বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Criminal Procedure, 1898

মোট প্রশ্ন২,৮৮৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Criminal Procedure, 1898

PrepBank · পাতা / ২৯ · ৬০১৭০০ / ২,৮৮৩

৬০১.
"অভিযোগ" (Complaint) এর সংজ্ঞায় কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট
  2. অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মৌখিক অভিযোগ
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪(h) অনুযায়ী “অভিযোগ” (Complaint) বলতে বোঝায়— ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মৌখিক বা লিখিতভাবে দাখিলকৃত অভিযোগ, যার মাধ্যমে অভিযোগকারী জানায় যে কোনো ব্যক্তি (চেনা বা অচেনা) অপরাধ করেছে এবং উদ্দেশ্য থাকে ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উদ্বুদ্ধ করা। তবে এই সংজ্ঞার মধ্যে পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, মৌখিক অভিযোগ কিংবা লিখিত অভিযোগ সবই “অভিযোগ”-এর মধ্যে পড়ে, কিন্তু পুলিশ রিপোর্ট কখনোই “অভিযোগ” হিসেবে গণ্য হয় না।
- তাই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে – ক) পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪(১)(h) অনুযায়ী:
"অভিযোগ (Complaint)" বলতে বোঝায় এমন একটি মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ, যা কোনো ব্যক্তি আদালতের (ম্যাজিস্ট্রেটের) কাছে করে এই উদ্দেশ্যে যে, আদালত যেন সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়।
- তবে এটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, "অভিযোগ" বলতে পুলিশের রিপোর্ট বোঝানো হয় না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-4 (1)(h) "complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police-officer.

৬০২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারার অধীনে পুলিশ অফিসার কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন?
  1. যেকোন অপরাধে সংশিষ্ট অপরাধী
  2. জামিনঅযোগ্য অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তি
  3. আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তি
  4. যে ব্যক্তি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারার বিধান- আমলযোগ্য অপরাধ নিবারণের লক্ষ্যে গ্রেফতার:
কোন পুলিশ অফিসার যদি কোন আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের কথা অবগত হন এবং তাঁর নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, এই অপরাধ সংঘটন অন্যভাবে নিবারণ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে তিনি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ ও পরোয়ানা ব্যতীত সংশ্লিষ্ট ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবেন।

Section 151- Arrest to prevent such offences:
A police-officer knowing of a design to commit any cognizable offence may arrest, without orders from a Magistrate and without a warrant, the person so designing, if it appears to such officer that the commission of the offence cannot be otherwise prevented.
৬০৩.
Which one of the following sections of the Criminal Procedure Code,1898 provides that "no Judge or Magistrate shall try any case in which he is personally interested"?
  1. Section 554
  2. Section 556
  3. Section 558
  4. Section 561A
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৫৬-এ বলা হয়েছে: কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি কোনো মামলায় নিজে পক্ষ হন বা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকে, তবে তিনি সেই মামলার বিচার করতে পারবেন না। অর্থাৎ "no Judge or Magistrate shall try any case in which he is personally interested"
তবে, যদি তার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষমতাসম্পন্ন আদালত অনুমতি দেয়, তখন তিনি বিচার করতে পারেন।
একইভাবে, কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজের দেওয়া রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে পারবেন না।
 
Principle of Natural Justice:
এটি “nemo judex in causa sua” নীতির প্রতিফলন।
অর্থাৎ কেউ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হতে পারে না।

ব্যতিক্রম (Explanation):
ধারা ৫৫৬ অনুযায়ী, বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যক্তিগতভাবে স্বার্থ জড়িত বলা হবে না যদি:
- তিনি কেবলমাত্র পৌর কমিশনার বা সরকারি দায়িত্বে মামলার সাথে যুক্ত থাকেন।
- তিনি অপরাধ সংঘটিত স্থল বা সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং তদন্ত করেছেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, sections 556. Case in which Judge or Magistrate is personally interested:
- No Judge or Magistrate shall, except with the permission of the Court to which an appeal lies from his Court, try for trial any case to or in which he is a party, or personally interested, and no Judge or Magistrate shall hear an appeal from any judgment or order passed or make himself. 

Explanation:–
- A Judge or Magistrate shall not be deemed a party, or personally interested, within the meaning of this section, to or in any case by reason only that he is a Municipal Commissioner or otherwise concerned therein in a public capacity, or by reason only that he has viewed the place in which an offence is alleged to have been committed, or any other place in which any other transaction material to the case is alleged to have occurred, and made an inquiry in connection with the case.
Illustration:
A, as Collector, upon consideration of information furnished to him, directs the prosecution of B or a breach of the excise Laws. A is disqualified from trying this case as a Magistrate.
------------
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৫৬: বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকার ক্ষেত্রে বিধান:
কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট, যার আদালত থেকে আপিল করা যায় এমন আদালতের অনুমতি ছাড়া, এমন কোনো মামলার বিচার বা শুনানি পরিচালনা করতে পারবেন না যেখানে তিনি নিজে পক্ষ বা ব্যক্তিগতভাবে স্বার্থ জড়িত রয়েছেন। এছাড়া কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে প্রদত্ত কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনবেন না।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে, কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেটকে শুধুমাত্র নিম্নলিখিত কারণে পক্ষ বা ব্যক্তিগতভাবে স্বার্থ জড়িত বলে গণ্য করা হবে না:
১. তিনি একজন পৌর কমিশনার বা অন্য কোনো সরকারি পদে রয়েছেন এবং সেই সূত্রে মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।
২. তিনি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান বা মামলার সাথে সম্পর্কিত অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট তদন্ত করেছেন।

উদাহরণ: A একজন কালেক্টর হিসেবে B-কে এক্সাইজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করার নির্দেশ দেন। এই মামলায় A ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিচার পরিচালনা করতে অযোগ্য হবেন, কারণ তিনি ব্যক্তিগতভাবে মামলার সাথে জড়িত।

৬০৪.
'ক' একটি সমনযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে 'ক' আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজির না হয়ে, তার উকিলের মাধ্যমে হাজিরা দিতে চান। এক্ষেত্রে, আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার অধীনে এই অনুমতি দিতে পারেন?
  1. ধারা ৩৪৪
  2. ধারা ২০৫
  3. ধারা ২০৫গ
  4. ধারা ২০৫ঘ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ অনুসারে-
(১) যখন কোন ম্যাজিস্ট্রেট সমন জারি করেন তখন যুক্তিসংগত কারণ থাকলে তিনি আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা হতে রেহাই দিয়ে, তাকে উকিলের মাধ্যমে হাজির হওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন।

(২) কিন্তু তদন্ত বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট তার বিচারিক ক্ষমতায় মামলার যে কোন পর্যায়ে আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনবোধে ইতোপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারবেন।
৬০৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী নালিশ (Complaint) কাকে বলা হয়?
  1. সংবাদ মাধ্যমে অভিযোগ
  2. পুলিশের কাছে অভিযোগ
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ
  4. জনপ্রতিনিধির কাছে অভিযোগ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা-৪(জ): নালিশ (Complaint)- "নালিশ" বলতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অথবা লিখিতভাবে এই মর্মে অভিযোগ করা যে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি একটি অপরাধ করেছে।
-অর্থাৎ অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে।
- কিন্তু অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ অফিসারের নিকট মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে না।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-4(h) "complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person, whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police officer:
৬০৬.
ফৌজদারি মামলা বিচারের কোন পর্যায় পর্যন্ত চার্জ পরিবর্তন করা যায়?
  1. যুক্তিতর্ক শ্রবণের পর
  2. সাক্ষীদের জবানবন্দী নেয়ার আগ পর্যন্ত
  3. রায় ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত
  4. যুক্তিতর্ক শ্রবণের আগ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
• রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন।

• ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়।অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন,সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়,চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৭ আদালতকে অভিযোগ পরিবর্তনের ক্ষমতা দিয়েছে।অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।
৬০৭.
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন মহিলা গর্ভবর্তী হলে হাইকোর্ট বিভাগ ৩৮২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে______ কারাদন্ডে হ্রাস করতে পারেন?
  1. অনধিক ১০ বছর
  2. অনধিক ২০ বছর
  3. অনধিক ২৫ বছর
  4. যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারায় গর্ভবতী স্ত্রীলোকের মৃত্যুদন্ড স্থগিতকরণের বিধান রয়েছে। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত কোন স্ত্রীলোক গর্ভবতী থাকলে, হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত গর্ভবতী মহিলার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে মৃত্যুদন্ড হ্রাস করে গর্ভবতী মহিলাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিতে পারবেন।
৬০৮.
'BLAST V/S Bangladesh' মামলায় কোন ধারার অধীনে পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল?
  1. ৫০ ধারা
  2. ৫৪ ধারা
  3. ৫৯ ধারা
  4. ৬৭ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং ১৬৭ ধারার অধীনে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে BLAST VS Bangladesh (55 DLR 363) মামলা বহুল পরিচিত। এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ:

পটভূমি:
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST) নামক একটি এনজিও কর্তৃক ১৯৯৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করছে না।

মামলার বিষয়বস্তু:
এই মামলায় BLAST দাবি করে যে পুলিশ অনেক সময় অভিযুক্তদের অবৈধভাবে হেফাজতে রাখে এবং নির্যাতন করে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার (নিরাপত্তা প্রাপ্তির অধিকার) এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে।

আদালতের রায়:
হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৩ সালে এই মামলার রায় প্রদান করে। হাইকোর্ট বিভাগ মোট ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করার সুপারিশ করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগের ১৫টি নির্দেশনার মধ্যে প্রথম ৮টি নির্দেশনা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে পুলিশের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা সংক্রান্ত। রায়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে হেফাজতে থাকার সময় ও কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হবে। অভিযুক্তর উপস্থিতিতেই এটি করতে হবে। পরবর্তীতে অভিযুক্তকে কাছাকাছি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে।
৬০৯.
মহানগর দায়রা আদালতের রায়ের অনুলিপি কার কাছে পাঠানো হবে?
  1. শুধুমাত্র আপিল আদালতে
  2. মহানগর পুলিশের কাছে
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৭৩: দায়রা আদালত সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ-
দায়রা আদালত তার সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের একটি নকল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

অর্থাৎ,
⇒ মহানগর দায়রা আদালত হলে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।
⇒ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

Section 373: Court of Session send copy of finding and sentence to District Magistrate:
In cases tried by the Court of Session, the Court shall forward a copy of its finding and sentence (if any) to the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate, as the case may be, and District Magistrate within the local limits of whose jurisdiction the trial was held.
৬১০.
ফৌজদারি মামলায় চার্জ গঠনের দায়িত্ব কার?
  1. বাদীর
  2. সরকারি উকিলের
  3. কোর্টের
  4. পুলিশের
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪২ ধারা অনুযায়ী যদি ম্যাজিস্ট্রেট মামলা সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে মনে করে যে আসামী অপরাধ করেছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করবে । অর্থাৎ ফৌজদারী মামলায় চার্জ গঠনের দায়িত্ব ম্যাজিস্ট্রেটের বা আদালতের।
৬১১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকা অকার্যকর করার ক্ষমতা রয়েছে?
  1. ১২১ ধারা
  2. ১২৪ ধারা
  3. ১২৭ ধারা
  4. ১২৫ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারার বিধান: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকা অকার্যকর করার ক্ষমতা:
-জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁহার নিজ জেলায় তাঁর আদালতের উচ্চ নহে এরূপ আদালতের আদেশ কর্তৃক এই অধ্যায়ের বিধানমতে সম্পাদিত শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের কোন মুচলেকা যথেষ্ট পরিমাণ হেতু থাকলে তা লিপিবদ্ধ করে যে কোন সময়ে অকার্যকর করতে পারবেন।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 125: Power of District Magistrate to cancel any bond for keeping the peach or good behaviour:
- The District Magistrate may at any time, for sufficient reasons to be recorded in writing, cancel any bond for keeping the peace or for good behaviour executed under this Chapter by order of any Court in his district not superior to his Court.
৬১২.
নিম্নোক্ত কোন পরিস্থিতি থেকে শান্তি ভঙ্গের আশংকা থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে?
  1. গণ উৎপাত
  2. শ্রমিক অসন্তোষ
  3. জমির দখলজনিত বিরোধ
  4. পরীক্ষা কেন্দ্রে অসদুপায়
ব্যাখ্যা
♦ ধারা-১৪৫: স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের ফলে শান্তিভঙ্গের আশংকা (Dispute concerning land, etc. is likely to cause breach of peace)- স্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ জমি বা জলাশয় বা তার সীমানা নিয়ে বিরোধের ফলে শান্তিভঙ্গের আশংকা দেখা দিলে (dispute likely to cause a breach of the peace exists concerning any land or water of the boundaries thereof) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন আদেশ প্রদান করতে পারে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করা যায়। 
১৪৫ ধারার আদেশ দ্বারা প্রকৃত দখলকারী নির্ধারণ করা হয়, কোন মালিকানা নির্ধারণ করা হয় না।
 ১৪৫ ধারার আওতায় প্রাথমিক আদেশের পূর্ববর্তী ২ মাসের মধ্যে (within two months next before the date of such order under section 145) কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে বেদখল হলে উক্ত দখলচ্যুত ব্যক্তি প্রকৃত দখলদার বলে বিবেচিত হবে। অন্যথায় ১৪৫ ধারার আদেশের তারিখে যে ব্যক্তি প্রকৃত দখলে আছেন তার অনুকূলেই ম্যাজিস্ট্রেট দখলের ঘোষণা দিবেন।
৬১৩.
কোন পরিস্থিতিতে ধারা ৪৮৫ প্রযোজ্য হবে?
  1. যখন মামলা স্থগিত হয়
  2. যখন আসামি আদালতে হাজির হয় না
  3. যখন সাক্ষী জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে
  4. যখন সাক্ষী আদালতে হাজির হয় না
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারার বিধান- কোন ব্যক্তি জবাব দিতে বা দলিল করতে অস্বীকার করলে কারাদণ্ড বা সোপর্দকরণ:
কোন ফৌজদারী আদালত কোন সাক্ষী বা ব্যক্তিকে তার দখলের বা ক্ষমতার অন্তর্ভূক্ত কোন দলিল বা বস্তু হাজির করতে বললে সে যদি তা হাজির করতে অস্বীকার করে বা তার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করে, এবং এই অস্বীকৃতির জন্য কোন যৌক্তিক কৈফিয়ত না দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে কোন সময়ের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন অথবা প্রিজাইডিং ম্যাজিস্ট্রেট বা জজের নিজ হাতে স্বাক্ষরিত পরোয়ানা দ্বারা তাকে ৭ (সাত) দিনের অনধিক যেকোন সময়ের জন্য কোর্টের কোন অফিসারের হেফাজতে আটক রাখতে পারবেন,

যদি না উক্ত ব্যক্তি ইতোমধ্যে জবানবন্দী দিতে বা দলিল বা বস্তু হাজির করতে রাজী হয়। উক্ত ব্যক্তি তার অস্বীকৃতিতে অবিচল থাকলে ধারা-৪৮০ বা ৪৮২ অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের ক্ষেত্রে তাকে অবমাননার জন্য দোষী মর্মে গণ্য করতে হবে।

৬১৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৫ ধারা অনুসারে ব্যাংক হিসাব সম্পর্কিত তথ্যের তল্লাশি করার জন্য সাধারণত কী প্রয়োজন?
  1. ব্যাংক ম্যানেজারের সম্মতি
  2. সরকারের বিশেষ আদেশ
  3. হাইকোর্ট বিভাগের পূর্বানুমতি
  4. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৫ ধারার প্রথম উপধারায় প্রদত্ত বিধান (proviso) অনুসারে, কোনো পুলিশ অফিসার ব্যাংক বা ব্যাংকারের হেফাজতে থাকা এমন কোনো জিনিসের তল্লাশি করতে পারবেন না, যা কোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে পারে, যতক্ষণ না:
(a) দণ্ডবিধির ধারাসমূহ (৪০৩, ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯, ৪২১ থেকে ৪২৪, এবং ৪৬৫ থেকে ৪৭৭ক) এর অধীন কোনো অপরাধ তদন্তের জন্য দায়রা  জজের পূর্ববর্তী লিখিত অনুমতি থাকে; অথবা
(b) অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ববর্তী লিখিত অনুমতি থাকে।
যেহেতু প্রশ্নে "সাধারণত" (in general) জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, এবং (a) উপধারাটি শুধুমাত্র দণ্ডবিধির কিছু নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য প্রযোজ্য, সেহেতু সাধারণ বা অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে (b) উপধারা, অর্থাৎ হাইকোর্ট বিভাগের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 165. Search by police-officer:
(1) Whenever an officer in charge of a police-station or a police-officer making an investigation has reasonable grounds for believing that anything necessary for the purposes of an investigation into any offence which he is authorized to investigate may be found in any place within the limits of the police-station of which he is in charge, or to which he is attached, and that such thing cannot in his opinion be otherwise obtained without undue delay, such officer may, after recording in writing the grounds of his belief and specifying in such writing, so far as possible, the thing for which search is to be made, search, or cause search to be made, for such thing in any place within the limits of such station:
Provided that no such officer shall search, or cause search to be made, for anything which is in the custody of a bank or banker as defined in the Bankers' Books Evidence Act, 1891 (XVIII of 1891), and relates, or might disclose any information which relates, to the bank account of any person except,-
(a) for the purpose of investigating an offence under sections 403, 406, 408 and 409 and section 421 to 424 both inclusive and sections 465 to 477A (both inclusive) of the Penal Code with the prior permission in writing of a Sessions Judge; and 
(b) in other cases, with the prior permission in writing of the High Court Division. 
 
