বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Criminal Procedure, 1898

মোট প্রশ্ন২,৮৮৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Criminal Procedure, 1898

PrepBank · পাতা ২৭ / ২৯ · ২,৬০১২,৭০০ / ২,৮৮৩

২,৬০১.
একজন ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে তার ১৫ বছর বয়সী কন্যাকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৫২ ধারার অধীনে কোন আদালত প্রত্যর্পণের আদেশ দিতে পারবেন?
  1. শুধুমাত্র দায়রা জজ
  2. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৫২- অপহৃতা নারী প্রত্যর্পণে বাধ্য করার ক্ষমতা-
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কোন স্ত্রীলোক অথবা ১৬ বছরের নিম্ন বয়স্ক কোন বালিকাকে অপহরণ বা বে-আইনীভাবে আটক রাখার নালিশ করা হলে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেই স্ত্রীলোককে বা গ্রাহককে অবিলম্বে তার স্বামী, মাতা-পিতা, অথবা তার আইন সংগত অভিভাবকের নিকট প্রত্যর্পণের আদেশ দিতে পারবেন।

Section 552- Power to compel restoration of abducted females-
Upon complaint made to a Metropolitan Magistrate or a Magistrate of the first class or District Magistrate on oath of the abduction or unlawful detention of woman, or of a female child under the age of sixteen years, for any unlawful purpose, he may make an order for the immediate restoration of such woman to her liberty, or of such female child to her husband, parent, guardian or other person having the lawful charge of such child, and may compel compliance with such order, using such force as may be necessary.
২,৬০২.
'It shall be the duty of the person having custody of an arrested person to take reasonable care of his health and safety.'- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় এই বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ৪৬গ
  2. ধারা ৪৬ঘ
  3. ধারা ৪৬ঙ
  4. ধারা ৪৬চ
ব্যাখ্যা

Code of Criminal Procedure, 1898: section 46D: Health and safety of arrested person:
It shall be the duty of the person having custody of an arrested person to take reasonable care of his health and safety.

ধারা ৪৬ঘ - গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা:
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির হেফাজতে থাকা ব্যক্তির কর্তব্য হবে তার স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার যুক্তিসঙ্গত যত্ন নেওয়া।

২,৬০৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় জামিনের জন্য আসামি ও জামিনদার কর্তৃক বন্ড সম্পাদনের কথা বলা হয়েছে?
  1. ৪৯৭
  2. ৪৯৮
  3. ৪৯৯
  4. ৫০২
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৯ (Section 499 of the Code of Criminal Procedure, 1898) অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হয়, তখন তাকে ও তার জামিনদারকে আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য একটি বন্ড বা জামিননামা (Bond) সম্পাদন করতে হয়।
- এ বন্ডে উল্লেখ থাকে আসামি নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে উপস্থিত থাকবে, জামিনদার আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধ থাকবে, বন্ডে নির্ধারিত অর্থও থাকে, যা আদালতে হাজির না হলে জব্দ হতে পারে।
- অর্থাৎ জামিনের শর্তে বন্ড বাধ্যতামূলক। আসামি এবং জামিনদার উভয়কেই বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয়। এই বিধান ধারা ৪৯৯-এ উল্লেখিত।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section- 499.Bond of accused and sureties:
(1) Before any person is released on bail or released on his own bond, a bond for such sum of money as the police-officer or Court, as the case may be, thinks sufficient shall be executed by such person, and, when he is released on bail, by one or more sufficient sureties conditioned that such person shall attend at the time and place mentioned in the bond, and shall continue so to attend until otherwise directed by the police-officer or Court, as the case may be. 
(2) If the case so require, the bond shall also bind the person released on bail to appear when called upon at the High Court Division, Court of Session or other Court to answer the charge.
২,৬০৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন, তাহলে তিনি কাকে অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. পুলিশ কর্মকর্তা
  2. তার অধীনস্ত ম্যাজিস্ট্রেট
  3. অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবকটি।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন, তাহলে তিনি অনুসন্ধান বা তদন্তের জন্য তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন, এমন অন্য কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারেন।
- এর মানে, ম্যাজিস্ট্রেট এই কাজের জন্য বিভিন্ন পক্ষকে নিযুক্ত করতে সক্ষম, যেমন পুলিশ কর্মকর্তা, তার অধীনস্থ ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তি।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার বিধান: পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা (Postponement for issue of process)-
১) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসম্পন্ন সেই অপরাধের নালিশ পাওয়ার পর অথবা ১৯২ ধারার অধীন তা তার নিকট হস্তান্তরিত হওয়ার পর,তিনি যদি উপযুক্ত মনে করেন তাহলে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নালিশ করা হয়েছে তাকে হাজির হতে বাধ্য করার জন্য সমন বা পরোয়ানা প্রদান স্থগিত রাখতে পারেন এবং নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নিজে ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন, অথবা তিনি যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন তাহলে তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন এরূপ অন্যকোনো ব্যক্তিকে এই বিষয় অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিবেন।
তবে শর্ত এই যে,যেক্ষেত্রে আদালত নালিশ করেন সেক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ২০০ ধারার বিধান পালন না করে এরূপ কোন নির্দেশ দেয়া যাবে না।আরও শর্ত এই যে-যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য নালিশ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাজির হতে বাধ্য করার পরোয়ানা স্থগিত রাখতে পারবেন এবং নালিশের সত্যতা ও অসত্যতা নিরূপণের উদ্দেশ্যে এই উপধারায় উল্লিখিত অনুসন্ধান বা তদন্ত করবেন বা করাবেন।
২) এই ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত যে ব্যক্তি করবেন তিনি যদি ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা না হন,তাহলে তিনি এই কার্যবিধি অনুসারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া) কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
(২ক) এই ধারার অধীন কোন ঘটনা অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে শপথ করিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন তবে শর্ত এই যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য অভিযোগ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য,তাহলে তিনি ফরিয়াদীকে তার সকল সাক্ষীদেরকে হাজির করতে বলবেন এবং তাদের শপথ করে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।
(২খ) পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ করতে এবং অভিযুক্তদেরকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।
২,৬০৫.
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধারা অনুযায়ী তাঁর অধঃস্তন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে মামলা তুলে নিতে পারেন?
  1. ধারা ৫২৬
  2. ধারা ৫২৭
  3. ধারা ৫২৮
  4. ধারা ৫২৯
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫২৮: দায়রা জজ সহকারী দায়রা জজের কাছে থেকে মোকদ্দমা তুলে নিতে পারবেন-

(১) দায়রা জজ তাঁর অধঃস্তন সহকারী দায়রা জজের কাছ থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছেন তা তলব করতে পারবেন।

(১ক) দায়রা জজ কোন অতিরিক্ত দায়রা জজকে যে মামলা বা আপীল দিয়েছিলেন উক্ত অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট যেকোন সময় উক্ত মামলার বিচার বা আপীলের শুনানী আরম্ভের পূর্বে তিনি তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন।

(১খ) যেক্ষেত্রে দায়রা জজ উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন মামলা তুলিয়ে নেন বা ফেরত নেন কিংবা উপ-ধারা (১এ) এর অধীন কোন মামলা বা আপীল ফেরত নেন, সেক্ষেত্রে তিনি নিজের আদালতে উক্ত মামলার বিচার করতে বা নিজে উক্ত আপীল শ্রবণ করতে পারবেন, কিংবা এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে উহা বিচার বা শুনানীর জন্য অন্য কোন আদালতে দিতে পারবেন।

(২) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছিলেন, তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন, এবং নিজে এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন, বা এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচারের যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর তা ইনকোয়ারী বা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন।

(৩) সরকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মর্মে ক্ষমতা দিতে পারবেন যে, তিনি যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শ্রেণীর মামলা বা কোন বিশেষ শ্রেণীর মামলা তার অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে নিতে পারবেন।

(৪) কোন ম্যাজিট্রেট ধারা-১৯২ এর উপধারা (২) এর অধীন কোন মামলা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়েছেন উক্ত মামলা তিনি ফিরিয়ে নিতে এবং নিজে উহার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন।
২,৬০৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার কোন আসামিকে দেওয়া হয়েছে?
  1. ২৩৬ ধারা
  2. ২৪৪ ধারা
  3. ২৬০গ ধারা
  4. ৩৪০ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারামতে ফৌজদারি মামলার আসামী বা অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারে ও সাক্ষী হতে পারবে। অর্থাৎ আসামী তার নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারে এবং একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য সকল আসামীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারবে।

♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারার ক্ষমতাবলে কোন মামলার আসামী বা অভিযুক্ত ব্যক্তি উকিলের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারে (to be defended by an advocate or pleader)।

♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারার বিধান যার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করার অধিকার ও সাক্ষী হবার যোগ্যতাঃ
(১) ফৌজদারী আদালতে কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির অথবা এরূপ কোন আদালতে এই কার্যবিধি অনুসারে যার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেরূপ কোন ব্যক্তির অধিকার বলে এ্যাডভোকেট কর্তৃক আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবে।
(২) এরূপ কোন আদালতে যার বিরুদ্ধে ধারা-১০৭ ধারা বা অধ্যায়-১০, অধ্যায়-১১, অধ্যায়-১২, অধ্যায়-২৬ অথবা ধারা-৫৫২ অনুসারে কার্যধারা আরম্ভ করা হয়েছে, সে ব্যক্তি স্বয়ং উক্ত কার্যধারায় সাক্ষী রূপে উপস্থিত হতে পারবে।
(৩) কোন অপরাধ এর দায়ে ফৌজদারী আদালতে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি আসামী পক্ষে সাক্ষী হবার যোগ্য এবং একই বিচারে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা তার সঙ্গে অভিযুক্ত অন্য কোন আসামীর বিরুদ্ধে প্রণীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য শপথ গ্রহণ পূর্বক সাক্ষ্য প্রদান করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে-
(ক) সেই ব্যক্তি নিজে লিখিতভাবে অনুরোধ না করলে তাকে সাক্ষী রূপে আনা যাবে না; অথবা
(খ) সে সাক্ষ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে মামলার কোন পক্ষ বা আদালত সেই বিষয়ে যে কোন প্রকান মন্তব্য করতে পারবে না অথবা ইহা দ্বারা তার বিরুদ্ধে বা তার সঙ্গে এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোন আসামীর বিরুদ্ধে কোন অনুমানের উদ্ভব হবে না ।
২,৬০৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার অধীন নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে কে অনুসন্ধান বা তদন্ত করতে পারেন?
  1. ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা
  3. ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যকোন ব্যক্তি
  4. উল্লিখিত যেকোন একজন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার অধীন নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেট নিজে ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন,অথবা তিনি যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন তাহলে তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন এরূপ অন্যকোন ব্যক্তিকে এই বিষয় অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার বিধান: পরোয়ানা ইস্যু স্থগিত রাখা (Postponement for issue of process)-
১) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যে অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসম্পন্ন সেই অপরাধের নালিশ পাওয়ার পর অথবা ১৯২ ধারার অধীন তা তার নিকট হস্তান্তরিত হওয়ার পর,তিনি যদি উপযুক্ত মনে করেন তাহলে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে নালিশ করা হয়েছে তাকে হাজির হতে বাধ্য করার জন্য সমন বা পরোয়ানা প্রদান স্থগিত রাখতে পারেন এবং নালিশের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নিজে ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারেন, অথবা তিনি যদি তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট না হন তাহলে তার অধীনস্ত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন এরূপ অন্যকোন ব্যক্তিকে এই বিষয় অনুসন্ধান বা তদন্তের নির্দেশ দিবেন।

তবে শর্ত এই যে,যেক্ষেত্রে আদালত নালিশ করেন সেক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ২০০ ধারার বিধান পালন না করে এরূপ কোন নির্দেশ দেয়া যাবে না।আরও শর্ত এই যে-যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য নালিশ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাজির হতে বাধ্য করার পরোয়ানা স্থগিত রাখতে পারবেন এবং নালিশের সত্যতা ও অসত্যতা নিরূপণের উদ্দেশ্যে এই উপধারায় উল্লেখিত অনুসন্ধান বা তদন্ত করবেন বা করাবেন।

২) এই ধারার অধীন অনুসন্ধান বা তদন্ত যে ব্যক্তি করবেন তিনি যদি ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা না হন,তাহলে তিনি এই কার্যবিধি অনুসারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া) কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

(২ক) এই ধারার অধীন কোন ঘটনা অনুসন্ধানকারী ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে শপথ করিয়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন তবে শর্ত এই যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে,যেই অপরাধের জন্য অভিযোগ করা হয়েছে তা কেবল দায়রা আদালতেই বিচার্য,তাহলে তিনি ফরিয়াদীকে তার সকল সাক্ষীদেরকে হাজির করতে বলবেন এবং তাদের শপথ করে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। 
(২খ) পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ করতে এবং অভিযুক্তদেরকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।
২,৬০৮.
The Code of Criminal Procedure, 1860 এর কোন দুইটি ধারার অধীনে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা যায়?
  1. ১৫৪ ও ২০০
  2. ১৫৬ ও ২০০
  3. ১৫৫ ও ২০৪
  4. ১৫৪ ও ২০৪
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী পুলিশকে আমলযোগ্য এবং আমলঅযোগ্য উভয় ধরণের মামলা বা অপরাধ সংঘটনের সংবাদ প্রদান করা যায়। পুলিশকে আমলযোগ্য অপরাধের [Cognizable offence] সংবাদ দিলে, তা পুলিশ ১৫৪ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করে। এই ধারায় দায়েরকৃত মামলা এফআইআর কেস (FIR case) বা পুলিশ কেস (Police Case) বা জি.আর (G.R) কেইস নামে পরিচিত। এই মামলার ক্ষেত্রে ১৫৬(১) ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ তদন্ত শুরু করতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে।

⇒ ফৌজদারী মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে, অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা। ২০০ বিধান অনুযায়ী অপরাধ আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর জবানবন্দি নিতে বাধ্য ।

⇒ ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে,নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে নালিশকারীকে বা উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন। নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।

অর্থাৎ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারার পলিশের নিকট এফআইআর মাধ্যমে এবং ২০০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ এর মাধ্যমে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা যায়।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1860 এর ১৫৪ এবং ২০০ ধারার অধীনে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা যায়।
২,৬০৯.
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী যদি গর্ভবতী থাকে, তাহলে ৩৮২ ধারায় হাইকোর্ট কোন ব্যবস্থা নিতে পারে?
  1. দণ্ড বাতিল করতে পারে
  2. দণ্ড কার্যকর স্থগিত করতে পারে
  3. শুধুমাত্র জরিমানা দিতে পারে
  4. মামলা বাতিল করতে পারে
ব্যাখ্যা

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮২ মোতাবেক-
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন স্ত্রীলোক গর্ভবতী রয়েছে বলে দেখা গেলে হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাসকরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

Section 382- Postponement of capital sentence on pregnant woman
If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life

২,৬১০.
'খ'- Penal Code,1860 এর ৩৭৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট 'খ' কে ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। 'খ' উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে এবং জামিনের আবেদন করেন। আপিল আদালত 'খ' এর জামিন মঞ্জুর করে। The Code of Criminal Procedure,1898 এর কত ধারা উক্ত কার্যক্রম সমর্থন করে?
  1. ধারা ৪২৮
  2. ধারা ৪২১
  3. ধারা ৪২৬
  4. ধারা ৪২৭
ব্যাখ্যা
আপিল চলমান থাকলে দণ্ড স্থগিত এবং জামিনের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় আবেদন করা যায়। ৪২৬ ধারায় আপিল আদালতকে আপিল চলাকালীন সময় দণ্ড স্থগিত এবং আসামীকে জামিন দেওয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। 

৪২৬ ধারা অনুযায়ী-
আপিল চলমান থাকাকালে আপিল আদালতে যে দণ্ডাদেশ বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, সেই দণ্ডাদেশ বা আদেশ কার্যকর করা স্থগিত করতে পারে এবং আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে। বিচারিক আদালত কর্তৃক কোন ব্যক্তি অনধিক ১ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হলে এবং উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলের বিধান থাকলে এবং বিচারিক আদালত যদি মনে করে যে, উক্ত ব্যক্তি আপিল দায়ের করতে পারে তাহলে বিচারিক আদালত উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে।
হাইকোর্ট বিভাগ যদি সন্তুষ্ট হয় যে, দণ্ডিত ব্যক্তিকে আপিল বিভাগে অনুমতি সাপেক্ষে আপিল [leave to appeal] করার বিশেষ অনুমতি দেয়া হয়েছে, তখন হাইকোর্ট বিভাগ যে দণ্ড দিয়েছে আপিল চলাকালীন সময় উক্ত দণ্ড স্থগিত বা আসামীকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে।

Section 426: Suspension of sentence pending appeal Release of appellant on bail
(1) Pending any appeal by a convicted person, the Appellate Court may, for reasons to be recorded by it in writing, order that the execution of the sentence or order appealed against be suspended and, also, if he is in confinement, that he be released on bail or on his own bond. 
 
(2) The power conferred by this section on an Appellate Court may be exercised also by the High Court Division in the case of any appeal by a convicted person to a Court subordinate thereto. 
 
(2A) When any person is sentenced to imprisonment for a term not exceeding one year by a Court, and an appeal lies from that sentence, the Court may, if the convicted person satisfies the Court that he intends to present an appeal, order that he be released on bail for a period sufficient in the opinion of the Court to enable him to present the appeal and obtain the orders of the Appellate Court under sub-section (1) and the sentence of imprisonment shall, so long as he is so released on bail, be deemed to be suspended. 
 
(2B) Where High Court Division is satisfied that a convicted person has been granted special leave to appeal to the 2[Appellate Division of the Supreme Court] against any sentence which it has imposed or maintained, it may if it so thinks fit order that pending the appeal the sentence or order appealed against be suspended, and also, if the said person is in confinement, that he be released on bail. 
 
(3) When the appellant is ultimately sentenced to imprisonment, or transportation, the time during which he is so released shall be excluded in computing the term for which he is so sentenced.
২,৬১১.
বে-আইনীভাবে আটক ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধারের জন্য কে তল্লাশী পরোয়ানা প্রদান করতে পারে?
  1. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় বে-আইনীভাবে আটক ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধারের জন্য তল্লাশী পরোয়ানা (সার্চ ওয়ারেন্ট) জারির বিধান রয়েছে।
 
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারা-
 
যখন কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর এরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তিকে এরূপ অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে যে আটক রাখা অপরাধের সামিল তখন তিনি তল্লাশী পরোয়ানা প্রদান করতে পারবেন এবং যার প্রতি পরোয়ানাটি নির্দেশিত তিনি পরোয়ানা অনুসারে উক্ত আটক ব্যক্তির জন্য তল্লাশী করতে পারবেন, এবং সেই ব্যক্তিকে পাওয়া গেলে তাকে অবিলম্বে কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে এবং অবস্থানুসারে যেরূপ মনে করেন সেরূপ উপযুক্ত আদেশ দিবেন।
 
Section 100- Search for persons wrongfully confined
If any Metropolitan Magistrate, Magistrate of the first class or or an Executive Magistrate has reason to believe that any person is confined under such circumstances that the confinement amounts to an offence, he may issue a search- warrant, and the person to whom such warrant is directed may search for the person so confined; and such search shall be made in accordance therewith, and the person, if found, shall be immediately taken before a Magistrate, who shall make such order as in the circumstances of the case seems proper.
২,৬১২.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কত শ্রেণির বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে?
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৬ ধারার বিধান ফৌজদারি আদালতের শ্রেণীবিভাগ: (১) সুপ্রীম কোর্ট এবং উক্ত কোড ভিন্ন সাময়িকভাবে বলবৎ অপর কোন আইনবলে প্রতিষ্ঠিত আদালতসমূহ ব্যতীত,
বাংলাদেশে দুই প্রকারের ফৌজদারী আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে; যথা: (ক) দায়রা আদালত; এবং (খ) ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত।
(২) দুই প্রকারের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে; যথা: (ক) বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট; এবং (খ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

(৩) চার শ্রেণীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকিবে; যথা:
(ক) মহানগর এলাকার জন্য মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য এলাকার জন্য মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
(খ) মহানগর এলাকায় স্থিত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট বলিয়া অভিহিত হইবে;
(গ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট;
(ঘ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

ব্যাখ্যা: এই উপধারার উদ্দেশ্যে, চীফ মোট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" এবং "চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট" শব্দ দুটিকে যথাক্রমে "অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" এবং "অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট" বুঝাবে।
---------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-6: Classes of Criminal Courts:
(1) Besides the Supreme Court and the Courts constituted under any law for the time being in force, other than this Code, there shall be two classes of Criminal Courts in Bangladesh, namely:- 
(a) Courts of Sessions ; and 
(b) Courts of Magistrates. 
(2) There shall be two classes of Magistrate, namely: - 
(a) Judicial Magistrate; and 
(b) Executive Magistrate. 
(3) There shall be four classes of judicial Magistrate, namely: - 
(a) Chief Metropolitan Magistrate in Metropolitan Area and Chief judicial Magistrate to other areas; 
(b) Magistrate of the first class, who shall in Metropolitan area, be known as Metropolitan Magistrate; 
(c) Magistrate of the second class; and 
(d) Magistrate of the third class.

