ব্যাখ্যা
• এরূপ পরীক্ষাকালে পুলিশ কর্মকর্তা তার নিকট প্রদত্ত বিবৃতি লিখে নিতে পারেন এবং একাধিক ব্যক্তির বিবৃতি পৃথকভাবে রেকর্ড করবেন।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৪ / ২৯ · ১,৩০১–১,৪০০ / ২,৮৮৩
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯(৩এ) ধারায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে দায়রা আদালতের বিচারক, যেমন দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী করা হয়।
সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের কাঠামো এবং বিচারকদের নিয়োগের নিয়মাবলী নির্ধারণ করে, যার অধীনে সেশনস জজ, অতিরিক্ত সেশনস জজ এবং যুগ্ম সেশনস জজের নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।
⇒ দায়রা আদালতের শ্রেণীবিভাগ- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরণের বিচারক থাকে। যথা-
ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ- সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।
-------------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 9: Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court ; and the Court of Session for Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.
(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore.
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts.
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct.
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান: আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।
(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।
(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।
(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ধারা ৫০৯ অনুযায়ী সিভিল সার্জন বা অন্য কোনো চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। এটি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নেওয়া হলে বা ধারা-৪০ অনুযায়ী কমিশনে নেওয়া হলে, অভিযুক্তকে হাজির না করলেও ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে সাক্ষ্যরূপে ব্যবহার করা যায়।
- অন্যান্য ব্যক্তি যেমন আইনজীবী, পুলিশ অফিসার বা মামলার আসামীর জবানবন্দি এই ধারার অধীনে গ্রহণযোগ্য নয়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯- চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি:
(১) আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত বা অধ্যায়-৪০ অনুসারে কমিশনে গৃহীত কোন সিভিল সার্জন বা অন্য কোন চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা না হলেও, এ বিধির অধীন কোন ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রমে সাক্ষ্যরূপে দেয়া যাবে।
(২) চিকিৎসক সাক্ষীকে সমন করার ক্ষমতা:
আদালত সঠিক মনে করলে এরূপ সাক্ষীকে সমন করতে এবং তার জবানবন্দির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাকে পরীক্ষা করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 509- Deposition of medical witness:
(1) The deposition of a Civil Surgeon or other medical witness, taken and attested by a Magistrate in the presence of the accused, or taken on commission under Chapter XL, may be given in evidence in any inquiry, trial or other proceeding under this Code, although the deponent is not called as a witness.
Power to summon medical witness
(2) The Court may, if it thinks fit, summon and examine such deponent as to the subject-matter of his deposition.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১১২-তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ধারা ১০৭, ১০৮, ১০৯ বা ১১০-এর অধীনে কারণ দর্শানোর জন্য লিখিত আদেশে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হবে:
- প্রাপ্ত তথ্যের সারাংশ (substance of the information received)
- বন্ডের পরিমাণ (amount of the bond to be executed)
- বন্ডের মেয়াদকাল (term for which it is to be in force)
- জামিনদারের (যদি থাকে) সংখ্যা, চরিত্র এবং শ্রেণি (number, character and class of sureties (if any) required)
এই তালিকায় অভিযুক্তের সম্পত্তির বিবরণ (details of property of the accused) উল্লেখ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অতএব, সঠিক উত্তর: ঘ) অভিযুক্তের সম্পত্তির বিবরণ।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 112.Order to be made:
When a Magistrate acting under section 107, section 108, section 109 or section 110 deems it necessary to require any person to show cause under such section, he shall make an order in writing, setting forth the substance of the information received, the amount of the bond to be executed, the term for which it is to be in force, and the number, character and class of sureties (if any) required.
