বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Code of Criminal Procedure, 1898

মোট প্রশ্ন২,৮৮৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Code of Criminal Procedure, 1898

PrepBank · পাতা ১৪ / ২৯ · ১,৩০১১,৪০০ / ২,৮৮৩

১,৩০১.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১৬১ অনুযায়ী সাক্ষীদের পরীক্ষা (Examine) করতে পারেন-
  1. তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  3. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. সকলেই
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬১ মোতাবেক- তদন্ত পরিচালনাকারী কোন পুলিশ কর্মকর্তা এমন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করতে পারেন, যে ব্যক্তি ঘটনা ও এর অবস্থা সম্পর্কে জানে।এরূপ ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে সকল প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য থাকবে। তবে যে সকল প্রশ্নের জবাব তাকে ফৌজদারি অভিযোগে দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির দিকে টেনে নিতে পারে সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি বাধ্য নন।

• এরূপ পরীক্ষাকালে পুলিশ কর্মকর্তা তার নিকট প্রদত্ত বিবৃতি লিখে নিতে পারেন এবং একাধিক ব্যক্তির বিবৃতি পৃথকভাবে রেকর্ড করবেন।
১,৩০২.
The Code of Criminal Procedure এর ১৭৪ ধারা অনুযায়ী কে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন?
  1. পুলিশ
  2. সিভিল সার্জন
  3. এখতিয়ারাধীন আদালত
  4. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
→ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারা অনুযায়ী পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী:
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার যদি সংবাদ পান যে—
- কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে।
- অন্য কারও দ্বারা, কোনো প্রাণী বা যন্ত্রের কারণে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।
এরূপ অবস্থায় মারা গেছে, যা যৌক্তিক সন্দেহ সৃষ্টি করে যে এটি অপরাধজনিত মৃত্যু।
- তখন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা নিকটতম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি অবহিত করবেন।
- এরপর তিনি মৃত ব্যক্তির লাশের স্থানে উপস্থিত হয়ে তদন্ত পরিচালনা করবেন।
- তদন্তে স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
- পুলিশ মৃতদেহের জখম, হাড় ভাঙা, থেঁতলানো ও অন্যান্য আঘাতের চিহ্ন পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা করবেন।
- সেইসঙ্গে কোনো অস্ত্র, যন্ত্র বা উপায়ে ওই চিহ্নগুলো সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয়, তা উল্লেখ করবেন।
- তদন্ত শেষে মৃত্যুর দৃশ্যমান কারণ উল্লেখ করে একটি লিখিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে, যা সুরতহাল রিপোর্ট (Inquest Report) নামে পরিচিত।
--------------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-174: Police to inquire and report on suicide, etc.
(1) The officer in charge of a police station or some other police officer specially empowered by the Government in that behalf, on receiving information that a person-
(a) has committed suicide, or
(b) has been killed by another, or by an animal, or by machinery or by an accident, or
(c) has died under circumstances raising a reasonable suspicion that some other person has committed an offence,
shall immediately give intimation thereof to the 204[nearest Executive Magistrate] empowered to hold inquests, and, unless otherwise directed by any rule prescribed by the Government, or by any general or special order 205[of the District Magistrate], shall proceed to the place where the body of such deceased person is, and there, in the presence of two or more respectable inhabitants of the neighborhood, shall make an investigation, and draw up a report of the apparent cause of death, describing such wounds, fractures, bruises and other marks of injury as may be found on the body, and stating in what manner, or by what weapon or instrument (if any), such marks appear to have been inflicted:

Provided that, unless the Government otherwise directs, it shall not be necessary under this sub-section, in any case where the death or any person has been caused by enemy action, to make any investigation or to draw up any report or to send any intimation to a Magistrate empowered to hold inquests.
(2) The report shall be signed by such police officer and other persons, or by so many of them as concur therein, and shall be forthwith forwarded to the District Magistrate.
(3) When there is any doubt regarding the cause of death, or when for any other reason the police officer considers it expedient so to do, he shall, subject to such rules as the Government may prescribe in this behalf, forward the body, with a view to its being examined, to the nearest Civil Surgeon, or other qualified medical man appointed in this behalf by the Government, if the state of the weather and the distance admit of its being so forwarded without risk of such putrefaction on the road as would render such examination useless.

(5) The following Magistrates are empowered to hold inquest, namely, any District Magistrate or any other Executive Magistrate specially empowered in this behalf by the Government or the District Magistrate.
১,৩০৩.
বে-আইনীভাবে আটক ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধারের জন্য কার তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করার এখতিয়ার নেই?
  1. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
  2. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  3. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় বে-আইনীভাবে আটক ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধারের জন্য তল্লাশী পরোয়ানা জারির বিধান রয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী বে-আইনীভাবে আটক ব্যক্তিকে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যু করতে পারেন। অর্থাৎ ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এর এখতিয়ার নেই।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারা-
যখন কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তিকে এরূপ অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে যে আটক রাখা অপরাধের সামিল তখন তিনি তল্লাশী পরোয়ানা প্রদান করতে পারবেন এবং যার প্রতি পরোয়ানাটি নির্দেশিত তিনি পরোয়ানা অনুসারে উক্ত আটক ব্যক্তির জন্য তল্লাশী করতে পারবেন, এবং সেই ব্যক্তিকে পাওয়া গেলে তাকে অবিলম্বে কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হবে এবং অবস্থানুসারে যেরূপ মনে করেন সেরূপ উপযুক্ত আদেশ দিবেন।
 
প্রতিকার: ১০০ ধারার অধীন জারিকৃত তল্লাশী পরোয়ানা বাতিলের জন্য দায়রা জজের নিকট রিভিশন করা যায়।
১,৩০৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ ধারা অনুযায়ী, আমল অযোগ্য অপরাধের সংবাদ কীভাবে রেকর্ড করা হয়?
  1. প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (FIR) হিসেবে
  2. সাধারণ ডায়েরি (GD) হিসেবে
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অনুসারে
  4. কোন রেকর্ড করা প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ ধারা অনুযায়ী, যখন কোন অ-আমলযোগ্য (Non-Cognizable) অপরাধের সংবাদ থানায় প্রদান করা হয়, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OIC) এটি সাধারণ ডায়েরি (GD) হিসেবে রেকর্ড করবেন। এই ধরনের অপরাধের জন্য FIR (প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন) দায়ের করা হয় না, কারণ এটি পুলিশ কর্তৃক সরাসরি তদন্তের আওতায় আসে না।
তবে, অভিযোগকারীকে বা সংবাদদাতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে, যাতে তিনি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৫ ধারা: আমল অযোগ্য অপরাধের সংবাদ (Information in non-cognizable cases)- 
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারামতে থানায় আমল অযোগ্য অপরাধের সংবাদ প্রদান করলে,থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার বিষয়টিকে থানায় রক্ষিত ফরম নং ৬৫-তে জি.ডি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সংবাদদাতাকে বা অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবে।অর্থাৎ আমল অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার অপরাধের সংবাদটি জিডি এন্ট্রি বা সাধারণ ডায়েরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংবাদদাতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণ করবেন।
---------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-155.Information in non-cognizable cases:
(1) When information is given to an officer in charge of a police station of the commission within the limits of such station of a non-cognizable offence, he shall enter in a book to be kept as aforesaid the substance of such information and refer the informant to the Magistrate.

Investigation into non-cognizable cases:
(2) No police officer shall investigate a non-cognizable case without the order of a Magistrate of the first or second class having power to try such case or send the same for trial. 
(3) Any police officer receiving such order may exercise the same powers in respect of the investigation (except the power to arrest without warrant) as an officer in charge of a police station may exercise in a cognizable case.
১,৩০৫.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৩৯৯ ধারার বিধান মতে কতো বছর বয়সের নাবালক অপরাধীদের সংশোধনাগারে রাখার বিধান রয়েছে?
  1. ১২ বছরের কম এমন শিশু।
  2. ১৪ বছরের কম এমন শিশু।
  3. ১৫ বছরের কম এমন শিশু।
  4. ১৮ বছরের কম এমন শিশু।
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৯ ধারা অনুযায়ী কোন কারাদন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর বয়স ১৫ বছরের কম হলে তাকে ফৌজদারী আদালত জেলে আটকের পরিবর্তে সরকারী কোন সংশোধনাগারে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন
১,৩০৬.
কখন ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধীয় বিষয়বস্তু ক্রোক (attach subject of dispute) করিবেন?
  1. বিরোধীয় বিষয়বস্তুতে পক্ষসমূহের কেহই দখলে না থাকলে,
  2. বিরোধীয় বিষয়বস্তুতে কে দখলে ছিলেন সে সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেট নিজে সন্তুষ্ট হইতে অসমর্থ হইলে
  3. বিরোধীয় বিষয়বস্তুতে পক্ষসমূহের কেউ অবৈধ ক্ষমতাবলে দখলে থাকলে,
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৬ ধারা মতে জমি বা পানি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট যদি প্রকৃত দখলকারী নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি সম্পত্তি ক্রোক বা রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৬ ধারার বিধান: বিরোধীয় বিষয় ক্রোক করার ক্ষমতা: ম্যাজিষ্ট্রেট যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, পক্ষবৃন্দের কেউই সে সময়ে বিরোধী বিষয়বস্তুতে দখলকার ছিলনা, অথবা তাদের মধ্য থেকে কোন পক্ষ সেই সময়ে উহাতে দখলকার ছিল, সেই সম্পর্কে তিনি নিজে সন্তুষ্ট হতে অপারগ হলে আদালতে পক্ষবৃন্দের অধিকার বা দখল পাইবার অধিকারী ব্যক্তি সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তা ক্রোক করতে পারবেনঃ

শর্ত থাকে যে, অনুরূপ উপরে বর্ণিত ম্যাজিস্ট্রেট যদি পরিতুষ্ট হন, বিরোধীয় বিষয় সম্পর্কে আর শান্তিভঙ্গের কোনরূপ সম্ভাবনা নেই, সেক্ষেত্রে তিনি যে কোন সময় ক্রোক বাতিল করতে পারেন।

(২) যেক্ষেত্রে কোন ম্যাজিস্ট্রেট বিরোধীয় বস্তু ক্রোক করেন, সেক্ষেত্রে তিনি যদি সঠিক হিসাবে মনে করেন এবং কোন দেওয়ানী আদালত যদি ইতিপূর্বে বিরোধীয় সম্পত্তির কোন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ না করে থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি উহার জন্য একটি তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করতে পারবেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটোর নিয়ন্ত্রণ দ্বারা উক্ত তত্ত্বাবধায়কের দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়কের যাবতীয় ক্ষমতা থাকবেঃ

শর্ত থাকে যে, কোন দেওয়ানী আদালত যদি পরবর্তী ধাপে উক্ত বিরোধীয় সম্পত্তির কোন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়ক তাঁর বরাবর দখল অর্পণ করবেন এবং অতঃপর তাকে উক্ত দায়িত্ব থেকে রেহাই দেয়া হবে।
১,৩০৭.
'ক' কে গুরুতর জখম করার অপরাধে 'খ' এর সাজা হলো। এর কিছুদন পর ভিকটিম 'ক' মারা যায়। এ প্রসঙ্গে নিচের কোন উক্তিটি সঠিক?
  1. খ' এর পুনঃ বিচার করা যাবে না।
  2. 'ক' কে হত্যার জন্য 'খ' এর পুনঃবিচার হবে।
  3. 'ক' কে হত্যার জন্য 'খ' এ ফাঁসির আদেশ হবে।
  4. 'খ' এর যাবজ্জীবন সাজা হবে।
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০৩ ধারায় বলা হয়েছে, একবার দন্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বা দ্বিতীয়বার বিচার করা যাবে না [person once convicted or acquitted not to be tried for same offence twice]। ৪০৩ ধারা [nemo debet bis vexari] নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যার অর্থ হলো কোন ব্যক্তিকে দ্বিতীয় বারের জন্য বিচারাধীন করা যাবে না যার জন্য তাকে একবার বিচার করা হয়েছিল।

এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে-

১. অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে অপরাধের চার্জ করা হয়েছে তাকে সেই অপরাধের জন্য বিচার করতে হবে;
২. উক্ত বিচার অবশ্যই এখতিয়ারসম্পন্ন কোন আদালত কর্তৃক হতে হবে;
৩. বিচারে অবশ্যই খালাসের [Acquittal] বা দণ্ডের [Conviction] আদেশ থাকতে হবে।

দোবারা সাজা নীতি প্রযোজ্য হবে না-
১. অভিযোগ খারিজ করে যদি কোন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; বা
২. ২৪৯ ধারার অধীন মামলার প্রক্রিয়া বন্ধ করে যদি কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়; বা
৩. কোনো আসামীকে অব্যাহতি দেয়া হলে।

যেহেতু 'খ'-কে গুরুতর আঘাতের জন্য 'ক' এর একবার বিচার হয়েছে, তাই একই অপরাধে 'ক' কে পুনরায় গুরুতর আঘাতের অপরাধে বিচারের সম্মুখীন করা যাবে না কারণ এই ক্ষেত্রে Double Jeopardy নীতি প্রযোজ্য হবে। তবে অন্য অপরাধে বিচার করা যাবে। এক্ষেত্রে আদালত 'খ' এর হত্যার অপরাধে 'ক' এর বিচার করতে পারে।
১,৩০৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৪ অনুযায়ী, আপিল আদালতের রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা -
  1. বাধ্যতামূলক
  2. বিবেচনামূলক
  3. আসামির ইচ্ছাধীন
  4. আবশ্যক
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৪ অনুযায়ী,
আপিল আদালত যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে আসামিকে আদালতে হাজির করতে পারে। তবে, এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।

ধারা ৪২৪- অধস্তন আপিল আদালতের রায়:
অপরাধমূলক কার্যবিধির অধ্যায় XXVI-তে যে সকল নিয়ম অপরাধ সংক্রান্ত মূল বিচারকার্যের আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা যথাসম্ভব উচ্চ আদালত বিভাগ ব্যতীত অন্য কোনো আপিল আদালতের রায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তবে, যদি আপিল আদালত ভিন্ন কোনো নির্দেশ না দেয়, তাহলে আসামিকে আদালতে হাজির করা বা রায় শোনার জন্য উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।
১,৩০৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির অনুযায়ী, যদি কোনো অভিযুক্ত আদালতে হাজির না হয় এবং তার বিরুদ্ধে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান অনুসরণ করা হয়, তাহলে আদালত কী করতে পারে?
  1. তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না
  2. তাকে আজীবন কারাদণ্ড দিতে পারে
  3. তার বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার চালাতে পারে
  4. তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দোষ ঘোষণা করতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: গ) তার বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বিচার চালাতে পারে
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ(১) ধারা অনুসারে, যদি কোনো অভিযুক্ত আদালতে হাজির না হয় এবং তার বিরুদ্ধে ৮৭ (পলাতক ঘোষণার আদেশ) ও ৮৮ (সম্পত্তি ক্রোক) ধারার বিধান অনুসরণ করা হয়, তবে আদালত কমপক্ষে দুইটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অভিযুক্তকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।
যদি অভিযুক্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হয়, তাহলে আদালত তার অনুপস্থিতিতেই বিচার চালাতে পারে, যা "Trial in absentia" বা "অনুপস্থিতিতে বিচার" নামে পরিচিত।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-খ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
(১) যেক্ষেত্রে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন করার পর আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, আসামিকে যাতে গ্রেফতার ও বিচারে সোপর্দ করা না হয় সেজন্য সে পলায়ন করেছে বা আত্মগোপন করেছে এবং তাকে গ্রেফতার করার আশু সম্ভাবনা নাই, সেক্ষেত্রে নালিশি অপরাধ আমলে গ্রহণকারী আদালত বহুল প্রচারিত কমপক্ষে দুইটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা উক্ত ব্যক্তিকে আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশে ব্যর্থ হলে তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে।

(২) আসামিকে হাজির করার পর কিংবা আসামি হাজির হবার পর অথবা জামিনে মুক্ত হবার পর যেক্ষেত্রে আসামি পলায়ন করে কিংবা হাজির হতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে (১) উপধারায় বর্ণিত পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না এবং নালিশি অপরাধের জন্য এরূপ ব্যক্তির বিচার করতে উপযুক্ত আদালত এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে তার অনুপস্থিতিতেই এরূপ ব্যক্তির বিচার করবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 339B: Trial in absentia:
(1) Where after the compliance with the requirements of section 87 and section 88, the Court has reason to believe that an accused person has absconded or concealing himself so that he cannot be arrested and produced for trial and there is no immediate prospect of arresting him, the Court taking cognizance of the offence complained of shall, by order published in at least two national daily Bengali Newspapers having wide circulation, direct such person to appear before it within such period as may be specified in the order, and if such person fails to comply with such direction, he shall be tried in his absence.

(2) Where in a case after the production or appearance of an accused before the Court or his release on bail, the accused person absconds or fails to appear, the procedure as laid down in sub-section (1) shall not apply and the Court competent to try such person for the offence complained of shall, recording its decision so to do, try such person in his absence.
১,৩১০.
ফৌজদারী কার্যবিধিতে আদালত অবমাননার মামলা বা ৪৮৫ ও ৪৮৫ক ধারায় শাস্তির ক্ষেত্রে প্রতিকার কী?
  1. আপিল
  2. রিভিশন
  3. রিভিউ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
♦ধারা ৪৮৬ আদালত অবমাননার মোকদ্দমায় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল বিধান রয়েছে। কোন আদালত কর্তৃক ধারা ৪৮০, ৪৮৫ বা ৪৮৫ক এর অধীন দণ্ডিত কোন ব্যক্তি, ইতোপূর্বে যাই বিহিত থাকুক না কেন, সেই আদালতে আপিল করতে পারবে, যে আদালতে উক্ত আদালতের ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে সাধারণত আপিল করা যায়।
১,৩১১.
যদি কোন আসামী চার্জ গঠনকালে স্বীকার করে যে সে অভিযুক্ত অপরাধটি সংঘটন করেছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিতে পারেন আসামীর-
  1. অব্যাহতির
  2. মুক্তির
  3. খালাসের
  4. সাজার
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪২ ধারা বিধান অভিযোগ গঠন করতে হবেঃ ঐরূপ বিবেচনা, পরীক্ষা কিছু করা হলে তা এবং শুনানী অন্তে ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, এরূপ প্রাকপ্রত্যয় করার হেতু আছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচারযোগ্য অপরাধ সম্পাদন করেছে, যে অপরাধের বিচার ঐরূপ ম্যাজিস্ট্রেট করতে যোগ্যতাসম্পন্ন এবং তাঁর মতে তিনি যার জন্য যথোপযুক্ত শাস্তিবিধান করতে সক্ষম, তাহলে তিনি উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ গঠন করবেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, যে অপরাধে তাকে চার্জভুক্ত করা হয়েছে ঐ অপরাধে সে অপরাধ স্বীকার করে কি-না।
 
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৩ ধারা বিধান অভিযোগের সত্যতা স্বীকারের প্রেক্ষিতে দণ্ডঃ আসামী যদি স্বীকার করে যে, যে অপরাধে সে অভিযুক্ত হয়েছে তা সে করেছে, তাহলে যথাসম্ভব তার ব্যবহৃত শব্দে তার স্বীকৃতি নথিবদ্ধ করতে হবে এবং কি কারণে সে দণ্ডিত হবে না, সেই বিষয়ে সে যদি যথেষ্ট কারণ না দর্শায়, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দণ্ড দান করতে পারবেন।

♦ অর্থাৎ যদি কোন আসামী চার্জ গঠনকালে স্বীকার করে যে সে অভিযুক্ত অপরাধটি সংঘটন করেছে, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে আসামীর দণ্ডের (Conviction) আদেশ দিতে পারে।
১,৩১২.
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের দায়রা আদালতের বিচারক হিসেবে নিয়োগের ভিত্তি কী?
  1. সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ
  2. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ
  3. সংবিধানের ১৩২ অনুচ্ছেদ
  4. সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯(৩এ) ধারায় বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে দায়রা আদালতের বিচারক, যেমন দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ এবং যুগ্ম দায়রা জজ নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী করা হয়।
সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের কাঠামো এবং বিচারকদের নিয়োগের নিয়মাবলী নির্ধারণ করে, যার অধীনে সেশনস জজ, অতিরিক্ত সেশনস জজ এবং যুগ্ম সেশনস জজের নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

⇒ দায়রা আদালতের শ্রেণীবিভাগ- ফৌজদারি কার্যবিধির ৯ ধারামতে দায়রা আদালতে তিন ধরণের বিচারক থাকে। যথা-
ⅰ) দায়রা জজ (Sessions Judge);
ii) অতিরিক্ত দায়রা জজ (Additional Sessions Judge);
iii) যুগ্ম দায়রা জজ (Joint Sessions Judge)।
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা-৯(৩ক): দায়রা আদালতের বিচারক নিয়োগ- সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে দায়রা আদালতের বিচারকগণকে অর্থাৎ দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও যুগ্ম দায়রা জজকে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হয়।
-------------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 9: Court of Sessions:
(1) The Government shall establish a Court of Session for every sessions division, and appoint a judge of such Court ; and the Court of Session for Metropolitan Area shall be called the Metropolitan Court of Session.
(2) The Government may, by general or special order in the official Gazette, direct at what place or places the Court of Session shall hold its sitting; but, until such order is made, the Courts of Session shall hold their sittings as heretofore.
(3) The Government may also appoint Additional Sessions Judges and Assistant Sessions Judges to exercise jurisdiction in one or more such Courts.
(3A) The members of the Bangladesh Judicial Service shall be appointed as Sessions Judge, Additional Sessions Judge and Joint Sessions Judge in accordance with the rules framed by the President under the proviso to Article 133 of the constitution to exercise jurisdiction in one or more of such areas.
(4) A Sessions Judge of one sessions division may be appointed by the Government to be also an Additional Sessions Judge of another division, and in such case he may sit for the disposal of cases at such place or places in either division as the Government may direct.
(5) All Courts of Session existing when this Code comes into force shall be deemed to have been established under this Act.

