বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ১০০ · ৬০১৭০০ / ১০,০৪৫

৬০১.
'কদাচার' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।

যথা:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে।
যেমন: যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে।
যেমন: যিনি জজ তিনিই = সাহেব জজ সাহেব।

৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন: আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।

৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা;
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়।
যেমন:
- মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান;
- মহান যে নবি = মহানবি।

৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়।
যেমন:
- কু যে অর্থ = কদর্থ;
- কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬০২.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. তেজস্বী
  2. মেধাবী
  3. দারোয়ান
  4. চড়াই
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়: 
- তেজঃ + বিন্‌ = তেজস্বী,
- মেধা + বিন্‌ = মেধাবী।

• বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় এর নিয়ম:
• আই-প্রত্যয়: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে 'আই' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- চড়্‌ + আই = চড়াই।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০৩.
বাংলা ভাষায় কোন দুটি শব্দ পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে?
  1. তুরুপ, রুইতন
  2. ইস্পাত, বালতি
  3. কিস্তি, হামলা
  4. কুলি, তোপ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় "ইস্পাত, বালতি" শব্দ দুটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে এসেছে

আরো কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
আচার, আয়া , আলমারি, আলকাতরা, ইস্পাত, কেরানি, গির্জা, গুদাম, চাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তুর্কি শব্দ : কুলি, কোর্মা, খাতুন, তোপ, বেগম, লাশ ইত্যাদি।
ওলন্দাজ শব্দ :তুরুপ, রুইতন, হরতন, টেক্‌কা ইত্যাদি।
আরবি শব্দ : আজব, আতর, আক্কেল, আমল, আমানত, কবর, কেবলা, কিস্তি, কুদরত, হামলা, হারাম, হাল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৬০৪.
'সমাগত' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. তৎসম
  2. খাঁটি বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
- 'সমাগত' শব্দের 'সম্' উপসর্গটি 'সম্মুখে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'সমাগত' শব্দের 'সম্' উপসর্গটি একটি তৎসম উপসর্গ।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম্‌, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

• 'সম্' উপসর্গ টির ব্যব্যহার:
- 'সম্যক রূপে' অর্থে = সম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ।
- 'সম্মুখে' অর্থে = সমাগত, সম্মুখ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬০৫.
'পরিপক্ক' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. আরবি উপসর্গ
  2. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  3. সংস্কৃত উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
এগুলো হলো- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

'পরি' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ-
বিশেষরূপে- পরিপূর্ণ, পরিবর্তন, পরিত্যাগ, পরিপক্ক।
সুন্দর অর্থে- পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি, পরিমার্জিত, পরিস্কার।
চতুর্দিক অর্থে- পরিক্রমণ, পরিমণ্ডল, পরিবৃত্ত, পরিবেশ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬০৬.
“মহর্ষি” কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) দ্বিগু
ব্যাখ্যা

মহর্ষি [মহোর্‌শি] (বিশেষ্য) ঋষিশ্রেষ্ঠ; বড় ঋষি।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) মহান+ঋষি; বা, মহান যে ঋষি (কর্মধারয় সমাস)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৬০৭.
নিচের কোনটি অর্ধতৎসম শব্দ?
  1. ক) গর্দভ
  2. খ) গৃহস্থ
  3. গ) পরশ
  4. ঘ) গৃহিণী
ব্যাখ্যা
যে সকল তৎসম শব্দ কিছুটা বিকৃত বা পরিবর্তত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে। যেমন - গৃহিনী = গিন্নী, কর্মকার = কামার, গর্দভ = গাধা, বর্তিকা = বাতি, গৃহস্থ = গেরস্থ নিমন্ত্রণ = নেমন্তন্ন, হংস = হাঁস, জ্যোৎস্না = জ্যোছনা, স্পর্শ = পরশ ইত্যাদি।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৬০৮.
'বাবা' - শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. হিন্দি
  2. সংস্কৃত
  3. তুর্কি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• তুর্কি শব্দ - বাবা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পিতা, জনক।

• কিছু তুর্কি শব্দ:
- বেগম,
- কুলি,
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬০৯.
'কানাই' শব্দের শুদ্ধ প্রত্যয় কোনটি?
  1. কানা + আই
  2. কান + আই
  3. কানু + আই
  4. কানো + আই
ব্যাখ্যা
আই- বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়-
(ক) ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে: বড় + আই = বড়াই, চড়া + আই = চড়াই।
(খ) আদরার্থে: কানু + আই = কানাই, নিম + আই = নিমাই।
(গ) স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বোঝাতে: বোন + আই = বোনাই, ননদ + আই = নন্দাই, জেঠা + আই = জেঠাই (মা)।
(ঘ) সমগুণবাচক বিশেষ্য গঠনে: মিঠা + আই = মিঠাই।
(ঙ) জাত অর্থে: ঢাকা + আই = ঢাকাই (জামদানি), পাবনা + আই = পাবনাই (শাড়ি)।
(চ) বিশেষণ গঠনে: চোর + আই = চোরাই (মাল), মোগল + আই = মোগলাই (পরোটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ - সংস্করণ)।
৬১০.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ কোনটি?
  1. পহেলা
  2. দ্বিতীয়া
  3. একত্রিশে
  4. সোয়া
ব্যাখ্যা

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ তিন প্রকার। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম)।

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)...নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

-------------------------
তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৬১১.
ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. পহেলা
  2. সিকি
  3. দ্বাদশী
  4. এগারোতম
ব্যাখ্যা
• ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ:
পূর্ণসংখ্যার অংশবাচক শব্দকে ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ বলে।

পূর্ণসংখ্যার অংশ বোঝাতে বাংলায় নিম্নলিখিত শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়। যথা-
• চার ভাগের এক ভাগ = চৌথাই, সিকি, পোয়া। 
• তিন ভাগের এক ভাগ = তেহাই। 
• দুই ভাগের এক ভাগ = অর্ধ, আধা, আধ, অর্ধেক, আধেক। 

অন্যদিকে, 
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ- পহেলা। 
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ- দ্বাদশী, এগারোতম।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
৬১২.
'চতুর্ভুজ' কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
  1. পদলােপী বহুব্রীহি
  2. অলুক বহুব্রীহি
  3. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  4. সমানাধিকার বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস: 
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ।
সে (তিন) তাঁর যে যন্ত্রের = সেতার। 
------------------------
অন্যদিকে, 
পদলােপী বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লােপ পায়, তাকে পদলােপী বহুব্রীহি বলে।
যেমন - চিরুনির মতাে দাঁত যার = চিরনদাঁতি,
হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি।

