বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Criminal Procedure, 1898

মোট প্রশ্ন২,৮৮৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Criminal Procedure, 1898

PrepBank · পাতা / ২৯ · ৫০১৬০০ / ২,৮৮৩

৫০১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৫ অনুযায়ী, নিচের কোন ক্ষেত্রে মামলার কোনো পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষীকে জেরা করতে পারবে না?
  1. যদি সে জামিনে থাকে
  2. যদি সে কারাগারে থাকে
  3. যদি সে হেফাজতে না থাকে
  4. যদি সে এডভোকেট নিয়োগ করে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫০৫ ধারা অনুযায়ী, মামলার কোনো পক্ষ এডভোকেটের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে (যদি হেফাজতে না থাকেন) সাক্ষীকে জেরা, পুনঃজেরা বা জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারেন। অর্থাৎ, যদি কোনো পক্ষ কারাগারে বা হেফাজতে থাকে, তবে তারা ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষীকে জেরা করতে পারবে না। তবে, তারা এডভোকেটের মাধ্যমে এই কাজ করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৫ অনুযায়ী, যদি কোনো মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন জারি করা হয়, তাহলে মামলার পক্ষসমূহ (যথা, অভিযুক্ত ও রাষ্ট্রপক্ষ) সাক্ষীর জবানবন্দির জন্য লিখিত প্রশ্নমালা (interrogatories) সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে জমা দিতে পারে।
সেই প্রশ্নমালা যদি আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট প্রাসঙ্গিক মনে করেন, তবে তা অনুসারে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও, মামলার পক্ষসমূহ এডভোকেটের মাধ্যমে বা ব্যক্তি হিসেবে (যদি হেফাজতে না থাকেন) উপস্থিত থেকে সাক্ষীকে জেরা (cross-examine) ও পুনঃজেরা (re-examine) করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৫ ধারার বিধান: পক্ষগণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন:-
(১) এই বিধির অধীন যে মামলায় কমিশন প্রদান করা হয়েছে সেই মামলার পক্ষসমূহ কমিশন দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত যে বিষয়কে মূল বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক মর্মে মনে করেন সেই বিষয়ে প্রশ্নমালা দিতে পারেন এবং উক্ত কমিশন যখন ধারা-৫০৩ এ বর্ণিত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার বরাবর প্রেরিত হয়, তখন যে ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসারের উপর কমিশন কার্যকর করার দায়িত্ব অর্পিত হয় সেই ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার উক্ত প্রশ্নমালার ভিত্তিতে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করবেন।
(২) মামলার কোন পক্ষ এডভোকেট কর্তৃক বা কারাগারে না থাকলে ব্যক্তিগতভাবে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার বরাবর উপস্থিত হবে এবং উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দী, জেরা ও পুনঃজবানবন্দী, যেখানে যেরূপ, গ্রহণ করতে পারবেন।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 505: Parties may examine witnesses:-
(1) The parties to any proceeding under this Code in which a commission is issued, may respectively forward any interrogatories in writing which the Magistrate or Court directing the commission may think relevant to the issue and when the commission is directed to a Magistrate or officer mentioned in section 503, such Magistrate or the Officer to whom the duty of executing such commission has been delegated shall examine the witness upon such interrogatories.
(2) Any such party may appear before such Magistrate or officer by pleader, or if not in custody, in person, and may examine, cross-examine and re-examine (as the case may be) the said witness.

৫০২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারায় অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে-
  1. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে
  2. দায়রা আদালতকে
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারায় দায়রা আদালতকে অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

• অপরাধ আমলে নেওয়া অর্থ আদালত কর্তৃক কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করা।কোন অপরাধ সংঘটিত হলে আদালতে অথবা থানায় অপরাধের অভিযোগ করা যায়।আদালত অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর তা বিচারের জন্য গ্রহণ করবেন অথবা খারিজ বা ফেরত দিবেন।যদি তিনি গ্রহণ করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন তখন তাকে অপরাধ আমলে নেয়া বলে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৩ ধারামতে,
দায়রা আদালতের সরাসরি মামলা আমলে নেয়ার এখতিয়ার নেই,ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নেয়ার পর দায়রা আদালতে প্রেরণ করলে দায়রা আদালত বিচারার্থে অপরাধ আমলে নিতে পারেন।অর্থাৎ দায়রা আদালত মূল এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত নয়,তবে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ২০৫(গ) ধারায় মামলা পাঠানো হলেই কেবল উক্ত মামলা দায়রা জজ আমলে নিয়ে বিচার করতে পারেন।

এই ধারার অধীন অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ ও অপরাধ আমলে নিতে পারেন।নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ অপরাধ আমলে নিতে পারে । যথা-
i) সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বিচারের নির্দেশ দিলে; অথবা
ii) দায়রা জজ বিচারের জন্য অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজকে অর্পণ করলে
৫০৩.
'Summary dismissal of appeal'- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় আদালত এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. ৪২০ ধারায়
  2. ৪১৯ ধারায়
  3. ৪২১ ধারায়
  4. ৪২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ (Summary dismissal of appeal)-
৪২১ ধারামতে আদালত মনে করলে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে পারেন। তবে আইনজীবীকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

ধারা ৪২১- আপিল খারিজের সারবস্তু-
(১) ধারা-৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাবার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন।
শর্ত থাকে যে, ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপীলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।

(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না।
৫০৪.
সরকার The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারাবলে অশ্লীলতার অভিযোগে কোনো পুস্তক বাজেয়াপ্ত করে?
  1. 99
  2. 99A
  3. 99B
  4. 99C
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর Section 99A তে কতিপয় প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা এবং তার জন্য তল্লাশী পরোয়ানা জারির ক্ষমতা:
সংবাদপত্র বা পুস্তক বা দলিলসমূহে নিম্নোক্ত বিষয়বস্তু বিদ্যমান থাকলে তা সরকার বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করতে পারে এবং তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে:
১) রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, প্রধান বিচারপতির জন্য মানহানিকর।
২) মারাত্মক শিষ্টাচারহীন বা গালিগালাজপূর্ণ বা অশ্লীল।
৩) আমলযোগ্য অপরাধ করতে উত্তেজিত করে এমন শব্দ বা তিরস্কার।
৪) যা প্রকাশ করা পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ধারা ১২৩৩, ১২৪এ, ১৫৩৩, ১৯২,২৯৫এ, ৫০৫, ৫০৫এ অনুযায়ী দণ্ডণীয়।

♦৯৯বি ধারা অনুযায়ী- উপরিউক্ত উপাদানযুক্ত সংবাদপত্র, পুস্তক, দলিল বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হলে, স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুই মাসের মধ্যে HCD এর নিকট ঘোষণা বাতিলের আবেদন করতে পারে।
৯৯সি ধারা অনুযায়ী ৩ জন বিচারক নিয়ে গঠিত HCD এর স্পেশাল বেঞ্চ আবেদন শ্রবণ করে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
৫০৫.
ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ৩৬৮ ধারায়
  2. ৩৬৯ ধারায়
  3. ৩৭০ ধারায়
  4. ৩৭২ ধারায়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারার বিধান:
(১) কোন ব্যক্তিকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেয়া হলে দণ্ডাদেশে নির্দেশ থাকবে যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার গলায় ফাঁসি দিয়া ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
(২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিকে কোথায় প্রেরণ করিতে হইবে তাহার উল্লেখ থাকিবে না।

Section-368: Sentence of death:
(1) When any person is sentenced to death, the sentence shall direct that he be hanged by the neck till he is dead.
(2) No sentence of transportation shall specify the place to which the person sentenced is to be transported.
৫০৬.
ফৌজদারি মামলার রিভিশন নিষ্পত্তির সময় কখন থেকে গণনা হয়?
  1. রিভিশন দাখিলের দিন থেকে
  2. রিভিশনের কারণ উদ্ভব হবার দিন থেকে
  3. পক্ষগণ আদালতে হাজির হবার দিন থেকে
  4. পক্ষগণের ওপর নোটিশ জারি হবার দিন থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪২ক ধারার বিধান:- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপিল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপিল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।

৫০৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় বিচার কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে আদালত কর্তৃক অভিযুক্তকে পরীক্ষা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে?
  1. মামলার কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে
  2. প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
  3. প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে
  4. আসামীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আহ্বান জানাবার পর
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুযায়ী-

আদালত আসামীকে পরীক্ষা করতে পারবে। পরীক্ষা করতে পারবে অর্থ হলো প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এবং আসামীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আহ্বান জানাবার পূর্বে আদালত আসামীকে মামলা সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন করতে পারবে যেন আসামী তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে উত্থাপিত কোন বিষয় বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়। 
আদালত মামলার বিচার বা অনুসন্ধানের পূর্বে যেকোনো সময়ে এবং আসামীকে কোন পূর্ব সতর্ক করা ছাড়া, আদালত আসামীকে এমন প্রশ্ন করতে পারে। কিন্তু এটা অবশ্যই আসামীকে তার আত্মপক্ষ সমর্থনে আহ্বান করার পূর্বে করতে হবে।
 
৩৪২ ধারা অনুযায়ী আদালত আসামীর নিকট যে প্রশ্ন করে, আসামী এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করলে বা মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে, সে শাস্তির জন্য দায়ী হবে না। কিন্তু আদালত এই ক্ষেত্রে অনুমান করতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো শপথ গ্রহণ করা হয় না।
৫০৮.
একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা আরোপ করতে পারেন?
  1. ৫০০০ টাকা
  2. ৩০০০ টাকা
  3. ১০,০০০ টাকা
  4. ২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৩১ ধারায় বলা হয়েছে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার জরিমানা অর্থদন্ড দিতে পারে।
৫০৯.
"আমলযোগ্য অপরাধ" ও "আমলযোগ্য মামলা" সংজ্ঞাটি The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ধারা ৪(১)(গ)
  2. ধারা ৪(১)(ঙ)
  3. ধারা ৪(১)(চ)
  4. ধারা ৪(১)(জ)
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি- ধারা: ৪(১) এর (চ):
"আমলযোগ্য অপরাধ" বলতে এমন অপরাধ বোঝায় এবং "আমলযোগ্য মামলা" বলতে এমন মামলা বোঝায়, যার ক্ষেত্রে পুলিশ অফিসার দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী বা প্রচলিত কোনো আইনের অধীনে পরোয়ানা ব্যতীত গ্রেফতার করতে পারেন।

["cognizable offence" means an offence for, and "cognizable case" means a case in, which a Police-officer, may, in accordance with the second schedule or under any law for the time being in force, arrest without warrant:]
৫১০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারায় আদালতকে কখন অভিযোগ পরিবর্তনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময়
  2. রায় কার্যকরের পূর্বে যেকোন সময়
  3. যুক্তিতর্ক শ্রবণের পূর্বে যেকোন সময়
  4. সাক্ষীদের জবানবন্দী নেয়ার পূর্বে যেকোন সময়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৭ আদালতকে অভিযোগ পরিবর্তনের ক্ষমতা দিয়েছে। রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন। 

⇒ ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। 
অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।
------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-227: Court may alter charge:
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
৫১১.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে 'তদন্ত' (Investigation) কী?
  1. আদালতে মামলার শুনানি।
  2. ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালিত বিচারিক প্রক্রিয়া।
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করা।
  4. প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত কার্যক্রম।
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪(ঞ)-তে "তদন্ত" এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, "তদন্ত বলতে এই সংহিতা অনুসারে প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য একজন পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি (ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত) কর্তৃক পরিচালিত সকল কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হবে।"

সুতরাং, তদন্ত মূলত পুলিশের প্রমাণ সংগ্রহ-related কার্যক্রম।
- আদালতে শুনানি বা ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক কার্যক্রম তদন্ত নয়।
- ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দাখিল করাও তদন্তের অংশ নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪(ঞ) (l) "investigation" includes all the proceedings under this Code for the collection of evidence conducted by a police-officer or by any person (other than a Magistrate) who is authorised by a Magistrate in this behalf."

- তদন্ত হলো পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রমাণ সংগ্রহের সকল কার্যক্রম। এটি ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে হয়, কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট নিজে তদন্ত করেন না। তদন্তের সময় পুলিশ গ্রেপ্তার, জব্দ, সাক্ষী জেরা, স্থান পরিদর্শন ইত্যাদি করে।

৫১২.
FIR কোথায় করা হয়?
  1. পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকটে
  3. বিচারকের খাস কামরায়
  4. পুলিশ স্টেশনে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এজাহারের (FIR) বিধান রয়েছে। এছাড়া পুলিশ প্রবিধানের (PRB) ২৪৩ বিধিতে FIR বর্ণিত রয়েছে। FIR এর পূর্ণরূপ হচ্ছে First Information Report। আমলযোগ্য কোন অপরাধ সংঘটিত হলে থানায় লিখিতভাবে বা মৌখিকভাবে খবর দিলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তা ১৫৪ ধারানুযায়ী বিপি ২৭ নং ফরমে লিপিবদ্ধ করা হয় যা FIR বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী নামে পরিচিত।

♦ আমলযোগ্য কোন অপরাধ সংঘটিত হলে থানায় লিখিতভবে কিংবা মৌখিকভাবে খবর দিলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তা নির্ধারিত বইতে লিপিবদ্ধ করাকে FIR বা এজাহার বলে।

♦ অর্থাৎ FIR থানায় বা পুলিশ স্টেশনে করা হয়।

------------------------
 A First Information Report (FIR) is officially defined the first collection of information transmitted to the police concerning commission of a major offence.
- Generally victims or witnesses of a heinous crime open criminal proceedings against alleged criminals through filing of an FIR.
৫১৩.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৩ ধারা অনুযায়ী পুলিশ কর্তৃক জব্দকৃত সম্পত্তি সম্পর্কে প্রথমে কী করতে হবে?
  1. সম্পত্তি বিক্রির আদেশ দিতে হবে
  2. সম্পত্তি পুলিশ হেফাজতে রাখতে হবে
  3. সম্পত্তি সরাসরি মালিককে ফেরত দিতে হবে
  4. সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৩ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ অফিসার কর্তৃক ধারা ৫১ অনুযায়ী গৃহীত, চোরাই বলে সন্দেহযুক্ত বা অপরাধের সাথে সম্পর্কিত সম্পত্তি জব্দ করা হলে, তা সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট এরপর সম্পত্তির হেফাজত, প্রদান বা মালিক অজ্ঞাত হলে ঘোষণা জারির বিষয়ে যথাযথ আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৩ ধারার বিধান:- ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত মাল বা চোরাইমাল আটকের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতি:
(১) ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত বা চেরাইমাল বলে কথিত বা সন্দেহযুক্ত বা কোন অপরাধ সংঘটনের সন্দেহ সৃষ্টিকারী অবস্থায় প্রাপ্ত সম্পত্তি কোন পুলিশ অফিসার জব্দ করলে সঙ্গে সঙ্গে তা কোন ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে এবং উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তির বিহিত ব্যবস্থা বা উহার দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে প্রদান বা এরূপ ব্যক্তিকে না পাওয়া গেলে উহার হেফাজত ও অর্পণ সম্পর্কে যেরূপ মনে করেন সেরূপ আদেশ দিবেন।
- জব্দকৃত মারের মালিক অজ্ঞাত হলে পদ্ধতি:
(২) সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি পরিচিত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শর্তে (যদি আরোপিত হয়) তাকে সম্পত্তি প্রদানের আদেশ দিতে পারবেন। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি যদি অজ্ঞাত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তি আটক রাখতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে, তিনি সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণসহ এই মর্মে একটি ঘোষণা দিবেন যে, উক্ত সম্পত্তিতে কারো কোন দাবী থাকলে ঘোষণা তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে তার সামনে হাজির হয়ে উক্ত দাবী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-523: Procedure by police upon seizure of property taken under section 51 or stolen:
(1) The seizure by any police-officer of property taken under section 51, or alleged or suspected to have been stolen, or found under circumstances which create suspicion of the commission of any offence, shall be forthwith reported to a Magistrate, who shall make such order as he thinks fit respecting the disposal of such property or the delivery of such property to the person entitled to the possession thereof, or, if such person cannot be ascertained, respecting the custody and production of such property.
-Procedure where owner of property seized unknown:
(2) If the person so entitled is known, the Magistrate may order the property to be delivered to him on such conditions (if any) as the Magistrate thinks fit. If such person is unknown, the Magistrate may detain it and shall, in such case, issue a Proclamation specifying the articles of which such property consists, and requiring any person who may have a claim thereto, to appear before him and establish his claim within [one month] from the date of such proclamation.