১,৩১৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারায় অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারেন কে?
  1. বিচারিক আদালত
  2. শুধু হাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল আদালত
  4. রিভিশন আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৮ ধারার বিধান: আপিল আদালত অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে বা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন:
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন আপিল বিবেচনার সময় আপিল আদালত যদি অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ দরকার মর্মে মনে করেন, তাহলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন এবং এই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন, অথবা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন, অথবা আপিল আদালত যখন হাইকোর্ট ডিভিশন হয়, তখন কোন দায়রা আদালত বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন ।

(২) দায়রা আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যখন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গৃহীত হয়, ইহা বা তিনি উক্ত সাক্ষ্য সত্যায়নপূর্বক আপিল আদালতে প্রেরণ করবেন, এবং উক্ত আদালত অতঃপর আপিল নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হবেন।

(৩) আপিল আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আসামি বা তাহার কৌসুলী উপস্থিত থাকবেন।

(৪) অধ্যায়-২৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই ধারার অধীন এমনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, যেন তা একটি অনুসন্ধান।

১,৩১৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির কয়টি তফসিল বর্তমানে কার্যকর আছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে, কিন্তু ১ম তফসিল বাতিল হওয়ায় বর্তমানে ৪টি বলবৎ আছে-

১ম তফসিল (First Schedule)- বাতিল,

২য় তফসিল (Second Schedule)- আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে,

৩য় তফসিল (Third Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে,

৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে,

৫ম তফসিল (Fifth Schedule)- ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।
১,৩১৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসারে কার অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাহ সম্পর্কিত অপরাধ আমলে নেওয়া যাবে?
  1. শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির 
  2. যেকোন ব্যক্তির
  3. আদালতের
  4. সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৫ থেকে ১৯৯ ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম আলোচনা করা হয়েছে।

• ১৯৬ ধারা অনুযায়ী- রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধসমূহ যেমন রাষ্ট্রদ্রোহিতা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, বা দণ্ডবিধির ১০৮ক, ১৫৩ক, ২৯৪ক, ২৯৫ক বা ৫০৫ ধারার অপরাধসমূহ বিচারক এবং সরকারী কর্মকর্তার বিচার সরকারের বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তৈরীকৃত অভিযোগ অনুযায়ী আমলে নিতে পারে।

• ১৯৭ ধারা অনুযায়ী- বিচারক এবং সরকারী কর্মকর্তার বিচার সরকারের অনুমতি ছাড়া অভিযোগ আমলে নেয়া যাবেনা।

• ১৯৮ ধারা অনুযায়ী- দণ্ডবিধির ৪৯৩ থেকে ৪৯৬ পর্যন্ত বিবাহ সম্পর্কিত অপরাধ, যেমন মুসলিম নারী কর্তৃক বিবাহ বলবৎ থাকাবস্থায় পুনরায় বিবাহ করা বা দ্বিগামিতা [bigamy] শুধুমাত্র সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নেয়া যাবে।

• ১৯৯ ধারা অনুযায়ী- দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারার অধীন ব্যভিচার [Adultery] বা ৪৯৮ ধারায় অপরাধজনক উদ্দেশ্যে বিবাহিত নারীকে প্ররোচিত করে নিয়ে যাওয়া অপরাধের ক্ষেত্রে বিবাহিত নারীর স্বামী কর্তৃক বা স্বামীর অনুপস্থিতিতে উক্ত অপরাধ সংঘটনের সময় যে সকল লোকজন উক্ত মহিলাকে দেখাশোনা করতো, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমলে নেয়া যাবে।
১,৩১৬.
আদালত নাবালক ব্যক্তিকে জামিননামা সম্পাদনের আদেশ দিলে, সেক্ষেত্রে-
  1. নাবালক ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে জামিননামা সম্পাদন করতে হবে
  2. শুধু জামিনদার কর্তৃক সম্পাদিত জামিননামা গ্রহণ করা যাবে
  3. জামিননামা সম্পাদনের প্রয়োজন নেই
  4. ক এবং খ উভয় লাগবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৫১৪খ- নাবালকের কাছ থেকে জামিননামা

কোন আদালত বা অফিসার যে ব্যক্তিকে জামিননামা সম্পাদনের আদেশ দেন, সে ব্যক্তি নাবালক হলে উক্ত আদালত বা অফিসার উক্ত জামিননামার পরিবর্তে শুধু এক বা একাধিক জামিনদার কর্তৃক সম্পাদিত জামিননামা গ্রহণ করতে পারবেন।

Section 514B- Bond required from a minor
When the person required by any Court or officer to execute a bond is a minor, such Court or officer may accept, in lieu thereof, a bond executed by a surety or sureties only.
১,৩১৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫ক কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. অর্থদণ্ডযোগ্য অপরাধ
  2. কিশোর অপরাধ
  3. মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৫ক(১)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এই ধারার বিধান মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
অর্থাৎ: প্রযোজ্য ক্ষেত্র:
- সাধারণ কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ
- অর্থদণ্ডযোগ্য অপরাধ
- কিশোর অপরাধ (জুভেনাইল কেস)

এই ধারা অনুযায়ী, আদালত অভিযুক্তের হেফাজতে কাটানো সময় কারাদণ্ডের মেয়াদ থেকে কর্তন করবে।
যদি হেফাজতের মেয়াদ প্রদত্ত সাজা থেকে বেশি হয়, তবে অভিযুক্তকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে (অন্যান্য অপরাধে আটক না থাকলে)।
অতএব, সঠিক উত্তর গ) মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 35A. Deduction of imprisonment in cases where convicts may have been in custody:
(1) Except in the case of an offence punishable only with death, when any court finds an accused guilty of an offence and, upon conviction, sentences such accused to any term of imprisonment, simple or rigorous, it shall deduct from the sentence of imprisonment, the total period the accused may have been in custody in the meantime, in connection with that offence. 
(2) If the total period of custody prior to conviction referred to in sub-section (1) is longer than the period of imprisonment to which the accused is sentenced, the accused shall be deemed to have served out the sentence of imprisonment and shall be released at once, if in custody, unless required to be detained in connection with any other offence; and if the accused is also sentenced to pay any fine in addition to such sentence, the fine shall stand remitted.
১,৩১৮.
বিচারিক কার্যক্রম বলতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কী বোঝানো হয়?
  1. পুলিশের তদন্ত কাজ
  2. আদালতের ইনকোয়ারি
  3. শপথ গ্রহণ পূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণ করা
  4. বর্ণিত সবগুলোকেই
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী,
বিচারিক কার্যক্রম বলতে শপথ গ্রহণ পূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণ করা-কে বোঝানো হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪ ধারায় বিচারিক কার্যক্রমের সংজ্ঞা দিয়েছে। এই সংজ্ঞা অনুসারে, বিচারিক কার্যক্রম হলো সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী শপথ গ্রহণ পূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণের একটি বিধি।

অন্যদিকে,
পুলিশের তদন্ত কাজ এবং আদালতের ইনকোয়ারি বিচারিক কার্যক্রমের আওতাভুক্ত নয়। কারণ পুলিশের তদন্ত বিচারিক কার্যক্রম নয়, এটি তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধ সনাক্তকরণের একটি পদ্ধতি। ইনকোয়ারি হলো আদালতের দ্বারা নির্দেশিত একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া, যেখানে শপথ গ্রহণ পূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
১,৩১৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারায় জামিনদার জামিন বাতিলের জন্য কখন আবেদন করতে পারবেন?
  1. যেকোনো সময়
  2. জামিন গ্রহনের পর ১৫ দিন মধ্যে
  3. মামলার রায় ঘোষণার পর
  4. শুধুমাত্র আদালত নির্দেশ দিলে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারার বিধান: জামিনদারের অব্যাহতি:
জামিনদার যেকোন সময় জামিননামাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট মুচলেকাটি বাতিল করবেন এবং জামিনে মুক্ত আসামীকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করবেন এবং উক্ত জামিনদারকে অব্যাহতি দিবেন। আসামী আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করানো হলে আদালত তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করতে বলবেন এবং সে যদি জামিনদার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে জেলে প্রেরন করবেন।

Section 502: Discharge of sureties-
(1) All or any sureties for the attendance and appearance of a person released on bail may at any time apply to a Magistrate to discharge the bond, either wholly or so far as relates to the applicants. 
(2) On such application being made, the Magistrate shall issue his warrant of arrest directing that the person so released be brought before him. 
(3) On the appearance of such person pursuant to the warrant, or on his voluntary surrender, the Magistrate shall direct the bond to be discharged either wholly or so far as relates to the applicants, and shall call upon such person to find other sufficient sureties, and, if he fails to do so, may commit him to custody. 
১,৩২০.
অপরাধীর বয়স কত হলে তাকে জেলে আটকের পরিবর্তে সংশোধনাগারে আটক রাখার আদেশ দেয়া যেতে পারে?
  1. ১৩ বছরের কম
  2. ১৫ বছরের কম
  3. ১৮ বছরের কম
  4. ২১ বছরের কম
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৩৯৯: 

কোনো অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বয়স ১৫ বছরের কম হলে আদালত তাকে ফৌজদারি কারাগারে বন্দী না করে, সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কোনো সংশোধনমূলক প্রতিষ্ঠানে আটক রাখবার নির্দেশ দিতে পারেন।

Section 399: Confinement of youthful offenders in reformatories

(1) When any person under the age of fifteen years is sentenced by any Criminal Court to imprisonment for any offence, the Court may direct that such person, instead of being imprisoned in a criminal jail, shall be confined in any reformatory established by the Government as a fit place for confinement, in which there are means of suitable discipline and of training in some branch of useful industry or which is kept by a person willing to obey such rules as the Government prescribes with regard to the discipline and training of persons confined therein. 
 
(2) All persons confined under this section shall be subject to the rules so prescribed.
১,৩২১.
"Courts to be open"- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় আছে?
  1. ধারা ৩৫২
  2. ধারা ৩৬১
  3. ধারা ৩৬৬
  4. ধারা ৩৭১
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫২ (আদালত উন্মুক্ত থাকবে)-

কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারী আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ
শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।

Section 352 (Courts to be open)-
The place in which any Criminal Court is held for the purpose of inquiring into or trying any offence shall be deemed an open Court, to which the public generally may have access, so far as the same can conveniently contain them:
Provided that the presiding Judge or Magistrate may, if he thinks fit, order at any stage of any inquiry into, or trial of, any particular case, that the public generally, or any particular person, shall not have access to, or be or remain in, the room or building used by the Court.
১,৩২২.
সংক্ষিপ্ত বিচারে অনধিক ২০০ টাকা অর্থদন্ড হলে, ঐ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার হলো-
  1. রিভিশন
  2. আপীল
  3. রেফারেন্স
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সংক্ষিপ্ত বিচারে অনধিক ২০০ টাকা অর্থদন্ড হলে তার বিরুদ্ধে আপীল চলে না। অতএব ঐ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার হলো রিভিশন।
১,৩২৩.
বর্তমানে বলবৎ ফৌজদারি কার্যবিধি কত তারিখ হতে কার্যকর করা হয়?
  1. ১৮৬১ সালের ১লা মার্চ
  2. ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই
  3. ১৮৮৯ সালের ১লা জুলাই
  4. ১৮৯৮ সালের ১লা মার্চ
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি মূলত একটি পদ্ধতিগত আইন যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Adjective law বা Procedural law, সিভিল বা দেওয়ানী মামলায় যেমন দেওয়ানী কার্যবিধি অনুসরণ করে মামলা মোকদ্দমার প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, তেমনি সকল প্রকার ক্রিমিনাল মামলাতেও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হয়, যদি না আইনে ভিন্ন কিছু বলা থাকে।

⇒ ফৌজদারি আদালতের গঠন এবং ক্ষমতা থেকে শুরু করে, অভিযোগ দায়ের, আসামী গ্রেফতার, তদন্ত, মামলা আমলে নেওয়া, অভিযোগ গঠন, অব্যাহতি, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায়, খালাস, মুক্তি, রায়ের বিরুদ্ধে আপীল ইত্যাদি সংক্রান্ত সকল বিষয় ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক ১৮৬১ সালে সর্ব প্রথম ফৌজদারী কার্যবিধি প্রণীত হয়। যদিও পরবর্তীতে ১৮৭২, ১৮৮২ এবং ১৮৯৮ সালে  সংস্কার করে কার্যকর করা হয়। বর্তমানে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনটি ১৮৯৮ সালের ১লা জুলাই হতে কার্যকর আছে। 

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ধারা ৫৬৫ টি এবং মোট তফসিল ছিল ৫টি, যার মধ্যে ১ টি বাতিল করা হয়েছে। যার ফলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে বর্তমানে বলবৎ আছে ৪ টি তফসিল।
১,৩২৪.
কোনো স্থানে তল্লাশি করতে হলে, কমপক্ষে কতজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশিটি করতে হবে?
  1. ৩ জন
  2. ১ জন
  3. ২ জন
  4. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী-
কোনো স্থানে তল্লাশি করার ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুইজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাক্ষীর উপস্থিতি থাকতে হবে।

এই দুইজন সাক্ষী হতে হবে সেই এলাকার প্রতিষ্ঠিত ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। তাদের উপস্থিতিতে তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হবে এবং তল্লাশি চলাকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
যদি দুইজন স্বাধীন সাক্ষী উপলব্ধ না থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে তল্লাশিকারী কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে কারণ জানাতে হবে যে কেন দুইজন সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন না।

এই সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মূল উদ্দেশ্য হল তল্লাশি অভিযানকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করা এবং অনাবশ্যক বিতর্ক এড়ানো।

• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৩- সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশী কার্যক্রম চালাতে হবেঃ
(১) এই অধ্যায় মোতাবেক তল্লাশী করার পূর্বে যে অফিসার বা ব্যক্তি তা করতে গিয়েছেন, তিনি যে এলাকার মধ্যে, যে স্থান তল্লাশী করতে হবে তা অবস্থিত, সেই এলাকার দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে তল্লাশীর সাক্ষী হবার জন্য আহ্বান করবেন এবং এরূপ করার জন্য তাদেরকে বা তাদের যে কোন একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন।
 
(২) তাদের সমক্ষে তল্লাশী করতে হবে, এবং ঐরূপ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি ঐরূপ তল্লাশী করার সময় যেসব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং যেসব স্থানে ঐগুলি যথাক্রমে পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৈরী করবেন এবং ঐরূপ সাক্ষীগণ তাতে সহি দিবেন; কিন্তু আদালত বিশেষভাবে সমন না দিলে এই ধারায় সম্পাদিত তল্লাশী দর্শনকারী ব্যক্তিকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।
১,৩২৫.
If a section of The Code of Criminal Procedure,1898 mentions "Magistrate" without any qualifiers, what type of Magistrate is being referred to?
  1. Executive Magistrate
  2. Judicial Magistrate
  3. Special Magistrate
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
• Code of Criminal Procedure,1898-এ কোথাও শুধু 'Magistrate' শব্দ থাকলে তা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (Judicial Magistrate) নির্দেশ করবে।

• ৪ক ধারায় বলা আছে যে-
Without any qualifying word, a Magistrate shall be construed as a reference to a Judicial Magistrate.
অর্থাৎ কোন ম্যাজিস্ট্রেট বলতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ করবে এবং সহকারী দায়রা জজ বলতে যুগ্ম দায়রা জজকে নির্দেশ করবে।
১,৩২৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৯ ধারার অধীনে কার জবানবন্দি এই বিধান অনুযায়ী গ্রহণ করা যেতে পারে?
  1. আইনজীবীর
  2. সিভিল সার্জনের 
  3. পুলিশ অফিসার
  4. মামলার আসামীর
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ধারা ৫০৯ অনুযায়ী সিভিল সার্জন বা অন্য কোনো চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। এটি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নেওয়া হলে বা ধারা-৪০ অনুযায়ী কমিশনে নেওয়া হলে, অভিযুক্তকে হাজির না করলেও ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্য কার্যক্রমে সাক্ষ্যরূপে ব্যবহার করা যায়।
- অন্যান্য ব্যক্তি যেমন আইনজীবী, পুলিশ অফিসার বা মামলার আসামীর জবানবন্দি এই ধারার অধীনে গ্রহণযোগ্য নয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৯- চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি:
(১) আসামীর উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গৃহীত ও প্রত্যায়িত বা অধ্যায়-৪০ অনুসারে কমিশনে গৃহীত কোন সিভিল সার্জন বা অন্য কোন চিকিৎসক সাক্ষীর জবানবন্দি তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা না হলেও, এ বিধির অধীন কোন ইনকোয়ারী, বিচার বা অন্যকোন কার্যক্রমে সাক্ষ্যরূপে দেয়া যাবে।
(২) চিকিৎসক সাক্ষীকে সমন করার ক্ষমতা:
আদালত সঠিক মনে করলে এরূপ সাক্ষীকে সমন করতে এবং তার জবানবন্দির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাকে পরীক্ষা করতে পারবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 509- Deposition of medical witness:
(1) The deposition of a Civil Surgeon or other medical witness, taken and attested by a Magistrate in the presence of the accused, or taken on commission under Chapter XL, may be given in evidence in any inquiry, trial or other proceeding under this Code, although the deponent is not called as a witness.
Power to summon medical witness
(2) The Court may, if it thinks fit, summon and examine such deponent as to the subject-matter of his deposition.

