বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০ / ১৪০ · ৯০১১,০০০ / ১৪,০৮০

৯০১.
ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস কি?
  1. ক) নিকেল ৬০
  2. খ) কোবাল্ট ৬০
  3. গ) কপার ৬০
  4. ঘ) জিংক ৬০
ব্যাখ্যা
- ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলাে আইসােটোপ।
- যেসব পরমাণুর প্রােটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাকে আইসােটোপ বলে।
- ক্যান্সার চিকিৎসায় সাধারণত কোবাল্ট-৬০ আইসােটোপ ব্যবহার করা হয়।
৯০২.
বল পরিমাপ করতে কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
  1. Scales
  2. Force meter
  3. Force devise
  4. Top pan balance
ব্যাখ্যা
- বল পরিমাপ করতে Force meter ব্যবহার করা হয়। 
- Force meterকে কখনও কখনও Newton meterও বলা হয়।
৯০৩.
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ৭৫.৮%
  2. ৭৮.১%
  3. ৭৯.২%
  4. প্রায় ৮০%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডল :
- বায়ুমণ্ডল ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere।
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।

• বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি।
যথা:
- নাইট্রোজেন ও
- অক্সিজেন।

উল্লেখ্য, 
- বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। 

বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলোর শতকরা পরিমাণ: 
• নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
• অক্সিজেন ২০.৭১%,
• আর্গন ০.৮০%,
• জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উক্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে অপশনে হয়তো টাইপিং ভুলের কারণে ৭৮.০১% না হয়ে ৭৮.১% এসেছে। তবে, কাছাকাছি উত্তর বিবেচনায় আমরা ৭৮.১% কে সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করেছি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।।
৯০৪.
পরিপাক যন্ত্রে স্নেহ পদার্থ কোন ভিটামিনের শোষনে সাহায্য করে?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
ভিটামিন- এ (রেটিনোয়িক এসিড), ভিটামিন- ডি (কোলিক্যালসিফেরল), ভিটামিন- ই (টকোফেরল) এবং ভিটামিন- কে স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবণীয়।
তাই পরিপাক যন্ত্রে স্নেহ পদার্থ এই চারটি ভিটামিনের শোষনে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয়।

সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৯০৫.
মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু কত দিন থাকে? 
  1. ৯০ দিন
  2. ১২০ দিন
  3. ১৫০ দিন
  4. ১৪০ দিন
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়। 
- এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ।
- এ কারণে লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। এ কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯০৬.
বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) টমাস আলভা এডিসন
  2. খ) জি. মার্কনী
  3. গ) উইলিয়াম গিলবার্ট
  4. ঘ) রন্টজেন
ব্যাখ্যা

ইংরেজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম গিলবার্ট ১৬০০ সালে বহু পদার্থের বিদ্যুতায়নের বর্ণনা দিয়েছিলেন।
ফলস্বরূপ, গিলবার্টকে আধুনিক বিদ্যুতের জনক বলা হয়।
সূত্র: electricityforum.com

৯০৭.
গোয়েন্দা বিভাগে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়? 
  1. গামা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্স-রে (রঞ্জন রশ্মি): 
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়। 
- এক্সরের একক রন্টজেন। 
- এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন। 
- রঞ্জনরশ্মি বা এক্স-রশ্মি (X-ray) বলতে আলোর চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের, মূলত ০.১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে এবং ৩x১০১৬ থেকে ৩x১০২০ হার্জের কম্পাংক পরিসরে অবস্থিত ও উচ্চ ভেদনক্ষমতাবিশিষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়। 

এক্স রে এর ব্যবহার: 
- হীরক সনাক্তকরণ, 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা, 
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়, 
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৮.
কাজ সৃষ্টির জন্য নিচের কোন দুটি রাশি জানা থাকা প্রয়োজন?
  1. সরণ ও ত্বরণ
  2. বল ও ত্বরণ
  3. বল ও সরণ
  4. সরণ ও মন্দন
ব্যাখ্যা
কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে বল এবং সরণ এই দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই। 

কাজের মাত্রা: 
কাজের মাত্রা = বলের মাত্রা × সরণের মাত্রা 
= ভর × সরণ/সময়2 × সরণ 
= ভর × (সরণ/সময়)2
[W] = ML2T-2 । 

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। 
অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J) বলা হয়। এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৯.
নিচের কোন মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে?
  1. কার্বন
  2. ফসফরাস
  3. সালফার
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বহুরূপী মৌল: 
- প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে। 
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে। 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক। 
- অদানাদার রূপভেদ হলো কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের একটি দানাদার রূপভেদ হলো গ্রাফাইট যা বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৯১০.
মেঘলা রাতে-
  1. ক) শিশির উৎপন্ন হয় না
  2. খ) শিশির উৎপন্ন হয়
  3. গ) উভয়টি হয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- এই মেঘলা থাকার কারণে দিনের যে তাপ থাকে তা উপরে যেতে মেঘ বাধা দেয়।
- তাই এ তাপ ভূ - পৃষ্ঠে ফিরে আসে।
- এ তাপের জন্য মেঘলা রাতে শিশির জমে না এবং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১১.
বারুদ এবং দেয়াশলাই উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়-
  1. ক) কপার
  2. খ) সালফার
  3. গ) জিঙ্ক
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
সালফার: প্রকৃতিতে সালফার মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়
একে খনি থেকে উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাত না করেই ব্যবহার করা যায়।
সাধারণত মাটির গভীরে সালফারের খনি অবস্থান করে। 
সালফারের ব্যবহারঃ
সালফারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে।
রসায়ন শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান সালফিউরিক এসিড উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে সালফার ব্যবহার করা হয়।
তাছাড়া বারুদ, দেয়াশলাই, রাবার ভলকানাইজিং, সালফাড্রাগসহ বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ উৎপাদনে সালফার ব্যবহার করা হয়।


উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯১২.
বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা -
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. প্রথমে বাড়ে পরে কমে
ব্যাখ্যা
আর্দ্রতা: 
- বাতাসে ভাসমান জলীয় বাষ্পই হচ্ছে আর্দ্রতা। 
- নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ, চাপ ও আয়তনের বায়ুতে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে সম্পৃক্ত অবস্থা বলা হয়। 
- জলীয়বাষ্পজনিত বায়ুচাপ জলীয়বাষ্প চাপ নামে পরিচিত। 
- বায়ুতে উপস্থিত এই জলীয়বাষ্প নানা কারণে হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে। 
যেমন- 
১। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প বৃদ্ধি পায়। 
২। চাপবৃদ্ধির সাথে জলীয়বাষ্প হ্রাস পায়। 
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। 

- ঠাণ্ডা বাতাসের তুলনায় গরম বাতাস বেশি পানির কণা ধরে রাখতে পারে। 
- গবেষকেরা বলেন, তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (শূন্য দশমিক ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বাড়লে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বাড়ে ৪ শতাংশ। 
- এ কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ একই থাকলেও শীতকালের চেয়ে গ্রীষ্মকালে আমাদের অনেক বেশি অস্বস্তি লাগে। 
- শীতকালে আর্দ্রতা কম থাকে বলেই ভেজা কাপড় বর্ষাকালের চেয়ে তাড়াতাড়ি শুকায়। 
- আর বায়ুর উষ্ণতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক। 
অর্থাৎ, বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে এবং বায়ুর উষ্ণতা কমলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বাড়ে। 
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা একটি অনুপাত। 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং ঐ একই তাপমাত্রায় ঐ আয়তনের বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পের প্রয়োজন তার অনুপাতকে ঐ স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৩.
কোন ধরনের কয়লাকে সর্বোচ্চ মানের কয়লা হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. পিট
  2. লিগনাইট
  3. বিটুমিনাস
  4. অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা

অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite) হলো সবচেয়ে উচ্চমানের কয়লা, যাতে কার্বনের পরিমাণ সর্বাধিক এবং আর্দ্রতা ও অমিশ্রণ খুব কম থাকে। এটি ধোঁয়াবিহীন ও অধিক তাপ উৎপাদনকারী।

কয়লা:
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা।
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)।
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে।
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা।
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।

কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে।
যথা -
১। অ্যানথ্রাসাইট,
২। বিটুমিনাস এবং
৩। লিগনাইট।

- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে।
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে।
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১৪.
Body Mass Index অনুযায়ী, মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তরের মান কোনটি? 
  1. ২৫.০-২৯.৯
  2. ৩০.০-৩৪.৯
  3. ৩৫.০-৩৯.৯
  4. ৪০.০ -এর উপরে
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
     বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার)২ 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৫.
বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কিসের একক পাওয়া যায়? 
  1. ক্ষমতার
  2. ত্বরণের
  3. দৈর্ঘ্যের
  4. কাজের
ব্যাখ্যা

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে মিটার (m)। 
- অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J)বলা হয়। 
- এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৬.
পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌরপর্দা হিসেবে অভিহিত করা হয় কোন স্তরকে?
  1. ট্রপােস্ফিয়ার
  2. ওজোনস্ফিয়ার
  3. স্ট্রাটেস্ফিয়ার
  4. আয়ােনােস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere): 
বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল। 
যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
 স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।

স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 
স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
 
স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (Ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
 
ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না। এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।
 
উপরের ব্যাখ্যা থেকে বলা যায় যে, পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌরপর্দা হিসেবে কাজ করে ওজোনস্ফিয়ার। 
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৯১৭.
মহাবিশ্ব গবেষণায় অবদান রাখা জামাল নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ইংরেজি বইটির নাম কী? 
  1. দ্য অরিজিন অফ ইউনিভার্স
  2. ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম
  3. ব্ল্যাক হোলস অ্যান্ড বেবি ইউনিভার্স
  4.  ফার ফিউচার অফ দ্য ইউনিভার্স
ব্যাখ্যা

• বাঙালি বিশ্ববিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম: 
- বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞানে জামাল নজরুল ইসলামের মতো অবদান আর কারও নেই। এই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর জন্ম তাঁর বাবার কর্মক্ষেত্র ঝিনাইদহে ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ সালে। 
- পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, এবং তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল আপেক্ষিকতা, বিশ্বতত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব।
- আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, কোয়ান্টাম মেকানিক্স, কসমোলজি ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি তত্ত্বের মতো জটিল বিষয় নিয়ে মৌলিক গবেষণা করেছেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই 'কৃষ্ণগহ্বর’ (ব্ল্যাক হোল)।
- ছাত্রজীবনে তাঁর সমসাময়িক ও আজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বিস্ময়কর বিজ্ঞান-প্রতিভা স্টিফেন হকিং। কেমব্রিজ এবং পশ্চিমে শিক্ষার গবেষণা ও অধ্যাপনায় থাকাকালে তাঁর বন্ধু ও সুহৃদমহল গড়ে ওঠে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের নিয়ে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তাঁর শিক্ষক ফ্রিম্যান ডাইসন, পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান, ভারতের সুব্রহ্মনিয়াম চন্দ্রশেখর, পাকিস্তানের আবদুস সালাম, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অমিয় বাগচী, তাঁর সহপাঠী জয়ন্ত নারলিকার, ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম মার্লিস প্রমুখ।  

