বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৮০১৯০০ / ১,০৯৬

৮০১.
জলবায়ু পরিমাপ করতে কত বছরের আবহাওয়ার পরিবর্তনকে বিবেচনায় নিতে হয়?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১৫
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ৩০
ব্যাখ্যা
কোনো স্থানের একটি নির্দিষ্ট দিনের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৮০২.
একই পরিমাণ বৃষ্টিপাত অঞ্চলসমূহকে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে দেখানো হয় তার নাম-
  1. ক) আইসােপ্লিথ
  2. খ) আইসোহাইট
  3. গ) আইসােহ্যালাইন
  4. ঘ) আইসোথার্ম
ব্যাখ্যা

ভূ-পৃষ্ঠের সমান বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলগুলো মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে দেখানো হয় সেই রেখাকে সমবর্ষণ বা আইসোহাইট (Isohyets) রেখা বলে।
এছাড়া,
- আইসোথার্ম : সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার : সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা

সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল-বিওবি এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট।

৮০৩.
সমান উষ্ণতাবিশিষ্ট স্থানগুলোকে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা সংযুক্ত করা হয় তাকে কী বলে?
  1. সমবর্ষণ রেখা
  2. সমচাপ রেখা
  3. সমোষ্ণ রেখা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যেমন সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

• সমোষ্ণ রেখা:
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

• সমচাপ রেখা:
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

• সমবর্ষণ রেখা:
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৪.
বাংলাদেশ সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে?
  1. বিএনসি
  2. সিপিপি
  3. প্রশিকা
  4. রেড ক্রিসেন্ট
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সরকারের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বা Cyclone Preparedness Programme (সিপিপি) প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে। 

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বা Cyclone Preparedness Programme (সিপিপি): 
- ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এর পর দীর্ঘ দুই মাসের অধিক সময়কাল উপকূলীয় অঞ্চল পরিদর্শনের পর মিঃ হেগষ্ট্রম ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির’ রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- তদানীন্তন বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা, নোয়াখালী জেলা, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) জেলা ও পটুয়াখালী জেলার মেটি ২৩ টি থানায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হয়।
- ১,৯৭২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে ২৩ টি থানার ১৮৬ টি ইউনিয়নের আওতাধীন ১,৯২৭ টি ইউনিটের মোট ১৯,২৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কাজ সম্পন্ন হয়।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: 
- দুর্যোগে সারা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
- দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা।
- সমাজ কল্যাণে ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের দক্ষতা, স্পৃহা, অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি ও আত্মত্যাগী মনোভাব সৃষ্টি করা।
- দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম শক্তিশালী এবং উন্নয়ন করা।
- ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- দুর্যোগে দ্রুত সারা প্রদানের জন্য বেতার যোগাযোগ শক্তিশালী করা।
- আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত বোধগম্য ও প্রতিষ্ঠিত করা এবং ঘূর্ণিঝড় সংকেত এর সহিত সস্পৃক্ত জনসাধারণকে কার্যকরী সাড়া প্রদানে নিশ্চিত করা।

- সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে রেডক্রিসেন্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৫.
নিচের কোনটির দ্বারা ‍ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) বৃষ্টিপাত
  3. গ) অগ্ন্যূৎপাত
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল। যে সমস্ত কার্যাবলির কারণে প্রাকৃতিকভাবে ‍ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয় তা ভূ-প্রক্রিয়া নামে পরিচিত।
- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন ধীর ও আকস্মিক দুভাবে সংঘটিত হয়ে থাকে।
ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন যেসব শক্তির দ্বারা সংঘটিত হয় সেগুলো হলো:
- সূর্যতাপ
- বায়ুপ্রবাহ
- বৃষ্টিপাত
- নদী
- হিমবাহ প্রভৃতি।
- ধীর পরিবর্তন সাধারণত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে হয়ে থাকে।
অন্যদিকে,
- ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি কারণে ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তন সাধিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮০৬.
ভূপৃষ্ঠে চাপ বলয় কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
বায়ুচাপ বলয়:
- ভূ-পৃষ্ঠে নানা প্রকার ও আকৃতির বায়ুচাপ বলয় দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপৃষ্ঠে প্রধানত ৭টি চাপ বলয় রয়েছে।
- এদের ৩টি নিম্নচাপ বলয় ও ৪টি উচ্চচাপ বলয়।
এগুলো হলো:
১.নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
২.উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৩.দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৪. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়,
৫.মকরীয় উচ্চচাপ বলয়,
৬.উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
৭.দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৮০৭.
আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় -
  1. ক) হ্যারিকেন
  2. খ) টাইফুন
  3. গ) সাইক্লোন
  4. ঘ) টর্নেডো
ব্যাখ্যা
• আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন
- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
 
৮০৮.
পৃথিবীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় কোথায়?
  1. চেরাপুঞ্জি
  2. সান অ্যান্তোনিও
  3. মৌসিনরাম
  4. ইমেইশান
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর সর্বোচ্চ বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতসম্পন্ন স্থানসমূহ:
- প্রথম : মৌসিনরাম, মেঘালয় (ভারত) : ১১,৮৭১ মি.মি.
- দ্বিতীয় : চেরাপুঞ্জি, মেঘালয় (ভারত) : ১১,৭৭৭ মি.মি.
- তৃতীয় : তুতুনেন্দু (কলম্বিয়া) : ১১,৭৭০ মি.মি.
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৮০৯.
বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের নাম কী?
  1. ক) সবুজ বনায়ন
  2. খ) সবুজায়ন
  3. গ) গ্রিন পিস
  4. ঘ) বাপা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (BAPA) 2000 সালে বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি দেশব্যাপী, ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য চালু করা হয়েছিল।
- বাংলাদেশের পরিবেশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। শহুরে বাতাসের মান হ্রাস পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত। ভূ-পৃষ্ঠের জলাশয়গুলি দূষিত, সীমাবদ্ধ এবং অবক্ষয়িত হচ্ছে। কঠিন, তরল, বায়বীয় এবং বিপজ্জনক বর্জ্য উপচে পড়ছে। উধাও হয়ে যাচ্ছে বন ও খোলা জায়গা। কোলাহল বাড়ছে। বিলুপ্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দূষণের কারণে স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
- এই অবক্ষয়ের প্রক্রিয়াগুলোকে ধীরগতি ও প্রত্যাবর্তন না করা হলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক অগ্রগতি ধীরে ধীরে বাধাগ্রস্ত হবে এবং বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

- এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের পরিবেশ-পন্থী শক্তিরা বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে এবং ভবিষ্যতের জন্য করণীয় নির্ধারণের জন্য জানুয়ারী 2000 সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (ICBEN) একত্রিত হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ 2000-এর উপর ঢাকা ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং দেশের সকল আন্তরিক পরিবেশ-পন্থী শক্তিকে যোগদান ও একসঙ্গে কাজ করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়
- ICBEN 2000 এর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে, BAPA গঠিত হয়।

উৎস: BAPA ওয়েবসাইট। 
৮১০.
বাংলাদেশে কোন সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. বর্ষাকাল
  3. শীতকাল
  4. কোন সময়েই নয়
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকাল:
- বাংলাদেশে মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল।
- এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু হলো গ্রীষ্মকাল।
- এ সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াস। 
- কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্যের উত্তরায়ণের জন্য বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮১১.
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিবেদন অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের কত শতাংশ মানুষ চরম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ১০ শতাংশ
  2. ১২ শতাংশ
  3. ১৮ শতাংশ
  4. ২৬ শতাংশ
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিবেদন অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের ১৮ শতাংশ মানুষ চরম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও দারিদ্র্য:
- জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী ১০৯টি দেশের ৬৩০ কোটির মধ্যে ১১০ কোটি (প্রায় ১৮ শতাংশ) চরম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে বসবাস করছে।
- এই দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা ৯০ কোটি মানুষ সরাসরি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্বের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশের সমান। 
⇒ ১৭ অক্টোবর ২০২৫, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে। 
- প্রভার্টি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (ওপিএইচআই) বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮৮ কোটি ৭ লাখ মানুষ সরাসরি অন্তত  একটি জলবায়ু সমস্যার সম্মুখীন।
- এর মধ্যে ৬০ কোটি ৮ লাখ মানুষ চরম তাপে, ৪৭ কোটি ৭ লাখ মানুষ দূষণে, ৪৬ কোটি ৫ লাখ মানুষ বন্যায় এবং ২০ কোটি ৭ লাখ মানুষ খরায় ভুগছে।
- প্রায় ৬৫ কোটির বেশি মানুষ অন্তত দুই ধরনের ঝুঁকিতে, ৩০ কোটির বেশি মানুষ তিন বা চার ধরনের বিপদের সম্মুখীন এবং ১ কোটি ১ লাখ মানুষ ১ বছরে চারটি বিপদেরই সম্মুখীন হয়।
- ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দারিদ্র্য ও জলবায়ু বিপদের যুগপৎ উপস্থিতি এখন বৈশ্বিক সংকটের অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শিশুমৃত্যু হার, বাসস্থান, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ এবং  শিক্ষার মতো মৌলিক সূচক।
-  ভয়ের বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ গোলার্ধের নিম্ন আয়ের দেশগুলো থেকে প্রায় ১৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে পারেন। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ অঞ্চলে।

