বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৫৭ / ১০০ · ৫,৬০১৫,৭০০ / ১০,০৪৫

৫,৬০১.
'সংসারসাগর' শব্দটি কোন সমাস?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। রূপক কর্মধারয় সমাসের সমস্তপদে পূর্বপদটি সাধারণত কোন বস্তু হয় না, হয় কোনো ধারণা বা অভিজ্ঞতা অর্থাৎ অবস্তু। পূর্বপদের সেই বিমূর্ততাকে পরপদের বস্তুর সঙ্গে তুলনা করা হয়।

যেমন:
- বিদ্যাধন = বিদ্যা রূপ ধন,
- মনমাঝি = মন রূপ মাঝি, 
- বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু, 
- সংসারসাগর = সংসার রূপ সাগর, 
- হৃদয়মন্দির = হৃদয় রূপ মন্দির ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন।

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬০২.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
  2. মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ
  3. কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল
  4. জায়া ও পতি = দম্পতি
ব্যাখ্যা

সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন (মধ্যপদলােপী কর্মধারয়)।
কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয়)।
মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়)।
জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ 

৫,৬০৩.
কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অন্যগৃহ
  2. খ) মিলের অভাব
  3. গ) স্ত্রী’র অভাব
  4. ঘ) প্রকৃষ্ট গতি
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, তুমি আমি ও সে = আমরা, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
তেমনিভাবে,
- গৃহান্তর - অন্যগৃহ নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৫,৬০৪.
'মানচিত্র' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. আরবি শব্দ
  2. সংস্কৃত শব্দ
  3. গ্রিক শব্দ
  4. ফারসি শব্দ
ব্যাখ্যা
• মানচিত্র
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মান+√ চিত্র+অ 

অর্থ:
- ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশের অবস্থান আকৃতি প্রকৃতি প্রভৃতির বিবরণ সংবলিত নকশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬০৫.
'সমৃদ্ধ' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা 
  2. ফারসি 
  3. ইংরেজি 
  4. সংস্কৃত 
ব্যাখ্যা
'সম্' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- 
• সম্যক রূপে অর্থে- সম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ, সমাদর। 
• সম্মুখে অর্থে- সমাগত, সম্মুখ। 

---------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,৬০৬.
কোন প্রত্যয়জাত শব্দটি ভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কানাই
  2. খ) জেঠামি
  3. গ) কানাই
  4. ঘ) ইতরামি
ব্যাখ্যা
ইতর+আমি = ইতরামি 
- তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। 
- ভাব অর্থে প্রকাশিত হয়েছে। 

প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

অন্যদিকে, 
আদর অর্থে: কানু → কানাই।
জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৬০৭.
'ক্রেতা' কোন ধরনের প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় :
তৃচ্‌-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে) প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন:
-√দা +তৃচ্ =√দা + তৃ =√দা + তা = দাতা;
- মা + তৃচ্ = মাতা,
- ক্রী+ তৃচ্ = ক্রেতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,৬০৮.
"জলধি" - এটি কোন প্রকার শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।

যেমন:
- পঙ্কজ (পঙ্কে জন্মে যা),
- রাজপুত (রাজার পুত্র),
- মহাযাত্রা (মহাসমারােহে যাত্রা),
- জলধি (জল ধারণ কর এমন),
- দশানন (দশ আনন যাহার)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯, সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৬০৯.
"লেখক" শব্দের সঠিক প্রকৃত প্রত্যয় কোনটি?
  1. √লিখ্+ণক
  2. √লেখ্+ওক
  3. √লিখ্+ওক
  4. √লেখ্+ণক
ব্যাখ্যা

• কৃৎ-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন:  ণক-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে):
যেমন- 
√নী + ণক = নায়ক,
√গৈ+ণক= গায়ক,
√লিখ্+ণক = লেখক ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ।
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; 
- আর  ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৫,৬১০.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. অন্তেবাসী
  2. কানেখাটো
  3. গলায়গামছা
  4. হাতেছড়ি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের যতগুলি শ্রেণি আছে, অলুক তৎপুরুষ তার সবরকম শ্রেণিরই হতে পারে।
যেমন -
ঘোড়ার-ডিম = ঘোড়ার ডিম;
খসে পড়া = খসে পড়া;
অন্তেবাসী = অন্তে বাসী যে।

অন্যদিকে,
কানেখাটো, গলায়গামছা, হাতেছড়ি - অলুক বহুবীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬১১.
‘ভগ্নাংশ’- বোঝাতে কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অঙ্কবাচক
  2. খ) গণনাবাচক
  3. গ) ক্রমবাচক
  4. ঘ) তারিখবাচক
ব্যাখ্যা
কোন পূর্ণ সংখ্যার ভগ্নাংশ বোঝাতে গণনা বা পরিমাণবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন- চার ভাগের এক ভাগ-সিকি, এক পঞ্চমাংশ ইত্যাদি। সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৫,৬১২.
'শৈশব' এর সঠিক শব্দ গঠন-
  1. শিশু + অব
  2. শিশু + ষ্ণ্য
  3. শিশু + আব
  4. শিশু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শৈশব (বিশেষ্য):
- অর্থ: বাল্যাবস্থা; ছেলেবেলা।
- 'শৈশব' -এর সঠিক প্রকতি ও প্রত্যয়- 'শিশু + অ'।
- 'শৈশব' একটি তদ্ধিতান্ত শব্দ।
- এটি একটি তৎসম বা সংস্কৃ্ত শব্দ।

