বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কল্লোল যুগ ও বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব

মোট প্রশ্ন৬৬৫এই পাতা৬৩প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কল্লোল যুগ ও বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব

PrepBank · পাতা / · ৬০১৬৬৩ / ৬৬৫

৬০১.
অ্যাডগার এলেন পো-র কবিতার প্রভাব রয়েছে জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কবিতায়?
  1. মৃত্যুর আগে
  2. হায় চিল
  3. বনলতা সেন
  4. ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমি
৬০২.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - 
  1. অর্কেষ্ট্রা
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. ক্রন্দসী
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - কুলায় ও কালপুরুষ

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬০৩.
ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কোন কবি?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. সমর সেন 
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।

- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।

- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০৪.
'উত্তর ফাল্গুনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'উত্তর ফাল্গুনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহন করেন।
- পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৫.
'সন্দ্বীপের চর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'সন্দ্বীপের চর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -  বিষ্ণু দে।

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬০৬.
'তিথিডোর' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

তিথিডোর:
- তিথিডোর উপন্যাসটির রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে।
- এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি। 
- প্রেম ও যৌবনের বন্দনা এই কাহিনির মূল উপজীব্য।

• উপন্যাসটি তিনখন্ডে বিভক্ত- 
- প্রথম শ্রাবণ,
- করুণ রঙিন পথ,
- যবনিকা কম্পমান । 

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬০৭.
কার কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

- বিষ্ণু দে এর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬০৮.
কোন কবি পঞ্চপাণ্ডবদের একজন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডবদের একজন। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

--------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:

- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৯.
‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন- সত্যেন সেন।
-----------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১০.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. ধানখেত
  3. রূপসী বাংলা
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- ধানখেত।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ধানখেত'।
- গ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত

------------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস: 
- মাল্যবান,
- সতীর্থ, 

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬১১.
'রেখাচিত্র' বুদ্ধদেব বসু রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. দিনলিপি
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা - বুদ্ধদেব বসু।
- এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'রেখাচিত্র' নামে আবুল ফজলের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রয়েছে।

• বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬১২.
বিখ্যাত 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতাটির লেখক: 'অমিয় চক্রবর্তী'। 

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

কবিতাংশ: 
কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে,আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে শ্রুতিময় তারি অন্তর্লীন
বাণী শোনো প্রাত্যহিক-বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে
সেই বাংলাদেশে ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে,পালা-পার্বণের ঢাকে ঢোলে
আউল বাউল নাচে;পুন্যাহের সানাই রজ্ঞিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়,মাঝি
পাল তোলে,তাঁতি বোনে,খড়ে-ছাওয়া ঘরের আঙনে
মাঠে ঘাটে-শ্রমসঙ্গী নানাজাতি ধর্মের বসতি
চিরদিন বাংলাদেশ (সংক্ষেপিত)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬১৩.
"মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ, তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান," -এর রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
• "মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার-চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ, তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান," -এর রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।
------------
• 'অবসরের গান' কবিতা:
- কবিতাটির রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।  
- কবিতাটি কবির 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত।
--------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
 
• জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা। 
 
অবসরের গান- কবিতা,
-----------------জীবনানন্দ দাশ।
 
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার — চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয় —
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট করে দেবে তার সাধের সময়!
চারি দিকে এখন সকাল —
রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!
মাঠের ঘাসের পরে শৈশবের ঘ্রাণ —
পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের পড়েছে আহ্বান!
 
উৎস: অবসরের গান- কবিতা, জীবনানন্দ দাশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১৪.
জীবনানন্দ দাশের 'মৃত্যুর আগে' কবিতাটিতে ইংলিশ কোন কবির কবিতার প্রভাব রয়েছে?
  1. এডগার অ্যালান পো
  2. ডব্লিউ বি. ইয়েটস
  3. জন কিটস্‌
  4. পি.বি শেলী
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক।
দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি।
অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।
এই কাব্যগ্রন্থগুলাের মধ্যে- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিলাে।

