বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মোবাইল প্রযুক্তি ও এর বৈশিষ্ট্য

মোট প্রশ্ন৩০৭এই পাতাপ্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মোবাইল প্রযুক্তি ও এর বৈশিষ্ট্য

PrepBank · পাতা / · ৩০১৩০৬ / ৩০৭

৩০১.
GSM আর্কিটেকচারের মধ্যে কোন অংশটি মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে স্থির নেটওয়ার্কে কল স্থানান্তর করে?
  1. MSC (Mobile Switching Center)
  2. BTS (Base Transceiver Station)
  3. BSC (Base Station Controller)
  4. HLR (Home Location Register)
ব্যাখ্যা
GSM আর্কিটেকচারে MSC (Mobile Switching Center) হলো সেই মূল অংশ, যা মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে স্থির (PSTN) নেটওয়ার্কে কল স্থানান্তর করে। এটি মূলত একটি সুইচিং সিস্টেম, যা মোবাইল ব্যবহারকারীর কল সেটআপ, রাউটিং, হ্যান্ডওভার এবং ভয়েস/ডেটা সেবার সমন্বয় করে। যখন একজন মোবাইল ব্যবহারকারী স্থির ফোন নম্বরে কল করে, তখন MSC সেই কলটিকে পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কে (PSTN) পাঠিয়ে দেয়। অন্যদিকে, BTS কেবলমাত্র মোবাইল ডিভাইসের সাথে রেডিও যোগাযোগ করে, BSC সেই BTS-গুলো নিয়ন্ত্রণ করে এবং HLR হলো সাবস্ক্রাইবারের ডাটাবেস। সুতরাং, কল স্থানান্তরের কাজ সরাসরি MSC সম্পাদন করে।

⚪ জিএসএম (GSM):
- GSM এর পূর্ণরূপ Global System for Mobile Communications হলো মোবাইল টেলিফোনি সিস্টেমের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ট্যান্ডার্ড।
- একে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সিস্টেম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের মধ্যে রোমিং চুক্তি থাকার ফলে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো ব্যক্তি জিএসএম-এর আওতায় থাকা অবস্থায় নিজের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে পারেন।
- স্বল্প মূল্যের শর্ট মেসেজ সার্ভিস (এসএমএস)-এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জিএসএম পথিকৃৎ।
- সেলুলার নেটওয়ার্ক বিধায় নির্দিষ্ট এলাকাতে মোবাইল ফোনগুলো জিএসএম-এর সাথে সংযুক্ত হয়।
- এর সর্বোচ্চ দূরত্ব হলো ৩৫ কিলোমিটার।

⚪ জিএসএম এর বৈশিষ্ট্য:
১. সেলুলার নেটওয়ার্ক বিধায় নির্দিষ্ট এলাকাতে মোবাইল ফোনগুলো জিএসএম এর সাথে সংযুক্ত হয়।
২. সর্বোচ্চ দূরত্ব হলো ৩৫ কিলোমিটার।
৩. অধিকাংশ টুজি জিএসএম নেটওয়ার্কগুলো 900 MHz বা 1800MHz ব্যান্ডে পরিচালিত হয়।
৪. ব্যান্ডউইথকে টাইম স্লটে ভাগ করে।
৫. কলের খরচ বেশী। 
৬. রোমিং সুবিধা পাওয়া যায়। 

