বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীবনানন্দ দাশ

মোট প্রশ্ন১৯৭এই পাতা৯৭প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীবনানন্দ দাশ

PrepBank · পাতা / · ১০১১৯৭ / ১৯৭

১০১.
"বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, 
তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।" - কবিতাংশটুকু কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,
তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর।' - কবিতাংশটুকু জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের 'বাংলার মুখ' কবিতার অন্তর্গত।

বাংলার মুখ
 জীবনানন্দ দাশ।

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ।
১০২.
‘প্রকৃতির কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশকে ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি দিয়েছিলেন - বুদ্ধদেব বসু।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।   
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- এছাড়াও তাঁকে বলা হয়:
• ‘ধূসরতার কবি’,
• ‘নিঃসঙ্গতার কবি’,
• ‘তিমির-হননের কবি’,
• পরাবাস্তবতার কবি,
• বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি,
• শুদ্ধতম কবি, 
এবং বুদ্ধদেব বসু তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘প্রকৃতির কবি’।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১০৩.
"পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।" - কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• "পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।" কবিতাংশের রচয়িতা - জীবনানন্দ দাশ। কবিতাংশটি 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের 'সুচেতনা' কবিতা অংশবিশেষ।

সুচেতনা
কবি- জীবনানন্দ দাশ

সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।
কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে;
তবুও তোমার কাছে আমার হৃদয়।

আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ
পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু
দেখেছি আমারি হাতে হয়তো নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন প’ড়ে আছে;
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০৪.
জীবনানন্দ দাশকে ‘চিত্ররূপময়’ কবি বলেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় জীবনানন্দ দাশ চিত্ররূপময় কবি।

তাছাড়া,
• 'বুদ্ধদেব বসু' কবি জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতম' কবি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৫.
জীবনানন্দ দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? 
  1. জামালপুর
  2. বরিশাল
  3. ঝালকাটি
  4. মুন্সিগঞ্জ 
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবিও বলা হয়।
- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
১০৬.
" সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।" - লাইনটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. কবিতার কথা
  2. ঝরাপালক
  3. ধূসর পাণ্ডলিপি
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

- জীবনানন্দ দাশ এর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধ গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছিলেন।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৭.
'মাল্যবান' ও 'সুতীর্থ'—এই দুটি জীবনানন্দ দাশের কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস - মাল্যবান, সুতীর্থ

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১০৮.
"কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

"কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে" কবিতাংশটুকু রচনা করেন - জীবনানন্দ দাশ। কবিতাংশটুকু 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের '"শঙ্খমালা" কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কবিতা হিসেবে বিবেচিত।
এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে। কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।

শঙ্খমালা
- জীবনানন্দ দাশ

কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে

সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই:
বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি- কুয়াশার পাখনায়-

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং '"শঙ্খমালা" কবিতা।

১০৯.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. মহাপৃথিবী
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. চোরাবালি
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

অন্যদিকে,
• 'চোরাবালি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিষ্ণু দে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১১০.
'মাল্যবান' জীবনানন্দ দাশ রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
'মাল্যবান' উপন্যাস:
- 'মাল্যবান' (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। এটি উপন্যাসের চিরচেনা ছকে আবদ্ধ নয়।
- আধুনিক এবং অসুখী দাম্পত্য জীবনের আদি-অন্তহীন এক অনন্য জীবনানন্দীয় আখ্যান।
- মাল্যবান-এর পরতে পরতে কুয়াশা, হারিয়ে যাওয়া পথ, পথের ধারে খাদ। অসুখী ব্যক্তি মানুষের অসহায়ত্ব, জীবন নিয়ে খেলা, আপসের কৌশল। আছে সংঘাত, আছে গভীর জীবনবোধ।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১১.
জীবনানন্দ দাশের ডাকনাম কী ছিলো?
  1. জীবন
  2. দাশ 
  3. সমর 
  4. মিলু
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল — মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।

১১২.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. মাল্যবান
  2. দত্তা
  3. রজনী
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

মাল্যবান হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি উপন্যাস। 

জীবনানন্দ দাশ
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বরিশালে।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি।
- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখযোগ্য রচনা
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা। 

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

অন্যদিকে,
- 'দত্তা' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত। 
- 'রজনী' জীবনানন্দ দাশের একটি প্রসিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ। 
- 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া। 

১১৩.
অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কবিতায়?
  1. মৃত্যুর আগে
  2. হায় চিল
  3. বনলতা সেন
  4. সেইদিন এই মাঠ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৪.
'তিমির হননের কবি' - উপাধিটি কোন লেখকের?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

- জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

​অন্যদিকে,
​- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
​- সুকান্ত ভট্টাচার্য কে কিশোরকবি বলা হয়।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৫.
কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় নিহত হন কোন কবি?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সমর সেন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৬.
‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা’ পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ:

- 'বনলতা সেন' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনাম গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- এ কাব্যগ্রন্থের 'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা।
- জীবনানন্দ দাশ তাঁর অশ্রুতপূর্ব উপমা প্রয়োগে বাংলা সাহিত্যে এই অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।

------------------------
⇒ জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১১৭.
"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে" -এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির লেখা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কায়কোবাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে”—এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের রচনা।
----------------------------------------
• বনলতা সেন।  
   —জীবনানন্দ দাশ

