বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৯৬ / ১০০ · ৯,৫০১৯,৬০০ / ১০,০৪৫

৯,৫০১.
নির, অধি কোন উপসর্গের উদাহরণ?
  1. আরবি উপসর্গ
  2. তৎসম উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• নির, অধি - তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

অন্যদিকে, 
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫০২.
বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. সম
  2. দুর
  3. ঊন
  4. অভি
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ - ঊন

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫০৩.
সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. দেশি
  2. মাটি
  3. বউটি
  4. গোলাপী
ব্যাখ্যা

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ। যেমন: 
- দেশি,
- মাটির,
- বোনের,
- হাতগুলো,
- বউটি,
- গোলাপী,
- ভাইয়ে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন: 
- গোলাপ,
- নাক,
- লাল,
- তিন,
- ভাই,
- কলা,
- মাটি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ -সংস্করণ) ও বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৫০৪.
'স্বনামধন্য' কোন প্রকার সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
'স্বনামধন্য' = স্বনাম দ্বারা ধন্য। 
- এটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত,
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত, প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৫০৫.
যে সমাসের ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে কী বলে?
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫০৬.
নিচের কোনটি অনুকার শব্দদ্বিত্ব?
  1. কচরমচর
  2. ফটাফট
  3. ভটভট
  4. গবাগব
ব্যাখ্যা
⇒ অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন-
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, ঝিকিমিকি, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ফটাফট ও গবাগব শব্দের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমনে তৈরি  ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ভটভট ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫০৭.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. অসুখ
  2. মেয়েলি
  3. পাঠক
  4. শুশ্রূষা
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 যেমন:
- হস্তী-হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ- গরু খোঁজা।
এইরকম:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
- 'পাঠক' এবং 'মেয়েলি' যৌগিক শব্দ।
- 'অসুখ' হচ্ছে যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯, সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫০৮.
'যথারীতি' কোন সমাস?
  1. কর্মধার‍য়
  2. অব্যয়ীভাব
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
• অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে:
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

• অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫০৯.
’উপদ্বীপ’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ
  2. সামীপ্য
  3. ক্ষুদ্র
  4. সদৃশ
ব্যাখ্যা
• ’উপদ্বীপ’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি ’সদৃশ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য" অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’ অর্থে- উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৯,৫১০.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'- এখানে 'চিকচিক' দ্বিরুক্তি শব্দটি কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়।

• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
- বিশেষণ: নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'
- ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
- ক্রিয়া বিশেষণ: চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৫১১.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বেঙ্গমী
  2. লক্ষী
  3. কলুনি
  4. বেদেনি
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ হিসেবে পরিচিত।
যেমন- এয়ো, ললনা, সতীন, সৎমা, সধবা, বিমাতা, দাই, কুলটা, অর্ধাঙ্গিনী, লক্ষী, ডাইনি, গর্ভিণী ইত্যাদি। 

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকি, ঢুলি, রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক,  ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশনগুলোর পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
• বেঙ্গমা = বেঙ্গমী;
• কলু = কলুনি;
• বেদে = বেদেনি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯,৫১২.
কোন শব্দটি গুজরাটি ভাষা হতে আগত?
  1. ধোলাই
  2. শিখ
  3. ভেল
  4. খাদি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'খাদি' শব্দটি গুজরাটি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- চরকায় কাটা কার্পাস সুতোর তৈরি মোটা কাপড়, খদ্দর।

অন্যদিকে,
- 'ভেল' দেশি শব্দ।
- 'শিখ' সংস্কৃত শব্দ।
- 'ধোলাই' বাংলা শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৫১৩.
‘সৃষ্টি’ - শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √সৃজ্‌ + ক্তি
  2. √সৃষ্‌ + তি
  3. √সৃষ্‌ + টি
  4. √সৃজ্‌ + টি
ব্যাখ্যা

• সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় = সৃষ্টি = √সৃজ্‌ + ক্তি বা সৃষ্টি = √সৃজ্‌ + তি।

ক্তি (তি) প্রত্যয়:
কিছু ধাতুর শেষের ব্যঞ্জন লোপ পায়।
যেমন-
- √গম্‌ + ক্তি (তি) = গতি
- √মন্‌ + ক্তি (তি) = মতি
- √রম্‌ + ক্তি (তি) = রতি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮সংস্করণ)।

৯,৫১৪.
‘গণক’ শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √গনো+অক
  2. খ) √গণ্+ওক
  3. গ) √গণ্+আক
  4. ঘ) √গণ্+অক
ব্যাখ্যা
• গণক (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [√গণ্+অক]
অর্থ: গনতকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৫১৫.
'কেবলা হাকিম' বাগধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অলস
  2. উচিত বক্তা
  3. অনভিজ্ঞ
  4. অপদার্থ
ব্যাখ্যা
• 'কেবলা হাকিম' বাগধারাটির অর্থ- অনভিজ্ঞ।
বাক্য গঠন: ওর মতো কেবলা হাকিম দিয়ে কোনো কাজ হবেনা, অন্য চেষ্টা করুন। 

'এক কথার মানুষ'- বাগধারাটির অর্থ: উচিত বক্তা।
বাক্য গঠন: আমি বাপু এক কথার মানুষ, ঠিক সময়ে টাকা দেব, দেখে নিও। 

'ইতুনিদকুঁড়ে' বাগধারাটির অর্থ অলস।
বাক্য গঠন: তোমার মত ইতুনিদকুঁড়ে আর দেখিনি।

ঘটিরাম বাগধারাটির অর্থ- 'অপদার্থ'।
বাক্য গঠন: রিলিফের বদৌলতে কত ঘটিরাম অজস্র টাকা উপার্জন করেছে সে কথা সবারই জানা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাগধারা ও বাগবিধি- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। 
৯,৫১৬.
'ণিন' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) সর্বজনীন
  2. খ) গ্রাহী
  3. গ) নবীন
  4. ঘ) কুলীন
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে 'ঈ' থাকলে 'ণিন' হবে। 'ণিন' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয় হচ্ছে √গ্রহ + ণিন = গ্রাহী৷ এরূপ- √পা + ণিন = পায়ী৷
'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয় হচ্ছে সর্বজন + নীন = সর্বজনীন।
নব + নীন = নবীন, কুল + নীন = কুল ইত্যাদি আরো কিছু 'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
৯,৫১৭.
'বুনিয়াদ' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বুনিয়াদ' ফারসি ভাষার শব্দ।



• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৫১৮.
রূঢ় শব্দ কোনটি?
  1. গবেষণা
  2. গায়ক
  3. জলধি
  4. বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
• রূঢ় শব্দ - গবেষণা

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: 
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

অন্যদিকে, 
- যৌগিক শব্দ: গায়ক, বাবুয়ানা।
- যোগরূঢ় শব্দ: জলধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫১৯.
প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়।
  2. প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
  3. ধাতুর পরে প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
  4. প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়। 
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়:
- নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে অর্থের পরিবর্তন হয়। 
- শব্দ ও ধাতুর পরে যুক্ত হয়। 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
- যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

কৃৎ প্রত্যয়: 
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে। 
-------------------------------
তাই বলা যায় যে, 'ধাতুর পরে প্রত্যয় যুক্ত হলে তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।' বাক্যটি সঠিক নয়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।  
৯,৫২০.
পত্নীবাচক অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. তেজস্বিনী
  2. ননদ 
  3. জেলেনি
  4. মাতা
ব্যাখ্যা

• পত্নীবাচক অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- তেজস্বিনী। 

------------------
• সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের:
- পত্নীবাচক;
- অপত্নীবাচক।

• পত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়।
যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক:
স্বামী- স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন: খোকা- খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব- তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯,৫২১.
পরপদ অর্থ প্রাধান্য পায় কোন সমাসে?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন – ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা। 

⇒ কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

⇒ তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন - ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো।

⇒ বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন – বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৫২২.
প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লালপেড়ে
  2. ভরপেট
  3. প্রাচুর্য
  4. শীতার্ত
ব্যাখ্যা
• 'য' প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপদিকের অন্তে স্থিত অ, আ, ই, ঈ ইত্যাদি লোপ পায়।

যেমন:
- কবি + য = কাব্য, 
- মধুর + য = মাধুর্য, 
- প্রাচী + য = প্রাচ্য, 
- প্রচুর + য = প্রাচুর্য

অন্যদিকে,
- 'ভর' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - ভরপেট।
- 'শীতার্ত' শব্দটি সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ। শীত + ঋত = শীতার্ত।
- সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাস - লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫২৩.
নিচের কোনটি পুরুষবাচক শব্দ?
  1. ক) বেহান
  2. খ) ঠাকুরঝি
  3. গ) শঙ্খী
  4. ঘ) দীর্ঘঙ্গী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে শঙ্খী পুরুষবাচক শব্দ যার অর্থ বিষ্ণু।
শঙ্খীর স্ত্রীবাচক শব্দ শঙ্খীনি।
৯,৫২৪.
‘ক্ষীণজীবী’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. মদ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে-সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেস্য হয়ে থাকে।

কতিপয় উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ হলো:
- ক্ষীণভাবে বাঁচে যে = ক্ষীণজীবী।
- মন হরণ করে যে (নারী) = মনোহারিণী।
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ।
- জলে চরে যে = জলচর।
- সব হারিয়েছে যারা = সর্বহারা।
- প্রভা করে যে = প্রভাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৫২৫.
'রাজপুত্র' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
• যেমন- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন (২য় তৎপুরুষ সমাস)।
• আবার পূর্বপদের ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
• যেমন- দেশের সেবা = দেশসেবা, চায়ের বাগান = চাবাগান, রাজার পুত্র= রাজপুত্র, খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
• অনুরূপভাবে- ছাত্রসমাজ, দিল্লীশ্বর, বাঁদরনাচ, পাটক্ষেত, ছবিঘর, শ্বশুরবাড়ি, বিড়ালছানা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৫২৬.
'ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি' বাক্যে 'ডেকে ডেকে' দ্বিরুক্তিটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ধারাবাহিকতা
  2. আধিক্য
  3. অস্থিরতা
  4. পৌনঃপুনিকতা
ব্যাখ্যা
- 'ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি' বাক্যে 'ডেকে ডেকে' দ্বিরুক্তিটি পৌনঃপুনিকতা প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
- পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৫২৭.
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে বলে-
  1. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
⇒ নিত্য সমাস :
যে সমাসে সমস্যমান পদ দ্বারা সমাস-বাক্য হয় না, অন্য পদের দ্বারা সমস্ত পদের অর্থ প্রকাশ করতে হয় তাকে নিত্য সমাস বলে। অর্থাৎ যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- কেবল বলা = বলামাত্র। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯,৫২৮.
'কৃৎ' ধাতু যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কথ্য
  2. কর্তন
  3. কথিত
  4. কর্তব্য
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ, দৃশ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ:
কৃ - কুত, কর্তব্য।
কৃৎ - কর্তন, কর্তিত।
কথ - কথ্য, কথিত।
অঙ্ক - অঙ্কন, অঙ্কিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫২৯.
উৎসমূল অনুযায়ী ‘কাচারি’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. উর্দু
  2. তুর্কি
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা

• উৎসমূল অনুযায়ী ‘কাচারি’ শব্দটি 'হিন্দি' ভাষা থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• কিছু হিন্দি শব্দ:
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড়,
- লড়াকু,
- লেনদেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৫৩০.
'বায়বীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বায়ু + ষ্ণীয়
  2. বায়ু + ইয়
  3. বায়ু + ঈয়
  4. বায়ু + বীয়
ব্যাখ্যা
• বায়বীয়  (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় — বায়ু + ঈয়।

• শব্দের অর্থ: 
- বায়ু সংক্রান্ত, 
- বায়ুর মতো, 
- বায়ুজাত, 
- আকাশ পথে বিচরণকারী, 
- বাষ্পীভূত, 
- কল্পিত, অলিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯,৫৩১.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাস?
  1. অস্থির
  2. লাঠালাঠি
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. বউভাত
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
 
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যথা
- এক দ্বারা ঊন - একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম - পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। 
 
অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫৩২.
‘রিকসা' কোন দেশি শব্দ?
  1. ক) জাপানি
  2. খ) চীনা
  3. গ) জার্মানি
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• রিকশা
- জাপানি শব্দ
- অর্থ: মনুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান।

[ প্রশ্নে প্রদত্ত ‘রিকসা’ বানানটি ভুল।]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৫৩৩.
'কালাে বরণ যার = কালােবরণ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  3. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক।

সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালাে বরণ যার = কালােবরণ,
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫৩৪.
'বর্ধন' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বৃদ্ধি + অন
  2. বৃদ্ + অন
  3. বৃধ্‌ + অন
  4. বৃদ্ধ + অন
ব্যাখ্যা

• অন (<অনট) প্রত্যয়:
• √নন্দ + ই + অন = নন্দন,

- √সাধ + অন = সাধন,
- √তপ্ + অন = তপন,
- √বৃধ্‌ + অন = বর্ধন ইত্যাদি।
- √গম + অন = গমন, শী + অন = শয়ন, এরূপ- দান, স্নান,
- √কৃ + অন = করণ, 
- √নী + অন = নয়ন, √চর্ + অন = চরণ ইত্যাদি।
- √শী + অন = শয়ন, √স্থা + অন = স্থান, √ভূ + অন = ভুবন, √উদ্‌-যা + অন = উদ্যান ইত্যাদি।
- √গণ+ অন আ-গণনা, √উপ + আস্+অন+আ=উপাসনা, এরূপ-এষণা, বেদনা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,৫৩৫.
'পঠন' শব্দের মূল ধাতু কোনটি?
  1. অজ্ঞাতমূল ধাতু
  2. সংস্কৃত ধাতু
  3. বিদেশাগত ধাতু
  4. বাংলা ধাতু
ব্যাখ্যা
• ‘পঠ্‌’ সংস্কৃত ধাতু।
এটি দ্বারা গঠিত শব্দ- পঠন, পাঠ্য, পঠিত, পাঠক ইত্যাদি।
-------------------------
ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে।
- এসকল ক্রিয়াপদেরমূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।

• ধাতু ৩ প্রকার।
যথা-
- মৌলিক ধাতু
- সাধিত ধাতু ও
- যৌগিক সংযোগমূলক ধাতু।

মৌলিক ধাতু:
- যেসকল ধাতু আর বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

• মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার।
যথা-
- বাংলা ধাতু
- সংস্কৃত ধাতু ও
- বিদেশি ধাতু।

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,

সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
- এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫৩৬.
শব্দের কোথায় প্রত্যয় যুক্ত হয়?
  1. ক) প্রথমে
  2. খ) শেষে
  3. গ) মধ্যে
  4. ঘ) যে কোন স্থানে
ব্যাখ্যা
• শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
অন্যদিকে, ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। 
- কৃপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। 

মানব = মনু + অ = তদ্ধিত প্রত্যয়
ভাবী = √ভূ+ইন্‌ = কৃৎ প্রত্যয়
সত্যবাদী = সত্য+√বদ্‌+ইন্‌ = কৃৎ প্রত্যয়
বিনয় = বি+নী+অ = কৃৎ প্রত্যয়

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৫৩৭.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. সুরে সুরে
  2. কোঁত কোঁত
  3. ছমছম
  4. চকচক
ব্যাখ্যা
• 'সুরে সুরে'  বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ।

------------------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। 
যেমন:
- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 
যেমন:
- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

• অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন:
- ফোরা টনটন করে।
- গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, ভটভট, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫৩৮.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের দৃষ্টান্ত?
  1. গরম গরম
  2. দুম দুম
  3. ঝিলিমিলি
  4. গুটিশুটি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের দৃষ্টান্ত- গরম গরম। 

-----------------
অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
ঝিলিমিলি, ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধ্বনি তৈরি হয়।
যেমন:
কুট কুট, টস টস, টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন:
জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ভালো ভালো, গরম গরম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৯,৫৩৯.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. দুর
  2. অধি
  3. রাম
  4. দর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১- সংস্করণ)।
৯,৫৪০.
কোন দুটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. ক) জলদ, কুশল
  2. খ) গবাক্ষ, পঙ্কজ
  3. গ) জলদ, পঙ্কজ
  4. ঘ) মিতালি, গবাক্ষ
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
- যেমন:
জলদ— মূল অর্থ যে জল দেয়, ব্যবহারিক অর্থ হলো মেঘ,
পঙ্কজ— শব্দের অর্থ যা পঙ্কে জন্মে, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম।

- এরূপ আরও উদাহরণ হলো- মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরোজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ: অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।
• যৌগিক শব্দ: গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক, চরণ, পক্ষী ইত্যাদি।
• মৌলিক শব্দ: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,৫৪১.
'সুকঠিন' শব্দে 'সু' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) উত্তম
  2. খ) বিশাল
  3. গ) আতিশয্য
  4. ঘ) সাথে
ব্যাখ্যা
• 'সুকঠিন' শব্দের 'সু' একটি তৎসম উপসর্গ।

• 'সু' উপসর্গের অর্থদ্যাতকতার ব্যবহার:
- আতিশয্য = সুচতুর, সুকঠিন, সুধীর, সুনিপুণ, সুতীক্ষ্ণ।
- উত্তম = সুকণ্ঠ, সুকৃতি, সুচরিত্র, সুপ্রিয়, সুনীল।
- সহজ = সুগম, সুসাধ্য, সুলভ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ২০১৯ সংস্করণ।
৯,৫৪২.
'অপুত্রক' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫৪৩.
আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. কাগজ
  2. কাজি
  3. সাদা
  4. আম্বর
ব্যাখ্যা

• আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ - আম্বর

অন্যদিকে,
ফারসি ভাষা শব্দ:
- গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৫৪৪.
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. ইস্পাত
  2. চাকু
  3. আনারস
  4. আলপিন
ব্যাখ্যা

• পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয়- চাকু। 



পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ:
ইংরেজ, পাউরুটি, আনারস, আচার, আলকাতরা, আলপিন, চাবি, আলমারি, বেহালা, বালতি, পেয়ারা, ইস্পাত, নিলাম, গরাদ, গামলা, পেরেক, মিস্ত্রি, যিশু, কেদারা, কামরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৫৪৫.
‘চিরুনদাঁতি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. অলুক বহুব্রীহি
  4. পদলোপী বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
পদলোপী বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।

যেমন:
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি।

অন্যদিকে:
সমানাধিকার বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন: 
- এক গো যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনাে কখনাে ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