Explanation: For the purpose of this sub-section, the word "Chief Metropolitan Magistrate" and "Chief judicial Magistrate" shall include "Additional Chief Metropolitan Magistrate" and "Additional Chief judicial Magistrate" respectively.
২,৬১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৬(৬ক) অনুসারে, যদি হাইকোর্ট মনে করে যে মামলা স্থানান্তরের আবেদন ভিত্তিহীন বা হয়রানিমূলক, তবে কত টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আরোপ করতে পারে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ১,০০০ টাকা
  3. ২,০০০ টাকা
  4. ৩,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির (Code of Criminal Procedure) ধারা ৫২৬(৬ক) অনুসারে, যদি হাইকোর্ট বিভাগ মনে করে যে মামলা স্থানান্তরের জন্য করা আবেদন ভিত্তিহীন (frivolous) বা হয়রানিমূলক (vexatious), তবে আদালত আবেদনকারীকে আবেদনের বিরোধিতাকারী ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারে। এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আদালত পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করে।
- ধারা ৫২৬(৬ক) এর উদ্দেশ্য হলো আদালতের সময় অপচয় রোধ করা এবং ভিত্তিহীন বা হয়রানিমূলক আবেদন দায়েরের বিরুদ্ধে দণ্ডমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- এই ধারার অধীনে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয় বিরোধিতাকারী পক্ষের ক্ষতি পূরণের জন্য, যিনি অযৌক্তিক আবেদনের কারণে সময় এবং সম্পদের ক্ষতি সহ্য করেছেন।
- ধারা ৫২৬ এর অন্যান্য উপ-ধারা, যেমন ৫২৬(৪) এবং ৫২৬(৬), মামলা স্থানান্তরের আবেদনের প্রক্রিয়া এবং পাবলিক প্রসিকিউটরকে নোটিশ প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করে, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক।
- অতএব, ধারা ৫২৬(৬ক) অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ ভিত্তিহীন বা হয়রানিমূলক মামলা স্থানান্তরের আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আরোপ করতে পারে।

২,৬১৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে, যদি কোনো ব্যক্তি সরকার কর্তৃক "Proclaimed Offender" হিসেবে ঘোষিত হয়, পুলিশ তাকে —
  1. জামিনে মুক্তি দিতে পারে
  2. গ্রেফতার করতে পারে না
  3. পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে
  4. কেবল আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করতে পারে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা (Section 54 of the Code of Criminal Procedure, 1898) অনুযায়ী, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র হলো: ৫৪ ধারা (৩ নম্বর ভিত্তি): “যদি কোনো ব্যক্তিকে আদালত বা সরকার ‘Proclaimed Offender’ হিসেবে ঘোষণা করে,” তাহলে পুলিশ তাকে পরোয়ানা ছাড়াই (without warrant) গ্রেফতার করতে পারে।
→ Proclaimed Offender বলতে বোঝায়: একজন Proclaimed Offender হচ্ছে এমন একজন ব্যক্তি, যাকে আদালত বা সরকার আইনসম্মতভাবে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছে, সাধারণত তখন যখন সে পলাতক থাকে এবং আদালতের আদেশ অমান্য করে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া (without warrant) নিম্নলিখিত ৯টি ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে:
৯টি ক্ষেত্র যেখানে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে:
১) যদি কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable Offence) করে বা তাতে জড়িত থাকার যুক্তিযুক্ত সন্দেহ থাকে।
২) যদি কোনো ব্যক্তির নিকট আইনসংগত কারণ ছাড়া ঘরভাঙার সরঞ্জাম (Implement of House Breaking) পাওয়া যায়।
৩) যদি কোনো ব্যক্তিকে আদালত বা সরকার "Proclaimed Offender" হিসাবে ঘোষণা করে।
৪) যদি কোনো ব্যক্তির নিকট চোরাই মাল (Stolen Property) পাওয়া যায় বা উক্ত অপরাধ করেছে বলে যুক্তিযুক্ত সন্দেহ হয়।
৫) যদি কোনো ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দেয় বা আইনসংগত হেফাজত (Lawful Custody) থেকে পলায়ন করে বা পলায়নের চেষ্টা করে।
৬) যদি কোনো ব্যক্তি সশস্ত্র বাহিনী থেকে পলায়নকারী (Deserter) হয়।
৭) যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে এমন কোনো কাজ করে যা বাংলাদেশে অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং যার জন্য তাকে বন্দি বা গ্রেফতার করা যেতে পারে।
৮) যদি কোনো মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি (Released Convict) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬৫(৩) ধারার অধীনে কোনো নিয়ম ভঙ্গ করে।
৯) যদি কোনো পুলিশ অফিসার অন্য কোনো পুলিশ অফিসারের অনুরোধে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে, তবে শর্ত থাকে যে অনুরোধে গ্রেফতারযোগ্য অপরাধের উল্লেখ থাকতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-54. When police may arrest without warrant:
(1) Any police officer may, without an order from a Magistrate and without a warrant, arrest-
firstly, any person who has been concerned in any cognizable offence or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received, or a reasonable suspicion exists of his having been so concerned;
secondly, any person having in his possession without lawful excuse, the burden of proving which excuse shall lie on such person, any implement of housebreaking;
thirdly, any person who has been proclaimed as an offender either under this Code or by order of the Government;
fourthly, any person in whose possession anything is found which may reasonably be suspected to be stolen property and who may reasonably be suspected of having committed an offence with reference to such thing;
fifthly, any person who obstructs a police officer while in the execution of his duty, or who has escaped, or attempts to escape, from lawful custody;
sixthly, any person reasonably suspected of being a deserter from the armed forces of Bangladesh ;
seventhly, any person who has been concerned in, or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received or a reasonable suspicion exists of his having been concerned in, any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would have been punishable as an offence, and for which he is, under any law relating to extradition or under the Fugitive Offenders Act, 1881, or otherwise, liable to be apprehended or detained in custody in Bangladesh;
eighthly, any released convict committing a breach of any rule made under section 565, sub-section (3);
ninthly, any person for whose arrest a requisition has been received from another police officer, provided that the requisition specifies the person to be arrested and the offence or other cause for which the arrest is to be made and it appears therefrom that the person might lawfully be arrested without a warrant by the officer who issued the requisition.

২,৬১৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারা অনুসারে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দেওয়ার আগে আপিল আদালত কী করতে হবে?
  1. সাক্ষীর সম্মতি নিতে হবে
  2. বিচারকার্য স্থগিত করতে হবে
  3. অভিযোগকারীকে অবহিত করতে হবে
  4. সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৮(১) অনুসারে, যদি আপিল আদালত মনে করে যে, মামলাটির সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহলে সে নিজেই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে অথবা উপযুক্ত বিচারিক কর্তৃপক্ষকে (যেমন: দায়রা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট) সেই সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারে।
→ তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগের আগে আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো— “তাদের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিক কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে।”
- এই ধারা অনুযায়ী, অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেওয়া একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা, এবং যাতে এই ক্ষমতা অপব্যবহার না হয়, সে জন্য আদালতকে অবশ্যই তা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে কারণ স্পষ্টভাবে রেকর্ড করতে হবে।
- অর্থাৎ বিচারিক স্বচ্ছতা ও যুক্তিপূর্ণতা নিশ্চিত করা, যাতে আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে তার ভিত্তি সুস্পষ্ট থাকে।
তাই, সাক্ষীর সম্মতি নেওয়া বা অভিযোগকারীকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক নয়— মূল বিষয় হলো আদালতের নিজের কারণে লিপিবদ্ধ করা।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান: আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।
(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।
(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।
(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 428- Appellate Court may take further evidence or direct it to be taken:
(1) In dealing with any appeal under this Chapter, the Appellate Court, if it thinks additional evidence to be necessary, shall record its reasons, and may either take such evidence itself, or direct it to be taken by a Magistrate, or, when the Appellate Court is High Court Division, by a Court of Session or a Magistrate.
(2) When the additional evidence is taken by the Court of Session or the Magistrate, it or he shall certify such evidence to the Appellate Court, and such Court shall thereupon proceed to dispose of the appeal.
(3) Unless the Appellate Court otherwise directs, the accused or his pleader shall be present when the additional evidence is taken.
(4) The taking of evidence under this section shall be subject to the provisions of Chapter XXV, as if it were an inquiry.
২,৬১৬.
বিচারক রায়ের সময় কাকে আপিলের সময়সীমা সম্পর্কে অবহিত করবেন?
  1. ফরিয়াদিকে
  2. মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে
  3. যাবজ্জীবনদণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে
  4. যেকোনো দণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭১ অনুসারে,
বিচারক রায়ের সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আপিলের সময়সীমা সম্পর্কে অবহিত করবেন। অর্থাৎ কত দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবে তা জানাবেন।
 
উল্লেখ্য,
তামাদি আইন,১৯০৮ সালের ১ম তফসিলের বিধি ১৫০ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মৃত্যুদণ্ড আদেশের বিরুদ্ধে রায়ের ৭ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারে।
 
Section 371- Copy of judgment, etc., to be given to accused on application. Case of person sentenced to death-
 
 ⇒ On the application of the accused a copy of the judgment, or when he so desires, a translation in his own language, if practicable, or in the language of the Court, shall be given to him without delay. Such copy shall, in any case other than a case under Chapter XX, be given free of cost. 
 
⇒ When the accused is sentenced to death by a Sessions Judge, such Judge shall further inform him of the period within which, if he wishes to appeal, his appeal should be preferred.
২,৬১৭.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা-১০৬ অনুসারে শান্তিরক্ষার মুচলেকা কত বছরের জন্য দেওয়া যায়?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা

 ⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১০৬ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন যা: শান্তিভঙ্গ বা তা উসকে দেওয়া সংক্রান্ত, অথবা আসামি দ্বারা হুমকি প্রদর্শন (criminal intimidation) সংক্রান্ত, এবং আদালত মনে করেন যে, তাকে ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখতে বাধ্য করা প্রয়োজন, তাহলে আদালত মুচলেকা (bond) প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন।
-এই মুচলেকার মেয়াদ সর্বোচ্চ হতে পারে ৩ (তিন) বছর।
- এই আদেশ দিতে পারেন: হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা আদালত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
- যদি দণ্ডটি আপিলে বাতিল হয়, তাহলে মুচলেকাও বাতিল হয়ে যাবে।
 অতএব, ধারা ১০৬ অনুসারে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার সর্বোচ্চ সময়কাল ৩ বছর।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-106: Security for keeping the peach on conviction:
(1) Whenever any person accused of any offence punishable under Chapter VIII of the Penal Code, other than an offence punishable under section 143, section 149, section 153A or section 154 thereof, or of assault or other offence involving a breach of the peace, or of abetting the same, or any person accused of committing criminal intimidation, is convicted of such offence before High Court Division, a Court of Session, or the Court of a Metropolitan Magistrate, or a Magistrate of the first class, and such Court is of opinion that it is necessary to require such person to execute a bond for keeping the peace, such Court may, at the time of passing sentence on such person, order him to execute a bond for a sum proportionate to his means, with or `without sureties, for keeping the peace during such period, not exceeding three years, as it thinks fit to fix.
(2) If the conviction is set aside on appeal or otherwise, the bond so executed shall become void.
(3) An order under this section may also be made by an Appellate Court or by the High Court Division when exercising its powers of revision.

২,৬১৮.
দায়রা আদালতে বিচারের সময় আসামি উম্মাদ বা মানসিকভাবে অসুস্থ হলে আদালত-
  1. মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে বিচার করবেন
  2. মামলার পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন
  3. মামলা চালিয়ে রাখবেন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ধারা-৪৬৫ মতে দায়রা আদালতে বিচারের ক্ষেত্রে আসামী উম্মাদ বা পাগল হলে দায়রা আদালত নিজেই আসামীর মানসিক অসুস্থতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাগল আসামীর বিচারের বিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৫ ধারায় দায়রা আদালতে পাগল আসামীর বিচারের বিধান উল্লেখ রয়েছে। আসামী উম্মাদ বা পাগল হলে আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন।
২,৬১৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৪৫-এর অধীনে জরুরি পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কী করতে পারেন?
  1. সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে পারেন
  2. বিরোধের বিষয় জব্দ করতে পারেন
  3. মামলাটি হাইকোর্টে পাঠাতে পারেন
  4. সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণ করতে পারেন
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) বিরোধের বিষয় জব্দ করতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৪৫ এমন পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য যেখানে জমি, জলাশয় বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ফলে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দেয়।
- এ ক্ষেত্রে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, বিরোধ থেকে জনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটতে পারে, তাহলে তিনি তদন্ত শুরু করতে পারেন এবং উভয় পক্ষকে দখলের দাবিসমূহ উপস্থাপন করতে বলেন।

Proviso to Section 145(4)):
"Provided also, that if the Magistrate considers the case one of emergency, he may at any time attach the subject of dispute, pending his decision under this section."
- অর্থাৎ, জরুরি পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধপূর্ণ জমি বা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ (attach) করার আদেশ দিতে পারেন, যাতে পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।
২,৬২০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫০১
  2. ধারা ৫০২
  3. ধারা ৫০৩
  4. ধারা ৫০৪
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ৫০৩-এ সুনির্দিষ্টভাবে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন জারি করার বিধান রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষ্য প্রয়োজন হলে এবং সাক্ষীকে আদালতে হাজির করতে অযৌক্তিক বিলম্ব/খরচ/অসুবিধা হলে আদালত সাক্ষীর হাজিরা মওকুফ করে কমিশন জারি করতে পারবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৩ ধারার বিধান: সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ-
- ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যকোনো কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত অথবা হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষীর জাবনবন্দী গ্রহণ করা প্রয়োজন কিন্তু বিলম্ব, ব্যয় অথবা অসুবিধা ব্যতীত উক্ত সাক্ষীকে হাজির করা সম্ভব নয় অথবা মামলার পরিস্থিতিতে এই বিলম্ব,ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা অযৌক্তিক তাহলে,
- উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত সাক্ষীকে হাজির হতে রেহাই দিতে পারবে এবং উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সাক্ষী যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে বাস করেন তাকে কমিশন দিতে পারবেন। সাক্ষী যদি যুক্তরাজ্য বা বাংলাদেশ ব্যতীত কমনওয়েলথের অন্য কোন দেশে বা মায়ানমারে বাস করেন তাহলে সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত উক্ত দেশে এই সম্পর্কে ক্ষমতাবান কোন আদালত বা জজকে কমিশন দেয়া যাবে। এরূপ কমিশন প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার সাক্ষী যেখানে আছেন সেখানে গমন করবেন অথবা সাক্ষীকে নিজের নিকট আহ্বান করবেন এবং তার সাক্ষাৎ করবেন।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-503.When attendance of witness may be dispensed with Issue of commission and procedure thereunder:
(1) Whenever in the course of an inquiry, a trial or any other proceeding under this Code, it appears to a Metropolitan Magistrate], 489[a Chief Judicial Magistrate, a Court of Session or the High Court Division that the examination of a witness is necessary for the ends of justice, and that the attendance of such witness cannot be procured without an amount of delay, expense or inconvenience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable, such Magistrate or Court may dispense with such attendance and may issue a commission to any District Magistrate, Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate, within the local limits of whose jurisdiction such witness resides, to take the evidence of such witness.
(2B) When the witness resides in the United Kingdom or any other country of the Commonwealth other than Bangladesh, or in the Union of Burma, or any other country in which reciprocal arrangement in this behalf exists, the commission may be issued to such Court or Judge having authority in this behalf in that country as may be specified by the Government by notification in the official Gazette.
(3) The Magistrate or officer to whom the commission is issued, or if he is the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate, he, or any other Magistrate as he appoints in this behalf, shall proceed to the place where the witness is or shall summon the witness before him, and shall take down his evidence in the same manner, and may for this purpose exercise the same powers, as in trials of warrant-cases under this Code.

২,৬২১.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যভিচারের ক্ষেত্রে আদালত কার অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিবেন?
  1. পুলিশের
  2. আইনজীবীর
  3. সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের
  4. সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের স্বামীর
ব্যাখ্যা

→  ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৫-১৯৯ তে কিছু অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান দেয়া হয়েছে। এই সকল অপরাধের ক্ষেত্রে উল্লিখিত ব্যক্তিসমূহের অভিযোগ ব্যতীত আদালত অপরাধ আমলে নিবেন না।
- যেমন- ধারা ১৯৯ এ দেয়া আছে, আদালত দণ্ডবিধির ধারা ৪৯৭ অথবা ৪৯৮ এর অধীন কোন অপরাধ সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের স্বামীর অভিযোগ ব্যতীত,অথবা তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রীলোকের তত্ত্বাবধায়ক ব্যতীত আমলে নিবেন না।
------------- 
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 199. Prosecution for adultery or enticing a married woman: 
 No Court shall take cognizance of an offence under section 497 or section 498 of the Penal Code, except upon a complaint made by the husband of the woman, or, in his absence, made with the leave of the Court by some person who had care of such woman on his behalf at the time when such offence was committed:
Provided that, where such husband is under the age of eighteen years, or is an idiot or lunatic, or is from sickness or infirmity unable to make a complaint, some other person may, with the leave of the Court, make a complaint on his behalf: 
Provided further that where such husband is serving in any of the armed forces of Bangladesh under conditions which are certified by his Commanding Officer as precluding him from obtaining leave of absence to enable him to make a complaint in person, and where for any reason no complaint has been made by a person having care of the woman as aforesaid, some other person authorized by the husband in accordance with the provisions of sub-section (1) of section 199B may, with the leave of the Court, make a complaint on his behalf.

২,৬২২.
'Power to sell perishable property'- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় আছে?
  1. ৫২১ ধারা
  2. ৫২৩ ধারা
  3. ৫২৫ ধারা
  4. ৫২৭ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ ধারা অনুযায়ী-

আটককৃত চোরাই মাল দ্রুত ধ্বংসশীল বা ক্ষয়শীল হলে অথবা উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করা মালিকের জন্য কল্যাণকর হলে অথবা উক্ত সম্পত্তির মূল্য ১০ টাকার কম হলে যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আটকের খবর দেয়া হয়েছে, সেই ম্যাজিস্ট্রেট যে কোন সময় উক্ত সম্পত্তি বিক্রির আদেশ দিতে পারেন।
অর্থাৎ এমন সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি অপরিচিত বা অনুপস্থিত থাকে এবং সম্পত্তি দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়শীল হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট যেকোন সময় তা বিক্রয়ের নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 525- Power to sell perishable property

