বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৫৪ / ১০০ · ৫,৩০১৫,৪০০ / ১০,০৪৫

৫,৩০১.
বাংলা ভাষায় কৃৎ-প্রত্যয় দ্বারা সাধিত শব্দ কোনটি? 
  1. খেলনা
  2. খেলুনি
  3. রাধনী 
  4. রাধন
ব্যাখ্যা

'খেলনা'' শব্দটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- কারণ 'খেলনা'' শব্দটি 'খেল' ধাতু এবং 'অনা' প্রত্যয়ের সংযোগে গঠিত হয়েছে।
- এখানে 'খেল' হলো ক্রিয়ামূল বা ধাতুরূপ এবং 'অনা' হলো বাংলা কৃৎ প্রত্যয়।
--------------------------- 
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় হলো- বাংলা ভাষা থেকে আসা কৃৎ প্রত্যয়।
- অ, অক, অন, অনা, অনি, অন্ত, আ, আই, আও, আন, আনি, আল, ই - ইত্যাদি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় এর উদাহরণ।
- বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বোঝাতে ধাতুর আগে সাধারণত চিহ্ন (√) ব্যবহার করা হয়।

- উদাহরণ:
- √খেল+অনা = খেলনা, 
- √রাঁধ+না = রাঁধনা ˃ রান্না, 
- √মার+অ = মার, 
- √কাঁদ+অ = কাঁদকাঁদ, 
- √মর+অ = মরমর, 
- √কাঁদ+অন = কাঁদন, 
- √দে+অন = দেওন, 
- √বাঁধ+অনি = বাঁধুনি, 
- √আঁট+অনি = আঁটুনি, 
- √ডুব+অন্ত = ডুবন্ত, 
- √মুড়+অক = মোড়ক, 
- √ফুট+আ = ফোটা, 
- √মান+আন = মানান/মানানো, 
- √ধুন+আরী = ধুনারী, 
- √মিশ+আল = মিশাল, 
- √বহ+তা = বহতা, 
- √ঘাট+তি = ঘাটতি, 
-√উঠ+তি = উঠতি, 
- √কাঁদ+না = কাঁদনা ˃ কান্না, 
- √হাস + ই = হাসি।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩০২.
কোন দ্বিরুক্তিটি ধনাত্মক?
  1. শনশন
  2. শীতশীত
  3. পড়োপড়ো
  4. হাতেনাতে
ব্যাখ্যা
• ‘শনশন’ ধনাত্মক দ্বিত্ব শব্দের উদাহরণ।

• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
৩.পুনরাবৃত্তদ্বিত্ব

⇒ অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

- যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

⇒ ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন: টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম ।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৩০৩.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. গোলাপ
  2. পাঠক
  3. ঘোড়া
  4. গরু
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ নয়- পাঠক। 
- পাঠক যৌগিক শব্দ। 

------------------
• মৌলিক শব্দ:

যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন-
মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা, গরু ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৩০৪.
'ঢোল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. দেশি
  2. বাংলা 
  3. হিন্দি 
  4. সংস্কৃত 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ঢোল' দেশি ভাষার শব্দ। 



কিছু দেশি শব্দ:
ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৩০৫.
"অনুদিন" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. তৎসম
  2. বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
'অনু' উপসর্গ টির ব্যব্যহার:
পশ্চাত অর্থে = অনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর, অনুতাপ, অনুকরণ।
সাদৃশ্য অর্থে = অনুবাদ, অনুরুপ, অনুকার।
পৌনঃপুন অর্থে = অনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন।
সঙ্গে অর্থে = অনুকূল, অনুকম্পা।

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যেমন:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩০৬.
অদৃষ্টপূর্ব কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) নঞ তৎপুরুষ
  2. খ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব হলো সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। এরূপ- ভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব, অকালপক্ব, কৃষিপ্রধান, ঘরপোড়া, গালভরা ইত্যাদি। পূর্বপদে বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বুঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে সপ্তমী বিভক্তি লোপ পায়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৩০৭.
'অতিমানব' শব্দের 'অতি' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. খাঁটি বাংলা 
  2. তৎসম 
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• 'অতিমানব' শব্দের ‘অতি’ সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

• তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা-
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৩০৮.
‘হস্তী’ শব্দের সাথে কোন বহুবচন প্রত্যয় যুক্ত হবে?
  1. নিকর
  2. আবলি
  3. রা
  4. যূথ
ব্যাখ্যা
• 'হস্তী’ শব্দটির বহুবচন- হস্তীযূথ।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
হস্তীযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০২৯ সংস্করণ)।
৫,৩০৯.
“অহিনকুল” কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রতেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 - বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
• অহি - নকুল,
• দা - কুমড়া,
• স্বর্গ - নরক ইত্যাদি।

বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বৈরী অর্থ বা ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন-
• অহি ও নকুল = অহি-নকুল;
• দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া।

----------------------
অন্যদিকে,
সমার্থক দ্বন্দ্ব:
একই জাতীয় বস্তুর সংযোগে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয়, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
• হাট ও বাজার= হাট-বাজার;
• বই ও পুস্তক = বই-পুস্তক।

মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস: 
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে একত্র বা মিলন বা সম্পর্ক বোঝায় তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
ছেলে ও মেয়ে = ছেলে-মেয়ে;
পিতা ও পুত্র = পিতা-পুত্র;
মাছ ও ভাত = মাছ-ভাত;
ভাই ও বোন = ভাই-বোন।

বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন—
• জমা – খরচ,
• আয় – ব্যয়,
• ছোট – বড়,
• লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

৫,৩১০.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী সমাসের উদাহরণ?
  1. অরুণরাঙ্গা
  2. নরসিংহ
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. স্মৃতিসৌধ
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ, এবং অরুণরাঙা = অরুণের ন্যায় রাঙা, উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- বিষাদসিন্ধু= বিষাদ রূপ সিন্ধু; রূপক কর্মধারয় সমাস।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩১১.
'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' - বাক্যে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য রূপে
  2. ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
  3. সর্বনাশ রূপে
  4. বিশেষণ রূপে
ব্যাখ্যা
• 'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ রূপে  ব্যবহৃত হয়েছে।  
 
আরো কিছু দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ: 
• ক্রিয়া বিশেষণ অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে: 
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
- দেখে দেখে যেও।
 
• স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
 
• বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
 
• অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে। 
 
• পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে, 
- 'ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি'- এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৫,৩১২.
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, তাকে কী বলে?
  1. অলুক দ্বন্দ্ব
  2. নিত্য সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

নিত্য সমাস: 
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে। 
যেমন-
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৩১৩.
"ফট্‌ফট্‌" কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ধ্বন্যাত্মক
  2. অনুকার
  3. পুনরাবৃত্ত
  4. বিভক্তিযুক্ত
ব্যাখ্যা
• "ফট্‌ফট্‌" ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ। 