অলুক বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন -
গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
কানে খাটো যে = কানেখাটো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৫৪৬.
নিম্নের কোনটি গুণের সূত্র?
  1. ক) অ-স্থলে আ
  2. খ) ই/ঈ-স্থলে ঐ
  3. গ) উ/ঊ-স্থলে ও
  4. ঘ) ঋ-স্থলে আর
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দের গুণ ও বৃদ্ধি:
প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের ধারণা রূপতত্ত্বের বিষয় হলেও কখনও কখনও তা শব্দ গঠনে ধ্বনিতত্ত্বকে সংশ্লিষ্ট করে।
মূলত, সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দের ক্ষেত্রেই এরূপ দেখা যায়।
কখনও কখনও লক্ষ করা যায় যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি অংশের আদিস্বরের পরিবর্তন ঘটে।
এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এই নিয়মদ্বয়কেই যথাক্রমে গুণ ও বৃদ্ধি নামে অভিহিত করা হয়।
নিচে গুণ ও বৃদ্ধি ঘটার সূত্র উল্লেখ করা হলাে :

গুণ
⇒ ই/ঈ-স্থলে এ - √চিন্+আ= চেনা, নী+আ= নেওয়া
⇒ উ/ঊ-স্থলে ও - √ধু+আ= ধােয়া
⇒ ঋ-স্থলে অর্‌ -  √কৃ+তা = কর্‌তা > কর্তা >ক্রেতা   

বৃদ্ধি
⇒ অ-স্থলে আ - √পচ্+ণক(অক) = পাচক 
⇒ ই/ঈ-স্থলে ঐ - √শিশু+ষ্ণ = শৈশব
⇒ উ/ঊ-স্থলে ঔ - √যুব্‌+অন= যৌবন
⇒ ঋ-স্থলে আর - √কৃ+ঘ্যণ(য-ফলা)= কার্য

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৫৪৭.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক্রোড়পত্র
  2. চাবাগান
  3. খেলারমাঠ
  4. খেয়াঘাট
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

• অলুক তৎপুরুষ:
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
-তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
-গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
-খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫৪৮.
কোনটি অনুভূতির কাল্পনিক অনুকৃতি?
  1. কুহু কুহু
  2. গর গর
  3. কাকা
  4. কুট কুট
ব্যাখ্যা
অনুভূতির কাল্পনিক অনুকৃতি:
ঝিকিমিকি: 'চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
ঠাঠা: ঠা ঠা রোদে ঘুরে বেড়িও না।
কুট কুট: মশা কুট কুট করে কামড়াচ্ছে।
ছম ছম: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
চোঁ চোঁ: ক্ষিধেয় পেট চোঁ চোঁ করছে।

অন্যদিকে,
জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকৃতি:
ঘেউ ঘেউ: কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করছে।
মিউ মিউ: বিড়ালটি মিউ মিউ করে ডেকে কোলে এসে বসল।
কুহু কুহু: বসন্তে কোকিল ডেকে ওঠে কুহু কুহু রবে।
কাকা: কাকগুলো একসাথে কা কা করে ডেকে উঠল।
গর গর: তখন বাঘটি রাগে গর গর করতে লাগল।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৯,৫৪৯.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. কদ
  2. কম
  3. দুর
  4. পরা
ব্যাখ্যা
• ‘কম’ ফারসি উপসর্গের উদাহরণ।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫৫০.
নিচের কোনটি 'রাজপথ'-এর ব্যাসবাক্য?
  1. রাজার পথ
  2. যে পথ রাজা নির্মান করেন
  3. যে পথে রাজা গমন করে
  4. পথের রাজা
ব্যাখ্যা
• সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

• বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে, 
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি, 
- ধানের খেত = ধানখেত, 
- পথের রাজা = রাজপথ, 
- গােলায় ভরা = গােলাভরা, 
- গাছে পাকা = গাছপাকা, 
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫৫১.
পাক এর প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. পা +অক্
  2. প + অক
  3. পা + বর
  4. পচ্ + ঘঞ্
ব্যাখ্যা
পচ্ + ঘঞ্= পাক, এটি বিশেষ নিয়মের প্রত্যয় সাধিত শব্দ।


পাক (বিশেষ্য):
অর্থ:
১. রন্ধন; রন্ধনকার্য (পাকের ঘর), অগ্নিতাপে সিদ্ধকরণ (সতীত্বে সাবিত্রী পাকে দ্রৌপদী সুন্দরী-দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)।
২. অগ্নির উত্তাপে তৈরি করা (কবিরাজি তৈলাদির পাক)।
৩. হজম।
৪. পরিণতি; পরিণাম (বিপাক)।

{(তৎসম বা সংস্কৃত) পচ্‌ + অ (ঘঞ্‌)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯,৫৫২.
'পাঞ্জাবি' শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফারসি
  2. তৎসম
  3. হিন্দি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

• 'পাঞ্জাবি' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- হাতের তালু পর্যন্ত বিস্তৃত আস্তিনবিশিষ্ট ঢিলা জামাবিশেষ; কামিজ।

কিছু ফারসি শব্দ:
- কারিগর,
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৫৫৩.
'বামেতর' শব্দটির অর্থ -
  1. ক) বামচোখ
  2. খ) ডান
  3. গ) ইতর
  4. ঘ) বাম দিক
ব্যাখ্যা
বামেতর (বিশেষণ):
অর্থ - ডান; ডাহিন; দক্ষিণ
কবিতায় ব্যবহারঃ প্রমীলার বামেতর নয়ন নাচিল - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯,৫৫৪.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) টাকমাথা
  2. খ) ঘিভাত
  3. গ) কাজলকালো
  4. ঘ) হাতেখড়ি
ব্যাখ্যা
•  'হাতেখড়ি' এর ব্যাসবাক্য -  খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে।
- এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়। 
- এটি পদলোপী বহুব্রীহির উদাহরণ।

• কর্মধারয় সমাস

- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন - গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে ‘যে' যোজক থাকে,
- যেমন 
- খাস যে জমি = খাসজমি,
- চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার
- ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা,
- টাক যে মাথা = টাকমাথা,
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর, ,
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট.

• কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
- যেমন - তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা। 

• কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়।
- এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত। যেমন -
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত,
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি,
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৯,৫৫৫.
কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. বাড়ি
  2. আবহাওয়া
  3. আকাশ
  4. জীবন
ব্যাখ্যা
⇒ তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।

অন্যভাবে বলা যায়, সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে এ রকম শব্দকে ‘তদ্ভব শব্দ’ বলা হয়। সংস্কৃত শব্দ যখন প্রাকৃত ভাষার ভেতর দিয়ে রূপ পাল্টাতে পাল্টাতে শেষকালে বাংলায় এসে পৌঁছায়, তখন তা তদ্ভব শব্দ হিসেবে পরিগণিত হয়।
- যেমন
- সংস্কৃত-হস্ত, প্রাকৃত-হল্থ, তদ্ভব-হাত।
- সংস্কৃত-চর্মকার, প্রাকৃত-চম্মআর, তদ্ভব-চামার ইত্যাদি।
- একইভাবে সংস্কৃত 'চন্দ্র' শব্দ থেকে 'চাঁদ' শব্দটি উৎপন্ন হয়েছে। এই তদ্ভব শব্দগুলােকে খাটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• বাড়ি (সংস্কৃত শব্দ বাঢী থেকে উৎপন্ন),
- তদ্ভব শব্দ।
অর্থ: বাসস্থান, আদি নিবাস।

অন্যদিকে,
• আবহাওয়া (ফারসি শব্দ),
অর্থ: ভূপৃষ্ঠে নির্দিষ্ট কোনো স্থানের আবহাওয়ার বিবরণ-সংবলিত খবর, আবহবার্তা।

• আকাশ ( সংস্কৃত শব্দ),
অর্থ: গগন, অন্তরীক্ষ, অম্বর, ব্যোম, শূন্য, স্বর্গ।

• জীবন (সংস্কৃত শব্দ),
অর্থ: প্রাণ,  প্রাণধারণ, জীবৎকাল, আয়ু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫৫৬.
কোনটি তৎসম উপসর্গ?
  1. অজ
  2. গর
  3. পরি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫৫৭.
নিচের কোনটি তারিখ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. ষোড়শ
  2. ষোলোতম
  3. ষোড়শী
  4. ষোলোই
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ হচ্ছে- ষোলোই।

অন্যদিকে,
ষোড়শ ও ষোলোতম সাধারণ পূরণবাচক শব্দ।
সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপ ষোড়শী।

==========
⇒ পূরণবাচক: পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। 

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

⇒ সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী) ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি। 

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫৫৮.
‘জলদ’ কোন সমাসে উদাহরণ?
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস 
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
 
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- এরূপ  সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৫৫৯.
নিচের কোনটি রুঢ়ি শব্দ?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) তিন
  3. গ) হস্তি
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা

অর্থগত দিক থেকে শব্দ মুলত ৩ প্রকার।
যথাঃ
১. যৌগিক শব্দ - যে সকঅল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
- যেমনঃ গায়ক = গৈ + নক (অক) অর্থ - গান করে যে।
২. রূঢ়ি শব্দ - যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি বলে।
- যেমনঃ হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আচে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
৩. যোগরূঢ় শব্দ - সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পুর্ণ ভাবে সমস্যমান পদস্মূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।
- জলধি = জল ধারণ করে এমন অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র সমুদ্র অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

৯,৫৬০.
অ-উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনাচার
  2. অনামুখো
  3. অঘারাম
  4. অচিন
ব্যাখ্যা

⇒ অ-উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ = অচিন (অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়)।

অন্যদিকে,
⇒ অঘা-উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ = অঘারাম (বোকা অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
⇒ অনা-উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ =
অনামুখো (অশুভ অর্থে ব্যবহৃত হয়)।
অনাচার (ছাড়া অর্থে ব্যবহৃত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৬ সালের সংস্করণ)।

৯,৫৬১.
উপমান ও উপমেয় পদের অভেদ কল্পনা করা হয় কোন সমাসে? 
  1. দ্বিগু কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
 
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।
-------------------- 
অন্যদিকে,
• দ্বিগু কর্মধারয়: 
কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
যেমন:
 • তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
• চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা। 
 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৯,৫৬২.
সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে নিচের কোন নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. খান
  2. খানা
  3. খানি
  4. গুলি
ব্যাখ্যা
বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকের বিভিন্নতা রয়েছে। যেমন-
• একবচনে- টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছিতীত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়। যেমন- টাকাটা, বাড়িটি, কাপড়খানা, বইখানা, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে- গুলি, গুলা, গুলো, গুলিন প্রভৃতি নির্দেশক প্রত্যয় সংযুক্ত হয়। যেমন- মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো, পটলগুলিন ইত্যাদি। [গুলিন শব্দ বর্তমানে ব্যবহৃত হয় না।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, খান, গোটা ইত্যাদির প্রয়োগ হয়। যেমন- চারটে ভাত, দুধটুকু, দুধটুকুন, দুটো ভাত, খান তিনেক লুচি, গোটা চারেক আম ইত্যাদি।

• বিশেষণ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বিশেষণ পদ বিশেষ্য হয়ে যায়। যেমন: জামা লালটি চাই। এখানে লাল বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯,৫৬৩.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) হাতেখড়ি
  2. খ) তেলেভাজা
  3. গ) কানেখাটো
  4. ঘ) হাতে-কলমে
ব্যাখ্যা
যেসকল তৎপুরুষ সমাসের ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন –
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

অন্যদিকে, 
- হাতে-কলমে = অলুক দ্বন্দ্ব সমাস 
- হাতেখড়ি = পদলােপী বহুব্রীহি
- কানেখাটো = অলুক বহুব্রীহি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
৯,৫৬৪.
নিচের কোনটি উপসর্গ?
  1. ক) হতে
  2. খ) অপি
  3. গ) কর্তৃক
  4. ঘ) এবং
ব্যাখ্যা
যে অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 
- অজানা (অ+জানা)
- অভিযোগ (অভি+যোগ) 
- অপিনিহিত (অপি+নিহিত) প্রভৃতি শব্দের অ, অভি, অপি হচ্ছে উপসর্গ। 

অন্যদিকে
- হতে, থেকে হচ্ছে অনুসর্গ। 
- এবং হচ্ছে যোজক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫৬৫.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. সপত্নী
  2. ঢাকী
  3. অভিসারিণী
  4. বেঙ্গমী
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
- কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে। 
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বেঙ্গমা - বেঙ্গমী। 
অভিসারী - অভিসারিণী।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৯,৫৬৬.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. তাস
  2. হস্ত
  3. জানালা
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'জানালা'- পর্তুগিজ শব্দ।

• পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ হলো-
আলপিন, আনারস, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, বালতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তাস - হিন্দি শব্দ।
• হস্ত, সমুদ্র - তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৫৬৭.
“কুরসী” শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) সাঁওতাল
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা

