বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০৬ / ১৪০ · ১০,৫০১১০,৬০০ / ১৪,০৮০

১০,৫০১.
Which is the primary function of the cerebellum in the brain?
  1. ক) Motor control and coordination
  2. খ) Memory and learning
  3. গ) Emotion regulation
  4. ঘ) Sensory processing
ব্যাখ্যা
সেরেবেলাম:
পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেরেবেলাম যা সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে অবস্থিত।
দুটি কুণ্ডলীকৃত সমগোলার্ধ নিয়ে গঠিত যারা ভার্নিস নামে একটি ক্ষুদ্র যোজকের সাহায্যে যুক্ত।
এটি বাইরের দিকে কর্টেক্স এবং ভেতরের দিকে মেডুলা নিয়ে গঠিত ।

কাজঃ
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- পেশির টান ও দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস : প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫০২.
মানুষের ক্রোমোজোম এ মোট কত জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. ২৩ জোড়া
  2. ২২ জোড়া
  3. ২ জোড়া
  4. ২১ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের ক্রোমোজোমের মোট 23 জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম এবং 22 জোড়া অটোজোম থাকে।
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
১০,৫০৩.
গাছের খাদ্য তালিকায় আছে
  1. ক) N, P, K, S ও Zn
  2. খ) Na, P, K, S ও Zn
  3. গ) N, B, K, S ও Al
  4. ঘ) N, P, K, S ও Al
ব্যাখ্যা
N, P, K, S, Mn, Fe, B ও Zn উদ্ভিদের পুষ্টি যোগায়।



উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০,৫০৪.
বায়োগ্যাসে মিথেন ছাড়া আর কী গ্যাস থাকে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
গোবর ও অন্যান্য পঁচনশীল পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে (অবায়বীয় অবস্থায়) পঁচানোর ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে।
বায়োগ্যাসে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ মিথেন থাকে, তাই একে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
মিথেন ছাড়া বায়োগ্যাসে থাকে মূলত: কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)।
সাধারণত অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতায় গোবর ও অন্যান্য আবর্জনা পঁচে বায়োগ্যাস সৃষ্টি হয়। এ গ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট অংশ উন্নত মানের সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস : উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৫০৫.
এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের অধীনে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?
  1. 0° K
  2. 0° C
  3. 100° C
  4. 100° K
ব্যাখ্যা

- এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক হলো 100° C। এই তাপমাত্রায় পানি তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় বা বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে। 

• গলন ও গলনাঙ্ক: 
- কোনো বস্তুর কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে গলন বলে। 
- নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। 
- এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে বরফের গলনাংক 0°C, সমস্ত পদার্থ না গলা পর্যন্ত তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকে। 

বাস্পীভবন: 
- কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
- বাষ্পীভবন দু'ভাবে সংঘটিত হয়। 
(১) স্ফুটন এবং (২) স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন। 

১। স্ফুটনাঙ্ক ও স্ফুটন: 
- তাপ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের দ্রুত বাষ্পীভবন ঘটানোর প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে। 
- যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থের স্ফুটন সংঘটিত হয় তাকে ঐ পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। 
- এক বায়ু মণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C । 

২। স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন: 
- যখন তরল পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় তাপ সংগ্রহ করে নিজের উপরের স্তর থেকে ধীরে ধীরে বাষ্পে পরিণত হয়, তখন এই প্রক্রিয়াকে স্বতঃবাষ্পীভবন বা বাষ্পায়ন বলা হয়। 
উদাহরণস্বরূপ- ভিজা কাপড় রোদে শুকিয়ে যাওয়া, পানি মেঝেতে শুকিয়ে বাষ্পে পরিণত হওয়া এবং কেরোসিনের বোতল খোলা রাখলে কেরোসিন বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়া এই প্রক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫০৬.
ভোল্টমিটার দ্বারা কী পরিমাপ করা হয়? 
  1. বিভব পার্থক্য 
  2. শক্তি 
  3. ত্বরণ 
  4. বিদ্যুৎ প্রবাহ 
ব্যাখ্যা

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

অ্যামিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫০৭.
সূর্যের নিকটতম গ্রহের নাম কি?
  1. ক) জুপিটার
  2. খ) ভেনাস
  3. গ) মার্কারী
  4. ঘ) মঙ্গল
ব্যাখ্যা
বুধ বা মার্কারি হলো সূর্যের নিকটতম এবং ক্ষুদ্রতম গ্রহ।
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার।
- বুধ গ্রহের ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- বুধের কোন উপগ্রহ নেই।
- বুধ গ্রহে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি।

- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ হলো জুপিটার। 
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ হলো ভেনাস। 

সূত্র: উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
১০,৫০৮.
মিথাইল কার্বিনলের সংকেত কোনটি?
  1. CH3 CH2OH
  2. CH3OH
  3. CH3CH2-CH2OH
  4. (CH3)2 CHOH
ব্যাখ্যা
- মিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো CH3-CH2OH

অন্যদিকে,  
- ইথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো CH3CH2-CH2OH. 
- ডাইমিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো (CH3)2-CHOH. 
- ট্রাইমিথাইল কার্বিনল এর সংকেত হলো (CH3)3-COH. 
- মিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো CH3-CH3
- ডাইমিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো CH3-CH2-CH3. 
- ট্রাইমিথাইল মিথেন এর সংকেত হলো (CH3)3-CH. 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১০,৫০৯.
5 KVA Ratings এর কম ট্রান্সফরমারে ব্যবহৃত হয়-
  1. Oil cooled
  2. Natural air cooled
  3. Water cooled
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
- 5 কেভিএ (কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার) রেটযুক্ত ট্রান্সফরমারগুলি সাধারণত আকারে ছোট হয় এবং কম শক্তি প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রদত্ত বিকল্পগুলির মধ্যে: Natural air cooled ব্যবহৃত হয়। 

- 5 কেভিএ পর্যন্ত রেটিং সহ ট্রান্সফরমারগুলি প্রায়শই প্রাকৃতিক পরিচলন (ফ্যান বা অতিরিক্ত কুলিং সিস্টেম ছাড়া) ব্যবহার করে এয়ার-কুল করা যেতে পারে।
- এই ছোট ট্রান্সফরমারগুলি শীতল করার জন্য তাদের কয়েল এবং কোরের চারপাশে প্রাকৃতিক বায়ু সঞ্চালনের উপর নির্ভর করে।
১০,৫১০.
তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল স্থির থাকলে বিভিন্ন পরিবাহীর রোধ কি রকম হয়?
  1. ক) একই
  2. খ) বিভিন্ন
  3. গ) উভয়টি প্রযোজ্য
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কোন পরিবাহীর রোধ পরিবাহীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, উপাদান ও তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। রোধের এ নির্ভরশীলতার উপর ভিত্তি করে রোধের তিনটি সূত্র আছে।
উপাদানের সূত্রঃ তাপমাত্রা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল স্থির থাকলে বিভিন্ন পরিবাহীর রোধ বিভিন্ন হয়।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
১০,৫১১.
জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) প্রোটোজোয়া
  4. ঘ) ফানজাই
ব্যাখ্যা
জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি হলো ব্যাকটেরিয়া।

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে। 
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংরক্ষণ করে।
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে ৷
- দই তৈরি করতে ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবের কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য জীনগত পরিবর্তনের কাজে ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করা হয় ৷

সূত্র- ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১০,৫১২.
উদ্ভিদে কাণ্ডের মাধ্যমে কোনটি পরিবাহিত হয় না?
  1. পানি
  2. খাদ্য
  3. অক্সিজেন
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
• কাণ্ডের মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবাহিত হয় না। 

• উদ্ভিদের পরিবহন:
- উদ্ভিদের পরিবহন বলতে মাটি থেকে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ এবং পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্যের সারা দেহে চলাচলকে বোঝায়।

• উদ্ভিদের কাণ্ডের মাধ্যমে পরিবাহিত পদার্থগুলো হলো - পানি, খনিজ লবণ, পাতায় উৎপন্ন খাদ্য। 

•  এই পরিবহন প্রধানত দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
যথা: 
→ জাইলেমের মাধ্যমে পরিবহন:
- মূলরোম দিয়ে পানি ও খনিজ লবণ শোষিত হয় এবং অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কর্টেক্সের মধ্য দিয়ে জাইলেম বাহিকায় প্রবেশ করে।  
- এরপর প্রস্বেদন টান, কৈশিক শক্তি এবং মূলজ চাপের প্রভাবে জাইলেম বাহিকা দিয়ে রস উপরের দিকে পাতায় পৌঁছে যায়।  

→ ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পরিবহন:
- পাতায় প্রস্তুত হওয়া খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে ফ্লোয়েম টিস্যু দ্বারা পরিবাহিত হয়।
- ফ্লোয়েম টিস্যু দিয়ে খাদ্যরস উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে, যেমন- কাণ্ড, মূল এবং অন্যান্য অংশে সরবরাহ করা হয়।
- এটি একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া, যেখানে খাদ্যরস প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ভিদের উপরে বা নীচে পরিবাহিত হতে পারে। 

অন্যদিকে,
- অক্সিজেন গ্যাসীয় বিনিময়ের মাধ্যমে নিঃসৃত হয় কিন্তু কাণ্ডের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে পরিবাহিত হয় না। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা।
১০,৫১৩.
কোনটি আলোর প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয় না?
  1. সবুজ
  2. নীল
  3. লাল
  4. হলুদ
ব্যাখ্যা
◉ লাল, নীল, সবুজ এই তিনটি রঙকে মৌলিক রঙ (মূল রঙ) বা প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হলুদ মৌলিক রঙ নয়।

রং সম্পর্কিত জ্ঞান:
- আমাদের চারপাশের প্রতিটি বস্তুরই নিজস্ব রং রয়েছে।
- রঙের উৎস প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম হতে পারে।

◉ রং মূলত তিন প্রকার। যথা-
১। মৌলিক/প্রাথমিক রং:
- লাল, নীল, সবুজ এই তিনটি রঙকে মৌলিক রঙ (মূল রঙ) বা প্রাথমিক রং হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- মৌলিক রং বা প্রাথমিক রংগুলো বিশুদ্ধ রং, কেননা এগুলো অন্যান্য রঙের সংমিশ্রণে তৈরি হয় না বরং এদের সংমিশ্রণে অন্যান্য রং সৃষ্টি হয়।