--------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব / দ্বিরুক্ত শব্দ:

কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন:
- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
[কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।]

• অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন:
- ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন - খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩১৪.
‘লেনদেন’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. সংস্কৃত
  2. ফারসি
  3. খাঁটি বাংলা
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• 'লেনদেন':
- এটি হিন্দি শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- আদান-প্রদান।

আরো কিছু হিন্দি শব্দ:
- দাঙ্গা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড়,
- লড়াকু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩১৫.
'মধুর' কোন প্রকার শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) রূঢ়ি
  4. ঘ) যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
বাগর্থ অনুসারে বাংলা শব্দকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়- 
যৌগিক শব্দ
রূঢ়ি শব্দ এবং 
যোগরূঢ় শব্দ

যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। 
এখানে 'মধুর' শব্দটি গঠিত হয়েছে (মধুর+র) যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই = মধুর মত মিষ্টি গুণ যুক্ত। 
তাই 'মধুর' শব্দটি যৌগিক শব্দ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩১৬.
'উপভোগ' শব্দে “উপ” তৎসম উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিশেষ
  2. ক্ষুদ্র
  3. নিকটে
  4. অধিকতা
ব্যাখ্যা
• 'উপভোগ' শব্দে “উপ” তৎসম উপসর্গটি “বিশেষ” অর্থ প্রকাশ করে।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৩১৭.
প্রত্যয়গতভাবে অশুদ্ধ কোনটি?
  1. ক) উৎকর্ষ
  2. খ) উৎকৃষ্ট
  3. গ) উৎকৃষ্টতা
  4. ঘ) উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা
• 'উৎকৃষ্ট' (উৎ + √কৃষ্ + ত) প্রত্যয় সাধিত শব্দ, এটি বিশেষণ।
- আর এর সাথে ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকৃষ্টতা’ শব্দটি বিশেষ্য প্রকাশ করে। 
- আর উৎকর্ষ শব্দের সমার্থক শব্দ উৎকৃষ্টতা।

• ‘উৎকর্ষ’ (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ, এটি বিশেষ্য।

আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ অর্থাৎ বাহুল্য দোষ। 
সুতরাং ’উৎকর্ষতা’ শব্দটি ভুল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩১৮.
'অল্পবুদ্ধি' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- অল্প বুদ্ধি যার = অল্পবুদ্ধি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩১৯.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. কর্তব্য
  2. নাক
  3. দৌহিত্র
  4. মধুর
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ: 
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

• অন্যদিকে,
- দৌহিত্র, মধুর, কর্তব্য- শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ। 
-------------------------  
• যৌগিক শব্দ:
- যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- কর্তব্য= কৃ + তব্য; অর্থ- যা করা উচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩২০.
‘বেগম’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. ওলন্দাজ
  3. তুর্কি 
  4. আরবি 
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 

বিদেশি শব্দের উদাহরণ
ফরাসি:
- কার্তুজ, কুপন, ডিপো, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

ওলন্দাজ শব্দ:
- ইস্কাপন, টেক্কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন ইত্যাদি। 

তুর্কি শব্দ:
- কুলি, কোর্মা, খাতুন, তোপ, বেগম, লাশ।

আরবি:
- ধর্মসংক্রান্ত শব্দ: আল্লাহ্, ইসলাম, ঈমান, ওজু, কোরবানি, কুরআন, কিয়ামত, গোসল, জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল ইত্যাদি।
- প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ: আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব, কেচ্ছা, খারিজ, গায়েব, দোয়াত, নগদ, বাকি, মহকুমা, মুন্সেফ, মোক্তার, রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,৩২১.
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শব্দে ব্যবহৃত যুক্ত বর্ণ সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি?
  1. ক) ক্+ষ
  2. খ) হ্+ম
  3. গ) ক্+ণ
  4. ঘ) ঙ্+,ম
  5. ঙ) ঙ্+ণ
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক বিশ্লেষণ হলো- হ্+ম = । ক্+ষ = ক্ষ - শিক্ষা, রক্ষা। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৩২২.
কোন নির্দেশকটি শব্দের পরে আলাদাভাবে বসে?
  1. জন
  2. খানি
  3. টি
  4. খানা
ব্যাখ্যা
নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ বা লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন: -টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

• -জন:
- শুধু মানুষের বেলায় -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন -
বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।
- সংখ্যার সঙ্গেও -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন - একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।

- অধিক সংখ্যার বেলায় ‘-জন’ নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে।
যেমন - পাঁচ জন, পচিঁশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৩২৩.
‘উপবন’ শব্দের ‘উপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্ষুদ্র
  2. বিশেষ
  3. সদৃশ
  4. আধিপত্য
ব্যাখ্যা
• সদৃশ অর্থে সংস্কৃত ‘উপ’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ উপবন।

-------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩২৪.
'আমমোক্তার' শব্দে ব্যবহৃত 'আম' কোন উপসর্গ?
  1. ক) তৎসম উপসর্গ
  2. খ) বাংলা উপসর্গ
  3. গ) আরবি উপসর্গ
  4. ঘ) ফারসি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'আমমোক্তার' শব্দে ব্যবহৃত 'আম'- 'আরবি উপসর্গ'। 
- সাধারণ অর্থে 'আমমোক্তার' শব্দে 'আম' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 

আরবি উপসর্গ:
- আম্ (সাধারণ অর্থে) - আমদরবার, আমমোক্তার
- খাস (বিশেষ অর্থে)- খাসমহল, খাসখবর, খাসকামরা খাসদরবার
- লা (না অর্থে) - লাজওয়াব, লাখেরাজ লাওয়ারিশ, লাপাত্তা
- গর্ (অভাব অর্থে) - গরমিল, গরহাজির, গররাজি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)। 
৫,৩২৫.
’সিকি’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. অংকবাচক
  2. গণনাবাচক
  3. পূরণবাচক
  4. তারিখবাচক
ব্যাখ্যা
পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা:
- একাধিকবার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায়, তা-ই পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা।
যেমন— সপ্তাহ বলতে আমরা সাত দিনের সমষ্টি বুঝিয়ে থাকি। সপ্ত (সাত) অহ (দিনক্ষণ) = সপ্তাহ।
এখানে দিন একটি একক। এরূপ—সাতটি দিন বা সাতটি একক মিলে হয়েছে সপ্তাহ।

পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা বা আধিক্য বাচক ‘সংখ্যা শব্দ: 
এক এককের চার ভাগের এক ভাগ (১/৪) = চৌথা, সিকি বা পােয়া।
এক এককের তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) = তেহাই।
এক এককের দুই ভাগের এক ভাগ (১/২) = অর্ধ বা আধ।
এক এককের আট ভাগের এক ভাগ (১/৮) = আট ভাগের এক বা এক অষ্টমাংশ।
তেমনি এক পঞ্চমাংশ (১/৫), এক দশমাংশ (১/১০) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩২৬.
'খাসমহল' শব্দের 'খাস' উপসর্গটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ক) বিবিধ
  2. খ) সাধারণ
  3. গ) বিশেষ
  4. ঘ) অভাব
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নে 'খাস' উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থ প্রকাশ করে।
- 'খাস' একটি আরবি উপসর্গ। 
যেমন:  খাস ( বিশেষ) > খাসমহল, খাসখবর।