"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।" 
-----------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’।
- কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।   
-------------------------------------
'বনলতা সেন' নিয়ে কিছু কথা: 
- বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা। 
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪২ সালে এক পয়সার একটি গ্রন্থমালায় প্রথমবার গ্রন্থাকারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- পরবর্তীতে কবিতাটি ১৯৪৪ সালে মহাপৃথিবী কাব্যে প্রকাশ পায়।
- এবং ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণেও স্থান লাভ করে।

- জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতাটি মূলত দীর্ঘ সময়ের ক্লান্ত জীবনযাত্রা ও মানসিক অস্থিরতার পর মানুষের অন্তরে শান্তি, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। এটি শুধু প্রেমের কবিতা নয়; বরং জীবনের জীর্ণতা ও একাকিত্বের শেষে কবি বনলতা সেন নামক নারীর উপস্থিতি এবং নাটোরের শান্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে এক গভীর আত্মিক স্বস্তি ও প্রশান্তির সন্ধান পেয়েছেন।

উৎস:
'বনলতা সেন' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১১৮.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন?
  1. দেশ
  2. ব্রহ্মবাদী
  3. ধূসরপত্র
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কবির কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন  
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।

- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধিসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে-
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২০.
'সুতীর্থ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস - মাল্যবান, সুতীর্থ

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২১.
"যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• "যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই চরণটি তাঁর 'আট বছর আগের একদিন'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১২২.
'চোখে তার, যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার' পঙ্‌ক্তির রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. নির্মলেন্দু গুণ 
ব্যাখ্যা

'চোখে তার, যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার' পঙ্‌ক্তির রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ। 

• "শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কবিতা হিসেবে বিবেচিত। 
- এ কবিতায় শত্রুখমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে। কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ- প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো-
রোমান্টিক কবিকল্পনা।

'শঙ্খমালা' কবিতার অংশবিশেষ- 

শঙ্খমালা- কবিতা

জীবনানন্দ দাশ
কড়ির মতন শাদা মুখ তার,
দুইখানা হাত তার হিম;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
সে-আগুনে হায়।

চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার;
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

--------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়" কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ
কেউ কবি"
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং "বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; 'শঙ্খমালা- কবিতা' এবং এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৩.
কোন লেখকের উপাধি 'তিমির হননের কবি'?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২৪.
'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের কবি কী হিসেবে পরিচিত?
  1. পল্লি কবি
  2. নবজাগরণের কবি
  3. ধূসরতার কবি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের  রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ।
- জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।

- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২৫.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি’ - উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. বনলতা সেন
  2. মহাপৃথিবী
  3. কবিতার কথা
  4. ঝরা পালক
ব্যাখ্যা

• কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫),  বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১২৬.
'হাজার বছর ধরে আমি পথ
হাঁটিতেছে পৃথিবীর পথে সিংহল সমুদ্র
থেকে নিশীদের অন্ধকারে মালয় সাগরে' - চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কামিনী রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
বনলতা সেন -
জীবনানন্দ দাশ

'হাজার বছর ধরে আমি পথ
হাঁটিতেছে পৃথিবীর পথে সিংহল সমুদ্র
থেকে নিশীদের অন্ধকারে মালয় সাগরে

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২৭.
ক্লিনটন বি সিলি কোন কবিকে নিয়ে গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেছেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ক্লিনটন বি সিলি ও জীবনানন্দ গবেষণা:
- ক্লিনটন বি সিলি যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্বনামধন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যের অধ্যাপক, বাংলা ভাষা ও ও সাহিত্যের অনুবাদক।
- তার জন্ম ১৯৪১ সালের ২১ জুন। বর্তমানে তিনি শিকাগো ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক।
- তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে গবেষণা করেছেন।
- জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন ক্লিনটন বি সিলি।
- গ্রন্থটির নাম - A Poet Apart যা ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন ফারুক মঈনউদ্দীন। বাংলা অনুবাদ গ্রন্থটি 'অনন্য জীবনানন্দ’ নামে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট (প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪)।
১২৮.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ এর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।
- 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছিলেন।

---------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি 'রূপসী বাংলার কবি' হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলেছেন। এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৯.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করতেন?
  1. কল্লোল
  2. স্বরাজ
  3. সঞ্চয়নী
  4. নতুন দিগন্ত
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পান্ডুলিপিতে।
- উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে মাল্যবান, সুতীর্থ, জলপাইহাটি, জীবনপ্রণালী, বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- তিনি দৈনিক 'স্বরাজ' পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩০.
জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. বিষ্ণু দে 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

জীবনানন্দ দাশের উপাধিসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩১.
‘জলপাইহাটি’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. কাহিনি কাব্য
ব্যাখ্যা
• ‘জলপাইহাটি’ উপন্যাস:
- ‘জলপাইহাটি’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘জলপাইহাটি’ উপন্যাসের মূল দুই চরিত্র পিতা নিশিথ ও পুত্র হারীত।
- জলপাইহাটি কে ঘিরে যাদের বেড়ে ওঠা, উপার্জনের খোঁজে দূরে যাওয়া, হারীতের সাথে অর্চনার পরিচয়ের মধ্য দিয়ে জীবন যৌবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতি, প্রেমের উজ্জীবন পরিলক্ষিত হয়। 

