বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬৭ / ১০০ · ৬,৬০১৬,৭০০ / ১০,০৪৫

৬,৬০১.
'তরঙ্গিত' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

কয়েকটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
• ইল্-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল,
- ঊর্মি + ইল্ = ঊর্মিল,
- ফেন + ইল্ = ফেনিল।

• ইত-প্রত্যয়: উপকরণজাত বিশেষণ গঠনে-
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- তরঙ্গ + ইত = তরঙ্গিত,
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত।

• ইমন্-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে-
- নীল + ইমন = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন = মহিমা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,৬০২.
সহচর শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ধূতি-চাদর
  2. খ) ঘর-বার
  3. গ) আকার-ইঙ্গিত
  4. ঘ) বুক-পিঠ
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।
মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া,
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬০৩.
নিম্নলিখিত কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অপ
  2. আড়
  3. অভি
  4. উপ
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় উপসর্গকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।
৩. বিদেশি উপসর।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

•  খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। 
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৬০৪.
'পদ্মআঁখি' - শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কী হবে?
  1. আঁখিতে পদ্ম যার
  2. পদ্ম রূপ আঁখি
  3. আঁখি পদ্মের ন্যায়
  4. আঁখির মতো পদ্ম
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬০৫.
রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ হলো -
  1. পাঞ্জাবী
  2. দৌহিত্র
  3. রাজপুত
  4. পঙ্কজ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
- যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

যৌগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬০৬.
কোনটি উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ?
  1. ক) প্রতিবাদ
  2. খ) বিলাত ফেরত
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) ছেলেধরা
ব্যাখ্যা
• 'ছেলেধরা' উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস: কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬০৭.
'জুডো' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফরাসি ভাষা
  2. চীনা ভাষা
  3. জাপানি ভাষা
  4. ইংরেজি ভাষা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে, 
• 'জুডো'- জাপানি শব্দ।

• 'জুডো' শব্দের অর্থ : 
- একধরনের জাপানি মল্লযুদ্ধ যাতে প্যাঁচ ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা হয়।
------------------
• আরো কয়েকটি জাপানি শব্দ:
- রিকশা,
- সুনামি,
- ক্যারাটে,
- হাসনুহানা,

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬০৮.
'বজ্জাত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদের পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি। লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। হতে, থেকে, চেয়ে- এসব পঞ্চমী বিভক্তির চিহ্ন।
যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত ইত্যাদি।

এরকম:
কণ্ঠনিঃসৃত, দুখজাত, বোঁটাখসা, স্বর্গচ্যুত, ঋণমুক্ত, কারামুক্ত, কৃষিজাত, খাঁচাছাড়া, গদিচ্যুত, দলস্থাত, বৃত্তচ্যুত, লক্ষ্যচ্যুত, চাকভাঙা, জেলফেরত, দলছুট, পথভ্রষ্ট, বন্ধনমুক্ত, বিক্রয়লখ, বিদেশাগত, মেঘমুক্ত, শাপমুক্ত, রোগমুক্ত, স্কুলপালানো, স্নেহবঞ্চিত, হাতছাড়া ইত্যাদি।

সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহে, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। কোনো কোনো সময় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের ব্যাসবাক্যে 'এর', 'চেয়ে' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬০৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √বদ্‌ + ইন = বাদী
  2. √বাদ্‌ + ইন = বাদী
  3. √ব্যই্‌ + ইন = বাদী
  4. √বাৎ + ইন = বাদী
ব্যাখ্যা

• ইন্ (ণিন্<ণিনি):
- √স্থা + ইন্ = স্থায়িন্ > স্বায়ী,
- √বদ + ইন = বাদিন > বাদী,
এরূপ- পায়ী (স্তন্যপায়ী), গামী (অনুগামী), সন্ন্যাসী (সম্-নি + √অস্ + ইন) ইত্যাদি।
- ইন্ (ঘিণুন্):  প্র-√বস্ + ইন্ = প্রবাসিন্ > প্রবাসী, 
- √যুজ্ + ইন্ = যোগিন্> যোগী, এরূপ- অনুরাগী, বিবেকী ইত্যাদি।
- ঈন (শানচ্): √আস্ + ঈন = আসীন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,৬১০.
কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. আলুসিদ্ধ
  2. শান্তশিষ্ট
  3. হাতঘরি
  4. চতুর্ভুজ
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:
সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ;
- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

অন্যদিকে,
• হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘরি; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; কর্মধারয় সমাস।
• যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট; কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৬,৬১১.
কোনটি বিশেষ্যের বহুবচন নির্দেশ করে না?
  1. দের
  2. গুলো
  3. টি
  4. রা
ব্যাখ্যা
• একবচন:
- যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন:  শিক্ষক ক্লাসে এসেছেন।

• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
- যেমন: মাঝিরা নৌকা চালায়।

• কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।
• কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
- যেমন- গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।
• বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬১২.
'অজমূর্খ' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 যেমন: 
- ভাইবোন,
- তালমাতাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬১৩.
ক্রিয়া প্রকৃতির অন্য নাম কী?
  1. শব্দ
  2. ধাতু
  3. প্রত্যয়
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতি: 
যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।

• প্রকৃতি দুই প্রকার।
যথা -
১. নাম প্রকৃতি; উদাহরণ - হাত + ল = হাতল (বাঁট)। এখানে, হাত - নাম প্রকৃতি।
২. ক্রিয়া প্রকৃতি:
ক্রিয়া প্রকৃতি বা ক্রিয়া মূলের অন্য নাম - ধাতু। 
উদাহরণ - √ চল্‌ + অন্ত = চলন্ত (চলমান)। এখানে, চল্‌ - ক্রিয়া প্রকৃতি।

• প্রত্যয়: 
যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দে 'ইক' একটি প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৬১৪.
কোন শব্দটি ফারসি?
  1. আলমারি
  2. হুলিয়া
  3. বন্দর
  4. ডিপো
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর':
- শব্দটি ফারসি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- সমুদ্র বা নদীর তীরবর্তী স্থান যেখানে নৌযানে পণ্য বোঝাই বা খালাস করা হয়।

