বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০২ / ১৪০ · ১০,১০১১০,২০০ / ১৪,০৮০

১০,১০১.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এনজাইম কোনটি? 
  1. ট্রিপসিন
  2. লাইপেজ
  3. টায়ালিন
  4. পেপসিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত 'টায়ালিন ও মল্টেজ' এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১০২.
‘ইলিয়াম’ নিচের কোনটির অংশ?
  1. ব্রংকাস
  2. শ্বসনতন্ত্র
  3. ক্ষুদ্রান্ত
  4. বৃহদন্ত্র
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র:
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) ডিওডেনাম,
(ii) জেজুনাম ও 
(iii) ইলিয়াম
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে।
- জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে।

বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। - বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) সিকাম,
(ii) কোলন ও 
(iii) মলাশয়।

শ্বসনতন্ত্র:
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ ৷
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে।
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়।
- ব্রংকাস শ্বসনতন্ত্রের একটি অংশ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১০৩.
আলোক রশ্মি যখন অভিলম্ব বরাবর আপতিত হয়, তখন কী ঘটে?
  1. প্রতিসরণ কোণ শূন্য হয়
  2. প্রতিসরণ কোণ সর্বোচ্চ হয়
  3. আলোক রশ্মি ঘূর্ণিত হয়
  4. আলোক রশ্মি প্রতিফলিত হয়
ব্যাখ্যা

- আলোক রশ্মি যখন বিভেদ তলের ওপর অভিলম্ব বরাবর (লম্বভাবে) আপতিত হয়, তখন আপতন কোণের মান হয় 0° । স্নেলের সূত্রানুসারে, আপতন কোণ শূন্য হলে প্রতিসরণ কোণও শূন্য (0°) হয়। এই বিশেষ ক্ষেত্রে আলোক রশ্মি তার গতির অভিমুখ পরিবর্তন না করে সোজা দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে। 

আলোর প্রতিসরণ: 
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি তার গতিপথের দিক পরিবর্তন করে, আলোক রশ্মির এই দিক পরিবর্তনকে আলোর প্রতিসরণ বলে। একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরল রেখায় চলে, কিন্তু অন্য মাধ্যমে প্রবেশের সাথে সাথেই এটি মাধ্যমের অলোকীয় বৈশিষ্ট্য অনুসারে দিক পরিবর্তন করে। 
উল্লেখ্য যে, লম্বভাবে আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় এর গতিপথের কোনো দিক পরিবর্তন হয় না। 

আলোর প্রতিসরণের নিয়ম: 
- আলোক রশ্মি যখন হালকা মাধ্যমে থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্বের দিকে সরে আসে। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ আপেক্ষা বড় হয়। 
- আলোকরশ্মি প্রথমে একটি মাধ্যম থেকে (যেমন বায়ু) অন্য মাধ্যমে (কাঁচ) প্রতিসরিত হওয়ার পর পুনরায় একই মাধ্যমে (বায়ু) নির্গত হলে আপতন কোণ ও নির্গমন কোণ সমান হয়। 
- আপতিত রশ্মি, প্রতিসরিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে। এছাড়াও আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করে, তখন এটি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এই ক্ষেত্রে আপতন কোণ প্রতিসরণ কোণ অপেক্ষা ছোট হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন অভিলম্ব বরাবর আপতিত হয় তখন আপতন কোণ, প্রতিসরণ কোণ ও নির্গত কোণের মান শূন্য হয়। এক্ষেত্রে আপতিত রশ্মির দিক পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১০,১০৪.
তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে নির্ণয় করা হয়-
  1. তড়িৎ তীব্রতা
  2. রোধের পরিমাণ
  3. বিভব পার্থক্য
  4. আধানের অস্তিত্ব
ব্যাখ্যা
- কোনো বস্তুতে উপস্থিত আধানের অস্তিত্ব নির্ণয় করা হয় তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে।
- অ্যামিটার ব্যবহৃত হয় তড়িৎপ্রবাহ পরিমাপের জন্য।
- বিভব পার্থক্য নির্ণয় করা হয় ভোল্টমিটারের সাহায্যে।
- আর নিকটবর্তী ক্ষুদ্র বস্তুকে বড় করে দেখার যন্ত্র হলো অণূবীক্ষণ যন্ত্র।

সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১০৫.
Which is the largest animal in the world?
  1. ক) Giraffe
  2. খ) African elephant
  3. গ) Antarctic blue whale
  4. ঘ) Hippopotamus
ব্যাখ্যা
According to the World Wildlife Foundation, the largest animal in the world is the Antarctic blue whale. It can weigh up to 400,000 pounds and stretch an astonishing 98 feet in length.

The Antarctic blue whale’s heart is equivalent in size to a compact car, and the amount of noise it makes as it travels through the ocean is louder than a jet engine.

Source: worldwildlife.org, usatoday.com
১০,১০৬.
হৃদপিন্ডের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল।
  2. খ) হৃদপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
  3. গ) হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে।
  4. ঘ) হৃদপিণ্ড প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে।
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ড:

- সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ।
- হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল এবং সংকোচন কে বলা হয় সিস্টোল।
- হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে।
- হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
- আবার প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিন্ডে ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১০৭.
মানবদেহে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ১২ ধরনের
  2. ১৫ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১০৮.
ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী?
  1. খাদ্য প্রস্তুত করা
  2. খাদ্য সঞ্চয় করা
  3. উদ্ভিদকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করা 
  4. ক্লোরোফিল উৎপাদন করা
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ হচ্ছে ফুল, ফল এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশকে ক্লোরোফিল (সবুজ রঙ) ব্যতীত অন্যান্য উজ্জ্বল রঙ (যেমন- হলুদ, কমলা, লাল) প্রদান করা। এই রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রাণী ও পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে, যা পরাগায়ন এবং বীজের বিস্তারে সহায়তা করে। 

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,১০৯.
নিচের কোন অণুজীবগুলো মানুষের শ্বসনতন্ত্রে সংক্রমণ বা রোগ সৃষ্টি করতে পারে?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• শ্বসন অঙ্গের সমস্যা:  
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ (যেমন- নাসারন্ধ্র, শ্বাসনালি, ফুসফুস) ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক- এই তিন ধরণের অণুজীব দ্বারাই সংক্রমিত হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে, নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়ার কারণে এবং অ্যাসপারজিলোসিস ছত্রাকের কারণে হতে পারে।

• সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১১০.
আমিষের প্রধান কাজ কী? 
  1. শক্তি উৎপাদন করা
  2. রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করা
  3. মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করা
  4. দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করা
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে যা কোনো পুষ্টি না জোগালেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান।  
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১১১.
বোসন কী ধরনের কণা?
  1. মৌলিক কণা
  2. জটিল কণা
  3. দুর্বল কণা
  4. যৌগিক কণা
ব্যাখ্যা
কণা: 
- কণাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- মৌলিক কণা এবং যৌগিক কণা। 
- মৌলিক কণা হলো এমন কণা যার ভিতরে আর কোনও কণা নেই। 
- যৌগিক কণা হলো এমন কণা যা দুটি বা ততোধিক মৌলিক কণার সমন্বয়ে গঠিত। 

বোসন: 
- বোসন হল মৌলিক কণা যেগুলো পূর্ণসংখ্যার মান (0, 1, 2, ইত্যাদি) স্পিন করে ।

- মৌলিক বলগুলো কাজ করে কণার আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এই বলবাহী কণাগুলোই হচ্ছে বোসন। 
- এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
-  স্পিন হল কণার চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যের একটি পরিমাপ। 
- স্পিন পূর্ণসংখ্যা থাকার কারণে, বোসনরা পাউলির বর্জন নীতি মেনে চলে না। 
- পাউলির বর্জন নীতি অনুসারে, একই শক্তিস্তরে একই কোয়ান্টাম সংখ্যা বিশিষ্ট দুটি কণা একই স্থান দখল করতে পারে না। 
- এদের আলাদা প্রতিকণা নেই। এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিকণা। 
- স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দুই ধরনের। 
যথা: 
১। গেজ বোসন ও 
২। হিগস বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১১২.
আর্গনের ইলেকট্রন আসক্তির মান কত?
  1. ক) ০
  2. খ) ১
  3. গ) - ১
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি :
He ব্যতীত নিষ্ক্রিয় প্রতিটি মৌলের যোজ্যতা স্তরে অষ্টক পূর্ণতা থাকায় এদের ইলেকট্রন আসক্তির মান শূন্য । ফলে, আর্গনের ইলেকট্রন আসক্তির মান শূন্য। 
- He এর যোজ্যতা স্তর ১ম শক্তিস্তরে s অরবিটাল ভিন্ন অন্যকোনো অরবিটাল না থাকায় এটিও ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ। এ কারণে He- এর ক্ষেত্রে ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা দেখা যায় না।
- He এর ইলেকট্রন আসক্তির মান 48 kJ. /mol' অর্থাৎ খুবই কম।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,১১৩.
নিচের কোনটি পটাশিয়াম এর প্রতীক ?
  1. ক) Pb
  2. খ) Fe
  3. গ) K
  4. ঘ) Au
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম এর প্রতীক = Na
কপার এর প্রতীক = Cu
পটাশিয়াম এর প্রতীক = K
সিলভার এর প্রতীক =Ag
টিন  এর প্রতীক = Sn
এন্টিমনি এর প্রতীক = Sb
গোল্ড এর প্রতীক = Au
লেড  এর প্রতীক =Pb
টাংস্টেন এর প্রতীক = W
আয়রন এর প্রতীক =Fe
মারকারি এর প্রতীক = Hg

 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১০,১১৪.
কোন কারণে আলোর প্রতিফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়? 
  1. আলো খুব দুর্বল হলে
  2. প্রতিফলক তল খসখসে হলে
  3. প্রতিফলক তল মসৃণ হলে
  4. আলো লম্বাভাবে আপতিত হলে
ব্যাখ্যা
প্রতিফলন: 
- কোনো আলোক রশ্মি কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হলে দুই মাধ্যমের বিভেদতল থেকে প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। আলোর এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে আলোর প্রতিফলন বলে। 
- যে বিভেদ তল থেকে আলো ফিরে আসে তাকে প্রতিফলক তল বা প্রতিফলক পৃষ্ঠ বলে, আর পূর্ববর্তী মাধ্যমে ফিরে আসা আলোকে বলা হয় প্রতিফলিত আলো বা রশ্মি। 
- সাধারণত দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে যে পরিমাণ আলো এসে পড়ে সবসময় তা সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয় না। 
- পতিত আলোর কতটুকু প্রতিফলিত হবে তা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তা হলো- 
১. মাধ্যম দুটির প্রকৃতি এবং 
২. আপতিত আলো প্রতিফলক তলের উপর কত কোণে আপতিত হয় তার পরিমাণ। 

