বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Criminal Procedure, 1898

মোট প্রশ্ন২,৮৮৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Criminal Procedure, 1898

PrepBank · পাতা ২৬ / ২৯ · ২,৫০১২,৬০০ / ২,৮৮৩

২,৫০১.
ধারা ৪৩৯(২) অনুযায়ী, আসামী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পেলে হাইকোর্ট ডিভিশন-
  1. অপরাধীকে মুচলেকা প্রদান করবে
  2. নতুন শুনানি নির্ধারণ করবে
  3. আসামীর বিরুদ্ধে আদেশ প্রদান করবে না
  4. আসামীকে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিবে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির  ৪৩৯ ধারা- হাইকোর্ট ডিভিশনের রিভিশনের ক্ষমতা:

(১) হাইকোর্ট ডিভিশন নিজে যে মামলার নথি তলব করেছেন, বা যা আদেশের জন্য পাঠানো হয়েছে, বা যা অন্য কোনভাবে হাইকোর্ট ডিভিশনের গোচরীভূত হয়েছে, সেই মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন ইহার বিচারিক ক্ষমতাবলে ধারা-৪২৩, ৪২৬, ৪২৭ ও ৪২৮ এ আপীল আদালতকে বা ধারা-৪৩৮ এ কোন আদালতকে প্রদত্ত ক্ষমতাদির মধ্যে যে কোনটি প্রয়োগ করতে পারবেন এবং দণ্ড বাড়াতে পারবেন এবং রিভিশনে এতিয়ার সম্পন্ন আদালতের জজগণ যখন তাঁদের অভিমতে সমানভাবে বিভক্ত হন, তখন মামলাটি ধারা-৪২৯ এ উল্লেখিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।

(২) আসামী আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজে বা এ্যাডভোকেট কর্তৃক তার বক্তব্য পেশের সুযোগ না পেলে এই ধারা অনুসারে তার বিরুদ্ধে কোন আদেশ দেয়া যাবে না।

(৩) এই ধারায় সংশিষ্ট দণ্ড কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়ে থাকলে আসামী যে অপরাধ সংঘটন করেছে মর্মে আদালত মনে করেন, সেই অপরাধের জন্য কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট যে দণ্ড দিতে পারতেন, আদালত তার চেয়ে বেশী দণ্ড দিবেন না।

(৪) খালাসের অভিমতকে দণ্ডের অভিমতের পরিবর্তন করার বা দায়রা জজ কর্তৃক ধারা- ৪৩৯ক এর অধীন প্রদত্ত আদেশ বিষয়ে রিভিশনে কোন কার্যক্রম গ্রজণ করার ক্ষমতা হাইকোর্ট ডিভিশনকে দেয়া হয়েছে মর্মে এই ধারায় কোন কিছু মনে করা যাবে না।

(৫) যেক্ষেত্রে এই বিধির অধীন আপীল চলে কিন্তু আপীল দায়ের করা হয়নি, সেক্ষেত্রে যে পক্ষ আপীল দায়ের করতে পারত সেই পক্ষের প্রচেষ্টায় রিভিশনের আকারে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।

(৬) এই ধারায় যা-ই বর্ণিত থাকুক না কেন, কোন দণ্ডিত ব্যক্তিকে কেন তার দণ্ড বাড়ানো হবে না এমর্মে উপধারা-২ এর অধীন উহার কারণ দর্শাবার সুযোগ দেয়া হলে, উক্ত কারণ দর্শাবার সময় সে তার দণ্ডের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শাতে অধিকারী হবে।
২,৫০২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার অধীনে, কোন অবস্থায় অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শপথ করে পরীক্ষা করতে হবে?
  1. যখন অভিযোগ আদালতের নির্দেশে করা হয়
  2. যখন অভিযোগ মৌখিকভাবে করা হয়
  3. যখন অভিযোগ লিখিতভাবে করা হয়
  4. যখন অভিযোগকারী সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থিত হন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার অধীনে, যখন অভিযোগ মৌখিকভাবে করা হয় অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শপথ করে পরীক্ষা করতে হবে।

- ফৌজদারি মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে, অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা।
- ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে,নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে নালিশকারীকে বা উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন। নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।

- যে ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই-
ক. যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০(ক)]
খ. যেকোনো মামলায় যেক্ষেত্রে আদালত লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করে [ধারা ২২০ (কক)] বা
গ. সরকারি কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে লিখিত আকারে নালিশি দরখাস্ত দায়ের করে সেই ক্ষেত্রেও নালিশকারীর বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০ (কক)]।
---------
The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 200 Examination of complainant:
- A Magistrate taking cognizance of an offense on complaint shall at once examine upon oath the complainant and such of the witnesses present, if any, as he may consider necessary, and the substance of the examination shall be reduced to writing and shall be signed by the complainant or witness so examined, and also by the Magistrate:
Provided as follows:-
(a) when the complaint is made in writing, nothing herein contained shall be deemed to require such examination before transferring the case under section 192;
(aa) when the complaint is made in writing nothing herein contained shall be deemed to require such examination in any case in which the complaint has been made by a Court or by a public servant acting or purporting to act in the discharge of his official duties;
(c) when the case has been transferred under section 192 and the Magistrate so transferring it has already examined the complainant and witness if any, the Magistrate to whom it is so transferred shall not be bound to re-examine them.
২,৫০৩.
১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে হবে কোন আদালতে ?
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট
  2. দায়রা জজ
  3. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৮ ধারা অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজের নিকট আপীল দায়ের করতে হবে।
২,৫০৪.
কোন ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট দায়রা জজের অধীনে কাজ করেন?
  1. সকল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. ধারা ১৫ এর আওতায় গঠিত বেঞ্চ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৭ মোতাবেক সকল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ধারা ১৫ এর আওতায় গঠিত বেঞ্চ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অধীনে এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়রা জজের অধীনে কাজ করবেন।
• অতএব, উপরের সকলেই দায়রা জজের অধীনে কাজ করবেন।
২,৫০৫.
ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-
  1. দায়রা আদালত
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. দায়রা আদালত এবং হাইকোর্ট বিভাগ উভয়
  4. সকল ফৌজদারি আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা;
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা; এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-561A: Saving of inherent power of High Court Division:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.

২,৫০৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৩ ধারার বিধান অনুযায়ী, মহানগর দায়রা আদালত তার সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের কপি কোথায় প্রেরণ করবেন?
  1. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং হাইকোর্ট বিভাগের নিকট
  4. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং হাইকোর্ট বিভাগের নিকট
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৭৩: দায়রা আদালত সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ-
দায়রা আদালত তার সিদ্ধান্ত ও দণ্ডাদেশের একটি নকল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

অর্থাৎ,
⇒ মহানগর দায়রা আদালত হলে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।
⇒ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।

Section 373: Court of Session send copy of finding and sentence to District Magistrate:
In cases tried by the Court of Session, the Court shall forward a copy of its finding and sentence (if any) to the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate, as the case may be, and District Magistrate within the local limits of whose jurisdiction the trial was held.
২,৫০৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের চতুর্থ কলামে কোন বিষয় নির্ধারণ করা হয়?
  1. অপরাধের শাস্তির পরিমাণ
  2. অপরাধটি জামিনযোগ্য কি না
  3. অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য কি না
  4. প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে না ওয়ারেন্ট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলের চতুর্থ কলামে নির্ধারণ করা হয় যে, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে না ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে। এটি মামলার প্রকৃতি এবং আদালতের প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে, যা অপরাধের গুরুত্ব এবং আইনি প্রক্রিয়ার ধরন নির্ধারণে সহায়ক।
অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) অপরাধের শাস্তির পরিমাণ: এটি সপ্তম কলামে উল্লেখ থাকে, চতুর্থ কলামে নয়।
খ) অপরাধটি জামিনযোগ্য কি না: এটি পঞ্চম কলামে উল্লেখ করা হয়।
গ) অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য কি না: এটি ষষ্ঠ কলামে উল্লেখ থাকে।
অতএব, চতুর্থ কলামে শুধুমাত্র সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু সম্পর্কিত বিষয় নির্ধারণ করা হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একটি সারণীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মোট ৮টি কলাম রয়েছে। এই কলামগুলো বিচার প্রক্রিয়া, পুলিশি ক্ষমতা, জামিন, শাস্তি ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়।
- ১ম কলামে উল্লেখ থাকে দণ্ডবিধির (Penal Code) কোন ধারা অনুযায়ী অপরাধটি হয়েছে।
- ২য় কলামে লেখা থাকে সেই ধারার অধীনে অপরাধটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
- ৩য় কলামে বলা হয়, পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে কি না, অর্থাৎ এটি আমলযোগ্য (Cognizable) না আমল-অযোগ্য (Non-cognizable)।
- ৪র্থ কলামে বলা থাকে, প্রথমে সমন ইস্যু করা হবে না ওয়ারেন্ট, তা নির্ধারণ করা হয়।
- ৫ম কলামে উল্লেখ থাকে অপরাধটি জামিনযোগ্য (Bailable) না জামিন-অযোগ্য (Non-bailable)।
- ৬ষ্ঠ কলামে বলা হয় অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কি না — অর্থাৎ ভুক্তভোগী চাইলেই কি সেটি মিটমাট করে নিতে পারে।
- ৭ম কলামে উল্লেখ থাকে সংশ্লিষ্ট ধারায় নির্ধারিত শাস্তির পরিমাণ।
- ৮ম তথা শেষ কলামে বলা হয়, সেই অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার কোন আদালতের আছে।

২,৫০৮.
দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করতে হবে?
  1. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. দায়রা জজ
  3. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. হাইকোর্ট বিভাগ
ব্যাখ্যা
 ♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪০৭ মতে- দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর কোনো ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডাদেশ দিলে তার বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল ধরণের ম্যাজিস্ট্রেটের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে দায়রা জজের নিকট।

♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৭ ধারার বিধান দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলঃ দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর কোন ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারে শাস্তিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আপীল দায়ের করতে পারবেন, যিনি স্বয়ং উক্ত আপীলের শুনানী গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারেন বা কোন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আপীলটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠাতে পারেন, এবং ঐভাবে প্রেরিত আপীল প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
২,৫০৯.
ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৬১ক ধারার অধীনে ফৌজদারি মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ নিচের কোন ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে
  2. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে
  3. আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করতে
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত আদেশ কার্যকর করতে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power) আছে।
- একটি মামলার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে যাবতীয় বিধি দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, আদালতের কি করণীয় হবে সেই বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বিধি নেই। এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে আদালত তার সুবিবেচনা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকেই আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of the court) বলে। 

- ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
-------------------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 561A- Saving of inherent power of High Court Division:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
২,৫১০.
বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি অব্যাহতি [Discharge] পেতে পারেন ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুযায়ী?
  1. ১৬৭ ধারা
  2. ৬২ ধারা
  3. ৬৩ ধারা
  4. ১৬১ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৩ ধারা অনুযায়ী বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি অব্যাহতি [Discharge] পেতে পারেন।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪-৬৭ তে বিনা পরোয়ানা গ্রেফতার (Arrest Without warrent) সংক্রান্ত বিধি-বিধান আছে।
ধারা ৬২ অনুযায়ী, পুলিশ গ্রেফতার সম্পর্কে অর্থাৎ বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া হয়েছে কিনা অথবা অন্য কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপোর্ট দিবেন এবং মহানগর এলাকায় হলে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে, অন্যান্য এলাকায় হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দিবেন।

ধারা ৬৩: গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি
যে ব্যক্তি কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে, তাকে তার নিজের মুচলেকা, অথবা জামিন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ ব্যতীত অব্যাহতি দেয়া যাবে না।

Section 63: Discharge of person apprehended
No person who has been arrested by a police-officer shall be discharged except on his own bond, or on bail, or under the special order of a Magistrate.
২,৫১১.
কাজল ১২ মাসের মধ্যে ৯ টি ল্যাপটপ ছিনতাই করে এবং ছিনতাইকৃত ল্যাপটপসমূহ খলিল এর নিকট গচ্ছিত রাখে এবং খলিল সেগুলোর ৫ টি রহমান এর কাছে এবং ৪ টি জিতু এর কাছে বিক্রয় করে।খলিল, রহমান এবং জিতু জানতো যে সেগুলো ছিনতাইকৃত ল্যাপটপ। এক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক।
  1. কাজল, খলিল, রহমান এবং জিতু এর একত্রে বিচার হবে।
  2. কাজল, খলিল, রহমান এবং জিতু এর পৃথকভাবে বিচার হবে।
  3. শুধুমাত্র কাজল ও খলিল এর একত্রে বিচার হবে।
  4. শুধুমাত্র রহমান এবং জিতু এর একত্রে বিচার হবে।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা-২৩৯ মোতাবেক-
• নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণকে একত্রে অভিযুক্ত ও বিচার করা যাবেঃ
ক) একই ব্যাপারে কৃত একই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ;
খ) কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং উক্ত অপরাধে সহায়তা দেয়া বা উক্ত অপরাধ করার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ;
গ) বারো মাস সময়ের মধ্যে কত ২৩৪ ধারার অর্থানুসারে একই ধরণের একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ;
ঘ) একই ব্যাপারে কৃত বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ
ঙ) চুরি, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় বা অপরাধজনক আত্মসাৎ সম্পর্কিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং এরূপ সম্পত্তি গ্রহণ বা রাখা বা গোপন করা বা হস্তান্তর করার সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ। যে সম্পত্তির দখল প্রথমোক্ত ব্যক্তিগণ উক্ত অপরাধ দ্বারা হস্তান্তর করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, অথবা, শেষোক্ত কোন অপরাধ করার জন্য সহায়তা দিয়াছে বা অপরাধের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চ) দণ্ডবিধির- ৪১১ ও ৪১৪ ধারার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ অথবা এমন চোরাইমাল সম্পর্কে উক্ত ধারা দুইটির যেকোন একটি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ। যে চোরাই মালের দখল একটি অপরাধ দ্বারা হস্তান্তরিত হয়েছে; এবং
ছ) জাল মুদ্র সম্পর্কে দ্বাদশ অধ্যায়ের কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং উক্ত মুদ্রা সম্পর্কে উক্ত অধ্যায়ের অন্য কোন অপরাধ বা অপরাধের সহায়তা বা অপরাধের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ।
২,৫১২.
দণ্ডিত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া যায় কোন ধারার বিধান অনুসারে?
  1. ৪৯৭
  2. ৪৯৮
  3. ৪৯৯
  4. ৪২৬
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারার বিধান আপিল পেন্ডিং থাকলে দণ্ড স্থগিতঃ দণ্ডিত ব্যক্তির আপিল সাপেক্ষে আপিল আদালত আপিলকৃত দণ্ড বা আদেশ কার্যকর স্থগিত রাখবে এবং আসামি আটক থাকলে মুক্তি দিবে। [৪২৬(১)]
♦ এই ধারায় প্রদত্ত আপিল আদালতের ক্ষমতা হাইকোর্টও প্রয়োগ করতে পারবেন। [৪২৬(২)]
♦ কোন ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ১ বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং উক্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলে, আপিল পেশ ও আপিল আদালতের আদেশ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত সময়ের জন্য আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে যতদিন সে জামিনে মুক্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত কারাদণ্ড স্থগিত রয়েছে বলে গণ্য হবে। [ ৪২৬(২)]
♦ আপীলকারী যখন শেষ পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তখন যে সময়ের জন্য সে মুক্ত ছিল দণ্ডের মেয়াদ হিসাবের সময় তা বাদ দিতে হবে। [৪২৬(৩)]
♦ অর্থাৎ দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করলে আপিল আদালত দণ্ডিত ব্যক্তির দন্ড কার্যকর করার উপর স্থগিতাদেশ দিতে পারেন এবং তাঁকে জেল হতে জামিনের মাধ্যমে মুক্তি দিতে পারেন।
২,৫১৩.
রিভিশন কার্যক্রম নিষ্পত্তির সময় কবে থেকে গণনা শুরু হয়?
  1. রিভিশন দায়েরের তারিখ থেকে
  2. পক্ষগণের উপর নোটিশ প্রদান করার তারিখ থেকে
  3. রিভিশনের প্রথম শুনানির তারিখ থেকে
  4. রায় প্রদানকারী আদালতের আদেশের তারিখ থেকে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৪২ক- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপীল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপীল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।

Section 442A- Time for disposal of appeals and Revision:
(1) An Appellate Court shall dispose of an appeal filed before it within ninety days from the date of service of notice upon respondents.
(2) A Court having power of revision shall dispose of a proceeding in revision within ninety days from the date of service of notice upon the parties.
(3) In this section, in determining the time, only the working days shall be counted.
২,৫১৪.
নিচের কোন ক্ষেত্রে আদালত জরিমানার টাকা ব্যয় করার আদেশ দিতে পারেন?
  1. সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনার বিচারকার্যের ব্যয় মেটানোর
  2. অপরাধের ফলে সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে
  3. সরল বিশ্বাসে চোরাইমাল ক্রেতার ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে।
  4. উল্লিখিত সবক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৫ ধারার বিধান-জরিমানার টাকা হতে ব্যয় কিংবা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে আদালতের ক্ষমতা:
(১) যেক্ষেত্রে কোন ফৌজদারী আদালত বর্তমানে কার্যকর কোন আইনের অধীন জরিমানা করেন কিংবা আপীলে, রিভিশনে বা অন্য কোনভাবে জরিমানা কিংবা যে শাস্তি জরিমানার অংশ হয় তা অনুমোদন করেন, সেক্ষেত্রে আদালত রায় দিবার সময় আদায়কৃত জরিমানা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে নিম্নে বর্ণিত কর্মে ব্যয় করার আদেশ দিতে পারবেন-
(ক) সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনায় যে ব্যয় হয়েছে তা নির্বাহ,
(খ) আদালত যদি মনে করেন যে, কোন ব্যক্তি দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে যুক্তিসংগত ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে, তাহলে সংশিষ্ট অপরাধে তাহার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তজ্জন্য তাকে ক্ষতিপূরণ দান,
(গ) কোন ব্যক্তি চুরি, অপরাধজনক আত্মসাৎ, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা কিংবা চোৱাই জানিয়া বা চোরাই মর্মে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও চোরাইমাল অসৎভাবে গ্রহণ বা রাখা বা স্বেচ্ছায় উহা হস্তান্তর, সহায়তা ইত্যাদি কোন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হলে এবং উক্ত পণ্য মালিককে প্রত্যর্পণ করা হলে যে ব্যক্তি তা সরল বিশ্বাসে ক্রয় করেছিল তাকে ক্ষতিপূরণ দান,

(২) যে মোকদ্দমায় জরিমানা করা হল তা আপীলযোগ্য হলে আপীল দায়ের করার জন্য প্রদত্ত সময় অতিক্রান্ত না হলে কিংবা আপীল দায়ের করা হলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উত্তরূপে অর্থ প্রদান করা হবে না।
--------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-545: Power of Court to pay expenses or compensation out of fine:
(1) Wherever under any law in force for the time being a Criminal Court imposes a fine or confirms in appeal, revision or otherwise a sentence of fine, or a sentence of which fine forms a part, the Court may, when passing judgment, order the whole or any part of the fine recovered to be applied– 
(a) in defraying expossess properly incurred in the prosecution; 
(b) in the payment to any person of compensation for any loss or injury caused by the offence, when substantial compensation is, in the opinion of the Court, recoverable by such person in a Civil Court; 
(c) when any person is convicted of any offence which includes theft, criminal misappropriation, criminal breach of trust, or cheating, or of having dishonestly received or retained, or of having voluntarily assisted in disposing of, stolen property knowing or having reason to believe the same to be stolen, in compensating any bona fide purchaser, of such property for the loss of the same if such property is restored to the possession of the person entitled thereto.

