বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৯০ / ১০০ · ৮,৯০১৯,০০০ / ১০,০৪৫

৮,৯০১.
'দ্বি', 'দু' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক্রমবাচক
  2. সাধারণ পূরণবাচক
  3. তারিখ পূরণবাচক
  4. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
যেমন-
  ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চোদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।

- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।

- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'। 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৯০২.
'আসমুদ্র' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পর্যন্ত
  2. বিপরীত
  3. সম্মুখ
  4. ঈষৎ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- পর্যন্ত অর্থে = আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র
- ঈষৎ অর্থে = আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে = আদান, আগমন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮,৯০৩.
'রসদ' শব্দটি কোন ভাষা হতে এসেছে?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
• 'রসদ'
- শব্দটি ফারসি ভাষা হতে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- সৈন্যদের আহার্য,
- খোরাক,
- উপকরণ,
- প্রয়োজনীয় অর্থ।

আরো কিছু ফারসি শব্দ:
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- লাল,
- লুঙ্গি,
- সাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৯০৪.
বাংলা ভাষায় বচন কত প্রকার?
  1. ক) এক
  2. খ) দুই
  3. গ) তিন
  4. ঘ) চার
ব্যাখ্যা
বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।
প্রকারভেদ:
বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯০৫.
'বৈষ্ণব' কী ধরনের শব্দ?
  1. দেশী
  2. প্রাকৃত
  3. তদ্ভব
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব  (বিশেষ্য) বিষ্ণুর উপাসক; ধর্মসম্প্রদায়বিশেষ।
(বিশেষণ) ১ বিষ্ণু সম্পর্কীয়; ২ বিষ্ণুভক্ত।

বৈষ্ণবী (বিশেষ্য) (বিশেষণ) (স্ত্রীলিঙ্গ)।

{তৎসম বা সংস্কৃত বিষ্ণু+অ(অণ্‌)}

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান 

 
৮,৯০৬.
প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. ব্রাত
  2. মালা
  3. উচ্চয়
  4. দাম
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ: ব্রতিসঙ্ঘ, বিদ্বাৎসঙ্ঘ।
- যূথ: গজযূথ, মৃগযূথ।
- ব্রাত: মধূকরব্রাত।
- বৃন্দ: বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ।
- পাল: মৃগপাল।
- গণ: বন্ধুগণ।
- কুল: জীবকুল, অলিকুল।

অন্যদিকে,
• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৯০৭.
‘চা-কর’ কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. ফরাসি
  2. তুর্কি
  3. চীনা
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘চা-কর’ চীনা ভাষা থেকে আগত শব্দ।

‘চা-কর’ শব্দের অর্থ:
- চা উৎপাদক / চা-বাগানের মালিক।

• আরও কিছু চীনা ভাষার শব্দ:
- চা, লিচু, সাম্পান ইত্যাদি।

• চীনা ছাড়া অন্যান্য বিদেশি ভাষার শব্দ:
- ফরাসি: কুপন, কার্তুজ, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
- তুর্কি: উজবুক, বাবা, বেগম ইত্যাদি।
- ফারসি: অন্দর, আমিনি, দরবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৯০৮.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
  1. গণ
  2. বৃন্দ
  3. মণ্ডলী
  4. সবকয়টি
ব্যাখ্যা

• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:

যেমন:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

৮,৯০৯.
কোনটি ‘কবিতা’ শব্দের বহুবচন?
  1. কবিতাসমূহ
  2. কবিতাগুচ্ছ
  3. কবিতারাজি
  4. কবিতামালা
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৯১০.
'ফুল-বাবু' শব্দের 'ফুল' কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
ফুল, হাফ, হেড, সাব ইত্যাদি ইংরেজি উপসর্গ। পূর্ণ অর্থে ফুল-হাতা, ফুল-শার্ট, ফুল-বাবু, ফুল-প্যান্ট ইত্যাদি ফুল উপসর্গযোগে শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,৯১১.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. ঝিলমিল
  2. ফটাফট
  3. ঘুম ঘুম
  4. আম-টাম
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
- ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
- কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- 'ঝিলমিল' ও 'আম-টাম' - অনুকার দ্বিত্ব।
- 'ফটাফট' - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮,৯১২.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. বউভাত
  3. লাঠালাঠি
  4. অল্পপ্রাণ
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।  ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৯১৩.
'আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।' - এখানে 'জ্বর জ্বর' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আগ্রহ
  2. ধারাবাহিকতা
  3. সামান্য
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা

পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ:

যেমন:
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার: 
- আধিক্য বোঝাতে - রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে - আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা - তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ, তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- আগ্রহ বোঝাতে - ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৯১৪.
ইংরেজি 'Prefix' শব্দকে বাংলায় কী বলা হয়?
  1. সমাস
  2. অনুসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• ইংরেজি 'Prefix' শব্দকে বাংলায় উপসর্গ বলা হয়।

উপসর্গ (Prefix):
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে।
- এর প্রভাবে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয় এবং শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয় কিংবা শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ অথবা সংকোচন ঘটে। 
- ভাষায় ব্যবহৃত এসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশের নাম উপসর্গ।
যেমন - 
→ 'পূর্ণ' (ভরা) শব্দের আগে 'পরি' যোগ করায় 'পরিপূর্ণ' হলো। এটি পূর্ণ শব্দের সম্প্রসারিত রূপ (অর্থে ও আকৃতিতে)।
→ 'হার' শব্দের পূর্বে 'আ' যুক্ত করে 'আহার' (খাওয়া), 'প্র' যুক্ত করে 'প্রহার' (মারা), 'বি' যুক্ত করে 'বিহার' (ভ্রমণ), 'পরি' যোগ করে 'পরিহার' (ত্যাগ), 'উপ' যোগ করে 'উপহার' (পুরস্কার), 'সম' যোগ করে 'সংহার' (বিনাশ) ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে বিভিন্ন শব্দ তৈরি হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৯১৫.
ব্যাকরণের কোন অংশে ধাতু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) অর্থতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology): সমাস, প্রকৃতি-প্রত্যয় (প্রকৃতি-প্রত্যয় শব্দ নিয়ে কাজ করে। মনে রাখা দরকার, প্রকৃতি মাত্রই প্রাতিপদিক বা ক্রিয়াপদ, অর্থাৎ স্বাধীন শব্দ। ), কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, বচন, পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, পদাশ্রিত নির্দেশক, ধাতু, শব্দের শ্রেণীবিভাগ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