- তাঁর গবেষণা আইনস্টাইন-পরবর্তী মহাবিশ্ব গবেষণায় বিরাট অবদান রেখেছে। তিনি এই ধারায় গবেষণা অব্যাহত রেখে পরবর্তীকালে লেখেন ফার ফিউচার অব দ্য ইউনিভার্স বা মহাবিশ্বের দূরবর্তী ভবিষ্যৎ
- জামাল নজরুল ইসলাম দেশে গড়ে তুলেছেন উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণাগার আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গাণিতিক ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র বা রিচার্স সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স (আরসিএমপিএস), যেটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেশের প্রবীণ পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর এ এম হারুন-অর রশিদ ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে আগত খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী, আপেক্ষিকতত্ত্ববিদ এবং বিশ্ব সৃষ্টি তাত্ত্বিকদের অবদান’ স্মরণ করে এ প্রতিষ্ঠানকে প্রফেসর ইসলামের শ্রেষ্ঠ কীর্তি আখ্যা দিয়েছিলেন।
- ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ মধ্যরাতে এ মহান বিজ্ঞানী আমাদের ছেড়ে গেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা।

৯১৮.
দুর্বল এসিড কোনটি? 
  1. সালফিউরিক এসিড 
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সাইট্রিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
ব্যাখ্যা

দুর্বল এসিড: 
- সাধারণত জৈব এসিড গুলো দুর্বল হয়ে থাকে।
- বিভিন্ন শাকসবজি ফল-মূলে এ এসিডগুলো বিদ্যমান থাকে।
- তাই জৈব এসিড খাওয়ার উপযোগী।
যেমন: ইথানয়িক এসিড, টারটারিক এসিড, এসিটিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, এসকরবিক এসিড, ম্যালিক এসিড ইত্যাদি।

শক্তিশালী এসিড: 
- অজৈব এসিড গুলো সাধারণত শক্তিশালী এসিড হয়ে থাকে যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক।
- তাই অজৈব এসিডগুলো খাওয়া যায় না।
যেমন: হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৯.
গ্লুকাগন নিঃসৃত হয় কোন গ্রন্থি থেকে?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) থাইরয়েড
  3. গ) অগ্ন্যাশয়
  4. ঘ) পিটুইটারি
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
সূত্রঃ ৩৪তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৯২০.
রাইবোজোম মূলত কোন প্রধান কাজটি করে থাকে? 
  1. পানি পরিবহন
  2. শক্তি উৎপাদন
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড ভাঙন
ব্যাখ্যা
রাইবোজোম (Ribosome): 
- প্রাণী এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের কোষেই এদের পাওয়া যায়।
- এই ঝিল্লিবিহীন বা পর্দাবিহীন অঙ্গাণুটি প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে। 
- প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন এই রাইবোজোমে হয়ে থাকে। 
- এছাড়া রাইবোজোম এ কাজে প্রয়োজনীয় উৎসেচক সরবরাহ করে থাকে। 
- উৎসেচক বা এনজাইমের কাজ হলো প্রাণরাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে দেওয়া। 

উল্লেখ্য, 
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স এবং প্লাস্টিডের স্ট্রোমাতেও রাইবোজোম থাকে, যেগুলো ঐ অঙ্গাণুসমূহের নিজস্ব ডিএনএ-এর সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশ নেয়, ঠিক যেমন একটি ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত রাইবোজোম সেই কোষের জন্য প্রোটিন সংশ্লেষণ করে। জৈব অভিব্যক্তির ধারায় অন্য কোষের অংশ হয়ে ওঠার আগে এই দুটি অঙ্গানু যে একসময় স্বাধীনভাবে বসবাস করতো, তার সপক্ষে এটিও একটি প্রমাণ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২১.
সবুজ উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছাড়ে?
  1. নাইট্রোজেন চক্র
  2. পরাগায়ন
  3. খাদ্যচক্র
  4. সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ছাড়ে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।

উৎস:  উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২২.
কোষের প্লাজমা মেমব্রেন প্রধানত গঠিত নিচের কোনটি দিয়ে?
  1. কার্বোহাইড্রেট ও লিপিড
  2. সুগার ও ফসফেট
  3. গ্লিসারল ও ফ্যাটি এসিড
  4. লিপিড ও প্রোটিন
ব্যাখ্যা
প্লাজমা মেমব্রেন বা কোষঝিল্লি: 
- কোষপ্রাচীরের ঠিক নিচে এবং প্রোটোপ্লাজমকে বেষ্টন করে যে সূক্ষ্ম, স্থিতিস্থাপক ও প্রভেদক ভেদ্য পর্দাটি অবস্থিত তাকে প্লাজমা মেমব্রেন বলা হয়। 
- প্রধানত লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে প্লাজমা মেমব্রেন গঠিত। 
- অধিকাংশ কোষবিজ্ঞানীর মতে লিপিড-এর অণুগুলো দুটি স্তরে সজ্জিত হয়ে প্লাজমা মেমব্রেনের কাঠামো গঠন করে। 
- দ্বিস্তরী লিপিড কাঠামোর মধ্যে প্রোটিন অণুগুলো দ্রবীভূত অবস্থায় অবস্থান করে। 
- প্লাজমা মেমব্রেন একটি গতিশীল অর্ধতরল গঠন এবং এর লিপিড ও প্রোটিন সঞ্চারণে সক্ষম। 
- প্লাজমা মেমব্রেন এর গঠন শৈলী বর্ণনায় সব কোষবিজ্ঞানীই দ্বিস্তরী লিপিড-এর কথা বলেছেন। 
- কিন্তু লিপিড স্তর দুটির বিন্যাস এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন মডেল বিবেচনা করা হয়েছে। 
- এর মধ্যে Danielli এবং Davson (1935) এর দ্বিস্তরবিশিষ্ট মডেল, Robertson (1959) এর একক পর্দা হাইপোথেসিস, Hiller ও Hoffman (1953) এর মাইসেলার মডেল, Vanderkoff Green (1970) এর প্রোটিন ক্রিস্টাল মডেল এবং Singer ও Nicholson (1972) এর ফ্লুইড মোজাইক মডেল উল্লেখযোগ্য। 
- প্লাজমা মেমব্রেনের গঠন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে Danielli & Davson (1943) সর্বপ্রথম একটি সুনির্দিষ্ট মডেল প্রস্তাব করেন। তাঁদের মতে মেমব্রেনটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট এবং প্রতি স্তরে প্রোটিন (monomolecular) এবং লিপিড (bimolecular) স্তর আছে। দ্বিস্তর বিশিষ্ট মেমব্রেনের উপর ও নিচে প্রোটিন স্তর এবং মাঝখানে লিপিড স্তর অবস্থিত। - এটি Sandwitch মডেল নামে পরিচিতি। এ মডেলটি সর্বজনীন মডেল হিসাবে গ্রাহ্য হচ্ছেনা। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান (গাজী আজমল)।
৯২৩.
কোনটি পোলিও রোগের টিকা?
  1. বিসিজি
  2. এমএমআর
  3. ডিপিটি
  4. ওপিভি
ব্যাখ্যা
• পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি।

• ওপিভি:
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন এবং ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- পোলিও ভাইরাস একটি আরএনএ এন্টারো ভাইরাস।
- অন্যান্য ভাইরাসের মত এরও কোনো বিপাকীয় এনজাইম নেই।
- এটি দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা দেহে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
- যক্ষার টিকা - বিসিজি।
- হাম রোগের টিকা - এমএমআর ভ্যাকসিন।
- ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকা - ডিপিটি।

উৎস:

১. ব্রিটানিকা।
২. প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩. WHO ওয়েবসাইট।
৯২৪.
নিচের কোনটি বিজারক পদার্থ নয়? 
  1. লিথিয়াম 
  2. অক্সিজেন
  3. ম্যাগনেসিয়াম 
  4. পটাশিয়াম 
ব্যাখ্যা

- লিথিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সবই ইলেকট্রন দান করে, তাই এ পদার্থগুলো বিজারক। কিন্তু অক্সিজেন ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাই এটি জারক। 

বিজারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- অক্সিজেন (O2), ক্লোরিন (Cl2), ফ্লোরিন (F2), H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৫.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়-
  1. ক) জেনারেটর
  2. খ) বৈদ্যুতিক মোটর
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বক আবেশঃ একটি তারের কুণ্ডিলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুন্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।
তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২৬.
কোন মৌলের ভরসংখ্যা ৬৫ এবং ইলেকট্রনের সংখ্যা ৩০ হলে, ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা যথাক্রমে-
  1. ক) ৯৫ ও ৩৫
  2. খ) ৩৫ ও ৯৫
  3. গ) ৩০ ও ৩৫
  4. ঘ) ৩৫ ও ৩০
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা।
আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।
তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান।
অর্থাৎ, উপরিউক্ত মৌলের প্রোটন সংখ্যা ৩০টি।

• কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য হল নিউট্রন সংখ্যা।
অর্থাৎ,
ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা
বা, নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা।
সুতরাং, উপরোক্ত মৌলের নিউট্রন সংখ্যা হবে ৩৫টি।

সূত্র: বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি
৯২৭.
মানুষের পরিপাক নালির গড় দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩–৪ মিটার
  2. ৫–৬ মিটার
  3. ৮–১০ মিটার
  4. ১২–১৫ মিটার
ব্যাখ্যা

- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘ নালি বিশেষ, এর গড় দৈর্ঘ্য সাধারণত ৮-১০ মিটার হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাক নালী প্রায় ৩০ ফুট (প্রায় ৯ মিটার) লম্বা হতে পারে। 

পরিপাক নালি: 
- মানবদেহে পরিপাক ও পরিশোষণ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয়। 
- পরিপাকতন্ত্র পরিপাক নালি ও পরিপাক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত ৮-১০ মিটার বিস্তৃত দীর্ঘ নালি বিশেষ যা কোথাও থলির ন্যায় স্ফীত আবার কোথাও কুণ্ডলীকৃত। 
- বিভিন্ন অংশ যেমন- মুখছিদ্র, মুখবিবর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলি, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র দ্বারা পরিপাক নালি গঠিত। 