কুরসি, কুরসী, কুরছি [কুরসি, কুরসি, কুরছি] (বিশেষ্য) বসার উচ্চ আসনবিশেষ; চেয়ার; কেদারা (বসাইল উপরে কুরছির -সৈয়দ হামজা; রাজ সদনে কুর্সী সোনার মিলত কবির এইখানে-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)।
[(আরবি) কুর্‌সী]
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৯,৫৬৮.
‘চাহিদা’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) উর্দু
  2. খ) পাঞ্জাবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
পাঞ্জাবি শব্দগুলো হচ্ছেঃ চাহিদা, শিখ। (নবম দশম শ্রেণীর বোর্ড বই)
মনে রখার কৌশলঃ পাঞ্জাবি চাহিদা শিখদের মধ্যে প্রচুর বেড়ে গেছে।

এদিকে, পাঞ্জাবি শব্দটা এসেছে ফারসি ভাষা থেকে।
আবার,
বাংলা একাডেমীর আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী ‘চাহিদা’ বাংলা শব্দ।
৯,৫৬৯.
কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয়? 
  1. কবিরাজ
  2. কৃতদার
  3. অকৃতদার
  4. কুলটা
  5. ঢাকী 
ব্যাখ্যা

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৫৭০.
'√নাচ্ + অন = নাচন' - এটি কোন প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বিদেশি কৃৎ প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: 
- সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে। 

যেমন: 
√নাচ্ + অন = নাচন,
√ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৯,৫৭১.
'তার উড়ু উড়ু ভাব'- বাক্যে 'উড়ু উড়ু' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সামান্যতা বোঝাতে
  2. খ) তীব্রতা বোঝাতে
  3. গ) স্বল্পকাল বোঝাতে
  4. ঘ) আধিক্য বোঝাতে
ব্যাখ্যা
বিশেষণ শাব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার-
আধিক্য বোঝাতে - ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। 
তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতেন - গরম গরম জিলাপি। 
সামান্যতা বোঝাতে - তার উড়ু উড়ু ভাব

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫৭২.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. ঘর-টর
  2. চুপচাপ
  3. উড়ু উড়ু
  4. ঝমঝম
ব্যাখ্যা
• 'ঝমঝম' - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 
---------------------- 
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- যেমন: ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
- কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়।
- ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
- যেমন: সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে।
যেমন, 
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ঘর-টর, চুপচাপ - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।
• উড়ু উড়ু - পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫৭৩.
কোনটি যৌগরূঢ় শব্দ?
  1. পাঞ্জাবী
  2. চিকামারা
  3. বাবুয়ানা
  4. মহাযাত্রা
ব্যাখ্যা

যৌগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।

​যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

​অন্যদিকে,
​​রূঢ়ি শব্দ - পাঞ্জাবী।
​যৌগিক শব্দ - চিকামারা, বাবুয়ানা।

​উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৫৭৪.
'দিগম্বর' কোন সমাস? 
  1. বহুব্রীহি
  2. তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. দ্বিগু
ব্যাখ্যা

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন,
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার,
- দিগম্বর = দিক অম্বর যার,
- নীলাম্বর = নীল অম্বর যার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৫৭৫.
কোন শব্দটি দ্বিগু সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. চৌচালা
  2. ত্রিকাল
  3. শতাব্দী
  4. ত্রিপদী
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস - চৌ (চার) চাল যে ঘরের = চৌচালা ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫৭৬.
‘নিমরাজি’ শব্দের ‘নিম’ অর্থ কী?
  1. স্বল্প
  2. অর্ধেক
  3. প্রায় 
  4. পূর্ণ 
ব্যাখ্যা

• 'নিমরাজি' শব্দে 'নিম' একটি উপসর্গ।
- উপসর্গটি — 'অর্ধেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি একটি ফারসি উপসর্গের উদাহরণ।

আরও কিছু ফারসি উপসর্গ নিম্নরূপ-
- ফি: প্রত্যেক অর্থে = ফি-বছর, ফি-সপ্তাহ, ফি-রোজ, ফি-সব।
- না: না অর্থে = নারাজ, নাচার।
- ব: সাথে অর্থে = বনাম, বকলম, বমাল। 
- কম: অল্প অর্থে = কমবখ্‌ত, কমআক্কেল, কমজোর।
- বে: না অর্থে = বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া।
- বর: মন্দ অর্থে = বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরদাস্ত, বরবাদ।
- নিম: অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৫৭৭.
বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. পরাকাষ্ঠা
  2. পরাক্লান্ত
  3. পরায়ণ
  4. পরাভব
ব্যাখ্যা
বিপরীতার্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ = পরাভব, পরাজয়, পরাধীন, পরাহত। 
অতিশয্য অর্থে 'পরা' উপসর্গ যুক্ত শব্দ = পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ, পরাক্রম। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৫৭৮.
কোন শব্দটিতে 'বৃত্তি' অর্থে ''ই'' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. মাদ্রাজি
  2. ব্যাপারি
  3. বাহাদুরি
  4. জমিদারি
ব্যাখ্যা
• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে 'ই/ ঈ' প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে - 'ব্যাপার-ব্যাপারি' শব্দে।

• বিভিন্ন অর্থে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবহার:
• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে:
ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার-ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

• ভাব অর্থে:
বাহাদুর + ই = বাহাদুরি, উমেদার-উমেদারি।

• মালিক অর্থে:
জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।

• জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে:
ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫৭৯.
'মনুষ্য' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. মনুষ্যসমূহ
  2. মনুষ্যদাম
  3. মনুষ্যসকল
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

যেমন:
কুল - কবিকূল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৫৮০.
কোনটি উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয় না?
  1. বৃন্দ
  2. দাম
  3. বর্গ
  4. মণ্ডলী
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- গণ - দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
- বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
- মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
- বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।

• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
- কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
- সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
- সব- ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
- সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৫৮১.
বেমানান (মানানোর অভাব) কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা
মানানের অভাব = বে-মানান- ইহা অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ। 

- পূর্বপদ অব্যয়ের সাথে পরপদ বিশেষ্যের যে সমাস হয় , তাকে এই অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ের অর্থই প্রধান এবং সমস্তপদটি অব্যয়ের ভাবপ্রাপ্ত হয়। 