অন্যদিকে:
- আলমারি - পর্তুগিজ শব্দ।
- হুলিয়া  - 'আরবি' ভাষার শব্দ।
- 'ডিপো' ফরাসি শব্দ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬,৬১৫.
'তাল ও তমাল' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতিটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে এবং ব্যাসবাক্যে একটি সংযোজক অব্যয় (কখনো বিয়োজক) দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম,
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

অন্যান্য অপশন:
• দ্বিগু সমাস:
- সমাহার বা সমষ্টি বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয় ৷
যেমন:
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা।

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা।

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০১৯ সংস্করণ।

৬,৬১৬.
প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় - 
  1. উপমিত
  2. উপমান
  3. উপমেয়
  4. রূপক
ব্যাখ্যা
• উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
• প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়।
• আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
• উপমান এবং উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৬১৭.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. হিন্দুয়ানি
  2. দ্বিবার্ষিক
  3. দারোয়ান
  4. একসা
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-  দ্বিবর্ষ +ষ্ণিক= দ্বিবার্ষিক। 

------------------
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের কিছু উদাহরণ হলো:

• ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি + ওয়ালা = দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ + ওয়ালা = মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।

• ওয়ান>আন (হিন্দি): গাড়ি + আন = গাড়োয়ান, দার + আন = দারোয়ান।

• আনা>আনি (হিন্দি): মুনশি + আনা = মুনশিয়ানা, বিবি + আনা = বিবিআনা, হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি।

• সা (হিন্দি): পানি + সা = পানসা> পানসে, এক + সা = একসা, কাল (কাল) + সা = কালসা>কালসে।

• গর> কর (ফারসি): কারি + গর = কারিগর, বাজি + কর = বাজিকর, সওদা + গর = সওদাগর।

• দার (ফারসি): তাঁবে + দার = তাঁবেদার, খবর + দার = খবরদার, বুটি + দার = বুটিদার, দেনা + দার = দেনাদার, চৌকি + দার = চৌকিদার, পাহারা + দার = পাহারাদার।

• বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি): কলম + বাজ = কলমবাজ, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ , ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজ, গলা + বাজ + ই = গলাবাজি (বিশেষ্য)।

• বন্দি (বন্দ্-ফারসি): জবান + বন্দি = জবানবন্দি, সারি + বন্দি = সারিবন্দি , নজর + বন্দি = নজরবন্দি।

• 'সই' মতো অর্থে: জুত + সই = জুতসই, মানান + সই = মানানসই, চলন + সই = চলনসই, টেক + সই = টেকসই।

• 'পনা' মতো অর্থে: গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা, বেহায়া + পনা = বেহায়াপনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৬১৮.
ক্রিয়ার দ্বিতীয় অংশকে কী বলে?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) ধাতু
  4. ঘ) ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়: 
(১) ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
(২) ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।

• ধাতু: 
- ক্রিয়ার মূল অংশকে বলা হয় ধাতু।
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায়- একটি ধাতু বা ক্রিয়ামূল অপরটি ক্রিয়াবিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়াবিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা-ই হলাে ধাতু।
- অর্থাৎ ক্রিয়ামুলের আরেক নাম ধাতু।
- ড. এনামুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিয়াপদের যে অবিভাজ্য অংশ এর অন্তর্নিহিত মূল ভাবটির দ্যোতনা করে তাকে ধাতু বলে। 
- ক্রিয়ামূলকে বা ধাতুকে আবার প্রকৃতিও বলা হয়।
- ক্রিয়ার মূল বা ধাতু বােঝাতে (√) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

• ক্রিয়া বিভক্তি: 
- ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলোকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে। 
যেমন,
- পড়ছি (পড়্‌ + ছি); এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।
- পড়বেন (পড়্‌ + বেন); এখানে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়।
- পড়ছিল (পড়্‌ + ছিল); একাহ্নে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বোঝায়। 
উপরের উদাহরণগুলোতে '-ছি', '-বেন', '-ছিল'- এগুলো হলো ক্রিয়াবিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬১৯.
সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর অধিকাংশই কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. তদ্ভব
  2. তৎসম
  3. বিদেশি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা
• বহুবচন:
- যে বচন বা পারিভাষিক শব্দের সাহায্যে একের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে বলা হয় বহুবচন।
- বহুবচনের উদহারণ- মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে , আমাকে দুটি কলম দিন, তিনজন লোক একসঙ্গে গান গাইছে। ইত্যাদি। 
- বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলি, গুলা, গুলো, দিগ, দের, প্রভৃতি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
- সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর অধিকাংশই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬২০.
’তুমি-আমি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• ’তুমি-আমি’ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
--------------------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:

- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন
- 'সোনা-রুপা' সমস্তপদের ব্যাসবাক্য 'সোনা ও রুপা'।
- নিচের বাক্যে সমস্তপদটির প্রয়োগ থেকে এর পূর্বপদ ও পরপদের অর্থের প্রাধান্য বোঝা যাবে:

• দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযোগ ঘটে।
যেমন
- মা ও বাবা = মা-বাবা,
- স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক,
- জমা ও খরচ জমাখরচ,
- হাত ও পা = হাত-পা,
- উনিশ ও বিশ = উনিশ-বিশ,
- তুমি ও আমি = তুমি-আমি,
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে,
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬,৬২১.
নিচের কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ক) সম
  2. খ) দুর
  3. গ) আড়
  4. ঘ) অধি
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• অন্যদিকে: 
•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।


উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।
৬,৬২২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. চুর্ণবিচুর্ণ
  2. চূর্ণবিচূর্ণ
  3. চূনর্বিচুর্ণ
  4. চুর্ণবিচূর্ণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'চূর্ণবিচূর্ণ'
- বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- সম্পূর্ণ চূর্ণিত।
- আলংকরিক অর্থ: সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬২৩.
'ইস্তিরি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. পর্তুগিজ
  2. ইংরেজি
  3. ফরাসি
  4. ইতালিয়ান
ব্যাখ্যা
• 'ইস্তিরি' শব্দটি 'পর্তুগিজ' ভাষা থেকে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- কাপড় মসৃণ করার জন্য ব্যবহৃত ধাতুনির্মিত সরঞ্জামবিশেষ,
- ধোয়া বা কোঁচকানো জামাকাপড় মসৃণ করার কাজ।

পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ:
আলপিন,
বালতি,
আনারস,
আলমারি,
গির্জা,
গুদাম,
চাবি, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬২৪.
বিদেশি প্রত্যয়যুক্ত শব্দ নয়-
  1. বাড়িওয়ালা
  2. গাড়োয়ান
  3. মুনশিয়ানা
  4. কেষ্টা
ব্যাখ্যা
• বিদেশি প্রত্যয়যুক্ত শব্দ নয়- কেষ্টা।
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ: 'কেষ্ট + আ = কেষ্টা'।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ওয়ালা > আলা (হিন্দি) প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: বাড়িওয়ালা।
- ওয়ান > আন (হিন্দি) প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: গাড়োয়ান। 
- আনা > আনি (হিন্দি) প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: মুনশিয়ানা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬,৬২৫.
’মোড়ক’ এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মূড় + অক
  2. √মুড় + ওক
  3. √মুড় + অক
  4. √মুর + অক
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ।
যেমন 'পড়ুয়া' ও 'নাচুনে' কৃদন্ত পদ।

তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়।
যেমন
- √গম্+অন = গমন, √কৃ+তব্য = কর্তব্য।

• অক-প্রত্যয় যোগে সাধিত শব্দ:
√মুড় + অক = মোড়ক।
√ঝল্ + অক = ঝলক।

• অন্ত-প্রত্যয়:

বিশেষণ গঠনে 'অন্ত' প্রত্যয় হয়।
যেমন
√উড় + অন্ত = উড়ন্ত,
√ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি -২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষ।
৬,৬২৬.
নিচের কোন শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম?
  1. শয়ন, গুণবান
  2. গায়ক, বাঁশি
  3. পাঞ্জাবি, অসুখ
  4. চিকামারা, মন্দির
ব্যাখ্যা
• ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম শব্দগুচ্ছ - শয়ন, গুণবান।

যৌগিক শব্দ:

- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। 
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান

অন্যদিকে, 
- বাঁশি, পাঞ্জাবি, মন্দির এবং রূঢ়ি শব্দ।
- অসুখ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬২৭.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) কাঠ
  2. খ) চাঁদ
  3. গ) যন্ত্র
  4. ঘ) খোকা
ব্যাখ্যা
• যন্ত্র - তৎসম শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = √যন্ত্র+অ।
- এর অর্থ: বিবিধ দ্রব্যসামগ্রী তৈরির হাতিয়ার।

অন্যদিকে,
চাঁদ = সংস্কৃত শব্দ চন্দ্র থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
কাঠ = সংস্কৃত শব্দ কাষ্ঠ থেকে উদ্ভূত তদ্ভব শব্দ।
'খোকা' = তুর্কি ভাষা থেকে আগত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৬২৮.
ড. সুনীতিকুমারের মতে, প্রাদি সমাস কোন সমাসের রূপান্তর?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি', 
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত = প্রভাত,
- পরি যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
• ড. সুনীতিকুমারের মতে, প্রাদি সমাস তৎপুরুষ সমাসের রূপান্তর।

• ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, প্রাদি সমাস অব্যয়ীভাব সমাসের অন্য নাম।

• ড. হায়াৎ মামুদের মতে, তৎপুরুষ, নিত্য সমাস ও অব্যয়ীভাব - এর সঙ্গে প্রাদি সমাসের সম্পর্ক দেখা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬২৯.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস?
  1. ক) ভালমন্দ
  2. খ) ভালমন্দ
  3. গ) পঞ্চনদ
  4. ঘ) দেশান্তর
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য (সর্বদা) সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- এ সমাসে ব্যাসবাক্যের প্রথমে বা প্রথম শব্দটি ‘অন্য’ বা ‘কেবল’ শব্দটি বসে।
যেমন:
অন্য দেশ - দেশান্তর,
অন্য গ্রাম - গ্রামান্তর,
কেবল দর্শন - দর্শনমাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৩০.
'হাপিত্যেশ' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. হিন্দি
  3. ফারসি
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা
• 'হাপিত্যেশ' শব্দটি 'হা' বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত।
- 'হা' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নিম্নরূপ: হাপিত্যেশ, হাভাতে, হাঘরে, হাহুতাশ।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

হিন্দি উপসর্গ:
- হর, হরেক।

ফারসি উপসর্গ:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৩১.
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ-
  1. বাড়িওয়ালা
  2. মাতা
  3. নীলিমা
  4. মহিমা
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
তৃচ্-প্রত্যয় (‘চ’ লোপ পেয়ে ‘তৃ’ অবশিষ্ট থাকে): প্রথমা একবচনে ‘তৃ’ স্থলে ‘তা’ হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা;
- √ক্রী + তৃচ্ = ক্রেতা;
- √মা + তৃচ্ = মাতা।

অন্যদিকে,
- ‘বাড়িওয়ালা’ বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় হলো 'নীলিমা' ও 'মহিমা'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৬৩২.
"সাত-সতের" কোন সমাস সাধিত?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন,
- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ, সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৬৩৩.
কোনটি তৎসম শব্দ নয়?
  1. মিত্র
  2. গৃহিণী
  3. নিমন্ত্রণ
  4. পরাত
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত / তৎসম ভাষা হতে আগত শব্দ:
- মিত্র,
- গৃহিণী,
- নিমন্ত্রণ।

