• ‘পাতিহাঁস' শব্দে ‘পাতি’ উপসর্গটি ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
-----------------------------------------
• ‘উপসর্গ’:
- উপসর্গ’ শব্দের মূল অর্থ হলো ‘উপসৃষ্ট’।
- এর প্রধান কাজ হলো মূল শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ তৈরি করা।
- উপসর্গের নিজস্ব অর্থ নেই, তবে এটি মূল শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘পাতিহাঁস’ শব্দে হাঁস শব্দের সাথে ‘পাতি’ উপসর্গ ক্ষুদ্র অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'পাতি'- উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ-
- পাতিশিয়াল;
- পাতিলেবু;
- পাতকুয়ো;
- পাতিকাক।
-------------------------------------------
উল্লেখ্য,
- উপসর্গ ৩ প্রকার:
• তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে।
- তৎসম উপসর্গ ২০টি: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
- উদাহরণ: অবহেলা এর ‘অব’ = তৎসম উপসর্গ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব ২১টি উপসর্গ আছে:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
- উদাহরন:
- আনমনা এর ‘আন’ = দেশি উপসর্গ।
- নিখুঁত এর ‘নি’ = দেশী উপসর্গ।
• বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গগুলো মূলত ফারসি, আরবি, উর্দু-হিন্দি, এবং ইংরেজি ভাষা থেকে এসেছে।
- পাশাপাশি কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়েছে।
- আরবি: আম, খাস, লা, গর, বাজে, খয়ের।
- ফারসি: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু: হর।
- ইংরেজি: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
-----------------------------
অন্যদিকে,
• 'আড়' উপসর্গযোগে গঠিত 'বিশিষ্ট' অর্থে ব্যবহৃত কিছু শব্দ- আড়কোলা; আড়গড়া; আড়কাঠি।
• 'সা' উপসর্গযোগে গঠিত 'উৎকৃষ্ট' অর্থে ব্যবহৃত কিছু শব্দ- সাজিরা; সাজোয়ান।
• 'আন' উপসর্গযোগে গঠিত 'না' অর্থে ব্যবহৃত শব্দ- আনকোরা।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।