এ ভাষায় আরো কয়েকটি উপসর্গ অর্থসহ দেওয়া হলো -
- আম (সাধারণ) > আমজনতা, আমদরবার, আমমোক্তার।
- বাজে ( বিবিধ) > বাজেখরচ, বাজেকাজ।
- লা (না) > লাপাত্তা,লাখেরাজ।
- গর ( অভাব) > গরমিল,গররাজি। 
- খয়ের ( ভাল) > খয়ের খাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫,৩২৭.
’রাজপথ’ কোন সমাসের উদাহর‌ণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

• বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
- ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি, 
- ধানের খেত = ধানখেত, 
- পথের রাজা = রাজপথ,
- গোলায় ভরা = গোলাভরা, 
- গাছে পাকা = গাছপাকা, 
- অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

৫,৩২৮.
"লোকটি বাচ্চাদের গল্প শুনাচ্ছে" বাক্যে লোক শব্দের শেষে যুক্ত 'টি' হল-
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) নির্দেশক
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে।
'লােকটি' বা 'ভালােটুকু' পদের 'টি’ বা ‘টুকু' হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে।
'ছেলেরা' বা 'বইগুলাে' পদের 'রা' বা 'গুলাে' হলাে বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৩২৯.
'কাজ' শব্দটির তৎসম রূপ -
  1. কাজ
  2. কজ্জ
  3. কার্য
  4. কর্য
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) কার্য।

ব্যাখ্যা:
‘কাজ’ শব্দটির তৎসম রূপ হলো ‘কার্য’।
‘কাজ’ হলো এই তৎসম শব্দের তদ্ভব রূপ।

অর্থ্যাৎ, 
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) কার্য> (প্রাকৃত) কজ্জ> (বাংলা) কাজ}

উৎস: অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৩৩০.
'আদান' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পর্যন্ত অর্থে
  2. ঈষৎ অর্থে
  3. বিপরীত অর্থে
  4. উত্তম অর্থে
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো:
- পর্যন্ত অর্থে: আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র।
- ঈষৎ অর্থে: আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে: আদান, আগমন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৩৩১.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. রাজপথ
  2. মাতাপিতা
  3. গাছপাকা
  4. সিংহাসন
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
 
যেমন: 
- ভাইবোন,
- তাল-তমাল,
- ভালোমন্দ,
- মাতাপিতা,
- যাকে-তাকে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• 'রাজপথ' (পথের রাজা) ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস। 
• 'গাছপাকা' (গাছে পাকা) ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
• 'সিংহাসন' (সিংহ চিহ্নিত আসন) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৩২.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. বর্গি
  2. গরিব
  3. টোপর
  4. তোশক
ব্যাখ্যা

• দেশি শব্দ - টোপর।
অর্থ: শিরস্ত্রাণ; বড় টুপি।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বর্গি - ফারসি শব্দ
• ফারসি শব্দ - তোশক।
• 'গরিব' আরবি শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৩৩৩.
'বকলম'- শব্দে 'ব' উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
'বকলম' শব্দে 'ব' উপসর্গটি - ফারসি উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি শব্দের সঙ্গে যেসব উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাদেরকে বিদেশী উপসর্গ বলা হয়।
• এসব বিদেশি উপসর্গের মধ্যে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি ইত্যাদি ভাষার উপসর্গ বহুলভাবে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এসব উপসর্গ ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষার সঙ্গে বেমালুম মিশে গেছে।
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, বাজে, গর।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বড়, ব, কম।
ইংরেজি উপসর্গ: ফুল, হাফ, হেড, সাব।
হিন্দি: হর, হরেক।

উৎস:প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,৩৩৪.
'উপভোগ’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্ষুদ্র
  2. সামীপ্য
  3. বিশেষ
  4. সদৃশ
ব্যাখ্যা

• ’উপভোগ’ শব্দে ’উপ’ উপসর্গটি ’বিশেষ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

- উল্লেখ্য,
’উপ’ একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য" অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’ অর্থে- উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৩৩৫.
'সাম্পান' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তুর্কি শব্দ
  2. চীনা শব্দ
  3. ফরাসি শব্দ
  4. খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'সাম্পান' কোন চীনা ভাষার শব্দ।

• কিছু চীনা শব্দ:
 - চা, চিনি, লিচু, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

কিছু তুর্কি শব্দ:
চাকু, চাকর, দারোগা, কুলি, বাবুর্চি, কোর্মা, খাতুন, বেগম, লাশ, উজবুক, বিবি, কাঁচি ইত্যাদি।

• কিছু ফরাসি শব্দ:
ওলান্দাজ, ডিপো, কার্তুজ ,রেনেসাঁ, ক্যাফে,রেস্তোরাঁয়,দিনেমার।

• কিছু খাটি বাংলা শব্দ:
ঢেঁকি, ঢোল, কাঁটা, খোঁপা, ডিঙি, কুলা, টোপর, খোকা, খুকি, বাখারি, কড়ি, ঝিঙা, কয়লা, কামড়, চাউল, ছাই,  ঝোল, , ডাহা, ঢিল, পয়লা, চুলা,  ঝানু, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, খোঁড়া, চোঙা, ছাল, ঢিল, মাঠ, মুড়ি, চাটাই, খোঁজ, , ঝিনুক, নেড়া, কুলা, শিকড়, ঝাপসা, কচি, গোড়া,  খড়, পেট, কুড়ি, দোয়েল,গোড়া, গঞ্জ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩৩৬.
‘মনে মনে তুলনা করে দেখলাম’— এখানে দ্বিরুক্তিটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য অর্থে
  2. সামান্য অর্থে
  3. ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
  4. তীব্রতা অর্থে
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া বিশেষণ: 
যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।

'মনে মনে তুলনা করে দেখলাম' বাক্যে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি পদ 'মনে মনে', তুলনা করা(ক্রিয়া) কে বিশেষায়িত করে।
- তাই 'মনে মনে' ক্রিয়া বিশেষণ রূপে দ্বিরুক্ত পদ।

বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ:
- আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা আম, লাল লাল গোলাপ, বস্তা বস্তা সার, রাশি রাশি ধান।
- সামান্য অর্থে: কবি কবি ভাব, শীত শীত লাগে, কাদা কাদা মাঠ।
- তীব্রতা অর্থে: হিম হিম ঠান্ডা, গরম গরম দুধ, নরম নরম বালিশ।
- বহুত্ব অর্থে: কে কে যাবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৩৭.
'ঘরামি' কোন প্রত্যয়?
  1. তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
যেমন -
→ লাজ + উক = লাজুক,
→ বড় + আই = বড়াই,
→ ঘর + আমি = ঘরামি।

