বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৪০১৫০০ / ১,০৯৬

৪০১.
যানবাহনের কালো ধোঁয়া পরিবেশকে দূষিত করে-
  1. ক) বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে
  2. খ) বাতাসে ফ্লোরাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে
  3. গ) বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে
  4. ঘ) বাতাসে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা
- গাড়ি, বিভিন্ন যানবাহন, কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা খর্ব করে। যা পরিবেশকে দূষিত করে।
৪০২.
বাংলাদেশের সিলেটের বৃষ্টিপাত কী ধরনের?
  1. শৈলোৎক্ষেপ
  2. ঘূর্ণিবাত
  3. সংঘর্ষ
  4. পরিচলন
ব্যাখ্যা
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৩.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপর কোন নেতিবাচক প্রভাবটি পড়ে?
  1. লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি
  2. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস
  3. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উপর প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপরও বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

১. উপকূলীয় অঞ্চলের জমিতে লবনাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি,
২. কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস,
৩. অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
৪. দেশের উত্তরাংশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা খরায় আক্রান্ত হওয়া,
৫. ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া,
৬. আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া,
৭. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যেমন- অতিরিক্ত লবনাক্ততায় মৎস্য প্রজাতির বিলুপ্তি দেখা যাচ্ছে।
৮. যে হারে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই হারে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় তাহলে প্রায় ১৫% স্থলভাগ হারানোর সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩কোটি) মানুষ ও নানা প্রজাতির জীবজন্তু, সম্পদ প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৯. এদেশের স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো সুন্দরবন, সেখানে প্রাণি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।
১০. বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৪.
কোন সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে পৃথিবীর সর্বাধিক জাহাজ যাতায়াত করে?
  1. ক) দক্ষিণ আটলান্টিক সমুদ্রস্রোতে
  2. খ) ভারত মহাসাগরে
  3. গ) উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রস্রোতে
  4. ঘ) উত্তর মহাসাগরে
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে নৌকা, জাহাজ চলাচল করতে সুবিধা হয়।
- তবে শীতল সমুদ্রস্রাত অপেক্ষা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতে জাহাজ ও নৌচলাচলের সুবিধা সবচেয়ে বেশি।
- উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রস্রোতের অনুকূলে পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক জাহাজ যাতায়াত করে।
- আটলান্টিক মহাসাগরকে প্রায় ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা উত্তর আটলান্টিক ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের বিভক্ত করেছে।
- পৃথিবীর মোট আয়তনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে আটলান্টিক মহাসাগর।
- শীতল স্রোতের গতিপথে তীব্র শীত ও হিমশৈলের জন্য জাহাজ চলাচলের অসুবিধা দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল, নবম দশম শ্রেণি।
৪০৫.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের স্তরসমূহ:
- ভূ-পৃষ্ঠ ও তার আশেপাশে যে বায়বীয় মন্ডল আবর্তিত আছে তাকে বায়ুমন্ডল বলে।
- বায়ুমন্ডল নানাপ্রকার গ্যাসীয় উপাদান, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কনিকা দ্বারা গঠিত।
- মূলত বায়ুমন্ডলের গঠনকারী উপাদানসমূহের প্রকৃতি, উষ্ণতার পার্থক্য অর্থাৎ অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের জন্য বায়ুমন্ডলকে নানা স্তরে ভাগ করা যায়।
- এই সকল স্তর মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে মোট পাঁচটি পর্যায়ে রয়েছে।
- বায়ুমন্ডলের এই স্তরসমূহ হলো: ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।

• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না।
- ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।
- এই স্তরেই বায়ুমন্ডলের আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়।

⇒ এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৬.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কী ধরনের বৃষ্টিপাত হয়?
  1.  শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  2. পরিচলন বৃষ্টি
  3. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  4. ঘূর্ণি বৃষ্টি
ব্যাখ্যা

 • পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):
- দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে।
- এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারাবছর লম্বভাবে পড়ে।
- এ দুটি কারণে এখানকার বায়ুমণ্ডলে সারাবছর জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে।
- জলীয়বাষ্প হালকা বলে সহজেই তা উপরে উঠে গিয়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে করে পড়ে।
- তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর প্রতিদিনই বিকেল অথবা সন্ধ্যার সময় এরূপ বৃষ্টিপাত হয়।

উল্লেখ্য,
বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি অনুসারে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা-
(১) পরিচলন বৃষ্টি,
(২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি,
(৩) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি ও
(৪) ঘূর্ণি বৃষ্টি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪০৭.
নিচের কোনটি আরব মরুভূমিতে প্রবাহিত স্থানীয় বায়ু?
  1. সিরাক্কা
  2. খামসিন
  3. টাইফুন
  4. সাইমুম
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৮.
দিনাজপুরের তাপমাত্রা শিলং এর তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হয় জলবায়ুর কোন নিয়ামকটির কারণে?
  1. ক) সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) বনভূমির অবস্থান
  4. ঘ) সমুদ্র থেকে দূরত্ব
ব্যাখ্যা
সমুদ্র সমতল থেকে যত উপরে উঠা যায়, ততই উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকে। সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়৷
এজন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ার পরেও উচ্চতায় পার্থক্য থাকায় দুই জায়গার একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু সম্পন্ন হয়।
যেমনঃ উচ্চতা বেশি হওয়ায় দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা কম হয়৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৪০৯.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. ক) বন্যভূমি উজাড়
  2. খ) পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
  3. গ) কার্বন নিঃসরণ
  4. ঘ) খনিজ জ্বালানি ব্যবহার
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ

প্রাকৃতিক কারণসমূহ

ক. মহাদেশীয় ড্রিফট
খ. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
গ. পৃথিবীর গতি পরিবর্তন
ঘ. সামুদ্রিক স্রোত ঙ. ঘূর্ণিঝড়

মনুষ্য সৃষ্ট কারণসমূহ

ক. কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি /কার্বন নিঃসরণ 
খ. খনিজ জ্বালানি ব্যবহার 
গ. বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি 
ঘ. পাহাড় নিধন 
ঙ. বন্যভূমি উজাড়

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

৪১০.
নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. ক) অক্ষাংশ - জলবায়ুর একটি নিয়ামক
  2. খ) নিরক্ষরেখার উপর সূর্য সারাবছর তীর্যকভাবে কিরণ দেয়
  3. গ) নিরক্ষরেখা থেকে সূর্য যত দক্ষিণে যায় এর তাপমাত্রা কমতে থাকে
  4. ঘ) নিরক্ষরেখা থেকে সূর্য যত উত্তরে যায় ততই সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো অক্ষাংশ৷
সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়৷
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
নিরক্ষরেখা থেকে সূর্য যতই উত্তরে বা দক্ষিণে যায় ততই সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে৷ এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর এবং দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৪১১.
বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র কোনটি?
  1. হালদা নদী 
  2. টাঙ্গুয়ার হাওড় 
  3. হাকালুকি হাওড়
  4. পদ্মা নদী 
ব্যাখ্যা

হালদা নদী:
- হালদা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের ছোট্ট একটি নদী।
- এই নদীর উৎপত্তি, বিস্তার এবং সমাপ্তি সবই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

⇒ হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- হালদা বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী, যেখান থেকে রুই জাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।
- হালদা নদীর প্রজনন সময় হচ্ছে এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস।
- অমাবস্যা, পূর্ণিমা তিথিতে এখানে রুইজাতীয় মাছ নিষিক্ত ডিম ছাড়ে।
- হালদা হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক।