অন্যদিকে,
- 'পরাত' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত।

আরো কিছু সংস্কৃত / তৎসম:
আকাশ,
মনুষ্য,
হস্ত,
পদ,
মস্তক,
চক্ষু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৩৪.
ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বুঝাতে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. ক) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস:
ক্রিয়ার পারস্পরিকতা বুঝাতে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
- এ সমাসে পূর্বপদে আ এবং পরপদে ই যুক্ত হয়।
যেমন-
হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
কানে কানে যে কথা = কানাকানি 
চুলে চুলে যে লড়াই = চুলাচুলি
গালে গালে যে লড়াই = গালাগালি
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি
ঘুষিতে ঘুষিতে যে লড়াই = ঘুষাঘুষি
কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৩৫.
'খয়ের' ও 'বাজে' — এই দুটি কোন জাতীয় উপসর্গ?
  1. ফারসি
  2. ইংরেজি
  3. আরবি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৩৬.
'পাভেল মজার মজার কথা বলে।' বাক্যে 'মজার মজার' কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. অনুসর্গ দ্বিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,৬৩৭.
'কাঁচকলা' - শব্দটি কোন সমাসের সমস্তপদ?
  1. বহুব্রীহি সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস 
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৩৮.
নিচের কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. সংসার
  2. ব্যথিত
  3. নিষ্ফল
  4. উৎপাদন
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে ‘ক্ত’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
ক্ত- প্রত্যয় যুক্ত হলে নিন্মলিখিত ধাতুর অন্ত্যস্বর ‘ই’-কার হয়।
যেমন:
• √পঠ + ক্ত; √পঠ +ই + ত্ = পঠিত।

এরূপ-
• √ক্ষুধ্ + ত = ক্ষুধিত।
• √খণ্ড্ + ত = খণ্ডিত।
• √ব্যাথ্ + ত = ব্যথিত।
• √শিক্ষ্ + ত = শিক্ষিত।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত উপসর্গ ‘উৎ’ যোগে গঠিত শব্দ - উৎপাদন।
• বিসর্গ সন্ধি যোগে গঠিত শব্দ- নিঃ + ফল = নিষ্ফল।
• ব্যঞ্জন সন্ধি যোগে গঠিত শব্দ- সম্ + সার = সংসার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৩৯.
নিচের কোন শব্দটি ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. আগাছা
  2. বরখাস্ত
  3. বাজেখরচ
  4. হররোজ
ব্যাখ্যা
• ফারসি ‘বর’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - বরখাস্ত।

• বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'আগাছা' শব্দটি - বাংলা উপসর্গ 'আ'যোগে গঠিত শব্দ
- 'বাজেখরচ' শব্দটি - আরবি উপসর্গ ‘বাজে’ যোগে গঠিত শব্দ।
- 'হররোজ' শব্দটি - উর্দু- হিন্দি উপসর্গ 'হর' যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৪০.
বাঁধ + অন = বাঁধন কোন শব্দ?
  1. ক) কৃদন্ত শব্দ
  2. খ) তদ্ধিতান্ত শব্দ
  3. গ) মৌলিক শব্দ
  4. ঘ) মৌলিক শব্দ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।

অন্- প্রত্যয়:- 
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন:-
√ নাচ্ + অন = নাচন, 
√ কাঁদ্ + অন = কাঁদন, 
√ বাঁধ + অন = বাঁধন, 
√ চল্ + অন = চলন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ। 
৬,৬৪১.
‘মোড়ক’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মুড়্ + ওক
  2. √মোড়্ + ওক
  3. √মুড়্ + অক
  4. √মোড় + আক
ব্যাখ্যা
⇒ ‘অক’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে:
- √ঝল্ + অক = ঝলক;
- √মুড়্ + অক = মোড়ক।

এরূপ ‘আ’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √খা্ + অন = খাওন;
- √ছা্ + অন = ছাওন;
- √দে্ + অন = দেওন।

‘অনা’ কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
- √দুল্+ অনা = দুলনা> দোলনা।
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৪২.
নিচের কোনটি উপসর্গ নয়?
  1. রাম
  2. ঊন
  3. টা
  4. কদ
ব্যাখ্যা
• কদ, ঊন, রাম - তিনটিই বাংলা উপসর্গ।
- 'টা'  একটি নির্দেশক।  
--------------------------- 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।

যথা:
-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়। 

• বিদেশি উপসর্গ: 
- অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৪৩.
'স্বর্গ-নরক' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. বিপরীতার্থে
  2. বিরোধার্থে
  3. মিলনার্থে
  4. সমার্থে
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।

বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্ব ও পরপদের মধ্যে আপাত বিরোধ আছে বলে মনে হয়, তাকে বিরোধাত্মক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
আকাশ-পাতাল, দা-কুমড়ো, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৪৪.
যৌগিক শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. মধুর, গোলাপ 
  2. দৌহিত্র, তৈল
  3. জলধি, গবেষণা
  4. গায়ক, বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।

অন্যদিকে,
মৌলিক শব্দ- গোলাপ। 
রূঢ়ি শব্দ - তৈল, গবেষণা।
যোগরূঢ় শব্দ - জলধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৬৪৫.
নিচের কোন শব্দটি চীনা শব্দ থেকে আগত?
  1. চাকু
  2. চাকর
  3. সাম্পান
  4. চাকা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: গ) সাম্পান।

• সাম্পান (sampan) শব্দটি চীনা ভাষা থেকে এসেছে। এটি চীনা ভাষার "সান পান"/সাংপাং (san pan) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "তিনটি তক্তা" বা "তিন ফলক বিশিষ্ট ছোটো নৌকা"। এটি একধরণের ছোট নৌকার নাম যা প্রধানত বাংলাদেশ, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য শব্দগুলির উৎস:
চাকু: তুর্কি ভাষা থেকে আগত।
চাকর: ফারসি ভাষা থেকে আগত।
চাকা: তদ্ভব শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৪৬.
'সাথী' শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে
ক) পুংলিঙ্গ
খ) স্ত্রীলিঙ্গ
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ 

যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে, 
উভয়লিঙ্গের উদাহরণ-  শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, কবি ইত্যাদি। 
'সাথী' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তাই 'সাথী' শব্দটি উভয় লিঙ্গ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৪৭.
জাপানি ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. ক) নথি
  2. খ) হারিকিরি
  3. গ) রুইতন
  4. ঘ) হরতন
ব্যাখ্যা
রিক্সা, হারিকিরি জাপানি শব্দ।
হরতন, রুইতন এগুলো ওলন্দাজ শব্দ।
নথি হচ্ছে File এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,৬৪৮.
‘লেজ - লেজুড়’ শব্দটিতে ‘উড়’ প্রত্যয়টি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্পর্কিত অর্থে
  2. খ) বিশেষণ গঠনে
  3. গ) সংশ্লিষ্ট অর্থে
  4. ঘ) অর্থহীনভাবে
ব্যাখ্যা

