বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬৩ / ১০০ · ৬,২০১৬,৩০০ / ১০,০৪৫

৬,২০১.
'হজ্জযাত্রা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) ৩য়া তৎপুরুষ
  2. খ) ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. গ) ৫মী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ৭মী তৎপরুষ
ব্যাখ্যা
হজের জন্য যাত্রা = হজ্জযাত্রা, ৪র্থী তৎপুরুষ এর উদাহরণ।

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থ বিভক্তি (কে, রে, জন্য, তরে, নিমিত্ত) লােপের মাধ্যমে যে সমাস হয়, তাকে বলা হয় চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের জন্য বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা,
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা,
- পাগলের নিমিত্তে গারদ = পাগলাগারদ,
- মরণের নিমিত্তে কাঠি = মরণকাঠি,
- শিশুর জন্য সাহিত্য = শিশুসাহিত্য,
- শয়নের নিমিত্তে কক্ষ = শয়নকক্ষ প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২০২.
প্রত্যয়ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের দৃষ্টান্ত হলো-
  1. ক) পুরস্কার
  2. খ) অর্ধরাত্রি
  3. গ) প্রতিদ্বন্দ্বীতা
  4. ঘ) স্টেডিয়াম
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ইন প্রত্যয় সাধিত শব্দ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এর গঠন প্রতিদ্বন্দ্ব + ইন + তা = প্রতিদ্বন্দ্বিতা। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬,২০৩.
'পঞ্চবটী' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- পাঁচ সেরের সমাহার = পঁসুরি,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২০৪.
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দে ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় অর্থ প্রকাশ পায় তাকে বলে-
  1. যৌগিক শব্দ
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. সাধিত শব্দ
  4. রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
⇒ যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
জলদ- মূল অর্থ যে জল দেয়, ব্যবহারিক অর্থ হলো মেঘ।
পঙ্কজ- শব্দের অর্থ যা পঙ্কে জন্মে, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম।

- এরূপ আরও উদাহরণ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরোজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ রূঢ়ি শব্দ : 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন - গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

- আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

⇒ যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
যেমন:
কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত
বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন।
পিতা + হীন = পিতৃহীন, অর্থ- যার পিতা নেই।

⇒ সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণী এবং (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ।
৬,২০৫.
'দম্পতি' —সমাসটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) দম ও পতি
  2. খ) স্ত্রী ও পতি
  3. গ) জায়া ও পতি
  4. ঘ) স্বামী ও স্ত্রী
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা, জায়া ও পতি = দম্পতি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী
৬,২০৬.
নিচের কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
  1. ক) টোপর
  2. খ) আকাশ
  3. গ) চাঁদ
  4. ঘ) কুলা
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত শব্দ - জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, কৃষ্ণ, গৃহিণী, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, মস্তক, চক্ষু, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।
• দেশি শব্দ- ডাব, ছুলা, কুলা, টোপর, ঢেকিঁ, প্রভৃতি দেশি শ্বব্দ।
• তদ্ভব শব্দ- চাঁদ, হাত, মাছ, দুধ, পা, নাক, কান প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৬,২০৭.
’অপসংস্কৃতি’ শব্দে ’অপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. বিপরীত
  2. স্থানান্তর
  3. বিশেষ
  4. নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• ‘অপসংস্কৃতি’ শব্দে ’অপ’ উপসর্গটি ’নিকৃষ্ট’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- ’অপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’অপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’বিপরীত" অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
• ’নিকৃষ্ট’ অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
• ’স্থানান্তর’ অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন।
• ’বিকৃত’ অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৬,২০৮.
নিচের কোন বাক্যে শব্দদ্বিত্ব দ্বারা আধিক্য বোঝানো হয়েছে?
  1. রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম
  2. আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি
  3. তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ 
  4. সে মা মা বলে কাঁদছে 
ব্যাখ্যা

- “রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম” বাক্যে ‘রাশি রাশি’ হলো-আধিক্য অর্থে বিশেষ্য পদের শব্দদ্বিত্ব।
- "রাশি রাশি" বলতে অনেক ধান, "থোকা থোকা" বলতে প্রচুর জাম বোঝায়।
- এমন দ্বিরুক্তিতে প্রথম শব্দটি অপরিবর্তিত থাকে। 
- আর দ্বিতীয় শব্দটি দ্বিত্ব আকারে ব্যবহৃত হয়ে শব্দটির ভাব বা আভাস প্রকাশ করে, সম্পূর্ণ জ্বর বোঝায় না।
-----------------------
• শব্দদ্বিত্ব:
- বাংলা ভাষায় একটি শব্দ বা তার সামান্য পরিবর্তিত রূপ যখন একই সাথে বা পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়ে কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে শব্দদ্বিত্ব বা শব্দদ্বৈত বলা হয়।
- যেমন ‘রাশি রাশি’ বাক্যে ‘রাশি’ শব্দটি পুনরুক্ত হয়েছে।

- বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি মূলত নিম্নলিখিত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম।
- সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
- আগ্রহ বোঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে। 
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। 
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়; ফিরে ফিরে তাকায়।
- অনুরূপ বোঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,২০৯.
’অরুণরাঙা’ কোন সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ ?
  1. ক) উপমিত কর্মধারয়
  2. খ) রূপক কর্মধারয়
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
’অরুণরাঙা’ উপমান কর্মধারয় সমাস নিষ্পন্ন সমস্তপদ।

উপমান কর্মধারয় :
  সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়।

যেমন-অরুণরাঙা= অরুণের ন্যায় রাঙা।  
ভ্রমরকৃষ্ণ = ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ 

এছাড়াও, তুষারশুভ্র, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।


উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)
৬,২১০.
'সোনার-তরী' কোন সমাস?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'সোনার-তরী' অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - কলের গান, ঘিয়ে ভাজা, সোনার-তরী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২১১.
"কামারনী" কী প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ই-প্রত্যয়
  2. আনী-প্রত্যয়
  3. ঈ-প্রত্যয়
  4. নী-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-নি,-নী' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ কামার-কামারনী,
→ কুমার-কুমারনী,
→ জেলে-জেলেনি,
→ ধোপা-ধোপানি ইত্যাদি।

লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,২১২.
আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি - জ্বর জ্বর কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ক) ধারাবাহিকতা
  2. খ) ভাবের গভীরতা
  3. গ) সামান্যতা
  4. ঘ) আগ্রহ
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৬,২১৩.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. হাত
  2. দায়িত্ব
  3. পাখি
  4. গাছ
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - দায়িত্ব

মৌলিক শব্দ:

- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত, দায়িত্ব ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২১৪.
সমাস কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?  
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অভিধানতত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

