বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০০ / ১৪০ · ৯,৯০১১০,০০০ / ১৪,০৮০

৯,৯০১.
ভর বর্ণালী বিক্ষেপণ পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায় -
  1. আধান
  2. পরমাণুর ভর
  3. অণুর ভর
  4. তড়িৎ প্রবাহ
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর: 
- পরমাণু ও অণু এত ক্ষুদ্র যে বিজ্ঞানীগণের পক্ষে এদের প্রকৃত ভর সরাসরি পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। 
- তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষভাবে (ভর বর্ণালী বিক্ষণ পদ্ধতিতে) পরমাণুর ভর পরিমাপ করে দেখেছেন যে, হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 0.167×10-23 গ্রাম এবং কার্বনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 1.992×10-23 গ্রাম। 
সুতরাং, পরমাণুর প্রকৃত ভরের এ মানগুলো এত ক্ষুদ্র যে রাসায়নিক গণনার ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার করা বেশ অসুবিধাজনক। 
- তাই কোন একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে প্রমাণ (Standard) ধরে তার সাপেক্ষে অন্যান্য মৌলের পরমাণু কতগুণ ভারী তা নির্ণয় করা হয়। একেই সংশ্লিষ্ট মৌলের পরমাণুর আপেক্ষিক ভর বলা হয়। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরকে প্রমাণ হিসাবে ধরে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর গণনা করা হতো। 
- বর্তমানে একটি কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে প্রমাণ ধরে বিভিন্ন পরমাণুর আপেক্ষিক ভর গণনা করা হয়। 
অর্থাৎ, কোন মৌলের (আপেক্ষিক) পারমাণবিক ভর = {মৌলটির একটি পরমাণুর ভর/একটি কার্বন-১২ পরমাণু ভরের (১/১২) অংশ}। 
- কার্বন-12' আইসোটোপের ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে অ্যাটমিক মাস ইউনিট (atomic mass unit সংক্ষেপে amu) বলা হয়। 
1 amu = 1.66×10-24 গ্রাম। 
- আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয়। 
- পর্যায় সারণিতে পরমাণুসমূহের যে পারমাণবিক ভর দেয়া হয়েছে তা সকলই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর। 
- কোনো পরমাণুর আইসোটোপ না থাকলে সেগুলোর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ও ভর সংখ্যা সমান হয়। 

অন্যদিকে, 
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের জন্য অ্যামিটার ব্যবহৃত হয়। 
- তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে কোনো বস্তুতে উপস্থিত আধানের অস্তিত্ব নির্ণয় করা হয়। 
- অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যা ব্যবহার করে কোনো পদার্থের একটি অণুর ভর নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯০২.
'সেরিকালচার' সম্পর্কিত নিচের কোনটি?
  1. পাখি পালন
  2. মৎস্য চাষ
  3. মৌমাছি চাষ
  4. রেশম চাষ
ব্যাখ্যা

সেরিকালচার (Sericulture): 
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো সেরিকালচার (Sericulture)।
- ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম।
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে।
- এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়। এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়।
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ আরোও কিছু আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- বাণিজ্যিকভাবে উদ্যান বিষয়ক বিদ্যাকে বলে হর্টিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি চাষ করাকে এপিকালচার বলে। 
- বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে এভিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে পিসিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে প্রণকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে মেরিকালচার।  

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৯০৩.
রক্তের কোন কণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• লিউকেমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

• শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC এর তুলনায় অনেক কম।
- রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯০৪.
কোনটির অভাবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হতে পারে?
  1. ভিটামিন- এ
  2. ভিটামিন- কে
  3. ভিটামিন- ডি
  4. সেলেনিয়াম
ব্যাখ্যা

- ভিটামিন- এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হতে পারে।
- ভিটামিন- কে এর অভাবে শরীরে রক্ত তঞ্চন (কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধা) প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়।
- ভিটামিন- ডি এর অভাবে রিকেটস ও অস্টিওম্যালাসিয়া রোগ হতে পারে।
- সেলেনিয়ামের অভাবে শিশুদের Kashin-Beck disease হতে পারে।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি এবং Encyclopedia Britannica

৯,৯০৫.
রক্ত জমাট বাধায় অংশ নেয়-
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত  এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
রক্তের উপাদান দুটি— রক্তরস এবং রক্তকণিকা। রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং 8-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
রক্তকণিকা তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকণিকা (RBC), শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) এবং অণুচক্রিকা (Blood platelet)।
শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়।
অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধায় অংশ নেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
৯,৯০৬.
জ্যাক কেলবি কোনটির সাহায্যে আইসি তৈরি করেন?
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) রেজিস্টর
  3. গ) ক্যাপাসিটর
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৯,৯০৭.
ক্ষার হতে হলে কোন শর্তগুলি পূরণ করতে হবে?
  1. যৌগে OH⁻ মূলক থাকতে হবে
  2. যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে
  3. ক) ও খ) উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে-
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 

- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক।
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 
• টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৯০৮.
বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপের যন্ত্র কোনটি?
  1. গ্যালভানোমিটার
  2. ভোল্টমিটার
  3. ওহমমিটার
  4. অ্যামিটার
ব্যাখ্যা
• অ্যামিটার:
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক: Ampere (A)
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের যন্ত্র: অ্যামিটার

• গ্যালভানোমিটার:

- এটি খুবই সংবেদনশীল যন্ত্র, যা কারেন্টের উপস্থিতি ও দিক দেখায়।
- তবে এটি সরাসরি কারেন্টের পরিমাণ (Ampere) মাপে না।
- এটা সাধারণত ডিটেকশন বা সেন্স করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

• ভোল্টমিটার:
- এটি ভোল্টেজ (Voltage) পরিমাপ করে।
- অর্থাৎ বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য মাপার যন্ত্র।

• ওহমমিটার:
- এটি রোধ (Resistance) পরিমাপ করে।
- একক: ওহম (Ω)

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯,৯০৯.
একটি Optical fiber নিচের কোনটির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. Polarization
  2. Total internal reflection
  3. Diffraction
  4. Refraction
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবারের ভিতরে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total internal reflection ) এর মাধ্যমে ডাটা স্থানান্তরিত হয়।
- অপটিক্যাল ফাইবার হচ্ছে খুব সরু এবং নমনীয় কাচ তন্তু।
- আলো বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।
- আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৯,৯১০.
মানব-ক্লোনিং নিষিদ্ধ করেছে কোন সংস্থা?
  1. ILO
  2. EU
  3. IMF
  4. OECD
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং:
- প্রাকৃতিক ক্লোন হলো একটি জীব অথবা একদল জীব যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ জননের দ্বারা।
- এদের ধরন হয় মাতৃ জীবের ন্যায়।
- একটি কোষ বা কোষগুচ্ছ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং তাদের প্রকৃতি মাতৃকোষের ন্যায় হয়, তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশিরভাগ প্রোটোজোয়া এবং ঈস্ট, ছত্রাক ক্লোনিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করে তার প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
- কোনো কোনো কোষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবাদ মাধ্যমে রেখে বিভাজন ঘটিয়ে এতে উৎপন্ন করা হয় একগুচ্ছ একই ধরনের কোষ।
- আবার কোনো অণুজীব উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর অনুরূপ অনেক জীব উৎপাদন করাকে ক্লোনিং বলে।

⇒ ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই ক্লোনিং পদ্ধতিতে ডলি নামের এক ভেড়ার জন্ম হয় গবেষণাগারে।
- তবে ১৯৯৬ সালে সফলভাবে প্রথম ক্লোন করা প্রাণীর জন্ম দেওয়া গেলেও ক্লোনিং নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেছিলেন সেই ১৯৫০-এর দশক থেকে।

⇒ পৃথিবীর প্রথম ক্লোন মানব শিশুর জন্ম হয় ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
- প্রথম ক্লোন মানব শিশুটির নাম দেয়া হয় ইভ।

উল্লেখ্য,
⇒ ক্লোনিং এর মাধ্যমে মানব শিশু জন্মদানের নৈতিক দিক বিবেচনা করে জাতিসংঘ ১২ ডিসেম্বর, ২০০১ সালে সাধারন পরিষদের বৈঠকে একটি বিল উত্থাপন করে।
- সেখানে মানব ক্লোন গবেষণা নিষিদ্ধ করার পক্ষে ৮৪টি দেশ, বিপক্ষে ৩৪টি দেশ এবং ৩৭টি দেশ নিরপেক্ষ ভোট দেয়।
- এভাবে ক্লোনিং নিষিদ্ধ আইন পাশ করা হয়।
- এভাবে ৮ মার্চ, ২০০৫ সালে জাতিসংঘ মানব ক্লোনিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

এছাড়াও,
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) স্পষ্টভাবে মানব ক্লোনিংকে নিষিদ্ধ করে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকারের সনদের অনুচ্ছেদ ৩-এ ইউরোপীয় কাউন্সিলের দ্বারা গৃহীত মানবাধিকার ও বায়োমেডিসিন কনভেনশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে, মানুষের প্রজনন ক্লোনিং নিষিদ্ধ।
- যদিও এই সনদ মানব ব্যতীত অন্য ক্লোনিংকে নিষিদ্ধ করে না।

