বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Optional Laws

মোট প্রশ্ন৬৭০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Optional Laws

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৬৭০

২০১.
দ্রুত বিচার আদালত বিজ্ঞপ্তি দ্বারা পলাতক আসামিকে সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে হাজির হতে নির্দেশ দিতে পারে?
  1. ৩ দিন
  2. ৫ দিন
  3. ৭ দিন
  4. ১০ দিন
ব্যাখ্যা
• আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২

ধারা ১১- আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার-

যদি আদালতের এ মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে,- 
(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন, এবং 
(খ) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর সাত দিনের মধ্যে তাহার গ্রেফতারের কোন সম্ভাবনা নাই- 
 
তাহা হইলে আদালত অন্ততঃ একটি বাংলা দৈনিক খবরের কাগজে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা আদেশে উল্লিখিত সময় যাহা সাত দিনের বেশী হইবে না, এর মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হইবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির হইতে ব্যর্থ হইলে আদালত তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে।
২০২.
সুমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামি সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে আপীল করবে। এক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক?
  1. ট্রাইব্যুনালে আপীল করতে হবে
  2. সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারবেন
  3. আপীল করার জন্য হাইকোর্টে অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে
  4. আপীল করার জন্য ট্রাইব্যুনালে অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারবেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২৮ অনুযায়ী,
ট্রাইব্যুনালের রায়, আদেশ বা দণ্ডে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রায়ের তারিখ হইতে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারেন। এতে কোনো পূর্বানুমতি বা অনুমতির প্রয়োজন নেই।
২০৩.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংঘটিত অপরাধের অভিযোগসহ কেউ থানায় গেলে অফিসার ইনচার্জ প্রথমে কী করবেন?
  1. ঘটনা তদন্ত করবেন
  2. অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করবেন
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন
  4. ঘটনা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: ধারা ২৫ক: থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব:
(১) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণসহ কোনো অভিযোগকারী থানায় হাজির হইলে অফিসার ইনচার্জ তাৎক্ষণিকভাবে তাহার অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করিবেন এবং ক্ষেত্রমত এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে অপরাধের শিকার ব্যক্তির প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

(২) অভিযোগকারী প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণসহ থানায় হাজির হইলে তাহাকে কেবল এই যুক্তিতে ফিরাইয়া দেওয়া যাইবে না যে, তাহার ঘটনাটি অন্য থানার এখতিয়ারাধীন এলাকায় ঘটিয়াছে, বরং যেই থানাতেই অভিযোগ করা হউক না কেন, উক্ত থানার অফিসার ইনচার্জ অবিলম্বে অভিযোগকারীর বক্তব্য লিপিবদ্ধ করিবেন, অপরাধের শিকার ব্যক্তির প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করিবেন এবং অনতিবিলম্বে কেস ডায়েরিসহ অভিযোগটি উপযুক্ত থানায় প্রেরণ করিবেন।
২০৪.
বিশেষ ক্ষমতা আইন,১৯৭৪ এর ১৪ ধারায় কে আটককৃত ব্যক্তিকে অস্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে পারে?
  1. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
  2. সরকার
  3. উপদেষ্টা বোর্ড
  4. হাইকোর্ট
ব্যাখ্যা
১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৪ ধারা সরকার আটককৃত ব্যক্তিকে অস্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে পারে। এমন অস্থায়ীভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারিত স্থান এবং সময়ে আত্মসমর্পণ করবে। যদি সে নিজেকে আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হয় সে যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে যার মেয়াদ ২ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানাসহ বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

Section 14: Temporary release of persons detained

(1) The Government may, at any time, direct that any person detained in pursuance of a detention order may be released for any specified period either without conditions or upon such conditions specified in the direction as that person accepts, and may, at any time, cancel his release. 
(2) In directing the release of any person under sub-section (1), the Government may require him to enter into a bond, with or without sureties, for the due observance of the conditions specified in the direction. 
(3) Any person released under sub-section (1) shall surrender himself at the time and place, and to the authority, specified in the order directing his release or cancelling his release, as the case may be. 
(4) If any person fails without sufficient cause to surrender himself in the manner specified in sub-section (3), he shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both. 
(5) If any person released under sub-section (1) fails to fulfil any of the conditions imposed upon him under the said sub-section or in the bond entered into by him, the bond shall be declared to be forfeited and any person bound thereby shall be liable to pay the penalty thereof.
২০৫.
অপরাধ সংঘটনের সময় বাজেয়াপ্তযোগ্য মাদকদ্রব্যের সাথে বৈধ মাদকদ্রব্য পাওয়া গেলে, প্রাপ্ত বৈধ মাদকদ্রব্য-
  1. ফেরত দেওয়া হবে
  2. বিক্রি করে দেয়া হবে
  3. বাজেয়াপ্তযোগ্য হবে
  4. আদালতে পেশ করতে হবে
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৬: বাজেয়াপ্তযোগ্য মাদকদ্রব্য, বস্তু, ইত্যাদি:
(১) কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটিত হইলে মাদকদ্রব্য, মাদকদ্রব্যের সহিত জব্দকৃত অর্থ, সাজ-সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, উপকরণ, আধার, পাত্র, মোড়ক, যানবাহন অথবা অন্য কোনো বস্তু সম্পর্কে অথবা সহযোগে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে সেইগুলি বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে।

(২) মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময় বাজেয়াপ্তযোগ্য মাদকদ্রব্যের সহিত যদি কোনো বৈধ মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়, তাহা হইলে উক্ত মাদকদ্রব্যও বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে।

(৩) কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য যদি কোনো সরকারি অথবা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো যানবাহন ব্যবহার করা হয়, তাহা হইলে উহা জব্দযোগ্য হইবে এবং মামলা রুজুকারী অফিসার সরকারি কার্যের স্বার্থে উক্ত যানবাহন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী অফিসারের জিম্মায় প্রদান করিতে পারিবেন, তবে বিষয়টি এজাহারে উল্লেখ করিতে হইবে।

(৪) জব্দকৃত মাদকদ্রব্য এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের আদেশক্রমে উহা ধ্বংস করিতে হইবে।
২০৬.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী যৌতুকের জন্য সাধারণ জখমের সর্বনিম্ন শাস্তি কত বছর?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
• নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১- যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
২০৭.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী নারী অর্থ ______ বয়সের নারী।
  1. যে-কোনো
  2. ১৬ বৎসর
  3. ১৪ বৎসর
  4. ১৮ বৎসর
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ ধারা ২ (ছ) অনুযায়ী  “নারী” অর্থ যে কোন বয়সের নারী।
২০৮.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ৩৩ ধারা কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. আদালতের রায় কার্যকরকরণ
  2. অপরাধ তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ
  3. মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকরণ
  4. সরকারকে প্রতিবেদন প্রেরণ
ব্যাখ্যা
বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ধারা ৩৩: সরকারকে পুলিশ অফিসারের প্রতিবেদন প্রেরণ:
এই আইনের অধীন বিচারযোগ্য কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্কিতভাবে যদি কোনো পুলিশ অফিসার কাউকে গ্রেফতার করেন, তবে তিনি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে পেশ করার পরপরই, ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদত্ত গ্রেফতারের সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির একটি অনুলিপি সরকারকে প্রেরণ করবেন—যাহা সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্দেশিত কোনো অফিসারের মাধ্যমে সম্পন্ন করিতে বলিতে পারে।
২০৯.
নিম্নলিখিত কোনটি চেক প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে নোটিশ প্রদানের বৈধ মাধ্যম নয়?
  1. ই-মেইল
  2. ব্যক্তিগতভাবে প্রদান
  3. জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন
  4. রেজিস্টার্ড ডাকযোগে প্রেরণ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ই-মেইল।

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ধারা ১৩৮- অর্থের ঘাটতির কারণে চেক প্রত্যাখ্যান:

(১) যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ব্যাংক হিসাবে রক্ষিত অর্থ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিশোধের জন্য একটি চেক প্রদান করেন এবং উক্ত চেকটি ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয় ওই হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারণে, অথবা উক্ত ব্যাংকের সাথে চুক্তি অনুযায়ী অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি অর্থ চেকের মাধ্যমে তোলা হয়েছে - তবে উক্ত ব্যক্তিকে একটি অপরাধে দোষী গণ্য করা হবে এবং তাকে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা চেকের পরিমাণের তিন গুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

শর্তাবলি:
এই ধারা প্রযোজ্য হবে তখনই, যদি:
(ক) চেকটি ইস্যুর তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে বা তার মেয়াদ থাকাকালীন, যেটি আগে ঘটে, ব্যাংকে উপস্থাপন করা হয়;
(খ) চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়ে ব্যাংক থেকে তথ্য পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে, প্রাপ্য বা উপযুক্ত ধারক লিখিতভাবে টাকা চেয়ে নোটিশ প্রদান করেন;
(গ) নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে, চেকদাতা উক্ত অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।

(১ক) উপ-ধারা (১)-এর (খ) দফায় উল্লিখিত নোটিশ প্রদান করা যেতে পারে নিম্নলিখিত ৩টি পদ্ধতিতে:
(ক) ব্যক্তিগতভাবে চেকদাতাকে প্রদান করে;
(খ) প্রাপকের সাধারণ বা সর্বশেষ পরিচিত ঠিকানায় প্রাপ্তিস্বীকারসহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠিয়ে;
(গ) একটি বহুল প্রচারিত বাংলা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করে।

(২) যদি উপ-ধারা (১) অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায় করা হয়, তবে চেকের মূল পরিমাণ পর্যন্ত অর্থ চেকধারককে প্রদান করা হবে (যতটুকু আদায় সম্ভব হয়)।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২)-এর বিধান সত্ত্বেও, চেকধারক সিভিল আদালতের মাধ্যমে বকেয়া টাকা আদায়ের মামলা দায়ের করার অধিকার সংরক্ষণ করেন, যদি পুরো অর্থ বা আংশিক অর্থ আদায় না হয়।
২১০.
মানব পাচার প্রতিরোধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য কে বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে পারে?
  1. হাইকোর্ট
  2. সরকার
  3. ট্রাইব্যুনাল
  4. সরকারের পরামর্শে ট্রাইব্যুনাল
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭- অভিযোগ দায়ের

(১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে কোন ব্যক্তি পুলিশ অথবা ট্রাইব্যুনালের নিকট উক্ত অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে এবং পুলিশ এই ধরণের অভিযোগ আনয়নকারী ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদান করিবে এবং আইনি কার্যধারার কারণে অন্যরূপ প্রয়োজন না হইলে, তাহার নাম পরিচয় গোপন রাখিবে। 
 
(২) ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করিবার জন্য সরকার, প্রয়োজন মনে করিলে, এক বা একাধিক বিশেষ প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষীয় আইনজীবী) নিয়োগ করিতে পারিবে।
 
(৩) ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত কোন বিশেষ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিল করিলে সরকার উক্ত প্রসিকিউটরকে অপসারণ বা প্রতিস্থাপিত করিবে।
২১১.
Public Demands Recovery Act-এর ২৩ ধারার বিধান অনুযায়ী নিলাম বাতিলের জন্য কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
• Public Demands Recovery Act-এর ২৩ ধারার বিধান অনুযায়ী-
নিলাম বাতিলের জন্য ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
------------------
Section 23. Application to set aside sale of immovable property on ground of non-service of notice or irregularity.

(1) Where immovable property has been sold in execution of a certificate, the certificate-holder, the certificate-debtor, or any person whose interests are affected by the sale, may, at any time within sixty days from the date of the sale, apply to the Certificate-officer to set aside the sale on the ground that notice was not served under section 7 or on the ground of a material irregularity in the certificate proceedings or in publishing or conducting the sale:
Provided as follows:-
(a) no sale shall be set aside on any such ground unless the Certificate-officer is satisfied that the applicant has sustained substantial injury by reason of the non-service or irregularity; and
(b) an application made by a certificate-debtor under this section shall be disallowed unless the applicant either deposits the amount recoverable from him in execution of the certificate or satisfies the Certificate-officer that he is not liable to pay such amount.

(2) Notwithstanding anything contained in sub-section (1), the Certificate-officer may entertain an application made after the expiry of sixty days from the date of the sale if he is satisfied that there are reasonable grounds for so doing.
২১২.
The Special Powers Act, 1974 এর Section 25B (2) তে বর্ণিত অপরাধের সর্বনিম্ন শাস্তি-
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ২ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ২৫বি (২):

নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রি, বা বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রস্তাব বা প্রদর্শন, অথবা নিজ অধিকারে বা নিয়ন্ত্রণে রাখার অপরাধ করলে, উক্ত অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ এবং সর্বনিম্ন ১ বছরের কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ড।
 
Section 25B(2)- Penalty for smuggling
Whoever sells, or offers or displays for sale, or keeps in his possession or under his control for the purpose of sale, any goods the bringing of which into Bangladesh is prohibited by or under any law for the time being in force shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to seven years and shall not be less than one year, and shall also be liable to fine.
২১৩.
শিশু আইন, ২০১৩ এর অধীনে শিশু আদালতের বিচার কত দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে?
  1. ১২০ দিন
  2. ১৮০ দিন
  3. ২৭০ দিন
  4. ৩৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩২: বিচার সমাপ্তির সময়সীমা:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উক্ত আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিত হইবার তারিখ হইতে ৩৬০ (তিনশত ষাট) দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে। 
(২) কোন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তব কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে শিশু-আদালত, উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা আরও ৬০ (ষাট) দিন বর্ধিত করিতে পারিবে।
(৩) শিশু-আদালতে বিচার আরম্ভ হইবার পর হইতে, বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত 15[ যতদূর সম্ভব,] একাদিক্রমে উহার কার্যক্রম প্রত্যেক কার্যদিবসে বিনা বিরতিতে চলিতে থাকিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করা না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর অপরাধের দায়ে দায়েরকৃত মামলা ব্যতীত, শিশু-আদালতের বিবেচনায় তাহার বিরুদ্ধে আনীত লঘু মাত্রার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং একই অপরাধের জন্য তাহার বিরু্দ্ধে অন্য কোন বিচার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাইবে না: 
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভিযুক্ত থাকিলে তাহার মামলা অব্যাহত থাকিবে।

২১৪.
What is the time limit for filing a complaint under Section 138, as per Section 141 of the Negotiable Instruments Act, 1881?
  1. Within 15 days of dishonour
  2. Within three months of cheque issuance
  3. Within one month of the cause of action
  4. Within six months of dishonour
ব্যাখ্যা
The Negotiable Instruments Act, 1881: Section 141: Cognizance of offences:
Notwithstanding anything contained in the Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898),- 
(a) no court shall take cognizance of any offence punishable under section 138 except upon a complaint, in writing, made by the payee or, as the case may be, the holder in due course of the cheque; 
(b) such complaint is made within one month of the date on which the cause of action arises under clause (c) of the proviso to section 138; 
(c) no court inferior to that of a Court of Sessions shall try any offence punishable under section 138.