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ২৪০ অনুসারে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হলে এবং এক বা একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে, বাকি অভিযোগগুলো ফরিয়াদী বা সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা আদালতের অনুমতিতে প্রত্যাহার করতে পারেন। এই প্রত্যাহারের ফলাফল হিসেবে প্রত্যাহৃত অভিযোগগুলো খালাস (acquittal) দেওয়া হিসেবে পরিগণিত হয়, যতক্ষণ না দণ্ডাদেশ রদ করা হয়। যদি দণ্ডাদেশ রদ হয়, তাহলে আদালত রদকারী আদালতের আদেশ সাপেক্ষে অনুসন্ধান বা বিচার চালিয়ে যেতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪০ অনুযায়ী-
যখন একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং এক বা একাধিক অপরাধের জন্য দণ্ড দেয়া হয়,তখন ফরিয়াদী বা সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযোগ বা অভিযোগসমূহ প্রত্যাহার করতে পারেন অথবা আদালত নিজ উদ্দেগ্যে এরূপ অভিযোগ বা অভিযোগসমূহের অনুসন্ধান বা বিচার স্থগিত রাখতে পারেন।
এরূপ প্রত্যাহার করা হলে উক্ত অভিযোগে বা অভিযোগসমূহ হতে খালাস দেয়া হলো বলে পরিগণিত হবে;
যদি না দণ্ডাদেশ রদ করা হয়,সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত দণ্ডাদেশ রদকারী আদালতের আদেশ সাপেক্ষে প্রত্যাহৃত অভিযোগ বা অভিযোগসমূহ সম্পর্কে অনুসন্ধান বা বিচার করতে পারবেন।
-------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-240.Withdrawal of remaining charges on conviction on one of several charges:
When a charge containing more heads than one is framed against the same person, and when a conviction has been had on one or more of them, the complainant, or the officer conducting the prosecution, may, with the consent of the Court, withdraw the remaining charge or charges, or the Court of its own accord may stay the inquiry into, or trial of, such charge or charges.
Such withdrawal shall have the effect of an acquittal on such charge or charges, unless the conviction be set aside, in which case the said Court (subject to the order of the Court setting aside the conviction) may proceed with the inquiry into or trial of the charge or charges so withdrawn.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure) এর ধারা 90 অনুসারে, আদালত কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির জন্য সমন জারির ক্ষমতা থাকলে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সমনের পরিবর্তে বা সমনের সাথে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এই পরিস্থিতিগুলো নিম্নরূপ:
→ যখন মনে হবে আসামি হাজির হবে না বা পলাতক হতে পারে (ক): ধারা 90(a) অনুসারে, যদি আদালতের মনে হয় যে ব্যক্তি সমন জারির আগে বা পরে পলাতক হয়েছে বা সমন মানবে না, তবে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এটি আদালতের বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে এবং এই কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হয়।
→ যখন সমন যথাযথভাবে তামিল হওয়ার পরও হাজির হয় না (খ): ধারা 90(b) অনুসারে, যদি সমন যথাযথভাবে তামিল করা হয় এবং ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হয়, তবে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এখানে সমন তামিলের প্রমাণ থাকতে হবে।
→ আসামি যুক্তিসঙ্গত অজুহাত ছাড়াই অনুপস্থিত থাকে (গ): ধারা 90(b)-এর আরেকটি শর্ত হলো, যদি ব্যক্তি সমন পেয়েও আদালতে হাজির না হয় এবং তার অনুপস্থিতির জন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত অজুহাত দেখাতে না পারে, তবে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে।
যেহেতু উপরের সবগুলো পরিস্থিতি ধারা 90-এর অধীনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য বৈধ কারণ, তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) উপরোক্ত সবগুলো।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 90. Issue of warrant in lieu of, or in addition to, summons:
A Court may, in any case in which it is empowered by this Code to issue a summons for the appearance of any person issue, after recording its reasons in writing, a warrant for his arrest-
(a) if, either before the issue of such summons, or after the issue of the same but before the time fixed for his appearance, the Court sees reason to believe that he has absconded or will not obey the summons; or