ক্ষুদ্রান্ত: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম। 
- ডিওডেনামে মূলতঃ অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।

বৃহদন্ত্র: 
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- সিকাম, কোলন ও মলাশয়। 
- সিকাম বৃহদন্ত্রের প্রথম, বড় স্ফীত ও গোলাকার থলের মতো অংশ। সিকাম থেকে একটি ক্ষুদ্র আঙ্গুল ও বন্ধ থলের ন্যায় প্রসারিত অংশকে অ্যাপেনডিক্স বলা হয়। এটি একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৮.
'হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়' এখানে শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটেছে?
  1. আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে
  2. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. চুম্বক শক্তি তাপ শক্তিতে
  4. বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
আলোক শক্তির রূপান্তর: 
• হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়। 
এখানে, আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে। 

• ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়। 
এখানে, আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৯.
১ ওয়াট-ঘন্টা = কত? 
  1. ৩৬ জুল
  2. ৩৬০০ জুল
  3. ৩৬০ জুল
  4. ৩৬০০০ জুল
ব্যাখ্যা
ওয়াট-ঘন্টা: 
- এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক ঘণ্টা ব্যাপী কাজ করলে যে শক্তি ব্যয়িত হয় তাকে এক ওয়াট-ঘণ্টা বলে। 
এক ওয়াট-ঘণ্টা = এক ওয়াট × এক ঘন্টা 
= এক ওয়াট × 3600 সেকেন্ড 
= 3600 (এক ওয়াট × এক সেকেন্ড) 
= 3600 জুল। 
এক ওয়াট-ঘণ্টা = 3600 জুল। 

তড়িৎ ক্ষমতা হতে তড়িৎ শক্তি: 
- এক সেকেন্ডে এক জুল কাজ করার ক্ষমতাকে এক ওয়াট বলে। 
অর্থাৎ, এক ওয়াট = এক জুল/এক সেকেন্ড 
বা, এক জুল = এক ওয়াট × এক সেকেন্ড 
সুতরাং, শক্তি = ক্ষমতা x সময়। 
- যদি এক ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক সেকেন্ড ব্যাপী কাজ করে তবে যে শক্তি ব্যয়িত হয় তাকে এক জুল বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩০.
শ্বেত রক্ত কণিকা কোন প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে?
  1. থ্রম্বোপ্লাস্টিন
  2. অটোফ্যাগি
  3. সাইটোকাইনোসিস
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। 
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩১.
ট্রান্সফরমার কোন নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে?
  1. তড়িৎ বিভব
  2. তাড়িতচৌম্বক আবেশ
  3. জারণ-বিজারণ
  4. তড়িৎ প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) তাড়িতচৌম্বক আবেশ।

• ট্রান্সফরমার (Transformer):
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র, এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে।
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে। কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়।
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ।
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩২.
লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ক) ১ মাস
  2. খ) ২ মাস
  3. গ) ৩ মাস
  4. ঘ) ৪ মাস
ব্যাখ্যা

রক্ত কণিকার মধ্যে লােহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লােহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতাে দ্বি-অবতল।
এর গড় আয়ু ১২০ দিন বা ৪ মাস।
লাল অস্থিমজ্জায় লােহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি

৯৩৩.
অ্যালুমিনিয়াম ধাতুর আকরিক কোনটি? 
  1. জিপসাম
  2. লিমোনাইট
  3. রকসল্ট
  4. ক্রায়োলাইট
ব্যাখ্যা
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
• বক্সাইট, 
• কোরান্ডাম, 
ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
• রকসল্ট, 
• চিলি সল্টপিটার, 
• ন্যাট্রোন, 
• বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
• চুনাপাথর, 
• জিপসাম, 
• ডলোমাইট ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
• ম্যাগনেটাইট, 
• হেমাটাইট, 
• আয়রন পাইরাইটস, 
• লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৪.
রঙিন কাঁচকে বর্ণহীন করার জন্য বিরঞ্জক হিসেবে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. Cu2O
  2. NiO
  3. FeO
  4. MnO2
ব্যাখ্যা
কাঁচ: 
- কাঁচ বা গ্লাস হলো রাসায়নিক গঠনগতভাবে সোডিয়াম-ক্যালসিয়াম-দ্বি সিলিকেট মিশ্রণ, যা দেখতে স্বচ্ছ, শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর, অনিয়তাকার (non-crystalline) কঠিন পদার্থ। 
- কাঁচের কোনো নির্দিষ্ট সংকেত বা সংযুক্তি নেই। 
- কেলাসাকার কঠিন পদার্থ যেমন NaCl এর নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক (801°C) থাকলেও কাঁচের কোনো সুনির্দিষ্ট গলনাঙ্ক নেই। 
- কাঁচকে তাপ দিলে ধীরে ধীরে নরম হয় অর্থাৎ গলন শুরু হয় (প্রাথমিক গলনাঙ্ক) এবং তাপমাত্রার একটি বিস্তৃত সীমার (যেমন প্রায় 500°C) মধ্যে সম্পূর্ণ গলে গিয়ে (সর্বোচ্চ গলনাঙ্কে) সর্ব নিম্ন সান্দ্রতা (101 poise) যুক্ত তরলে পরিণত হয়। 

কাঁচের উপাদান: 
- অনেক ধরনের কাঁচ বাজারে পাওয়া যায়, এদের সংযুক্তি বিভিন্ন। 
- তবে কাঁচ তৈরির প্রধান উপাদান হলো সিলিকা বালি (SiO2), চুন (CaO) বা চুনাপাথর (CaCO3) ও সোডা অ্যাস (Na2CO3). 
- এ তিনটি মূল উপাদান থেকে উৎপাদিত সাধারণ কাঁচের মোটামুটি সংযুক্তি হলো Na2O.CaO.6SiO2

কাঁচের গৌণ উপাদান: 
- গৌণ উপাদানরূপে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কাঁচ তৈরির জন্য নিচের দুই বা ততোধিক উপাদান উপরের মূল উপাদানের সাথে মিশিয়ে চুল্লিতে উত্তপ্ত করা হয়। 
- গৌণ উপাদানগুলো হলো পটাশ (K2CO3), BaSO4, BaCO3, বোরিক এসিড (H3BO3), বোরাক্স (Na2B4O7), জিংক কার্বনেট (ZnCO3), কেওলিন বা চীনা মাটি (Al2O3.2SiO2.2H2O). 
- রঙিন কাঁচ তৈরিতে অবস্থান্তর ধাতুর অক্সাইড যেমন Cu2O, FeO, Fe2O3, Cr2O3, NiO মূল উপাদানের সাথে যোগ করা হয়। 
- অস্বচ্ছ কাঁচ তৈরির জন্য অ্যান্টিমনি, টিন ও আর্সেনিক অক্সাইড বা সালফাইড যোগ করা হয়। 
- সিলিকা বালিতে FeO থাকলে উৎপন্ন কাঁচ সবুজ বর্ণের এবং Fe2O3 থাকলে হলুদাভ হয়। তখন কাঁচকে বর্ণহীন করার জন্য বিরঞ্জকরূপে MnO2 যোগ করা হয়। 
- গলিত কাঁচে আবদ্ধ গ্যাস-বুদবুদ যেমন CO2 ও SO2 দূর করার জন্য স্বচ্ছকারকরূপে NaNO3, Al2O3, NH4Cl ইত্যাদি যোগ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারো ও নাগ)।
৯৩৫.
পৃথিবীর বারিমণ্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল হৃদ ধারণ করে?
  1. ক) ০.০০১%
  2. খ) ০.০০০১%
  3. গ) ০.০১%
  4. ঘ) ০.০০০০১%
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টনঃ
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৬.
মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার শতকরা পরিমাণ -
  1. ৪৫%
  2. ৬৫%
  3. ৫৫%
  4. ৯১%
ব্যাখ্যা
মানবদেহ (রক্ত): 

• রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
• রক্তের উপাদান প্রধানত দুইটি। যথা: রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। 
• রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে।
• রক্তে ৩ ধরনের কণিকা রয়েছে। যথা- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকা।
• সাধারণত মানুষের শরীরের ওজনের ৮% রক্ত থাকে।
• একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ ৫-৬ লিটার । 
• রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
•  মানুষের রক্তের PH: 7.35 - 7.45।
• মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬০ ফারেনহাইট)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৯৩৭.
নিচের কোনটি ভিটামিন-সি-এর উৎস নয়?
  1. ডিমে
  2. কলিজায়
  3. বাঁধাকপিতে
  4. পেয়ারায়
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি: 
- ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড। 
- পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদিতে ভিটামিন সি থাকে। 
- সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। 
- সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি। 
ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি ছাড়া সকল ভিটামিন রয়েছে। 
 
অন্যদিকে, 
- দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদিতে ভিটামিন এ থাকে। 
- ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদিতে ভিটামিন বি থাকে। 
- ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদিতে ভিটামিন ডি থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৮.
মানবদেহে দৈহিক ওজনের কত শতাংশ পানি থাকে? 
  1. ৪০-৫০% 
  2. ২০-৩০%
  3. ৬০-৭৫% 
  4. ৮০-৯০%
ব্যাখ্যা

পানি (Water): 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানবদেহের জন্য পানি অপরিহার্য, এটি দেহের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% হচ্ছে পানি। আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- দেহকোষ গঠন এবং কোষের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া পানি ছাড়া কোনোভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব না। পানির মাধ্যমে শরীর গঠনের নানা প্রয়োজনীয় উপাদান শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পরিবাহিত হয়। 
- এটি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। এছাড়া পানি শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
- শরীরে পানির উৎস: খাবার পানি, পানীয় যেমন- চা, দুধ, কফি, শরবত এবং বিভিন্ন খাদ্য যেমন- শাকসবজি ও ফল। 

- শরীর থেকে মোট নির্গত পানির পরিমাণ গৃহীত পানির পরিমাণের সমান হলে শরীরে পানির সমতা বজায় থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- গরম আবহাওয়ায়, কঠোর পরিশ্রমে দেহে পানির অভাব দেখা দেয়। এ সময় পানি পানের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। 
- ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ঘনঘন প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানির অভাব হতে পারে। শরীরে পানির অভাব হলে তীব্র পিপাসা হয়, রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে, ত্বক কুঁচকে যায়।
- পানির অভাবে স্নায়ু ও পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
- দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়।
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
- অত্যধিক বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি কারণেও শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যেতে পারে। শরীরে পানির অভাব নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হয়। শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, খাবার স্যালাইন তা পূরণ করে শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩৯.
কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে নিউমোনিয়া রোগ হয়?
  1. ক) Streptococcus
  2. খ) Pneumococcus
  3. গ) Yersinia
  4. ঘ) Tuberculosis
ব্যাখ্যা
Pneumococcus নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে নিউমোনিয়া রোগ হয়। 