উৎস: i) European Union Agency for Fundamental Rights. [link]
ii) UN ওয়েবসাইট। [link]
৯,৯১১.
উড়োজাহাজের বডি তৈরিতে কোন সংকর ধাতু ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নাইটিনল
  2. খ) ক্রায়োলাইট
  3. গ) ডুরালমিন
  4. ঘ) গান মেটাল
ব্যাখ্যা
উড়োজাহাজের বডি, বাইসাইকেলে পার্টস ইত্যাদিতে সংকর ধাতু ডুরালমিন ব্যবহৃত হয়৷
ডুরালমিনে আছে ৯৫% এলুমিনিয়াম, ৪% কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও লোহা ১%৷

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৯,৯১২.
মোটরগাড়ির হেডলাইটে কিরূপ দর্পণ ব্যবহার করা হয় ?
  1. ক) উত্তল
  2. খ) অবতল
  3. গ) সমতল
  4. ঘ) গোলতল
ব্যাখ্যা

কিছু গাইড বইতে ভুল দেয়া থাকতে পারে।
গাড়ির হেডলাইটে উত্তল লেন্স এবং অবতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, উত্তল লেন্সের ব্যবহার গাড়ির রিয়ার ভিউ মিররেও হয়।

অবতল দর্পণের ফোকাসে একটি বাল্ব রাখা থাকে। বাল্বটি জ্বললে উৎপন্ন অপসারী আলােকরশ্মি অবতল দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে সমান্তরাল আলােকরশ্মি গুচ্ছ পরিণত হয় এবং অনেক দূর পর্যন্ত যায়। এর ফলে চালক রাতের অন্ধকারে অনেক দূরের বস্তু কে দেখতে পায়।

নিচের ডায়াগ্রাম দেখুন -

৯,৯১৩.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ? 
  1. ক্লোরিন 
  2. ব্রোমিন 
  3. হাইড্রোজেন
  4. অক্সিজেন 
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ (Oxidant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- SO2, O2, Cl2, Br2, HNO3, H2SO4, H2O2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ (Reductant): 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S, H2O2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য যে, 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

৯,৯১৪.
বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব-
  1. মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি
  2. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  3. কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:

• জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিম্নে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও যেসব প্রভাব পড়বে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।

১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,৯১৫.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. পর্যায়কাল
  3. বিস্তার
  4. দশা
ব্যাখ্যা
• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায় কাল বলে।
পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।

• কম্পাঙ্ক: তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
• বিস্তার: তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যেকোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 
• দশা: তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থাকে তার দশা বলে। 

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯১৬.
তরঙ্গের বেগ (v) নির্ণয় করার সূত্র কোনটি? 
  1. v = λ × f × T
  2. v = λ × T 
  3. v = λ / T
  4. v = T / λ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের স্পন্দনশীল একটি কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। 
- তরঙ্গের অতিক্রান্ত এই দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ । 
- আর পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে বলা হয় পর্যায়কাল। 
- পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, T সেকেন্ডে তরঙ্গে অতিক্রান্ত দূরত্ব λ । 
∴ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হবে λ/T । 

- কোনো বস্তুর একক সময়ে অর্থাৎ 1 সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বেগ, v = λ/T 
বা, v = (1/T) × λ 
∴ v = fλ [যেহেতু পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে, f = 1/T] । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯১৭.
রেশম পোকার কোন অংশ থেকে রেশম সুতা আহরণ করা হয়? 
  1. ডিম
  2. লার্ভা
  3. ডানার খোলস
  4. কোকুন
ব্যাখ্যা
সেরিকালচার (Sericulture): 
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে।
- এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়। এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়।
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো Sericulture। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম।
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়
- তুঁত গাছ চাষ ও রেশম পোকার লার্ভা পালন ছাড়াও এ পোকার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল রেশম পোকা উদ্ভাবন করা আধুনিক রেশম চাষের অন্তর্ভুক্ত।
- এই দেশের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯১৮.
কোন গ্রহের আকার এবং আকৃতি অনেকটা পৃথিবীর সাথে মেলে?
  1. মঙ্গল
  2. শুক্র
  3. ইউরেনাস
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে পৃথিবীর যমজ গ্রহ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ এটির আকার এবং আকৃতি অনেকটা পৃথিবীর সাথে মেলে।
- এটির গঠনও অনেকটা একই রকমের।
- শুক্র গ্রহে বিশাল পাহাড়, সমতল ভূমি ও অনেক আগ্নেয়গিরি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য,
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) প্রথম আলো।
৯,৯১৯.
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ?
  1. ক) পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
  2. খ) দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
  3. গ) সংঘবদ্ধ-ঘনকাকার
  4. ঘ) সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠন (Sodium Chloride Structure):
- সোডিয়াম ক্লোরাইড কেলাসে Na+ আয়ন ও CI- আয়নসমূহ স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ দ্বারা সুবিন্যস্থ থাকে।
- গোলক আকারের এসব আয়নের ব্যাসার্ধ যথাক্রমে 95 ও 181 pm (পিকোমিটার, 1 x 10-12m)।
- এক্ষেত্রে ক্যাটায়ন (Na+) ও অ্যানায়ন (Cl-) এর ব্যাসার্ধ অনুপাত হল (95 ÷ 181) = 0.525, যা ব্যাসার্ধ-অনুপাত নিয়মে 0.4140.72 এর মধ্যে অবস্থিত।
- সুতরাং ব্যাসার্ধ অনুপাত ও ক্যাটায়নের সন্নিবেশ সংখ্যার সম্পর্ক মতে, Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা হল 6 ও NaCl এর কেলাস গঠন হবে অষ্টতলকীয়।
- বাস্তবে দেখা যায় যে, উভয় আয়নের গোলকের ব্যাসার্ধ অনুসারে একই তলে Na+ আয়নের চারদিকে চারটি CI- আয়ন স্পর্শ করে থাকে, কিন্তু নিজেরা বিকর্ষণের কারণে স্পর্শ করে না।
- একই তলে এ পাঁচটি আয়ন থাকে এবং ঠিক উপরে ও নিচে আরো দুটি Cl- আয়ন অবস্থান নিতে পারে।
- এ ছয়টি CI- আয়ন ও একটি Na+ আয়নের কেন্দ্রের অবস্থানকে দেখানো হয়েছে; এতে Na+ আয়নটি একটি অষ্টতলকের কেন্দ্রে এবং ছয়টি CI- আয়ন ঐ অষ্টতলকের ছয়টি শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত।
- সুতরাং এ গঠনে Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা 6 হয়েছে।
- স্থূল সংকেত NaCl অনুসারে প্রতিটি CI- আয়নের চারদিকে ছয়টি Na+ আয়ন থাকতে হবে, তাই CI- আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যাও 6 হবে। 
- এ ছয়টি Na+ আয়ন ও একটি সুষম অষ্টতলক সৃষ্টি করে, যার কেন্দ্রে CI- আয়নটি অবস্থিত।
- এ প্রকার Na+ আয়ন কেন্দ্রিক ও Cl- আয়ন কেন্দ্রিক অসংখ্য অষ্টতলক কেলাস জালিতে বিন্যস্ত হয়ে পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকীয় NaCl এর কেলাস
গঠন করে।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৯,৯২০.
প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া কেমন হয়?
  1. সমান ও বিপরীতমুখী
  2. সমান ও একইমুখী
  3. অসমান ও বিপরীতমুখী
  4. অসমান ও একইমুখী
ব্যাখ্যা

• সমান ও বিপরীতমুখী — নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার বিপরীতে সমান মানের ও বিপরীত দিকের প্রতিক্রিয়া থাকে।

• নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র:
- প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া দুটি ভিন্ন বস্তুর উপর ক্রিয়া করে।
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া একই সরলরেখায় কিন্তু বিপরীতমুখী।

• সূত্রের বৈশিষ্ট্য:
- ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মান সমান।
- দিক বিপরীত।
- একই সময়ে ঘটে।
- একই বস্তুর উপর নয়, পৃথক বস্তুর উপর ক্রিয়া করে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

৯,৯২১.
নিচের কোন উপাদান হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে?
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. ভিটামিন সি
  4. ক্যালসিয়াম
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। 
- হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। 
- রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। 
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস খাদ্যের উৎস: ম্যাকরেল মাছ, স্যামন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, সয়া মিল্ক, দুধ, মাশরুম, চিজ, কমলালেবুর রস ইত্যাদি। 

উলেখ্য, 
অপশনে শুধুমাত্র ক্যালসিয়াম উল্লেখ আছে কিন্তু ফসফরাস নেই। তাই সঠিক উত্তর হবে ক্যালসিয়াম। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯২২.
পৃথিবীকে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধ দুটি সমান অংশে ভাগ করেছে কোন রেখা? 
  1. মেরুরেখা 
  2. বিষুবরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. গ্রিনিচ রেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখাঃ 
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে। একে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা।
- বিষুবরেখা পৃথিবীকে উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধ দুটি সমান অংশে ভাগ করেছে।

মেরুরেখাঃ
- পৃথিবীর গোলাকৃতি কেন্দ্র দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত রেখাকে অক্ষ বা মেরুরেখা বলে।
- এই অক্ষের উত্তর প্রান্তবিন্দু হলো উত্তর মেরু বা সুমেরু এবং দক্ষিণ প্রান্তবিন্দু হলো দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

৯,৯২৩.
দুটি আহিত বস্তুকে কোন পদার্থ দ্বারা যুক্ত করলে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয় না?
  1. অপরিবাহী 
  2. সুপরিবাহী 
  3. পরিবাহী
  4. অর্ধপরিবাহী 
ব্যাখ্যা

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে। 

অর্ধপরিবাহী: 
- যে পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি অর্থাৎ যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
- পরিবাহী এবং অর্ধপরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- অর্থাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯২৪.
নিচের কোন যুগলটি সঠিক নয়?
  1. সেরিকালচার : রেশম পোকা পালন
  2. পিসিকালচার : মৎস চাষ
  3. এপিকালচার : মৌমাছি পালন
  4. হারপেটোলজি : ঝিনুক চাষ
ব্যাখ্যা
- Sericulture, the production of raw silk by means of raising caterpillars (larvae), particularly those of the domesticated silkworm (Bombyx mori).
- Fish farming or pisciculture involves commercial breeding of fish, usually for food, in fish tanks or artificial enclosures such as fish ponds.
- Beekeeping (or apiculture) is the maintenance of bee colonies, commonly in man-made hives, by humans. Most such bees are honey bees in the genus Apis, but other honey-producing bees such as Melipona stingless bees are also kept.
- Herpetology is the scientific study of amphibians and reptiles.