২। গৌণ রং:
- মূল তিনটি বর্ণ থেকে যেকোন দুটি মিশালে যে রং হয় তাকে বলা হয় গৌণ বর্ণ।
- দুটো মৌলিক রঙের মিশ্রণে গৌণ রং তৈরি হয়। যেমন-
• নীল + লাল = বেগুনি,
• লাল + সবুজ = হলুদ এবং
• নীল + সবুজ = নীলাভ সবুজ।
- এই রংগুলোকে মিশ্র বা মাধ্যমিক বর্ণও বলা হয়।

৩। প্রান্তিক রং:
- মৌলিক রঙের সাথে কাছাকাছি যে কোনো একটি গৌণ রং মিশিয়ে প্রান্তিক রং প্রস্তুত করা হয়। যেমন-
• হলুদ + সবুজ = হলদে সবুজ,
• লাল + বেগুনি = লালচে বেগুনি,
• লাল + কমলা = লালচে/কমলা এবং
• কমলা + হলুদ = হলদে কমলা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১০,৫১৪.
IC হল-
  1. ক) জার্মেনিয়া‌‌মের চিপ
  2. খ) আর্সেনাইডের চিপ
  3. গ) সিলিকনের চিপ
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজের চিপ
ব্যাখ্যা
আই.সি. এর পূর্ণ নাম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। আই.সি. কে সিলিকন চিপ বা চিপ বলা হয়। এটি এক ধরনের মাইক্রো ইলেকট্রনিকস ডিভাইস, যাতে অনেকগুলাে ট্রানজিস্টর, ডায়ােড, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি কম্পােনেন্ট সিলিকন চিপের উপর নির্মান করে জোড়া লাগানাে হয়। এটি দেখতে চ্যাপটা, ছােট, কালাে বা ধুসর রঙের হয়।
১০,৫১৫.
কোনটিকে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বলা হয়? 
  1. গ্যাস 
  2. কঠিন 
  3. প্লাজমা 
  4. তরল 
ব্যাখ্যা

পদার্থের চতুর্থ অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা আছে যার নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- আমাদের ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিয়ন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায় সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশন পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়।
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশান পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৫১৬.
ক্ষমতা নির্ণয়ের সঠিক সূত্র কোনটি? 
  1. P = বল/সময়
  2. P = কাজ × সময়
  3. P = বল × বেগ
  4. P = সময়/কাজ
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা (Power): 
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
সুতরাং, ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়) 
বা, P = (বল × সরণ)/সময় 
বা, P = বল × বেগ 
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ 
বা, P = Fv 
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা। 
- ক্ষমতার এস. আই একক ওয়াট। 
- হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়। 
- 1 H. P = 746 W 
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T -3

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫১৭.
জোয়ার-ভাটায় মরা কটাল কখন হয়?
  1. অমাবস্যায়
  2. সপ্তমীতে
  3. পঞ্চমীতে
  4. অষ্টমীতে
ব্যাখ্যা
জোয়ার ভাঁটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে। 

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

মরা কটাল (Neap Tide):
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না।
- এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে। 
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে জোয়ার-ভাটায় মরা কটাল হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৫১৮.
মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য কোন উৎস ব্যবহার করা হয়?
  1. Fern
  2. Yeast
  3. Mucor
  4. Chlorella
ব্যাখ্যা
• মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য প্রধানত Chlorella ব্যবহার করা হয়। Chlorella একটি নলাকার এককোষী শৈবাল, যা সূর্যালোকের সাহায্যে ফটোসিন্থেসিস করে খাদ্য এবং অক্সিজেন উৎপাদন করে। মহাকাশযানে দীর্ঘ সময় থাকার সময় মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে সৃষ্ট কার্বন ডাইঅক্সাইড শৈবাল গ্রহণ করে অক্সিজেনে রূপান্তরিত করে, যা পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখে। এছাড়া, Chlorella প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে Fern, Yeast ও Mucor মহাকাশে খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য কম ব্যবহার হয়। তাই মহাকাশ গবেষণায় Chlorella একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব উৎস হিসেবে বিবেচিত।

• শৈবাল:

- শৈবালের সত্যিকার মূল, কান্ড ও পাতা নেই, তবে ক্লোরোফিল আছে।
- শৈবাল সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং আলো ছাড়া জন্মাতে পারে না।
- শৈবালের কোষ-প্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত।
- শৈবাল এককোষী এবং বহুকোষী হতে পারে।
- মহাকাশ গবেষণায় খাদ্য ও অক্সিজেন উৎপাদনের উৎস হিসেবে ক্লোরেলা উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়।
- ক্লোরেলা এক প্রকার সবুজ এককোষী শৈবাল যা প্রোটিন খাদ্যের আদর্শ উৎস।
- ক্লোরেলা হল ক্লোরোফাইটা বিভাগের এককোষী সবুজ শৈবালের প্রায় তেরো প্রজাতির একটি প্রজাতি।
- অন্যদিকে, ঈস্ট এবং মিউকর হলো ছত্রাক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১০,৫১৯.
'সান ফার্ণ' বলা হয় কোন উদ্ভিদকে?
  1. ক) Cycas
  2. খ) Spirogyra
  3. গ) Pteris
  4. ঘ) Poaceae
ব্যাখ্যা
Pteris:
এ শ্রেণীর উদ্ভিদগুলোকে সাধারণভাবে ফার্ণ বা 'সান ফার্ণ' বলা হয়।
- এরা স্পোরোফাইটিক উদ্ভিদ।
- এদের গ্যামিটোফাইটকে প্রোথ্যালাস বলে।
- কান্ড রাইজোম জাতীয় এবং বহুবর্ষজীবী।
- পাতা বড়, সরল অথবা যৌগিক।
- পত্রকের নিম্নপিঠে অথবা কিনারায় রেণুধারণকারী অঙ্গ জন্মায়।

Pteris এর শ্রেণিবিন্যাস
বিভাগ-Filicophyta,
শ্রেণী- Leptosporangiopsida,
বৰ্গ- Filicales,
গোত্র- Polypodiaceae

আবাসস্থল:
Pteris একটি অতি পরিচিত, বহুল বিস্তৃত ও সহজলভ্য ফার্ণ। শীতল এবং ছায়াযুক্ত ভেজা মাটিতে, পুরাতন প্রাচীরের গায়ে, বৃক্ষের বাকলে জন্মায়। সারা পৃথিবীতে Pteris এর প্রায় ২৫০টি প্রজাতি আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় Pteris এর ৬টি প্রজাতি আছে। এদের মধ্যে Pteris vittata বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায়। বিশেষ করে পুরানো ইট বা দেয়ালের গায়ে এদের দেখা যায়। পাহাড়ের ঢালে, পাদদেশে এবং চা বাগানে এদের পাওয়া যায়। 


উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫২০.
কোনটিকে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়?
  1. মেডুলা
  2. সেরিবব্রাম
  3. পনস
  4. সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: 
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ হলো মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু। 
- মস্তিষ্ক হলো সমগ্র স্নায়ুতন্ত্রের চালক। 
- মানুষের মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত। 
- মস্তিষ্ক মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান অংশ তিনটি। 
যথা- (ক) গুরুমস্তিষ্ক (খ) মধ্যমস্তিষ্ক (গ) পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক। 

গুরুমস্তিষ্ক: 
- মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। 
- এটা ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত, এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। 
- মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত, এই দুইখণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। 
- এর উপরিভাগ ঢেউ তোলা ও ধূসর বর্ণের, দেখতে ধূসর বর্ণের হওয়ায় একে ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার বলে। 
- গুরুমস্তিষ্কের অন্তঃস্তরে কেবলমাত্র স্নায়ুতন্ত্র থাকে, স্নায়ুতন্তুর রং সাদা। 
- তাই মস্তিষ্কের ভিতরের স্তরের নাম শ্বেত পদার্থ বা হোয়াইট ম্যাটার। 
- শ্বেত পদার্থের ভিতর দিয়ে স্নায়ুতন্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। 
- ধূসর পদার্থের কয়েকটি স্তরে বিশেষ আকারে স্নায়ুকোষ দেখা যায়, এই স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। 
- এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 
- দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। 
- সেরিব্রামের নিচের অংশ হলো- থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস। 
- এগুলো ধূসর পদার্থের পুঞ্জ। 
- ক্রোধ, লজ্জা, গরম, শীত, নিদ্রা, তাপ সংরক্ষণ ও চলন এই অংশের কাজ। 

মধ্যমস্তিস্ক: 
- গুরুমস্তিষ্ক ও পনস-এর মাঝখানে মধ্যমস্তিষ্ক অবস্থিত। 
- মধ্যমস্তিষ্ক দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তির সাথেও সম্পর্কযুক্ত। 

পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক: 
- লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থিত। 
- এটা গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোট। 
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্কের প্রধান কাজ। 
- এছাড়া লঘুমস্তিষ্ক কথা বলা ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এর তিনটি অংশ- গনস সেরিবেলাম: পনসের বিপরীতদিকে অবস্থিত খন্ডাংশটি হলো সেরিবেলাম। 
- এটা অনেকটা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। 
- সেরিবেলাম ডান ও বাম দু'অংশে বিভক্ত। 

পনস: 
- পনস লঘুমস্তিষ্কের সামনে ও নিচে অবস্থিত। 
- একে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়। 
- এটা গুরুমস্তিষ্ক, লঘুমস্তিষ্ক ও মধ্যমস্তিষ্ককে সুষুম্নাশীর্ষকের সাথে সংযোজিত করে। 

মেডুলা: 
- এটা মস্তিষ্কের নিচের অংশ। 
- সুষুম্নাশীর্ষক পনসের নিম্নভাগ থেকে মেরুরজ্জুর উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
অর্থাৎ, এটা মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে, এজন্য একে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়। 
- মস্তিষ্কের এ অংশ হৃৎস্পন্দন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসন ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১০,৫২১.
ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করে কোনটি? 
  1. ক্রোমোপ্লাস্ট
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. ফ্লোরোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে।

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫২২.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলা?
  1. কোয়ার্টজাইট
  2. কেওলিন
  3. চুনাপাথর
  4. গ্রানাইট
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক চাপ, তাপ ও রাসায়নিক ক্রিয়ায় পরিবর্তিত হয়ে যে নতুন রূপ ধারণ করে তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
যেমন:
- বেলপাথরের রূপান্তরিত রূপ কোয়ার্টজাইট
- কয়লার রূপান্তরিত রূপ গ্রাফাইট
- চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ মার্বেল
- গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ নিস।