উৎস: মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট। 

৪১২.
পাট চাষের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা কত?
  1. ২৫-৪০°
  2. ১০-২০°
  3. ১৮-৩৩°
  4. ১৫-২৬°
ব্যাখ্যা
• পাট চাষ:
- বাংলাদেশে সাধারণত বীজবপন শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষে এবং প্রজাতিভেদে মে মাসের শেষ পর্যন্ত চলে
- পাটচাষ প্রাক-বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল।
- সাদাপাট অধিকতর পানিসহিষ্ণু বিধায় সাধারণত নিচুজমি, এমনকি জলাবদ্ধ জমিতেও চাষ করা যায়।
- উষ্ণমন্ডল ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় বিভিন্ন জলবায়ুর পরিবেশে পাট জন্মে।
- পাট চাষে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার সীমারেখা ১৮-৩৩° সেলসিয়াস।
- মার্চ, এপ্রিল ও মে পর্যন্ত প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ২৫০ মিমি বৃষ্টিপাতসহ যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১৫০০ মিমি বা ততোধিক সেখানে পাট ভাল ফলন দেয়।
- জলবদ্ধতা তোষাপাটের জন্য ক্ষতিকর, তাই মাঝারি থেকে নিম্ন-মাঝারি জমিতে চাষ করা হয়।
- কয়েক ধরনের জমিতে, কর্দম থেকে বেলে-দোঅাঁশ পর্যন্ত ভাল উর্বরতাসহ ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪১৩.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ- 
  1. অপরিকল্পিত নগরায়ন
  2. গাছপালা নিধন
  3. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  4. কীটনাশক ব্যবহার
ব্যাখ্যা

- বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

 বায়ু দূষণ: 

- প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যথা-
ক. প্রাকৃতিক কারণ এবং খ. মানবসৃষ্ট কারণ।

• প্রাকৃতিক কারণ: 
-  বন্যা ও খরা: বন্যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় মলমূত্র ও মৃত জীবজন্তু মিশে একাকার হয়ে যায়।
- ফলে পরিবেশ দূষিত হয় এবং ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয় প্রভৃতি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
- আবার খরা হলে জলজ প্রাণি এবং জীবজন্তু মরে দূষণ ঘটে।

ভূমিকম্প:
- ভূমিকম্পের কারণে মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা ও মাটি চাপা পড়ে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

ঘূর্ণিঝড়:
- কোনো এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন হলে উক্ত এলাকায় জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
- জীবজন্তুর দেহাবশেষে পচন ধরে পরিবেশ দূষিত হয়।

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত:
- আগ্নেয়গিরির উদ্‌দ্গীরণের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- আগ্নেয়গিরির চারপাশে পুড়ে যায়, ভূমিধ্বস হয় এবং মানুষ ও পশুপাখি প্রভৃতি মারা যায়। 

• মানবসৃষ্ট কারণ
 গাছপালা নিধন:
- পরিবেশের ভারসাম্যে রক্ষার জন্য গাছপালা আবশ্যকীয় উপাদান।
- কিন্তু মানুষ তার প্রয়োজনের তাগিদে বা অনেক সময় অপ্রয়োজনে গাছপালা নিধন করে পরিবেশের ক্ষতি করছে।
পাহাড় কর্তন:
- পাহাড় কর্তন বর্তমান সময়ে একটি বড় সমস্যা।
- অনেকেই অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন করে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশ নষ্ট হয়।

অপরিকল্পিত নগরায়ন:
- প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন।
- গ্রামীন এলাকা থেকে মানুষ কর্মের সন্ধানে নগরে ছুটে আসে। ফলে অত্যধিক মানুষের চাপে নগরীয় পরিবেশ দূষিত হয়।

কীটনাশক ব্যবহার:
- কৃষিকাজে অধিক হারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পানির সাথে কীটনাশক মিশে পানি দূষণ ঘটায়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৪.
নিচের কোনটি নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত? 
  1. হন্ডুরাস 
  2. কোস্টারিকা
  3. নিকারাগুয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

- হন্ডুরাস, কোস্টারিকা,  নিকারাগুয়া নিরক্ষয়ীয় জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

নিরক্ষীয় জলবায়ু:

- পৃথিবীর জলবায়ুর পার্থক্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা,  নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৫.
Environmental Refugee কারা?
  1. ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নিজ বাস্তুভিটা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  2. বন্যার কারণে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  3. জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
  4. রাজনৈতিক সমস্যার কারনে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• Environmental Refugee(পরিবেশগত শরণার্থী)
 জলবায়ু শরণার্থী হলো এমন মানুষ যাদের জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবের কারণে তাদের ঘরবাড়ি এবং সম্প্রদায় ছেড়ে যেতে হয়। জলবায়ু শরণার্থীরা পরিবেশগত শরণার্থী নামে পরিচিত অভিবাসীদের একটি বৃহত্তর গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ "পরিবেশগত শরণার্থী" শব্দটি এমন অনেক বাক্যাংশের মধ্যে একটি যা তাদের চারপাশের পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল ‍জিওগ্রাফি এবং climatemigration.

৪১৬.
বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. আর্দ্র
  2. সমভাবাপন্ন
  3. উষ্ণ
  4. চরমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু (Climate of Bangladesh):
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন
- দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব অধিক থাকায় সামগ্রিকভাবে এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
- এখানকার জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমী বায়ু।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত।
- তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো-গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১৭.
বায়ুপ্রবাহ মূলত কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৮.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. বায়ুর ঘনত্ব
  2. আহ্নিক গতি
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বার্ষিক গতি
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ,বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।

• সমুদ্রস্রোত:
- এটি জলবায়ুর নিয়ামক।
- শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
- যেমন: উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।

জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো:-
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

অপরদিকে,
- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- আবহাওয়ার প্রধান নিয়ামকগুলো হলো:
- বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪১৯.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) উত্তর-পশ্চিমে
  2. খ) পূর্ব-দক্ষিণে
  3. গ) দক্ষিণ-পশ্চিমে
  4. ঘ) উত্তর-পূর্বে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অঞ্চলে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার বা ২০৩০ মিলিমিটার।
- সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখালে।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় নাটোরের লালপুরে।
- বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয় ৮০%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২০.
মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের সৃষ্টি হয় বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে-
  1. এক্সোমণ্ডল 
  2. মেসোমণ্ডল 
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল 
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল: 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত ও ঝড় সৃষ্টি হয় বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর ট্রপোমণ্ডলে (Troposphere)।
- এই স্তরটি সরাসরি ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে যুক্ত।
- এখানে আমাদের দৈনন্দিন আবহাওয়ার সকল পরিবর্তন ঘটে, যেমন—মেঘ তৈরি, বৃষ্টি, বজ্রপাত, ঝড়, কুয়াশা ও তুষারপাত।
- ট্রপোমণ্ডলের উচ্চতা নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা যত বাড়ে, তাপমাত্রা তত কমে যায়।
- প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় গড়ে ৬° সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ স্তরে বাতাসের ঘনত্ব ও জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।
- বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় ৭৫ শতাংশ এই স্তরে থাকে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২১.
অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও শুষ্ক আবহাওয়ার ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ কোনটি?
  1. সাইক্লোন
  2. টর্নেডো
  3. খরা
  4. কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে খরা দেখা দেয়। বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার বৃষ্টিপাত অপেক্ষা অধিক হলে এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল অধিক খরা প্রবণ।

অন্যদিকে,
সাইক্লোন ও টর্নেডো সৃষ্টির প্রধান কারণ নিম্নচাপ। গ্রীষ্মকালে দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত বায়ুর সংঘর্ষে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয়।

(তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান এবং দুর্যোগকোষ)
৪২২.
পৃথিবীর তাপমন্ডল কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর তাপমন্ডল ৫ ভাগে বিভক্ত- 

১) উষ্ণমন্ডল
২) উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৩) দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মন্ডল
৪) উত্তর হিমমন্ডল
৫) দক্ষিণ হিমমন্ডল

তথ্যসূত্র: একাদশ শ্রেনীর  ভূগোল বই।
৪২৩.
‘গর্জনশীল চল্লিশ’ কোন অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ৪০° থেকে ৪৭° উত্তর 
  2. ৪৫° থেকে ৫৫° উত্তর
  3. ৪২° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
  4. ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ 
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বায়ু কোনো বাধা ছাড়াই উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুর তীব্র আওয়াজের কারণেই একে 'গর্জনশীল চল্লিশ' বলা হয়।

