বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৩৮ / ১০০ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ১০,০৪৫

৩,৭০১.
সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে কোনটিতে?
  1. দোসরা
  2. উনিশতম
  3. তেরো
  4. ত্রয়োদশী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন -
- প্রথমা, দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী, অষ্টমী, নবমী, দশমী, ত্রয়োদশী, ষোড়শী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দোসরা' তারিখ পূরণবাচক শব্দ।
- সাধারণ পূরণবাচক যোগে - উনিশতম।
- 'তেরো' ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭০২.
‘অনা’ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) খেলনা
  2. খ) কাঁদনা
  3. গ) ঝরনা
  4. ঘ) রাঁধনা
ব্যাখ্যা
অনা প্রত্যয় সাধিত শব্দ √খেল + অনা = খেলনা, √দুল্ +অনা = দোলনা। ‘না’ প্রত্যয় সাধিত শব্দঃ √কাঁদ্ + না = কাঁদনা, √রাঁধ্ + না = রাঁধনা, √ঝর্ + না = ঝরনা।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৩,৭০৩.
‘উপসাগর’ শব্দে ‘উপ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্ষুদ্র
  2. সামীপ্য
  3. ব্যাপ্তি
  4. সদৃশ
ব্যাখ্যা
• ক্ষুদ্র অর্থে ‘উপ’ তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ: উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৭০৪.
তদ্ধিত প্রত্যেয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. হাতল
  2. ফুলেল
  3. মুখর
  4. লিখিত
ব্যাখ্যা

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) হাতল → তদ্ধিত প্রত্যয় (হাত + ল → যন্ত্র/অঙ্গ নির্দেশক)।
খ) ফুলেল → তদ্ধিত প্রত্যয় (ফুল + এল → সুশোভিত)।
গ) মুখর → তদ্ধিত প্রত্যয় (মুখ + র → ধ্বনিসম্পন্ন)।
ঘ) লিখিত → কৃদন্ত শব্দ (√ লিখ্ + ত = লিখিত → ক্রিয়াধাতু থেকে কৃত প্রত্যয়ে গঠিত)

সুতরাং, সঠিক উত্তর: ঘ) লিখিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৭০৫.
শব্দমূলের অপর এক নাম কী?
  1. ধাতু
  2. প্রকৃতি
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি।
- প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: ক, যা, চল, ধৃ ইত্যাদি।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২১ সংস্করণ)।
৩,৭০৬.
‘বাস্তুহারা’ কোন সমাস নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  5. ঙ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : জলে চড়ে যা - জলচর ; জল দেয় যে - জলদ ; পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ।

কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন : √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে) ; √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)

উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন : বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৭০৭.
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি ?
  1. তৃতীয়
  2. প্রথম
  3. আধ
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক শব্দ:
যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বলে।

• সংখ্যাশব্দ দুই রকমের।
যথা:
১. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ: একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
যেমন- ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট) ইত্যাদি।

২. পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ: পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ দিয়ে কোন সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। যেমন- ‘এক’ সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথমা’, ‘পহেলা’ ইত্যাদি। পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরণের হয়:

- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ.....দ্বাদশ ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে পোয়া, দেড়, আড়াই তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭০৮.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দীপ্য + মান = দীপ্যমান
  2. √বিদ্য + মান = বিদ্যমান
  3. √বর্ত + মান = বর্তমান
  4. √যজ্ + মান = যজমান
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় -মান (শানচ্)
ঘটমান অর্থে-
- √বৃৎ + মান = বর্তমান,
- √যজ্ + মান = যজমান,
- √বিদ্‌ + মান বিদ্যমান,
- √দীপ্ + মান = - দীপ্যমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭০৯.
যোগরুঢ় শব্দ কোনটি?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) জলধি
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) গোলাপ
ব্যাখ্যা
• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

গায়ক = যৌগিক শব্দ 
গবেষণা = রূঢ়ি শব্দ
গোলাপ = মৌলিক শব্দ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭১০.
অশুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নাচ্ + অন = নাচন
  2. √দুল্ + অনা = দোলনা
  3. √খেল্ + অনা = খেলনা
  4. √কৃ + অন = করণীয়
ব্যাখ্যা
• 'করণীয়' শব্দটির শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় — √কৃ + অনীয়। 
------------------- 
• প্রত্যয় প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
১.কৃৎ প্রত্যয় এবং
২.তদ্ধিত প্রত্যয়।

• কৃৎ প্রত্যয়:
ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য।

বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে।
যথা:
বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

বাংলা কৃৎ প্রত্যয়:
বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে।
যেমন:
√কাঁদ্ + অন = কাঁদন, √নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।

• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন: 
√নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭১১.
‘অকালপক্ব’ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বুঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে সপ্তমী বিভক্তি লোপ পায়। ভূতপূর্ব, অশ্রুতপূর্ব, অকালপক্ব, কৃষিপ্রধান, ঘরপোড়া, গালভরা ইত্যাদি হলো সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩,৭১২.
'জাগরূক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃত প্রত্যয় কোনটি?
  1. জাগৃ + ঊক 
  2. জাগর + উক
  3. জাগৃ + উক
  4. জাগ্র + ঊক
ব্যাখ্যা

• উক/ঊক- সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
- ভু + উক = (ভৌ + উক) ভাবুক,
- জাগৃ + ঊক = (জাগর + ঊক) জাগরূক।

এরূপ কিছু সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয় হলো-
• ক্ত-প্রত্যয় ('ক্' ইৎ 'ত' থাকে): √জ্ঞা + ক্ত (জ্ঞা+ত) = জ্ঞাত, খ্যা + ক্ত = খ্যাত।
• তব্য: √কৃ + তব্য =  কর্তব্য, দা + তব্য = দাতব্য, পঠ + তব্য = পঠিতব্য।
• ইন্ প্রত্যয় (ইন)-ঈ-কার হয়): √শ্রম্ + ইন্ = শ্রমী।
• অল্-প্রত্যয় (ল ইৎ, অ থাকে): জি + অল্ = জয়, ক্ষি + অল্ = ক্ষয়। এরূপ-ভয়, নিচয়, বিনয়, ভেদ,বিলয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৭১৩.
'প্র যে হার' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. কর্মধারায় সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র যে হার = প্রহার;
- অতি (অতিক্রান্ত) মাত্রা = অতিমাত্র; 
- উৎ (ত্যক্ত) বাসু = উদ্বাস্থ;
- উৎ (উৎক্রান্ত) বেলা = উদ্বেল;
- উৎ যে শ্বাস = উচ্ছ্বাস;
- উৎ (উন্নত) কণ্ঠিত = উৎকণ্ঠিত;
- প্র (প্রকৃষ্ট) গতি = প্রগতি;
- প্র (প্রকৃষ্ট) ভাত = প্রভাত;
- প্রতি যে হিংসা = প্রতিহিংসা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭১৪.
সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয় কোনটি? 
  1. মৃগশিশু
  2. জলমগ্ন 
  3. উপলখণ্ড
  4. জীবনসঞ্চার 
ব্যাখ্যা

সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস নয়- জলমগ্ন।  
----------------------- 
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস:
- ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি (য, এর) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধানভাবে প্রকাশ পায়।
- এটি মূলত সম্বন্ধ পদ তৈরি করে।
- এই সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে যৌক্তিক বা সম্পর্কসূচক অর্থ থাকে।

- উদাহরণস্বরূপ:
চা-বাগান = চায়ের বাগান,
রাজহংস = হংসের রাজা,
মৃগশিশু = মৃগের শিশু, 
উপলখণ্ড = উপলের খণ্ড, 
জীবনসঞ্চার = জীবনের সঞ্চার, 
কবিগুরু = কবিদের গুরু, 
গৃহকর্ত্রী = গৃহের কর্ত্রী, 
মার্তণ্ডপ্রায় = মার্তণ্ডের প্রায়, 
পুষ্পসৌরভ = পুষ্পের সৌরভ, 
পূর্বাহ্ণ = অহ্নের পূর্বভাগ, 
বনস্পতি = বনের পতি, 
গণতন্ত্র = জনগণের তন্ত্র, 
রাজদণ্ড = রাজের দণ্ড, 
রাজপথ = পথের রাজা, 
পুষ্পাঞ্জলি = পুষ্পের অঞ্জলি, 
পৌরসভা = পৌরদের সভা।
-----------------------
অন্যদিকে,
জলমগ্ন (জলে মগ্ন) সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস। 

- সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (যেমন – এ, য়, তে) লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়।
- এই সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, পূর্বপদকে “কোথায়, কখন, কীসে দ্বারা” প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে তাই সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। 
- উদাহরণস্বরূপ:
- গাছপাকা = গাছে পাকা,
- মাথাব্যথা = মাথায় ব্যথা,
- বনভোজন = বনে ভোজন,
- রথারোহণ = রথে আহোরণ,
- তমাসাচ্ছন্ন = তমসায় আচ্ছন্ন,
- সলিলসমাধি = সলিলে সমাধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭১৫.
'মানুষ'-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক লগ্নক কোনটি?
  1. ক) জন
  2. খ) খানা
  3. গ) টুকু
  4. ঘ) টি
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

নিচে কয়েকটি নির্দেশকের প্রয়োগ দেখানো হলো ।

• -টা, -টি
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা, টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: -টো ও -টে।
- যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা, কিছুটা, একটা, সারাটা, করাটা; দিনটি, মেয়েটি, একটি, কয়েকটি, আরেকটি; দুটো; তিনটে ইত্যাদি।

• -খানা, -খানি
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে খানা, খানি নির্দেশক বসে। যেমন -
- ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।
যেসব ক্ষেত্রে -টা বা -টি বসে, সেসব ক্ষেত্রে -খানা বা -খানি বসতে পারে। যেমন, বাড়িটা বা বাড়িটি না বলে বাড়িখানা বা বাড়িখানিও বলা যায়।

• -জন
- শুধু মানুষের বেলায় -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়
যেমন- বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন।
- সংখ্যার সঙ্গেও -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন - একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।
- অধিক সংখ্যার বেলায় ‘জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে। যেমন - পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

• -টুকু
- টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ -টু বা -টুক।
যেমন: সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩,৭১৬.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. মা
  2. দরদি
  3. লাল
  4. ভাত
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - দরদি

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল), 
দরদি (দরদ + ই) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭১৭.
'উপক্ষয়' শব্দটিতে 'উপ' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহার হয়েছে?
  1. কষ্টসাধ্য অর্থে
  2. অতিশয় অর্থে
  3. উপরে অর্থে
  4. অপকর্ষ অর্থে
ব্যাখ্যা

• উপক্ষয়[উপ+ক্ষয়]:
- অর্থ: ক্ষতি, অপচয়, হানি।
• 'উপ' উপসর্গ 'অপকর্ষ' বা 'অবনতি'  অর্থে ব্যবহার হয়েছে।

অপকর্ষ অর্থ:
১) হীনতা, নিকৃষ্টতা।
২) পতন, অবনতি।

- ’উপ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উপ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’সামীপ্য "অর্থে- উপকূল, উপকণ্ঠ ।
• ’সদৃশ’ অর্থে- উপদ্বীপ, উপবন।
• ’ক্ষুদ্র’  অর্থে-  উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা
• ’বিশেষ’ অর্থে- উপনয়ন (পৈতা), উপভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান ।

৩,৭১৮.
সংস্কৃত ধাতু নয় কোনটি?
  1. অঙ্ক
  2. দৃশ্
  3. কাদ্
  4. পঠ্‌
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু: 
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু: 
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু: 
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭১৯.
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনাসৃষ্টি 
  2. অভিব্যক্তি
  3. অত্যাচার
  4. পরাকাষ্ঠা
ব্যাখ্যা

’অনাসৃষ্টি’ শব্দটি বাংলা উপসর্গ ’অনা’ যোগে গঠিত।

অন্যদিকে,
’অভিব্যক্তি, অত্যাচার, পরাকাষ্ঠ, ’ শব্দগুলো (অভি, অতি, পরা) তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৩,৭২০.
কোনটি ইংরেজি শব্দ?
  1. ম্যাগাজিন
  2. ম্যাজেন্টা
  3. ম্যাজম্যাজ
  4. ম্যাজিক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
ইংরেজি ভাষার শব্দ: ম্যাজিক ।

অন্যদিকে,
- ম্যাজম্যাজ দেশি শব্দ।
অর্থ- শারীরিক অস্বস্তি বা আলস্যের ভাব।
• ফারসি ভাষার শব্দ: ম্যাগাজিন ।
• ইতালী ভাষার শব্দ- ম্যাজেন্টা’ 

উৎস:  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭২১.
অর্থগত দিক থেকে 'চিকন' কোন প্রকার শব্দ?
  1. ক) যৌগিক শব্দ
  2. খ) মৌলিক শব্দ
  3. গ) রূঢ়ি শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।

