বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

চর্যাপদ

মোট প্রশ্ন৫৭৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

চর্যাপদ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৫৭৪

৩০১.
চর্যাপদের বিলুপ্ত পদসমূহের মধ্যে কুক্কুরীপা রচিত পদ কোনটি?
  1. ২৩নং
  2. ২৪নং
  3. ২৫নং 
  4. ৪৮নং
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের পদ সংখ্যা সম্পর্কিত আলোচনা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে
- ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০২.
চর্যাপদ কত সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৫ সালে 
  2. ১৯০৭ সালে 
  3. ১৯১৬ সালে 
  4. ১৯২০ সালে 
ব্যাখ্যা

১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন।
----------------------------------
• চর্যাপদ:
-  চর্যাপদ মানে হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লিখিত প্রথম নিদর্শন।
- এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা রচিত এক প্রকার সাধনমূলক গীতিকবিতা।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদি ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- এটি গানের সংকলন এবং একে সাধন-সংগীতও বলা হয়।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত এবং একে চর্চাগীতিকোষ বলা হয়।
- পাল শাসন আমলে এটি রচিত হয়।
- চর্যাপদকে বলা হয় সহজিয়া বা বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বনকারীদের সাহিত্য।
- এর ভাষা রীতি হলো কথ্য ভাষারীতি।
- ড. সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা।
- এবং ড. শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী অথবা প্রাচীন বাংলা ভাষা।
- চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা ও বলা হয়।

- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের আবিষ্কারক ও সম্পাদক ছিলেন।
- এটি ১৯১৬ সালে তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশিত গ্রন্থটির নাম ছিল — ‘হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’।
- চর্যাপদের পদগুলো টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন — মুনিদত্ত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম।

৩০৩.
প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের- 
  1. তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
  2. তিব্বতী ভাষার অনুবাদ করেন।
  3. রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
  4. টীকা লিখেছেন।
ব্যাখ্যা

 • চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩০৪.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।" - এই পদের রচয়িতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. শবরপা
  3. সরহপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।" - এটি  চর্যাপদের শবরপা রচিত কত ২৮নং পদ। 
 
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৫.
চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯১৩ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৮ সালে
ব্যাখ্যা

১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত “Buddhist Mystic Songs” গ্রন্থে, চর্যাপদের কত জন কবির কথা বলা হয়েছে?
  1. ২১
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ২৬
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত - Buddhist Mystic Song গ্রন্থে ২৩ জন কবির কথা বলা হয়েছে।
আবার ড. সুকুমার সেনের ''বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস'' - গ্রন্থে ২৪ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
তাই বলা হয় চর্যাপদের কবি সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪ জন।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩০৭.
"নবচর্যাপদ" কার সম্পাদনায় সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদারের
  2. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্তের
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর
  4. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• 'নবচর্যাপদ' সম্পাদকা বিষয়ক তথ্য:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক চর্যাগীতির পুথি আবিষ্কারের প্রায় অর্ধশতক বছর পর ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত নেপাল থেকে ২০টি পুথি অবলম্বনে ২৫০টি চর্যাগীতি খুঁজে বের করেন।
এগুলোর মধ্য থেকে ৯৮টি চর্যাগীতি 'নবচর্যাপদ' নামে প্রকাশের উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সেগুলো প্রকাশিত হয়।

- এই গ্রন্থে সংকলিত চর্যাগীতিপুথির প্রথম ১৯টির রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতক। পরবর্তী ৪৪টি চর্যাগীতি ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতকের রচনা। বাকি ৩৫টি চর্যাগীতির রচনাকাল পঞ্চদশ শতক।

- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নবচর্যাপদগুলির বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতক সম্পর্কে সাধারণ ধারণা, বাংলা সাহিত্যর তথাকথিত এই অন্ধকার কালপঠে এদেশে সাহিত্য রচিত হয় নি। কিন্তু নবচর্যাগীতিগুলি আবিষ্কারের পর এ প্রমাণ পাওয়া গেছে সেসময়ও সাহিত্য রচনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।
৩০৮.
ঢেণ্ডণপার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি কোনটি?
  1. অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।
  2. এবেঁ মই বুঝিল সদ্‌ গুরু বোহেঁ।
  3. কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
  4. হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি - হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী

ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা।
- তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে,
• ভুসুকুপার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি - অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।
• ভাদেপার পঙ্‌ক্তি - এবেঁ মই বুঝিল সদ্‌ গুরু বোহেঁ।
• লুইপার পঙ্‌ক্তি - কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৯.
'উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী। মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সরবী গীবত গুঞ্জরী মালী।।' চর্যাপদের কোন কবি রচিত পদ?
  1. সরহপা
  2. শবরপা
  3. লুইপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
- পদটি লিখেছেন শবরপা।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শবরপা চর্যাপদের সবচেয়ে প্রাচীন কবি।
- শবরপা লুইপার গুরু ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ২৮ নং ও ৫০ নং পদ রচনা করেন।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি ১৬ টি গ্রন্থ লিখেছেন

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।]
৩১০.
কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে 'চর্যাপদ' কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯০৭ সালে
  2. খ) ১৯১৬ সালে
  3. গ) ১৯০৯ সালে
  4. ঘ) ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন।  
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত  চর্যাপদ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পাদনা করেন।  

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]
 