(2) If the fine is imposed in a case which is subject to appeal, no such payment shall be made before the period allowed for presenting the appeal has elapsed, or, if an appeal be presented, before the decision of the appeal.
২,৫১৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিধান আনুসারে ফৌজদারি মামলায় একজন দোভাষী সাক্ষ্য বা বিবৃতি সঠিকভাবে ব্যাখা করতে বাধ্য?
  1. ৫৪০
  2. ৫৪৩
  3. ৫৪৪
  4. ৫৪৫
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৩ ধারা অনুসারে দোভাষী অবশ্যই সঠিকভাবে ব্যাখা দিতে বাধ্য থাকবেন-
-কোন সাক্ষ্য বা বিবৃতি ব্যাখা করার জন্য যেক্ষেত্রে কোন ফৌজদারি আদালত কর্তৃক একজন দোভাষীর সেবা দেয়া প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে দোভাষী উক্ত সাক্ষ্য বা বিবৃতির প্রকৃত ব্যাখা দিতে বাধ্য থাকবেন।
---------------------------
⇒ Section 543- Interpreter to be bound to interpret truthfully:
When the services of an interpreter are required by any Criminal Court for the interpretation of any evidence or statement, he shall be bound to state the true interpretation of such evidence or statement.
২,৫১৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত দিন?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির মুচলেকার মেয়াদ:
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭ দণ্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৮ রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক বিষয় প্রচারকারীর সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৯ ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ব্যক্তিবৃন্দের সদাচরণের মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১০ অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।

⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে সর্বোচ্চ ৩ বছর।
২,৫১৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে কী হবে?
  1. আদালত তার বিরুদ্ধে অনুমান করতে পারবে
  2. মামলার যেকোনো পক্ষ সেই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবে
  3. আদালত তার বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করবে
  4. মামলার কোনো পক্ষ সে বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবে না
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার (Right to be defended by a pleader) আছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আসামি পক্ষে সাক্ষী হওয়ার যোগ্য এবং একই বিচারে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা তার সাথে একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য শপথ গ্রহণপূর্বক দিতে পারবে।

তবে শর্ত এই যে-
⇒ সেই ব্যক্তি নিজে লিখিতভাবে অনুরোধ না করলে তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হবে না; অথবা
সে সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হলে মামলার কোন পক্ষ বা আদালত সেই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবে না এবং তার বিরুদ্ধে বা একই বিচারে অভিযুক্ত অন্য কোন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কোন অনুমান করা যাবে না।
২,৫১৮.
নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে FIR দায়ের হয়
  2. আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করা যায়
  3. আমলযোগ্য অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি আবশ্যক
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী পুলিশকে আমলযোগ্য এবং আমলঅযোগ্য উভয় ধরণের মামলা বা অপরাধ সংঘটনের সংবাদ প্রদান করা যায়। পুলিশকে আমলযোগ্য অপরাধের [Cognizable offence] সংবাদ দিলে, তা পুলিশ ১৫৪ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করে। এই ধারায় দায়েরকৃত মামলা এফআইআর কেস (FIR case) বা পুলিশ কেস (Police Case) বা জি.আর (G.R) কেইস নামে পরিচিত। এই মামলার ক্ষেত্রে ১৫৬(১) ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ তদন্ত শুরু করতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে। অর্থাৎ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি অনাবশ্যক।
 
• অন্যদিকে, পুলিশকে আমলঅযোগ্য অপরাধের [Non-cognizable offence] সংবাদ দিলে, সেক্ষেত্রে পুলিশ ১৫৫ ধারা অনুসরণ করেন। ১৫৫ ধারায় আমলঅযোগ্য অপরাধের ভিত্তিতে যে মামলা শুরু হয় তা -
১. Non-Gr (Non-Registered) Case;
২. Non-FIR Case;
৩. Non-Cognizable Case নামে পরিচিত।
 
আবার, আমলঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ১৫৫(২) ধারায় প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিলে শুধুমাত্র তখনই পুলিশ তদন্ত করতে পারে।
২,৫১৯.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিচের কোনটি সংক্ষিপ্ত বিচারের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া
  2. সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড
  3. লঘু শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য প্রযোজ্য
  4. জটিল ও গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) জটিল ও গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ তে সংক্ষিপ্ত বিচারের (Summary Trials) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
- এই অধ্যায়ে ধারা ২৬০ থেকে ২৬৫ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি এবং শর্তাবলী বর্ণনা করা হয়েছে।
- সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে লঘু শাস্তির অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়, যেখানে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর হতে পারে।
- গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণ, সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় পড়ে না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি লঘু শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য প্রযোজ্য এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- তবে এটি জটিল ও গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য নয়।
- গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণ, এর আওতায় আসে না, কারণ সেগুলোর জন্য একটি বিস্তারিত বিচার প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

সংক্ষিপ্ত বিচারের বৈশিষ্ট্য হলো:
- দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া।
- সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
- লঘু শাস্তিযোগ্য অপরাধের জন্য প্রযোজ্য, যেমন আঘাত, চুরি, ইভটিজিং ইত্যাদি।
এভাবে, সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি গুরুতর অপরাধের জন্য প্রযোজ্য নয়।
২,৫২০.
আদালত ৮ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ গঠন করে। কিন্তু মামলার শুনানী শেষে আদালত ৪ জনকে খালাস প্রদান করে। এই ক্ষেত্রে আদালত বাকী ৪ জনকে-
  1. ডাকাতির জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  2. দস্যুতার জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  3. ডাকাতি বা দস্যুতা উভয়ের জন্য দণ্ডিত করতে পারে
  4. চুরির জন্য দণ্ডিত করতে পারে
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধিরধারা ৩৯০ মতে- ডাকাতির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ জনকে দণ্ডিত করতে হয়। যেহেতু ৪ জন দোষী প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত তাদেরকে ডাকাতির জন্য দণ্ডিত করতে পারে না কিন্তু দস্যুতার জন্য দণ্ডিত পারে।
২,৫২১.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারায় আমল অযোগ্য মামলার কথা উল্লেখ আছে?
  1. ১৫৫
  2. ১৫৪
  3. ১৫৬
  4. ১৫১
ব্যাখ্যা
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ১৫৫ ধারায় আমল অযোগ্য মামলার সংবাদ:
(১) যখন কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঐরূপ থানার সীমার মধ্যে কোন আমল অযোগ্য অপরাধের সম্পাদনের বিষয়ে সংবাদ প্রদান করা হয়, তখন তিনি, এ ব্যাপারে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট নিদর্শে ঐরূপ অফিসার কর্তৃক রক্ষিত বহিতে উক্ত সংবাদের সারাংশ লিখে রাখবেন বা রাখাবেন এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর যাওয়ার নির্দেশ দিবেন।

(২) আমল অযোগ্য মামলার তদন্তঃ আমল অযোগ্য অপরাধের বিচার করার বা উহা বিচারার্থ প্রেরণ ক্ষমতা আছে এরূপ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত কোন পুলিশ অফিসার কোন আমল অযোগ্য ঘটনা তদন্ত করবেন না।

(৩) এরূপ আদেশপ্রাপ্ত যে কোন পুলিশ অফিসার ঐ তদন্তের ব্যাপারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া), কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমলযোগ্য ঘটনায় যে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন সেই একই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
২,৫২২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোন ধরনের মুচলেকা বাতিল করতে পারেন?
  1. দণ্ডিত মুচলেকা
  2. সাক্ষী মুচলেকা
  3. আইন অমান্য করার মুচলেকা
  4. শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারার বিধান: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকা অকার্যকর করার ক্ষমতা:
- জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁহার নিজ জেলায় তাঁর আদালতের উচ্চ নহে এরূপ আদালতের আদেশ কর্তৃক এই অধ্যায়ের বিধানমতে সম্পাদিত শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের কোন মুচলেকা যথেষ্ট পরিমাণ হেতু থাকলে তা লিপিবদ্ধ করে যে কোন সময়ে অকার্যকর করতে পারবেন।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 125. Power of District Magistrate to cancel any bond for keeping the peach or good behaviour:
- The District Magistrate may at any time, for sufficient reasons to be recorded in writing, cancel any bond for keeping the peace or for good behaviour executed under this Chapter by order of any Court in his district not superior to his Court.
২,৫২৩.
The Code of Criminal Procedure, 1898 অনুসারে বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে কিশোর বলা হয়েছে।
  1. ১৬
  2. ১৫
  3. ২১
  4. ১৮
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারাঃ ২৯খ মতে কিশোরদের ক্ষেত্রে এখতিয়ার (Jurisdiction in the case of juveniles): মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ ব্যতীত অন্য কোন অপরাধে অপরাধীর বয়স ১৫ বছরের কম হলে তার বিচার যে কোন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারেন ।
[নোট: শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ১৫ ও ১৫ক অনুসারে শিশুর বিচার করার একমাত্র এখতিয়ার শিশু আদালতের। সুতরাং এই ধারার বর্তমানে কার্যকারীতা নেই।]
২,৫২৪.
'Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.' এটি ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিধান?
  1. ২২৩ ধারা
  2. ২২৫ ধারা
  3. ২২৭ ধারা
  4. ২২৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৭ আদালতকে অভিযোগ পরিবর্তনের ক্ষমতা দিয়েছে।

- ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। 
অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়, চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

-ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ২২৭-
অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।
----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure,1898 Section-227: Court may alter charge:
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
২,৫২৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯গ ধারা অনুসারে জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন না হলে, কী করা হবে?
  1. নতুন মামলা দায়ের করা হবে
  2. মামলা মুলতবি করা হবে
  3. আসামিকে জামিনে মুক্তি দেয়া করা যেতে পারে
  4. আসামিকে দণ্ডিত করা হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৩৯গ- মামলা নিষ্পত্তির সময়:
১) ম্যাজিস্ট্রেট বিচারের জন্য মােকদ্দমা প্রাপ্ত হওয়ার তারিখ হতে একশত আশি দিনের মধ্যেই অবশ্যই বিচার সমাপ্ত করবেন।

২) কোন দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ বিচারের জন্য মােকদ্দমা প্রাপ্ত হওয়ার তারিখ হতে তিনশত ষাট দিনের মধ্যে অবশ্যই বিচার সমাপ্ত করবেন।
২ক) উপ-ধারা (১) বা উপ-ধারা (২) এ যাই থাকুক না কেন যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একাধিক মােকদ্দমায় আসামি হয় এবং বিচারের জন্য তাকে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালতে হাজির করা হয়, সেক্ষেত্রে এইরূপ মােকদ্দমাগুলির বিচার সমাপ্ত করার জন্য (১) ও (২) উপ-ধারায় নির্ধারিত সময় ধারাবাহিকভাবে গণনা করা হবে।
২খ) এক আদালত হতে অপর আদালতে মােকদ্দমা হস্তান্তর সম্পর্কে যাই থাকুক না কেন (১) বা (২) উপ-ধারায় বর্ণিত সময় মােকদ্দমার বিচারের সময় হবে।

৪) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি বিচার কার্য সম্পন্ন করা না যায়, তা হলে আদালত অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে জামিন অযােগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করা হতে পারে।

৫) দণ্ডবিধি (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ৪০০ বা ধারা ৪০১-এর কোন মােকদ্দমার বিচারের ক্ষেত্রে কিংবা যে মােকদ্দমার বিচারের জন্য চৌত্রিশতম অধ্যায় নিহিত বিধান প্রযােজ্য সেই মােকদ্দমার বিচারের ক্ষেত্রে অত্র ধারার কোন কিছুই প্রযােজ্য হবে না।

৬) এই ধারায়, বিচারের উদ্দেশ্যে সময় নির্ধারণের নিমিত্তে-
খ) জামিনে গিয়া কোন আসামির পলায়নের কারণে যে সময় ব্যয় হবে উহা পরিগণনা করতে হবে না।
২,৫২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১২ অনুযায়ী দোষ স্বীকার করার পরও কোন ক্ষেত্রে আপিল করা যেতে পারে?
  1. উচ্চ আদালতে সরাসরি আপিল করা যাবে
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে আপিল করা যাবে
  3. দণ্ডের পরিমাণ বা বৈধতার বিষয়ে আপিল করা যাবে
  4. পৃথকভাবে কারাদণ্ডের সাজার উল্লেখ না থাকলে করা যাবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৪১৪ ধারার বিধান সংক্ষিপ্ত বিচারের কতিপয় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল নেই: এই কার্যবিধিতে ইতোপূর্বে যা-ই উল্লেখ থাকুক না কেন, সংক্ষিপ্তভাবে বিচারকৃত কোন মোকদ্দমায় ধারা-২৬০ অনুসারে কাজ করতে ক্ষমতাবান কোন ম্যাজিষ্ট্রেট শুধুমাত্র সর্বোচ্চ ২০০ (দুইশত) টাকা জরিমানা করলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোন আপীল করতে পারবে না।
- সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি বিচারের ক্ষেত্রে প্রদত্ত কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে। কিন্তু অর্থদন্ড ২০০ টাকার বেশি না হলে আপীল করা যাবে না। অর্থ দণ্ডের পরিমাণ ২০০ টাকার বেশি হলে আপীল করা যাবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।
- ধারা ৪১২- দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে [In Case of Guilty Plead]
অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করলে এবং তার উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তকে দণ্ড দিলে, সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। কিন্তু উক্ত দণ্ডাদেশের পরিমাণ বা যৌক্তিকতা (extent or legality) বিষয়ে আপিল দায়ের করা যাবে। যেমন দোষ স্বীকার করার পরও অধিক দণ্ড দিলে, দণ্ডের পরিমাণের (quantum of sentence) বৈধতার বিষয়ে আপিল করা যেতে পারে।

- ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases] 
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
অন্যদিকে যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।

