বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০১ / ১৪০ · ১০,০০১১০,১০০ / ১৪,০৮০

১০,০০১.
ম্যালেরিয়া রোগের পরজীবী আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) স্যার রোনাল্ড রস
  2. খ) চার্লস ল্যাভেরন
  3. গ) রবার্ট কচ
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
- পূর্বে একটি ধারণা প্রচলিত ছিলো যে, দূষিত বায়ু সেবনে ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু ফরাসি ডাক্তার চার্লস ল্যাভেরন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর লোহিত রক্তকণিকা থেকে ম্যালেরিয়ার পরজীবী আবিষ্কার করলে প্রায় শত বছরের ভ্রান্ত ধারণাটির অবসান ঘটে। ১৮৯৭ সালে ডাক্তার রোনাল্ড রস আবিষ্কার করেন যে, Anopheles গণভুক্ত মশকীরা এ রোগের জীবাণু এক দেহ থেকে অন্য দেহে বিস্তার ঘটায়।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা করে Germ theory of Disease তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- জার্মান ডাক্তার রবার্ট কচ যক্ষ্মা রোগের জন্য দায়ী Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
১০,০০২.
গ্রীনিচ মান সময় থেকে বাংলাদেশ কত ঘন্টা এগিয়ে?
  1. ৩ ঘণ্টা
  2. ৪ ঘণ্টা
  3. ৫ ঘণ্টা
  4. ৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মান সময়: 
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রীনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রীনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০০৩.
আলট্রাসনোগ্রাফি কী?
  1. নতুন ধরনের এক্সরে
  2. ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
  3. শরীরের অভ্যন্তরের শব্দ বিশ্লেষণ
  4. শক্তিশালী শব্দ দিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
ব্যাখ্যা

আলট্রাসনোগ্রাফি হলো উচ্চ কম্পাঙ্কের এবং ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছবি বা ইমেজ তৈরির একটি পদ্ধতি।

• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১–১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০,০০৪.
চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কী কারণে?
  1. জড়তা
  2. বেগ
  3. ত্বরণ
  4. গতি
ব্যাখ্যা
• চলন্ত বাস বা গাড়ি হঠাৎ ব্রেক কষলে "জড়তার" জন্য যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়।

• জড়তা:

- স্থির বস্তুর স্থির এবং গতিশীল বস্তু গতিশীল থাকার প্রবণতা কে জড়তা বলে।
- গাড়ি চলন্ত অবস্থায় থাকলে গাড়ির সাথে সাথে যাত্রীর সমগ্র দেহই গতিশীল থাকে।
- ব্রেক কষলে গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর দেহের নিচের অংশ স্থির অবস্থায় আসে কিন্তু গতি জড়তার জন্য দেহের উপরের অংশ এগিয়ে যেতে চায়।
- ফলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০০৫.
বায়ুর আর্দ্রতা এবং বাষ্পায়নের হারের মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
  2. আর্দ্রতা বাড়লে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়
  3. আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন কমে যায়
  4. এদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- ক) আর্দ্রতা কমলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়

• বাষ্পায়নের উপর বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব (Effects of various factors on evaporation):

- পরিবেশ থেকে সুপ্ত তাপ সংগ্রহ করে কোনো তরল পদার্থের বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো বাষ্পায়ন।
- এ ক্ষেত্রে তরল পদার্থটিকে স্ফুটনাঙ্কে উত্তপ্ত করা হয় না। এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা। এজন্য প্রক্রিয়াটিকে স্বতঃবাষ্পভবনও বলা হয়।

- কিন্তু তরলের বাষ্পায়ন সাধারণত বেশ কয়েকটি ঘটনা বা বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়। সেগুলো হলো:
১) তরলের প্রকৃতি: বিভিন্ন তরল পদার্থের বাষ্পায়নের হার বিভিন্ন। সাধারণত তরলের স্ফুটনাঙ্ক কম হলে বাষ্পায়ন হার বেশি হয়। উদ্বায়ী পদার্থের বাষ্পায়ন হার অত্যন্ত বেশি।

২) বায়ু প্রবাহ: তরলের উপর বায়ু প্রবাহ বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়।

৩) তরলের উপর চাপ: তরলের উপর বায়ু মন্ডলের চাপ বাড়লে বাষ্পায়ন হার কমে যায়। চাপ কমলে বাষ্পায়ন বৃদ্ধি পায়। শূন্য স্থানে বাষ্পায়নের হার সর্বাধিক।

৪) তরলের উপরি তলের ক্ষেত্রফল: বাষ্পায়ন কেবল উপরিতলে সংঘঠিত হয়। তরলের উপরিতলের ক্ষেত্রফল যত বেশি বিস্তৃত হবে বাষ্পায়ন তত বেশি হবে।

৫) তরল তল সংলগ্ন বায়ু বা বাষ্পের তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বেশি হলে বাষ্পায়ন দ্রুত হয়।

৬) তরল তল সংলগ্ন বায়ুর আর্দ্রতা: বায়ুর আর্দ্রতা যত কম হয় তরলের বাষ্পায়ন তত দ্রুত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০০৬.
মানবদেহে স্নেহজাতীয় পদার্থ হজমের জন্য কোন এনজাইমটি অপরিহার্য?
  1. পেপসিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. লাইপেজ
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা

লাইপেজ হলো একটি পাচক এনজাইম যা স্নেহ জাতীয় খাদ্য বা ফ্যাট পরিপাকে সহায়তা করে। 
- লাইপেজ (Lipase) হলো এক ধরনের হাইড্রোলাইটিক এনজাইম, যা স্নেহ পদার্থের (ফ্যাট) অণুগুলোকে ফ্যাটি অ্যাসিড (Fatty acid) ও গ্লিসারলে (Glycerol) পরিণত করে।
- স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাকের জন্য পিত্তরসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পিত্তরস ফ্যাটকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে ইমালসিফাই (Emulsify) করে, যা লাইপেজ এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে।
- এই পরিপাক প্রক্রিয়াটি প্রধানত ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পন্ন হয়, যেখানে স্নেহ কণাগুলো সম্পূর্ণরূপে বিশ্লেষিত হয়।
- জম হওয়া ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারল পরবর্তীতে অন্ত্রের লসিকাতন্ত্র (Lymphatic system) এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শোষিত হয়।
- লাইপেজের অভাবে ফ্যাট হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে স্বাস্থ্যগত জটিলতা যেমন ডায়রিয়া বা ভিটামিনের অভাব হতে পারে।
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

উল্লেখ্য-
- পেপসিন: প্রোটিন পরিপাককারী একটি এনজাইম, যা পাকস্থলীতে প্রোটিনকে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে।
- অ্যামাইলেজ: শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) পরিপাককারী একটি এনজাইম। লালা এবং অগ্ন্যাশয়ে এটি পাওয়া যায়।
- ট্রিপসিন:  ট্রিপসিন হলো প্রোটিন পরিপাককারী আরেকটি এনজাইম, যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়ে প্রোটিনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পলিপেপটাইডে ভাঙে।

উৎস:
১। বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২। প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১০,০০৭.
উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম কোনটি?
  1. লিমুলাস
  2. স্ফোনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. নিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০০৮.
নিচের কোন রোগটি ব্যাকটেরিয়াজনিত নয়?
  1. এনথ্রাক্স
  2. রুবেলা
  3. হুপিং কাশি
  4. সিফিলিস
ব্যাখ্যা
- Bacillus anthracis নামক গ্রাম পজেটিভ অ্যারোবিক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এনথ্রাক্স হয়।
- Bordetella Pertussis নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে শিশুদের হুপিং কাশি হয়ে থাকে।
- Treponema pallidum নামক spirochete ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সিফিলিস হয়।
- Rubella virus নামক এক ধরনের Togavirus এর কারণে রুবেলা বা জার্মান হাম রোগটি হয়ে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১০,০০৯.
নিচের কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস নয়?
  1. ক) Geothermal
  2. খ) Nuclear energy
  3. গ) Solar Energy
  4. ঘ) Biomass
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস প্রধানত দুই প্রকার। একটি হচ্ছে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং অন্যটি হচ্ছে অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
নবায়নযোগ্য শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়। নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ বান্ধব এবং এই শক্তিকে গ্রীন শক্তিও বলা হয়।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস (Renewable source of energy):
- সৌরশক্তি (Solar Energy),
- জলবিদ্যুৎ (Hydropower),
- বায়ু শক্তি (Wind Energy,
- ভূতাপীয় শক্তি (Geothermal)
- জৈবিকভর (Biomass) ইত্যাদি।

অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস (Non-renewable source of energy):
- পেট্রোলিয়াম (Petroleum)
- প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural gas)
- কয়লা (Coal)
- পারমাণবিক শক্তি (Nuclear energy)

সূত্রঃ www.eia.gov ও পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
১০,০১০.
এসিটিক এসিডের কত শতাংশ জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ৪-১০%
  4. ২০%
ব্যাখ্যা
অ্যাসিটিক এসিড এর (CH3-COOH) 4- 10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। আচার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহৃত হয়। মনে রাখা প্রয়োজন যে, এসিটিক এসিডকে ইথানয়িক এসিড ও বলা হয়ে থাকে।
১০,০১১.
কোন ভাইরাস দ্বারা মানবদেহ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়?
  1. ইবোলা ভাইরাস
  2. নিপাহ ভাইরাস
  3. র‍্যাবিস ভাইরাস
  4. অ্যাডিনো ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- 'র‍্যাবিস ভাইরাস' দ্বারা মানবদেহ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন - 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০১২.
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তু সংক্রান্ত কয়টি সূত্র প্রদান করেন?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তু সংক্রান্ত ৩ টি সূত্র প্রদান করেন-

• প্রথম সূত্র: স্থির অবস্থান থেকে এবং একই উচ্চতা থেকে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে।
• দ্বিতীয় সুত্র:  স্থির অবস্থান থেকে  বিনা বাধায় পড়ন্ত নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত বেগ ঐ সময়ের সমানুপাতিক
• তৃতীয় সূত্র: স্থির অবস্থান থেকে  বিনা বাধায় পড়ন্ত নির্দিষ্ট সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তা ঐ সময়ের বর্গের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১০,০১৩.
'মটরশুঁটি' কোন ধরনের খাদ্য?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) শ্বেতসার
  3. গ) স্নেহ জাতীয়
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের- প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ।
প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০১৪.
নিচের কোনটি ভূত্বকের বাহ্যিক অবয়ব নয়? 
  1. পর্বত
  2. সমভূমি
  3. মালভূমি
  4. সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন: 
- সৃষ্টির সময় পৃথিবী ছিল একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড, উত্তপ্ত অবস্থা থেকে এটি শীতল ও ঘনীভূত হয়। 
- এই সময় পৃথিবীর বাইরের ভারী উপাদানগুলো এর কেন্দ্রের দিকে জমা হয় আর হালকা উপাদানগুলো ভরের তারতম্য অনুসারে নিচ থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়, পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মণ্ডল বলে। 
- উপরের স্তরটিকে অশ্মমণ্ডল বলে, অশ্মমণ্ডলের উপরের অংশ ভূত্বক নামে পরিচিত। 