১,৩২৭.
১৪ বছরের বালক মোহন এক ফৌজদারি অপরাধের দায়ে ধরা পড়েছে। তার বিরুদ্ধে মৃত্যু বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ নেই। এক্ষেত্রে ২৯খ ধারানুযায়ী কোন আদালতে মোহনের বিচার করা হবে?
  1. দায়রা জজ আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি ২৯খ ধারা-
কোন ব্যক্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডনীয় অপরাধ ব্যতিরেকে অপর যে কোন অপরাধ করলে এবং তাকে আদালতে উপস্থিত হবার বা তাকে হাজির করার তারিখে তার বয়স ১৫ (পনের) বৎসরের নীচে হলে তার বিচার যে কোন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারবেন অথবা তরুণ অপরাধীদের হেফাজত, বিচার এবং শাস্তি দেবার জন্য বলবৎ আইন কর্তৃক বা অধীনে সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেট, এবং এরূপ আইনের দ্বারা আরোপিত সকল বা যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগ করবার জন্য উহার দ্বারা বা অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোন ম্যাজিস্ট্রেট করতে পারবেন।

Section 29B: Jurisdiction in the case of juveniles-
Any offence, other than one punishable with death or transportation for life, committed by any person who at the date when he appears or is brought before the Court is under the age of fifteen years, may be tried by Chief Judicial Magistrate or the Chief Metropolitan Magistrate, or by any Magistrate specially empowered by the Government to exercise the powers conferred by or under any law providing for the custody, trial or punishment of youthful offenders, by any Magistrate empowered by or under such law to exercise all or any of the powers conferred thereby.
১,৩২৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় অপরাধের সহযোগীকে সাক্ষ্য প্রদানের শর্তে ক্ষমা করার বিধান রয়েছে?
  1. ধারা ৩৩৯খ
  2. ধারা ৩৩৭
  3. ধারা ৪০৬
  4. ধারা ৪৯৮
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৭ ধারায় অপরাধের সহযোগী বা রাজসাক্ষীকে (Accomplice) শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করার বিধান রয়েছে।
এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে, তাহলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করতে পারেন। তবে শর্ত হলো—
- অভিযুক্তকে সম্পূর্ণ সত্য ও সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
- তিনি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করবেন এবং অপরাধের মূল ঘটনা প্রকাশ করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৩৭: অপরাধে সহযোগীকে ক্ষমা প্রদান:
(১) যে কোনো অপরাধ যা শুধুমাত্র দায়রা আদালতে বিচারযোগ্য, অথবা যে কোনো অপরাধ যার জন্য দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, অথবা দণ্ডবিধির ২১১ ধারার অধীনে এমন কোনো অপরাধ, যার জন্য সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, অথবা দণ্ডবিধির নিম্নলিখিত ধারাসমূহের অধীনে সংঘটিত অপরাধসমূহ, যথা:
ধারা ২১৬এ, ৩৬৯, ৪০১, ৪৩৫ এবং ৪৭৭এ —
এইরূপ কোনো অপরাধের তদন্ত, অনুসন্ধান বা বিচারকার্য চলাকালে, যদি কারো সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে তিনি উক্ত অপরাধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত বা অবগত, তাহলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, এই উদ্দেশ্যে যে, তার কাছ থেকে সাক্ষ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে অপরাধ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে, তাকে ক্ষমা প্রদান করতে পারেন, শর্ত এই যে, তিনি অপরাধের এবং তাতে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির (প্রধান বা সহায়তাকারী হিসেবে) সম্পর্কে নিজ জ্ঞাত সমস্ত পরিস্থিতি পূর্ণ ও সত্যভাবে প্রকাশ করবেন।
তবে শর্ত থাকে যে,
যদি অপরাধটি অনুসন্ধান বা বিচারাধীন হয়, তাহলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না, যদি না তিনি নিজেই সেই অনুসন্ধান বা বিচার পরিচালনা করছেন।
এবং, যদি অপরাধটি তদন্তাধীন হয়, তাহলে এই ক্ষমতা কেবল সেই ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োগ করতে পারবেন, যিনি অপরাধের বিচার বা অনুসন্ধানের জন্য এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় দায়িত্বে রয়েছেন এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন গ্রহণ করেছেন।
(১ক) যে ম্যাজিস্ট্রেট ধারা (১)-এর অধীনে ক্ষমা প্রদান করবেন, তাকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্তের কারণ রেকর্ড করতে হবে, এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি অনুরোধ করে, তাহলে এই রেকর্ডের একটি অনুলিপি তাকে সরবরাহ করতে হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্তকে এই অনুলিপির জন্য মূল্য প্রদান করতে হবে, যদি না ম্যাজিস্ট্রেট বিশেষ কোনো কারণে বিনামূল্যে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
(২) যে ব্যক্তি এই ধারা অনুযায়ী ক্ষমা গ্রহণ করবেন, তাকে সাক্ষী হিসেবে পরীক্ষা করা হবে, প্রথমে সেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যিনি অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তীতে বিচার চলাকালীন প্রয়োজনে দায়রা আদালতেও।
(২ক) প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেখানে কোনো ব্যক্তি ক্ষমা গ্রহণ করেছে এবং উপ-ধারা (২)-এর অধীনে সাক্ষ্য দিয়েছে, তখন যদি ম্যাজিস্ট্রেট সন্তুষ্ট হন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে, তাহলে তাকে দায়রা আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করবেন।
(৩) যেই ব্যক্তি এই ধারা অনুযায়ী ক্ষমা পেয়েছেন, যদি তিনি আগে থেকেই জামিনে না থাকেন, তাহলে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখা হবে।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section 337.Tender of pardon to accomplice:
(1) In the case of any offence triable exclusively by the Court of Session, or any offence punishable with imprisonment which may extend to ten years, or any offence punishable under section 211 of the Penal Code, with imprisonment which may extend to seven years, or any offence under any of the following sections of the Penal Code, namely, sections 216A, 369, 401, 435 and 477A, a Metropolitan Magistrate or any Magistrate of the first class may, at any state of the investigation or inquiry into, or the trial of the offence, with a view to obtaining the evidence of any person supposed to have directly or indirectly concerned in or privy to the offence, tender a pardon to such person on condition of his making a full and true disclosure of the whole of the circumstances within his knowledge relative to the offence and to every other person concerned, whether as principal or abettor, in the commission thereof:
Provided that, where the offence is under inquiry or trial, no Magistrate of the first class other than the Chief Judicial Magistrate shall exercise the power hereby conferred unless he is the Magistrate making the inquiry or holding the trial, and, where the offence is under investigation, no such Magistrate shall exercise the said power unless he is a Magistrate having jurisdiction in a place where the offence might be inquired into or tried and the sanction of the Chief Judicial Magistrate has been obtained to the exercise thereof.
(1A) Every Magistrate who tenders a pardon under sub-section (1) shall record his reasons for so doing, and shall, on application made by the accused, furnish him with a copy of such record:
Provided that the accused shall pay for the same unless the Magistrate for some special reason thinks fit to furnish it free of cost.
(2) Every person accepting a tender under this section shall be examined as a witness in the Court of the Magistrate taking cognizance of the offence and in the subsequent trial, if any.
(2A) In every case where a person has accepted a tender of pardon and has been examined under sub-section (2), the Magistrate before whom the proceedings are pending shall, if he is satisfied that there are reasonable grounds for believing that the accused is guilty of an offence, send him for trial to the Court of Session.
(3) Such persons, unless he is already on bail, shall be detained in custody until the termination of the trial.
১,৩২৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১১২ অনুসারে, ধারা ১০৭, ১০৮, ১০৯ বা ১১০-এর অধীনে কারণ দর্শানোর জন্য লিখিত আদেশে নিচের কোন তথ্যটি উল্লেখ করতে হবে না?
  1. প্রাপ্ত তথ্যের সারাংশ
  2. বন্ডের পরিমাণ
  3. বন্ডের মেয়াদকাল
  4. অভিযুক্তের সম্পত্তির বিবরণ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১১২-তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ধারা ১০৭, ১০৮, ১০৯ বা ১১০-এর অধীনে কারণ দর্শানোর জন্য লিখিত আদেশে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ করতে হবে:
- প্রাপ্ত তথ্যের সারাংশ (substance of the information received)
- বন্ডের পরিমাণ (amount of the bond to be executed)
- বন্ডের মেয়াদকাল (term for which it is to be in force)
- জামিনদারের (যদি থাকে) সংখ্যা, চরিত্র এবং শ্রেণি (number, character and class of sureties (if any) required)
এই তালিকায় অভিযুক্তের সম্পত্তির বিবরণ (details of property of the accused) উল্লেখ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অতএব, সঠিক উত্তর: ঘ) অভিযুক্তের সম্পত্তির বিবরণ। 
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 112.Order to be made:
When a Magistrate acting under section 107, section 108, section 109 or section 110 deems it necessary to require any person to show cause under such section, he shall make an order in writing, setting forth the substance of the information received, the amount of the bond to be executed, the term for which it is to be in force, and the number, character and class of sureties (if any) required.

১,৩৩০.
ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারার প্রদত্ত আদেশ কাহার প্রতি নির্দেশিত হইতে পারে?
  1. কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি
  2. কোন বিশেষ স্থানে ঘন ঘন গমনকারী জনসাধারণের প্রতি
  3. বিরোধী দলের প্রতি
  4. 'ক' বা 'খ'
ব্যাখ্যা
♦ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারো আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা নিজে স্বত্বঃপ্রণোদিত হয়ে ১৪৪ ধারা জারি করতে পারে।

♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা বিধান (১) যে সকল ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, মহকুমা ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা এই ধারার অধীন কাজ করার জন্য সরকার বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের (তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট নহেন) মতে, এই ধারার অধীন অগ্রসর হবার মত যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং আশু বা দ্রুত প্রতিকার বাঞ্ছনীয়, সেই সকল ক্ষেত্রে এরূপ ম্যাজিষ্ট্রেট লিখিত আদেশে ঘটনার মূল বিষয় বস্তু বর্ণনা করে এবং ইহা ১৩৪ ধারায় বর্ণিত পদ্ধতিতে জারী করে যে কোন ব্যক্তিকে কোন নির্দিষ্ট কাজ করা হতে বিরত থাকার অথবা কোন নির্দিষ্ট সম্পত্তি তার দখলে কিংবা তার ব্যবস্থাধীনে নিবার নির্দেশ দিতে পারবেন, যদি উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট বিবেচনা করেন যে, তার নির্দেশে আইন সংগতভাবে নিযুক্ত কোন ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতি, অথবা বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির ঝুঁকি, অথবা মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রতি বিশদ অথবা জনশান্তির বিরক্তি বা দাঙ্গা বা মারামারি নিরোধের সম্ভাবনা আছে কিংবা নিরোধে সহায়তা করবে।

(২) জরুরী পরিস্থিতিতে অথবা যার উপর আদেশ দেয়া হচ্ছে সময় মত তার উপর নোটিশ জারী করার মত পরিস্থিতি নাই, সেই সকল ক্ষেত্রে এই ধারার আদেশ একতরফাভাবে প্রদান করা যাবে।

(৩) এই ধারার আদেশ কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অথবা কোন বিশেষ স্থানে ঘন ঘন গমনকারী বা সফরকারী জনসাধারণের প্রতি নির্দেশিত হতে পারবে।

(৪) যে কোন ম্যাজিষ্ট্রেট স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে বা কোন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদন ক্রমে এই ধারানুসারে তার নিজের বা তার অধীনস্ত কোন ম্যাজিষ্ট্রেট বা তার পূর্ববর্তী ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবেন।

(৫) এরূপ কোন আবেদনপত্র পাওয়া গেলে ম্যাজিষ্ট্রেট আবেদনকারীকে শীঘ্র ব্যক্তিগতভাবে বা কৌসুলীর মাধ্যমে তার নিকট হাজির হবার এবং আদেশের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার সুযোগ দিবেন, এবং ম্যাজিষ্ট্রেট যদি আবেদন সম্পূর্ণরূপে বা আংশিক বাতিল করেন তাহলে তিনি লিখিতভাবে এরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন।

(৬) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রতি বিপদ, অথবা দাঙ্গা বা মারামারির আশংকার ক্ষেত্রে সরকার সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে এই ধারানুসারে প্রদত্ত কোন আদেশ দুইমাসের অধিককাল বলবৎ থাকবে না।

(৭) এই ধারার বিধানসমূহ মহানগরী এলাকায় প্রযোজ্য হবে না।
১,৩৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪০ অনুযায়ী অভিযোগ প্রত্যাহারের ফলাফল কী?
  1. খালাস বলে গণ্য
  2. দণ্ডাদেশ বলে গণ্য
  3. মামলা স্থগিত বলে গণ্য
  4. অব্যাহতি বলে গণ্য
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ২৪০ অনুসারে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হলে এবং এক বা একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে, বাকি অভিযোগগুলো ফরিয়াদী বা সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা আদালতের অনুমতিতে প্রত্যাহার করতে পারেন। এই প্রত্যাহারের ফলাফল হিসেবে প্রত্যাহৃত অভিযোগগুলো খালাস (acquittal) দেওয়া হিসেবে পরিগণিত হয়, যতক্ষণ না দণ্ডাদেশ রদ করা হয়। যদি দণ্ডাদেশ রদ হয়, তাহলে আদালত রদকারী আদালতের আদেশ সাপেক্ষে অনুসন্ধান বা বিচার চালিয়ে যেতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪০ অনুযায়ী-
যখন একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং এক বা একাধিক অপরাধের জন্য দণ্ড দেয়া হয়,তখন ফরিয়াদী বা সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযোগ বা অভিযোগসমূহ প্রত্যাহার করতে পারেন অথবা আদালত নিজ উদ্দেগ্যে এরূপ অভিযোগ বা অভিযোগসমূহের অনুসন্ধান বা বিচার স্থগিত রাখতে পারেন।
এরূপ প্রত্যাহার করা হলে উক্ত অভিযোগে বা অভিযোগসমূহ হতে খালাস দেয়া হলো বলে পরিগণিত হবে;
যদি না দণ্ডাদেশ রদ করা হয়,সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত দণ্ডাদেশ রদকারী আদালতের আদেশ সাপেক্ষে প্রত্যাহৃত অভিযোগ বা অভিযোগসমূহ সম্পর্কে অনুসন্ধান বা বিচার করতে পারবেন।
-------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-240.Withdrawal of remaining charges on conviction on one of several charges:
 When a charge containing more heads than one is framed against the same person, and when a conviction has been had on one or more of them, the complainant, or the officer conducting the prosecution, may, with the consent of the Court, withdraw the remaining charge or charges, or the Court of its own accord may stay the inquiry into, or trial of, such charge or charges.
Such withdrawal shall have the effect of an acquittal on such charge or charges, unless the conviction be set aside, in which case the said Court (subject to the order of the Court setting aside the conviction) may proceed with the inquiry into or trial of the charge or charges so withdrawn.

১,৩৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৯০ ধারা অনুসারে, আদালত সমন জারির পরিবর্তে বা সমনের সাথে সাথে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কখন জারি করতে পারে?
  1. যখন মনে হবে আসামি হাজির হবে না বা পলাতক হতে পারে
  2. যখন সমন যথাযথভাবে তামিল হওয়ার পরও হাজির হয় না
  3. যখন আসামি যুক্তিসঙ্গত অজুহাত ছাড়াই অনুপস্থিত থাকে
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure) এর ধারা 90 অনুসারে, আদালত কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির জন্য সমন জারির ক্ষমতা থাকলে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সমনের পরিবর্তে বা সমনের সাথে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এই পরিস্থিতিগুলো নিম্নরূপ:
→ যখন মনে হবে আসামি হাজির হবে না বা পলাতক হতে পারে (ক): ধারা 90(a) অনুসারে, যদি আদালতের মনে হয় যে ব্যক্তি সমন জারির আগে বা পরে পলাতক হয়েছে বা সমন মানবে না, তবে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এটি আদালতের বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে এবং এই কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হয়।
→ যখন সমন যথাযথভাবে তামিল হওয়ার পরও হাজির হয় না (খ): ধারা 90(b) অনুসারে, যদি সমন যথাযথভাবে তামিল করা হয় এবং ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হয়, তবে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। এখানে সমন তামিলের প্রমাণ থাকতে হবে।
→ আসামি যুক্তিসঙ্গত অজুহাত ছাড়াই অনুপস্থিত থাকে (গ): ধারা 90(b)-এর আরেকটি শর্ত হলো, যদি ব্যক্তি সমন পেয়েও আদালতে হাজির না হয় এবং তার অনুপস্থিতির জন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত অজুহাত দেখাতে না পারে, তবে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারে।
যেহেতু উপরের সবগুলো পরিস্থিতি ধারা 90-এর অধীনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য বৈধ কারণ, তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) উপরোক্ত সবগুলো।
------------

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 90. Issue of warrant in lieu of, or in addition to, summons:
A Court may, in any case in which it is empowered by this Code to issue a summons for the appearance of any person issue, after recording its reasons in writing, a warrant for his arrest- 
(a) if, either before the issue of such summons, or after the issue of the same but before the time fixed for his appearance, the Court sees reason to believe that he has absconded or will not obey the summons; or 
(b) if at such time he fails to appear and the summons is proved to have been duly served in time to admit of his appearing in accordance therewith and no reasonable excuse is offered for such failure.