(2) A police-officer proceeding under sub-section (1) shall, if practicable, conduct the search in person. 
(3) If he is unable to conduct the search in person, and there is no other person competent to make the search present at the time, he may after recording in writing his reasons for so doing require any officer subordinate to him to make the search, and he shall deliver to such subordinate officer an order in writing specifying the place to be searched and, so far as possible, the thing for which search is to be made; and such subordinate officer may thereupon search for such thing in such place. 
(4) The provisions of this Code as to search-warrants and the general provisions as to searches contained in section 102 and section 103 shall, so far as may be, apply to a search made under this section. 
(5) Copies of any record made under sub-section (1) or sub-section (3) shall forthwith be sent to the nearest Magistrate empowered to take cognizance of the offence and the owner or occupier of the place searched shall on application be furnished with a copy of the same by the Magistrate:
Provided that he shall pay for the same unless the Magistrate for some special reason thinks fit to furnish it free of cost.

৬১৫.
nemo debet bis vexari এই নীতিটি কোন ধারার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা
  2. ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৪ ধারা
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০০ ধারা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৩ ধারায় বলা হয়েছে, একবার দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বা দ্বিতীয়বার বিচার করা যাবে না [person once convicted or acquitted not to be tried for same offence twice]। ৪০৩ ধারা [nemo debet bis vexari] নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যার অর্থ হলো কোন ব্যক্তিকে দ্বিতীয় বারের জন্য বিচারাধীন করা যাবে না যার জন্য তাকে একবার বিচার করা হয়েছিল।

এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-

১. অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে অপরাধের চার্জ করা হয়েছে তাকে সেই অপরাধের জন্য বিচার করতে
২. উক্ত বিচার অবশ্যই এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালত কর্তৃক হতে হবে
৩. বিচারে অবশ্যই খালাসের [Acquittal] বা দণ্ডের [Conviction] আদেশ থাকতে হবে।

দোবারা সাজা নীতি প্রযোজ্য হবে না-

১. অভিযোগ খারিজ করে যদি কোন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বা
২. ২৪৯ ধারার অধীন মামলার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যদি কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয় বা
৩. কোনো আসামীকে অব্যাহতি দেয়া হলে,

যেহেতু উপরে উল্লেখিত অব্যাহতি বা মুক্তি ৪০৩ ধারার অধীন খালাস বলে গণ্য হবে না, তাই উক্ত ক্ষেত্রে ৪০৩ ধারার দোবারা সাজা বা jeopardy নীতি প্রযোজ্য হবে না। অব্যাহতি বা মুক্তির আদেশের বিরুদ্ধে ৪০৩ ধারা প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে অভিযোগ হতে অব্যাহতি বা মুক্তি দেওয়া হলে তাকে পুনরায় বিচারের সম্মুখীন করা যাবে এবং এই ক্ষেত্রে ৪০৩ ধারার double Jeopardy নীতি বাধা হবে না।
৬১৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১ অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির তল্লাশি কোন শর্তে করা যাবে?
  1. শুধু আদালতের নির্দেশে
  2. অপরাধ গুরুতর না হলে
  3. যখন পুলিশ চায় তখনই
  4. জামিন দিতে ব্যর্থ হলে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি ৫১ ধারা: গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির তল্লাশি:
যখন কোনো ব্যক্তিকে পুলিশ অফিসার গ্রেফতার করেন এমন এক পরোয়ানায় যা জামিন দেওয়ার সুযোগ দেয় না, অথবা জামিন দেওয়ার সুযোগ থাকলেও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জামিন দিতে অক্ষম, এবং
যখন কোনো ব্যক্তি গ্রেফতার হন কোনো পরোয়ানা ছাড়া, অথবা কোনো ব্যক্তিগত ব্যক্তি গ্রেফতার করেন পরোয়ানায়, এবং সেই ব্যক্তি আইনগতভাবে জামিন নিতে অক্ষম অথবা জামিন দিতে অক্ষম,
তাহলে গ্রেফতারকারী অফিসার বা, যদি গ্রেফতারটি কোনো ব্যক্তিগত ব্যক্তি করে থাকে, তবে পুলিশ অফিসার, যাকে সেই গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি সোপর্দ করেন, সেই ব্যক্তি তল্লাশি করতে পারেন এবং তার কাছ থেকে সমস্ত জিনিসপত্র, প্রয়োজনীয় পরিধেয় কাপড় ছাড়া, নিরাপদ হেফাজতে রাখবেন।
৬১৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 403 প্রযোজ্য হবে না___________এর ক্ষেত্রে।
  1. Section 26 of the General Clauses Act, 1897
  2. Section 188 of the Code of Criminal Procedure, 1898
  3. Section 249 of the Code of Criminal Procedure, 1898
  4. উপরোক্ত সব ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারামতে এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কোন ব্যক্তিকে একবার দণ্ডিত বা খালাস প্রদান করলে, ঐ একই অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তির পুনরায় বিচার করা যাবেনা । এই নীতিকে Double Jeopardy নীতি বলা হয়।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারাতে বলা আছেঃ কোন উপযুক্ত এখতিয়ারবান আদালতে কোন অপরাধের জন্য যে ব্যক্তির একবার বিচার করা হয়েছে এবং তাকে উক্ত অপরাধের জন্য দণ্ড দান করা বা অপরাধ হতে খালাস দেয়া হয়েছে, তখন উক্ত খালাস বা দণ্ড বলবৎ থাকার সময় তাকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বিচার করা যাবে না অথবা একই ঘটনা হতে উদ্ভুত অন্য কোন অপরাধের জন্যও পুনরায় তার বিচার করা যাবে না, যে অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে ২৩৬ অনুসারে একটি পৃথক অভিযোগ আণয়ন করা যেত বা যার জন্য তাকে ২৩৭ ধারা অনুসারে দণ্ডিত করা যেত।
(২) কোন অপরাধে দণ্ডিত বা খালাস প্ৰাপ্ত কোন ব্যক্তিকে পরে এমন একটি পৃথক অপরাধের জন্য বিচার করা যাবে, যে অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী বিচারে ২৩৫ ধারার (১) উপধারার অধীন তার বিরুদ্ধে একটি পৃথক অভিযোগ আণয়ন করা যেত।
♦(৩) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন কার্য কর্তৃক সৃষ্ট কোন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং উক্ত কার্য ও উহার প্রতিক্রিয়া সমন্বয়ে তার চেয়ে আলাদা প্রকৃতির একটি অপরাধ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিক্রিয়া না ঘটে থাকে বা ঘটেছে বলে আদালত অবহিত না থাকলে তাকে এরূপ শেষোক্ত অপরাধে পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।
(৪) কোন ব্যক্তি কোন কার্যধারা সৃষ্ট অপরাধ হতে খালাস বা উহার জন্য দণিত হলে এই খালাস বা দণ্ড একই কার্য দ্বারা সৃষ্ট অন্য কোন অপরাধের জন্য তাকে অভিযুক্ত ও বিচার করা যাবে, যদিও যে আদালতে তার অথবা বিচার হয়েছিল সেই আদালত পরবর্তী অপরাধের বিচার করার জন্য উপযুক্ত নহেন।
(৫) এই ধারার কোন কিছুই জেনারেল ক্লজেজ এ্যক্ট এর ২৬ ধারা বা এই বিধির ১৮৮ ধারার কোন বিধানকে প্রভাবিত করবে না। 

ব্যাখ্যাঃ নালিশ খারিজ, ২৪৯ ধারায় অধীন প্রক্রিয়া বদ্ধকরণ অথবা আসামীকে অব্যাহতি দেয়াকে এই ধারার উদ্দেশ্যে খালাস বলে গণ্য করা যাবে না।

♦ অর্থাৎ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 403 প্রযোজ্য হবে না Section 26 of the General Clauses Act, 1897, Section 188 of the   Code of Criminal Procedure, 1898, Section 249 of the   Code of Criminal Procedure, 1898  এর ক্ষেত্রে।
৬১৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারা অনুযায়ী, অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য আদালতের কী বিশ্বাস করা প্রয়োজন?
  1. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ অপর্যাপ্ত
  2. অভিযুক্ত পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে
  3. অভিযুক্তের পরিবার আদালতে হাজির হয়েছে
  4. অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে হাজির হয়েছেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) অভিযুক্ত পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারা অনুযায়ী, আদালত তখনই কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার (Trial in Absentia) করতে পারেন, যখন আদালতের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকবে যে—
১) অভিযুক্ত পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে, যেন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হয় বা বিচার প্রক্রিয়ায় হাজির করা না যায়।
২) অভিযুক্তকে গ্রেফতারের কোনো তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা নেই।
৩) ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধানসমূহ প্রতিপালন করা হয়েছে (অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ঘোষণা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত বিধান)।
৪) জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে, কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হননি।
- এই শর্তগুলো পূরণ হলে আদালত অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেই বিচার চালিয়ে যেতে পারেন। একে বলা হয় "Trial in absentia" বা অনুপস্থিতিতে বিচার।

⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারা অনুযায়ী, অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু করতে হলে আদালতকে বিশ্বাস করতে হবে যে অভিযুক্ত পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে, এবং তাকে গ্রেপ্তারের তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা নেই।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশি অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।

(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.

(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
৬১৯.
ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় নিচের কোন আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power) আছে?
  1. আপীল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. দায়রা জজ আদালত
  4. মহানগর দায়রা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power) আছে।

• একটি মামলার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে যাবতীয় বিধি দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, আদালতের কি করণীয় হবে সেই বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বিধি নেই। এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে আদালত তার সুবিবেচনা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকেই আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of the court) বলে। 

• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।

Section 561A- Saving of inherent power of High Court Division
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
৬২০.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৪৭ ধারা মোতাবেক নালিশকারীর অনুপস্থিতির কারণে আসামী খালাস পাবে যদি ____________ ।
  1. গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু হয়
  2. সমন ইস্যু হয়
  3. রায়ের জন্য দিন থাকে
  4. কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গৃহীত হয়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৭ ধারায় শুনানির দিন অভিযোগকারীর অনুপস্থিতির ফলাফল আলোচনা করা হয়েছে। যথাযথভাবে সমন জারি হওয়ার পরও অভিযোগকারী শুনানির দিন অনুপস্থিত থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে আসামিকে খালাস দিতে পারেন; অথবা পরবর্তী কোন তারিখ পর্যন্ত মামলার শুনানী মুলতবী রাখতে পারেন।

♦অভিযোগকারী সরকারী কমকর্তা হলে এবং তার ব্যক্তিগত হাজিরা প্রয়োজন না হলে, ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে হাজিরা হতে অব্যাহতি দিয়ে মামলায় অগ্রসর হতে পারবেন ।

♦ তবে ২৪৭ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত অভিযোগকারীর অনুপস্থিতির কারণে অভিযুক্তকে খালাস দিলে তাকে পুনরায় বিচার করা যাবে, কেননা এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার ছাড়াই শুধুমাত্র অনুপস্থিতির কারণে তাকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
৬২১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট চার্জ গঠনের আগে অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন?
  1. ২৪১ ধারা
  2. ২৪১ক ধারা
  3. ২৪২ ধারা
  4. ২৪৩ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট চার্জ গঠনের আগে অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।

-ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ক ধারার বিধান: ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আসামির অব্যাহতি [Discharge of Accused by Magistrate): আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে ২৪১ক ধারায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে।অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিবে।পুলিশ কেসের ক্ষেত্রে মামলার এফআইআর, চার্জশিট,পুলিশের নিকট দেয়া বা সংগ্রহকৃত তথ্য বা প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্ট,তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দি এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি।
আর নালিশি কেসের ক্ষেত্রে মামলার অভিযোগ,বিচারিক অনুসন্ধান ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ইত্যাদি কাগজপত্র আমলে নিবেন।

উল্লেখ্য,  যদি ম্যাজিস্ট্রেট ২৪১(ক) ধারায় অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেন, তাহলে ফরিয়াদি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়রা জজ কোর্টে রিভিশন আবেদন করতে পারেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 241A. When accused shall be discharged:
 When the accused appears or is brought before the Magistrate, and if the Magistrate, upon consideration of the record of the case and the documents submitted therewith and making such examination, if any, of the accused as the Magistrate thinks necessary and after giving the prosecution and the accused an opportunity of being heard, considers the charge to be groundless, he shall discharge the accused and record his reasons for so doing. 