অন্যদিকে
- চুনাপাথর ও কেওলিন : পাললিক শিলা
- গ্রানাইট : আগ্নেয় শিলা।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৫২৩.
উদ্ভিদকোষে নিচের কোনটি সাধারণত অনুপস্থিত থাকে?
  1. সেন্ট্রিওল
  2. কোষগহ্বর
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদকোষে থাকে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস। সাইটোপ্লাজমে থাকে কোষগহ্বর, প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বডি, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, রাইবোজো ইত্যাদি।
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত সেন্ট্রিওল থাকে না, তবে নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে যেমন- ছত্রাকে থাকে। প্রাণিকোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার গঠন করা সেন্ট্রিওলের প্রধান কাজ।
- প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ইত্যাদি থাকে না। প্রাণিকোষের আবরণটি প্লাজমা পর্দা দ্বারা গঠিত। সেন্ট্রিওল সাধারণত প্রাণিকোষ এর বৈশিষ্ট্য।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

১০,৫২৪.
রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক-
  1. ক) আসলের সমান হবে
  2. খ) আসলের চেয়ে বেশি হবে
  3. গ) আসলের চেয়ে কম হবে
  4. ঘ) আসল গতির সাথে সম্পর্কযুক্তভাবে কমে যাবে
ব্যাখ্যা
• রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক আসলের চেয়ে বেশি হবে।
- শব্দের উৎস থেকে কম্পাঙ্ক যেদিকে যায়, শব্দের উৎস তথা ট্রেন সেদিকেই এগোতে থাকলে কম্পাঙ্কের ঘনত্ব বাড়ে, এতে শব্দের তিব্রতা বাড়ে।
- এই ঘটনা ডপলার অ্যাফেক্ট দ্বারা বর্ণনা করা যায়।
- শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতির ফলে শ্রুত শব্দের কম্পাঙ্কের যে আপাত পরিবর্তন হয় তাকে ডপলার ক্রিয়া বলে।
- ডপলার ক্রিয়া শব্দ বিজ্ঞানের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়।
- ১৮৪২ সালে অস্ট্রিয়ার পদার্থবিদ ডপলার এ সূত্র প্রদান করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১০,৫২৫.
একটি বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য 8√2 একক হলে বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত একক?
  1. 32 একক
  2. 36 একক
  3. 40 একক
  4. 44 একক
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য 8√2 একক হলে বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা কত একক?

সমাধান:
ধরি,
বর্গক্ষেত্রের একবাহুর দৈর্ঘ্য = a একক
তাহলে, বর্গক্ষেত্রের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√2 একক
এবং বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4a একক

প্রশ্নমতে,
a√2 = 8√2
⇒ a = 8 একক

∴ বর্গক্ষেত্রের পরিসীমা = 4 × 8 একক
= 32 একক
১০,৫২৬.
কোনটির সাহায্যে ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়? 
  1. টেলিস্কোপ
  2. পেরিস্কোপ
  3. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  4. নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা আমরা দেখতে পাই। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১০,৫২৭.
ছোট দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ইক্ষু
  2. ভুট্টা
  3. যব
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দিবালোকের দীর্ঘতা ভিত্তিক পুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ:
- আমরা জানি সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান থাকে না।
- কখনও দিন ছোট ও রাত বড়।
- আবার কখনও দিন বড় ও রাত ছোট থাকে।
- দিবাকালের দীর্ঘতার উপর ভিত্তি করে পুষ্পক উদ্ভিদকে তিনভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ভাগ তিনটি হল-
১। ছোট দিনের উদ্ভিদ।
২। বড় দিনের উদ্ভিদ।
৩। নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

ছোট দিনের উদ্ভিদ:
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ।
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে।
- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, অ্যাস্টার, ডালিয়া, তামাক, শিম এগুলিও ছোট দিনের উদ্ভিদ। রোপা আমন, পাট এগুলি ছোট দিনের উদ্ভিদ।

বড় দিনের উদ্ভিদ:
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ।
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে।
- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ।

নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে।
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়।
- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

তথ্যসূত্র - উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫২৮.
কঁচু খেলে গলা চুলকায় কঁচুতে উপস্থিত কোন যৌগের কারণে?
  1. ক্যালসিয়াম সালফেট
  2. ক্যালসিয়াম অক্সালেট
  3. ম্যগনেসিয়াম অক্সালেট
  4. ক্যালসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
• কঁচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকার কারণে কঁচু খেলে গলা চুলকায়।

-কচু খাওয়ার পর গলা চুলকানোর প্রধান কারণ হলো এতে থাকা একটি বিশেষ যৌগ ক্যালসিয়াম অক্সালেট (Calcium Oxalate)।
- এই যৌগটি সূক্ষ্ম সূচের মতো স্ফটিক আকারে থাকে, যা মুখ বা গলার সংবেদনশীল টিস্যুকে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি অনুভূতি দেয়।

প্রতিকার:
- ভালভাবে রান্না করা: উচ্চ তাপে রান্না করলে বা উপযুক্ত পদ্ধতিতে কচু প্রক্রিয়াজাত করলে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের পরিমাণ কমে যায়।
- লেবুর রস বা দই ব্যবহার: খাবারের সাথে লেবুর রস বা দই মিশিয়ে খেলে চুলকানি কম হয়।
- নুন মাখানো: রান্নার আগে কচুতে লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে এই যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে।
- এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া, তবে সঠিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করলে সমস্যা এড়ানো যায়।

উৎস: USDA অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১০,৫২৯.
সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ক্রেসকোমিটার 
  2. ক্রোনোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. ট্যাকোমিটার 
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র- ক্রোনোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্নায়ক যন্ত্র- ক্রেসকোগ্রাফ। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্নায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১০,৫৩০.
শিশুর বয়স কত হলে হাম ও রুবেলার টিকা দিতে হয়?
  1. ১২ মাস
  2. ৬ সপ্তাহ
  3. ৯ মাস
  4. ১৫ মাস
ব্যাখ্যা
রোগের নাম টিকার নাম ডোজের সংখ্যা টিকা শুরু করার সঠিক সময়
যক্ষা বিসিজি জন্মের পর থেকে
ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ৬ সপ্তাহ
নিউমোকক্কাল নিঊমোনিয়া পিসিভি ভ্যাকসিন ৬ সপ্তাহ
পোলিওমাইলাইটিস ওপিভি ৪* ৬ সপ্তাহ
হাম ও রুবেলা এমআর টিকা ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে
       
উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১০,৫৩১.
রুই মাছের হৃৎপিণ্ড কয়টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড (Heart)
- রুই মাছের হৃৎপিণ্ড ফুলকাদ্বয়ের পিছনে পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর (Pericardial cavity) নামক একটি বিশেষ প্রকোষ্ঠে আবৃত থাকে।
- পেরিকার্ডিয়াম নামক শক্ত আবরণে হৃৎপিণ্ডটি আবৃত থাকে। 
- রুই মাছের হৃৎপিণ্ড দুইটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। যথা: অ্যাট্রিয়াম বা অলিন্দ (atrium or auricle) এবং ভেন্ট্রিকল বা নিলয় (ventricle)। এছাড়া যথা- সাইনাস ভেনোসাস (sinus venosus) নামে একটি উপপ্রকোষ্ঠ রয়েছে।
- সাইনাস ভেনোসাস পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট প্রকোষ্ঠ যা হৃৎপিণ্ডের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।
- শিরাসমূহের CO2 অ্যাট্রিয়াম হৃৎপিণ্ডের বৃহত্তম প্রকোষ্ঠ। এর প্রাচীরও পাতলা।
- এটি একদিকে সাইনাস ভেনোসাস অন্যদিকে অ্যাট্রিও ভেন্ট্রিকুলার ছিদ্রপথে ভেন্ট্রিকলে উন্মুক্ত। 
- পেরিকার্ডিয়াম গহ্বরে অঙ্কীয় পশ্চাৎ দেশে ভেন্ট্রিকল অবস্থিত। এর প্রাচীর পুরু ও মাংসল।
- এর গহ্বর নিয়ত এবং একটি ছিদ্রপথে বাল্বাস আর্টারিওসাস নামক প্রকোষ্ঠে যুক্ত হয়।
- এ ছিদ্রে দুটি অর্ধ চন্দ্রাকৃতি কপাটিকা থাকে ।
- ফলে এদের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে রক্ত কেবল একমুখী প্রবাহে প্রবাহিত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৩২.
উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদানের মধ্যে কোনটি নেই?
  1. বোরন
  2. ক্লোরিন
  3. সালফার 
  4. কপার
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন-
১। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা- নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং সালফার (S)। 

২। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান ৭ টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), লৌহ (Fe), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৩৩.
নিম্নের কোন কম্পাঙ্কের শব্দকে ইনফ্রাসাউন্ড বলা যায়?
  1. ক) 10 Hz
  2. খ) 20 Hz
  3. গ) 100 Hz
  4. ঘ) 20000 Hz
ব্যাখ্যা
20 Hz থেকে 20000 Hz বিশিষ্ট শব্দকে মানুষ শুনতে পারে। 20 Hz এর কম হলে তাকে ইনফ্রাসাউন্ড এবং 20000 Hz এর বেশি হলে তাকে আলট্রাসাউন্ড বলে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০,৫৩৪.
কচু খেলে গলা চুলকানোর জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সালেট
  2. খ) সালফার ড্ৰাই অক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম সালফেট
  4. ঘ) পটাসিয়াম পার ক্লোরেট
ব্যাখ্যা
কচু নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
১) কচুর শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি, সি,ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচুর শাক খাওয়ানো উচিত।
২) কচুতে আছে আয়রন, যা রক্ত শূন্যতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৩) কচুতে আছে নানা রকমের ভিটামিন যা গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য দারুন উপকারি।
৪) কচুর ডাঁটায় প্রচুর পরিমানে পানি থাকে,তাই গরমের সময় কচুর ডাঁটায় রান্না করে খেলে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়।
৫) কচুর শাকে পর্যাপ্ত পরিমানে আঁশ থাকে যা হজমে সহায়তা করে।
৬) কচুতে আছে প্রচুর ফাইবার, ফোলেট ও থায়ামিন যা মানব শরীরের জন্য অনেক দরকারি উপাদান।
৭) কচু খেলে রক্তের কোলেস্টরল কমে তাই উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য ওল কচুর রস বেশ উপকারী।
8) নিয়মিত কচু খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
৯) কচু শাক বা কচু খেলে অনেক সময় গলা চুলকায়; কারণ কচুতে ক্যালসিয়াম অক্সলেট আছে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও পত্রিকার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
১০,৫৩৫.
নিচের কোনটি অপ্রধান টেকটোনিক প্লেটের উদাহরণ?
  1. এন্টার্কটিক প্লেট
  2. এরাবিয়ান প্লেট
  3. প্যাসিফিক প্লেট
  4. ইউরেশিয়ান প্লেট
ব্যাখ্যা

Tectonic plates are gigantic segments or pieces of the Earth's crust and uppermost mantle that together constitute the Lithosphere. Tectonic Plates are of two types, namely oceanic crust and continental crust that differ in composition. Tectonic plates are not fixed but move above the molten mantle below them.Tectonic plates form either divergent, transform, or convergent boundaries when they come in contact. Such boundaries are highly susceptible to earthquakes and volcanic eruptions. Orogeny also takes place at such boundaries. Tectonic plates are defined as major and minor plates depending on their size. There are a total of seven major tectonic plates which cover nearly 95% of the Earth's surface.