১,৩৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক অনুসারে আসামির আত্মীয়কে কত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের তথ্য দিতে হবে?
  1. ৬ ঘণ্টা
  2. ১২ ঘণ্টা
  3. ২৪ ঘণ্টা
  4. ৪৮ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আত্মীয়, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুকে গ্রেফতারের তথ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে জানানোর নির্দেশনা রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক (ঘ) অনুসারে, যদি আসামিকে তার বাসস্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির মনোনীত পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা বন্ধুকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তবে গ্রেপ্তারের সময় থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের স্থান সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক: গ্রেফতারের পদ্ধতি এবং গ্রেফতারকারী অফিসারের কর্তব্য:
গ্রেফতার করার সময়, পুলিশ অফিসার বা অন্য যে ব্যক্তি গ্রেফতার করে, তাকে নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে—
১. (ক) তার নাম স্পষ্ট, পরিচিতিযোগ্য এবং সহজে বোঝার মতোভাবে ধারণ করতে হবে, যাতে পরিচয় সহজ হয়।
২. (খ) নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং চাহিদা হলে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে এবং গ্রেফতারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের তার পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
৩. (গ) গ্রেফতারের একটি স্মারকলিপি তৈরি করতে হবে, যা—
(i) অন্তত একজন সাক্ষীর সাক্ষরিত থাকবে; ওই সাক্ষী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকার সম্মানিত নাগরিক হতে হবে। যদি এমন কেউ না থাকে, তবে তার কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
(ii) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর বা অঙ্গুলিমুদ্রা থাকবে, যদি সে প্রত্যাখ্যান না করে।
৪. (ঘ) যদি গ্রেফতার স্থান তার বাসার বাইরে হয়, তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার, আত্মীয় বা তার নিজ নির্বাচিত বন্ধুকে যত দ্রুত সম্ভব কিন্তু গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের সময়, স্থান এবং হেফাজতের জায়গার খবর দিতে হবে।
৫. (ঙ) যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে তাকে মেডিকেল অফিসার বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে হবে, মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে এবং আঘাতের কারণ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করতে হবে।
৬. (চ) গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি চাইলে, গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিজের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার অথবা পরিবারের কাছাকাছি কারো সাথে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।

১,৩৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে নিচের কোনটি নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে না?
  1. অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অভিযোগ।
  2. অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত অভিযোগ।
  3. অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ অফিসারের নিকট মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ।
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-৪(জ): নালিশ (Complaint)- "নালিশ" বলতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অথবা লিখিতভাবে এই মর্মে অভিযোগ করা যে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি একটি অপরাধ করেছে।
-অর্থাৎ অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে। কিন্ত অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ অফিসারের নিকট মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে না।
- পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট নালিশ বলে গণ্য হবে না।
---------------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-4(h) "complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police-officer:
১,৩৩৫.
The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 দ্বারা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ তে নতুন কোন ধারা যুক্ত করা হয়েছে?
  1. ধারা ১৭১ক
  2. ধারা ১৭২ক
  3. ধারা ১৭৩ক
  4. ধারা ১৭৪ক
ব্যাখ্যা
‘ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮’ সংশোধন করে ১০ জুলাই, ২০২৫ নতুন অধ্যাদেশ “The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025” জারি করা হয়। সংশোধিত আইনে যুক্ত হয়েছে ধারা ১৭৩ক।

ধারা ১৭৩ক: 
১. অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন: অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন তলব: এখন থেকে মামলার তদন্ত চলাকালে যেকোনো পর্যায়ে পুলিশ কমিশনার, জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বা সমমর্যাদার কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (Investigating Officer) মামলার অগ্রগতির বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।

২. আগাম অব্যাহতির সুযোগ: অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে সেই প্রতিবেদন আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল) দাখিল করা যাবে। আদালত ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মামলা থেকে অব্যাহতি (Discharge) দিতে পারবেন। এর ফলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা না করেই নিরপরাধ ব্যক্তিরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন। তবে, অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

৩. পুনরায় অভিযুক্ত করা যাবে: অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি অব্যাহতি পেলেও সেটি চূড়ান্ত নয়। যদি তদন্ত শেষে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে চূড়ান্ত পুলিশ প্রতিবেদনে (ধারা ১৭৩ অনুযায়ী) তার নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে কোনো বাধা থাকবে না।
১,৩৩৬.
ফৌজদারি সমন সম্পর্কিত কোন বিধানটি সঠিক নয়?
  1. লিখিত আকারে হবে
  2. আদালতের বিচারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে
  3. এক কপিতে জারি করতে হবে
  4. পুলিশ কর্মকর্তা সমন জারি করতে পারবেন
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৮ ধারা- সমনের ফরম:
(১) কোন আদালত কর্তৃক এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে প্রদত্ত প্রত্যেকটি সমন লিখিতভাবে ও দুই কপিতে দিতে হবে এবং উক্ত আদালতের বিচারক বা সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রণীত বিধি কর্তৃক নির্দেশিত অন্য কোন অফিসার দ্বারা স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরকৃত হবে।
(২) সমন জারিকারক: এরূপ সমন কোন পুলিশ অফিসার কর্তৃক অথবা এতদ্দুদ্দেশ্যে সরকার দ্বারা প্রণীত বিধি সাপেক্ষে সমন প্রদানকারী আদালতের কোন অফিসার কর্তৃক অথবা কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক জারী হবে।

⇒ ৬৮ ধারায় সমনের ফরম সম্পর্কে নিম্নলিখিত বিধানগুলো রয়েছে-
(1) সমন লিখিত আকারে ও দুই কপিতে জারি করতে হবে। সমনটি আদালতের বিচারক বা সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক নির্দিষ্ট অন্য কোনও কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরযুক্ত হতে হবে।
(2) সমন জারি করতে পারবেন -
(ক) কোনো পুলিশ কর্মকর্তা;
(খ) সমন প্রদানকারী আদালতের যে কোনও কর্মকর্তা (সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি সাপেক্ষে);
(গ) কোনো সরকারি কর্মচারী (সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধি সাপেক্ষে)।
১,৩৩৭.
ফৌজদারী কার্যবিধির কোন ধারা মতে সম্পত্তি বা দলিল বাজেয়াপ্ত করা হয়?
  1. ৩৩৯ ধারা মতে
  2. ৩৭০ ধারা মতে
  3. ৪৪২ ধারা মতে
  4. ৫১৭ ধারা মতে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ৫১৭ ধারা অনুযায়ী, আদালতে পেশকৃত, বা উহার হেফাজতে রক্ষিত কোন সম্পত্তি বা দলিল আদালতে ধ্বংস, জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করতে পারেন।
১,৩৩৮.
ফৌজদারি আপিল বা রিভিশন আদালত কোন ক্ষেত্রে নতুন করে অভিযোগ গঠণের আদেশ দিতে পারে?
  1. অভিযুক্তপক্ষ আবেদন করলে
  2. নালিশকারী আবেদন করলে
  3. ন্যায়বিচার ব্যাহত হলে
  4. অভিযোগ প্রমাণ না হলে
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৩৫ ধারার বিধান অভিযোগ তৈরী না করার ফলাফল দেয়া হয়েছে-

-(১) অভিযোগ প্রণীত হয়নি শুধুমাত্র এ কারণে ঘোষিত বা প্রদত্ত কোন অভিমত বা দণ্ডাদেশ অবৈধ মর্মে আখ্যায়িত করা হবে না, যদি না আপীল বা রিভিশন আদালত মনে করেন যে, এর ফলে প্রকৃতপক্ষে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে।

(২) আপিল বা রিভিশন আদালত যদি মনে করেন যে, অভিযোগ তৈরী না করায় ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে, তাহলে অভিযোগ প্রণয়ন করার এবং অভিযোগ প্রণয়নের পর থেকে তাৎক্ষনিক পুনরায় বিচার শুরুর আদেশ দিবেন।

Section 535- Effect of omission to prepare charge
(1) No finding or sentence pronounced or passed shall be deemed invalid merely on the ground that no charge was framed, unless, in the opinion of the Court of appeal or revision, a failure of justice has in fact been occasioned thereby. 

(2) If the Court of appeal or revision thinks that a failure of justice has been occasioned by an omission to frame a charge, it shall order that a charge be framed, and that the trial be recommenced from the point immediately after the framing of the charge.
১,৩৩৯.
কামাল এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৪২ ধারা মোতাবেক অভিযোগ করা হয়েছে যে, “সে জাল মুদ্রা দখলে রেখেছে এবং সে যখন তা দখলে এনেছিলো তখন সে এগুলোকে জাল বলে জানত” কিন্তু “প্রতারণামূলকভাবে” শব্দটি অভিযোগ হতে বাদ পড়েছে। এখন এই বাদ যাবার ফলে করিম বিভ্রান্ত হয়েছে বলে যদি প্রতীয়মান না হয়, তাহলে ভুলটিকে গুরুতর বলে গণ্য করা যাবে না। এটি ফৌজদারি কার্যবিধি এর কোন ধারা মোতাবেক?
  1. ২২২
  2. ২২৩
  3. ২২৫
  4. ২২৬
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা-২২৫ মোতাবেক অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে তা যদি আসামীর বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে এবং তা যদি ন্যায় বিচার ব্যাহত না করে, তাহলে উহা মামলার কোন পর্যায়ে গুরুতর বলে গণ্য হবে না।
১,৩৪০.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৩৪২ ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত উত্তর দিতে অস্বীকার করলে বা মিথ্যা উত্তর দিলে শুধু এই কারণে-
  1. শাস্তি দেয়া যাবে 
  2. শাস্তি দেয়া যাবে না
  3. শাস্তির পরিমাণ বেড়ে যাবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৪২: অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা:

১. জিজ্ঞাসাবাদ:
- যে কোনো তদন্ত বা বিচারকার্যের সময়, আদালত অভিযুক্তকে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করতে পারে, পূর্বে সতর্কতা ছাড়াই।
- প্রশ্ন করা হবে প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর এবং আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের আগে।

২. উত্তর অস্বীকার বা মিথ্যা উত্তর:
- অভিযুক্ত উত্তর দিতে অস্বীকার করলে বা মিথ্যা উত্তর দিলে শুধু এই কারণে শাস্তি দেয়া যাবে না।
- তবে আদালত সেই আচরণ থেকে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

৩. উত্তরের ব্যবহার:
- অভিযুক্তের দেওয়া উত্তর মৌলিক মামলায় বিবেচনা করা যাবে।
- একই উত্তর অন্য কোনো মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি তা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়।

৪. শপথ:
- অভিযুক্তকে শপথ করানো যাবে না।

১,৩৪১.
ফৌজদারী মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটর কোন ধরণের খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারে?
  1. মূল মামলায় প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে
  2. আপীলে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে
  3. মূল মামলায় এবং আপীলে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে
  4. সি. আর মামলায়
ব্যাখ্যা
• ৪১৭ (১) ধারা অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর মূল মামলায় বা আপীলে প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারে, তাই খালাস আদেশের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটারের দ্বিতীয় আপীল করার সুযোগ আছে। কিন্তু অভিযোগকারী বা ফরিয়াদী খালাস আদেশের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় আপীল দায়ের করতে পারে না।
১,৩৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুসারে, কোন ধরনের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক?
  1. সকল গ্রেফতারের ক্ষেত্রে
  2. ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে
  3. যখন আসামি স্বীকারোক্তি দেয়
  4. বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪ক অনুসারে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ক ধারার বিধান: বিনা পরোয়ানায় কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারকারী প্রত্যেক পুলিশ অফিসার, গ্রেফতারের সময়, তাহাকে যে কারণে গ্রেফতার করা হইল সেই কারণ জ্ঞাপন করিবেন।

- সুতরাং, ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুসারে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক।
-----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-54A: Person arrested to be informed of reason of arrest:
Every police-officer arresting any person without warrant shall, at the time of making arrest, communicate to him the reasons for which he is arrested.

১,৩৪৩.
সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগ এ মর্মে ঘোষণা করেন যে-
  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি অবৈধ
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ কর্তৃক জারিকৃত সামরিক আদালত অবৈধ
  3. জেনারেল এইচ.এম. এরশাদ কর্তৃক জারিকৃত সামরিক আইন অবৈধ
  4. রাজধানীর বাহিরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন অবৈধ
ব্যাখ্যা
 ♦ সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে রাজধানীর বাহিরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬ টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী আইন, ১৯৮৮ পাস করা হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে দুইটি রীট দায়ের করা হয়েছিল এই ভিত্তিতে যে প্রজাতন্ত্রের উপর বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি যা পরিবর্তন বা নষ্ট করা যায় না । সুতরাং উক্ত সংশোধনী অবৈধ। হাইকোর্টের বিভক্ত বেঞ্চ এই দুইটি রীট পিটিশন খারিজ করে দেয়। লিভ টু আপীল আপীলেট ডিভিশনে দায়ের করলে তা আপীল বিভাগ মঞ্জুর করে এবং সর্বশেষ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাজধানীর বাহিরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬ টি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন অবৈধ বলে আপীল বিভাগ রায় দেয়।
১,৩৪৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুসারে কাকে আসামীর জবানবন্দী গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. পুলিশকে
  2. আদালতকে
  3. বাদীর আইনজীবীকে
  4. পাবলিক প্রসিকিউটরকে
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামীর জবানবন্দী গ্রহণের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। আদালত আসামীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সাক্ষ্যের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার জন্য তাকে সতর্ক না করে যেকোন পর্যায়ে প্রশ্ন করতে পারবেন। আসামী যদি জবাব দিতে অস্বীকার করে বা মিথ্যা জবাব দেয়, তাতে তাকে দণ্ডিত করা হবে না; তবে আদালত এটি বিবেচনায় নিতে পারেন। জবাব অনুসন্ধানে প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, এবং এতে অন্য অপরাধের ইঙ্গিত থাকলে তা প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য। এছাড়া, আসামীকে কোন প্রকার শপথ করানো যাবে না।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারার বিধান আসামীর জবানবন্দী গ্রহণ করার ক্ষমতা:
(১) আসামীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত সাক্ষ্যে উত্থাপিত কোন অবস্থা বিশ্লেষণ করতে সমর্থ করার উদ্দেশ্যে আদালত অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন পর্যায়ে আসামীকে পূর্বাহ্নে সতর্ক করে না দিয়া প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত যেকোন প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন এবং উপরোক্ত উদ্দেশ্যে বাদীপক্ষের সাক্ষীদেৱ জবানবন্দী গ্রহণের পর এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের আহবান জানাবার পূর্বে তার নিকট মামলা সম্পর্কে সাধারণভাবে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন।
(২) এরূপ কোন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করলে বা মিথ্যা জবাব দিলে আসামী দণ্ডিত হবে না তবে আদালত এরূপ অস্বীকৃতি বা জবাব হতে যেরূপ ন্যায় সংগত মনে করেন সেরূপ অনুমান করতে পারবেন।দ
(৩) আসামী কর্তৃক প্রদত্ত জবাব এরূপ অনুসন্ধান বা বিচারে বিবেচনা করা যেতে পারে, এবং উক্ত জবাবে সে অন্য কোন অপরাধ করেছে বলে আভাস পাওয়া গেলে উক্তঅপরাধের অনুসন্ধান বা বিচারে উক্ত জবাব তার পক্ষে বা বিপক্ষে সাক্ষ্য হিসাবে পেশ করা যেতে পারে।
(৪) আসামীকে কোন প্রকার শপথ করানো যাবে না।
--------------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section: 342. Power to examine the accused:
(1) For the purpose of enabling the accused to explain any circumstances appearing in the evidence against him, the Court may, at any stage of any inquiry or trial without previously warning the accused, put such questions to him as the Court considers necessary, and shall, for the purpose aforesaid, question him generally on the case after the witnesses for the prosecution have been examined and before he is called on for his defence.
(2) The accused shall not render himself liable to punishment by refusing to answer such questions, or by giving false answers to them; but the Court may draw such inference from such refusal or answers as it thinks just.
(3) The answers given by the accused may be taken into consideration in such inquiry or trial, and put in evidence for or against him in any other inquiry into, or trial for, any other offence which such answers may tend to show he has committed.
(4) No oath shall be administered to the accused.
১,৩৪৫.
১২৭ ধারায় কে বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার আদেশ দিতে পারেন?
  1. দায়রা আদালত
  2. প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট
  3. থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার
  4. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
ধারা ১২৭: ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ অফিসারের আদেশে জনসমাবেশ ভঙ্গকরণ:
কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কোন বেআইনি সমাবেশ সার্বক্ষণিক শান্তি সম্ভবতঃ বিঘ্ন করবে এমন পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির এমন কোন সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার হুকুম দিতে পারেন; এবং তখন জনসমাবেশ সদস্যদের কাজ হবে সেই অনুসারে ছত্রভঙ্গ হওয়া।

[Any Executive Magistrate or officer in charge of a police-station may command any unlawful assembly, or any assembly of five or more persons likely to cause a disturbance of the public peace, to disperse; and it shall thereupon be the duty of the members of such assembly to disperse accordingly.]
১,৩৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারার অধীনে পুলিশ কাকে মৌখিকভাবে পরীক্ষা করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিকে
  2. শুধুমাত্র ভুক্তভোগীকে
  3. শুধুমাত্র অভিযোগকারীকে
  4. ঘটনার তথ্যাদি সম্পর্কে অবগত যে কোনো ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিধান- পুলিশ কর্তৃক সাক্ষী পরীক্ষা:
(১) এই অধ্যায় মতে তদন্ত সম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা, অথবা এ ব্যাপারে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা যে প্রকার নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন সে প্রকার পদের নিম্নের কোন পদে অধিষ্ঠিত নহেন এরূপ এবং ঐরূপ অফিসারের অধি- যাচন অনুসারে কার্যসম্পাদনকারী যে কোন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটির তথ্যাদি এবং পারিপার্শ্বিক- তার সাথে পরিচিত আছে বলে অনুমিত যে কোন ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে পরীক্ষা করতে পারেন।

(২) ঐরূপ ঘটনা সম্বন্ধে উক্ত কর্মকর্তা, যে সকল প্রশ্নের উত্তর তাঁকে ফৌজদারী অভিযোগে অভিযুক্ত করতে বা তাকে দণ্ডিত করতে বা কোন কিছুতে তার অধিকার খোয়াইতে চাইতে পারে সেসব প্রশ্ন ব্যতিরেকে যেসকল প্রশ্ন তাকে করবেন তার যথার্থ উত্তর প্রদান করতে ঐরূপ ব্যক্তি বাধ্য থাকবেন।

(৩) এ ধারামতে পরীক্ষা করার সময় তার নিকট কোন বিবৃতি দেয়া হলে তিনি তা লিপিবদ্ধ করতে পারেন, এবং যদি তিনি ঐরূপ করেন তাহলে, তিনি এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তির, বিবৃতির একটি পৃথক ও সত্য নথি তৈয়ার করবেন, যার বিবৃতি তিনি নথিভুক্ত করেন।
১,৩৪৭.
পাবলিক প্রসিকিউটর অভিযোগ গঠনের আগে মামলা প্রত্যাহার করলে, আদালত অভিযুক্তকে-
  1. মুক্তি দিবে
  2. খালাস দিবে
  3. অব্যাহতি দিবে
  4. জামিন দিবে
ব্যাখ্যা
Section 494: Effect of withdrawal from prosecution
Any Public Prosecutor may, with the consent of the Court, before the judgment is pronounced, withdraw from the prosecution of any person either generally or in respect of any one or more of the offences for which he is tried; and upon such withdrawal-

(a) if it is made before a charge has been framed, the accused shall be discharged in respect of such offence or offences;

(b) if it is made after a charge has been framed, or when under Code no charge is required, he shall be acquitted in respect of such offence or offences.