৮,৯১৬.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দাত্রী
  2. দুঃখিনী
  3. নেত্রী
  4. লক্ষ্মী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই। যেমন- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• পুরুষবাচক তা-এর জায়গায় নারীবাচক স্ত্রী: কর্তা-কর্ত্রী, দাতা-দাত্রী, ধাতা-ধাত্রী, নেতা-নেত্রী, প্রণেতা-প্রণেত্রী, রচয়িতা-রচয়িত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী।
• ইনী, -নী প্রত্যয় যোগ করে: দুঃখী-দুঃখিনী, শ্বেতাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গিনী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৯১৭.
"পােড়াকপাল" কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে বংহ (বুদ্ধি) +উ = বহু; বৃহ +ই = ব্রীহি।
- এর অর্থ বহু ধান আছে যার এমন লােককে বােঝানাে হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে এটি সমাসরূপে পরিচিত।
- বহুব্রীহি সমাসের সংজ্ঞায় বলা হয়, যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনাে অর্থ প্রকাশ করে, তাই বহুব্রীহি সমাস।
যেমন- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপাল।
এখানে কপাল আক্ষরিক অর্থে আগুনে পুড়ে গেছে এমন কাউকে না বুঝিয়ে মন্দভাগ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮,৯১৮.
'নবম' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. তারিখ পূরণবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. ক্রমবাচক
  4. সাধারণ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা -
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৯১৯.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রোতা
  2. শিষ্য
  3. বিচারপতি
  4. ক্ষত্রিয়
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না। এদের নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
কবিরাজ, যোদ্ধা, সেনাপতি, দলপতি, ঢাকী, লম্পট, কৃতদার, রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শ্রোতা - শ্রোত্রী,
• শিষ্য - শিষ্যা,
• ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়া। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮,৯২০.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন
  2. ঘর + আমি = ঘরামি
  3. বাঘ + আ = বাঘা
  4. ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
মনু + ষ্ণ = মানব;
লোক + ষ্ণিক = লৌকিক,
দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - বাঘ + আ = বাঘা; ঘর + আমি = ঘরামি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় - ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮,৯২১.
'এস্টেট’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ইতালিয়ান
  2. ইংরেজি
  3. গ্রিক
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
• ‘এস্টেট’ ফরাসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

কিছু ফরাসি শব্দ:
- কার্নিশ,
- কার্টিজ,
- কার্পেট,
- কার্বুরেটর,
- কুপন,
- ডিপো,
- ফসিল,
- লিস্ট,
- রেস্টুরেন্ট,
- রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৯২২.
'উড়ো' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √উড় + উয়া
  2. √উড়া + উয়া 
  3. √উড় + ও
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'উড়ো' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √উড় + উয়া এবং √উড় + ও (ক ও গ উভয়ই)।

বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়:
- 'উয়া' বিকল্পে 'ও' - প্রত্যয়:
বিশেষ্য বিশেষণ গঠনে 'উয়া' এবং 'ও' প্রত্যয় হয়।
যথা -
- √পড় + উয়া = পড়ুয়া > পড়ো,
- √উড় + উয়া = উড়ুয়া > উড়ো, √উড় + ও = উড়ো (চিঠি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯২৩.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. বাহুলতা
  2. করপল্লব
  3. যৌবনবন
  4. নয়নপদ্ম
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- যৌবন রূপ বন = যৌবনবন;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
---------------
• উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম। 
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি। 
- কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব। 
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ। 
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা। 
- ব- এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ। 
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৯২৪.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ নয়?
  1. ঢাক
  2. প্রস্তর
  3. চক্র
  4. মিথ্যা
ব্যাখ্যা
• অপশনে প্রদত্ত 'ঢাক' শব্দটি তৎসম শব্দ নয়। 

ঢাক (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত ঢক্কা থেকে তদ্ভব শব্দ - ঢাক।
অর্থ:
- চামড়া দিয়ে মুখ আঁটা ঢোলজাতীয় বড়ো বাদ্যযন্ত্র। 

প্রস্তর
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পাথর, শিলা, পাষাণ, উপল। মণি।

মিথ্যা (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- অসত্য;
- সত্য নয় এমন।
-অযথার্থ; বেঠিক; অমূলক; কল্পিত; কাল্পনিক (মিথ্যা কাহিনী)।
-অনর্থক; নিষ্ফল; বৃথা (মিথ্যা আশা)।

চক্র (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- চাকা,
- চাকার আকৃতিযুক্ত বস্তু,
- ক্রম, পরস্পরা
- নিয়ত আবর্তনশীল বিষয় বা বস্তু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৯২৫.
তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। - বাক্যে 'হায় হায়' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. ভাবের গভীরতা
  2. আধিক্য
  3. অনুভূতি
  4. ধারাবাহিকতা
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৮,৯২৬.
‘ওয়ান’ কোন প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা সংস্কৃত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
১. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়;
২. তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়;
৩. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

---------------------------
• কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
আনা (গরিবানা),
আনি (বাবুয়ানি),
ওয়ান (গাড়োয়ান),
খানা (ছাপাখানা),
গর (কারিগর),
দার (চৌকিদার),
বাজ (চালবাজ),
সই (মানানসই) ইত্যাদি৷

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৮,৯২৭.
'নীলপদ্ম' কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: 
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন - 
• নীল যে অম্বর = নীলাম্বর। 
• নীল যে আকাশ = নীলাকাশ। 
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। 
• রক্ত যে কমল = রক্তকমল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
৮,৯২৮.
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে কী বলে?
  1. কৃৎ-প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. কৃদন্ত শব্দ
  4. তদ্ধিতান্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
• শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা,
→ দিন + ইক = দৈনিক,
→ দুল্ + অনা = দোলনা,
→ কৃ + তব্য = কর্তব্য।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৯২৯.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. কুলটা
  2. অসূর্যম্পশ্যা
  3. অর্ধাঙ্গিনী
  4. মায়াবী
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মায়াবী - মায়াবিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।