ধারা ১৪১: ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (অধ্যাদেশ নং V of 1898)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নলিখিত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে:
(ক) ধারা ১৩৮-এর অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের বিচার কেবলমাত্র সেই ক্ষেত্রে আমলে নেওয়া যাইবে, যদি উক্ত অপরাধের জন্য অভিযোগ লিখিতভাবে দায়ের করা হয় এবং উক্ত অভিযোগটি চেকের প্রাপক বা ক্ষেত্রবিশেষে চেকের যথাযথ অধিকারপ্রাপ্ত ধারক কর্তৃক দাখিল করা হয়;

(খ) এইরূপ অভিযোগ অবশ্যই সেই তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে দায়ের করিতে হইবে, যেই তারিখে ধারা ১৩৮-এর দফা (গ)-এর অধীন কার্যকারণের কারণ সৃষ্টি হয়;

(গ) ধারা ১৩৮-এর অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ বিচার করিবার ক্ষমতা সেশন আদালতের অধস্তন কোনো আদালতের থাকিবে না।
২১৫.
শিশু আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হবে?
  1. দায়রা আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. আপিল বিভাগে
  4. কোনো আপিল চলবে না
ব্যাখ্যা
⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ৪১ ধারার বিধান- আপিল ও পুনর্বিবেচনা:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। 

(২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।

(৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
২১৬.
চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ কত বার মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাবে?
  1. ৩ বার
  2. ২ বার
  3. ১ বার
  4. যতবার প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ১২: মাদকদ্রব্যের ব্যবস্থাপত্র প্রদান সম্পর্কে বিধি-নিষেধ:
(১) চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসাবে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করিতে পারিবেন না। 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে একবারের অধিক মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাইবে না।
২১৭.
বিষেশ ক্ষমতা আইনের কত ধারায় 'সান্ধ্য আইন (Curfew)' এর বিধান আছে?
  1. ১৫
  2. ২৪
  3. ২৫
  4. ২৫গ
ব্যাখ্যা
⇒বিষেশ ক্ষমতা আইনের ২৪ ধারার বিধান: সান্ধ্য আইন (Curfew):
(১) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সরকারের নিয়ন্ত্রন সাপেক্ষে আদেশ জারীর মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করতে পারেন যে, আদেশে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম বাদে, আদেশে নির্দিষ্ট এলাকা বা এলাকা সমূহে উপস্থিত কোন ব্যক্তিই আদেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তির মঞ্জুরীকৃত লিখিত অনুমতিপত্রের প্রধিকার ব্যতিত ঘরের বাহিরে আসতে পারবে না।
(২) এ ধারানুসারে দেয়া আদেশ যদি কোন ব্যক্তি লঙ্ঘন করে তবে তার ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড বা জরিমানা বা উভয় প্রকার শাস্তি হতে পারে।
---------------------------------
Section-24: Curfew:
 (1) The District Magistrate 1[or the Police Commissioner in 2[a Metropolitan Area]] may, subject to the control of the Government, by order direct that, subject to any exemption specified in the order, no person present within any area or areas specified in the order shall, between such hours as may be specified in the order, be out of doors except under the authority of a written permit granted by a specified authority or person.

(2) If any person contravenes any order made under this section, he shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
২১৮.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী কমিশনের কোন কর্মকর্তা ফাঁদ মামলা (Trap Case) পরিচালনা করতে পারেন?
  1. সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নয় এমন কর্মকর্তা
  2. উপ পরিচালক পদমর্যাদা নিম্নে নয় এমন কর্মকর্তা
  3. পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নয় এমন কর্মকর্তা
  4. কমিশনার পদমর্যাদার যে কোন কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
• ২০০৭ সালে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের ‘ফাঁদ’ কার্যক্রম অনুমোদন হয়। ওই বছরই এটি দুদকের ১৬ নম্বর বিধিতে সংযুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়,

‘দুর্নীতি প্রতিরোধের নিমিত্তে আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে হাতেনাতে ধরার উদ্দেশ্যে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফাঁদ মামলা (ট্র্যাপ কেস) প্রস্তুত করতে বা পরিচালনা করতে পারবেন।’ এ ছাড়া বলা হয়, ‘ফাঁদ মামলা তদন্ত কার্যক্রম কেবল তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনের পরিচালক পদমর্যাদার নিচে নয় এমন একজন কর্মকর্তা দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।’
২১৯.
কোনো ব্যক্তি যদি মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময়ে হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন, তাহলে তার তদন্ত সম্পন্ন করতে কত কার্যদিবস সময়সীমা নির্ধারিত?
  1. ২০ কার্যদিবস
  2. ৩০ কার্যদিবস
  3. ৪৫ কার্যদিবস
  4. ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য অপরাধের তদন্তের সময়সীমা সম্পর্কিত ধারা ৩১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে নিম্নলিখিত নিয়মাবলী প্রযোজ্য:

১. তদন্তের সময়সীমা-
হাতেনাতে ধৃত হলে: অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময় হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন, তবে তার ধৃত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।
হাতেনাতে ধৃত না হলে: অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি হাতেনাতে ধৃত না হন, তবে প্রাথমিক তথ্যপ্রাপ্তির তারিখ থেকে পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।
গ্রেফতার ও পলাতক: যদি একই মামলায় গ্রেফতার ও পলাতক ব্যক্তি থাকে, তবে উক্ত মামলার তদন্ত উপরের নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

২. অতিরিক্ত সময়সীমা-
যুক্তিসংগত কারণে: যদি কোনো যুক্তিসংগত কারণে উপরের সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব না হয়, তবে তদন্তকারী অফিসার কারণ উল্লেখপূর্বক অতিরিক্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।
অতিরিক্ত সময়ের পর: যদি অতিরিক্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন না হয়, তবে তদন্তকারী অফিসার উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।

৩. তদন্তভার হস্তান্তর-
নিয়ন্ত্রণকারী অফিসারের সিদ্ধান্ত: যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হয় এবং তদন্তকারী অফিসার দায়ী হন, তবে নিয়ন্ত্রণকারী অফিসার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তভার অন্য কোনো অফিসারের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন।
নতুন সময়সীমা: নতুন তদন্তকারী অফিসারকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে, যা সাধারণত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে।

৪. অদক্ষতা ও শাস্তি-
যদি কোনো তদন্তকারী অফিসার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন এবং তাকে দায়ী করা হয়, তবে তার অদক্ষতা তার বাৎসরিক গোপনীয় প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে চাকরি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই নিয়মাবলী মাদকদ্রব্য অপরাধের তদন্তে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
২২০.
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ৬ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি তদন্ত সম্পর্কিত তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকাশ করলে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ৬(৩) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেন, তাহলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ৬-এর উপ-ধারা (৩) বলছে: "কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান লংঘন করিলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।"

এখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হবে ২ বছর।
২২১.
কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ভীতি প্রদর্শক তথ্য প্রকাশের অপরাধের বিচার করবেন ______ ট্রাইব্যুনাল।
  1. জননিরাপত্তা
  2. সাইবার নিরাপত্তা
  3. ডিজিটাল
  4. সাইবার
ব্যাখ্যা
⇒ সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২(১) এরে (ঝ) তে বলা আছে- “ট্রাইব্যুনাল” অর্থ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর ধারা ৬৮ এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন,২০০৬ এর ৬৮ ধারার বিধান: সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন:
 (১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচারের উদ্দেশ্যে, এক বা একাধিক সাইবার ট্রাইব্যুনাল, অতঃপর সময় সময় ট্রাইব্যুনাল বলিয়া উল্লিখিত, গঠন করিতে পারিবে৷ 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন দায়রা জজ বা একজন অতিরিক্ত দায়রা জজের সমন্বয়ে গঠিত হইবে; এবং অনুরূপভাবে নিযুক্ত একজন বিচারক “বিচারক, সাইবার ট্রাইব্যুনাল” নামে অভিহিত হইবেন৷
(৩) এই ধারার অধীন গঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনালকে সমগ্র বাংলাদেশের স্থানীয় অধিক্ষেত্র অথবা এক বা একাধিক দায়রা ডিভিশনের অধিক্ষেত্র প্রদান করা যাইতে পারে; এবং উক্ত ট্রাইব্যুনাল কেবল এই আইনের অধীন অপরাধের মামলার বিচার করিবে৷
(৪) সরকার কর্তৃক পরবর্তীতে গঠিত কোন ট্রাইব্যুনালকে সমগ্র বাংলাদেশের অথবা এক বা একাধিক দায়রা বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত উহার অংশ বিশেষের স্থানীয় অধিক্ষেত্র ন্যস্ত করিবার কারণে ইতঃপূর্বে কোন দায়রা আদালতে এই আইনের অধীন নিস্পন্নাাধীন মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত, বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অধিক্ষেত্রের ট্রাইব্যুনালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলী হইবে না, তবে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, দায়রা আদালতে নিষ্পন্নাধীন এই আইনের অধীন কোন মামলা বিশেষ স্থানীয় অধিক্ষেত্রসম্পন্ন ট্রাইব্যুনালে বদলী করিতে পারিবে৷
(৫) কোন ট্রাইব্যুনাল, ভিন্নরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করিলে, যে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইয়াছে উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনঃগ্রহণ, বা পুনঃশুনানী গ্রহণ করিতে, অথবা উপ-ধারা (৪) এর অধীন গৃহীত কার্যধারা পুনরায় আরম্ভ করিতে বাধ্য থাকিবে না, তবে ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে যে সাক্ষ্য গ্রহণ বা উপস্থাপন করা হইয়াছে উক্ত সাক্ষের ভিত্তিতে কার্য করিতে এবং মামলা যে পর্যায়ে ছিল সেই পর্যায় হইতে বিচারকার্য অব্যাহত রাখিতে পারিবে৷
(৬) সরকার, আদেশ দ্বারা, যে স্থান বা সময় নির্ধারণ করিবে সেই স্থান বা সময়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আসন গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উহার কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে৷
২২২.
মানিলন্ডারিং আইন, ২০১২ এর ৪ ধারার অধীনে মানিলন্ডারিং অপরাধের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত বছর?
  1. ৭ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. যাবজ্জীবন
ব্যাখ্যা

⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ৪(২) অনুযায়ী, মানিলন্ডারিং অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। মানিলন্ডারিং অপরাধ, অথবা এর চেষ্টা, সহায়তা, বা ষড়যন্ত্রের জন্য সাজা হলো অন্যূন ৪ বছর এবং অনধিক ১২ বছর কারাদণ্ড। 
⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা-৪ মানিলন্ডারিং অপরাধ ও দণ্ড:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মানিলন্ডারিং একটি অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে। 
(২) কোন ব্যক্তি মানিলন্ডারিং অপরাধ করিলে বা মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করিলে তিনি অন্যূন ৪ (চার) বৎসর এবং অনধিক ১২ (বার) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুন মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত, যাহা অধিক, অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কর্তৃক ধার্যকৃত সময়সীমার মধ্যে অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হইলে আদালত অপরিশোধিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ বিবেচনায় অতিরিক্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

২২৩.
মুনিয়া’কে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুকের জন্য হত্যার চেষ্টা করে, কিন্তু সে বেঁচে যায়। এক্ষেত্রে, হত্যাচেষ্টার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১: যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(কক) মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে বা অনধিক বার বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক পাঁচ বৎসর কিন্তু অন্যূন দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

২২৪.
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সর্বশেষ সংশোধনী কোন সালে হয়েছে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৮  সালে
  3. ২০২৪ সালে
  4. ২০২৫ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর সর্বশেষ সংশোধনী মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ২৫ নং আইন) এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে কার্যকর হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে আইনের কিছু ধারা এবং বিধানে পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনা হয়েছে, যাতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যায়। এই সংশোধনীতে বিশেষ করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)-এর ক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ ও সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত করা, এবং শাস্তির বিধানে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

- ২০১৫ সালের সংশোধনী:
এই সংশোধনীতে মানিলন্ডারিং অপরাধের সংজ্ঞা, তদন্ত প্রক্রিয়া, এবং সম্পত্তি অবরুদ্ধকরণ ও বাজেয়াপ্তকরণের বিধান আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া, রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার দায়িত্ব এবং জরিমানার পরিমাণ সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট প্রদানে ব্যর্থতার জন্য জরিমানার পরিমাণ এবং নিবন্ধন বাতিলের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।

- আইনের প্রেক্ষাপট: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ প্রণীত হয়েছিল পূর্ববর্তী মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০১২ রহিত করে। ২০১৫ সালের সংশোধনী এই আইনকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার জন্য প্রণীত হয়। এরপর আর কোনো সংশোধনী (২০২৫ সাল পর্যন্ত) কার্যকর হয়নি।

- অর্থাৎ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর সর্বশেষ সংশোধনী ২০১৫ সালে (২০১৫ সনের ২৫ নং আইন) কার্যকর হয়েছে। এই সংশোধনী আইনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) ২০১৫ সালে।

২২৫.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ 'নবজাতক শিশু' অর্থ অনূর্ধ্ব - দিন বয়সের কোনো শিশু
  1. ২১
  2. ৩০
  3. ৪০
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২(চ) এর বিধান “নবজাতক শিশু” অর্থ অনূর্ধ্ব চল্লিশ দিন বয়সের কোন শিশু।
২২৬.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ অনুযায়ী, নিচের কোনটি 'আইনগত সহায়তা'-এর অন্তর্ভুক্ত ?
  1. আইনজীবীর সম্মানী প্রদান।
  2. মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদান।
  3. মামলা দায়েরের জন্য আইনগত পরামর্শ।
  4. উল্লিখিত সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ (ধারা ২(ক)) অনুযায়ী, আইনগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করে: 
- কোনও আদালতে দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান (ধারা ২(ক)(অ))
- মধ্যস্থতা বা সালিশ কার্য পরিচালনার জন্য সম্মানী প্রদান (ধারা ২(ক)(আ))
- মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্যান্য সহায়তা (ধারা ২(ক)(ই))
- উপরের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আইনজীবীকে নির্ধারিত হারে সম্মানী প্রদান (ধারা ২(ক)(ঈ))
তাই এই তিনটি কার্যই আইনগত সহায়তার অংশ।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর প্রস্তাবনায় এই আইনের উদ্দেশ্য দেয়া আছে। বলা আছে যে 'আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানকল্পে প্রণীত আইন।'
-যেহেতু আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদান সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ২(ক) ধারার বিধান: “আইনগত সহায়তা” অর্থ আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে-
(অ) কোন আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;
(আ) Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের বিধান অনুসারে মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে কোন মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারীকে সম্মানী প্রদান;
(ই) মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোন সহায়তা প্রদান; এবং
(ঈ) উপ-ধারা (অ) হইতে (ই) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে আইনজীবীকে সম্মানী প্রদান।