---------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘জলপাইহাটি’ উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।
১৩২.
'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ডি. এল. রায়
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক।
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৩.
”আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে এই বাংলায়” -বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ঝরাপালক
  2. বনলতা সেন
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের।
- বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।

-  এ কাব্যের একটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো-‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি একজন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩৪.
'চোখে তার, যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার' পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. বনলতা সেন 
  2. শঙ্খমালা
  3. হায় চিল
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

• পঙ্‌ক্তিটি জীবনানন্দ দাশের "শঙ্খমালা" কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 
- "শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।এটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কবিতা হিসেবে বিবেচিত। 
- এ কবিতায় শত্রুখমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে। কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ- প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো-
রোমান্টিক কবিকল্পনা।

'শঙ্খমালা' কবিতার অংশবিশেষ- 

শঙ্খমালা- কবিতা
জীবনানন্দ দাশ
চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার;
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

--------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়" কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ
কেউ কবি"
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং "বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; 'শঙ্খমালা- কবিতা' এবং এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৫.
জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. বরিশাল জেলা
  2. ফরিদপুর জেলা
  3. ঢাকা জেলা
  4. রাজশাহী জেলা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি/অভিধাসমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩৬.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. কবিতার কথা
  2. বেলা অবেলা কালবেলা
  3. জলপাইহাটি
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
• 'জলপাইহাটি' উপন্যাস:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত 'জলপাইহাটি' উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৪৮ খ্রি.।
- উপন্যাসের মূল বিষয় দেশভাগের মর্মন্তুদ পরিণতি। যেখানে কাহিনির ভিতর দিয়ে চিত্রিত হয়েছে উপমহাদেশের বৃহত্তম ট্রাজিক ঘটনার দহন ও বীভৎসতা।

- জলপাইহাটি উপন্যাসের প্লট নিবিড় হয়েছে দুটি স্থানের ঘটনাকে নিয়ে। উল্লিখিত জায়গার একটি স্বাধীন ভারতের কলকাতা এবং অন্যটি হলো পূর্ব-পাকিস্তানের জলপাইহাটি গ্রাম। কাহিনিতে প্রতিফলিত হয়েছে দেশভাগের পরের পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ, বস্ত্রসংকট, কালোবাজারি কারবার এবং দেশভাগের কারণে মানুষের উদ্বাস্তু জীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে আসে। লেখক শৈল্পিক দক্ষতায় সমসাময়িক সময়কে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়।

---------------
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'জলপাইহাটি' উপন্যাস।
১৩৭.
জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোথায়?
  1. বরিশাল
  2. যশোর
  3. কলকাতা
  4. বর্ধমান
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ওই কাব্যান্দোলনে।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
-কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
জীবনানন্দ দাশের ‘বর্ষ-আবাহন’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সন্দেশ 
  2. ব্রহ্মবাদী
  3. বিচিত্রা 
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে জীবনানন্দের কবিতার ভূমিকা ঐতিহাসিক। ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর রূপসী বাংলা তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পাণ্ডুলিপিতে।
- উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে মাল্যবান, সুতীর্থ, জলপাইহাটি, জীবনপ্রণালী, বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।

‘বর্ষ-আবাহন’ কবিতা,
-জীবনানন্দ দাশ। 

ওই যে পূর্ব তোরণ-আগে
দীপ্ত নীলে, শুভ্র রাগে
প্রভাত রবি উঠলো জেগে
দিব্য পরশ পেয়ে,
নাই গগণে মেঘের ছায়া
যেন স্বচ্ছ স্বর্গকায়া
ভুবন ভরা মুক্ত মায়া
মুগ্ধ-হৃদয় চেয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ‘বর্ষ-আবাহন’ কবিতা- জীবনানন্দ দাশ। 

১৩৯.
'শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়' জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কবিতার পঙ্‌ক্তি?
  1. অন্ধকার
  2. শঙ্খমালা
  3. সুচেতনা
  4. হাওয়ার রাত
ব্যাখ্যা
• 'শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়' জীবনানন্দ দাশ রচিত 'সুচেতনা' কবিতার পঙ্‌ক্তি।
- কবিতাটি তাঁর 'বনলতা সেন' (১৯৪২) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- জীবনানন্দ দাশ সুচেতনা বলতে শুভ চেতনার কথা বুঝিয়েছেন।

সুচেতনা,
- জীবনানন্দ দাশ

সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।
কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে;
তবুও তোমার কাছে আমার হৃদয়।

আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ
পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু
দেখেছি আমারি হাতে হয়তো নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন প’ড়ে আছে;
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।

কেবলি জাহাজ এসে আমাদের বন্দরের রোদে
দেখেছি ফসল নিয়ে উপনীত হয়;

সেই শস্য অগণন মানুষের শব;
শব থেকে উৎসারিত স্বর্ণের বিস্ময়
আমাদের পিতা বুদ্ধ কনফুশিয়সের মতো আমাদেরো প্রাণ
মূক ক’রে রাখে; তবু চারিদিকে রক্তক্লান্ত কাজের আহ্বান।

সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে— এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;
এ-বাতাস কি পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;
প্রায় তত দূর ভালো মানব-সমাজ
আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
গ’ড়ে দেবো, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।

মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,
না এলেই ভালো হ’তো অনুভব ক’রে;
এসে যে গভীরতর লাভ হ’লো সে-সব বুঝেছি
শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;
দেখেছি যা হ’লো হবে মানুষের যা হবার নয়—
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪০.
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ'- পঙ্‌ক্তি কার রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ'- পঙ্‌ক্তি জীবনানন্দ দাশের রচনা। 
- কবিতাটি "রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 


এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে,
সব চেয়ে সুন্দর করুণ- জীবনানন্দ দাশ

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ:
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নাম: কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অর‍ুণ;
সেখানে বার‍ুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বর‍ুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,
সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তর‍ুণ। 

------------------------
• "রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থ:

- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'। 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪১.
‘ধূসরতার কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. কামিনী রায়
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
- জীবনানন্দ দাশকে 'ধূসরতার কবি' বলা হয়।
- ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাতি লাভ হয়েছেন-
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ‘রূপসী বাংলার কবি’ জীবনানন্দ দাশ:
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দ দাশের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়। বিশেষত, রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থে যেভাবে আবহমান বাংলার চিত্ররূপ ও অনুসূক্ষ্ম সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত হয়েছেন।

তবে প্রকৃতির পাশাপাশি জীবনানন্দের শিল্পজগতে মূর্ত হয়েছে বিপন্ন মানবতার ছবি এবং আধুনিক নগরজীবনের অবক্ষয়, হতাশা, নিঃসঙ্গতা ও সংশয়বোধ।

------------------
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে-
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৪৩.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধ সংকলনটি কে লিখেছেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয়  ধূসরতার কবি; তিমির হননের কবি; নির্জনতার কবি; রূপসী বাংলার কবি;  
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পঞ্চকবি অর্থাৎ পঞ্চপাণ্ডবের একজন।
- তার বিখ্যাত কবিতা 'বনলতা সেন'।

• 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- ‘কবিতার কথা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থটি বই আকারে বাজারে আসে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে;
- কিন্তু প্রবন্ধগুলো কবির জীবদ্দশায়ই বিভিন্ন কাগজে মুদ্রণ হয়েছিল।
- ‘কবিতার কথা’ পনেরোটি প্রবন্ধের সংকলন।
- কবিতার কথা’ শিরোনামীয় প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়।
- এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই ‘সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি’।
- অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৪.
’বেলা অবেলা কালবেলা’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

• ‘বেলা অবেলা কালবেলা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৩৬৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪৫.
'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর' - এ পঙ্‌ক্তিটি কার লেখা?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর'- কবিতাংশটুকু জীবনানন্দ দাশের 'বাংলার মুখ'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

বাংলার মুখ - কবিতা, 
- জীবনানন্দ দাশ।
               
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ; (সংক্ষেপিত)
-------------
জীবনানন্দ দাশ রচিত বিখ্যাত কইয়েকটি উক্তি:
- আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে
-পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন
- কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে
- বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে চাইনা আর।

উৎস: বাংলার মুখ কবিতা- জীবনানন্দ দাশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৬.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. নির্জন স্বাক্ষর
  3. রূপসী বাংলা
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• 'নির্জন স্বাক্ষর' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কবিতা। কবিতাটি কবির 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থ ও জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গুচ্ছে সংকলিত করা হয়েছে। 

নির্জন স্বাক্ষর
 - জীবনানন্দ দাশ

তুমি তা জানো না কিছু-না জানিলে,
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে;
যখন ঝরিয়া যাবো হেমন্তের ঝড়ে’—
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের ’পরে শুয়ে রবে?
অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার!

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৭.
পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে কার মাতা বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
-----------------
• কুসুমকুমারী দাশ: 
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. বিন্দুর ছেলে
  2. কল্যাণী
  3. বিলাসী
  4. মহেশ
ব্যাখ্যা
• ‘কল্যাণী’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি দেশ পত্রিকায় ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• বিন্দুর ছেলে, বিলাসী ও মহেশ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

---------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৯.
জীবনানন্দ দাশের রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ঝরা পালক
  2. বনলতা সেন
  3. মাল্যবান
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের রচিত উপন্যাস হচ্ছে মাল্যবান। 

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃনিবাস বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক ছিলেন, এবং মাতা কুসুমকুমারী দাশ একজন কবি ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উপাধি:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি। 

সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডু লিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।
উপন্যাস: মাল্যবান, সুতীর্থ।
প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিতার কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫০.
'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ 
  4. বন্দে আলী মিয়া 
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• 'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক।
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৫১.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে 
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি, ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫২.
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ঝরাপালক
  2. নিমন্ত্রণ
  3. বর্ষ-আবাহন
  4. সেইদিন এই মাঠ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- মহাপৃথিবী, 
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৩.
জীবনানন্দ দাশের অভিধা নয় কোনটি?
  1. নির্জনতার কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. পল্লী বংলার কবি
  4. ধূসরতার কবি
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের অভিধা নয়- পল্লী বংলার কবি। 

• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”। ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি/অভিধাসমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫৪.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ধূসর পাণ্ডু লিপি
  2. বনলতা সেন
  3. ঝরাপালক
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

১৫৫.
"শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঝরাপালক
  2. বনলতা সেন
  3. মহাপৃথিবী
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

• "শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।এটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কবিতা হিসেবে বিবেচিত। 
• এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে। কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
• তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ- প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো- রোমান্টিক কবিকল্পনা।

