বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Criminal Procedure, 1898

মোট প্রশ্ন২,৮৮৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Criminal Procedure, 1898

PrepBank · পাতা ২১ / ২৯ · ২,০০১২,১০০ / ২,৮৮৩

২,০০১.
ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৮ ধারার অধীন রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বিষয় প্রচারকারী ব্যক্তির সদাচরণের মুচলেকার আদেশ দিতে পারে-
  1. পুলিশ অফিসার
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দায়রা আদালত
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৮ ধারার বিধান: যখন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বা এই বিষয়ে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট জানতে পারেন যে, তার এখতিয়ারের মধ্যে কোন ব্যক্তি লিখিতভাবে বা মৌখিকভাবে বা অন্য কোন উপায়ে উক্ত সীমার ভিতরে বা বাইরে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করছে বা প্রচারের চেষ্টা করছে বা সহায়তা করছে।

ক) কোন বিদ্রোহাত্মক বিষয়, অর্থাৎ যা প্রচার করা দণ্ডবিধির ১২৩ক বা ১২৪ক ধারার অধীন দণ্ডনীয়, অথবা খ) কোন বিষয় যা প্রচার করা দণ্ডবিধির ১৫৩ক ধারার অধীন দণ্ডনীয়, অথবা

গ) কোন বিচারকের ব্যাপারে কোন বিষয় যা দণ্ডবিধির অধীন অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন বা মানহানির সামিল।

তখন উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট যদি মনে করেন যে, ব্যবস্থা গ্রহণ করার পর্যাপ্ত কারণ রয়েছে, তাহলে তিনি (অতঃপর বর্ণিত উপায়ে যে সময় নির্ধারণ যথাযথ নির্ধারণ করেন অনধিক এক বৎসর কালের জন্য উক্ত ব্যক্তি সদাচরণের নিমিত্ত জামিনদারসহ বা ব্যতিত একটি মুচলেকা কেন সম্পাদন করবেন না তার কারণ দর্শাতে বলবেন ।)  

সরকার বা সরকারের নিকট হতে এই ব্যাপারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন অফিসারের আদেশ বা কর্তৃত্ব ব্যতিত অন্য কোন উপায়ে এর বিধানানুসারে রেজিষ্ট্রিকৃত এবং উক্ত নিয়মাবলীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সম্পাদিত, মুদ্রিত ও প্রকাশিত কোন প্রকাশনের সম্পাদক, মালিক, মুদ্রাকর অথবা প্রকাশকের বিরুদ্ধে এই ধারার অধীন উক্ত প্রকাশনের মুদ্রিত কোন বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।
২,০০২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৪ ধারা কোন বিষয়ে বিধান রয়েছে?
  1. বিচারকের ক্ষমতা ও দায়িত্ব
  2. সাক্ষী জেরার নিয়মকানুন
  3. আদালতের এখতিয়ার নির্ধারণ
  4. মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৪ ধারা মূলত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিস্থিতির কথা বলে, যখন সাক্ষী কোনো মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে অবস্থান করেন।
- এই ধারার অধীনে: যদি সাক্ষী মেট্রোপলিটন এলাকার আওতাভুক্ত হন, তাহলে মামলার ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত সেই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন প্রদান করতে পারেন।
- চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট চাইলে এই দায়িত্ব তাঁর অধীনস্থ অন্য কোনো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে অর্পণ করতে পারেন।
- অর্থাৎ, ধারা ৫০৪ সরাসরি "মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন" বিষয়েই বিধান দেয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর: ঘ) মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৪ ধারার বিধান: মেট্রোপলিটন এলাকায় সাক্ষীর ক্ষেত্রে কমিশন:
(১) সাক্ষী যদি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অধিক্ষেত্রের স্থানীয় সীমার মধ্যে অবস্থান করে, সেক্ষেত্রে কমিশন দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন করতে নির্দেশ দিবেন এবং তিনি এরূপভাবে সাক্ষীকে হাজির করে তার সাক্ষ্য এমনভাবে গ্রহণ করবেন যাতে তার নিজের কাছেই মামলাটি পেন্ডিং আছে।
(২) এই ধারার অধীন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিশন দেয়া হলে তিনি কমিশনে প্রদত্ত যাবতীয় ক্ষমতা ও কর্তব্য তার অধীনস্ত কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর ন্যস্ত করতে পারবেন।
----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-504: Commission in case of witness being within a Metropolitan Area:
(1) If the witness is within the local limits of the jurisdiction of any Metropolitan Magistrate, the Magistrate or Court issuing the commission may direct the same to such Metropolitan Magistrate, who thereupon may compel the attendance of, and examine, such witness as if he were a witness in a case pending before himself.
(2) When a commission is issued under this section to the Chief Metropolitan Magistrate, he may delegate his powers and duties under the commission to any Metropolitan Magistrate subordinate to him.
২,০০৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৩ ধারা অনুযায়ী, কোন আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন জারি করতে পারেন?
  1. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  2. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  3. দায়রা আদালত অথবা হাইকোর্ট বিভাগ
  4. উল্লিখিত সকলেই 
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ধারা ৫০৩ অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগ যেকোনো একটি যখন মনে করেন যে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং সাক্ষীকে হাজির করা বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধা সৃষ্টি করবে, তারা সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন জারি করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৩ ধারার বিধান: সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ-
- ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যকোনো কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত অথবা হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষীর জাবনবন্দী গ্রহণ করা প্রয়োজন কিন্তু বিলম্ব, ব্যয় অথবা অসুবিধা ব্যতীত উক্ত সাক্ষীকে হাজির করা সম্ভব নয় অথবা মামলার পরিস্থিতিতে এই বিলম্ব,ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা অযৌক্তিক তাহলে,
- উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত সাক্ষীকে হাজির হতে রেহাই দিতে পারবে এবং উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য সাক্ষী যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে বাস করেন তাকে কমিশন দিতে পারবেন। সাক্ষী যদি যুক্তরাজ্য বা বাংলাদেশ ব্যতীত কমনওয়েলথের অন্য কোন দেশে বা মায়ানমারে বাস করেন তাহলে সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত উক্ত দেশে এই সম্পর্কে ক্ষমতাবান কোন আদালত বা জজকে কমিশন দেয়া যাবে। এরূপ কমিশন প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার সাক্ষী যেখানে আছেন সেখানে গমন করবেন অথবা সাক্ষীকে নিজের নিকট আহ্বান করবেন এবং তার সাক্ষাত করবেন।
-----------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-503.When attendance of witness may be dispensed with Issue of commission and procedure thereunder:
(1) Whenever in the course of an inquiry, a trial or any other proceeding under this Code, it appears to a Metropolitan Magistrate, a Chief Judicial Magistrate, a Court of Session or the High Court Division that the examination of a witness is necessary for the ends of justice, and that the attendance of such witness cannot be procured without an amount of delay, expense or inconvenience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable, such Magistrate or Court may dispense with such attendance and may issue a commission to any District Magistrate, Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate, within the local limits of whose jurisdiction such witness resides, to take the evidence of such witness.
(2B) When the witness resides in the United Kingdom or any other country of the Commonwealth other than Bangladesh, or in the Union of Burma, or any other country in which reciprocal arrangement in this behalf exists, the commission may be issued to such Court or Judge having authority in this behalf in that country as may be specified by the Government by notification in the official Gazette.
(3) The Magistrate or officer to whom the commission is issued, or if he is the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate, he, or any other Magistrate as he appoints in this behalf, shall proceed to the place where the witness is or shall summon the witness before him, and shall take down his evidence in the same manner, and may for this purpose exercise the same powers, as in trials of warrant-cases under this Code.

২,০০৪.
ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসারে Special Executive Magistrate-দের নিয়োগের মেয়াদ কে নির্ধারণ করে?
  1. সরকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ১২ ধারামতে Special Magistrate তিন প্রকার। যথা-
ⅰ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Special Executive Magistrate);
ii) বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট (Special Magistrate);
iii) বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (Special Metropolitan Magistrate).

- ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১২(২) অনুসারে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Special Executive Magistrate)-দের নিয়োগের মেয়াদ সরকার নির্ধারণ করে।
- ধারা ১২(২) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "The persons on whom the powers under sub-section (1) are conferred shall be called Special Executive Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may by general or special order direct."

- "উপ-ধারা (১) এর অধীন যেসব ব্যক্তির উপর ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, তারা বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলে আখ্যায়িত হবেন এবং সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা যত মেয়াদের জন্য নির্দেশ দেন, তত মেয়াদের জন্য তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।"
অতএব, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট-দের নিয়োগের মেয়াদ নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-12. Special Magistrate:
(1) The Government may confer upon any person all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on an Executive Magistrate in respect of particular cases or a particular class or classes of cases, or in regard to cases generally in any local area outside a Metropolitan area: 
Provided that no power shall be conferred under the sub-section on any police officer below the grade of an Assistant Superintendent of Police and no powers shall be conferred on a such police officer except so far as may be necessary for preserving the peace, preventing crime and detecting apprehending and detaining offenders, in order to bring the offender before a Magistrate, and for the performance by the officer of any other duties imposed upon him by any law for the time being in force. 
(2) The persons on whom the powers under sub-section (1) are conferred shall be called Special Executive Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may by general or special order direct. 
(3) The Government may, in consultation with the High Court Division confer upon any Magistrate all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on a Judicial Magistrate of the first, second or third class in respect of particular cases or a particular class or classes of cases or in regard to cases generally in any local area outside a Metropolitan area. 
(4) The Magistrate on whom the powers under sub-section (3) are conferred shall be called Special Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may, in consultation with the High Court Division, by general or special order direct. 
(5) The Government may in consultation with the High Court Division confer upon any Metropolitan Magistrate all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on Metropolitan Magistrate in respect of particular cases or a particular class or classes, or in regard to cases generally in any Metropolitan Area. 
(6) The persons on whom the powers under sub-section (5) are conferred shall be called Special Metropolitan Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may in consultation with High Court Division by general or special order direct.

২,০০৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৭ ধারা কোন বিষয়ে বিধান রয়েছে?
  1. সাক্ষী পরীক্ষা
  2. কমিশন প্রদান
  3. আদালতের এখতিয়ার
  4. কমিশন ফেরত প্রদান
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫০৭ এ এমন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে যেখানে ধারা ৫০৩ বা ধারা ৫০৬ অনুসারে যে কমিশন জারি করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে কার্যকর হওয়ার পর কীভাবে তা আদালতে ফেরত পাঠানো হবে এবং সাক্ষ্য ও বিবরণী কীভাবে মামলার অংশ হিসেবে গৃহীত হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুতরাং, ধারা ৫০৭ মূলত কমিশন ফেরত প্রদান ও কমিশনের মাধ্যমে গৃহীত সাক্ষ্যের ব্যবহার সম্পর্কিত বিধান নির্ধারণ করে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৭- কমিশন ফেরত প্রদান:
(১) ধারা-৫০৩ বা ৫০৬ এর অধীন প্রদত্ত কোন কমিশন যথাযথভাবে সম্পাদিত হওয়ার পর উক্ত কমিশন অনুসারে গৃহীত সাক্ষীর সাক্ষ্যসহ কমিশনটি যে আদালত হতে প্রদত্ত হয়েছিল, সেই আদালতে ফেরত দিতে হবে এবং কমিশন ইহার বিবরণী এবং সাক্ষ্য সকল যুক্তিসংগত সময়ে পক্ষসমূহের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং সকল সংগত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে যে কোন পক্ষের মামলায় সাক্ষ্যে পড়া যাবে এবং তা নথির অংশ হবে।
(২) এভাবে গৃহীত সাক্ষ্য সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা-৩৩ এ নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করলে তা মামলার কোন পরবর্তী পর্যায়ে অন্য কোন আদালতেরও সাক্ষ্যে গৃহীত হতে পারে।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 507- Return of commission:
(1) After any commission issued under section 503 or section 506 has been duly executed, it shall be returned, together with the deposition of the witness examined thereunder, to the Court out of which it issued; and the commission, the return thereto and the deposition shall be open at all reasonable times to inspection of the parties, and may, subject to all just exceptions, be read in evidence in the case by either party, and shall form part of the record.
(2) Any deposition so taken, if it satisfies the conditions prescribed by section 33 of the Evidence Act, 1872, may also be received in evidence at any subsequent stage of the case before another Court.
২,০০৬.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে যে কারণে নালিশকারী খালাসের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারেন?
  1. আদেশটিতে যদি আইনগত ভুল থাকে যা ন্যায়বিচার ব্যহত করে
  2. আদেশটিতে যদি আইনগত ভুল থাকে
  3. আদেশটিতে যদি ঘটনাগত ভুল থাকে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১৭(২) মতে- ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে আদেশটিতে যদি আইনগত ভুল থাকে যা ন্যায় বিচার ব্যহত করে। তাহলে নালিশকারী খালাসের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারেন?
২,০০৭.
পলাতক ব্যক্তিকে সর্বনিম্ন কত দিনের মধ্যে হাজির হবার নির্দেশ দিয়ে আদালত লিখিত হুলিয়া জারি করতে পারে?
  1. ৭ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ধারা-
(১) যদি কোন আদালতের এরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে (সাক্ষ্য গ্রহণ করার পরে অথবা পূর্বে) যে, উক্ত আদালত যার বিরুদ্ধে পরোয়ানা প্রদান করেছেন সেই ব্যক্তি পলাতক হয়েছে অথবা পরোয়ানা কার্যকর না হতে পারে সেজন্য আত্মগোপন করছে, তাহলে উক্ত আদালত তাকে একটি নিদিষ্ট স্থানে এবং হুলিয়া জারীর তারিখ হতে ত্রিশ দিনের কম নহে, এমন নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হবার নির্দেশ দিয়া একটি লিখিত হুলিয়া জারী করতে পারবেন।

(২) হুলিয়া নিম্নলিখিতভাবে জারী করতে হবেঃ
ক) উক্ত ব্যক্তি সাধারণতঃ যেখানে বাস করে সেই শহরে অথবা গ্রামের প্রকাশ্য স্থানে উহা প্রকাশ্যভাবে পাঠ করতে হবে;
খ) উক্ত ব্যক্তি সাধারণতঃ যেখানে বাস করে, সেই বাড়ি অথবা বস্তু অথবা শহর অথবা গ্রামের প্রকাশ্য স্থানে উহা লটকায়ে দিতে হবে; এবং
গ) উহার একটি কপি আদালত ভবনের প্রকাশ্য স্থানে লটকায়ে দিতে হবে।

(৩) হুলিয়া প্রদানকারী আদালত যদি এই মর্মে একটি লিখিত বিবৃতি দেন যে, হুলিয়া একটি নির্দিষ্ট দিনে যথাযথভাবে জারী হয়েছে তাহলো উহা চূড়ান্ত সাক্ষ্য হবে যে, এই ধারার নির্দেশ সম্বলিত হিসাবে এবং উক্ত দিনে হুলিয়া প্রকাশিত হয়েছে।
২,০০৮.
সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়া থেকে অব্যাহতি দিতে পারে কত ধারায়?
  1. ধারা ৫০৫
  2. ধারা ৫০৪
  3. ধারা ৫০৩
  4. ধারা ৫০২
ব্যাখ্যা
ধারা-৫০৩ ( সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহনের জন্য কমিশন নিয়োগ)-

ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত অথবা হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষীর জাবনবন্দী গ্রহন করা প্রয়োজন কিন্তু বিলম্ব, ব্যয় অথবা অসুবিধা ব্যতীত উক্ত সাক্ষীকে হাজির করা সম্ভব নয় অথবা মামলার পরিস্থিতিতে এই বিলম্ব,ব্যয় বা অসুবিধা বহন করা অযৌক্তিক তাহলে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত উক্ত সাক্ষীকে হাজির হতে রেহাই দিতে পারবে এবং উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য সাক্ষী যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে বাস করেন তাকে কমিশন দিতে পারবেন।

সাক্ষী যদি যুক্তরাজ্য বা বাংলাদেশ ব্যতীত কমনওয়েলথের অন্য কোন দেশে বা মায়ানমারে বাস করেন তাহলে সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত উক্ত দেশে এই সম্পর্কে ক্ষমতাবান কোন আদালত বা জজকে কমিশন দেয়া যাবে। এরূপ কমিশন প্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার সাক্ষী যেখানে আছেন সেখানে গমন করবেন অথবা সাক্ষীকে নিজের নিকট আহ্বান করবেন এবং তার সাক্ষাত করবেন।
২,০০৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৪(৪) অনুযায়ী জরিমানা আদায় সম্ভব না হলে আসামিকে সর্বোচ্চ কতদিনের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক করা যেতে পারে?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৪(৪) অনুযায়ী, যদি মুচলেকার জরিমানা প্রদত্ত না হয় এবং তা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা বিক্রি করে আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে আদালত ওই ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য দেওয়ানি কারাগারে আটক করার নির্দেশ দিতে পারে।
- অর্থাৎ, জরিমানা আদায় সম্ভব না হলে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়ানি কারাগারে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত আটক রাখা যেতে পারে।
--------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section- 514.Procedure on forfeiture of bond:
(1) Whenever it is proved to the satisfaction of the Court by which a bond under this Code has been taken, or of a Metropolitan Magistrate or Magistrate of the first class,
or, when the bond is for appearance before a Court, to the satisfaction of such Court, that such bond has been forfeited, the Court shall record the grounds of such proof, and may call upon any person bound by such bond to pay the penalty thereof, or to show cause why it should not be paid.
(2) If sufficient cause is not shown and the penalty is not paid, the Court may proceed to recover the same by issuing a warrant for the attachment and sale of the movable property belonging to such person or his estate if he be dead.
(3) Such warrant may be executed within the local limits of the jurisdiction of the Court which issued it; and it shall authorize the attachment and sale of any movable property belonging to such person without such limits, when endorsed by the District Magistrate within the local limits of whose jurisdiction such property is found. 
(4) If such penalty is not paid and cannot be recovered by such attachment and sale, the person so bound shall be liable, by order of the Court which issued the warrant, to imprisonment in the civil jail for a term which may extend to six months.
(5) The Court may, at its discretion, remit any portion of the penalty mentioned and enforce payment in part only. 
(6) Where a surety to a bond dies before the bond is forfeited, his estate shall be discharged from all liability in respect of the bond.
(7) When any person who has furnished security under section 106 or section 118 is convicted of an offence the commission of which constitutes a breach of the conditions of his bond, or of a bond executed in lieu of his bond under section 514B, a certified copy of the judgment of the Court by which he was convicted of such offence may be used as evidence in proceedings under this section against his surety or sureties, and, if such certified copy is so used, the Court shall presume that such offence was committed by him unless the contrary is proved.