-------------------------------------
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩৩৮.
'মিশরীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) মিশর + ঈয়
  2. খ) মিশরী + ঈয়
  3. গ) মিশর + ইয়
  4. ঘ) মিশরী + ইয়
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের 'মিশরীয়' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে মিশর + ঈয়

• ঈয় প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে-
মিশর + ঈয় - মিশরীয়।
রাষ্ট্র + ঈয় - রাষ্ট্রীয়।
উল্লেখিত দুটো শব্দই তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (সংস্করণ ২০২১)।
৫,৩৩৯.
'তপের নিমিত্ত বন = তপোবন' - এটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৩৪০.
'পরি যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. প্রাদি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস 
  4. নিত্যসমাস
ব্যাখ্যা

• প্রাদি সমাস: 
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট ) যে বচন = প্রবচন।

এরূপ- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ =অনুতাপ, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৩৪১.
প্রত্যয় যোগে সাধিত কোন শব্দটি ‘সদৃশ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) চোরা
  2. খ) গেঁয়ো
  3. গ) বাঘা
  4. ঘ) দখিনা
ব্যাখ্যা
• সদৃশ অর্থে শব্দটি: বাঘ→ বাঘা।

অন্যান্য শব্দগুলো:
গেঁয়ো - 'সংশ্লিষ্ট' অর্থে
জমিদারি - মালিক অর্থে৷
ঢাকাই – জাত অর্থে।
চোরা - অবজ্ঞা অর্থে।
প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর অনেক সময় শব্দের অর্থ এবং শ্রেণী পরিচয় বদলে যায়।যেমন:
বৃহৎ অর্থে: ডিঙি ডিঙা
সদৃশ অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
আগত অর্থে: দখিনা।
আদর অর্থে: কানু → কানাই ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৩৪২.
'পাতিলেবু' শব্দে 'পাতি' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পরিপক্ব অর্থে
  2. সুঘ্রাণ অর্থে
  3. ক্ষুদ্র অর্থে
  4. অপরিপক্ব অর্থে
ব্যাখ্যা
• 'পাতিলেবু' শব্দে 'পাতি' ক্ষুদ্রঅর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'পাতি' একটি বাংলা উপসর্গ।

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'পাতিলেবু' অর্থ: সবুজ হলুদাভ ছোটো প্রজাতির গোলাকার ভিটামিন সি সমৃদ্ধ রসালো অম্লস্বাদ ফলবিশেষ।

• 'পাতি' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ:
- পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতকুয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩৪৩.
নিচের কোনটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. করণীয়
  2. পাঠক
  3. নাচন
  4. জয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
সংস্কৃত বা তৎসম ধাতু বিবর্জিত বাংলা ধাতুর সঙ্গে প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √ডুব্‌ + অন্ত = ডুবন্ত; 
- √চল্‌ + অন্ত = চলন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ-
√কৃ + অনীয় = করণীয়,
√পঠ্‌ + ণক =√পঠ্‌ + অক = পাঠক, 
অল্-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে): √জি + অল্ = জয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৩৪৪.
তদ্ভব শব্দের উদহারণ কোনটি?
  1. পৃথিবী
  2. আকাশ
  3. ঘােড়া
  4. বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
- পৃথিবী,
- আকাশ,
- গ্রহ,
- বৃক্ষ 

তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র,সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ:
- হাত,
- পা,
- কান,
- নাক,
- জিভ,
- দাঁত;
- হাতি,
- ঘােড়া,
- সাপ, .
- পাখি,
- কুমির ইত্যাদি।


বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২১]]
৫,৩৪৫.
'মধুর' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ 
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। 
​যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৩৪৬.
গঠন অনুসারে শব্দ কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন: পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি। শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৫,৩৪৭.
'গায়ক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি কোনটি?
  1. গায়
  2. গৈ
  3. গা
  4. গেয় 
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত 'ণক' প্রত্যয়যোগে - গায়ক শব্দটি গঠিত। 
- ‘গায়ক’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়- 'গৈ + ণক/অক'। 
- এটি সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
এখানে,
'গৈ' হলো- প্রকৃতি এবং 'ণক'/ অক' - প্রত্যয়।

এরূপভাবে, 
- √ পঠ্‌ + ণক = পাঠক। 
- √ নী + ণক > নৈ + অক = নায়ক। 
- √ গৈ + ণক = গায়ক। 

উল্লেখ্য,
নতুন ব্যাকরণ অনুসারে, গায়ক শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয় আছে- '√ গৈ + অক'। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৩৪৮.
কোন শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত?
  1. জলসা
  2. বুনিয়াদ
  3. মুচলেকা
  4. ঝান্ডা
ব্যাখ্যা
• 'জলসা'
- শব্দটি আরবি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- নাচ গান প্রভৃতির মজলিস।
- আসর, বৈঠক।

অন্যদিকে,
- 'ঝান্ডা' শব্দটি হিন্দি ভাষা হতে আগত।
- 'মুচলেকা' শব্দটি তুর্কি ভাষা হতে আগত।
- 'বুনিয়াদ' শব্দটি ফারসি ভাষা হতে আগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩৪৯.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. অপকার
  2. ইতিকথা
  3. অচেনা
  4. আনকোরা
ব্যাখ্যা
তৎসম উপসর্গ সাধিত শব্দের উদাহরণ:
• অপ- অপমান, অপকার।

অন্যদিকে, 
খাঁটি বাংলা উপসর্গ সাধিত শব্দের উদাহরণ:
অ = অচেনা, অকেজো।
আন = আনকোরা।
ইতি = ইতিকথা, ইতিহাস।

-----------------
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩৫০.
"ময়দান” - কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. উর্দু
  3. আরবি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

• ময়দান- (আরবি ভাষার শব্দ), 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
অর্থ:
- মাঠ; প্রান্তর।

• আরবি ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো:
- এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির, ময়না, মুমিন, মুনিব, মুনশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৩৫১.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ইতি
  2. প্র
  3. প্রতি
  4. অতি
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
অন্যদিকে,
- প্র , প্রতি এবং অতি তৎসম উপসর্গ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৩৫২.
কোন শব্দটি লিঙ্গান্তর হয় না?
  1. অভিসারিণী
  2. শিষ্যা
  3. অর্ধাঙ্গিনী
  4. শূদ্রা
ব্যাখ্যা

• কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না। 

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- অভিসারী-অভিসারিণী,
- শিষ্য-শিষ্যা,
-  শূদ্র-শূদ্রা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৩৫৩.
অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক লগ্নক কোনটি?
  1. আবলি
  2. গণ
  3. বৃন্দ
  4. বর্গ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ:

যেমন:
- আবলি- পুস্তকাবলি। 
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম, পুষ্পদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয়।