৩১১.
'চর্যাপদ' রচনার উদ্দেশ্য ছিল -
  1. নীতি চর্চা
  2. ধর্ম চর্চা
  3. সাহিত্য চর্চা
  4. গান চর্চা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ রচনার উদ্দেশ্য ছিল - ধর্ম চর্চা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' বা 'চর্যাগীতিকোষ' বা 'চর্যাগীতি' বা 'চর্যাপদ'।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ (ধর্ম চর্চা)। চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১২.
চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বলেছেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১৩.
চর্যাপদে বর্ণিত চরিত্রগুলো কোন শ্রেণির?
  1. ক) নিম্ববর্গ
  2. খ) মধ্যবিত্ত
  3. গ) সন্ন্যাসী
  4. ঘ) ভাববাদী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সংগীত হলেও এখানে বর্ণিত চরিত্রগুলো অন্ত্যজ, ম্লেচ্ছ ও নিম্ববর্গের।
- এরা মলেগ্রহী, কুড়ব, চন্ডাল, বরুড়, তক্ষণকার ইত্যাদি জাতের।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৪.
চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা -
  1. আর্যদেব
  2. কৃষ্ণদেব
  3. কৃষ্ণাচার্য
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা।
- তিনি ১৩ টি পদ রচনা করেছেন। কিন্তু ১২ টি পদ পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয় না পাওয়া ২৪ নম্বর পদটি কাহ্নপার ছিল।
- তাঁর মূল নাম - কৃষ্ণাচার্য/কৃষ্ণচর্য।
- তিনি সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী ছিলেন। তিনি ধর্মশাস্ত্র, সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।

উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৫.
চর্যাপদ কী?
  1. গানের সংকলন
  2. কবিতা সংকলন
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৬.
চর্যাপদের ধর্মমত নিয়ে প্রথম আলোচনা করেন কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের প্রধান আলোচকগণ:
- ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কারের পর থেকে অনেক পণ্ডিত এ বিষয়ে আলোচনা করে এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার এবং ১৯৩৮ সালে তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯২৭ সালে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন এবং ১৯৪২ সালে চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় করে আলোচনার পথ আরও সহজ করেন।
- ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩১৭.
চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি। তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৮.
কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয় কত বঙ্গাব্দে?
  1. ১৩০৭ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৯.
কোন ভাষাচার্যের মতে চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন পণ্ডিতের মতে:
• পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।

• ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।

ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

• সুনীতিকুমারের মতকে সুকুমার সেন সমর্থন করে চর্যাগীতির ভাষাকে বাংলা বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি শৌরসেনী প্রভাবের বদলে অবহট্ঠের প্রভাবের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অসমিয়া ভাষীদের দাবিও অযৌক্তিক নয়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক। 

৩২০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের রচনাকাল-
  1. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের রচনাকাল:
চর্যাপদের সঠিক রচনাকাল সম্পর্কে পণ্ডিতেরা মতৈক্যে পৌঁছতে পারেন নি।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ৬৫০ সাল থেকে চর্যাপদের কাল ধরেছেন।
• অন্যদিকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ৯৫০ সাল থেকে চর্যাপদের রচনাকাল মনে করেন।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মৎস্যেন্দ্রনাথ বা মীননাথকে প্রথম বাঙালি কবি মনে করে প্রমাণ দেখিয়েছেন যে, তিনি সপ্তম শতকে জীবিত ছিলেন।

• ফরাসি পণ্ডিত সিলভা লেভির মতে এই মৎস্যেন্দ্রনাথ ৬৫৭ সালে রাজা নরেন্দ্রদেবের রাজত্বকালে নেপালে গিয়েছিলেন।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাকারদের সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেখিয়েছেন যে, চর্যার রচনাকাল সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে পড়ে।
• রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে, লুইপা ও সরহপা ধর্মপালের সময়ে (৭৬৯-৮০৯ সাল) বর্তমান ছিলেন। তাঁর মতে চর্যার কাল আট থেকে এগার শতক। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩২১.
মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন কোন ভাষায়?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. তিব্বতি
  4. পালি
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ভাষায় — মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।
--------------- 
• চর্যাপদ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।

- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।
- তবে তিনি ১১ নং পদ ব্যাখ্যা করননি।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন। তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র। আদি সিদ্ধাচার্য লুইপাকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের আদি কবি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩২২.
চর্যাপদ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৭
  2. ১৯০৯
  3. ১৯১৭
  4. ১৯১৬
ব্যাখ্যা

• ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২৩.
হাজার বছরের পুরাণ বাংলা বৌদ্ধগান ও দোহা ⎯ কার সম্পাদনায় গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাংলা বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
• এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।
------------------------- 
চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে যে মতান্তর রয়েছে:  
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন। 
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেন নি।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মত বিরোধের সৃষ্টি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩২৪.
চর্যাপদের পুথি থেকে কোন শাসন আমলে বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়?
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. সেন 
  4. পাল 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।  তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

- চর্যাপদ আবিষ্কারের মাধ্যমে বাংলা ভাষার আদি স্তরের লক্ষণ সম্পর্কে অবহিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। সেই সঙ্গে পালযুগের সাধারণ বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির পরিচয় এতে রূপলাভ করেছে। চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বলে বিবেচিত হওয়ায় প্রাচীন বাঙালির জীবন ও সাধনা সম্বন্ধে অনেক রহস্যের সমাধান ঘটেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩২৫.
চর্যাপদ প্রকাশের সময় এর মূল শিরোনাম কী ছিল?
  1. হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
  2. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  3. চর্যাগীতিকোষ
  4. ডাকার্ণব
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন।
- এটি বৌদ্ধধর্মের সাধনার সাথে যুক্ত প্রাচীন সঙ্গীতের ঐতিহ্য। 