- প্রতিফলক তল যত বেশি মসৃণ হয় প্রতিফলন তত বেশি হয়, আবার অস্বচ্ছ প্রতিফলকের চেয়ে স্বচ্ছ প্রতিফলকে প্রতিফলন কম হয়। 
যেমন- সাদা তলে আলোর প্রতিফলন বেশি হয় এবং কালো রঙের তলে আলোর প্রতিফলন হয় না বললেই চলে। 
- কাচ একটি আলোক স্বচ্ছ মাধ্যম, এর উপর আলো আংশিক প্রতিফলিত হয়। আবার আলোক রশ্মি লম্বভাবে পড়লে খুব সামান্য প্রতিফলিত হয়। 
- রশ্মি যত বেশি কোণে আপতিত হয় প্রতিফলনের পরিমাণও তত বেশি হয়। 
- প্রতিফলন তলের মসৃণতা অনুযায়ী প্রতিফলনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- ১. নিয়মিত প্রতিফলন এবং ২. ব্যাপ্ত প্রতিফলন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১১৫.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
  1. ১২০/৮০ মি.মি. (পারদ)
  2. ১৫০/৯০ মি.মি. (পারদ)
  3. ১২০/৬০ মি.মি. (পারদ)
  4. ১৪০/৮০ মি.মি. (পারদ)
ব্যাখ্যা
রক্তচাপ: 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধর্মনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। 
- রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনীতে রক্তচাপকে বুঝায়। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১১৬.
সৌরশক্তির ব্যবহার কি ধরনের শক্তির উৎসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে?
  1. বায়ুশক্তি
  2. জলবিদ্যুৎ শক্তি
  3. পারমাণবিক শক্তি
  4. জীবাশ্ম জ্বালানি
ব্যাখ্যা
সৌরশক্তি: 
- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলে সৌরশক্তি। 
- সূর্য হচ্ছে সকল শক্তির উৎস। 
- পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার প্রায় সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) প্রকৃত পক্ষে বহু দিনের সঞ্চিত সৌরশক্তি। 
- প্রাচীনকাল থেকে মানুষ সূর্য কিরণকে সরাসরি ব্যবহার করছে কোনো কিছু শুকানোর কাজে। 

- বর্তমানে সূর্যের শক্তিকে সবসময় ব্যবহারের জন্য মানুষ নানান রকম উপায় অবলম্বন করছে। 
- লেন্স বা দর্পণের সাহায্যে সূর্য রশ্মিকে অভিসারী করে আগুন জ্বালানো যায়। 
- সৌরচুল্লির সাহায্যে সূর্য কিরণকে প্রতিফলিত করে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার করা যায়। 
- শীত প্রধান দেশে ঘরবাড়ি গরম করার কাজে সৌরশক্তিকে ব্যবহার করা হয়। 
- সৌর শক্তি ব্যবহার করে হিটার ও কুকার ব্যবহার করা যায়। 
- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে সৌরকোষ। 
- সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে এ থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। সৌরকোষের নানা রকম ব্যবহার রয়েছে। 
- সৌরশক্তি পরিবেশ বান্ধব, এটির ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয়না। 
- সৌরশক্তির শেষ হবার কোন সম্ভাবনা নেই, এ শক্তির তাই প্রচলিত শক্তির উৎস জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খুব বেশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১১৭.
এক ওয়াট-ঘণ্টা সমান কত জুল? 
  1. ৩৬ জুল
  2. ৩৬০ জুল
  3. ৩৬০০ জুল
  4. ৩৬০০০ জুল
ব্যাখ্যা
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ঘণ্টা 
= ১ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩৬০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩৬০০ জুল
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ৩৬০০ জুল

- অনেক সময় ওয়াট-ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট-ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট Χ ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 
- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘন্টা এককে পরিমাপ করা হয়। 
- এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট সংক্ষেপে ইউনিট বলে। 
- আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি তা এই এককে হিসেব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১১৮.
মানবদেহের ভেতরের অঙ্গ দেখার জন্য ব্যবহৃত এন্ডোস্কোপে মূলত কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়?
  1. রেডিও তরঙ্গ
  2. এক্স-রে
  3. অপটিক্যাল ফাইবার
  4. আল্ট্রাসাউন্ড
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের ভেতরের অঙ্গ দেখার জন্য ব্যবহৃত এন্ডোস্কোপে অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন নীতিতে কাজ করে, যার মাধ্যমে আলো এবং ছবি শরীরের অভ্যন্তর থেকে বাইরে পরিবাহিত হয়, কারণ এতে আলো এবং ক্যামেরাযুক্ত একটি নমনীয় টিউব ব্যবহৃত হয়। 

অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে আলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

অন্যদিকে, 
- রেডিও তরঙ্গ (রেডিওলজি), এক্স-রে এবং আল্ট্রাসাউন্ড (আল্ট্রাসোনোগ্রাফি) ভিন্ন ভিন্ন ইমেজিং কৌশল, যা এন্ডোস্কোপির মূল নীতির অংশ নয়, যদিও আল্ট্রাসাউন্ড এন্ডোস্কোপির সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১০,১১৯.
কোনটি নবায়ন যোগ্য সম্পদ?
  1. প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. বায়ু
  3. চুনাপাথর
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস: 
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়। 
যেমন- সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, সৌর শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

২। অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- অন্যদিকে অনবায়নযোগ্য শক্তিকে পুনরায় ব্যবহার করা যায় না। 
- প্রকৃতিতে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সীমিত। 
- আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় অনবায়নযোগ্য শক্তির মজুদের পরিমাণ খুব বেশি নয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনের খরচ বেশি এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বান্ধব নয়। 
যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, নিউক্লিয় শক্তি, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১২০.
ক্রেসকোগ্রাফের সাহায্যে কী নির্ণয় করা হয়?
  1. ট্রান্সপিরেশনের হার
  2. রেসপিরেশনের হার
  3. উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার
  4. ফটোসিন্থেসিসের হার
ব্যাখ্যা

• ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph) একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, যার সাহায্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার নির্ণয় করা হয়। এই যন্ত্রটি উদ্ভিদের কাণ্ড বা মূলের দৈর্ঘ্যের অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তনও বহুগুণ বাড়িয়ে দেখাতে সক্ষম। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কতটা হচ্ছে তা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়। বিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভাবন করেন উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিবেশগত প্রভাব অধ্যয়নের জন্য। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সঠিক উত্তর হলো গ) উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার।
 
• ক্রেসকোগ্রাফ:
- ক্রেসকোগ্রাফ ( Crescograph) একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বৈজ্ঞানিক যন্ত্র, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি বা অতি সূক্ষ্ম নড়াচড়া পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। 

• এই যুগান্তকারী যন্ত্রটি বিংশ শতকের গোড়ার দিকে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু কর্তৃক আবিষ্কৃত হয়।
- জগদীশচন্দ্র বসুর এই আবিষ্কার উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। 
- তিনি প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদও সজীব প্রাণীর মতোই সংবেদনশীল এবং বাহ্যিক উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে।
- আজও কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দিরে (Bose Institute) ক্রেসকোগ্রাফের একটি মডেল সংরক্ষিত আছে, যা বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। 
- এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং জগদীশচন্দ্র বসুর বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি, কৌতূহল এবং উদ্ভাবনী শক্তির সাক্ষ্য বহন করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
- ব্রিটানিকা। 

১০,১২১.
পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) ১৯৫৪ সালে
  2. খ) ১৯৬০ সালে
  3. গ) ১৯৬৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী জোনাস স্যাক পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লা জোলা শহরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১০,১২২.
নিচের কোনটি পরম শূন্য তাপমাত্রা?
  1. ক) - ২৭৩°C
  2. খ) ০.১°K
  3. গ) - ৪°K
  4. ঘ) ৪°C
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা:
যে তাপমাত্রায় চার্লস বা গে-লুসাকের সূত্রানুসারে কোনো গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
এ পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -২৭৩°C ।
অর্থাৎ -২৭৩°C তাপমাত্রায় যে কোনো গ্যাসের আয়তন তত্বীয়ভাবে শূন্য হয়।
 
তাপমাত্রাকে শুরু বা শূন্য ধরে প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার ব্যবধানকে এক ডিগ্রি সেলসিয়াসের সমান ধরে যে তাপমাত্রার স্কেল উদ্ভাবন করা হয়েছে তাকে তাপমাত্রার পরম স্কেল বা কেলভিন স্কেল বলে।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১২৩.
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোনটি ঘটেছে?
  1. রিক্সার চাকার ছিদ্র হওয়া
  2. গ্যাস ভর্তি বেলুনের ফেটে যাওয়া
  3. চাকার বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা
  4. এয়ার ফ্রেসনারের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া
ব্যাখ্যা
ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
• রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
• ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
• ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

নিঃসরণ (Effusion): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
• রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
• পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
• শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১২৪.
বৈদ্যুতিক পাখা বা মোটরে তড়িৎ শক্তিকে কোন শক্তিতে রূপান্তর করা যায়?
  1. নিউক্লিয় শক্তিতে
  2. যান্ত্রিক শক্তিতে
  3. আলোক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের সবার আগে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তির কথা বলা হয় কারণ এই শক্তিকে সবচেয়ে সহজে অন্যান্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- শুধু তা-ই নয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। 
- দৈনন্দিন জীবনে বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে হয়।) - বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎশক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দশক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয় যা এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। যেমন- স্পিকারে বিদ্যুৎশক্তি শব্দশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১২৫.
একটি কাচদন্ডকে তুলা দিয়ে ঘষলে তাদের মধ্যে কোন ধরনের আধান সঞ্চার হবে?
  1. ক) কাচদন্ডে ঋণাত্নক এবং তুলায় ধণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
  2. খ) কাচদন্ডে এবং তুলায় ধণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
  3. গ) কাচদন্ডে এবং তুলায় ঋণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
  4. ঘ) কাচদন্ডে ধণাত্নক এবং তুলায় ঋণাত্নক আধান সঞ্চার হবে
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১০,১২৬.
মোমের জ্বলনে আমরা মোমের কোন অবস্থা দেখতে পাই?
  1. ক) কঠিন
  2. খ) তরল
  3. গ) গ্যাসীয়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
মোমের জ্বলনে আমরা মোমের কঠিন, তরল, ও বায়বীয় অবস্থা দেখতে পাই৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১০,১২৭.
নিম্নের কোন পদার্থটি সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. বোরন
  2. সিলিকন
  3. জার্মেনিয়াম
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা

• অর্ধ-পরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor): 
- আধুনিক জগৎ এবং আধুনিক সভ্যতা পুরোটাই ইলেকট্রনিকসের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এই ইলেকট্রনিকসের জন্য যদি কোনো এক ধরনের পদার্থের বলা হয় তাহলে সেইই পদার্থটি হবে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর। 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- সিলিকন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১২৮.
'কৃষ্ণ গহ্বর' আবিষ্কার করেন-
  1. লেমেটার
  2. আইনস্টাইন
  3. জন হুইলার
  4. স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- বৃহদাকার নক্ষত্রের মৃত্যুতে একটি ব্ল্যাক হোল তৈরি হতে পারে। 
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
- ব্ল্যাক হোল থেকে এমনকি আলোও বের হতে পারেনা।
- ব্ল্যাক হোলের কেন্দ্রে সিঙ্গুলারিটি প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি করে, যা থেকে অতি উজ্জ্বল বিকিরণ ছড়ায়।
- ব্ল্যাক হোলের গঠনের বিশদ বিবরণ আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব থেকে গণনা করা হয়।


ছবির উৎস: ব্রিটানিকা 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বিবিসি বাংলা। 
১০,১২৯.
যদি 1KΩ রেজিস্ট্রার এর আড়াআড়িতে ভোল্টেজ ফ্লপ 10v হয়, তাহলে ঐ রেজিস্ট্রারের আড়াআড়িতে Power dissipation কর হবে-
  1. 1000w
  2. 100 w
  3. 1 w
  4. 0.1 w
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: যদি 1KΩ রেজিস্ট্রার এর আড়াআড়িতে ভোল্টেজ ফ্লপ 10v হয়, তাহলে ঐ রেজিস্ট্রারের আড়াআড়িতে Power dissipation কর হবে-

সমাধান: 
Power dissipation = v2/R
= 102/1000
= 1/10
= 0.1 w
১০,১৩০.
ডিনামাইট আবিষ্কার করেন কে?
  1. মাদাম কুরি
  2. আলফ্রেড নোবেল
  3. ওপেনহাইমার
  4. নিউটন
ব্যাখ্যা

• আলফ্রেড নোবেল:
- জন্ম: ২১ অক্টোবর, ১৮৩৩ (স্টকহোম, সুইডেন)
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৮৯৬ (সান রেমো, ইতালি)
- তিনি ছিলেন একজন সুইডিশ রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও শিল্পপতি।
- তিনি ডিনামাইট ও আরও শক্তিশালী বিস্ফোরক আবিষ্কার করেন।
- তার বিপ্লবী আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী নির্মাণ ও খনিশিল্পে প্রভাব ফেলে।
- আলফ্রেড নোবেল তার উপার্জিত অর্থের বড় অংশ একটি তহবিলে রেখে যান, যার ভিত্তিতে শুরু হয় নোবেল পুরস্কার প্রদান।
- এই পুরস্কার বিশ্বব্যাপী শান্তি, সাহিত্য, বিজ্ঞান ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হয়।

উৎস: Britannica.

১০,১৩১.
বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে জলীয় বাষ্পের পরিমান-
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্পের পরিমান বাড়ে।
- যদিও বায়ু নিদির্ষ্ট পরিমাণ জলীয়বাষ্পে ধারণ করতে পারে।
- কোন নিদির্ষ্ট উষ্ণতায় বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পে ধারণ করতে পারে, সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পে বায়ুতে থাকলে বায়ু আর অধিক জলীয়বাষ্পে গ্রহণ করতে পারে না, তখন তাকে সম্পৃক্ত বা পরিপৃক্ত বায়ু বলে।
- বায়ু যে উষ্ণতায় জলীয়বাষ্পে ঘনীভূত হয় তাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
- তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে তখন ঘণীভূত জলীয়বাষ্পে কঠিন আকার ধারণ করে এবং তুষার ও বরফ ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণী। 
১০,১৩২.
শিশুদের জন্মের ১ মাসের মধ্যে কোন টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়?
  1. ডিটি
  2. ডিপিটি
  3. বিসিজি
  4. টিটি
ব্যাখ্যা

- শিশুদের জন্মের ১ মাসের মধ্যে 'বিসিজি ও ওপিভি-ও' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expanded Program on Immunization-EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়রকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৩৩.
গাছ থেকে আমটি মাটিতে পরল- এটি কোন ধরনের বলের উদাহরণ?
  1. চৌম্বক বল
  2. তড়িৎ চৌম্বক বল
  3. নিউক্লীয় বল
  4. মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল(Gravitation): 
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ। 
- এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
যেমন -গাছ থেকে আমটি পড়ার কারণ পৃথিবীর আকর্ষণই। তাই এটি মহাকর্ষণ বলের একটি উদাহরণ। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১৩৪.
জারণ (Oxidation) প্রক্রিয়ায় কী ঘটে?
  1. হাইড্রোজেন গ্রহণ
  2. নিউট্রন গ্রহণ
  3. ইলেকট্রন দান
  4. ইলেকট্রন গ্রহণ
ব্যাখ্যা

- ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী, জারণ হলো এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পরমাণু, আয়ন বা অণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ বা দান করে। ইলেকট্রন দান করার ফলে সংশ্লিষ্ট মৌল বা আয়নের ধনাত্মক চার্জ বৃদ্ধি পায় অথবা ঋণাত্মক চার্জ হ্রাস পায়। 

রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান বা বর্জন ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৩৫.
‘থিওরি অফ রিলেটিভিটি’- এর জনক কে?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আর্কিমিডিস
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা

Albert Einstein’s theory of relativity is famous for predicting some really weird but true phenomena, like astronauts aging slower than people on Earth and solid objects changing their shapes at high speeds.

Source: nationalgeographic.com

১০,১৩৬.
কোন খনিজ পদার্থটি কাচ, সিরিশ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. Ag
  2. Cu
  3. Mica
  4. Quartz
ব্যাখ্যা
• ধাতব-অধাতব খনিজ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে।

১. ধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। যেমন:
• লোহা (Fe),
• তামা (Cu),
• সোনা (Au),
• রূপা (Ag)।

২. অধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। যেমন:
• কোয়ার্টজ (Quartz),
• মাইকা (Mica),
• গ্রাফাইট,
• জিপসাম,
• কয়লা,
• খনিজ লবণ।

- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিশ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘর-বাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,১৩৭.
ও নিম্নের কোনটি উদাহরণ-
  1. ক) আইসোটোপ
  2. খ) আইসোটোন
  3. গ) আইসোমার
  4. ঘ) আইসোবার
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
প্রশ্নে প্রদত্ত চিত্রে, উভয়ের প্রোটন সংখ্যা একই (১৭), কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন; প্রথমটির ৩৫ ও দ্বিতীয়টির ৩৭। 

• আইসোটোন:

যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোবার:
যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।

• আইসোমার:
যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১৩৮.
সরল দোলন গতিতে কণার ত্বরণের দিক কোনটির দিকে হয়? 
  1. গতিবেগের দিকে 
  2. সরণের দিকে 
  3. সাম্যাবস্থানের বিপরীত দিকে 
  4. সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী 
ব্যাখ্যা

সরল দোলন গতি: 
- কম্পনশীল কোনো বস্তুকণার ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে কণাটির সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদাই সাম্যাবস্থান অভিমুখী হলে, ঐ কণার গতিকে সরল দোলন গতি বলা হয়। 
অর্থাৎ, যদি কোনো পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন বস্তুর ত্বরণ তার সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক এবং বিপরীতমুখী অর্থাৎ সর্বদা সাম্য বিন্দু অভিমুখী হয় তবে ঐ বস্তুর গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্য: 
- সরল দোলন গতির কতগুলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। 
- এই বৈশিষ্ট্যসমূহ দিয়ে কোনো কণার গতি সরল দোলন গতি কিনা তা নির্ধারণ করা হয়। 
- নিচে সরল দোলন গতির বৈশিষ্ট্যসমূহ দেয়া হলো- 
১। সরল দোলন গতি হলো এক ধরনের রৈখিক পর্যাবৃত্ত গতি। অর্থাৎ, কোনো বস্তুকণা একই সময়ে বারবার একটি নির্দিষ্ট সরলরেখাংশ বরাবর এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা করে। 
২। সরল দোলন গতি বিশিষ্ট কণার ত্বরণ সর্বদা তার সাম্যাবস্থান অভিমুখী হয়। 
৩। কণাটির ত্বরণ সাম্যাবস্থান থেকে সরণের সমানুপাতিক। 
৪। কণাটি যে মুহূর্তে সাম্যাবস্থান অতিক্রম করে সেই মুহূর্তে গতিবেগ সর্বোচ্চ হয়। সরণের শেষ সীমায় গতিবেগ মুহূর্তের জন্য শূন্য হয় এবং তারপরেই কণাটি বিপরীত দিকে যাত্রা শুরু করে। 
৫। সরল দোলন গতির পর্যায়কাল তার বিস্তারের উপর নির্ভরশীল নয়। বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে বিস্তার হ্রাস পেতে থাকলেও পর্যায়কাল অপরিবর্তিত থাকে। 
৬। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার স্পন্দন সীমা সাম্যাবস্থান থেকে উভয় দিকে সমান দূরে অবস্থান করে। 
৭। সরল দোলন গতি সম্পন্ন কণার সরণ সাইন বা কোসাইন অপেক্ষক দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৩৯.
মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে প্রাচীনকালে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ মিলিত হয়ে একটি মহাদেশ গঠন করেছিল, যার নাম-
  1. ইউরেশিয়া
  2. গন্ডোয়ানা
  3. প্যানজিয়া
  4. অ্যামাজন
ব্যাখ্যা
• টেকটোনিক প্লেট:
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে।
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়।
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়।
- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত।
- প্লেটগুলো হলো:
• ইউরেশীয় প্লেট (Eurasian Plate),
• উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate),
• দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate),
• আফ্রিকান প্লেট (African Plate),
• অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate),
• ভারত-অস্ট্রেলীয় প্লেট (Indo-Australian Plate) ও
• প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate)