উদাহরণ-
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)।
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)।
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২২.
'ঈ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) একাদশী
  2. খ) বাঘিনী
  3. গ) ননদিনী
  4. ঘ) অরণ্যানী
ব্যাখ্যা
'-ঈ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ- 
একাদশ - একাদশী
মানব - মানবী
কপোত - কপোতী 
নেতা - নেত্রী 
তাপস - তাপসী ইত্যাদি 

'-আনী' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
অরণ্য - অরণ্যানী 
চাকর - চাকরাণী 
মেথর - মেথরাণী 
শূদ্র - শূদ্রাণী ইত্যাদি 

'-ইনী'প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
বাঘ - বাঘিনী
গোয়ালা - গোয়ালিনী
মালী - মালিনী 
পাগল - পাগলিনী ইত্যাদি 

'-নী' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
ননদাই - ননদিনী 
ধোপা - ধোপানী 
নাতি - নাতনী 
জেলে - জেলেনী ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭২৩.
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. খোশমেজাজ
  2. কথাসর্বস্ব
  3. দোমনা
  4. হৃতসর্বস্ব
ব্যাখ্যা

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস: 
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। 
যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ।

অন্যদিকে,
- 'হৃতসর্বস্ব' ও খোশমেজাজ সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।
- 'দোমনা' প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৩,৭২৪.
'অজপাড়াগাঁ' শব্দে 'অজ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিক্ষিপ্ত
  2. সম্পূর্ণ
  3. নিতান্ত
  4. অস্পষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'অজপাড়াগাঁ' শব্দে 'অজ' উপসর্গটি 'নিতান্ত' বা মন্দ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• 'অজ' উপসর্গটি 'নিতান্ত' (মন্দ) অর্থে ব্যবহৃত কিছু শব্দ:
যেমন-
অজপুকুর, অজমূর্খ, ইত্যাদি।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি। যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭২৫.
পূর্ব পদে উপসর্গ বসে যে সমাস হয়, তাকে বলে-
  1. অলুক সমাস
  2. রূপক সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. প্রাদি সমাস
ব্যাখ্যা
প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎপ্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে প্রাদি সমাস বলে।
যেমন:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৭২৬.
প্রশ্ন 11-13: সন্ধি বিচ্ছেদ করুন:
ঢিলেমি
  1. ঢিলে + আমি
  2. ঢিলা + আমি
  3. ঢিলে + মি
  4. ঢিলা + মি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘ঢিলেমি’ শব্দটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আমি’ যোগে গঠিত। এটি সন্ধি সাধিত শব্দ নয়।
- ঢিলে + আমি = ঢিলেমি।

বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: আমি / আম / আমো / মি-প্রত্যয়:
• ইতর + আমি = ইতরামি,
• পাগল + আমি = পাগলামি,
• চোর + আমি = চোরামি,
• বাঁদর + আমি = বাঁদরামি,
• ফাজিল + আমো = ফাজলামো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭২৭.
‘উদ্বেল’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. অব্যয়ীভাব
  3. নিত্য সমাস
  4. বহুব্রীহি
  5. কোনোটিই
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৭২৮.
'পরা' সংস্কৃত উপসর্গটি বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পরাজয়
  2. পরাকাষ্ঠা
  3. পরাক্রান্ত
  4. পরায়ণ
ব্যাখ্যা
• 'পরা' উপসর্গযোগে আতিশয্য অর্থে- পরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ। 
• 'পরা' উপসর্গযোগে বিপরীত অর্থে- পরাজয়, পরাভব। 

----------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)
৩,৭২৯.
‘ঊনআশি’ শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) বাংলা
  3. গ) বিদেশি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
• ‘ঊনআশি’ শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘ঊন’ যোগে গঠিত।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- খাটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,৭৩০.
'প্রায়' অর্থে কোন উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নালায়েক
  2. খ) নিমখুন
  3. গ) উপগ্রহ
  4. ঘ) আকন্ঠ
ব্যাখ্যা
- 'অপূর্ণ' অর্থে 'না' উপসর্গের ব্যবহার: নালায়েক, নাখোশ।
- 'প্রায়' অর্থে 'নিম' উপসর্গের ব্যবহার: নিমখুন, নিমরাজি।
- 'ক্ষুদ্র' অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার: উপগ্রহ, উপনেতা।
- 'পর্যন্ত' অর্থে 'আ' উপসর্গের ব্যবহার: আকন্ঠ, আসমুদ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৩১.
বাংলা উপসর্গ নয় কোনটি?
  1. ঊন
  2. আব
  3. ইতি
  4. উৎ
ব্যাখ্যা

• বাংলা উপসর্গ নয়- উৎ। 
- 'উৎ' সংস্কৃত উপসর্গ। 

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, 
--------------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩,৭৩২.
'কোরবানি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. ফরাসি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
  5. আরবি
ব্যাখ্যা


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৩৩.
উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ কোনটি ?
  1. নালায়েক
  2. সদ্ভাব
  3. গোলাপ
  4. কুদরতি
ব্যাখ্যা
ফারসি ‘না’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ নালায়েক।

অন্যদিকে,
সৎ + ভাব = সদ্ভাব; সন্ধি সাধিত শব্দ।
গোলাপ মৌলিক শব্দ।
• কুদরত + ই = কুদরতি; তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

-----------------------
• উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।+্
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন, 
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৩,৭৩৪.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. ক) চোরা
  2. খ) চালক
  3. গ) পূজক
  4. ঘ) সত্যবাদী
ব্যাখ্যা
• 'চোর + আই = চোরাই' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা: 
 • সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন - অণু + ইক = আণবিক, পুষ্প + ইত = পুষ্পিত। 

 • বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: 
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন - থাল + আ = থালা, চোর + আই = চোরাই

 • বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন- মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা, বিবি + আনা = বিবিয়ানা। 

অন্যদিকে,
√ পূজি + ণক = পূজক;
√ চলি + ণক =চালক;
সত্য + √ বদ + ইন্‌ = সত্যবাদী কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,৭৩৫.
নিচের কোন দ্বিরুক্ত শব্দ যুগ্ণরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ?
  1. ক) টপাটপ
  2. খ) ধরাধরি
  3. গ) টাপুর টুপুর
  4. ঘ) ঝনঝনি
ব্যাখ্যা

যুগ্ণরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ-
কিচির মিচির (পাখি বা বানরের শব্দ),
টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ),
হাপুস হুপুস (গোগ্রাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৩,৭৩৬.
অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. প্রস্ফুটিত
  2. প্রচলন
  3. প্রসিদ্ধ
  4. প্রশাখা
ব্যাখ্যা
• ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রশাখা, প্রপৌত্র শব্দে।