৮,৯৩০.
‘কার্য’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √কৃ + য
  2. খ) √কৃ + য্য
  3. গ) √কৃ + ঘ্যণ্‌
  4. ঘ) √কৃ + ণক
ব্যাখ্যা
কর্ম ও ভাব বাচ্যে ঘ্যণ্‌ হয়। যথা- √কৃ + ঘ্যণ্‌ = কার্য্য> কার্য। যথা- √ধৃ + ঘ্যণ্‌ = ধার্য। এরূপ- পরিহার্য, বাচ্য, ভোজ্য, যোগ্য, হাস্য ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
৮,৯৩১.
'-খানি' নির্দেশকটি কোন ধরনের পদের সাথে যুক্ত হয়?
  1. অব্যয়
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষ্য
  5. খ ও ঘ
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন: টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

কিছু নির্দেশকের ব্যবহার:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-টুকু নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৮,৯৩২.
নিচের কোন শব্দটি বিদেশি?
  1. ডিঙা
  2. নাক
  3. চাবি
  4. বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'চাবি' — 'পর্তুগিজ' (বিদেশি ) ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• শব্দের অর্থ:
- তাল্য বন্ধ করা ও খোলার শলাকা,
- যন্ত্রাদি চালু বা বন্ধ করার কাঠিবিশেষ (গাড়ির চাবি)।

অন্যদিকে,
• ডিঙা - দেশি শব্দ।
• নাক - সংস্কৃত শব্দ।
• বৃক্ষ - সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৯৩৩.
কোনটি আরবি ভাষার শব্দ?
  1. দারোগা
  2. চশমা
  3. খোদ
  4. জরিমানা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'জরিমানা' শব্দটি 'আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- অপরাধের দণ্ড; অর্থদণ্ড, fine।

অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - দারোগা, চশমা, খোদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৯৩৪.
কোনটি ইংরেজি শব্দ?
  1. এস্টেট
  2. রেস্টুরেন্ট
  3. ডজন
  4. লিস্ট
ব্যাখ্যা
• ‘ডজন’ ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• ইংরেজি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এফিডেভিট, এপ্রিল, এমডি, এয়ারপোর্ট, কনফারেন্স, কফিন, কমিটি, ক্যাবিন, ডজন, ডলফিন, তার্পিন।

অন্যদিকে,
• ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৯৩৫.
'পদ্মগন্ধি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি। 

• বহুব্রীহি সমাসে পরপদে 'গন্ধ' শব্দ স্থানে 'গন্ধি' বা গন্ধা' শব্দ যুক্ত হয়। 
যেমন: 
সুগন্ধ যার - সুগন্ধি।
পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার - পদ্মগন্ধি।
মৎস্যের ন্যায় গন্ধ যার - মৎস্যগন্ধা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৮,৯৩৬.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস?
  1. ঘরমুখো
  2. বিয়েপাগলা
  3. প্রবচন
  4. যুগান্তর
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।

যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
তৎপুরুষ সমাস  - বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা।
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস - ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৮,৯৩৭.
"যথারীতি" এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. যথা ও রীতি
  2. যথাকে রীতি
  3. রীতিকে অতিক্রম না করে
  4. যথা দ্বারা রীতি
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৩৮.
নিচের কোনটি তামিল ভাষার শব্দ?
  1. দাবা 
  2. চৌতালা 
  3. চুরুট
  4. চৌপল 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চুরুট' তামিল ভাষার শব্দ।

• 'চুরুট' শব্দের অর্থ: 
- ধূমপানের জন্য তৈরি শুকনো তামাকপাতায় মোড়া তামাকচূর্ণ।

অন্যদিকে, 
দাবা, চৌতালা ও চৌপল হিন্দি ভাষার শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি,  আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৯৩৯.
"বাবা" কোন ভাষার শব্দ?
  1. তুর্কি
  2. উর্দু
  3. ফারসি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা

• 'বাবা' শব্দটি 'তুর্কি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পিতা,
- জনক।

• কিছু তুর্কি শব্দ:
- বেগম,
- কুলি,
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৯৪০.
'ডাগর' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) অর্ধ-তৎসম শব্দ
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) বিদেশি শব্দ
ব্যাখ্যা

• 'ডাগর' হলো তদ্ভব শব্দের অন্তর্গত। 
যার অর্থ - দিঘল, বড়ো, 

• কিন্তু 'ডাঙর' হচ্ছে দেশি শব্দ।

তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।

- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)।
- যেমন - সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হথ, তদ্ভব - হাত। সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।
- একইভাবে সংস্কৃত 'চন্দ্র' শব্দ থেকে 'চাঁদ' শব্দটি উৎপন্ন হয়েছে।
- এই তদ্ভব শব্দগুলােকে খাটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ও আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৮,৯৪১.
কোনটি নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. বেতার
  2. অকাতর
  3. অনন্ত
  4. অগোচর
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা -
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ - অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমন -
ন কাল = অকাল বা আকাল।
তদ্রূপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অগোচর, অনন্ত, বেতার - নঞ্‌ বহুবীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৯৪২.
'অনুগামী' সমস্তপদটির 'অনু' পূর্বপদটি কী অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সঙ্গে
  2. পৌনঃপুন
  3. সাদৃশ্য
  4. পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
“অনু” উপসর্গের ব্যব্যহার:
'পশ্চাৎ' অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
'সাদৃশ্য' অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
'পৌনঃপুন' অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
'সঙ্গে' অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যেমন: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৪৩.
কোনটি ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়?
  1. ক) পদ
  2. খ) লিঙ্গ
  3. গ) বচন
  4. ঘ) শব্দ
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। 
- বাংলা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The' এর স্থানীয়। 
- বচন ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৪৪.
নিচের কোনটি নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস?
  1. নাচার
  2. নাছোড়
  3. বেতাল
  4. অকাতর
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্‌ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ্‌ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন -
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার,
- নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল,
এরকম - নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, বেপরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- নাছোড়, বেতাল, এবং অকাতর নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৪৫.
'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি কোনটি?
  1. সম্‌ + √ অ + মস্‌
  2. সম্‌ + √ অ + অস্‌
  3. সম্‌ + √ অস্‌ + অ
  4. সম্‌ + √ অস্‌
ব্যাখ্যা

