বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন ও রসায়ন বিজ্ঞানের উন্নয়ন

মোট প্রশ্ন২৩৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

দৈনন্দিন জীবনে রসায়ন ও রসায়ন বিজ্ঞানের উন্নয়ন

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৩৮

১০১.
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. N2 গ্যাস
  2. H2 গ্যাস
  3. CH3 গ্যাস
  4. CH4 গ্যাস
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH4) গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০২.
‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত স্কোপোলামিনের মূল উপাদান কোথায় থেকে সংগ্রহ করা হয়? 
  1. তুলসী গাছ থেকে
  2. ধুতরা ফুল থেকে
  3. আফিম গাছ থেকে
  4. গুয়ারানা নির্যাস থেকে
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিঃশ্বাস: 
- স্কোপোলামিন মূলত একটি সিনথেটিক ড্রাগ। 
- এই স্কোপোলামিন 'ডেভিলস ব্রেথ' বা 'শয়তানের নিঃশ্বাস' নামেও বেশ পরিচিত। 
- তবে এটা প্রাকৃতিক কোনো উপাদান নয়। বরং প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে আরো কিছু যোগ করে কৃত্রিমভাবে স্কোপোলামিন তৈরি করা হয়। এটা তরল এবং পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায়। তবে এর গুরুত্বপূর্ণ বা মূল উপাদান আসে ধুতরা ফুল থেকে। 
- স্কোপোলামিন প্রথম দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোয়েন্দা জ্ঞিাসাবাদের ক্ষেত্রে ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তখন এর ব্যবহার হতো লিকুইড হিসেবে, ইনজেকশনের মাধ্যমে। 
- আবার চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ওষুধ তৈরিতে এর নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- বমি বমি ভাব, মোশন সিকনেস এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন পরবর্তী রোগীর জন্য ওষুধে এর ব্যবহার আছে। 
- যখন এটি কথা বলানোর জন্য ব্যবহার করা হয় তখন এটা 'ট্রুথ সেরাম'। আবার যখন এটি পাউডার ফর্মে নিঃশ্বাসের জন্য ব্যবহার করা হয় তখন এটা ‘ডেভিলস ব্রেথ’। আর যখন এটা বমি অথবা মোশন সিকনেসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তখন এটা আসলে মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার হয়। 
- বর্তমানে স্কোপোলামিন মূলত পাউডার হিসেবে প্রতারণার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। অপরাধের ক্ষেত্রে এই ড্রাগ কাগজ, কাপড়, হাত এমনকি মোবাইলের স্ক্রিনে লাগিয়েও এর ঘ্রাণ দিয়ে কিছু সময়ের জন্য কারো মানসিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া সম্ভব। 
- এটা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঢুকলেই মাত্র ১০ মিনিট বা তারও আগে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। মেমোরি আর ব্রেন তখন সচেতনভাবে কাজ করতে পারে না। কারো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হতে এক ঘণ্টা লাগে। আবার কেউ তিন/চার ঘণ্টার মধ্যেও স্বাভাবিক হতে পারে না।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা (১০ মে, ২০২৪) [লিঙ্ক]।
১০৩.
জাল পাসপোর্ট শনাক্তকরণে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. মহাজাগতিক রশ্মি
  3. অবলোহিত রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
জাল পাসপোর্ট/টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) ব্যবহার: 
- বিগত শতাব্দী ধরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে টাকা তৈরির নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত সুনিশ্চিত হওয়ার ফলে জাল নোট তৈরিকারকদের জন্য টাকা তৈরি করা ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে। 
- জাল নোট তৈরিতে বাধা প্রদান করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে UV ফ্লুরোসেন্ট বস্তু টাকা প্রস্তুতকারী কাগজে সংযোজন করা। 
- জাল নোট শনাক্তকারী UV মেশিনে সাধারণত টাকার কাগজের বিশেষ কালি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। 
- একটি জাতির প্রচলিত মুদ্রা UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কৃতকার্যতার সাথে প্রয়োগ একটি দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্ধতি। 
- প্রথম ধাপ হচ্ছে কাগজের নোটে অতিবেগুনি (ultraviolet) কালি প্রয়োগ। 
- UV ফ্লুরোসেন্ট ফসফরাসযুক্ত নোট যখন UV রশ্মিতে স্থাপন করা হয় তখন এটি বিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণ আলোয় দেখা যায় না। 
- যখন UV রশ্মিতে অনাবৃত করা হয় তখন UV কালির পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্নগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয়। 
- এর অর্থ হচ্ছে সাধারণ আলোতে UV কালি দ্বারা ছাপাকৃত নিরাপত্তা নকশা প্রতীয়মান হয় না। 
- UV আলো প্রয়োগ করলে এ পরিবর্তন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়, যা ফ্লুরোসেন্ট আলো সৃষ্টি করে। 
- উল্লেখ্য যে, কাগজের মুদ্রা ছাড়া এই UV রশ্মির কালি পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ট্রাভেলারস চেক, সোসাল সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করে একইভাবে জাল প্রতিরোধ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
বেকিং সোডা তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় যা খাবার ফোলাতে সাহায্য করে?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন এসিডের ব্যবহার: 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

• বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

• এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

• এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদির নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

• ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৫.
কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও মোমের মূল উপাদান কোনটি? 
  1. কার্বন মনোক্সাইড 
  2. ক্লোরিন যৌগ 
  3. নাইট্রোজেন যৌগ 
  4. হাইড্রোকার্বন 
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় রসায়নের বিশ্লেষণ: 
- কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড যেমন: সাক্সিনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি থাকে, যার ফলে কাঁচা আম টক হয়। 
- কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়, তাই পাকা আম মিষ্টি হয়। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এইগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এইগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

- পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরিত হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। 
- এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, এই দুটি যৌগ এসিডকে প্রশমিত করে। 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন জিনিস রসায়নের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখার একটি হলো রসায়ন। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৬.
বর্তমানে পরিবেশ-বান্ধব কোন গ্যাসটি রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে ব্যবহার করা হয়?
  1. টাইক্লোরোটাইফ্লুরো ইথেন
  2. টেট্রাফ্লুরো ইথেন
  3. ডাইক্লোরো ডাইফ্লুরো ইথেন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
পরিবেশবান্ধব ফ্রিজ:
- ঐতিহ্যবাহী এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেন্টগুলিতে ফ্লোরিনযুক্ত গ্যাস থাকে যা ওজোন স্তরকে ছিদ্র করতে পারে, হ্রাস করতে পারে এবং পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।
- টেকসই শীতলীকরণ এই গ্যাসগুলিকে জলবায়ু-বান্ধব বিকল্পগুলির সাথে প্রতিস্থাপন করে।
- সেগুলো যখন উন্নত শক্তি-দক্ষতা ব্যবস্থার সাথে মিলিত হয় তখন রেফ্রিজারেন্ট লিকেজ থেকে শক্তি নির্গমন হ্রাস করে।

- একটি রেফ্রিজারেন্টের পরিবেশ-বান্ধবতা তার ওজোন হ্রাস সম্ভাবনা এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্ভাব্য দ্বারা পরিমাপ করা যেতে পারে।
- সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট হল হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (HFC) এবং হাইড্রোফ্লোরো-ওলেফিনস (HFO)।
- বর্তমানে রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসারে হিমায়ক হিসেবে ফ্রেয়নের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব গ্যাস R-134A (টেট্রাফ্লোরো ইথেন), R-290 (আইসোপ্রোপেন), R-600A (আইসোবিউটেন) এর ব্যবহার হচ্ছে।

উৎস: Environmentally Friendly Refrigerants, American Biotech Supply.
১০৭.
রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে-
  1. প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে
  2. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
  3. নাইট্রোজেন সরবরাহ করে
  4. হাইড্রোজেন সরবরাহ করে
ব্যাখ্যা
- একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপণ উপাদান হচ্ছে ড্রাই কার্বন- ডাই-অক্সাইড। 
- যখন নির্বাপণ যন্ত্রের ভালব খোলা হয় তখন কার্বন-ডাই- অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। 
- যেহেতু কার্বন-ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়। 
- অক্সিজেনের অভাবে আগুন আর জ্বলতে পারে না। 
- রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 

উৎস: National Emergency Service, 999.gov.bd
১০৮.
‘ব্ল্যাকবক্স’ যন্ত্রটি কিসে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) জাহাজে
  2. খ) বিমানে
  3. গ) রকেটে
  4. ঘ) সাবমেরিনে
ব্যাখ্যা

সব প্লেনেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। এসব বক্স প্লেন চলার সময় বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে।
ব্ল্যাকবক্সের সংখ্যা এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুটি হয়।
একটি ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন ধারণ করে, যা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে পরিচিত।
অপরটি প্লেন চলাচলের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) নামে অভিহিত।
সূত্রঃ প্রথম আলো

১০৯.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ১ - ১২.৫%
  2. ২ - ২.৫%
  3. ০.২৫ - ১.৫%
  4. ৫.৫ - ৬.২৫%
ব্যাখ্যা
ইস্পাত বা স্টিল এর গুণাগুণ: 
- কার্বনের পরিমাণ: ০.২৫-১.৫%।
- পান দেয়া: পান দেয়া যায়।
- গঠনাকৃতি : স্ফটিকাকার।
- নমনীয়তা ও ঘাতসহতা উভয় ধর্ম বিদ্যমান তবে পেটা লোহার থেকে কম।
- চুম্বক ধর্ম: চুম্বককে পরিণত করা যায়।
- গলনাংক: ১৩০০-১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস.।
- কাঠিন্য: কঠিন, ভঙ্গুরও নয় আবার নরমও নয়।

ব্যবহার: 
কোনো দেশ কতটা উন্নত তা সে দেশের ইস্পাতের ব্যবহার দেখে আন্দাজ করা যায়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো-
- গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করতে।
- শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি নির্মাণে।
- যানবাহন, যেমন- গাড়ি, প্লেন, জাহাজ, রেললাইন, ইত্যাদি নির্মাণে।
- ডাক্তারী ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে।

উল্লেখ্য, ঢালাই লোহায় কার্বনের পরিমাণ ২.৫% ও পেটা লোহায় কার্বনের পরিমাণ ০.১২-০.২৫%। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১০.
নিচের কোনটি সিমেন্ট তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কর্পুর
  2. খ) চীনামাটি
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চুনাপাথর সিমেন্ট তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

- চুনাপাথর এক ধরনের পাললিক শিলা, যা প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট দ্বারা গঠিত। 
- ক্যালসিয়াম কার্বনেটে প্রধানত তিনটি উপাদান—কার্বন, অক্সিজেন ও ক্যালসিয়াম থাকে। 
- পাথর বা শিলার মধ্যে এটি একটি সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক, ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান। 
- প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ চুনাপাথর খুবই কম পাওয়া যায়।
- প্রচলিত সিমেন্টের মধ্যে পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট বহুল ব্যবহূত যা চুন ও কাদার মিশ্রণ পুড়িয়ে পাউডারের মতো চূর্ণ করে তৈরি করা হয়।