- ধারা ৪১৪- সংক্ষিপ্ত বিচারের কতিপয় দণ্ডের ক্ষেত্রে [Summary Conviction] 
২৬০ ধারার অধীন সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা জরিমানা করলে, সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
------------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 412. No appeal in certain cases when accused pleads guilty:
Notwithstanding anything hereinbefore contained where an accused person has pleaded guilty and has been convicted by a Court of Session or any Metropolitan Magistrate or Magistrate of the first class on such plea, there shall be no appeal except as to the extent or legality of the sentence.
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 413. No appeal in petty cases:
Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in cases in which a Court of Session passes a sentence of imprisonment not exceeding one month only, or in which a Court of Session or Chief Judicial Magistrate] or Metropolitan Magistrate or other Magistrate of the first class passes a sentence of fine not exceeding fifty Taka only. 
Explanation:- There is no appeal from a sentence of imprisonment passed by such Court or Magistrate in default of payment of fine when no substantive sentence of imprisonment has also been passed.
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 414.No appeal from certain summary convictions:
 Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in any case tried summarily in which a Magistrate empowered to act under section 260 passes a sentence of fine not exceeding two hundred Taka only.
২,৫২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় কোন পরিস্থিতিতে সাক্ষী পুলিশ কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়?
  1. যখন সে মামলার বাদী নয়
  2. যখন সে সরকারি কর্মচারী
  3. যখন সে মামলার বিবরণ জানে না
  4. যখন উত্তর দেওয়া তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদান সাক্ষীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ, দণ্ড বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, তবে সে উত্তর দিতে বাধ্য নয়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ থেকে ১৬২ এ পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উহার ব্যবহার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব করা,
- ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উক্ত জবানবন্দির ব্যবহার সম্পর্কে ১৬২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায়- তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ের সাথে পরিচিত ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে। তার নিকট জিজ্ঞাসিত মামলা সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সে বাধ্য থাকবে কিন্তু যে প্রশ্নের জবাব উক্ত সাক্ষীকে ফৌজদারি অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে, সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সাক্ষী বাধ্য নয়।
========
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-161: Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case.
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture.
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.
২,৫২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগের বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৫০১
  2. ধারা ৫০২
  3. ধারা ৫০৩
  4. ধারা ৫০৪
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৩-এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগের বিধান রয়েছে।
- এই ধারার অধীনে, যদি কোনো আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে, সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত করা সম্ভব নয় বা এতে বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা হবে, তখন তারা ওই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ করতে পারেন। কমিশনটি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত, যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে সাক্ষী বসবাস করেন, তাকে দেওয়া হবে। এছাড়া, যদি সাক্ষী বিদেশে থাকেন, তবে সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত বা বিচারককে কমিশন দেওয়া হতে পারে।
২,৫২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে বন্ডের বকেয়া অর্থ আদায়ের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. ধারা ৫১৪
  2. ধারা ৫১৫
  3. ধারা ৫১৬
  4. ধারা ৫১৭
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৬-এর শিরোনামই হল "Power to direct levy of amount due on certain recognizances"। এই ধারা অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত আদালতে হাজিরা দেওয়ার শর্তে প্রদত্ত কোন বন্ডের (যেমন, জামিনের বন্ড) বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিতে পারে। এটি মূলত জামিনে মুক্ত ব্যক্তির আদালতে হাজির না হওয়ার শাস্তিস্বরূপ আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি ব্যবস্থা।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮:- ধারা ৫১৬- নির্দিষ্ট মুচলেকার কারণে প্রাপ্য অর্থ আদায়ের নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা:
- হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে তাদের সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য সম্পাদিত মুচলেকার কারণে প্রাপ্য অর্থ আদায়ের নির্দেশ দিতে পারে।
-------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 516. Power to direct levy of amount due on certain recognizances:
The High Court Division or Court of Session may direct any Magistrate to levy the amount due on a bond to appear and attend at such High Court Division or Court of Session.

২,৫৩০.
একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের রাষ্ট্রদ্রোহিতা ব্যতীত অন্য সকল অপরাধের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হবে?
  1. দায়রা আদালতে
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
ধারা ৪০৮- যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল:

যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপিল দায়ের করতে পারবে। নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-

(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫(পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির (১২৪ক) ধারায় উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

Section 408- Appeal from sentence of Joint Sessions Judge and Magistrates of the first class:

Any person convicted on a trial held by a Joint Sessions Judge,Metropolitan Magistrate or any Judicial Magistrate of the first class, may appeal to the Sessions Judge: Provided as Follws-

(a)When in any case a Joint Sessions Judge passes any sentence of imprisonment for a term exceeding five years, the appeal of all or any of the convicted persons shall lie to the High Court Division; 

(b)When any person is convicted by a Metropolitan Magistrate or Judicial Magistrate specially empowered to try an offence under section 124A of the Penal Code, the appeal shall lie to the High Court Division.
২,৫৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা কোন ধরনের পরোয়ানা ইস্যু সম্পর্কে?
  1. জব্দ পরোয়ানা
  2. তল্লাশি পরোয়ানা
  3. গ্রেপ্তার পরোয়ানা
  4. হাজিরা পরোয়ানা
ব্যাখ্যা

⇒ তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারায় তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যুর বিধান রয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারা অনুযায়ী আদালত ৩টি কারণে তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন। যথা-
i) কোনো দলিল বা অন্য কোনো বস্তু আদালতে হাজির করা হবে না বলে বিশ্বাস করলে।
ii) উক্তরূপ দলিল বা অন্য কোন বস্তু কার দখলে আছে তা জানা না থাকলে; এবং
iii) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোনো প্রসিডিংস এর উদ্দেশ্যে আদালত তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।
- ৯৬ ধারামতে জারিকৃত তল্লাশি পরোয়ানা বাতিলের জন্য দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যায়।
-------
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারার বিধান (১) যখন কোনো আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোনো সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোনো সমন জারি করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।
অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোনো ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই।
অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশি বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোনো প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশি বা পরিদর্শন করতে পারবেন।
(২) এই ধারায় বিধৃত কোনো কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পারসেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশি করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 96:When search-warrant may be issued:
(1) Where any Court has reason to believe that a person to whom a summons or order under section 94 or a requisition under section 95, sub-section (1), has been or might be addressed, will not or would not produce the document or thing as required by such summons or requisition, 
or where such document or thing is not known to the Court to be in the possession of any person, 
or where the Court considers that the purposes of any inquiry, trial or other proceeding under this Code will be served by a general search or inspection, 
it may issue a search-warrant; and the person to whom such warrant is directed, may search or inspect in accordance therewith and the provisions hereinafter contained.
(2) Nothing herein contained shall authorize any Magistrate other than a District Magistrate, Chief Judicial Magistrate, as the case may be or Chief Metropolitan Magistrate] to grant a warrant to search for a document, parcel or other thing in the custody of the Postal or Telegraph authorities.

২,৫৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৯ ধারা অনুসারে আদালত কখন রায় সংশোধন করতে পারেন?
  1. নতুন সাক্ষ্য আসলে
  2. করণিক ভুলে
  3. আসামীর আবেদনে
  4. পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুরোধে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৯ ধারার বিধান আদালত রায় পরিবর্তন করবেন না: এই কার্যবিধি বা বর্তমানে কার্যকর অপরকোন আইনে ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকলে কোন আদালত রায়ে স্বাক্ষর করার পর করণিক ভুল সংশোধন করা ব্যতীত তা পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনা করবেন না। 

⇒ বিচার সমাপ্ত হবার পর নির্ধারিত দিনে প্রকাশ্য আদালতে বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়। ভিন্নরুপ বিধান না থাকলে প্রত্যেকটি রায় আদালতের প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক লিখিত হবে বা তার দ্রুত লিখন হতে আদালতের ভাষায় বা ইংরেজি ভাষায় লিখিত হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৯ ধারা অনুসারে, আদালত একবার রায়ে স্বাক্ষর করলে পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারবে না কিন্তু করণিক ভুল সংশোধন করতে পারে।
----------------- 
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-369: Court not to alter judgment: 
Save as otherwise provided by this Code or by any other law for the time being in force,no Court when it has signed its judgment, shall alter or review the same, except to correct a clerical error.
২,৫৩৩.
আনিস দোষ স্বীকার করায় আদালত তাকে দণ্ড প্রদান করেন। কিন্তু পরে সে দাবি করে, দণ্ড দেওয়ার সময় বিচারক আইন অনুসরণ করেননি। এক্ষেত্রে, আনিস ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ ধারায় দণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে -
  1. মামলা স্থগিত করতে পারে
  2. আপিল করতে পারে
  3. মামলা প্রত্যাহার করতে পারে
  4. উচ্চ আদালতে রায় বাতিলের আবেদন করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪১২- দোষ স্বীকারের ক্ষেত্রে [In Case of Guilty Plead]
অভিযুক্ত দোষ স্বীকার করলে এবং তার উপর ভিত্তি করে অভিযুক্তকে দণ্ড দিলে, সেই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। কিন্তু উক্ত দণ্ডাদেশের পরিমাণ বা যৌক্তিকতা (extent or legality) বিষয়ে আপিল দায়ের করা যাবে। যেমন দোষ স্বীকার করার পরও অধিক দণ্ড দিলে, দণ্ডের পরিমাণের (quantum of sentence) বৈধতার বিষয়ে আপিল করা যেতে পারে।

Section: 412. No appeal in certain cases when accused pleads guilty:
Notwithstanding anything hereinbefore contained where an accused person has pleaded guilty and has been convicted by a Court of Session or any Metropolitan Magistrate or Magistrate of the first class on such plea, there shall be no appeal except as to the extent or legality of the sentence.
২,৫৩৪.
দায়রা আদালতে আসামির অব্যহতি (Discharge) কত ধারায়?
  1. ২৪১ক ধারায়
  2. ২৬৫গ ধারায়
  3. ২৪৫ ধারায়
  4. ২৬৫ঞ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫গ ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালত পক্ষদ্বয়ের বক্তব্য, তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দী, মেডিকেল সার্টিফিকেট, প্রাথমিক তথ্য বিবরণী, মামলার নথি এবং দলিল বিবেচনা করবেন। মামলার নথি, দলিল বিবেচনা এবং উভয়পক্ষের শুনানির পর মামলা চালানোর যথেষ্ট কারন খুঁজে না পেলে অর্থাৎ আসামির অপরাধ প্রতিয়মান না হলে দায়রা আদালত আসামিকে অব্যাহতি (Discharge) দিবেন।
২,৫৩৫.
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১৫ক অনুযায়ী, একাধিক আসামির মধ্যে একজনের আপীলযোগ্য রায় হয়, এই ক্ষেত্রে কী হবে?
  1. সবাই আপীল করতে পারবে
  2. কেউ আপীল করতে পারবে না
  3. একজনই আপীল করবে
  4. আদালতের অনুমতিতে শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা আপীল করতে পারবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১৫ক (Section 415A of the Code of Criminal Procedure, 1898) বলছে:
“যদি একাধিক ব্যক্তি একসাথে এক বিচার প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তাদের মধ্যে কোনও একজনের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় আপীলযোগ্য হয়, তাহলে সেই একই বিচার প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত সকল ব্যক্তি আপীলের অধিকারী হবে।”

অর্থাৎ ধারা ৪১৫ক একটি বিশেষ অধিকার দেয় — একাধিক আসামি একই বিচার প্রক্রিয়ায় দোষী হলে, একজনের রায় আপীলযোগ্য হলে সবাই আপীল করতে পারবেন, যদিও সাধারণত তাদের রায় আপীলযোগ্য না হয়।
২,৫৩৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুসারে সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন ব্যক্তি বা অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবে?
  1. ৩৭
  2. ৪০
  3. ৪১
  4. ৪২
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান হল ক্ষমতাদি প্রত্যাহারকরণ:
-(১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেনঃ শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
-(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে পারবে।
অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারা অনুসারে সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন ব্যক্তি বা অধীনস্থ কোন কর্মকর্তাকে অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবে।
--------------------
CrPC-Section 41: Withdrawal of powers.
-(1)The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:
Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.
-(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.
২,৫৩৭.
সি. আর. মামলায় সমন ইস্যুর পর অভিযোগকারী হাজির না হলেও ম্যাজিস্ট্রেট অগ্রসর হবেন-
  1. সরকার আদেশ দিলে
  2. অভিযোগকারী সরকারী কর্মকর্তা হলে
  3. পিপি সহযোগীতা করলে
  4. অভিযোগকারী মামলা তুলে নিলে
ব্যাখ্যা
♦ ফরিয়াদী অনুপস্থিত থাকলে ২৪৭ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে খালাস দিবেন অথবা পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত মূলতবী রাখবেন। তবে ফরিয়াদী সরকারী কর্মচারী হলে তিনি অনুপস্থিত থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচারকার্যক্রম চলতে পারে। [ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ২৪৭]
২,৫৩৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার ক্ষমতা নীচের কোনটি?
  1. Power to issue curfew
  2. Power to issue order
  3. Power to issue 144
  4. Power to issue emergency
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শান্তিভঙ্গ রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করতে পারেন। এই ধারার শিরোনামে এই ক্ষমতা কে power to issue order হিসেবে লেখা হয়েছে।
২,৫৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারায় কার অনুপস্থিতিতে বিচারের বিধান রয়েছে?
  1. সাক্ষীর
  2. অভিযুক্তের
  3. ফরিয়াদির
  4. উল্লিখিত সকলের
ব্যাখ্যা
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর যদি কোন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা না যায় বা সে স্বেচ্ছায় হাজির না হয়, তবে তার বিচারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯(খ) ধারায় উল্লিখিত বিচার সংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করতে হবে। উক্ত ধারায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অনুপস্থিতিতে বিচার করা যায়-

১. ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ এবং ৮৮ ধারার আবশ্যিক বিধানসমূহ প্রতিপালন করা হয়েছে;
২. আদালতের বিশ্বাস করার কারণ আছে যে,অভিযুক্ত পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে যেন তাকে গ্রেফতার না করা যায় এবং বিচারের জন্য হাজির না করা যায় এবংঅভিযুক্তকে গ্রেফতারের তাৎক্ষণিক কোন সম্ভাবনা নেই।

• অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর পূর্ববর্তী শর্ত হলো-
অনুপস্থিত অভিযুক্তকে হাজিরার জন্য ব্যাপক প্রচার আছে এমন ২টি জাতীয় দৈনিক বাংলা পত্রিকায় হাজিরার আদেশ প্রকাশ করতে হবে। উক্ত প্রকাশিত আদেশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে হাজির হতে ব্যর্থ হলে, উক্ত অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করা যাবে। একে বলা হয় ''Trial in absentia'' বা অনুপস্থিতিতে বিচার।

Section 339B: Trial in absentia-
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.

(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
২,৫৪০.
আদালত অভিযোগ পরিবর্তন করতে পারে-
  1. শুধুমাত্র তদন্ত চলাকালীন
  2. রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময়
  3. রায় ঘোষণার পর
  4. শুধুমাত্র অনুসন্ধান চলাকালীন
ব্যাখ্যা
• রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন করতে পারবেন।

• ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়।অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন,সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
সুতরাং বলা যায়,চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী।ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৭ আদালতকে অভিযোগ পরিবর্তনের ক্ষমতা দিয়েছে।অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন।
[Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.
২,৫৪১.
অভিযুক্তকে ক্ষমতার অতিরিক্ত দণ্ড প্রদান করা প্রয়োজন হলে, ম্যাজিস্ট্রেট-
  1. দায়রা আদালতে মামলার নথি পাঠাবেন
  2. দায়রা আদালতে অভিযুক্তকে বিচারের জন্য পাঠাবেন
  3. নিজে বিচার করবেন
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সরকার পক্ষের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার পর যদি মনে করেন যে, তিনি আসামীকে যে দণ্ড প্রদান করতে পারেন তাকে তার চেয়েও বেশী দণ্ড প্রদান করা প্রয়োজন, তাহলে তিনি যেই দায়রা আদালতের অধীনস্ত, সেই দায়রা আদালতে মামলার নথি সহ আসামীকে বিচারের জন্য প্রেরণ করবেন।

ধারা ৩৪৭ (যেক্ষেত্রে আসামীকে যখন উচ্চতর দণ্ড প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে পদ্ধতি)-

এই কার্যবিধিতে যা-ই বর্ণিত থাকুক না কেন যখন কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সরকার পক্ষের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার পর এ মর্মে অভিমত পোষণ করেন যে, আসামীকে অথবা যেক্ষেত্রে একাধিক আসামীর একসাথে বিচার করা হয়, সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে যেকোন একজনকে দোষী মর্মে সাব্যস্ত করে ঐ ম্যাজিট্রেট যে দণ্ড দিতে পারেন তদাপেক্ষা অধিক দণ্ড দিতে হবে,সেক্ষেত্রে তিনি তার এরূপ অভিমতের কারণ লিপিবদ্ধ করে তিনি যেই দায়রা আদালতের অধীনন্ত সেই দায়রা আদালতে মামলার নথি দাখিল করতে এবং আসামীকে বা সকল আসামীকে অগ্রবর্তী করতে পারবেন এবং তার ফলে সেই দায়রা আদালতও এমনভাবে মামলার বিচার করবেন যাতে মামলাটি এই কার্যবিধি অনুসারে শুধুমাত্রই তৎকর্তৃক বিচার্য।