(b) if at such time he fails to appear and the summons is proved to have been duly served in time to admit of his appearing in accordance therewith and no reasonable excuse is offered for such failure.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আত্মীয়, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুকে গ্রেফতারের তথ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে জানানোর নির্দেশনা রয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক (ঘ) অনুসারে, যদি আসামিকে তার বাসস্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির মনোনীত পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা বন্ধুকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তবে গ্রেপ্তারের সময় থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের স্থান সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক: গ্রেফতারের পদ্ধতি এবং গ্রেফতারকারী অফিসারের কর্তব্য:
গ্রেফতার করার সময়, পুলিশ অফিসার বা অন্য যে ব্যক্তি গ্রেফতার করে, তাকে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে—
১. (ক) তার নাম স্পষ্ট, পরিচিতিযোগ্য এবং সহজে বোঝার মতোভাবে ধারণ করতে হবে, যাতে পরিচয় সহজ হয়।
২. (খ) নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং চাহিদা হলে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে এবং গ্রেফতারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের তার পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
৩. (গ) গ্রেফতারের একটি স্মারকলিপি তৈরি করতে হবে, যা—
(i) অন্তত একজন সাক্ষীর সাক্ষরিত থাকবে; ওই সাক্ষী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্মানিত নাগরিক হতে হবে। যদি এমন কেউ না থাকে, তবে তার কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
(ii) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা অঙ্গুলিমুদ্রা থাকবে, যদি সে প্রত্যাখ্যান না করে।
৪. (ঘ) যদি গ্রেফতার স্থান তার বাসার বাইরে হয়, তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, আত্মীয় বা তার নিজ নির্বাচিত বন্ধুকে যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের জায়গার খবর দিতে হবে।
৫. (ঙ) যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে তাকে মেডিকেল অফিসার বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে হবে, মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে এবং আঘাতের কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
৬. (চ) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি চাইলে, গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার অথবা পরিবারের কাছাকাছি কারো সাথে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।
ধারা ৩৪২: অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা:
১. জিজ্ঞাসাবাদ:
- যে কোনো তদন্ত বা বিচারকার্যের সময়, আদালত অভিযুক্তকে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে পারে, পূর্বে সতর্কতা ছাড়াই।
- প্রশ্ন করা হবে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর এবং আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের আগে।
২. উত্তর অস্বীকার বা মিথ্যা উত্তর:
- অভিযুক্ত উত্তর দিতে অস্বীকার করলে বা মিথ্যা উত্তর দিলে শুধু এই কারণে শাস্তি দেয়া যাবে না।
- তবে আদালত সেই আচরণ থেকে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
৩. উত্তরের ব্যবহার:
- অভিযুক্তের দেওয়া উত্তর মৌলিক মামলায় বিবেচনা করা যাবে।
- একই উত্তর অন্য কোনো মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি তা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
৪. শপথ:
- অভিযুক্তকে শপথ করানো যাবে না।
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪ক অনুসারে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ক ধারার বিধান: বিনা পরোয়ানায় কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারকারী প্রত্যেক পুলিশ অফিসার, গ্রেফতারের সময়, তাহাকে যে কারণে গ্রেফতার করা হইল সেই কারণ জ্ঞাপন করিবেন।
- সুতরাং, ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুসারে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-54A: Person arrested to be informed of reason of arrest:
Every police-officer arresting any person without warrant shall, at the time of making arrest, communicate to him the reasons for which he is arrested.