সূত্র- ৩০২ পৃষ্ঠা, রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১১.
O2 আণবিক ভর কত?
  1. 8
  2. 16
  3. 32
  4. 20 
ব্যাখ্যা

আণবিক ভর (Molecular mass) হলো একটি অণুর সব পরমাণুর পারমাণবিক ভরের যোগফল। এটি একটি নির্দিষ্ট একক (amu বা g/mol) এ প্রকাশ করা হয়।
- অক্সিজেন পরমাণুর পারমাণবিক ভর: 16 amu (atomic mass unit)।
- O₂ অণুতে দুটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে।

তাহলে O₂ এর আণবিক ভর হবে:
Molecular mass of O2 = 16 + 16 = 32 amu
- অর্থাৎ, O₂ অণুর ভর হলো 32 একক পারমাণবিক ভর।
- O₂ হলো বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

১১২.
কয়লা পোড়ালে কোন শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. বিদ্যুৎ শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি: কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি: কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি : কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
প্রাকৃতিক ঝড়বৃষ্টি ঘটে বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপ বেশি (760 mm Hg) এবং তাপমাত্রা উচ্চতা বাড়ার সাথে দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
- প্রতি কিলোমিটার তাপমাত্রা বাড়ার সাথে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে কমতে থাকে।
- বায়ু ও জলীয় বাষ্পের মিশ্রণে মেঘ তৈরি হয়, যা বৃষ্টি, ঝড়, বজ্রসহ অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিবর্তনের জন্ম দেয়।
- প্রাকৃতিক ঝড়বৃষ্টি, মেঘ ও বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য আবহাওয়াগত ঘটনা ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঘটে।
- এটিকে ক্ষুব্ধ মন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ কিমি উচ্চতায় বিস্তৃত।

অন্য স্তরগুলোর বৈশিষ্ট্য:
• স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার - ওজোন স্তর থাকে, আবহাওয়াগত ঘটনা কম।
• মেসোস্ফিয়ার - উল্কাপাত ঘটে, তাপমাত্রা খুব কম।
• আয়নোস্ফিয়ার - রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত করে, আবহাওয়াগত ঘটনা নেই।

তথ্যসূত্র:
- NCTB পদার্থবিজ্ঞান ও ভূগোল বই,
- Britannica: [লিংক]। 

১১৪.
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা কতভাগ 238U আইসোটোপ থাকে?
  1. 50%
  2. 99.3%
  3. 0%
  4. 69.3%
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা 99.3 ভাগ 238U আইসোটোপ থাকে।

আইসোটোপ: 
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- বর্তমানে সর্বমোট আইসোটোপের সংখ্যা প্রায় ১৩০০। 

ইউরেনিয়াম: 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল।
- ইউরেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৯২ এবং পারমাণবিক ভর ২৩৮। 
- ইউরেনিয়ামের তিনটি প্রধান আইসোটোপ হলো- 

238U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 146, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 99.3% এবং 
• অর্ধায়ু: 4.47 বিলিয়ন বছর। 
 
235U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 143, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 0.7% এবং 
• অর্ধায়ু: 703.8 মিলিয়ন বছর। 
 
234U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 142, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 0.0057% এবং 
• অর্ধায়ু: 245,500 বছর। 
 
- 238U প্রাকৃতিকভাবে অবস্থিতিশীল এবং অতি দীর্ঘজীবী। 
- অন্যদিকে, 235U আইসোটোপটি বিভক্ত হতে পারে এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের জন্য দায়ী, এটিই পারমাণবিক চুল্লী ও বোমায় ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
United States Nuclear Regolatory Commission [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা।
১১৫.
গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেনের সাথে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করে? 
  1. হিলিয়াম
  2. নিয়ন
  3. ক্রিপটন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ব্যবহার: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায় সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গনের ব্যবহার: 
১। বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
২। রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস ক্রিপটনের ব্যবহার: 
১। বৈদ্যুতিক আলোর টিউবে নিয়নের সাথে ক্রিপটন গ্যাস মিশ্রিত করে নীল আলো সৃষ্টি করা হয়। 
২। সিনেমাটোগ্রাফীতে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য ক্রিপটন ফ্লাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। মহাজাগতিক রশ্মি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত আয়নীকরণ চেম্বার যন্ত্রে ক্রিপটন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৬.
চেতনানাশক হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফেনল
  2. হ্যালোজেন
  3. বেনজিন
  4. ক্লোরোফরম
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়।
-ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়।


ক্লোরোফরম ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
কোন সংকর ধাতু উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়? 
  1. ইস্পাত
  2. ব্রোঞ্জ
  3. পিতল
  4. ডুরালুমিন
ব্যাখ্যা
- 'ডুরালুমিন' সংকর ধাতু উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৮.
​পাকস্থলীতে খাবার হজমের জন্য কোন এসিড প্রয়োজন? 
  1. ভিনেগার 
  2. এসিটিক এসিড 
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  4. এসকরবিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- নিচে বিভিন্ন এসিডের ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

• ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

• ভিনেগার বা এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদির নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

• ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

• বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৯.
সৌর প্যানেলে সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. ফসফরিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসিডের ব্যবহার: 
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌর বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করা হয়। 
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H2SO4)। 
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4]। 
- আর সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) ব্যবহার করে। 
- শক্তিশালী এসিডগুলো ( যেমন সালফিউরিক এসিড (H2SO4), নাইট্রিক এসিড (HNO3), হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) মানবদেহের জন্য যেমন মারাত্মক ক্ষতিকর, তেমনি আমাদের অনেক প্রয়োজনীয় এবং নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রেরও অনেক ক্ষতি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২০.
বাংলাদেশে পাওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ -
  1. ৮০%
  2. ৯৭%
  3. ৬৫.৪২%
  4. ৯৯.৯৯%
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। প্রাকৃতিক গ্যাসে এর পরিমাণ প্রায় ৮০%।
এছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন, পেন্টেন ইত্যাদি উপাদানও উপস্থিত থাকে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গিয়েছে, তার ৯৯.৯৯% উপাদান হলো মিথেন।

সূত্র: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১২১.
হৃদপিন্ডের পেশীজনিত কাজকর্ম পর্যবেক্ষন করার ক্ষেত্রে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) MRI
  2. খ) ETT
  3. গ) ECG
  4. ঘ) Endoscopy
ব্যাখ্যা
ইসিজি (ECG) হলো ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (Electrocardiogram)।
- ইসিজি করে মানুষের হৃদপিন্ডের বৈদ্যুতিক ও পেশীজনিত কাজকর্মগুলো পর্যবেক্ষন করা যায়।
- ইসিজি সংকেত হৃৎপিন্ডের মধ্যে রক্তপ্রবাহের একটি পরোক্ষ প্রমাণ দেয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
১২২.
পটাস অ্যালামে কত অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে?
  1. ৫ অণু
  2. ১০ অণু
  3. ১৮ অণু
  4. ২৪ অণু
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]  । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
কাঠের দহনের প্রধান উৎপাদিত গ্যাস কোনটি? 
  1. O3
  2. O2
  3. CO2
  4. CO
ব্যাখ্যা

- কাঠের দহনের ফলে উৎপন্ন প্রধান গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। যখন কাঠ পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়, তখন মূলত এই গ্যাসটি নির্গত হয়

সাধারণ জ্বালানি (কাঠ, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস): 
- রান্নার কাজে সাধারণত কাঠ, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এসকল বস্তু দহন করে যে তাপ পাওয়া যায় তা দিয়ে রান্না করা হয়। 
- দহন বলতে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝায় যেখানে কোন পদার্থ অক্সিজেনের সাথে স্বত:স্ফূর্ত বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো দেয়। 
- কাঠের উপাদান সেলুলোজ যার মূল উপাদান কার্বন। 
- দহনের ফলে কাঠ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রধানত CO2, তাপ ও আলো উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• কাঠ + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
- একইভাবে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালেও তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আলো পাওয়া যায়। 
• C (কয়লা) + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
• CH4 (মিথেন বা প্রাকৃতিক গ্যাস) + O2 → তাপ + CO2 + H2O + আলো । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৪.
কোন কোন স্থানে সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়?
  1. পায়খানা, প্রস্রাবখানায়
  2. গোসলখানায়
  3. পুকুরে
  4. নালায়
ব্যাখ্যা
- সলিড ফিনাইল একটি শক্ত ধরনের জীবাণুনাশক এবং দুর্গন্ধনাশক, যা বিশেষ করে পায়খানা-প্রস্রাবখানা, এবং বিভিন্ন স্যানিটারি স্থানে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি সাধারণত টয়লেট বা প্রস্রাবখানার দুর্গন্ধ দূর করতে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। 

দৈনন্দিন জীবনে কিছু রাসায়নিক জিনিসের ব্যবহার: 
- সাবান এবং ডিটারজেন্ট শরীর এবং কাপড় পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয়। 
- টুথপেস্ট দাঁত পরিষ্কার করতে এবং মুখের জীবাণু ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। 
- ব্লিচিং পাউডার কাপড়ের দাগ তুলতে, পানি জীবাণুমুক্ত করতে এবং পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- বেকিং সোডা (সোডিয়াম বাইকার্বোনেট) রান্নায়, কেক-রুটি ফোলাতে, এবং ঘরোয়া পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ক্লোরোফর্ম সার্জারি বা চিকিৎসায় অজ্ঞান করার জন্য অতীতে ব্যবহৃত হতো ইত্যাদি। 
১২৫.
ল্যাকটোজ কী দিয়ে গঠিত? 
  1. গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ
  2. গ্ল্যাক্টোজ + মাল্টোজ
  3. গ্লুকোজ + সুক্রোজ
  4. গ্লুকোজ + গ্ল্যাক্টোজ
ব্যাখ্যা
দুধ: 
- দুধ হচ্ছে লিপিড, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং পানিতে দ্রবীভূত অথবা বিক্ষিপ্ত বিভিন্ন অজৈব এবং জৈব লবণের মিশ্রণ। 
- দুধ একটি কলয়েড বা ইমালশন। 
- স্তন্যপায়ী স্ত্রী প্রাণীর দেহে এটি তৈরি হয় যা তাদের নবজাতক শিশুর খাদ্যের প্রধান উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দুধের প্রধান উপাদানগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. চর্বি (Lipids): 
- দুধের মধ্যে চর্বি অদ্রবণীয় সূক্ষ্ম কণারূপে বিদ্যমান থাকে। চর্বির পরিমাণ দ্বারা দুধের গুণগতমান নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উচ্চ চর্বি বিশিষ্ট দুধ অধিক ক্রিম বহন করে ও মসৃণ হয় এবং বেশি মাখন ও পনির উৎপন্ন করে। এটি শক্তির একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে কাজ করে। 

২. প্রোটিন (Protein): 
- দুধে উচ্চমান সম্পন্ন প্রোটিন বিদ্যমান। সাধারণত প্রতি লিটার দুধে 30-35g প্রোটিন উপস্থিত থাকে। দুধে উপস্থিত 76-86% প্রোটিনই কেজিন (Casein) দ্বারা গঠিত। প্রধানত চার প্রকার কেজিন দুধের মধ্যে পাওয়া যায়। যেমন: αS1, αS2, β এবং K-কেজিন। এর সাথে অল্প পরিমাণ অ্যালবুমিন ও গ্লোবিউনিন বিদ্যমান যা বিভিন্ন অসুখের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