Section 347 (Procedure when, higher punishment should be inflicted on accused)-

Notwithstanding anything contained in this Code, whenever a Magistrate of the first class is of opinion, after recording the evidence for the prosecution, that if the accused or, where more accused than one are being tried together, any of such accused is convicted he should receive a punishment more severe than that which such Magistrate is empowered to inflict, he may record his opinion and submit his proceedings, and forward the accused, or all the accused, to the Court of Session to which he is subordinate, whereupon the Court of Session shall try the case as if the case were exclusively triable by it under this Code.
২,৫৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৩ অনুযায়ী কখন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ করা যায়?
  1. যখন সাক্ষী নাবালক
  2. যখন সাক্ষী অভিযুক্তের আত্মীয় হয়
  3. যখন সাক্ষী আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হতে চায়
  4. যখন সাক্ষীকে হাজির করতে বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা হবে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৩ অনুযায়ী, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ করা হয় যখন:
- সাক্ষীর আদালতে হাজিরা করানো সম্ভব নয় বা
- সাক্ষীকে হাজির করতে বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা হবে, যা মামলার পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক।
অর্থাৎ, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রয়োজন হলেও যদি সাক্ষীকে সরাসরি আদালতে হাজির করানো কঠিন হয়, তখন ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত স্থানীয় সীমার মধ্যে থাকা অন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন দিয়ে সাক্ষীর জবানবন্দি নিতে পারেন।
সঠিক উত্তর: ঘ) যখন সাক্ষীকে হাজির করতে বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৩ ধারার বিধান: সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ-
- ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যকোনো কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত অথবা হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষীর জাবনবন্দী গ্রহণ করা প্রয়োজন কিন্তু বিলম্ব, ব্যয় অথবা অসুবিধা ব্যতীত উক্ত সাক্ষীকে হাজির করা সম্ভব নয় অথবা মামলার পরিস্থিতিতে এই বিলম্ব,ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা অযৌক্তিক তাহলে,
- উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত সাক্ষীকে হাজির হতে রেহাই দিতে পারবে এবং উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সাক্ষী যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে বাস করেন তাকে কমিশন দিতে পারবেন। সাক্ষী যদি যুক্তরাজ্য বা বাংলাদেশ ব্যতীত কমনওয়েলথের অন্য কোন দেশে বা মায়ানমারে বাস করেন তাহলে সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত উক্ত দেশে এই সম্পর্কে ক্ষমতাবান কোন আদালত বা জজকে কমিশন দেয়া যাবে। এরূপ কমিশন প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার সাক্ষী যেখানে আছেন সেখানে গমন করবেন অথবা সাক্ষীকে নিজের নিকট আহ্বান করবেন এবং তার সাক্ষাত করবেন।
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-503.When attendance of witness may be dispensed with Issue of commission and procedure thereunder:
(1) Whenever in the course of an inquiry, a trial or any other proceeding under this Code, it appears to a Metropolitan Magistrate], 489[a Chief Judicial Magistrate, a Court of Session or the High Court Division that the examination of a witness is necessary for the ends of justice, and that the attendance of such witness cannot be procured without an amount of delay, expense or inconvenience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable, such Magistrate or Court may dispense with such attendance and may issue a commission to any District Magistrate, Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate, within the local limits of whose jurisdiction such witness resides, to take the evidence of such witness.
(2B) When the witness resides in the United Kingdom or any other country of the Commonwealth other than Bangladesh, or in the Union of Burma, or any other country in which reciprocal arrangement in this behalf exists, the commission may be issued to such Court or Judge having authority in this behalf in that country as may be specified by the Government by notification in the official Gazette.
(3) The Magistrate or officer to whom the commission is issued, or if he is the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate, he, or any other Magistrate as he appoints in this behalf, shall proceed to the place where the witness is or shall summon the witness before him, and shall take down his evidence in the same manner, and may for this purpose exercise the same powers, as in trials of warrant-cases under this Code.
২,৫৪৩.
ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা আমলে নিলে অভিযোগকারীকে কোন ধারায় শপথসহ জেরা করতে হবে?
  1. ১৯৮ ধারায়
  2. ২০০ ধারায়
  3. ২০২ ধারায়
  4. ২০৩ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০০ অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা আমলে নিলে সর্বপ্রথম শপথবদ্ধ অবস্থায় অভিযোগকারীকে জেরা করতে বাধ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারার বিধান বাদীর জবানবন্দি:
নালিশের প্রেক্ষিতে অপরাধ আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট যত দ্রুত সম্ভব বাদীর এবং উপস্থিত যদি থাকে, সাক্ষীবৃন্দের মধ্যে যে কয়জনকে সঠিকরূপে গণ্য করেন তাহাদের শপথ গ্রহণ করে জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারবস্তু নথিবদ্ধ করবেন এবং বাদী বা যে-সব সাক্ষীর জবানবন্দি গৃহীত হয়েছে, তারা ও ম্যাজিস্ট্রেট তাতে সই করবেন:
(ক) লিখিত নালিশ দায়ের করা হলে ধারা-১৯২ এর বিধানমতে মামলাটি হস্তান্তরের পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্তভাবে জবানবন্দি গ্রহণের দরকার নেই;
(কক) যখন লিখিত নালিশ দায়ের করা হয় এবং আদালত বা সরকারি কর্মচারী তাঁদের সরকারি কাজে কর্তব্যরত অবস্থায় বা সরকারি হিসাবে কথিত কর্তব্য সম্পাদনের সময় এই নালিশ দায়ের করেন, সেক্ষেত্রে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের দরকার নেই।
(গ) যখন ধারা-১৯২ এর বিধান মতে মামলা হস্তান্তরের করা হয় এবং হস্তান্তরকারী ম্যাজিস্ট্রেট আগেই বাদীর ও সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে যে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলা হস্তান্তরিত হয়, তিনি পুনরায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন না।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 200 Examination of complainant:
- A Magistrate taking cognizance of an offence on complaint shall at once examine upon oath the complainant and such of the witnesses present, if any, as he may consider necessary, and the substance of the examination shall be reduced to writing and shall be signed by the complainant or witness so examined, and also by the Magistrate:
Provided as follows:- 
(a) when the complaint is made in writing, nothing herein contained shall be deemed to require such examination before transferring the case under section 192; 
(aa) when the complaint is made in writing nothing herein contained shall be deemed to require such examination in any case in which the complaint has been made by a Court or by a public servant acting or purporting to act in the discharge of his official duties; 
(c) when the case has been transferred under section 192 and the Magistrate so transferring it has already examined the complainant and witness if any, the Magistrate to whom it is so transferred shall not be bound to re-examine them.

২,৫৪৪.
জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত-
  1. জামিন দিতে বাধ্য
  2. জামিন দেয়ার আবেদন নাকচ করে দিবে
  3. কোনোভাবেই জামিন দিবে না
  4. জামিন দেওয়ার ব্যাপারে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে
ব্যাখ্যা
ধারা-৪৯৭- জামিন অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন আবেদন:
৪৯৭ ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তিকে পুলিশ জামিন অযোগ্য অপরাধে আটক করে অথবা ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করে, তাহলে তাকে জামিন দেওয়া যেতে পারে। (may be released on bail)। ৪৯৭ ধারায় may শব্দটি ব্যবহার করায়, এই ধারার অধীন জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন পাওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত অধিকার না। বরং জামিন অযোগ্য অপরাধে জামিন দেওয়া আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power)। আদালত ইচ্ছা করলে জামিন দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে ।

কিন্তু জামিন অযোগ্য অপরাধে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দিবে না (shall not be released on bail) যদি সে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় কোন অপরাধে অপরাধী বলে বিশ্বাস  আদালতের যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় কোন অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন না দেওয়া আদালতের জন্য আদেশসূচক (imperative).। জামিন অযোগ্য অপরাধের (যে কোন শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে) আদালত নিম্নলিখিত অভিযুক্তদের জামিন দিতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, যদি-
১. তার বয়স ১৬ বছরের নিচে হয়;
২. স্ত্রী লোক হয়;
৩. পীড়িত [sick) বা অক্ষম (infirm) লোক হয়।
২,৫৪৫.
দায়রা জজবৃন্দ যেসব দণ্ড দিতে পারেন, তা ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ৩০ ধারায়
  2. ৩১ ধারায়
  3. ৩২ ধারায়
  4. ৩৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩১- হাইকোর্ট ও দায়রা জজ যেসব দণ্ড দিতে পারেন:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।
(২) দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন; তবে এরূপ কোন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা হইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে।
(৩) যুগ্ম দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতিরেকে আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।
২,৫৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারা কোন আদালতের ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত?
  1. দায়রা আদালত
  2. হাইকোর্ট ডিভিশন
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮২ অনুযায়ী, গর্ভবতী স্ত্রীলোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত বা দণ্ড হ্রাসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা হাইকোর্ট ডিভিশনের অধীনে রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারার অধীন গর্ভবতী স্ত্রী লোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা যায়: মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section-382: Postponement of capital sentence on pregnant woman:
-If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life. 
২,৫৪৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির Chapter XX এর বিষয়বস্তু কী?
  1. সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি
  2. ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার পদ্ধতি
  3. দায়রা আদালতের বিচার পদ্ধতি
  4. হাইকোর্ট বিভাগের বিচার পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর Chapter XX: ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মামলার বিচার সংক্রান্ত (Trial of Cases by Magistrates):

ধারা এবং বিষয়বস্তু:
241- Procedure in cases- মামলার বিচারকালে অনুসরণীয় পদ্ধতি;
241A- When accused shall be discharged- অভিযুক্তকে কখন অব্যাহতি দেওয়া হবে;
242- Charge to be framed- অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত বিধান;
243- Conviction on admission of truth of accusation- অভিযুক্ত অপরাধ স্বীকার করলে দণ্ডাদেশ দেওয়া;
244- Procedure when no such admission is made- অভিযুক্ত যদি অপরাধ অস্বীকার করে, তখন করণীয়;
245- Acquittal- অভিযুক্তকে খালাস দেওয়ার বিধান;
247- Non-appearance of complainant- অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে করণীয়;
248- Withdrawal of complaint- অভিযোগ প্রত্যাহারের বিধান;
249- Power to stop proceedings when no complainant- অভিযোগকারী অনুপস্থিত থাকলে মামলার কার্যক্রম বন্ধ করার ক্ষমতা;
250- False, frivolous or vexatious accusations- মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
২,৫৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারাগুলোতে আপিলের বিধান বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ৩১৭-৩৫০
  2. ধারা ৩৫১-৪০২
  3. ধারা ৪০৪-৪৩১
  4. ধারা ৪৫৩-৫০৭
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর Part VII-এর অধীনে Appeal, Reference and Revision বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে।
- এর মধ্যে Chapter XXXI – OF APPEALS এ ফৌজদারি মামলায় আপিল সম্পর্কিত বিধানসমূহ বর্ণিত হয়েছে, যা ধারা ৪০৪ থেকে ৪৩১ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই ধারাগুলোর মাধ্যমে আপিল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় যেমন:
- কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বা যাবে না (ধারা ৪১২-৪১৪),
- আপিল আদালতের ক্ষমতা (ধারা ৪২৩-৪২৯),
- আপিল করার সময়সীমা,
- আপিলের কার্যপ্রণালী,
- দ্বিতীয় আপিল বা সরকারের আপিলের বিধান (ধারা ৪১৭),
- মৃত্যুজনিত কারণে আপিল পণ্ড হওয়া (ধারা ৪৩১),
ইত্যাদি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। 

→ তাই, প্রশ্নে উল্লিখিত চারটি অপশনের মধ্যে গ) ধারা ৪০৪-৪৩১ হচ্ছে একমাত্র সঠিক উত্তর।
২,৫৪৯.
তদন্ত শেষে যদি পুলিশ অফিসার মনে করেন অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ধারা ১৭০ অনুযায়ী তাকে কী করতে হবে?
  1. অভিযুক্তকে থানায় প্রেরণ করতে হবে
  2. অভিযুক্তকে মুক্তি দিতে হবে
  3. অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে হবে
  4. অভিযুক্তকে সাক্ষ্য প্রমাণ আনতে নির্দেশ দিবেন
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭০: সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যাপ্ত হলে মামলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ-

উপধারা (১):
যদি পুলিশ তদন্তে দেখতে পান যে অভিযোগে যথেষ্ট প্রমাণ বা যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি আছে, তাহলে:
- অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করতে হবে, অথবা
- যদি অপরাধ জামিনযোগ্য হয় এবং অভিযুক্ত জামিন দিতে সক্ষম হয়, তাহলে তার কাছ থেকে নির্ধারিত দিনে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজিরার জন্য জামিন গ্রহণ করতে হবে।

উপধারা (২):
যখন পুলিশ অফিসার অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করেন বা তার কাছ থেকে জামিন নেন, তখন:
- যেসব অস্ত্র বা বস্তু মামলার প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক, তা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাতে হবে।
- অভিযোগকারী এবং মামলার প্রাসঙ্গিক সাক্ষীদের বন্ডে স্বাক্ষর করাতে হবে, যেন তারা আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য প্রদান বা অভিযোগ অনুসরণ করেন।

উপধারা (৩):
যদি বন্ডে প্রধান মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের নাম উল্লেখ থাকে, তাহলে:
- সেই আদালত বলতে যে কোন আদালতকে বোঝানো হবে যেখানে ঐ ম্যাজিস্ট্রেট মামলা তদন্ত বা বিচারকার্যের জন্য প্রেরণ করতে পারেন — শর্ত হলো, অভিযোগকারী বা সাক্ষীদের যথাযথভাবে এই স্থানান্তরের বিষয়ে নোটিশ দিতে হবে।

 উপধারা (৫):
যে পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে বন্ড সম্পাদিত হয়:
- তিনি বন্ডের একটি কপি স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিকে দেবেন, এবং
- মূল বন্ড ও তার প্রতিবেদন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন।
২,৫৫০.
কোন আদালত স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ধর্ষণের অপরাধ আমলে নিতে পারে?
  1. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৬১- স্বামীর দ্বারা ধর্ষণের অপরাধ সম্পর্কে বিশেষ বিধান

(১) এই বিধিতে যা-ই থাকুক না কেন, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট -

(ক) ধর্ষণের অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন না, যদি যৌন সংগমটি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সহিত করে থাকে, কিংবা
(খ) ব্যক্তিকে উক্ত অপরাধের বিচার করার জন্য প্রেরণ করবেন না ।

(২) এবং এই বিধিতে যা-ই থাকুক না কেন, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যেক্ষেত্রে (১) উপধারায় উল্লেখিত অপরাধ সম্পর্কে কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন মনে করবেন, সেক্ষেত্রে উক্ত তদন্তের জন্য বা তদন্তে অংশগ্রহণের জন্য পুলিশ ইন্সপেক্টর পদের নিম্ন পদস্থ কোন অফিসারকে নিয়োগ করা যাবে না।

Section 561: Special provisions with respect to offence of rape by a husband

(1) Notwithstanding anything in this Code, no Magistrate except the Chief Metropolitan Magistrate or a Chief Judicial Magistrate shall-
(a) take cognizance of the offence of rape where the sexual intercourse was by a man with is wife, or
(b) send the man for trial for the offence.

(2) And, notwithstanding anything in this Code, if the Chief Metropolitan Magistrate or a Chief Judicial Magistrate deems it necessary to direct an investigation by a police-officer, with respect to such an offence as is referred to in sub-section (1), no police-officer of a rank below that of police-inspector shall be employed either to make, or to take part in, the investigation.
২,৫৫১.
ফৌজদারি কার্যবিধির প্রদত্ত সংজ্ঞানুযায়ী "অপরাধ" এর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত হবে?
  1. শুধুমাত্র গুরুতর অপরাধ
  2. শুধুমাত্র আইনের অধীনে যেকোনো শাস্তিযোগ্য কাজ করা
  3. আইনের অধীনে যেকোনো শাস্তিযোগ্য কাজ বা কাজ না করা
  4. শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা দ্বারা সংঘটিত কাজ
ব্যাখ্যা
• Section 4(o)-

"Offence" means any act or omission made punishable by any law for the time being in force.
"অপরাধ" বলতে বর্তমানে প্রচলিত আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য কোন কাজ বা কাজ না করাকে বোঝায়।
২,৫৫২.
ধারা ৯৯খ অনুযায়ী কোন ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করা যেতে পারে?
  1. বাজেয়াপ্তির আদেশ
  2. জরিমানার আদেশ
  3. গ্রেফতারি পরোয়ানা
  4. মুচলেকার আদেশ
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯৯খ অনুযায়ী,
যে কোনো ব্যক্তি যার কোনো পত্রিকা, বই বা অন্য কোনো নথিপত্রে স্বার্থ রয়েছে এবং যার বিরুদ্ধে ধারা ৯৯ক অনুযায়ী বাজেয়াপ্তির আদেশ জারি করা হয়েছে, তিনি উক্ত আদেশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন করতে পারবেন। এই আবেদন উক্ত আদেশ বাতিল করার জন্য করা যাবে এই মর্মে যে, যে পত্রিকার সংখ্যা, বই বা নথিপত্রের জন্য আদেশটি জারি করা হয়েছে, তাতে ধারা ৯৯এর (১) উপধারায় উল্লেখিত কোনো বিষয়বস্তু, শব্দ বা দৃশ্যমান উপস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
২,৫৫৩.
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যাবলী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সম্পাদনের জন্য কার সাথে পরামর্শ করা হয়?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. প্রধান বিচারপ্রতি
  3. আইন কমিশনের চেয়ারম্যান
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১১(৪) ধারার বিধান হল: এই ধারায় যা কিছুই বর্ণিত থাকুক না কেন, সরকার হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে পরামর্শসাপেক্ষে নির্ধারিত মেয়াদের জন্য যে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বাদি পালন করার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং অনুরূপ নির্ধারিত মেয়াদকালে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বসমূহ পালন করবেন না।

♦ অর্থাৎ সরকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যাবলী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সম্পাদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শ করে থাকেন।