- কবি জীবনান্দ দাশ রচিত ''মৃত্যুর আগে" কবিতাটি ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যের অন্তর্গত। এটির সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস রচিত কবিতাটির The falling of the Leaves মিল রয়েছে।
- এছাড়া তার 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথেও ইয়েটস্‌-এর He reproves the curlow কবিতার মিল রয়েছে।
- বনলতা সেন কবিতাটিতে এডগার অ্যালান পো - এর কবিতা 'টু হেলেন' এর প্রভাব রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৫.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে কাকে ‘সব্যসাচী’ লেখক বলা হয়?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- মৌলিনাথ,
- রাত ভরে বৃষ্টি,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬১৬.
‘উর্বশী ও আর্টেমিস’- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে ?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা বিষ্ণু দে ।

• উর্বশী ও আর্টেমিস:

- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোম্যান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই কাব‍্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘পলায়ন’, যেখানে ফুটে উঠেছে বিষ্ণু দে-র স্বাতন্ত্র্য।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।
 
• বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
 
» তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

 তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬১৭.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত 'পরিচয়' পত্রিকাটি কি ধরনের ছিল? 
  1. সাপ্তাহিক 
  2. মাসিক 
  3. ত্রৈমাসিক 
  4. বার্ষিক 
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- প্রসিদ্ধ গায়িকা রাজেশ্বরী বাসুদেব তাঁর স্ত্রী।
- তিনি পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যকার একজন। 
- তিনি ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী প্রধান কবিদের একজন ছিলেন।
- তিনি ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যদর্শন অনুসরণ করে তিনি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য কাব্যে ফুটিয়ে তুলতেন। 
- বাংলা কবিতায় তাঁর হাত ধরেই দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটে।
- বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

- সুধীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী ইত্যাদি। 

- তাঁর বিখ্যাত তিনটি গদ্যগ্রন্থ— 
 • স্বগত,
• কুলায় ও
• কালপুরুষ।

• এছাড়া তিনি 'প্রতিধ্বনি' নামে একটি অনুবাদগ্রন্থও রচনা করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬১৮.
’তিথিডোর’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জীবনান্দ দাশ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'তিথিডোর' উপন্যাস: 
- বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস- তিথিডোর।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৯। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬১৯.
‘এক মুঠো’ কার রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়গত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধরার চেষ্টা করেছেন।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২০.
'হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে, কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়' চরণটির রচয়িতা-
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণঃ

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়—হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হ’ব—কিশোরীর—ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপ্‌সার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায়;—রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে।

৬২১.
'আবার আসিব ফিরে' বিখ্যাত কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বনলতা সেন
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. রূপসী বাংলা
  4. ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

অন্যদিকে,
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬২২.
বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অভিনয়, অভিনয় নয়
  2. কালের পুতুল
  3. যে আঁধার আলোর অধিক
  4. রাত ভরে বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ - যে আঁধার আলোর অধিক
- এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।

বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- মৌলিনাথ,
- রাত ভরে বৃষ্টি,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬২৩.
‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ 
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’ বুদ্ধদেব বসুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।  
------------------------------------------------------
• ‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’র মূলকথা:
- বুদ্ধদেব বসুর স্বদেশ ও সংস্কৃতি প্রবন্ধগ্রন্থে বাঙালি সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির স্বরূপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্বদেশীয় ঐতিহ্যের মূল্য ও আধুনিকতার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। পাশ্চাত্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রভাব স্বীকার করেও তিনি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, রুচিবোধ ও মানসিক স্বাধীনতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। গ্রন্থটি মূলত আধুনিক বাঙালি জীবনের সংকট, রবীন্দ্র-প্রভাব এবং স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক আত্মঅনুসন্ধানের মননশীল আলোচনা।
----------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক।
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগর।
- তিনি কবি হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও সম্পাদক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি পঞ্চপান্ডব কবিদের মধ্যকার একজন। 
- তাকে কল্লোল গোষ্ঠীর কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৮ মার্চ ১৯৭৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি;
- কালের পুতুল;
- সাহিত্যচর্চা;
- স্বদেশ ও সংস্কৃতি;
- সঙ্গ নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬২৪.
'সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি-
এই নদী নক্ষত্রের তলে
সেদিনো দেখিবে স্বপ্ন -
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!' চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