২,০১০.
আপিল বিভাগ কোন ক্ষেত্রে মামলা বা আপিল স্থানান্তর করে থাকে?
  1. ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে
  2. পক্ষগণের সুবিধার উদ্দেশ্যে
  3. সাক্ষীদের সুবিধার উদ্দেশ্যে
  4. উল্লিখিত যেকোন ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ধারা ৫২৫ক- মামলা ও আপীল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের ক্ষমতা

(১) যেক্ষেত্রে এটা প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ স্থানান্তর ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বা পক্ষগণ বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধার উন্নয়ন ঘটাবে সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগ কোন নির্দিষ্ট মামলা বা আপিল হাইকোর্ট বিভাগের এক স্থায়ী বেঞ্চ থেকে উহার অন্য স্থায়ী বেঞ্চে কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের কোন স্থায়ী বেঞ্চের এখতিয়ারের মধ্যকার কোন ফৌজদারী আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগের অন্য কোন স্থায়ী বেঞ্চের মধ্যকার এখতিয়ারের মধ্যকার একই বা উচ্চতর ক্ষমতা সম্পন্ন ফৌজদারী আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।

(২) যে হাইকোর্ট ডিভিশনের স্থায়ী বেঞ্চ কিংবা ক্ষেত্রমতে আদালতে মামলা বা আপীল স্থানান্তরিত হয়, সে বেঞ্চ বা আদালত এমনভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন যাতে মূলতঃ সেখানেই উক্ত মামলা বা আপীল দায়ের করা বা উপস্থাপিত হয়েছিল।

Section 525A- Power of Appellate Division to transfer cases and appeals
(1) The Appellate Division may direct the transfer of any particular case or appeal from one permanent Bench of the High Court Division to another permanent Bench of the High Court Division, or from any Criminal Court within the jurisdiction of one permanent Bench of the High Court Division to any other Criminal Court of equal or superior jurisdiction within the jurisdiction of another permanent Bench of the High Court Division, whenever it appears to it that such transfer promote the ends of justice, or tend to the general convenience of parties or witnesses.
(2) The permanent Bench of the High Court Division or the Court, as the case may be, to which such case or appeal is transferred shall deal with the same as if it had been originally instituted in, or presented to, such Bench or Court, as the case may be.
২,০১১.
কোনো ফৌজদারি মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং এডভোকেট নিযুক্ত থাকলে, উক্ত মামলা-
  1. শুধুমাত্র এডভোকেট মামলা পরিচালনা করবেন
  2. শুধুমাত্র পাবলিক প্রসিকিউটর মামলা পরিচালনা করবেন
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেটের নির্দেশাধীন কাজ করবেন
  4. এডভোকেট পাবলিক প্রসিকিউরের নির্দেশাধীন কাজ করবেন
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৩ ধারা অনুসারে,
পাবলিক প্রসিকিউটর যে মামলায় ভারপ্রাপ্ত হয়েছেন, সেই মামলা যে আদালতে তদন্তাধীন, বিচার বা আপীলাধীন রয়েছে, তিনি সেই আদালতে কোনো প্রকার লিখিত কর্তৃত্ব ছাড়াই হাজির হতে ও মামলা পরিচালনা করতে পারবেন, এবং কোনো বেসরকারী ব্যক্তি যদি এরূপ কোন মামলার কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিচালনার জন্য এডভোকেট নির্দেশ দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে নির্দেশাধীন এডভোকেট উক্ত মামলায় তাঁর নির্দেশাধীন কাজ করবেন।

Section 493-
The Public Prosecutor may appear and plead without any written authority before any Court in which any case of which he has charge is under inquiry, trial or appeal, and if any private person instructs a pleader to prosecute in any Court any person in any such case, the Public Prosecutor shall conduct the prosecution, and the pleader so instructed shall act therein, under his directions.
২,০১২.
তলবী ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে তার পরিবারের কোন সদস্যকে সমনের কপি প্রদান করা হবে?
  1. তার পিতামাতার নিকট
  2. সাবালক পুরুষ ব্যক্তির নিকট
  3. সাবালক যে কোন ব্যক্তির বরাবর
  4. তার আইনগত অভিভাবকের নিকট
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৭০ ধারার বিধান খুঁজে পাওয়া যায় না এমন ব্যক্তির কাছে সমন জারির পদ্ধতি:
- যার উপর সমন জারী করা হবে, সঠিক পদ্ধতিতে চেষ্টা করেও যেক্ষেত্রে তাকে খুঁজে পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে সমনের দুই কপির মধ্যে একটি তার পরিবারের একজন সাবালক পুরুষ সদস্য বরাবর দিয়া সমন জারী করতে হবে এবং জারীকারী অফিসার দাবী করলে, যার নিকট সমন জারী করা হল, তিনি সমনের দুটি নকলের অপর পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর করে প্রাপ্তি স্বীকার করবেন।
------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 70: Service when person summoned cannot be found:
- Where the person summoned cannot by the exercise of due diligence be found, the summons may be served by leaving one of the duplicates for him with some adult male member of his family, and the person with whom the summons is so left shall, if so required by the serving officer, sign a receipt therefore on the back of the other duplicate.
২,০১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৮ ধারার অধীনে স্থানীয় তদন্তের ব্যয় কে বহন করবে তা নির্ধারণ করবে-
  1. তদন্তকারী কর্মকর্তা
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পক্ষগণ নিজেরা
  4. কমিশনার
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির-১৪৮: স্থানীয় তদন্ত:
(১) যখন এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে একটি স্থানীয় তদন্ত প্রয়োজন হয়, তখন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে এই তদন্ত পরিচালনার জন্য নিয়োগ করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার জন্য তাকে লিখিত নির্দেশনা সরবরাহ করতে পারেন।তিনি নির্ধারণ করতে পারেন যে, তদন্তের সমস্ত বা আংশিক ব্যয় কার দ্বারা পরিশোধিত হবে।

(২) এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতিবেদন মামলায় প্রমাণ হিসেবে পড়া যেতে পারে।

২,০১৪.
আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড দেয়া যেতে পারে?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৩০০ টাকা
  3. ২০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০-৪৮৬ ধারায় আদালত অবমাননা (Contempt of Court) সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।

ধারা ৪৮০- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি

কোন দেওয়ানী, ফৌজদারী বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লেখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোন সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে, এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।

Section 480- Procedure in certain cases of contempt

When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.
২,০১৫.
শুনানী মূলতবীর দিন একজন ম্যাজিস্ট্রেট সরকারি কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন ফৌজদারি কার্যবিধির-
  1. ২৪৭ ধারায়
  2. ২৪৮ ধারায়
  3. ২৪৯ ধারায়
  4. ২৫০ ধারায়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ অনুযায়ী-
নালিশের ভিত্তিতে যদি সমন জারি করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজির হবার জন্য নির্দিষ্ট দিনে অথবা তার পরবর্তী কোন দিনে (শুনানী মূলতবীর দিন) অভিযোগকারী যদি উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন যদি না কোন কারণে তিনি অন্য কোন দিনে মামলাটির শুনানী মুলতবী করে দেয়া যথাযথ বিবেচনা করেন।

শর্ত এই যে, 
যেক্ষেত্রে কোন অভিযোগকারী যদি সরকারি কর্মচারী হন এবং যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিমত পোষণ করেন যে, অভিযোগকারীর ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেয়া অপ্রয়োজনীয় সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ঐরূপ হাজিরা দেয়া হতে অব্যাহতি দিতে পারেন ও মামলায় অগ্রসর হতে পারেন।

২,০১৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহার করার গ্রহণযোগ্যতা দেয়া হয়েছে?
  1. ১৭৬(১) ধারায়
  2. ১৭৬(২) ধারায়
  3. ৫০৫ ধারায়
  4. ৫০৯ক ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ক ধারার বিধান: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট-
এই কার্যবিধির অধীন যেক্ষেত্রে ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে ময়না তদন্তের রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহৃত হওয়া দরকার এবং ময়না তদন্তকারী সিভিল সার্জন বা অন্য কোন মেডিকেল অফিসার মারা গেলে বা সাক্ষ্য প্রদান করতে অপারগ হন বা বাংলাদেশের সীমার বাহিরে অবস্থান করেন এবং এরূপ বিলম্ব বা অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়া বা অসুবিধা ছাড়া তাকে হাজির করা না যায়, যা মামলার অবস্থায় অযৌক্তিক সেক্ষেত্রে সাক্ষী রূপে তাকে তলব না করেই উক্ত রিপোর্ট সাক্ষ্য রূপে ব্যবহার করা যাবে।
 ---------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 509A: Report of post-mortem examination-
Where in any inquiry, trial or other proceeding under this Code the report of a post-mortem examination is required to be used as evidence, and the Civil Surgeon or other medical officer who made the report is dead or is incapable of giving evidence or is beyond the limits of Bangladesh and his attendance cannot be procured without an amount of delay, expense or inconvenience which, under the circumstances of the case, would be unreasonable, such report may be used as evidence.
২,০১৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারায় কে শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকা অকার্যকর করার ক্ষমতা রাখেন?
  1. পুলিশ সুপার
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. মুচলেকা দাতা
  4. স্থানীয় থানার ওসি
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারা: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের মুচলেকা অকার্যকর করার ক্ষমতা:
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাঁহার নিজ জেলায় তাঁর আদালতের উচ্চ নহে এরূপ আদালতের আদেশ কর্তৃক এই অধ্যায়ের বিধানমতে সম্পাদিত শান্তিরক্ষা বা সদাচরণের কোন মুচলেকা যথেষ্ট পরিমাণ হেতু থাকলে তা লিপিবদ্ধ করে যে কোন সময়ে অকার্যকর করতে পারবেন।

Section 125- Power of District Magistrate to cancel any bond for keeping the peace or good behaviour:
The District Magistrate may at any time, for sufficient reasons to be recorded in writing, cancel any bond for keeping the peace or for good behaviour executed under this Chapter by order of any Court in his district not superior to his Court.
২,০১৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪১ কোন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য?
  1. যখন আসামি উন্মাদ প্রমাণিত হয়
  2. যখন আসামি আদালতে হাজির হতে অস্বীকার করে
  3. যখন আসামি বিচার কার্যক্রম বুঝতে অক্ষম
  4. যখন আসামি স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করে
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৪১: অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচার কার্যক্রম না বুঝলে করণীয়:
যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি উন্মাদ না হয়, কিন্তু তারপরও তাকে বিচার কার্যক্রম বোঝানো সম্ভব না হয়, তবে আদালত তদন্ত বা বিচার চালিয়ে যেতে পারবে।

তবে হাইকোর্ট বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো আদালতে—
যদি সেই বিচার কার্যক্রমের ফলাফল হিসেবে দণ্ড (conviction) হয়, তবে সেই কার্যক্রম মামলার পরিস্থিতির বিবরণসহ হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর হাইকোর্ট বিভাগ যে আদেশ প্রয়োজন মনে করবে, তা প্রদান করবে।

Section 341- Procedure where accused does not understand proceedings:
If the accused, though not insane, cannot be made to understand the proceedings, the Court may proceed with the inquiry or trial; and, in the case of a Court other than High Court Division, if such 355[proceedings result] in a conviction, the proceedings shall be forwarded to the High Court Division with a report of the circumstances of the case, and the High Court Division shall pass thereon such order as it thinks fit.

২,০১৯.
Which type of Magistrate can direct a search in their presence according to Section 105?
  1. Any Magistrate
  2. A Special Magistrate
  3. Executive Magistrate only
  4. Judicial Magistrate only
ব্যাখ্যা
Section 105- Magistrate may direct search in his presence:
Any Magistrate, whether Executive or Judicial] may direct a search to be made in his presence of any place for the search of which he is competent to issue a search-warrant.

ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৫ ধারা- ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে তল্লাশী পরিচালনার নির্দেশ দিতে পারেন:
যে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী অথবা বিচারিক, তিনি যে স্থানটির তল্লাশী করার জন্য উপযুক্ত, সেসব স্থানে তল্লাশী করার জন্য তিনি নিজের উপস্থিতিতে তল্লাশী পরিচালনা করার নির্দেশ দিতে পারেন।
২,০২০.
ফৌজদারী মামলায় সময়ের প্রার্থনা করে দরখাস্ত করা যায় কত ধারা অনুযায়ী?
  1. ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৬৭
  2. ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৭৪
  3. ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৪৪
  4. ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৮১
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি মামলায় সময়ের প্রার্থনা করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৪ ধারায় দরখাস্ত করা যায়।

• ধারা ৩৪৪- কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি রাখার ক্ষমতা

(১) কোন সাক্ষীর অনুপস্থিতি বা অন্য কোন যৌক্তিক কারণে যদি কোন অনুসন্ধান বা বিচার আরম্ভ, স্থগিত রাখা বা মুলতবি রাখা প্রয়োজনীয় বা সংগত হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে আদালত সঠিক মনে করলে কারণ উল্লেখপূর্বক লিখিত আদেশ দ্বারা যে শর্তে সঠিক মনে করেন সে শর্তে, যে সময়ের জন্য যৌক্তিক মনে করেন সেই সময়ের জন্য সময়ে সময়ে তা স্থগিত বা মুলতবি রাখতে পারবেন এবং আসামী হাজতে থাকলে পরোয়ানা দ্বারা তাকে রিমান্ডে দিতে পারবেনঃ

রিমান্ডঃ শর্ত থাকে যে, এই ধারা অনুসারে, কোন ম্যাজিস্ট্রেট কোন আসামীকে একসঙ্গে ১৫ (পনের) দিনের অধিক মেয়াদের জন্য রিমান্ডে পাঠাতে পারবেন না।

(২) হাইকোর্ট ডিভিশন ব্যতিরেকে অন্য কোন আদালত কর্তৃক এই ধারার অধীন প্রদত্ত প্রত্যেকটি আদেশ লিখিত ও বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।
ব্যাখ্যাঃ আসামী অপরাধ করে থাকতে পারে এমর্মে সন্দেহ সৃষ্টির মত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য যদি সংগ্রহ হয়ে থাকে, এবং রিমান্ডের দ্বারা আরও সাক্ষ্য হতে পারে বলে যদি প্রতীয়মান হয়। তাহলে তা আসামীকে রিমান্ডে দিবার একটি যৌক্তিক কারণ হবে।

Section 344 (Power to postpone or adjourn proceedings)-

(1) If, from the absence of a witness, or any other reasonable cause, it becomes necessary or advisable to postpone the commencement of, or adjourn any inquiry or trial, the Court may, if it thinks fit, by order in writing, stating the reasons therefor, from time to time, postpone or adjourn the same on such terms as it thinks fit, for such time as it considers reasonable, and may by a warrant remand the accused if in custody:

Remand: Provided that no Magistrate shall remand an accused person to custody under this section for a term exceeding fifteen days at a time.

(2) Every order made under this section by a Court other than High Court Division shall be in writing signed by the presiding Judge or Magistrate.
Explanation: Reasonable cause for remand.-If sufficient evidence has been obtained to raise a suspicion that the accused may have committed an offence, and it appears likely that further evidence may be obtained by a remand, this is a reasonable cause for a remand.
২,০২১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০( মিথ্যা,তুচ্ছ ও বিরক্তকর অভিযােগ) এর ক্ষেত্রে কত টাকার বেশি ক্ষতিপূরনের আদেশ দিলে এর বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে?
  1. ১০০০
  2. ৫০০
  3. ১০০
  4. ৩০০০
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৫০ অনুসারে,আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগ মিথ্যা এবং তুচ্ছ বা বিরক্তিকর হলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে অব্যাহতি প্রদান করবেন এবং সংবাদ দাতা বা অভিযােগকারিকে কারণ দর্শাতে বলবেন যে, কেন তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরনের আদেশ দেওয়া হবে না।

• ফরিয়াদি / সংবাদ দাতা/ অভিযােগকারীর কারণ দর্শানোর পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি সন্তুষ্ট হন- অভিযােগটি মিথ্যা তুচ্ছ ও বিরক্তিকর তাহলে ফরিয়াদিকে অনধিক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ আসামিকে প্রদান করার আদেশ দিতে পারেন। এমনকি ক্ষতিপূরণ আদেশ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন যে, ক্ষতিপূরণ প্রদানকারী ব্যক্তি অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ডে বা অনধিক ৩০০০ টাকা অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রে এই ক্ষেত্রে অনধিক ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরনের আদেশ দিতে পারেন।ফরিয়াদি সংবাদদাতা ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ হলে ৩০ দিন পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

• দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে বা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ১০০ টাকার বেশি ক্ষতিপূরনের আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরন সম্পর্কে আপিল দায়ের করা যাবে।
২,০২২.
ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন সর্বোচ্চ কত দিনের জন্য শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির মুচলেকার মেয়াদঃ

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭ দন্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৮ রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক বিষয় প্রচারকারীর সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৯ ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ব্যক্তিবৃন্দের সদাচরণের মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১০ অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে সর্বোচ্চ ৩ বছর।
২,০২৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩০ ধারা অনুযায়ী, নতুন বা পরিবর্তিত অভিযোগের বিচার করতে যদি পূর্ববর্তী অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, তাহলে কী করতে হবে?
  1. মামলা বাতিল করতে হবে
  2. মামলা অবিলম্বে এগিয়ে নিতে হবে
  3. অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মামলা স্থগিত রাখতে হবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩০ ধারা অনুযায়ী, যদি নতুন বা পরিবর্তিত অভিযোগের বিচার করতে পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হয়, তাহলে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মামলা চালানো যাবে না। তবে, যদি আগেই একই ঘটনার জন্য অনুমোদন নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে অনুমোদনের দরকার নেই।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩০ ধারার বিধান: বিচার স্থগিতকরণ যদি পরিবর্তিত অভিযোগে অপরাধের বিচারের জন্য পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হয়: 
- যদি নতুন, পরিবর্তিত বা সংযোজিত অভিযোগে উল্লিখিত অপরাধটি এমন হয়, যার বিচারের জন্য পূর্বানুমোদন প্রয়োজন, তাহলে সেই অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মামলা পরিচালনা করা যাবে না, যদি না একই তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব থেকেই অনুমোদন নেওয়া হয়ে থাকে, যার ওপর নতুন বা পরিবর্তিত অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত।
----------
→ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 230. Stay of proceedings if prosecution of offence in altered charge require previous sanction:
If the offence stated in the new or altered or added charge is one for the prosecution of which previous sanction is necessary, the case shall not be proceeded with until such sanction is obtained, unless sanction has been already obtained for a prosecution on the same facts as those on which the new or altered charge is founded.

২,০২৪.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী Special Magistrate বা বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট কত ধরণের?
  1. ১ ধরণের
  2. ২ ধরণের
  3. ৩ ধরণের
  4. ৪ ধরণের
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ১২ ধারামতে Special Magistrate তিন প্রকার। যথা-

ⅰ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Special Executive Magistrate);

ii) বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট (Special Magistrate);

iii) বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (Special Metropolitan Magistrate).