-----------------------------------------------
♦ Section 11(4)- Notwithstanding anything contained in this section, the Government may require any Executive Magistrate to perform the functions of a Judicial Magistrate for a period to be determined in consultation with the High Court Division and during such period, the Magistrate shall not perform the functions of an Executive Magistrate.
২,৫৫৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিষয়বস্তু কী?
  1. পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলবের ক্ষমতা 
  2. পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ
  3. ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বীকারোক্তি গ্রহণ
  4. আমলযোগ্য মামলার তদন্তের রিপোর্ট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ থেকে ১৬২ এ পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উহার ব্যবহার সম্পর্কে বিধান রয়েছে।
-১৬০ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব করা, ১৬১ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উক্ত জবানবন্দির ব্যবহার সম্পর্কে ১৬২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
- ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায়- তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ের সাথে পরিচিত ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে। তার নিকট জিজ্ঞাসিত মামলা সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সে বাধ্য থাকবে কিন্তু যে প্রশ্নের জবাব উক্ত সাক্ষীকে ফৌজদারী অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে, সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সাক্ষী বাধ্য নয়।
-----------------
⇒ CrPC-Section-161: Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case. 
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture. 
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.
২,৫৫৫.
সমন জারির পরও কোন সাক্ষী বৈধ কারণ ব্যতীত ফৌজদারি আদালতে হাজির হতে অবহেলা বা অস্বীকার করলে,আদালত উক্ত সাক্ষীকে অনধিক কত টাকা জরিমানা করতে পারে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৩৫০ টাকা
  3. ২৫০ টাকা
  4. ২০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ক ধারায় দেয়া আছে-
সমন জারির পরও কোন সাক্ষী বৈধ কারণ ব্যতীত ফৌজদারি আদালতে হাজির হতে অবহেলা বা অস্বীকার করলে, যে আদালতের নিকট উক্ত সাক্ষী হাজির হতে বাধ্য সেই আদালত কারণ দর্শাইবার সুযোগ দিয়ে অনধিক দুইশত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করবে। এক্ষেত্রে আদালত যতদূর সম্ভব সংক্ষিপ্ত বিচারের পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।

Section 485A- Summary procedure for punishment for non-attendance by a witness in obedience to summons
(1) If any witness being summoned to appear before a Criminal Court is legally bound to appear at a certain place and time in obedience to the summons and without just excuse neglects or refuses to attend at that place or time or departs from the place where he has to attend before the time at which it is lawful for him to depart, and the Court before which the witness is to appear is satisfied that it is expedient in the interests of justice that such a witness should be tried summarily, the Court, may take cognizance of the offence and after given the offender an opportunity of showing cause why he should not be punished under this section, sentence him to fine not exceeding Taka two hundred and fifty. 
 
(2) In every such case the Court shall follow, as nearly as may be practicable, the procedure prescribed for summary trials.
২,৫৫৬.
ফৌজদারী মামলায় আপীলে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারেন কে?
  1. নালিশকারী
  2. এজাহার দায়েরকারী
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. নালিশকারী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪১৭ ধারার বিধান খালাসের ক্ষেত্রে আপীলঃ (১) উপধারা ৪ এর বিধান সাপেক্ষে সরকার যেকোন ক্ষেত্রে আপীল দায়েরের জন্য পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিতে পারেন-
(ক) কোন আদালত কর্তৃক মূল মামলায় বা আপীলে প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে;
(খ) মূল মামলায় বা আপীলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে ।
(২) ধারা-৪১৮ এ যা কিছুই বর্ণিত থাকুক না কেন, উক্তরূপ খালাসের আদেশ যদি ফরিয়াদি কর্তৃক আনীত মামলায় প্রদত্ত হয়ে থাকে এবং আদেশে আইনের ভুল ব্যাখ্যার জন্য ন্যায় বিচারে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত ফরিয়াদি উক্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে এরূপ যে কোন হেতুবাদে আপীল দায়ের করতে পারবে-
(ক) দায়রা আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে; (খ) যেকোন ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত মূল খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে ।
(৩) খালাসের আদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর ফরিয়াদী খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল দায়ের করলে হাইকোর্ট ডিভিশনে তা গ্রাহ্য হবে না ।
(৪) যদি কোন ক্ষেত্রে খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল গৃহীত না হয়, সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত খালাসের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল চলবে না ।

♦খালাসের ক্ষেত্রে আপিলের বিধানসমূহ-

১. যেকোন ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর (P.P) মূল মামলা ও আপিলে দেওয়া খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। অর্থাৎ (P.P) কর্তৃক খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপিল চলে ।
২. Complaint Registered Case এর ক্ষেত্রে শুধু মূল মামলায় দেওয়া খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে অভিযোগকারী (Complainant)। অর্থাৎ Complaint Registered Case হলে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় আপিল চলে না।

♦ যদি আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয় তবেই ফরিয়াদি খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে।
♦ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। [ধারা ৪১৭(3)]
♦খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে। [অনুচ্ছেদ ১৫৭, তামাদি আইন, ১৯০৮]

♦ সহজ ভাবে বলা যায় যে ম্যাজিস্ট্রেট কোন আসামীকে খালাস দিলে সেই খালাস আদেশের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রসিকিউটর ৪১৭(১) (খ) ধারায় দায়রা জজ কোর্টে আপীল দায়ের করতে পারে। উক্ত দায়রা জজ আপীল শুনানী করে যদি আসামীকে খালাস দেয়, তাহলে উক্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রসিকিউটর হাইকোর্টে পুনরায় দ্বিতীয় আপীল দায়ের করতে পারবে। কারণ একমাত্র পাবলিক প্রসিকিউটর মূল মামলায় ও আপীলে উভয়ক্ষেত্রে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারে।
২,৫৫৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ অনুযায়ী পুলিশ কতটি ক্ষেত্রে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৪(১) অনুযায়ী, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই মোট ৯টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া (without warrant) নিম্নলিখিত ৯টি ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে:
৯টি ক্ষেত্র যেখানে পুলিশ পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে:
১) যদি কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable Offence) করে বা তাতে জড়িত থাকার যুক্তিযুক্ত সন্দেহ থাকে।
২) যদি কোনো ব্যক্তির নিকট আইনসংগত কারণ ছাড়া ঘরভাঙার সরঞ্জাম (Implement of House Breaking) পাওয়া যায়।
৩) যদি কোনো ব্যক্তিকে আদালত বা সরকার "Proclaimed Offender" হিসাবে ঘোষণা করে।
৪) যদি কোনো ব্যক্তির নিকট চোরাই মাল (Stolen Property) পাওয়া যায় বা উক্ত অপরাধ করেছে বলে যুক্তিযুক্ত সন্দেহ হয়।
৫) যদি কোনো ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের কাজে বাধা দেয় বা আইনসংগত হেফাজত (Lawful Custody) থেকে পলায়ন করে বা পলায়নের চেষ্টা করে।
৬) যদি কোনো ব্যক্তি সশস্ত্র বাহিনী থেকে পলায়নকারী (Deserter) হয়।
৭) যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে এমন কোনো কাজ করে যা বাংলাদেশে অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং যার জন্য তাকে বন্দি বা গ্রেফতার করা যেতে পারে।
৮) যদি কোনো মুক্তিপ্রাপ্ত আসামি (Released Convict) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬৫(৩) ধারার অধীনে কোনো নিয়ম ভঙ্গ করে।
৯) যদি কোনো পুলিশ অফিসার অন্য কোনো পুলিশ অফিসারের অনুরোধে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে, তবে শর্ত থাকে যে অনুরোধে গ্রেফতারযোগ্য অপরাধের উল্লেখ থাকতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-54. When police may arrest without warrant:
(1) Any police officer may, without an order from a Magistrate and without a warrant, arrest-
firstly, any person who has been concerned in any cognizable offence or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received, or a reasonable suspicion exists of his having been so concerned;
secondly, any person having in his possession without lawful excuse, the burden of proving which excuse shall lie on such person, any implement of housebreaking;
thirdly, any person who has been proclaimed as an offender either under this Code or by order of the Government;
fourthly, any person in whose possession anything is found which may reasonably be suspected to be stolen property and who may reasonably be suspected of having committed an offence with reference to such thing;
fifthly, any person who obstructs a police officer while in the execution of his duty, or who has escaped, or attempts to escape, from lawful custody;
sixthly, any person reasonably suspected of being a deserter from the armed forces of Bangladesh ;
seventhly, any person who has been concerned in, or against whom a reasonable complaint has been made or credible information has been received or a reasonable suspicion exists of his having been concerned in, any act committed at any place out of Bangladesh, which, if committed in Bangladesh, would have been punishable as an offence, and for which he is, under any law relating to extradition or under the Fugitive Offenders Act, 1881, or otherwise, liable to be apprehended or detained in custody in Bangladesh;
eighthly, any released convict committing a breach of any rule made under section 565, sub-section (3);
ninthly, any person for whose arrest a requisition has been received from another police officer, provided that the requisition specifies the person to be arrested and the offence or other cause for which the arrest is to be made and it appears therefrom that the person might lawfully be arrested without a warrant by the officer who issued the requisition.
২,৫৫৮.
ফৌজদারি অপরাধে বিচার চলাকালে তিন মাস জেলহাজতে থাকার পর "A" জামিন পায়। বিচারের পর "A" এর চার মাসের কারাদণ্ড হয়। এক্ষেত্রে 'A' কত দিন সাজা ভোগ করবে?
  1. চার মাস ভোগ করতে হবে
  2. এক মাস ভোগ করতে হবে
  3. আদালতের বিবেচনায় যত দিনের সাজার রায় দেন
  4. জামিন পেয়েছে এই জন্য কোন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কীভাবে দণ্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ:

- ধারা-৩৫ক (১): ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেলহাজতে ছিল, তা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে।
 তবে এই বিধানটি আসামি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

- ধারা-৩৫ক (২): যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদণ্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদণ্ড থাকলে সেই অর্থদণ্ড মওকুফ হয়ে যাবে।

- অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক(১) ধারা অনুযায়ী, যেহেতু 'A'  তিন মাস ইতোমধ্যে জেল হাজতে ছিল, তাই তার মোট শাস্তি চার মাস থেকে তিন মাস বাদ দিয়ে বাকি এক মাস তাকে কারাগারে থাকতে হবে।
--------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-35A: Deduction of imprisonment in cases where convicts may have been in custody:
(1) Except in the case of an offence punishable only with death, when any court finds an accused guilty of an offence and, upon conviction, sentences such accused to any term of imprisonment, simple or rigorous, it shall deduct from the sentence of imprisonment, the total period the accused may have been in custody in the meantime, in connection with that offence. 

(2) If the total period of custody prior to conviction referred to in sub-section (1) is longer than the period of imprisonment to which the accused is sentenced, the accused shall be deemed to have served out the sentence of imprisonment and shall be released at once, if in custody, unless required to be detained in connection with any other offence; and if the accused is also sentenced to pay any fine in addition to such sentence, the fine shall stand remitted.
২,৫৫৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করতে পারেন না?
  1. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. পুলিশ কর্মকর্তা
  3. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  4. সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার উপ-ধারা (১) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো পুলিশ অফিসার এই ধারা অনুসারে কোনো বিবৃতি বা স্বীকারোক্তি রেকর্ড করতে পারবেন না। ধারাটি শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য:
- মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
- প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
- সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
এবং এটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে, এই ম্যাজিস্ট্রেটগণ তখনই বিবৃতি বা স্বীকারোক্তি রেকর্ড করতে পারবেন যখন তিনি পুলিশ অফিসার না হন ("if he is not a police-officer")।
অতএব, পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে ধারা ১৬৪ অনুসারে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা নিষিদ্ধ।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় উল্লেখিত ম্যাজিস্ট্রেটগণ যেকোনো বিবৃতি (Statement) বা দোষস্বীকারোক্তি (Confession) লিপিবদ্ধ করতে পারেন। দোষস্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করার পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারকারীকে অবশ্যই বুঝিয়ে দিবেন যে; তিনি স্বীকারোক্তি করতে বাধ্য নয় এবং তিনি যদি স্বীকারোক্তি করে তাহলে উহা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।
- যে সকল ম্যাজিস্ট্রেট দোষস্বীকারোক্তি [Confession] রেকর্ড করতে পারে-
১. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
২. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
৩. সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট

- যখন বিবৃতি বা দোষস্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করতে পারে-
তদন্তের যেকোন পর্যায়ে;
তদন্তের পরে কিন্তু অনুসন্ধান বা বিচার শুরুর পূর্বে।

⇒ ধারা ১৬৪(২) অনুযায়ী এইরূপ স্বীকারোক্তি ৩৬৪ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী লিপিবদ্ধ বা স্বাক্ষরিত হতে হবে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 164: Power to record statements and confessions:
(1) Any Metropolitan Magistrate, any Magistrate of the first class and any Magistrate of the second class specially empowered in this behalf by the Government may, if he is not a police-officer record any statement or confession made to him in the course of an investigation under this Chapter or at any time afterwards before the commencement of the inquiry or trial. 
(2) Such statements shall be recorded in such of the manners hereinafter prescribed for recording evidence as is, in his opinion best fitted for the circumstances of the case. Such confessions shall be recorded and signed in the manner provided in section 364, and such statements or confessions shall then be forwarded to the Magistrate by whom the case is to be inquired into or tried. 
(3) A Magistrate shall, before recording any such confession, explain to the person making it that he is not bound to make a confession and that if he does so it may be used as evidence against him and no Magistrate shall record any such confession unless, upon questioning the person making it, he has reason to believe that it was made voluntarily; and, when he records any confession, he shall make a memorandum at the foot of such record to the following effect:- 
"I have explained to (name) that he is not bound to make a confession and that, if he does so, any confession he may make may be used as evidence against him and I believe that this confession was voluntarily made. It was taken in my presence and hearing, and was read over to the person making it and admitted by him to be correct, and it contains a full and true account of the statement made by him. - (Signed) A.B. Magistrate."

Explanation-It is not necessary that the Magistrate receiving and recording a confession or statement should be a Magistrate having jurisdiction in the case.

২,৫৬০.
অপর্যাপ্ত জামিনদার গ্রহণ করা হলে, আদালত-
  1. জামিনদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারবেন
  2. জামিনদারকে জরিমানা করবেন
  3. জামিনে মুক্ত ব্যক্তিকে হাজির করার নির্দেশ দিবেন
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫০১- প্রথম জামিনদার অপর্যাপ্ত হলে পর্যাপ্ত জামিনদার গ্রহণের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা

ভুল বশত, প্রবঞ্চনাবশতঃ বা অন্য কোনভাবে অপর্যাপ্ত জামিনদার গ্রহণ করা হলে, বা তারা পরে অপর্যাপ্ত হয়ে পড়লে জামিনে মুক্ত ব্যক্তিকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করতে পারবেন এবং পর্যাপ্ত জামিনদার সংগ্রহের আদেশ প্রদান করতে এবং সংগ্রহ করতে না পারলে তাকে হাজতে প্রেরণের আদেশ দিতে পারবেন। 

Section 501- Power to order sufficient bail when that first taken is insufficient
If, through mistake, fraud or otherwise, insufficient sureties have been accepted, or if they afterwards become insufficient, the Court may issue a warrant of arrest directing that the person released on bail be brought before it and may order him to find sufficient sureties, and, on his failing so to do, may commit him to jail.
২,৫৬১.
১৯০(১) ধারার বিধান মতে ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে অপরাধ আমলে নিতে পারেন?
  1. অভিযোগ দায়েরের ভিত্তিতে
  2. পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে
  3. অন্য কোনো মাধ্যমে থেকে প্রাপ্ত সংবাদ প্রাপ্তির ভিত্তিতে
  4. উপরে বর্ণিত যে কোনো ভাবে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১) ধারার বিধান মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেট ১। complaint এর ভিত্তিতে ২। পুলিশ রিপোর্টের ভিত্তিতে ৩। পুলিশ ব্যতীত অন কোনো ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে বা নিজের জ্ঞান থেকে বা সন্দেহের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিতে পারেন।
২,৫৬২.
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice- এই বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির কোথায় আছে?
  1. ৫১৬ ধারায়
  2. ৩৩৯ক ধারায়
  3. ৫৬১ক ধারায়
  4. ৫৬৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
• Section 561A- Saving of inherent power of High Court Division
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.

• ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power) আছে। একটি মামলার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে যাবতীয় বিধি দেওয়ানী ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, আদালতের কি করণীয় হবে সে বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বিধি নেই। এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে আদালত তার সুবিবেচনা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকেই আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of the court) বলে। 

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
২,৫৬৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুচলেকার আদেশ দিতে পারে?
  1. ১০৬ ধারা
  2. ১০৭ ধারা
  3. ১০৮ ধারা
  4. ১০৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৬ ধারার বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুচলেকার আদেশ দিতে পারে।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৬ ধারামতে দণ্ড প্রদানকারী আদালত অর্থাৎ হাইকোর্ট, দায়রা আদালত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ড প্রদানের সময় দণ্ডিত ব্যক্তিকে অনধিক ৩ বছর সময়ের জন্য শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ প্রদান করতে পারে।
-তবে হাইকোর্ট বিভাগ সাধারণত রিভিশন ক্ষমতাবলে ১০৬ ধারামতে দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুচলেকার আদেশ দিতে পারে।

- যে দণ্ডের জন্য ১০৬ ধারামতে মুচলেকার আদেশ দেয়া হয় আপিল বা অন্য কোন উপায়ে যদি উক্ত দত্ত বাতিল হয়ে যায় তাহলে উক্তরূপে সম্পাদিত মুচলেকাও বাতিল হয়ে যাবে । আদালত যে কোনো পরিমাণ অর্থের জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে। মুচলেকার পরিমাণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে তবে কোনোভাবেই অত্যধিক হবে না।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-106: Security for keeping the peach on conviction:
(1) Whenever any person accused of any offence punishable under Chapter VIII of the Penal Code, other than an offence punishable under section 143, section 149, section 153A or section 154 thereof, or of assault or other offence involving a breach of the peace, or of abetting the same, or any person accused of committing criminal intimidation, is convicted of such offence before High Court Division, a Court of Session, or the Court of a Metropolitan Magistrate, or a Magistrate of the first class, and such Court is of opinion that it is necessary to require such person to execute a bond for keeping the peace, such Court may, at the time of passing sentence on such person, order him to execute a bond for a sum proportionate to his means, with or `without sureties, for keeping the peace during such period, not exceeding three years, as it thinks fit to fix. 
 
(2) If the conviction is set aside on appeal or otherwise, the bond so executed shall become void. 
(3) An order under this section may also be made by an Appellate Court or by the High Court Division when exercising its powers of revision.
২,৫৬৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারায় সাক্ষ্য আইনের কোন ধারাটি উল্লেখিত আছে?
  1. ২২ ধারা
  2. ২৪ ধারা
  3. ২৭ ধারা
  4. ৩২ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৩ ধারায় উল্লেখিত "সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২" এর ২৪ ধারা।
অর্থাৎ  ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারায় সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা উল্লেখিত আছে।
→ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৩ ধারায় বলা হয়েছে:
(১) কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তি বা আসামির কাছে এমন কোনো প্ররোচনা, হুমকি বা প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না যা সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা ২৪ অনুসারে অবৈধ।
(২) তবে, কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কেউ কোনো সতর্কতা বা অন্য কোনো মাধ্যমে কাউকে এমন কোনো বিবৃতি দিতে বাধা প্রদান করতে পারবে না যা সে নিজের ইচ্ছায় তদন্তের সময় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।
-----------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 163. No inducement to be offered:
(1) No police officer or other person in authority shall offer or make, or cause to be offered or made, any such inducement, threat or promise as is mentioned in the Evidence Act, 1872, section 24. 
(2) But no police officer or other person shall prevent, by any caution or otherwise, any person from making in the course of any investigation under this Chapter any statement which he may be disposed to make of his own free will.
২,৫৬৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৪ ধারার অধীন আদালত কোথা থেকে যুক্তিসংগত ব্যয় দেয়ার আদেশ দিতে পারেন?
  1. অভিযুক্ত থেকে
  2. সরকারী তহবিল থেকে
  3. আদালতের ফান্ড থেকে
  4. অভিযুক্তের প্রতিনিধি থেকে
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪৪ (ফরিয়াদী ও সাক্ষীর ব্যয়)-
সরকার কর্তৃক প্রণীত কোন বিধি সাপেক্ষে ফৌজদারী আদালত উপযুক্ত মনে করলে এই কার্যবিধির অধীনে কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কান কার্যধারার উদ্দেশ্যে আদালতে হাজির হওয়া কোন ফরিয়াদী বা সাক্ষীকে সরকারী তহবিল থেকে যুক্তিসংগত ব্যয় দেয়ার আদেশ দিতে পারবেন

Section 544- Expenses of complainants and witnesses
Subject to any rules made by the Government, any Criminal Court may, if it thinks fit, order payment, on the part of Goverment, of the reasonable expenses of any complainant or witness attending for the purposes of any inquiry, trial or other proceeding before such Court under this Code.
২,৫৬৬.
৯৯ক ধারার অধীন সরকার কর্তৃক প্রকাশনা (সংবাদপত্র/পুস্তক/দলিল) বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিলের জন্য কার নিকট আবেদন করতে হবে?
  1. সরকার
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. দায়রা আদালত
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৯খ ধারার বিধান:

৯৯ক ধারামতে বাজয়াপ্তকরণের ঘোষণা করা হয়েছে যে সংবাদপত্র, পুস্তক বা অন্য দলিল সম্পর্কে, তাতে স্বার্থ সম্পন্ন যে কোন ব্যক্তি সরকারী আদেশের ঐরূপ আদেশ প্রকাশিত হওয়ার তারিখের ২(দুই) মাসের মধ্যে ঐ আদেশ বাতিলের জন্য হাইকোর্ট ডিভিশনে দরখাস্ত পেশ করতে পারেন এই কারণ দর্শিয়ে যে, সংবাদপত্রের ঐ খন্ডে বা পুস্তকে বা অন্য কোন দলিলে, যার সম্পর্কে ঐ আদেশ করা হয়েছে, ৯৯ক ধারার উপধারা (১) এ বর্ণিত কোন বিষয়বস্তু বিধৃত ছিল না।
২,৫৬৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৩ ধারায় আটককারী অফিসারকে _________ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
  1. ক্রোককৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
  2. অপরাধজনক অস্ত্র আটক
  3. আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ
  4. সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আটক
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৩ ধারায় আটককারী অফিসারকে অপরাধজনক অস্ত্র আটক করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
 
ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৩ ধারা: আপত্তিকর অস্ত্রশস্ত্র আটক করার ক্ষমতা-
এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে আটককারী অফিসার বা অপর কোন ব্যক্তি আটককৃত ব্যক্তির নিকট কোন আক্রমণাত্মক অস্ত্র থাকলে তা তার কাছ থেকে নিতে পারবেন এবং এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে যে আদালত বা অফিসার বরাবর তাকে ঐ আটকরকৃত ব্যক্তিকে উপস্থিত করতে হবে সেই আদালত বা অফিসার বরাবর তিনি উক্তরূপে গৃহীত সমস্ত অস্ত্র প্রত্যর্পণ করবেন।
 
Section 53: Power to seize offensive weapons-
The officer or other person making any arrest under this Code may take from the person arrested any offensive weapons which he has about his person, and shall deliver all weapons so taken to the Court or officer before which or whom the officer or person making the arrest is required by this Code to produce the person arrested.
২,৫৬৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার অনুসারে মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটন এর জন্য কবর থেকে লাশ তোলা হয়?
  1. ১৭৫
  2. ১৭৬
  3. ১৭৫(২)
  4. ১৭৬(২)
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৭৬(২) মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেট যদি মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটন এর জন্য লাশ পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন মনে করেন তা হলে তিনি লাশটি কবর থেকে তোলার এবং তা পরীক্ষা করে দেখার ব্যবস্থা করতে পারেন।
--------------------------
CrPC Section 176: Inquiry by Magistrate into cause of death:
(1) When any person dies while in the custody of the police, the nearest Magistrate empowered to hold inquests shall, and, in any other case mentioned in section 174, clauses (a), (b) and (c) of sub-section (1), any Magistrate so empowered may hold an inquiry into the cause of death either instead of, or in addition to, the investigation held by the police-officer, and if he does so, he shall have all the powers in conducting it which he would have in holding an inquiry into an offence. The Magistrate holding such an inquiry shall record the evidence taken by him in connection therewith in any of the manners hereinafter prescribed according to the circumstances of the case.

Power to disinter corpses:
(2) Whenever such Magistrate considers it expedient to make an examination of the dead body of any person who has been already interred, in order to discover the cause of his death, the Magistrate may, cause the body to be disinterred and examined.
২,৫৬৯.
যদি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোন মামলা বিচার করতে না পারেন, তবে ধারা ৩৪৬ এর বিধান অনুযায়ী তিনি-
  1. মামলাটি বাতিল করবেন
  2. আসামিকে খালাস দিবেন
  3. বিচার স্থগিত করবেন
  4. আসামিকে জামিনে মুক্তি দিবেন
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৬ এর বিধান অনুযায়ী:
(১) যদি কোনো জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কোন তদন্ত বা বিচার চলাকালে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, বিষয়টি এমন একটি মামলা যা অন্য কোনো চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারাধীন হওয়া উচিত, তাহলে তিনি বিচার কার্যক্রম স্থগিত করে মামলা সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনসহ মামলাটি তার অধীনস্থ অন্য কোনো চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অথবা জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করবেন।

(২) যেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মামলা প্রেরিত হয়েছে, তিনি যদি সেই ক্ষমতা অর্জন করেন, তাহলে তিনি নিজে মামলাটি বিচার করতে পারেন, অথবা তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠিয়ে দিতে পারেন, অথবা আসামিকে বিচারের জন্য পাঠাতে পারেন।
২,৫৭০.
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দের আগে কত ঘন্টা পর্যন্ত পুলিশের হেফাযতে রাখা যায়?
  1. ৪৮ ঘন্টা
  2. ৭২ ঘন্টা
  3. ২৪ ঘন্টা
  4. ৩০ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
♦বিনা গ্রেফতারী  পরোয়ানা (Arrest Without Warrant)আটককৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী আটককৃত ব্যক্তিকে অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়া আদালতে হাজির করতে হবে।
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারামতে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের স্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যাওয়ার সময় বাদ দিয়ে পুলিশ হেফাজতে ২৪ ঘন্টার বেশী সময় আটক রাখা যাবে না।
♦তদন্তকার্য ২৪ ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন করা না গেলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিকটস্থ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অগ্রবর্তী বা প্রেরণ করতে হবে।
২,৫৭১.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুসারে, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) প্রদত্ত ক্ষমতা কে প্রত্যাহার করতে পারেন?
  1. সরকার
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১(২) অনুসারে, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা তিনিই নিজেই প্রত্যাহার করতে পারেন। একইভাবে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাও তিনিই প্রত্যাহার করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান হল, ক্ষমতাদি প্রত্যাহারকরণ:
(১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেন:
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যাহৃত  হতে পারবে।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 41: Withdrawal of powers:
(1)The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:
Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.
(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.

২,৫৭২.
কিসের উপর ভিত্তি করে হাইকোর্ট বিভাগ মামলা হস্তান্তরের আদেশ দিবেন?
  1. নিম্ন আদালতের রিপোর্টের ভিত্তিতে
  2. মামলার যেকোন পক্ষের আবেদনক্রমে
  3. স্বপ্রনোদিত হয়ে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা-৫২৬ এ হাইকোর্ট বিভাগের মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা আলোচনা করা হয়েছে।যার উপর ভিত্তি করে মামলা হস্তান্তরের আদেশ দিবেন-

১. নিম্ন আদালতের রিপোর্টের ভিত্তিতে, অথবা
২. মামলার যেকোন পক্ষের আবেদনক্রমে, অথবা
৩. হাইকোর্ট বিভাগ Suo motu এরূপ আদেশ দিতে পারবেন।

মামলা হস্তান্তরের শর্তসমূহ-

১. অধস্তন কোন ফৌজদারি আদালতে ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
২. কোন অসাধারণ জটিল আইনের প্রশ্ন উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে।
৩. কোন স্থান বা স্থানের নিকট কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা পরিদর্শন করা উক্ত অপরাধের সন্তোষজনক অনুসন্ধান বা বিচারের জন্য প্রয়োজন হলে।
৪. এই ধারায় প্রদত্ত কোন আদেশে পক্ষসমূহ বা সাক্ষীগনের সাধারণ সুবিধার দিকে নিয়ে যাবে।
৫. ন্যায় উদ্দেশ্যে বা এই কার্যবিধির কোন বিধান অনুসারে এরূপ কোন আদেশ প্রয়োজন হলে
২,৫৭৩.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে সরকার কোন ব্যক্তির উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারে?
  1. ধারা ৪২
  2. ধারা ৪১
  3. ধারা ৪০
  4. ধারা ৩৯
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১ (শিরোনাম: Withdrawal of powers) অনুযায়ী, সরকার যে কোন ব্যক্তি বা কর্মকর্তার উপর অর্পিত ক্ষমতা, তা সে সরকার নিজে প্রদান করুক বা অধীনস্থ কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রদান করুক, তা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রত্যাহার করতে পারে।
এছাড়াও, যদি কোনো ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের পরামর্শে প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে তা প্রত্যাহারেও হাইকোর্ট বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১ ধারার বিধান হল, ক্ষমতাদি প্রত্যাহারকরণ:
(১) সরকার এই কার্যবিধি অনুসারে কোন ব্যক্তি বা ইহার অধীনস্থ কোন অফিসারকে অর্পিত সকল বা যে কোন ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে পারবেন:
শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা অর্পণ এই কার্যবিধি অনুসারে হয় সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে আলোচনা করতে হবে। এ ধরণের প্রত্যাহার সেই আদালতের সাথে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
(২) যেক্ষেত্রে কোন ক্ষমতা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়, সেক্ষেত্রে তা সেভাবে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রত্যায়িত হতে পারবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 41: Withdrawal of powers:
(1)The Government may withdraw all or any of the powers conferred under this Code on any person by it or by any officer subordinate to it:
Provided that where the conferring of a power is, under this code, required to be made in consultation with the High Court Division, the withdrawal thereof shall be made in consultation with that Court.
(2) Any powers conferred by the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate may be withdrawn by the chief Judicial Magistrate or the District Magistrate respectively.
২,৫৭৪.
যখন একটি অপরাধ কিছুটা আংশিকভাবে একটি স্থানীয় এলাকায় এবং বাকি কিছুটা আংশিকভাবে অন্য একটি স্থানীয় এলাকায় সংঘটিত হয়, তখন এর বিচার কীভাবে হবে?
  1. শুধু প্রথম এলাকার আদালতে
  2. শুধু দ্বিতীয় এলাকার আদালতে
  3. উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে
  4. যেকোনো একটি এলাকার আদালতে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৮২ অনুসারে, অপরাধটি যখন আংশিকভাবে এক স্থানীয় এলাকায় এবং আংশিকভাবে অন্য এলাকায় সংঘটিত হয়, তখন যেকোনো একটি এলাকার আদালতে অনুসন্ধান বা বিচার করা যাবে, যেখানে সেই এলাকার বিচারিক এখতিয়ার রয়েছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮২ ধারা অনুযায়ী, যখন কোন স্থানে বা এলাকায় অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা অনিশ্চিত থাকে অথবা আংশিকভাবে একটি স্থানীয় এলাকায় এবং আংশিকভাবে অপর একটি স্থানীয় এলাকায় সংঘটিত হয়, সেক্ষেত্রে যেকোনো একটি এলাকা যে আদালতের অধিক্ষেত্রভুক্ত সেই আদালতে উক্ত অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার করা যাবে - এতে কোনো বাধা নেই।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা ১৮২: অপরাধের স্থান অনিশ্চিত বা একাধিক জেলার মধ্যে অথবা অপরাধ চলমান হলে বা একাধিক কাজের সমন্বয়ে সংঘটিত হলে অনুসন্ধান বা বিচার কোথায় হবে:
যখন এটি অনিশ্চিত যে, কোন একাধিক এলাকার মধ্যে কোথায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, অথবা
যখন অপরাধটি এক এলাকার একটি অংশে এবং অন্য একটি এলাকায় তার অন্য অংশে সংঘটিত হয়, অথবা
যখন অপরাধটি চলমান এবং একাধিক এলাকায় সংঘটিত হচ্ছে, অথবা
যখন অপরাধটি একাধিক কাজের সমন্বয়ে সংঘটিত হয় যা বিভিন্ন এলাকায় করা হয়েছে,
তাহলে এই ধরনের অপরাধের অনুসন্ধান বা বিচার যে কোনো একটি এলাকার আদালতে করা যেতে পারে, যেখানে সেই এলাকার বিচারিক এখতিয়ার রয়েছে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-182: Place of inquiry or trial where the scene of offence is uncertain or not in one district only or where the offence is continuing or consists of several acts:
When it is uncertain in which of several local areas an offence was committed, or
where an offence is committed partly in one local area and partly in another, or
where an offence is a continuing one, and continues to be committed in more local areas than one, or
where it consists of several acts done in different local areas,
it may be inquired into or tried by a Court having jurisdiction over any of such local areas.

২,৫৭৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিধানানুযায়ী কোন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ের জন্য কবর থেকে লাশ তোলা হয়?
  1. ১৭৫ ধারা
  2. ১৭৩ ধারা
  3. ১৭৪ ধারা
  4. ১৭৬ ধারা
ব্যাখ্যা
- ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ (২) ধারায় কবর থেকে লাশ তোলার বিধান রয়েছে। কবর থেকে লাশ তোলার এবং তা পরীক্ষা করার ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটের। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ (২) ধারামতে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের জন্য মৃতদেহ কবর থেকে তুলতে পারেন।

- ধারা-১৭৬(২) কবর হতে লাশ তুলার ক্ষমতাঃ যখনই কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ কোন ব্যক্তির লাশ, যাকে ইতোপূর্বে কবর দেয়া হয়েছে, পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন তার মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য, তখনই ওই ম্যাজিস্ট্রেট ওই লাশটি কবর হতে তোলাইয়া পরীক্ষা করাতে পারবেন।
---------
The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 176. Inquiry by Magistrate into cause of death:
(1) When any person dies while in the custody of the police, the nearest Magistrate empowered to hold inquests shall, and, in any other case mentioned in section 174, clauses (a), (b) and (c) of sub-section (1), any Magistrate so empowered may hold an inquiry into the cause of death either instead of, or in addition to, the investigation held by the police-officer, and if he does so, he shall have all the powers in conducting it which he would have in holding an inquiry into an offence. The Magistrate holding such an inquiry shall record the evidence taken by him in connection therewith in any of the manners hereinafter prescribed according to the circumstances of the case.