সেই দিন এই মাঠ
জীবনানন্দ দাশ

সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি-
এই নদী নক্ষত্রের তলে
সেদিনো দেখিবে স্বপ্ন -
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!
আমি চলে যাব বলে
চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে
নরম গন্ধের ঢেউয়ে?
লক্ষ্মীপেঁচা গান গাবে নাকি তার লক্ষ্মীটির তরে?
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!
চারিদিকে শান্ত বাতি ভিজে গন্ধ মৃদু কলরব;
খেয়ানৌকোগুলো এসে লেগেছে চরের খুব কাছে;
পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল;
এশিরিয়া ধলো আজ বেবিলন ছাই হয়ে আছে।

• 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলা কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
সভ্যতা একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ।
মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, কিন্তু প্রকৃতিতে থাকে চিরকালের ব্যস্ততা।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৫ সংস্করণ)

৬২৫.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সেইদিন এই মাঠ
  2. বেলা অবেলা কালবেলা
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• ‘সেইদিন এই মাঠ’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কবিতা।

- কবিতাটি রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রথম কবিতা। ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় ‘আবহমান বাংলা, বাঙালী’কে।
-  কবিতাগুলির গঠন সনেটের। এদের বিষয় বাংলার গ্রাম-প্রিকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান। এ কাব্যের একটি বিখ্যাত পঙক্তি হলো-

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’

---------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবনানন্দ দাশ কবি ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৬.
'জলপাইহাটি ও মাল্যবান' উপন্যাসদ্বয় কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• "জলপাইহাটি" উপন্যাস:
'জলপাইহাটি' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসের মূল দুই চরিত্র পিতা নিশিথ ও পুত্র হারীত। এই হারীত চরিত্রকে ঘিরেই কাহিনি সামনের দিকে এগিয়েছে। উপন্যাসে জলপাইহাটিকে ঘিরে হারীতে বেড়ে ওঠা, উপার্জনের খোঁজে দূরে যাওয়া, হারীতের সাথে অর্চনার পরিচয়ের মধ্য দিয়ে জীবন যৌবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতি, প্রেমের উজ্জীবন পরিলক্ষিত হয়।

• "মাল্যবান" উপন্যাস:
'মাল্যবান' (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল সম্ভবত ১৯৪৮ সালে, প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি। দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি। সম্পর্কের জটিলটা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বোধ এই উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।

-----------------
ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পাণ্ডলিপিতে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

• কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং "জলপাইহাটি" ও "মাল্যবান" উপন্যাস। 
৬২৭.
কোন দুটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ? 
  1. বনলতা সেন ও উত্তর ফাল্গুনী
  2. বেলা অবেলা কালবেলা ও ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. ঝরা পালক ও মাল্যবান
  4. ছাড়পত্র ও বনলতা সেন
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ - বেলা অবেলা কালবেলা ও ধূসর পাণ্ডুলিপি

অন্যদিকে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তর ফাল্গুনী।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ - ছাড়পত্র।

জীবনানন্দ দাশ:

- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬২৮.
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. ডি. এল. রায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতার রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে
জীবনানন্দ দাশ
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ :
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার র’ঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ;
সেখানে লেবুর শাখা নূয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।

"রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'। 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। 
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু। 
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ), 
- ধূসর পাণ্ডু লিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২৯.
'বর্ষ-আবাহন' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. জীবনানন্দ দাশ 
  3. শামসুর রাহমান 
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা
• স্কুলে ছাত্রাবস্থায় জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:

- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩০.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পরিক্রমা
  2. বন্দীর বন্দনা
  3. মায়ামালঞ্চ
  4. হঠাৎ আলোর ঝলকানি
ব্যাখ্যা
• "পরিক্রমা" বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

---------------
• বুদ্ধদেব বসু:

বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪) ছিলেন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 

ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। কবিতাবিষয়ক কবিতা পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- বন্দীর বন্দনা,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত প্রবন্ধ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩১.
বাংলা কাব্যের 'চিত্ররূপময়' কবি-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাস
  3. শামসুর রহমান
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় জীবনানন্দ দাশ চিত্ররূপময় কবি।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩২.
জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. কবি 
  2. কবিতার কথা 
  3. কবি কাহিনী 
  4. বেলা অবেলা কালবেলা 
ব্যাখ্যা
• 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'

অন্যদিকে,
• 'কবি' উপন্যাস:
'কবি' উপন্যাসটি রচনা করেছেন- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে 'জীবন এত ছোট ক্যানে' সংলাপটি ক্লাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১)। এটি কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
• কবি-কাহিনী হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্ত্তৃক রচিত একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩৩.
‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’- উৎসর্গ পত্রটি কার রচনা?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর রচিত ‘তম্বী’ (১৯৩০) কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছেন।
• ‘তম্বী’ উৎসর্গপত্রে লিখেছেন: ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’

⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
⇒ কাব্যগ্রন্থ:  
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

⇒ প্রবন্ধগ্রন্থ:
• স্বগত,
• কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৬৩৪.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 
  1. বনলতা সেন
  2. রূপসী বাংলা
  3. ঝড়া পালক
  4. ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা

'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ: 
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
- কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝড়া পালক’। ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থে জীবনানন্দ দাশ পঁয়ত্রিশটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। 
- ঝরা পালক কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় জীবনানন্দ লিখেছেন- “ঝরা পালকের কতকগুলি কবিতা প্রবাসী, বঙ্গবাণী, কল্লোল, কালি-কলম, প্রগতি, বিজলি প্রভৃৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিলো। বাকিগুলি নূতন।”
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৩৫.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. রূপসী বাংলা
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. বনলতা সেন
  4. ঝরাপালক
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক।
- এটি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৩৬.
‘মাল্যবান’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• ‘মাল্যবান’ উপন্যাস:
- ‘মাল্যবান’ (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল সম্ভবত ১৯৪৮ সালে, প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
- বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি।
- দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি।সম্পর্কের জটিলটা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বোধ এক ইঙ্গিতময় ভাষায় অসামান্য কুশলতার সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৩৭.
নিচের কোন কবি বাংলা কবিতার 'পঞ্চপাণ্ডব'দের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) সবাই পঞ্চপান্ডবের অন্তর্ভূক্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবিতার স্রষ্টাদের মধ্যে ৫ জন কবিকে একসাথে পঞ্চপান্ডব বলে।
- তারা ত্রিশের দশকে রবীন্দ্র ধারার বাইরে কবিতা রচনা করে রবীন্দ্র বলয় ভেঙ্গে দিয়েছিলেন।
- তারা হলেন - জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত , বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে এবং অমিয় চক্রবর্তী |

উৎস: লাল নীল দীপাবলি ও বাংলাপিডিয়া।

৬৩৮.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ’তন্বী’ কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ’তন্বী’ কাব্যগ্রন্থটি  ১৯৩০ সালে প্রকাশ করেন।
- কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন। 
- উৎসর্গপত্রে সুধীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬৩৯.
'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আহমদ ছফা
  3. হুমায়ুন কবির
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকা- প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৯৩৫-৪০)।

• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম।
- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

অন্যদিকে,
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা- পরিচয়।
• আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা- স্বদেশ।
• হুমায়ুন কবির সম্পাদিত পত্রিকা- চতুরঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬৪০.
'হারানো অর্কিড ও পালাবদল' কাব্যগ্রন্থদ্বয় কোন পঞ্চকবির রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• হারানো অর্কিড ও পালাবদল অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

----------------
• অমিয় চক্রবর্তী:

- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।

- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)। তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।

- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'দেশিকোত্তম' (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

-  অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।

------------------
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
উপহার (১৯২৭), খসড়া (১৯৩৮), এক মুঠো (১৯৩৯), মাটির দেয়াল (১৯৪২), অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩), পারাপার (১৯৫৩), পালাবদল (১৯৫৫), ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১), হারানো অর্কিড (১৯৬৬), পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭), অমরাবতী (১৯৭২), অনিঃশেষ (১৯৭৬), নতুন কবিতা (১৯৮০)। 