ভূত্বক (Earth's Crust): 
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। 
- ভূ-অভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার। 
- ভূত্বক মহাদেশের 'তলদেশে গড়ে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু। 
- সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত। 
- এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত। 
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান। 
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়। যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি। 
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রস্রোত হলো জলবায়ু ও মেরু-গোলার্ধীয় ঘূর্ণনের প্রভাবে সৃষ্ট সাগরের জলপ্রবাহ, যা ভূত্বকের গঠন নয়, বরং জলবায়ুগত একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই এটি ভূত্বকের বাহ্যিক অবয়ব নয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০১৫.
কোন তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে সক্ষম?
  1. শব্দ তরঙ্গ
  2. পানির তরঙ্গ
  3. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  4. তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাই এটি শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে।

• তরঙ্গের শ্রেণিবিভাগ:
- তরঙ্গকে প্রধানত দুই ভাগে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। যথা—
- যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave),
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave)।
 
• যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে না।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোর স্থায়ী স্থানান্তর ঘটে না।
- মাধ্যমের কণাগুলো নিজ নিজ সাম্য অবস্থার চারপাশে কম্পন করে।
- উদাহরণ—
- শব্দ তরঙ্গ,
- পানির তরঙ্গ।
 
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাকে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ বলা হয়।
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমেও চলতে সক্ষম।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমেও শক্তি পরিবাহিত হয়।
- উদাহরণ—
- আলো,
- রেডিও তরঙ্গ।
 
• তরঙ্গ সঞ্চালনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি পরিবাহিত হয়, বস্তু পরিবাহিত হয় না।
- মাধ্যমের কণাগুলো কেবল কম্পনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালনে অংশগ্রহণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০১৬.
বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতির কেমন পরিবর্তন হয়?
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. সামান্য কমে
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন - 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220 ms-1
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০১৭.
নিম্নলিখিত কোন রোগের জন্য মৃত জীবাণুভিত্তিক টিকা (killed vaccine) ব্যবহার করা হয়?
  1. যক্ষ্মা 
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
  3. গুটিবসন্ত 
  4. ডিপথেরিয়া 
ব্যাখ্যা

টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। 

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine): 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
যেমন- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine): 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine): 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত (Surface chemical molecule): 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
যেমন- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine): 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০১৮.
খাদ্যআঁশ কোন শ্রেণির খাদ্য? 
  1. প্রোটিন
  2. শর্করা
  3. ফ্যাট
  4. খনিজ
ব্যাখ্যা
খাদ্যআঁশ বা রাফেজ: 
- শস্য দানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খোসা, শাঁস বীজ ও উদ্ভিদের ডাটা, ফল, মূল, পাতা ইত্যাদিতে আঁশ থাকে। 
- খাদ্যআঁশগুলো মূলত কোষ প্রাচীরের সেলুলোজ এবং লিগনিন। 
- খাদ্যআঁশের সেলুলোজ এবং লিগনিন উদ্ভিদের দেহ কাঠামো তৈরি করে, এগুলো এক ধরনের জটিল শর্করা। 
- গবাদি পশু সাধারণ সেলুলোজ হজম করতে পারে, কিছু মানুষ এগুলো হজম করতে পারে না। 
- রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
- ধারণা করা হয় এরূপ খাবার খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে। 
- আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধা প্রকটতা হ্রাস ও চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০১৯.
একজন পূর্ণবয়স্ক স্ত্রীলোকের হৃদপিন্ডের ওজন কত?
  1. ক) ৫০০ গ্রাম
  2. খ) ৩০০ গ্রাম
  3. গ) ২০০ গ্রাম
  4. ঘ) ৪০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির (পুরুষ) হৃদপিন্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। আর স্ত্রীলোকদের ক্ষেত্রে ওজন ২০০ গ্রাম। অর্থাৎ ১০০ গ্রাম কম। উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,০২০.
যক্ষ্মার (Tuberculosis) প্রতিষেধক BCG টিকা কোন ধরণের অনাক্রম্যতা (immunity) প্রদান করে?
  1. কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা
  2. প্রাকৃতিক সক্রিয় অনাক্রম্যতা
  3. কৃত্রিম নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
  4. প্রাকৃতিক নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
ব্যাখ্যা
• অনাক্রম্যতা হল একটি  প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিশেষ কোন  একটি প্যাথোজেন বা সংক্রামক রোগের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দেয়। 
- অনাক্রম্যতা প্রাকৃতিকভাবে ঘটতে পারে বা পূর্বে কোন রোগের মাধ্যমে ইমিউনাইজেশন দ্বারা তৈরি হতে পারে।

• BCG টিকা (Bacillus Calmette–Guérin) একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রতিষেধক, যা টিউবারকুলোসিস বা যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
- এটি মানবদেহে কৃত্রিমভাবে জীবিত কিন্তু দুর্বলকৃত জীবাণু প্রবেশ করিয়ে শরীরকে ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- এই প্রক্রিয়ায় দেহ নিজে থেকে প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি তৈরি করে, 
- ফলে দেহে তৈরি হয় কৃত্রিম ও সক্রিয় অনাক্রম্যতা। 

• সক্রিয়তার দিক থেকে  অনাক্রম্যতা দুই প্রকারের হয়ে থাকে। 

⇒ সক্রিয় অনাক্রম্যতা – দেহ নিজে প্রতিরক্ষা তৈরি করে। এটি আবার দুই প্রকারের হয়ে থাকে। 
 - প্রাকৃতিক: সংক্রমণের পর (রোগ হয়ে যাওয়ার পর)। 
-  কৃত্রিম: টিকার মাধ্যমে (যেমন BCG, Polio)। 

নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা: প্রস্তুত অ্যান্টিবডি সরাসরি দেহে প্রবেশ করানো হয়। এটি দুই প্রকার। 
- প্রাকৃতিক: মাতৃদুগ্ধ বা গর্ভকালীন সংক্রমণ প্রতিরোধ।
- কৃত্রিম: সেরাম বা অ্যান্টিবডি ইনজেকশন । 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- World Health Organization (WHO).
১০,০২১.
পানির লবণাক্ততা কোনটির মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?
  1. গ্লুকোমিটার
  2. হ্যালোমিটার
  3. স্যালিনোমিটার
  4. এডাফিমিটার
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ততা:
- পানিতে উপস্থিত দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ ।
- জলের প্রাকৃতিক সংস্থাগুলিতে, লবণাক্ততা সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি পরিমাপ (NaCl; সাধারণ লবণ)।
- ম্যাগনেসিয়াম , সালফেট , ক্যালসিয়াম, এবং অন্যান্য আয়ন অল্প ঘনত্বে লবণাক্ততায় অবদান রাখে।
- লবণাক্ততা সাধারণত একটি স্যালিনোমিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয় ।
- যা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে উপস্থিত লবণের পরিমাণ বা ওজন গণনা করে।
- একে এককে প্রকাশ করা যেতে পারে যেমন পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম) এবং প্রতি কিলোগ্রাম পানিতে গ্রাম লবণ (যাকে ব্যবহারিক লবণাক্ততা একক [psu] বলা হয়) বা সাধারণ শতাংশ হিসাবে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১০,০২২.
হেপাটাইটিস B হয় কোন ধরনের জীবাণু দ্বারা?
  1. DNA ভাইরাস
  2. RNA ভাইরাস
  3. ব্যাক্টেরিয়া
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা
• হেপাটাইটিস B ভাইরাস মূলত DNA ভাইরাস।

• হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি, রক্ত, যৌন ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। 

উল্লেখ্য,
- Hepatities A, Hepatities C, Hepatities D ও Hepatities E - RNA ভাইরাস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,০২৩.
HIV কোন প্রাণী হতে মানবদেহে ছড়ায়?
  1. ক) বানর হতে
  2. খ) শিম্পাঞ্জি হতে
  3. গ) ইঁদুর হতে
  4. ঘ) বাদুড় হতে
ব্যাখ্যা
HIV  (human immunodeficiency virus) শিম্পাঞ্জি হতে মানবদেহে ছড়ায়। 

বাংলাদেশে এখন এইডস আক্রান্তের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি।

এইচআইভির লক্ষণসমূহ-
জ্বর এবং অত্যধিক শীত লাগা
রাতে খুব বেশি ঘাম হওয়া
মাংসপেশিতে টান এবং সারা শরীরে যন্ত্রণা
শরীরে র‍্যাশ বেরনো
গলায় ব্যথা
ক্লান্তি
গলা ফুলে যাওয়া
মাউথ আলসার

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention Website.
১০,০২৪.
নিচের কোনটি ভেক্টর রাশির বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. মান অথবা দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 
  2. ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়।
  3. ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না।
  4. দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে। 
ব্যাখ্যা
ভেক্টর রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয় তাদের ভেক্টর রাশি বলে। 
যেমন- সরণ, বেগ, ত্বরণ, ওজন ইত্যাদি। 
- শুধু মান অথবা শুধু দিক অথবা উভয়ের পরিবর্তন হলে ভেক্টর রাশির পরিবর্তন হয়। 
- ভেক্টর রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয় না। 
- দুটি ভেক্টর রাশির কোনো একটির মান শূন্য না হলেও এদের ভেক্টর গুণফল শূন্য হতে পারে। 
- দুটি ভেক্টর রাশির গুণফল একটি ভেক্টর রাশি অথবা একটি স্কেলার রাশি হতে পারে। 

স্কেলার রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশিকে শুধু মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়, দিক নির্দেশের প্রয়োজন হয় না তাদের স্কেলার রাশি বলে। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, দ্রুতি, ভর, কাজ ইত্যাদি। 
- শুধু মানের পরিবর্তন হলে স্কেলার রাশির পরিবর্তন হয়। 
- স্কেলার রাশির যোগ, বিয়োগ, গুণ ইত্যাদি বীজগণিতের নিয়মে হয়। 
- দুটি স্কেলার রাশির কোনোটির মান শূন্য না হলে এদের গুণফল শূন্য হয় না। 
- দুটি স্কেলার রাশির গুণফলে সর্বদা একটি স্কেলার রাশি পাওয়া যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০২৫.
What type of process occurs during the rust formation in iron?
  1. Physical Change
  2. Combustion Reaction
  3. Reduction Reaction
  4. Oxidation Reaction
  5. Decomposition Reaction
ব্যাখ্যা

• লোহায় মরিচা পড়ার সময় লোহাতে জারণ বিক্রিয়া (Oxidation Reaction) ঘটে। 

• মরিচা:
- বিশুদ্ধ লোহা, জলীয় বাষ্প ও বায়ুর অক্সিজেন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লোহার যে অক্সাইড গঠন করে তাকে মরিচা বলে।