৬২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৪ অনুযায়ী, কোন আইনের অধীনে অভিযোগের শব্দসমূহের অর্থ নির্ধারণ করা হয়?
  1. দণ্ডবিধি অনুযায়ী
  2. অপরাধ সংঘটিত হওয়া আইনের অধীনে
  3. বিচারক কর্তৃক নির্ধারিত
  4. অভিযুক্ত ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
• চার্জ বা অভিযোগ (Charge) ফৌজদারি বিচার কার্যক্রমে একটি  গুরুত্বপূর্ণ স্তর।চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে ফৌজদারি মামলার বিচার শুরু হয়। ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। 
অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

• ধারা ২২৪ অনুসারে,
কোন অপরাধের বিবরণ দেওয়ার জন্য অভিযোগে ব্যবহৃত শব্দসমূহ যে আইনে উক্ত অপরাধ দণ্ডনীয়, সেই আইনে শব্দগুলো যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে সেই একই অর্থেই তা অভিযোগে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।

Section 224: Words in charge taken in sense of law under which offence is punishable-
In every charge words used in describing an offence shall be deemed to have been used in the sense attached to them respectively by the law under which such offence is punishable.
৬২৩.
এক ফৌজদারি মামলায় ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করে 'ক' কে ৫০০ টাকা জরিমানা প্রদানের আদেশ প্রদান করে। উক্ত আদেশ-
  1. চূড়ান্ত
  2. আপিলঅযোগ্য
  3. আপিলযোগ্য
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।
 
ধারা ৪১২- দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে [In Case of Guilty Plead]
অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করলে এবং তার উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তকে দণ্ড দিলে, সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। কিন্তু উক্ত দণ্ডাদেশের পরিমাণ বা যৌক্তিকতা (extent or legality) বিষয়ে আপিল দায়ের করা যাবে।

ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases] 
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
অন্যদিকে, যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
 
ধারা ৪১৪- সংক্ষিপ্ত বিচারের কতিপয় দণ্ডের ক্ষেত্রে [Summary Conviction] 
২৬০ ধারার অধীন সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা জরিমানা করলে, সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

অর্থাৎ ২০০ টাকার অধিক জরিমানা করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। উল্লিখিত আদেশ আপিলযোগ্য হবে।
৬২৪.
মহিলা আসামির দেহ তল্লাশি হয় এই আইনের কত ধারা অনুযায়ী? 
  1. ৫০ ধারায়
  2. ৫১ ধারায়
  3. ৫২ ধারায়
  4. ৫৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশীর বিধান রয়েছে। কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ম দৃষ্টি রেখে তা অন্য একজন স্ত্রীলোক দ্বারা করাতে হবে।

RULINGS
(১) পুরুষের সামনে নারীকে তল্লাশি করা চলে না।
(২) সুপ্রীম কোর্ট নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করতে বদ্ধ পরিকর।
৬২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ পরিবর্তন বা সংযোজন করলে আদালত কী করতে বাধ্য?
  1. পুরাতন সাক্ষীদের বাদ দিতে
  2. নতুন তদন্ত শুরু করতে
  3. অভিযোগকারীকে পড়ে শোনাতে এবং বুঝাতে
  4. অভিযুক্তকে পড়ে শোনাতে এবং বুঝাতে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-
অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 227: Court may alter charge-
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.

৬২৬.
Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৩৪৫(৮) ধারায় আদালত কখন সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়নের আদেশ দেবে না?
  1. যদি চুক্তি বৈধ না হয়
  2. যদি অভিযুক্ত চুক্তি অস্বীকার করে
  3. যদি তৃতীয় পক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়
  4. যদি উভয় পক্ষ রাজি থাকে
ব্যাখ্যা

Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৩৪৫:
(৮) এই ধারায় যা কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন, যেখানে উভয় পক্ষ কোনো আপসযোগ্য মামলা আপস করতে সম্মত হয়, সেখানে আদালত পক্ষগুলির মধ্যে আপসের প্রক্রিয়া সহজতর করতে পারেন অথবা Legal Aid Act, 2000 (২০০০ সালের আইন নং ২০)-এর অধীনে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসারের কাছে, বা পক্ষগণ কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবীদের কাছে, অথবা যেখানে কোনো আইনজীবী নিযুক্ত হননি সেখানে পক্ষ বা পক্ষদের নিজেদের কাছে আপসের জন্য বিষয়টি পাঠাতে পারেন; এবং যদি আদালত সন্তুষ্ট হন যে, এই ধরনের আপসের সমর্থনে পক্ষগণ একটি আইনানুগ চুক্তি সম্পাদন করেছেন, তবে আদালত সেই চুক্তিটি নথিতে সংরক্ষণ করতে পারেন এবং এর শর্তাবলী বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন, তবে শর্ত থাকে যে, এই ধরনের বাস্তবায়ন কোনো তৃতীয় পক্ষের অধিকার বা স্বার্থের প্রতি ক্ষতিকর হবে না। 

ব্যাখ্যা: এই উপ-ধারার উদ্দেশ্যে, "পক্ষ" (party) শব্দটি বলতে বোঝাবে যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ কর্তৃক অপরাধটি আইনানুগভাবে আপসযোগ্য হতে পারে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও।"

৬২৭.
চার্জে 'ক' এর বিরুদ্ধে কোন বিশেষ সময়ে ও স্থানে 'খ' নামক জনৈক সরকারী কর্মচারীকে তার সরকারী কার্যে বাধা দানের অভিযোগ করা হয়েছে।কিন্তু 'ক' তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে সন্দিহান।সেক্ষেত্রে করণীয় কি?
  1. 'খ' কে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে
  2. চার্জে অপরাধ সংঘটনের পদ্ধতি উল্লেখ করতে হবে
  3. অভিযোগ খারিজের আবেদন করা যাবে
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
• অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে। সুতরাং বলা যায়, চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে। ধারা ২২৩ এ কখন অপরাধ সংঘটনের পদ্ধতি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে (When manner of committing offence must be stated) সেই বিধান দেয়া আছে-

যখন ঘটনার প্রকৃতি এরূপ যে, ২২১ ও ২২২ ধারায় উল্লেখিত তথ্যাবলী দ্বারা অভিযুক্তকে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে পর্যাপ্তরূপে জ্ঞাত করা যায় না, তখন যেভাবে অভিযোগকৃত অপরাধটি করা হয়েছিল, অভিযোগে সে সম্পর্কে এরূপ তথ্য দিতে হবে যেন তা জ্ঞাত করার উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত হয়।
[When the nature of the case is such that the particulars mentioned in sections 221 and 222 do not give the accused sufficient notice of the matter with which he is charged, the charge shall also contain such particulars of the manner in which the alleged offence was committed as will be sufficient for that purpose.]

প্রশ্নে উল্লেখিত অভিযুক্ত 'ক' চার্জে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে পর্যাপ্তরূপে জ্ঞাত নয়। এক্ষেত্রে 'ক' কবে,কখন এবং কিভাবে 'খ' এর সরকারী কার্যে বাধা দান করেছে তা চার্জে উল্লেখ করতে হবে।
৬২৮.
রায়ে অন্তর্ভুক্ত থাকে না নিচের কোন বিষয়টি?
  1. বিচার্য বিষয়সমূহ।
  2. সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তের কারণ।
  3. আসামীকে যে অপরাধে ও কোন আইনের কোন ধারায় দণ্ডিত করা হলো এবং যে শাস্তি দেয়া হলো।
  4. আসামীর অপরাধ সংঘটনের কারণ ও পূর্ব ইতিহাস।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩৬৭ ধারা মোতাবেক রায়ের বিষয়বস্তু হলো-
১. বিচার্য বিষয়সমূহ।
২. সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তের কারণ।
৩. আসামীকে যে অপরাধে ও কোন আইনের কোন ধারায় দণ্ডিত করা হলো এবং যে শাস্তি দেয়া হলো।
৪. আসামীকে খালাস দেওয়া হলে যে অপরাধ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে।
৫. মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কয়েক বছর এর কারাদণ্ড দেয়া হলে আদালতকে উক্ত শাস্তির কারণ উল্লেখ করতে হবে।
৬২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় আদালত অবমাননার শাস্তি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ৪৭৫ ধারায়
  2. ৪৮০ ধারায়
  3. ৪৮৫ ধারায়
  4. ৪৯০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারায় আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শাস্তি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার বিধান:- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি:
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারী বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লেখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোন সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
--------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 480: Procedure in certain cases of contempt:
-When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.
৬৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ ধারার (২) উপধারা অনুসারে আদালতের ক্ষমতা কী?
  1. জবানবন্দি বাতিল করা
  2. সাক্ষীকে সমন ও পরীক্ষা করা
  3. বিচারে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা
  4. সাক্ষীকে জামিনে মুক্তি দেওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ ধারার (২) উপধারা অনুসারে, আদালত যদি সঠিক মনে করে, তবে চিকিৎসক সাক্ষীকে সমন করতে পারে এবং তার জবানবন্দির বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরীক্ষা করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯- চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি:
(১) আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত বা অধ্যায়-৪০ অনুসারে কমিশনে গৃহীত কোন সিভিল সার্জন বা অন্য কোন চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা না হলেও, এ বিধির অধীন কোন ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রমে সাক্ষ্যরূপে দেয়া যাবে।
(২) চিকিৎসক সাক্ষীকে সমন করার ক্ষমতাঃ
আদালত সঠিক মনে করলে এরূপ সাক্ষীকে সমন করতে এবং তার জবানবন্দির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাকে পরীক্ষা করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 509- Deposition of medical witness:
(1) The deposition of a Civil Surgeon or other medical witness, taken and attested by a Magistrate in the presence of the accused, or taken on commission under Chapter XL, may be given in evidence in any inquiry, trial or other proceeding under this Code, although the deponent is not called as a witness.
Power to summon medical witness
(2) The Court may, if it thinks fit, summon and examine such deponent as to the subject-matter of his deposition.

৬৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী সাধারণ নাগরিকদের ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসারকে সহায়তা করার দায়িত্ব কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ৩৪
  2. ধারা ৪২
  3. ধারা ৪৬ 
  4. ধারা ৫০
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪২ অনুযায়ী, যে কোনো নাগরিককে ম্যাজিস্ট্রেট (চূড়ান্ত বা কার্যনির্বাহী) বা পুলিশ অফিসার আইনসঙ্গতভাবে সহায়তার জন্য অনুরোধ করলে তাকে সহায়তা করতে হবে।
- যেমন: কাউকে গ্রেফতার করা বা পালিয়ে যাওয়া রোধ করা।
শান্তি রক্ষা করা বা রেলওয়ে, নৌকানাল, টেলিগ্রাফ বা পাবলিক সম্পত্তিতে কোনো আঘাত বা হানিকারক কাজ রোধ করা।
অতএব, নাগরিকদের এই ধরনের সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব ধারা ৪২-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারা অনুসারে জনসাধারণ ২টি ক্ষেত্রে নির্বাহী বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ অফিসারকে সহযোগিতা এবং সাহায্য করতে বাধ্য:
১: গ্রেফতার বা পলায়ন প্রতিরোধ-
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২(ক) মোতাবেক পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনগতভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছেন সে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার জন্য বা তার পলায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।
২: অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা-
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২(খ) তে বলা আছে যে, কোথাও শান্তি ভঙ্গ হলে তা দমন  কিংবা শান্তি ভঙ্গের সম্ভাবনা দেখা দিলে তা প্রতিরোধ অথবা রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ বা সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের  চেষ্টা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 42: Public when to assist-
Every person is bound to assist any Magistrate whether Judicial or Executive or police officer reasonably demanding his aid,- 
(a) in the taking or preventing the escape of any other person whom such Magistrate or police-officer is authorized to arrest; 
(b) in the prevention or suppression of a breach of the peace, or in the prevention of any injury attempted to be committed to any railway, canal, telegraph or public property.

৬৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারায় অভিযোগকারী যদি সরকারি কর্মচারী হন, তবে ম্যাজিস্ট্রেট কী করতে পারেন?
  1. মামলাটি স্থগিত করবেন
  2. অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করবেন
  3. অভিযোগকারীকে হাজির করবেন
  4. অভিযোগকারীকে হাজিরা দেয়ার অব্যাহতি দিতে পারেন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি অভিযোগকারী সরকারি কর্মচারী হন এবং তার ব্যক্তিগত উপস্থিতি অপ্রয়োজনীয় মনে করেন, তবে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাজিরা দেয়ার অব্যাহতি দিতে পারেন এবং মামলার শুনানি অব্যাহত রাখতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ অনুযায়ী:- নালিশের ভিত্তিতে যদি সমন জারি করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজির হবার জন্য নির্দিষ্ট দিনে অথবা তার পরবর্তী কোন দিনে (শুনানি মূলতবীর দিন) অভিযোগকারী যদি উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন যদি না কোন কারণে তিনি অন্য কোন দিনে মামলাটির শুনানি মুলতবি করে দেয়া যথাযথ বিবেচনা করেন।
শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে কোন অভিযোগকারী যদি সরকারি কর্মচারী হন এবং যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিমত পোষণ করেন যে, অভিযোগকারীর ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেয়া অপ্রয়োজনীয় সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ঐরূপ হাজিরা দেয়া হতে অব্যাহতি দিতে পারেন ও মামলায় অগ্রসর হতে পারেন।
--------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-247: Non-appearance of complainant:
- If the summons has been issued on complaint, and upon the day appointed for the appearance of the accused, or any day subsequent thereto which the hearing may be adjourned, the complainant does not appear, the Magistrate shall, notwithstanding anything herein before contained, acquit the accused, unless for some reason he thinks proper to adjoin the hearing of the case to some other day:
Provided that, where the complainant is a public servant and his personal attendance is not required, the Magistrate may dispense with his attendance, and proceed with the case.
৬৩৩.
কোন নাবালকের বিরুদ্ধে মুচলেকা সম্পাদনের আদেশ দেয়া হলে সেক্ষেত্রে উক্ত মুচলেকা কে সম্পাদন করবে?
  1. সরকার
  2. জামিনদার
  3. পিতা-মাতা
  4. আইনগত অভিভাবক
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৮ ধারার বিধান মুচলেকা প্রদানের আদেশঃ এহেন তদন্তের ভিত্তিতে যদি ইহা প্রমাণিত হয় যে, শান্তি রক্ষা বা সদাচরণের জন্য যার সম্পর্কে অনুসন্ধান করা হলো, শান্তিরক্ষা ও সদাচারণের জন্য তার জামিনসহ বা জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট সেই অনুসারে আদেশ দিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে,

প্রথমত, কোন ব্যক্তিকে, ১১২ ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশে যেরকম বর্ণিত হয়েছে, তদাপেক্ষা পৃথক প্রকৃতির অথবা তদপেক্ষা অধিক অর্থ পরিমাণের অথবা তদাপেক্ষা অধিক কালখন্ডের জন্য জামিন দিতে আদেশ প্রদান করা যাবে না;

দ্বিতীয়ত, প্রতিটি মুচলেকার অর্থের পরিমাণ পারিপার্শ্বিক অবস্থা যথাযথরূপে বিবেচনার পর স্থির করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না;

তৃতীয়ত, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হলো, সে নাবালক হলে কেবলমাত্র তার জামিনদারগণ মুচলেকা নির্বাহ করবেন।
৬৩৪.
হুলিয়া যথাযথভাবে জারি হয়েছে, তা চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে কখন গণ্য হবে?
  1. পুলিশের প্রতিবেদনের মাধ্যমে
  2. সাক্ষীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে
  3. আদালতের লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে
  4. সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ধারার বিধান:
(১) যদি কোন আদালতের এরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে (সাক্ষ্য গ্রহণ করার পরে অথবা পূর্বে) যে, উক্ত আদালত যার বিরুদ্ধে পরোয়ানা প্রদান করেছেন সেই ব্যক্তি পলাতক হয়েছে অথবা পরোয়ানা কার্যকর না হতে পারে সেজন্য আত্মগোপন করছে, তাহলে উক্ত আদালত তাকে একটি নিদিষ্ট স্থানে এবং হুলিয়া জারীর তারিখ হতে ত্রিশ দিনের কম নহে, এমন নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হবার নির্দেশ দিয়া একটি লিখিত হুলিয়া জারী করতে পারবেন।

(২) হুলিয়া নিম্নলিখিতভাবে জারী করতে হবে:
ক) উক্ত ব্যক্তি সাধারণতঃ যেখানে বাস করে সেই শহরে অথবা গ্রামের প্রকাশ্য স্থানে উহা প্রকাশ্যভাবে পাঠ করতে হবে;
খ) উক্ত ব্যক্তি সাধারণতঃ যেখানে বাস করে, সেই বাড়ি অথবা বস্তু অথবা শহর অথবা গ্রামের প্রকাশ্য স্থানে উহা লটকায়ে দিতে হবে; এবং
গ) উহার একটি কপি আদালত ভবনের প্রকাশ্য স্থানে লটকায়ে দিতে হবে।

(৩) হুলিয়া প্রদানকারী আদালত যদি এই মর্মে একটি লিখিত বিবৃতি দেন যে, হুলিয়া একটি নির্দিষ্ট দিনে যথাযথভাবে জারী হয়েছে তাহলে উহা চূড়ান্ত সাক্ষ্য হবে যে, এই ধারার নির্দেশ সম্বলিত হিসাবে এবং উক্ত দিনে হুলিয়া প্রকাশিত হয়েছে।
৬৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪র্থ তফসিলের বিষয়বস্তু কী?
  1. ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা
  2. দায়রা আদালতের বিশেষ ক্ষমতা
  3. ম্যাজিস্ট্রেটগণের অতিরিক্ত ক্ষমতা
  4. হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪টি তফসিল।
 