• 'সমাস' শব্দের ব্যুৎপত্তি - সম্‌ + √ অস্‌ + অ।

• সমাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
- সমাস অর্থ হল সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- সমাসের কাজ হলো ভাষাকে সংক্ষপে করা, নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করা, শব্দ গঠন প্রভৃতি।
- সমাস শব্দ বা রূপতত্ত্বে আলেচিত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৮,৯৪৬.
‘আভাসিত’ শব্দটির প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বাংলা কৃৎ
  2. খ) সংস্কৃত কৃৎ
  3. গ) বাংলা তদ্বিত
  4. ঘ) সংস্কৃত তদ্বিত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘আভাসিত’ শব্দটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• কৃৎ প্রত্যয়:
যে-প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
আর কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। (অর্থাৎ যার অন্তে বা শেষে কৃৎ প্রত্যয় আছে) ।
যেমন: পডু + আ = পড়া। এখানে পড়া’ শব্দটি কৃদন্ত শব্দ। কৃৎ প্রত্যয়ে ধাতুর আগে ক্রিয়ামূল বা ধাতুমূল চিহ্ন √ বসে।
- ‘আভাসিত’ শব্দটির প্রত্যয় বিশ্লেষণ: আ + √ ভাসি + ত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন,
৮,৯৪৭.
উপসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) উপসর্গ বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  2. খ) উপসর্গ অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন করে।
  3. গ) উপসর্গ নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে।
  4. ঘ) উপসর্গ অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।
ব্যাখ্যা
উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্ত অর্থদ্যোতকতা আছে। অথার্ৎ কোনো শব্দ বা পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এরা সংযুক্ত শব্দ বা পদের অর্থের নানারকম পরিবর্তন ঘটায়। নিচে উপসর্গের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো : 

- উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- উপসর্গ নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে।
- উপসর্গ বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- উপসর্গ অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন, অর্থের প্রসার ঘটায়।
- উপসর্গ নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে।
- উপসর্গ রূপতত্ত্বের আলোচিত হয়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৮,৯৪৮.
‘চশমা’ শব্দটি যে ভাষা থেকে এসেছে
  1. ক) ফার্সি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘চশমা’ শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে এসেছে।

‘চশমা’ শব্দের অর্থ: 
- 'দৃষ্টিশক্তির সাহায্যকারী কাচ, উপনেত্র'।  
 
আরো কিছু ফারসি শব্দ হলো- 
- খোদা
- নামাজ
- রোজা
- চশমা
- তোশক
- দোকান
- কারখানা
- আমদানি
- জানোয়ার

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
৮,৯৪৯.
শব্দের শেষে আনি/আনী প্রত্যয় যোগ করে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ভাগনা > ভাগনী
  2. ধোপা > ধোপানী
  3. ঠাকুর > ঠাকুরানী
  4. কুমার > কুমারনী
ব্যাখ্যা
‘আনী/ আনি’ প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ঠাকুর-ঠাকুরানী,
- নাপিত-নাপিতানী,
- মেথর-মেথরানী,
- চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'কুমার > কুমারনী' এবং 'ধোপা > ধোপানী' হচ্ছে নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
- 'ভাগনা > ভাগনী' হচ্ছে ঈ-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৫০.
‘করকমল’ কোন সমাস?
  1. ক) উপমিত
  2. খ) রূপক
  3. গ) মধ্যপদলোপী
  4. ঘ) উপমান
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
যেমন—
চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ
কর কমলের ন্যায় = করকমল

তেমনই—
রক্তকমল, ফুলবাবু, মুখচন্দ্র, চরণতল, চন্দ্রমুখ, পদ্মচক্ষু, হাঁড়িমুখ, চাঁদবদন প্রভৃতি।

উপমিত কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য :
১. এ সমাসের ব্যাসবাক্যের দুটি পদই বিশেষ্য হয়।
২. সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে সমাস হয়।
৩. উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
৪. এ সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৮,৯৫১.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. গরিবানা
  2. জুতানো
  3. ছাপাখানা
  4. জুতসই
  5. ধোঁকাবাজি
ব্যাখ্যা
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় - আমি, আচ, আচি, আত, আই, আইত, আনো যোগে গঠিত শব্দ-
- ইতর + আমি = ইতরামি।
- জমিদার + ই = জমিদারি।
- বড় + আই = বড়াই।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- কানা + আচ = কানাচ।
- পো + আত = পোয়াত।
- সেবা + আইত = সেবাইত।
- জুতা + আনো = জুতানো।
- ঘাম + আনো= ঘামানো।
- নাক + আমি = নাকামি।

অপরদিকে,
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়-আনা, খানা, সই, বাজ, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- গরিব + আনা = গরিবানা।
- ছাপা + খানা = ছাপাখানা।
- ঘর + আনা = ঘরানা।
- জুত + সই = জুতসই।
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা।
- দার + ওয়ান = দারোয়ান।
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজ > ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৯৫২.
'গিন্নী' শব্দটি কোন ধরনের শব্দের অন্তর্গত?
  1. তৎসম
  2. অর্ধ-তৎসম
  3. দেশি
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-তৎসম শব্দ - গিন্নী।