উৎস: i) বণিক বার্তা। [link]
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৮১২.
সমুদ্র থেকে দূরবর্তী এলাকার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. দিনরাত্রির তাপমাত্রার তেমন পার্থক্য হয় না।
  2. শীত-গ্রীষ্ম উভয়ই চরম হয়।
  3. দিন বড় হয় ও রাত ছোট হয়।
  4. রাত বড় হয় ও দিন ছোট হয়।
ব্যাখ্যা
জলবায়ু ও তাপমাত্রার উপর সমুদ্র উপকূল এর দূরত্বের প্রভাব 
- সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয়, আবার দ্রুত ঠান্ডাও হয়। 
- এ জন্য সমুদ্রতীর থেকে দূরবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম উভয়ই তীব্র বা চরম হয়।
-  গ্রীষ্মকালে মহাদেশের মধ্য ভাগের তাপমাত্রা অনেক বেশী থাকে, আবার শীতকালে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হয়।
- এ ধরনের জলবায়ুকে চরমভাবাপন্ন বা মহাদেশীয় জলবায়ু বলে। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম এবং দিনরাত্রির তাপমাত্রার তেমন পার্থক্য হয় না।
- এই ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

উল্লেখ্য,
- কোনো এলাকার প্রতি দিনের গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের তথ্যের ভিত্তিতে সামগ্রিক যে অবস্থা প্রকাশ পায় তাকেই সেই  আবহাওয়া বলে।
- সাধারণত কোনো এলাকার ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়াজনিত অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- সাধারণত বৃহৎ এলাকাজুড়ে জলবায়ু পরিমাপ করা হয়ে থাকে।
- আবহাওয়া সম্পর্কীয় বিজ্ঞান মেটিওরোলজি (Meteorology) নামে পরিচিত।

উৎস- ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৩.
বৃষ্টিপাত পরিমাপক যন্ত্রের নাম-
  1. ক) হাইগ্রোমিটার
  2. খ) রেইনগেজ
  3. গ) আইসোহাইট
  4. ঘ) ম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

- বৃষ্টিপাত পরিমাপক যন্ত্রের নাম রেইনগেজ।
- শীতপ্রধান অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে তুষারপাত হয়।
- ঐ তুষার গলে যে জল হয় তা মেপে সেখানকার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১৪.
পৃথিবীর মোট জলভাগের মধ্যে বায়ুমন্ডলে কত শতাংশ পানি পাওয়া যায়?
  1. ০.০১ ভাগ
  2. ০.০০১ ভাগ
  3. ০.৬৮ ভাগ
  4. ০.৩২ ভাগ
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর জলভাগের অবস্থানভিত্তিক বণ্টন:
- সমুদ্র : ৯৭.২৫ ভাগ
- হিমবাহ : ২.০৫ ভাগ
- ভূগর্ভস্থ পানি : ০.৬৮ ভাগ
- হ্রদ : ০.০১ ভাগ
- মাটির আর্দ্রতা : ০.০০৫ ভাগ
- বায়ুমণ্ডল : ০.০০১ ভাগ
- নদী : ০.০০০১ ভাগ
- জীবমণ্ডল : ০.০০০০৪ ভাগ।

(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)

৮১৫.
বাংলাদেশে মৌসুমী বৃষ্টিপাত মূলত কোন বায়ুর কারণে হয়ে থাকে?
  1. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু
  2. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু
  4. উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- সুতরাং ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে।
- কিন্তু শীতকালে এর বিপরীত অবস্থা ঘটে। শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

• বর্ষাকাল:
- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে নভেম্বর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- এই সময় গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসে।
- বছরে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এসময় হয়।
- বর্ষার শেষ দিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৬.
সমুদ্রস্রোতের অন্যতম কারণ কোনটি?
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ।

সমুদ্রস্রোত:
- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ।
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে।
- সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে।
-  সমুদ্রস্রোতকে উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) উষ্ণ স্রোত ও (খ) শীতল স্রোত।

সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- প্রথিবীর আহ্নিক গতি, সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য, সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৮১৭.
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে কোন ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. Leeward slope
  2. Windward slope
  3. Rain-shadow region
  4. A & B both
ব্যাখ্যা
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain):
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায় তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

উল্লেখ্য
⇒ পর্বত অতিক্রম করে ঐ বায়ু যখন পর্বতের অপর পার্শ্বে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে (Leeward slope) এসে পৌঁছায় তখন জলীয়বাষ্প কমে যায়। এছাড়া নিচে নামার ফলে ঐ বায়ু উষ্ণ ও আরও শুষ্ক হয়। এ দুটো কারণে এখানে বৃষ্টি বিশেষ হয় না। এরূপ প্রায় বৃষ্টিহীন স্থানকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain-shadow region) বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১৮.
সাহারা মরুভূমি অবস্থিত-
  1. ক) উত্তর আফ্রিকা
  2. খ) দক্ষিণ আমেরিকা
  3. গ) দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. ঘ) উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
সাহারা বিশ্বের বৃহত্তম গরম মরুভূমি এবং অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের পরে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি যা উত্তর আফ্রিকার অনেকাংশ নিয়ে গঠিত। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৮১৯.
বাংলাদেশেকে “ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ” বলা হয় কেন?
  1. ক) কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে
  2. খ) মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অধিক হওয়া
  3. গ) মকরক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে
  4. ঘ) ক+খ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন।
- এ দেশের মধ্যভাগে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অধিক হওয়ায় “ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ” বলা হয়।
- ঋতুভেদে উচ্চ তাপমাত্রা, ভারী বর্ষণ, অত্যাধিক আর্দ্রতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের জলবায়ুতে পরিলক্ষিত হয়।
- সার্বিক বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ুকে প্রধানত তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়, যথা-শীতকাল, গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকাল।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২০.
পৃথিবীর গভীরতম খাতের নাম কী?
  1. ক) মারিয়ানা খাত
  2. খ) আটলান্টিক শৈলশিরা
  3. গ) পোর্টোরিকো খাত
  4. ঘ) শুন্ডা খাত
ব্যাখ্যা
• গভীর সমুদ্রখাত (Oceanic Trench) :
- মহাসাগরের তলদেশে বিভিন্ন স্থানে গভীর খাত থাকে। এইগুলিকে গভীর সমুদ্রখাত বলে।
- গভীর সমুদ্র খাতগুলো সাধারণত আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অধিক দেখতে পাওয়া যায়।
- গভীর সমুদ্রখাতের গড় গভীরতা সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ৫,৪০০ মিটারের অধিক।
- সমুদ্রতলে মোট সাতান্নটি গভীর সমুদ্রখাত রয়েছে।
- প্রশান্ত মহাসাগরেই গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা অধিক।
- নিউগিনির উত্তর দিকে অবস্থিত প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত পৃথিবীর মধ্যে গভীরতম সমুদ্র খাত এর গড় গভীরতা প্রায় ১০,৮৭০ মিটার।
- আটলান্টিক মহাসাগরের পোর্টোরিকো খাত (৮,৫৩৮ মিটার) উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২১.
জাতিসংঘের মতে ২০৫০ সালে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কত ফুট বাড়বে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘের মতে ২০৫০ সালে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৩ ফুট।
• বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ভূমি ডুবে যাবে ১৭%।
• বাংলাদেশের জলবায়ু শরণার্থী হবে আনুমানিক ৩ কোটি।

তথ্যসূত্র:- জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
৮২২.
মৌসুমি বায়ু সৃষ্টির কারণ কী?
  1. সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ন
  2. উচ্চতা
  3. বনভূমি
  4. সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
• মৌসুমি বায়ু এবং ঋতু পরিবর্তন:
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে ও সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে মৌসুমি বায়ু সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- এই তারতম্যের কারণে মৌসুমি বায়ু সৃষ্টি হয়, যা বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বত্র মৌসুমি বায়ু দ্বারা বৃষ্টিপাত ঘটে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৩.
পাট চাষের জন্যে উপযোগী তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ১২° - ৩৩°
  2. ১৪° - ৩৩°
  3. ১০° - ৩৩°
  4. ১৮° - ৩৩°
ব্যাখ্যা

পাট চাষ:
- উর্বর দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- তবে বেলে ও এঁটেল মাটি ছাড়া সব জমিতেই পাট চাষ করা যায়।
- তবে যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম।
- তোষা পাট উঁচু জমিতে এবং দেশী পাট উঁচু ও নিচু দু'ধরনের জমিতেই চাষ করা যায়।
- পাট চাষের জন্যে উপযোগী তাপমাত্রা ১৮০ - ৩৩° সেলসিয়াস