If the person entitled to the possession of such property is unknown or absent and the property is subject to speedy and natural decay, or if the Magistrate to whom its seizure is reported is of opinion that its sale would be for the benefit of the owner, or that the value of such property is less than ten taka the Magistrate may at any time direct it to be sold; and the provisions of sections 523 and 524 shall, as nearly as may be practicable, apply to the net proceeds of such sale.
২,৬২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭১ অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর ক্ষেত্রে দায়রা জজ তাকে কী জানাবেন?
  1. দণ্ড কার্যকরের সময়
  2. সাজা কমানোর সুযোগ
  3. ক্ষমা প্রার্থনার প্রক্রিয়া
  4. আপিলের সময়সীমা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭১ ধারার বিধান: আসামীর আবেদনে রায় প্রভৃতির অনুলিপি তাহাকে দিতে হইবে:
(১) আসামী আবেদন করলে রায়ের একটি নকল অথবা সে ইচ্ছা করলে ও সম্ভব হলে তার নিজের ভাষায় বা আদালতের ভাষায় উহার একটি অনুবাদ তাকে অবিলম্বে দিতে হবে। ২০ অধ্যায়ের মামলা ব্যতিত অন্য যেকোন মামলায় এরূপ নকল বিনা মূল্যে দিতে হবে।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ব্যক্তির বিষয়:
(৩) যখন কোন দায়রা জজ কোন আসামীকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ প্রদান করেন, তখন উক্ত দায়রা জজ তাকে আরও জানাইবেন যে সে আপীল করতে চাইলে কতদিনে মধ্যে আপীল করতে পারবে।
২,৬২৪.
কোন জব্দকৃত সম্পত্তির দাবীদার ___________ এর মধ্যে তা দাবি না করলে সেটি সরকারের হেফাজতে চলে যায়।
  1. ১ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ৩ মাস
  4. মামলা নিষ্পত্তি কালতক
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির  ৫২৩ ধারা অনুযায়ী ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত মাল বা চোরাইমাল আটকের সঙ্গে সঙ্গে তা কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে। জব্দকৃত মালের মালিক অজ্ঞাত হলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত সম্পত্তি আটক রাখতে পারবেন এবং একটি ঘোষণা দিবেন যে, উক্ত সম্পত্তিতে কারো কোন দাবী থাকলে এক মাসের মধ্যে তার সামনে হাজির হয়ে উক্ত দাবী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
♦যেহেতু প্রশ্নটিতে জব্দকৃত সম্পত্তির দাবীদার কর্তৃক দাবী প্রতিষ্ঠার মেয়াদ জানতে চাওয়া হয়েছে, সেহেতু উত্তর হবে ১ মাস। কারণ ৫২৩ (২) ধারা অনুসারে হাজির হয়ে দাবী প্রতিষ্ঠার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট দাবীদারকে সময় দিবে ১ মাস। পূর্বে এই মেয়াদটি ৬ মাস ছিল। ১৯৭৩ সালে সংশোধন করে ১ মাস করা হয়।
২,৬২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি আপিল আদালতের অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে?
  1. ৪২৭ ধারা
  2. ৪২৮ ধারা
  3. ৪৩০ ধারা
  4. ৪৩১ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার অধীন আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে বা বিচারকারী আদালতকে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।
(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।
(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামী বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।
(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।
---------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section: 428- The Appellate Court may take further evidence or direct it to be taken:
(1) In dealing with any appeal under this Chapter, the Appellate Court, if it thinks additional evidence to be necessary, shall record its reasons, and may either take such evidence itself, or direct it to be taken by a Magistrate, or, when the Appellate Court is High Court Division, by a Court of Session or a Magistrate. 
(2) When the additional evidence is taken by the Court of Session or the Magistrate, it or he shall certify such evidence to the Appellate Court, and such Court shall thereupon proceed to dispose of the appeal. 
(3) Unless the Appellate Court otherwise directs, the accused or his pleader shall be present when the additional evidence is taken. 
(4) The taking of evidence under this section shall be subject to the provisions of Chapter XXV, as if it were an inquiry.
২,৬২৬.
আপিল বিভাগ মামলা স্থানান্তর করতে পারেন কোন উদ্দেশ্যে?
  1. মামলার সময় সাশ্রয় করতে
  2. পক্ষগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে
  3. মামলা পরিচালনার খরচ কমাতে
  4. ন্যায়বিচার ও পক্ষগণ বা সাক্ষীদের সুবিধার্থে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫২৫ক- মামলা ও আপীল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের ক্ষমতা:
 (১) যেক্ষেত্রে এটা প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ স্থানান্তর ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বা পক্ষগণ বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধার উন্নয়ন ঘটাবে সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগ কোন নির্দিষ্ট মামলা বা আপিল হাইকোর্ট বিভাগের এক স্থায়ী বেঞ্চ থেকে উহার অন্য স্থায়ী বেঞ্চে কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের কোন স্থায়ী বেঞ্চের এখতিয়ারের মধ্যকার কোন ফৌজদারী আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগের অন্য কোন স্থায়ী বেঞ্চের মধ্যকার এখতিয়ারের মধ্যকার একই বা উচ্চতর ক্ষমতা সম্পন্ন ফৌজদারী আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
 
(২) যে হাইকোর্ট ডিভিশনের স্থায়ী বেঞ্চ কিংবা ক্ষেত্রমতে আদালতে মামলা বা আপীল স্থানান্তরিত হয়, সে বেঞ্চ বা আদালত এমনভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন যাতে মূলতঃ সেখানেই উক্ত মামলা বা আপীল দায়ের করা বা উপস্থাপিত হয়েছিল।
 
Section 525A- Power of Appellate Division to transfer cases and appeals:

(1) The Appellate Division may direct the transfer of any particular case or appeal from one permanent Bench of the High Court Division to another permanent Bench of the High Court Division, or from any Criminal Court within the jurisdiction of one permanent Bench of the High Court Division to any other Criminal Court of equal or superior jurisdiction within the jurisdiction of another permanent Bench of the High Court Division, whenever it appears to it that such transfer promote the ends of justice, or tend to the general convenience of parties or witnesses.

(2) The permanent Bench of the High Court Division or the Court, as the case may be, to which such case or appeal is transferred shall deal with the same as if it had been originally instituted in, or presented to, such Bench or Court, as the case may be.
২,৬২৭.
অজানা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করলে, সেই বিষয়ে কে তদন্ত করবেন?
  1. দায়রা আদালত
  2. ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা
ধারা ৫১২- আসামীর অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ

(১) যদি প্রমাণিত হয় যে, আসামী পালিয়েছে এবং তার গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে যে অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অপরাধের জন্য তাকে বিচার করার বা বিচারের জন্য প্রেরণ করার ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত তার অনুপস্থিতিতে বাদীপক্ষ দ্বারা দাখিলকৃত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দী গ্রহণ করতে ও তা লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। এরুপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে অথবা বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক হয়ে পড়লে প্রদত্ত সাক্ষ্য সে যে অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে সেই অপরাধের ইনকোয়ারী বা বিচারে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে ।

(২) অপরাধী অজানা হলে সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ-
যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন অজানা ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে, তাহলে হাইকোর্ট ডিভিশন নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট এই বিষয়ে ইনকোয়ারী করবেন এবং অপরাধ সম্পর্কে যারা সাক্ষ্য দিতে পারেন তাদেরকে পরীক্ষা করবেন। এরূপ সাক্ষী মারা গেলে বা সাক্ষ্য দিবার অযোগ্য হয়ে পড়লে বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে থাকলে গৃহীত জবানবন্দী পরবর্তীকালে উক্ত অপরাধ অভিযুক্ত যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে।

Section 512: Record of evidence in absence of accused

(1) If it is proved that an person has absconded, and that there is no immediate prospect of arresting him, the Court competent to try such person for the offence complained of may, in his absence, examine the witnesses (if any) produced on behalf of the prosecution, and record their depositions. Any such deposition may be given in evidence against him on the inquiry into, or trial for, the offence with which he is charged, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or incon- venience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable.

(2) Record of evidence when offender unknown-
If it appears that an offence punishable with death or transportation has been committed by some person or persons unknown, the High Court Division may direct that any Magistrate of the first class shall hold an inquiry and examine any witnesses who can give evidence concerning the offence. Any depositions so taken may be given in evidence against any person who is subsequently accused of the offence, if the deponent is dead or incapable of giving evidence or beyond the limits of Bangladesh.
২,৬২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দায়রা আদালতের চার্জ গঠনের পদ্ধতি উল্লেখ আছে?
  1. ২৬৫ক ধারায়
  2. ২৬৫ঘ ধারায়
  3. ২৬৫ছ ধারায়
  4. ২৬৫চ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৫ঘ তে দায়রা আদালতের চার্জ গঠনের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই ধারার অধীনে, যদি বিচার শুরুর আগে আদালত মনে করে যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্য পর্যাপ্ত সন্দেহের ভিত্তি আছে, তাহলে সে লিখিত চার্জ গঠন করবে এবং তা অভিযুক্তকে পড়ে শোনানো ও ব্যাখ্যা করার পরে তার জবাব গ্রহণ করবে—সে দোষ স্বীকার করে কিনা বা বিচার চায় কিনা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা- ২৬৫ঘ: চার্জ গঠন করা:
(১) যদি উক্ত পর্যালোচনা এবং শুনানির পর আদালত এই মতামত ব্যক্ত করে যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্য সন্দেহ সৃষ্টি করার যথেষ্ট কারণ আছে, তবে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি লিখিত চার্জ গঠন করবে।
(২) যখন আদালত উপধারা (১) অনুযায়ী একটি চার্জ গঠন করে, তখন ওই চার্জটি অভিযুক্তকে পড়া এবং ব্যাখ্যা করা হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে অভিযুক্ত অপরাধে দোষী কিনা, অথবা সে বিচার প্রার্থনা করে।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 265D. Framing charge:
(1) If, after such consideration and hearing as aforesaid, the Court is of opinion that there is ground for presuming that the accused has committed an offence, it shall frame in writing a charge against the accused. 
(2) Where the Court frames a charge under sub-section (1), the charge shall be read and explained to the accused shall be asked whether he pleads guilty of the offence charged or claims to be tried.

২,৬২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ক ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. সাক্ষীর জেরা
  2. সাক্ষীর নিরাপত্তা
  3. সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পদ্ধতি
  4. সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে শাস্তি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮৫ক (Section 485A) একটি সংক্ষিপ্ত বিচারপদ্ধতির মাধ্যমে সাক্ষী অনুপস্থিতির জন্য শাস্তির বিধান প্রদান করে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন সাক্ষী আদালতের সমন (summons) পাওয়ার পরও বৈধ কারণ ছাড়া আদালতে উপস্থিত না হন, কিংবা পূর্বেই আদালত ত্যাগ করেন;
তবে সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালত, সাক্ষীকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে, সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন;
এবং এই প্রক্রিয়াটি সংক্ষিপ্ত বিচারপদ্ধতির (summary procedure) মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
→ অতএব, এটি সাক্ষীর অনুপস্থিতির কারণে শাস্তি সংক্রান্ত বিধান – এবং উত্তর “ঘ” সঠিক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ক ধারায় দেয়া আছে-
- সমন জারির পরও কোন সাক্ষী বৈধ কারণ ব্যতীত ফৌজদারি আদালতে হাজির হতে অবহেলা বা অস্বীকার করলে, যে আদালতের নিকট উক্ত সাক্ষী হাজির হতে বাধ্য সেই আদালত কারণ দর্শাবার সুযোগ দিয়ে অনধিক দুইশত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করবে। এক্ষেত্রে আদালত যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: -Section 485A- Summary procedure for punishment for non-attendance by a witness in obedience to summons:
(1) If any witness being summoned to appear before a Criminal Court is legally bound to appear at a certain place and time in obedience to the summons and without just excuse neglects or refuses to attend at that place or time or departs from the place where he has to attend before the time at which it is lawful for him to depart, and the Court before which the witness is to appear is satisfied that it is expedient in the interests of justice that such a witness should be tried summarily, the Court, may take cognizance of the offence and after given the offender an opportunity of showing cause why he should not be punished under this section, sentence him to fine not exceeding Taka two hundred and fifty.
(2) In every such case the Court shall follow, as nearly as may be practicable, the procedure prescribed for summary trials.
২,৬৩০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারায় অভিযোগ পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কী?
  1. মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা
  2. আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  3. অভিযুক্তকে নির্দোষ প্রমাণ করা
  4. অভিযোগের কোনো ভুল বা বাদ পড়া তথ্য সংশোধন করা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারায় অভিযোগ পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হল অভিযোগের মধ্যে যেকোনো ভুল বা বাদ পড়া তথ্য সংশোধন করা। যদি অভিযোগে কোনো ত্রুটি থাকে বা কিছু বাদ পড়ে যায়, তাহলে আদালত রায় ঘোষণার পূর্বে এটি সংশোধন বা সংযোজন করতে পারে, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে সঠিক অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।
------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-227: Court may alter charge:
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
২,৬৩১.
মৌখিকভাবে দেওয়া আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক প্রক্রিয়া নয়?
  1. সংবাদ লিপিবদ্ধ করা
  2. সংবাদ দাতাকে তা পড়ে শোনানো
  3. সংবাদ দাতার স্বাক্ষর নেওয়া
  4. পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই সংবাদে স্বাক্ষর করা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুসারে, মৌখিকভাবে দেওয়া আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ লিপিবদ্ধ করার পর সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে (Informant) তা পড়ে শোনাতে হবে এবং সংবাদদাতাকেই তা স্বাক্ষর করতে হবে। পুলিশ কর্মকর্তার কাজ হলো সংবাদটি লিপিবদ্ধ করা ও পড়ে শোনানো, না হয়ে সংবাদদাতার পরিবর্তে নিজে স্বাক্ষর করা নয়। তাই "পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই সংবাদে স্বাক্ষর করা" সঠিক প্রক্রিয়া নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান আমলযোগ্য মামলার সংবাদ: আমলযোগ্য অপরাধ সম্বন্ধীয় কোনও সংবাদ যদি কোন পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে দেয়া হলে তিনি বা তাঁর নির্দেশানুসারে অন্য কেউ তা লিপিবদ্ধ করবেন, এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে তা পড়ে শোনাবেন, এবং এরূপ প্রতিটি সংবাদ, তা লিখিতভাবে প্রদত্ত হোক বা পরে লিপিবদ্ধ করা হোক, সংবাদ জ্ঞাপনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে, এবং উহার সারাংশ ঐরূপ অফিসার কর্তৃক সরকার কর্তৃক এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট নিদর্শে রক্ষিত বহিতে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-154. Information in cognizable cases: Every information relating to the commission of a cognizable offence if given orally to an officer in charge of a police-station, shall be reduced to writing by him or under his direction, and be read over to the informant; and every such information, whether given in writing or reduced to writing as aforesaid, shall be signed by the person giving it and the substance thereof shall be entered in a book to be kept by such officer in such form as the Government may prescribe in this behalf.

২,৬৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬১ ধারানুসারে,কে ২য় বা ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাসম্পন্ন বেঞ্চের উপর সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের ক্ষমতা দিতে পারবেন?
  1. সরকার
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• গুরুতর নয় এমন অপরাধ এবং যে অপরাধমূলক কাজের জন্য লঘু শাস্তি হয়,সেই সব অপরাধগুলোর বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা যায়।ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ এবং ধারা ২৬০-২৬৫ এ সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬০ অধীন নিম্নলিখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ সংক্ষিপ্ত বিচার করতে পারেন-
১. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
২. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা
৩. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চ। 

• কিন্তু ২৬১ ধারার বিধান অনুযায়ী- সরকার ২য় বা ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে কতিপয় ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার করার ক্ষমতা দিতে পারে।
২,৬৩৩.
আদালতের স্থানীয় সীমার বাইরে সমন জারি করার বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ৭১ ধারায়
  2. ৭৩ ধারায়
  3. ৭৫ ধারায়
  4. ৭৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৩ ধারার বিধান স্থানীয় সীমার বাহিরে সমন জারী:
- যেক্ষেত্রে কোন আদালত উক্ত আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সমন উক্ত আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার বাইরের কোন স্থানে জারী করতে চান, সেক্ষেত্রে সমনকৃত ব্যক্তি যে ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে থাকে বা বাস করে, উক্ত আদালত সাধারণ অবস্থায় দুই কপি সমন সেই ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর পাঠাবেন এবং সেখানে উক্ত সমন জারী হবে।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 73. Service of summons outside local limits:
 When a Court desires that a summons issued by it shall be served at any place outside the local limits of its jurisdiction, it shall ordinarily send such summons in duplicate to a Magistrate within the local limits of whose jurisdiction the person summoned resides or is, to be there served.
২,৬৩৪.
প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে আসামিকে তার ক্ষমতার চেয়ে বেশি দণ্ড দেওয়া প্রয়োজন, তাহলে তিনি কী করবেন?
  1. হাইকোর্টে আবেদন করবেন
  2. নিজেই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন
  3. মামলা স্থগিত করবেন
  4. মামলার নথি দায়রা আদালতে পাঠাবেন
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৪৭- যেক্ষেত্রে আসামীকে যখন উচ্চতর দণ্ড প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে পদ্ধতি:
এই কার্যবিধিতে যা-ই বর্ণিত থাকুক না কেন যখন কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সরকার পক্ষের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার পর এ মর্মে অভিমত পোষণ করেন যে, আসামীকে অথবা যেক্ষেত্রে একাধিক আসামীর একসাথে বিচার করা হয়, সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে যেকোন একজনকে দোষী মর্মে সাব্যস্ত করে ঐ ম্যাজিট্রেট যে দণ্ড দিতে পারেন তদাপেক্ষা অধিক দণ্ড দিতে হবে, সেক্ষেত্রে তিনি তার এরূপ অভিমতের কারণ লিপিবদ্ধ করে তিনি যেই দায়রা আদালতের অধীনন্ত সেই দায়রা আদালতে মামলার নথি দাখিল করতে এবং আসামীকে বা সকল আসামীকে অগ্রবর্তী করতে পারবেন এবং তার ফলে সেই দায়রা আদালতও এমনভাবে মামলার বিচার করবেন যাতে মামলাটি এই কার্যবিধি অনুসারে শুধুমাত্রই তৎকর্তৃক বিচার্য।

Section 347- Procedure when, higher punishment should be inflicted on accused:
Notwithstanding anything contained in this Code, whenever a Magistrate of the first class is of opinion, after recording the evidence for the prosecution, that if the accused or, where more accused than one are being tried together, any of such accused is convicted he should receive a punishment more severe than that which such Magistrate is empowered to inflict, he may record his opinion and submit his proceedings, and forward the accused, or all the accused, to the Court of Session to which he is subordinate, whereupon the Court of Session shall try the case as if the case were exclusively triable by it under this Code.
২,৬৩৫.
"There shall be _______ classes of judicial Magistrate under The Code of Criminal Procedure, 1898"
  1. two
  2. three
  3. four
  4. five
ব্যাখ্যা
The Code of Criminal Procedure, Section 6. Classes of Criminal Courts:
(1) Besides the Supreme Court and the Courts constituted under any law for the time being in force, other than this Code, there shall be two classes of Criminal Courts in Bangladesh, namely:- 
(a) Courts of Sessions ; and 
(b) Courts of Magistrates. 
(2) There shall be two classes of Magistrate, namely: -
(a) Judicial Magistrate; and 
(b) Executive Magistrate. 
 
(3) There shall be four classes of judicial Magistrate, namely: - 
(a) Chief Metropolitan Magistrate in Metropolitan Area and Chief judicial Magistrate to other areas; 
(b) Magistrate of the first class, who shall in Metropolitan area, be known as Metropolitan Magistrate; 
(c) Magistrate of the second class; and 
(d) Magistrate of the third class. 
 
Explanation: For the purpose of this sub-section, the word "Chief Metropolitan Magistrate" and "Chief judicial Magistrate" shall include "Additional Chief Metropolitan Magistrate" and "Additional Chief judicial Magistrate" respectively.
-------------------------------------------------
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬ ধারার বিধান: ফৌজদারী আদালতের শ্রেণীবিভাগ:
(১) সুপ্রীম কোর্ট এবং উক্ত কোড ভিন্ন সাময়িকভাবে বলবৎ অপর কোন আইনবলে প্রতিষ্ঠিত আদালতসমূহ ব্যতীত,
বাংলাদেশে দুই প্রকারের ফৌজদারী আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে; যথা:
(ক) দায়রা আদালত; এবং
(খ) ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত।

(২) দুই প্রকারের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে; যথাঃ
(ক) বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট; এবং (খ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

(৩) চার প্রকারের বিচার বিভাগীয় (জুডিশিয়াল) ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন; যথা:
(ক) মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর এলাকায় এবং মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, অন্যান্য এলাকায়;
(খ) মহানগর এলাকায় স্থিত প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মর্মে আখ্যায়িত হবে;
(গ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট;
(ঘ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট।

ব্যাখ্যা: এই উপধারার উদ্দেশ্যে, চীফ মোট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট” এবং “চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট" শব্দ দুটিকে যথাক্রমে "অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট" এবং "অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট” বুঝাবে।
২,৬৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৭ ধারা অনুযায়ী, কে গ্রেফতারী পরোয়ানা শুধুমাত্র পুলিশ অফিসারের কাছে নির্দেশ করতে বাধ্য?
  1. দায়রা জজ
  2. জেলা জজ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৭(১) ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতারী পরোয়ানা সাধারণত এক বা একাধিক পুলিশ অফিসারের কাছে নির্দেশিত হয়। তবে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জারিকৃত পরোয়ানা সর্বদা শুধুমাত্র পুলিশ অফিসারের কাছে নির্দেশিত হতে বাধ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭৭ ধারার বিধান: পরোয়ানা যার কাছে প্রেরণ করতে হবে:
(১) গ্রেফতারী পরোয়ানা সাধারণতঃ এক বা একাধিক পুলিশ অফিসার বরাবর নির্দেশিত হবে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জারীকৃত পরোয়ানা সর্বদাই তদ্রূপ নির্দেশিত হবে, তবে যেক্ষেত্রে পরোয়ানা অবিলম্বে কার্যকরী করা আবশ্যক হয় এবং অবিলম্বে কোন পুলিশ অফিসার পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে এরূপ পরোয়ানা জারীকারী আদালত অন্য এক বা একাধিক ব্যক্তি বরাবর তা নির্দেশিত করতে পারবেন এবং এরূপ এক বা একাধিক ব্যক্তি তা কার্যকরী করবেন।
(২) একাধিক ব্যক্তির কাছে প্রেরিত পরোয়ানাঃ যেক্ষেত্রে কোন পরোয়ানা একাধিক অফিসার বা ব্যক্তি বরাবর নির্দেশিত হয়, সেক্ষেত্রে তাদের সকলে বা যে কোন এক বা একাধিক জন তা কার্যকরী করতে পারবেন।
---------------------
The Code of Criminal Procedure, Section 77. Warrants to whom directed:
(1) A warrant of arrest shall ordinarily be directed to one or more police-officers, and, when issued by a Metropolitan Magistrate, shall always be so directed; but any other Court issuing such a warrant may, if its immediate execution is necessary and no police-officer is immediately available, direct it to any other person or persons; and such person or persons shall execute the same.