সুতরাং, অপশন ঘ) তে প্রদত্ত হারপেটোলজি : ঝিনুক চাষ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সূত্র: Encyclopedia Britannica.
৯,৯২৫.
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে কী বলা হয়?
  1. ক) নিম্নচাপ
  2. খ) আর্দ্রতা
  3. গ) মেঘ
  4. ঘ) শিশির
ব্যাখ্যা
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বলা হয় আর্দ্রতা। বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ০.৪১ শতাংশ।
- জলীয়বাষ্পহীন বায়ু শুষ্ক বায়ু নামে পরিচিত।
- কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন বায়ু যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে বায়ুতে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকলে তাকে পরিপৃক্ত ও সম্পৃক্ত বায়ু বলে।
- ভূপৃষ্ঠের তাপ বিকিরণের ফলে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুর জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলবিন্দুতে পরিণত হয় যা শিশির নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,৯২৬.
লোহিত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) দ্বি-অবতল
  2. খ) নিউক্লিয়াসযুক্ত
  3. গ) হিমগ্লোবিনযুক্ত
  4. ঘ) উৎপত্তিস্থল অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াসবিহীন
- এতে হিমগ্লোবিন নামক রঞ্জন পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণির ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে।
- তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

- মোটামুটি গড় হিসেবে: বিভিন্ন বয়সের মানব দেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা হচ্ছে-
ভ্রূণ দেহে: ৮০-৯০ লাখ,
শিশুর দেহে: ৬০-৭০ লাখ,
পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দেহে: ৪.৫ - ৫.৫ লাখ এবং
পূর্ণ বয়স্ক নারীর দেহে: ৪ - ৫লাখ

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯,৯২৭.
গ্রিনিচ মান সময়ের সঙ্গে আমাদের সময়ের পার্থক্য-
  1. ক) ৬ ঘন্টা
  2. খ) ৮ ঘন্টা
  3. গ) ১০ ঘন্টা
  4. ঘ) ৫ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
Bangladesh Standard Time is 6 hours ahead of Greenwich Mean Time ( GMT+6 ). Bangladesh Daylight Saving Time is 7 hours ahead of Greenwich Mean Time ( GMT+7 ).
Source: greenwichmeantime.com
৯,৯২৮.
মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম-
  1. সেরেবেলাম
  2. হাইপোথ্যালামাস
  3. থ্যালামাস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানুষের মস্তিষ্ক: 

• স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক।
• প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
• মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনজেস।
• একটি পূর্নাঙ্গ স্নায়ু কোষকে নিউরন বলে।
• মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে।

উল্লেখ্য, 
• মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
• এটি মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
• দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
• খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
• প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।


Image Source: প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯২৯.
রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত?
  1. 10-10 m থেকে 10-19 m
  2. 10-8 m থেকে 10-13 m
  3. 10-11 m থেকে 10-19 m
  4. 10-4 m থেকে 10-11 m
ব্যাখ্যা
এক্স-রে বা রঞ্জন রশ্মি:
- এটি এক ধরনের তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ। সাধারণ আলোর সঙ্গে এক্স-রের পার্থক্য হলো তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে।
- বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- এজন্য তিনি ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- এটি বিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম নোবেল পুরস্কার।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

এক্সরের ধর্ম:
• এক্সরে সরল পথে গমন করে।
• এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
• এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
• এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
• এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
• আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
• এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
• এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
• এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই ।
• এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
• এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
• এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
• এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৩০.
এক্স-রে কোন মাধ্যমকে আয়নিত করে?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
এক্স-রে 
- জার্মান বিজ্ঞানী রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্স-রে তথা রঞ্জন রশ্মি আবিস্কার করেন। 
- এই আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার পান। 
- এক্স-রে এক ধরনের চার্জহীন বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ (যে তরঙ্গ তার চলার পথে তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত বা বিচ্যুত হয় না)।
- এটি সরলপথে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রে তৈরীর প্রক্রিয়া হলো কুলীজ নল পদ্ধতি।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে বিকিরণ পরিমাপ করার জন্য যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে রন্টজেন বলা হয়। 

এক্স-রের ব্যবহার :
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায় ৷
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়।
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয় ৷
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।

-  তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে এক্স-রে সাধারনত ২ ধরনের হয়: 
১) কোমল এক্স-রে,
২) কঠিন এক্স-রে।
-  এক্স-রে যন্ত্রে প্রযুক্ত বিভব পার্থক্য বেশি হলে যে এক্স-রে উৎপাদিত হয় তাকে কঠিন এক্স-রে বলে। 
- কম বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করে যে এক্স-রে পাওয়া যায় তাকে কোমল এক্স-রে বলে। 

তথ্যসূত্র - HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
৯,৯৩১.
রক্তে শতকরা কত শতাংশ রক্ত কণিকা থাকে?
  1. 50%
  2. 55%
  3. 45%
  4. 40%
ব্যাখ্যা
রক্তের প্রধান উপাদান গুলো হল রক্ত রস এবং রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের 55 শতাংশ রক্তরস এবং বাকি 45 শতাংশ রক্তকণিকা
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
৯,৯৩২.
প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- 
  1. তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  2. কঠিন ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে
  3. কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
  4. কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
প্যাসকেলের সূত্র: 
- প্যাসকেলের সূত্র (Pascal's Law) হলো পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি যা তরলের গতিবিদ্যা (fluid dynamics) এর অন্তর্গত। 
- এই সূত্রটি প্রথম ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেজ প্যাসকেল প্রস্তাব করেছিলেন। 
- প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- বায়বীয় ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে। 

প্যাসকেলের সূত্রটি নিম্নরূপ: 
- "কোনো আবদ্ধ তরলের মধ্যে চাপের পরিবর্তন হলে, সেই পরিবর্তনটি তরলের সব দিকেই সমানভাবে সঞ্চারিত হয়"। 
- এই সূত্রটি গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়- 
P = F/A 
এখানে, 
- P হলো চাপ (Pressure), 
- F হলো বল (Force), 
- A হলো ক্ষেত্রফল (Area). 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৯৩৩.
স্টিফেন হকিং একজন-
  1. দার্শনিক
  2. পদার্থবিদ
  3. রসায়নবিদ
  4. কবি
ব্যাখ্যা
স্টিফেন হকিং:
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- A Brief History of Time.

উল্লেখ্য, 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – 'A Brief History of Time'.

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯,৯৩৪.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা

যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় আইসোবার। 

• আইসোবার:
- 'Iso' অর্থ সমান এবং 'bar' শব্দটি ওজন বা ভরকে বোঝায়। তাই আইসোবার হলো সেইসব পরমাণু, যারা ভিন্ন মৌলের হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভর সংখ্যা A, অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান।
- কার্বন-14 এবং নাইট্রোজেন-14 হলো আইসোবার। উভয়ের ভর সংখ্যা 14 হলেও তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (6 এবং 7) ভিন্ন।
- যেহেতু এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন:
- এদের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ও ভর সংখ্যা (A) উভয়ই ভিন্ন হয়।

• আইসোটোপ:
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন হয়।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা, গঠন, ও ধর্ম ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস:
১। রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি। 
২। পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।

৯,৯৩৫.
ম্যাক্সওয়েল কত সালে আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন?
  1. ১৮৬৪ সালে
  2. ১৮৭৪ সালে
  3. ১৮৮৪ সালে
  4. ১৮৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৩৬.
শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে জামাকাপড় পরিষ্কার করার সময় শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটে? 
  1. আলোক শক্তি → শব্দ শক্তি 
  2. তড়িৎ শক্তি → আলোক শক্তি 
  3. রাসায়নিক শক্তি → তাপ শক্তি 
  4. শব্দ শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে। 
- এ মহাবিশ্বে নানা ঘটনা প্রবাহ চলছে শক্তির রূপান্তর আছে বলে। 
- শক্তি একরূপ থেকে একাধিকরূপে রূপান্তর হলেও মহাবিশ্বের মোট শক্তির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। 
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- এখানে কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হলো- 
১। যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর: 
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

২। বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর: 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৩। তাপ শক্তির রূপান্তর: 
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়। 

৪। আলোক শক্তির রূপান্তর: 
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৫। রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর: 
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারি কাজ করা যায়। 
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৬। শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

৭। চৌম্বক শক্তির রূপান্তর: 
- একটি লোহার টুকরোকে দ্রুত ও বারবার চুম্বকন ও বিচুম্বকন করলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

৮। নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর: 
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়। 
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৩৭.
Which atom does not contain any neutrons?
  1. Chlorine
  2. Hydrogen
  3. Oxygen
  4. Carbon
  5. None of these
ব্যাখ্যা

• সাধারণ হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- হাইড্রোজেনের সবচেয়ে সাধারণ আইসোটোপ হলো প্রোটিয়াম। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১। আমরা জানি যে - কোনো পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা বের করার সূত্র হলো:
নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা)
- প্রোটিয়ামের ক্ষেত্রে: ১ - ১ = ০। অর্থাৎ, এর নিউক্লিয়াসে কোনো নিউট্রন থাকে না।
অন্যদিকে, 
- ক্লোরিন, অক্সিজেন এবং কার্বন প্রত্যেকটি মৌলের নিউক্লিয়াসকে স্থিতিশীল রাখার জন্য এবং পারমাণবিক ভর গঠনের জন্য অবশ্যই নিউট্রন প্রয়োজন।

• মৌলিক কণিকা:
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে।
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 g।
- আপেক্ষিক আধান শূন্য।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৩৮.
স্ব-পরাগায়নের সুবিধা কোনটি?
  1. ক) বীজ অধিক জীবনী শক্তি সম্পন্ন হয়
  2. খ) প্রজাতির গুনাগুন অক্ষুন্ন থাকে
  3. গ) বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বেশি হয়
  4. ঘ) নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
স্ব-পরাগায়ন : স্ব- পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়।
এর ফলে উৎপন্ন নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না। ফলে প্রজাতির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।

পর-পরাগায়ন : পর-পরাগায়নের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এ সব গাছের নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়। 

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৩৯.
কোনো বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে- 
  1. স্থির থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে যাবে 
  4. আংশিক ভাসবে
ব্যাখ্যা

- যদি কোনো বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হয়, তাহলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে, কারণ বস্তুর ওপর নিচের দিকে ক্রিয়াশীল ওজন (মহাকর্ষ বল) উপরের দিকে ক্রিয়াশীল প্লবতা বল (অপসারিত পানির ওজন) থেকে বেশি হয়, ফলে বস্তুটি ডুবে যায়। 

আর্কিমিডিসের সূত্র: 

- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে- 
• W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
• W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
• W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৪০.
শুষ্ক কোষে ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) দস্তার চোঙ
  2. খ) কার্বন দণ্ড
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা
টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমােট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় সেগুলােকে ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
সাধারণ ড্রাইসেলে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানােড হিসেবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দণ্ড ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে।

সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি। 
৯,৯৪১.
কোন তড়িৎদ্বারে জারণ (Oxidation) ক্রিয়া ঘটে? 
  1. ধাতব পাতে 
  2. অ্যানোডে
  3. ক্যাথোডে 
  4. ইলেকট্রোলাইটে 
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৪২.
ইউরেনাস সম্পর্কিত কোন তথ্যটি ভুল?
  1. সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ
  2. একে সবুজ গ্রহ বলা হয়
  3. সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ
  4. এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস আছে
ব্যাখ্যা
• ইউরেনাস:
- ইউরেনাস একটি অত্যন্ত ঠান্ডা এবং শীতল গ্রহ।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।

• বুধ হলো সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৯,৯৪৩.
কোনটির আক্রমণে ‘এমিবিক আমাশয়’ হয়ে থাকে?
  1. ক) ব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়া
  2. খ) এন্টামিবা
  3. গ) অ্যামিবা
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
আমাশয় রোগ সাধারণত দু’ধরণের, যথা- এমিবিক ও ব্যাসিলারি। ব্যাসিলারি আমাশয়ের কারণ হিসেবে এক ধরণের ব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়াকে দায়ী করা হয়। এন্টামিবা নামক এক ধরণের এককোষী প্রাণীর আক্রমণে এমিবিক আমাশয় হয়ে তাকে। খালি চোখে এদের দেখা যায় না। এদের দেহের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নাই কারণ এরা অ্যামিবার ন্যায় আকার ও আকৃতি সর্বদাই পরিবর্তন করতে থাকে। এদের দেহ স্বচ্ছ জেলীর ন্যায় । কখনও কখনও প্রতিকুল পরিবেশে এরা গোলাকার শক্ত আবরণে নিজেদের দেহ ঢেকে রাখে। এ অবস্থায় একে সিস্ট বলে। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৭ম শ্রেণি।
৯,৯৪৪.
মানুষের জিহ্বা আসলে কী?
  1. ক) বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি
  2. খ) এক ধরনের অর্ধকঠিন যোজক কলা
  3. গ) রূপান্তরিত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
  4. ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
ব্যাখ্যা

জিহ্বা আসলে বেশ কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বিত রূপ। হাইপোগ্লোসাল নামক করোটিক স্নায়ু জিহ্বাতে উপস্থিত বেশিরভাগ পেশির সঞ্চালনের জন্য দায়ী।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯,৯৪৫.
পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে তড়িৎ প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. বিভব
  2. তাপমাত্রা
  3. রোধ
  4. পরিবাহিতা
ব্যাখ্যা

রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

রোধের নির্ভরশীলতা: 
- কোনো পরিবাহীর রোধ এর তাপমাত্রা, উপাদান, দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 
- স্থির তাপমাত্রায় ও একই উপাদানে কোনো পরিবাহীর রোধ এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের উপর নির্ভর করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৪৬.
নিচের কোনটি সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে? 
  1. নিউট্রন
  2. অণু
  3. পরমাণু
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা 'পরমাণু' যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের একটি ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন—হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
৪. বিভিন্ন প্রকার পরমাণুর সংখ্যা সীমিত। 
৫. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৯৪৭.
নিচের কোনটি ইলেকট্রনিকসের শুরু হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ভিএলএসআই
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ভ্যাকুয়াম টিউব
  4. প্রসেসর
ব্যাখ্যা
- ১৮৮৩ সালে এডিসন দেখেছিলেন লাইট বাল্বের ভেতরে ফিলামেন্ট থেকে অন্য একটি ধাতব প্লেটে ফাঁকা জায়গা দিয়েও বিদ্যুৎ পরিবহন হতে পারে। 
- এই প্রক্রিয়াটি এডিসন ক্রিয়া (Edison Effect) নামে পরিচিত। 
- ১৯০৪ সালে জন ফ্লেমিং এডিসন ক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে প্রথম দুই ইলেকট্রোডের একটি ভ্যাকুয়াম টিউব তৈরি করেন যেটি রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করত অর্থাৎ পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎপ্রবাহকে একদিকে প্রবাহিত করত। 
- এই ভ্যাকুয়াম টিউবটিকে ইলেকট্রনিকসের শুরু হিসেবে বিবেচনা করা যায়। 
- এই সময় রেডিও তরঙ্গ দিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ শুরু হয়েছিল এবং গুগলিয়েলমো মার্কনির রেডিও তরঙ্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই ধরনের একটি ভ্যাকুয়াম টিউবের খুব প্রয়োজন ছিল।

উল্লেখ্য,
১৯৪৭/৪৮ সালে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের ফলে ইলেক্ট্রনিকস্‌ - শিল্পে বিপ্লব আসে।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি; পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই ও ব্রিটানিকা। 
৯,৯৪৮.
শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ পূর্ণ হলে কোন টিকা দিতে হয়?
  1. হিব
  2. হেপাটাইটিস-বি
  3. ডিপিটি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হবে জন্মের প্রথম বছরেই সবগুলাে টিকা দেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ।
- শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হামের টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। 
- ১৫ বছর বয়স হলেই সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টিকা দেয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডােজ টিটি টিকা নেয়া শেষ করতে হবে। 
- ১-৫ বছর বয়সী শিশুকে ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
৯,৯৪৯.
রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে কোনটি?
  1. হিস্টামিন
  2. লিম্ফোসাইট
  3. ফ্যাগোসাইটোসিস
  4. হেপারিন
ব্যাখ্যা
• "হেপারিন" রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে।

• শ্বেত রক্তকণিকা:

- শ্বেত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম leucocytes.
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি ঘন মি. লি. রক্তে প্রায় ৬০০০টি বিভিন্ন ধরনের শ্বেত কণিকা থাকে।
- শ্বেতকণিকা আকারে লোহিত কণিকা অপেক্ষা বড়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে।
- রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার অনুপাত সাধারণত ৫০০:১।
- শ্বেত কণিকা লোহিত অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হতে উৎপন্ন হয়।

• সাইটোপ্লাজমের গঠনের ভিত্তিতে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. দানাদার শ্বেত কণিকা
২. অদানাদার শ্বেতকণিকা