৫১৪.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১০৭ অনুযায়ী, শান্তি রক্ষার জন্য জামিন আদায়ের আদেশ কোন ম্যাজিস্ট্রেট দিতে পারেন?
  1. পুলিশ
  2. শুধুমাত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. শুধুমাত্র জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১০৭: শান্তি রক্ষার জন্য জামানত আদায় (Security for keeping the peace in other cases):
১। যখন একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয় যে কোনো ব্যক্তি শান্তি ভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত করার সম্ভাবনা রাখে, অথবা কোনো অন্যায় কাজ করতে পারে যার ফলে শান্তি ভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, তখন ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে, তাহলে তিনি নিচের বিধি অনুযায়ী সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করতে পারেন যে, সে একটি জামিনপত্র (bond) দেবে, যেখানে জামিনদারসহ বা জামিনদারবিহীন হতে পারে, এবং যেটি শান্তি রক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় (সর্বোচ্চ এক বছর) পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

২। এই ধারা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবশ্যই নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে:
- অভিযোগ করা ব্যক্তি অথবা যেই স্থান থেকে শান্তি ভঙ্গ বা বিঘ্নের আশঙ্কা করা হচ্ছে, তারা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের মধ্যে হতে হবে।
- এছাড়া, কোনো ম্যাজিস্ট্রেট এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন না, যদি না উক্ত ব্যক্তি এবং স্থান উভয়ই তার এখতিয়ার এলাকার মধ্যে থাকে। এই ক্ষেত্রে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কেউ এ কাজ করতে পারবে না।
৫১৫.
আপিলকারী কারাগারে থাকলে, কার নিকট আপিলের দরখাস্ত দাখিল করা যেতে পারে?
  1. আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট
  2. জেলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার নিকট
  3. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট
  4. সরাসরি আপিল আদালতে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪২০ অনুসারে,

যদি আপিলকারী জেলে থাকে, তাহলে সে তার আপিলের পিটিশন এবং পিটিশনের সাথে দাখিলকৃত রায় ও আদেশের কপি জেলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার নিকট দাখিল করতে পারে এবং উক্ত কর্মকর্তা পিটিশনটি সঠিক আপিল আদালতে পাঠাবে।

Section 420- Procedure when appellant in jail
If the appellant is in jail, he may present his petition of appeal and the copies accompanying the same to the officer in charge of the jail, who shall thereupon forward such petition and copies to the proper Appellate Court.
৫১৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে কী উল্লেখ আছে?
  1. অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য কিনা
  2. আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ
  3. যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য
  4. প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২য় তফসিলের ৩য় কলামে "আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ" উল্লেখ করা হয়েছে।
- এটি বোঝায় যে, এই কলামে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি না, তা নির্ধারণ করা হয়।
- অর্থাৎ, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ কি তার শিকারকে গ্রেফতার করার জন্য অনুমতি পাবে, বা প্রথমে পুলিশকে কোনো পরোয়ানা ইস্যু করতে হবে কিনা, এই বিষয়টি ৩য় কলামে উল্লেখিত থাকে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের ৮টি কলাম নিম্নরূপ দেওয়া হলো:
১ম কলাম - পেনাল কোডের অধীন ধারাসমূহ,
২য় কলাম - অপরাধ,
৩য় কলাম - আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ (পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে কি না),
৪র্থ কলাম - প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা,
৫ম কলাম - অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য,
৬ষ্ঠ কলাম - অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা,
৭ম কলাম - দণ্ডবিধির অধীনে উল্লিখিত শাস্তি,
৮ম কলাম - যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
৫১৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কারাদণ্ড আদেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারেন-
  1. সরকার
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. আদেশদানকারী আদালত
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪১- কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা

(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) দেওয়ানি কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানি কারাগারে প্রত্যাবর্তনঃ
এই কার্যবিধির অধীন কারাদন্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানি জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-

(ক) ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানি জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা
(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানি জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারি জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।
৫১৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫২ ধারায় নিজের কর্তৃত্ববলে সরকারী সম্পত্তির ক্ষতি নিবারণ করতে কে হস্তক্ষেপ করতে পারে?
  1. পুলিশ অফিসার
  2. যেকোন ব্যক্তি
  3. ক এবং খ
  4. কেউ নয়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫২: সরকারী সম্পত্তির ক্ষতি নিবারণ

কোন পুলিশ অফিসার তার নিজের কর্তৃত্ব বলে তার দৃষ্টিগোচরে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সরকারী সম্পত্তির ক্ষতির প্রচেষ্টা অথবা কোন সরকারী চিহ্ন বা বয় (buoy) বা নৌ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত অন্য কোন সরকারী চিহ্ন অপসারণের বা ক্ষতির চেষ্টা রোধ করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।

Section 152: Prevention of injury to public property
A police-officer may of his own authority interpose to prevent any injury attempted to be committed in his view to any public property, movable or immovable, or the removal or injury of any public landmark or buoy or other mark use for navigation.
৫১৯.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কারাদণ্ড কার্যকরের প্রত্যেকটি পরোয়ানা কাকে নির্দেশিত হবে?
  1. পাবলিক প্রসিকিউটর
  2. স্থানীয় থানা পুলিশ কর্মকর্তা
  3. কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  4. আদলত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৪- দণ্ড কার্যকরীর জন্য পরোয়ানার নির্দেশ:
- কারাদণ্ড কার্যকরীর প্রত্যেকটি পরোয়ানা আসামী যে কারাগারে বা অন্য যে স্থানে আটক রয়েছে বা থাকবে, সেই কারাগারের বা স্থানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর নির্দেশিত হবে।
--------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure,1898 Section 384: Direction of the warrant for execution:
- Every warrant for the execution of a sentence of imprisonment shall be directed to the officer in charge of the jail or other place in which the prisoner is, or is to be, confined.
৫২০.
ফৌজদারি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় ___________ হতে।
  1. এজাহার দায়েরের সময়
  2. অপরাধের চার্জগঠনের সময়
  3. পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের মাধ্যমে
  4. এজাহার বা অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি  মামলার কার্যক্রম এবং ফৌজদারি মামলার বিচারিক কার্যক্রম [Judicial Proceeding] এক বিষয় না। যেমন অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে ফৌজদারি মামলার কাযক্রম শুরু হয়। কিন্তু বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় চার্জ গঠনের মাধ্যমে। বিচারিক কার্যক্রম [Judicial Proceeding]অর্থ হলো সেই সকল কার্যক্রম যেখানে আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট আইনগতভাবে বা শপথপূর্বক কোনো সাক্ষ্য নিতে পারে।
৫২১.
হাইকোর্ট বিভাগের সাক্ষ্য গ্রহণের পদ্ধতি কিভাবে নির্ধারিত হবে?
  1. আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশ দ্বারা
  2. প্রধান বিচারপতির আদেশ দ্বারা
  3. জাতীয় সংসদে প্রণীত বিধি দ্বারা
  4. সুপ্রিম কোর্টের বিধি দ্বারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৫ ধারার বিধান: হাইকোর্ট ডিভিশনে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ:
- সুপ্রীম কোর্ট সময়ে সময়ে সাধারণ নিয়ম প্রণয়নের দ্বারা উক্ত আদালতে আগত মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ প্রণালী নির্ধারণ করবে এবং উক্ত নিয়ম অনুসারে সাক্ষ্য গৃহীত হবে।
-------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, Section 365. Record of evidence in High Court Division:
- The Supreme Court shall from time to time, by general rule, prescribe the manner in which evidence shall be taken down in cases coming before the Court, and the evidence shall be taken down in accordance with such rule.
৫২২.
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে যদি কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, তদারকি কর্মকর্তা কী করতে পারেন?
  1. তাকে গ্রেফতার করতে পারেন
  2. তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দিতে পারেন
  3. তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে পারেন
  4. তদন্তকারীকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিতে পারেন
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১৭৩ক: অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩-এর উপ-ধারা (১)-এ যা-ই বলা থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীন কোনো মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই— পুলিশ কমিশনার, অথবা জেলা পুলিশ সুপার, অথবা তদন্তের তদারকির দায়িত্বে থাকা সমপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন (Interim Investigation Report) দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন।

(২) যদি দাখিলকৃত অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায় যে- কোনো নির্দিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ অপর্যাপ্ত, তাহলে-পুলিশ কমিশনার, অথবা জেলা পুলিশ সুপার, অথবা তদারকি কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিতে পারেন যে তিনি এই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করবেন। ম্যাজিস্ট্রেট (বা প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল)—
যদি প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্বাসযোগ্য ও সন্তোষজনক মনে করেন, তবে তিনি উক্ত অভিযুক্তকে অব্যাহতি (Discharge) দিতে পারেন,তবে উপ-ধারা (৩)-এর শর্তসাপেক্ষে। এবং এতে অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলতে পারবে।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী কোনো অভিযুক্তকে অস্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার পরে যদি যথেষ্ট এবং প্রামাণিক প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি প্রকৃতপক্ষে অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ধারা ১৭৩ অনুযায়ী চূড়ান্ত পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করার সময় তার নাম যুক্ত করতে বাধা পাবেন না। অর্থাৎ- অব্যাহতি মানে স্থায়ী মুক্তি নয়; তদন্ত শেষে নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার নাম পুনরায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

৫২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান মতে পর পর কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে দণ্ডিত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড প্রদান করা যাবে?
  1. ১০ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ১৪ বছর
  4. ২০ বছর
ব্যাখ্যা
♦  in no case shall such person be sentenced to imprisonment for a longer period than fourteen years.

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান একই বিচারে কতিপয় অপরাধে দোষী সাব্যস্তের ক্ষেত্রে দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদঃ (১) যখন কোন ব্যক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে দণ্ডবিধির ৭১ ধারার ব্যবস্থা সাপোক্ষে আদালত উক্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য নির্ধারিত ও আদালতের ক্ষমতার অন্তর্ভূক্ত শাস্তি প্রদান করতে পারেন; এরূপ শান্তি কারাদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে আদালত যদি একই সাথে চলবে মর্মে নির্দেশ প্রদান না করেন, তাহলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একটির পর অপরটি চলবে।

(২) আদালত একটিমাত্র অপরাধের জন্য যে শাস্তি দিতে পারেন, তার চেয়ে একাধিক দণ্ড পর পর চলবার ক্ষেত্রে মোট শাস্তির পরিমাণ যদি অধিক হয়, তখন কেবলমাত্র ইহার জন্য উক্ত আদারতকে বিচারের জন্য অপরাধীকে উচ্চতর আদালতে পাঠাতে হবে নাঃ

তবে শর্ত থাকে যে,
(ক) দন্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদঃ কোনভাবেই এরূপ ব্যক্তিকে চৌদ্দ বৎসরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না।

(খ) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যদি এরকমের মামলার বিচার করেন, তাহলে মোট শাস্তির পরিমাণ উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার সাধারণ এখতিয়ারে যে শাস্তি প্রদান করতে পারেন তার দ্বিগুণের বেশী হবে না।

(৩) আপীলের উদ্দেশ্যে এই ধারার বিধান অনুসারে একই বিচারে বিভিন্ন অপরাধের জন্য প্রদত্ত পর পর চলার একাধিক দণ্ডের মোট পরিমাণকে একটিমাত্র দণ্ড মর্মে ধরে নিতে হবে।

------------------------------------
Sentence in cases of conviction of several offences at one trial Maximum term of punishment:
35.(1) When a person is convicted at one trial of two or more offences, the Court may, subject to the provisions of section 71 of the Penal Code sentence him, for such offences, to the several punishments prescribed therefor which such Court is competent to inflict; such punishments, when consisting of imprisonment or transportation to commence the one after the expiration of the other in such order as the Court may direct, unless the Court directs that such punishments shall run concurrently.
 
(2) In the case of consecutive sentences, it shall not be necessary for the Court, by reason only of the aggregate punishment for the several offences being in excess of the punishment which it is competent to inflict on conviction of a single offence, to send the offender for trial before a higher Court:
Provided as follows:-
(a) in no case shall such person be sentenced to imprisonment for a longer period than fourteen years;
(b) if the case is tried by a Magistrate 62[* * *], the aggregate punishment shall not exceed twice the amount of punishment which he is, in the exercise of his ordinary jurisdiction, competent to inflict.
(3) For the purpose of appeal, the aggregate of consecutive sentences passed under this section in case of convictions for several offences at one trial shall be deemed to be a single sentence.
৫২৪.
পুলিশী তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না গেলে দাখিলকৃত রিপোর্টের প্রচলিত নাম-
  1. চার্জ শিট
  2. ফাইনাল রিপোর্ট
  3. রিলিজ রিপোর্ট
  4. ডিসচার্জ রিপোর্ট
ব্যাখ্যা
⇒ পুলিশ রিপোর্ট: পুলিশ অফিসার বা মামলার তদন্তকারী অফিসার মামলার তদন্ত শেষে আদালতের নিকট যে প্রতিবেদন পেশ করে, তাকেই পুলিশ রিপোর্ট বলে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ এ পুলিশ রিপোর্ট সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
- সাধারণত পুলিশ রিপোর্ট ২ প্রকার-
i) Charge Sheet ( অভিযোগ পত্র): প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Charge Sheet বলে এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর ভিত্তিতে মামলায় অগ্রসর হন।
ii) Final Report (চূড়ান্ত প্রতিবেদন): প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া না গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Final Report বলে এবং এর উপর ভিত্তি করে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি [Discharge] দেন।
৫২৫.
যে সকল আদালত এবং ব্যক্তির সম্মুখে হলফনামা করা যেতে পারে তা ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৫৪০
  2. ধারা ৫৪২
  3. ধারা ৫৩৯
  4. ধারা ৫৪৫
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৩৯- যেসব আদালত ও ব্যক্তির সম্মুখে হলফনামা করা যায়

হাইকোর্ট ডিভিশন বা হাইকোর্ট ডিভিশনের কোন অফিসারের নিকট ব্যবহার্য এফিডেভিট ও প্রতিজ্ঞা সম্পর্কে উক্ত হাইকোট বিভাগে বা রাষ্ট্রের করণিকের সামনে কিংবা উক্ত আদালতের দ্বারা এ উদ্দেশ্যে নিযুক্ত কোন কমিশনার বা অন কোন ব্যক্তির সামনে কিংবা কোন জজের সামনে বা বাংলাদেশে কোন কোট অব রেকর্ডে এফিডেভিট গ্রহণকারী কোন কমিশনারের সামনে শপথ করা যাবে এবং এর সত্যতা ঘোষণা করা যাবে।

Section 539- Courts and persons before whom affidavits may be sworn
Affidavits and affirmations to be used before High Court Division or any officer of such Court may be swom and affirmed before such Court or the Clerk of the State or any Commissioner or other person appointed by such Court for that purpose, or any Judge, or any Commissioner for taking affidavits in any Court of Record in Bangladesh.
৫২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৫২৫ অনুযায়ী, কোন পরিস্থিতিতে বিচারক পচনশীল সম্পত্তি বিক্রি করার নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. যখন সম্পত্তির মূল্য দশ টাকার বেশি হয়
  2. যখন সম্পত্তি কোন অপরাধে ব্যবহার হয়েছে
  3. যখন সম্পত্তির মালিককে খুঁজে পাওয়া না যায়
  4. যখন সম্পত্তি বিক্রির জন্য মালিকের অনুমতি থাকে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: যখন সম্পত্তির মালিককে খুঁজে পাওয়া না যায়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ ধারা অনুযায়ী- বিচারক নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে পচনশীল সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ দিতে পারেন—
যখন সম্পত্তির মালিক অজ্ঞাত বা অনুপস্থিত থাকেন: যদি সম্পত্তির প্রকৃত মালিক কে, তা জানা না যায় বা তিনি উপস্থিত না থাকেন, তাহলে বিচারক বিক্রির অনুমতি দিতে পারেন।
যখন সম্পত্তি দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে: যদি সম্পত্তিটি পচনশীল (perishable) বা দ্রুত নষ্ট হওয়ার উপযোগী হয়, তাহলে বিচারক সেটি বিক্রি করার নির্দেশ দিতে পারেন।
যখন সম্পত্তির মূল্য দশ টাকার কম হয়: বিচারক যদি মনে করেন যে সম্পত্তির মূল্য ১০ টাকার কম, তাহলে সেটি বিক্রি করা হলে মালিকেরই সুবিধা হবে।
এছাড়া, বিক্রির পর ৫২৩ ও ৫২৪ ধারার বিধান অনুযায়ী ওই অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হবে, যা পরবর্তীতে মালিক চিহ্নিত হলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

→ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-ধারা ৫২৫- পচনশীল সম্পত্তি বিক্রি করার ক্ষমতা:
যদি এমন সম্পত্তির অধিকারী ব্যক্তি অজ্ঞাত বা অনুপস্থিত থাকে এবং সম্পত্তিটি দ্রুত পচনশীল বা প্রাকৃতিকভাবে বিক্রি হয়ে যায়, অথবা যদি বিচারক যার কাছে সম্পত্তির বাজেয়াপ্তি রিপোর্ট করা হয়েছে, তিনি মনে করেন যে, এর বিক্রি মালিকের জন্য উপকারী হবে, অথবা যদি এমন সম্পত্তির মূল্য দশ টাকা অপেক্ষা কম হয়, তবে বিচারক যে কোনো সময় এটি বিক্রি করার নির্দেশ দিতে পারেন; এবং ধারা ৫২৩ ও ৫২৪-এর বিধানগুলি, যতটা সম্ভব, এই বিক্রির নিট আয় এর সাথে প্রযোজ্য হবে।
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 525- Power to sell perishable property:
If the person entitled to the possession of such property is unknown or absent and the property is subject to speedy and natural decay, or if the Magistrate to whom its seizure is reported is of opinion that its sale would be for the benefit of the owner, or that the value of such property is less than ten taka the Magistrate may at any time direct it to be sold; and the provisions of sections 523 and 524 shall, as nearly as may be practicable, apply to the net proceeds of such sale.
৫২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ অনুযায়ী তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশ কর্মকর্তার দাখিলকৃত প্রতিবেদনটির নাম কী?
  1. Complaint
  2. Policy Diary 
  3. Case Diary 
  4. Charge Sheet
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ অনুযায়ী, তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে দাখিলকৃত প্রতিবেদনকে পুলিশ রিপোর্ট বলা হয়। এই রিপোর্ট দুই ধরনের হতে পারে:
১. চার্জশিট (Charge Sheet) – যখন তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার সুপারিশ করা হয়।
২. ফাইনাল রিপোর্ট (Final Report) – যখন তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয় না বা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।
- প্রশ্নে উল্লেখ আছে “অভিযোগ প্রমাণিত হলে” – সেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করবেন, যা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করে এবং বিচারের সূত্রপাত ঘটায়।
অর্থাৎ অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তার দাখিলকৃত প্রতিবেদনকে চার্জশিট (Charge Sheet) বলা হয়।