অন্যদিকে,
• উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ- সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৩৫৪.
’লঙ্কাবাটা’ এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি ?
  1. ক) লঙ্কা ও বাটা
  2. খ) যা লঙ্কা তাই বাটা
  3. গ) লঙ্কার বাটা
  4. ঘ) বাটা যে লঙ্কা
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস
• যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন:
- গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
- বাটা যে লঙ্কা = লঙ্কাবাটা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি।
৫,৩৫৫.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দের উদাহরণ?
  1. প্রবীণ
  2. গবেষণা
  3. গায়ক
  4. সন্দেশ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - প্রবীণ, সন্দেশ।
যোগরূঢ় শব্দ- গবেষণা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩৫৬.
'কয়েদ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. সংস্কৃত
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
• 'কয়েদ' শব্দটি 'আরবি' ভাষা থেকে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- আটক,
- আবদ্ধ,
- বন্দি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩৫৭.
'উপভোগ' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্ষুদ্র
  2. সদৃশ
  3. বিশেষ
  4. সামীপ্য
ব্যাখ্যা

'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৩৫৮.
‘দেশভঙ্গ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।
যেমন:
• আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া (৫মী তৎপুরুষ সমাস)।
• আত্মকে নিয়ন্ত্রণ = আত্মনিয়ন্ত্রণ (২য়া তৎপুরুষ সমাস)।
• অগ্নি দ্বারা উৎপাত= অগ্ন্যুৎপাত (৩য়া তৎপুরুষ সমাস)।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ধানের খেত = ধানখেত;
- দেশকে ভঙ্গ = দেশভঙ্গ;
- রথকে চালন = রথচালন;
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

--------------------
অন্যদিকে,
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

• অব্যয়ীভাব সমাস:
‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,
- দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।  

• দ্বন্দ্ব সমাস:
সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা;
- ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩৫৯.
‘কুম্ভকার’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। কৃৎ প্রত্যয়ন্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।

- কোনো পদ বিশ্লেষণ করলে যদি প্রথমে একটি পদ, তারপর একটি ধাতু এবং শেষে একটি প্রত্যয় পাওয়া যায়, তাহলে প্রথম পদটিকে বলে উপপদ।
যেমন:
কুম্ভকার = কুম্ভ + √কৃ + অ- এখানে 'কুম্ভ' উপপদ। কুম্ভ করে যে= কুম্ভকর- উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
 
আরোকিছু উদাহরণ হলো:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৬০.
'মাতাপিতা' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে 'দ্বন্দ্ব' শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- জায়া ও পতি = দম্পতি।
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- আলো ও ছায়া = আলোছায়া।
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৬১.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. খয়ের
  2. কার
  3. হর
  4. আম
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৩৬২.
"মুচলেকা, লাশ, কুর্নিশ" কোন ভাষার অন্তর্গত শব্দ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. ফারসী
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) তুর্কি।

ব্যাখ্যা:
শব্দগুলোর উৎস:
১. মুচলেকা - তুর্কি।

অর্থ: লিখিত প্রতিশ্রুতি, শর্ত মানার এবং না মানলে আইনগতভাবে দণ্ডভোগ করার লিখিত অঙ্গীকারপত্র। 

২. লাশ - তুর্কি।
অর্থ: মৃতদেহ।
ফারসী শব্দ "লাশ" থেকে

৩. কুর্নিশ - তুর্কি।
অর্থ: সম্মান প্রদর্শন, অভিবাদন।

তিনটি শব্দই - তুর্কি ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৩৬৩.
'বার বার সে কামান গর্জে উঠল।' এখানে 'বার বার' কী অর্থে প্রকাশ করেছে?
  1. ভাবের গভীরতা
  2. পৌনঃপুনিকতা
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. বিশেষণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।' অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
• ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী করেছ

• পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

• অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

• বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

• ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৫,৩৬৪.
"ইতিহাস থেকে সকলেরই শিক্ষা নেওয়া উচিত।" - বাক্যে 'ইতিহাস' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. ফারসি উপসর্গ
  4. আরবি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• "ইতিহাস থেকে সকলেরই শিক্ষা নেওয়া উচিত।" বাক্যে 'ইতিহাস' শব্দটি 'বাংলা' উপসর্গযোগে গঠিত।
 
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩৬৫.
'দোলনা' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দোল+ অনা
  2. √দুল্ + না
  3. √দোল্‌ + অনা
  4. √দুল্ + অনা
ব্যাখ্যা

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
- বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।

যেমন:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √দুল্ + অনা = দোলনা,
-√খেল্ + অনা = খেলনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০১৯)

৫,৩৬৬.
'যে চালাক সেই চতুর' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। 

কর্মধারায়  সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়-
• দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

• দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

• কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন- আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।

• পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

• বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন– মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।

• পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন- কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।

• পরপদে 'রাজা' শব্দ থাকলে কর্মধারয় সমাসে 'রাজ' হয়। যেমন- মহান যে রাজা = মহারাজ।

• বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়। যেমন- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ, অধম যে নর = নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৫,৩৬৭.
সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয়-
  1. উত্তরপদ
  2. পরপদ
  3. পূর্বপদ
  4. সমস্ত পদ
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা-
• সমস্যমান পদ:
যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

• সমস্ত পদ:
সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে। একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়। যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

• ব্যাসবাক্য:
সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। 'ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ। একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

• পূর্বপদ ও পরপদ:
সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ। সিংহাসন শব্দের সিংহ হলো পূর্বপদ, আর আসন হলো পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৬৮.
‘রা’, ‘গুলি’, ‘গুলা’ — এগুলো কী নির্দেশ করে?
  1. একবচন
  2. নির্দেশবাচক সর্বনাম
  3. সমষ্টিবোধক বিশেষ্য
  4. বহুবচন
ব্যাখ্যা
• কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।
যেমন-
গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্যরা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
৫,৩৬৯.
'আয়তলোচনা' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. দিগু সমাস
ব্যাখ্যা

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা- বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।
- বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

যথা:
- আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী),
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
- স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৩৭০.
'গণপতি' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ,
- গণের পতি = গণপতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৭১.
'ত্রিফলা' - কোন ধরনের সমাস সাধিত শব্দ?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. দিগু কর্মধারয় সমাস
  3. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• দিগু কর্মধারয় সমাস:
- কিছু  কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যা বাচক হয় তাকে দিগু কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা।
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

এছাড়াও,
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয় তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয় এগুলকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
পুরুষ সিংহের ন্যায়= সিংহপুরুষ 
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমান পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু।
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৩৭২.
কোন শব্দটি সংস্কৃত থেকে পরিবর্তীত হয়ে বাংলা ভাষায় আসেনি?
  1. কাজ
  2. ঘর
  3. বধূ
  4. ভাত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'বধূ' একটি সংস্কৃত শব্দ।