⇒ পাট আঁশপ্রধানত দুটি প্রজাতি, সাদাপাট (Corchorus capsularis) ও তোষাপাট (Corchorus olitorius) থেকে উৎপন্ন হয়।
- ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।
- ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, যশোর, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুর অঞ্চলে পাট চাষের পরিমান বেশি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৪.
বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাস সর্বাধিক পরিমাণে পাওয়া যায় ?
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বাতাসে ৭৮.০৯% নাইট্রোজেন,২০.৯৫% অক্সিজেন, ০.৯৩% আর্গন, ০.০৩% কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং সামান্য পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস থাকে।
বাতাসে এছাড়াও পরিবর্তনশীল পরিমাণ জলীয় বাষ্প রয়েছে যার গড় প্রায় ১%।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান।
৮২৫.
সিডর আক্রান্ত এলাকায় আমেরিকার রিলিফ কার্যক্রমের নাম কী?
  1. ক) অপারেশন সি-এঞ্জেল-১
  2. খ) অপারেশন ইমারজেন্সি
  3. গ) অপারেশন সি-এঞ্জেল-২
  4. ঘ) অপারেশন মান্না
ব্যাখ্যা
১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।
২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে এবং মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
৮২৬.
স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে কী বলে?
  1. মেসোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
মেসোমণ্ডল (Mesosphere): 
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোমণ্ডল বলে।
- এই স্তরের উপরে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া থেমে যায়। এই স্তরকে মেসোবিরতি (Mesopause) বলে।

মেসোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Mesosphere): 
(ক) এই স্তরে ট্রপোমণ্ডলের মতোই উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে। যা-৮৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে যায়। মেসোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে।
(খ) মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮২৭.
অতিরিক্ত লবণাক্ততার প্রভাবে কোনটি হতে পারে?
  1. সুপেয় পানির অভাব দেখা
  2. কৃষি জমি নষ্ট হওয়া
  3. মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ততা (Salinity):
- লবণাক্ততা বলতে মাটি ও পানিতে লবণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে বুঝায়।
- সাধারণত লবণাক্ততার মাত্রা পরিমাপ করা হয় Parts Per Thousand বা পিপিটি (PPT) দ্বারা।
- সমুদ্রের পানিতে লবণাক্ততার গড় মাত্রা ৩৫পিপিটি অর্থাৎ ১ কিলোগ্রাম পানিতে প্রায় ৩৫ গ্রাম লবণ থাকে।

লবণাক্ততার প্রভাব:
- উপকূলীয় অঞ্চলের জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে উৎপাদন হ্রাস পাওয়া;
- সুপেয় পানির অভাব দেখা দেওয়া;
- উদ্বাস্তু লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি;
- সম্পদহানি ও দারিদ্রতা বৃদ্ধি;
- বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়া;
- ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি;
- মিঠা পানির মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস;
- গাছপালায় মড়ক লাগা ও ফসলের গোড়া পচে যাওয়া;
- সামাজিক বন্ধনে শিথিল হওয়া প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৮.
ভূ-পৃষ্ঠ পরিবর্তনের ধীর মাধ্যম কোনটি?
  1. ভূ-কম্পন
  2. বিচূর্ণীভবন
  3. ভূমিধ্বস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভূ-ত্বকের পরিবর্তন:
- বিচূর্ণীভবন পৃথিবীর ধীর পরিবর্তনকারী শক্তি।
- নানা প্রকার বাহ্যিক প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠে দীর্ঘদিন ধরে যে পরিবর্তন সাধিত হয় তাকে ধীর প্রাকৃতিক পরিবর্তন বলে।
- ভূ-পৃষ্ঠের অতি বিস্তুৃত এলাকা জুড়ে ধীর পরিবর্তনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- নদী, বৃষ্টি, হিমবাহ, তুহিন, উত্তাপ, সমুদ্র প্রভৃতি ধীর পরিবর্তনের সহায়ক শক্তি।
- এদের দ্বারা পরিবর্তন এত ধীর গতিতে সংঘটিত হয় যে, দুই চারশত বৎসরেও কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না।
- ধীর পরিবর্তনকারী প্রাকৃতিক শক্তিগুলি দীর্ঘ দিনের ক্ষয়সাধনের দ্বারা বৃহৎ ভূমিরূপ হতে নানা প্রকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভূমিরূপের সৃষ্টি করে।

 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৯.
তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে উৎপত্তি হয়-
  1. ক) অয়ন বায়ুর
  2. খ) প্রত্যয়ন বায়ুর
  3. গ) স্থানীয় বায়ুর
  4. ঘ) মৌসুমী বায়ুর
ব্যাখ্যা

- ঋতু পরিবর্তনের সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় তাকে বলা হয় মৌসুমী বায়ু।
- তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে উৎপত্তি হয় স্থানীয় বায়ুর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩০.
'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন, কপ- ২৮' কোন শহরে অনুষ্ঠিত হবে?
  1. শারম্ এল-শেখ
  2. দুবাই
  3. সিডনি
  4. রিয়াদ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP): 
• ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) গৃহীত হয়।
• UNFCCC means United Nations Framework Convention on Climate Change.  
• এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা।  

• ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   
• ২০২২ সালের নভেম্বরে মিশরের শারম্ এল-শেখ এলাকায় 'কপ-২৭' অনুষ্ঠিত হয়। 
• আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে 'কপ-২৮' আয়োজিত হবে। 

• 'কপ-২৯' আয়োজিত হবে আজারবাইজানে। 
• 'কপ-৩০' ব্রাজিলের বেলেম শহরে।   

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট এবং সময়নিউজ (২৭ মে ২০২৩)।
৮৩১.
কোরিওলিস প্রভাবের ফলে বায়ুপ্রবাহ বেঁকে যায়-
  1. উত্তর গোলার্ধে বাম ও দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে
  2. উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমান্তরাল দিকে
  3. উত্তর গোলার্ধে ডান ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিন দিকে
ব্যাখ্যা
কোরিওলিস প্রভাব (Coriolis Effect):

-বায়ু প্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়, প্রবাহের এ ধরন পরিবর্তনকে কোরিওলিস শক্তি (Coriolis force) বলে।
- গোলার্ধ ভিত্তিক এ পরিবর্তন কোন প্রবাহিত চলমান (moving) বস্তুর উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাব বলে অনুমান করা যায়।
- এ বাঁকিয়ে দেওয়া বা দিক পরিবর্তনকারী শক্তি-
১. বায়ু প্রবাহের দিকের সাথে সর্বদা লম্বভাবে (৯০০) ক্রিয়া করে;
২. বায়ু প্রবাহে কেবল মাত্র দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে, গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না;
৩. বায়ুর গতির সাথে সম্পর্ক যুক্ত, বেশি গতি হলে প্রভাব বেশি ও কম হলে প্রভাব কম হয় অর্থাৎ বিচ্যুতি মাত্রা নির্ভর করে;
৪. কোরিওলিস বা গোলার্ধ প্রভাব মেরুতে সর্বাধিক, নিরক্ষীয় অঞ্চলে কমতে থাকে, বিষুব রেখায় এর অস্তিত্ত্ব লোপ পায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩২.
জলবায়ুর নিয়ামক কোনটি?
  1. জনসংখ্যা
  2.  মাটি
  3. ভূমিক্ষয় 
  4. অক্ষাংশ 
ব্যাখ্যা

জলবায়ুর নিয়ামক :
- জলবায়ুর নিয়ামক হলো সেই উপাদানগুলো যা কোনো এলাকার জলবায়ুর বৈচিত্র্যের জন্য দায়ী।
- এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো :
- অক্ষাংশ : অক্ষাংশের কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলের তুলনায় মেরু অঞ্চল বেশি শীতল থাকে, কারণ সেখানে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে। 
-উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা কমে যায়। 
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব: উপকূলের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ এবং সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়।
- বনভূমি : বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুতে জলীয় বাষ্প যোগ করে, বৃষ্টিপাত বাড়ায়, ঝড়-ঝাপটা কমায় এবং স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার মাত্রা এবং উষ্ণ বা শীতল সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এছাড়া, পাহাড় ও পর্বতের অবস্থান বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণে পার্থক্য আনে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৩.
কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের আবহাওয়ার সামগ্রিক গড় অবস্থা -
  1. ক) বারিপাত
  2. খ) বায়ুর আর্দ্রতা
  3. গ) বারিপাত
  4. ঘ) জলবায়ু
ব্যাখ্যা
• আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি উপাদানের গড় অবস্থা অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহের গড় অবস্থাকে বলা হয় আবহাওয়া।

জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের আবহাওয়ার সামগ্রিক গড় অবস্থা।
- সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৪.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ প্রধানত কোন জলবায়ুর অন্তর্গত?
  1. নিরক্ষীয়
  2. ভূমধ্যসাগরীয়
  3. মহাদেশীয়
  4. মৌসুমি
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ু:
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু।
- ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপসমূহের দেশগুলো, পূর্ব আফ্রিকা, পূর্ব ব্রাজিল, উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ চীন ও জাপান, থাইল্যান্ড, কম্পুচিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহ, লাওস, মালাগাছি দ্বীপও এই জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
- মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অধিক গরম ও শীতকালে শীত পড়ে। জুলাই মাস সবচেয়ে বেশি গরম ও জানুয়ারি মাসে বেশি শীত পড়ে। 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত বেশি হয় কিন্তু শীতকাল শুষ্ক থাকে। তবে অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাও এই জলবায়ু অঞ্চলে দেখা যায়। ক
- এই জলবায়ু অঞ্চলে উর্বর ভূমি ও পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য উপকারী।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৫.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়?
  1. দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. পূর্ব- দক্ষিণাঞ্চলে
  4. পশ্চিম- পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