Warrants to several persons:
(2) When a warrant is directed to more officers or persons than one, it may be executed by all, or by any one or more, of them.

২,৬৩৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা 265H অনুসারে, প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত যদি মনে করেন যে অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে কোনো প্রমাণ নেই, তাহলে কী করবেন?
  1. চার্জ পরিবর্তন করবেন
  2. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেবেন
  3. অভিযুক্তকে খালাস দিবেন
  4. অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করবেন
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির 265H ধারা (Acquittal) অনুযায়ী, প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণ, অভিযুক্তের জেরা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর যদি আদালতের মতে অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে কোনো প্রমাণ না থাকে, তবে আদালত অভিযুক্তকে খালাস দেবেন এবং এই মর্মে একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫জ ধারার বিধান-খালাস:
- বাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং বাদীপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করার পর আদালত যদি মনে করেন যে, আসামি অপরাধ করেছে এরূপ কোন সাক্ষ্য নাই তাহলে আদালত আসামিকে খালাস দেওয়ার আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন। 
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 265H: Acquittal:
- If, after taking the evidence for the prosecution, examining the accused and hearing the prosecution and the defence on the point, the Court considers that there is no evidence that the accused committed the offence, the Court shall record an order of acquittal.

২,৬৩৮.
ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় কার দ্বারা সাক্ষী পরীক্ষা করার বিধান উল্লেখ রয়েছে?
  1. আদালত
  2. পুলিশ কর্মকর্তা
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ফরিয়াদির আইনজীবী
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিধান- পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী পরীক্ষা

(১) এই অধ্যায় মতে তদন্ত সম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা, অথবা এ ব্যাপারে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা যে প্রকার নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন সে প্রকার পদের নিম্নের কোন পদে অধিষ্ঠিত নহেন এরূপ এবং ঐরূপ অফিসারের অধি- যাচন অনুসারে কার্যসম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটির তথ্যাদি এবং পারিপার্শ্বিক- তার সাথে পরিচিত আছে বলে অনুমিত যে কোন ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে পরীক্ষা করতে পারেন।

(২) ঐরূপ ঘটনা সম্বন্ধে উক্ত কর্মকর্তা, যে সকল প্রশ্নের উত্তর তাঁকে ফৌজদারী অভিযোগে অভিযুক্ত করতে বা তাকে দণ্ডিত করতে বা কোন কিছুতে তার অধিকার খোয়াইতে চাইতে পারে সেসব প্রশ্ন ব্যতিরেকে যেসকল প্রশ্ন তাকে করবেন তার যথার্থ উত্তর প্রদান করতে ঐরূপ ব্যক্তি বাধ্য থাকবেন।

(৩) এ ধারামতে পরীক্ষা করার সময় তার নিকট কোন বিবৃতি দেয়া হলে তিনি তা লিপিবদ্ধ করতে পারেন, এবং যদি তিনি ঐরূপ করেন তাহলে, তিনি এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তির, বিবৃতির একটি পৃথক ও সত্য নথি তৈরি করবেন, যার বিবৃতি তিনি নথিভুক্ত করেন।
-------------------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-161: Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case. 
 
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture. 
 
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.
২,৬৩৯.
"ফৌজদারি কার্যবিধিতে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আপিলের বিধান না থাকলে, সেক্ষেত্রে আপিল করা যায় না।"- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় বলা আছে?
  1. ৪০৪ ধারায়
  2. ৪১৪ ধারায়
  3. ৪১৭ ধারায়
  4. ৪২১ ধারায়
ব্যাখ্যা
• মামলার কোন পক্ষ বিচারিক আদালতের (Trial court) সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে, উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল বা সংশোধনের জন্য ঐ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে আবেদন করে তাকে আপিল বলে। অর্থাৎ আপিল হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিচারিক পুনঃমূল্যায়ন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৪ ধারা হতে ৪৩১ যারা পর্যন্ত আপিলের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে।

• ধারা ৪০৪: ফৌজদারি মামলায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না-
উক্ত কার্যবিধিতে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে আপিলের বিধান না থাকলে, সেক্ষেত্রে আপিল করা যায় না।

Section 404: Unless otherwise provided, no appeal to lie-
No appeal shall lie from any judgment or order of a Criminal Court except as provided for by this Code or by any other law for the time being in force.
২,৬৪০.
ম্যজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হবে ____________এর নিকট।
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দায়রা জজ
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১৭ মতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত খালাসের বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা জাজ কর্তৃক প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগের নিকট। 
২,৬৪১.
একই বিচারে কোনো ব্যক্তি কতিপয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে, সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া যাবে?
  1. ৭ বছরের
  2. ১০ বছরের
  3. ১৪ বছরের
  4. ২০ বছরের
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান- একই বিচারে কতিপয় অপরাধে দোষী সাব্যস্তের ক্ষেত্রে দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ:

(১) যখন কোন ব্যক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে দণ্ডবিধির ৭১ ধারার ব্যবস্থা সাপোক্ষে আদালত উক্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য নির্ধারিত ও আদালতের ক্ষমতার অন্তর্ভূক্ত শাস্তি প্রদান করতে পারেন; এরূপ শান্তি কারাদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে আদালত যদি একই সাথে চলবে মর্মে নির্দেশ প্রদান না করেন, তাহলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একটির পর অপরটি চলবে।
 
(২) আদালত একটিমাত্র অপরাধের জন্য যে শাস্তি দিতে পারেন, তার চেয়ে একাধিক দণ্ড পর পর চলবার ক্ষেত্রে মোট শাস্তির পরিমাণ যদি অধিক হয়, তখন কেবলমাত্র ইহার জন্য উক্ত আদারতকে বিচারের জন্য অপরাধীকে উচ্চতর আদালতে পাঠাতে হবে না।
 
তবে শর্ত থাকে যে,
(ক) দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদঃ কোনভাবেই এরূপ ব্যক্তিকে চৌদ্দ বৎসরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না।
 
(খ) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যদি এরকমের মামলার বিচার করেন, তাহলে মোট শাস্তির পরিমাণ উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার সাধারণ এখতিয়ারে যে শাস্তি প্রদান করতে পারেন তার দ্বিগুণের বেশী হবে না।
 
(৩) আপীলের উদ্দেশ্যে এই ধারার বিধান অনুসারে একই বিচারে বিভিন্ন অপরাধের জন্য প্রদত্ত পর পর চলার একাধিক দণ্ডের মোট পরিমাণকে একটিমাত্র দণ্ড মর্মে ধরে নিতে হবে।
২,৬৪২.
এক বছরের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি একই ধরনের একাধিক অপরাধ করে, তাহলে সর্বোচ্চ কতটি অপরাধের জন্য একটি চার্জ গঠন করা যেতে পারে?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩৪ থেকে ২৩৬ ধারা অনুযায়ী যখন বিভিন্ন অপরাধের চার্জ একত্রিত করা যায় তা উল্লেখ করা হলো:

১) এক বছরের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি একই ধরনের একাধিক অপরাধ করে তাহলে সর্বোচ্চ তিনটি অপরাধের জন্য একটি চার্জ গঠন করে বিচার করা যাবে। (ধারা ২৩৪)

২) পরপর সংঘটিত কাজ যদি এরূপ সম্পর্কযুক্ত হয় যে কাজগুলি একটি বিষয়ের শামিল এবং একই ব্যক্তি সেই ব্যাপারে একাধিক অপরাধ করে, তাহলে প্রত্যেক অপরাধের জন্য ভিন্ন ভিন্ন চার্জ গঠন করা যাবে এবং একত্রে বিচার করা যাবে। (ধারা ২৩৫)

৩) পরপর সংঘটিত কাজ যদি এমন অপরাধ হয় যে তা দুই বা ততোধিক পৃথক সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে প্রত্যেক অপরাধের জন্য অভিযোগ গঠন করা যাবে এবং একই মামলায় বিচার করা যাবে। (ধারা ২৩৫)

৪) পরপর সংঘটিত কাজের একটি যদি একক ভাবে অথবা একাধিক কাজ একত্রে করলে পৃথক অপরাধ গঠন করে, তাহলে একটি অপরাধের জন্য চার্জ গঠন করা যাবে এবং একই মামলায় তার বিচার করা যাবে। (ধারা ২৩৫)

৫) যদি এক বা একাধিক কাজের প্রকৃতি এমন হয় যে, তার দ্বারা কি অপরাধ সংঘটিত হবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকে, তাহলে একই মামলায় তার বিচার করা যাবে। (ধারা ২৩৬)
২,৬৪৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৪খ অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির ক্ষেত্রে মুচলেকা কে দেবে?
  1. আসামি নিজে
  2. অভিভাবক
  3. জামিনদার
  4. উল্লিখিত সকলেই 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৪খ অনুযায়ী, যদি মুচলেকা প্রদানের জন্য অভিযুক্ত নাবালক (অপ্রাপ্তবয়স্ক) হয়, তবে আদালত তার পরিবর্তে শুধুমাত্র জামিনদার দ্বারা মুচলেকা গ্রহণ করতে পারে।
অর্থাৎ, জামিনদার (surety) এই মুচলেকা বা বন্ডে দস্তখত করবে। আসামি নিজে (নাবালক হওয়ায়) বা তার অভিভাবক সরাসরি এই মুচলেকা দিতে পারবেন না। আদালত নাবালকের সরাসরি দায়িত্ব নেওয়ার বদলে একজন জামিনদারের মাধ্যমে আইনগত নিশ্চয়তা গ্রহণ করে।
--------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-514B: Bond required from a minor:
When the person required by any Court or officer to execute a bond is a minor, such Court or officer may accept, in lieu thereof, a bond executed by a surety or sureties only.

২,৬৪৪.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে, চার্জের ভাষা সম্পর্কিত বিধান কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২২০
  2. ধারা ২২১
  3. ধারা ২২২
  4. ধারা ২২৩
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারামতে চার্জে অপরাধের বিবরণ থাকতে হবে:
(১) এই কার্যবিধি অনুসারে প্রত্যেক চার্জে আসামি যে অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে, তার বিবরণ থাকবে ।
(২) অপরাধের সুনির্দিষ্ট নামই যথেষ্ট বিবরণ: যে আইন কর্তৃক অপরাধটির উদ্ভব হয়েছে, সেখানে উহার কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে চার্জে শুধুমাত্র সে নামেই উহার বিবরণ প্রদান করা যাবে।
(৩) অপরাধের সুনির্দিষ্ট নাম না থাকলে কীভাবে উল্লেখ করতে হবে: যে আইন কর্তৃক অপরাধটির উদ্ভব হয়েছে, সেখানে উহার কোন নির্দিষ্ট নাম না থাকলে উহার সংজ্ঞা এরূপভাবে বর্ণিত হতে হবে যেন আসামি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে ।
(৪) যে আইন এবং যে ধারার বিধানমতে অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে মর্মে বর্ণিত হয়েছে, চার্জে তার উল্লেখ করতে হবে।
(৫) চার্জ দ্বারা কি বুঝায়: কোন ক্ষেত্রে চার্জ প্রণীত হলে তা এমর্মে বিবৃত প্রদানের শামিল হয় যে, উক্ত বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধটি সংঘটনের জন্য আইনগত যে-সব শর্ত বিদ্যমান, তা পূরণ করা হয়েছে ।
(৬) চার্জের ভাষা: চার্জ ইংরেজিতে অথবা আদালতের ভাষায় লিখতে হবে।
(৭) পূর্ববর্তী দণ্ডের বিষয় যেক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হবে: আসামি পূর্বে কোন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার জন্য পরবর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে বর্ধিত দণ্ড বা ভিন্ন প্রকৃতির দণ্ডে দণ্ডনীয় হলে এবং পরবর্তী অপরাধের দণ্ড বৃদ্ধি বা প্রকৃতি পরিবর্তনের জন্য পূর্ববর্তী দণ্ড প্রমাণ করার দরকার হলে, চার্জে পূর্ববর্তী দণ্ডের ঘটনা, তারিখ ও স্থান বর্ণনা করতে হবে। এধরণের বর্ণনা না করা হয়ে থাকলে আদালত দণ্ডদানের পূর্বে যে কোন সময়ে তা যোগ করতে পারেন।
------------ 
→ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 221: (1) Charge to state offence-
- Every charge under this Code shall state the offence with which the accused is charged.
(2 )Specific name of offence sufficient description-
- If the law which creates the offence gives it any specific name, the offence may be described in the charge by that name only.
(3) How stated where offence has no specific name-
- If the law which creates the offence does not give it any specific name, so much of the definition of the offence must be stated as to give the accused notice of the matter with which he is charged.
(4) The law and section of the law against which the offence is said to have been committed shall be mentioned in the charge.
(5) What implied in charge-
- The fact that the charge is made is equivalent to a statement that every legal condition required by law to constitute the offence charged was fulfilled in the particular case.
(6) Language of charge- The charge shall be written either in English or in the language of the Court.
(7) Previous conviction when to be set out-
- If the accused having been previously convicted of any offence is liable, by reason of such previous conviction, to enhanced punishment, or to punishment of a different kind, for a subsequent offence, and it is intended to prove such previous conviction for the purpose of affecting the punishment which the Court may think fit to award for the subsequent offence, the fact, date and place of the previous conviction shall be stated in the charge. If such statement has been omitted, the Court may add it at any time before sentence is passed.
২,৬৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৯ অনুযায়ী সাক্ষ্য অপর্যাপ্ত হলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি-
  1. মুক্তি পাবে
  2. খালাস পাবে
  3. অব্যাহতি পাবে
  4. দণ্ডিত হবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৯ ধারা অনুসারে-
তদন্তের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ নাই তাহলে আসামি হেফাজতে থাকলে একটি মুচলেকা সম্পাদনের পর উক্ত কর্মকর্তা তাকে মুক্তি দিবেন।
- সেই মোতাবেক উক্ত কর্মকর্তা নির্দেশ দিবেন যে, কখনো প্রয়োজন হলে তার বিচারের জন্য বা তাকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হতে হবে।
-------------------
⇒ CrPC- Section:-169: Release of accused when evidence deficient:
If, upon an investigation under this Chapter, it appears to the officer in charge of the police-station or to the police-officer making the investigation that there is not sufficient evidence or reasonable ground of suspicion to justify the forwarding of the accused to a Magistrate, such officer shall, if such person is in custody, release him on his executing a bond, with or without sureties, as such officer may direct, to appear, if and when so required, before a Magistrate empowered to take cognizance of the offence on a police-report and to try the accused or send him for trial.
২,৬৪৬.
খুনের অপরাধের জন্য ‘A’ -এর বিচার করা হলো এবং খালাস দেয়া হলো তার বিরুদ্ধে দস্যুতার কোন অভিযোগ নাই কিন্তু ঘটনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, খুনের সময় ‘A’ দস্যুতা করে ছিল;। এক্ষেত্রে ‘A’ কে দস্যুতার জন্য____________।
  1. পুনঃবিচার করা যাবে
  2. পুনঃবিচার করা যাবেনা
  3. দোবারা সাজার নীতি প্রযোজ্য হওয়ায় পুনঃবিচার করা যাবেনা
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত করা যাবে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারামতে এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কোন ব্যক্তিকে একবার দণ্ডিত বা খালাস প্রদান করলে, ঐ একই অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তির পুনরায় বিচার করা যাবেনা । এই নীতিকে Double Jeopardy নীতি বলা হয়।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারাতে বলা আছেঃ কোন উপযুক্ত এখতিয়ারবান আদালতে কোন অপরাধের জন্য যে ব্যক্তির একবার বিচার করা হয়েছে এবং তাকে উক্ত অপরাধের জন্য দণ্ড দান করা বা অপরাধ হতে খালাস দেয়া হয়েছে, তখন উক্ত খালাস বা দণ্ড বলবৎ থাকার সময় তাকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বিচার করা যাবে না অথবা একই ঘটনা হতে উদ্ভুত অন্য কোন অপরাধের জন্যও পুনরায় তার বিচার করা যাবে না, যে অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে ২৩৬ অনুসারে একটি পৃথক অভিযোগ আণয়ন করা যেত বা যার জন্য তাকে ২৩৭ ধারা অনুসারে দণ্ডিত করা যেত।
(২) কোন অপরাধে দণ্ডিত বা খালাস প্ৰাপ্ত কোন ব্যক্তিকে পরে এমন একটি পৃথক অপরাধের জন্য বিচার করা যাবে, যে অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী বিচারে ২৩৫ ধারার (১) উপধারার অধীন তার বিরুদ্ধে একটি পৃথক অভিযোগ আণয়ন করা যেত।
♦(৩) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন কার্য কর্তৃক সৃষ্ট কোন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং উক্ত কার্য ও উহার প্রতিক্রিয়া সমন্বয়ে তার চেয়ে আলাদা প্রকৃতির একটি অপরাধ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রতিক্রিয়া না ঘটে থাকে বা ঘটেছে বলে আদালত অবহিত না থাকলে তাকে এরূপ শেষোক্ত অপরাধে পরবর্তীতে বিচার করা যাবে।
(৪) কোন ব্যক্তি কোন কার্যধারা সৃষ্ট অপরাধ হতে খালাস বা উহার জন্য দণিত হলে এই খালাস বা দণ্ড একই কার্য দ্বারা সৃষ্ট অন্য কোন অপরাধের জন্য তাকে অভিযুক্ত ও বিচার করা যাবে, যদিও যে আদালতে তার অথবা বিচার হয়েছিল সেই আদালত পরবর্তী অপরাধের বিচার করার জন্য উপযুক্ত নহেন।
(৫) এই ধারার কোন কিছুই জেনারেল ক্লজেজ এ্যক্ট এর ২৬ ধারা বা এই বিধির ১৮৮ ধারার কোন বিধানকে প্রভাবিত করবে না। 

ব্যাখ্যাঃ নালিশ খারিজ, ২৪৯ ধারায় অধীন প্রক্রিয়া বদ্ধকরণ অথবা আসামীকে অব্যাহতি দেয়াকে এই ধারার উদ্দেশ্যে খালাস বলে গণ্য করা যাবে না।

♦ উদাহরণঃ
ক) চাকর হিসাবে চুরির অভিযোগে ক-এর বিচার করা হলো এবং খালাস দেয়া হলো। পরে এই খালাস বলবৎ থাকাকালে তাকে চাকুর হিসাবে চুরি বা একই ঘটনার ভিত্তিতে কেবল মাত্র চুরি বা অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযুক্ত করা যাবে না।

খ) খুনের অপরাধের জন্য ক-এর বিচার করা হলো এবং খালাস দেয়া হলো তার বিরুদ্ধে দস্যুতার কোন অভিযোগ নাই কিন্তু ঘটনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, খুনের সময় ক দস্যুতা করে ছিল; পরে তার দস্যুতার জন্য অভিযুক্ত ও বিচার করা যাবে।

♦অর্থাৎ A’ কে দস্যুতার জন্য পুনঃবিচার করা যাবে।
২,৬৪৭.
ফৌজদারি জামিনের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন পাওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত অধিকার
  2. হাইকোর্ট বিভাগ এবং দায়রা আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে
  3. ১৮ বছরের কম বয়স্ক ব্যক্তি সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন পাবে
  4. জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন দেওয়া আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ:
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪ (খ) ধারায় জামিনযোগ্য অপরাধের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে- এমন একটি অপরাধ যা (ফৌজদারি কার্যবিধির) দ্বিতীয় তফসিলে জামিনযোগ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে অথবা যা বর্তমানে বলবৎ কোনো আইন দ্বারা জামিনযোগ্য করা হয়েছে।
 
জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে: 
জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন পাওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত অধিকার। তাই জামিনযোগ্য অপরাধে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি জামিন চাইলে এবং জামিনদার দিতে প্রস্তুত থাকলে তাকে জামিন দেওয়াটা আদালতের জন্য বাধ্যকর। কারণ বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারায় স্পষ্ট করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে-
`জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার হলে বা আটক থাকলে বা আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করা হলে, সে যদি উক্ত অফিসারের হেফাজতে থাকার সময় বা উক্ত আদালতের কার্যক্রমের কোনো পর্যায় জামিন দিতে প্রস্তুত থাকে তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। ’
 
জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে:
জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন দেওয়া আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অপরাধে অপরাধী হওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য কারণ ব্যতীত আদালত এই বিবেচনা প্রয়োগ করতে পারেন। তবে সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে তিনটি কারণে জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন দেওয়ার বিষয় বিবেচনার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে।
এই তিনটি কারণ হলো-
(১) ১৬ বছরের কম বয়স্ক;
(২) স্ত্রীলোক; ও
(৩) পীড়িত বা অক্ষম ব্যক্তি।

আগাম জামিন:
আটক হবার বা গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিকে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই জামিন মঞ্জুর করাকে আগাম জামিন বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার বিধানমতে আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর করতে পারে, যাকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪৯৮ ধারার বিধানমতে নিম্নোক্ত আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করতে পারে:
১. হাইকোর্ট বিভাগ;
২. দায়রা আদালত।