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১২(১) ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণযোগ্য ক্ষমতা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য কোন ব্যক্তির উপর অর্পণ করলে, উক্ত ব্যক্তিবর্গ বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলে গণ্য হবে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১২(৩) ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরে কোন প্রথম শ্রেণী, দ্বিতীয় শ্রেণী বা তৃতীয় শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণযোগ্য ক্ষমতা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণ করলে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট বলে গণ্য হবে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১২(৫) ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে, মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণযোগ ক্ষমতা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণ করলে, উক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বলে গণ্য হবে।

------------------------------------------------------
♦ Special Magistrate
[12. (1) The Government may confer upon any person all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on an Executive Magistrate in respect of particular cases or a particular class or classes of cases, or in regard to cases generally in any local area outside a Metropolitan area: 
Provided that no power shall be conferred under the sub-section on any police officer below the grade of an Assistant Superintendent of Police and no powers shall be conferred on a such police officer except so far as may be necessary for preserving the peace, preventing crime and detecting apprehending and detaining offenders, in order to bring the offender before a Magistrate, and for the performance by the officer of any other duties imposed upon him by any law for the time being in force. 
(2) The persons on whom the powers under sub-section (1) are conferred shall be called Special Executive Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may by general or special order direct. 
(3) The Government may, in consultation with the High Court Division confer upon any Magistrate all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on a Judicial Magistrate of the first, second or third class in respect of particular cases or a particular class or classes of cases or in regard to cases generally in any local area outside a Metropolitan area. 
(4) The Magistrate on whom the powers under sub-section (3) are conferred shall be called Special Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may, in consultation with the High Court Division, by general or special order direct. 
(5) The Government may in consultation with the High Court Division confer upon any Metropolitan Magistrate all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on Metropolitan Magistrate in respect of particular cases or a particular class or classes, or in regard to cases generally in any Metropolitan Area. 
(6) The persons on whom the powers under sub-section (5) are conferred shall be called Special Metropolitan Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may in consultation with High Court Division by general or special order direct.]
২,০২৫.
বিচার চলাকালে ১ বছর হাজতে থাকা একজন আসামীর ৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ হয়, দণ্ডিত আসামীকে কত দিন কারাগারে সাজা ভোগ করতে হবে?
  1. ৬ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারায় বিচার চলাকালে আসামীর জেল হাজতে থাকা সময় কীভাবে দণ্ড থেকে বাদ যাবে তা বলা হয়েছে যা নিম্নরূপ:
(১) ফৌজদারি মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে অর্থাৎ মামলা শুরু হওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আসামি যে কয়দিন জেলহাজতে ছিল, তা কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। তবে এই বিধানটি আসামি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ ৩৫ক ধারাটি মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

(২) যদি বিচার চলাকালীন সময়ে হাজতে থাকার মেয়াদ কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে বেশী হয় তাহলে আসামি পুরো কারাদণ্ড ভোগ করেছে বলে গণ্য হবে এবং জেল থেকে মুক্তি পাবে; পাশাপাশি কোন অর্থদণ্ড থাকলে সেই অর্থদণ্ড মওকুফ হয়ে যাবে।

অর্থ্যাৎ, দণ্ডিত আসামীকে ৪ বছর কারাগারে সাজা ভোগ করতে হবে।
২,০২৬.
কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আমল অযোগ্য অপরাধের সংবাদ দেওয়া হলে, তিনি কী করবেন?
  1. অপরাধীকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করবেন
  2. অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন
  3. সংবাদদাতাকে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর যেতে বলবেন
  4. সংবাদের সারাংশ লিখে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করবেন
ব্যাখ্যা
ধারা ১৫৫- আমল অযোগ্য মামলার সংবাদ:
(১) যখন কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঐরূপ থানার সীমার মধ্যে কোন আমল অযোগ্য অপরাধের সম্পাদনের বিষয়ে সংবাদ প্রদান করা হয়, তখন তিনি, এ ব্যাপারে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট নিদর্শে ঐরূপ অফিসার কর্তৃক রক্ষিত বহিতে উক্ত সংবাদের সারাংশ লিখে রাখবেন বা রাখাবেন এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর যাওয়ার নির্দেশ দিবেন।

(২) আমল অযোগ্য মামলার তদন্তঃ আমল অযোগ্য অপরাধের বিচার করার বা উহা বিচারার্থ প্রেরণ ক্ষমতা আছে এরূপ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত কোন পুলিশ অফিসার কোন আমল অযোগ্য ঘটনা তদন্ত করবেন না।

(৩) এরূপ আদেশপ্রাপ্ত যে কোন পুলিশ অফিসার ঐ তদন্তের ব্যাপারে (বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছাড়া), কোন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমলযোগ্য ঘটনায় যে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন সেই একই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
২,০২৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীনে আদালত কী নির্ধারণ করে?
  1. মালিকানা
  2. বিক্রয়মূল্য
  3. দখলের তারিখ
  4. প্রকৃত দখলদার
ব্যাখ্যা
• স্থাবর সম্পত্তি অর্থাৎ জমি বা জলাশয় বা তার সীমানা নিয়ে বিরোধের ফলে শান্তিভঙ্গের আশংকা দেখা দিলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন আদেশ প্রদান করতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার অধীন স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করা যায়।
⇒ ১৪৫ ধারার আদেশ দ্বারা প্রকৃত দখলকারী নির্ধারণ করা হয়, কোন মালিকানা নির্ধারণ করা হয় না।
⇒ ১৪৫ ধারার আওতায় প্রাথমিক আদেশের পূর্ববর্তী ২ মাসের মধ্যে কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে বেদখল হলে উক্ত দখলচ্যুত ব্যক্তি প্রকৃত দখলদার বলে বিবেচিত হবে। অন্যথায় ১৪৫ ধারার আদেশের তারিখে যে ব্যক্তি প্রকৃত দখলে আছেন তার অনুকূলেই ম্যাজিস্ট্রেট দখলের ঘোষণা দিবেন।
২,০২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৩ ধারায় কী বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. অপরাধ তদন্তের পদ্ধতি
  2. সাক্ষ্যগ্রহণের নিয়ম
  3. ফৌজদারি আপীল আদালতের প্রকারভেদ
  4. ফৌজদারি আপীল আদালতের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৩ ধারায় ফৌজদারী আপীল নিষ্পত্তিতে আপীল আদালতের ক্ষমতা আলোচনা করা হয়েছে। আপীল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আপীল আদালত নিম্নলিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-

১. আপীল খারিজ করতে পারে যদি আপীলের কোন কারণ না থাকে বা

২. খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে-
⇒ খালাস আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে,
⇒ অধিকতর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারে,
⇒ অভিযুক্তকে পুনরায় বিচারের জন্য নির্দেশ দিতে পারে বা অভিযুক্তকে দোষী পেলে আইন অনুযায়ী শান্তি দিতে পারে।

৩. দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে শাস্তি বাতিল করতে পারে, আসামীকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে পারে বা পুনরায় আসামীকে বিচার করার আদেশ দিতে পারে বা শাস্তি বহাল রাখতে পারে বা শাস্তি কমাতে পারে ইত্যাদি

৪. দণ্ডবৃদ্ধির আপীলের ক্ষেত্রে শাস্তি পরিবর্তন করতে পারে বা আসামীকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে পারে বা তাকে পুনরায় বিচারের আদেশ দিতে পারে বা শাস্তি বহাল রাখতে পারে বা শাস্তির পরিমান বাড়াতে বা কমাতে পারে। 

৫. অন্যান্য আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের ক্ষেত্রে আদেশ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে তবে অভিযুক্ত যে অপরাধ করেছে সেই অপরাধের জন্য যে শাস্তি দেয়া যেতো,তার অধিক দণ্ড দিবে না।
২,০২৯.
পুলিশের তদন্ত ক্ষমতা সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সত্য?
  1. পুলিশ আমলঅযোগ্য মামলার তদন্ত ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই করতে পারবেন
  2. পুলিশ আমলযোগ্য মামলার তদন্ত করলে প্রদত্ত ক্ষমতার অধীন কৃত কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না 
  3. পুলিশ আমলযোগ্য মামলার সংবাদ পেলেই ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি নিয়ে তদন্ত করবেন
  4. বর্ণিত সবগুলো বাক্যই সত্য
ব্যাখ্যা
• যেকোন ব্যক্তি ২ টি উপায়ে ফৌজদারী মামলা দায়ের করতে পারে। তিনি কোন অপরাধ সংঘটন বিষয়ে থানায় পুলিশের নিকট সংবাদ প্রদান করতে পারে বা তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট গিয়ে নালিশ দায়ের করতে পারে। থানায় পুলিশের নিকট আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করলে পুলিশ ১৫৪ ধারার পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং আমলঅযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করা হলে ১৫৫ ধারা অনুসরণ করে।

• ১৫৪ ধারায় দায়েরকৃত মামলা এফআইআর কেইস (FIR case) বা পুলিশ কেইস (Police Case) বা জি.আর (G.R) কেইস নামে পরিচিত।আমলযোগ্য মামলার ক্ষেত্রে ১৫৬(১) ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ তদন্ত শুরু করতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারে। এ ধারার অধীন পুলিশ আমলযোগ্য মামলার তদন্ত করলে সেটির প্রসিডিংয়ে তার তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না,যদি না তার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কিছু করে। 

• অপরদিকে, ১৫৫ ধারায় আমলঅযোগ্য অপরাধের ভিত্তিতে যে মামলা শুরু হয় তা  Non-Gr (Non-Registered) Case বা Non-FIR Case বা Non-Cognizable Case নামে পরিচিত।আমলঅযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ১৫৫(২) ধারায় প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিলে শুধুমাত্র তখনই পুলিশ তদন্ত করতে পারে এবং ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারেনা।
২,০৩০.
যদি 'ক' এর বিরুদ্ধে চুরির অপরাধে চার্জ গঠন করা, কিন্তু পরে দেখা যায় সে চোরাইমাল গ্রহণ করেছে, তাহলে ধারা ২৩৭ অনুযায়ী 'ক' কে-
  1. শুধু চুরির অভিযোগে দণ্ডিত করা হবে
  2. উভয় অপরাধের দণ্ড দেওয়া হবে
  3. চোরাইমাল গ্রহণের অভিযোগে চার্জ ছাড়া দণ্ডিত করা যাবে
  4. কোনো দণ্ড দেওয়া যাবে না
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ২৩৭ ধারায় কোন ব্যক্তিকে এক অপরাধে চার্জ করে, অন্য অপরাধে দণ্ডিত করা যেতে পারে। ধারা ২৩৭ এ বলা আছে-
২৩৬ ধারায় উল্লিখিত ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে যে অপরাধের জন্য চার্জ করা হয়,সাক্ষ্য- প্রমাণে যদি দেখা যায় সে ভিন্ন অপরাধ করেছে এবং এই ভিন্ন অপরাধের জন্য তাহাকে উক্ত ধারা অনুসারে চার্জ করা যেতো, তা হলে যে অপরাধ সে করেছে বলে প্রমাণিত হয় তার জন্য চার্জ গঠন করা না হলেও দণ্ডিত করা যাবে।

উদহারণ-
'ক' এর বিরুদ্ধে চুরির অপরাধে চার্জ গঠন করা হল। কিন্তু দেখা গেল যে, সে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে বা চোরাইমাল গ্রহণ করেছে। উক্ত অপরাধে চার্জ গঠন করা না হলেও, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ বা চোরাইমাল গ্রহণের দায়ে তাকে দণ্ডিত করা যাবে।

Section 237: When a person is charged with one offence, he can be convicted of another-
If, in the case mentioned in section 236, the accused is charged with one offence, and it appears in evidence that he committed a different offence for which he might have been charged under the provisions of that section, he may be convicted of the offence which he is shown to have committed, although he was not charged with it.

Illustration-
A is charged with theft. It appears that he committed the offence of criminal breach of trust, or that of receiving stolen goods. He may be convicted of criminal breach of trust or of receiving stolen goods (as the case may be) though he was not charged with such offence.

২,০৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটকে অতিরিক্ত ক্ষমতা (Additional powers) কে প্রদান করতে পারেন? 
  1. সরকার
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. উপরোক্ত সবাই
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৭-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে তার সাধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত (Additional powers) চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন নিম্নলিখিত কর্তৃপক্ষ:
১. সরকার (Government) - যেকোনো বিচারিক (Judicial) বা নির্বাহী (Executive) ম্যাজিস্ট্রেটকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিতে পারেন।
২. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (Chief Judicial Magistrate) - বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের (Judicial Magistrate) ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
৩. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (District Magistrate) - নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের (Executive Magistrate) ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
- প্রথম প্রভিসো: সরকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমতা দিতে পারেন যে, তিনি তার অধীনস্থ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সরকারের পক্ষ থেকে চতুর্থ তফসিলের যেকোনো ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন।
- দ্বিতীয় প্রভিসো: কোনো বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ বাধ্যতামূলক।

যেহেতু সরকার, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট—এই তিন কর্তৃপক্ষই নির্দিষ্ট শর্তে এবং ক্ষেত্রমতো ম্যাজিস্ট্রেটদের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন, তাই সঠিক উত্তর "উপরোক্ত সবাই"।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 37. Additional powers conferrable on Magistrates.
In addition to his ordinary powers, any Judicial or Executive Magistrate may be invested by the Government or the Chief Judicial Magistrate or the District Magistrate, as the case may be, with any powers specified in the schedule IV: 
Provided that, the Government may authorize a District Magistrate to invest any Executive Magistrate subordinate to him with any of its powers specified in the schedule IV: 
Provided further that any Judicial Magistrate may be invested with such additional powers in consultation with the High Court Division.

২,০৩২.
ফৌজদারী কার্যবিধি এর ৩৩ক ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা কী?
  1. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ন্যূনতম ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
৩৩ক ধারায় বলা হয়েছে যে ২৯গ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। অতএব, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারবেন
২,০৩৩.
১৪৪ ধারা কখন জারি করা হয়?
  1. নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশঙ্কা থাকলে
  2. দাঙ্গা বা মারামারির আশঙ্কা দেখা দিলে
  3. জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে-
(i) আইনানুগভাবে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির আশংকা।
(ii) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা বিপন্ন হবার আশংকা।
(iii) উৎপাত বা জনসাধারনের শান্তিভঙ্গের আশংকা।
(iv) দাঙ্গা বা মারামারির আশংকা।
(v) আশু প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে।
২,০৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৫ (৮) অনুযায়ী, যদি উভয় পক্ষ আপসযোগ্য মামলায় আপসের জন্য একমত হয়, তবে আদালত কী করতে পারে?
  1. মামলাটি স্থগিত করবে
  2. আপসের প্রক্রিয়া সহজতর করবে
  3. মামলাটি বাতিল করবে
  4. অভিযুক্তকে জামিন দিবে
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৪৫ (৮):
এই ধারায় যা কিছু উল্লেখ আছে তা সত্ত্বেও, যদি উভয় পক্ষ কোনো আপসযোগ্য মামলায় আপসের জন্য একমত হয়, তবে আদালত পক্ষগুলোর মধ্যে আপসের প্রক্রিয়া সহজতর করতে পারে বা বিষয়টি আইনি সহায়তা আইন, ২০০০ (২০০০ সালের আইন) এর অধীনে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট আইনি সহায়তা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে পারে, অথবা পক্ষগুলোর নিযুক্ত উকিলদের কাছে, অথবা যদি কোনো উকিল নিযুক্ত না থাকে, তবে পক্ষ বা পক্ষগুলোর নিজেদের কাছে আপসের জন্য পাঠাতে পারে। যদি আদালত সন্তুষ্ট হয় যে পক্ষগুলোর মধ্যে এই আপসের জন্য একটি বৈধ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, তবে আদালত সেই চুক্তিটি রেকর্ডে সংরক্ষণ করতে পারে এবং চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করতে পারে, তবে এই বাস্তবায়ন যেন কোনো তৃতীয় পক্ষের অধিকার বা স্বার্থের ক্ষতি না করে।

ব্যাখ্যা: এই উপ-ধারার উদ্দেশ্যে, “পক্ষ” বলতে সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বোঝায় যারা আইনানুগভাবে অপরাধের আপস করতে পারে এবং অভিযুক্ত।

২,০৩৫.
পুলিশী তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া না গেলে দাখিলকৃত রিপোর্টের প্রচলিত নাম-
  1. রিলিজ রিপোর্ট
  2. চার্জ শীট
  3. ফাইনাল রিপোর্ট
  4. ডিসচার্জ রিপোর্ট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারায় অনুযায় ফাইনাল রিপোর্ট (Final Report): পুলিশ বা তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা খুঁজে না পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (Discharge) অব্যাহতি করার সুপারিশ করে যে রিপোর্ট দেয়া হয় তা-ই হলো ফাইনাল রিপোর্ট চূড়ান্ত প্রতিবেদন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিলে ম্যাজিস্ট্রেট এটাকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। গ্রহণ করলে আসামিকে অব্যাহতি দিতে পারে অথবা প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তদন্ত বা অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারে।
২,০৩৬.
অভিযোগকারীকে ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিধান অনুসারে পরীক্ষা করা হয়?
  1. ১৯০
  2. ১৯৯
  3. ২০০
  4. ২০৩
ব্যাখ্যা
♦ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীকে ২০০ ধারার অধীনে অবশ্যই অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করবেন। এটি বাধ্যতামূলক।
২,০৩৭.
অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে-
  1. পাবলিক প্রসিকিউটর
  2. অভিযোগকারী
  3. অভিযুক্ত
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪১৭ক(১) ও ৪১৭ক(২) অনুসারে অপর্যাপ্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রসিকিউটর এবং অভিযোগকারী উভয়ই আপীল দায়ের করতে পারে।
২,০৩৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৩ অনুযায়ী, নিম্নের কোন ক্ষেত্রে আপিল করা যায় না?
  1. দায়রা আদালত কর্তৃক ২ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হলে
  2. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৬০০০ টাকা জরিমানা করা হলে
  3. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৪০০০ টাকা জরিমানা করা হলে
  4. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৩ অনুযায়ী দায়রা আদালত যদি সর্বোচ্চ ১ মাস কারাদণ্ড দেয়, অথবা দায়রা আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট যদি সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা জরিমানা করে, তাহলে সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
- এক্ষেত্রে ৪০০০ টাকা জরিমানা ৫০০০ টাকার নিচে, তাই আপিল অযোগ্য।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৩- তুচ্ছ মামলার ক্ষেত্রে [Petty Cases]:
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০০০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
অন্যদিকে যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
-------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 413. No appeal in petty cases:
Notwithstanding anything hereinbefore contained, there shall be no appeal by a convicted person in cases in which a Court of Session passes a sentence of imprisonment not exceeding one month only, or in which a Court of Session or Chief Judicial Magistrate or Metropolitan Magistrate or other Magistrate of the first class passes a sentence of fine not exceeding five thousand Taka only. 
Explanation:- There is no appeal from a sentence of imprisonment passed by such Court or Magistrate in default of payment of fine when no substantive sentence of imprisonment has also been passed.
২,০৩৯.
মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যেকোনো সময় অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল কি?
  1. অভিযুক্তকে খালাস (Acquittal)
  2. অভিযুক্তকে মুক্তি (Release)
  3. অভিযুক্তকে অব্যাহতি (Discharge)
  4. অভিযোগকারীকে শাস্তি (Punishment)
ব্যাখ্যা
• চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে খালাস [Acquittal] দিবে।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৮ এ অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল দেয়া হয়েছে-ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে। অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে খালাস [Acquittal] দিবে।
[If a complainant, at any time before a final order is passed in any case under this Chapter, satisfies the Magistrate that there are sufficient grounds for permitting him to withdraw his complaint the Magistrate may permit him to withdraw the same, and shall thereupon acquit the accused.]