- চর্যাপদ আবিষ্কার এবং সংগ্রহের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে ‘বিবিধার্থ’ পত্রিকার সম্পাদক রাজেন্দ্রলাল মিত্র তাঁর গ্রন্থ Sanskrit Buddhist Literature in Nepal-এ নেপালে সংগৃহীত বৌদ্ধধর্মের সাহিত্যের উল্লেখ করেন।
- পরে তার মৃত্যুর পর বাংলা, বিহার ও আসামের পুঁথি সংগ্রহের দায়িত্ব হরপ্রসাদ শাস্ত্রী-এর ওপর পড়ে।
- এই কারণে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তিনবার নেপালে যান—প্রথম বার ১৮৯৭, দ্বিতীয় বার ১৯৯৮ এবং তৃতীয় বার ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- নেপাল রাজদরবারের সংগ্রহশালা বা 'Royal Palace Museum of Nepal'-এ তিনি চর্যাপদের সঙ্গে ‘সহরপাদের দোহা’, ‘কৃষ্ণপাদের দোহা’ এবং ‘ডাকার্ণব’ নামক পুঁথি খুঁজে পান।
- তবে চর্যাপদ ছাড়া বাকি তিনটি পুঁথি বাংলা ভাষায় নয়; এগুলো বাংলা ভাষার পূর্ববর্তী স্তর, অপভ্রংশ বা বঙ্গকামরূপি ভাষায় রচিত।
- চর্যাপদের পদগুলি মূলত নওগাঁর পাহাড়পুর এবং সোমপুর বিহার এলাকায় রচিত।
- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ১৯১৬ সালে চর্যাপদ প্রকাশ করে।
- তখন চর্যাপদের প্রথম প্রকাশের নাম ছিল “হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা।”

- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের কবি সংখ্যা ২৩ জন। 
- আর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে পদকর্তার সংখ্যা ২৪ জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩২৬.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ 'চর্যাপদ' এর রচনাকাল -
  1. ক) দশম থেকে চর্তুদশ শতাব্দী
  2. খ) দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
  3. গ) সপ্তম থেকে চর্তুদশ শতাব্দী
  4. ঘ) নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ রচিত হয়েছিল ৯৫০ থেকে ১২০০ অব্দের মধ্যে।
- কিন্তু এরপরেই বাংলা সাহিত্যে পৃথিবীতে নেমে আসে এক করুণ অন্ধকার। সে আঁধার প্রায় দেড়শো বছর টিকেছিলো।

- ১২০০-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

তবে ড. শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদ রচিত হয়েছে ৬৫০ থেকে ১২০০ (সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) সালের মধ্যে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে চর্যার পদগুলাে ৯৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত হয়েছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩২৭.
চর্যাপদের কয়টি পদ পাওয়া যায়নি?
  1. ক) সাড়ে তিনটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) সাড়ে ছেচল্লিশটি
ব্যাখ্যা
পদসংখ্যা : চর্যাপদের সংখ্যা ৫০ টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন ৫১ টি। 
উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা : সাড়ে ছেচল্লিশ।
অনুদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা : সাড়ে তিন
অনুদ্ধার বা বিলুপ্ত পদগুলো হলো : ২৩ নম্বরের শেষাংশ (ভুসুকুপা), ২৪ নম্বর (কাহ্নপা), ২৫ নম্বর (তন্ত্রীপা), ৪৮ নম্বর (কুক্কুরীপা)।   

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৩২৮.
সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদ ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. সুকুমার সেন
  2. মুনিদত্ত
  3. কীর্তিচন্দ্র
  4. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে মতান্তর রয়েছে:
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেন নি।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মতবিরোধের সৃষ্টি।

অন্যদিকে,
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩২৯.
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন কোনটি?
  1. বেদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. রসুল বিজয়
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
 ⇒ চর্যাপদ: 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩০.
চর্যাপদের প্রথম পদ রচয়িতা লুইপা - এর শিক্ষক ছিলেন -
  1. নাগার্জুন
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের ১ম পদের রচয়িতা লুইপা।
- শবরপা ছিলেন লুইপা এর গুরু।
- অন্যদিকে, নাগার্জুন ছিলেন শবরপা এর গুরু।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৭৩০ থেকে ৮১০  খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন। 
- লুইপা মোট ২ টি পদ ( ১ ও ২৯ নং) 
- লুইপা রচিত ৫টি সংস্কৃত গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, শবরপা 'বাংলাদেশে'র লোক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩১.
চর্যাপদে কোন অন্ত্যজ শ্রেণির লোকেরা নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায় বাস করত?
  1. ডোম
  2. চণ্ডাল
  3. শবর
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• 'চর্যাপদ' এর জনগোষ্ঠী : 
- ডোম, চণ্ডাল, শবর ইত্যাদি অন্ত্যজ শ্রেণির লোকেরা নগরের বাইরে পাহাড়ে বা টিলায় বাস করত।
- ব্রাহ্মণরা এদের স্পর্শ এড়িয়ে চলতেন এবং নিজেদের সমাজকে নিষ্কলুষ রাখতে সচেষ্ট থাকতেন।

- এ বৈষম্য ও বিভেদের ভাবটি একটি চর্যাগানে অভিব্যক্তি পেয়েছে:
'নগর বাহিরি রে ডোম্বি তোহোরি কুড়িআ।
ছোই ছোই জাসি বাম্‌হণ নাড়িআ ॥' [চর্যা ১০]।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক। 
৩৩২.
চর্যাপদ কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়ে জনসমক্ষে আসে?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. তারাপদ মুখোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে  চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাংলা বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদ ছাড়াও ছিল, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
-  ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল?
  1. আধুনিক যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে।সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা।
স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৪.
'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' চর্যার কত নং পদ?
  1. ৪৯নং পদ
  2. ৬নং পদ
  3. ২নং পদ
  4. ৪৭নং পদ
ব্যাখ্যা
⇒ ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তার রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