Major Tectonic Plates By Size-
- Pacific Plate - 103,300,000 Sq Km
- North American Plate - 75,900,000 Sq Km
- Eurasian Plate - 67,800,000 Sq Km
- African Plate - 61,300,000 Sq Km
- Antarctic Plate - 60,900,000 Sq Km
- Indo-Australian Plate - 58,900,000 Sq Km
- South American Plate - 43,600,000 Sq Km

Minor Tectonic Plates By Size-
- Somali Plate - 16,700,000 Sq Km
- Nazca Plate - 15,600,000 Sq Km
- Philippine Sea Plate - 5,500,000 Sq Km
- Arabian Plate - 5,000,000 Sq Km
- Caribbean Plate - 3,300,000 Sq Km
- Scotia Plate - 1,600,000 Sq Km
সূত্র: www.worldatlas.com ওয়েবসাইট

১০,৫৩৬.
ল্যামার্কের লেখা বইয়ের নাম কী যেখানে তিনি বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন?
  1. ন্যাচারাল হিস্ট্রি
  2. থিওরি অফ রেভোলিউশন
  3. অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিজ
  4. ফিলােসােফিক জুওলজিক
ব্যাখ্যা
• বিবর্তন (Evolution):
- বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়।
- কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
- সর্বপ্রথম জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
- তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।
- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৩৭.
ডিজিটাল ঘড়িতে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে ওঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. ক) এলইডি
  2. খ) সিলিকন চিপ
  3. গ) এলসিডি
  4. ঘ) আইসি
ব্যাখ্যা
আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলি সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে।
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেমন কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়।

সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই।
- সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে।
১০,৫৩৮.
আইসি তৈরি করতে কোনটি লাগে না? 
  1. ক্যাপাসিটর 
  2. ট্রানজিস্টর
  3. রেজিস্টর 
  4. ট্রান্সফরমার 
ব্যাখ্যা

- আইসি তৈরি করতে 'ট্রান্সফরমার' লাগে না, কিন্তু ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে এই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) তৈরি করা হয়। 

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি): 

- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে। 
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

১০,৫৩৯.
কবি, গণিতবিদ ও দার্শনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন- 
  1. পিথাগোরাস 
  2. ডেমোক্রিটাস 
  3. আল মাসুদি 
  4. ওমর খৈয়াম 
ব্যাখ্যা

গ্রিক, ভারতবর্ষ, চীন এবং মুসলিম সভ্যতার অবদান: 
- প্রাচীনকালে পদার্থবিজ্ঞান শুরু হয়েছিল জ্যোতির্বিদ্যা, আলোকবিজ্ঞান, গতিবিদ্যা ও জ্যামিতির সমন্বয়ে। 
- গ্রিক বিজ্ঞানী থেলিস প্রথম ধর্ম ও পৌরাণিক ব্যাখা পরিহার করে যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা দেন এবং সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেন। 
- পিথাগোরাস জ্যামিতি ও কম্পমান তারের ওপর কাজ করেন। 
- ডেমোক্রিটাস পদার্থের অবিভাজ্য একক অ্যাটম-এর ধারণা দেন, যদিও প্রমাণ করতে পারেননি। 
- অ্যারিস্টটল চার উপাদান (মাটি, পানি, বাতাস, আগুন) দ্বারা গঠিত জগতের মতবাদ দেন। 
- আরিস্তারাকস সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন এবং সেলেউকাস তা যুক্তি দিয়ে সমর্থন করেন। 
- আর্কিমিডিস তরলে ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র ও আয়নার মাধ্যমে সূর্যরশ্মি কেন্দ্রীভূত করে যুদ্ধজাহাজে আগুন ধরানোর জন্য বিখ্যাত। 
- ইরাতোস্থিনিস সঠিকভাবে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয় করেন। 

- গ্রিক যুগের পর প্রায় দেড় হাজার বছর জ্ঞানচর্চা থেমে যায়, তবে ভারতীয়, মুসলিম ও চীনা সভ্যতা তা ধরে রাখে। 
- ভারতে আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত ও ভাস্কর গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং শূন্যের ব্যবহার প্রবর্তন করেন। 
- মুসলিম বিজ্ঞানী আল খোয়ারিজমি-র আল জাবির বই থেকে “অ্যালজেবরা” শব্দের উৎপত্তি। 
- ইবনে আল হাইয়াম আলোকবিজ্ঞানের স্থপতি। 
- আল মাসুদি প্রকৃতির ইতিহাসে এনসাইক্লোপিডিয়া লেখেন। 
- ওমর খৈয়াম ছিলেন কবি, গণিতবিদ ও দার্শনিক। 
- চীনে শেন কুয়ো চুম্বক নিয়ে গবেষণা করেন ও কম্পাস ব্যবহার করে দিক নির্ধারণের ধারণা দেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৫৪০.
রক্তশূন্যতা হলে কোনটি চুপসে যায়?
  1. ক) ধমনী
  2. খ) শিরা
  3. গ) লিগামেন্ট
  4. ঘ) জালিকা
ব্যাখ্যা
• শিরা (খ) - চুপসে যায় রক্তশূন্যতা হলে।
- রক্তশূন্যতা বা হাইপোভোলেমিয়া হলে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। এই অবস্থায় শিরা চুপসে যায় কারণ:
- শিরা (veins) অপেক্ষাকৃত কম চাপযুক্ত রক্ত বহন করে এবং এর দেয়াল ধমনীর তুলনায় পাতলা ও নমনীয়।
- যখন শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যায়, শিরাগুলি সহজেই চুপসে যায় কারণ এগুলি রক্তের আয়তনের সাথে মানিয়ে নিতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং National Institutes of Health (NIH) [Link].
১০,৫৪১.
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ১৭
  3. গ) ১৮
  4. ঘ) ১৯
ব্যাখ্যা
পটাশিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা- ১৯। 

পটাশিয়ামের পারমাণবিক ভর- ৩৯। 

পারমাণবিক সংখ্যা হলো কোনো মৌলের পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যা। পারমাণবিক সংখ্যা একটি উপাদানের প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়।

সূত্র: ৬৯ পৃষ্ঠা, রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।  
১০,৫৪২.
ফিউশন প্রক্রিয়ায়-
  1. ক) একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচন্ড শক্তি সৃষ্টি করে
  2. খ) একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
  3. গ) ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
  4. ঘ) একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
ফিউশন প্রক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে এবং প্রচন্ড তাপশক্তি উৎপন্ন করে। উৎসঃমাধ্যমিক রসায়ন বই


পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়।
প্রক্রিয়া দুটি হল :
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন 
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন 

নিউক্লিয়ার ফিশন :
যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি
খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।


নিউক্লিয়ার ফিউশন : যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়
এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন
পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে।
সূর্যে এ বিক্রিয়া স্বচ্ছন্দে ঘটে। 

[উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
১০,৫৪৩.
এক অশ্বক্ষমতা (1 HP) এর জন্য কোনটি সঠিক?
  1. 1 KW
  2. 0.764 KW
  3. 0.746 KW
  4. 0.784 KW
ব্যাখ্যা

• অশ্বক্ষমতা (Horsepower):
- অশ্বক্ষমতা হলো শক্তি উৎপাদনের একক, যা সাধারণত ইঞ্জিন বা যন্ত্রের ক্ষমতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- 1 অশ্বক্ষমতা বলতে বোঝায় এমন শক্তি যা প্রতি সেকেন্ডে 746 জুল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। 
- এটি প্রায়শই বৈদ্যুতিক বা মেকানিক্যাল যন্ত্রের পাওয়ার রেটিং নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।
- কিলোওয়াটে রূপান্তর করলে, 1 HP = 0.746 kW.

• কিলোওয়াট (Kilowatt):
- কিলোওয়াট শক্তির মাপকাঠি, যা 1000 ওয়াটের সমান। 
- এটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের শক্তি পরিমাপের সাধারণ একক।
- HP থেকে kW রূপান্তর করতে 1 HP × 0.746 = kW সূত্র ব্যবহার করা হয়।

• সঠিক রূপান্তর:
- যেহেতু 1 HP = 0.746 kW, তাই 1 অশ্বক্ষমতা কে কিলোওয়াটে রূপান্তর করলে ফলাফল হবে 0.746 kW.
- অন্য অপশনগুলো (1 kW, 0.764 kW, 0.784 kW) ভুল কারণ সঠিক রূপান্তর 0.746 kW.