অন্যদিকে,
• আধিক্য অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রগাঢ় শব্দে।
• খ্যাতি অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রতাপ, প্রসিদ্ধ, প্রভাব শব্দে।
• প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে ‘প্র’ সংস্কৃত উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে- প্রচলন, প্রস্ফুটিত শব্দে।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭৩৭.
‘সিংহাসন’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. সিংহের আসান
  2. সিংহ আসন যার
  3. সিংহের আসন যা
  4. সিংহ চিহ্নিত আসন
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

এরূপ, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৩৮.
'লাজওয়াব' শব্দে ব্যবহৃত 'লা' কোন উপসর্গ?
  1. বাংলা উপসর্গ
  2. সংস্কৃত উপসর্গ
  3. দেশি উপসর্গ
  4. বিদেশি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'লাজওয়াব' শব্দে ব্যবহৃত 'লা' - বিদেশি উপসর্গ
- এটি আরবি উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর্‌: অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৩৯.
'জজ-সাহেব' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন - যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন – আগে ধোয়া পরে মোছা ধোয়ামোছা।
৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়। যেমন- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা, মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।
৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়। যেমন – মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান, মহান যে নবি = মহানবি।
৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়। যেমন- কু যে অর্থ = কদর্থ, কু যে আচার = কদাচার।
৭. পরপদে 'রাজা' শব্দ থাকলে কর্মধারয় সমাসে 'রাজ' হয়। যেমন মহান যে রাজা = মহারাজ।
৮. বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়। যেমন-সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ, অধম যে নর = নরাধম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৭৪০.
তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কী বলে?
  1. দ্ধিতান্ত শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. কৃদন্ত শব্দ
  4. তদ্ধিতান্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন:
- পঠ্‌+অক=পাঠক।
- দিন+ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে, ‘অক' ও ‘ইক’ তদ্ধিত প্রত্যয় এবং ‘শিক্ষক’ ও দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩,৭৪১.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. মোটাসোটা
  2. ঘর-টর
  3. গুটিশুটি
  4. কুটুস- কুটুস
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

৩,৭৪২.
‘ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি।'-এ বাক্যে ‘’ডেকে ডেকে’ কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অসহায়ত্ব
  2. বিরক্তি
  3. কালের বিস্তার
  4. পৌনঃপুনিকতা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
- বিশেষণ রূপে: এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- স্বলপকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৭৪৩.
'√চল্ + অন = চলন' এখানে 'অন' হচ্ছে- 
  1. ক্রিয়া প্রকৃতি
  2. কৃৎ-প্রত্যয়
  3. ধাতু 
  4. কৃদন্ত পদ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ামূলকে বলা হয় ধাতু, আর ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কালবাচক বিভক্তি যোগ করে গঠন করা হয় ক্রিয়াপদ। ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন (১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর (২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন-
- √চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ) । চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন্ত (বিশেষণ পদ)৷

‘প্রকৃতি’ কথাটি বোঝানোর জন্য প্রকৃতির আগে √ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এ প্রকৃতি চিহ্নটি ব্যবহার করলে ‘প্রকৃতি’ শব্দটি লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন –√পড়+ উয়া =পড়ুয়া। √নাচ্+উনে = নাচুনে।

- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। যেমন– ওপরের উদাহরণে ‘পড়ুয়া’ ও ‘নাচুনে’ কৃদন্ত পদ
- তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়। যেমন √গম্+অন=গমন, √কৃ+তব্য=কর্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৩,৭৪৪.
‘ঋণমুক্ত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

⇒ তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

⇒ পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪৫.
প্রাতিপদিক হচ্ছে-
  1. ক) বিভক্তিহীন নাম শব্দ
  2. খ) তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি
  3. গ) নাম প্রকৃতি
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে ‘নাম প্রকৃতি’ ও বলা হয়ে থাকে। ধাতু যেমন কৃৎ প্রত্যয়ের প্রকৃতি তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩,৭৪৬.
'কোর্মা' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি 
  2. ফারসি 
  3. তুর্কি
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'কোর্মা' শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে আগত। 

• 'কোর্মা' শব্দের অর্থ:
- তুর্কি পদ্ধতিতে দই-সহযোগে অল্প মসলায় রাঁধা মাছ মাংস প্রভৃতি। 

• তুর্কি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ হলো:
- বাবা,
- কোর্মা,
- খাতুন,
- উজবুক
- চাকু,
- তোপ,
- বাবুর্চি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৭৪৭.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. লতানো
  2. চোরাই
  3. পেটুক
  4. খবরদার
ব্যাখ্যা

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- মানান + সই = মানানসই;
- খবর + দার = খবরদার;
- কারি + গর = কারিগর;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

------------------------------
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- লতা + আনো = লতানো
- থাল + আ = থালা।
- ব্যাঙ + আচি = ব্যাঙাচি।
- চোর + আই = চোরাই
- পো + আত = পোয়াত।
- পেট + উক = পেটুক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৭৪৮.
'বৃক্ষ' শব্দকে বহুবচন করতে কোন লগ্নকটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আবলি 
  2. সমূহ 
  3. মালা 
  4. সব 
ব্যাখ্যা

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন-
- সব = ভাইসব, পাখিসব।
- সমূহ = গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
- আবলি = নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা = মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

৩,৭৪৯.
বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. শ্রোতা-শ্রোত্রী
  2. সভাপতি-সভানেত্রী
  3. গুণবান-গুণবতী
  4. মালেক-মালেকা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় - মালেক-মালেকা।

বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

ক) যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে ‘ত্রী’ হয়।
যেমন:
- নেতা- নেত্রী, কর্তা-কর্ত্রী, শ্রোতা-শ্রোত্রী, ধাতা-ধাত্রী।

খ) পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
- সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

গ) কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন-
- সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর- শ্বশ্রূ, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী, স্বামী- ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
- খান-খানম, মরদ-জেনানা, মালেক-মালেকা, মুহতারিম- মুহতারিমা, সুলতান- সুলতানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৫০.
কোন সমাসবদ্ধ পদটি দ্বিগু সমাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেশান্তর
  2. গ্রামান্তর
  3. তেপান্তর
  4. দর্শনমাত্র
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।

যেমন:
- তিন প্রান্তরের সমাহার = তেপান্তর,
- তিন পদের সমাহার = ত্রিপদী,
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অন্য দেশ = দেশান্তর, অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর, এবং কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র নিত্য সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৫১.
কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ নয়?
  1. সর্বজন + নীন = সর্বজনীন
  2. মিঠা + আই = মিঠাই
  3. নীল + ইমন = নীলিমা
  4. কুসুম + ইত = কুসুমিত
ব্যাখ্যা
• ‘আই’ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ- মিঠা + আই = মিঠাই।