খরা (Drought): 
- ফসল জন্মানোর স্বাভাবিক সময়ে শস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার চাইতে জমিতে কম আর্দ্রতা থাকলে সে সময়কে বাংলাদেশে ক্ষরা অবস্থা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়।
- ১৯৫১, ১৯৫৭, ১৯৫৮,১৯৬১, ১৯৬৬, ১৯৭২ এবং ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে যথাক্রমে ৩১.৬৩, ৪৬.৫৪, ৩৭.৪৭, ২২.৩৯, ১৮.৪২, ৪২,৪৮, ৪২.০৪ শতাংশ অঞ্চল খরা আক্রান্ত ছিল।
- ১৯৯৪-৯৫ খ্রিষ্টাব্দের খরা এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫-৯৬ খ্রিষ্টাব্দের খরা খাদ্যশস্যের বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান কৃষিফসল ধান ও পাট মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- খরার প্রকোপে শাকসবজি, তামাক, কলা, অন্যান্য শস্যের ফলন দারুণভাবে ব্যাহত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৬.
বজ্রপাত প্রধানত বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ঘটে?
  1. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৭.
কোন কারণে বায়ু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) স্বল্প আর্দ্রতার কারণে
  2. খ) বায়ুর গতিপথে পর্বতের অবস্থান
  3. গ) বায়ু তাপ ও চাপের পার্থক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বায়ু তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৮৩৮.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের মানুষ জলবায়ু শরণার্থী হিসেবে প্রথম আক্রান্ত হবে?
  1. খরাপ্রবণ অঞ্চলের
  2. উপকূলীয় অঞ্চলের
  3. পাহাড়ি অঞ্চলের
  4. সোপান অঞ্চলের
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর সরাসরি ভাগ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
- এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠলে আবহাওয়ার প্রকৃতিই বদলে যাবে।
- সময়ে অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের শিকার হয়ে ফসল ডুবে যাবে, দুষিত হবে সুপেয় পানি ও লোনা পানি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা হ্রাস পাবে। 
- একই দেশের মানুষ অন্য অঞ্চলে হবে জলবায়ু শরণার্থী (Climate refugee)। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের মানুষ হবে প্রথম শিকার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৩৯.
‘আম্পান’ কোন দেশের দেওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম?
  1. ক) মালদ্বীপ
  2. খ) মিয়ানমার
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ১৬৯টি নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা(ডব্লিউএমও)। এই অঞ্চলে বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) ১৩টি দেশ নামগুলো দিয়েছে। আরএসএমসির সদস্য রয়েছে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ। বাকি ১২টি দেশ হলো ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। আরব ও বঙ্গোপসাগরে এখন যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে অর্থাৎ, ৬৪ নম্বর ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘আমপান’। এটি থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম। ১৬৯টি নতুন ঘূর্ণিঝড়ের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নামগুলো হলো: নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরবর, মহানিশা। সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা।
৮৪০.
IPCC এর তথ্য অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত বাড়বে?
  1. ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস
  2. ২.১ -৭.৪° সেলসিয়াস
  3. ১.৫-৬.৯° সেলসিয়াস
  4. ১.৮-৬.৮° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
- জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ১৯৮৮ সালে গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- বিগত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭৪° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- অন্যদিকে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল বিলুপ্ত হবে। যা উদ্ভিদ ও প্রাণির বসবাসের অনুকূল পরিবেশে সরাসরি আঘাত হানার মধ্য দিয়ে ধ্বংস সাধন করবে।   

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪১.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয় কোনটি?
  1. বায়ুর তাপ
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সবগুলোই উপাদান
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু: 
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা ও বারিপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৪২.
নিচের কোনটি অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব?
  1. কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়
  2. অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়
  3. উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা (Drought): 
- দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে।
- অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়।
- সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব (Rainless or Impact of Drought): 
• আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়, 
• খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, 
• উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়, 
• প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে, 
• পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে, 
• অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৪৩.
বায়ুর আর্দ্রতা কিভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. বায়ুর তাপমাত্রা এবং চাপের উপর
  2. বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার উপর
  3. বায়ুর আর্দ্রতার প্রকারের উপর
  4. বায়ুর গতি এবং তাপমাত্রার উপর
ব্যাখ্যা
⇒ বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার উপর বায়ুর আর্দ্রতা নির্ধারিত হয়।

বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity):
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না। বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। যথা-
• পরম আর্দ্রতা।
• আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৪.
বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ২৮.০১°
  2. খ) ২৬.০১°
  3. গ) ২৮.০৭°
  4. ঘ) ২৬.০৭°
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।
- জানুয়ারি মাসে গড় তাপমাত্রা থাকে ১৭.৭° সেলসিয়াস।
- ডিসেম্বরের শেষে এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা থাকে ৪-৭° সেলসিয়াস।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৫.
আমাজন নদীর অববাহিকা কোন জলবায়ুর অন্তর্গত?
  1. ভূ-মধ্যসাগরীয়
  2. মহাদেশীয়
  3. নিরক্ষীয়
  4. মৌসুমি
ব্যাখ্যা

নিরক্ষীয় জলবায়ু:
পৃথিবীর জলবায়ুর পাথর্য্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।
অবস্থান ও দেশসমূহ : নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত। এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৬.
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশ কোনটি?
  1. আলবেনিয়া
  2. পর্তুগাল
  3. লেবানন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০০-৪৫০ অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রিস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০০- ২৮০ সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৭.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এদের জলবায়ু ভিন্নতার কারণ কী?
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্বের তারতম্য
  2. বায়ুপ্রবাহে ভিন্নতা
  3. উচ্চতার তারতম্য
  4. বনভূমির অবস্থানের তারতম্য
ব্যাখ্যা
• উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
- উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৮.
বাংলাদেশের আয়তনের কত শতাংশ এলাকা জুড়ে বনভূমি অবস্থিত?
  1. ক) ১০%
  2. খ) ১৩%
  3. গ) ১৭%
  4. ঘ) ২৩%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আয়তনের ১৭% এলাকা জুড়ে বনভূমি অবস্থিত।
বন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ লক্ষ ৭৬ হাজার হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭%।
বর্তমানে দেশের মোট আয়তনের মোট ১৩.২৮% এলাকা বৃক্ষাচ্ছাদিত।
উৎসঃ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়
৮৪৯.
জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলোর গতি সম্পর্কিত কতটি মৌলিক সূত্র উপস্থাপন করেন?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়। যথা

• প্রথম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র):
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং LIVE MCQ লেকচার।
৮৫০.
মৌসুমি জলবায়ুতে বায়ুপ্রবাহ কোন সূত্র অনুযায়ী হয়?
  1. ওয়েবারের তত্ত
  2. ফেরেলের সূত্র
  3. কোপেনের থিওরি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য: 
- মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অধিক গরম ও শীতকালে শীত পড়ে।
- জুলাই মাস সবচেয়ে বেশি গরম ও জানুয়ারি মাসে বেশি শীত পড়ে।
- গ্রীষ্মকাল আর্দ্র ও শীতকাল শুষ্ক এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা গড়ে ২৭° সে. এর বেশি থাকে এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ১০ সে. থেকে ২২° সে. এর মধ্যে থাকে।
- শীত ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রার পার্থক্য ৫০ সে. থেকে ১০০ সে. হয়।
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়।
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়।
- কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫১.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টিকারী জলবায়ুগত উপাদানগুলোর মধ্যে পড়ে?
  1. মাটির লবণাক্ততা
  2. বন্যা বা জলাবদ্ধতা 
  3. মাটিতে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি
  4. বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা

• প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টিকারী জলবায়ুগত উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- বন্যা বা জলাবদ্ধতা।
- অনাবৃষ্টি বা খরা।
- উচ্চতাপ।
- নিম্নতাপ।