উল্লেখ্য,
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে (২০১৯ সংস্করণ) 'শৈশব' এর প্রকতি ও প্রত্যয় হিসেবে দেয়া হয়েছে- 'শিশু + ষ্ণ'।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে (২০২২ সংস্করণ) 'শৈশব' এর প্রকতি ও প্রত্যয় হিসেবে দেয়া হয়েছে- 'শিশু + অ'।
৫,৬১৩.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অল্পসল্প
  2. পর পর
  3. অঙ্ক-টঙ্ক
  4. খক খক
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে,
- 'পর পর' হচ্ছে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।
- অঙ্ক-টঙ্ক ও অল্পসল্প হচ্ছে অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৫,৬১৪.
নিচের কোন শব্দটি জাপানি শব্দ?
  1. ক) সাম্পান
  2. খ) চাকু
  3. গ) হাস্‌নাহেনা
  4. ঘ) চাকর
ব্যাখ্যা
চা, চিনি, সাম্পান - চিনা শব্দ।
চাকর, দারোগা, বন্দুক, চাকু - তুর্কি শব্দ।
রিক্সা, হারিকিরি, জুডো, হাস্‌নাহেনা ইত্যাদি জাপানি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,৬১৫.
‘পঙ্কজ’ কোন সমাস?
  1. ক) নঞ্ তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ, জলে চরে যা = জলচর।
না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে সমাস হয় তাকে বলে, নঞ্ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন: ন কাল = অকাল বা আকাল, ন আচার = অনাচার।
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: গায়ে পড়া = গায়েপড়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৫,৬১৬.
'পয়সা' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পয় + সা
  2. পদ + সা
  3. পাদ + সা
  4. পই + সা
ব্যাখ্যা
পয়সা (বিশেষ্য): ধাতুনির্মিত মুদ্রাবিশেষ; টাকার শতাংশের একাংশ।
- (তৎসম বা সংস্কৃত) পাদ > (প্রাকৃত) পায়> + সা
সূত্রঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৫,৬১৭.
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পড়
  2. পাঠ
  3. জয়
  4. কর্তব্য
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়ু + অ = পড়

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন
১. অ(অচ্)
√পট্ + অ = পাঠ, 
√জি + অ = জয়,
Vকৃ + তব্য = কর্তব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৫,৬১৮.
'বদরাগী' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ
  2. ফারসি উপসর্গ
  3. তৎসম উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'বদ্' ফারসি উপসর্গ যোগে 'মন্দ' অর্থে গঠিত শব্দ: বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম। 

-----------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন,
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৫,৬১৯.
বাংলা কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. পাঠক
  2. ডুবুরী
  3. ক্ষয়
  4. দাতা
ব্যাখ্যা
• আরি বা আরী বিকল্পে রি / উরি- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হলো:
যেমন:
- √ডুব্ + আরি / উরি = ডুবুরী।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃৃৃত তৃচ্‌-প্রত্যয়: প্রথমা একবচনে 'তৃ' থাকলে 'তৃ' থলে 'তা' হয়।
যেমন:
- √দা + তৃচ = √দা+তা = দাতা।
- √মা + তৃচ = √মা+তা = মাতা।

• সংস্কৃত অল্-প্রত্যয় এর (ল ইৎ হয়ে, অ থাকে):
- √জি + অল্ = জয়।
- √ক্ষি + অল্ = ক্ষয়।

• সংস্কৃত ণক-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে):
যেমন:
- √পঠ্‌ + ণক = √পঠ্‌ + অক = পাঠক।

মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে।
যেমন-
- গৈ + ণক = গায়ক।
- √লিখ্‌ + ণক = লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬২০.
বিদেশি উপসর্গযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. প্রতিমূর্তি
  2. নিবৃত্তি
  3. বেতার
  4. অচিন
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গযুক্ত শব্দ — বেতার।
এখানে ফারসি 'বে' উপসর্গ যুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
- 'প্রতিমূর্তি' শব্দটিতে তৎসম উপসর্গ 'প্রতি' ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'নিবৃত্তি' শব্দটিতে তৎসম উপসর্গ 'নি' ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'অচিন' শব্দটিতে বাংলা উপসর্গ 'অ' ব্যবহৃত হয়েছে।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন: 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬২১.
'নালিশ' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. তৎসম
  2. ফারসি
  3. ফরাসি
  4. তদ্ভব
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'নালিশ'- ফারসি শব্দ।

• 'নালিশ' শব্দের অর্থ:
- অভিযোগ, ফরিয়াদ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কতিপয় ফারসি শব্দ:
- বেহেশত, দোজখ, ফেরেশতা, নামাজ, খোদা, গুনাহ, পয়গম্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬২২.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. গোলাপ
  2. কলম
  3. লাল
  4. গায়ক
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন,
গোলাপ, নাক, লাল, তিন, আকাশ, কলম, গাছ, নাক, হাত, ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গায়ক - যৌগিক শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
- যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৬২৩.
"তারা এখনও সেখানে আছে।"- বাক্যে 'এখনও' শব্দের সঙ্গে যুক্ত ও-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. বলক
  2. বিভক্তি
  3. নির্দেশক
  4. যোজক
ব্যাখ্যা

• "তারা এখনও সেখানে আছে।"- বাক্যে 'এখনও' শব্দের সঙ্গে যুক্ত 'ও' হলো বলকের উদাহরণ। 

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের।
যথা:
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
যেমন-
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

• নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
'লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা 'টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫,৬২৪.
নিচের যে শব্দটি আঞ্চলিক প্রভাবিত নয়-
  1. ক) কাটারি
  2. খ) খপর
  3. গ) মেয়া
  4. ঘ) এর্কি
ব্যাখ্যা

কাটারি, কাটারী [কাটারি] (বিশেষ্য)
- কাটবার অস্ত্রবিশেষ; একপ্রকার সরু ও লম্বা দা; ছুরি 

{( তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) কর্তরিকা, কর্তরীকা> (প্রাকৃত) কট্টরিআ> (বাংলা) কাটারি, কাটারী, কট্টরী}

৫,৬২৫.
‘সৌন্দর্য’-শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) সৌন্দর্য+অ
  2. খ) সুন্দ+রিয়
  3. গ) সুন্দর+র 
  4. ঘ) সুন্দর+য 
ব্যাখ্যা
সৌন্দর্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = সুন্দর+য 
অর্থ: 
- মনোহর, রূপমাধুরী, রূপ। 
- শোভা
- লালিত্য
- মনোহরিতা 


উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৬২৬.
'পঞ্চম' কোন জাতীয় সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক) পূরণবাচক
  2. খ) তারিখবাচক
  3. গ) পরিমাণবাচক
  4. ঘ) গণনাবাচক
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত 'পঞ্চম' শব্দটি হলো 'পূরণবাচক'।

• পূরণবাচক বা ক্রমবাচক সংখ্যা:
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম.... একাদশ, দ্বাদশ ইত্যাদি হলো পূরণবাচক বা ক্রমবাচক সংখ্যা।
অঙ্কবাচক সংখ্যা
১, ২, ৩... ১১, ১২, ১৩ ইত্যাদি হলো অঙ্কবাচক সংখ্যা।
• পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা: 
এক, দুই....... এগার, বার ইত্যাদি হলো পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা।
• তারিখবাচক সংখ্যা:
পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি হলো তারিখবাচক সংখ্যা।

• বাংলা ভাষায় তারিখবাচক সংখ্যাগুলোর প্রথম তিনটি হিন্দি ভাষা থেকে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৫,৬২৭.
'গোলাম' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
গঠন অনুযায়ী শব্দ দুই প্রকার।
যথা:
১. মৌলিক,
২. সাধিত।

• মৌলিক শব্দ: 
যে শব্দকে আর ভাঙ্গা বা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: লাল, গোলাপ, হাত, পা মৌলিক শব্দ। 

এখানে,
'গোলাম' - মৌলিক শব্দ।
‘গোলাম’ শব্দটি আর বিশ্লেষণ করা যায় না। এটি একক, অবিভক্ত অর্থ প্রকাশ করে। তাই এটি মৌলিক শব্দ।

• সাধিত শব্দ: 
যে শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়। যেমন: পরিচালক, সম্পাদকীয়, গরমিল, নীলাকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬২৮.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে কোনটিতে?
  1. ষোড়শী
  2. দোসরা
  3. ষোলো
  4. উনিশতম
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন:
- প্রথমা, দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দোসরা' তারিখ পূরণবাচক শব্দ।
- সাধারণ পূরণবাচক যোগে - উনিশতম।
- 'ষোলো' ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৬২৯.
আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ইন্দ্রানী
  2. যোগিনী
  3. দুঃখিনী 
  4. মেধাবিনী
ব্যাখ্যা

• আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ইন্দ্র-ইন্দ্রানী,
- মাতুল-মাতুলানী,
- শূদ্র-শূদ্রানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী-মায়াবিনী,
- কুহক-কুহকিনী,
- যোগী-যোগিনী,
- মেধাবী-মেধাবিনী,
- দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৬৩০.
’জুঁইফুল’ কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ= জুঁইফুল।

• কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা;
- জুঁই নামের ফুল = জুঁইফুল।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে 'যে' যোজক থাকে।
যেমন
- খাস যে জমি = খাসজমি,
- চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা,
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৫,৬৩১.
'সওয়া', 'সাড়ে' - কোন ধরনের শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. পূর্ণগুণিতক শব্দ
  2. ন্যূনতা নির্দেশক শব্দ
  3. অঙ্কবাচক সংখ্যাশব্দ
  4. আধিক্য নির্দেশক শব্দ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ - 
- পূর্ণসংখ্যাবাচক বিশেষণ
- ক্রমবাচক বিশেষণ
- তারিখ সংখ্যাশব্দ
- গুণিতক সংখ্যাশব্দ

গুণিতক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের - 
- পূর্ণগুণিত শব্দ : এক এক্কে এক, দুই দুগুণে চার ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ : চৌথাই, সিকি , পোয়া, তেহাই, অর্ধ ইত্যাদি।
- ন্যূনতা নির্দেশক শব্দ : পৌনে চার, পৌনে সাত ইত্যাদি। 
- আধিক্য নির্দেশক শব্দ : 'আড়াই' 'দেড়', 'সওয়া', 'সাড়ে' ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৫,৬৩২.
নিচের কোন নরবাচক শব্দের সাথে নারীবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. বেদে
  2. সুন্দর
  3. বুদ্ধিমান
  4. বাদশা
ব্যাখ্যা

কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন:
- ভাই - বোন,
- পিতা - মাতা,
- ছেলে- মেয়ে,
- বর - কনে,
- বাদশা - বেগম।

অন্যদিকে,
----------------
• 'ঈ' প্রত্যয়: কিশোর-কিশোরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
• 'নি' প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধোপা-ধোপানি।
• 'মতী' প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।

৫,৬৩৩.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. তেজস্বী
  2. নীলিমা
  3. মিশুক
  4. সৌভাগ্য
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- সুভগ + ষ্ণ = সৌভাগ্য,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
√মিশ + উক = মিশুক কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৬৩৪.
‘ভোটাধিকার’ কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) দ্বিগু
  4. ঘ) নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
ভোটাধিকার = ভোটের অধিকার। এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৫,৬৩৫.
'সন্দেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• সন্দেশ - রূঢ়ি শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এরকমভাবে,
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৩৬.
সংস্কৃত/তৎসম উপসর্গ কয়টি?
  1. ১৯ টি
  2. ২০টি
  3. ২১ টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশ(২০)টি।
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৬৩৭.
রচনা শব্দকে বহুবচন করতে নিচের কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সমূহ
  2. খ) বলি
  3. গ) সব
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
উপরের কোন লগ্নক ই সঠিক নয়। 'রচনা' শব্দের জন্য সঠিক লগ্নক আবলি।