১ম তফসিল- বাতিল।
২য় তফসিল- পেনাল কোডের অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য, আমলযোগ্য এবং আমলঅযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য এবং জামিনঅযোগ্য অপরাধ ইত্যাদি।
৩য় তফসিল- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা।
৪র্থ তফসিল- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা।
৫ম তফসিল- ফরমসমূহ।
৬৩৬.
রায় ঘোষণার পূর্বে যে কোন সময় মামলা প্রত্যাহার করতে পারে কে?
  1. আদালতের অনুমতি ছাড়া অভিযোগকারী
  2. আদালতের অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্রসিকিউটর
  3. আদালতের সম্মতিতে পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. আসামী
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারামতে পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের অনুমতি নিয়ে রায় ঘোষনার পূর্বে মামলা প্রত্যাহার করতে পারে।
♦অভিযোগ বা চার্জ গঠনের পূর্বে পাবলিক প্রসিকিউটর মামলা প্রত্যাহার করলে আসামি অব্যাহতি পাবে, তবে অভিযোগ বা চার্জ গঠনের পর পাবলিক প্রসিকিউটর মামলা প্রত্যাহার করলে আসামি খালাস পাবে।
♦অর্থাৎ রায় ঘোষণার পূর্বে যে কোন সময় পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মামলা প্রত্যাহার করতে পারে।
৬৩৭.
অপরাধ সংঘটনের স্থান অনিশ্চিত হলে, অনুসন্ধান বা বিচারের স্থান ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে?
  1. ধারা ১৮০
  2. ধারা ১৮১
  3. ধারা ১৮২
  4. ধারা ১৮৪
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮২ – অপরাধ সংঘটনের স্থান অনিশ্চিত বা একাধিক স্থানে হওয়া / অপরাধ চলমান বা বিভিন্ন কাজ নিয়ে গঠিত হলে বিচারস্থল:

যখন নির্দিষ্ট নয় যে কোন স্থানীয় এলাকায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, অথবা যখন কোনো অপরাধ আংশিকভাবে এক স্থানীয় এলাকায় এবং আংশিকভাবে অন্য এলাকায় সংঘটিত হয়, অথবা যখন কোনো অপরাধ চলমান এবং একাধিক স্থানীয় এলাকায় ক্রমাগত সংঘটিত হচ্ছে, অথবা যখন অপরাধটি বিভিন্ন স্থানীয় এলাকায় করা কতিপয় কাজের সমষ্টি নিয়ে গঠিত, তাহলে সেই ধরনের অপরাধ যে কোনো একটিতে এখতিয়ার থাকা আদালতে অনুসন্ধান বা বিচার করা যেতে পারে।

Section 182: Place of inquiry or trial where scene of offence is uncertain or not in one district only or where offence is continuing or consists of several acts-
When it is uncertain in which of several local areas an offence was committed, or where an offence is committed partly in one local area and partly in another, or where an offence is a continuing one, and continues to be committed in more local areas than one, or where it consists of several acts done in different local areas, it may be inquired into or tried by a Court having jurisdiction over any of such local areas.

৬৩৮.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. জামিন
  2. সাক্ষ্যগ্রহণ
  3. মামলা প্রত্যাহার
  4. দণ্ডাদেশ স্থগিত
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা পাবলিক প্রসিকিউটর কর্তৃক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। এই ধারা অনুযায়ী, পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের অনুমতি নিয়ে রায় ঘোষণার পূর্বে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা এক বা একাধিক অপরাধের জন্য প্রত্যাহার করতে পারেন। প্রত্যাহারের ফলে অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে অব্যাহতি এবং পরে খালাস দেওয়া হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার বিধান: মামলা প্রত্যাহারের ফল:-
পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোনো এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 494: Effect of withdrawal from prosecution:
-Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal-
(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences;
(b) if it is made after a charge has been framed, or when under Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.

৬৩৯.
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতন পদের পুলিশ কর্মকর্তাগণ কোন ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?
  1. উক্ত এলাকার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যেসব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন
  2. উক্ত এলাকার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যেসব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, তার থেকে কম
  3. উক্ত এলাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যেসব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৫১- ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষমতা

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাঁর থানার এলাকার মধ্যে যেসব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতন পদের পুলিশ কর্মকর্তাগণও তারা যে স্থানীয় এলাকায় নিযুক্ত সেই এলাকার সর্বত্র সেসব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

Section 551- Power of superior officers of police
Police officers superior in rank to an officer in charge of a police-station may exercise the same powers, throughout the local area to which they are appointed, as may be exercised by such officer within the limits of his station.
৬৪০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৩ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণ
  2. মামলার তদন্ত
  3. গ্রেফতারের পদ্ধতি
  4. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৩ ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে কেবল নিজের মুচলেকা, জামিন, বা ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশে অব্যাহতি দেওয়া যায়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৩: গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি:-
যে ব্যক্তি কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে, তাকে তার নিজের মুচলেকা, অথবা জামিন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ ব্যতীত অব্যাহতি দেয়া যাবে না।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 63: Discharge of person apprehended-
No person who has been arrested by a police-officer shall be discharged except on his own bond, or on bail, or under the special order of a Magistrate.
৬৪১.
আদালত কর্তৃক অনুমোদিত হলে ধারা ৪৯৯(৩) অনুযায়ী মুচলেকা দেয়া যেতে পারে-
  1. শুধুমাত্র কাগজে
  2. মৌখিকভাবে
  3. ফোনে জানিয়ে
  4.  অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

ধারা ৪৯৯: অভিযুক্ত এবং জামিনদারদের মুচলেকা:
(১) কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার বা তার নিজের মুচলেকায় মুক্তি দেওয়ার আগে, ক্ষেত্রমত পুলিশ অফিসার বা আদালত যে পরিমাণ অর্থ যথেষ্ট মনে করেন, সেই পরিমাণ অর্থের জন্য ওই ব্যক্তি কর্তৃক একটি মুচলেকা সম্পাদিত হবে, এবং যখন তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়, তখন এক বা একাধিক যথেষ্ট জামিনদার কর্তৃক এই শর্তে মুচলেকা সম্পাদিত হবে যে, ওই ব্যক্তি মুলেকায় উল্লিখিত সময় এবং স্থানে উপস্থিত থাকবেন, এবং ক্ষেত্রমত পুলিশ অফিসার বা আদালত কর্তৃক অন্য কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে থাকবেন।

(২) যদি মামলার প্রয়োজন হয়, তবে মুচলেকাটি জামিনে মুক্ত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা আদালত বা অন্য কোনো আদালতে অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য যখনই ডাকা হবে তখনই হাজির হওয়ার জন্যও বাধ্য করবে।

(৩) এই ধারায় উল্লিখিত মুচলেকাটি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে, বা তার উকিলের মাধ্যমে, অথবা আদালত কর্তৃক অনুমোদিত হলে অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা অন্য কোনো উপযুক্ত মাধ্যমে জামিনদারদের পরিচয় এবং যোগ্যতা যাচাই সাপেক্ষে, আদালতে জমা দিতে পারেন।

৬৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৪ ধারার অধীন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কার কাছে কমিশনের দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. হাইকোর্টের বিচারক
  3. যেকোনো পুলিশ অফিসার
  4. তার অধীনস্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৪ ধারার উপ-ধারা (২) অনুসারে, যদি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-কে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন প্রদান করা হয়, তাহলে তিনি নিজে এই কাজ করতে পারেন অথবা কমিশনের অধীনে থাকা ক্ষমতা ও দায়িত্ব তার অধীনস্থ যেকোনো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে অর্পণ করতে পারেন।
অর্থাৎ, এই দায়িত্ব অন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া যাবে, তবে সেটি হতে হবে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনস্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট—অন্য কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা বা আদালতকে নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৪ ধারার বিধান: মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন:
(১) সাক্ষী যদি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধিক্ষেত্রের স্থানীয় সীমার মধ্যে অবস্থান করে, সেক্ষেত্রে কমিশন দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন করতে নির্দেশ দিবেন এবং তিনি এরূপভাবে সাক্ষীকে হাজির করে তার সাক্ষ্য এমনভাবে গ্রহণ করবেন যাতে তার নিজের কাছেই মামলাটি পেন্ডিং আছে।
(২) এই ধারার অধীন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন দেয়া হলে তিনি কমিশনে প্রদত্ত যাবতীয় ক্ষমতা ও কর্তব্য তার অধীনস্ত কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর ন্যস্ত করতে পারবেন।
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-504: Commission in case of witness being within a Metropolitan Area:
(1) If the witness is within the local limits of the jurisdiction of any Metropolitan Magistrate, the Magistrate or Court issuing the commission may direct the same to such Metropolitan Magistrate, who thereupon may compel the attendance of, and examine, such witness as if he were a witness in a case pending before himself.
(2) When a commission is issued under this section to the Chief Metropolitan Magistrate, he may delegate his powers and duties under the commission to any Metropolitan Magistrate subordinate to him.
৬৪৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে তা কে নির্ধারন করে?
  1. সরকার
  2. ফরিয়াদি
  3. বিচারিক আদালত
  4. কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫৪১- কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা-

(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) দেওয়ানি কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানি কারাগারে প্রত্যাবর্তনঃ
এই কার্যবিধির অধীন কারাদন্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানি জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-

(ক) ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানি জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা
(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানি জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারি জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।
৬৪৪.
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কখন অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে?
  1. রায় কার্যকরের পূর্ব পর্যন্ত
  2. অপরাধের বিচারের যেকোন পর্যায়ে
  3. অপরাধের তদন্ত বা অনুসন্ধানের যেকোন পর্যায়ে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় সত্য সাক্ষ্যদানের শর্তসাপেক্ষে দুষ্কর্মের সহযোগীকে ক্ষমা করার বিধান করা হয়েছে। দুষ্কর্মের সহযোগী বা রাজসাক্ষীর বিচারের পদ্ধতি ৩৩৯ক ধারায় আলোচনা করা হয়েছে। অপরাধের সহযোগীকে বা দুষ্কর্মের সহযোগীকে এই শর্তে ক্ষমা করা হয় যে, সে অপরাধ সম্পর্কে তার জানা সম্পূর্ণ এবং সত্য ঘটনাসমূহ প্রকাশ করবে।

৩৩৭ ধারায় অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে-
১. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট; বা
২. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

৩৩৭ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের তদন্ত বা অনুসন্ধানের বা বিচারের যেকোন পর্যায়ে সাক্ষ্য প্রমাণ প্রাপ্তির জন্য অপরাধের সহযোগীকে এই শর্তে ক্ষমা করতে পারে যে, উক্ত সহযোগী অপরাধ সম্পর্কিত তার জানা সম্পূর্ণ এবং সত্য ঘটনাসমূহ প্রকাশ করবে।
৬৪৫.
নন-জি-আর মামলা কী?
  1. বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশি মামলা
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এর নিকট দখল সংক্রান্ত মামলা
  3. পুলিশের নিকট আমলযোগ্য অপরাধের মামলা
  4. পুলিশের নিকট আমল অযোগ্য অপরাধের মামলা
ব্যাখ্যা
♦ নন-জি-আর মামলা হলো ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৫৫ এর অধীনে কোন সংবাদদাতা কর্তৃক পুলিশের নিকট আমলঅযোগ্য অপরাধ সম্পর্কে কোন সংবাদ দেওয়া। পুলিশ তখন উক্ত সংবাদ জিডি আকারে লিপিবদ্ধ করে ও সংবাদদাতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করে। এটিই নন-জি-আর মামলা নামে পরিচিত। ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট করা মামলাকে সি.আর মামলা বলা হয়। পুলিশের নিকট আমলযোগ্য অপরাধের মামলাকে জি.আর মামলা বলা হয়।
৬৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ কতটি প্রধান ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898)-এর ধারা ৫৬১ক (Section 561A) হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত (inherent) ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে।
- এই ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ তিনটি প্রধান উদ্দেশ্যে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:
১. To give effect to any order under this Code.
অর্থাৎ, ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোনো আদেশ কার্যকর করা।
২. To prevent abuse of the process of any Court.
অর্থাৎ, কোনো আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা।
৩. To secure the ends of justice.
অর্থাৎ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
- এগুলো হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতার প্রয়োগের তিনটি মূল ভিত্তি।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-561A: Saving of inherent power of High Court Division:
-Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
৬৪৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯ অনুসারে, কোন সাক্ষীর জবানবন্দি সরাসরি তাকে আদালতে হাজির না করেও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়?
  1. সরকারি কর্মকর্তা
  2. সিভিল সার্জন
  3. অন্য কোনো চিকিৎসক সাক্ষী
  4. খ অথবা গ 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ ধারার (১) উপধারা অনুসারে, সিভিল সার্জন বা অন্য কোনো চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি, যদি আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত হয় বা অধ্যায়-৪০ অনুসারে কমিশনে গৃহীত হয়, তবে তাকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির না করেও ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯- চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি:
(১) আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত বা অধ্যায়-৪০ অনুসারে কমিশনে গৃহীত কোন সিভিল সার্জন বা অন্য কোন চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা না হলেও, এ বিধির অধীন কোন ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রমে সাক্ষ্যরূপে দেয়া যাবে।
(২) চিকিৎসক সাক্ষীকে সমন করার ক্ষমতাঃ
আদালত সঠিক মনে করলে এরূপ সাক্ষীকে সমন করতে এবং তার জবানবন্দির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাকে পরীক্ষা করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 509- Deposition of medical witness:
(1) The deposition of a Civil Surgeon or other medical witness, taken and attested by a Magistrate in the presence of the accused, or taken on commission under Chapter XL, may be given in evidence in any inquiry, trial or other proceeding under this Code, although the deponent is not called as a witness.
Power to summon medical witness
(2) The Court may, if it thinks fit, summon and examine such deponent as to the subject-matter of his deposition.

৬৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭০(২) অনুযায়ী, অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর সময় পুলিশ কর্মকর্তা কী পাঠাবেন?
  1. অভিযোগপত্র
  2. সাক্ষীর তালিকা
  3. আদালতের আদেশ
  4. অস্ত্র বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বস্তু
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭০(২) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "যখন কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই ধারা অনুযায়ী কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করেন অথবা তার উপস্থিতির জন্য জামানত গ্রহণ করেন, তিনি উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যে কোন অস্ত্র বা অন্য কোন নিবন্ধ প্রেরণ করিবেন যাহা তাহার নিকট উপস্থাপনের প্রয়োজন হইতে পারে"

সুতরাং, পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর সময় অস্ত্র বা অন্য কোন প্রাসঙ্গিক বস্তু (যেমন: চোরাই মাল, অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি প্রমাণ হিসেবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করবেন।
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-170.Case to be sent to Magistrate when evidence is sufficient:
(1) If, upon an investigation under this Chapter, it appears to the officer-in-charge of the police-station that there is sufficient evidence or reasonable ground as aforesaid, such officer shall forward the accused under custody to a Magistrate empowered to take cognizance of the offence upon a police-report and to try the accused or send him for trial or, if the offence is bailable and the accused is able to give security, shall take security from him for his appearance before such Magistrate on a day fixed and for his attendance from day to day before such Magistrate until otherwise directed. 
(2) When the officer-in-charge of a police-station forwards an accused person to a Magistrate or takes security for his appearance before such Magistrate under this section , he shall send to such Magistrate any weapon or other article which it may be necessary to produce before him, and shall require the complainant (if any) and so many of the persons who appear to such officer to be acquainted with the circumstances of the case as he may think necessary, to execute a bond to appear before the Magistrate as thereby directed and prosecute or give evidence (as the case may be ) in the matter of the charge against the accused. 
(3) If the Court of the Chief Metropolitan Magistrate, or the Chief Judicial Magistrate is mentioned in the bond, such Court shall be held to include any Court to which such Magistrate may refer the case for inquiry or trial, provided reasonable notice of such reference is given to such complainant or persons.
(5) The officer in whose presence the bond is executed shall deliver a copy thereof to one of the persons who executed it, and shall then send to the Magistrate the original with his report.