অর্থাৎ ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের সম্মতিতে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রায় ঘোষণার পূর্বে প্রত্যাহার করতে পারে।
অভিযোগ গঠনের আগে মামলা প্রত্যাহার করলে, আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি (Discharge) দিবে; আর
⇒ অভিযোগ গঠনের পরে মামলা প্রত্যাহার করলে, আদালত অভিযুক্তকে খালাস (Acquittal) দিবে।
১,৩৪৮.
৩৩৯গ ধারায় বিচারের উদ্দেশ্যে সময় গণনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত জামিনে থেকে পলাতক হলে, উক্ত সময়-
  1. আলাদাভাবে গণনা হবে
  2. বিচারকার্যের সময়ের মধ্যে গণনা হবে
  3. বিচারকার্যের সময় থেকে বাদ যাবে
  4. বিচারকার্যের সময়ের সাথে যোগ করা হবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বিচারকার্যের সময় থেকে বাদ যাবে।

ধারা ৩৩৯গ- মামলা নিষ্পত্তির সময়:

১) ম্যাজিস্ট্রেট বিচারের জন্য মােকদ্দমা প্রাপ্ত হওয়ার তারিখ হতে একশত আশি দিনের মধ্যেই অবশ্যই বিচার সমাপ্ত করবেন।

২) কোন দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ বা যুগ্ম দায়রা জজ বিচারের জন্য মােকদ্দমা প্রাপ্ত হওয়ার তারিখ হতে তিনশত ষাট দিনের মধ্যে অবশ্যই বিচার সমাপ্ত করবেন।

২ক) উপ-ধারা (১) বা উপ-ধারা (২) এ যাই থাকুক না কেন যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একাধিক মােকদ্দমায় আসামি হয় এবং বিচারের জন্য তাকে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালতে হাজির করা হয়, সেক্ষেত্রে এইরূপ মােকদ্দমাগুলির বিচার সমাপ্ত করার জন্য (১) ও (২) উপ-ধারায় নির্ধারিত সময় ধারাবাহিকভাবে গণনা করা হবে।


২খ) এক আদালত হতে অপর আদালতে মােকদ্দমা হস্তান্তর সম্পর্কে যাই থাকুক না কেন (১) বা (২) উপ-ধারায় বর্ণিত সময় মােকদ্দমার বিচারের সময় হবে।


৪) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি বিচার কার্য সম্পন্ন করা না যায়, তা হলে আদালত অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে জামিন অযােগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করা হতে পারে।

৫) দণ্ডবিধি (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ৪০০ বা ধারা ৪০১-এর কোন মােকদ্দমার বিচারের ক্ষেত্রে কিংবা যে মােকদ্দমার বিচারের জন্য চৌত্রিশতম অধ্যায় নিহিত বিধান প্রযােজ্য সেই মােকদ্দমার বিচারের ক্ষেত্রে অত্র ধারার কোন কিছুই প্রযােজ্য হবে না।

৬) এই ধারায়, বিচারের উদ্দেশ্যে সময় নির্ধারণের নিমিত্তে-
খ) জামিনে গিয়া কোন আসামির পলায়নের কারণে যে সময় ব্যয় হবে উহা পরিগণনা করতে হবে না।

১,৩৪৯.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট তফসিল কয়টি ?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধিতে মোট ৫টি তফসিল রয়েছে।
যা নিম্নরূপ:
১ম তফসিল (First Schedule)- বাতিল
২য় তফসিল (Second Schedule)- আমলযোগ্য ও আমল-অযোগ্য অপরাধ, জামিনযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য অপরাধ এবং দন্ডবিধির অপরাধসমূহ কোন আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য ইত্যাদি বিষয়সমূহ উল্লেখ রয়েছে
৩য় তফসিল (Third Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে
৪র্থ তফসিল (Fourth Schedule)- ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর আরোপযোগ্য অতিরিক্ত ক্ষমতা উল্লেখ রয়েছে
৫ম তফসিল (Fifth Schedule)- ফরম সমূহের বিষয়ে বলা রয়েছে।
১,৩৫০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আছে?
  1. ৪০৭, ৪০৮, ৪১০ ধারায়
  2. ৪০৬, ৪০৬ক ধারায়
  3. ৪১৭, ৪১৭ক ধারায়
  4. ৪০৫, ৪০৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৭, ৪০৮ এবং ৪১০ ধারায় দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। 

ধারা ৪০৭-
দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিল করতে হবে। 

ধারা ৪০৮-
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা যুগ্ম দায়রা জজ (৫ বা ৫ বছরের কম মেয়াদে কারাদণ্ড দিলে) প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজের নিকট আপিল করতে হবে।
তবে যুগ্ম দায়রা জজ ৫ বছরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ড দিলে অথবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা অপরাধের শাস্তি দিলে আপিল করতে হবে হাইকোর্ট বিভাগে।

ধারা ৪১০-
দায়রা আদালত প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে হবে।
১,৩৫১.
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮- এর ধারা ৩৯৯ কোন বয়স‑সীমার অপরাধীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. ১৮ বছরের বেশি
  2. ১৫ বছরের কম
  3. ২১ বছরের কম
  4. ১৫ বছরের বেশি
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৯ ধারা- কিশোর অপরাধীকে চরিত্র সংশোধনী প্রতিষ্ঠানে আটক রাখা:
(১) যখন কোন ফৌজদারী আদালত পনের বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে কোন অপরাধের জন্য কারাদণ্ড দেন, তখন উক্ত আদালত নির্দেশ দিবেন যে, উক্ত ব্যক্তিকে ফৌজদারী জেলে বন্দী না করে আটকের উপযুক্ত স্থানে সরকার কর্তৃক স্থাপিত সংশোধনাগারে আটক রাখতে হবে যেখানে উপযুক্ত শৃংখলা ও কোন দরকারী শিল্পের কোন শাখায় শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে অথবা তাকে কোন ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে আটক রাখতে হবে, যে ব্যক্তি আটক ব্যক্তিদের শৃংখলা ও শিক্ষার জন্য সরকার কর্তৃক প্রণীত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে ইচ্ছুক।

(২) এই ধারার অধীন সকল ব্যক্তির প্রতি উক্তরূপ নির্ধারিত নিয়মাবলী প্রযোজ্য হবে।
১,৩৫২.
"A warrant of arrest may be executed at any place in Bangladesh". কথাটি উল্লেখ্য আছে-
  1. ফৌজদারী কার্যবিধির ৭৯ ধারায়
  2. ফৌজদারী কার্যবিধির ৮০ ধারায়
  3. ফৌজদারী কার্যবিধির ৮২ ধারায়
  4. ফৌজদারী কার্যবিধির ৮৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮২ ধারার বিধান পরোয়ানা যেখানে বলবৎ করা যাবেঃ গ্রেফতারী পরোয়ানা বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় কার্যকরী করা যাবে।

♦ Section 82. Where warrant may be executed: A warrant of arrest may be executed at any place in Bangladesh.
১,৩৫৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার আদালতের ভাষা নির্ধারণ করতে পারে?
  1. ৩৫৮ ধারার
  2. ৪৫৮ ধারার
  3. ৫৫৮ ধারার
  4. ২৫৮ ধারার
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৫৮ ধারার বিধান অনুযায়ী সরকার আদালতের ভাষা নির্ধারণ করতে পারবে।

• ধারা ৫৫৮- আদালতের ভাষা নির্ধারণের ক্ষমতা:
এই বিধির উদ্দেশ্যে ইহার দ্বারা শাসিত অঞ্চলে অবস্থিত প্রত্যেকটি আদালতের ভাষা কি হবে সরকার তা নির্ধারণ করতে পারবেন।

Section 558- Power to decide language of Courts:
The Government may determine what, for the purposes of this Code, shall be deemed to be the language of each Court within the territories administered by it.
১,৩৫৪.
নালিশী মামলার ক্ষেত্রে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের উক্ত নালিশ গ্রহণের এখতিয়ার না থাকলে কি করবেন?
  1. ফেরত দিবেন
  2. উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করবেন
  3. খারিজ করবেন
  4. প্রাথমিক তদন্তের জন্য পাঠাবেন
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০১ ধারায় অভিযোগ বা নালিশ ফেরতের (return of complaint) বিধান রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০১ ধারামতে নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের অপরাধটি আমলে নেয়ার ক্ষমতা না থাকলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য নালিশটি (complaint) ফেরত পাঠাবেন। তবে উক্ত অভিযোগ যদি লিখিতভাবে করা না হয়, তাহলে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ফরিয়াদিকে উপযুক্ত আদালতে যেতে নির্দেশ প্রদান করবেন।

তবে GR মামলা ফেরৎযোগ্য নয় ।
১,৩৫৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারায় অভিযুক্ত কোন ধরনের সাক্ষী হতে পারে?
  1. Prosecution witness
  2. Defence witness
  3. both of above
  4. None of above
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪০ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার (Right to be defended by a pleader) আছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবী দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার আছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ পক্ষে সাক্ষী হওয়ার যোগ্য এবং একই বিচারে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা তার সাথে একই মামলায় অভিযুক্ত অন্য কোন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য শপথ গ্রহণপূর্বক দিতে পারবে।

তবে শর্ত এই যে-
⇒ সেই ব্যক্তি নিজে লিখিতভাবে অনুরোধ না করলে তাকে সাক্ষী হিসাবে ডাকা হবে না; অথবা
⇒ সে সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হলে মামলার কোন পক্ষ বা আদালত সেই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবে না এবং তার বিরুদ্ধে বা একই বিচারে অভিযুক্ত অন্য কোন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কোন অনুমান করা যাবে না।

Section 340: Right of person against whom proceedings are instituted to be defended and his competency to be a witness-
(1) Any person accused of an offence before a Criminal Court, or against whom proceedings are instituted under this Code in any such Court, may of right be defended by a pleader. 
(2) Any person against whom proceedings are instituted in any such Court under section 107, or under Chapter X, Chapter XI, Chapter XII or Chapter XXXVI, or under section 552, may offer himself as a witness in such proceedings. 
(3) Any person accused of an offence before a Criminal Court shall be a competent witness for the defence and may give evidence on oath in disproof of the charges made against him or any person charged together with him at the same trial: 
 
Provided that- 
(a) he shall not be called as a witness except on his own request in writing; or 
(b) his failure to give evidence shall not be made the subject of any comment by any of the parties or the Court or give rise to any presumption against himself or any persons charged together with him at the same trial.
১,৩৫৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ঘ অনুসারে, যদি একটি নালিশি মামলার তদন্ত বা বিচার চলাকালীন পুলিশি তদন্ত চলছে বলে প্রতীয়মান হয়, তবে ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?
  1. মামলাটি বাতিল করবেন
  2. নালিশি মামলাটি অগ্রাধিকার দেবেন
  3. পুলিশি তদন্ত বন্ধ করার নির্দেশ দেবেন
  4. তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখবেন এবং পুলিশ প্রতিবেদন চাইবেন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫ঘ অনুযায়ী, যদি কোনো নালিশি মামলার তদন্ত বা বিচার চলাকালীন একই অপরাধের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলমান থাকে, তবে ম্যাজিস্ট্রেটকে তার তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখতে হয় এবং পুলিশ তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন দাবি করতে হয়। পুলিশের প্রতিবেদন পেলে, যদি সেই প্রতিবেদনে নালিশি মামলার আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ গ্রহণযোগ্য মনে হয়, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি মামলা এবং পুলিশি প্রতিবেদনভিত্তিক মামলাকে একসঙ্গে পরিচালনা করবেন। আর যদি পুলিশ প্রতিবেদন নালিশি মামলার আসামিদের সঙ্গে সম্পর্কিত না হয় বা ম্যাজিস্ট্রেট কোনো অপরাধ গ্রহণ না করেন, তাহলে স্থগিত রাখা তদন্ত বা বিচার পুনরায় চালু করবেন।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ঘ ধারার বিধান: একটি অপরাধের বিষয়ে একই সাথে নালিশি মামলা ও পুলিশি তদন্ত চলতে থাকলে অনুসরণীয় পদ্ধতি: (১) পুলিশ প্রতিবেদন ব্যতিরেকে অন্য কোন উপায়ে দায়েরকৃত মামলার (অতঃপর নালিশি মামলা মর্মে বর্ণিত হবে) তদন্ত বা বিচার চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তাঁর আদালতে তদন্ত বা বিচারাধীন অপরাধটি সম্পর্কে একটি পুলিশি তদন্ত চলতেছে মর্মে প্রতীয়মান হলে, সেক্ষেত্রে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর দ্বারা পরিচালিত তদন্ত বা বিচারকার্য স্থগিত রাখবেন এবং উক্ত বিষয় সম্পর্কে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদন চাবেন।
(২) যেক্ষেত্রে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ধারা-৭৩ এর বিধানসাপেক্ষে প্রতিবেদন পেশ করেন এবং এরূপ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট যে ব্যক্তি নালিশি মোকদ্দমার আসামি তার বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি মামলা এবং পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত মামলার একই সাথে তদন্ত বা বিচার করতে পারবেন যাতে উভয় মামলাই পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দায়ের হয়েছে।
(৩) পুলিশ প্রতিবেদনে নালিশি মামলার কোন আসামি জড়িত না হলে, অথবা পুলিশ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট কোন অপরাধ আমলে গ্রহণ না করলে তিনি যে তদন্ত বা বিচার স্থগিত রেখেছিলেন এই কার্যবিধির বিধান অনুসারে সেই তদন্ত বা বিচারকার্যে অগ্রসর হবেন।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898- Section 205D. Procedure to be followed when there is a complaint case and police investigation in respect of the same offence:
(1) When in a case instituted otherwise than on a police report hereinafter referred to as a complaint case, it is made to appear to the Magistrate, during the course of the inquiry or trial held by him, that an investigation by the police is in progress in relation to the offence which is the subject-matter of the inquiry or trial held by him, the Magistrate shall stay the proceedings of such inquiry or trial and call for a report on the matter from the police-officer conducting the investigation.
(2) If a report is made by the investigating police-officer under section 173 and on such report cognizance of any offence is taken by the Magistrate against any person who is an accused in the complaint case, the Magistrate shall inquire into or try together the complaint case and the case arising out of the police report as if both the cases were instituted on a police report.
(3) If the police report does not relate to any accused in the complaint case or if the Magistrate does not take cognizance of any offence on the police report, he shall proceed with the inquiry or trial, which was stayed by him, in accordance with the provisions of this Code.
১,৩৫৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কোন ধারার বিধান মতে ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজস্ব জ্ঞান মতে অপরাধ আমলে নিতে পারেন?
  1. 190(1)(a)
  2. 190(1)(c)
  3. 190(1)(b)
  4. 190(1)(d)
ব্যাখ্যা
• আমলে নেয়া অর্থ হলো -অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার জন্য উপাদান আছে বলে ম্যাজিস্ট্রেট মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন অগ্রসর হওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধটি আমলে নিয়েছে বলে গণ্য হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।

• যে সকল ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধ আমলে নিতে পারেন:
i. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ii. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
iii. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
iv. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অথবা
v. ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যকোন ম্যাজিস্ট্রেট

• ম্যাজিস্ট্রেট ৩টিউৎসের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে (Cognizance) নিতে পারেন। যথা-
i. অভিযোগ (Complaint ) [ধারা ১৯০ (১)(ক)]
ii. পুলিশের লিখিত রিপোর্ট (Report) [ধারা ১৯০ (১)(খ)]
iii. তথ্য (information), নিজস্ব জ্ঞান ( knowledge ) বা সন্দেহবশত (suspicion) কোন তথ্য পেলে [ধারা ১৯০ (১)(গ)]

• ক্ষমতাপ্রাপ্ত ২য় ও ৩য় শ্রেণীর ম্যজিস্ট্রেট অভিযোগ ও রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে মামলা আমলে নিতে পারেন। [ধারা ১৯০(৩)]
• ৩য় শ্রেণীর ম্যজিস্ট্রেট তথ্য (information), নিজস্ব জ্ঞান (knowledge) বা সন্দেহ (suspicion) এর উপর ভিত্তি করে মামলা আমলে নিতে পারেন না।
• সরকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। (Government may empower any Executive Magistrate to take cognizance) [ধারা ১৯০ (৪)]
১,৩৫৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৫৫ অনুসারে কোন তফসিলে উল্লিখিত ফর্মগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে?
  1. প্রথম তফসিলে
  2. পঞ্চম তফসিলে
  3. সপ্তম তফসিল
  4. তৃতীয় তফসিল
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৫৫ অনুযায়ী, “...the forms set forth in the fifth schedule, with such variation as the circumstances of each case require, may be used for the respective purposes therein mentioned, and if used shall be sufficient.”
অর্থাৎ, এই ধারায় বলা হয়েছে যে, পঞ্চম তফসিলে যেসব ফর্ম নির্ধারিত আছে, সেগুলো প্রয়োজন অনুসারে কিছুটা পরিবর্তন করে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সেগুলো ব্যবহৃত হলে তা যথেষ্ট বিবেচিত হবে। এই ধারা ধারা ৫৫৪ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭ এর ক্ষমতা অনুসারে কার্যকর হয়।
-  এই ধারা ফৌজদারি মামলার বিভিন্ন কার্যধারা সহজতর করতে নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহারের বৈধতা দেয়।
সুতরাং, পঞ্চম তফসিলে উল্লিখিত ফর্মগুলো ব্যবহারের কথা ধারা ৫৫৫-এ বলা হয়েছে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 555. Forms:
Subject to the power conferred by section 554, and by 549[article 107 of the Constitution of the People's Republic of Bangladesh], the forms set forth in the fifth schedule, with such variation as the circumstances of each case require, may be used for the respective purposes therein mentioned, and if used shall be sufficient.
১,৩৫৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারার মামলা নিম্নোক্ত কোন আদালতের আদি এখতিয়ারভুক্ত?
  1. মুখ্য মহানগর হাকিম
  2. দায়রা জজ
  3. ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট
  4. জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডিত হবার ক্ষেত্র ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন ভবঘুরেকে শান্তিরক্ষার মুচলেকার আদেশ দিতে পারে।
১,৩৬০.
খবরের সত্যতা সম্পর্কে ইনকোয়ারী কত ধারায় করা হয়?
  1. ফৌজদারী কার্যবিধির ১১৭ ধারায়
  2. ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭১ ধারায়
  3. ফৌজদারী কার্যবিধির ১১৪ ধারায়
  4. ফৌজদারী কার্যবিধির ১১৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধি ১১৭ ধারার বিধান: সংবাদের সত্যতা বিষয়ক তদন্ত: (১) যখন আদালতে উপস্থিত কোন ব্যক্তির নিকট ধারা-১১২ মতে প্রদত্ত আদেশ ধারা-১১৩ মতে পড়ে শুনে শুনানো হয় বা ব্যাখ্যা করে দেয়া হয় বা যখন ধারা-১১৪ মতে প্রদত্ত সমন মান্য করে বা পরোয়ানা নির্বাহে কোন ব্যক্তি কোন ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে উপস্থিত হন বা কোন ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সমক্ষে আনয়ন করা হয়, তখন, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট যে সংবাদের উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে সেই সংবাদের সত্যতা বিষয়ে তদন্তানুষ্ঠানে অগ্রসর হবেন, এবং আরও যে সাক্ষ্য নেয়া আবশ্যক বলে প্রতীয়মান হতে পারে তা নিবেন।

----------------
♦ Inquiry as to truth of information
Section 117.(1) When an order under section 112 has been read or explained under section 113 to a person present in Court, or when any person appears or is brought before a Magistrate in compliance with, or in execution of, a summons or warrant, issued under section 114, the Magistrate shall proceed to inquire into the truth of the information upon which action has been taken, and to take such further evidence as may appear necessary.
১,৩৬১.
যখন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং কোনো এক অপরাধে দণ্ড দেয়া হয়,তখন অবশিষ্ট অভিযোগসমূহ প্রত্যাহার করা হলে অভিযুক্ত উক্ত অভিযোগসমূহ থেকে-
  1. খালাস বলে গণ্য হবে
  2. অব্যাহতি বলে গণ্য হবে
  3. মুক্তি বলে গণ্য হবে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪০ অনুযায়ী-

যখন একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং এক বা একাধিক অপরাধের জন্য দণ্ড দেয়া হয়,তখন ফরিয়াদী বা সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযোগ বা অভিযোগসমূহ প্রত্যাহার করতে পারেন অথবা আদালত নিজ উদ্দেগ্যে এরূপ অভিযোগ বা অভিযোগসমূহের অনুসন্ধান বা বিচার স্থগিত রাখতে পারেন।
এরূপ প্রত্যাহার করা হলে উক্ত অভিযোগে বা অভিযোগসমূহ হতে খালাস দেয়া হলো বলে পরিগণিত হবে;যদি না দণ্ডাদেশ রদ করা হয়,সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত দণ্ডাদেশ রদকারী আদালতের আদেশ সাপেক্ষে প্রত্যাহৃত অভিযোগ বা অভিযোগসমূহ সম্পর্কে অনুসন্ধান বা বিচার করতে পারবেন।

[When a charge containing more heads than one is framed against the same person, and when a conviction has been had on one or more of them, the complainant, or the officer conducting the prosecution, may, with the consent of the Court, withdraw the remaining charge or charges, or the Court of its own accord may stay the inquiry into, or trial of, such charge or charges. Such withdrawal shall have the effect of an acquittal on such charge or charges, unless the conviction be set aside, in which case the said Court (subject to the order of the Court setting aside the conviction) may proceed with the inquiry into or trial of the charge or charges so withdrawn.]
১,৩৬২.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৮২ ধারার বিধান কী?
  1. Warrant directed to police-officer
  2. Where warrant may be executed
  3. Notification of substance of warrant
  4. Person arrested to be brought before Court without delay
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮২ ধারার বিধান পরোয়ানা যেখানে বলবৎ করা যাবে: গ্রেফতারী পরোয়ানা বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় কার্যকরী করা যাবে।
⇒ CrPC Section 82: Where warrant may be executed: A warrant of arrest may be executed at any place in Bangladesh.