বাংলা তদ্ধিত প্রতয় - এর ব্যবহারঃ

- সম্পর্কিত অর্থে উয়া/ওয়া>ও প্রত্যয় -- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া; জল + উয়া = জলুয়া>জলো (দুধ)।
- অর্থহীনভাবে 'উড়' প্রত্যয় -- লেজ - লেজুড়।
- বিশেষণ গঠনে 'আটিয়া/টে' - প্রত্যয় -- তামা - তামাটিয়া > তামাটে; ঝগড়া - ঝগড়াটে।
- বিশেষণ গঠনে 'উক' - প্রত্যয় -- লাজ - লাজুক; মিশ - মিশুক; মিথ্যা - মিথ্যুক।

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।

৬,৬৪৯.
কোনটি নিত্য সমাসের সমস্তপদ?
  1. ক) সেতার
  2. খ) প্রত্যহ
  3. গ) গ্রামান্তর
  4. ঘ) সহোদর
ব্যাখ্যা
'গ্রামান্তর'- নিত্য সমাসের সমস্তপদ।

নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। 
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৫০.
'বেকার' শব্দের 'বে' উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গ:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৬৫১.
‘খেদমত’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ‘খেদমত’ — আরবি ভাষার শব্দ।

• ‘খেদমত’ শব্দের অর্থ:
- সেবাযত্ন,
- পরিচর্যা।

• আরো কিছু আরবি শব্দ:
- খেতাব,
- খেলাপ,
- দালাল,
- দিরহাম,
- নগদ,
- তবলা,
- আসামি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৫২.
'সাহিত্যিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. সাহিত্য + ষ্ণক
  2. সাহিত্য + ষ্ণীক
  3. সাহিত্য + ঈক
  4. সাহিত্য + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা

- 'ষ্ণিক' প্রত্যয়যোগে কয়েকটি শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়ঃ
• সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক,
• সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক,
• বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক,
• বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক,
• হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৫৩.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) মামাবাড়ি
  2. খ) গ্রামছাড়া
  3. গ) গাছপাকা
  4. ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
- ধানের খেত = ধানখেত
- পথের রাজা = রাজপথ
- গোলায় ভরা = গোলাভরা
- গাছে পাকা = গাছপাকা
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
- রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
- গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া। 

গ. কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।  
যেমন-
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬৫৪.
“ঘরজামাই” কোন ধরনের সমাস?
  1. রূপক কর্মধারয়
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
“ঘরজামাই” হচ্ছে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন-
ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত,
হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি,
ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই,
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা। 

• কর্মধারয় সমাস
• যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। যেমন-
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে। যেমন-
- তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা,
- চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৬,৬৫৫.
নিত্য সমাস সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুতাপ
  2. উদ্বেল
  3. কালসাপ
  4. পরাৎপর
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন -
অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
(বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে,
প্রাদি সমাস সাধিত শব্দ - অনুতাপ, উদ্বেল।
অলুক সমাস সাধিত শব্দ - পরাৎপর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৫৬.
অপকর্ম’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) তদ্ভব
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) খাঁটি বাংলা
  4. ঘ) বিদেশি
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ ‘অপ’ যোগে নিকৃষ্ট অর্থে - অপকর্ম শব্দটি গঠিত।

⇒ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

- [বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয় সেই শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা আর সেই শব্দটি তৎসম হলে উপসর্গটিও তৎসম হয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৫৭.
ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম হলে কোন ধরনের শব্দ হয়?
  1. রূঢ়ি শব্দ 
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ,
শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি। 'দৌহিত্র' শব্দটি 'দুহিতা' (কন্যা) থেকে উদ্ভূত, যা নাতিকে নির্দেশ করে।
- চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৫৮.
'গরিব' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
গরিব (বিশেষণ)
-
আরবি শব্দ।
অর্থ:
- দরিদ্র,
- ধনহীন,
- দীন,
- কাঙাল,
- বিনীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৫৯.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ গঠিত হয়?
  1. উপসর্গ যোগে
  2. প্রত্যয় যোগে
  3. সমাস সাধিত হয়ে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১)
৬,৬৬০.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. মিশাল
  2. শুনানি
  3. দাঁতাল
  4. মাতাল
ব্যাখ্যা

• বাংলা ”আই-তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: (বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে): দাঁত- দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল,

অন্যদিকে,
• কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
√শুন্ + আনি=শুনানি।
√মাত্ + আল = মাতাল,
√মিশ্ + আল =মিশাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৬৬১.
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনটি?
  1. মণ্ডলী
  2. আবলি
  3. বৃন্দ
  4. গণ
ব্যাখ্যা

অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, গুচ্ছ, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
যেমন:
- পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
যেমন: - গণ; বৃন্দ; মণ্ডলী; বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৬,৬৬২.
উপসর্গ সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে
  2. শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে
  3. নিজস্ব অর্থবাচকতা আছে
  4. শব্দের আগে বসে
ব্যাখ্যা
- উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা নেই।

• উপসর্গ:

- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
 যেমন: অজানা (অ + জানা), বেতার (বে + তার) প্রভৃতি শব্দের 'অ', 'বে' হলো উপসর্গ।

উপসর্গের বৈশিষ্ট্য:
- ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে।
- অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে।
- নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করে।
- শব্দের অর্থ সম্প্রসারিত করে।
- শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে।
- শব্দের অর্থ পরিপূর্ণ করে। 
- শব্দের অর্থের সীমা সংকুচিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৬৩.
দুটি বিশেষণ পদ দ্বারা গঠিত সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. মৌলভিসাহেব
  2. সুস্থসবল
  3. দুঃশাসন
  4. দাদাভাই
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী,
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে। সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু
উদাহরণ:
• (বিশেষণ+ বিশেষ্য):
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