৬৪৯.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৫০৮ ধারা অনুসারে কোন ধারার অধীন কমিশন জারি হলে অনুসন্ধান মুলতবি করা যায়?
  1. ৪৯৪ ধারা বা ৪৯৫ ধারা
  2. ৫০৩ ধারা বা ৫০৬ ধারা
  3. ৫০৭ ধারা বা ৫০৯ ধারা
  4. ৫০১ ধারা বা ৫০২ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫০৮ অনুযায়ী, ৫০৩ বা ৫০৬ ধারার অধীনে কমিশন জারি হলে সেই কমিশন কার্যকরীকরণ এবং ফেরত দেওয়ার জন্য অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যান্য কার্যক্রম ন্যায়সংগতভাবে পর্যাপ্ত সময়ের জন্য মুলতবি রাখা যেতে পারে।
- অন্যান্য ধারার ক্ষেত্রে ধারা ৫০৮-এর মুলতবিকরণের বিধান প্রযোজ্য নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৮- অনুসন্ধান বা বিচার মুলতবিকরণ:
- সে ক্ষেত্রে ৫০৩ বা ৫০৬ ধারার অধীন কমিশন দেয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে উহা কার্যকরীকরণ ও ফেরত দেয়ার জন্য ন্যায়সংগতভাবে পর্যাপ্ত কোন নির্ধারিত সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি রাখা যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 508- Adjournment of inquiry or trial:
In every case in which a commission is issued under section 503 or section 506, the inquiry, trial or other proceeding may be adjourned for a specified time reasonably sufficient for the execution and return of the commission.

৬৫০.
হাইকোর্ট বিভাগ ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুচলেকার আদেশ দিতে পারে?
  1. ১০৬ ধারা
  2. ১০৭ ধারা
  3. ১০৮ ধারা
  4. ৪২৬ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৬ ধারামতে দণ্ড প্রদানকারী আদালত অর্থাৎ হাইকোর্ট, দায়রা আদালত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট দন্ড প্রদানের সময় দন্ডিত ব্যক্তিকে অনধিক ৩ বছর সময়ের জন্য শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ প্রদান করতে পারে। তবে হাইকোর্ট বিভাগ সাধারনত রিভিশন ক্ষমতাবলে ১০৬ ধারামতে দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুচলেকার আদেশ দিতে পারে।

♦ যে দন্ডের জন্য ১০৬ ধারামতে মুচলেকার আদেশ দেয়া হয় আপিল বা অন্য কোন উপায়ে যদি উক্ত দত্ত বাতিল হয়ে যায় তাহলে উক্তরূপে সম্পাদিত মুচলেকাও বাতিল হয়ে যাবে । আদালত যে কোন পরিমাণ অর্থের জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে। মুচলেকার পরিমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারন করতে হবে তবে কোনভাবেই অত্যধিক হবে না।
৬৫১.
রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোনো সময় মামলা প্রত্যাহার করতে পারে-
  1. আদালতের সম্মতিতে অভিযুক্ত
  2. আদালতের সম্মতিতে পাবলিক প্রসিকিউটর
  3. আদালতের অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৯৪: মামলা প্রত্যাহারের ফল

পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোন এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।

Section 494: Effect of withdrawal from prosecution
Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal-
(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences;
(b) if it is made after a charge has been framed, or when under Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.
৬৫২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৩ ধারার অধীনে কোন ধরনের মামলার নথি লিপিবদ্ধ করার বিধান রয়েছে?
  1. আপিলযোগ্য
  2. আপিলঅযোগ্য
  3. জামিনঅযোগ্য
  4. জামিনযোগ্য
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা-২৬৩: আপিল অযোগ্য মামলার নথি-

আপিল অযোগ্য মামলার সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ (Record) ও চার্জ গঠনের প্রয়োজন নেই। তবে নিম্নলিখিত তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে-
ক) ক্রমিক সংখ্যা, অপরাধ সংঘটনের তারিখ, এজাহার বা নালিশের তারিখ, ফরিয়াদীর (যদি থাকে) নাম: ও ঠিকানা, নালিশী অপরাধ এবং প্রমাণিত অপরাধ (যদি থাকে);
খ) আসামীর নাম, পিতার নাম, ঠিকানা;
গ) আসামীর বক্তব্য এবং তার জবানবন্দি (যদি থাকে), অভিমত এবং দন্ডের ক্ষেত্রে তার কারণ সমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ;
ঘ) শান্তি অথবা অন্য চূড়ান্ত আদেশ এবং কার্যক্রম শেষ হওয়ার তারিখ।

৬৫৩.
গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর করছেন এমন পুলিশ অফিসার গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করবেন?
  1. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  2. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
  3. যাতায়াত সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে
  4. অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই
ব্যাখ্যা
• The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৮১ ধারানুযায়ী- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব আদালতে উপস্থিত করতে হবেঃ
গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর করছেন এমন পুলিশ অফিসার অথবা অন্য কোন ব্যক্তি (জামিন বিষয়ে ৭৬ ধারার বিধানের প্রেক্ষিতে) অনাবশ্যক বিলম্ব ব্যতিরেকেই গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সেই আদালতে হাজির করবেন, যেখানে হাজির করতে তিনি আইনতঃ বাধ্য।

Section 81: Person arrested to be brought before Court without delay-
The police- officer or other person executing a warrant of arrest shall (subject to the provisions of section 76 as to security) without unnecessary delay bring the person arrested before the Court before which he is required by law to produce such person.
৬৫৪.
Before dismissing an appeal under Section 421, the Appellate Court:
  1. Must call for the record of the case
  2. Is prohibited from calling for the record
  3. May call for the record but is not bound to do so
  4. Must hear all prosecution witnesses again
ব্যাখ্যা

Section 421- Summary dismissal of appeal:
(1) On receiving the petition and copy under section 419 or section 420, the Appellate Court shall pursue the same, and if it considers that there is no sufficient ground for interfering, it may dismiss the appeal summarily: Provided that no appeal presented under section 419 shall be dismissed unless the appellant or his pleader has had a reasonable opportunity of being heard in support of the same.

(2) Before dismissing an appeal under this section, the Court may call for the record of the case, but shall not be bound to do so.

ধারা ৪২১- আপিলের সংক্ষিপ্ত খারিজ:
(১) ধারা ৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাবার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন-
শর্ত থাকে যে, ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।

(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না।

৬৫৫.
রায় স্বাক্ষর করার পর আদালতের রায়ে কোন ধরনের পরিবর্তন করা যায়?
  1. সম্পূর্ণ রায় পরিবর্তন
  2. রায়ে প্রকাশিত দণ্ডের পরিবর্তন
  3. চার্জ সংক্রান্ত তথ্য পরিমার্জন
  4. শুধু করণিক ভুল সংশোধন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৯ ধারার বিধান- আদালত রায় পরিবর্তন করবেন না:
এই কার্যবিধি বা বর্তমানে কার্যকর অপর কোন আইনে ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকলে কোন আদালত রায়ে স্বাক্ষর করার পর করণিক ভুল সংশোধন করা ব্যতীত তা পরিবর্তন বা রিভিউ করবেন না।

Section-369: Court not to alter judgment: 
Save as otherwise provided by this Code or by any other law for the time being in force, no Court when it has signed its judgment, shall alter or review the same, except to correct a clerical error.
৬৫৬.
একজন মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট একটি নালিশ মামলায় কারাদণ্ড প্রদান করেন। উক্ত দণ্ডাদেশ বৃদ্ধির জন্য অভিযোগকারী নিচের কোন আদালতে আপিল দায়ের করবে?
  1. মহানগর দায়রা জজ আদালত
  2. হাইকোট বিভাগ
  3. চীফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট
  4. দায়রা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৭, ৪০৮ এবং ৪১০ ধারায় দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। 

ধারা ৪০৭-
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিল করতে হবে। 

ধারা ৪০৮-
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা যুগ্ম দায়রা জজ (৫ বা ৫ বছরের কম মেয়াদে কারাদণ্ড দিলে) প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষেত্রবিশেষে, দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নিকট আপিল করতে হবে।

তবে যুগ্ম দায়রা জজ ৫ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ড দিলে অথবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা অপরাধের শাস্তি দিলে আপিল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।

ধারা ৪১০-
দায়রা আদালত প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে।
৬৫৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আদেশ কোথায় প্রযোজ্য নয়?
  1. জেলা শহরে
  2. গ্রামীণ এলাকায়
  3. মহানগর এলাকায়
  4. উপজেলা শহরে
ব্যাখ্যা
• আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-

i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা;
ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংকা;
iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা;
iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা;  এবং
v) আশু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে।  

⇒ ১৪৪ ধারার আদেশ সাধারণত সর্বোচ্চ ২ মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে; তবে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা ১৪৪ ধারার আদেশকে ২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত বলবৎ রাখতে পারে।‌

⇒ ১৪৪ (৪) ধারামতে কোন ম্যাজিস্ট্রেট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনক্রমে ১৪৪ ধারার আওতায় তার নিজের বা তার অধীনস্ত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা তার পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারেন।‌

⇒ এই ধারার বিধানসমূহ মহানগর এলাকায় প্রযোজ্য হবে না।
৬৫৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সাক্ষীকে কিসের জন্য বাধ্য করা যাবে না?
  1. মামলার ঘটনার বিবরণ দেওয়ার জন্য
  2. সাক্ষী হিসেবে লিখিত বিবৃতি দেওয়ার জন্য
  3. তদন্ত কর্মকর্তার সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য
  4. নিজের বিরুদ্ধে প্রমাণযোগ্য উত্তর দেওয়ার জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা অনুসারে, তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে এবং সাক্ষী মামলার বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য। তবে, যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদান সাক্ষীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ, দণ্ড বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, তাহলে সাক্ষী সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায়- তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ের সাথে পরিচিত ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে। তার নিকট জিজ্ঞাসিত মামলা সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সে বাধ্য থাকবে কিন্তু যে প্রশ্নের জবাব উক্ত সাক্ষীকে ফৌজদারি অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে, সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সাক্ষী বাধ্য নয়।
-------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-161: Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case.
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture.
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.
৬৫৯.
Complaint প্রত্যাহার করা হলে আসামী-
  1. মুক্তি পাবে
  2. অব্যাহতি পাবে
  3. দন্ড পাবে
  4. খালাস পাবে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৮ ধারা বিধান অভিযোগ প্রত্যাহারঃ এই অধ্যায়ের অধীন যে কোন মামলার চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের আগে যে কোন সময় নালিশকারী (ফরিয়াদী) যদি ম্যাজিস্ট্রেটকে এমর্মে সন্তুষ্ট করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ (নালিশ) প্রত্যাহার করতে অনুমতি দেয়ার যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান আছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে তা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারেন এবং অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৮ ধারা অনুযায়ী মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে। অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে খালাস দিতে পারে।
৬৬০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮০ অনুযায়ী, আদালতের সামনে অবমাননাকর আচরণের জন্য সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৮০ (Section 480 of the CrPC) অনুযায়ী, আদালতের সম্মুখে বা উপস্থিতিতে যদি কেউ দণ্ডবিধির ধারা ১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ অথবা ২২৮ অনুযায়ী আদালত অবমাননাকর অপরাধ করেন, তাহলে: আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীকে আটক করতে পারে।
- এবং আদালত উঠার পূর্বে (same day) অপরাধটি আমলে নিয়ে সাজা দিতে পারে।
- এই সাজার মধ্যে সর্বোচ্চ: ২০০ (দুইশত) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, এবং জরিমানা অনাদায়ে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।

→ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারা অনুযায়ী, আদালতের সামনে অবমাননাকর আচরণের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার বিধান:- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি:
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লিখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোনো সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 480: Procedure in certain cases of contempt:
-When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.

৬৬১.
ফৌজদারি মামলায় চার্জ গঠনের ক্ষেত্রে অপরাধ সংক্রান্ত কোন তথ্যটি উল্লেখের প্রয়োজন নাই ?
  1. সময়
  2. স্থান
  3. আইন
  4. শাস্তি
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ২২১ এবং ২২২ অনুযায়ী অভিযোগে (চার্জে) অপরাধের বিবরণ, অপরাধের নাম, যে আইনের অধীন অপরাধ করেছে, অপরাধের স্থান, সময় ও ব্যক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করতে হবে। কিন্তু শাস্তি কি তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
৬৬২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৬ক অনুসারে কোন মামলায় ফরিয়াদির ফি প্রদানের আদেশ দেওয়া যায়?
  1. দেওয়ানি মামলা
  2. আমলযোগ্য মামলা
  3. আমল অযোগ্য মামলা
  4. পুলিশি তদন্ত মামলা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৬ক (Section 546A) অনুযায়ী, যদি কোনো আমল অযোগ্য (non-cognizable) অপরাধে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে, তাহলে আদালত আসামিকে আদেশ দিতে পারেন যে, তিনি ফরিয়াদির প্রদত্ত কিছু ফি পরিশোধ করবেন। এই ফিগুলো হতে পারে:
- অভিযোগপত্র বা জবানবন্দির জন্য প্রদত্ত আদালত ফি,
- সাক্ষী বা আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির জন্য প্রদত্ত ফি।
এটি দেওয়ানি মামলা নয় বরং ফৌজদারি মামলা এবং শুধুমাত্র "আমল অযোগ্য" মামলার ক্ষেত্রেই এই ধারা প্রযোজ্য। আদালত চাইলে অর্থ না পরিশোধ করলে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারেন।
- অতএব, ধারা ৫৪৬ক শুধুমাত্র "আমল অযোগ্য মামলা"র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৬ক ধারার বিধান আমল অযোগ্য মামলার ফরিয়াদি কর্তৃক প্রদত্ত কতিপয় ফিস প্রদানের আদেশ:
(১) কোন আদালতে আমল অযোগ্য অপরাধের কোন অভিযোগ করা হলে এবং আসামি সাজাপ্রাপ্ত হলে আদালত উক্ত সাজা ব্যতীতও ফরিয়াদীকে নিম্নে বর্ণিত অর্থদানের জন্য আসামিকে আদেশ দিতে পারবেন-
(ক) নালিশের দরখাস্তে অথবা ফরিয়াদির জবানবন্দির জন্য প্রদত্ত ফি (যদি থাকে ) এবং
(খ) ফরিয়াদি কর্তৃক তার সাক্ষী কিংবা আসামীর উপর পরোয়ানা জারীর জন্য প্রদত্ত ফি এবং আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, উক্ত অর্থ পরিশোধ না করিলে অনধিক ত্রিশ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবে।
(২) রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগও এই ধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন।
--------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 546A: Order of payment of certain fees paid by the complainant in non-cognizable cases:
(1) Whenever any complaint of a non-cognizable offence is made to a Court, the Court, if it convicts the accused, may in addition to the penalty imposed upon him, order him to pay to the complainant–
(a) the fee (if any) paid on the petition of complaint or for the examination of the complainant, and
(b) any fees paid by the complainant for serving processes on his witnesses or on the accused,
and may further order that, in default of payment, the accused shall suffer simple imprisonment for a period not exceeding thirty days.
(2) An order under this section may also be made by an Appellate Court, or by the High Court Division, when exercising its powers of revision.
৬৬৩.
একজন মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন?
  1.  ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩২ (সংশোধিত): ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত সাজা:
(১) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিম্নলিখিত সাজা প্রদান করতে পারবেন, যথা:-
(ক) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
- পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
- তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড;
- দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