অর্থাৎ '১৮ বছরের কম বয়স্ক ব্যক্তি সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন পাবে' - এই বিধান সঠিক নয়। বরং ১৬ বছরের কম বয়স্ক হলে আদালত সব ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এক্ষেত্রে জামিন পাওয়া অধিকার নয়, বরং আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।
২,৬৪৮.
নালিশকারী বরাবর সমন ইস্যুর পর নির্ধারিত দিনে যদি অভিযোগকারী হাজির না হয় তাহলে আদালত
  1. আসামিকে খালাস দিতে পারে
  2. পরবর্তী কোন তারিখ পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতুবি রাখতে পারে
  3. ক বা খ যে কোনটি
  4. আসামিকে অব্যাহতি দিতে পারে
ব্যাখ্যা
♦শুনানির জন্য নির্ধারিত দিনে অভিযোগকারী হাজির না হলে আদালত কি করবে তা ২৪৭ ধারায় বলা হয়েছে। অভিযোগকারী বা সংবাদদাতা হাজির না হলে আদালত আসামিকে খালাস দিতে পারে [Acquit the accused] বা পরবর্তী কোন তারিখ পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতুবি রাখতে হবে [To the hearing of the case to some other day]। কিন্ত পরবর্তী কোন দিনের জন্য শুনানি মুলতুবির আদেশ দিলে, ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোক্তকে খালাস দিবে না।
২,৬৪৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৯সি ধারা বলে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট সাজা দিতে পারে অনধিক -
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণ ক্ষমতাবলে সর্বোচ্চ ৫ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে। তবে ২৯গ  ধারায় বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ৩৩ক ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৭ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে।

♦ ৩৩ক ধারায় বলা হয়েছে যে ২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
২,৬৫০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন তফসিলে মামলা সংক্রান্ত ফরমসমূহ দেয়া আছে?
  1. ১ম তফসিলে
  2. ৩য় তফসিলে
  3. ৪র্থ তফসিলে
  4. ৫ম তফসিলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে।
যা নিম্নরূপ:
১ম তফসিল (First Schedule)- বাতিল।
২য় তফসিল (Second Schedule)- আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে।
৩য় তফসিল (Third Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে।
৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে।
৫ম তফসিল (Fifth Schedule)- ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।
--------------
ফৌজদারি কার্যবিধির পাঁচটি তফসিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গঠিত। প্রতিটি তফসিল আলাদা আলাদা দিক নির্দেশ করে, যা নীচে ব্যাখ্যা করা হলো:
1. ১ম তফসিল (First Schedule): এই তফসিলটি বাতিল করা হয়েছে, অর্থাৎ বর্তমানে এর কোনো কার্যকারিতা নেই।
2. ২য় তফসিল (Second Schedule): এই তফসিলে আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং ফৌজদারি দন্ডবিধির অধীন অপরাধগুলো কোন আদালত দ্বারা বিচারযোগ্য, তা উল্লেখ করা হয়েছে। এই তফসিলটি অপরাধ শ্রেণিবিন্যাস এবং বিচারিক ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
3. ৩য় তফসিল (Third Schedule): এখানে ম্যাজিস্ট্রেটদের সাধারণ ক্ষমতার বিবরণ রয়েছে। অর্থাৎ, ম্যাজিস্ট্রেটগণ কী ধরনের আদেশ দিতে পারেন বা কতটুকু ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, তা এই তফসিলে নির্ধারিত।
4. ৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule): এই তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতার উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে বা কিছু নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ম্যাজিস্ট্রেটগণ এই অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।
5. ৫ম তফসিল (Fifth Schedule): এখানে বিভিন্ন ফরমের বিবরণ রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী যে সকল ফরম ব্যবহৃত হয়, যেমন জামিননামা, সমন, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি, সেগুলোর কাঠামো এবং প্রয়োগের নিয়মাবলী এই তফসিলে অন্তর্ভুক্ত।

এগুলো ফৌজদারি কার্যবিধির কাঠামো ও ব্যবস্থাপনাকে সহজ ও কার্যকর করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
২,৬৫১.
বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটলে যে অপরাধ হয় তা-
  1. জামিনযোগ্য
  2. অ-জামিনযোগ্য
  3. তফসিলভুক্ত
  4. তফসিল বহির্ভূত
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২য় তফসিল অনুযায়ী  দণ্ডবিধির ৩০৪খ ধারায়, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধটি জামিনযোগ্য এবং আমলযোগ্য। মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার্য  এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী  শাস্তি তিন বৎসর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়ই।
২,৬৫২.
'No one shall be judge of his own case' এই নীতিটি ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ৫৫৬
  2. ৫৫৭
  3. ৫৬৮
  4. ৫৬০
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৬ ধারা অনুসারে, যে মামলায় কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে একজন পক্ষ বা ব্যক্তিগত ভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট, উর্দ্ধতন আপিল আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত জজ বা ম্যাজিট্রেট সে মামলার বিচার করবেন না এবং কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজের প্রদত্ত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শ্রবণ করবেন না।

এই ধারায় 'Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি 'nemo judex in causa sua in propria causa বা nemo debet esse judex in propria causa অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না- 'No one shall be judge of his own case' নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।
----------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-556: Case in which Judge or Magistrate is personally interested:
-No Judge or Magistrate shall, except with the permission of the Court to which an appeal lies from his Court, try for trial any case to or in which he is a party, or personally interested, and no Judge or Magistrate shall hear an appeal from any judgment or order passed or make himself.
২,৬৫৩.
ফৌজদারি আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা কত দিন?
  1. ৬০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ১২০ দিন
  4. ১৮০ দিন
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৪২ক- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপিল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপিল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।

Section 442A- Time for disposal of appeals and Revision
(1) An Appellate Court shall dispose of an appeal filed before it within ninety days from the date of service of notice upon respondents.
(2) A Court having power of revision shall dispose of a proceeding in revision within ninety days from the date of service of notice upon the parties.
(3) In this section, in determining the time, only the working days shall be counted.
২,৬৫৪.
Who may pass any sentence authorized by law according to Section 31(1) of The Code of Criminal Procedure, 1898?
  1. High Court Division
  2. Sessions Judge
  3. Joint Sessions Judge
  4. Both A & B
ব্যাখ্যা
Section 31- Sentences which High Court Division and Sessions Judges may pass:
(1) The High Court Division may pass any sentence authorized by law.
(2) A Sessions Judge or Additional Sessions Judge may pass any sentence authorized by law; but any sentence of death passed by any such Judge shall be subject to confirmation by the High Court Division.
(3) An Joint Sessions Judge may pass any sentence authorized by law, except a sentence of death or of transportation for a term exceeding ten years or of imprisonment for a term exceeding ten years.

• ধারা ৩১- হাইকোর্ট ও দায়রা জজ যেসব দণ্ড দিতে পারেন:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।
(২) দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন; তবে এরূপ কোন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা হইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে।
(৩) যুগ্ম দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতিরেকে আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।
২,৬৫৫.
কোন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কিভাবে কার্যকর করা যাবে?
  1. মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে
  2. ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর করতে হবে
  3. বিষ প্রয়োগে কার্যকর করতে হবে
  4. যেকোনো ভাবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৬৮-

কোন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হলে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে তা কার্যকর করা হবে।

[When any person is sentenced to death, the sentence shall direct that he be hanged by the neck till he is dead.]
২,৬৫৬.
ফৌজদারী কার্যবিধির ২৯গ ধারাবলে ক্ষমতা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কী শাস্তি দিতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩ক ধারা-
২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

Section 33A: Higher powers of certain Magistrates-
The Court of a Magistrate, specially empowered under section 29C, may pass any sentence authorized by law, except a sentence of death or of transportation or imprisonment for a term exceeding seven years.
২,৬৫৭.
আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power of the Court) বলতে কী বোঝায়?
  1. আদালতের প্রশাসনিক ক্ষমতা
  2. আদালতের দেওয়ানি মামলা পরিচালনার ক্ষমতা
  3. আদালতের ফৌজদারি মামলা পরিচালনার ক্ষমতা
  4. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আদালতের বিশেষ ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আদালতের বিশেষ ক্ষমতা
⇒ আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power of the Court) বলতে আদালতের সেই ক্ষমতাকে বোঝায়, যা আদালত তার সুবিবেচনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োগ করতে পারে। এই ক্ষমতা আইনে সরাসরি উল্লেখিত না থাকলেও, আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা ও অপব্যবহার রোধের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় এই ক্ষমতার স্বীকৃতি রয়েছে, যা হাইকোর্ট বিভাগকে নিম্নলিখিত তিনটি ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রদান করে—
১. আদালতের আদেশ কার্যকর করা
২. আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা
৩. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা

⇒ এটি আদালতের প্রশাসনিক ক্ষমতা (প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত ক্ষমতা) বা শুধুমাত্র দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা পরিচালনার ক্ষমতা নয়; বরং এটি আদালতের বিশেষ ক্ষমতা, যা ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োগ করা হয়।
২,৬৫৮.
আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের পূর্বে প্রসিকিউশন কোন মামলা প্রত্যাহার করলে ফলাফল কী হবে?
  1. আসামির খালাস।
  2. আসামির মুক্তি।
  3. আসামির অব্যাহতি।
  4. উপরের কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
•ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৯৪ মতে- পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচেছ, তা যেকোন এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে প্রত্যাহার করতে পারবেন।
•অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে প্রত্যাহার করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পকে আসামীকে অব্যাহতি দান করতে হবে। 
২,৬৫৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১ অনুসারে কারাবাসের স্থান নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে?
  1. আদালত
  2. সরকার
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. জেল সুপারিন্টেনডেন্ট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১ অনুসারে কারাবাসের স্থান নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকে। আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট শুধু কারাদণ্ড বা হেফাজতের আদেশ দেয়, কিন্তু কারাগারে কাউকে কোথায় রাখা হবে তা সরকার নির্ধারণ করে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪১ - কারাবাসের স্থান নির্ণয়ের ক্ষমতা:
(১) বর্তমানে বলবৎ কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশ প্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।
(২) দেওয়ানী কারাগারে আটক আসামি অথবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানী কারাগারে প্রত্যাবর্তন:
এই বিধির অধীনে কারাদণ্ড বা হেফাজতে রাখার আদেশপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি যদি দেওয়ানী জেলে আটক থাকেন, তবে যিনি তার কারাদণ্ড বা হেফাজতের আদেশ দিয়েছেন সেই আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিতে পারেন যে, তাকে ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত করা হবে।
(৩) কোন ব্যক্তি (২) উপধারার অধীন ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হলে তা হতে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানী জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না
ক) ফৌজদারি জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারার অধীন সে দেওয়ানী জেল হতে অব্যাহতি পেয়েছে বলে গণ্য করতে হবে, অথবা
খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানী জেলে আটকের আদেশ দিয়া ছিলেন সেই আদালত ফৌজদারি জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৮ ধারার অধীন সে অব্যাহতি পাওয়ার অধিকারী।
----------

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 541.Power to appoint place of imprisonment:
(1) Unless when otherwise provided by any law for the time being in force, the Government may direct in what place any person liable to be imprisoned or committed to custody under this Code shall be confined.
Removal to criminal jail of accused or convicted persons who are in confinement in civil jail, and their return to the civil jail:
(2) If any person liable to be imprisoned or committed to custody under this Code is in confinement in a civil jail, the Court or Magistrate ordering the imprisonment or committal may direct that the person be removed to a criminal jail. 
(3) When a person is removed to a criminal jail under sub-section (2), he shall, on being released therefrom, be sent back to the civil jail, unless either– 
(a) Three years have lapsed since he was removed to the criminal jail, in which case he shall be deemed to have been discharged from the civil jail under section 58 of the Code of Civil Procedure, 1908; or
(b) The Court which ordered his imprisonment in the civil jail has certified to the officer in charge of the criminal jail that he is entitled to be discharged under section 58 of the Code of Civil Procedure, 1908.
২,৬৬০.
একজন দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকার অর্থদণ্ড দিতে পারে?
  1. ১০০০০
  2. ২০০০
  3. ৭০০০
  4. ৫০০০
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারার বিধানঃ (১) ম্যাজিষ্ট্রেটের নিম্নবর্ণিত আদালতসমূহ নিম্নলিখিত দণ্ড দিতে পারবেন যথাঃ

(ক) মেট্রোপলিটন এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ পাচ বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ তিন বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, পাচ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত৷

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের দুই বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড দুই হাজার আদালত টাকার অর্থদণ্ড।

২) যেকোন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত আইনের দ্বারা যেসব দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা অর্জন করেছেন, সেসব দণ্ডের মধ্যে একটির সহিত আরেকটির যুক্ত করে যেকোন আইনসঙ্গত দণ্ড প্রদান করতে পারেন।

♦ ৩৩ক ধারায় বলা হয়েছে যে ২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
২,৬৬১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ অনুযায়ী, যখন একজন পুলিশ কর্মকর্তা সাত বছরের কম মেয়াদের অপরাধে কাউকে গ্রেপ্তার করেন, তখন তার কী করা বাধ্যতামূলক?
  1. গ্রেপ্তারের আগে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নেওয়া।
  2. গ্রেপ্তারের কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করা।
  3. গ্রেপ্তারের সময় একজন সাংবাদিককে উপস্থিত থাকতে দেওয়া।
  4. গ্রেপ্তারের কারণ মৌখিকভাবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে জানানো।
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪(১) দ্বিতীয়ত অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: "the police-officer shall record while making such arrest, his reasons in writing" (পুলিশ অফিসার এই ধরনের গ্রেপ্তার করার সময় তার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন)।
- এটি বিশেষভাবে সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন সাত বছরের কম বা সর্বোচ্চ সাত বছর সাজার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গ্রেপ্তারের প্রয়োজনীয়তা উপ-শর্ত (ii) এর (ক) থেকে (ঙ) অনুসারে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।
- সুতরাং, গ্রেপ্তারের কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করা বাধ্যতামূলক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪ "কখন পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে" (When police may arrest without warrant)
(১) যেকোনো পুলিশ অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত এবং ওয়ারেন্ট ছাড়াই নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পারেন:
প্রথমত, যে কোনো ব্যক্তি যিনি একজন পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে একটি আমলযোগ্য অপরাধ (cognizable offence) করেন;
দ্বিতীয়ত, যে কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ করা হয়েছে, বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে, বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বিদ্যমান যে তিনি এমন একটি আমলযোগ্য অপরাধ করেছেন যা সাত বছরের কম মেয়াদের বা সাত বছর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হতে পারে, জরিমানা সহ বা ছাড়া, যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ হয়, যথা:—
(i) পুলিশ অফিসারের কাছে এই ধরনের অভিযোগ, তথ্য বা সন্দেহের ভিত্তিতে বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে ওই ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধ করেছেন; এবং
(ii) পুলিশ অফিসার সন্তুষ্ট হন যে এই ধরনের গ্রেপ্তার করা নিম্নলিখিত কারণে প্রয়োজনীয়:—
(ক) ওই ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ করা থেকে বিরত রাখা; বা
(খ) অপরাধের যথাযথ তদন্তের জন্য; বা
(গ) ওই ব্যক্তিকে অপরাধের প্রমাণ অদৃশ্য করা বা কোনোভাবে সেই প্রমাণ নষ্ট করা থেকে বিরত রাখা; বা
(ঘ) ওই ব্যক্তিকে মামলার ঘটনা সম্পর্কে পরিচিত কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচনা, হুমকি বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত রাখা, যাতে তিনি আদালতে বা পুলিশ অফিসারের কাছে সেই ঘটনা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন; বা
(ঙ) যেহেতু ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না করলে, যখনই প্রয়োজন হবে তখন আদালতে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে না;
এবং পুলিশ অফিসার এই ধরনের গ্রেপ্তার করার সময় তার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধানাবলী অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হয় না, সেখানে পুলিশ অফিসার গ্রেপ্তার না করার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন;
তৃতীয়ত, যে কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে যে তিনি এমন একটি আমলযোগ্য অপরাধ করেছেন যা সাত বছরের বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হতে পারে, জরিমানা সহ বা ছাড়া, বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় এবং পুলিশ অফিসারের কাছে সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে ওই ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধ করেছেন;
চতুর্থত, যে কোনো ব্যক্তি যার দখলে বৈধ অজুহাত ব্যতীত, যে অজুহাত প্রমাণের ভার তার উপর বর্তাবে, ঘর ভাঙার কোনো সরঞ্জাম থাকে;
পঞ্চমত, যে কোনো ব্যক্তি যাকে এই কোডের অধীনে বা সরকারের আদেশ দ্বারা অপরাধী হিসাবে ঘোষিত করা হয়েছে;
ষষ্ঠত, যে কোনো ব্যক্তি যার দখলে এমন কিছু পাওয়া যায় যা যুক্তিসঙ্গতভাবে চুরি করা সম্পত্তি বলে সন্দেহ করা যেতে পারে এবং যাকে যুক্তিসঙ্গতভাবে সেই জিনিস সম্পর্কিত অপরাধ করার জন্য সন্দেহ করা যেতে পারে;
সপ্তমত, যে কোনো ব্যক্তি যিনি একজন পুলিশ অফিসারকে তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, বা যিনি আইনানুগ হেফাজত থেকে পালিয়েছেন বা পালানোর চেষ্টা করছেন;
অষ্টমত, যে কোনো ব্যক্তি যাকে যুক্তিসঙ্গতভাবে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর একজন পলাতক সৈনিক বলে সন্দেহ করা হয়;
নবমত, যে কোনো ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের বাইরের কোনো স্থানে সংঘটিত কোনো কাজের সাথে জড়িত ছিলেন, বা যার বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ করা হয়েছে বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বিদ্যমান যে তিনি এমন কোনো কাজের সাথে জড়িত ছিলেন, যা বাংলাদেশে সংঘটিত হলে অপরাধ হিসাবে শাস্তিযোগ্য হতো, এবং যার জন্য তিনি কোনো প্রত্যর্পণ আইন (extradition law) বা অন্য কোনো আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে গ্রেপ্তার বা আটক হওয়ার যোগ্য;
দশমত, কোনো মুক্ত দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি যিনি ৫৬৫ ধারার উপ-ধারা (৩) এর অধীনে প্রণীত কোনো বিধি লঙ্ঘন করেন;
একাদশত, যে কোনো ব্যক্তি যার গ্রেপ্তারের জন্য অন্য একজন পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে চাহিদা (requisition) পাওয়া গেছে, যদি ওই চাহিদা পত্রে গ্রেপ্তারযোগ্য ব্যক্তির বিবরণ এবং যে অপরাধ বা অন্য কারণে গ্রেপ্তার করতে হবে তা নির্দিষ্ট করা থাকে এবং তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যে অফিসার চাহিদা পত্রটি জারি করেছেন তিনি ওয়ারেন্ট ছাড়াই আইনত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারতেন।
(২) কোনো পুলিশ অফিসার এই ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তিকে প্রতিরোধমূলক আটকের (preventive detention) বিধানকারী কোনো আইনের অধীনে আটক করার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করবেন না।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 54.  When police may arrest without warrant:
(1) Any police-officer may, without an order from a Magistrate and without warrant, arrest-
firstly, any person who commits, in the presence of a police-officer, a cognizable offence;
secondly, any person against whom a reasonable complaint has been made, or credible information has been received, or a reasonable suspicion exists that he has committed a cognizable offence punishable with imprisonment for a term which may be less than seven years or which may extend to seven years, whether with or without fine, if the following conditions are satisfied, namely:-
    (i) the police-officer has reason to believe, on the basis of such complaint, information, or suspicion that such person has committed the said offence; and
    (ii) the police-officer is satisfied that such arrest is necessary-
        (a) to prevent such person from committing any further offence; or
        (b) for proper investigation of the offence; or 
      (c) to prevent such person from causing the evidence of the offence to disappear or tampering with such evidence in any manner; or
        (d) to prevent such person from making any inducement, threat or promise to any person acquainted with the facts of the case so as to dissuade him from disclosing such facts to the Court or to the police-officer; or
        (e) as unless such person is arrested, his presence in the Court whenever required cannot be ensured;
        and the police-officer shall record while making such arrest, his reasons in writing:
            Provided that a police-officer shall, in all cases where the arrest of a person is not required under the provisions of this sub-section, record the reasons in writing for not making the arrest;
thirdly, any person against whom credible information has been received that he has committed a cognizable offence punishable with imprisonment for a term which may extend to more than seven years whether with or without fine, or with death sentence and the police-officer has reason to believe, on the basis of that information, that such person has committed the said offence;
fourthly, any person having in his possession without lawful excuse, the burden of proving which excuse shall lie on such person, any implement of house breaking;
fifthly, any person who has been proclaimed as an offender either under this Code or by order of the Government;
sixthly, any person in whose possession anything is found which may reasonably be suspected to be stolen property and who may reasonably be suspected of having committed an offence with reference to such thing;
seventhly, any person who obstructs a police-officer while in the execution of his duty, or who has escaped, or attempts to escape, from lawful custody;
eighthly, any person who is reasonably suspected of being a deserter from the armed forces of Bangladesh;
ninthly, any person who has been concerned in, or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received or a reasonable suspicion exists of his having been concerned in, any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would have been punishable as an offence, and for which he is, under any law relating to extradition, or otherwise, liable to be apprehended or detained in custody in Bangladesh;
tenthly, any released convict committing a breach of any rule made under section 565, sub-section (3);
eleventhly, any person for whose arrest a requisition, has been received from another police-officer, provided that the requisition specifies the person to be arrested and the offence or other cause for which the arrest is to be made and it appears therefrom that the person might lawfully be arrested without a warrant by the officer who issued the requisition.(2) No police-officer shall arrest a person under this section for the purpose of detaining him under any law providing for preventive detention.