'শঙ্খমালা' কবিতার অংশবিশেষ- 

শঙ্খমালা
- জীবনানন্দ দাশ
কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই:
বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি- কুয়াশার পাখনায়-

--------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়" কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ
কেউ কবি"
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং "বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; 'শঙ্খমালা- কবিতা'।

১৫৬.
জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৩ সাল
  2. ১৮৬২ সাল
  3. ১৮৯৯ সাল
  4. ১৮৯৮ সাল
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বরিশালের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার মা কুসুমকুমারী দাশ একজন মহিলা কবি।
- ১৪ অক্টোবর ১৯৫৪ সালে তিত ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যবরণ করেন।
- তাকে  রূপসী বাংলার কবি, ধূসরতার কবি , তিমির হননের কবি, নির্জনতম কবি (বুদ্ধদেব বসুর দেয়া নাম), চিত্ররূপময় কবি( রবীন্দ্রনাথের দেয়া নাম),শুদ্ধতম কবি বলে আখ্যায়িত করা হয়।
- তার ওপর গবেষনা করেছেন ক্লিনটন বি. সিলি।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রুপসী বাংলা,
- মহা পৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা, প্রভৃতি।

• তার উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৫৭.
জীবনানন্দ দাশ এর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৯৯-১৯৫৪
  2. ১৮৯০-১৯৫২
  3. ১৮৮৯-১৯৫৪
  4. ১৮৯৯-১৯৪৪
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪):
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- পাশ্চাত্যের মডার্নিজম ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গীয় সমাজের বিদগ্ধ মধ্যবিত্তের মনন ও চৈতন্যের সমন্বয় ঘটে ওই কাব্যান্দোলনে।

- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
-  ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫৮.
জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৩ সালে
  2. ১৯০৫ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৮৯৮ সালে
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫৯.
কল্লোল যুগের কবি কে ছিলেন ?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- ১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়। 
- এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
-   অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ ছিলেন এই পত্রিকার নিয়মিত লেখক। 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৬০.
‘ঝরা পালক’ কাব্যগ্রন্থে কোন কোন কবির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়?
  1. মাইকেল ও বিদ্যাপতি
  2. বঙ্কিমচন্দ্র ও অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল ও মোহিতলাল মজুমদার
  4. রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'ঝরা পালক'  কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- 'ঝরা পালক'। 
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক। 
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা। 
--------------------------------------
• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,  বাংলাপিডিয়া; 'ঝরা পালক'  কাব্যগ্রন্থ।

১৬১.
'He Reproves the Curlow' কবিতার সাথে মিল রয়েছে কোন কবিতার?
  1. বনলতা সেন
  2. হায় চিল
  3. আবার আসিব ফিরে
  4. এই পৃথিবীতে একস্থান আছে।
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বিখ্যাত কবিদের প্রভাব:
- জীবনান্দ দাশ ইয়েটস, বেদলেয়ার, অ্যাডগার এলেন পো দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।
- তাঁর রচিত 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথেও ইয়েটস্-এর He reproves the curlow কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর "মৃত্যুর আগে" কবিতাটির সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস রচিত কবিতাটির The falling of the Leaves মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে এডগার অ্যালান পো এর কবিতা 'টু হেলেন' এর প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬২.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. মাটির কান্না
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. বালুচর
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• ‘সাতটি তারার তিমির’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ। 
• মাটির কান্না ও বালুচর জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।

-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৩.
‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬০ সাল
  2. ১৯৬৫ সাল
  3. ১৯৫৭ সাল
  4. ১৯৫৯ সাল
ব্যাখ্যা

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬৪.
"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।" - কে লিখেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. সুকুমার রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।" - জীবনানন্দ দাশের আবার আসিব ফিরে- কবিতা থেকে সংকলিত।

আবার আসিব ফিরে- কবিতা;
- জীবনানন্দ দাশ।

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
১৬৫.
‘নির্জনতার কবি’ নামে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
ব্যাখ্যা

‘নির্জনতার কবি’ নামে জীবনানন্দ দাশকে অভিহিত করা হয়। 

জীবনানন্দ দাশ
- জীবনানন্দ দাশকে পরিচিতি দেওয়া হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, ‘নির্জনতার কবি’, ‘তিমির হননের কবি’, ‘ধূসরতার কবি’ নামে।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বরিশালে।
- তিনি ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ, এবং তাঁর আদি নিবাস বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক এবং ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ একজন প্রখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যধারায় রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম প্রধান কবি।
- তাঁর ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ কাব্যের অন্তর্গত ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতার সঙ্গে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর ‘The Falling of the Leaves’ কবিতার মিল রয়েছে।
- ‘বনলতা সেন’ কবিতায় দেখা যায় অ্যাডগার এলেন পো-এর ‘To Helen’ কবিতার প্রভাব।
- জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’ কবিতা বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশ আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী বাঙালি জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা:
- ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থকে নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত করা হয় (১৯৫৩)
- ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থের জন্য ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ (১৯৫৪)

- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
২) বাংলাপিডিয়া। 

১৬৬.
ধানসিঁড়ি কিসের নাম?
  1. ধানের
  2. গ্রামের
  3. শহরের
  4. নদীর
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণ-