অর্ধ-তৎসম শব্দ:
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত হয়ে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলা হয়।
- তৎসম মানে সংস্কৃত৷ আর অর্ধ-তৎসম অর্থ আধা সংস্কৃত।
উদাহরণ:
বোষ্টম, জ্যোছনা, গিন্নী, কুচ্ছিত, ছেরাদ্দ— এ শব্দগুলো যথাক্রমে সংস্কৃত বৈষ্ণব, জ্যোৎস্না, গৃহিণী, কুৎসিত, শ্রাদ্ধ থেকে আগত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৫৩.
কোনটি তারিখ পূরণবাচক শব্দ?
  1. তৃতীয়
  2. দেড়
  3. চৌঠা
  4. আধ
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।

যথা:
সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৯৫৪.
‘রেস্টুরেন্ট' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ইংরেজি 
  2. ফরাসি 
  3. ফারসি 
  4. তুর্কি 
ব্যাখ্যা

‘রেস্টুরেন্ট' ফরাসি ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু ফরাসি শব্দ হলো:
কার্নিশ, কার্টিজ, এস্টেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৯৫৫.
'প্রতিদিন' শব্দের 'প্রতি' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. সদৃশ
  2. অনুরূপ কাজ
  3. পৌনঃপুন
  4. বিরোধ
ব্যাখ্যা
• 'প্রতি' উপসর্গটি একটি সংস্কৃত উপসর্গ।
- 'প্রতিদিন' শব্দের 'প্রতি' উপসর্গটি পৌনঃপুন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• নিম্নে 'প্রতি' উপসর্গের বিভিন্ন ব্যবহার দেওয়া হলো:

- সদৃশ অর্থে - প্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি।
- বিরোধ অর্থে - প্রতিবাদ, প্রতিদ্বন্দ্বী।
- পৌনঃপুন অর্থে - প্রতিদিন, প্রতিমাস।
- অনুরূপ কাজ অর্থে - প্রতিঘাত, প্রতিদান, প্রত্যুপকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৫৬.
কোনটি 'উল্‌টা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কোঁকড়া
  2. ছিট্‌কা
  3. ধম্‌কা
  4. মুচ্‌ড়া
ব্যাখ্যা
• 'উল্‌টা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - মুচ্‌ড়া

অন্যদিকে,
• 'ছোবলা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কোঁকড়া।
• 'বিগ্‌ড়া' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - ছিট্‌কা।
• 'চট্‌কা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - ধম্‌কা।

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ কাট্‌ - আদিগণ,
→ গাহ্‌ - আদিগণ,
→ লিখ্‌ - আদিগণ,
→ উঠ্‌ - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৫৭.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. ক) খোদা
  2. খ) গুনাহ
  3. গ) দোজখ
  4. ঘ) হারাম
ব্যাখ্যা

আরবি শব্দ : বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দগুলােকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়-
() ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : আল্লাহু, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গােসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।

() প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ : আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মােক্তার, রায় ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৯৫৮.
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. একোন
  2. পাঁচকম
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. বিয়েপাগলা
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস - বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৯৫৯.
'আরাম-কেদারা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) আরবি-পোর্তুগিজ
  2. খ) ফারসি-পোর্তুগিজ
  3. গ) আরবি-ফারসি
  4. ঘ) ফারসি-আরবি
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে ফারসি-পোর্তুগিজ ভাষার শব্দ হচ্ছে 'আরাম-কেদারা'।

• আরাম:
- আরাম (বিশেষ্য) যা ফারসি ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে সুখ, আনন্দ, আয়েশ, বিশ্রাম, শ্রান্তি অপনোদন।
• কেদারা:
- কেদারা (বিশেষ্য) যা পোর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে বসার উপযোগী উঁচু আসন বিশেষ, চেয়ার।

উৎস:
১। প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ২য় খণ্ড, বাংলা একাডেমি।
২। আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮,৯৬০.
'মনুষ্যত্ব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. মনুষ + ত্ব
  2. মানুষ + ত্ব
  3. মনুষ্য + ত্ব
  4. মানুষ + ত্য
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

যেমন:
ঈয় (ষ্ণীয়, ছ): 
- জল + ঈয় = জলীয়, 
- আত্মন্ + ঈয় = আত্মীয়, 
- মানব + ঈয় = মানবীয়, 
- রাষ্ট্র + ঈয় = রাষ্ট্রীয়। 

ত্ব: 
- মাতৃ + ত্ব = মাতৃত্ব, 
- মনুষ্য + ত্ব = মনুষ্যত্ব
- ভ্রাতৃ + ত্ব = ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৮,৯৬১.
নিচের কোনটি অর্ধতৎসম শব্দ?
  1. জ্যোৎস্না
  2. কেষ্ট
  3. শ্রাদ্ধ
  4. গৃহিণী
ব্যাখ্যা
• অর্ধতৎসম শব্দ:
তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে থাকে। সংস্কৃতের উচ্চারণরীতি বাংলায় অনুসরণ করা হয় না। ফলে সাধারণ লোকজন সংস্কৃত শব্দের উচ্চারণে বহুরকম ভুল করে ফেলে এবং সেসব ক্ষেত্রে সংস্কৃত শব্দ বিকৃত হয়ে যায়। বিকৃত তৎসম শব্দকেই অর্ধ-তৎসম বা ভগ্ন-তৎসম শব্দ বলে।

যেমন:
তৎসম - অর্ধতৎসম:
• জ্যোৎস্না - জোছনা।
• কৃষ্ণ - কেষ্ট।
• শ্রাদ্ধ - ছেরাদ্দ।
• গৃহিণী - গিন্নি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৯৬২.
সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় নির্ণয় করুন-
  1. √ক্রী + তৃচ = ক্রেতা
  2. √কৃ + তা = ক্রেতা
  3. √ক্রি + তা = ক্রেতা
  4. √ক্রে + তৃচ = ক্রেতা
ব্যাখ্যা
 • 'ক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √ক্রী + তৃচ।

• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) : প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ=√দা + তৃ=√দা + তা= দাতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ্‌ = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৯৬৩.
শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. শব্দদ্বিত্ব
  2. সমাস
  3. পদ
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা

• শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া নয়- পদ। 

শব্দ গঠনের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে এগুলো হচ্ছে:
• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• সমাস:
শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: ‘হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় ‘হাটবাজার’।