সমানাধিকার বহুব্রীহি: 
সমানাধিকার বহুব্রীহি: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন –
এক গো যার = একগুঁয়ে,
লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

অলুক বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন,
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬১৩.
'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়-
  1. √উক্‌ + তি
  2. √উচ্ + ক্তি
  3. √বচ্ + ক্তি
  4. √উঃ + ক্তি
ব্যাখ্যা
'উক্তি' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- √বচ্ + ক্তি।

• 'ক্তি'-প্রত্যয় ('ক' ইৎ 'তি' থাকে):
• বিশেষ নিয়ম:
- 'চ' এবং 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন-
- √বচ্+ক্তি = উক্তি,
- √মুচ্+ক্তি = মুক্তি,
- √ভজ্+ক্তি = ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬১৪.
প্রকৃতি প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক কোনটি?
  1. √দীপ্য্‌ + মান = দীপ্যমান
  2. √ নন্দ + অন = নন্দন
  3. √ শ্রম্‌ + ইন্‌ = শ্রমী
  4. প্রাচি+য = প্রাচ্য
ব্যাখ্যা
• 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '। 
'শ্রমী' শব্দের অর্থ- পরিশ্রমদ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে এমন, পরিশ্রমী।  

অন্যদিকে, 
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন। 
- 'দীপ্যমান' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হচ্ছে - √ দীপ্‌ + মান (শানচ)।
- 'প্রাচ্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাচ্‌+য।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬১৫.
'দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।' এখানে ‘দেখতে দেখতে' দ্বিরুক্তিটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. অস্থিরতা
  3. দীর্ঘকাল স্থায়ী
  4. স্বল্পকাল স্থায়ী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:

বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।

স্বপ্লকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬১৬.
‘বিঘ্নের অভাব’ ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬১৭.
ক্রিয়ার মূল অংশকে কী বলে?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) ক্রিয়া-প্রকৃতি
  3. গ) প্রাতিপদিক
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলা হয়৷
অন্যদিকে বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
প্রাতিপদিক হলো তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। এবং ধাতু হলো কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৬১৮.
ক্রিয়া পদকে বিশ্লেষণ করলে কয়টি অংশ পাওয়া যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ধাতু:
- ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলে।
- ক্রিয়া পদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়:

১.ধাতু বা ক্রিয়ামূল: কর্, যা, খা, পা, বল্, দেখ, খেল্, দে ইত্যাদি।
২. ক্রিয়াবিভক্তি: আ, ই, ছি, ছে, বে, তে, লে, লাম ইত্যাদি।

ধাতু তিন প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক ধাতু
২. সাধিত ধাতু ও ৩.
যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬১৯.
'যোগী' - এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √যুগ্‌ + ইক
  2. √যুজ্ + ইন
  3. √যুগ্‌+ ইন
  4. √যুজ্ + ইক
ব্যাখ্যা

• ইন্‌' কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়):

যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্‌+ ইন = দোষী;
- √মন্ত্র + ইন = মন্ত্রী;
- √যুজ্ + ইন = যোগী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬২০.
কোনটি সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. ষোলোতম
  2. চব্বিশে
  3. পোয়া
  4. ২০
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ - ষোলোতম

সাধারণ পূরণবাচক:

- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।
- এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী) ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তারিখ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ - চব্বিশে।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ - পোয়া।
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ - ২০।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬২১.
নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. বেহেড
  2. নাতিদীর্ঘ
  3. অনাদর
  4. বেতাল
ব্যাখ্যা

• বে (নাই) হেড(মাথা) যার = বেহেড; এখানে দুই পদের কোনটির অর্থ না প্রকাশ করে সম্পূর্ণ অন্য অর্থ(কাণ্ডজ্ঞানহীন) বুঝিয়েছে তাই 'বেহেড' নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাস।

নঞ্‌ বহুব্রীহি:

- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে। নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার।

অন্যদিকে,
নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ – অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৬২২.
'ক্যারাটে' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বার্মা 
  2. জাপানি 
  3. মালয় 
  4. ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা

• 'ক্যারাটে' শব্দটি - জাপানি ভাষার শব্দ, যা একটি মার্শাল আর্টের নাম।

আরো কিছু জাপানি শব্দ:
ক্যারাটে, জুডো, প্যাগোডা, রিকশা, সুনামি, হাসনুহানা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬২৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. মনুষ্যসমূহ
  2. বৃক্ষসমূহ
  3. মনুষ্যসকল
  4. পর্বতপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
সব = ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ = বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।
কুল = কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল = পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পর্বতপুঞ্জ - অশুদ্ধ। এর সঠিক বচন লগ্নক - মালা (পর্বতমালা)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৬২৪.
আমি আজ জ্বর জ্বর বােধ করছি- বাক্যে 'জ্বর জ্বর' কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) গভীরতা
  2. খ) সামান্য
  3. গ) আধিক্য
  4. ঘ) তীব্রতা
ব্যাখ্যা

দ্বিরুক্ত অর্থ দুইবার উক্ত হয়েছে এমন।
যেমন-
আধিক্য বােঝাতে- রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান।
সামান্য বােঝাতে- আমি আজ জ্বর জ্বর বােধ করছি।
ভাবের গভীরতা বােঝাতে- ছি ছি, তুমি কী করেছ?
তীব্রতা বােঝাতে- গরম গরম জিলাপি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৬২৫.
'অনুশীলন' শব্দের 'অনু' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পশ্চাত
  2. সঙ্গে
  3. সাদৃশ্য
  4. পৌনঃপুন
ব্যাখ্যা
- 'অনুশীলন' শব্দের 'অনু' উপসর্গটি 'পৌনঃপুন অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'অনুশীলন' শব্দের 'অনু' উপসর্গটি একটি তৎসম উপসর্গ।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
 যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