সমাস রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 
---------------------------
• সমাস: 
- সমাস হলো কোনো শব্দের সংক্ষেপণ বা একাধিক পদকে একপদিকরণ করা।
- অর্থের দিক থেকে মিল আছে এমন দুই বা ততোধিক শব্দ বা পদ মিলিত হয়ে একটি শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলা হয়।
- শব্দ গঠনের অন্যতম উপায় হলো সমাস।
- বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে সমাস সৃষ্টি করা হয়।

- যে সব পদ নিয়ে সমাস গঠিত হয়, তাদের মধ্যে অর্থের মিল এবং পদগুলোর পরস্পরের মধ্যে সঠিক সম্পর্ক থাকতে হবে, যাতে পদগুলোর দ্বারা একটি বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ পায়।
- অর্থযুক্ত পদ থেকেই সমাস গঠিত হয়।
- উদাহরণ:
- ঘি মাখানো ভাত—
- এখানে বাক্যে অর্থের দিক থেকে সামঞ্জস্য রয়েছে এবং বিশেষ অর্থও প্রকাশ পাচ্ছে।
- সেই অর্থ অক্ষুণ্ণ রেখে এই পদগুলোকে মিলিয়ে একটি শব্দে পরিণত করা যায়।
- অর্থাৎ, ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত লেখা যায়। 
- এতে অর্থের কোনও পরিবর্তন হয়না। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬,২১৫.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কৃতদার
  2. বামন
  3. মজুর
  4. বেঙ্গমা
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
যে শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না তাকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
রাষ্ট্রপতি, বিপত্নীক, কৃতদার, অকৃতদার, কবিরাজ, কুস্তিগির, পুরোহিত, স্ত্রৈণ, কোটিপতি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, ঢাকি, ঢুলি, চৌকিদার, দফাদার ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বামন - বামনী,
- মজুর - মজুরনী,
- বেঙ্গমা - বেঙ্গমী। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,২১৬.
'সবুজ' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. আরবি
  3. ফারসি 
  4. তদ্ভব
ব্যাখ্যা

• 'সবুজ' (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি ফারসি ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- বিশেষ বর্ণ; হরিৎ।

আরোকিছু আরবি শব্দ:
- কয়েদ,
- খারাবি, 
- খারাপ,
- তকদির,
- ফসল, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২১৭.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাসের উদাহারণ নয়?
  1. ক) বিড়ালচোখী
  2. খ) মেনিমুখো
  3. গ) হাতেখড়ি
  4. ঘ) বেতার
ব্যাখ্যা

সমাসে ব্যাখ্যামূলক যে কোন পদ যদি সমস্তপদে লোপ পায় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন- বিড়ালচোখী, হাতেখড়ি, গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যাদি। 'বেতার' নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৬,২১৮.
কোনটি যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ?
  1. ঝন ঝন
  2. কিচির মিচির
  3. টপা টপ
  4. ধক ধক
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি গঠন:
• একই (ধ্বন্যাত্মক) শব্দের অবিকৃত প্রয়োগ ধক ধক, ঝন ঝন, পট পট।
•. প্রথম শব্দটির শেষে আ যোগ করে: গপাগপ, টপাটপ, পটাপট।
•  দ্বিতীয় শব্দটির শেষে ই যোগ করে : ধরাধরি, ঝমঝমি, ঝনঝনি।
•. যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ :কিচির মিচির (পাখি বা বানরের শব্দ), টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ), হাপুস হুপুস (গোগ্রাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)।
•. আনি-প্রত্যয় যোগেও বিশেষ্য দ্বিরুক্ত গঠিত হয় পাখিটার ছটফটানি দেখলে কষ্ট হয়। তোমার বকবকানি আর ভালো লাগে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৬,২১৯.
রাজপুত্র শব্দটি অর্থগতভাবে -
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যোৗগিক
  3. গ) রূঢ়ি
  4. ঘ) যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
রাজপুত্র যৌগিক শব্দ। কিন্তু রাজপুত যোগরূঢ় শব্দ। 
কারণ, রাজপুত্র দ্বারা রাজার পুত্রকেই বোঝায়, কিন্তু রাজপুত দ্বারা ভারতের সাবেক রাজপুতানার (বর্তমান রাজস্থান) অধিবাসী যোদ্ধা জাতিদের বোঝায়।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২২০.
ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে কী যুক্ত হয়ে ক্রিয়া পদ গঠিত হয়?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয় তাঁকে নির্দেশ করে যে পদ তাকে ক্রিয়া পদ বলে। 
যেমন: 
রাজীব খেলছে। 
বৃষ্টি হতে পারে

ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সাথে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া পদ গঠিত হয়। 

যেমন -
পড়্‌ + ই = পড়ি,
পড়্‌ + এ = পড়ে,
পড়্‌ + ছে = পড়ছে,
পড়্‌ + বে = পড়বে 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,২২১.
"লোকটি তিন দিন ধরে লাপাত্তা।"- এখানে 'লাপাত্তা' শব্দটি-
  1. প্রত্যয়যুক্ত
  2. অনুসর্গযুক্ত
  3. বিভক্তিযুক্ত
  4. উপসর্গযুক্ত
ব্যাখ্যা

• 'লাপাত্তা' 'লা' আরবি উপসর্গযুক্ত একটি শব্দ, যেখানে "লা" উপসর্গটি "পাত্তা" শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করেছে। 'লাপাত্তা' শব্দের অর্থ 'নিরুদ্দেশ' বা 'নিখোঁজ'। 

---------------------- 
উপসর্গ: 
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। 
- অজানা (অ+জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ। 
- উপসর্গের কাজ নতুন শব্দ তৈরি করা। 

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,২২২.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. শ্বশ্রূ
  2. শাাঁখিনী
  3. ধাত্রী
  4. রাজ্ঞী
ব্যাখ্যা

⇒ কতগুলো শব্দের পুরুষবাচক হয় না। এদের নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলা হয়।
• নিত্য স্ত্রী-বাচক কয়েকটি শব্দ হলো:
সতিন, ডাইনি, বাইজি, শাঁখচুন্নি, শাঁখিনী, সত্মা, এয়ো, দাই, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, কলঙ্কিনী, অন্তঃসত্ত্বা, সপত্নী, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সধবা, রূপসী, সজনী, ধনি ইত্যাদি ।

⇒ কতগুলো শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না। এদের নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
• নিত্য পুরুষবাচক কয়েকটি শব্দ হলো:
কবিরাজ, যোদ্ধা, সেনাপতি, দলপতি, ঢাকী, কৃতদার, রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
শ্বশুর - শ্বশ্রূ (শাশুড়ি);
ধাতা - ধাত্রী;
রাজা - রাজ্ঞী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,২২৩.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. ফুল
  2. হর
  3. বর
  4. গর
ব্যাখ্যা

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২২৪.
বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এসব শব্দের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ডাব
  2. পাত্র
  3. ছেরাদ্দ
  4. ঘোড়া
ব্যাখ্যা