৫২৮.
মিথ্যা বা তুচ্ছ অভিযােগ এর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়াও,ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তিকে অনধিক কত দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দিতে পারেন?
  1. অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে
  2. অনধিক ৩ মাসের কারাদণ্ডে
  3. অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ডে
  4. অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ডে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ অনুসারে,আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে অব্যাহতি প্রদান করবেন এবং সংবাদ দাতা বা অভিযােগকারিকে কারণ দর্শাতে বলবেন যে, কেন তার বিরুদ্ধে ক্ষতি পূরনের আদেশ দেওয়া হবে না।

ফরিয়াদি / সংবাদ দাতা/ অভিযােগকারীর কারন দর্শানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন অভিযােগটি মিথ্যা তুচ্ছ ও বিরক্তিকর তাহলে ফরিয়াদিকে অনধিক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ আসামিকে প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন। এমনকি ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন যে, ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তি অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩০০০ টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এই ক্ষেত্রে অনধিক ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারেন।

• ফরিয়াদি সংবাদদাতা ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ হলে ৩০ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৫২৯.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারা মতে সম্পত্তি বা দলিল বাজেয়াপ্ত করা হয়?
  1. ৫৪৭ ধারা
  2. ৫২৭ ধারা
  3. ৫০৭ ধারা
  4. ৫১৭ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারা অনুযায়ী-
কোন অপরাধে যে সম্পত্তি বা দলিল বিষয়ে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে আদালত মনে করে, অনুসন্ধান বা বিচার শেষ হওয়ার পর আদালত উক্ত সম্পত্তি বা দলিল ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা অর্পণের মাধ্যমে হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারে।
 
ধারা ৫১৭- যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা হস্তান্তরের আদেশ:
 
(১) কোন ফৌজদারী আদালতে কোন ইনকোয়ারী বা বিচার শেষ হবার উপর উক্ত আদালতে পেশকৃত বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল, যা সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা যা কোন অপরাধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা যে ব্যক্তি উহার দখল দাবী করে তাকে প্রদান বা অন্য কোনভাবে উহার বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরুপ আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
 
(২) যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত এরূপ আদেশ দিবেন এবং সুবিধাজনকভাবে নিজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি উহার অধিকারী ব্যক্তিকে অর্পণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত আদেশ বলবৎ করবেন।
 
(৩) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদান করা হলে তা সংশিষ্ট সম্পত্তি গৃহপালিত পশু বা দ্রুত ও স্বাভাবিক ক্ষয়শীল না হলে, এবং উপধারা-(৪) এ বর্ণিত বিধান মতে না হলে ১ (এক) মাসের জন্য কার্যকর করা যাবে না অথবা যেক্ষেত্রে আপিল পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।
 
(৪) যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তি দখলের অধিকারী মর্মে দাবী করে সে ব্যক্তি আদালতের সন্তুষ্টি বিধানপূর্বক জামিনদারসহ বা ব্যতীত এ মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ আপীলে সংশোধিত বা বাতিল হলে সে উক্ত সম্পত্তি আদালতে অর্পণ করবে, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন বিধান উপধারা-(১) অনুসারে আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তি দেয়ার ব্যাপারে কোন বাধার সৃষ্টি করবে মর্মে মনে করা যাবে না।
৫৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন জরিমানা ব্যতীত অন্য কোন অর্থ কিভাবে আদায় করতে হবে?
  1. ক্ষতিপূরণ হিসেবে
  2. জরিমানা হিসেবে
  3. ক অথবা খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪৭- টাকা প্রদানের আদেশ প্রদত্ত হলে তা জরিমানা হিসেবে আদায়যোগ্য

এই বিধির অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ অনুসারে কোন অর্থ জরিমানা ছাড়া দেয়া হলে এবং তা আদায়ের পন্থা সম্পর্কে অন্য কোন বিধান না থাকলে উক্ত অর্থ জরিমানা বলে ধরে নিয়ে আদায় করতে হবে।

Section 547- Moneys ordered to be paid recoverable as fines
Any money ( other than a fine) payable by virtue of any order made under this code, and the method of recovery of which is not otherwise expressly provided for shall be recoverable as if it were a fine.
৫৩১.
নিচের কোন নীতিটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. Res judicata
  2. Actus reus
  3. Audi alteram partem
  4. Nemo judex in causa sua
ব্যাখ্যা

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট কোনো মামলায় ব্যক্তিগতভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকেন বা মামলার একজন পক্ষ হন, তবে তিনি সেই মামলার বিচার করতে পারবেন না। এটি "Nemo judex in causa sua" নীতির প্রতিফলন, যার অর্থ "কেউ নিজের মামলায় বিচারক হতে পারে না।" এটি প্রাকৃতিক বিচারনীতির (Principles of Natural Justice) অন্যতম একটি মূল নীতি।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট কোনো মামলায় ব্যক্তিগত স্বার্থে জড়িত থাকেন বা নিজেই মামলার এক পক্ষ হন, তবে তিনি সেই মামলার বিচার করতে পারবেন না।
- এই নীতি “Nemo judex in causa sua” — এর অর্থ হলো: "কেউ নিজের মামলায় বিচারক হতে পারে না।"
- এটি Natural Justice (প্রাকৃতিক বিচারনীতি)-এর অন্যতম প্রধান নীতি। এই নীতি নিশ্চিত করে যে, বিচারপ্রার্থী কেউ পক্ষপাতদুষ্ট বা স্বার্থযুক্ত বিচারকের সামনে বিচার পাবে না। এতে বিচারপ্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

অপশন গুলোর ব্যাখ্যা:
→ Res judicata: এটি দেওয়ানি মামলায় প্রযোজ্য একটি নীতি, যেখানে পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাকে পুনরায় গ্রহণ করা যায় না।
→ Actus reus: এটি একটি অপরাধের শারীরিক উপাদান বোঝায়, এই প্রশ্নের প্রাসঙ্গিক নয়।
→ Audi alteram partem: এটি Natural Justice-এর নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যার মানে  “অপর পক্ষকে শুনতে হবে”। তবে এটি ৫৫৬ ধারার প্রাসঙ্গিক নয়, বরং ফৌজদারি বিচারপদ্ধতির অন্যান্য অংশে গুরুত্বপূর্ণ।

৫৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দায়রা আদালতের বিচারকের মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৫২৬
  2. ধারা ৫২৬ক
  3. ধারা ৫২৬খ
  4. ধারা ৫২৮
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫২৬খ-এর অধীন, দায়রা আদালতের বিচারক (Sessions Judge) ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করলে তার সেশন বিভাগের এক ফৌজদারি আদালত থেকে অন্য ফৌজদারি আদালতে কোনো নির্দিষ্ট মামলা স্থানান্তরের আদেশ দিতে পারেন। এই আদেশ নিম্ন আদালতের প্রতিবেদন, পক্ষের আবেদন বা নিজের উদ্যোগে প্রদান করা যায়। ধারা ৫২৬-এর উপধারা (৪) থেকে (১০) এই প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫২৬খ: দায়রা আদালতের বিচারকের মামলার স্থানান্তরের ক্ষমতা:
(১) যখন সেশন আদালতের বিচারকের কাছে এটি প্রতিস্থাপিত হয় যে, এই ধারা অনুসারে একটি আদেশ ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয়, তখন তিনি তার সেশন বিভাগের একটি ফৌজদারি আদালত থেকে অন্য ফৌজদারি আদালতে কোনো নির্দিষ্ট মামলা স্থানান্তরের আদেশ দিতে পারেন।
(২) সেশন আদালতের বিচারক নিম্ন আদালতের প্রতিবেদন, একটি পক্ষের আবেদনের উপর অথবা তার নিজস্ব উদ্যোগে এই আদেশ দিতে পারেন।
(৩) ধারা ৫২৬ এর উপধারা (৪) থেকে (১০) (উভয়সহ) সেশন আদালতের বিচারকের কাছে ধারা ৫২৬বির অধীনে একটি আদেশের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেমনটি উচ্চ আদালতের বিভাগে ধারা ৫২৬ এর উপধারা (১) অনুসারে আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 526B. Power of Sessions Judge to transfer cases:
(1) Whenever it is made to appear to a Sessions Judge that an order under this section is expedient for the ends of justice, he may order that any particular case be transferred from one Criminal Court to another Criminal Court in his sessions division.
(2) The Sessions Judge may act either on the report of the lower Court, or on the Application of a party interested, or on his own initiative.
(3) The provisions of sub-sections (4) to (10) (both inclusive) of section 526 shall apply in relation to an application to the Sessions Judge for an order under sub-section (1) as they apply in relation to an application to the High Court Division for an order sub-section (1) of section 526.

৫৩৩.
দণ্ড কার্যকর করার পর পরোয়ানাটি কোন আদালতে ফেরত দিতে হবে?
  1. দায়রা আদালতে
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. পরোয়ানা ইস্যুকারী আদালতে
  4. চিফ জুডিসিয়াল/মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০০ ধারা: দণ্ড কার্যকর করার পর ফেরত:
যেক্ষেত্রে কোন দণ্ড সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হইয়াছে, সেক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে তা কার্যকর করা হয়েছে সম্পাদনকারী অফিসার উহার সত্যতা অনুমোদন পূর্বক স্বহস্তে পৃষ্ঠাঙ্কনসহ পরোয়ানাটি তার ইস্যুকারী আদালত বরাবর ফেরত দিবেন

Section 400- Return of warrant on execution of sentence:
When a sentence has been fully executed, the officer executing it shall return the warrant to the Court from which it issued, with an endorsement under his hand certifying the manner in which the sentence has been executed.
৫৩৪.
সাধারণত অপরাধের বিচার বা অনুসন্ধান কোন আদালতে হয়?
  1. যেখানে অভিযোগকারী বসবাস করে
  2. যেখানে অভিযুক্ত বসবাস করে
  3. যেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়
  4. উপরের যে কোনো টি তে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধিতে ১৭৭ ধারার বিধান মোতাবেক সাধারণত অপরাধ সংঘটন যে স্থানে হবে সেই স্থানের আদালতেই তার অনুসন্ধান ও বিচার হবে

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৯ ধারার  বিধান মোতাবেক অপরাধ সংঘটন একস্থানে এবং অপরাধের পরিণাম অন্যস্থানে হয় তাইলে ২ স্থানের যেকোন একটিতে বিচার করা যাবে। 

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮২ ধারার বিধান মোতাবেক অপরাধ সংঘটন স্থান অনিশ্চিত হলে যে কোন আদালতে বিচার বা অনুসন্ধান করতে পারবে।
৫৩৫.
একই ধরনের কয়টি অপরাধ এক বছরের মধ্যে হলে একত্রে অভিযোগ গঠন করা যাবে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. কোন ক্ষেত্রেই একত্রে অভিযোগ গঠন করা যাবে না
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩৪ অনুসারে, একই ধরনের তিনটি অপরাধ এক বছরের মধ্যে হলে একত্রে অভিযোগ গঠন করা যাবে-

যখন কোন ব্যক্তি একই ধরণের একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত হয় এবং অপরাধগুলি প্রথম অপরাধ হতে শেষ অপরাধ পর্যন্ত বারো মাস সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়, তখন অপরাধগুলি একই ব্যক্তি সম্পর্কিত হোক বা না হোক,তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩টি অপরাধের জন্য অভিযোগ গঠন করা যেতে পারে এবং একটিমাত্র মামলায় বিচার করা যাবে।অপরাধগুলি যখন দণ্ডবিধি বা কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনের একই ধারানুসারে, একই পরিমাণ দণ্ডে দণ্ডনীয় হয় তখন উক্ত অপরাধগুলিকে একই ধরণের বলে গণ্য করতে হবে।

তবে শর্ত এই যে,এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধকে উক্ত বিধির ৩৮০ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধের সঙ্গে একই ধরণের বলে গণ্য করতে হবে এবং দণ্ডবিধি বা কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনের যেকোন ধারায় দণ্ডনীয় কোন অপরাধের মত এরূপ অপরাধের চেষ্টা,একই ধরণের অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে যখন এরূপ চেষ্টা একটি অপরাধ হয়।
৫৩৬.
কোন এলাকার ক্ষেত্রে গণউৎপাত [PUBLIC NUISANCES] সংক্রান্ত বিধানসমূহ প্রযোজ্য নয়?
  1. জেলা এলাকায়
  2. বিভাগীয় এলাকায়
  3. মেট্রোপলিটন এলাকায়
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০ম অধ্যায়ের বিধান- গণ-উৎপাত [PUBLIC NUISANCES].

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩২ক ধারার বিধান- প্রয়োগ:
এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রযোজ্য হবে না।

[ধারা ১৩২ক তে এই অধ্যায়ের বলতে গণ-উৎপাত [PUBLIC NUISANCES] অধ্যায়কে বুঝানো হয়ছে।]

CHAPTER X - PUBLIC NUISANCES:
Section 132A. Application: The provisions of this Chapter shall not apply to a Metropolitan Area.
৫৩৭.
দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বাধিক কত টাকা অর্থদণ্ড দিতে পারবেন?
  1. ১ লক্ষ টাকা
  2. ২ লক্ষ টাকা
  3. ৩ লক্ষ টাকা
  4. ৫ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩২ (সংশোধিত): ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত সাজা:
(১) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিম্নলিখিত সাজা প্রদান করতে পারবেন, যথা:-
(ক) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
- পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন দ্বারা অনুমোদিত একাকী কারাবাস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
- তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড।

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত:
- দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড;
- দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড

(২) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইন দ্বারা অনুমোদিত যেকোনো সাজার সমন্বয়ে একটি বৈধ সাজা প্রদান করতে পারবেন।

৫৩৮.
অপরাধ করার সময় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল কিন্তু বিচার চলাকালে মানসিকভাবে সুস্থ বলে মনে হলে,আদালত-
  1. মামলা স্থগিত রাখবেন
  2. মামলা বাতিল করবেন
  3. মামলা চালিয়ে যাবেন
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৬৯- আসামীকে যখন বিচার চলাকালে মানসিকভাবে সুস্থ বলে মনে হয় কিন্তু অপরাধ করার সময় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে প্রতীয়মান হয় সেক্ষেত্রে করণীয়

অনুসন্ধান বা বিচারের সময় আসামী যখন মানসিক সুস্থ বলে প্রতীয়মান হয় এবং আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আসামী যখন অপরাধমূলক কাজটি করেছিল তখন মানসিক অসুস্থতার দরুন অপরাধমূলক কাজটির প্রকৃতি জানতে অসমর্থ ছিল, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত মামলার কাজ চালিয়ে যাবেন।

Section 469- When accused appears to have been insane
When the accused appears to be of sound mind at the time of inquiry or trial, and the Magistrate or, as the case may be, the Court is satisfied from the evidence given before him or it that there is reason to believe that the accused committed an act which, if he had been of sound mind, would have been an offence, and that he was, at the time when the act was committed, by reason of unsoundness of mind, incapable of knowing the nature of the act or that it was wrong or contrary to law, the Magistrate or, as the case may be, the Court shall proceed with the case.
৫৩৯.
According to Section 82, a warrant of arrest can be executed at which location?
  1. Only in the capital city
  2. Only in the district where it was issued
  3. Anywhere in Bangladesh
  4. Only in the division where it was issued
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৮২ ধারা-
গ্রেফতারী পরোয়ানা বাংলাদেশের যেকোন জায়গায় কার্যকরী করা যাবে।
 
Section 82- Where warrant may be executed:
A warrant of arrest may be executed at any place in Bangladesh.
৫৪০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪০ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. গ্রেফতারি পরোয়ানা
  2. গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সমন
  3. উপস্থিত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ
  4. 'খ' এবং 'গ' উভয়ই
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪০ আদালতকে ক্ষমতা দেয় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে সমন করা এবং উপস্থিত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য।
- অতএব, সঠিক উত্তর হলো — ঘ) 'খ' এবং 'গ' উভয়ই।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪০: গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সমন করার কিংবা উপস্থিত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করার ক্ষমতা:
এই বিধির অধীন কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কার্যধারার যে কোন ধাপে কোন আদালত যেকোনোো ব্যক্তিকে সাক্ষী রূপে সমন করতে পারবেন বা সাক্ষী রূপে সমন করা না হলে উপস্থিত যেকোনো ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন, বা ইতোমধ্যে যার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে তাকে পুনরায় তলব করে পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন এবং এরূপ কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য আদালতের ন্যায়বিচারের জন্য অত্যাবশ্যক মর্মে প্রতীয়মান হলে, আদালত তাকে সমন করে তার জবানবন্দি গ্রহণ করবেন কিংবা পুনরায় তলব করে পুনরায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন। 