• বচন হলো সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।
সাধারণত কিছু শব্দাংশ বাঁ লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

তেমনি,  প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ,' '-আবলি;, '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন -
• সব - ভাইসব, পাখিসব
• সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমুহ
• আবলি - নিয়ামবলি, রচনাবলি
• মালা- মেঘমালা, পর্বতমালা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি)
৫,৬৩৮.
দুটি বিশেষণ পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. লোনা-জল
  2. ঘি-ভাত
  3. কাঁচা-মিঠে
  4. খাঁ-সাহেব
ব্যাখ্যা
• দুটি বিশেষণ পদে গঠিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ: কাঁচা-মিঠে। 

নিম্নে বিস্তারিত ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হলো:

• কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।
যেমন:
ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী, 
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
সমাসবদ্ধ শব্দে বিশেষ্য ও বিশেষণের অবস্থানগত পার্থক্য নির্দেশ করে কিছু উদাহরণ:

• (বিশেষণ+ বিশেষ্য): 
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

• (বিশেষণ+ বিশেষণ):
যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা (কাঁচামিঠে)। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৩৯.
'সোয়া সাত' এখানে 'সোয়া' কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ? 
  1. তারিখাবাচক 
  2. ভগ্নাংশবাচক 
  3. ক্রমবাচক 
  4. সাধারণ পূরণবাচক 
ব্যাখ্যা

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক শব্দ:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫,৬৪০.
'খেলনা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √খেল্ + না
  2. √খেলো + অনা
  3. √খেল্ + অনা
  4. √খেলন্‌ + আ
ব্যাখ্যা
• 'খেলনা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়- √খেল্ + অনা।
----------------------
• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √দুল্ + অনা = দোলনা,
-√খেল্ + অনা = খেলনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০১৯)
৫,৬৪১.
ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, বাংলা শব্দভাণ্ডারে কত শতাংশ তৎসম শব্দ আছে?
  1. ০৫% শব্দ
  2. ২৫% শব্দ
  3. ২০% শব্দ
  4. ৬০% শব্দ
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে,
বাংলা ভাষায়,
২৫% শব্দ - তৎসম,
৫% শব্দ অর্ধ-তৎসম,
৬০% শব্দ - তদ্ভব,
৮% শব্দ - বিদেশি,
এবং মাত্র ২% শব্দ - দেশি।

• তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,৬৪২.
‘উষ্ণীষ' শব্দের অর্থ -
  1. ক) অত্যন্ত উষ্ণ
  2. খ) শীতের আমেজ
  3. গ) কুসুম কুসুম উষ্ণ
  4. ঘ) পাগড়ি
ব্যাখ্যা
উষ্ণীষ শব্দের অর্থ পাগড়ি
- পদ- বিশেষ্য
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উষ্ণ+√ঈষ্‌+অ
- অর্থ: পাগড়ি, কিরীট। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৬৪৩.
সমাস নিষ্পন্ন শব্দ কোনটি?
  1. আদিত্য
  2. দৌহিত্র
  3. প্রবীণ
  4. চিকামারা
ব্যাখ্যা

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৬৪৪.
‘মোরগ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হবে-
  1. ক) মোর + অক
  2. খ) মুড়ি + অক
  3. গ) মুড় + অক
  4. ঘ) মোড় + ক
ব্যাখ্যা
‘মোরগ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হবে- 'মুড় + অক'।

• 'মোড়ক' শব্দটি বাংলা 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।
- যার সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে √মুড়্ + অক = মোড়ক।
- এরূপঃ √ঝল্ + অক = ঝলক ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫,৬৪৫.
তারিখ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. চৌথ
  2. ৪র্থ
  3. চৌঠা
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক,
- তারিখ পূরণবাচক ও
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক। 

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম, চতুর্দশ ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই),
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
- যেমন- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৬৪৬.
লুঙ্গি কোন ভাষার শব্দ?
  1. চীনা
  2. বর্মী
  3. নেপালি
  4. ভুটানি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ), অনুসারে-
- 'লুঙ্গি' বর্মী ভাষার শব্দ।

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, অনুসারে-
- 'ফারসি' ভাষার শব্দ। 

৫,৬৪৭.
'স্মরণীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √স্মর + অনট
  2. √স্মৃ + অনট
  3. √স্মৃ + অনীয়
  4. √স্মর + অনীয়
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয় (অনীয়র): যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।

​যেমন:
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়

​উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৬৪৮.
অনুভূতির কাল্পনিক অনুকৃতি কোনটি?
  1. গর গর
  2. কা কা
  3. কুহু কুহু
  4. চোঁ চোঁ
ব্যাখ্যা
অনুভূতির কাল্পনিক অনুকৃতি:
ঝিকিমিকি: 'চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
ঠাঠা: ঠা ঠা রোদে ঘুরে বেড়িও না।
কুট কুট: মশা কুট কুট করে কামড়াচ্ছে।
ছম ছম: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
চোঁ চোঁ: ক্ষিধেয় পেট চোঁ চোঁ করছে।

অন্যদিকে,
জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকৃতি - কা কা, গর গর, কুহু কুহু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৬৪৯.
'কুসু' - শব্দের সঠিক বহুচন কোনটি?
  1. কুসুমবলি
  2. কুসুমমালা
  3. কুসুমরাজি
  4. কুসুমদাম
ব্যাখ্যা

• 'কুসু' শব্দের সঠিক বহুচন - কুসুমদাম।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, গুচ্ছ, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।