• পশ্চিমা বায়ু: 
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। 
- এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল। 
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু। 
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৪.
বাংলাদেশের জলবায়ু কোন প্রকৃতির?
  1. উপক্রান্তীয় জলবায়ু 
  2. মৌসুমি জলবায়ু 
  3. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু
  4. আর্দ্র জলবায়ু
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন।
- পূর্ব দ্রঘিমারেখা হতে ৯২ডি. ৪১মি. পূর্ব দ্রঘিমারেখার মধ্যবর্তী স্থানে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এদেশের ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমী স্রোত এদেশের দক্ষিণ-প্রান্তবর্তী বঙ্গোপসাগর দিয়ে অতিক্রম করে এখানে।
- তাই বাংলাদেশকে 'ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর দেশ' বলা হয়।
- ঋতুভেদে উচ্চ তাপমাত্রা, ভারী বর্ষণ, অত্যাধিক আর্দ্রতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের জলবায়ুতে পরিলক্ষিত হয়।
- সার্বিক বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জলবায়ুকে প্রধানত তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়, যথা-শীতকাল, গ্রীষ্মকাল এবং বর্ষাকাল ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২৫.
কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. ক) আর্দ্রতা
  2. খ) উচ্চতা
  3. গ) বারিপাত
  4. ঘ) বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা।

- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলোঃ
• বায়ুর তাপ,
• বায়ুর চাপ,
• বায়ুপ্রবাহ
• বায়ুর আর্দ্রতা ও
• বারিপাত।

- অপশনগুলোতে উচ্চতা জলবায়ুর উপাদান নয়। এটি জলবায়ুর নিয়ামক।

- জলবায়ুর নিয়ামকগুলো হলোঃ
• অক্ষাংশ,
• উচ্চতা,
• সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
• বায়ুপ্রবাহ,
• সমুদ্রস্রোত,
• পর্বতের অবস্থান,
• ভূমির ঢাল,
• মৃত্তিকার গঠন,
• বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৬.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল নয় কোনটি?
  1. দিবা-রাত্রির সংঘটন
  2. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি
  3. জীবজগতের সৃষ্টি ও বংশ বিস্তার
  4. দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।
- ঢাকায় আহ্নিক গতির বেগ প্রায় ১৬০০ কি.মি./ঘন্টা।

• পৃথিবীতে আহ্নিক গতির ফলাফলসমূহ:
১. দিবা-রাত্রির সংঘটন,
২. জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি;
৩. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি,
৪. তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি এবং
৫. জীবজগতের সৃষ্টি ও বংশ বিস্তার।

• পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ও ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৭.
কোন ঋতুকে বৃষ্টিহীন ঋতু বলে?
  1. ক) শরৎ
  2. খ) হেমন্ত
  3. গ) শীত
  4. ঘ) বসন্ত
ব্যাখ্যা
শীতকাল বৃষ্টিহীন ঋতু এবং ডিসেম্বর শুষ্কতম মাস। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আগত জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর প্রভাবে কিছু বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৪২৮.
সাধারণত গম চাষের জন্য কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত প্রয়োজন?
  1. ৫০-৭৫ সেন্টিমিটার
  2. ১০০-২০০ সেন্টিমিটার
  3. ১৫০-২০০ সেন্টিমিটার
  4. ২০০-২৫০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
• গম চাষের নিয়ামক :
- তাপমাত্রা: গম চাষের জন্য সাধারণত ১৬° থেকে ২২° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- বৃষ্টিপাত : গম চাষে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হলেও চলে।
- সাধারণত গম চাষের জন্য প্রয়োজন ৫০-৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত। এ কারণে বাংলাদেশে বৃষ্টিহীন শীত মৌসুমে পানি সেচের মাধ্যমেও গম চাষ করা হয়।
- মৃত্তিকা: বাংলাদেশের উর্বর দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৯.
২০২০ সালের বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সূচকে শীর্ষ দেশ কোনটি?
  1. ইসরাইল
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. দক্ষিণ কোরিয়া
  4. জাপান
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন প্রকাশিত বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সূচক-২০২০ এ মোট ১৮২টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রিপোর্ট অসুসারে,
- শীর্ষদেশ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- দ্বিতীয় : যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব
- তৃতীয় : এস্তোনিয়া
- সর্বনিম্ন দেশ : উত্তর কোরিয়া
- বাংলাদেশের অবস্থান : ৫৩তম।
(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন ওয়েবসাইট)
৪৩০.
নিচের কোনটি স্বাদু পানির হ্রদ?
  1. বৈকাল হ্রদ
  2. কাস্পিয়ান সাগর
  3. আসাল হ্রদ
  4. সাম্বার হ্রদ
ব্যাখ্যা
- রাশিয়ায় অবস্থিত বৈকাল হ্রদ একটি স্বাদু পানির হ্রদ। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম ও গভীরতম হ্রদ।
অন্যদিকে,
- সাম্বার হ্রদ : ভারতের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগর : পৃথিবীর বৃহত্তম ও বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ
- লেক আসাল (জিবুতি) : সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ
(তথ্যসূত্রঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা)
৪৩১.
গ্রিন হাউজ প্রভাবের জন্য দায়ী -
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. জলীয়বাষ্প
  3. মিথেন 
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ প্রভাব:
→ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এটিকে গ্রিন হাউজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
→ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
→ এগুলো হলো: কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩২.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ২৯°
  2. ৩৪°
  3. ২৭°
  4. ৩২°
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
→ বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২১° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° এবং ১১° সেলসিয়াস।
→ এদেশের গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা ২৭° থেকে ৩২.২° সেলসিয়াস
→ শীতকালীন গড় উষ্ণতা ১৩.২° থেকে ২১° সেলসিয়াস।
→ বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৩.
মৌসুমি জলবায়ুতে বায়ুপ্রবাহ কোন সূত্র অনুযায়ী হয়?
  1. ওয়েবারের তত্ত
  2. কোপেনের থিওরি
  3. ফেরেলের সূত্র
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ুতে বায়ুপ্রবাহ ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী হয়।

• মৌসুমি জলবায়ু:

- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ “মওসুম” থেকে যার অর্থ ঋতু।
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু।

• মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।

- দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ুএশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়। এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়। কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৪.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান- 
  1. হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  3. কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন
  4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও আর্গন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান:
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (N2) ও অক্সিজেন (O2)।
- এই দুটি গ্যাস মিলিয়ে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৮.৭৩ শতাংশ গঠন করে।
- নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, এটি প্রায় ৭৮.০২ শতাংশ।
- অপরদিকে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় ২০.৭১ শতাংশ, এটি জীবজগৎ শ্বাস-প্রশ্বাস ও জ্বালনির জারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- বায়ুমণ্ডলে এই দুই গ্যাসের ভারসাম্য জীবজগতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহ হলো-
- নাইট্রোজেন (৭৮.০২%),
- অক্সিজেন (২০.৭১%),
- আর্গন (০.৮০%),
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড (০.০৩%),
- জলীয় বাষ্প (০.৪১%) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৫.
বাংলাদেশের জলবায়ু কী ধরনের?
  1. উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
  2. ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু
  3. আদ্র মৌসুমী জলবায়ু
  4. ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু  
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে প্রবাহিত হয়।
- আর শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক তাপের জন্য উত্তর গোলার্ধের কোন স্থানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- তখন দক্ষিণের উচ্চ চাপ অঞ্চল হতে বায়ু উত্তরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে।
- শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।
- অর্থাৎ ঋতুভেদে বায়ুচাপের পরিবর্তন দেখা হয়।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম সমূদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- পক্ষান্তরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ু সাধারণত স্থল ভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি পাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৬.
নিরক্ষরেখার উপর সূর্য কিভাবে কিরণ দেয়?
  1. ক) কৌণিকভাবে
  2. খ) তির্যকভাবে
  3. গ) লম্বভাবে
  4. ঘ) আড়াআড়িভাবে
ব্যাখ্যা
সূর্যকিরণের মাত্রা অক্ষাংশভেদে বিভিন্ন রকম হয়।
নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে। এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় মেরুর দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৪৩৭.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
  1. ৭২সেন্টিমিটার
  2. ৭৬সেন্টিমিটার
  3. ৭৩সেন্টিমিটার
  4. ৭৪সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলীয় চাপ:
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ হল নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপরে থাকা সম্পূর্ণ বায়ুর স্তম্ভ দ্বারা প্রতি একক ক্ষেত্রফলের ওপর প্রয়োগ করা বল।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপের জন্য পারদ বারোমিটার ব্যবহার করা হয়।
- এটি পারদের একটি স্তম্ভের উচ্চতা দেখায়, যা নির্দিষ্ট অঞ্চলের বায়ুস্তম্ভের ওজনের সমান ভারসাম্য বজায় রাখে।
- এছাড়াও অ্যানেরয়েড ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হয়।
- এতে একটি ফাঁপা ধাতব চাকতি থাকে, যা বায়ুর চাপের পরিবর্তনের সাথে সংকুচিত বা প্রসারিত হয় এবং একটি কলম ও ঘড়ি-চালিত ড্রামের সাহায্যে রেকর্ড করা হয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ:
- ৭৬০ মি.মি. বা ৭৬ সে.মি. (২৯.৯২ ইঞ্চি) পারদ

উৎস: Britannica.