-CrPC Section 79: Warrant directed to police-officer:
 A warrant directed to any police-officer may also be executed by any other police-officer whose name is endorsed upon the warrant by the officer to whom it is directed or endorsed.
-CrPC Section 80: Notification of substance of warrant:
 The police-officer or other person executing a warrant of arrest shall notify the substance thereof to the person to be arrested, and, if so require, shall show him the warrant.
-CrPC Section 81: Person arrested to be brought before Court without delay:
The police-officer or other person executing a warrant of arrest shall (subject to the provisions of section 76 as to security) without unnecessary delay bring the person arrested before the Court before which he is required by law to produce such person.
১,৩৬৩.
ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যেকোনো সময় অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল কী?
  1. অভিযুক্তকে মুক্তি
  2. অভিযুক্তকে অব্যাহতি
  3. অভিযুক্তকে খালাস
  4. অভিযোগকারীকে শাস্তি
ব্যাখ্যা
⇒ফৌজদারি চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে খালাস [Acquittal] দিবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৮ এ অভিযোগকারী কর্তৃক নালিশ প্রত্যাহারের ফলাফল দেয়া হয়েছে-ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে মামলার চূড়ান্ত আদেশ হবার পূর্বে যে কোন সময় অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করতে পারে। অভিযোগকারী নালিশ প্রত্যাহার করলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে খালাস [Acquittal] দিবে।

⇒ অপরদিকে,ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতের সম্মতিতে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রায় ঘোষণার পূর্বে প্রত্যাহার করতে পারে। পাবলিক প্রসিকিউটর অভিযোগ গঠনের আগে মামলা প্রত্যাহার করলে, আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি  (Discharge) দিতে পারে আর অভিযোগ গঠনের পরে মামলা প্রত্যাহার করলে, আদালত অভিযুক্তকে খালাস [Acquittal] দিতে পারে ।
--------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-248: Withdrawal of complaint:
If a complainant, at any time before a final order is passed in any case under this Chapter, satisfies the Magistrate that there are sufficient grounds for permitting him to withdraw his complaint the Magistrate may permit him to withdraw the same, and shall thereupon acquit the accused.
১,৩৬৪.
ক্রোকী সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের আবেদন কোথায় করতে হবে?
  1. আদেশ প্রদানকারী আদালত অপেক্ষা উচ্চ আদালতে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে
  4. যে আদালত সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছিল, সেই আদালতে
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৯ ধারার বিধান ক্রোককৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারঃ যার সম্পত্তি ৮৮ ধারার (৭) উপধারা অনুসারে সরকারের এখতিয়ারভুক্ত রয়েছে বা হয়েছে, সে যদি ক্রোক করার তারিখ থেকে ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে যে আদালতের আদেশে সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছিল সেই আদালতের বা সেই আদালত যে আদালতের আওতাধীন সেই আদালতে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হয় বা তাকে গ্রেফতার করে হাজির করানো হয় এবং এমর্মে প্রমাণ দ্বারা সে উক্ত আদালতের সন্তুষ্টি উৎপাদনপূর্বক প্রমাণ করে যে, সে পলাতক (ফেরার) ছিল না বা পরোয়ানার নির্বাহ এড়াবার জন্য সে পলায়ন করেনি এবং তিনি হুলিয়া হতে এরূপ জ্ঞানার্জন করেনি যাতে তিনি উহাতে উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে হাজিরা দিতে পারেন, তাহলে ক্রোক সম্পর্কিত সমস্ত খরচ কেটে নিয়ে উক্ত সম্পত্তি বা তা বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নীট মূল্য অথবা আংশিকভাবে বিক্রয় করা হয়ে থাকলে নীট মূল্য ও আংশিক সম্পত্তি তাকে অর্পণ করতে হবে।
১,৩৬৫.
গণ-উপদ্রবের পুনরাবৃত্তি রোধের বিধান ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ১৪২ ধারায়
  2. ১৪৩ ধারায়
  3. ১৪১ ধারায়
  4. ১৪০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৩ ধারার বিধান ম্যাজিস্ট্রেট গণ-উপদ্রব পুনরাবৃত্তি করা বা অব্যাহত রাখা নিষিদ্ধ করতে পারবেন:
- কোন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রাপ্ত ক্ষমতায় ক্ষমতাবলে অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোন ব্যক্তির প্রতি দণ্ডবিধি বা কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনে উল্লিখিত গণ-উপদ্রবের পুনরাবৃত্তি না করার বা উহা অব্যাহত না রাখার আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
--------------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section 143. Magistrate may prohibit repetition or continuance of public nuisance:
- A District Magistrate or any other Executive Magistrate empowered by the Government or the District Magistrate on this behalf may order any person not to repeat or continue a public nuisance, as defined in the Penal Code or any special law.
১,৩৬৬.
ফৌজদারি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে কৃত আপিল নিষ্পত্তিতে আদালত-
  1. অভিযুক্তকে খালাস দিতে পারে
  2. অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারে
  3. শাস্তি বহাল রাখতে পারে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৩ ধারায় ফৌজদারি আপিল নিষ্পত্তিতে আপিল আদালতের ক্ষমতা আলোচনা করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আপিল আদালত নিম্নলিখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-

১.  আপিল খারিজ করতে পারে যদি  আপিলের কোন কারণ না থাকে, বা

২. খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে-
⇒ খালাস আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে,
⇒ অধিকতর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিতে পারে,
⇒ অভিযুক্তকে পুনরায় বিচারের জন্য নির্দেশ দিতে পারে বা অভিযুক্তকে দোষী পেলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে পারে।

৩. দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে-
⇒ শাস্তি বাতিল করতে পারে,
অভিযুক্তকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে পারে, 
⇒ পুনরায় অভিযুক্তকে বিচার করার আদেশ দিতে পারে, 
⇒ শাস্তি বহাল রাখতে পারে বা কমাতে পারে ইত্যাদি।

৪. দণ্ড বৃদ্ধির আপিলের ক্ষেত্রে-
⇒ শাস্তি পরিবর্তন করতে পারে,
⇒ অভিযুক্তকে খালাস বা অব্যাহতি দিতে পারে,
⇒ তাকে পুনরায় বিচারের আদেশ দিতে পারে,
শাস্তি বহাল রাখতে পারে বা শাস্তির পরিমান বাড়াতে বা কমাতে পারে। 

৫. অন্যান্য আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে আদেশ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে তবে অভিযুক্ত যে অপরাধ করেছে সেই অপরাধের জন্য যে শাস্তি দেয়া যেতো,তার অধিক দণ্ড দিবে না।
১,৩৬৭.
"স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা"- ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় বলা হয়েছে?
  1. ধারা ৫২৭
  2. ধারা ৫২২
  3. ধারা ৫২৯
  4. ধারা ৫২৩
ব্যাখ্যা
ধারা ৫২২- স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা

(১) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা শক্তি প্রদর্শন বা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন সহযোগে কৃত অপরাধে দণ্ডিত হয় এবং আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, এরুপ বল প্রয়োগ বা শক্তি প্রদর্শন বা অপরাধমুলক ভীতি প্রদর্শন কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে কোন স্থাবর সম্পত্তিতে বেদখল করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে দণ্ডদানকালে বা উক্ত দণ্ডের তারিখ হতে ১ (এক) মাসের মধ্যে যেকোন সময় বেদখল হওয়া ব্যক্তিকে উক্ত সম্পত্তির দখল দেবার আদেশ প্রদান করতে পারবেন।
(২) কোন ব্যক্তি দেওয়ানী মামলার দ্বারা এরূপ স্থাবর সম্পত্তিতে কোন অধিকার বা স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে উক্ত আদেশ কর্তৃক তাহা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ।
(৩) যেকোন আপীল, সাজা অনুমোদন, রেফারেন্স বা রিভিশন আদালত এই উপধারার অধীন আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

Section 522- Power to restore possession of immovable property
(1) Whenever a person is convicted of an offence attended by criminal force or show of force or by criminal intimidation and it appears to the Court that by such force or show of force or by criminal intimidation any person has been dispossessed of immovable property, the Court may, if it thinks fit, when convicting such person or at any time within one month from the date of the conviction order any the person dispossessed to be restored to the possession of the same.
(2) No such order shall prejudice any right or interest to or in such immovable property which any person may be able to establish in a civil suit.
(3) An order under this section may be made by any Court of appeal, confirmation, reference or revision.
১,৩৬৮.
শাস্তি হিসেবে কেবলমাত্র জরিমানা করা হলে এবং তা অনাদায়ে কেউ দণ্ডিত হলে, আাদশের তারিখ হতে আদালত সাধারণত সর্বোচ্চ কতদিনের ভেতরে তা পরিশোধের নির্দেশ দেবেন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৪৫ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৮৮: কারাদণ্ড কার্যকর স্থগিতকরণ (Suspension of execution of sentence of imprisonment):
(১) যদি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি কেবল জরিমানার দণ্ডে দণ্ডিত হন এবং জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার পরিবর্তে কারাদণ্ড নির্ধারিত থাকে, তাহলে নিম্নবর্ণিত নির্দেশ আদালত দিতে পারে:
(ক) আদালত আদেশ দিতে পারে যে, জরিমানার পুরো অর্থ:
- আদেশের তারিখ হতে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করতে হবে, অথবা
- ২ বা ৩ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে, যার প্রথম কিস্তি ৩০ দিনের মধ্যে এবং পরবর্তী কিস্তিগুলো ৩০ দিনের ব্যবধানে দিতে হবে।

(খ) আদালত কারাদণ্ড স্থগিত রাখতে পারে, এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারে, যদি সে একটি মুচলেকা দেয় (যথাসম্ভব জামিনদার সহ বা জামিনদার ব্যতিরেকে) – যাতে উল্লেখ থাকবে সে নির্ধারিত দিন বা কিস্তির তারিখ অনুযায়ী আদালতে হাজির হবে এবং অর্থ পরিশোধ করবে। যদি জরিমানার পুরো অর্থ বা কোনো কিস্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না হয়, তাহলে আদালত কারাদণ্ড তৎক্ষণাৎ কার্যকর করার নির্দেশ দিতে পারে।

(২) উপরের উপ-ধারা (১)–এর বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে এমন অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে যেখানে অর্থ প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরিশোধ না হলে কারাদণ্ড হতে পারে। এবং যদি আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি আদালতের চাওয়ার পরও মুচলেকা দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কারাদণ্ডের আদেশ দিতে পারবে।
১,৩৬৯.
পুলিশ হেফাজতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ১৭২ ধারায়
  2. ১৭৪ ধারায়
  3. ১৭৬ ধারায়
  4. ১৭৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারার বিধান: মৃত্যুর কারণ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইনকেয়ারী:
(১) কোন ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে মারা গেলে সুরতহাল তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাবান নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্যই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত ছাড়াও বা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি করবেন এবং ধারা-১৭৪ এর উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ-(ক), (খ) ও (গ) এ বর্ণিত অন্যান্য ক্ষেত্রে উক্তরূপে ক্ষমতাবান যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক অনুষ্ঠিত তদন্ত ব্যতীতও অথবা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং তিনি যদি এরূপ সম্পাদন করেন, সেক্ষেত্রে অপরাধ ইনকোয়ারীর বেলায়ও তাঁর যে পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে এক্ষেত্রেও তার একই পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ইনকোয়ারি পরিচালনাকালীন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি অনুসারে অতঃপর উল্লিখিত পন্থাসমূহের যে কোন একটি অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ নথিবদ্ধ করবেন।

(২) কবর হতে লাশ তুলার ক্ষমতা: যখনই কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ কোন ব্যক্তির লাশ, যাকে ইতঃপূর্বে কবর দেয়া হয়েছে, পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন তার মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য, তখনই ওই ম্যাজিস্ট্রেট ওই লাশটি কবর হতে তোলাইয়া পরীক্ষা করাতে পারবেন।
১,৩৭০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৮৩(১) অনুযায়ী, স্থানীয় এখতিয়ারের বাইরে পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য কাকে পাঠানো যায়?
  1. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে 
  2. জেলা পুলিশ সুপারকে 
  3. মহানগর এলাকায় পুলিশ কমিশনারকে
  4. উল্লিখিত সবাইকে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির (The Code of Criminal Procedure, 1898) ধারা ৮৩(১) অনুযায়ী, যখন কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকারী আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের বাইরে কার্যকর করার প্রয়োজন হয়, তখন আদালত পরোয়ানাটি সরাসরি পুলিশ কর্মকর্তার কাছে না পাঠিয়ে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের কাছে ডাকযোগে বা অন্য কোনো উপায়ে পাঠাতে পারে:
- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট,
- জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট, অথবা
- মহানগর এলাকায় পুলিশ কমিশনার।
এই তিনটি কর্তৃপক্ষের যেকোনো একজনের কাছে পরোয়ানা পাঠানো যায়, যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে পরোয়ানাটি কার্যকর করতে হবে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির  ৮৩ ধারার বিধান- অধিক্ষেত্রের বাহিরে কার্যকরী করবার উদ্দেশ্যে পরোয়ানা প্রেরণ:
(১) যেক্ষেত্রে কোন পরোয়ানা জারীকারী আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার বাহিরে উক্ত পরোয়ানা কার্যকর করা প্রয়োজন দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালত পরোয়ানাটি কোন পুলিশ অফিসার বরাবর নির্দেশিত না করে যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা যে জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট অথবা পুলিশ কমিশনার (মহানগরী এলাকা হলে) এর এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে তা কার্যকরী করতে হবে, তাঁর বরাবরে ডাক মারফত অথবা অন্য কোনভাবে তা পাঠাতে পারেন।
(২) ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট বা পুলিশ কমিশনার বরাবর উক্তরূপে প্রেরণকৃত পরোয়ানার উপর তিনি তার নাম সহি করবেন এবং সম্ভব হলে ইতিপূর্বে উল্লেখিত পদ্ধতিতে নিজের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে তা কার্যকরী করার ব্যবস্থা নিবেন।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-83. Warrant forwarded for execution outside jurisdiction:
(1) When a warrant is to be executed outside the local limits of the jurisdiction of the Court issuing the same, such Court may, instead of directing such warrant to a police-officer, forward the same by post or otherwise to any Executive Magistrate or District Superintendent of police or, the Police Commissioner in a Metropolitan Area within the local limits of whose jurisdiction it is to be executed.
(2) The Magistrate or District Superintendent or Police Commissioner to whom such warrant is so forwarded shall endorse his name thereon and, if practicable, cause it to be executed in manner hereinbefore provided within the local limits of his jurisdiction.

১,৩৭১.
সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত জরিমানার সাজা প্রদান করলে, দণ্ডিত ব্যক্তির আপিলের অধিকার থাকবে না?
  1. ২০০
  2. ১০০০
  3. ২০০০
  4. ৫০০০
ব্যাখ্যা

ধারা ৪১৪: নির্দিষ্ট সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ডপ্রাপ্তের আপিল নিষিদ্ধ:
কোনো ব্যক্তিকে যদি ম্যাজিস্ট্রেট (ধারা ২৬০ অনুযায়ী ক্ষমতাসম্পন্ন) সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ড দেয়, এবং সেই দণ্ড মাত্র ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হয়, তবে সেই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না।

[Notwithstanding anything herein before contained, there shall be no appeal by a convicted person in any case tried summarily in which a Magistrate empowered to act under section 260 passes a sentence of fine not exceeding five thousand taka only.]

১,৩৭২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫(গ) ধারার আওতায়, মামলার স্থানান্তরের সময় ম্যাজিস্ট্রেট কাকে নোটিশ দেবেন?
  1. পাবলিক প্রসিকিউটরকে
  2. আসামির আইনজীবীকে
  3. তদন্তকারী অফিসারকে
  4. উল্লিখিত সকলকে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫(গ) তে যে মামলাসমূহ একমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচার্য, সেই সকল মামলার স্থানান্তর সম্পর্কে বলা হয়েছে। অপরাধ আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে যদি ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, অপরাধটি একমাত্র দায়রা আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য তাহলে তিনি-
 
⇒ মামলাটি দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন;
⇒ জামিন সম্পর্কে এই কার্যবিধির বিধানসমূহের শর্ত সাপেক্ষে আসামিকে হেফাজতে রাখার জন্য প্রেরণ করবেন;
⇒ সাক্ষ্যের জন্য উপস্থাপন করতে হবে এরূপ দলিলাদি এবং জিনিসপত্র (যদি থাকে) তা সহ আদালতে প্রেরণ করবেন;
⇒ পাবলিক প্রসিকিউটরকে নোটিশ দিবেন।
১,৩৭৩.
পূর্বে দণ্ডিত অপরাধী যদি পুনরায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে কোন আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট তাকে তার ঠিকানা জানানোর আদেশ দিতে পারে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. দায়রা আদালত
  3. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
  4. উল্লিখিত সকল আদালত
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৬৫: পূর্বে কোন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের ঠিকানা জানানোর আদেশ (Order for notifying address of previously convicted offender)
কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের কোন আদালত কর্তৃক দন্ডবিধির ২১৫, ৪৮৯ক, ৪৮৯খ, ৪৮৯গ বা ৪৮৯ঘ ধারা অথবা দ্বাদশ অধ্যায় বা সপ্তদশ অধ্যায়ের অধীনে তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের জন্য সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের জন্য দণ্ডিত হওয়ার পর, উক্ত ব্যক্তি পুনরায় যদি হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা আদালত, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অথবা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উপর্যুক্ত ধারাসমূহ বা অধ্যায়গুলির যে কোনো একটির অধীন তিন বৎসর বা ততোধিক সময়ের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত হয়,

তাহলে উক্ত আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট উপযুক্ত মনে করলে উক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অন্য কোন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার সময় আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, এই দণ্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ হতে অনধিক পাঁচ বৎসর পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে তার বাসস্থান ও বাসস্থানের পরিবর্তন বা বাসস্থান হতে অনুপস্থিতি বিজ্ঞাপিত করতে হবে। তবে আপিলে বা অন্য কোন ভাবে উক্ত দণ্ড নাকচ হলে উক্ত আদেশও বাতিল হয়ে যাবে।
১,৩৭৪.
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৬৭(৫)-এর অধীন কত দিনের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত না হলে আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে?
  1. ৯০ দিন
  2. ১২০ দিন
  3. ১৮০ দিন
  4. ২৪০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৬৭(৫)-এর অধীন, অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ অথবা তদন্তের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত না হলে আসামিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। এটি অপরাধের প্রকারভেদ অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালত কর্তৃক করা হয়, এবং জামিন না দেওয়া হলে কারণ লিপিবদ্ধ করতে হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারার বিধান:
(৫) অপরাধ সংঘটন সম্পর্কিত সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ অথবা এরূপ তদন্তের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে একশত বিশ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত সমাপ্ত না হয় তাহলে,
ক) অপরাধটি আমলে নিতে ক্ষমতাসম্পন্ন বা তদন্তের আদেশদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন; এবং
খ) তদন্ত সম্পর্কিত অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসরের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ না হয় তবে দায়রা আদালত ইহার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে আসামিকে জামিনে মুক্তি দিতে পারবেন,
তবে শর্ত এই যে, আসামিকে যদি এই উপধারার অধীন জামিনে মুক্তি দেয়া না হয় তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ক্ষেত্র বিশেষে দায়রা আদালত ইহার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন
আরও শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে অনুমোদন গ্রহণ করতে যে সময় লাগিবে এই উপধারায় নির্ধারিত সময় হতে তা বাদ দিতে হবে।
-----------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898,- Section:-167:
(5) If the investigation is not concluded within one hundred and twenty days from the date of receipt of the information relating to the commission of the offence or the order of the Magistrate for such investigation- 
(a) the Magistrate empowered to take cognizance of such offence or making the order for investigation may, if the offence to which the investigation relates is not punishable with death, imprisonment for life or imprisonment exceeding ten years, release the accused on bail to the satisfaction of such Magistrate; and 
(b) the Court of Session may, if the offence to which the investigation relates is punishable with death, imprisonment for life or imprisonment exceeding ten years, release the accused on bail to the satisfaction of such Court: 
Provided that if an accused is not released on bail under this subsection, the Magistrate or, as the case may be, the Court of Session shall record the reasons for it: 
Provided further that in cases in which sanction of appropriate authority is required to be obtained under the provisions of the relevant law for pthe rosecution of the accused, the time taken for obtaining such sanction shall be excluded from the period specified in this sub-section.