• অর্ধ-তৎসম শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কিছু সংস্কৃত শব্দ কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত আকারে ব্যবহৃত হয়। এগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে।
- তৎসম মানে সংস্কৃত আর অর্ধ-তৎসম মানে আধা সংস্কৃত।
যেমন -
জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, বোষ্টম শব্দগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ; যা এসেছে যথাক্রমে সংস্কৃত শব্দ জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, কুৎসিত, বৈষ্ণব থেকে।

অন্যদিকে, 
• দেশি শব্দ -ডাব।
• তৎসম শব্দ - পাত্র, সূর্য।
• তদ্ভব শব্দ- ঘোড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২২৫.
‘রোজনামচা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. আরবি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফরাসি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'রোজনামচা’ শব্দটি - 'ফারসি' ভাষা থেকে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• রোজনামচা (বিশেষ্য) অর্থ- যে বইতে প্রতিদিনের বিবরণ লেখা হয়; দিনলিপি।
 
• কিছু ফারসি শব্দ:
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- রোজনামচা,
- লাল,
- লুঙ্গি, 
- সাদা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২২৬.
'জলচর' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস 
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,২২৭.
'কাষ্ঠ' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ কাশ্‌ + থ
  2. √ কাষ্‌ + থ
  3. √ কাস্‌ + ঠ
  4. √ কাশ্‌ + ঠ
ব্যাখ্যা
কাষ্ঠ:
- শব্দটি বিশেষ্য।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = √ কাশ্‌ + থ।
- অর্থ: কাঠ; জ্বালানি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২২৮.
'অতিমানব' শব্দের 'অতি' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. আরবি 
  4. ফারসি 
ব্যাখ্যা
• 'অতিমানব' শব্দের ‘অতি’ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা-
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২২৯.
“আনারস” কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) পোর্তুগীজ
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
• পোর্তুগীজ শব্দ - আনারস

পোর্তগীজ ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
- আনারস, গির্জা, পেঁপে, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি , পাদরি, কামরা,  জানালা, বোতাল, গামলা , সাবান, পিরিচ, তোয়ালে, সাগু,  আলপিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৬,২৩০.
‘শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) তত্‍পুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
উচ্ছৃঙ্খল = শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত। এটি অবয়ীভাব সমাস।
উল্লেখ্য, অব্যয় শব্দ পুর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
৬,২৩১.
'দোয়াত কলম' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- তাল ও তমাল = তাল-তমাল,
- দোয়াত ও কলম = দোয়াত-কলম।
- এখানে তাল ও তমাল এবং দোয়াত ও কলম প্রতিটি পদেরই অর্থের প্রাধান্য সমস্ত পদে রক্ষিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,২৩২.
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. আমরণ
  2. নিরামিষ
  3. উপজেলা
  4. একরোখা
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস নয়- একরোখা
- একদিকে রোখ যার = একরোখা;  বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

------------------------
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৩৩.
উৎস অনুসারে শব্দ কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:
• তৎসম,
• তদ্ভব,
• দেশি ও
•  বিদেশি।
এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তবে, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) অনুসারে, উৎস অনুসারে শব্দ ৫ প্রকার। অর্ধ-তৎসম শব্দকে উৎস অনুসারে শ্রেণি বিভাগে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অপশনে ৪ প্রকার না থাকলে ৫ প্রকার উত্তর হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬,২৩৪.
’টা, টি, খানা’ ইত্যাদি কী?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. পদাশ্রিত নির্দেশক
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
বাংলায় নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The'-এর স্থানীয়।
বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশকেরও বিভিন্নতা প্রযুক্ত হয়।

•  একবচনে, টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- টাকাটা, বাড়িটা, কাপড়খানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে, গুলি, গুলা, গুলো, গুলিন প্রভৃতি নিদের্শক প্রত্যয় সংযুক্ত হয়।
যেমন-
- মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো, পটলগুলিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৬,২৩৫.
'অধিরোহণ' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কী অর্থ নির্দেশ করে?
  1. আধিপত্য
  2. উপরি
  3. ব্যাপ্তি
  4. সদৃশ
ব্যাখ্যা

• 'অধিরোহণ' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি - 'উপরি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

বিভিন্ন অর্থে 'অধি' উপসর্গের ব্যবহার:
• 'আধিপত্য' অর্থে- অধিকার, অধিপতি।
• 'উপরি' অর্থে- অধিরোহণ, অধিষ্ঠান।
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- অধিবাস, অধিগত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২৩৬.
"যুগান্তর" শব্দটি কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।

যেমন:
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৩৭.
‘মহাকীর্তি’-শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মহান যে কীর্তি
  2. খ) মহা যে কীর্তি
  3. গ) মহতী যে কীর্তি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষবাচক হয়। যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৬,২৩৮.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ-
  1. রাশি
  2. রাজি
  3. মণ্ডলী
  4. মালা,
ব্যাখ্যা
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
গণ;
বৃন্দ;
মণ্ডলী; শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
মালা,
রাজি,
রাশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৬,২৩৯.
'নর্তক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নর্ত + অক
  2. √নৃত্‌ + অক
  3. √নীর + তক
  4. √নর + অক
ব্যাখ্যা

• নর্তক = নৃত্‌ + অক।

• অক (ণক্):

- √নী + অক = নায়ক,
- √কৃ + অক = কারক,
- √বহ + অক = বাহক,
- √রুধ+ অক = রোধক;
- √নিন্দ + অক = নিন্দক;
- √হিনস + অক = হিংসক;

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,২৪০.
প্রত্যয়যোগে সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) মোগলাই
  2. খ) কুলাকুলি
  3. গ) উপহার
  4. ঘ) প্রহার
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই সাধিত শব্দ বলে। 
সাধিত শব্দ তিন প্রকার। 
সমাস সাধিত শব্দ - কুলাকুলি 
প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মোগলাই 
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - প্রহার, উপহার।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৪১.
ব্যাকরণ অনুসারে কোন পদের বচনভেদ হয়?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• বহুবচন:
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
যেমন: গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর বেশিরভাগই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৯-সংস্করণ)।
৬,২৪২.
নিচের কোনটি পত্নীবাচক অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. জেলেনি
  2. সতীন
  3. তেজস্বিনী
  4. বিধবা
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সাধারণ নারীবাচক শব্দ দুই ধরনের:
- পত্নীবাচক,
- অপত্নীবাচক।

পত্নীবাচক:
স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। 
​যেমন: পিতা - মাতা, চাচা - চাচি, দাদা - দাদি, জেলে - জেলেনি, গুরু - গুরুপত্নী, নন্দাই - ননদ ইত্যাদি।

