যায় না।

অন্যদিকে,
- ইথিলিন: এটি একমাত্র গ্যাসীয় হরমোন যা ফল পাকানোর পাশাপাশি পাতা ও ফুলের ঝরে পড়াকে ত্বরান্বিত করে।
- সাইটোকাইনিন: এটি কোষের জরা বা বার্ধক্য রোধ করে এবং মূলত ডিএনএ সংশ্লেষণে অংশ নেয়।
- অ্যাবসিসিক অ্যাসিড: এটি প্রতিকূল পরিবেশে (যেমন- খরা) স্টোমাটা বন্ধ করে উদ্ভিদের পানি হ্রাস কমায়।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১০,৬৩০.
মূলের কোন অংশ মাটি থেকে খাদ্য শোষণ করে?
  1. ক) বর্ধিষ্ণু অঞ্চল
  2. খ) স্থায়ী অঞ্চল
  3. গ) বিভাজন অঞ্চল
  4. ঘ) মূলরোম অঞ্চল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মূল নিম্নলিখিত কাজসমূহ করে থাকেঃ
১। মূল উদ্ভিদকে মাটির সাথে শক্তভাবে আটকে রাখে ফলে ঝড় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না।
২। মূল মাটি থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ শোষণ করে। আমরা জানি, মূলে মূলরোম অঞ্চল বলে একটি অংশ থাকে। এখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রোম উৎপন্ন হয় যার মাধ্যমে উদ্ভিদ পানি ও খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১০,৬৩১.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. বায়োগ্যাস
  3. কয়লা 
  4. তরল পেট্রোলিয়াম
ব্যাখ্যা
জ্বালানি ও জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- যে সব পদার্থ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপাদিত হয়, সেগুলোকে জ্বালানি বলা হয়। 
- জ্বালানিই তাপশক্তির প্রধান উৎস। 

জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরল পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। 
- এগুলো প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর উচ্চ চাপ ও তাপে পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়।

অন্যদিকে, 
- বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয় কারণ এটি পুনঃনবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস
- এটি সাম্প্রতিক জৈব পদার্থের পচন থেকে উৎপন্ন হয়, যা স্বল্প সময়ে পুনরায় উৎপাদনযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৩২.
একটি অণু বা পরমানুর সম্মিলিত চার্জ-
  1. ক) ধণাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) অশূন্য
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াসের ভেতরে ধণাত্মক চার্জ যুক্ত প্রোটন এবং এর বাইরে ঋণাত্মক চার্জ যুক্ত ইলেকট্রন থাকে বলে একটি অণু বা পরমানুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০,৬৩৩.
পৃথিবীতে অজৈব যৌগের সংখ্যা কত?
  1. ক) প্রায় ৯০ হাজার
  2. খ) প্রায় ৮০ লক্ষ
  3. গ) প্রায় ৩৯ হাজার
  4. ঘ) প্রায় ১ কোটি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
কার্বনের ক্যাটেনেশন ও জৈব যৌগের সমাণুতার জন্য বর্তমানে আবিষ্কৃত জৈব যৌগের সংখ্যা প্রায় ৮০ লক্ষ। অন্যদিকে অজৈব যৌগের সংখ্যা ১ লাখেরও কম (প্রায় ৯০ হাজার মাত্র)
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০,৬৩৪.
পালংশাক সবজি হিসেবে -
  1. ক) অম্লধর্মী
  2. খ) ক্ষারধর্মী
  3. গ) স্নেহধর্মী
  4. ঘ) শর্করা
ব্যাখ্যা
বেশকিছু খাদ্যদ্রব্য আছে যেগুলো কিছুটা ক্ষারধর্মী এবং ফলে এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে পারে। এসব খাদ্যের মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগ শাকসবজি। যেমন- ব্রকলি, পুঁইশাক, পালংশাক, গাজর, শিম, বিট, লেটুসপাতা, মাশরুম, ভুট্টা, আলু, ফুলকপি ইত্যাদি। উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬৩৫.
কোন রক্তগ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়?
  1. O
  2. A
  3. B
  4. AB
ব্যাখ্যা

- AB রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা (universal recipient) বলা হয় কারণ এই গ্রুপের একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো রক্ত ​​গ্রুপের (A, B, O, এবং AB) কাছ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারেন। 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৩৬.
নিচের কোনটি ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখা?
  1. মৎস্যবিজ্ঞান
  2. জীবপ্রযুক্তি
  3. অণুজীববিজ্ঞান
  4. বাস্তুবিদ্যা
ব্যাখ্যা
ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে।
আর ফলিত জীববিজ্ঞান শাখায় জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
অঙ্গসংস্থান, শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা, শারীরবিদ্যা, হিস্টলজি, ভ্রূণবিদ্যা, কোষবিদ্যা, বিবর্তনবিদ্যা, বাস্তুবিদ্যা, জীবভূগোল, এন্ডোক্রাইনোলজি ইত্যাদি ভৌত জীববিজ্ঞানের শাখা।
অপরদিকে, মৎস্যবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি, প্রাণরসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান, জিনপ্রযুক্তি, ফার্মেসি, জীবাশ্মবিজ্ঞান ইত্যাদি ফলিত জীববিজ্ঞানের শাখা।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬৩৭.
রান্নার পাত্র তৈরিতে এলুমিনিয়ামের ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. ক) দ্রুত তাপ সঞ্চালন হয়
  2. খ) দামে সস্তা বলে
  3. গ) সহজলভ্য বলে
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা

রান্নার কাজে আমরা এলুমিনিয়ামের পাত্র বা লোহার কড়াই ব্যবহার করে থাকি।
কারণ, এগুলো চুলার আগুন থেকে তাপ দ্রুত পরিবহণ করে রান্নার মূল উপাদানে পৌঁছে দেয়। ফলস্বরূপ, উপাদানগুলো ঐ তাপে সিদ্ধ হয়।
এলুমিনিয়াম তাপ সুপরিবাহী পদার্থ।
উৎস: ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান

১০,৬৩৮.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ হ্রাস পায়।
  2. খ) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  3. গ) মাধ্যমের ঘনত্ব হ্রাস পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
পরীক্ষা করে দেখা গেছে আলাের দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3x108 ms-1 নির্দিষ্ট। কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়।
0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1

তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। হিসাব করে দেখা গেছে প্রতি 1°C বা 1K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।

বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
 
মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়
যেমন- বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1, পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং লােহার মধ্যে 5220 ms-1 |

বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১০,৬৩৯.
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
- এটি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রধান কার্যালয় লন্ডনে অবস্থিত।
- এর বর্তমান মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম নারী ও এশীয় মহাসচিব ছিলেন বাংলাদেশের আইরিন খান।
- সংস্থাটি ১৯৭৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ওয়েবসাইট)
১০,৬৪০.
অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয় কোনটি?
  1. সেরেব্রাম
  2. সেরেবেলাম
  3. থ্যালামাস
  4. হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
• সেরেবেলাম পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৪১.
পদ্মা কোন জাতীয় ফসল?
  1. ক) তরমুজ
  2. খ) আম
  3. গ) কলা
  4. ঘ) পেয়ারা
ব্যাখ্যা
- তরমুজ: পদ্মা, মধুবালা (হলদে জাতের তরমুজ)।
- আম: মোহনভোগ, কিষানভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া। 
- কলা: অগ্নিশ্বর, কাঁনাইবাশি, মোহনবাশী, মেহেরসাগর, অমৃতসাগর।
- পেয়ারা- কাঞ্চন নগর, স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরী। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১০,৬৪২.
কোনটির অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়?
  1. রাইবোফ্ল্যাভিন
  2. থায়ামিন
  3. নিয়াসিন
  4. সায়ানোকোবালামিন
ব্যাখ্যা
ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়৷
ভিটামিন বি-২ বা রাইবোফ্ল্যাভিন এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়।
ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।

উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৬৪৩.
গ্রাফাইট মূলত ____ এর একটি রুপ।
  1. ক) কার্বন
  2. খ) আর্গন
  3. গ) হ্যালোজেন
  4. ঘ) জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
কার্বন একটি অধাতু। কিন্তু কার্বন এরই অন্য একটি রুপ গ্রাফাইট যা বিদ্যুৎ পরিবাহী।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০,৬৪৪.
কোন গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজন স্তরকে ক্ষতি করে?
  1. ক) কার্বন মনোক্সাইড
  2. খ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. গ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
  4. ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর।
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগগুলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে।
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৪৫.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত মিলিমিটার অব মার্কারি?
  1. ক) ১০০/৫০
  2. খ) ১৪০/৭০
  3. গ) ১২০/৮০
  4. ঘ) ১৫০/৯০
ব্যাখ্যা
রক্তনালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রাচীর গাত্রে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃদপিণ্ডের নিলয়ের সংকোচন অবস্থায় রক্তচাপ বেশি থাকে এবং এ চাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে।
- অপরদিকে ভেন্ট্রিকলের প্রসারণ অবস্থায় রক্তচাপ সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে আসে। একে বলা হয় ডায়াস্টোলিক চাপ।
- একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক সিস্টোলিক চাপ হলো ১১০-১২০ মি.মি. (পারদ) এবং স্বাভাবিক ডায়াস্টোলিক চাপ ৭০-৮০ মি.মি. (পারদ)।
- এজন্য মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ গড়ে ১২০/৮০ মি.মি. (পারদ)।
১০,৬৪৬.
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধানত কোন বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. ফটোইলেকট্রিক প্রক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. নিউক্লিয় ফিশন
  4. নিউক্লিয় ফিউশন
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিউশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে দুটি হালকা নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে। 
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়, যা সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের শক্তির মূল উৎস। 
- হাইড্রোজেন বোমার কার্যপ্রক্রিয়া নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। 

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। 
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়। 
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৬৪৭.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সে.মি.-এ কত?
  1. ১০ নিউটন
  2. ১১.৫ নিউটন
  3. ১০ মেট্রিক টন
  4. ৫ মেট্রিকটন
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে- ১০ নিউটন। 
- গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় চাপ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। 
- পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ পর্যন্ত গড়ে ১ বর্গ সেন্টিমিটার প্রস্থচ্ছেদের বায়ুর কলামের ভর ১.০৩ কিলোগ্রাম এবং এটি ১০.১ নিউটন ওজন প্রয়োগ করে। 
- যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে ১০.১নিউটন চাপের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট।
১০,৬৪৮.
পৃথিবীর ওপর কোন মহাজাগতিক বস্তুর আকর্ষণ জোয়ার-ভাটায় বেশি প্রভাব ফেলে?
  1. নক্ষত্র 
  2. সূর্য 
  3. চন্দ্র 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এই কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি, ফলে জোয়ার-ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বা চাঁদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। 

- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে। 

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৪৯.
কোনটি বাস্তুতন্ত্রের জড় উপাদান?
  1. খাদক
  2. হিউমাস
  3. বিয়োজক
  4. উৎপাদক
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem): 
- বাস্তুতন্ত্র বলতে ভূপৃষ্ঠের এমন কোনো একককে বোঝায় যেখানে জড়, খাদ্য উৎপাদনকারী সবুজ উদ্ভিদ, খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল কিছু প্রাণী এবং মৃত জীবদেহকে পরিবেশে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য অণুজীব রয়েছে এবং এসব উপাদানের মধ্যে যথাযথ আন্তঃসম্পর্ক বর্তমান। 
- জীবজগতের পুষ্টি এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার বিভিন্ন উপাদানের উৎস হিসেবে মাটি, পানি ও বায়ুর প্রয়োজন হয়। 

বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহ: 
- জীব সম্প্রদায়, পরিবেশের জড় পদার্থ এবং ভৌত পরিবেশ মিলেই কোনো স্থানের বাস্তুতন্ত্র গড়ে ওঠে। 
- এই তিনটি প্রধান উপাদানের প্রত্যেকটিতে রয়েছে আবার অনেক ধরনের ছোট ছোট উপাদান এবং জীব উপাদানগুলো সবচেয়ে বৈচিত্র্যময়। 
জড় উপাদান: 
- পরিবেশের জড় পদার্থগুলো জীব উপাদানের জন্য বাসস্থান নির্মাণ করে, শ্বসনের জন্য অক্সিজেন যোগায় এবং বেশ কিছু পুষ্টি উপাদানও সরবরাহ করে। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল জড় উপাদানকে আবার অজৈব এবং জৈব এই দুভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১।  অজৈব বস্তু (Inorganic matters): 
- পানি, বায়ু, ও মাটিতে অবস্থিত খনিজ পদার্থ অর্থাৎ যেসব পদার্থ কোনো জীবদেহ থেকে আসেনি, বরং জীবের উদ্ভবের আগেই পরিবেশে ছিল, সেগুলো বাস্তুতন্ত্রের অজৈব উপাদান। 
যেমন- ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, লৌহ, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি। 

২। জৈব বস্তু (Organic matters): 
- উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ বা এসব জীবের মৃতদেহ থেকে যেসব জড় বস্তু বাস্তুতন্ত্রে যোগ হয়, তাদের বলা হয় জৈব উপাদান। 
- এগুলো সচরাচর হিউমাস নামে পরিচিত। 
- হিউমাসের উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বিভিন্ন কোষ, টিস্যু, অঙ্গ ইত্যাদি। 
- জৈব বস্তু উদ্ভিদের জন্য বেশি পুষ্টিকর। তাই উদ্ভিদ চাষে বেশি করে জৈব সার দিতে হয়। বহু প্রাণীও হিউমাসসমৃদ্ধ মাটি বেশি পছন্দ করে। 

ভৌত উপাদান: 
- পরিবেশে সূর্যালোকের পরিমাণ, তাপমাত্রা, বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, বায়ুর চাপ এবং বায়ুপ্রবাহ, ভূপৃষ্ঠ বা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা (মাটির নিচে বা পানির নিচে) এবং উচ্চতা ইত্যাদি বহু উপাদান বাস্তুতন্ত্রকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। 
- এসব উপাদান মিলে গড়ে ওঠে কোনো অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু। এসবই হচ্ছে কোনো বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান। 