• শব্দদ্বিত্ব:
এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৮,৯৬৪.
কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ঠুকঠুক
  2. অল্পস্বল্প
  3. টুং টুং
  4. খক খক
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

৮,৯৬৫.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ডুবন্ত
  2. লাজুক
  3. মোড়ক
  4. ঝলক
ব্যাখ্যা

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।

অন্যদিকে,
 • কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত।
- মুড়্ + অক=মোড়ক।
- ঝিল্ + অক ঝলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৯৬৬.
নিচের কোনটির ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটেছে?
  1. ভট ভট
  2. থকথকে
  3. খপাখপ
  4. মজার মজার
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
-যেমন: ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
- কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়।
- 'ঠন' শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
- কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ: কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস ইত্যাদি।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
- যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
৮,৯৬৭.
'নির্ধন' শব্দের 'নির' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বহির্মুখিতা
  2. খ) অভাব
  3. গ) নিশ্চয়তা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'নির্ধন' শব্দে 'নির' উপসর্গটি 'অভাব' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়াও-
- নিরব, নির্জীব, নিরাশ্রয় ইত্যাদি শব্দ গুলোতে 'নির' উপসর্গ অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্গত, নিঃসরণ, নির্বাসন শব্দগুলোতে 'নির' উপসর্গ বাহির/বহির্মুখিতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্ধারণ শব্দে “নির” উপসর্গটি ধারনের নিশ্চয়তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
- নির্ণয়, নির্ভর শব্দগুলো ও একই নিয়ম মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৬৮.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. গায়ে হলুদ
  2. চালকুমড়া
  3. ছয়ানি
  4. ছায়াছবি
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা= সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চাল কুমড়া।

অন্যদিকে:
- গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়েহলুদ - এটি অলুক বহুব্রীহি সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৯৬৯.
'জাগরূক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √জাগৃ + ষ্ণিক
  2. √জাগ + উক্‌
  3. √জাগৃ + ঊক
  4. √জাগ্‌ + ঊক
ব্যাখ্যা
জাগরূক (বিশেষণ): 
- (তৎসম বা সংস্কৃত) শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: √জাগৃ + ঊক । 

শব্দের অর্থ:
১. জাগ্রত; জাগরণশীল; সজাগ।
২. সাবধান; সতর্ক; হুঁশিয়ার।
৩. অবিস্মৃত বা জাজ্বল্যমান বা স্পষ্টরূপে অঙ্কিত (তোমার স্মৃতি আমার হৃদয়ে জাগরূক আছে)।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৮,৯৭০.
'গোলাপফুল' সমাসবদ্ধ পদটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. গোলাপি রঙের ফুল
  2. গোলাপের ফুল
  3. গোলাপি ফুল
  4. গোলাপ নামের ফুল
ব্যাখ্যা
• সমাস:
সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ গঠিত হয়। বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস। 
সমাস মূলত চার প্রকার। যথা:
১. দ্বন্দ্ব,
২. কর্মধারয়,
৩. তৎপুরুষ ও
৪. বহুব্রীহি।
 
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।
 
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল।
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
 
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
যেমন:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
 
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৮,৯৭১.
'গ্রামীণ' শব্দে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ইন
  2. ঈন
  3. ঈণ
  4. মীণ
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- যেমন - বাঘ + আ =বাঘা; দিন + ইক = দৈনিক।
- প্রত্যয়ের নিজস্ব কোন অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়।

• ঈন প্রত্যয়যোগে :
- গ্রাম + ঈন = গ্রামীণ। (এখানে তদ্ধিত প্রত্যয় - 'ঈন' যুক্ত হয়েছে)
- সর্বজন +ঈন = সর্বজনীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৮,৯৭২.
'এতিম' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে -
এতিম (বিশেষণ)
- আরবি শব্দ।
অর্থ:
- মাতাপিতাহীন,
- অনাথ,
- অসহায়,
- নিরাশ্রয়।

উৎস: বাংলা অভিধান, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৯৭৩.
‘রোকড়’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. তুর্কি
  3. বাংলা
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• 'রোকড়'
- হিন্দি ভাষার শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- জমাখরচের পাকা হিসাবের খাতা। 

কিছু হিন্দি শব্দ:
- কাচারি,
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- রোকড়,
- লড়াকু,
- লেনদেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৯৭৪.
'মহাকীর্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. নিত্য সমাস
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'মহাকীর্তি' শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো - মহতী যে কীর্তি।
- এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়
এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম= নীলপদ্ম।

• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৭৫.
"অনামুখো" শব্দে 'অনা' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যব্যহৃত হয়েছে?
  1. অভাব
  2. ছাড়া
  3. অশুভ
  4. মধ্যে
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

'অনা' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'অভাব' অর্থে = অনাবৃষ্টি, অনাদর।
- 'ছাড়া' অর্থে = অনাছিষ্টি, অনাচার।
- 'অশুভ' অর্থে = অনামুখো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৭৬.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. জল্লাদ
  2. মহৎ
  3. পুরোহিত
  4. গুন্ডা
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয়- মহৎ।
- মহৎ - মহতী।

--------------------
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: গুন্ডা, জল্লাদ, লম্পট, পুরোহিত, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে
যেমন: সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, অসতী, গর্ববতী ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
৮,৯৭৭.
'লুঙ্গি' শব্দটি কোন ভাষা উৎস থেকে আগত?
  1. ক) ফরাসি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) বাংলা
ব্যাখ্যা
লুঙ্গি (বিশেষ্য) 
- ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ 
অর্থ: দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ব্যবহার্য নিম্নাঙ্গের পোশাক, তহবন, থামি। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮,৯৭৮.
নিচের কোনটি যুগ্মরীতি দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ক) চুপিচুপি
  2. খ) ডেকেডেকে
  3. গ) গরমগরম
  4. ঘ) মিটমাট
ব্যাখ্যা

একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি।
যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।
যেমন-
১. শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন করেঃ চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি।
২. শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করেঃ মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।
৩. দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনেঃ ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।
৪. সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগেঃ চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।
৫. ভিন্নার্থক শব্দ যোগেঃ ডালভাত, তালাচাবি, পথঘাট, অলিগলি।
৬. বিপরীতার্থক শব্দ যোগেঃ ছোট-বড়, আসা-যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৯৭৯.
'সাধারণ স্ত্রী জাতীয় অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. খালা
  2. জা
  3. মামী
  4. পাগলী
ব্যাখ্যা

অর্থের দিকে থেকে পুরুষবাচক ও নারীবাচক শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
অর্থের দিক থেকে বাংলা পুরুষবাচক ও নারীবাচক শব্দ দু-ভাগে বিভক্ত:
১.পতি ও পত্নীবাচক:
কাকা-কাকি, চাচা- চাচি, ভাই-ভাবি, মামা-মামি, জেল-জেলেনি, দেওর-জা , খালা - খালু ইত্যাদি। 

২. সাধারণভাবে পুরুষ ও নারী অর্থে :
- পাগল-পাগলি, বালক-বালিকা, ভাই-বোন, দেওর- ননদ, শিষ্য-শিষ্যা, গায়ক-গায়িকা ইত্যাদি।
- এ দুটি দিক থেকে কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে নারীবাচক শব্দ পাওয়া যায়।
যেমন:
- দাদা-দিদি (বড়ো বোনা, বউদি (দাদার স্ত্রী)।
- দেবর-ননদ (দেবরের বোন), জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই-বোন, ভাবি, ভাইবট (ভাইয়ের স্ত্রী।
- বন্ধু-বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু), বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৯৮০.
'কামরা' উৎসগতভাবে কোন ভাষার শব্দ? 
  1. হিন্দি 
  2. উর্দু 
  3. পর্তুগিজ 
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• কামরা পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
অর্থ: কক্ষ, কুঠুরি, ঘর। 

• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছুশব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৯৮১.
ক্রমবাচক সংখ্যা শব্দ কোনটি?
  1. প্রথম
  2. আধ
  3. আট
  4. তেসরা
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা:
• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন, চার... আট ইত্যাদি।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

- পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
• তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৮,৯৮২.
'জোছনা' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. তৎসম
  3. দেশি
  4. অর্ধতৎসম
ব্যাখ্যা

• 'জোছনা' - অর্ধ-তৎসম শব্দ
- এটি 'জ্যোৎস্না' সংস্কৃত শব্দ থেকে সৃষ্টি।
অর্থ: চাঁদের আলো; কৌমুদী।

• তৎসম মানে সংস্কৃত। আর অর্ধ-তৎসম মানে আধাসংস্কৃত। তৎসম শব্দ থেকে বিকৃত উচ্চারণের ফলে অর্ধ-তৎসম শব্দ উৎপন্ন হয়ে
থাকে।
- আরো কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দ দেওয়া হলো: 'গিন্নি' ও 'কেষ্ট'।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৯৮৩.
'উপবন’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্ষুদ্র
  2. বিশেষ
  3. সদৃশ
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা

• ’উপবন’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি ’সদৃশ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য "অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’  অর্থে-  উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৮,৯৮৪.
‘উদ্বেল’ শব্দটি কোন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়েছে?
  1. অতিক্রান্ত
  2. সাদৃশ্য
  3. বিরোধ
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন: 
অতিক্রান্ত (উৎ):
বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৮৫.
'ধনী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ধনীনি
  2. ধনিনি
  3. ধনিনী
  4. ধনীনী
ব্যাখ্যা
• 'ধনী' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - ধনিনী।

• 'ধনী' অর্থ:
- ধনবান, বিত্তশালী; মহাজন। দক্ষ, কুশল।

• শব্দের শেষে 'ইনী' প্রত্যয়যোগ গঠিত আরো কিছু স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ বাঘ-বাঘিনী, 
→ বিদেশি-বিদেশিনী, 
→ গুণী-গুণিনী, 
→ ধনী-ধনিনী, 
→ সুকেশ-সুকেশিনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৮,৯৮৬.
অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. ক) আসমুদ্রহিমাচল
  2. খ) নিরামিষ
  3. গ) আরক্তিম
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
'আসমুদ্রহিমাচল = সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত,
নিরামিষ = আমিষের অভাব,
আরক্তিম = ঈষৎ রক্তিম' ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৯৮৭.
'ধারণ' শব্দটিতে কোন ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ধৃ
  2. ধর্‌
  3. ধরা
  4. ধার্‌
ব্যাখ্যা
• 'ধারণ' শব্দটিতে 'ধৃ' ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে।

সংস্কৃত ধাতু:
বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন - কৃ, গম্, ধূ, গঠ, স্থা ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ
দৃশ্‌ - দৃশ্য, দর্শন।
ধৃ - ধৃত, ধারণ
বন্ধ্‌- বন্ধন।
বুধ্‌ - বুদ্ধ, বোধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৮৮.
বাংলা শব্দ কোনটি? 
  1. চাটনি 
  2. চাকুরে
  3. চাঙ 
  4. চাক্কা 
ব্যাখ্যা

• 'চাকুরে' বাংলা ভাষার শব্দ। 


এরূপ বাংলা ভাষার কিছু শব্দ হলো- চাখা, চাটু, চাগা, চাঙড়, চাটি ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• 'চাটনি' হিন্দি শব্দ। 
• 'চাঙ' দেশি শব্দ।  
• 'চাক্কা' অর্ধ-তৎসম শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৮,৯৮৯.
নিম্নের কোনগুচ্ছের শব্দগুলো বর্ণনাক্রমিকভাবে সাজানো?
  1. ক) নিম্নোক্ত, নিদর্শন, নিরাসক্ত, নিরাময়, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
  2. খ) নিদর্শন, নিম্নোক্ত, নিরাময়, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ
  3. গ) নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ, নিম্নোক্ত, নিদর্শন, নিরাসক্ত, নিরাময়
  4. ঘ) নিদর্শন, নিরাসক্ত, নিষ্ক্রিয়, নিসর্গ, নিম্নোক্ত, নিরাময়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
বর্ণনানুক্রমিকভাবে সাজালে আমরা পাই,
- নিদর্শন, 
- নিম্নোক্ত, 
- নিরাময়, 
- নিরাসক্ত, 
- নিষ্ক্রিয়, 
- নিসর্গ।
৮,৯৯০.
'বারিধি' শব্দটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. সমাসযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. সন্ধিযোগে
  4. উপসর্গযোগে
ব্যাখ্যা