• (বিশেষণ+ বিশেষণ):
- যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)।

• (বিশেষ্য + বিশেষ্য):
- যিনিই দাদা তিনিই ভাই = দাদাভাই,
- যিনিই মৌলভি তিনিই সাহেব = মৌলভিসাহেব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৬৪.
‘মিশুক’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা তদ্ধিত ‘উক-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- লাজ + উক = লাজুক;
- মিশ + উক = মিশুক;
- মিথ্যা + উক = মিথ্যুক।

এরূপ কিছু বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় হলো:
• তদ্ধিত ‘উ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- ঢাল + উ = ঢালু;
- কল + উ = কলু।

• তদ্ধিত ‘উয়া/ওয়-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত শব্দগুলো হলো:
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া;
- জল + উয়া = জলুয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৬৫.
'গায়ে - হলুদ' কোন সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক বহুব্রীহি
  3. গ) অলুক দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
'গায়ে - হলুদ' হলো অলুক বহুব্রীহি সমাস৷
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোন পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়৷
যথা - মাথায়পাগড়ি, হাতে - খড়ি, গায়ে - পড়া, মাথায় - ছাতা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি
৬,৬৬৬.
'মোল্লা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

মোল্লা (বিশেষ্য)

- আরবি শব্দ।
অর্থ:
- আরবি ভাষা ও ইসলামি শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
- পদবিবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৬৭.
খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৮টি
  2. ২০টি
  3. ২২টি
  4. ২৩টি
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ - ২১টি।

উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
অন্যদিকে,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গের সংখ্যা ২০টি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৬৮.
নিচের কোনটি তুর্কি শব্দ?
  1. ক) খারিজ
  2. খ) খাতুন
  3. গ) আসামি
  4. ঘ) নগদ
ব্যাখ্যা
• তুর্কি শব্দ - খাতুন

অন্যান্য তুর্কি শব্দ হলো: উজবুক, উর্দু, কঞ্চি, কুলি, কোর্মা, কাঁচি, খাতুন, বাবা, চকমকি, বাহাদুর, বেগম, বোঁচকা, সওগাত, চুকলি, তালাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৬,৬৬৯.
দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি হয়-
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৬৭০.
'চৈতন' শব্দটির উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে?
  1. চেতনা
  2. চৈতন্য
  3. চিন্তা
  4. চৈত
ব্যাখ্যা

• 'চৈতন' শব্দটির উৎপত্তি 'সংস্কৃত / তৎসম' 'চৈতন্য' শব্দ থেকে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মুণ্ডিত মস্তকে রেখে দেওয়া চুলের গোছা, টিকি।

তৎসম শব্দ:
-যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে।
- কিছু তৎসম শব্দ:
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- হস্ত,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৭১.
ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) কড়কড়
  2. খ) মরমর
  3. গ) নরনর
  4. ঘ) দরদর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

এই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দগুলো বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, 'সে সকল শব্দ ভাষা হইতে বাদ দিলে বঙ্গভাষার বর্ণনাশক্তি নিতান্তই পঙ্গু হইয়া পড়ে।” 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
অনুরূপভাবে, কড়কড় (বিশেষ্য) - মেঘগর্জন ধ্বনি; বজ্রপাতের শব্দ৷

৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

- কড়কড় (বিশেষ্য) - মেঘগর্জন ধ্বনি; বজ্রপাতের শব্দ৷
- মরমর (বিশেষ্য) - শুষ্ক পত্রাদির ধ্বনি।
উভয়ই ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ। প্রশ্নে একাধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৬৭২.
মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি ছিলেন-
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. ফররুখ আহমদ 
  3. আহসান হাবীব 
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য(১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 

-  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন। ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। এ বছর আকাল নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।

- পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

- রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতার বৈপ্লবিক ভাবধারাটি যাঁদের সৃষ্টিশীল রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে, সুকান্ত তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতার ছন্দ, ভাষা, রচনাশৈলী এত স্বচ্ছন্দ, বলিষ্ঠ ও নিখুঁত যে, তাঁর বয়সের বিবেচনায় এরূপ রচনা বিস্ময়কর ও অসাধারণ বলে মনে হয়।

- ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয় ।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৭৩.
নিচের কোনটি নিপাতনে বহুব্রীহি সমাস?
  1. মাথায়পাগড়ি
  2. পন্ডিতমূর্খ
  3. অজ্ঞান
  4. কানাকানি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাস কোনাে নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায় না, তাকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
- দুই দিকে অপ যার = দ্বীপ।
- অন্তর্গত অপ(জল) যার = অন্তরীপ।
- নরাকারের পশু যে = নরপশু।
- জীবিত থেকেও যে মৃত = জীবন্মৃত।
- পণ্ডিত হয়েও যে মূর্খ = পণ্ডিতমূর্খ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মাথায়পাগড়ি যার= মাথায়পাগড়ি। এটি অলুক বহুব্রীহি।
• নেই জ্ঞান যার - অজ্ঞান। এটি ন্ঞ বহুব্রীহি সমাস। 
• কানে কানে যে কথা= কানাকানি। ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৭৪.
অর্থমূলক শব্দ বিভাজন কোনটি?
  1. ক) মৌলিক শব্দ
  2. খ) তৎসম শব্দ
  3. গ) সাধিত শব্দ
  4. ঘ) রূঢ়ী শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে শব্দকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা—

১. যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
- যেমন: গুণবান, পাঠক, মিতালি, ভাড়াটে, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক, চরণ, পক্ষী ইত্যাদি।

২. রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ: যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।
- যেমন: অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি ।

৩। যোগরূঢ় শব্দ: সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
- যেমন: মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরোজ ইত্যাদি।
 
তথ্যসূত্র: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৬৭৫.
'কাজলকালো' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
'কাজলকালো'- উপমান কর্মধারয় সমাস।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন-
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয় তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয় এগুলকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ 
                              
• রুপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন - বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬,৬৭৬.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. নাক
  2. লাল
  3. গোলাপী
  4. তিন
ব্যাখ্যা
• 'গোলাপী' হচ্ছে সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