অন্যদিকে,
• ধর্মপা চর্যার ৪৭নং পদের রচয়িতা। এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।
• কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৫.
ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে চর্যাগীতির ভাষায় কোন ভাষার প্রভাব রয়েছে?
  1. ওড়িয়ার 
  2. সংস্কৃতের 
  3. অপভ্রংশের
  4. হিন্দির 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন পণ্ডিতের মতে:
- পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।

- ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।

- ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

- সুনীতিকুমারের মতকে সুকুমার সেন সমর্থন করে চর্যাগীতির ভাষাকে বাংলা বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি শৌরসেনী প্রভাবের বদলে অবহষ্ঠের প্রভাবের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অসমিয়া ভাষীদের দাবিও অযৌক্তিক নয়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

৩৩৬.
কীর্তিচন্দ্ৰ মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন কোন নামে?
  1. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।
সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

কীর্তিচন্দ্ৰ মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।

• এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৩৩৭.
চর্যাপদ রচনা করেন কারা?
  1. হিন্দু সহজযান
  2. গির্জার পাদ্রি
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. বৈষ্ণব সহজিয়া
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপডিয়া।

৩৩৮.
চর্যাপদের কবিরা প্রধানত কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. হিন্দুধর্ম
  2. বৌদ্ধধর্ম
  3. খ্রিস্টান ধর্ম
  4. শৈব ধর্ম
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ: 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন ⎯ চর্যাপদ। এটি মূলত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদের বিষয়বস্তু ছিল বৌদ্ধ ধর্মমতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৩৯.
চর্যাপদের চর্যাগুলি কারা রচনা করেন?
  1. বৈষ্ণব সাধকগণ
  2. শৈব সাধকগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. জৈন সহজিয়াগণ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' বা 'চর্যাগীতিকোষ' বা 'চর্যাগীতি' বা 'চর্যাপদ'।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪০.
চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে প্রথম কে আলোচনা করেছেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  4. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে প্রথম আলোচনা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯২৭ সাল)।
- বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ তাঁদের ধর্মীয় রীতিনীতির নিগূঢ় রহস্য চর্যাপদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
- চর্যাপদের মাধ্যমে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা গোপন তত্ত্বদর্শন ও ধর্মচর্চাকে বাহ্যিক প্রতীকের সাহায্যে ব্যক্ত করেছেন।
- বৌদ্ধধর্মের মহাযান শাখা কালক্রমে যেসব উপশাখায় বিভক্ত হয়েছিল তারই বজ্রযানের সাধারণ প্রণালি ও তত্ত্ব চর্যাপদে বিধৃত।
- মহাসুখরূপ নির্বাণলাভ'ই হলো চর্যার প্রধান সাধনাতত্ত্ব বা ধর্মমত।

• চর্যাপদের প্রধান আলোচকগণ:
- চর্যাপদের আবিষ্কারক ও সম্পাদনা ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭ সাল)
- চর্যাপদের ভাষা নিয়ে প্রথম আলোচনা বিজয়চন্দ্র মজুমদার (১৯২০ সাল)
- চর্যাপদের ভাষা বাংলা এটা নিয়ে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও প্রমান উপস্থাপন ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৯২৬ সাল)
- চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ - কীর্তিচন্দ্র
- চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী (১৯৩৮ সাল)
- চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৪২ সাল)
- চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ- ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৯৪৬ সাল)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪১.
চর্যাপদ কার সম্পাদনায় গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• 'চর্যাপদ' সম্পর্কিত আলোচনা:  
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
• এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।

• চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে আলোচনা: 
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন। 
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেন নি।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মত বিরোধের সৃষ্টি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩৪২.
সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3.  ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪৩.
কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়?
  1. পাল
  2. সেন
  3. মুগল
  4. সুলতানি
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্টনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪৪.
চর্যাপদের পদগুলো কারা রচনা করেন?
  1. হিন্দু বৈষ্ণব কবিগণ
  2. সুফি সাধকগণ
  3. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
  4. নাথ পন্থী যোগীগণ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচ্ছে বৌদ্ধ সহজযান পন্থি। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। 
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৩৪৫.
চর্যাপদের টীকাকারের নাম কি?
  1. মীননাথ
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের টীকাকার - মুনিদত্ত।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৬.
বাংলা সাহিত্যে শ্রেণীসংগ্রামের সূচনা হয়েছিল কোন রচনার মাধ্যমে?
  1. চর্যাপদে
  2. বৈষ্ণব পদাবলিতে
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. পুঁথি সাহিত্যে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষার কারণে এটি অনেকটা ধাঁধার মতো। চর্যাপদ পড়া মানে চমৎকার ধাঁধার মধ্যে প্রবেশ করা।
- এই চর্যার পদগুলোতে ধর্ম চর্চার পাশাপাশি আছে ভালো কবিতার স্বাদ। আছে সেকালের বাংলার সমাজের ছবি, সুখ দুঃখের বর্ণনা।
- এছাড়াও চর্যাপদে রয়েছে সমাজের উঁচুশ্রেণীর লোকের অত্যাচারের ছবি। তাই কবিরা সুযোগ পেলেই উপহাস করেছেন সেসব লোকেদের।
- আজকাল শ্রেণীসংগ্রামের কথা বেশ বলা হয়; শ্রেণীসংগ্রামের জন্য রচিত হয় সাহিত্য।
- বাংলা সাহিত্যে শ্রেণীসংগ্রামের সূচনা হয়েছিলো প্রথম কবিতাগুচ্ছেই।
উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ

৩৪৭.
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৮.
কত সালে 'বিজয়চন্দ্র মজুমদার' প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন?
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯২০ সালে 'বিজয়চন্দ্র মজুমদার' প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু,
প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩৪৯.
চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

৩৫০.
'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই'- কোন কবির পদ?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) কুক্কুরীপা
  4. ঘ) ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• কুক্কুরি পাদ ৩টি পদ রচনা করেছেন।
- তিনি ২, ২০ ও ৪৮ নং পদ রচনা করেন।
- এগুলোর মধ্যে ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

চর্যাপদের ২নং পদের রচয়িতা কুক্কুরী পা।
পদটি হলো:
“দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।।”

অর্থ্যাৎ, "মাদী কাছিম দোহন করে দুধ পাত্রে রাখা যাচ্ছে না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।"
সুতুরাং, 'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই' অর্থ - গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।
==========
• চর্যাপদের সর্বাধিক পদরচয়িতা কাহ্নপা।
- পদ রচনার সংখ্যাধিক্যের কারণে তাকে চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয়।
- তিনি রচনা করেছেন ১৩টি পদ।
- তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদরচয়িতা ভুসুকুপা।
- তিনি ৮টি পদ রচনা করেছেন।

• চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা সরহপা।
- তিনি মোট ৪টি পদ রচনা করেন - ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯ সংখ্যাক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৩৫১.
কোনটি বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. রামায়ণ 
  2. চর্যাপদ 
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মঙ্গলকাব্য 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫২.
চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. স্বরবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। 
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- 'চর্যাপদ' মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৫৩.
চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. নেপালের রাজ দরবার
  3. বাংলা একাডেমি
  4. ব্রিটিশ মিউজিয়াম
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৩৫৪.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৫৫.
ড. সুকুমার সেনের ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে কতজন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র। 
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।
- এর সংস্কৃত টীকাকার হলেন মুনি দত্ত।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৫৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত ‘Buddhist Mystic Songs’ নিচের কোন গ্রন্থের অনুবাদ ও সম্পাদনা?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে  চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাংলা বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থে চর্যাপদ ছাড়াও ছিল, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডার্কাণব।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। চর্যাপদ এর ধর্মতত্ত্ব নিয়ে তিনি প্রথম আলোচনা করেন।
-  ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৫৭.
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত কয়টি যুগে ভাগ করা হয়?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
- আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে।
- সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা।
- স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে চর্যাপদের রচনা কাল -
  1. ৮৫০-১২০০ সাল
  2. ৬৫০-১২০০ সাল
  3. ৯৫০-১২০০ সাল
  4. ৬৫০-১২৫০ সাল
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের রচনা কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০-১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ সালের মধ্যে রচিত।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের কবিদের মধ্যে কোন কবি বাংলাদেশের লোক?
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি - শবরপা (৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ)।
- শবরপা চর্যাপদে ২টি (২৮, ৫০) পদ রচনা করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, তিনি বাংলাদেশের লোক

অন্যদিকে,
• চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা - কাহ্নপা (১৩টি)।
• চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা - লুইপা।
- এছাড়াও তিনি ২৯নং পদটিও রচনা করেন।
• চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬০.
কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কী নামে?
  1. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  2. আশ্চর্যচর্যাচয়
  3. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  4. চর্যাগীতিকোষ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'
- নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'।
- আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৬১.
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।/হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।- চর্যার এই পদ কে রচনা করছেন?
  1. ভুসুকপা
  2. কাহ্নপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
• "টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।/হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যার এই পদ  রচনা করছেন ঢেণ্ডণপা।

• ঢেণ্ডণপা:

- ঢেণ্ডণপা ছিলেন নবম শতকের কবি।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি। তিনি চর্যার ৩৩নং পদের রচয়িতা।
- এই একটিমাত্র পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- পদটি হলো-
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"
• অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬২.
চর্যাপদের বাঙ্গালী কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. লুইপা
  3. শবরপা
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা এবং শবরপা দুইজনই বাঙালি কবি ছিলেন।

"আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চন্ডালে লেলী।" -
ভুসুকুপার এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

সূত্রঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

অন্যদিকে,
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শবরপা বাঙ্গালি কবি ছিলেন ও তার জন্ম এই অঞ্চলে হয়েছিলো।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৩.
চর্যাপদে তন্ত্রীপা রচিত কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ২৫ নং
  2. ২৯ নং
  3. ২৪ নং
  4. ৪৬ নং
ব্যাখ্যা
তন্ত্রীপা:
- চর্যাপদে তন্ত্রীপা রচিত ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।

- তন্ত্রীপা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ তাঁর বাংলা সাহিত্যের কথা'য় (১৯৬৩) তস্ত্রীপা সম্পর্কে এক বাক্যে লিখেছেন: 'তন্ত্রীপা পদটি বৌদ্ধগানের খণ্ডিত অংশ থাকায় তাহা আমরা পাই নাই।
- তিনি buddist Mystic Songs' গ্রন্থে লিখেছেন এইটুকু:
- Tantripa is the author of the song no. 25. He was a disciple of jalandharia and afterwards of Kanhapa. In the ms. he is missing.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৪.
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কত সালে?
  1. ১৯৩৮ সালে 
  2. ১৮৪১ সালে 
  3. ১৯৪৬ সালে 
  4. ১৯৪৭ সালে 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৬৫.
সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম-
  1. Origin and Development of Bengali Language
  2. হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
  3. চর্যাগীতি পদাবলী
  4. Buddhist Mystic Songs
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম Buddhist Mystic Songs
- ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। 
- গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও আলোচনা করেন।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'  নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী' 