নিউমোনিয়া ফুসফুসের প্রদাহ জনিত একটি রোগ যা ব্যাকটেরিয়া,ভাইরাস,ছত্রাক কিংবা অন্য যেকোন পরজীবীর সংক্রমণের কারণে হতে পারে। কারও রোগটি হলে তাঁর শরীরে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের স্বাভাবিক আদান প্রদান প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। রোগটি হলে ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেহে বাতাসের আদান প্রদান প্রক্রিয়া অনেক বাধাগ্রস্ত হয়।

নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণসমূহ-
১. জ্বর, কাশি অথবা শ্বাসকষ্ট হওয়া।
২. বয়স অনুযায়ী শ্বাস দ্রুত মনে হওয়া।
৩. অস্থিরতা ভাব হওয়া।
৪. খাবারে অরুচি হওয়া।
৫. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৬. পেটে ব্যথা হওয়া।
৭. শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৮. মারাত্মক নিউমোনিয়ার হলে শ্বাস নেয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভিতরে ঢুকে যাওয়া।
৯. শ্বাসকষ্টের কারণে রোগীর খিঁচুনি হতে পারে।

সূত্র: Johns Hopkins University Website. 
৯৪০.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মানব সৃষ্ট প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) প্রাণির বাসস্থান ধ্বংস
  2. খ) পরিবেশ দূষণ
  3. গ) অতিমাত্রায় সম্পদ আহরণ
  4. ঘ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

মানব সৃষ্ট কারণঃ
১। বাসস্থান ধ্বংস- জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সব থেকে বড় কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা। বর্তমানে প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ৫০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করা জলজ প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ।

২। এক্সপ্লয়টেশন- সম্পদের অতিমাত্রায় আহরণ বহু জীব প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩। অতিমাত্রায় পশু চারণ- তৃণভূমিতে অতিমাত্রায় পশুচারণের ফলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

৪। পলিনেটর ধ্বংস- মৌমাছিসহ বহু কীটপতঙ্গ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায়। অতিমাত্রায় কীটনাশক, পতঙ্গনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নের এ বাহকগুলো কমে গিয়েছে। তাই পরাগায়নের অভাবে এ সকল উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

৫। পরিবেশ দূষণ- পরিবেশ দূষণ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪১.
রক্তের লাল রং হওয়ার কারণ কী? 
  1. শ্বেতকণিকার সংখ্যা
  2. হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতি
  3. অক্সিজেনের পরিমাণ
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে, এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেতকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪২.
কোন পদার্থের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পেছনে দায়ী?
  1. ক) স্টীল
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) কাগজ
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
- প্লাস্টিক রিসাইকেল করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

সূত্র: Plastics NZ Website
৯৪৩.
কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ক) এমআরআই
  2. খ) সিটিস্ক্যান
  3. গ) এক্স-রে
  4. ঘ) এনজিওগ্রাফ
ব্যাখ্যা
- ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
- এক্স-রে এর একক হলো রন্টজেন যা আবিষ্কারকের নামাণুসারে করা হয়। 
- এক্স-রে -এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8m থেকে 10-13m এর কাছাকাছি। 
- এক্স-রে গ্যাসীয় মাধ্যমকে আয়নিত করে। 
এক্স-রের ব্যবহার
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়।
- পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা যায়।
- এক্স-রে করে পিত্তথলি ও কিডনিতে পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায়। 
- রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- দাঁতের ক্যাভিটি ও অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৪.
বিদ্যুৎকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানোর জন্য কোন বৈজ্ঞানিকের অবদান সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  2. খ) আইজ্যাক নিউটন
  3. গ) টমাস এডিসন
  4. ঘ) ভোল্টা
ব্যাখ্যা
Thomas Edison was an American inventor who is considered one of America's leading businessmen and innovators. Edison rose from humble beginnings to work as an inventor of major technology, including the first commercially viable incandescent light bulb,he had played a critical role in introducing the modern age of electricity.He is credited today for helping to build America's economy during the Industrial Revolution.

Source: biography.com
৯৪৫.
সিমেন্টের সেটিং প্রক্রিয়াকে মন্থর করতে কোন উপাদান ব্যবহার করা হয়? 
  1. ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট 
  2. জিপসাম 
  3. সিলিকা 
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট 
ব্যাখ্যা

সিমেন্ট সেটিং-এ জিপসামের ভূমিকা: 
- সিমেন্টের উপাদান ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট (3CaO.Al2O3) সিমেন্ট জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কিন্তু জিপসাম (CaSO4.2H2O) ট্রাইক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেটের সাথে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম সালফো অ্যালুমিনেট তৈরি করে।
- ফলে সিমেন্টের দ্রুত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াটি ধীরে চলে এবং উৎপন্ন কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা শক্তি বেড়ে যায়। 
- সিমেন্টের জমাট বাঁধা প্রক্রিয়াকে মন্থর করা জিপসামের কাজ। 
• 3CaO.Al2O3 + 3(CaSO4.2H2O) + 2H2O → 3CaO.Al2O3.3CaSO4.2H2O + 6H2O

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

৯৪৬.
কুলম্ব কোন পরিমাপের একক?
  1. আধান
  2. ভোল্ট
  3. ওহম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• কুলম্ব (Coulomb) হল বৈদ্যুতিক চার্জের একক। এটি আধানের পরিমাপ নির্দেশ করে। এক কুলম্ব হল এমন একটি চার্জ যা এক অ্যাম্পিয়ারের ধারা এক সেকেন্ড ধরে প্রবাহিত হলে তৈরি হয়। সুতরাং, কুলম্ব ভোল্ট, সিমেন্স বা ওহম নয়; এটি সরাসরি বৈদ্যুতিক চার্জের পরিমাণকে প্রকাশ করে।

সঠিক উত্তর: ক) আধান।

- SI এককে পরিবাহিতার একক সিমেন্স(S)।

• এছাড়াও,
- তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপের একক হলো অ্যাম্পিয়ার।
- তড়িৎ বিভব পার্থক্য পরিমাপের একক হলো ভোল্ট।
- রোধ পরিমাপের একক হলো ওহম।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৪৭.
নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস ৭টি।

• মৌলগুলো হলো:
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne),
- আর্গন (Ar),
- ক্রিপ্টন (Kr),
- জেনন (Xe),
- রেডন (Rn) এবং
- ওগানেসন (Og)।

- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৯৪৮.
বায়োগ্যাসে সবচেয়ে বেশি থাকে -
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) বিউটেন
  4. ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা
- গোবর ও অন্যান্য পঁচনশীল পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে (অবায়বীয় অবস্থায়) পঁচানোর ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানি গ্যাস তৈরী হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে।
- বায়োগ্যাসে শতকরা ৬০-৭০ ভাগ মিথেন থাকে, তাই একে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- মিথেন ছাড়া বায়োগ্যাসে থাকে মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)।
- সাধারণত অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতায় গোবর ও অন্যান্য আবর্জনা পঁচে বায়োগ্যাস সৃষ্টি হয়।
- এ গ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট অংশ উন্নত মানের সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বায়োগ্যাসের ব্যবহার- 
১. এ গ্যাস দিয়ে রান্না-বান্না করা যায়।
২. ম্যান্টল জ্বেলে হ্যাজাক লাইটের মত আলো পাওয়া যায় ।
৩. জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে লাইট, ফ্যান, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি চালানো যায় এবং বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানো যায় ।
৪. পাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি সেচ করা যায়।
৫. এ গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালানো যায়।
৬. এ গ্যাস দিয়ে ফ্রিজ ও ইনকিউবেটর চালানো যায় ।

বায়োগ্যাস তৈরির সময় রেসিডিউ (অবশিষ্টাংশ) নিম্নলিখিত কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে
১ . উন্নতমানের জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যায়।
২. মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় ৷
৩. মাশরুম চাষ করা যায়।
৪. মুক্তা চাষে ব্যবহার করা যায়।

সূত্র: ৩৯৫ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৯.
কোন স্থানে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৪ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ২ গুণ কমবে
  2. ২ গুণ বাড়বে
  3. ৪ গুণ কমবে
  4. ৪ গুণ বাড়বে
ব্যাখ্যা
• সরল দোলক:
- সরল দোলক: একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে - সরল দোলক বলে।
- দোলনকাল (T) মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ (g)  এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
• T = 2π√(L/g)

- সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৪ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ২ গুণ কমবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৫০.
জাইগোট সর্বদা-
  1. হ্যাপ্লয়েড
  2. ডিপ্লয়েড
  3. ট্রিপ্লয়েড
  4. ট্রেট্রাপ্লয়েড
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের প্লয়িডি লেভেল:
- মানুষের শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু উভয়েই হ্যাপ্লয়েড (n) অর্থাৎ একপ্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট।
- শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে।
- নিষেকের ফলে জাইগোট তৈরি হয়।
- জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n) বা দুই প্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট।
- সস্যের এন্ডোস্পার্ম ট্রিপ্লয়েড (3n) বা তিন প্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৯৫১.
আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে নিচের কোনটি?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
শর্করা:
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য।
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। যেমন: 

উদ্ভিজ্জ উৎস:
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস।
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে।
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

প্রাণিজ উৎস:
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে।
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫২.
নিচের কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়?
  1. মোবাইল
  2. টেলিফোন
  3. ই-মেইল 
  4. রেডিও 
ব্যাখ্যা

রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 

অন্যদিকে, 
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 
- ইমেইল এর মাধ্যমে প্রেরক ও গ্রহণকারী উভয়ে বার্তা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৯৫৩.
‘জীবাশ্ম’ বলতে কী বোঝায়? 
  1. মৃত প্রাণীর হাড়ের গুঁড়া
  2. প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের চিহ্ন
  3. মাটি থেকে তোলা যেকোনো বস্তু
  4. কেবলমাত্র প্রাগৈতিহাসিক গাছ
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil): 
- ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- প্রাগৈতিহাসিক জীবের সাক্ষ্য বা চিহ্ন হিসেবে মোল্ড (mold), কাস্ট (cast), হাত বা পায়ের ছাপ, গমন পথ (track), ট্রেইল (trail), গর্ত (boring), মলাশ্ম বা কপ্রোলাইট (coprolite) কে জীবাশ্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 
- বিবর্তনের সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য এবং প্রামাণিক সাক্ষ্য (উপাদান) হচ্ছে জীবাশ্ম। 
- জীবাশ্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সংগ্রহ করতে হলে ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তর সম্বন্ধেও জ্ঞান লাভ করতে হয় বলে বিবর্তনের এই প্রমাণকে ভূতত্ত্বীয় প্রমাণও (geological evidence) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৪.
কোন গ্রুপের মৌলগুলোকে নোবেল গ্যাস বলা হয়?
  1. গ্রুপ ১৭
  2. গ্রুপ ১৮
  3. গ্রুপ ২
  4. গ্রুপ ১
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

• পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
• এ গ্রুপের মৌল গুলো হল -
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৯৫৫.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে কোন রশ্মি নির্গত হয়?
  1. আলফা
  2. বিটা
  3. গামা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• তেজস্ক্রিয়তা:
- বিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল ১৮৯৬ সালে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড এবং ভিলার্ড পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে, তেজস্ক্রিয় পদার্থ হতে তিন প্রকার রশ্মি নির্গত হয়। যথা-
১. আলফা রশ্মি,
২. বিটা রশ্মি এবং
৩. গামা রশ্মি।

• তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- যে সকল মৌলের পারমাণবিক ওজন ২০৬ এর অধিক, সে সকল পদার্থ তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি অবিরাম প্রক্রিয়া।
- তেজস্ক্রিয় রশ্মি বা কণা ধনাত্মক চার্জ যুক্ত, ঋণাত্মক চার্জ যুক্ত এবং চার্জ নিরপেক্ষ হতে পারে।
- তেজস্ক্রিয়তা একটি নিউক্লিয়ার ঘটনা ।
- তেজস্ক্রিয়তার ফলে নতুন মৌলের সৃষ্টি হয় যেমন- রেডিয়াম হতে হিলিয়াম ও র‍্যাডন সৃষ্টি হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৬.
পারমাণবিক চুল্লিতে “কন্ট্রোল রড” এর কাজ কী?
  1. তাপ শোষণ
  2. নিউট্রন শোষণ করে বিভাজন নিয়ন্ত্রন
  3. তড়িৎ উৎপাদন
  4. জ্বালানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লিতে কন্ট্রোল রড নিউট্রন শোষণ করে পারমাণবিক বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। 
 
• কন্ট্রোল রড:
- পারমাণবিক চুল্লির কন্ট্রোল রড হল এমন একটি উপাদান যা পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রন শোষণ করে পারমাণবিক বিভাজন (ফিশন) প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি চুল্লির মধ্যে শৃঙ্খল বিক্রিয়ার হার (চেইন রিয়াকশন) কমাতে বা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।

• পারমাণবিক চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন (nuclear fission) অর্থাৎ নিউট্রনের সাহায্যে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে।
- এ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে “কন্ট্রোল রড” ব্যবহার করা হয়।

• কন্ট্রোল রড সাধারণত বোরন (Boron), ক্যাডমিয়াম (Cadmium) বা হ্যাফনিয়াম (Hafnium)-এর মতো উপাদানে তৈরি, যা অতিরিক্ত নিউট্রন শোষণ করে।
- এর ফলে, ফিশন প্রতিক্রিয়ার হার কমানো বা বাড়ানো যায় — অর্থাৎ এটি চুল্লির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।
- এই উপাদানগুলি নিউট্রন শোষণ করতে খুব কার্যকর।
- যখন রডগুলি চুল্লির মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, তখন তারা নিউট্রন শোষণ করে এবং চেইন রিঅ্যাকশনকে ধীর করে দেয় বা বন্ধ করে দেয়।
- অন্যদিকে, রডগুলি বের করে নিলে চেইন রিঅ্যাকশন আরও দ্রুত হতে শুরু করে।
- এই রডগুলি পারমাণবিক চুল্লির ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং চুল্লিটিকে নিরাপদ রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- International Atomic Energy Agency (IAEA) – Reactor Safety Guidelines.
৯৫৭.
ইপিআই (EPI) কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিরোধ যোগ্য রোগের সংখ্যা -
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
Expanded Programme on Immunization (EPI)
- ইপিআই বিশ্বব্যাপী কর্মসূচি, যার মূল লক্ষ্য সংক্রামক রোগ থেকে শিশু, মাতৃমৃত্যু ও পঙ্গুত্ব রোধ করা।
- এ কর্মসূচির উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠী হচ্ছে ০ থেকে ১৮ মাস বয়সী সব শিশু এবং ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী সন্তান ধারণক্ষম সব নারী।

যক্ষ্মা, ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি, মা ও নবজাতকের ধনুষ্টঙ্কার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি, নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া, পোলিও মাইলাইটিস, হাম ও রুবেলা—এই ১০ রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

- সরকারের এ কার্যক্রমে সার্বিকভাবে সহায়তা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
- ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে বিনা মূল্যে এ টিকাগুলো দেওয়া হয়।

• স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এই কর্মসূচির সাফল্যের পাল্লাটা বেশ ভারী, যার জন্য মিলছে নানান স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ কর্মসূচি বাংলাদেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। সব থেকে বড় কথা হলো, এ কর্মসূচির ফলেই দেশে মা ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর পাশাপাশি পঙ্গুত্ব রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

- কর্মসূচি অনুযায়ী (প্রাপ্যতা অনুযায়ী)০ - ১১ মাস বয়সি শিশুদের যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, পোলিও, হেপাটাইটিস বি, হিমো-ইনফ্লুয়েঞ্জা বি, হাম ও রুরেলা এই ৯টি  রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রয়োগ করা হয় এবং ১৫ - ৪৯ বছরের মহিলাদের সিডিউল অনুযায়ী ৫ ডোজ টিটি টিকা প্রদান করা হয়ে থাকে।

উৎস: www.prothomalo.com, services.portal.gov.bd.
৯৫৮.
তৈলকে চর্বিতে পরিণত করার হাইড্রোজেনেশন প্রক্রিয়ায় কোন ধাতু ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করে? 
  1. তামা 
  2. লোহা 
  3. অ্যালুমিনিয়াম 
  4. নিকেল 
ব্যাখ্যা

তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড (C15H31CO2H), স্টেয়ারিক এসিড (C17H35CO2H) এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড (C17H33CO2H), লিনোলিক এসিড (C17H31CO2H) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20° C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20° C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে শক্তি পাওয়া যায়। 1 g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান। 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং, বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। যেমন- সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
• সয়াবিন তৈল (অসম্পৃক্ত গ্লিসারাইড) + H2 ⇒ মার্জারিন (সম্পৃক্ত গ্লিসারাইড)। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।

৯৫৯.
অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডারে থাকে?
  1. ক) তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) তরল অ্যামোনিয়া
  3. গ) তরল নাইট্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন তরল আকারে
ব্যাখ্যা
অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র একটি মজবুত মেটাল সিলিন্ডার যার ভেতর পানি বা অদাহ্য অন্য কোন পদার্থ (তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইড উদাহরন স্বরূপ) উচ্চ চাপে সংরক্ষিত থাকে। যখন লিভার চেপে সিলিন্ডারের ভালব খোলা হয় তখন ভিতরে রক্ষিত তরল সজোড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে যেমনটা হয় এ্যারোসলের ক্ষেত্রে।
Source: National Emergency Service
৯৬০.
ডিমের খোসার প্রধান উপাদান কী?
  1. ক) সালফেট
  2. খ) অক্সালেট
  3. গ) কার্বনেট
  4. ঘ) ফসফেট
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaCO3। এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক, ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

৯৬১.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়?
  1. ক) ট্রান্সফরমার
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) বৈদ্যুতিক মটর
  4. ঘ) হুইল
ব্যাখ্যা
• ডায়নামো:
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে।
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

• বৈদ্যুতিক মটর:
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে বৈদ্যুতিক মটর বলে

• ট্রান্সফর্মার:
-যে যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৬২.
ট্রানজিস্টর প্রথম আবিষ্কৃত হয় কোন প্রতিষ্ঠানে? 
  1. এমআইটি
  2. নাসা 
  3. আইবিএম 
  4. বেল ল্যাবরেটরি 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ও এর প্রভাব: 
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। 
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করেন। 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে: এমিটার, বেস, এবং কালেক্টর। 
- এটি একটি তিন প্রান্তবিশিষ্ট ডিভাইস। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে এর আবিষ্কার ঘটে। 
- আবিষ্কারের পর থেকে ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক যন্ত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন ও হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে, তাই এটিকে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলা হয়। 
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৩.
কোন মাধ্যমে শব্দ দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়?
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. তরল মাধ্যমে
  3. কঠিন মাধ্যমে
  4. বায়বীয় মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
যেমন- একটি লম্বা স্প্রিং নিয়ে এর এক প্রান্তে আঘাত করলে দেখবে স্প্রিংটির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে আন্দোলন সঞ্চালিত হচ্ছে, শব্দের ঢেউ এভাবেই সঞ্চালিত হয়। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়। আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৯৬৪.
দ্বিপদ নামকরেণে প্রথম অংশটি নির্দেশ করে-
  1. গণ
  2. প্রজাতি
  3. পরিবার
  4. শ্রেণি
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে প্রথম নামটি 'গণ' নির্দেশ করে।

• দ্বিপদ নামকরণ:

- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস।
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়।
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম।
- এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক।
- যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo Sapiens I
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯৬৫.
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হল -
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন-ডাইঅক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন 
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাস হলো - হাইড্রোজেন। 
• পক্ষান্তরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে নাইট্রোজেন গ্যাস। 
-----------------------

- হাইড্রোজেন গ্যাস মহাবিশ্বের মৌলিক গঠনের প্রায় 75% (ভর) তৈরি করে। 
- এটি আমাদের সূর্য সহ নক্ষত্রগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং এটি পারমাণবিক ফিউশন প্রতিক্রিয়াগুলির জন্য প্রাথমিক জ্বালানী উৎস। 
- হাইড্রোজেন আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশেও প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত থাকে এবং এটি আণবিক মেঘের একটি মূল উপাদান যেখানে নতুন তারকা গঠিত হয়। 

- মহাবিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হচ্ছে হিলিয়াম। হাইড্রোজেন ও হিলিমায় যৌথভাবে মহাবিশ্বের ৯৯.৯% উপাদান গঠন করেছে। 
• এই সারিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অক্সিজেন। 
Source: The University of Texas; LiveScience and Nature Journal.