• অপরদিকে, ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের সম্মতিতে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রায় ঘোষণার পূর্বে প্রত্যাহার করতে পারে। পাবলিক প্রসিকিউটর অভিযোগ গঠনের আগে মামলা প্রত্যাহার করলে, আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি  (Discharge) দিতে পারে আর অভিযোগ গঠনের পরে মামলা প্রত্যাহার করলে, আদালত অভিযুক্তকে খালাস [Acquittal] দিতে পারে ।
২,০৪০.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারায় আদালতকে মামলা শুনানির যে কোন পর্যায়ে সাক্ষীকে তলব করার ক্ষমতা দেওয়া আছে?
  1. ৫৪০ ধারায়
  2. ৫৬০ ধারায়
  3. ৫৬৪ ধারায়
  4. ৪৯৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ ধারায় বলা হয়েছে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে কোন আদালত যে কোন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে সমন করতে পারবেন, বা সাক্ষী হিসেবে সমন করা না হলেও উপস্থিত যে কোন ব্যক্তির জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন বা পূর্বে যার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে, তাকে পুনরায় তলব করে পুনরায় তার জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারেন।
-----------
CrPC Section- 540. Power to summon material witness or examine person present:

- Any Court may, at any stage of any inquiry, trial or other proceeding under this Code, summon any person as a witness, or examine any person in attendance, though not summoned as a witness, or recall and re-examine any person already examined; and the Court shall summon and examine or recall and re-examine any such person if his evidence appears to it essential to the just decision of the case.
২,০৪১.
হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা (inherent power) আছে কত ধারায়?
  1. ৫৬০ ধারায়
  2. ৫৬১এ ধারায়
  3. ৪৯৮ ধারায়
  4. ৫৬৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারার বিধান হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতার সংরক্ষণঃ এই বিধির অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করার জন্য, বা কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করার জন্য বা অন্য কোন ভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন আদেশ প্রদানের নিমিত্ত হাইকোর্ট বিভাগের যে সহজাত ক্ষমতা আছে এই বিধির কোন কিছু তা সীমাবদ্ধ বা ক্ষুণ্ন বা প্রভাবিত করবে বলে অভিহিত করা যাবে না।

♦CrPC section 561A. Saving of inherent power of High Court Division: Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
২,০৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৫-এর অধীনে তল্লাশী কার উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে?
  1. সাক্ষীদের
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের
  3. অভিযোগকারীর
  4. পুলিশ কর্মকর্তার
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১০৫ অনুসারে তল্লাশী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিচালিত হতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৫ ধারা- ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে তল্লাশী পরিচালনার নির্দেশ দিতে পারেন:
যে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী অথবা বিচারিক, তিনি যে স্থানটির তল্লাশী করার জন্য উপযুক্ত, সেসব স্থানে তল্লাশী করার জন্য তিনি নিজের উপস্থিতিতে তল্লাশী পরিচালনা করার নির্দেশ দিতে পারেন।
-------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 105- Magistrate may direct search in his presence:
Any Magistrate, whether Executive or Judicial may direct a search to be made in his presence of any place for the search of which he is competent to issue a search-warrant.

২,০৪৩.
"The Code of Criminal Procedure, 1898" কবে কার্যকরী হয়?
  1. ১ জুলাই, ১৮৯৮
  2. ১ জানুয়ারি, ১৮৯৮
  3. ১ অক্টোবর, ১৮৯৮
  4. ১ ডিসেম্বর, ১৮৯৮
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১(১) অনুসারে এটি ১ জুলাই, ১৮৯৮ থেকে কার্যকর হয়।
- সঠিক উত্তর: ক) ১ জুলাই, ১৮৯৮
- ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই আইনটি "The Code of Criminal Procedure, 1898" নামে পরিচিত হবে এবং এটি ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
- "This Act may be called the Code of Criminal Procedure, 1898; and it shall come into force on the first day of July, 1898."

ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (The Code of Criminal Procedure, 1898) (সংক্ষেপে বলা হয় CrPC)
- প্রস্তাবনা – ১টি
- খন্ড /ভাগ (Part) – ৯টি
- অধ্যায় (Chapter) – ৪৬টি
- ধারা (Section) – ৫৬৫ টি
- তফসিল (Schedule) – ৫ টি
- আইন নং – ৫ নং আইন (১৮৯৮ সালের)
- প্রকাশিত হয় (Published) – ২২ মার্চ ১৮৯৮ সালে
- কার্যকর হয় (Effected from) – ১ লা জুলাই ১৮৯৮ থেকে
- আইনের ধরণ – ফৌজদারী কার্যবিধি একটি পদ্ধতিগত আইন।
- তবে ইহা নিছক/কেবলমাত্র পদ্ধতিগত আইন নহে, বরং ইহা মূল আইন ও পদ্ধতিগত আইনের সংমিশ্রন।
২,০৪৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ কোন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. দেওয়ানি অপরাধ
  2. আমলযোগ্য অপরাধ
  3. অ-আমলযোগ্য অপরাধ
  4. শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত অপরাধ
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ প্রধানত আমলযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত। আমলযোগ্য অপরাধ হলো সেই ধরনের অপরাধ যার তদন্ত ও বিচার শুরু করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের স্বাধীন ক্ষমতা থাকে এবং যেগুলোতে পুলিশ সরাসরি তদন্ত চালাতে পারে।
- এই ধারা অনুযায়ী, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ (তথ্য) যদি পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিক বা লিখিতভাবে দেওয়া হয়, তাহলে তাকে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে, সংবাদদাতাকে পড়ে শুনাতে হবে এবং তার স্বাক্ষর নিতে হবে। এই প্রক্রিয়া অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- অন্যদিকে, অ-আমলযোগ্য অপরাধ (Non-cognizable offences) বা দেওয়ানি অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত তদন্ত শুরু করতে পারে না পুলিশ সুপার বা উচ্চতর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া, তাই ধারা ১৫৪ সরাসরি সেখানে প্রযোজ্য হয় না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারার বিধান আমলযোগ্য মামলার সংবাদ:
-আমলযোগ্য অপরাধ সম্বন্ধীয় কোনও সংবাদ যদি কোন পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে দেয়া হলে তিনি বা তাঁর নির্দেশানুসারে অন্য কেউ তা লিপিবদ্ধ করবেন, এবং সংবাদ জ্ঞাপনকারীকে তা পড়ে শুনাবেন, এবং এরূপ প্রতিটি সংবাদ, তা লিখিতভাবে প্রদত্ত হোক বা পরে লিপিবদ্ধ করা হোক, সংবাদ জ্ঞাপনকারী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে, এবং উহার সারাংশ ঐরূপ অফিসার কর্তৃক সরকার কর্তৃক এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট নিদর্শে রক্ষিত বহিতে লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-154: Information in cognizable cases:
-Every information relating to the commission of a cognizable offence if given orally to an officer in charge of a police-station, shall be reduced to writing by him or under his direction, and be read over to the informant; and every such information, whether given in writing or reduced to writing as aforesaid, shall be signed by the person giving it and the substance thereof shall be entered in a book to be kept by such officer in such form as the Government may prescribe in this behalf.
২,০৪৫.
ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সদাচরণের মুচলেকা দিতে পারেন কে?
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
  2. ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যকোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
  3. ক অথবা খ।
  4. পুলিশ কর্মকর্তা।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১০৯ ধারা মোতাবেক ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সদাচরণের মুচলেকা দিতে পারেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যকোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
২,০৪৬.
নিম্নে উল্লিখিত The Code of Criminal Procedure,1898 এর কোন ধারা মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন?
  1. ধারা ৫৩৮
  2. ধারা ৫৩৯ক
  3. ধারা ৫৩৯খ
  4. ধারা ৫৩১
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৩৯খ (সরেজমিনে পরিদর্শন)-
১) কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কার্যধারার যে কোন পর্যায়ে কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়ে, যে স্থানে কোন অপরাধ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ আনা হয়েছে সে স্থান কিংবা উক্ত তদন্তে বা বিচারে প্রদত্ত কোন সাক্ষ্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন বলে মনে করলে, অন্য কোন স্থান সফর ও পরিদর্শন করতে পারবেন ও অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই উক্ত পরিদর্শন বা সফরে দৃষ্ট কোন প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে একটি স্মারকলিপি তৈরি করবেন।

২) উক্ত স্মারকলিপি মামলার নথির অংশ হবে। পাবলিক প্রসিকিউটর বা ফরিয়াদি কিংবা অভিযুক্ত চাইলে উহার একটি নকল তাকে বিনা মূল্যে সরববরাহ করতে হবে।

Sec 539B: Local inspection-
(1) Any Judge or Magistrate may at any stage of any inquiry, trial or other proceeding, after due notice to the parties, visit and inspect any place in which an offence is alleged to have been committed, or any other place which it is in his opinion necessary to view for the purpose of property appreciating the evidence given at such inquiry or trial, and shall without unnecessary delay record a memorandum of any relevant facts observed at such inspection.

(2) Such memorandum shall form part of the record of the If the Public Prosecutor, complainant or accused so desires, a copy of the memorandum shall be furnished to him free of cost:
২,০৪৭.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৯৯খ ধারা অনুযায়ী বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিলের জন্য কত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে হয়?
  1. ৬০ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ৯৯খ ধারার বিধান বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিল করতে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন (Application to High Court Division to set aside order of forfeiture): বাজেয়াপ্তির আদেশ বাতিল করার জন্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত বাজেয়াপ্তির আদেশের তারিখ থেকে ২ মাসের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের নিকট আবেদন করতে পারবেন।
♦ উল্লেখ যে সরকার ফৌজদারী কার্যবিধির ৯৯ক ধারা মতে কোন সংবাদপত্র বা পুস্তক বা কোন দলিল বা কোন প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত ঘোষণা এবং তার জন্য তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন।
২,০৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা মতে আদালত মানহানিকর আলামত ধ্বংস করার আদেশ দিতে পারে?
  1. ৫১৭ ধারায়
  2. ৫১৯ ধারায়
  3. ৫২১ ধারায়
  4. ৫২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২১ ধারায় আসামীকে দণ্ড প্রদানের পর আদালত তার হেফাজতে থাকা মানহানিকর সকল কপি এবং খাদ্য, পানীয় ঔষধ বা ঔষধ জাতীয় মিশ্রণ ধ্বংস করে ফেলার আাদেশ দিতে পারেন।
♦ ধারা ৫২১ মানহানিকর অন্যান্য জিনিস ধ্বংসকরণঃ 
♦ ধারাঃ ৫২১ (১) দণ্ডবিধির ২৯২, ২৯৩, ৫০১ বা ৫০২ ধারার অধীন দণ্ডদানের পর যে জিনিস বা সম্পর্কে দণ্ড দেয়া হলে এবং যা আদালতের হেফাজতে বা দণ্ডিত ব্যক্তির দখলে বা ক্ষমতাধীন রয়েছে আদালত তার সমস্ত কপি ধ্বংস করার আদেশ দিতে পারবেন।
♦ ধারাঃ ৫২১ (২) আদালত অনুরূপভাবে দণ্ডবিধির ২৭২, ২৭৩, ২৭৪ বা ২৭৫ ধারার অধীন দণ্ডদানের পর যে খাদ্য পানীয় ঔষধ বা ঔষধ জাতীয় মিশ্রণ সম্পর্কে দণ্ড দেয়া হলো তা ধ্বংস করার আদেশ দিতে পারবেন।
২,০৪৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় অভিযোগপত্রে ভুলের প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ২২৪ ধারায়
  2. ২২৫ ধারায়
  3. ২২৬ ধারায়
  4. ২২৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৫ ধারার বিধান: ভুলের প্রভাব:
 - অভিযোগপত্রে অপরাধ বা অপরাধের বিবরণ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কোনো ভুল বা কোনো তথ্য উল্লেখ করতে অসমর্থতা, মামলার যে কোনো পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হবে না, যদি না এই ভুল বা অসম্পূর্ণতার কারণে অভিযুক্ত প্রকৃতপক্ষে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং এর ফলে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটে।
-------------
→ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 225. Effect of errors: 
- No error in stating either the offence or the particulars required to be stated in the charge, and no omission to state the offence or those particulars, shall be regarded at any stage of the case as material, unless the accused was in fact misled by such error or omission, and it has occasioned a failure of justice.
২,০৫০.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট দণ্ড হ্রাস করে-
  1. জরিমানার আদেশ দিতে পারে
  2. ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিতে পারে
  3. ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিতে পারে
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২ ধারার অধীন গর্ভবতী স্ত্রী লোকের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা যায়-মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত স্ত্রীলোক গর্ভবতী হলে হাইকোর্ট তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিতে পারবেন অথবা উপযুক্ত মনে করলে দণ্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন। 
------------------------------
CrPC-Section-382: Postponement of capital sentence on pregnant woman:
 If a woman sentenced to death is found to be pregnant, the High Court Division shall order the execution of the sentence to be postponed, and may, if it thinks fit, commute the sentence to transportation for life.
২,০৫১.
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে হবে?
  1. দায়রা জজ আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. জেলা জজ আদালতে
  4. মহানগর দায়রা জজের নিকট
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারার বিধানঃ যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীলঃ যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপীল দায়ের করতে পারবেঃ
♦নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-
(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপীল করতে হবে।

(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপীল করতে হবে।

♦চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যে দণ্ডই প্রদান করুক না কেন আপীল করতে হবে দায়রা আদালতে। প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুধুমাত্র দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দন্ড দিলে আপীল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।
♦মেট্রোপলিটন এলাকার দায়রা জজ আদালতে নাম মহানগর দায়রা জজ আদালত।
২,০৫২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯খ(১) অনুযায়ী, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করতে হলে আদালত প্রথমে কোন দুটি ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে?
  1. ধারা ৩৪ ও ৩৫
  2. ধারা ৮৭ ও ৮৮
  3. ধারা ১৬১ ও ১৬২
  4. ধারা ৪২০ ও ৩৭৯
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৯খ(১) অনুযায়ী, আসামি যদি পলাতক থাকে বা আত্মগোপনে থাকে এবং তাকে গ্রেফতারের আশু সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে আদালত তার অনুপস্থিতিতে বিচার করতে পারেন। তবে এর আগে আদালতকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধারা ৮৭ ও ৮৮ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ।
→ ধারা ৮৭: আসামি পলাতক থাকলে, আদালত তার বিরুদ্ধে জারি-নামা (Proclamation) জারি করতে পারে, যাতে তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
→ ধারা ৮৮: জারি-নামার পর আদালত আসামির সম্পত্তি ক্রোক (Attachment) করার আদেশ দিতে পারেন, যদি সে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হয়।
→ এই দুটি ধারা কার্যকর করার পর যদি আদালত বিশ্বাস করেন যে আসামিকে ধরা সম্ভব নয়, তখন তিনি দুইটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেবেন। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু করা যাবে।
অতএব, ধারা ৩৩৯খ(১) অনুযায়ী আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আগে ধারা ৮৭ ও ৮৮ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশি অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।
(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.
(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
২,০৫৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে কয় ধরণের বিচারক?
  1. ২ ধরণের
  2. ৩ ধরণের
  3. ৪ ধরণের
  4. ৫ ধরণের
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারায় দায়রা আদালতের বিধান রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৭ ধারার বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে কতিপয় দায়রা বিভাগ থাকবে, এবং ৯ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার প্রত্যেকটি দায়রা বিভাগের জন্য একটি করে দায়রা আদালত স্থাপন করবে। মেট্রোপলিটন এলাকার দায়রা আদালতকে মেট্রোপলিটন দায়রা আদালত (Metropolitan Court of Sessions) বলা হবে।

♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরণের বিচারক থাকে। যথা-

i) দায়রা জজ (Sessions Judge);

ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);

iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge) ।

♦সংবিধানের ১১৫ এবং ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রনীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।
২,০৫৪.
ক্রোককৃত সম্পত্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত দাবি অগ্রাহ্য হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কত দিনের মধ্যে সম্পত্তির স্বত্ব (Title) প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা দায়ের করতে পারবেন?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৮(৬ক) ধারা মতে ক্রোককৃত সম্পত্তি নিয়ে আপত্তি- ক্রোককৃত সম্পত্তিতে হুলিয়াধীন ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তির কোন স্বার্থ থাকলে, উক্ত ব্যক্তি ৬ মাসের মধ্যে ক্রোক আদেশ প্রদানকারী আদালতে আপত্তি (objections) উত্থাপন করবেন।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৮(৬ঘ)ধারা মতে যে ব্যক্তির দাবী বা আপত্তি উপ-ধারা (৬এ) অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশ দ্বারা পুরোপুরি বা আংশিক অগ্রাহ্য করা হয়েছে তিনি বিরোধীয় সম্পত্তিতে তার দাবীকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠাকল্পে উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হতে ১ (এক) বৎসরের মধ্যে মামলা রুজু করতে পারবেন, তবে উক্ত মামলার ফলাফলের শর্তে উক্ত আদেশ চূড়ান্ত রূপে পরিগণিত হবে।

♦ অর্থাৎ তার দাবি অগ্রাহ্য হলে আদেশের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে সম্পত্তির স্বত্ব (Title) প্রতিষ্ঠার জন্য মামলা দায়ের করতে পারবেন।
২,০৫৫.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ২৫০ অনুসারে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানা কত?
  1. ৫,০০০ টাকা
  2. ২৫,০০০ টাকা
  3. ৫০,০০০ টাকা
  4. ১,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 এর মাধ্যমে The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ২৫০ এর কয়েকটি উপ-ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে, যা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (frivolous or vexatious) অভিযোগের জন্য জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। নিচে সংশোধনীগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
→ ধারা ২৫০ এর উপ-ধারা (১): সংশোধনীর মাধ্যমে এই উপ-ধারায় "false and either frivolous or vexatious" শব্দগুলির পর "may" শব্দটির পরিবর্তে "shall" শব্দটি প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এর অর্থ, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য জরিমানা আরোপ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
→ ধারা ২৫০ এর উপ-ধারা (২): এই উপ-ধারায় জরিমানার পরিমাণ সংশোধন করা হয়েছে। পূর্বে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের জন্য জরিমানা ছিল সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা, যা সংশোধনীর মাধ্যমে বাড়িয়ে ৫০,০০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, যদি অভিযোগকারী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানার পরিবর্তে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা যাবে।
→ ধারা ২৫০ এর উপ-ধারা (৫): এই উপ-ধারায় উল্লেখিত জরিমানার পরিমাণ পূর্বে ৩,০০০ টাকা ছিল, যা সংশোধনীর মাধ্যমে বাড়িয়ে ১,০০,০০০ টাকা (এক লাখ টাকা) করা হয়েছে। এটিই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ।
 
অর্থাৎ ধারা ২৫০ এর উপ-ধারা (৫) অনুসারে, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা এখন ১,০০,০০০ টাকা। এটি সংশোধনীর মাধ্যমে পূর্বের ৩,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অন্যান্য অপশনগুলো (৫,০০০ টাকা, ২৫,০০০ টাকা, ৫০,০০০ টাকা) ধারা ২৫০ এর বিভিন্ন উপ-ধারায় উল্লিখিত জরিমানার সাথে সম্পর্কিত হলেও, প্রশ্নটি সর্বোচ্চ জরিমানা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে, তাই উপ-ধারা (৫) এর ১,০০,০০০ টাকাই সঠিক উত্তর।

 ⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-250 False, frivolous or vexatious accusations:
(5) Notwithstanding anything contained in this section, the Magistrate may, in addition to the order directing payment of the compensation under sub-section (2), further order that the person ordered to pay such compensation shall also suffer imprisonment for a period not exceeding six months or pay a fine not exceeding one lac taka.