• লোহাকে বাতাসে দীর্ঘসময় রেখে দিলে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে লোহা বিক্রিয়া করে মরিচা তৈরি করে।
- লোহার উপর মরিচা পড়া অনেক ধীর গতিতে সংঘটিত হয়।
- লোহায় মরিচা পড়ার এই প্রক্রিয়া টি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- এখানে এক ধাপে জারণ এবং অন্যধাপে বিজারণ ঘটে থাকে। 

• মরিচা পড়ার প্রক্রিয়া:
- লোহা (Fe) অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- এই বিক্রিয়ায় লোহা অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
- এর ফলে লোহাতে জারণ ঘটে।
- ত্যাগকৃত ইলেকট্রনটি অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করে পানি তৈরি করে, যা বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে।
- ফলে, লোহার অক্সাইড (Fe2O3) গঠিত হয়, যা মরিচা নামে পরিচিত।
- এই পুরো প্রক্রিয়াটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 

১০,০২৬.
অভিস্রবনের সময় কোনটির পরিবর্তিন ঘটে না?
  1. ঘনত্ব
  2. ভর
  3. আয়তন
  4. চাপ
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ (Osmosis): অভিস্রবণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে দ্রাবক (সাধারণত পানি) স্বল্প ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে অর্ধ-ভেদ্য পর্দা  (semi-permeable membrane) দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ভর অপরিবর্তিত থাকার কারন
- রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভর তৈরি বা ধ্বংস হয় না, শুধু স্থানান্তরিত হয়। 
- অভিস্রবণে শুধু পানি অণু এক দ্রবণ থেকে অন্য দ্রবণে যায়, কিন্তু মোট ভর অপরিবর্তিত থাকে।

অন্যদিকে,
ঘনত্ব:  দ্রাবকের চলাচলে দ্রবণের ঘনত্ব পরিবর্তিত হয়।
আয়তন:  দ্রবণের আয়তন দ্রাবকের বৃদ্ধি/হ্রাসের সাথে পরিবর্তিত হয়।
চাপ:  অভিস্রবণ চাপ সৃষ্টি হয় (উচ্চতর ঘনত্বের দ্রবণে বেশি চাপ সৃষ্টি হয়)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১০,০২৭.
দুর্যোগের আগাম বার্তা জানার জন্য টোল ফ্রি নম্বর কোনটি?
  1. ১০৯০
  2. ১৬১০৮
  3. ১০৬
  4. ১০৯
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ 
- বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাফল্যের মূলে রয়েছে স্থানীয়ভাবে বিন্যস্ত শক্তিশালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো।
- জনগুরুত্বপূর্ণ এ কার্যক্রমের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ৫২ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল।

- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এর ক্ষমতাবলে সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৫ প্রণয়ন করে ।
- এতে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা ও হুশিয়ারি সংকেত হিসেবে সমুদ্রবন্দরের জন্য ১১ টি ও নদী বন্দরের জন্য ৪ টি সংকেত নির্ধারণ করা হয়।
- বর্তমানে মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ১০৯০(টোল ফ্রি) নম্বরে ডায়াল করে দুর্যোগের আগাম বার্তা পেয়ে জনগণ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
- জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দুর্যোগ ঝুঁকি-হ্রাস বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে সরকার ১০০ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন করেছে। 

- দুর্যোগ ঝুঁকি-হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ক কার্যক্র মকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক নজরে বাংলাদেশ সরকারের কিছু পদক্ষেপ: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২,
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫,
- জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০,
- ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১১,
- মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০১৬,
- দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) ২০১৯ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রণীত হয়েছে। 

অন্যদিকে, 
- মানবাধিকার কল সেন্টার টোল ফ্রি নম্বর  - ১৬১০৮।
- সরকারি তথ্য ও সেবা টোল ফ্রি নম্বর  - ৩৩৩।
- দুর্নীতি দমন কমিশন টোল ফ্রি নম্বর  - ১০৬।
- নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ টোল ফ্রি নম্বর  - ১০৯। 

তথ্যসূত্র - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১০,০২৮.
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য তৈরি করে?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) শর্করা
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলোঃ ক্লোরোফিল, সূর্যালোক, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ও পানি।
- উৎপাদিত হয় কার্বোহাইড্রেট (শর্করা), পানি এবং অক্সিজেন।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০২৯.
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) 270-400 nm
  2. খ) 400-700 nm
  3. গ) 300- 600 nm
  4. ঘ) 250-450 nm
ব্যাখ্যা
আলোক
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ।
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল।
- শূন্যে আলোর বেগ সেকেন্ডে প্রায় 2.9979 × 108 m (সংক্ষেপে 3 × 108 m বা, 3 x 1010 cm)।
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র।
- সমগ্র বিকিরণ শক্তির অধিকাংশই অদৃশ্য।
- বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য (একক ন্যানোমিটারে nm = 10-9m) নিচে দেয়া হলো- 
• মহাজাগতিক রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: <0.00005nm  
• গামা রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 0.0005 - 0.15 nm
• রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 0.01 – 10 nm
• অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: <380 nm
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 400 - 700nm 
• অবলোহিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >700nm 
• রেডিও ও টেলিভিশন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >2.2 x 105 nm

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১০,০৩০.
n-টাইপ অর্ধপরিবাহীর প্রধান চার্জ বাহক কোনটি?
  1. হোল
  2. ধনাত্মক আয়ন
  3. মুক্ত ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন
ব্যাখ্যা

অর্ধপরিবাহী ডায়োড বা জাংশন ডায়োড: 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হলে সংযোগ পৃষ্ঠকে তথা সৃষ্ট ব্যবস্থাকে p-n জাংশন বা জাংশন ডায়োড বলে।
- দুটি অর্ধপরিবাহী সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধপরিবাহী ডায়োডও বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দুটি অর্ধপরিবাহীকে জোড়া লাগিয়ে ডায়োড তৈরি করা হয় না। 
- বাস্তবে একটি বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহী কেলাসের এক অর্ধাংশে ত্রিযোজী অপদ্রব্য এবং অপর অর্ধাংশে পঞ্চযোজী অপদ্রব্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে p-n জাংশন তৈরি করা হয়। 
- একটি p-টাইপ অর্ধপরিবাহীর অভ্যন্তরে বহুসংখ্যক হোল ও অতি অল্প সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
- একইভাবে একটি n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে বহুসংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন এবং অতি অল্পসংখ্যক হোল বর্তমান থাকে। 

- p-n জাংশন তৈরির সাথে সাথে p-অঞ্চলের হোলের সংখ্যা n-অঞ্চলের হোলের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলে ব্যাপনের নিয়ম অনুযায়ী p-অঞ্চলের হোলগুলো n-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে যাতে p ও n অঞ্চলের সর্বত্র হোলের ঘনত্ব সমান হয়। 
- অনুরূপভাবে n-অঞ্চল থেকে কিছু ইলেকট্রন p-অঞ্চলে যেতে চেষ্টা করে। 
- যখন p-অঞ্চল হতে কিছুসংখ্যক হোল n-অঞ্চলে প্রবেশ করে মুক্ত ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয়, তখন n-অঞ্চলে সমসংখ্যক ধনাত্মক দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়। আবার n-অঞ্চল হতে একই প্রক্রিয়ায় মুক্ত ইলেকট্রনগুলো যখন p-অঞ্চলে প্রবেশ করে হোলের সাথে মিলিত হয়ে তড়িৎ নিরপেক্ষ হয় তখন p-অঞ্চলে সমসংখ্যক ঋণাত্মক গ্রাহক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- ফলে জাংশনের সন্নিকটে p-অঞ্চলে কিছু ঋণাত্মক আয়ন এবং n-অঞ্চলে কিছু ধনাত্মক আয়নের উদ্ভব ঘটে। এভাবে যখন যথেষ্ট সংখ্যক গ্রাহক ও দাতা আয়ন উন্মুক্ত হয়, তখন ব্যাপন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত হবে। 
- p-n জাংশনের বিভব বাঁধা অংশে n-অঞ্চলে ধনাত্মক আয়ন এবং p-অঞ্চলে ঋণাত্মক আয়ন উন্মুক্ত হয়। 
- এ অঞ্চলে কোনো মুক্ত আধান বাহক থাকে না, এ অংশকে নিঃশেষিত স্তর বা ডিপ্লেশন স্তর (Depletion layer) বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৩১.
যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া এককভাবে অবস্থান করে তাকে কী বলে?
  1. মাইক্রোকক্কাস
  2. ডিপ্লোকক্কাস
  3. সারসিনা
  4. স্ট্রেপটোকক্কাস
ব্যাখ্যা
কোষের আকারের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস: 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (ক) কক্কাস, (খ) ব্যাসিলাস, (গ) স্পাইরিলাম এবং (ঘ) কমা আকৃতি। 

কক্কাস: 
- গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় কক্কাস। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়া আবার পাঁচ রকমের। 
যথা- 
১। মাইক্রোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া এককভাবে অবস্থান করে তাকে মাইক্রোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Micrococcus denitrificans. 

২। ডিপ্লোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে ডিপ্লোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Diplococcus pneumoniae. 

৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া অনিয়মিত গুচ্ছাকারে সাজান থাকে তাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Staphylococcus aureus. 

৪। স্ট্রেপটোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া চেইনের মত সাজানো থাকে তাকে স্ট্রেপটোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Streptococcus lactis. 