যেমন:
- পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৫,৬৫০.
“তালাচাবি” কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. সমার্থক দ্বিরুক্তি
  2. বিপরীতার্থক দ্বিরুক্তি
  3. ভিন্নার্থক দ্বিরুক্তি
  4. পদাত্মক দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• তালাচাবি - ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

৫,৬৫১.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ডুবুরি
  2. চলন্ত 
  3. ফিসফিস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন:
মৌলিক শব্দ, সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমন: গাছ, নাক, ফুল, পাখি, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
- নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
- ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
- চলন্ত (চল্ + অন্ত),
- প্রশাসন (প্র + শাসন),
- গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৫,৬৫২.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. অরুণরাঙা
  2. সিংহপুরুষ
  3. তুষারশুভ্র
  4. ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।

যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ

অন্যদিকে,
উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।

যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ,
- যথা তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৫৩.
কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ কোনগুলো?
  1. গণ, নিচয়, সকল
  2. রাজি, নিকর, মালা
  3. বর্গ, রাজি, মালা
  4. কূল, সমূহ, বৃন্দ
ব্যাখ্যা
• কেবল অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দগুলো হলো:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, মালা, রাশি, রাজি, পুঞ্জ।
যেমন:
- গ্রন্থাবলি,
- কবিতাগুচ্ছ,
- কুসুমদাম,
- কমলনিকর,
- মেঘকুঞ্জ,
- পর্বতমালা,
- তারকারাজি,
- বালিরাশি।

অন্যদিকে:
• কূল, সমূহ শব্দ গুলো হচ্ছে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত হয়।
• গণ, বৃন্দ, বর্গ শব্দ গুলো হচ্ছে উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ।
• রাজি, মালা, নিচয়, সকল শব্দ গুলো হচ্ছে সমষ্টিবোধক শব্দে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
৫,৬৫৪.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ নয়?
  1. ক) বাঁশি
  2. খ) প্রবীণ
  3. গ) সন্দেশ
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা
জলধি যোগরূঢ় শব্দ। বাকিগুলো রূঢ়ি শব্দ। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
৫,৬৫৫.
'আ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) কান্না
  2. খ) পড়ুয়া
  3. গ) বাঘা
  4. ঘ) দোলনা
ব্যাখ্যা
'আ' প্রত্যয় যোগে গঠিত তদ্ধিতান্ত শব্দ = বাঘা = বাঘ+আ 
দুল্‌+অনা = দোলনা = কৃৎ প্রত্যয় 
পড়্‌+উয়া = পড়ুয়া = কৃৎ প্রত্যয় 
কাদ্‌+না = কান্না = কৃৎ প্রত্যয় 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৫৬.
'আশীবিষ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- বীণা পানিতে যার = বীণাপাণি।

• পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন -
- দুই কান কাটা যার = দু কানকাটা,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা।
অনুরূপভাবে - ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৫৭.
বাংলা ব্যাকরণে সংখ্যা নির্দেশ করার জন্য যেসব বর্ণ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে বলে -
  1. ক) অনুবর্ণ
  2. খ) কারবর্ণ
  3. গ) যুক্তবর্ণ
  4. ঘ) সংখ্যাবর্ণ
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণের সংখ্যা নির্দেশ করার জন্য যেসব বর্ণ ব্যবহার করা হয় তাদেরকে সংখ্যাবর্ণ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে ১০ টি সংখ্যা বর্ণ রয়েছে।

ব্যঞ্জনবর্নের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ন।
অনুবর্নের মধ্যে রয়েছে - ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে কারবর্ণ ১০টি।

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যুক্তবর্ণ দুই ধরনের, 
- স্বচ্ছ,
- অস্বচ্ছ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬৫৮.
নিচের কোনটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. সালিশ
  2. নিলাম
  3. মৌলবি
  4. উকিল
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সালিশ' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• কিছু ফারসি শব্দ;
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায ,রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ , বান্দা , শাদি, আমদান,সবজি, রসিদ।

অন্যদিকে,
'নিলাম' পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।
'মৌলবি' ও 'উকিল' আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬৫৯.
ধাতু বলতে বোঝায় -
  1. ক) শব্দমূল
  2. খ) ধ্বনিমূল
  3. গ) ক্রিয়ারমূল
  4. ঘ) অব্যয়মূল
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া মূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ।
ধাতু সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
১. ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি আর
২. ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ- প্রত্যয়।
যেমন-
- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ প্রত্যয়) = চলন(বিশেষ্যপদ)
- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ- প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯সংস্করণ
৫,৬৬০.
প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) সফল
  2. খ) সুশ্রী
  3. গ) মহাত্মা
  4. ঘ) জেলে
ব্যাখ্যা
ইয়া> এ-প্রত্যয়:
(ক) তৎকালীনতা বােঝাতে:
সেকাল + এ=সেকেলে,
একাল+এ=একেলে,
ভাদর +ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে (কইমাছ)।

(খ) উপকরণ বােঝাতে ;
পাথর পাথরিয়া> পাথুরে,
মাটি -মেটে, বালি- বেলে।

(গ) উপজীবিকা অর্থে:
জাল-জালিয়া>জেলে,
মােট-মুটে।

(ঘ) নৈপুণ্য বােঝাতে:
খুন-খুনিয়া > খুনে,
দেমাক-দেমাকে,
না (নৌকা) - নাইয়া> নেয়ে।

(ঙ) অব্যয়জাত বিশেষণ গঠনে:
টনটন - টনটনে (জ্ঞান),
কনকন - কনকনে (শীত),
গনগন - গনগনে (আগুন),
চকচক - চকচকে (জুতা)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৫,৬৬১.
'আনমনা' শব্দের 'আন' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিক্ষিপ্ত
  2. কম 
  3. আধা 
  4. অভাব 
ব্যাখ্যা

