ব্যাখ্যা
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
তফসির, তবিয়ত, তম্বি, তরজমা, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, তপশিল, আশেক, আসর।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৮৬ / ১০০ · ৮,৫০১–৮,৬০০ / ১০,০৪৫
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ- জোরে জোরে।
'জোরে জোরে' শব্দে 'এ' সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে,
কবি কবি, হায় হায় ও ঘুম ঘুম বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।
-----------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।
বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• তুর্কি শব্দ - কুলি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- ভার বহন যার পেশা, মুটে।
- শ্রমিক, মজুর।
তুর্কি ভাষার কিছু শব্দ:
- কুলি, কোর্মা, খাতুন, তোপ, বেগম, লাশ তুর্কি ভাষার শব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সঠিক উত্তর: খ) নক্ষত্র।
ব্যাখ্যা:
খ) নক্ষত্র - এটি তৎসম শব্দ। সংস্কৃত 'নক্ষত্র' থেকে অবিকৃতভাবে বাংলায় এসেছে।
অন্যান্য শব্দগুলির শ্রেণিবিভাগ:
ক) হাত - তদ্ভব শব্দ (সংস্কৃত 'হস্ত' > প্রাকৃত 'হত্থ' > বাংলা 'হাত')।
গ) দারোগা - বিদেশি শব্দ (ফারসি থেকে আগত)।
ঘ) চুলা - তদ্ভব শব্দ (সংস্কৃত 'চুল্লী' থেকে এসেছে)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে বহুব্রীহি সমাসের আরেক নাম অন্যার্থক সমাস।
যেমন :
সমস্তপদ - ব্যাসবাক্য
বিড়ালচোখী - বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর।
সোনামুখী - সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার।
ডবড়ালাক্ষী - বিড়ালের অক্ষির ন্যায় অক্ষি যে নারীর।
শূর্পণখা - শূর্পের (কুলা) ন্যায় নখ যে নারীর।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ:
• বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
- তীব্রতা- গরম গরম জিলাপি, নরম নরম ভাত।
- সামান্যতা বোঝাতে - উড়ু উড়ু ভাব, কালো কালো চেহারা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- মহৎ-মহতী,
- শ্বশুর- শ্বশ্রূ।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ‘প্রতিধ্বনি’ - শব্দে ‘প্রতি’ উপসর্গটি সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে,
- প্রতিবাদ, প্রতিদ্বন্দ্বী,প্রতিকার শব্দে ‘প্রতি’ উপসর্গটি - বিরোধ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- প্রতিদিন, প্রতিমাস, প্রতিগ্রাম, প্রতিঘর শব্দে ‘প্রতি’ উপসর্গটি - পৌনঃপুন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- প্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি, প্রতিকৃতি, প্রতিনিধি শব্দে ‘প্রতি’ উপসর্গটি সদৃশ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- প্রতিঘাত, প্রতিদান, প্রত্যুপকার শব্দে ‘প্রতি’ উপসর্গটি অনুরূপ কাজ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• কামিন:
অর্থ: নারী শ্রমিক।
- স্ত্রীবাচক শব্দ।
- পুরুষবাচক শব্দ: কুলি।
অন্যদিকে,
• বৈরাগী:
সংসারের প্রতি অনাসক্ত;
- উভয়লিঙ্গ।
• ওজস্বী:
- ১)ওজোগুণসম্পন্ন। ২) উদ্দীপনাপূর্ণ। ৩) তেজোদীপ্ত।
- পুরুষবাচক।
- স্ত্রীবাচক: ওজস্বিনী/ওজোশশিনী।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'ভোগদখল' মিশ্র শব্দটি 'সংস্কৃত এবং আরবি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- (ভূসম্পত্তির ক্ষেত্রে) অধিকারে রেখে বসবাস।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
হিন্দি ‘ওয়ালা > আলা’ তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ বাড়িওয়ালা।
ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কারিগর (গর > কর), সওদাগর (গর > কর), পাহারাদার(দার)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি
উপকূল - কূলের সমীপে
উপনদী, উপভাষা, উপদল - এগুলো সবই কোন একটা বিষয় বা কোনকিছুর ক্ষুদ্র অংশ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়-উক (ঊক):
- স্বভাব-বৈশিষ্ট্য নির্দেশক বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- √কম্ + উক = কামুক;
- √ভূ + উক = ভাবুক (ভূ > ভৌ + উক = ভাবুক, বৃদ্ধি উ > ঔ)
- √জাগৃ + ঊক = জাগরূক ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যস্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• কুমার - কুমারী।
• কোকিল - কোকিলা।
• ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়া।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• বাংলা ধাতু- কাট্, আঁক, কহ্, কর, কাঁদ, কেন্, ঘষ্, দেখ্, ধর্, পড়্, শুন্, থাক্, হাস্ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত ধাতু- কৃ, মাগ্, গম্ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে।
- বাংলা,
- তৎসম (সংস্কৃত) এবং
- বিদেশি উপসর্গ।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
অন্যদিকে,