সঠিক উত্তর: গ) বিচারকার্যের সময় থেকে বাদ যাবে।
ধারা ৩৩৯গ- মামলা নিষ্পত্তির সময়:
১) ম্যাজিস্ট্রেট বিচারের জন্য মােকদ্দমা প্রাপ্ত হওয়ার তারিখ হতে একশত আশি দিনের মধ্যেই অবশ্যই বিচার সমাপ্ত করবেন।
২) কোন দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ বিচারের জন্য মােকদ্দমা প্রাপ্ত হওয়ার তারিখ হতে তিনশত ষাট দিনের মধ্যে অবশ্যই বিচার সমাপ্ত করবেন।
২ক) উপ-ধারা (১) বা উপ-ধারা (২) এ যাই থাকুক না কেন যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একাধিক মােকদ্দমায় আসামি হয় এবং বিচারের জন্য তাকে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালতে হাজির করা হয়, সেক্ষেত্রে এইরূপ মােকদ্দমাগুলির বিচার সমাপ্ত করার জন্য (১) ও (২) উপ-ধারায় নির্ধারিত সময় ধারাবাহিকভাবে গণনা করা হবে।
২খ) এক আদালত হতে অপর আদালতে মােকদ্দমা হস্তান্তর সম্পর্কে যাই থাকুক না কেন (১) বা (২) উপ-ধারায় বর্ণিত সময় মােকদ্দমার বিচারের সময় হবে।
৪) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি বিচার কার্য সম্পন্ন করা না যায়, তা হলে আদালত অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে জামিন অযােগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করা হতে পারে।
৫) দণ্ডবিধি (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ৪০০ বা ধারা ৪০১-এর কোন মােকদ্দমার বিচারের ক্ষেত্রে কিংবা যে মােকদ্দমার বিচারের জন্য চৌত্রিশতম অধ্যায় নিহিত বিধান প্রযােজ্য সেই মােকদ্দমার বিচারের ক্ষেত্রে অত্র ধারার কোন কিছুই প্রযােজ্য হবে না।
৬) এই ধারায়, বিচারের উদ্দেশ্যে সময় নির্ধারণের নিমিত্তে-
খ) জামিনে গিয়া কোন আসামির পলায়নের কারণে যে সময় ব্যয় হবে উহা পরিগণনা করতে হবে না।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির (The Code of Criminal Procedure, 1898) ধারা ৮৩(১) অনুযায়ী, যখন কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকারী আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের বাইরে কার্যকর করার প্রয়োজন হয়, তখন আদালত পরোয়ানাটি সরাসরি পুলিশ কর্মকর্তার কাছে না পাঠিয়ে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের কাছে ডাকযোগে বা অন্য কোনো উপায়ে পাঠাতে পারে:
- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট,
- জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট, অথবা
- মহানগর এলাকায় পুলিশ কমিশনার।
এই তিনটি কর্তৃপক্ষের যেকোনো একজনের কাছে পরোয়ানা পাঠানো যায়, যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে পরোয়ানাটি কার্যকর করতে হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৩ ধারার বিধান- অধিক্ষেত্রের বাহিরে কার্যকরী করবার উদ্দেশ্যে পরোয়ানা প্রেরণ:
(১) যেক্ষেত্রে কোন পরোয়ানা জারীকারী আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার বাহিরে উক্ত পরোয়ানা কার্যকর করা প্রয়োজন দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত পরোয়ানাটি কোন পুলিশ অফিসার বরাবর নির্দেশিত না করে যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা যে জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট অথবা পুলিশ কমিশনার (মহানগরী এলাকা হলে) এর এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে তা কার্যকরী করতে হবে, তাঁর বরাবরে ডাক মারফত অথবা অন্য কোনভাবে তা পাঠাতে পারেন।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট বা পুলিশ কমিশনার বরাবর উক্তরূপে প্রেরণকৃত পরোয়ানার উপর তিনি তার নাম সহি করবেন এবং সম্ভব হলে ইতিপূর্বে উল্লেখিত পদ্ধতিতে নিজের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে তা কার্যকরী করার ব্যবস্থা নিবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-83. Warrant forwarded for execution outside jurisdiction:
(1) When a warrant is to be executed outside the local limits of the jurisdiction of the Court issuing the same, such Court may, instead of directing such warrant to a police-officer, forward the same by post or otherwise to any Executive Magistrate or District Superintendent of police or, the Police Commissioner in a Metropolitan Area within the local limits of whose jurisdiction it is to be executed.
(2) The Magistrate or District Superintendent or Police Commissioner to whom such warrant is so forwarded shall endorse his name thereon and, if practicable, cause it to be executed in manner hereinbefore provided within the local limits of his jurisdiction.