• তাঁর গদ্যরচনাগুলো হলো:
চলো যাই, সাম্প্রতিক, পুরবাসী, পথ অন্তহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪১.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক বলা হয় কাকে?
  1. জহির জায়হান 
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বিহারিলাল চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল। তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।
- হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪২.
‘বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে 
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

‘বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি’ বলা হয়- জীবনানন্দ দাশকে। 
----------------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি। 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য রচিত হয়েছে নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথ ও মোহিতলালের কাব্যধারার অনুসরণে।   
- কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় কাব্য তিনি নিজস্ব মৌলিক ধারায় রচনা করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথের নিবিড় প্রকৃতিচেতনা তাঁর কবিতায় গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’, কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 

- জীবনানন্দ দাশকে ‘বিপন্ন মানবতার নীলকণ্ঠ কবি’ বলা হয়;
- কারণ তাঁর কবিতায় যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে কষ্ট পাওয়া মানুষের যন্ত্রণাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- এই যন্ত্রণাকে নীলকণ্ঠের বিষ পান করার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

- এছাড়াও তাঁকে বলা হয়:
• ‘ধূসরতার কবি’,
• ‘নিঃসঙ্গতার কবি’,
• ‘তিমির-হননের কবি’,
• পরাবাস্তবতার কবি,
বিপন্ন মানবতার নীলকন্ঠ কবি,
• শুদ্ধতম কবি, 
• এবং বুদ্ধদেব বসু তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘প্রকৃতির কবি’।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------
অন্যদিকে, 
• সুকান্ত ভট্টাচার্যকে বলা হয়- 'কিশোর কবি'। 
• বিষ্ণু দে'কে বলা হয়- মার্ক্সবাদী কবি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৬৪৩.
বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে মানুষের মনের চিন্তার জটিলতা প্রকাশিত হয়েছে কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. মাটির দেয়াল
  2. এক মুঠো
  3. অনিঃশেষ
  4. খসড়া
ব্যাখ্যা
• ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়গত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধরার চেষ্টা করেছেন।

---------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪৪.
'মাটির দেয়াল' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) বিষ্ণু দে
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী: 
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। 
- তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গে। 
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। 
-  তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
- উপহার, 
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- পারাপার, 
- পালাবদল, 
- ঘরে ফেরার দিন, 
- হারানো অর্কিড, 
- পুষ্পিত ইমেজ, 
- অমরাবতী, 
- অনিঃশেষ, 
- নতুন কবিতা, 
- চলো যাই, 
- সাম্প্রতিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৬৪৫.
'মাল্যবান' জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'মাল্যবান' উপন্যাস:
- 'মাল্যবান' (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। এটি উপন্যাসের চিরচেনা ছকে আবদ্ধ নয়।
- আধুনিক এবং অসুখী দাম্পত্য জীবনের আদি-অন্তহীন এক অনন্য জীবনানন্দীয় আখ্যান।
- মাল্যবান-এর পরতে পরতে কুয়াশা, হারিয়ে যাওয়া পথ, পথের ধারে খাদ। অসুখী ব্যক্তি মানুষের অসহায়ত্ব, জীবন নিয়ে খেলা, আপসের কৌশল। আছে সংঘাত, আছে গভীর জীবনবোধ।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৬.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর কোন কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়?
  1. ঝরাপালক
  2. রূপসী বাংলা
  3. বনলতা সেন
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: খ) রূপসী বাংলা।

-----------------------
• 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ: 
জীবনানন্দ দাশ — ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর —‘রূপসী বাংলা’ —কাব্যগ্রন্থটি  —১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থটি জীবনানন্দের বাংলার প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন ও সৌন্দর্যের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ, যা তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য হিসেবে বিবেচিত। এটি তাঁর মৃত্যুর তিন বছর পর প্রকাশিত হয়েছিল।

• কাব্যগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য:
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের।
- বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উল্লেখ্য, 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

-----------------
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

• 'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক।
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