অন্যদিকে:
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ -সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৭৭.
সমাস গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) নির্জল
  2. খ) নিশ্বাস
  3. গ) নির্ভুল
  4. ঘ) নিশঙ্ক
ব্যাখ্যা
নিশ্বাস শব্দটি বিসর্গ সন্ধিগঠিত। এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো- নিঃ + শ্বাস = নিঃশ্বাস। অন্যদিকে নির্জল = জলের অভাব হলো অব্যয়ীভাব সমাস। নির্ভুল = নি (নাই) ভুল যার এবং নিশঙ্ক = নাই শঙ্কা যার হলো নঞবহুব্রীহি সমাস। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৬৭৮.
অর্থানুসারে 'মহাযাত্রা' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক 
  2. সাধিত
  3. যোগরূঢ়
  4. মিশ্র 
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
• পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
• মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
• জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, 
অর্থানুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়- সাধিত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৬৭৯.
'চাবাগান' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'সংখ্যালঘু' = সংখ্যায় লঘু - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:

- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট= খেয়াঘাট,
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ,
- দেশের সেবা = দেশসেবা,
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর,
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত,
- ছবির ঘর = ছবিঘর,
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৬৮০.
'উপদেশ' শব্দের 'উপ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. সদৃশ
  2. ক্ষুদ্র
  3. বিশেষ
  4. সম্যক
ব্যাখ্যা
• 'উপদেশ' শব্দের 'উপ' উপসর্গটি “সম্যক” অর্থ প্রকাশ করে।

• 'সম্যক' অর্থে 'উপ' উপসর্গ সাধিত শব্দের আরো কিছু উদাহরণ:
- উপকরণ, উপক্রম, উপচার, উপহার।

• 'উপ' উপসর্গ দ্বারা গঠিত কিছু শব্দ:
- উপসাগর, উপগ্রহ এবং উপনেতা শব্দে — ক্ষুদ্র অর্থে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
- উপকূল, উপকন্ঠ শব্দে - সামীপ্য অর্থে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
- উপদ্বীপ, উপবন- শব্দে সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০১৯), ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৮১.
'খানদানি' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. গুজরাটি
  2. ফরাসি
  3. পর্তুগিজ
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'খানদানি' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।



• ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৮২.
‘ছেলেটা কোথায়?' বাক্যে ‘ছেলে’ শব্দের শেষে ‘টা' এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) শব্দ প্রত্যয়
  3. গ) পদাশ্রিত নির্দেশক
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• ‘ছেলেটা কোথায়?' বাক্যে ‘ছেলে’ শব্দের শেষে ‘টা' পদাশ্রিত নির্দেশক। 

• যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বােঝায়, সেগুলােকে নির্দেশক (পদাশ্রিত নির্দেশক) বলে।
যেমন - -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু। 

-টা, -টি
বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে টা, -টি নির্দেশক বসে।
এর দুটি রূপান্তর: -টো ও টে।
যেমন:
বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
৬,৬৮৩.
প্রচুর + য = প্রাচুর্য; কোন প্রত্যয়?
  1. কৃৎ প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত 'য' প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপদিকের অন্তে স্থিত অ, আ, ই, ঈ ইত্যাদি লোপ পায়।
যেমন -
- সম্‌ + য = সাম্য;
- কবি + য = কাব্য;
- মধুর + য = মাধুর্য;
- প্রাচী + য = প্রাচ্য;
- প্রচুর + য = প্রাচুর্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৮৪.
কোনটি পুরুষ ও স্ত্রীবাচক উভয়ই বোঝায়?
  1. পাখি
  2. বাঘ
  3. মোরগ
  4. মরদ
ব্যাখ্যা
• পাখি -পুরুষ ও স্ত্রীবাচক উভয়ই বোঝায়।

• কতগুলো বাংলা শব্দে পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়।
যেমন-
- জন,
- পাখি,
- শিশু,
- সন্তান,
- শিক্ষিত,
- গুরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বাঘ - বাঘিনী;
- মোরগ - মুরগী;
- মরদ - জেনানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৬৮৫.
‘চোঙ্গা’ কোন শব্দ?
  1. ক) তৎসম,
  2. খ) অর্ধতৎসম
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) দেশি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমনঃ কোল,মুণ্ডা প্রভৃতি) ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত রয়েছে। এসব শব্দকে দেশি শব্দ বলে। যেমনঃ কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, কুড়ি, পেট, চুলা, ঝাঁটা, ঝোল, ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই। এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৮৬.
উপসর্গকে ইংরেজি ব্যাকরণে কী বলে?
  1. ক) Suffix
  2. খ) Prefix
  3. গ) Affix
  4. ঘ) None of them
ব্যাখ্যা
উপসর্গকে ইংরেজী ব্যাকরণে Prefix বলে।
বিভক্তি ও প্রত্যয়কে ইংরেজি ব্যাকরণে Suffix বলে।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৬৮৭.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ নয়?
  1. জলধি
  2. রাজপুত
  3. পঙ্কজ
  4. সন্দেশ
ব্যাখ্যা

• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমনঃ
- জলধিঃ 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রাঃ 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুতঃ 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজঃ পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- অপরদিকে সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৮৮.
কোনটি দেশি শব্দ নয়?
  1. ক) আড়ং
  2. খ) খিদে
  3. গ) চোঙ্গা
  4. ঘ) টোপর
ব্যাখ্যা
অর্ধতৎসম শব্দগুলো হলো- অদ্ধ, নেমন্তন্ন, বোষ্টম, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, চম্মআর, হত্থ, খিদে, চন্দর, পত্তর, পিরিতি, মিত্তির, সরুজ, জ্যোছনা ইত্যাদি।
আড়ং, আলু, পেট, চুলা, ডাব, কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি হলো দেশি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৮৯.
‘পাতিলেবু’ শব্দে পাতি উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশিষ্ট
  2. ক্ষুদ্র
  3. বড়
  4. ভিন্নতা
ব্যাখ্যা
• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ। 
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘ক্ষুদ্র’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু ইত্যাদি শব্দে।

---------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৯০.
'বর্ধমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ বর্ধ + মান
  2. √ বৃদ্ধি + মান
  3. √ বৃধ + মান
  4. √ বর্ধন + মান
ব্যাখ্যা
• 'বর্ধমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ বৃধ + মান। 