•  মানবদেহে শ্বেত কণিকার কাজ:
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষণপদের সাহায্যে রোগ-জীবাণুকে ভক্ষণ করে ধ্বংস করে।
- লিম্ফোসাইট তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, এজন্য এদেরকে দেহের আণুবীক্ষণিক সৈনিক বলে।
- বেসোফিল নিঃসৃত হেপারিন রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে।
- এন্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিস্টামিনের মাধ্যমে এলার্জিক বিক্রিয়া হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৯,৯৫০.
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত হাবলের সূত্র কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. মহাবিশ্ব সংকুচিত হচ্ছে
  2. মহাবিশ্ব স্থির এবং অপরিবর্তনীয়
  3. গ্যালাক্সিগুলো পরস্পরের দিকে ধাবিত হচ্ছে
  4. গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ: 
- ১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল (Edwin Hubble) তার 2.5 m টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। 
- দূরবর্তী গ্যালাক্সি এর নক্ষত্র থেকে আসা আলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, নক্ষত্রের বর্ণালীর ফ্রনহকার কালো রেখাগুলো ধীরে ধীরে লাল বর্ণের দিকে সরে যাচ্ছে। 
- ডপলার ক্রিয়ার মাধ্যমে এ থেকে সিদ্ধান্ত আসা যায় যে, দূরবর্তী গ্যালাক্সি বা গ্যালাক্সিগুচ্ছ আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। 
- ১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। 
- তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত। 
- হাবলের সূত্রনুসারে- 'গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি'। 

- হাবল প্যারামিটার এর গ্রহণযোগ্য মান ব্যবহার করে মহাবিশ্বের বয়স 14×109 y বা ১৪০০ কোটি বছর নির্ণয় করতে পারে। 
- আবার pc বা পারসেক (parsec) হচ্ছে মহাবৈশ্বিক দূরত্ব পরিমাপের একক। 
- সূর্য বা পৃথিবীর মধ্যকার গড় দূরত্বকে এক অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিট (AU) বলে। 
• 1 AU = 1.495×108 km. 
- 1 AU দৈর্ঘ্যের কোনো চাপ (arc) যে দূরত্বে ঠিক এক সেকেন্ডে কোণ উৎপন্ন করে সেই দূরত্বকে 1 pc বা এক পারসেক বলে। 
• 1 pc = 3.261 y = 3.0857×1013 km বা Mpc (mega parsec) = 106 pc = 3.0857×1019 km. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৫১.
প্রস্বেদন কত প্রকার?
  1. ৫ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ২ প্রকার
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদনের প্রকারভেদ:
- প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা-
• পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন।
• কিউটিকুলার প্রস্বেদন।
• লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

• পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পত্ররন্ধ্র প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায়।
- উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে।
- শিরা ও উপশিরার মধ্য দিয়ে পানি প্যালিসেড প্যারেনকাইমা এবং স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষ সমূহে পৌঁছায়।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে সংঘটিত হয় বলে এ ধরনের প্রস্বেদনকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলা হয়।

• কিউটিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের কান্ড এবং পাতার বহিঃত্বকের উপর কিউটিন এর আবরণকে কিউটিকল বলা হয়।
- উদ্ভিদকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করাই এর কাজ। কিউটিকল পাতলা হলে কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে।
- এটাই কিউটিকুলার প্রস্বেদন ।

• লেন্টিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদদেহে সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে কান্ডের বাইরের আবরণ কোন কোন জায়গায় ফেঁটে যায়।
- এতে কান্ডের ভেতরের কোষ বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত হয়। এ উন্মুক্ত জায়গাগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়।
- লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে ভেতরের টিস্যু থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে।
- এটাই লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৫২.
পচা ডিম পানিতে ভাসে কেন?
  1. ক) তুলনামূলক ভাবে ঘনত্ব কম
  2. খ) তুলনামূলক ভাবে ঘনত্ব বেশি
  3. গ) তুলনামূলক ভাবে ওজন কম
  4. ঘ) তুলনামূলক ভাবে ওজন বেশি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পচা ডিমের ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়েও কম তাই এটি পানিতে ভাসে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৯৫৩.
মানুষের মুখবিবরে কোন খাদ্য উপাদানটির পরিপাক ঘটে?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহপদার্থ
  3. গ) প্রোটিন
  4. ঘ) শর্করা
ব্যাখ্যা
পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৫৪.
লোহিত রক্তকোষের প্রধান উৎপাদন স্থান কোনটি? 
  1. প্লীহা 
  2. কিডনি 
  3. লিভার 
  4. অস্থিমজ্জা 
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকোষ দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়, এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কোষ প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ, এ কারণে লোহিত কোষ অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- পরিণত লোহিত কোষগুলোর বিভাজন হয় না, এ কোষগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 
- মানুষের লোহিত কোষের গড় আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকোষগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কোষগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কোষ প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কোষ রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- লোহিত কোষের প্রধান কাজ হলো- 
১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা। 
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। 
৩. হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৯৫৫.
কলেরা রোগের জন্য সাধারণত  কোন জীবাণু দায়ী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা

- কলেরা কলেরা রোগের জন্য সাধারণত  ব্যাকটেরিয়া দায়ী।

- কলেরা:
- কলেরা একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholera নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ:
- হটাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া।
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা।
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা করা।
- ভ্যাকসিন (Oral cholera vaccine- OCV) গ্রহণ 
- ORS (Oral rehydration salts) দ্রুত প্রয়োগ।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৫৬.
কোন রশ্মির মাধ্যমে সর্বপ্রথম পরমাণুর গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়?
  1. আলফা রশ্মি 
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
পরমাণুর গঠন  এবং আলফা (α) রশ্মি 
- আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত সৌর মডেল প্রদান করেন।
- আলফা (α) কণা বা রশ্মি বিক্ষেপণ করে তিনি সর্বপ্রথম পরমাণুর গঠন সম্পর্কে ধারণা দেন।

আলফা (α) রশ্মি 
- আলফা কণা হলো তেজস্ক্রিয় বিকিরণে নির্গত ধনাত্বক আধানযুক্ত কণা বা রশ্মি।
- একটি আলফা কণার আধান = + ৩.২×১০-১৯ কুলম্ব।
- একটি আলফা কণা মূলত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস বা দ্বি আয়নিত হিলিয়াম পরমাণু (He2+)।
- এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়।
- আলফা কণার আয়নিত করার ক্ষমতা বিটা ও গামা কণার তুলনায় যথাক্রমে ১০০ ও ১০০০ গুণ বেশী।

তথ্যসূত্র - HSC পদার্থবিজ্ঞান , শাহজাহান তপন।
৯,৯৫৭.
নিচের কোন বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) সূচক পুরুষদের সঠিক ওজন নির্দেশ করে?
  1. ক) < ১৮.৫
  2. খ) ১৮.৫ - ২৪.৯
  3. গ) ২৫ - ২৯.৯
  4. ঘ) >৩০
ব্যাখ্যা



সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৯,৯৫৮.
নিচের কোনটিতে প্রধানত ইনফ্রারেড ডিভাইস ব্যবহার করা হয়?
  1. ল্যাপটপে
  2. TV রিমোট কন্ট্রোলে
  3. ম্যানে
  4. মোবাইল ফোনে
ব্যাখ্যা
• TV রিমোট কন্ট্রোলে সাধারণত ইনফ্রারেড ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।

• ইনফ্রারেড:
- ইনফ্রারেড হল এক ধরনের তরঙ্গ যার ফ্রিকুয়েন্সী সীমা 300 GHz থেকে 400 THz পর্যন্ত বিস্তৃত।
- খুব কাছাকাছি অবস্থিত দুইটি ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইন্ফ্রারেড ব্যবহার করা হয়।
- এ ধরনের যোগাযোগে দুই প্রান্তে ট্রান্সমিটার ও রিসিভার থাকে।
- টেলিভিশন এবং ভিসিআর এর রিমোট কন্ট্রোলে ইনফ্রারেড ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, বিভিন্ন ডিভাইসে যেমন কী-বোর্ড, মাউস এবং প্রিন্টার ওয়্যারলেস কমিউনিকেশনে ইনফ্রারেড প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৫৯.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. মিউরেট অব পটাশ
  2. জৈব সার
  3. টি, এস, পি
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া:

- নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।
- ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে।
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয়ে ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন-১ম পত্র, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ ঊন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৬০.
সালোক সংশ্লেষণ ঘটে-
  1. সবুজ পাতায়
  2. সবুজ কাণ্ডে
  3. সবুজ শাখা প্রশাখায়
  4. উপরের সবকটিতে
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।

- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে:
(১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।

- সালোক সংশ্লেষণ সাধারণত উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গে যেখানে ক্লোরোফিল আছে সেখানে ঘটে।
- যেমন: পাতা, সবুজকাণ্ড, শাখাপ্রশাখা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- মূল মাটির নিচে থাকে এবং এটি উদ্ভিদের অসবুজ অংশ তাই এখানে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯,৯৬১.
পূর্ণ স্পন্দনের সময়কালকে কী বলে?
  1. ক) পর্যায়কাল
  2. খ) কম্পাঙ্ক
  3. গ) গতি
  4. ঘ) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