জীবজ উপাদান: 
- জীবকুল বাস্তুতন্ত্রের সক্রিয় উপাদান। 
- এরাই তাদের কাজের মাধ্যমে পরিবেশে বিভিন্ন পরিবর্তন আনে। 
- পরিবেশের জীবজ উপাদানগুলো প্রধানত তিন প্রকার। 
যথা- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬৫০.
ধারকের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. 1 μF = 10- 3 F
  2. 1 μF = 10- 6 F
  3. 1 μF = 10- 9 F
  4. 1 μF = 10- 12 F
ব্যাখ্যা
• ধারকের ক্ষেত্রে  সঠিক'1 μF = 10- 6 F'।

• ধারক:
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে বস্তু তাপ ধারণ করে রাখে, তাই বস্তুকে তাপ ধারক বলা যায়।
- তেমনি যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে।
- পাত্রে পানি ঢাললে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো বস্তুতে আধান প্রদান করলে বস্তুর বিভব বৃদ্ধি পায়।
- যে পরিমাণ আধান প্রদান করলে একটি বস্তুর বিভব 1V বৃদ্ধি পায় তাকে তার ধারকত্ব বলে।
- সহজ কথায় বলতে গেলে যে ধারণ করে সেই ধারক। যেমন গ্লাস, বালতি বা কলসী পানি ধারণ করে। সুতরাং তাদেরকে পানি ধারক বলা যায়।
- ধারকত্বকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- ধারকের একক ফ্যারাড (F)।
- ধারকের একক ফ্যারাডে একটি বেশ বড় একক। এজন্য এর কতগুলো ছোট একক ব্যবহার করা হয়।
১. 1 μF (মাইক্রো ফ্যারাড) = 10- 6 F
২. 1 nF (ন্যানো ফ্যারাড) = 10- 9 F
৩. 1 pF (পিকো ফ্যারাড) = 10- 12 F

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৫১.
শিশুদের মেরাসমাস ও কোয়াশিয়রকর রোগ হয়-
  1. ক) আমিষের অভাবে
  2. খ) ক্যালসিয়ামের অভাবে
  3. গ) ভিটামিন-সি এর অভাবে
  4. ঘ) লৌহের অভাবে
ব্যাখ্যা
শিশুদের মেরাসমাস ও কোয়াশিয়রকর রোগ হয় আমিষ বা প্রোটিনের অভাবে। এর ফলে দেখা দেয় রক্তস্বল্পতা। উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬৫২.
সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামাল কী?
  1. ক) মাইকা
  2. খ) ম্যাগনেটাইট
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা
সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয় জিপসাম (CaSO4.2H2O)। এছাড়া-

• মাইকা - বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
• ম্যাগনেটাইট - লোহা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
• কোয়ার্টজ - কাচ, সিরিচ কাগজ, রেডিও বা ঘড়িতে ব্যবহৃত হয়। 

সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১০,৬৫৩.
দুধের মধ্যে বিদ্যমান শর্করা কোনটি?
  1. ল্যাক্টোজ
  2. গ্যালাক্টোজ
  3. ফ্রুক্টোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করার গঠন: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। 
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। 
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়। 
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন। 

শর্করার উৎস: 
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো- চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি। 
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা। 

শর্করার প্রকারভেদ: 
- গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার। 
যথা: এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)। 
১। এক শর্করা: 
- এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 
ক) গ্লুকোজ- চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি। 
খ) ফ্রুক্টোজ- মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি। 
গ) গ্যালাক্টোজ- দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। 

২। দ্বি-শর্করা: 
- দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ। 
ক) সুক্রোজ- আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস। 
খ) মলটোজ- চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)। 
গ) ল্যাক্টোজ- দুধের শর্করা। 

৩। বহু শর্করা: 
- বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ। 
ক) শ্বেতসার- চাল, গম, আলু, কচু। 
খ) সেলুলোজ- ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা। 
গ) গ্লাইকোজেন- প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৫৪.
জৈব যৌগের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়
  2. নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়
  3. জৈব যৌগ পানিতে অদ্রবণীয়
  4. বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ সুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ বিশ্লেষ্য না হওয়ায় বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ সুপরিবাহী নয় বরং অপরিবাহী। 

• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
উদাহরণ:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3-OH), অ্যানিলিন (C6H5-NH2) ইত্যাদি।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
- জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
- জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
- জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৫৫.
আন্তর্জাতিক তাপমাত্রা স্কেল অনুমোদিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
পূর্বে তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য বিভিন্ন তাপমান যন্ত্রে বিভিন্ন স্কেল ব্যবহার করা হতো। তাপমাত্রার বিভিন্ন স্কেল হলো সেলসিয়াস, ফারেনহাইট এবং কেলভিন স্কেল।
বিভিন্ন স্কেলে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার মান সমান ছিলো না। এই অসুবিধা দূর করার জন্য আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ কমিটি ১৯২৭ সালে তাপমাত্রার একটি ব্যবহারিক স্কেল অনুমোদন করেন। এর নাম আন্তর্জাতিক তাপমাত্রা স্কেল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০,৬৫৬.
বিষুবীয় অঞ্চলে বস্তুর ওজন
  1. সবচেয়ে কম
  2. সবচেয়ে বেশি
  3. শূন্য
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিষুবীয় অঞ্চলে বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম ও মেরু অঞ্চলে বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি। 
• বিষুবীয় অঞ্চল থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দূরত্ব বেশি হওয়ায় বস্তুর ওজন কম হয়ে থাকে। 
• পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য। 

সূত্র - নিম্ন মাধ্যমিক বিজ্ঞান/মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
১০,৬৫৭.
সবল নিউক্লীয় বল প্রায় কত দূরত্বে কার্যকর?
  1. ১০-৬ m
  2. ১০-৯ m
  3. ১০-১৫ m
  4. ১০-১৮ m
ব্যাখ্যা

বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে।
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:
 ১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 
 
২। তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।
 
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 
 
৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৬৫৮.
Medium ট্রান্সমিশন লাইনে ভোল্টেজ Range কত?
  1. Less than 20KV
  2. More than 200KV
  3. 20KV to 100 KV
  4. 50 KV to 200 KV
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ট্রান্সমিশন লাইন 

Short transmission line: 0 - 20 kV
Medium transmission line: 20 - 100 kV
Short transmission line: >100 kV
১০,৬৫৯.
ব্ল্যাক হোল শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন কে?
  1. জন হুইলার
  2. আইনস্টাইন
  3. স্টিফেন হকিং
  4. জর্জ ল্যামেটার
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর শব্দটি ব্যবহার করেন।
- একটি কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল হল মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে মধ্যাকর্ষণ বল এতটাই শক্তিশালী যে সেখান থেকে কোন কিছুই বের হতে পারে না। এমনকি আলোর মত তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণও এই প্রচন্ড আকর্ষণ বল ভেদ করে বের হয়ে আসতে পারে না
- গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা Sagittarius A হলো পৃথিবীর নিকটতম ব্ল্যাক হোল। 
- আইনস্টাইনের বিখ্যাত সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, মহাশূন্যে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব থাকতে পারে। 
- ব্ল্যাক হোলে পদার্থের অত্যাধিক ঘনত্বের কারণে এটি এর চার দিকে এই অস্বাভাবিক মধ্যাকর্ষণ বল তৈরি করতে পারে।