• বর্ধমান (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ বৃধ্‌ + মান। 
- অর্থ: বাড়ছে এমন, বৃধিশীল। 
----------------
তবে, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে,  
'বর্ধমান' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হচ্ছে '√বৃধ্ + শানচ্' দেওয়া আছে।  

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৯১.
উপসর্গযোগে সব শব্দই-
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস 
  3. তৎপুরুষ সমাস 
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
'অব্যয়ীভাব' অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদে অব্যয় বা উপসর্গ এবং পরণদে বিশেষ্য থাকে। যেমন: কুলের সমীপে উপকূল, দিন দিন প্রতিদিন ইত্যাদি।
অথবা, পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয় বা উপসর্গের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। যেহেতু 'উপসর্গ'ও এক ধরনের অব্যয় তাই উপসর্গযোগে সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন:
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু),
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে প্রঅথবা, যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সঙ্গে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম;
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাস:
'ব্রীহি' মানে ধান। 'বহুব্রীহি' মানে 'বহু ধানা নয়- 'বহু ধান আছে যার এমন অবস্থাসম্পন্ন কোনো মানুষ'। যে সমাসে সমস্যমান পদ দুটির কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অতিরিক্ত অন্য কোনো অর্থ বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানহারে প্রতীয়মান হয় তাকে 'বহুব্রীহি' সমাস বলে।
যেমন:
- দশ আনন যার = দশানন।

• তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। আরো বিস্তৃতভাবে বললে বলা যায়, পূর্বপদে কর্ম প্রভৃতি কারকের বিভক্তিস্থানীয় অনুসর্গযুক্ত পদের সঙ্গে অথবা সম্মন্যপদের সঙ্গে সমাস হয়ে যদি পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকে তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানখেত,
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৯২.
কোন শব্দটি তামিল ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) কুচ্ছিত
  2. খ) কুড়ি
  3. গ) পেট
  4. ঘ) ডিপো
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমনঃ কোল, মুণ্ডা প্রভৃতি) ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান বাংলায় রক্ষিত রয়েছে।
এসব শব্দকে দেশি শব্দ বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।
যেমনঃ
কুড়ি (বিশ) - কোলভাষা।
পেট (উদর) - তামিল ভাষা।
চুলা (উনুন) - মুণ্ডারী ভাষা।
- এরূপঃ কুলা, গঞ্জ, চোঙগা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, ইত্যাদি।

অপরদিকে,
- কুচ্ছিত শব্দটি অর্ধ-তৎসম শব্দ।
- ডিপো শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে আগত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৯৩.
‘মুক্তি’ এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি/
  1. ক) √মুচ্ + ক্তি
  2. খ) √মুহ + ক্তি
  3. গ) √মুক্‌ + ক্তি
  4. ঘ) √মুখ্ + ক্তি
ব্যাখ্যা
’মুক্তি’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- '√ মুচ্ + ক্তি'।

• ‘ক্তি’ একটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ‘ক্তি’ সংযুক্ত শব্দের শেষে যদি ‘চ/ জ’ থাকে তাহলে তা ‘ক’ হয়ে যায়। 
যেমন:
√মুচ্‌ + ক্ত = মুক্ত, 
√ভজ্‌ + ক্ত = ভক্ত, 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬,৬৯৪.
সমাসে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি পদের নাম কী?
  1. সমস্ত পদ
  2. পরপদ
  3. সমস্যমান পদ
  4. বিশ্লেষণপদ
ব্যাখ্যা
• সমস্যমান পদ:
- যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।

এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬৯৫.
"ঈশ্বর" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ঈশ্ + বর
  2. √ঈশ্ + অর
  3. √ঈশ্ + র
  4. √ঈশ্ + ইষ্ণু
ব্যাখ্যা
কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয়:

ইষ্ণু-প্রত্যয়:
√চল্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।

বর-প্রত্যয়:
√ঈশ্ + বর = ঈশ্বর,
√ভাস্ + বর = ভাস্বর।

র-প্রত্যয়:
√হিন + স্ + র = হিংস্র,
√নম্ + র = নম্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৯৬.
'বাঁশি' কোন ধরনের শব্দ? 
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ়ি 
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
• বাঁশ: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন-বাদাম-তেল।
• প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৬৯৭.
"গররাজি" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. উর্দু
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
• "গররাজি" শব্দটি 'আরবি' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।

'গর্' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- গরমিল, গরহাজির, গররাজি

আরবি উপসর্গ:

- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৯৮.
'৯৩' এর সংখ্যাবাচক শব্দ কোনটি?
  1. নবনবতিতম
  2. নবতিতম
  3. উননবতিতম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• '৯৩' এর সংখ্যাবাচক শব্দ - ত্রিনবতিতম।

• ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু ‘তম’ প্রত্যয় যােগ করা হয়।
যথা: 
• উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম),
• বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম),
• একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম),
• আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম),
• উনপঞ্চাশতম বা ঊনপঞ্চাশত্তম (৪৯তম),
• আশিতম বা অশীতিতম (৮০তম),
• নব্বইতম বা নবতিতম (৯০তম),
• নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি) ২০২১ সংস্করণ।
৬,৬৯৯.
'ছায়াশীতল' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- ছায়া দ্বারা শীতল = ছায়াশীতল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৭০০.
অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) তেপায়া
  2. খ) গায়ে-পড়া
  3. গ) গায়ে হলুদ
  4. ঘ) একচোখা
ব্যাখ্যা
অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনাে পরিবর্তন হয় না, তাকে বলা হয় অলুক বহুব্রীহি সমাস।
- এ সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন-
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায় পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,
- হাতে ছড়ি যার = হাতে-ছড়ি,
- কানে কলম যার = কানে-কলম,
- গায়ে পড়ে যে = গায়ে-পড়া,
- হাতে বেড়ি যার = হাতে-বেড়ি,
- মুখে ভাত যার = মুখে-ভাত,
- কানে খাটো যে = কানে-খাটো ইত্যাদি। 

তিন পায়া যার = তেপায়া - সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
এক দিকে চোখ বা দৃষ্টি যার = একচোখা - প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস
গায়ে হলুদ দেয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = গায়ে হলুদ - মধ্যপদলােপী বহুব্রীহি সমাস

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।