 [উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৩৬৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থের নাম কী?
  1. Ancient Bengali Verses
  2. Mystic Verses of India
  3. Buddhist Mystic Songs
  4. Sacred Songs of Bengal
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম - Buddhist Mystic Songs.
- ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। 
- গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'  নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী' 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৭.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের পদকর্তা-
  1. ২০ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৩ জন
  4. ২৪ জন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৩৬৮.
চর্যাপদের আবিষ্কারকের উপাধি কী ছিল?
  1. ক) ভাষাচার্য
  2. খ) ভাষাবীদ
  3. গ) মহামহোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিদ্বদ্বল্লভ
ব্যাখ্যা
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক
-  তিনি ১৮৯৮ সালে ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট লাভ করেন।  
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাল্মীকির জয় 
- বৌদ্ধধর্ম 
- কাঞ্চনমালা (উপন্যাস)
- বেণের মেয়ে ( উপন্যাস) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬৯.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় চর্যাপদ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. শান্তিনিকেতন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ সম্পর্কিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থের নাম- Buddhist Mystic Songs.
- তার মতে চর্যাপদ রচিত হয়েছিলো - ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্য।
- এই গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
- এছাড়া তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

----------------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৭১.
চর্যাপদ মূলত -
  1. ক) জীবনাচরণ পদ্ধতি
  2. খ) একগুচ্ছ ধর্মোপদেশ
  3. গ) সাধন সংগীত
  4. ঘ) দেবী বন্দনা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ মূলত গানের সংকলন।
- বৌদ্ধধর্মমতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- বৌদ্ধ সহজিয়াগন এই চর্যাগুলো রচনা করেন।

• চর্যাপদ বাংলাসাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন।
- চর্যাপদে পদ আছে ৫১ টি। তার মধ্যে সাড়ে ছেচল্লিশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
- মোট পদকর্তা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- গ্রন্থভুক্ত প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- তিনি দুটি পদ রচনা করেছেন। ১ ও ২৯ নম্বর পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭২.
চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে?
  1. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
  2. আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে
  3. নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
  4. সুদূর চীন দেশ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭৩.
ভাদেপা চর্যার কততম পদের রচয়িতা?
  1. ২৯নং
  2. ৩৩নং
  3. ৩৫নং
  4. ৪৯নং
ব্যাখ্যা
• ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো। এবং তাঁর অবস্থান ছিলো শ্রাবন্তী এলাকায়।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫নং পদ রচনা করেন।

এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্‌ গুরু বোহেঁ।।- ভাদেপা রচিত চর্যার ৩৫নং পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৪.
কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন -
  1. ডোম্বীপা
  2. ধর্মপা
  3. বিরুপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা
ধর্মপা:
- খ্রিষ্টীয় নবম শতকে বিক্রমশীলায় তাঁর অবস্থান ছিল।
- তিনি কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন।
- চর্যাপদের ৪৭নং পদ তাঁর রচনা।
- এই পদের বিশেষত্ব - এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।

অন্যদিকে,
- বিরুপার শিষ্য ছিলেন - ডোম্বীপা।
- জালন্ধরীপার শিষ্য ছিলেন - বিরুপা।
- ভাদেপার শিষ্য ছিলেন - বীণাপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৫.
চর্যাপদের অধিকাংশ পদ কোথায় বসে লেখা হয়?
  1. ক) নেপাল
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) নওগাঁ
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
চর্যার অধিকাংশ পদ নওগাঁর পাহাড়পুর তথা সোমপুর বিহারে রচিত হয়েছে।

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৩৭৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যাপদের রচনা শুরু হয়-
  1. ৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  2. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  3. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
  4. ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কিত আলোচনা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পদগুলো রচিত। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পণ্ডিতই সুনীতিকুমারকে সমর্থন করেন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩৭৭.
কত সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:

- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৭৮.
ভুসুকুপা কতটি পদ রচনা করেন?
  1. পাঁচটি
  2. আটটি
  3. দশটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৭৯.
চর্যাপদ প্রধানত কোন ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. হিন্দুধর্ম
  2. ইসলাম ধর্ম
  3. বৌদ্ধধর্ম 
  4. শিখধর্ম
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ প্রধানত - বৌদ্ধধর্মের  সাথে সম্পৃক্ত।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮০.
নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে চর্যাপদের নাম কী ছিল?
  1. আশ্চর্যচর্যাপদ
  2. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  3. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের সংস্কৃত টীকা:
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টীকা যুক্ত করা হয়েছে। পুঁথিটি খণ্ডিত ছিল বলে টীকাকারের নাম পাওয়া যায় নি। পরে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী একই সংকলনের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন এবং তাতে টীকাকার হিসেবে মুনিদত্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবিষ্কৃত পুঁথিটি মুনিদত্তের মূল সংকলন গ্রন্থ নয়-এটি ছিল অনুলিপি অথবা অনুলিপির অনুলিপি।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৩৮১.
"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।" - চর্যাপদের ভাষার বৈশিষ্ট্য অনুসারে এই পঙ্‌ক্তিটিতে “পাঞ্চ বি ডাল” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
  1. পাঁচটি ধর্মীয় পথ 
  2. পাঁচটি গুণ
  3. পাঁচটি ইন্দ্রিয়
  4. পাঁচটি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• ''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল
চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' — পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা।
 — এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।

• পদটির আধুনিক বাংলায় রূপান্তর এরকম — 
''কায়া তরুর মত, পাঁচটি তার ডাল
চঞ্চল চিত্তে কাল প্রবেশ করেছে।।''