• বারিধি (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়- [বারি+√ধা + ই]। 
অর্থ: বারিধর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৮,৯৯১.
ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ক্যাডার
  2. খ) ক্যানটিন
  3. গ) ক্যানভাস
  4. ঘ) ক্যাঙ্গারু
ব্যাখ্যা
ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ = ক্যাঙ্গারু
ক্যাঙ্গারু (বিশেষ্য) 
- ইংরেজি শব্দ 
অর্থ: অস্ট্রেলিয়া  নিউগিনি ও তৎসংলগ্ন দ্বীপপুঞ্জে বিচরণ করে এবং শাবক বাহনের জন্য উদরসংলগ্ন থলি ও বলিষ্ঠ লেজওয়ালা তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী। 

অন্যদিকে,
ক্যাডার ক্যানটিন ক্যানভাস = ফরাসি ভাষা থেকে আগত শব্দ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮,৯৯২.
'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঠাকুরানি
  2. কামারনি 
  3. গয়লানি
  4. জেলেনি 
ব্যাখ্যা

'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হল- ঠাকুরানি।
- ঠাকুরানি =  'ঠাকুর' শব্দের সাথে 'আনি' প্রত্যয় যোগে 'ঠাকুরানি' গঠিত হয়েছে।

•'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- 'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দগুলো সাধারণত পুরুষবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করে;
- যেমন:
• ঠাকুর > ঠাকুরানি,
• নাপিতা > নাপিতানি,
• মেথর > মেথরানি।
----------------
অন্যদিকে,
- কামারনি, গয়লানি, জেলেনি- 'নি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
- কামার = কামারনি।
- গয়লা = গয়লানি।
- জেলে = জেলেনি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৯৯৩.
‘জ্যাঠামি’ শব্দটির রূঢ় অর্থ কোনটি?
  1. জেঠার ভাব
  2. চাপল্য
  3. অশালীনতা
  4. আত্মীয়তা
ব্যাখ্যা

• ‘জ্যাঠামি’ শব্দটির রূঢ় অর্থ- চাপল্য।

• রূঢ়ি শব্দ:

- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ);
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ);
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ);
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৯৯৪.
'পানসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পানা + সে
  2. পান + এসে
  3. পানি + সে
  4. পানি + এ
ব্যাখ্যা
• 'পানসে' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয়: পানি + সে।
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয়, প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় ৩ প্রকার। যথা:
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৮,৯৯৫.
'কুল কাঠের আগুন' -এর প্রকৃত অর্থ কি?
  1. ক) তীব্র জ্বালা
  2. খ) কাঠের পুতুল
  3. গ) কুপমণ্ডুক
  4. ঘ) এলাহী কাণ্ড
ব্যাখ্যা

কুল কাঠের আগুন - তীব্র জালা।
কাঠের পুতুল - ব্যক্তিত্বহীন মানুষ।
কূপমণ্ডূক - সীমাবদ্ধ জ্ঞান।
এলাহী কাণ্ড - বিরাট আয়োজন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী ও শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

৮,৯৯৬.
'লাফা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. কাটা
  2. ছিটা
  3. ছিট্‌কা
  4. পৌঁছা
ব্যাখ্যা
• 'লাফা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - কাটা

অন্যদিকে,
• 'ফিরা' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - ছিটা।
• 'বিগ্‌ড়া' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - ছিট্‌কা।
• 'দৌড়া' আদিগণের অন্তর্ভুক্ত - পৌঁছা।

ধাতুর গণ:
- 'গণ' শব্দের অর্থ শ্রেণি।
- কিন্তু ধাতুর 'গণ' বলতে ধাতুগুলোর বানানের ধরন বোঝায়।
- 'ধাতুর গণ' ঠিক করতে দুটি বিষয় লক্ষ রাখতে হয়।
যেমন -
(ক) ধাতুটি কয়টি অক্ষরে গঠিত?
(খ) ধাতুর প্রথম বর্ণে সংযুক্ত স্বরবর্ণটি কী?
- বাংলা ভাষার সমস্ত ধাতুকে বিশটি গণে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন - 
→ লাফা - আদিগণ,
→ ফিরা - আদিগণ,
→ বিগ্‌ড়া - আদিগণ
→ দৌড়া - আদিগণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৯৭.
'হস্তি' শব্দটির পর কোন বহুবচন বোধক শব্দটি বসবে?
  1. রাজি
  2. গণ
  3. যূথ
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• যূথ- বহুবচন বোধক শব্দটি 'হস্তি' শব্দটির পর বসবে।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।  

মালা, রাজি- অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ।
যেমন: পর্বতমালা, তারকারাজি।

- 'গণ' উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
যেমন: জনগণ, নরগণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৯৮.
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন, তাকে কী শব্দ বলে?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যোগরূঢ় শব্দ - সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৯৯৯.
নিচের কোনটি ফরাসি শব্দ?
  1. গ্রন্থাগার
  2. গ্যালারি
  3. গ্যারাজ
  4. গ্যালন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গ্যারাজ' - ফরাসি শব্দ।



অন্যদিকে,
গ্রন্থাগার - সংস্কৃত শব্দ।
গ্যালারি; গ্যালন - ইংরেজি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,০০০.
‘তোমরা’ এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) তুমি ও সে
  2. খ) তুমি ও তারা
  3. গ) তারা ও সে
  4. ঘ) সে ও তুমি
ব্যাখ্যা
⇒ একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের সমস্যমান পদগুলোর কেবল একটি পদের প্রাধান্য থাকে এবং সেই পদের সাহায্যে অন্য পদের অর্থ প্রকাশ পায় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- সে, তুমি ও আমি = আমরা;
- সে ও তুমি = তোমরা;
- জয়া ও পতি = দম্পতি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।