(২) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইন দ্বারা অনুমোদিত যেকোনো সাজার সমন্বয়ে একটি বৈধ সাজা প্রদান করতে পারবেন।
৬৬৪.
একই দায়রা বিভাগের এক ফৌজদারী আদালত হতে অন্য ফৌজদারী আদালতে মামলা স্থানান্তরের আবেদন কখন হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা যায়?
  1. সরাসরি
  2. অনুমতি সাপেক্ষে
  3. দায়রা আদালত এমন আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫২৬খ এবং ধারা ৫২৬ মতে- একই দায়রা বিভাগের এক ফৌজদারী আদালত হতে অন্য ফৌজদারী আদালতে মামলা স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে হয় সংশ্লিষ্ট দায়রা জজের নিকট। যদি দায়রা জজ এমন আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে, তারপর হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে হবে।
৬৬৫.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে ম্যাজিস্ট্রেটগণকে প্রধানতঃ কত প্রকারে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ৪ প্রকার
  2. ২ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
♦ বাংলাদেশের ফৌজদারি আদালতসমূহ ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি” (The Code of Criminal Procedure, 1898) এর বিধান দ্বারা গঠিত। ফৌজদারি কার্যবিধির ৬ ধারায় ফৌজদারি আদালত সমূহের শ্রেণীবিভাগ রয়েছে।
♦ ৬ ধারামতে বাংলাদেশের ফৌজদারি আদালতসমূহকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
i) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Court of Magistrates); এবং
ii) দায়রা আদালত (Court of Sessions).
৬৬৬.
ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধরনের নালিশের ক্ষেত্রে নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করেন?
  1. শুধুমাত্র লিখিত নালিশ
  2. শুধুমাত্র মৌখিক নালিশ
  3. মৌখিক এবং লিখিত উভয় ধরনের নালিশের ক্ষেত্রেই
  4. কোন ধরনের নালিশের ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০১[Procedure by Magistrate not competent to take cognizance of the case]- এ এখতিয়ারবিহীন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়েরের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে।

লিখিত আকারে নালিশের ক্ষেত্রে-
আমলে নেয়ার এখতিয়ার নেই এমন কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করা হয়,তাহলে তিনি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য নালিশটি ফেরত দিবেন।

মৌখিক নালিশের ক্ষেত্রে-
যদি লিখিত আকারে নালিশ দায়ের না করা হয় অর্থাৎ মৌখিকভাবে নালিশ দায়ের করা হয়,তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।

(Procedure by Magistrate not competent to take cognizance of the case)-
(1) If the complaint has been made in writing to a Magistrate who is not competent to take cognizance of the case,he shall return the complaint for presentation to the proper Court with an endorsement to that effect. 
(2) If the complaint has not been made in writing,such Magistrate shall direct the complainant to the proper Court.
৬৬৭.
সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারেন কে?
  1. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ২৬০ মোতাবেক গুরুতর অপরাধ নয় এমন অপরাধ এবং যে অপরাধমূলক কাজের জন্য লঘু শাস্তি হয়, সেইসব অপরাধগুলোর বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করতে পারেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট এর ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ম্যাজিস্ট্রেট এর বেঞ্চ।
৬৬৮.
ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ কয়টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. ২টি ক্ষেত্রে
  2. ৩টি ক্ষেত্রে
  3. ৪টি ক্ষেত্রে
  4. ৫টি ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• একটি মামলার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে যাবতীয় বিধি দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, আদালতের কি করণীয় হবে সেই বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বিধি নেই। এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে আদালত তার সুবিবেচনা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকেই আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of the court) বলে। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power) আছে।
 
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
 
Section 561A- Saving of inherent power of High Court Division:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
৬৬৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুসারে মামলা প্রত্যাহার করতে পারেন- 
  1. অভিযুক্ত
  2. অভিযোগকারী
  3. পুলিশ কর্মকর্তা
  4. পাবলিক প্রসিকিউটর
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৪ অনুযায়ী, পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের অনুমতি নিয়ে রায় ঘোষণার পূর্বে মামলার কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলার পুরো অংশ বা নির্দিষ্ট এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারেন।
- অভিযুক্ত, অভিযোগকারী বা পুলিশ কর্মকর্তা এই ধারা অনুসারে মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা রাখেন না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার বিধান: মামলা প্রত্যাহারের ফল:-
পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোনো এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 494: Effect of withdrawal from prosecution:
-Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal-
(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences;
(b) if it is made after a charge has been framed, or when under Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.

৬৭০.
জেলা পর্যায়ে সাধারণতঃ কয় প্রকারের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থাকে?
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি এর ধারা ৬(২) ম্যাজিস্ট্রেট দুই প্রকার,
- জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট 
- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আবার, ধারা ৬(৩) অনুযায়ী চার প্রকারের বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন; যথাঃ

(ক) মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর এলাকায় এবং মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, অন্যান্য এলাকায়;
(খ) মহানগর এলাকায় স্থিত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মর্মে আখ্যায়িত হবে;
(গ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট;
(ঘ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।
৬৭১.
একটি সমুদ্রগামী জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে প্রবেশ করার পর কক্সবাজার মহেশখালীর নিকট আটক করা হয় এবং চট্টগ্রাম-এ নিয়ে যাওয়া হয়। ওই জাহাজে প্রচুর চোরাচালানের মাল পাওয়া যায়। উপরোক্ত অপরাধ সংঘটনের দায়ে মামলা দায়ের করা যাবে________।
  1. কক্সবাজারের স্পেশাল ট্রাইবুনালে।
  2. চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইবুনালে।
  3. কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইবুনালে।
  4. কোনোটি নয়।
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৮৩ ধারা মতে ভ্রমণকালে বা সমুদ্র যাত্রায় অপরাধী কর্তৃক সংঘটিত কোন অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার অপরাধী, অথবা যে ব্যক্তি বস্তুর বিরুদ্ধে অপরাধ করা হয়েছে, সে অপরাধী, ব্যক্তির বা বস্তু যে আদালতের স্থানীয় এলাকার মধ্য দিয়া অতিক্রম করে সেই আদালতে হতে পারবে।
♦অর্থাৎ কক্সবাজার এলাকায় জাহাজটি আটক করা হলেও চট্টগ্রামে জাহাজ হতে চোরাচালানের মাল পাওয়া যায় এবং জব্দ করা হয়। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম যাত্রাপথে অপরাধটি চলতে থাকে বিধায় দু’স্থানের যেকোনো একস্থানের স্পেশাল ট্রাইবুনালে মামলাটি চলবে।
৬৭২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৯ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. সাক্ষ্যগ্রহণ
  2. আপিলের শুনানি
  3. জামিন আবেদন
  4. পরোয়ানা কার্যকর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৯ (Section 409 of the Code of Criminal Procedure, 1898) মূলত দায়রা আদালতে আপিলের শুনানির পদ্ধতি নির্ধারণ করে।
- এ ধারায় বলা হয়েছে: দায়রা আদালতে (Court of Session) বা দায়রা জজ বরাবর দাখিলকৃত আপিল শুনানির অধিকার রাখেন,
- দায়রা জজ (Sessions Judge) অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge)।
- তবে অতিরিক্ত দায়রা জজ শুধুমাত্র সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশে কিংবা দায়রা জজ কর্তৃক অর্পিত আপিল শুনবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৯- দায়রা আদালতে আপীলের শুনানীর পদ্ধতি-
দায়রা আদালতে বা দায়রা জজ বরাবর দাখিলকৃত আপীল দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ শ্রবণ করবেন।
শর্ত থাকে যে, অতিরিক্ত দায়রা জজ সেই আপীলই শ্রবণ করবেন, যেগুলোর বিষয়ে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্দেশ প্রদান করবেন বা দায়রা জজ যেগুলো তাঁর বরাবর অর্পণ করেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 409- Appeals to Court of Session how heard:
An appeal to the Court of Session or Sessions Judge shall be heard by the Sessions Judge or by an Additional Sessions Judge:
Provided that an Additional Sessions Judge shall hear only such appeals as the Government may by general or special order, direct or as the Sessions Judge of the Division may make over to him.
৬৭৩.
কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধের বিচারের জন্য পুনরায় আদালতে হাজির করা যায়-
  1. খালাস প্রাপ্ত ব্যক্তি
  2. অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তি
  3. দণ্ডিত ব্যক্তি
  4. কাউকে না
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪০৩ মতে- কোন ব্যক্তি একবার দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত হলে একই অপরাধের জন্য তাকে পুন:বিচার করা যাবে না। তবে, আসামীকে পূর্বে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকলে নতুন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় আদালতে হাজির করা যাবে। অর্থাৎ একই অপরাধের বিচারের জন্য পুনরায় আদালতে হাজির করা যায় না,  এই বিধান শুধু দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত আসামীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অব্যাহতিপ্রাপ্ত আসামীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৬৭৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী, ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার কারণ জানাতে বাধ্য?
  1. ধারা ৫৪
  2. ধারা ৫৪ক
  3. ধারা ৪৫ক
  4. ধারা ৪৫ঘ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুসারে, প্রত্যেক পুলিশ অফিসার ওয়ারেন্ট ছাড়া যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে গ্রেফতারের সময়ই তাকে গ্রেফতারের কারণ অবহিত করতে বাধ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার হলে পুলিশ অফিসারকে অবশ্যই তাকে গ্রেফতারের কারণ অবহিত করতে হবে। এটি অভিযুক্ত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার এবং বেআইনি আটক প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা।

⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 54A. Person arrested to be informed of reason of arrest:
- Every police-officer arresting any person without warrant shall, at the time of making arrest, communicate to him the reasons for which he is arrested.

৬৭৫.
কত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করলে তার বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না?
  1. ২০০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ৫০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি এর ধারা ৪১৩ মতে- দায়রা আদালত কেবলমাত্র অনধিক একমাত্র কারাদণ্ড দিলে অথবা দায়রা আদালত বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করলে দণ্ডিত ব্যক্তি কোন আপীল করতে পারবে না।
৬৭৬.
আপিল আদালতে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন
  2. সাক্ষ্য গ্রহণের কারণ লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য নয়
  3. আসামী বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকতে পারবে না
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার অধীন আপীল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে বা বিচারকারী আদালতকে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে পারে।

ধারা ৪২৮- আপীল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন

(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপীল বিবেচনার সময় আপীল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপীল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।

(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপীল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপীল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।

(৩) আপীল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামী বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।

(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।
৬৭৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর _________ অনুযায়ী, সরকার দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চকে সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করতে পারে।
  1. ধারা ২৬০
  2. ধারা ২৬১
  3. ধারা ২৬২
  4. ধারা ২৬৩
ব্যাখ্যা
• সংক্ষিপ্ত বিচার (Summary Trial)-
গতানুগতিক ফৌজদারি বিচার পদ্ধতি অনুসরণ না করে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে যে বিচার করা হয়, তাকে সংক্ষিপ্ত বিচার বা Summary Trial বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬০ থেকে ২৬৫ ধারায় সংক্ষিপ্ত বিচার বা Summary Trial সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

ধারা ২৬১ অনুযায়ী,
সরকার যে কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের বেঞ্চকে সংক্ষিপ্তভাবে নিম্নলিখিত অপরাধসমূহ বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করতে পারে:

(ক) দণ্ডবিধির নিম্নলিখিত ধারার অধীনে অপরাধসমূহ: ধারা ২৭৭, ২৭৮, ২৭৯, ২৮৫, ২৮৬, ২৮৯, ২৯০, ২৯২, ২৯৩, ২৯৪, ৩২৩, ৩৩৪, ৩৩৬, ৩৪১, ৩৫২ , ৪২৬ , ৪৪৭, এবং ৫০৪।
(খ) পৌরসভা আইনের অধীনে এবং পুলিশ আইনের স্বাস্থ্যবিধির ধারাসমূহের অধীনে অপরাধসমূহ, যা শুধুমাত্র জরিমানা বা এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড (জরিমানা সহ বা ছাড়া) দ্বারা শাস্তিযোগ্য।
(গ) উপরোক্ত যেকোনো অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা প্রদান।
(ঘ) উপরোক্ত যেকোনো অপরাধ করার চেষ্টা, যখন সেই চেষ্টা নিজেও একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
৬৭৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের পদ্ধতি বর্ণিত আছে?
  1. ৩৫৯ ধারায়
  2. ৩৬১ ধারায়
  3. ৩৬৮ ধারায়
  4. ৩৭০ ধারায়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারার বিধান:
(১) কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হলে দণ্ডাদেশে নির্দেশ থাকবে যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার গলায় ফাঁসি দিয়া ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
(২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিকে কোথায় প্রেরণ করিতে হইবে তাহার উল্লেখ থাকিবে না।

Section- 368:
(1) When any person is sentenced to death, the sentence shall direct that he be hanged by the neck till he is dead.
(2) No sentence of transportation shall specify the place to which the person sentenced is to be transported.
৬৭৯.
কে ফৌজদারি আদালতের ভাষা নির্ধারণ করতে পারে?
  1. বিচারক
  2. সরকার
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৮ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার আদালতের ভাষা নির্ধারণ করতে পারবে।
 
• ধারা ৫৫৮ (আদালতের ভাষা নির্ধারণের ক্ষমতা)-
এই বিধির উদ্দেশ্যে ইহার দ্বারা শাসিত অঞ্চলে অবস্থিত প্রত্যেকটি আদালতের ভাষা কি হবে সরকার তা নির্ধারণ করতে পারবেন।
 
Section 558- Power to decide language of Courts
The Government may determine what, for the purposes of this Code, shall be deemed to be the language of each Court within the territories administered by it.
৬৮০.
যদি সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার না পাওয়া যায়, তাহলে গ্রেপ্তারকৃত অসুস্থ বা আহত ব্যক্তির পরীক্ষা কে করবেন?
  1. একজন স্বাস্থ্যকর্মী
  2. একজন ফার্মাসিস্ট
  3. পুলিশের মেডিকেল ইউনিট
  4. একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৬ঙ(১) অনুসারে, সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার না পাওয়া গেলে একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার (registered medical practitioner) কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত অসুস্থ বা আহত ব্যক্তির পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৪৬ঙ - মেডিকেল অফিসার কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরীক্ষা:
(১) যখন কোনো গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে অসুস্থ মনে হয় বা তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন থাকে, তখন গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে একটি সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার দ্বারা পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করতে হবে; এবং যদি এই ধরনের মেডিকেল অফিসার পাওয়া না যায়, তবে একজন নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার দ্বারা তা করাতে হবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি একজন নারী, সেখানে তার শরীরের পরীক্ষা, যদি সম্ভব হয়, একজন নারী মেডিকেল অফিসার বা একজন নারী মেডিকেল প্র্যাকটিশনার দ্বারা বা তাদের তত্ত্বাবধানে, অথবা ক্ষেত্রমত একজন নারী স্টাফ নার্স বা একজন নারী অ্যাটেনডেন্টের উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে।
(২) যেখানে উপ-ধারা (১) এর অধীনে পরীক্ষা এবং চিকিৎসা করা হয়, সেখানে ক্ষেত্রমত মেডিকেল অফিসার বা নিবন্ধিত মেডিকেল প্র্যাকটিশনার কর্তৃক এই ধরনের পরীক্ষা এবং চিকিৎসার প্রতিবেদনের সাথে একটি সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে, সেইসাথে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বা তার দ্বারা মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে সরবরাহ করতে হবে।
(৩) যেখানে একজন অসুস্থ বা আহত গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট তার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত বা অসুস্থ যার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন এবং শারীরিকভাবে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাবলী অনুযায়ী তাকে ইলেকট্রনিক ভিডিও লিংকেজের মাধ্যমে হাজির করা যেতে পারে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 46E - Examination of arrested person by medical officer:
(1) When any person arrested appears to be sick or bears any mark of injury, he shall, soon after the arrest is made, be examined and provided with first aid treatment by a medical officer of a Government hospital; and if such medical officer is not available, by a registered medical practitioner:
Provided that where the arrested person is a female, the examination of her body shall, if practicable, be conducted by or under the supervision of a female medical officer or a female medical practitioner, or in the presence of a female staff nurse or a female attendant, as the case may be.
(2) Where an examination and treatment are conducted under sub-section (1), a certificate along with the report of such examination and treatment shall be furnished by the medical officer or registered medical practitioner, as the case may be, to the concerned police-officer, as well as to the arrested person or to a person nominated by him.
(3) Where an arrested person, being sick or injured, is produced before the Magistrate, the Magistrate may pass necessary orders for his medical treatment: 
Provided that where the arrested person is severely injured or sick in a manner which requires his admission into a hospital and renders his physical production before the Magistrate impracticable, he may be produced through electronic video linkage, subject to the satisfaction of the Magistrate and to such terms as the Magistrate may determine.