৩. কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- দুধে বিদ্যমান প্রধান শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হচ্ছে ল্যাকটোজ। এক অণু গ্লুকোজ এবং এক অণু গ্ল্যাক্টোজ এর সমন্বয়ে ল্যাকটোজ তৈরি হয়। এটি দুধের মিষ্টতা বাড়ায়। দুধের মধ্যে প্রায় 4.8% ল্যাকটোজ বিদ্যমান যা দুধের 40% ক্যালরি উৎপন্ন করে। 

8. খনিজ লবণ (Minerals): 
- দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস অধিক পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া অল্প পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড, সাইট্রেট প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই প্রয়োজন। 

৫. ভিটামিন (Vitamins): 
- দুধ ভিটামিনের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। দুধের মধ্যে ভিটামিন A, B6, B12, C, D, K, F আছে। এছাড়াও থায়ামিন, নায়াসিন, রিবোফ্লাবিন, প্যান্টোথ্যানিক এসিড প্রভৃতি উপাদান বিদ্যমান। 

৬. পানি (Water): 
- দুধে পানির পরিমাণ গড়ে ৪7%। পানিতে দ্রবণীয় বিভিন্ন খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত থাকে। এদের মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও সি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৬.
টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. টেকনিশিয়াম-99 
  3. ফসফরাস-32
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেমন- 
• রোগ নির্ণয়ে: 
- আইসোটোপ ব্যবহার করে একজন রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 (99Tc) কে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
- এই আইসোটোপ যখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় তখন ঐ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ গামা রশ্মি বিকিরণ করে, তখন বাইরে থেকে গামা রশ্মি শনাক্তকরণ ক্যামেরা দিয়ে সেই স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম 6 ঘণ্টা। তাই সামান্য সময়েই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় বলে এটি অনেক নিরাপদ। 

• রোগ নিরাময়ে: 
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (131I) সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়। এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায় এবং এই আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- ইরিডিয়াম-১৯২ (192Ir) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোবাল্ট-৬০ (60Co) ব্যবহার করা হয়। কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষ কলাকে ধ্বংস করে। 
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ফসফরাস-৩২ (32p) এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৭.
নিচের কোনটিতে রেডিও আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
  2. খ) পিত্ত পাথর গলাতে
  3. গ) কিডনির পাথর গলাতে
  4. ঘ) পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে
ব্যাখ্যা

কোন কোন আইসোটোপ অস্থিতিশীল হয়ে থাকে। অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে থাকে। ফলস্বরূপ, এই আইসোটোপ থেকে কিছু কণা বিচ্ছুরিত হয়, কখনো কখনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে। এই প্রকার আইসােটোপকে রেডিও আইসোটোপ (radio isotope) বলা হয়।

An exceptionally useful radioactive isotope is iodine-131, which has a half-life of eight days. It is employed in medicine to monitor thyroid gland functioning, to treat goitre and thyroid cancer, and to locate tumours of the brain and of the liver.

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান ও Britannica

১২৮.
জাইলিন কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ 
  2. তেজস্ক্রিয় 
  3. বিস্ফোরক 
  4. উত্তেজক 
ব্যাখ্যা
বিস্ফোরক পদার্থ: 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ: 
- বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি এ ধরনের পদার্থ। এ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে তা শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। 

দাহ্য পদার্থ: 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এসব পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ: 
- লেড, মার্কারি ইত্যাদি পদার্থগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এগুলোকে ব্যবহার করার সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ব্যবহারের পরে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। 

বিষাক্ত পদার্থ: 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। তাই শরীরে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা ক্ষতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ: 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৯.
শয়তানের নিশ্বাস (ডেভিলস ব্রেথ) কোন উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. পাতা শ্যাওলা
  2. কাকডুমুর 
  3. আফিম 
  4. ধুতুরা
ব্যাখ্যা

শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- শয়তানের নিশ্বাস বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতুরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়। 
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়। 
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে। 
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়। 
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। 
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি। 
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।

১৩০.
আল-কিমিয়া কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) স্প্যানিশ
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
আল-কেমি শব্দটি আরবি 'আল-কেমিয়া' থেকে উদ্ভুত, যা দিয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে বুঝানো হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১৩১.
কোন উপাদানটি সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম সিলিকেট
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা পটাশিয়াম লবণ (R- COOK) I
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) I
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
- 'সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3)' সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়।
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি।
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়।
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩২.
কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. ক) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  2. খ) মাটির ক্ষয়রোধ করার জন্য
  3. গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. ঘ) জৈব পদার্থের বৃদ্ধির জন্য
ব্যাখ্যা
- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৩৩.
বেকিং পাউডার মূলত-
  1. বেকিং সোডা + পটাশ এলাম
  2. বেকিং সোডা + এসকরবিক এসিড
  3. বেকিং সোডা + গ্লুকোজ
  4. বেকিং সোডা + টারটারিক এসিড
ব্যাখ্যা
• বেকিং পাউডার:
- বেকিং পাউডার বেকিং সোডা বা খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3)।
- বেকিং সোডা (NaHCO3) তৈরি করে তার মধ্যে টারটারিক এসিড (C₂H₂O) মিশালে বেকিং পাউডার তৈরি হয়।
- সাধারণত কেক বানানোর কাজে বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।

• বেকিং সোডা প্রস্তুতি:
- অ্যামোনিয়া গ্যাস, খাদ্য লবণ, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে বেকিং সোডা প্রস্তুত করা যায়।
- প্রথমে পানির মধ্যে NaCl কে দ্রবীভূত করে NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়।
- এবার এই সম্পৃক্ত দ্রবণের মধ্যে NH₃ গ্যাস প্রবাহিত করে NH₃ দ্বারা সম্পৃক্ত করা হয়।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে NH₃ সম্পৃক্ত NaCl দ্রবণের মধ্যে প্রবাহিত করা হয়।
- এক্ষেত্রে CO2, NH3, H2O একত্র হয়ে প্রথমে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NH4HCO3) উৎপন্ন হয়।
- এরপর অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট সোডিয়াম ক্লোরাইড-এর সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) বা বেকিং সোডা উৎপন্ন করে।

CO2 + NH3 + H2O → NH4HCO3
NH4HCO3 + NaCl→ NaHCO3 + NH4Cl

- বেকিং সোডাকে বিক্রিয়া পাত্র থেকে পৃথক করে তার সাথে টারটারিক এসিড মেশানো হয়।
- এ মিশ্রণকে বেকিং পাউডার বলে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৪.
ভিনেগার ব্যবহারের ফলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কেমন হয়? 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. প্রথমে বাড়ে পরে কমে 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়, তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৫.
কোন এস্টারটি আনারসে ঘ্রাণ তৈরি করে?
  1. অকটাইল অ্যাসিটেট
  2. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  3. মিথাইল বিউটাইরেট
  4. অ্যামাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
ফস-চেক কী?
  1. ক্ষতিকারক গ্যাস
  2. অগ্নি প্রতিরোধক
  3. সারজাতীয় কীটনাশক
  4. শক্তিবর্ধক রাসায়নিক
ব্যাখ্যা
ফস-চেক: 
- ফস-চেক এক ধরনের অগ্নিপ্রতিরোধক উপাদান যা পেরিমিটার নামের একটি কোম্পানি বিক্রি করে। 
- সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে দাবানল ঠেকাতে শহরটির লাল-গোলাপি এই গুঁড়া ব্যবহার করা হয়েছে। 
- ফস-চেক মূলত আগুনের চারপাশে স্প্রে করা হয়, যাতে এটি আগুনের গতিপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে। এর উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮০ শতাংশ পানি, ১৪ শতাংশ সারজাতীয় লবণ এবং ৬ শতাংশ রঙিন ও ক্ষয় প্রতিরোধী উপাদান। এটি জ্বালানির তাপমাত্রা হ্রাস করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। 
- ফস-চেক-এর মূল উপাদান হচ্ছে অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা অ্যামোনিয়াম সালফেট (যা আগুন প্রতিরোধে সাহায্য করে)। 

- আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৯৬৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফস-চেক ব্যবহার করে আসছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগও দীর্ঘদিন ধরে আগুন নেভানোর প্রধান উপাদান হিসেবে এটা ব্যবহার করছে। 
- বিশ্বে আগুন নেভানোর কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপাদানগুলোর একটি হচ্ছে এই ফস-চেক। 
- ফস-চেকের গুঁড়া যত শুকিয়ে যাবে, পুরোপুরি পরিষ্কার করা তত কঠিন হতে পারে। ছোট কোনো জায়গা থেকে গরম পানি ও অল্প ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে এটা উঠিয়ে ফেলা যাবে। আর পৃষ্ঠটি বড় হলে পানির উচ্চচাপ ব্যবহার করে পরিষ্কার করতে হবে। 
- ফস-চেকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান জলাশয়ের ক্ষতি করে। 
- তাই যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা জলপথ ও বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থলের মতো পরিবেশগত সংবেদনশীল এলাকায় আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত ফস-চেকের ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা, (১৪ জানুয়ারি, ২০২৫), ব্রিটানিকা এবং সময় নিউজ।
১৩৭.
মোবাইল ফোনের ব্যাটারি এক প্রকার -
  1. প্রাইমারি কোষ
  2. সেকেন্ডারি কোষ
  3. শুষ্ক কোষ
  4. ড্যানিয়েল কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
- যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
- প্রাথমিক কোষের চার্জ একবার শেষ হিয়ে গেলে আর ব্যাবহার করা যায় না। যেমন : পেন্সিল ব্যাটারি।

২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ - যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 
- সেকেন্ডারি বা সঞ্চয়ী কোষ চার্জ দিয়ে বারবার ব্যাবহার করা যায়। যেমন : চার্জার লাইট, চার্জার ফ্যান, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে গ্যালভানিক কোষ। 
- এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট তড়িৎ রাসায়নিক কোষ হচ্ছে শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল এবং সরল ভোল্টায়িক কোষ। 

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩৮.
কোনটি পলিমার যৌগ?
  1. পলিথিন
  2. ইথিলিন
  3. বিউটেন
  4. ফরমালিন
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer):
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরােস (Meros) থেকে।
- পলি শব্দের অর্থ হলাে অনেক (Many) এবং মেরােস শব্দের অর্থ অংশ (Part)।
- অর্থাৎ অনেকগুলাে একই রকম ছােট ছােট অংশজোড়া দিয়ে যে একটি বড় জিনিস পাওয়া যায়, সেটি হচ্ছে পলিমার।

•পলিথিন: 
-  পলিথিন ইথিলিনের পলিমার।
- ইথিলিন গ্যাসকে ১০০০-১২০০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ২০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে পলিথিন পাওয়া যায়।
- তবে এক্ষেত্রে পলিমারকরণ দ্রুত করার জন্য প্রভাবক হিসেবে অক্সিজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। 
- তবে উচ্চ চাপ পদ্ধতি সহজসাধ্য না হওয়ায় বর্তমানে পদ্ধতি টি জনপ্রিয় নয়।
- এখন টাইটেনিয়াম ট্রাই ক্লোরাইড (TiCl3) নামক প্রভাবক ব্যবহার করে বায়ুমণ্ডলীয় চাপেই পলিথিন তৈরি হয়। 