২২৭.
জেলা কমিটি 'ক' এর আইনগত সহায়তার আবেদন অগ্রাহ্য করলে, 'ক' কত দিনের মধ্যে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডে আপিল করতে পারবেন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ 'ক' সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডে আপিল (appeal) পেশ করতে পারবেন।

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০, ধারা ১৬- আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন:
(১) এই আইনের অধীন আইনগত সহায়তার জন্য সকল আবেদন সুপ্রীম কোর্ট কমিটি, জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটির নিকট পেশ করিতে হইবে৷ 

(২) এই আইনের অধীন কোন আবেদন বা দরখাস্ত জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হইলে উহা মঞ্জুরীর জন্য সংক্ষুব্ধ বিচারপ্রার্থী উক্তরূপ সিদ্ধান্তর তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে বোর্ডের নিকট আপীল পেশ করিতে পারিবেন এবং এই ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷

এখানে, “বোর্ড” বলতে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ৬ ধারার অধীন গঠিত জাতীয় পরিচালনা বোর্ড বুঝানো হয়েছে।
২২৮.
'ক' তার স্ত্রী 'খ' কে তার বাবার বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে।'খ' রাজি না হওয়ায়, 'ক' রাগান্বিত হয়ে 'খ' এর মাথায় রড দিয়ে বাড়ি দেয়, যার দরুণ 'খ' এর মাথা ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এক্ষেত্রে 'ক' নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০

ধারা ১১- যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি

যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
২২৯.
কোন অপরাধটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়?
  1. যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম
  2. ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানি
  3. ধর্ষণের চেষ্টা
  4. দাসত্বমূলক শ্রম
ব্যাখ্যা
⇒ দাসত্বমূলক শ্রম অপরাধটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯ ধারায় ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদির শাস্তি,  ১১ ধারায় যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি এবং ১২ ধারায় ভিক্ষাবৃত্তি, ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুকে অঙ্গহানি করার শাস্তির বিধান রয়েছে।
---------------------
ধারা ৯ ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদির শাস্তি:
 (১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

ব্যাখ্যা৷- যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।
(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
 
(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-
(ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
(৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষণের শিকার] হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষণের শিকার] নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

⇒ ধারা ১১-যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
 যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম simple hurt) করেন তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-
 
(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
 
ধারা ১২-ভিক্ষাবৃত্তি, ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুকে অঙ্গহানি করার শাস্তি:
 যদি কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির উদ্দেশ্যে কোন শিশুর হাত, পা, চক্ষু বা অন্য কোন অংগ বিনষ্ট করেন বা অন্য কোনভাবে বিকলাংগ বা বিকৃত করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
২৩০.
কোনো ব্যক্তি যথাযথ কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে আত্মসমর্পণ না করলে, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৪(৪) ধারা অনুসারে সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
  3. ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
ব্যাখ্যা
The Special Powers Act, 1974: ধারা ১৪: আটক ব্যক্তিদের সাময়িক মুক্তি:
(১) সরকার যেকোনো সময় নির্দেশ দিতে পারেন যে, কোনো ব্যক্তি যাকে আটকাদেশের মাধ্যমে আটক করা হয়েছে, তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে, হয় শর্তবিহীন অথবা এমন শর্তের অধীনে যা ওই ব্যক্তি মেনে নেবেন, এবং যেকোনো সময় তার মুক্তি বাতিল করতে পারেন।

(২) কোনো ব্যক্তিকে উপ-ধারা (১)-এর অধীনে মুক্তি দেওয়ার সময়, সরকার তাকে শর্তাবলী পূরণের জন্য বন্ডে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতে পারেন, যা শর্তসাপেক্ষে বা শর্তবিহীন হতে পারে।

(৩) উপ-ধারা (১)-এর অধীনে মুক্তি পাওয়া কোনো ব্যক্তি, মুক্তির আদেশ বা মুক্তি বাতিলের আদেশে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।

(৪) যদি কোনো ব্যক্তি যথাযথ কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে আত্মসমর্পণ না করেন, তবে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

(৫) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১)-এর অধীনে মুক্তি পাওয়ার পর শর্তাবলী বা বন্ডের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন, তবে বন্ড বাতিল করা হবে এবং বন্ডের অধীনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি শাস্তির জন্য দায়ী হবেন।
২৩১.
The Special Powers Act, 1974 এর তফসিলে কোন আইনের উল্লেখ নেই?
  1. ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫
  2. বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪
  3. জরুরি ক্ষমতা আইন, ১৯৭৫
  4. বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮
ব্যাখ্যা

⇒ বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪ তফসিলে উল্লেখিত নয়।

⇒ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের তফসিল:
১. এই আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৩. অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ (Arms Act, 1878) এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৪. বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮ (Explosive Substances Act, 1908) এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৪ক. জরুরি ক্ষমতা আইন, ১৯৭৫ (Emergency Powers Act, 1975) অনুযায়ী গৃহীত নিয়ম বা সেই নিয়মের অধীনে প্রদত্ত কোনো আদেশ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৫ক. ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ (Formalin Control Act, 2015) এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৬. উপরোক্ত যেকোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা বা প্রস্তুতি।

২৩২.
শিশু আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী, কার জন্য পৃথকভাবে পুলিশ রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হয়?
  1. শুধুমাত্র শিশুদের জন্য
  2. শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য
  3. প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের জন্য আলাদা আলাদা
  4. রিপোর্ট একটাই যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩, ধারা ১৫: পুলিশ রিপোর্ট (investigation report) বা অনুসন্ধান প্রতিবেদন (inquiry report) বা তদন্ত প্রতিবেদন (enquiry report) পৃথকভাবে প্রস্তুত ও আমলে গ্রহণ:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো অপরাধ সংঘটনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু জড়িত থাকিলে, পুলিশ রিপোর্ট (জি.আর মামলার ক্ষেত্রে) বা ক্ষেত্রমত, অনুসন্ধান প্রতিবেদন (সি.আর মামলার ক্ষেত্রে) বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুর জন্য পৃথকভাবে প্রস্তুত করিয়া দাখিল করিতে হইবে। 

(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু কর্তৃক একত্রে সংঘটিত কোনো অপরাধ আমলে গ্রহণের ক্ষেত্রে তাহাদের অপরাধ পৃথকভাবে আমলে গ্রহণ করিতে হইবে।]
২৩৩.
মীমাংসার ক্ষেত্রে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার পারেন না-
  1. মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ভূমিকা রাখতে
  2. বিরোধ সম্পর্কিত তথ্যসংগ্রহ করতে
  3. স্ব-উদ্যোগে আইনগত প্রশ্নে মতামত প্রদান করতে
  4. মীমাংসা সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করতে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ২১ক ধারা অনুযায়ী সরকার লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ দিয়ে থাকেন। 

• 'আইনগত প্রশ্নে মতামত প্রদান না করা' শিরোনামে আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনী পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) বিধিমালা, ২০১৫-এর ১৫ বিধিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে- 'কোনো বিরোধ আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড অফিসার, উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতি ব্যতীত, বিরোধের সাথে জড়িত আইনি প্রশ্নে মতামত প্রদানে, যতদূর সম্ভব, বিরত থাকবেন।'

অর্থাৎ- মীমাংসার ক্ষেত্রে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার স্ব-উদ্যোগে আইনগত প্রশ্নে মতামত প্রদান করতে পারেন না। তবে, উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতি নিয়ে মতামত প্রদান করতে পারেন।

• উল্লেখ্য,
আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনী পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ৯(১)(খ) অনুযায়ী-মীমাংসা সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেন। বিধি ১১(গ) অনুযায়ী- বিরোধ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
বিধি ১১ (জ) অনুযায়ী- মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।
২৩৪.
The Negotiable Instruments Act, 1881 এর ধারা ১৪১(খ) অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগ দায়েরের সময়সীমা কত?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

The Negotiable Instruments Act, 1881: ধারা ১৪১:
ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (অধ্যাদেশ নং V of 1898)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নলিখিত বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে:
(ক) ধারা ১৩৮-এর অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের বিচার কেবলমাত্র সেই ক্ষেত্রে আমলে নেওয়া যাইবে, যদি উক্ত অপরাধের জন্য অভিযোগ লিখিতভাবে দায়ের করা হয় এবং উক্ত অভিযোগটি চেকের প্রাপক বা ক্ষেত্রবিশেষে চেকের যথাযথ অধিকারপ্রাপ্ত ধারক কর্তৃক দাখিল করা হয়;

(খ) এইরূপ অভিযোগ অবশ্যই সেই তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে দায়ের করিতে হইবে, যেই তারিখে ধারা ১৩৮-এর দফা (গ)-এর অধীন কার্যকারণের কারণ সৃষ্টি হয়;

(গ) ধারা ১৩৮-এর অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ বিচার করিবার ক্ষমতা সেশন আদালতের অধস্তন কোনো আদালতের থাকিবে না।

২৩৫.
'চেক ডিজঅনার মামলায় সর্বোচ্চ জরিমানা করা যায় চেকে বর্ণিত টাকার_____।
  1. চার গুণ
  2. সম পরিমাণ
  3. দ্বিগুণ
  4. তিন গুণ
ব্যাখ্যা
• অপর্যাপ্ত তহবিল, ত্রুটিপূর্ণ স্বাক্ষর ও অন্য যে কোন যথাযথ কারনে বাহক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়া চেক যদি প্রত্যাখ্যাত হয় বা চেকে উল্লেখিত টাকা বাহককে প্রদান করা সম্ভব না হয় সেটিকেই বলা হয় চেক ডিজঅনার। কোন কারনে চেক ডিজঅনার হলে চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে হস্তারযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (Negotiable Instrument Act, 1881) অনুযায়ী আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে।

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮(১) ধারায় চেক প্রত্যাখিত হবার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা আছে চেক ডিজঅনারের শাস্তি হল ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুন জরিমানা অথবা উভয়।
২৩৬.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর __________ ধারার বিধান অনুযায়ী, সাইবার ট্রাইব্যুনাল বিচারকার্য পরিচালনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তির মতামত গ্রহণ করতে পারবে।
  1. ৪০
  2. ৪২
  3. ৪৪
  4. ৪৫
ব্যাখ্যা
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৪৪: বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ, প্রশিক্ষণ, ইত্যাদি:
(১) ট্রাইব্যুনাল বা আপীল ট্রাইব্যুনাল, বিচারকার্য পরিচালনাকালে, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ডিজিটাল ফরেনসিক, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ, ডাটা সুরক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির মতামত গ্রহণ করিতে পারিবে।

(২) সরকার বা এজেন্সি এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে, প্রয়োজনে, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ডিজিটাল ফরেনসিক, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ, ডাটা সুরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করিতে পারিবে।
২৩৭.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন কবে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করতে হবে?
  1. জুন মাসের মধ্যে
  2. মার্চ মাসের মধ্যে
  3. জানুয়ারি মাসের মধ্যে
  4. ডিসেম্বর মাসের মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৯(১) অনুযায়ী, কমিশনকে প্রতি পঞ্জিকা বছরের মার্চ মাসের মধ্যে পূর্ববর্তী বছরে সম্পাদিত কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করতে হবে। এই প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করেন (ধারা ২৯(২))।
সুতরাং, কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশের সময়সীমা হলো মার্চ মাসের মধ্যে।

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৯-বার্ষিক প্রতিবেদন:
(১) প্রতি পঞ্জিকা বত্সরের মার্চ মাসের মধ্যে কমিশন পূর্ববর্তী বত্সরে সম্পাদিত উহার কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে৷
(২) এই ধারার অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর রাষ্ট্রপতি উহা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন৷

২৩৮.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিচের কোনটি 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কোকা গাছ ও কোকা পাতা
  2. গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ
  3. অপিয়াম পপি গাছের বীজ
  4. তাঁড়ি, পঁচুই, ইত্যাদি
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী মাদকদ্রব্যগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে: 'ক', 'খ', এবং 'গ'। প্রতিটি শ্রেণির মাদকদ্রব্যের সংজ্ঞা এবং অন্তর্ভুক্ত পদার্থগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত।
⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী, 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো গাঁজা গাছ, ভাং গাছ, তাদের শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল, এবং এগুলোর সাথে প্রস্তুতকৃত নেশা বা আসক্তি সৃষ্টিকারী পদার্থ।

প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে:
ক) কোকা গাছ ও কোকা পাতা: এটি 'ক' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
খ) গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ: এটি 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
গ) অপিয়াম পপি গাছের বীজ: এটি 'ক' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) তাঁড়ি, পঁচুই, ইত্যাদি: এটি 'গ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
সঠিক উত্তর: খ) গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ।

২৩৯.
দুর্নীতি সম্পর্কিত কোন অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাকে তথ্য সরবরাহ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে?
  1. যে কোন ব্যক্তিকে
  2. সাক্ষীকে
  3. অভিযুক্তকে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৯: অনুসন্ধান বা তদন্তকার্যে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা:
 
(১) দুর্নীতি সম্পর্কিত কোন অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে, কমিশনের নিম্নরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা:- 
(ক) সাক্ষীর প্রতি নোটিশ জারী ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা; 
(খ) কোন দলিল উদ্‌ঘাটন এবং উপস্থাপন করা; 
(গ) সাক্ষ্য গ্রহণ; 
(ঘ) কোন আদালত বা অফিস হইতে পাবলিক রেকর্ড বা উহার অনুলিপি তলব করা; 
(ঙ) সাক্ষীর জিজ্ঞাসাবাদ এবং দলিল পরীক্ষা করার জন্য নোটিশ জারী করা; এবং 
(চ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নির্ধারিত অন্য যে কোন বিষয়।
 
(২) কমিশন, যে কোন ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন তথ্য সরবরাহ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে নির্দেশিত ব্যক্তি তাহার হেফাজতে রক্ষিত উক্ত তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন।
 