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898, -Section 540: Power to summon material witness or examine person present:
Any Court may, at any stage of any inquiry, trial or other proceeding under this Code, summon any person as a witness, or examine any person in attendance, though not summoned as a witness, or recall and re-examine any person already examined; and the Court shall summon and examine or recall and re-examine any such person if his evidence appears to it essential to the just decision of the case.
৫৪১.
সরকারের বাজেয়াপ্তির আদেশ ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ রদ করতে পারে?
  1. ৯৯ ধারা
  2. ১০০ ধারা
  3. ৯৯ঘ ধারা
  4. ৯৯ক ধারা
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-৯৯-ঘ: অনুযায়ী  বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিলের আবেদনপত্র পাবার পর হাইকোট বিভাগের স্পেশাল বেঞ্চ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, যে সংবাদপত্র বা পুস্তক বা অন্য দলিল সম্পর্কে বাজেয়াপ্তির আদেশ রদের জন্য আবেদন করা হয়েছে, সে সকল প্রকাশনা সম্পর্কে কোন বিষয়, শব্দ বা দৃশ্যমান উপস্থাপনা নাই, তাহলে স্পেশাল বেঞ্চ বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিল করে দিবেন। স্পেশাল বেঞ্চের বিচারকগণের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতানুসারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
৫৪২.
একটি নালিশী মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখতে পান যে উক্ত নালিশ গ্রহণের তার কোনো এখতিয়ার নেই। তখন নিম্নের কোন আদেশটি সঠিক হবে?
  1. অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা
  2. আসামী যদি উপস্থিত থাকে তাকে মুক্তি দেওয়া
  3. ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করা
  4. উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য অভিযোগটি ফেরৎ দেওয়া
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২০১ ধারা অনুযায়ী এখতিয়ারবিহীন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করা হলে তিনি নালিশটি উপযুক্ত আদালতে পেশের জন্য ফেরত দিবেন। আর মৌখিকভাবে নালিশ করা হলে নালিশকারীকে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন।
৫৪৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারা অনুযায়ী, আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা সংযোজন করার পর কী করতে বাধ্য?
  1. নতুন করে অভিযোগ গঠন করতে
  2. অভিযুক্তকে নতুন করে গ্রেফতার করতে
  3. পাবলিক প্রসিকিউটরকে অনুমোদন নিতে
  4. অভিযুক্তকে পড়ে শোনাতে এবং ব্যাখ্যা করতে
ব্যাখ্যা
উত্তর: অভিযুক্তকে পড়ে শোনাতে এবং ব্যাখ্যা করতে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-
অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।
------------ 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 227: Court may alter charge-
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
৫৪৪.
দায়রা আদালতের বিচারকদের নিয়োগ করা হয় কোন অনুচ্ছেদের অধীনে?
  1. সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ
  2. সংবিধানের ১২৭ অনুচ্ছেদ
  3. সংবিধানের ১৩০ অনুচ্ছেদ
  4. সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯(৩এ) ধারায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে দায়রা আদালতের বিচারক, যেমন দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী করা হয়।
সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের কাঠামো এবং বিচারকদের নিয়োগের নিয়মাবলি নির্ধারণ করে, যার অধীনে সেশনস জজ, অতিরিক্ত সেশনস জজ এবং যুগ্ম সেশনস জজের নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
⇒ দায়রা আদালতের শ্রেণীবিভাগ- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরনের বিচারক থাকে। যথা-
ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ- সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 9: Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court ; and the Court of Session for Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.
(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore.
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts.
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct.
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
৫৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিদেশ থেকে প্রাপ্ত সমন বা পরোয়ানা বাংলাদেশে কার্যকর করার জন্য কোন ধারাটি প্রযোজ্য?
  1. ধারা ৯৩
  2. ধারা ৯৩ক 
  3. ধারা ৯৩খ 
  4. ধারা ৯৩গ 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯৩গ এর অধীনে বাংলাদেশের বাইরে কোনো আদালত কর্তৃক জারি করা সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাংলাদেশে তামিল বা কার্যকর করার বিধান বর্ণিত আছে। এই ধারা অনুসারে, যদি বাংলাদেশের কোনো আদালত বিদেশে সরকারের কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠিত বা পরিচালিত কোনো আদালত থেকে কোনো সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গ্রহণ করে, তবে তা বাংলাদেশের আদালত থেকে জারি করা সমন বা পরোয়ানার মতোই তামিল বা কার্যকর করা হবে। এটি বাংলাদেশের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে কার্যকর করা হয়, যেন এটি বাংলাদেশের কোনো আদালত থেকে প্রাপ্ত হয়েছে।

- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী— ধারা ৯৩গ (Section 93C) বলছে: যদি বিদেশে সরকারের অধিকারভুক্ত বা প্রতিষ্ঠিত কোনো কোর্ট থেকে আসামির বিরুদ্ধে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাংলাদেশে কার্যকর করার জন্য পাঠানো হয়, তবে বাংলাদেশ আদালত সেটিকে এমনভাবে কার্যকর করবে, যেন সেটি বাংলাদেশের কোনো আদালত কর্তৃক জারি করা হয়েছে।
------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 93C. Service and execution in Bangladesh of processes received from outside Bangladesh:
(1) Where a Court has received for service or execution a summons to, or a warrant for the arrest of, an accused person issued by a Court established or continued by the authority of the Government in exercise of its foreign jurisdiction, outside Bangladesh it shall cause the same to be served or executed as if it were a summons or warrant received by it from a Court in Bangladesh for service or execution within the local limits of its jurisdiction. 
(2) Where any warrant of arrest has been so executed the person arrested shall so far as possible be dealt with in accordance with the procedure prescribed by sections 85 and 86.

৫৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ অনুযায়ী, কোন কর্তৃপক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতি আবশ্যিক করতে পারেন?
  1. জেলা জজ
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পুলিশ অফিসার
  4. সরকারি আইনজীবী
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ থেকে ১৬২ এ পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উহার ব্যবহার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, তদন্তরত কোনো পুলিশ অফিসার লিখিত আদেশের মাধ্যমে তার নিজ থানা বা সংলগ্ন থানা এলাকার মধ্যে বসবাসরত এমন কোনো ব্যক্তিকে, যিনি মামলার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত বলে জানা যায়, তার কাছে উপস্থিত হওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী,
তদন্তকারী পুলিশ ঘটনার সাথে পরিচিত যেকোনো ব্যক্তিকে লিখিতভাবে তলব করতে পারে। এই ধারায় যে ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে তলব করা হয়, সে হাজির হতে বাধ্য কিন্তু পুলিশ তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে বলপ্রয়োগ করতে পারবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898,-Section 160- Police-officer's power to require attendance of witnesses:
Any police-officer making an investigation under this Chapter may, by order in writing, require the attendance before himself of any person being within the limits of his own or any adjoining station who, from the information given or otherwise, appears to be acquainted with the circumstances of the case; and such person shall attend as so required.

৫৪৭.
সংক্ষিপ্ত বিচারে প্রদত্ত কোন দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে?
  1. কোন ক্ষেত্রে আপিল করা যাবে না
  2. অনধিক ২০০ টাকা জরিমানা করলে
  3. ২০০ টাকার অধিক জরিমানা করলে
  4. সকল ক্ষেত্রে আপিল করা যাবে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।

ধারা ৪১২- দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে [In Case of Guilty Plead]
অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করলে এবং তার উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তকে দণ্ড দিলে, সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। কিন্তু উক্ত দণ্ডাদেশের পরিমাণ বা যৌক্তিকতা (extent or legality) বিষয়ে আপিল দায়ের করা যাবে। যেমন দোষ স্বীকার করার পরও অধিক দণ্ড দিলে, দণ্ডের পরিমাণের (quantum of sentence) বৈধতার বিষয়ে আপিল করা যেতে পারে।

ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases] 
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
অন্যদিকে যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

ধারা ৪১৪- সংক্ষিপ্ত বিচারের কতিপয় দণ্ডের ক্ষেত্রে [Summary Conviction] 

২৬০ ধারার অধীন সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা জরিমানা করলে, সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
অর্থাৎ ২০০ টাকার অধিক জরিমানা করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।

৫৪৮.
পলাতক ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক করার কত দিনের মধ্যে ক্রোক আদেশ প্রদানকারী আদালতে হাজির হয়ে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের আবেদন করা যায়?
  1. ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ক্রোকী সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের সময়সীমা- ৮৯ ধারামতে যার সম্পত্তি ক্রোক হয়েছে সেই ব্যক্তি ক্রোকের তারিখ থেকে ২ বৎসরের মধ্যে অথবা উক্ত ব্যক্তি ব্যতীত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কোন ব্যক্তি ৬ মাসের মধ্যে ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের আবেদন করতে পারে।

♦ পলাতক ব্যক্তি হুলিয়াতে নির্দেশিত সময়ের মধ্যে হাজির হলে অথবা সম্পত্তি ক্রোকের দিন থেকে ২ বছরের মধ্যে হাজির হয়ে যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে যে,
ⅰ) পলাতক ব্যক্তি হুলিয়া বিষয়ে অবগত ছিল না অথবা
ii) সে হুলিয়া এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে বা পলাতক ছিল না;

তাহলে আদালত ক্রোককৃত সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে ক্রোক ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ ক্রোককৃত সম্পত্তির মালিককে প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।
৫৪৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫ অনুযায়ী, কে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনা করতে পারেন?
  1. অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. সরকারি সলিসিটর
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫(১) অনুযায়ী বলা হয়েছে “...but no person, other than the Attorney-General, Government Solicitor, Public Prosecutor or other officer generally or specially empowered by the Government in this behalf, shall be entitled to do so without such permission.”
-  অর্থাৎ, নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনা করতে পারেন:
১) অ্যাটর্নি জেনারেল
২) সরকারি সলিসিটর (Government Solicitor)
৩) পাবলিক প্রসিকিউটর
৪) অথবা সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো কর্মকর্তা
- তাই সঠিক উত্তর: ঘ) উল্লিখিত সকলে। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৫- সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনার অনুমতি:
(১) কোন মামলার ইনকোয়ারি বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্‌বিষয় নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ কোন পুলিশ অফিসার ব্যতীত অন্য যেকোনো ব্যক্তিকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি সলিসিটর, পাবলিক প্রসিকিউটর অথবা সরকার কর্তৃক এই বিষয়ে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন অফিসার ব্যতীত কোন ব্যক্তি উক্ত অনুমতি ব্যতিরেকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অধিকারী হবে না।
(২) মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে এরূপ অফিসারের ধারা-৪৯৪ এ উল্লিখিত ক্ষমতা থাকবে এবং তাঁর প্রত্যাহৃত মামলার ক্ষেত্রে উক্ত ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।
(৩) বাদীপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী কোন ব্যক্তিতা ব্যক্তিগতভাবে বা কোন অ্যাডভোকেট কর্তৃক এরূপ করতে পারবেন।
(৪) যে অপরাধের জন্য আসামীর বিচার চলছে সেই অপরাধের কোন তদন্তে অংশ গ্রহণ করে থাকলে কোন পুলিশ অফিসারকে বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 495- Permission to conduct prosecution:
(1) Any Magistrate inquiring into or trying any case may permit the prosecution to be conducted by any person other than an officer of police below the rank to be prescribed by the Government in this behalf but no person, other than the Attorney-General, Government Solicitor, Public Prosecutor or other officer generally or specially empowered by the Government in this behalf, shall be entitled to do so without such permission.
(2) Any such officer shall have the like power of withdrawing the prosecution as is provided by section 494, and the provisions of that section shall apply to any withdrawal by such officer.
(3) Any person conducting the prosecution may do so personally or by a pleader.
(4) An officer of police shall not be permitted to conduct the prosecution if he has taken any part in the investigation into the offence with respect to which the accused is being prosecuted.
৫৫০.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিচের কোন আদালতের রিভিশনের ক্ষমতা নেই?
  1. দায়রা জজ
  2. যুগ্ম দায়রা জজ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. অতিরিক্ত দায়রা জজ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ, ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজ, এবং ৪৩৯ক(৩) ধারায় অতিরিক্ত দায়রা জজ-এর রিভিশন ক্ষমতা আছে। তবে যুগ্ম দায়রা জজের রিভিশন ক্ষমতা নেই।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী, রিভিশনের ক্ষমতা নির্দিষ্ট আদালতের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। নিচে এই ক্ষমতা সম্পর্কিত বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
হাইকোর্ট বিভাগ (ধারা ৪৩৯): ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশনের ক্ষমতা রয়েছে। তারা নিম্ন আদালতের রায় বা আদেশ পরীক্ষা করে ত্রুটি, অবৈধতা বা অন্যায় সংশোধন করতে পারে। এটি তাদের বিস্তৃত এখতিয়ারের অংশ।
দায়রা জজ (ধারা ৪৩৯ক): ধারা ৪৩৯ক অনুযায়ী, দায়রা জজেরও রিভিশনের ক্ষমতা রয়েছে। তারা তাদের অধীনস্থ আদালতের (যেমন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) রায় বা আদেশ পর্যালোচনা করতে পারেন। দায়রা জজের রিভিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়, এবং এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যায় না।
অতিরিক্ত দায়রা জজ (ধারা ৪৩৯ক(৩)): ধারা ৪৩৯ক(৩) অনুযায়ী, অতিরিক্ত দায়রা জজও রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, যদি দায়রা জজ সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে কোনো রিভিশন মামলা তাদের কাছে প্রেরণ করেন। এ ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত দায়রা জজ দায়রা জজের মতো একই রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
যুগ্ম দায়রা জজ: ফৌজদারি কার্যবিধিতে যুগ্ম দায়রা জজের জন্য রিভিশনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তারা সাধারণত মূল বিচারিক কার্যক্রম (ট্রায়াল) পরিচালনা করেন, কিন্তু রিভিশন শুনানির এখতিয়ার তাদের নেই। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির একটি স্পষ্ট বিধান।

অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত দায়রা জজের রিভিশনের ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু যুগ্ম দায়রা জজের এই ক্ষমতা নেই। তাই সঠিক উত্তর হলো যুগ্ম দায়রা জজ।

৫৫১.
'ক' The Penal Code,1860 এর ৩২৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট 'ক' কে ১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। 'ক' উক্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল দায়েরের শর্তে জামিনের আবেদন করেন। 'ক' এর দরখাস্তটি The Code of Criminal Procedure,1898 এর কত ধারার অধীন করা হয়েছে?
  1. ধারা ৪২৮
  2. ধারা ৪২৬
  3. ধারা ৪২৭
  4. ধারা ৪২১
ব্যাখ্যা
আপিল চলমান থাকলে দণ্ড স্থগিত এবং জামিনের জন্য ৪২৬ ধারায় আবেদন করা যায়। ৪২৬ ধারায় আপিল আদালতকে আপিল চলাকালীন সময় দণ্ড স্থগিত এবং আসামীকে জামিন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 

উক্ত ধারা অনুযায়ী আপিল চলমান থাকাকালে আপিল আদালতে যে দণ্ডাদেশ বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, সেই দণ্ডাদেশ বা আদেশ কার্যকর করা স্থগিত করতে পারে এবং আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে। বিচারিক আদালত কর্তৃক কোন ব্যক্তি অনধিক ১ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হলে এবং উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান থাকলে এবং বিচারিক আদালত যদি মনে করে যে, উক্ত ব্যক্তি আপীল দায়ের করতে পারে তাহলে বিচারিক আদালত উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে।
হাইকোর্ট বিভাগ যদি সন্তুষ্ট হয় যে, দণ্ডিত ব্যক্তিকে আপিল বিভাগে অনুমতি সাপেক্ষে আপীল [leave to appeal] করার বিশেষ অনুমতি দেয়া হয়েছে, তখন হাইকোর্ট বিভাগ যে দণ্ড দিয়েছে আপীল চলাকালীন সময় উক্ত দণ্ড স্থগিত বা আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে।
৫৫২.
অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে,কখন তা গুরুতর বলে গণ্য হবে না?
  1. যদি তা অভিযুক্তের বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে
  2. যদি তা ন্যায় বিচার ব্যাহত না করে
  3. পুলিশ গুরুতর মনে না করলে
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
• অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কিছু বাদ পড়লে তা যদি অভিযুক্ত ব্যক্তির বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে এবং তা যদি ন্যায় বিচার ব্যাহত না করে,তাহলে তা গুরুতর বলে গণ্য হবে না।

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৫ এ দেয়া আছে-
অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে তা যদি আসামির বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে এবং তা যদি ন্যায় বিচার ব্যাহত না করে,তাহলে তা মামলার কোন পর্যায়ে গুরুতর বলে গণ্য হবে না।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩২ এ চার্জে কৃত গুরতর ভুলের ফলাফল দেয়া হয়েছে-
> আদালত যদি মনে করেন যে,অভিযােগ গঠিত হওয়ায় কিংবা উহাতে ভুল থাকায় কোন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছে,তা হলে নতুন বিচারের নির্দেশ দিতে পারেন।
> এছাড়া কোন বৈধ অভিযােগ প্রণয়ন করা না গেলে,দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।
৫৫৩.
কোন ক্ষেত্রে আসামীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা যাবে?
  1. আসামি পলাতক এবং গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই
  2. আসামি জামিনে মুক্ত আছে
  3. আসামি আগাম জামিন নিয়েছে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ধারা ৫১২ (আসামীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ)-

(১) যদি প্রমাণিত হয় যে, আসামী পালিয়েছে এবং তার গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে যে অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অপরাধের জন্য তাকে বিচার করার বা বিচারের জন্য প্রেরণ করার ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত তার অনুপস্থিতিতে বাদীপক্ষ দ্বারা দাখিলকৃত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দী গ্রহণ করতে ও তা লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। এরুপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে অথবা বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক হয়ে পড়লে প্রদত্ত সাক্ষ্য সে যে অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে সেই অপরাধের ইনকোয়ারী বা বিচারে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে ।

(২) অপরাধী অজানা হলে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ-
যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন অজানা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে, তাহলে হাইকোর্ট ডিভিশন নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট এই বিষয়ে ইনকোয়ারী করবেন এবং অপরাধ সম্পর্কে যারা সাক্ষ্য দিতে পারেন তাদেরকে পরীক্ষা করবেন। এরূপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার অযোগ্য হয়ে পড়লে বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে থাকলে গৃহীত জবানবন্দী পরবর্তীকালে উক্ত অপরাধ অভিযুক্ত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে।

Section 512: Record of evidence in absence of accused
(1) If it is proved that an person has absconded, and that there is no immediate prospect of arresting him, the Court competent to try such person for the offence complained of may, in his absence, examine the witnesses (if any) produced on behalf of the prosecution, and record their depositions. Any such deposition may be given in evidence against him on the inquiry into, or trial for, the offence with which he is charged, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or incon- venience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable.