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১৩৯.
কোন প্রাণির দুগ্ধে ক্যালরি শক্তি বেশি থাকে?
  1. ভেড়া
  2. গাভী
  3. মহিষ
  4. ছাগল
ব্যাখ্যা
- 'মহিষ' প্রাণীর দুগ্ধে ক্যালরি শক্তি বেশি থাকে। 

দুধের শতকরা সংযুক্তি: 

- প্রাকৃতিক খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে দুধ অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়। 
- দুধ হলো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাতৃ প্রজাতির দুগ্ধ গ্রন্থি বা mammary glands থেকে নিঃসৃত সাদা বর্ণের তরল পদার্থ। 
- দুধে প্রাণিদেহের প্রয়োজনীয় সব প্রকার পুষ্টি উপাদান সুষমভাবে থাকে বলে, একে আদর্শ খাদ্য বলে। 
- নবজাতক ও শিশুর দৈহিক প্রবৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনের জন্য দুধ অপরিহার্য, এ কারণে শিশুর জন্য মায়ের দুধের অন্য কোনো বিকল্প নেই। 
- বড় হলে সকলের জন্য গরুর দুধ আদর্শ খাদ্য। 
- দুধে রয়েছে চর্বি, প্রোটিন বা আমিষ, শর্করা ল্যাকটোজ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও পানি। 
- গাভীর দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব হলো 1.029-1.039  । 
- দুধের আপেক্ষিক গুরুত্ব ল্যাকটোমিটারের সাহায্যে মাপা হয়। 
- দুধের pH মান হলো 6.6-6.9 । 
- দুধকে সংরক্ষণের জন্য 10°C তাপমাত্রা ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পরিবেশ দরকার। 
- তাই ব্যাকটেরিয়ামুক্ত পাস্তুরিত দুধকে প্যাকেটজাত করে রেফ্রিজেরেটরে সংরক্ষণ করা হয়। 
- পানি হলো দুধের প্রধান উপাদান; প্রাণিভেদে দুধে পানির পরিমাণ 82 - 88% হয়। 
- দুধের চর্বিতে অল্প পরিমাণে কোলস্টেরল ও ফসফোলিপিড থাকে, প্রাণিভেদে চর্বির পরিমাণ 3.5-7.4% হয়। 

- দুধের প্রধান খনিজ উপাদানসমূহ হলো: Ca2+(0.12%), K+(0.13%), Na+(0.05%, Mg2+(0.02%) P(0.09%), Cl-(0.11%)। 
- প্রতিগ্রাম চর্বি, প্রোটিন ও শর্করার খাদ্য মান যথাক্রমে 9 ক্যালরি, 4 ক্যালরি, 4 ক্যালরি। 
- দেহের ক্যালরির চাহিদা = দেহের ওজন (কি. গ্রাম) × 30 ক্যালরি। 
- খাদ্য গ্রহণের অনুমোদিত অনুপাত হলো চর্বি : প্রোটিন : শর্করা = 1g : 1.36g : 5.4g . 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১৪০.
ডিটারজেন্টকে পাউডার হিসেবে তৈরি করার জন্য কোন পদার্থ যোগ করা হয়? 
  1. H2SO
  2. Na2SO4 
  3. NaOH 
  4. C12H26O
ব্যাখ্যা

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট সাবানের মতোই এক প্রকার পরিষ্কারক দ্রব্য। 
- ডিটারজেন্ট সাধারণত পাউডারের মতো হয় এবং তরল আকারেও পাওয়া যায়। 
- লরাইল অ্যালকোহলের (C12H26O) সাথে সালফিউরিক এসিড (H2SO4) বিক্রিয়া করে লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট (C12H26SO4) এবং পানি উৎপন্ন করে। 
- এই লরাইল হাইড্রোজেন সালফেট (C12H26SO4) এর সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) বিক্রিয়া করে সোডিয়াম লরাইল সালফেট (C12H25SO4Na) এবং পানি (H2O) উৎপন্ন হয়। 
- সোডিয়াম লরাইল সালফেট (C12H25SO4Na) ডিটারজেন্ট নামে পরিচিত। 
• C12H26O + H2SO4  → C12H26SO4 + H2
• C12H26SO4 + NaOH → C12H25SO4Na + H2
- ডিটারজেন্টকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ডিটারজেন্টের মধ্যে বিভিন্ন পদার্থ যোগ করা হয়। 
- ডিটারজেন্টকে পাউডার আকৃতির করার জন্য সোডিয়াম সালফেট (Na2SO4) যোগ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪১.
ডিটারজেন্ট নিচের কোনটি থেকে তৈরি হয়?
  1. ক) সাবান
  2. খ) চর্বি
  3. গ) পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। 
- যেমন: পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- রসায়ন শিল্পের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক পরিষ্কারক উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
-  এর প্রত্যেকের আবার রয়েছে আলাদা উপাদান এবং রাসায়নিক যৌগ। 
- এ ছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রং এবং কখনও জীবাণুনাশক পদার্থ।
 
উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, সাধারণ বিজ্ঞান; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪২.
সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে কোন খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা হয়? 
  1. মাইকা
  2. কোয়ার্টজ
  3. চুনাপাথর
  4. ম্যাগনেটাইট
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
- ধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে অন্যতম হলো- 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

- অধাতব খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে- 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica) এবং 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৩.
​রকেটে জ্বালানি ও সোনা আহরণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. কার্বোলিক এসিড 
  2. নাইট্রিক এসিড 
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  4. সালফিউরিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
​- সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
– আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
- সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
- এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
- ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৪৪.
কোনটি প্রাইমারি দূষক?
  1. SO3
  2. N2O5
  3. NO
  4. HNO3
ব্যাখ্যা

• প্রাইমারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে। যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂)
- অ্যামোনিয়া (NH3)
- ছাই, ধুলিকণা
- Volatile organic compounds (VOCs)

• সেকেন্ডারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে।
- যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
- নাইট্রিক এসিড (HNO3)
- সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H₂O₂)
- ওজোন (O3)

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৫.
সিমেন্ট তৈরিতে প্রধান কাঁচামাল কী?
  1. চুনাপাথর
  2. কয়লা
  3. সালফার
  4. বালি 
ব্যাখ্যা

চুনাপাথর (Limestone) সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল। এতে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3) থাকে, যা পোড়ালে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) তৈরি হয় এবং অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সিমেন্ট তৈরি করে।

​সিমেন্ট উৎপাদন: 
​- সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য দু'ধরনের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। যথা-
১। ক্যালকেরিয়াস (Calcareous): চুনাপাথর, সিমেন্ট রক, মার্বেল, চক ইত্যাদি।
২। আরজিলেসিয়াস (Argillaceous): সিলিকা (SiO2), অ্যালুমিনা (Al2O3), আয়রন অক্সাইড (Fe2O3) ইত্যাদি।

সাধারণভাবে পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের শতকরা সংযুক্তি নিম্নরূপ:
• চুন (CaO) → 60-70%, 
• ​সিলিকা (SiO2) → 20-25%, 
​• অ্যালুমিনা (Al2O3) → 5-10%,  
​• ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) → 2-3%, 
​• ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO) → 1-5%,  
​• ক্ষার → 1%.

​উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪৬.
মানুষের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত? 
  1. 3.5
  2. 4.0
  3. 5.5
  4. 7.0
ব্যাখ্যা

প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৭.
ইউরিয়ার কার্যকারিতায় কোন এনজাইম ভূমিকা রাখে? 
  1. ল্যাকটেজ 
  2. অ্যামিলেজ
  3. ইউরিয়েজ 
  4. প্রোটিনেজ 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: 
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। 
- ইউরিয়ার রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [(NH2)2C=O] । 
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত করে
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয় ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৮.
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত কি গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. হিলিয়াম
  3. নিয়ন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
আর্গন: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- তাছাড়া বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর সাধারণত নাইট্রোজেন এবং মাঝে মাঝে আর্গন (Ar) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১৪৯.
৯৫.৬% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে কী বলে?
  1. রেক্টিফাইড স্পিরিট
  2. ফরমালিন
  3. ভিনেগার
  4. ক্লোরোপিক্রিন
ব্যাখ্যা
প্রাত্যহিক জীবনে রসায়ন:

• ক্লোরোফরমের রাসায়নিক সংকেত: CHCl3 (চেতনানাশক রূপে ব্যবহৃত হয়)।
• ক্লোরোফরমের সাথে গাঢ় নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় কাঁদুনে গ্যাস বা ক্লোরোপিক্রিন তৈরি হয়।
• ফল পাকানোর জন্য দায়ী ইথিলিন (CH2=CH2)
• ৯৫.৬% ইথাইল অ্যালকোহল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেক্টিফাইড স্পিরিট বলে।
• ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
• পিঁপড়ার কামড়ের সময় পিঁপড়ার লালার সাথে ফরমিক এসিড বা মিথানোয়িক এসিড নিঃসৃত হয়।
• অ্যাসিটিক এসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে।
• পাকা কলায় এমাইল এসিটেট এস্টার থাকে।
• কঁচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকার কারণে কঁচু খেলে গলা চুলকায়।

 উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১৫০.
BOD-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Basic Oxygen Demand
  2. Biological Oxygen Demand
  3. Biological Oxidation Demand
  4. Biochemical Oxygen Determination
ব্যাখ্যা

BOD: 
- BOD এর পূর্ণরূপ হলো Biological Oxygen Demand
অর্থাৎ, BOD এর বাংলা অর্থ হলো জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত পচনযোগ্য জৈব দূষককে ব্যাকটেরিয়ার মতো অণুজীব দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির BOD বলে। 
- কোনো পানির BOD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

COD: 
- COD এর পূর্ণরূপ হলো Chemical Oxygen Demand. 
অর্থাৎ, COD এর বাংলা অর্থ হলো রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা। 
- এক লিটার পানিতে উপস্থিত জৈব ও অজৈব দূষককে রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা ভাঙতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। 
- কোনো পানির COD এর মান যত বেশি হয় সে পানি তত বেশি দূষিত হয়। 

- BOD ও COD উভয়ই পানির দূষণ মাত্রা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা, পানিতে উপস্থিত শুধু জৈব বস্তুকে ভাঙতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ হলো BOD। অপরদিকে, সকল জৈব ও অজৈব দূষক তা অণুজীব দ্বারা পচনযোগ্য হোক বা না হোক তাদের রাসায়নিকভাবে সম্পূর্ণরূপে জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় তাকে উক্ত পানির COD বলে। সুতরাং, একই পানির COD এর মান BOD অপেক্ষা বেশি হবে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫১.
প্রাকৃতিকভাবে গঠিত কার্বনের তিনটি আইসোটোপের ভর সংখ্যা-
  1. ১০, ১১, ১২
  2. ১১, ১২, ১৩
  3. ১২, ১৩, ১৪
  4. ১১, ১২, ১৪
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:

- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ, কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়।
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যা মৌলটিকে অনন্য রূপে শনাক্ত করে।
- কিন্তু নীতিগতভাবে একটি মৌলের যে কোনো সংখ্যক নিউট্রন থাকতে পারে।
- মৌলের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের সংখ্যার সমষ্টি হলো এর ভরসংখ্যা।
- এ কারণেই কোনো মৌলের প্রত্যেকটি আইসোটোপের ভরসংখ্যা বিভিন্ন হয়।

• কার্বনের আইসোটোপ:

- কার্বনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে। 
- যাদের ভরসংখ্যা যথাক্রমে 12,13,14.
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6, অর্থাৎ প্রত্যেকটি কার্বন পরমাণুতে ছয়টি প্রোটন আছে, যার ফলে কার্বনের আইসোটোপগুলোতে যথাক্রমে 6, 7 এবং ৪ টি নিউট্রন রয়েছে।
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে 'পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্রধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫২.
কোন পদার্থটি বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়?
  1. টলুইন
  2. ফরমালিন
  3. গ্লুটারাল্ডিহাইড
  4. গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

• বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য সাধারণত ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। ফরমালিন মূলত পানিতে দ্রবীভূত ফরমালডিহাইড, যা জীবন্ত কোষ ও টিস্যুর প্রোটিনকে কঠিন করে দেয় এবং জীবাণু নিধন করে। এর ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনাগুলি দীর্ঘ সময় ধরে পচনরোধী অবস্থায় রাখা যায়। ফরমালিন নমুনার আকার, রঙ এবং কাঠামো বেশি পরিবর্তন না করে সংরক্ষণ করে, যা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্য বিকল্প যেমন টলুইন, গ্লুটারাল্ডিহাইড বা গ্লিসারিনও ব্যবহৃত হয়, তবে প্রধান ও প্রচলিত সংরক্ষক হিসেবে ফরমালিনই সর্বাধিক কার্যকর এবং জনপ্রিয়। এটি বায়োলজি ল্যাবে নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে।
 
• উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত পদার্থ (Preservative in Biology Lab):
- বায়োলজি ল্যাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণ করার জন্য একটি রসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় যা পচন রোধ করে।
- এটি কোষ এবং টিস্যুর কাঠামো দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত রাখে।
- সাধারণত ব্যবহৃত কিছু সংরক্ষণকারী পদার্থ হলো: টলুইন, ফরমালিন, গ্লুটারাল্ডিহাইড, এবং গ্লিসারিন। 
- তবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ সংরক্ষণের জন্য সবচেয়ে সাধারণ এবং কার্যকরী পদার্থ হলো ফরমালিন।  
- ফরমালিন হলো ৩-৪% ফর্মালডিহাইড সমাধান যা জীবদেহের প্রোটিনকে স্থিতিশীল করে এবং পচন প্রক্রিয়া রোধ করে।  
- টলুইন মূলত রঙিন পদার্থের জন্য, গ্লুটারাল্ডিহাইড মাইক্রোবায়োলজি বা টিস্যু ফিক্সেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং গ্লিসারিন শোষণীয় বা আর্দ্রতা রোধে ব্যবহৃত হয়, সরাসরি সংরক্ষণের জন্য নয়।  

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১৫৩.
ফিটকিরি কত অণু কেলাস পানি ধারণ করে?
  1. 10
  2. 12
  3. 24
  4. 18
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
কোনটি WHO কর্তৃক অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ নয়?
  1. লবণের দ্রবণ
  2. ভিনেগার
  3. সোডিয়াম বেনজোয়েট
  4. ফরমালডিহাইড
ব্যাখ্যা
ফুড প্রিজারভেটিভ (Food preservative):
- খাদ্যদ্রব্যে অনেক সময় কিছু রাসায়নিক পদার্থ মিশানো হয় যাতে খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে না পারে, খাবার দুর্গন্ধযুক্ত না হয় এবং পচন না ধরে।
- এই রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে।
- কিছু ফুড প্রিজারভেটিভ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) কর্তৃক অনুমোদিত।
- যে সব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না এবং যেগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে, তাদেরকে অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলে।
- যেমন- সোডিয়াম বেনজোয়েট, ভিনেগার, লবণের দ্রবণ, ইত্যাদি অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ।

অন্যদিকে,
- যেগুলো আমাদের শরীরে গেলে আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়, সেগুলোকে অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়।
যেমন- ফরমালডিহাইড বা ফরমালিন।

উৎস: ৮ম শ্রেণি, বিজ্ঞান ও WHO ওয়েবসাইট।
১৫৫.
পঁচা ডিমের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী কোন গ্যাস?
  1. ইথেন
  2. অ্যাসিটিলিন
  3. হাইড্রোজেন সালফাইড
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন সালফাইড পঁচা ডিমের গন্ধের জন্য দায়ী। 

হাইড্রোজেন সালফাইড: 
- হাইড্রোজেন সালফাইড গন্ধ পঁচা ডিম প্রতিম, সমস্ত পরিচিত। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় অধীনে, পদার্থ বায়বীয় অবস্থায় রয়েছে। 
- এটা কোন রঙ আছে, জলে দুর্বল দ্রবণীয়, বিষাক্ত হয়। 
- গড়ে, 20 ডিগ্রীর সেলসিয়াস 2.4 হাইড্রোজেন সালফাইড জল আয়তনের অবসান ঘটাবে। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড ব্যবহার করে মিথেন থাইয়ল, ইথেন থাইয়ল ও থায়োগ্লাইকোলিক এসিডসহ বেশ কিছু জৈব যৌগ প্রস্তুত করা হয়। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড দ্বারা গ্যাস অথবা পানি দূষিত হলে ধাতব সালফাইডে রূপান্তরিত করে দূষণমুক্ত করা হয়। 
- ডিউটেরিয়াম অক্সাইড বা সাধারণ পানি থেকে ভারী পানি পৃথকীকরণে গার্ডলার সালফাইড পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন সালফাইড ব্যবহার করা হয়। 
- হাইড্রোজেন সালফাইড সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস, বায়োগ্যাস এবং তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসে (এলপিজি) পাওয়া যায়। একে কয়েকটি উপায়ে সরিয়ে ফেলা যায়। 

উৎস: শিক্ষক বাতায়ন ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।
১৫৬.
রঞ্জক পদার্থ সাধারণত কোন উৎস থেকে তৈরি করা হয়? 
  1. লৌহ থেকে
  2. তামা থেকে
  3. মাইকা থেকে
  4. জিংক থেকে
ব্যাখ্যা
রঞ্জক পদার্থ: 
- রঞ্জক পদার্থ বিশেষ এক ধরনের জৈব যৌগ। 
- এদের বৈশিষ্ট্য হলো এরা না পানিতে দ্রবণীয় না তেলে দ্রবণীয়। এ বিশেষ গুণের কারণে রঞ্জকসমূহ ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের আরও একটি বিশেষ গুণ হলো এরা শরীরের মিউকাস পর্দার উপর কোনো প্রকার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। 
- বিভিন্ন উপাদানের বর্ণ নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থকে ব্যবহার করা হয়। 
- রঞ্জকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য এর সাথে TiO2 ব্যবহার করা হয়। 
- সাধারণত মাইকা থেকে রঞ্জক তৈরি করা হয় এবং এর উপর TiO2 এর প্রলেপ দেওয়া হয়। 
- ইয়োসিন (Eosin) একটি বহুল পরিচিত রঞ্জক পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৭.
তাপ প্রয়োগে রাবারের কী পরিবর্তন হয়? 
  1. রঙ বদলায়
  2. আয়তন কমে যায়
  3. আয়তন বেড়ে যায়
  4. আয়তন কমে আবার বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার করা হয়, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি সবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল-এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৮.
ভিনেগার খাদ্য সংরক্ষণে কিভাবে সাহায্য করে? 
  1. খাদ্যের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে 
  2. খাদ্যের তাপমাত্রা কমায়
  3. খাদ্যের প্রোটিন বৃদ্ধি করে 
  4. pH কমিয়ে অণুজীবের বংশ বিস্তার রোধ করে 
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়।
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়, তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। 
যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৯.
পদার্থের এটম নামক অবিভাজ্য একক রয়েছে- উক্তিটি কার?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) পিথাগোরাস
  3. গ) থেলিস
  4. ঘ) লোডস্টোন
ব্যাখ্যা

- পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 

১৬০.
ঈস্ট কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম নয় কোনটি? 
  1. মলটেস
  2. জাইমেস
  3. ডায়াস্টেস 
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট (Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬১.
শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান কত?
  1. 5.5
  2. 7.0
  3. 7.5
  4. 8.5
ব্যাখ্যা
প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬২.
আলকেমিস্টদের মধ্যে সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা কে শুরু করেন? 
  1. জন ডাল্টন 
  2. রবার্ট বয়েল 
  3. জাবির-ইবনে-হাইয়ান 
  4. অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে 
ব্যাখ্যা

Chemistry শব্দের উৎপত্তি: 
- মধ্যযুগে আরবের মুসলিম দার্শনিকগণ বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে সোনার মতো দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন যেগুলো ছিল মূলত রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা। 
- মধ্যযুগীয় আরবের রসায়ন চর্চাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতো আর গবেষকদের বলা হতো আলকেমিস্ট (Alchemist)। 
- আলকেমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ আল-কিমিয়া থেকে। আল-কিমিয়া শব্দটি আবার এসেছে কিমি (Chemi বা Kimi) শব্দ থেকে। এই Chemi শব্দ থেকেই Chemistry শব্দের উৎপত্তি, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রসায়ন। 

- আলকেমিস্ট জাবির-ইবনে-হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা করেন, তাই তাঁকে অনেক সময় রসায়নের জনক বলা হয়ে থাকে।
- জাবির-ইবনে-হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তিনি এসব নিয়ে গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলো তার কাছে পরিষ্কার ছিল না। 
- তবে রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবনে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী। 
- অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৩.
প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেন শতকরা কী পরিমাণে থাকে?
  1. ৪০ - ৫০%
  2. ৬০ - ৭০%
  3. ৮০ -৯০%
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক গ্যাস:
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস।
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার আছে।
- বিভিন্ন শিল্প কারখানায় এর ব্যবহার রয়েছে। এর ব্যবহার প্রধানত জ্বালানি হিসেবে।
- বাংলাদেশে রান্নার কাজে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও ব্যবহার রয়েছে অনেক সার কারখানায়।
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ।
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। কূপ খনন করে ভূগর্ভ থেকে এ গ্যাস উত্তোলন করা হয়।
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ।
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস। এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়

• প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদানগুলো হলো:

- মিথেন - ৮০% - ৯০%,
- ইথেন - ১৩%,
- প্রোপেন - ৩%1
- এছাড়া বিউটেন, ইথিলিন ও নাইট্রোজেনও কিছু পরিমাণ থাকে।
- আমাদের বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ ৯৫% - ৯৯%।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা
১৬৪.
সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) সালফার
  2. খ) জিপসাম
  3. গ) খনিজ লবণ
  4. ঘ) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ ব্যবহার
সিলভার - গহনা ও ধাতব মুদ্রা তৈরিতে।
মাইকা - বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে।
কোয়ার্টজ - কাচ, সিরিচ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে।
জিপসাম - সিমেন্ট ও প্লাস্টার অফ প্যারিস তৈরীর কাঁচামাল।
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।