২,৬৬২.
ধারা ৫০৩ অনুযায়ী, সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগের উদ্দেশ্য কী?
  1. সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা
  2. সাক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা
  3. সাক্ষীর জবানবন্দী যথাযথভাবে গ্রহণ করা
  4. সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫০৩- সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহনের জন্য কমিশন নিয়োগ:
 ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত অথবা হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষীর জাবনবন্দী গ্রহন করা প্রয়োজন কিন্তু বিলম্ব, ব্যয় অথবা অসুবিধা ব্যতীত উক্ত সাক্ষীকে হাজির করা সম্ভব নয় অথবা মামলার পরিস্থিতিতে এই বিলম্ব,ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা অযৌক্তিক তাহলে,
উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত সাক্ষীকে হাজির হতে রেহাই দিতে পারবে এবং উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য সাক্ষী যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে বাস করেন তাকে কমিশন দিতে পারবেন। সাক্ষী যদি যুক্তরাজ্য বা বাংলাদেশ ব্যতীত কমনওয়েলথের অন্য কোন দেশে বা মায়ানমারে বাস করেন তাহলে সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত উক্ত দেশে এই সম্পর্কে ক্ষমতাবান কোন আদালত বা জজকে কমিশন দেয়া যাবে। এরূপ কমিশন প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার সাক্ষী যেখানে আছেন সেখানে গমন করবেন অথবা সাক্ষীকে নিজের নিকট আহ্বান করবেন এবং তার সাক্ষাত করবেন।
২,৬৬৩.
কোনো মামলার ন্যায়বিচারের স্বার্থে বা পক্ষকারী বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধার্থে স্থানান্তর প্রয়োজন বলে মনে হলে কোন আদালত স্থানান্তরের আদেশ দিতে পারে?
  1. দায়রা জজ 
  2. আপিল বিভাগ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী, মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা বিভিন্ন স্তরের আদালতের রয়েছে। প্রশ্নে উল্লিখিত শর্তগুলোর (ন্যায়বিচারের স্বার্থে বা পক্ষকারী বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধার্থে) ভিত্তিতে নিম্নলিখিত আদালতগুলো মামলা স্থানান্তর করতে পারে:
১. আপিল বিভাগ (Appellate Division): ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৫ক ধারা অনুযায়ী, আপিল বিভাগ যেকোনো মামলা বা আপিল এক স্থায়ী বেঞ্চ থেকে অন্য স্থায়ী বেঞ্চে স্থানান্তর করতে পারে, যদি মনে হয় এতে ন্যায়বিচারের স্বার্থ হবে বা পক্ষকারী ও সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধা হবে।
২. হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division): ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ বিভিন্ন শর্তে মামলা স্থানান্তর করতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- যদি কোনো অধস্তন আদালতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত বা বিচার সম্ভব নয়। 
- যদি এমন আদেশ দেওয়া পক্ষকারী বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধাজনক হয়। 
- যদি ন্যায়বিচারের স্বার্থে এমন আদেশ জরুরি বলে মনে হয়।
৩. দায়রা জজ (Sessions Judge): ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬খ ধারা অনুযায়ী, দায়রা জজ যদি মনে করেন যে ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলা স্থানান্তর করা প্রয়োজন, তবে তিনি তার সেশন বিভাগের মধ্যে এক আদালত থেকে অন্য আদালতে মামলা স্থানান্তর করার আদেশ দিতে পারেন।

⇒ যেহেতু উল্লিখিত সবকটি আদালতেরই নির্দিষ্ট শর্তে মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা রয়েছে, তাই সঠিক উত্তর হলো "উপরের সবগুলো"

২,৬৬৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পুলিশ অফিসার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানার সারমর্ম জানাবেন ও পরোয়ানা দেখাবেন?
  1. ধারা ৭৮
  2. ধারা ৮০
  3. ধারা ৮২
  4. ধারা ৮৪
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৮০ ধারা- পরোয়ানার সারমর্ম নোটিশকরণ:
গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর করতেছেন এরূপ কোন পুলিশ অফিসার বা অপর কোন ব্যক্তি, যাকে গ্রেফতার করা হবে, তাকে পরোয়ানার সারমর্ম অবহিত করাবেন এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে উক্ত পরোয়ানাটি দেখাবেন।

Section 80- Notification of substance of warrant:
The police-officer or other person executing a warrant of arrest shall notify the substance thereof to the person to be arrested, and, if so require, shall show him the warrant.
২,৬৬৫.
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫১১ অনুযায়ী পূর্ববর্তী দণ্ড বা খালাস প্রমাণের জন্য কোনটি আবশ্যক নয়?
  1. কারাগারের সার্টিফিকেট
  2. আসামির ব্যক্তিগত মতামত
  3. আদালতের নথিপত্রের উদ্ধৃতি
  4. আসামির পরিচয় সম্পর্কিত সাক্ষ্য
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১১ অনুযায়ী, পূর্ববর্তী দণ্ড বা খালাস প্রমাণ করতে কারাগারের সার্টিফিকেট, আদালতের নথিপত্রের সত্যায়িত কপি, এবং আসামির পরিচয় সম্পর্কিত সাক্ষ্য প্রয়োজন। তবে আসামির ব্যক্তিগত মতামত প্রমাণের জন্য আবশ্যক নয়।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫১১- পূর্ববর্তী দণ্ড বা খালাস কীভাবে প্রমাণ করতে হবে:-
এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন ইনকোয়ারি, বিচার বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় বর্তমান কার্যকর অন্য কোন আইনে বর্ণিত পদ্ধতি ছাড়া নিম্নোক্তভাবে পূর্ববর্তী দণ্ড বা খালাস প্রমাণ করা যাবে-
(ক) যে আদালত উক্ত দণ্ড বা খালাস দিয়েছিলেন সেই আদালতের নথিপত্র যে অফিসারের হেফাজতে থাকে সেই অফিসারের স্বহস্তের স্বাক্ষর কর্তৃক সত্যায়িত উক্ত দণ্ডাদেশ বা আদেশের উদ্ধৃতি কর্তৃক, কিংবা
(খ) দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে যে কারাগারে সাজা বা তার অংশ বিশেষ দেয়া হয়েছিল সেই কারাগারের ভারপ্রাপ্ত অফিসারের স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট কর্তৃক কিংবা যে আটকের পরোয়ানা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল তা পেশ করে;
উপরোক্ত দুটি ক্ষেত্রে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তি যে একই, সে সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 511- Previous conviction or acquittal how proved:
In any inquiry, trial or other proceeding under this Code, a previous conviction or acquittal may be proved, in addition to any other mode provided by any law for the time being in force- 
(a) by an extract certified under the hand of the officer having the custody of the records of the Court in which such conviction or acquittal was had to be a copy of the sentence or order; or 
(b) in case of a conviction, either by a certificate signed by the officer in charge of the jail in which the punishment or any part thereof was inflicted, or by production of the warrant of commitment under which the punishment was suffered; 
together with, in each of such cases, evidence as to the identity of the accused person with the person so convicted or acquitted.

২,৬৬৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ কী বলে গণ্য হবে?
  1. FIR
  2. GD
  3. Complaint
  4. Statement
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-৪(জ): নালিশ (Complaint)- "নালিশ" বলতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অথবা লিখিতভাবে এই মর্মে অভিযোগ করা যে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি একটি অপরাধ করেছে।
অর্থাৎ অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে। কিন্ত অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ অফিসারের নিকট মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে না।
FIR=First Information Report:
- অপরাধী ও সংঘটিত আমলযোগ্য অপরাধের বিস্তারিত বিবরণসহ শাস্তি দাবি করে বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে থানায় অপরাধের সংবাদ লিপিবদ্ধ করাকে এজাহার বলে, যা FIR বা First Information Report বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী নামেও পরিচিত। অপরাধ সম্বন্ধে এ বিবরণ প্রথম দেওয়া হয় বলে একে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বলে।
GD=General Diary:
-জিডি বা জেনারেল ডায়েরি অর্থ কোনো বিষয়ে সাধারণ বিবরণ যা কিনা থানার একটি বিশেষ বইয়ে সংরক্ষণ করা হয় এবং সেমতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
---------------------------------------------
- The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-4(h) "complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police-officer:
২,৬৬৭.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে তা নির্ধারণ করেন কে?
  1. সরকার
  2. জেলা জজ
  3. কারা কর্তৃপক্ষ
  4. রায় প্রদানকারী আদালত
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪১ ধারার বিধান-কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা:
(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।
(২) দেওয়ানী কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানী কারাগারে প্রত্যাবর্তনঃ
এই কার্যবিধির অধীন কারাদন্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানী জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-
(ক) ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানী জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা
(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানী জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারী জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।
----------------
CrPC-Section-541: Power to appoint place of imprisonment:
(1) Unless when otherwise provided by any law for the time being in force, the Government may direct in what place any person liable to be imprisoned or committed to custody under this Code shall be confined.
Removal to criminal jail of accused or convicted persons who are in confinement in civil jail, and their return to the civil jail
(2) If any person liable to be imprisoned or committed to custody under this Code is in confinement in a civil jail, the Court or Magistrate ordering the imprisonment or committal may direct that the person be removed to a criminal jail. 
(3) When a person is removed to a criminal jail under sub-section (2), he shall, on being released therefrom, be sent back to the civil jail, unless either– 
(a) three years have lapsed since he was removed to the criminal jail, in which case he shall be deemed to have been discharged from the civil jail under section 58 of the Code of Civil Procedure, 1908; or 
(b) the Court which ordered his imprisonment in the civil jail has certified to the officer in charge of the criminal jail that he is entitled to be discharged under 541[section 58] of the Code of Civil Procedure, 1908.
২,৬৬৮.
মহানগর এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগের আদেশ দিতে পারেন কে?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. পুলিশ কমিশনার
  3. সামরিক বাহিনীর প্রধান
  4. পুলিশের যে কোনো উপ-পরিদর্শক
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ ধারা- সামরিক শক্তি প্রয়োগ:
এরূপ কোন সমাবেশ যদি অন্য কোনভাবে ছত্রভঙ্গ করা না যায় এবং জন নিরাপত্তার জন্য যদি উহা ছত্রভঙ্গ করা দরকার মর্মে গণ্য হয়, সেক্ষেত্রে উপস্থিত সর্বোচ্চ পদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মহানগরী এলাকা হলে, সেখানকার পুলিশ কমিশনার সামরিক শক্তির মাধ্যমে উহা ছত্রভঙ্গ করাতে পারবেন।

Section 129- Use of military force:
If any such assembly cannot be otherwise dispersed. and if it is necessary for the public security that it should be dispersed, the Executive Magistrate of the highest rank who is present or the Police Commissioner in a Metropolitan Area may cause it to be dispersed by military force.
২,৬৬৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ আমলযোগ্য অপরাধের তদন্ত করতে পারে?
  1. ১৫৫
  2. ১৫৭
  3. ১৫৯
  4. ১৬০
ব্যাখ্যা
• প্রাথমিক তথ্য বিবরণী দায়ের না করলেও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৭ ধারা অনুযায়ী সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ আমলযোগ্য অপরাধের তদন্ত করতে পারে। এমনকি প্রয়োজনে অপরাধীকে গ্রেফতার এবং আটকের ব্যবস্থা করতে পারবে।

এই ধারা অনুসারে,
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটন সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গতভাবে সন্দেহ পোষন করলে, সঙ্গে সঙ্গে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন। প্রয়োজন হলে অপরাধীকে খুঁজে বের করবেন ও গ্রেফতার করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে নিজে ঘটনাস্থলে যাবেন বা অধস্তন অফিসারকে দায়িত্ব দিবেন। তবে অপরাধ সংঘটনকারীর নাম উল্লেখ করে সংবাদ দিলে এবং ঘটনাটি গুরুতর প্রকৃতির না হলে তখন সরেজমিনে তদন্তের প্রয়োজন নেই । তবে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তের পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে ঘটনাটি সম্পর্কে তদন্ত করবেন না।
২,৬৭০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৬৩ অনুসারে, কোন মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষীদের বক্তব্য লিখে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে না?
  1. আপিলযোগ্য মামলা
  2. আপিলঅযোগ্য মামলা
  3. জামিনযোগ্য মামলা
  4. উল্লিখিত সকল মামলায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৩ ধারা অনুসারে, সংক্ষিপ্ত বিচারের যে সকল মামলা আপিলযোগ্য নয়, সেই সকল মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষীদের সাক্ষ্য লিখে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবে ম্যাজিস্ট্রেটকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরম্যাটে মামলার প্রধান তথ্য যেমন অভিযোগের তারিখ, অভিযুক্তের নাম, অপরাধের বিবরণ, অভিযুক্তের বক্তব্য ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করতে হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৩ ধারা অনুসারে,সংক্ষিপ্ত বিচারের যে সকল মামলা আপিলযোগ্য নয়,সেই সকল মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের বা ম্যাজিস্ট্রেট বেঞ্চের সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার বা আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করার প্রয়োজন নাই,তবে তিনি বা তারা সরকার কর্তৃক নির্দেশিত ফরমে নিম্নলিখিত তথ্য লিপিবদ্ধ করবেন:

(ক) ক্রমিক নম্বর;
(খ) অপরাধ সংঘটনের তারিখ;
(গ) এজহার বা নালিশের তারিখ:
(ঘ) ফরিয়াদির (যদি থাকে) নাম:
(ঙ) নাম, পিতার নাম ও বাসস্থান;
(চ) নালিশি অপরাধ এবং প্রমাণিত অপরাধ (যদি থাকে) এবং ২৬০ ধারার (১) উপধারার (ঘ), (ঙ) বা (ছ) শাখার অন্তর্ভুক্ত ক্ষেত্রে যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ করা হইয়াছে, তার মূল্য;
(ছ) অভিযুক্তের বক্তব্য ও তার জবানবন্দি (যদি থাকে);
(জ) যা সাব্যস্ত করা হল তা এবং দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে কারণসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ;
(ঝ) দণ্ড বা অন্য চূড়ান্ত আদেশ; এবং
(ঞ) বিচার শেষ হবার তারিখ।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure,1898 Section-263. Record in cases where is no appeal:
In cases where no appeal lies, the Magistrate or Bench of Magistrates need not record the evidence of the witnesses or frame a formal charge; but he or they shall enter in such form as the Government may direct the following particulars:- 
(a) the serial number; 
(b) the date of the commission of the offence; 
(c) the date of the report or complaint; 
(d) the name of the complainant ( if any); 
(e) the name, parentage and residence of the accused; 
(f) the offence complained of and the offence (if any) proved, and in cases coming under clause (d), clause (e), clause (f) or clause (g) of sub-section (1) of section 260 the value of the property in respect of which the offence has been committed; 
(g) the plea of the accused and his examination (if any); 
(h) the finding, and, in the case of a conviction, a brief statement of the reasons therefor; 
(i) the sentence or other final order; and 
(j) the date on which the proceedings terminated.
২,৬৭১.
সমনপ্রাপ্ত ব্যক্তি খুঁজে না পাওয়া গেলে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের কাছে সমন দেওয়ার বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আছে?
  1. ধারা ৬৯
  2. ধারা ৭০
  3. ধারা ৭১
  4. ধারা ৭২
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৭০ অনুযায়ী, যদি সমনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে সমন তার পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের কাছে রেখে দেওয়া যায়। সেই সদস্যকে প্রয়োজনে সমনের অন্য কপির পিছনে স্বাক্ষর করতে হবে। এভাবে প্রদত্ত সমনকে আইনগতভাবে যথাযথ সেবা (due service) হিসেবে গণ্য করা হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০ ধারার বিধান খুঁজে পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তির কাছে সমন জারির পদ্ধতি:
- যে ব্যক্তিকে সমন জারি করা হয়েছে, যথাযথ অধ্যবসায় প্রয়োগ করেও যদি তাকে খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে সমনের একটি নকল তার পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের নিকট রেখে সমন জারি করা যাবে। এবং যার নিকট এভাবে সমন রেখে যাওয়া হয়েছে, জারিকারী কর্মকর্তা চাইলে সেই ব্যক্তি অপর নকলের পিছনে একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য থাকবেন।
-----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure- Section 70. Service when person summoned cannot be found:
Where the person summoned cannot by the exercise of due diligence be found, the summons may be served by leaving one of the duplicates for him with some adult member of his family, and the person with whom the summons is so left shall, if so required by the serving officer, sign a receipt therefore on the back of the other duplicate.

২,৬৭২.
ধারা ৩৩৯খ অনুযায়ী, অভিযুক্ত হাজির হওয়ার আদেশ কোথায় প্রকাশ করা যাবে?
  1. শুধুমাত্র আদালতের বোর্ডে
  2. শুধুমাত্র জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে 
  3. জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে এবং সরকারি ওয়েবসাইটে
  4. শুধুমাত্র পুলিশের কার্যালয়ে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে এবং সরকারি ওয়েবসাইটে।

ধারা ৩৩৯খ অনুযায়ী, অভিযুক্তকে হাজির হওয়ার আদেশ একটি জাতীয় দৈনিকে এবং আদালত যদি উপযুক্ত মনে করে, সরকারি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা যেতে পারে।

ধারা ৩৩৯খ: অনুপস্থিতিতে বিচার (Trial in absentia):
(১) যদিও ধারা ৮৭ এবং ধারা ৮৮-এ যা কিছু উল্লেখ আছে, তা সত্ত্বেও, যদি আদালতের এমন বিশ্বাসের কারণ থাকে যে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হয়েছে বা নিজেকে এমনভাবে গোপন করছে যে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের জন্য হাজির করা যাচ্ছে না এবং তাকে গ্রেপ্তারের কোনো তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা নেই, তবে যে আদালত অভিযোগকৃত অপরাধের বিষয়ে বিচার গ্রহণ করছে, সেই আদালত একটি জাতীয় দৈনিক বাংলা সংবাদপত্রে, যার ব্যাপক প্রচার আছে, একটি আদেশ প্রকাশ করবে। এই আদেশে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি ওই ব্যক্তি এই নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার করা হবে।

শর্ত: আদালত এছাড়াও নির্দেশ দিতে পারে যে, অভিযুক্তের হাজির হওয়ার আদেশটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা প্রশাসক অফিস, বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বা ব্যাপক জনসাধারণের প্রবেশাধিকারযুক্ত অন্য কোনো সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

২. যদি কোনো মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের সামনে হাজির হয় বা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পলাতক হয় বা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, তবে উপ-ধারা (১)-এ উল্লিখিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না। এই ক্ষেত্রে, অভিযোগকৃত অপরাধের জন্য ওই ব্যক্তির বিচারের জন্য যোগ্য আদালত, এই সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করে, তার অনুপস্থিতিতে বিচার করবে।

২,৬৭৩.
একটি complaint case এ প্রদত্ত খালাসের রায় প্রদানের কত দিনের মধ্যে complainant আপীল করতে পারবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ২১ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ধারায় খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়-
১- হাইকোর্ট বিভাগে;
২- দায়রা জজের নিকট।

খালাস আদেশটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দিলে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা আদালত দিলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে-
১. পাবলিক প্রসিকিউটর;
২. অভিযোগকারী।

৪১৭ (১) ধারায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ৪১৭ (২) ধারায় অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে। পাবলিক প্রসিকিউটর যেকোনো মামলায় (G.R এবং C.R উভয় মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকরতে পারে। অভিযোগকারী শুধুমাত্র নালিশী মামলায় (C.R মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭(৩) ধারা অনুসারে, খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ ধারা অনুচ্ছেদ অনুসারে পাবলিক প্রসিকিউটর খালাসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারে।

Section 417- Appeal in case of acquittal:

(1) Subject to the provisions of sub-section (4), the Government may, in any case, direct the Public Prosecutor to present an appeal- 
(a) to the High Court Division from an original or appellate Order of acquittal passed by any Court of Session; 
(b) to the Court of Session from an original or appellate Order of acquittal passed by any Magistrate.
 
(2) Notwithstanding anything contained in section 418, if such an order is passed in any case instituted upon complaint, and if the order involves an error of law occasioning failure of justice, the complainant may present an appeal- 
(a) to the High Court Division from an original order of acquittal passed by any Court of Session; 
(b) to the Court of Session from an original order of acquittal passed by any Magistrate.
 