(2) Record of evidence when offender unknown.-
If it appears that an offence punishable with death or transportation has been committed by some person or persons unknown, the High Court Division may direct that any Magistrate of the first class shall hold an inquiry and examine any witnesses who can give evidence concerning the offence. Any depositions so taken may be given in evidence against any person who is subsequently accused of the offence, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or beyond the limits of Bangladesh.
 
৫৫৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারা অনুযায়ী, কোন শর্তে একজন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার করতে পারবেন?
  1. অপরাধের গুরুত্ব কম হলে
  2. মামলার সকল পক্ষ সম্মত হলে
  3. উর্দ্ধতন আপিল আদালতের অনুমতি থাকলে
  4. শুধুমাত্র সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫৫৬: যে সকল মামলায় জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকে-
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারা অনুসারে যে মামলায় কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে একজন পক্ষ বা ব্যক্তিগত ভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, উর্দ্ধতন আপিল আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সে মামলার বিচার করবেন না। কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজের প্রদত্ত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শ্রবণ করবেন না।

Section 556: Case in which Judge or Magistrate is personally interested
No Judge or Magistrate shall, except with the permission of the Court to which an appeal lies from his Court, try for trial any case to or in which he is a party, or personally interested, and no Judge or Magistrate shall hear an appeal from any judgment or order passed or make himself.

এই ধারায় 'Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি nemo judex in causa sua in propria causa বা nemo debet esse judex in propria causa অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না। তবে উর্দ্ধতন আপিল আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিচার করতে পারবে।
৫৫৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৪ ধারা অনুসারে নিম্নের কোন ক্ষেত্রে সমন বা পরোয়ানা ইস্যু করা যায় না?
  1. যদি বাদীপক্ষ সাক্ষীদের তালিকা প্রদান না করে থাকে 
  2. যদি বাদীপক্ষের সকল সাক্ষী মামলা দায়েরের দিনে হাজির না থাকে
  3. যদি নালিশের সত্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকে
  4. বর্ণিত যেকোনো কারণই প্রযোজ্য হতে পারে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৪ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেটের মতে,

i. মামলায় অগ্রসর হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে এবং
ii. এমন একটি মামলা বলে মনে হয়,যেক্ষেত্রে দ্বিতীয় তফসিলের চতুর্থ কলাম অনুসারে প্রথমে সমন ইস্যু করতে হবে, সেই ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজিরার জন্য সমন ইস্যু করবে।

কিন্তু যদি এমন একটি মামলা বলে মনে হয়, যেক্ষেত্রে চতুর্থ কলাম অনুসারে প্রথমে ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে হয়, সেই ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট-

i. ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে বা
ii. যদি তিনি উপযুক্ত মনে করে, হাজির হওয়ার জন্য সমন ইস্যু করতে পারে।

•  অর্থাৎ সমন কেস হলে প্রথমে সমন দিবে কিন্তু ওয়ারেন্ট কেস হলে ওয়ারেন্ট দিবে। কিন্তু ওয়ারেন্ট কেসে প্রয়োজন মনে করলে সমনও দিতে পারে তবে, প্রসিকিউশন(বাদী) পক্ষের সাক্ষীর তালিকা জমা না দেওয়া পর্যন্ত কোন সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করবে না। [২০৪(১ক)]
৫৫৬.
ধারা ৪১৩ অনুযায়ী, কোন পরিস্থিতি “তুচ্ছ মামলা” হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ১ মাস অথবা জরিমানা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা হলে
  2. কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ১ মাস অথবা জরিমানা সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা হলে
  3. কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ৩ মাস অথবা জরিমানা সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা হলে
  4. কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ৬ মাস অথবা জরিমানা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা হলে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ১ মাস অথবা জরিমানা সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা হলে।

ধারা ৪১৩ – তুচ্ছ মামলায় আপিলের অধিকার নেই:
উপরের বিধানগুলো থাকা সত্ত্বেও, যে সকল ক্ষেত্রে দণ্ডিত ব্যক্তি তুচ्छ শাস্তি পেয়েছেন, সেখানে তিনি আপিল করতে পারবেন না।

যে ক্ষেত্রে আপিল করা যাবে না:
যদি সেশন আদালত এক মাসের বেশি নয়—এমন মেয়াদের সাধারণ কারাদণ্ড (imprisonment) প্রদান করে, তবে সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।

যদি সেশন আদালত, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা প্রথম শ্রেণির অন্যান্য ম্যাজিস্ট্রেট ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদান করেন, তবে সেই জরিমানার বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।
 
ব্যাখ্যা: যদি আদালত জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে (default of payment of fine) কারাদণ্ড প্রদান করে, কিন্তু কোনো প্রকৃত (substantive) কারাদণ্ড না দেয়, তাহলে সেই ডিফল্ট কারাদণ্ডের বিরুদ্ধেও কোনো আপিল করা যাবে না।

৫৫৭.
কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৯৮ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল করেন-
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত
  3. দায়রা জজ আদালত
  4. আপীল বিভাগ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল বা পরিবর্তন করে অন্য কোনো দণ্ড, এমনকি তা বাতিল করার আদেশ দিতে পারেন।

• ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৩৭৪ থেকে ৩৮০ ধারা পর্যন্ত দণ্ড অনুমোদনের বিধানসমূহ রয়েছে।দণ্ড অনুমোদন বলতে মূলত মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের বিষয় বোঝায়। কার্যবিধির ধারা ৩১ এ বলা আছে যে,কোনো দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে বর্ণিত যেকোনো দণ্ড প্রদান করতে পারেন।কিন্তু যদি কোনো মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তবে তা অবশ্যই হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে। 
অর্থাৎ,মৃতুদণ্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট এর ৩৭৪ ধারার অধীন অনুমোদন নিতে হবে।৩৭৫ ধারা অনুসারে হাইকোর্ট চাইলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দণ্ড বিষয়ে বা তার নির্দোষিতা বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করতে পারবেন।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৬ ধারানুযায়ী দায়রা আদালত প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করলে হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মৃত্যুদণ্ড-
⇒ বহাল রাখতে পারেন, বা
⇒ বাতিল করতে পারেন,বা
⇒ অন্য কোন দন্ড দিতে পারেন,বা
⇒ খালাস দিতে পারেন।

তবে, শর্ত এই যে আসামি আপিল করলে আপিলের রায় না হওয়া পর্যন্ত,অথবা আপিল না করলে আপিলের জন্য নির্ধারিত সময় পার না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট শাস্তির অনুমোদনের আদেশ প্রদান করবে না।
৫৫৮.
যেই মামলা একমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য, সেই মামলা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কাকে নোটিশ দিতে হবে?
  1. অভিযোগকারীকে
  2. আসামী পক্ষকে
  3. তদন্তকারী কর্মকর্তাকে
  4. পাবলিক প্রসিকিউটরকে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫(গ) তে যে মামলাসমূহ একমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য,সেই সকল মামলার স্থানান্তর সম্পর্কে বলা হয়েছে।অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে যদি ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে,অপরাধটি একমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য তাহলে তিনি-

> মামলাটি দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন;
> জামিন সম্পর্কে এই কার্যবিধির বিধানসমূহের শর্ত সাপেক্ষে আসামিকে হেফাজতে রাখার জন্য প্রেরণ করবেন;
> সাক্ষ্যের জন্য উপস্থাপন করতে হবে এরূপ দলিলাদি এবং জিনিসপত্র(যদি থাকে) তা সহ আদালতে প্রেরণ করবেন;
> পাবলিক প্রসিকিউটরকে নোটিশ দিবেন
৫৫৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারায় কী সম্পর্কে বলা আছে ?
  1. সমন জারি
  2. গ্রেফতারের পদ্ধতি
  3. আটক ব্যক্তিদের তল্লাশী
  4. মহিলাদের দেহ তল্লাশী
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারায় গ্রেফতারের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই ধারা অনুযায়ী সাধারনত কোন ব্যক্তির দেহ স্পর্শ, অবরোধ বা বন্দী করে গ্রেফতার করা যায়।
♦ গ্রেফতারে বাধা প্রদান করলে গ্রেফতারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা যে কোন ধরনের পন্থা অবলম্বন করতে পারবে। তবে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত না হলে, গ্রেফতার করতে গিয়ে কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যাবে না।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ ধারার বিধান গ্রেফতারের পদ্ধতি: (১) কথা অথবা কাজের দ্বারা হেফাজতে আত্মসমর্পণ করা না হলে পুলিশ অফিসার অথবা গ্রেফতারকারী অন্য কোন ব্যক্তি গ্রেফতার করার সময় যাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তার দেহ স্পর্শ বা আটক করবেন।
(২) গ্রেফতারের চেষ্টায় প্রতিরোধঃ এরূপ ব্যক্তি যদি বলপূর্বক তাকে গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধ্য দেয় অথবা গ্রেফতার এড়াইতে চেষ্টা করে তাহলে উক্ত পুলিশ অফিসার পারবেন ।
(৩) এই ধারায় এরূপ কোন অধিকার দেয়া হয়নি যার ফলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দ্বারা শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধে অভিযুক্ত নহে এরূপ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানো যেতে পারে।

♦ ৪৬ ধারার ২ উপধারা মতে, অপরাধীকে গ্রেফতার করার জন্য গ্রেফতারকারী ব্যক্তি তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। এটা, গ্রেফতার কার্যকরী করার জন্য নিয়োগ প্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
৫৬০.
ধারা ২৬৪ক অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়া কোথায় করা যেতে পারে?
  1. শুধুমাত্র আদালতের কক্ষে
  2. শুধুমাত্র জেল হেফাজতে
  3. শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. আদালতের এখতিয়ারাধীন যেকোনো স্থানে
ব্যাখ্যা

ধারা ২৬৪ক – সংক্ষিপ্ত বিচারের বিশেষ প্রক্রিয়া (Special Procedure for Summary Trials)
ধারা ২৬২-এ যা কিছু থাকুক না কেন, চার্জ তৈরি করা, প্রমাণ রেকর্ড করা, অভিযুক্তের পরীক্ষা (ধারা ৩৪২ অনুযায়ী), এবং রায় ঘোষণার কাজ যদি সম্ভব হয়, তবে একই সেশনে এবং আদালতের এখতিয়ারাধীন যে কোনো স্থানে সম্পন্ন করা যেতে পারে।

৫৬১.
'ক' এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। আদালত কার নির্দেশে তৈরীকৃত অভিযোগ অনুযায়ী উক্ত মামলা আমলে নিতে পারে?
  1. সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের
  2. হাইকোর্ট বিভাগের
  3. হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃক্ষের
  4. দায়রা আদালতের
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৫ থেকে ১৯৯ ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম আলোচনা করা হয়েছে।

• ১৯৬ ধারা অনুযায়ী-
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধসমূহ যেমন রাষ্ট্রদ্রোহিতা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, বা দণ্ডবিধির ১০৮ক, ১৫৩ক, ২৯৪ক, ২৯৫ক বা ৫০৫ ধারার অপরাধসমূহ বিচারক এবং সরকারী কর্মকর্তার বিচার সরকারের বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তৈরীকৃত অভিযোগ অনুযায়ী আমলে নিতে পারে।

• ১৯৭ ধারা অনুযায়ী-
বিচারক এবং সরকারী কর্মকর্তার বিচার সরকারের অনুমতি ছাড়া অভিযোগ আমলে নেয়া যাবেনা।

• ১৯৮ ধারা অনুযায়ী-
দণ্ডবিধির ৪৯৩ থেকে ৪৯৬ পর্যন্ত বিবাহ সম্পর্কিত অপরাধ, যেমন মুসলিম নারী কর্তৃক বিবাহ বলবৎ থাকাবস্থায় পুনরায় বিবাহ করা বা দ্বিগামিতা [bigamy] শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নেয়া যাবে।

• ১৯৯ ধারা অনুযায়ী-
দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার অধীন ব্যভিচার [Adultery] বা ৪৯৮ ধারায় অপরাধজনক উদ্দেশ্যে বিবাহিত নারীকে প্ররোচিত করে নিয়ে যাওয়া অপরাধের ক্ষেত্রে বিবাহিত নারীর স্বামী কর্তৃক বা স্বামীর অনুপস্থিতিতে উক্ত অপরাধ সংঘটনের সময় যে সকল লোকজন উক্ত মহিলাকে দেখাশোনা করতো, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমলে নেয়া যাবে।
৫৬২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬২ ধারার অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অপরাধের বিচার করা যায়?
  1. প্রমাণিত অপরাধ
  2. গুরুতর অপরাধ
  3. লঘু শাস্তির অপরাধ
  4. খালাস পাওয়া অপরাধ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬২ ধারার অধীনে সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি লঘু শাস্তির অপরাধের জন্য ব্যবহৃত হয়। সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে, ছোট বা কম গুরুতর অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। এই ধরনের বিচারের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর হতে পারে, এবং এটি সাধারণত প্রমাণিত অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণের মতো অপরাধ, সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় পড়ে না, কারণ এসব অপরাধের জন্য বিস্তারিত বিচার এবং দীর্ঘতর প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দুই বছরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া যাবে না।
- গুরুতর নয় এমন অপরাধ এবং লঘু শাস্তির অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা যায়। ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ এবং ধারা ২৬০-২৬৫ এ সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। ধারা ২৬২-এ সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি বর্ণিত। সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ডাদেশের সর্বোচ্চ সীমা দুই বছর কারাদণ্ড।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 262. Procedure for summary trials:
(1) In trials under this Chapter, the procedure prescribed in Chapter XX shall be followed except as hereinafter mentioned.
→ Limit of imprisonment:
(2) No sentence of imprisonment for a term exceeding two years shall be passed in the case of any conviction under this Chapter.
৫৬৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মফস্বলের জন্য জাস্টিস অব দি পিস নিয়োগ দেন -
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. দায়রা জজ
  3. সরকার
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ থেকে ২৫ ধারায় জাস্টিসেস অব দি পিসের বিধান রয়েছে যা নিম্নরূপ-
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা-২২: মফস্বলের জন্য জাস্টিস অব দি পিস (Justice of the peace for the mafassal)- সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের দ্বারা বাংলাদেশের যে কোন উপযুক্ত নাগরিককে কোন স্থানীয় এলাকার জন্য জাস্টিস অব দি পিস হিসাবে নিয়োগ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা-২৫: পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস (Ex-officio Justices of the Peace)- ২৫ ধারার বিধান অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিগণ পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিসেস অব দি পিস বলে গণ্য হবেন এবং দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকার বলে নিজ নিজ এলাকার জন্য জাস্টিসেস অব দি পিস হবেন। 
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ সারা বাংলাদেশের যে কোন স্থানে বিচার গ্রহণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আদেশ দিতে পারেন।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 22. Justice of the peace for the mafassal:
 The Government may, by notification in the official Gazette, appoint such persons resident within Bangladesh and not being the subjects of any foreign State as it thinks fit to be Justices of the Peace within and for the local area mentioned in such notification.