(৩) কোন কমিশনার বা কমিশন হইতে বৈধ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগে কোন ব্যক্তি বাধা প্রদান করিলে বা উক্ত উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত কোন নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যক্তি অমান্য করিলে উহা দণ্ডনীয় অপরাধ হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বত্সর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
২৪০.
মানব পাচারের জন্য অপরাধীকে সর্বোচ্চ কী শাস্তি দেয়া যেতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৫: মানব পাচার নিষিদ্ধকরণ ও দণ্ড:
(১) কোন ব্যক্তি ধারা ৩ এ উল্লিখিত কোন কার্য করিলে উহা মানব পচার অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে। 
 
(২) মানব পাচার অপরাধ সংঘটনকারী কোন ব্যক্তি অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫(পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৪১.
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪(১) অনুসারে, কত বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার বা আটক রাখা যাবে না?
  1. সাত বৎসরের নিম্নে
  2. নয় বৎসরের নিম্নে
  3. বার বৎসরের নিম্নে
  4. ষোল বৎসরের নিম্নে
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।"
সুতরাং, ৯ বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে আইনত গ্রেফতার বা আটক রাখার কোনো বিধান এই আইনে নেই।

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪: গ্রেফতার, ইত্যাদি:
(১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ সংক্রান্ত কোন আইনের অধীন গ্রেফতার বা আটক করা যাইবে না।
(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্ত্ত, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন : 
 তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্‌ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শিশু কিন্তু সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করিয়াও দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহা নিশ্চিত হওয়া যায় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের বিধান অনুযায়ী শিশু হিসাবে গণ্য করিতে হইবে।
(৫) সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোন নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেফতারের পর হইতে আদালতে হাজির না করা সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোন শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।

২৪২.
শিশু আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী কোন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত শিশুকে পুলিশ জামিন দিতে পারে?
  1. জামিনযোগ্য
  2. জামিনঅযোগ্য
  3. ক বা খ উভয় ক্ষেত্রে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই পারবে না
ব্যাখ্যা
ধারা ৫২- জামিন, ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধিসহ বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর এই আইনের অধীন মুক্তি প্রদান বা বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে হাজির করা সম্ভবপর না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে, ক্ষেত্রমত, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শর্ত ও জামানত সাপেক্ষে, অথবা, শর্ত ও জামানত ব্যতীত জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিশুকে জামিনে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ জামিনযোগ্য বা জামিন অযোগ্য কি না তাহা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বিবেচনায় লইবেন না। 
 
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর বা ঘৃণ্য প্রকৃতির হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে উহা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু কোন কুখ্যাত অপরাধীর সাহচর্য লাভ করিতে পারে বা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হইতে পারে বা জামিন প্রদান করা হইলে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হইবার আশঙ্কা থাকিলে শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে জামিন বা মুক্তি প্রদান করিবেন না। 
 
(৪) গ্রেফতারকৃত শিশুকে উপ-ধারা (৩) এর অধীন জামিনে মুক্তি প্রদান করা না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, গ্রেফতারের পর আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ সময় ব্যতীত, ২৪ (চবিবশ) ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিশুকে নিকটস্থ শিশু-আদালতে হাজির করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। 
 
(৫) থানা হইতে জামিনপ্রাপ্ত হয় নাই এমন কোন শিশুকে শিশু-আদালতে উপস্থাপন করা হইলে শিশু-আদালত তাহাকে জামিন প্রদান করিবে বা নিরাপদ স্থানে বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার আদেশ প্রদান করিবে।
২৪৩.
শিশু আইনের অধীন শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার মেয়াদ হবে-
  1. ৭ দিনের জন্য
  2. ৩০ দিনের জন্য
  3. ১৫ দিনের জন্য
  4. যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের জন্য
ব্যাখ্যা
ধারা ২৬: শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা-

১. শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার বিষয়টি সর্বশেষ পন্থা হিসাবে বিবেচনা করতে হবে, যার মেয়াদ হবে যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের জন্য।

২. সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ হেফাজতে রক্ষিত শিশুকে বিকল্পপন্থায় পরিচালনার জন্য প্রেরণ করতে হবে।

৩. শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা একান্ত প্রয়োজন হলে শিশু-আদালত, সংশ্লিষ্ট শিশুকে উক্ত আদালত হতে যুক্তিসঙ্গত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করার জন্য আদেশ প্রদান করবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন কোন শিশুকে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হলে উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারী অধিক বয়স্ক শিশুদের হতে প্রেরিত শিশুকে পৃথক করে রাখতে হবে।
২৪৪.
"Trial de-novo" বলতে কী বোঝায়?
  1. তদন্ত শুরু করা
  2. সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রাখা
  3. নতুন করে বিচার শুরু করা
  4. আপিল আবেদন দায়ের করা
ব্যাখ্যা
"Trial de-novo" বলতে বোঝায় "নতুন করে বিচার শুরু করা"।

⇒ "De-novo" শব্দটি ল্যাটিন ভাষার, যার অর্থ হলো "from the beginning" বা "আবার নতুন করে"। সুতরাং, "Trial de-novo" মানে হলো, পূর্বে যে বিচার কার্যক্রম বা সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছিল তা উপেক্ষা করে একেবারে শুরু থেকে আবার নতুন করে পুরো বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।

উদাহরণ:
যদি কোনো আদালতে বিচার চলাকালীন বিচারক বদলানো হয়, তবে নতুন বিচারক চাইলে মামলাটি "trial de-novo" হিসাবে শুরু করতে পারেন — অর্থাৎ আগের রেকর্ড বাদ দিয়ে আবার নতুনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচার শুরু করতে পারেন।

The Special Powers Act, 1974 এর ধারা ৩১: নতুনভাবে পুনঃবিচারের উপর নিষেধাজ্ঞা (Bar on trial de-novo):
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, যদি ভিন্নভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে- এমন কোনো সাক্ষীকে পুনরায় হাজির করানো বা পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে না, যার সাক্ষ্য ইতোমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে; বা পূর্বে গৃহীত কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে বাধ্য থাকবে না; বরং,
ট্রাইব্যুনাল পূর্বে গৃহীত বা রেকর্ডকৃত সাক্ষ্য ও প্রমাণের উপর ভিত্তি করে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে এবং মামলা যেই পর্যায়ে রয়েছে, সেই পর্যায় থেকেই বিচার চালিয়ে যেতে পারবে।
২৪৫.
আইনগত সহায়তার কোন আবেদন জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে, তার বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে-
  1. সুপ্রীম কোর্ট কমিটির নিকট
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের নিকট
  4. আপীল বিভাগে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০

ধারা ১৬ তে বলা আছে-

'আইনগত সহায়তার জন্য সকল আবেদন সুপ্রীম কোর্ট কমিটি, জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটির নিকট পেশ করতে হবে।'

উল্লেখ্য, কোন আবেদন জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে তা মঞ্জুরের জন্য সংক্ষুদ্ধ বিচারপ্রার্থী উক্তরুপ সিদ্ধান্তের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের নিকট আপীল পেশ করবে এবং এই ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
২৪৬.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দ্বিতীয়বার মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তি পুনরায় অপরাধ করলে ধারা ৩৬(৩) অনুযায়ী উক্ত অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হলে কী দণ্ড প্রযোজ্য?
  1. সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ
  2. অন্তত ২০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. ৫-১০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৬(৩) অনুসারে: "(৩) কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দ্বিতীয়বার দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর যদি কোনো ব্যক্তি পুনরায় কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ করেন তাহা হইলে উক্ত অপরাধের দন্ড মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।"
- এখানে "অন্যূন ২০ বৎসর" বলতে কমপক্ষে ২০ বছর বোঝায়। অর্থাৎ তৃতীয়বার মাদক অপরাধের জন্য শাস্তি হবে অন্তত ২০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড (যেখানে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অন্তর্ভুক্ত না হলে)।
→ অর্থাৎ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৬(৩) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয়বার মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে দণ্ড ভোগ করার পর পুনরায় মাদকদ্রব্য অপরাধ করেন, তাহলে উক্ত অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হলে তিনি অন্তত ২০ (বিশ) বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

২৪৭.
চেক ডিজঅনারের ক্ষেত্রে মামলা কোন আইনের বিধানে করা যেতে পারে?
  1. হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১
  2. দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮
  3. দণ্ডবিধি, ১৮৬০
  4. উল্লিখিত সকল আইনে
ব্যাখ্যা
• চেক ডিজঅনারের মামলা কিছুটা দেওয়ানী এবং কিছুটা ফৌজদারী প্রকৃতির। তাই চেক ডিজঅনার হলে দেওয়ানী আদালতেও মামলা দায়ের করা যায়। দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৭ আদেশের ১-৭ বিধিতে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে এরকম বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে। অন্যান্য দেওয়ানী মামলার ন্যায় সাধারণ পদ্ধতিতে মামলা পরিচালিত হলে অনেক সময়ের অপচয় হবে। তাই চেক ডিজঅনারের মামলা দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৭ আদেশের অধীনে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে মামলা পরিচালনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, বিবাদীকে এক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করতে হয় না।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৭ আদেশের ১ বিধিতে বলা হয়েছে, হস্তান্তরযোগ্য দলিল বিষয়ে মামলা কেবলমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ এবং জেলা জজ আদালতে দায়ের করা যাবে। আমরা জানি “চেক (cheque)” একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল। তাই চেক ডিজঅনার হলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৭ আদেশের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা করা যায়।

এছাড়া, ১৮৮১ সালের হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারার শুরুতে ” Notwithstanding anything contained in” শব্দগুলোর অনুপস্থিতি প্রমাণ করে উক্ত ধারায় কোনো “Non-obstante clause” নেই। তাই ১৩৮ ধারার অপরাধের কারণে বাদী শুধুমাত্র হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের অধীনেই মামলা করতে পারবে-এই কথাটা ঠিক নয়। দণ্ডবিধি ৪০৬/৪২০ ধারার অধীনে আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও বাদীর কোন বাধা নেই।

নুরুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য [49 DLR(HCD) 464] মামলায় উপরোক্ত বিষয়ে আলোচনা করে হাইকোর্ট বিভাগ মতামত দেন যে, বাদীপক্ষ ১৮৬০ সালের দন্ডবিধির ৪২০ ধারায় আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারবে।
২৪৮.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ সালের কত নং আইন?
  1. ৯ নং
  2. ১১ নং
  3. ১৩ নং
  4. ১৫ নং
ব্যাখ্যা

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ স্পষ্টভাবে এর প্রারম্ভিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি ২০০২ সনের ১১ নং আইন। এই আইনটি ১০ এপ্রিল, ২০০২ তারিখে কার্যকর হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কতিপয় অপরাধের দ্রুত বিচারের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে। আইনের সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন সংক্রান্ত ধারা ১(১)-এ এটি সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।

অর্থাৎ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ হলো ১১ নং আইন, যা সঠিক উত্তর।

২৪৯.
ফৌজদারী আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর তফসিলে অন্তর্ভুক্ত অপরাধের মধ্যে নেই কোনটি?
  1. দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অপরাধ
  2. মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অপরাধ
  3. দণ্ডবিধির ধারা ১৬১-১৬৯ এর অপরাধ
  4. দণ্ডবিধির ধারা ৩০২  এর অপরাধ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারী আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর তফসিল: বিচার্য অপরাধ:
- এই আইনের অধীনে বিচার্য অপরাধগুলো হলো:
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- দণ্ডবিধির ধারা ১৬১-১৬৯, ২১৭, ২১৮, ৪০৮, ৪০৯ এবং ৪৭৭এ-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- দণ্ডবিধির ধারা ১০৯ (সাহায্য), ১২০বি (ষড়যন্ত্র) এবং ৫১১ (চেষ্টা) এর অধীনে উপরোক্ত অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধ।
তবে দণ্ডবিধির ধারা ৩০২ যা "খুন" এর অপরাধ হিসেবে পরিচিত, তা এই তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয়। ধারা ৩০২ সাধারণ ফৌজদারী আদালতে বিচার্য হয়, স্পেশাল জজের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ নয়।
অর্থাৎ দণ্ডবিধির ধারা ৩০২ (হত্যার অপরাধ) এই তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয়।


২৫০.
অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার অপরাধ কোন আদালত বা ট্রাইবুনালের বিচার্য?
  1. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল
  2. দায়রা জজ আদালত
  3. দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল
  4. স্পেশাল ট্রাইবুনাল
ব্যাখ্যা
• অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার বিচার ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারা অনুযায়ী হয়, যা বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর আওতাধীন। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী এই আইনে উল্লেখিত ও এই আইনের সিডিউলে উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ ট্রাইবুনালে অনুষ্ঠিত হবে।

• ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৬ (২) ধারা অনুসারে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই আইনের তফসিলে উল্লেখিত নির্দিষ্ট অপরাধসমূহের বিচার করতে পারবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তফসিলে উল্লেখিত নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের বা নিম্নলিখিত আইনে উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার করতে পারবে-

১. ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন বর্ণিত অপরাধসমূহ;
২. the Arms Act, 1878 (XI of 1878) এর অধীন অপরাধসমূহ;
৩. the Explosive Substances Act, 1908 (VI of 1908) এর অধীন অপরাধসমূহ;
৪. the Emergency Powers Act, 1975 এর অধীন অপরাধসমূহ;
৫. ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ [Formalin Control Act, 2015] এর অধীন অপরাধসমূহ;
৬. Any attempt or conspiracy to commit, or any abetment of, or any preparation for commission of, any of the above offences.

অর্থাৎ অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার অপরাধ স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচার্য বিষয়।
২৫১.
Under Section 34A of The Special Powers Act, 1974, what are the permitted methods for executing a death sentence?
  1. Hanging only
  2. Shooting only
  3. Lethal injection only
  4. Hanging or shooting
ব্যাখ্যা
The Special Powers Act, 1974: Section 34A: Execution of death sentences:
When a person is sentenced to death under this Act, the sentence may be executed by hanging him by the neck till he is dead or by shooting him in the prescribed manner till he is dead as the Special Tribunal may direct.