১,৩৭৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারা কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মৃত্যুদণ্ড স্থগিতকরণ
  2. সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ
  3. জামিনদারের অব্যাহতি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারা জামিনদারের অব্যাহতির বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে। এই ধারার মাধ্যমে জামিনদার যে মুচলেকা দিয়েছে, সে মুচলেকা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল করার জন্য জামিনদার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারে। আবেদন পাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে হাজির করার জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবেন এবং জামিনদারকে অব্যাহতি প্রদান করবেন। এরপর আসামি হাজির হলে তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি আসামি নতুন জামিনদার না দিতে পারে, তবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০২ ধারার বিধান: জামিনদারের অব্যাহতি:
-জামিনদার যেকোনো সময় জামিননামাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করতে পারবেন। এরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট মুচলেকাটি বাতিল করবেন এবং জামিনে মুক্ত আসামিকে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবেন এবং উক্ত জামিনদারকে অব্যাহতি দিবেন। আসামি আদালতে হাজির হলে বা তাকে হাজির করানো হলে আদালত তাকে নতুন জামিনদার সংগ্রহ করতে বলবেন এবং সে যদি জামিনদার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাকে জেলে প্রেরণ করবেন।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 502: Discharge of sureties-
(1) All or any sureties for the attendance and appearance of a person released on bail may at any time apply to a Magistrate to discharge the bond, either wholly or so far as relates to the applicants.
(2) On such application being made, the Magistrate shall issue his warrant of arrest directing that the person so released be brought before him.
(3) On the appearance of such person pursuant to the warrant, or on his voluntary surrender, the Magistrate shall direct the bond to be discharged either wholly or so far as relates to the applicants, and shall call upon such person to find other sufficient sureties, and, if he fails to do so, may commit him to custody.

১,৩৭৬.
ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় আপিল abatement এর বিধান আছে?
  1. ৩০২ ধারায়
  2. ৩৪২ ধারায়
  3. ৪৩১ ধারায়
  4. ৪৬০ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ আপিলকারীর মৃত্যু হলে আপিলের পরিণতি সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩১ ধারায় বলা হয়েছে।
i) আপিলকারীর মৃত্যু হলে (জরিমানার ক্ষেত্রে আপিল ব্যতীত) আপিলটি অ্যাবেট বা বাতিল হয়ে যাবে। তবে জরিমানা বা অর্থদন্ডের বিরুদ্ধে আপিলে আপিলকারীর মৃত্যু হলেও আপিলটি অ্যাবেট হবে না।
ii) মৃত্যুদন্ড বা কারাদন্ডের বিরুদ্ধে আপিলে আসামী মারা গেলে সাধারণত আপিলটি বাতিল হবে। কিন্তু জরিমানা ও অর্থদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলে আসামী ও আপিলকারী মারা গেলেও আপিলটি বাতিল হবেনা।
iii) অপর্যাপ্ত কারাদন্ড ও খালাসের আপিলে আপিলকারী মারা গেলেও আপিলটি বাতিল হবে না, কিন্তু আসামি মারা গেলে আপিলটি বাতিল হবে।

♦ অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩১ ধারায় আপিল অ্যাবেট বা পন্ড হওয়ার বিধান রয়েছে।
১,৩৭৭.
হাইকোট বিভাগ কোন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল করে কোন আদেশ দিলে বা অন্য কোন আদেশ দিলে, উক্ত আদেশের কপি (নকল) পাঠাতে হবে-
  1. জেলা জজের নিকট
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট
  3. দায়রা জজের নিকট
  4. কারা কর্তৃপক্ষের নিকট
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ধারা ৩৭৯ ধারা মতে হাইকোট বিভাগের নিকট কোন মৃত্যুদণ্ডের আদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার কার্যক্রম ৩৭৪ ধারায় দাখিল করা হলে, হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত বিষয়ে ৩৭৬ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন/ অন্য কোন আদেশ দিলে, হাইকোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা উক্ত আদেশের কপি কোন বিলম্ব ছাড়া দায়রা আদালতের নিকট পাঠাবে।
১,৩৭৮.
আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য কমপক্ষে কয়টি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হতে হবে?
  1. ৫টি
  2. ৩টি
  3. ২টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা
♦ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯খ ধারার অধীন পলাতক বা ফেরারী আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচারের পদ্ধতি বলা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালনের পর অর্থাৎ হুলিয়া জারি ও সম্পত্তি ক্রোকের পর যদি আদালত মনে করে যে, আসামী গ্রেফতার ও বিচার এড়ানোর জন্য পলায়ন করেছে, আত্মগোপান করেছে এবং আসামীকে গ্রেফতার করার কোনো আশু সম্ভাবনা নাই, তাহলে মামলা আমল গ্রহণকারী আদালত কমপক্ষে ২টি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আসামীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উক্ত নির্দেশ অনুসারে আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হলে আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার অনুষ্ঠিত হবে। তবে ৩৩৯-খ এর ২ উপধারা অনুযায়ী, আসামী কোন ভাবে আদালতে একবার হাজির হওয়ার পর বা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পলায়ন করলে বা হাজির হতে ব্যর্থ হলে ৮৭ ও ৮৮ ধারার বিধান পালন না করেই তার অনুপস্থিতিতেই আদালত বিচারকার্য পরিচালনা করবেন।
১,৩৭৯.
ফৌজদারি মামলা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের ক্ষমতা দেয়া আছে-
  1. ৫২৫ক ধারায়
  2. ৫২৬ ধারায়
  3. ৫২৬খ ধারায়
  4. ৫২৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি মামলা এক ফৌজদারি আদালত হতে অন্য ফৌজদারি আদালতে বা এক এলাকার ফৌজদারি আদালত হতে অন্য এলাকার ফৌজদারি আদালতে স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৫ক থেকে ৫২৮ পর্যন্ত ফৌজদারি মামলা বা আপিল স্থানান্তরের, প্রত্যাহারের বা তলব সম্পর্কে আদালতের ক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

• ফৌজদারি মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা আছে-

১. আপিল বিভাগের (ধারা- ৫২৫ক),
২. হাইকোর্ট বিভাগের (ধারা- ৫২৬),
৩. দায়রা জজের (ধারা- ৫২৬খ)।
১,৩৮০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬ অনুসারে, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ যে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন এবং যা তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত, সেগুলো কী নামে পরিচিত?
  1. বিশেষ ক্ষমতা
  2. অতিরিক্ত ক্ষমতা
  3. সাধারণ ক্ষমতা
  4. অসাধারণ ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬-এর শিরোনামই হচ্ছে "ম্যাজিষ্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা" (Ordinary powers of Magistrates)। এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সকল বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (Judicial Magistrate) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (Executive Magistrate)-এর ওপর যথাক্রমে যে ক্ষমতা অর্পিত হয়েছে এবং যা তৃতীয় তফসিলে (Third Schedule) বর্ণিত রয়েছে, সেগুলো তাদের "সাধারণ ক্ষমতা" (Ordinary powers) নামে পরিচিত।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬ ধারা- ম্যাজিষ্ট্রেটগণের সাধারণ ক্ষমতা:
সকল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের উপর কার্যক্রমে অর্পিত ৩য় তফসিল এ বর্ণিত ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ক্ষমতা তাঁদের "সাধারণ ক্ষমতা" নামে আখ্যায়িত।
--------------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 36- Ordinary powers of Magistrates:
-All Judicial and Executive Magistrates have the powers hereinafter respectively conferred upon them and specified in the third schedule. Such powers are called their "ordinary powers".

১,৩৮১.
কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী সময় কোন বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে?
  1. অপরাধের ধরন
  2. শালীনতা
  3. শাস্তির মেয়াদ
  4. অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচিতি
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশীর বিধান রয়েছে। ৫২ ধারা অনুযায়ী-
কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে অন্য একজন স্ত্রীলোক দ্বারা তল্লাশী করাতে হবে।

Section 52- Mode of searching women:
Whenever it is necessary to cause a woman to be searched, the search shall be made by another woman, with strict regard to decency.
১,৩৮২.
যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানের ব্যর্থতার কারণে আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে-
  1. আপিল করা যাবে না
  2. আপিল করা যাবে
  3. রিবিউ করা যাবে
  4. দণ্ড মওকুফের আবেদন করা যাবে
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪১৩ ধারা অনুসারে কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপীল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্যকোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।
♦অন্যদিকে যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে আদালত দণ্ড আরোপ করে উক্ত দণ্ডাদেশের  বিরুদ্ধে আপীল করা যাবেনা।
♦ধারা ৪১৪ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিচারের কতিপয় দণ্ডের বিরুদ্ধে আপীল নেই। যেমনঃ ২৬০ ধারার অধীন সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক দুইশত টাকা জরিমানা করলে, সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে না।
১,৩৮৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী সাধারণ অনুসন্ধান বা পরিদর্শনের জন্য পরোয়ানা জারি করা যায়?
  1. ৯৬ ধারা
  2. ৯৭ ধারা
  3. ৯৮ ধারা
  4. ৯৯ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯৬ অনুযায়ী, আদালত সাধারণ অনুসন্ধান বা পরিদর্শন (search) করার জন্য পরোয়ানা (search warrant) জারি করতে পারে। এটি তখন জারি করা হয় যখন আদালত বিশ্বাস করে যে কোনো ব্যক্তি আদেশ বা সমন অনুসারে নির্দিষ্ট দলিল বা জিনিস প্রদান করবে না, অথবা ওই দলিল বা জিনিস কোনো ব্যক্তির কাছে নেই। এই পরোয়ানা অনুসারে নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তি থেকে অনুসন্ধান করা হতে পারে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৬ ধারার বিধান:
(১) যখন কোন আদালতের বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, যে ব্যক্তির উপর ৯৪ ধারার অধীন কোন সমন অথবা আদেশ অথবা ৯৫ ধারার (১) উপ- ধারার অধীন কোন সমন জারী করা হয়েছে বা হতে পারে, সেই ব্যক্তি সমন বা রিকুইজশনে বর্ণিত দলিল বা বস্তু দাখিল করবে না।
অথবা যখন এরূপ দলিল বা বস্তু কোন ব্যক্তির দখলে আছে বলে আদালতের জানা নাই।
অথবা যখন আদালত মনে করে যে, সাধারণ তল্লাশি বা পরিদর্শন দ্বারা এই কার্যবিধির অধীন পরিচালিত কোন অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন প্রসিডিং এর উদ্দেশ্য সাধিত হবে:
তখন ইহা তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করতে পারবে, এবং যে ব্যক্তির উপর এই পরোয়ানা নির্দেশিত হবে তিনি পরোয়ানা ও অতঃপর বর্ণিত বিধান অনুসারে তল্লাশি বা পরিদর্শন করতে পারবেন।

(২) এই ধারায় বিধৃত কোন কিছু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ক্ষেত্রবিশেষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অপর কোন ম্যাজিস্ট্রেটকে ডাক বা তার কর্তৃপক্ষ নিরাপদ রক্ষণে স্থিত কোন দলিল, পার্সেল বা অন্য কোন বস্তু সম্বন্ধে তল্লাশী করার পরোয়ানা মঞ্জুর করবার কর্তৃত্ব দিবেন না।
--------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section-96: When search-warrant may be issued:
-(1) Where any Court has reason to believe that a person to whom a summons or order under section 94 or a requisition under section 95, sub-section (1), has been or might be addressed, will not or would not produce the document or thing as required by such summons or requisition,
or where such document or thing is not known to the Court to be in the possession of any person,
or where the Court considers that the purposes of any inquiry, trial or other proceeding under this Code will be served by a general search or inspection,
it may issue a search-warrant; and the person to whom such warrant is directed, may search or inspect in accordance therewith and the provisions hereinafter contained.

(2) Nothing herein contained shall authorize any Magistrate other than a District Magistrate, Chief Judicial Magistrate, as the case may be or Chief Metropolitan Magistrate to grant a warrant to search for a document, parcel or other thing in the custody of the Postal or Telegraph authorities.
১,৩৮৪.
ফৌজদারী কার্যবিধির কত ধারায় নালিশ (Complaint) এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৪(খ)
  2. ধারা ৪(গ)
  3. ধারা ৪(ছ)
  4. ধারা ৪(জ)
ব্যাখ্যা
ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪(জ): নালিশ (Complaint)-

"নালিশ" বলতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অথবা লিখিতভাবে এই মর্মে অভিযোগ করা যে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি একটি অপরাধ করেছে। অর্থাৎ অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে।

⇒ পুলিশ অফিসারের রিপোর্ট নালিশ বলে গণ্য হবে না।
 
Section- 4(h)-
"complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police-officer:
১,৩৮৫.
ম্যাজিস্ট্রেট কোন ব্যক্তিকে ১১৮ ধারার অধীন শান্তিরক্ষার বা সদাচরনের জন্য মুচলেকার আদেশ দিলে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. দায়রা আদালতে
  3. চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে
ব্যাখ্যা
♦The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪০৬ ধারা অনুযায়ী কোন ম্যাজিষ্ট্রেট কোন ব্যক্তিকে ১১৮ ধারা অনুসারে শান্তি বা সদাচরণের জন্য জামানত দিবার আদেশ দিলে সেই ব্যক্তি উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা আদালতে আপীল দায়ের করতে পারবে। তবে শর্ত এই যে, সরকার সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়া নির্দেশ দিতে পারেন যে, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ব্যতিত অন্য কোন ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশের বিরুদ্ধে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট যেখানে যা প্রযোজ্য আপীল চলবে, দায়রা আদালতে নহে। আরও শর্ত এই যে, যাদের বিরুদ্ধে ১২৩ ধারার (২) ধারা বা (৩ক) এই ধারার বিধানানুসারে দায়রা জজের নিকট মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এই ধারার কোন কিছু প্রযোজ্য হবে না।
♦অর্থাৎ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১১৮ ধারা অনুযায়ী শান্তিরক্ষার বা সদাচরণের জন্য মুচলেকার আদেশ দিতে পারেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করতে হয় দায়রা জজের আদালতে
১,৩৮৬.
Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা 46C অনুযায়ী, কোন তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে?
  1. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম এবং ঠিকানা
  2. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির অপরাধের প্রকৃতি
  3. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা
  4. উভয় ক ও খ
ব্যাখ্যা

Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা 46C: গ্রেফতারকৃতদের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত পুলিশ কর্মকর্তা:
প্রতি জেলায় জেলা পুলিশ সুপার বা প্রতি মহানগরীতে পুলিশ কমিশনার (যা প্রযোজ্য) একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্ধারণ করবেন।
- সেই কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (Assistant Sub-Inspector) বা তার উচ্চতর র‍্যাঙ্কের হতে হবে।

তিনি প্রতিটি জেলা বা মহানগর সদর দফতর এবং প্রতিটি থানায় নিম্নলিখিত কাজ করবেন:
- গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা সংরক্ষণ।
- সেই ব্যক্তিকে কোন অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে তার তথ্য সংরক্ষণ।
- এই তথ্য প্রত্যেক থানা এবং জেলা বা মহানগর সদর দফতরে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে, সর্বোত্তম হলে ডিজিটাল আকারে।

১,৩৮৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা অনুসারে সরকার মফস্বলের জন্য জাস্টিস অব দি পিস নিয়োগ দেন?
  1. ১৮
  2. ২০
  3. ২২
  4. ২৫
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ থেকে ২৫ ধারায় জাস্টিসেস অব দি পিসের বিধান রয়েছে যা নিম্নরূপ-
-ধারা-২২: মফস্বলের জন্য জাস্টিস অব দি পিস (Justice of the peace for the mafassal)- সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের দ্বারা বাংলাদেশের যে কোন উপযুক্ত নাগরিককে কোন স্থানীয় এলাকার জন্য জাস্টিস অব দি পিস হিসাবে নিয়োগ দিতে পারে।
অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারা অনুসারে সরকার মফস্বলের জন্য জাস্টিস অব দি পিস নিয়োগ দেন।
- ধারা-২৫: পদাধিকার বলে জাস্টিস অব দি পিস (Ex-officio Justices of the Peace)- ২৫ ধারার বিধান অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিগণ পদাধিকার বলে সমগ্র বাংলাদেশের জাস্টিসেস অব দি পিস বলে গণ্য হবেন এবং দায়রা জজ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদাধিকার বলে নিজ নিজ এলাকার জন্য জাস্টিসেস অব দি পিস হবেন। 

- সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ সারা বাংলাদেশের যে কোন স্থানে বিচার গ্রহণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আদেশ দিতে পারেন।
--------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 22. Justice of the peace for the mafassal:
The Government] may, by notification in the official Gazette, appoint such persons resident within Bangladesh and not being the subjects of any foreign State as it thinks fit to be Justices of the Peace within and for the local area mentioned in such notification.