- নিচের উদাহরণগুলোতে কয়েকটি অব্যয়ীভাব সমাসের অব্যয় পদটি বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হল-  
(১)  সামীপ্য: কুলের সমীপে =উপকূল; নগরীর সমীপে = উপনগরী; কাঠের সমীপে = উপকণ্ঠ; অক্ষির সমীপে = সমক্ষ; দুপুরের কাছাকাছি = দুপুর নাগাদ; সকালের কাছাকাছি = সকালনাগাদ।

(২)  বীপ্সা (পুন: পুন: অর্থে):  দিন দিন = প্রতিদিন; গৃহে গৃহে = প্রতিগৃহে; ক্ষণে ক্ষণে = অনুক্ষণ, প্রতিক্ষণ; মণে মণে = প্রতিমণ, মণপিছু; জনে জনে = জনপ্রতি, জনপিছু; জেলায় জেলায় = প্রতিজেলায়; বছর বছর = ফিবছর; রোজ রোজ= হররোজ; মাঠে মাঠে = মাঠকে-মাঠ, সনে সনে = ফি-সন. গাঁ-এ গাঁ-এ = গাঁকে-গাঁ। 

(৩)  অনতিক্রমতা:  বিধিকে অতিক্রম না করে = যথাবিধি ;উচিতকে অতিক্রম না করে = যথোচিত; এইরকম, যথাশক্তি, যথাসাধ্য, যথেচ্ছ, যথারীতি যথাযোগ্য, যথার্থ, সাধ্যমতো, যথাজ্ঞান, আয়মাফিক।

(৪) অভাব:  বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন; মানানের অভাব = বে-মানান; বন্দোবস্তের অভাব = বে-বন্দোবস্ত; ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ; ভাতের অভাব = হাভাত; মিলের অভাব = গরমিল; ঝঞ্ঝাটের অভাব = নির্ঝঞ্ঝাট; লুনের (লবনের) অভাব = আলুনি; টকের অভাব মিষ্টির অভাব = না-টক-না-মিষ্টি; ঘরের অভাব = হা-ঘর; হায়ার অভাব = বেহায়া; মক্ষিকার অভাব = নির্মক্ষিক।

(৫) পশ্চাৎ: গমনের পশ্চাৎ = অনুগমন; তাপের পশ্চাৎ = অনুতাপ; করণের পশ্চাৎ = অনুকরণ; ইন্দ্রের পশ্চাৎ = উপেন্দ্র; গৃহের পশ্চাৎ = অনুগৃহ।  

(৬) সাদৃশ্য: দ্বীপের সদৃশ = উপদ্বীপ; কথার সদৃশ= উপকথা; ভাষার সদৃশ = উপভাষা; মুর্তির সদৃশ = প্রতিমুর্তি, বনের সদৃশ = উপবন; কিন্তু (হীন দেবতা = উপদেবতা); মন্ত্রীর সদৃশ = উপমন্ত্রী; রাষ্ট্রপতির সদৃশ = উপরাষ্ট্রপতি; দানের সদৃশ = অনুদান; ধ্বনির সদৃশ = প্রতিধ্বনি; লক্ষের সদৃশ = উপলক্ষ।

(৭) ক্ষুদ্র অর্থে: উপ (ক্ষুদ্র) গ্রহ = উপগ্রহ; ক্ষুদ্র বিভাগ = উপবিভাগ, ক্ষুদ্র অঙ্গ = প্রত্যঙ্গ; ক্ষুদ্র শাখা = প্রশাখা; ক্ষুদ্র সাগর = উপসাগর; ক্ষুদ্র জাতি = উপজাতি; ক্ষুদ্র নদী = উপনদী।  

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৯,৫৮২.
'কারখানা' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি 
  2. ফারসি 
  3. পর্তুগিজ 
  4. তৎসম 
ব্যাখ্যা

• কারখান (বিশেষ্য পদ):
- ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- যে গৃহে পণ্যদ্রব্য উৎপাদন করা হয়।

কিছু  ফারসি শব্দ হলো:
অন্দর, কানুন, আবহাওয়া, আমদানি-রপ্তানি, দরবার, আমল, শরবত, বরফ, সাহেব, সবজি, জমিদার, গোয়েন্দা, গোলাম, জিনিস, কাগজ, ইস্তফা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৫৮৩.
কোনটি  মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. হাট-বাজার
  2. চা-বিস্কুট
  3. ঘর-দুয়ার
  4. খাতা-পত্র
ব্যাখ্যা

মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ- চা-বিস্কুট। 
-----------------------------------------
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি =  দম্পতি।
----------------------------------------------------
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে দুটি বা তার বেশি পদ সমান প্রাধান্য নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক বা মিল প্রকাশ করে।
- এই সমাসের ব্যাসবাক্যে 'ও', 'এবং', 'আর'-এর মতো সংযোজক অব্যয় থাকে।
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসে প্রতিটি পদেরই সমান প্রাধান্য থাকে।

- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হলো-
 • মা-বাপ (মা ও বাপ),
চা-বিস্কুট (চা ও বিস্কুট),
• জ্বিন-পরি (জ্বিন ও পরি),
• ভাই-বোন (ভাই ও বোন),
• চাল-ডাল (চাল ও ডাল),
• দিন-রাত (দিন ও রাত),
• তাল-তমাল (তাল ও তমাল), 
• ভালো-মন্দ (ভালো ও মন্দ),
• মাতা-পিতা (মাতা ও পিতা)। 
------------------------------------------------ 
অন্যদিকে, 
- হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, খাতা-পত্র - সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।

•  সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:  
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে দুটি একই বা সমান অর্থের শব্দকে ‘ও’ বা ‘এবং’ দিয়ে একসাথে মিলিয়ে লেখা হয়।
- এই সমাসে দুইটি শব্দের গুরুত্ব সমানভাবে থাকে।
- যেমন:
- ‘জন ও মানব’ → জনমানব;
- ‘ধন ও দৌলত’ → ধনদৌলত;
- ‘কাগজ ও পত্র’ → কাগজ-পত্র;
- 'বই ও পুস্তুক'  → বইপুস্তুক; 
- 'কল ও কারখানা' → কল-কারখানা। 

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,৫৮৪.
‘তেলেভাজা’ কোন্ সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. দ্বন্দ্ব
  3. কর্মধারয়
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
- ধানের খেত = ধানখেত,
- পথের রাজা = রাজপথ,
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা (অলুক তৎপুরুষ সমাস) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৫৮৫.
সাবান ও আনারস শব্দ দুটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. পর্তুগিজ
  2. আরবি
  3. ফরাসি
  4. ফার্সি
ব্যাখ্যা