ধারা ৩৪ক – মৃত্যুদণ্ড কার্যকর:
“যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই আইনের অধীনে কারো মৃত্যুদণ্ড রায় প্রদান করে, তখন সে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ করলে সেই ব্যক্তি নিম্নলিখিত যেকোন পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে—
১. ঘাড়ে ফাঁসি দিয়ে, যতক্ষণ না সে মারা যাবে, অথবা
২. নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী গুলি করে, যতক্ষণ না সে মারা যায়।”
২৫২.
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর অধীন মামলা নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা কতদিন?
  1. ১২০ দিন
  2. ২৮০ দিন
  3. ৩৬০ দিন
  4. ২৭০ দিন
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫১- মামলা নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা

(১) ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই আইনের অধীন কোনো মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ হইতে ১৮০ (একশত আশি) কার্য দিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করিবেন।

(২) ট্রাইব্যুনালের বিচারক উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) কার্য দিবস বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কোনো মামলা নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্ট বিভাগকে অবহিত করিয়া মামলার কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখিতে পারিবেন।

অর্থাৎ মামলা নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা হবে মূল সময় ১৮০ দিন + বৃদ্ধিকৃত সময় ৯০দিন= মোট ২৭০ দিন।
২৫৩.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ-এ উল্লিখিত তফসিলে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার (Pre-case Mediation) জন্য কতটি আইন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ৭ টি
  2. ৮ টি
  3. ৯ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ-এ বর্ণিত তফসিলে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার জন্য মোট ৯টি আইন/বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
১. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ - ধারা ৫
২. বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১
৩. সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন সম্পর্কিত বিরোধ
৪. State Acquisition & Tenancy Act, 1950 - Section 96
৫. Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 - Section 24
৬. পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ - ধারা ৮
৭. Negotiable Instruments Act, 1881 - Section 138 (অনধিক ৫ লক্ষ টাকা)
৮. যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ - ধারা ৩ ও ৪
৯. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ - ধারা ১১(গ)

সুতরাং, সঠিক উত্তর ৯টি।

২৫৪.
সাইবার নিরাপত্তা আইনের কত ধারায় সাইবার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচারকার্য পরিচালনাকালে বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে?
  1. ৪৫ ধারায়
  2. ৪০ ধারায়
  3. ৫০ ধারায়
  4. ৫২ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৫০- বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ, প্রশিক্ষণ, ইত্যাদি

(১) ট্রাইব্যুনাল বা আপিল ট্রাইব্যুনাল, বিচারকার্য পরিচালনাকালে, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ডিজিটাল ফরেনসিক, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ, ডাটা সুরক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়ে অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তির মতামত গ্রহণ করিতে পারিবে।

(২) সরকার বা এজেন্সি এই আইন বাস্তবায়নের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিকে, প্রয়োজনে, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ডিজিটাল ফরেনসিক, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ, ডাটা সুরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করিতে পারিবে।
২৫৫.
সাইবার অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট উপকরণের সাথে বৈধ উপকরণ পাওয়া গেলে, তা-
  1. বাজেয়াপ্তযোগ্য হবে
  2. বাজেয়াপ্তযোগ্য হবে না
  3. প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়া হবে
  4. দখলদারের জিম্মায় দেয়া হবে
ব্যাখ্যা
• সাইবার নিরাপত্তা আইন,২০২৩

ধারা ৫৩- বাজেয়াপ্তি:

(১) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, যে কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ফ্লপি ডিস্ক, কমপ্যাক্ট ডিস্ক, টেপ-ড্রাইভ বা অন্য কোনো আনুষঙ্গিক কম্পিউটার উপকরণ বা বস্তু সম্পর্কে বা সহযোগে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে সেইগুলি ট্রাইব্যুনালের আদেশানুসারে বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি ট্রাইব্যুনাল এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, যে ব্যক্তির দখল বা নিয়ন্ত্রণে উক্ত কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ফ্লপি ডিস্ক, কমপ্যাক্ট ডিস্ক বা অন্য কোনো আনুষঙ্গিক কম্পিউটার উপকরণ পাওয়া গিয়াছে তিনি উক্ত উপকরণ সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটনের জন্য দায়ী নহেন, তাহা হইলে উক্ত কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ফ্লপি ডিস্ক, কমপ্যাক্ট ডিস্ক, টেপ ড্রাইভ বা অন্য কোনো আনুষঙ্গিক কম্পিউটার উপকরণ বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ফ্লপি ডিস্ক, কমপ্যাক্ট ডিস্ক, টেপ ড্রাইভ বা অন্য কোনো আনুষঙ্গিক কম্পিউটার উপকরণের সহিত যদি কোনো বৈধ কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, ফ্লপি ডিস্ক, কমপ্যাক্ট ডিস্ক, টেপ ড্রাইভ বা অন্য কোনো কম্পিউটার উপকরণ পাওয়া যায়, তাহা হইলে সেইগুলিও বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে।

(৪) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো অপরাধ সংঘটনের জন্য যদি কোনো সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কোনো কম্পিউটার বা তৎসংশ্লিষ্ট কোনো উপকরণ বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, তাহা হইলে উহা বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে না।
২৫৬.
অসচ্ছল ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় অনধিক কত হলে সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হবে?
  1. ৫০,০০০ টাকা
  2. ১,০০,০০০ টাকা
  3. ১,৫০,০০০ টাকা
  4. ২,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ ব্যক্তিগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা 'আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪ নামে' নীতিমালা প্রণয়ন করে।

উক্ত নীতিমালার অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী, এই নীতিমালার অধীন নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ আইনগত সহায়তা পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন-

⇒ অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় অনধিক ১,৫০,০০০ টাকা (সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ) এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে ১,০০,০০০ টাকা।
⇒ কর্মে অক্ষম, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন কোন ব্যক্তি;
⇒ অক্ষম কোন মুক্তিযোদ্ধার বাৎসরিক আয় অনধিক ১,৫০,০০০ টাকা; এবং
⇒ কোন শ্রমিক যার বার্ষিক গড় আয় অনধিক ১,০০,০০০ টাকা।
২৫৭.
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর অধীন সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমান কত?
  1. ৫০ লক্ষ টাকা
  2. ১ কোটি টাকা
  3. ৫ কোটি টাকা
  4. ৩ কোটি টাকা
ব্যাখ্যা
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩৯ নং আইন) দ্বারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,২০১৮ রহিত করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশ কয়েকটি ধারা সংশোধন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে নতুন একটি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পূর্বের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২টি ধারা বাতিল করে নতুন আইনে ৬০টি ধারা করা হয়। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩’ পাস হয়।

উল্লেখ্য যে, এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ধারা ২৭ এবং ৩২ তে এই শাস্তির বিধান রয়েছে।
---------------------------------------
ধারা ২৭: সাইবার সন্ত্রাসী কার্য সংঘটনের অপরাধ ও দণ্ড


(১) যদি কোনো ব্যক্তি-

(ক) রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং জনগণ বা উহার কোনো অংশের মধ্যে ভয়ভীতি সঞ্চার করিবার অভিপ্রায়ে কোনো কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে বৈধ প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা বে- আইনি প্রবেশ করেন বা করান;

(খ) কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে এইরূপ দূষণ সৃষ্টি করেন বা ম্যালওয়্যার প্রবেশ করান যাহার ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে বা গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন বা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়; বা

(গ) জনসাধারণের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও সেবা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসসাধন করেন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর উপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করেন; বা (ঘ) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, সংরক্ষিত কোনো তথ্য-উপাত্ত বা কম্পিউটার ডাটাবেইজে প্রবেশ বা অনুপ্রবেশ করেন বা এইরূপ কোনো সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত বা কম্পিউটার ডাটাবেইজে প্রবেশ করেন যাহা বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্রের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা জনশৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কাজে ব্যবহৃত হইতে পারে অথবা বৈদেশিক কোনো রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে ব্যবহার করা হইতে পারে,

তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে সাইবার সন্ত্রাস অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ধারা ৩২: হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড
যদি কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “হ্যাকিং” অর্থ-
(ক) কম্পিউটার তথ্য ভাণ্ডারের কোনো তথ্য চুরি, বিনাশ, বাতিল, পরিবর্তন বা উহার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাসকরণ বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিসাধন; বা
(খ) নিজ মালিকানা বা দখলবিহীন কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশের মাধ্যমে উহার ক্ষতিসাধন।
২৫৮.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর কোন ধারায় সাইবার জুয়ার শাস্তি বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ১৯
  2. ধারা ২০
  3. ধারা ২১
  4. ধারা ২২
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২০-এ সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড বর্ণিত হয়েছে।

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২০-সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার নিমিত্ত কোনো পোর্টাল বা অ্যাপস বা ডিভাইস তৈরি করেন বা পরিচালনা করেন বা জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করেন বা খেলায় সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান করেন বা উৎসাহ প্রদানের জন্য বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার বা বিজ্ঞাপিত করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

২৫৯.
‘নিয়ন্ত্রিত বিলি (Control Delivery)’ কী?
  1. মাদকদ্রব্য বিদেশে পাঠানোর পদ্ধতি
  2. মাদকদ্রব্য সরাসরি আদালতে জব্দ করার কৌশল
  3. মাদক চালান তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করার পদ্ধতি
  4. মাদক চালান প্রক্রিয়ায় যুক্ত অপরাধী সনাক্ত করার তদন্ত কৌশল
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ ধারা ২(১৫)-
‘নিয়ন্ত্রিত বিলি (Control Delivery)’ অর্থ কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করিবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ তদন্ত কৌশল, যাহাতে কোনো মাদকদ্রব্য, উহার উৎসবস্তু, উপাদান অথবা মিশ্রণের বেআইনি অথবা সন্দেহজনক চালানকে তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো আইন প্রায়োগকারী সংস্থার (সরকারের) জ্ঞাতসারে ও তত্ত্বাবধানে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পরিবহন ও বিতরণ অথবা হস্তান্তর করিতে দেওয়া যাহার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত উক্ত মাদকদ্রব্যের উৎস হইতে গন্তব্য পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমের সহিত জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করা যায়।
২৬০.
দুর্নীতি দমন কমিশন এর ক্ষেত্রে কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. এটি একটি স্বশাসিত সংস্থা
  2. এটি একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান
  3. সম্পত্তি অর্জনের অধিকার নেই
  4. এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যায়
ব্যাখ্যা
• দেশে দুর্নীতি এবং দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান এবং তদন্ত পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধানকল্পে প্রণীত আইন হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪।

ধারা ৩- কমিশন প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি

(১) এই আইন, বলবৎ হইবার পর যতশীঘ্র সম্ভব, সরকার, সরকারী গেজেটে, প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে দুর্নীতি দমন কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠা করিবে।

(২) এই কমিশন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন হইবে। 

(৩) কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, উহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্প ত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং উহা হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং উহার নামে উহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং উহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে।
২৬১.
'ক' একজন ভিক্ষুক। সে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুকে প্রতিদিন তার সঙ্গে রাস্তায় ভিক্ষা করায়। এই কাজের জন্য তার সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৭১: “শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগের দণ্ড”:
কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেন বা কোন শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করান অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান বা দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগদানে প্রশ্রয়দান করেন বা উৎসাহ প্রদান করেন বা ভিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৬২.
“অন্তর্ঘাতমূলক কার্য (Sabotage)” এর শাস্তি কোন আইনের অধীনে নির্ধারিত?
  1. দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪
  2. বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪
  3. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮
  4. মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২
ব্যাখ্যা
⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ১৫ ধারার বিধান- অন্তর্ঘাতী কার্য/নাশকতা (Sabotage):
(১) কোনো ব্যক্তি যদি নিম্নলিখিত কোনো সম্পদ বা সেবার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে, তবে তা অন্তর্ঘাত হিসেবে গণ্য হবে:
(ক) সরকার বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা জাতীয়কৃত বাণিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যবহৃত বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোনো ভবন, যানবাহন, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ বা অন্যান্য সম্পদ;
(খ) কোনো রেলপথ, আকাশ রোপওয়ে, সড়ক, খাল, সেতু, কালভার্ট, কজওয়ে, বন্দর, ডকইয়ার্ড, বাতিঘর, বিমানবন্দর, টেলিগ্রাফ বা টেলিফোন লাইন বা পোস্ট, বা টেলিভিশন বা বেতার স্থাপন;
(গ) কোনো রেলপথের রোলিং স্টক বা কোনো জাহাজ বা বিমান;
(ঘ) কোনো ভবন বা অন্যান্য সম্পদ যা কোনো মৌলিক পণ্য উৎপাদন, বিতরণ বা সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত, কোনো স্যুয়েজ কাজ, খনি বা কারখানা;
(ঙ) এই আইনের অধীনে বা অন্য কোনো আইনের অধীনে নিষিদ্ধ বা সুরক্ষিত কোনো স্থান বা এলাকা;
(চ) কোনো পাট, পাটজাত পণ্য, পাট গোডাউন, পাট মিল বা পাট বেলিং প্রেস।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এইরূপ কোনো কার্য করা হইতে বিচ্যুতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক যে কার্য করা সরকারের বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বা কোনো ব্যক্তির প্রতি তাহার কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

(৩) কোনো ব্যক্তি যদি এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে, বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক চৌদ্দ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হইবেন।
২৬৩.
সাইবার নিরাপত্তা আইনে কোনো পুলিশ অফিসার কোন ক্ষেত্রে পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি বা গ্রেফতার করতে পারে?
  1. উক্ত আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে
  2. উক্ত আইনের অধীন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে
  3. সাক্ষ্য প্রমাণাদি হারানোর সম্ভাবনা থাকলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩

ধারা ৪২-পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার

(১) যদি কোনো পুলিশ অফিসারের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো স্থানে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে বা হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে বা সাক্ষ্য প্রমাণাদি হারানো, নষ্ট হওয়া, মুছিয়া ফেলা, পরিবর্তন বা অন্য কোনো উপায়ে দুষ্প্রাপ্য হইবার বা করিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি, অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন,

(ক) উক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশি এবং প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;

(খ) উক্ত স্থানে তল্লাশিকালে প্রাপ্ত অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার্য কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, তথ্য-উপাত্ত বা অন্যান্য সরঞ্জামাদি এবং অপরাধ প্রমাণে সহায়ক কোনো দলিল জব্দকরণ;

(গ) উক্ত স্থানে উপস্থিত যে কোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি;

(ঘ) উক্ত স্থানে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ করিয়াছেন বা করিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইলে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তল্লাশি সম্পন্ন করিবার পর পুলিশ অফিসার তল্লাশি পরিচালনার রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালের নিকট দাখিল করিবেন।
২৬৪.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ফাঁদ মামলা (Trap Case) পরিচালনার জন্য ন্যূনতম কোন পদমর্যাদার কর্মকর্তা প্রয়োজন?
  1. কমিশনার
  2. পরিচালক
  3. উপ-পরিচালক
  4. সহকারী পরিচালক
ব্যাখ্যা

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ১৬ অনুযায়ী, ফাঁদ মামলা (Trap Case) পরিচালনার জন্য কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নয় এমন কর্মকর্তা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবেন। এই বিধি অনুসারে, ফাঁদ মামলা পরিচালনার জন্য ন্যূনতম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তার প্রয়োজন। ফাঁদ মামলা হলো দুর্নীতি প্রতিরোধে তফসিলভুক্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরার জন্য পরিকল্পিত কার্যক্রম, এবং এটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় উচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