• তদ্ধিত প্রত্যয়:

শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৫২.
সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গাছ
  2. চলন্ত
  3. পাখি
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - চলন্ত

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭৫৩.
কোনটি ফারসি উপসর্গ সাধিত শব্দ?
  1. লাপাত্তা
  2. দরপত্তনী
  3. খাসমহল
  4. আমদরবার
ব্যাখ্যা
• 'দরপত্তনী' - শব্দের 'দর্‌' -'ফারসি' উপসর্গ।

• ফারসি উপসর্গের প্রয়োগ:
১) কার (কাজ): কারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার, কারদানি।
২) দর্‌ (মধ্যস্থ, অধীন): দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
৩) না (না): নাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক।
৪) নিম্‌ (আধা): নিমরাজি, নিমখুন।
৫) ফি (প্রতি): ফি-রোজ, ফি-হপ্তা, ফি-বছর, ফি-সন, ফি-মাস।
৬) বদ্‌ (মন্দ): বদমেজাজ, বদরাগী, বদমাশ, বদহজম, বদনাম।
৭) বে (না): বেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা, বেগতিক, বেতার, বেকার।
৮) বর্‌ (বাইরে, মধ্যে): বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।
৯) ব্‌ (সহিত): বমাল, বনাম, বকলম।
১০) কম্‌ (স্বল্প): কমজোর, কমবখত।

অন্যদিকে, 
আরবি উপসর্গের প্রয়োগ: 
উপসর্গ -- যে অর্থে প্রযুক্ত -- উদাহরণ-

ক. আম্ -- সাধারণ -- আমদরবার, আমজনতা, আমমোক্তার।
খ. খাস -- বিশেষ -- খাসমহল, খাসকামরা, খাসখবর।
গ. লা -- না -- লাপাত্তা, লাওয়ারিশ, লাজওয়াব।
ঘ. গর -- অভাব -- গরমিল, গরহাজির, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৫৪.
ভাষার মৌলিক অংশ নয়-
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) শব্দ
  3. গ) বচন
  4. ঘ) বাক্য
ব্যাখ্যা

• প্রত্যেক ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে।
• এগুলো হলোঃ
- ধ্বনি,
- শব্দ,
- বাক্য ও
- অর্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৫৫.
কোনটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. আবলি
  2. পুঞ্জ
  3. গুচ্ছ
  4. পাল
ব্যাখ্যা

• 'পাল ও যূথ' শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত বহুবচন বোধক শব্দ-
- আবলি - পুস্তকাবলি।
- গুচ্ছ - কবিতাগুচ্ছ।
- পুঞ্জ - মেঘপুঞ্জ।
- মালা - পর্বতমালা।
- রাজি - তারকারাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৭৫৬.
কোন শব্দে ধাতুর সাথে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) বন্ধ
  2. খ) পঠন
  3. গ) অঙ্ক
  4. ঘ) বিগড়
ব্যাখ্যা
• ‘পঠ্’ সংস্কৃত ধাতুর সাথে ‘ন’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ - পঠন।

অন্যদিকে,
- ‘বন্ধ্’ ও ‘অঙ্ক’ সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ।
-  ‘বিগড়’ নষ্ট হওয়া অর্থে বিদেশি ধাতুর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৫৭.
নিচের কোন শব্দে অভাব অর্থে 'বি' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বিচরণ
  2. খ) বিফল
  3. গ) বিধৃত
  4. ঘ) বিকার
ব্যাখ্যা
বি উপসর্গ:
বিশেষ রূপে:
- বিধৃত
- বিশুদ্ধ
- বিজ্ঞান
- বিবস্ত্র
- বিশুষ্ক

অভাব:
- বিনিদ্র
- বিবর্ণ
- বিশৃঙ্খল
- বিফল

গতি:
 - বিচরণ
 - বিক্ষেপ

অপ্রকৃতস্থ: বিকার

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৩,৭৫৮.
‘বেদেনি’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে নরবাচক থেকে নারীবাচক হয়েছে?
  1. ইনি
  2. ইনী
  3. নি
ব্যাখ্যা
• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
যেমন-

‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কাঙাল - কাঙালিনি;
• বাঘ - বাঘিনি।

‘ই’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• দাদা - দাদি;

‘আ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• প্রিয় - প্রিয়া;
• কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা।

‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

‘নি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• জেলে - জেলেনি;
• বেদে - বেদেনি;
• ধোপা - ধোপানি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩,৭৫৯.
(কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপ পেয়ে কোন সমাস হয়?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- 
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।

অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৭৬০.
লিঙ্গান্তর করতে “নায়ক” শব্দের শেষে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়?
  1. ক) আ
  2. খ) ঈ
  3. গ) ইনি
  4. ঘ) ইকা
ব্যাখ্যা
ইকা-প্রত্যয় যোগে
যেসব শব্দের শেষে ‘অক্’ রয়েছে সেসব শব্দে 'অক্' স্থলে 'ইকা' হয়।
যেমন: বালক-বালিকা, নায়ক- নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, সেবক-সেবিকা, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ইত্যাদি।
কিন্তু গণক গণকী, নর্তক-নর্তকী, চাতক-চাতকী, রজক-রজকী (বাংলায়) রজকিনী।

- ক্ষুদ্রার্থে ইকা যোগ হয়। যেমন : নাটক-নাটিকা, মালা-মালিকা, গীত-গীতিকা, পুস্তক-পুস্তিকা ইত্যাদি। (এগুলো স্ত্রী প্রত্যয় নয়, ক্ষুদ্রার্থক প্রত্যয়।) 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৬১.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ নয়?
  1. বহুব্রীহি
  2. জলদ
  3. অসুখ
  4. বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য, জলদ, দশানন, বহুব্রীহি, অসুখ
 
অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬২.
'আইন’ শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. হিন্দি
  3. ফারসি
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
ফারসি - আ’ঈন শব্দ থেকে বাংলা আইন শব্দটি এসেছে।

এছাড়াও বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতিপয় ফারসি শব্দঃ
১. ধর্মসংক্রান্ত শব্দঃ
খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, বেহেশত, ফেরেশতা, রোজা ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দঃ
কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দঊলত, নালিশ, বাদশাহ, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
৩. বিবিধঃ
আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৬৩.
লিঙ্গান্তর হয় না এমন শব্দ কোনটি?
  1. খান
  2. কুলটা
  3. ধোপা
  4. সুলতান
ব্যাখ্যা
কিছু পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের লিঙ্গান্তর হয় না।
- 'কুলটা' নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ। এটির লিঙ্গান্তর হয়না।

নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী ইত্যাদি।

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কুলটা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- বিধবা,
- অসূর্যম্পশ্যা,
- অরক্ষণীয়া ইত্যাদি।
---------------- 
অন্যদিকে,
- খান- খানম,
- ধোপা - ধোপানী,
- সুলতান- সুলতানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৬৪.
তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঝলক
  2. খ) ছুতার
  3. গ) ঘাটতি
  4. ঘ) লাগোয়া
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয় ‘-আর’ যোগে গঠিত শব্দ সমূহঃ কর্ম >কাম + আর = কামার; চর্ম > চাম + আর = চামার; সুতা + আর = সুতার > ছুতার। উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা - ড.হায়াৎ মামুদ
৩,৭৬৫.
"বাতাসা" - কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম 
  2. দেশি 
  3. তদ্ভব 
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
"বাতাসা" - দেশি ভাষার শব্দ।

• 'বাতাসা' শব্দের অর্থ:
- চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্ট দ্রব্যবিশেষ।



• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৭৬৬.
‘চিনির বলদ’ কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. সপ্তমী তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: 
- চোখের বালি = চোখের বালি।
- সোনার তরী = সোনার তরী।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- চিনির বলদ = চিনির বলদ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬৭.
নিত্য স্ত্রী-বাচক শব্দ কোনটি?
  1. চন্দ্রমুখী
  2. অর্ধাঙ্গনী
  3. সুনয়না
  4. হেমাঙ্গী
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রী-বাচক শব্দ -অর্ধাঙ্গিনী’।

• নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ :
কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।
যেমন:  সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি

অন্যদিকে, 
- ’চন্দ্রমুখ’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - চন্দ্রমুখী, চন্দ্রমুখা।
- ’সুনয়ন’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - সুনয়না, সুনয়নী।
- ’হেমাঙ্গ’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - হেমাঙ্গী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৩,৭৬৮.
‘সু’ উপসর্গযোগে গঠিত ‘সুনজর’ শব্দটিতে অর্থের কী ঘটেছে?
  1. সম্প্রসারণ
  2. সংকোচন
  3. সংযোজন
  4. কাছে আসা
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।

• নতুন শব্দ তৈরি করা উপসর্গের কাজ।
যেমন:
- সম্ + বাদ = সংবাদ;
- বি + বাদ= বিবাদ।

• উপসর্গের আর একটি কাজ শব্দের অর্থ পরিবর্তন করা।
যেমন:
- সু + নজর = সুনজর (অর্থের সংকোচন)।
- সম্ + পূর্ণ = সম্পূর্ণ (অর্থের সম্প্রসারণ)।
- গর + হাজির = গরহাজির (বিপরীত অর্থ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৩,৭৬৯.
'সাহেব' এর স্ত্রীবাচক শব্দ হলো-
  1. সঙ্গী
  2. সাহেবান
  3. বিবি
  4. সাহেবিয়ানা
ব্যাখ্যা

• 'সাহেব' এর স্ত্রীবাচক শব্দ হলো- বিবি।

• সাহেব [শাহেব্‌] (বিশেষ্য) {(আরবি) সাহিব}:
- এর অর্থ হলো- (১) সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি; মহাশয়; (২) কর্তা; প্রভু। (৩) উচ্চ কর্মচারী (বড় সাহেব)। (৪) ইউরোপীয় ইংরেজ।

• 'সাহেবান' হলো- 'সাহেব' এর বহুবচন।
- (বিশেষ্য) সুধীবৃন্দ; সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিগণ।

• সাহেবি, সাহেবিয়ানা [শাহেবি, শাহেবিয়ানা] - (বিশেষ্য) ইউরোপীয়দের ন্যায় আচরণ বা চালচলন।
- (বিশেষণ) ইউরোপীয়দের মতো।
-------
অন্যদিকে,
• সঙ্গী হলো- 'সঙ্গিনী' এর পুরুষবাচক শব্দ।

উৎস:
১) প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা একাডেমি অভিগম্য অভিধান।

৩,৭৭০.
'জাহাজ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
জাহাজ (বিশেষ্য)
- আরবি শব্দ।
অর্থ:
- ইঞ্জিনচালিত সমুদ্রগামী বড়ো নৌযান,
- অর্ণবপোত।
আলংকারিক অর্থ:
- বিদ্যার জাহাজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৭১.
'চাকর' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ফরাসি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• 'চাকর' শব্দটি ফারসি ভাষার শব্দ । 
• ফারসি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ হলো:
- কারখানা,
- চশমা,
- জবানবন্দি,
- তোশক,
- দফতর,
- দরবার,
- দোকান,
- দস্তখত,
- দৌলত,
- নালিশ,
- বাদশাহ,
- বান্দা,
- বেগম,
- মেথর,
- রসদ

উৎসঃ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

উল্লেখ্য,
- চাকর শব্দটির উৎস মাধ্যমিক ব্যাকরণ বইয়ে 'তুর্কি' দেওয়া আছে যা প্রকৃতপক্ষে ভুল
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে এটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
তাই নিঃসন্দেহে সঠিক উত্তর - ফারসি।
তবে অপশনে ফারসি না থাকলে উত্তর 'তুর্কি' হবে।

৩,৭৭২.
নিচের কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
  1. ইমান
  2. ডিঙা
  3. টোপর
  4. ধৰ্ম
ব্যাখ্যা
• 'ধৰ্ম'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- ঈশ্বর ও উপাসনাপদ্ধতির বিষয়ে মতবাদ।

অন্যদিকে, 
- 'ইমান' আরবি ভাষার শব্দ।
- 'ডিঙা' বাংলা ভাষার শব্দ।
- 'টোপর' দেশি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৭৩.
'সুপারিশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. তৎসম
  2. অর্ধ তৎসম
  3. তদ্ভব
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'সুপারিশ' - বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।


• 'সুপারিশ' শব্দের অর্থ:
- কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিষয় প্রভৃতি বিষয় এর অনুকূলে অনুরোধ।