“সাবান” ও “আনারস” শব্দ দুটি “পর্তুগিজ” ভাষা থেকে আগত।

“আনারস”
- পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- গ্রীষ্ম-মণ্ডলীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন পুরু ও কর্কশ খোসায় আবৃত এবং শীর্ষে কাঁটাযুক্ত লম্বাটে গুচ্ছ বদ্ধ পাতাবিশিষ্ট ভিটামিন এ বি এবং সি সমৃদ্ধ বৃহদাকার অম্লমধুর রসালো ফল বা তার ভেষজ-গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ (আনি, ব্রাজিল), pineapple I

“সাবান”
- শব্দটি পর্তুগিজ ‘sabao’ থেকে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- সোডা, ক্ষার, চর্বি সহকারে প্রস্তুত ময়লা পরিস্কারক দ্রব্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৫৮৬.
কোনটি নামধাতুর উদাহরণ?
  1. চল্
  2. ঘুমা
  3. পড়্
  4. কর্
ব্যাখ্যা

• নাম ধাতু: 
বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু।
যেমন-
সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'। 'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'।

• মৌলিক ধাতু:
- যে-সব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-
চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৯,৫৮৭.
বাংলা ধাতু কোনটি?
  1. পঠ্‌
  2. হস্
  3. কহ্
  4. ঝুল্
ব্যাখ্যা

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। 
যেমন:
আঁট, খাট্, চেঁচ্, ঝুল্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯,৫৮৮.
কৃষ্টি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়-
  1. কৃ্ষ্ + তি
  2. কৃষ্ + টি
  3. কৃ + ইষ্টি
  4. কৃষ্ + ইষ্টি
ব্যাখ্যা
• ‘কৃষ্টি’ এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয়- √কৃষ্ + তি।

• কৃষ্টি (বিশেষ্য পদ),
-এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: (√কৃষ্‌ + তি),
অর্থ:
- হালচাষ;
- কর্ষণ;
- কৃষিকার্য।

• নিয়ম:
বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে বিশেষ নিয়ম সাধিত কৃৎ- তি প্রত্যয় হয়।
যেমন:
- √বৃষ্‌ + তি = বৃষ্টি;
- √স্মৃ + তি = স্মৃতি;
- √ঘাট্ + তি = ঘাটতি;
-√বাড় + তি = বাড়তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫৮৯.
‘চাবাগান’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: চায়ের বাগান= চাবাগান, রাজার পুত্র= রাজপুত্র।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯,৫৯০.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা
  2. ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ
  3. ঘর + আমি = ঘরামি
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় ব্যতীত বাকি প্রত্যয়গুলোকে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের শেষে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: ডাক্তার + খানা = ডাক্তারখানা, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৯,৫৯১.
"আমরণ" শব্দটি কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য,
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৯,৫৯২.
আগ্রহ বােঝাতে বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. কেউ কেউ এ ব্যাপারে ভিন্ন মত দিয়েছেন।
  2. গরম গরম জিলাপি খেতে মজা।
  3. ভালাে ভালাে লিচু নিয়ে এসাে।
  4. সে মা মা বলে কাঁদছে।
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে : রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে : তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'কেউ কেউ এ ব্যাপারে ভিন্ন মত দিয়েছেন'  - সর্বনাম পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে। 
- 'গরম গরম জিলাপি খেতে মজা' - তীব্রতা বা সঠিকতা বােঝাতে বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে।
- 'ভালাে ভালাে লিচু নিয়ে এসাে' - আধিক্য বােঝাতে বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৫৯৩.
'রামশিঙ্গা' শব্দে 'রাম' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. আরবি উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. সংস্কৃত উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'রামশিঙ্গা' শব্দে 'রাম' একটি বাংলা উপসর্গ।
- রাম বড়/উৎকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: রামছাগল, রামদা, রামবোকা।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫৯৪.
'কেদারা'- কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি 
  2. পর্তুগিজ
  3. গুজরাটি 
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'কেদারা'- পর্তুগিজ  ভাষার শব্দ। 

• 'কেদারা' (বিশেষ্য):
- পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। 
শব্দের অর্থ: হেলান দেওয়ার ব্যবস্থা-সহ একজনের বসার উপযোগী উঁচু আসনবিশেষ, চেয়ার।

• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদ্রি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৯,৫৯৫.
'চালাক-চতুর' - কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৫৯৬.
‘কুলি’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত? 
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'কুলি' শব্দটি 'তুর্কি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ভার বহন যার পেশা,
- শ্রমিক,
- মজুর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৫৯৭.
নিচের কোন শব্দটি 'উয়া' প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. ক) লাগোয়া
  2. খ) ঘরোয়া
  3. গ) মাছুয়া
  4. ঘ) রিকশাওয়ালা
ব্যাখ্যা
• ‘উয়া’ প্রত্যয় যোগে গঠিত কৃৎপ্রত্যয়:
- পড়ুয়া = পড়ু + উয়া (কৃৎপ্রত্যয়)।
- মাছুয়া = মাছ + উয়া (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।

• বাকি অপশনগুলো হচ্ছে:
- লাগোয়া = লাগ্‌ + ওয়া (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।
- ঘরোয়া = ঘর + ওয়া (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।
- রিক্সাওয়ালা = রিকশা + ওয়ালা (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৫৯৮.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বাঁশি
  2. ঘােড়া
  3. গায়ক
  4. হস্তী
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যেসব শব্দ সর্ম্পূণভাবে সমস্যমান পদ  সমূহের অনুগামী না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরুঢ় শব্দ বলে।
- গায়ক: যৌগিক শব্দ যেমন: (গৈ+অক) গায়ক অর্থ গান করে যে 

• রূঢ়ি শব্দ: 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- গবেষণা: (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৫৯৯.
"ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি।" - এ বাক্যে 'ডেকে ডেকে’ কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. কালের বিস্তার
  3. বিরক্তি
  4. অনুভূতি
ব্যাখ্যা
• কিছু দ্বিরুক্তি শব্দের উদাহরণ:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
- বিশেষণ রূপে: এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯,৬০০.
"আরদালি" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. পর্তুগিজ
  2. ইংরেজি
  3. ফরাসি
  4. তুর্কি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• "আরদালি" শব্দটি 'ইংরেজি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পদস্থ কর্মচারীর আজ্ঞাবাহক।

আরো কিছু ইংরেজি শব্দ:
অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।