⇒ Power to disinter corpses:

(2) Whenever such Magistrate considers it expedient to make an examination of the dead body of any person who has been already interred, in order to discover the cause of his death, the Magistrate may, cause the body to be disinterred and examined.
২,৫৭৬.
আদালত কারাবন্দি আসামির বিরুদ্ধে কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করলে, উক্ত দণ্ডাদেশ সংক্রান্ত ওয়ারেন্ট কার নিকট প্রেরণ করতে হবে?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. পুলিশ সুপার
  3. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  4. কারারক্ষক
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৩ অনুসারে, মৃত্যুদণ্ডাদেশ ব্যতীত অন্যকোনো কারাদণ্ডাদেশ কার্যকর করতে হবে পরোয়ানা জারির মাধ্যমে। দণ্ডদানকারী আদালত এমন পরোয়ানা জারি করবে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৫ অনুসারে-
যখন কয়েদীকে জেলে আটক রাখতে হবে,তখন পরোয়ানাটি কারারক্ষককে (Jailor) কে প্রেরণ করতে হবে।

Section 385: Warrant with whom to be lodged
When the prisoner is to be confined in a jail, the warrant shall be lodged with the jailor.
২,৫৭৭.
কোনো মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হলে ম্যাজিস্ট্রেটের কোন আদেশটি সঠিক?
  1. পুনঃতদন্ত
  2. নতুনভাবে তদন্ত
  3. চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ
  4. অধিকতর তদন্ত
ব্যাখ্যা
• অধিকতর তদন্ত [Further Investigation] এবং সম্পূরক চার্জশীট (Supplementary Charge Sheet)-

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৮ ধারায় নিয়োগকৃত পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ মুলতুবি রেখে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ১৭৩ (২) ধারায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে [may order further investigation] এবং ১৭৩ (১) ধারার অধীন পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পরও পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারার অধীন অধিকতর তদন্ত করতে পারে (do further investigation)।

• অধিকতর তদন্ত করে মৌখিক বা দালিলিক অধিকতর সাক্ষ্য পেলে, পুলিশ ১৭৩ (৩খ) ধারায় অধিকতর রিপোর্ট বা সম্পূরক চার্জ শীট [supplementary charge sheet) দাখিল করতে পারে। ১৭৩ ধারার অধীন পুন:তদন্তের (re-investigation) কোন বিধান নেই।

• তথ্য প্রদানকারীর বা থানার ভারপ্রাপ্ত উদ্ধতন কর্মকর্তার আবেদনক্রমে বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজ উদ্যোগে অধিকর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু আসামীর আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে না।

• ১৭৩ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করার পর ম্যাজিস্ট্রেট চার্জশীটভুক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিতে পারে এবং যে সকল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দিতে পারে। যাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেট একবার অব্যাহতি দিলো তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারে না। বরং ম্যাজিস্ট্রেট ১৯০ ধারায় অপরাধ আমলে নিতে পারে।
২,৫৭৮.
অভিযোগের জবাব দানের জন্য জামিনে মুক্ত অভিযুক্তকে কোথায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া যেতে পারে?
  1. হাইকোর্টে
  2. দায়রা আদালতে
  3. অন্য যেকোনো আদালতে
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৯৯- আসামী ও জামিনদারের বন্ড

(১) কোন ব্যক্তিকে জামিনে বা তার নিজের বন্ডে মুক্তি দেয়ার পূর্বে উক্ত ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত যেরূপ পর্যাপ্ত মনে করেন সেরূপ পরিমাণ অর্থের জন্য একটি বন্ড সম্পাদন করবে এবং যেক্ষেত্রে তাকে জামিন মুক্তি দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে এক বা একাধিক পর্যাপ্ত জামিনদার এ শর্তে বন্ড সম্পাদন করবে যে, উক্ত ব্যক্তি বন্ডে বর্ণিত সময়ে ও স্থানে হাজির হবে এবং পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অনুরূপে হাজির হতে হবে।

(২) মামলার জন্য এরূপ প্রয়োজন হলে জামিনে মুক্ত ব্যক্তির জন্য আরও শর্ত থাকবে যে, অভিযোগের জবাব দানের জন্য আহবান করা হলে হাইকোর্ট ডিভিশন, দায়রা আদালত বা অন্য কোন আদালতে তাকে হাজির হতে হবে।
২,৫৭৯.
যে সকল মোকদ্দমায় জজ কিংবা ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকে, সে উক্ত মামলার বিচার করতে পারবে না। ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৫৫১
  2. ধারা ৫৫৬
  3. ধারা ৫৫২
  4. ধারা ৫৫৭
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৫৫৬ ধারার বিধান যেসব মামলায় জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকেঃ কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট, তার নিজের আদালতের ঊর্ধ্বতন আপীল আদালতের অনুমতি না নিয়ে যেসব মামলায় তিনি নিজে একজন পক্ষ বা ব্যক্তিগতভাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সে মামলার বিচার করবেন না এবং কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজের প্রদত্ত রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল শ্রবণ করবেন না।
২,৫৮০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধের ষড়যন্ত্রের সংবাদ পেলে পুলিশ অফিসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করার বিধান আছে?
  1. ধারা ১৪৯
  2. ধারা ১৫০
  3. ধারা ১৫১
  4. ধারা ১৫২
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৫০-তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো পুলিশ অফিসার যদি কোনো আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনার সংবাদ পান, তাহলে তিনি তা তাঁর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং যে কোনো অন্য কর্মকর্তাকে (যার দায়িত্ব সেই অপরাধ প্রতিরোধ করা বা তাতে আমল গ্রহণ করা) অবহিত করতে বাধ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫০ ধারার বিধান- অনুরূপ অপরাধের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সংবাদ: 
কোনো আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য প্রাপ্ত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তা উক্ত তথ্য তার উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে এবং অন্য যেকোনো কর্মকর্তাকে, যার দায়িত্ব হলো এরূপ অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধ করা বা এ বিষয়ে আমল গ্রহণ করা, তাকে জানাতে বাধ্য থাকবেন।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 150- Information of design to commit such offences:
Every police-officer receiving information of a design to commit any cognizable offence shall communicate such information to the police-officer to whom he is subordinate, and to any other officer whose duty it is to prevent or take cognizance of the commission of any such offence.

২,৫৮১.
ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৯ ধারায় সর্বোচ্চ কত দিনের জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির মুচলেকার মেয়াদঃ

- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।

- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭ দন্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।

- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৮ রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক বিষয় প্রচারকারীর সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।

- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৯ ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ব্যক্তিবৃন্দের সদাচরণের মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।

- ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১০ অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
২,৫৮২.
যুগ্ম দায়রা জজ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলে, উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হবে?
  1. দায়রা আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. আপিলকারীর ইচ্ছানুযায়ী আদালতে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৪০৮- যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল

যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপিল দায়ের করতে পারবে।
নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-
(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।
(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির (১২৪ক) ধারায় উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

Section 408- Appeal from sentence of Joint Sessions Judge and Magistrates of the first class
Any person convicted on a trial held by a Joint Sessions Judge,Metropolitan Magistrate or any Judicial Magistrate of the first class, may appeal to the Sessions Judge: Provided as Follws-
(a)When in any case a Joint Sessions Judge passes any sentence of imprisonment for a term exceeding five years, the appeal of all or any of the convicted persons shall lie to the High Court Division; 
(b)When any person is convicted by a Metropolitan Magistrate or Judicial Magistrate specially empowered to try an offence under section 124A of the Penal Code, the appeal shall lie to the High Court Division.
২,৫৮৩.
কোন ক্ষেত্রে তামাদির বিধান প্রযোজ্য নয়-
  1. দেওয়ানি মোকদ্দমায়
  2. যেকোনো ফৌজদারি মামলায়
  3. ফৌজদারি মূল মামলায়
  4. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী মূল মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি আইন প্রযোজ্য না কিন্তু কিছু বিশেষ ফৌজদারী কার্যক্রম যেমন ফৌজদারী আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ মূল ফৌজদারী মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট সময় নেই।
২,৫৮৪.
অভিযোগে অপরাধের বিবরণে ব্যবহৃত শব্দসমূহ কোন আইন অনুসারে ব্যাখা করা হবে?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে
  2. দণ্ডবিধি অনুসারে
  3. যে আইনের অধীনে অপরাধ দণ্ডনীয়, সেই আইন অনুসারে
  4. জেনারেল ক্লজেস এক্ট অনুসারে
ব্যাখ্যা
• চার্জ বা অভিযোগ (Charge) ফৌজদারি বিচার কার্যক্রমে একটি  গুরুত্বপূর্ণ স্তর।চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে ফৌজদারি মামলার বিচার শুরু হয়। ফৌজদারি মামলায় একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি কি ধরণের অপরাধ করেছে এবং কার বিরুদ্ধে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে তা চার্জ হতেই জানা যায়। 
অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অপরাধ সংগঠিত করেছেন, সেই অভিযোগ চার্জে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং আইনে সেই অপরাধে কোন নির্দিষ্ট নাম থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, চার্জ হল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ যার প্রকৃতি সম্পর্কে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিক স্তরে জানার অধিকারী। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২১-২৪০ পর্যন্ত চার্জের গঠন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

ধারা ২২৪ অনুসারে,
কোন অপরাধের বিবরণ দেওয়ার জন্য অভিযোগে ব্যবহৃত শব্দসমূহ যে আইনে উক্ত অপরাধ দণ্ডনীয়, সেই আইনে শব্দগুলো যে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে সেই একই অর্থেই তা অভিযোগে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।
[In every charge words used in describing an offence shall be deemed to have been used in the sense attached to them respectively by the law under which such offence is punishable.]
২,৫৮৫.
অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ হলে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে অপরাগ হলে, ম্যাজিস্ট্রেট কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে?
  1. মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন
  2. সাক্ষী হিসেবে উক্ত সিভিল সার্জন বা মেডিকেল অফিসারের জবানবন্দী গ্রহণ করবেন
  3. উক্ত ব্যক্তিকে জেলার সিভিল সার্জন বা সরকার নির্দেশিত মেডিকেল অফিসার দ্বারা পরীক্ষা করবেন
  4. উল্লিখিত সকল পদক্ষেপ
ব্যাখ্যা
• কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ হলে অর্থাৎ উক্ত ব্যক্তির বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ থেকে ৪৭৫ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬৪ ধারামতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা আসামী মানসিকভাবে অসুস্থ বা উন্মাদ(পাগল) হলে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে অপরাগ হলে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করবেন। যথা-
⇒ ম্যাজিস্ট্রেট আসামীর মানসিক অসুস্থতার বিষয়টি অনুসন্ধান করবেন এবং মানসিকভাবে অসুস্থ আসামীকে জেলার সিভিল সার্জন বা সরকার নির্দেশিত মেডিকেল অফিসার দ্বারা পরীক্ষা করবেন।
⇒ ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষী হিসেবে উক্ত সিভিল সার্জন বা মেডিকেল অফিসারের জবানবন্দী গ্রহণ করবেন এবং
⇒ ম্যাজিস্ট্রেট মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন।

Section 464- Procedure in case of accused being lunatic

(1) When a Magistrate holding an inquiry or a trial has reason to believe that the accused is of unsound mind and consequently incapable of making his defense, the Magistrate shall inquire into the fact of such unsoundness, and shall cause such person to be examined by the Civil Surgeon of the district or such other medical officer as the Government directs, and thereupon shall examine such Surgeon or other officer as a witness, and shall reduce the examination to writing.

(1A) Pending such examination and inquiry the Magistrate may deal with the accused in accordance with the provisions of section 466.

(2) If such Magistrate is of opinion that the accused is of unsound mind and consequently incapable of making his defence, he shall record a finding to that effect and shall postpone further proceedings in the case.
২,৫৮৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০(৫) ধারায়, ক্ষতিপূরণের আদেশের পাশাপাশি কতদিন পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০(৫) অনুসারে, মিথ্যা বা তুচ্ছ অভিযোগের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশের পাশাপাশি, ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি (অভিযোগকারী) কে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৩০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন।
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এই দণ্ড কেবল ক্ষতিপূরণের আদেশের পরিপূরক হিসেবে হতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারা অনুসারে- কারো বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে অব্যাহতি প্রদান করবেন এবং সংবাদদাতা বা অভিযোগকারীকে কারণ দর্শাতে বলবেন যে, কেন তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়া হবে না।
ফরিয়াদি/সংবাদদাতা/অভিযােগকারীর কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন,অভিযােগটি মিথ্যা,তুচ্ছ ও বিরক্তিকর তাহলে ফরিয়াদিকে অনধিক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ অভিযুক্তকে প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০(৫) ধারা অনুসারে- এমনকি ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়াও,ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তিকে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩০০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার আদেশ দিতে পারেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-250 (5) Notwithstanding anything contained in this section, the Magistrate may, in addition to the order directing payment of the compensation under sub-section (2), further order that the person ordered to pay such compensation shall also suffer imprisonment for a period not exceeding six months or pay a fine not exceeding three thousand Taka.
২,৫৮৭.
বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আসা প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা কার নির্দেশ অনুসারে কাজ করবেন?
  1. পুলিশ কমিশনারের
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের
  3. সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারের
  4. 'ক' অথবা 'খ'
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩০ ধারা মতে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আসা প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমিশন প্রাপ্ত বা নন কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অনুসারে কাজ করবেন।

-ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩১ ধারা মতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ করতে না পারলে পরিস্থিতি সাপেক্ষে সেনাবাহিনীর কোন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বেআইনী সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে গ্রেফতার ও আটক করতে  পারেন।ঃ
--------------------- 
The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 130: Duty of officer commanding troops required by Magistrate to disperse assembly:
(1) When an Executive Magistrate or the Police Commissioner determines to disperse any such assembly by military force, he may require any commissioned or non-commissioned officer in command of any soldiers in the Bangladesh Army to disperse such assembly by military forced, and to arrest and confine such persons forming part of it as the Magistrate or the Police Commissioner may direct, or as it may be necessary to arrest and confine in order to disperse the assembly or to have them punished according to law. 
 
(2) Every such officer shall obey such requisition in such manner as he thinks fit, but in so doing he shall use as little force, and do as little injury to person and property, as may be consistent with dispersing the assembly and arresting and detaining such persons.
২,৫৮৮.
অভিযুক্তের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা যায়-
  1. যে ভাষায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে
  2. আদালতের ভাষায়
  3. ইংরেজী ভাষায়
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৬৪ (অভিযুক্তের জবানবন্দি যেভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে)-

(১) যেক্ষেত্রে কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা হাইকোর্ট ডিভিশন ব্যতীত, অন্য কোন আদালত, কোন অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাকে জিজ্ঞাসিত প্রত্যেকটি প্রশ্ন ও তাঁর প্রদত্ত প্রত্যেকটি জবাবসহ সমগ্র , যে ভাষায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সে ভাষায় বা তা সম্ভব না হলে আদালতের ভাষায় কিংবা ইংরেজী ভাষায় পূর্ণাংগরূপে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং উক্ত নথি তাকে দেখাতে হবে বা পড়ে শুনাতে হবে অথবা যে ভাষায় তা লেখা হয়েছে ঐ সে বুঝতে না পারলে যে ভাষায় সে বুঝে ঐ ভাষায় তা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে এবং সে তার জবাব ব্যাখা করতে বা তাতে জবাবে নতুন কিছু যোগ করতে পারবে।

(২) সে যখন সমগ্র জবানবন্দি সত্য হিসাবে স্বীকার করে, তখন অভিযুক্ত এবং উক্ত আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ তাতে স্বাক্ষর করবেন এবং উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ স্বহস্তে সার্টিফাই করবেন যে, জবানবন্দি তাঁর উপস্থিতিতে ও শ্রবণের মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং নথিতে অভিযুক্তের বিবৃতির একটি পূর্ণাঙ্গ ও সত্য বিবরণ রয়েছে।

(৩) ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ স্বয়ং অভিযুক্তের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ না করলে জবানবন্দি চলার সময় তিনি আদালতের ভাষায় বা ইংরেজীর সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে পরিচিত হলে ইংরেজি ভাষায় তার একটি স্মারক তৈরী করতে থাকবেন এবং এরূপ স্মারক ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ কর্তৃক স্বহস্তে লিখিত ও স্বাক্ষরিত হবে এবং নথির সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট বা জর্জ যদি উক্ত স্মারক তৈরী করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর এরূপ অসামর্থ্যের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