অপত্নীবাচক:
স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়।
যেমন:
খোকা - খুকি, ছাত্র - ছাত্রী, শিক্ষক - শিক্ষিকা, নেতা - নেত্রী, পাগল - পাগলি, তেজস্ব - তেজস্বিনী, বালক - বালিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সতীন, বিধবা নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬,২৪৩.
'নিম' - কোন ভাষার উপসর্গ?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা

- 'নিম' - একটি ফারসি উপসর্গ।
- ‘নিম উপসর্গটি আধা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

বিদেশি উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশি উপসর্গ বলা হয়।

- নিম্নরূপ কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ দেওয়া হলো:
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, কম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২৪৪.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ?
  1. বাড়িওয়ালা
  2. ইতরামি
  3. জমিদারি
  4. বড়াই
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

অপরদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-
- ইতর + আমি = ইতরামি।
- জমিদার + ই = জমিদারি।
- বড় + আই = বড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৪৫.
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. যাদুকর
  2. ছেলেধরা
  3. গাছপাকা
  4. আমরা
ব্যাখ্যা

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
• গাছে পাকা = গাছপাকা,
• অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু,
• দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
• ভোজনে পটু = ভোজন পটু,
• পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব,
• দানে বীর = দানবীর,
• মনে মরা = মনমরা ইত্যাদি।

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
• পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
• যাদু করে যে = যাদুকর,
• ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
• ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
• পকেট মারে যে = পকেটমার ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২৪৬.
'নিন্দিত' অর্থে উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কুসঙ্গ
  2. কুনজর
  3. কদাকার
  4. কুকথা
ব্যাখ্যা

• বাংলা 'কদ্' উপসর্গ যোগে নিন্দিত অর্থে গঠিত শব্দ- কদবেল, কদর্য, কদাকার

অন্যদিকে, 
• বাংলা 'কু' উপসর্গ যোগে কুৎসিত/অপকর্ষ অর্থে গঠিত শব্দ- কুঅভ্যাস, কুকথা, কুনজর, কুসঙ্গ। 

------------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,২৪৭.
‘রোজনামচা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. আরবি
  2. তুর্কি
  3. সংস্কৃত
  4. হিন্দি
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'রোজনামচা’ শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে।
 
• কিছু ফারসি শব্দ:
- আসমান,
- কশিদা,
- কয়েদি,
- কাগজ,
- কাজি, 
- কারিগর,
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- রোজনামচা,
- লাল,
- লুঙ্গি, 
- সাদা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৪৮.
খাসমহল, লাপাত্তা প্রভৃতি শব্দগুলো কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) ফারসি উপসর্গ
  2. খ) খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  3. গ) তৎসম উপসর্গ
  4. ঘ) আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা

আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৬,২৪৯.
'ঘেউ ঘেউ' কোন প্রকার দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
  2. সমার্থক দ্বিরুক্তি
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
  4. শব্দের দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।

• বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

• এই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দগুলো বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, 'সে সকল শব্দ ভাষা হইতে বাদ দিলে বঙ্গভাষার বর্ণনাশক্তি নিতান্তই পঙ্গু হইয়া পড়ে।”

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
• মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে: ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি।

• জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে: মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।

• কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে: ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।

• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ: চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫০.
'জ্বর' এর সাথে কোন শব্দের দ্বিরুক্তিতে সামান্য অর্থ প্ৰকাশ পায়?
  1. ক) জারি
  2. খ) বিকার
  3. গ) জ্বর
  4. ঘ) ব্যাধি
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি: বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত  উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়-

• ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় ক্রিয়াবাচক পদ নিম্নলিখিত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়-
- বিশেষণরূপে : তোমার নেই নেই ভাব আর গেল না। 
- স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে : দেখতে দেখতে আকাশে মেঘ জমা হয়ে গেল। 
- ক্রিয়া-বিশেষণ বোঝাতে :  দেখে দেখে যাও। 
- পৌণপুনিকতা বোঝাতে : তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম। 

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-
- আধিক্য বোঝাতে : রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম। 
- সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়।
- অনুরূপ বোঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 
- আগ্রহ বোঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫১.
'বিশেষ' অর্থ প্রকাশ করছে কোন উপসর্গ যুক্ত শব্দটি?
  1. ক) অবদান
  2. খ) অভিজ্ঞ
  3. গ) অভিজাত
  4. ঘ) আরক্ত
ব্যাখ্যা
অবদান (অব + দান) - 'বিশেষ' অর্থ প্রকাশ করছে।

• উপসর্গ:

- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ + জানা) - এখানে 'অ' একটি উপসর্গ।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।

• অন্যান্য অপশন:
অভি + জ্ঞ (অভিজ্ঞ)-্সম্যক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
অভি + জাত (অভিজাত)- উত্তম অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আ + রক্ত (আরক্ত)- ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৬,২৫২.
কৃদন্ত পদের পূর্ববর্তী পদকে কী বলা হয়?
  1. প্রপদ
  2. ক্রিয়াপদ
  3. উপপদ
  4. প্রাতিপদিক
ব্যাখ্যা
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় - কৃদন্ত পদ।
- কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ।

অন্যভাবে বলা যায় -
কৃৎ-প্রত্যয়ান্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে। 
যেমন: কুম্ভকার = কুম্ভ + কৃ + অ; এখানে ‘কুম্ভ’ উপপদ।