উৎস: ব্রিটানিকা।
১০,১৪০.
নিচের কোনটিকে বায়ুদূষণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. শৈবাল
  2. মস
  3. ফার্ন
  4. লাইকেন
ব্যাখ্যা
• লাইকেনকে বায়ুদূষণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

• লাইকেন:
-  লাইকেন হলো ছত্রাক এবং একাকোষী শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের ফলে সৃষ্ট বিশেষ প্রকৃতির থ্যালয়েড গঠন।
-  লাইকেন স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিষমপৃষ্ঠ, থ্যালয়েড, অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪০০টি গণ এবং ১৭,০০০ লাইকেন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া

• পরিবেশ দূষণের নির্দেশক হিসেবে লাইকেন:
-   লাইকেন বাতাস বা বৃষ্টির পানি থেকে অতিদ্রুত তার প্রয়োজনীয় বস্তু সংগ্রহ করতে পারে।
-  একইভাবে সালফার ডাই-অক্সাইড, হেভি মেটাল, রেডিও অ্যাকটিভ বস্তুও দ্রুত শোষণ করে থাকে।
-  এসব দূষিত বস্তু শোষণের ফলে এদের মৃত্যু ঘটে। কাজেই বায়ু দূষণের একটি নির্দেশক (indicator) হিসেবে লাইকেনকে ধরা হয়।
-  অর্থাৎ বায়ু দূষণ অঞ্চলে লাইকেন কম পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১০,১৪১.
একটি বস্তু টান টান অবস্থায় থাকলে তার মধ্যে কোন শক্তি জমা থাকে?
  1. ক) গতি শক্তি
  2. খ) বিভব শক্তি
  3. গ) রাসায়নিক শক্তি
  4. ঘ) তাপ শক্তি
ব্যাখ্যা
বিভবশক্তি (Potential energy):
- বিভবশক্তিকে স্থিতিশক্তিও বলা হয়। 
- বিভবশক্তি হচ্ছে বস্তুর স্থিতিজনিত শক্তি। 
- কোন বস্তু তার অবস্থা বা অবস্থানে স্থিতিশীল থাকার ফলে যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই বস্তুটির বিভশক্তির পরিমাপক। 
- আবার বস্তুও বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনের ফলে বস্তু যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে বস্তুর বিভব শক্তি। 
যেমন পানির ট্যাংকে রক্ষিত পানি এবং দেয়ালে ঝুলানো ছবি যে শক্তি প্রাপ্ত হয় তাই হচ্ছে এদের বিভবশক্তি। 
- একইভাবে একটি বস্তুকে টান টান করলে এর মধ্যে বিভব শক্তি জমা থাকে। 

- বিভবশক্তি যান্ত্রিক শক্তির একটি রূপ। 
- গতি শক্তিও যান্ত্রিকশক্তির একটি রূপ। 
- অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তি দু'প্রকার। যথা- একটি হচ্ছে গতি শক্তি এবং অপরটি হচ্ছে বিভবশক্তি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৪২.
কোন গ্রন্থি “মাস্টার গ্রন্থি” নামে পরিচিত? 
  1. থাইরয়েড
  2. পিটুইটারি
  3. অ্যাড্রিনাল
  4. পাইনিয়াল
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হরমোন নিঃসরণ করে শরীরের বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজনন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

- এই সব গ্রন্থির মধ্যে পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অন্য সব অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে বলা হয় “Master Gland” বা “মাস্টার গ্রন্থি।”

অবস্থান:
পিটুইটারি গ্রন্থি অবস্থিত মস্তিষ্কের Hypothalamus-এর নিচে, Sella turcica নামক হাড়ের খাপে।
এটি আকারে ছোট, মটরদানার মতো।
 
পিটুইটারি গ্রন্থি দুটি অংশে বিভক্ত:
- অ্যান্টেরিয়র লোব (Anterior lobe)। 
- পোস্টেরিয়র লোব (Posterior lobe)। 
এই দুটি অংশ থেকে বিভিন্ন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা অন্য গ্রন্থিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রধান হরমোন ও কাজ:
- গ্রোথ হরমোন (GH): শরীরের বৃদ্ধি ও হাড়ের বিকাশে সাহায্য করে।
- থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH): থাইরয়েড গ্রন্থিকে সক্রিয় করে।
- অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

১০,১৪৩.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. প্রধানত দ্বি-ভাজন (Binary fission) পদ্ধতিতে সংখ্যাবৃদ্ধি করে
  2. এককোষী প্রোক্যারিওটিক জীব
  3. কোষীয় অঙ্গাণু যেমন রাইবোসোম, সাইটোপ্লাজম, কোষপ্রাচীর থাকে
  4. এরা বাধ্যতামূলক পরজীবী
ব্যাখ্যা

ভাইরাস হলো বাধ্যতামূলক পরজীবী, কারণ তারা পোষক কোষ ছাড়া সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে না।

ব্যাকটেরিয়া:
-ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া প্রধানত দ্বি-ভাজন (Binary fission) পদ্ধতিতে সংখ্যাবৃদ্ধি করে, যা একটি অযৌন প্রজনন পদ্ধতি।
- ব্যাকটেরিয়া এককোষী প্রোক্যারিওটিক জীব অর্থাৎ এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না।
- ব্যাকটেরিয়া কোষে রাইবোসোম, সাইটোপ্লাজম, কোষপ্রাচীর ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।

• কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (১) কক্কাস, (২) ব্যাসিলাস, (৩) স্পাইরিলাম এবং (৪) কমা আকৃতি

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
-পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে।
- দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১০,১৪৪.
পয়েন্ট মিউটেশনের ফলে কোন রোগ সৃষ্টি হয়?
  1. ক) সিকেল সেল
  2. খ) টার্নার্স সিনড্রোম
  3. গ) ক্লিন ফেল্টার্স সিনড্রোম
  4. ঘ) হিমোফিলিয়া
ব্যাখ্যা
পয়েন্ট মিউটশনের ফলে হান্টিংটনস রোগ (Huntington’s Disease) হয়। এই রোগ হলে মস্তিষ্ক ঠিকমত কাজ করে না। শরীরের পেশীগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষমতা লোপ পায় এবং পরে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মৃত্যও ঘটে। সাধারণত চল্লিশ বছরের আগে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পয়েন্ট মিউটশনের ফলে সিকেল সেল নামে রক্তকনিকার আরেকটি রোগ হয়। এই রোগে শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১০,১৪৫.
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ১৫-৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের কোন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
  1. ক) ধনুষ্টংকার
  2. খ) পোলিও
  3. গ) হেপাটাইটিস-বি
  4. ঘ) মেনিনজাইটিস
ব্যাখ্যা

জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে মেয়েদের ১৫ বছর বয়স হলেই যথা শিগগির প্রথম ডোজ টিটেনাস টক্সয়েড টিকা নিতে হবে। তবে সরকারিভাবেই ৪৯ বছর বয়স পর্যন্ত এ টিকা প্রদান করা হয়। প্রথম ডোজের চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ, তার ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ, এর এক বছর পর চতুর্থ ডোজ এবং শেষোক্ত ডোজের এক বছর পর পঞ্চম ডোজ বা শেষ ডোজ টিটেনাস টক্সয়েড টিকা নিতে হবে। গর্ভধারণের আগেই এই পাঁচ ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে গর্ভকালীন আর টিটি টিকা নেওয়ার দরকার পড়ে না। গর্ভধারণের আগে দুই ডোজ নেওয়া থাকলে গর্ভকালীন তৃতীয় ডোজ এবং সন্তান প্রসবের পর চতুর্থ ও পঞ্চম ডোজ নিতে হবে। গর্ভধারণের আগে তিন ডোজ নেওয়া থাকলে এবং গর্ভকালীন এক বছর অতিক্রান্ত না হলে এ সময় চতুর্থ ডোজ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সন্তান প্রসবের পর চতুর্থ ও পঞ্চম ডোজ নিতে হবে। তবে আগে টিটি টিকা নেওয়া না থাকলে গর্ভকালীন দুই ডোজ টিকা নিতে হবে। এর মধ্যে শেষ ডোজটি সন্তান প্রসবের অন্তত এক মাস আগে নিতে হবে।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার এর dghs.gov.bd ওয়েবসাইট

১০,১৪৬.
কোন জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়?
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. স্নেহ
  4. রাফেজ
ব্যাখ্যা
• আমিষ জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়। 

• রেচন:
- বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থ যে প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

• বৃক্ক:
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গকে বলা হয় বৃক্ক। 

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণ, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

• রেচনে বৃক্কের ভূমিকা:
- বৃক্ক প্রধানত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করে।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে দেহে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
- এগুলো বিষাক্ত ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করা অত্যাবশ্যক।
- বৃক্ক এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 
১০,১৪৭.
রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে খাদ্যের কোন উপাদান?
  1. শর্করা
  2. ভিটামিন
  3. আমিষ
  4. স্নেহ
ব্যাখ্যা
• আমিষ রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে।

• রক্ত:
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- দেহের অস্থি, পেশি, বিভিন্ন অঙ্গতন্ত্র, রক্তকণিকা ইত্যাদি অধিকাংশই আমিষ দ্বারা তৈরি।
- আমিষ দেহের এন্টিবডি উৎপাদনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- এটি রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতেও সাহায্য করে।

- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের।
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১৪৮.
মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়? 
  1. আলফা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি 
  3. বিটা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

• মূল্যবান ধাতুর (যেমন: সোনা, রূপা, প্ল্যাটিনাম) বিশুদ্ধতা এবং ভেতরের উপাদানের অনুপাত নির্ণয় করার জন্য রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে (X-ray) ব্যবহার করা হয়।
- বিশেষ করে XRF (X-ray Fluorescence) নামক পদ্ধতিতে ধাতুর কোনো ক্ষতি না করেই তার রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
- আলফা, বিটা বা গামা রশ্মি এই কাজে ব্যবহৃত হয় না কারণ এদের ভেদন ক্ষমতা এবং আয়নন ক্ষমতা হয় খুব বেশি নতুবা খুব কম, যা নিখুঁত ও নিরাপদ বিশ্লেষণের জন্য উপযোগী নয়।

এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার: 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৩. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৪৯.
গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কান্ড শক্ত
  2. খ) গোড়া থেকেই শাখা-প্রশাখা বের হয়
  3. গ) উদ্ভিদগুলো দেখতে অনেকটা ঝোপের মতো দেখায়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা
যেসব উদ্ভিদের কান্ড শক্ত কিন্তু গুঁড়িহীন অর্থাৎ ক্ষুদ্র কান্ড বিশিষ্ট এবং মাটির সামান্য উপরে ঝোপের মতো শাখাপ্রশাখা সৃষ্টি করে, সেসব উদ্ভিদকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে। যেমন – জবা, রঙ্গন, গোলাপ, বেলি, জুঁই,কাগজি লেবু, গন্ধরাজ ইত্যাদি।
গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
এ জাতীয় উদ্ভিদ সাধারণত মাঝারি আকারে হয়ে থাকে।
এদের কান্ড শক্ত।
এদের শেকড় মাটির বেশি গভীরে যায় না।
এদের গোড়া থেকেই শাখা-প্রশাখা বের হয়।
এ উদ্ভিদগুলো দেখতে অনেকটা ঝোপের মতো দেখায়।
কিছু কিছু গুল্ম উদ্ভিদ ফুল ও ফল প্রদান করে।
এগুলো অত্যন্ত সহিষ্ণু এবং এরা প্রায় সব ধরণের মাটিতে জন্মায়। উদাহরণ: জবা, রঙ্গন, গোলাপ, লেবু ইত্যাদি।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১০,১৫০.
ফারেনহাইট স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?
  1. ক) ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট
  2. খ) ১৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট
  3. গ) ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট
  4. ঘ) ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° C।
∴ ১০০/৫ = (x-৩২)/৯
(x-৩২)/৯ = ২০
x = ১৮০ + ৩২ = ২১২° F
১০,১৫১.
কোনটিকে প্রোটিন উৎপাদনের কারখানা বলা হয়?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. রাইবোজোম
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
রাইবোজোম: 
- রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। 
- তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি বা প্রোটিন উৎপাদনের কারখানা। 

নিউক্লিয়াস: 
- নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১০,১৫২.
কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল বস্তুটির উপর উপরের দিকে যে বল প্রয়োগ করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অভিকর্ষ বল
  2. প্রতিক্রিয়া বল
  3. প্লবতা বল
  4. ঘর্ষণ বল
ব্যাখ্যা

• প্লবতা বল — কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল বস্তুটির উপর উপরের দিকে যে বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বল বলা হয়।

• প্লবতা:
- কোনো বস্তু তরলে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে তরল তার উপর একটি ঊর্ধ্বমুখী বল প্রয়োগ করে।
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলকে প্লবতা বা প্লবতা বল বলা হয়।
- প্লবতা বলের কারণে অনেক বস্তু পানিতে ভাসে।
- প্লবতা বলের মান নির্ভর করে অপসারিত তরলের ওজনের উপর।

• আর্কিমিডিসের নীতি:
- কোনো বস্তু তরলে নিমজ্জিত হলে বস্তুটি যতটুকু তরল অপসারণ করে, সেই অপসারিত তরলের ওজনের সমান ঊর্ধ্বমুখী বল বস্তুটির উপর ক্রিয়া করে।
- এই ঊর্ধ্বমুখী বলই প্লবতা বল।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের সমান হয়, তবে বস্তু ভাসবে।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের কম হয়, তবে বস্তু ডুবে যাবে।
- যদি প্লবতা বল বস্তুর ওজনের বেশি হয়, তবে বস্তু উপরের দিকে উঠবে।

• প্লবতার প্রয়োগ:
- জাহাজ পানিতে ভাসে প্লবতা বলের কারণে।
- সাবমেরিন প্লবতা নিয়ন্ত্রণ করে ডুবে ও ভাসে।
- হাইড্রোমিটার তরলের ঘনত্ব নির্ণয়ে প্লবতার নীতি ব্যবহার করে।

• সম্পর্কিত ধারণা:
- অভিকর্ষ বল বস্তুকে নিচের দিকে টানে।
- প্লবতা বল বস্তুকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়।
- বস্তু ভাসবে কি ডুববে তা নির্ভর করে ঘনত্বের উপর।
- বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের কম হলে বস্তু ভাসে।
- বস্তুর ঘনত্ব তরলের ঘনত্বের বেশি হলে বস্তু ডুবে যায়।

• অন্যান্য অপশন:
- অভিকর্ষ বল → পৃথিবীর আকর্ষণজনিত নিম্নমুখী বল।
- প্রতিক্রিয়া বল → স্পর্শের ফলে সৃষ্ট বিপরীতমুখী বল।
- ঘর্ষণ বল → সংস্পর্শে গতির প্রতিবন্ধক বল।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১০,১৫৩.
গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দিলে কী ধরনের ট্যাবলেট খেতে হবে?
  1. ভিটামিন
  2. আয়রন ও ক্যালসিয়াম
  3. জিঙ্ক
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
রক্ত স্বল্পতা:

- অনেক সময় গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়।
- এ সমস্যা সমাধানে করণীয় দিক-
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম মাস থেকে ফলিক এসিড এবং ৩ মাসের পর থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে
- আয়রনযুক্ত খাবার যেমন- কচু শাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি খেতে হবে।
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস এবং কাঁচা ফলমূল খেতে হবে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৫৪.
অপটিক্যাল ফাইবার হলো-
  1. ক) কাঁচের গুড়া যা দিয়ে চশমা বানানো হয়।
  2. খ) প্লাস্টিকের সূতা যা দিয়ে লেন্স বানানো হয়।
  3. গ) সরু কাঁচতন্তু যা আলোক রশ্মি বহনের কাজে ব্যবহার করা হয়।
  4. ঘ) প্লাস্টিকের সূতা যা দিয়ে কম্পিউটার বানানো হয়।
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাচতন্তু।
আলোক রশ্মি বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
আলোক রশ্মি যখন এই কাচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে পুনঃপুন পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে।
এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাচতন্তুর অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১০,১৫৫.
খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ার কোথায় শর্করা পরিপাককারী কোনো এনজাইম থাকে না?
  1. লালা রসে
  2. অগ্ন্যাশয় রসে
  3. পাকস্থলি রসে
  4. আন্ত্রিক রসে
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে- 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ। 

মিউসিন: 
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 

টায়ালিন: 
- টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৫৬.
কোনটি বাস্তব গ্যাসের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. বাস্তব গ্যাসসমূহ আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT মেনে চলে না।
  2. বাস্তব গ্যাসের অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বল বা বিকর্ষণ বল বিদ্যমান।
  3. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে সংকোচনশীল গুনকের মান কখনো 1 হয় না।
  4. বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়।
ব্যাখ্যা

বাস্তব গ্যাস (Real Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে না তাদেরকে বাস্তব গ্যাস বলে।
- সংক্ষেপে বলা যায়, বাস্তবে যে গ্যাসগুলো পাওয়া যায় তাদেরকে বাস্তব গ্যাস বলে। H2, N2, O2, CO₂ প্রভৃতি গ্যাস বাস্তব গ্যাসের উদাহরণ।
- উচ্চতাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে বাস্তব গ্যাস আদর্শ গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে। কিন্তু বিপরীত শর্তে বিচ্যুতি বেশ দেখায়।

বাস্তব গ্যাসের নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে-
১. বাস্তব গ্যাসসমূহ যথাযথভাবে আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT মেনে চলে না।
২. বাস্তব গ্যাসের অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বল বা বিকর্ষণ বল বিদ্যমান।
৩. বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল
৪. নিম্নচাপ যেমন 1 atm বা তার নিচের চাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রায় বাস্তব গ্যাসসমূহ মোটামুটিভাবে প্রায় আদর্শ গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে থাকে।
৫. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে গ্যাস অণুগুলোর মধ্যকার সংঘর্ষ স্থিতিস্থাপক হয় না। এ কারণে আন্ত সংঘর্ষজনিত কারণে তাপের পরিবর্তন ঘটে।
৬. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে সংকোচনশীল গুনক, Z= PV/RT ≠1. 
৭. গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল কার্যকরী হলেও অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে এরা আদর্শ গ্যাসের মতো আচরণ করে।

তথ্যসূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০,১৫৭.
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন কোনটি?
  1. A
  2. C
  3. B6
  4. B12
ব্যাখ্যা

• ভিটামিনের শ্রেণিবিভাগ:
- এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ভিটামিনসমূহকে তাদের দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- যে ভিটামিনসমূহ তেল/চর্বিতে দ্রবীভূত হয় কিন্তু পানিতে অদ্রবণীয় থাকে তাদেরকে চর্বিতে দ্রবণীয় (fat soluble) ভিটামিন বলা হয়।
- এরা তেল এবং চর্বির সাথে মিশে দেহে শোষিত হয়।
- তেল/চর্বি বা স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো: ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে।

২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- যে ভিটামিনগুলো পানিতে দ্রবীভূত হয় কিন্তু তেল বা চর্বিতে অদ্রবীভূত থাকে তাদের পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (Water soluble vitamin) বলে।
- এ ভিটামিনগুলো হলো বিভিন্ন প্রকারের বি ভিটামিন ও ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড।
- বি ভিটামিনগুলোকে একত্রে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলে।
- ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন, ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৫ বা নায়াসিন, ভিটামিন বি৬ বা পিরিডক্সিন, ভিটামিন বি১২ বা কোবালামিন, ফলিক এসিড, পেন্টোথেনিক এসিড, বায়োটিন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বি ভিটামিন। এগুলো মানবদেহের জন্য আবশ্যক।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৫৮.
পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘন্টায় কত মাইল বেগে ঘুরে?
  1. ৫২,০০০ মাইল
  2. ৫৭,০০০ মাইল
  3. ৬২,০০০ মাইল
  4. ৬৭,০০০ মাইল
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:
- পৃথিবীর সুর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার ।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
- পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রায় ৬৭,০০০ মাইল (১,০৭,০০০ কিলোমিটার) বেগে প্রতি ঘন্টায় ঘুরতে থাকে।