২,০৫৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় হাইকোর্ট বিভাগকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছেো?
  1. ৪৩৫
  2. ৪৩৯
  3. ৪৩৬
  4. ৪৩৯ক
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজ কর্তৃক নিম্ন আদালতের নথি তলব বা পরীক্ষার বিধান রয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জর্জ নিম্ন আদালতের নথি তলব বা মামলার কার্যক্রম পরীক্ষা করতে পারেন নিম্নবর্ণিত কারণে-
i) নিম্ন আদালত প্রদত্ত কোন শাস্তি বা আদেশের নির্ভুলতা, বৈধতা বা যৌক্তিকতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে (for the purpose of satisfying itself or himself as to the correctness, legality or propriety of any finding, sentence or order recorded or passed); এবং
ii) নিম্ন আদালতের কার্যক্রমের নিয়মানুগত্য বা পদ্ধতিগত অনিয়ম সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে (and for the purpose of satisfying itself or himself as to the regularity of any proceedings of such inferior Court)
♦৪৩৫ ধারার ক্ষমতাবলে নিম্ন আদালতের নথি পরীক্ষা করে হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা জজ তার অধঃস্তন কোন চীফ জুডিসিয়াল বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের ২০৩ বা ২০৪(৩) ধারার আওতায় খারিজকৃত নালিশ বা কোন ব্যক্তির অব্যাহতির বিষয়ে আরও অনুসন্ধানের আদেশ দিতে পারে।
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 

♦ফৌজদারি কার্যবিধির  ৪৩৯ ধারার বিধান হাইকোর্ট ডিভিশনের রিভিশনের ক্ষমতাঃ (১) হাইকোর্ট ডিভিশন নিজে যে মামলার নথি তলব করেছেন, বা যা আদেশের জন্য পাঠানো হয়েছে, বা যা অন্য কোনভাবে হাইকোর্ট ডিভিশনের গোচরীভূত হয়েছে, সেই মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট ডিভিশন ইহার বিচারিক ক্ষমতাবলে ধারা-৪২৩, ৪২৬, ৪২৭ ও ৪২৮ এ আপীল আদালতকে বা ধারা-৪৩৮ এ কোন আদালতকে প্রদত্ত ক্ষমতাদির মধ্যে যে কোনটি প্রয়োগ করতে পারবেন এবং দণ্ড বাড়াতে পারবেন এবং রিভিশনে এতিয়ার সম্পন্ন আদালতের জজগণ যখন তাঁদের অভিমতে সমানভাবে বিভক্ত হন, তখন মামলাটি ধারা-৪২৯ এ উল্লেখিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।
(২) আসামী আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজে বা এ্যাডভোকেট কর্তৃক তার বক্তব্য পেশের সুযোগ না পেলে এই ধারা অনুসারে তার বিরুদ্ধে কোন আদেশ দেয়া যাবে না ।
(৩) এই ধারায় সংশিষ্ট দণ্ড কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত হয়ে থাকলে আসামী যে অপরাধ সংঘটন করেছে মর্মে আদালত মনে করেন, সেই অপরাধের জন্য কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট যে দণ্ড দিতে পারতেন, আদালত তার চেয়ে বেশী দণ্ড দিবেন না।
(৪) খালাসের অভিমতকে দণ্ডের অভিমতের পরিবর্তন করার বা দায়রা জজ কর্তৃক ধারা- ৪৩৯ক এর অধীন প্রদত্ত আদেশ বিষয়ে রিভিশনে কোন কার্যক্রম গ্রজণ করার ক্ষমতা হাইকোর্ট ডিভিশনকে দেয়া হয়েছে মর্মে এই ধারায় কোন কিছু মনে করা যাবে না ।
(৫) যেক্ষেত্রে এই বিধির অধীন আপীল চলে কিন্তু আপীল দায়ের করা হয়নি, সেক্ষেত্রে যে পক্ষ আপীল দায়ের করতে পারত সেই পক্ষের প্রচেষ্টায় রিভিশনের আকারে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
(৬) এই ধারায় যা-ই বর্ণিত থাকুক না কেন, কোন দণ্ডিত ব্যক্তিকে কেন তার দণ্ড বাড়ানো হবে না এমর্মে উপধারা-২ এর অধীন উহার কারণ দর্শাবার সুযোগ দেয়া হলে, উক্ত কারণ দর্শাবার সময় সে তার দণ্ডের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শাতে অধিকারী হবে।
২,০৫৭.
আসামী বা জামিনদারের বন্ডের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. আসামীর হাজিরা নিশ্চিত করা
  2. মামলা স্থগিত রাখা
  3. ফরিয়াদির সময় অপচয় করা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আসামী বা জামিনদারের বন্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হল আসামীর হাজিরা নিশ্চিত করা। ধারা ৪৯৯(১) অনুসারে, জামিনে বা নিজের বন্ডে মুক্তি পাওয়ার শর্তে আসামী বা জামিনদারকে এমন বন্ড সম্পাদন করতে হবে যে, আসামী বন্ডে বর্ণিত সময়ে ও স্থানে হাজির হবে এবং পরবর্তীতে অনুরূপভাবে হাজির হবে।

ধারা ৪৯৯- আসামী ও জামিনদারের বন্ড:
(১) কোন ব্যক্তিকে জামিনে বা তার নিজের বন্ডে মুক্তি দেয়ার পূর্বে উক্ত ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত যেরূপ পর্যাপ্ত মনে করেন সেরূপ পরিমাণ অর্থের জন্য একটি বন্ড সম্পাদন করবে এবং যেক্ষেত্রে তাকে জামিন মুক্তি দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে এক বা একাধিক পর্যাপ্ত জামিনদার এ শর্তে বন্ড সম্পাদন করবে যে, উক্ত ব্যক্তি বন্ডে বর্ণিত সময়ে ও স্থানে হাজির হবে এবং পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অনুরূপে হাজির হতে হবে।

(২) মামলার জন্য এরূপ প্রয়োজন হলে জামিনে মুক্ত ব্যক্তির জন্য আরও শর্ত থাকবে যে, অভিযোগের জবাব দানের জন্য আহবান করা হলে হাইকোর্ট ডিভিশন, দায়রা আদালত বা অন্য কোন আদালতে তাকে হাজির হতে হবে।
২,০৫৮.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ আছে?
  1. চতুর্থ
  2. তৃতীয়
  3. দ্বিতীয়
  4. পঞ্চম
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি আইনটি ৪৬টি অধ্যায়ে (Chapter) বিভক্ত এবং এতে মোট ৫৬৫টি ধারা (Section) সন্নিবেশিত রয়েছে। এছাড়াও ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৫টি তফশিল (Schedule) এবং ৯টি ভাগ (Part) রয়েছে। কীভাবে অপরাধের তদন্ত করতে হবে, গ্রেফতার-জমিনের বিধান এবং বিচারকার্য কীভাবে পরিচালনা করা হবে সেটা ফৌজদারি কার্যবিধি থেকে জানা যায়।  ১৮৬২ সালের ১লা জানুয়ারি হতে ফৌজদারি কার্যবিধি বলবৎ হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়, আবার কিছু ধারা আবার বিভিন্ন সময়ে বাতিলও করা হয়।ফৌজদারি কার্যবিধিতে আরো কিছু বিষয় আছে, অপরাধ যাতে না ঘটতে পারে তার জন্য কিছু ব্যবস্থা ফৌজদারি আইনে পাওয়া যায়।
 
 ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফশিল রয়েছে। বর্তমানে বলবৎ আছে ৪টি তফশিল।
 
i) ১ম তফশিল (First Schedule) - বাতিল।
 
ii)  ফৌজদারি কার্যবিধির দ্বিতীয় তফসিলে আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দণ্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে।
 
iii) ফৌজদারি কার্যবিধির তৃতীয় তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা (Ordinary powers of Magistrates) উল্লেখ রয়েছে।
 
iv) ফৌজদারি কার্যবিধির ৪র্থ তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে।
 
v) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫ম তফসিলে ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।

অর্থাৎ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর তৃতীয় তফসিলে ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ আছে
২,০৫৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারা অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশ্নের জবাব দিতে বা দলিল হাজির করতে অস্বীকার করলে আদালত তাকে কত দিনের জন্য কোর্ট অফিসারের হেফাজতে রাখতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ ৫ দিন
  2. সর্বোচ্চ ৭ দিন
  3. সর্বোচ্চ ১০ দিন
  4. সর্বোচ্চ ১৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ আদালতের প্রশ্নের জবাব দিতে বা দলিল হাজির করতে অস্বীকার করে এবং যৌক্তিক কারণ না দেখায়, তাহলে আদালত লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে সর্বোচ্চ ৭ দিনের জন্য কোর্ট অফিসারের হেফাজতে তাকে পাঠাতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারার বিধান- কোনো ব্যক্তি জবাব দিতে বা দলিল করতে অস্বীকার করলে কারাদণ্ড বা সোপর্দকরণ:
- কোন ফৌজদারি আদালত কোন সাক্ষী বা ব্যক্তিকে তার দখলের বা ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত কোন দলিল বা বস্তু হাজির করতে বললে সে যদি তা হাজির করতে অস্বীকার করে বা তার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করে, এবং এই অস্বীকৃতির জন্য কোন যৌক্তিক কৈফিয়ত না দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে কোন সময়ের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন অথবা প্রিজাইডিং ম্যাজিস্ট্রেট বা জজের নিজ হাতে স্বাক্ষরিত পরোয়ানা দ্বারা তাকে ৭ (সাত) দিনের অনধিক যেকোনো সময়ের জন্য কোর্টের কোন অফিসারের হেফাজতে আটক রাখতে পারবেন,
- যদি না উক্ত ব্যক্তি ইতোমধ্যে জবানবন্দি দিতে বা দলিল বা বস্তু হাজির করতে রাজী হয়। উক্ত ব্যক্তি তার অস্বীকৃতিতে অবিচল থাকলে ধারা-৪৮০ বা ৪৮২ অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের ক্ষেত্রে তাকে অবমাননার জন্য দোষী মর্মে গণ্য করতে হবে।
--------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-485: Imprisonment or committal of person refusing to answer or produce document:
- If any witness or person called to produce a document or thing before a Criminal Court refuses to answer such questions as are put to him or to produce any document or thing in his possession or power which the Court requires him to produce, and does not offer any reasonable excuse for such refusal, such Court may, for reasons to be recorded in writing, sentence him to simple imprisonment, or by warrant under the hand of the presiding Magistrate or Judge commit him to the custody of an officer of the Court for any term not exceeding seven days, unless in the meantime such person consents to be examined and to answer, or to produce the document or thing. In the event of his persisting in his refusal, he may be dealt with according to the provisions of section 480 or section 482, and in the case of High Court Division shall be deemed guilty of a contempt.

২,০৬০.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর বিধানানুসারে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শান্তি ভঙ্গের আশংকায় কোনো ক্রোককৃত সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়োগ করেন কে?
  1. দেওয়ানি আদালত
  2. দায়রা জজ
  3. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  4. যে-কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা-১৪৬ ; সম্পত্তি ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগ- জমি বা পানি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যদি প্রকৃত দখলকারী নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি সম্পত্তি ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

♦স্থাবর সম্পত্তি নিয়ে যে কোন সময় বিরোধ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় নিজের সম্পত্তি অন্য দখল করে নিতে পারে বা অন্যায়ভাবে দখলীয় সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে দিতে পারে। তাই স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে শান্তিভঙ্গ হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত কতিপয় ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ থেকে ১৪৮ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। জমি বা জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিলে ১৪৫ ধারা অনুযায়ী কেউ প্রতিকার চাইতে পারেন।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার মামলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়। কিন্তু এটি ফৌজদারি মামলা ও প্রতিকার নয়। ১৪৫ ধারার মামলা মূলত দেওয়ানি প্রকৃতির (Civil Nature) এবং Civil প্রতিকার। এই প্রতিকার ক্ষণস্থায়ী এবং সাময়িক সময়ের জন্য মাত্র। তাই ১৪৫ ধারার প্রতিকারকে প্রায় (Quasi) দেওয়ানি এখতিয়ার বলা হয়।
২,০৬১.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী পরীক্ষার ক্ষমতা রয়েছে?
  1. ১৬০
  2. ১৬১
  3. ১৬২
  4. ১৫৯
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬০ থেকে ১৬২ এ পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব, সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং উহার ব্যবহার সম্পর্কে বিধান রয়েছে। ১৬০ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী তলব করা, ১৬১ ধারায় তদন্তকারী পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষার ক্ষমতা এবং উক্ত জবানবন্দির ব্যবহার সম্পর্কে ১৬২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায়- তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামলার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ের সাথে পরিচিত ব্যক্তির মৌখিক জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষার ক্ষমতা করতে পারে। তার নিকট জিজ্ঞাসিত মামলা সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সে বাধ্য থাকবে কিন্তু যে প্রশ্নের জবাব উক্ত সাক্ষীকে ফৌজদারী অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে, সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সাক্ষী বাধ্য নয়।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-161.Examination of witnesses by police:
(1) Any police-officer making an investigation under this Chapter or any police-officer not below such rank as the Government may, by general or special order, prescribe in this behalf, acting on the requisition of such officer may examine orally any person supposed to be acquainted with the facts and circumstances of the case. 
(2) Such person shall be bound to answer all questions relating to such case put to him by such officer, other than questions the answers to which would have a tendency to expose him to a criminal charge or to a penalty or forfeiture. 
(3) The police-officer may reduce into writing any statement made to him in the course of an examination under this section, and if he does so he shall make a separate record of the statement, of each such person whose statement he records.
২,০৬২.
'Offences under Penal Code' - ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ২৪ ধারা
  2. ২৮ ধারা
  3. ৩৫ক ধারা
  4. ৪১ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ২৮: দণ্ডবিধির অধীনে অপরাধসমূহ:
এই বিধির অন্যান্য বিধানের অধীন থেকে, দণ্ডবিধির অধীনে কোনো অপরাধ বিচারযোগ্য হবে—
(ক) হাইকোর্ট বিভাগ দ্বারা, বা
(খ) দায়রা আদালত দ্বারা, বা
(গ) দ্বিতীয় তফসিলের অষ্টম কলামে উল্লিখিত যেকোনো অন্য আদালত দ্বারা, যেখানে উক্ত অপরাধ বিচারযোগ্য বলে উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণ:
কোনো ব্যক্তি (ক) যদি দায়রা আদালতে অপরাধমূলক হত্যার অভিযোগে বিচারাধীন থাকে, তবে সে স্বেচ্ছায় আঘাত করার অপরাধে দণ্ডিত হতে পারে, যা একজন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা বিচারযোগ্য অপরাধ।

Section 28- Offences under Penal Code:
Subject to the other provisions of this Code any offence under the Penal Code may be tried-
(a) by the High Court Division, or
(b) by the Court of Session, or
(c) by any other Court by which such offence is shown in the eighth column of the second schedule to be triable.

Illustration-
A is tried by the Sessions Court on a charge of culpable homicide. He may be convicted of voluntarily causing hurt, an offence triable by a Magistrate.
২,০৬৩.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৩২ ধারানুযায়ী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কত বছরের সাজা দিতে পারেন?
  1. ১০
  2. ১৪
ব্যাখ্যা
ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারার বিধান-

(১) ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নবর্ণিত আদালতসমূহ নিম্নলিখিত দণ্ড দিতে পারবেন যথাঃ
(ক) মেট্রোপলিটন এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ পাঁচ বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত।
(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ তিন বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, পাচ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত৷
(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দুই বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড দুই হাজার আদালত টাকার অর্থদণ্ড।

২) যেকোন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইনের দ্বারা যেসব দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা অর্জন করেছেন, সেসব দণ্ডের মধ্যে একটির সহিত আরেকটির যুক্ত করে যেকোন আইনসঙ্গত দণ্ড প্রদান করতে পারেন।

Section 32- Sentences which Magistrates may pass:

(1) The Courts of Magistrates may pass the following sentences namely:- 
(a) Courts of Metropolitan Magistrates and of Magistrates of the first class: Imprisonment for a term not exceeding five years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding ten thousand taka; Whipping. 
(b) Courts of Magistrates of the second class: Imprisonment for a term not exceeding three years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding five thousand taka; 
(c) Courts of Magistrates of the third class: Imprisonment for a term not exceeding two year;  Fine not exceeding two thousand taka. 
(2) The Court of any Magistrate may pass any lawful sentence, combining any of the sentences which it is authorized by law to pass.
২,০৬৪.
ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট মামলার কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দিলে নিম্মলিখিত কোন পদক্ষেপটি সঠিক?
  1. একই অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে
  2. মামলার কার্যক্রম বন্ধের আদেশ প্রদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি পুনরায় চালু করতে পারে
  3. রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করতে পারে বা রিভিশন করতে পারে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ বলতে মামলাটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত বোঝায় না বরং মামালাটি বহাল আছে বোঝায়। সাক্ষী পর্যাপ্ত হলে ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি পুনরায় চালু করতে পারে। যে কারণে ম্যাজিস্ট্রেট ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ প্রদান করলো উক্ত কারণ যখন বিদ্যামান থাকেনা তখন থেকে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে।
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ বা নালিশকারী বিচারিক আদালতে উক্ত মামলার বিচার পুনরুজ্জীবিত বা পুনরায় চালুর জন্য আবেদন করতে পারে এবং উক্ত ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম যেখান থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেখান থেকে শুরু হবে।
♦যে ম্যাজিস্ট্রেট মামলার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল সে উক্ত বন্ধের আদেশ বাতিল করতে পারে এবং মামলার কার্যক্রম শুরু করতে পারে যদি সাক্ষী পাওয়া যায়।
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারায় মামলার কার্যক্রম বন্ধের আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে রিভিশন দায়ের করা যায়। একই অভিযোগের জন্য একই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুনরায় মামলা দায়ের করা যাবে।