অন্যদিকে, 
- পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের শতকরা হার: 
• নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%, 
• অক্সিজেন - ২০.৭১%, 
• আরগন - ০.৮০%, 
• কার্বন ডাই অক্সাইড - ০.০৩%, 
• জলীয় বাষ্প - ০.৪১%, 
• অন্যান্য গ্যাসসমূহ - ০.০২% এবং 
• ধূলিকণা ও কণিকা - ০.০১% । 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৬.
পানির ঘনত্ব কত?
  1. 1 kgm-3
  2. 1000 gm-3
  3. 1000 kgm-3
  4. 100 kgcm-3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৭.
কোন পরমাণুতে নিউট্রন নেই? 
  1. হাইড্রোজেন 
  2. হিলিয়াম
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম 
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন (H) পরমাণু:
- হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক H।
-  সংকেত- H2
- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে কেন্দ্রের বাইরে কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন এবং কেন্দ্রে ১টি প্রোটন অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) পরমাণুর কেন্দ্রে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- তবে হাইড্রোজেনের অন্য দুটি আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১টি ও ২টি করে নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু বলতে স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়াম কেই বোঝায়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৬৮.
একটি পরিবাহী তারের পরিবাহিতা 0.5 সিমেন্স হলে পরিবাহীর রোধ কত? 
  1. 2 Ω
  2. 3 Ω
  3. 4 Ω
  4. 6 Ω
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি পরিবাহী তারের পরিবাহিতা 0.5 সিমেন্স হলে পরিবাহীর রোধ কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
পরিবাহিতা, G = 0.5 সিমেন্স
রোধ, R =? 

আমরা জানি,
R = 1/G 
বা, R = 1/0.5
∴ R = 2 Ω 
উত্তর: 2 Ω ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৯.
সরল পেরিস্কোপ তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উত্তল দর্পণ
  2. খ) অবতল দর্পণ
  3. গ) সমতল দর্পণ
  4. ঘ) উত্তল লেন্স
ব্যাখ্যা

বস্তু থেকে আগত রশ্মির পরপর দুবার সমতল দর্পণে প্রতিফলনের ফলে গঠিত প্রতিবিম্ব দেখার একটি সহজ যন্ত্র পেরিস্কোপ।
এটি একটি লম্বা আয়তাকার কাঠের বা ধাতুর তৈরি লম্বা নল। এই যন্ত্রের নলের মধ্যে দুটি সমতল দর্পণকে পস্পরের মুখোমুখি এবং সমান্তরাল করে নলের অক্ষের সাথে ৪৫º কোণে বসানো হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৯৭০.
তড়িৎ মুদ্রণ কী? 
  1. ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রযুক্তি
  2. ফটোগ্রাফির প্রিন্টিং প্রযুক্তি
  3. কাগজে হাতের লেখা মুদ্রণের পদ্ধতি
  4. তড়িৎ প্রলেপের মাধ্যমে হরফ বা ব্লক তৈরি করার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মুদ্রণ (Electrotyping): 
- তড়িৎ প্রলেপের একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে হরফ, ব্লক মডেল ইত্যাদি তৈরি করাকে তড়িৎ মুদ্রণ বলে
- তড়িৎ মুদ্রণের জন্য প্রথমে লেখাটি সাধারণ টাইপে মোমের ওপর ছাপ নেওয়া হয়। 
- এর উপরে কিছু গ্রাফাইট গুঁড়ো ছড়িয়ে একে তড়িৎ পরিবাহী করা হয়। 
- তারপর কপার সালফেট দ্রবণে এটি ক্যাথোড পাত হিসেবে ডুবানো হয় এবং একটি তামার পাতকে অ্যানোড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- তারপর দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালালে মোমের ছাঁচের ওপর তামার প্রলেপ পড়বে। 
- প্রলেপ খানিকটা পুরু হলে ছাঁচ থেকে ছাড়িয়ে ছাপার কাজে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭১.
কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. রৈখিক গতি
  2. অপর্যাবৃত্ত গতি
  3. পর্যাবৃত্ত গতি
  4. স্পন্দন গতি
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে।
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ।

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭২.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা

• যকৃতের রোগ হচ্ছে - জন্ডিস। 

• জন্ডিস:
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে।
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭৩.
কোন ধমনি মানবদেহের অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে?
  1. সিলিয়াক
  2. ইলিয়াক
  3. ফ্রেনিক
  4. মেসেন্টেরিক ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৪.
বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে কী বলে?
  1. ক) মধ্যবেগ
  2. খ) সমবেগ
  3. গ) অসমবেগ
  4. ঘ) তাৎক্ষণিক বেগ
ব্যাখ্যা
বেগ (Velocity)
- সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে বেগ বলে। 

গড় বেগ (Average Velocily)
- যেকোনো সময় ব্যবধানে বস্তুর গড়ে প্রতি একক সময়ে যে সরণ হয় তাকে বস্তুটির গড় বেগ বলে। 
- যেকোনো সময় ব্যবধানে কোনো বস্তুর মোট সরণকে ঐ সময় ব্যবধান দ্বারা ভাগ করে গড় বেগ নির্ণয় করা হয়। 

তাৎক্ষণিক বেগ (Instantaneous Velocity)
- বস্তু কণার কোনো বিশেষ মুহূর্তের বেগকে তাৎক্ষণিক বেগ বলা হয়ে থাকে। 
- কোনো বস্তুর তাৎক্ষণিক বেগ নির্ণয় করতে হলে সময় ব্যবধান অবশ্যই অত্যন্ত ক্ষুদ্র (প্রায় শূন্যের কাছাকাছি) হতে হবে। 
- সময় ব্যবধান শূন্যের কাছাকাছি হলে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের হারকে তাৎক্ষণিক বেগ বলে। 

মধ্যবেগ (Mean Velocity)
- কোনো একটি গতিশীল বস্তুর প্রথম ও শেষ বেগ এর অভিমুখ একই হলে তাদের গড়কে মধ্য বেগ বলে। 

সমবেগ (Uniform velocity)
- বেগ যদি সব সময় ধ্রুব থাকে তাহলে তাকে সমবেগ বলে। 
- অর্থাৎ কোনো বস্তু যদি নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান পথ অতিক্রম করে তাহলে বস্তুর বেগকে সমবেগ বলে। 
যেমন শব্দের বেগ, আলোর বেগ ইত্যাদি। 

অসম বেগ (Non-uniform Velocity)
- বেগ যদি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হয় তাহলে তাকে অসম বেগ বলে। 
- যদি কোনো বস্তুর বেগের মান বা দিক বা উভয় পরিবর্তিত হয় তখন সেই বেগকে অসম বেগ বলে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৫.
একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে তার উপর কাগজ রেখে উল্টিয়ে দিলে কাগজটি পড়ে যায় না। এর মূল কারণ কী?
  1. পানির চৌম্বকীয় শক্তি
  2. বায়ুমণ্ডলীয় চাপের তারতম্য
  3. পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  4. কাগজের আঠালো ধর্ম
ব্যাখ্যা

◉ যখন একটি গ্লাসে পানি ভর্তি করে তার মুখে কাগজ রেখে উল্টানো হয়, তখন কাগজটি পড়ে যায় না। এর মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ (Atmospheric Pressure)।

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ বাড়লে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা বেড়ে যায়, আবার চাপ কমলে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা কমে যায়। এভাবে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করা যায়। 
- পৃথিবীর সর্বত্র বায়ুমণ্ডলীয় চাপ সমান নয়, আবার একই স্থানে সবসময় বায়ুমণ্ডলীয় চাপও সমান থাকে না। 
- স্থান ও সময় ভেদে বায়ুমণ্ডলের চাপ বিভিন্ন হয়। এ কারণে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব, বায়ু প্রবাহের দিক তাপমাত্রা প্রভাবিত হয়। 
- তাই কোন স্থানের বায়ুমণ্ডলের চাপের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। 
- চাপ পরিমাপ যন্ত্র বা ব্যারোমিটারের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করে কোন স্থানের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া যায়। 

যেমন- 
• কোনো স্থানে ব্যারোমিটারে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বুঝা যায় বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ জলীয় বাষ্প বায়ু থেকে হালকা। এক্ষেত্রে ঐস্থানে বা এলাকায় বৃষ্টি পাতের সম্ভাবনা। 
• যদি কোনো স্থানে পারদ স্তম্ভের উচ্চতা হঠাৎ খুব কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে চারিদিকে বায়ুমণ্ডলের চাপ সহসা কমে গেছে এবং নিম্ন চাপের সৃষ্টি হয়েছে। তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চ চাপের এলাকা থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঐ স্থানে ছুটে আসবে। সুতরাং ঐ স্থানে দ্রুত ঝড়ের সম্ভাবনা। 
• ব্যারোমিটারের পারদ স্তম্ভের উচ্চতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে বুঝতে হবে ঐ স্থানে বা এলাকায় বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প অপসারিত হয়ে শুষ্ক বাতাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুতরাং আবহাওয়া শুষ্ক ও পরিষ্কার থাকবে। এভাবে ব্যারোমিটারের পাঠ দেখে আহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়। 

Science Museum Group-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী:
গ্লাস উল্টানোর পর কাগজের নিচে বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পানি ও কাগজকে উপরের দিকে ঠেলে ধরে রাখতে সক্ষম হয়, যার ফলে পানি বের হয় না। 

উৎস:
১। পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। The Science Museum Group.

৯৭৬.
পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসেবে কোন ধাতু ব্যবহার করা হয়?
  1. পটাশিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. লিথিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

• পারমাণবিক চুল্লি:

- নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর (Nuclear Reactor) বা পারমাণবিক চুল্লি মূলত এক প্রকার তাপীয় যন্ত্র।
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের জন্য নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম-২৩৫)-এর শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) ঘটিয়ে অত্যধিক তাপ শক্তি উৎপাদন করা হয়।
- মূলত ইউরেনিয়াম-২৩৫ (U-235) কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউক্লিয়ার বিভাজনের (Nuclear Fission) মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লির মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- পারমাণবিক চুল্লি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরীসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহকরূপে হিসাবে সোডিয়াম ধাতু ব্যবহৃত হয়।

- জ্বালানি হিসাবে ইউরেনিয়াম ও মডারেটর হিসাবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন পরমাণু খুবই হালকা হওয়ায় মডারেটর হিসেবে রিয়্যাক্টরে হাইড্রোজেন পরমাণুকেই বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মডারেটর হিসেবে পরিষ্কার গ্রাফাইট, সাধারণ হালকা পানি, ভারী পানি ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

উৎস:
ক) রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
খ) IAEA ওয়েবসাইট।
৯৭৭.
জ্যোতিষ্ক কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা
জ্যোতিষ্ক:

- মহাশূন্যে অবস্থিত বস্তুসমূহকে জ্যোতিষ্ক বলা হয়ে থাকে।
- জ্যোতিষ্ক ৭ প্রকার।
• নক্ষত্র।
• নীহারিকা।
• গ্রহ।
• উপগ্রহ।
• ছায়াপথ।
• ধূমকেতু।
• উল্কা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৮.
ঢাকার দ্রাঘিমা ৯০° পূর্ব এবং রিয়াদের দ্রাঘিমা ৪৫° পূর্ব। ঢাকার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা হলে সেই সময় রিয়াদের স্থানীয় সময় কত? 
  1. সকাল ১১ টা
  2. রাত ১২ টা
  3. রাত ১১ টা
  4. সকাল ১০ টা
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ঢাকার দ্রাঘিমা ৯০° পূর্ব এবং রিয়াদের দ্রাঘিমা ৪৫° পূর্ব। ঢাকার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা হলে সেই সময় রিয়াদের স্থানীয় সময় কত? 