• 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'বনলতা সেন' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
- 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থটি  ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এ কাব্যের 'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।
- ভারতীয় পুরাণের অন্তর্বয়নে যেমন বিদিশা, শ্রাবন্তী উঠে এসেছে, তেমনি বেতের ফলের মতো বা চোখের নীড়ের মতো উপমানগুলো নির্মাণ করেছে নতুন কাব্যমণ্ডল।
- প্রেম ও প্রকৃতি, খণ্ড জীবন ও হতাশা, ক্লান্তি ও অবসাদ, ইতিহাসের বিশাল অনুভূতি ও বর্তমানের ছিন্নভিন্ন অস্তিত্ব সমস্ত কিছুর সমাহার এই অপরূপ কাব্যে আলোছায়ার জাল রচনা করেছে।

• 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ সাতটি তারার তিমির।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৯৪৮ সালে।
- আর এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘আকাশনীলা’।
- বইটি উৎসর্গ করা হয়- হুমায়ুন কবিরকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬৪৭.
'ধূসর পাণ্ডুলিপি' একটি বিখ্যাত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• ধূসর পাণ্ডুলিপি:
- 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' (১৯৩৬) জীবনানন্দ দাশের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কবিতাগুলির মধ্যে জীবনানন্দীয় কাব্যের নিজস্ব বিষয়, ছন্দভঙ্গি, ভাষা, প্রতিমা সমস্ত বৈশিষ্ট্যই স্পষ্ট প্রকাশিত।
- এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমেই আধুনিক বাংলা কাব্যাঙ্গনে জীবনানন্দ দাশের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হতে থাকে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্যগ্রন্থ পাঠ করে তাঁর কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলেছেন।

---------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- রূপসী বাংলা,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো-
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

• ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৪৮.
'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা।' উক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতার লাইন- ''চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের পর, হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা।''
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬৪৯.
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. সাহিত্যের ভবিষ্যৎ
  2. কবিতার কথা
  3. তরুণের বিদ্রোহ
  4. স্বদেশ চিন্তা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিতার কথা।
-------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

তাঁর রচিত  প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

অন্যদিকে,
• বিষ্ণু দে রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- তরুণের বিদ্রোহ।
•’আহমদ শরীফ’ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- ’স্বদেশ চিন্তা’।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া ।
৬৫০.
বুদ্ধদেব বসুর জন্মস্থান কোন জেলায়? 
  1. কুমিল্লা 
  2. বরিশাল 
  3. মেদেনীপুর 
  4. হুগলি 
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫১.
'রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে ডিঙা বায়' কবিতার চরণে কোন রূপসার কথা বলেছেন-
  1. ক) রূপসী ডিঙ্গা
  2. খ) রূপসী বাংলা
  3. গ) রূপসা নদী
  4. ঘ) গ্রামবাংলার নদী
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণঃ

- রূপচাঁদ সাহার কাটা খালটি আজ বিশাল রূপসা নদী।
- যা দেখে জীবনানন্দ দাশ মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন:
- ‘‘রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেড়া পালে  ডিঙ্গা  বায়;  রাঙা   মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে ’’

উৎস: খুলনা জেলা ওয়েবসাইট।
৬৫২.
কল্লোলগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কোন সাহিত্যিক 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী  
ব্যাখ্যা

কল্লোলগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সুধীন্দ্রনাথ দত্ত- 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন। 
-------------------------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের একজন। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যধারার প্রভাব তার কবিতায় দেখা যায়।
- তার কবিতায় মূলত ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ফুটে উঠে। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বহুসংখ্যক কাব্যগ্রন্থ রচনা করলেও কোন উপন্যাস রচনা করেননি। 
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক হিসেবেও পরিচিত।
- ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- স্বগত,
- কুলায়,
- কালপুরুষ।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ হচ্ছে: প্রতিধ্বনি। 

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার। 
• বিষ্ণু দে রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- উর্বশী ও আর্টেমিস;
- চোরাবালি ইত্যাদি। 
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- অনিঃশেষ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৬৫৩.
কোন লেখক পঞ্চপাণ্ডবদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