৪৩৮.
বিশ্বব্যাংক ২০০৯ সালে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।
- অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে বিশ্ব উষ্ণতা বাড়ছে, এর প্রভাব বাংলাদেশে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভূমি প্লাবনে দেখা যাচ্ছে।
- জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫০ বছরের মধ্যে দেশের ১৭% ভূমি পানিতে ডুবে যাবে এবং প্রায় ৩ কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হবে। নদীর প্রবাহ কমে গিয়ে পানি সংকট দেখা দেবে।
- শস্য উৎপাদন হ্রাস পাবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার কোটি মানুষ খাদ্য ও পানির ঝুঁকিতে পড়বে। বিশ্ব উষ্ণায়ন ধনী-দরিদ্র দেশের বৈষম্যও বাড়িয়ে দেবে।

উল্লেখ্য, 
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো-মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।  

৪৩৯.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন -
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
• এগুলো হলো- 
- মরুকরণ,
- বন্যা,
- ঝড়,
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
- কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

উল্লেখ্য,
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪০.
COP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Conference of the Parties
  2. Commission of the Parties
  3. Conference of the Protocol
  4. Conference of the People
ব্যাখ্যা
কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.

- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

উল্লেখ্য,
- কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলন ২০২৩ সালে ৩০ নভেম্বর-১২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হয়।
- কপ- ২৯, ২০২৪ সালে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৪৪১.
কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) লবণাক্ততা
  2. খ) কালবৈশাখী ঝড়
  3. গ) পরিবেশ দূষণ
  4. ঘ) খরা
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক কারণে যেসব দুর্যোগ সংঘটিত হয় তাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, নদীভাঙন, তুষারপাত, ঘূর্ণিঝড়, খরা, লবণাক্ততা ইত্যাদি।
অন্যদিকে রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ, পারমাণবিক বিস্ফোরণ, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি হলো মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই।
৪৪২.
জেট বিমান স্ট্রাটোমন্ডল দিয়ে চলাচল করে কেন?
  1. জলীয়বাষ্প বেশি থাকে বলে
  2. বাতাসের গতিবেগ থাকে না বলে
  3. ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে
  4. ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি আছে বলে
ব্যাখ্যা
জেট বিমান স্ট্রাটোমন্ডল দিয়ে চলাচল করে কারণ এই স্তরে ঝড়বৃষ্টি থাকে না।

স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):

- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ৷
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে ।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৩.
'ল্যাব্রাডার স্রোত' কোন মহাসাগরীয় স্রোত?
  1. ভারত মহাসাগরীয় স্রোত
  2. প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোত
  3. আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত
  4. উত্তর মহাসাগরীয় স্রোত
ব্যাখ্যা

• লাব্রাডার স্রোত: 
- সুমেরু মহাসাগর হতে অপর একটি স্রোত ডেভিস প্রণালির মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে উত্তর আমেরিকায় লাব্রাডার উপদ্বীপের উত্তর পাশে গ্রীনল্যান্ড স্রোতের সাথে মিলিত হয়।এই মিলিত স্রোত লাব্রাডার স্রোত নামে পরিচিত।
- লাব্রাডার স্রোত নিউফাউন্ডল্যান্ডের নিকট দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের নীল পানি উত্তর-পূর্ব দিকে এবং এই স্রোতের পাশ দিয়ে শীতল লাব্রাডার স্রোতের সবুজ পানি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই উভয় স্রোতের মধ্যবর্তী সীমা রেখাকে হিমপ্রাচীর বলে।
- উষ্ণ ও শীতল স্রোত পাশাপাশি প্রবাহিত হওয়ার কারণে সেখানে প্রায়ই কুয়াশা এবং ঘূর্ণিবাতের সৃষ্টি হয়।

দক্ষিন আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত:
- কুমেরু স্রোত বা পশ্চিমা।
- বেঙ্গুয়েলা স্রোত।
- দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত।
- ব্রাজিল স্রোত।
- ফকল্যান্ড স্রোত।

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোত:
- উপসাগরীয় স্রোত।
- ক্যানারি স্রোত।
- উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত।
- উত্তর আটলান্টিক স্রোত।
- সুমের স্রোত।
- লাব্রাডার স্রোত।
- গ্রীনল্যান্ড স্রোত।
- গিনি স্রোত।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৪.
বর্তমানে দেশে বায়ু দূষণ মনিটরিং-এর জন্য কতটি CAMS রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৭টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম:
- সরকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।
- পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক সারাদেশে ১৬টি সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ স্টেশন (Continuous Air Monitoring Station বা CAMS) এবং ১৫টি কমপ্যাক্ট সার্বক্ষণিক বায়ুমান মনিটরিং স্টেশন (C- CAMS) পরিচালিত হচ্ছে। 
- এ সকল CAMS-এ প্রাপ্ত তথ্য বিশেষণ করে মাসিক প্রতিবেদন ও বায়ুমান সূচক (Air Quality Index বা AQ) প্রকাশ করা হচ্ছে।
- এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় একটি আন্ত:দেশীয় বায়ু মনিটরিং কেন্দ্রের মাধ্যমে আন্ত:দেশীয় বায়ু দূষণ চলাচল পরিমাপ করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তর।
৪৪৫.
শিলং এর চেয়ে দিনাজপুরের তাপমাত্রার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় কিসের ফলে?
  1. ক) পর্বতের অবস্থান
  2. খ) উচ্চতা
  3. গ) অক্ষাংশ
  4. ঘ) বনভূমির অবস্থান
ব্যাখ্যা
সমুদ্র সমতল থেকে যত উপরে উঠা যায়, ততই উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকে। সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়৷
এজন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ার পরেও উচ্চতায় পার্থক্য থাকায় দুই জায়গার একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু সম্পন্ন হয়।
যেমনঃ উচ্চতা বেশি হওয়ায় দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা কম হয়৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৪৪৬.
গ্রীন হাউস এফেক্ট এর পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি কী হবে?
  1. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  2. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  3. প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বৃদ্ধি
  4. শুষ্ক আবহাওয়া বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

- গ্রিন হাউস ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি- নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে।
- গ্রীন হাউস ইফেক্টের কারনে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- আইসিসি ২০০৭ সালে তার সতর্কীকরণে বলেছে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সে.মি. বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী ১০-১৫ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩.৫ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৭.
বাংলাদেশে বর্ষাকালের সময়সীমা ধরা হয়-
  1. মার্চ থেকে মে
  2. এপ্রিল থেকে জুন
  3. জুন থেকে অক্টোবর
  4. নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
⇒ বর্ষাকাল:
- বর্ষাকাল জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে বর্ষাকালের সময়সীমা ধরা হয়- জুন থেকে অক্টোবর।

- জুন মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে বর্ষাকাল শুরু হয়।
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আকাশে ৮০-৯০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকে।
- এই সময় বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়।
- গড় বৃষ্টিপাত ১১৯ সেন্টিমিটার থেকে ৩৪০ সেন্টিমিটার হতে পারে।

⇒ শীতকাল:
- শীতকালে বাংলাদেশের আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত থাকে এবং সুন্দর আবহাওয়া থাকে।
- সাধারণত নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- শীতকালে উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, যা বার্ষিক বৃষ্টিপাতের দুই শতাংশের বেশি নয় এবং ১০০ মিলিমিটার এর বেশি হয় না।
- শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে, প্রায় ৩৬ শতাংশ।