৫। সারসিনা: 
- যে সকল গোলাকার ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত দলে অবস্থান করে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে তাদেরকে সারসিনা বলে। 
উদাহরণ- Sarcina lutea. 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৩২.
বাংলাদেশের কোন নদীতে জোয়ার ভাটা হয় না?
  1. ক) খোয়াই
  2. খ) গোমতী
  3. গ) নাফ
  4. ঘ) মেঘনা
ব্যাখ্যা
গোমতী নদীতে জোয়ার-ভাটা নেই। যেসব নদী সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত নয়, সেসব নদীতে জোয়ার-ভাটা হয় না। সমুদ্রের পানি পূর্ণিমায় চাঁদের আকর্ষণে ফুলে-ফেঁপে উঠে তার সংযুক্ত নদীতে পানি প্রবাহিত করে। ফলে নদীতে নদীতে জোয়ার-ভাটা হয়।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
১০,০৩৩.
বক্সাইট কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. আয়রন
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
আকরিক: 
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৩৪.
বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহ কয়টি?
  1. ১৪
  2. ২৭
  3. ৬২
  4. ৬৭
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ।
- বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলা হয়।
- বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের। শনি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮৩টি। 
- অপরদিকে বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি। 
- সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ।
- মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়।

উল্লেখ্য যে, 
- তবে অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই অনুসারে, বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৬৭ টি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, নাসা ওয়েবসাইট এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
১০,০৩৫.
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. Na2CO3
  2. K2Cr2O7
  3. AgNO3
  4. HNO3
ব্যাখ্যা

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড (Primary Standard): এমন একটি পদার্থ যার উচ্চ বিশুদ্ধতা, স্থায়িত্ব এবং সঠিক রূপে মাপা যায় এমন আণবিক ভর থাকে।
- এটি ব্যবহার করে দ্রবণের সঠিক মান নির্ধারণ করা যায়।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- উচ্চ বিশুদ্ধতা
- আর্দ্রতা শোষণ কম
- রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল
- সঠিক মোলার ভর জানা
- উদাহরণ: Na2CO3, K2Cr2O7, AgNO3

•HNO₃ একটি তরল ও অস্থির অ্যাসিড, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে, তাই এটি প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই

১০,০৩৬.
আল্ট্রসনোগ্রাফি কী?
  1. ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
  2. বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
  3. আলোকনল দ্বারা শরীরের অভ্যন্তরে ইমেজিং
  4. শক্তিশালী শব্দ নিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
ব্যাখ্যা
• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের বা ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৩৭.
বংশগতির ধারক ও বাহক নিচের কোনটি?
  1. ক) জিন
  2. খ) ফ্যাক্টর
  3. গ) কণা
  4. ঘ) ক্রোমোসোম
ব্যাখ্যা
জীবের বংশগতি:
- বংশগতির ধারক ও বাহক হচ্ছে- ক্রোমোজোম। 

ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
- DNA এর যে ছোট অংশ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে। 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোসোম। 
- ক্রোমোসোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
- অর্থাৎ ক্রোমোসোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোসোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- ক্রোমোজোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক, অপরদিকে জিন হচ্ছে বংশগতির নিয়ন্ত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৩৮.
মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ কী?
  1. ক) খাদ্য উৎপাদনে সাহায্য করা 
  2. খ) জীবের শ্বসনে সহায়তা করা
  3. গ) প্রোটিন সঞ্চয় করা
  4. ঘ) জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ- জীবের শ্বসনে সহায়তা করা।

- দুটি পর্দা দ্বারা আবৃত যে সকল গোলাকার, ডিম্বাকার, সুতোর মতো অঙ্গাণু ইউক্যারিওটিক কোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে থাকে তাদেরকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে।
-মাইটোকন্ড্রিয়ায় সুতোর মতো দানাময় অঙ্গাণু বা কনড্রিওজোম বলে।
মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজসমূহ-
-শ্বসনের ফলে নির্গত শক্তি থেকে এটিপি অনু সংশ্লেষ করে।
-মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের প্রয়োজনীয় শক্তিযুক্ত অনুর যোগান দেয়।
-মাইটোকন্ড্রিয়াতে স্নেহ দ্রব্য সংশ্লেষক লেসিথিন এবং ফসফেটিডাইল-ইথানল-অ্যামাইন জাতীয় স্নেহদ্রব্য সংশ্লেষ করে।
-ফ্যাটি এসিড বিপাকও নিয়ন্ত্রণ করে। শ্বসনের উপযোগী সকল উৎসেচক মাইট্রোকন্ডিয়ায় থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১০,০৩৯.
নিচের কোনটি এক অণুবিশিষ্ট শর্করা?
  1. ল্যাকটোজ
  2. সুক্রোজ
  3. গ্লুকোজ
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
- এক অণুবিশিষ্ট শর্করা হচ্ছে- গ্লুকোজ। 

শর্করা বা শ্বেতসার: 

- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে থাকে। 
- গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ ও শ্বেতসার শর্করার বিভিন্ন রূপমাত্র। 
- গঠন পদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 


 - সাধারণত চাল, গম, আলু থেকে শর্করা বা শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না বলে একে চাল, আটা, আলু ইত্যাদির সাথে রান্না করে খাোয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা ও বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- কারণ মানবদেহে শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৪০.
Which hormone raises the level of glucose in the blood?
  1. Insulin
  2. Thyroxine
  3. Glucagon
  4. Adrenaline
  5. Testosterone
ব্যাখ্যা
• রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লুকাগন হরমোন তা বৃদ্ধি করে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে। 

• গ্লাইকোজেনোলাইসিস-
- গ্লাইকোজেনোলাইসিস হলো যকৃত (liver) ও পেশি (muscle) কোষে জমাকৃত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, যা শরীরের শর্করার চাহিদা পূরণের জন্য ঘটে।

• রক্তে যদি শর্করার পরিমাণ কমে যায় তাহলে অগ্ন্যাশয় থেকে গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়।
- এই হরমোনের ক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনোলাইসিস এর মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক হয়।
- অগ্ন্যাশয় এর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে ইনসুলিনের পাশাপাশি গ্লুকাগন হরমোনও নিঃসৃত হয়।
- ইনসুলিন রক্তে শর্করা কমাতে কাজ করে এবং গ্লুকাগন রক্তে শর্করা বৃদ্ধি করতে কাজ করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী, গাজী আজমল।
১০,০৪১.
বৈদ্যুতিক মোটর তড়িৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তর করে?
  1. আলোক
  2. যান্ত্রিক
  3. তাপ 
  4. শব্দ
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা- বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে।
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৪২.
দিক নির্ধারণের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. কম্পাস
  2. গ্যালভানোমিটার
  3. অ্যামিটার
  4. ভোল্টমিটার
ব্যাখ্যা

◉ কম্পাস (Compass) হলো একটি যন্ত্র, যা উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্ণয় করতে ব্যবহৃত হয়।
-
এতে একটি চুম্বকীয় সূঁচ (Magnetic Needle) থাকে, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সর্বদা চৌম্বকীয় উত্তর (Magnetic North) ও দক্ষিণ (Magnetic South) নির্দেশ করে।

স্থায়ী চুম্বকের ব্যবহার:
- সমুদ্রে জাহাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য চৌম্বক কম্পাস বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- এটি Navigation-এর অন্তর্ভুক্ত একটি যন্ত্র।
- পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে পৃথিবী পৃষ্ঠে মুক্তভাবে ঘূর্ণনক্ষম চুম্বক শলাকা সর্বদা উত্তর দক্ষিণ দিক বরাবর অবস্থান করে।
- চুম্বকের এ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে চৌম্বক কম্পাস তৈরি করা হয়েছে।
- চৌম্বক কম্পাস একটি মুক্তভাবে ঘূর্ণনক্ষম চৌম্বক শলাকা দিয়ে গঠিত। চুম্বক শলাকার অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করা হয়।
- এছাড়াও মাইক্রোফোন ও স্পিকার, বৈদ্যুতিক মোটরে ইত্যাদিতে স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৪৩.
১ ক্যালরি তাপের মান প্রায় কত জুল?
  1. ২.১ জুল
  2. ৩.২ জুল
  3. ৪.২ জুল
  4. ৫.২ জুল
ব্যাখ্যা

• ১ ক্যালরি তাপের মান প্রায় ৪.২ জুল।

• তাপ ও তাপমাত্রা (Heat and Temperature):

• তাপ (Heat):
- তাপ এক প্রকার শক্তি।
- তাপের আদান–প্রদানের ফলে বস্তুর তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়।
- তাপ সর্বদা উচ্চ তাপমাত্রার বস্তু থেকে নিম্ন তাপমাত্রার বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাপের একক ক্যালরি (calorie) এবং জুল (joule)।
- ১ ক্যালরি ≈ ৪.২ জুল।
 
• তাপমাত্রা (Temperature):
- তাপমাত্রা দ্বারা কোনো বস্তুর গরম বা ঠান্ডা হওয়ার মাত্রা বোঝায়।
- তাপমাত্রা কোনো শক্তি নয়; এটি বস্তুর তাপীয় অবস্থার পরিমাপক।
- তাপমাত্রা পরিমাপের একক হলো—
- ডিগ্রি সেলসিয়াস (°C),
- কেলভিন (K)।
 
• তাপ ও তাপমাত্রার পার্থক্য:
- তাপ হলো শক্তি, কিন্তু তাপমাত্রা শক্তি নয়।
- তাপের প্রবাহ ঘটে, কিন্তু তাপমাত্রা প্রবাহিত হয় না।
- তাপ বস্তুর ভরের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু তাপমাত্রা ভরের উপর নির্ভরশীল নয়।

 উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১০,০৪৪.
হেপাটাইটিস হলে মানুষের শরীরের কোন অংশ ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারায়?
  1. পাকস্থলী
  2. লিভার
  3. বৃক্ক
  4. হৃদপিণ্ড
ব্যাখ্যা
হেপাটাইটিস:

- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। 
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃতের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দিতে শুরু করে। 
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 

• ভাইরাসের নাম- ধরণ- সংক্রমণের মাধ্যম:

• Hepatities A- RNA - পানি, দূষিত খাবার;
• Hepatities B- DNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
• Hepatities C- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
• Hepatities D- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম, লালা;
• Hepatities E- RNA- পানি, দূষিত খাবার।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,০৪৫.
কোনটি দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলের বৈশিষ্ট্য?
  1. দক্ষিণে প্রচন্ড শীত
  2. সারা বছর মধ্যম উষ্ণতা থাকে
  3. মকরক্রান্তি থেকে কুমেরু পর্যন্ত সূর্যরশ্মি তির্যক বা লম্বভাবে পড়া
  4. ককটক্রান্তি থেকে সুমেরুবৃত্ত পর্যন্ত সূর্যালোক লম্বভাবে বা তির্যকভাবে পড়া
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলের বৈশিষ্ট্য-
• দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণমন্ডল: দক্ষিণে ২৩১/২° হতে ৬৬১/২° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত এলাকাটি দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণমন্ডল বলে পরিচিত।
- এখানে সারা বছরই মধ্যম উষ্ণতা থাকে।
- এখানকার গড় তাপমাত্রা ০-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৪৬.
রক্তের কোন অংশ রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে?
  1. রক্তরস
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

- শ্বেত রক্ত কণিকা (White blood cells) শরীরকে সংক্রমণ এবং রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য দায়ী। তারা রোগজীবাণু (যেমন-ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক) শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠন করে। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে, এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৪৭.
গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য কোন বিজ্ঞানী পরিচিত?
  1. টাইকো ব্রে
  2. কেপলার
  3. নিউটন
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

• গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পরিচিত। এই পরীক্ষায় তিনি দেখান যে বায়ুর বাধা না থাকলে ভারী ও হালকা বস্তু একই হারে নিচে পড়ে। তৎকালীন ধারণা ছিল ভারী বস্তু দ্রুত পড়ে, কিন্তু গ্যালিলিও এই ভুল ধারণার বিরোধিতা করেন। তিনি পালক ও ভারী বস্তু একসঙ্গে ফেলেন এবং প্রমাণ করেন যে পতনের গতি ভরের ওপর নির্ভর করে না, বরং মাধ্যাকর্ষণের ওপর নির্ভরশীল। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