কোন কম্পনশীল বস্তু একটি পূর্ণ দোলন সম্পূর্ণ করতে যে সময় লাগে,তাকে দোলনকাল বলে ।
সরল দোলকের একটি পূর্ণ দোলনের যে সময় লাগে, তাই দোলনকাল অথবা,পর্যায়কাল বলে।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।

৯,৯৬২.
একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ক) সিন্যাপস
  2. খ) ডেনড্রাইট
  3. গ) অ্যাক্সন
  4. ঘ) সোমা
ব্যাখ্যা
দেহের বিশেষ সংবেদী কোষ নিউরন বা স্নায়ুকোষগুলো একত্রে স্নায়ু টিস্যু গঠন করে৷ স্নায়ু টিস্যু অসংখ্য নিউরন দিয়ে গঠিত৷

একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে৷ যথা:
i) কোষদেহ এবং
ii) প্রলম্বিত অংশ।

প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:
i) ডেনড্রাইট এবং
ii) অ্যাক্সন।

পরপর দুটি নিউরনের সন্ধিস্থলে অর্থাৎ প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়, তাকে সিন্যাপস (Synapse) বলে।
সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৯৬৩.
জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. অন্যান্য নক্ষত্রের আকর্ষণ 
  2. পৃথিবীর ঘূর্ণন
  3. চন্দ্রের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ
  4. সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি, ফলে জোয়ার ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বা চাঁদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। 
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৬৪.
নিচের কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. নমনীয়তা 
  2. তাপ নিরোধকতা 
  3. ঘাতসহনীয়তা 
  4. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা 
ব্যাখ্যা

- ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়- তাপ নিরোধকতা, কারণ ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সহজে পরিবাহন করতে পারে, তাই তারা তাপ নিরোধক নয়। তাপ নিরোধকতা হলো এমন পদার্থের ধর্ম, যা তাপ প্রবাহে বাধা দেয় যেমন- কাঠ, কাচ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 

ধাতু-অধাতু: 

- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৬৫.
ফটো-ভোল্টেইক সেলের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে কোনটি ঘটে?
  1. ক) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) তাপশক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) তড়িৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
ফটো-ভোল্টেইক সেলের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোর ক্রিয়ার ফলে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৯৬৬.
ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে আই সি (IC) ব্যবহারের সুবিধা কী?
  1. খুব কম জায়গা দখল করে
  2. সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনীর তুলনায় খরচ কম
  3. অধিকতর নির্ভরযোগ্যতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমন্বিত বর্তনী ব্যবহারে সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনী অপেক্ষা অনেক বেশী সুবিধা পাওয়া যায়। নীচে সুবিধাগুলো দেয়া হলো-
১। সমন্বিত বর্তনী অতি উচ্চ মাত্রার নির্ভরযোগ্য বর্তনী।
২। সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনীর তুলনায় অত্যন্ত কম জায়গা দখল করে।
৩। সমন্বিত বর্তনী ব্যবহার করলে সাধারণ ইলেকট্রনিক বর্তনীর চেয়ে অনেক কম খরচ পড়ে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৬৭.
আলোর গতি ও বেতার তরঙ্গের গতি __
  1. সমান নয়
  2. সমান
  3. আলোর গতি বেশি
  4. বেতার তরঙ্গের গতি বেশি
ব্যাখ্যা
• আমরা সূর্য থেকে আলো এবং তাপ পাই। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ।
বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মি, গামারশ্মি, তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গের উদাহরণ।
আলো একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ
- ১৮৬২ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করেন তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ধ্রুব দ্রুতিতে গমন করতে পারে।       
- ১৮৬৪ সালে তিনি আলোর তাড়িতচৌম্বক তত্ত্বের অবতারণা করেন।

তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের ধর্ম:
যদিও বিভিন্ন তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের উৎস বিভিন্ন এবং তাদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে বিরাট পার্থক্য বর্তমান কিন্তু কিছু কিছু ধৰ্ম বা মৌলিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এদের মধ্যে মিল আছে। এসব বৈশিষ্ট্য হল :
১. তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোন জড় মাধ্যমের প্রয়োজন নেই।
২. তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণ মুক্ত স্থানে (free Space) আলোর দ্রুতিতে (3×108 ms- 1) অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার দ্রুতিতে সরল রেখায় গমন করে। মুক্ত স্থান বলতে এখানে ভ্যাকুয়াম বা বায়ু শূন্য স্থান বোঝানো হয়েছে।

• যেহেতু আলো একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ এবং বেতার তরঙ্গও তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ এবং তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণ মুক্ত স্থানে (free Space) আলোর দ্রুতিতে (3×108 ms- 1) গমন করে তাই বলা যায় আলোর গতি ও বেতার তরঙ্গের গতি সমান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান (এসএসসি), পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৯,৯৬৮.
অপটিক্যাল ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. গামা রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. অতিবেগুনি রশ্মি
  4. অবলোহিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- বর্তমামে পৃথিবীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক তারের বদলে অত্যন্ত সরু কাচের তন্তুর ব্যবহার বেড়ে গেছে। 
- আগে যেখানে বৈদ্যুতিক সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হতো এখন সেখানে আলোর সংকেত দিয়ে তথ্য পাঠানো হয়। 
- মুক্ত অবস্থায় আলো সরলরেখায় যায় কিন্তু ফাইবারে আলো আটকা পড়ে যায় বলে সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে যেকোনো দিকে নেওয়া সম্ভব। 
- অপটিক্যাল ফাইবার অত্যন্ত সরু কাচের তন্তু। 
- এর ভেতরের অংশকে বলে কোর এবং বাইরের অংশকে বলে ক্ল্যাড। 
- দুটিই একই কাচ দিয়ে তৈরি হলেও ভেতরের অংশের (কোর) প্রতিসরণাঙ্ক বাইরের অংশ থেকে বেশি। 
- এ কারণে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোকে কোরের মাঝে আটকে রেখে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায়। 
- অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে আলো শত শত কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া যায় কারণ, এই কাচের তন্তুতে আলোর শোষণ হয় খুবই কম। 
- দৃশ্যমান আলোতে শোষণ বেশি হয় বলে ফাইবারে লম্বা তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৯৬৯.
HMPV কী?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. নতুন প্রযুক্তি
  4. কম্পিউটার প্রোগ্রামের নাম
ব্যাখ্যা
HMPV (এইচএমপিভি) ভাইরাস: 
- HMPV এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। 
- সম্প্রতি এইচএমপিভি (Human Metapneumovirus) ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে চীন এবং জাপানে।
- এই ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ধাঁচের এবং করোনার মতোই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
- বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, ২০২৫ সালে করোনার মতো নতুন কোনো মহামারি উদ্ভব হতে পারে।
- ডিজিজ এক্স নামক মহামারি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আগাম সতর্কতা জারি করেছেন।
- চীনে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সতর্কতা জারি করেনি।
- ভাইরাসের সাধারণ উপসর্গ হলো জ্বর, নাক বন্ধ, কাশি বা শ্বাসকষ্ট, তবে তীব্র সংক্রমণে ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া বা কানে ইনফেকশন হতে পারে।
- প্রতিরোধ ও প্রতিকার হিসেবে সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ
দূরত্ব বজায় রাখা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- দুই দশক আগে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হলেও, এখনও এর কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। 

উৎস: বিবিসি বাংলা নিউজ [লিঙ্ক]।
৯,৯৭০.
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কী বলে?
  1. ফিশন
  2. ফিউশন
  3. মেসন
  4. সেপারেশন
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলা হয়।

পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা:
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন।
২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন।
• নিউক্লিয়ার ফিশন:
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

• নিউক্লিয়ার ফিউশন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৭১.
How long does it take Mercury to go once around the Sun?
  1. 65 days
  2. 88 days
  3. 115 days
  4. 172 days
ব্যাখ্যা
বুধ (Mercury):
- সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ। এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে বুধের গড় দূরত্ব প্রায় ৫৮ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে বুধের সময় লাগে প্রায় ৮৮ দিন।
- দিনের বেলায় বুধের তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৪০০° সেলসিয়াসের এবং রাতে তাপমাত্রা হিমাংকের নীচে থাকে।
- বুধে বায়ুমন্ডল, পানি, চৌম্বকত্ব ও জীবজন্তু নেই। বুধের কোনো উপগ্রহও নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৭২.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে -
  1. ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে
  2. ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
  3. একবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে
  4. সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে
ব্যাখ্যা
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান, পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রে এবং বেকেরেল আবিষ্কার করেন যে, কিছু কিছু পদার্থ থেকে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে রশ্মি নির্গমনের মাধ্যমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- মেরী কুরী (১৮৬৭-১৯৩৪) এবং পিয়েরে কুরী (১৮৫৯-১৯০৬) এ ঘটনার নাম দেন তেজস্ক্রিয়তা। 
- ১৮৯৭ সালে জে.জে. থমসন ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করেন যা থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৭৩.
১০০ ওয়াটের একটি বৈদ্যুতিক বাতি প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা জ্বালালে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কত তড়িৎ শক্তি খরচ হবে?
  1. ক) 20.3 kwh
  2. খ) 203 kwh
  3. গ) 21.3 kwh
  4. ঘ) 290 kwh
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ১০০ ওয়াটের একটি বৈদ্যুতিক বাতি প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা জ্বালালে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কত তড়িৎ শক্তি খরচ হবে?