• আর পরিবেশগত উপাদানের মধ্যে রয়েছে-
- মাটির লবণাক্ততা।
- মাটিতে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি।
- বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৮৫২.
নিচের কোন দ্রব্যের ব্যবহার বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়কে প্রভাবিত করে?
  1. রেফ্রিজারেটর
  2. প্লাস্টিক
  3. ফোম
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ:  
• বায়ুর মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। 
• এছাড়া বায়ুতে সামান্য পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড আছে।
• আরও আছে জলীয় বাষ্প ও ওজোন গ্যাস।
• বায়ুমণ্ডলের এই গৌণ গ্যাসগুলোকেই গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়।
♣♣
• প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এসব গ্যাস ছাড়াও মনুষ্য সৃষ্ট সিএফসি (ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন), এইচসিএফসি (হাইড্রো ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন), হ্যালন ইত্যাদিও গ্রিনহাউস গ্যাস।
 • এই গ্যাসগুলোর মধ্যে গত এক শতাব্দীতে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই- অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে শতকরা ২৫ ভাগ।
• একইভাবে নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ শতকরা ১৯ ভাগ; 
• এবং মিথেনের পরিমাণ ১০০ ভাগ বেড়েছে।
• যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। এছাড়া অন্যান্য কারণও রয়েছে। 
♣♣
• আমরা যেসব দ্রব্য ব্যবহার করি, যেমন: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, প্লাস্টিক, ফোম, এরোসল প্রভৃতির ফলেও বায়ুমণ্ডলে উৎপন্ন হচ্ছে এক ধরনের প্রিনহাউস গ্যাস (এইচসিএফসি)।
এই গ্যাসের কারণে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
• বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তর হচ্ছে ওজোন স্তর, যা ২০ কি. মি. পর্যন্ত বিস্তৃত।
• ওজোন দ্বার সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগতকে রক্ষা করে।
• ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণে ভূপৃষ্ঠে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব শতকরা পাঁচ ভাগ বৃদ্ধি পেরেছে।
• এটাও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণ। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৮৫৩.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে অবস্থিত স্থান কোনটি?
  1. ক) জায়গীর জোত
  2. খ) ছেঁড়া দ্বীপ
  3. গ) মনাকষা
  4. ঘ) আখানইঠং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগ­ঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে- বান্দরবান(জেলা), থানচি(উপজেলা), আখানইঠং(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে- কক্সবাজার(জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন(ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে- পঞ্চগড়(জেলা), তেতুলিয়া(উপজেলা), বাংলাবান্ধা(ইউনিয়ন), জায়গীর জোত(স্থান)।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৫৪.
চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে কী ব্যবহৃত হয়?
  1. সুন্দরবনের গেওয়া গাছের পাতা
  2. সুন্দরবনের গোলপাতা
  3. সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল
  4. গর্জন, সেগুন ও চাপালিশ গাছের বাকল
ব্যাখ্যা
• চামড়া শিল্প:
- সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও -
বাঘ, হরিণ, গুইসাপ, অজগর সাপ প্রভৃতি প্রাণীর চামড়াও শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে -
• কাগজ শিল্প:
- রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিংক]
৮৫৫.
নিচের কোনটি মৌসুমি বায়ুর প্রধান সৃষ্টির কারণ? 
  1. আহ্নিক গতি
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. সূর্যের উত্তর আয়ন ও বায়ুচাপ
  4. নিয়ত বায়ুর প্রভাব
ব্যাখ্যা

• মৌসুমি বায়ু এবং ঋতু পরিবর্তন:
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে ও সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে মৌসুমি বায়ু সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- এই তারতম্যের কারণে মৌসুমি বায়ু সৃষ্টি হয়, যা বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বত্র মৌসুমি বায়ু দ্বারা বৃষ্টিপাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে শৈলৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়?
  1. খুলনা
  2. সিলেট
  3. রংপুর
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
-মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
এই ৪টি প্রকার হলো:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত 
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত 
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং 
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: 
-জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি।
৮৫৭.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকাল অথবা সন্ধ্যায় কোন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) শৈলোৎক্ষেপ
  2. খ) ঘূর্ণি
  3. গ) পরিচলন
  4. ঘ) বিক্ষেপণ
ব্যাখ্যা
দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial Region) স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে।
ফলে জলীয়বাষ্পপূর্ণ এই হালকা বায়ু উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে ঝরে পড়ে।
তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকাল অথবা সন্ধ্যায় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৮৫৮.
ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলে-
  1. শৈতপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা
  2. ঝড়ের পূর্বাভাস
  3. বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
  4. ভালো আবহাওয়ার ইঙ্গিত
ব্যাখ্যা
ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতার উপর আবহাওয়ার সম্ভাব্য ঘটনা:
ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলে - ভালো আবহাওয়ার ইঙ্গিত।
কমলে - বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
হঠাৎ কমে গেলে - ঝড়ের পূর্বাভাস।

উৎস:
পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৯.
বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা-
  1. ক) জয়পুরহাট
  2. খ) সিলেট
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) বগুড়া
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি,
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল,
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী,
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট,
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৬০.
বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান -
  1. লালপুর, নাটোর
  2. সিংড়া, নাটোর
  3. লালাখাল, সিলেট
  4.  পুঠিয়া, রাজশাহী
ব্যাখ্যা

• লালপুর:
- নাটোর জেলা গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু এলাকায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশের চরমভাবাপন্ন এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- আয়তনের দিক থেকে নাটোর জেলার ৩য় বৃহত্তম উপজেলা।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত।
- লালপুর বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান।
- গ্রীষ্মকালে মাঝে মাঝে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ও শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড রেকর্ড হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৬১.
উঁচু মেঘের উচ্চতা সাধারণত কত মিটার উচ্চতায় উৎপন্ন হয়?
  1. ক) ১,০০০ মিটার হতে ২,০০০ মিটার
  2. খ) ২,০০০ মিটার হতে ৪,০০০ মিটার
  3. গ) ৪,০০০ মিটার হতে ৬,০০০ মিটার
  4. ঘ) ৬,০০০ মিটার হতে ১২,০০০ মিটার
ব্যাখ্যা
• বায়ুতে ভাসমান জলীয়বাষ্প কোনো কারণে শীতল হলে অতিক্ষুদ্র পানিকণা ও তুষার কণায় পরিণত হয়ে বায়ুমন্ডলের সূক্ষ্ম ধূলিকণায় আশ্রয় নিয়ে ভেসে বেড়ায় । বাতাসে ভাসমান এরূপ ছোট ছোট পানিকণা বা তুষারকণাকে মেঘ বলে।

মেঘের প্রকারভেদ (Types of Couds): উচ্চতা অনুসারে মেঘকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা—
ক. উঁচু মেঘ (High Cloud): উঁচু মেঘের উচ্চতা সাধারণত ৬,০০০ মিটার হতে ১২,০০০ মিটার ।
খ. মধ্যম উঁচু মেঘ (Medium High Cloud): এ মেঘ ২,০০০ হতে মিটার ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় উৎপন্ন হয়।
গ. নিচু আকাশের মেঘ (Low Cloud): ভূ-পৃষ্ঠের নিকটবর্তী অঞ্চলে ২,০০০ মিটারের মধ্যে এ জাতীয় মেঘ গঠিত হয়। এটি অপেক্ষাকৃত ভারী বলে আকাশের নিচে ভেসে বেড়ায়।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬২.
'বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি' সাধারণত কোন অঞ্চলে দেখা যায়?
  1. মধ্য ইউরোপে
  2. মেরু অঞ্চলে
  3. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
  4. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে।
- বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়।
- ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।
- এ প্রকার বৃষ্টিপাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৩.
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ০.০৩%
  2. ০.০১%
  3. ০.৪১%
  4. .০২%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ ০.০৩%।
- বায়ুমণ্ডল এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- সবচেয়ে বেশী রয়েছে নাইট্রোজেন। যা ৭৮.০২%।
- সবচেয়ে কম ধূলিকণা ও কনিকা। যা ০.০১%।
- জলীয় বাষ্প রয়েছে- ০.৪১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬৪.
জোয়ারের কত সময় পর ভাটা সংঘটিত হয়?
  1. ক) ৮ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  2. খ) ৫ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  3. গ) ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
  4. ঘ) ৭ ঘন্টা ১৩ মিনিট
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা
• সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং এক স্থানে নেমে যায়। পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
• এক স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
• উপকূলে কোন একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়।
• উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
• সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলো স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাটা অধিক হয়। সাধারণত সমুদ্রের মধ্যভাগ অপেক্ষা উপকূলের কাছে অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা অধিক থাকে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৫.
জলবায়ু অঞ্চলকে কিসের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়?
  1.  নদী ও পাহাড়
  2. জনসংখ্যা ও ভাষা
  3. তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত
  4. মাটি ও উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

জলবায়ু অঞ্চল :
- যেসব এলাকার আবহাওয়ার উপাদান যেমন তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুচাপ ও আর্দ্রতা প্রায় একই রকম থাকে, সেগুলোকে একত্রে একটি জলবায়ু অঞ্চল বলা হয়।
- এটি নির্দিষ্ট এলাকার বহু বছরের গড় বা সামগ্রিক আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় এবং
- এককালীন আবহাওয়ার অবস্থার থেকে আলাদা হয়।
- জলবায়ু অঞ্চলকে সাধারণত চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: 
- গ্রীষ্মমণ্ডলীয়,
- শুষ্ক,
- নাতিশীতোষ্ণ এবং
- মেরু জলবায়ু।
- এই ভাগ করার পদ্ধতি তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে শীতলতম মাসিক গড় তাপমাত্রা 18∘C এর উপরে থাকে।
- শুষ্ক জলবায়ুতে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়।
- নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চারটি ঋতু দেখা যায়—শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎ।
- এ অঞ্চলটি হালকা এবং ঠান্ডা মধ্য-অক্ষাংশ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
- মেরু অঞ্চলের জলবায়ু অত্যন্ত ঠান্ডা, এবং অধিকাংশ সময় বরফ বা তুষারে ঢাকা থাকে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৬.
জাতিসংঘ কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে গম উৎপাদন কত শতাংশ কমে যেতে পারে?
  1. ৩২ শতাংশ
  2. ২২ শতাংশ
  3. ২০ শতাংশ
  4. ২৫ শতাংশ
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বোরো ধানের উৎপাদন ১৭ শতাংশ  কমে যেতে পারে।
- এবং গম উৎপাদন ৩২ শতাংশ কমে যেতে পারে।
- পেঁয়াজ, রসুন, আলু এবং অন্যান্য অর্থকরী ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- এর পাশাপাশি মাটির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার কারণে কৃষিকাজের খরচ বাড়ছে। 