অন্যদিকে,
- 'কাজ' শব্দটি সংস্কৃত 'কার্য' শব্দ থেকে এসেছে।
- 'ঘর' শব্দটি সংস্কৃত 'গৃহ' শব্দ থেকে এসেছে।
- 'ভাত' শব্দটি সংস্কৃত 'ভক্ত' শব্দ থেকে এসেছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৩৭৩.
"অপয়া" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

'অ' বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- 'নিন্দিত' অর্থে- অকেজো, অচেনা, অপয়া
- 'অভাব' অর্থে- অচিন, অজানা, অথৈ।
- 'ক্রমাগত' অর্থে- অঝোর।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৩৭৪.
কোনটি নিত্য সমাসের উদাহরণ?
  1. অন্যগৃহ
  2. মিলের অভাব
  3. স্ত্রী’র অভাব
  4. প্রকৃষ্ট গতি
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন: অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, তুমি আমি ও সে = আমরা, দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।
তেমনিভাবে,
- গৃহান্তর - অন্যগৃহ নিত্য সমাসের উদাহরণ।
- সমস্তপদের শেষে ‘অন্তর’ থাকলে ব্যাসবাক্যে ‘অন্য’ হবে। যেমন: দেশান্তর = অন্য দেশ।
- সমস্তপদের শেষে ‘মাত্র/খানা’ থাকলে ‘কেবল’ হবে। যেমন: শয়নমাত্র = কেবল শয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৫,৩৭৫.
"কাগজ, চশমা" - কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• 'কাগজ, চশমা' - ফারসি ভাষার শব্দ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

আরো কিছু বিদেশি শব্দ:
• ফরাসি শব্দ: কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।
• ‘ইতালিয়ান’ ভাষার শব্দ: ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।
• ‘তুর্কি’ ভাষার শব্দ: তোপ, চাকু, বাবা, বাবুর্চি, মুচলেকা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৩৭৬.
কোনটি 'মৃগনয়না' শব্দের ব্যাসবাক্য?
  1. নয়ন মৃগের ন্যায়
  2. নয়ন মৃগীর ন্যায়
  3. মৃগের ন্যায় নয়ন যার
  4. মৃগীর ন্যায় নয়ন যার
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয়, তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী,
- মৃগের ন্যায় নয়ন যার = মৃগনয়না

এরকম - ক্ষুরধার, গজানন, মীনাক্ষী, স্বর্ণাভ, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৭৭.
'অঘারাম' - কোন উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?
  1. সংস্কৃত
  2. হিন্দি
  3. খাঁটি বাংলা
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• ’অঘা’ একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ
- ’অঘা’ উপসর্গের ব্যবহার: 
’বোকা’ অর্থে - অঘারাম, অঘাচণ্ডী।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা:
→  অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৫,৩৭৮.
নিচের কোনটি 'আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়েও স্ত্রীবাচকতা না বুঝিয়ে ভিন্ন অর্থ বোঝাচ্ছে?
  1. মাতুলানী
  2. ইন্দ্রানী
  3. হিমানী
  4. ক্ষত্রিয়ানী
ব্যাখ্যা

হিমানী - শব্দটি দিয়ে স্ত্রীবাচকতা না বুঝিয়ে ভিন্ন অর্থ বোঝাচ্ছে।
- "হিমানী" শব্দটির অর্থ হলো- বরফ, তুষারপুঞ্জ।

• "আনী" প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
যেমন:
- ইন্দ্র-ইন্দ্রানী,
- মাতুল-মাতুলানী,
- ক্ষত্রিয়-ক্ষত্রিয়ানী,
- শূদ্র-শূদ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৩৭৯.
কোনটি অশুদ্ধ বহুবচন শব্দ?
  1. বইগুচ্ছ
  2. ভাইয়েরা
  3. গরুগুলো
  4. ছেলেদের
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বহুবচন - বইগুচ্ছ। এর শুদ্ধরূপ - বইগুলো

• '-রা', '-এরা', '-গুলো', '-গুলি', '-দের' ইত্যাদি লগ্নক যুক্ত হলে শব্দটির বহুবচন হয়।
যেমন
- রা – ছাত্ররা, ধনীরা।
- এরা - ভাইয়েরা, শিক্ষকেরা।
- গুলো – ফুলগুলো, গরুগুলো
- গুলি – বইগুলি, ঘরগুলি।
- দের - ছেলেদের, মেয়েদের।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৩৮০.
'মৌমাছি' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কী?
  1. ক) মৌ ধারণ করে যে মাছি
  2. খ) মৌ আশ্রিত মাছি
  3. গ) মধু সংগ্রাহক মাছি
  4. ঘ) মৌ মিশ্রিত মাছি
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৮১.
'দর্শনীয়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. √দর্শ + অনীয়
  2. √দশ্ + অনীয়
  3. √দৃশ্ + অনীয়
  4. √দর্শ + নীয়
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয়-অনীয় (অনীয়র): যোগ্য বা কর্তব্য অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।

​যেমন:
- √কৃ+ অনীয় = করণীয়,
- √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়,
- √শুচ + অনীয় = শোচনীয়,
- √স্মৃ + অনীয় = স্মরণীয়,
- √বৃ + অনীয় = বরণীয়।

​উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৩৮২.
কোন প্রকারের দ্বিত্বে বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায়?
  1. অনুকার দ্বিত্ব

  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব

  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

  4. ক ও খ উভয়ই

ব্যাখ্যা

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায়।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
- যেমন-জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।
- বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
- বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও অনুকার দ্বিত্বে বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।

৫,৩৮৩.
''মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ'' - বাক্যে ''মরি মরি'' কোন শ্রেণীর অব্যয়?
  1. ক) সমন্বয়ী
  2. খ) অনন্বয়ী
  3. গ) পদান্বয়ী
  4. ঘ) অনুকার
ব্যাখ্যা
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' বাক্যে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয় পদ।
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না রেখে স্বাধীন ভাবে ব্যবহৃত হতে পারে তাদের অনন্বয়ী অব্যয় পদ বলে।

যেমনঃ
- ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।
- ছি ছি, তুমি এতে নীচ! 
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণি
৫,৩৮৪.
'চৌ-হদ্দি' শব্দটি কোন কোন ভাষার শব্দ মিলে হয়েছে?
  1. বাংলা + ফারসি
  2. সংস্কৃত + ফারসি
  3. ফারসি + আরবি
  4. সংস্কৃত + আরবি
ব্যাখ্যা
• চৌহদ্দি:
➤ মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে - এটি ফারসি + আরবি ভাষার মিশ্রণে তৈরি মিশ্র শব্দ।
➤ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে - শব্দটি বাংলা + ফারসি ভাষার মিশ্রণে তৈরি মিশ্র শব্দ।

• চৌহদ্দি (বিশেষ্য),
- শব্দটি গঠিত হয়েছে (বাংলা “চৌ” + ফারসি “হদ্দি”) যোগে।
- যার অর্থ: চারদিকে সীমানা; চতুঃসীমা।