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-25: Ex-officio Justices of the Peace:
In virtue of their respective offices, the Judges of the Supreme Court  are Justices of the Peace within and for of the whole of Bangladesh, Sessions Judges, Chief Judicial Magistrate and Metropolitan Magistrates are Justices of the Peace within their respective jurisdictions.
১,৩৮৮.
ফৌজদারী কার্যবিধি এর কোন ধারার তল্লাশি পরোয়ানা বাতিলের জন্য রিভিশন করা যায়?
  1. ৯৬ ও ৯৭
  2. ৯৭ ও ৯৯
  3. ৯৮ ও ১০০
  4. ৯৬ ও ১০০
ব্যাখ্যা
- ফৌজদারী কার্যবিধি এর ধারা ৯৬ ধারা মোতাবেক আদালত মূলত দলিল বা অন্যান্য দ্রব্যাদি হাজির করার জন্য 
- ধারা ১০০ তে বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তির জন্য তল্লাশি পরোয়ানা জারি করে থাকেন।
[ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা- ৯৬ ও ১০০]
১,৩৮৯.
ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রথম রিভিশনে প্রদত্ত সিদ্ধান্ত-
  1. চূড়ান্ত নয়
  2. চূড়ান্ত
  3. ২য় বার রিভিশনযোগ্য
  4. হাইকোর্টে রিভিশনযোগ্য
ব্যাখ্যা
• রিভিশন হলো নিম্ন আদালতের নথি পরীক্ষা করে উর্দ্ধতন আদালত কর্তৃক ভুলত্রুটি সংশোধন করা। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ থেকে এবং ৪৪২ থেকে ৪৪২ক পর্যন্ত রিভিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-

১. হাইকোর্ট বিভাগ,
২. দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ।

• ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশন সংক্রান্ত যে সকল ক্ষমতা আছে দায়রা জজও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ৪৩৯ক এর ৩ উপধারায় বলা হয়েছে দায়রা জজের কোন সাধারণ বা বিশেষ আদেশে কোন রিভিশনাল মামলা অতিরিক্ত দায়রা জজের নিকট প্রেরণ করা হলে অতিরিক্ত দায়রা জজ, দায়রা জজের সকল রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারবে।

ধারা ৪৩৯ক এর ২ উপধারায় তে দেয়া আছে, দায়রা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করা হলে উক্ত বিষয়ে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যাবে না।

Section 439A: Sessions Judge's powers of revision
(1) In the case of any proceeding the record of which has been called for by himself or which otherwise comes to his knowledge, the Sessions Judge may exercise all or any of the powers which may be exercised by the High Court Division under section 439. 
 
(2) Where any application for revision is made by or on behalf of any person before the Sessions Judge, the decision of the Sessions Judge thereon in relation to such person shall be final. 
 
(3) An Additional Sessions Judge shall have and may exercise all powers of a Sessions Judge under this Chapter in respect of any case which may be transferred to him under any general or special order of the Sessions Judge.
১,৩৯০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৬ক অনুসারে ফি পরিশোধ না করলে আসামির সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. দশ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ত্রিশ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. তিনমাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪৬ক (Section 546A) অনুযায়ী, যদি কোনো আমল অযোগ্য অপরাধে অভিযোগ করে ফরিয়াদি এবং আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে, তাহলে আসামিকে আদেশ দেওয়া যেতে পারে:
ফরিয়াদির দেওয়া নালিশের দরখাস্ত ও সাক্ষ্য গ্রহণের ফি, সাক্ষী বা আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির ফি — এসব ফেরত দিতে।
- যদি আসামি উক্ত অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আদালত আদেশ দিতে পারেন যে, অর্থ না দিলে সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
- অতএব, ফি পরিশোধ না করলে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি: "ত্রিশ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড"।

⇒ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৬ক ধারার বিধান আমল অযোগ্য মামলার ফরিয়াদি কর্তৃক প্রদত্ত কতিপয় ফিস প্রদানের আদেশ:
(১) কোন আদালতে আমল অযোগ্য অপরাধের কোন অভিযোগ করা হলে এবং আসামি সাজাপ্রাপ্ত হলে আদালত উক্ত সাজা ব্যতীতও ফরিয়াদীকে নিম্নে বর্ণিত অর্থদানের জন্য আসামিকে আদেশ দিতে পারবেন-
(ক) নালিশের দরখাস্তে অথবা ফরিয়াদির জবানবন্দির জন্য প্রদত্ত ফি (যদি থাকে ) এবং
(খ) ফরিয়াদি কর্তৃক তার সাক্ষী কিংবা আসামীর উপর পরোয়ানা জারীর জন্য প্রদত্ত ফি এবং আরও আদেশ দিতে পারবেন যে, উক্ত অর্থ পরিশোধ না করিলে অনধিক ত্রিশ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করবে।
(২) রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন আপিল আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগও এই ধারার অধীন আদেশ দিতে পারবেন।
--------
⇒The Code of Criminal Procedure, 1898: Section 546A: Order of payment of certain fees paid by the complainant in non-cognizable cases:
(1) Whenever any complaint of a non-cognizable offence is made to a Court, the Court, if it convicts the accused, may in addition to the penalty imposed upon him, order him to pay to the complainant–
(a) the fee (if any) paid on the petition of complaint or for the examination of the complainant, and
(b) any fees paid by the complainant for serving processes on his witnesses or on the accused,
and may further order that, in default of payment, the accused shall suffer simple imprisonment for a period not exceeding thirty days.
(2) An order under this section may also be made by an Appellate Court, or by the High Court Division, when exercising its powers of revision.
১,৩৯১.
ফৌজদারি কার্যবিধি সর্বপ্রথম কবে প্রণীত হয়েছিল?
  1. ১৭৯৩ সালে
  2. ১৮৩৪ সালে
  3. ১৮৬১ সালে
  4. ১৮৯৮ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধি (The Code of Criminal Procedure) সর্বপ্রথম ১৮৬১ সালে প্রণীত হয়েছিল। এটি ব্রিটিশ ভারতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি পদ্ধতিগত আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অপরাধের তদন্ত, বিচার, গ্রেপ্তার, এবং শাস্তি কার্যকর করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রদান করা।

প্রশ্নে উল্লিখিত অন্যান্য বিকল্পগুলোর বিশ্লেষণ:
১৭৯৩ সালে: এই সময়ে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয়েছিল, তবে ফৌজদারি কার্যবিধি হিসেবে কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। এটি ছিল প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সময়।
১৮৩৪ সালে: এই বছরে প্রথম ভারতীয় আইন কমিশন গঠিত হয়, যার প্রধান ছিলেন লর্ড ম্যাকলে। এই কমিশন ফৌজদারি কার্যবিধির খসড়া তৈরির জন্য কাজ শুরু করে, কিন্তু আইনটি প্রণয়ন হয় ১৮৬১ সালে।
১৮৯৮ সালে: এই বছরে ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংস্করণ প্রণয়ন করা হয়, যা বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এটি ১৮৬১ সালের আইনের পরিবর্তিত ও সংশোধিত রূপ, যেখানে পূর্ববর্তী সংশোধনীগুলো (যেমন ১৮৭২ সালের) এবং ১৬টি সংশোধনী বিবেচনা করা হয়।

১,৩৯২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ক অনুসারে, অপর্যাপ্ত প্রমাণ সম্বলিত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিল করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট কী করবেন?
  1. সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করবেন
  2. মামলাটি খারিজ করবেন
  3. অভিযুক্তকে দোষী ঘোষণা করতে পারেন
  4. অভিযুক্তকে সাময়িক অব্যাহতি দিতে পারেন
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭৩ক: অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন ইত্যাদি (Interim Investigation Report, etc):
(১) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩-এর উপ-ধারা (১)-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীন কোনো মামলার তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে, সংশ্লিষ্ট তদন্তের তদারকিতে থাকা পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, অথবা সমপর্যায়ের অন্য কোনো কর্মকর্তা, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন (interim investigation report) দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন, যাতে মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে বর্ণনা থাকবে।

(২) যদি উক্ত অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় যে, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, তাহলে পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, অথবা সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন। এবং ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল (যার এখতিয়ার প্রযোজ্য), যদি সেই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হন, তাহলে তারা ওই অভিযুক্তকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারেন, তবে উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায়।

(৩) এই ধারা অনুযায়ী কোনো অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরে যদি যথেষ্ট ও প্রামাণিক প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ধারা ১৭৩ অনুযায়ী দাখিলকৃত পুলিশ প্রতিবেদনে (চার্জশিটে) তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য নন, অর্থাৎ তার নাম পুনরায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
১,৩৯৩.
বিচারকার্যের কোন পর্যায়ে জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা যেতে পারে?
  1. কেবল চার্জ গঠনের সময়
  2. কেবল বিচারের যে কোনো ধাপে
  3. কেবল রায় প্রদানের সময়
  4. অনুসন্ধান বা বিচারের যে কোনো ধাপে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ

শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।
১,৩৯৪.
Which other sections are mentioned in Section 500(2) that do not require release for unrelated detention matters?
  1. Sections 490 and 495
  2. Sections 496 and 497
  3. Sections 498 and 501
  4. Sections 493 and 494
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০০ ধারার বিধান:-হেফাজত হতে মুক্তি দান:
(১) বন্ড সম্পাদিত হওয়ার সাথে সাথে যে ব্যক্তির হাজিরার জন্য উহা সম্পাদন করা হল তাকে মুক্তি দিতে হবে এবং সে জেলে থাকলে জামিন মঞ্জুরকারী আদালত উক্ত জেলের ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে মুক্তির আদেশ প্রদান করবেন এবং উক্ত অফিসার এই আদেশ পাবার পর তাকে মুক্তি দিবেন। 

(২) যে মামলায় বন্ড সম্পাদন করা হলো কোন ব্যক্তি সেই মামলা ব্যতীত অন্য কোন মামলায় আটক থাকতে বাধ্য হলে এই ধারা, ৪৯৬ ধারা বা ৪৯৭ ধারার কোন বিধানে তার মুক্তি দাবী করা যাবে মর্মে গণ্য করা যাবে না।
----------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section 500:- Discharge from custody:
(1) As soon as the bond has been executed, the person for whose appearance it has been executed shall be released; and, when he is in jail, the Court admitting him to bail shall issue an order of release to the officer in charge of the jail, and such officer on receipt of the order shall release him.

(2) Nothing in this section, section 496 or section 497 shall be deemed to require the release of any person liable to be detained for some matter other than that in respect of which the bond was executed.
১,৩৯৫.
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যদি দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় শাস্তি দেয়, তবে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করতে হবে?
  1. মহানগর দায়রা জজ আদালতে
  2. দায়রা জজ আদালতে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে 
  4. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
ব্যাখ্যা

উত্তর : হাইকোর্ট বিভাগে।

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারার বিধান- যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল:

যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপিল দায়ের করতে পারবে।

নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-
(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির (১২৪ক) ধারায় উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

১,৩৯৬.
ফৌজদারি মামলায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনধিক কত টাকা অর্থদণ্ড দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে?
  1. ২ হাজার
  2. ৩ হাজার
  3. ৫ হাজার
  4. ১০ হাজার
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৩২ ধারার বিধান-
(১) ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নবর্ণিত আদালতসমূহ নিম্নলিখিত দণ্ড দিতে পারবেন যথাঃ
(ক) মেট্রোপলিটন এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ পাঁচ বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, দশ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত।
(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আইনে অনুমোদিত নিঃসঙ্গ অবরোধসহ তিন বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকার অনধিক অর্থদণ্ড; বেত্রাঘাত৷
(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত দুই বৎসরের অনধিক কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকার অর্থদণ্ড।
 
২) যেকোন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইনের দ্বারা যেসব দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা অর্জন করেছেন, সেসব দণ্ডের মধ্যে একটির সহিত আরেকটির যুক্ত করে যেকোন আইনসঙ্গত দণ্ড প্রদান করতে পারেন।
 ------------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898-Section 32- Sentences which Magistrates may pass:
(1) The Courts of Magistrates may pass the following sentences namely:- 
(a) Courts of Metropolitan Magistrates and of Magistrates of the first class: Imprisonment for a term not exceeding five years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding ten thousand taka; Whipping. 
(b) Courts of Magistrates of the second class: Imprisonment for a term not exceeding three years, including such solitary confinement as is authorized by law; Fine not exceeding five thousand taka; 
(c) Courts of Magistrates of the third class: Imprisonment for a term not exceeding two year;  Fine not exceeding two thousand taka. 

(2) The Court of any Magistrate may pass any lawful sentence, combining any of the sentences which it is authorized by law to pass.
১,৩৯৭.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৩ ধারার আওতায় আদালত অনধিক কত টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করলে, দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন না?
  1. ৫০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১২ থেকে ৪১৪ ধারায় যে সকল ক্ষেত্রে আপিল দায়ের করা যাবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৩ ধারা অনুসারে,
কোন দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে না যদি দায়রা আদালত অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে বা দায়রা আদালত বা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক ৫০ টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করে।

অন্যদিকে,
যদি আদালত শুধুমাত্র জরিমানা আরোপ করে এবং উক্ত জরিমানা প্রদানে ব্যর্থতার কারণে, আদালত দণ্ড আরোপ করলে উক্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না।
১,৩৯৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারা হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে?
  1. ৪৮৯ ধারা
  2. ৪৯০ ধারা
  3. ৪৯১ ধারা
  4. ৪৯৮ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯১ ধারার বিধান: হেবিয়াস কর্পাস প্রকৃতির নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা-
(১) হাইকোর্ট ডিভিশন যখনই সঠিক মনে করেন, তখন এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করতে পারবেন যে-
(ক) ইহার ফৌজদারি আপিল এখতিয়ারের সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তি সম্পর্কে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে আদালতে উপস্থিত করা হোক;
(খ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে সরকারি বা বেসরকারি হেফাজতে বেআইনি অযৌক্তিকভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হোক;
(গ) আদালতের বিবেচনাধীন বা অনুসন্ধানাধীন কোন বিষয়ে সাক্ষী হিসাবে জবানবন্দি নিয়ে উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থিত কোন জেলে আটক কোন বন্দিকে আদালতে হাজির করা হোক,
(ঘ) কোন কোর্ট মার্শাল বা কমিশনারের বিবেচনাধীন কোন বিষয় বিচারের জন্য বা সাক্ষী দিবার জন্য উক্তরূপে আটক কোন বন্দিকে যথাক্রমে উক্ত কোর্ট মার্শাল বা কমিশনার বরাবর হাজির করা হোক,
(ঙ) উপরোক্ত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী কোন বন্দিকে বিচারের উদ্দেশ্যে এক হেফাজত হতে অন্য হেফাজতে অপসারণ করা হোক; এবং 
(২) মামলার পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে এই ধারার অধীন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবেন।
(৩) এই ধারার কোন বিধানই বর্তমান কার্যকর কোন নিবারণমূলক আটক আইনের অধীন আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়

১,৩৯৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কীসের ভিত্তিতে মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?
  1. যেকোন পক্ষের আবেদনক্রমে
  2. নিম্ন আদালতের রিপোর্টের ভিত্তিতে
  3. হাইকোর্ট বিভাগ নিজের উদ্যোগে
  4. উল্লিখিত যেকোন একটি কারণের ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগের মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা আলোচনা করা হয়েছে।
- যার উপর ভিত্তি করে মামলা হস্তান্তরের আদেশ দিবেন-
১. নিম্ন আদালতের রিপোর্টের ভিত্তিতে, অথবা
২. মামলার যেকোন পক্ষের আবেদনক্রমে, অথবা
৩. হাইকোর্ট বিভাগ নিজের উদ্যোগে (Suo motu) এরূপ আদেশ দিতে পারবেন।
- মামলা হস্তান্তরের শর্তসমূহ-
১. অধস্তন কোন ফৌজদারি আদালতে ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
২. কোন অসাধারণ জটিল আইনের প্রশ্ন উদ্ভব হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে।
৩. কোন স্থান বা স্থানের নিকট কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা পরিদর্শন করা উক্ত অপরাধের সন্তোষজনক অনুসন্ধান বা বিচারের জন্য প্রয়োজন হলে।
৪. এই ধারায় প্রদত্ত কোন আদেশে পক্ষসমূহ বা সাক্ষীগনের সাধারণ সুবিধার দিকে নিয়ে যাবে।
৫. ন্যায় উদ্দেশ্যে বা এই কার্যবিধির কোন বিধান অনুসারে এরূপ কোন আদেশ প্রয়োজন হলে।
-----------------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:- Section:- 526: High Court Division may transfer case or itself try it:
(1) Whenever it is made to appear to the High Court Division- 
(a) that a fair and impartial inquiry or trial cannot be had in any Criminal Court subordinate thereto, or 
(b) that some question of law of unusual difficulty is likely to arise, or 
(c) that a view of the place in or near which any offence has been committed may be required for the satisfactory inquiry into or trial of the same, or 
(d) that an order under this section will tend to the general convenience of the parties or witnesses, or 
(e) that such an order is expedient for the ends of justice, or is required by any provision of this Code; it may order- 
 
(i) that any offence be inquired into or tried by any Court not empowered under sections 177 to 183 (both inclusive), but in other respects competent to inquire into or try such offence; 
(ii) that any particular case or appeal, or class of cases or appeals, be transferred from a Criminal Court subordinate to its authority to any other such Criminal Court of equal or superior jurisdiction; 
(iii) that any particular case or appeal be transferred to and tried before itself; or 
(iv) that an accused person be sent for trial to itself or to a Court of Session. 
(2) When the High Court Division withdraws for trial before itself any case from any Court it shall observe in such trial the same procedure which that Court would have observed if the case had not been so withdrawn. 
(3) The High Court Division may act either on the report of the lower Court, or on the application of a party interested, or on its own initiative: 
Provided that no application shall lie to the High Court Division for transferring a case from one Criminal Court to another Criminal Court in the same sessions division, unless an application for such transfer has been made to the Sessions Judge and rejected by him. 
(4) Every application for the exercise of the power conferred by this section shall be made by motion, which shall, except when the applicant is the Attorney-General, be supported by affidavit or affirmation. 
(5) When an accused person makes an application under this section, the High Court Division may direct him to execute a bond, with or without sureties, conditioned that he will, if so ordered, pay any amount which the High Court Division may under this section award by way of compensation to the person opposing the application.
১,৪০০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ক ধারায় কোন বিষয় সংক্রান্ত বিধান রয়েছে?
  1. সাক্ষ্যের অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান ও বিচারের বিধান
  2. ফরিয়াদির অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান ও বিচারের বিধান
  3. আসামির অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান ও বিচারের বিধান
  4. পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান ও বিচারের বিধান
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪০ক- কতিপয় ক্ষেত্রে আসামির অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান ও বিচারের বিধান:
১) দুই বা ততােধিক আসামি থাকলে এই বিধির অধীনে অনুসন্ধান বা বিচারের যে কোন পর্যায়ে জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি কোন কারণবশতঃ পরিতুষ্ট হন যে আসামিদের এক বা একাধিক জন আদালতে হাজির থাকিতে অসমর্থ, তা হলে উক্ত কারণ লিপিবদ্ধপূর্বক আসামির উকিল হাজির থাকলে আসামিকে উপস্থিতি হতে রেহাই দিতে এবং তার অনুপস্থিতিতে অনুসন্ধান কিংবা বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে যেতে পারবেন এবং কার্যক্রমের পরবর্তী কোন পর্যায়ে উক্ত আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির থাকিবার নির্দেশ দিতে পারবেন।

২) এইরূপ কোন মামলায় আসামির উকিল না থাকলে বা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি আসামির ব্যক্তিগত উপস্থিতি প্রয়ােজন মনে করেন, তা হলে তিনি উপযুক্ত মনে এবং কারণ লিপিবদ্ধপূর্বক অনুসন্ধান বা বিচার মূলতবী রাখতে পারবেন, বা উক্ত আসামির মামলা পৃথকভাবে গ্রহণ বা বিচারের আদেশ দিতে পারবেন।