সমাধান:
২০২০ সাল অধিবর্ষ। ফলে  ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিন আছে ২৯ দিন। 
মোট ঘণ্টা = 29 × 7 h
= 203 h

ক্ষমতা, P = 100 W 
= 100/1000 KW
= 1/10 KW 

∴ শক্তি, W = Pt 
= 203/10 KWh
= 20.3 KWh
৯,৯৭৪.
কিসের জন্য পেপটিক আলসার হয়?
  1. ক) HCL
  2. খ) CH3COOH
  3. গ) H2SO4
  4. ঘ) H2CO3
ব্যাখ্যা
আমাদের পাকস্থলির দেয়াল থেকে HCL উৎপন্ন হয়৷ পাকস্থলি খালি রাখলে HCL পাকস্থলির দেয়ালের কোষগুলোকে ভেঙে সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি করে। এ অবস্থাকে পেপটিক আলসার বলে৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৯,৯৭৫.
দুধের বিশুদ্ধতা মাপা হয় কিসে?
  1. ক) ন্যানোমিটার
  2. খ) ল্যাকটোমিটার
  3. গ) ফ্যাদোমিটার
  4. ঘ) অলটিমিটার
ব্যাখ্যা
Lactometer-an instrument for measuring the density of milk.
Source: Oxford
৯,৯৭৬.
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর আঘাত হানা সুনামির ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল -
  1. ক) ১০.১
  2. খ) ৯.১
  3. গ) ৮.১
  4. ঘ) ৭.৯
ব্যাখ্যা

২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।
আঘাত হানা এই প্রলয়ঙ্কারী সুনামির ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯.১। আনুমানিক ২,৩০,০০০ লোকের প্রাণহানি ঘটায়।
সোর্সঃ borgenproject.org

৯,৯৭৭.
কোন অ্যালকোহল পানযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত? 
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. প্রোপানল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন: 
মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৭৮.
সুনামির পানির ঢেউগুলাে কি নামে পরিচিত?
  1. ক) সারকুলার ওয়েব
  2. খ) ওয়েব ট্রেন
  3. গ) ওয়েব রকেট
  4. ঘ) সুপার ওয়েব
ব্যাখ্যা

সুনামির পানির ঢেউগুলাে একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা ‘ওয়েভ ট্রেন’ বলে। সুনামি হলাে পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
পানির নিচে কোনাে পারমাণবিক বা অন্য কোনাে বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে। সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলােতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ।

৯,৯৭৯.
Natural protein এর কোড নাম-
  1. ক) Protein-P 53
  2. খ) Protein-P 51
  3. গ) Protein-P 49
  4. ঘ) Protein-P 54
ব্যাখ্যা
অ্যামিনো এসিডের পলিমারকে প্রোটিন বা আমিষ বলে।
এটি একটি পেপটাইড যৌগ।
ন্যাচারাল প্রোটিনের কোড নাম P-49 যা একটি জটিল জৈব যৌগ।
এটি দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে।
৯,৯৮০.
ঢেঁকিছাটা চালে কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ‘এ’ : দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসব্জি, মলা মাছ ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘বি’ : ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘সি’ : পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘ডি’ : ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৮১.
ড্রাগ শনাক্তকরণে তড়িৎচুম্বকীয় কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. অবলোহিত রশ্মি
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
যথা- 
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল: 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।

২. রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৮২.
পিত্তরস কোথায় জমা থাকে?
  1. ডিওডেনামে 
  2. পাকস্থলীতে 
  3. পিত্তথলিতে
  4. রক্তনালিতে
ব্যাখ্যা

যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। 
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কার্যাবলি: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। 
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। 
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। 
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৮৩.
জাইলেম টিস্যু নয় কোনটি?
  1. ট্রাকিড
  2. ভেসেল
  3. বাস্ট তন্তু
  4. জাইলেম তন্তু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- (i) জাইলেম টিস্যু ও (ii) ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- (A) ট্রাকিড, (B) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, (C) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও (D) জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- (A) সীভ নল, (B) সঙ্গী কোষ, (C) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং (D) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৮৪.
পাহাড়ে রান্না করার সময় অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি কেন লাগে?
  1. পাহাড়ের উপর তাপমাত্রা বেশি থাকায়
  2. পাহাড়ের উপর বাতাস কম থাকায়
  3. বায়ুর চাপ বেশি থাকার কারণে
  4. বায়ুর চাপ কম থাকার কারণে
ব্যাখ্যা

- চাপের কারণে স্ফুটনাঙ্কের পরিবর্তন হয়। 
- চাপ কম হলে স্ফুটনাঙ্ক কমে যায়, চাপ বেশি হলে স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায়। 
- এজন্য যারা পর্বতারোহণ করে অনেক উচ্চতায় যায় তাদের রান্না করতে সময় বেশি নেয়৷ 
- বাতাসের চাপ কম বলে সেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কম তাপমাত্রায় ফুটতে থাকে, তাই তাপমাত্রা বাড়ানো যায় না, সেজন্য রান্না করতে সময় বেশি লাগে। 
- একই কারণে প্রেশার কুকার তৈরি হয়েছে, এটি আসলে একটি নিশ্ছিদ্র পাত্র, তাই রান্না করার সময় বাষ্প আবদ্ধ হয়ে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সে কারণে পানির স্ফুটনাঙ্ক বেড়ে যায় বলে বেশি তাপমাত্রায় পানি ফুটতে থাকে। 
- তাপমাত্রা বেশি বলে রান্নাও করা যায় তাড়াতাড়ি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৯৮৫.
মেঘলা রাতে -
  1. শিশির উৎপন্ন হয়
  2. শিশির উৎপন্ন হয় না
  3. উভয়টিই ঠিক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- এই মেঘলা থাকার কারণে দিনের যে তাপ থাকে তা উপরে যেতে মেঘ বাধা দেয়। 
- তাই এ তাপ ভূ - পৃষ্ঠে ফিরে আসে। 
- এ তাপের জন্য মেঘলা রাতে শিশির জমে না এবং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৯৮৬.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে কোনটি?
  1. ডায়োড
  2. ভোল্টমিটার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা

• তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে 'ট্রান্সফরমার'।

• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি।

• ট্রান্সফরমার:
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র।
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে।
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারের গৌণ কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার হয়।

২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার:
- ট্রান্সফরমারে মুখ্য কুন্ডলীর পাক সংখ্যা বেশী হলে সেটি স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ডায়োড: এটি সেমিকন্ডাক্টরের p-n জাংশন নীতির ওপর ভিত্তি করে তড়িৎ প্রবাহকে একমুখী করতে ব্যবহৃত হয়।
- ভোল্টমিটার: এটি গ্যালভানোমিটারের নীতির ওপর ভিত্তি করে বর্তনীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য পরিমাপ করে।
- ট্রানজিস্টর: এটি অর্ধপরিবাহী স্তরের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুইচ বা অ্যামপ্লিফায়ার হিসেবে কাজ করে।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৯৮৭.
ধানের বাদামী রোগটির জন্য নিচের কোনটি দায়ী? 
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ব্যাকটেরিওফাজ
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা

রোগের নাম : বাদামি দাগ রোগ (Brown spot)

রোগের কারণ:
বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে।
এ রোগটি চারা অবস্থা থেকে যে কোনো বয়সের ধান গাছে হতে পারে। তবে চারার বয়স বেশি হলে রোগটির প্রকোপ বেশি দেখা যায়। মাটিতে পুষ্টি উপাদানের অভাব বা পানির অভাব হলে রোগের মাত্রা বেড়ে যায়।

রোগের লক্ষণঃ
পাতায় প্রথমে তিলের দানার মতো ছোট ছোট দাগ পড়ে। দাগগুলো বড় হয়ে মাঝখানে সাদা ও কিনারা বাদামি হয়ে যায়।
একাধিক দাগ মিলে বড় দাগ সৃষ্টি হয়ে পাতাটিকে মেরে ফেলতে পারে। ধানের পাতার চেয়ে রোগটি বীজে বেশি দেখা যায়। রোগ আক্রান্ত গাছে অপুষ্ট বীজ হয় ও বাদামি বর্ণ হয়।

উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)

৯,৯৮৮.
কোনটি জৈব যৌগের উদাহরণ?
  1. ক) Na2CO3
  2. খ) NaOH
  3. গ) CH3OH
  4. ঘ) CO2
ব্যাখ্যা

উৎস বা প্রস্তুত পদ্ধতি যাই হোক না কেন সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। তাই বলা যায় জৈব যৌগ মূলত কার্বন যৌগ।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
বর্তমানে জৈব যৌগকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় ‘কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।’
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৮৯.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ -
  1. ক) কম হয়
  2. খ) বেশি হয়
  3. গ) একই হয়
  4. ঘ) খুব কম হয়
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমেই আমরা বৈদ্যুতিক পাখার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিবো।

প্রথমেই দেখা যাক বৈদ্যুতিক পাখা কীভাবে ঘোরে:

একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব ব্লেড (সাধারণত ৩টি), সংযুক্ত থাকে। যখন আমরা একটি পাখার সুইচ অন করি, তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মোটরটির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলাফল হিসাবেই পাখাটি ঘুরতে থাকে। নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মোটরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।

সুতরাং, একটি পাখার ভোল্টেজর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরের ওপর নির্ভরশীল। আর একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতী, অর্থাৎ ভোল্টেজ যত বাড়বে, পাখার গতিও ততটাই বাড়বে।