৬৮১.
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে,ম্যাজিস্ট্রেট কাকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিবেন?
  1. সাক্ষীকে
  2. অভিযােগকারিকে
  3. ক এবং খ উভয়কে
  4. অভিযোগ গ্রহণকারী পুলিশকে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ অনুসারে,
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করবেন এবং সংবাদ দাতা বা অভিযােগকারিকে কারণ দর্শাতে বলবেন যে,কেন তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরনের আদেশ দেয়া হবে না।

⇒ ফরিয়াদি/সংবাদ দাতা/অভিযােগকারীর কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন অভিযােগটি মিথ্য,তুচ্ছ বা বিরক্তিকর তাহলে ফরিয়াদিকে অনধিক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ অভিযুক্তকে প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন।এমনকি ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন যে,ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তি অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩০০০ টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন।তবে তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এই ক্ষেত্রে অনধিক ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফরিয়াদি সংবাদদাতা ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ হলে ৩০ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে বা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট ১০০ টাকার বেশি ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন সম্পর্কে আপিল দায়ের করা যাবে।
৬৮২.
আসামিকে জরিমানা দণ্ডে দণ্ড দেয়া হলে, তা দণ্ড দানকারী আদালত নিম্নে বর্ণিত কোন উপায়ে আদায় করতে পারবে?
  1. স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তিতে দেওয়ানী পদ্ধতি অনুযায়ী পরোয়ানা বলবৎ করে
  2. অপরাধীর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করে
  3. স্থাবর সম্পত্তিতে ফৌজদারি পদ্ধতি অনুযায়ী পরোয়ানা বলবৎ করে
  4. ক এবং খ উভয় ভাবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৮৬- জরিমানা আদায় করার পরোয়ানা

(১) যেক্ষেত্রে কোন আসামীকে জরিমানা দণ্ডে দণ্ড দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে দণ্ড দানকারী আদালত নিম্নে বর্ণিত দু'টি বা উভয় উপায় অনুযায়ী জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে পারবেন, অর্থাৎ ইহা-
(ক) অপরাধীর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করে জরিমানা আদায়ের জন্য পরোয়ানা দিতে পারবেন, অথবা
(খ) খেলাপকারীর স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয় প্রকার সম্পত্তিতে দেওয়ানী পদ্ধতি অনুযায়ী পরোয়ানা বলবৎ করে জরিমানার টাকা আদায়ের কর্তৃত্ব দিয়ে জেলার কালেক্টরকে পরোয়ানা প্রদান করতে পারবেনঃ শর্ত থাকে যে, যদি দণ্ডাদেশে নির্দেশ থাকে যে, জরিমানা পরিশোধ করা না হলে অপরাধী কারাদণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত হবে এবং সে যদি অনাদায়বশতঃ সমগ্র কারাদণ্ড ভোগ করে থাকে, তাহলে কোন আদালত উক্তরূপ পরোয়ানা দিবে না, যদি না বিশেষ কোন কারণ বশত প্রয়োজন মনে করলে আদালত উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করে পরোয়ানা দিয়ে থাকেন।

(২) সরকার উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ- (ক) এর পরোয়ানা কার্যকরীকরণের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং উক্ত পরোয়ানা কার্যকরীকরণ প্রসঙ্গে ক্রোককৃত সম্পত্তিতে অপরাধী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির কোন দাবী সংক্ষেপে নির্ধারণের ব্যবস্থা নেবার জন্য বিধি প্রণয়ন করতে পারবেন।

(৩) আদালত যেক্ষেত্রে উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ (খ) অনুযায়ী কালেক্টরকে পরোয়ানা দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫নং আইন) এর অর্থানুযায়ী উক্ত পরোয়ানাকে ডিক্রি এবং কালেক্টরকে ডিক্রীদার মর্মে আখ্যায়িত করতে হবে এবং যে নিকটতম দেওয়ানী আদালত অনুরূপ পরিমাণ অর্থের ডিক্রি জারি করতে পারেন উক্ত কার্যবিধির উদ্দেশ্যে সেই আদালতকে উক্ত ডিক্রি দাতা আদালত মর্মে আখ্যায়িত করতে হবে এবং ডিক্রি জারির ব্যাপারে উক্ত কার্যবিধির বিধানাদি অনুরূপভাবে প্রযোজ্য হবে।
৬৮৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আপিল আদালত রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে কত দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করবে?
  1. ৬০
  2. ৯০
  3. ১২০
  4. ১৮০
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪২ক ধারার বিধান:- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপিল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপিল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।
---------------------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 442A- Time for disposal of appeals and Revision: 
(1) An Appellate Court shall dispose of an appeal filed before it within ninety days from the date of service of notice upon respondents.
(2) A Court having power of revision shall dispose of a proceeding in revision within ninety days from the date of service of notice upon the parties.
(3) In this section, in determining the time, only the working days shall be counted.
৬৮৪.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪২ ধারার অধীন জনসাধারণের সাহায্য করার বাধ্যবাধকতা কখন প্রযোজ্য হয়?
  1. যখন শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাহায্য চান
  2. যখন শুধুমাত্র পুলিশ অফিসার সাহায্য চান
  3. যখন ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার অযৌক্তিকভাবে সাহায্য চান
  4. যখন ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার যুক্তিসংগতভাবে সাহায্য চান
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪২- জনসাধারণ যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশকে সাহায্য করবেন (Public when to assist):
কোনো ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিসিয়াল বা নির্বাহী) অথবা পুলিশ অফিসার যুক্তিসংগতভাবে সাহায্য চাইলে প্রত্যেকটি লোক তাকে সাহায্য করতে বাধ্য থাকবেন।
ক. উক্ত জুডিসিয়াল বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার যে লোককে গ্রেফতার করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন, সে লোককে গ্রেফতার করতে অথবা তার পলায়ন প্রতিরোধ করতে;
খ. শান্তিভঙ্গের আশংকা প্রতিরোধ অথবা শান্তিভঙ্গ দমন করতে অথবা রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ অথবা সম্পত্তির প্রতি ক্ষতির প্রচেষ্টা প্রতিরোধের ব্যাপারে সাহায্য করতে বাধ্য।

Section 42: Public when to assist-
Every person is bound to assist any Magistrate whether Judicial or Executive or police officer reasonably demanding his aid,- 
(a) in the taking or preventing the escape of any other person whom such Magistrate or police-officer is authorized to arrest; 
(b) in the prevention or suppression of a breach of the peace, or in the prevention of any injury attempted to be committed to any railway, canal, telegraph or public property.
৬৮৫.
ভুল স্থানে অনুষ্ঠিত ফৌজদারি কার্যধারার কারণে কোনো আদেশ বাতিল হবে না যদি-
  1. বিচারক ভুল স্বীকার করেন
  2. আপিলকারী লিখিত আপত্তি তোলে
  3. ন্যায়বিচারকে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত না করে
  4. বিচার প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত না হয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩১: ভুল স্থানে অনুষ্ঠিত কার্যধারা-
কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কোন কার্যধারায় কোন ফৌজদারী আদালতের অভিমত, দণ্ড বা আদেশ শুধুমাত্র উক্ত তদন্ত, বিচার বা অন্য কোন কার্যধারা ভুল দায়রা বিভাগে, জেলায় বা অন্য স্থানীয় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেই বাতিল হবে না যদি না প্রতীয়মান হয় যে, এ ভুলের ফলে প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে।

ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮‑এর ধারা ৫৩১ বলছে—
মামলা ভুল দায়রা বিভাগ, জেলা বা অন্য স্থানীয় এলাকায় চললেও কেবল সেই কারণেই রায়, আদেশ বা তদন্ত বাতিল হবে না, যতক্ষণ না দেখা যায় যে এই ভুলের ফলে প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার ব্যাহত (failure of justice) হয়েছে। অর্থাৎ বিচার প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত ও পক্ষসমূহ পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছে—এটা নিশ্চিত হলে শুধুমাত্র স্থানের ত্রুটি রায় বাতিল করে না।
৬৮৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ______ ধারায় বলা আছে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধরনের অপরাধের বিচার করতে পারবে এবং _______ ধারায় বলা আছে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কতটুকু সাজা দিতে পারবে।
  1. ২৯, ২৯গ
  2. ২৯খ, ৩৩
  3. ২৯গ, ৩৩ক
  4. ২৯গ, ৩৩খ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ২৯গ ধারায় বলা আছে বিশেষক্ষমতা প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধরনের অপরাধের বিচার করতে পারবে
• ৩৩ক ধারায় বলা আছে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কতটুকু সাজা দিতে পারবে।
• ২৯গ ধারায় ক্ষমতা প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন।
৬৮৭.
Habeas Corpus এর আদেশ দিতে পারে?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. সরকার
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. দায়রা জজ
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ direction of the nature of a habeas corpus ইস্যু করতে পারে। যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাব আটক করা হয়, তখন বন্দী হাজির রিট [ writ of habeas corpus] পিটিশন দায়ের করা যায়। যে কোন ব্যক্তি বন্দী হাজির রিট দায়ের করতে পারবে। বন্দী হাজির অর্থ হলো বন্দীকে আদালতে হাজির করা।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধানঃ (১) হাইকোর্ট বিভাগ যখনই উপযুক্ত মনে করেন, তখন নির্দেশ দিতে পারবেন যে,
ক) ইহার ফৌজদারী আপীল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হোক;
খ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে সরকারী বা বেসরকারী হেফাজতে বে-আইনীভাবে বা অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দী দিবার জন্য উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করা হোক;
ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দীকে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট হাজির করা হোক;
ঙ) উপরিউক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দীকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং
চ) বাদ দেয়া হয়েছে।

(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রীমকোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান বলবৎ কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের প্রতি প্রযোজ্য নহে।

♦ অর্থাৎ ৪৯১ ধারামতে হাইকোর্ট বিভাগ নিম্নলিখিত হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির আদেশ প্রদান করতে পারে, যথা 
i) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে।
ii) বেআইনী বা অযৌক্তিকভাবে সরকারি বা বেসরকারী হেফাজতে আটক ব্যক্তির মুক্তিত
iii) জেলখানা বা কারাগারে আটক কোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করতে
iv) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের নিকট বিচার বা সাক্ষাৎ দেয়ার জন্য হাজির;
v) এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে বিচারের জন্য কোন বন্দিকে স্থানান্তর।
৬৮৮.
চার্জে পূর্ববর্তী মামলার দণ্ডের বিষয় কেন উল্লেখ করতে হবে?
  1. পরবর্তী অপরাধের দণ্ড বৃদ্ধি বা প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য
  2. চার্জ গঠনে জন্য
  3. অভিযোগকারী আবেদন করার জন্য
  4. উল্লেখ করা যাবে না
ব্যাখ্যা
পরবর্তী অপরাধের দণ্ড বৃদ্ধি বা প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য পূর্ববর্তী দণ্ড প্রমাণ করার প্রয়ােজন হলে অভিযােগে বা চার্জে পূর্ববর্তী দণ্ডের ঘটনা তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতে হবে। 

• ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী- চার্জ বা অভিযোগ (Charge) ফৌজদারী বিচার কার্যক্রমে একটি  গুরুত্বপূর্ণ স্তর যা অনুসন্ধান (inquiry) এবং বিচার (trial) কে পৃথক করে। একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। 
অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে। সুতরাং বলা যায়, চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।ধারা-২২১ এ চার্জের বিষয়বস্তু উল্লেখ করা আছে।একটি চার্জে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকবে-

> অপরাধের নাম।
> অপরাধের নির্দিষ্ট নাম না থাকলে উক্ত অপরাধের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে প্রদান করতে হবে।
> উক্ত অপরাধ যে আইনে এবং কত ধারায় আওতায় পড়ে তা উল্লেখ করতে হবে।
> অভিযােগ গঠন হলে ধরে নেওয়া হবে অপরাধটি সংঘটিত করার সকল উপাদান বিদ্যমান বা শর্ত পূরণ হয়েছে।
> অভিযােগ ইংরেজিতে বা আদালতের ভাষায় লিখতে হয় ।
> পরবর্তী অপরাধের দণ্ড বৃদ্ধি বা প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য পূর্ববর্তী দণ্ড প্রমাণ করার প্রয়ােজন হলে অভিযােগে বা চার্জে পূর্ববর্তী দণ্ডের ঘটনা তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতে হবে। চার্জে আদালত শাস্তিদানের পূর্বে যে কোন সময় পূর্ববর্তী দণ্ডের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দিতে পারেন।
৬৮৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকলে অনুপস্থিতিতে বিচারের জন্য কোন শর্তটি আবশ্যক?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৭ ও ৭৮ ধারার শর্তপূরণ
  2. যেকোনো একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
  3. কমপক্ষে দুটি জাতীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
  4. সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে তা পত্রিকার বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ
ব্যাখ্যা
⇒ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর যদি কোন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না যায় বা সে স্বেচ্ছায় হাজির না হয়, তবে তার বিচারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারায় উল্লিখিত বিচার সংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করতে হবে। উক্ত ধারায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অনুপস্থিতিতে বিচার করা যায়-

- ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ এবং ৮৮ ধারার আবশ্যিক বিধানসমূহ প্রতিপালন করা হয়েছে;
- আদালতের বিশ্বাস করার কারণ আছে যে, অভিযুক্ত পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে যেন তাকে গ্রেফতার না করা যায় এবং বিচারের জন্য হাজির না করা যায় এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের তাৎক্ষণিক কোন সম্ভাবনা নেই।

- অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর পূর্ববর্তী শর্ত হলো-
অনুপস্থিত অভিযুক্তকে হাজিরার জন্য ব্যাপক প্রচার আছে এমন ২টি জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় হাজিরার আদেশ প্রকাশ করতে হবে। উক্ত প্রকাশিত আদেশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে হাজির হতে ব্যর্থ হলে, উক্ত অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করা যাবে। একে বলা হয় ''Trial in absentia'' বা অনুপস্থিতিতে বিচার।
------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure-Section 339B: Trial in absentia-
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.