উৎস: i) NASA (.gov).
         ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১৫৯.
নিচের কোনটির জন্য একটি রােধের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ হলে সব সময়ই তাপ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) ফিউজ
  2. খ) লোডশেডিং
  3. গ) সার্কিট ব্রেকার
  4. ঘ) তড়িতের সিস্টেম লস
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ শক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিতরণ করার জন্য যে পরিবাহী তার ব্যবহার করা হয় কম হলেও তাদের এক ধরনের রােধ থাকে। একটা রােধের (R) ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ (I) হলে সব সময়ই (IR) তাপ উৎপন্ন হয় এবং সেটি বিদ্যুৎ শক্তির লস বা ক্ষয়। এই লসকে বলা হয় সিস্টেম লস। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১০,১৬০.
বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না কোন রশ্মি?
  1. আলফা
  2. বিটা
  3. গামা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:
- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ।
- এই রশ্মি আলোর ন্যায় বেগে গতিশীল ।
- এর কোনো চার্জ ও ভর নাই ।
- গামা রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
- এটি ফটোগ্রাফিক পেণ্টটের উপর বিক্রিয়া করে।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম ।
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভ সৃষ্টি করে।
 - গামা রশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৬১.
নিচের কোনটি একটি অ্যান্টিসেপটিক পদার্থ? 
  1. ইথার 
  2. পেনিসিলিন 
  3. টিংচার আয়োডিন 
  4. পটাশিয়াম ক্লোরাইড 
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

কৃষিকাজে রসায়ন: 
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। 
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। 
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 

শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। 
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। 
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৬২.
ভাইরাস একটি-
  1. এককোষী জীব
  2. দ্বিকোষী জীব
  3. বহুকোষী জীব
  4. কোষহীন জীব
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
 
তথ্যসূত্র - উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৬৩.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভব কখন ঘটে?
  1. ক) অষ্টাদশ শতাব্দীতে
  2. খ) ঊনবিংশ শতাব্দীতে
  3. গ) বিংশ শতাব্দীতে
  4. ঘ) একবিংশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

উৎস
: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৬৪.
কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ নয়?
  1. ভুট্টা
  2. নারিকেল
  3. গম
  4. কাঁঠাল
ব্যাখ্যা
একবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, নারিকেল, খেজুর ইত্যাদি। 

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল, ছোলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১০,১৬৫.
নিচের কোনটি জৈব অম্ল?
  1. HCl
  2. H2SO4
  3. CH3COOH
  4. HNO3
ব্যাখ্যা
• অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) হলো অন্যতম একটি জৈব অম্ল। 

• জৈব এসিড:

- যে জৈব যৌগে কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) বিদ্যমান থাকে তাকে জৈব এসিড (অম্ল) বা ফ্যাটি এসিড বলে। 

• বৈশিষ্ট্য:
- জলীয় দ্রবণে H+ আয়ন দান করে, যা তাদের অম্লীয় করে তোলে।
- সাধারণত অজৈব অ্যাসিডের তুলনায় দুর্বল প্রকৃতির হয়।
- জৈব এসিড টক স্বাদ সম্পন্ন হয়। 
- পানি ও জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।

• উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৬৬.
কোন পর্বের প্রাণীরা চলাচলে অক্ষম?
  1. ক) পরিফেরা
  2. খ) আর্থোপোডা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) কর্ডাটা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
২। এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
৩। এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
৪। এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
৫। এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৬৭.
সক্রিয়তা সিরিজে কোন ধাতুটি সবচেয়ে কম সক্রিয়?
  1. ক) লিথিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) কপার
  4. ঘ) স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়।
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়।
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়।
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে।
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৬৮.
কোনটি ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) শোষণ
  2. খ) প্রতিযোগিতা
  3. গ) অ্যান্টিবায়োসিস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়া : যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অথবা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাকে ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন- শোষণ, প্রতিযোগিতা, অ্যান্টিবায়োসিস।

শোষণ : এক্ষেত্রে একটি জীব অন্য জীবকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজের অধিকার ভোগ করে।
যেমন- স্বর্ণলতা উদ্ভিদ হস্টোরিয়া নামক চোষক অঙ্গের মাধ্যমে আশ্রয়দাতা উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতা : কোন নির্দিষ্ট স্থানে আলো, বাতাস, পানি ও খাদ্যের জন্য জীবসমূহের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এ প্রতিযোগিতায় যারা সবল তারাই টিকে থাকে।

অ্যান্টিবায়োসিস : একটি জীব কর্তৃক সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থের কারণে যদি অন্য জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্থ হয় অথবা মৃত্যু ঘটে তখন সে প্রক্রিয়াকে অ্যান্টিবায়োসিস বলে। অণুজীবের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ক অনেক বেশি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৬৯.
কোনটি Active element?
  1. Resistor
  2. Inductor
  3. Capacitor
  4. Transistor
ব্যাখ্যা

Active elements
একটি সার্কিটে শক্তি প্রবর্তন করতে পারে বা সার্কিটের মধ্যে শক্তি স্তর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তারা শক্তি বর্ধিত, উৎপন্ন বা সরবরাহ করতে পারে। উদাহরণ :
Voltage Sources:  batteries, generators, or operational amplifiers (op-amps) 
Current Sources:  current generator.
Active Components: Semiconductor devices- transistors (in their active region), operational amplifiers, এবং integrated circuits (ICs) ইত্যাদি। 

Passive elements
- শক্তি উৎপন্ন করে না বা এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে না বরং শক্তি গ্রহণ করে, সঞ্চয় করে বা নষ্ট করে।
- উদাহরণ 
Resistors
Capacitors
Inductors

১০,১৭০.
শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোনটির প্রয়োজন হয়? 
  1. আলো
  2. তড়িৎ শক্তি
  3. স্থিতিস্থাপক মাধ্যম
  4. শূন্য মাধ্যম
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১৭১.
নিডারিয়া পর্বের প্রাণি কোনটি?
  1. ক) জোঁক
  2. খ) হাইড্রা
  3. গ) শামুক
  4. ঘ) গোলকৃমি
ব্যাখ্যা
প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশোলা, কাঁকড়া ইত্যাদি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণি। এই পর্বটি প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহৎ পর্ব৷
নিডারিয়া পর্বের প্রাণি হলো- হাইড্রা, অবেলিয়া৷
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলো- কেঁচো, জোঁক৷
নেমাটোডা পর্বের প্রাণি- গোলকৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি ইত্যাদি৷
মলাস্কা পর্বের প্রাণি - শামুক, ঝিনুক।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১০,১৭২.
ফ্রেয়ন কী? 
  1. ডাইক্লোরােট্রাইফ্লোরাে মিথেন 
  2. ডাইক্লোরােট্রাইফ্লোরাে ইথেন
  3. ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে ইথেন
  4. ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন
ব্যাখ্যা
ফ্রেয়ন: 
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাঁপা নলের কুণ্ডলী, একে বাষ্পীভবন কুণ্ডলী বলে। 
- এই কুণ্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়। 
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন। 
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে।
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়।
- এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়ােজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকীটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে ফলে শীতলীকরণ ঘটে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৭৩.
কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্রে গ্যালভানোমিটার ব্যবহৃত হয়?
  1. অ্যামিটার
  2. ভোল্ট মিটার
  3. ক ও খ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের অস্তিত্ব ও পরিমাণ নির্ণয় করা হয় তাকে গ্যালভানোমিটার বলে।
অ্যামিটার ও ভোল্টমিটার উভয় যন্ত্রে গ্যালভানোমিটার ব্যবহৃত হয়।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
১০,১৭৪.
কোন পদার্থের দৃঢ়তা কম?
  1. ক) বরফ
  2. খ) লোহা
  3. গ) পানি
  4. ঘ) ইট
ব্যাখ্যা
অবস্থাভেদে পদার্থ তিন প্রকার হয়৷ যথা- কঠিন, তরল ও বায়বীয়৷
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও দৃঢ়তা আছে৷ যেমন- লোহা, বরফ, ইট ইত্যাদি৷
তরল পদার্থে নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার এবং দৃঢ়তা নেই৷ যেমনঃ পানি, তেল ইত্যাদি৷
গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন এবং দৃঢ়তা কোনোটিই নেই। যেমনঃ অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
১০,১৭৫.
সিস্টোলিক চাপ কোন অবস্থায় সর্বাধিক থাকে? 
  1. ধমনী সংকোচনে
  2. হৃৎপিণ্ডের সংকোচনে
  3. হৃৎপিণ্ডের নিলয় প্রসারণে
  4. রক্তনালিতে চাপ শূন্য হওয়ার সময়
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ (Blood Pressure): 
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে, একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে। 

আদর্শ রক্তচাপ: 
- চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত ১২০/৮০ মিলিমিটার মানের কাছাকাছি। 
- রক্তচাপকে দুটি সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় যেখানে প্রথমটি উচ্চমান এবং দ্বিতীয়টি নিম্নমান। 
- রক্তের উচ্চ চাপকে সিস্টোলিক (Systolic) চাপ বলে, যার আদর্শ মান ১২০ মিলিমিটারের নিচে। 
- নিম্নচাপকে ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপ বলে, এই চাপটির আদর্শ মান ৮০ মিলিমিটারের নিচে। এই চাপটি হৃৎপিণ্ডের দুটি বিটের মাঝামাঝি সময় রক্তনালিতে সৃষ্টি হয়। 
- দুধরনের রক্তচাপের পার্থক্যকে ধমনিঘাত বা নাড়িঘাত চাপ (Pulse pressure) বলা হয়। 
- সাধারণত সুস্থ অবস্থায় হাতের কব্জিতে রেট তথা হৃৎস্পন্দনের মান প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ । 
- হাতের কব্জিতে হালকা করে চাপ দিয়ে ধরে পালস রেট বের করা যায়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) বা সংক্ষেপে বিপি যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায়। 
- এই যন্ত্র দিয়ে ডায়াস্টোলিক ও সিস্টোলিক চাপ দেখে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,১৭৬.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Chara
  2. Spirogyra
  3. Psilotum
  4. Agaricus
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
• Pteris, 
Psilotum
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৭৭.
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হলো-
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাস হলো হাইড্রোজেন
- পক্ষান্তরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে নাইট্রোজেন গ্যাস।
- হাইড্রোজেন গ্যাস মহাবিশ্বের মৌলিক গঠনের প্রায় 75% (ভর) তৈরি করে।
- এটি আমাদের সূর্য সহ নক্ষত্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি পারমাণবিক ফিউশন প্রতিক্রিয়াগুলির জন্য প্রাথমিক জ্বালানী উৎস।
- হাইড্রোজেন আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশেও প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে এবং এটি আণবিক মেঘের একটি মূল উপাদান যেখানে নতুন তারকা গঠি হয়।
- মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হচ্ছে হিলিয়াম। হাইড্রোজেন ও হিলিমায় যৌথভাবে মহাবিশ্বের ৯৯.৯% উপাদান গঠন করেছে।
- এই সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অক্সিজেন।

Source: The University of Texas; LiveScience and Nature Journal.