♦ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারার বিধান যেক্ষেত্রে ফরিয়াদী না থাকে, সেক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধের ক্ষমতাঃ নালিশ ব্যতিরেকে অন্যভাবে দায়ের করা যে কোন মকদ্দমায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি পূর্বে নিয়ে অন্য যে কোন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলার যে কোন পর্যায়ে বেকসুর খালাস অথবা দণ্ডের কোন রায় ঘোষণা না করে, কার্যবাহ বন্ধ করে দিতে পারেন এবং অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারবেন।
২,০৬৫.
দোবারা সাজা নীতি প্রযোজ্য হবে না-
  1. অভিযোগ খারিজ করে যদি কোন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়
  2. ২৪৯ ধারার অধীন মামলার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যদি কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হলে
  3. যেকোনো ক্ষেত্রে আসামীকে অব্যাহতি দেয়া হলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৩ ধারায় বলা হয়েছে, একবার দন্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বা দ্বিতীয়বার বিচার করা যাবে না [person once convicted or acquitted not to be tried for same offence twice]। ৪০৩ ধারা [nemo debet bis vexari] নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যার অর্থ হলো কোন ব্যক্তিকে দ্বিতীয় বারের জন্য বিচারাধীন করা যাবে না যার জন্য তাকে একবার বিচার করা হয়েছিল।

এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-

১. অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে অপরাধের চার্জ করা হয়েছে তাকে সেই অপরাধের জন্য বিচার করতে
২. উক্ত বিচার অবশ্যই এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালত কর্তৃক হতে হবে
৩. বিচারে অবশ্যই খালাসের [Acquittal] বা দণ্ডের [Conviction] আদেশ থাকতে হবে।

দোবারা সাজা নীতি প্রযোজ্য হবে না-

১. অভিযোগ খারিজ করে যদি কোন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বা
২. ২৪৯ ধারার অধীন মামলার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যদি কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয় বা
৩. কোনো আসামীকে অব্যাহতি দেয়া হলে,

যেহেতু উপরে উল্লেখিত অব্যাহতি বা মুক্তি ৪০৩ ধারার অধীন খালাস বলে গণ্য হবে না, তাই উক্ত ক্ষেত্রে ৪০৩ ধারার দোবারা সাজা বা jeopardy নীতি প্রযোজ্য হবে না। অব্যাহতি বা মুক্তির আদেশের বিরুদ্ধে ৪০৩ ধারা প্রযোজ্য না। অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে অভিযোগ হতে অব্যাহতি বা মুক্তি দেওয়া হলে তাকে পুনরায় বিচারের সম্মুখীন করা যাবে এবং এই ক্ষেত্রে ৪০৩ ধারার double Jeopardy নীতি বাধা হবে না।
২,০৬৬.
ধারা ৪৩৬ অনুযায়ী, কোন বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের আদেশ দেওয়া যাবে?
  1. নতুন অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে
  2. অভিযুক্ত ব্যক্তির দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে
  3. অভিযুক্ত ব্যক্তির অব্যাহতির মামলার বিষয়ে
  4. আদালতের সাজা ঘোষণার বিষয়ে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৩৬ (অনুসন্ধানের আদেশ দেয়ার ক্ষমতা)- হাইকোর্ট তার অধীনস্থ কোন আদালতকে বা দায়রা জজ তার অধীনস্থ কোন-
 
১. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজেদের দ্বারা; বা
২. তাদের অধীনস্থ কোন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা অধিকতর অনুসন্ধান করার আদেশ দিতে পারে; এবং
৩. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অনুসন্ধান করতে পারে বা তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিতে পারে নিম্নলিখিত বিষয়ে-
i. ২০৩ ধারায় খারিজ হয়েছে এমন যেকোন নালিশ বিষয়ে; বা
ii. ২০৪ (৩) ধারায় খারিজ করা হয়েছে এমন কোন নালিশ বিষয়ে; বা
iii. যে মামলায় কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সেই মামলায়; অধিকতর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারবে।
 
শর্ত থাকে যে,
কোন আদালত কোন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধারার অধীন তদন্তের নির্দেশ দিবেন না, যদি না উক্ত ব্যক্তিকে কেন উক্তরূপ নির্দেশ দেয়া হবে না তার কারণ দর্শাবার সুযোগ দেয়া হয়।
২,০৬৭.
মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য কবর থেকে লাশ তুলে পরীক্ষা করাতে পারেন-
  1. ওসি
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারার বিধান: মৃত্যুর কারণ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইনকেয়ারী:
(১) কোন ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে মারা গেলে সুরতহাল তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাবান নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্যই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত ছাড়াও বা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি করবেন এবং ধারা-১৭৪ এর উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ-(ক), (খ) ও (গ) এ বর্ণিত অন্যান্য ক্ষেত্রে উক্তরূপে ক্ষমতাবান যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক অনুষ্ঠিত তদন্ত ব্যতীতও অথবা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং তিনি যদি এরূপ সম্পাদন করেন, সেক্ষেত্রে অপরাধ ইনকোয়ারীর বেলায়ও তাঁর যে পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে এক্ষেত্রেও তার একই পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ইনকোয়ারি পরিচালনাকালীন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি অনুসারে অতঃপর উল্লিখিত পন্থাসমূহের যে কোন একটি অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ নথিবদ্ধ করবেন।

(২) কবর হতে লাশ তুলার ক্ষমতা: যখনই কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ কোন ব্যক্তির লাশ, যাকে ইতঃপূর্বে কবর দেয়া হয়েছে, পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন তার মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য, তখনই ওই ম্যাজিস্ট্রেট ওই লাশটি কবর হতে তোলাইয়া পরীক্ষা করাতে পারবেন।

২,০৬৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারা কোন আদালতের সহজাত ক্ষমতা সংরক্ষণ করে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. জেলা ও দায়রা জজ আদালত
  3. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. উল্লিখিত সকল আদালতের
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারা বিশেষভাবে হাইকোর্ট বিভাগ-এর সহজাত (inherent) ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। এই ধারা অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, আদালতের আদেশ কার্যকর করা এবং আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করার জন্য প্রযোজনীয় আদেশ দিতে পারে। এটি অন্যান্য আদালতের জন্য প্রযোজ্য নয়।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-561A: Saving of inherent power of High Court Division:
-Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
২,০৬৯.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১৬৭ক(২) অনুযায়ী, কখন ম্যাজিস্ট্রেট কোনো ব্যক্তিকে বিচারিক হেফাজতে রাখতে পারবেন না?
  1. গ্রেফতার প্রতিরোধমূলক আটক আইন অনুযায়ী না হলে
  2. গ্রেফতার বিশেষ অপরাধমূলক আইন অনুযায়ী হলে
  3. গ্রেফতার প্রতিরোধমূলক আটক আইন অনুযায়ী হলে
  4. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হলে
ব্যাখ্যা

Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১৬৭ক: গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কিত ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তব্য:

উপ-ধারা (১):
যদি কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চায় যে, যিনি ইতিমধ্যেই অন্য মামলায় হেফাজতে আছেন তাকে নতুন মামলায় দেখিয়ে গ্রেফতার করা হোক, তবে: ম্যাজিস্ট্রেট এমন অনুরোধ অনুমোদন করবেন না, যদি না গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তার সামনে উপস্থাপন করা হয়, সংশ্লিষ্ট মামলার ডায়রি এন্ট্রির কপি দেখানো হয়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়, এবং আবেদনটি যথাযথ ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।

উপ-ধারা (২):
ম্যাজিস্ট্রেট কোনো ব্যক্তিকে বিচারিক হেফাজতে রাখতে অনুমোদন দেবেন না, যদি পুলিশ ফরওয়ার্ডিং রিপোর্ট থেকে বোঝা যায় যে গ্রেফতারটি প্রতিরোধমূলক আটক (preventive detention) আইন অনুযায়ী আটক করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

উপ-ধারা (৩):
যদি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যথাযথ কারণ থাকে বোঝার যে, কোনো কর্মকর্তা যার কাছে কারাগারে কোনো ব্যক্তিকে আটক করার বৈধ ক্ষমতা আছে, আইনের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তবে ম্যাজিস্ট্রেট সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির 220 ধারার অধীনে ব্যবস্থা নেবেন।

২,০৭০.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন জামিননামা, সমন, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি ফরম কোন তফসিলে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ২য় তফসিল
  2. ৩য় তফসিল
  3. ৪র্থ তফসিল
  4. ৫ম তফসিল
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫ম তফসিলে বিভিন্ন ফরমের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন জামিননামা, সমন, ওয়ারেন্ট ইত্যাদি। এই তফসিলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবহৃত ফরমগুলোর কাঠামো এবং প্রয়োগের নিয়মাবলী উল্লেখ করা হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে, যা নিম্নরূপ:
১ম তফসিল (First Schedule)- বাতিল। 
২য় তফসিল (Second Schedule)- আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে। 
৩য় তফসিল (Third Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে। 
৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে। 
৫ম তফসিল (Fifth Schedule)- ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।

২,০৭১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় নালিশকারীর প্রদানকৃত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন-
  1. কেবল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. কেবল নালিশকারী
  3. নালিশকারী ও ম্যাজিস্ট্রেট উভয়
  4. স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

- ফৌজদারী মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে, অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা।  

- ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে,নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে নালিশকারীকে বা উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন। নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।

- যে ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই-
ক. যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০(ক)]
খ. যেকোন মামলায় যেক্ষেত্রে আদালত লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করে [ধারা ২২০ (কক)] বা
গ. সরকারী কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে লিখিত আকারে নালিশী দরখাস্ত দায়ের করে সেই ক্ষেত্রেও নালিশকারীর বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০ (কক)]।

২,০৭২.
হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য নয়?
  1. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
  2. নতুন আইন প্রণয়ন করা
  3. আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা
ব্যাখ্যা
'নতুন আইন প্রণয়ন করার' ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

• একটি মামলার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে যাবতীয় বিধি দেওয়ানী ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, আদালতের কি করণীয় হবে সে বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বিধি নেই। এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে আদালত তার সুবিবেচনা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকেই আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of the court) বলে। 

• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।

Section 561A: Saving of inherent power of High Court Division:
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.
২,০৭৩.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কত ধারায় অভিযুক্তের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ এর বিধান উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ৩৫১
  2. ধারা ৩৫৩
  3. ধারা ৩৫৫
  4. ধারা ৩৫৭
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৫৩ – অভিযুক্তের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ:
যদি আইনে অন্যভাবে স্পষ্টভাবে কিছু না বলা থাকে, তবে অধ্যায় XX, XXII এবং XXIII-এর অধীনে যেসব সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়- সেগুলো অবশ্যই অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে গ্রহণ করতে হবে।

তবে, যদি আদালত অভিযুক্তের ব্যক্তিগত উপস্থিতি মওকুফ (dispense) করে, তাহলে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে তার আইনজীবীর (pleader) উপস্থিতিতে।

২,০৭৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত হতে পারে?
  1. ছয় মাস
  2. এক বছর
  3. দুই বছর
  4. তিন বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারায় মুচলেকার মেয়াদ ভিন্ন হলেও, শান্তি রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ মুচলেকার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে। যেমন, ধারা ১০৬ ও ধারা ১১০ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত বা অভ্যাসগত অপরাধীদের ক্ষেত্রে মুচলেকার মেয়াদ অনধিক তিন বছর ধার্য করা হয়েছে। অন্য ধারাগুলোর মুচলেকার মেয়াদ সাধারণত এক বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তাই সামগ্রিকভাবে শান্তি রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ মেয়াদ তিন বছর।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির মুচলেকার মেয়াদ:
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭ দণ্ডিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষা মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৮ রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক বিষয় প্রচারকারীর সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৯ ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ব্যক্তিবৃন্দের সদাচরণের মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ১ বছর।
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১০ অভ্যাসগত অপরাধীদের সদাচরণ মুচলেকার মেয়াদ অনধিক ৩ বছর।
⇒ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারে সর্বোচ্চ ৩ বছর।
২,০৭৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রতি কী ধরনের আচরণ করা উচিত?
  1. তাকে সর্বোচ্চ কঠোরভাবে আটকে রাখা উচিত
  2. তাকে সবসময় একক কারাবন্দী রাখা উচিত
  3. তাকে কখনই হাতকড়া পরানো উচিত নয়
  4. তাকে পলায়ন ঠেকাতে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই নিয়ন্ত্রণ করা উচিত
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির (The Code of Criminal Procedure, 1898) ধারা ৫০ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রতি অযথা নিয়ন্ত্রণ বা বাধা প্রয়োগ করা যাবে না। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির উপর শুধুমাত্র ততটুকু নিয়ন্ত্রণ বা বাধা প্রয়োগ করা যাবে, যতটুকু তার পলায়ন ঠেকানোর জন্য প্রয়োজন। এর অর্থ হলো, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রতি অহেতুক কঠোরতা বা অতিরিক্ত শারীরিক বাধা প্রয়োগ করা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
অর্থাৎ ধারা ৫০ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রতি শুধুমাত্র পলায়ন রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা উচিত। এটি নিশ্চিত করে যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রতি অযথা কঠোরতা বা অমানবিক আচরণ করা হবে না। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-50. No unnecessary restraint:
The person arrested shall not be subjected to more restraint than is necessary to prevent his escape.

২,০৭৬.
নিম্নের ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর কোন ধারাগুলো দণ্ড স্থগিত, মওকুফ এবং হ্রাস সংক্রান্ত?
  1. ৪১০, ৪১১, ৪১২
  2. ৪০১, ৪০২, ৪০২ক
  3. ৪০৭, ৪০৮, ৪০৯
  4. ৪০৫, ৪০৬, ৪০৭
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪০১, ৪০২, ৪০২ক এই ৩ টি ধারা হচ্ছে, দণ্ড স্থগিত বা মওকুফ বা হ্রাস সংক্রান্ত।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় সরকার কোন দণ্ডিত আসামিকে তার দণ্ড কার্যকর স্থগিত করতে পারে বা শাস্তির যে কোন অংশ বা সম্পূর্ণ অংশ মওকুফ করতে পারেন।

অন্যদিকে,
সরকার ৪০২ ধারায় দণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন করে অন্য যে কোন দণ্ড দিতে পারেন। উক্ত ধারায় অর্থাৎ ৪০২ ধারায় বলা হয়েছে যে, সরকার দণ্ডিত ব্যক্তির সম্মতি ছাড়াই রদবদল করে ইহার পরে উল্লিখিত যেকোনো দণ্ড দিতে পারবেন-
 
⇒ মৃত্যুদণ্ড,
⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড,
⇒ আসামী সে সময়ের জন্য দণ্ডিত হতে পারত তার অনধিক সময়ের জন্য সশ্রম কারাদণ্ড,
⇒ অনুরূপ মেয়াদের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা।
 
৪০২ (২) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধারাটি কোন ভাবেই দণ্ডবিধির ৫৪ বা ৫৫ ধারা আক্রান্ত করবে না এবং সবশেষে ৪০২ক ধারায় বলা হয়েছে যে, ৪০১ এবং ৪০২ ধারায়, সরকারকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে, মহামান্য রাষ্ট্রপতিও একই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
২,০৭৭.
গুরুতর আঘাত করার জন্য মাসুদ এর বিচার করে দণ্ডিত করার পর আহত ব্যক্তি মারা গেলো। ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা মোতাবেক অপরাধজনক নরহত্যার দায়ে পুনরায় মাসুদ এর বিচার করা যাবে?
  1. ৪০৩(১)
  2. ৪০৩(২)
  3. ৪০৩(৩)
  4. কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪০৩(৩) অনুসারে যখন কোন ব্যক্তি কোন কার্যদ্বারা সৃষ্ট কোন অপরাধে দণ্ডিত হয় (এক্ষেত্রে গুরুতর আঘাত) এবং উক্ত কার্য ও তার প্রতিক্রিয়া সমন্বয়ে তদপেক্ষা ভিন্ন ধরনের একটি অপরাধ সৃষ্টি হয় (এক্ষেত্রে নরহত্যা) , তখন উক্ত প্রতিক্রিয়া না ঘটে থাকে বা ঘটেছে বলে আদালত অবহিত না থাকলে পরবর্তীতে শেষোক্ত অপরাধের (নরহত্যা)  জন্য বিচার করা যাবে।
২,০৭৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯খ এর অধীন সরেজমিনে পরিদর্শন(Local inspection) এর এখতিয়ার আছে-
  1. পুলিশের
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের
  3. যেকোনো ব্যক্তির
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৩৯খ (সরেজমিনে পরিদর্শন)-

১) কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কার্যধারার যে কোন পর্যায়ে কোন জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট পক্ষসমূহকে নোটিশ দিয়ে, যে স্থানে কোন অপরাধ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ আনা হয়েছে সে স্থান কিংবা উক্ত তদন্তে বা বিচারে প্রদত্ত কোন সাক্ষ্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করার জন্য প্রয়োজন বলে মনে করলে, অন্য কোন স্থান সফর ও পরিদর্শন করতে পারবেন ও অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়াই উক্ত পরিদর্শন বা সফরে দৃষ্ট কোন প্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে একটি স্মারকলিপি তৈরি করবেন।

২) উক্ত স্মারকলিপি মামলার নথির অংশ হবে। পাবলিক প্রসিকিউটর বা ফরিয়াদি কিংবা অভিযুক্ত চাইলে উহার একটি নকল তাকে বিনা মূল্যে সরববরাহ করতে হবে।

Sec 539B: Local inspection
(1) Any Judge or Magistrate may at any stage of any inquiry, trial or other proceeding, after due notice to the parties, visit and inspect any place in which an offence is alleged to have been committed, or any other place which it is in his opinion necessary to view for the purpose of property appreciating the evidence given at such inquiry or trial, and shall without unnecessary delay record a memorandum of any relevant facts observed at such inspection.