(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
৬৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯(৩ক) অনুসারে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয় কোন অনুচ্ছেদের অধীনে?
  1. সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ
  2. সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ
  3. সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ
  4. সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৯(৩ক) এ বলা হয়েছে:
“...সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি মোতাবেক বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যগণ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজ নিযুক্ত হইবেন।”
 অর্থাৎ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের নিয়োগ ও তাদের কর্মস্থল নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিধি তৈরি করেন, এবং সেই বিধির আলোকে তাদের দায়রা আদালতে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure), ১৮৯৮–এর ধারা ৯(৩ক) (Subsection 3A) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে:
“The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the Constitution...”
অর্থাৎ, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন রাষ্ট্রপতির দ্বারা প্রণীত বিধি অনুসরণ করতে হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারার বিধান দায়রা আদালত:
(১) সরকার প্রত্যেকটি দায়রা বিভাগের জন্য একটি করে দায়রা আদালত স্থাপন করবেন এবং এই আদালতে একজন জজ নিয়োগ করবেন; এবং মহানগরীর জন্য সৃষ্ট দায়রা আদালত মহানগরী দায়রা আদালত নামে অভিহিত হবে।
(২) সরকার সরকারি গেজেটে সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ জারী করে নির্দেশ দিতে পারেন যে কোন স্থানে বা স্থানসমূহে দায়রা আদালত বসবে; কিন্তু এরূপ আদেশ না দেয়া পর্যন্ত দায়রা আদালতসমূহ পূর্বের ন্যায় বসবে।
(৩) এরূপ এক বা একাধিক আদালতে কর্তৃত্ব প্রয়োগ করার জন্য অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং সহকারী দায়রা জজ ও নিয়োগ করতে পারবেন।

(৩ক) - অনুরূপ এক বা একাধিক এলাকার দায়িত্ব পালনের জন্য সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি মোতাবেক বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যগণ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজ নিযুক্ত হইবেন।
(৪) সরকার এক দায়রা বিবাগের দায়রা জজকে অপর একটি বিভাগের অতিরিক্ত দায়রা জজ নিয়োগ করতে পারেন, এবং এরূপ ক্ষেত্রে তিনি সরকারের নির্দেশানুসারে দুইটি বিভাগের যে কোন একটির এক বা একাধিক স্থানে মামলা নিস্পত্তির জন্য বসতে পারবেন।
(৫) এই আইন বলবৎ হবার সময় যে সকল দায়রা আদালত বিদ্যমান ছিল তার সমস্ত গুলিই এই আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধরতে হবে।
------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section- 9. Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court; and the Court of Session for a Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.
(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore.
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts.
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct.
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
৬৯১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় বলা হয়েছে, ভুল স্থানে অনুষ্ঠিত কার্যধারা (wrong place of trial) শুধুমাত্র সেই কারণে বাতিল হবে না, যদি না ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়?
  1. ধারা ৫০৯
  2. ধারা ৫৩১
  3. ধারা ৫৩৩
  4. ধারা ৫৩৫
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৩১ ধারা অনুসারে, কোনো ফৌজদারি আদালতের অভিমত, দণ্ড বা আদেশ শুধুমাত্র এই কারণে বাতিল হবে না যে তদন্ত, বিচার বা অন্য কোনো কার্যধারা ভুল দায়রা বিভাগে, জেলায় বা অন্য স্থানীয় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যদি না প্রতীয়মান হয় যে এই ভুলের ফলে প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩১: ভুল স্থানে অনুষ্ঠিত কার্যধারা:
কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কোন কার্যধারায় কোন ফৌজদারী আদালতের অভিমত, দণ্ড বা আদেশ শুধুমাত্র উক্ত তদন্ত, বিচার বা অন্য কোন কার্যধারা ভুল দায়রা বিভাগে, জেলায় বা অন্য স্থানীয় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেই বাতিল হবে না যদি না প্রতীয়মান হয় যে, এ ভুলের ফলে প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 531: Proceedings in wrong place:
No finding sentence or order of any Criminal Court shall be set aside merely on the ground that the inquiry, trial or other proceeding in the course of which it was arrived at or passed, took place in a wrong sessions division, district, or other local area, unless it appears that such error has in fact occasioned a failure of justice.

৬৯২.
হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা (inherent power) ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় সংরক্ষিত আছে?
  1. ৫৬১
  2. ৫৬১ক 
  3. ৫৬০ 
  4. ৫৬৫ 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা (inherent power) সংরক্ষণের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে ধারা ৫৬১ক-এ উল্লেখ আছে, যার শিরোনামই হলো "Saving of inherent power of High Court Division"।
- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক-এ হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা (inherent power) সংরক্ষণ করা হয়েছে, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার প্রতিরোধ করা এবং কোডের অধীনে প্রদত্ত আদেশ কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারার বিধান হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতার সংরক্ষণ:
- এই বিধির অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করার জন্য, বা কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করার জন্য বা অন্য কোন ভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন আদেশ প্রদানের নিমিত্ত হাইকোর্ট বিভাগের যে সহজাত ক্ষমতা আছে এই বিধির কোন কিছু তা সীমাবদ্ধ বা ক্ষুণ্ন বা প্রভাবিত করবে বলে অভিহিত করা যাবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- section 561A. Saving of inherent power of High Court Division:
- Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.

৬৯৩.
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে-
  1. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে
  4. দায়রা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৭ ধারার বিধানঃ ২য় বা ৩য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল- ২য় বা ৩য় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হয়। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বয়ং নিজে আপিলটি শুনানী ও নিষ্পত্তি করতে পারেন অথবা অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হস্তান্তর করতে পারবেন। উক্ত হস্তান্তরিত আপিল প্রয়োজনে তিনি প্রত্যাহার করতে পারবেন।
৬৯৪.
ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় কিশোর অপরাধীর বিচারের এখতিয়ার বিষয়ে বিধান আছে?
  1. ২৮ ধারায়
  2. ২৯ ধারায়
  3. ২৯গ ধারায়
  4. ২৯খ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির  ২৯খ ধারার বিধান কিশোরদের বেলায় এখতিয়ারঃ কোন ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডনীয় অপরাধ ব্যতিরেকে অপর যে কোন অপরাধ করলে এবং তাকে আদালতে উপস্থিত হবার বা তাকে হাজির করার তারিখে তার বয়স ১৫ (পনের) বৎসরের নীচে হলে তার বিচার যে কোন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারবেন অথবা তরুণ অপরাধীদের হেফাজত, বিচার এবং শাস্তি দেবার জন্য বলবৎ আইন কর্তৃক বা অধীনে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট, এবং এরূপ আইনের দ্বারা আরোপিত সকল বা যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগ করবার জন্য উহার দ্বারা বা অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোন ম্যাজিষ্ট্রেট করতে পারবেন।

-----------------------------------
Jurisdiction in the case of juveniles
29B. Any offence, other than one punishable with death or transportation for life, committed by any person who at the date when he appears or is brought before the Court is under the age of fifteen years, may be tried by Chief Judicial Magistrate or the Chief Metropolitan Magistrate, or by any Magistrate specially empowered by the Government to exercise the powers conferred by or under any law providing for the custody, trial or punishment of youthful offenders, by any Magistrate empowered by or under such law to exercise all or any of the powers conferred thereby.
৬৯৫.
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কোন শ্রেণিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় "মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  2. দ্বিতীয় শ্রেনির ম্যাজিস্ট্রেট
  3. তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  4. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), 1898 অনুসারে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মূলত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত—প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি ও তৃতীয় শ্রেণি। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় এই শ্রেণিবিভাগে কিছু পরিবর্তন রয়েছে। সেখানে "প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট" কে বলা হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। অর্থাৎ, মেট্রোপলিটন শহরে যারা বিচার কার্য পরিচালনা করেন, তারা মূলত প্রথম শ্রেণির বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট হলেও তাদের আইন অনুযায়ী "মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" নামে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটরা মেট্রোপলিটন এলাকায় নেই। এছাড়া, জেলার জন্য যিনি প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, মেট্রোপলিটন এলাকায় তিনি "চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" নামে পরিচিত।
সুতরাং, প্রশ্নে প্রদত্ত উত্তরের মধ্যে সঠিক উত্তর হলো— ক) প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬ ধারার বিধান ফৌজদারি আদালতের শ্রেণীবিভাগ:
(১) সুপ্রিম কোর্ট এবং উক্ত কোড ভিন্ন সাময়িকভাবে বলবৎ অপর কোন আইনবলে প্রতিষ্ঠিত আদালতসমূহ ব্যতীত,
বাংলাদেশে দুই প্রকারের ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে;
যথা: (ক) দায়রা আদালত; এবং (খ) ম্যাজিস্ট্রেট-এর আদালত।
(২) দুই প্রকারের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে; যথা: (ক) বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট; এবং (খ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।ঃ
(৩) চার শ্রেণীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকিবে; যথা:
(ক) মহানগর এলাকার জন্য মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য এলাকার জন্য মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
(খ) মহানগর এলাকায় স্থাপিত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট বলিয়া অভিহিত হইবে;
(গ) দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট;
(ঘ) তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট।

ব্যাখ্যা: এই উপধারার উদ্দেশ্যে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" এবং "চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট" শব্দ দুটিকে যথাক্রমে "অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" এবং "অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট" বুঝাবে।
---------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 6. Classes of Criminal Courts:
(1) Besides the Supreme Court and the Courts constituted under any law for the time being in force, other than this Code, there shall be two classes of Criminal Courts in Bangladesh, namely:- 
(a) Courts of Sessions ; and 
(b) Courts of Magistrates. 
(2) There shall be two classes of Magistrate, namely: - 
(a) Judicial Magistrate; and 
(b) Executive Magistrate. 
(3) There shall be four classes of judicial Magistrate, namely: - 
(a) Chief Metropolitan Magistrate in Metropolitan Area and Chief judicial Magistrate to other areas; 
(b) Magistrate of the first class, who shall in Metropolitan area, be known as Metropolitan Magistrate; 
(c) Magistrate of the second class; and 
(d) Magistrate of the third class. 

Explanation: For the purpose of this sub-section, the word "Chief Metropolitan Magistrate" and "Chief judicial Magistrate" shall include "Additional Chief Metropolitan Magistrate" and "Additional Chief judicial Magistrate" respectively.

৬৯৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৬ ধারায় অনুসন্ধানের আদেশ কে দিতে পারেন?
  1. দায়রা জজ
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. শুধুমাত্র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৬ ধারার বিধান- অনুসন্ধানের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা:
৪৩৫ ধারা অনুসারে অথবা অন্যভাবে পরীক্ষা করে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজ নির্দেশ দিতে পারবেন যে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার অধস্তন কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের দ্বারা ২০৩ ধারা বা ২০৪ ধারার (৩) উপধারা অনুসারে খারিজক্ত যেকোনো নালিশ বা কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে আরও তদন্ত করবেন, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ তদন্ত করতে পারবেন বা তার অধস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে এরূপ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন।

তবে শর্ত এই যে, কোন আদালত কোন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধারার অধীন নির্দেশ দিবেন না, যদি না উক্ত ব্যক্তিকে কোন উক্তরূপ আদেশ দেয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয়া হয়।
৬৯৭.
যে সিভিল সার্জন বা চিকিৎসক ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রদান করে নিম্নলিখিত কোন ক্ষেত্রে তার অনুপস্থিতিতেও উক্ত প্রতিবেদন সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়?
  1. যদি তিনি মারা যায়,
  2. সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হয়ে যায়
  3. বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করে এবং তাকে আনা সময় সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫০৯ক মতে- এই কার্যবিধির অধীন যেক্ষেত্রে অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে ময়না তদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা দরকার হয় এবং ময়না তদন্তকারী সিভিল সার্জন অথবা অন্য মেডিকেল অফিসার মারা গেলে অথবা সাক্ষ্য দিতে অপারগ হন বা বাংলাদেশের সীমার বাইরে অবস্থান করেন এবং এরূপ বিলম্ব বা অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়া বা অসুবিধা ছাড়া তাকে হাজির করা না যায়, যা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক সেক্ষেত্রে সাক্ষী হিসাবে তাকে তলব না করেই উক্ত রিপোর্ট সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
৬৯৮.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪২১ ধারার আওতায় আপিল সংক্ষিপ্ত খারিজ করার পূর্বে-
  1. নতুন সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে
  2. আপিলকারীকে অবশ্যই আদালতে হাজির থাকতে হবে
  3. নতুন অভিযোগ দায়ের করতে হবে
  4. আপিলকারীকে বক্তব্যের সুযোগ দিতে হবে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪২১- আপিলের সংক্ষিপ্ত খারিজ:
(১) ধারা ৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাবার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন-

শর্ত থাকে যে,
ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।

(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না।
৬৯৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৮ ধারা অনুযায়ী, আদালত কোন ক্ষেত্রে অভিযোগ পরিবর্তনের পর বিচার অবিলম্বে চালিয়ে যেতে পারে?
  1. যদি অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করে
  2. যদি বিচারক নতুন অভিযোগ গ্রহণ করেন
  3. যদি প্রসিকিউশন নতুন অভিযোগে রাজি হয়
  4. যদি অভিযুক্ত বা প্রসিকিউশন পক্ষের অসুবিধা না হয়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৮ ধারা অনুযায়ী, যদি অভিযোগ পরিবর্তন বা সংযোজনের ফলে অভিযুক্ত বা প্রসিকিউশনের কোনো অসুবিধা না হয়, তাহলে আদালত নতুন বা পরিবর্তিত অভিযোগকে মূল অভিযোগ ধরে বিচার চালিয়ে যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৮ ধারার বিধান: পরিবর্তনের পর বিচার অবিলম্বে চলতে পারার শর্ত:
যদি কোনো অভিযোগ গঠন বা ২২৭ ধারার অধীনে কোনো পরিবর্তন বা সংযোজন করা হয় এবং আদালতের মতে, তৎক্ষণাৎ বিচারকার্য চালিয়ে গেলে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনে বা প্রসিকিউশনের মামলা পরিচালনায় কোনো অসুবিধা হবে না, তাহলে আদালত তার বিবেচনামতো, নতুন বা পরিবর্তিত অভিযোগকে মূল অভিযোগ হিসেবে ধরে বিচার চালিয়ে যেতে পারে।
---------
→ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 228. When trial may proceed immediately after alteration:
If the charge framed or alteration or addition made under section 227 is such that proceeding immediately with the trial is not likely, in the opinion of the Court, to prejudice the accused in his defence or the prosecutor in the conduct of the case, the Court may, in its discretion, after such charge or alteration or addition has been framed or made proceed with the trial as if the new or altered charged had been the original charge.
৭০০.
"ক" একজন ফরিয়াদি ১ম শ্রেনির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে "খ"-এর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযুক্ত হাজির হওয়ার নির্ধারিত তারিখে ''খ'' হাজির থাকলেও,ফরিয়াদি ''ক'' হাজির হননি।এক্ষেত্রে আদালত কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে?
  1. "খ" কে অব্যাহতি দিবে বা অন্য কোন দিনে শুনানী মুলতবি করতে পারেন
  2. "ক" কে পরের দিন উপস্থিত হতে বলবেন
  3. "খ" কে খালাস দিবে বা অন্য কোন দিনে শুনানী মুলতবি করতে পারেন
  4. "খ" কে মুক্তি দিবে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ অনুযায়ে, নালিশের ভিত্তিতে যদি সমন জারি করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজির হবার জন্য নির্দিষ্ট দিনে,অথবা তার পরবর্তী কোন দিনে (শুনানী মূলতবীর দিন) অভিযোগকারী যদি উপস্থিত না হন,তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট,অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন যদি না কোন কারণে তিনি অন্য কোন দিনে মামলাটির শুনানী মুলতবি করে দেয়া যথাযথ বিবেচনা করেন।
শর্ত এই যে,যেক্ষেত্রে কোন অভিযোগকারী যদি সরকারি কর্মচারী হন এবং যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিমত পোষণ করেন যে,অভিযোগকারীর ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেয়া অপ্রয়োজনীয় সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ঐরূপ হাজিরা দেয়া হতে অব্যাহতি দিতে পারেন ও মামলাটি নিয়ে অগ্রসর হতে পারেন।

[If the summons has been issued on complaint,and upon the day appointed for the appearance of the accused,or any day subsequent thereto which the hearing may be adjourned,the complainant does not appear,the Magistrate shall,notwithstanding anything herein before contained,acquit the accused,unless for some reason he thinks proper to adjoin the hearing of the case to some other day: 
Provided that,where the complainant is a public servant and his personal attendance is not required,the Magistrate may dispense with his attendance,and proceed with the case.]