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের শতকরা হার: 
• নাইট্রোজেন ৭৮.০২%, 
• অক্সিজেন - ২০.৭১%, 
• আর্গন - ০.৮০%, 
• কার্বন ডাই অক্সাইড - ০.০৩%, 
• জলীয় বাষ্প - ০.৪১%, 
• অন্যান্য গ্যাসসমূহ - ০.০২% এবং 
• ধূলিকণা ও কণিকা - ০.০১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১৭৮.
১ মেগাওয়াট কত ওয়াটের সমান? 
  1. ১০ ওয়াট 
  2. ১০ ওয়াট
  3. ১০ ওয়াট
  4. ১০ ওয়াট 
ব্যাখ্যা

কিলোওয়াট: 
- কোনো রোধ বা তড়িৎ যন্ত্রের দুই পাশের বিভব পার্থক্য এক ভোল্ট হলে যদি এর মধ্য দিয়ে এক অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহিত হয়, তবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা এক ওয়াট। 
• এক ওয়াট = ১ ভোল্ট × ১ অ্যাম্পিয়ার 
- যখন অনেক বেশি তড়িৎ ক্ষমতা ব্যবহৃত হয় তখন সেটাকে কিলোওয়াট বা মেগাওয়াটে প্রকাশ করা সুবিধাজনক।
• ১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট বা ১০ওয়াট এবং 
১ মেগা ওয়াট = ১০ ওয়াট। 

কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন- বাতি জ্বললে আলোক শক্তি বা পাখা ঘোরালে যান্ত্রিক শক্তি পাওয়া যায়) সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা। 
• ১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট × ১ ঘণ্টা 
- অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলোওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়। 
১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট × ৩৬০০ সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড 
= ৩,৬০,০০০০ জুল 
অর্থাৎ, শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল। 
- আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বোর্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষপে ইউনিট বলে। 
- বিদ্যুৎ বিল কিলোওয়াট-ঘণ্টা এককেই হিসাব করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,১৭৯.
কোন উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে?
  1. ফার্ন
  2. ছত্রাক
  3. শৈবাল
  4. মস
ব্যাখ্যা
• মসবর্গের উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে।

• মস:

- মস বর্গের উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে চুলের মত সূক্ষ্ম রাইজয়েড জন্মে।
- মূলের কাজ রাইজয়েড দিয়ে সম্পন্ন হয়।
- ক্লোরোফিল থাকার জন্য এরা নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে।
- এরা সবুজ ও স্বভোজী।
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা রয়েছে।
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই।
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ফার্ন:
ফার্ন বর্গের উদ্ভিদের দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। এরা নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে। টেরিস বা ঢেঁকিশাক একটি ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ।

• ছত্রাক:
পঁচা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতা বা ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। এই ব্যাঙের ছাতার আরেকটি নাম হলো এগারিকাস। বাসি, পঁচা রুটির উপর তুলার আঁশের মত এক প্রকার বস্তু জন্মাতে দেখা যায়। একে রুটির ছত্রাক বা মিউকর বলে। এসব উদ্ভিদ ক্লোরোফিলবিহীন। এ কারণে এদের রঙ সাদা।

• শৈবাল:
আবদ্ধ জলাশয়, জমে থাকা বৃষ্টির পানি, নর্দমা, কল পাড়ের স্যাঁতসেতে মাটিতে সবুজ শেওলা জন্মে থাকে। এসব শেওলা জাতীয় উদ্ভিদকে শৈবাল বলা হয়। এদেরদেহে ক্লোরোফিল থাকে তাই নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৮০.
রেফ্রিজারেটরে কম্প্রেসারের কাজ কী?
  1. ফ্রেয়নকে ঠাণ্ডা করা
  2. ফ্রেয়নকে সংকুচিত করে এর তাপ ও তাপমাত্রা বাড়ানো
  3. ফ্রেয়নকে বাষ্পীভূত করা
  4. ফ্রেয়নকে ঘনীভূত করা
ব্যাখ্যা
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী, একে বাষ্পীভবন কুন্ডলী বলে। 
- এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়।
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরােডাইফ্লোরাে মিথেন।
- কম্প্রেসরের কাজ হলো বায়ু বা বায়বীয় পদার্থের অণুসমূহ সংকোচনের মাধ্যমে চাপ বৃদ্ধি করা।
- কমপ্রেসর ফ্রেয়ন গ্যাসকে সংকুচিত করে উচ্চচাপে পরিণত করে এবং এর ফলে এর তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এরপর এই গরম গ্যাস কনডেনসারে প্রবেশ করে, যেখানে এটি ঠান্ডা হয়ে তরলে পরিণত হয় এবং রেফ্রিজারেশনের পুরো চক্র সম্পন্ন হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৮১.
সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত মিলিমিটার?
  1. ক) ৭২
  2. খ) ৭৬
  3. গ) ৭৬০
  4. ঘ) ৭২০
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের প্রতি একক জায়গায় বায়ুর গ্যাসের অনুগুলোর সংঘর্ষের ফলে প্রদত্ত বলই হলো বায়ুর চাপ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ ৭৬ সেন্টিমিটার বা ৭৬০ মিলিমিটার বা ২৯.৯২ ইঞ্চি পারদ স্তম্ভের সমান।

(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১০,১৮২.
নিচের কোনটি বায়ুদূষণ নির্দেশক?
  1. লাইকেন
  2. মস
  3. ফার্ন
  4. শৈবাল
ব্যাখ্যা
লাইকেন:
-  লাইকেন হলো ছত্রাক এবং একাকোষী শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের ফলে সৃষ্ট বিশেষ প্রকৃতির থ্যালয়েড গঠন।
-  লাইকেন স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিষমপৃষ্ঠ, থ্যালয়েড, অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪০০টি গণ এবং ১৭,০০০ লাইকেন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া

পরিবেশ দূষণের নির্দেশক হিসেবে লাইকেন:
-   লাইকেন বাতাস বা বৃষ্টির পানি থেকে অতিদ্রুত তার প্রয়োজনীয় বস্তু সংগ্রহ করতে পারে। একইভাবে সালফার ডাই-অক্সাইড, হেভি মেটাল, রেডিও অ্যাকটিভ বস্তুও দ্রুত শোষণ করে থাকে।
-  এসব দূষিত বস্তু শোষণের ফলে এদের মৃত্যু ঘটে। কাজেই বায়ু দূষণের একটি নির্দেশক (indicator) হিসেবে লাইকেনকে ধরা হয়।
অর্থাৎ বায়ু দূষণ অঞ্চলে লাইকেন কম পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১০,১৮৩.
সালোকসংশ্লেষণে কোনটির প্রভাব নেই?
  1. পাতার বয়স
  2. খনিজ পদার্থ
  3. এনজাইম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণের প্রভাবক:
পাতার বয়স ও সংখ্যা:
- একেবারে কচি পাতা এবং একেবারে বয়স্ক পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ কম থাকে বলে সালোকসংশ্লেষণ কম হয়।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যাও বেশি হয়।
- মধ্যবয়সি পাতায় সবচেয়ে বেশি সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
- পাতার সংখ্যা বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়।

খনিজ পদার্থ:
- ক্লোরোফিলের প্রধান উপকরণ হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেসিয়াম।
- লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- কাজেই মাটিতে এসব খনিজের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।

 এনজাইম: সালোকসংশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের প্রয়োজন হয়।

সালোকসংশ্লেষণের অন্যান্য প্রভাবক: আলো, তাপমাত্রা, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অক্সিজেন, পানি, রাসায়নিক পদার্থ, ক্লোরোফিল, শর্করার পরিমাণ, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১৮৪.
কোনটির কারণে ধানের ব্লাস্ট রোগ হয়?
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ব্যাক্টেরিওফাজ
ব্যাখ্যা
ধানের রোগ: 
১.বাদামি দাগ রোগ: 
- ধানের বাদামি দাগ রোগের কারণ বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক। 

২. ব্লাস্ট রোগ (Blast): 
- ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণ পাইরিকুলারিয়াগ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক। 

৩. খোল পচা রোগ (Sheath rot): 
- ধানের খোল পচা রোগের কারণ স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক। 

৪. ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ (Bacterial Blight): 
- জ্যানথোমোনাস অরাইজি পিভি অরাইজি (Xanthomonas oryzae pv.oryzae) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 

৫. টুংরো (Tungro): 
- টুংরো রোগের কারণ রাইস টুংরো ভাইরাস (Rice Tungro Virus) নামক এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বা ভাইরাস। 