• 'আন' বাংলা উপসর্গ যোগে 'না' অর্থে গঠিত শব্দ- আনকোরা। 
• 'আন' বাংলা উপসর্গ যোগে 'বিক্ষিপ্ত' অর্থে গঠিত শব্দ- আনচান, আনমনা। 

----------------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৬৬২.
উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. পরা
  2. দুর
  3. বিনা
  4. অভি
ব্যাখ্যা
• পরা, দুর, অভি - তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
বিনা- অনুসর্গের উদাহরণ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।
--------------------------- 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।

যথা:
-  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।

যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়। 

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৬৩.
'সবান্ধব' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

• ‘সহ' কিংবা ‘সহিত' শব্দের সঙ্গে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে ‘সহ' ও 'সহিত' এর স্থলে ‘স’ হয়। যেমনঃ
- বান্ধবসহ বর্তমান; বান্ধবদের সঙ্গে = সবান্ধব,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা ,
- ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী,
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫,৬৬৪.
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক্রমবাচক
  2. তারিখবাচক
  3. সংখ্যাবাচক
  4. পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
- যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ) ইত্যাদি।
- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে।
- এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'।
- 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
৫,৬৬৫.
'মুসাফির' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
'মুসাফির' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 

মুসাফির (বিশেষ্য) 
- আরবি শব্দ 
অর্থ: যে সফর করে, পর্যটক, পথিক। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৬৬৬.
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বিদেশি উপসর্গ কতগুলো?
  1. ১৯টি
  2. ২০টি
  3. ২১টি
  4. অনির্ণেয়
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি - এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।

অর্থাৎ, বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

• কয়েকটি বিদেশি উপসর্গের উদাহরণ:
- আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর্।
- ফারসি উপসর্গ: কার্‌, দর্‌, না, নিম্‌, ফি, বদ্‌, বে, বর্‌, ব্‌, কম্‌।
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৬৭.
'শিখ' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) তুর্কি
  3. গ) গুজরাটি
  4. ঘ) পাঞ্জাবি
ব্যাখ্যা
চাহিদা ও শিখ পাঞ্জাবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৬৮.
বিশেষণ পদ যোগে গঠিত দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. লাল লাল ফুল
  2. জ্বর জ্বর লাগছে
  3. গ্রামে গ্রামে যাবে
  4. ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

⇒ দ্বিরুক্ত শব্দ:
বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন: আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

⇒ বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
• আধিক্য বোঝাতে:
- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।
- ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
- লাল লাল ফুল। 

⇒ বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

এরূপ,
জ্বর জ্বর লাগছে, গ্রামে গ্রামে যাবে এবং ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ। বিশেষ্য শব্দের দ্বিরুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ )।

৫,৬৬৯.
অর্থনুসারে 'তৈল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. যৌগিক 
  3. যোগরূঢ় 
  4. সাধিত 
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
• হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
• গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
• বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন- বাদাম তেল।
• প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৬৭০.
'চিতসাঁতার' শব্দের শুদ্ধ ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. চিত সাঁতার যে
  2. চিত রূপ সাঁতার
  3. চিতের ন্যায় সাঁতার
  4. চিত যে সাঁতার
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা। 

কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে' যোজক থাকে।
যেমন:
• খাস যে জমি = খাসজমি;
• চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার;
• ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা;
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ;
• কনক যে চাঁপা = কনকচাপা;
• টাক যে মাথা = টাকমাথা;
• যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর;
• যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫,৬৭১.
'টসটস' কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. পদদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, টসটস, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৭২.
‘ইন্’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) কুলীন
  2. খ) গুণী
  3. গ) নবীন
  4. ঘ) সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
ইন্ (ঈ)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
• গুণী।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [গুণ + ইন্]
অর্থ: গুণ আছে এমন, কালাবিদ, মন্ত্রদ্বারা বশ করতে পারে এমন।

অন্যদিকে,
নীন (ঈন্)- প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-

• কুল + ঈন্ = কুলীন।
• নব + ঈন্ = নবীন।
• সর্বজ + ঈন্ = সর্বজনীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৭৩.
চর্মকার > ___ > চামার এ শূণ্যস্থানে বসবে -
  1. ক) চম্মআর
  2. খ) চম্মকার
  3. গ) চর্মআর
  4. ঘ) চর্মসার
ব্যাখ্যা
চর্মকার > চম্মআর > চামার। 
কর্মকার> কম্মআর > কামার।


উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৫,৬৭৪.
নিচের কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দর্শনমাত্র
  2. খ) সফল
  3. গ) জীবন্মৃত
  4. ঘ) আমৃত্যু
ব্যাখ্যা
দর্শনমাত্র নিত্য সমাস, সফল বহুব্রীহি সমাস, জীবন্মৃত নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস এবং আমৃত্যু অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা‌।
৫,৬৭৫.
"√ নম্ + র = নম্র" - এখানে, 'নম্‌' হলো - 
  1. প্রকৃতি
  2. ধাতু
  3. কৃৎ প্রত্যয় 
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।

• র-প্রত্যয়:
- √নম্ + র = নম্র;
- √ক্ষুদ্ + র = ক্ষুদ্র;
- √হিন্স্ + র = হিংস্র।
-----------------
শব্দ গঠন বিশ্লেষণ:
√নম্ + র = নম্র।

এখানে √নম্ একাধারে:
- প্রকৃতি (মূল অংশ);
- ধাতু (ক্রিয়ামূল)।
- যখন ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন সেই ধাতুকে প্রকৃতি বলা হয়