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 25- Ex-officio Justices of the Peace:
In virtue of their respective offices, the Judges of the Supreme Court  are Justices of the Peace within and for of the whole of Bangladesh, Sessions Judges, Chief Judicial Magistrate and Metropolitan Magistrates are Justices of the Peace within their respective jurisdictions.
৫৬৪.
রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়েরকৃত কোন মামলা আদালত আমলে নিবেন না-
  1. সরকারের নালিশ ব্যতীত
  2. সুপ্রীম কোর্টের আদেশ ব্যতীত
  3. সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নালিশ ব্যতীত
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৫ থেকে ১৯৯ ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম আলোচনা করা হয়েছে।

• ধারা ১৯৬ অনুযায়ী, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধসমূহ যেমন রাষ্ট্রদ্রোহিতা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা দণ্ডবিধির ১০৮ক, ১৫৩ক, ২৯৪ক, ২৯৫ক বা ৫০৫ ধারার অপরাধসমূহ সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত আমলে নিতে পারেন।
৫৬৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭ ধারা কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. তল্লাশি
  2. দণ্ডাদেশ
  3. জামিন
  4. সাক্ষ্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭ ধারার বিধান- যাহাকে গ্রেফতার করা হইবে, তিনি যেস্থানে প্রবেশ করিয়াছেন, সেই স্থান তল্লাশি:
গ্রেফতারী পরোয়ানা মোতাবেক কার্যরত ব্যক্তি অথবা গ্রেফতারের অধিকারী পুলিশ অফিসারের যদি বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হইবে তিনি কোন স্থানে প্রবেশ করিয়াছেন বা কোন স্থানের মধ্যে আছেন, তাহা হইলে উক্ত স্থানে বসবাসকারী বা উক্ত স্থানের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপরোক্তরূপে কার্যরত ব্যক্তি বা উক্ত পুলিশ অফিসারের দাবিক্রমে তাহাকে অবাধে উক্ত স্থানে প্রবেশ করিতে দিবেন এবং উক্ত স্থানে তল্লাশির জন্য সকল প্রকার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ-সুবিধা দিবেন।
৫৬৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯ক ধারার অধীন সরকার কর্তৃক প্রকাশনা (সংবাদপত্র/পুস্তক/দলিল) বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিলের জন্য কত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে হবে?
  1. ১ মাসের
  2. ২ মাসের
  3. ৬ মাসের
  4. ১৫ দিনের
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯খ ধারার বিধান: ৯৯ক ধারামতে বাজয়াপ্তকরণের ঘোষণা করা হয়েছে যে সংবাদপত্র, পুস্তক বা অন্য দলিল সম্পর্কে, তাতে স্বার্থ সম্পন্ন যে কোন ব্যক্তি সরকারী আদেশের ঐরূপ আদেশ প্রকাশিত হওয়ার তারিখের ২(দুই) মাসের মধ্যে ঐ আদেশ বাতিলের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে দরখাস্ত পেশ করতে পারেন এই কারণ দর্শিয়ে যে, সংবাদপত্রের ঐ খন্ডে বা পুস্তকে বা অন্য কোন দলিলে, যার সম্পর্কে ঐ আদেশ করা হয়েছে, ৯৯ক ধারার উপধারা (১) এ বর্ণিত কোন বিষয়বস্তু বিধৃত ছিল না।
৫৬৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১ অনুযায়ী কোন পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তিকে সিভিল জেল (দেওয়ানী কারাগার) থেকে ক্রিমিনাল জেলে (ফৌজদারী কারাগার) স্থানান্তর করা যাবে?
  1. পরিবারের অনুরোধে
  2. জেল কর্তৃপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে
  3. যখন তিনি স্বেচ্ছায় স্থানান্তর চাইবেন
  4. আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১(২) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দেওয়ানী জেলে বন্দী থাকেন এবং তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে কারাদণ্ড বা হেফাজতের যোগ্য হন, তাহলে সেই কারাদণ্ড বা হেফাজতের আদেশদাতা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে পারেন।
- এটি সাধারণত তখনই হয় যখন একজন ব্যক্তি দেওয়ানী মামলা অনুসারে জেলে ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হন বা হেফাজতের প্রয়োজন হয়।
অর্থাৎ শুধু আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে একজন বন্দীকে সিভিল জেল থেকে ক্রিমিনাল জেলে স্থানান্তর করা যাবে।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিলে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১ - কারাবাসের স্থান নির্ণয়ের ক্ষমতা:
(১) বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশ প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।
(২) দেওয়ানী কারাগারে আটক আসামী অথবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানী কারাগারে প্রত্যাবর্তন:
এই বিধির অধীনে কারাদণ্ড বা হেফাজতে রাখার আদেশপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি দেওয়ানী জেলে আটক থাকেন, তবে যিনি তার কারাদণ্ড বা হেফাজতের আদেশ দিয়েছেন সেই আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিতে পারেন যে, তাকে ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত করা হবে।
(৩) কোন ব্যক্তি (২) উপধারার অধীন ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হলে তা হতে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানী জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না
ক) ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারার অধীন সে দেওয়ানী জেল হতে অব্যাহতি পেয়েছে বলে গণ্য করতে হবে, অথবা
খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানী জেলে আটকের আদেশ দিয়াছিলেন সেই আদালত ফৌজদারী জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারার অধীন সে অব্যাতি পাবার অধিকারী।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 541.Power to appoint place of imprisonment:
(1) Unless when otherwise provided by any law for the time being in force, the Government may direct in what place any person liable to be imprisoned or committed to custody under this Code shall be confined.
Removal to criminal jail of accused or convicted persons who are in confinement in civil jail, and their return to the civil jail:
(2) If any person liable to be imprisoned or committed to custody under this Code is in confinement in a civil jail, the Court or Magistrate ordering the imprisonment or committal may direct that the person be removed to a criminal jail. 
(3) When a person is removed to a criminal jail under sub-section (2), he shall, on being released therefrom, be sent back to the civil jail, unless either– 
(a) three years have lapsed since he was removed to the criminal jail, in which case he shall be deemed to have been discharged from the civil jail under section 58 of the Code of Civil Procedure, 1908; or
(b) the Court which ordered his imprisonment in the civil jail has certified to the officer in charge of the criminal jail that he is entitled to be discharged under section 58 of the Code of Civil Procedure, 1908.
৫৬৮.
'জামিনযোগ্য অপরাধের জামিনের বিধান'- ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ৪৯২ ধারার
  2. ৪৯৪ ধারার
  3. ৪৯৬ ধারার
  4. ৪৯৭ ধারার
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারার বিধান- জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন:
যদি কোনো ব্যক্তি, যিনি অজামিনযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত নন, তাকে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করে বা আটক করে, অথবা আদালতে হাজির করা হয়, এবং তিনি জামিন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।
তবে শর্ত থাকে যে: সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত চাইলে, জামিন নেওয়ার পরিবর্তে ওই ব্যক্তিকে কোনো জামিনদার ছাড়াই একটি বন্ড স্বাক্ষর করিয়ে মুক্তি দিতে পারেন, যাতে তিনি ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হন।
এছাড়াও, এই ধারার কোন কিছুই ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার বিধানকে প্রভাবিত করবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 496.In what cases bail to be taken:
When any person other than a person accused of a non-bailable offence is arrested or detained without warrant by an officer in charge of a police-station, or appears or is brought before a Court, and is prepared at any time while in the custody of such officer or at any stage of the proceedings before such Court to give bail, such person shall be released on bail:
Provided that such officer or Court, if he or it thinks fit, may, instead of taking bail from such person, discharge him on his executing a bond without sureties for his appearance as hereinafter provided: 
Provided, further, that nothing in this section shall be deemed to affect the provisions of section 107, sub-section (4), or section 117, sub-section (3).
৫৬৯.
'একজন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেটগণের বসার সময়, স্থান বা বিচার্য বিষয়ের শ্রেণি সম্পর্কে বিধি প্রণয়ন করতে পারেন' - এই ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধির কোথায় বর্ণিত আছে?
  1. ১৬ ধারা
  2. ১৭ ধারা
  3. ২০ ধারা
  4. ২১ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ২১(১): চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (Chief Metropolitan Magistrate):
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার এখতিয়ারাধীন এলাকায় এই বিধি বা বর্তমানে প্রযোজ্য কোনো আইনের অধীনে তাঁর বা কোনো মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

এছাড়াও, তিনি সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সময় সময়ে এই বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়ম তৈরি করতে পারবেন, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করবে:
(ক) মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালতের কার্যপ্রণালী, কাজের বণ্টন এবং আদালতের পদ্ধতি।
(খ) মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটদের বেঞ্চ (Bench) গঠনের নিয়মাবলী।
(গ) এসব বেঞ্চ কোন সময়ে এবং কোথায় বসবে, তা নির্ধারণ।
(ঘ) বেঞ্চে বসা ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে তা কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সেই পদ্ধতি।
(ঙ) আরও যে-কোনো বিষয়, যা একজন প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (Chief Judicial Magistrate) তাঁর অধীনস্থ ম্যাজিস্ট্রেটদের উপর সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারেন, তাও অন্তর্ভুক্ত।
৫৭০.
Section 36 of the Criminal Procedure Code grants Magistrates which type of powers?
  1. Special powers
  2. Ordinary powers
  3. Executive powers
  4. Additional powers
ব্যাখ্যা
Section 36- Ordinary powers of Magistrates:
All Judicial and Executive Magistrates have the powers hereinafter respectively conferred upon them and specified in the third schedule. Such powers are called their "ordinary powers".

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬ ধারা- ম্যাজিষ্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা:
সকল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর কার্যক্রমে অর্পিত ৩য় তফসিল এ বর্ণিত ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ক্ষমতা তাঁদের "সাধারণ ক্ষমতা" নামে আখ্যায়িত।
৫৭১.
The principle of “protection against double jeopardy” is provided under which section of the Criminal Procedure Code?
  1. Section 401
  2. Section 403
  3. Section 405
  4. Section 412
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (Code of Criminal Procedure, 1898)-এর ধারা ৪০৩ (Section 403)-এ “protection against double jeopardy” নীতি প্রদান করা হয়েছে। এই ধারার শিরোনাম হলো: “Person once convicted or acquitted not to be tried for same offence”।
- এতে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে যদি একটি সক্ষম এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত (Court of competent jurisdiction) দ্বারা একই অপরাধের জন্য বিচার করে দোষী সাব্যস্ত (convicted) বা খালাস (acquitted) করা হয়, তাহলে সেই দোষী সাব্যস্তি বা খালাস বলবৎ থাকাকালীন তাকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বিচার করা যাবে না। এটি nemo debet bis vexari (কোনো ব্যক্তিকে একই কারণে দু'বার দণ্ড দেওয়া যাবে না) নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত।

এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-
১. অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে অপরাধের চার্জ করা হয়েছে তাকে সেই অপরাধের জন্য বিচার করতে
২. উক্ত বিচার অবশ্যই এক্তিয়ারসম্পন্ন কোন আদালত কর্তৃক হতে হবে
৩. বিচারে অবশ্যই খালাসের [Acquittal] বা দণ্ডের [Conviction] আদেশ থাকতে হবে।

দোবারা সাজা নীতি প্রযোজ্য হবে না-
১. অভিযোগ খারিজ করে যদি কোন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বা
২. ২৪৯ ধারার অধীন মামলার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যদি কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয় বা
৩. কোনো আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হলে,

- যেহেতু উপরে উল্লেখিত অব্যাহতি বা মুক্তি ৪০৩ ধারার অধীন খালাস বলে গণ্য হবে না, তাই উক্ত ক্ষেত্রে ৪০৩ ধারার দোবারা সাজা বা jeopardy নীতি প্রযোজ্য হবে না।
-অব্যাহতি বা মুক্তির আদেশের বিরুদ্ধে ৪০৩ ধারা প্রযোজ্য না।
-অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে অভিযোগ হতে অব্যাহতি বা মুক্তি দেওয়া হলে তাকে পুনরায় বিচারের সম্মুখীন করা যাবে এবং এই ক্ষেত্রে ৪০৩ ধারার double Jeopardy নীতি বাধা হবে না।
-----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-403.Person once convicted or acquitted not to be tried for same offence:
(1) A person who has once been tried by a Court of competent jurisdiction for an offence and convicted or acquitted of such offence shall, while such conviction or acquittal remains in force, not be liable to be tried again for the same offence, nor on the same facts for any other offence for which a different charge from the one made against him might have been made under section 236, or for which he might have been convicted under section 237. 
(2) A person acquitted or convicted of any offence may be afterwards tried for any distinct offence for which a separate charge might have been made against him on the former trial under section 235, sub-section (1). 
(3) A person convicted of any offence constituted by any act causing consequences which, together with such act, constituted a different offence from that of which he was convicted, may be afterwards tried for such last-mentioned offence, if the consequences had not happened, or were not known to the Court to have happened, at the time when he was convicted. 
(4) A person acquitted or convicted of any offence constituted by any acts may, notwithstanding such acquittal or conviction, be subsequently charged with, and tried for, any other offence constituted by the same acts which he may have committed if the Court by which he was first tried was not competent to try the offence with which he is subsequently charged. 
(5) Nothing in this section shall affect the provisions of section 26 of the General Clauses Act, 1897, or section 188 of this Code. 
Explanation- The dismissal of a complaint, the stopping of proceedings under section 249, or the discharge of the accused is not an acquittal for the purposes of this section.

৫৭২.
পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে কিনা- তা ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের কোন কলামে উল্লেখ থাকে?
  1. ৩য় কলাম
  2. ৪র্থ কলাম
  3. ৫ম কলাম
  4. ৬ষ্ঠ কলাম
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একটি সারণীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই সারণীতে মোট ৮টি কলাম রয়েছে।

১ম কলাম: উল্লেখ থাকে যে, দণ্ডবিধির (Penal Code) কোন ধারা অনুযায়ী অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে।

২য় কলাম: প্রদত্ত ধারার অধীনে অপরাধটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ লেখা থাকে।

৩য় কলাম: নির্দেশ করা হয় পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে কি না, অর্থাৎ অপরাধটি আমলযোগ্য (Cognizable) নাকি আমল-অযোগ্য (Non-cognizable)।

৪র্থ কলাম: প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হয়।

৫ম কলাম: দেখানো হয় অপরাধটি জামিনযোগ্য (Bailable) নাকি জামিন-অযোগ্য (Non-bailable)।

৬ষ্ঠ কলাম: উল্লেখ থাকে অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কি না, অর্থাৎ ভুক্তভোগী চাইলে কি সেটি মিটমাট করতে পারবে।

৭ম কলাম: প্রদত্ত ধারায় নির্ধারিত শাস্তির পরিমাণ দেখানো হয়।

৮ম কলাম: বলা হয়, সেই অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার কোন আদালতের রয়েছে।

৫৭৩.
চুরির অপরাধে বিচার চলাকালে তিন মাস জেলহাজতে থাকার পর "X" জামিন পায়। বিচারের পর "X" এর ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়। এক্ষেত্রে 'X' কত দিন সাজা ভোগ করবে?
  1. ৬ মাস ভোগ করতে হবে
  2. ৩ মাস ভোগ করতে হবে
  3. আদালতের বিবেচনায় যত দিনের সাজার রায় দেন
  4. জামিন পেয়েছে এই জন্য কোন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কিভাবে দন্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ:
- ধারা-৩৫ক (১): ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দন্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেলহাজতে ছিল, তা কারাদন্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
 তবে এই বিধানটি আসামী মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদন্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- ধারা-৩৫ক (২): যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদন্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদন্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদন্ড থাকলে সেই অর্থদন্ডও মওকুফ হয়ে যাথা

- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক(১) ধারা অনুযায়ী, যেহেতু 'X'  তিন মাস ইতোমধ্যে জেল হাজতে ছিল, তাই তার মোট শাস্তি ৬ মাস থেকে ৩ মাস বাদ দিয়ে বাকি ৩ মাস তাকে কারাগারে থাকতে হবে।
৫৭৪.
প্রত্যেকটি বণ্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা ________ হবে না।
  1. অত্যধিক
  2. কম
  3. ১০ হাজার টাকার বেশি
  4. অভিযুক্তের আর্থিক সক্ষমতার অধিক
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৯৮- জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতা

এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বণ্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপীল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবীকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

Section 498: Power to direct admission to bail or reduction of bail
The amount of every bond executed under this Chapter shall be fixed with due regard to the circumstances of the case, and shall not be excessive; and the High Court Division or Court of Session may, in any case, whether there be an appeal on conviction or not, direct that any person be admitted to bail, or that the bail required by a police-officer or Magistrate be reduced.
৫৭৫.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ _________ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারেন।
  1. ১০
  2. ১৪
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণ ক্ষমতাবলে সর্বোচ্চ ৫ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে। তবে ২৯গ  ধারায় বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ৩৩ক ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৭ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে।

• ৩৩ক ধারা-
২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

Section 33A: Higher powers of certain Magistrates
The Court of a Magistrate, specially empowered under section 29C, may pass any sentence authorized by law, except a sentence of death or of transportation or imprisonment for a term exceeding seven years.
৫৭৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন তফসিলে মামলা সংক্রান্ত ফরমসমূহ দেয়া আছে?
  1. ৩য় তফসিলে
  2. ১ম তফসিলে
  3. ৫ম তফসিলে
  4. ৪র্থ তফসিলে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

১ম তফসিল (First Schedule)- বাতিল।

২য় তফসিল (Second Schedule)- আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে।

৩য় তফসিল (Third Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে।

৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে।

৫ম তফসিল (Fifth Schedule)- ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।
৫৭৭.
Who can present the petition of appeal under Section 419 of the Code of Criminal Procedure, 1898?
  1. Only the accused
  2. A police officer
  3. Any family member of the appellant
  4. The appellant or his pleader
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৯ ধারার বিধান: আপিলে দায়েরের পদ্ধতি
প্রত্যেকটি আপিল দায়ের করতে হবে পিটিশন বা দরখাস্ত আকারে। আপিলের পিটিশন আপিলকারী বা তার উকিল দাখিল করবে। যে রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হচ্ছে তার কপি আপিলের পিটিশনের সাথে দাখিল করতে হবে।
----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 419: Petition of Appeal:
Every appeal shall be made in the form of a petition in writing presented by the appellant or his pleader, and every such petition shall (unless the Court to which it is presented otherwise directs) be accompanied by a copy of the judgment or order appealed against.
৫৭৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮(১) অনুসারে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতকে কী করতে হবে?
  1. আসামির সম্মতি নিতে হবে
  2. কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে
  3. সরকারের অনুমতি নিতে হবে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮(১) অনুযায়ী, আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে তার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান: আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।
(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।
(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।
(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 428- Appellate Court may take further evidence or direct it to be taken:
(1) In dealing with any appeal under this Chapter, the Appellate Court, if it thinks additional evidence to be necessary, shall record its reasons, and may either take such evidence itself, or direct it to be taken by a Magistrate, or, when the Appellate Court is High Court Division, by a Court of Session or a Magistrate.
(2) When the additional evidence is taken by the Court of Session or the Magistrate, it or he shall certify such evidence to the Appellate Court, and such Court shall thereupon proceed to dispose of the appeal.
(3) Unless the Appellate Court otherwise directs, the accused or his pleader shall be present when the additional evidence is taken.
(4) The taking of evidence under this section shall be subject to the provisions of Chapter XXV, as if it were an inquiry.