• আরো কিছু ফারসি শব্দ:
- আমদানি, জানোয়ার, রোজা, দোকান, নামাজ, চশমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৭৭৪.
'খাসমহল' কোন প্রকার সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়  তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
ক্ষুধিত-পাষাণ =ক্ষুধিত যে পাষাণ
অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি
অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ 
খাসমহল = খাস যে মহল 
নবান্ন = নব যে অন্ন 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ
৩,৭৭৫.
নিচের কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাসে নিষ্পন্ন শব্দ?
  1. সিংহাসন
  2. চৌরাস্তা
  3. কোলাকুলি
  4. বীণাপানি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়। এ সমাসে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হয়।
যেমন: হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
এরূপ- চুলাচুলি, কাড়াকাড়ি, গালাগালি, দেখাদেখি, কোলাকুলি, লাঠালাঠি, হাসাহাসি, গুঁতাগুঁতি, ঘুষাঘুষি ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৭৬.
স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু কোনটি?
  1. শো
  2. ধমকা
  3. পড়া
  4. দেখা
ব্যাখ্যা

 • মৌলিক ধাতু:
- যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু।
-  একে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয় ৷ 
- যেমন –চল্, পড়, কর্, শো, হ, খা ইত্যাদি।

• সাধিত ধাতু:
- মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম - শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে।
- যেমন দেখ্ + আ = দেখা, পড়+আ= পড়া, বল+আ=বলা।
- সাধিত ধাতুর সঙ্গে কাল ও পুরুষসূচক বিভক্তি যুক্ত করে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
- যেমন মা শিশুকে চাঁদ দেখায়। (এখানে দেখ+আ+বর্তমান কালের সাধারণ নামপুরুষের ক্রিয়া বিভক্তি 'য়' = দেখায়)। এরূপ শোনায়, বসায় ইত্যাদি।
গঠনরীতি ও অর্থের দিক থেকে সাধিত ধাতু তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
ক. নাম ধাতু, খ. প্রযোজক (নিজন্ত) ধাতু, (গ) কর্মবাচ্যের ধাতু।

ক. নাম ধাতু: বিশেষ্য, বিশেষণ এবং অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে নতুন ধাতুটি গঠিত হয় তা-ই নাম ধাতু। যেমন-সে ঘুমাচ্ছে। 'ঘুম্' থেকে নাম ধাতু 'ঘুমা'। 'ধমক্' থেকে নাম ধাতু 'ধমকা'। যেমন আমাকে ধমকিও না।

খ. প্রযোজক ধাতু: মৌলিক ধাতুর পরে প্রেরণার্থ (অপরকে নিয়োজিত করা অর্থে) 'আ' প্রত্যয় যোগ করে প্রযোজক ধাতু বা ণিজন্ত ধাতু গঠিত হয়। যেমন- কর্ + আ করা (এখানে 'করা' একটি ধাতু)। যেমন সে নিজে করে না, আর একজনকে দিয়ে করায়। অনুরূপভাবে- পড়+ আ-পড়া; তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

গ. কর্মবাচ্যের ধাতু: মৌলিক ধাতুর সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু সাধিত হয়। এটি বাক্যমধ্যস্থ কর্মপদের অনুসারী ক্রিয়ার ধাতু। যথা দেখ+ আ-দেখা; কাজটি ভালো দেখায় না। হার্+আ-হারা; 'যা কিছু হারায় গিন্নী বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর।'
'কর্মবাচ্যের ধাতু' বলে আলাদা নামকরণের প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি প্রযোজক ধাতুরই অন্তর্ভুক্ত। যেমন-'দেখায়' এবং 'হারায়' প্রযোজক ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮সংস্করণ)।

৩,৭৭৭.
‘দলছাড়া’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ৩য়া তৎপুরুষ
  2. ৪র্থী তৎপুরুষ
  3. ৫মী তৎপুরুষ
  4. ৭মী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া,
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ,
- দল থেকে ছাড়া = দলছাড়া,
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭৭৮.
নঞ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) পকেটমার
  2. খ) চাবাগান
  3. গ) বেহায়া
  4. ঘ) ভোজন পটু
ব্যাখ্যা
না বাচক নঞ অব্যয় ( না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাঁকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন:
নয় সুখ = অসুখ
নয় উচিত = অনুচিত 
নেই বিশ্বাস = অবিশ্বাস 
নেই মিল = অমিল 
নেই হায়া = বেহায়া ইত্যাদি। 

পকেট মারে যে = পকেটমার = উপপদ তৎপুরুষ সমাস। 
চায়ের বাগান = চাবাগান = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
ভোজনে পটু = ভোজন পটু = সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৭৯.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সিংহাসন
  2. গাছপাকা
  3. মাতাপিতা
  4. রাজপথ
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তাল-তমাল,
- ভালোমন্দ,
- মাতাপিতা,
- যাকে-তাকে ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'রাজপথ' (পথের রাজা) ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
- 'গাছপাকা' (গাছে পাকা) ৭মী তৎপুরুষ সমাস।
- 'সিংহাসন' (সিংহ চিহ্নিত আসন) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৮০.
'সুডৌল' শব্দের কোন প্রকার উপসর্গ ব্যবহার হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সুডৌল' শব্দের 'বাংলা' উপসর্গ ব্যবহার হয়েছে।
- 'সু' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ -সুখবর, সুদিন, সুনজর, সুনাম, সুডৌল।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৭৮১.
'রাখাল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. দেশি
  3. আরবি
  4. পাঞ্জাবি
ব্যাখ্যা
• 'রাখাল' দেশি শব্দ।
অর্থ: গবাদিপশু চরানো যার পেশা।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের (যেমন: তামিল, কোল প্রভৃতি) ভাষার কিছু কিছু শব্দ বাংলায় রক্ষিত হয়েছে। এসব শব্দকে 'দেশি শব্দ' বলে।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ধারণ করা যায় না; কিন্তু কোন ভাষা থেকে এসেছে তার হদিস মেলে।

• দেশি ভাষার কয়েকটি শব্দ হলো:
যথা: কুড়ি, পেট, চুলা, চালতা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৮২.
কোনটির শেষে স্ত্রীবাচক শব্দ যােগ করে লিঙ্গান্তর করতে হয়?
  1. ক) পুলিশ
  2. খ) কবি
  3. গ) গয়লা
  4. ঘ) কর্মী
ব্যাখ্যা
কতগুলাে শব্দের শেষে পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ যােগ করে পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়।
যেমন :
বােন-পাে-বােন-ঝি,
ঠাকুর-পাে-ঠাকুর-ঝি, ঠাকুর দাদা । ঠাকুরদা-ঠাকুরমা,
গয়লা-গয়লা-বউ,
জেলে-জেলে বউ ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, ২০১৯- সংস্করণ]
৩,৭৮৩.
নিচের কোনটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) বিবিয়ানা
  2. খ) পুষ্পিত
  3. গ) থালা
  4. ঘ) চোরাই
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে। যথা: 