সুতরাং,
- কৃদন্ত পদের আগে নামপদ যুক্ত হলে থাকে উপপদ বলে।
- আর এই সমাসকে বলা হয় উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন : ছেলেধরা। এখানে, 'ধরা' কৃদন্ত পদের পূর্বে 'ছেলে' নাম পদ যুক্ত হয়েছে বলে 'ছেলে' শব্দটি উপপদ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৫৩.
নিচের কোনটি অলুক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) জলে-স্থলে
  2. খ) অহি-নকুল
  3. গ) চা-বিস্কুট
  4. ঘ) আয়-ব্যয়
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে বলা হয় দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক ইত্যাদি। 
- দ্বন্দ্ব মানে জোড়া।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
প্রকারভেদ:
- দ্বন্দ্ব সমাসকে নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
১. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের পরস্পর মিলন ঘটে এবং এদের অর্থের দিক থেকেও মিল থাকে সে দ্বন্দ্ব সমাসকে বলা হয় মিলনার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন- ভাই-বোন, মা-বাপ, মাসি-পিসি, চা-বিস্কুট, লতা-পাতা, মাছ-ভাত, পিতা-পুত্র ইত্যাদি। 
২. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব: অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব ।
যেমন- ভালো-মন্দ, সাদা-কালো, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেব-দানব, ধনী-গরিব ইত্যাদি।
৩. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিরোধী ভাব বা অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন- ভালোমন্দ, দিনরাত, টকমিষ্টি, দেশেবিদেশে, ছেলেবুড়ো, আয়-ব্যয়, জমা-খরচ,  লাভ-লোকসান ইত্যাদি। 
৪. অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসের সাহায্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে নির্দেশ করা হয় তাকে বলা হয় অঙ্গবাচক দ্বন্দ্বসমাস।
যেমন- নাক-মুখ, মাথা-মুণ্ডু, বুক-পিঠ, নাক-কান, হাত-পা ইত্যাদি।
৫. বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা ততোধিক পদ মিলে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বলা হয় বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- কায়, মনো এবং বাক্যে= কায়মনোবাক্যে, সাহেব, গোলাম এবং বিবি = সাহেব-গোলাম-বিবি, আমি, তুমি এবং সে = আমরা, স্বর্গ, মর্ত এবং পাতাল = স্বর্গ-মর্ত-পাতাল ইত্যাদি।
৬. সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব।
যেমন- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ. সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 
৭. সমার্থক দ্বন্দ্ব: একই জাতীয় বস্তুর সাহায্যে যে দ্বন্দ্ব বা মিলনবাচক সমাস হয় অর্থাৎ যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপর একই অর্থ বহন করে, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।
যেমন- ঘরদুয়ার, ঘরবাড়ি, কলকারখানা, বইপুস্তক, গাছগাছালি, শাকসবজি, কাগজপত্র, চিঠিপত্র, হাটবাজার ইত্যাদি।
৮. একশেষ দ্বন্দ্ব: যে সমাসে অন্যান্য পদের বিলুপ্তি ঘটিয়ে প্রধান পদটির সঙ্গে শেষপদটির সামঞ্জস্য রচিত হলে তাকে বলা হয় একশেষ দ্বন্দ্ব।
যেমন- জায়া ও পতি = দম্পতি, তুমি ও সে = তোমরা ইত্যাদি। 
৯. অলুক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোনো সমস্যমান পদের বিভক্তির লোপ হয় না তাকে বলা হয় অলুক দ্বন্দ্ব।
যেমন- দুধে-ভাতে, জলে-স্থলে, মায়ে-ঝিয়ে, ঘরে-বাইরে, আগে-পরে, ধনেজনে, বনে-জঙ্গলে, বুকেপিঠে, হাতেকলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫৪.
'পৃথিবী' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) তৎসম শব্দ
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) পর্তুগিজ শব্দ
  4. ঘ) ফারসি শব্দ
ব্যাখ্যা
'পৃথিবী'- তৎসম শব্দ। 

তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথাঃ অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি ।

দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি ।

বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে,
এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।
উদাহরণ –
আরবি: আল্লাহ্, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত, তারিখ, হালুয়া ইত্যাদি।
ফারসি: খোদা, দোজখ, নামাজ, রোজা, চশমা, তোশক, দোকান, কারখানা, আমদানি, জানোয়ার ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২৫৫.
নিচের কোনটি বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস নয়?
  1. ক) আয়-ব্যয়
  2. খ) দা-কুমড়া
  3. গ) অহি-নকুল
  4. ঘ) স্বর্গ-নরক
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হতে পারে। যেমন- মিলনার্থক, বিরোধার্থক, বিপরীতার্থক, অঙ্গবাচক, সংখ্যাবাচক ইত্যাদি।
বিরোধার্থক শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাসের কয়েকটি উদাহরণ হল-দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত কয়েকটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৬,২৫৬.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিখুঁত
  2. আনমনা
  3. অবহেলা
  4. নিমরাজী
ব্যাখ্যা

'নিমরাজী' শব্দটিতে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে।

♦উপসর্গ:
- এক ধরণের অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যা কোনো শব্দ বা ধাতুর আগে যুক্ত হয়ে তার অর্থে পরিবর্তন, সংকোচন বা সম্প্রসারণ ঘটায়।
- উপসর্গের নিজস্ব আলাদা অর্থ না থাকলেও শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থযুক্ত শব্দ গঠন করতে পারে।
- উপসর্গ ৩ প্রকার: বিদেশি উপসর্গ, খাঁটি বাংলা উপসর্গ, তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গগুলো মূলত ফারসি, আরবি, উর্দু-হিন্দি, এবং ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে। পাশাপাশি কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে।
- তবে বিদেশি উপসর্গের তালিকা নির্দিষ্ট বা স্থির নয়।
- নিমরাজী' শব্দটিতে 'নিম' একটি বিদেশি উপসর্গ কারণ এটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে।
- ফারসি ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গ: না, নিম, ফি, বে, ব, দর, কার, বর, বদ, কম।
- আরবি উপসর্গ যেমন: আম, খাস, খয়ের,  গর্,  বাজে, লা।
-উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উল্লেখ্য, 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব ২১টি উপসর্গ আছে:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- উল্লেখযোগ্য যে, আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- আনমনা এর ‘আন’ → দেশি উপসর্গ।
- নিখুঁত এর ‘নি’ = দেশী উপসর্গ।

• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে—যেমন প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
- অবহেলা এর ‘অব’ = তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,২৫৭.
কোন ভাষাটি আরবি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ক) নামাজ
  2. খ) ফেরশতা
  3. গ) কোরবানি
  4. ঘ) দোকান
ব্যাখ্যা
ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ- খোদা, গুনাহ, নামাজ, ফেরেশতা, চশমা, দোকান, আদমি, আমদানি, তোশক, জানোয়ার, বান্দা, বেগম, জিন্দা, নমুনা ইত্যাদি। কোরবানি আরবি ভাষার শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,২৫৮.
সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত নির্দেশক কোনটি?
  1. খানি
  2. টো
  3. গুলা
  4. গাছা
ব্যাখ্যা
• একবচনে- টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক ব্যবহৃত হয়। যেমন- টাকাটা, বাড়িটি, কাপড়খানা, বইখানা, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে- গুলা, গুলো, গুলিন প্রভৃতি নির্দেশক প্রত্যয় সংযুক্ত হয়। যেমন- মানুষগুলি, লোকগুলো, আমগুলো, পটলগুলিন ইত্যাদি। [গুলিন শব্দ বর্তমানে ব্যবহৃত হয় না।

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাণের স্বল্পতা বোঝাতে- টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদির প্রয়োগ হয়। যেমন-চারটে ভাত, দুধটুকু, দুধটুকুন, দুটো ভাত, গোটা চারেক আম ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৫৯.
'ধোয়ামোছা' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• 'ধোয়ামোছা'= আগে ধোয়া তারপর মোছা কর্মধারয় সমাস।

• কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন: আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।

• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

এছাড়াও কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
• দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
• দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
• বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
• পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন - কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,২৬০.
‘চৌঠা’ কোন ধরণের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক) অঙ্কবাচক
  2. খ) গণনাবাচক
  3. গ) তারিখবাচক
  4. ঘ) পূরণবাচক
ব্যাখ্যা

সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা - 
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

আবার,
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী (২০২০ সংস্করণ) অনুসারে,
সংখ্যা বাচক শব্দ ৪ প্রকার।
যথা-
- অঙ্কবাচক শব্দ- কোন কিছুর সংখ্যা বা পরিমাণ অঙ্কে বা সংখ্যায় লিখলে তাকে অঙ্কবাচক শব্দ বলে। যেমন- ১,৩৪, ৫৬৪
- পরিমাণ বা গণনা বাচক - একাধিকবার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায়, তা-ই পরিমাণ বা গণনা বাচক শব্দ। যেমন- সপ্তাহ, দ্বিগুণ, ১/৪
- ক্রম বা পূরণ বাচক- একই সারি, দল বা শ্রেণীতে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সংখ্যার ক্রম বা পর্যায় বোঝাতে যে সংখ্যা ব্যবহার হয়। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, নবম।
- তারিখ বাচক- বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। যেমন- পহেলা, চৌঠা, একুশে। (১ম চারটি হিন্দি নিয়ম সাধিত)

৬,২৬১.
নিচের কোন শব্দে বাংলা উপসর্গ আছে?
  1. দরদালান
  2. অনুকরণ
  3. কারখানা
  4. আনমনা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিক্ষিপ্ত অর্থে ‘আন’ বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- আনমনা, আনচান।

অন্যদিকে,
• ফারসি ‘দর’ ও ‘কার’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- দরদালান ও কারখানা।
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ - অনুকরণ।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাং
লায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,২৬২.
দ্বিগু সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চৌচালা
  2. খ) চারহাতি
  3. গ) তেপায়া
  4. ঘ) চতুর্ভুজ
ব্যাখ্যা
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়। যেমনঃ চতুর্ভুজ, পঞ্চভূত, ত্রিপদী ইত্যাদি। চারহাতি, তেপায়া, চৌচালা সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
৬,২৬৩.
প্রকৃতি- প্রত্যয়ের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. √দিন + এক = দৈনিক
  2. √প্রাচি + য = প্রাচ্য
  3. √নন্দি + অন = নন্দন
  4. √দৃশ্‌ + নীয় = দর্শনীয়
ব্যাখ্যা
• 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি + অন।

• অন্যদিকে,
'প্রাচ্য' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাচ্‌ + য। 
'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √দৃশ্‌ + অনীয়।
'দৈনিক' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয়: দিন + ইক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৬৪.
‘বালিকা-বিদ্যালয়’ কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. গ) ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ঘ) চতুর্থী তৎপুরুষ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমনঃ গুরুকে ভক্তি- গুরুভক্তি, বালিকাদের নিমিত্ত বিদ্যালয়- বালিকা-বিদ্যালয়।
৬,২৬৫.
‘করণীয়’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি কৃৎ-প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন;
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √দুল্ + অনা = দোলনা;
- √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
- √নৈ + অক = নায়ক;
- √গৈ + অক = গায়ক;
- √কৃ + অনীয় = করণীয়;
- √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৬৬.
‘তেপান্তর’ (তিন প্রান্তরের সমাহার) কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস: 
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন : 
- তেমাথা = তিন মাথার সমাহার,
- ত্রিফলা = তিন ফলের সমাহার,
- তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার,
- ত্রিপদী = তিন পদের সমাহার,
- ত্রিকাল = তিন কালের সমাহার
- ত্রিলোক = তিন লোকের সমাহার ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৬,২৬৭.
নিচের কোনটি ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. জাঁদরেল
  2. আলমারি
  3. ক্যাফে
  4. পেরেক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'জাঁদরেল' ইংরেজি ভাষা হতে আগত শব্দ।
- অর্থ: সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি; মহাবীর।

অন্যদিকে,
'আলমারি' ও 'পেরেক' পর্তুগিজ শব্দ।
'ক্যাফে' ফরাসি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৬৮.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. বুদ্ধিশুদ্ধি
  2. অল্পস্বল্প
  3. জ্বর জ্বর
  4. খক খক
ব্যাখ্যা

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে,
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - জ্বর জ্বর।
অনুকার দ্বিত্ব - অল্পস্বল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,২৬৯.
'বিভূঁই' শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে যুক্ত হয়েছে?
  1. তুলনা
  2. ভিন্নতা
  3. সামান্য
  4. বিপরীত
ব্যাখ্যা
• 'বিভূঁই' শব্দে 'বি' উপসর্গটি 'ভিন্নতা' অর্থে যুক্ত হয়েছে।
- 'বি' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ - বিফল, বিপথ।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৭০.
কোনটি উপসর্গটি নঞ্‌ অর্থ প্রকাশ করে?
  1. নি
  2. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) উপরের সবগুলো।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় "অ, আ, নি" — তিনটি উপসর্গই নঞ্‌ অর্থ (না-বোধক, নেই, নয়, অভাব) প্রকাশ করে।

 
১. অ-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- অজানা = না জানা;
- অচেনা = না চেনা;
- অসম্ভব = না সম্ভব;
- অনিচ্ছা = না ইচ্ছা।
 
২. আ-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- আকাল = না কাল (অসময়);
- আধোয়া = না ধোয়া (অর্ধ ধোয়া)।
 
৩. নি-উপসর্গ (নঞ্‌ অর্থে):
- নিখুঁত = না খুঁত (দোষহীন);
- নিরাপদ = না আপদ (বিপদমুক্ত)।


উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২৭১.
‘টুং টুং’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,২৭২.
‘অক্ষয়’ শব্দের প্রতিশব্দ -
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) অধিক
  3. গ) অনিঃশেষ
  4. ঘ) উল্লাস
ব্যাখ্যা

‘অক্ষয়’ শব্দের প্রতিশব্দ - চিরন্তন, ক্ষয়হীন, অশেষ, অনন্ত, অনিঃশেষ, অন্তহীন, অন্তবিহীন, অবিনাশী।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৬,২৭৩.
নিচের কোনটি তুর্কি ভাষা থেকে আগত?
  1. কোফতা
  2. বাবুর্চি
  3. কুপন
  4. বাবুয়ানি
ব্যাখ্যা



• তুর্কি ভাষার শব্দ -
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।

অন্যদিকে,
• 'বাবুয়ানি' হিন্দি ভাষার শব্দ। 
• 'কোফতা' ফারসি ভাষার শব্দ। 
• 'কুপন' ফরাসি ভাষার শব্দ।  
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২৭৪.
তামিল ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. ক) পেট
  2. খ) চুলা
  3. গ) কুড়ি
  4. ঘ) রিক্সা
ব্যাখ্যা
তামিল ভাষার শব্দ হলো 'পেট'।
চুলা (মুণ্ডারি ভাষা), কুড়ি (কোল ভাষা), রিক্সা (জাপানি ভাষা)৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৬,২৭৫.
'গমন' শব্দের মূল ধাতু কোনটি?
  1. গতি
  2. গম্‌
  3. গৃ
  4. গম্য
ব্যাখ্যা
• 'গমন' শব্দের মূল ধাতু 'গম্‌'।
- গম্‌ সংস্কৃত মৌলিক ধাতু।