৫৭৯.
উল্লেখিত কোন আদালত রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি যে আদালতে আবেদন করে
  2. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  3. যুগ্ম দায়রা জজ
  4. উল্লিখিত সকল আদালত
ব্যাখ্যা
• রিভিশন হলো নিম্ন আদালতের নথি পরীক্ষা করে উর্দ্ধতন আদালত কর্তৃক ভুলত্রুটি সংশোধন করা। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩৫ থেকে এবং ৪৪২ থেকে ৪৪২ক পর্যন্ত রিভিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-

১. হাইকোর্ট বিভাগ
২. দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ

• ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশন সংক্রান্ত যে সকল ক্ষমতা আছে দায়রা জজও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ৪৩৯ক এর ৩ উপধারায় বলা হয়েছে দায়রা জজের কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশে কোন রিভিশনাল মামলা অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করা হলে অতিরিক্ত দায়রা জজ, দায়রা জজের সকল রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে।

ধারা ৪৩৯ক এর ২ উপধারায় তে দেয়া আছে, দায়রা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করা হলে উক্ত বিষয়ে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যাবে না।

Section 439A- Sessions Judge's powers of revision


(1) In the case of any proceeding the record of which has been called for by himself or which otherwise comes to his knowledge, the Sessions Judge may exercise all or any of the powers which may be exercised by the High Court Division under section 439. 
(2) Where any application for revision is made by or on behalf of any person before the Sessions Judge, the decision of the Sessions Judge thereon in relation to such person shall be final. 
(3) An Additional Sessions Judge shall have and may exercise all powers of a Sessions Judge under this Chapter in respect of any case which may be transferred to him under any general or special order of the Sessions Judge.
৫৮০.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কারাদণ্ড আদেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ কে দিতে পারেন?
  1. সরকার
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪১ (কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা)-

(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।

(২) দেওয়ানি কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানি কারাগারে প্রত্যাবর্তনঃ
এই কার্যবিধির অধীন কারাদন্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানি জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-

(ক) ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানি জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা
(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানি জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারি জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।
৫৮১.
যে সকল অপরাধে আপসযোগ্য তাঁর তালিকা দেওয়া আছে কোথায়?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ৫ম সিডিউলে
  2. পেনাল কোড-এর ৩য় সিডিউলে
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারায়
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ আপসযোগ্য অপরাধের তালিকা দেওয়া আছে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৪৫ ধারায়। আপসযোগ্য অপরাধ ২ প্রকারের হয়।এক প্রকার হলো আদালতের অনুমতি ব্যতীত আপস করা যায়। অপর প্রকার অপরাধ হলো আদালতের অনুমতি সহ আপসযোগ্য।
৫৮২.
পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিস অব দি পিস-
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. পুলিশের আইজিপি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ২৫ ধারায় ‘পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস' শিরোনামে বলা আছে যে, সমগ্র বাংলাদেশে সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিগণ এবং দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট,মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ স্ব স্ব এলাকায় Justice of the Peace থাকবেন।
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর  ২২ ধারা অনুযায়ী মফম্বল এলাকার জন্য সরকার বিদেশি নাগরিক ব্যতীত উপযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে জাস্টিস অব দি পিস নিয়োগ দিতে পারেন।
⇒ অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যেক বিচারক পদাধিকারবলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিস অফ দি পিস। দায়রা বিচারকগণ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকারবলে তাদের অধিক্ষেত্রভুক্ত এলাকার জন্য জাস্টিস অফ দি পিস ।
৫৮৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানমতে কত দিনের মধ্যে একজন অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৭ অনুযায়ী:
- ফরিয়াদি যদি দায়রা আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে চায়, তাহলে তাকে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দাখিল করতে হবে।
- যদি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খালাস আদেশ দেয়, তবে ফরিয়াদি ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা আদালতে আপিল করতে পারবে।
- অভিযোগকারী (যে ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেছে) খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- পাবলিক প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।
- অভিযোগকারী বা ফরিয়াদি শুধু একবার মূল মামলার খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে, এরপর তারা দ্বিতীয়বার আপিল করতে পারবে না।
- তবে, যদি আপিল আদালত খালাস আদেশটি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২য় আপিল করা যাবে না, তবে রিভিশন (পুনঃমূল্যায়ন) দাখিল করা যাবথা

অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৭ অনুযায়ী ফরিয়াদি কর্তৃক দায়রা আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে এবং ফরিয়াদি কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে দায়রা আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে।
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর আপিল দায়ের করতে পারে ৬ মাসের মধ্যে।
অভিযোগকারী বা ফরিয়াদি শুধুমাত্র মূল মামলায় প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারে, কিন্তু আপিলে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল করতে পারেনা অর্থাৎ ২য় আপিলের সুযোগ নেই।
তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ (৪) ধারা অনুযায়ী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আপিল নাকচ বা প্রত্যাখান হলে, উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ২য় আপিল চলবেনা; তবে রিভিশন দায়ের করা যাবে।
৫৮৪.
কোন ভাষায় অভিযােগ(Charge) লিখতে হয়?
  1. ইংরেজি
  2. বাংলা
  3. আদালতের ভাষায়
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• অভিযােগ (Charge) ইংরেজি বা আদালতের ভাষায় লিখতে হয়।

• ফৌজদারি বিচার কার্যক্রমে চার্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর যা অনুসন্ধান (inquiry) এবং বিচার (trial) কে পৃথক করে।একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। 

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছেচার্জের বিষয়বস্তু ধারা ২২১ এ উল্লেখ করা আছে।একটি চার্জে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকবে-

> অপরাধের নাম
> অপরাধের নির্দিষ্ট নাম না থাকলে,উক্ত অপরাধের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে প্রদান করতে হবে
> উক্ত অপরাধ যে আইনে এবং যে ধারার আওতায় পড়ে তা উল্লেখ করতে হবে
> অভিযােগ গঠন হলে ধরে নেয়া হবে অপরাধটি সংঘটিত করার সকল উপাদান বিদ্যমান বা শর্ত পূরণ হয়েছে
> অভিযােগ ইংরেজি বা আদালতের ভাষায় লিখতে হয় 
>পরবর্তী অপরাধের শাস্তি বৃদ্ধি বা ভিন্নধরনের শাস্তি প্রদানের দরকার হলে,অভিযােগে বা চার্জে পূর্ববর্তী দন্ডের ঘটনা,তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতে হবে 
> চার্জে আদালত শাস্তিদানের পূর্বে যে কোন সময় পূর্ববর্তী দন্ডের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ দিতে পারেন।
৫৮৫.
অভিযােগকারী মিথ্যা অভিযােগ করলে এবং আদালত কর্তৃক ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রাপ্ত হলে, উক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে-
  1. আদালতকে
  2. অভিযুক্তকে
  3. ক বা খ
  4. ক এবং খ উভয়কে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ অনুসারে,

⇒ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করবেন এবং সংবাদ দাতা বা অভিযােগকারিকে কারণ দর্শাতে বলবেন যে,কেন তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরনের আদেশ দেয়া হবে না।

ফরিয়াদি/সংবাদ দাতা/অভিযােগকারীর কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন অভিযােগটি মিথ্য,তুচ্ছ বা বিরক্তিকর তাহলে ফরিয়াদিকে অনধিক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ অভিযুক্তকে প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন। এমনকি ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন যে,ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তি অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩০০০ টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবে। তবে তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এই ক্ষেত্রে অনধিক ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারেন।

⇒ ফরিয়াদি সংবাদদাতা ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ হলে ৩০ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে বা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট ১০০ টাকার বেশি ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন সম্পর্কে আপিল দায়ের করা যাবে।
৫৮৬.
যদি হাইকোর্ট বিভাগ দেখে যে একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি (special leave to appeal) দেওয়া হয়েছে, তবে হাইকোর্ট কী করতে পারে?
  1. আপিল খারিজ করতে পারে
  2. দণ্ড বৃদ্ধি করতে পারে
  3. জামিন বাতিল করতে পারে
  4. দণ্ড স্থগিত করে জামিন দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৬(২খ) অনুযায়ী, যদি হাইকোর্ট বিভাগ দেখে যে একজন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল বিভাগে special leave to appeal পেয়েছেন, তাহলে হাইকোর্ট চাইলে তার দণ্ড স্থগিত করতে পারে এবং সে কারাবন্দি থাকলে জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ধারা ৪২৬: আপিল চলাকালীন দণ্ড স্থগিতকরণ এবং আপিলকারীকে জামিনে মুক্তি:
(১) যখন কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করে এবং সেই আপিল বিচারাধীন থাকে, তখন আপিল আদালত, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে, যে দণ্ড বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে তা কার্যকর করা স্থগিত রাখতে পারে এবং যদি সেই ব্যক্তি বন্দী থাকে, তবে তাকে জামিনে বা স্ব-জামিনে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিতে পারে।
(২) আপিল আদালতের উপর যে ক্ষমতা এই ধারায় আরোপ করা হয়েছে, তা হাইকোর্ট বিভাগও প্রয়োগ করতে পারে, যদি আপিল তার অধীনস্থ কোনো আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক করা হয়ে থাকে।
(২ক) যদি কোনো ব্যক্তি ১ (এক) বছরের বেশি নয় এমন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার থাকে, এবং যদি দণ্ডিত ব্যক্তি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারেন যে তিনি আপিল দায়ের করতে চান, তাহলে আদালত আদেশ দিতে পারে যে তাকে এমন একটি সময়ের জন্য জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে যা আপিল দায়ের ও আপিল আদালতের আদেশ প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট মনে করে, এবং যতদিন তিনি জামিনে মুক্ত থাকবেন, ততদিন তার দণ্ড স্থগিত থাকবে বলে গণ্য হবে।
(২খ) যদি হাইকোর্ট বিভাগ সন্তুষ্ট হয় যে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রতি বিশেষ অনুমতি (special leave to appeal) পেয়েছেন, সেই দণ্ড বা আদেশের বিরুদ্ধে যা হাইকোর্ট বিভাগ প্রদান বা বহাল রেখেছে, তবে হাইকোর্ট বিভাগ চাইলে আদেশ দিতে পারে যে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড বা আদেশ স্থগিত থাকবে, এবং যদি ঐ ব্যক্তি কারাবন্দী থাকেন, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাবে।
(৩) যদি আপিলকারী শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পরিবহণে (transportation) দণ্ডিত হন, তাহলে তিনি যে সময় জামিনে মুক্ত ছিলেন, তা সেই দণ্ডের মেয়াদ গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না, অর্থাৎ সে সময় বাদ যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 426: Suspension of sentence pending appeal Release of appellant on bail:
(1) Pending any appeal by a convicted person, the Appellate Court may, for reasons to be recorded by it in writing, order that the execution of the sentence or order appealed against be suspended and, also, if he is in confinement, that he be released on bail or on his own bond.
(2) The power conferred by this section on an Appellate Court may be exercised also by the High Court Division in the case of any appeal by a convicted person to a Court subordinate thereto.
(2A) When any person is sentenced to imprisonment for a term not exceeding one year by a Court, and an appeal lies from that sentence, the Court may, if the convicted person satisfies the Court that he intends to present an appeal, order that he be released on bail for a period sufficient in the opinion of the Court to enable him to present the appeal and obtain the orders of the Appellate Court under sub-section (1) and the sentence of imprisonment shall, so long as he is so released on bail, be deemed to be suspended.
(2B) Where High Court Division is satisfied that a convicted person has been granted special leave to appeal to the 2[Appellate Division of the Supreme Court] against any sentence which it has imposed or maintained, it may if it so thinks fit order that pending the appeal the sentence or order appealed against be suspended, and also, if the said person is in confinement, that he be released on bail.
(3) When the appellant is ultimately sentenced to imprisonment, or transportation, the time during which he is so released shall be excluded in computing the term for which he is so sentenced.
৫৮৭.
'Provisions for completion of investigation'- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় সংযোজিত করা হয়েছে?
  1. ধারা ১৬৭ক
  2. ধারা ১৭৩ক
  3. ধারা ১৭৩খ
  4. ধারা ১৭৪ক
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩খ: তদন্ত সমাপ্তির বিধানাবলী (Provisions for completion of investigation):
(১) এই কোডে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীনে প্রতিটি তদন্ত অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তির তারিখ থেকে ষাট কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

(২) যেখানে যুক্তিসঙ্গত কারণে উপ-ধারা (১)-এ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না, সেখানে তদন্তকারী অফিসার বিলম্বের কারণ কেস ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করবেন, সুনির্দিষ্ট কারণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় উল্লেখ করে সময় বাড়ানোর জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করবেন এবং এই আবেদনের একটি অনুলিপি তদন্ত তদারককারী ঊর্ধ্বতন অফিসারের নিকট পাঠাবেন।

(৩) উপ-ধারা (২)-এর অধীনে করা আবেদনটি বিবেচনার পর, ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দ্বারা, যুক্তিসঙ্গত মনে হলে, তদন্তের জন্য সময় বাড়িয়ে দিতে পারেন এবং তদন্তকারী অফিসার বর্ধিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করবেন।
(৪) যেখানে উপ-ধারা (৩)-এর অধীনে বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন হয় না, সেখানে তদন্তকারী অফিসার ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর লিখিতভাবে কারণগুলি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট রিপোর্ট করবেন এবং এর একটি অনুলিপি তদন্ত তদারককারী ঊর্ধ্বতন অফিসারের নিকট পাঠাবেন।

(৫) উপ-ধারা (৪)-এর অধীনে দাখিলকৃত ব্যাখ্যা বিবেচনার পর, অথবা যেখানে তদন্তকারী অফিসার কর্তৃক কোনো ব্যাখ্যা দাখিল করা হয় না, সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট—
(ক) তদন্তটি অন্য কোনো অফিসার দ্বারা পরিচালনার নির্দেশ দিতে পারেন;
(খ) এই ধরনের বিলম্বকে তদন্তকারী অফিসারের অযোগ্যতা বা অসদাচরণ হিসাবে গণ্য করতে পারেন, অফিসারের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (ACR) তা লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করতে পারেন এবং প্রাসঙ্গিক চাকরির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারেন।

(৬) যদি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর, নথিতে থাকা উপাদানগুলি বিবেচনা করে আদালত সন্তুষ্ট হন যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযুক্ত হিসাবে নামভুক্ত কোনো ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে গণ্য করা উচিত, তবে আদালত সেই মর্মে আদেশ দিতে পারেন এবং ওই ব্যক্তি মামলায় সাক্ষী হিসাবে গণ্য হবেন।

(৭) যদি বিচার শেষে আদালত দেখতে পান যে, তদন্তকারী অফিসার অবহেলাবশত বা কোনো ব্যক্তিকে ফৌজদারি দায় থেকে রক্ষা করার অভিপ্রায়ে—
(i) কোনো গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য সংগ্রহ বা বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন;
(ii) এমন কোনো ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে গণ্য করেছেন যাকে অভিযুক্ত করা উচিত ছিল; অথবা
(iii) যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে পরীক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন,
আদালত সেই মর্মে একটি সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করতে পারেন, এই ধরনের কাজ বা বাদ পড়াকে অসদাচরণ বা অযোগ্যতা হিসাবে গণ্য করতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী অফিসারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারেন।