• 'অনু' উপসর্গ টির ব্যব্যহার:
- পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
- সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
- পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন
- সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬২৬.
নিচের কোন শব্দটির একাধিক স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. পাগলি
  2. বালিকা
  3. দাদা
  4. রজকী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন:
দেবর - ননদ/জা। 
ভাই - বোন/জা। 
শিক্ষক - শিক্ষিকা/শিক্ষক পত্নী.
বন্ধু - বান্ধবী/বন্ধু পত্নী। 
দাদা - দিদি/ বৌদি। 

অন্যদিকে, 
পাগল - পাগলি, 
বালক - বালিকা, 
রজক - রজকী। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৭.
সাধিত শব্দটি শনাক্ত করুন।
  1. ক) নাক
  2. খ) তিন
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) চাঁদমুখ
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দগুলোই হচ্ছে ভাষার মূল উপকরণ। যেমন- গোলাপ, নাক, লাল, তিন ইত্যাদি।
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায় সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। যেমন - চাঁদমুখ (চাঁদের মত মুখ), নীলাকাশ ( নীল যে আকাশ)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬২৮.
‘অসুর’ কোন সমাস?
  1. ক) অব্যয়ীভাব সমাস
  2. খ) কর্মধারয় সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার।না বাচক নঞ অব্যয় ( না, নেই, নাই, নয়) পূবে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। ন সুর = অসুর -নঞ তৎপুরুষ সমাস।এরূপ- অকেজো, অজানা,অবিশ্বাস, অকেশা,অঘাট,অনাদর,নাতিদীর্ঘ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৬২৯.
প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) মালা
  2. খ) আবলি
  3. গ) সব
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন: 
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৩০.
‘উপকূল’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থেই প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস।
যেমন-
উপকূল – কূলের সমীপে;
আমরণ – মরন পর্যন্ত;
যথারীতি – রীতিকে অতিক্রম না করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩১.
‘চন্দ্রচূড় ‘ সমাসের ঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) চন্দ্রে চূড় যার
  2. খ) চন্দ্র যে চূড়া
  3. গ) চন্দ্রও চূড়া
  4. ঘ) চন্দ্র চূড়া যার
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য চূড়া থাকলে সমস্ত পদে চূড় হয়। চন্দ্র চূড়া যার = চন্দ্রচূড়। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৬৩২.
নিচের কোনটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দ?
  1. ক) ডুবুরী
  2. খ) পূজারী
  3. গ) বর্ধমান
  4. ঘ) উড়ুয়া
ব্যাখ্যা

'শানচ্‌' একটি সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়। এই প্রত্যয় যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দঃ
√দীপ্‌ + শানচ্‌ = দীপ্যমান;  √চল্‌ + শানচ্‌ = চলমান
√বৃধ্‌ + শানচ্‌ = বর্ধমান।

ডুবুরী, পূজারী ও উড়ুয়া - বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

৬৩৩.
‘তিরস্কার’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) তিরস্+√কৃ+অন
  2. খ) তিরস্+√কৃ+অ
  3. গ) তিরস্+√কৃ+ইন
  4. ঘ) তিরস্+√কৃ+ত
ব্যাখ্যা
• তিরস্কার (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃত প্রত্যয় = [তিরস্+√কৃ+অ]
অর্থ: ভর্ৎসনা, অবজ্ঞা, অনাদর, কুৎসা ও নিন্দা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৩৪.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. কুলটা
  2. অসূর্যম্পশ্যা
  3. অর্ধাঙ্গিনী
  4. দুলাইন
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দুলহা-দুলাইন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।

৬৩৫.
বাংলা তারিখ বাচক শব্দের কতটি হিন্দি নিয়মে হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তারিখবাচক শব্দগুলির মধ্যে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত (পয়লা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৬৩৬.
'সংশ্লিষ্ট' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. টেকো
  2. ধেনো
  3. নেয়ে
  4. মেঠো
ব্যাখ্যা
• 'সংশ্লিষ্ট' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ: মাঠ → মেঠো

অন্যদিকে,
টাক → টেকো = যুক্ত অর্থে।
ধান → ধেনো = জাত অর্থে।
না → নেয়ে = নৈপুণ্য অর্থে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৬৩৭.
'জলধি’ কোন শ্রেণিভুক্ত শব্দ?
  1. ক) রূঢ়ি
  2. খ) যোগরূঢ়
  3. গ) মৌলিক
  4. ঘ) যৌগিক
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯।
৬৩৮.
‘পরাজয়ের’ - এ শব্দটিতে কোনটি উপসর্গ?
  1. জয়
  2. পরা
  3. এর
  4. জয়ের
ব্যাখ্যা
• ‘পরাজয়ের’ - এ শব্দটিতে 'পরা' উপসর্গ।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

'পরা' উপসর্গের বিভিন্ন ব্যবহার:
- আতিশয্য অর্থে: পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ।
- বিপরীত অর্থে: পরাজয়, পরাভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৩৯.
‘মণ্ডলী’ লগ্নক যোগে সঠিক বহুবচন শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবিমণ্ডলী
  2. সুধীমণ্ডলী
  3. মন্ত্রীমণ্ডলী
  4. জনমণ্ডলী
ব্যাখ্যা

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়। 

যেমন:
• গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ, জনগণ, কবিগণ।
• বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
• মণ্ডলী - সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
• বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৬৪০.
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি
  2. খ) অক্ষির অগোচরে = পরোক্ষ
  3. গ) হাতে চালানো পাখা = হাতপাখা
  4. ঘ) ঋণ থেকে মুক্ত = ঋণমুক্ত
ব্যাখ্যা
- যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৪১.
"বুরুশ" - কোন ভাষার শব্দ থেকে আগত?
  1. পর্তুগিজ
  2. তুর্কি
  3. ইংরেজি
  4. ফরাসি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• "বুরুশ" ইংরেজি ভাষার শব্দ থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ছবি আঁকা বা রং লাগানোর জন্য ব্যবহৃত পশুলোম বা কৃত্রিম আঁশের সরঞ্জামবিশেষ, তুলি।

আরো কিছু ইংরেজি শব্দ:
- অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৪২.
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) সৎ-সতী
  2. খ) মহৎ-মহতী
  3. গ) গুণবান-গুণবতী
  4. ঘ) গায়ক-গায়িকা
ব্যাখ্যা
সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী শব্দগুলো হলো বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ। গায়ক-গায়িকা হলো 'ইকা প্রত্যয়' যোগে গঠিত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬৪৩.
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার কোনটি?
  1. ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?
  2. দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
  3. এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
  4. ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
 
বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।
 
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
 
ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?
 