উৎস: নাসা এবং ব্রিটানিকা।
১০,৬৬০.
জীবাশ্ম জ্বালানির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো—
  1. ক্লোরিন-সমৃদ্ধ
  2. সোডিয়াম-সমৃদ্ধ
  3. সিলিকন-সমৃদ্ধ
  4. কার্বন-সমৃদ্ধ
ব্যাখ্যা

◉ জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, টার স্যান্ড, অয়েল শেল ইত্যাদি) জৈব উৎস থেকে গঠিত হাইড্রোকার্বন; তাই এদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো কার্বন-সমৃদ্ধতা।

জীবাশ্ম জ্বালানি:
- কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

• জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- খনিজ তেল,
- প্রাকৃতিক গ্যাস, ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

১০,৬৬১.
কাণ্ডের কোন অংশ থেকে পাতা উৎপন্ন হয়?
  1. মুকুল 
  2. পর্ব 
  3. পর্বমধ্য
  4. মূল
ব্যাখ্যা

কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে।
১। পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

২। পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

৩। মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪। পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১০,৬৬২.
একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা -
  1. ক) শুন্য
  2. খ) বেশি
  3. গ) একই
  4. ঘ) কম
ব্যাখ্যা
প্রমাণ বা আদর্শ কোষ:
সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
সুতরাং প্রমিত করার (Standardisation) কাজে অথবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে যেখানে প্রায় অপরিবর্তনীয় তড়িচ্চালক বলের প্রয়োজন হয় সে সব ক্ষেত্রে সাধারণ কোষ ব্যবহার করা যায় না। 
যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। 
ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরণের কোষ। এগুলোকে পরাবর্ত কোষ (Reversible) বলে।
 
অর্থাৎ, যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে। 
 
উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৬৬৩.
নিচের কোন ডিভাইস এসিকে ডিসিতে রূপান্তর করে?
  1. ক) ভােল্টমিটার
  2. খ) ডায়ােড
  3. গ) অ্যামিটার
  4. ঘ) ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A. C.) একমুখী প্রবাহে (D. C.) পরিবর্তন করা হয় তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (rectification) বলে এবং যে বর্তনী এই কাজে ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (rectifier)। জাংশন ডায়োডের বৈশিষ্ট্য থেকে জানা যায়- ডায়ােড একটা বিশেষ দিকে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে। কিন্তু বিপরীত দিকে কোনাে তড়িৎ প্রবাহ হয় না। জাংশন ডায়াডের এ বিশেষ ধর্মকে প্রবাহ একমুখীকরণ কাজে ব্যবহার করা হয়। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১০,৬৬৪.
মোমবাতির দহন-
  1. ক) ভৌত পরিবর্তন
  2. খ) রাসায়নিক পরিবর্তন
  3. গ) উভয়টি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মােম হলাে বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলাে হাইড্রোকার্বন।
মােমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলাে তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। ঐ তরল মােম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়।
অতএব ঐ বাষ্পীয় মােম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলােএবং তাপ উৎপন্ন করে এটা রাসায়নিক পরিবর্তন।
অন্যদিকে তরল মােমের কিছু অংশ ঠাণ্ডা হলে কঠিন মােমে পরিণত হয় এটা ভৌত পরিবর্তন।
১০,৬৬৫.
যখন বৈদ্যুতিক পাখা চালানো হয়, তখন বিদ্যুৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. যান্ত্রিক শক্তিতে 
  2. রাসায়নিক শক্তিতে
  3. শব্দ শক্তিতে
  4. তাপ শক্তিতে
ব্যাখ্যা

• যখন বৈদ্যুতিক পাখা চালানো হয়, তখন এতে প্রবাহিত বিদ্যুৎ শক্তি মূলত যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। পাখার ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক মোটর বিদ্যুৎ শক্তি গ্রহণ করে ঘূর্ণন সৃষ্টি করে, ফলে পাখার ব্লেড ঘুরতে শুরু করে এবং বাতাস প্রবাহিত হয়। এই ঘূর্ণন ও গতি যান্ত্রিক শক্তির উদাহরণ। যদিও পাখা চালানোর সময় সামান্য শব্দ শক্তি ও তাপ শক্তিও উৎপন্ন হয়, সেগুলো গৌণ ফলাফল। মূল ও প্রয়োজনীয় শক্তি রূপান্তরটি ঘটে বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক) যান্ত্রিক শক্তিতে।


বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে বিদ্যুৎ চালনা করলে তাপ উৎপন্ন হয়। 
- এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

আবার, 
- বৈদ্যুতিক পাখার মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে পাখা ঘুরতে থাকে। 
- এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি হতে আমরা আলো পাই। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১০,৬৬৬.
নিচের কোনটির কারণে ঘোলা চুনের পানিকে স্বচ্ছ দেখায়?
  1. CaCO3
  2. Ca(HCO3)2
  3. Ca2CO3
  4. NaHCO3
ব্যাখ্যা

এদ্রবণীয় CaCO3 এর সাথে CO2 ও H20 বিক্রিয়া করে দ্রবণীয় Ca(HCO3)2 উৎপন্ন করার কারণে ঘোলা চুনের পানিকে স্বচ্ছ দেখায়।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি মাধ্যমিক রসায়ন। 

১০,৬৬৭.
'লুমেন' কোনটির একক?
  1. দীপন ক্ষমতা
  2. আলোক প্রবাহ
  3. ঔজ্জল্য
  4. চৌম্বক প্রাবল্য
ব্যাখ্যা
- আলোক প্রবাহের একক লুমেন।
- দীপন ক্ষমতার একক লাক্স।
- ঔজ্জল্যের সিজিএস একক স্টিলব।
- চৌম্বক প্রাবল্যের একক ওয়েরস্টেড।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১০,৬৬৮.
'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলা হয়-
  1. ক) মাইট্রোকন্ডিয়াকে
  2. খ) ক্লোরোপ্লাস্টকে
  3. গ) রাইবোজোমকে
  4. ঘ) নিউক্লিয়াসকে
ব্যাখ্যা
সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে। এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু।
রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করার তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,৬৬৯.
সূর্যকে পরিভ্রমণের জন্য পৃথিবীর কক্ষপথটি _____।
  1. উপবৃত্তাকার
  2. বৃত্তাকার
  3. অর্ধ-বৃত্তাকার
  4. উল্লম্বাকার
ব্যাখ্যা
• বার্ষিক গতি:
- পৃথিবী আপন অক্ষের চারিদিকে ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করার পাশাপাশি পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ও নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড একবার আবর্তন করে। পৃথিবীর এইরূপ আবর্তন কে বার্ষিক গতি বলে। এবং আবর্তনের সময়কে সৌরবছর বলে।
- ৩৬৫ দিনে এক বছর গণনা করা হয় বলে প্রতি চার বছরে একদিন বাড়িয়ে ৩৬৬ দিনে বছর গণনা করা হয়। সেই বছর ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিনে ধরা হয়। 