অন্তর্নিহিত ভাব:
মানুষের দেহকে একটি গাছের সাথে তুলনা করা হয়েছে , যার পাঁচটি শাখা হল পঞ্চ ইন্দ্রিয়। শরীরের পাঁচ ইন্দ্রিয় পাঁচটি ডালস্বরূপ। এই পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা বাইরের বস্তুজগতের সঙ্গে মানুষের নিত্য জানাশোনার পালা চলছে।য় (চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, ত্বক)।
অর্থ্যাৎ, 
চর্যাপদের গূঢ়/রহস্যমূলক ভাষায় “তরু”= দেহ, “ডাল/শাখা”= ইন্দ্রিয়। চর্যাপদের ভাষার বৈশিষ্ট্য অনুসারে “পাঞ্চ বি ডাল” বলতে দেহ-তরুর — পাঁচটি ইন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, ঘ্রাণ, জিহ্বা, ত্বক) বোঝানো হয়েছে।
--------------------
'লুইপা' সম্পর্কিত তথ্য:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদে — দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের — ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা; চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক।

৩৮২.
বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ' আবিষ্কার করেন কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।
- চর্যাপদের টীকাকার - মুনিদত্ত।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন - প্রবোধচন্দ্র বাগচী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮৩.
চর্যাপদের ১নং পদ কোনটি?
  1. ক) আপণা মাংসে হরিণা বৈরী
  2. খ) কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল। চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল
  3. গ) দুহিল দুধু কি বেন্টে যামায়
  4. ঘ) হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা।

এই পদের প্রথম দুইটি চরণ -
"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।"

অর্থাৎ, দেহ গাছের মত, এর পাঁচটি ডাল।
চঞ্চল মনে কাল প্রবেশ করে৷
----------------
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা, ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে যামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা, ৩৩ নং পদ)।

৩৩ নং পদটি হলো -


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৮৪.
আধুনিক লিপিতে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়-
  1. ভুটান রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে
  2. রাঙ্গুনিয়া সাহিত্য পরিষদ থেকে
  3. নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।

- তাঁরই সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে' প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮৫.
চর্যাপদের কতটি পদের রচয়িতা সরহপা?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের ৪টি পদের রচয়িতা সরহপা।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাপেক্ষা বেশি পদ রচনা করেন - কাহ্নপা (১৩টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - ভুসুকুপা (৮টি)।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - সরহপা (৪টি; ২২, ৩২, ৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৬.
'চর্যাপদ' কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে?
  1. নেপাল
  2. তিব্বত
  3. মিয়ানমার
  4. শ্রীলঙ্কা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৭.
“হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” গ্রন্থে চর্যাপদের সাথে কোন দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়?
  1. ক) দোহাকোষ ও নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. খ) ডাকার্ণব ও দোহাকোষ
  3. গ) ডাকার্ণব ও শূন্যপূরাণ
  4. ঘ) দোহাকোষ ও খনার বচন
ব্যাখ্যা
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত। 
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে। 
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮৮.
চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন- 
  1. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. কীর্তিচন্দ্র
  3. মুনিদত্ত
  4. শশিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 চর্যাপদ ভাষা আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা:
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের পুথিটি যে রুপে পাওয়া যা তাতে বোঝা যায় এটি বিভিন্ন সময়ে আবর্তিত বিভিন্ন কবির রচিত কবিতার সমষ্টি সংকলন।
- কবিতাগুলোর বক্তব্য ও প্রকাশভঙ্গিতে যে দুর্বোধ্যতা ছিলো তা দূর করার জন্য মুনিদত্ত পদগুলোকে একত্রিত করে সংস্কৃত ভাষায় পদগুলোর সহজবোধ্য টিকা রচনা করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুঁথিতে মূল চর্যাপদ ও মুনিদত্তের সংস্কৃত টিকা যুক্ত আছে।
- ড. প্রবোধচন্দ্র এর তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ করেছেন কীর্তিচন্দ্র।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৮৯.
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে চর্যাপদের কত জন পদকর্তার নাম পাওয়ার যায়?
  1. ২৩ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৪ জন
  4. ২১ জন
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নাপা তিনি মোট ১৩ টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯০.
চর্যাপদে কিসের উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. ধর্মীয় তত্ত্ব
  2. বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ
  3. সমাজের আচার-আচরণ
  4. সবকিছু
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে ধর্মীয় তত্ত্ব, বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ এবং সমাজের বিভিন্ন বাস্তবধর্মী চিত্রের উল্লেখ রয়েছে।

চর্যাপদের মধ্যে উল্লেখিত বিষয়গুলি নিম্নরূপ:

১. ধর্মীয় তত্ত্ব:
চর্যাপদে তান্ত্রিক ও সহজযান ধর্মের বিভিন্ন তত্ত্বের আলোচনা রয়েছে। পদগুলোতে সাধনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্মীয় দর্শনকে তুলে ধরা হয়েছে, যা সাধকদের আত্মিক উন্নতির দিকে নির্দেশ করে।

২. বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ: 
চর্যাপদে বাঙালি জীবনের বিভিন্ন আচার-আচরণের চিত্র পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, বিয়ে, শিকার, নৌকা চালনা, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে অনুষ্ঠান ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে।

৩. সমাজের আচার-আচরণ: 
চর্যাপদে তৎকালীন বাঙালি সমাজের সামাজিক আচরণের চিত্রও প্রতিফলিত হয়েছে। এতে স্থানীয় রীতি-নীতি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবনধারার বর্ণনা রয়েছে, যেমন মেয়েদের পরিধানে ময়ূরপুচ্ছের ব্যবহার।

----------------------------
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রথম আবিষ্কার করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে। শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে এটি "বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