আবার আসিব ফিরে
– জীবনানন্দ দাশ

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়।
----------------
ঝালকাঠি শহরের অদূরে ধানসিঁড়ি নদীর অপার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় বারবার উল্লেখ করেছেন এর নাম। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ঝালকাঠির মোল্লাবাড়ি, বারৈবাড়ি এবং রাজাপুরের হাইলকাঠি, ইন্দ্রপাশা ও বাঁশতলা—এই গ্রামগুলোর বুকচিরে বয়ে চলা ধানসিঁড়ি এসে রাজাপুরের জলাঙ্গী (জাঙ্গালিয়া নদী) মোহনায় মিশেছে।

উৎস: রূপসী বাংলা' কাব্য ও 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা, কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
১৬৭.
'বাসমতীর উপাখ্যান‘ জীবনানন্দ দাশ রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'বাসমতীর উপাখ্যান':
- 'বাসমতীর উপাখ্যান' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে চলেছে- অধ্যাপক প্রভাস সেনের ছেলে ও মেয়ের বাড়ি না ফেরার এক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। নাম দপ্তরী ও কুড়ুনি এর।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
এই আখ্যানের শেষ দিকে এক মারাত্মক ঝড়জলের রাতে সন্ধের পরেও প্রভাস সেনের ছেলে দপ্তরী ও মেয়ে কুড়ুনি বাড়ি না ফেরাতে এক ভয়ঙ্কর সমবেত উদ্বেগের পরিস্থিতি আঁকা হয়। অথচ উপন্যাস শেষ হয়ে গেলেও কোথাও পাওয়া গেল না, দপ্তরী ও কুড়ুনি ফিরল কি ফিরল না! এমনই আনমনা, অপ্রত্যাশিত জীবনানন্দের এই কুহেলি-ভুবন।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- প্রভাস সেন,
- দপ্তরী,
- কুড়ুনি।

-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পাণ্ডুলিপিতে।
- তাঁর রচিত গল্পের সংখ্যা প্রায় দুশতাধিক।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'বাসমতীর উপাখ্যান' উপন্যাস।
১৬৮.
"সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি"—এই বিখ্যাত উক্তিটি জীবনানন্দ দাশের কোন প্রবন্ধগ্রন্থের?
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. রূপসী বাংলা
  3. কবিতার কথা
  4. বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- 'কবিতার কথা' শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থটি বই আকারে বাজারে আসে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে;
- কিন্তু প্রবন্ধগুলো কবির জীবদ্দশায়ই বিভিন্ন কাগজে মুদ্রণ হয়েছিল।
- 'কবিতার কথা' পনেরোটি প্রবন্ধের সংকলন।
- কবিতার কথা' শিরোনামীয় প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায়।
- এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই 'সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি'।
- অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৬৯.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' আখ্যা দিয়েছেন
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু। 
- তার কাব্যবৈশিষ্টকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭০.
বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ধূসরতার কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. রূপসী বাংলার কবি
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- অপশন (ঘ) কোনোটিই নয়। 

• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

জীবনানন্দ দাশের উপাধিসমূহ:
 - ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি, 
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭১.
স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে?
  1. রূপসী বাংলা
  2. বনলতা সেন
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭২.
"যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আসাদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

 • "যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই চরণটি তাঁর 'আট বছর আগের একদিন'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭৩.
কে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
 জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি"।
- "বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। "বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় "রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা" নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৪.
'আবার আসিব ফিরে' বিখ্যাত কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বনলতা সেন
  3. রূপসী বাংলা
  4. ঝরা পালক
ব্যাখ্যা

রূপসী বাংলা (কাব্যগ্রন্থ):
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭৫.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. মাল্যবান
  2. বনলতা সেন
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ‘মাল্যবান’ উপন্যাস:
-  ‘মাল্যবান’ (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল সম্ভবত ১৯৪৮ সালে, প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
-  বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি।
-  দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি। সম্পর্কের জটিলটা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বোধ এক ইঙ্গিতময় ভাষায় অসামান্য কুশলতার সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- বনলতা সেন ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাতটি তারার তিমির ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১)  ও রূপসী বাংলা(১৯৫৭) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭৬.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' — উক্তিটি কোন গ্রন্থের?
  1. বনলতা সেন
  2. কবিতার কথা
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ করেছেন।

• কবিতার কথা:
- জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- গ্রন্থটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭৭.
ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কোন কবি?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. সমর সেন 
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।

- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।

- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৮.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. ধানখেত
  3. রূপসী বাংলা
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- ধানখেত।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ধানখেত'।
- গ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত

------------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস: 
- মাল্যবান,
- সতীর্থ, 

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৭৯.
"মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ, তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান," -এর রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
• "মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ, তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান," -এর রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।
------------
• 'অবসরের গান' কবিতা:
- কবিতাটির রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।  
- কবিতাটি কবির 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত।
--------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
 
• জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা। 
 
অবসরের গান- কবিতা,
-----------------জীবনানন্দ দাশ।
 
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার — চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয় —
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট করে দেবে তার সাধের সময়!
চারি দিকে এখন সকাল —
রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!
মাঠের ঘাসের পরে শৈশবের ঘ্রাণ —
পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের পড়েছে আহ্বান!
 