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৪৪.
'চুরুট' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম 
  2. মারাঠি
  3. তামিল
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চুরুট' — তামিল ভাষার শব্দ।

• 'চুরুট' শব্দের অর্থ:
- ধূমপানের জন্য তৈরি শুকনো তামাকপাতায় মোড়া তামাকচূর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৪৫.
পর্তুগিজ ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. গুদাম
  2. কামরা
  3. কার্নিশ
  4. জানালা
ব্যাখ্যা
• কার্নিশ ফরাসি ভাষা থেক আগত শব্দ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু ফরাসি শব্দ হলো:
কার্ট্রিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
আনারস, কামরা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তোয়ালে, পাউরুটি, পাদ্রি, পেয়ারা, বালতি, বোতল, বোতাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৪৬.
‘চৌ-হদ্দি’- মিশ্র শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রনে গঠিত?
  1. ক) বাংলা+ফারসি
  2. খ) তৎসম+আরবি
  3. গ) ফারসি+আরবি
  4. ঘ) তুর্কি+ফারসি
ব্যাখ্যা

চৌ-হদ্দি শব্দটি ফারসি+আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রণে সৃষ্ট বাংলা শব্দ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৬৪৭.
‘আধমরা’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। দ্বিতীয়া বিভক্তির চিহ্ন কে, রে।
যেমন:
- গাকে ঢাকা = গা-ঢাকা,
- বইকে পড়া = বই-পড়া ইত্যাদি।

- এ-রকম: আত্মরক্ষা, আত্মহত্যা, কাপড়-কাচা, গুনটানা, জাতিগত, দুঃখপ্রাপ্ত, নারী-নির্যাতন, পদত্যাগ, চুক্তি-সম্পাদন, বৃত্তিপ্রাপ্ত, বুকজুড়ানো, দেশত্যাগ, প্রাণনাশ, ফুলতোলা, বর্ণনাতীত, বিপদাপন্ন, ব্যক্তিগত, হস্তগত, রেখাপাত, মর্মগত, মজ্জাগত ইত্যাদি।

• ব্যাপ্তি অর্থে কালবাচক পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হয়।
যেমন:
- চিরকাল ধরে সুখ = চিরসুখ,
- ক্ষণকাল ধরে স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী ইত্যাদি।

- এ-রকম: চিরকুমারী, চিরকৃতজ্ঞ, চিরদুঃখী, চিরবঞ্চিত, চিরবসন্ত, চিরশত্রু, চিরস্থায়ী, চিরস্মরণীয়, দীর্ঘস্থায়ী ইত্যাদি।

• পূর্বপদটি বিশেষণের বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণ হলে পরবর্তী কৃদন্ত পদের সঙ্গে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হয়।
যেমন:
- অর্ধরূপে সিদ্ধ = অর্ধসিদ্ধ,
- আধভাবে মরা = আধমরা ইত্যাদি।

------------------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৪৮.
নিচের কোনটি মৌলিক ধাতু?
  1. বলা
  2. হারা 
  3. দেখা
  4. পড়
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন-চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
(ক) বাংলা,
(খ) সংস্কৃত এবং
(গ) বিদেশি ধাতু।

অন্যদিকে, 
• সাধিত ধাতু:
মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম - শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে। যেমন দেখ্ + আ = দেখা, পড় + আ = পড়া, বল + আ = বলা। সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' দেখায়)।

এরূপ-শোনায়, বসায়, হারা ইত্যাদি।

- গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত: ক. নাম ধাতু, খ. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু, (গ) কর্মবাচ্যের ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
৬৪৯.
নিচের কোনটি অভাব অর্থে উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) হাঘরে
  2. খ) বিফল
  3. গ) নিদয়
  4. ঘ) কদর্য
ব্যাখ্যা
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। অনেক সময় শব্দের শুরুতে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ বসতে পারে। উপসর্গের নিজের কোন অর্থ নেই কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য বলা হয়- উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্তু অর্থের দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।
- অভাব অর্থ বোঝাতে উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - হা + ঘরে = হাঘরে
- হা উপসর্গ যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হলো: হাপিত্যেশ, হাভাতে, হাকপাল, হাহুতাশ।

⇒ ভিন্নতা (নেই বা নিন্দনয়ি অর্থে) ‘হা’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - বিফল
⇒ নাই বা নেতি অর্থে ‘নি’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - নিদয়
⇒ নিন্দিত অর্থে ‘কদ্’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - কদর্য

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৫০.
কোনটি বিদেশি ধাতু?
  1. টুট্
  2. হস্
  3. খাদ্‌
  4. শ্রু
ব্যাখ্যা
বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

যেমন:
- খাট্, আঁট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।

যেমন:
- অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫১.
'সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ' কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) দ্বিগু সমাস
  4. ঘ) তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস সংজ্ঞা:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে। বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫২.
নিচের কোন বাক্যে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ছেলেরা মাঠে খেলছে।
  2. তারা বই পড়ছে।
  3. গাছগুলো কাটা হয়েছে।
  4. শিক্ষক পড়াচ্ছেন।
ব্যাখ্যা
• বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 
- শিক্ষক পড়াচ্ছেন। 
- ডাক্তার রুগী দেখছেন। 

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন :
- তারা গেল।
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
- তারা বই পড়ছে।
- গাছগুলো কাটা হয়েছে।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।
- মানুষ মরণশীল।
- লোকে বলে।
- বনে বাঘ বাস করে।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬৫৩.
'রিকশা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. জাপানি
  2. চীনা
  3. স্প্যানিশ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘রিকশা’ শব্দটি জাপানি ভাষা থেকে আগত।

• রিকশা (বিশেষ্য পদ),
- জাপানি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
অর্থ:
- মানুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান। 
- ইংরেজিতে - rickshaw.