গিনি-পালক পরীক্ষা (Guinea–Feather Experiment):
- গিনি-পালক পরীক্ষা মূলত বস্তু পতনের সাথে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা।
- এই পরীক্ষায় একটি ভারী বস্তু (গিনি) এবং একটি হালকা বস্তু (পালক) একসাথে ফেলা হয়।
- সাধারণভাবে মনে করা হতো, ভারী বস্তু হালকা বস্তুর তুলনায় দ্রুত নিচে পড়ে।
- এই ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়।
- পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা হয় যে বায়ুর প্রতিরোধ না থাকলে ভারী ও হালকা বস্তু একই সময়ে ভূমিতে পৌঁছায়।
- অর্থাৎ, বস্তুর ভর নয়, বরং বায়ুর বাধাই পতনের গতিতে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
- এই ধারণা অ্যারিস্টটলের তত্ত্বের বিরোধিতা করে নতুন বৈজ্ঞানিক চিন্তার সূচনা করে।

পরীক্ষার সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞানী:
- গিনি-পালক পরীক্ষা পরিচালনা ও ব্যাখ্যার জন্য বিখ্যাত বিজ্ঞানী হলেন গ্যালিলিও গ্যালিলেই।
- তিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর গবেষণা গতি, মাধ্যাকর্ষণ এবং পরীক্ষাভিত্তিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে।
- সুতরাং, গিনি-পালক পরীক্ষার জন্য পরিচিত বিজ্ঞানী হলেন গ্যালিলিও।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

১০,০৪৮.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে? 
  1. অ্যারিস্টটল
  2. জোহান মেন্ডেল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. জন রে 
ব্যাখ্যা

দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন, যা শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন মৌলিক একক। 
- তিনি প্রাণিজগতের দ্বিপদ নামকরণ বা দুই অংশবিশিষ্ট নামকরণের নিয়ম প্রবর্তন করেন; তাই শ্রেণিবিন্যাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১০,০৪৯.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু কোনটি?
  1. টাংস্টেন
  2. হীরা
  3. তামা
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।
- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
১০,০৫০.
বিছাপোকার কোন অবস্থা মাসকালাইয়ের জন্য ক্ষতিকর?
  1. লার্ভা
  2. ডিম
  3. পিউপা
  4. পূর্ণ বয়স্ক অবস্থা
ব্যাখ্যা

মাসকালাই:
- মাসকালাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ডাল ফসল।
- এ ফসল গোখাদ্য ও সবুজ সার ফসল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
- সুনিষ্কাশিত উচ-নিচু সব ধরনের জমিতেই এ ফসল চাষ করা যায়।
- এর উন্নত ও স্থানীয় জাত রয়েছে।
- এ ফসল সারিতে বা ছিটিয়ে চাষ করা হয়।
- এ ফসলে জীবানু সার প্রয়োগ করা হলে ইউরিয়া সার দিতে হয় না।
- সঠিক পন্থায় ও ঠিক সময়ে পোকা ও রোগ দমন করে এ ফসলের ভালো ফলন নিশ্চিত করা যায়।
- জাতভেদে হেক্টরপ্রতি এ ফসলের ফলন ১.৫-২ টন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

⇒ বিছা পোকা:
- এ পোকার কীড়া/লার্ভা মাসকালাই ফসলের পাতা খেয়ে জালিকার মত করে ফেলে।
- এতে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়।
- এ পোকার কীড়াগুলো দলবদ্ধভাবে আক্রমন করে বিধায় হাত দ্বারা সংগ্রহ করে তা মেরে ফেলতে হবে।
- আক্রমনের তীব্রতা বেশি হলে সাইলারমেথ্রিন ইসি এক লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৫১.
সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ বেড়ে যায়?
  1. ভূমিকম্প
  2. ধুলিঝড়
  3. আগ্নেয়গিরি
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ফসল উৎপাদনে প্রভাব: 
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এশিয়ার দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। 
- প্রায়শই বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা সৃষ্টি হয়। 
- অধিকন্তু ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে। 
- বিশ্বব্যাংক বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে টার্ন ডাউন দ্য হিট: ক্লাইমেট রিজিওনাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড কেস ফর রেজিলিয়ান্স শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে উল্লেখ করেছে- প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় ডুবে যাবে। 
- তাপমাত্রা আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বন্যায় প্লাবিত এলাকার পরিমাণ ২৯ শতাংশ বাড়বে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সেন্টিমিটার বাড়লে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৫২.
জমির লবণাক্ততা নিয়িন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. কৃত্রিম সার প্রয়োগ
  2. পানি সেচ
  3. মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
  4. প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
- জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে পানি সেচ। 
- দুই-তিনবার স্বাদুপানির সেচ দিয়ে সেই পানি জমি থেকে বের করে দিলে জমির লবণাক্ততা অনেকটাই কমে যায়। 
- এটা একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। 
- লবণাক্ততার কারণে শুকনো মৌসুমে বিশেষ করে রবি ও খরিফ-১ মৌসুমে ফসল চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ে। 
- এ সময়ে মাটির লবণাক্ততা ৮.০ ডিএস/মি. এর উপরে চলে যায়। 
- এছাড়া এ সময়ে নদীর পানির লবণাক্ততা ২৫.০-৩০.০ ডিএস/মি. পর্যন্ত লক্ষ করা যায়। 

জমির উর্বরতা রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্যে করণীয় হলো: 
- ভূমিক্ষয় রোধ করা। 
- মাটিতে জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা। 
- মাটির অম্লমান নিয়ন্ত্রণ করা। 
- শিম জাতীয় উদ্ভিদের চাষ করা। 
- একই জমিতে একই ফসল বারবার চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করা। 
- পানি ও আগাছা ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং কৃষিশিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৫৩.
Which metal is commonly used for making electric bulb filaments?
  1. Silver
  2. Gold
  3. Tungsten
  4. Aluminum
  5. Copper
ব্যাখ্যা
• বৈদ্যুতিক বাল্ব:
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন ধাতু দিয়ে তৈরি। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ভেতরে দুই প্রান্তর সাথে সরু টাংস্টেনের তারের তৈরি কুণ্ডলী সংযুক্ত থাকে, একে ফিলামেন্ট বলে।
- এ বাল্বকে বিদ্যুৎ উৎসের সাথে সংযোগ করলে প্রচুর তাপ উৎপাদন করে এবং বাল্বের এই ফিলামেন্ট প্রজ্বলিত হয়ে আলো বিকিরণ করে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১০,০৫৪.
পাকস্থলীর প্রাচীরকে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কে রক্ষা করে? 
  1. গ্যাস্ট্রিন 
  2. মিউসিন 
  3.  লিপেজ 
  4. পেপসিন 
ব্যাখ্যা

পাকস্থলী: 
-বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলী। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলীর প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়।
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) পাকস্থলীতে জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- মিউসিন হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলীর প্রাচীরকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৫৫.
কোনটি মশলা হিসেবে পেঁয়াজের বিকল্প হতে পারে?
  1. লেমনগ্রাস
  2. ক্যাপসিকাম
  3. চিভ
  4. ব্রকোলি
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর: গ) চিভ।
- পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে যে উপাদানটি মশলার কাজ করতে পারে, সেটি এমন কিছু হওয়া উচিত যা স্বাদে বা গন্ধে কিছুটা পেঁয়াজের মতো।

অপশন আলোচনা:
- চিভ (গ): এটি একটি হালকা স্বাদের গুল্মজাতীয় মশলা, যা অনেকটা পেঁয়াজ বা রসুনের স্বাদের কাছাকাছি। এটি সাধারণত সালাদ, স্যুপ, বা ডিশের গার্নিশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই এটি পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
- লেমনগ্রাস (ক): এটি একটি সুগন্ধি গুল্ম যা সাধারণত থাই রান্নায় ব্যবহৃত হয়, তবে এটি পেঁয়াজের মতো স্বাদ বা গন্ধ দেয় না।

- ক্যাপসিকাম (খ): এটি মূলত একটি সবজি এবং স্বাদে মিষ্টি বা হালকা ঝাল হয়; পেঁয়াজের মতো নয়।
- ব্রকোলি (ঘ): এটি একটি সবজি এবং পেঁয়াজের সাথে এর স্বাদের কোনো মিল নেই।

- সুতরাং, চিভ-ই পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত মশলা।

সূত্র: prothomalo [লিংক]
১০,০৫৬.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে শব্দ শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. জেনারেটর
  2. উইন্ডমিল
  3. মাইক্রোফোন
  4. লাউড স্পিকার
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- লাউড স্পীকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা-  বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৫৭.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম-
  1. ট্যাকোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. গ্রাডিমিটার
ব্যাখ্যা

◉ উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- ট্যাকোমিটার। 

ট্যাকোমিটার (Tachometer) ঘূর্ণনশীল যন্ত্রের গতি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং একক হিসেবে RPM (Revolutions Per Minute) ব্যবহার করা হয়। এটি গাড়ি, ইঞ্জিন, মোটর, টারবাইন এবং উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও,
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার।
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১০,০৫৮.
ভেজা কাপড় বর্ষাকালের তুলনায় শীতকালে তাড়াতাড়ি শুকায় কেন?
  1. ক) শীতকালে আকাশে মেঘ থাকেনা বলে।
  2. খ) শীতকালে বর্ষাকালের চেয়ে বেশি রোদ থাকে।
  3. গ) শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে।
  4. ঘ) শীতকালে বায়ুপ্রবাহ বেশি থাকে।
ব্যাখ্যা

ভেজা কাপড় শুকানাে অর্থ কাপড়ের জলকণা বাষ্পায়নের মাধ্যমে উবে যাওয়া।
বর্ষাকালে বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে বাষ্পায়নের হার কমে যায়।
অন্য দিকে শীতকালে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলেও আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকে অর্থাৎ বাতাস শুকনাে থাকে ফলে জলকণার দ্রুত বাষ্পায়ন হয় এবং ভেজা কাপড় দ্রুত শুকায়।
সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রােগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১০,০৫৯.
একটি ওজোন অণুতে কয়টি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

একটি অক্সিজেন অণুতে থাকে ২টি অক্সিজেন পরমাণু।
আর একটি ওজোন অণুতে থাকে ৩টি অক্সিজেন পরমাণু।
ওজোন হলো অক্সিজেন এর একটি রূপভেদ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০,০৬০.
কোন তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেল সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে?
  1. 0 ডিগ্রী
  2. 4 ডিগ্রী
  3. 40 ডিগ্রী
  4. - 40 ডিগ্রী
ব্যাখ্যা

- সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
• C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]।
এখন,
সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/5 = (x - 32)/9
⇒ 9x = 5x - 160
⇒ 9x - 5x = - 160
⇒ 4x = - 160
⇒ x = - 40 
অতএব, - 40 ডিগ্রী তাপমাত্রায় ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০৬১.
কোনটি প্রাণির আচরণবিদ্যা?
  1. Ecology
  2. Ethology
  3. Entomology
  4. Toxicology
ব্যাখ্যা

Ecology (ইকোলজি):
- ইকোলজি হলো জীব ও তাদের পরিবেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের অধ্যয়ন।
- এখানে প্রাণী, উদ্ভিদ ও পরিবেশ একে অপরের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করা হয়।
- এটি প্রাণীর আচরণ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করে না, বরং পরিবেশগত সম্পর্কের উপর জোর দেয়।

• Ethology (ইথোলজি):
- ইথোলজি হলো প্রাণীর আচরণবিদ্যা।
- এতে প্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণ, অভ্যাস, প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক আচরণ নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করা হয়।
- প্রাণীরা কীভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে, শত্রুর হাত থেকে বাঁচে বা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে—এসব বিষয় ইথোলজির অন্তর্ভুক্ত।
- তাই প্রাণীর আচরণ অধ্যয়নের জন্য ইথোলজিই সঠিক বিজ্ঞান।

• Entomology (এনটোমোলজি):
- এনটোমোলজি হলো কীটপতঙ্গবিদ্যা।
- এতে পোকামাকড়ের গঠন, জীবনচক্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এটি শুধুমাত্র কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিজ্ঞান, সব প্রাণীর আচরণ নয়।

• Toxicology (টক্সিকোলজি):
- টক্সিকোলজি হলো বিষবিদ্যা।
- এতে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ জীবদেহে কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা করা হয়।
- এটি প্রাণীর আচরণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

- সুতরাং, প্রাণীর আচরণ নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে তা হলো - Ethology (ইথোলজি)।

সূত্র - sciencedirect journal.

১০,০৬২.
প্রাকৃতিক কোন উৎস থেকে সবচেয়ে বেশী মৃদু পানি পাওয়া যায়?
  1. সাগর
  2. বৃষ্টি
  3. হ্রদ
  4. নদী
ব্যাখ্যা
- প্রাকৃতিক কোন উৎস থেকে মৃদু পানির সবচেয়ে বড় উৎস হলো বৃষ্টির পানি। 
- সাগরের পানিতে লবণ থাকে বলে এটি মৃদু বা মিষ্টি পানির উৎস নয়। 
- নদীর পানি ও বিলের পানি মৃদু হলেও এসব মূলত বৃষ্টিপাতের উপরে নির্ভরশীল। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৬৩.
গ্রেইনিং বলতে বুঝায় -
  1. ক) ফুটন্ত সাবানে লবণের পানি ঢালা
  2. খ) সাবানকে ছাঁচে ফেলে আকৃতি দেয়া
  3. গ) সাবানকে ব্যাবহারের উপযোগী করা
  4. ঘ) সাবানে রঞ্জক ও সুগন্ধি মেশানো
ব্যাখ্যা

সাবান তৈরির বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কেটলি পদ্ধতি।

কেটলি পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে সাবান তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশাল আকৃতির লোহার কেটলি ব্যবহার করা হয়। প্রথমত নির্দিষ্ট পরিমাণের চর্বি কেটলিতে তাপের সাহায্যে গলানো হয়। তারপর এই উত্তপ্ত চর্বিতে অল্প অল্প কস্টিক সোডার দ্রবণ যোগ করতে হয়। এইভাবে সাবানায়ন প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ৩/৪ ঘণ্টা পরে মাখনের মত মসৃণ সাবানের লাই বা পেস্ট তৈরি হয়। সাবানের এই লাইয়ের সাথে মিশ্রিত থাকে গ্লিসারিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যাদি ।

মিশ্রিত দ্রব্যাদি থেকে সাবানকে পৃথক করার জন্য এই ফুটন্ত সাবানে আস্তে আস্তে লবণের দ্রবণ মিশাতে হয়। এতে সাবানের লাই আলাদা হয়ে যায়। লবণ মিশ্রিত পানির দ্বারা সাবানের লাই আলাদা করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্রেইনিং

সাবানের লাই আলাদা হতে থাকলে তাপ প্রয়োগ বন্ধ রাখা হয় এবং থিতান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেটলির তলায় গ্লিসারিন লবণের দ্রবণ এবং লাই জমা হয় ও কেটলি হতে বের করা হয়। কেটলিতে অবস্থিত সাবানকে বিশুদ্ধ করার জন্য সাবানকে আবার তাপ দিয়ে ফুটানো হয় এবং আস্তে আস্তে পানি যোগ করতে হয়। এই পানি সাবানে লেগে থাকা লবণ ও গ্লিসারিন দ্রবীভূত করে।

এভাবে কয়েকবার স্ফুটন ও ধৌত করণের পর কেটলিতে সাবানের তিনটি স্তর আলাদা হয়ে যায়। উপরের স্তরে পরিষ্কার সাবান, মধ্য ভাগে তীব্র ক্ষারীয় সাবান এবং সর্ব নিচে থাকে সাবান লাই এবং অন্যান্য দ্রব্যের মিশ্রণ। উপরের সাবানকে পাম্প করে আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৬৪.
পরিবাহিতার একক কোনটি? 
  1. সিমেন্স 
  2. ভোল্ট 
  3. ও’ম 
  4. কুলম্ব 
ব্যাখ্যা

পরিবাহিতা (Conductance): 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, কোনো পরিবাহীর স্থির তাপমাত্রায় দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য V থাকা অবস্থায় এর ভিতর দিয়েপরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ হলে ও'মের সূত্রানুসারে,
I ∝ V
বা, I = GV; এখানে G একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। 
- একে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা (conductance) বলে। 
- পরিবাহীতায় একক সিমেন্স (Siemens), একে সংক্ষেপে S দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তত বেশি। আবার একই বিভব পার্থক্যে যে পরিবাহীর ভিতর দিয়ে যত কম তড়িৎ প্রবাহিত হবে সে পরিবাহীর রোধ তত বেশি। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা তার রোধের মানের বিপরীত সংখ্যা। 
- উপাদান, তাপমাত্রা এবং আকার আকৃতির উপর পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা নির্ভর করে। 
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সকল পরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা হ্রাস পায়। 
- সকল ধাতুই উত্তম পরিবাহী কিন্তু একই আকার আকৃতির সকল ধাতুর তড়িৎ পরিবাহিতা সমান নয়। 
যেমন- রূপার তড়িৎ পরিবাহিতা সবচেয়ে বেশি, অপরদিকে জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদির তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ তাপমাত্রায় খুবই কম। 

অন্যদিকে, 
- ও’ম → এটি রোধের (Resistance) একক। 
- ভোল্ট → এটি ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য এর একক। 
- কুলম্ব → এটি আধানের (Charge) একক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৬৫.
নিচের কোন হ্যালোজেন এসিডটি বেশি শক্তিশালী?
  1. HI
  2. HBr
  3. HF
  4. HCl
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন এসিড:
- হ্যালোজেন গ্রুপের এসিডগুলোর শক্তি তাদের H—X বন্ধনের (Bond Strength) দুর্বলতা এবং হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) মুক্ত করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
- এসিডের শক্তি: HI > HBr > HCl > HF।
- HI হ্যালোজেন এসিডটি বেশি শক্তিশালী।
- হাইড্রোজেন এবং আয়োডিন পরমাণুর মধ্যে বন্ধন দীর্ঘ এবং দুর্বল, তাই এটি সহজেই H⁺ আয়ন মুক্ত করে।
- আয়োডিনের বড় পরমাণু ব্যাসার্ধ (Atomic Radius) থাকার কারণে এটি H⁺ আয়নকে সহজে আলাদা করতে পারে, যা এসিডের শক্তি বাড়ায়।
- হ্যালোজেন গ্রুপের নিচের দিকে নামার সাথে সাথে এসিডের শক্তি বাড়ে। কারণ বন্ধনের শক্তি দুর্বল হয় এবং H⁺ আয়ন সহজে মুক্ত হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০,০৬৬.
তাপ সঞ্চালনের প্রক্রিয়া কয়টি?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
তাপ সঞ্চালন: 
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে। 
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। 
যথা - 
১। পরিবহন, 
২। পরিচলন ও 
৩। বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৬৭.
চক্ষু গোলকের সবচেয়ে বাইরের স্তরের নাম কী?
  1. ক) কর্নিয়া
  2. খ) কনজাংটিভা
  3. গ) স্ক্লেরা
  4. ঘ) আইরিশ
ব্যাখ্যা
• চক্ষু গোলকের সবচেয়ে বাইরের স্তরের নাম স্ক্লেরা।

• স্ক্লেরা: স্ক্লেরা চক্ষু গোলকের সবচেয়ে বাইরের স্তর। এ স্তরটি সাদা, শক্ত এবং প্রধানত তন্তুময় যোজক কলা দ্বারা তৈরি। চক্ষু পেশি স্ক্লেরার সাথে সংযুক্ত থাকে।
- কাজ: স্ক্লেরা চোখের আকৃতি রক্ষা করে, চোখকে সংরক্ষণ করে এবং পেশি সংযুক্ত রাখে।

• কর্নিয়া: স্ক্লেরা আবরণীর সম্মুখ ভাগের স্বচ্ছ অংশের নাম কর্ণিয়া।
- কাজ: কর্নিয়ার মাধ্যমে চোখের ভেতরে আলো প্রবেশ করে।

• কনজাংটিভা: কনজাংটিভা নামক একটি পাতলা স্বচ্ছ পর্দা দ্বারা কর্ণিয়া আবৃত থাকে।
- কাজ: কনজাংটিভা চোখে ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ রোধ করে এবং কর্নিয়াকে রক্ষা করে।

• আইরিশ: কর্নিয়ার পিছনের কোরয়েডের বাড়ানো অস্বচ্ছ, মধ্য ছিদ্র যুক্ত ঘন কালো গোলকের পর্দাকে আইরিশ বলে।
- এটি কোরয়েড স্তরের পরিবর্তিত অবস্থা।
- কাজ: চোখে আলোর প্রবেশ বৃত্তাকার ও রেডিয়াল পেশি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৬৮.
শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কোনটি?
  1. ক) আলসার
  2. খ) শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া
  3. গ) নিদ্রাহীনতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

শব্দ দূষণ : অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে। আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১০,০৬৯.
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় -
  1. ক) পানির পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য।
  2. খ) পানিকে সুস্বাদু করার জন্য,
  3. গ) পানিতে মিশ্রিত অদ্রবণীয় কণাসমূহকে দ্রবীভূত করার জন্য।
  4. ঘ) ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।
ব্যাখ্যা
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।