(৪) এই ধারার কোন বিধান ধারা-২৬৩ অনুসারে অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে মর্মে পরিগণিত করা যাবে না।
২,৫৮৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৪ অনুসারে, কে ফরিয়াদী বা সাক্ষীর ব্যয় প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. স্থানীয় প্রশাসন
  2. পুলিশ কর্মকর্তা
  3. ফৌজদারি আদালত
  4. পাবলিক প্রসিকিউটর
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৪ অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক প্রণীত কোনো বিধির অধীন, ফৌজদারি আদালত যদি উপযুক্ত মনে করেন, তবে তিনি ফরিয়াদী বা সাক্ষীকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য সরকারী তহবিল থেকে যুক্তিসংগত ব্যয় প্রদানের আদেশ দিতে পারেন। এটি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা, যাতে আর্থিক অসুবিধা সাক্ষ্য প্রদানে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।
অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৪ অনুযায়ী, ফৌজদারি আদালতই ফরিয়াদী বা সাক্ষীর ব্যয় প্রদানের আদেশ দিতে পারেন। সঠিক উত্তর: গ) ফৌজদারি আদালত। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৪ ধারার বিধান ফরিয়াদী ও সাক্ষীর ব্যয়:-
সরকার কর্তৃক প্রণীত কোন বিধি সাপেক্ষে ফৌজদারী আদালত উপযুক্ত মনে করলে এই কার্যবিধির অধীনে কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কান কার্যধারার উদ্দেশ্যে আদালতে হাজির হওয়া কোন ফরিয়াদী বা সাক্ষীকে সরকারী তহবিল থেকে যুক্তিসংগত ব্যয় দেয়ার আদেশ দিতে পারবেন।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-544: Expenses of complainants and witnesses:
Subject to any rules made by the Government, any Criminal Court may, if it thinks fit, order payment, on the part of Goverment, of the reasonable expenses of any complainant or witness attending for the purposes of any inquiry, trial or other proceeding before such Court under this Code.
২,৫৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কারাদণ্ড আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি কারাগার থেকে ফৌজদারি কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারে-
  1. সরকার
  2. হাইকোর্ট বিভাগ
  3. কারা কর্তৃপক্ষ
  4. আদেশদানকারী আদালত
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪১: কারাবাসের স্থান নির্দিষ্টকরণের ক্ষমতা-
(১) বর্তমানে কার্যকর কোন আইনে ভিন্নরূপ ব্যবস্থা করা না হলে এই বিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজত বাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে কোথায় আটক রাখা হবে সরকার সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে পারবেন।
 
(২) দেওয়ানী কারাগারে আটক আসামী কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ এবং তাদের দেওয়ানী কারাগারে প্রত্যাবর্তনঃ
এই কার্যবিধির অধীন কারাদণ্ড বা হাজতবাসের নির্দেশপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে যদি দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখা হয়, তাহলে কারাদণ্ড বা হাজত বাসের আদেশদানকারী আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারী কারাগারে অপসারণ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।
 
(৩) কোন ব্যক্তি উপধারা (২) এর অধীন ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হলে তা থেকে মুক্ত হবার পর তাকে পুনরায় দেওয়ানী জেলে প্রেরণ করতে হবে, যদি না-
(ক) ফৌজদারী জেলে স্থানান্তরিত হবার পর তিন বৎসর পার হয়ে থাকে, তিন বৎসর অতিবাহিত হয়ে থাকলে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে দেওয়ানী জেল থেকে অব্যাহতি পেয়েছে মর্মে অভিহিত করতে হবে, কিংবা

(খ) যে আদালত তাকে দেওয়ানী জেলে আটকের আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদালত ফৌজদারী জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে সার্টিফিকেট দেন যে দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা-৫৮ এর অধীন সে অব্যাহতি পাবার অধিকারী।
২,৫৯১.
অতিরিক্ত দায়রা জজ কী ধরণের দণ্ড দিতে পারেন?
  1. মৃত্যুদণ্ড ব্যতীত যেকোনো দণ্ড
  2. আইনে অনুমোদিত যেকোনো দণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ব্যতীত যেকোনো দণ্ড
  4. মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছরের কারাদণ্ড ব্যতীত যেকোনো দণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৩১ ধারার বিধান- হাইকোর্ট ও দায়রা জজ যেসব দণ্ড দিতে পারেন:
(১) হাইকোর্ট বিভাগ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।

(২) দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন; তবে এরূপ কোন মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা হইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে হবে।


(৩) যুগ্ম দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বৎসরের অধিক কারাদণ্ড ব্যতিরেকে আইনে অনুমোদিত যে কোন দণ্ড দিতে পারেন।

২,৫৯২.
ধারা ৪১৩ অনুযায়ী, জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ কত পর্যন্ত হলে আপিল করা যাবে না?
  1. ১,০০০ টাকা
  2. ২,০০০ টাকা
  3. ৫,০০০ টাকা
  4. ১০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলায় আপিল নয়:
এতে পূর্বে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকুক না কেন, যে মামলাগুলিতে একটি দায়রা আদালত শুধুমাত্র এক মাসের বেশি নয় এমন কারাদণ্ড প্রদান করেন, বা যে মামলাগুলিতে একটি দায়রা আদালত বা [চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট] [বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট] বা প্রথম শ্রেণির অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট শুধুমাত্র [পাঁচ হাজার টাকা] এর বেশি নয় এমন জরিমানা প্রদান করেন, সেই মামলাগুলিতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির কোনো আপিল চলবে না।

ব্যাখ্যা: যখন জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের কোনো মূল সাজা (substantive sentence) দেওয়া হয়নি, তখন ওই আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল চলবে না।

২,৫৯৩.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর 200(aa) ধারা মতে নালিশকারীকে শপথপূর্বক পরীক্ষা করা _______।
  1. নালিশকারীর ইচ্ছাধীন
  2. আবশ্যক নয়
  3. আবশ্যক
  4. আদালতের স্বেচ্ছাধীন
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে, অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা।

- ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে, নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে নালিশকারীকে বা উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন। নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।

- যে ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই-
ক. যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০(ক)]
খ. যেকোনো মামলায় যেক্ষেত্রে আদালত লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করে [ধারা ২২০ (কক)] বা
গ. সরকারি কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে লিখিত আকারে নালিশি দরখাস্ত দায়ের করে সেই ক্ষেত্রেও নালিশকারীর বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০ (কক)]।
২,৫৯৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন তফসিলে আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ এবং কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ আছে?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. তৃতীয় তফসিল
  4. চতুর্থ তফসিল
ব্যাখ্যা
⇒ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি প্রণীত হয়। যদিও পরবর্তীতে ১৮৭২, ১৮৮২ এবং ১৮৯৮ সালে সংস্কার করে কার্যকর করা হয়।
- বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনটি ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই হতে কার্যকর আছে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ধারা ৫৬৫ টি এবং মোট তফসিল ছিল ৫টি, যার মধ্যে ১ টি বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪ টি তফসিল।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে। যা নিম্নরূপ:
১ম তফসিল (First Schedule)- বাতিল
২য় তফসিল (Second Schedule)- আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে;
৩য় তফসিল (Third Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে;
৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে;
৫ম তফসিল (Fifth Schedule)- ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে মোট ৮টি কলাম রয়েছে, যা নিম্নরূপ-
- দ্বিতীয় তফসিল- (Second Schedule)
১ম কলাম- পেনাল কোডের অধীন ধারাসমূহ;
২য় কলাম- অপরাধ;
৩য় কলাম- পরোয়ানা ছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে কি পারে না অর্থাৎ আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ;
৪র্থ কলাম- প্রথমেই সমন বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে কিনা;
৫ম কলাম- অপরাধটি জামিনযোগ্য নাকি জামিন-অযোগ্য;
৬ষ্ঠ কলাম- অপরাধটি মীমাংসাযোগ্য (Compoundable) কিনা;
৭ম কলাম- দণ্ডবিধির অধীন উল্লেখিত শাস্তি;
৮ম কলাম- যে আদালত কর্তৃক অপরাধটি বিচারযোগ্য।
২,৫৯৫.
একজন অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না, যদি অভিযোগকারী একজন-
  1. সরকারী কর্মকর্তা
  2. প্রাপ্ত বয়স্ক
  3. সাক্ষীসহ উপস্থিত 
  4. নারী হলে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে, অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা। ২০০ বিধান অনুযায়ী অপরাধ আমলে গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট নালিশকারীর জবানবন্দি নিতে বাধা ।

• ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে,নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে নালিশকারীকে বা উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন। নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।

• যে ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই-

ক. যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০(ক)]

খ. যেকোন মামলায় যেক্ষেত্রে আদালত লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করে [ধারা ২২০ (কক)] বা

গ. সরকারী কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে লিখিত আকারে নালিশী দরখাস্ত দায়ের করে সেই ক্ষেত্রেও নালিশকারীর বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০ (কক)]।
২,৫৯৬.
দায়রা আদালত কখন অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে?
  1. অভিযোগ গঠনের পূর্বে
  2. প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণের পূর্বে
  3. রায় প্রদানের পূর্বে যেকোন সময়
  4. অভিযোগ গঠনকালে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৮ ধারায়-

যে দায়রা আদালত মামলার বিচার করছে সেই দায়রা আদালত অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে বা ক্ষমা করার নির্দেশ দিতে পারে; বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের সহযোগীকে ক্ষমা করতে পারে । এই ধারা অনুসারে অপরাধের সহযোগিকে ক্ষমা করতে পারে রায় প্রদানের পূর্বে যেকোন সময়

[At any time before the judgment is passed, the Court of Session trying the case may, with the view of obtaining on the trial the evidence of any person supposed to have been directly or indirectly concerned in or privy to, any such offence, tender, or order or the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate to tender, a pardon on the same condition to such person.]
২,৫৯৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১ অনুসারে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দকৃত জিনিসপত্রের তালিকা প্রস্তুতের সময় কতজন সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক?
  1. একজন
  2. কমপক্ষে দুইজন
  3. কমপক্ষে তিনজন
  4. সাক্ষীর প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫১ এর শেষ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো জিনিস জব্দ করা হলে, অফিসার একজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং সম্ভব হলে তার স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন।
- এখানে "a witness" (একজন সাক্ষী) বলা হয়েছে, "witnesses" (একাধিক সাক্ষী) নয়।
সুতরাং, তালিকা প্রস্তুত করার সময় মাত্র একজন সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক।

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫১ - "গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের তল্লাশি" (Search of arrested persons): যখনই কোনো ব্যক্তিকে একজন পুলিশ অফিসার এমন কোনো ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করেন যেখানে জামিনের বিধান নেই, অথবা এমন ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করেন যেখানে জামিনের বিধান আছে কিন্তু গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জামিন দিতে পারেন না, এবং যখনই কোনো ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়, বা কোনো বেসরকারি ব্যক্তি কর্তৃক ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং আইনত জামিনে মুক্ত হতে পারেন না, অথবা জামিন দিতে অক্ষম হন, তখন গ্রেপ্তারকারী অফিসার অথবা, যখন গ্রেপ্তার কোনো বেসরকারি ব্যক্তি দ্বারা করা হয়, তখন যে পুলিশ অফিসারের নিকট গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে হস্তান্তর করা হয়, তিনি ওই ব্যক্তিকে তল্লাশি করতে পারেন এবং তার কাছে পাওয়া প্রয়োজনীয় পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে রাখতে পারেন ; এবং
যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো জিনিস জব্দ করা হয়, সেখানে অফিসার একজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং সম্ভব হলে তার স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন, এবং এর একটি অনুলিপি গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে বা তার দ্বারা মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে সরবরাহ করবেন।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 51. Search of arrested persons:
Whenever a person is arrested by a police-officer under a warrant which does not provide for the taking of bail, or under a warrant which provides for the taking of bail but the person arrested cannot furnish bail, and Whenever a person is arrested without warrant, or by a private person under a warrant, and cannot legally be admitted to bail, or is unable to furnish bail, the officer making the arrest or, when the arrest is made by a private person, the police-officer to whom he makes over the person arrested, may search such person, and place in safe custody all articles, other than necessary wearing-apparel, found upon him ; and
where any article is seized from the arrested person, the officer shall prepare a list in the presence of a witness and obtain his signature, if practicable, and shall serve a copy thereof to the arrested person or to any person nominated by him.

২,৫৯৮.
'গ' এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। আদালত উক্ত মামলা-
  1. হাইকোর্ট বিভাগের অভিযোগে আমলে নিতে পারবে
  2. সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী আমলে নিতে পারে
  3. হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী আমলে নিতে পারে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৫ থেকে ১৯৯ ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম আলোচনা করা হয়েছে।

• ১৯৬ ধারা অনুযায়ী- রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধসমূহ যেমন রাষ্ট্রদ্রোহিতা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, বা দণ্ডবিধির ১০৮ক, ১৫৩ক, ২৯৪ক, ২৯৫ক বা ৫০৫ ধারার অপরাধসমূহ বিচারক এবং সরকারী কর্মকর্তার বিচার সরকারের বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তৈরীকৃত অভিযোগ অনুযায়ী আমলে নিতে পারে

• ১৯৭ ধারা অনুযায়ী- বিচারক এবং সরকারী কর্মকর্তার বিচার সরকারের অনুমতি ছাড়া অভিযোগ আমলে নেয়া যাবেনা।

• ১৯৮ ধারা অনুযায়ী- দণ্ডবিধির ৪৯৩ থেকে ৪৯৬ পর্যন্ত বিবাহ সম্পর্কিত অপরাধ, যেমন মুসলিম নারী কর্তৃক বিবাহ বলবৎ থাকাবস্থায় পুনরায় বিবাহ করা বা দ্বিগামিতা [bigamy] শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নেয়া যাবে।

• ১৯৯ ধারা অনুযায়ী- দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার অধীন ব্যভিচার [Adultery] বা ৪৯৮ ধারায় অপরাধজনক উদ্দেশ্যে বিবাহিত নারীকে প্ররোচিত করে নিয়ে যাওয়া অপরাধের ক্ষেত্রে বিবাহিত নারীর স্বামী কর্তৃক বা স্বামীর অনুপস্থিতিতে উক্ত অপরাধ সংঘটনের সময় যে সকল লোকজন উক্ত মহিলাকে দেখাশোনা করতো, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমলে নেয়া যাবে।

Section 196: Prosecution for offences against the State-
No Court shall take cognizance of any offence punishable under Chapter VI or IXA of the Penal Code (except section 127), or punishable under section 108A, or section 153A, or section 294A, or section 295A or section 505 of the same Code, unless upon complaint made by order of, or under authority from, the Government, or some officer empowered in this behalf by the Government.
২,৫৯৯.
পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের 'Justices of the Peace' কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. এটর্নি জেনারেল
  4. সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ
ব্যাখ্যা

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা-২৫: পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস-
সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিগণ পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিসেস অব দি পিস বলে গণ্য হবেন
এবং দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকার বলে নিজ নিজ এলাকার জন্য জাস্টিসেস অব দি পিস হবেন। 

 Section-25: Ex-officio Justices of the Peace:
In virtue of their respective offices, the Judges of the Supreme Court  are Justices of the Peace within and for of the whole of Bangladesh, Sessions Judges, Chief Judicial Magistrate and Metropolitan Magistrates are Justices of the Peace within their respective jurisdictions.

২,৬০০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আপিলের গ্রহণযোগ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ধারা ৪০৯
  2. ধারা ৪১৮
  3. ধারা ৪২৯
  4. ধারা ৪৩৯ক
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮-এ “Appeals on what matters admissible”, অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে আপিল গ্রহণযোগ্য—এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
এই ধারায় বলা হয়েছে: “An appeal may lie on a matter of fact as well as a matter of law.”
অর্থাৎ, ঘটনার প্রশ্ন (Question of Fact) এবং আইনের প্রশ্ন (Question of Law)—উভয়ের উপর ভিত্তি করে আপিল করা যেতে পারে।
এছাড়াও, ধারার ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে,
“The alleged severity of a sentence shall be deemed to be a matter of law.”
অর্থাৎ, দণ্ডের কথিত কঠোরতাকেও আইনের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

প্রাসঙ্গিক ধারাসমূহের ভূমিকা:
- ধারা ৪০৯: দায়রা আদালতে আপিলের শুনানীর পদ্ধতি
- ধারা ৪২৯: আপিল আদালতের বিচারকদের মতবিরোধে করণীয়
- ধারা ৪৩৯ক: দায়রা আদালতে রিভিশন ক্ষমতা 

→ তবে আপিলের গ্রহণযোগ্য বিষয়বস্তু ঠিক কোনগুলো হতে পারে তা একমাত্র ধারা ৪১৮-তেই নির্ধারণ করা হয়েছে।
 - তাই, প্রশ্নে চাওয়া “আপিলের গ্রহণযোগ্য বিষয়বস্তু” সম্পর্কিত ধারা হলো — ধারা ৪১৮।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৮- কোন কোন বিষয়ে আপিল গ্রহণযোগ্য:
- ঘটনার প্রশ্নে বা আইনের প্রশ্নে আপিল চলতে পারে।
- ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে পূরণকল্পে কোন দণ্ডের কথিত কঠোরতা আইনের বিষয় মর্মে গণ্য হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 418- Appeals on what matters admissible:
- An appeal may lie on a matter of fact as well as a matter of law.
- Explanation- The alleged severity of a sentence shall, for the purposes of this section, be deemed to be a matter of law.