১৬৫.
বেকিং পাউডারের মূল উপাদানের হচ্ছে:
  1. NaHCO3
  2. CaCO3
  3. (NH4)2CO3
  4. NH4HCO3
ব্যাখ্যা

• বেকিং পাউডারের মূল উপাদান হলো NaHCO3 (সোডিয়াম বাইকার্বনেট), অর্থাৎ সঠিক উত্তর ক)। বেকিং পাউডার সাধারণত সোডিয়াম বাইকার্বনেট, একটি অম্লীয় লবণ (যেমন টারটারিক অ্যাসিড) এবং শোষক পদার্থের মিশ্রণ। NaHCO3 উত্তাপ বা অম্লের সংস্পর্শে এলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাসের কারণে কেক, পাউরুটি বা বিস্কুট ফুলে ওঠে ও নরম হয়।

বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 

- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডা বা বেকিং পাউডারের রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O, 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৬.
জাল টাকার নোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয় কোন রশ্মি?
  1. IR-Ray
  2. X-Ray
  3. y-Ray
  4. UV-Ray
ব্যাখ্যা
অতিবেগুনী রশ্মি: 
- দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে অতিবেগুনী রশ্মি (UV রশ্মি) বলে। 
- অতিবেগুনী রশ্মি এক ধরনের তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ছোটো এবং রঞ্জন রশ্মির চেয়ে বড়। 
- এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০ ন্যানোমিটার থেকে ৪০০ ন্যানোমিটার এবং শক্তি ৩ ইলেকট্রন-ভোল্ট থেকে ১২৪ ইলেকট্রন-ভোল্ট। 
- প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না। 
 - প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না। এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়। 
- আসল পাসপোর্ট বা নোটে UV সংবেদনশিল কালির দ্বারা নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা চিহ্ন ছাপা থাকে, যা স্বাভাবিক ভাবে সাধারণ আলোয় দৃশ্যমান নয়, কিন্তু UV আলোর নিচে ওইসব নিরাপত্তা চিহ্ন দৃশ্যমান হয়, ফলে সহজেই UV দ্বারা আমরা জাল পাসপোর্ট এবং আসল পাসপোর্ট ও জাল নোট এবং আসল নোট শনাক্ত করতে পারি। 
 
উৎস: দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকা এবং ব্রিটানিকা।
১৬৭.
নিচের কোন ক্ষেত্রে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) কালি ব্যবহার করা হয়? 
  1. পাসপোর্টে
  2. ট্রাভেলারস চেকে
  3. ক্রেডিট কার্ডে
  4. উপরোক্ত সবকটিতে
ব্যাখ্যা
জাল পাসপোর্ট/টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) ব্যবহার: 
- বিগত শতাব্দী ধরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে টাকা তৈরির নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত সুনিশ্চিত হওয়ার ফলে জাল নোট তৈরিকারকদের জন্য টাকা তৈরি করা ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে। 
- জাল নোট তৈরিতে বাধা প্রদান করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে UV ফ্লুরোসেন্ট বস্তু টাকা প্রস্তুতকারী কাগজে সংযোজন করা। 
- জাল নোট শনাক্তকারী UV মেশিনে সাধারণত টাকার কাগজের বিশেষ কালি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। 
- একটি জাতির প্রচলিত মুদ্রা UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কৃতকার্যতার সাথে প্রয়োগ একটি দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্ধতি। 
- প্রথম ধাপ হচ্ছে কাগজের নোটে অতিবেগুনি (ultraviolet) কালি প্রয়োগ। 
- UV ফ্লুরোসেন্ট ফসফরাসযুক্ত নোট যখন UV রশ্মিতে স্থাপন করা হয় তখন এটি বিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণ আলোয় দেখা যায় না। 
- যখন UV রশ্মিতে অনাবৃত করা হয় তখন UV কালির পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্নগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয়। 
- এর অর্থ হচ্ছে সাধারণ আলোতে UV কালি দ্বারা ছাপাকৃত নিরাপত্তা নকশা প্রতীয়মান হয় না। 
- UV আলো প্রয়োগ করলে এ পরিবর্তন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়, যা ফ্লুরোসেন্ট আলো সৃষ্টি করে। 
উল্লেখ্য যে,
- কাগজের মুদ্রা ছাড়া এই UV রশ্মির কালি পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ট্রাভেলারস চেক, সোসাল সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করে একইভাবে জাল প্রতিরোধ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান কোনটি?
  1. ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট
  2. আইসোপ্রোপানল
  3. ক্লোরোজাইলিনল
  4. পাইন অয়েল
ব্যাখ্যা

- ডেটলের প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো ক্লোরোজাইলিনল (Chloroxylenol)। এই রাসায়নিক যৌগটির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা জীবাণু মেরে ফেলতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 

ডেটল (Dettol): 
- ডেটল একটি জনপ্রিয় এন্টিসেপটিক এবং জীবাণুনাশক হলুদ বর্ণের তরল মিশ্রণ। 
- ডেটল কতগুলো রাসায়নিক পদার্থে তৈরি একটি প্রতিরোধক যা সজীব কোষ-কলার উপর জীবাণুর জন্ম ও বৃদ্ধি রোধ করে। 
- ডেটলের প্রধান কার্যকরী উপাদান ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) যা ডেটলে সর্বোচ্চ ৪.৮% থাকে। 
- ডেটলের অন্যান্য উপাদানগুলো হলো- আইসো প্রোপানল, পাইন অয়েল, ক্যাস্টার অয়েল, সাবান এবং পানি। 

ডেটলের ব্যবহার: 
- স্যাভলনের ন্যায় ডেটল পানির সাথে মিশিয়ে কাটা, ছেঁড়া, পোকায় আক্রান্ত স্থানে তুলার সাহায্যে লাগালে জীবাণু সংক্রমণ রোধ হয়। 
- ডেটল এবং স্যাভলন উভয়কেই অ্যান্টিসেপটিক রূপে ব্যবহার করা হলেও এদেরগঠন উপাদান ভিন্ন। 
- স্যাভলন হলো ক্লোরোহেক্সিডিন গ্লুকোনেট ও সেট্রিমাইড দ্রবণের মিশ্রণ। 
- এছাড়া পরিচ্ছন্নতার কাজে যেমন- গোসলের সময়, ধোয়া-মোছার কাজে, প্রসূতি, শিশু ও রোগীর ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য কাপড়, বিছানাপত্র, ঘরের মেঝে, বাথরুম ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখতে ডেটল ব্যবহার করা হয়।
- ডেটল পানির সাথে না মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিৎ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৯.
কোয়ার্টজ নিচের কোনটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. কাঁচ তৈরিতে
  2. সিরিজ কাগজ তৈরিতে
  3. রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যথা- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা, তামা, সোনা, রূপা ইত্যাদি। 
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ, মাইকা কিংবা খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

- মাইকা খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 
- কোয়ার্টজ খনিজ পদার্থ কাঁচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭০.
নিচের কোনটি কাপড় কাচার সোডা হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সোডিয়াম বাই কার্বনেট
  2. খ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
  3. গ) সোডিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম বাই কার্বনেট অর্থাৎ সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট হলো খাবার সোডা বা বেকিং সোডা।
- সোডিয়াম কার্বনেট হলো কাপড় কাচার সোডা
- সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ হলো বেকিং পাউডার।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৭১.
তরল অবস্থায় সোডিয়ামের বৈশিষ্ট্য কী?
  1. কম সক্রিয়
  2. কঠিন অবস্থার তুলনায় বেশি সক্রিয়
  3. সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়
  4. পানি শোষণ করে না
ব্যাখ্যা

তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫°C (২৫৭°F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে।

সোডিয়াম:
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু।
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে।
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে।
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
 - সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়।
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না।
 - তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫° C (২৫৭° F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৭২.
ড্রাগ শনাক্তকরণে তড়িৎচুম্বকীয় কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. অবলোহিত রশ্মি
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
যথা- 
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল: 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।

২. রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৩.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ -
  1. ক) কম হয়
  2. খ) বেশি হয়
  3. গ) একই হয়
  4. ঘ) খুব কম হয়
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমেই আমরা বৈদ্যুতিক পাখার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিবো।

প্রথমেই দেখা যাক বৈদ্যুতিক পাখা কীভাবে ঘোরে:

একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব ব্লেড (সাধারণত ৩টি), সংযুক্ত থাকে। যখন আমরা একটি পাখার সুইচ অন করি, তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মোটরটির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলাফল হিসাবেই পাখাটি ঘুরতে থাকে। নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মোটরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।

সুতরাং, একটি পাখার ভোল্টেজর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরের ওপর নির্ভরশীল। আর একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতী, অর্থাৎ ভোল্টেজ যত বাড়বে, পাখার গতিও ততটাই বাড়বে।

এখন, বিভিন্ন রেগুলেটর ও তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যাক:

এই মুহূর্তে, বাজারে মোটামুটি দুই ধরনের রেগুলেটর পাওয়া যায়—

১) ইলেক্ট্রিক রেগুলেটর (Electric Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য রোধ বসানো থাকে। যখন পাখার ভোল্টেজ কমানো হয় তখন রোধটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার কারণে পাখার গতিও কমে যায়। কিন্তু এর ফলে পাখার ভোল্টেজ তথা গতি কমিয়ে যে বিদ্যুৎ বাঁঁচানো হয়, সেই বিদ্যুৎ এই রোধ-মধ্যস্থ তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত, এই রেগুলেটরের মাধ্যমে পাখার গতি কমিয়ে বিদ্যুৎ খরচ বিশেষ কমে না বললেই চলে।ফলে ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম-বেশির সাথে রেগুলেটর লস যথাক্রমে বেশি ও কম হয় ফলে বৈদ্যুতিক পাখার গতি যাই হোক, বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই হয়।
২) ইলেকট্রনিক রেগুলেটর (Electronic Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য মূলতঃ ট্রায়াক থাকে যার গেটে ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যানের ভোল্টেজের সাইন ওয়েভকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং ভোল্টেজের আরএমএস ভ্যালুকে পরিবর্তণ করে ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এইগুলি কখনই গরম হয়ে ওঠে না, ফলে পাখা যখন কম গতিতে চলে তখন যথেষ্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরগুলির থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশী বিদ্যুতসাশ্রয়ী।

তাই সবশেষে বলা যেতে পারে, বৈদ্যুতিক পাখা কম গতিতে চালালে বিদ্যুৎ খরচ তখনই কম হবে যখন ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহৃত হবে।
১৭৪.
"পরমাণু অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই" - মতবাদটি কে দিয়েছিলেন?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) রাদারফোর্ড
  3. গ) মেন্ডেলিফ
  4. ঘ) বোর
ব্যাখ্যা
ডাল্টনের পরমাণুবাদ:
১৮০৩ সালে ইংরেজ পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানী জন ডাল্টন পরমাণু সম্পর্কে একটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন যা ডাল্টনের পরমাণুবাদ নামে পরিচিত। তার প্রদত্ত পরমাণুবাদে মোট পাঁচটি স্বীকার্য আছে । এই স্বীকার্য পাঁচটি হলো–

১. পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণাসমূহ দ্বারা গঠিত, এই কণাগুলোর নাম পরমাণু।
২. একই পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য একই রকম হয়, ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ভিন্নরকমের হয়।
৩. পরমাণুসমূহ অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই।
৪. সরল পূর্ণসংখ্যক অনুপাতে বিভিন্ন পদর্থের পরমাণু সংযুক্ত হয়ে রাসায়নিক যৌগের সৃষ্টি করে।
৫. রাসায়নিক বিক্রয়াসমূহে পরমাণু সংযোজিত, বিভক্ত বা পুনর্বিন্যাসিত হয়।
১৭৫.
ডেটলের মূল উপাদান কোনটি?
  1. ক্লোরাল
  2. ক্লোরোবেনজিন
  3. ক্লোরোজাইলিনল
  4. বেনজিনহেক্সাক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
ডেটল (Dettol): 
- 'Dettol' হলো জীবাণুনাশক ও পচনরোধক; স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষাকারী একটি বাণিজ্যিক প্রোডাক্ট। 
- বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান Reckitt Benckister 'অ্যান্টিসেপটিক ক্লিনিং প্রোডাক্ট' রূপে- এ 'Dettol' প্রথম বাজারজাত করে। 
- ডেটলের রাসায়নিক সক্রিয় উপাদানটি হলো 4-ক্লোরো-3, 5- ডাইমিথাইল ফেনল। 
- ডেটলের অপর নাম ক্লোরোজাইলিনল (Chloro-xylenol) যা ডেটলের মূল উপাদান, এটি একটি জীবাণুনাশক। 
- এছাড়া আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, পাইন অয়েল, কাস্টর-অয়েল সোপ, সুগন্ধ বস্তু ও পানি ডেটলে থাকে।

ডেটল-মিশ্রণের সংযুক্তি: 
(১) ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) বা 4-ক্লোরো-3,5-ডাইমিথাইল ফেনল 4.8% (w/v), 
(২) আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল 13.1% (v/v), 
(৩) পাইন তেল বা টারপিনিওল (9.9% v/v, 
(৪) অবশিষ্ট সাবান পানি ও সুগন্ধ মিলে 72.2% v/v. 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
১৭৬.
নিচের কোনটি একটি অ্যান্টিসেপটিক পদার্থ? 
  1. ইথার 
  2. পেনিসিলিন 
  3. টিংচার আয়োডিন 
  4. পটাশিয়াম ক্লোরাইড 
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

কৃষিকাজে রসায়ন: 
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। 
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। 
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 

শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। 
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। 
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৭.
ডেভিলস ব্রেথ কী? 
  1. এক ধরনের ড্রাগ
  2. এক ধরনের বিষ
  3. এক ধরনের কীটনাশক
  4. এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়।  
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে।
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়।
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা [লিংক]
১৭৮.
খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহারের মূল কারণ কী?
  1. এটি খাবারের মধ্যে ফেনা সৃষ্টি করে 
  2. এটি খাবারের স্বাদ মিষ্টি করে 
  3. এটি খাদ্যের রঙ বৃদ্ধি করে 
  4. এটি pH কমিয়ে অণুজীবের বৃদ্ধি বন্ধ করে
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়; তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যবহার: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৯.
লবণ কী ধরনের পদার্থ?
  1. যৌগিক
  2. মৌলিক
  3. মিশ্র
  4. গ্যাসীয়
ব্যাখ্যা
• যৌগিক পদার্থ:
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে। অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগিক পদার্থের উদাহরণ : পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৮০.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের মূল একক কোনটি?
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. ফ্যাটি এসিড
  4. গ্লিসারল
ব্যাখ্যা

- স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ইত্যাদি শর্করা জাতীয় খাবারের মূল একক হলো গ্লুকোজ।
- প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের মূল একক হলো অ্যামাইনো এসিড।
- স্নেহ জাতীয় খাবারের মূল একক হলো ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারল।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৮১.
বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধানত কোন ধরণের কারখানায় ETP স্থাপন করা বেশি প্রয়োজন?
  1. ট্যানারি শিল্প
  2. পশু খামার শিল্প
  3. রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প
  4. কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে ETP (Effluent Treatment Plant) বা বর্জ্য পানি নিষ্কাশন কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন হয় মূলত সেই সকল শিল্পে যেখানে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বা দূষিত পানি উৎপন্ন হয়। বিশেষভাবে ট্যানারি শিল্পে ETP থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়াম, সলফার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয়, যা সরাসরি পরিবেশে ফেলা হলে মাটি, জল এবং মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে। অন্যদিকে, পশু খামার, রেডিমেড গার্মেন্টস বা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বর্জ্য পানি কম দূষিত বা সহজে পরিচালনাযোগ্য হলেও, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান অনুসারে ছোট ETP থাকতে পারে। তাই সর্বাধিক জরুরি এবং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ETP হলো ট্যানারি শিল্পে।
 
• ETP (Effluent Treatment Plant) এর প্রয়োজনীয়তা শিল্প কারখানায়:
- ETP হলো একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিল্প কারখানার তরল বর্জ্য বা জলকে পরিশোধন করা হয়।
- এটি পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের সময় কিছু ধরণের শিল্পে ETP স্থাপন বাধ্যতামূলক।  

• ট্যানারি শিল্প (Tannery Industry):
- ট্যানারি শিল্পে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর রঞ্জক এবং রাসায়নিক ব্যবহার হয়।
- এই শিল্প থেকে নির্গত বর্জ্যে ভারী ধাতু এবং বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে।
- তাই, ট্যানারি শিল্পে ETP স্থাপন করা বাধ্যতামূলক।  

• পশু খামার শিল্প (Animal Farming Industry):
- পশুপালন বা খামার শিল্প থেকে সাধারণত জৈব বর্জ্য উৎপন্ন হয়।
- যদিও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, এটি ETP বাধ্যতামূলক নয়।  

• রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প (Readymade Garments Industry):
- গার্মেন্টস শিল্পে প্রধানত রঙ এবং রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বর্জ্য সাধারণত সহজে পরিশোধনযোগ্য।
- তাই সব ক্ষেত্রে ETP বাধ্যতামূলক নয়।  
- টেক্সটাইল ডাইং ফ্যাক্টরিগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিকযুক্ত রঙিন পানি নির্গত হয়, যা শোধন করতে ETP লাগে। তবে রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পের তুলনায় ট্যানারি শিল্পে ETP স্থাপন করা বেশি প্রয়োজন। 

• কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প (Agricultural Processing Industry):
- কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে তরল বর্জ্য সাধারণত কম দূষিত হয়।
- ETP স্থাপন সাধারণত ঐচ্ছিক, নির্দিষ্ট শিল্প ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।  

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

১৮২.
ডিজিটাল ঘড়িতে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে ওঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. ক) এলইডি
  2. খ) সিলিকন চিপ
  3. গ) এলসিডি
  4. ঘ) আইসি
ব্যাখ্যা
আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলি সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।
- সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে।
- বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেমন কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়।

সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয় এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়।
- ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই।
- সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে।
১৮৩.
রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে বলা হয় -
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. ভলকানাইজিং
  3. গ্যালভানাইজিং
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রোপ্লেটিং:
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ইলেকট্রোপ্লেটিং বলা হয়।
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়।
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়।

• গ্যালভানাইজিং:
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়।

• ভলকানাইজিং:
- রাবারের তৈরি জিনিসপত্র শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে রাবারের সাথে সালফার মেশানোকে ভলকানাইজিং বলে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৪.
চুলের pH এর মান কত এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৫.২
  3. গ) ৫.৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর মান ৫.৫।
- ত্বকের pH এর মান ৫.৫ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- ত্বকের pH এর মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল। এর pH এর মান হলো ৫.০।
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH এর মান ৫.৫ এর কাছাকাছি থাকাই উচিত।
- চুলের pH এর মান ৬ এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
মুক্তার রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে -
  1. ক) কনকিওলিন
  2. খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  3. গ) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা

মুক্তা বা মতি এক ধরনের রত্ন বিশেষ, যা শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের অভ্যন্তরে তৈরি হয়। তবে সব ঝিনুকে মুক্তা থাকে না।
মাসল শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা হয়। এর রাসায়নিক উপাদান হলো কনকায়োলিন ক্যালসাইট এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
খাওয়ার সময় ঝিনুক যখন তার খোলস ফাঁক করে তখন যদি বালুর কণা বা অন্য কোনো কঠিন পদার্থের চূর্ণ তার দেহের মধ্যে ঢুকে যায় এবং চেষ্টা সত্ত্বেও সেটি বের করতে না পারে, তখন এই কণাটির জন্য ঝিনুকের দেহে প্রদাহ বা জ্বলনের সৃষ্টি হয়। তখন ঝিনুকের অঙ্গ থেকে সাদা ঘন আঠালো রস ক্ষরিত হয়ে বহিরাগত কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধতে থাকে। এই কঠিন জমাট বস্তুটিই ধীরে ধীরে মুক্তায় রূপান্তরিত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03
এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণির বোর্ড বই ও রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৮৬.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) ক্লিংকার
  2. খ) অ্যামোনিয়া
  3. গ) অপরিশোধিত তেল
  4. ঘ) মিথেন গ্যাস
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া একটি নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, যা ব্যাপক হারে ফসলি জমিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- এর প্রধান উপাদান মিথেন গ্যাস।
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে কাজকে গাঢ় সবুজ রং প্রদান করে থাকে।
- কুশি বরসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক কৃষি শিক্ষা বোর্ড বই।

১৮৭.
ডায়াবেটিক চকলেট তৈরীতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ভিনেগার
  2. TBHQ
  3. সরবিটল
  4. লেসিথিন
ব্যাখ্যা

• ডায়াবেটিক চকলেট তৈরিতে সাধারণত সরবিটল ব্যবহৃত হয়, তাই সঠিক উত্তর হলো গ) সরবিটল। সরবিটল একটি সুগার অ্যালকোহল, যা সাধারণ চিনির তুলনায় ধীরে রক্তে শোষিত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। এজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ মিষ্টিকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ভিনেগার সংরক্ষণ বা স্বাদে ব্যবহৃত হলেও চকলেট তৈরিতে নয়, TBHQ একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা তেলজাত খাদ্যে ব্যবহৃত হয়, আর লেসিথিন ইমালসিফায়ার হিসেবে চকলেটের টেক্সচার উন্নত করতে ব্যবহৃত হলেও এটি মিষ্টি উপাদান নয়।

• ডায়াবেটিক চকলেট তৈরীতে ব্যবহৃত উপাদান:
- ডায়াবেটিক চকলেট হলো এমন একটি চকলেট যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
- সাধারণ চকলেটে চিনি ব্যবহৃত হলেও ডায়াবেটিক চকলেটে চিনি ব্যবহার করা হয় না।
- এর পরিবর্তে এমন সুইটেনার ব্যবহার করা হয় যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না।
- এই ধরনের চকলেটে সাধারণত সরবিটল ব্যবহৃত হয়।
- সরবিটল হলো একটি সুগার অ্যালকোহল, যা মিষ্টি স্বাদ দিলেও গ্লুকোজের মতো দ্রুত রক্তে মিশে যায় না।
- তাই এটি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপযোগী হিসেবে বিবেচিত।