- বিধি ১৬ (দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭): এই বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ফাঁদ মামলা প্রস্তুত বা পরিচালনার জন্য কমিশনারের অনুমোদন প্রয়োজন, এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদমর্যাদা পরিচালক বা তার ঊর্ধ্বতন হতে হবে। এটি নিশ্চিত করে যে এ ধরনের সংবেদনশীল কার্যক্রম দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

- কারণ ফাঁদ মামলা সাধারণত ঘুষ গ্রহণ বা অন্যান্য দুর্নীতিজনিত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের ধরার জন্য পরিচালিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা, সাক্ষ্য সংগ্রহ, এবং নৈতিকতার বিষয় জড়িত থাকে। তাই, পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতার কারণে এই কাজের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন।

অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর বিধি ১৬ অনুসারে, ফাঁদ মামলা পরিচালনার জন্য ন্যূনতম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা প্রয়োজন। এই বিধান কার্যক্রমের সংবেদনশীলতা এবং আইনি নির্ভুলতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) পরিচালক।

২৬৫.
'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮' কোন আইন দ্বারা রহিত করা হয়েছে?
  1. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০২৩
  2. সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩
  3. সাইবার অপরাধ আইন, ২০২৩
  4. ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৩
ব্যাখ্যা
 সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩৯ নং আইন) দ্বারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন,২০১৮ রহিত করা হয়েছে।

•২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশ কয়েকটি ধারা সংশোধন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে নতুন একটি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পূর্বের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২টি ধারা বাতিল করে নতুন আইনে ৬০টি ধারা করা হয়। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩’ পাস হয়।

উল্লেখ্য যে, এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদন্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
২৬৬.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধে ব্যবহৃত কোন যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে আদালত কী আদেশ দিতে পারে?
  1. রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তির
  2. উক্ত যন্ত্রপাতি বিক্রি করার
  3. উক্ত যন্ত্রপাতি ধ্বংস করার
  4. উল্লিখিত সকল আদেশ
ব্যাখ্যা
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২

ধারা ৭- অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, অস্ত্র, ইত্যাদি

আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য ব্যবহৃত কোন যন্ত্রপাতি, অস্ত্র বা যানবাহন, এবং উক্ত অপরাধের দ্বারা সংগৃহীত অর্থ, মালামাল বা সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তির বা উহার বৈধ মালিক বা দখলদারের নিকট ফেরত দিবার আদেশ দিতে পারিবে।
২৬৭.
শিশু আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যায়-
  1. দায়রা জজ আদালতে
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
ব্যাখ্যা
⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ৪১ ধারার বিধান আপিল ও পুনর্বিবেচনা:
- (১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। 

- (২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।

- (৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
২৬৮.
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুসারে অপর কোনো ব্যক্তির পরিচয় ধারণ করে প্রতারণার শাস্তি অনধিক কত বৎসর কারাদণ্ড?
ব্যাখ্যা
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৪ ধারার বিধান পরিচয় প্রতারণা বা ছদ্মবেশ ধারণ:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার প্রোগ্রাম, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, কোনো ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল সিস্টেম বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করিয়া- 
(ক) প্রতারণা করিবার বা ঠকাইবার উদ্দেশ্যে অপর কোনো ব্যক্তির পরিচয় ধারণ করেন বা অন্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কোনো তথ্য নিজের বলিয়া প্রদর্শন করেন, বা 
(খ) উদ্দেশ্যমূলকভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির ব্যক্তিসত্তা নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে নিজের বলিয়া ধারণ করেন,- 
(অ) নিজের বা অপর কোনো ব্যক্তির সুবিধা লাভ করা বা করাইয়া দেওয়া, 
(আ) কোনো সম্পত্তি বা সম্পত্তির স্বার্থ প্রাপ্তি, 
(ই) অপর কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিসত্তার রূপ ধারণ করিয়া কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিসত্তার ক্ষতিসাধন, 
তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। 

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। 
(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুন সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৬৯.
'ক' মজুতদারি ও কালোবাজারি কারবারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। এক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ক’ যদি মজুতদারি ও কালোবাজারি (hoarding বা black‑market dealing)–এর জন্য দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ২৫: মজুতদারি ও কালোবাজারি কারবারের শাস্তি-
(১) যদি কোনো ব্যক্তি মজুতদারি ও কালোবাজারি কারবারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে, বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক চৌদ্দ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ডে, বা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মজুতদারি অপরাধের ক্ষেত্রে, এইরূপ অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রমাণ করিতে পারেন যে, তিনি আর্থিক বা অন্যকোনো লাভ করিবার উদ্দেশ্য ব্যতীত মজুত করিয়াছিলেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ডে, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হইবেন।

(২) আদালত মজুতদারি বা কালোবাজারি কারবারের অপরাধে দণ্ড দানের সময় অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত সবকিছু সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিবে।

‘ক’ কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ মজুতদারি বা কালোবাজারি-এই ধারার অন্তর্ভুক্ত—সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে 'মৃত্যুদণ্ড' প্রযোজ্য হয়।
২৭০.
বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন দণ্ড কে বাতিল করার অধিকারী?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সরকার
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩০ক ধারায় সরকার বিশেষ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন দণ্ড যেকোন সময় হ্রাস, বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে।

Section 30A: Power of Government to remit, suspend or commute any sentence
Without prejudice to the provisions of Chapter XXIX of the Code, the Government may at any time remit, suspend or commute any sentence passed by Special Tribunal under this Act.
২৭১.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৯(৩) অনুসারে, মামলা দায়েরের বা ট্রাইব্যুনাল হইতে তদন্তের নির্দেশ প্রাপ্তির অনধিক _______ কার্যদিবসের মধ্যে এই ধারার অধীন তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।
  1. ৩০
  2. ৬০
  3. ৯০
  4. ১৮০
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২, ধারা ১৯: তদন্ত-
(১) পুলিশের নিকট এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের সংবাদ আসিলে বা ট্রাইব্যুনাল কোন অপরাধের তদন্তের নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট থানার উপ-পরিদর্শকের নিম্ন পদমর্যাদার নহেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই আইনের অধীন তদন্তকার্য সম্পাদন করিবেন।
 
(২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইতে পারে এমন ক্ষেত্রে পুলিশ অপরাধ সংঘটনের এজাহার (first information report) দাখিলের পূর্বে প্রতিরোধমূলক অনুসন্ধান (proactive inquiry) পরিচালনা করিতে পারিবেন।
 
(৩) ধারা ২০ এর বিধান সাপেক্ষে, উপ-ধারা (১) এর অধীন মামলা দায়েরের বা ট্রাইব্যুনাল হইতে তদন্তের নির্দেশ প্রাপ্তির অনধিক ৯০ (নব্বই) কার্যদিবসের মধ্যে এই ধারার অধীন তদন্ত সম্পন্ন করিতে হইবে।
 
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হইলে, তদন্ত কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমা শেষ হইবার অন্তত তিন কার্যদিবস পূর্বে তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা অথবা, ট্রাইব্যুনাল হইতে তদন্তের নির্দেশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে, ট্রাইব্যুনালের নিকট সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য লিখিতভাবে আবেদন করিবেন অথবা উক্ত নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা অথবা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল উক্ত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পাদনে ব্যর্থতার জন্য প্রদর্শিত কারণে সন্তুষ্ট হইলে তদন্তের সময়সীমা অতিরিক্ত ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবস বৃদ্ধি করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, আন্তঃরাষ্ট্রীয় তদন্তের ক্ষেত্রে কেবল ট্রাইব্যুনাল এই ধরনের তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল তাহার স্বীয় বিবেচনায় যৌক্তিক মেয়াদে তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধি করিবে।
 
(৫) এই আইনের অধীন কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে বিদেশী সাক্ষ্য-প্রমাণ নিরীক্ষণ করিবার জন্য বিদেশ গমনের আবশ্যকতা দেখা দিলে, ট্রাইব্যুনালের অনুমতিক্রমে, তদকর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্ন করিবার উদ্দেশ্যে পুলিশ কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করিবে এবং উক্ত তদন্ত দলকে যথাসম্ভব প্রশাসনিক এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করিবে।
 
(৬) এই আইনের অধীন পুলিশের তদন্ত, নিরাপত্তা বিধান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ও দায়িত্বসমূহের সমন্বয় এবং তদারক করিবার উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করিবে।
২৭২.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর অধীন পুলিশ কখন প্রতিরোধমূলক অনুসন্ধান (proactive inquiry) পরিচালনা করতে পারে?
  1. যেকোন সময়
  2. এজাহার দাখিলের পর
  3. এজাহার দাখিলের পূর্বে
  4. অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৯: তদন্ত:
(১) পুলিশের নিকট এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের সংবাদ আসিলে বা ট্রাইব্যুনাল কোন অপরাধের তদন্তের নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট থানার উপ-পরিদর্শকের নিম্ন পদমর্যাদার নহেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই আইনের অধীন তদন্তকার্য সম্পাদন করিবেন। 

(২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইতে পারে এমন ক্ষেত্রে পুলিশ অপরাধ সংঘটনের এজাহার (first information report) দাখিলের পূর্বে প্রতিরোধমূলক অনুসন্ধান (proactive inquiry) পরিচালনা করিতে পারিবেন। 
 
(৩) ধারা ২০ এর বিধান সাপেক্ষে, উপ-ধারা (১) এর অধীন মামলা দায়েরের বা ট্রাইব্যুনাল হইতে তদন্তের নির্দেশ প্রাপ্তির অনধিক ৯০ (নববই) কার্যদিবসের মধ্যে এই ধারার অধীন তদন্ত সম্পন্ন করিতে হইবে। 
 
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হইলে, তদন্ত কর্মকর্তা উক্ত সময়সীমা শেষ হইবার অন্তত তিন কার্যদিবস পূর্বে তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা অথবা, ট্রাইব্যুনাল হইতে তদন্তের নির্দেশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে, ট্রাইব্যুনালের নিকট সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য লিখিতভাবে আবেদন করিবেন অথবা উক্ত নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা অথবা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল উক্ত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পাদনে ব্যর্থতার জন্য প্রদর্শিত কারণে সন্তুষ্ট হইলে তদন্তের সময়সীমা অতিরিক্ত ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবস বৃদ্ধি করিতে পারিবেঃ 
 
তবে শর্ত থাকে যে, আন্তঃরাষ্ট্রীয় তদন্তের ক্ষেত্রে কেবল ট্রাইব্যুনাল এই ধরনের তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল তাহার স্বীয় বিবেচনায় যৌক্তিক মেয়াদে তদন্তের সময়সীমা বৃদ্ধি করিবে। 
 
(৫) এই আইনের অধীন কোন আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে বিদেশী সাক্ষ্য-প্রমাণ নিরীক্ষণ করিবার জন্য বিদেশ গমনের আবশ্যকতা দেখা দিলে, ট্রাইব্যুনালের অনুমতিক্রমে, তদকর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্ন করিবার উদ্দেশ্যে পুলিশ কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করিবে এবং উক্ত তদন্ত দলকে যথাসম্ভব প্রশাসনিক এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করিবে। 

(৬) এই আইনের অধীন পুলিশের তদন্ত, নিরাপত্তা বিধান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ও দায়িত্বসমূহের সমন্বয় এবং তদারক করিবার উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পুলিশ সদর দপ্তরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করিবে।
২৭৩.
চেক ডিজঅনার মামলায় আদালত কীসের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে গ্রহণ করতে পারবে?
  1. মৌখিক অভিযোগ
  2. লিখিত অভিযোগ
  3. পুলিশের মাধ্যমে জিডি করে
  4. মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ
ব্যাখ্যা
The Negotiable Instruments Act, 1881: ধারা ১৪১: অপরাধ আমলে নেওয়া (Cognizance of offences):
ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের আইন নং V)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন—
(ক) ধারা ১৩৮ অনুসারে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে, আদালত কেবলমাত্র চেকের প্রাপকের অথবা প্রয়োজনে যথাযথ অধিকারসম্পন্ন ধারকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে গ্রহণ করিতে পারিবে;

(খ) এইরূপ অভিযোগ উত্থাপন করতে হইবে, যেই তারিখে ধারা ১৩৮-এর প্রভিজোর ক্লজ (চ)-এর অধীনে কার্যকারণের কারণ সৃষ্টি হয়, সেই তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে;

(গ) ধারা ১৩৮-এর অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ বিচার করিবার জন্য কোন আদালত সেশন কোর্টের নিচে হইতে পারিবে না।
২৭৪.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে কী করতে হয়?
  1. তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে হয়
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন নিতে হয়
  3. আপিল বিভাগে নথি প্রেরণ করতে হয়
  4. হাইকোর্ট বিভাগে নথি প্রেরণ করতে হয়
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: ধারা ২৯: মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন:
এই আইনের অধীনে কোন ট্রাইব্যুনাল, মৃত্যুদণ্ড প্রদান করিলে সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র অবিলম্বে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ এর বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত বিভাগের অনুমোদন ব্যতীত মৃতুদণ্ড কার্যকর করা যাইবে না।
২৭৫.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীনেএখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা কত?
  1. ১৫ কার্যদিবস
  2. ৩০ কার্যদিবস
  3. ৪৫ কার্যদিবস
  4. ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ৩০ কার্যদিবস।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা
৫৩- আপিল:
এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে, রায় প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে, আপিল করা যাইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, রায়ের জাবেদা নকল পাওয়ার জন্য যে সময় অতিবাহিত হইবে উহা উক্ত সময় হইতে কর্তন করিতে হইবে।

২৭৬.
শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশু-আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে কত দিনের মধ্যে?
  1. ৩০ দিনের মধ্যে
  2. ৬০ দিনের মধ্যে
  3. ৯০ দিনের মধ্যে
  4. ১২০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৪১(১) অনুযায়ী, শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে।
- ধারা ৪১(১): এই ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, শিশু-আদালতের আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ থেকে অনধিক ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করা যাবে। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান থেকে ভিন্ন হলেও শিশু আইনের এই নির্দিষ্ট বিধান প্রাধান্য পায়।
- আপিলের সময়সীমা: এই ৬০ দিনের সময়সীমা শিশুদের বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তাদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত। এই সময়ের মধ্যে আপিল দায়ের না করলে সাধারণত আপিলের সুযোগ থাকে না, যদি না বিশেষ কারণে আদালত সময় বাড়ানোর অনুমতি দেয়।

⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৪১ আপিল ও পুনর্বিবেচনা:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায়] প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। 
(২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।
(৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