এখন, বিভিন্ন রেগুলেটর ও তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যাক:

এই মুহূর্তে, বাজারে মোটামুটি দুই ধরনের রেগুলেটর পাওয়া যায়—

১) ইলেক্ট্রিক রেগুলেটর (Electric Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য রোধ বসানো থাকে। যখন পাখার ভোল্টেজ কমানো হয় তখন রোধটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার কারণে পাখার গতিও কমে যায়। কিন্তু এর ফলে পাখার ভোল্টেজ তথা গতি কমিয়ে যে বিদ্যুৎ বাঁঁচানো হয়, সেই বিদ্যুৎ এই রোধ-মধ্যস্থ তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত, এই রেগুলেটরের মাধ্যমে পাখার গতি কমিয়ে বিদ্যুৎ খরচ বিশেষ কমে না বললেই চলে।ফলে ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম-বেশির সাথে রেগুলেটর লস যথাক্রমে বেশি ও কম হয় ফলে বৈদ্যুতিক পাখার গতি যাই হোক, বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই হয়।
২) ইলেকট্রনিক রেগুলেটর (Electronic Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য মূলতঃ ট্রায়াক থাকে যার গেটে ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যানের ভোল্টেজের সাইন ওয়েভকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং ভোল্টেজের আরএমএস ভ্যালুকে পরিবর্তণ করে ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এইগুলি কখনই গরম হয়ে ওঠে না, ফলে পাখা যখন কম গতিতে চলে তখন যথেষ্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরগুলির থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশী বিদ্যুতসাশ্রয়ী।

তাই সবশেষে বলা যেতে পারে, বৈদ্যুতিক পাখা কম গতিতে চালালে বিদ্যুৎ খরচ তখনই কম হবে যখন ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহৃত হবে।
৯,৯৯০.
নিচের কোনটি প্রোটিন?
  1. ক) এনজাইম
  2. খ) অ্যান্টিবডি
  3. গ) হরমোন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- প্রোটিন জীবদেহের একটি অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। 
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। আর অ্যামাইনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক।
-  প্রোটিন অণু বহু সংখ্যক অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি। প্রোটিন শব্দটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন জি. মুলার ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে। 

- প্রোটিন অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত বৃহদাকার যৌগিক জৈব অণু। 
- একটি কোষের অভ্যন্তরে সারাক্ষণ শত শত প্রকার প্রোটিন তৈরি হয়।
- জীবদেহের প্রায় সর্বত্রই প্রোটিন বিরাজমান। জৈব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এনজাইম, অ্যান্টিবডি, হরমোন। এগুলো  সবই প্রোটিন।
-  সব এনজাইম প্রোটিন কিন্তু সব প্রোটিন এনজাইম নয়।
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৯১.
ফোটন কণায় কোন ধরনের বল বিদ্যমান?
  1. সবল নিউক্লিয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  3. তাড়িতচৌম্বক বল
  4. মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা
ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান। 
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)। 
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

ফোটন কণার ধর্মসমূহ: 
১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে (C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।
৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,৯৯২.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে
  2. গর্ভাশয় থাকে
  3. ফল উৎপন্ন হয় না
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
- যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 

আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে। 
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়। 
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে। 
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়। 
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়। 

• নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ এর  বৈশিষ্ট্য:

• নগ্নবীজী উদ্ভিদ:

- গর্ভাশয় থাকে না;
- ফল উৎপন্ন হয় না;
- বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে।

• আবৃতবীজী উদ্ভিদ:
- গর্ভাশয় থাকে;
- ফল উৎপন্ন হয়;
- বীজ ফলের ভেতরে থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৯৩.
ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. সিসমোগ্রাফ
  2. ফ্যাদোমিটার
  3. হাইগ্রোমিটার
  4. পাইরোমিটার 
ব্যাখ্যা

- সিসমোগ্রাফ (Seismograph) হলো সেই যন্ত্র যা ভূমিকম্প ও ভূমিকম্পের কম্পনের মাত্রা ও প্রকৃতি পরিমাপ করে। 

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 

• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
• ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৯,৯৯৪.
নিচের কোন গ্যাসটি ওজোন স্তর ধংসের জন্য দায়ী?
  1. ক) ইথেন
  2. খ) মিথেন
  3. গ) রেয়ন
  4. ঘ) ফ্রেয়ন
ব্যাখ্যা
১৯২৭ সালে প্রথম আধুনিক ব্যক্তিগত রেফ্রিজারেটর বাজারে আনে মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক। আধুনিক রেফ্রিজারেটরগুলোতে ফ্রেয়ন এর বদলে টেট্রাফ্লুরোইথেন নামে একটি গ্যাস ব্যবহার করা হয় যেটা পরিবেশ বান্ধব। ফ্রেয়ন ওজোন স্তর ধংসের জন্য দায়ী।
৯,৯৯৫.
দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য প্রাণী কোনটি?
  1. ভলভক্স
  2. অ্যান্থোজোয়া
  3. সমুদ্র তারা
  4. অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৯৬.
কোন প্রোটিন দিয়ে 'রেশম তন্তু' তৈরি হয়? 
  1. ফাইব্রেয়ন
  2. প্রোলামিন
  3. প্রোটামিন
  4. অ্যালবিউমিন
ব্যাখ্যা
রেশম: 
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়। 
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে। 
- রেশম তন্তু 'ফাইব্রেয়ন' নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। 
- প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে হালকা, শক্ত ও দীর্ঘ। 
- সিল্কের শক্তিমাত্রা, দৃড়তা, মসৃণতা এবং কোমল অনুভবতা বৈশিষ্ট্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৯৯৭.
থার্মোকাপলে শক্তির কী ধরণের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
  2. খ) বিদ্যুৎশক্তি থেকে তাপশক্তি
  3. গ) তাপশক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি
  4. ঘ) যান্ত্রিক শক্তি থেকে তাপশক্তি
ব্যাখ্যা
থার্মোকাপলে দুটি ভিন্ন ধাতব পদার্থের সংযোগস্থলে তাপ প্রদান করে সরাসরি তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
যদিও অধিকাংশক্ষেত্রে তাপশক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরি করা হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৯৯৮.
নিচের কোনটি ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ?
  1. লোহা 
  2. পানি 
  3. প্লাটিনাম
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বকীয় পদার্থ (Paramagnetic elements): 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোলগুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ (magnedisation) থাকে না। 
- এ সকল পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে দ্বিপোলসমূহ ক্ষেত্রের অভিমুখ বরাবর সজ্জিত হওয়ার চেষ্ঠা করে। কিন্তু তাপীয় উত্তেজনা এ সজ্জিতকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করে। 
- ফলে কিছু দ্বিপোল সজ্জিত হয় এবং ক্ষেত্রের দিকে কিছু চুম্বকায়ন ঘটায় অর্থাৎ নীট ফল হিসেবে পদার্থটি একটি চৌম্বক মোমেন্ট অর্জণ করে এবং এ চৌম্বক মোমেন্টের অভিমুখ প্রযুক্ত চৌম্বকক্ষেত্রের দিকে হয়। 

ফেরোচৌম্বকীয় পদার্থ (Ferromagnetism elements): 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয় এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন-এ বিভক্ত থাকে। ফলে, সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 

ডায়াচৌম্বকীয় পদার্থ (Diamagnetism elements): 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায় অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয় এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- একজোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৯৯৯.
‘প্রণকালচার’ বলতে কোন বাণিজ্যিক চাষকে বোঝানো হয়?
  1. মৎস্য চাষ 
  2. মৌমাছি চাষ 
  3. চিংড়ি চাষ 
  4. রেশম চাষ 
ব্যাখ্যা

- চিংড়ি চাষকে ইংরেজিতে Prawn Culture বা প্রণকালচার বলা হয়। এটি জলজ চাষের একটি বিশেষ শাখা যেখানে বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি উৎপাদন করা হয়। 

আধুনিক চাষ: 

- বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি চাষ করাকে এপিকালচার বলে। 
- বাণিজ্যিকভাবে রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে সেরিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে পিসিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে প্রণকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে উদ্যান বিষয়ক বিদ্যাকে বলে হর্টিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে এভিকালচার। 
- বাণিজ্যিকভাবে সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে মেরিকালচার। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১০,০০০.
পাথফাইন্ডার-এর মঙ্গলে অবতরণ সাল-
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৯৫
  3. ১৯৯৭
  4. ২০০০
ব্যাখ্যা
- মার্স পাথফাইন্ডার ১৯৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মঙ্গল গ্রহের এরেস ভ্যালিস-এ অবতরণ করে।
- এটি সফলভাবে একটি যন্ত্রযুক্ত ল্যান্ডার এবং সোজার্নার রোভার সরবরাহ করে, যা ছিল মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করা এবং পরিচালিত প্রথম রোবোটিক রোভার।
- পাথফাইন্ডার তখন পর্যন্ত অভূতপূর্ব পরিমাণ তথ্য পৃথিবীতে প্রেরণ করে এবং তার প্রাথমিক নকশা জীবনের চেয়েও বেশি সময় ধরে সক্রিয় ছিল।

• Key facts:

উৎস: নাসা। [Link]