উৎস: অবসরের গান- কবিতা, জীবনানন্দ দাশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮০.
'আবার আসিব ফিরে' বিখ্যাত কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বনলতা সেন
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. রূপসী বাংলা
  4. ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

অন্যদিকে,
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮১.
'সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি-
এই নদী নক্ষত্রের তলে
সেদিনো দেখিবে স্বপ্ন -
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!' চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

সেই দিন এই মাঠ
জীবনানন্দ দাশ

সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি-
এই নদী নক্ষত্রের তলে
সেদিনো দেখিবে স্বপ্ন -
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!
আমি চলে যাব বলে
চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে
নরম গন্ধের ঢেউয়ে?
লক্ষ্মীপেঁচা গান গাবে নাকি তার লক্ষ্মীটির তরে?
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!
চারিদিকে শান্ত বাতি ভিজে গন্ধ মৃদু কলরব;
খেয়ানৌকোগুলো এসে লেগেছে চরের খুব কাছে;
পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল;
এশিরিয়া ধলো আজ বেবিলন ছাই হয়ে আছে।

• 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলা কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
সভ্যতা একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ।
মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, কিন্তু প্রকৃতিতে থাকে চিরকালের ব্যস্ততা।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৫ সংস্করণ)

১৮২.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সেইদিন এই মাঠ
  2. বেলা অবেলা কালবেলা
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• ‘সেইদিন এই মাঠ’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কবিতা।

- কবিতাটি রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রথম কবিতা। ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় ‘আবহমান বাংলা, বাঙালী’কে।
-  কবিতাগুলির গঠন সনেটের। এদের বিষয় বাংলার গ্রাম-প্রিকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান। এ কাব্যের একটি বিখ্যাত পঙক্তি হলো-

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’

---------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবনানন্দ দাশ কবি ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৩.
'জলপাইহাটি ও মাল্যবান' উপন্যাসদ্বয় কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• "জলপাইহাটি" উপন্যাস:
'জলপাইহাটি' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসের মূল দুই চরিত্র পিতা নিশিথ ও পুত্র হারীত। এই হারীত চরিত্রকে ঘিরেই কাহিনি সামনের দিকে এগিয়েছে। উপন্যাসে জলপাইহাটিকে ঘিরে হারীতে বেড়ে ওঠা, উপার্জনের খোঁজে দূরে যাওয়া, হারীতের সাথে অর্চনার পরিচয়ের মধ্য দিয়ে জীবন যৌবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতি, প্রেমের উজ্জীবন পরিলক্ষিত হয়।

• "মাল্যবান" উপন্যাস:
'মাল্যবান' (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল সম্ভবত ১৯৪৮ সালে, প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি। দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি। সম্পর্কের জটিলটা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বোধ এই উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।

-----------------
ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পাণ্ডলিপিতে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

• কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং "জলপাইহাটি" ও "মাল্যবান" উপন্যাস। 
১৮৪.
কোন দুটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ? 
  1. বনলতা সেন ও উত্তর ফাল্গুনী
  2. বেলা অবেলা কালবেলা ও ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. ঝরা পালক ও মাল্যবান
  4. ছাড়পত্র ও বনলতা সেন
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ - বেলা অবেলা কালবেলা ও ধূসর পাণ্ডুলিপি

অন্যদিকে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তর ফাল্গুনী।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ - ছাড়পত্র।

জীবনানন্দ দাশ:

- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮৫.
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. ডি. এল. রায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে
জীবনানন্দ দাশ
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ :
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার র’ঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ;
সেখানে লেবুর শাখা নূয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।

"রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'। 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। 
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু। 
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ), 
- ধূসর পাণ্ডু লিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮৬.
'বর্ষ-আবাহন' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. জীবনানন্দ দাশ 
  3. শামসুর রাহমান 
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা
• স্কুলে ছাত্রাবস্থায় জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:

- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৮৭.
বাংলা কাব্যের 'চিত্ররূপময়' কবি-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাস
  3. শামসুর রহমান
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় জীবনানন্দ দাশ চিত্ররূপময় কবি।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৮.
জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. কবি 
  2. কবিতার কথা 
  3. কবি কাহিনী 
  4. বেলা অবেলা কালবেলা 
ব্যাখ্যা
• 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'

অন্যদিকে,
• 'কবি' উপন্যাস:
'কবি' উপন্যাসটি রচনা করেছেন- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে 'জীবন এত ছোট ক্যানে' সংলাপটি ক্লাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১)। এটি কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
• কবি-কাহিনী হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্ত্তৃক রচিত একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৯.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 
  1. বনলতা সেন
  2. রূপসী বাংলা
  3. ঝড়া পালক
  4. ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা

'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ: 
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
- কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝড়া পালক’। ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থে জীবনানন্দ দাশ পঁয়ত্রিশটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। 
- ঝরা পালক কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় জীবনানন্দ লিখেছেন- “ঝরা পালকের কতকগুলি কবিতা প্রবাসী, বঙ্গবাণী, কল্লোল, কালি-কলম, প্রগতি, বিজলি প্রভৃৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিলো। বাকিগুলি নূতন।”
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯০.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. রূপসী বাংলা
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. বনলতা সেন
  4. ঝরাপালক
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক।
- এটি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯১.
‘মাল্যবান’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• ‘মাল্যবান’ উপন্যাস:
- ‘মাল্যবান’ (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল সম্ভবত ১৯৪৮ সালে, প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
- বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি।
- দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি।সম্পর্কের জটিলটা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বোধ এক ইঙ্গিতময় ভাষায় অসামান্য কুশলতার সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯২.
‘বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে 
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