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫৪.
তৎসম শব্দ নয় কোনটি?
  1. পূর্ব
  2. পরিচিত
  3. কাহিনি
  4. কৃষিজীবী
ব্যাখ্যা
• কাহিনি,
- বিশেষ্য পদ।
- এটি হিন্দি শব্দ।
  অর্থ:
- বৃত্তান্ত ও বিবরণ।

অন্যদিকে,
• পূর্ব,
- বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত/তৎসম শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পূর্ব্‌ + অ।
 অর্থ:
- দিগন্তরেখার যে দিকে সূর্য উদিত হয়।

• পরিচিত,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত/তৎসম শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: পরি + √চি + ত।
 অর্থ:
- পরিচয় জানা আছে এমন।
- জ্ঞাত। 
- অভ্যস্ত।

• কৃষিজীবী,
- বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত/তৎসম শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কৃষি + √জীব্‌ + ইন্‌।
অর্থ: কষিকর্ম দ্বারা জীবিকা নির্বাহকারী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫৫.
তৎপুরুষ সমাস কত প্রকার?
  1. ক) ৯ প্রকার
  2. খ) ৬ প্রকার
  3. গ) ৮ প্রকার
  4. ঘ) ১১ প্রকার
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকার।
যথা:
১. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: দুঃকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
২. তৃতীয়া তৎপুরুষ। যেমন: মন দিয়ে গড়া = মনগড়া।
৩. চতুর্থী তৎপুরুষ। যেমন: গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
৪. পঞ্চমী তৎপুরুষ। যেমন: বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
৫. ষষ্ঠী তৎপুরুষ। যেমন: রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
৬. সপ্তমী তৎপুরুষ। যেমন: দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।
৭. নঞ্ তৎপুরুষ। যেমন: ন কাতর = অকাতর।
৮. উপপদ তৎপুরুষ। যেমন: জলে চরে যা = জলচর।
৯. অলুক তৎপুরুষ। যেমন: গায়ে পড়া = গায়েপড়া।



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৫৬.
'মিনতি' শব্দটি যে শব্দযোগে তৈরি হয়েছে-
  1. ক) সংস্কৃত ও আরবি
  2. খ) আরবি ও ফারসি
  3. গ) সংস্কৃত ও পর্তুগিজ
  4. ঘ) দেশীয় ও পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
আরবি ‘মিন্নত' ও বাংলায় ‘নতি' এর অনুকরণে নিষ্পন্ন শব্দ ‘মিনতি'।
- এর অর্থ = বিনীত প্রার্থনা, আবেদন, অনুরোধ। 

উৎস:  বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৭.
নিচের কোন শব্দটি কেবল স্ত্রীবাচক নির্দেশ করে?
  1. ধাত্রী
  2. অরক্ষণীয়া
  3. গোয়ালিনি
  4. ঢাকী
ব্যাখ্যা

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। 

যেমন:
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ধাতা - ধাত্রী।
গোয়ালা - গোয়ালিনি।
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - ঢাকী।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ, অষ্টম শ্রেণি।

৬৫৮.
'জাগরূক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ জাগ্‌ + রূক 
  2. √ জাগ্‌ + উক
  3. √ জাগৃ + ঊক 
  4. √ জাগর + উক
ব্যাখ্যা
জাগরূক (বিশেষণ): 
- (তৎসম বা সংস্কৃত) শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: √জাগৃ + ঊক।

'জাগরূক' শব্দের অর্থ:
১. জাগ্রত; জাগরণশীল; সজাগ।
২. সাবধান; সতর্ক; হুঁশিয়ার।
৩. অবিস্মৃত বা জাজ্বল্যমান বা স্পষ্টরূপে অঙ্কিত (তোমার স্মৃতি আমার হৃদয়ে জাগরূক আছে)।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৬৫৯.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. কলে ছাঁটা 
  2. গোলাভরা
  3. গাছপাকা
  4. গ্রামছাড়া
ব্যাখ্যা
অলুক তৎপুরুষ সমাস : যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লােপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন :
গায়ে পড়া = গায়ে পড়া।
ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা 
কলে ছাঁটা = কলে ছাঁটা 
কলের গান=  কলের গান
গরুর গাড়ি =গরুর গাড়ি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণ, ২০১৯ এবং ২০২১সংস্করণ ]
৬৬০.
'বৃহৎ' অর্থে কোন প্রত্যয়জাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বেতো
  2. খ) ডিঙা
  3. গ) বাঘা
  4. ঘ) টেকো
ব্যাখ্যা
'বৃহৎ' অর্থে ব্যবহৃত প্রত্যয়জাত শব্দ = 'ডিঙা'।

প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৬১.
খ্রিস্টাব্দ কোন ধরনের শব্দের সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ?
  1. ক) গ্রিক+তৎসম
  2. খ) ইংরেজি+তৎসম
  3. গ) ততসম+ফারসি
  4. ঘ) ইংরেজি+আরবি
ব্যাখ্যা
কয়েকটি মিশ্র শব্দঃ খ্রিস্টাব্দ, হেড-পণ্ডিত = ইংরেজি+তৎসম। ডাক্তার-খানা, হেড-মৌলভি = ইংরেজি + ফারসি। চৌ-হদ্দি = ফারসি+আরবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬৬২.
‘নীলপদ্ম’ কোন সমাস?
  1.  দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

অন্যদিকে,
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

• যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ধানের ক্ষেত = ধানখেত, ‍ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৬৩.
বেকার, বেয়াদব, বেহায়া ইত্যাদি শব্দে কোন উপসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
বেকার, বেয়াদব, বেহায়া ইত্যাদি শব্দে ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে।

ফারসি উপসর্গ
প্রত্যেক অর্থে ফি-বছর, ফি হপ্তা, ফি- রােজ, ফি- সব।
না - না অর্থে - নামঞ্জুর, নারাজ, নাচার।
ব - সাথে অর্থে - বনাম, বকলম, বমাল। 
কম - অল্প অর্থে - কমবখত, কমআক্কেল, কমজোর।
বে - না অর্থে - বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া, বেঠিক।
বর - মন্দ অর্থে - বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
খারাপ অর্থে বদমাশ, বদহাল, বদমেজাজ, বদরাগী, বজ্জাত।
নিম - অর্ধেক অর্থে - নিমরাজি, নিমমােল্লা।
দর - অধীন অর্থে - দরপাট্টা, দরখাস্ত, দরপাওনা, দরদালান।
কার - কাজ অর্থে - কারচুপি, কারবার, কারসাজি, কারদানি, কারখানা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৪.
'হেমাঙ্গ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ -
  1. হেমাঙ্গিনি
  2. হেমাঙ্গী
  3. হেমাঙ্গা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• 'হেমাঙ্গ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - হেমাঙ্গী/ হেমাঙ্গা/ হেমাঙ্গিনি

নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
যেমন-
আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ - বৃদ্ধা, প্রিয় - প্রিয়া
ই প্রত্যয়: দাদা - দাদি, জেঠা - জেঠি ।
ইনি প্রত্যয়: কাঙাল - কাঙালিনি, বাঘ - বাঘিনি।
ইনী প্রত্যয়: বিজয় - বিজয়িনী, তেজস্বী - তেজস্বিনী।
ঈ প্রত্যয়: নার - নারী, কিশোর - কিশোরী।
নি প্রত্যয়: জেলে - জেলেনি, বেদে - বেদেনি।
বতী প্রত্যয়: গুণবান - গুণবতী, পূণ্যবান - পূণ্যবতী।
মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৬৫.
বিশেষণের সাথে বিশেষ্যের যে সমাস হয় তার নাম কী?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।

যেমন:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী,
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

অন্যদিকে,
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
 যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৬৬.
'জনতা' শব্দটি ব্যাকরণের কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. সন্ধিযোগে
  4. সমাসযোগে
  5. বচনের সাহায্যে
ব্যাখ্যা

জনতা (বিশেষ্য):
অর্থঃ
১. অনেক লোকের সমাবেশ।
২. জনসাধারণ (জনতার সংগ্রাম)।
- (তৎসম বা সংস্কৃত) জন+তা (তল্‌)

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৬৬৭.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. পূজনীয়
  2. বিধবা
  3. অরক্ষণীয়া
  4. অসূর্যম্পশ্যা
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পূজনীয়- পূজনীয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।

৬৬৮.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. গরমিল
  2. চলন্ত
  3. প্রশাসন
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ - লাল

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, তিন।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬৯.
'সাম্পান' শব্দটির উৎস কোন ভাষা?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. চীনা
  4. বর্মী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

- 'সাম্পান' শব্দটির চীনা ভাষা থেকে এসেছে।
• সাম্পান অর্থ: বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মিয়ানমার চীন প্রভৃতি অঞ্চলের নদী ও সমুদ্রের উপকূলে চলাচলকারী দাঁড়বিশিষ্ট ছোটো নৌকো।

• কিছু চীনা শব্দ: 
চা, লিচু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৭০.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গেঁজেল
  2. কারিগর
  3. ঘটকালি
  4. ভিখারি
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় গঠিত কিছু শব্দ:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

অন্যদিকে,
-------------
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন
• আরি/আরী/আবু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ + আরি = ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: দাঁত-দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল, তেজ-তেজাল, ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক-জমকালো, দুধ-দুধাল দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর- চতুরালি, ঘটক + আলি = ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা + এল = গেঁজেল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৬৭১.
'প্রকৃতি' কোনটির অপর নাম?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) বর্গ
  4. ঘ) শব্দমূল
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি।
- প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭২.
‘পাকড়াও’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ পাক্ + ড়াও
  2. √ পাকড় + আও
  3. √ পাক্ + আও
  4. √ পাকড় + অও
ব্যাখ্যা
• সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: '√ পাকড় + আও'।
- 'পাকড়াও' শব্দটি 'কৃৎ' প্রত্যয়ের উদাহরণ।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৩.
উৎ, অতি, অব, উপ - কোন ধরণের উপসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিদেশী উপসর্গ
  2. খ) উপসর্গ স্থানীয় অব্যয়
  3. গ) বাংলা উপসর্গ
  4. ঘ) সংস্কৃত উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• উৎ, অতি, অব, উপ  - সংস্কৃত উপসর্গ।

• উপসর্গ ৩ প্রকার। যথা- বাংলা উপসর্গ, সংস্কৃত বা  তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশী উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা

- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭৪.
অব্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত নয় কোনটি?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান, আর এর বিপরীত হলো - দ্বিগু, কর্মধারয়, তৎপুরুষ।
এই সমাসগুলোতে পরপদের অর্থ প্রধান্য পায়।

দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়। তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাসের বিপরীত নয়।
 
উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ
৬৭৫.
সাদৃশ্য অর্থে নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. উপকণ্ঠ
  2. উপকূল
  3. উপশহর
  4. অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।যেমন:
• বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি): দিন দিন = প্রতি দিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।
• সামীপ্য (উপ): কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল
• অভাব (নিঃ = নির): আমিষের অভাব = নিরামিষ, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জলের অভাব = নির্জল, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।
• পর্যন্ত (আ): সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত =আপাদমস্তক।
• সাদৃশ্য (উপ): শহরের সদৃশ = উপশহর,
গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ =উপবন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬৭৬.
আরবি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. বরখাস্ত 
  2. দরদালান 
  3. খাসমহল
  4. কারখানা
ব্যাখ্যা

• 'খাস' আরবি উপসর্গ যোগে 'বিশেষ' অর্থে গঠিত শব্দ- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা, খাসদরবার। 

অন্যদিকে, 
• ফারসি উপসর্গ বর, দর ও কার যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো- বরখাস্ত, দরদালান ও কারখানা।

-------------------
বিদেশি উপসর্গ:

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, q লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬৭৭.
একবচন বাচক নির্দেশক কোনটি?
  1. দাম
  2. গাছি
  3. গ্রাম
  4. মহল
ব্যাখ্যা
গাছি একবচন বাচক নির্দেশক।
যেমন: মালাগাছি।

• একবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
'টি', 'টা', 'খানা', 'খানি' ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় 'এক'-এর সঙ্গে যোগ করে, অথবা 'এক' শব্দটিকে ব্যবহার না করেও বিশেষ্যের সঙ্গে টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক প্রত্যয় যোগে একবচন গঠন করা যায়। যেমন:
- একটি ছেলে অথবা ছেলেটি।
- তার গলায় ছিল একখানি হার।

• সমষ্টিবাচক শব্দ যোগে:
- দাম: শৈবালদাম,
- গ্রাম: গুণগ্রাম,
- মহল: মহিলামহল, গুণিমহল।

উৎস: ১। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২। বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৭৮.
'গরীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরীয়ানী
  2. গরীয়সী
  3. গরিয়াসী
  4. গরিয়ানী
ব্যাখ্যা