উল্লেখ্য,
- দেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর, এবং দেশের ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান এই খাত থেকে আসে।
- তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ফসলের উৎপাদনশীলতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
- বিশেষ করে ধান, যা দেশের প্রধান খাদ্যশস্য এবং কৃষির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত, তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের কারণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

উৎস: পত্রিকার রিপোর্ট। [লিঙ্ক]

৮৬৭.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
  1. ৭২ সে.মি.
  2. ৭৬ সে.মি.
  3. ৮৬ সে.মি.
  4. ৭৬০ সে.মি.
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ: 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ হল নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপরে থাকা সম্পূর্ণ বায়ুর স্তম্ভ দ্বারা প্রতি একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রয়োগ করা বল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপের জন্য পারদ বারোমিটার ব্যবহার করা হয়।
- এটি পারদের একটি স্তম্ভের উচ্চতা দেখায়, যা নির্দিষ্ট অঞ্চলের বায়ুস্তম্ভের ওজনের সমান ভারসাম্য বজায় রাখে।
- এছাড়াও অ্যানেরয়েড ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হয়।
- এতে একটি ফাঁপা ধাতব চাকতি থাকে, যা বায়ুর চাপের পরিবর্তনের সাথে সংকুচিত বা প্রসারিত হয় এবং একটি কলম ও ঘড়ি-চালিত ড্রামের সাহায্যে রেকর্ড করা হয়।

• সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ:
- ৭৬০ মি.মি. বা ৭৬ সে.মি. (২৯.৯২ ইঞ্চি) পারদ
- ১৪.৭০ psi
- ১,০১৩.২৫ × ১০³ ডাইন/বর্গ সেন্টিমিটার
- ১,০১৩.২৫ মিলিবার
- ১ atm
- ১০১.৩২৫ কিলোপ্যাস্কেল

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮৬৮.
দেশে বায়ু দূষণ মনিটরিং-এর জন্য কতটি সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ স্টেশন (CAMS) রয়েছে? [মার্চ, ২০২৫]
  1. ১৬টি
  2. ১৭টি
  3. ১৮টি
  4. ১৯টি
ব্যাখ্যা
বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম:
- সরকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।
- পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ু দূষণ মনিটরিং এর জন্য সারাদেশে ১৬টি সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ স্টেশন (Continuous Air Monitoring Station বা CAMS) ও ১৫টি কমপ্যাক্ট সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ স্টেশনের মাধ্যমে বায়ুমান পরিবীক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
- এ সকল CAMS-এ প্রাপ্ত তথ্য বিশেষণ করে মাসিক প্রতিবেদন ও বায়ুমান সূচক (Air Quality Index বা AQI) প্রকাশ করা হচ্ছে।
- এছাড়া ইটভাটার মাধ্যমে দূষণ হ্রাসের লক্ষ্যে 'ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থান (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩' প্রণয়ন করা হয়েছে।
- শিল্প দূষণ রোধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- অর্থাৎ বিভিন্ন উপায়ে বায়ু দূষণ রোধে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
- এ লক্ষ্যে আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে।

উৎস: i) পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। 
ii) ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৯.
ঋতু পরিবর্তন হয় কোনটির প্রভাবে?
  1. আহ্নিক গতি
  2. বার্ষিক গতি
  3. নিরক্ষরেখা
  4. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গতি (Revolution):
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এই গতিকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে।
- একবার সূর্যকে পূর্ণ পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। একে সৌরবছর বলে। 

বার্ষিক গতির ফল:
(১) দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
(২) ঋতু পরিবর্তন।

⇒ ঋতু পরিবর্তন:
- তাপমাত্রার পার্থক্য অনুসারে সারাবছরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়, এ প্রতিটি ভাগকে এক একটি ঋতু বলে।
- তাপমাত্রার পার্থক্য অনুসারে সারাবছরকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো- গ্রীষ্মকাল, শরৎকাল, শীতকাল ও বসন্তকাল।
- আমরা জানি, সমগ্র পৃথিবীকে দুটো গোলার্ধে ভাগ করা হয়েছে।
- নিরক্ষরেখার উপরের দিকের অংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং নিচের দিকের অংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ ধরা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্মকাল, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীতকাল।
- আবার উত্তর গোলার্ধে যখন শীতকাল, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মকাল।
- তেমনি উত্তর গোলার্ধে যখন বসন্তকাল, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শরৎকাল।
- আবার উত্তর গোলার্ধে যখন শরৎকাল, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন বসন্তকাল।-
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান উত্তর গোলার্ধে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭০.
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে-
  1. ১০° - ২৪° সে.
  2. ২০° - ২৮° সে.
  3. ১৫° - ১৭° সে.
  4. ২৫° - ৩৫° সে.
ব্যাখ্যা
• ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরোক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।

• বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০° - ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭১.
কোনটি দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত?
  1. নিরক্ষীয় বিপরীত স্রোত
  2. উত্তর স্রোত
  3. বেঙ্গুয়েলা স্রোত
  4. সুমেরু স্রোত
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত:
- বিষুবরেখা হতে দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের অধিকাংশ স্রোত প্রবাহিত হয়।
- দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোতগুলো নিম্নে দেওয়া হলো:

→ কুমেরু স্রোত বা পশ্চিমা স্রোত।
→ বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
→ দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত।
→ ফকল্যান্ড স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭২.
ঋতু আশ্রয়ী বায়ু কোনটি?
  1. মৌসুমি বায়ু
  2. স্থানীয় বায়ু
  3. ভূমধ্যসাগরীয় বায়ু
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ঋতু আশ্রয়ী বায়ু: 
- ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে দিক পরিবর্তন করে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে বলে ঋতু আশ্রয়ী বায়ু।
- এর মধ্যে রয়েছে মৌসুমি বায়ু। আরও রয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় বায়ু।

স্থানীয় বায়ু (Local Wind):
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কিংবা তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের স্থানে স্থানে স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়।
- রকি পর্বতের চিনুক (Chinook), ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল (Mistral), আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু (Pampero), আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা (Bora), উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো (Sirocco), আরব মালভূমির সাইমুম (Simoom), মিসরের খামসিন (Khamsin) ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু (Loo) কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৭৩.
নিম্নের কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. বায়ুর আর্দ্রতা
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. বৃষ্টিপাত
  4. বায়ুর উষ্ণতা
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তর বা ট্রপোমন্ডলের সামগ্রিক অবস্থা।

⇒ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো -
- বায়ুর তাপ/উষ্ণতা,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ুর আর্দ্রতা ও
- বারিপাত।

এছাড়া,
- সমুদ্রস্রোত আবহাওয়ার বা জলবায়ুর উপাদান নয় এটি জলবায়ুর নিয়ামক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৪.
কোন সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়?
  1. ক) Permanent Court of Arbitration
  2. খ) International Court of Justice
  3. গ) International Tribunal for the Law of the Sea
  4. ঘ) Permanent Court of Justice
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলার রায় হয় ২০১২ সালের ১৪ মার্চ।
- জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) এ সমুদ্রসীমা বিষয়ক এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
- এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ লাভ করে ১,১১,৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা।

৮৭৫.
পরিবেশ রক্ষাকারী জাতিসংঘের সংগঠন কোনটি?
  1. ক) UNICEF
  2. খ) UNEP
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) UNESCO
ব্যাখ্যা
• UNEP:
- জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা (UNEP)
- UNEP-এর পূর্ণরুপ- United Nations Environment Programme 
- (UNEP) হল বিশ্বব্যাপী পরিবেশগত এজেন্ডা নির্ধারণকারী সংস্থা যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের পরিবেশগত মাত্রা বাস্তবায়নের প্রচার করে।
- সদর দপ্তর- নাইরোবি, কেনিয়া।

- প্রতিষ্ঠা লাভ করে- ৫ জুন, ১৯৭২ সালে।
- সদস্য রাষ্ট্র- ১৯৩ টি।
- বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়-৫ জুন।
- UNEP পরিবেশগত মাইলফলকের  ৫০ তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে- ২০২২ সালে।
- (UNEP) এর নির্বাহী পরিচালক- ইঙ্গার অ্যান্ডারসন।

তথ্যসূত্র: অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (UNEP)
৮৭৬.
নিচের কোনটি নিয়ত বায়ুপ্রবাহ?
  1. স্থলবায়ু
  2. সমুদ্র বায়ু
  3. পার্বত্য বায়ু
  4. অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্র বায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৭.
কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. উষ্ণতা
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ুর তাপ
  4. পর্বতের অবস্থান
ব্যাখ্যা