• বার্ষিক গতির কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১. পৃথিবীর আকার অভিগত গোলকের ন্যায়।
২. সূর্যকে পরিভ্রমণের জন্য পৃথিবীর কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার।
৩ পৃথিবী নিজ কক্ষপথে (Orbit) ৬৬.৫° কোণে হেলে অবস্থান করছে।
৪. পৃথিবী নিজ অক্ষে (Axis) ২৩.৫° কোণে হেলে অবস্থান করছে। 

• বার্ষিক গতির ফলাফল:
- ঋতু পরিবর্তন ও
- দিন-রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৭০.
মাইটোসিস কোষ বিভাজন পদ্ধতিতে ক্যারিওকাইনেসিস হচ্ছে -
  1. নিউক্লিয়াসের বিভাজন
  2. সাইটোপ্লাজমের বিভাজন
  3. ক্রোমোজোমের বিভাজন
  4. নিউক্লিওপ্লাজমের বিভাজন
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস কোষ বিভাজন দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়াসের এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে।
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস এবং সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
ক্যারিওকাইনেসিস পর্যায় কে পাঁচটি ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে।
ধাপগুলো - প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
১০,৬৭১.
ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ কোন দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশ অবস্থিত?
  1. ইন্ডিয়ান প্লেট ও আফ্রিকান প্লেট
  2. ইন্ডিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেট
  3. ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার প্লেট
  4. কোনোটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চলে অবস্থিত কারণ এটি ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার প্লেটের সংযোগস্থলে পড়ে। এই দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ ও আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশের উত্তরের ও পূর্বের অংশে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকে। ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর-পূর্ব দিকে মায়ানমার প্লেটের সাথে ধাক্কা খায়, যা ভূ-তলীয় চাপ সৃষ্টি করে এবং ফলে ভূমিকম্প হতে পারে। অন্যদিকে, আফ্রিকান ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেট বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে, তাই সেগুলো এই অঞ্চলে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো গ) ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার প্লেট।


- বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়ে থাকে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে।
- ভূস্তরের ভূমিকম্প প্রবণ ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার সাব-প্লেটের মাঝখানে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেট দু'টি (১৯৩৪ খ্রীষ্টাব্দের পর থেকে) দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ের পাদদেশে আটকা পড়ে আছে।
- কিন্তু বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ভূ-তাত্ত্বিক চ্যুতি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬৭২.
এইডসের ক্ষেত্রে সত্য নয় কোনটি?
  1. হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস এই রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।
  2. এটি যক্ষ্ম এবং কিছু ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়া সহজ করে তোলে।
  3. এটি চুম্বন ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়।
  4. এইচআইভি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা
এইডস:
- এইচআইভি নামক ভাইরাস এই রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।
- এইচআইভি এর পূর্ণরূপ হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস।
- এ ভাইরাস মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়।
- এটি যক্ষ্মা, সংক্রমণ এবং কিছু ক্যান্সারের মতো রোগে অসুস্থ হওয়া সহজ করে তোলে।
- রক্ত, বুকের দুধ, বীর্য এবং যোনিপথের তরল সহ সংক্রামিত ব্যক্তির শরীরের তরল থেকে এইচআইভি ছড়ায়।
- এটি চুম্বন, আলিঙ্গন বা খাবার ভাগ করে ছড়ায় না।
- এটি একজন মা থেকে তার শিশুর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- এইচআইভি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) দিয়ে চিকিত্সা এবং প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

এইচআইভির লক্ষণ:
- ১০ দিনের বেশি সময় ধরে জ্বর।
- দীর্ঘমেয়াদে ডায়রিয়া।
- মুখে বা জরায়ুমুখে ছত্রাকের সংক্রমণ (মুখে বা জিহ্বায় পুরু, সাদাটে স্তর কিংবা জরায়ুমুখ থেকে সাদাটে তরল নিঃসরণ এবং জরায়ুমুখে চুলকানি)।
- মুখ, গলা, যৌনাঙ্গ বা মলদ্বারে ঘা।
- কোনো কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস।
- ঘাড় বা কুঁচকিতে গোটা গোটা, ফোলা।
- কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্তক্ষরণ।
- অকারণে সব সময় অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ।

তথ্যসূত্র - WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০১ ডিসেম্বর ২০২২।
১০,৬৭৩.
ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন কে?
  1. রবার্ট হুক
  2. অ্যান্টনি ভন লিউয়েন হুক
  3. এডওয়ার্ড ডোনার
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। 
- ১৬৭৫ সালে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী এন্টনি ভন লিউয়েন হুক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন।
- তাকে ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 

• কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- 
(১) কক্কাস,
(২) ব্যাসিলাস,
(৩) স্পাইরিলাম এবং
(৪) কমা আকৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১০,৬৭৪.
সালোক সংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান নয় কোনটি?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. পানি
  3. আলো
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।

- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে:
(১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।

- সালোক সংশ্লেষণ সাধারণত উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গে যেখানে ক্লোরোফিল আছে সেখানে ঘটে।
- যেমন: পাতা, সবুজকাণ্ড, শাখাপ্রশাখা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- মূল মাটির নিচে থাকে এবং এটি উদ্ভিদের অসবুজ অংশ তাই এখানে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,৬৭৫.
ইনসুলিন কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত? 
  1. ৫১ টি
  2. ৫০ টি
  3. ৫২ টি
  4. ৫৩ টি
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৭৬.
বাংলাদেশে নগ্নবীজী উদ্ভিদের প্রজাতির সংখ্যা কত?
  1. ০৩টি
  2. ১৯৫টি
  3. ০৫টি
  4. ৪৭টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
'বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ' অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে বর্ণনাকৃত উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা হলোঃ
- ব্যাকটেরিয়া ১৭১টি
- ছত্রাক ২৭৫টি
- শৈবাল ২২৪৫টি
- মস জাতীয় উদ্ভিদ ২৪৮টি
- ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ ১৯৫টি
- নগ্নবীজী উদ্ভিদ ০৫টি
- আবৃতবীজী উদ্ভিদ ৩৬১১টি
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০,৬৭৭.
ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির উদাহরণ কোনটি? 
  1. রেডিও
  2. ক্যালকুলেটর
  3. টেলিভিশন
  4. টেপ রেকর্ডার
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি: 
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিক্স বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি বলা হয়। 
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিক্স ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির উদাহরণ। 
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. এনালগ পদ্ধতি (analogue system), 
২. ডিজিটাল পদ্ধতি (digital system), 
৩. মিশ্র পদ্ধতি (hybrid system) । 

