ব্যাখ্যা
• 'আত্মহত্যার অধিকার' গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প' গল্পগ্রন্থের অন্যতম বিখ্যাত গল্প।
• একটি দরিদ্র পরিবারের লাঞ্ছিত জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত।
• এখানে গরিব 'নীলমণি'র যে কষ্টের কাহিনি বিবৃত হয়েছে;
• এবং সেই সঙ্গে তার যুবতী মেয়ে 'শ্যামা' কষ্টকে দলিত করে, যেভাবে তার জীবনের রস আস্বাদনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, গল্পে সেই আসক্তিকেই বড় করে দেখানো হয়েছে।
• লেখকের ভাব পরিকল্পনায় প্রতিভাত হয়েছে যে, এই অসমবিন্যস্ত জগৎ ও জীবনে সবাই অসুস্থ ও বিকারগ্রস্ত।
• স্রষ্টার সৃষ্টির অসমতার প্রতি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সন্ধানী দৃষ্টি এখানে বক্রও ব্যঙ্গাত্মক শিল্পরীতিতে বিশ্লেষিত হয়েছে।
• স্রষ্টা নিজে কেন সমাজে এমন অসাম্য সৃজন করলেন, সেই প্রশ্নও করেছেন তিনি।
⇔ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।
- 'বঙ্গশ্রী' পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।
- প্রগতি লেখক সংঘের নির্বাচিত যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন।
⇔ তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
⇒ গল্পগ্রন্থ:
• অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
• মিহি ও মোটা কাহিনী,
• সরীসৃপ,
• সমুদ্রের স্বাদ,
• বৌ ইত্যাদি।
⇒ ছোটগল্প:
• প্রাগৈতিহাসিক,
• সরীসৃপ,
• আত্মহত্যার অধিকার,
• সমুদ্রের স্বাদ,
• হলুদ পোড়া,
• আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।
⇒ উপন্যাস:
• জননী,
• দিবারাত্রির কাব্য,
• পদ্মানদীর মাঝি,
• পুতুলনাচের ইতিকথা,
• সহরবাসের ইতিকথা,
• সহরতলী,
• সার্বজনীন,
• অহিংসা,
• আরোগ্য ইত্যাদি।
⇒ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।