⚪ সিডিএমএর বৈশিষ্ট্য: 
১.আলাদা কোড সহ ব্যান্ড উইডথ বরাদ্দ করে।
২. কলের খরচ কম।
৩. রোমিং সুবিধা পাওয়া যায় না।
৪. সিডিএমএ হ্যান্ডসেটগুলোর ব্যাটারীর আয়ু বেশী।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (মাহবুবুর রহমান), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০২.
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু হয় কোন প্রজন্মের মোবাইলে?
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয় প্রজন্ম (Second Generation-2G):
- ১৯৯০ সালে ইউরোপে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সর্বপ্রথম ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সমিশন কোয়ালিটি, সিস্টেম ক্যাপাসিটি এবং বিশাল এলাকা জুড়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল সিস্টেম চালু করা হয়।
- দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনে ডিজিটাল মোবাইল নেটওয়ার্ক সিস্টেম চালু হয়।
- দ্বিতীয় প্রজন্মে GSM প্রযুক্তিতে ভয়েস ও ডাটা প্রেরণ করা সম্ভব।
- দ্বিতীয় প্রজন্মে SMS (Short Message Service) ও MMS (Multimedia Message Service) সার্ভিস চালু হয়।
- মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু হয় দ্বিতীয় প্রজন্মে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৩.
স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করতে কোন প্ল্যাটফর্মটি বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. iMovie
  2. Excel
  3. Adobe Photoshop
  4. Arduino
ব্যাখ্যা
• স্মার্ট হোম ডিভাইস অটোমেশন বলতে বোঝায় ঘরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন লাইট, ফ্যান, এসি, সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রক্রিয়া। এই কাজের জন্য সাধারণত যে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহৃত হয়, তা হলো Arduino. এটি একটি ওপেন-সোর্স ইলেকট্রনিক্স প্ল্যাটফর্ম, যা সেন্সর, রিলে, এবং অন্যান্য ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত হয়ে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে। Arduino ব্যবহার করে প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন স্মার্ট ফাংশন তৈরি করা যায়, যেমন সময় অনুযায়ী লাইট অন/অফ করা, তাপমাত্রা অনুযায়ী ফ্যান চালু করা ইত্যাদি।
- অপরদিকে, Adobe Photoshop, Excel, ও iMovie মূলত ছবি সম্পাদনা, ডেটা বিশ্লেষণ ও ভিডিও এডিটিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, যা স্মার্ট হোম অটোমেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

- সুতরাং সঠিক উত্তর - Arduino.

• স্মার্ট হোম প্রযুক্তি:
- স্মার্ট হোম হলো এমন একটি বাসস্থান, যেখানে রিমোট কন্ট্রোলিং বা প্রোগ্রামিং ডিভাইসের সাহায্যে বাড়ির হিটিং সিস্টেম, কুলিং সিস্টেম, লাইটিং সিস্টেম, সিকিউরিটি কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- স্মার্ট হোমের পদ্ধতিকে হোম অটোমেশন সিস্টেম (Home Automation System) বলা হয়।
- একটি স্মার্ট হোমে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- টেলিভিশন, এসি, লাইটিং, ফ্যান, সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল বা রিমোট কন্ট্রোলিং ডিভাইস ব্যবহার করে সেগুলোকে কোনো কেন্দ্রীয় অবস্থানে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পোন্নত দেশ যেমন-চীন, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া ইত্যাদি দেশে গ্লোবাল রেসিডেন্স বা বৈশ্বিক বাসস্থান তৈরি করা হচ্ছে।
- বাসস্থানের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আইপি ক্যামেরা।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
৩০৪.
তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন ব্যবহার প্রথম শুরু হয় কোন দেশে?
  1. ক) চীন
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
• তৃতীয় প্রজন্ম মোবাইল (২০০১-২০০৮):
- ২০০১ সালে জাপানের টোকিওতে NTT DoCoMo সর্বপ্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার শুরু হয়।
- দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের প্রধান প্রযুক্তিগত পার্থক্য হচ্ছে সার্কিট সুইচিং ডাটা ট্রান্সমিশনের পরিবর্তে প্যাকেট সুইচিং ডাটা ট্রান্সমিশনের ব্যবহার। 3G বা Third Generation হচ্ছে এমন একটি মোবাইল প্রযুক্তি যাতে GSM, EDGE, UTMS এবং CDMA 2000 প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত।
- 3G প্রযুক্তি ব্যবহার করে DECT, WiMAX, Voice Call, Video Call সার্ভিস প্রদান করা সম্ভব।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০৫.
1G সিস্টেমে চ্যানেল অ্যাকসেস পদ্ধতি কী ছিল?
  1. TDMA
  2. FDMA
  3. CDMA
  4. OFDMA
ব্যাখ্যা

1G সিস্টেমে চ্যানেল অ্যাকসেস পদ্ধতি ছিল FDMA।

প্রথম প্রজন্ম (1st Generation - 1G : 1979-1990)

- যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম Motorola Dyna TACS (Total Access Communication System) নামে হ্যান্ড মোবাইল সেট চালু করে।
- আশির দশকে প্রথম প্রজন্মের মোবাইল ফোন ছিল সেলুলার নেটওয়ার্কনির্ভর এবং এগুলো অ্যানালগ সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করত।
- ১৯৭৯ সালে জাপানের NTTC (Nippon Telegraph and Telephone Corporation) প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অটোমেটেড সেলুলার নেটওয়ার্ক চালু করার মাধ্যমে 1G এর সূচনা করে।
- নব্বইয়ের দশকের আগ পর্যন্ত এ প্রজন্মের সিস্টেম চলতে থাকে।
- এই প্রজন্মে রোমিং ব্যবস্থা সীমিত ছিল।
- উদাহরণ: AMPS (Advanced Mobile Phone System), TACS (Total Access Communication System) ইত্যাদি।

প্রথম প্রজন্মের মোবাইল সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য:
1. অ্যানালগ পদ্ধতিতে রেডিও সিগন্যালের ব্যবহার ছিল।
2. সেলুলার নেটওয়ার্কের প্রবর্তন।
3. বেজ স্টেশন ও মোবাইল ফোন দুটি ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা হতো।
4. অর্ধপরিবাহী মেমোরি এবং মাইক্রোপ্রসেসরের ব্যবহার হতো।
5. চ্যানেল অ্যাকসেস পদ্ধতি হলো FDMA।
6. আকার তুলনামূলকভাবে বড় এবং ওজন বেশি ছিল।
7. কথোপকথন চলা অবস্থায় ব্যবহারকারীর অবস্থানের পরিবর্তন হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

৩০৬.
মোবাইল কমিউনিকেশনে EDGE এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Enhanced Data General Equipment
  2. Extended Data General Exchange
  3. Enhanced Digital Global Evolution
  4. Enhanced Data rates for GSM Evolution
ব্যাখ্যা
• মোবাইল কমিউনিকেশনে EDGE এর পূর্ণরূপ হলো “Enhanced Data rates for GSM Evolution”। এটি GSM নেটওয়ার্কের একটি উন্নত প্রযুক্তি, যা সাধারণ GPRS এর তুলনায় দ্রুত ডেটা ট্রান্সফার করতে সক্ষম। EDGE ব্যবহার করলে মোবাইল ইন্টারনেটে ব্রাউজিং, ইমেইল পাঠানো ও ভিডিও স্ট্রিমিং অনেক দ্রুত হয়। এটি মূলত ২.৫জি নেটওয়ার্ককে ৩জি স্তরের ডেটা স্পিডের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। EDGE প্রযুক্তি সেলুলার নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইথকে দক্ষভাবে ব্যবহার করে এবং মোবাইল ডিভাইসের জন্য উন্নত ডেটা ট্রান্সমিশন নিশ্চিত করে। তাই মোবাইল কমিউনিকেশনে EDGE গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সঠিক উত্তর: ঘ) Enhanced Data rates for GSM Evolution।


• তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য:
- ডেটা রূপান্তরের কাজে প্যাকেট সুইচিং ও সার্কিট সুইচিং উভয় পদ্ধতিই ব্যবহৃত হয়। তবে প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতির সাহায্যে খুব দ্রুত ছবি ও ভয়েস আদান প্রদান করা যায়।
- মডেম সংযোজনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং ডেটা আদান-প্রদানের নতুন এক মাত্রা যোগ হয়।
- EDGE (Enhanced Data Rates for Global Evolution) পদ্ধতি কার্যকর হয়। ফলে অধিক পরিমাণ ডেটা স্থানান্তর সম্ভব হয়।
- ডেটা স্থানান্তর উচ্চগতি সম্পন্ন।
- ডেটা রেট ২ এমবিপিএস এর অধিক।
- মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স ইত্যাদি সেবা কার্যক্রম চালু সম্ভব হয়।
- এক্ষেত্রে GSM, EDGE, UTMS এবং CDMA 2000 প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
- রেডিও ফ্রিকোয়েন্সী W-CDMA বা UMTS স্ট্যান্ডার্ড।
- চ্যানেল অ্যাকসেস বা সেল সিগন্যাল এনকোডিং পদ্ধতি হলো TD-SCDMA এবং TD-CDMA .
- উচ্চ স্পেকট্রাম কর্মদক্ষতা।
- আর্ন্তজাতিক রোমিং সুবিধা চালু হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।