এনালগ পদ্ধতি: 
- এনালগ সংকেত হলো অবিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- এনালগ সংকেত অনেকটা শব্দ তরঙ্গের মত সময়ের সাথে সাথে অবিচ্ছিন্ন ভাবে মান বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ মানে পৌঁছিয়ে আবার অবিচ্ছিন্ন ভাবে কমতে কমতে সর্বনিম্ন মানে পৌঁছায়। এই সংকেতকে সাইন তরঙ্গের (sine wave) সাথে তুলনা করা যায়। 
- এনালগ পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল (analogue) সংকেতের বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
- তাপমাত্রা, চাপ, প্রবাহ হলো ক্রমাগত পরিবর্তনশীল কয়েকটি এনালগ সংকেতের উদাহরণ। এসব সংকেতকে ভোল্টেজে রূপান্তরিত করলে যে ক্রম পরিবর্তনশীল বৈদ্যুতিক তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, তাই হলো এনালগ সংকেতের। 
- এ ধরণের প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিবর্ধক, ফিল্টার প্রভৃতি এনালগ বর্তনী ব্যবহার করা হয়। 
- রেডিও, টেপ রেকর্ডার, টিভি ইত্যাদি এনালগ ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির উদাহরণ। 

ডিজিটাল পদ্ধতি: 
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত। 
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়। এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়। 
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়। 
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব। 
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে 0 এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিম্বা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ। 

মিশ্র পদ্ধতি: 
- এনালগ ও ডিজিটাল বর্তনীর সংমিশ্রণে তৈরি পদ্ধতিকে মিশ্র ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি বলে। 
- শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিশ্র ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 
- চাপ, তাপমাত্রা, রক্তচাপ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, তরল পদার্থের স্তর ইত্যাদি ক্রম-পরিবর্তনশীল বিষয় সংগৃহীত উপাত্ত এনালগ ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি গ্রহণ করে। এই উপাত্তগুলিকে ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে যথা যোগ্য সংখ্যা ও সংকেতে রূপান্তর করে পাঠ নেয়া হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৭৮.
নিম্নলিখিত কোন ভ্যাকসিন মৃত জীবাণু ব্যবহার করে তৈরি হয়?
  1. BCG ভ্যাকসিন
  2. হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন
  3. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন
  4. ডিএনএ টিকা
ব্যাখ্যা

টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে।

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবন্ত টিকা: 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
যেমন- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত: 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
যেমন- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৭৯.
সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায়-
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ চাপ
  4. এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন: 
- সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ। 
- হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল এবং সংকোচন কে বলা হয় সিস্টোল। 
- হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে। 
- হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে। আবার প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিন্ডে ফিরে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৮০.
হাইড্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াসের প্রকৃত ভর কত?
  1. ক) ১.৬৭ x ১০-২৮ গ্রাম
  2. খ) ০
  3. গ) ১.৬৭ x ১০-২৪ গ্রাম
  4. ঘ) ১
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১। একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত নিউক্লিয়াসে তাই প্রোটন থাকে ১টি এবং কোনো নিউট্রন থাকে না।
তাই হাইড্রোজেন পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াসের ভর হলো একটি প্রোটনের ভর। প্রোটনের ভর তথা প্রকৃত ভর হলো ১.৬৭ x ১০-২৪ গ্রাম। প্রোটনের আপেক্ষিক ভর ১।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১০,৬৮১.
বিক্ষেপণের ফলে নিচের কোনটি ব্যাখ্যা করা যায়? 
  1. রংধনু সৃষ্টি
  2. পৃথিবীর আকৃতি
  3. আকাশ নীল দেখায়
  4. চাঁদের আবরণ
ব্যাখ্যা
বিক্ষেপণ: 
- সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো আছে। 
- এক আলোক তরঙ্গ যখন অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোনো কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোক তরঙ্গকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, আর এ ছড়িয়ে দেয়াকে আলোর বিক্ষেপন বলে। 
- এ আলোর বিক্ষেপন নির্ভর করে আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর। 
- যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত কম, তার বিক্ষেপণ তত বেশি। 
- নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম তাই নীল আলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, ফলে আকাশ নীল দেখায়। 
- সূর্যরশ্মি যখন বায়ুমণ্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অণুতে আপতিত হয়, তখন নীল রঙ ও এর কাছাকাছি রঙগুলোর বিক্ষেপন বেশি হয়। 
- ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের প্রাচুর্য্য ঘটায় বলে আকাশ নীল দেখায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,৬৮২.
কোনটি জারণ প্রক্রিয়া?
  1. অক্সিজেন লাভ করা
  2. হাইড্রোজেন লাভ করা
  3. ইলেকট্রন লাভ করা
  4. প্রোটন লাভ করা
ব্যাখ্যা

◉ জারণ (Oxidation) প্রক্রিয়া মূলত ইলেকট্রন হারানো বা অক্সিজেন গ্রহণ করার সাথে সম্পর্কিত।

জারণ:
পুরাতন ধারণা অনুসারে, কোন মৌল বা যৌগের সাথে অক্সিজেনের সরাসরি সংযোগ বিক্রিয়াকে জারণ বলে। যেমন,

ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুসারে, যে প্রক্রিয়ায় কোন মৌল, আয়ন বা পরমাণুপূঞ্জের (রেডিক্যাল) তড়িৎ ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি পায় তাকেই জারণ বলা হয়। ইলেকট্রন আদান-প্রদান মতবাদের সাহায্যে এই তড়িৎ মাত্রার পরিবর্তন ব্যাখ্যা দেয়া যায়। আমরা জানি যে প্রতিটি ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধান বহন করে।
- তাই ইলেকট্রন অপসারণ বা বিতাড়নের ফলে তড়িৎ ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ ধনাত্মক আধান হ্রাস পায়।
- অতএব কোন পরমাণু, আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ-ঋনাত্মক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়। যেমন, ক্লোরিন দ্বারা FeCl2 এর FeCl3 এ রূপান্তর বিক্রিয়াটি একটি জারণ বিক্রিয়া।

অন্যদিকে, বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং হাইড্রোজেনের সংযোগ ঘটে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৮৩.
দাঁতের ভেতরের নরম ফাঁপা অংশটির নাম কী?
  1. ক) এনামেল
  2. খ) দন্তমজ্জা
  3. গ) সিমেন্ট
  4. ঘ) মুকুট 
ব্যাখ্যা