• আবহাওয়া ও জলবায়ু:
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তর বা ট্রপোমন্ডলের সামগ্রিক অবস্থা।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো-
- বায়ুর তাপ/উষ্ণতা,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ুর আর্দ্রতা ও
- বারিপাত।

- পর্বতের অবস্থান জলবায়ুর উপাদান নয় এটি জলবায়ুর নিয়ামক।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৭৮.
বাংলাদেশের সবচেয়ে উষ্ণতম ঋতু কোনটি?
  1. বর্ষাকাল
  2. গ্রীষ্মকাল
  3. শীতকাল
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু হিসেবে পরিচিত।

• গ্রীষ্মকাল:
- বাংলাদেশে মার্চ হতে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল।
- এ ঋতুতে সূর্যের উত্তরায়নের ফলে উত্তাপের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- দেশের দক্ষিণাঞ্চল হতে উত্তরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪°সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১°সেলসিয়াস।
- এপ্রিল উষ্ণতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৯.
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত প্রধানত কোন সময় ঘটে?
  1. জানুয়ারি–মার্চ
  2. এপ্রিল–মে
  3. জুন–অক্টোবর
  4. নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজমান।
- তবে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব থাকায় এদেশের সামগ্রিক জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমিন জলবায়ু বলা হয়।
-  শীতকালে তাপমাত্রা ৭০ সেলসিয়াস পর্যন্ত নামে অপর দিকে গ্রীস্মকালে কখনও কখনও তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াসের উপরেও উঠে।
- কিন্তু বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কম বেশী ২৪° সেলসিয়াস।
- কিন্তু গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- শীত ও গ্রীষ্মের উত্তাপের পার্থক্য খুবই কম। এ মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৭° সেলিসিয়াসের কাছাকাছি।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেট অঞ্চলে।
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস শীত কাল বলে পরিচিত। জানুয়ারী হচ্ছে সবচেয়ে শীতল মাস।

উৎস: ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮০.
মেরু জলবায়ু মূলত কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
মেরু জলবায়ুসমূহ:
- এ জলবায়ুতে বছরের বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা হিমাংকের নিচে থাকে।
- ফলে উদ্ভিজ্জের জন্ম ও বৃদ্ধির জন্য গ্রীষ্মকালের স্থায়িত্ব ও উত্তাপের প্রাচুর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- উষ্ণতম মাসের গড় তাপমাত্রা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু মূলত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা-
১. তুন্দ্রা অঞ্চল।
২. চিরস্থায়ী বরফের আচ্ছাদনজনিত জলবায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮১.
পরিচলন বৃষ্টি হয় -
  1. ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  2. খ) দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকায়
  3. গ) আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকায়
  4. ঘ) সবগুলোতে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর পরিচলন বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। এছাড়া আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকা, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলে প্রায় প্রত্যহ পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৮৮২.
গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা প্রায় কত ডিগ্রী সেলসিয়াস?
  1. ২৪° সেলসিয়াস
  2. ২৮° সেলসিয়াস 
  3. ৩০° সেলসিয়াস
  4. ৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজমান।
- তবে বিভিন্ন ঋতুর আবির্ভাব থাকায় এদেশের সামগ্রিক জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমিন জলবায়ু বলা হয়।
-  শীতকালে তাপমাত্রা ৭০ সেলসিয়াস পর্যন্ত নামে অপর দিকে গ্রীস্মকালে কখনও কখনও তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াসের উপরেও উঠে।
- কিন্তু বার্ষিক গড় তাপমাত্রা কম বেশী ২৪° সেলসিয়াস।
- কিন্তু গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮° সেলসিয়াস।
- শীত ও গ্রীষ্মের উত্তাপের পার্থক্য খুবই কম। এ মাসের গড় তাপমাত্রা থাকে ১৭° সেলিসিয়াসের কাছাকাছি।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেট অঞ্চলে।
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস শীত কাল বলে পরিচিত। জানুয়ারী হচ্ছে সবচেয়ে শীতল মাস।

উৎস: ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৩.
ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা কোনটি?
  1. ক) আইসোথার্ম
  2. খ) আইসোহাইট
  3. গ) আইসোহেলাইন
  4. ঘ) আইসোবার
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখাকে আইসোহাইট বলা হয়।

অন্যদিকে:
- সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখাকে আইসোথার্ম বলা হয়।
- সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা আইসোহেলাইন নামে পরিচিত।
- ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখাকে আইসোবার বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ব. এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট)
৮৮৪.
বিচূর্ণীভবনের প্রভাবক কোনটি?
  1. তাপ ও তাপমাত্রা
  2. মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  3. বৃষ্টিপাত
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বিচূর্ণীভবন:
- বিচূর্ণীভবনের প্রভাবকসমূহ হলো তাপ ও তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গ, নদীর প্রভাব, বায়ু, হিমবাহ ও তুষারের কার্য ইত্যাদি।
- বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে বিচূর্ণীভবন বা আবহবিকারকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- রাসায়নিক, যান্ত্রিক ও জৈবিক বিচূর্ণীভবন। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৫.
বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টর কোনটি?
  1. শিল্প
  2. কৃষি
  3. শিক্ষা
  4. যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

দেশের পরিবেশ ও উৎপাদন প্রেক্ষাপটসমূহ বিবেচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ খাত হচ্ছে কৃষি খাত।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশে বিভিন্ন রকম বিরূপ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে; যেমন-
১। গ্রীষ্মকালে অতি উচ্চ তাপমাত্রা
২। অনিয়মিত ও অসময়ে বৃষ্টিপাত
৩। অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টি এবং তার ফলে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস
৪। শুষ্ক মৌসুমে কম বৃষ্টিপাত
৫। বন্যার ভয়াবহতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি
৬। আকস্মিক বন্যা ও খরার ফলে ফসলহানি
৭। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও গরম
৮। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমির পরিমাণ বৃদ্ধি ও ভূমিক্ষয়
৯। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি
১০। কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৮৮৬.
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, গ্রিনহাউস প্রভাব কোন দেশে সাফল্য বয়ে আনবে?
  1. বাংলাদেশ
  2. মালদ্বীপ
  3. ফিনল্যান্ড
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কয়েকটি দেশে যথা- কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ আমেরিকা প্রভৃতি দেশগুলোর জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
- এসব অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে, এটা তাদের জন্য একটি সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
- তবে বিপরীতভাবে, এই পরিবর্তন পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
- বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উপকূলবর্তী বহু দেশে ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের অনেক বিখ্যাত উপকূলবর্তী শহর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
- ফলে জলবায়ু পরিবর্তন একদিকে কিছু দেশের জন্য উপকার আনলেও, অধিকাংশ দেশের জন্য এটি গুরুতর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৮৭.
বায়ুমন্ডলে ওজোন গ্যাস এর পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.০০১
  2. খ) ০.০০০১
  3. গ) .০.০০৩
  4. ঘ) .০০০৩
ব্যাখ্যা

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৮.
জলবায়ুর পরিবর্তনে হালদা নদীর ব্রুডমাছের ডিমের কী হচ্ছে?
  1. ডিমের পরিপক্বতা পিছিয়ে যাচ্ছে
  2. ডিমের পরিপক্বতা এগিয়ে আসছে
  3. ডিম সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে
  4. ডিম নিষিক্ত হচ্ছে না
ব্যাখ্যা

অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে প্রভাব:
১) কম বৃষ্টিপাতের ফলে নদীতে কম পানি হচ্ছে ফলে অল্প পানিতে সহজেই মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে ছোট-বড়, প্রজননক্ষম সব মাছ ধরা পড়ছে। ফলে নদীতে মাছের জীববৈচিত্র্য ও স্থায়ী উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

২) তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে ফলে লবণাক্ততা ঢুকে পড়ছে মূল ভূ-খণ্ডের দিকে। এতে করে উপকূলীয় এলাকার স্বাদুপানির মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। সেই সাথে কমে যাচ্ছে উৎপাদনও।

৩) আমাদের দেশে বিল, বাঁওড়, প্লাবন ভূমিতে এপ্রিল-মে মাস হচ্ছে দেশীয় জাতের ছোট মাছের প্রজননকাল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বা কম হওয়ার কারণে জুলাই মাস পর্যন্তও এসব জলাশয়ে পানি হচ্ছে না। ফলে এসব মাছের প্রজনন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে সমগ্র মৎস্য উৎপাদনে এবং যারা মাছ আহরণ করে তাদের পুষ্টি ও জীবীকার ক্ষেত্রে।