সুতরাং, 1 অশ্বক্ষমতার জন্য সঠিক মান হলো 0.746 kW.
সঠিক উত্তর: গ) 0.746 KW

সূত্র: Britannica [লিংক]

১০,৫৪৪.
কোনটি একটি দ্বিপরমাণুক অণু?
  1. O2
  2. O3
  3. CH4
  4. CO2
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বন্ধন: 
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 
- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 
- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষন বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৪৫.
কোনটি উর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) নিশাদল
  3. গ) ন্যাপথালিন
  4. ঘ) বেনজিন
ব্যাখ্যা

• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা তরলে রূপান্তরিত না হয় সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। যেমন:
- কর্পুর,
- গন্ধক,
- আয়োডিন,
- ন্যাপথালিন,
- নিশাদল,
- অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- আর্সেনিক,
- বেনজয়িক এসিড ইত্যাদি।
• কিন্তু বেনজিন উর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়।
উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৫৪৬.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য কী?
  1. ক) স্টার্চ
  2. খ) গ্লাইকোজেন
  3. গ) শ্বেতসার
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য স্টার্চ/শ্বেতসার। প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন। উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। উদ্ভিদ কোষের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত। এদের এক বা একাধিক কোন গহ্বর থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৪৭.
উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ কোন দুটি টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত?
  1. জাইলেম এবং ফ্লোয়েম
  2. প্যারেনকাইমা এবং ট্রাকিড 
  3. জাইলেম এবং মেরিস্টেম
  4. ফ্লোয়েম এবং স্ক্লেরেনকাইমা
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুতন্ত্র প্রধানত দুটি জটিল টিস্যু (যেমন- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম) নিয়ে গঠিত। এই দুটি টিস্যুকে একত্রে ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলা হয়। 

জটিল টিস্যু: 

- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৫৪৮.
সালফিউরিক এসিডে কোন মৌলিক পদার্থটি নেই?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিডের সংকেত H2SO4.
সংকেত থেকে আমরা দেখতে পাই সালফিউরিক এসিডে দুই অণু হাইড্রোজেন, এক অণু সালফার ও চার অণু অক্সিজেন থাকে। 
নাইট্রোজেন থাকে না। 
১০,৫৪৯.
নিচের কোনটি মেটালয়েড?
  1. ক) থ্যালিয়াম
  2. খ) টেলুরিয়াম
  3. গ) সীসা
  4. ঘ) সেলেনিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
যে সকল মৌলের ক্ষেত্রে ধাতু ও অধাতু উভয় শ্রেণির ধর্ম প্রকাশ পায়; তাদেরকে অপধাতু বা মেটালয়েড বলে।
বোরন, সিলিকন, জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, অ্যান্টিমনি এবং টেলুরিয়াম- এই ছয়টি মৌল হলো অপধাতু।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০,৫৫০.
'Ebola' has not spread out in epidemic form in which of the following countries?
  1. Nigeria
  2. Sierra Leon
  3. Guinea
  4. Liberia
ব্যাখ্যা
ইবোলা:

- নিরক্ষীয় আফ্রিকার দেশগুলো প্রায় চার দশক ধরে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়েছে।
- ২৩ মার্চ ২০১৪ এর মধ্যে যা এই প্রধানত গিনি, লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ব্যাপক প্রাণহানি এবং আর্থ-সামাজিক ব্যাঘাত ঘটায়।
- ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গিনিতে প্রথম মামলা রেকর্ড করা হয়েছিল।
- পরবর্তীতে, রোগটি প্রতিবেশী লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অন্যত্র সামান্য প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- 'ইবোলা' নাইজেরিয়াতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েনি।

তথ্যসূত্র - WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১০,৫৫১.
বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. ওয়াট
  2. ভোল্ট
  3. ওহম
  4. অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা: 
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক ওয়াট। 
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়। 
- ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ক্ষমতা = বল × বেগ। 

অন্যদিকে, 
- রোধের একক ওহম। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- বৈদ্যুতিক বিভবের একক ভোল্ট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৫২.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. স্ফোনোডন
  2. তেলাপোকা
  3. রাজকাঁকড়া
  4. ইকুইজিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
যেমন:
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী,
- স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী,
- প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী। 

অন্যদিকে,
- ইকুইজিটাম,
- নিটাম ও
- পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 

- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৫৩.
রেচন প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. খাদ্য হজম করা 
  2. হরমোন উৎপাদন করা 
  3. দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করা
  4. রক্ত গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করা 
ব্যাখ্যা

মানুষের রেচন প্রক্রিয়া: 
- রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। 
- রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয়ে দেহের শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য বজায় থাকে। 
- অতিরিক্ত পানি, লবণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জৈব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত রেচনের মাধ্যমে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। 
- এই প্রক্রিয়ার জন্য মানবদেহে বিশেষ অঙ্গ রয়েছে, যা রেচন কাজে অংশগ্রহণ করে এবং এসব অঙ্গকে রেচন অঙ্গ বলা হয়। 
- রেচন অঙ্গগুলোর সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত হয়। 
- রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা ৮০% রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়; বাকি ২০% রেচন পদার্থ বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মে উৎপন্ন ও বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। 
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গের নাম বৃক্ক, আর বৃক্কের একক হলো নেফ্রন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৫৪.
লেজার রশ্মির আবিষ্কারক কে?
  1. ওপেন হেইমার
  2. ইগর সিজরস্কি
  3. থিওডর মাইম্যান
  4. লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা
LASER এর পূর্ণরূপ - Light Amplification by Stimulated Emission Radiation. অর্থাৎ উত্তেজিত বিকিরণের সাহায্যে আলোক বিবর্ধক।

১৯৬০ সালে আমেরিকান পদার্থবিদ থিওডর মাইম্যান প্রথম লেজার তৈরী করেন। লেজারের বিবিধ ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে মৃদু শল্যচিকিৎসা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করা।

Source: Britannica
১০,৫৫৫.
পানি (H₂O) কোন ধরনের যৌগ?
  1. জৈব
  2. অজৈব
  3. মিশ্র
  4. অ্যারোমাটিক যৌগ
ব্যাখ্যা
• অজৈব যৌগ: যে সকল যৌগে কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন (C-H) থাকে না এবং সাধারণত খনিজ বা ভূ-তাত্ত্বিক উৎস থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে অজৈব যৌগ বলা হয়। ।
পানি (H₂O) হলো একটি অজৈব যৌগ।

এর কারণ হলো:
-  জৈব যৌগ সাধারণত কার্বন (C) এবং হাইড্রোজেন (H) এর সরাসরি বন্ধন (C–H bond) ধারণ করে।
-  পানি-তে কার্বন নেই। এটি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের বন্ধনে তৈরি। তাই  এটি একটি অজৈব যৌগ।

-   পানি জীবদেহের জন্য অপরিহার্য হলেও রাসায়নিক গঠনের দিক থেকে এটি জৈব রসায়নের  (C-H ভিত্তিক) অংশ নয়।
-  পানিতে কার্বন-হাইড্রোজেন (C-H) বন্ধন নেই, যা জৈব যৌগের মূল শর্ত।
-  এটি প্রাকৃতিকভাবে খনিজ বা ভূতাত্ত্বিক উৎস (নদী, সমুদ্র, বৃষ্টি) থেকে পাওয়া যায়, জীবদেহ থেকে সংশ্লেষিত হয় না।
-   এর গঠন ও ধর্ম অজৈব যৌগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (যেমন: উচ্চ গলনাঙ্ক, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা)।

অন্যদিকে, 
•  জৈব: জৈব যৌগে অবশ্যই C-H বন্ধন থাকতে হয়, যা পানিতে নেই।
মিশ্র: মিশ্র যৌগ বলতে সাধারণত মিশ্রণ বোঝায় (যেমন: লোহা-কার্বন মিশ্রণ), যা পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অ্যারোমাটিক যৌগ: যে সকল জৈব যৌগের অণুতে এক বা একাধিক বেনজিন চক্র উপস্থিত থাকে তাদেরকে অ্যারোমাটিক যৌগ বলা হয়। পানি অ্যারোমাটিক যৌগ নয়। 


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১০,৫৫৬.
বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. ক্যাপিং
  2. মিক্সিং
  3. ডোপিং
  4. ট্রান্সেন্ডিং
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping): 
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে। 
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৫৭.
“ইনার্ট গ্যাস” নয় কোনটি?
  1. Rn
  2. Ra
  3. Xe
  4. Ar
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gas): 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। 
যেমন: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)। 
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোন যৌগ গঠন করতে চায় না। 
- নিষ্ক্রিয় অন্য মৌলগুলো থেকে হিলিয়াম (He) মৌলটি ব্যতিক্রম। কারণ হিলিয়াম (He) এর বাইরের শক্তিস্তর ২টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অন্য মৌলগুলোর ক্ষেত্রে ৮টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে। 
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে। 
- Ra (Radium) - নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা, “ইনার্ট গ্যাস” নয়।

Figure: ptable.com [লিংক]

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৫৮.
বাতাসের নাইট্রোজেন কিভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে?
  1. সরাসরি মাটিতে মিশ্রিত হয়ে জৈব বস্তু প্রস্তুত করে
  2. ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদের গ্রহণ উপযোগী বস্তু প্রস্তুত করে
  3. পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
  4. মাটির অজৈব লবণকে পরিবর্তিত করে
ব্যাখ্যা
• বিদুৎ উৎপাদনে প্রকল্পে ও মোটর কারে নাইট্রোজেন গ্যাস ও অক্সিজেন গ্যাসের বিক্রিয়ায় NO গ্যাস উৎপন্ন হয়। পরে বায়ুর অক্সিজেনসহ NO বিক্রিয়া করে NO2 এবং ওজোন ও পানির সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক এসিডরুপে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। উদ্ভিদ নাইট্রেট লবণ গ্রহণ করে। এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এবং গাছকে সবুজ ও সতেজ করতে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হচ্ছে ইউরিয়া।
- সার ছাড়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন পাওয়া যায়।
- বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ - ৭৮.০২%।
- বায়ু থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন চক্র বলে।
- নাইট্রোজেন চক্র এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: 
১. ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. রসায়ন বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,৫৫৯.
কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন-
  1. ক) জন ফ্লেমিং
  2. খ) ম্যাক্সওয়েল
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া বলে। ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১০,৫৬০.
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে, তাকে কী বলে?
  1. জারক
  2. বিজারক
  3. জারিত
  4. বিজারিত
ব্যাখ্যা
- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে।
- উদাহরণ: সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে।
- উদাহরণ: অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
১০,৫৬১.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ -
  1. নীল লিটমাসকে লাল করে
  2. লাল লিটমাসকে নীল করে
  3. নীল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. নীল লিটমাসকে সবুজ করে
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস:
রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৬২.
শিশুর হাম ও রুবেলার এমআর টিকা প্রদানের সময় কোনটি?
  1. ৬ মাস বয়সে
  2. ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে
  3. ৬ মাস এবং ৫ বছর বয়সে
  4. ৩ মাস এবং ৬ মাস বয়সে
ব্যাখ্যা
- শিশুর জন্মের ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে এসব টিকার একটি করে ডোজ অর্থাত চার সপ্তাহ বিরতিতে একেকটি টিকার তিন ডোজ সম্পন্ন করা হয়।
- পেন্টাভ্যালেন্ট হল ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশ (পারটুসিস), ধনুষ্টংকার (টিটেনাস), হিমোফিলিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি এবং হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে সমবেত একটি টিকা।
- শিশুর বয়স নয় মাস এবং ১৫ মাস বয়সে যথাক্রমে হাম ও রুবেলার প্রতিষেধক এমআর টিকা দেয়া হয়। 
- শিশুর ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হয়।

- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ফ্যাক্ট-শিট অনুযায়ী শিশু জন্মের পরপরই যক্ষ্মা বা টিবি প্রতিরোধে বিসিজি টিকা দেয়া হয়। 
- শিশু জন্মের ছয় সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনটি টিকা দিতে হয়। যথা-
• পোলিওর প্রতিষেধক ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন-ওপিভি,
• নিউমোনিয়ার প্রতিষেধক নিউমোককাল কনজুগেট ভ্যাকসিন-পিসিভি এবং
• পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা।

উৎস: bbc
১০,৫৬৩.
মানবদেহে হিমোগ্লোবিনের অভাবজনিত রোগ কোনটি? 
  1. মেরাসমাস
  2. রক্তশূন্যতা
  3. বেরিবেরি
  4. স্কার্ভি
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে। 
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে। 
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg। 
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। 
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা। 
- আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়। 

রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ হলো: 
- চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, 
- হাত-পা ফোলা, 
- দুর্বলতা, 
- মাথা ঘোরা, 
- বুক ধরফড় করা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৬৪.
মানুষের চুলের প্রকৃতি কোনটির দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. DNA
  2. ক্রোমোজোম
  3. পরিবেশ
  4. পুষ্টি
ব্যাখ্যা
মানুষের চোখের রঙ, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি (Physical Basis of Hereditary) বলে।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
এই প্রশ্নের উত্তর অপশনের উপর নির্ভর করে। অপশন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জিন, DNA বা ক্রোমোজোম এই ৩টার মধ্যে সর্বোত্তম উত্তর হবে জিন। তারপরে ক্রোমোজোম। তবে, অপশনে শুধু DNA থাকলে উত্তর DNA দেয়া যেতে পারে।
এখানে, অপশনে অনুসারে উত্তর ক্রোমোজোম ধরা হয়েছে।
১০,৫৬৫.
নিম্নলিখিত কোনটি গুচ্ছিত ফল?
  1. কাঁঠাল
  2. আতা
  3. আপেল
  4. ধান
ব্যাখ্যা
আতা একটি গুচ্ছিত ফল।

• ফল (Fruits)
- প্রকৃত ফল (True fruit): গর্ভাশয় থেকে উৎপন্ন হয়।
যেমন- আম, জাম, লিচু।

- অপ্রকৃত ফল (False fruit): গর্ভাশয় ব্যতীত অন্য অংশ থেকে উৎপন্ন হয়।
যেমন- আপেল, কাঁঠাল।

- সরল ফল (Simple fruit): একটি পুষ্প হতে একটি মাত্র ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন আম, ধান।

-গুচ্ছিত ফল (Aggregate fruit): একটি মাত্র পুষ্পের মুক্ত গর্ভাশয়গুলো হতে একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন- আতা, স্ট্রবেরি।

- যৌগিক ফল (Multiple fruit): সমগ্র পুষ্পমঞ্জরী হতে একটি মাত্র ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন- কাঁঠাল, আনারস।

- লিগিউম (Legume): ফল উপর থেকে নিচে দুটি কপাটে বিদীর্ণ হয়।
যেমন- শিম, মটর।

- ক্যাপসুল (Capsule): ফল উপর থেকে নিচে বহু কপাটে বিদীর্ণ হয়।
যেমন ধুতুরা, ঢেঁড়স, পাট।

- ক্যারিঅপসিস (Caryopsis): ফল এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং একটি মাত্র বীজযুক্ত। ফলত্বক ও বীজত্বক পরস্পর সংলগ্ন থাকে।
যেমন ধান, গম।

- সিলিকুয়া (Siliqua): শুষ্ক বিদারী ফল যা পরিপক্ব হলে নিচ থেকে উপরের দিকে ক্রমশ ফেটে যায়। এই ফল লম্বা ও নলাকার হয়।
যেমন- সরিষা, মূলা।

- বেরি (Berry): ফল এক বা একাধিক গর্ভপত্রী এবং বহুবীজী। এদের বহিঃত্বক পাতলা। অন্তঃত্বক ও মধ্যত্বক সংযুক্ত থাকে।
যেমন কলা, টমেটো।

- সাইজোকার্প (Schizocarp): শুষ্ক অবিদারী ফল।
যেমন- ধনে, গাজর।

- সরোসিস (Sorosis): এক্ষেত্রে স্পাইক বা স্প্যাডিক্স মঞ্জরীটি একটি একক রসালো যৌগিক ফলে পরিণত হয়।
যেমন- কাঁঠাল, আনারস।

- পেপো (Pepo): বহু বীজযুক্ত সরস ফল যাদের অমরাবিন্যাস বহুপ্রান্তীয় এবং গর্ভাশয় অধোগর্ভ। বহিঃত্বক চামড়ার মতো এবং বীজগুলো অমরার সাথে সংযুক্ত।
যেমন- কুমড়া, শসা।

- ড্রপ (Drupe): এক বা একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়তে একক বীজযুক্ত ফলের সৃষ্টি হয়। এর বহিঃত্বক পাতলা, মধ্যত্বক রসালো ও পুরু এবং অজ্ঞত্বক কাষ্ঠল।
যেমন- আম, কুল ও আমড়া।

-  হেসপেরিডিয়াম (Hesperidium): সরস অবিদারী ফল। ফলের অন্তঃত্বক রসালো ও কোয়া গঠন করে।
যেমন- কমলা, বাতাবীলেবু।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১০,৫৬৬.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী? 
  1. আবহাওয়া দীর্ঘমেয়াদী, জলবায়ু স্বল্পমেয়াদী 
  2. আবহাওয়া স্বল্পমেয়াদী, জলবায়ু দীর্ঘমেয়াদী 
  3. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই 
  4. আবহাওয়া কেবল তাপমাত্রা বোঝায়, জলবায়ু কেবল বৃষ্টিপাত বোঝায় 
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া: 
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের অবস্থাকে বলা হয় আবহাওয়া। 
- আবহাওয়া নিয়ত পরিবর্তনশীল এবং এটি একটি ক্ষুদ্র এলাকার বায়ুমণ্ডলের স্বল্পমেয়াদী অবস্থাকে তুলে ধরে। 
- বিশ্বের প্রতিটি দেশের আবহাওয়া অফিস এ সংক্রান্ত উপাত্ত ও তথ্য প্রচার করে প্রতিদিন সরবরাহ করে। তাই আবহাওয়া সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যায় "আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র” থেকে। 
- সাধারণত আবহাওয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বলেই প্রতিঘন্টা বা প্রতি দিনের আবহাওয়া পর্যালোচনা করে আবহাওয়ার গড় বের করা হয়। 

জলবায়ু: 
- পৃথিবীর প্রতিটি স্থানের বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়, সে কারণেই পৃথিবীর সকল স্থানের জলবায়ু এক রকম নয়। 
- আবহাওয়ার মত জলবায়ুরও প্রধান উপাদান হলো বায়ুর চাপ, তাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি। 
- আর এই সব উপাদানের ক্ষেত্রে নানা রকম বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, অক্ষাংশ ইত্যাদি। 
- আবহাওয়া যেমন কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুমণ্ডলের দৈনন্দিন অবস্থাকে বুঝায় তেমনি জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থা। 
অর্থাৎ, জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক গড় অবস্থা। 
- জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল নয়। 
- আবহাওয়ার থেকে জলবায়ুর পার্থক্য হলো আবহাওয়া কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়। কিন্তু জলবায়ু বলতে কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৬৭.
৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কী বলে?
  1. কুমেরুবৃত্ত
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. সুমেরুবৃত্ত
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: 
- উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত বলে।
- দক্ষিণ গোলার্ধে ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে।

কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,৫৬৮.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ নয়?
  1. ধান
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. পাট
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পাথওয়ে:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড হতে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট সৃষ্টির তিনটি স্বীকৃত গতিপথ আবিষ্কৃত হয়েছে।
যথা- (ক) ক্যালভিন চক্র (খ) হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র এবং (গ) CAM পথ। 

ক্যালভিন চক্র: 
- ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়।
- পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র: 
- হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড। তাই একে C4 চক্রও বলা হয়। 
- যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি।

CAM পথ: 
- CAM চক্র C3 ও C4 চক্র হতে ভিন্নতর। 
- এটি প্রথমে ক্রাসিলুসি গোত্রের উদ্ভিদসমূহে পরিলক্ষিত হয়, তাই একে CAM চক্র বলে। 
- CAM উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র দিনে বন্ধ এবং রাতে খোলা থাকে। 
- অধিকাংশ মরুজ উদ্ভিদ CAM জাতীয় উদ্ভিদ। 
- শুষ্ক পরিবেশে আনারস গাছে C4 চক্র চলে কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পেলে C3 চক্র চলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৬৯.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয়?
  1. ভ্যাকুয়াম
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. বায়বীয়
ব্যাখ্যা
শব্দের গতি: 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শূন্য বা ভ্যাকুয়াম মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৭০.
খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে কী বলে?
  1. ক) পুষ্টি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) পরিপোষক
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়ােজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে খাদ্যবস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পুরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা। পুষ্টির ইংরেজি প্রতিশব্দ Nutrition.
অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস বলে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১০,৫৭১.
কোনটি মহাবিশ্বের মৌলিক বলের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) মহাকর্ষ বল
  2. খ) তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
  3. গ) দুর্বল নিউক্লীয় বল
  4. ঘ) ঘাত বল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের মৌলিক বলগুলো হলোঃ
১) মহাকর্ষ বল
২) তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
৩) দুর্বল নিউক্লীয় বল
৪) সবল নিউক্লীয় বল
(উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান)