⇒ গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকাল মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত হয়।
- মার্চে আকাশে মেঘের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ থাকে, যা মে মাসে বেড়ে ৫০-৬০ শতাংশে পৌঁছায়।
- গ্রীষ্মকালীন কালবৈশাখী ঝড় বজ্র বিদ্যুৎসহ প্রবল বেগে চলে।
- এর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪০-৮০ কিলোমিটার, কখনও কখনও ১২৮ কিলোমিটারও হতে পারে।
- এই সময়ে গড় বৃষ্টিপাত ৫১০ মিলিমিটার হয়।

তথ্যসূত্র: - অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৮.
ট্রপোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য হিসেবে কোনটি সঠিক? 
  1. বায়ু উষ্ণ হয় উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে
  2. বেতার তরঙ্গের প্রতিফলন ঘটে
  3. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষিত হয়
  4. উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা

• ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভুপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)। 
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসেবেতার তরঙ্গের প্রতিফলন → এটি আইওনোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য। র গতিবেগ বেড়ে যায়। 
- নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। 
- ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 
- যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা - ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- বেতার তরঙ্গের প্রতিফলন → আইওনোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য। 
- অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ → এটি ওজোন স্তরের বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৯.
দক্ষিণ গোলার্ধে শীতলতম মাস কোনটি?
  1. ক) সেপ্টেম্বর
  2. খ) জানুয়ারি
  3. গ) মার্চ
  4. ঘ) জুলাই
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ গোলার্ধ (Southern Hemisphere) - তে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দেশগুলো অবস্থিত।
- এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশ সহ কিছু অঞ্চল এই অংশে অবস্থিত।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে।
- ২১ জুন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও সবচেয়ে বড় রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে উষ্ণতম মাস - জানুয়ারি এবং শীতলতম মাস জুলাই।

উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা ডটকম।
৪৫০.
কোন স্থানের জলবায়ু নিচের কোনটির উপর নির্ভর করে না?
  1. ক) তাপমাত্রা
  2. খ) বায়ুপ্রবাহের দিক
  3. গ) সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে উচ্চতা
  4. ঘ) সমুদ্র হতে দূরত্ব
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে উচ্চতা এবং সমুদ্র হতে দূরত্ব হচ্ছে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ামক। তাপমাত্রা জলবায়ুর উপাদান। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৪৫১.
বাংলাদেশের কোন বিভাগে বছরে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. ময়মনসিংহ
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি:
- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান তিনটি প্রকৃতির স্বাতন্ত্র্য পরিলক্ষিত হয়। যথা শীতকাল, গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকাল।
- সাধারণত বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এ দেশের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করায় ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে।

⇒ বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
- সর্বনিম্ন গড় বৃষ্টিপাত রাজশাহী অঞ্চলের লালপুরে (১১৭.৫ সেন্টিমিটার)।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট এবং মৌলভীবাজার বেশি বৃষ্টিপাত দেখা যায়, তবে বিশেষ করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় উত্তর পূর্ব অঞ্চলের সিলেটের লালাখালে। 

উৎস: i) বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৫২.
তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং বায়ুপ্রবাহের উপর ভিত্তি করে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঋতু দেখা যায়। এগুলো হলো - গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল এবং শীতকাল

- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
- তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।এপ্রিল মাসে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং এটি বছরের উষ্ণতম মাস।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৩.
বজ্রপাতকে কত সালে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ২০১৪ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

বজ্রপাত:
- ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- বজ্রপাত থেকে নিরাপদে থাকতে কতগুলো সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার করবে মন্ত্রণালয়।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় এর আগে ১২টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা উল্লেখ ছিল।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের বজ্রপাত হচ্ছে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৪৫৪.
বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়- সূত্রটি হলঃ
  1. ক) নিউটনের সূত্র
  2. খ) ফেরেলের সূত্র
  3. গ) প্যাসকেলের সূত্র
  4. ঘ) ডাল্টনের সূত্র
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে বায়ুর গতিবিক্ষেপের ফলে নিয়ত বায়ুগুলো যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। বৈজ্ঞানিক ফেরেল সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন যে আবর্তন ঘটিত শক্তির প্রভাবেই বায়ুপ্রবাহের এরূপ দিক পরিবর্তন হয়। এ কারণে তাঁর নামানুসারে বায়ুপ্রবাহের এ নিয়মকে ‘ফেরেলের সূত্র’ বলা হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৪৫৫.
বর্ষাকালে বাংলাদেশে কোন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন
  2. সাংঘর্ষিক
  3. শৈলোৎক্ষেপ
  4. সাইক্লোনিক
ব্যাখ্যা

• বর্ষাকাল:
- বাংলাদেশে মধ্য জুন থেকে নভেম্বর (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- বর্ষাকালেও অধিক সূর্যতাপ থাকার রংপুর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- তবে আকাশে মেঘ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অধিক তাপমাত্রা উপলব্ধি করা যায় না।
- বর্ষাকালে অধিক জলীয়বাষ্পের কারণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসে।
- বছরে মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এসময় হয়। বর্ষার শেষ দিকে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৬.
নিচের কোনটি গ্রিনহাউজ গ্যাস না?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ওজোন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণতার মূল কারণ - কার্বন ডাই অক্সাইড, ওজোন, মিথেন, সিএফসি, নাইট্রাস অক্সাইড এবং জলীয়বাষ্প, যেগুলো গ্রিনহাউজ গ্যাস নামে পরিচিত, সেসবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া৷
গ্রিন হাইজ গ্যাসগুলোর মূল উৎস হচ্ছে - যানবাহন, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট ধোয়া এবং রেফ্রিজারেটর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ব্যবহৃত গ্যাস৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৫৭.
ব্রাজিল স্রোত প্রবাহিত হয় -
  1. ঘড়ির কাঁটার দিকে
  2. ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে
  3. ঘূর্ণন আকারে 
  4. চক্রাকারে
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আবর্তন (Rotation of the Earth):
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।

- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয। যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৮.
বাংলাদেশের আবহাওয়া -
  1. সমভাবাপন্ন
  2. নাতিশীতোষ্ণ
  3. মৃদুভাবাপন্ন
  4. উষ্ণ
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া:
- কোনো স্থানের প্রতিদিনের গড় তাপমাত্রা, চাপ, আর্দ্রতাকে ঐ স্থানের আবহাওয়া বলে।
- বাংলাদেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ।

জলবায়ু:
- কোনো স্থানের ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহওয়াকে জলবায়ু বলা হয়।
- বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল (১ম পত্র) বই।
৪৫৯.
 আইসিসিসিএডি-এরতথ্য মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে?
  1. প্রায় পঞ্চাশ লাখ
  2. প্রায় নব্বই লাখ
  3. প্রায় নয় লাখ
  4. প্রায় দশ লাখ
ব্যাখ্যা
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশে গত ৩০ বছর ধরে উপকূলবর্তী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতিবছর ৩ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
- ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি)-এর তথ্য অনুযায়ী,
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা বিপন্ন হওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় নয় লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
- এ কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ ডুবে যাওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা [৩০ জুন ২০২৪]।
৪৬০.
এশিয়ার কোন দেশে সাভানা অঞ্চলের আবহাওয়া বিদ্যমান?
  1. ভারত
  2. মিয়ানমার
  3. থাইল্যান্ড
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সাভানা অঞ্চল (Savanna):
সাভানা একটি ট্রপিক অঞ্চল যেখানে গাছপালা উচ্চ তাপ বা শুষ্ক মৌসুমী আবহাওয়াতে জন্মাতে পারে। এই অঞ্চলের গাছপালা সাধারণত খোলা ছাউনি বা পাতা সম্পন্ন (open tree canopy) হয়ে থাকে। এছাড়া গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ পাওয়া যায়।
- সাধারণত আফ্রিকায় সাভানা অঞ্চল বেশি লক্ষ্য করা যায়।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিলে এই ধরণের অঞ্চল পাওয়া যায়। ব্রাজিলের সাভানা অঞ্চলকে Cerrado বলা হয়।

এশিয়ার কয়েকটি দেশে সাভানা অঞ্চল রয়েছে।
যেমন -
- ভারত
- থাইল্যান্ড
- মিয়ানমার

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৬১.
সমুদ্রবায়ু কোন কারণে স্থলভাগে প্রবাহিত হয়?
  1. সমুদ্রের শীতল বায়ু
  2. স্থলভাগের উষ্ণ বায়ু
  3. পাহাড়ের বাধা
  4. মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা

স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু:
- উপকূল এলাকায় সকালের সূর্যতাপ স্থানীয় ভূমির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে।
- এসময় সমুদ্রের কাছের শীতল বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয় যাকে বলা হয় সমুদ্রবায়ু।
- সূর্যাস্তের পর সমুদ্রের চেয়ে স্থলভাগ দ্রুত শীতল হয়। এ সময় স্থলভাগে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- স্থলভাগের এই উচ্চচাপ থেকে তখন বায়ু সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং এই বায়ুপ্রবাহকে বলা হয় স্থলবায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬২.
চা চাষের জন্য কত সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন?
  1. ১৬ থেকে ১৭ সেলসিয়াস 
  2. ১৫থেকে ১৬ সেলসিয়াস 
  3. ১৭ থেকে ১৮ সেলসিয়াস 
  4. ১৪ থেকে ১৫ সেলসিয়াস 
ব্যাখ্যা

চা (Tea): 
- বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
- দেশে উৎপাদিত চা-এর প্রায় বেশিরভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়।
- পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
- এছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষ হচ্ছে।
- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
- ১৬ থেকে ১৭ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৩.
আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে বলে -
  1. গালফ স্ট্রিম
  2. প্যাসিফিক রিম
  3. ডোলড্রামস
  4. অশ্ব অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
- আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse latitude) বলে।

পশ্চিমা বায়ু:
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ বলে।
- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের ন্যায় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় দুটি অবস্থিত।
- বায়ু নিম্নগামী বলে এই অঞ্চলে অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ অনুভব করা যায় না।
- প্রাচীনকালে যখন আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজযোগে ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করা হতো, তখন এ অঞ্চলে পৌঁছলে বায়ুপ্রবাহের অভাবে পালচালিত জাহাজের গতি মন্থর বা প্রায় নিশ্চল হয়ে পড়ত।
- এ অবস্থায় নাবিকগণ খাদ্য ও পানীয়ের অভাবে অনেক সময় তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিত।
- এজন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ বলে।
- নিরক্ষীয় শান্তবলয় এর অপর নাম ডোলড্রাম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৬৪.
নিরক্ষীয় অঞ্চলে কোন প্রক্রিয়ায় সাধারণত বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন
  2. সাইক্লোনিক
  3. শৈলোৎক্ষেপ
  4. সংঘর্ষ
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে পরিচলন প্রক্রিয়ায় সারাবছর বৃষ্টিপাত হয়।
পরিচলন প্রক্রিয়ায় দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সরাসরি উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে। ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ু সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকেল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি ঘটায়।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
৪৬৫.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সময়সীমা হলো কোনটি?
  1. ক) কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  2. খ) ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ
  3. গ) বৈষাখ-জ্যৈষ্ঠ
  4. ঘ) কার্তিক-জ্যৈষ্ঠ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জ্যৈষ্ঠ) পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল, যা এদেশের সবচেয়ে উষ্ণ ঋতু।
এ সময় সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে এ ঋতুতে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৬.
নিম্নের কোনটির সাথে 'Ninety Degree East Ridge' সম্পর্কিত?
  1. ভূ-উপগ্রহ
  2. শৈলশিরা
  3. সাবমেরিন
  4. সমুদ্র খাত
ব্যাখ্যা

৯০° পূর্ব-শৈলশিরা (Ninety Degree East Ridge):
- এই শৈলশিরাটি বঙ্গোপসাগরের মাঝ বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা বরাবর বিস্তৃত বলে একে ৯০° পূর্ব শৈলশিরা বলে।
- এটি বেঙ্গল শৈলশিরা নামেও পরিচিত।
- এই শৈলশিরা ১৫০° উত্তর অক্ষাংশ থেকে শুরু করে ৩০° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৭.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. উচ্চতা
  3. অক্ষাংশ
  4. বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ু : 
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নিদিষ্ট সময়ের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তুষারপাত, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদি উপাদানের গড় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
- আবহাওয়া সবসময়ই পরিবর্তনশীল।
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ -
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
- সমুদ্রস্রোত,
- ভূমির ঢাল,
- বায়ুপ্রবাহ,
- মৃত্তিকার গঠন,
- বনভূমির অবস্থান।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান -
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।

উল্লেখ্য,
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক নয় 'বৃষ্টিপাত'।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানসমূহের একটি হলো 'বৃষ্টিপাত'।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৮.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  2. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
  3. ৬০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  4. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- যেটি ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে পশ্চিম-পূর্বে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা ট্রপিক অব ক্যান্সার (কর্কটক্রান্তি রেখা) অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৯.
শীতল ও উষ্ণ বায়ুর মুখোমুখিতে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে?
  1. পরিচলন বৃষ্টি 
  2. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত 
  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

• বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ: 
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
- এই ৪টি প্রকারভেদ হলো:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।

• সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
- এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭০.
সমুদ্র সমতল থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা-
  1. হ্রাস পায়
  2. বাড়ে
  3. সমান থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
 উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
-  উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭১.
বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
  1. ক) ঘন ঘন বন্যা
  2. খ) সমুদ্র দূষণ
  3. গ) অপরিকল্পিত ট্যুরিজম
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্লু ইকোনোমির চ্যালেঞ্জসমূহ:

- শক্তিশালী সমুদ্রনীতির অভাব,
- দুর্বল সমুদ্র ব্যবস্থাপনা,
- সামুদ্রিক দূষণ,
- অপরিকল্পিত উপকূলীয় উন্নয়ন,
- প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির অভাব,
- অপরিকল্পিত মৎস শিকার,
- অপরিকল্পিত ট্যুরিজম ইত্যাদি।

প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ঘন ঘন বন্যাব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নের জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়।

উৎস: SDG ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট (আর্টিকেল), ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেস রিপোর্ট।
৪৭২.
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে কত শতাংশ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে?
  1. ১০ শতাংশ
  2. ২০ শতাংশ
  3. ৩০ শতাংশ
  4. ৪০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য হ্রাস:
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
- বাংলাদেশের প্রায় ৩৯ প্রজাতির প্রাণি হুমকির সম্মুখীন।
- এর মধ্যে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, অজগর, বুনো হাঁস, কালো হাঁস, নীল গাই, বুনো মহিষ, মিঠা পানির কুমির, ঘড়িয়াল প্রভৃতি।
- ধারণা করা হয়, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে ৩০ শতাংশ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যেতে পারে
- বন বিজ্ঞানীগণের মতে, বাংলাদেশে ১২৫টির মতো বৃক্ষ প্রজাতি বিপন্ন প্রায়।
- এর মধ্যে কাষ্ঠল ও ঔষধি উদ্ভিদ বিদ্যমান।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৩.
 নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে কোন ধরণের বৃষ্টিপাত দেখা যায়?
  1. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  2. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  3. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
  4. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা

সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।
- এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৪.
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ-
  1. ০.৫২ শতাংশ
  2. ০.০১ শতাংশ
  3. ০.০২ শতাংশ
  4. ০.৪১ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• আয়তন অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের শতকরা পরিমাণ:
- নাইট্রোজেন -- ৭৮.০২%
- অক্সিজেন -- ২০.৭১%
- আরগন -- ০.৮০%
- কার্বন ডাই অক্সাইড -- ০.০৩%
- জলীয় বাষ্প -- ০.৪১%
- অন্যান্য গ্যাসসমূহ -- ০.০২%
- ধূলিকণা ও কণিকা -- ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৫.
ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় কী ব্যবহৃত হয়?
  1. হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. ফেঞ্চুগঞ্জের প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. রশিদপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. বিয়ানীবাজারের প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস:
- বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, বাণিজ্যিক, শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে জ্বালানির প্রধান উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ফেঞ্চুগঞ্জের সার কারখানা ও ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় সিলেটের হরিপুরের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় অবস্থিত ঘোড়াশালের সার কারখানায় তিতাস গ্যাস কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- সিলেটের চা বাগানগুলো রশিদপুরের প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৬.
আবহাওয়ায় ৯০% আদ্রতা মানে-
  1. ক) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯০%
  2. খ) ১০০ ভাগ বাতাসে ৯০ ভাগ জলীয় বাষ্প
  3. গ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%
  4. ঘ) বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বৃষ্টিপাতের সময়ের ৯০%
ব্যাখ্যা
আবহাওয়ার আপেক্ষিক আদ্রতা ৯০% মানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৭৭.
বাংলাদেশে বছরের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. মার্চ
  2. জুন
  3. এপ্রিল
  4. জুলাই
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জলবায়ু ও ঋতু:
- বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত: ২০৩ সেন্টিমিটার।
- বার্ষিক গড় তাপমাত্রা: ২৬°C।
- বাংলাদেশ মূলত ষড়ঋতুর দেশ, তবে প্রধান তিনটি ঋতু লক্ষ্য করা যায়: গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল ও শীতকাল। 
- বছরের উষ্ণতম মাস: এপ্রিল। এই মাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৮°C।
- বছরের শীতলতম মাস: জানুয়ারি। এই মাসের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৭.৭°C। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৭৮.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান কোথায়?
  1. ৫° থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
  2. ১৫° থেকে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
  3. ৩০° থেকে ৪০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
  4. ২৩° থেকে ৬৬° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে
ব্যাখ্যা

• নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের দেশসমূহ সারা বছর সূর্যের তাপ পায় বলে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- সেই সাথে উর্বর মৃত্তিকা এবং জলবায়ুর প্রভাবে চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৯.
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে কোন ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. অনুবাত
  2. অনুপাদিত
  3. প্রতিপদ
  4. প্রতিবাত
ব্যাখ্যা
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে। ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮০.
নিচের কোনটি নিরক্ষীয় জলবায়ুর দেশ নয়?
  1. মালয়েশিয়া
  2. সৌদি আরব
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. ফিলিপাইন
ব্যাখ্যা
সৌদি আরব নিরক্ষীয় জলবায়ুর দেশ নয়। 

নিরক্ষীয় জলবায়ু
:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।

⇔ অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮১.
ভূ-গর্ভে মণ্ডল আছে-
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

- সৃষ্টির সময় পৃথিবী ছিল একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড।
- এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে ঘনীভূত হয়।
- এই সময় পৃথিবীর বাইরের ভারী উপাদানগুলো এর কেন্দ্রের দিকে জমা হয়। আর হালকা উপাদান গুলো ভরের তারতম্য অনুসারে নিচের থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়। পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মণ্ডল বলে।
- ভূ-গর্ভে ৩টি মণ্ডল রয়েছে।
যথা:
১. অশ্মমণ্ডল,
২. গুরুমণ্ডল ও
৩. কেন্দ্রমণ্ডল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৮২.
বায়ুমন্ডলের নিম্নচাপ বলয় কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের নিম্নচাপবলয় ৩ টি এবং উচ্চচাপবলয় ৪টি।

বায়ুচাপ বলয়:

- ভূ-পৃষ্ঠে নানা প্রকার ও আকৃতির বায়ুচাপ বলয় দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপৃষ্ঠে প্রধানত ৭টি চাপ বলয় রয়েছে।
- এদের ৩টি নিম্নচাপ বলয় ও ৪টি উচ্চচাপ বলয়।
এগুলো হলো:
১.নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
২.উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৩.দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়,
৪. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়,
৫.মকরীয় উচ্চচাপ বলয়,
৬.উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
৭.দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর ভূগোল ১ম পত্র বই (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৪৮৩.
বাংলাদেশ কপ-২৮ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের সমন্বিতভাবে কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে -
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও কপ-২৮ সম্মেলন:
-বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত বিপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালনে এবারের কপ-২৮ সম্মেলনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিষ্পত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ।

সেগুলো হলো:-
১. প্রথম গ্লোবাল স্টকটেক অবশ্যই ১.৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কংক্রিট মাইলফলকসহ সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
২. অধিক বিপদাপন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ অ্যাড্রেস করার লক্ষ্যে কপ-২৮ সম্মেলনে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড অপারেশনালাইজ’ করা এবং এর ‘ডিটেইল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ ঠিক করা।
৩. অভিযোজনসংক্রান্ত বৈশ্বিক লক্ষ্য ‘গ্লোবাল গোল অন অ্যাডাপ্টেশন’-এর কাঠামো তৈরি বা প্রণয়ন; সদস্য দেশগুলোকে অবশ্যই ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য তাদের এনডিসিতে বর্ণিত ২০৩০ প্রশমন লক্ষ্যমাত্রাকে শক্তিশালীকরণ এবং এনডিসি বাস্তবায়নের জন্য এলডিসি দেশগুলোর অর্থায়ন বাড়ানো।
৪. উন্নত দেশগুলোকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়া নিশ্চিত করা; জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞা চূড়ান্ত করা।
৫. অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করা; জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ২০২৫ পরবর্তী সময়ে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য ‘নিউ কালেক্টিভ কোয়ান্টিফাইড গোল অন ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ণ এবং প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
৪৮৪.
বায়ুমন্ডল কাকে বলে?
  1. মাধ্যাকর্ষণের কেন্দ্রে বায়ুর অস্তিত্ব
  2. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর প্রবাহ মাত্রা
  3. ভূ-পৃষ্ঠ ও তার চারিদিকের বায়বীয় আবরণ
  4. বায়ুর উর্ধ্বমুখী চাপ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- পৃথিবী এবং মানুষ, প্রাণি অর্থাৎ জীবজগতের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য এই বায়ুমন্ডল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্ব দিকে যে বায়বীয় আস্তরণ তাই বায়ুমন্ডল নামে পরিচিত।
- এই মন্ডলটি নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত।
- পৃথিবীর আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে এ বায়ুমন্ডল পৃথিবীর সঙ্গে আবর্তিত হচ্ছে।
- বায়ুমন্ডল কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে পারে না বরং কিছুটা পশ্চাতে পড়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৫.
’Cloudburst' কীসের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. পরিবেশ
  2. সংস্কৃতি
  3. রাজনীতি
  4. অর্থনীতি
ব্যাখ্যা

- ক্লাউডবার্স্ট হলো হঠাৎ প্রবল ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা, যা অল্প সময়ের মধ্যে (সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টা) অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় বৃষ্টিপাত ঘটায়।
​- এতে বৃষ্টির হার ঘণ্টায় প্রায় 100 মিমি (৪ ইঞ্চি) বা তার বেশি হতে পারে।
​- এই ধরনের বৃষ্টি সাধারণত বজ্রঝড় বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে ঘটে এবং পাহাড়ি অঞ্চল বা অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলে বেশি দেখা যায়।
- ​​ ক্লাউডবার্স্ট প্রায়ই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে।
- এটি পরিবেশের সাথে সম্পৃ্ক্ত।

​উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৮৬.
ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখাকে কী বলে?
  1. আইসোহাইট
  2. আইসোহেলাইন
  3. আইসোবার
  4. আইসোথার্ম
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাল্পনিক রেখা:
- আইসোবার: ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোহেলাইন: সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোথার্ম: ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোহাইট: ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোবাথ: সামুদ্রিক সমগভীরতা রেখা।
- আইসোজিওথার্ম: ভূগর্ভস্থ সমোষ্ণ রেখা।
- আইসোশেশমল: সমভূমিকম্প তীব্রতা রেখা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৮৭.
পটুয়াখালীর জলবায়ু কীরুপ?
  1. ক) চরমভাবাপন্ন
  2. খ) সমভাবাপন্ন
  3. গ) মৃদুভাবাপন্ন
  4. ঘ) নিয়তভাবাপন
ব্যাখ্যা
সমুদ্র থেকে দূরত্ব:
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহের মধ্যে সমুদ্র হতে দূরত্ব অন্যতম। সমুদ্র হতে দূরত্ব জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
• জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
যেমন - কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন
• সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়। এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৮.
গ্রিন হাউস প্রভাব কী?
  1. ক) সবুজ গাছপালা
  2. খ) সবুজ ভবনের নাম
  3. গ) কাঁচের তৈরি ঘর
  4. ঘ) উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বড় ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে বায়ুমন্ডল হলো গ্রিনহাউসের বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদের মত। পৃথিবীতে আসা সূর্যালোক ভূপৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডল উত্তপ্ত করে৷ মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ যেমন- কাঠ কয়লা পোড়ানো, গাছ কাটা, কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এ গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রিনহাউস গ্যাস। বায়ুমন্ডলে সৃষ্টি হচ্ছে ক্রমশ পুরু একটি (গ্রিনহাউস) গ্যাসের স্তর বা চাদর৷ এর ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ছেড়ে দেয়া তাপ পুনরায় ফেরত যায়না। তাপ শোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং ক্রমশ উষ্ণতা বৃদ্ধি পেতে থাকছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রিনহাউস প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৪৮৯.
কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নয়?
  1. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  2. বনাঞ্চল ধ্বংস
  3. খরা বৃদ্ধি
  4. সুপেয় পানি দূষণ
ব্যাখ্যা
জলবাযু পরিবর্তন প্রভাব:

- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনেরই নেতিবাচক প্রভাব।
- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদি জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
ভূ-ত্বকের প্রধান উপাদান-
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান অক্সিজেন (৪২.৭%)।

• ভূত্বকের অন্যান্য উপাদান সমূহ:
- সিলিকন (২৭.৭%),
- অ্যালুমিনিয়াম (৮.১%),
- আয়রন বা লোহা (৫.১%),
- ক্যালসিয়াম (৩.৭%),
- সোডিয়াম (২.৮%),
- পটাসিয়াম (২.৬%) এবং
ম্যাগনেসিয়াম (২.১%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯১.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে বজ্রপাত ঘটে?
  1. তাপমণ্ডল 
  2. মেসোমণ্ডল
  3. ট্রপোস্ফিয়ার
  4. স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল:
- প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমণ্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

• ট্রপোস্ফিয়ার:
- গ্রিক শব্দ ট্রপো (Tropo) কথার অর্থ হল পরিবর্তন।
- বায়ুমণ্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত, সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের স্তরে অবাধে তাপীয় মিশ্রণ ঘটে বলে, একে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
- বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ঘটে থাকে।
- এ স্তরে ৭৮% নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন এবং ১% আর্গন, জলীয় বাষ্প এবং কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে বলে ট্রপোপজ।
- ট্রপোপজ স্তরে বায়ুর উষ্ণতা একই রকম থাকে বলে, একে সমতাপ অঞ্চল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯২.
চা চাষের জন্য কোন জলবায়ু প্রয়োজন?
  1. শীতল ও শুষ্ক
  2. উষ্ণ ও আর্দ্র
  3. শীতল ও আর্দ্র
  4. উষ্ণ ও শুষ্ক
ব্যাখ্যা

চা (Tea): 
- বাংলাদেশের অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম।
- দেশে উৎপাদিত চা-এর প্রায় বেশিরভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়।
- পানি নিষ্কাশনবিশিষ্ট ঢালু জমিতে চা ভালো হয়। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেটে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে।
- এছাড়া চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে চা চাষ হচ্ছে।
- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন।
- ১৬ থেকে ১৭ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৩.
বায়ুমন্ডলের প্রধান উপাদান দুটি কী কী?
  1. ক) অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন ও মিথেন
  3. গ) নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. ঘ) অক্সিজেন ও আরগন
ব্যাখ্যা
- বায়ুমন্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুটি- অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন।
- বায়ুমন্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে।
- জীবজগৎ পরস্পর অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ ও ত্যাগের মাধ্যমে বেঁচে আছে।
- ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎ কে রক্ষা করে।
- বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেন এর পরিমান শতকরা ৭৮.০২।
- বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন এর পরিমান শতকরা ২০.৭১।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৪.
কোথায় ট্রপোমন্ডলের পুরুত্ব সবচেয়ে কম?
  1. বিষুব অঞ্চলে
  2. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  3. মেরু অঞ্চলে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মেরু অঞ্চলে ট্রপোমন্ডলের বিস্তৃতি সবচেয়ে কম।

ট্রপোমন্ডল:

- ট্রপোমন্ডল ভূপৃষ্ঠের নিকটতম স্তর।
- মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, তুষারপাত সবই এই স্তরে ঘটে।
- তাই এই স্তরকে ক্ষুব্ধমন্ডলও বলা হয়।  
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ১৬-১৯ কিমি।
- মেরু অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ৮ কিমি।
- বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনের প্রায় ৭৫% ই এই স্তর বহন করে। 
- এই স্তরের শেষ প্রান্তের নাম ট্রপোবিরতি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৫.
বায়ুমন্ডলে নিচের কোনটির পরিমান কম?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. জলীয়বাষ্প
  3. আরগন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল:
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।
বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানসমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২ শতাংশ
- অক্সিজেন : ২০.৭১ শতাংশ
- আরগন : ০.৮০ শতাংশ
- জলীয়বাষ্প: ০.৪১ শতাংশ
- কার্বন ডাই-অক্সাইড: ০.০৩ শতাংশ
- অন্যান্য গ্যাস: ০..০২ শতাংশ
- ধূলিকণা ও কণিকা: ০.০১ শতাংশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
৪৯৬.
কোনটি ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বনভূমির বৈশিষ্ট্য?
  1. উষ্ণ তাপমাত্রা
  2. কম বৃষ্টিপ্রবল অঞ্চল
  3. অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল
  4. সমভূমির বনভূমি
ব্যাখ্যা
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের দক্ষিণাংশ অর্থাৎ রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় এই ধরনের বনভূমি দেখা যায়।
পাহাড়ের প্রবল বৃষ্টিপাত সম্পন্ন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা গাছের বনভূমি পাওয়া যায়।
- এখানকার প্রধান বৃক্ষ চাপালিশ, তেলসুর, ময়না, গর্জন, জারুল, গামার, কড়ই, সেগুন প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৭.
ইতালির ভিসুভিয়াস একটি-
  1. ক) সমুদ্র সৈকত
  2. খ) ঝুলন্ত ব্রিজ
  3. গ) আগ্নেয়গিরি
  4. ঘ) জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন সাধনকারী প্রক্রিয়া বা শক্তিগুলোর মধ্যে অগ্নুৎপাত অন্যতম।
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সবসময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন:
• ইতালির ভিসুভিয়াস,
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া,
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৮.
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARRSO) কতসালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৫ সালে 
  2. ১৯৮২ সালে 
  3. ১৯৮৯ সালে 
  4. ১৯৮০ সালে 
ব্যাখ্যা

• SPARRSO:
- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARRSO) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- SPARRSO পূর্ণরূপ: Bangladesh Space Research and Remote Sensing Organization (SPARRSO)
- ১৯৮০ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।

উৎস: SPARRSO এর ওয়েবসাইট।

৪৯৯.
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতু বৈচিত্রের পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. অতিবৃষ্টি
  2. ভূমিক্ষয়
  3. তীব্র খরা
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতু বৈচিত্রের পরিবর্তন:
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল বা বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করে।
- শীতকালে অতি শৈত্য বা কম শৈত্য পড়া, গ্রীষ্মকালে অতি উচ্চ তাপমাত্রা, খরা, লবণাক্ততা, বন্যা বা জলাবদ্ধতা হলো বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনে প্রতিকূল পরিবেশ ও বিরূপ আবহাওয়া।

⇒ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
- ফলে অতিবৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি, বন্যা, তীব্র খরা, নদীর নাব্যতা সংকট, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে।
- এর সবগুলোই কৃষি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাবফেলছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০০.
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়
  2. সারা বছর রৌদ্রকরোজ্জল আবহাওয়া
  3. ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয়
  4. সারা বছর অধিক তাপ ও বৃষ্টিপাত হয়
ব্যাখ্যা
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল;
- -সাধারনত মহাদেশীয় ভূ-ভাগের ৩০° থেকে ৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে যে বিশেষ ধরণের জলবায়ু পরিলক্ষিত হয় তা হচ্ছে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল।
- ভূমধ্যসাগরের উভয় তীরের ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে এই ধরনের জলবায়ু দেখা যায়।
- বৃষ্টিহীন উষ্ণ গ্রীষ্মকাল, বৃষ্টিপাতযুক্ত আর্দ্র শীতকাল, মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ এবং রৌদ্রকরোজ্জল আবহাওয়া এ জলবায়ু অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট।
- এই অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩৮-৭৬ সে.মি. এবং গড় উষ্ণতা গ্রীষ্মকালে ২১০-২৭° সে. এবং শীতকালে সাধারনত: ৪০-১০° সে. হয়ে তাকে।

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।