• অপশন আলোচনা:
- ভিনেগার খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হলেও চকলেট তৈরিতে ব্যবহৃত হয় না।
- TBHQ একটি কৃত্রিম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা তেল বা চর্বি সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
- লেসিথিন একটি ইমালসিফায়ার, যা চকলেটের গঠন মসৃণ করতে সাহায্য করে, তবে এটি মিষ্টি উপাদান নয়।

সুতরাং, ডায়াবেটিক চকলেট তৈরীতে ব্যবহৃত উপাদান হলো সরবিটল
সঠিক উত্তর: গ) সরবিটল। 

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

১৮৮.
অ্যারোসল কোন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে? 
  1. নিঃসরণ 
  2. ব্যাপন 
  3. বাষ্পীভবন 
  4. পাতন 
ব্যাখ্যা
ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
- যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

বাষ্পীভবন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদান করে ঐ তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
- যেমন: চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়। 

পাতন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। 
- অর্থাৎ, পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৯.
ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী কোনটি? 
  1. এস্টার
  2. গ্লুকোজ 
  3. ইথার
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফলের সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯০.
অক্সিজেনের আবিষ্কারক কে? 
  1. রাদারর্ফোড
  2. এডিসন
  3. জোসেফ প্রিস্টলে
  4. ভ্যান হেলমন্ট
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন। 
- অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক। 

অন্যদিকে, 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। 
- টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন। 
- জ্যান ভ্যান হেলমন্ট উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে তার অগ্রণী পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত, সাধারণত "willow tree experiment" হিসাবে পরিচিত। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে উদ্ভিদ প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র মাটির চেয়ে মূলত পানি থেকে তাদের ভর অর্জন করে, উদ্ভিদের দেহতত্ত্ব এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে পানির ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং ব্রিটানিকা।
১৯১.
খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য কোন লবণ ব্যবহৃত হয় যা ‘টেস্টিং সল্ট’ নামে পরিচিত?
  1. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  2. সোডিয়াম স্টিয়ারেট 
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯২.
কোনটি সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল?
  1. ইউরিয়া
  2. কয়লা
  3. জিপসাম
  4. বিটুমিন
ব্যাখ্যা

• জিপসাম (CaSO4.2H2O) হলো সিমেন্ট তৈরির অন্যতম কাঁচামাল।

- সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামালসিমেন্ট শিল্পের সহায়ক উপাদানসমূহ:
- চুনাপাথর, কাদামাটি, জিপসাম প্রভৃতি সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল।
- যেসব দেশে এসব উপাদান বেশি পাওয়া যায় সেসব দেশ সিমেন্ট শিল্পে উন্নতি লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে এসব কাঁচামালের অভাব রয়েছে।
- ফলে এদেশ সিমেন্ট শিল্পে তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি।
 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৯৩.
অম্লীয় মাটির pH কত হলে গাছপালা জীবিত থাকতে পারে না?
  1. 3
  2. 6
  3. 7
  4. 9
ব্যাখ্যা

• গাছপালা সাধারণত মধ্যম বা হালকা অম্লীয় মাটিতেই ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। মাটির pH যদি অত্যন্ত অম্লীয় হয়, যেমন pH ৩, তাহলে মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম গাছের জন্য গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকে না। এছাড়া, অতিরিক্ত অম্লত্ব অনেক ধরনের ক্ষতিকারক ধাতু যেমন অ্যালুমিনিয়ামকে দ্রবীভূত করে, যা গাছের মূলের ক্ষতি করতে পারে। ফলে গাছপালা যথাযথভাবে বৃদ্ধি পায় না বা মৃত্যুবরণ করতে পারে। অন্যদিকে, pH ৬, ৭ বা ৯-এর মাটি সাধারণত গাছপালার জীবনের জন্য সহনীয় এবং পুষ্টি গ্রহণের জন্য উপযুক্ত। তাই অত্যন্ত অম্লীয় মাটিতে (pH ৩) গাছপালা বাঁচতে পারে না।

- সঠিক উত্তর: ক) 3

pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- অম্লীয় মাটিতে pH 4.5 এর নিচে নেমে গেলে গাছপালা মারা যায়। pH 5.5 এর নিচে নেমে গেলে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৪.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. ক) টিএসপি
  2. খ) পটাশ
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) সবুজ সার
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামােনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয় এবং অ্যামােনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন করা হয়।
তাই উদ্ভিদ খাদ্য উপাদান হিসেবে ইউরিয়া সার হতে নাইট্রোজেনই গ্রহণ করে।
ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেন থাকে ৪৬%।

১৯৫.
নাইট্রাস অক্সাইড মূলত কোন ধরনের পদার্থের উদাহরণ? 
  1. তেজস্ক্রিয় পদার্থ 
  2. উত্তেজক পদার্থ  
  3. বিস্ফোরক পদার্থ 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

বিস্ফোরক পদার্থ (Explosive substance): 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এক ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ।এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 

দাহ্য পদার্থ (Flammable substance): 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। তাই এদের আগুন বা তাপ থেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। 

বিষাক্ত পদার্থ (Toxic substance): 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। এ পদার্থ শরীরে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা ক্ষতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance): 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ব্যবহার করতে হবে। 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance): 
- বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি এ ধরনের পদার্থ। এ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে তা শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগ কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। তাই এগুলোকে সতর্কভাবে রাখতে হবে এবং ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ও মাস্ক পরে নিতে হবে। 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance): 
- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এসব পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। তাই এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment): 
- লেড, মার্কারি ইত্যাদি পদার্থগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই এগুলোকে ব্যবহার করার সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ব্যবহারের পরে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। এসব পদার্থকে যথাসম্ভব পুনরুদ্ধার করে আবার ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে এগুলো সহজে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। 

ক্ষত সৃষ্টিকারী (Corrosive): 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ঘন দ্রবণ এ জাতীয় পদার্থের উদাহরণ। এ পদার্থগুলো শরীরে লাগলে শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে তা শরীরের ভেতরের অঙ্গেরও ক্ষতিসাধন করতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৬.
নিউট্রন কে আবিষ্কার করেন? 
  1. রাদারফোর্ড 
  2. ডারউইন 
  3. চ্যাডউইক 
  4. আইনস্টাইন 
ব্যাখ্যা

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৭.
দহন বিক্রিয়ার ফলে কোন গ্যাস তৈরি হয়? 
  1. H2
  2. N2
  3. O2
  4. CO2
ব্যাখ্যা
সাধারণ জ্বালানি (কাঠ, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস): 
- রান্নার কাজে সাধারণত কাঠ, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
- এসকল বস্তু দহন করে যে তাপ পাওয়া যায় তা দিয়ে রান্না করা হয়। 
- দহন বলতে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝায় যেখানে কোন পদার্থ অক্সিজেনের সাথে স্বত:স্ফূর্ত বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো দেয়। 
- কাঠের উপাদান সেলুলোজ যার মূল উপাদান কার্বন। 
- দহনের ফলে কাঠ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রধানত CO2, তাপ ও আলো উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• কাঠ + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
- একইভাবে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালেও তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আলো পাওয়া যায়। 
• C (কয়লা) + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
• CH4 (মিথেন বা প্রাকৃতিক গ্যাস) + O2 → তাপ + CO2 + H2O + আলো । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
আন্তর্জাতিকভাবে রসায়নবিদদের অনুমোদিত সবুজ রসায়ন নীতি কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ১০টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা
সবুজ রসায়ন: 
- ১৯৯১ সালে Paul Anastas সর্বপ্রথম গ্রিন কেমিস্ট্রি ধারণার অবতারণা করেন। 
- সবুজ রসায়নে (Green Chemistry) মূলত পরিবেশবান্ধব যৌগ ও তার উৎপাদন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- এটি মূলত রাসায়নিক গবেষণা ও প্রকৌশলের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর যৌগের ব্যবহার ও উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে। 
- পরিবেশের উপর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিক্রিয়ক ও উৎপন্ন উৎপাদের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসকল্পে সবুজ রসায়নের অধ্যয়ন ও অনুশীলন আবশ্যক। 
- পল এনাসথাস এবং পরবর্তীতে United States Environment Protection Agency ও John C. Warner সবুজ রসায়নের ১২টি নীতি প্রণয়ন করেন। 
- নিচে এসব নীতিমালা আলোচনা করা হলো - 
১। প্রতিরোধ, 
২। পরমাণু অর্থনীতির সর্বোচ্চকরণ, 
৩। নিরাপদ উৎপাদ, 
৪। উৎপাদের বিষক্রিয়া হ্রাস, 
৫। নিরাপদ দ্রাবক ও সহায়ক পদার্থ, 
৬। শক্তির কর্মদক্ষতার পরিকল্পনা, 
৭। নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার, 
৮। প্রভাবকীয় বিক্রিয়ক ব্যবহার, 
৯। ক্ষুদ্রাংশকরণ পরিকল্পনা, 
১০। বিক্রিয়ায় সময় অপ্রয়োজনীয় জাতক সৃষ্টি রোধ, 
১১। যথাসময়ে দূষণ এবং 
১২। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১৯৯.
কোন কাজে টিএনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) তেলের খনি অনুসন্ধানে
  2. খ) বিস্ফোরক হিসেবে
  3. গ) পোকামাকড় ধ্বংস করা জন্য
  4. ঘ) হৃদরোগের ঔষুধরূপে
ব্যাখ্যা
- টিএনটি এর পূর্ণ নাম হচ্ছে ২, ৪, ৬ ট্রাইনাইট্রো টলুইন।

ব্যবহার
- শক্তিশালী বিস্ফোরক রুপে 
- হাত বোমায়
- সেনাবাহিনীর Bomb Shell এবং জাহাজ ধ্বংসকারক  Torpedo প্রস্তুতকরণে
- বিল্ডিং ও পাহাড় Amatol নামক বিস্ফোরক প্রস্তুতকরণে

সূত্র- রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, হাজারী ও নাগ, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি
২০০.
চিপসের প্যাকেটে থাকে-
  1. নাইট্রোজেন গ্যাস
  2. হাইড্রোজেন গ্যাস
  3. অক্সিজেন গ্যাস
  4. হিলিয়াম গ্যাস
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেন গ্যাসের  ব্যবহার:
- সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতিতে ব্যবহৃত হয়,
- চিপসের প্যাকেটে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়।
- এই নাইট্রজেন গ্যাস খাবারের গুণগত মান বজায় রাখে যা বিভিন্ন ধরনের চাপ থেকে উপাদানগুলোর গুঁড়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
- ইউরিয়া সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও,
- সবচেয়ে হালকা গ্যাস - হাইড্রোজেন।
- দিয়াশলাই এর মাথায় থাকে - লোহিত  ফসফরাস।
- অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারে থাকে - তরল কার্বন ডাই অক্সাইড।

উৎস: তৃতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও ব্রিটানিকা।