- পানিতে ব্লিচিং পাউডার যোগ করলে উৎপন্ন ক্লোরিন বিভিন্ন জীবাণুকে জারিত করে মেরে ফেলে।
- পানিতে জীবাণু থাকলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে তা মেরে ফেলতে হবে, এ ক্ষেত্রে জীবাণুনাশক হিসেবে ক্লোরিন গ্যাস ও ব্লিচিং পাউডার অন্যতম।
- এ ছাড়া কিছু পদার্থ আছে, যেগুলো পানির জীবাণু মারার কাজে ব্যবহার করা হয়।

- বন্যার সময় বিশুদ্ধ পানির খুবই অভাব থাকে। আর বাড়ির চারপাশের পানিতে নানা ধরনের জীবাণু থাকে। ওই অবস্থায় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ট্যাবলেট বা কিট দেওয়া হয়্এ‌ তে থাকে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড। এর মধ্যে থাকা ক্লোরিন পানিতে থাকা জীবাণুগুলো জারিত করে মেরে ফেলে। বোতলজাত পানির কারখানায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: Centers of Disease Control and Prevention Website [লিঙ্ক]  
১০,০৭০.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপনহার সর্বোচ্চ?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইটোজেন
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেনের(H2) ব্যাপনহার সর্বোচ্চ।

• ব্যাপন:

- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- H2. He, N2, O2 এবং CO₂ গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H₂ এর আণবিক ভর কম, তাই H₂ এর ব্যাপন হার বেশি হবে।
এবং CO₂ এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO₂ এর ব্যাপন হার কম হবে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৭১.
রান্নার সিলিন্ডারে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. মিথেন
  2. বিউটেন
  3. হেক্সেন
  4. অকটেন
ব্যাখ্যা
• রান্নার সিলিন্ডারে প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়।

• LPG:

- রান্নার চুলার সিলিন্ডারে যে গ্যাস ব্যবহৃত হয়, তাকে বলা হয় এলপিজি (LPG – Liquefied Petroleum Gas)।

• এলপিজি মূলত দুটি গ্যাসের মিশ্রণ:
- ৩০% প্রোপেন, 
- ৭০% বিউটেন। 

বিউটেন হলো একটি হাইড্রোকার্বন, যার রাসায়নিক সংকেত C4H10
- এটি একটি স্যাচুরেটেড অ্যালকেন গ্যাস, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় গ্যাস কিন্তু চাপ প্রয়োগ করলে সহজেই তরলে রূপান্তরিত হয়।

• বিউটেন ব্যবহারের কারণ- 

- এটি তরল অবস্থায় সহজে সংরক্ষণযোগ্য, 
- দ্রুত জ্বলে, 
- প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে, 
- কম বিষাক্ত। 

তথ্যসূত্র:
- Bangladesh Petroleum Corporation (BPC). 
- ব্রিটানিকা। 
১০,০৭২.
মানুষের কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি(ধরণ)-
  1. ক) ব্যাসিলাস
  2. খ) কক্কাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) স্পাইরিলাম
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া হল আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান। ব্যাকটেরিয়া কোষগোলাকার, দন্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। দেহের আকার আকৃতির ভিত্তিতে একে নিম্নরূপে শ্রেণীবদ্ধকরা হয়:
কক্কাস: কোন কোন ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাসিলাস: এরা লম্বা দন্ডের ন্যায় দেখতে। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
কমা: এরা বাঁকা দন্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরণের।
স্পাইরিলাম: এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ামের আকৃতি প্যাঁচানো।
সূত্রঃ বিজ্ঞান ৭ম শ্রেণি।

১০,০৭৩.
মৌমাছির হুলে কোনটি থাকে?
  1. ফরমিক অ্যাসিড
  2. মেলিটিন
  3. অ্যাপামিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মৌমাছির হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ের জ্বালা কমানোর জন্য আমরা যে ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করি তা হলো জিংক কার্বোনেট।
- অনেকে বেকিং সোডাও ব্যবহার করে থাকেন।
- পিঁপড়ার কামড়ে মূলত ফরমিক অ্যাসিড থাকে।
- মৌমাছির হুলে ফরমিক অ্যাসিড, মেলিটিন, ও অ্যাপামিন নামক অ্যাসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়।
- যেকারনে  ঐ স্থান জ্বালা-পোড়া করে ও ফুলে যায়।
- এই অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করতে বিভিন্ন ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- মাটির অ্যাসিডিটি বাড়লে এর উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
- তাই মাটির উর্বরতাশক্তি ফেরাতে চুন (CaO), চুনা পাথর জাতীয় ক্ষারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
- মিল্ক অফ লাইম নামক ক্ষারীয় বস্তু পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়।

উৎস; সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৭৪.
ফোটনের বেগ কত?
  1. 0 m/s
  2. 3×106 m/s
  3. 3×108 m/s
  4. 3×1010 m/s
ব্যাখ্যা

ফোটন: 
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)। 
 
ফোটন কণার ধর্মসমূহ:   
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে, কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না। 
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। 
- ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৭৫.
এসির রিমোট কন্ট্রোল থেকে কোন আলো বের হয়?
  1. ক) রেডিও ওয়েভ
  2. খ) মাইক্রোওয়েভ
  3. গ) ইনফ্রারেড আলো
  4. ঘ) আল্ট্রা ভায়োলেট আলো
ব্যাখ্যা
ইনফ্রারেড আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি বলে আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না।
- টেলিভিশন বা এসির রিমোট কন্ট্রোল করার ইউনিট থেকে ইনফ্রারেড আলো বের হয় বলে আমরা সেখান থেকে আলো বের হতে দেখি না।
- মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলার জন্য সিসিডি নামক যে সংবেদনশীল আইসি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর সাহায্যে দৃশ্যমান আলোর সাথে সাথে খানিকটা ইনফ্রারেড আলোও দেখা যায়।

ইনফ্রারেড
- এটি এক ধরনের ওয়েভ যার ফ্রিকুয়েন্সী সীমা 300GHz থেকে 400THz হয়ে থাকে।
- খুব কাছাকাছি অবস্থিত দুইটিডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইনফ্রারেড ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের যোগাযোগে দুই প্রান্তে ট্রান্সমিটার ওরিসিভার থাকে।
- টেলিভিশন, ভিসিআর এ ব্যবহৃত রিমোট কন্ট্রোলে, বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ইত্যাদির ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১০,০৭৬.
মৌমাছির মধু ঋতু কোনটি?
  1. ক) গ্রীষ্মকাল
  2. খ) শরৎকাল
  3. গ) হেমন্তকাল
  4. ঘ) বসন্তকাল
ব্যাখ্যা
মৌমাছি উপকারী পতঙ্গের মধ্যে অন্যতম। প্রতি চাকে একটি রানী, কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি এবং অসংখ্য কর্মী মৌমাছি থাকে। মৌমাছি মূলত বসন্তকালের ফুল হতে মধু আহরণ করে। তাই মৌমাছির মধু ঋতু বলা হয় বসন্তকালকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৭৭.
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) এখন পর্যন্ত কয়টি মৌল স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. 120
  2. 118
  3. 108
  4. 112
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC):
 - আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
 - IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
 - 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
 - ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
 - মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১০,০৭৮.
​মানুষের শরীরের ওজনের কত শতাংশ ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত?
  1. ৮%
  2. ৫%
  3. ২%
  4. ১০%
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০৭৯.
নিচের কোনটি যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়।
  2. খ) স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে।
  3. গ) কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:

- তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়।
- মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়।
- মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না।
- তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে।
- স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে
- তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়।
- কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৮০.
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N ও ৫ N হলে তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত?
  1. ১ N
  2. ৩০ N
  3. √১১ N
  4. √৬১ N
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N ও ৫ N হলে তাদের লদ্ধি পরিমাণ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে, 
দুটি লম্বালম্বি শক্তির পরিমাণ ৬ N এবং ৫ N 
∴ তাদের লব্ধি পরিমাণ = √(৬ + ৫)
= √(৩৬ + ২৫)
= √৬১ N  ।

১০,০৮১.
"পরমাণু অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই" - মতবাদটি কে দিয়েছিলেন?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) রাদারফোর্ড
  3. গ) মেন্ডেলিফ
  4. ঘ) বোর
ব্যাখ্যা
ডাল্টনের পরমাণুবাদ:
১৮০৩ সালে ইংরেজ পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানী জন ডাল্টন পরমাণু সম্পর্কে একটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন যা ডাল্টনের পরমাণুবাদ নামে পরিচিত। তার প্রদত্ত পরমাণুবাদে মোট পাঁচটি স্বীকার্য আছে । এই স্বীকার্য পাঁচটি হলো–

১. পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণাসমূহ দ্বারা গঠিত, এই কণাগুলোর নাম পরমাণু।
২. একই পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য একই রকম হয়, ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ভিন্নরকমের হয়।
৩. পরমাণুসমূহ অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই।
৪. সরল পূর্ণসংখ্যক অনুপাতে বিভিন্ন পদর্থের পরমাণু সংযুক্ত হয়ে রাসায়নিক যৌগের সৃষ্টি করে।
৫. রাসায়নিক বিক্রয়াসমূহে পরমাণু সংযোজিত, বিভক্ত বা পুনর্বিন্যাসিত হয়।
১০,০৮২.
নিচের কোন দ্রবণের pH এর মান ৭ এর কম?
  1. পানি
  2. ভিনেগার
  3. কস্টিক সোডা
  4. চুনের পানি
ব্যাখ্যা

- অম্লীয় দ্রবণের pH এর মান ৭ এর কম। ভিনেগার হলো এসিটিক এসিডের ৫% জলীয় দ্রবণ। তাই ভিনেগারের pH এর মান ৭ এর কম।
- নিরপেক্ষ দ্রবণের pH এর মান হলো ৭। পানি একটি নিরপেক্ষ দ্রবণ।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH এর মান ৭ এর বেশি৷ কস্টিক সোডা এবং চুনের পানি হলো ক্ষারীয় দ্রবণ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০,০৮৩.
আকাশে উজ্জ্বলতম তারা কোনটি?
  1. প্রক্সিমা সেন্টারাই
  2. লুব্ধক
  3. পলিক্স
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা

• লুব্ধক (Sirius):
- লুব্ধক (Sirius) হল রাত্রিকালীন আকাশে দৃশ্যমান সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা।
- এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে।
- লুব্ধক আসলে একটি যুগল তারকা (binary star system), যেখানে Sirius A ও Sirius B নামে দুটি তারা রয়েছে।

অন্যদিকে,
- প্রক্সিমা সেন্টারাই পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র।
- (প্রক্সিমা সেন্টরাই (Proxima Centauri) হল পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র, যদি আমরা সূর্যকে গণনার বাইরে রাখি।)

- ডিমোস মঙ্গল গ্রহের একটি উপগ্রহ।
- পলিক্স এটি Gemini তারামণ্ডলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১০,০৮৪.
কোন উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না? 
  1. সুপারি
  2. সাইকাস
  3. আম
  4. জাম
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

২। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১০,০৮৫.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিধ্বনির মধ্যে সময় ব্যবধান ন্যূনতম কত হতে হবে? 
  1. ০.১ সেকেন্ড 
  2. ০.৫ সেকেন্ড 
  3. ১.০ সেকেন্ড 
  4. ১.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৮৬.
বাংলাদেশের কৃষি মৌসুম কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. তিনটি মৌসুমে
  2. দুটি মৌসুমে
  3. চারটি মৌসুমে
  4. একটি মৌসুমে
ব্যাখ্যা

• কৃষি মৌসুম: 
• কৃষি ঋতু তিনটি। 
যথা-
- রবি (শীতকাল), 
- খরিপ-১ (গ্রীষ্মকাল) ও 
- খরিপ-২ (বর্ষাকাল)। 

• ঋতু ভেদে ফসল উৎপাদনে ভিন্নতা দেখা যায়।
- যেমন- শীতকালে, শাক সবজি ও গ্রীষ্মকালে ফলমূলের উৎপাদন বেশি হয়।
- বিশেষ করে জৈষ্ঠ্য মাসে দেশীয় নানা সুমিষ্ট ফলমূলের সমাহার বেশি থাকে বলে একে মধু মাসও বলা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ৭ম শ্রেণি।

১০,০৮৭.
ঊর্ধ্বপাতন ঘটে না কার?
  1. ক) নিশাদল
  2. খ) কর্পূর
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) বরফ
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় তাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। নিশাদল, কর্পূর, আয়োডিন, কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইডের বেলায় এরকম হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১০,০৮৮.
নিচের কোন রোগ নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়? 
  1. চোখের ছানি
  2. নিউমোনিয়া
  3. ডায়াবেটিস
  4. ম্যালেরিয়া
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray): 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম, এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন, তাই এক্সরে রঞ্জন রশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিম্নে দেওয়া হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্তথলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়, এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৮৯.
সালফারের অভাবে গাছের টিস্যু ধ্বংস বা মারা যাওয়া কী নামে পরিচিত? 
  1. হাইপোক্সিয়া
  2. ফোটোসিন্থেসিস
  3. ডাইব্যাক
  4. ক্লোরোসিস
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৯০.
সূর্য পৃথিবী হতে কত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে?
  1. ক) ১২০ মিলিয়ন
  2. খ) ১৩০ মিলিয়ন
  3. গ) ১৪০ মিলিয়ন
  4. ঘ) ১৫০ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা
সূর্য পৃথিবী হতে ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে।

সূর্যের বয়স প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর, একটি নক্ষত্র যা হাইড্রোজেন এবং হিলিয়ামের সমন্বয়ে গঠিত। সূর্যের আকারটি কার্যত গোলাকৃতির। মহাবিশ্বের অন্যান্য নক্ষত্রের মতো, সূর্য প্রায় সম্পূর্ণ আকারে গোলাকার। আমরা যদি আমাদের গ্রহ থেকে দেখি তবে আমরা একটি নিখুঁতভাবে বিজ্ঞপ্তি ডিস্ক দেখতে পারি। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের অভ্যন্তরে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে এর থেকে তাপ ও আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। এই বিক্রিয়ায় জ্বালানি হিসেবে কাজ করে হাইড্রোজেন। 

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট। 
১০,০৯১.
সার কারখানায় ব্যবহৃত হয় না কোন এসিড?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) নাইট্রিক এসিড
  4. ঘ) ফসফরিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলাে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলাে সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৯২.
ডেটলের মূল উপাদান কোনটি?
  1. ক্লোরাল
  2. ক্লোরোবেনজিন
  3. ক্লোরোজাইলিনল
  4. বেনজিনহেক্সাক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
ডেটল (Dettol): 
- 'Dettol' হলো জীবাণুনাশক ও পচনরোধক; স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষাকারী একটি বাণিজ্যিক প্রোডাক্ট। 
- বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান Reckitt Benckister 'অ্যান্টিসেপটিক ক্লিনিং প্রোডাক্ট' রূপে- এ 'Dettol' প্রথম বাজারজাত করে। 
- ডেটলের রাসায়নিক সক্রিয় উপাদানটি হলো 4-ক্লোরো-3, 5- ডাইমিথাইল ফেনল। 
- ডেটলের অপর নাম ক্লোরোজাইলিনল (Chloro-xylenol) যা ডেটলের মূল উপাদান, এটি একটি জীবাণুনাশক। 
- এছাড়া আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, পাইন অয়েল, কাস্টর-অয়েল সোপ, সুগন্ধ বস্তু ও পানি ডেটলে থাকে।

ডেটল-মিশ্রণের সংযুক্তি: 
(১) ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) বা 4-ক্লোরো-3,5-ডাইমিথাইল ফেনল 4.8% (w/v), 
(২) আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল 13.1% (v/v), 
(৩) পাইন তেল বা টারপিনিওল (9.9% v/v, 
(৪) অবশিষ্ট সাবান পানি ও সুগন্ধ মিলে 72.2% v/v. 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
১০,০৯৩.
বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় কত হলে তা সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়? 
  1. ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি
  2. ৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি
  3. ৪৫ কিলোমিটার বা তার বেশি
  4. ৫৮ কিলোমিটার বা তার বেশি
ব্যাখ্যা

সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০৯৪.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিধ্বনির মধ্যে সময় ব্যবধান ন্যূনতম কত হতে হবে? 
  1. ০.৩ সেকেন্ড
  2. ০.১ সেকেন্ড
  3. ১.১ সেকেন্ড
  4. ১.০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৯৫.
কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন গ্যাসটি নিজে জ্বলে অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না
- অক্সিজেন গ্যাসটি নিজে জ্বলে না কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসটি নিজে জ্বলে না, অন্যকে জ্বলতেও সাহায্য করে না। 

উৎস: ব্রিটানিক। 
১০,০৯৬.
কোনটি রক্তের কাজ নয় -
  1. কলা থেকে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ গ্রহণ করা
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
  3. হরমোন বিতরণ করা
  4. জারক রস বিতরণ করা
ব্যাখ্যা
- রক্তের কাজ নয়- জারক রস বিতরণ করা। 

রক্তের উল্লেখযোগ্য কাজ হলো - 
• অক্সিজেন পরিবহন করা, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করা, 
• খাদ্যসার পরিবহন করা, 
• তাপের সমতা রক্ষা করা, 
• বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করা, 
• হরমোন পরিবহন করা, 
• রোগ প্রতিরোধ করা, 
• রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৯৭.
গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি > গতি শক্তি
  2. খ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি < গতি শক্তি
  3. গ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি = গতি শক্তি
  4. ঘ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি ≅ গতি শক্তি
ব্যাখ্যা
• আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে।  এ দুটি শক্তি পরস্পর বিপরীতমুখী। তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

• কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি > গতি শক্তি। 
• তরল পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি ≅ গতি শক্তি।
• গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি < গতি শক্তি। 

আন্ত:কণা আকর্ষণ শক্তি:
পরমাণু সামগ্রিকভাবে তড়িৎ নিরপেক্ষ হলেও এতে কতকগুলো চার্জ বাহী মৌলিক কণা যেমন- ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে। এ দুটি কণা পরস্পর বিপরীত চার্জ বহন করে। এ কারনে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর অবস্থান, আবেশ ও বিন্যাসের উপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট অণুর দুপ্রান্তে ধনাত্নক ও ঋণাত্নক আধান বা চার্জের উদ্ভব ঘটে। ফলে কখনো ডাইপোল-ডালপোল জাতীয় শক্তিশালী আকর্ষণ এবং কখনো ভ্যান ডার ওয়ালস জাতীয় দুর্বল আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়। এ ধরনের অন্তর্নিহিত বলকে পদার্থের আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি বা আন্তআণবিক বল বলা হয়। সাধারণভাবে ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর দূরত্ব ও বিন্যাসের উপর এই বলের মান নির্ভর করে। এ বলের কারনে বস্তুর ক্ষুদ্রতম কণাগুলো পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে। এ বলের মান যথেষ্ট বেশি হলে বস্তুর ভৌত অবস্থা কঠিন হয়, অপেক্ষাকৃত কম হলে ভৌত অবস্থা তরল এবং যথেষ্ট কম হলে বস্তুর ভৌত অবস্থা গ্যাসীয় হয় ।

গতিশক্তি:
পরমশূন্য তাপমাত্রা ব্যতীত যে কোন তাপমাত্রায় সকল পদার্থের অণুসমূহে তিন ধরণের গতি বিরাজ করে। যথা:
(১) চলমান গতি (translational motion),
(২) ঘূর্ণায়মান গতি (rotational motion) এবং
(৩) কম্পন গতি (vibrational motion).

অণুসমূহ এ সকল গতিবেগের কারনে যে শক্তি লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতি শক্তির মান বেড়ে যায়। উল্লেখ্য যে শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান শূন্য হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৯৮.
সময়ের ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে বস্তুর সরণের হারকে কী বলা হয়?
  1. গড় বেগ
  2. সুষম বেগ
  3. অসম বেগ
  4. তাৎক্ষণিক বেগ
ব্যাখ্যা
বেগ (Velocity): 
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ (Average Velocily): 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ (Instantaneous Velocity): 
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে।

মধ্যবেগ (Mean Velocity): 
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

সুষমবেগ (Uniform velocity): 
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সুষমবেগ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সুষমবেগ বলে। 
যেমন: শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

অসম বেগ (Non-uniform Velocity): 
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসম বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৯৯.
যকৃত থেকে নিঃসৃত রসটির নাম কী? 
  1. পিত্তরস
  2. অ্যামাইলেজ
  3. লাইপেজ
  4. পেপসিন
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

যকৃতের কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,১০০.
আধুনিক পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি কী? 
  1. পরমাণু ভর 
  2. পরমাণু সংখ্যা 
  3. নিউট্রনের সংখ্যা 
  4. ইলেকট্রনের ভর 
ব্যাখ্যা

আধুনিক সারণিতে পদার্থগুলোকে তাদের পরমাণু সংখ্যার (Atomic Number, Z) ক্রমে সাজানো হয়।
- আধুনিক পর্যায় সারণি (Periodic Table) ডেমিত্রি মেন্ডেলিভের সারণির উন্নত রূপ।
- এর ফলে একই গ্রুপে থাকা উপাদানগুলোর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য একই ধরনের হয়।
- সমান পর্যায়ে থাকা উপাদানগুলোর পরমাণুর আকার ও বৈশিষ্ট্য ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়।

অতীতে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে পরমাণু ভরের ভিত্তিতে সাজানো হতো, কিন্তু এতে কিছু অমিল দেখা গিয়েছিল। আধুনিক সারণিতে পরমাণু সংখ্যা ব্যবহৃত হওয়ায় সব অমিল দূর হয়েছে।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]