ধারা ৪১৪: নির্দিষ্ট সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ডপ্রাপ্তের আপিল নিষিদ্ধ:
কোনো ব্যক্তিকে যদি ম্যাজিস্ট্রেট (ধারা ২৬০ অনুযায়ী ক্ষমতাসম্পন্ন) সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ড দেয়, এবং সেই দণ্ড মাত্র ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হয়, তবে সেই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না।
[Notwithstanding anything herein before contained, there shall be no appeal by a convicted person in any case tried summarily in which a Magistrate empowered to act under section 260 passes a sentence of fine not exceeding five thousand taka only.]
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৬৭(৫)-এর অধীন, অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ অথবা তদন্তের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত না হলে আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এটি অপরাধের প্রকারভেদ অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালত কর্তৃক করা হয়, এবং জামিন না দেওয়া হলে কারণ লিপিবদ্ধ করতে হয়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারার বিধান:
(৫) অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ অথবা এরূপ তদন্তের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে একশত বিশ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত সমাপ্ত না হয় তাহলে,
ক) অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন বা তদন্তের আদেশদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন; এবং
খ) তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে দায়রা আদালত ইহার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন,
তবে শর্ত এই যে, আসামিকে যদি এই উপধারার অধীন জামিনে মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষেত্র বিশেষে দায়রা আদালত ইহার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন
আরও শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন গ্রহণ করতে যে সময় লাগিবে এই উপধারায় নির্ধারিত সময় হতে তা বাদ দিতে হবে।
-----------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898,- Section:-167:
(5) If the investigation is not concluded within one hundred and twenty days from the date of receipt of the information relating to the commission of the offence or the order of the Magistrate for such investigation-
(a) the Magistrate empowered to take cognizance of such offence or making the order for investigation may, if the offence to which the investigation relates is not punishable with death, imprisonment for life or imprisonment exceeding ten years, release the accused on bail to the satisfaction of such Magistrate; and
(b) the Court of Session may, if the offence to which the investigation relates is punishable with death, imprisonment for life or imprisonment exceeding ten years, release the accused on bail to the satisfaction of such Court:
Provided that if an accused is not released on bail under this subsection, the Magistrate or, as the case may be, the Court of Session shall record the reasons for it:
Provided further that in cases in which sanction of appropriate authority is required to be obtained under the provisions of the relevant law for pthe rosecution of the accused, the time taken for obtaining such sanction shall be excluded from the period specified in this sub-section.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারা জামিনদারের অব্যাহতির বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধারার মাধ্যমে জামিনদার যে মুচলেকা দিয়েছে, সে মুচলেকা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল করার জন্য জামিনদার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারে। আবেদন পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে হাজির করার জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবেন এবং জামিনদারকে অব্যাহতি প্রদান করবেন। এরপর আসামি হাজির হলে তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি আসামি নতুন জামিনদার না দিতে পারে, তবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারার বিধান: জামিনদারের অব্যাহতি:
-জামিনদার যেকোনো সময় জামিননামাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট মুচলেকাটি বাতিল করবেন এবং জামিনে মুক্ত আসামিকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবেন এবং উক্ত জামিনদারকে অব্যাহতি দিবেন। আসামি আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করানো হলে আদালত তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করতে বলবেন এবং সে যদি জামিনদার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে জেলে প্রেরণ করবেন।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 502: Discharge of sureties-
(1) All or any sureties for the attendance and appearance of a person released on bail may at any time apply to a Magistrate to discharge the bond, either wholly or so far as relates to the applicants.
(2) On such application being made, the Magistrate shall issue his warrant of arrest directing that the person so released be brought before him.