২৭৭.
According to Section 2(f) of The Special Powers Act, 1974, which of the following is not a potential result of a prejudicial act?
  1. Creating fear or alarm to the public
  2. Aiding in the maintenance of law and order
  3. Prejudice to the economic or financial interests of the State
  4. Prejudice to the maintenance of essential community supplies and services
ব্যাখ্যা
Section 2(f): “prejudicial act” means any act which is intended or likely- 
 (i) to prejudice the sovereignty or defence of Bangladesh; 
(ii) to prejudice the maintenance of friendly relations of Bangladesh with foreign states; 
(iii) to prejudice the security of Bangladesh or to endanger public safety or the maintenance of public order; 
(iv) to create or excite feelings of enmity or hatred between different communities, classes or sections of people; 
(v) to interfere with or encourage or incite interference with the administration of law or the maintenance of law and order; 
(vi) to prejudice the maintenance of supplies and services essential to the community; 
(vii) to cause fear or alarm to the public or to any section of the public; 
(viii) to prejudice the economic or financial interests of the State;

"প্রতিকূল কাজ" (prejudicial act) এমন একটি কাজ যা দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা বা জনগণের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করতে পারে বা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থে ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া এটি জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বা ভীতি সৃষ্টি করতে পারে। "আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা (Aiding in the maintenance of law and order)" কোনো ক্ষতিকর কার্য হিসেবে বিবেচিত নয়।
২৭৮.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ এর বিধানমতে বেআইনি বা হয়রানিমূলক তল্লাশীর সর্বোচ্চ কারাদণ্ড-
  1. ২ বৎসর
  2. ১ বৎসর
  3. ৬ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
• মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ রহিত করে মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ প্রণীত হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ এর ধারা ৩৯ অনুসারে,

যদি তল্লাশি, আটক অথবা গ্রেফতার করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো অফিসার- 
(ক) সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কোনো কারণ ব্যতিরেকে তল্লাশির নামে কোনো স্থানে প্রবেশ করেন ও তল্লাশি চালান, 
(খ) হয়রানিমূলকভাবে বাজেয়াপ্তযোগ্য কোনো বস্তু তল্লাশি করিবার নামে কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পদ আটক করেন, এবং 
(গ) কোনো ব্যক্তিকে হয়রানিমূলক তল্লাশি করেন অথবা গ্রেফতার করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
২৭৯.
The Special Powers Act, 1974-এর ধারা ৮(২) অনুযায়ী আটককৃত ব্যক্তিকে আটকের কারণ সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ The Special Powers Act, 1974 এর ধারা ৮(২) অনুসারে, আটকের আদেশ জারি করা হলে আটককৃত ব্যক্তিকে তার আটকের কারণ (grounds of detention) নিম্নলিখিত সময়ের মধ্যে জানাতে হবে:
- আটকের সময়ই অথবা
- তার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তবে আটকের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে।
সুতরাং, স্পষ্টভাবে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সময়সীমা হল ১৫ দিন।
------------
⇒ The Special Powers Act, 1974, Section-8-Communication of grounds of order:
(1) In every case where an order has been made under section 3, the authority making the order shall, as soon as may be, but subject to the provisions of sub-section (2), communicate to the person affected thereby the grounds on which the order has been made to enable him to make a representation in writing against the order, and it shall be the duty of such authority to inform such person of his right of making such representation and to afford him the earliest opportunity of doing so: 
Provided that nothing in this section shall require the authority to disclose the facts which it considers to be against the public interest to disclose. 
(2) In the case of a detention order, the authority making the order shall inform the person detained under that order of the grounds of his detention at the time he is detained or as soon thereafter as is practicable, but not later than fifteen days from the date of detention.

২৮০.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী লাইসেন্স, পারমিট বা পাস বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে কত দিন সময় দেওয়া হয়?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ১৬(২) অনুসারে, লাইসেন্স, পারমিট বা পাস বাতিলের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ১৬-লাইসেন্স, ইত্যাদি বাতিল:
(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাসের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেন অথবা যদি কোনো লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাসধারী ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত হন, তাহা হইলে লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাস প্রদানকারী অফিসার তাহাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাস বাতিল করিতে পারিবে। 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশের দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে- 
(ক) আদেশটি যদি মহাপরিচালকের অধস্তন কোনো অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত হইয়া থাকে, তাহা হইলে মহাপরিচালকের নিকট আপিল করিতে পারিবে; এবং 
(খ) আদেশটি যদি মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত হইয়া থাকে, তাহা হইলে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবে। 
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত আপিল কর্তৃপক্ষের রায় চূড়ান্ত হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে না।

২৮১.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১ অনুসারে, যৌতুকের জন্য কোন নারীকে সাধারণ জখম (simple hurt) করার সর্বনিম্ন শাস্তি কী?
  1. ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১(গ) অনুসারে, যৌতুকের জন্য কোন নারীকে সাধারণ জখম (simple hurt) করার শাস্তি নিম্নরূপ: "(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক পাঁচ বৎসর কিন্তু অন্যূন দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।"
এর অর্থ হলো:
- সর্বনিম্ন শাস্তি: ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
- সর্বোচ্চ শাস্তি: ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
অতিরিক্ত: অর্থদণ্ড। 
--------
⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১-যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-
(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;(
কক) মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে বা অনধিক বার বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক পাঁচ বৎসর কিন্তু অন্যূন দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

২৮২.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী কোনো নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. ৭ বছর কারাদণ্ড
  2. ১,০০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৯ক- নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, ইত্যাদির শাস্তি

কোন নারীর সম্মতি ছাড়া বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত (Wilful) কোন কার্য দ্বারা সম্ভ্রমহানি হইবার প্রত্যক্ষ কারণে কোন নারী আত্মহত্যা করিলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নারীকে অনুরূপ কার্য দ্বারা আত্মহত্যা করিতে প্ররোচিত করিবার অপরাধে অপরাধী হইবেন এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
২৮৩.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১৯ অনুযায়ী, কমিশন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কী করতে পারবে?
  1. পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া
  2. আদালতে হাজির করার নোটিশ জারি
  3. সাক্ষীর লিখিত বিবৃতি নেওয়া
  4. আদালতকে অনুরোধ করা
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১৯ – অনুসন্ধান বা তদন্তকার্যে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা:
(১) দুর্নীতি সম্পর্কিত কোন অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে, কমিশনের নিম্নরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা:- 
(ক) সাক্ষীর প্রতি নোটিশ জারী ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা; 
(খ) কোন দলিল উদ্‌ঘাটন এবং উপস্থাপন করা; 
(গ) সাক্ষ্য গ্রহণ;
(ঘ) কোন আদালত বা অফিস হইতে পাবলিক রেকর্ড বা উহার অনুলিপি তলব করা;
(ঙ) সাক্ষীর জিজ্ঞাসাবাদ এবং দলিল পরীক্ষা করার জন্য নোটিশ জারী করা; এবং 
(চ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নির্ধারিত অন্য যে কোন বিষয়৷ 
 
(২) কমিশন, যে কোন ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন তথ্য সরবরাহ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে নির্দেশিত ব্যক্তি তাহার হেফাজতে রক্ষিত উক্ত তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন৷ 
 
(৩) কোন কমিশনার বা কমিশন হইতে বৈধ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগে কোন ব্যক্তি বাধা প্রদান করিলে বা উক্ত উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত কোন নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যক্তি অমান্য করিলে উহা দণ্ডনীয় অপরাধ হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বত্সর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷

২৮৪.
What is the maximum punishment for violating a curfew order under Section 24 of The Special Powers Act, 1974?
  1. 6 months imprisonment
  2. 1 year imprisonment
  3. 2 years imprisonment
  4. 3 years imprisonment
ব্যাখ্যা
Correct Answer: খ) 1 year imprisonment.

• বিশেষ ক্ষমতা আইন,১৯৭৪: ধারা ২৪: সান্ধ্য আইন:
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার সান্ধ্য আইন [Curfew] জারি করতে পারে। উক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সান্ধ্য আইন এর আদেশে নির্ধারিত কোন এলাকা বা এলাকাসমূহের মধ্যে এবং নির্ধারিত সময়ের ভিতর কোন ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারবে না। যদি কেউ এই আদেশ ভঙ্গ করে তাহলে সে ১ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা জরিমানাসহ বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

Section 24: Curfew:
(1) The District Magistrate or the Police Commissioner in a Metropolitan Area may, subject to the control of the Government, by order direct that, subject to any exemption specified in the order, no person present within any area or areas specified in the order shall, between such hours as may be specified in the order, be out of doors except under the authority of a written permit granted by a specified authority or person.

(2) If any person contravenes any order made under this section, he shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
২৮৫.
শিশু আইন, ২০১৩ এর অধীনে 'সুবিধাবঞ্চিত শিশু' এর সংজ্ঞা কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ধারা ৮৪
  2. ধারা ৮৫
  3. ধারা ৮৯
  4. ধারা ৯২
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর অধীনে 'সুবিধাবঞ্চিত শিশু' এর সংজ্ঞা ধারা ৮৯-এ দেওয়া আছে।
- ধারা ৮৯(১): এই ধারায় 'সুবিধাবঞ্চিত শিশু' হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণির শিশুদের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
→ মাতা-পিতার একজন বা উভয়ের মৃত্যুবরণকারী শিশু।
→ আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবকহীন শিশু।
→ গৃহহীন বা জীবনধারণের অবলম্বনহীন শিশু।
→ ভিক্ষাবৃত্তি বা শিশুর মঙ্গলের পরিপন্থী কাজে লিপ্ত শিশু।
→ যৌন নির্যাতন বা হয়রানির শিকার শিশু।
→ প্রতিবন্ধী শিশু, মাদকাসক্ত শিশু, অসৎ সঙ্গে পতিত শিশু, বস্তিবাসী শিশু, রাস্তায় বসবাসকারী শিশু, হিজড়া শিশু, বেদে ও হরিজন শিশু, এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত শিশু, এবং শিশু-আদালত বা বোর্ড কর্তৃক বিশেষ সুরক্ষা প্রয়োজন বলে বিবেচিত শিশু।
ধারা ৮৯(২): সরকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা, এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
------
⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর ৮৯ ধারা সুবিধাবঞ্চিত শিশু:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত শিশুগণ সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসাবে গণ্য হইবে, যথা:-
(ক) যে শিশুর মাতা-পিতার যেকোন একজন বা উভয় মৃত্যুবরণ করিয়াছে;
(খ) আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবকহীন শিশু;
(গ) নির্দিষ্ট কোন গৃহ বা আবাসস্থলহীন এবং জীবনধারণের জন্য দৃশ্যমান অবলম্বনহীন কোন শিশু;
(ঘ) ভিক্ষাবৃত্তি বা শিশুর মঙ্গলের পরিপন্থী কোন কার্যে লিপ্ত শিশু;
(ঙ) কারাভোগরত মাতা-পিতার ওপর নির্ভরশীল বা কারাভোগরত মাতার সহিত কারাগারে অবস্থানরত শিশু;
(চ) যৌন নির্যাতন বা হয়রানির শিকার শিশু;
(ছ) যৌনবৃত্তি বা সমাজবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি বা অপরাধীর বাসস্থান বা কর্মস্থলে অবস্থানকারী বা গমনাগমনকারী শিশু; 
(জ) যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধী শিশু; 
(ঝ) মাদক বা অন্য কোন কারণে অস্বাভাবিক আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিশু; 
(ঞ) অসৎ সঙ্গে পতিত বা নৈতিক অবক্ষয়ের সম্মুখীন হইতে পারে অথবা অপরাধ জগতে প্রবেশের ঝুঁকির সম্মুখীন শিশু; 
(ট) বস্তিতে বসবাসকারী শিশু; 
(ঠ) রাস্তা-ঘাটে বসবাসকারী গৃহহীন শিশু; 
(ড) হিজড়া শিশু; 
(ঢ) বেদে ও হরিজন শিশু; 
(ণ) এইচআইভি-এইড্‌স এ আক্রান্ত (infected) বা ক্ষতিগ্রস্ত (affected) শিশু; অথবা 
(ত) শিশু-আদালত বা বোর্ড কর্তৃক বিবেচিত কোন শিশু, যাহার বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 
(২) সরকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুর বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।

২৮৬.
রফিক চেক প্রত্যাখ্যানের পর নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হন। এই ক্ষেত্রে চেকের মূল অঙ্কের সর্বোচ্চ কত গুণ অর্থদণ্ড হতে পারে?
  1. ২ গুণ
  2. ৩ গুণ
  3. ৫ গুণ
  4. ১০ গুণ
ব্যাখ্যা

ধারা ১৩৮- অর্থের ঘাটতির কারণে চেক প্রত্যাখ্যান:
যদি কোনো ব্যক্তি তার ব্যাংক হিসাব থেকে অন্য ব্যক্তিকে অর্থ প্রদানের জন্য চেক প্রদান করে এবং ব্যাংক সেই চেক অর্থের ঘাটতি বা ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সীমা অতিক্রমের কারণে অবৈধ ঘোষণা করে, তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী বলে গণ্য হবেন।

শাস্তি:
- সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড, অথবা
- চেকের মূল অঙ্কের সর্বোচ্চ ৩ গুণ অর্থদণ্ড, অথবা
- উভয়ই।

শর্তাবলী:
(ক) চেকটি অবশ্যই প্রদানের তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে বা চেক বৈধ থাকা পর্যন্ত ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে, যা আগে আসে।
(খ) চেক প্রত্যাখ্যানের তথ্য পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতাকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে।
(গ) চেকদাতা নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ধারা প্রযোজ্য হবে।

২৮৭.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর উদ্দেশ্য কী?
  1. সহায়-সম্বলহীন জনগণকে সহায়তা প্রদান
  2. নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদান
  3. আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগণকে সহায়তা প্রদান
  4. উল্লিখিত সব গুলো
ব্যাখ্যা
⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর প্রস্তাবনায় এই আইনের উদ্দেশ্য দেয়া আছে। বলা আছে যে 'আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানকল্পে প্রণীত আইন।'
-
যেহেতু আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদান সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ২(ক) ধারার বিধান: “আইনগত সহায়তা” অর্থ আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে-
(অ) কোন আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;
(আ) Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের বিধান অনুসারে মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে কোন মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারীকে সম্মানী প্রদান;
(ই) মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোন সহায়তা প্রদান; এবং
(ঈ) উপ-ধারা (অ) হইতে (ই) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে আইনজীবীকে সম্মানী প্রদান;
২৮৮.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরণপোষণের ব্যয় সাধারণত কত বয়স পর্যন্ত প্রদান করা হয়?
  1. ১৪ বছর পর্যন্ত
  2. ১৮ বছর পর্যন্ত
  3. ২১ বছর পর্যন্ত
  4. ২৫ বছর পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১৩(১)(ঘ) অনুসারে, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরণপোষণের ব্যয় সাধারণত বয়স একুশ (২১) বছর পূর্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রদেয় হয়। তবে দুটি বিশেষ ক্ষেত্রে এই সময়সীমা আরও বর্ধিত হতে পারে:
১. একুশ বছরের অধিক বয়স্ক কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে – তার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত।
২. পঙ্গু সন্তানের ক্ষেত্রে – তিনি স্বীয় ভরণপোষণের যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত।
- সুতরাং, সাধারণ নিয়মে ভরণপোষণ ২১ বছর বয়স পর্যন্ত প্রদান করা হয়।