চর্যাপদের মূল বৈশিষ্ট্য:
সংকলন ও নাম: এই গ্রন্থটি ৪৭টি পদ নিয়ে গঠিত এবং এর পদগুলোকে ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’ নামেও ডাকা হয়। তবে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই বেশি পরিচিত।
পদকর্তারা: ২৩ জন সিদ্ধাচার্য (পদকর্তা) চর্যাপদ রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সরহপা, শবরপা, লুইপা, কাহ্নপা, ডোম্বীপা প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিষয়বস্তু ও ভাষার বৈশিষ্ট্য:
সহজযান ও তন্ত্রবাদ: চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ছিলেন, যা তান্ত্রিক যোগসাধনার একটি বিশেষ শাখা। তাঁদের পদগুলোতে সাধনামূলক তত্ত্ব ও ধর্মীয় দর্শন হেঁয়ালিপূর্ণ ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। পণ্ডিতরা এই ভাষাকে ‘আলো-আঁধারি’ বা ‘সন্ধ্যা ভাষা’ নামে অভিহিত করেছেন।
ভাষা: চর্যাপদের ভাষা অবিমিশ্র বাংলা নয়। এতে বাংলা, উড়িয়া, অসমিয়া ভাষার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এটি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম রূপের নিদর্শন হলেও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার মিশ্রণ রয়েছে।

সাহিত্য ও সঙ্গীতমূল্য:
গান ও সুর: প্রতিটি পদ রাগ ও তাল অনুসারে গাওয়া হতো, যা থেকে বোঝা যায় এটি প্রাচীন বাংলা গানের একটি নিদর্শন। পদের শেষে ‘ধ্রুব’ শব্দের উল্লেখ আছে, যা পদগুলির গীতধর্মিতার প্রমাণ দেয়।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চিত্র:
চর্যাপদে তৎকালীন বাঙালি সমাজের বিভিন্ন বাস্তবধর্মী চিত্রও পাওয়া যায়। হরিণ শিকার, নৌকা চালনা, শুঁড়ির কাজ, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বিয়ে, এবং মেয়েদের পরিধানে ময়ূরপুচ্ছের ব্যবহার ইত্যাদি সমাজের আচার-আচরণের পরিচয় বহন করে।
এ ছাড়া পদগুলি থেকে তৎকালীন বাঙালি জীবনের আচার-আচরণ ও সমাজের বাস্তবঘন পরিচয়ও পাওয়া যায়।

চর্যাপদ তাই কেবল আধ্যাত্মিক সাধনা ও তত্ত্বের গ্রন্থ নয়, এটি প্রাচীন বাংলার সাহিত্য, সংগীত ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯১.
ভাষা আলোচনা ক্রমে কে প্রথম স্বীকৃতি দেন চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯২.
'চর্যাপদ' সম্পর্কে কোনটি মিথ্যা?
  1. ড. সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
  2. ২৪নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
  3. চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
ব্যাখ্যা

"২৪নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।" - তথ্যটি মিথ্যা। এখানে, ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। 
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৯৩.
চর্যাপদের কোন রসের সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. ক) শান্ত
  2. খ) বাৎসল্য
  3. গ) শৃঙ্গার
  4. ঘ) বীর
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের শৃঙ্গার আছে।
উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৩৯৪.
চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান কোথায়?
  1. রিয়্যাল লাইব্রেরি, নেপাল
  2. Lumbini Buddhist University, Nepal
  3. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
  4. রয়্যাল লাইব্রেরি, নেপাল
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার (রয়্যাল লাইব্রেরি, নেপাল) থেকে এটি আবিষ্কার করেন। 
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩৯৫.
চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত এটি প্রথম প্রমাণ করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক আলোচনা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।  ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯৬.
সুকুমার সেনের মতে চর্যাপদের নাম কী?
  1. চর্যাগীতিকোষ
  2. চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়
  3. আশ্চর্য চর্যাচয়
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা
- কারো মতে চর্যাপদ গ্রন্থটির নাম, 'আশ্চর্য চর্যাচয়।
- সুকুমার সেনের মতে 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়, আধুনিক পণ্ডিতদের মতে এর নাম 'চর্যাগীতিকোষ' আর হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।
- তবে 'চর্যাপদ' সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাম।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯৭.
সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা কয়টি?
  1. ৫২টি
  2. ৫১টি
  3. ৫০টি
  4. ৪৫টি
ব্যাখ্যা
• সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে — ৫১টি।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌’র মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি। 

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- চর্যাপদ হচ্ছে গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদ রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচ্ছে বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা নিয়ে মতাবিরোধ আছে। সুকুমার সেনের হিসাবে ৫১টি পদ এবং মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেছেন ৫০টি পদ। চর্যাপদ ছিন্নবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এই মতান্তরের সৃষ্টি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩৯৮.
‘হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন।’- প্রবাদ বাক্যটি কার রচনা?
  1. সরহপা
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. কাঙ্কণপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬টি। এগুলো হলো:

- অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী( ভুসুকুপা, ৬নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেণ্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা, ৩৩নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা, ৩২নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী ( ঢেণ্ডণপা,৩৩নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা,৩৯নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কাঙ্কণপা, ৪৪নং পদ)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৯.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদ কোনটি?
  1. ৫ নং পদ
  2. ১৪ নং পদ
  3. ১৬ নং পদ
  4. ২৩ নং পদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি। 

অন্যদিকে,
ডোম্বীপা - চার্যাপদের ১৪নং, চাটিল্লপা - ৫নং ও জয়নন্দী পা - ৪৬ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০০.
চর্যাপদের টীকাকার মুনিদত্ত কোন পদের ব্যাখ্যা করেননি?
  1. ৩৩নং পদের 
  2. ১১নং পদের
  3. ২২নং পদের
  4. ২৩নং পদের 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে - পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।