বি.দ্র. শব্দের উৎস মূলের ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের তথ্য অধিক গ্রহনযোগ্য। সুতরাং চৌহদ্দি শব্দটি (বাংলা + ফারসি) ভাষার মিশ্রণে তৈরি মিশ্র শব্দ হিসেবে অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩৮৫.
‘তারকা’ শব্দের বহুবচন কী?
  1. তারকামালা
  2. তারকাপুঞ্জ
  3. তারকারাজি
  4. তারকাবলি
ব্যাখ্যা
• 'পাল ও যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩৮৬.
কোনটি ফারসি উপসর্গ?
  1. দর
  2. হর
  3. আম
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• দর - ফারসি উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৮৭.
'প্রকাশ' শব্দের 'প্র' উপসর্গ দ্বারা কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ক) সম্যক অর্থে
  2. খ) আধিক্য অর্থে
  3. গ) গতি অর্থে
  4. ঘ) উৎকর্ষ অর্থে
ব্যাখ্যা
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ সংজ্ঞা:
যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব উপসর্গকে বলা হয় তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ বিশটি।
এগুলাে হলাে- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উদ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ। 

নিচে অর্থসহ সংস্কৃত উপসর্গের ব্যবহার দেখানাে হলাে 
প্র উপসর্গ এর বিভিন্ন অর্থ এবং উদাহরণ- 
- সম্যক/প্রকৃষ্ট অর্থে - প্রভাব, প্রচলন, প্রকাশ।
- উৎকর্ষ অর্থে - প্রজ্ঞা, প্রভাত, প্রদর্শন।
- আধিক্য অর্থে - প্রখর, প্রতাপ, প্রবল, প্রকোপ।
- খ্যাতি অর্থে - প্রভাব, প্রখ্যাত, প্রশংসা, প্রকীর্তি।
- গতি অর্থে - প্রস্থান, প্রবেশ, প্রচার প্রবাহ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৮৮.
আরবি উপসর্গ কোনটি?
  1. বাজে
  2. কার
  3. দর
  4. ফি
ব্যাখ্যা

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৩৮৯.
'কু, ভর, পাতি' কোন ধরনের উপসর্গ? 
  1. বাংলা উপসর্গ 
  2. সংস্কৃত উপসর্গ 
  3. বিদেশি 
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

- বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৩৯০.
নিচের কোন শব্দে 'অনু' উপসর্গটি 'পশ্চাৎ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. অনুকার
  2. অনুশীলন
  3. অনুশোচনা
  4. অনুকূল
ব্যাখ্যা

• ‘পশ্চাৎ’ অর্থে - ‘অনু’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ হলো:
- অনুশোচনা,
- অনুগামী,
- অনুজ,
- অনুকরণ ইত্যাদি।

অপরদিকে,
'অনু' উপসর্গের ব্যবহার:
• 'সাদৃশ্য' অর্থে 'অনু' - অনুবাদ, অনুকার
• 'পৌনঃপুনিকতা' অর্থে - অনুক্ষণ, অনুশীলন
• 'সঙ্গে' অর্থে - অনুকম্পা, অনুকূল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৩৯১.
কোনটি বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. গায়ক
  2. নায়ক
  3. করণীয়
  4. খেলনা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

⇒ কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।
বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয়  ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

• বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন: √কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: √নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৯২.
ধাতু বা প্রতিপাদিকের সাথে কোন প্রত্যয় যোগ করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়?
  1. 'আই'
  2. 'আন'
  3. 'উয়া'
  4. 'আনো'
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাষিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। 
যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ = গমন।
তদ্রুপ, ভোজন, শয়ন, গমন, দর্শন, দেখ, শোনা ইত্যাদি। 
- আবার ধাতু বা প্রতিপাদিকের সাথে 'আই' প্রত্যয় যোগ করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। 
- যেমন- √চড়্‌ + আই = চড়াই।
              √বড়্‌ + আই = বড়াই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৯৩.
"লজ্জাশরম" শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. দ্বন্দ্ব
  4. বহুব্রীহি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সমার্থক দ্বন্দ্ব:
- দ্বন্দ্ব সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ একই অর্থ বহন করলে তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে।

যেমন:
- লজ্জা ও শরম =  লজ্জাশরম;
- হাট ও বাজার = হাটবাজার;
- ঘর ও বাড়ি = ঘরবাড়ি;
- বাধা ও বিঘ্ন = বাধাবিঘ্ন।
এ-রকম: আইনকানুন, ঠাট্টা-মশকরা, মণিমাণিক্য, মানসম্ভ্রম, দুঃখকষ্ট, রাগরাগিণী, কোর্টকাছারি, রাজাবাদশা, দেখাসাক্ষাৎ, ধনসম্পত্তি, ধরপাকড়, সুখশান্তি, ছাইভস্ম, বাধাবিঘ্ন, জনমানব, জীবজন্তু, টাকাকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫,৩৯৪.
নিচের কোনটি মিশ্র ভাষার শব্দ?
  1. কাঁচকলা
  2. কাঁচামাল
  3. কাঁচাপাকা
  4. কাঁচামিঠা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কাঁচামাল’ মিশ্র ভাষার শব্দ।
- এখানে কাঁচা (বাংলা শব্দ) এবং মাল (আরবি শব্দ।
অর্থ: যে সকল উপদান থেকে  শিল্পদ্রব্য তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
• কাঁচকলা (বিশেষ্য),
- বাংলা ভাষার শব্দ।

• কাঁচাপাকা (বিশেষণ),
- এটি বাংলা ভাষার শব্দ।

• কাঁচামিঠা (বিশেষণ),
- এটি বাংলা ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৩৯৫.
উপপদ তৎপুরুষ সমাসটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) ঘিয়ে ভাজা
  2. খ) ছাপোষা
  3. গ) অজানা
  4. ঘ) কাপুরুষ
ব্যাখ্যা
ছা পোষে যে = ছাপোষা একটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে - সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - অগ্রগামী, বনবাসী, ধামাধরা, ছেলেধরা, জাদুকর ইত্যাদি৷
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৯৬.
'খবরদার' শব্দটি কোন প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৩৯৭.
"ঘৃতান্ন" কোন সমাসের অন্তর্গত?
  1. সাধারণ কর্মধারয়
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. উপমান-কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