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
থাল + আ = থালা,
চোর + আই = চোরাই।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
অণু + ইক = আণবিক।
পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা।
বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,৭৮৪.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. পদ্মআঁখি
  2. চন্দ্রমুখ
  3. মনমাঝি
  4. কাজলকালো
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)

৩,৭৮৫.
'গরমিল' শব্দে 'গর' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• 'গরমিল' শব্দে 'গর' আরবি উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর।
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর : অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৭৮৬.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. আনারস
  2. চন্দ্র
  3. কষ্ট
  4. কুলা
ব্যাখ্যা
• কুলা:
- মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২২ সংস্করণ) অনুসারে - এটি একটি দেশিশব্দ।
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে - শব্দটি তদ্ভব (সংস্কৃত থেকে উৎপন্ন) শব্দ।
 
কুলা (বিশেষ্য):
- (তদ্ভব শব্দ - কুল্য > কুলা)
- অর্থ: ধান চাল প্রভৃতি ঝাড়ার জন্য জন্য ব্যবহৃত বাঁশের চাঁচ দিয়ে তৈরি অর্ধবৃত্তাকার ডালাবিশেষ, কুলো।

অন্যদিকে,
• ‘আনারস’ পর্তুগিজ শব্দ।
• ‘চন্দ্র’ সংস্কৃত শব্দ।
• ‘কষ্ট’ সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৮৭.
'মজুরি' - কোন ভাষা হতে আগত?
  1. তৎসম
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা

• 'মজুরি' - 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পারিশ্রমিক।

ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
গ্রেফতার, দারোগা, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৭৮৮.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. হাত
  2. ঝিনুক
  3. পাত্র
  4. উনান
ব্যাখ্যা

• ঝিনুক দেশি শব্দ।

অন্যদিকে,
হাত ও উনান - তদ্ভব শব্দ।
পাত্র - তৎসম শব্দ।

• কিছু দেশি শব্দ:

ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৭৮৯.
'নাগরিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি ?
  1. ক) নগর + এক
  2. খ) নগর + ষ্ণ
  3. গ) নগর + ক
  4. ঘ) নগর + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
নাগরিক শব্দটি বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। 
নাগরিক = নগর + ষ্ণিক

ষ্ণিক প্রত্যয়জাত কয়েকটি  শব্দের উদাহরণ- 
⇒ সাহিত্য + ষ্ণিক = সাহিত্যিক
⇒ বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক 
⇒ বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক 
⇒ সমুদ্র  ষ্ণিক = সামুদ্রিক 
⇒ মাস + ষ্ণিক = মাসিক 
⇒ ধর্ম + ষ্ণিক = ধার্মিক 
⇒ সমর + ষ্ণিক = সামরিক 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯০.
‘সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছে।’ - এখানে পদাশ্রিত নির্দেশক কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অস্পষ্টতা
  2. অনির্দিষ্টতা
  3. সুনির্দিষ্টতা
  4. নিরর্থকতা
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক: 
- কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো পদের আশ্রয়ে বা পরে সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত অব্যয় বা পদাশ্রিত নির্দেশক বলে।
যেমন:
- টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি।

• নিরর্থকভাবেও - টা টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
যেমন:
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছে।

• 'গোটা' বচনবাচক শব্দটির আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে।
- এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য।
- গোটা শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৭৯১.
‘চূর্ণ’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চুর্ণ + ষ্ণিক
  2. √চুর্ + ক্ত
  3. √চুর + না
  4. √চূর্ণ + ই
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৭৯২.
কোনটি ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যা?
  1. ক) ষোড়শী
  2. খ) তেসরা
  3. গ) আড়াই
  4. ঘ) চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা: 
• ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
• পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম, চতুর্দশ ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপ রয়েছে। যেমন- ষোড়শী, একাদশী, সপ্তমী, এয়োদশী ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৭৯৩.
‘বাঙালি’ কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. উভয়লিঙ্গ
  4. ক্লীবলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা:
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গ বাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

• যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে।
'বাঙালি' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বাঙালিদেরই বুঝায়, সুতরাং 'বাঙালি' শব্দটি উভয়লিঙ্গ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৭৯৪.
'রোগমুক্ত' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি 
  3. তৎপুরুষ
  4. কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত,
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৭৯৫.
‘পানি’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

হিন্দি ভাষার শব্দগুলো হলো :
- পানি
- ধোলাই
- লাগাতার
- হালুয়া
- ঠান্ডা
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)

৩,৭৯৬.
শুধুমাত্র 'আ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরীত শব্দ নয় নিম্নের কোন শব্দটি?
  1. ক) বৃদ্ধা 
  2. খ) বালিকা
  3. গ) জটিলা
  4. ঘ) কুটিলা
ব্যাখ্যা
অ- কারান্ত পুংলিঙ্গের শেষে 'আ' - প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে হয়। 
যেমন- 
জটিল - জটিলা 
কুটিল - কুটিলা 
বৃদ্ধ - বৃদ্ধা 
মহাশয় - মহাশয়া 
শিষ্য - শিষ্যা 
কোকিল - কোকিলা ইত্যাদি 

পুংলিঙ্গ শব্দের শেষে 'অক' থাকলে তা ইকা করে 'আ' - প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন- 
নায়ক - নায়িকা 
শিক্ষক - শিক্ষিকা 
বাহক - বাহিকা 
চালক - চালিকা 
বালক - বালিকা ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯৭.
বিভক্তিহীন নাম-শব্দকে কী বলে?
  1. প্রাতিপাদিক
  2. নাম-পদ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. কৃদন্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক।
যেমন:
- লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।

- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩,৭৯৮.
'উপ্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বচ্‌ + ক্ত
  2. বপ্‌ + ক্ত
  3. উপ্‌ + ক্ত
  4. উ + ক্ত
ব্যাখ্যা
'উপ্ত' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় বপ্‌ + ক্ত।

• সূত্র:

- ক্ত প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়।
- √গম্+ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ+ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্+ক্ত = চূর্ণ,
- √দা+ক্ত = দত্ত,
- √দহ্+ক্ত = দগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৭৯৯.
'জলদ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

• কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন: √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে); √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)।

• উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন: বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর।
- জল দেয় যে = জলদ।
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- পকেট মারে যে = পকেটমার।

• এরূপ- সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছাড়পোকা এবং বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৮০০.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ফেন + ইল্ = ফনিল
  2. চোর + ই = চোরাই
  3. ঘর + য়া = ঘরোয়া
  4. বিবি + অনা = বিবিয়ানা
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।