১০,৫৭২.
সবুজ ফল পাকার সময় বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় কিভাবে?
  1. ক) ক্লোরােপ্লাস্ট ক্রোমােপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে
  2. খ) ক্রোমােপ্লাস্ট ক্লোরােপ্লাস্ট-এ রূপান্তরিত হয়ে
  3. গ) অ্যামাইটোপ্লাস্ট ক্রোমােপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্রোমােপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
সবুজ ফল পাকার সময় ক্লোরােপ্লাস্ট ক্রোমােপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
টমেটোর যে লাল টকটকে রং দেখা যায় তা এ ক্রোমােপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়।

১০,৫৭৩.
'O' ব্লাড গ্রুপ বিশিষ্ট রক্তে কোন অ্যান্টিবডি থাকে?
  1. ক) A
  2. খ) a
  3. গ) B
  4. ঘ) a ও b
ব্যাখ্যা
রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ বলে।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকে এবং a, b দুইটি অ্যান্টিবডি থাকে।
- A অ্যান্টিজেন ও a অ্যান্টিবডি একসাথে থাকলে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। একই ভাবে B অ্যান্টিজেন ও b অ্যান্টিবডির ক্ষেত্রেও একই।
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় । যথা- O, A, B এবং AB।

0 রক্তের গ্রুপ:
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই কিন্তু a, b দুইটি অ্যান্টিবডি থাকে।
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে।

AB রক্তের গ্রুপ:
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে কিন্তু কোন অ্যান্টিবডি থাকে না।
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

A রক্তের গ্রুপ:
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে এবং b অ্যান্টিবডি থাকে।
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।

B রক্তের গ্রুপ:
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে a অ্যান্টিবডি থাকে।
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম।
১০,৫৭৪.
পরাগায়ন কত ধরনের হয়ে থাকে? 
  1. দুই ধরনের 
  2. তিন ধরনের 
  3. চার ধরনের 
  4. পাঁচ ধরনের 
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়।
- পরাগায়ন ফল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত।
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
- পরাগায়ন দুই ধরনের হয়ে থাকে
যথা: স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন।

১. স্ব-পরাগায়ন:
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
যেমন- ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।

২. পর-পরাগায়ন:
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
যেমন- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৭৫.
বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. শিল্প ভিত্তিক
  2. ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
  3. ধান-প্রধান নিবিড় বাণিজ্যিক
  4. যান্ত্রিক কৃষি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কৃষি ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী ধরনের।

• ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী:
- শুধুমাত্র মানুষ নিজ নিজ প্রয়োজন মেটানোর জন্য যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে তাকে স্বয়ংভোগী চাষাবাদ বলে।
- আদ্র মৌসুমী ভাবাপন্ন ঘনবসিতপূর্ণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীন, জাপানে ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী কৃষি ব্যবস্থা চালু আছে। 

• বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ক্ষুদ্রায়তন জমি।
- নিবিড় চাষাবাদ।
- ধানের প্রাধান্য।
- কায়িক শ্রম নির্ভর।
- একাদিক্রমে চাষাবাদ।
- চাষাবাদ প্রকৃতির উপর বেশী নির্ভরশীল।

• বাংলাদেশের কৃষি ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী বলার কারণ: 
- আমাদের দেশের কৃষির প্রধান উপখাত হলো- শস্য (ধান) উৎপাদন।
- বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাবার ভাত, আর তাই এই দেশের প্রায় ৮০ ভাগ কৃষি জমিতেই ধান উৎপাদন হয়। 
- এছাড়াও গম, ভুট্টা, সহ শাকসবজি উৎপাদন প্রচুর পরিমানে হয়।
- এজন্যই বাংলাদেশকে কৃষি ধান-প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী বলা হয়। 
--------------------- 
বাংলাদেশের জাতীয় কৃ‌ষি:
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক সোনালি অধ্যায়ের নাম কৃষি।
- উৎপাদনশীলতা, আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধির জন্য কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- বাংলাদেশে প্রতি বছর ১লা অগ্রহায়ণ 'জাতীয় কৃ‌ষি দিবস ও নবান্ন উৎসব' পালিত হয়।
- কৃষিই সমৃদ্ধি এ শ্লোগানকে ধারণ করে ২০০৮ সালের ১৫ নভেম্বর বা '১লা অগ্রহায়ণ, ১৪১৫' সালে প্রথম জাতীয় কৃষি দিবস পালন করা হয়। 
- সেই থেকে প্রতিবছর কৃষি দিবস পালিত হয়ে আসছে।
 
উৎস:
জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অর্থনীতি (২য় পত্র) -মোস্তাফিজুর রহমান,  একাদশ শ্রেণির ভূগোল- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৭৬.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ
  2. প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়
  3. মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো  ৯ - ১৪.৫ mmol/L
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস, বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ:

- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। দেহে গ্রহণকৃত খাদ্য গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মধ্যে আসে।
- দেহে গ্রহণকৃত খাদ্য গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মধ্যে আসে।
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের  গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।  - কারও ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৩.৯ - ৫.৬ mmol/L কিংবা (৭০ - ১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি.)। ডায়াবেটিস হলে রক্তে এর পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক বেড়ে যায়।
- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়
- ডায়াবেটিস হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ রোগের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন- হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাদের করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। এটি হৃৎপিণ্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী মারা যেতে পারে।
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়। উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

১০,৫৭৭.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কোনটি বুঝায়? 
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ চাপ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৭৮.
অপসারিত তরলের ওজন যখন বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হবে তখন কি ঘটবে ?
  1. বস্তু ভাসবে
  2. বস্তু ডুবে যাবে
  3. নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• আর্কিমিডিসের নীতি:
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত করলে সেটি যে পরিমাণ তরল অপসারণ করে সেইটুকু তরলের সমান ওজন বস্তুটির ওজন থেকে কমে যায়।
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত থাকলে তার ওপর যে উর্ধ্বমুখী প্লবতা বল ক্রিয়া করে, তার মান বস্তুটি কর্তৃক বিতাড়িত তরলের ওজনের ঠিক সমান।

• প্রথম অবস্থা:
- যখন কোনো বস্তু কর্তৃক অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের চেয়ে বেশি হয়, তখন প্লবতা বল বস্তুর ওজনের চেয়ে বেশি হয়।
- ফলে বস্তুর ওপর ক্রিয়ারত নেট বল উর্ধ্বমুখী হয় এবং বস্তুটি তরলের উপরিভাগে ভেসে থাকে।
- উদাহরণ: কাঠ, কর্ক, প্লাস্টিকের বল, জাহাজ, হাওয়াই জুতা ইত্যাদি।

• দ্বিতীয় অবস্থা:
- যখন অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের সমান হয়, তখন প্লবতা বল এবং বস্তুর ওজন পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী হয়ে একে অপরকে নিঃশেষ করে ফেলে।
- ফলে বস্তুর ওপর কোনো নেট বল ক্রিয়া করে না এবং বস্তুটি তরলের যেকোনো গভীরতায় নিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকে।
উদাহরণ: পানিতে সাঁতার কাটা মাছ, ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক সামঞ্জস্য করা সাবমেরিন, ঘন লবণপানিতে ডিম ইত্যাদি।

• তৃতীয় অবস্থা:
- যখন অপসারিত তরলের ওজন বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হয়, তখন প্লবতা বল বস্তুর ওজনের চেয়ে কম হয়।
- ফলে বস্তুর ওপর ক্রিয়ারত নেট বল নিম্নমুখী হয় এবং বস্তুটি তরলের তলদেশে ডুবে যায়।
- উদাহরণ: লোহা, পাথর, ইট, সোনা, তামা, কাচের গোলক ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,৫৭৯.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লিটমাসকে কী রঙে পরিবর্তিত করে? 
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. অপরিবর্তিত
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- 
• NaOH, 
• KOH, 
• Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- 
• NH4OH, 
• Fe(OH)2
• Fe(OH)3
• Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৮০.
তরলের বাষ্পায়ন কোন বিষয়টি দ্বারা প্রভাবিত হয় না? 
  1. বায়ু প্রবাহ
  2. তরলের প্রকৃতি
  3. তরলের উপর চাপ
  4. পদার্থের ঘনত্ব
ব্যাখ্যা
বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব: 
- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন। 
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। 
- এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা, এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়। 
- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। 
যেমন- 
তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি। 
বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক। 
• তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে। 
• তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়। 
• তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৮১.
Which is the smallest planet in the solar system?
  1. ক) Mercury
  2. খ) Mars
  3. গ) Saturn
  4. ঘ) Venus
ব্যাখ্যা
সৌরজগৎ:

- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি।
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধ।
- সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহ বুধ।
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- সৌরজগতের বুধ ও শুক্র গ্রহের উপগ্রহ নেই।
- সৌরজগতের শনি গ্রহের উপগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
- বুধ ৮৮ দিনে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮।
১০,৫৮২.
সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় -
  1. ১০ কোটি কিলোমিটার
  2. ১৩ কোটি কিলোমিটার
  3. ১৫ কোটি কিলোমিটার
  4. ১৭ কোটি কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

পৃথিবী:
- পৃথিবীকে বলা হয় আদর্শ গ্রহ।
- কারণ একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৮৩.
নিচের কোনটি লেপ্টন কণা?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) মেসন
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের বিভিন ধরনের কণা:
মহাবিশ্বের সকল কণাকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা: (ক) ফার্মিওন ও (খ) বোসন।

⇒ ফার্মিওন (Fermion):
- মহাবিশ্বের সকল পদার্থ এই কণিকা দ্বারা গঠিত। এদের স্পিন 1/2.
- ফার্মিওন কণা আবার দু'রকমের (১) কোয়ার্ক ও (২) লেপ্টন।

কোয়ার্ক (Quark):
- কোয়ার্ক দিয়ে প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত।
- দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন; এবং দুটি ডাউন ও একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত।
- কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। এগুলো হলো আপ (u) ও ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)। 
- কোয়ার্ক সব সময় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে।
- কোয়ার্কের এক একটি দলকে বলে হ্যাড্রন (Hadron)।

- তিনটি কোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন গঠিত হয় তাদেরকে বলা হয় বেরিয়ন (Baryon)। যেমন- প্রোটন, নিউট্রন হলো বেরিয়ন কণা।
- একটি কোয়ার্ক ও তার এন্টিকোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন হয় তাদের বলা হয় মেসন (Meson )।

লেপ্টন (Lepton):
- ছয় প্রকার লেপ্টন কণিকা রয়েছে।
- তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ইলেকট্রন ও মিউওন। 
- ইলেকট্রনের স্পিন 1/2.
- ইলেকট্রনের বিপরীত কণা পজিট্রন।