সঠিক উত্তর: ঘ) ক এবং খ উভয়ই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৬৭৬.
কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ?
  1. দুই
  2. দোসরা
  3. বারো
  4. দ্বি
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর - দোসরা
- এটি তারিখ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।

• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
যেমন – ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চৌদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।
- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক  সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
• 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ: ‘দ্বি’, 'দু', 'দো'।
• 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ: 'ত্রি', ‘তে’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৭৭.
'ময়না' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা

• 'ময়না' শব্দটি 'আরবি' ভাষা থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- অস্বাভাবিক বা আকস্মিক মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে শবব্যবচ্ছেদ, post-mortem।

আরবি ভাষার কিছু শব্দ:
- এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির, ময়না, মুমিন, মুনিব, মুনশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৬৭৮.
নিচের কোনটি আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. আয়েশ
  2. বেহেশত
  3. আসমান
  4. নামাজ
ব্যাখ্যা

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
হালাল, হারাম, কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
 নামাজ, বেহেশত, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৬৭৯.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. চাঁদ
  2. সংসদ
  3. পরিচালক
  4. চলন্ত
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
- যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে।
- মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা, চাঁদ ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৮০.
‘পিতৃহীন’ কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. তদ্ভব শব্দ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
যেমন:
- কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা, অর্থ- যিনি বাবুর ভাব নিয়ে চলেন।
- পিতা + হীন = পিতৃহীন, অর্থ- যার পিতা নেই।

অন্যদিকে,
• মৌলিক শব্দ:
যে শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে বলা হয় মৌলিক শব্দ।
- উদাহরণ: আম, কলা, দেশ, গোলাপ, ভাই, বোন, হাত, পা, নাক, মাটি, ঘর, বউ ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ। উদাহরণ: সন্দেশ - (মূলঅর্থ) সংবাদ, পরিবর্তিত অর্থ- মিষ্টান্ন।

• তদ্ভব শব্দ:
তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ। এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ’ = তার, এবং ভাব (‘ভব’) = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়।
এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৮১.
নিম্নের কোনটি হিন্দি শব্দ?
  1. দারচিনি
  2. দফারফা
  3. দাম
  4. দেখভাল
ব্যাখ্যা
• দেখভাল,
- হিন্দি ভাষার শব্দ।
অর্থ: দেখাশোনা, তত্ত্বাবধান।

⇒ কিছু হিন্দি শব্দ হলো: দুলকি, দিলরুবা, দাবা, দাপট, দাঙ্গা, দহলা, দশেরা, দরদাম।

অন্যদিকে,
- ‘দফারফা’ আরবি শব্দ।
- ‘দাম’ গ্রিক শব্দ।
- ‘দারচিনি’ ফারসি শব্দ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬৮২.
অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. ব্রাত
  2. রাজি
  3. গণ
  4. পাল
ব্যাখ্যা
• ‘রাজি’ বহুবচন লগ্নকটি অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
উচ্চয় - পুষ্পরাজি, বৃক্ষরাজি।

• অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- রাশি,
- রাজি,
- মালা,
- ব্রজ,
- নিকর,
- দাম,
- জাল,
- গ্রাম,
- গুচ্ছ,
- উচ্চয়,
- আবলি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নকগুলো হলো:
- সঙ্ঘ,
- যূথ,
- ব্রাত (মধুকরব্রাত),
- বৃন্দ (বীরবৃন্দ, প্রজাবৃন্দ),
- পাল,
- গণ (বন্ধুগণ),
- কুল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬৮৩.
'সর্বাঙ্গীন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. সর্বঙ্গ+ঈন
  2. সর্ব+অঙ্গীন
  3. সর্ব+ঈন
  4. সর্বাঙ্গ+ঈন
ব্যাখ্যা
• 'সর্বাঙ্গী্ণ' শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'সর্বাঙ্গ + ঈন'। 
-  'সর্বাঙ্গীণ' শব্দের অর্থ- সর্বাঙ্গব্যাপী।
----------------------------- 
• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন
- বাঘ+আ=বাঘা;
- দিন+ইক = দৈনিক;
- দুল্+অনা = দোলনা;
- কৃ+তব্য = কর্তব্য।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
- উপরের উদাহরণে ‘আ’ ও ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ‘বাঘা’ ও দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• কৃৎপ্রত্যয় বলে: 
- অন্যদিকে ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
- উপরের উদাহরণে, ‘অনা’ ও ‘তব্য’ হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং ‘দোলনা’ ও ‘কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।  

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ও প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৬৮৪.
'মনমাঝি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি
  2. রূপক কর্মধারায়
  3. উপপদ তৎপুরুষ
  4. ব্যাখিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারায় সমাসের উদাহরণ - মনমাঝি।

• রূপক কর্মধারায় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক
কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল।
- আনন্দ রূপ সাগর = আনন্দসাগর।
- পরান রূপ পাখি = পরানপাখি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৮৫.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘরামি
  2. দর্শন
  3. মানব
  4. ধড়িবাজ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব,
- লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় -  ঘর + আমি = ঘরামি।
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় -  ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ।
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় - √দৃশ্ + অন = দর্শন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৫,৬৮৬.
নারীবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. ক) ষোড়শী
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) অষ্টাদশ
  4. ঘ) অষ্টম
ব্যাখ্যা
বাংলা সংখ্যাবাচক শব্দের "পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ" ৩ প্রকার।
যথা -
১. সাধারণ পূরণবাচক
২. তারিখ পূরণবাচক
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
-----------
সাধারণ পূরণবাচক শব্দ:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি।
- এগুলো আবার সংক্ষিপ্তরূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে
যেমন - প্রথমা, দ্বিতীয়া, অষ্টমী, দশমী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৮৭.
'সুন্দর বলদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. সুন্দর গাই
  2. সুন্দরী গাই
  3. সুন্দরী বলদী
  4. সুন্দরী বলদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দের বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না।