দাঁতের ভেতরের ফাঁপা অংশটিকে দন্তমজ্জা বলে।
মানুষের মুখে অবস্থিত একটি শক্ত অঙ্গ দাঁত। এটি খাদ্য চর্বণ ও কর্তনের কাজে ব্যবহূত হয়। বেশির ভাগ মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে দাঁতই হচ্ছে সবচেয়ে শক্ত অঙ্গ। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মুখগহ্বরের ওপরে ও নিচের চোয়ালে সাধারণত ১৬টি করে মোট ৩২টি দাঁত থাকে।
প্রতিটি দাঁত নিন্মলিখিত অংশ নিয়ে গঠিত-
ডেন্টিন- দাঁত প্রধানত ডেন্টিন নামক শক্ত উপাদান নিয়ে গঠিত।
এনামেল- দাঁতের মুকুট অংশে ডেন্টিনের উপরিভাগে এনামেল নামক কঠিন উপাদান থাকে। এনামেল এবং ডেন্টিন ক্যালসিয়াম ফসফেট, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট এবং ফ্লোরাইড দিয়ে তৈরি।
দন্তমজ্জা- ডেন্টিনের ভেতরের নরম ফাঁপা অংশটিকে দন্তমজ্জা বলে। এর ভেতরে শিরা, স্নায়ু, ও নরম কোষ থাকে। দন্তমজ্জার মাধ্যমে ডেন্টিন অংশে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে।
সিমেন্ট- সিমেন্ট নামক পাতলা আবরণ দাঁতের মূল অংশ ডেন্টিনকে আবৃত রাখে। এই সিমেন্টের সাহায্যে দাঁত মাড়ির সাথে আটকানো থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান 

১০,৬৮৪.
স্বর্ণের সাথে কোন ধাতু মিশিয়ে গয়না টেকসই করা হয়? 
  1. আয়রন
  2. রূপা 
  3. কার্বন 
  4. ক্রোমিয়াম 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না, স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো-


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৮৫.
একটি ধাতব মুদ্রা ও একটি পালক বায়ু শূন্য স্থানের উপর হতে এক সঙ্গে পতিত হলে কোণটি প্রথমে নিচে পড়বে?
  1. ধাতব মুদ্রা
  2. পালক
  3. দুটো একসঙ্গে
  4. কোনটিই পড়বে না
ব্যাখ্যা
পড়ন্ত বস্তুর সূত্র: 
- পড়ন্ত বস্তু সম্পর্কে গ্যালিলিও তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- সূত্রগুলো একমাত্র স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

প্রথম সূত্র হচ্ছে: স্থির অবস্থান ও একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করবে।

অর্থাৎ একটি বায়ুশূন্য স্থানে একটি পালক ও একটি ধাতব মুদ্রা একত্রে ছেড়ে দিলে উভয়টিই এই সূত্রানুসারে একসাথে পড়বে।

দ্বিতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর নির্দিষ্ট সময়ে (t) প্রাপ্ত বেগ (v) ঐ সময়ের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ v ∞ t. 

তৃতীয় সূত্র: 
- স্থির অবস্থান থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তু নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব (h) অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের (t) বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ h ∞ t2.

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৬৮৬.
দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি, কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?
  1. হাইপো-থাইরয়ডিজম
  2. রাতকানা
  3. এনিমিয়া
  4. কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা
- সামুদ্রিক মাছ/শৈবাল আয়োডিনের ভাল উৎস।
- আয়োডিনের অভাবে হাইপো-থাইরয়ডিজম বা গলগণ্ড রোগ হয়।
- ফলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি থাকলে আয়োডিনের অভাবজনিত হাইপো-থাইরয়ডিজম রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই গলগণ্ড (Goitre) বলে।
- গলগন্ড (Goiter) খাদ্য ও খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব, সংক্রমণজনিত প্রদাহ, টিউমার, অথবা গলগ্রন্থির কম কার্যকারিতার কারণে গলগ্রন্থির (thyroid) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। 
- "Severe and prolonged iodine deficiency, may lead to a deficient supply of thyroid hormones. This condition is referred to as hypothyroidism."

উৎস: WHO and US National Library of Medicine National Institutes of Health এবং বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১০,৬৮৭.
'পোলিওমাইলাইটিস' রোগের বিরুদ্ধে কোন টিকা দেওয়া হয়?
  1. ক) বিসিজি
  2. খ) ডিপিটি
  3. গ) পিসিভি
  4. ঘ) ওপিভি
ব্যাখ্যা
রোগের নাম - পোলিওমাইলাইটিস
টিকার নাম - ওপিভি
ডোজের সংখ্যা - ৪*
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - যক্ষা
টিকার নাম - বিসিজি
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - জন্মের পর থেকে

রোগের নাম - ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি
টিকার নাম - পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব)
ডোজের সংখ্যা - ৩
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - নিউমোকক্কাল নিঊমোনিয়া
টিকার নাম - পিসিভি ভ্যাকসিন
ডোজের সংখ্যা - ৩
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - হাম ও রুবেলা
টিকার নাম - এমআর টিকা
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে

রোগের নাম - হাম
টিকার নাম - হামের টিকা
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হলে

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১০,৬৮৮.
বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিডের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. বর্ণহীন তরল পদার্থ
  2. আয়নিত নয়
  3. পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না
  4. হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত থাকে
ব্যাখ্যা
• বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিড পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে। 

• এসিড:
-  যে সব পদার্থ পানিতে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তৈরি করে তাদেরকে এসিড বলা হয়। 

• উদাহরণ:
সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড।

• এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
-  অ্যাসিড টক স্বাদযুক্ত। 
- নীল লিটমাসকে লাল করে।
- ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- মৃদু এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হলেও তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়। 

• বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড বর্ণহীন তরল পদার্থ। যৌগ দুটি আণবিক অবস্থায় থাকে।
- এরা আয়নিত নয় বলে অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত।
- এই কারণে বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড এসিডের ধর্ম প্রদর্শন করে না এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
- এই এসিডগুলোকে শুধু পানিতে দ্রবীভূত করলেই হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে।
- ফলে তখন এরা এসিডের ধর্ম প্রদর্শন করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে। 


H2SO4 (l) + পানি → H2SO4(aq)
H2SO4 (aq) → 2H+ (aq) + SO42-(aq)
অনুরূপভাবে,
HNO3 (l) + পানি →  HNO3(aq)
HNO3(aq) →  H+ (aq) + NO3- (aq)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১০,৬৮৯.
ন্যানো সেকেন্ড হলো -
  1. ক) এক সেকেন্ডের দশ হাজার ভাগের একভাগ
  2. খ) এক সেকেন্ডের দশ লক্ষ ভাগের একভাগ
  3. গ) এক সেকেন্ডের একশ কোটি ভাগের একভাগ
  4. ঘ) এক সেকেন্ডের এক লক্ষ কোটি ভাগের একভাগ
ব্যাখ্যা
Nanosecond is one billionth of a second. অর্থাৎ এক সেকেন্ডের একশ কোটি ভাগের একভাগ। [source: dictionary.com]
১০,৬৯০.
ক্লোনিং পদ্ধতি জন্ম নেয়া প্রথম ক্লোন উটের নাম-
  1. ক) সিসি
  2. খ) প্রমিথিয়া
  3. গ) টেট্রা
  4. ঘ) ইনজাজ
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং পদ্ধতি জন্ম নেয়া প্রথম ক্লোন উটের নাম ইনজাজ, প্রথম ক্লোন বিড়াল সিসি, প্রথম ক্লোন ঘোড়া প্রমিথিয়া এবং প্রথম ক্লোন বানর শাবক টেট্রা। দুবাইয়ের রিপ্রোডাকটিভ বায়োটেকনোলজি সেন্টারের সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর ড. নিসার ওয়ানি জানান, জবাই করা একটি মাদি উটের ডিম্বাশয়ের কোষগুচ্ছ ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা ভ্রূণ অন্য একটি মাদি উটের গর্ভাশয়ে স্থাপন করা হয়। সেই গর্ভে বেড়ে ওঠা ভ্রূণ থেকে ২০০৯ সালে ইনজাজ নামের মাদি উটের জন্ম হয়। সূত্র : ডেইলি মেইল ও এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১০,৬৯১.
একই গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে কোনটি অপরিবর্তিত থাকে?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ইলেকট্রন বিন্যাসের ধরন
  4. আয়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