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৩ ধারার বিধান: ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্মলাভকারী শিশু সংক্রান্ত বিধান:
(১) অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধর্ষণের কারণে কোন সন্তান জন্মলাভ করিলে-
(ক) উক্ত সন্তানকে তাহার মাতা কিংবা তাহার মাতৃকুলীয় আত্মীয় স্বজনের তত্ত্বাবধানে রাখা যাইবে;
(খ) উক্ত সন্তান তাহার পিতা বা মাতা, কিংবা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হইবার অধিকারী হইবে;
(গ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহণ করিবে;
(ঘ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় তাহার বয়স একুশ বৎসর পূর্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রদেয় হইবে, তবে একুশ বত্সরের অধিক বয়স্ক কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে তাহার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত এবং পঙ্গু সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি স্বীয় ভরণপোষণের যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত প্রদেয় হইবে।
(২) সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবে।
(৩) এই ধারার অধীন কোন সন্তানকে ভরণপোষণের জন্য প্রদেয় অর্থ সরকার ধর্ষকের নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে এবং ধর্ষকের বিদ্যমান সম্পদ হইতে উক্ত অর্থ আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে উহা আদায়যোগ্য হইবে।

২৮৯.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী, এই আইনের অধীন অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের সর্বনিম্ন মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৪(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এই আইনের অধীন অপরাধের জন্য দণ্ড হল "ন্যূনতম দুই বৎসর এবং সর্বোচ্চ সাত বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড"।
সুতরাং, এই অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের সর্বনিম্ন মেয়াদ হলো ২ বছর।

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৪- অপরাধের শাস্তি:
(১) কোন ব্যক্তি কোন আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ করিলে তিনি অন্যুন দুই বৎসর এবং অনধিক সাত বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন দণ্ডপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনকালে সরকার কিংবা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতিসাধন করিলে তদ্‌জন্য আদালত তদ্‌বিবেচনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্ত সরকার বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুকূলে প্রদান করিবার জন্য উক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আদেশ দিতে পারিবে এবং এই ক্ষতিপূরণের অর্থ সরকারী দাবী হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।

২৯০.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে কোনো লাইসেন্স অথবা পারমিট একাদিক্রমে _____ বৎসর নবায়ন না করা হইলে উহা পুনরায় নবায়নের যোগ্য হইবে না।
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ১৩ ধারার বিধান লাইসেন্স, ইত্যাদি: 
 (১) লাইসেন্স, পারমিট ও পাস বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ফরমে, শর্তে এবং ফিস প্রদান সাপেক্ষে মহাপরিচালক অথবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো অফিসার কর্তৃক প্রদান করা যাইবে। 
(২) লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাসের মেয়াদ উহাতে উল্লিখিত শর্তে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অথবা উহার প্রদানের তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসর সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে: 
তবে শর্ত থাকে, কোনো লাইসেন্স অথবা পারমিট একাদিক্রমে ৩ (তিন) বৎসর নবায়ন না করা হইলে উহা পুনরায় নবায়নের যোগ্য হইবে না।
২৯১.
মানিলন্ডারিং অপরাধ করলে অর্থদণ্ড হবে অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির _____ মূল্যের
  1. সমান
  2. দ্বিগুণ
  3. তিন গুণ
  4. চার গুণ
ব্যাখ্যা
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ ধারার বিধান: মানিলন্ডারিং অপরাধ ও দণ্ড:
-(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মানিলন্ডারিং একটি অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে। 
-(২) কোন ব্যক্তি মানিলন্ডারিং অপরাধ করিলে বা মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করিলে তিনি অন্যূন ৪ (চার) বৎসর এবং অনধিক ১২ (বার) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুন মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত, যাহা অধিক, অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কর্তৃক ধার্যকৃত সময়সীমার মধ্যে অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হইলে আদালত অপরিশোধিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ বিবেচনায় অতিরিক্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
-(৩) আদালত কোন অর্থদণ্ড বা দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে যাহা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানিলন্ডারিং বা কোন সম্পৃক্ত অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত বা সংশ্লিষ্ট। 
-(৪) কোন সত্তা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করিলে বা অপরাধ সংঘঠনের চেষ্টা, সহায়তা বা ষড়যন্ত্র করিলে ধারা ২৭ এর বিধান সাপেক্ষে, উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে এবং অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের অন্যূন দ্বিগুণ অথবা ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা, যাহা অধিক হয়, অর্থদন্ড প্রদান করা যাইবে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য হইবে: 
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সত্তা আদালত কর্তৃক ধার্যকৃত সময়সীমার মধ্যে অর্থদন্ড পরিশোধে ব্যর্থ হইলে আদালত অপরিশোধিত অর্থদন্ডের পরিমাণ বিবেচনায় সত্তার মালিক, চেয়ারম্যান বা পরিচালক যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, তাহার বিরুদ্ধে কারাদন্ডে দন্ডিত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
-(৫) সম্পৃক্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হওয়া মানিলন্ডারিং এর কারণে অভিযুক্ত বা দণ্ড প্রদানের পূর্বশর্ত হইবে না।
২৯২.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রাথমিক সময়সীমা এবং বর্ধিত সময় মিলিয়ে সর্বোচ্চ কতদিনে তদন্ত শেষ করতে হবে?
  1. ১৫০ কর্মদিবস
  2. ১৬০ কর্মদিবস
  3. ১৮০ কর্মদিবস
  4. ২০০ কর্মদিবস
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ১৮০ কর্মদিবস।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ২০ক – “তদন্তের সময়সীমা”:
(১) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২০ এর অধীন ক্ষমতা প্রাপ্তির তারিখ হইতে অনধিক ১২০ (একশত বিশ) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এই আইন ও তফসিলে উল্লিখিত কোন অপরাধের তদন্ত কার্য সম্পন্ন করিতে হইবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করা সম্ভবপর না হইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য কমিশনের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং উক্ত ক্ষেত্রে কমিশন আরও অনধিক ৬০ (ষাট) কর্মদিবস সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবে। 
 
(৩) তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) বা, ক্ষেত্রমত, (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হইলে,- 
 (ক) উক্ত তদন্ত কার্য ৯০ (নব্বই) কর্মদিবসের মধ্যে সমাপ্তির জন্য নূতনভাবে অন্য কোন কর্মকর্তাকে, ধারা ২০ এর বিধান অনুসারে, ক্ষমতা অর্পণ করিতে হইবে; এবং 
 (খ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগে, ক্ষেত্রমত, কমিশন, পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্য প্রযোজ্য আইন বা বিধি-বিধান অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
২৯৩.
আইনে, শিক্ষায়, প্রশাসনে, বিচারে বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্যূন __________ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনার হওয়ার যোগ্য হবেন। 
  1. ১০
  2. ১৫
  3. ২০
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, ধারা- ৮ কমিশনারগণের যোগ্যতা, অযোগ্যতা, ইত্যাদি:
(১) আইনে, শিক্ষায়, প্রশাসনে, বিচারে বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্যূন ২০ (বিশ) বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি কমিশনার হইবার যোগ্য হইবেন৷ 

(২) কোন ব্যক্তি কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি- 
(ক) বাংলাদেশের নাগরিক না হন; 
(খ) কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণ খেলাপী হিসাবে ঘোষিত বা চিহ্নিত হন; 
(গ) আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দেউলিয়াত্বের দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করেন; 
(ঘ) নৈতিক স্খলন বা দুর্নীতিজনিত কোন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছেন; 
(ঙ) সরকারী চাকুরীতে নিয়োজিত থাকেন; 
(চ) দৈহিক বা মানসিক বৈকল্যের কারণে কমিশনের দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; এবং 
(ছ) বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ড প্রাপ্ত হন৷
২৯৪.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অধীন অপরাধসমূহ কাদের দ্বারা বিচারযোগ্য?
  1. দায়রা জজ
  2. স্পেশাল জজ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ২৮- “অপরাধের বিচার, ইত্যাদি”:
(১) আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন ও উহার তফসিলে বর্ণিত অপরাধসমূহ কেবলমাত্র স্পেশাল জজ কর্তৃক বিচারযোগ্য হইবে৷ 
(২) এই আইনের অধীন ও উহার তফসিলে বর্ণিত অপরাধসমূহের বিচার ও আপীল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে The Criminal Law Amendment Act, 1958 (XL of 1958) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷ 
(৩) The Criminal Law Amendment Act, 1958 (XL of 1958) এর কোন বিধান এই আইনের কোন বিধানের সহিত অসংগতিপূর্ণ হইলে এই আইনের বিধান কার্যকর হইবে৷
২৯৫.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর অধীন কোন অপরাধ কার কর্তৃক অনুসন্ধানযোগ্য বা তদন্তযোগ্য হবে?
  1. সরকার
  2. কমিশন
  3. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
  4. ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ২০: অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষমতা:
১.  ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন ও উহার তফসিলে বর্ণিত অপরাধসমূহ কেবলমাত্র কমিশন কর্তৃক অনুসন্ধানযোগ্য বা তদন্তযোগ্য হইবে৷

২. উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ অনুসন্ধান বা তদন্তের জন্য কমিশন, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহার অধঃস্তন কোন কর্মকর্তাকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে৷

৩. উপ-ধারা (২) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার, অপরাধ অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে, থানার ভারপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তার ক্ষমতা থাকিবে৷

৪. উপ-ধারা (২) ও (৩) এর বিধান সত্ত্বেও, কমিশনারগণেরও এই আইনের অধীন অপরাধ অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষমতা থাকিবে৷

২৯৬.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. ৩ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯খ: বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড:
যদি কোন ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সংগে যৌনকর্ম করেন এবং যদি উক্ত ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সহিত উক্ত নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন
২৯৭.
মালিক আজিজ তার একজন শ্রমিককে ঋণ শোধের অজুহাতে বছরের পর বছর বিনা মজুরিতে কাজ করাচ্ছে। শ্রমিক যেতে চাইলে তাকে ভয় দেখায়। উক্ত অপরাধের জন্য মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর অধীন সর্বোচ্চ কী দণ্ড প্রদান করা যাবে?
  1. ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  2. ৭ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
  4. ১২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ১২ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৯: জবরদস্তি বা দাসত্বমূলক শ্রম বা সেবা প্রদান করিতে বাধ্য করিবার দণ্ড:

কোন ব্যক্তি বেআইনিভাবে অন্য কোন ব্যক্তিকে তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করাইলে অথবা শ্রম বা সেবা প্রদান করিতে বাধ্য করিলে বা ঋণ-দাস করিয়া রাখিলে বা বলপ্রয়োগ বা যে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করিলে অথবা করিবার হুমকি প্রদর্শন করিয়া শ্রম বা সেবা আদায় করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ১২ (বার) বৎসর এবং অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

২৯৮.
মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন কার্যে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে, তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর কোন ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য?
  1. ধারা ৪১
  2. ধারা ৪২(১)
  3. ধারা ৪২(২)
  4. ধারা ৪৩
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২- শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় নাই, এইরূপ মাদকদ্রব্য অপরাধের দণ্ড:
(১) কোনো ব্যক্তি যদি এই আইন অথবা বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে যাহার জন্য উহাতে স্বতন্ত্র কোনো দণ্ডের ব্যবস্থা নাই, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ডে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন কার্যে নিয়োজিত কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যকে তাহার দায়িত্ব পালনকালে কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে অসহযোগিতা করিলে অথবা বাধা প্রদান করিলে কিংবা কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিলে তাহা মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা হিসাবে গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্যূন ২ (দুই) বৎসর, অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
২৯৯.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২১ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন-
  1. কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে
  2. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে
  3. কমিশনের চেয়ারম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে
  4. কোনো রকম অনুমতি ছাড়া
ব্যাখ্যা
• ধারা ২১- গ্রেফতারের ক্ষমতা:

এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তি তাঁহার নিজ নামে বা অন্য কোন ব্যক্তির নামে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির মালিক বা দখলকার যাহা তাহার ঘোষিত আয়ের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ, তাহা হইলে উক্ত কর্মকর্তা, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিতে পারিবেন।
৩০০.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ অনুযায়ী, হাতেনাতে ধরা পড়লে কত দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে?
  1. ৬০ দিন 
  2. ১৫ কার্যদিবস
  3. ৩০ কার্যদিবস
  4. ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ধারা ১০(১) অনুসারে: হাতেনাতে ধরা পড়লে বিচার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে।
এখানে "কার্যদিবস" বলতে আদালত বসে এমন দিন বোঝায়।

⇒ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ধারা ১০ - বিচার পদ্ধতি:
(১) আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII-তে বর্ণিত পদ্ধতি, যতদূর প্রযোজ্য হয়, অনুসরণ করিবে৷ 
(২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হইলে বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধৃত হইয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হইলে, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক রিপোর্টসহ তাহাকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করিবে এবং উহার পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে অপরাধ সম্পর্কে আদালতে রিপোর্ট বা অভিযোগ পেশ করিবে এবং আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ রিপোর্ট বা অভিযোগ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করিবে৷ 
(৩) অভিযুক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতভাবে হাতেনাতে ধৃত না হইলে, অপরাধ সংঘটনের পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ধারা ৯(২) এর অধীন রিপোর্ট বা অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে এবং উক্ত রিপোর্ট বা অভিযোগ দায়েরের পরবর্তী ষাট কার্যদিবসের মধ্যে, ধারা ১১ এর বিধান সাপেক্ষে, আদালত বিচার কার্য সম্পন্ন করিব৷ 
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতভাবে ধৃত না হইয়া অন্য কোনভাবে ধৃত হইলে বা আদালতে আত্নসমর্পণ করিলে, উক্ত অপরাধের বিষয়ে, যত দ্রুত সম্ভব, ধারা ৯(২) এর অধীন রিপোর্ট বা অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে এবং আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ রির্পোট বা অভিযোগ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।