যেমন:
সুন্দর বলদ - সুন্দর গাই,
সুন্দর ছেলে - সুন্দর মেয়ে,
মেজ খুড়ো - মেজ খুড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৮৮.
'বৃক্ষ' শব্দের বহুবচন কোনটি?
  1. বৃক্ষবর্গ
  2. বৃক্ষরা
  3. বৃক্ষসমূহ
  4. বৃক্ষমালা
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে সব’, ‘সমূহ’, ‘-আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন -
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৬৮৯.
'ডেঙ্গু' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. গ্রিক শব্দ
  2. স্পেনিস শব্দ
  3. রোমান শব্দ
  4. তুর্কী শব্দ
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু  
- স্পেনিস শব্দ। 

অর্থ:
- এডিস মশাবাহিত ভাইরাস- জনিত ক্রান্তীয় অঞ্চলের প্রাণঘাতী রোগবিশেষ যার ফলে রক্তক্ষরণ সহ গাঁট ও মাংসপেশিতে তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়I

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬৯০.
কোনটি সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. কাপড়-চোপড়
  2. ধূতি-চাদর
  3. দয়া-মায়া
  4. কাগজ-পত্র
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

সমার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- হাট-বাজার,
- ঘর-দুয়ার,
- কল-কারখানা,
- মোল্লা-মৌলভী,
- খাতা-পত্র,
- কাগজ-পত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
• দয়া-মায়া,
• কাপড়-চোপড়,
• ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৯১.
'পোশাক' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. সংস্কৃত
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
• 'পোশাক'
- শব্দটি ফারসি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- পরিচ্ছদ, বেশ।

কিছু ফারসি শব্দ:
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৬৯২.
কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. সবিনয়
  2. নীলকণ্ঠ
  3. ঘোড়াগাড়ি
  4. শূলপাণি
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ঘোড়ার গাড়ি = ঘোড়াগাড়ি:
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট;
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ;
- দেশের সেবা = দেশসেবা;
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর;
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত;
- ছবির ঘর = ছবিঘর;
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা;
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

অন্যদিকে,
• বিনয়ের সঙ্গে বর্তমান = সবিনয়; সহার্থক বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।
• নীল কণ্ঠ যার = নীলকণ্ঠ; সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ। 
• শূল পাণিতে যার = শূলপাণি; ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৬৯৩.
দ্বিগু সমাসের সমাসনিষ্পন্ন পদটি কী হয়?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৯৪.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. হিমানী
  2. শাঁখিনী
  3. তপস্বিনী
  4. জেনানা
ব্যাখ্যা

- কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। 

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া,
- শাঁখিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- তপস্বী - তপস্বিনী,
- হিম - হিমানী,
- মরদ - জেনানা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৬৯৫.
নিচের কোন শব্দে বাংলা উপসর্গ আছে?
  1. উপসাগর
  2. হাপিত্যেশ
  3. অপিনিহিতি
  4. দুর্ভাগ্য
ব্যাখ্যা
• অভাব অর্থে ‘হা’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- হাপিত্যেশ।

অন্যদিকে,
• ক্ষুদ্র অর্থে সংস্কৃত ‘দুর’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- উপসাগর।
• ‘অপি’ সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অপিনিহিতি।
• মন্দ অর্থে সংস্কৃত ‘দুর’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- দুর্ভাগ্য।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাং
লায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,৬৯৬.
তৎপুরুষ সমাসে কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
  1. পরপদের
  2. উভয় পদের
  3. পূর্বপদের
  4. কোনো পদের অর্থ প্রাধান্য পায় না
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।

যেমন
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন। এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৬৯৭.
'এয়ো'- কোন ধরনের শব্দ?
  1. পুরুষবাচক শব্দ
  2. স্ত্রীবাচক শব্দ
  3. নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ
  4. নিত্য পুরুষবাচক শব্দ 
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন,
- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা ইত্যাদি।

• 'এয়ো' শব্দের অর্থ:
- স্বামী জীবিত আছে এমন নারী।

অন্যদিকে,
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন,
- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৬৯৮.
'ধ্বন্যাত্মক বিরুক্তির' উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চোখে চোখে
  2. খ) ঘেউ ঘেউ
  3. গ) কেউ কেউ
  4. ঘ) চুপচাপ
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে ।

বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

এই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দগুলো বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, 'সে সকল শব্দ ভাষা হইতে বাদ দিলে বঙ্গভাষার বর্ণনাশক্তি নিতান্তই পঙ্গু হইয়া পড়ে।” 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৯৯.
কোনটি তুর্কি ভাষার শব্দ?
  1. গির্জা
  2. বাবুর্চি
  3. ডিপো
  4. দাম
ব্যাখ্যা

• 'বাবুর্চি'- তুর্কি ভাষার শব্দ।

• তুর্কি ভাষার শব্দ:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।

অন্যদিকে,
• 'গির্জা' পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
• ‘দাম’ গ্রিক ভাষার শব্দ।
• ‘ডিপো’ ফরাসি ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৭০০.
‘জবাবদিহিতা’ এবং জমা শব্দ দুটি বাংলা ভাষায় কোন ভাষা হতে গৃহীত হয়েছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. দেশি
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• জবাবদিহিতা,
- আরবি শব্দ।
অর্থ: কোনো কাজের দায়দায়িত্ব গ্রহণ ও তৎসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।

• জমা,
- আরবি শব্দ।
অর্থ: ঘনীভূত হওয়া, সঞ্চিত হওয়া, রাশীকৃত হওয়া, জমাট বাঁধা, একত্র হওয়া, উপভোগ্য হওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।