(3) No appeal by the complaint from an order of acquittal shall be entertained by the High Court Division or a Court of Session] after the expiry of sixty days from the date of the order of acquittal. 
 
(4) If, in any case, the admission of an appeal from an order of acquittal is refused, no appeal from that order of acquittal shall lie under sub-section (1).
২,৬৭৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় যেসব অনিয়মের কারণে কার্যক্রম বাতিল হয় না সেসব কার্যক্রমের উল্লেখ আছে?
  1. ৫২৯ ধারায়
  2. ৫৩০ ধারায়
  3. ৫৩১ ধারায়
  4. ৫৩৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৯ ধারার বিধান:- যেসব অনিয়মের কারণে কার্যক্রম বাতিল হয় না:
-যদি কোন ম্যাজিস্ট্রেট আইনে ক্ষমতাবান না হওয়া সত্ত্বেও, ভুলক্রমে সরল বিশ্বাসে নিম্নে বর্ণিত কর্মসমূহের কোন একটি করেন যথা-
(ক) ধারা-৯৮ এর অধীন তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করেন;
(খ) কোন অপরাধের তদন্ত করার জন্য ধারা-১৫৫ এর অধীন পুলিশকে আদেশ দেন;
(গ) ধারা-১৭৬ এর অধীন ইনকোয়ারী করেন;
(ঘ) যে ব্যক্তিকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার বাহিরে কোন অপরাধ করেছে তাকে তার স্থানীয় সীমার ভিতরে গ্রেফতারের জন্য ধারা-১৮৬ এর অধীন পরোয়ানা জারী করেন;
(ঙ) ধারা-১৯০ এর উপ-ধারা (১) এর অনুচ্ছেদ-(ক) এর অধীন কোন অপরাধ আমলে নেন;
(চ) ধারা-১৯২ এর অধীন কোন মামলা স্থানান্তর করেন;
(ছ) ধারা-৩৩৭ বা ৩৩৮ এর অধীন ক্ষমা প্রদর্শন করেন;
(জ) ধারা-৫২৪ কিংবা ধারা-৫২৫ এর অধীন সম্পত্তি বিক্রয় করেন; কিংবা
(ঝ) ধারা-৫২৮ এর অধীন কোন মামলা তুলে নিজে উহার বিচার করেন,

তাহলে তিনি উক্তরুপে ক্ষমতাবান নয়, শুধু এ কারণে তাঁর কার্যক্রম বাতিল করা যাবে না।
-------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-529: Irregularities which do not vitiate proceedings:
-If any Magistrate not empowered by law to do any of the following things, namely:– 
(a) to issue a search-warrant under section 98; 
(b) to order, under section 155, the police to investigate an offence; 
(c) to hold an inquest under section 176; 
(d) to issue process, under section 186, for the apprehension of a person within the local limits of his jurisdiction who has committed an offence outside such limits; 
(e) to take cognizance of an offence under section 190, sub-section (1), clause (a), or clause (b); 
(f) to transfer a case under section 192; 
(g) to tender a pardon under section 337 or section 338; 
(h) to sell property under section 524 or section 525; or 
(i) to withdraw a case and try it himself under section 528;

erroneously in good faith does that thing, his proceedings shall not be set aside merely on the ground of his not being so empowered.
২,৬৭৫.
তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোনো আসামীকে দণ্ড দিলে আপীল দায়ের করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. দায়রা জজ কোর্টে
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. আপীল বিভাগে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪০৭ মতে- দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর কোনো ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডাদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল ধরণের ম্যাজিস্ট্রেটের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে দায়রা জজের নিকট।
২,৬৭৬.
'ম' এক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়। এক্ষেত্রে দণ্ডাদেশ দণ্ডবিধির দুইটি ধারার মধ্যে কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত, সে সম্পর্কে সন্দেহ বিদ্যমান। এক্ষেত্রে আদালত-
  1. মামলা বাতিল করবে
  2. বিকল্প রায় প্রদান করবে
  3. রায় প্রদান স্থগিত রাখবে
  4. সম্পূর্ণ মামলা স্থগিত করবে
ব্যাখ্যা
• এক্ষেত্রে আদালত বিকল্প রায় প্রদান করবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৭(৩) ধারায় বিকল্প রায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

• ধারা ৩৬৭(৩)-
যখন দণ্ডাদেশ দণ্ডবিধির অধীনে হয় এবং এটি নিয়ে সন্দেহ থাকে যে অপরাধটি দণ্ডবিধির কোন দুটি ধারার মধ্যে বা একই ধারা দুইটি ভাগের মধ্যে পড়ে, তখন আদালত এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবে এবং বিকল্পভাবে রায় প্রদান করবে।

Section 367(3)-
When the conviction is under the Penal Code and it is doubtful under which of two sections, or under which of two parts of the same section, of that Code the offence falls, the Court shall distinctly express the same, and pass judgment in the alternative.
২,৬৭৭.
নালিশের দরখাস্ত প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযোগকারীর জবানবন্দী ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় রেকর্ড করেন?
  1. ১৯০ ধারা
  2. ২০০ ধারা
  3. ২০১ ধারা
  4. ২০২ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ নালিশী দরখাস্ত অর্থ হলো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট কোন অপরাধের অভিযোগ সংক্রান্ত কোন দরখাস্ত। কোন ব্যক্তি ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারার অধীন কোন অপরাধের অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দায়ের করতে পারে। এই ২০০ ধারার অধীন নালিশের দরখাস্ত প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীর জবানবন্দী রেকর্ড করেন।
২,৬৭৮.
দোষ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তকে দণ্ড দিলে, সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোন বিষয়ে আপিল করা যাবে?
  1. দণ্ডাদেশের পরিমাণ
  2. দণ্ডাদেশের যৌক্তিকতা
  3. ক এবং খ
  4. উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।

ধারা ৪১২- দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে [In Case of Guilty Plead]
আসামী দোষ স্বীকার করলে এবং তার উপর ভিত্তি করে আসামীকে দণ্ড দিলে, সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। কিন্তু উক্ত দণ্ডাদেশের পরিমাণ বা যৌক্তিকতা (extent or legality) বিষয়ে আপিল দায়ের করা যাবে। যেমন দোষ স্বীকার করার পরও অধিক দণ্ড দিলে, দণ্ডের পরিমাণের (quantum of sentence) বৈধতার বিষয়ে আপিল করা যেতে পারে।

ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases] 
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
অন্যদিকে যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আপিল করা যাবেনা।

ধারা ৪১৪- সংক্ষিপ্ত বিচারের কতিপয় দণ্ডের ক্ষেত্রে [Summary Conviction] 
২৬০ ধারার অধীন সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা জরিমানা করলে, সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
২,৬৭৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৯ এর অধীনে সামরিক বিচার কোন আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়?
  1. আর্মি অ্যাক্ট, ১৯৫২
  2. এয়ার ফোর্স অ্যাক্ট, ১৯৫৩
  3. নেভি অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৯ অনুযায়ী সামরিক বিচার নিম্নলিখিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়:
১) আর্মি অ্যাক্ট, ১৯৫২
২) এয়ার ফোর্স অ্যাক্ট, ১৯৫৩
৩) নেভি অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১
অর্থাৎ, সামরিক, নৌ এবং বিমান বাহিনীর আইন অনুসারে যারা সামরিক বিচারাধীন, তাদের বিচার এই আইনের অধীনে পরিচালিত হয়।
তাই এখানে সঠিক উত্তর হবে: ঘ) উল্লিখিত সবগুলো।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৯ অনুসারে: সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে সামরিক বিচারের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তর:
(১) সরকার এই কোড এবং আর্মি অ্যাক্ট, ১৯৫২, এয়ার ফোর্স অ্যাক্ট, ১৯৫৩, নেভি অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য সামরিক আইন অনুযায়ী নিয়ম তৈরি করতে পারে, যেখানে সামরিক, নৌ বা বিমান বাহিনী আইনভুক্ত ব্যক্তিদের বিচার এই কোড প্রযোজ্য আদালত অথবা কোর্ট মার্শালে করা হয়।
যখন কোনো ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে এমন অপরাধে অভিযোগ আনা হয় যা কোর্ট মার্শালে বিচারাধীন, তখন সেই ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অপরাধের বিবরণসহ তার নিজ দলের কমান্ডিং অফিসার অথবা নিকটস্থ সামরিক, নৌ বা বিমান বাহিনী স্টেশনের কমান্ডিং অফিসারের কাছে কোর্ট মার্শালে বিচার হওয়ার জন্য হস্তান্তর করবেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার:
(২) সৈনিক, নাবিক বা বিমানসেনার যেকোনো কমান্ডিং অফিসারের লিখিত আবেদন পেলে, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও নিরাপদে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898-Section 549- Delivery to military authorities of persons liable to the tried by Court-martial:
(1) The Government may make rules consistent with this Code and the Army Act, 1952 (XXXIX of 1952), the Air Force Act, 1953 (VI of 1953), and the Navy Ordinance, 1961 (XXXV of 1961), and any similar law for the time being in force as to the cases in which persons subject to military, naval or air force law, shall be tried by a Court to which the Code applies, or by Court martial, and when any person is brought before a Magistrate and charged with an offence for which he is liable to be tried either by a Court to which this Code applies or by a Court-martial such Magistrate shall have regard to such rules, and shall in proper cases deliver him, together with a statement of the offence of which he is accused, to the commanding officer of the regiment, corps, ship or detachment, to which he belongs, or to the commanding officer of the nearest military, naval or air-force station, as the case may be, for the purpose of being tried by Court-martial.

Apprehension of such persons-
(2) Every Magistrate shall, on receiving a written application for that purpose by the commanding officer of any body of soldiers, sailors or airman stationed or employed at any such place, use his utmost endeavours to apprehend and secure any person accused of such offence.
২,৬৮০.
যদি আসামি জেলে থাকা অবস্থায় তার কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে তাকে কী হবে?
  1. তাকে মুক্তি দেওয়া হবে
  2. তাকে পুনরায় বিচার করা হবে
  3. তাকে জেলে রাখা হবে
  4. তাকে নতুন করে দণ্ড দেওয়া হবে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কিভাবে দণ্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:
 (১) ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেল হাজতে ছিল, তা কারাদেণ্ডর  মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। তবে এই বিধানটি আসামী মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
 
(২) যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদণ্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদণ্ড থাকলে সেই অর্থদণ্ডও মওকুফ হয়ে যাবে।
 
Section 35A: Deduction of imprisonment in cases where convicts may have been in custody-
(1) Except in the case of an offence punishable only with death, when any court finds an accused guilty of an offence and, upon conviction, sentences such accused to any term of imprisonment, simple or rigorous, it shall deduct from the sentence of imprisonment, the total period the accused may have been in custody in the meantime, in connection with that offence. 
 
(2) If the total period of custody prior to conviction referred to in sub-section (1) is longer than the period of imprisonment to which the accused is sentenced, the accused shall be deemed to have served out the sentence of imprisonment and shall be released at once, if in custody, unless required to be detained in connection with any other offence; and if the accused is also sentenced to pay any fine in addition to such sentence, the fine shall stand remitted.
২,৬৮১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ______ অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে উপস্থাপন করা যায়।
  1. ৫০৯
  2. ৫০৯ক
  3. ৫১০ক
  4. ৫১১
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯ক-এ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের বিশেষ বিধান দেওয়া হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক যদি মারা যান, সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হন বা দেশের বাইরে থাকেন এবং তাকে আদালতে তলব করা অযৌক্তিক হয়, তখন তার রিপোর্টকে তলব ছাড়াই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯ক: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট:-
এই কার্যবিধির অধীন যেক্ষেত্রে ইনকোয়ারি, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে ময়না তদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহৃত হওয়া দরকার এবং ময়না তদন্তকারী সিভিল সার্জন বা অন্য কোন মেডিকেল অফিসার মারা গেলে বা সাক্ষ্য প্রদান করতে অপারগ হন বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে অবস্থান করেন এবং এরূপ বিলম্ব বা অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়া বা অসুবিধা ছাড়া তাকে হাজির করা না যায়, যা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক সেক্ষেত্রে সাক্ষী রূপে তাকে তলব না করেই উক্ত রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহার করা যাবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898, Section 509A: Report of post-mortem examination:-
Where in any inquiry, trial or other proceeding under this Code the report of a post-mortem examination is required to be used as evidence, and the Civil Surgeon or other medical officer who made the report is dead or is incapable of giving evidence or is beyond the limits of Bangladesh and his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or inconvenience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable, such report may be used as evidence.

২,৬৮২.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী আদালত 'Summary dismissal of appeal' এর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. ৪১৮ ধারায়
  2. ৪১৯ ধারায়
  3. ৪২১ ধারায়
  4. ৪২২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ (Summary dismissal of appeal)-
৪২১ ধারামতে আদালত মনে করলে আপিল সংক্ষিপ্তভাবে খারিজ করতে পারেন। তবে আইনজীবীকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

ধারা ৪২১- আপিল খারিজের সারবস্তু-
(১) ধারা-৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাবার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন।
শর্ত থাকে যে, ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপীলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।

(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না।
----------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-421: Summary dismissal of appeal:
(1) On receiving the petition and copy under section 419 or section 420, the Appellate Court shall pursue the same, and, if it considers that there is no sufficient ground for interfering, it may dismiss the appeal summarily: 
 
-Provided that no appeal presented under section 419 shall be dismissed unless the appellant or his pleader has had a reasonable opportunity of being heard in support of the same. 
 
(2) Before dismissing an appeal under this section, the Court may call for the record of the case, but shall not be bound to do so.
২,৬৮৩.
ফৌজদারি কার্যবিধি কোন ধারা অনুসারে নালিশের দরখাস্ত প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন?
  1. ২০০
  2. ২০১
  3. ২০৩
  4. ২০৪
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা। ২০০ বিধান অনুযায়ী অপরাধ আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর জবানবন্দি নিতে বাধা ।
⇒ ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে,নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে-
১. নালিশকারীকে বা
২. উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবে এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন।নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।
⇒ যে ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই-
ক. যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই;
খ. যে মামলায় আদালত লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করে;
গ. সরকারী কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে লিখিত আকারে নালিশী দরখাস্ত দায়ের করে সেই ক্ষেত্রেও নালিশকারীর বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই।
----------------------
⇒ CrPC-Section-200: Examination of complainant:
A Magistrate taking cognizance of an offence on complaint shall at once examine upon oath the complainant and such of the witnesses present, if any, as he may consider necessary, and the substance of the examination shall be reduced to writing and shall be signed by the complainant or witness so examined, and also by the Magistrate: 
Provided as follows:- 
(a) when the complaint is made in writing, nothing herein contained shall be deemed to require such examination before transferring the case under section 192; 
(aa) when the complaint is made in writing nothing herein contained shall be deemed to require such examination in any case in which the complaint has been made by a Court or by a public servant acting or purporting to act in the discharge of his official duties; 
(c) when the case has been transferred under section 192 and the Magistrate so transferring it has already examined the complainant and witness if any, the Magistrate to whom it is so transferred shall not be bound to re-examine them.
২,৬৮৪.
সরকার বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত মেয়াদের কারাদণ্ড দিতে পারে?
  1. ৭ বছর
  2. যে-কোনো
  3. ১০ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণ ক্ষমতাবলে সর্বোচ্চ ৫ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে। তবে ২৯গ  ধারায় বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে ৩৩ক ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ৭ বৎসরের কারাদণ্ড দিতে পারে।

♦অর্থাৎ ৩৩ক ধারা অনুযায়ী ২৯ গ ধারায় বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে কোনো প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোন অপরাধের বিচার করলে অনধিক ৭ বৎসরের কারাদণ্ড হতে পারে।

♦ ৩৩ক ধারায় বলা হয়েছে যে ২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
২,৬৮৫.
সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি যদি ৫৪ ধারার বিধানের অধীনে হয়, তখন কী করা হবে?
  1. তাকে আদালতে পাঠানো হবে
  2. তাকে জেল হাজতে পাঠানো হবে
  3. পুলিশ অফিসার পুনরায় গ্রেফতার করবে
  4. তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার বিধান- সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার এবং এই ধরনের গ্রেফতারের পরবর্তী কার্যপ্রণালি:
(১) যে কোন সাধারণ নাগরিক তাঁর মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারীকে অথবা অপরাধী মর্মে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে তাকে নিকটস্থ থানায় হেফাজতে নিয়ে যাবেন বা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।

(২) এই ধরনের ব্যক্তি ৫৪ ধারার বিধানসাপেক্ষ বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে একজন পুলিশ অফিসার পুনরায় তাকে গ্রেফতার করবেন।

(৩) সে আমল-অযোগ্য অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে এবং পুলিশ অফিসারের দাবিকে সে নিজের নাম ও বাসস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে অথবা যদি এরূপ নাম ও বাসস্থান দেয় যা উক্ত অফিসারের মিথ্যা রূপে বিশ্বাস করবার কারণ ঘটে, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার বিধান সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কোন অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করবার মত পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে তাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিতে হবে।

২,৬৮৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের পূর্বে অভিযুক্তকে কোন বিষয়ে অবগত করবেন?
  1. তিনি স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য
  2. ৩য় কারো বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি দেয়া যাবে না
  3. তিনি স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য নন
  4. স্বীকারোক্তি দিলে তা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে না
ব্যাখ্যা
• ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। এই ধরনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি, এটার সাক্ষ্যগত মূল্য এবং একবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিলে তা কী প্রত্যাহার করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো:

কে, কখন লিপিবদ্ধ করতে পারবেন:
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ (১) ধারা অনুযায়ী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এবং এই বিষয়ে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। এ ধরনের জবানবন্দি তদন্ত বা অনুসন্ধানকালে বা বিচার শুরু হওয়ার আগে বা পরে যেকোনো সময় করা যাবে। তবে লিপিবদ্ধকারী ম্যাজিস্ট্রেটের অপরাধ বিচারের এখতিয়ার এখানে বিবেচ্য হবে না।

লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি:
কোন আসামির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কার্যবিধির ১৬৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, জবানবন্দির পূর্বেই ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে জানাবেন যে, তিনি স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য নন এবং স্বীকারোক্তি দিলে তা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছায় হচ্ছে বলে যুক্তিসংগতভাবে বিশ্বাস না করা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট তা লিপিবদ্ধ করবেন না। উপরোক্ত বিষয়গুলো পালন করা হয়েছে মর্মে একটি স্মারক মন্তব্য ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করবেন। অতঃপর সেই জবানবন্দি ঘটনা সম্পর্কে যিনি অনুসন্ধান করবেন বা বিচার করবেন তার কাছে পাঠাবেন।

ম্যাজিস্ট্রেটকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৪ ধারার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এই ধারা অনুযায়ী আসামিকে জিজ্ঞাসিত প্রতিটি প্রশ্ন জবাবসহ সমগ্র জবানবন্দি আসামি যে ভাষায় বলবে বা আদালতের ভাষায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। এরপর সেই জবানবন্দি ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে পড়ে শুনাবেন। জবানবন্দি আসামির বোধগম্য ভাষায় লিখিত না হলে সারমর্ম বুঝিয়ে দেবেন। জবানবন্দির সত্যতা স্বীকার করলে আসামি এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিজে সেটাতে সই করবেন। এছাড়া উপরোক্ত বিষয় প্রতিপালন হয়েছে মর্মে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয়ন করবেন।
২,৬৮৭.
খালাস বা অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলে যদি আপিলকারী মারা যায়, তবে সেই আপিলের কী হবে?
  1. বাতিল হয়ে যাবে
  2. আপিল চলতে থাকবে
  3. হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে
  4. আপিল নতুন করে দাখিল করতে হবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪৩১ অনুযায়ী, আপিল বাতিল হবে কিনা তা নির্ভর করে কে আপিলকারী এবং কোন ধারা অনুযায়ী আপিলটি করা হয়েছে তার ওপর।
- ধারা ৪১৭: খালাসের বিরুদ্ধে সরকার বা অভিযোগকারী পক্ষ (Complainant) আপিল করতে পারে।
- ধারা ৪১৭A (৪১৭ক): অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
→ এই দুটি ধারা অনুযায়ী যেসব আপিল হয়, সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি নয়, বরং রাষ্ট্র বা অভিযোগকারী আপিলকারী হন।
→ তাই যদি এই ক্ষেত্রে আপিলকারী মারা যান, তাহলে অভিযোগ বা অপরাধ টিকে থাকে, এবং আপিল বাতিল হয় না।
→ আদালত সেই আপিল চালিয়ে যেতে পারে, এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার অব্যাহত থাকে।

অন্যদিকে,
- যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে (যেমন ধারা ৪০৭, ৪১০), তবে সে মারা গেলে আপিল বাতিল হয়ে যায়।