৬. উফরা রোগ (ডাক পোড়া) (Ufra): 
- উফরা রোগ (ডাক পোড়া) রোগের কারণ ডাইটিলেংকাস এ্যাংগাসটাস (Ditylenchus angustus) নামক এক ধরনের কৃমি। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
১০,১৮৫.
রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ বেড়ে গেলে কোন রোগ হয়?
  1. থ্যালাসেমিয়া
  2. লিউকেমিয়া
  3. অ্যানিমিয়া
  4. থ্রম্বোসিস
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- মানবদেহে কয়েক প্রকার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- এদের আকার অনিয়মিত, বড় এবং সংখ্যায় লোহিত রক্ত কণিকার চেয়ে কম। 
- প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে ৫ থেকে ১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- লাল অস্থিমজ্জা ও লসিকাগ্রন্থিতে শ্বেত কণিকা তৈরি হয়। 
- এরা বর্ণহীন কিন্তু এদের নিউক্লিয়াস আছে। 
- এদের আকার পরিবর্তন হতে পারে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। 
- এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ক্ষণপদ সৃষ্টির মাধ্যমে রোগ জীবাণু ভক্ষণ করতে পারে। 
- রক্তে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে লিউকেমিয়া রোগ হয়। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা দেহে প্রহরীর মতো কাজ করে রোগ জীবাণু ধ্বংস করে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করে। 
এছাড়া, থ্যালাসেমিয়া একটি রক্ত সম্পর্কিত জেনেটিক ডিসঅর্ডার।
- অ্যানিমিয়া হলো রক্তশূন্যতা এবং 
- থ্রম্বোসিস হলো রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৮৬.
মানুষের দেহের রক্তরসে শতকরা কত ভাগ পানি থাকে?
  1. ৯০
  2. ৮০
  3. ৭৫
  4. ৭০
ব্যাখ্যা
• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা-
১. রক্তরস:
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
- এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
[বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণির তথ্য অনুযায়ী পানি ৯০%]

২. রক্তকণিকা:
- রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।
- লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১০,১৮৭.
আইসি (IC) এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Internal Circuit
  2. Integrated Current
  3. Inductive Capacitor
  4. Integrated Circuit
ব্যাখ্যা
• IC এর পূর্ণরূপ হলো Integrated Circuit।
- এটি হলো একটি অতি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ যা একটি অর্ধপরিবাহী (সাধারণত সিলিকন) চিপের মধ্যে বহু ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একত্রে সংযুক্ত থাকে।

• IC-এর ব্যবহার:
- কম্পিউটার প্রসেসর,
- মোবাইল ফোন, 
- ক্যালকুলেটর, 
- রেডিও, টিভি, 
- গাড়ির ইলেকট্রনিক সিস্টেম। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১০,১৮৮.
সর্বপ্রথম 'জেনেটিক্স' শব্দের প্রচলন করেন কে? 
  1. বেটসন
  2. মেন্ডেল
  3. ডারউইন
  4. মর্গান
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি প্রচলন করেন। 
- অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্বের জনক হিসেবে পরিচিত। 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের মৃত্যুর ১৬ বছর পর ১৯০০ সালে নেদারল্যান্ডসের উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিউগো ডে সি, জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক কার্ল করেন্স, অস্ট্রিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী এরিক শ্চেমেক পৃথকভাবে কিন্তু একই সময়ে মেন্ডেলের গবেষণার ফলাফল পুনরাবিষ্কার করেন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,১৮৯.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কত ভাগ প্রোটিন?
  1. ৭০%
  2. ৭২%
  3. ৭৩%
  4. ৮০%
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 
- শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। 
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,১৯০.
পরিবাহিতা বৃদ্ধির জন্য সেমিকন্ডাক্টরে অপদ্রব্য মেশানোকে কী বলে? 
  1. জাংশন
  2. রিবোক
  3. ডোপিং
  4. ক্যাপিং
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping): 
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে। 
অর্থাৎ, পরিবাহিতা বৃদ্ধির জন্য সেমিকন্ডাক্টরে অপদ্রব্য মেশানোকে ডোপিং বা ডোপায়ন বলে। 
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। 
যথা - 
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৯১.
সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. রেডন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা। 
- H2 গ্যাসের তুলনায় He গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92%। 
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। 
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে। 
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন। 
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। 
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়। 
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী ও নাগ)।
১০,১৯২.
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকে বলা হয় -
  1. উন্নয়ন
  2. সাড়াদান
  3. পুনরুদ্ধার
  4. প্রশমন 
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management)
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ,দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।

• প্রশমন (Mitigation)
⇒ দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীহ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।

⇒ মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

⇒  দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,১৯৩.
আলোর বর্ণালীতে কয়টি বর্ণ থাকে?
  1. ৩ টি
  2. ৫ টি
  3. ৬ টি
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা
• আলোর বর্ণালীতে ৭ টি বর্ণ থাকে।

• বর্ণালী:
- সূর্য থেকে আগত আলোকরশ্মি একটি কাচের প্রিজমের উপর আপতিত হলে প্রিজমের অপর পার্শ্বে রাখা একটি সাদা পর্দায় বিভিন্ন বর্ণ বিশিষ্ট সাতটি বর্ণের আলোর একটি স্তর দেখা যায় )। এই স্তরকে বর্ণালী (Spectrum) বলা হয়।

• বর্ণালী তে মোট ৭ টি বর্ণ থাকে।
• এই স্তরের সবচেয়ে উপরের বর্ণ লাল (Red) এবং সবচেয়ে নিচের বর্ণ বেগুনী (Violet)।
- এই দুই বর্ণের মধ্যবর্তী অংশে যথাক্রমে কমলা (Orange), হলুদ (Yellow), সবুজ (Green), আকাশী (Blue) এবং নীল (Indigo) বর্ণ থাকে।
- মনে রাখার সুবিধার জন্য বেগুনী বর্ণ থেকে শুরু করে ৭ টি বর্ণের প্রথম অক্ষরকে সাজানো হয় "বেনীআসহকলা" বা "VIBGYOR"।

• বহুবর্ণী বা মিশ্র আলোর বিভিন্ন বলে বিভাজিত হওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion) বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৯৪.
ব্যাকটেরিয়ার অযৌন জনন প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. বাইনারি ফিউশন
  2. ফিশন
  3. ফিউশন
  4. বাইনারি ফিশন
ব্যাখ্যা
- ব্যাকটেরিয়ার জনন : ব্যাকটেরিয়া দুটি প্রক্রিয়ায় জনন সম্পন্ন করে। যেমন- অযৌন জনন এবং যৌন জনন।
- অযৌন জনন: ব্যাকটেরিয়া সাধারণত অযৌন প্রক্রিয়ায় দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে।
- দ্বিভাজন পদ্ধতি দ্বিভাজন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির স্বাভাবিক, অত্যন্ত সরল এবং দ্রুততম জনন প্রক্রিয়া।
- দ্বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ব্যাকটেরিয়াম কোষ বিভক্ত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হয়।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১০,১৯৫.
কোনটির দেহে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস হলো একটি অকোষীয় (acellular) অণুজীব। এদের দেহে কোনো কোষপ্রাচীর, প্লাজমালেমা, সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস কিংবা সাইটোপ্লাজম থাকে না। ভাইরাসের দেহ মূলত কেবল দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। যেমন- বাইরের একটি আমিষ বা প্রোটিন আবরণ (যাকে ক্যাপসিড বলা হয়) এবং ভেতরের নিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ অথবা আরএনএ)। 

ভাইরাস: 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।  যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। এদের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক, ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 

ব্যাকটেরিয়া:  
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা আণুবীক্ষণিক জীব এবং এককোষী, এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন- নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,১৯৬.
নিচের কোন যুগটি 'ডায়নোসর যুগ' নামে পরিচিত?
  1. ক) প্যালিয়জোয়িক 
  2. খ) মেসোজোয়িক
  3. গ) সেনোজোয়িক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মেসোজোয়িক যুগটি 'ডায়নোসর যুগ' নামে পরিচিত। 

মেসোজোয়িক মহাযুগ আজ থেকে সাড়ে ২৪ কোটি বছর থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তিনটি যুগে এই মহাযুগ বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে ট্রায়াসিক (Triassic), জুরাসিক (Jurassic) ও ক্রিটেসিয়াস (Cretaceous)। ডায়নোসর যুগ নামে পরিচিত এই মহাযুগেই ডায়নোসররা পৃথিবী জুড়ে রাজত্ব করতো। ট্রায়াসিক শিলা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি। জুরাসিক-প্রবীণ ক্রিটেসিয়াস যুগে অদূরবর্তী এলাকায় আগ্নেয়গিরির ব্যাপক অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে জামালগঞ্জ, শিবগঞ্জ এবং বগুড়া গ্রস্ত উপত্যকা এলাকায় আগ্নেয় শিলাস্তর গঠিত হয়। এই শিলারাশিকে রাজমহল শিলাসোপান (ট্র্যাপ) বলে। ভূগর্ভে প্রাপ্ত কৃষ্ণবর্ণের ব্যাসল্টে এই শিলাসোপান গঠিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১০,১৯৭.
ডেভিলস ব্রেথ কী? 
  1. এক ধরনের ড্রাগ
  2. এক ধরনের বিষ
  3. এক ধরনের কীটনাশক
  4. এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়।  
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে।
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়।
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা [লিংক]
১০,১৯৮.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। 
- হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। 
- রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। 
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস খাদ্যের উৎস: ম্যাকরেল মাছ, স্যামন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, সয়া মিল্ক, দুধ, মাশরুম, চিজ, কমলালেবুর রস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১৯৯.
নিচের কোনটি ভাইরাসের দেহে বিদ্যমান? 
  1. নিউক্লিয়াস
  2. রাইবােসােম
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয় তাই এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,২০০.
কোন ভূগোলবিদ ভূগোলকে 'পৃথিবীর বিজ্ঞান' বলেছেন? 
  1. কার্ল রিটার 
  2. প্লেটো 
  3. হিপোক্রেটিস 
  4. ডাডলি স্ট্যাম্প 
ব্যাখ্যা

ভূগোলের ধারণা: 
- ভূগোল হলো এমন একটি বিষয়/শাস্ত্র যেখানে স্থানীক ও কালীক পর্যায়ে মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা হয়। 
- সংক্ষেপে মানুষের বাসভূমি হিসাবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল। 
- ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দটির উৎপত্তি। 
- 'Geo' শব্দের অর্থ 'ভূ' বা পৃথিবী এবং 'graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা। সুতরাং Geography শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা। 
- 'Geography' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটসথেনিস। 
- কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ, কেউ কেউ বলেছেন 'পৃথিবীর বিজ্ঞান'। 
- অধ্যাপক কার্ল রিটার (Professor Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান। 
- অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্প (Professor Dudley Stamp) আরও সহজভাবে বলেছেন, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল। 
- মূলত সময় ও স্থানের আলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মানুষের কর্মকান্ডের এই সম্পর্কই ভূগোলের মুখ্য বিষয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।