(3) On the appearance of such person pursuant to the warrant, or on his voluntary surrender, the Magistrate shall direct the bond to be discharged either wholly or so far as relates to the applicants, and shall call upon such person to find other sufficient sureties, and, if he fails to do so, may commit him to custody.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬-এর শিরোনামই হচ্ছে "ম্যাজিষ্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা" (Ordinary powers of Magistrates)। এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সকল বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (Judicial Magistrate) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Executive Magistrate)-এর ওপর যথাক্রমে যে ক্ষমতা অর্পিত হয়েছে এবং যা তৃতীয় তফসিলে (Third Schedule) বর্ণিত রয়েছে, সেগুলো তাদের "সাধারণ ক্ষমতা" (Ordinary powers) নামে পরিচিত।
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬ ধারা- ম্যাজিষ্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা:
সকল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর কার্যক্রমে অর্পিত ৩য় তফসিল এ বর্ণিত ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ক্ষমতা তাঁদের "সাধারণ ক্ষমতা" নামে আখ্যায়িত।
--------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 36- Ordinary powers of Magistrates:
-All Judicial and Executive Magistrates have the powers hereinafter respectively conferred upon them and specified in the third schedule. Such powers are called their "ordinary powers".
Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা 46C: গ্রেফতারকৃতদের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত পুলিশ কর্মকর্তা:
প্রতি জেলায় জেলা পুলিশ সুপার বা প্রতি মহানগরীতে পুলিশ কমিশনার (যা প্রযোজ্য) একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্ধারণ করবেন।
- সেই কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (Assistant Sub-Inspector) বা তার উচ্চতর র্যাঙ্কের হতে হবে।
তিনি প্রতিটি জেলা বা মহানগর সদর দফতর এবং প্রতিটি থানায় নিম্নলিখিত কাজ করবেন:
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা সংরক্ষণ।
- সেই ব্যক্তিকে কোন অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে তার তথ্য সংরক্ষণ।
- এই তথ্য প্রত্যেক থানা এবং জেলা বা মহানগর সদর দফতরে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে, সর্বোত্তম হলে ডিজিটাল আকারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure) সর্বপ্রথম ১৮৬১ সালে প্রণীত হয়েছিল। এটি ব্রিটিশ ভারতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি পদ্ধতিগত আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অপরাধের তদন্ত, বিচার, গ্রেপ্তার, এবং শাস্তি কার্যকর করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রদান করা।
প্রশ্নে উল্লিখিত অন্যান্য বিকল্পগুলোর বিশ্লেষণ:
১৭৯৩ সালে: এই সময়ে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয়েছিল, তবে ফৌজদারি কার্যবিধি হিসেবে কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। এটি ছিল প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সময়।
১৮৩৪ সালে: এই বছরে প্রথম ভারতীয় আইন কমিশন গঠিত হয়, যার প্রধান ছিলেন লর্ড ম্যাকলে। এই কমিশন ফৌজদারি কার্যবিধির খসড়া তৈরির জন্য কাজ শুরু করে, কিন্তু আইনটি প্রণয়ন হয় ১৮৬১ সালে।
১৮৯৮ সালে: এই বছরে ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংস্করণ প্রণয়ন করা হয়, যা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এটি ১৮৬১ সালের আইনের পরিবর্তিত ও সংশোধিত রূপ, যেখানে পূর্ববর্তী সংশোধনীগুলো (যেমন ১৮৭২ সালের) এবং ১৬টি সংশোধনী বিবেচনা করা হয়।
উত্তর : হাইকোর্ট বিভাগে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারার বিধান- যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল:
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপিল দায়ের করতে পারবে।
নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-
(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।
(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির (১২৪ক) ধারায় উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধান: হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা-
(১) হাইকোর্ট ডিভিশন যখনই সঠিক মনে করেন, তখন এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে-
(ক) ইহার ফৌজদারি আপিল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে উপস্থিত করা হোক;
(খ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে সরকারি বা বেসরকারি হেফাজতে বেআইনি অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
(গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি নিয়ে উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দিকে আদালতে হাজির করা হোক,
(ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দিকে যথাক্রমে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনার বরাবর হাজির করা হোক,
(ঙ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দিকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং
(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান কার্যকর কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়