• 'গরীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - 'গরীয়সী'।

• 'গরীয়ান'  অর্থ:
১) মর্যাদা পূর্ণ, মহান।
২) গুরুতর; বৃহত্তর।
৩) মহার্ঘ।
৪) বিত্তশালী। 

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'অত', 'বান', 'মান', 'ঈয়ান' থাকলে 'অতী', 'বতী', 'মতী', 'ঈয়সী' হয়:

যেমন:
- সৎ-সতী, 
- গুণবান-গুণবতী, 
- শ্রীমান-শ্রীমতী, 
- গরীয়ান-গরীয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৬৭৯.
'কানুন' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ফারসি
  2. উর্দু
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• কানুন। 
- বিশেষ্য পদ,
- এটি আরবি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- আইন।
- বিধিব্যবস্থা।

এরূপ কিছু আরবি ভাষার শব্দ হলো- আদালত, আদাব, আদায়, আমানত, আলিশান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৮০.
তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ছাত্রী
  2. নারী
  3. প্রাণী
  4. স্থায়ী
ব্যাখ্যা
- তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয় - স্থায়ী (√স্থা + ঈ)
- এটি কৃদন্ত শব্দ।

তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

তদ্ধিতান্ত শব্দের গঠন:
- ছাত্রী = ছাত্র + ঈ,
- নারী = নর + ঈ,
- প্রাণী = প্রাণ + ঈ।
উপরের '-ঈ', '-ঈ', '-ঈ' হলো তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ছাত্রী, নারী ও প্রাণী হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮১.
'পঞ্চনদ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বিগু
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
- সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
- যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চভূত, পঞ্চবটী, ত্রিভুজ, তেপান্তর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮২.
‘অভাব’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে কোন উপসর্গটি?
  1. অনাচার
  2. অঝোরে
  3. অকেজো
  4. আধোয়া
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, , আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• 'আ' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ:
- 'অভাব' অর্থে = আকাঁড়া, আধোয়া, আলুনি।

অন্যদিকে,
- 'অকেজো' শব্দটি 'নিন্দিত' অর্থে 'অ' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।
- 'অঝোরে' শব্দটি 'ক্রমাগত অর্থে 'অ' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।
- 'অনাচার' শব্দটি 'ছাড়া' অর্থে 'অনা' উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
  2. √বাড়ু + অন্ত = বাড়ন্ত
  3. √জিব্‌ + অন্ত = জীবন্ত
  4. √উঠ্‌ + আন্তি = উঠন্তি
ব্যাখ্যা

অন্ত >-অন্তি -উন্তি(প্রত্যয়)

যেমন:
- √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত;
- √বাড়্‌ + অন্ত = বাড়ন্ত;
- √জীব্‌ + অন্ত = জীবন্ত;
- √উঠ্‌ + অন্তি = উঠন্তি;
এ রকম- উড়ন্ত, চলন্ত, পড়ন্ত, ঝুলন্ত, ডুবন্ত, বাড়ন্ত, ফুটন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬৮৪.
নিচের কোনটি ফারসি উপসর্গ সাধিত শব্দ?
  1. আমদরবার
  2. কারখানা
  3. খাসখবর
  4. গরহাজির
ব্যাখ্যা
• 'কারখানা' - শব্দের 'কার' -'ফারসি' উপসর্গ।

• ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ:
১) কার (কাজ): কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
২) দর্‌ (মধ্যস্থ, অধীন): দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
৩) না (না): নাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক।
৪) নিম্‌ (আধা): নিমরাজি, নিমখুন।
৫) ফি (প্রতি): ফি-রোজ, ফি-হপ্তা, ফি-বছর, ফি-সন, ফি-মাস।
৬) বদ্‌ (মন্দ): বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম।
৭) বে (না): বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার।
৮) বর্‌ (বাইরে, মধ্যে): বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
৯) ব্‌ (সহিত): বমাল, বনাম, বকলম।
১০) কম্‌ (স্বল্প): কমজোর, কমবখত।

আরবি উপসর্গের প্রয়োগ: 
উপসর্গ -- যে অর্থে প্রযুক্ত -- উদাহরণ-

ক. আম্ -- সাধারণ -- আমদরবার, আমজনতা, আমমোক্তার।
খ. খাস -- বিশেষ -- খাসমহল, খাসকামরা, খাসখবর।
গ. লা -- না -- লাপাত্তা, লাওয়ারিশ, লাজওয়াব।
ঘ. গর -- অভাব -- গরমিল, গরহাজির, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮৫.
অনুসর্গ কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার 
  2. তিন প্রকার 
  3. চার প্রকার 
  4. পাঁচ প্রকার 
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- 
- সাধারণ অনুসর্গ;
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
 যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে : কার কাছে গেলে জানা যাবে?

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: 
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও
- দিয়ে: মন দিয়ে পড়ালেখা করা দরকার

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নমব-দশম শ্রেণি)
৬৮৬.
'চিরসুখী' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
'চিরকাল ব্যাপীয় সুখী= চিরসুখী'- ২য়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা : দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন : চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। এরকম : গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬৮৭.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ?
  1. কুলফি
  2. কুমকুম
  3. কুস্তি
  4. কোফতা
ব্যাখ্যা
• ‘কুমকুম’ আরবি শব্দ।

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৮৮.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. নীল + ইলিমা = নীলিমা
  2. দুধ + অয়ালা = দুধওয়ালা
  3. পাগল + আমি = পাগলামি
  4. বাত + ওয়া = বাতুয়া
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- পাগল + আমি = পাগলামি।

---------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- বাত + উয়া = বাতুয়া; 
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৮৯.
ফারসি ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. সেতার
  2. দরগা
  3. মৌলবি
  4. সালিশ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• 'মৌলবি' আরবি ভাষার শব্দ।

• ফারসি শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায,
রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম,
হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ , বান্দা, শাদি আমদানি ,সবজি , রসিদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৯০.
'সংযতবাক' অর্থে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. বাগ্মী
  2. স্পষ্টভাষী
  3. প্রগলভ
  4. মিতভাষী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সংযতবাক' একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দটির অর্থ: স্বল্পভাষী, মিতভাষী।

