ব্যাখ্যা
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। রূপক কর্মধারয় সমাসের সমস্তপদে পূর্বপদটি সাধারণত কোন বস্তু হয় না, হয় কোনো ধারণা বা অভিজ্ঞতা অর্থাৎ অবস্তু। পূর্বপদের সেই বিমূর্ততাকে পরপদের বস্তুর সঙ্গে তুলনা করা হয়।
যেমন:
- বিদ্যাধন = বিদ্যা রূপ ধন,
- মনমাঝি = মন রূপ মাঝি,
- বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু,
- সংসারসাগর = সংসার রূপ সাগর,
- হৃদয়মন্দির = হৃদয় রূপ মন্দির ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন।
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।