(2) Such memorandum shall form part of the record of the If the Public Prosecutor, complainant or accused so desires, a copy of the memorandum shall be furnished to him free of cost:
২,০৭৯.
একই মহানগরে এক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত থেকে অন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা স্থানান্তর করতে পারেন-
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মহানগর দায়রা জজ
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

• ধারা ৫২৮- দায়রা জজ সহকারী দায়রা জজের কাছে থেকে মোকদ্দমা তুলে নিতে পারবেন
(১) দায়রা জজ তার অধঃস্তন সহকারী দায়রা জজের কাছ থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাকে যে মামলা দিয়েছেন তা তলব করতে পারবেন।

(১ক) দায়রা জজ কোন অতিরিক্ত দায়রা জজকে যে মামলা বা আপীল দিয়েছিলেন উক্ত অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট যেকোন সময় উক্ত মামলার বিচার বা আপীলের শুনানী আরম্ভের পূর্বে তিনি তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন।

(১খ) যেক্ষেত্রে দায়রা জজ উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন মামলা তুলিয়ে নেন বা ফেরত নেন কিংবা উপ-ধারা (১এ) এর অধীন কোন মামলা বা আপীল ফেরত নেন, সেক্ষেত্রে তিনি নিজের আদালতে উক্ত মামলার বিচার করতে বা নিজে উক্ত আপীল শ্রবণ করতে পারবেন, কিংবা এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে উহা বিচার বা শুনানীর জন্য অন্য কোন আদালতে দিতে পারবেন।

(২) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছিলেন, তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন, এবং নিজে এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন, বা এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচারের যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর তা ইনকোয়ারী বা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন।

(৩) সরকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মর্মে ক্ষমতা দিতে পারবেন যে, তিনি যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শ্রেণীর মামলা বা কোন বিশেষ শ্রেণীর মামলা তার অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে নিতে পারবেন।

(৪) কোন ম্যাজিট্রেট ধারা-১৯২ এর উপধারা (২) এর অধীন কোন মামলা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়েছেন উক্ত মামলা তিনি ফিরিয়ে নিতে এবং নিজে উহার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন।

(৫) কোন ম্যাজিস্ট্রেট এই ধারার অধীন কোন আদেশ দেবার সময় তার এরূপ আদেশ প্রদানের কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।
২,০৮০.
The Code of Criminal Procedure, 1898 অনুসারে দণ্ডের অপর্যাপ্ততার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দণ্ডাদেশ প্রদানের কত দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪১৭ক(২) অনুসারে, ফরিয়াদী দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে আপিল দায়ের করতে চাইলে দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিল আদালত আর তা গ্রহণ করবেন না।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ক ধারার বিধান অপর্যাপ্ত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল:-
(১) কোন আদালতের বিচারে প্রদত্ত দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততার কারণে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল দায়েরের জন্য সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) আদালতে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ফরিয়াদী দণ্ডাদেশের অপর্যাপ্ততাহেতু আপিল আদালতে আপিল দায়ের করতে পারবেনঃ
শর্ত থাকে যে, দণ্ডাদেশের তারিখ থেকে ৬০ (ষাট) দিন পার হবার পর এই উপ-ধারার অধীন আপিল আদালত কর্তৃক কোন আপিল গৃহীত হবে না।
(৩) দণ্ডের অপর্যাপ্ততা হেতু কোন আপিল রুজু করা হলে আপিল আদালত দণ্ড বাড়ানোর বিরুদ্ধে কারণ দর্শাবার জন্য আসামীকে যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে দণ্ড বাড়াবেন না এবং কারণ দর্শাবার সময় আসামী তার খালাস প্রাপ্তি বা দণ্ড কমানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
---------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898,-Section 417A: Appeal against inadequacy of sentence:
(1) The Government may, in any case of conviction on a trial held by any court, direct the Public Prosecutor to present an appeal to the High Court Division against the sentence on the ground of its inadequacy.
(2) A complainant may, in any case of conviction on a trial held by any Court, present an appeal to the Appellate Court against the sentence on the ground of its inadequacy:
Provided that no appeal under this sub-section shall be entertained by the Appellate Court after the expiry of sixty days from the date of conviction.
(3) When an appeal has been filed against the sentence on the ground of its inadequacy, the Appellate Court shall not enhance the sentence except after giving to the accused a reasonable opportunity of showing cause against such enhancement and while showing cause, the accused may plead for his acquittal or for the reduction of the sentence.

২,০৮১.
চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যে মামলা অর্পণ করেছিল, সেই মামলা-
  1. নিজে অনুসন্ধান বা বিচার করতে পারে
  2. নিজে তলব করতে পারে
  3. অনুসন্ধান বা বিচার করার জন্য অন্যকোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাতে পারে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন
ব্যাখ্যা

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার অধীনস্থ কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যে মামলা অর্পণ করেছিল, সেই মামলা নিজে তলব করতে পারে, নিজে অনুসন্ধান বা বিচার করতে পারে বা অনুসন্ধান বা বিচার করার জন্য অন্যকোনো ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাতে পারে।

ধারা ৫২৮: দায়রা জজ সহকারী দায়রা জজের কাছে থেকে মোকদ্দমা তুলে নিতে পারবেন-

(১) দায়রা জজ তাঁর অধঃস্তন সহকারী দায়রা জজের কাছ থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছেন তা তলব করতে পারবেন।

(১ক) দায়রা জজ কোন অতিরিক্ত দায়রা জজকে যে মামলা বা আপীল দিয়েছিলেন উক্ত অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট যেকোন সময় উক্ত মামলার বিচার বা আপীলের শুনানী আরম্ভের পূর্বে তিনি তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন।
(১খ) যেক্ষেত্রে দায়রা জজ উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন মামলা তুলিয়ে নেন বা ফেরত নেন কিংবা উপ-ধারা (১এ) এর অধীন কোন মামলা বা আপীল ফেরত নেন, সেক্ষেত্রে তিনি নিজের আদালতে উক্ত মামলার বিচার করতে বা নিজে উক্ত আপীল শ্রবণ করতে পারবেন, কিংবা এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে উহা বিচার বা শুনানীর জন্য অন্য কোন আদালতে দিতে পারবেন।

(২) চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে কোন মামলা তুলিয়ে নিতে পারবেন বা তাঁকে যে মামলা দিয়েছিলেন, তা ফিরিয়ে নিতে পারবেন, এবং নিজে এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন, বা এরূপ মামলার ইনকোয়ারী বা বিচারের যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর তা ইনকোয়ারী বা বিচারের জন্য প্রেরণ করতে পারবেন।

(৩) সরকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে হাইকোর্ট ডিভিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মর্মে ক্ষমতা দিতে পারবেন যে, তিনি যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শ্রেণীর মামলা বা কোন বিশেষ শ্রেণীর মামলা তার অধঃস্তন কোন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হতে নিতে পারবেন।

(৪) কোন ম্যাজিট্রেট ধারা-১৯২ এর উপধারা (২) এর অধীন কোন মামলা অন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়েছেন উক্ত মামলা তিনি ফিরিয়ে নিতে এবং নিজে উহার ইনকোয়ারী বা বিচার করতে পারবেন।

Section 528- Sessions Judge may withdraw cases from Assistant Sessions Judge
(1) Any Sessions Judge may withdraw any case from, or recall any case which he has made over to, any Joint Sessions Judge subordinate to him. 
 
(1A) At any time before the trial of the case or the hearing of the appeal has commenced before the Additional Sessions Judge, any Sessions Judge may recall any case or appeal which he has made over to any Additional Sessions Judge. 
 
(1B) Where a Sessions Judge withdraws or recalls a case under sub-section (1) or recalls a case or appeal under sub-section (IA), he may either try the case in his own Court or hear the appeal himself, or make it over in accordance with the provisions of this Code to another Court for trial or hearing, as the case may be.
 
(2) [The Chief Metropolitan Magistrate or Chief Judicial Magistrate or District Magistrate] may withdraw any case from, or recall any case which he has made over to, any Magistrate subordinate to him, and may inquire into or try such case himself, or refer it for inquiry or trial to any other such Magistrate competent to inquire into or try the same.
 
(3) The Government with the approval of the High Court Division] may authorize the Chief Metropolitan Magistrate or the Chief Judicial Magistrate to withdraw from any Magistrate subordinate to him either such classes of cases as he thinks proper, or particular classes of cases. 
 
(4) Any Magistrate may recall any case made over by him under section 192, sub-section (2), to any other Magistrate and may inquire into or try such case himself. 
 
(5) A Magistrate making an order under this section shall record in writing his reasons for making the same.

২,০৮২.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারাগুলোর অধীন আপিলে আসামির মৃত্যু হলে আপিল চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়?
  1. ৪০৫ ও ৪০৬ ধারা
  2. ৪০৭ ও ৪০৮ ধারা
  3. ৪১৭ ও ৪১৭ক ধারা
  4. ৪১৯ ও ৪২০ ধারা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩১ মতে-
৪১৭ ধারা ও ৪১৭ক ধারা অধীন প্রত্যেকটি আপিলে আসামীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড হয়ে যাবে এবং এই অধ্যায়ের অধীন অন্যান্য প্রত্যেকটি আপিল (জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল ব্যতিত) আপিলকারীর মৃত্যু হলে চূড়ান্তভাবে পণ্ড বা আপিল Abate হয়ে যাবে। 

Section 431- Abatement of appeals
Every appeal under section 417 or section 417A shall finally abate on the death of the accused, and every other appeal under this Chapter
(except an appeal from a sentence of fine) shall finally abate on the death of the appellant.
২,০৮৩.
The Code of Criminal Procedure,1898 এর ধারা ৫৪৪ এর অধীনে সুরক্ষা কার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে?
  1. সাক্ষী
  2. ভুক্তভোগী
  3. অভিযোগকারী
  4. উপরোক্ত সকলের জন্য
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৫৪৪: অভিযোগকারী, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের খরচ ও সুরক্ষা:
(১) সরকারের কোনো আদেশ থাকলে তার অন্তর্ভুক্ত, যে কোনো ফৌজদারি আদালত প্রয়োজন মনে করলে, অভিযোগকারী বা সাক্ষীর যুক্তিসঙ্গত খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে। এটি সেই ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য যারা কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন কার্যক্রমে আদালতের সামনে উপস্থিত হন এই কোড অনুযায়ী।

(২) যে কোনো আদালত, অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী বা সাক্ষীর আবেদন বা স্বপ্রণোদিত (suo moto) ভিত্তিতে, ফৌজদারি কার্যক্রমের যে কোনো পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা পদক্ষেপ নিতে পারে যাতে তাদের সুরক্ষা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

২,০৮৪.
What does Section 63 of The Code of Criminal Procedure, 1898 say about discharging arrested persons?
  1. Anyone can release them.
  2. They have to be taken to court first.
  3. They can be released for any reason.
  4. They can only be released by certain methods like bond or bail.
ব্যাখ্যা
Section 63: Discharge of person apprehended:
No person who has been arrested by a police-officer shall be discharged except on his own bond, or on bail, or under the special order of a Magistrate.

ধারা ৬৩: গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অব্যাহতি:
যে ব্যক্তি কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে, তাকে তার নিজের মুচলেকা, অথবা জামিন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ ব্যতীত অব্যাহতি দেয়া যাবে না।
২,০৮৫.
BLAST VS Bangladesh (55 DLR 363) মামলার রায় হাইকোর্ট বিভাগ কত সালে প্রদান করে?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ২০০৩ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা বিতর্কিত ও সমালোচিত, কারণ এ দুটি আইনের মাধ্যমে পুলিশকে বিনা পরোয়ানায় যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিস্তৃত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এই ক্ষমতার ফলে পুলিশ কর্তৃক অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে, যা মানবাধিকারের লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে, পুলিশ যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তিসংগত সন্দেহ পোষণ করে, তবে আদালতের পরোয়ানা ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করতে পারে। এজন্যই অনেকের কাছে এ আইনগুলো ‘কালো আইন’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

- ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং ১৬৭ ধারার অধীনে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে BLAST VS Bangladesh (55 DLR 363) মামলা বহুল পরিচিত। BLAST vs Bangladesh 55 DLR 363 মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারাকে সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্য বলে উক্ত ধারা দুইটিকে সংশোধন করার জন্য সুপারিশ করেন।

- BLAST মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ মোট ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করার সুপারিশ করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগের ১৫টি নির্দেশনার মধ্যে প্রথম ৮টি নির্দেশনা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অধীনে পুলিশের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা সংক্রান্ত।
- এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ:
পটভূমি:
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST) নামক একটি এনজিও কর্তৃক ১৯৯৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয় যে, পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করছে না।
মামলার বিষয়বস্তু:
এই মামলায় BLAST দাবি করে যে পুলিশ অনেক সময় অভিযুক্তদের অবৈধভাবে হেফাজতে রাখে এবং নির্যাতন করে। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার (নিরাপত্তা প্রাপ্তির অধিকার) এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে।
আদালতের রায়:
২০০৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এই মামলার রায় প্রদান করে, যেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনের সুপারিশসহ মোট ১৫টি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম ৮টি নির্দেশনা পুলিশ কর্তৃক বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতার ওপর কেন্দ্রিত। রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে নিতে পারবে, তবে সেই হেফাজতের সময়কাল ও কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং তা অভিযুক্তের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন করতে হবে। এরপর অভিযুক্তকে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক।
২,০৮৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী ফৌজদারি আদালতের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. শুধুমাত্র মামলার পক্ষগণের জন্য উন্মুক্ত
  2. শুধুমাত্র আইনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত
  3. উন্মুক্ত আদালত হিসেবে গণ্য হয়
  4. গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২ অনুযায়ী: “কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে স্থান সংকুলান হয়, সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার থাকবে।”
- অর্থাৎ সাধারণত ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও জনবিশ্বাস বজায় থাকে।
 তবে ব্যতিক্রম আছে: বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বসাধারণ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন, তাহলে তিনি আদেশ দিয়ে আদালত কক্ষ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে পারেন।
→ সুতরাং, ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম সাধারণভাবে "উন্মুক্ত আদালত" হিসেবে পরিচালিত হয় – এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, যতক্ষণ না বিচারক ব্যতিক্রমী আদেশ দেন।
- তাই সঠিক উত্তর: গ) উন্মুক্ত আদালত হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ
শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।
------------- 
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 352: Courts to be open-
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.

২,০৮৭.
কোন পর্যায়ে তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন?
  1. শুধু তদন্তকালীন সময়
  2. কেবল চার্জ গঠনের সময়
  3. কেবল রায় ঘোষণার সময়
  4. মামলার যেকোনো পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ অনুসারে-
(১) যখন কোন ম্যাজিস্ট্রেট সমন জারি করেন তখন যুক্তিসংগত কারণ থাকলে তিনি আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা হতে রেহাই দিয়ে, তাকে উকিলের মাধ্যমে হাজির হওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন।

(২) কিন্তু তদন্ত বা বিচারকারী ম্যাজিস্ট্রেট তার বিচারিক ক্ষমতায় মামলার যে কোন পর্যায়ে আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনবোধে ইতোপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারবেন।

Section 205: Magistrate may dispense with personal attendance of accused
(1) Whenever a Magistrate issues a summons, he may, if he sees reason so to do, dispense with the personal attendance of the accused, and permit him to appear by his pleader. 

(2) But the Magistrate inquiring into or trying the case may, in his discretion, at any stage of the proceedings, direct the personal attendance of the accused, and, if necessary, enforce such attendance in manner hereinbefore provided.
২,০৮৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারা অনুসারে, ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার যখন যুক্তিসংগতভাবে সাহায্য চাইবেন, তখন জনসাধারণ সাহায্য করবেন-
  1. প্রয়োজনে
  2. বাধ্যতামূলকভাবে
  3. নিজের ইচ্ছায়
  4. কেবল আদালতের আদেশে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ ধারার বিধান- জনসাধারণ যখন ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশকে সাহায্য করবেন:
প্রত্যেক ব্যক্তি বাধ্য থাকবেন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট (বিচারিক বা নির্বাহী) বা পুলিশ অফিসার যুক্তিসংগতভাবে তার সাহায্য চাইলে সেই সাহায্য প্রদান করতে-

(ক) এমন কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা বা তার পলায়ন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে, যাকে ঐ ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসার আইনত গ্রেফতার করার ক্ষমতা রাখেন;

(খ) শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধ বা দমন করার ক্ষেত্রে, অথবা কোনো রেলপথ, খাল, টেলিগ্রাফ বা সরকারি সম্পত্তির প্রতি ক্ষতি সাধনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে।

The Code of Criminal Procedure- Section-42. Public when to assist:
Every person is bound to assist any Magistrate whether Judicial or Executive or police officer reasonably demanding his aid-
(a) in the taking or preventing the escape of any other person whom such Magistrate or police-officer is authorized to arrest;
(b) in the prevention or suppression of a breach of the peace, or in the prevention of any injury attempted to be committed to any railway, canal, telegraph or public property.

২,০৮৯.
"Courts to be open"- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় বলা আছে?
  1. ৩৬৬ ধারায়
  2. ৩৬১ ধারায়
  3. ৩৫২ ধারায়
  4. ৩৭১ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-

কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারী আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ
শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।

Section 352: Courts to be open
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.
২,০৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারা অনুযায়ী, একই বিচারে একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে পর পর চলার একাধিক দণ্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ কত?
  1. ১০ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ১৪ বছর
  4. ২০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৩৫(২)(ক) অনুসারে একই বিচারে একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে পরপর চলার একাধিক দণ্ডের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের মেয়াদ ১৪ বছর।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ ধারার বিধান একই বিচারে কতিপয় অপরাধে দোষী সাব্যস্তের ক্ষেত্রে দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ:
(১) যখন কোন ব্যক্তি একই বিচারে দুই বা ততোধিক অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে দণ্ডবিধির ৭১ ধারার ব্যবস্থা সাপেক্ষে আদালত উক্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য নির্ধারিত ও আদালতের ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত শাস্তি প্রদান করতে পারেন; এরূপ শান্তি কারাদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে আদালত যদি একই সাথে চলবে মর্মে নির্দেশ প্রদান না করেন, তাহলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একটির পর অপরটি চলবে।
(২) আদালত একটিমাত্র অপরাধের জন্য যে শাস্তি দিতে পারেন, তারচেয়ে একাধিক দণ্ড পরপর চলবার ক্ষেত্রে মোট শাস্তির পরিমাণ যদি অধিক হয়, তখন কেবল ইহার জন্য উক্ত আদালতকে বিচারের জন্য অপরাধীকে উচ্চতর আদালতে পাঠাতে হবে না:
তবে শর্ত থাকে যে,
(ক) দণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ: কোনোভাবেই এরূপ ব্যক্তিকে চৌদ্দ বৎসরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না।
(খ) কোন ম্যাজিস্ট্রেট যদি এরকমের মামলার বিচার করেন, তাহলে মোট শাস্তির পরিমাণ উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার সাধারণ এখতিয়ারে যে শাস্তি প্রদান করতে পারেন তার দ্বিগুণের বেশি হবে না।
(৩) আপিলের উদ্দেশ্যে এই ধারার বিধান অনুসারে একই বিচারে বিভিন্ন অপরাধের জন্য প্রদত্ত পর পর চলার একাধিক দণ্ডের মোট পরিমাণকে একটিমাত্র দণ্ড মর্মে ধারে নিতে হবে।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section-35. Sentence in cases of conviction of several offences at one trial Maximum term of punishment:
(1) When a person is convicted at one trial of two or more offences, the Court may, subject to the provisions of section 71 of the Penal Code sentence him, for such offences, to the several punishments prescribed therefor which such Court is competent to inflict; such punishments, when consisting of imprisonment or transportation to commence the one after the expiration of the other in such order as the Court may direct, unless the Court directs that such punishments shall run concurrently.
(2) In the case of consecutive sentences, it shall not be necessary for the Court, by reason only of the aggregate punishment for the several offences being in excess of the punishment which it is competent to inflict on conviction of a single offence, to send the offender for trial before a higher Court:
Provided as follows:-
(a) in no case shall such person be sentenced to imprisonment for a longer period than fourteen years;
(b) if the case is tried by a Magistrate , the aggregate punishment shall not exceed twice the amount of punishment which he is, in the exercise of his ordinary jurisdiction, competent to inflict.
(3) For the purpose of appeal, the aggregate of consecutive sentences passed under this section in case of convictions for several offences at one trial shall be deemed to be a single sentence.