অন্যদিকে,
’বাগ্মী’ শব্দের অর্থ: বানিপুণ, বাকপটু, সুবক্তা।
’স্পষ্টভাষী’ শব্দের অর্থ: স্পষ্টবক্তা।
’প্রগলভ’ শব্দের অর্থ: বাচাল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৯১.
'কাকা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? 
  1. ফারসি 
  2. আরবি 
  3. তুর্কি 
  4. দেশি 
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কাকা' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬৯২.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়?
  1. √জি + অ = জয়
  2. √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়
  3. √মিশ্ + উক = মিশুক
  4. √কৃত্ + তি = কীর্তি
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

উক, উকা:
- √মিশ্ + উক = মিশুক,
- √খা + উকা = খাউকা > খেকো।

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন - √জি + অ = জয়, √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়, √কৃত্ + তি = কীর্তি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬৯৩.
নিচের কোন শব্দের শেষে ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়?
  1. ক) যোগী
  2. খ) জেলে
  3. গ) কিশোর
  4. ঘ) কাঙাল
ব্যাখ্যা
‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয় - যোগী শব্দে। যেমন - যোগিনী।

• বাংলা ভাষায় বহু বিশেষ্য শব্দ ও কিছু বিশেষণ শব্দ রয়েছে যা নরবাচক অথবা নারীবাচক বলে ধরা হয়। আবার এমন কিছু বিশেষ্য-বিশেষণ শব্দ রয়েছে যা দিয়ে নর বা নারী উভয়কে বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণের এই নর-নারীভেদের নাম লিঙ্গ। ব্যাকরণে শব্দের নর ও নারীবাচকতাকে সংক্ষেপে 'পুং' ও 'স্ত্রী' দিয়ে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

প্রত্যয় যোগে নরবাচক শব্দকে নারী বাচক শব্দে রূপান্তর:

-ইনী প্রত্যয়:
বিজয়ী-বিজয়ীনী, যোগী-যোগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী।
-ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙ্গালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
-নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।

উৎস:প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬৯৪.
ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দ-
  1. ক) চকমক
  2. খ) সওগাত
  3. গ) আঁতাত
  4. ঘ) মুচলেকা
ব্যাখ্যা

• তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- বাবা,
- উজবুক,
- কাঁচি,
- কাবু,
- কুর্নিশ,
- কুলি (মজুর),
- কোর্মা,
- খাতুন,
- চকমক,
- তালাশ,
- তােপ,
- বন্দুক,
- বাবুর্চি,
- বেগম,
- মুচলেকা,
- লাশ,
- সওগাত
- দারোগা,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ ইত্যাদি।
• ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- কুপন,
- ডিপো,
- রেস্তোরাঁ,
- আঁতেল,
- ওলন্দাজ,
- দিনেমার,
- কাফে,
- আঁতাত,
- বুর্জোয়া,
- রেনেসাঁস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৯৫.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ কৃদন্ত শব্দ?
  1. ক) উক্তি
  2. খ) শক্তি
  3. গ) ভক্তি
  4. ঘ) শান্তি
ব্যাখ্যা
ক্তি - প্রত্যয় ( ক ইৎ তি থাকে )
গম্ + ক্তি = √গম্ + তি = গতি

বিশেষ নিয়ম
ক্তি - প্রত্যয় যোগ করলে কোনো কোনো ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জন লোপ পায়।
যথা:-
√মন্ + ক্তি = মতি
√রম্ + ক্তি = রতি

খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ- কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ আ-কার হয়।
যেমন:-
√শ্রম্ + ক্তি = শ্রান্তি
√শম্ + ক্তি = শান্তি

গ)'চ' ও 'জ' স্থলে 'ক' হয়।
যেমন:-
√বচ্ + ক্তি = উক্তি
√মুচ্ + ক্তি = মুক্তি
√ভজ্ + ক্তি = ভক্তি

 
নিপাতনে সিদ্ধ:
√ গৈ + ক্তি = গীতি
√সিধ্ + ক্তি = সিদ্ধি
√ বুধ্ + ক্তি = বুদ্ধি
√ শক্ + ক্তি = শক্তি

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ]  
 
৬৯৬.
'কাল তুল্য সাপ' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. নিত্য সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস 
  3. অব্যয়ীভাব সমাস 
  4. বহুব্রীহি সমাস 
ব্যাখ্যা

• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
যেমন-
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৯৭.
'ধোঁকাবাজ' শব্দটিতে কোন প্রত্যয় রয়েছে?
  1. বজ
  2. বাজ
  3. আজ
ব্যাখ্যা
'ধোঁকাবাজি' শব্দটিতে 'বাজ' প্রত্যয় রয়েছে। 

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৯৮.
‘অস্পষ্টতা’ অর্থে ব্যবহৃত উপসর্গ কোনটি?
  1. ক) আবডাল
  2. খ) আড়চোখে
  3. গ) অনামুখো
  4. ঘ) সাজোয়ান
ব্যাখ্যা
আবডাল শব্দে ‘আব’ বাংলা উপসর্গটি অস্পষ্টতা অর্থ প্রকারশ করছে। এরূপ- আবছায়া।
আড়চোখে শব্দে ‘আড়’ বাংলা উপসর্গ বক্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অনামুখো শব্দে ‘অনা’ বাংলা উপসর্গ অশুভ অর্থে এবং সাজোয়ান শব্দে ‘সা’ বাংলা উপসর্গ উৎকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৯৯.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) সাৎ
  2. খ) ইম্
  3. গ) ইত্
  4. ঘ) গর
ব্যাখ্যা
কতগুলো বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় হলো-
আনা (গরিবানা), আনি (বাবুয়ানি), ওয়ান (গাড়োয়ান), খানা (ছাপাখানা), গর (কারিগর), দার (চৌকিদার), বাজ (চালবাজ), সই (মানানসই) ইত্যাদি৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৭০০.
'মাধব' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) মধু + অ
  2. খ) মধু + অব
  3. গ) মা +অব
  4. ঘ) মাধ + অব
ব্যাখ্যা
'মাধব' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় - মধু + অ।
এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য:
১. কৃষ্ণ; হিন্দুদেবতা বিষ্ণু (মাধব হাম পরিণাম নিরাশা-বিদ্যাপতি)।
২. বসন্তকাল। 
৩. বৈশাখ মাস।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।