- তৎসম উপসর্গ বিশ (২০) টি। যথা- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশ (২১) টি। যথা- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• 'তারিখ' আরবি ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- মাসের দিননির্দেশক সংখ্যা;
- তিথি।
আরবি ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো:
এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির, ময়না, মুমিন, মুনিব, মুনশি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• লিঙ্গ চার প্রকার।
যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• কাঁচি তুর্কি ভাষার শব্দ।
----------------
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।
অন্যদিকে,
• তুর্কি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরক, তুরগ, বেগম, বাবা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান।
• গোলাপ সাধিত শব্দ নয়।
• গোলাপ একটি মৌলিক শব্দ।
• শব্দের গঠনমূলক শ্রেণিবিভাগ:
• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন- গোলাপ, নাক, লাল, তিন।
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
উদাহরণ: চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ), নীলাকাশ (নীল যে আকাশ), ডুবুরি (ডুব্+উরি), চলন্ত (চল্ + অন্ত), প্রশাসন (প্র+শাসন), গরমিল (গর+মিল) ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- ‘হাত’ + ‘ল’ (প্রত্যয়)।
- ‘ফুল’ + ‘এল’ (প্রত্যয়)।
- ‘পানি’ + ‘সা’ (প্রত্যয়)।
- শব্দগুলো সাধিত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
না-বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ন আচার = অনাচার;
- ন কাতর = অকাতর;
- নয় সুখ = অসুখ।
উৎস: ভাষাশিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
⇒ ’চতুর্ভুজ’ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত।
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন:
বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি, ইত্যাদি।
ক. পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন :
এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।
খ. পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন
গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।
গ. যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন –
চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি,
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি
ঘ. পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন
হাতে হাতে যে যুদ্ধ =হাতাহাতি,
কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
ঙ. যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন -
গায়ে এসে পড়ে যে= গায়েপড়া,
কানে খাটো যে = কানেখাটো।
চ.যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন-
চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।
অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় - মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ, পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
রূপক কর্মধারয় - মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমনঃ
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি,
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- অস্ত্র দ্বারা উপচার = অস্ত্রোপাচার,
- জরা দ্বারা জীর্ণ = জরাজীর্ণ,
- স্বনাম দ্বারা ধন্য = স্বনামধন্য,
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত,
- গুণ দ্বারা মুগ্ধ = গুণমুগ্ধ,
- তৈল দ্বারা আক্ত = তৈলাক্ত,
- শােক দ্বারা আকুল = শােকাকুল,
- মধুতে মাখা = মধুমাখা,
- বিপদ দ্বারা সঙ্কুল = বিপদসঙ্কুল প্রভৃতি
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সঠিক উত্তর হলো গ) কিছু শব্দের পুরুষ ও নারীবাচক ভিন্নতা নেই।
ব্যাখ্যা:
বাংলায় কিছু শব্দ লিঙ্গ-নিরপেক্ষ, অর্থাৎ এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য একই রূপে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: ‘শিক্ষক’, ‘ডাক্তার’, ‘বন্ধু’, ‘মানুষ’। এই শব্দগুলোর পুরুষ বা নারীবাচক আলাদা রূপ নেই, এবং এটি বাংলা ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য।
অন্য অপশনগুলো ভুল হওয়ার কারণ:
ক) সব পুরুষবাচক শব্দের নারীবাচক রূপ আছে - ভুল।
- অনেক শব্দের আলাদা নারীবাচক রূপ নেই।
খ) নারীবাচক শব্দের বিশেষণও নারীবাচক হবে - ভুল।
- বাংলায় বিশেষণ লিঙ্গ অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় না
উদাহরণ: ভালো ছেলে, ভালো মেয়ে (বিশেষণ একই)।
ঘ) কেবল প্রত্যয়যোগে নারীবাচক শব্দ তৈরি হয় - ভুল।
- প্রত্যয়: বালক → বালিকা।
- সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দ: বাবা → মা, ছেলে → মেয়ে।
তাই সঠিক উত্তর গ) কিছু শব্দের পুরুষ ও নারীবাচক ভিন্নতা নেই।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।