• ধাতু বা ক্রিয়ামূল: 

- ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওয়া যায় :
- ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
যেমন-
'চলে'- একটি  ক্রিয়াপদ। এতে দুটি অংশ রয়েছে: '√চল্‌ + এ'; এখানে 'চল্‌' ধাতু এবং 'এ' হচ্ছে বিভক্তি।
- ক্রিয়ার মূল বা ধাতু বােঝাতে (√) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

• ধাতুর প্রকারভেদ:
- ধাতু তিন প্রকারের:
(১) মৌলিক ধাতু,
(২) সাধিত ধাতু এবং
(৩) যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।

• মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
- এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
যেমন:
- বল + আ = বলা,
- দেখ + আ = দেখা,
- পড় + আ = পড়া,
- হাট্‌ + আ  = হাটা।

• যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাতক অব্যয়ের সাথে কর্‌, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তাই যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য) + কর্‌ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলোক ধাতু)।
- সাবধান (বিশেষ্য) +হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)।
- বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ।

৬,২৭৬.
তৎপুরুষ সমাস নয়-
  1. ক) হাতেখড়ি
  2. খ) ঘিয়েভাজা
  3. গ) গায়েপড়া
  4. ঘ) রাজহাঁস
ব্যাখ্যা
হাতেখড়ি অলুক বহুব্রীহি সমাস। গায়েপড়া, ঘিয়েভাজা অলুক তৎপুরুষ সমাস। রাজহাঁস = হাঁসের রাজা ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমনঃ বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন। বনের পতি = বনস্পতি ইত্যাদি। তৎপুরুষ সমাস ছয় প্রকার। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,২৭৭.
'চুরুট' কোন ভাষার শব্দ?
  1. মারাঠি
  2. গুজরাটি
  3. তামিল
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চুরুট' — তামিল ভাষার শব্দ।

• 'চুরুট' শব্দের অর্থ: 
- ধূমপানের জন্য তৈরি শুকনো তামাকপাতায় মোড়া তামাকচূর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৭৮.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) ক ও খ উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ :
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২৭৯.
কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নিমাই
  2. ঢালাই
  3. বোনাই
  4. ঢাকাই
ব্যাখ্যা
• কৃৎ ‘আই’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো: ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ‘আই’ প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- √চড়ু + আই = চড়াই;
- √সিল + আই = সিলাই > সেলাই।
- √যাচ্ + আই = যাচাই।
- √ঢাল + আই = ঢালাই।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত ‘আই’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
• জাত অর্থে: ঢাকা + আই = ঢাকাই।
• আদরার্থে: কানু + আই = কানাই; নিম + আই = নিমাই।
• ভাব অর্থে: বামন + আই; পুষ্ট + আই = পোস্টাই; ধরতা + আই = ধরতাই।
• স্ত্রী বা পুরুষবাচক শব্দের বিপরীত বোঝাতে: বোন + আই = বোনাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৮০.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি কোনটি?
  1. ঘুম ঘুম
  2. আমটাম
  3. এলোমেলো
  4. জ্বলজ্বল
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৬,২৮১.
'হাত, হাতি,পাখি' শব্দগুলো কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. তৎসম শব্দ
  2. দেশি শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. বিদেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ,গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

 তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

 দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, চেঁকি ইত্যাদি।

বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি। 


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৬,২৮২.
বিদেশাগত ধাতু কোনটি?
  1. আঁকা
  2. বাঁধ 
  3. কাঁদ 
  4. আঁট
ব্যাখ্যা

• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং ক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়।
- যেমন: 
ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মাঙ্‌' থেকে আগত।

- এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
যেমন 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

এখানে কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো:
আঁট, খাট্, চেঁচু, জম্, ঝুল্, টান, টুট্, ডর্, ফির, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্।

অন্যদিকে, 
আঁকা, বাঁধ, কাঁদ  বাংলা ধাতু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,২৮৩.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. রাজপথ
  2. ত্রিলোক
  3. আয়কর
  4. জনমানব
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,
- জন ও মানব = জনমানব,
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পথের রাজা = রাজপথ; তৎপুরুষ সমাস। 
- ত্রি লোকের সমাহার = ত্রিলোক; দ্বিগু সমাস।
- আয়ের উপর কর = আয়কর; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৮৪.
'ছোট ছোট ঘর' দ্বিরুক্ত শব্দ কী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাহুল্য বোঝাতে
  2. ধারাবাহিকত বোঝাতে
  3. বহুবচন বোঝাতে
  4. গুণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার পর শব্দ দুটো অবিকৃত থেকে গেলে তাকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে। 
- একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে- 

- অল্পতা বোঝাতে - জ্বরজ্বর , কবিকবি, হাসি হাসি মুখ ইত্যাদি। 
- বাহুল্য বোঝাতে - বস্তা বস্তা চাল, ঝুড়ি ঝুড়ি আম ইত্যাদি। 
- তাড়াতাড়ি বোঝাতে - সকাল সকাল আসবে, হাতে হাতে ফল পাওয়া ইত্যাদি। 
- ধারাবাহিকত বোঝাতে - দিন দিন ভালো হওয়া, বছর বছর পাস করা  ইত্যাদি। 
- বহুবচন বোঝাতে - লাল লাল ফুল, ছোট ছোট ঘর ইত্যাদি। 
- গুণ বোঝাতে - গরম গরম ভাত, মিষ্টি মিষ্টই কথা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৮৫.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. অধি
  2. আন
  3. সম
  4. অভি
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ - আন।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- অভি, সম এবং অধি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৮৬.
নিচের কোন বাক্যে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হয়েও বহুবচন বোঝাচ্ছে?
  1. অনুগ্রহ করে নিয়মাবলি পড়ে দেখুন।
  2. ছাত্ররা এসে জড়ো হয়েছে।
  3. সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।
  4. সভায় সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাখ্যা
বচন:
- বচন হলাে সংখ্যার ধারণা।
- বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দ্বিবিধ: একবচন ও বহুবচন।
- সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়। 
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২৮৭.
প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ-
  1. ক) শীতা
  2. খ) ভরপেট
  3. গ) লালপেড়ে
  4. ঘ) গ্রামীণ
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ-গ্রামীণ
গ্রাম + ঈন = গ্রামীণ

ঈন্ প্রত্যয়:
কুল + ঈন্ = কুলীন
বিশ্বজন + ঈন্ = বিশ্বজনীন
সর্বজনীন + ঈন্ = সর্বজনীন