‘বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি’ বলা হয়- জীবনানন্দ দাশকে। 
----------------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।   
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 

- জীবনানন্দ দাশকে ‘বিপন্ন মানবতার নীলকণ্ঠ কবি’ বলা হয়;
- কারণ তাঁর কবিতায় যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে কষ্ট পাওয়া মানুষের যন্ত্রণাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- এই যন্ত্রণাকে নীলকণ্ঠের বিষ পান করার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

- এছাড়াও তাঁকে বলা হয়:
• ‘ধূসরতার কবি’,
• ‘নিঃসঙ্গতার কবি’,
• ‘তিমির-হননের কবি’,
• পরাবাস্তবতার কবি,
বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি,
• শুদ্ধতম কবি, 
• এবং বুদ্ধদেব বসু তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘প্রকৃতির কবি’।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------
অন্যদিকে, 
• সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বলা হয়- 'কিশোর কবি'। 
• বিষ্ণু দে'কে বলা হয়- মার্ক্সবাদী কবি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৯৩.
'মাল্যবান' জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'মাল্যবান' উপন্যাস:
- 'মাল্যবান' (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। এটি উপন্যাসের চিরচেনা ছকে আবদ্ধ নয়।
- আধুনিক এবং অসুখী দাম্পত্য জীবনের আদি-অন্তহীন এক অনন্য জীবনানন্দীয় আখ্যান।
- মাল্যবান-এর পরতে পরতে কুয়াশা, হারিয়ে যাওয়া পথ, পথের ধারে খাদ। অসুখী ব্যক্তি মানুষের অসহায়ত্ব, জীবন নিয়ে খেলা, আপসের কৌশল। আছে সংঘাত, আছে গভীর জীবনবোধ।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৪.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর কোন কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়?
  1. ঝরাপালক
  2. রূপসী বাংলা
  3. বনলতা সেন
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: খ) রূপসী বাংলা।

-----------------------
• 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ: 
জীবনানন্দ দাশ — ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর —‘রূপসী বাংলা’ —কাব্যগ্রন্থটি  —১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থটি জীবনানন্দের বাংলার প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন ও সৌন্দর্যের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ, যা তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য হিসেবে বিবেচিত। এটি তাঁর মৃত্যুর তিন বছর পর প্রকাশিত হয়েছিল।

• কাব্যগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য:
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের।
- বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উল্লেখ্য, 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

-----------------
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

• 'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক।
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

• 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'বনলতা সেন' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থটি  ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এ কাব্যের 'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।
- ভারতীয় পুরাণের অন্তর্বয়নে যেমন বিদিশা, শ্রাবন্তী উঠে এসেছে, তেমনি বেতের ফলের মতো বা চোখের নীড়ের মতো উপমানগুলো নির্মাণ করেছে নতুন কাব্যমণ্ডল।
- প্রেম ও প্রকৃতি, খণ্ড জীবন ও হতাশা, ক্লান্তি ও অবসাদ, ইতিহাসের বিশাল অনুভূতি ও বর্তমানের ছিন্নভিন্ন অস্তিত্ব সমস্ত কিছুর সমাহার এই অপরূপ কাব্যে আলোছায়ার জাল রচনা করেছে।

• 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ সাতটি তারার তিমির।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৯৪৮ সালে।
- আর এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘আকাশনীলা’।
- বইটি উৎসর্গ করা হয়- হুমায়ুন কবিরকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৯৫.
'ধূসর পাণ্ডুলিপি' একটি বিখ্যাত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• ধূসর পাণ্ডুলিপি:
- 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' (১৯৩৬) জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কবিতাগুলির মধ্যে জীবনানন্দীয় কাব্যের নিজস্ব বিষয়, ছন্দভঙ্গি, ভাষা, প্রতিমা সমস্ত বৈশিষ্ট্যই স্পষ্ট প্রকাশিত।
- এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমেই আধুনিক বাংলা কাব্যাঙ্গনে জীবনানন্দ দাশের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হতে থাকে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্যগ্রন্থ পাঠ করে তাঁর কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলেছেন।

---------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- রূপসী বাংলা,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো-
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

• ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৬.
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. সাহিত্যের ভবিষ্যৎ
  2. কবিতার কথা
  3. তরুণের বিদ্রোহ
  4. স্বদেশ চিন্তা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিতার কথা।
-------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

তাঁর রচিত  প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

অন্যদিকে,
• বিষ্ণু দে রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- তরুণের বিদ্রোহ।
•’আহমদ শরীফ’ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- ’স্বদেশ চিন্তা’।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া ।
১৯৭.
জীবনানন্দ দাশের “আবার আসিব ফিরে” কবিতায় কাকে ‘শাদা ছেঁড়া পালে’ দেখা যায় ?
  1. এক বৃদ্ধ মাঝিকে
  2. এক শিকারিকে
  3. এক কিশোরকে
  4. এক জেলেকে
ব্যাখ্যা

• ‘আবার আসিব ফিরে’ — কবিতাটির রচয়িতা — জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কবিতাটি নিম্নরূপ-
আবার আসিব ফিরে- (জীবনানন্দ দাশ)

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
--------------------
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা রায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে — 

এই কবিতায় কবি বলেছেন- এক কিশোরকে এক শাদা ছেঁড়া পালে দেখা যায়।
--------------------------
• 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ':
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' — 'রূপসী বাংলা' কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।
----------------------- 
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।