• পঞ্চপাণ্ডবদের অন্তর্ভুক্ত নন - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন। 
- তাদের পঞ্চপান্ডব বলা হত। পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভূক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। 

আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডব লেখক হচ্ছেন -
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৫৪.
‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন- জসীমউদ্‌দীন।

-----------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:

- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৫.
‘মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়’- কে রচনা করেন এই কাব্যাংশ?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
মানুষের মৃত্যু হলে
- জীবনানন্দ দাশ

"মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব
থেকে যায়; অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে
প্রথমত চেতনার পরিমাপ নিতে আসে।

আজকের আগে যেই জীবনের ভিড় জমেছিল
তারা মরে গেছে;
অন্ধকারে হারায়েছে;
তবু তারা আজকের আলর ভেতরে
সঞ্চারিত হয়ে উঠে আজকের মানুষের সুরে
যখন প্রেমের কথা বলে
অথবা জ্ঞানের কথা—
অনন্ত যাত্রার কথা মনে হয় সে-সময়
দীপংকর শ্ৰীজ্ঞানের;
চলেছে—চলেছে—"

- কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৪) গ্রন্থে গৃহীত।

উৎস: বাংলা কবিতা সাময়িকী।
৬৫৬.
জীবনানন্দ দাশ 'ধূসর পান্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
• তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
• এছাড়া তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ধূসর পান্ডুলিপি (বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন),
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক (প্রথম প্রকাশিত),
- মহাপৃথিবী,
- রূপসী বাংলা,
- সাতটি তারার তিমির (হুমায়ুন কবিরকে উৎসর্গ করেন),
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
• 'কবিতার কথা' তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬৫৭.
কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতার জন্য জীবনানন্দ দাশের কাব্যকে চিত্ররূপময় বলা হয়েছে?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) ধূসর পান্ডুলিপি
  3. গ) সাতটি তারার তিমির
  4. ঘ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দের 'ধূসর পান্ডুলিপি' পড়ে তার কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮)
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৫৮.
জীবনানন্দ দাশের “আবার আসিব ফিরে” কবিতায় কাকে ‘শাদা ছেঁড়া পালে’ দেখা যায় ?
  1. এক বৃদ্ধ মাঝিকে
  2. এক শিকারিকে
  3. এক কিশোরকে
  4. এক জেলেকে
ব্যাখ্যা

• ‘আবার আসিব ফিরে’ — কবিতাটির রচয়িতা — জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• কবিতাটি নিম্নরূপ-
আবার আসিব ফিরে- (জীবনানন্দ দাশ)

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
--------------------
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা রায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে — 

এই কবিতায় কবি বলেছেন- এক কিশোরকে এক শাদা ছেঁড়া পালে দেখা যায়।
--------------------------
• 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ':
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' — 'রূপসী বাংলা' কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।
----------------------- 
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫৯.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় 'পরিচয়' পত্রিকাটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৯ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩২ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
• বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।  
• ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
• 'কল্লোল' পত্রিকা বন্ধ হওয়ার পর বিষ্ণু দে-ও এই পত্রিকায় যোগ দেন। এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন। 

--------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যগ্রন্থ:
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

প্রবন্ধগদ্য:
• স্বগত,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৬৬০.
’অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ’অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- অমিয় চক্রবর্তী।

• অমিয় চক্রবর্তী:

- তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।
- আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে। 
-  তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের:
- খসড়া,
- এক মুঠো ,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার ,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা,
- চলো যাই ,
- সাম্প্রতিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬১.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) ঝরা পালক
  3. গ) বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ঘ) সাঝের মায়া
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে-
- ঝরা পালক 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- রুপসী বাংলা,
- সাতটি তারার তিমির,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬৬২.
‘পথে প্রবাসে’ কার লেখা?
  1. ক) ড. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- পথে প্রবাসে আন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি। এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬৬৩.
বিষ্ণু দে কোন কাব্যধারার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কবি ছিলেন?
  1. বিংশ শতাব্দীর প্রতীকবাদ
  2. ষাটের দশকের আধুনিকতা
  3. চল্লিশের দশকের রোমান্টিকতা
  4. ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারা
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।