সমাধান: 
আমরা জানি,
প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য = ৪ মিনিট
ঢাকা ও রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য = (৯০ - ৪৫)° = ৪৫°
সুতরাং, সময়ের পার্থক্য হবে = (৪৫ × ৪) মিনিট = ১৮০ মিনিট = ৩ ঘণ্টা 

প্রশ্নে উল্লিখিত ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা দেখে বুঝা যায়, রিয়াদ ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত। তাই ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে এই ৩ ঘণ্টা বাদ যাবে।
সুতরাং, রিয়াদের স্থানীয় সময় হবে, 
= দুপুর ২ টা - ৩ ঘণ্টা। এখানে দুপুর ২টা বলতে ১৪টা হবে।
= ১৪ টা – ৩ ঘণ্টা
= ১১ টা 
∴ রিয়াদের স্থানীয় সময় হবে সকাল ১১ টা ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৯.
প্রকৃতিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কোন ধাতু?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. লোহা
  3. তামা
  4. দস্তা
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়াম (Al):
- অ্যালুমিনিয়াম (Al) হল পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধাতু।
- এটি মূলত বক্সাইট আকরিক (Bauxite ore) আকারে পাওয়া যায়।
- যদিও এটি কখনোই মুক্ত ধাতু হিসেবে পাওয়া যায় না, কারণ এটি অত্যন্ত সক্রিয়। তাই এটি সর্বদা যৌগ আকারে থাকে।

• অ্যালুমিনিয়ামের ধর্ম:
১. অ্যালুমিনিয়াম তাপ এবং বৈদ্যুতিক সুপরিবাহী।
২. হালকা কিন্তু টেকসই।

উৎস:  ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৯৮০.
বর্তনীতে কত ধরনের রোধ ব্যবহার করা হয়? 
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
রোধ: 
- পরিবাহীর যে ধর্মের কারণে এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় তাকে রোধ বলে।  
- বর্তনীতে দুই প্রকার রোধ ব্যবহার করা হয়। 
যথা- 
১. স্থির রোধ: 
- যে সকল রোধের মান নির্দিষ্ট অর্থাৎ মানের পরিবর্তন করা যায় না তাদেরকে স্থির রোধ বলে। 

২. পরিবর্তনশীল রোধ: 
- যে সকল রোধের মান প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা যায় তাদেরকে পরিবর্তনশীল রোধ বলে। 
- বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ পরিবর্তন এবং বিভব পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তনশীল রোধের প্রয়োজন পড়ে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮১.
কোন অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন থাকে?
  1. ব্রোমিন
  2. আয়োডিন
  3. ক্লোরিন
  4. পারদ
ব্যাখ্যা
• আয়োডিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- পারদ একটি ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
- ক্লোরিন একটি অধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস।
- ব্রোমিন হলো একমাত্র অধাতু, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপ এ তরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮২.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে ওজোনের বিপুল পরিমাণ উপস্থিতি রয়েছে?
  1. ক) ট্রপোমণ্ডল
  2. খ) মেসোমন্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল পৃথিবী থেকে ১২/১৫ কিলোমিটার উপরে ট্রপোবিরতি হতে শুরু হয়ে স্ট্র্যাটোবিরতি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই স্তরেই ওজোন অবস্থিত। ওজোন স্তর দ্বারা অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণ শোষণ বৃদ্ধির কারণে এই স্তরের তাপমাত্রা বাড়ে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বোর্ড বই
৯৮৩.
What substance is hemoglobin?
  1. ক) affectionate
  2. খ) Carbohydrates
  3. গ) non-vegetarian
  4. ঘ) Vitamins
ব্যাখ্যা
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৮৪.
রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে কোন ভিটামিন কাজ করে?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন সি
  3. ভিটামিন ডি
  4. ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে এর রাসায়নিক নাম ফাইটাল নেপথোকুইনোন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। 

• ভিটামিন কে এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে কে ভিটামিন পাওয়া যায়। 

• ভিটামিন কে এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

• ভিটামিন কে এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- ভিটামিন কে এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৫.
মানবদেহে কোন ভাইরাস 'গুটিবসন্ত' রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ভেরিওলা ভাইরাস
  2. র‍্যাবিস ভাইরাস
  3. অ্যাডিনো ভাইরাস
  4. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে "ভেরিওলা ভাইরাস" ভাইরাস 'গুটিবসন্ত' রোগ সৃষ্টি করে। 

- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে, তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

- ভাইরাস নানা রকম প্রাণীর মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে, ফলে প্রাণীর অকাল মৃত্যু সংঘটিত হয়। 

২। প্রাণীর ন্যায় উদ্ভিদের প্রায় ৩০০ ধরনের রোগ ভাইরাস দিয়ে সংঘটিত হয়। 
- এতে ফসলের উৎপাদন বিপুল পরিমাণে হ্রাস পায়। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

৩। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস: মানুষের উপকারি কিছু ব্যাকটেরিয়াকে ফায ভাইরাস ধ্বংস করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৬.
কাজ করার ক্ষমতাকে কী বলে?
  1. ক) ক্ষমতা 
  2. খ) শক্তি
  3. গ) দক্ষতা
  4. ঘ) বিভব শক্তি
ব্যাখ্যা
শক্তি হচ্ছে কাজ করার ক্ষমতা। 

- যখন কোনো বস্তুর ওপর কোনো বল প্রয়োগ করে ধনাত্মক কাজ করা হয় তখন সেই বলটি বস্তুটির মাঝে একটা শক্তি সৃষ্টি করে এবং যে বল প্রয়োগ করেছে তাকে ঠিক সেই পরিমাণ শক্তি দিতে হয়।
- কোনো বল যদি কোনো বস্তুর উপর নেগেটিভ কাজ করে তাহলে বস্তুর যেটুকু শক্তি ছিল সেখান থেকে কিছুটা শক্তি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

- ধনাত্মক কাজ: কোনো বস্তুতে শক্তি দেওয়া।
- ঋনাত্মক কাজ: কোনো বস্তু থেকে শক্তি সরিয়ে নেওয়া।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৯৮৭.
50 kg ওজনের এক ব্যক্তি 10 তলা বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে তার দ্বারা কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়? (প্রতি তলার উচ্চতা 3m এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2)
  1. 14.7 kJ
  2. 1.47 kJ
  3. 15.8 KJ
  4. 1470 KJ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 50 kg ওজনের এক ব্যক্তি 10 তলা বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে তার দ্বারা কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়? (প্রতি তলার উচ্চতা 3m এবং অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2)

সমাধান:
দেওয়া আছে, ভর, m = 50 kg প্রতি তলার উচ্চতা = 3 m
মোট তলা = 10
∴ মোট উচ্চতা, h = 10 × 3 = 30 m
অভিকর্ষজ ত্বরণ, g = 9.8 m/s2

ব্যক্তিটির দ্বারা সম্পাদিত কাজ (W) হলো মূলত অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কৃতকাজ, যা তার অর্জিত বিভবশক্তির (Ep) সমান।
আমরা জানি,
কাজ (W) = mgh
⇒ W = 50 × 9.8 × 30
⇒ W = 14700 J
⇒ W = 14700/1000 kJ
⇒ W = 14.7 kJ

∴ সম্পন্ন কাজের পরিমাণ = 14.7 kJ

৯৮৮.
অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. মৃত্তিকা ভূগোল
  2. গাণিতিক ভূগোল
  3. ভূমিরূপবিদ্যা
  4. জলবায়ুবিদ্যা
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল: 
- ভূগোল বিষয়ের যে অংশ পাঠ করলে পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বারিমন্ডল, বায়ুমন্ডল প্রভৃতি বিষয় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা যায় তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
- প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রধান প্রকৃতি হলো- প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়কে প্রাকৃতিক ভূগোল এককভাবে প্রকাশ করে।
- তাই প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধিও ব্যাপক এবং ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধি আরো অধিক বিস্তৃত হবে।
 
১. ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): প্রাকৃতিক ভূগোলের এই শাখায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন বা ভূ-আন্দোলন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, ভূ-তাত্ত্বিক সময় মাপনি, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ, খনিজ, শিলা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
- মূলত অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় ভূমিরূপবিদ্যার অন্তর্গত।
২. জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): এই শাখা বায়ু, বায়ুস্তর, বায়ুর গঠন, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও তাপমাত্ৰা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, ঘূর্ণিবাত, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। সংক্ষেপে বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে ।
৩. সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): বারিমন্ডলের প্রধান উপাদান সাগর, মহাসাগরসমূহের উৎপত্তি, বিন্যাস, বিস্তরণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ, জোয়ার-ভাঁটা, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব ও বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
8. মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): মৃত্তিকা ভূগোল ভূ-ত্বকের বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের অংশ অর্থাৎ মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে ।
৫. জীব ভূগোল (Biogeography): উদ্ভিদ বাস্তব্যবিদ্যা, উদ্ভিদের ক্রমবিকাশ, পরিবেশের উপর উদ্ভিদের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
৬. প্রাণি ভূগোল (Zoogeography): এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও প্রাণিজগতের বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে।
৭. গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৯.
SI পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্য এর একক -
  1. ক) কিলোগ্রাম
  2. খ) ওয়াট
  3. গ) জুল
  4. ঘ) মিটার
ব্যাখ্যা
SI পদ্ধতিতে দৈর্ঘ্য এর একক হচ্ছে মিটার। 

- বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের একক চালু থাকার ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়।
- এসকল অসুবিধা দূর করার জন্য ১৯৬০ সাল থেকে বিজ্ঞানীগণ বিশ্বব্যাপী একই ধরনের একক চালুর সিদ্ধান্ত নেন, একে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা সংক্ষেপে এস আই (SI) একক বলে।
- কয়েকটি হলো- কিলোগ্রাম (kg), সেকেন্ড (s), মিটার (m), অ্যাম্পিয়ার (A), অ্যাম্পিয়ার (A), মোল (mol)।
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক হলো কিলোগ্রাম।
- মৌলিক ভৌত এককগুলো হলো—কিলোগ্রাম (kg, ভরের একক), সেকেন্ড (s, সময়ের একক), মিটার (m, দূরত্বের একক), অ্যাম্পিয়ার (A, বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক), কেলভিন (K, তাপমাত্রার একক), মোল (mol, পদার্থের পরিমাণের একক) এবং ক্যান্ডেলা (cd, দীপন তীব্রতার একক)।

সূত্র:  ৬ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯০.
টয়লেট ক্লিনার বা হারপিকের মূল উপাদান কোনটি?
  1. Hydrochloric acid (HCl)
  2. Sodium chloride (NaCl)
  3. Sodium hydroxide (NaOH)
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• টয়লেট ক্লিনারগুলোর প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)।
- এটি একটি শক্তিশালী অ্যাসিড, যা ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং লেমস্কেল (পানি থেকে জমে থাকা কঠিন পদার্থ) দ্রবীভূত করতে ব্যবহৃত হয়।

• টয়লেট ক্লিনার বা হারপিকের ব্যবহার:
- দাগ দূর করার জন্য: টয়লেটের উপর জমে থাকা শক্ত দাগ এবং পাথরের স্তর (scale) অপসারণে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড খুব কার্যকর।
- জীবাণু ধ্বংস করতে: এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে, ফলে টয়লেট আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

অপশন আলোচনা:
- Sodium hydroxide (NaOH): এটি একটি শক্তিশালী বেস, যা সাধারণত পাইপ পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- Sodium chloride (NaCl): এটি সাধারণ লবণ, যা টয়লেট ক্লিনারে ব্যবহার হয় না।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৯৯১.
প্রথম টেস্টটিউব বেবীত্রয় কবে ভূমিষ্ঠ হয়?
  1. ২৭ মে
  2. ২৪ মে
  3. ৩০ মে
  4. ৩১ মে
ব্যাখ্যা
- টেস্ট টিউব বেবি নেয়া হয় মূলত আইভিএফ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে। 
- ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে আইভিএফ। 
- এ পদ্ধতিতে স্ত্রীর পরিণত ডিম্বাণু ল্যাপারেস্কোপিক পদ্ধতিতে অত্যন্ত সন্তর্পণে বের করে আনা হয়, পরে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর ল্যাবে সংরক্ষণ করা হয়। 
- এছাড়া একই পদ্ধতিতে স্বামীর শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়, পরে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় সবচেয়ে ভালো জাতের একঝাঁক শুক্রাণু। 
- ইনকিউবেটরের মধ্যে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পরই বোঝা যায় নিষিক্তকরণের পর ভ্রূণ সৃষ্টির সফলতা সম্পর্কে। 
- ভ্রূণ সৃষ্টির পর সেটিকে একটি বিশেষ নলের মাধ্যমে জরায়ুতে সংস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। 

- বাংলাদেশে প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জন্ম হয় ৩০ মে, ২০০১ সালে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে। 
- দেশের প্রথম টেস্ট টিউব বেবির মা ফিরোজা বেগম ও বাবা আবু হানিফ তাঁদের বিবাহিত জীবনের ১৬ বছর পর এই টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতিতে একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান লাভ করেন।
উল্লেখ্য, 
- পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম টেস্ট টিউব বেবি লুইস ব্রাউনের জন্ম হয় ১৯৭৮ সালের ১১ নভেম্বর ইংল্যান্ডে। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা ও এনটিভি নিউজ রিপোর্ট।
৯৯২.
ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে সহায়তা করে কোনটি? 
  1. পিলি
  2. মেসোসোম
  3. ক্যাপসিউল
  4. প্লাজমিড
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষের গঠন: 
- ব্যাকটেরিয়ার গঠন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। 
- একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো- 
(ক) ফ্ল্যাজেলা, 
(খ) ক্যাপসিউল, 
(গ) কোষ প্রাচীর, 
(ঘ) প্লাজমামেমব্রেন, 
(ঙ) মেসোসোম, 
(চ) সাইটোপ্লাজম, 
(ছ) ক্রোমোসোম এবং 
(জ) প্লাজমিড। 

 ফ্ল্যাজেলা: 
- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। 
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত। 
- ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে। 
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে। 
- পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত। 
- ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে। 

ক্যাপসিউল: 
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে। 
- এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। 
- একে স্লাইম স্তরও বলা হয়। 
- এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে। 

মেসোসোম: 
- ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক সময় ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়। একে মেসোসোম বলা হয়। 
- এটি কোষ বিভাজনে সহায়তা করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৩.
নিচের কোনটি তাপীয় ইঞ্জিন?
  1. পেট্রোল ইঞ্জিন
  2. ডিজেল ইঞ্জিন
  3. বাষ্পীয় ইঞ্জিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

তাপীয় ইঞ্জিন: 
- যে যন্ত্র দ্বারা তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাকে তাপীয় ইঞ্জিন বলে। 
যেমন- বাষ্পীয় ইঞ্জিন, পেট্রোল ইঞ্জিন, ডিজেল ইঞ্জিন ইত্যাদি। 
- তাপ ইঞ্জিনে তাপ উৎস এবং তাপগ্রাহক থাকে। 
- ইঞ্জিন কোনো উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে। 
- তাপের যে অংশ কাজে রূপান্তরিত হয় না তা পরিবেশে বিলিয়ে দেবে এবং পুনরায় তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করবে। 
- উৎসের তাপমাত্রা যে পরিবেশ বা সিস্টেমে তাপ গ্রহণ করবে তার তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। 
অর্থাৎ, ইঞ্জিন উচ্চতর তাপমাত্রার তাপ উৎস থেকে তাপ গ্রহণ করে তার খানিকটা কাজে রূপান্তরিত করে এবং বাকি অংশ নিম্নতর তাপমাত্রার তাপগ্রাহক বা শীতল বস্তুতে ছেড়ে দিয়ে ইঞ্জিনটি আদি অবস্থায় ফিরে আসে। 
- ইঞ্জিনটি এভাবে একটি চক্র সম্পন্ন করে। 
- বাসাবাড়ির রেফ্রিজারেটর তাপীয় পাম্পের একটি উদাহরণ যা আসলে একটি তাপ ইঞ্জিনের ঠিক বিপরীত।

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৪.
গর্ভাবস্থায় মায়েদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় টিকা-
  1. ক) বিসিজি
  2. খ) টিটি
  3. গ) পোলিও
  4. ঘ) টিবি
ব্যাখ্যা

• গর্ভাবস্থায় মায়েদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় টিকা- টিটি।
• ৫ ডোজে টিটি টিকা নিতে হয়।
• মায়েরা টিটি টিকা না নিলে নবজাতকের ধনুষ্টংকার রোগ হবার আশঙ্কা থাকে।

৯৯৫.
চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে কত দিন সময় লাগে?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ২৬
  3. গ) ২৭
  4. ঘ) ২৯ 
ব্যাখ্যা

চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘণ্টায় একবার পৃথিবীকে ঘুরে আসে।

চাঁদকে পৃথিবীর উপগ্রহ বলা হয়।
চাঁদ নিজে তাপ অথবা, আলো উৎপন্ন করতে পারে না।
চাঁদ পৃথিবীর আয়তনের পঞ্চাশ ভাগের এক ভাগ।
সূর্য পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লক্ষ গুণ বড়।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি 

৯৯৬.
খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে—
  1. ক) O2
  2. খ) H2
  3. গ) CO2
  4. ঘ) H2O
ব্যাখ্যা
• খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে CO2.
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ৪টি - পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল।
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহন করে সূর্য থেকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (বোর্ড বই)।
৯৯৭.
নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
  2. সিলিকন বিদ্যুৎ অর্ধ-পরিবাহী।
  3. হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
  4. কার্বনের রূপভেদ আছে, কিন্তু সিলিকনের নাই
ব্যাখ্যা
- কার্বন ও সিলিকন উভয়েই অধাতু।
- উভয় মৌলের বহুরূপতা আছে।
- সিলিকনের দানাদার ও অদানাদার দুটি রূপভেদ আছে।
-  কার্বনের অনেক রূপভেদের মধ্যে হীরক, গ্রাফাইট প্রধান রূপভেদ।

অন্যদিকে,
- গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- সিলিকন বিদ্যুৎ অর্ধ-পরিবাহী।
- হীরক বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
উপরের সবগুলো তথ্যই সঠিক।
 
উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৯৮.
নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি কীরূপ?
  1. উষ্ণ ও হালকা
  2. উষ্ণ ও ভারী
  3. শীতল ও হালকা
  4. শীতল ও ভারী
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষীয় অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানি উষ্ণ ও হালকা।
-  সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়ার ফলে দিনরাত্রির দৈর্ঘ্য প্রায় সমান।
- তাই ঋতু পরিবর্তন এ অঞ্চলে দেখা যায় না।
- সারা বছর অধিক তাপ ও বৃষ্টিপাত এ জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- নিরক্ষীয় অঞ্চল সূর্যের সরাসরি তাপমাত্রা বেশি পায়, যার ফলে এখানকার সমুদ্রের পানি উষ্ণ থাকে।
- উষ্ণ পানি সাধারণত কম ঘনত্বের হয়, তাই এটি হালকা থাকে।
- এছাড়াও বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে লবণাক্ততা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, যা পানিকে কম ঘনত্বের করে।

 উৎস: ব্রিটানিকা।
৯৯৯.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের আনুমানিক পরিমাণ কত?
  1. ৫০-৬০%
  2. ৬০-৭০%
  3. ৭০-৮০%
  4. ৯৫-৯৯%
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে বেশি পরিমানে থাকে মিথেন। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলাে হলাে- 
• মিথেন- ৮০-৯০%, 
• ইথেন- ১৩%, 
• প্রােপেন- ৩%। 
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে। 
- বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫-৯৯%। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০০০.
দৃশ্যমান আলোর ক্ষুদ্রতম দৈর্ঘ্য কোন রঙের?
  1. লাল
  2. কালো
  3. সাদা
  4. বেগুনী
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসীমা হচ্ছে 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসীমার বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন রঙ দেখা যায়।
- এদের আসমানি, সবুজ, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দৃশ্যমান আলোর মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।