- একই গ্রুপের মৌলগুলোর বাহ্যিক ইলেকট্রন বিন্যাসের ধরন একরকম থাকে।
- এই কারণেই একই গ্রুপের মৌলগুলোর রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম।
- পর্যায় সারণি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে একই ধরনের রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট মৌলগুলো একই কলামে (Group) অবস্থান করে।

•উদাহরণ: প্রথম গ্রুপের মৌল,
- লিথিয়াম (Li) → 2, 1
- সোডিয়াম (Na) → 2, 8, 1
- পটাসিয়াম (K) → 2, 8, 8, 1

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন। 

১০,৬৯২.
তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ΔH ধনাত্মক
  2. ΔH ঋণাত্মক
  3. ΔH শূন্য
  4. তাপ শোষণ করে
ব্যাখ্যা

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো ΔH ঋণাত্মক।

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় তাপ‌ উৎপন্ন হয়,তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলে।

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার উদাহরণ:
N2 (g)  + 3H2 (g) ⇔ 2NH3 (g) + 92 kJ

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- তাপের নির্গমন: বিক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়।
- তাপমাত্রার প্রভাব:  বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে)।
- এনথালপি পরিবর্তন (ΔH):  তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔH ঋণাত্মক (ΔH < 0), কারণ বিক্রিয়া থেকে শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১০,৬৯৩.
পৃথিবী সৌরজগতের কত নম্বর গ্রহ?
  1. ক) দ্বিতীয়
  2. খ) পঞ্চম
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা
পৃথিবী সৌরজগতের ৩ নম্বর গ্রহ। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী। সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে।
উৎসঃ‌ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬৯৪.
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দের কম্পাঙ্ক কত? 
  1. ১-১০ হার্জ 
  2. ০১-১০ মেগাহার্জ 
  3. ১-১০ কিলোহার্জ 
  4. ২০-৩০ মেগাহার্জ 
ব্যাখ্যা

• আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
- রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
- এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১০,৬৯৫.
নিচের কোনটি উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস নয়?
  1. টোবাকো মোজাইক ভাইরাস
  2. পেপিলোমা ভাইরাস
  3. বীন মোজাইক ভাইরাস
  4. টুংরো ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস এবং সৃষ্ট রোগের নাম:
• টোবাকো মোজাইক ভাইরাস - তামাকের মোজাইক রোগ।
• বীন মোজাইক ভাইরাস - সিমের মোজাইক রোগ।
• বুশিস্টান্ট ভাইরাস - টমেটোর বুশিস্টান্ট রোগ।
• টুংরো ভাইরাস - ধানের টুংরো রোগ।
• বানচি টপ ভাইরাস - কলার বানচি টপ রোগ।
• পট্যাটো মোজাইক ভাইরাস - গোলালুর মোজাইক রোগ।

পেপিলোমা ভাইরাস প্রানীদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। পেপিলোমা ভাইরাসের কারণে মানুষের এনোজেনিটাল ক্যান্সার হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১০,৬৯৬.
সমুদ্রতীরে বা বিশাল মাঠে দাঁড়ালে আকাশ ও ভূমি যে বৃত্তাকার রেখায় মিলিত হয় বলে মনে হয়, তার নাম কী?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. দ্রাঘিমারেখা
  3. সমোচ্চ রেখা
  4. দিগন্তরেখা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আকৃতি:
- দিগন্ত রেখার সাহায্যে বিশাল খোলা মাঠে বা সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে মনে হয় আকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠ একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশে গেছে।
- এ বৃত্ত রেখার নাম দিগন্তরেখা। পর্বতের উপরে বা প্লেনে যত উপরে উঠা যায়, ততই দিগন্ত রেখার পরিধি বৃদ্ধি পেলেও এর আকার বৃত্তাকার থাকে।
- পৃথিবী গোলাকৃতির না হলে এরূপ হতো না।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৬৯৭.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোনটি উপজাত দ্রব্য? 
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরোফিল
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। 
- এই প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- সবুজ উদ্ভিদে প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ নিজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্ট খাদ্য ফল, মূল, কাণ্ড অথবা পাতায় সঞ্চিত রাখে। 
- উদ্ভিদে সঞ্চিত এই খাদ্যের উপরেই মানবজাতি ও অন্যান্য জীবজন্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো ক্লোরোফিল, আলো, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক (biochemical) বিক্রিয়া। 

- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শোষণ করে পাতার মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছায় এবং স্টোমা বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে, যা মেসোফিল টিস্যুর ক্লোরোপ্লাস্টে পৌঁছে। 
- জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO2 গ্রহণ করে। 
- বায়ুমণ্ডলে 0.03% এবং পানিতে 0.3% CO2 আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- অক্সিজেন এবং পানি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত দ্রব্য (by-product)। 
- এটি একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া (oxidation-reduction process)। এ প্রক্রিয়ায় H2O জারিত হয় এবং CO2 বিজারিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৬৯৮.
অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু কত প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

• অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু ৩ ধরনের। যথাঃ
- ঐচ্ছিক পেশি,
- অনৈচ্ছিক পেশি এবং
- হৃদপেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৬৯৯.
ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার কোন প্রযুক্তির বিকাশে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে?
  1. যান্ত্রিক প্রযুক্তি
  2. তাপ প্রযুক্তি
  3. রাসায়নিক প্রযুক্তি
  4. আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের ফলে ছোট, দ্রুত, কম বিদ্যুৎ খরচে কাজ করা ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরি সম্ভব হয়, যা আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

• ট্রানজিস্টর (Transistor):
- ১৯৪৭ সালে প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কৃত হয়।
- এই আবিষ্কারের জন্য জন বার্ডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- ট্রানজিস্টর একটি ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক উপাদান, যা বৈদ্যুতিক সংকেতকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রবর্ধন (amplify) করতে সক্ষম।
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতো কাজ করলেও আকারে অনেক ছোট, হালকা এবং অধিক কার্যকর।
- ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় ট্রানজিস্টর কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং কম তাপ উৎপন্ন করে।
- ট্রানজিস্টর ব্যবহারের ফলে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১০,৭০০.
যে রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই তাকে কী বলে?
  1. লব্ধ রাশি
  2. স্কেলার রাশি
  3. ভেক্টর রাশি
  4. দিক রাশি
ব্যাখ্যা

রাশি: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

• স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

• ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।