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]
৬,২৮৮.
"এত এত কাজের চাপ, শেষ হবে কী করে!" - এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পুনরাবৃত্তি
  2. সামান্য
  3. কালের বিস্তার
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা
• "এত এত কাজের চাপ, শেষ হবে কী করে!" বাক্যে 'এত এত' দ্বিরুক্ত শব্দটি 'আধিক্য ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এখানে কাজের পরিমাণ অত্যধিক, অতিরিক্ত বা অনেক বেশি হওয়া বুঝানো হয়েছে

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ - 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৮৯.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. মনমাঝি
  2. হাতেখড়ি
  3. অনুক্ষণ
  4. ক্ষুৎপিপাসা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা'; দ্বন্দ্ব সমাস।

অন্যদিকে,
• মন রূপ মাঝি = মনমাঝি - হলো রূপক কর্মধারয় সমাস।
• হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি - হলো মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
• 'ক্ষণ ক্ষণ' = অনুক্ষণ; অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৯০.
'এয়ো' কোন ধরনের শব্দ?
  1. নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ
  2. সাধারণ স্ত্রীবাচক শব্দ
  3. নিত্য পুরুষবাচক শব্দ
  4. পুরুষবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা ইত্যাদি।

'এয়ো' শব্দের অর্থ-
সধবা নারী, স্বামী জীবিত আছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২৯১.
স্বর্গ-নরক কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
  1. সহচর শব্দযোগে
  2. দুটি বিশেষণযোগে
  3. সমার্থক অর্থে
  4. বিরোধ অর্থে
ব্যাখ্যা
•  বিরোধ অর্থে শব্দযোগে ’দা-কুমড়া’ দ্বন্দ্ব সমাস।
 
উল্লেখ্য,
• দ্বন্দ্ব সমাস:

- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্রুত্ব সমাস বলে।

এছাড়াও ,

• দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
•  মিলনার্থক শব্দযোগে:
- মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরি, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

• বিপরীতার্থক শব্দযোগে :
- আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

• অঙ্গবাচক শব্দযোগে:
- হাত-পা, নাক-কান, বুক-পিঠ, মাথা-মুণ্ডু, নাক-মুখ ইত্যাদি।

• সংখ্যাবাচক শব্দযোগে :
- সাত-পাঁচ, নয়-ছয়, সাত-সতের, উনিশ-বিশ ইত্যাদি।

• সমার্থক শব্দযোগে :
- হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভি, খাতা-পত্র ইত্যাদি।

• প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে :
- কাপড়-চোপড়, পোকা-মাকড়, দয়া-মায়া, ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

• দুটি সর্বনামযোগে:
- যা-তা, যে-সে, যথা-তথা, তুমি-আমি, এখানে-সেখানে ইত্যাদি।

• দুটি ক্রিয়াযোগে:
- দেখা-শোনা, যাওয়া-আসা, চলা-ফেরা, দেওয়া-থোওয়া ইত্যাদি।

• দুটি বিশেষণযোগে:
- ভালো-মন্দ, কম-বেশি, আসল-নকল, বাকি-বকেয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৬,২৯২.
'অভাব' অর্থ প্রকাশ করেছে কোন উপসর্গযুক্ত শব্দ?
  1. ক) আকাঠা
  2. খ) আঁকাড়া
  3. গ) আভাস
  4. ঘ) আকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
আ' উপসর্গের ব্যবহার:
আঁকাড়া, অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আকাঠা, নিকৃষ্ট/বাজে অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আভাস, ঈষৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আকণ্ঠ, পর্যন্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
 
৬,২৯৩.
অর্থ অনুসারে, 'চালক' - শব্দটি কোন ধরনের?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
এখানে, 'চালক' - শব্দটির গঠন এভাবে হয়েছে- ('চল্' ধাতু + 'অক' প্রত্যয়)। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'যে চালায়'। আর 'চালক' কথাটির ব্যবহারিক অর্থও তাই।

আবার, 
পক্ষী- পক্ষ + ইন (যার পক্ষ বা ডানা আছে)। 
মিতালি- মিতা + আলি; (বন্ধুর ভাব)।

এ ধরনের আরও উদাহরণ: কর্তা, দয়ালু, ধনী, ছেলেমি, লাজুক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,২৯৪.
‘আস্তানা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘আস্তানা’ শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে এসেছে।

• ‘আস্তানা’ বলতে বোঝায়:
- খানকা;
- আশ্রম,
- আড্ডা;
- বসত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
৬,২৯৫.
‘চকচক ও জ্বলজ্বল’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অনুকার শব্দদ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

⇒ কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২৯৬.
‘বুদ্ধিমান’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বুদ্ধি+মান
  2. খ) বুদ্ধি+ইমন
  3. গ) বুদ্ধি+মা্+ন
  4. ঘ) বুদ্ধি+মৎ
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধিমান (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [বুদ্ধি+মৎ]
অর্থ: বুদ্ধি আছে এমন, ধীমান, জ্ঞানী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৯৭.
'উৎক্ষিপ্ত' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন অর্থ ধারণ করেছে?
  1. প্রস্তুতি
  2. গতি
  3. ঊর্ধ্ব
  4. অপকর্ষ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ঊর্ধ্ব।

----------------
ব্যাখ্যা:
‘উৎক্ষিপ্ত’ শব্দটি গঠিত হয়েছে —
উৎ (উপসর্গ) + ক্ষিপ্ত (মূল শব্দ)।

এখানে ‘উৎ’ উপসর্গের অর্থ হলো ঊর্ধ্ব বা উপরের দিকে।
অর্থাৎ, উৎক্ষিপ্ত মানে হচ্ছে - উর্ধ্বে নিক্ষিপ্ত।

যেমন: কৃত্রিম উপগ্রহটি উৎক্ষিপ্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’আতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’অপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,২৯৮.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. চিকচিক
  2. জ্বলজ্বল
  3. টানাটানি
  4. ঢাকাঢাকি
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ - চিকচিক

দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: চিকচিক, পেট, ডাব, টোপর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত শব্দ - জ্বলজ্বল।
• বাংলা শব্দ - টানাটানি, ঢাকাঢাকি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৯৯.
কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. তিন
  2. তেসরা
  3. তেরো
  4. ত্রি
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর - তেসরা
- এটি তারিখ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।

• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চৌদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।
- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক  সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ ‘দ্বি’, 'দু', এবং 'দো'।
'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং ‘তে’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৩০০.
‘সাংবাদিক’ শব্দে ব্যবহৃত ‘ইক’ অংশ একটি-
  1. বিভক্তি
  2. উপসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
⇒ শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। যেমন: সাংবাদিক শব্দের ‘ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

⇒ শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
• তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন:
- মনু + অ = মানব।

⇒ অন্যদিকে, ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। 
• কৃৎ প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। 
যেমন:
- √নাচ + অন = নাচন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।