⇒ বোসন (Boson):
- বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের। (i) গেজ বোসন ও (ii) হিগস বোসন

গেজ বোসন (Gauge Boson):
- এদের স্পিন হলো 1.
- ফোটন এক ধরণের গেজ বোসন কণা।
- ফোটনের নিশ্চল ভর শূন্য।

হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।

গ্র্যাভিটন (Graviton):
- কোয়ান্টাম তত্ত্ব মতে, গ্র্যাভিটন নামক এক ধরনের বোসন কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে মহাকর্ষ বল কাজ করে।
- গ্র্যাভিটনের প্রতিকণা সে নিজেই এবং স্পিন 2।
- এটি ভরশূন্য এবং চার্জ নিরপেক্ষ এই কণা এখনও স্ট্যান্ডার্ড মডেলে স্থান পায়নি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৮৪.
পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান কেমন থাকে?
  1. ক) বেশী থাকে
  2. খ) কম থাকে
  3. গ) উপরিলেপন ঘটে
  4. ঘ) থাকে না
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে যোজন ইলেকট্রন বলে ।
- যোজন ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ড কে যোজন ব্যান্ড বলে।
- পরমাণুতে অবস্থিত মুক্ত যোজন ইলেকট্রন গুলো পরিবহনে অংশ নিলে তাদের পরিবাহী ইলেকট্রন বলে।
- পরিবাহী ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ডকে পরিবাহী ব্যান্ড বলে।

- পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান থাকেই না , বরং উপরিলেপন ঘটে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্যে তড়িৎ প্রবাহের সূচনা হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই। 
১০,৫৮৫.
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে বুঝায়-
  1. এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা
  2. এক ওয়াট-ঘণ্টা
  3. এক কিলোওয়াট
  4. এক ওয়াট
ব্যাখ্যা
কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ঘণ্টা 
- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল। 
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 

- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
বৈদ্যুতিক মিটারে এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ বলতে এক কিলোওয়াট ঘন্টা বুঝায়। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৮৬.
সমুদ্র থেকে শীতল ও উচ্চচাপ বায়ু মূলভাগের দিকে প্রবাহিত, কারণ এটি-
  1. ক) সমুদ্র বায়ু
  2. খ) মৌসুমি বায়ু
  3. গ) স্থলবায়ু
  4. ঘ) স্থানীয় বায়ু
ব্যাখ্যা
• সমুদ্র থেকে শীতল ও উচ্চচাপ বায়ু মূলভাগের দিকে প্রবাহিত, কারণ এটি সমুদ্র বায়ু।
- সূর্যাস্তের পর সমুদ্রের চেয়ে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়।
- এ সময় স্থলভাগে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- স্থলভাগের এই উচ্চচাপ থেকে তখন বায়ু সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় স্থলবায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৮৭.
কোনটি ছোঁয়াচে রোগ নয়?
  1. ক) মাম্পস
  2. খ) যক্ষা
  3. গ) স্ক্যাবিস
  4. ঘ) এইডস
ব্যাখ্যা
ছোয়াচে রোগগুলো হলঃ মাম্পস, স্ক্যাবিস, হার্পিস, যক্ষা।
এইডস রোগটি রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়।
১০,৫৮৮.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
• ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্ৰ:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।

- সেগুলো হলো:
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫),
- সিলেট (১৯৯৭)।

- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাসস।
১০,৫৮৯.
পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য হল-
  1. মাটির অনেক গভীরে থাকে
  2. ভিজা ও নরম
  3. পাহাড়ী এলাকায় পাওয়া যায়
  4. দহন ক্ষমতা কয়লার তুলনায় অধিক
ব্যাখ্যা
- পীট কয়লা হলো জৈব পদার্থের আংশিক পচন দ্বারা গঠিত স্পঞ্জি উপাদান যা প্রাথমিকভাবে উদ্ভিদ উপাদান। 
- পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্ন মানের কয়লা যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়। 
- পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে। 
- শুষ্ক অবস্থায় এটি অবাধে জ্বলে। 
- এতে শনাক্তযোগ্য উদ্ভিজ্জ কণিকা বিদ্যমান থাকলেও মণিক নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১০,৫৯০.
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম -
  1. ক) নেবুলা
  2. খ) আকাশ গঙ্গা
  3. গ) পেলিকান নিহারীকা
  4. ঘ) কোয়াসার
ব্যাখ্যা
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম Milky Way বা আকাশ গঙ্গা। এই ছায়াপথে প্রায়
1011 সংখ্যক নক্ষত্র রয়েছে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০,৫৯১.
নিচের কোন যৌগের মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন? 
  1. মোম
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কেরোসিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন: 
- হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। 
যেমন - মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), বেনজিন (C6H6) ইত্যাদি। 
- যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই। 
- হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
(i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও 
(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৯২.
নিচের কোন রোগের কারণে রক্ত সঞ্চালনে অস্বাভাবিক বিলম্ব দেখা যায়?
  1. ক) জুভেনাইল গ্লুকোমা
  2. খ) মায়োপিয়া
  3. গ) হেমোফিলিয়া
  4. ঘ) অপটিক অ্যাট্রফি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অক্ষিগোলকের কাঠিন্য = জুভেনাইল গ্লুকোমা, দৃষ্টিক্ষীণতা = মায়োপিয়া, রক্ত সঞ্চালনে অস্বাভাবিক বিলম্ব = হেমোফিলিয়া, অপটিক স্নায়ুর ক্ষয়িষ্ণুতা = অপটিক অ্যাট্রফি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
১০,৫৯৩.
কোন খাদ্যে প্রোটিন বেশি?
  1. ক) ভাত
  2. খ) গরুর মাংস
  3. গ) মসুর ডাল
  4. ঘ) ময়দা
ব্যাখ্যা
ডাল প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার,গরুর মাংসেও প্রোটিন থাকে তবে এতে চর্বির পরিমাণ বেশি বলে ডালই তুলনামূলকভাবে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।ভাত এবং ময়দা শর্করা জাতীয় খাদ্য।
১০,৫৯৪.
​পেরিস্কোপে কতটি দর্পণ থাকে?
  1. ২ 
  2. ৩ 
  3. ৪ 
  4. ১ 
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১০,৫৯৫.
কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়?
  1. ক) সাদা
  2. খ) কালো
  3. গ) হলুদ
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
আলাের বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের উপর।
আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ তত কম হয়।
লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম। তাই লাল আলো অনেক দূর থেকে দেখা যায়। সে জন্য উঁচু টাওয়ার বা বিল্ডিং এর উপর লাল রঙের বাতি জ্বালানো হয় যাতে বিমান বা হেলিকপ্টার নিচ দিয়ে উড়ে যাবার সময় অনেক দূর থেকে দেখে সতর্ক হতে পারে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রােগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৯৬.
রাত্রিবেলা বড় গাছের নিচে ঘুমালে শ্বাসকষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কেন? 
  1. গাছ বেশি O2 ছাড়ার ফলে 
  2. গাছ বেশি H2O শোষণ করার ফলে 
  3. গাছ বেশি CO2 ত্যাগ করার ফলে 
  4. সালোকসংশ্লেষণ বেশি হওয়ার ফলে 
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে গ্যাসীয় বিনিময়: 
- উদ্ভিদের জীবনে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) এবং শ্বসন (Respiration) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রক্রিয়া। 
- মূলত এই দুটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে থাকে, এই প্রক্রিয়া দুটি ঘটে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে এবং O2 ত্যাগ করে, অন্যদিকে শ্বসন প্রক্রিয়ায় জন্য O2 গ্রহণ করে এবং CO2 ত্যাগ করে। 
- উদ্ভিদে প্রাণীর মতো শ্বাস নেওয়ার জন্য কোনো বিশেষ অঙ্গ নেই, তবে পাতার স্টোমাটা ও পরিণত কাণ্ডের বাকলে অবস্থিত লেন্টিসেলের (Lenticel) মাধ্যমে অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় ঘটে। 
- দিনের বেলা বা পর্যাপ্ত আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণের হার অধিক হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত অক্সিজেন গ্যাসের কিছু অংশ শ্বসন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়। 
- আবার শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়, তাই আদান-প্রদানকৃত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ প্রায় সমান। 

- রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক পর্যায় বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- অন্যদিকে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, ফলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উৎপাদন চলতে থাকে। এ জন্য বড় গাছের নিচে রাত্রিবেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। 
- উদ্ভিদ তার পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করে। 
- উদ্ভিদের পাতা যেরকম বাতাস থেকে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস সংগ্রহ করে, তেমনি মূল মাটি থেকে পানি শোষণ করে। 
- শোষিত সেই পানির সাথে CO2 এর বিক্রিয়ার ফলে O2 গ্যাস উৎপাদন হয়, যা বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এভাবে উদ্ভিদদেহে গ্যাস বিনিময় চলতে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৯৭.
শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্য ____ হয়।
  1. ক) জারিত
  2. খ) বিজারিত
  3. গ) হজম
  4. ঘ) প্রশমিত
ব্যাখ্যা
শ্বসন প্রক্রিয়ায় খাদ্য অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে শক্তি নির্গত হয়৷ শ্বসন এক ধরনের দহন প্রক্রিয়া৷ এই প্রক্রিয়ায় শক্তি, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি উৎপন্ন হয়।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০,৫৯৮.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ কোনটি?
  1. ক) জাপান
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবঃ
মানবসৃষ্ট নানা রকম কাজকর্ম যা পরিবেশের ক্ষতি করছে সেগুলোই বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী।
এই সমস্ত কার্যক্রম যেমন শিল্পায়ন, বনাঞ্চল উজাড়, পারমানবিক পরীক্ষা, কৃষির সম্প্রসারণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, কাঠ-কয়লা পোড়ানো ইত্যাদি দ্বারা নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস গ্যাসই বিশ্ব উষ্ণায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
দিন দিন জলবায়ুপরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে এদেশের প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বই (উন্মুক্ত)।

১০,৫৯৯.
বাংলাদেশে প্রতি সেকেন্ডে কতবার পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়? 
  1. ৪০ বার
  2. ১০০ বার
  3. ৬০ বার
  4. ৫০ বার
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে। 
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। 
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়। 
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

(খ) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১০,৬০০.
লোহা একটি -
  1. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
  2. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  3. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  4. অ্যান্টি-ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
প্যারাচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।