২,০৯১.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী Special Magistrates-এর নিয়োগ কার পরামর্শে করা হয়?
  1. Sessions Judge
  2. District Magistrate
  3. High Court Division
  4. Chief Judicial Magistrate
ব্যাখ্যা

⇒  ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (Code of Criminal Procedure, 1898) অনুযায়ী Special Magistrates-এর নিয়োগ (বা ক্ষমতা অর্পণ) সরকার কর্তৃক করা হয়, তবে এটি High Court Division-এর সাথে পরামর্শক্রমে (in consultation with the High Court Division) সম্পন্ন হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১২ ধারামতে Special Magistrate তিন প্রকার। যথা-
ⅰ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Special Executive Magistrate);
ii) বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট (Special Magistrate);
iii) বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (Special Metropolitan Magistrate).

-ফৌজদারি কার্যবিধির ১২(১) ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণযোগ্য ক্ষমতা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য কোন ব্যক্তির উপর অর্পণ করলে, উক্ত ব্যক্তিবর্গ বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলে গণ্য হবে।
-ফৌজদারি কার্যবিধির ১২(৩) ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরে কোন প্রথম শ্রেণী, দ্বিতীয় শ্রেণী বা তৃতীয় শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণযোগ্য ক্ষমতা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য কোন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণ করলে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট বলে গণ্য হবে।
-ফৌজদারি কার্যবিধির ১২(৫) ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শক্রমে, মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণযোগ ক্ষমতা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পণ করলে, উক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বলে গণ্য হবে।
-----------------
The Code of Criminal Procedure- Section-12: Special Magistrate:
1) The Government may confer upon any person all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on an Executive Magistrate in respect of particular cases or a particular class or classes of cases, or in regard to cases generally in any local area outside a Metropolitan area: 
Provided that no power shall be conferred under the sub-section on any police officer below the grade of an Assistant Superintendent of Police and no powers shall be conferred on a such police officer except so far as may be necessary for preserving the peace, preventing crime and detecting apprehending and detaining offenders, in order to bring the offender before a Magistrate, and for the performance by the officer of any other duties imposed upon him by any law for the time being in force. 
(2) The persons on whom the powers under sub-section (1) are conferred shall be called Special Executive Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may by general or special order direct. 
(3) The Government may, in consultation with the High Court Division confer upon any Magistrate all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on a Judicial Magistrate of the first, second or third class in respect of particular cases or a particular class or classes of cases or in regard to cases generally in any local area outside a Metropolitan area. 
(4) The Magistrate on whom the powers under sub-section (3) are conferred shall be called Special Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may, in consultation with the High Court Division, by general or special order direct. 
(5) The Government may in consultation with the High Court Division confer upon any Metropolitan Magistrate all or any of the powers conferred or conferrable by or under this Code on Metropolitan Magistrate in respect of particular cases or a particular class or classes, or in regard to cases generally in any Metropolitan Area. 
(6) The persons on whom the powers under sub-section (5) are conferred shall be called Special Metropolitan Magistrates and shall be appointed for such term as the Government may in consultation with High Court Division by general or special order direct.

২,০৯২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩২ অনুযায়ী আদালত কিসের ভিত্তিতে নতুন বিচারের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে
  2. অভিযোগের পুনরায় যাচাই হলে
  3. অভিযুক্তের জামিন আবেদন নাকচ হলে
  4. চার্জে গুরুতর ভুলের কারণে অভিযুক্ত বিভ্রান্ত হলে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩২ এ চার্জে কৃত গুরতর ভুলের ফলাফল দেয়া হয়েছে-
আদালত যদি মনে করেন যে, অভিযােগ গঠিত হওয়ায় কিংবা উহাতে ভুল থাকায় কোন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি তার আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছে, তা হলে নতুন বিচারের নির্দেশ দিতে পারেন। এছাড়া, কোন বৈধ অভিযােগ প্রণয়ন করা না গেলে, দণ্ডাদেশ রদ করে দিবেন।

অপরদিকে,
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২২৫ এ দেয়া আছে-
অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে তা যদি আসামির বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে এবং তা যদি ন্যায় বিচার ব্যাহত না করে, তাহলে তা মামলার কোন পর্যায়ে গুরুতর বলে গণ্য হবে না।
২,০৯৩.
পেশকৃত দলিলসমূহ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায়?
  1. ফৌজদারি কার্যবিধির ১০২ ধারায়
  2. ফৌজদারি কার্যবিধির ১০১ ধারায়
  3. ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৫ ধারায়
  4. ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৪ ধারার বিধান পেশকৃত দলিলসমূহ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাঃ যে কোন আদালত, উপযুক্ত বিবেচনা করলে, এই কোড অনুসারে ইহার সমক্ষে পেশ করা যে কোন দলিল বা বস্তু বাজেয়াপ্ত করতে পারেন।

------------
♦ Section 104. Power to impound document, etc, produced: Any Court may, if it thinks fit, impound any document or thing produced before it under this Code.
২,০৯৪.
পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুসারে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করেন?
  1. ধারা ১৭৬(৩)
  2. ধারা ১৭৪(৩)
  3. ধারা ১৭৫(৩)
  4. ধারা ১৭৬(১)
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪(৩) ধারায় ময়নাতদন্ত (Post-mortem) এর কথা বলা হয়েছে। কোন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার বা এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক বিশেষ ভাবে ক্ষমতাবান অন্য কোন পুলিশ অফিসার যদি সংবাদ পান যে,কোন ব্যক্তি-
> আত্মহত্যা করেছে,অথবা
> অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক বা কোন প্রাণী কর্তৃক বা কোন যন্ত্র দ্বারা দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে, অথবা
> এরূপ অবস্থায় মারা গেছে- যা যৌক্তিক সন্দেহ সৃষ্টি করে যে অন্য কোন ব্যক্তি অপরাধ করেছে;
 
অর্থ্যাৎ মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে বা অন্য কোন কারণে এই সম্পর্কে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম সাপেক্ষে পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৪(৩) অনুসারে ময়নাতদন্তের (Post mortem) জন্য লাশটি নিকটতম সিভিল সার্জন বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অন্য কোন যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করবেন। তবে আবহাওয়ার অবস্থা ও দূরত্বের জন্য লাশটি রাস্তায় পঁচে যাবার আশঙ্কা থাকলে ময়নাতদন্ত করা অর্থহীন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে লাশ প্রেরণের প্রয়োজন নেই।
২,০৯৫.
কোন ফৌজদারি আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে?
  1. চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  2. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. অতিরিক্ত দায়রা জজ
  4. জেলা জজ
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৩৫ ধারা অনুযায়ী রিভিশনের ক্ষমতা বা নিন্ম আদালতের নথি তলবের ক্ষমতা আছে হাইকোর্ট বিভাগের ও দায়রা জজ আদালতের (অতিরিক্ত দায়রা জজ)।
♦ রিভিশনের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজ সকলের রয়েছে ।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৯ক(৩) ধারায় অতিরিক্তি দায়রা জজের রিভিশন ক্ষমতা রয়েছে। দায়রা জজ সাধারন বা বিশেষ আদেশ বলে তার নিকট দায়েরকৃত কোন রিভিশন অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করতে পারে; এক্ষেত্রে অতিরিক্ত দায়রা জজ, দায়রা জজের সকল রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।  রিভিশনে প্রদত্ত দায়রা জজের আদেশই চূড়ান্ত কেননা, ফৌজদারি কার্যবিধিতে ২য় ব্রিভিশনের বিধান নাই।
২,০৯৬.
ফৌজদারি আদালত সাক্ষীকে দলিল হাজির করতে বলার পর যদি তিনি তা উপস্থাপন করতে অস্বীকার করেন, তাহলে আদালত সর্বোচ্চ কতদিন তাকে কোর্ট অফিসারের হেফাজতে রাখতে পারেন?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারা- কোন ব্যক্তি জবাব দিতে বা দলিল করতে অস্বীকার করলে কারাদণ্ড বা সোপর্দকরণ:
কোন ফৌজদারী আদালত কোন সাক্ষী বা ব্যক্তিকে তার দখলের বা ক্ষমতার অন্তর্ভূক্ত কোন দলিল বা বস্তু হাজির করতে বললে সে যদি তা হাজির করতে অস্বীকার করে বা তার নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করে, এবং এই অস্বীকৃতির জন্য কোন যৌক্তিক কৈফিয়ত না দেয়, সেক্ষেত্রে আদালত লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে যে কোন সময়ের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন অথবা প্রিজাইডিং ম্যাজিস্ট্রেট বা জজের নিজ হাতে স্বাক্ষরিত পরোয়ানা দ্বারা তাকে ৭ (সাত) দিনের অনধিক যেকোন সময়ের জন্য কোর্টের কোন অফিসারের হেফাজতে আটক রাখতে পারবেন, যদি না উক্ত ব্যক্তি ইতোমধ্যে জবানবন্দী দিতে বা দলিল বা বস্তু হাজির করতে রাজী হয়। উক্ত ব্যক্তি তার অস্বীকৃতিতে অবিচল থাকলে ধারা-৪৮০ বা ৪৮২ অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে, এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের ক্ষেত্রে তাকে অবমাননার জন্য দোষী মর্মে গণ্য করতে হবে।

Section-485: Imprisonment or committal of person refusing to answer or produce document:
If any witness or person called to produce a document or thing before a Criminal Court refuses to answer such questions as are put to him or to produce any document or thing in his possession or power which the Court requires him to produce, and does not offer any reasonable excuse for such refusal, such Court may, for reasons to be recorded in writing, sentence him to simple imprisonment, or by warrant under the hand of the presiding Magistrate or Judge commit him to the custody of an officer of the Court for any term not exceeding seven days, unless in the meantime such person consents to be examined and to answer, or to produce the document or thing. In the event of his persisting in his refusal, he may be dealt with according to the provisions of section 480 or section 482, and in the case of High Court Division shall be deemed guilty of a contempt.
২,০৯৭.
মামলা শুনানীর যেকোন পর্যায়ে আদালত-
  1. শুধু সমন প্রেরণ করে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে
  2. সমন প্রেরণ ছাড়া সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে না
  3. আদালতে উপস্থিত কোন ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে
  4. সাক্ষীর পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারে না
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪০: গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সমন করার কিংবা উপস্থিত ব্যক্তির জবানবন্দী গ্রহণ করার ক্ষমতা

এই বিধির অধীন কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কার্যধারার যে কোন ধাপে কোন আদালত যেকোন ব্যক্তিকে সাক্ষী রূপে সমন করতে পারবেন বা সাক্ষী রূপে সমন করা না হলে উপস্থিত যেকোন ব্যক্তির জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন, বা ইতোমধ্যে যার জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে তাকে পুনরায় তলব করে পুনরায় জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন এবং এরূপ কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য আদালতের ন্যায়বিচারের জন্য অত্যাবশ্যক মর্মে প্রতীয়মান হলে, আদালত তাকে সমন করে তার জবানবন্দী গ্রহণ করবেন কিংবা পুনরায় তলব করে পুনরায় তার জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারবেন।

Section 540: Power to summon material witness or examine person present
Any Court may, at any stage of any inquiry, trial or other proceeding under this Code, summon any person as a witness, or examine any person in attendance, though not summoned as a witness, or recall and re-examine any person already examined; and the Court shall summon and examine or recall and re-examine any such person if his evidence appears to it essential to the just decision of the case.
২,০৯৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির _______ ধারায় মামলা ও আপীল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের ক্ষমতার বিধান আলোচিত হয়েছে।
  1. ৫২৩ ধারায়
  2. ৫২৫ ধারায়
  3. ৫২৫ক ধারায়
  4. ৫২৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৫২৫ক- মামলা ও আপীল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের ক্ষমতা:
 
(১) যেক্ষেত্রে এটা প্রতীয়মান হয় যে, এরূপ স্থানান্তর ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বা পক্ষগণ বা সাক্ষীদের সাধারণ সুবিধার উন্নয়ন ঘটাবে সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগ কোন নির্দিষ্ট মামলা বা আপিল হাইকোর্ট বিভাগের এক স্থায়ী বেঞ্চ থেকে উহার অন্য স্থায়ী বেঞ্চে কিংবা হাইকোর্ট বিভাগের কোন স্থায়ী বেঞ্চের এখতিয়ারের মধ্যকার কোন ফৌজদারী আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগের অন্য কোন স্থায়ী বেঞ্চের মধ্যকার এখতিয়ারের মধ্যকার একই বা উচ্চতর ক্ষমতা সম্পন্ন ফৌজদারী আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।
 
(২) যে হাইকোর্ট ডিভিশনের স্থায়ী বেঞ্চ কিংবা ক্ষেত্রমতে আদালতে মামলা বা আপীল স্থানান্তরিত হয়, সে বেঞ্চ বা আদালত এমনভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন যাতে মূলতঃ সেখানেই উক্ত মামলা বা আপীল দায়ের করা বা উপস্থাপিত হয়েছিল।
 
Section 525A- Power of Appellate Division to transfer cases and appeals:
(1) The Appellate Division may direct the transfer of any particular case or appeal from one permanent Bench of the High Court Division to another permanent Bench of the High Court Division, or from any Criminal Court within the jurisdiction of one permanent Bench of the High Court Division to any other Criminal Court of equal or superior jurisdiction within the jurisdiction of another permanent Bench of the High Court Division, whenever it appears to it that such transfer promote the ends of justice, or tend to the general convenience of parties or witnesses.
(2) The permanent Bench of the High Court Division or the Court, as the case may be, to which such case or appeal is transferred shall deal with the same as if it had been originally instituted in, or presented to, such Bench or Court, as the case may be.
২,০৯৯.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারার অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা যাবে না?
  1. ৪২৬
  2. ৪০৬
  3. ৩২৩
  4. ৩২৬
ব্যাখ্যা
• কোন অপরাধগুলোর সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়: নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়। যথা-
i) মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ২ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদন্ড যোগ্য অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ অর্থাৎ ২ বছর বা এর কম মেয়াদের কারাদন্ড যোগ্য অপরাধের বিচার।
ii) দন্ডবিধির ২৬৪, ২৬৫, ২৬৬ ধারামতে ওজন ও পরিমান সম্পর্কিত অপরাধ, ৩২৩ ধারামতে আঘাত, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের চুরি, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ, ১০ হাজার টাকার কম মূল্যের চোরাইমাল গ্রহণ, গোপন ও হস্তান্তর;
iii) দন্ডবিধির ২৭৭,২৭৯, ২৮৫, ২৮৯, ২৯০-২৯৪,৩৩৪, ৩৩৬,৩৪১,৩৫২ ধারার অপরাধ ।
iv) ক্ষতি (Mischief), দন্ডবিধির ৪৪৭ ধারামতে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, ৪৪১, ৪৫৩, ৪৫৪, ৪৫৬ ও ৪৫৭ ধারামতে কৃত অপরাধ, অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন, ৫০৯ ও ৫১০ ধারামতে ইভটিজিং বা মাতলামি;
v) পূর্বে বর্ণিত অপরাধ সমূহে সহায়তা ও অপরাধসমূহ করার চেষ্টা (abetment and attempt to commit any of the foregoing offences); এবং
vi) ১৮৭১ সালের গবাদি পশুর অনধিকার প্রবেশ আইনের ২০ ধারার অধীন অপরাধের সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যায়।

• দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারা মতে  অনিষ্টের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিনমাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারা মতে অপরাধমূল বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

• দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারা মতে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দানের শাস্তি: 
যদি কেউ ৩৩৪ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়াই অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

• দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারামতে স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্ৰ বা মাধ্যমের সাহায্যে গুরুতর আঘাত দান করা:
কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৫ ধারায় বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে কোন গুলিবর্ষণের, ছুরিকাঘাতের বা কাটার যন্ত্র বা হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা যে হাতিয়ার দিয়ে একটি অপরাধ সংঘটনের জন্য এই হাতিয়ারটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে, সে হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিষ বা ক্ষয়কারী দ্রব্য কর্তৃক গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা গুরুতরভাবে আহত করে, অথবা যে দ্রব্য শ্বাস কর্তৃক গ্রহণ করলে, উদরস্থ করলে বা রক্তে গ্রহণ করলে তা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, সে দ্রব্য দ্বারা গুরুতর আহত করে অথবা কোন পশু দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

• অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩২৬ অনুযায়ী স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্ৰ বা মাধ্যমের সাহায্যে গুরুতর আঘাত দান করার মামলা সংক্ষিপ্তভাবে বিচার করা যাবে না।
২,১০০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৮ অনুযায়ী, কার্যধারার নকল পাওয়ার জন্য সাধারণত কী করতে হয়?
  1. নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হয়
  2. পুলিশের অনুমতি নিতে হয়
  3. আদালতের বিচারকের সম্মতি নিতে হয়
  4. পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুমতি নিতে হয়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৮ অনুসারে, যদি কোন ব্যক্তি ফৌজদারি আদালতের রায় বা আদেশ দ্বারা প্রভাবিত হন এবং তিনি আদেশ, সাক্ষ্য বা নথির নকল পেতে চান, তাহলে তিনি আবেদন করে তা পেতে পারেন। তবে তিনি উক্ত নকল পাওয়ার জন্য নির্ধারিত খরচ প্রদান করতে বাধ্য, যদি না আদালত কোন বিশেষ কারণে তা বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- তাই, সাধারণ নিয়ম হলো: কার্যধারার নকল পাওয়ার জন্য খরচ প্রদান করতে হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৮- কার্যধারার নকল:
কোন ফৌজদারি আদালত দ্বারা প্রদত্ত কোন রায় বা আদেশ কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তি কোন আদেশ বা সাক্ষ্য বা নথির অন্য অংশের নকল নিতে ইচ্ছা করলে তার আবেদনের ভিত্তিতে তাকে তা সরবরাহ করতে হবে,
শর্ত থাকে যে, আদালত কোন বিশেষ কারণবশত বিনামূল্যে তা প্রদান উপযুক্ত মনে না করলে তাকে উহার জন্য খরচ দিতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure,1898- Section 548: Copies of proceedings:
If any person affected by a judgment or order passed by a Criminal Court desires to have a copy of any order or deposition or other part of the record be shall, on applying for such copy, be furnished therewith:
Provided that he pays for the same, unless the Court, for some special reason, thinks fit to furnish it free of cost.