৪) আমাদের দেশে একমাত্র হালদা নদীতে প্রাকৃতিকভাবে রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে। বৈশাখ মাসে প্রচণ্ড গরমের পর ভারী বৃষ্টি শুরু হলে এরা ডিম ছাড়ে। তখন নদী থেকে জেলেরা নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে এবং এই ডিম ফুটিয়ে পোনা উৎপাদন করে। জলবায়ুর পরিবর্তনে তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে ব্রুডমাছের ডিমের পরিপক্বতা এগিয়ে আসছে। অন্যদিকে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সময় দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে করে মাছের শারীরবৃত্তীয় অবস্থার সাথে বৃষ্টিপাতের সময়ের অমিল হচ্ছে। ফলে ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৮৮৯.
ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) ২০° সেলসিয়াস
  2. খ) ২৫° সেলসিয়াস
  3. গ) ৩০° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে অভ্যন্তরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত প্রথম স্তরকে অশ্মমন্ডল বলে। অশ্মমন্ডলের উপরের অংশ ভূত্বক নামে পরিচিত। এর পুরুত্ব সবচেয়ে কম, গড়ে ২০ কিলোমিটার। ভূ-কম্পন তরঙ্গ থেকে জানা যায় যে, এ স্তরটি মূলত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম উপাদান দিয়ে গঠিত যা সিয়াল নামে পরিচিত। ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অশ্বমন্ডলের নিচে গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল নামে আরো দুটি প্রধান স্তর রয়েছে। সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৯০.
Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৮০ সালে বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় কত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে?
  1. ১৫ সেন্টিমিটার 
  2. ২৫ সেন্টিমিটার
  3. ৪০ সেন্টিমিটার
  4. ৫০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল প্রভাবগুলোর কারণে ও সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি বড় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা নাজুক হয়ে ওঠেছে। 
- এটি দুই কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে। 
-  International Centre for Climate Change and Development, 2020 অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে
- এখানকার ৬০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে মাত্র ৫ মিটার উপরে। 
- 'Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০৮০ সালে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে।  
- ফলশ্রুতিতে, অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি এবং জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হবে। সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ঝড় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতেও থাকবে।
- 'Inter-governmental Panel on Climate Change (IPCC)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের ভূমির ১৭ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হারিয়ে যাবে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ও বাংলা ট্রিবিউন। 

৮৯১.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ক) জাপান
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) ফিলিপাইন
  4. ঘ) ব্রুনাই
ব্যাখ্যা
 নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় - জাপান।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
-  সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।

- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯২.
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় -
  1. লালাখালে
  2. মংলায়
  3. লালপুরে
  4. রুমায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত:
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অঞ্চলে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়।
- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।

উল্লেখ্য,
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৩.
গ্রীন হাউস গ্যাসের কোন গ্যাস বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে না?
  1. ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. খ) মিথেন
  3. গ) সিএফসি
  4. ঘ) নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ গ্যাস
- যেসব গ্যাস ‍ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে তাদের ‘গ্রিনহাউজ গ্যাস’ বলা হয়।

গ্রিনহাউজ গ্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- কার্বন ডাই-অক্সাইড
- মিথেন
- জলীয়বাষ্প
- নাইট্রাস অক্সাইড
- ওজোন
- হ্যালোকার্বন জাতীয় গ্যাস প্রভৃতি।

নাসার ওয়েবসাইট অনুসারে, 'The CFCs that destroy ozone are also potent greenhouse gases, though they are present in such small concentrations in the atmosphere (several hundred parts per trillion, compared to several hundred parts per million for carbon dioxide) that they are considered a minor player in greenhouse warming.'

• বায়ুমণ্ডলে সিএফসি ছাড়া কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন এবং নাইট্রাস অক্সাইড নির্গমনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপশন অনুসারে সিএফসি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর।

সূত্র:
১. United States Environmental Protection Agency [Link]
২. নাসা [Link]
৩. এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা [Link]
৮৯৪.
বায়ুর বিশেষ ধর্ম সংক্রান্ত কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু বিশুদ্ধ বায়ু অপেক্ষা লঘু
  2. খ) উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ু অপেক্ষা বেশি জলীয়বাষ্প গ্রহণ করতে পারে
  3. গ) ধূলিকণাপূর্ণ বায়ুর তাপ ধারণ ক্ষমতা বিশুদ্ধ বায়ু অপেক্ষা অনেক কম
  4. ঘ) বায়ু উষ্ণ হলে প্রসারিত ও হালকা হয় এবং শীতল হলে সংকুচিত ও ভারী হয়
ব্যাখ্যা
ধূলিকণাপূর্ণ বায়ুর তাপ ধারণ ক্ষমতা বিশুদ্ধ বায়ু অপেক্ষা অনেক বেশি। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৮৯৫.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর সবচেয়ে শীতল?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. থার্মোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
মেসোমণ্ডল: 
- বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতল স্তর হলো মেসোমণ্ডল (Mesosphere)।
- এই স্তরটি স্ট্রাটোবিরতির উপরে শুরু হয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মেসোমণ্ডলে উচ্চতা যত বাড়ে, তাপমাত্রা ততই কমে।
- এই স্তরে তাপমাত্রা প্রায় -৮৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যা বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য স্তরের তুলনায় সর্বনিম্ন।
- এজন্য মেসোমণ্ডলকে বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতল স্তর বলা হয়।
- এখানেই মহাকাশ থেকে ছুটে আসা উল্কাগুলো বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে পুড়ে যায় এবং পৃথিবীতে পড়ার আগেই ধ্বংস হয়।
- এই স্তরের উপরের সীমাকে মেসোবিরতি (Mesopause) বলা হয়।
- মেসোমণ্ডলের এই অতিশীতল পরিবেশ জীবজগৎকে মহাজাগতিক বস্তু থেকে রক্ষা করে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৬.
আগত সৌর শক্তির কত শতাংশ বায়ুমণ্ডল ভেদ করতে পারে?
  1. ক) ৭১ শতাংশ
  2. খ) ২৩ শতাংশ
  3. গ) ৪৮ শতাংশ
  4. ঘ) ২৯ শতাংশ
ব্যাখ্যা
আগত সৌর শক্তির প্রায় ২৩ শতাংশ বায়ুমণ্ডলে থাকা জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা এবং ওজোন শোষণ করে নেয়  এবং 
৪৮ শতাংশ বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যায় এবং ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে। 
অর্থাৎ, মোট আগত সৌর শক্তির প্রায় ৭১ শতাংশ পৃথিবী সিস্টেম দ্বারা শোষিত হয়। 
বাকি ২৯ শতাংশ বায়ুমণ্ডলে প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে ফিরে যায়। 
 
উৎস: earthobservatory.nasa.gov/
৮৯৭.
ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয় কী সুত্র অনুযায়ী?
  1. প্যাসকেলের সূত্র
  2. কেপলারের সূত্র
  3. চার্লসের সূত্র
  4. ফেরেলের সূত্র
ব্যাখ্যা
• বায়ুপ্রবাহ (Movement of Wind):
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।

বায়ুপ্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়।
১। নিম্নচাপমণ্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হলে বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়।
এ কারণে উচ্চচাপমণ্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সর্বদা নিম্নচাপমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়।

২। পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
এ উভয় কারণে ঘূর্ণায়মান পৃথিবীপৃষ্ঠে গতিশীল পদার্থ (যেমন- বায়ুপ্রবাহ ও জলস্রোত) সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের দিক নিয়ন্ত্রিত হয়।

• বায়ুপ্রবাহ বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
যেমন-
নিয়ত বায়ু, সমুদ্র ও স্থলবায়ু ও মৌসুমি বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৮৯৮.
২৮তম জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (COP-28) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. মিশর
  2. সংযুক্ত আবর আমিরাত
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ইন্দোনশিয়া
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৮: 
- ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে ২৮তম জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন বা কপ-২৮ অনুষ্ঠিত হবে।
- স্থান- আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- সর্বশেষ সম্মেলন কপ-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে শারম আল শেখ, মিশর। 
- প্রথম জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় জার্মানির বার্লিনে ১৯৯৫ সালে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
৮৯৯.
ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহের দিকের বিচ্যুতি ঘটে নিচের কোন বলটির প্রভাবে?
  1. নিয়ত বল
  2. কোরিওলিস বল
  3. কেন্দ্রাতিক বল
  4. কেন্দ্রবিমুখী বল
ব্যাখ্যা
ফেরেলের সূত্র, বায়ুপ্রবাহের দিক ও কোরিওলিস বল
- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- তবে এই প্রবাহ সোজাসুজি প্রবাহিত না হয়ে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বেঁকে যায়।

- ফেরেলের সূত্র : কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয় ।

- কোরিওলিস বল : পৃথিবীর পৃষ্ঠের সাপেক্ষে একটি সরল পথে চলমান বস্তুর (যেমন বিমান, বায়ু, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সমুদ্রের স্রোত) আপাত বিচ্যুতিকে বোঝায়। এর শক্তি বিভিন্ন অক্ষাংশে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতির সমানুপাতিক।

উল্লেখ্য,
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত ৪ প্রকার। যথা -
১. নিয়ত বায়ু,
২. সাময়িক বায়ু,
৩. স্থানীয় বায়ু,
৪. অনিয়মিত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।
৯০০.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. বৃষ্টিপাত কম হয়
  2. তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে
  3. চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়
  4. গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়
ব্যাখ্যা

♦ নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর জলবায়ুর পার্থক্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

♦ অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

♦ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
• নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
• দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
• এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয়৷
• অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়৷

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।