৫৮৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধান কোন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. বেআইনীভাবে আটককৃত ব্যক্তিদের
  2. নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের
  3. দেওয়ানি আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের
  4. যেকোন আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের
ব্যাখ্যা
• যখন কোন ব্যক্তিকে বেআইনীভাবে আটক করা হয়, তখন বন্দী হাজির রিট পিটিশন দায়ের করা যায়। হাজির রিটের ক্ষেত্রে আদালত বেআইনীভাবে আটককৃত কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে তার নিজের সন্তুষ্টির জন্য যে উক্ত ব্যক্তিকে বেআইনীভাবে আটক রাখা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষ উক্ত বিষয়ে যথাযথ ব্যাখা দিতে ব্যর্থ হলে বন্দীকে মুক্তি দিতে পারে। 

ধারা ৪৯১- হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা

(১) হাইকোর্ট ডিভিশন যখনই সঠিক মনে করেন, তখন এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে-

(ক) ইহার ফৌজদারী আপীল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে উপস্থিত করা হোক;
(খ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে সরকারী বা বেসরকারী হেফাজতে বে-আইনী অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
(গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দী নিয়ে উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দীকে আদালতে হাজির করা হোক,
(ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দীকে যথাক্রমে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনার বরাবর হাজির করা হোক,
(ঙ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দীকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং 

(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রীম কোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।

(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান কার্যকর কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৫৮৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৫ অনুসারে, কোন ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত আবেদন নাকচ হলে আপীল করা যায়?
  1. ধারা ৮১
  2. ধারা ৮৯
  3. ধারা ১২০
  4. ধারা ১৭৬
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৫ অনুযায়ী বলা হয়েছে—
- যদি কোন ব্যক্তি ধারা ৮৯ অনুযায়ী জব্দকৃত সম্পত্তি বা উহার বিক্রয়লব্ধ অর্থ ফেরতের জন্য আদালতে আবেদন করেন এবং তা নাকচ হয়ে যায়, তাহলে তিনি সেই আদালতে আপীল করতে পারেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সাধারণত আপীল হয়।

→ অর্থাৎ, ধারা ৮৯-এর অধীনে সম্পত্তি ফেরতের আবেদন নাকচ হলে ধারা ৪০৫ অনুযায়ী উচ্চতর আদালতে আপীল করা যায়।

→ ধারা ৮৯ সম্পর্কিত:
- এই ধারায় বলা হয়েছে, অপরাধমূলক মামলায় কোনো ব্যক্তির জব্দকৃত সম্পত্তি বা তার বিক্রয়লব্ধ অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করার বিধান।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 405. Appeal from order rejecting application for restoration of attached property:
-Any person whose application under section 89 for the delivery of property or the proceeds of the sale thereof has been rejected by any Court may appeal to the Court to which appeals ordinarily lie from the sentences of the former Court.
৫৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কয়টি উপায়ে অপরাধ গ্রহণ করতে পারেন?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ৩টি উপায়ে অপরাধ আমলে নিতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।
-কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট,কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নিতে পারে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী,ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৩টি উৎসের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নিতে পারেন-
- অভিযোগ [ (ধারা ১৯০(১)(ক) ]
- পুলিশের লিখিত রিপোর্ট [ ধারা ১৯০(১)(খ) ]
- তথ্য,নিজস্ব জ্ঞান বা সন্দেহবশত কোনো তথ্য পেলে [ ধারা ১৯০(১)(গ) ] ।
তবে এই উৎসের উপর ভিত্তি করে ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিতে পারবেন না।
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-190: Cognizance of offences by Magistrates:
(1) Except as hereinafter provided, any Chief Metropolitan Magistrate, Metropolitan Magistrate, Chief Judicial Magistrate, Magistrate of the first class, and any other Magistrate specially empowered in this behalf under sub-section (2) or (3)], may take cognizance of any offence-
(a) upon receiving a complaint of facts which constitute such offence;
(b) upon a report in writing of such facts made by any police-officer;
(c) upon information received from any person other than a police-officer, or upon his own knowledge or suspicion, that such offence has been committed.
৫৯১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২ অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতিতে কত মেয়াদের কারাদণ্ডের বেশি শাস্তি দেওয়া যাবে না?
  1. এক বছর
  2. দুই বছর
  3. তিন বছর
  4. পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২ অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতিতে যে কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডাদেশ দেওয়া হলে, তার মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর হতে পারে। অর্থাৎ, সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় আসা অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের মেয়াদ দুই বছরের বেশি দেওয়া যাবে না।
- এটি মূলত লঘু শাস্তির অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে গুরুতর অপরাধ যেমন হত্যা বা ধর্ষণ অন্তর্ভুক্ত হয় না, কারণ সেগুলোর জন্য বিস্তারিত বিচারের প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৬২(২) অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trial) মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যাবে না।
ধারা ২৬২(২)-এর বিধান:
"No sentence of imprisonment for a term exceeding two years shall be passed in the case of any conviction under this Chapter."
অর্থাৎ,  ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬২-এ স্পষ্ট বলা আছে যে, সংক্ষিপ্ত বিচারে ২ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া যায় না।
- তাই সঠিক উত্তর খ) দুই বছর।
৫৯২.
যেক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত হননি, সেক্ষেত্রে মামলা পরিচালনার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারে-
  1. দায়রা আদালত
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• সরকারপক্ষে দায়রা আদালতে যে মামলা পরিচালনা করে তাকে পাবলিক প্রসিকিউটর বলা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯২ এর অধীন সরকার বা ক্ষেত্রমতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়ে থাকে।

ধারা ৪৯২: পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা-

(১) সরকার বা কোন স্থানীয় এলাকায় সাধারণভাবে, বা কোন মামলায়, বা কোন নির্দিষ্ট শ্রেণীর মামলার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর নামক এক বা একাধিক অফিসার নিয়োগ দান করতে পারবেন।
(২) পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে, বা যেক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর নিযুক্ত হননি সেক্ষেত্রে মামলা পরিচালনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার কর্তৃক এতদ্বিষয়ে নির্ধারিত পদের নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতিত অন্য যে কোন ব্যক্তিকে পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারবেন।

Section 492: Power to appoint Public Prosecutor:
(1) The Government may appoint, generally, or in any case, or for any specified class of cases, in any local area, one or more officers to be called Public Prosecutors.
(2) The District Magistrate may, in the absence or the Public Prosecutor, or where no Public Prosecutor has been appointed, appoint any other person, not being an officer of police below such ranks as the Government may prescribe in this behalf to be Public Prosecutor for the purpose of any case.
৫৯৩.
ফৌজদারি মামলার চার্জে গুরুতর ভুলের কারনে দণ্ডিত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হলে আদালত কী আদেশ দিবেন?
  1. আপিলের
  2. চার্জ সংশোধনের
  3. নতুন বিচারের
  4. মামলা বাতিলের
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩২ এ চার্জে কৃত গুরতর ভুলের ফলাফল দেয়া হয়েছে-
১) রিভিশন ক্ষমতা বা সপ্তবিংশ অধ্যায়ে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়ােগকালে আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করেন যে, অভিযােগ গঠিত হওয়ায় কিংবা উহাতে ভুল থাকায় কোন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছে তা হলে উক্ত আদালত যেইরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেইরূপভাবে অভিযােগ গঠন করে নতুন বিচারের নির্দেশ দিবেন।
২) আদালত যদি মনে করেন যে,মােকদ্দমার ঘটনাবলী এইরূপ যে প্রমাণিত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে কোন বৈধ অভিযােগ প্রণয়ন করা যাবে না,তা হলে দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।

উদাহরণ-
-দণ্ডবিধির ১৯৬ ধারার অপরাধের দায়ে ক-কে এমন একটি অভিযােগের ভিত্তিতে দণ্ডিত করা হলাে।যাতে উল্লেখ করা হয় নাই যে, যে সাক্ষ্য সে অসৎ ভাবে সত্য বা প্রকৃত বলে ব্যবহার করেছে বা ব্যবহারের চেষ্টা করেছে,তাকে সে মিথ্যা বা বানােয়াট বলে জানিত।আদালত যদি মনে করেন যে,ক-এর অনুরূপ জ্ঞান থাকা সম্ভব ছিল এবং অভিযােগে তার অনুরূপ জ্ঞান সম্পর্কিত বিবৃতি থাকায় সে তার আত্মপক্ষ সমর্থনে বিভ্রান্ত হয়েছে তা হলে সংশােধিত অভিযােগের ভিত্তিতে নতুন বিচারের নির্দেশ দিবেন;কিন্তু কার্যক্রম হতে যদি প্রতীয়মান হয় যে,ক-এর অনুরূপ জ্ঞান থাকা সম্ভব ছিল না,তা হলে আদালতে দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।
----------------------
⇒ CrPC- Section-232:-Effect of material error:
(1) If any Appellate Court, or the High Court Division in the exercise of its powers of revision or of its powers under Chapter XXVII, is of opinion that any person convicted of an offence was misled in his defence by the absence of a charge or by an error in the charge, it shall direct a new trial to be had upon a charge framed in whatever manner it thinks fit. 
(2) If the Court is of opinion that the facts of the case are such that no valid charge could be preferred against the accused in respect of the facts proved, it shall quash the conviction. 
Illustration:
A is convicted of an offence, under section 196 of the Penal Code, upon a charge which omits to state that he knew the evidence, which he corruptly used or attempted to use as true or genuine, was false or fabricated. If the Court thinks it probable that A had such knowledge, and that he was misled in his defence by the omission from the charge of the statement that he had it, it shall direct a new trial upon an amended charge; but, if it appears probable from the proceedings that A had no such knowledge, it shall quash the conviction.
৫৯৪.
একটি অপরাধ সংঘটিত করার জন্য 'A' কে সন্দেহ করা হচ্ছে। যার জন্য পুলিশ তাকে যেকোন সময় গ্রেফতার করতে পারবে। 'A' আদালতে জামিন আবেদন করে এবং জামিন মঞ্জুর করা হয়। 'A' কে কোন ধরনের জামিন মঞ্জুর করা হয়?
  1. আগাম জামিন
  2. জামিনযোগ্য অপরাধের জন্য জামিন
  3. মুচলেকা রেখে জামিন
  4. জামিন অযোগ্য অপরাধের জন্য জামিন
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান জামিন মঞ্জুর করার এবং অর্থের পরিমাণ হ্রাস করার ক্ষমতাঃ (১) এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি বণ্ডের অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অত্যধিক হবে না, এবং দণ্ডের পর আপীল থাকুক আর না থাকুক, হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবীকৃত জামিন হ্রাস করার নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধান অনুসারে আগাম জামিন বা Anticipatory Bail এর দরখাস্ত বিবেচনা করা যায়। এই ধারায় in any case শব্দমালাকে ব্যাখ্যা করে আগাম জামিন দেওয়া হয়।

♦ জামিনঅযোগ্য অপরাধে আটক বা গ্রেফতারের আশংকা আছে এমন ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালতে আগাম জামিনের (Anticipatory Bail) আবেদন করতে পারেন। ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী আদালত জামানতের পরিমাণ হ্রাস করতে পারে।

♦ যেহেতু 'A' কে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং পুলিশ তাকে যেকোন সময় গ্রেফতারের আশংকা আছে। 'A' আদালতে জামিন আবেদন করে এবং জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাই বলা যায় A' কে আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
৫৯৫.
গণ-উপদ্রব এর বিধান ফৌজদারি কার্যবিধি এর কোন ধারা সমূহে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ১৩২ থেকে ১৪৩
  2. ১৩২ থেকে ১৪২
  3. ১৩২ ক থেকে ১৪৩
  4. ১৩২ ক থেকে ১৪২
ব্যাখ্যা
• গণ-উপদ্রব এর বিধান ফৌজদারি কার্যবিধি এর ১৩২ক থেকে ১৪৩ পর্যন্ত ধারাসমূহে বর্ণনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই ধারার বিধানসমূহ মহানগর এলাকার জন্য প্রযোজ্য নয়।
৫৯৬.
কোন জব্দকৃত সম্পত্তির দাবীদার __________ এর মধ্যে তা দাবী না করলে সেটি সরকারের হেফাজতে চলে যাবে।
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. মামলা নিষ্পত্তি হওয়া পুর্যন্ত
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898, এর ৫২৪ ধারার বিধান ছয় মাসের ভিতরে দাবীদার হাজির না হলে তখনকার পদ্ধতিঃ (১) উক্ত সময়ের মধ্যে যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তিতে তার দাবী প্রতিষ্ঠা না করে এবং যে ব্যক্তির দখলে তা পাওয়া গিয়েছিল সে যদি তা আইনসংগতভাবে সংগ্রহ করেছে মর্মে দেখাতে না পারে, সেক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে চলে যাবে এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক এতদদ্দশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশক্রমে তা বিক্রয় হতে পারে
(২) এই ধারার অধীন প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশের ক্ষেত্রে সে আদালতে আপীল করা যাবে যে আদালতে উক্ত আদেশ দানকারী আদালতের দণ্ডাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপীল করা যায়।
৫৯৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারার অধীনে স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশি করার সময় কোন বিষয়টি বিশেষভাবে অনুসরণ করতে হবে?
  1. গোপনীয়তা রক্ষা করা
  2. দ্রুততার সাথে তল্লাশি করা
  3. শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা
  4. পরিবারের সদস্যের সামনে তল্লাশি করা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশীর বিধান রয়েছে। ৫২ ধারা অনুযায়ী-
কোনো স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে অন্য একজন স্ত্রীলোক দ্বারা তল্লাশী করাতে হবে।
 
Section 52: Mode of searching women-
Whenever it is necessary to cause a woman to be searched, the search shall be made by another woman, with strict regard to decency.
৫৯৮.
খালস এবং মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত অন্যান্য আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে হয় কত দিনের মধ্যে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১৫৪ অনুচ্ছেদ মতে- খালস এবং মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত অন্যান্য আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে হয় ৬০ দিনের মধ্যে।
৫৯৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার অধীন নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে কে অনুসন্ধান বা তদন্ত করতে পারেন?
  1. ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা
  2. ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যকোন ব্যক্তি
  4. উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার অধীন নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেট নিজে ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন,অথবা তিনি যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন তাহলে তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন এরূপ অন্যকোন ব্যক্তিকে এই বিষয় অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিবেন ।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার বিধান: পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা (Postponement for issue of process)-
১) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসম্পন্ন সেই অপরাধের নালিশ পাওয়ার পর অথবা ১৯২ ধারার অধীন তা তার নিকট হস্তান্তরিত হওয়ার পর,তিনি যদি উপযুক্ত মনে করেন তাহলে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নালিশ করা হয়েছে তাকে হাজির হতে বাধ্য করার জন্য সমন বা পরোয়ানা প্রদান স্থগিত রাখতে পারেন এবং নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নিজে ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন, অথবা তিনি যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন তাহলে তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন এরূপ অন্যকোন ব্যক্তিকে এই বিষয় অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিবেন।

তবে শর্ত এই যে,যেক্ষেত্রে আদালত নালিশ করেন সেক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ২০০ ধারার বিধান পালন না করে এরূপ কোন নির্দেশ দেয়া যাবে না।আরও শর্ত এই যে-যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য নালিশ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাজির হতে বাধ্য করার পরোয়ানা স্থগিত রাখতে পারবেন এবং নালিশের সত্যতা ও অসত্যতা নিরূপণের উদ্দেশ্যে এই উপধারায় উল্লেখিত অনুসন্ধান বা তদন্ত করবেন বা করাবেন।

২) এই ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত যে ব্যক্তি করবেন তিনি যদি ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা না হন,তাহলে তিনি এই কার্যবিধি অনুসারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া) কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

(২ক) এই ধারার অধীন কোন ঘটনা অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে শপথ করিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন তবে শর্ত এই যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য অভিযোগ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য,তাহলে তিনি ফরিয়াদীকে তার সকল সাক্ষীদেরকে হাজির করতে বলবেন এবং তাদের শপথ করে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। 
(২খ) পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ করতে এবং অভিযুক্তদেরকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।
৬০০.
কোন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধানানুযায়ী লাশ তোলা হয়?
  1. ১৭০ ধারা
  2. ১৭২ ধারা
  3. ১৭৪ ধারা
  4. ১৭৬(২) ধারা
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ (২) ধারায় কবর থেকে লাশ তোলার বিধান রয়েছে। কবর থেকে লাশ তোলার এবং তা পরীক্ষা করার ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটের। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ (২) ধারামতে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের জন্য মৃতদেহ কবর থেকে তুলতে পারেন।

♦ ধারা-১৭৬(২) কবর হতে লাশ তুলার ক্ষমতাঃ যখনই কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ কোন ব্যক্তির লাশ, যাকে ইতোপূর্বে কবর দেয়া হয়েছে, পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন তার মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য, তখনই ওই ম্যাজিস্ট্রেট ওই লাশটি কবর হতে তোলাইয়া পরীক্ষা করাতে পারবেন।