→অর্থাৎ খালাস বা অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলে আপিলকারী মারা গেলেও আপিল চলতে থাকে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি তখনও জীবিত থাকে, এবং অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
→ এ কারণেই সঠিক উত্তর হচ্ছে — খ) আপিল চলতে থাকবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ক ধারার বিধান অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল:-
(১) কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল দায়েরের জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) আদালতে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ফরিয়াদী দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততাহেতু আপিল আদালতে আপিল দায়ের করতে পারবেনঃ
শর্ত থাকে যে, দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর এই উপ-ধারার অধীন আপিল আদালত কর্তৃক কোন আপিল গৃহীত হবে না।
(৩) দণ্ডের অপর্যাপ্ততা হেতু কোন আপিল রুজু করা হলে আপিল আদালত দণ্ড বাড়ানোর বিরুদ্ধে কারণ দর্শাবার জন্য আসামীকে যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে দণ্ড বাড়াবেন না এবং কারণ দর্শাবার সময় আসামী তার খালাস প্রাপ্তি বা দণ্ড কমানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 417A: Appeal against inadequacy of sentence:
(1) The Government may, in any case of conviction on a trial held by any court, direct the Public Prosecutor to present an appeal to the High Court Division against the sentence on the ground of its inadequacy.
(2) A complainant may, in any case of conviction on a trial held by any Court, present an appeal to the Appellate Court against the sentence on the ground of its inadequacy:
Provided that no appeal under this sub-section shall be entertained by the Appellate Court after the expiry of sixty days from the date of conviction.
(3) When an appeal has been filed against the sentence on the ground of its inadequacy, the Appellate Court shall not enhance the sentence except after giving to the accused a reasonable opportunity of showing cause against such enhancement and while showing cause, the accused may plead for his acquittal or for the reduction of the sentence.
২,৬৮৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় গর্ভবতী স্ত্রী লোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতকরণের বিধান রয়েছে?
  1. ৩৮০ ধারা
  2. ৩৮২ ধারা
  3. ৩৮৪ ধারা
  4. ৩৮৬ ধারা
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৮২- গর্ভবতী স্ত্রীলোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতকরণ:
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন স্ত্রীলোক গর্ভবতী রয়েছে বলে দেখা গেলে, হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

Section 382- Postponement of capital sentence on pregnant woman:
If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.
২,৬৮৯.
গৃহীত সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ হবে-
  1. সংক্ষিপ্ত আকারে
  2. বিবরণ আকারে
  3. সারমর্ম আকারে
  4. প্রশ্নোত্তর আকারে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫৯: সাক্ষ্য লিপিবদ্ধের পদ্ধতি

(১) ধারা ৩৫৬ বা ৩৫৭ অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য সাধারণত প্রশ্নোত্তর আকারে লিপিবদ্ধ হবে না বরং বিবরণ আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ ইচ্ছা করলে কোন বিশেষ প্রশ্ন ও উত্তর লিপিবদ্ধ করতে বা করাতে পারবেন।

Section 359: Mode of recording evidence

(1) Evidence taken under section 356 or section 357 shall not ordinarily be taken down in the form of question and answer, but in the form of a narrative
(2) The Magistrate or Sessions Judge may, in his discretion take down, or cause to be taken down, any particular question and answer.
২,৬৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধি কোন ধরনের আইন?
  1. Substantive Law
  2. Procedural Law
  3. Administrative Law
  4. Constitutional Law
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure, 1898) একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law বা Adjective Law)। এর কাজ হলো  অপরাধ সংঘটনের পর কীভাবে বিচার হবে, কীভাবে গ্রেফতার, তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, বিচার, রায় ও আপিল হবে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্ধারণ করে দেওয়া।

- যে আইনে কোনো মামলা কীভাবে চলবে, তা ধাপে ধাপে বলা থাকে— যেমন মামলা দায়ের, তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, বিচার, রায়, আপিল ইত্যাদি। অর্থাৎ, একটি মামলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কীভাবে বিচার হবে, সেই পদ্ধতি বা নিয়ম যেসব আইনে উল্লেখ থাকে, সেগুলোকে বলা হয় পদ্ধতিগত আইন।
উদাহরণস্বরূপ: ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানী কার্যবিধি ও তামাদি আইন।

- অন্যদিকে, মৌলিক বা তত্ত্বগত আইন (Substantive Law) হচ্ছে সেই আইন, যেটা কোনো অধিকার তৈরি করে বা কোনো কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার শাস্তি নির্ধারণ করে।
যেমন: দণ্ডবিধিতে বলা আছে কোন কাজ করলে সেটা অপরাধ, এবং সেই অপরাধের শাস্তি কত হতে পারে। তবে দণ্ডবিধিতে বিচার করার নিয়ম বা প্রক্রিয়া বলা নেই।
সেই প্রক্রিয়া ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই দণ্ডবিধি হলো একটি মৌলিক আইন, আর ফৌজদারি কার্যবিধি হলো একটি পদ্ধতিগত আইন।
২,৬৯১.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর নিম্নের কোন ধারায় ‘Investigation’ শব্দের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৪(ছ)
  2. ৪(ঠ)
  3. ৪(ত)
  4. ৪(প)
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪(ঠ) তে বলা আছে- Investigation (তদন্ত) অর্থ হলো সাক্ষ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত পুলিশ অফিসার বা অন্য কোন ব্যক্তি যিনি ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত তার কর্তৃক পরিচালিত কোন কার্যক্রম।
২,৬৯২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত কখন তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করবে না?
  1. কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে।
  2. কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা থাকলে।
  3. কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে।
  4. কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে।
ব্যাখ্যা
⇒ তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারায় তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যুর বিধান রয়েছে। ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত ৩টি কারণে তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন। যথা-
i) কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে;
ii) উক্তরূপ দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে; এবং
iii) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে আদালত তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।

-উল্লিখিত প্রশ্ন মতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা থাকলে তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করবে না।

- ৯৬ ধারামতে জারিকৃত তল্লাশী পরোয়ানা বাতিলের জন্য দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যায়।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারার বিধান (১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারী করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।
অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই।
অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশী বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশী বা পরিদর্শন করতে পারবেন।

(২) এই ধারায় বিধৃত কোন কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশী করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-96: When search-warrant may be issued:
-(1) Where any Court has reason to believe that a person to whom a summons or order under section 94 or a requisition under section 95, sub-section (1), has been or might be addressed, will not or would not produce the document or thing as required by such summons or requisition, 
or where such document or thing is not known to the Court to be in the possession of any person, 
or where the Court considers that the purposes of any inquiry, trial or other proceeding under this Code will be served by a general search or inspection, 
it may issue a search-warrant; and the person to whom such warrant is directed, may search or inspect in accordance therewith and the provisions hereinafter contained.

(2) Nothing herein contained shall authorize any Magistrate other than a District Magistrate, Chief Judicial Magistrate, as the case may be or Chief Metropolitan Magistrate to grant a warrant to search for a document, parcel or other thing in the custody of the Postal or Telegraph authorities.
২,৬৯৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারায়, আদালত যদি কোনো সম্পত্তি ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা হস্তান্তরের আদেশ দেয়, তবে সেই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কোন কর্মকর্তা নির্দেশ দিতে পারে?
  1. শুধুমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ
  2. পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা
  3. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত কোনো সম্পত্তি ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা হস্তান্তরের আদেশ দেয় এবং তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা দ্বারা সম্পত্তি হস্তান্তর করা সম্ভব না হয়, তবে আদালত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিতে পারে যাতে তারা এই আদেশ কার্যকর করতে পারে।

অর্থাৎ, সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। হাইকোর্ট বিভাগ বা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এই কাজ করতে পারবেন না।

-ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৭ ধারা অনুযায়ী কোন অপরাধে যে সম্পত্তি বা দলিল বিষয়ে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে বলে আদালত মনে করে, অনুসন্ধান বা বিচার শেষ হওয়ার পর আদালত উক্ত সম্পত্তি বা দলিল ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা অর্পণের মাধ্যমে হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারে।

- ধারা ৫১৭- যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা হস্তান্তরের আদেশ:
(১) কোন ফৌজদারী আদালতে কোন ইনকোয়ারী বা বিচার শেষ হবার উপর উক্ত আদালতে পেশকৃত বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল, যা সম্পর্কে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা যা কোন অপরাধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়, ধ্বংস, বাজেয়াপ্ত বা যে ব্যক্তি উহার দখল দাবী করে তাকে প্রদান বা অন্য কোনভাবে উহার বিহিত ব্যবস্থা করার জন্য আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন, সেরুপ আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) যেক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন বা দায়রা আদালত এরূপ আদেশ দিবেন এবং সুবিধাজনকভাবে নিজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি উহার অধিকারী ব্যক্তিকে অর্পণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত আদেশ বলবৎ করবেন।
(৩) এই ধারার অধীন আদেশ প্রদান করা হলে তা সংশিষ্ট সম্পত্তি গৃহপালিত পশু বা দ্রুত ও স্বাভাবিক ক্ষয়শীল না হলে, এবং উপধারা-(৪) এ বর্ণিত বিধান মতে না হলে ১ (এক) মাসের জন্য কার্যকর করা যাবে না অথবা যেক্ষেত্রে আপিল পেশ করা হয়, সেক্ষেত্রে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর করা যাবে না।
(৪) যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তি দখলের অধিকারী মর্মে দাবী করে সে ব্যক্তি আদালতের সন্তুষ্টি বিধানপূর্বক জামিনদারসহ বা ব্যতীত এ মর্মে একটি মুচলেকা সম্পাদন করে যে, এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশ আপীলে সংশোধিত বা বাতিল হলে সে উক্ত সম্পত্তি আদালতে অর্পণ করবে, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন বিধান উপধারা-(১) অনুসারে আদালত কর্তৃক উক্ত ব্যক্তিকে সম্পত্তি দেয়ার ব্যাপারে কোন বাধার সৃষ্টি করবে মর্মে মনে করা যাবে না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 517. Order for disposal of property regarding which offence committed:
(1) When an inquiry or a trial in any Criminal Court is concluded, the Court may make such order as it thinks fit for the disposal by destruction, confiscation, or delivery to any person claiming to be entitled to possession thereof or otherwise of any property or document produced before it or in its custody or regarding which any offence appears to have been committed, or which has been used for the commission of any offence. 
(2) When High Court Division or a Court of Session makes such order and cannot through its own officers conveniently deliver the property to the person entitled thereto, such Court may direct that the order be carried into effect by the Chief Metropolitan Magistrate or District Magistrate. 
(3) When an order is made under this section such order shall not, except where the property is livestock or subject to speedy and natural decay, and save as provided by sub-section (4), be carried out for one month, or, when an appeal is presented, until such appeal has been disposed of. 
(4) Nothing in this section shall be deemed to prohibit any Court from delivering any property under the provisions of sub-section (1) to any person claiming to be entitled to the possession thereof, on his executing a bond with or without sureties to the satisfaction of the Court, engaging to restore such property to the Court if the order made under this section is modified or set aside on appeal.
Explanation- In this section the term "property" includes in the case of property regarding which an offence appears to have been committed, not only such property as has been originally in the possession or under the control of any party, but also any property into or for which the same may have been converted or exchanged, and anything acquired by such conversion or exchange, whether immediately or otherwise.
২,৬৯৪.
ফৌজদারি মামলায় গৃহীত সাক্ষ্য কোন পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হবে?
  1. সংক্ষিপ্ত আকারে
  2. প্রশ্নোত্তর আকারে
  3. বিবরণ আকারে
  4. সারাংশ আকারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫৯: সাক্ষ্য লিপিবদ্ধের পদ্ধতি-
(১) ধারা ৩৫৬ বা ৩৫৭ অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য সাধারণত প্রশ্নোত্তর আকারে লিপিবদ্ধ হবে না বরং বিবরণ আকারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ ইচ্ছা করলে কোন বিশেষ প্রশ্ন ও উত্তর লিপিবদ্ধ করতে বা করাতে পারবেন।
 --------------------
The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 359: Mode of recording evidence-
(1) Evidence taken under section 356 or section 357 shall not ordinarily be taken down in the form of question and answer, but in the form of a narrative.
(2) The Magistrate or Sessions Judge may, in his discretion take down, or cause to be taken down, any particular question and answer.
২,৬৯৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৯ ধারা অনুযায়ী, কোনো দণ্ডাদেশ কার্যকর করার জন্য পরোয়ানা জারি করার ক্ষমতা কার নেই?
  1. দণ্ডাদেশদাতা জজ
  2. দণ্ডাদেশদাতা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. মামলার অপরাধ তদন্তকারী কর্মকর্তা
  4. দণ্ডাদেশদাতা জজের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৯ শুধুমাত্র নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের দণ্ডাদেশ কার্যকর করার জন্য পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেয়:
১. দণ্ডাদেশদাতা জজ (ক)
২. দণ্ডাদেশদাতা ম্যাজিস্ট্রেট (খ)
৩. দণ্ডাদেশদাতা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি (ঘ)

- তদন্তকারী কর্মকর্তা (গ) — যিনি মামলার তদন্ত করেন (যেমন: পুলিশের উপ-পরিদর্শক/এসআই, তদন্ত কর্মকর্তা) — ধারা ৩৮৯ অনুযায়ী পরোয়ানা জারির কোনো ক্ষমতা নেই।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৯ ধারার বিধান- কে পরোয়ানা জারি করতে পারে:
- যে জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত দণ্ড দিয়াছেন তিনি বা তার স্থলাভিষিক্ত জজ বা ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত দণ্ড কার্যকর করার জন্য পরোয়ানা ইসু করতে পারবেন।
------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 389: Who may issue warrant:
- Every warrant for the execution of any sentence may be issued either by the Judge or Magistrate who passed the sentence, or by his successor in office.

২,৬৯৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত নিম্নের কোন ক্ষেত্রে তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে না?
  1. দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে
  2. দলিল বা অন্য কোন বস্তু অভিযুক্তের দখলে থাকলে
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে
  4. দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারায় তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যুর বিধান রয়েছে। ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত ৩টি কারণে তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন। যথা-
 
i) কোন দলিল বা অন্য কোন বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে;
ii) উক্তরূপ দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে; এবং
iii) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে আদালত তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।
 
• ধারা ৯৬-
 
(১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারী করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না, অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নেই অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশী বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশী বা পরিদর্শন করতে পারবেন।
 
(২) এই ধারায় বিধৃত কোন কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশী করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
২,৬৯৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কোন ক্ষেত্রে সাক্ষী হিসেবে ডাকা যাবে?
  1. আদালত নির্দেশ দিলে
  2. সেই ব্যক্তি নিজে লিখিতভাবে অনুরোধ করলে
  3. একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তি আবেদন করলে
  4. উল্লিখিত যেকোনো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারা (যার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করার অধিকার ও সাক্ষী হওয়ার যোগ্যতা)-

অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আসামি পক্ষে সাক্ষী হওয়ার যোগ্য এবং একই বিচারে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা তার সাথে একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য শপথ গ্রহণপূর্বক সাক্ষ্য দিতে পারবে।তবে শর্ত এই যে-
সেই ব্যক্তি নিজে লিখিতভাবে অনুরোধ না করলে তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হবে না; অথবা
⇒ সে সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হলে মামলার কোন পক্ষ বা আদালত সেই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবে না এবং তার বিরুদ্ধে বা একই বিচারে অভিযুক্ত অন্য কোন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কোন অনুমান করা যাবে না।

Section 340 (Right of person against whom proceedings are instituted to be defended and his competency to be a witness)-
(1) Any person accused of an offence before a Criminal Court, or against whom proceedings are instituted under this Code in any such Court, may of right be defended by a pleader. 
(2) Any person against whom proceedings are instituted in any such Court under section 107, or under Chapter X, Chapter XI, Chapter XII or Chapter XXXVI, or under section 552, may offer himself as a witness in such proceedings. 
(3) Any person accused of an offence before a Criminal Court shall be a competent witness for the defence and may give evidence on oath in disproof of the charges made against him or any person charged together with him at the same trial: 
 
Provided that- 
(a) he shall not be called as a witness except on his own request in writing; or 
(b) his failure to give evidence shall not be made the subject of any comment by any of the parties or the Court or give rise to any presumption against himself or any persons charged together with him at the same trial.
২,৬৯৮.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট কত উপায়ে অপরাধ আমলে নিতে পারেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ৩টি উপায়ে অপরাধ আমলে নিতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।
-কোন কোন ম্যাজিস্ট্রেট,কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধ আমলে নিতে পারে সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা অনুযায়ী,ম্যাজিস্ট্রেটগণ ৩টি উৎসের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে নিতে পারেন-
- অভিযোগ [ (ধারা ১৯০(১)(ক) ]
- পুলিশের লিখিত রিপোর্ট [ ধারা ১৯০(১)(খ) ]
- তথ্য,নিজস্ব জ্ঞান বা সন্দেহবশত কোনো তথ্য পেলে [ ধারা ১৯০(১)(গ) ] ।
তবে এই উৎসের উপর ভিত্তি করে ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিতে পারবেন না।
-------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-190.Cognizance of offences by Magistrates:
(1) Except as hereinafter provided, any Chief Metropolitan Magistrate, Metropolitan Magistrate, Chief Judicial Magistrate, Magistrate of the first class, and any other Magistrate specially empowered in this behalf under sub-section (2) or (3)], may take cognizance of any offence-
(a) upon receiving a complaint of facts which constitute such offence;
(b) upon a report in writing of such facts made by any police-officer;
(c) upon information received from any person other than a police-officer, or upon his own knowledge or suspicion, that such offence has been committed.
২,৬৯৯.
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪০১(২) অনুযায়ী দণ্ড স্থগিত বা মওকুফের আবেদন করলে সরকার কাকে মতামত দেওয়ার জন্য বলতে পারে?
  1. জেলা প্রশাসক
  2. দায়রা আদালত
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. বিচারক যিনি রায় দিয়েছেন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪০১(২)-এ বলা হয়েছে: "Whenever an application is made to the Government for the suspension or remission of a sentence, the Government may require the presiding Judge of the Court before or by which the conviction was had or confirmed to state his opinion..."
অর্থাৎ, যখন কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সরকারের কাছে দণ্ড স্থগিত (suspension) বা মওকুফ (remission) চেয়ে আবেদন করে, তখন সরকার চাইলে, সেই বিচারকের মতামত চাইতে পারে, যিনি: মামলায় রায় দিয়েছেন, অথবা উক্ত দণ্ড বহাল রেখেছেন (যদি আপিলে দণ্ড নিশ্চিত হয়)। বিচারকের কাছে সরকারের চাওয়া হয়: আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না, এবং তাঁর মন্তব্য ও কারণসহ একটি মতামত।

→ সুতরাং, সরকার ধারা ৪০১(২) অনুযায়ী রায়দানকারী বিচারকের মতামত চাইতে পারে।
 সঠিক উত্তর: ঘ) বিচারক যিনি রায় দিয়েছেন।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারা দণ্ড স্থগিত, মওকুফ ও রদবদল প্রসঙ্গে:
(১) কোন ব্যক্তি কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে সরকার যে কোন সময় বিনা শর্তে বা দণ্ডিত ব্যক্তি যা মেনে নেয় সেই শর্তে তার দণ্ড কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখতে বা সম্পূর্ণ দণ্ড বা দণ্ডের অংশ বিশেষ মওকুফ করতে পারবেন।
(২) যখন কোন দণ্ড স্থগিত রাখা বা মওকুফ করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন করা হয় তখন যে আদালত উক্ত দণ্ড দিয়াছিলেন বা অনুমোদন করেছিলেন সেই আদালতের প্রিজাইডিং জজকে সরকার উক্ত আবেদন মঞ্জুর করা উচিত কিংবা মঞ্জুর করতে অস্বীকার করা উচিত, সে সম্পর্কে তার মতামত ও মতামতের কারণ বিবৃত করতে এবং এই বিবৃতির সাথে বিচারের নথির নকল অথবা যে নথি বর্তমানে আছে সেই নথির নকল প্রেরণ করার নির্দেশ দিবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 401. Power to suspend or remit sentences:
(1) When any person has been sentenced to punishment for an offence, the Government may at any time without conditions or upon any conditions which the person sentenced accepts, suspend the execution of his sentence or remit the whole or any part of the punishment to which he has been sentenced.
(2) Whenever an application is made to the Government for the suspension or remission of a sentence, the Government, may require the presiding Judge of the Court before or by which the conviction was had or confirmed to state his opinion as to whether the application should be granted or refused, together with his reasons for such opinion and also to forward with the statement of such opinion a certified copy of the record of the trial or of such record thereof as exists.
২,৭০০.
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে, হাইকোর্ট কোন ধরনের আদেশ দিতে পারে?
  1. দণ্ডাদেশ কার্যকর স্থগিত রাখা
  2. দণ্ড হ্রাস করা
  3. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া
  4. উল্লিখিত সকল আদেশ
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৮২- গর্ভবতী স্ত্রীলোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতকরণ
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কোন স্ত্রীলোক গর্ভবতী রয়েছে বলে দেখা গেলে হাইকোর্ট বিভাগ দণ্ড কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

অর্থাৎ নিম্নোক্ত আদেশসমূহ দিতে পারে-
⇒ দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ,
⇒ দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

Section 382- Postponement of capital sentence on pregnant woman
If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.