"ঘৃতান্ন" মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের অন্তর্গত।
-------------------------------
কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণসমজাত পদ + বিশেষ্য বা বিশেষ্যসমজাত পদ মিলিত হয় এবং এতে দ্বিতীয় পদের অর্থ প্রধান থাকে।
- সাধারণত ব্যাসবাক্যে 'যে', 'যিনি', 'সদৃশ' ইত্যাদি শব্দ থাকে।
- উদাহরণ:
• নীল + পদ্ম = নীলপদ্ম,
• মহান + নবী = মহানবী,
• কাঁচা + মিঠা = কাঁচামিঠা।
- কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ: মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস।
-----------------------------
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো সেই সমাস যেখানে মূল বাক্যের মধ্যপদ (মধ্যবর্তী শব্দ) বাদ দিয়ে একটি সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করা হয়।
- পলান্ন' (মাংস মিশ্রিত অন্ন) হলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস-এর একটি উদাহরণ, যেখানে ব্যাসবাক্যের ['পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন'] মাঝের পদ 'মিশ্রিত' লুপ্ত হয়েছে।
- অন্যান্য উদাহরণ:
• সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন (এখানে 'চিহ্নিত' পদটি লোপ পেয়েছে)।
• সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা (এখানে 'বিষয়ক' পদটি লোপ পেয়েছে)।
• স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ (এখানে 'রক্ষার্থে' পদটি লোপ পেয়েছে)।
• জগৎ ঈশ্বর = জগদীশ্বর (এখানে 'ঈশ্বরের' পদটি লোপ পেয়েছে)।
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র (এখানে 'পুত্র' পদটি লোপ পেয়েছে, যদিও এটি সাধারণত সম্বন্ধ পদে পড়ে, তবে উদাহরণে ব্যবহার করা হয়)।
• ঘৃতান্ন: ঘৃত মিশ্রিত অন্ন (মিশ্রিত পদ লুপ্ত)। 
• মৌমাছি: মৌ-আশ্রিত মাছি (এখানে 'আশ্রিত' পদটি লুপ্ত)।
• হাসিমুখ: হাসিমাখা মুখ (এখানে 'মাখা' পদটি লুপ্ত)।
• জ্যোৎস্নারাত: জ্যোৎস্না-সুবর্ণিত রাত (এখানে 'সুবর্ণিত' বা 'সুন্দর' পদটি লুপ্ত)।
-----------------------------------
অন্যদিকে,
রূপক কর্মধারয় সমাস-
- রূপক কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদটি আগে এবং উপমান পদটি পরে বসে।
- এবং সমস্যমান পদে ‘রূপ’ শব্দটি যোগ করে মূল ব্যাসবাক্য তৈরি হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
• কালরাত্রি = কাল রূপ রাত্রি,

• উপমান-কর্মধারয় সমাস-
- উপমান-কর্মধারয় সমাস হলো বিশেষ্য ও বিশেষণ পদের মধ্যে গঠিত সমাস।
- এখানে উপমেয় (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে) এবং উপমান (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে) এর মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ তুলনা করা হয় এবং একটি সাধারণ গুণের উল্লেখ থাকে।
- যেমন- অরুণরাঙা = অরুণের (সূর্য) ন্যায় রাঙা। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৫,৩৯৮.
'নাচ্‌' কোন প্রকার ধাতুর উদাহরণ?
  1. ক) সংস্কৃত মূল ধাতু
  2. খ) খাঁটি বাংলা ধাতু
  3. গ) নিজন্ত ধাতু
  4. ঘ) বিদেশি ধাতু
ব্যাখ্যা
• মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু: যে ধাতুকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে বলা হয় মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু।
- এসব ধাতুর রূপ গঠনের দিক থেকে ন্যূনতম একক। এসব ধাতু আবার স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।
- যেমন- কর্‌, চল্‌, দেখ্‌ , খি, যা, আস ইত্যাদি। 
 
বাংলা ভাষার মৌলিক ধাতুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
- খাঁটি বাংলা ধাতু,
- সংস্কৃত মূল ধাতু ও
- বিদেশি ধাতু।

খাঁটি বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতুর মূল সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে আসেনি, কিন্তু অপভ্রংশ বা প্রাকৃতের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এসে ব্যবহৃত হচ্ছে তাকে বলা হয় খাঁটি বাংলা ধাতু।
- এসব ধাতুকে ভিত্তি করেই বাংলা ক্রিয়াপদ, কৃদন্ত, বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদি শব্দ গঠিত হয়েছে।
- যেমন নাচ্‌- নাচা, কাট্‌ কাটা, কাঁদ্‌- কাঁদা ইত্যাদি।
- বর্তমান কালের অনুজ্ঞায় মধ্যম পুরুষের তুচ্ছার্থক প্রয়ােগ করে বাংলা ধাতু চেনা যায়।
যেমন- তুই কর, তুই যা, তুই কাট ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৩৯৯.
প্রাতিপদিকের সঙ্গে কোন শব্দের সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. অব্যয়বাচক শব্দ
  2. ক্রিয়াবাচক শব্দ
  3. বিশেষণবাচক শব্দ
  4. নামবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) নামবাচক শব্দ।
-----------------
• প্রাতিপদিক: 
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

উল্লেখ্য,
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।

উদাহরণস্বরূপ:
বাংলা ব্যাকরণে প্রাতিপদিক বলতে নামবাচক শব্দের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) মূল রূপ বোঝায়, যা বিভক্তি বা প্রত্যয় গ্রহণ করে সম্পূর্ণ শব্দ গঠন করে। উদাহরণ: ‘ঘর’ একটি প্রাতিপদিক, যার সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ‘ঘরের’ হয়। প্রাতিপদিক সাধারণত নামবাচক শব্দ (বিশেষ্য বা সর্বনাম)-এর মূল অংশ হিসেবে কাজ করে।

----------------------
অপশন আলোচনা:

ক) অব্যয়বাচক শব্দ:
অব্যয়বাচক শব্দ (যেমন, আর, কিন্তু, যদি) অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে কিন্তু বিভক্তি গ্রহণ করে না। প্রাতিপদিকের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।


খ) ক্রিয়াবাচক শব্দ:
ক্রিয়াবাচক শব্দ (যেমন, যাওয়া, খাওয়া) কাজ বা অবস্থা বোঝায় এবং প্রাতিপদিকের মতো বিভক্তি গ্রহণ করে না। তাই এটি প্রাতিপদিকের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।


গ) বিশেষণবাচক শব্দ:
বিশেষণবাচক শব্দ (যেমন, সুন্দর, বড়) নামবাচক শব্দের গুণ বর্ণনা করে, কিন্তু এগুলো নিজে প্রাতিপদিক নয়। প্রাতিপদিকের সঙ্গে এর পরোক্ষ সম্পর্ক থাকলেও সরাসরি সম্পর্ক নেই।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১), বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।

৫,৪০০.
‘বারান্দা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. তুর্কি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফারসি
  4. ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী -
• বারান্দা (বিশেষ্য)
শব্দের উৎস - ফারসি শব্দ
অর্থ-ঘরসংলগ্ন ছাদযুক্ত বা ছাদহীন চত্বর, অলিন্দ, দাওয়া।

কিন্তু ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ অনুযায়ী -
• বারান্দা- পর্তুগিজ শব্দ

===========
বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে,
অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর - ফারসি।

অপশনে ফারসি না থাকলে পর্তুগিজকে সঠিক উত্তর ধরা যাবে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা -শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